(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
إثبات علو الله ومباينته لخلقه والرد على من زعم أن معية الله للخلق ذاتية القسم: الفرق والردود
الكتاب: إثبات علو الله ومباينته لخلقه والرد على من زعم أن معية الله للخلق ذاتية
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: مكتبة المعارف، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 161
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
আল্লাহর উচ্চতা ও তাঁর সৃষ্টির পৃথকত্বের প্রমাণ এবং যারা সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সংশ্লিষ্টতা সত্তাগত বলে দাবি করে তাদের খণ্ডন বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: আল্লাহর উচ্চতা ও তাঁর সৃষ্টির পৃথকত্বের প্রমাণ এবং যারা সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সংশ্লিষ্টতা সত্তাগত বলে দাবি করে তাদের খণ্ডন
লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরি (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬১
[গ্রন্থের বিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
إثبات علو الله ومباينته لخلقه
والرد على من زعم أن معية الله للخلق ذاتية
تأليف
الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود التويجري
غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين
مكتبة المعارف
আল্লাহর সুউচ্চতা এবং সৃষ্টিজগত হতে তাঁর পৃথক সত্তার প্রমাণ
এবং সেই ব্যক্তির খণ্ডন যে দাবি করে যে সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সান্নিধ্য সত্তাগত
গ্রন্থনায়
মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হামূদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামূদ আত-তুওয়াইজিরী
আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন
মাকতাবাতুল মাআরিফ
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ لله، والصَّلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه.
أما بعد:
فقد اطَّلعت على ما كتبه أخونا العلامة الشيخ حمود بن عبد الله التويجري في بيان الأدلة الشرعيَّة والعقليَّة على إثبات عُلُوِّ الله - سبحانه - فوق عرشه، واستوائه عليه استواءً يليق بجلاله لا يُشابه فيه خلقه.
وفي إثبات مَعِيَّته لعباده بعلمه واطلاعه وحفظه، وكلاءَته لأوليائه، والردِّ على مَن زعم أنَّ معية الله لعباده ذاتيَّة، بل قد سمعته جميعَه بقراءة مُؤلفه - حفظه الله - فألفَيْتُه كتابًا عظيمَ الفائدة مؤيدًا بالأدلة الشرعيَّة والعقليَّة، كما ألفيتُه ردًّا عظيمًا على أهل البدع القائلين بالحلول والاتِّحاد وردًّا كافيًا شافيًا على من قال: إنَّ معيةَ الله للخلق ذاتية، فجزاه الله خيرًا وزاده علمًا وهدى وتوفيقًا، ونفع به وبمؤلفاته المسلمين.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত হেদায়েত অনুসরণ করেন তাদের ওপর।
অতঃপর:
আমাদের ভাই আল্লামা শায়খ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী মহান আল্লাহর তাঁর আরশের ওপর সুউচ্চ হওয়া এবং তাঁর সুমহান মর্যাদার শান অনুযায়ী আরশের ওপর উঠার—যা সৃষ্টির কোনো সাদৃশ্য গ্রহণ করে না—শরয়ী ও যৌক্তিক প্রমাণাদি বর্ণনায় যা লিখেছেন, তা আমি সবিশেষ অবগত হয়েছি।
একইসাথে বান্দাদের সাথে তাঁর জ্ঞান, অবলোকন ও হেফাজতের মাধ্যমে সাহচর্য এবং তাঁর বন্ধুদের (আওলিয়া) রক্ষণাবেক্ষণ সাব্যস্তকরণে এবং আল্লাহর সাহচর্য বান্দাদের সাথে সত্তাগত বলে যারা দাবি করে তাদের খণ্ডনে যা লিখেছেন, তাও দেখেছি। বরং আমি স্বয়ং লেখকের—আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন—কণ্ঠেই পুরো কিতাবটি পাঠ করতে শুনেছি। আমি এটিকে শরয়ী ও যৌক্তিক দলিল সমৃদ্ধ অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি। একইভাবে এটিকে হুলুল (অনুপ্রবেশ) ও ইত্তিহাদ (সর্বেশ্বরবাদ)-এ বিশ্বাসী বিদআতিদের বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ জবাব এবং যারা মনে করে আল্লাহর সাহচর্য সৃষ্টির সাথে সত্তাগত, তাদের জন্য একটি পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক খণ্ডন হিসেবে পেয়েছি। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর জ্ঞান, হেদায়েত ও তাওফিক বৃদ্ধি করে দিন এবং তাঁর ও তাঁর রচনাবলির মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ সাধন করুন।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وبالجملة، فهذا الكتابُ عظيمُ القَدر، كثير الفائدة، مشتمل على أدلة كثيرة من الكتاب والسنة على إثبات أسماء الله وصفاته وعُلوه - سبحانه - فوق خلقه، والرَّد على جميعِ أهل البدع، كما أنَّه مُشتمل على نُقُولٍ كثيرة مُفيدة من كلام عُلماء السنة المتقدِّمين والمتأخرين، ومن كلام الصَّحابة والتابعين، رضي الله عن الجميع، ورحمهم رحمة واسعة.
فنسألُ الله بأسمائه الحُسنى وصفاته العُلى أنْ ينفعَ به المسلمين، وأنْ يُقيم به الحجة، ويقطع به المعذرة، وأن يُضاعف المثوبة لمؤلفه، ويَجعلنا وإياه وسائر إخواننا من أئمة الهدى وأنصار الحق، وأنْ يثبتنا جميعًا على دينه حتى نلقاه - سبحانه - إنه ولي ذلك والقادر عليه.
قاله الفقير إلى عفو ربِّه: عبد العزيز بن عبد الله بن باز، سامحه الله وعفا عنه.
وصلى الله وسلم على نبيِّنا محمد وآله وصحبه.
الرئيس العام
لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد
27/ 7/ 1404 هـ
পরিশেষে, এই গ্রন্থটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং বহুবিধ কল্যাণ ও উপযোগিতা সম্পন্ন। এতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহ, গুণাবলি এবং তাঁর সৃষ্টির ঊর্ধ্বে তাঁর সুউচ্চ অবস্থানের সপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর বহুবিধ দলীল বিদ্যমান, যা সকল প্রকার বিদআতিদের বিভ্রান্তি নিরসন করে। পাশাপাশি এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সুন্নাহর উলামায়ে কিরাম এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের ওপর প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন) বহু মূল্যবান ও উপকারী উদ্ধৃতি সংকলিত হয়েছে।
অতএব, আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির অসিলায় প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর দ্বারা মুসলিম উম্মাহকে উপকৃত করেন, এর মাধ্যমে সত্যের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করেন এবং যাবতীয় ওজর-আপত্তি ছিন্ন করেন। তিনি যেন এর লেখকের পুরস্কার বহুগুণে বৃদ্ধি করেন এবং আমাদের, তাঁকে ও আমাদের সকল দ্বীনি ভাইকে হিদায়াতের ইমাম ও সত্যের সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আর তিনি যেন আমাদের সকলকে তাঁর দ্বীনের ওপর অবিচল রাখেন যতক্ষণ না আমরা তাঁর—সুবহানাহু ওয়া তাআলা—সাক্ষাৎ লাভ করি। নিশ্চয়ই তিনি এর প্রকৃত অভিভাবক এবং সব বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।
তাঁর প্রতিপালকের ক্ষমার মুখাপেক্ষী আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায এটি বলেছেন, আল্লাহ তাঁকে মার্জনা করুন ও ক্ষমা করুন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মহাপরিচালক
বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগসমূহ
২৭/০৭/১৪০৪ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ لله نحمدُه ونستعينه ونستهديه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، مَن يهده الله، فلا مُضِلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وَحْده لا شريكَ له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله، المبعوث رحمة للعالمين، وحجة على الخلق أجمعين.
صلَّى الله عليه، وعلى آله وأصحابه، ومَن تَبِعَهم بإحسان إلى يومِ الدِّين، وسلم تسليمًا كثيرًا.
أمَّا بعد:
فقد رأيتُ مقالاً سيئًا لبعضِ المعاصرين، زعم في أوَّله أنَّ معية الله لخلقه معية ذاتية تليق بجلاله وعظمته، وأنَّها لا تقتضي اختلاطًا بالخلق، ولا حلولاً في أماكنهم.
وقال في آخر مقاله: وهكذا نقول في المعية: نثبت لربِّنا معية ذاتية تليق بعظمته وجلاله، ولا تشبه معيَّة المخلوق للمخلوق، ونثبت مع ذلك عُلُوه على خلقه، واستواءه على عرشه، على الوجه اللَاّئق بجلاله، ونرى أنَّ مَن زعم أنَّ الله - تعالى - بذاتِه في كل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য ও হিদায়াত প্রার্থনা করি। আমরা তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই সমীপে তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ এবং সমগ্র সৃষ্টির জন্য দলিল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।
আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের উপর অজস্র ধারায় সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
আমি বর্তমান সময়ের জনৈক ব্যক্তির একটি বিভ্রান্তিকর প্রবন্ধ দেখেছি, যার শুরুতে তিনি দাবি করেছেন যে, সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সান্নিধ্য (মা‘ইয়্যাত) হলো সত্তাগত বা জাতী সান্নিধ্য, যা তাঁর প্রতাপ ও মহিমার উপযোগী। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, এর দ্বারা সৃষ্টির সাথে সংমিশ্রণ কিংবা সৃষ্টির অবস্থানে লীন হওয়া (হুলুল) আবশ্যক হয় না।
তিনি তাঁর প্রবন্ধের শেষে বলেছেন: "আমরা সান্নিধ্যের (মা‘ইয়্যাত) বিষয়ে এ কথাই বলি: আমরা আমাদের প্রতিপালকের জন্য এমন এক সত্তাগত সান্নিধ্য সাব্যস্ত করি যা তাঁর মহিমা ও প্রতাপের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং তা সৃষ্টির সাথে সৃষ্টির সান্নিধ্যের সদৃশ নয়। এর সাথে আমরা সৃষ্টির ঊর্ধ্বে তাঁর উচ্চতা এবং তাঁর আরশের ওপর উঠাকেও (ইস্তিওয়া) সাব্যস্ত করি এমন পন্থায় যা তাঁর মর্যাদার অনুকূল। আমরা মনে করি, যে ব্যক্তি দাবি করে যে মহান আল্লাহ তাঁর সত্তাসহ সর্বত্র বিদ্যমান..."
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مكان، فهو كافر أو ضالٌّ إن اعتقده، وكاذب إنْ نسبه إلى غيره من سلف الأُمَّة أو أئمتها.
فعقيدتنا أنَّ لله - تعالى - معية ذاتية تليقُ به، وتقتضي إحاطته بكل شيء علمًا وقدرة، وسمعًا وبصرًا وسلطانًا وتدبيرًا، وأنه - سبحانه - مُنَزَّه أن يكون مختلطًا بالخلق، أو حالاًّ في أمكنتهم، بل هو العَلِيُّ بذاته وصفاته، وعلوه من صفاته الذاتيَّة التي لا ينفك عنها، وأنه مستوٍ على عرشه كما يليق بجلاله، وأنَّ ذلك لا ينافي مَعيَّته، ثم صرح أنه قال ذلك مُقررًا له، ومعتقدًا له، ومنشرحًا له صدره.
وأقول: لا يَخفى على من له علم وفهم ما في كلام الكاتب من التناقُض، والجمع بين النقيضين، ومُوافقة من يقول بالحلوليَّة: إنَّ الله بذاته فوق العالم، وهو بذاته في كل مكان، وما فيه أيضًا من مُخالفة الكتاب والسنة وإجماع سلف الأمة وأئمتها.
فأمَّا التناقض، ففي تقريره لمعية الله الذاتية لخلقه مع زعمه أنَّ هذه المعية الذاتية لا تقتضي الاختلاطَ بالخلق، ولا الحلول في أماكنهم، ولا يَخفى على عاقلٍ أنَّ المعية الذاتية للخلق تستلزم مُخالطتَهم والحلول في أماكنهم، وعلى هذا فمن أثبت المعية الذاتيةَ
স্থান; যদি কেউ এটি বিশ্বাস করে তবে সে কাফির অথবা পথভ্রষ্ট, আর যদি সে এটি উম্মতের পূর্বসূরি (সালাফ) বা ইমামগণের দিকে নিসবত করে, তবে সে মিথ্যাবাদী।
সুতরাং আমাদের আকিদা হলো—আল্লাহ তাআলার এমন এক স্বীয় সত্তাগত সান্নিধ্য রয়েছে যা তাঁর শানের উপযোগী এবং যা জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন, রাজত্ব ও পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে রাখার দাবি রাখে। তিনি পবিত্র ও মহান—সৃষ্টির সাথে মিশে যাওয়া কিংবা তাদের অবস্থানে প্রবিষ্ট হওয়া থেকে। বরং তিনি স্বীয় সত্তা ও গুণাবলিতে সুউচ্চ। তাঁর এই উচ্চতা হলো তাঁর এমন এক সত্তাগত গুণ যা তাঁর থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। তিনি তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন, যেভাবে তাঁর মহিমা ও প্রতাপের উপযোগী। আর এটি তাঁর সান্নিধ্যের পরিপন্থী নয়। অতঃপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এটি স্বীকার ও বিশ্বাস করেন এবং এর প্রতি তাঁর চিত্ত সন্তুষ্ট।
আমি বলছি: জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে লেখকের বক্তব্যের স্ববিরোধিতা, দুই বিপরীতমুখী বিষয়ের সমন্বয় এবং অনুপ্রবেশবাদে (হুলুলিয়্যাহ) বিশ্বাসীদের সাথে ঐকমত্য পোষণ গোপন নয়—যা হলো: আল্লাহ স্বীয় সত্তায় জগতের ঊর্ধ্বে, আবার তিনি স্বীয় সত্তায় সর্বস্থানে বিদ্যমান। সেইসাথে এতে কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফ ও ইমামগণের ঐকমত্যের বিরুদ্ধাচরণও বিদ্যমান।
স্ববিরোধিতার বিষয়টি হলো—সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সত্তাগত সান্নিধ্যের স্বীকৃতি প্রদান করা সত্ত্বেও তাঁর এই দাবি করা যে, এই সত্তাগত সান্নিধ্য সৃষ্টির সাথে মিশে যাওয়া বা তাদের অবস্থানে প্রবিষ্ট হওয়াকে অবধারিত করে না। অথচ কোনো বিবেকবান ব্যক্তির কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, সৃষ্টির সাথে 'সত্তাগত সান্নিধ্য' তাদের সাথে সংমিশ্রণ ও তাদের অবস্থানে প্রবিষ্ট হওয়াকেই আবশ্যক করে। এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি সত্তাগত সান্নিধ্য সাব্যস্ত করবে...
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
للخلق ونفى مخالطتهم، والحلول في أماكنهم، فقد تناقضَ، شاء أم أبى.
وأمَّا الجمعُ بين النقيضين، ففي تقريره لمعية الله الذاتية لخلقه، مع تقريره أنَّ الله مستوٍ على عرشه، وأنَّه العليُّ بذاته وصفاته، وأن عُلُوه من صفاته الذاتية التي لا ينفك عنها، فقد جمع في هذا التقرير بين إثبات صفة العلو لله - تعالى - وإثبات ضدها، وهي صفة السُّفل الذي تستلزمه المعية الذاتية للخلق، وعلى هذا فمن أثبت المعية الذاتية للخلق، وأثبت مع ذلك أنَّ علو الرب من صفاته الذاتية التي لا ينفكُّ عنها، فقد جَمَع بين النقيضين، شاء أم أبى.
وأمَّا الموافقة لبعض القائلين بالحلول، فإنَّه لازم لمن زعم أنَّ معية الله لخلقه معية ذاتية؛ لأنَّه يلزم على هذا القول الباطل أن يكون الله مع الخلق في الأرض، وأن يكون مخالطًا لهم، وحالاًّ معهم في أماكنهم.
وقد قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية - رحمه الله تعالى - في صفحة 297 من المجلد الثاني من "مجموع الفتاوى" وصفحتين بعدها ما ملخصه:
সৃষ্টির থেকে এবং তাদের সাথে সংমিশ্রিত হওয়া ও তাদের স্থানে প্রবিষ্ট হওয়াকে অস্বীকার করেন, তবে তিনি স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছেন, তিনি তা পছন্দ করুন বা না করুন।
আর দুটি বিপরীত বিষয়কে একত্রিত করার বিষয়টি হলো সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সত্তাগত সহাবস্থান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে, অথচ এর সাথে তিনি এও সাব্যস্ত করছেন যে আল্লাহ তাঁর আরশের উপর *ইস্তিওয়া* এবং তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে সুউচ্চ, আর তাঁর এই উচ্চতা তাঁর এমন এক সত্তাগত গুণ যা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। ফলে তিনি এই আলোচনার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সুউচ্চ হওয়ার গুণ এবং তার বিপরীত গুণকে একত্রিত করেছেন, আর তা হলো সৃষ্টির নিম্নস্তরে অবস্থান যা সৃষ্টির সাথে সত্তাগত সহাবস্থানের অপরিহার্য দাবি। অতএব, যে ব্যক্তি সৃষ্টির সাথে সত্তাগত সহাবস্থান সাব্যস্ত করে এবং এর পাশাপাশি এই বিশ্বাসও পোষণ করে যে রবের উচ্চতা তাঁর একটি অবিচ্ছেদ্য সত্তাগত গুণ, সে মূলত দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়কে একত্রিত করল, চাই সে তা মেনে নিক বা না নিক।
আর হুলুলবাদীদের কারো কারো সাথে একমত হওয়ার বিষয়টি ঐ ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে দাবি করে যে সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সহাবস্থান হলো সত্তাগত সহাবস্থান; কারণ এই ভ্রান্ত উক্তির অনিবার্য দাবি হলো আল্লাহ পৃথিবীতে সৃষ্টির সাথেই অবস্থান করেন, তাদের সাথে সংমিশ্রিত অবস্থায় থাকেন এবং তাদের স্থানে তাদের মাঝে প্রবিষ্ট হয়ে থাকেন।
শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- "মাজমুউল ফাতাওয়া"-এর দ্বিতীয় খণ্ডের ২৯৭ পৃষ্ঠায় এবং এর পরবর্তী দুই পৃষ্ঠায় যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো:
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولما ظهرت الجهميَّة المُنكِرَة لمباينة الله وعلوه على خلقه، افترق الناسُ في هذا الباب على أربعة أقوال:
فالسَّلف والأئمة يقولون: إنَّ اللهَ فوق سمواته مستوٍ على عرشه، بائن من خلقه، كما دل على ذلك الكتاب والسنة وإجماع سلف الأمة.
والقول الثاني قول مُعطلة الجهمية ونُفاتهم، وهم الذين يقولون: لا هو داخلَ العالم ولا خارجَه، ولا مباينٌ له، ولا مُحايثٌ له، فينفون الوصفين المتقابلين اللَّذين لا يَخلو موجودٌ عن أحدهما، كما يقول ذلك أكثرُ المعتزلة ومَن وَافقهم من غيرهم.
والقول الثالث قولُ حلولية الجهمية الذين يقولون: إنَّه بذاته في كل مكان، كما يقول ذلك أتباعُ حسين النجار وغيرهم من الجهمية.
والقول الرابع قول من يَقول: إنَّ الله بذاته فوق العالم، وهو بذاته في كل مكان، وهذا قول طوائف من أهل الكلام والتصوُّف كأبي معاذ وأمثاله.
وقد ذَكَر الأشعريُّ في المقالات هذا عن طوائفَ، ويوجد في
যখন আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির থেকে পৃথক সত্তা ও তাঁর সমুচ্চতা অস্বীকারকারী জাহমিয়া মতবাদের আবির্ভাব ঘটল, তখন এই বিষয়ে মানুষ চারটি মতে বিভক্ত হয়ে পড়ল:
সালাফ এবং ইমামগণ বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আসমানসমূহের উপরে আরশের ওপর সমুন্নত, তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক; যেমনটি কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মাহর পূর্বসূরীদের ঐক্যমত দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় মতটি হলো গুণাবলি অস্বীকারকারী জাহমিয়াদের। তারা বলে: তিনি জগতের ভেতরেও নন, বাইরেও নন; তিনি জগত থেকে পৃথকও নন, আবার জগতের সাথে মিশে থাকাও নন। এভাবে তারা এমন দুটি পরস্পরবিরোধী গুণকে অস্বীকার করে, যার যেকোনো একটি থেকে কোনো অস্তিত্বশীল সত্তা মুক্ত থাকতে পারে না। অধিকাংশ মুতাযিলা এবং তাদের সাথে একমত পোষণকারী অন্যান্যরা একথাই বলে থাকে।
তৃতীয় মতটি হলো হুলুলি জাহমিয়াদের (যারা আল্লাহর সর্বত্র বিরাজমানতায় বিশ্বাসী)। তারা বলে: আল্লাহ স্বীয় সত্তাসহ সব জায়গায় বিদ্যমান। যেমনটি হুসাইন নাজ্জারের অনুসারীগণ এবং অন্যান্য জাহমিয়া অনুসারীরা বলে থাকে।
চতুর্থ মতটি হলো তাদের যারা বলে: আল্লাহ স্বীয় সত্তাসহ জগতের ঊর্ধ্বে, আবার তিনি স্বীয় সত্তাসহ সব স্থানেই বিদ্যমান। এটি ইলমুল কালাম ও তাসাউফপন্থী কিছু গোষ্ঠীর বক্তব্য, যেমন আবু মুআয ও তাঁর সমমনা ব্যক্তিবর্গ।
ইমাম আশআরী তাঁর ‘মাকালাত’ গ্রন্থে বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটি পাওয়া যায়...
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
كلام السالمية كأبي طالب المكي وأتباعه كأبي الحكم بن برجان وأمثاله، ما يشير إلى نحوٍ من هذا.
وفي الجملة فالقول بالحلول أو ما يناسبه وقع فيه كثيرٌ من متأخري الصوفية، ولهذا كان أئمة القوم يحذرون منه؛ انتهى المقصود من كلامه.
وما ذكره شيخُ الإسلام - رحمه الله تعالى - عن الذين يقولون: إنَّ الله بذاته فوق العالم، وهو بذاته في كل مكان هو بعينه قولُ المردودِ عليه؛ حيث زعم أنَّ معية الله لخلقه معية ذاتية، وهو مع ذلك مستوٍ على العرش.
সালমিয়্যাহ সম্প্রদায়ের বক্তব্য, যেমন আবু তালিব আল-মাক্কী এবং তাঁর অনুসারী আবু আল-হাকাম বিন বাররাজান ও তাঁদের সমমনাদের কথা, এই ধরণের বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করে।
সারকথা হলো, হুলুল (সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার অনুপ্রবেশ) অথবা এর সদৃশ মতবাদে পরবর্তী যুগের অনেক সুফি নিপতিত হয়েছেন; আর এই কারণেই এই পথের ইমামগণ এ বিষয়ে সতর্ক করতেন। তাঁর বক্তব্যের মূল নির্যাস এখানেই সমাপ্ত।
আর শাইখুল ইসলাম—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন যারা বলে যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ স্বয়ং সত্তাগতভাবে জগতের ঊর্ধ্বে, আবার তিনি সত্তাগতভাবেই সর্বত্র বিরাজমান; এটি হুবহু সেই ব্যক্তিরই বক্তব্য যাকে খণ্ডন করা হচ্ছে। কারণ সে দাবি করেছে যে, সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাথে থাকা (মাইয়্যাহ) হলো সত্তাগত সঙ্গ (মাইয়্যাহ দাতিয়্যাহ), অথচ এর পাশাপাশি তিনি আরশের ওপর উর্ধ্বে।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فصل
وأمَّا مُخالفة صاحب المقال لكتاب الله - تعالى - فإن الله تبارك وتعالى ذكر استواءه على العرش في سبعة مواضع من القرآن:
الموضع الأول قوله - تعالى - في سورة الأعراف: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [الأعراف: 54].
الموضع الثاني قوله - تعالى - في سورة يونس: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الأَمْرَ مَا مِن شَفِيعٍ إِلَاّ مِن بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ} [يونس: 3].
الموضع الثالث قوله - تعالى - في سورة الرعد: {اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لأَجَلٍ مُّسَمًّى يُدَبِّرُ الأَمْرَ يُفَصِّلُ الآيَاتِ لَعَلَّكُم بِلِقَاء رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ} [الرعد: 2].
الموضع الرابع قوله - تعالى - في سورة طه: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5].
الموضع الخامس قوله - تعالى - في سورة الفرقان: {الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيرًا} [الفرقان: 59].
পরিচ্ছেদ
আর উক্ত নিবন্ধের লেখকের মহান আল্লাহর কিতাবের বিরোধিতার বিষয়টি হলো এই যে, মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনের সাতটি স্থানে আরশের উপর তাঁর উঠার (ইস্তিওয়া) কথা উল্লেখ করেছেন:
প্রথম স্থানটি হলো সূরা আল-আরাফে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি রাত দিয়ে দিনকে আচ্ছাদিত করেন, যা একে দ্রুত অনুসরণ করে; আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশের অনুগত। জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ অত্যন্ত বরকতময়।} [আল-আরাফ: ৫৪]।
দ্বিতীয় স্থানটি হলো সূরা ইউনুসে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন; তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করার কেউ নেই। এই হলেন আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত করো। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [ইউনুস: ৩]।
তৃতীয় স্থানটি হলো সূরা আর-রাদে মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহই আসমানসমূহকে স্তম্ভ ছাড়াই উচ্চে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো। অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করেছেন; প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করতে পারো।} [আর-রা'দ: ২]।
চতুর্থ স্থানটি হলো সূরা ত্ব-হায় মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন।} [ত্ব-হা: ৫]।
পঞ্চম স্থানটি হলো সূরা আল-ফুরকানে মহান আল্লাহর বাণী: {যিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি পরম করুণাময়; সুতরাং তাঁর সম্পর্কে যে সম্যক অবগত, তাকেই জিজ্ঞাসা করো।} [আল-ফুরকান: ৫৯]।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الموضع السادس قوله - تعالى - في سورة السجدة: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ} [السجدة: 4].
الموضع السابع قوله - تعالى - في سورة الحديد: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاء وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [الحديد: 4].
والنَّص على استواء الرب تبارك وتعالى على العرش، الذي هو فوق جميع المخلوقات يُنافي كونَه مع سكان الأرض بذاته، وفي كلٍّ من هذه الآيات السَّبع أبلغُ رد على مَن زعم أنَّ مَعِيَّةَ الله لخلقه مَعية ذاتية.
ومما يُرَدُّ به أيضًا على مَن زعم أنَّ معية الله لخلقه مَعية ذاتية: قول الله - تعالى - مُخبرًا عن الملائكة: {يَخَافُونَ رَبَّهُم مِّن فَوْقِهِمْ} [النحل: 50]، وإذا كان الرب تبارك وتعالى فوق الملائكة الذين هم سُكَّان السموات، ولم يكن معهم بذاته، فكيف يقال: إنَّ معيته لخلقه -أي: الذين في الأرض - مَعية ذاتية؟! هذا قول ظاهر البطلان.
ومما يرد به عليه أيضًا قولُ الله - تعالى -: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ
ষষ্ঠ স্থান হলো সূরা আস-সাজদাহ-এ মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহই আসমানসমূহ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই; তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?" [আস-সাজদাহ: ৪]।
সপ্তম স্থান হলো সূরা আল-হাদীদ-এ মহান আল্লাহর বাণী: "তিনিই আসমানসমূহ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা সেখানে আরোহণ করে। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। আর তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তা দেখেন।" [আল-হাদীদ: ৪]।
বরকতময় ও মহান রবের আরশের ওপর উঠার সুস্পষ্ট বক্তব্য—যে আরশ সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে—তা সত্তাগতভাবে পৃথিবীবাসীদের সাথে তাঁর থাকার বিষয়টিকে নাকচ করে। এই সাতটি আয়াতের প্রতিটিই তাদের প্রতি এক জোরালো প্রতিবাদ, যারা দাবি করে যে সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাথে থাকা (মাইয়্যাত) হলো সত্তাগত।
সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাথে থাকা সত্তাগত বলে যারা দাবি করে, তাদের খণ্ডনকল্পে মহান আল্লাহর এই বাণীও উল্লেখযোগ্য, যেখানে তিনি ফেরেশতাদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন: "তারা তাদের রবকে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে রয়েছেন" [আন-নাহল: ৫০]। সুতরাং বরকতময় ও মহান রব যদি আকাশের অধিবাসী ফেরেশতাদের উপরেই অবস্থান করেন এবং সত্তাগতভাবে তাদের সাথে না থাকেন, তবে কীভাবে বলা সম্ভব যে সৃষ্টির সাথে—অর্থাৎ যারা পৃথিবীতে আছে তাদের সাথে—তাঁর সাথে থাকাটি সত্তাগত?! এটি একটি সুস্পষ্টভাবে বাতিল ও ভ্রান্ত কথা।
এ বিষয়ে তাঁর ওপর আরও একটি প্রতিবাদ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি পরাক্রমশালী, তাঁর (বান্দাদের) উপরে..."
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عِبَادِهِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ} [الأنعام: 18]، وقوله - تعالى -: {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُم حَفَظَةً} [الأنعام: 61]، وقوله: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} [الأعلى: 1]، وقوله - تعالى -: {وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُ مِن نِّعْمَةٍ تُجْزَى * إِلَّا ابْتِغَاء وَجْهِ رَبِّهِ الْأَعْلَى} [الليل: 19 - 20]، وقوله - تعالى -: {عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ} [الرعد: 9]، وقوله - تعالى -: {رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ} [غافر: 15]، وقوله - تعالى -: {وَلَا يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255]، وقوله - تعالى -: {لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [الشورى: 4]، وقوله - تعالى -: {أَوْ يُرْسِلَ رَسُولاً فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاء إِنَّهُ عَلِيٌّ حَكِيمٌ} [الشورى: 51]، وقوله - تعالى -: {إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا} [النساء: 34]، وقوله - تعالى -: {قَالُوا مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا الْحَقَّ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} [سبأ: 23]، وقوله - تعالى -: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} [الحج: 62]، ومثلها الآية التي في سورة لقمان، وقوله - تعالى -: {ذَلِكُم بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ وَإِن يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا فَالْحُكْمُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ} [غافر: 12].
فقد وصف الرب تبارك وتعالى نفسَه في هذه الآيات بصفة
...তাঁর বান্দাদের উপর; আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক পরিজ্ঞাত।} [আল-আন‘আম: ১৮], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনিই তাঁর বান্দাদের উপর পরাক্রমশালী এবং তিনি তোমাদের জন্য রক্ষক ফেরেশতা পাঠান} [আল-আন‘আম: ৬১], এবং তাঁর বাণী: {আপনার সুমহান রবের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন} [আল-আ‘লা: ১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর নিকট কারো এমন কোনো অনুগ্রহ নেই যার প্রতিদান দিতে হবে, কেবল তাঁর সুউচ্চ রবের সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশা ছাড়া} [আল-লাইল: ১৯-২০], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সব কিছুর পরিজ্ঞাত, সুমহান ও অতি উচ্চ} [আর-রা‘দ: ৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি} [গাফির: ১৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আসমান ও জমিন উভয়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না; এবং তিনি সুউচ্চ, সুমহান} [আল-বাকারা: ২৫৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই; এবং তিনি সুউচ্চ, সুমহান} [আশ-শূরা: ৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তিনি কোনো বার্তাবাহক পাঠান, অতঃপর তিনি তাঁর অনুমতি ক্রমে যা চান ওহী প্রদান করেন; নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ, প্রজ্ঞাময়} [আশ-শূরা: ৫১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সুউচ্চ, সুমহান} [আন-নিসা: ৩৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা বলবে, ‘তোমাদের রব কী বলেছেন?’ তারা বলবে, ‘তিনি সত্য বলেছেন এবং তিনিই সুউচ্চ, সুমহান’} [সাবা: ২৩], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এটি এজন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে তা মিথ্যা; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই সুউচ্চ, সুমহান} [আল-হাজ্জ: ৬২], এবং এর অনুরূপ আয়াত সূরা লুকমানেও রয়েছে, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এটি একারণে যে, যখন কেবল এক আল্লাহকে ডাকা হতো, তখন তোমরা কুফরি করতে এবং তাঁর সাথে শরিক করা হলে তোমরা বিশ্বাস করতে। সুতরাং ফয়সালা কেবল সুউচ্চ, সুমহান আল্লাহর জন্যই} [গাফির: ১২]।
নিশ্চয়ই বরকতময় ও মহান রব এই আয়াতসমূহে নিজের সত্তাকে এমন গুণের মাধ্যমে বিশেষিত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
العُلوِّ المطلق، وهو يشمل عُلُوَّ القدر، وعلو القهر، وعلو الذَّات، ولا يَخفى على من له عقل وعلم أنَّ صفة علو الذات تنافي المعية الذاتية للخلق أعظم المنافع.
ومما يُرَدُّ به عليه أيضًا قول الله - تعالى -: {أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ * أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ} [الملك: 16 - 17]؛ قال البيهقي في كتاب "الأسماء والصِّفات" في الكلام على قوله: {أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء} [الملك: 16]: "أراد من فوق السَّماء، كما قال: {وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ} [طه: 71]، بمعنى: على جذوع النخل، وقال: {فَسِيحُوا فِي الأَرْضِ} [التوبة: 2]؛ أي: على الأرض، وكل ما علا فهو سماء، والعرش أعلى السموات، فمعنى الآية: أأمنتم من على العرش، كما صرَّح به في سائر الآيات.
قال: وفيما كتبنا من الآيات دلالةٌ على إبطال قول من زَعَم من الجهميَّة أنَّ الله بذاته في كلِّ مكان، وقوله: {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ} [الحديد: 4]، إنَّما أراد بعلمه، لا بذاته انتهى.
وقد نقله عنه شيخُ الإسلام أبو العباس ابن تيمية في القاعدة
পরম উচ্চতা, যা মর্যাদার উচ্চতা, আধিপত্যের উচ্চতা এবং সত্তাগত উচ্চতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যার বুদ্ধি ও জ্ঞান রয়েছে, তার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, সত্তাগত উচ্চতার গুণটি সৃষ্টির সাথে সত্তাগতভাবে অবস্থান করার ধারণার চরম পরিপন্থী।
তাঁর বিপক্ষে যা দ্বারা উত্তর প্রদান করা হয়, তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীও রয়েছে: "তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে, যিনি আকাশে আছেন, যে তিনি তোমাদেরসহ ভূমিকে ধসিয়ে দেবেন না? অতঃপর তা হঠাৎ থরথর করে কাঁপতে থাকবে। অথবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে, যিনি আকাশে আছেন, যে তিনি তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠাবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।" [আল-মুলক: ১৬-১৭]; ইমাম বায়হাকি তাঁর "আল-আসমা ওয়াস-সিফাত" গ্রন্থে আল্লাহর বাণী: "তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ তাঁর থেকে, যিনি আকাশে আছেন" [আল-মুলক: ১৬]-এর ব্যাখ্যায় বলেন: "এর দ্বারা আকাশের উপরে অবস্থানকারীকে বোঝানো হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: 'আর আমি অবশ্যই তোমাদের খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াব' [ত্বহা: ৭১], অর্থাৎ: খেজুর গাছের কাণ্ডের ওপর। আর তিনি বলেছেন: 'কাজেই তোমরা জমিনে বিচরণ করো' [আত-তাওবাহ: ২]; অর্থাৎ: জমিনের ওপর। আর যা কিছু উপরে রয়েছে তা-ই আকাশ, আর আরশ হলো আকাশসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুতরাং আয়াতের অর্থ হলো: তোমরা কি তাঁর থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ যিনি আরশের ওপর আছেন, যেমনটি অন্যান্য আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি বলেন: আমরা যে আয়াতগুলো লিপিবদ্ধ করেছি, তাতে জাহমিয়াদের সেই উক্তির অসারতার প্রমাণ রয়েছে যারা দাবি করে যে আল্লাহ তাঁর সত্তাসহ সর্বস্থানে বিরাজমান। আর তাঁর বাণী: "তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন" [আল-হাদিদ: ৪]-এর দ্বারা তিনি কেবল তাঁর জ্ঞানকেই বুঝিয়েছেন, তাঁর সত্তাকে নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
আর শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ "আল-কায়িদাহ" গ্রন্থে এটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المركشية، وأَقَرَّه وهو في صفحة 192 - 193 من المجلد الخامس من "مجموع الفتاوى".
وقال القُرطبي في تفسيره في الكلام على قوله - تعالى -: {أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء} [الملك: 16]، قال المحقِّقون: أأمنتم من فوق السماء، كقوله: {فَسِيحُوا فِي الأَرْضِ} [التوبة: 2]؛ أي: فوقها؛ انتهى.
ومن الآيات التي يُرَدُّ بها على مَن زعم أنَّ مَعِيَّة الله لخلقه معية ذاتية قول الله - تعالى -: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ} [فاطر: 10]، وقوله - تعالى -: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاء إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ} [السجدة: 5]، وقوله - تعالى -: {تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} [المعارج: 4]، وقوله - تعالى -: {إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ} [آل عمران: 55]، وقوله - تعالى -: {بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ} [النساء: 158]، وقوله - تعالى -: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ} [النحل: 102]، وقوله - تعالى -: {إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ} [المائدة: 44]، وقوله - تعالى -: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا
আল-মাররাকুশিয়াহ, এবং তিনি এটিকে সমর্থন করেছেন; এটি "মাজমুউল ফাতাওয়া"-র পঞ্চম খণ্ডের ১৯২-১৯৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম আল-কুরতুবী তাঁর তাফসীরে মহান আল্লাহর এই বাণী—{তোমরা কি তাঁর থেকে নিরাপদ বোধ করছ যিনি আসমানে রয়েছেন} [আল-মুলক: ১৬]—প্রসঙ্গে বলেন, গবেষক আলেমগণ বলেছেন: (এর অর্থ হলো) তোমরা কি তাঁর থেকে নিরাপদ বোধ করছ যিনি আসমানের উপরে রয়েছেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা যমীনে পরিভ্রমণ করো} [আত-তাওবাহ: ২]; অর্থাৎ যমীনের উপরে; সমাপ্ত।
আর যারা দাবি করে যে, সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাথে থাকা বা 'মাইয়্যাত' হলো সত্তাগত (জাতীয়), তাদের খণ্ডন করার মতো আয়াতসমূহের মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {পবিত্র বাক্যসমূহ তাঁরই দিকে আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তিনি ঊর্ধ্বে তুলে নেন} [ফাতির: ১০], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁরই দিকে আরোহণ করে} [আস-সাজদাহ: ৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে} [আল-মাআরিজ: ৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {স্মরণ করো যখন আল্লাহ বললেন, হে ঈসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পূর্ণরূপে গ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার নিকট তুলে নেব} [আলে ইমরান: ৫৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন} [আন-নিসা: ১৫৮], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, পবিত্র রূহ তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ এটি অবতীর্ণ করেছেন} [আন-নাহল: ১০২], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো} [আল-মায়িদাহ: ৪৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি, যখন তারা বলেছিল...}
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مَا أَنزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِّن شَيْءٍ قُلْ مَنْ أَنزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاء بِهِ مُوسَى نُورًا وَهُدًى لِّلنَّاسِ} [الأنعام: 91]، وقوله - تعالى -: {نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ التَّوْرَاةَ وَالإِنجِيلَ * مِن قَبْلُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَأَنزَلَ الْفُرْقَانَ} [آل عمران: 3 - 4].
والآيات في إنزال القُرآن من الله - تعالى - كثيرة جدًّا، وفيها مع ما ذكرته ها هنا من الآيات دليلٌ على علوِّ الرب تبارك وتعالى فوق خلقه، وفيها أبلغُ ردٍّ على من زَعَمَ أن معية الله لخلقه معية ذاتية.
"আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই অবতীর্ণ করেননি।" আপনি বলুন: "কে সেই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা মূসা নিয়ে এসেছিলেন, যা মানুষের জন্য নূর ও হিদায়াতস্বরূপ?" [সূরা আল-আন'আম: ৯১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি সত্যসহ আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী; এবং তিনি ইতিপূর্বে মানুষের হিদায়াতের জন্য তাওরাত ও ইনজিল অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন।" [সূরা আল-ইমরান: ৩-৪]।
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কুরআন অবতীর্ণ হওয়া সংক্রান্ত আয়াতসমূহ অত্যন্ত বহুসংখ্যক। এখানে আমি যে আয়াতসমূহ উল্লেখ করেছি, সেগুলোতে তাঁর সৃষ্টির ঊর্ধ্বে মহান রবের উচ্চমর্যাদা ও সমুন্নত হওয়ার প্রমাণ নিহিত রয়েছে। আর এতে সেই ব্যক্তির প্রতি অত্যন্ত বলিষ্ঠ খণ্ডন রয়েছে, যে দাবি করে যে সৃষ্টির সঙ্গে আল্লাহর সাহচর্য হলো সত্তাগত সাহচর্য।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فصل:
وأمَّا مُخالفة صاحب المقال لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنَّه لَمَّا أسري به إلى بيت المقدس، عَرَجَ به جبريلُ حتى علا به فوقَ السموات السبع، وظهر به لمستوًى يسمع به صرير الأقلام، ودنا من الربِّ جل جلاله فكلَّمه الله، وفرض عليه وعلى أمته خمسين صلاةً في كلِّ يومٍ وليلة، فلم يزلْ يتردَّد بين ربِّه وبين موسى في طلب التخفيف عنه وعن أمَّته، وحتى جعلها الله خمسَ صلوات، وقد جاء في هذا أحاديث صحيحة: الأول منها رواه البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث شريك بن عبدالله عن أنس بن مالك رضي الله عنه والثاني رواه الإمام أحمد ومسلم من حديث ثابت البناني عن أنس رضي الله عنه والثالث رواه النَّسائي من حديث يزيد بن أبي مالك عن أنس رضي الله عنه والرابع رواه الإمام أحمد والبُخاري ومُسلم من حديث قتادة عن أنس بن مالك عن صعصعة رضي الله عنه والخامس رواه البخاري ومسلم من حديث ابن شهاب عن أنس بن مالك عن أبي ذر رضي الله عنه.
وقال الزهري في هذا الحديث: أخبرني ابنُ حزم أنَّ ابن عباس
পরিচ্ছেদ:
আর প্রবন্ধকারের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর বিরোধিতার বিষয়টি সম্পর্কে বলা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সুপ্রমাণিত যে, যখন তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত নৈশভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়েছিল, তখন জিবরাঈল তাঁকে নিয়ে ঊর্ধ্বগমন (মিরাজ) করলেন এবং তাঁকে নিয়ে সপ্তাকাশের উপরে আরোহণ করলেন। এরপর তিনি এমন এক উচ্চতায় উপনীত হলেন যেখানে তিনি কলমের খসখস শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। তিনি মহান প্রতিপালকের (জাল্লা জালালুহু) নিকটবর্তী হলেন এবং আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বললেন। তিনি তাঁর ও তাঁর উম্মতের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করলেন। অতঃপর তিনি নিজের ও নিজের উম্মতের জন্য সালাত কমানোর আরজি নিয়ে তাঁর প্রতিপালক এবং মূসা আলাইহিস সালামের মাঝে যাতায়াত করতে থাকলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে নির্ধারণ করলেন। এই বিষয়ে সহীহ হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে: প্রথম হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে শরীক বিন আবদুল্লাহর সূত্রে আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় হাদিসটি ইমাম আহমদ ও মুসলিম সাবিত আল-বুনানীর সূত্রে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তৃতীয় হাদিসটি ইমাম নাসাঈ ইয়াযিদ বিন আবি মালিকের সূত্রে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। চতুর্থ হাদিসটি ইমাম আহমদ, বুখারী ও মুসলিম কাতাদার সূত্রে আনাস বিন মালিক থেকে, যিনি সা’সা’আ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। পঞ্চম হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম ইবনে শিহাবের সূত্রে আনাস বিন মালিক থেকে, যিনি আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং যুহরী এই হাদিসের বর্ণনায় বলেন: ইবনে হাযম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনে আব্বাস
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأبا حَبَّةَ الأنصاري رضي الله عنهما كانا يقولان: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((ثم عرج بي حتى ظهرت لمستوًى أسمع فيه صريفَ الأقلام))، قال ابنُ حزم وأنس بن مالك: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((فرض الله على أمتي خمسين صلاة، فرجعت بذلك حتى مَرَرْتُ على موسى عليه السلام فقال: ما فرض اللهُ على أُمَّتِك؟ قلت: فرض خمسين صلاة، قال: فارجع إلى ربِّك، فإنَّ أمتك لا تطيقُ ذلك، فرجعت فوضع شطرَها، فرجعت إلى موسى، قلت: وضع شطرَها، فقال: راجعْ ربَّك فإن أمَّتك لا تُطيق، فراجعت فوضع شطرَها، فرجعت إليه فقال: ارجعْ إلى ربِّك، فإنَّ أمَّتَك لا تُطيق ذلك، فراجعته، فقال: هي خمسٌ وهي خمسون لا يبدل القول لدي))؛ الحديث.
وفي عروج النبي صلى الله عليه وسلم من الأرض إلى ما فوق السموات السبع، وما أكرمه الله به من الدُّنُو منه أبلغ رد على مَن زَعَم أنَّ معيةَ الله لخلقه مَعيَّة ذاتية، وكذلك في تردُّده صلى الله عليه وسلم بين ربِّه وبين مُوسى عليه الصلاة والسلام عِدَّة مرات حين كان موسى يقول له: ارجع إلى ربِّك، فاسأله التخفيف لأمتك، فيعرج به جبريلُ إلى الله فيسأله التخفيف لأمته حتى صارت إلى خمسِ صلوات، كلُّ ذلك يدُلُّ على إثبات العلوِّ لله - تعالى - وأنه بائن من خلقه، وفيه أبلغ رَدٍّ
আবু হাব্বা আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করতেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অতঃপর আমাকে উপরে নিয়ে যাওয়া হলো, এমনকি আমি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছালাম যেখানে আমি কলমসমূহের খসখস শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।" ইবনে হাযম এবং আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আমার উম্মতের ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করলেন। আমি তা নিয়ে ফিরে আসছিলাম, পথিমধ্যে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'আল্লাহ আপনার উম্মতের ওপর কী ফরয করেছেন?' আমি বললাম: 'তিনি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন।' তিনি বললেন: 'আপনার রবের কাছে ফিরে যান, কারণ আপনার উম্মত তা পালন করতে সক্ষম হবে না।' ফলে আমি ফিরে গেলাম এবং তিনি তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে ফিরে এসে বললাম: 'তিনি অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছেন।' তিনি বললেন: 'আপনার রবের কাছে পুনরায় যান, কারণ আপনার উম্মত তা সহ্য করতে পারবে না।' আমি আবার ফিরে গেলাম এবং তিনি আরও অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে এলে তিনি বললেন: 'আপনার রবের কাছে ফিরে যান, কারণ আপনার উম্মত এতে সক্ষম হবে না।' আমি পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে গেলাম, তখন তিনি (আল্লাহ) বললেন: 'এই হলো পাঁচ ওয়াক্ত, তবে এটি সওয়াবের দিক থেকে পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান; আমার কাছে কথার কোনো পরিবর্তন হয় না'।" - হাদীসটি শেষ পর্যন্ত।
পৃথিবী থেকে সপ্তম আকাশের ঊর্ধ্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই আরোহণ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, তা ওই ব্যক্তিদের দাবির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ খণ্ডন যারা মনে করে যে সৃষ্টির সাথে আল্লাহর বিদ্যমানতা বা অবস্থান (মায়িয়্যাহ) হলো তাঁর সত্তাগত অবস্থান। একইভাবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাঁর রব এবং মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর মাঝে বারবার যাতায়াত করা—যখন মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বলছিলেন: 'আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং উম্মতের জন্য সহজ করার আবেদন করুন', তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে নিয়ে আল্লাহর নিকট আরোহণ করতেন এবং তিনি উম্মতের জন্য সহজ করার প্রার্থনা করতেন যতক্ষণ না তা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে এসে নির্ধারিত হলো—এসবই আল্লাহ তাআলার সুউচ্চতা (উলুউ) সাব্যস্ত হওয়ার এবং তিনি যে তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক, তার অকাট্য প্রমাণ। আর এর মধ্যেই রয়েছে চূড়ান্ত পর্যায়ের খণ্ডন।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
على من زَعَم أنَّ معية الله لخلقه معية ذاتية.
ومِمَّا يرد على صاحب المقال أيضًا قولُ النبي صلى الله عليه وسلم للجارية: ((أين الله؟))، فقالت: في السماء، قال: ((من أنا؟))، قالت: أنت رسولُ الله، قال: ((أعتقها، فإنَّها مؤمنة))؛ رواه مالك وأحمد ومسلم وأبو داود والنسائي من حديث معاوية بن الْحَكَم السُّلَمِي رضي الله عنه قال أبو عثمان الصابوني: حكم بإيمانِها لَمَّا أقرت أنَّ ربَّها في السماء، وعرفت ربَّها بصفة العُلُو والفوقية.
ومما يرد به عليه أيضًا قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء؟!))؛ رواه البخاري ومسلم من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.
ومما يرد به عليه أيضًا قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((الراحمون يرحمهم الرحمن، ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء))؛ رواه الإمام أحمد وأبو داود والترمذي والبخاري في "الكُنَى"، والحاكم في "مستدركه" من حديث عبدالله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح، وصححه الحاكم والذهبي.
ومما يرد به عليه أيضًا ما جاء في حديث أبي الدرداء - رضي الله
যারা দাবি করে যে সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সান্নিধ্য (মা’ইয়্যাহ) হলো তাঁর সত্তাগত সান্নিধ্য (মা’ইয়্যাহ জাতিয়্যাহ), তাদের খণ্ডন।
উক্ত নিবন্ধের লেখকের বক্তব্যের বিপরীতে আরও যা দ্বারা খণ্ডন করা যায় তা হলো জনৈক দাসীকে উদ্দেশ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশ্ন: "আল্লাহ কোথায়?" সে বলল: "আকাশে।" তিনি বললেন: "আমি কে?" সে বলল: "আপনি আল্লাহর রাসূল।" তখন তিনি বললেন: "একে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মু’মিনা (ঈমানদার)।" এটি মালিক, আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ এবং নাসাঈ বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে আল-হাকাম আস-সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে। আবু উসমান আস-সাবুনী বলেন: তিনি তার ঈমানের ফয়সালা দিয়েছেন যখন সে স্বীকার করেছে যে তার প্রতিপালক আকাশে আছেন এবং সে তার প্রতিপালককে উচ্চতা ও উপরিভাগের গুণের মাধ্যমে চিনতে পেরেছে।
আরও যা দ্বারা তাকে খণ্ডন করা যায় তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা কি আমাকে বিশ্বস্ত মনে করো না, অথচ আমি তাঁর বিশ্বস্ত প্রতিনিধি যিনি আকাশে আছেন?" এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে।
আরও যা দ্বারা তাকে খণ্ডন করা যায় তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "দয়াবানদের ওপর পরম দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" এটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজী, এবং বুখারী তার 'আল-কুনা' গ্রন্থে, আর হাকেম তার 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজী বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ, এবং হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ বলে গণ্য করেছেন।
আরও যা দ্বারা তাকে খণ্ডন করা যায় তা হলো আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে—
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
عنه - أنَّه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((من اشتكى شيئًا، فليقل: ربُّنا الله الذي في السماء تقدس اسمك))؛ الحديث رواه أبو داود.
قال البيهقي في كتاب "الأسماء والصفات": معنى قوله في هذه الأخبار: "من في السماء"؛ أي: فوق السماء على العَرش كما نطق به الكتاب والسنة؛ انتهى.
ومما يرد به عليه أيضًا ما جاء في حديث أبي هريرة رضي الله عنه: "أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر الرجل يُطيل السفر أشعث أغبر يَمد يديه إلى السماء: يا رب، يا رب، ومطعمه حرام، ومشربه حرام، وملبسه حرام، وغُذِّي بالحرام، فأنَّى يُستجاب لذلك؟! "؛ رواه الإمام أحمد وسلم والترمذي، وقال: حديث حسن غريب.
وفي كون الدَّاعي يَمدُّ يديه إلى السماء خاصَّة دون سائر الجهات أبلغ رد على مَن زعم أن معية الله لخلقه معية ذاتية، ولو كان الأمر على ما زعم القائل على الله بغير علم، لكان الدَّاعي يَمد يديه إلى سائر الجهات من فوقه، ومن أمامه، ومن خلفه، وعن يَمينه، وعن شماله، ولا يَخص جهة السماء التي فوقها الله - تعالى.
ومما يرد به عليه أيضًا ما جاء في الحديثِ الطَّويل عن جابر بن عبدالله رضي الله عنهما في ذكر حجة الوَداع، ففيه: أنَّ رسول
তাঁর থেকে বর্ণিত—তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "কারো কোনো শারীরিক বা মানসিক কষ্ট হলে সে যেন বলে: আমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানে রয়েছেন, আপনার নাম পবিত্র"; হাদীসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বায়হাকী তাঁর "আল-আসমা ওয়াস-সিফাত" গ্রন্থে বলেছেন: এই বর্ণনাগুলোতে "যিনি আসমানে রয়েছেন" কথাটির অর্থ হলো: আসমানের উপরে আরশের ওপর, যেমনটি কিতাব ও সুন্নাহতে ব্যক্ত হয়েছে; (উদ্ধৃতি) সমাপ্ত।
তার মত খণ্ডন করার আরেকটি দলিল হলো আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে, যার মাথার চুল এলোমেলো ও ধূলিমলিন, সে আসমানের দিকে হাত প্রসারিত করে ডাকছে: হে রব, হে রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারামে লালিত-পালিত হয়েছে; তবে কীভাবে তার সেই দুআ কবুল হবে?!"; এটি ইমাম আহমদ, মুসলিম ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান গরীব।
অন্যান্য সকল দিক বাদ দিয়ে দুআকারীর বিশেষভাবে আসমানের দিকে হাত উত্তোলন করার বিষয়টি ঐ ব্যক্তির দাবির বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ জবাব, যে দাবি করে যে সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সহাবস্থান হলো সত্তাগত (মা’ইয়্যাতে জাতিয়্যাহ)। বিষয়টি যদি আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীনভাবে মন্তব্যকারীর দাবির মতো হতো, তবে দুআকারী তার ওপরের দিক, সামনের দিক, পেছনের দিক, ডান ও বাম দিক—অর্থাৎ সকল দিকেই হাত প্রসারিত করত। সে কেবল আসমানের দিকটিকে সুনির্দিষ্ট করত না, যে আসমানের উপরে আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন।
তার বিরুদ্ধে আরও একটি প্রমাণ হলো জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত বিদায় হজ্জ সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদীসটি, তাতে রয়েছে: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الله صلى الله عليه وسلم خطب النَّاس في بطن الوادي، وقال في آخر خطبته: ((وأنتم مسؤولون عني، فما أنتم قائلون؟))، قالوا: نَشهد أنَّك قد بلَّغت، وأدَّيت، ونَصَحت، فقال بأصبعه السبابة يرفعها إلى السماء، وينكبها إلى الناس: ((اللهم اشهد، اللهم اشهد، اللهم اشهد))؛ رواه مسلم وأبو داود وابن ماجه.
وفي رفع النبيِّ صلى الله عليه وسلم أصبعه إلى السماء دون سائر الجهات أبلغُ ردٍّ على من زَعَمَ أنَّ معية الله لخلقه معية ذاتية.
ومِمَّا يُرَدُّ به عليه أيضًا ما جاء في حديث الأَوْعَال: أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال بعد أنْ ذكر سبعَ سَموات، بين كل سماءَيْن مسيرةُ خمسمائة عام، وكِثَفُ كُلِّ سماء مسيرةُ خمسمائة عام، قال: ((وفوق السماء السابعة بَحر بين أسفله وأعلاه، كما بين السماء والأرض، ثم فوق ذلك ثمانية أوعال، بين ركبهن وأظلافهن كما بين السماء والأرض، ثم فوق ذلك العرش بين أسفله وأعلاه كما بين السماء والأرض، والله تبارك وتعالى فوق ذلك، وليس يَخفى عليه من أعمال بني آدم شيء))؛ رواه الإمام أحمد والحاكم من حديث العَبَّاس بن عبدالمطلب رضي الله عنه وصَحَّحه الحاكم والذَّهبي، وقد رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه والحاكم والبيهقي في كتاب: "الأسماء
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপত্যকার অভ্যন্তরে জনসমক্ষে ভাষণ প্রদান করেন এবং তাঁর ভাষণের শেষাংশে বলেন: "তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে?" তাঁরা বললেন: "আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সদুপদেশ দিয়েছেন।" অতঃপর তিনি তাঁর শাহাদাত আঙুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে এবং মানুষের দিকে ইশারা করে বললেন: "হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন!" এটি মুসলিম, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যান্য দিকের পরিবর্তে কেবল আকাশের দিকে আঙুল উত্তোলন ঐ ব্যক্তিদের দাবির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ খণ্ডন, যারা ধারণা করে যে সৃষ্টির সাথে আল্লাহর বিদ্যমানতা বা সংশ্রব হলো সত্তাগত (মা'ইয়াতে জাতিয়াহ)।
এর খণ্ডনে আরও একটি দলিল হলো 'আওআল' সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণিত বিষয়বস্তু: যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাত আসমানের কথা উল্লেখ করার পর বললেন—যেখানে প্রতি দুই আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ এবং প্রতিটি আসমানের পুরুত্ব পাঁচশ বছরের পথ—তিনি বলেন: "সপ্তম আসমানের উপরে একটি সমুদ্র রয়েছে যার তলদেশ ও উপরিভাগের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়। অতঃপর তার উপরে আটটি 'আওআল' (পাহাড়ী ছাগল সদৃশ ফেরেশতা) রয়েছে, যাদের হাঁটু ও খুরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়। তারপর তার উপরে আরশ রয়েছে যার নিম্নভাগ ও উপরিভাগের ব্যবধান আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তারও উপরে সমুন্নত; বনী আদমের কোনো আমলই তাঁর নিকট গোপন থাকে না।" এটি ইমাম আহমাদ এবং হাকেম, আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে উল্লেখ করেছেন এবং হাকেম ও যাহাবী একে বিশুদ্ধ (সহিহ) বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও এটি আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকেম এবং বায়হাকী তাঁর 'আল-আসমা' নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والصِّفات" بلفظ آخر، وقال الترمذي: حسن غريب.
ومما يرد به عليه أيضًا ما رواه النَّسائي والحاكم في "المستدرك"، والبيهقي في كتاب "الأسماء والصفات" من طريق الحاكم، عن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه: أنَّ سعد بن معاذ رضي الله عنه حكم على بني قريظة أنْ يُقتل منهم كلُّ مَن جرت عليه الموسى، وأن تقسم أموالهم وذراريهم، فذكر ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ((لقد حكم اليوم فيهم بحكم الله، الذي حكم به من فوق سبع سموات))، لم يتكلم عليه الحاكم، وقال الذهبي في تلخيصه: صحيح، وذكره الذهبي أيضًا في كتاب "العلو"، وقال: هذا حديث صحيح.
وقد رواه الإمام أحمد والبُخاري ومسلم من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه وقال فيه: ((لقد حكمت فيهم بحكم الله، ورُبَّما قال: بحكم الملك))، ورواه أحمد ومسلم أيضًا من حديث عائشة رضي الله عنها وفيه: ((لقد حكمت فيهم بحكم الله عز وجل)، زاد أحمد: ((وحكم رسوله))، ورواه الترمذي من حديث جابر رضي الله عنه ولفظه: ((أصبت حكم الله فيهم)).
ومِمَّا يرد به عليه أيضًا ما جاء في حديث أبي هريرة - رضي الله
'এবং গুণাবলি' অন্য শব্দে, আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান গরীব।
তাঁর ওপর আরও যা দ্বারা খণ্ডন করা হয়েছে তা হলো নাসাঈ, হাকেম তার 'আল-মুস্তাদরাক'-এ এবং বাইহাকী হাকেমের সূত্রে তাঁর 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: সা'দ বিন মুয়াজ (রা.) বনু কুরাইজার বিষয়ে এই ফয়সালা দেন যে, তাদের মধ্যে যাদের ওপর ক্ষুর চালানো হয়েছে (অর্থাৎ যারা প্রাপ্তবয়স্ক) তাদের সকলকে হত্যা করা হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি বণ্টন করা হবে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: "তুমি আজ তাদের বিষয়ে আল্লাহর সেই বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করেছ, যা তিনি সাত আসমানের উপর থেকে প্রদান করেছেন।" হাকেম এর ওপর কোনো মন্তব্য করেননি, তবে ইমাম যাহাবী তার 'তালখিস'-এ একে সহিহ বলেছেন। ইমাম যাহাবী তাঁর 'আল-উলুউ' গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি সহিহ হাদিস।
ইমাম আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যাতে তিনি বলেছেন: "তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করেছ, এবং সম্ভবত তিনি বলেছেন: বাদশাহর (আল্লাহর) বিধান অনুযায়ী।" আহমাদ ও মুসলিম আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন, যাতে রয়েছে: "তুমি তাদের ব্যাপারে মহামহিম আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করেছ।" আহমাদ আরও যোগ করেছেন: "এবং তাঁর রাসূলের বিধান।" আর তিরমিযী জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যার শব্দ হলো: "তুমি তাদের ব্যাপারে আল্লাহর বিধানই চয়ন করেছ।"
তাঁর ওপর আরও যা দ্বারা খণ্ডন করা হয়েছে তা হলো আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসে যা এসেছে—
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عنه -: أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: ((لما قضى الله الخلق، كتب في كتابه، فهو عنده فوق العَرش: إنَّ رحمتي غلبت غضبي))؛ رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم.
ومِمَّا يُرد به عليه أيضًا ما جاء في حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم كان يدعو عند النَّوم، فذكر الحديث، وفيه: ((اللهم أنت الأول، فليس قبلك شيء، وأنت الآخر، فليس بَعْدَك شيء، وأنتَ الظَّاهر، فليس فوقك شيء، وأنت الباطن، فليس دونك شيء))؛ الحديث رواه الإمام أحمد ومسلم وأبو داود والترمذي، وقال: هذا حديث حسن صحيح.
ومما يرد به عليه أيضًا ما جاء في حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل وملائكة بالنَّهار، ويَجتمعون في صلاة الفجر وصلاة العصر، ثم يعرج الذين باتوا فيكم، فيسألهم - وهو أعلم بهم - كيف تركتم عبادي؟ فيقولون: تركناهم وهم يُصلُّون، وأتيناهم وهم يصلون))؛ رواه مالك وأحمد والبخاري ومسلم والنَّسائي.
ومما يرد به عليه أيضًا حديث أبي موسى رضي الله عنه: أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إنَّ اللهَ لا ينام، ولا ينبغي له أنْ ينامَ،
তাঁর থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাবে লিপিবদ্ধ করলেন—যা তাঁর নিকট আরশের উপরে সংরক্ষিত আছে—'নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার গযবের ওপর জয়ী হয়েছে'।" এটি ইমাম আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এর খণ্ডনে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটিও উল্লেখ করা যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর সময় দোয়া করতেন, অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন যাতে রয়েছে: "হে আল্লাহ! আপনিই আদি, আপনার পূর্বে কিছুই নেই; আপনিই অন্ত, আপনার পরে কিছুই নেই; আপনিই প্রকাশ্য, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনিই গোপন, আপনার নিচে কিছুই নেই।" হাদীসটি ইমাম আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) একে হাসান সহীহ বলেছেন।
এর প্রতিবাদে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত আরও একটি হাদীস উল্লেখযোগ্য: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মাঝে রাতে ও দিনে পালাক্রমে ফেরেশতাগণ আগমন করেন। তারা ফজর ও আসরের সালাতের সময় একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের কাছে রাত কাটিয়েছিলেন তারা উপরে আরোহণ করেন। তখন মহান আল্লাহ তাদের জিজ্ঞেস করেন—যদিও তিনি তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত—'তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে?' তারা বলে, 'আমরা যখন তাদের ছেড়ে এসেছি তখন তারা সালাত আদায় করছিল এবং যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায় করছিল'।" এটি ইমাম মালিক, আহমাদ, বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
অনুরূপভাবে আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এই হাদীসটিও এর খণ্ডন করে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ঘুমান না এবং ঘুমানো তাঁর মর্যাদার সমীচীন নয়,
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يخفض القسط ويرفعه، يرفع إليه عمل الليل قبل عمل النهار، وعمل النهار قبل عمل الليل))؛ الحديث رواه الإمام أحمد ومسلم وابن ماجه.
وكما أنَّ هذه الأحاديث دالة على علوِّ الربِّ تبارك وتعالى فوق جميع المخلوقات، وأنَّه بائن من خلقه، ففيها أيضًا أبلغ رد على من زَعَم أنَّ معية الله لخلقه معية ذاتية.
والأحاديث في الردِّ على مَن قال بهذا القول الباطل كثيرة جدًّا، وفيما ذكرته كفاية إنْ شاء الله.
"তিনি তুলাদণ্ড অবনমিত করেন এবং তা উন্নীত করেন; দিনের আমলের পূর্বে রাতের আমল এবং রাতের আমলের পূর্বে দিনের আমল তাঁর সমীপে পেশ করা হয়"—হাদিসটি ইমাম আহমাদ, মুসলিম এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
এই হাদিসসমূহ যেমন বরকতময় ও মহান প্রতিপালকের সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে সমুন্নত হওয়ার প্রমাণ বহন করে এবং তিনি যে তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক—তা সাব্যস্ত করে, তেমনি এতে ওই ব্যক্তির ভ্রান্ত দাবির বিরুদ্ধেও বলিষ্ঠ খণ্ডন রয়েছে, যে মনে করে যে সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সান্নিধ্য বা সাথে থাকা হলো তাঁর সত্তাগত সান্নিধ্য।
এই বাতিল মতবাদ পোষণকারীদের খণ্ডনে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা অনেক; আর ইনশাআল্লাহ আমি যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فصل
ومن المأثور عن الصَّحابة رضي الله عنهم في إثبات العُلُو لله - تعالى - ما رواه ابنُ أبي حاتم والبيهقي في كتاب "الأسماء والصفات"، عن جرير بن حازم قال: سمعت أبا يزيد يُحدث قال: لقيتْ امرأةٌ عُمَرَ رضي الله عنه يقال لها: خولة بنت ثعلبة، وهو يسير مع الناس، فاستوقفته، فوقف لها، ودنا منها، وأصغى إليها رأسه، حتى قضت حاجتها وانصرفت، فقال له رجل: يا أمير المؤمنين، حبست رجالات قريش على هذه العجوز، قال: "ويْحك أَوَتدري مَن هذه؟ قال: لا، قال: هذه امرأة سمع الله شكواها من فوق سبع سموات، هذه خولة بنت ثعلبة، والله لو لم تنصرف عني إلى الليل ما انصرفت عنها، حتى تقضي حاجتها إلَاّ أن تحضر صلاةٌ فأصليها، ثم أرجع إليها حتى تقضي حاجتها"، وقد ذكر هذا الأثر أبو عمر ابن عبدالبر في "الاستيعاب"، وقال: رويناه من وجوه.
ومن ذلك ما رواه الإمامُ أحمد والبخاري والترمذي والنَّسائي، عن أنس رضي الله عنه قال: كانت زينب تفخر على أزواج النَّبي صلى الله عليه وسلم تقول: "زوجكن أهاليكن، وزوجني الله - تعالى - من فوق سبع
পরিচ্ছেদ
মহান আল্লাহর সুউচ্চতা (উলুউ) প্রমাণের বিষয়ে সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ইবনে আবি হাতেম এবং বায়হাকি কর্তৃক "আল-আসমা ওয়াস-সিফাত" গ্রন্থে বর্ণিত হাদিস। জাবির ইবনে হাজিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু ইয়াজিদকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: খাওলা বিনতে সা'লাবা নামক এক নারী ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন যখন তিনি লোকজনের সাথে পথ চলছিলেন। সেই নারী তাঁকে থামতে বললে তিনি তাঁর জন্য থামলেন, তাঁর নিকটবর্তী হলেন এবং তাঁর দিকে মাথা নিচু করে মনোযোগ দিলেন যতক্ষণ না নারীটি তাঁর প্রয়োজন ব্যক্ত করা শেষ করে ফিরে গেলেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি কুরাইশ বংশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই বৃদ্ধার জন্য আটকে রাখলেন? তিনি বললেন: "তোমার দুর্ভোগ! তুমি কি জানো ইনি কে?" সে বলল: না। তিনি বললেন: "ইনি সেই নারী যার ফরিয়াদ আল্লাহ তাআলা সাত আসমানের ওপর থেকে শুনেছেন। ইনি খাওলা বিনতে সা'লাবা। আল্লাহর শপথ, যদি তিনি রাত পর্যন্ত আমার কাছ থেকে না যেতেন, তবে আমি তাঁর প্রয়োজন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে যেতাম না; কেবল নামাজের সময় হলে আমি নামাজ আদায় করতাম, অতঃপর পুনরায় তাঁর কাছে ফিরে আসতাম যতক্ষণ না তাঁর প্রয়োজন পূরণ হতো।" আবু ওমর ইবনে আব্দুল বার "আল-ইস্তিয়াব" গ্রন্থে এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমরা এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছি।
অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ, বুখারি, তিরমিজি এবং নাসাঈ আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যান্য স্ত্রীদের সামনে গর্ব করে বলতেন: "তোমাদের পরিবার তোমাদের বিয়ে দিয়েছে, আর আল্লাহ তাআলা সাত আসমানের ওপর থেকে আমার বিয়ে দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
سموات"، قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.
ومن ذلك ما رواه الإمام أحمد بإسناد صحيح عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال لعائشة رضي الله عنها: "كنتِ أحبَّ نساء رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب إلا طيبًا، وأنزل الله براءتك من فوق سبع سموات، جاء بها الرُّوح الأمين"، ورواه ابن سعد في الطبقات، وإسناده صحيح على شرط مسلم.
ومن ذلك ما رواه سُنَيْدُ بن داود، حدثنا حماد بن زيد، عن عاصم بن بهدلة، عن زر بن حبيش، عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: "الله فوق العرش لا يَخفى عليه شيء من أعمالكم"، إسناده صحيح، وقد رواه عثمان بن سعيد الدَّارمي عن موسى بن إسماعيل عن حماد بن سلمة عن عاصم، عن زر، عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: "ما بين السماء الدُّنيا، والتي تليها خمسمائة عام، وبين كُلِّ سماء مَسيرةُ خمسمائة عام، وبين السَّماء السابعة وبين الكرسي خمسمائة عام، وبين الكُرسي وبين الماء خمسمائة عام، والعرش على الماء، والله - تعالى - فوق العرش، وهو يعلم ما أنتم عليه"؛ إسناده صحيح، ورواه البيهقي في كتاب "الأسماء والصفات" من طريق
আসমানসমূহ", ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা ইমাম আহমাদ একটি সহীহ সনদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "আপনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়, আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র বস্তু ব্যতীত অন্য কিছু ভালোবাসতেন না। আল্লাহ তাআলা সাত আসমানের উপর থেকে আপনার পবিত্রতা অবতীর্ণ করেছেন, যা রূহুল আমীন (জিবরাঈল আলাইহিস সালাম) নিয়ে এসেছিলেন।" ইবনে সা’দ ‘আত-তবাকাত’-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো যা সুনাইদ ইবনে দাঊদ বর্ণনা করেছেন—আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে বাহদালার সূত্রে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ আরশের উপরে, তোমাদের আমলসমূহের কোনো কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়।" এর সনদ সহীহ। উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারেমী এটি বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে ইসমাঈলের সূত্রে, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি যির থেকে এবং তিনি ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "দুনিয়া বা নিকটতম আসমান এবং তার পরবর্তী আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো পাঁচশ বছরের পথ। অনুরূপভাবে প্রতিটি আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ। সপ্তম আসমান এবং কুরসীর মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ। কুরসী এবং পানির মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ। আর আরশ হলো পানির উপরে, এবং আল্লাহ তাআলা আরশের উপরে অবস্থান করছেন। তিনি জানেন তোমরা কোন্ অবস্থায় আছ।" এর সনদ সহীহ। ইমাম বায়হাকী তাঁর 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন... এর সূত্রে
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عبدالرحمن بن مهدي، عن حماد بن سلمة فذكره بنحوه، ورواه ابن عبدالبر في التَّمهيد من طريق يزيد بن هارون، عن حماد بن سلمة، عن عاصم بن بهدلة، عن زر، عن عبدالله بن مسعود رضي الله عنه قال: "ما بين السماء والأرض مَسيرةُ خمسمائة عام، وما بين كل سماء إلى الأخرى مَسيرة خمسمائة عام، وما بين السَّماء السابعة إلى الكرسي مَسيرة خمسمائة عام، والعَرش على الماء، والله تبارك وتعالى على العرش يعلم أعمالكم"، ورَواه البيهقي أيضًا من طريق عبدالرحمن بن عبدالله بن عتبة - وهو المسعودي - عن عاصم بن بهدلة، عن أبي وائل - واسمه شقيق بن سلمة - عن عبدالله بن مسعود رضي الله عنه فذكره بنحوه.
ومن ذلك ما رواه إسحاق بن راهويه، عن عكرمة في قوله - تعالى - مخبرًا عن إبليس أنَّه قال: {ثُمَّ لآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} [الأعراف: 17]، قال ابن عباس رضي الله عنهما: "لم يستطع أنْ يقول: مِن فوقهم علم أنَّ الله مِن فَوقهم".
ومن ذلك قول ابن مسعود رضي الله عنه: "من قال: سبحان الله، والحمد لله، ولا إلهَ إلا الله، واللهُ أكبر، تلقَّاهن مَلَك، فعرج
আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনুল বার এটি তাঁর ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে ইয়াযীদ ইবনে হারুন সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আসিম ইবনে বাহদালাহ থেকে, তিনি যির থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ, প্রত্যেক আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ, সপ্তম আসমান ও কুরসীর মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশত বছরের পথ এবং আরশ পানির উপরে অবস্থিত। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরশের উপরে আছেন এবং তিনি তোমাদের আমল সম্পর্কে অবগত।" বাইহাকীও এটি আব্দুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ—যিনি আল-মাসউদী নামে পরিচিত—সূত্রে আসিম ইবনে বাহদালাহ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল—তাঁর নাম শাকীক ইবনে সালামাহ—থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন মহান আল্লাহর সেই বাণীর ব্যাখ্যায় যেখানে তিনি ইবলিসের উক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে: {অতঃপর আমি অবশ্যই তাদের নিকট আসব তাদের সম্মুখ হতে, তাদের পশ্চাৎ হতে, তাদের দক্ষিণ হতে এবং তাদের বাম হতে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না} [সূরা আল-আরাফ: ১৭]। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "সে ‘তাদের উপর থেকে’ বলতে সক্ষম হয়নি, কারণ সে জানত যে আল্লাহ তাদের উপরে রয়েছেন।"
এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তি: "যে ব্যক্তি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলে, একজন ফেরেশতা তা গ্রহণ করেন এবং তা নিয়ে ঊর্ধ্বে আরোহণ করেন..."
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بهن إلى الله، فلا يَمر بملأ من الملائكة إلَاّ استغفروا لقائلهن حتى يَجيء بهن وجه الرحمن"، قال ابنُ القيم في كتاب "اجتماع الجيوش الإسلامية": أخرجه العسال في كتاب "المعرفة" بإسنادٍ كلُّهم ثقات.
ومن ذلك قصة عبد الله بن رواحة رضي الله عنه مع امرأته حين وقع على أمته، وهي مشهورة، وقد ذكرها ابن عبد البر في "الاستيعاب"، وقال: رويناها من وجوه صحاح، وذلك أنه مشى ليلة إلى أَمَةٍ له فنالها، وفطنت له امرأته، فلامته فجحدها، وكانت قد رأت جِمَاعَه لها، فقالت له: إن كنت صادقًا، فاقرأ القرآن، فإنَّ الجنب لا يقرأ القرآن، فقال:
شَهِدْتُ بِأَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ
… وَأَنَّ النَّارَ مَثْوَى الْكَافِرِينَا
وَأَنَّ الْعَرْشَ فَوْقَ الْمَاءِ حَقٌّ
… وَفَوْقَ الْعَرْشِ رَبُّ الْعَالَمِينَا
وَتَحْمِلُهُ مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ
… مَلَائِكَةُ الْإِلَهِ مُسَوِّمِينَا
فقالت امرأته: صدق الله، وكذبت عيني، وكانت لا تَحفظ القرآن ولا تقرؤه، وقد رواها الذهبي في "سير أعلام النبلاء" بإسناده إلى عبدالعزيز بن أخي الماجشون، وفيه أنَّ امرأةَ عبدالله بن رواحة قالت له لما جحد خلوته بجاريته: إن كنت
"...সেগুলো নিয়ে আল্লাহর দিকে; সেগুলো ফেরেশতাদের কোনো দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তারা পাঠকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, যতক্ষণ না তা পরম দয়ালু আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হয়।" ইবনুল কায়্যিম 'ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আল-আসসাল এটি 'আল-মারিফাহ' গ্রন্থে এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর স্ত্রীর সেই প্রসিদ্ধ ঘটনা, যখন তিনি তাঁর দাসীর সাথে মিলিত হয়েছিলেন। ইবনে আবদিল বার 'আল-ইস্তিআব' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: আমরা এটি বিভিন্ন বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণনা করেছি। ঘটনাটি হলো, এক রাতে তিনি তাঁর এক দাসীর নিকট গিয়ে তাঁর সাথে মিলিত হন। তাঁর স্ত্রী বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে তিরস্কার করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। অথচ তাঁর স্ত্রী তাঁকে সহবাস করতে দেখেছিলেন। তখন স্ত্রী বললেন: "আপনি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকেন তবে কুরআন তিলাওয়াত করুন, কেননা অপবিত্র অবস্থায় কেউ কুরআন পাঠ করে না।" তখন তিনি আবৃত্তি করলেন:
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ধ্রুব সত্য
… আর জাহান্নাম হলো কাফেরদের আবাসস্থল।
আর আরশ পানির ওপর বিদ্যমান থাকা সত্য
… আর আরশের ওপর রয়েছেন বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
তা বহন করে আছে শক্তিশালী ফেরেশতাগণ
… মহান আল্লাহর চিহ্নিত ফেরেশতাগণ।
তখন তাঁর স্ত্রী বললেন: "আল্লাহ সত্য বলেছেন, আর আমার চোখই ভুল দেখেছে।" আসলে তিনি কুরআন হিফজ জানতেন না এবং তা পড়তেও পারতেন না। ইমাম আয-যাহাবি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে আবদুল আজিজ বিন আখিল মাজিশুনের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তাতে উল্লেখ আছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা যখন দাসীর সাথে নির্জনে অবস্থানের বিষয়টি অস্বীকার করলেন, তখন তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন: "যদি আপনি..."
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
صادقًا فاقرأ آية من القرآن، فقال:
شَهِدْتُ بِأَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ
… وَأَنَّ النَّارَ مَثْوَى الْكَافِرِينَا
قالت فزدني آية فقال:
وَأَنَّ الْعَرْشَ فَوْقَ الْمَاءِ طَافٍ
… وَفَوْقَ الْعَرْشِ رَبُّ الْعَالَمِينَا
وَتَحْمِلُهُ مَلَائِكَةٌ كِرَامٌ
… مَلَائِكَةُ الْإِلَهِ مُقَرَّبِينَا
فقالت: آمنتُ بالله، وكَذَّبْتُ البَصَر، فأتى رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فحدثه، فضَحِكَ، ولم يغير عليه.
ومن ذلك ما رواه ابنُ سعد: أنبأنا مالك بن إسماعيل النهدي، أنبأنا عمر بن زياد، عن عبدالملك بن عمير، قال: جاء حسان بن ثابت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: أُسَمِّكَ يا رسول الله، قال: "قل حقًّا" فقال:
شَهِدْتُ بِإِذْنِ اللَّهِ أَنَّ مُحَمَّدًا
… رَسُولُ الَّذِي فَوْقَ السَّمَوَاتِ مِنْ عَلُ
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((وأنا أشهد))، فقال:
وَأَنَّ الَّذِي عَادَى الْيَهُودَ ابْنُ مَرْيَمٍ
… لَهُ عَمَلٌ مِنْ رَبِّهِ مُتَقَبَّلُ
فقال: ((وأنا أشهد)).
وقد ذكره الذهبي في "سير أعلام النبلاء"، وقال في البيت الأخير:
যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন তবে কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করুন, তখন তিনি বললেন:
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য
… এবং জাহান্নাম কাফেরদের আবাসস্থল
সে বলল: আমাকে আরও একটি আয়াত শুনান। তখন তিনি বললেন:
আর নিশ্চয়ই আরশ পানির উপরে ভাসমান
… এবং আরশের উপরে রয়েছেন সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক
এবং সম্মানিত ফেরেশতারা তা বহন করছে
… আল্লাহর সেই নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাবৃন্দ
তখন সে বলল: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম এবং নিজের দৃষ্টিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানালেন, তিনি হাসলেন এবং এর কোনো প্রতিবাদ করলেন না।
অনুরূপ একটি বর্ণনা ইবনে সাদ উদ্ধৃত করেছেন: মালিক ইবনে ইসমাঈল আল-নাহদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবনে যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি বলেন: হাসসান ইবনে সাবিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আপনার প্রশংসা (গুণগান) করব? তিনি বললেন: "সত্য বলো।" তখন তিনি বললেন:
আমি আল্লাহর অনুমতিক্রমে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ হলেন
… তাঁর রাসূল যিনি সুউচ্চ আসমানসমূহের উপরে রয়েছেন
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি।" এরপর তিনি বললেন:
আর যাঁর সাথে ইহুদিরা শত্রুতা পোষণ করেছিল সেই মারিয়াম-পুত্র (ঈসা)
… তাঁর আমল তাঁর প্রতিপালকের নিকট কবুলযোগ্য
তিনি বললেন: "আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি।"
ইমাম আয-যাহাবী এটি "সিয়ারু আলামিন নুবালা" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং শেষ পঙক্তিটি সম্পর্কে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَأَنَّ الَّذِي عَادَى الْيَهُودَ ابْنُ مَرْيَمٍ
… نَبِيٌّ أَتَى مِنْ عِنْدِ ذِي الْعَرْشِ مُرْسَلُ
وهكذا هو في "ديوان حسان بن ثابت" رضي الله عنه.
ومن ذلك ما رواه عثمان بن سعيد الدَّارمي في كتاب "النقض" على المريسي، بإسناد جيد عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: "لَمَّا ألقي إبراهيم في النار، قال: اللهم إنك في السماء واحد، وأنا في الأرض واحد أعبدك".
وكما أنَّ هذه الآثار المروية عن الصحابة رضي الله عنهم تدُلُّ على إثبات العلو لله - تعالى - ففيها أبلغ رَدٍّ على من زعم أنَّ معية الله لخلقه مَعِيَّة ذاتية.
এবং নিশ্চয়ই মরিয়ম তনয় (ঈসা) ইয়াহুদিদের বিরোধিতা করেছিলেন
… তিনি মহান আরশের অধিপতির পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন নবী।
আর এভাবেই এটি "দীওয়ান হাসসান বিন সাবিত" (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এ বর্ণিত হয়েছে।
আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যা উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি "আন-নাকদ আলাল মারিসি" গ্রন্থে উত্তম সনদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন ইবরাহীমকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আকাশে এক ও অদ্বিতীয়, আর আমি জমিনে একমাত্র ব্যক্তি যে আপনার ইবাদত করছি।"
সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত এই আছারসমূহ যেমন আল্লাহ তা'আলার সুউচ্চতা প্রমাণের দলীল, তেমনি এতে ওই ব্যক্তির দাবির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ খণ্ডন রয়েছে যে ধারণা করে যে, সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাহচর্য (মা'ইয়াত) হলো সত্তাগত।
(খণ্ড: ১)
ইসবাতু উলুবিল্লাহি ওয়া মুবায়ানাতিহি লি-খালকিহি ওয়ার-রাদ্দু আলা মান যাআমা আন্না মায়িয়াতাল্লাহি লিল-খালকি যাতিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فصل
وأمَّا إجماعُ أهل السنة والجماعة على خلاف ما زعمه القائل بأنَّ معية الله لخلقه معية ذاتية، فقد حكاه غيرُ واحد من أكابر العُلماء، من أجلهم إمامُ أهل السنة أحمد بن حنبل - رحمه الله تعالى - فقد روى القاضي أبو الحسين في "طبقات الحنابلة" بإسناد إلى أبي العباس أحمد بن جعفر بن يعقوب بن عبدالله الفارسي الإصطخري، قال: قال أبو عبدالله أحمد بن محمد بن حنبل: هذه مذاهبُ أهل العلم وأصحابُ الأثر، وأهل السنة المتمسِّكين بعروقها، العارفين بها، المقتدى بهم فيها من لدُن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا، وأدركت من علماء أهلِ الحجاز والشام وغيرهم عليها، فمن خالف شيئًا من هذه المذاهب، أو طعن فيها أو عاب قائلها، فهو مُبتدع خارجٌ من الجماعة، زائل عن منهج السنة وسبيل الحق.
ثم ساق الإمامُ أحمد أقوالهم في هذه العقيدة إلى أنْ قال: وخلق سبع سمواتٍ بعضها فوق بعض، وسبع أرضين بعضها أسفل من بعض، وبين الأرض العُليا والسماء الدُّنيا مسيرة خمسمائة عام، وبين كل سماء إلى سماء مَسيرة خمسمائة عام، والماء فوق السماء العُليا
পরিচ্ছেদ
আর সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সান্নিধ্য (মা’ইয়্যাহ) ‘সত্তাগত’—এই দাবিদারের দাবির বিপরীতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের যে ইজমা বা ঐকমত্য রয়েছে, তা একাধিক বরেণ্য আলেম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় হলেন আহলুস সুন্নাহর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। কাযী আবুল হুসাইন ‘তাবাকাতুল হানাবিলাহ’ গ্রন্থে আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফারিসি আল-ইস্তখরি পর্যন্ত একটি সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: এগুলো হলো ইলমধারী ব্যক্তিবর্গ, আসার বা হাদীস অনুসারী এবং আহলুস সুন্নাহর মাযহাব বা পথ, যাঁরা সুন্নাহর মূল ভিত্তি আঁকড়ে ধরে আছেন, সে সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যাঁদের এ পথে অনুসরণ করা হয়। আমি হিজাজ ও শামের আলেমসহ অন্যান্যদের এই মতাদর্শের ওপরই পেয়েছি। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মতাদর্শের কোনো বিষয়ের বিরোধিতা করবে, অথবা এতে কটাক্ষ করবে কিংবা এর প্রবক্তাকে দোষারোপ করবে, সে একজন বিদআতি এবং জামাআত থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তি, যে সুন্নাহর মানহাজ ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত।
অতঃপর ইমাম আহমাদ এই আকিদা সংক্রান্ত তাঁদের বক্তব্যসমূহ বর্ণনা করতে করতে একপর্যায়ে বলেন: এবং তিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন একটির ওপর অন্যটি হিসেবে, এবং সাতটি জমিন একটির নিচে অন্যটি হিসেবে। উপরিভাগস্থ জমিন ও নিকটতম আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো পাঁচশ বছরের পথ, এবং এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্ব হলো পাঁচশ বছরের পথ, আর সর্বোচ্চ আসমানের ওপর রয়েছে পানি।