(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: -)
تنبيهات على رسالتين للشيخ أبي بكر الجزائري القسم: الفرق والردود
الكتاب: تنبيهات على رسالتين للشيخ أبي بكر الجزائري
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: مكتبة المعارف، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 45
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
শেখ আবু বকর আল-জাযাইরির দুটি পুস্তিকার ওপর পর্যবেক্ষণসমূহ বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন
গ্রন্থ: শেখ আবু বকর আল-জাযাইরির দুটি পুস্তিকার ওপর পর্যবেক্ষণসমূহ
লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরি (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: -)
تنبيهات على رسالتين للشيخ أبي بكر الجزائري
أولاهما المسماة بـ «الأحاديث النبوية الشريفة في أعاجيب المخترعات الحديثة»
والثانية المسماة بـ «اللقطات في بعض ما ظهر للساعة من علامات»
تأليف
الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود التويجري
غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين
مكتبة المعارف
শাইখ আবু বকর আল-জাযায়িরী প্রণীত দুটি পুস্তিকার ওপর কিছু সতর্কবার্তা
প্রথমটি ‘আধুনিক বিস্ময়কর আবিষ্কারসমূহের বর্ণনায় মহিমান্বিত নববী হাদিসসমূহ’ নামক
এবং দ্বিতীয়টি ‘কিয়ামতের প্রকাশিত কিছু নিদর্শনাদির সংকলন’ নামক
রচনায়
আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ আত-তুওয়াইজারি
আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন
মাকতাবাতুল মা’আরিফ
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فقد كتبت هذه التنبيهات على نسخة بخط المؤلف أبي بكر جابر الجزائري، وقد أرسلها إلى الشيخ عبد العزيز بن عبد الله ابن باز للنظر فيها، والتنبيه على ما يكون فيها من الأخطاء.
وقد أحالها الشيخ عبد العزيز إليّ فكتبت عليها التنبيهات المذكورة في هذه الأوراق، وقد طبعت الرسالتان الطبعة الأولى في مطبعة المعرفة، نشر مكتبة الكليات الأزهرية سنة 1404 هـ على ما كان فيهما من الأخطاء، ولم يلحق بهما شيء من التنبيهات، وقد سميت الرسالة الأولى في النسخة المطبوعة باسم الرسالة الثانية في النسخة التي بخط المؤلف. وسميت الرسالة الثانية في النسخة المطبوعة باسم الرسالة الأولى في النسخة التي بخط المؤلف. ولا أدري هل وقع هذا سهواً أو لقصد آخر، وحيث إن التنبيه على الأخطاء الواقعة في الرسالتين مهم جداً فقد رأيت أنه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সকল সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
লেখক আবু বকর জাবির আল-জাযাইরি-এর স্বহস্তে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপির ওপর আমি এই সতর্কতামূলক টীকাগুলো লিখেছি। তিনি এটি শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায-এর নিকট পাঠিয়েছিলেন যেন তিনি তা পর্যবেক্ষণ করেন এবং এতে বিদ্যমান ভুলত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে দেন।
শায়খ আব্দুল আজিজ পাণ্ডুলিপিটি আমার নিকট অর্পণ করেন, অতঃপর আমি এই পৃষ্ঠাগুলোতে বর্ণিত সতর্কতামূলক টীকাগুলো তাতে লিখে দিই। পুস্তিকা দুটি ১৪০৪ হিজরি সনে 'মাকতাবাতুল কুল্লিয়াত আল-আযহারিয়্যাহ' কর্তৃক প্রকাশিত এবং 'মাতবাআতুল মা’রিফাহ' থেকে প্রথমবার মুদ্রিত হয়। তাতে বিদ্যমান ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করা ছাড়াই তা মুদ্রিত হয়েছিল এবং সেখানে কোনো সতর্কতামূলক টীকাও সংযোজন করা হয়নি। অধিকন্তু, মুদ্রিত সংস্করণে প্রথম পুস্তিকাটিকে লেখকের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় পুস্তিকার নামে এবং মুদ্রিত সংস্করণের দ্বিতীয় পুস্তিকাটিকে লেখকের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির প্রথম পুস্তিকার নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমি জানি না এটি কি অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে। যেহেতু এই পুস্তিকা দুটিতে বিদ্যমান ভুলগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা অত্যন্ত জরুরি, তাই আমি মনে করেছি যে...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ৪)
يتعين نشر التنبيهات مفردة ليطلع عليها من كانت عنده النسخة المطبوعة، ويعلموا وجه الصواب فيما ذكره المؤلف، وقد ذكرت في التنبيهات أرقام الصفحات في النسخة التي بخط المؤلف، وسأذكر معها أرقام الصفحات في النسخة المطبوعة لتسهل مراجعة الأخطاء فيها إن شاء الله تعالى.
والله المسئول أن يريني وإخواني المسلمين الحق حقاً ويرزقنا اتباعه، ويرينا الباطل باطلا ويرزقنا اجتنابه ولا يجعله ملتبساً علينا فنضل.
সংশোধনীসমূহ পৃথকভাবে প্রকাশ করা আবশ্যক যাতে যাদের কাছে মুদ্রিত কপিটি রয়েছে তারা তা অবগত হতে পারেন এবং লেখক যা বর্ণনা করেছেন তার সঠিক রূপটি জানতে পারেন। আমি এই সংশোধনীগুলোতে লেখকের স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি এবং সেই সঙ্গে মুদ্রিত কপির পৃষ্ঠা নম্বরও উল্লেখ করব, যাতে ইনশাআল্লাহ তাআলা এতে বিদ্যমান ভুলসমূহ পর্যালোচনা করা সহজ হয়।
আর আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা, তিনি যেন আমাকে ও আমার মুসলিম ভাইদেরকে সত্যকে সত্যরূপে দেখান এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করেন; আর মিথ্যাকে মিথ্যারূপে দেখান এবং তা বর্জনের তাওফিক দান করেন। তিনি যেন সত্য-মিথ্যাকে আমাদের কাছে অস্পষ্ট না রাখেন, যার ফলে আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাই।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
فصل
في التنبيه على الأخطاء التي في الرسالة الأولى
في صفحة 2 وصفحة 3 وصفحة 5 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 7 وصفحة 12 من النسخة المطبوعة: ذكر أبو بكر الجزائري قول النبي صلى الله عليه وسلم: «سيكون في آخر أمتي رجال يركبون على سروج كأشباه الرجال» الحديث. ولم يعزه. وقد رواه الإمام أحمد في المسند، وابن حبان في صحيحه من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما. وهو في صفحة 223 ج2 من الطبعة الأولى من المسند، وفي صفحة 36 - 38 ج 12 من الطبعة الأخيرة التي عليها تعليق أحمد محمد شاكر. وأما صحيح ابن حبان فهو في صفحة 351 من موارد الظمآن، ورواه الطبراني والحاكم في المستدرك بلفظ غير اللفظ الذي ذكره الجزائري. وأسانيده كلها صحيحه.
وفي صفحة 4 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 10 من النسخة المطبوعة: ذكر الجزائري ما رواه الدارمي في مسنده وأبو نعيم في الحلية عن أبي الزاهرية يرفعه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله قال أبث العلم في آخر الزمان» الحديث وهو
পরিচ্ছেদ
প্রথম পুস্তিকায় বিদ্যমান ভুলত্রুটিসমূহের প্রতি সতর্কীকরণ প্রসঙ্গে
লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ২, ৩ ও ৫ পৃষ্ঠায়, যা মুদ্রিত সংস্করণের ৭ ও ১২ পৃষ্ঠায় রয়েছে: আবু বকর আল-জাযাইরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি উল্লেখ করেছেন: «আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন কিছু পুরুষ হবে যারা পুরুষদের সদৃশ জিনের (সওয়ারি) উপর আরোহণ করবে»—হাদীসটি। তিনি এর কোনো সূত্র উল্লেখ করেননি। অথচ ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ-তে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি মুসনাদ-এর প্রথম মুদ্রণের ২য় খণ্ডের ২২৩ পৃষ্ঠায় এবং আহমাদ মুহাম্মদ শাকিরের টীকা সম্বলিত সর্বশেষ সংস্করণের ১২তম খণ্ডের ৩৬-৩৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে। আর সহীহ ইবনে হিব্বানের বর্ণনাটি মাওয়ারিদুজ জামআন-এর ৩৫১ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান। তাবারানি এবং হাকেম আল-মুসতাদরাক-এ আল-জাযাইরি কর্তৃক উল্লিখিত শব্দের ভিন্ন শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল সনদই সহীহ।
লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ৪ পৃষ্ঠায়, যা মুদ্রিত সংস্করণের ১০ পৃষ্ঠায় রয়েছে: আল-জাযাইরি সেই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন যা দারেমি তাঁর মুসনাদে এবং আবু নুআইম আল-হিলইয়া গ্রন্থে আবুল যাহিরিয়্যাহ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেছেন, আমি শেষ জামানায় জ্ঞান ছড়িয়ে দেব»—হাদীসটি, আর তা হলো
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ৬)
مرسل. ورواته عند الدارمي كلهم ثقات. أولهم من رجال البخاري والباقون من رجال مسلم. وهو في صفحة 80 ج 1 من سنن الدارمي طبع مطبعة الاعتدال بدمشق عام 1349 هـ وقد تكلف الجزائري حيث زعم أن في هذا الحديث إخباراً عن وجود الراديو في آخر الزمان. ولو أنه استدل به على وجود المطابع وكثرتها في جميع أنحاء الأرض، وانتشار الكتب المطبوعة في شتى العلوم، وانتشار التعليم في المدن والقرى لكان أقرب إلى مطابقة ما جاء في الحديث.
وفي صفحة 5 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 12 من النسخة المطبوعة: استدل الجزائري بذكر الطير الأبابيل في سورة الفيل على أن القرآن قد دل على وجود الطائرات النفاثات التي تحمل القذائف وتقذف بها على الجيوش المعادية. ولا يخفي ما في هذا الاستدلال من التكلف والقول في القرآن بغير علم، وحمل القرآن على غير محامله. وما أعظم ذلك وأشد خطره.
وفي صفحة 5 النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 13 من النسخة المطبوعة: قال الجزائري: وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم في رواية أحمد وغيره: «لا تقوم الساعة حتى تظهر الفتن ويكثر
এটি একটি মুরসাল বর্ণনা। আদ-দারিমীর সূত্রে এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। তাদের প্রথম জন ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং অবশিষ্টগণ ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। এটি ১৩৪৯ হিজরিতে দামেস্কের আল-ইতিদাল ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত সুনানে দারিমীর ১ম খণ্ডের ৮০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। আল-জাজাইরি এখানে অত্যন্ত কষ্টকল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন যখন তিনি দাবি করেছেন যে, এই হাদীসে শেষ জামানায় রেডিওর অস্তিত্বের সংবাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ তিনি যদি এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছাপাখানার প্রাচুর্য, বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় মুদ্রিত পুস্তকের প্রসার এবং শহর ও গ্রামে শিক্ষার বিস্তারের পক্ষে দলিল পেশ করতেন, তবে তা হাদীসে বর্ণিত বিষয়ের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো।
লেখকের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ১২ নম্বর পৃষ্ঠায়: আল-জাজাইরি সূরা ফিলের 'আবাবিল পাখি'র উল্লেখ থেকে এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, কুরআন মূলত এমন জেট বিমানের অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেছে যা শক্তিশালী মারণাস্ত্র বহন করে এবং শত্রুবাহিনীর ওপর তা নিক্ষেপ করে। এই ধরনের দলিল উপস্থাপনের মাঝে যে চরম কষ্টকল্পনা, ইলম ব্যতীত কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান এবং কুরআনকে তার সঠিক মর্মার্থ থেকে বিচ্যুত করার প্রবণতা রয়েছে, তা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। এটি কতই না গুরুতর অন্যায় এবং এর ঝুঁকি কতই না ভয়াবহ!
লেখকের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ১৩ নম্বর পৃষ্ঠায়: আল-জাজাইরি বলেছেন, ইমাম আহমাদ ও অন্যদের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং বৃদ্ধি পাবে...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
الكذب وتتقارب الأسواق ويتقارب الزمان وتطوى الأرض» الحديث. قلت: قد رواه الإمام أحمد في مسنده من حديث أبي هريرة رضي الله عنه ورواته كلهم ثقات. وهو في صفحة 519ج 2 من الطبعة الأولى. ورواه ابن حبان في صحيحة، وهو في صفحة 465 من موارد الظمآن، وليس فيه: (وتطوى الأرض) لا عند أحمد ولا عند ابن حبان، فلا أدري من أين جاء به الجزائري وأدخله في الحديث.
وفي صفحة 6 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 13 من النسخة المطبوعة: ذكر الجزائري طرفاً من الحديث الذي رواه مسلم من حديث النواس بن سمعان رضي الله عنه في ذكر الدجال. وفيه: قلنا: يا رسول الله وما إسراعه في الأرض؟ قال: «كالسحاب استدبرته الريح» هكذا قال الجزائري كالسحاب، وهو خطأ. وصوابه: «كالغيث استدبرته الريح» هكذا هو في صحيح مسلم وهو في صفحة 2252 ج 4 من طبع إحياء الكتب العربية التي عليها تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي. وفي صفحة 66 ج 18 طبع المطبعة المصرية التي عليها شرح النووي. وقد زعم الجزائري أن الحديث يدل على وجود الطائرات في آخر
"...মিথ্যা (ছড়িয়ে পড়া), বাজারসমূহ নিকটবর্তী হওয়া, সময় সংকুচিত হওয়া এবং জমিন সংকুচিত করা"—হাদিস। আমি বলছি: ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। এটি প্রথম মুদ্রণের ২য় খণ্ডের ৫১৯ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান। ইবনে হিব্বানও তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, যা 'মাওয়ারিদুজ জামআন'-এর ৪৬৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে। তবে আহমদ কিংবা ইবনে হিব্বান—কারও বর্ণনাতেই 'জমিন সংকুচিত করা হবে' কথাটি নেই। তাই আমি জানি না আল-জাযাইরি কোথা থেকে এটি এনে হাদিসের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
পাণ্ডুলিপির ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত কপির ১৩তম পৃষ্ঠায়: আল-জাযাইরি ইমাম মুসলিম বর্ণিত নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.)-এর দাজ্জাল বিষয়ক হাদিসের একটি অংশ উল্লেখ করেছেন। তাতে আছে: আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! জমিনে তার দ্রুতগতি কেমন হবে? তিনি বললেন: "মেঘের মতো যাকে বাতাস পেছন থেকে তাড়িয়ে নেয়।" আল-জাযাইরি এভাবেই 'মেঘ' শব্দে উল্লেখ করেছেন, যা একটি ভুল। এর সঠিক পাঠ হলো: "বৃষ্টির মতো যাকে বাতাস পেছন থেকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়।" সহিহ মুসলিম-এ এভাবেই এসেছে এবং এটি মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির তাহকিককৃত 'ইহইয়াউল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ' সংস্করণের ৪ নম্বর খণ্ডের ২২৫২ পৃষ্ঠায় রয়েছে। এছাড়া ইমাম নববীর ব্যাখ্যা সংবলিত মিশরীয় মুদ্রণের ১৮ খণ্ডের ৬৬ পৃষ্ঠায় এটি পাওয়া যাবে। আল-জাযাইরি দাবি করেছেন যে, এই হাদিসটি শেষ জমানায় উড়োজাহাজের অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
الزمان. وأن سرعة الدجال في الأرض إنما تكون على مثل الطائرات. وهذا مردود بما جاء في حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في الدجال: «وله حمار يركبه عرض ما بين أذنيه أربعون ذراعاً» الحديث رواه الإمام أحمد بإسناد صحيح علي شرط البخاري ومسلم. ورواه الحاكم في المستدرك وصححه ووافقه الذهبي على تصحيحه وقال: إنه على شرط مسلم، وروى الحاكم أيضاً من حديث أبي الطفيل رضي الله عنه، عن حذيفة بن أسيد رضي الله عنه، أنه قال في الدجال: «ولا يسخر له من المطايا إلا الحمار فهو رجس على رجس» قال الحاكم: صحيح، وقال الذهبي: على شرط البخاري ومسلم، وقد رواه عبد الله بن الإمام أحمد في كتاب السنة بإسناد صحيح على شرط الشيخين وقال فيه: «ولا يسخر له من الدواب إلا الحمار رجس على رجس» وروى مسدد عن أبي الطفيل رضي الله عنه قال: سمعت من بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم حديثا في الدجال أنه يجيء على حمار، قال البوصيري رواته ثقات.
قلت: وهذا الأثر له حكم المرفوع، لأن فيه إخباراً عن أمر غيبي ومثله لا يُقال من قبل الرأي، وإنما يقال عن توقيف. وفي
কাল। আর জমিনে দাজ্জালের গতিবেগ হবে উড়োজাহাজ বা বিমানের মতো। এই দাবিটি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রত্যাখ্যাত, যাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছেন: "তার একটি গাধা থাকবে যাতে সে সওয়ার হবে, যার দুই কানের মধ্যবর্তী প্রশস্ততা হবে চল্লিশ হাত।" হাদিসটি ইমাম আহমদ বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম এটি তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবি তাঁর এই সহিহ বলার সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী। ইমাম হাকেম আবু তুফায়েল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে হুজায়ফা ইবনে আসিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছেন: "গাধা ব্যতীত কোনো বাহনই তার জন্য বশীভূত করা হবে না; আর সেটি অপবিত্রের ওপর অপবিত্রতা।" হাকেম বলেছেন: হাদিসটি সহিহ, এবং যাহাবি বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী। আর ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর 'কিতাবুস্ সুন্নাহ' গ্রন্থে শেখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বর্ণিত হয়েছে: "গাধা ব্যতীত কোনো চতুষ্পদ জন্তুই তার অনুগত করা হবে না, যা অপবিত্রের ওপর অপবিত্রতা।" মুসাদ্দাদ আবু তুফায়েল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবির নিকট থেকে দাজ্জাল সম্পর্কে একটি হাদিস শুনেছি যে, সে গাধার ওপর চড়ে আসবে। ইমাম বুসিরি বলেছেন যে এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই বর্ণনাটি 'মারফু' (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো) বর্ণনার পর্যায়ভুক্ত, কারণ এতে গায়েবি বা অদৃশ্যের বিষয়ে সংবাদ রয়েছে, আর এই ধরণের বিষয় নিজস্ব অভিমতের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়, বরং তা কেবল ওহির মাধ্যমেই বলা সম্ভব। আর...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
النص على ركوب الدجال على الحمار، ومجيئه عليه أبلغ رد على من زعم أنه يجيء على الطائرات أو غيرها مما صنعه الآدميون، وركوبه على الحمار الموصوف بما تقدم ذكره أبلغ في الافتتان به من ركوبه على الطائرات وغيرها مما قد عرفه الناس واعتادوا ركوبه، وسيره على الحمار العظيم الجسم قد يكون أسرع من سير الطائرات بكثير، والذي يظهر أن مركوب الدجال وما يجريه الله على يديه من الأمور الغريبة إنما يكون ذلك من خوارق العادات، لا من الأمور العادية التي قد عرفها الناس وذلك أبلغ في الابتلاء والامتحان.
وفي صفحة 6 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 14 من النسخة المطبوعة: قال الجزائري: وقال عليه الصلاة والسلام في رواية الطبراني وغيره عن ابن مسعود رضي الله عنه: «لا تقوم الساعة حتى لا تنطح ذات قرن جماء وحتى يبعث الغلام الشيخ بريداً بين الأفقين وحتى يبلغ التاجر بين الأفقين فلا يجد ربحاً»
قلت: قد رواه الطبراني في الكبير صفحة 344 ج 9 قال: حدثنا عبدان بن أحمد، حدثنا هشام بن عمار، حدثنا عمر بن
দাজ্জালের গাধার ওপর আরোহণ এবং তাতে চড়ে তার আগমনের সুস্পষ্ট বর্ণনা ওই ব্যক্তিদের দাবির বলিষ্ঠ খণ্ডন, যারা মনে করে যে সে বিমানে বা মানুষের তৈরি অন্য কোনো যন্ত্রে চড়ে আসবে। ইতিপূর্বে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গাধার ওপর তার আরোহণ মানুষের পরিচিত ও অভ্যস্ত বিমান বা অন্য কিছুতে আরোহণের চেয়ে প্রলুব্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর প্রভাবশালী। সেই বিশালদেহী গাধার ওপর তার চলন বিমানের গতির চেয়েও অনেক দ্রুত হতে পারে। আর এটিই প্রতীয়মান হয় যে, দাজ্জালের বাহন এবং আল্লাহ তার হাতে যেসব অদ্ভুত বিষয় প্রকাশ করবেন, তা হবে অলৌকিক বিষয়াবলির (খাওয়ারিকে আদত) অন্তর্ভুক্ত; তা সাধারণ জাগতিক বিষয়ের মতো নয় যা মানুষ চেনে। আর এটিই ফিতনা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর।
লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ১৪তম পৃষ্ঠায় রয়েছে: আল-জাযাইরি বলেন: ইমাম তাবারানি ও অন্যদের বর্ণনায় ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না শিংবিশিষ্ট প্রাণী শিংহীন প্রাণীকে গুঁতো দেওয়া বন্ধ করবে, এবং যতক্ষণ না বালক কোনো বৃদ্ধকে দুই দিগন্তের মাঝে দূত হিসেবে পাঠাবে এবং যতক্ষণ না ব্যবসায়ী দুই দিগন্তের মাঝে যাতায়াত করবে কিন্তু কোনো মুনাফা পাবে না»
আমি বলছি: ইমাম তাবারানি এটি আল-মু'জামুল কাবিরের ৯ম খণ্ডের ৩৪৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে আবদান ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে উমর ইবনে...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১০)
المغيرة، عن ميمون أبي حمزة عن إبراهيم، عن علقمة قال: لقي عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أعرابي فقال: السلام عليك يا أبا عبد الرحمن، فضحك فقال: صدق الله ورسوله، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا تقوم الساعة حتى يكون السلام على المعرفة وحتى تتخذ المساجد طرقا فلا يسجد لله فيها وحتى يبعث الغلام الشيخ بريداً بين الأفقين وحتى يبلغ التاجر بين الأفقين فلا يجد ربحاً» إسناده ضعيف جداً لأن فيه عمر بن المغيرة وميمون أبا حمزة وكل منهما قد تُكلم فيه، قال الذهبي في الميزان: قال البخاري: عمر بن المغيرة منكر الحديث مجهول. وقال الذهبي أيضا في ميمون أبي حمزة: قال أحمد: متروك الحديث. وقال الدارقطني: ضعيف، وقال أبو حاتم: يكتب حديثه. وقال البخاري: ليس بالقوي عندهم. وقال النسائي: ليس بثقة. وليس في هذا الحديث حتى لا تنطح ذات قرن جماء. فلا أدري كيف أدخله الجزائري في حديث ابن مسعود رضي الله عنه، وقد رواه الإمام أحمد في مسنده بإسناد حسن من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وهو في صفحة 442 ج 2 من الطبعة الأولى. وقد تكلف الجزائري في تأويله وتطبيقه على ما هو بعيد عنه جداً حيث زعم أنه يدل على القضاء على الغارات التي تشنها العصابات
আল-মুগীরাহ, মায়মুন আবু হামজাহ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে এক বেদুইনের সাক্ষাৎ হলো, সে বলল: হে আবু আব্দুর রহমান, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তখন তিনি হাসলেন এবং বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সত্য বলেছেন। আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সালাম কেবল পরিচিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হবে, মসজিদগুলোকে চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহার করা হবে কিন্তু সেখানে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করা হবে না, যুবক কোনো বৃদ্ধকে দিগন্তের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বার্তাবাহক হিসেবে পাঠাবে এবং ব্যবসায়ী দিগন্তের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সফর করবে কিন্তু কোনো মুনাফা লাভ করবে না»। এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল, কারণ এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে উমর ইবনুল মুগীরাহ এবং মায়মুন আবু হামজাহ রয়েছেন এবং তাঁদের উভয়ের ব্যাপারেই সমালোচনা রয়েছে। আয-যাহাবী ‘আল-মিযান’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: ইমাম বুখারী বলেছেন, উমর ইবনুল মুগীরাহ ‘মুনকারুল হাদীস’ এবং অজ্ঞাত। আয-যাহাবী মায়মুন আবু হামজাহ সম্পর্কে আরও বলেছেন: ইমাম আহমাদ বলেছেন, তিনি ‘মাতরুকুল হাদীস’ (পরিত্যক্ত)। আদ-দারা কুতনী বলেছেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম বলেছেন, তাঁর হাদিস লিখে রাখা যায়। ইমাম বুখারী বলেছেন, তাঁদের নিকট তিনি শক্তিশালী নন। আন-নাসাঈ বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আর এই হাদিসে «এমনকি শিংবিশিষ্ট পশু শিংহীন পশুকে গুঁতো দেবে না»—এই অংশটি নেই। আমি জানি না কীভাবে আল-জাযাইরি একে ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করলেন; অথচ ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন, যা প্রথম সংস্করণের ২য় খণ্ডের ৪৪২ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান। আল-জাযাইরি এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করতে গিয়ে এমন কষ্টকল্পিত অর্থের আশ্রয় নিয়েছেন যা মূল বিষয় থেকে অনেক দূরে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে এটি দস্যুদল কর্তৃক পরিচালিত লুণ্ঠন ও আক্রমণসমূহ নির্মূল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
المجرمة. أما حديث ابن مسعود رضي الله عنه فقد زعم الجزائري أن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر فيه بوجود الطائرات والسيارات والسكك الحديدية. وهذا من التكلف إذ ليس في الحديث دلالة صريحة بوجود هذه الأشياء. وأيضا فإن الحديث ضعيف جداً فلا يعتمد عليه.
وفي صفحة 7 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 16 من النسخة المطبوعة: ذكر الجزائري ما رواه النسائي في سننه: «إن من أشراط الساعة أن يفشو المال ويكثر وتفشو التجارة ويظهر القلم ويبيع الرجل البيع فيقول لا حتى أستأمر تاجر بني فلان» إلخ.
قلت: قد رواه النسائي في سننه في (باب التجارة) من (كتاب البيوع) وهو في صفحة 244 ج 7 طبع المطبعة المصرية بالأزهر. من حديث عمرو بن تغلب رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، وإسناده صحيح على شرط البخاري ومسلم وفيه: «ويظهر العلم» بدل القلم. وقد رواه أبو داود الطيالسي مختصرا ولفظه: «إن من أشراط الساعة أن يكثر التجار ويظهر القلم» ورواه الحاكم في مستدركه ولفظه: «إن من أشراط الساعة أن يفيض
অপরাধী। ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে আল-জাযাইরি দাবি করেছেন যে, নবি (সা.) এতে বিমান, গাড়ি ও রেলপথের অস্তিত্ব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। এটি একটি কষ্টকল্পনা, কারণ হাদিসে এই বস্তুগুলোর অস্তিত্বের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। অধিকন্তু, হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল, তাই এর ওপর নির্ভর করা যায় না।
লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ৭ নং পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ১৬ নং পৃষ্ঠায় আল-জাযাইরি ইমাম নাসায়ি কর্তৃক তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, সম্পদের বিস্তার ও আধিক্য ঘটবে, ব্যবসার প্রসার ঘটবে, কলমের (লিখনির) প্রকাশ ঘটবে এবং একজন ব্যক্তি পণ্য বিক্রয় করতে গিয়ে বলবে—না, যতক্ষণ না আমি অমুক গোত্রের ব্যবসায়ীর সাথে পরামর্শ করি" ইত্যাদি।
আমি বলছি: ইমাম নাসায়ি এটি তাঁর 'সুনান'-এর (কিতাবুল বুয়ূ') বা ক্রয়-বিক্রয় পর্বের (বাবুত তিজারা) বা ব্যবসা পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। এটি আল-আজহারের আল-মাতবাআ আল-মিসরিয়্যাহ কর্তৃক মুদ্রিত সংস্করণের ৭ম খণ্ডের ২৪৪ নং পৃষ্ঠায় রয়েছে। এটি আমর ইবনে তাগলিব (রা.) সূত্রে নবি (সা.) থেকে বর্ণিত এবং এর সনদ বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ। এতে 'কলম'-এর পরিবর্তে 'ইলম (জ্ঞান) প্রকাশ পাবে' শব্দ এসেছে। আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং এর পাঠ হলো: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং কলমের প্রকাশ ঘটবে।" আর হাকিম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর পাঠ হলো: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, প্রাচুর্য লাভ করবে..."
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১২)
المال ويكثر الجهل وتظهر الفتن وتفشو التجار» قال الحاكم: صحيح على شرطهما ووافقه الذهبي في تلخيصه.
وفي صفحة 7 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 17 من النسخة المطبوعة: قال الجزائري: حديث الترمذي عن أنس بن مالك رضي الله عنه ونصه: «لا تقوم الساعة حتى يتقارب الزمان فتكون السنة كالشهر والشهر كالجمعة وتكون الجمعة كاليوم ويكون اليوم كالساعة وتكون الساعة كاحتراق السعفة».
قلت: قد رواه الترمذي في (باب ما جاء في تقارب الزمان وقصر الأمل) من (كتاب الزهد) صفحة 567 ج 4 نشر المكتبة الإسلامية، وقال الترمذي: هذا حديث غريب. ولفظه في آخره «وتكون الساعة كالضرمة بالنار» فأما اللفظ الذي ذكره المؤلف فهو عن أبي هريرة رضي الله عنه رواه الإمام أحمد بإسناد صحيح على شرط مسلم وهو في صفحة 537 - 538 ج 2 الطبعة الأولى. ورواه ابن حبان في صحيحه صفحة 466 موارد الظمآن.
وفي صفحة 7 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 17 من النسخة المطبوعة: قال الجزائري: حديث ابن مسعود رضي الله عنه عند الطبراني. وفيه: «من اقتراب الساعة انتفاج
সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, মূর্খতা বেড়ে যাবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং ব্যবসায়ীদের আধিক্য ঘটবে।" আল-হাকিম বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ এবং আয-যাহাবি তার তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
লেখকের নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির ৭ম পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ১৭শ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: আল-জাযায়রি বলেছেন: তিরমিজি বর্ণিত আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সময় সংকুচিত হয়ে আসবে। তখন বছর হবে মাসের মতো, মাস হবে সপ্তাহের মতো, সপ্তাহ হবে দিনের মতো, দিন হবে ঘণ্টার মতো এবং ঘণ্টা হবে খেজুর পাতার আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতো»।
আমি বলছি: তিরমিজি এটি ‘কিতাবুয যুহদ’-এর ‘সময় সংকুচিত হওয়া এবং উচ্চাশা হ্রাসের বর্ণনা’ অধ্যায়ে, মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ প্রকাশিত সংস্করণের ৪র্থ খণ্ডের ৫৬৭ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: এটি একটি গরিব হাদিস। এর শেষাংশের শব্দগুলো হলো «আর ঘণ্টা হবে অগ্নিশিখার মতো»। তবে লেখক যে পাঠটি উল্লেখ করেছেন তা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, যা ইমাম আহমাদ মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন। এটি প্রথম সংস্করণের ২য় খণ্ডের ৫৩৭-৫৩৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে। ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থের ‘মাওয়ারিদুজ জামআন’ অংশের ৪৬৬ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণনা করেছেন।
লেখকের নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির ৭ম পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ১৭শ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: আল-জাযায়রি বলেছেন: তাবারানিতে বর্ণিত ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে রয়েছে: «কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষণসমূহের একটি হলো নতুন চাঁদের অস্বাভাবিক স্ফীতি বা বড় হওয়া...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأهلة» وفي رواية أبي هريرة (انتفاخ الأهلة).
قلت: أما حديث ابن مسعود رضي الله عنه فقد رواه الطبراني في الكبير في صفحة 244 ج 10 وقال فيه: «من اقتراب الساعة انتفاخ الأهلة» بالخاء لا بالجيم. والحديث ضعيف لأن في إسناده عبد الرحمن بن يوسف، قال الذهبي في الميزان: وابن حجر في لسان الميزان قال ابن عدي وغيره لا يعرف. ثم ذكرا حديث انتفاخ الأهلة. وذكر ابن حجر عن العقيلي أنه قال: مجهول في النسبة والرواية وحديثه غير محفوظ ولا يعرف إلا به. وأما حديث أبي هريرة فرواه الطبراني في الصغير ولفظه: «من اقتراب الساعة انتفاخ الأهلة وأن يرى الهلال لليلة فيقال لليلتين» قال الهيثمي في مجمع الزوائد صفحة 146 ج 3 وفيه عبد الرحمن بن الأزرق الأنطاكي، ولم أجد من ترجمه. انتهى. فأما اللفظ الذي ذكره الجزائري واعتمد عليه وهو قوله: «من اقتراب الساعة انتفاج الأهلة» أي بالجيم فما رأيته في شيء من الكتب المعتمدة. والأحرى أنه تصحيف من بعض النساخ أو الطابعين. وقد اعتمد الجزائري على هذه اللفظة التي لم تثبت، وزعم أن معناها سرعة انتشار خبر الأهلة بمجرد ظهورها ورؤيتها في البلاد. ولا يخفي
চাঁদসমূহ»; এবং আবু হুরায়রাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় রয়েছে «চাঁদসমূহের স্ফীতি (ইন্তিফাকুল আহিল্লাহ)»।
আমি বলি: ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসটি তাবারানী তাঁর ‘আল-মু'জাম আল-কাবীর’-এর ১০ম খণ্ডের ২৪৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং তাতে তিনি বলেছেন: «কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার একটি নিদর্শন হলো চাঁদসমূহের স্ফীতি»—এখানে 'খা' বর্ণ যোগে (ইন্তিফাক), 'জিম' বর্ণ যোগে (ইন্তিফাজ) নয়। আর হাদীসটি দুর্বল, কারণ এর সনদে আবদুর রহমান বিন ইউসুফ নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন। ইমাম যাহাবী ‘আল-মিযান’-এ এবং ইবনে হাজার ‘লিসান আল-মিযান’-এ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আদী ও অন্যান্যরা বলেছেন: «সে অপরিচিত (অজ্ঞাত)»। অতঃপর তাঁরা উভয়ই চাঁদসমূহের স্ফীতি সংক্রান্ত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার উকায়লী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «সে পরিচয় ও বর্ণনার ক্ষেত্রে অজ্ঞাত (মাজহুল), তার বর্ণিত হাদীস সংরক্ষিত (মাহফূয) নয় এবং সে ব্যতীত অন্য কারো সূত্রে এটি পরিচিতও নয়»। আর আবু হুরায়রাহ-এর হাদীসটি তাবারানী ‘আল-মু'জাম আস-সাগীর’-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: «কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার একটি নিদর্শন হলো চাঁদসমূহের স্ফীতি এবং এক রাতের চাঁদ দেখা যাবে অথচ বলা হবে এটি দুই রাতের চাঁদ»। হাইসামী ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’-এর ৩য় খণ্ডের ১৪৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: «এর সনদে আবদুর রহমান বিন আল-আযরাক আল-আনতাকী রয়েছেন, এবং আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি তাঁর জীবনী (তারজামা) উল্লেখ করেছেন»। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। অতএব, আল-জাযাইরী যে শব্দমালা উল্লেখ করেছেন এবং যার ওপর ভিত্তি করেছেন, যা হলো: «কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার নিদর্শন হলো চাঁদসমূহের স্ফীতি (ইন্তিফাজুল আহিল্লাহ)»—অর্থাৎ 'জিম' বর্ণ সহযোগে—তা আমি নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে দেখিনি। অধিকতর সম্ভাবনা হলো, এটি কোনো অনুলিখক বা মুদ্রক কর্তৃক কৃত লৈখিক প্রমাদ (তাসহিফ)। আল-জাযাইরী এই শব্দটির ওপর নির্ভর করেছেন যা প্রমাণিত নয়, এবং তিনি দাবি করেছেন যে এর অর্থ হলো দেশসমূহে চাঁদ উদিত হওয়া এবং তা দেখার সাথে সাথেই সেই সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া। আর এটি অস্পষ্ট নয় যে...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ما في هذا من التكلف، وأيضا فإن الحديث ضعيف جداً فلا يعتمد عليه.
وفي صفحة 8 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 19 من النسخة المطبوعة: ذكر الجزائري حديث أبي هريرة رضي الله عنه في قصة الراعي الذي كلّمه الذئب فأخبر النبي صلى الله عليه وسلم بذلك فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إنها أمارة من أمارات بين يدي الساعة قد أوشك الرجل أن يخرج فلا يرجع حتى تحدثه نعلاه وسوطه ما أحدث أهله بعده».
قلت: هذا الحديث قد رواه الإمام أحمد في مسنده وإسناده حسن. وقال الهيثمي في مجمع الزوائد: رجالة ثقات، وهو في صفحة 306 ج 2 من الطبعة الأولى من المسند. وقد تأوله الجزائري على آلة التسجيل وهو تأويل بعيد جداً. ويرد هذا التأويل أن الذئب قد كلم الراعي في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجاء الراعي إلى النبي صلى الله عليه وسلم وأخبره بتكليم الذئب له، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إنها أمارة من أمارات بين يدي الساعة قد أوشك الرجل أن يخرج فلا يرجع حتى تحدثه نعلاه وسوطه ما أحدث أهله بعده» فتكليم السباع لبني آدم في آخر الزمان حق على حقيقته. وكذلك
এতে যে কৃত্রিমতা রয়েছে তা স্পষ্ট; অধিকন্তু হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল, তাই এর ওপর নির্ভর করা চলে না।
এবং লেখকের হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ৮ পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ১৯ পৃষ্ঠায় আল-জাযাইরি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত সেই রাখালের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যাকে নেকড়ে কথা বলেছিল। সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ বিষয়ে অবহিত করলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: «এটি কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ের নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন। অচিরেই এমন সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হবে এবং সে ফিরে আসার পূর্বেই তার জুতো ও তার চাবুক তাকে সংবাদ দেবে যে, তার অবর্তমানে তার পরিবার কী নতুন কাণ্ড ঘটিয়েছে।’
আমি বলছি: এই হাদিসটি ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান (উত্তম)। আল-হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়ায়েদ' গ্রন্থে বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। এটি মুসনাদ-এর প্রথম সংস্করণের ২য় খণ্ডের ৩০৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে। আল-জাযাইরি একে 'রেকর্ডিং যন্ত্র' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা অত্যন্ত দূরবর্তী ও অপ্রাসঙ্গিক এক ব্যাখ্যা। এই ব্যাখ্যাটি এ কারণে প্রত্যাখ্যাত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগেই নেকড়ে রাখালের সাথে কথা বলেছিল। তখন রাখাল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে তাকে নেকড়ের কথা বলার বিষয়টি অবহিত করেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: «এটি কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ের নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন। অচিরেই এমন সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হবে এবং সে ফিরে আসার পূর্বেই তার জুতো ও তার চাবুক তাকে সংবাদ দেবে যে, তার অবর্তমানে তার পরিবার কী নতুন কাণ্ড ঘটিয়েছে।’ সুতরাং শেষ যামানায় হিংস্র পশুর মানুষের সাথে কথা বলা তার স্বকীয় অর্থেই বাস্তব সত্য। এবং একইভাবে...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تكليم الفخذ، وعذبة السوط، وشراك النعل، فكله حق على حقيقته وهو من خوارق العادات التي تكون عند اقتراب الساعة، وليس من صناعة الآدميين. ومن زعم أنه من صناعة الآدميين فقد أبعد النجعة وتكلف غاية التكلف. وقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم في عدة أحاديث صحيحة أن المسلمين يقاتلون اليهود في آخر الزمان فيقتلهم المسلمون حتى يختبئ اليهودي من وراء الحجر والشجر، فيقول الحجر أو الشجر: يا مسلم هذا يهودي خلفي فتعال فاقتله. فهذا نظير ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من تكليم السباع والفخذ والنعلين والسوط لبني آدم في آخر الزمان. وكله حق على حقيقته.
وفي صفحة 9 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 21 من النسخة المطبوعة: زعم الجزائري أن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر بوجود آلة التصوير واستدل لذلك بما جاء في حديث حذيفة بن اليمان رضي الله عنهما مرفوعاً: «من اقتراب الساعة اثنتان وسبعون خصلة - فذكرها ومنها - وحليت المصاحف وصورت المساجد وطولت المنابر» وهذا الحديث قد رواه أبو نعيم في الحلية صفحة 358 - 359 ج 3 وهو حديث ضعيف، لأن في إسناده فرج بن فضالة وهو ضعيف. وقد رواه عبد الله بن عبيد بن عمير الليثي
উরুর কথা বলা, চাবুকের অগ্রভাগ এবং জুতার ফিতার কথা বলা—সবই এর প্রকৃত অর্থেই সত্য। এগুলো কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সময়ের অলৌকিক ঘটনাবলির অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো মানুষের তৈরি কোনো শিল্প বা প্রযুক্তি নয়। আর যারা দাবি করে যে এগুলো মানুষের তৈরি প্রযুক্তি, তারা সত্য থেকে অনেক দূরে সরে গেছে এবং চরমভাবে কৃত্রিমতার আশ্রয় নিয়েছে। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাধিক সহিহ হাদিসে সংবাদ দিয়েছেন যে, শেষ জামানায় মুসলিমরা ইহুদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং মুসলিমরা তাদের হত্যা করবে। এমনকি ইহুদিরা পাথর ও গাছের আড়ালে লুকাবে, তখন পাথর বা গাছ বলবে: ‘হে মুসলিম, এই তো আমার পেছনে একজন ইহুদি, এসো তাকে হত্যা করো।’ এটি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত শেষ জামানায় বন্যপ্রাণী, উরু, জুতা এবং চাবুক কর্তৃক মানুষের সাথে কথা বলার বর্ণনার অনুরূপ। এর সবকিছুই এর আক্ষরিক অর্থেই সত্য।
এবং লেখকের পাণ্ডুলিপির ৯ নম্বর পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় রয়েছে: আল-জাযাইরি দাবি করেছেন যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্যামেরার অস্তিত্বের সংবাদ দিয়েছেন এবং এর সপক্ষে হুজায়ফা বিন আল-ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: ‘কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার বাহাত্তরটি নিদর্শন রয়েছে—এরপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করেন এবং তার মধ্যে রয়েছে—কুরআন মাজিদ সজ্জিত করা হবে, মসজিদগুলো চিত্রিত বা অলঙ্কৃত করা হবে এবং মিম্বরগুলো দীর্ঘ করা হবে।’ এই হাদিসটি আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থের ৩য় খণ্ডের ৩৫৮-৩৫৯ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি দুর্বল হাদিস, কারণ এর সনদে ফারাজ বিন ফাদালাহ রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল। আর এটি আব্দুল্লাহ বিন উবাইদ বিন উমাইর আল-লাইসি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عن حذيفة، وروايته عنه منقطعة، وقد قال أبو نعيم بعد إيراده: غريب من حديث عبد الله بن عبيد بن عمير لم يروه عنه فيما أعلم إلا فرج بن فضالة. انتهى. وحيث كان الحديث ضعيفاً فلا ينبغي الجزم بأن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر بما جاء فيه، ولو كان الحديث صحيحا لكان له وجه غير ما ذكره الجزائري وهو زخرفة المساجد. وقد جاء ذلك في حديث عوف بن مالك الذي رواه الطبراني بإسناد ضعيف ففيه: (وزخرفت المساجد ورفعت المنابر) وقد كان التصوير بالأيدي موجوداً بكثرة قبل أن توجد آلة التصوير.
وبعد فإن كثيراً مما تأوله الجزائري على ظهور المخترعات الحديثة لا يخلو من التكلف في التطبيق، وأخشى أن يدخل بعضه في القول على رسول الله صلى الله عليه وسلم بما لم يقل، ولو أن المؤلف أورد الحديث الصحيح عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «قام على المنبر فذكر الساعة، وذكر أن بين يديها أموراً عظاماً» رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم وابن حبان في صحيحه بإسناد مسلم. وأورد أيضا حديث سمرة بن جندب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في خطبته بعد صلاة الكسوف: «وإنه
এটি হুজায়ফা থেকে বর্ণিত, এবং তাঁর থেকে এই বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)। আবু নুয়াইম এটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: এটি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইরের হাদিস হিসেবে গারিব (বিরল), আমার জানামতে ফারাজ ইবনে ফাদালা ব্যতীত আর কেউ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেননি। সমাপ্ত। যেহেতু হাদিসটি দুর্বল, তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এতে যা এসেছে সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন বলে নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন হবে না। আর যদি হাদিসটি সহিহ হতো, তবে আল-জাজাইরি যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতিরেকে এর অন্য একটি ব্যাখ্যা থাকত, আর তা হলো মসজিদ সুসজ্জিত করা। এটি আওফ ইবনে মালিকের হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে যা তাবারানি একটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছে: (মসজিদসমূহ সুসজ্জিত করা হবে এবং মিম্বরসমূহ উঁচু করা হবে)। অথচ ছবি তোলার যন্ত্র (ক্যামেরা) আবিষ্কৃত হওয়ার অনেক আগে থেকেই হাতে আঁকা ছবির ব্যাপক প্রচলন ছিল।
পরিশেষে, আধুনিক আবিষ্কারসমূহের প্রকাশের ওপর আল-জাজাইরি যে ব্যাখ্যাগুলো আরোপ করেছেন, তার অনেকগুলোই প্রয়োগের ক্ষেত্রে কৃত্রিমতা বা কষ্টকল্পনা (তাকাল্লুফ) মুক্ত নয়। আমি আশঙ্কা করি যে, এর কিছু অংশ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেননি তা তাঁর নামে বলার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে। যদি লেখক আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সেই সহিহ হাদিসটি উল্লেখ করতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে দাঁড়িয়ে কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং কিয়ামতের প্রাক্কালে বড় বড় কিছু ঘটনা ঘটবে বলে উল্লেখ করলেন—যা ইমাম আহমাদ, বুখারি, মুসলিম এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুসলিমের সনদে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি যদি সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করতেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্যগ্রহণের নামাজের পর তাঁর খুতবায় বলেছিলেন: "আর নিশ্চয়ই এটি...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والله لا تقوم الساعة حتى يخرج ثلاثون كذاباً آخرهم الأعور الدجال» فذكر الحديث في شأن الدجال ونزول عيسى بن مريم وإهلاك الدجال وجنوده ثم قال: «ولن يكون ذلك كذلك حتى تروا أموراً عظاماً يتفاقم شأنها في أنفسكم وتساءلون بينكم هل كان نبيكم ذكر لكم منها ذكرا حتى تزول جبال عن مراتبها» رواه الإمام أحمد والطبراني وابن حبان في صحيحة والحاكم في مستدركه، وقال: صحيح على شرط الشيخين ووافقه الذهبي في تلخيصه، وعن سمرة أيضا رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تروا أموراً عظاماً لم تكونوا ترونها ولا تحدثون بها أنفسكم» رواه ابن وضاح والطبراني وإسناده ضعيف. والحديث قبله يشهد له ويقويه.
أقول لو أن المؤلف اقتصر على هذين الحديثين عن أنس وسمرة رضي الله عنهما وطبقهما على جميع المخترعات الحديثة لكان ذلك مناسبا جداً، إذ فيهما إشارة إلى جميع المخترعات الحديثة على سبيل الإجمال.
والله الموفق. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. 13/ 1/ 1404 هـ.
আল্লাহর শপথ, কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ত্রিশজন চরম মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটে, যাদের সর্বশেষজন হলো কানা দাজ্জাল।" অতঃপর তিনি দাজ্জালের অবস্থা, ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ এবং দাজ্জাল ও তার বাহিনীর ধ্বংস সম্পর্কে হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং এরপর বলেন: "আর সেটি ততক্ষণ পর্যন্ত ঘটবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন সব গুরুতর বিষয়াবলি দেখতে পাবে যা তোমাদের কাছে অত্যন্ত ভয়াবহ মনে হবে এবং তোমরা একে অপরের কাছে জিজ্ঞেস করবে যে, তোমাদের নবী কি তোমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেছিলেন—এমনকি পাহাড়সমূহও তাদের স্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে।" এটি ইমাম আহমাদ, তাবারানি, ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি (হাকেম) বলেছেন: হাদীসটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সহীহ, এবং আয-যাহাবী তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। সামুরা (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন সব গুরুতর বিষয় দেখতে পাও যা তোমরা ইতিপূর্বে কখনো দেখনি এবং যে সম্পর্কে তোমরা নিজেদের মনে কল্পনাও করোনি।" এটি ইবনে ওয়াদদাহ এবং তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল। তবে এর পূর্ববর্তী হাদীসটি এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং একে শক্তিশালী করে।
আমি বলছি, লেখক যদি আনাস এবং সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত এই দুটি হাদীসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন এবং সেগুলোকে আধুনিক সমস্ত আবিষ্কারের ওপর প্রয়োগ করতেন, তবে তা অত্যন্ত যথাযথ হতো। কারণ এই দুটি হাদীসে সংক্ষেপে আধুনিক সমস্ত আবিষ্কারের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
আল্লাহই তাওফীক দাতা। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। ১৩/ ০১/ ১৪০৪ হিজরী।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فصل
في التنبيه على الأخطاء التي في الرسالة الثانية
في صفحة 4 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 33 من النسخة المطبوعة: ذكر الجزائري ما جاء في الحديث المرفوع: «لا تقوم الساعة حتى تروا أمورا عظاماً لم تكونوا ترونها ولا تحدثون بها أنفسكم» ثم ذكر في الحاشية أنه رواه أحمد والبزار والطبراني من حديث سمرة بن جندب رضي الله عنه.
وأقول: أما الإمام أحمد رحمه الله تعالى فإنه لم يروا هذا الحديث المختصر في مسنده، وإنما روي نحوه في حديث طويل عن سمرة رضي الله عنه، وأما البزار فما رأيت أحدا من العلماء ذكر عنه أنه رواه، وإنما رواه الطبراني وحده وهو في صفحة 250 ج 7 من المعجم الكبير طبع مطبعة الوطن العربي، وفي إسناده عفير بن معدان وهو ضعيف، ولكن له شاهد مما جاء في خطبة النبي صلى الله عليه وسلم بعد صلاة الكسوف، وهو حديث طويل رواه الإمام أحمد والطبراني وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما، والحاكم في مستدركه من حديث سمرة رضي الله عنه، وقال الحاكم: صحيح على شرط الشيخين، ووافقه الذهبي في تلخيصه، وقد جاء فيه
পরিচ্ছেদ
দ্বিতীয় রিসালায় বিদ্যমান ভুলত্রুটি সম্পর্কে সতর্কীকরণ
লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ৪ নম্বর পৃষ্ঠায়, যা মুদ্রিত সংস্করণের ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় রয়েছে: আল-জাযাইরী সেই মারফূ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যাতে বর্ণিত হয়েছে: «ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না তোমরা এমন সব ভয়াবহ বিষয় প্রত্যক্ষ করবে যা তোমরা কখনও দেখনি এবং যা তোমাদের অন্তরেও উদিত হয়নি।» অতঃপর তিনি পাদটীকায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি ইমাম আহমাদ, বাযযার এবং তাবারানী সামুরাহ বিন জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে কথা হলো, তিনি তাঁর মুসনাদে এই সংক্ষিপ্ত হাদীসটি বর্ণনা করেননি; বরং সামুরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসে এর অনুরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে। আর বাযযারের ব্যাপারে কথা হলো, কোনো আলিম তাঁকে এটি বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন—এমনটি আমার নজরে পড়েনি। প্রকৃতপক্ষে তাবারানী একাই এটি বর্ণনা করেছেন যা আল-মু'জামুল কাবীরের ৭ম খণ্ড, ২৫০ পৃষ্ঠায় (মাতবাআতুল ওয়াতান আল-আরাবী) রয়েছে। এর সনদে উফাইর বিন মা'দান রয়েছে, যে দুর্বল; তবে সূর্যগ্রহণের সালাতের পর নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খুতবায় বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীস এর সমর্থনকারী (শাহেদ) হিসেবে রয়েছে। হাদীসটি ইমাম আহমাদ, তাবারানী, ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনে হিব্বান তাঁদের 'সহীহ' গ্রন্থদ্বয়ে এবং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক'-এ সামুরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন: "এটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ", এবং যাহাবী তাঁর 'তালখীস'-এ এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাতে বর্ণিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بعد ذكر خروج الدجال ونزول عيسى بن مريم وقتل الدجال وجنوده أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ولن يكون ذلك كذلك حتى تروا أمورا عظاماً يتفاقم شأنها في أنفسكم وتساءلون بينكم هل كان نبيكم ذكر لكم منها ذكرا حتى تزول جبال عن مراتبها».
وذكر الجزائري أيضا في صفحة 4 من النسخة التي بخطه وهو في صفحة 33 - 34 من النسخة المطبوعة ما جاء في الحديث المرفوع: «سترون قبل أن تقوم الساعة أشياء تنكرونها عظاماً تقولون هل كنا حُدِّثنا بهذا» ثم ذكر في الحاشية أنه رواه البزار والطبراني في الكبير من حديث سمرة بن جندب رضي الله عنه.
وأقول: هذا الحديث قد ذكره الهيثمي في مجمع الزوائد وقال: إسناده ضعيف وفيه من لم أعرفهم، قلت: وله شاهد مما جاء في خطبة النبي صلى الله عليه وسلم بعد صلاة الكسوف وهو حديث صحيح. وقد تقدم بيان ذلك.
وفي صفحة 5 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 37 من النسخة المطبوعة: ذكر الجزائري حديث ابن مسعود رضي الله عنه الذي أوله: «كيف بكم إذا لبستكم فتنة» وجعله مرفوعا إلى النبي صلى الله عليه وسلم. وهذا سهو منه، فإن الحديث موقف على ابن
দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ এবং দাজ্জাল ও তার বাহিনীকে হত্যার বর্ণনার পর উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আর ততক্ষণ পর্যন্ত তা ঘটবে না, যতক্ষণ না তোমরা এমন সব ভয়াবহ বিষয় দেখবে যা তোমাদের অন্তরে অত্যন্ত গুরুতর মনে হবে এবং তোমরা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে যে, তোমাদের নবী কি তোমাদের কাছে এগুলোর কোনো উল্লেখ করেছিলেন? এমনকি পাহাড়সমূহ তাদের নিজ নিজ স্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে।”
আল-জাযাইরি তার স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ৪ নম্বর পৃষ্ঠায়—যা মুদ্রিত সংস্করণের ৩৩-৩৪ নম্বর পৃষ্ঠায় রয়েছে—মারফু হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন: “কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তোমরা এমন সব ভয়াবহ বিষয় দেখবে যা তোমরা অপছন্দ করবে; তোমরা বলবে, ‘আমাদের কাছে কি এ বিষয়ে হাদীস বর্ণনা করা হয়েছিল?’” অতঃপর তিনি টীকায় উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বাজ্জার এবং তাবারানি তার ‘আল-মু’জাম আল-কাবীর’-এ সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.)-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: এই হাদীসটি আল-হাইসামি ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদ দুর্বল এবং এতে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যাদের আমি চিনি না। আমি বলছি: সূর্যগ্রহণের সালাতের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুৎবায় যা বর্ণিত হয়েছে তাতে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে এবং সেটি একটি সহীহ হাদীস। ইতিপূর্বে এর বিবরণ প্রদান করা হয়েছে।
এবং লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপির ৫ নম্বর পৃষ্ঠায়—যা মুদ্রিত সংস্করণের ৩৭ নম্বর পৃষ্ঠায় রয়েছে—আল-জাযাইরি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সেই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যার প্রারম্ভ হলো: “তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন ফিতনা তোমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলবে” এবং তিনি এটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মারফু হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি তার একটি ভুল, কারণ হাদীসটি ইবনে-এর ওপর মাওকুফ।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
مسعود رضي الله عنه، هكذا رواه عبد الرزاق في مصنفه صفحة 359 - 360 ج 11 عن معمر عن قتادة أن ابن مسعود رضي الله عنه قال فذكره. وفيه انقطاع بين قتادة وابن مسعود رضي الله عنه، ورواه الحاكم في مستدركه صفحة 514 ج 4 من طريق الأعمش، عن أبي وائل قال: قال عبد الله فذكره. قال الذهبي في تلخيصه: على شرط البخاري ومسلم. وقد رواه أبو نعيم في الحلية صفحة 136 ج 1 مرفوعا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وفي إسناده يزيد بن أبي زياد ومحمد بن نبهان وقد تُكلّم في كل منهما. فأما يزيد بن أبي زياد فقد ذكر الذهبي في الميزان عن يحيى أنه قال: ليس بالقوى، وقال أيضا: لا يحتج به. وقال ابن المبارك: ارم به، وقال شعبة: كان يزيد بن أبي زياد رفّاعاً. وذكر الحافظ ابن حجر في (تهذيب التهذيب) عن علي بن المنذر عن ابن فضيل قال: كان من أئمة الشيعة الكبار، وقال عبد الله بن أحمد عن أبيه: ليس حديثه بذاك، وقال مرة: ليس بالحافظ. وقال عثمان الدارمي، عن ابن معين: ليس بالقوى، وقال أبو يعلي الموصلي، عن ابن معين: ضعيف. وقال العجلي: جائز الحديث، وكان بآخرة يلقن، وقال ابن سعد: كان ثقة في نفسه إلا أنه اختلط في آخر عمره فجاء بالعجائب. وقال ابن خزيمة: في القلب منه. وقال
মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আব্দুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ'-এর ১১তম খণ্ডের ৩৫৯-৩৬০ পৃষ্ঠায় মা'মার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন - অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। এই বর্ণনার সনদে কাতাদাহ এবং ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাঝে 'ইনকিতা' (সূত্রের বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে। অন্যদিকে, হাকিম তাঁর 'মুস্তাদরাক'-এর ৪র্থ খণ্ডের ৫১৪ পৃষ্ঠায় আ'মাশের সূত্রে আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) বলেছেন - অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। যাহাবী তাঁর 'তালখিস'-এ এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন: এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। আবু নুআইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া'-এর ১ম খণ্ডের ১৩৬ পৃষ্ঠায় এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি 'মারফু' হিসেবে (অর্থাৎ সরাসরি নবীর বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেছেন; তবে এর সনদে ইয়াজিদ ইবনে আবি জিয়াদ এবং মুহাম্মদ বিন নাবহান রয়েছেন এবং তাঁদের উভয়ের ব্যাপারেই সমালোচনা করা হয়েছে। ইয়াজিদ ইবনে আবি জিয়াদের ব্যাপারে যাহাবী 'মিজানুল ইতিদাল'-এ ইয়াহইয়া (ইবনে মায়ীন) থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সে শক্তিশালী নয়। তিনি আরও বলেছেন: তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। ইবনুল মুবারক বলেছেন: তাকে ছুড়ে ফেলে দাও (অর্থাৎ বর্জন করো)। শু'বাহ বলেছেন: ইয়াজিদ ইবনে আবি জিয়াদ ছিলেন এমন একজন যিনি (মাওকুফ হাদিসকে) 'রাফ' বা মারফু করে বর্ণনা করতেন। হাফেজ ইবনে হাজার 'তাহজীবুত তাহজীব'-এ আলী বিন আল-মুনজিরের সূত্রে ইবনে ফুদাইল থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: তিনি শিয়াদের বড় ইমামদের একজন ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ তাঁর পিতা (আহমদ বিন হাম্বল) থেকে বর্ণনা করেন: তার হাদিস তেমন (উন্নত মানের) নয়; তিনি অন্য এক সময় বলেছেন: সে হাফেজ (নির্ভুল সংরক্ষণকারী) নয়। উসমান আদ-দারেমি ইবনে মায়ীন থেকে বর্ণনা করেছেন: সে শক্তিশালী নয়। আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি ইবনে মায়ীন থেকে বর্ণনা করেছেন: সে জয়ীফ (দুর্বল)। ইজলী বলেছেন: তার হাদিস গ্রহণযোগ্য, তবে শেষ বয়সে তাকে (অন্যের শিখিয়ে দেওয়া কথা) তালকিন করা হতো। ইবনে সা'দ বলেন: তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তবে শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটেছিল, যার ফলে তিনি অদ্ভুত সব বর্ণনা নিয়ে আসতেন। ইবনে খুজাইমা বলেছেন: তার ব্যাপারে (আমার) অন্তরে সংশয় রয়েছে। এবং তিনি বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
النسائي: ليس بالقوي، وقال الدارقطني: لا يخرج عنه في الصحيح. ضعيف يخطئ كثيراً ويتلقن إذا لقن. وقد وثقه يعقوب بن سفيان وأحمد بن صالح المصري. وأما محمد بن نبهان فهو محمد بن يوسف بن يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم بن نبهان بن طريف بن عاصم الرازي. قال الذهبي في الميزان: شيخ يروي عنه أبو بكر بن زياد النقاش. ظالم لنفسه وضع كثيراً في القراءات.
وقال الخطيب: يتهم بوضع الحديث. وقال الدارقطني: وضع نحواً من ستين نسخة قراءات ليس لشيء منها أصل، وضع من الأحاديث مالا يضبط، قدم قبل الثلاثمائة بغداد فسمع منه ابن مجاهد وغيره، ثم تبين كذبه فلم يحك عنه ابن مجاهد حرفاً، وأما النقاش فيدلسه، فتارة يقول: حدثنا محمد بن طريف. وتارة يقول: محمد بن نبهان. وتارة: محمد بن عاصم. يعني ينسبه إلى أجداده. انتهى. وذكر ابن حجر في لسان الميزان عن الدارقطني أنه قال: كان يضع الأحاديث والنسخ. انتهى. وقال الذهبي أيضا في الميزان: محمد بن طريف بن عاصم شيخ للنقاش كذاب يدلسه، فتارة يقول: حدثنا محمد بن عاصم، وتارة يقول: حدثنا محمد بن نبهان وغير ذلك مع أن النقاش لا يوثق به. انتهى. وقد قال أبو نعيم في الحلية بعد روايته للحديث: كذا
নাসায়ী বলেন: তিনি শক্তিশালী নন। দারা কুতনী বলেন: সহীহ গ্রন্থে তার থেকে হাদীস গ্রহণ করা হয় না। তিনি দুর্বল, প্রচুর ভুল করেন এবং তাকে কোনো পাঠ শিখিয়ে দিলে তিনি তা গ্রহণ করে নিতেন। ইয়াকুব বিন সুফিয়ান এবং আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরী তাকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলে উল্লেখ করেছেন। আর মুহাম্মদ বিন নাবহান হলেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক বিন ইবরাহীম বিন নাবহান বিন তারিফ বিন আসিম আল-রাযী। ইমাম যাহাবী 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেন: তিনি এমন একজন শায়খ যার থেকে আবু বকর বিন যিয়াদ আন-নাক্কাশ বর্ণনা করেন। তিনি নিজের প্রতি অন্যায় করেছেন এবং কিরাআতের বিষয়ে অনেক বানোয়াট বর্ণনা তৈরি করেছেন।
খতীব বাগদাদী বলেন: তার বিরুদ্ধে হাদীস জাল করার অভিযোগ রয়েছে। দারা কুতনী বলেন: তিনি কিরাআতের প্রায় ষাটটি পাণ্ডুলিপি জাল করেছেন যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি অগণিত হাদীস জাল করেছেন। তিনশত হিজরীর পূর্বে তিনি বাগদাদে আসেন এবং ইবনে মুজাহিদ ও অন্যান্যরা তার থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। পরবর্তীতে তার মিথ্যাচার প্রকাশ হয়ে পড়লে ইবনে মুজাহিদ তার থেকে একটি বর্ণও বর্ণনা করেননি। আর নাক্কাশ তার পরিচয় গোপন (তাদলীস) করতেন; কখনও তিনি বলতেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন তারিফ বর্ণনা করেছেন, আবার কখনও বলতেন: মুহাম্মদ বিন নাবহান, আবার কখনও: মুহাম্মদ বিন আসিম। অর্থাৎ তিনি তাকে তার বিভিন্ন পূর্বপুরুষের নামে অভিহিত করতেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান' গ্রন্থে দারা কুতনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তিনি হাদীস ও পাণ্ডুলিপি জাল করতেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইমাম যাহাবী আবারও 'আল-মিজান' গ্রন্থে বলেন: মুহাম্মদ বিন তারিফ বিন আসিম হলেন নাক্কাশের একজন উস্তাদ; তিনি চরম মিথ্যাবাদী এবং নাক্কাশ তার পরিচয় গোপন করতেন। কখনও তিনি বলতেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আসিম বর্ণনা করেছেন, আবার কখনও বলতেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন নাবহান বর্ণনা করেছেন ইত্যাদি; অথচ নাক্কাশ নিজেও নির্ভরযোগ্য নন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আবু নুআইম 'আল-হিলইয়াহ' গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনার পর বলেছেন: এভাবেই...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
رواه محمد بن نبهان مرفوعاً والمشهور من قول عبد الله موقوف. انتهى. وحيث كان الحديث بهذه المثابة من الضعف فلا يجوز الجزم برفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
وفي صفحة 7 من النسخة التي بخط المؤلف. وهو في صفحة 40 من النسخة المطبوعة: ذكر الجزائري نظرية داروين في النشوء والارتقاء، ثم ذكر في صفحة 8 من النسخة التي بخطه، وهو في صفحة 42 من النسخة المطبوعة: حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا قاتل أحدكم أخاه فليجتنب الوجه فإن الله خلق آدم على صورته».
قلت: هذا الحديث رواه مسلم بهذا اللفظ في (كتاب البر والصلة والآداب) صفحة 2017 ج 4 طبع دار إحياء الكتب العربية، وهي الطبعة التي حققها محمد فؤاد عبد الباقي. وهو أيضا في صفحة 165 - 166 ج 16 من طبع المطبعة المصرية التي عليها شرح النووي. ورواه البخاري في كتاب العتق مختصراً صفحة 182 ج 5 فتح الباري طبع المطبعة السلفية، ورواه الإمام أحمد في المسند صفحة 244 ج 2 الطبعة الأولى ولفظه: «إذا ضرب أحدكم فليجتنب الوجه فإن الله خلق آدم على صورته» وقد
মুহাম্মাদ ইবনে নাবহান এটি মারফু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে প্রসিদ্ধ মতে এটি আবদুল্লাহর উক্তি হিসেবে মাওকুফ (সাহাবীর বাণী)। সমাপ্ত। যেহেতু হাদীসটি এ পর্যায়ের দুর্বল, তাই একে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস হিসেবে দৃঢ়ভাবে বর্ণনা করা বৈধ নয়।
লেখকের স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ৭ নং পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ৪০ নং পৃষ্ঠায় আল-জাযায়েরী ডারউইনের বিবর্তন ও ক্রমবিকাশ তত্ত্ব উল্লেখ করেছেন। অতঃপর লেখকের স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ৮ নং পৃষ্ঠায় এবং মুদ্রিত সংস্করণের ৪২ নং পৃষ্ঠায় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের সাথে লড়াই করে, সে যেন চেহারা পরিহার করে; কারণ আল্লাহ তাআলা আদমকে তাঁর নিজস্ব অবয়বে (সুরতে) সৃষ্টি করেছেন»।
আমি বলছি: এই হাদীসটি ইমাম মুসলিম একই শব্দে (কিতাবুল বিররি ওয়াস-সিলাতি ওয়াল-আদাব)-এর ৪ খণ্ডের ২০১৭ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন; এটি দারু ইহয়ায়িল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ কর্তৃক মুদ্রিত এবং মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি কর্তৃক সম্পাদিত সংস্করণ। এটি ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থসহ মিশরীয় ছাপাখানার ১৬ খণ্ডের ১৬৫-১৬৬ নং পৃষ্ঠায়ও বিদ্যমান। ইমাম বুখারী এটি ‘কিতাবুল ইতক’-এ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন যা ফাতহুল বারীর ৫ খণ্ড, ১৮২ পৃষ্ঠায় সালাফিয়া মুদ্রণালয় থেকে প্রকাশিত। ইমাম আহমদ এটি আল-মুসনাদ গ্রন্থের ২ খণ্ড, ২৪৪ পৃষ্ঠায় (প্রথম সংস্করণ) বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দরূপ হলো: «তোমাদের কেউ যখন প্রহার করে, সে যেন চেহারা রক্ষা করে; কারণ আল্লাহ তাআলা আদমকে তাঁর নিজস্ব অবয়বে সৃষ্টি করেছেন»। আর...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قال الجزائري في الكلام على هذا الحديث ما نصه:
«وتأويل هذا الحديث يحتمل ثلاثة أوجه:
أحدهما: باطل لأنه محال عقلا وشرعا وهو كون الله خلق آدم على صورته عز وجل، إذ الله تعالى ليس كمثله شيء وهو السميع البصير، فلم يكن له تعالى كفؤ ولا مثل بحال.
والثاني: يحتمل الجواز وهو أن يكون الله تعالى خلق آدم على صورة الرجل المضروب.
والثالث: وهو المعجزة المحمدية وشاهد إبطال النظرية الدارونية والإلقاء بها في نفاية الزبالات وهو أن الله خلق آدم على صورته التي ورثها أبناؤه عنه.
ولازم هذا أن آدم عليه السلام لم يتطور في خلقه، بل خلقه الله يوم خلقه على صورته التي توارثها أبناؤه جيلا بعد جيل كما هو الشأن في سائر الحيوانات. كل جنس من أجناس الحيوان يتوارث أفراده الشكل والصورة الأولى لأول حيوان، فلم يطرأ عليها تغير ولا تبدل يذكر، فالفرس منذ أن كان هو الفرس، والقرد هو القرد» انتهى الكلام.
وأقول: إن الجزائري قد زالّ في هذا الموضع زلة شنيعة، حيث قرر قول الجهمية وأخذ به، وخالف قول أهل السنة والجماعة.
এই হাদিসের আলোচনায় আল-জাজায়িরি যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:
«এই হাদিসের ব্যাখ্যার তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে:
প্রথমত: এটি বাতিল বা অসার, কারণ বিবেক ও শরিয়ত উভয় দিক থেকেই এটি অসম্ভব। আর তা হলো মহান আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজের (আল্লাহর) আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন—অথচ আল্লাহ তাআলার সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই তাঁর কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ নেই।
দ্বিতীয়ত: এটি জায়েজ বা সম্ভাব্য হতে পারে; আর তা হলো আল্লাহ তাআলা আদমকে সেই প্রহৃত ব্যক্তির আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।
তৃতীয়ত: এটি হলো মুহাম্মাদি মুজিজা এবং ডারউইনীয় মতবাদ বাতিল হওয়ার ও একে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করার প্রমাণ। আর তা হলো আল্লাহ আদমকে এমন আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন যা তাঁর সন্তানরা তাঁর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছে।
এর অনিবার্য অর্থ হলো আদম (আলাইহিস সালাম) তাঁর সৃষ্টিতে বিবর্তিত হননি; বরং আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টির দিনেই এমন আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন যা তাঁর সন্তানরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করে আসছে, যেমনটি অন্যান্য সকল প্রাণীর ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি প্রজাতির প্রাণীরা তাদের আদি প্রাণীর প্রথম রূপ ও আকৃতি উত্তরাধিকারসূত্রে ধারণ করে, ফলে এতে উল্লেখ করার মতো কোনো পরিবর্তন বা রূপান্তর ঘটেনি। সুতরাং ঘোড়া সৃষ্টির শুরু থেকেই ঘোড়া ছিল, এবং বানর বানরই রয়ে গেছে» উক্তি সমাপ্ত।
আর আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আল-জাজায়িরি এই স্থানে এক জঘন্য পদস্খলনের শিকার হয়েছেন, যেহেতু তিনি এখানে জাহমিয়াদের মতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন ও গ্রহণ করেছেন, এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতের বিরোধিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فأما الوجه الأول الذي زعم أنه باطل ومحال عقلا وشرعا فهو قول أهل السنة والجماعة: ذكر ذلك القاضي أبو الحسين في ترجمة أبي جعفر محمد بن عوف بن سفيان الطائي الحمصي، من (طبقات الحنابلة) قال: نقلت من خط أحمد الشنجي بإسناده قال: سمعت محمد بن عوف يقول: أملي علي أحمد بن حنبل - فذكر جملة من مسائل الاعتقاد ومنها - وأن آدم صلى الله عليه خُلق على صورة الرحمن كما جاء الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، رواه ابن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وأما الوجه الثاني والوجه الثالث فهما: خلاف قول أهل السنة، وقد نص الإمام أحمد رحمه الله تعالى علي أنهما من أقوال الجهمية. قال الطبراني في كتاب (السنة) حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل قال: قال رجل لأبي: إن رجلا قال: خلق الله آدم على صورته، أي صورة الرجل. فقال: كذب هو قول الجهمية. ذكره الحافظ ابن حجر في آخر (كتاب العتق) من (فتح الباري) وذكر القاضي أبو الحسين في (طبقات الحنابلة) عن أبي جعفر محمد بن علي الجرجاني المعروف بحمدان قال: سألت أبا ثور عن قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله خلق آدم على صورته»
প্রথম বিষয়টি, যাকে তিনি যুক্তি ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে বাতিল ও অসম্ভব বলে দাবি করেছেন, তা মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভিমত। কাযী আবুল হোসেন 'তাবাকাতুল হানাবিলা' গ্রন্থে আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আউফ বিন সুফিয়ান আত-তাঈ আল-হিমসির জীবনীর বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি আহমদ আশ-শানজির স্বহস্তে লিখিত অনুলিপি থেকে তার সনদসহ নকল করেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন আউফকে বলতে শুনেছি যে, আহমদ বিন হাম্বল আমার নিকট এটি শ্রুতলিখন (ইমলা) করিয়েছেন—অতঃপর তিনি আকিদা সংক্রান্ত কতিপয় মাসআলা উল্লেখ করেন যার মধ্যে ছিল—আদম (আলাইহিস সালাম)-কে পরম করুণাময় রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিষয়টি আহলুস সুন্নাহর মতের পরিপন্থী। ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এ দুটি জাহমিয়াহদের বক্তব্য। তাবারানি তার 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেন: আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আমার পিতাকে বললেন, এক ব্যক্তি দাবি করেছে: 'আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন', অর্থাৎ ওই ব্যক্তির (আদমের) নিজস্ব আকৃতিতে। তিনি (ইমাম আহমদ) বললেন: সে মিথ্যা বলেছে, এটি জাহমিয়াহদের উক্তি। হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি'-র 'কিতাবুল ইতক'-এর শেষভাগে এটি উল্লেখ করেছেন এবং কাযী আবুল হোসেন 'তাবাকাতুল হানাবিলা' গ্রন্থে হামদান নামে পরিচিত আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলি আল-জুরজানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাওরকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فقال: على صورة آدم، وكان هذا بعد ضرب أحمد بن حنبل والمحنة، فقلت لأبي طالب: قل لأبي عبد الله. فقال أبو طالب: قال لي أحمد بن حنبل: صح الأمر على أبي ثور. من قال إن الله خلق آدم على صورة آدم فهو جهمي، وأي صورة كانت لآدم قبل أن يخلقه. وقال القاضي أبو الحسين أيضا في ترجمة عبد الوهاب ابن عبد الحكم الوراق، من (طبقات الحنابلة) قال زكريا بن الفرج: سألت عبد الوهاب غير مرة عن أبي ثور فأخبرني أن أبا ثور جهمي، وذلك أنه قطع بقول أبي يعقوب الشعراني. حكى أنه سأل أبا ثور عن خلق آدم على صورته فقال: إنما هو على صورة آدم ليس هو على صورة الرحمن. قال زكريا: فقلت بعد ذلك لعبد الوهاب: ما تقول في أبي ثور؟ فقال: ما أدين فيه إلا بقول أحمد بن حنبل: يهجر أبو ثور ومن قال بقوله. قال زكريا: وقلت لعبد الوهاب مرة أخرى وقد تكلم قوم في هذه المسألة: «خلق الله آدم على صورته» فقال: من لم يقل إن الله خلق آدم على صورة الرحمن فهو جهمي.
فأما حديث ابن عمر رضي الله عنهما الذي أشار إليه الإمام أحمد رحمه الله تعالى فهو حديث صحيح الإسناد، رواه عبد الله
তিনি বললেন: আদমের আকৃতিতে। আর এটি ছিল আহমাদ ইবনে হাম্বলের প্রহার এবং ফিতনা (মিহনা)-এর পরের ঘটনা। তখন আমি আবু তালিবকে বললাম: আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদকে) বলুন। আবু তালিব বললেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাকে বলেছেন: আবু সাউরের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। যে ব্যক্তি বলে যে, আল্লাহ আদমকে আদমের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, সে একজন জাহমি; কারণ সৃষ্টির পূর্বে আদমের কী আকৃতি ছিল (যা দেখে তাকে সৃষ্টি করা হবে)? কাজী আবু আল-হুসাইনও 'তাবাকাতুল হানাবিলা' গ্রন্থে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল হাকাম আল-ওয়াররাকের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, জাকারিয়া ইবনুল ফারাজ বলেছেন: আমি আব্দুল ওয়াহহাবকে একাধিকবার আবু সাউর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি আমাকে জানালেন যে, আবু সাউর একজন জাহমি; কেননা তিনি আবু ইয়াকুব আশ-শারানির মত গ্রহণ করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু সাউরকে আদমের নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আবু সাউর বলেছিলেন: এটি কেবল আদমেরই আকৃতিতে, এটি রহমানের (আল্লাহর) আকৃতিতে নয়। জাকারিয়া বলেন: এরপর আমি আব্দুল ওয়াহহাবকে বললাম: আবু সাউর সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: আমি এই বিষয়ে আহমাদ ইবনে হাম্বলের বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো মত পোষণ করি না যে, 'আবু সাউর এবং যে ব্যক্তি তার মতো কথা বলে, তাদের বর্জন করা উচিত।' জাকারিয়া বলেন: আমি আব্দুল ওয়াহহাবকে অন্য একবার বললাম, যখন একদল লোক এই বিষয়ে আলোচনা করছিল যে, 'আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন'। তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি বলে না যে, আল্লাহ আদমকে রহমানের (আল্লাহর) আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, সে একজন জাহমি।
আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সেই হাদিসটি, যার প্রতি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) ইঙ্গিত করেছেন, তা একটি সহিহ সনদের হাদিস, যা বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ابن الإمام أحمد في كتاب (السنة) بإسناد رجاله رجال الصحيحين. ولفظه: قال: حدثني أبو معمر، حدثنا جرير عن الأعمش، عن حبيب بن أبي ثابت، عن عطاء، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «لا تقبحوا الوجه فإن الله خلق آدم على صورة الرحمن» وقد رواه أبو بكر الآجري في (كتاب الشريعة) فقال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن صالح البخاري قال: حدثنا إسحاق بن إبراهيم المروزي قال: حدثنا جرير بن عبد الحميد، عن الأعمش، عن حبيب بن أبي ثابت، عن عطاء، عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقبحوا الوجه فإن ابن آدم خلق على صورة الرحمن عز وجل» إسناده صحيح. أبو محمد عبد الله بن صالح البخاري قال: أبو علي الحافظ ثقة مأمون. وقال أبو بكر الإسماعيلي: ثقة ثبت. وقال أبو الحسين بن المنادي، هو أحد الثقات وأهل الصلاح والفهم لما يحدث به: وبقية رجاله رجال الصحيح. وفي الباب عن أبي هريرة رضي الله عنه: رواه عبد الله ابن الإمام أحمد في (كتاب السنة) فقال: حدثني أبو بكر الصاغاني، حدثنا أبو الأسود - وهو النضر بن عبد الجبار - حدثنا ابن لهيعة عن أبي يونس - وهو سليم بن جبير السدوسي مولي أبي هريرة - عن أبي
ইমাম আহমদের পুত্র তাঁর ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে এমন এক সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ সহীহাইনের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারী। এর শব্দাবলি হলো: তিনি বলেন: আমাকে আবু মা'মার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জারীর বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি হাবীব ইবনে আবু সাবিত থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা চেহারাকে কদর্য করো না, কেননা আল্লাহ তাআলা আদমকে দয়াময় (আর-রাহমান)-এর সূরতে (আকৃতিতে) সৃষ্টি করেছেন»। আবু বকর আল-আজুর্রী এটি ‘কিতাবুশ শরীয়াহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-বুখারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি হাবীব ইবনে আবু সাবিত থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা চেহারাকে কদর্য করো না, কেননা বনী আদমকে মহান ও পরাক্রমশালী দয়াময় (আর-রাহমান)-এর সূরতে সৃষ্টি করা হয়েছে»। এর সনদ সহীহ। আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-বুখারি সম্পর্কে আবু আলী আল-হাফিয বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। আবু বকর আল-ইসমাঈলী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়। আবু আল-হুসাইন ইবনুল মুনাদী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্যতম এবং নেককার ও যা বর্ণনা করেন সে বিষয়ে সম্যক অনুধাবনকারী। আর এর বাকি বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা রয়েছে: ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহ ‘কিতাবুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমাকে আবু বকর আস-সাগানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আল-আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন—যিনি হলেন নযর ইবনে আব্দুল জাব্বার—আমাদের নিকট ইবনে লাহিয়াহ বর্ণনা করেছেন আবু ইউনুস থেকে—যিনি হলেন আবু হুরায়রার আযাদকৃত দাস সুলাইম ইবনে জুবায়ের আস-সাদুসী—তিনি আবু...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
هريرة رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا قاتل أحدكم فليجتنب الوجه فإنما صورة الإنسان على وجه الرحمن» ابن لهيعة ضعفه بعض الأئمة، وحسن بعضهم حديثه، وقد روى له مسلم مقرونا بآخر. وبقية رجاله ثقات. وحديث ابن عمر المذكور قبله يشهد له ويقويه.
وقد ذكر الحافظ ابن حجر في آخر (كتاب العتق) من (فتح الباري) ما ورد في بعض طرق حديث أبي هريرة رضي الله عنه: «أن الله خلق آدم على صورة الرحمن» ثم قال: أخرجه ابن أبي عاصم في (السنة) والطبراني من حديث ابن عمر بإسناد رجالة ثقات. وأخرجه ابن أبي عاصم أيضا من طريق أبي يونس عن أبي هريرة بلفظ: «من قاتل فليجتنب الوجه فإن صورة وجه الإنسان على صورة وجه الرحمن» فتعين إجراء ما في ذلك على ما تقرر به أهل السنة من إمراره كما جاء من غير اعتقاد تشبيه. قال: وقال حرب الكرماني في (كتاب السنة): سمعت إسحاق بن راهويه يقول: صح أن الله خلق آدم على صورة الرحمن. وقال إسحاق الكوسج: سمعت أحمد يقول: هو حديث صحيح. انتهى ما ذكره الحافظ ابن حجر. وقد ذكر الذهبي في ترجمة أبي الزناد في (الميزان) ما رواه حرب عن إسحاق، وما رواه الكوسج عن أحمد، ثم قال: وهو مخرج في
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন লড়াই করবে, তখন সে যেন চেহারা এড়িয়ে চলে; কারণ মানুষের অবয়ব পরম করুণাময়ের চেহারার সাদৃশ্যে।" ইবনে লাহিয়াহকে কোনো কোনো ইমাম দুর্বল বলেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর বর্ণিত হাদিসকে হাসান বলেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর বর্ণিত হাদিস অন্য বর্ণনার সাথে মিলিয়ে উদ্ধৃত করেছেন। আর বর্ণনাকারী দলের বাকি সদস্যরা নির্ভরযোগ্য। এর পূর্বে বর্ণিত ইবনে উমরের হাদিসটি এর পক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং একে শক্তিশালী করে।
হাফিয ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থের 'কিতাবুল ইতক'-এর শেষে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কিছু সূত্রে যা এসেছে তা উল্লেখ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে পরম করুণাময়ের অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।" অতঃপর তিনি বলেন: ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে এবং তাবারানি ইবনে উমরের হাদিস থেকে এমন এক সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইবনে আবি আসিম আবু ইউনুসের সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে এই শব্দে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: "যে লড়াই করবে সে যেন চেহারা এড়িয়ে চলে, কারণ মানুষের চেহারার অবয়ব পরম করুণাময়ের চেহারার অবয়বের মতো।" সুতরাং এই বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা আহলে সুন্নাতের নির্ধারিত মূলনীতি অনুযায়ী যেভাবে এসেছে সেভাবেই গ্রহণ করা আবশ্যক, কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপনের বিশ্বাস ব্যতিরেকে। তিনি বলেন: হারব আল-কিরমানি 'কিতাবুস সুন্নাহ'-তে বলেছেন: আমি ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহকে বলতে শুনেছি যে, এটি প্রমাণিত যে আল্লাহ আদমকে পরম করুণাময়ের অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। ইসহাক আল-কাউসাজ বলেন: আমি ইমাম আহমাদকে বলতে শুনেছি যে, এটি একটি সহিহ হাদিস। হাফিয ইবনে হাজারের বক্তব্য এখানেই শেষ। আয-যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে আবুয যিনাদের জীবনীতে হারব কর্তৃক ইসহাক থেকে এবং কাউসাজ কর্তৃক আহমাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: এটি সংকলিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الصحاح. قال: وأما معنى حديث الصورة فنرد علمه إلى الله ورسوله، ونسكت كما سكت السلف مع الجزم بأن الله ليس كمثله شيء انتهى.
وقال أبو بكر الآجري في (كتاب الشريعة): (باب الإيمان بأن الله عز وجل خلق آدم على صورته بلا كيف) ثم روى حديث أبي هريرة رضي الله عنه في ذلك من عدة طرق بألفاظ مختلفة:
اللفظ الأول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا ضرب أحدكم فليجتنب الوجه فإن الله خلق آدم على صورته».
اللفظ الثاني: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تُقبحوا الوجه فإن الله تعالى خلق آدم على صورته».
اللفظ الثالث: بنحو اللفظ الأول.
اللفظ الرابع عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «لا تقل: قبح الله وجهك ولا وجه من أشبه وجهك فإن الله عز وجل خلق آدم على صورته» وقد رواه الإمام أحمد في مسنده: حدثنا يحيي ابن سعيد قال: حدثنا ابن عجلان قال: حدثني سعيد عن أبي
আস-সিহাহ। তিনি বলেন: আর সুরত (আকৃতি) সংক্রান্ত হাদিসের মর্মার্থের ব্যাপারে আমরা এর জ্ঞান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সোপর্দ করি এবং পূর্বসূরিগণ (সালাফ) যেভাবে নীরব থেকেছেন আমরাও সেভাবে নীরবতা অবলম্বন করি, তবে এই দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে যে, আল্লাহর সদৃশ কোনো কিছুই নেই। সমাপ্ত।
এবং আবু বকর আল-আজুররি ‘কিতাবুশ শরীয়াহ’-তে বলেছেন: (অধ্যায়: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ সুরতে বা আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন—কোনো প্রকার ধরন বা কাইফিয়্যাত নির্ধারণ ছাড়াই এর ওপর ইমান আনা)। অতঃপর তিনি এ বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটি বিভিন্ন শব্দে একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন:
প্রথম শব্দচয়ন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন প্রহার করে, তখন সে যেন মুখমণ্ডল পরিহার করে; কারণ আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ সুরতে বা আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।"
দ্বিতীয় শব্দচয়ন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা চেহারাকে কুৎসিত বলো না; কারণ আল্লাহ তাআলা আদমকে তাঁর নিজ সুরতে বা আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।"
তৃতীয় শব্দচয়ন: প্রথম শব্দচয়নের অনুরূপ।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত চতুর্থ শব্দচয়ন: "তোমরা এ কথা বলো না যে, ‘আল্লাহ তোমার চেহারাকে কুৎসিত করুন’ এবং ‘এমন ব্যক্তির চেহারাকেও যে তোমার চেহারার সদৃশ’; কারণ মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ সুরতে বা আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।" ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আজলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু... থেকে।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا ضرب أحدكم فليجتنب الوجه ولا تقل قبح الله وجهك ووجه من أشبه وجهك، فإن الله عز وجل خلق آدم عليه السلام على صورته» ابن عجلان قد روى له مسلم في المتابعات، ووثقه ابن عيينة، وأحمد وابن معين وأبو زرعة وأبو حاتم والنسائي والعجلي. وبقية رجاله رجال الصحيح.
وروى الآجري في الباب أيضا حديث ابن عمر رضي الله عنهما، وقد تقدم ذكره. ثم قال الآجري بعد إيراده لحديثي أبي هريرة وابن عمر رضي الله عنهما: هذه من السنن التي يجب على المسلمين الإيمان بها ولا يقال فيها كيف ولم، بل تستقبل بالتسليم والتصديق وترك النظر كما قال من تقدم من أئمة المسلمين. حدثنا أبو نصر محمد بن كردي قال: حدثنا أبو بكر المروذي قال: سالت أبا عبد الله أحمد بن حنبل رحمه الله عن الأحاديث التي تردها الجهمية في الصفات والأسماء والرؤية وقصة العرش فصححها وقال: تلقتها العلماء بالقبول تسلم الأخبار كما جاءت.
وقال أبو بكر المروذي: وأرسل أبو بكر وعثمان ابنا أبي شيبة إلى أبي عبد الله يستأذنانه في أن يحدثا بهذه الأحاديث التي تردها
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন কাউকে প্রহার করে, সে যেন চেহারা এড়িয়ে চলে এবং এ কথা না বলে যে, 'আল্লাহ তোমার চেহারাকে এবং যার চেহারা তোমার চেহারার মতো তাকে কুৎসিত করুন'; কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদম (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর নিজ সুরতে সৃষ্টি করেছেন।" ইবনে আজলান থেকে ইমাম মুসলিম মুতাবাআত হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে উয়াইনাহ, আহমাদ, ইবনে মাঈন, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, নাসাঈ ও ইজলী তাঁকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সত্যায়ন করেছেন। এর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।
ইমাম আজুররী এই পরিচ্ছেদে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসটিও বর্ণনা করেছেন, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর আবু হুরায়রা ও ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাদিসদ্বয় উল্লেখ করার পর আজুররী বলেন: এগুলো সেই সকল সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ওপর ঈমান আনা মুসলিমদের জন্য ওয়াজিব। এগুলোর ক্ষেত্রে 'কীভাবে' বা 'কেন' প্রশ্ন তোলা যাবে না, বরং এগুলোকে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও সত্যয়নের সাথে গ্রহণ করতে হবে এবং (যৌক্তিক) সূক্ষ্মতর্ক বর্জন করতে হবে, যেমনটি পূর্ববর্তী মুসলিম ইমামগণ বলে গেছেন। আমাদের নিকট আবু নাসর মুহাম্মাদ ইবনে কুরদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-কে ঐসব হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যা জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি), নামসমূহ, দিদার (রুইয়াত) এবং আরশের বিবরণের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করে থাকে। তিনি সেগুলোকে সহীহ (বিশুদ্ধ) আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন: আলেম সমাজ এগুলোকে কবুল করে নিয়েছেন; এই সংবাদগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই মেনে নিতে হবে।
আবু বকর আল-মারওয়াযী বলেন: আবু বকর ও উসমান—আবু শায়বার দুই পুত্র—আবু আব্দুল্লাহর নিকট এই মর্মে লোক পাঠালেন যে, তাঁরা তাঁর কাছে ঐসব হাদিস বর্ণনা করার অনুমতি চাচ্ছেন যা তারা (জাহমিয়্যাহরা) প্রত্যাখ্যান করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তানবীহাতুন আলা রাসায়িলাতাইনি লিশ-শাইখ আবী বাকর আল-জাযাইরী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الجهمية، فقال أبو عبد الله: حدثوا بها فقد تلقتها العلماء بالقبول، وقال أبو عبد الله: تسلم الأخبار كما جاءت. قال محمد ابن الحسين الآجري: سمعت أبا عبد الله الزبيري رحمه الله وقد سئل عن معنى هذا الحديث فذكر مثل ما قيل فيه، ثم قال أبو عبد الله: نؤمن بهذه الأخبار التي جاءت كما جاءت ونؤمن بها إيمانا ولا نقول كيف، ولكن ننتهي في ذلك إلى حيث انتهى بنا فنقول في ذلك ما جاءت به الأخبار كما جاءت. انتهى كلام الآجري رحمه الله تعالى.
وإذا علم أن الإمام أحمد وإسحاق بن راهويه قد صححا حديث: «إن الله خلق آدم على صورة الرحمن» وعلم أيضا ما تقدم عن الإمام أحمد أنه قال من قال: إن الله خلق آدم على صورة آدم فهو جهمي. وقوله أيضا: من قال إن الله خلق آدم على صورة الرجل - أي المضروب - فهو جهمي، وكذلك قول عبد الوهاب الوراق: من لم يقل إن الله خلق آدم على صورة الرحمن فهو جهمي. فليعلم أيضا أنه يجب الإيمان بما جاء في حديث ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقبحوا الوجه فإن الله خلق آدم على صورة الرحمن» لثبوت ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم، ويسلك في هذا الحديث كما يسلك في آيات الصفات،
জাহমিয়াদের প্রসঙ্গে আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) বলেন: এগুলো বর্ণনা করো, কারণ ওলামায়ে কেরাম এগুলোকে কবুলিয়াত বা গ্রহণযোগ্যতার সাথে গ্রহণ করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ আরও বলেন: বর্ণনাগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই তা সমর্পণ করতে হবে। মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আজ-যুবাইরিকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই হাদিসের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি, তখন তিনি এ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার অনুরূপ উল্লেখ করেন। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এই বর্ণনাগুলো যেভাবে এসেছে আমরা সেগুলোর ওপর সেভাবেই ঈমান আনি এবং সেগুলোর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করি, আর আমরা ‘কীভাবে’ (কাইফিয়াত) তা বলি না। বরং এ বিষয়ে আমাদের যতটুকু পর্যন্ত পৌঁছানো হয়েছে সেখানেই আমরা সীমাবদ্ধ থাকি; সুতরাং এই বর্ণনাগুলো যেভাবে এসেছে আমরা সেভাবেই বলি। ইমাম আল-আজুররির (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
আর যখন এটি জানা গেল যে ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে দয়াময় (আর-রহমান)-এর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" হাদিসটিকে সহিহ হিসেবে গণ্য করেছেন; এবং ইমাম আহমাদ থেকে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তাও জানা গেল যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে যে আল্লাহ আদমকে আদমের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, সে একজন জাহমি।" এবং তাঁর আরও উক্তি: "যে ব্যক্তি বলে যে আল্লাহ আদমকে সেই ব্যক্তির আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন—অর্থাৎ যাকে প্রহার করা হয়েছে—সে একজন জাহমি।" তদ্রূপ আব্দুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাকের উক্তি: "যে ব্যক্তি বলে না যে আল্লাহ আদমকে আর-রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, সে একজন জাহমি।" সুতরাং এটিও জেনে রাখা উচিত যে, ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে যা এসেছে তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব; যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা চেহারাকে কদর্য বলো না, কারণ আল্লাহ আদমকে আর-রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।" যেহেতু এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে, তাই এই হাদিসের ক্ষেত্রে সেই পথই অনুসরণ করা হবে যা গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়।