(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: -)
السراج الوهاج لمحو أباطيل الشلبي عن الإسراء والمعراج القسم: الفرق والردود
الكتاب: السراج الوهاج لمحو أباطيل الشلبي عن الإسراء والمعراج
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: مكتبة المعارف، الرياض - المملكة العربية السعودية
عام النشر: 1406 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 126
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে শালবি’র অসারতা দূরীকরণে উজ্জ্বল প্রদীপ বিভাগ: বিভিন্ন দল ও তাদের খণ্ডন
গ্রন্থ: ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে শালবি’র অসারতা দূরীকরণে উজ্জ্বল প্রদীপ
লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরি (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরি)
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ - সৌদি আরব
প্রকাশের বছর: ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: -)
السراج الوهاج لمحو أباطيل الشلبي عن الإسراء والمعراج
تأليف
الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود التويجري
غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين
مكتبة المعارف
ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে আশ-শালবির অসার মিথ্যাচারসমূহ নিরসনে দেদীপ্যমান প্রদীপ
রচনায়
মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ আত-তুওয়াইজিরি
আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন
মাকতাবাতুল মাআরিফ
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله المبعوث رحمة للعالمين، وحجة على أهل الزيغ والضلال أجمعين، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليما كثيراً.
أما بعد فقد رأيت نبذة صغيرة في الإسراء والمعراج، ألفها الدكتور أحمد شلبي الأستاذ بجامعة القاهرة. وزعم أنها دراسة تصحيح للقضاء على الشطحات والخيال، وهي الجزء الثالث من مائة جزء مما سماه «بالمكتبة الإسلامية المصورة لكل الأعمار» وقد نشرتها مكتبة النهضة بالقاهرة، وفيها من التخبيط والتقول على رسول الله صلى الله عليه وسلم وإنكار ما ثبت عنه في الإسراء والمعراج ما لا مزيد عليه في الضلال والإضلال، وقد تواتر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار». وفيها أيضاً تقرير رأي الجهمية الكافرة في إنكار علو الله على خلقه واستوائه على عرشه الذي هو فوق جميع المخلوقات. فهي في الحقيقة دراسة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত এবং সকল সত্যবিচ্যুত ও পথভ্রষ্টদের জন্য অকাট্য প্রমাণ হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের প্রতি অজস্র ধারায় শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।
পর সমাচার, আমি ইসরা ও মিরাজ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা দেখেছি, যা কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর আহমদ শালবী রচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এটি অসংলগ্নতা ও কল্পনাপ্রসূত বিষয়াদি দূর করার লক্ষ্যে একটি সংশোধনমূলক গবেষণা। এটি তাঁর তথাকথিত ‘সকল বয়সের জন্য সচিত্র ইসলামি পাঠাগার’ নামক ১০০ খণ্ডের সিরিজের তৃতীয় খণ্ড। কায়রোর মাকতাবাতুন নাহদাহ এটি প্রকাশ করেছে। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে এমন সব বিভ্রান্তিকর কথা ও মিথ্যাচার করা হয়েছে এবং ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে তাঁর থেকে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত তা অস্বীকার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার চরম সীমা। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।» এতে সৃষ্টির ঊর্ধ্বে আল্লাহর সমুন্নত অবস্থান এবং সমস্ত সৃষ্টির উপরে অবস্থিত তাঁর আরশের ওপর উঠার বিষয়টি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে কাফের জাহমিয়াদের মতাদর্শও প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি এমন একটি গবেষণা যা...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৪)
إفساد لعقيدة أهل السنة والجماعة فيما يتعلق بالإسراء والمعراج وإثبات علو الله على خلقه وسأنبه على ما فيها من الشطحات والأقوال الباطلة والآراء الفاسدة إن شاء الله تعالى، وأسأل الله تعالى أن يريني وإخواني المسلمين الحق حقا ويرزقنا اتباعه، ويرينا الباطل باطلاً ويرزقنا اجتنابه، ولا يجعله ملتبسا علينا فنضل.
এটি ইসরা ও মি'রাজ এবং সৃষ্টির ওপর আল্লাহর উচ্চতা সাব্যস্ত করার বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদার একটি বিকৃতি। এতে বিদ্যমান বিভ্রান্তিকর উক্তি, বাতিল বক্তব্য এবং ভ্রান্ত মতামতগুলো সম্পর্কে আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা সতর্ক করব। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করেন; আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা বর্জন করার তাওফিক দান করেন। তিনি যেন সত্যকে আমাদের নিকট অস্পষ্ট না করেন, যার ফলে আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ি।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৫)
فصل
قال الشلبي في صفحة 4: فقد أسري بالرسول من مكة إلى بيت المقدس وعرج به إلى السماء ثم عاد قبل أن يبرد فراشه.
والجواب أن يقال: لم يأت في شيء من أحاديث الإسراء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عاد إلى مكة قبل أن يبرد فراشه، ولم أر أحداً من أهل السير والتاريخ ذكر ذلك ولا شك أن هذا من توهمات الشلبي وتخرصاته فلا يلتفت إليه.
وقال الشلبي في صفحة 4: وقد التصقت بالإسراء والمعراج خرافات وأوهام نريد أن نزيلها لنعيد لهذين الحدثين جلالهما وصفاءهما.
والجواب أن يقال: أما الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في الإسراء والمعراج فكلها حق وصدق، ومن أنكر شيئاً مما جاء فيها وزعم أنها خرافات وأوهام فهو ممن يشك في إسلامه، لأنه لم يحقق الشهادة بالرسالة. ومن تحقيقها تصديق ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من أنباء الغيب وما وقع له في ليلة الإسراء من ركوب البراق وربطه بالحلقة التي يربط بها الأنبياء وعروجه مع جبريل إلى السموات السبع وما رآه في السموات السبع من الأنبياء، وأنه سلم
পরিচ্ছেদ
আল-শিলবি ৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে নৈশভ্রমণ করানো হয়েছিল এবং সেখান থেকে তাঁকে আসমানে আরোহণ করানো হয়েছিল, অতঃপর তাঁর বিছানা শীতল হওয়ার পূর্বেই তিনি ফিরে এসেছিলেন।
এর উত্তরে বলা হবে: ইসরা সংক্রান্ত কোনো হাদীসেই বর্ণিত হয়নি যে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বিছানা শীতল হওয়ার পূর্বেই মক্কায় ফিরে এসেছিলেন। সীরাত ও ইতিহাস বিশেষজ্ঞদের কাউকেও আমি এটি উল্লেখ করতে দেখিনি। নিঃসন্দেহে এটি শিলবির একটি কল্পনাপ্রসূত ও অনুমাননির্ভর কথা, সুতরাং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না।
শিলবি ৪ পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন: ইসরা ও মিরাজের সাথে কিছু কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা যুক্ত হয়ে গিয়েছে, যা আমরা দূর করতে চাই যাতে এই ঘটনাদ্বয়ের মহিমা ও বিশুদ্ধতা ফিরিয়ে আনা যায়।
এর উত্তরে বলা হবে: নবী (সা.) থেকে ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে প্রমাণিত প্রতিটি হাদীসই সত্য ও সঠিক। এতে বর্ণিত কোনো বিষয়কে যদি কেউ অস্বীকার করে এবং সেগুলোকে কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা বলে দাবি করে, তবে তার ইসলামের ব্যাপারে সংশয় রয়েছে; কারণ সে রিসালাতের সাক্ষ্যের প্রকৃত দাবি পূরণ করেনি। আর এই সাক্ষ্য পূর্ণ করার অন্যতম শর্ত হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) অদৃশ্যের যে সংবাদ দিয়েছেন এবং ইসরার রাতে তাঁর বোরাকে আরোহণ, নবীগণ যেখানে তাঁদের বাহন বাঁধতেন সেই আংটায় বোরাককে বাঁধা, জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে সপ্তাকাশে আরোহণ এবং সেখানে বিভিন্ন নবীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হওয়ার ঘটনা যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সত্য বলে বিশ্বাস করা। আর তিনি তাঁদের সালাম প্রদান করেন
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৬)
عليهم فردوا عليه السلام ورحبوا به ودعوا له بخير، وأنه رأى البيت المعمور ورفع إلى سدرة المنتهى، وأنه رأى جبريل في صورته، وله ستمائة جناح كل جناح منها قد سد الأفق، وأنه رأى الجنة والنار، ورأى مالكا صاحب النار وأن مالكا سلم عليه، وأنه صلى بالنبيين في بيت المقدس. إلى غير ذلك مما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أنه رآه في تلك الليلة، وما أخبر به أيضاً عن رفعه فوق السموات السبع إلى المستوى الذي كان يسمع فيه صريف الأقلام، وأن الله تعالى أوحى إليه وفرض عليه وعلى أمته خمسين صلاة في كل يوم وليلة، فلم يزل يتردد بين ربه وبين موسى عليه الصلاة والسلام في طلب التخفيف لأمته حتى جعلها الله خمس صلوات وقال: يا محمد هن خمس صلوات في كل يوم وليلة بكل صلاة عشر فتلك خمسون صلاة، وفي رواية هي خمس وهي خمسون لا يبدل القول لدي. فكل ذلك حق وصدق، ومن أنكر شيئاً من ذلك أو شك فيه فهو ممن يشك في إسلامه.
وقد ذكر الحافظ ابن كثير في تفسيره عن الحافظ أبي الخطاب عمر بن دحية أنه قال في كتابه: «التنوير في مولد السراج المنير» وقد ذكر حديث الإسراء من طريق أنس وتكلم عليه فأجاد وأفاد ثم قال: وقد تواترت الروايات في حديث الإسراء
তাদের প্রতি সালাম পেশ করলেন, অতঃপর তারা তাঁর সালামের উত্তর দিলেন, তাঁকে স্বাগত জানালেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। তিনি বায়তুল মামুর প্রত্যক্ষ করলেন এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উন্নীত হলেন। তিনি জিবরাঈলকে তাঁর প্রকৃত আকৃতিতে দেখলেন, যাঁর ছয়শটি ডানা ছিল এবং প্রতিটি ডানা দিগন্ত অবরুদ্ধ করে দিয়েছিল। তিনি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলেন; জাহান্নামের রক্ষক মালিককে দেখলেন এবং মালিক তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি বায়তুল মাকদিসে নবীগণের ইমামতি করে সালাত আদায় করলেন। এছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রাতে যা যা দেখেছিলেন বলে সংবাদ দিয়েছেন এবং এ সংবাদও দিয়েছেন যে, তাঁকে সাত আসমানের উপরে এমন এক স্তরে উন্নীত করা হয়েছিল যেখানে তিনি কলমের খসখস শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি ওহি অবতীর্ণ করলেন এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের উপর প্রতি দিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করলেন। এরপর তিনি তাঁর উম্মতের জন্য সালাত সহজ করার আবেদন নিয়ে তাঁর রব এবং মূসা আলাইহিস সালামের মাঝে বারবার যাতায়াত করতে থাকলেন, অবশেষে আল্লাহ তা পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত করে দিলেন এবং বললেন: "হে মুহাম্মদ! এগুলো দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, তবে প্রতিটি সালাতের বিনিময়ে দশ গুণ সওয়াব রয়েছে, সুতরাং তা পঞ্চাশ সালাতের সমান।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "এগুলো (সংখ্যায়) পাঁচ কিন্তু (প্রতিদানে) পঞ্চাশ, আমার নিকট কথার কোনো রদবদল হয় না।" এর প্রতিটি বিষয়ই ধ্রুব সত্য এবং বাস্তব। যে ব্যক্তি এর কোনো কিছু অস্বীকার করবে কিংবা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করবে, তার ইসলামই সংশয়াচ্ছন্ন।
হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে হাফিজ আবুল খাত্তাব ওমর ইবনে দিহইয়া থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি তাঁর 'আত-তানভীর ফী মাওলিদিস সিরাজিল মুনীর' গ্রন্থে আনাস (রা.)-এর বর্ণিত সূত্র থেকে ইসরা-র হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এর ওপর অত্যন্ত নিপুণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: ইসরা বিষয়ক হাদিসসমূহ বর্ণনার দিক থেকে মুতাওয়াতির বা অতি-বিখ্যাত ও অবিচ্ছিন্ন পর্যায়ের।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৭)
عن عمر بن الخطاب وعلي وابن مسعود وأبي ذر ومالك بن صعصعة وأبي هريرة وأبي سعيد وابن عباس وشداد بن أوس وأبيّ ابن كعب وعبدالرحمن بن قرط وأبي حبة وأبي ليلى الأنصاريين وعبدالله بن عمرو وجابر وحذيفة وبريدة وأبي أيوب وأبي أمامة وسمرة بن جندب وأبي الحمراء وصهيب الرومي وأم هانئ وعائشة وأسماء ابنتي أبي بكر الصديق رضي الله عنهم أجمعين، منهم من ساقه بطوله ومنهم من اختصره على ما وقع في المسانيد. وإن لم تكن رواية بعضهم على شرط الصحة فحديث الإسراء أجمع عليه المسلمون وأعرض عنه الزنادقة والملحدون {يريدون ليطفئوا نور الله بأفواههم والله متم نوره ولو كره الكافرون} انتهى كلامه، وما ذكره من إجماع المسلمين على حديث الإسراء يشمل كل ما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أنه وقع له في السموات وفي الأرض مما تقدم ذكره قريباً وما لم يذكر ههنا، وكل ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من ذلك فإنه يجب الإيمان به وذلك من تحقيق الشهادة بالرسالة، ومن رد شيئاً مما جاء في الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في الإسراء والمعراج وزعم أنها خرافات وأوهام فإنما هو في الحقيقة يرد على النبي صلى الله عليه وسلم ويكذب أخباره الصادقة ويصفها بالصفات المستهجنة، مع مخالفته لإجماع المسلمين وسلوكه طريق
উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী, ইবনে মাসউদ, আবু যার, মালিক ইবনে সা’সা’আহ, আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ, ইবনে আব্বাস, শাদ্দাদ ইবনে আউস, উবাই ইবনে কাব, আবদুর রহমান ইবনে কুরত, আবু হাব্বাহ ও আবু লায়লা আল-আনসারীদ্বয়, আবদুল্লাহ ইবনে আমর, জাবির, হুজায়ফা, বুরাইদা, আবু আইয়ুব, আবু উমামা, সামুরা ইবনে জুনদুব, আবু আল-হামরা, সুহাইব আর-রূমী, উম্মে হানী এবং আবু বকর সিদ্দীকের দুই কন্যা আয়েশা ও আসমা (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত; তাদের মধ্যে কেউ এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন, আবার কেউ মুসনাদসমূহে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। যদিও তাদের কারো কারো বর্ণনা বিশুদ্ধতার শর্তানুযায়ী নয়, তবুও ইসরা-এর হাদীসের বিষয়ে মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, আর ধর্মদ্রোহী ও নাস্তিকরা তা থেকে বিমুখ হয়েছে। {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে}—তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত। ইসরা-এর হাদীসের ওপর মুসলিমদের ঐকমত্যের যে বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন, তাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসমান ও যমীনে তাঁর সাথে যা যা ঘটেছিল বলে সংবাদ দিয়েছেন তার সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে কিংবা যা এখানে উল্লেখিত হয়নি। এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে, তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং তা রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদানের প্রকৃত বাস্তবায়নের অন্তর্ভুক্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে প্রমাণিত হাদীসসমূহের কোনো কিছুকে যে ব্যক্তি প্রত্যাখ্যান করবে এবং সেগুলোকে রূপকথা ও কল্পনা বলে দাবি করবে, সে প্রকৃতপক্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কেই প্রত্যাখ্যান করছে, তাঁর সত্য সংবাদসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং সেগুলোকে নিন্দনীয় বিশেষণে বিশেষিত করছে। এর ফলে সে মুসলিমদের ঐকমত্যের বিরোধিতা করছে এবং এমন পথে ধাবিত হচ্ছে...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الزنادقة والملحدين.
ধর্মদ্রোহী ও নাস্তিকগণ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فصل
وقد أنكر الشلبي ركوب النبي صلى الله عليه وسلم على البراق في ليلة الإسراء، وزعم أن ذلك من الانحرافات والآراء الشائعة، وزعم في صفحة 12 وصفحة 15 وصفحة 27 أن انتقال النبي صلى الله عليه وسلم في رحلة الإسراء والمعراج كان بطرق ووسائل يعلمها الله على نمط انتقال عرش بلقيس بل على هيئة أشرف وأكمل تتناسب مع خاتم الأنبياء، قال: ومن الممكن أن يطوي الله الأرض فيصبح بيت المقدس متصلاً بمكة ويخطو محمد خطوة واحدة ثم تعود الأرض إلى وضعها الطبيعي فيصبح الرسول ببيت المقدس، قال: والمهم أن وسائل الله سبحانه وتعالى كثيرة لنقل محمد من مكة إلى بيت المقدس في لحظة من الزمان.
والجواب أن يقال: أما ركوب النبي صلى الله عليه وسلم على البراق في ليلة الإسراء فهو ثابت في عدة أحاديث صحيحة. الأول منها عن أنس ابن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أتيت بالبراق وهو دابة أبيض طويل فوق الحمار ودون البغل يضع حافره عند منتهى طرفه، قال: فركبته حتى أتيت بيت المقدس، قال: فربطته بالحلقة التي يربط بها الأنبياء، قال: ثم دخلت المسجد فصليت فيه ركعتين» الحديث رواه الإمام أحمد ومسلم.
পরিচ্ছেদ
শলাবী ইসরা-এর রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বুরাকের ওপর আরোহণকে অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এটি বিভ্রান্তি ও প্রচলিত ধারণা মাত্র। তিনি ১২, ১৫ ও ২৭ নম্বর পৃষ্ঠায় দাবি করেছেন যে, ইসরা ও মেরাজের সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন আল্লাহ তাআলার জানা এমন কিছু বিশেষ পদ্ধতিতে ও উপায়ে সম্পন্ন হয়েছিল যা বিলকিসের সিংহাসন স্থানান্তরের অনুরূপ, বরং তা ছিল শেষ নবীর শানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আরও মর্যাদাপূর্ণ ও নিখুঁত পদ্ধতিতে। তিনি বলেছেন: এটি সম্ভব যে আল্লাহ জমিনকে সংকুচিত করে দিয়েছিলেন, ফলে বাইতুল মাকদিস মক্কার সাথে সংযুক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাত্র এক কদম ফেললেন, অতঃপর জমিন তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসল এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল মাকদিসে উপস্থিত হলেন। তিনি আরও বলেছেন: আসল কথা হলো, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে চোখের পলকে মক্কা থেকে বাইতুল মাকদিসে নিয়ে যাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে বহু উপায় রয়েছে।
এর উত্তরে বলা হবে: ইসরা-এর রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বুরাকে আরোহণ করার বিষয়টি একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা সুপ্রমাণিত। প্রথমত, আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার নিকট বুরাক আনা হলো, যা গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট একটি সাদা রঙের দীর্ঘকায় চতুষ্পদ জন্তু। সে তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় তার খুর ফেলে। তিনি বলেন: আমি তাতে আরোহণ করলাম এবং বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত আসলাম। তিনি বলেন: এরপর আমি সেটিকে সেই আংটার সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ বাঁধতেন। তিনি বলেন: এরপর আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলাম।» হাদীসটি ইমাম আহমদ ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحديث الثاني: عن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «أتي بالبراق ليلة أسري به مسرجاً ملجماً ليركبه فاستصعب عليه فقال له جبريل: ما يحملك على هذا فو الله ما ركبك أحد قط أكرم على الله عز وجل منه، قال فارفض عرقاً» رواه الإمام أحمد والترمذي وقال هذا حديث حسن غريب.
الحديث الثالث: عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن مالك ابن صعصعة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أتيت بدابة أبيض يقال له البراق فوق الحمار ودون البغل يقع خطوه عند أقصى طرفه فحملت عليه ثم انطلقنا» الحديث رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم.
الحديث الرابع: عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أتيت بالبراق وهو دابة أبيض فوق الحمار ودون البغل فلم نزايل ظهره أنا وجبريل حتى انتهينا إلى بيت المقدس» الحديث رواه الإمام أحمد وأبو داود الطيالسي بإسناد صحيح، وقد رواه الترمذي بنحوه وقال: هذا حديث حسن صحيح وصححه أيضا ابن حبان والحاكم والذهبي.
وفي الباب عن بريدة بن الحصيب الأسلمي رضي الله عنه وهو
দ্বিতীয় হাদিস: আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইসরা বা নৈশভ্রমণের রাতে জিন ও লাগাম পরানো সুসজ্জিত অবস্থায় বুরাক নিয়ে আসা হলো যাতে তিনি তাতে আরোহণ করেন। কিন্তু সেটি তাঁর সাথে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করল (আরোহণ করতে দিতে চাইল না)। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) সেটিকে বললেন: “কিসের কারণে তুমি এমন করছ? আল্লাহর কসম! তোমার ওপর ইতিপূর্বে এমন কেউ আরোহণ করেননি, যিনি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত।” বর্ণনাকারী বলেন: “একথা শুনে সেটি ঘর্মাক্ত হয়ে পড়ল।” এটি ইমাম আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এই হাদিসটি হাসান গারীব।
তৃতীয় হাদিস: আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মালিক ইবনে সা’সা’আহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমার নিকট শ্বেতবর্ণের একটি জন্তু আনা হলো যাকে বুরাক বলা হয়, যা গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট। তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় তার প্রতিটি কদম পড়ে। অতঃপর আমি তাতে আরোহণ করলাম এবং এরপর আমরা যাত্রা করলাম।” হাদিসটি ইমাম আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থ হাদিস: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমার নিকট বুরাক আনা হলো, যা একটি শ্বেতবর্ণের জন্তু, গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট। আমি ও জিবরাঈল এর পিঠ থেকে পৃথক হইনি যতক্ষণ না আমরা বাইতুল মাকদিসে পৌঁছলাম।” হাদিসটি ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ তায়ালিসি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ। এছাড়াও ইবনে হিব্বান, হাকীম ও যাহাবী একে সহিহ বলে অভিহিত করেছেন।
এবং এই অনুচ্ছেদে বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব আল-আসলামী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা রয়েছে, আর তিনি হলেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১১)
حديث صحيح وسيأتي ذكره إن شاء الله تعالى، وفيه أيضاً عن أبي سعيد الخدري وشداد بن أوس وعبدالله بن مسعود وأبي هريرة وأم هانئ رضي الله عنهم، كل منهم روى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ركب على البراق إلى بيت المقدس، وأسانيد أحاديثهم لا تخلو من مقال، وفي الأحاديث الأربعة التي تقدم ذكرها مع حديث بريدة رضي الله عنه الذي سيأتي ذكره إن شاء الله تعالى تأييد لرواياتهم وتقوية لها.
وفيما تقدم ذكره من الأحاديث الصحيحة أبلغ رد على الشلبي وعلى أمثاله من ذوي الجراءة على رد الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم ومعارضتها بالشبه والآراء الفاسدة، وقد قال ابن كثير في تفسيره: والحق أنه عليه السلام أسري به يقظة لا مناماً من مكة إلى بيت المقدس راكباً البراق، فلما انتهى إلى باب المسجد ربط الدابة عند الباب ودخله فصلى في قبلته تحية المسجد ركعتين انتهى.
وأما زعم الشلبي أن القول بركوب النبي صلى الله عليه وسلم على البراق ليلة الإسراء من الانحرافات والآراء الشائعة.
فجوابه أن يقال: إن الانحراف في الحقيقة هو إنكار الشلبي
এটি একটি সহীহ হাদীস এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই এর উল্লেখ আসবে। এতে আবু সাঈদ আল-খুদরী, শাদ্দাদ বিন আওস, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, আবু হুরায়রা এবং উম্মে হানী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও বর্ণনা রয়েছে; তাঁদের প্রত্যেকেই বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বুরাকে আরোহণ করে বাইতুল মাকদিসে গিয়েছিলেন। যদিও তাঁদের হাদীসগুলোর সনদসমূহ পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, তবে ইতিপূর্বে বর্ণিত চারটি হাদীস এবং অচিরেই ইনশাআল্লাহ বর্ণিতব্য বুরাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস তাঁদের বর্ণনাগুলোর জন্য জোরালো সমর্থন ও শক্তিবৃদ্ধি স্বরূপ।
ইতিপূর্বে উল্লিখিত সহীহ হাদীসসমূহ শালবী এবং তাঁর মতো সেই সকল ধৃষ্টতাপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি সমুচিত জবাব, যারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যান করার এবং সেগুলোকে নানাবিধ সংশয় ও ভ্রান্ত মতবাদের মাধ্যমে মোকাবিলা করার দুঃসাহস দেখায়। হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে বলেছেন: "সত্য এটাই যে, তাঁকে (আলাইহিস সালাম) মক্কা থেকে বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত জাগ্রত অবস্থায়—নিদ্রিত অবস্থায় নয়—বুরাকে আরোহণ করিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অতঃপর যখন তিনি মসজিদের দ্বারে উপনীত হলেন, তখন পশুটিকে দরজার নিকট বাঁধলেন এবং মসজিদে প্রবেশ করে কিবলার দিকে দুই রাকাত তাহিয়াতুল মসজিদ সালাত আদায় করলেন।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আর শালবীর এই দাবি যে—ইসরা রজনীতে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বুরাকে আরোহণের বিষয়টি একটি বিচ্যুতি এবং লোকমুখে প্রচলিত অমূলক ধারণা মাত্র—
এর উত্তরে বলা হবে যে: প্রকৃত বিচ্যুতি তো হলো শালবীর এই অস্বীকার করাই।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ركوب النبي صلى الله عليه وسلم على البراق في ليلة الإسراء وزعمه أن ذلك، من الآراء الشائعة ومعارضته للأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك، فهذا هو الانحراف الشديد، والضلال المبين لأنه يتضمن الرد على النبي صلى الله عليه وسلم وتكذيب ما أخبر به عن نفسه من ركوب البراق في ليلة الإسراء، والرد على النبي صلى الله عليه وسلم وتكذيب أخباره الصادقة وجعلها من قبيل الانحرافات والآراء الشائعة ليس بالأمر الهين، بل إن ذلك من قواطع الإسلام ومما يبيح الدم والمال.
وأما زعمه أن انتقال النبي صلى الله عليه وسلم في رحلة الإسراء والمعراج كان بطرق ووسائل يعلمها الله على نمط انتقال عرش بلقيس.
فجوابه أن يقال: قد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم في عدة أحاديث صحيحة أن انتقاله من مكة إلى بيت المقدس كان على البراق وأن عروجه إلى السموات السبع وما فوقها كان مع جبريل، فهذا هو الذي يعتقده أهل السنة والجماعة منذ زمن الصحابة رضي الله عنهم إلى زماننا. ولا عبرة بمن خالفهم من أهل الزيغ والضلال الذين لا يبالون بردّ الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم ومعارضتها بالشبه الباطلة والآراء الفاسدة.
وأما قوله: ومن الممكن أن يطوي الله الأرض فيصبح بيت
ইসরা-এর রজনীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বুরাকে আরোহণ করা এবং এ সংক্রান্ত সাব্যস্ত হাদিসসমূহের বিরোধিতা করে একে প্রচলিত ধারণা মাত্র বলে দাবি করা—চরম বিচ্যুতি ও সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা। কারণ এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যাখ্যান করা এবং ইসরা-এর রাতে বুরাকে আরোহণের বিষয়ে তিনি নিজের সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন, তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা শামিল রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্য সংবাদসমূহকে অস্বীকার করা এবং সেগুলোকে বিচ্যুতি বা প্রচলিত ধারণা হিসেবে গণ্য করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর ফলে জান ও মালের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হয়।
আর ইসরা ও মেরাজের সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিভ্রমণ আল্লাহ তাআলার জ্ঞাত এমন কোনো পদ্ধতিতে হয়েছিল যা বিলকিসের সিংহাসন স্থানান্তরের সদৃশ—তার এই দাবির উত্তর হলো:
এর জবাবে বলা হবে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক সহীহ হাদিসে সংবাদ দিয়েছেন যে, মক্কা থেকে বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত তাঁর পরিভ্রমণ বুরাকের পিঠে চড়ে হয়েছিল এবং সাত আসমান ও তার ঊর্ধ্বে তাঁর আরোহণ ছিল জিবরাঈল আলাইহিস সালামের সাথে। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের যুগ থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা এটাই। যারা বক্রতা ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত এবং যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাব্যস্ত হাদিসসমূহকে প্রত্যাখ্যান করতে এবং সেগুলোকে বাতিল সংশয় ও ভ্রান্ত মতামতের মাধ্যমে খণ্ডন করতে কুণ্ঠাবোধ করে না, তাদের বিরোধিতার কোনো গুরুত্ব নেই।
আর তার এই কথা: “এটি সম্ভব যে আল্লাহ তাআলা জমিনকে সংকুচিত করে দেবেন ফলে বায়ত...”
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المقدس متصلاً بمكة ويخطو محمد خطوة واحدة ثم تعود الأرض إلى وضعها الطبيعي فيصبح الرسول ببيت المقدس.
فجوابه أن يقال: لا شك أن الله تعالى على كل شيء قدير وأنه لو شاء لطوى الأرض لرسوله صلى الله عليه وسلم في ليلة الإسراء، ولكنه تبارك وتعالى حمله على البراق الذي لم يكن يركبه أحد من بني آدم سوى الأنبياء، وكان جبريل مصاحباً للنبي صلى الله عليه وسلم في مسراه إلى بيت المقدس وفي عروجه إلى السموات السبع وما فوقها حتى ظهر إلى المستوى الذي كان يسمع فيه صريف الأقلام. وفي هذا من الاعتناء بالنبي صلى الله عليه وسلم والتشريف والتكريم له ما لم يحصل مثله لأحد من البشر.
বায়তুল মুকাদ্দাস মক্কার সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে যেত এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাত্র এক কদম অগ্রসর হতেন, অতঃপর জমিন পুনরায় তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসত এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বায়তুল মুকাদ্দাসে পৌঁছে যেতেন।
এর উত্তরে বলা হবে: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। তিনি যদি চাইতেন তবে ইসরার রাতে তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য জমিনকে সংকুচিত করে দিতে পারতেন; কিন্তু বরকতময় ও সুমহান আল্লাহ তাঁকে বুরাকের ওপর আরোহণ করিয়েছেন, যাতে আদম সন্তানদের মধ্যে নবীগণ ব্যতীত অন্য কেউ আরোহণ করেনি। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বায়তুল মুকাদ্দাস অভিমুখে নৈশভ্রমণের সময় এবং সপ্তাকাশ ও তারও ঊর্ধ্বে আরোহণের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সফরসঙ্গী ছিলেন; এমনকি তিনি এমন এক উচ্চতায় উপনীত হয়েছিলেন যেখানে কলমের খসখস শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এর মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যে বিশেষ যত্ন, সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন নিহিত রয়েছে, তা অন্য কোনো মানুষের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে ঘটেনি।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فصل
وفي صفحة 26 وصفحة 27 أنكر الشلبي ثقب جبريل للصخرة بأصبعه وشد البراق بها، وزعم أن الروايات في ركوب النبي صلى الله عليه وسلم على البراق وفي ثقب جبريل للصخرة بأصبعه وشد البراق بها موضوعة.
والجواب أن يقال: قد ثبت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ركب على البراق إلى بيت المقدس، وتقدم ذكر الأحاديث الصحيحة في ذلك فلتراجع (1). وثبت أيضا أن جبريل خرق الصخرة بأصبعه وشد بها البراق، والحديث بذلك رواه الترمذي والبزار وابن حبان في صحيحه والحاكم في مستدركه من حديث بريدة بن الحصيب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليلة أسرى بي انتهيت إلى بيت المقدس فخرق جبريل الصخرة بأصبعه وشد بها البراق» قال الترمذي: هذا حديث حسن غريب. وقال الحاكم: صحيح الإسناد ووافقه الذهبي في تلخيصه، وفي هذا الحديث الصحيح أبلغ رد على الشلبي وعلى أمثاله من المنحرفين الذي لا يبالون برد الأحاديث الصحيحة ومعارضتها بالشبه والآراء الفاسدة.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ
২৬ এবং ২৭ পৃষ্ঠায় আশ-শালবি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক নিজ অঙ্গুলি দিয়ে পাথর ছিদ্র করা এবং তাতে বুরাক বাঁধার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বুরাকে আরোহণ এবং জিবরাঈল কর্তৃক নিজ অঙ্গুলি দিয়ে পাথর ছিদ্র করে তাতে বুরাক বাঁধার বর্ণনাসমূহ বানোয়াট।
এর উত্তরে বলা হবে: এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুরাকে আরোহণ করে বায়তুল মাকদিসে গিয়েছিলেন। এ বিষয়ে সহীহ হাদীসসমূহ ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, যা দেখে নেওয়া যেতে পারে (১)। আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, জিবরাঈল নিজ অঙ্গুলি দিয়ে পাথর ছিদ্র করেছিলেন এবং তাতে বুরাক বেঁধেছিলেন। এ সংক্রান্ত হাদীসটি ইমাম তিরমিযী, বাযযার, ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এবং হাকীম তাঁর ‘মুসতাদরাক’ গ্রন্থে বুরায়দাহ ইবনুল হুসাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «যে রাতে আমাকে ইসরা (নৈশভ্রমণ) করানো হয়েছিল, আমি বায়তুল মাকদিসে পৌঁছলাম। অতঃপর জিবরাঈল তাঁর অঙ্গুলি দিয়ে পাথরটি ছিদ্র করলেন এবং তাতে বুরাক বাঁধলেন» তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি হাসান গরীব। হাকীম বলেন: এর সনদ সহীহ এবং আয-যাহাবী তাঁর ‘তালখীস’ গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। এই সহীহ হাদীসের মাঝে আশ-শালবি এবং তার মতো ওইসব পথভ্রষ্টদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ রয়েছে, যারা সহীহ হাদীস প্রত্যাখ্যান করতে এবং সংশয় ও অসার মতামতের মাধ্যমে তার বিরোধিতা করতে পরোয়া করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد قال ابن كثير بعد سياقه للأحاديث الواردة في الإسراء: «فائدة حسنة جليلة» روى أبو نعيم الأصبهاني في كتاب «دلائل النبوة» من طريق محمد بن عمر الواقدي حدثني مالك بن أبي الرجال عن عمر بن عبدالله عن محمد بن كعب القرظي قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم دحية بن خليفة إلى قيصر. فذكر وروده عليه وقدومه إليه، وفي السياق دلالة عظيمة على وفور عقل هرقل، ثم استدعى من بالشام من التجار فجيء بأبي سفيان صخر بن حرب وأصحابه فسألهم عن تلك المسائل المشهورة التي رواها البخاري ومسلم وجعل أبو سفيان يجهد أن يحقر أمره ويصغره عنده، قال في هذا السياق عن أبي سفيان: والله ما منعني من أن أقول عليه قولاً أسقطه من عينه إلا أني أكره أن أكذب عنده كذبة يأخذها عليّ ولا يصدقني في شيء، قال: حتى ذكرت قوله ليلة أسري به قال: فقلت أيها الملك ألا أخبرك خبراً تعرف أنه قد كذب. قال: وما هو قال قلت: إنه يزعم لنا أنه خرج من أرضنا أرض الحرم في ليلة فجاء مسجدكم هذا مسجد إيلياء ورجع إلينا تلك الليلة قبل الصباح، قال: وبطريق إيلياء عند رأس قيصر فقال بطريق إيلياء قد علمت تلك الليلة. قال فنظر إليه قيصر وقال: وما علمك بهذا؟ قال: إني كنت لا أنام ليلة حتى أغلق
ইসরা (মে’রাজ) সংক্রান্ত হাদিসগুলো বর্ণনা করার পর ইবনে কাসীর বলেন: «একটি অতি উত্তম ও মহিমান্বিত শিক্ষা (ফায়েদা)» আবু নুআইম আল-আসবাহানি তার ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদির সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন, মালিক ইবনে আবি আল-রিজাল আমার কাছে উমর ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে কা’ব আল-কুরাজি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দিহইয়া ইবনে খলিফাকে কায়সারের নিকট প্রেরণ করলেন। অতঃপর তিনি তার নিকট পৌঁছানো এবং আগমনের বিবরণ উল্লেখ করলেন। এই বর্ণনার প্রেক্ষাপটে হিরাক্লিয়াসের প্রখর বুদ্ধিমত্তার এক মহান নিদর্শন বিদ্যমান। এরপর তিনি সিরিয়ায় অবস্থানরত বণিকদের তলব করলেন, ফলে আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব ও তার সঙ্গীদের নিয়ে আসা হলো। তিনি তাদের সেই প্রসিদ্ধ প্রশ্নগুলো করলেন যা ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর আবু সুফিয়ান চেষ্টা করছিলেন যাতে তার (রাসূলুল্লাহর) বিষয়টিকে কায়সারের নিকট তুচ্ছ ও হেয় প্রতিপন্ন করা যায়। এই বর্ণনায় আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণিত হয়েছে: «আল্লাহর কসম! তার বিরুদ্ধে এমন কোনো কথা বলা যা তাকে সম্রাটের চোখে হেয় করবে, তা থেকে আমাকে কেবল এই আশঙ্কাই বিরত রেখেছিল যে, আমি তার সামনে এমন কোনো মিথ্যা বলে বসি যা তিনি ধরে ফেলবেন এবং পরবর্তীতে আর কোনো কিছুতেই আমাকে বিশ্বাস করবেন না। তিনি বলেন: অবশেষে আমি সেই রাতের কথা উল্লেখ করলাম যেদিন তাকে নৈশভ্রমণে (ইসরা) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমি বললাম: হে সম্রাট! আমি কি আপনাকে এমন একটি সংবাদ দেব না যা থেকে আপনি নিশ্চিতভাবে জানবেন যে তিনি মিথ্যা বলেছেন? সম্রাট বললেন: সেটা কী? আমি বললাম: তিনি আমাদের নিকট দাবি করেন যে, তিনি এক রাতে আমাদের ভূখণ্ড অর্থাৎ হারামের এলাকা থেকে বের হয়ে আপনাদের এই মসজিদে—অর্থাৎ ইলিয়ার (জেরুজালেমের) মসজিদে—এসেছেন এবং সেই রাতেই ভোরের আগে আমাদের নিকট ফিরে গেছেন। আবু সুফিয়ান বলেন: তখন ইলিয়ার প্রধান যাজক কায়সারের শিয়রে উপস্থিত ছিলেন। তখন ইলিয়ার সেই যাজক বলে উঠলেন: আমি সেই রাতটি সম্পর্কে অবগত আছি। কায়সার তার দিকে তাকিয়ে বললেন: তুমি এ সম্পর্কে কীভাবে জানলে? তিনি বললেন: আমি কোনো রাতেই (মসজিদের দরজাগুলো) বন্ধ না করা পর্যন্ত ঘুমাতে যেতাম না...»
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أبواب المسجد فلما كان تلك الليلة أغلقت الأبواب كلها غير باب واحد غلبني فاستعنت عليه بعمالي ومن بحضرتي كلهم معالجة فغلبنا فلم نستطع أن نحركه كأنما نزاول به جبلاً فدعوت إليه النجاجرة فنظروا إليه فقالوا: إن هذا الباب سقط عليه النجاف والبنيان ما نستطيع أن نحركه حتى نصبح فننظر من أين أتي، قال: فرجعت وتركت البابين مفتوحين فلما أصبحت غدوت عليهما فإذا الحجر الذي من زاوية المسجد مثقوب وإذا فيه أثر مربط الدابة، قال: فقلت لأصحابي ما حبس الباب الليلة إلا على شيء وقد صلى الليلة في مسجدنا، وذكر تمام الحديث.
قلت: وما ذكر في هذه القصة من ثقب الحجر وأثر مربط الدابة يوافق ما تقدم ذكره في حديث بريدة بن الحصيب رضي الله عنه وهو مما يصدق به المؤمنون وينكره الزنادقة والملحدون.
وأما زعمه أن الروايات في ركوب النبي صلى الله عليه وسلم على البراق وفي ثقب جبريل للصخرة بأصبعه وشد البراق بها موضوعة.
فجوابه أن يقال: لا يخلو الشلبي في هذه الدعوى من أحد أمرين: إما أن يكون له إلمام بمعرفةِ الحديث وما ذكره المصنفون في فن المصطلح بحيث يكون عنده تمييز بين الصحيح من الحديث
মসজিদের দরজাসমূহ; যখন সেই রাত আসল, আমি একটি দরজা ছাড়া সবকটি দরজা বন্ধ করে দিলাম। কিন্তু সেই একটি দরজা আমার সাধ্যের বাইরে চলে গেল, তখন আমি আমার কর্মীদের এবং সেখানে উপস্থিত সকলের সাহায্য নিলাম এটি বন্ধ করার চেষ্টায়। কিন্তু সেটি আমাদের পরাস্ত করল, আমরা সেটি নড়াতে পারলাম না, যেন আমরা কোনো পাহাড়ের সাথে ধস্তাধস্তি করছিলাম। অতঃপর আমি কাঠমিস্ত্রিদের ডাকলাম, তারা তা দেখে বলল: 'এই দরজার ওপর চৌকাঠ ও ওপরের কাঠামোর ভার চেপেছে, সকাল না হওয়া পর্যন্ত আমরা এটি নড়াচড়া করতে পারব না, তখন দেখতে পারব সমস্যার উৎস কোথায়।' তিনি বললেন: অতঃপর আমি ফিরে গেলাম এবং দরজা দুটি খোলা রেখে দিলাম। যখন সকাল হলো, আমি সেগুলোর কাছে গেলাম এবং দেখলাম মসজিদের কোণের পাথরটি ছিদ্রযুক্ত এবং তাতে কোনো পশু বাঁধার চিহ্ন রয়েছে। তিনি বললেন: আমি আমার সঙ্গীদের বললাম, 'আজ রাতে বিশেষ কোনো কারণেই দরজাটি আটকে ছিল এবং আজ রাতে নিশ্চয়ই আমাদের মসজিদে কেউ সালাত আদায় করেছেন।' এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন।
আমি বলছি: এই কাহিনীতে পাথরের ছিদ্র এবং পশু বাঁধার যে চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা বুরাইদাহ ইবনুল হাসিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এটি এমন একটি বিষয় যা মুমিনগণ বিশ্বাস করেন এবং জিন্দিক ও নাস্তিকরা অস্বীকার করে।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বুরাকে আরোহণ করা এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক আঙুল দিয়ে পাথর ছিদ্র করে তাতে বুরাক বাঁধার বর্ণনাসমূহ বানোয়াট বলে তার যে দাবি...
এর উত্তরে বলা হবে: এই দাবির ক্ষেত্রে শালবি দুটি অবস্থার বাইরে নন: হয় হাদিস শাস্ত্র সম্পর্কে এবং হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রে রচয়িতাদের সিদ্ধান্তসমূহ সম্পর্কে তার সম্যক জ্ঞান রয়েছে, যার ফলে সহিহ হাদিস চেনার ক্ষেত্রে তার নিজস্ব বিচারক্ষমতা আছে...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والموضوع منه، ولكنه مع ذلك لم يبال برد الأحاديث الصحيحة والحكم عليها بالوضع حيث خالفت رأيه أو رأي من يعظمهم من شيوخه وغير شيوخه، وإما أن يكون جاهلاً بالحديث بحيث لا يعرف الصحيح منه ولا يميز بينه وبين الموضوع وإنما يتكلم في نقد الأحاديث بمجرد الظن والتوهم وكل من الأمرين ذميم جداً وعظيم الخطر، فأما رد الأحاديث الصحيحة ومعارضتها بالشبه والآراء الفاسدة فهو من أفعال الزنادقة والملاحدة الذين لا يؤمنون بالله ورسوله، وأما نقد الأحاديث بمجرد الظن والتوهم فهو من أفعال أهل الحمق والتهور الذين ليس لهم دين يردعهم عن الكلام في نقد الأحاديث بغير علم. ومن اجترأ على رد الأحاديث الثابتة في الصحيحين أو في أحدهما وعارضها بالشبه والآراء الفاسدة فقد نادى على زندقته وإلحاده ومشاقته للرسول الله صلى الله عليه وسلم واتباعه لغير سبيل المؤمنين الذين يقابلون ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم بالقبول والتسليم وقد قال الله تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا}.
এবং তা থেকে বানোয়াট; কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সহীহ হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যান করতে এবং সেগুলোকে বানোয়াট বলে হুকুম দিতে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি যখনই সেগুলো তাঁর মতের অথবা তাঁর ঐসব শায়খ ও অন্যদের মতের পরিপন্থী হয়েছে যাদেরকে তিনি বড় মনে করেন। অথবা তিনি হাদীস শাস্ত্রে এমন অজ্ঞ যে, তিনি এর সহীহ হাদীস চিনেন না এবং সহীহ ও বানোয়াটের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না, বরং কেবল ধারণা ও অনুমানের বশবর্তী হয়ে হাদীস সমালোচনা করেন। আর এই উভয় বিষয়ই অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং চরম আশঙ্কাজনক। সহীহ হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যান করা এবং সন্দেহ ও ভ্রান্ত মতামতের মাধ্যমে সেগুলোর বিরোধিতা করা মূলত যিন্দীক ও নাস্তিকদের কাজ, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে না। আর নিছক ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে হাদীস সমালোচনা করা নির্বোধ ও হঠকারী লোকদের কাজ, যাদের এমন কোনো দ্বীন নেই যা তাদেরকে জ্ঞান ছাড়াই হাদীস সমালোচনা থেকে বিরত রাখবে। যে ব্যক্তি বুখারী ও মুসলিম—এই উভয় গ্রন্থে অথবা যেকোনো একটিতে প্রমাণিত হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যান করার ধৃষ্টতা দেখায় এবং সন্দেহ ও ভ্রান্ত মতামতের মাধ্যমে তার বিরোধিতা করে, সে মূলত নিজের যিন্দিকী, নাস্তিকতা এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরোধিতা ও মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণেরই ঘোষণা দিল—যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত বিষয়সমূহকে কবুল ও আত্মসমর্পণের সাথে গ্রহণ করেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে পথনির্দেশ স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতিরেকে অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই পরিচালিত করব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।"
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فصل
وفي صفحة 19 أنكر الشلبي صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالأنبياء في بيت المقدس وزعم أن ذلك من الأمور الشائعة والتصوير المنحرف عن الإسراء والمعراج.
والجواب أن يقال: قد جاء في عدة أحاديث بعضها صحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى بالأنبياء في ليلة الإسراء، منها ما رواه مسلم في صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لقد رأيتني في الحجر وقريش تسألني عن مسراي فسألتني عن أشياء من بيت المقدس لم أثبتها فكربت كربا ما كربت مثله قط، قال: فرفعه الله لي أنظر إليه ما يسألوني عن شيء إلا أنبأتهم به، وقد رأيتني في جماعة من الأنبياء فإذا موسى قائم يصلي فإذا رجل ضرب جعد كأنه من رجال شنوءة، وإذا عيسى بن مريم عليه السلام قائم يصلي أقرب الناس به شبها عروة بن مسعود الثقفي، وإذا إبراهيم عليه السلام قائم يصلي أشبه الناس به صاحبكم - يعني نفسه - فحانت الصلاة فأممتهم فلما فرغت من الصلاة قال قائل: يا محمد هذا مالك صاحب النار فسلم عليه فالتفت إليه فبدأني بالسلام».
পরিচ্ছেদ
১৯ পৃষ্ঠায় আশ-শালবি বাইতুল মাকদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নবীগণের ইমামতি করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা এবং ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে একটি বিকৃত চিত্রায়ণ।
এর উত্তরে বলা হবে: বেশ কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—যার কোনো কোনোটি সহীহ—যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসরার রাতে নবীগণের ইমামতি করে সালাত আদায় করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি নিজেকে হাতীমে দেখতে পেলাম, আর কুরাইশরা আমাকে আমার নৈশভ্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিল। তারা আমাকে বাইতুল মাকদিসের এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল যা আমি সুনিশ্চিতভাবে স্মরণে রাখিনি। ফলে আমি এমন চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলাম যা আগে কখনও হইনি। তিনি বললেন: তখন আল্লাহ তাআলা বাইতুল মাকদিসকে আমার সামনে তুলে ধরলেন যেন আমি তা দেখতে পাই। তারা আমাকে যা কিছু সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করছিল, আমি তাদের কাছে তার বর্ণনা দিচ্ছিলাম। আমি নিজেকে নবীগণের একটি জামাতের মধ্যে দেখতে পেলাম; সেখানে মূসা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি ছিলেন সুঠাম দেহের অধিকারী ও কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট ব্যক্তি, যেন তিনি শানুয়াহ গোত্রের একজন। আর ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, মানুষের মধ্যে উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আস-সাকাফী তাঁর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। আর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন, মানুষের মধ্যে তোমাদের সাথী (অর্থাৎ নবীজি নিজে) তাঁর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। অতঃপর সালাতের সময় হলো এবং আমি তাঁদের ইমামতি করলাম। যখন আমি সালাত শেষ করলাম, তখন একজন বললেন: হে মুহাম্মাদ! ইনি হলেন মালিক, জাহান্নামের রক্ষী। আপনি তাঁকে সালাম দিন। আমি তাঁর দিকে তাকালাম, তিনি আমাকে আগে সালাম দিলেন।»
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومنها ما رواه الإمام أحمد بإسناد صحيح عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «لما دخل النبي صلى الله عليه وسلم المسجد الأقصى قام يصلي فالتفت ثم التفت فإذا النبيون أجمعون يصلون معه».
ومنها ما رواه النسائي في سننه عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في حديث الإسراء: «ثم دخلت بيت المقدس فجمع لي الأنبياء فقدمني جبريل حتى أممتهم» وقد رواه ابن أبي حاتم وقال فيه: «ثم انصرفت فلم ألبث إلا يسيراً حتى اجتمع ناس كثير ثم أذن مؤذن وأقيمت الصلاة قال فقمنا صفوفاً ننتظر من يؤمنا فأخذ بيدي جبريل فقدمني فصليت بهم فلما انصرفت قال جبريل: يا محمد أتدري من صلى خلفك؟ قال: قلت: لا. قال: صلى خلفك كل نبي بعثه الله عز وجل».
والأحاديث التي جاء فيها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى بالأنبياء في ليلة الإسراء كثيرة ولكن أسانيد ما لم أذكره لا تخلو من مقال. وفيما رواه مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه وما رواه الإمام أحمد عن ابن عباس رضي الله عنهما كفاية في إثبات صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالأنبياء في ليلة الإسراء. وفيهما أيضاً أبلغ رد على الشلبي، وعلى أمثاله من المنكرين لصلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالأنبياء في ليلة الإسراء. وقد ذكر ابن كثير في تفسيره أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما انتهى إلى باب
এগুলোর মধ্যে একটি হলো যা ইমাম আহমাদ একটি সহীহ সনদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে আকসায় প্রবেশ করলেন, তিনি সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন; অতঃপর তিনি এদিক-ওদিক তাকালেন এবং দেখলেন যে সমস্ত নবীগণ তাঁর সাথে সালাত আদায় করছেন।"
আর এগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো যা ইমাম নাসাঈ তাঁর সুনান গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসরার হাদীসে বলেছেন: "অতঃপর আমি বাইতুল মাকদিসে প্রবেশ করলাম, তখন আমার জন্য সকল নবীকে একত্রিত করা হলো। এরপর জিবরাঈল আমাকে সামনে এগিয়ে দিলেন এবং আমি তাঁদের ইমামতি করলাম।" এটি ইবনে আবি হাতিমও বর্ণনা করেছেন এবং তাতে উল্লেখ আছে: "অতঃপর আমি প্রত্যাবর্তন করলাম এবং অল্প কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর অনেক মানুষ একত্রিত হলো। তারপর মুয়াযযিন আযান দিলেন এবং ইকামাত প্রদান করা হলো। তিনি বললেন, আমরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম যে কে আমাদের ইমামতি করবেন। তখন জিবরাঈল আমার হাত ধরে আমাকে সামনে এগিয়ে দিলেন এবং আমি তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করলাম। যখন আমি সালাত শেষ করলাম, তখন জিবরাঈল বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন আপনার পেছনে কারা সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন: আমি বললাম, না। জিবরাঈল বললেন: আল্লাহ তাআলা যত নবী প্রেরণ করেছেন, তাঁরা সকলেই আপনার পেছনে সালাত আদায় করেছেন।"
ইসরার রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবীগণের ইমামতি করেছেন—এই মর্মে বর্ণিত হাদীসসমূহ সংখ্যায় অনেক, তবে আমি যা উল্লেখ করিনি সেগুলোর সনদসমূহ সমালোচনা মুক্ত নয়। ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং ইমাম আহমাদ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণনা করেছেন, ইসরার রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবীগণের ইমামতি প্রমাণের ক্ষেত্রে তা-ই যথেষ্ট। এ দুটির মধ্যে শালবী এবং তার মতো যারা ইসরার রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবীগণের ইমামতি করাকে অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধেও বলিষ্ঠ খণ্ডন বিদ্যমান। ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন দ্বারে পৌঁছালেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المسجد ربط الدابة عند الباب ودخله فصلى في قبلته تحية المسجد ركعتين ثم أتي بالمعراج فصعد فيه إلى السماء الدنيا ثم إلى بقية السموات السبع فتلقاه من كل سماء مقربوها وسلم على الأنبياء الذين في السموات بحسب منازلهم ودرجاتهم - إلى أن قال - ثم هبط إلى بيت المقدس وهبط معه الأنبياء فصلى بهم فيه لما حانت الصلاة، ويحتمل أنها الصبح من يومئذ، ومن الناس من يزعم أنه أمهم في السماء، والذي تظاهرت به الروايات أنه ببيت المقدس ولكن في بعضها أنه كان أول دخوله إليه. والظاهر أنه بعد رجوعه إليه لأنه لما مر بهم في منازلهم جعل يسأل عنهم جبريل واحداً واحداً وهو يخبره بهم. وهذا هو اللائق لأنه كان أولاً مطلوبا إلى الجناب العلوي ليفرض عليه وعلى أمته ما يشاء الله تعالى، ثم لما فرغ من الذي أريد به اجتمع هو وإخوانه من النبيين ثم أظهر شرفه وفضله عليهم بتقديمه في الإمامة وذلك عن إشارة جبريل عليه السلام له في ذلك، ثم خرج من بيت المقدس فركب البراق وعاد إلى مكة بغلس انتهى.
وفي كلام ابن كثير رحمه الله تعالى رد على الشلبي وعلى أمثاله من الذين ينكرون صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالأنبياء في ليلة الإسراء ويعارضون الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك ويعتمدون
মসজিদে পৌঁছে তিনি দরজার কাছে বাহনটি বাঁধলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করে কিবলার দিকে মুখ করে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ সালাত আদায় করলেন। এরপর মিরাজ (ঊর্ধ্বগমনের মাধ্যম) আনা হলো এবং তিনি তাতে চড়ে নিকটতম আসমানে আরোহণ করলেন, অতঃপর অবশিষ্ট সাত আসমানে। প্রতিটি আসমানে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং তিনি আসমানসমূহে অবস্থানরত নবীগণের সাথে তাঁদের মর্যাদা ও স্তর অনুযায়ী সালাম বিনিময় করলেন। — বর্ণনাকারী বলেন — অতঃপর তিনি বাইতুল মাকদিসে অবতরণ করলেন এবং নবীগণও তাঁর সাথে অবতরণ করলেন। যখন সালাতের সময় হলো, তিনি তাঁদের নিয়ে সেখানে সালাত আদায় করলেন। সম্ভবত তা ছিল সেদিনের ফজরের সালাত। কোনো কোনো ব্যক্তি দাবি করেন যে, তিনি আসমানে তাঁদের ইমামতি করেছিলেন, তবে বর্ণনাগুলোর দ্বারা যা সুপ্রতিষ্ঠিত তা হলো এটি বাইতুল মাকদিসে সংঘটিত হয়েছিল। অবশ্য কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, এটি ছিল তাঁর সেখানে প্রথম প্রবেশের সময়। তবে অধিকতর স্পষ্ট বিষয় হলো এটি তাঁর (আকাশ থেকে) প্রত্যাবর্তনের পর সংঘটিত হয়েছে। কারণ, যখন তিনি আসমানসমূহে তাঁদের বাসস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি জিবরাঈল আলাইহিস সালামের কাছে একে একে তাঁদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং তিনি তাঁদের পরিচয় দিচ্ছিলেন। আর এটিই যুক্তিযুক্ত, কারণ শুরুতে তাঁকে ঊর্ধ্বজগতে আহ্বান করা হয়েছিল যেন মহান আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর উম্মতের ওপর যা ইচ্ছা বিধান আরোপ করতে পারেন। এরপর যখন সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ হলো, তখন তিনি এবং তাঁর ভ্রাতৃবৃন্দ নবীগণ একত্রিত হলেন। অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালামের ইঙ্গিতে ইমামতির জন্য তাঁকে অগ্রবর্তী করার মাধ্যমে তাঁদের ওপর তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত হলো। এরপর তিনি বাইতুল মাকদিস থেকে বের হয়ে বুরাকে আরোহণ করলেন এবং ঊষালগ্নে মক্কায় ফিরে এলেন। সমাপ্ত।
ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই বক্তব্যের মধ্যে আশ-শিলবী এবং তাঁর অনুরূপ ব্যক্তিদের প্রতিবাদ রয়েছে যারা ইসরা-এর রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য নবীগণের সাথে সালাত আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং এ সম্পর্কিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সুসাব্যস্ত হাদীসসমূহের বিরোধিতা করেন এবং নির্ভর করেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২১)
على الشبه والآراء الفاسدة في معارضتهم الأحاديث الصحيحة.
সহীহ হাদীসসমূহের বিরোধিতায় তাদের সংশয় ও ভ্রান্ত মতামতসমূহের ওপর।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فصل
وقد عاد الشلبي في صفحة 27 من رسالته المملوءة بالضلال فأنكر صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالأنبياء في بيت المقدس. ونقل عن بعض المخرفين أنه قال: المعروف إسلاميا أنه لا عبادة بعد الموت، قال وهناك حديث صحيح يقول: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية أو علم نافع أو ولد صالح يدعو له» قال والأنبياء هم من بني آدم وقد انقطع عملهم بوفاتهم إلا من هذه الأشياء الثلاثة. قال وعلى هذا فلا معنى لتصوير الأنبياء يصلون خلف الرسول، قال: وفي الحديث روايات مختلفة عن أمكنة الأنبياء في السموات، فمن منهم في السماء الأولى، ومن في الثانية؟
… خلاف ظاهر، مع أنه لا ضرورة على الإطلاق لوجودهم في أي منها، فمن المحقق أنهم ماتوا ودفنوا. وأن أرواحهم عند الله. والروح كائن نوراني، ولا يعلم كنهها إلا الله، والجسد قد اختفى تماما في الأرض، ومع قدرة الله على إحياء الأنبياء لاستقبال الرسول، فلا داعي للقول بذلك على الإطلاق وكذلك لا داعي مطلقا لإحياء موسى ليراجع محمداً في عدد الصلوات.
والجواب أن يقال: أما إنكاره لصلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالأنبياء في بيت المقدس فقد تقدم الجواب عنه في الفصل الذي قبل هذا
পরিচ্ছেদ
শালবি তার বিভ্রান্তিতে পূর্ণ রিসালার ২৭ পৃষ্ঠায় পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বাইতুল মাকদিসে নবীদের ইমামতি করে সালাত আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি জনৈক ভ্রান্ত ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সুবিদিত যে, মৃত্যুর পর আর কোনো ইবাদত নেই। তিনি বলেন, একটি সহীহ হাদীসে এসেছে: «আদম সন্তান যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ছাড়া তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে» তিনি বলেন, আম্বিয়ায়ে কেরামও আদম সন্তান, তাই ওফাতের মাধ্যমে এই তিনটি বিষয় ছাড়া তাদের আমলও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, এমতাবস্থায় রাসূলের পেছনে নবীদের সালাত আদায়ের দৃশ্যায়নের কোনো অর্থ হয় না। তিনি বলেন: হাদীসে আসমানসমূহে নবীদের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে; যেমন—কে প্রথম আসমানে আর কে দ্বিতীয় আসমানে?
… এটি একটি প্রকাশ্য বিরোধ। অথচ আসমানসমূহের কোনোটিতেই তাদের অবস্থানের কোনো আবশ্যকতা নেই। কেননা এটি সুনিশ্চিত যে, তারা ইন্তেকাল করেছেন এবং তাদের সমাহিত করা হয়েছে। আর তাদের রূহসমূহ আল্লাহর নিকট রয়েছে। রূহ হলো একটি নূরানি সত্তা, যার প্রকৃত রহস্য আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আর দেহ জমিনের ভেতরে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। যদিও আল্লাহ তাআলা রাসূলকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য নবীদের পুনর্জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন, তবুও তা বলার মোটেও কোনো প্রয়োজন নেই। তদ্রূপ সালাতের সংখ্যার ব্যাপারে মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাথে পর্যালোচনার জন্য মূসা (আ.)-কে পুনর্জীবিত করারও কোনো আবশ্যকতা নেই।
এর জবাবে বলা হবে: বাইতুল মাকদিসে আম্বিয়ায়ে কেরামের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের ব্যাপারে তার যে অস্বীকৃতি, তার উত্তর এই পরিচ্ছেদের পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصّل فليراجع.
وأما ما نقله عن بعض المخرفين أنه قال: المعروف إسلاميا أنه لا عبادة بعد الموت.
فجوابه من وجهين: أحدهما أن يقال إن صلاة الأنبياء خلف النبي صلى الله عليه وسلم ليست من باب التكليف الذي ينقطع بالموت وإنما هي من باب التلذذ بالأعمال التي كانوا يعملون بها في الدنيا، ومن هذا الباب ما جاء في الحديث الصحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «مررت على موسى ليلة أسري بي عند الكثيب الأحمر وهو قائم يصلي في قبره» رواه الإمام أحمد ومسلم وأبو يعلى من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه، ومن هذا الباب أيضاً ما تقدم في حديث أبي هريرة رضي الله عنه الذي رواه مسلم في صحيحه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى إبراهيم وموسى وعيسى وهم يصلون وذلك قبل صلاته بهم وبغيرهم من الأنبياء. ومن هذا الباب أيضاً ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم عن أهل الجنة أنهم يلهمون التسبيح والتحميد كما يلهمون النفس. رواه الإمام أحمد ومسلم من حديث جابر بن عبدالله رضي الله عنهما، وروى الإمام أحمد أيضاً والبخاري ومسلم والترمذي عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخبر عن أهل الجنة أنهم يسبحون الله بكرة وعشياً، والتسبيح قد يراد
সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে প্রত্যাবর্তন করা হোক।
আর কতিপয় বিভ্রান্ত ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি যা উল্লেখ করেছেন যে, 'ইসলামি শরীয়তে এটি সুবিদিত যে মৃত্যুর পর কোনো ইবাদত নেই।'
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, এটি বলা যেতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে নবীগণের সালাত আদায় করা শরীয়তের সেই আদিষ্ট বা বাধ্যতামূলক কোনো বিষয় নয় যা মৃত্যুর সাথে সাথে রহিত হয়ে যায়; বরং এটি হচ্ছে সেই আমলসমূহের মাধ্যমে আত্মিক তৃপ্তি ও আনন্দ লাভের অন্তর্ভুক্ত যা তাঁরা পৃথিবীতে সম্পাদন করতেন। এই বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত হলো সহিহ হাদিসে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “ইসরা ও মিরাজের রাতে আমি লাল বালুর ঢিবির নিকট মুসা আলাইহিস সালাম-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে তাঁর কবরে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি।” এটি ইমাম আহমাদ, মুসলিম এবং আবু ইয়ালা আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পূর্বোক্ত সেই হাদিসটি যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসা আলাইহিমুস সালাম-কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন এবং এটি ছিল তাঁদের ও অন্যান্য নবীগণের ইমামতি করার পূর্বের ঘটনা। এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রদত্ত সংবাদ যে, তাঁদেরকে তাসবিহ ও তাহমিদ পাঠের এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণা দেওয়া হবে যেমনটি তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্বাস গ্রহণ করেন। এটি ইমাম আহমাদ ও মুসলিম জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ, বুখারি, মুসলিম ও তিরমিযি আরও বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তাঁরা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবেন। আর এখানে তাসবিহ দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে—
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
به الصلاة وقد يراد به الذكر في غير الصلاة، والأدلة على كل من النوعين كثيرة في الكتاب والسنة والذكر من أفضل الأعمال في الدنيا ومع هذا لم ينقطع هذا العمل عن أهل الجنة فكذلك صلاة الأنبياء وهم في البرزخ وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «حبب إلي من دنياكم: النساء والطيب وجعلت قرة عيني في الصلاة» رواه الإمام أحمد والنسائي من حديث أنس رضي الله عنه. وإذا كانت الصلاة قرة عين النبي صلى الله عليه وسلم في الدنيا فلا يبعد أن تكون قد جعلت قرة عين للأنبياء في البرزخ وليس ذلك من باب التكليف الذي ينقطع بالموت وإنما هو من باب التلذذ بالذكر والأعمال الصالحة والله أعلم.
الوجه الثاني أن يقال: قد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه صلى بالأنبياء في بيت المقدس وثبت أنه رأى كلاً من إبراهيم وموسى وعيسى وهم يصلون، وثبت أنه مر على موسى وهو قائم يصلي في قبره، فيجب الإيمان بما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم ومقابلة كل ما ثبت عنه بالقبول والتسليم سواء ظهرت لنا الحكمة في ذلك أو لم تظهر، ولا يجوز الاعتراض على أخباره صلى الله عليه وسلم ولا مقابلتها بالرد والإنكار والتشكيك فإن هذا من أفعال الزنادقة والملحدين.
এর দ্বারা সালাত উদ্দেশ্য হতে পারে, আবার কখনও সালাত ব্যতিরেকে যিকিরও উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। আর কিতাব ও সুন্নাহতে উভয় প্রকারের স্বপক্ষেই অসংখ্য দলীল বিদ্যমান। যিকির দুনিয়ার সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও জান্নাতবাসীদের নিকট থেকে এ আমলটি বিচ্ছিন্ন হবে না; তদ্রূপ নবীগণের সালাতও, যখন তাঁরা বারযাখের জীবনে রয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের দুনিয়া থেকে নারী ও সুগন্ধিকে আমার নিকট প্রিয় করা হয়েছে এবং সালাতের মধ্যে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।” এটি ইমাম আহমাদ ও নাসায়ী আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন। আর সালাত যদি দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখের শীতলতা হয়ে থাকে, তবে বারযাখের জীবনেও তা নবীগণের জন্য চোখের শীতলতা হিসেবে নির্ধারিত হওয়া অবাস্তব নয়। এটি সেই শরয়ী দায়িত্ব বা তাকলীফের পর্যায়ভুক্ত নয় যা মৃত্যুর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়ে যায়, বরং এটি হলো যিকির ও নেক আমলের মাধ্যমে অনাবিল তৃপ্তি ও স্বাদ আস্বাদনের বিষয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
দ্বিতীয় দিকটি হলো এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি বায়তুল মাকদিসে নবীগণের ইমামতি করে সালাত আদায় করেছেন। আরও প্রমাণিত যে, তিনি ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসা—তাঁদের প্রত্যেককেই সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখেছেন। আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি মুসা আলাইহিস সালামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাঁকে তাঁর কবরে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছেন তার ওপর ঈমান আনা এবং তাঁর থেকে প্রমাণিত প্রতিটি বিষয়কে গ্রহণ ও আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া আবশ্যক—চাই এর রহস্য আমাদের নিকট স্পষ্ট হোক বা না হোক। তাঁর প্রদত্ত সংবাদসমূহের ওপর আপত্তি তোলা কিংবা সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান, অস্বীকার বা সংশয়ের সাথে মোকাবিলা করা বৈধ নয়; কারণ এজাতীয় আচরণ যিন্দীক ও নাস্তিকদের বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما الحديث الذي جاء فيه: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له» وقول المخرف إن الأنبياء من بني آدم وقد انقطع عملهم بوفاتهم إلا من هذه الأشياء الثلاثة.
فجوابه أن أقول: قد ذكرت قريباً في الرد على المخرف أن صلاة الأنبياء في البرزخ إنما هي من باب التلذذ بالصلاة التي قد جعلت قرة عين للنبي صلى الله عليه وسلم في الدنيا، وليس ذلك من باب التكليف الذي ينقطع بالموت.
وأما قوله: وعلى هذا فلا معنى لتصوير الأنبياء يصلون خلف الرسول.
فجوابه أن يقال: إن صلاة الأنبياء خلف النبي صلى الله عليه وسلم في ليلة الإسراء من الأمور الواقعة التي يجب الإيمان بها، وقد جاء في ذلك أحاديث كثيرة قد تقدم ذكر بعضها والإشارة إلى ما لم يذكر منها وفيها أبلغ رد على من أنكر ذلك وزعم أنه لا معنى لصلاة الأنبياء خلف الرسول صلى الله عليه وسلم ، ومن أنكر صلاة الأنبياء خلف الرسول صلى الله عليه وسلم ، في ليلة الإسراء وزعم أنه لا معنى لذلك فإنما هو في الحقيقة يرد على النبي صلى الله عليه وسلم ويكذب خبره الصادق، وهذا مما
আর যে হাদিসটিতে এসেছে: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, কিংবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে"—এবং সেই বিভ্রান্ত ব্যক্তির উক্তি যে, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম যেহেতু বনী আদমের অন্তর্ভুক্ত, তাই মৃত্যুর মাধ্যমে এই তিনটি বিষয় ব্যতীত তাঁদের আমলও বন্ধ হয়ে গেছে।
এর উত্তরে আমি বলব: সেই বিভ্রান্ত ব্যক্তির খণ্ডনে আমি অচিরেই উল্লেখ করেছি যে, বরজখী জীবনে নবীগণের সালাত আদায় করা মূলত সালাতের মাধ্যমে আনন্দ ও তৃপ্তি লাভের অন্তর্ভুক্ত, যা দুনিয়াতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখের শীতলতা ছিল। এটি শরিয়তের সেই দায়বদ্ধতা বা বিধান পালনের অন্তর্ভুক্ত নয় যা মৃত্যুর মাধ্যমে রহিত হয়ে যায়।
আর তার এই উক্তি: "এমতাবস্থায় রাসূলের পেছনে নবীগণের সালাত আদায়ের বিষয়টি কল্পনা করার কোনো অর্থ হয় না।"
এর উত্তরে বলা হবে: ইসরা বা মেরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সালাত আদায়ের বিষয়টি এমন এক বাস্তব ঘটনা যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য। এ বিষয়ে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে যার কিছু ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে এবং বাকিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। যারা এই ঘটনা অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে রাসূলের পেছনে নবীগণের সালাত আদায়ের কোনো অর্থ নেই, তাদের খণ্ডনে এই হাদিসগুলোর মধ্যেই রয়েছে বলিষ্ঠ উত্তর। যে ব্যক্তি মেরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নবীগণের সালাত আদায়কে অস্বীকার করে এবং ধারণা করে যে এর কোনো অর্থ নেই, সে মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই বিরোধিতা করছে এবং তাঁর সত্য সংবাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। আর এটি এমন একটি বিষয় যা—
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يقدح في دين القائل ويوقع الشك في إسلامه.
وأما قوله: وفي الحديث روايات مختلفة عن أمكنة الأنبياء في السموات، فمن منهم في السماء الأولى، ومن في الثانية؟
… خلاف ظاهر مع أنه لا ضرورة لوجودهم في أي منها، فمن المحقق أنهم ماتوا ودفنوا وأن أرواحهم عند الله والروح كائن نوراني ولا يعلم كنهها إلا الله، والجسد قد اختفى تماما في الأرض.
فجوابه أن يقال: أما أمكنة الأنبياء في السموات فالعمدة في تعيينها على ما ثبت في الصحيحين من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه عن مالك بن صعصعة رضي الله عنه وقد جاء فيه أن آدم في السماء الدنيا وأن عيسى ويحيى في السماء الثانية وأن يوسف في السماء الثلاثة وأن إدريس في السماء الرابعة وأن هارون في السماء الخامسة وأن موسى في السماء السادسة وأن إبراهيم في السماء السابعة، وقد جاء مثل ذلك في حديث أنس الذي رواه الإمام أحمد ومسلم، وما جاء على خلاف الحديث الذي اتفق عليه البخاري ومسلم فلا عبرة به.
وأما زعمه أنه لا ضرورة لوجودهم في أي منها، أي السموات.
فجوابه أن يقال: من أنكر وجود الأنبياء في السموات فإنما هو
এটি বক্তার দ্বীনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং তার ইসলামের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টি করে।
আর তার এই উক্তি সম্পর্কে: "হাদীসে আসমানসমূহে নবীদের অবস্থানের ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা এসেছে—তাদের মধ্যে কে প্রথম আসমানে আর কে দ্বিতীয় আসমানে?
… এটি প্রকাশ্য বৈপরীত্য, অথচ তাদের এগুলোর কোনোটিতে থাকার কোনো আবশ্যকতা নেই। কেননা এটি সুনিশ্চিত যে, তারা ইন্তেকাল করেছেন এবং তাদের দাফন করা হয়েছে, আর তাদের রূহসমূহ আল্লাহর নিকট রয়েছে। রূহ এক নূরাণী সত্তা যার প্রকৃত স্বরূপ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, আর দেহ যমীনে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে।"
এর উত্তরে বলা হবে: আসমানসমূহে নবীদের অবস্থানের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো সেই বর্ণনা, যা আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মালিক ইবনে সা’সা’আহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বুখারী ও মুসলিমে প্রমাণিত হয়েছে। তাতে উল্লেখ আছে যে, আদম (আলাইহিস সালাম) প্রথম আসমানে, ঈসা ও ইয়াহইয়া (আলাইহিমাস সালাম) দ্বিতীয় আসমানে, ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) তৃতীয় আসমানে, ইদরীস (আলাইহিস সালাম) চতুর্থ আসমানে, হারূন (আলাইহিস সালাম) পঞ্চম আসমানে, মুসা (আলাইহিস সালাম) ষষ্ঠ আসমানে এবং ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) সপ্তম আসমানে অবস্থান করছেন। ইমাম আহমাদ ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐকমত্যপূর্ণ হাদীসের পরিপন্থী যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
আর তার এই দাবি প্রসঙ্গে যে, তাদের এগুলোর (অর্থাৎ আসমানসমূহের) কোনোটিতে থাকার কোনো আবশ্যকতা নেই।
এর উত্তরে বলা হবে: যে ব্যক্তি আসমানসমূহে নবীদের অবস্থান অস্বীকার করে, সে মূলত...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
في الحقيقة يكذب خبر النبي صلى الله عليه وسلم عنهم، وهذا مما يقدح في دين القائل، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله ويؤمنوا بي وبما جئت به فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله» رواه مسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
وأما قوله: فمن المحقق أنهم ماتوا ودفنوا وأن أرواحهم عند الله.
فجوابه أن يقال: إن أرواح الأنبياء هي التي رآها النبي صلى الله عليه وسلم في السموات وفي بيت المقدس حين صلى بهم وهي رؤيا عين وليست برؤيا منام قال ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى: {وما جعلنا الرؤيا التي أريناك إلا فتنة للناس} قال: «هي رؤيا عين أريها رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة أسري به» رواه الإمام أحمد والبخاري، قال البغوي والعرب تقول رأيت بعيني رؤية ورؤيا انتهى، وقد رأى النبي صلى الله عليه وسلم من رآه من الأنبياء على أشكالهم التي كانوا عليها في الدنيا وأخبر عن صفات بعضهم فقال «أما إبراهيم فانظروا إلى صاحبكم» وفي رواية أنه قال: «ولقيت إبراهيم وأنا أشبه ولده به» وفي رواية أنه قال: «ونظرت إلى إبراهيم عليه السلام فلم أنظر إلى أرب منه إلا نظرت إليه مني حتى
বস্তুত এটি তাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদকে অস্বীকার করার শামিল, আর এটি এমন বিষয় যা বক্তার দ্বীন বা বিশ্বাসের জন্য ক্ষতিকর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হকের ক্ষেত্র ব্যতীত; আর তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।” এটি ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর তার এই উক্তি সম্পর্কে যে: “এটি নিশ্চিত যে তারা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সমাহিত হয়েছেন এবং তাদের আত্মা আল্লাহর নিকট রয়েছে।”
এর উত্তরে বলা হবে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমানসমূহে এবং বায়তুল মাকদিসে যখন নবীদের নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন, তখন তিনি মূলত তাঁদের আত্মাকেই দেখেছিলেন। এটি ছিল চাক্ষুষ দর্শন, কোনো স্বপ্নযোগের দর্শন ছিল না। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা মহান আল্লাহর বাণী: {আমি আপনাকে যে দৃশ্যটি দেখিয়েছি তা কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য} এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: “এটি ছিল চাক্ষুষ দর্শন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের রাতে দেখানো হয়েছিল।” এটি ইমাম আহমদ ও বুখারী বর্ণনা করেছেন। আল-বাগাবী বলেন, আরবরা বলে থাকে ‘আমি আমার চোখে দর্শন (রুইয়াতান ও রুইয়া) করেছি’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্বিয়ায়ে কেরামের মধ্য থেকে যাঁদের দেখেছিলেন, তাঁদের দুনিয়াবি অবয়বেই দেখেছিলেন এবং তাঁদের কারো কারো বৈশিষ্ট্যের কথা জানিয়ে বলেছেন, “ইব্রাহিমের কথা যদি বলো, তবে তোমরা তোমাদের সাথীর (অর্থাৎ স্বয়ং নবীর) দিকে তাকাও।” অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেছেন: “আমি ইব্রাহিমের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং আমি তাঁর সন্তানদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে বেশি সদৃশ।” অন্য বর্ণনায় আছে যে তিনি বলেছেন: “আমি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দিকে তাকালাম, তাঁর দেহের এমন কোনো অংশের দিকেই আমি তাকাইনি যা আমার নিজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়নি, এমনকি...”
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كأنه صاحبكم» وفي رواية أنه قال: «إنه كأحسن الرجال» وقال: «وأما موسى فرجل آدم جعد» وفي رواية: «فإذا موسى ضرب من الرجال كأنه من رجال شنوءة» وفي رواية: «أنه رجل آدم طويل شعره مع أذنيه أو فوقهما» وفي رواية: «أنه أسحم آدم كثير الشعر شديد الخلق» وقال في هارون: «نصف لحيته بيضاء ونصفها سوداء تكاد لحيته تصيب سرته من طولها» وقال في يوسف: «إنه قد أعطي شطر الحسن» وفي رواية أنه قال فيه: «إنه قد فضل على الناس في الحسن كما فضل القمر ليلة البدر على سائر الكواكب».
وكل ما جاء في هذه الأحاديث فهو مما يصدق به المؤمنون وينكره الزنادقة والملحدون. ومن المعلوم عند العقلاء أن أرواح الأموات تتشكل بشكل أجسادها في الدنيا فيراهم الأحياء في المنام على وفق ما كانوا يعرفونه عنهم في الدنيا من الأشكال والصفات والألوان ويخاطب بعضهم بعضا ويخبر الأموات الأحياء بما حصل لهم بعد الموت من الراحة والمغفرة والنعيم أو التعب والتوبيخ والعذاب، وقد روى أبو عبدالله بن منده عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى: {الله يتوفى الأنفس حين موتها والتي لم تمت في منامها فيمسك التي قضى عليها الموت
যেন তোমাদের সঙ্গী (সা.)-এর মতো।" আর এক বর্ণনায় এসেছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তিনি পুরুষদের মধ্যে অতিশয় সুন্দর।" তিনি আরও বলেছেন: "আর মূসা হলেন উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ ও কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট পুরুষ।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "হঠাৎ দেখা গেল মূসা একজন সুগঠিত গড়নের পুরুষ, যেন তিনি শানুয়া গোত্রের লোকদের মতো।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "তিনি ছিলেন উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের পুরুষ, যাঁর চুল ছিল লম্বা এবং কান পর্যন্ত বা কানের উপর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।" আর এক বর্ণনায় আছে: "তিনি ছিলেন কালো ও শ্যামবর্ণের সংমিশ্রণ, অধিক চুলবিশিষ্ট এবং শক্তিশালী দৈহিক গঠনসম্পন্ন।" আর হারুন সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "তাঁর দাড়ির অর্ধেক ছিল সাদা এবং অর্ধেক কালো; দৈর্ঘ্যের আধিক্যের কারণে তাঁর দাড়ি প্রায় নাভি স্পর্শ করত।" ইউসুফ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "তাঁকে সৌন্দর্যের অর্ধাংশ দান করা হয়েছে।" অন্য এক বর্ণনায় তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "মানুষের মধ্যে সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে তাঁকে এমন শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে, যেমনটি পূর্ণিমার চাঁদ সমস্ত নক্ষত্ররাজির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে।"
এই হাদিসসমূহে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, মুমিনগণ তা সত্য বলে বিশ্বাস করেন এবং ধর্মদ্রোহী ও নাস্তিকরা তা অস্বীকার করে। বিবেকবানদের নিকট এটি সুবিদিত যে, মৃত ব্যক্তিদের আত্মা দুনিয়াতে তাঁদের দেহের আকৃতি ধারণ করে, ফলে জীবিতরা স্বপ্নে তাঁদের সেই রূপ, গুণ ও বর্ণের ভিত্তিতে দেখতে পান যা তাঁরা দুনিয়াতে তাঁদের সম্পর্কে জানতেন। তাঁরা একে অপরের সাথে কথা বলেন এবং মৃতরা জীবিতদের মৃত্যুর পর তাঁদের প্রাপ্ত শান্তি, ক্ষমা ও নেয়ামত অথবা ক্লান্তি, তিরস্কার ও আজাব সম্পর্কে সংবাদ দেন। আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: "আল্লাহই প্রাণসমূহ কবজ করেন তাদের মৃত্যুর সময়, আর যারা মরেনি তাদের ঘুমের সময়। অতঃপর তিনি যার মৃত্যু ফয়সালা করেন তার আত্মা আটকে রাখেন..."
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويرسل الأخرى إلى أجل مسمى} قال بلغني أن أرواح الأحياء والأموات تلتقي في المنام فيتساءلون بينهم فيمسك أرواح الموتى ويرسل أرواح الأحياء إلى أجسادها. وروى ابن أبي حاتم عن السدي في قوله تعالى: {والتي لم تمت في منامها} قال: يتوفاها في منامها فتلتقي روح الحي وروح الميت فيتذاكران ويتعارفان قال: فترجع روح الحي إلى جسده في الدنيا إلى بقية أجلها وتريد روح الميت أن ترجع إلى جسده فتحبس.
قال ابن القيم رحمه الله تعالى في كتاب «الروح» وقد دل على التقاء أرواح الأحياء والأموات أن الحي يرى الميت في منامه فيستخبره ويخبره الميت بما لا يعلم الحي فيصادف خبره كما أخبر في الماضي والمستقبل وربما أخبره بمال دفنه الميت في مكان لم يعلم به سواه وربما أخبره بدين عليه وذكر له شواهده وأدلته، قال وأبلغ من هذا أنه يخبره بما عمله من عمل لم يطلع عليه أحد من العالمين، وأبلغ من هذا أنه يخبره أنك تأتينا إلى وقت كذا وكذا فيكون كما أخبر، وربما أخبره عن أمور يقطع الحي أنه لم يكن يعرفها غيره، ثم ذكر ابن القيم قصصاً كثيرة من رؤيا الأحياء للأموات وإخبار الأموات بما يسألهم الأحياء عنه فلتراجع في أول كتاب «الروح» في المسألة الثالثة وفي آخر المسألة الأولى.
ومن أعجب
এবং অন্যটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রেরণ করেন।} তিনি বলেন, আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, জীবিত ও মৃত ব্যক্তিদের আত্মা নিদ্রারত অবস্থায় পরস্পর মিলিত হয় এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা মৃতদের আত্মাকে আটকে রাখেন এবং জীবিতদের আত্মাকে তাদের দেহে ফেরত পাঠান। আর ইবনে আবি হাতিম আস-সুদ্দি থেকে মহান আল্লাহর বাণী— {এবং যাদের মৃত্যু ঘটেনি তাদের ঘুমের সময়} এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা ঘুমের সময় তাদের প্রাণ হরণ করেন। ফলে জীবিতের আত্মা ও মৃতের আত্মা একে অপরের সাথে মিলিত হয়, তারা পরস্পর আলাপ করে এবং একে অপরকে চিনতে পারে। তিনি বলেন: অতঃপর জীবিতের আত্মা দুনিয়াতে তার অবশিষ্ট আয়ুষ্কাল পূর্ণ করার জন্য স্বীয় দেহে ফিরে আসে, আর মৃতের আত্মা তার দেহে ফিরে যেতে চায় কিন্তু তাকে আটকে রাখা হয়।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর «আর-রূহ» কিতাবে বলেন: জীবিত ও মৃতদের আত্মার মিলন ঘটার প্রমাণ হলো, জীবিত ব্যক্তি স্বপ্নে মৃতকে দেখতে পায় এবং তাকে বিভিন্ন সংবাদ জিজ্ঞাসা করে। আর মৃত ব্যক্তি তাকে এমন সব বিষয়ের সংবাদ দেয় যা জীবিত ব্যক্তি জানত না। অতঃপর সেই সংবাদ অতীত বা ভবিষ্যৎ যা-ই হোক না কেন, তা বাস্তবের সাথে হুবহু মিলে যায়। অনেক সময় মৃত ব্যক্তি তাকে এমন কোনো প্রোথিত সম্পদের কথা বলে দেয় যা সে ব্যতীত আর কেউ জানত না। আবার কখনো সে তার নিজের ঋণের কথা জানায় এবং এর প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ উল্লেখ করে। তিনি আরও বলেন, এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, মৃত ব্যক্তি তাকে এমন কোনো কাজের কথা জানায় যা জগতের কেউ জানত না। এর চাইতেও বিস্ময়কর হলো, মৃত ব্যক্তি তাকে সংবাদ দেয় যে, 'তুমি অমুক অমুক সময়ে আমাদের কাছে চলে আসবে' এবং বাস্তবে ঠিক তেমনটিই ঘটে। আবার কখনো সে এমন সব গূঢ় বিষয়ে সংবাদ দেয় যে ব্যাপারে জীবিত ব্যক্তি নিশ্চিত থাকে যে মৃত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা জানত না। অতঃপর ইবনুল কাইয়্যিম জীবিতদের স্বপ্নে মৃতদের দেখা এবং জীবিতদের জিজ্ঞাসার জবাবে মৃতদের দেওয়া তথ্য সম্পর্কে অনেক ঘটনা উল্লেখ করেছেন; যা «আর-রূহ» কিতাবের শুরুতে তৃতীয় মাসআলায় এবং প্রথম মাসআলার শেষে বিস্তারিত দেখা যেতে পারে।
আর সবচাইতে আশ্চর্যের বিষয় হলো...
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ লি-মাহউ আবাতীলিশ শালবী আনিল ইসরা ওয়াল মিরাজ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأخبار في ذلك ما رواه الطبراني في الكبير عن عطاء الخراساني عن ابنة ثابت بن قيس بن شماس رضي الله عنه أن ثابت بن قيس لما قتل يوم اليمامة أريه رجل من المسلمين في منامه فقال إني لما قتلت بالأمس مر بي رجل من المسلمين فانتزع مني درعاً نفيسة ومنزله في أقصى المعسكر وعند منزله فرس يستن في طوله وقد أكفأ على الدرع برمة وجعل فوق البرمة رحلاً فأت خالد بن الوليد فليبعث إلى درعي فليأخذها فإذا قدمت على خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم فأعلمه أن عليَّ من الدين كذا ولي من المال كذا وفلان من رقيقي عتيق وإياك أن تقول هذا حلم فتضيعه، قال: فأتى خالد ابن الوليد فوجه إلى الدرع فوجدها كما ذكر وقدم على أبي بكر رضي الله عنه فأخبره فأنفذ أبو بكر رضي الله عنه وصيته بعد موته فلا نعلم أن أحداً جازت وصيته بعد موته إلا ثابت بن قيس ابن شماس رضي الله عنه، قال الهيثمي في مجمع الزوائد بنت ثابت ابن قيس لم أعرفها وبقية رجاله رجال الصحيح والظاهر أن بنت ثابت بن قيس صحابية فإنها قالت سمعت أبي والله أعلم انتهى كلام الهيثمي، وروى الطبراني أيضا قصة ثابت بن قيس رضي الله عنه مختصرة من حديث أنس رضي الله عنه قال الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح وقد رواه الحاكم في مستدركه وقال: صحيح على
এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর মধ্যে একটি হলো ইমাম তাবারানি তাঁর 'আল-মু'জামুল কাবির' গ্রন্থে আতা আল-খুরাসানির সূত্রে সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামমাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কন্যার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়ামামার যুদ্ধে যখন সাবিত ইবনে কায়েস শাহাদাত বরণ করেন, তখন জনৈক মুসলিম ব্যক্তি তাঁকে স্বপ্নে দেখেন। তিনি (সাবিত) তাঁকে বললেন, "আমি যখন গতকাল শহীদ হলাম, তখন একজন মুসলিম ব্যক্তি আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার থেকে একটি মূল্যবান বর্ম নিয়ে যান। তাঁর তাঁবুটি শিবিরের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত এবং তাঁর তাঁবুর পাশে একটি ঘোড়া রশিতে বাঁধা অবস্থায় লাফালাফি করছে। তিনি বর্মটির ওপর একটি ডেকচি উপুড় করে রেখেছেন এবং সেই ডেকচির ওপর উটের পালান রেখে দিয়েছেন। তুমি খালিদ ইবনে ওয়ালিদের কাছে যাও এবং তাঁকে বলো যেন তিনি লোক পাঠিয়ে আমার বর্মটি সংগ্রহ করেন। আর যখন তুমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খলিফার কাছে পৌঁছাবে, তখন তাঁকে অবগত করবে যে, আমার ওপর এই পরিমাণ ঋণ রয়েছে এবং অমুক অমুক সম্পদ আমার মালিকানাধীন; আর আমার দাসদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি মুক্ত। সাবধান! তুমি একে নিছক স্বপ্ন মনে করে অবহেলা করো না।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সেই ব্যক্তি খালিদ ইবনে ওয়ালিদের কাছে আসলেন। তিনি (খালিদ) বর্মটির সন্ধানে লোক পাঠালেন এবং বর্ণনানুযায়ী ঠিক সেভাবেই তা খুঁজে পেলেন। এরপর তিনি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে এসে তাঁকে সব জানালেন। তখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সাবিতের মৃত্যুর পর তাঁর সেই অসিয়ত কার্যকর করলেন। সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামমাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছাড়া আর কারো মৃত্যুর পর তাঁর অসিয়ত কার্যকর হওয়ার কথা আমাদের জানা নেই। ইমাম হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে বলেছেন, "আমি সাবিত ইবনে কায়েসের কন্যাকে চিনতে পারিনি, তবে অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ 'সহিহ' গ্রন্থের বর্ণনাকারী। বাহ্যত সাবিত ইবনে কায়েসের কন্যা একজন সাহাবিয়া, কারণ তিনি বলেছেন—'আমি আমার পিতার নিকট শুনেছি'। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।" - এখানেই হাইসামির বক্তব্যের ইতি। ইমাম তাবারানি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে সাবিত ইবনে কায়েস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই ঘটনাটি সংক্ষেপেও বর্ণনা করেছেন। এ সম্পর্কে হাইসামি বলেন, "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।" ইমাম হাকেমও তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন—এটি সহিহ...