(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
الرد على من أجاز تهذيب اللحية   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الرد على من أجاز تهذيب اللحية

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: مكتبة المعارف، الرياض - المملكة العربية السعودية

عام النشر: 1406 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 53

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

যারা দাড়ি ছাঁটা বৈধ মনে করেন তাদের খণ্ডন   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরী)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: যারা দাড়ি ছাঁটা বৈধ মনে করেন তাদের খণ্ডন

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরী (মৃ. ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ - সৌদি আরব

প্রকাশকাল: ১৪০৬ হি. - ১৯৮৫ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
الرد على من أجاز تهذيب اللحية

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين

 

مكتبة المعارف
দাঁড়ি ছাঁটা বা ছোট করা বৈধ মনেকারীদের প্রতিবাদ

 

রচনায়

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হামূদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামূদ আত-তুওয়াইজরী

আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

 

মাকতাবাতুল মাআরিফ
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد:

فقد رأيت مقالاً لبعض ذوي الجهل والجراءة نشرته جريدة السياسة الكويتية في عددها 5636 الصادر في يوم الثلاثاء 16 رجب سنة 1404 هـ الموافق 17/ 4/ 1984 م تحت عنوان «مبايعة الموظفين»، وقد ملأ الكاتب مقاله بالأباطيل والتقول على رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فمن ذلك قوله: إن اللحية رمز عربي وليست من الإسلام في شيء.

والجواب أن يقال: هذا زعم باطل مردود؛ لأن إعفاء اللحية سنة ثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم من قوله وفعله. وقد جاء في ذلك أحاديث كثيرة.

منها ما في الصحيحين وغيرهما عن ابن عمر رضي الله عنهما قال:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

আমি অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতাসম্পন্ন এক ব্যক্তির একটি নিবন্ধ দেখেছি, যা কুয়েতের 'আস-সিয়াসা' পত্রিকার ৫৬৩৬তম সংখ্যায় ১৬ই রজব, ১৪০৪ হিজরী মোতাবেক ১৭/০৪/১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ রোজ মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল "কর্মচারীদের আনুগত্য (বায়আত)"। লেখক তার পুরো নিবন্ধটি ভ্রান্ত কথাবার্তা এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা অপবাদে ভরপুর করে দিয়েছেন।

তার মধ্যে একটি হলো লেখকের এই উক্তি: দাড়ি হলো আরবের একটি প্রতীক মাত্র, ইসলামের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

এর জবাবে বলা হবে যে: এটি একটি বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত দাবি; কারণ দাড়ি রাখা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজ দ্বারা প্রমাণিত একটি সুন্নাহ। এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

তার মধ্যে একটি হলো যা বুখারী ও মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أنهكوا الشوارب، واعفوا اللحى» هذا لفظ البخاري، ولفظ مسلم: «أحفوا الشوارب، واعفوا اللحى»، وفي الصحيحين أيضًا عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «خالفوا المشركين، وفروا اللحى، وأحفوا الشوارب»، وروى مالك في الموطأ، ومسلم، وأبو داود، والترمذي عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «أمر بإحفاء الشوارب، وإعفاء اللحى» قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح، وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «جزوا الشوارب، وأرخوا اللحى، خالفوا المجوس»، ورواه الإمام أحمد مختصرًا ولفظه: «قصوا الشوارب وأعفوا اللحى»، ورواه البخاري في التاريخ الكبير ولفظه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كانت المجوس تعفي شواربها، وتحفي لحاها، فخالفوهم فجزوا شواربكم، وأعفوا لحاكم»، وروى البزار عن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «خالفوا المجوس، جزوا الشوارب، وأوفروا اللحى»، وروى البيهقي عن ابن عمر رضي الله عنهما قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم المجوس فقال: «إنهم يوفون سبالهم، ويحلقون لحاهم، فخالفوهم» - السبال: هو الشارب -.

والأحاديث في الأمر بإعفاء اللحى، وإحفاء الشوارب كثيرة جدًا، وروى الإمام أحمد، ومسلم، وأهل السنن عن عائشة رضي الله
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা গোঁফ খুব ছোট করে ফেলো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।" এটি বুখারীর বর্ণনা। আর মুসলিমের শব্দ হলো: "তোমরা গোঁফ ছেঁটে ছোট করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।" সহীহাইন-এ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; দাড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ ছেঁটে ছোট করো।" ইমাম মালিক মুওয়াত্তায় এবং মুসলিম, আবু দাউদ ও তিরমিযী ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "গোঁফ ছোট করার এবং দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।" তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ। সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা গোঁফ কাটো এবং দাড়ি লম্বা হতে দাও; অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।" ইমাম আহমাদ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: "তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।" বুখারী 'তারীখুল কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অগ্নিপূজকরা তাদের গোঁফ ছেড়ে দিত এবং দাড়ি কেটে ফেলত, সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো; তোমরা তোমাদের গোঁফ কাটো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।" বাজ্জার আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ কাটো এবং দাড়ি পরিপূর্ণ রাখো।" বায়হাকী ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অগ্নিপূজকদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তারা তাদের গোঁফ লম্বা রাখে এবং দাড়ি মুণ্ডন করে, অতএব তোমরা তাদের বিরোধিতা করো।" — সিবাল হলো গোঁফ।

দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার এবং গোঁফ ছোট করার নির্দেশের ব্যাপারে হাদীস সংখ্যা অত্যন্ত অধিক। ইমাম আহমাদ, মুসলিম এবং সুনান সংকলকগণ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «عشر‌‌ من الفطرة قص الشارب، وإعفاء اللحية» الحديث.

قال الخطابي: فسر أكثر العلماء الفطرة في هذا الحديث بالسنة، وتأويله أن هذه الخصال من سنن الأنبياء الذين أمرنا أن نقتدي بهم لقوله سبحانه: {فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهِ}، وفي سنن النسائي عن طلق بن حبيب قال: «عشر من السنة»، وذكر منها قص الشارب، وتوفير اللحية، وروى ابن إسحاق، وابن جرير عن يزيد بن أبي حبيب أن رجلين من المجوس دخلا على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد حلقا لحاهما، وأعفيا شواربهما، فكره النظرة إليهما، وقال: «ويلكما، من أمركما بهذا؟» قال: أمرنا ربنا - يعنيان كسرى - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لكن ربي أمرني بإعفاء لحيتي، وقص شاربي».

وقد جاء في أحاديث كثيرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «كان كثّ اللحية»، وفي بعضها أنه «كان ضخم اللحية»، وفي بعضها أنه «كان عظيم اللحية»، وفي بعضها «أن لحيته قد ملأت نحره». وفي هذه الأحاديث، وما تقدم قبلها من الأحاديث الصحيحة أبلغ رد على من زعم أن اللحية رمز عربي وليست من الإسلام في شيء. وقد قال الله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ
তাঁর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দশটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: গোঁফ খাটো করা এবং দাড়ি ছেড়ে দেওয়া» —হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।

ইমাম খাত্তাবী বলেন: অধিকাংশ আলেম এই হাদিসে বর্ণিত ‘ফিতরাত’ শব্দটিকে ‘সুন্নত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর তাৎপর্য হলো, এই বৈশিষ্ট্যগুলো আম্বিয়ায়ে কেরামের সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত যাদের অনুসরণ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: {অতএব তাদের প্রদর্শিত পথেই তুমি চলো}। সুনানে নাসায়ীতে তালক ইবনে হাবীব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «দশটি বিষয় সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত», এবং সেখানে তিনি গোঁফ খাটো করা ও দাড়ি লম্বা করার কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে ইসহাক এবং ইবনে জারীর ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে বর্ণনা করেন যে, পারস্যের অগ্নিপূজকদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলো; তারা তখন তাদের দাড়ি কামিয়ে ফেলেছিল এবং গোঁফ বড় করে রেখেছিল। তিনি তাদের দিকে তাকাতে ঘৃণা বোধ করলেন এবং বললেন: «তোমাদের দুর্ভোগ! কে তোমাদেরকে এমন কাজের নির্দেশ দিয়েছে?» তারা উত্তর দিল: আমাদের প্রভু (অর্থাৎ কিসরা) আমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «কিন্তু আমার প্রতিপালক আমাকে দাড়ি ছেড়ে দিতে এবং গোঁফ খাটো করতে নির্দেশ দিয়েছেন।»

প্রচুর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম «ঘন দাড়ি বিশিষ্ট ছিলেন», কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে তিনি «ভরাট দাড়ি বিশিষ্ট ছিলেন», কোনোটিতে তিনি «বিশাল দাড়ি বিশিষ্ট ছিলেন», আবার কোনো বর্ণনায় এসেছে «তাঁর দাড়ি বক্ষদেশ পূর্ণ করে রাখত»। এই হাদিসগুলো এবং এর আগে অতিক্রান্ত সহিহ হাদিসসমূহ ওই ব্যক্তির দাবির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বলিষ্ঠ জবাব, যে দাবি করে যে দাড়ি কেবল একটি আরবীয় প্রতীক এবং ইসলামের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে...}
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ}، وقال تعالى: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ}، وقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}.

وإذا علم إن إعفاء اللحية ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم من قوله وفعله وأنه من هديه الذي هو خير الهدي، فليعلم أيضًا أن إعفاءها من سنن الأنبياء والمرسلين وهديهم، وقد قال الله تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهِ}، والأمر في هذه الآية الكريمة عام لجميع الأمة؛ لأنهم تبع لنبيهم محمد صلى الله عليه وسلم. وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «أنا أشبه ولد إبراهيم به» متفق عليه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وفي الصحيحين، وغيرهما عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «أما إبراهيم فانظروا إلى صاحبكم»، وفي رواية لأحمد: «نظرت إلى إبراهيم، فلم أنظر إلى أرب منه إلا نظرت إليه مني، حتى كأنه صاحبكم»، وهذا يدل على أن إبراهيم عليه الصلاة والسلام كان ذا لحية عظيمة تشبه لحية رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد قال الله تعالى: {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا}، وقال تعالى: {قُلْ صَدَقَ اللَّهُ فَاتَّبِعُوا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا}، وقال تعالى: {وَمَنْ يَرْغَبُ
{যে আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে}, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।}, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, পাছে তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হয়।}।

যখন এটি জানা গেল যে, দাড়ি রাখা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী ও কর্ম দ্বারা প্রমাণিত এবং এটি তাঁর সেই আদর্শের অন্তর্ভুক্ত যা সর্বোত্তম হেদায়েত, তখন এটিও জেনে রাখা উচিত যে, দাড়ি রাখা নবী ও রাসূলগণের সুন্নত ও জীবনদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। আর মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তারাই তারা, যাদের আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন। সুতরাং আপনি তাদের পথের অনুসরণ করুন।}। আর এই মহিমান্বিত আয়াতের নির্দেশটি উম্মতের সকলের জন্য প্রযোজ্য; কারণ তারা তাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসারী। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি ইবরাহীমের সন্তানদের মধ্যে তাঁর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।" এটি আবূ হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম দ্বারা সম্মিলিতভাবে বর্ণিত)। আর সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আর ইবরাহীমের কথা বলতে গেলে, তোমরা তোমাদের সঙ্গীর দিকে তাকাও।" আহমদের এক বর্ণনায় রয়েছে: "আমি ইবরাহীমের দিকে তাকালাম, তাঁর শরীরের কোনো অংশই আমার চেয়ে সাদৃশ্যহীন দেখিনি, এমনকি তিনি যেন তোমাদেরই সঙ্গী।" এটি প্রমাণ করে যে, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ঘন ও বড় দাড়ির অধিকারী ছিলেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাড়ির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, আপনি একনিষ্ঠ ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করুন।}, এবং আল্লাহ বলেন: {বলুন, আল্লাহ সত্য বলেছেন। সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠ ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করো।}, এবং আল্লাহ বলেন: {আর কে বিমুখ হয়...}
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ}، وفي هذه الآية الكريمة دليل على أن من رغب عن إعفاء اللحية ففيه من سفه النفس بقدر ما رغب عنه من ملة إبراهيم.

وقد روى البيهقي في «دلائل النبوة» عن هشام بن العاص الأموي قال: بعثت أنا ورجل آخر إلى هرقل صاحب الروم ندعوه إلى الإسلام - فذكر القصة بطولها وفيها أن هرقل أراهم صور الأنبياء في خرق من حرير، فذكر في صفة نوح عليه الصلاة والسلام أنه كان حسن اللحية. وفي صفة إبراهيم عليه الصلاة والسلام أنه كان أبيض اللحية. وفي صفحة إسحاق عليه الصلاة والسلام أنه كان خفيف العارضين. وفي صفة يعقوب عليه الصلاة والسلام أنه كان يشبه أباه إسحاق، وفي صفة عيسى عليه الصلاة والسلام أنه كان شديد سواد اللحية، قال ابن كثير: إسناده لا بأس به. وقد رواه أبو نعيم الأصبهاني في «دلائل النبوة» من طريق أخرى، وقال في صفة موسى عليه الصلاة والسلام: إنه كث اللحية. وقال في صفة هارون عليه الصلاة والسلام: إنه كان يشبه موسى. وقد جاء في بعض الروايات في حديث الإسراء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى هارون في السماء الخامسة، وقال في نعته: نصف لحيته بيضاء ونصفها سوداء تكاد لحيته تصيب سرته من
“...ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ থেকে (বিমুখ হয় না) কেবল সে-ই যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে।” এই সম্মানিত আয়াতে এ কথার দলিল রয়েছে যে, যে ব্যক্তি দাড়ি লম্বা রাখা থেকে বিমুখ হবে, তার মধ্যে নফসের নির্বুদ্ধিতা ততটুকুই বিদ্যমান থাকবে যতটুকু সে ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ থেকে বিমুখ হয়েছে।

ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে হিশাম ইবনুল আস আল-উমাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং অন্য একজন লোক রোমান সম্রাট হারাক্লিয়াসের নিকট তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য প্রেরিত হয়েছিলাম—অতঃপর তিনি দীর্ঘ ঘটনা বর্ণনা করেন যেখানে উল্লেখ আছে যে, হারাক্লিয়াস তাঁদেরকে রেশমি কাপড়ে নবীদের প্রতিকৃতি দেখিয়েছিলেন। সেখানে নূহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর দাড়ি ছিল অত্যন্ত সুন্দর। ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, তাঁর দাড়ি ছিল সাদা। ইসহাক (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, তাঁর গণ্ডদেশের দাড়ি ছিল পাতলা। ইয়াকুব (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি তাঁর পিতা ইসহাকের সদৃশ ছিলেন। ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, তাঁর দাড়ি ছিল গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ। ইবনে কাসীর বলেন: এর বর্ণনাপরম্পরা সন্তোষজনক। আবু নুআয়ম আল-আসবাহানী তাঁর ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে ভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে মুসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তিনি ছিলেন ঘন দাড়িবিশিষ্ট। হারুন (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তিনি মুসার সদৃশ ছিলেন। ইসরা বা মিরাজ সংক্রান্ত হাদিসের কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পঞ্চম আসমানে হারুন (আলাইহিস সালাম)-কে দেখেছিলেন এবং তাঁর শারীরিক বর্ণনায় বলেছিলেন: তাঁর দাড়ির অর্ধেক ছিল সাদা এবং অর্ধেক কালো, যা দৈর্ঘ্যের আধিক্যের কারণে প্রায় তাঁর নাভি স্পর্শ করছিল।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
طولها، رواه ابن جرير وابن أبي حاتم في تفسيريهما والبيهقي في «دلائل النبوة» من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه. وقد أخبر الله تعالى عن هارون أنه قال لأخيه موسى: {يَا ابْنَ أُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي} فدلت الآية الكريمة على أنه كان ذا لحية طويلة يتمكن موسى من الأخذ بها. وفي هذه الآية الكريمة وما ذكر قبلها من صفات الأنبياء المتقدمين أبلغ رد على من زعم أن اللحية رمز عربي وليست من الإسلام في شيء. والأنبياء كلهم على دين الإسلام وإن اختلفت شرائعهم ومناهجهم.

وقد كان أهل الكتابين في زمن الجاهلية يعفون لحاهم متابعة لما كان عليه الأنبياء المتقدمون، وكذلك كان العرب في زمن الجاهلية، فإنهم كانوا يعفون لحاهم، وذلك مما تمسكوا به من ملة إبراهيم عليه الصلاة والسلام مع أشياء تمسكوا بها من أفعال الحج وغيره، ولم يكن حلق اللحى معروفًا في زمن الجاهلية إلا عن المجوس، وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم أمته بمخالفتهم، ونهاهم عن التشبه بهم والتزيي بزيهم.

والمقصود هنا بيان أن إعفاء اللحية ليس رمزًا عربيًا كما زعم ذلك صاحب المقال الباطل، وإنما هو سنة من سنن الأنبياء والمرسلين، وصفة من صفات المتمسكين بالسنة من المسلمين، وأما حلق اللحية وقصها فهو رمز للمجوس ولمن يتشبه بهم من المسلمين
এর দৈর্ঘ্য প্রসঙ্গে; এটি ইবনে জারীর ও ইবনে আবি হাতিম তাঁদের স্ব-স্ব তাফসীর গ্রন্থে এবং বায়হাকী তাঁর 'দালাইলুন নুবুওয়্যাহ' গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ হারুন (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর ভাই মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিলেন: "হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরবেন না।" এই বরকতময় আয়াতটি নির্দেশ করে যে, তিনি দীর্ঘ দাড়ির অধিকারী ছিলেন যা মূসা (আলাইহিস সালাম) ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই আয়াত এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত পূর্ববর্তী নবীগণের গুণাবলী সেই ব্যক্তির দাবির সবচেয়ে জোরালো খণ্ডন, যে দাবি করে যে দাড়ি একটি আরবীয় প্রতীক এবং ইসলামের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আর সকল নবীই ইসলামের অনুসারী ছিলেন, যদিও তাঁদের শরীয়ত ও কর্মপদ্ধতি ভিন্ন ছিল।

জাহিলিয়াত যুগে দুই আসমানী কিতাবধারী সম্প্রদায়ও পূর্ববর্তী নবীগণের অনুসরণে দাড়ি লম্বা রাখতেন। একইভাবে জাহিলিয়াত আমলের আরবরাও দাড়ি বড় রাখতেন। এটি ছিল ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ধর্মের সেই সকল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা তারা হজ্জের নিয়মাবলী ও অন্যান্য বিষয়ের সাথে আঁকড়ে ধরেছিল। জাহিলিয়াত যুগে অগ্নিপূজক (মজুস) ছাড়া অন্য কারো মাঝে দাড়ি মুণ্ডানোর প্রথা প্রচলিত ছিল না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতকে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন ও তাদের বেশভূষা গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।

এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, দাড়ি রাখা কোনো আরবীয় প্রতীক নয়—যেমনটি সেই মিথ্যা নিবন্ধের লেখক দাবি করেছেন—বরং এটি নবী ও রাসূলগণের অন্যতম সুন্নাত এবং সুন্নাহর অনুসারী মুসলিমদের একটি বিশেষ গুণ। আর দাড়ি মুণ্ডানো বা ছাঁটা হলো অগ্নিপূজকদের প্রতীক এবং সেই সব মুসলিমদের নিদর্শন যারা তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وغير المسلمين، ولا يضر المسلمين كون الهندوس وغيرهم من الكفار يبالغون في إعفاء اللحى، فإن ذلك معدود من تشبههم بالمسلمين إما قصدًا وإما اتفاقًا، وهم في هذه الحالة أحسن من المجوس الذين يحلقون اللحى ويمثلون بها ويخالفون هدي الأنبياء المرسلين.
এবং অমুসলিমগণ। হিন্দু ও অন্যান্য কাফিররা দাড়ি লম্বা করার ক্ষেত্রে যে বাড়াবাড়ি করে, তা মুসলমানদের কোনো ক্ষতি করে না; কারণ এটি তাদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের সাদৃশ্য অবলম্বন হিসেবেই গণ্য হবে—তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হোক কিংবা দৈবক্রমে। আর তারা এই অবস্থায় সেই অগ্নিপূজকদের চেয়ে উত্তম, যারা দাড়ি মুণ্ডন করে ও এর বিকৃতি ঘটায় এবং প্রেরিত নবীগণের আদর্শের বিরোধিতা করে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
فصل: فيما حكاه ابن حزم من‌‌ الإجماع على أن قص الشارب وإعفاء اللحية فرض

وقد حكى ابن حزم الإجماع على أن قص الشارب وإعفاء اللحية فرض، وفيما حكاه من الإجماع أبلغ رد على من زعم أن اللحية ليست من الإسلام في شيء، وقد قال أبو عمر بن عبد البر، وشيخ الإسلام ابن تيمية: يحرم حلق اللحية، قال ابن عبد البر ولا يفعله إلا المخنثون من الرجال انتهى، والمخنثون هم المتشبهون بالنساء، وقد روى الإمام أحمد بإسناد حسن عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم مخنثي الرجال الذين يتشبهون بالنساء، والمترجلات من النساء المتشبهات بالرجال» وروى الإمام أحمد أيضًا عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول «ليس منا من تشبه بالرجال من النساء، ولا من تشبه بالنساء من الرجال» والأحاديث في لعن المتشبهين من الرجال بالنساء، والمتشبهات من النساء بالرجال كثيرة.
পরিচ্ছেদ: ইবনে হাজম যা বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে—গোঁফ ছাঁটা এবং দাড়ি লম্বা রাখা ফরজ হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য

ইবনে হাজম গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি লম্বা রাখাকে ফরজ হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন। আর তিনি যে ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন, তাতে ওই ব্যক্তির দাবির বলিষ্ঠ খণ্ডন রয়েছে যে মনে করে দাড়ি ইসলামের কোনো বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। আবু উমর ইবনে আব্দুল বার এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: দাড়ি মুণ্ডন করা হারাম। ইবনে আব্দুল বার বলেন, পৌরুষহীন নারীসুলভ ব্যক্তিরা ব্যতীত কেউ এটি করে না (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর নারীসুলভ ব্যক্তি হলো তারা যারা নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে। ইমাম আহমাদ হাসান সনদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐসব নারীসুলভ পুরুষদের অভিশাপ দিয়েছেন যারা নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে এবং ঐসব পুরুষালি নারীদের যারা পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে।" ইমাম আহমাদ আরও বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে নারীদের মধ্য থেকে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, আর না সে যে পুরুষদের মধ্য থেকে নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে।" নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষ এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীদের ওপর অভিশাপ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ অনেক।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فصل: إدعاء صاحب المقال الباطل أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يطلق لحيته بعد الإسلام

قال صاحب المقال الباطل: وكان للنبي صلى الله عليه وسلم لحية، ولم يطلقها بعد الإسلام.

والجواب أن يقال: إن النبي صلى الله عليه وسلم قد وفرّ لحيته، وكانت كثة ضخمة عظيمة كما جاء ذلك في أحاديث كثيرة، منها ما رواه الإمام أحمد عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثّ اللحية»، وقال ابن منظور في لسان العرب: لحية كثة وكثاء كثرت أصولها وشعرها، وأنها ليست بدقيقة ولا طويلة وفيها كثافة، وقال ابن دريد لحية كثة كثيرة النبات انتهى.

وروى الإمام أحمد أيضًا والحاكم في مستدركه عن علي رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ضخم الرأس، واللحية» قال الحاكم: صحيح الإسناد ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي في تلخيصه، قال الجوهري، وابن منظور في لسان العرب: الضخم الغليظ من كل شيء. وكذا قال صاحب القاموس، والمراد بضخامة اللحية عظمها لما رواه عبد الله بن الإمام أحمد في زوائد المسند بأسانيد جيدة عن علي رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم عظيم اللحية»، وروى الإمام أحمد، ومسلم عن جابر بن سمرة رضي الله عنهما قال:
পরিচ্ছেদ: ভ্রান্ত নিবন্ধকারের এই অসার দাবি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের পর দাড়ি লম্বা করেননি

ভ্রান্ত নিবন্ধকার বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি ছিল, তবে তিনি ইসলামের পর তা লম্বা করেননি।

এর উত্তরে বলা হবে: নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাড়িকে পরিপূর্ণরূপে বর্ধিত করেছিলেন এবং তা ছিল ঘন, সুপ্রশস্ত ও বিশাল; যেমনটি বহু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে ইমাম আহমাদ আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়াবিশিষ্ট ছিলেন।" ইবনুল মানযুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলেছেন: ঘন ও নিবিড় দাড়ি বলতে সেই দাড়িকে বোঝায় যার গোড়া ও পশম অনেক, যা অতি সূক্ষ্ম বা পাতলা নয় এবং যাতে গভীর ঘনত্ব বিদ্যমান। ইবনে দুরিদ বলেছেন: ঘন দাড়ি মানে যা প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

ইমাম আহমাদ এবং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থেও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশাল মস্তক ও বৃহৎ দাড়ির অধিকারী ছিলেন।" হাকেম বলেছেন: এর সনদ সহীহ, যদিও তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি, এবং ইমাম যাহাবিও তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আল-জাওহারি এবং ইবনুল মানযুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলেছেন: যেকোনো বস্তুর ক্ষেত্রে 'যখম' (ضخم) শব্দটির অর্থ হলো স্থূল বা বৃহৎ হওয়া। 'কামুস' অভিধানের লেখকও অনুরূপ বলেছেন। আর দাড়ির এই বিশালতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার মহত্ত্ব ও পূর্ণতা, কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমাদ 'যাওয়ায়িদুল মুসনাদ' গ্রন্থে উত্তম সূত্রে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুমহান দাড়ির অধিকারী ছিলেন।" ইমাম আহমাদ এবং মুসলিম জাবির ইবনে সামুরা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثير شعر اللحية»، وروى النسائي عن البراء رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثّ اللحية»، وروى الترمذي في الشمائل، والطبراني في الكبير، والبيهقي في شعب الإيمان، والآجري في كتاب الشريعة عن هند بن أبي هالة رضي الله عنه قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثّ اللحية»، وروى الحافظ أبو نعيم الأصبهاني عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أنه نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر من صفته أنه كان كثّ اللحية، وروى الحاكم في مستدركه وصححه، والبيهقي، والآجري أن أم معبد الخزاعية قالت في نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم: وفي لحيته كثاثة.

وفي هذه الأحاديث أبلغ رد على من افترى على رسول الله صلى الله عليه وسلم وزعم أنه لم يطلق لحيته بعد الإسلام.
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন», এবং ইমাম নাসায়ী হযরত বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন», ইমাম তিরমিযী ‘শামায়েল’-এ, তাবারানী ‘আল-মু’জামুল কাবীর’-এ, বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ এবং আজুররী ‘কিতাবুশ শারীআহ’-এ হিন্দ ইবনে আবী হালা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন», হাফেজ আবু নুআইম আল-আসবাহানী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে, তিনি ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন। আর ইমাম হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’-এ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন, এবং বায়হাকী ও আজুররী বর্ণনা করেন যে, উম্মে মা’বাদ আল-খুযাঈয়াহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনায় বলেছেন: তাঁর দাড়ি মুবারক ছিল ঘন।

আর এই হাদীসসমূহের মধ্যেই সেই ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত জোরালো প্রত্যুত্তর রয়েছে, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে এবং এই ভিত্তিহীন দাবি করেছে যে, তিনি ইসলাম গ্রহণের পর দাড়ি রাখেননি।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فصل: إدعاء صاحب المقال الباطل أن اللحية لا تعني في الإسلام شيئاً مميزاً

وزعم صاحب المقال الباطل أن اللحية لا تعني في الإسلام شيئًا مميزًا للمسلم.

والجواب أن يقال: بل إن في إعفاء اللحية تمييزًا بين المسلم المطيع لأمر الرسول صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحية، وبين العصاة المخالفين لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحى، ومخالفة المجوس الذين يحلقون لحاهم، وقد قال الله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}.
পরিচ্ছেদ: বাতিল প্রবন্ধকারের এই অমূলক দাবি যে, ইসলামে দাড়ি বিশেষ কোনো তাৎপর্য বহন করে না।

উক্ত বাতিল প্রবন্ধের লেখক দাবি করেছেন যে, ইসলামে দাড়ি একজন মুসলিমের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কোনো বিষয় নয়।

এর উত্তরে বলা হবে: বরং দাড়ি রাখার মধ্যে ঐ মুসলিমের মাঝে পার্থক্য নিহিত রয়েছে, যে দাড়ি লম্বা রাখার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের অনুগত, আর ঐসব পাপাচারীদের মাঝে যারা দাড়ি রাখার ব্যাপারে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে; সেই সাথে এর মাধ্যমে দাড়ি মুণ্ডনকারী অগ্নিপূজকদেরও বিরোধিতা করা হয়। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন এ বিষয়ে সতর্ক থাকে যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা বিপর্যয় নেমে আসতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে।”
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
فصل: ادعاء صاحب المقال أن أمر النبي بحف الشوارب وإعفاء اللحى وإكرامها كان لمجرد أنه صلى الله عليه وسلم يتضايق منها

وقال صاحب المقال الباطل: كل ما في الأمر أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكره رؤية اللحية الكثة ويتضايق منها فقال: «حفوا الشوارب وأكرموا اللحى» أكرموها بمعنى هذبوها رتبوها امشطوها، وليست بمعنى أطلقوها لأنها مطلقة أصلاً.

والجواب أن يقال: أما قوله: إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكره رؤية اللحية الكثة ويتضايق منها، فهو من الافتراء على النبي صلى الله عليه وسلم، وقد تواتر عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من كذب عليّ متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار»، وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يأمر بإعفاء اللحية وتوفيرها، وينهى عن التشبه بالمجوس الذين كانوا يحلقون لحاهم، وكان صلى الله عليه وسلم كثّ اللحية ضخمها عظيمها قد ملأت نحره، وروي عنه صلى الله عليه وسلم أنه كره النظر إلى المجوسين اللذين دخلا عليه وقد حلقا لحاهما وأعفيا شواربهما وأنه أنكر عليهما، فهل يقول عاقل بعد هذا إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكره رؤية اللحية الكثة ويتضايق منها، كلا لا يقول ذلك من له أدنى مسكة من عقل. وما كان النبي صلى الله عليه وسلم يأمر بإعفاء اللحية وتوفيرها، وهو مع ذلك يكره رؤية اللحية الكثة ويتضايق منها، وما كان يعفى لحيته حتى كانت كثة
পরিচ্ছেদ: নিবন্ধকারের এ দাবি যে, গোঁফ ছাঁটা এবং দাড়ি রাখা ও তাকে সম্মান করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশটি কেবল এজন্যই ছিল যে তিনি ঘন দাড়ি দেখে বিরক্ত হতেন।

আর সেই বাতিল নিবন্ধের লেখক বলেছে: "আসল বিষয়টি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়ি দেখা অপছন্দ করতেন এবং এতে বিরক্ত হতেন। তাই তিনি বলেছেন: 'গোঁফ ছোট করো এবং দাড়িকে সম্মান করো'। এখানে সম্মান করার অর্থ হলো দাড়ি ছাঁটা, পরিপাটি করা এবং আঁচড়ানো; এর অর্থ দাড়ি ছেড়ে দেওয়া নয়, কারণ তা তো স্বভাবগতভাবেই বড় হয়।"

এর উত্তরে বলা হবে: তার এই উক্তি যে—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়ি দেখা অপছন্দ করতেন এবং তাতে বিরক্ত হতেন—তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এক চরম অপবাদ। আর তাঁর থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসন নির্ধারণ করে নেয়।" অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি ছেড়ে দেওয়া ও তা ভরপুর রাখার নির্দেশ দিতেন এবং মজুসীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করতে নিষেধ করতেন যারা তাদের দাড়ি মুণ্ডন করত। স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ঘন, সুঠাম ও সুমহান দাড়ির অধিকারী যা তাঁর বক্ষদেশ আবৃত করে রাখত। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সেই দুইজন মজুসীর দিকে তাকাতে অপছন্দ করেছিলেন যারা দাড়ি মুণ্ডন করে ও গোঁফ বড় রেখে তাঁর দরবারে এসেছিল এবং তিনি তাদের কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কি বলতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়ি দেখা অপছন্দ করতেন এবং তাতে বিরক্ত হতেন? কক্ষনোই নয়, সামান্যতম বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন কোনো ব্যক্তিও এমন কথা বলতে পারে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এমনটি করতে পারেন যে একদিকে তিনি দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার ও তা বৃদ্ধি করার নির্দেশ দিচ্ছেন, আর অন্যদিকে তিনি ঘন দাড়ি দেখা অপছন্দ করছেন ও তাতে বিরক্ত হচ্ছেন? আর তিনি নিজেও নিজের দাড়ি বড় রেখেছিলেন যতক্ষণ না তা ঘন হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ضخمة عظيمة، وهو مع ذلك يكره رؤية اللحية الكثة ويتضايق منها. وما كان ينهى عن التشبه بالمجوس الذين يحلقون لحاهم ويكره النظر إليهم وهو مع ذلك يكره رؤية اللحية الكثة ويتضايق منها. وعلى هذا فمن زعم أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكره رؤية اللحية الكثة ويتضايق منها فقد نسبه إلى التناقض الذي يتنزه عنه آحاد العقلاء، فكيف بالنبي صلى الله عليه وسلم الذي هو أعقل بني آدم على الإطلاق، فهو أحق بالتنزيه عن التناقض وعن كل ما لا يليق بالعقلاء. ومن ظن به شيئًا من التناقض فقد ظن به ظن السوء، وذلك من قواطع الإسلام.

وقد تقدم في القصة التي رواها أبو نعيم في «دلائل النبوة» أن موسى عليه الصلاة والسلام كان كث اللحية وأن هارون كان يشبهه، وجاء في بعض أحاديث الإسراء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى هارون في السماء الخامسة وقال في نعته: «نصف لحيته بيضاء ونصفها سوداء، تكاد لحيته تصيب سرته من طولها» رواه ابن جرير، وابن أبي حاتم في تفسيريهما، والبيهقي في «دلائل النبوة» من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، وقد جاء في الصحيحين وغيرهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما مر على هارون وهو في السماء الخامسة سلم عليه فرد عليه السلام وقال: مرحبًا بالأخ
বিশাল ও মহান, অথচ তিনি ঘন দাড়ি দেখা অপছন্দ করতেন এবং এতে বিরক্ত হতেন (এমনটি হওয়া অসম্ভব)। তিনি অগ্নিউপাসকদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করতেন যারা তাদের দাড়ি মুণ্ডন করত এবং তিনি তাদের দিকে তাকাতেও অপছন্দ করতেন; এমতাবস্থায় তিনি ঘন দাড়ি অপছন্দ করবেন এবং তাতে বিরক্ত হবেন—এটি হতে পারে না। এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি দাবি করে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়ি দেখা অপছন্দ করতেন এবং এতে বিরক্ত হতেন, সে মূলত তাঁর প্রতি এমন এক স্ববিরোধিতার অপবাদ দিল যা থেকে সাধারণ বিবেকবান মানুষও পবিত্র থাকেন। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলা যায়, যিনি নিরঙ্কুশভাবে মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি? তিনি স্ববিরোধিতা এবং বিবেকবানদের জন্য অশোভন এমন সবকিছু থেকে পবিত্র থাকার সর্বাধিক যোগ্য। আর যে ব্যক্তি তাঁর সম্পর্কে কোনো প্রকার স্ববিরোধিতার ধারণা পোষণ করে, সে তাঁর প্রতি কুধারণা পোষণ করল, যা ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আবু নুআয়ম তাঁর ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে যে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন তাতে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ঘন দাড়িসম্পন্ন ছিলেন এবং হারুন আলাইহিস সালাম তাঁর সদৃশ ছিলেন। মে’রাজের কিছু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পঞ্চম আসমানে হারুন আলাইহিস সালামকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং তাঁর বর্ণনায় বলেছিলেন: “তাঁর দাড়ির অর্ধেক ছিল শ্বেতবর্ণ এবং অর্ধেক কৃষ্ণবর্ণ, দৈর্ঘ্যের আধিক্যে তাঁর দাড়ি প্রায় নাভি স্পর্শ করছিল।” এটি ইবনে জারীর ও ইবনে আবি হাতিম তাঁদের নিজ নিজ তাফসীর গ্রন্থে এবং বায়হাকী ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস সূত্রে উল্লেখ করেছেন। সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পঞ্চম আসমানে হারুন আলাইহিস সালামের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে সালাম প্রদান করেন। তিনি সালামের উত্তর দেন এবং বলেন: স্বাগতম হে ভ্রাতা।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الصالح والنبي الصالح، ثم لما مر على موسى وهو في السماء السادسة سلم عليه فرد عليه السلام وقال: مرحبًا بالأخ الصالح والنبي الصالح، ثم لما رجع من عند ربه وقد فرض عليه وعلى أمته خمسين صلاة في كل يوم وليلة، قال له موسى: ارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك فلم يزل يتردد بين ربه وبين موسى حتى جعلها الله تعالى خمس صلوات. ولم يذكر عنه صلى الله عليه وسلم أنه تضايق من النظر إلى لحية موسى الكثة، ولا إلى لحية هارون الكثة الطويلة جدًا، ولا أنه كره النظر إليهما.

وأما قوله: إن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أكرموا اللحى».

فجوابه أن يقال: هذا من التقول على النبي صلى الله عليه وسلم فإنه لم يرو عنه أنه قال ذلك. وإنما الثابت عنه أنه قال: «اعفوا اللحى». وفي رواية: «وفروا اللحى»، وفي رواية: «أرخوا اللحى»، وفي رواية: «أوفوا اللحى».

وأما قوله: إن معنى أكرموا اللحى هذبوها ورتبوها وليس بمعنى أطلقوها؛ لأنها مطلقة أصلاً فجوابه أن يقال: لو كان قوله أكرموا اللحى ثابتًا عن النبي صلى الله عليه وسلم لما كان معناه هذبوها ورتبوها وإنما معناه أعفوها ووفروها كما جاء ذلك في الأحاديث الثابتة عن
সৎ ভাই ও সৎ নবী, অতঃপর যখন তিনি ষষ্ঠ আসমানে মূসার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন, তখন তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: সৎ ভাই ও সৎ নবীর প্রতি স্বাগতম। অতঃপর যখন তিনি তাঁর রবের নিকট হতে ফিরে আসলেন, আর তখন তাঁর ও তাঁর উম্মতের ওপর দিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছিল, তখন মূসা তাঁকে বললেন: আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য হ্রাসের আবেদন করুন। ফলে তিনি তাঁর রব ও মূসার মাঝে যাতায়াত করতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে নির্ধারণ করলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণিত হয়নি যে, তিনি মূসার ঘন দাড়ির দিকে কিংবা হারুনের অত্যন্ত দীর্ঘ ও ঘন দাড়ির দিকে তাকিয়ে কোনো প্রকার বিরক্তি বা সংকীর্ণতা বোধ করেছেন, আর না তিনি সেগুলোর দিকে তাকানো অপছন্দ করেছেন।

আর তাঁর এই দাবি প্রসঙ্গে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা দাড়িকে সম্মান করো।"

এর উত্তরে বলা হবে: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এক মিথ্যা আরোপ, কেননা তাঁর থেকে বর্ণিত হয়নি যে তিনি এমনটি বলেছেন। বরং তাঁর থেকে যা প্রমাণিত তা হলো তাঁর এই বাণী: "তোমরা দাড়ি বৃদ্ধি করো।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "তোমরা দাড়ি পরিপূর্ণ করো", অন্য বর্ণনায়: "তোমরা দাড়ি ছেড়ে দাও" এবং অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "তোমরা দাড়ি পূর্ণ মাত্রায় রাখো।"

আর তাঁর এই উক্তি প্রসঙ্গে যে: "দাড়িকে সম্মান করো"-এর অর্থ হলো সেটিকে ছাঁটাই করা ও সুবিন্যস্ত করা, দাড়ি ছেড়ে দেওয়া এর অর্থ নয়; কারণ দাড়ি তো মূলত ছাড়া অবস্থাতেই থাকে—এর উত্তরে বলা হবে: যদি "দাড়িকে সম্মান করো" কথাটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিতও হতো, তবুও এর অর্থ ছাঁটাই করা বা বিন্যস্ত করা হতো না; বরং এর অর্থ হতো দাড়ি ছেড়ে দেওয়া ও তা বৃদ্ধি করা, যেমনটি প্রমাণিত হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
النبي صلى الله عليه وسلم. فإكرام اللحية لا يكون بالأخذ منها كما زعم ذلك الكاتب، وإنما يكون بإعفائها وتوفيرها وعدم التعرض لها بالحلق أو القص أو النتف.

وأما قوله: وليست بمعنى أطلقوها؛ لأنها مطلقة أصلاً.

فجوابه أن يقال: إنما تكون اللحية مطلقة إذا أعفيت ووفرت، ولم يتعرض لها بالحلق، ولا بالقص، ولا بالنتف، ولا بالتهذيب والترتيب، ومن زعم أنها تكون مطلقة مع التهذيب والترتيب، أو مع الحلق أو القص، أو النتف، فقد جمع بين النقيضين وهذا هو ما وقع في كلام الكاتب.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সুতরাং দাড়ির সম্মান প্রদর্শন তা থেকে কোনো কিছু কর্তন করার মাধ্যমে হয় না, যেমনটি সেই লেখক দাবি করেছেন; বরং তা হয় দাড়ি ছেড়ে দেওয়া, তা পূর্ণাঙ্গ রাখা এবং মুণ্ডন, ছাঁটা বা উপড়ে ফেলার মাধ্যমে তাতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার দ্বারা।

আর তার এই কথা: ‘এবং এটি "ছেড়ে দাও" অর্থে নয়; কারণ তা তো মূলত ছেড়ে দেওয়াই আছে।’

এর উত্তরে বলা হবে: দাড়ি তখনই কেবল ‘ছেড়ে দেওয়া’ অবস্থায় থাকে যখন তা পূর্ণাঙ্গভাবে রাখা হয় ও বৃদ্ধি পেতে দেওয়া হয় এবং মুণ্ডন, ছোট করা, উপড়ে ফেলা কিংবা কাটছাঁট ও বিন্যাস করার মাধ্যমে তাতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা না হয়। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, বিন্যাস ও ছাঁটাই করার সাথে অথবা মুণ্ডন, ছোট করা বা উপড়ে ফেলার সাথেও দাড়ি ‘ছেড়ে দেওয়া’ অবস্থায় থাকে, সে মূলত দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়কে একত্রিত করেছে। আর লেখকের বক্তব্যে এটাই ঘটেছে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فصل: ادعاء صاحب المقال الباطل أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يرتاح للوجوه المهذبة، ويكره شكل الإنسان المشوه أو كث اللحية

قال صاحب المقال الباطل: وكان صلى الله عليه وسلم يرتاح للوجوه النضرة واللحية المهذبة ويرعبه شكل الإنسان المشوه، ولا أبلغ من قول الله سبحانه وتعالى لنبيه الكريم في سورة الكهف حينما بعث الله أهل الكف، وكان شكلهم مرعبًا لطول أظفارهم وكثافة لحاهم قال تعالى: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا} شكلهم المخيف بسبب لحاهم التي غطت وجوههم وأظفارهم التي وصلت إلى الأرض، وليس لسبب آخر فهم بشر وطولهم متوسط، لذا بقيت صورة الرعب هذه في ذهن النبي صلى الله عليه وسلم فكان كلما رأى من هو كث اللحية تذكر شكل أهل الكهف، ولم يستطع صلى الله عليه وسلم صبرًا على ذلك، وقال ذلك الحديث المشهور الذي اعتقد جهلة الناس أن كثافة اللحية تعني الإسلام فقط، وتعني السلف الصالح، وتعني المسلمين الأوائل، وتعني أن من لا لحية له مارق زنديق، ولكي تثبت إسلامك عليك بإطلاق لحيتك. وهذا قشر واهٍ يتمسك به جهلة المفسرين.

والجواب عن هذا من وجوه: أحدها: أن يقال: إن صاحب المقال الباطل قد خبط في هذه الجملة غاية التخبيط وأتى فيها
অনুচ্ছেদ: বাতিল প্রবন্ধের লেখকের এই দাবি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপাটি চেহারায় স্বস্তি অনুভব করতেন এবং বিকৃত মানুষের অবয়ব বা ঘন দাড়ি অপছন্দ করতেন।

বাতিল প্রবন্ধের লেখক বলেছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতেজ চেহারা ও পরিপাটি দাড়িতে প্রশান্তি পেতেন এবং বিকৃত মানুষের আকৃতি তাকে ভীত করত। এ বিষয়ে সূরা কাহফে মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত নবীকে যা বলেছেন, তার চেয়ে অধিক স্পষ্ট আর কিছু হতে পারে না; যখন আল্লাহ আসহাবে কাহফকে পুনরুত্থিত করেছিলেন এবং তাদের দীর্ঘ নখ ও ঘন দাড়ির কারণে তাদের অবয়ব ছিল আতঙ্কজনক। মহান আল্লাহ বলেন: "যদি তুমি তাদের দিকে তাকাতে, তবে তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে পালিয়ে যেতে এবং তাদের কারণে তোমার মনে ত্রাসের সৃষ্টি হতো।" তাদের ভীতিকর রূপের কারণ ছিল তাদের দাড়ি, যা তাদের চেহারা ঢেকে ফেলেছিল এবং তাদের নখগুলো, যা মাটি স্পর্শ করেছিল। এছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল না, কেননা তারা ছিল সাধারণ উচ্চতার মানুষ। তাই ভীতির এই চিত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনে গেঁথে গিয়েছিল। ফলে যখনই তিনি কাউকে ঘন দাড়িওয়ালা দেখতেন, তখন তাঁর আসহাবে কাহফের রূপের কথা মনে পড়ে যেত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর ধৈর্য ধরতে পারতেন না। আর তিনি সেই প্রসিদ্ধ হাদিসটি বলেছিলেন যা দেখে মূর্খ লোকেরা মনে করে যে, ঘন দাড়ি মানেই কেবল ইসলাম, এটিই সালাফে সালেহীন ও পূর্বসূরি মুসলিমদের নিদর্শন এবং এর অর্থ হলো যার দাড়ি নেই সে ধর্মত্যাগী ও যিন্দীক; আর নিজের ইসলাম প্রমাণ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই দাড়ি রাখতে হবে। এটি একটি অন্তঃসারশূন্য খোসা যা মূর্খ মুফাসসিররা আঁকড়ে ধরে আছে।

এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত: এটি বলা যায় যে, উক্ত বাতিল প্রবন্ধের লেখক এই বাক্যে চরম বিভ্রান্তিকর কথা বলেছে এবং এতে সে আনয়ন করেছে
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بخمسة أشياء من كبائر الإثم. أحدها: الافتراء على النبي صلى الله عليه وسلم حيث زعم أنه كان يرتاح للوجوه النضرة، واللحية المهذبة، ويرعبه شكل الإنسان المشوه، وكذلك زعمه أن صورة الرعب من أهل الكهف بقيت في ذهن النبي صلى الله عليه وسلم، فكان كلما رأى من هو كثّ اللحية تذكر شكل أهل الكهف. وكذلك زعمه أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يستطع صبرًا على ذلك - أي على رؤية من هو كث اللحية - فهذا كله من الافتراء على النبي صلى الله عليه وسلم، وقد تواتر عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من كذب عليّ متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار».

الشيء الثاني: تنقصه للنبي صلى الله عليه وسلم حيث وصفه بصفة الجبناء وضعاف العقول والقلوب، وذلك في زعمه أن صورة الرعب من أهل الكهف بقيت في ذهنه صلى الله عليه وسلم، وأنه كلما رأى من هو كث اللحية تذكر شكل أهل الكف ولم يستطع صبرًا على ذلك، ويلزم على هذا القول الباطل أن يكون كل واحد من أفراد القراء أقوى قلبًا من النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنهم يقرءون قول الله تعالى مخبرًا عن أهل الكهف: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا}، وتتكرر منهم قراءة هذه الآية كلما قرءوا سورة الكهف فلا يصيبهم الرعب من أهل الكهف، فضلاً عن أن تبقى صورة الرعب منهم في أذهانهم. فهل يقول الكاتب الجاهل: إن
পাঁচটি কবীরা গুনাহের মাধ্যমে। এর মধ্যে একটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা, যেখানে সে দাবি করেছে যে, তিনি লাবণ্যময় চেহারা ও সুবিন্যস্ত দাড়ি দেখে স্বস্তি বোধ করতেন এবং বিকৃত মানুষের আকৃতি দেখে আতঙ্কিত হতেন। একইভাবে তার এই দাবি যে, আসহাবে কাহাফের ভীতিকর ছবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মৃতিরপটে গেঁথে গিয়েছিল, তাই যখনই তিনি ঘন দাড়িওয়ালা কাউকে দেখতেন, তখনই তাঁর আসহাবে কাহাফের আকৃতির কথা মনে পড়ে যেত। তদ্রূপ তার এই দাবি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে—অর্থাৎ ঘন দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে দেখার ক্ষেত্রে—ধৈর্য ধারণ করতে পারতেন না; এ সবই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা অপবাদ। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসন নির্ধারণ করে নেয়»।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে বেআদবি বা মর্যাদাহানি করা, কারণ সে তাঁকে ভীরু এবং দুর্বল বুদ্ধি ও দুর্বল চিত্তের অধিকারী হিসেবে চিত্রায়িত করেছে। আর তা এভাবে যে, সে দাবি করেছে আসহাবে কাহাফের ভীতিকর ছবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনে থেকে গিয়েছিল এবং তিনি যখনই কোনো ঘন দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে দেখতেন, তখন আসহাবে কাহাফের আকৃতি তাঁর স্মরণে আসত এবং তিনি তা সহ্য করতে পারতেন না। এই বাতিল উক্তির অনিবার্য পরিণতি এই দাঁড়ায় যে, সাধারণ পাঠকদের প্রত্যেকেই যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অধিক সাহসী হৃদয়ের অধিকারী; কারণ তারা আসহাবে কাহাফ সম্পর্কে মহান আল্লাহর সংবাদ পাঠ করে: {যদি আপনি তাদের উঁকি দিয়ে দেখতেন, তবে তাদের থেকে পিছন ফিরে পলায়ন করতেন এবং আপনার অন্তর তাদের ভয়ে পূর্ণ হয়ে যেত}। তারা যখনই সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করে, তখনই এই আয়াতের পুনরাবৃত্তি হয়, অথচ তাদের মনে আসহাবে কাহাফের কোনো ভীতি সঞ্চার হয় না, তাদের স্মৃতিতে সেই ভীতিকর চিত্র অবশিষ্ট থাকা তো অনেক পরের কথা। তবে কি এই মূর্খ লেখক বলতে চায় যে:
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
القراء من هذه الأمة كانوا أقوى قلوبًا من النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنهم لم يصابوا بالرعب من أهل الكهف. أم ماذا يجيب به عن كلامه السيئ الذي لم يتثبت فيه، ولم ينظر إلى ما يلزم عليه من اللوازم السيئة التي تفضي بقائلها إلى الكفر ووجوب القتل. فقد حكى غير واحد من العلماء الإجماع على كفر من تنقص النبي صلى الله عليه وسلم أو عابه وعلى وجوب قتله. ذكر ذلك عنهم القاضي عياض في كتابه «الشفاء»، وشيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية في كتابه «الصارم المسلول، على شاتم الرسول»، وابن حجر المكي في كتابه «الزواجر عن اقتراف الكبائر»، وذكره غيرهم من أكابر العلماء.

وإذا علم هذا فلا يشك مسلم له عقل ودين أن النبي صلى الله عليه وسلم كان أقوى البشر قلبًا، وأرجهم عقلاً، وأبعدهم عن كل ما فيه نقص وعيب، فلم يلحقه الرعب من أهل الكهف لما أخبره الله عنهم فضلاً عن أن تبقى صورة الرعب منهم في ذهنه. فهذا لا يتصوره من له أدنى مسكة من عقل ودين.

وبالجملة فإنه يجب تنزيه النبي صلى الله عليه وسلم عن النقائص التي ألصقها به الكاتب الجاهل، وعن كل ما فيه نقص وعيب، ولو بطريق التضمن واللزوم.
এই উম্মতের ক্বারীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপেক্ষা অধিকতর সুদৃঢ় হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন; কেননা তাঁরা আসহাবে কাহাফের বিষয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হননি। অথবা তিনি তাঁর সেই কদর্য বক্তব্যের কী উত্তর দেবেন, যে বিষয়ে তিনি কোনোরূপ সত্যানুসন্ধান করেননি এবং এর অনিবার্য অশুভ পরিণামসমূহ বিবেচনা করেননি, যা বক্তাকে কুফরি ও প্রাণদণ্ডের উপযোগী হওয়ার দিকে ধাবিত করে। একাধিক আলিম এই মর্মে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মানহানি করবে অথবা তাঁর প্রতি কোনো দোষারোপ করবে, সে কাফির এবং তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। কাজী আয়াজ তাঁর ‘আশ-শিফা’ গ্রন্থে, শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর ‘আস-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল’ গ্রন্থে, ইবনে হাজার আল-মাক্কী তাঁর ‘আয-যাওয়াজির আন ইবতিরাফিল কাবায়ির’ গ্রন্থে এবং অন্যান্য বরেণ্য উলামায়ে কেরাম এ কথা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর যখন বিষয়টি প্রতিভাত হলো, তখন বিবেকসম্পন্ন কোনো ধর্মপ্রাণ মুসলিমের মনে এই সন্দেহ উদয় হতে পারে না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানবকুলের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুদৃঢ় চিত্তের অধিকারী, সর্বোত্তম প্রজ্ঞাবান এবং যাবতীয় দোষ ও ত্রুটি হতে বহুদূরে অবস্থানকারী। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যখন তাঁকে আসহাবে কাহাফ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন, তখন তাঁদের প্রতি কোনো প্রকার ভীতি তাঁকে স্পর্শ করেনি; বরং তাঁদের ভীতিকর কোনো চিত্র তাঁর স্মৃতিপটে অম্লান থাকার প্রশ্নই অবান্তর। সামান্যতম বিচারবুদ্ধি ও ঈমান রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তির পক্ষে এরূপ চিন্তা করাও অসম্ভব।

সারকথা এই যে, এই অজ্ঞ লেখক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যেসব ত্রুটি আরোপ করেছেন এবং যা কিছু খুঁত বা দোষের পর্যায়ভুক্ত—তা পরোক্ষ বা অনিবার্য ফলশ্রুতি হিসেবে আসুক না কেন—সেসব থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্রতা ঘোষণা করা একান্ত অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
والشيء الثالث: قوله في القرآن بغير علم حيث زعم أن قول الله تعالى مخبرًا عن أهل الكهف: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا} أن ذلك لشكلهم المخيف بسبب لحاهم التي غطت وجوههم وأظفارهم التي وصلت إلى الأرض، هكذا قال صاحب المقال الباطل إن لحى أهل الكهف غطت وجوههم، وأن أظفارهم وصلت إلى الأرض، وليس على هذا القول دليل من كتاب ولا سنة، ولم يذكر ذلك عن أحد من الصحابة، ولا التابعين، ولا أئمة العلم والهدى من بعدهم، وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من قال في القرآن بغير علم فليتبوأ مقعده من النار» رواه الإمام أحمد، والترمذي، وابن جرير، والبغوي من حديث ابن عباس رضي الله عنهما، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح، وفي رواية له: «من قال في القرآن برأيه فليتبوأ مقعده من النار» قال الترمذي: هذا حديث حسن. قال: وهكذا روي عن بعض أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم أنهم شددوا في هذا في أن يفسر القرآن بغير علم انتهى.

وقد قال ابن جرير في تفسير قول الله تعالى: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا} يقول: لو اطلعت عليهم في رقدتهم التي رقدوها في كهفهم لأدبرت عنهم هاربًا منهم فارًّا،
এবং তৃতীয় বিষয়টি হলো: ইলম ব্যতীত কুরআন সম্পর্কে তার বক্তব্য; যেখানে সে দাবি করেছে যে, মহান আল্লাহর বাণী, যা তিনি আসহাবে কাহাফ সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {যদি আপনি তাদের দিকে উঁকি দিতেন তবে তাদের থেকে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করতেন এবং আপনার অন্তর তাদের আতঙ্কে পূর্ণ হয়ে যেত}, এটি হওয়ার কারণ হলো তাদের ভয়ংকর রূপ, যা তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলা দীর্ঘ দাড়ি এবং মাটি পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া নখের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বাতিল প্রবন্ধের লেখক এভাবেই বলেছেন যে, আসহাবে কাহাফের দাড়ি তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলেছিল এবং তাদের নখসমূহ মাটিতে পৌঁছে গিয়েছিল। অথচ এই বক্তব্যের সপক্ষে কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহ থেকে কোনো দলিল নেই এবং সাহাবীগণ, তাবেঈগণ কিংবা পরবর্তী যুগের ইলম ও হিদায়াতের ইমামগণের কারো থেকেও এমন কিছু বর্ণিত হয়নি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুপ্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইলম ব্যতীত কুরআন সম্পর্কে কিছু বলল, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়»। ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে জারীর এবং বাগাভী এটি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস। তাঁর অপর একটি বর্ণনায় রয়েছে: «যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে স্বীয় মতামত দিয়ে কিছু বলল, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়»। তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান হাদীস। তিনি আরও বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় আহলে ইলম সাহাবী ও অন্যদের থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা ইলম ব্যতীত কুরআনের তাফসীর করার বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করতেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

ইবনে জারীর মহান আল্লাহর বাণী: {যদি আপনি তাদের দিকে উঁকি দিতেন তবে তাদের থেকে পিঠ ফিরিয়ে পলায়ন করতেন}-এর তাফসীরে বলেছেন: অর্থাৎ, তারা তাদের গুহায় যে নিদ্রায় মগ্ন ছিল, সেই অবস্থায় যদি আপনি তাদের দেখতেন, তবে অবশ্যই আপনি তাদের থেকে পলায়ন করে পিঠ প্রদর্শন করতেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ولملئت منهم رعبًا. يقول: ولملئت نفسك من إطلاعك عليهم فزعًا لما كان الله ألبسهم من الهيبة؛ كي لا يصل إليهم واصل، ولا تلمسهم يد لامس حتى يبلغ الكتاب فيهم أجله، وتوقظهم من رقدتهم قدرته وسلطانه في الوقت الذي أراد أن يجعلهم عبرة لمن شاء من خلقه، وآية لمن أراد الاحتجاج بهم عليهم من عباده ليعلموا أن وعد الله حق وأن الساعة آتية لا ريب فيها انتهى.

وقال ابن الجوزي في تفسير قوله تعالى: {وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا} أي فزعًا وخوفًا وذلك أن الله منعهم بالرعب؛ لئلا يدخل إليهم أحد، وقيل إنها طالت شعورهم وأظفارهم جدًا فلذلك كان الرائي لهم لو رآهم هرب مرعوبًا حكاه الزجاج انتهى.

وقال الزمخشري في الكلام على قوله تعالى: {وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا}، وهو الخوف الذي يرعب الصدر أي يملؤه، وذلك لما ألبسهم الله من الهيبة. وقيل لطول أظفارهم وشعورهم، وعظم أجرامهم، وقيل لوحشة مكانهم انتهى.

وقال البغوي في الكلام على قوله تعالى: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا} لما ألبسهم الله من الهيبة حتى لا يصل إليهم أحد حتى يبلغ الكتاب أجله، فيوقظهم الله تعالى من
"এবং আপনি তাদের কারণে আতঙ্কে পরিপূর্ণ হয়ে যেতেন।" তিনি বলেন: তাদের দেখার কারণে আপনার অন্তর ভয়ে বিহ্বল হয়ে যেত, কারণ মহান আল্লাহ তাদের এমন এক গাম্ভীর্য ও মহিমা দিয়ে আবৃত করে রেখেছিলেন যেন কোনো আগমনকারী তাদের কাছে পৌঁছাতে না পারে এবং কোনো স্পর্শকারীর হাত তাদের স্পর্শ করতে না পারে; যতক্ষণ না তাদের ব্যাপারে নির্ধারিত বিধান তার পূর্ণ সময় পর্যন্ত পৌঁছে এবং আল্লাহর কুদরত ও ক্ষমতা তাদের সেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমের ঘোরে জাগ্রত করে, যখন তিনি চেয়েছিলেন তাদের তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যার জন্য ইচ্ছা এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত বানাতে এবং তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাদের কাছে প্রমাণ উপস্থাপন করতে চান তাদের জন্য এক নিদর্শন স্বরূপ করতে; যাতে তারা জানতে পারে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সমাপ্ত।

ইবনুল জাওযি মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আপনি তাদের কারণে আতঙ্কে পরিপূর্ণ হয়ে যেতেন} এর তাফসিরে বলেন: অর্থাৎ আতঙ্ক ও ভীতি। আর তা এই জন্য যে, আল্লাহ তাদের আতঙ্ক দ্বারা সুরক্ষিত রেখেছিলেন যাতে কেউ তাদের কাছে প্রবেশ করতে না পারে। বলা হয়ে থাকে যে, তাদের চুল ও নখ অত্যন্ত লম্বা হয়ে গিয়েছিল, ফলে কোনো দর্শক তাদের দেখলে আতঙ্কে পলায়ন করত; এটি আয-যাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।

যামাখশারি মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আপনি তাদের কারণে আতঙ্কে পরিপূর্ণ হয়ে যেতেন} এর ব্যাখ্যায় বলেন: এটি এমন এক ভয় যা বক্ষকে আতঙ্কিত করে অর্থাৎ তা পরিপূর্ণ করে দেয়। আর তা মহান আল্লাহ তাদের যে গাম্ভীর্য দান করেছিলেন তার কারণে। আরও বলা হয়েছে যে, তাদের নখ ও চুল লম্বা হওয়ার কারণে এবং তাদের দেহের বিশালত্বের কারণে। আবার কেউ বলেছেন, তাদের অবস্থানের জায়গার নির্জনতা ও ভয়াবহতার কারণে। সমাপ্ত।

বাগাউয়ি মহান আল্লাহর বাণী: {যদি আপনি তাদের উঁকি দিয়ে দেখতেন, তবে অবশ্যই তাদের থেকে পেছন ফিরে পলায়ন করতেন} এর ব্যাখ্যায় বলেন: মহান আল্লাহ তাদের যে গাম্ভীর্য দ্বারা আবৃত করে রেখেছিলেন তার কারণে, যাতে কেউ তাদের কাছে পৌঁছাতে না পারে যতক্ষণ না নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের জাগ্রত করবেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
رقدتهم انتهى.

وقال ابن كثير في الكلام على قوله تعالى: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا} أي أنه تعالى ألقى عليهم المهابة بحيث لا يقع نظر أحد عليهم إلا هابهم؛ لما ألبسوا من المهابة والذعر لئلا يدنو منهم أحد، ولا تمسهم يد لامس حتى يبلغ الكتاب أجله، وتنقضي رقدتهم التي شاء تبارك وتعالى فيهم لما له في ذلك من الحكمة والحجة البالغة، والرحمة الواسعة انتهى.

فهذه أقوال أكابر المصنفين في التفسير فيما يتعلق بأصحاب الكهف، ولم يذكر أحد منهم أن لحاهم قد غطت وجوههم، وأن أظفارهم قد وصلت إلى الأرض، وإنما ذكر بعضهم قولاً ضعيفًا ذكروه بصيغة التمريض أن شعورهم وأظفارهم طالت جدًا. وهذا القول لا دليل عليه؛ ولهذا لم يذكره ابن جرير، ولا ابن كثير في تفسيريهما اللذين هما أحسن التفاسير وأبعدها عن الحشو بالأقوال الضعيفة. وإنما ذكرا القول الذي يدل عليه سياق الآية الكريمة وهو أن الله تعالى ألبسهم الهيبة حتى لا يدنو منهم أحد حتى تنقضي رقدتهم التي كتبها الله وقدرها عليهم.
তাদের নিদ্রা। সমাপ্ত।

ইমাম ইবনে কাসীর মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তুমি তাদের দিকে তাকাতে, তবে তুমি তাদের থেকে বিমুখ হয়ে পালিয়ে যেতে এবং তাদের আতঙ্কে আবিষ্ট হতে" এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, মহান আল্লাহ তাদের উপর এমন গাম্ভীর্য ও প্রভাব অর্পণ করেছিলেন যে, যার দৃষ্টিই তাদের উপর পড়ত, সেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ত। তাদের এমন প্রভাব ও ভীতির আবরণে আবৃত করা হয়েছিল যাতে কেউ তাদের নিকটবর্তী হতে না পারে এবং কোনো স্পর্শকারীর হাত তাদের স্পর্শ করতে না পারে, যতক্ষণ না নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয় এবং তাদের সেই নিদ্রা শেষ হয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের জন্য ইচ্ছা করেছিলেন। এর পেছনে নিহিত ছিল তাঁর হিকমত, অকাট্য প্রমাণ এবং সুদূরপ্রসারী রহমত। সমাপ্ত।

আসহাবে কাহাফ সম্পর্কে তাফসীর শাস্ত্রের মহান ইমামগণের বক্তব্য হলো এগুলোই। তাঁদের মধ্যে কেউই উল্লেখ করেননি যে, তাদের দাড়ি মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলেছিল কিংবা তাদের নখ মাটি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। বরং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ 'সিয়ায়ে তামরীয' বা দুর্বলতা নির্দেশক শব্দ প্রয়োগে একটি দুর্বল বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, তাদের চুল ও নখ অত্যন্ত লম্বা হয়ে গিয়েছিল। অথচ এই বক্তব্যের সপক্ষে কোনো দলিল নেই। এই কারণেই ইমাম ইবনে জারীর এবং ইমাম ইবনে কাসীর তাঁদের তাফসীর গ্রন্থদ্বয়ে এটি উল্লেখ করেননি, যা তাফসীর সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং দুর্বল বর্ণনার সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত। বরং তাঁরা সেই মতটিই উল্লেখ করেছেন যা পবিত্র আয়াতের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে, আর তা হলো—আল্লাহ তাআলা তাদের এমন এক প্রভাব ও গাম্ভীর্য দান করেছিলেন যার ফলে কেউ তাদের কাছে ঘেঁষতে পারত না, যতক্ষণ না আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাদের সেই নিদ্রাকাল সমাপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومما يدل على بطلان القول بأن شعورهم وأظفارهم قد طالت جدًا، أن الله تعالى منعهم بالمهابة والرعب في حال رقدتهم، فلم يطلع عليهم أحد من الناس، وعلى هذا فمن ذكر عنهم طول الشعور والأظفار، فإنما يقول ذلك عن طريق الظن والتوهم، لا عن طريق المشاهدة لهم ورؤية شعورهم وأظفارهم.

ومما يدل على ذلك أيضًا أن الله تعالى لما بعثهم من رقدتهم لم ينكر أحد منهم منظر أصحابه، وقالوا لبثنا يوما أو بعض يوم، ولو كانت شعورهم وأظفارهم قد طالت جدًا لوقع الإنكار من بعضهم لبعض، ولما لم يقع ذلك منهم دل على أنهم بعثوا على حالهم وهيئتهم التي كانوا عليها قبل رقدتهم، ولم يتغير شيء من شعورهم وأظفارهم.

ومما يدل على ذلك أيضًا أن أصحاب الكهف لما استيقظوا من رقدتهم بعثوا أحدهم إلى المدينة ليأتيهم بطعام منها فلم يستنكر أهل المدينة منظر الرجل، وإنما استنكروا الدراهم التي كانت معه وظنوا أنه أصابها من كنز قديم. ولو كانت لحيته قد غطت وجهه وكانت أظفاره قد وصلت إلى الأرض كما زعم ذلك صاحب المقال الباطل؛ لرعب أهل المدينة من منظره غاية الرعب ونفورا منه، ولما لم يقع ذلك دل على أن أصحاب الكهف قد بعثوا على حالهم
এ কথার অসারতা প্রমাণের একটি বড় দলীল হলো—যারা দাবি করেন তাদের চুল ও নখ অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল—নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাদের ঘুমের অবস্থায় তাদের ওপর গাম্ভীর্য ও ভীতির আবরণ দিয়ে দিয়েছিলেন, ফলে কোনো মানুষ তাদের দেখতে সমর্থ হয়নি। সুতরাং যারা তাদের চুল ও নখ লম্বা হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তারা কেবল ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতেই তা বলেছেন; চাক্ষুষ দর্শনের মাধ্যমে বা তাদের চুল ও নখ দেখে নয়।

এ বিষয়টি প্রমাণের আরেকটি দিক হলো, আল্লাহ তাআলা যখন তাদের নিদ্রা থেকে জাগ্রত করলেন, তখন তাদের কেউই তার সাথীদের অবয়ব দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেনি। তারা বলেছিল যে, আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। যদি তাদের চুল ও নখ অত্যধিক দীর্ঘ হয়ে যেত, তবে তারা একে অপরের অবয়ব দেখে অবশ্যই বিস্ময় প্রকাশ করত। যেহেতু তাদের মাঝে এমন কোনো বিস্ময় প্রকাশ পায়নি, তা একথাই প্রমাণ করে যে তারা ঠিক সেই অবস্থাতেই পুনরুত্থিত হয়েছিলেন যেমনটি তাদের ঘুমানোর আগে ছিল এবং তাদের চুল ও নখের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

এ বিষয়ের ওপর আরও একটি প্রমাণ হলো, আসহাবে কাহাফ যখন তাদের নিদ্রা থেকে জাগ্রত হলেন, তখন তারা তাদের একজনকে শহরে পাঠালেন যাতে তিনি সেখান থেকে খাদ্য নিয়ে আসতে পারেন। সে সময় শহরের বাসিন্দারা ওই ব্যক্তির বাহ্যিক রূপ দেখে কোনো বিস্ময় প্রকাশ করেনি, বরং তারা কেবল তার সাথে থাকা দিরহামগুলো দেখেই অবাক হয়েছিল এবং ধারণা করেছিল যে তিনি হয়তো কোনো প্রাচীন গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছেন। যদি তার দাড়ি পুরো মুখমণ্ডল ঢেকে দিত এবং তার নখগুলো মাটি পর্যন্ত লম্বা হতো—যেমনটি ভিত্তিহীন বর্ণনার লেখক দাবি করেছেন—তবে শহরের লোকেরা তার দৃশ্য দেখে চরম আতঙ্কিত হতো এবং ভয়ে পালিয়ে যেত। যেহেতু এমন কিছু ঘটেনি, তা একথাই প্রমাণ করে যে আসহাবে কাহাফ তাদের পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থাতেই পুনরুত্থিত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهيئتهم التي كانوا عليها قبل رقدتهم، ولم يتغير شيء من شعورهم وأظفارهم والله أعلم.

الشيء الرابع: افتراؤه على المفسرين وعلى غيرهم من الناس حيث زعم أن منهم من يعتقد أن كثافة اللحية تعني الإسلام فقط وتعني أن من لا لحية له مارق زنديق، قال: ولكي تثبت إسلامك عليك بإطلاق لحيتك. وهذا كذب وبهتان ومحاولة للتشنيع على الذين يعفون اللحى ويأمرون بإعفائها، وينهون عن حلقها، والتمثيل بها. ولا يظن بمسلم له عقل ودين أنه ينفي الإسلام عن الذين يحلقون لحاهم، ولا يقول إنهم مارقون زنادقة من أجل أنهم كانوا يحلقون لحاهم، وإنما يقال إنهم عصاة لله تعالى ولرسوله صلى الله عليه وسلم حيث لم يمتثلوا أمر الرسول صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحى ومخالفة المجوس الذين يحلقون لحاهم ويمثلون بها، وقد حذر الله تعالى من مخالفة أمر الرسول صلى الله عليه وسلم، وتوعد من خالف أمره بأشد الوعيد فقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، وقال تعالى: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ}.

الشيء الخامس: استخفافه بأمر الرسول صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحى
এবং তাদের সেই অবয়ব যাতে তারা তাদের নিদ্রার পূর্বে ছিল; তাদের চুল ও নখের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

চতুর্থ বিষয়: মুফাসসিরগণ এবং অন্যান্য মানুষের ওপর তার অপবাদ আরোপ; যেখানে সে দাবি করেছে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে—ঘন দাড়িই একমাত্র ইসলামকে নির্দেশ করে এবং যার দাড়ি নেই সে ধর্মত্যাগী ও যিন্দীক। সে বলেছে: ‘আর নিজের ইসলাম প্রমাণের জন্য আপনাকে দাড়ি লম্বা করতে হবে।’ এটি চরম মিথ্যা ও অপবাদ এবং যারা দাড়ি লম্বা করেন ও তা লম্বা করার নির্দেশ দেন, আর দাড়ি মুণ্ডন ও তা বিকৃত করা থেকে নিষেধ করেন—তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। কোনো বিবেকবান ও দ্বীনদার মুসলমানের সম্পর্কে এমন ধারণা করা যায় না যে, তিনি দাড়ি মুণ্ডনকারীদের থেকে ইসলামকে খারিজ করে দেবেন, কিংবা দাড়ি কাটার কারণে তাদেরকে ধর্মত্যাগী বা যিন্দীক বলবেন। বরং এটাই বলা হয় যে, তারা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্য; যেহেতু তারা দাড়ি লম্বা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ পালন করেনি এবং দাড়ি মুণ্ডনকারী ও বিকৃতকারী অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করেনি। আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদেরকে কঠোর শাস্তির ধমক দিয়ে বলেছেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা}।

পঞ্চম বিষয়: দাড়ি লম্বা করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশকে তার তুচ্ছজ্ঞান করা।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وتسميته ذلك قشرًا واهيًا يتمسك به جهلة المفسرين، هكذا زعم الكاتب الجريء على مخالفة هدي الرسول صلى الله عليه وسلم في اللحى، ومعارضة أمره بإعفائها ومخالفة المشركين الذين يمثلون باللحى. وإنه ليخشى على صاحب المقال أن يصاب بزيغ القلب وتقليبه من أجل مجازفته وتهوره في الكلام الباطل، فقد قال الله تعالى: {فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ}، وقال تعالى: {وَنُقَلِّبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَنَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ}.

فأما تجهيله للمفسرين الذين يتمسكون بأمر النبي صلى الله عليه وسلم بإعفاء اللحى فهو به أولى. ومن تأمل مقاله السيئ علم أنه من أشد الناس جهلاً وتخبيطًا، وأنه يهرف بما لا يعرف.

الوجه الثاني: أن الكاتب قال في صفة أهل الكهف: إن طولهم متوسط، وهذا القول لا دليل عليه من كتاب ولا سنة، وإنما هو من التخرص واتباع الظن، وقد قال الله تعالى: {إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا}، وفي الحديث الصحيح: «إياكم والظن فإن الظن أكذب الحديث» متفق عليه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه. وقد تقدم ما ذكره الزمخشري من صفات أهل الكهف ومنها عظم أجرامهم، وهذا القول لا دليل عليه أيضًا،
এটিকে 'অসার আবরণ' হিসেবে অভিহিত করা এবং তা কেবল অজ্ঞ মুফাসসিরগণ আঁকড়ে ধরেন বলে আখ্যায়িত করা—দাড়ি রাখার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনার বিরোধিতা এবং দাড়ি লম্বা রাখার আদেশ ও দাড়ি নিয়ে বিকৃতি সাধনকারী মুশরিকদের বিরুদ্ধাচরণ করার ক্ষেত্রে এই দুঃসাহসী লেখক এমনটিই দাবি করেছেন। প্রবন্ধকারের এই বাতিল কথার পেছনে তার দুঃসাহস ও হঠকারিতার কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, তার অন্তর বক্রতায় আক্রান্ত হতে পারে এবং তার হৃদয় উল্টে যেতে পারে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর তারা যখন বক্র পথ অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরকে বক্র করে দিলেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।" তিনি আরও বলেন: "আর আমি তাদের অন্তরসমূহ ও চোখসমূহকে উল্টে দেব, যেমন তারা এতে প্রথমবার ঈমান আনেনি; এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত অবস্থায় ছেড়ে দেব।"

আর যে সকল মুফাসসির দাড়ি লম্বা রাখার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশকে আঁকড়ে ধরেন, তাদের প্রতি লেখকের অজ্ঞতার অপবাদ আরোপ করাটা মূলত লেখকের নিজের জন্যই অধিক প্রযোজ্য। যে কেউ তার এই মন্দ প্রবন্ধটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে বুঝতে পারবে যে তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় অজ্ঞ ও বিভ্রান্ত এবং তিনি যা জানেন না তা নিয়েই প্রলাপ বকছেন।

দ্বিতীয় দিক: লেখক আসহাবে কাহাফের বর্ণনায় বলেছেন যে, তাদের উচ্চতা ছিল মাঝারি। এ কথার স্বপক্ষে কুরআন বা সুন্নাহ থেকে কোনো দলিল নেই; বরং এটি নিছক অনুমান ও ধারণার অনুসরণ। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই সত্যের বিপরীতে ধারণার কোনো মূল্য নেই।" সহিহ হাদিসে এসেছে: "তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা ধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।" এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিস। ইতিপূর্বে আসহাবে কাহাফের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যামাখশারির বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে তাদের দেহের বিশালত্বের কথা ছিল; এ বক্তব্যের পক্ষেও কোনো দলিল নেই।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولكنه يعارض ما توهمه الكاتب من توسطهم في الطول.

الوجه الثالث: أن يقال: إن النبي صلى الله عليه وسلم لم ير أهل الكهف لا في حال رقدتهم، ولا حينما بعثهم الله من رقدتهم؛ لأنهم كانوا قبل زمان النبي صلى الله عليه وسلم بدهر طويل. وإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم لم يرهم فمن أكبر الخطأ وأقبح ظنون السوء بالنبي صلى الله عليه وسلم ما ألصقه به صاحب المقال السيئ، حيث زعم أنه صلى الله عليه وسلم أصيب بالرعب من أهل الكهف، وأن صورة الرعب منهم قد بقيت في ذهنه فكان كلما رأى من هو كثّ اللحية تذكر شكل أهل الكهف، ولم يستطع صبرًا على ذلك، ولا يخفى ما في هذا القول الوخيم من الجراءة العظيمة على سيد البشر وصفوتهم. والله المسئول أن يقيض للكاتب الجاهل ولأمثاله الذين لا يحترمون النبي صلى الله عليه وسلم ولا يوقرونه، من ينفذ فيهم الحكم الشرعي الذي يجب اتباعه في كل من تنقص النبي صلى الله عليه وسلم أو عابه، وقد قال ابن كثير في «البداية والنهاية» في الكلام على قول الله تعالى مخبرًا عن أهل الكهف: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا} أي لما عليهم من المهابة والجلالة في أمرهم الذي صاروا إليه، ولعل الخطاب ههنا لجنس الإنسان المخاطب لا بخصوصية الرسول صلى الله عليه وسلم كقوله: {فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدِّينِ} أي أيها الإنسان، وذلك لأن طبيعة
কিন্তু এটি লেখকের সেই ধারণার বিরোধিতা করে যে তারা মাঝারি উচ্চতার ছিল।

তৃতীয় দিক: এটি বলা যায় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুহাবাসীদের (আসহাবে কাহাফ) তাদের নিদ্রাবস্থায় দেখেননি এবং আল্লাহ যখন তাদের নিদ্রা থেকে পুনরুত্থিত করেছিলেন তখনও দেখেননি; কারণ তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ের অনেক দীর্ঘকাল পূর্বের ছিলেন। যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে দেখেননি, তাই সেই মন্দ প্রবন্ধের লেখক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যা আরোপ করেছেন তা অত্যন্ত বড় ভুল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি নিকৃষ্টতম কুধারণা। সেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসহাবে কাহাফকে দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন এবং সেই আতঙ্কের চিত্র তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল, ফলে যখনই তিনি ঘন দাড়িওয়ালা কাউকে দেখতেন তখনই আসহাবে কাহাফের অবয়ব তাঁর স্মরণে আসত এবং তিনি তা সহ্য করতে পারতেন না। মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ও মনোনীত ব্যক্তিত্বের প্রতি এই জঘন্য উক্তির মাঝে যে কত বড় ধৃষ্টতা রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই অজ্ঞ লেখক এবং তার মতো যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করে না, তাদের জন্য এমন কাউকে নির্ধারিত করেন যারা তাদের ওপর সেই শরয়ী বিধান কার্যকর করবে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবমাননাকারী বা ত্রুটি অন্বেষণকারীর ক্ষেত্রে অনুসরণ করা আবশ্যক। ইবনে কাসীর তাঁর 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' গ্রন্থে আসহাবে কাহাফ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর আলোচনায় বলেছেন: "যদি তুমি তাদের প্রতি উঁকি দিয়ে দেখতে, তবে তুমি তাদের থেকে পিছন ফিরে পালিয়ে যেতে এবং তাদের কারণে আতঙ্কে পূর্ণ হয়ে যেতে।" অর্থাৎ তাদের সেই অবস্থার ওপর যে গাম্ভীর্য ও মহিমা ছিল তার কারণে তারা এমন অবস্থায় পরিণত হয়েছিলেন। সম্ভবত এখানে সম্বোধনটি সাধারণভাবে মানবজাতির প্রতি, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য সুনির্দিষ্ট নয়; যেমন আল্লাহর বাণী: "অতঃপর কিসে তোমাকে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে অস্বীকার করতে প্ররোচিত করে?" অর্থাৎ হে মানুষ। কারণ মানুষের স্বভাব...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
البشرية تفر من رؤية الأشياء المهيبة غالبًا، ولهذا قال: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا}، ودل على أن الخبر ليس كالمعاينة كما جاء في الحديث؛ لأن الخبر قد حصل ولم يحصل الفرار ولا الرعب انتهى. وهو كلام حسن جدًا، وفيه رد على ما ألصقه الكاتب بالنبي صلى الله عليه وسلم من الرعب من أهل الكهف، وأن صورة الرعب منهم قد بقيت في ذهنه صلى الله عليه وسلم.

الوجه الرابع: أن يقال: إن الكاتب قد أخطأ خطأ كبيرًا في زعمه أن الله تعالى قال لنبيه حينما بعث أهل الكهف: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا}، وهذا من القول في القرآن بغير العلم، وقد ورد الوعيد الشديد على ذلك كما تقدم في حديث ابن عباس رضي الله عنهما، وفي أول الآية التي ذكر الكاتب آخرها ما يكفي في الرد عليه، فإن الله تعالى قال: {وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ وَنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ وَكَلْبُهُمْ بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ بِالْوَصِيدِ لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا}، فدلت الآية الكريمة على أن أصحاب الكهف إنما ألبسوا الهيبة في حال رقدتهم؛ لئلا يدنو منهم أحد، وأنه لو اطلع عليهم أحد في
মানবপ্রকৃতি সাধারণত ভয়ংকর বা প্রভাবময় দৃশ্য দেখা থেকে পলায়ন করে, আর একারণেই তিনি বলেছেন: "তুমি যদি তাদের উঁকি দিয়ে দেখতে, তবে অবশ্যই তাদের থেকে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তে।" এটি প্রমাণ করে যে, কোনো সংবাদ পাওয়া চাক্ষুষ দেখার মতো নয়, যেমনটি হাদীসে এসেছে; কারণ সংবাদটি পাওয়ার পর পলায়ন বা ভীতির সঞ্চার হয়নি (উক্তি সমাপ্ত)। এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি বক্তব্য এবং এতে লেখকের সেই দাবির উপযুক্ত জবাব রয়েছে যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আরোপ করেছেন যে, তিনি আসহাবে কাহাফের প্রতি ভীত ছিলেন এবং সেই ভীতির ছবি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানসপটে অঙ্কিত হয়ে গিয়েছিল।

চতুর্থ দিক: এটি বলা যায় যে, লেখক তাঁর এই দাবিতে বড় ধরনের ভুল করেছেন যে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে তখন এই কথা বলেছিলেন যখন তিনি আসহাবে কাহাফকে পুনর্জাগরিত করেছিলেন: "তুমি যদি তাদের উঁকি দিয়ে দেখতে, তবে অবশ্যই তাদের থেকে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তে।" এটি হলো জ্ঞান ব্যতীত কুরআন সম্পর্কে কথা বলা, যার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে যেমনটি পূর্বে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। লেখক যে আয়াতের শেষাংশ উল্লেখ করেছেন, তার প্রথমাংশই তাঁর প্রতিবাদে যথেষ্ট; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "তুমি তাদের মনে করতে জাগ্রত, অথচ তারা ছিল নিদ্রিত। আমি তাদের ডানে ও বামে পার্শ্ব পরিবর্তন করাতাম এবং তাদের কুকুরটি গুহার প্রবেশদ্বারে তার সামনের পা দুটি প্রসারিত করে ছিল। তুমি যদি তাদের উঁকি দিয়ে দেখতে, তবে অবশ্যই তাদের থেকে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তে।" সুতরাং এই সম্মানিত আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আসহাবে কাহাফকে তাঁদের নিদ্রিত অবস্থাতেই কেবল গাম্ভীর্য ও ভীতির পোশাক পরানো হয়েছিল যাতে কেউ তাঁদের নিকটবর্তী না হতে পারে; এবং যদি কেউ তাঁদের দেখত...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
حال رقدتهم لولى منهم فرارًا، ولملئ منهم رعبًا، فأما بعد بعثهم من رقدتهم فإن الله تعالى أعثر عليهم أي أطلع الناس عليهم، وذلك حين بعثوا أحدهم إلى المدينة ليأتيهم بطعام منها، ولم يذكر عن أهل المدينة أنهم فروا من أصحاب الكهف وأصيبوا بالرعب منهم حين اطلعوا عليهم بعد بعثهم من رقدتهم، وإذا كان أهل المدينة لم يصابوا بالرعب من أصحاب الكهف حين اطلعوا عليهم بعد بعثهم من رقدتهم، فمن باب أولى نفي الرعب عن النبي صلى الله عليه وسلم حين أخبره الله تعالى بقصة أصحاب الكهف وتنزيهه عما ألصقه به الكاتب الجاهل بقدره صلى الله عليه وسلم.

وقد قال ابن كثير في الكلام على قول الله تعالى: {وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ} أي أطلعنا عليهم الناس {لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا}، وقال ابن كثير أيضًا، وقوله: {وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ} أي كما أرقدناهم وأيقظناهم بهيآتهم أطلعنا عليهم أهل ذلك الزمان {لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا} وقد ذكر ابن إسحاق، وابن جرير وغيرهما من المفسرين، وأصحاب السير والآثار قصة أصحاب الكهف مطولة، وفيها أبلغ رد على تخرصات الكاتب وإساءة أدبه فيما نسبه إلى النبي صلى الله عليه وسلم من الرعب من أصحاب الكهف، وأن صورة
তাদের নিদ্রিত অবস্থায় আপনি তাদের দিকে তাকালে অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করতেন এবং আপনার অন্তর তাদের ভয়ে পূর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু তাদের নিদ্রা থেকে পুনরুত্থানের পর আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত করেছেন; অর্থাৎ তিনি মানুষকে তাদের সন্ধান দিয়েছেন। আর তা ছিল সেই সময়, যখন তারা তাদের একজনকে শহর থেকে খাদ্য সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছিলেন। শহরের অধিবাসীদের সম্পর্কে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তারা আসহাবে কাহাফের পুনরুত্থানের পর তাদের দেখে পলায়ন করেছিল কিংবা তাদের দেখে আতঙ্কিত হয়েছিল। আর যদি শহরের সাধারণ অধিবাসীরাই তাদের দেখে আতঙ্কিত না হয়ে থাকে, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়টি নাকচ করা অধিক যুক্তিযুক্ত যখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে আসহাবে কাহাফের কাহিনী অবগত করছিলেন। সেই সঙ্গে ওই অজ্ঞ লেখকের অপবাদ থেকেও তাঁকে পবিত্র রাখা আবশ্যক, যে তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়ে এই ভীতির বিষয়টিকে তাঁর সাথে জুড়ে দিয়েছে।

ইমাম ইবনে কাসির মহান আল্লাহর বাণী: "আর এভাবেই আমি মানুষকে তাদের অবস্থা জানিয়ে দিলাম" অর্থাৎ আমি মানুষকে তাদের সম্পর্কে অবগত করলাম "যাতে তারা জানতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত দিবসে কোনো সন্দেহ নেই" এর ব্যাখ্যায় এ কথাটিই বলেছেন। ইবনে কাসির আরও বলেছেন, মহান আল্লাহর বাণী: "আর এভাবেই আমি তাদের অবস্থা জানিয়ে দিলাম" এর অর্থ হলো— আমি যেভাবে তাদের দীর্ঘকাল নিদ্রাভিভূত রেখেছিলাম এবং পুনরায় তাদের পূর্বাবস্থায় জাগ্রত করেছিলাম, ঠিক তেমনিভাবে সেই সময়ের অধিবাসীদের আমি তাদের সম্পর্কে অবগত করেছি "যাতে তারা জানতে পারে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামত দিবসে কোনো সন্দেহ নেই"। ইবনে ইসহাক, ইবনে জারির এবং অন্যান্য মুফাসসিরগণসহ সিরাত ও ইতিহাসবিদগণ আসহাবে কাহাফের কাহিনী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনাগুলোতে ওই লেখকের ভিত্তিহীন কল্পনা এবং ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের দাঁতভাঙা জবাব রয়েছে, যা সে আসহাবে কাহাফের কাহিনী শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আতঙ্কিত হয়েছিলেন বলে তাঁর প্রতি আরোপ করেছে; এবং এই চিত্রটি...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দু আলা মান আজাযা তাহযীবাল লিহইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الرعب منهم قد بقيت في ذهنه صلى الله عليه وسلم.

الوجه الخامس: أن يقال: ليس في إعفاء اللحية وكثافتها تشويه للإنسان كما قد توهم ذلك صاحب المقال الباطل، وإنما فيه الجمال للرجال والتفريق بينهم وبين النساء. وإمام أهل اللحى وقدوتهم في إعفائها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد ثبت أنه كان كث اللحية ضخمها عظيمها قد ملأت نحره، وكان مع ذلك أجمل البشر وأحسنهم وجهًا، وقد قال الله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ}.

فأما حلق اللحى فإنه يشوه وجوه الرجال بحيث يصير وجه الشاب شبيهًا بوجه المرأة الشابة، ويصير وجه الشيخ شبيهًا بوجوه العجائز، وحلق اللحى ونتفها من التمثيل الذي ورد الوعيد الشديد عليه، كما في الحديث الذي رواه الطبراني في الكبير عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من مثّل بالشعر فليس له عند الله خلاق». قال الزمخشري: قيل معناه حلقه في الخدود، وقيل نتفه، وقيل: خضابه، وقال ابن الأثير في «النهاية» فيه أنه نهى عن المثلة، يقال: مثلت بالحيوان إذا قطعت أطرافه وشوهت به، قال ومنه الحديث: «من مثل بالشعر فليس له عند الله خلاق يوم القيامة» مثلة الشعر حلقه
তাদের প্রতি আতঙ্ক তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মনে অবশিষ্ট ছিল।

পঞ্চম দিক: এটি বলা যায় যে, দাড়ি রাখা এবং তা ঘন হওয়া মানুষের জন্য কোনো বিকৃতি নয়, যেমনটি সেই বাতিল প্রবন্ধের লেখক ধারণা করেছেন; বরং এতে পুরুষদের সৌন্দর্য এবং নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। আর দাড়িওয়ালাদের ইমাম এবং দাড়ি রাখার ক্ষেত্রে তাদের আদর্শ হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এটি প্রমাণিত যে, তিনি ঘন ও বড় দাড়াবিশিষ্ট ছিলেন যা তাঁর বক্ষদেশ পূর্ণ করে রাখত। এতৎসত্ত্বেও তিনি ছিলেন মানবজাতির মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর এবং সবচেয়ে লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে।"

পক্ষান্তরে দাড়ি মুণ্ডন করা পুরুষের চেহারাকে বিকৃত করে দেয়, যার ফলে যুবকের চেহারা যুবতী নারীর সদৃশ হয়ে যায় এবং বৃদ্ধের চেহারা বৃদ্ধা নারীদের মতো হয়ে যায়। দাড়ি মুণ্ডন করা এবং তা উপড়ে ফেলা এক প্রকার অঙ্গহানি বা বিকৃতি (মুছলাহ), যার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। যেমন তাবারানি তাঁর 'আল-কাবির' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি চুল (বা দাড়ি) দ্বারা চেহারা বিকৃত করল, আল্লাহর নিকট তার কোনো অংশ নেই।" যামাখশারি বলেছেন: বলা হয়েছে এর অর্থ হলো গালের পশম মুণ্ডন করা, কেউ বলেছেন এটি উপড়ে ফেলা, আবার কেউ বলেছেন এটি রঙ করা। ইবনে আল-আসির তাঁর 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে বলেছেন যে, এতে 'মুছলাহ' বা অঙ্গহানি থেকে নিষেধ করা হয়েছে। বলা হয়: আমি পশুর অঙ্গহানি করেছি যখন আমি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলেছি এবং তাকে বিকৃত করেছি। তিনি বলেন, এ থেকেই এই হাদিসটি এসেছে: "যে ব্যক্তি চুল দ্বারা বিকৃতি ঘটিয়েছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তার কোনো অংশ নেই।" চুলের বিকৃতি হলো তা মুণ্ডন করা।