(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: -)
إقامة البرهان في الرد على من أنكر خروج المهدي والدجال ونزول المسيح في آخر الزمان   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: إقامة البرهان في الرد على من أنكر خروج المهدي والدجال ونزول المسيح في آخر الزمان

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: مكتبة المعارف، الرياض - المملكة العربية السعودية

عام النشر: 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 25

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

শেষ জামানায় মাহদীর আগমন, দাজ্জালের আবির্ভাব এবং ঈসা মসীহের অবতরণ অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন   (হামূদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী)

বিভাগ: ফেরকাসমূহ এবং তাদের খণ্ডন


গ্রন্থ: শেষ জামানায় মাহদীর আগমন, দাজ্জালের আবির্ভাব এবং ঈসা মসীহের অবতরণ অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন

লেখক: হামূদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামূদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজিরী (মৃ. ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ - সৌদি আরব

প্রকাশকাল: ১৪০৫ হিজরী - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: -)
إقامة البرهان في الرد على من أنكر خروج المهدي والدجال ونزول المسيح في آخر الزمان

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين

 

مكتبة المعارف
শেষ জামানায় মাহদীর আবির্ভাব, দাজ্জালের বহির্গমন এবং মসীহ্‌র অবতরণ অস্বীকারকারীদের খণ্ডনে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন

 

রচনায়

মহান আল্লাহ তায়ালার মুখাপেক্ষী হামূদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামূদ আত-তুওয়াইজরী

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

 

মাকতাবাতুল মা'আরিফ
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم باحسان إلى يوم الدين، وبعد:

 

فقد رأيت في المجلة المسماة [المسلمون] مقالا لعبدالكريم الخطيب أنكر فيه ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من ظهور المهدي في آخر الزمان، وما أخبر به من خروج الدجال، ونزول عيسى بن مريم عليهما الصلاة والسلام، وهذه جراءة عظيمة وخطيرة جدا، لأن إنكار الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم، ومقابلتها بالرد والاطراح، يدل على الاستخفاف بأقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويستلزم مشاقته واتباع غير سبيل المؤمنين، وقد قال الله تعالى: {ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى ونصله جهنم وساءت مصيرا} وقال تعالى: {بل كذبوا بما لم يحيطوا بعلمه ولما يأتهم تأويله كذلك كذب الذين من قبلهم فانظر كيف كان عاقبة الظالمين} وليس إنكار الأحاديث الثابتة عن النبي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর। অতঃপর:

 

আমি 'আল-মুসলিমুন' নামক সাময়িকীতে আবদুল করিম আল-খতিবের একটি প্রবন্ধ দেখেছি যেখানে তিনি শেষ জামানায় মাহদীর আগমন সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন তা অস্বীকার করেছেন। এছাড়া তিনি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অবতরণ সংক্রান্ত সংবাদগুলোও অস্বীকার করেছেন। এটি অত্যন্ত বড় এবং বিপজ্জনক একটি ধৃষ্টতা; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হাদিসসমূহকে অস্বীকার করা এবং তা প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীসমূহের প্রতি তুচ্ছজ্ঞান প্রদর্শনের প্রমাণ বহন করে। এটি তাঁর বিরোধিতা করা এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণের নামান্তর। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর কারো কাছে হেদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে তাকে আমি সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে যা তারা তাদের জ্ঞানের পরিধিতে আনতে পারেনি এবং যার প্রকৃত রূপ এখনও তাদের নিকট আসেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল; অতএব দেখ, জালিমদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।} আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হাদিসসমূহ অস্বীকার করা...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ৪)
- صلى الله عليه وسلم بالأمر الهين، لأن الله تعالى يقول: {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا واتقوا الله إن الله شديد العقاب}.

وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله ويؤمنوا بي وبما جئت به فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله). وهذا يدل على وجوب الإيمان بكل ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم مما كان في الماضي، وما يكون في المستقبل، ويدل أيضا على أن عصمة الدم والمال إنما تكون لمن آمن بالرسول صلى الله عليه وسلم، وبكل ما جاء به، ومن لم يؤمن به وبما جاء به فليس بمعصوم الدم والمال، وفي هذا أبلغ تشديد على من يرد الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم، ويعارضها برأيه أو برأي غيره.

 

وقد قال الإمام أحمد رحمه الله تعالى: من رد حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو على شفا هلكة. وقال إسحاق بن راهوية: من بلغه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر يقر بصحته ثم رده بغير تقية فهو كافر. وقال أبو محمد البربهاري في شرح السنة: إذا سمعت الرجل يطعن على
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশকে তুচ্ছ বিষয় হিসেবে গণ্য করা যাবে না, কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।"

সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার হাত থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট।" এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতীত ও ভবিষ্যতের যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তার সবকিছুর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়। এটি আরও প্রমাণ করে যে, জান ও মালের নিরাপত্তা কেবল তার জন্যই যে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর আনীত সবকিছুর ওপর ঈমান আনবে। আর যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি এবং তাঁর আনীত বিধানের ওপর ঈমান আনবে না, তার জান ও মাল নিরাপদ নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হাদিসসমূহ যারা প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজ খেয়াল-খুশি বা অন্যের মতামতের ভিত্তিতে তার বিরোধিতা করে, তাদের জন্য এতে রয়েছে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা।

 

ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস প্রত্যাখ্যান করবে, সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।" ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেছেন: "যার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো বর্ণনা পৌঁছে এবং সে তার বিশুদ্ধতা স্বীকার করা সত্ত্বেও কোনো বিশেষ বাধ্যবাধকতা (তাকিয়া) ছাড়াই তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে সে কাফির।" আবু মুহাম্মাদ আল-বারবাহারি 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে শুনবে যে সে সমালোচনা করছে..."
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ৫)
الآثار ولا يقبلها، أو ينكر شيئا من أخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتهمه على الإسلام فإنه رجل رديء المذهب والقول، وإنما يطعن على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى أصحابه. وقال أيضا: لا يخرج أحد من أهل القبلة عن الإسلام حتى يرد آية من كتاب الله عز وجل، أو يرد شيئا من آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو يصلي لغير الله، أو يذبح لغير الله، فقد وجب عليك أن تخرجه من الإسلام. وقال أيضا: من رد آية من كتاب الله فقد رد الكتاب كله، ومن رد حديثا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد رد الأثر كله وهو كافر بالله العظيم.

وقال إبراهيم بن أحمد بن شاقلا: من خالف الأخبار التي نقلها العدل عن العدل موصولة بلا قطع في سندها، ولا جرح في ناقليها وتجرأ على ردها فقد تهجم على رد الإسلام. وقال ابن حزم في كتاب الأحكام: جاء النص ثم لم يختلف فيه مسلمان في أن ما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قاله ففرض اتباعه، وأنه تفسير لمراد الله في القرآن وبيان مجمله. انتهى.

 

وإذا علم ما ذكرته من الآيات والحديث وأقوال أهل العلم في التشديد على الذين يردون الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم، فليعلم أيضا أنه قد ثبت في ظهور المهدي في آخر الزمان عشرة
...আছারসমূহ (সুন্নাহর নিদর্শন) এবং তা গ্রহণ করে না, অথবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সংবাদকে অস্বীকার করে, তবে তার ইসলামের ব্যাপারে তাকে অভিযুক্ত করো। কেননা সে কদর্য মতবাদ ও নিকৃষ্ট বাণীর অধিকারী ব্যক্তি; সে মূলত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের ওপরই অপবাদ দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন: কিবলা অনুসারী কোনো ব্যক্তি ইসলাম থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত বহিষ্কৃত হয় না, যতক্ষণ না সে মহান আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত প্রত্যাখ্যান করে, অথবা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করে, অথবা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করে কিংবা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে জবেহ করে; এমতাবস্থায় তাকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা তোমার জন্য আবশ্যক হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের কোনো একটি আয়াত প্রত্যাখ্যান করল, সে পুরো কিতাবটিই প্রত্যাখ্যান করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো একটি হাদিস প্রত্যাখ্যান করল, সে পুরো সুন্নাহর ঐতিহ্যকেই প্রত্যাখ্যান করল এবং সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল।

ইবরাহিম বিন আহমাদ বিন শাকলা বলেন: যে ব্যক্তি এমন সব সংবাদের বিরোধিতা করল যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে অবিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত এবং যার বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতায় কোনো সংশয় নেই, আর সেই ব্যক্তি তা প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস দেখাল, তবে সে মূলত ইসলামকেই প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস দেখাল। ইবনে হাজম তাঁর 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে বলেন: সুস্পষ্ট দলিল বিদ্যমান রয়েছে এবং এতে দুজন মুসলমানও দ্বিমত পোষণ করেননি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহিহভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি তা বলেছেন, তবে তার অনুসরণ করা ফরজ এবং তা কুরআনে আল্লাহর অভিপ্রায়ের ব্যাখ্যা ও সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা। সমাপ্ত।

 

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হাদিসসমূহ যারা প্রত্যাখ্যান করে তাদের ব্যাপারে আমি যেসব আয়াত, হাদিস এবং আলেমগণের কঠোর সতর্কবাণী উল্লেখ করেছি তা যখন অবগত হওয়া গেল, তখন এটিও জানা আবশ্যক যে, শেষ জামানায় মাহদীর আত্মপ্রকাশের ব্যাপারে দশটি...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ৬)
أحاديث، وقد ذكرتها وذكرت كلام العلماء في تصحيحها في أول كتاب (الاحتجاج بالأثر على من أنكر المهدي المنتظر) فلتراجع هناك.

 

وأما خروج الدجال فقد جاء فيه أكثر من مائة وتسعين حديثا من الصحاح والحسان، وقد ذكرتها في الجزء الثاني من (إتحاف الجماعة بما جاء في الفتن والملاحم وأشراط الساعة) فلتراجع هناك. وقد تواترت الأحاديث في خروج الدجال من وجوه متعددة ذكرتها في (إتحاف الجماعة) ولو لم يكن منها سوى الأمر بالاستعاذة من فتنة الدجال في كل صلاة لكان ذلك كافيا في إثبات خروجه، والرد على من أنكر ذلك، وقد روى عبدالرزاق بإسناد حسن، عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: سمعت عمر بن الخطاب رضي الله عنه يقول: إنه سيخرج بعدكم قوم يكذبون بالرجم ويكذبون بالدجال ويكذبون بالحوض ويكذبون بعذاب القبر ويكذبون بقوم يخرجون من النار. وهذا الأثر له حكم المرفوع لأن فيه إخبارا عن أمر غيبي وذلك لا يقال من قبل الرأي، وإنما يقال عن توقيف.

وقد ظهر مصداق ما جاء فيه من التكذيب بالدجال وغيره، فأنكرت طوائف كثيرة من الخوارج والجهمية وبعض المعتزلة
হাদিসসমূহ, এবং আমি সেগুলো এবং সেগুলো বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ (আল-ইহতিজাজ বিল-আসার আলা মান আনকারাল মাহদিল মুনতাজার) কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছি; সুতরাং সেখানে তা দেখে নেয়া যেতে পারে।

 

আর দাজ্জালের আবির্ভাবের ব্যাপারে সহিহ ও হাসান পর্যায়ের একশত নব্বইটিরও বেশি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আমি সেগুলো (ইতহাফুল জামাআহ বিমা জাআ ফিল ফিতানি ওয়াল মালাহিমি ওয়া আশরাতিস সাআহ) কিতাবের দ্বিতীয় খণ্ডে উল্লেখ করেছি; সুতরাং সেখানে তা দেখে নেয়া যেতে পারে। দাজ্জালের আবির্ভাবের ব্যাপারে হাদিসসমূহ বিভিন্ন দিক থেকে মুতাওয়াতির বা বহুসূত্রে বর্ণিত, যা আমি (ইতহাফুল জামাআহ) কিতাবে উল্লেখ করেছি। যদি এ বিষয়ে প্রতি সালাতে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ ছাড়া অন্য কিছু নাও থাকত, তবুও তার আবির্ভাবের বিষয়টি সাব্যস্ত করার জন্য এবং যারা তা অস্বীকার করে তাদের জবাব দেওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট হতো। আর আব্দুর রাজ্জাক হাসান সনদে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: অচিরেই তোমাদের পরে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) অস্বীকার করবে, দাজ্জালকে অস্বীকার করবে, হাউজ (কাউসার)-কে অস্বীকার করবে, কবরের আজাব অস্বীকার করবে এবং জাহান্নাম থেকে একদল লোকের বের হয়ে আসাকে অস্বীকার করবে। আর এই বর্ণনাটি 'মারফু'র পর্যায়ভুক্ত, কারণ এতে অদৃশ্যের সংবাদ রয়েছে, আর এ জাতীয় বিষয় নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে বলা যায় না, বরং তা কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমেই বলা সম্ভব।

আর দাজ্জাল ও অন্যান্য বিষয় অস্বীকার করার যে সংবাদ এতে এসেছে তার সত্যতা পরিলক্ষিত হয়েছে; কেননা খাওয়ারিজ, জাহমিয়্যাহ এবং মুতাজিলাদের অনেক দলই তা অস্বীকার করেছে।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ৭)
خروج الدجال بالكلية، وردوا الأحاديث الواردة فيه، ذكر ذلك ابن كثير في النهاية قال: وخرجوا بذلك عن حيز العلماء لردهم ما تواترت به الأخبار الصحيحة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وذكر النووي في شرح مسلم أن‌‌ مذهب أهل السنة وجميع المحدثين والفقهاء والنظار إثبات خروج الدجال خلافا لمن أنكره من الخوارج والجهمية وبعض المعتزلة. انتهى.

وقد تبع الخوارج والجهمية والمعتزلة على إنكار خروج الدجال كثير من المنتسبين إلى العلم في زماننا وقبله بزمان، وأنكر بعضهم كثيرا من أشراط الساعة مما هو ثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم، وبعضهم يتأولها على ما يوافق عقليته الفاسدة، وقد ذكرت بعض أقوالهم في (إتحاف الجماعة) فلتراجع هناك. ولو كان الذين أشرنا إليهم أهل علم على الحقيقة لما ردوا شيئا من الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولكانوا يقابلونها بالرضا والقبول والتسليم.

 

وأما نزول عيسى بن مريم عليهما الصلاة والسلام في آخر الزمان، فقد جاء فيه آيات من القرآن، وتواترت الأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم بالإخبار بنزوله، وأنه يقتل الدجال ويكون في هذه الأمة حكما عدلا وإماما مقسطا، وجاء في ذلك آثار كثيرة عن
দাজ্জালের আবির্ভাবকে পুরোপুরি অস্বীকার করা এবং এ সংক্রান্ত হাদিসসমূহকে প্রত্যাখ্যান করা। ইবনে কাসির 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এর ফলে তারা আলেমদের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে গেছেন, কারণ তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির ও বিশুদ্ধ সংবাদসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইমাম নববী 'শরহ মুসলিম'-এ উল্লেখ করেছেন যে, আহলুস সুন্নাহ এবং সকল মুহাদ্দিস, ফকিহ ও তাত্ত্বিকদের অভিমত হলো দাজ্জালের আবির্ভাব সত্য হিসেবে সাব্যস্ত করা, যা এটি অস্বীকারকারী খারিজি, জাহমিয়াহ এবং কিছু মুতাজিলার মতের পরিপন্থী। সমাপ্ত।

দাজ্জালের আবির্ভাব অস্বীকার করার ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে এবং তার পূর্ববর্তী সময়ে জ্ঞানচর্চার দাবিদার অনেকে খারিজি, জাহমিয়াহ ও মুতাজিলাদের অনুসরণ করেছেন। তাদের কেউ কেউ কিয়ামতের এমন অনেক আলামতকে অস্বীকার করেছেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত। আবার তাদের কেউ কেউ সেগুলোর এমন অপব্যাখ্যা করেন যা তাদের ভ্রান্ত মনস্তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি 'ইতহাফুল জামাআহ' গ্রন্থে তাদের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছি, তাই সেখান থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে। আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি, তারা যদি প্রকৃতপক্ষে ইলমের অধিকারী হতেন, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত কোনো হাদিসই তারা প্রত্যাখ্যান করতেন না; বরং তারা সন্তুষ্টি, স্বীকৃতি ও আত্মসমর্পণের সাথে তা গ্রহণ করতেন।

 

আর শেষ জামানায় ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অবতরণ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আয়াত এসেছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে তাঁর অবতরণের সংবাদ বিষয়ে মুতাওয়াতির হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং এই উম্মতের মাঝে একজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক ও ইনসাফকারী ইমাম হবেন। এ বিষয়ে অনেক আসার বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ৮)
الصحابة والتابعين، وذكر بعضهم الإجماع على نزوله، وأنه لم يخالف فيه أحد من أهل الشريعة، وإنما أنكره الفلاسفة والملاحدة ممن لا يعتد بخلافهم، وقد ذكرت ذلك مستوفى في (إتحاف الجماعة) فليراجع هناك.

 

وأما ما جاء في العنوان الأول عن نزول عيسى في آخر لزمان هو حقيقة يؤكدها القرآن أم مسألة تتنافى مع الإسلام؟

فجوابه أن يقال: بل نزول عيسى عليه الصلاة والسلام في آخر الزمان حقيقة يؤكدها القرآن، قال الله تعالى في صفة رسوله صلى الله عليه وسلم: {وما ينطق عن الهوى. إن هو إلا وحي يوحى} وقد تواترت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أخبر بنزول عيسى عليه الصلاة والسلام في آخر الزمان، فيجب الإيمان بذلك لقول الله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه} وقد جاء في ذلك آيتان من القرآن:

 

إحداهما: قول الله تعالى: {وإن من أهل الكتاب إلا ليؤمنن به قبل موته} قال ابن عباس رضي الله عنهما: قبل موت عيسى بن مريم. رواه ابن جرير بإسناد صحيح. وروى الحاكم في مستدركه عن ابن عباس رضي الله عنهما في هذه الآية قال: خروج عيسى بن مريم. قال الحاكم: صحيح
সাহাবী ও তাবিঈগণ; তাঁদের কেউ কেউ তাঁর অবতরণের ব্যাপারে ঐকমত্যের (ইজমা) কথা উল্লেখ করেছেন এবং শরীয়তের অনুসারীদের মধ্যে কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি। কেবলমাত্র দার্শনিক ও নাস্তিকরা একে অস্বীকার করেছে, যাদের মতপার্থক্য ধর্তব্য নয়। আমি (ইতহাফ আল-জামাআহ) গ্রন্থে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, সুতরাং সেখানে দেখে নেওয়া যেতে পারে।

 

আর প্রথম শিরোনামে ঈসা আলাইহিস সালামের শেষ জমানায় অবতরণ সম্পর্কে যা এসেছে যে—এটি কি এমন এক সত্য যা কুরআন নিশ্চিত করে, নাকি এমন একটি বিষয় যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক?

এর উত্তরে বলা হবে: বরং শেষ জমানায় ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ এমন এক ধ্রুব সত্য যা কুরআন নিশ্চিত করে। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনায় বলেছেন: {তিনি নিজের খেয়ালখুশি থেকে কোনো কথা বলেন না। তা তো কেবল প্রত্যাদেশ (অহি), যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়}। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুতাওয়াতির (সুনিশ্চিত ও বহুসূত্রে বর্ণিত) হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, তিনি শেষ জমানায় ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণের সংবাদ দিয়েছেন। সুতরাং এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব বা আবশ্যক, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {রাসূল তোমাদের যা দান করেন, তা তোমরা গ্রহণ করো}। এ সম্পর্কে কুরআনে দুটি আয়াত এসেছে:

 

তার একটি হলো: মহান আল্লাহর বাণী: {কিতাবধারীদের মধ্যে প্রত্যেকেই তাঁর মৃত্যুর আগে তাঁর প্রতি অবশ্যই ঈমান আনবে}। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: ঈসা ইবনে মারিয়ামের মৃত্যুর পূর্বে। ইবনে জারীর সহিহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। আর হাকীম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ঈসা ইবনে মারিয়ামের আত্মপ্রকাশ। ইমাম হাকীম বলেছেন: এটি সহিহ।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ৯)
على شرط الشيخين. ووافقه الذهبي في تلخيصه. وروى أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة عن ابن عباس رضي الله عنهما في هذه الآية قال: يعني أنه سيدركه أناس من أهل الكتاب حين يبعث عيسى فيؤمنون به. وروى ابن مردويه عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه قال في هذه الآية نحو قول ابن عباس رضي الله عنهما.

 

وهذا القول هو الصحيح في تفسير الآية، وقد اختاره ابن جرير وابن كثير، وبه يقول أبو مالك والحسن وقتادة وعبدالرحمن بن زيد بن أسلم وغيرهم. قال الحسن: والله إنه لحي الآن عند الله، ولكن إذا نزل آمنوا به أجمعون. رواه ابن جرير.

 

وأما قول من قال من المفسرين: إن الضمير في قوله: {قبل موته} يعود إلى الكتابي. فليس فيه معارضة لما تقدم فقد يؤمن كل كتابي عند احتضاره بأن عيسى عبد الله ورسوله، ولكن لا ينفعه إيمانه في هذه الحالة، وأما الذين يؤمنون به بعد نزوله في آخر الزمان فإن إيمانهم به ينفعهم، والله أعلم (1).

الآية الثانية: قوله تعالى: {وإنه لعلم للساعة} وقرأ ابن عباس وأبو هريرة وقتادة والأعمش: {وإنه لعَلَم للساعة} بفتح العين واللام أي أمارة وعلامة على اقتراب الساعة، قال ابن عباس رضي الله عنهما في قوله: {وإنه لعلم للساعة}

--------------------------------------------

(1) هذا فيه نظر وقد عارض هذا القول المهدي في رده على سلمان العودة فليراجع ما ذكر. ص75 من كتاب (كشف اللثام عن جهل سلمان العودة على أمر مهدي الإسلام).
এটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী এবং আয-যাহাবী তাঁর আত-তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আর আবু বকর আল-আজুররী তাঁর 'কিতাবুশ শারীয়াহ' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এই আয়াতের তাফসীরে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এর অর্থ হলো ঈসা (আলাইহিস সালাম) যখন পুনরায় প্রেরিত হবেন তখন আহলে কিতাবদের একদল লোক তাঁকে পাবে এবং তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। আর ইবনে মারদুওয়াই আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এই আয়াতের ব্যাপারে ইবনে আব্বাসের মতেরই অনুরূপ বলেছেন।

 

আর আয়াতের তাফসীরে এটিই সঠিক মত। ইবনে জারীর এবং ইবনে কাসীর এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। আবু মালিক, হাসান, কাতাদাহ, আবদুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম এবং আরও অনেকে এই মতই পোষণ করেন। হাসান বলেন: আল্লাহর শপথ! তিনি এখন আল্লাহর কাছে জীবিত আছেন। কিন্তু যখন তিনি অবতরণ করবেন, তখন তারা সকলেই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। এটি ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন।

 

আর মুফাসসিরগণের মধ্যে যারা বলেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: "তাঁর মৃত্যুর পূর্বে"-এ সর্বনামটি কিতাবীদের দিকে ফিরেছে; তাদের এই উক্তি পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ প্রত্যেক কিতাবীই তার মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্তে ঈমান আনতে পারে যে, ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। কিন্তু এই অবস্থায় তার ঈমান কোনো কাজে আসবে না। তবে যারা শেষ যামানায় তাঁর অবতরণের পর তাঁর প্রতি ঈমান আনবে, তাদের সেই ঈমান ফলপ্রসূ হবে। আল্লাহই ভালো জানেন (১)।

দ্বিতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তিনি কিয়ামতের নিদর্শন"। ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, কাতাদাহ এবং আমাশ শব্দটিকে 'আইন' ও 'লাম' বর্ণে ফাতাহ (যবর) দিয়ে পড়েছেন, যার অর্থ হলো কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার চিহ্ন বা আলামত। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) মহান আল্লাহর এই বাণী "নিশ্চয়ই তিনি কিয়ামতের নিদর্শন"-এর ব্যাপারে বলেন:

--------------------------------------------

(১) এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। আল-মাহদী সালমান আল-আওদাহ-এর খণ্ডন করতে গিয়ে এই মতের বিরোধিতা করেছেন। সুতরাং সেখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা দেখা যেতে পারে। 'কাশফুল লিসাম আন জাহলি সালমান আল-আওদাহ আলা আমরি মাহদিয়্যিল ইসলাম' নামক গ্রন্থের ৭৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১০)
قال: هو خروج عيسى بن مريم يوم القيامة. رواه الإمام أحمد وسعيد بن منصور وعبد بن حميد وابن أبي حاتم والطبراني والحاكم في مستدركه وصححه هو والذهبي. وقد رواه ابن حبان في صحيحه والحاكم من حديث ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم: {وإنه لعلم للساعة} قال: (نزول عيسى بن مريم قبل يوم القيامة) صححه الحاكم والذهبي. وقد روي عن أبي هريرة ومجاهد والحسن وقتادة وأبي العالية وأبي مالك وعكرمة والضحاك نحو قول ابن عباس رضي الله عنهما.

 

ومما جاء في الآيتين والأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في نزول عيسى عليه الصلاة والسلام في آخر الزمان، وما قاله ابن عباس وأبو هريرة وغيرهما من السلف في تفسير الآيتين من سورة النساء وسورة الزخرف يعلم أن نزول عيسى عليه الصلاة والسلام حق، والحق لا يتنافى مع الإسلام، ومن زعم أن نزوله يتنافى مع الإسلام فهو ممن يشك في إسلامه، لأنه لم يحقق الشهادة بأن محمدا رسول الله، إذ لابد في تحقيقها من التصديق بكل ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من أمور الغيب مما كان فيما مضى، وما سيكون في المستقبل.
তিনি বলেছেন: এটি কিয়ামতের সময় ঈসা ইবনে মারিয়ামের বহিঃপ্রকাশ। এটি ইমাম আহমাদ, সাঈদ ইবনে মানসুর, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে আবি হাতিম, তাবারানি এবং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ও যাহাবি একে বিশুদ্ধ বলেছেন। ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে এবং হাকেম ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: {নিশ্চয়ই তিনি (ঈসা) কিয়ামতের একটি নিদর্শন}; তিনি বলেছেন: (কিয়ামতের পূর্বে ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ)। হাকেম ও যাহাবি একে বিশুদ্ধ বলেছেন। আবু হুরাইরা, মুজাহিদ, হাসান, কাতাদাহ, আবুল আলিয়া, আবু মালিক, ইকরিমা এবং যাহহাক থেকেও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর উক্তির অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

 

শেষ যুগে ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অবতরণ সম্পর্কে বর্ণিত দুটি আয়াত ও নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত প্রমাণিত হাদিসসমূহ এবং সূরা আন-নিসা ও সূরা আজ-জুখরুফের আয়াত দুটির তাফসির সম্পর্কে ইবনে আব্বাস, আবু হুরাইরা ও অন্যান্য সালাফগণের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অবতরণ ধ্রুব সত্য। আর সত্য কখনো ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হয় না। যে ব্যক্তি দাবি করে যে তাঁর অবতরণ ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক, তার ইসলাম নিয়েই সংশয় রয়েছে। কারণ সে 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল'—এই সাক্ষ্যটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি; কেননা এই সাক্ষ্য প্রদানের পূর্ণতার জন্য অতীতে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কিত গায়েবি বিষয়াবলি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন, সে সবকিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১১)
وأما قول بعض المتخرصين: إن الأحاديث الواردة في نزول عيسى كلها مزيفة لا يقبلها العقل.

 

فجوابه أن يقال: هذه مكابرة لا تصدر من رجل له أدنى مسكة من عقل ودين. وإذا كان عقل المرء فاسدا فلا شك أنه يتصور الحق في صورة الباطل، وقد جاء في نزول عيسى عليه الصلاة والسلام أكثر من خمسين حديثا مرفوعا أكثرها من الصحاح والباقي غالبه من الحسان، فمن زعم أنها كلها مزيفة فلا شك أنه فاسد العقل والدين.

وأما قول المتخرص: إن نزول المسيح لا يقره المنطق.

 

فجوابه أن يقال: أما المنطق المستقيم، والعقل السليم الذي يدور مع الحق حيثما دار فإنه لا يتوقف عن قبول ما جاء في كتاب الله تعالى، وما تواتر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في نزول المسيح في آخر الزمان، وأما المنطق المنحرف، والعقل الفاسد، فإنه لا يتوقف عن رد الحق وعدم قبوله، ولا عبرة بالعقول الفاسدة ولا بأهلها.

 

وأما قوله: وهو مستحيل لأن محمدا هو آخر الأنبياء بنص القرآن.
আর একদল মিথ্যাচারীর এই দাবি যে: ঈসা (আ.)-এর অবতরণ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ সবই ভিত্তিহীন এবং তা বিবেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

 

এর উত্তরে বলা হবে: এটি এমন এক ঔদ্ধত্য যা সামান্যতম বুদ্ধি ও দ্বীনদারী সম্পন্ন কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়। আর যখন কোনো মানুষের বিবেক কলুষিত হয়, তখন সে নিঃসন্দেহে সত্যকে মিথ্যারূপে কল্পনা করে। অথচ ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ প্রসঙ্গে পঞ্চাশটিরও অধিক মারফু হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যার অধিকাংশই 'সহীহ' এবং অবশিষ্টাংশের প্রায় সবই 'হাসান' পর্যায়ের। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে এগুলোর সবই ভিত্তিহীন, তার বিবেক ও দ্বীন যে কলুষিত সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

আর ঐ মিথ্যাচারীর এই কথা যে: মাসীহের অবতরণ যুক্তি দ্বারা স্বীকৃত নয়।

 

এর উত্তরে বলা হবে: সঠিক যুক্তি ও সুস্থ বিবেক, যা সত্যের অনুগামী হয়ে পরিচালিত হয়, তা মহান আল্লাহর কিতাবে যা কিছু এসেছে এবং শেষ জামানায় মাসীহের অবতরণ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তা গ্রহণে কুণ্ঠাবোধ করে না। পক্ষান্তরে, বিভ্রান্ত যুক্তি ও কলুষিত বিবেক সত্য প্রত্যাখ্যানে দ্বিধাবোধ করে না; আর কলুষিত বিবেক ও তার ধারকদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

 

আর তার এই উক্তি: "এটি অসম্ভব, কারণ কুরআনের অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী মুহাম্মদ (সা.) হলেন সর্বশেষ নবী।"
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১২)
فجوابه أن يقال: إن عيسى عليه الصلاة والسلام إذا نزل في آخر الزمان لا يأتي بشرع جديد، ولا يحكم بالإنجيل، وإنما يحكم بكتاب الله تعالى، وسنة رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، ويكون واحدا من هذه الأمة، وقد روى الإمام أحمد والبخاري ومسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كيف أنتم إذا نزل عيسى بن مريم فيكم وإمامكم منكم) وفي رواية لمسلم: (كيف أنتم إذا نزل فيكم ابن مريم فأمكم منكم). قال الوليد بن مسلم: فقلت: لابن أبي ذئب: إن الأوزاعي حدثنا عن الزهري عن نافع عن أبي هريرة: (فأمكم منكم) قال ابن أبي ذئب: تدري ما أمكم منكم؟ قلت: تخبرني. قال: فأمكم بكتاب ربكم تبارك وتعالى، وسنة نبيكم صلى الله عليه وسلم. وقال أبو ذر الهروي: حدثنا الجوزقي عن بعض المتقدمين قال: معنى (إمامكم منكم) أنه يحكم بالقرآن لا بالإنجيل. وقال ابن التين: معنى قوله (وإمامكم منكم) أن الشريعة المحمدية متصلة إلى يوم القيامة، وأن في كل قرن طائفة من أهل العلم. وروى الإمام أحمد بإسناد صحيح على شرط الشيخين، عن سمرة بن جندب رضي الله عنه أن نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: (إن الدجال خارج ـ فذكر الحديث وفيه ـ ثم يجي عيسى بن مريم عليهما السلام مصدقا بمحمد صلى الله عليه وسلم وعلى ملته،

এর উত্তর এই যে, ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম যখন শেষ যামানায় অবতীর্ণ হবেন, তখন তিনি কোনো নতুন শরীয়ত নিয়ে আসবেন না এবং ইঞ্জিল অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করবেন না; বরং তিনি মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন করবেন এবং তিনি এই উম্মতেরই একজন সদস্য হবেন। ইমাম আহমদ, বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমাদের মাঝে ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতীর্ণ হবেন এবং তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের ইমাম হবেন?" মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমাদের মাঝে ইবনে মারইয়াম অবতীর্ণ হবেন এবং তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নেতৃত্ব দেবেন?" ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বলেন: আমি ইবনে আবি জিবকে বললাম, আওযায়ী আমাদের কাছে যুহরী থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নেতৃত্ব দেবেন"। ইবনে আবি জিব বললেন: তুমি কি জানো 'তোমাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার' অর্থ কী? আমি বললাম: আপনি আমাকে বলুন। তিনি বললেন: অর্থাৎ তিনি তোমাদের মহান রবের কিতাব এবং তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী তোমাদের নেতৃত্ব দেবেন। আবু যর আল-হারাবী বলেন: আল-জাওযাকী আমাদের কাছে জনৈক পূর্বসূরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'তোমাদের ইমাম তোমাদের মধ্য থেকে হবেন'—এর অর্থ হলো তিনি কুরআন অনুযায়ী ফয়সালা করবেন, ইঞ্জিল অনুযায়ী নয়। ইবনে তীন বলেন: 'তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের ইমাম হবেন'—তাঁর এই বাণীর অর্থ হলো মুহাম্মদী শরীয়ত কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এবং প্রতিটি যুগে একদল আলেম বিদ্যমান থাকবেন। ইমাম আহমদ শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী একটি সহীহ সনদে সামুরা বিন জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: "নিশ্চয়ই দাজ্জাল বের হবে"—অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন যাতে রয়েছে— "এরপর ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যায়নকারী হিসেবে এবং তাঁরই মিল্লাত বা আদর্শের ওপর আগমন করবেন..."

(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১৩)
فيقتل الدجال ثم إنما هو قيام الساعة) وقد رواه الطبراني، قال الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح. وروى الطبراني أيضا في الكبير والأوسط، عن عبدالله بن المغفل رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ما أهبط الله تعالى إلى الأرض منذ خلق آدم إلى أن تقوم الساعة فتنة أعظم من فتنة الدجال ـ فذكر الحديث وفيه ـ ثم ينزل عيسى بن مريم مصدقا بمحمد صلى الله عليه وسلم وعلى ملته إماما مهديا وحكما عدلا فيقتل الدجال). قال الهيثمي: رجاله ثقات، وفي بعضهم ضعف لا يضر اهـ. قلت: والحديث قبله يشهد له ويقويه.

وأما قوله في أحد العناوين: لو كان من أصول الإيمان الاعتقاد برجعة المسيح، أو ظهور الدجال أو المهدي لجاء ذلك في القرآن صريحا محكما.

 

فجوابه أن يقال: كل ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أخبر بوقوعه فالإيمان به واجب، وذلك من تحقيق الشهادة بأن محمدا رسول الله، وتحقيقها من أصول الإيمان، ولا يكون المرء مؤمنا معصوم الدم والمال حتى يحقق الشهادة بالرسالة، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله ويؤمنوا بي
অতঃপর তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন, তারপর কেবল কিয়ামত সংঘটিত হওয়া বাকি থাকবে)। এটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন, হাইসামী বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। তাবারানী 'আল-কাবীর' এবং 'আল-আওসাত' গ্রন্থেও আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আদম সৃষ্টির সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে বড় কোনো ফিতনা পৃথিবীতে অবতীর্ণ করেননি —অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং তাতে রয়েছে— এরপর ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতরণ করবেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যায়নকারী হিসেবে এবং তাঁর আদর্শের ওপর একজন হেদায়াতপ্রাপ্ত ইমাম ও ন্যায়পরায়ণ বিচারক হিসেবে, অতঃপর তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন)। হাইসামী বলেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে তাদের কারো কারো মধ্যে সামান্য দুর্বলতা রয়েছে যা ক্ষতিকর নয় (সমাপ্ত)। আমি বলব: পূর্ববর্তী হাদীসটি এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং একে শক্তিশালী করে।

আর তার একটি শিরোনামে করা এই উক্তির ব্যাপারে যে: যদি মসীহের প্রত্যাবর্তন, দাজ্জালের আবির্ভাব কিংবা মাহদীর আগমনের বিষয়টি ঈমানের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তা কুরআনে সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে বর্ণিত হতো।

 

এর উত্তরে বলা হবে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু ঘটার সংবাদ প্রমাণিত হয়েছে, তার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক। আর এটি 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল'—এই সাক্ষ্যের বাস্তবায়নের অন্তর্ভুক্ত। আর এই সাক্ষ্যের যথাযথ বাস্তবায়ন ঈমানের অন্যতম মূলনীতি। কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হিসেবে নিজের রক্ত ও সম্পদের নিরাপত্তা লাভ করতে পারে না, যতক্ষণ না সে রিসালাতের সাক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আমি মানুষের সাথে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমার ওপর ঈমান আনে...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১৪)
وبما جئت به فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله) رواه مسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

 

وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أخبر بظهور المهدي في آخر الزمان، وبخروج الدجال، ونزول عيسى بن مريم عليهما الصلاة والسلام، فوجب الإيمان بذلك تصديقا لقول الله تعالى: {وما ينطق عن الهوى. إن هو إلا وحي يوحى} وعملا بقول الله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه} وبما جاء في آيات كثيرة من الأمر بالإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم، والإيمان به لا يتم إلا بامتثال أمره واجتناب نهيه، وتصديق أخباره والتمسك بسنته، وعملا أيضا بما جاء في حديث أبي هريرة رضي الله عنه الذي تقدم ذكره.

 

وأما قوله: ثم كيف يملأ المسيح الدنيا عدلا بعد أن ملئت جورا؟ وهل هذا من سنة الله تعالى في الحياة الإنسانية؟ وكيف يفيض المال عند رجعة المسيح فلا يقبله أحد؟

فجوابه أن يقال: من علم أن الله على كل شيء قدير، وأنه ما شاء كان، وعلم أيضا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يقول إلا الحق، ولا
...এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার ওপর। তারা যখন এটি করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের জান ও মাল নিরাপদ করে নেবে, তবে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকার ব্যতীত; আর তাদের প্রকৃত হিসাব আল্লাহর ওপর ন্যস্ত। এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সুপ্রমাণিত যে তিনি শেষ জামানায় মাহদির আবির্ভাব, দাজ্জালের বহির্গমন এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অবতরণ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না; এটি তো ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়}—এর প্রতি সত্যয়ন জ্ঞাপনে এবং মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো}—এর ওপর আমলস্বরূপ এসব বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক। এ ছাড়াও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ সম্বলিত বহু আয়াতের প্রেক্ষাপটে এটি জরুরি। আর তাঁর প্রতি ঈমান আনা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না তাঁর আদেশ পালন করা হয়, তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা হয়, তাঁর প্রদত্ত সংবাদসমূহ সত্য বলে বিশ্বাস করা হয় এবং তাঁর সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা হয়। এ ছাড়াও পূর্বে উল্লিখিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের ওপর আমল করাও এর অন্তর্ভুক্ত।

 

আর তাঁর এই প্রশ্ন সম্পর্কে যে: "অতঃপর মসীহ কীভাবে পৃথিবী জুলুম-অবিচারে পূর্ণ হওয়ার পর তা ইনসাফ ও ন্যায়বিচারে পূর্ণ করবেন? এটি কি মানবজীবনে মহান আল্লাহর সুন্নাহর (রীতি) অন্তর্ভুক্ত? আর মসীহের প্রত্যাবর্তনের সময় সম্পদ কীভাবে এমনভাবে উপচে পড়বে যে কেউ তা গ্রহণ করতে চাইবে না?"

এর উত্তর হলো: যে ব্যক্তি জানে যে আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সংঘটিত হয়, এবং এ-ও জানে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য ব্যতীত কিছু বলেন না এবং...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১৫)
يخبر إلا بالصدق، لم يشك في شيء مما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيجب على المسلم أن يؤمن بكل ما جاء عن الله تعالى، وما جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يعترض على أخبار الصادق المصدوق بكيف ولم، وغير ذلك من أنواع الاستفهام الذي يدل على الشك فيما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعدم الإيمان به. وقد قال الله تعالى: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجاً مما قضيت ويسلموا تسليما}.

 

وأما قوله: وروى البخاري ومسلم عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (والذي نفسي بيده ليوشكن أن ينزل عيسى بن مريم فيكسر الصليب ويقتل الخنزير ويضع الحرب).

 

فجوابه أن يقال: إن الكاتب قد صحف في لفظ الحديث حيث قال فيه: ويضع الحرب. والذي في الحديث: (ويضع الجزية). ومن تعمد التصحيف في أقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو داخل في عداد الكاذبين على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد تواتر عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: (من كذب عليَّ متعمدا فليتبوأ مقعده من النار) ولعل الكاتب لم يتعمد التصحيف وإنما وقع منه سهوا، أو وجده في
তিনি কেবল সত্যই সংবাদ দেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তার কোনো কিছুতেই তিনি সন্দেহ পোষণ করেননি। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা এসেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে যা এসেছে তার সবকিছুর ওপর ঈমান আনা। 'সাদিকুল মাসদুক' (যিনি সত্যবাদী এবং যাঁর সত্যবাদিতা প্রত্যায়িত)-এর সংবাদের ওপর 'কিভাবে' এবং 'কেন'—এই জাতীয় কোনো প্রশ্নের মাধ্যমে আপত্তি উত্থাপন করা যাবে না, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে সন্দেহ এবং তাঁর প্রতি অবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব আপনার পালনকর্তার শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে আপনাকে বিচারক মানবে, অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা অনুভব করবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে}।

 

আর তার এই উক্তি সম্পর্কে: বুখারি ও মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অচিরেই ঈসা ইবনে মারইয়াম অবতীর্ণ হবেন, তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর নিধন করবেন এবং যুদ্ধ বন্ধ করবেন)।

 

এর উত্তরে বলা হবে: লেখক হাদীসের শব্দে ভুল (তাশহিফ) করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "এবং যুদ্ধ বন্ধ করবেন"। অথচ হাদীসের সঠিক শব্দ হলো: (এবং জিজিয়া রহিত করবেন)। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীতে ইচ্ছাকৃতভাবে শব্দ পরিবর্তন বা ভুল পাঠ করে, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যারোপকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাঁর থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়)। সম্ভবত লেখক ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভুলটি করেননি বরং তা তার পক্ষ থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে, অথবা তিনি এটি এমন কোথাও পেয়েছেন...
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১৬)
بعض الكتب التي لم تصحح من الأخطاء المطبعية.

 

وأما قوله: وبعد فإن هذه المرويات من الأحاديث والأخبار، في شأن رجعة المسيح عليه السلام، أو في شأن ظهور الدجال أو المهدي لا متعلق لها بالعقيدة، سواء أصحت أو لم تصح، وأن العقيدة الإسلامية قائمة على الإيمان بالله وملائكته ورسله وكتبه واليوم الآخر والحساب والجزاء والجنة والنار.

 

فجوابه من وجهين:

أحدهما أن يقال: كل ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فالإيمان به متعلق بالعقيدة، لأنه لا يتم الإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم إلا بالإيمان بأخباره، ومن لم يؤمن بأخباره فهو فاسد العقيدة، وقد تقدم حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وفيه أن عصمة الدم والمال إنما تكون لمن آمن بما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم.

الوجه الثاني أن يقال: إن أهل السنة والجماعة قد تلقوا ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم في ظهور المهدي، وخروج الدجال، ونزول عيسى بن مريم عليهما الصلاة والسلام بالقبول، ودونوا ذلك في كتب الصحاح والسنن والمسانيد، وذكروا مضمونه في كتب العقائد، قال إمام أهل السنة أحمد بن حنبل رحمه الله
কিছু কিতাব যা মুদ্রণজনিত ভুল থেকে সংশোধিত হয়নি।

 

আর তাঁর এই বক্তব্য সম্পর্কে: "অতঃপর মসীহ্ আলাইহিস সালাম-এর প্রত্যাবর্তন, কিংবা দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ অথবা মাহদীর আবির্ভাব সংক্রান্ত এই হাদীস ও সংবাদগুলো আকিদাহর সাথে সংশ্লিষ্ট নয়—চাই তা সহীহ হোক বা না হোক। মূলত ইসলামী আকিদাহ আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর রাসূলগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, পরকাল, হিসাব-নিকাশ, প্রতিদান এবং জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর ঈমান আনার ওপর প্রতিষ্ঠিত।"

 

এর উত্তর দুটি দিক থেকে দেওয়া যায়:

প্রথমত: এ কথা বলা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন, সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা আকিদাহর অন্তর্ভুক্ত। কেননা তাঁর সংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর ঈমান আনা পূর্ণ হয় না। আর যে ব্যক্তি তাঁর সংবাদের প্রতি ঈমান রাখে না, তার আকিদাহ ত্রুটিপূর্ণ। ইতিপূর্বে আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসটি অতিক্রান্ত হয়েছে, যাতে উল্লেখ আছে যে, জান ও মালের নিরাপত্তা কেবল তাদের জন্যই যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনীত বিষয়ের ওপর ঈমান আনে।

দ্বিতীয়ত: এ কথা বলা যে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত মাহদীর আবির্ভাব, দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম-এর অবতরণ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ করে নিয়েছেন। তাঁরা এ বিষয়গুলো সিহাহ্, সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহে এর সারমর্ম উল্লেখ করেছেন। আহলে সুন্নাতের ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন—
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১৭)
تعالى في عقيدة أهل السنة والجماعة التي رواها عنه عبدوس بن مالك العطار: والإيمان أن المسيح الدجال خارج مكتوب بين عينيه كافر والأحاديث التي جاءت فيه، والإيمان بأن ذلك كله كائن وأن عيسى بن مريم ينزل فيقتله بباب لد. انتهى.

 

وقال أبو محمد البربهاري رحمه الله تعالى في شرح السنة: والإيمان بنزول عيسى بن مريم صلى الله عليه وسلم ينزل فيقتل الدجال، ويتزوج ويصلي خلف القائم من آل محمد صلى الله عليه وسلم ويموت ويدفنه المسلمون. انتهى. والقائم من آل محمد صلى الله عليه وسلم هو المهدي كما جاء في حديث جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (ينزل عيسى بن مريم فيقول أميرهم المهدي تعال صلِّ بنا فيقول: لا إن بعضهم أمير بعض تكرمة الله لهذه الأمة) رواه الحارث بن أبي أسامة في مسنده بإسناد جيد، وقد ذكره ابن القيم في الكتاب (المنار المنيف) وقال: إسناده جيد.

 

وقال الطحاوي رحمه الله تعالى في العقيدة المشهورة: ونؤمن بأشراط الساعة من خروج الدجال ونزول عيسى بن مريم عليه السلام من السماء. انتهى.

وقال أبو الحسن الأشعري في كتابه (مقالات الإسلاميين):
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত সেই বর্ণনা, যা তাঁর থেকে আবদুস বিন মালিক আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন: ঈমান হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, মাসিহ দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে, যার দুই চোখের মাঝে ‘কাফির’ লেখা থাকবে এবং এই প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। আরও বিশ্বাস করা যে, এর সবকিছুই বাস্তব এবং ঈসা ইবনে মারিয়াম অবতীর্ণ হয়ে তাকে ‘লুদ’ নামক স্থানের ফটকে হত্যা করবেন। সমাপ্ত।

 

আবু মুহাম্মদ আল-বারবাহারি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘শারহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: ঈসা ইবনে মারিয়াম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবতরণের ওপর বিশ্বাস রাখা; তিনি অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন, বিবাহ করবেন এবং আল-মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশোদ্ভূত আল-কায়েমের পেছনে সালাত আদায় করবেন। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল করবেন এবং মুসলমানরা তাঁকে দাফন করবে। সমাপ্ত। আর আল-মুহাম্মাদের বংশোদ্ভূত এই ‘আল-কায়েম’ হলেন মাহদী, যেমনটি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ঈসা ইবনে মারিয়াম অবতরণ করবেন, তখন তাঁদের আমির মাহদী বলবেন: আসুন, আমাদের সালাতে ইমামতি করুন। তিনি বলবেন: না, নিশ্চয়ই আল্লাহ কর্তৃক এই উম্মতকে সম্মানিত করার উদ্দেশ্যে আপনাদের একে অপরকে অপরের ওপর আমির নিযুক্ত করা হয়েছে।) এটি আল-হারিস বিন আবি উসামাহ তাঁর মুসনাদে উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘আল-মানারুল মুনিফ’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: এর সনদ উত্তম।

 

ইমাম ত্বহাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর প্রসিদ্ধ আকিদা গ্রন্থে বলেছেন: আমরা কিয়ামতের আলামতসমূহের ওপর বিশ্বাস রাখি, যার অন্তর্ভুক্ত হলো দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং আকাশ থেকে ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ। সমাপ্ত।

এবং আবু হাসান আল-আশআরি তাঁর ‘মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন’ গ্রন্থে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১৮)
جملة ما عليه أهل الحديث والسنة الإقرار بالله تعالى وملائكته وكتبه ورسله، وما جاء من عند الله، وما رواه الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يردون من ذلك شيئا ـ إلى أن قال ـ ويصدقون بخروج الدجال، وأن عيسى بن مريم يقتله. انتهى. وهذا حكاية إجماع من أهل الحديث والسنة على التصديق بخروج الدجال، ونزول عيسى بن مريم عليهما الصلاة والسلام وقتله الدجال. والعبرة بأهل الحديث والسنة، ولا عبرة بمن خالفهم من أهل البدع والضلالة والجهالة.

 

وقال أبو محمد عبدالله بن أبي زيد القيرواني المالكي رحمه الله تعالى في رسالته المشهورة: والإيمان بما ثبت من خروج الدجال ونزول عيسى عليه الصلاة والسلام حكما عدلا يقتل الدجال. انتهى.

 

وقال أبو أحمد بن الحسين الشافعي المعروف بابن الحداد في عقيدة له: وأن الآيات التي تظهر عند قرب الساعة من الدجال ونزول عيسى عليه الصلاة والسلام والدخان والدابة وطلوع الشمس من مغربها وغيرها من الآيات التي وردت بها الأخبار الصحاح حق. انتهى.

 

وقال الموفق أبو محمد عبدالله بن أحمد بن قدامة المقدسي في
আহলুল হাদিস এবং সুন্নাহর অনুসারীদের সামগ্রিক আকিদা হলো মহান আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা; আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তারা তার কোনো কিছুকেই প্রত্যাখ্যান করেন না। — তিনি আরও বলেন — এবং তারা দাজ্জালের বহির্প্রকাশ এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম কর্তৃক তাকে হত্যার বিষয়টি সত্য বলে বিশ্বাস করেন। সমাপ্ত। আর এটি দাজ্জালের বহির্প্রকাশ, ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অবতরণ এবং তাঁর কর্তৃক দাজ্জাল নিধনের বিষয়ে আহলুল হাদিস ও সুন্নাহর অনুসারীদের ঐকমত্যের (ইজমা) একটি বিবরণ। এক্ষেত্রে আহলুল হাদিস ও সুন্নাহর অনুসারীদের মতই গ্রহণযোগ্য, আর বিদআত, গোমরাহি ও মূর্খতায় লিপ্ত হয়ে যারা তাদের বিরোধিতা করে, তাদের মতের কোনো গুরুত্ব নেই।

 

আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি আল-মালিকি (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর প্রসিদ্ধ রিসালায় বলেন: দাজ্জালের বহির্প্রকাশ এবং ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ন্যায়পরায়ণ বিচারক হিসেবে অবতরণ করে দাজ্জালকে হত্যার বিষয়ে যা প্রমাণিত হয়েছে, তার ওপর ঈমান রাখা অপরিহার্য। সমাপ্ত।

 

ইবনুল হাদ্দাদ নামে পরিচিত আবু আহমদ বিন আল-হুসাইন আশ-শাফিঈ তাঁর একটি আকিদা বিষয়ক গ্রন্থে বলেন: কিয়ামতের সন্নিকটে যেসব নিদর্শন প্রকাশ পাবে, যেমন দাজ্জাল, ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অবতরণ, ধোঁয়া, ভূগর্ভস্থ প্রাণী, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় এবং সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত অন্যান্য নিদর্শনসমূহ সত্য। সমাপ্ত।

 

আল-মুওয়াফফাক আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি বলেন:
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ১৯)
عقيدته المشهورة: ويجب الإيمان بكل ما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم وصح به النقل عنه فيما شاهدناه أو غاب عنا، نعلم أنه صدق وحق ـ إلى أن قال ـ ومن ذلك أشراط الساعة مثل خروج الدجال، ونزول عيسى بن مريم عليه السلام فيقتله، وخروج يأجوج ومأجوج، وطلوع الشمس من مغربها، وخروج الدابة وأشباه ذلك مما صح به النقل. انتهى.

وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى: مسألة: عيسى بن مريم صلى الله عليه وسلم حي رفعه الله تعالى إليه بروحه وبدنه، وقوله تعالى: {إني متوفيك} أي قابضك، وكذلك ثبت أنه ينزل على المنارة البيضاء شرقي دمشق فيقتل الدجال، ويكسر الصليب، ويقتل الخنزير، ويضع الجزية حكما عدلا مقسطا، ويراد بالتوفي الاستيفاء، ويراد به الموت، ويراد به النوم، ويدل كل واحد القرينة التي معه. انتهى.

 

وقال القاضي عياض في شرح مسلم: نزول عيسى عليه السلام وقتله الدجال حق صحيح عند أهل السنة للأحاديث الصحيحة في ذلك، وليس في العقل ولا في الشرع ما يبطله،
তাঁর প্রসিদ্ধ আকিদা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা বিশুদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে—তা আমরা প্রত্যক্ষ করি অথবা আমাদের নিকট অদৃশ্যে থাকুক—তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব। আমরা জানি যে তা সত্য ও যথার্থ—পরবর্তীতে তিনি বলেন—আর কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ, ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ ও তাঁর কর্তৃক দাজ্জালকে হত্যা, ইয়াজুজ ও মাজুজের বহিঃপ্রকাশ, পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্যোদয়, দাব্বাতুল আরদ বা ভূগর্ভস্থ প্রাণীর আগমন এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয় যা বিশুদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। (সমাপ্ত)।

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন: মাসআলা: ঈসা ইবনে মারইয়াম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত; আল্লাহ তাআলা তাঁকে আত্মা ও দেহসহ নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পরিগ্রহণ করব} এর অর্থ হলো আপনাকে কবজ বা পূর্ণরূপে গ্রহণ করব। অনুরূপভাবে এটি সাব্যস্ত যে, তিনি দামেস্কের পূর্ব দিকের সাদা মিনারের ওপর অবতরণ করবেন, অতঃপর দাজ্জালকে হত্যা করবেন, ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর নিধন করবেন এবং একজন ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফকারী শাসক হিসেবে জিজিয়া রহিত করবেন। 'তাওয়াফফি' শব্দ দ্বারা পূর্ণরূপে গ্রহণ করা বুঝায়, আবার মৃত্যু এবং নিদ্রাও বুঝায়; এর প্রতিটি অর্থ তার সাথে যুক্ত প্রাসঙ্গিক অনুষঙ্গ বা প্রেক্ষাপট দ্বারা নির্ধারিত হয়। (সমাপ্ত)।

 

কাজী আইয়াজ শরহে মুসলিমে বলেন: ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ এবং তাঁর কর্তৃক দাজ্জালকে হত্যার বিষয়টি আহলে সুন্নতের নিকট সত্য ও সঠিক; কারণ এ বিষয়ে বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। আর যুক্তি কিংবা শরিয়তের বিধানে এমন কিছু নেই যা একে বাতিল বা অসম্ভব প্রতিপন্ন করে।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ২০)
فوجب إثباته وأنكر ذلك بعض المعتزلة والجهمية ومن وافقهم، وزعموا أن هذه الأحاديث مردودة بقوله تعالى: {وخاتم النبيين} وبقوله صلى الله عليه وسلم: (لا نبي بعدي) وبإجماع المسلمين أنه لا نبي بعد نبينا صلى الله عليه وسلم، وأن شريعته مؤبدة إلى يوم القيامة لا تنسخ. وهذا استدلال فاسد لأنه ليس المراد بنزول عيسى عليه السلام أنه ينزل نبيا بشرع ينسخ شرعنا، ولا في الأحاديث شيء من هذا، بل صحت الأحاديث أنه ينزل حكما مقسطا يحكم بشرعنا، ويحي من أمور شرعنا ما هجره الناس. انتهى كلامه، وقد نقله النووي في شرح مسلم وأقره.

 

وقال المناوي في شرح الجامع الصغير: أجمعوا على نزول عيسى عليه الصلاة والسلام نبيا لكنه بشريعة نبينا صلى الله عليه وسلم. وقال المناوي أيضا: حكى في المطامح إجماع الأمة على نزوله ولم يخالف أحد من أهل الشريعة في ذلك، وإنما أنكره الفلاسفة والملاحدة. انتهى.

 

وقال السفاريني في شرح عقيدته: نزول المسيح عيسى بن مريم ثابت بالكتاب والسنة وإجماع الأمة ولم يخالف فيه أحد من أهل الشريعة، وإنما أنكر ذلك الفلاسفة والملاحدة ممن لا يعتد
সুতরাং এটি সাব্যস্ত করা অপরিহার্য। কতিপয় মুতাজিলা, জাহমিয়া এবং তাদের সমমনারা একে অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে যে, এই হাদিসগুলো মহান আল্লাহর বাণী—"এবং তিনি নবীদের সমাপ্তিদানকারী"—এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—"আমার পরে আর কোনো নবী নেই"—তথা মুসলমানদের এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী যে, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আর কোনো নবী নেই এবং তাঁর শরীয়ত কিয়ামত পর্যন্ত শাশ্বত ও রহিত অযোগ্য। কিন্তু এটি একটি অসার যুক্তি। কারণ ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণের অর্থ এই নয় যে, তিনি আমাদের শরীয়ত রহিতকারী কোনো নতুন শরীয়তসহ নবী হিসেবে আবির্ভূত হবেন; হাদিসসমূহেও এমন কিছু বর্ণিত হয়নি। বরং সহীহ হাদিসগুলো দ্বারা প্রমাণিত যে, তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ শাসক হিসেবে অবতরণ করবেন এবং আমাদের শরীয়ত অনুযায়ী ফয়সালা দেবেন। অধিকন্তু, তিনি আমাদের শরীয়তের সেসব বিষয়কে পুনরুজ্জীবিত করবেন যা মানুষ বর্জন করেছে। তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত। ইমাম নববী এটি 'শরহে মুসলিম'-এ উদ্ধৃত করেছেন এবং সমর্থন জানিয়েছেন।

 

আল-মুনাউয়ী 'শরহে জামেউস সগীর'-এ বলেন: উলামায়ে কেরাম ঈসা আলাইহিস সালামের নবী হিসেবে অবতরণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তবে তিনি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীয়ত অনুসরণ করবেন। আল-মুনাউয়ী আরও বলেন: 'আল-মাতামিহ' গ্রন্থে তাঁর অবতরণের বিষয়ে উম্মতের ইজমা (ঐকমত্য) বর্ণিত হয়েছে এবং শরীয়তপন্থীদের কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি। কেবল দার্শনিক ও নাস্তিকরাই এটি অস্বীকার করেছে। সমাপ্ত।

 

আল-সাফারিনী তাঁর আকিদার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: মাসীহ ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। আহলে শরীয়তের কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত করেননি। কেবল সেসব দার্শনিক ও নাস্তিকরাই এটি অস্বীকার করেছে যাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ২১)
بخلافه، وقد انعقد الإجماع على أنه ينزل ويحكم بهذه الشريعة المحمدية. انتهى.

هذا ما ذكره علماء المسلمين في خروج الدجال، ونزول عيسى عليه الصلاة والسلام في آخر الزمان، وفيه أبلغ رد على قول الخطيب أن المرويات من الأحاديث والأخبار في شأن رجعة المسيح، أو في شأن ظهور الدجال لا متعلق لها بالعقيدة.

 

ومما ذكرته عن أهل العلم يتضح أن الخطيب قد خالف عقيدة أهل السنة والجماعة، وإجماعهم على خروج الدجال ونزول عيسى عليه الصلاة والسلام، ووافق أعداء الإسلام والمسلمين من الفلاسفة والملاحدة الذين أنكروا خروج الدجال ونزول عيسى عليه الصلاة والسلام.

 

وأما قوله: ولو كان من أصول الإيمان، الإيمان برجعة عيسى أو ظهور الدجال أو المهدي لجاء ذلك في القرآن الكريم صريحا محكما.

 

فجوابه أن يقال: كل ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من المغيبات مما كان فيما مضى وما سيكون في المستقبل، فالإيمان به داخل في
এর বিপরীতে, এই বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তিনি অবতরণ করবেন এবং এই মুহাম্মদী শরীয়ত অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করবেন। সমাপ্ত।

মুসলিম উলামায়ে কেরাম শেষ যামানায় দাজ্জালের আবির্ভাব এবং ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা-ই হলো এই বক্তব্য; আর এতে খতীবের সেই উক্তির বলিষ্ঠ খণ্ডন রয়েছে যেখানে সে দাবি করেছে যে, মসীহের প্রত্যাবর্তন বা দাজ্জালের আবির্ভাব সংক্রান্ত হাদীস ও বর্ণনাগুলোর সাথে আকিদাহর কোনো সম্পর্ক নেই।

 

আহলে ইলমদের পক্ষ থেকে আমি যা উল্লেখ করেছি তা থেকে এটি স্পষ্ট যে, খতীব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ এবং দাজ্জালের আবির্ভাব ও ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণ বিষয়ক ইজমার বিরোধিতা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু সেই সব দার্শনিক ও নাস্তিকদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন যারা দাজ্জালের আবির্ভাব এবং ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অবতরণকে অস্বীকার করে।

 

আর তার এই উক্তি প্রসঙ্গে: "যদি ঈসার প্রত্যাবর্তন কিংবা দাজ্জাল অথবা মাহদীর আবির্ভাব ঈমানের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বর্ণিত হতো।"

 

এর উত্তরে বলা হবে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েবি বা অদৃশ্যের সংবাদ হিসেবে অতীতে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে যা কিছু জানিয়েছেন, সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা... এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ২২)
ضمن الإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم، وذلك من أعظم أصول الإيمان، وقد جاء الأمر بالإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم في آيات كثيرة من القرآن وكلها محكمات. والإيمان بأخبار الرسول صلى الله عليه وسلم داخل أيضا في ضمن قول الله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه} وداخل أيضا في ضمن قوله تعالى: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما} وداخل أيضا في ضمن قوله تعالى: {فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم} وهذه الآيات كلها محكمات، وكلها تدل على أن تصديق أخبار النبي صلى الله عليه وسلم من أعظم أصول الإيمان.

وقد قال الإمام أحمد رحمه الله تعالى في قوله تعالى: {فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم} قال: أتدري ما الفتنة؟ الفتنة الشرك لعله إذا رد بعض قوله أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك، ثم جعل يتلو هذه الآية: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما}.
এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, আর তা ঈমানের অন্যতম মহান মূলনীতি। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ এসেছে এবং তার প্রতিটিই অকাট্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "রাসূল তোমাদের যা দান করেন, তা তোমরা গ্রহণ করো।" এছাড়া তা মহান আল্লাহর এই বাণীরও অন্তর্ভুক্ত: "অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়গুলোতে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধাবোধ না থাকে এবং তা পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে গ্রহণ করে নেয়।" এবং তা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।" এই আয়াতসমূহের প্রতিটিই অকাট্য এবং এগুলো প্রমাণ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদের সত্যায়ন করা ঈমানের অন্যতম মহান মূলনীতি।

ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ মহান আল্লাহর বাণী— "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে"— এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "তুমি কি জানো 'ফিতনা' কী? ফিতনা হলো শিরক। হতে পারে যখন কেউ তাঁর (রাসূলের) কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি হয় এবং ফলে সে ধ্বংস হয়ে যায়।" অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করতে লাগলেন: "অতএব আপনার পালনকর্তার কসম, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়গুলোতে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধাবোধ না থাকে এবং তা পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে গ্রহণ করে নেয়।"
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأما قوله: إن مثل هذه الأخبار تفتح على الناس أبوابا من الفتن حيث تتطلع نفوس كثيرة إلى ادعائها كما حدث من ادعاء كثيرين لأنفسهم بأنهم المهدي المنتظر فأوقعوا الفرقة والقتال بين المسلمين، وأنه ليس ببعيد أن يقوم في الناس يوما من يدَّعي أنه المسيح المنتظر فكيف تكون الحال حينئذ؟!.

 

فجوابه أن يقال: إن الأخبار الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم لا ترد بمثل هذه الاحتمالات والتعليلات الخاطئة، بل تصدق وتقابل بالقبول والتسليم، ولو افتتن بمضمونها من افتتن من الناس. وقد قال الله تعالى آمرا رسوله صلى الله عليه وسلم أن يقول للناس: {وأن أتلو القرآن فمن اهتدى فإنما يهتدي لنفسه ومن ضل فقل إنما أنا من المنذرين} وهكذا يقال في الأخبار الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنها تقابل بالقبول والتصديق، ولا يلتفت إلى ما يكون من أهل الفتن الذين يتأولون الأحاديث على غير تأويلها ويطبقونها على ما لا تنطبق عليه.

ويقال أيضا: إن المهدي المنتظر إنما يخرج في آخر الزمان قرب خروج الدجال وعند انتشار الفوضى والفتن، ثم ينزل عيسى عليه الصلاة والسلام فيصلي خلف المهدي أول ما ينزل كما جاء
আর তাঁর এই উক্তির বিষয়ে বলা যায় যে: এই ধরণের সংবাদগুলো মানুষের জন্য ফিতনার দ্বার উন্মোচন করে, যার ফলে অনেক লোক তা দাবি করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে—যেমনটি ইতিপূর্বে অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছে যে তারা নিজেদেরকে প্রতীক্ষিত মাহদী হিসেবে দাবি করেছিল এবং এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও লড়াই-সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল; আর ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি মানুষের সামনে নিজেকে প্রতীক্ষিত মসীহ হিসেবে দাবি করবে এমনটি হওয়াও অসম্ভব নয়, তখন পরিস্থিতি কেমন হবে?!

 

এর উত্তরে বলা হবে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রমাণিত ও বিশুদ্ধ সংবাদসমূহ এই ধরণের নিছক সম্ভাবনা এবং ভ্রান্ত যুক্তির ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করা যায় না। বরং সেগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে হবে এবং পূর্ণ গ্রহণ ও আত্মসমর্পণের সাথে বরণ করতে হবে, যদিও এর বিষয়বস্তু নিয়ে কেউ বিভ্রান্তিতে পতিত হয়। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষের উদ্দেশ্যে এই কথা বলার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর আমি যেন কুরআন তিলাওয়াত করি। অতঃপর যে হেদায়াত প্রাপ্ত হলো, সে নিজের কল্যাণের জন্যই হেদায়াত প্রাপ্ত হলো; আর যে পথভ্রষ্ট হলো, তাকে বলে দিন—আমি তো কেবল সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত।} একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হওয়া সংবাদগুলোর ক্ষেত্রেও বলতে হয় যে, সেগুলো সত্যায়ন ও কবুল করতে হবে। আর সেইসব ফিতনাবাজদের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না যারা হাদীসগুলোর অপব্যাখ্যা করে এবং সেগুলোকে এমন সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে যেখানে সেগুলো আদৌ প্রযোজ্য নয়।

আরও বলা হয় যে: প্রতীক্ষিত মাহদী শেষ যামানায় দাজ্জালের আবির্ভাবের নিকটবর্তী সময়ে এবং বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার প্রাক্কালে আত্মপ্রকাশ করবেন। এরপর ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম অবতরণ করবেন এবং তিনি অবতরণের পর সর্বপ্রথম মাহদীর পেছনে সালাত আদায় করবেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ২৪)
ذلك في حديث جابر الذي تقدم ذكره، ثم يذهب إلى الدجال فيقتله، وحينئذ يكون قيام الساعة قريبا جدا، وعلى هذا فمن ادَّعى من المفتونين أنه المهدي المنتظر، ولم يخرج الدجال في زمانه، فإنه دجال كاذب (1)، وكذلك من ادَّعى أنه المسيح بن مريم ولم يكن الدجال قد خرج قبله فإنه دجال كاذب، وللمسيح بن مريم علامتان لا تكونان لغيره من الناس:

 

إحداهما: أنه يقتل الدجال كما تواترت بذلك الأحاديث.

 

والثانية: أنه لا يحل لكافر يجد ريح نَفَسه إلا مات، ونَفَسه ينتهي حيث ينتهي طرفه، كما جاء ذلك في حديث النواس بن سمعان، الذي رواه الإمام أحمد ومسلم والترمذي وابن ماجة، وقال الترمذي: غريب حسن صحيح. وفي هاتين العلامتين قطع لأطماع كل دجال يدَّعي أنه المسيح بن مريم.

وقبل الختام أحب أن أنبه عبدالكريم الخطيب على خطورة الأمر في رد الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم، سواءً كانت من أحاديث أشراط الساعة مثل ظهور المهدي، وخروج الدجال، ونزول عيسى بن مريم عليهما الصلاة والسلام وغير ذلك من أشراط الساعة، أو كانت من غيرها، فإن الذي يرد الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم إنما هو في الحقيقة يرد على النبي صلى الله عليه وسلم، ولا ينسَ

--------------------------------------------

(1) هذا اللازم يعد لغوا من الكلام لا حاجة له في تقرير صحة اعتقاد المهدي عن نفسه أنه المهدي أو تصديق الآخرين له أنه المهدي المبشر به، وذلك لكون صدق تحقق أنه المهدي قد ثبت يقينا للبراهين السابقة على خروج الدجال والتي على وفقها آمن المؤمنون به ولزمهم بها نصرته والقتال معه لفتح القسطنطينية وروما وسائر البلدان، وكل ذلك يقينا مما يسبق خروج الدجال.
এটি জাবির (রা.)-এর সেই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি দাজ্জালের নিকট গিয়ে তাকে হত্যা করবেন এবং সেই সময় কিয়ামত অত্যন্ত নিকটবর্তী হবে। এর ওপর ভিত্তি করে, বিভ্রান্তদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজেকে 'প্রতীক্ষিত মাহদী' বলে দাবি করে অথচ তার সময়ে দাজ্জাল আবির্ভূত না হয়, তবে সে একজন মিথ্যাবাদী দাজ্জাল (১)। একইভাবে, যে ব্যক্তি দাবি করবে যে সে ঈসা ইবনে মারিয়াম, অথচ তার আগে দাজ্জাল বের হয়নি, তবে সেও একজন মিথ্যাবাদী দাজ্জাল। ঈসা ইবনে মারিয়ামের এমন দুটি আলামত বা চিহ্ন রয়েছে যা অন্য কোনো মানুষের মাঝে পাওয়া যাবে না:

 

প্রথমটি: তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন, যেমনটি এ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ মুতাওয়াতির বা অবিচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

 

দ্বিতীয়টি: কোনো কাফেরের পক্ষে তাঁর নিঃশ্বাসের ঘ্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়, পেলেই সে মারা যাবে; আর তাঁর নিঃশ্বাস সেখানে গিয়ে পৌঁছাবে যেখানে তাঁর দৃষ্টি শেষ হবে। যেমনটি নাওয়াস বিন সামআন (রা.)-এর হাদিসে এসেছে, যা ইমাম আহমাদ, মুসলিম, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে 'গরীব হাসান সহীহ' বলেছেন। এই দুটি আলামতের মাধ্যমে ঈসা ইবনে মারিয়াম হওয়ার দাবিদার প্রত্যেক মিথ্যাবাদীর আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ হয়ে যায়।

উপসংহারের পূর্বে, আমি আব্দুল কারীম আল-খতিবকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হাদিসসমূহ প্রত্যাখ্যান করার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করতে চাই; চাই সেটি কিয়ামতের আলামত সম্পর্কিত হাদিস হোক—যেমন ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ, দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশ, ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামের অবতরণ ইত্যাদি—অথবা অন্য কোনো বিষয় হোক। কেননা, যে ব্যক্তি নবী সাল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হাদিস প্রত্যাখ্যান করে, সে মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশকেই প্রত্যাখ্যান করে। আর সে যেন ভুলে না যায়

--------------------------------------------

(১) এই অনিবার্য বিষয়টি অসার কথা হিসেবে গণ্য, নিজের মাহদী হওয়ার বিশ্বাস সাব্যস্ত করার জন্য কিংবা মাহদী হিসেবে সুসংবাদপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়ে অন্যদের সত্যায়নের জন্য এর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, দাজ্জালের আবির্ভাবের পূর্বেই পূর্ববর্তী প্রমাণাদির ভিত্তিতে মাহদীর সত্যতা সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়ে যাবে, যার ওপর ভিত্তি করে মুমিনগণ তাঁর প্রতি ঈমান আনবেন এবং কুস্তুনতুনিয়া (কনস্টান্টিনোপল), রোম ও অন্যান্য দেশ বিজয়ের জন্য তাঁর সাথে জিহাদ করা তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়বে। আর এই সবকিছুই নিশ্চিতভাবে দাজ্জাল বের হওয়ার পূর্বে ঘটবে।
(খণ্ড: ১) ইকামাতুল বুরহান ফীর-রাদ্দি আলা মান আনকারা খুরুজাল মাহদী ওয়াদ-দাজ্জাল ওয়ানুযূলাল মাসীহ ফী আখিরিয যামান (পৃষ্ঠা: ২৫)
الخطيب قوله تعالى: {فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم} وقول النبي صلى الله عليه وسلم: (أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله ويؤمنوا بي وبما جئت به فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله).

 

ولعل الخطيب يراجع الحق، فإن الحق ضالة المؤمن، والرجوع إلى الحق نبل وفضيلة، كما أن التمادي في الباطل نقص ورذيلة. والله يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

 

حرر في 16/ 11/ 1402 هـ

 

حمود بن عبدالله التويجري
খতিবের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নেমে আসবে} এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার নিকট থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের বিধানসম্মত কারণ ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট)।

 

সম্ভবত খতিব সত্যের দিকে ফিরে আসবেন, কেননা সত্য মুমিনের হারানো সম্পদ; আর সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্ব, যেমনভাবে বাতিলের ওপর অটল থাকা অপূর্ণতা ও হীনতা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

১৬/ ১১/ ১৪০২ হিজরি তারিখে লিখিত

 

হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী