(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: -)
إعلان النكير على المفتونين بالتصوير   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: إعلان النكير على المفتونين بالتصوير

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: دار الهجرة للطباعة والنشر، الدمام - المملكة العربية السعودية

عدد الصفحات: 106

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

চিত্রাঙ্কনে মোহাচ্ছন্ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ ঘোষণা   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: চিত্রাঙ্কনে মোহাচ্ছন্ন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ ঘোষণা

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজিরী (মৃত্যু ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: দারুল হিজরাহ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং، দাম্মাম - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: -)
إعلان النكير على المفتونين بالتصوير

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين

 

دار الهجرة
চিত্রাঙ্কন ও প্রতিকৃতিতে মোহগ্রস্তদের প্রতি ঘোর আপত্তির ঘোষণা

 

রচনা

মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ আত-তুয়াইজিরী

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

 

দারুল হিজরাহ
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وأصحابه ومَن والاه.

أما بعد، فلقد اطلعت على هذه الرسالة المباركة التي ألفها أخونا وصاحبنا العلامة الشيخ: حمود بن عبدالله التويجري رحمه الله في حكم تصوير ذوات الأرواح، وما ورد في ذلك من النصوص الصحيحة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن كلام أهل العلم في معناها وشرْح مقتضاها؛ فألفيتها رسالة قيمة غزيرة الفائدة، قد اشتملت على إيضاح الحق بدليله، وكشف الشبه التي قد يتعلق بها المُعارِض، وإيضاح كثير من الحِكَم والأسرار التي من أجلها حرَّم الله التصوير، وحذَّر منه رسوله صلى الله عليه وسلم بأنواع التحذير، وأخبر أن المصورين أشد الناس عذابًا يوم القيامة، وأن مَن صَوَّر صورةً في الدنيا كُلِّف أن ينفخ فيها الروح وليس بنافخ.

وكل مَن تأمل الأحاديث الواردة في هذا الباب وما أحدثه الناس اليوم من التوسُّع في التصوير وانتشاره في كل مكان والعناية بتصوير الزعماء والرؤساء والنساء الخليعات وغيرهم - علم الكثير من حكمة الشارع في النهي عن التصوير والتحذير منه، وعرف الكثير من مفاسد ذلك ومضارِّه على المجتمع في دينه وأخلاقه، وفي ديناه وسلوكه، وفي سائر أحواله وشؤونه.

ولقد غلط غلطًا فاحشًا مَن فرَّق بين التصوير الشمسي والتصوير النحتي، وبعبارة أخرى بين التصوير الذي له ظل والذي لا ظل له؛ لأن الأحاديث الصحيحة الواردة في هذه المسألة تعمُّ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গীসাথী এবং যারা তাঁর অনুসারী হয়েছেন তাদের ওপর।

অতঃপর, আমি এই বরকতময় পুস্তিকাটি পাঠ করেছি যা আমাদের ভাই এবং বন্ধু আল্লামা শাইখ হামুদ বিন আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) প্রাণীর প্রতিকৃতি বা ছবি তৈরির বিধান সম্পর্কে এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সহীহ দলিলসমূহ ও এর অর্থ ও ব্যাখ্যার বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমগণের বক্তব্য সম্পর্কে রচনা করেছেন। আমি এটিকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও জ্ঞানগর্ভ পুস্তিকা হিসেবে পেয়েছি; যা দলীলসহ সত্যকে সুস্পষ্ট করেছে এবং বিরোধিতাকারীরা যেসব সংশয়ের আশ্রয় নিতে পারে তা উন্মোচন করেছে। এতে সেই সকল হিকমত ও রহস্যের বিশদ বর্ণনা রয়েছে যার কারণে আল্লাহ তাআলা প্রতিকৃতি নির্মাণ হারাম করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নানাভাবে এ থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রতিকৃতি নির্মাণকারীরা কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে এবং যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো প্রতিকৃতি তৈরি করবে, তাকে তাতে প্রাণ সঞ্চারের নির্দেশ দেওয়া হবে, অথচ সে তা করতে সক্ষম হবে না।

যে ব্যক্তি এই সংক্রান্ত হাদীসসমূহ এবং বর্তমানে প্রতিকৃতি তৈরির ক্ষেত্রে মানুষের বাড়াবাড়ি, সর্বত্র এর প্রসার এবং নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান ও নির্লজ্জ নারীদের ছবির প্রতি গুরুত্বারোপের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন, তিনি প্রতিকৃতি নির্মাণ নিষিদ্ধ ও এ থেকে সতর্ক করার পেছনে শরীয়ত প্রণেতার প্রজ্ঞা সম্পর্কে সম্যক অবগত হবেন। তিনি সমাজ, দ্বীন, নৈতিকতা, পার্থিব জীবন, আচরণ এবং সামগ্রিক অবস্থার ওপর এর বহুমুখী অনিষ্ট ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আর যে ব্যক্তি আলোকচিত্র (ফটোগ্রাফি) ও ভাস্কর্য নির্মাণের মধ্যে পার্থক্য করে—অন্যভাবে বললে, ছায়াযুক্ত ও ছায়াবিহীন প্রতিকৃতির মধ্যে পার্থক্য করে—সে এক ভয়াবহ ভুল করেছে। কেননা এই বিষয়ে বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহ সাধারণভাবে সব প্রতিকৃতিকেই অন্তর্ভুক্ত করে...
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ৪)
النوعَين وتنظمها انتظامًا واحدًا، ولأن المضار والمفاسد التي في التصوير النحتي وما له ظل مثل المفاسد والأضرار التي في التصوير الشمسي، بل التصوير الشمسي أعظم ضررًا وأكثر فسادًا من وجوه كثيرة، نسأل الله أن يمنَّ علينا وعلى المسلمين بالعافية من النوعَين جميعًا، وأن يصلح أحوال الأمة وقادتها، وأن يهدي الجميع صراطه المستقيم.

وإني أنصح كلَّ مَن وقعت في يده هذه الرسالة أن يقرأها من أولها إلى آخرها، وأن يتدبر ما فيها من الأحاديث والفوائد وكلام أهل العلم؛ لعله بذلك يتضح له الحق، ويطمئن قلبه إلى ما دلت عليه النصوص من تحريم التصوير والتنفير منه؛ فينفع نفسه وينفع غيره، ويقوم بما أوجب الله عليه من الدعوة إلى الحق والتحذير من خلافه، وقد قال الله عز وجل: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33]، وقال عز وجل: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} [النحل: 125]، وقال النبي صلى الله عليه وسلم لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه: ((لأن يهدي الله بك رجلاً واحدًا خير لك من حُمْر النَّعَمِ))، وقال صلى الله عليه وسلم: ((مَن دلَّ على خيرٍ فله مثل أجر فاعله))، والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، وصلى الله على عبده ورسوله محمد وآله وصحبة ومَن اهتدى بهداة إلى يوم الدين.

 

نائب رئيس الجامعة الإسلامية في المدينة المنورة

عبدالعزيز بن عبدالله بن باز

* * *
উভয় প্রকারকে এবং এগুলোকে একটি একক বিধানের অধীনে বিন্যস্ত করে। কেননা ভাস্কর্য ও ছায়াবিশিষ্ট ছবির মধ্যে যে সকল ক্ষতি ও অনিষ্ট বিদ্যমান, আলোকচিত্র বা ফটোগ্রাফির মধ্যেও অনুরূপ ক্ষতি ও অনিষ্ট রয়েছে; বরং বহু দিক থেকে আলোকচিত্রের ক্ষতি আরও গুরুতর এবং অনিষ্টতা আরও ব্যাপক। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এবং সকল মুসলিমকে এই উভয় প্রকারের অনিষ্ট হতে নিরাপত্তা দান করেন, উম্মাহ ও তাদের নেতৃবৃন্দের অবস্থার সংশোধন করেন এবং সকলকে তাঁর সরল পথের দিশা দান করেন।

যাঁদের হাতে এই পুস্তিকাটি পৌঁছাবে, আমি তাঁদের প্রত্যেককে এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার এবং এতে বর্ণিত হাদিসসমূহ, গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ ও ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার পরামর্শ দিচ্ছি; যেন এর মাধ্যমে তাঁর নিকট সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং দলিলাদি ছবির নিষিদ্ধতা ও এর প্রতি অনীহা সৃষ্টির বিষয়ে যা নির্দেশ করে, সে ব্যাপারে তাঁর অন্তর প্রশান্ত হয়। এর ফলে তিনি নিজেও উপকৃত হবেন এবং অন্যকেও উপকৃত করতে পারবেন। আর এভাবে সত্যের দিকে আহ্বান জানানো এবং এর পরিপন্থী বিষয় থেকে সতর্ক করার যে দায়িত্ব আল্লাহ তাঁর ওপর অর্পণ করেছেন, তা তিনি পালন করতে সক্ষম হবেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, নেক আমল করে এবং বলে যে, ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত’?} [ফুসসিলাত: ৩৩]। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দিন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়। নিশ্চয়ই আপনার রব ভালো করেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং কে হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত} [আন-নাহল: ১২৫]। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলি বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: ((আল্লাহ যদি তোমার মাধ্যমে একটি লোককেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উট পাওয়ার চেয়েও উত্তম))। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখাবে, সে ব্যক্তি ঐ কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পাবে))। আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারি। আর সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

ভাইস চ্যান্সেলর, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায

* * *
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله ولى المتقين، وأشهد أن نبينا محمد عبده ورسوله، صلوات الله وسلامه عليه، وعلى إخوانه النبيين، ورضي الله عن أتباعهم إلى يوم الدين.

وبعد، ففي تصوير الصالحين والوجهاء والنساء الخليعات والممثلات ونحوهم ما يفسد العقيدة أو يضعفها، وما يوجب الفتنة ويثير الشر، مع ما في ذلك عمومًا من المضاهاة بخلق الله والتشبه بالمشركين وأهل الزيغ والانحلال في تصويرهم لصالحيهم وزعمائهم ونسائهم، ومساعدتهم على ما قصدوا معه غزو البلاد الإسلامية بهذه الصور الفتَّانة إفساد الأخلاق وإضعافًا للغيرة، وإغراء لنا بما فُتِنوا به؛ حتى نقلدهم في صنيعهم ونسلك مسلكهم، ونصاب في عقائدنا بما أصيبوا به من الشرك والإلحاد، ويذهب ما لدينا من عفاف وسلامة في الأخلاق ومحافظة على الأعراض، ويهون علينا انتهاك الحرمات.

من أجل هذا وغيره وردت النصوص عن الرسول صلى الله عليه وسلم بتحريم التصوير، ولعن المصورين وتوعدهم بالعذاب الأليم يوم القيامة؛ مما يدل على أن ذلك من الكبائر وعظيم والجرائم، كما جاء النهي عن اتخاذها وتحريم تعليقها مطلقًا بالمساكن والمؤسسات الثقافية والشركات والنوادي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মুত্তাকীদের অভিভাবক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর ভ্রাতৃবৃন্দ নবীগণের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। আর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন।

অতঃপর, নেককার ও গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বেহায়া নারী ও অভিনেত্রী এবং তাদের ন্যায় অন্যদের ছবি ধারণ বা অঙ্কনের মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যা আকিদাহকে বিনষ্ট বা দুর্বল করে দেয় এবং যা ফিতনা সৃষ্টি করে ও অনিষ্টকে উসকে দেয়। এর পাশাপাশি সাধারণভাবে এতে আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য বিধান এবং মুশরিক ও পথভ্রষ্ট ও চারিত্রিক স্খলনগ্রস্তদের অনুকরণ নিহিত রয়েছে—যারা তাদের নেককার লোক, নেতা ও নারীদের ছবি তৈরি করে থাকে। এর মাধ্যমে তাদের সেই উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে সহায়তা করা হয়, যা তারা এই বিভ্রান্তিকর ছবিগুলোর মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলোর ওপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে অর্জন করতে চায়; আর তা হলো নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটানো, আত্মমর্যাদাবোধকে দুর্বল করা এবং তারা যা দিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছে তা দিয়ে আমাদের প্রলুব্ধ করা; যাতে আমরা তাদের কর্মকাণ্ডে তাদের অনুকরণ করি, তাদের পথে চলি এবং তারা যে শিরক ও নাস্তিক্যবাদে আক্রান্ত হয়েছে, আমরাও আমাদের আকিদাহর ক্ষেত্রে তাতে আক্রান্ত হই। ফলে আমাদের যে চারিত্রিক পবিত্রতা ও শুদ্ধতা এবং ইজ্জত-সম্মান রক্ষার চেতনা রয়েছে তা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং পবিত্র বিষয়সমূহের অবমাননা আমাদের কাছে তুচ্ছ হয়ে দাঁড়ায়।

এসব কারণে এবং আরও অন্যান্য কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ছবি তোলা বা অঙ্কন করা হারাম হওয়ার বিষয়ে অকাট্য প্রমাণাদি বর্ণিত হয়েছে। তিনি ছবি প্রস্তুতকারীদের ওপর লানত করেছেন এবং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন; যা প্রমাণ করে যে এটি কবিরা গুনাহ ও জঘন্য অপরাধসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে, ছবি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ঘরবাড়ি, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও ক্লাবসমূহে তা ঝুলিয়ে রাখা নিরঙ্কুশভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ৬)
والدكاكين ونحوها، على النوافذ أو الأبواب أو الجدران، مجسمة أو غير مجسمة، تعظيمًا لها أو أحياء لذكرى صاحبها أو لغير ذلك من المقاصد والأغراض.

هذا، وقد اطلعت على ما كتبه الأخ الفاضل الشيخ: حمود بن عبدالله التويجري فوجدته - والحمد لله - وافيًا بالمطلوب مستقصيًا لأطراف الموضوع؛ فقد أتى على الأدلة التي تحرم ذلك وتحذر منه، والتي تصرح بفحش الجريمة وسوء عاقبة فاعلها، ومصير الأمة التي يفشو فيها ذلك دون نكير، مع البيان لوجه الدلالة من الأدلة والاستقصاء لما فيها من الفوائد، وذكر الطرق المتعددة للأحاديث ونسبها إلى دواوينها، وتبيين درجتها وشرح الحكمة التي رُوعِيت فيما دلت عليه النصوص من الأحكام؛ ليكون أرجى لقبول العقول، وأدعى إلى اطمئنان النفوس لما تضمنته الرسالة، وذكر آراء العلماء في المسألة؛ للاستئناس وقطعًا لأعذار مَن يتعلق بأقوال المجتهدين ويتعلل بها لهواه، وبيَّن كيف أفضت صور الصالحين قديمًا إلى الشرك وعبادة غير الله، وإلى الفتنة وانتشار الفاحشة وقضاء الوطر في غير ما أحل الله، وأيَّد ذلك بما ذكر من الآثار والوقائع التاريخية.

ولقد جاءت هذه الرسالة المباركة - إن شاء الله - في وقت افتتن الناس فيه بالتصوير وتعليق الصور في شتى الأماكن، مع الارتياح إليها وعدم المبالاة بمخالفتها نصوص الشرعية، حتى أنس الجمهور بها زعموا أنها مباحة أو هوَّنوا الأمر فيها لما شاهد، وأَمِن كثرة الصور في البلاد
এবং দোকানপাট ও অনুরূপ স্থানে, জানালা, দরজা বা দেয়ালে; হোক তা ত্রিমাত্রিক বা দ্বিমাত্রিক, তাকে সম্মান প্রদর্শন অথবা তার স্মৃতিরক্ষার্থে কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা লক্ষ্যে।

তদুপরি, আমি শ্রদ্ধেয় ভ্রাতা শায়খ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজারি কর্তৃক লিখিত কিতাবটি পাঠ করেছি এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি একে বিষয়ের সকল দিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পেয়েছি। তিনি এমন সকল দলীল উপস্থাপন করেছেন যা একে নিষিদ্ধ করে এবং এ থেকে সতর্ক করে। সেই সঙ্গে এই অপরাধের কদর্যতা, এর সম্পাদনকারীর অশুভ পরিণাম এবং যে জাতির মধ্যে কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই এটি ছড়িয়ে পড়ে তাদের পরিণতির বিষয়টি এতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি দলীলসমূহের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন এবং সেগুলোর সারমর্ম বিশ্লেষণ করেছেন। হাদিসের নানাবিধ সূত্র উল্লেখ করে তা মূল সংকলনসমূহের উদ্ধৃতিসহ বর্ণনা করেছেন। হাদিসগুলোর মান সুস্পষ্ট করেছেন এবং দলীলসমূহের বিধানের অন্তরালে বিদ্যমান প্রজ্ঞা ব্যাখ্যা করেছেন; যাতে তা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য হয় এবং পুস্তিকাটির বিষয়বস্তুর প্রতি মানুষের মন অধিক আশ্বস্ত হয়। তিনি এ মাসআলায় আলেমগণের অভিমতসমূহ উল্লেখ করেছেন অনুকূল প্রমাণের জন্য এবং সেই সকল ব্যক্তির অজুহাত খণ্ডনের জন্য যারা মুজতাহিদগণের উক্তির ওপর নির্ভর করে নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণে টালবাহানা করে। তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, অতীতে পুণ্যবান ব্যক্তিবর্গের প্রতিকৃতি কীভাবে শিরক ও গায়রুল্লাহর ইবাদতের দিকে ধাবিত করেছিল এবং ফিতনা, অশ্লীলতা বিস্তার ও আল্লাহর নিষিদ্ধ পন্থায় প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার পথ প্রশস্ত করেছিল। তিনি বিভিন্ন বর্ণনা ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির মাধ্যমে বিষয়টিকে সুদৃঢ় করেছেন।

ইনশাআল্লাহ, এই বরকতময় পুস্তিকাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন মানুষ ছবি তোলা এবং বিভিন্ন স্থানে ছবি ঝুলিয়ে রাখার বিষয়ে বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে। তারা এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে এবং শরীয়তের বিধানসমূহের লঙ্ঘনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন হয়ে পড়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষ এতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, তারা একে বৈধ বলে ধারণা করতে শুরু করেছে অথবা বিষয়টিকে অত্যন্ত তুচ্ছ মনে করছে এবং জনপদে ছবির প্রাবল্য দেখে একে দোষমুক্ত মনে করছে।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ৭)
الإسلامية على مرأى من المتعلمين وقلة المنكرين، ولو علموا سنة الله في خلقة وأن الباطل لا حياة له مع يقظة الحق وأهله وعناية الدعاة إليه بنشره وتأييده، وأن الباطل إنما يصول ويجول حينما يندرس العلم ويذهب العلماء، أو حينما يغفل رجال الدين عن واجبهم أو يداهنوا غيرهم، أو تضعف شوكتهم ولا يجدون من ورائهم مَن ينفذ مقالتهم أو ينصرهم في أمرهم بالمعروف ونهيهم عن المنكر.

أسأل الله أن ينفع بهذه الرسالة مَن قرأها أو سمعها، وأن يجزي مَن ألفها عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء، وأن يبصر المسلمين جميعًا أئمتهم ورعيتهم علماءهم والأميين منهم بأمر دينهم، ويوفقهم للأخذ به والوقوف عند حدوده، فإنه - سبحانه - القوي العزيز الهادي إلى سواء السبيل، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وسلم.

 

حرر في 19/ 1/ 1382 هـ

عبدالرزاق عفيفي

المدرس بكلية الشريعة بالرياض

* * *
শিক্ষিত সমাজের সম্মুখে এবং প্রতিবাদকারীর স্বল্পতার মাঝে ইসলামী বিষয়াবলি [বিদ্যমান]। তারা যদি সৃষ্টিজগতে আল্লাহর শাশ্বত নীতি সম্পর্কে অবগত হতো যে, সত্য ও সত্যপন্থীদের সতর্কতা এবং এর প্রচার ও প্রসারে দাঈদের একাগ্রতার সামনে বাতিলের কোনো স্থায়িত্ব নেই; বরং বাতিল তখনই দাপট দেখায় যখন ইলম বিলুপ্ত হয় এবং আলেমগণ বিদায় নেন, অথবা যখন ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ তাদের দায়িত্ব পালনে গাফেল হন কিংবা অন্যদের সাথে আপস করেন, অথবা যখন তাদের প্রভাব খর্ব হয় এবং তাদের পেছনে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যে তাদের কথা বাস্তবায়ন করবে কিংবা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধে তাদের সাহায্য করবে।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই পুস্তিকাটির মাধ্যমে পাঠক ও শ্রোতা উভয়কে উপকৃত করেন এবং এর লেখককে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আল্লাহ যেন সকল মুসলিমকে—তাদের শাসক ও শাসিত, আলেম ও সাধারণ জনগণ—সকলকে তাদের দ্বীনের বিষয়ে সম্যক জ্ঞান দান করেন এবং তা আঁকড়ে ধরার ও এর সীমারেখায় অটল থাকার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি—সুবহানাহু—পরম শক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী এবং সরল পথের দিশারী। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

১৯/০১/১৩৮২ হিজরিতে লিখিত

আবদুর রাজ্জাক আফীফী

রিয়াদ শরীআহ কলেজের শিক্ষক

* * *
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله المتفرد بالخلق والتدبير، الذي أتقن كل شي خلقة وصوَّر فأحسن التصوير، تعالى عن أن يكون له شريك أو نظير، ومَن أظلم ممن ذهب يخلق كخلق الله وهو عن الإيجاد عاجز حقير، لا يقدر على خلق ذرة ولا بعوضة ولا حبة من شعير، وهو مع ذلك ينازع الله فيما اختص به من التصوير، فويل للمصورين من عذاب السعير، فكل مصور في النار كما أخبر بذلك البشير النذير، ومَن أمر بالتصوير أو رضي به فهو شريك لفاعل هذا الذنب الكبير.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ولا وزير ولا ظهير، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الذي كسر الأصنام ومحا التصاوير، وحذر من صناعتها واتخاذها غاية التحذير.

اللهم صلِّ على عبدك ورسولك محمد وعلى آله وأصحابه نجوم الهداية والتبصير، وعلى مَن سلك سبيلهم من كبير وصغير، وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد، فقد قال الله - تعالى -: {إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُهِينًا} [الأحزاب: 57]، قال عكرمة: نزلت في المصوِّرين؛ ذكره البغوي وابن كثير ورواه أبو نعيم في "الحلية".
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টি ও পরিচালনায় অদ্বিতীয়; যিনি প্রত্যেক বস্তুর সৃষ্টিকে নিপুণ করেছেন এবং সুন্দর আকৃতি দান করেছেন। তিনি কোনো অংশীদার বা সমকক্ষ থাকা থেকে অতি উর্ধ্বে। সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর সৃষ্টির ন্যায় সৃষ্টি করতে প্রবৃত্ত হয়, অথচ সে কোনো কিছু অস্তিত্বে আনতে অক্ষম ও তুচ্ছ; সে একটি অণু, একটি মশা কিংবা একটি যবও সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে না। এতদসত্ত্বেও সে চিত্রাঙ্কন বা প্রতিকৃতি নির্মাণের মাধ্যমে আল্লাহর একক বৈশিষ্ট্যের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়। সুতরাং চিত্রকরদের জন্য রয়েছে প্রজ্বলিত আগুনের শাস্তি। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী (রাসূলুল্লাহ ﷺ) যেমনটি সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রত্যেক চিত্রকরই জাহান্নামে যাবে। আর যে ব্যক্তি চিত্রাঙ্কনের নির্দেশ দেয় অথবা এতে সন্তুষ্ট থাকে, সেও এই কবিরা গুনাহের অংশীদার।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং নেই কোনো উজির বা সাহায্যকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি মূর্তিসমূহ চূর্ণ করেছেন এবং চিত্রসমূহ মুছে ফেলেছেন, আর এগুলো তৈরি করা ও গ্রহণ করা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাঁরা হেদায়াত ও অন্তর্দৃষ্টির নক্ষত্রসম। আর তাঁদের পথানুসারী সকল ছোট-বড় ব্যক্তির ওপর রহমত ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন।

অতপর, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি।" [সূরা আল-আহজাব: ৫৭]। ইকরিমাহ (রহ.) বলেন: এই আয়াতটি চিত্রকরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; এটি বাগভী ও ইবনে কাসীর উল্লেখ করেছেন এবং আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ৯)
وفي هذه الآية على هذا التفسير أبلغ تحذير من التصوير، ومثل ذلك ما في الأحاديث الصحيحة كما سيأتي ذكرها - إن شاء الله تعالى - وقد عظُمت البلوى بصناعة الصور وبيعها وابتياعها، وافتتن باقتنائها واقتناء الجرائد والمجلات والكتب التي فيها ذلك كثير من المنتسبين إلى العلم من معلمين ومتعلمين فضلاً عن غيرهم، وصار نصبها في المجالس والدكاكين عادة مألوفة عند كثير من الناس، ومَن أنكر ذلك عليهم أو أنكر صناعتها فأقل الأحوال أن يستهزئوا به ويهمزوه ويلمزوه، وهذا دليل على استحكام غربة الإسلام، وظهور الجهل بما بعث الله به رسوله محمدًا صلى الله عليه وسلم وما أمر به من هدم الأوثان وكسر الأصنام والصلبان وطمس الصور ولطخها، فالله المستعان.

وهذا المنكر الذميم - أعني: صناعة الصور ونصبها في المجالس وغيرها - موروث عن قوم نوح ثم عن النصارى ومَن بعدهم، وكذلك عن مشركي العرب؛ فإنهم كانوا يصنعون الصور وينصبونها كما ستأتي الإشارة إلى ذلك من الأحاديث التي ستأتي قريبًا - إن شاء الله تعالى.

ولكن كان عملها واتخاذها قليلاً عند مشركي العرب بالنسبة إلى النصارى، وقد صوَّر مشركو قريش في جوف الكعبة صورًا؛ منها: صورة إبراهيم، وصورة إسماعيل، وصورة مريم في حجرها عيسى - عليهم الصلاة والسلام -
এই আয়াতের এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী চিত্রাঙ্কন বা ছবি তৈরির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী বিদ্যমান। অনুরূপভাবে সহীহ হাদীসসমূহেও এমন কঠোর বার্তা এসেছে, যা ইনশাআল্লাহ সামনে উল্লেখিত হবে। বর্তমানে ছবি নির্মাণ, এর ক্রয় ও বিক্রয় এক ভয়াবহ বিপদে রূপ নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ইলমের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষও ছবি এবং ছবি সংবলিত সংবাদপত্র, সাময়িকী ও বই সংগ্রহের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সভা-মজলিস ও দোকানপাটে ছবি টাঙানো বা স্থাপন করা অনেকের কাছে এক সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর যদি কেউ তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করে কিংবা ছবি তৈরি করাকে অন্যায় বলে আখ্যায়িত করে, তবে কমপক্ষে তারা তাকে নিয়ে উপহাস করে এবং তাকে নিয়ে বিদ্রূপ ও ছিদ্রান্বেষণ করে। এটি মূলত ইসলামের সেই ‘গরীব’ বা অপরিচিত অবস্থার চরম পর্যায়ের প্রমাণ এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন, সে বিষয়ে অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ; অথচ তিনি প্রতিমা ধ্বংস করা, মূর্তি ও ক্রুশ ভেঙে ফেলা এবং ছবি মুছে দেওয়া ও তা বিলুপ্ত করার নির্দেশ নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।

এই নিন্দনীয় গর্হিত কাজ—অর্থাৎ ছবি তৈরি করা এবং মজলিস ও অন্যান্য স্থানে তা স্থাপন করা—নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কওম থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত, যা পরবর্তীতে নাসারা (খ্রিস্টান) ও তাদের অনুসারীদের মাঝে এবং আরব মুশরিকদের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে। কেননা তারা ছবি তৈরি করত এবং তা টাঙিয়ে রাখত, যেমনটি অচিরেই সামনে আগত হাদীসসমূহের মাধ্যমে প্রতীয়মান হবে—ইনশাআল্লাহ।

তবে নাসারাদের তুলনায় আরব মুশরিকদের মধ্যে ছবির ব্যবহার ও এর প্রচলন কম ছিল। কুরাইশ মুশরিকরা কাবার অভ্যন্তরে কিছু ছবি অঙ্কন করেছিল; যেমন: ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর ছবি, ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর ছবি এবং মারইয়ামের কোলে ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর ছবি।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১০)
فالمصورون من هذه الأمة متشبِّهون بقوم نوح وبالنصارى وبمشركي العرب.

وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((مَن تشبه بقوم فهو منهم))؛ رواه الإمام أحمد وأبو داود وغيرهما من حديث ابن عمر رضي الله عنهما وصححه ابن حبان.

وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية - رحمة الله تعالى -: إسناده جيد، وقال الحافظ ابن حجر العسقلاني: إسناده حسن، قال شيخ الإسلام: وقد احتجَّ الإمام أحمد وغيره بهذا الحديث، قال: وهذا الحديث أقل أحواله أنه يقتضي تحريم التشبه بهم، وإن كان ظاهره يقتضي كفر المتشبه بهم؛ كما في قوله: {وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ} [المائدة: 51]، انتهى.

وفي "جامع الترمذي" عن عبدالله بن عمرو رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((ليس منا مَن تشبه بغيرنا)).

وفي هذين الحديثين كفاية في التحذير من مشابهة قوم نوح والنصارى ومشركي العرب وطوائف الإفرنج وغيرهم من اسم الكفر والضلال في صناعة الصور واتخاذها.

ومَن أصر على مشابهتهم فلا يأمن أن يحشر معهم يوم القيامة؛ فقد قال الله - تعالى -: {احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ} [الصافات: 22].

قال أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه: أزواجهم أشباههم، وكذا قال ابن عباس والنعمان بن بشير رضي الله عنهم يعني بأزواجهم: أشباههم وأمثالهم.
সুতরাং এই উম্মতের চিত্রশিল্পীরা নূহের সম্প্রদায়, খ্রিস্টান এবং আরবের মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" এটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ এবং অন্যান্যরা ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন।

শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহু তা’আলা) বলেছেন: এর সনদ উত্তম। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী বলেছেন: এর সনদ হাসান। শায়খুল ইসলাম বলেন: ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা এই হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। তিনি আরও বলেন: এই হাদীসের নূন্যতম দাবি হলো তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম হওয়া, যদিও এর বাহ্যিক অর্থ সাদৃশ্য গ্রহণকারীর কুফর সাব্যস্ত হওয়ার দাবি রাখে; যেমনটি আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত" [আল-মায়েদাহ: ৫১]। সমাপ্ত।

আর "জামে তিরমিযী"-তে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের ব্যতিরেকে অন্যের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"

প্রতিকৃতি নির্মাণ ও তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে নূহের সম্প্রদায়, খ্রিস্টান, আরবের মুশরিক, ইউরোপীয় গোষ্ঠী এবং কুফর ও গোমরাহীর অনুসারী অন্যান্যদের সাদৃশ্য অবলম্বনের বিরুদ্ধে সতর্ক করার জন্য এই দুটি হাদীসই যথেষ্ট।

আর যারা তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ওপর অটল থাকবে, তারা কিয়ামতের দিন তাদের সাথেই হাশর হওয়ার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ নয়; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "একত্রিত করো যালিমদের এবং তাদের সহচরদের (বা সাদৃশ্যপূর্ণদের) আর তারা যাদের ইবাদত করত তাদের।" [আস-সাফফাত: ২২]।

আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "তাদের সহচর" অর্থ হলো তাদের সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিরা। অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস ও নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বলেছেন। অর্থাৎ "তাদের সহচর" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের সাদৃশ্যপূর্ণ ও সমগোত্রীয় ব্যক্তিরা।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال قتادة والكلبي: كل مَن عمل مثل عملهم.

وقال الله - تعالى -: {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} [التكوير: 7]، قال: ابن كثير: أي: جمع كل شكل إلى نظيره.

وروى ابن أبي حاتم عن النعمان بن بشير رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} قال: ((الضُّرَباء كل رجل مع كل قوم كانوا يعملوا عمله)).

وروى ابن أبي حاتم أيضًا عن النعمان بن بشير رضي الله عنهما أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه خطب الناس فقرأ: {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} [التكوير: 7] فقال: تزوجها أن تؤلف كل شيعة إلى شيعتهم، وفي رواية قال: هما الرجلان يعملان العمل فيدخلان به الجنة أو النار.

وقال مجاهد: {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} قال: الأمثال من الناس جمع بينهم، قال ابن كثير: وكذا قال الربيع بن خثيم والحسن وقتادة، واختاره ابن جرير وهو الصحيح، انتهى.

وفي هذه الآية والآية قبلها وعيد شديد لِمَن تشبه بأعداء الله - تعالى - في صناعة الصور واتخاذها وفي غير ذلك من الأمور المحرمة.

* * *
কাতাদা এবং কালবী বলেছেন: যারা তাদের কর্মের অনুরূপ কাজ করবে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর যখন প্রাণসমূহকে জোড়া লাগানো হবে} [আত-তাকবীর: ৭]। ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ, প্রত্যেক শ্রেণিকে তার সদৃশ শ্রেণির সাথে একত্রিত করা হবে।

ইবনে আবি হাতিম নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) {আর যখন প্রাণসমূহকে জোড়া লাগানো হবে} আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "তারা হলো সমজাতীয় ব্যক্তিরা; প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেই সম্প্রদায়ের সাথে রাখা হবে যারা তার মতো আমল করত।"

ইবনে আবি হাতিম আরও বর্ণনা করেছেন যে, নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মানুষের সামনে খুতবা দেওয়ার সময় পাঠ করলেন: {আর যখন প্রাণসমূহকে জোড়া লাগানো হবে} [আত-তাকবীর: ৭]। অতঃপর তিনি বললেন: এখানে জোড়া লাগানো অর্থ হলো প্রতিটি দলকে তাদের অনুরূপ দলের সাথে মিলিয়ে দেওয়া। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: তারা হলো সেই সব মানুষ যারা একই ধরনের কাজ করে এবং তার মাধ্যমেই জান্নাতে অথবা জাহান্নামে প্রবেশ করে।

মুজাহিদ বলেন: {আর যখন প্রাণসমূহকে জোড়া লাগানো হবে}—অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যারা সদৃশ বা সমগোত্রীয়, তাদের একত্রিত করা হবে। ইবনে কাসীর বলেন: রবী ইবনে খুসাইম, হাসান এবং কাতাদাও একই কথা বলেছেন। ইবনে জারীরও এটিই পছন্দ করেছেন এবং এটিই সঠিক মত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

এই আয়াতে এবং এর পূর্ববর্তী আয়াতে ঐ ব্যক্তিদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে যারা ছবি তৈরি করা, তা গ্রহণ করা এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয়ে আল্লাহর শত্রুদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে।

* * *
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১২)
فصل

وقد كان بدء الشرك في بني آدم بسبب الصور؛ كما قال ابن جرير: حدثنا ابن حميد، حدثنا مهران، عن موسى، عن محمد بن قيس في قوله: {وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} [نوح: 23] قال: كانوا قومًا صالحين بين آدم ونوح وكان لهم أتباع يقتدون بهم، فلما ماتوا قال أصحابهم الذين كانوا يقتدون بهم: لو صورناهم كان أشوق لنا إلى العبادة إذا ذكرناهم، فصورهم، فلما ماتوا وجاء آخرون دبَّ إليهم إبليس فقال: إنما كانوا يعبدونهم وبهم يُسقون المطر فعبدوهم.

وروى ابن أبي حاتم بسنده عن أبي المطهر قال: ذكروا عند أبي جعفر وهو قائم يصلي يزيد بن المهلَّب قال: فلما انتقل من صلاته قال: ذكرتم يزيد بن المهلَّب أما إنه قتل في أول أرض عُبِد فيها غير الله قال: ثم ذكروا رجلاً مسلمًا وكان محببًا في قومه، فلما مات اعتكفوا حول قبره في أرض بابل وجزعوا عليه، فلما رأى إبليس جزعهم عليه تشبه في صورة إنسان ثم قال: إني أرى جزعكم على هذا الرجل فهل لكم أن أصور لكم مثله فيكون في ناديكم فتذكرونه؟ قالوا: نعم، فصوَّر لهم مثله قال: وضعوه في ناديهم وجعلوا يذكرونه، فلما رأى ما بهم من ذكره قال: هل لكم أن أجعل في منزل كل رجل منكم تمثالاً فيكون له في بيته فتذكرونه؟ قالوا: نعم، قال: فمثل لكل أهل بيت تمثالاً مثله فأقبلوا فجعلوا يذكرونه به قال: وأدرك أبناؤهم فجعلوا
পরিচ্ছেদ

নিশ্চয়ই আদম সন্তানদের মধ্যে শিরকের সূচনা হয়েছিল প্রতিকৃতি বা ছবির কারণে; যেমনটি ইবনে জারির বলেছেন: আমাদের নিকট ইবনে হুমায়দ বর্ণনা করেছেন, তিনি মিহরান থেকে, তিনি মুসা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন কায়স থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {এবং ইয়াগুস, ইয়াউকু ও নাসরকে (পরিত্যাগ করো না)} [নূহ: ২৩]। তিনি বলেন: তারা আদম ও নূহের মধ্যবর্তী সময়ের এক পুণ্যবান জাতি ছিলেন এবং তাদের এমন অনুসারী ছিল যারা তাদের অনুসরণ করত। যখন তারা মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তাদের সেই অনুসারীরা বলল: আমরা যদি তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করে রাখি, তবে তাদের স্মরণ করলে আমাদের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। অতঃপর তারা তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করল। অতঃপর যখন তারা মৃত্যুবরণ করল এবং পরবর্তী প্রজন্ম আসল, তখন ইবলিস তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করল এবং বলল: তারা কেবল তাদেরই ইবাদত করত এবং তাদের অসিলাতেই বৃষ্টি লাভ করত। ফলে তারা তাদের ইবাদত করতে শুরু করল।

ইবনে আবি হাতিম তার সনদে আবুল মুতাহহার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু জাফরের নিকট ইয়াজিদ বিন মুহাল্লাবের কথা উল্লেখ করা হলো যখন তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি বলেন: যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: তোমরা ইয়াজিদ বিন মুহাল্লাবের কথা উল্লেখ করছিলে? জেনে রেখো, সে এমন এক ভূমিতে নিহত হয়েছে যেখানে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত সর্বপ্রথম শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন: অতঃপর তারা একজন মুসলিম ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যিনি তার কওমের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তিনি যখন মারা গেলেন, তখন বাবেল ভূমিতে তারা তার কবরের চারপাশে অবস্থান নিতে লাগল এবং তার বিয়োগে অত্যন্ত শোকাতুর হলো। যখন ইবলিস এই ব্যক্তির জন্য তাদের শোকাতুর অবস্থা দেখল, তখন সে মানুষের রূপ ধারণ করে তাদের কাছে এলো এবং বলল: আমি এই ব্যক্তির জন্য তোমাদের শোকাতুর অবস্থা দেখছি। আমি কি তোমাদের জন্য তার মতো একটি প্রতিকৃতি তৈরি করে দেব যা তোমাদের মজলিসে থাকবে এবং তাকে দেখে তোমরা তাকে স্মরণ করবে? তারা বলল: হ্যাঁ। অতঃপর সে তাদের জন্য তার মতো একটি প্রতিকৃতি তৈরি করে দিল। তিনি বলেন: তারা সেটি তাদের মজলিসে স্থাপন করল এবং তাকে স্মরণ করতে লাগল। যখন সে তাদের স্মরণের এই অবস্থা দেখল, তখন সে বলল: আমি কি তোমাদের প্রত্যেকের ঘরে একটি করে প্রতিকৃতি বানিয়ে দেব, যাতে সেটি তোমাদের বাড়িতে থাকে এবং তোমরা তাকে স্মরণ করতে পারো? তারা বলল: হ্যাঁ। তিনি বলেন: সে প্রতিটি পরিবারের জন্য তার মতো একটি করে মূর্তি বা প্রতিকৃতি তৈরি করে দিল। ফলে তারা সেই দিকে মনোযোগী হলো এবং তার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করতে লাগল। তিনি বলেন: অতঃপর তাদের পরবর্তী সন্তানরা যখন বড় হলো, তখন তারা...
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
يرون ما يصنعون به قال وتناسلوا ودَرَسَ أمر ذكرهم إياه حتى اتخذوه إلهًا يعبدونه من دون الله أولاد أولادهم، فكان أول ما عُبِد من دون الله ود الصنم الذي سموه ودًّا.

وقال البخاري في "صحيحه": حدثنا إبراهيم بن موسى، أخبرنا هشام، عن ابن جريج، وقال عطاء: عن ابن عباس رضي الله عنهما صارت الأوثان التي في قوم نوح في العرب بعد، أما ودُّ فكانت لكلب بدومة الجندل، وأما سواع فكانت لهذيل، وأما يغوث فكانت لمراد، ثم لبني غطيف بالجرف عند سبأ، وأما يعوق فكانت لهمدان، وأما نسر فكانت لحمير لآل ذي الكلاع، أسماء رجال صالحين من قوم نوح، فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم أن انصبوا إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون فيها أنصابًا وسموها بأسمائهم ففعلوا، فلم تُعبد حتى إذا هلك أولئك وتَنَسَّخَ العلم عُبِدت.

فهذا ما آل إليه أمر الصور في قوم نوح فمَن بعدهم من المشركين، وأما النصارى فكانوا يعبدون الصور التي لا ظل لها؛ كما في الصحيحين عن عائشة رضي الله عنها أن أم حبيبة وأم سلمة رضي الله عنهما ذكرتا كنيسة رأينها بالحبشة فيها تصاوير فذكرتا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: إن أولئك إذا كان فيهم الرجل الصالح فمات بنوا على قبره مسجدًا وصوَّروا فيه تلك الصور فأولئك شرار الخلق عند الله يوم القيامة.
তারা দেখছিল তারা কী করছে। তিনি বলেন, এরপর তাদের বংশবৃদ্ধি ঘটল এবং তাদের প্রতি স্মরণের বিষয়টি বিস্মৃত হয়ে গেল, এমনকি তাদের নাতি-পুতিরা আল্লাহকে ছেড়ে তাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করল। ফলে আল্লাহর পরিবর্তে সর্বপ্রথম যে মূর্তির উপাসনা করা হয়েছিল তা ছিল 'ওয়াদ্দ' নামক সেই মূর্তিটি।

ইমাম বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে বলেন: ইবরাহিম ইবনে মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হিশাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে জুরাইজ থেকে এবং আতা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের মূর্তিগুলো পরবর্তীতে আরবদের মাঝে চলে আসে। 'ওয়াদ্দ' ছিল দুমাতুল জান্দালে অবস্থিত কালব গোত্রের জন্য, 'সুয়া' ছিল হুযাইল গোত্রের জন্য, 'ইয়াগুস' ছিল মুরাদ গোত্রের জন্য এবং পরবর্তীতে সাবার নিকটবর্তী জুরফ নামক স্থানে বনু গতীফের জন্য, 'ইয়াউক' ছিল হামদান গোত্রের জন্য এবং 'নাসর' ছিল হিমইয়ারের যুল-কালা পরিবারের জন্য। এগুলো ছিল নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের কিছু পুণ্যবান ব্যক্তির নাম। তারা যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়ের মনে এই কুমন্ত্রণা দিল যে, তারা যেন তাদের বসার স্থানগুলোতে কিছু স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করে এবং তাদের নামেই সেগুলোর নামকরণ করে। তারা তা-ই করল। তখন পর্যন্ত সেগুলোর পূজা করা হতো না; কিন্তু যখন সেই প্রজন্ম মারা গেল এবং প্রকৃত জ্ঞান বিলুপ্ত হলো, তখন সেগুলোর পূজা শুরু হয়ে গেল।

নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় এবং তাদের পরবর্তী মুশরিকদের চিত্র বা মূর্তির পরিণাম ছিল এই। আর খ্রিষ্টানদের কথা হলো, তারা ছায়াহীন ছবির (অঙ্কিত ছবি) পূজা করত; যেমনটি সহিহাইন-এ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উম্মে হাবিবা ও উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আবিসিনিয়ায় (হাবশা) দেখা একটি গির্জার কথা উল্লেখ করেন যেখানে বিভিন্ন চিত্র ছিল। তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি বর্ণনা করলে তিনি বললেন: "তাদের রীতি ছিল এই যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো নেককার ব্যক্তি মারা যেতেন, তারা তাঁর কবরের ওপর উপাসনালয় নির্মাণ করত এবং সেখানে ওই চিত্রগুলো অঙ্কন করত। কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট এরাই হবে সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।"
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال الحافظ ابن حجر في "فتح الباري": إنما فعل ذلك أوائلهم؛ ليتأنَّسوا برؤية تلك الصور، ويتذكروا أحوالهم الصالحة فيجتهدوا كاجتهادهم، ثم خلف من بعدهم خُلُوف جهلوا مرادهم، ووسوس لهم الشيطان أن أسلافكم كانوا يعبدون هذه الصور ويعظمونها فاعبدوها، فحذَّر النبي صلى الله عليه وسلم عن مثل ذلك؛ سدًّا للذريعة المؤدية إلى ذلك.

وذكر الحافظ أيضًا أن النصارى كانوا يصورون صورة مريم والمسيح وغيرهما ويعبدونها، وقال أيضًا: كان غالب كفر الأمم من جهة الصور.

وذكر ابن القيم - رحمة الله تعالى - في كتاب "الإغاثة" أمثلة كثيرة من تلاعب الشيطان بالنصارى قال فيها: وتلاعَب بهم في تصوير الصور في الكنائس وعبادتها، فلا تجد كنيسة من كنائسهم تخلو من صورة مريم والمسيح وجرجس وبطرس وغيرهم من القديسين عندهم والشهداء، وأكثرهم يسجدون للصور ويدعونها من دون الله - تعالى - حتى لقد كتب بطريق الإسكندرية إلى ملك الروم كتابًا يحتج فيه للسجود للصور بأن الله - تعالى - أمر موسى عليه السلام أن يصور في قبة الزمان صورة الساروس، وبأن سليمان بن داود لما عمل الهيكل عمل صورة الساروس من ذهب ونصبها داخل الهيكل، ثم قال في كتابه: وإنما مثل هذا مثال الملك يكتب إلى بعض عمَّاله كتابًا فيأخذه العامل ويقبله ويضعه على عينيه ويقوم له لا تعظيمًا للقرطاس
হাফেজ ইবনে হাজার "ফাতহুল বারী" গ্রন্থে বলেন: "তাদের পূর্বসূরিরা এটি কেবল এজন্যই করেছিলেন যাতে এই প্রতিকৃতিগুলো দেখে তারা মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারেন এবং তাদের নেককার পূর্বপুরুষদের পুণ্যময় জীবনধারা স্মরণ করে তাদের মতোই ইবাদতে নিষ্ঠাবান হতে পারেন। এরপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটে যারা তাদের পূর্বসূরিদের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। শয়তান তাদের মনে কুমন্ত্রণা দিল যে, তোমাদের পূর্বপুরুষগণ এই প্রতিকৃতিগুলোর পূজা করতেন এবং এগুলোর প্রতি অতিশয় ভক্তি প্রদর্শন করতেন, সুতরাং তোমরাও এগুলোর পূজা করো। তাই নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এ জাতীয় কাজ থেকে সতর্ক করেছেন, যাতে করে শিরকের দিকে ধাবিত হওয়ার পথ রুদ্ধ করা যায়।"

হাফেজ আরও উল্লেখ করেছেন যে, খ্রিস্টানরা মারিয়াম, মসীহ ও অন্যদের ছবি তৈরি করত এবং সেগুলোর উপাসনা করত। তিনি আরও বলেন: "অতীতের জাতিসমূহের কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার প্রধান কারণ ছিল এই ছবি বা প্রতিকৃতি।"

ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর "ইগাছাহ" গ্রন্থে শয়তান কর্তৃক খ্রিস্টানদের বিভ্রান্ত করার অনেক উদাহরণ উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে বলেন: "শয়তান গির্জাগুলোতে ছবি অঙ্কন ও সেগুলোর উপাসনা করানোর মাধ্যমে তাদের নিয়ে খেলা করেছে। ফলে আপনি তাদের এমন কোনো গির্জা পাবেন না যা মারিয়াম, মসীহ, জর্জ, পিটার এবং তাদের নিকট যারা সাধু ও শহীদ হিসেবে পরিচিত, তাদের প্রতিকৃতিমুক্ত। তাদের অধিকাংশই এসব ছবির সামনে সিজদা করে এবং মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে এগুলোর কাছে প্রার্থনা করে। এমনকি আলেকজান্দ্রিয়ার বিশপ রোম সম্রাটের নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে তিনি ছবির সামনে সিজদা করার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে দাবি করেন যে, মহান আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে 'কুব্বাতুয যামান'-এ সারুসের প্রতিকৃতি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সুলাইমান ইবনে দাউদ যখন 'হাইকাল' নির্মাণ করেন, তখন তিনি স্বর্ণের তৈরি সারুসের প্রতিকৃতি বানিয়ে মন্দিরের অভ্যন্তরে স্থাপন করেছিলেন। এরপর তিনি তাঁর পত্রে বলেন: এটি তো কেবল সেই উদাহরণের মতো, যেখানে কোনো রাজা তাঁর কোনো কর্মচারীর নিকট পত্র লেখেন এবং কর্মচারী সেটি গ্রহণ করে চুম্বন করে, চোখে স্পর্শ করে এবং সেটির সম্মানে দাঁড়িয়ে যায়; এটি কাগজের প্রতি সম্মানের কারণে নয়।"
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
والمداد بل تعظيمًا للملك، كذلك السجود للصور تعظيم لاسم ذلك المصور لا للأصباغ والألوان.

قال ابن القيم - رحمة الله تعالى -: وبهذا المثال بعينه عُبِدت الأصنام، وما ذكره هذا المشرك عن موسى وسليمان عليهما السلام لو صحَّ لم يكن فيه دليل على السجود للصور، وغايته أن يكون بمثابة ما يذكر عن داود أنه نقش خطيئته في كفه كي لا ينساها.

فأين هذا مما يفعله هؤلاء المشركون من التذلل والخضوع والسجود بين يدي تلك الصور، وإنما المثل المطابق لما يفعله هؤلاء المشركون مثال خادم من خدمِ الملك دخل على رجل فوثب الرجل من مجلسه وسجد له وعبده، وفعل به ما لا يصلح أن يفعل إلا مع الملك، وكل عاقل يستجهله ويستحمقه في فعله؛ إذ قد فعل مع عبد الملك ما كان ينبغي له أن يخص به الملك دون عبيده من الإكرام والخضوع والتذلل، ومعلوم أن هذا إلى مقت الملك له وسقوطه من عينه أقرب منه إلى إكرامه ورفع منزلته، كذلك حال مَن سجد لمخلوق أو لصورة مخلوق؛ لأنه عمد إلى السجود الذي هو غاية ما يتوصل به العبد إلى رضا الرب، ولا يصلح الإله ففعله لصورة عبد من عبيده وسوى بين الله وبين عبده في ذلك، وليس وراء هذا في القبح والظلم شيء؛ ولهذا قال - تعالى -: {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} [لقمان: 13]، انتهى.

وقد روى الإمام أحمد في "مسنده" والترمذي في "جامعه" وابن خزيمة
এবং কালি, বরং বাদশাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ; তদ্রূপ প্রতিকৃতির সামনে সেজদা করা সেই চিত্রশিল্পীর নামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, রঙ বা বর্ণের প্রতি নয়।

ইবনুল কায়্যিম - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন - বলেন: এই সদৃশ উদাহরণের মাধ্যমেই মূর্তিপূজা করা হয়েছে। আর এই মুশরিক মূসা ও সুলাইমান (আলাইহিমাস সালাম) সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছে, তা যদি সহীহও হতো, তবে তাতে প্রতিকৃতির সামনে সেজদা করার কোনো দলিল থাকতো না। এর সর্বোচ্চ পর্যায় হতে পারতো দাউদ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার মতো যে, তিনি তাঁর হাতের তালুতে তাঁর ত্রুটিটি খোদাই করেছিলেন যাতে তিনি তা ভুলে না যান।

এই মুশরিকরা ঐ সকল প্রতিকৃতির সামনে যে হীনতা, বশ্যতা এবং সেজদা প্রদর্শন করে, তার সাথে সেই বর্ণনার তুলনা কোথায়? বরং এই মুশরিকরা যা করে তার সঠিক উদাহরণ হলো—বাদশাহর ভৃত্যদের মধ্য থেকে কোনো এক ভৃত্য কোনো এক ব্যক্তির নিকট প্রবেশ করল, আর অমনি সেই ব্যক্তি তার আসন থেকে লাফিয়ে উঠে তাকে সেজদা করল এবং তার উপাসনা করল; আর তার সাথে এমন আচরণ করল যা বাদশাহ ছাড়া অন্য কারো সাথে করা সমীচীন নয়। প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার এই কর্মের কারণে তাকে অজ্ঞ ও নির্বোধ মনে করবে; কেননা সে বাদশাহর দাসের প্রতি এমন সম্মান, আনুগত্য ও বিনয় প্রদর্শন করেছে যা কেবল বাদশাহর জন্যই নির্দিষ্ট রাখা উচিত ছিল, তাঁর দাসদের জন্য নয়। আর এটি সুস্পষ্ট যে, এই আচরণ বাদশাহর নিকট তাকে সম্মানিত করা বা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করার চেয়ে বরং বাদশাহর ক্রোধ অর্জন এবং তাঁর দৃষ্টিতে নিপতিত হওয়ারই অধিক নিকটবর্তী। তদ্রূপ সেই ব্যক্তির অবস্থাও, যে কোনো সৃষ্টিকে বা কোনো সৃষ্টির প্রতিকৃতিকে সেজদা করে; কেননা সে এমন সেজদার আশ্রয় নিয়েছে যা হলো কোনো বান্দার জন্য তার রবের সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বোচ্চ মাধ্যম এবং যা কেবল ইলাহ বা উপাস্য ব্যতীত অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য নয়, কিন্তু সে তা তাঁরই এক দাসের প্রতিকৃতির জন্য নিবেদন করেছে এবং এর মাধ্যমে সে আল্লাহ ও তাঁর দাসের মাঝে সমতা বিধান করেছে। এর চেয়ে জঘন্য ও জুলুম আর কিছু হতে পারে না; আর এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই শিরক এক মহা জুলুম} [সূরা লোকমান: ১৩]। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

ইমাম আহমদ তাঁর "মুসনাদ"-এ, তিরমিযী তাঁর "জামে"-তে এবং ইবনে খুযাইমাহ বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
في كتاب "التوحيد" بإسناد صحيح عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يجمع الله الناس يوم القيامة في صعيد واحد، ثم يطلع عليهم رب العالمين فيقول: ألا يتبع كل أناس ما كانوا يعبدون، فيمثل لصاحب الصليب صليبه، ولصاحب التصوير تصويره، ولصاحب النار ناره، فيتبعون ما كان يعبدون)) الحديث؛ قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.

وفي "مستدرك الحاكم" من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إذا كان يوم القيامة نادى منادٍ: ألا لتلحق كل أمة بما كانت تعبد، فلا يبقى أحدٌ كان يعبد صنمًا ولا وثنًا ولا صورة إلا ذهبوا حتى يتساقطوا في النار …)) الحديث، قال الحاكم: صحيح الإسناد ولم يخرجاه بهذا السياق.

والغرض من هذين الحديثين بيان أن الصور كانت من معبودات المشركين؛ فمنهم مَن كان يعبد الصور المجسمة، ومنهم مَن كان يعبد الصور التي ليس لها ظل.

وإذا عُلِم أن عبادة الأصنام في قوم نوح كان سببها تصوير الصالحين ونصب صورهم في المجالس،
"আত-তাওহীদ" গ্রন্থে সহিহ সনদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সকল মানুষকে এক সমতলে সমবেত করবেন। অতঃপর বিশ্বজগতের প্রতিপালক তাদের সম্মুখে প্রকাশিত হবেন এবং বলবেন: প্রত্যেক সম্প্রদায় যেন তারই অনুসরণ করে যার তারা ইবাদত করত। তখন ক্রুশ পূজারীর সামনে তার ক্রুশকে, প্রতিকৃতি বা চিত্র পূজারীর সামনে তার প্রতিকৃতিকে এবং অগ্নিপূজারীর সামনে তার আগুনকে মূর্তমান করা হবে। ফলে তারা যার ইবাদত করত তারই অনুসরণ করবে।" (হাদিসের শেষ পর্যন্ত); ইমাম তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ।

এবং "মুস্তাদরাক আল-হাকিম"-এ আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কিয়ামতের দিন হবে, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা করবেন: প্রত্যেক উম্মত যেন তার সাথে মিলিত হয় যার সে ইবাদত করত। তখন প্রতিমা, মূর্তি বা প্রতিকৃতির ইবাদতকারী এমন কেউ অবশিষ্ট থাকবে না যারা জাহান্নামে গিয়ে পতিত হবে না ..." (হাদিসের শেষ পর্যন্ত), ইমাম হাকিম বলেন: এর সনদ সহিহ, তবে ইমাম বুখারি ও মুসলিম এই শব্দবিন্যাসে হাদিসটি বর্ণনা করেননি।

এই হাদিসদ্বয়ের উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, প্রতিকৃতি বা ছবিসমূহ মুশরিকদের উপাস্য বস্তুর অন্তর্ভুক্ত ছিল; তাদের মধ্যে কেউ ত্রিমাত্রিক বা ছায়াবিশিষ্ট মূর্তির পূজা করত, আবার কেউ ছায়াহীন প্রতিকৃতির পূজা করত।

আর যখন এটি জানা গেল যে, নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের মধ্যে মূর্তিপূজার মূল কারণ ছিল পুণ্যবান ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি অঙ্কন করা এবং মজলিসসমূহে তাদের ছবি বা মূর্তি স্থাপন করা,
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعُلِم أيضًا أن النصارى كانوا يصورون صور القديسين عندهم ويسجدون للصور ويدعونها من دون الله - تعالى - فما يؤمن جُهَّال المسلمين أن يكون في أولادهم وأولاد أولادهم مَن يعبد الصور التي ينصبونها في مجالسهم ودكاكينهم، ولا سيما صور الملوك والوزراء، ونحوهم من الكبراء الذين قد افتتن السفهاء بتصويرهم ونصب صورهم في المجالس والدكاكين أكثر مما افتتنوا بغيرهم.

وأعظم من ذلك أنه قد اتخذ نصب صور بعضهم رسميًّا في كثير من المجالس الرسمية في زماننا وهذا عين المحادة لله - تعالى - ولرسوله صلى الله عليه وسلم وقد قال الله - تعالى -: {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ذَلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 63].

وما يفعله هؤلاء العصاة من تصوير الكبراء ونصب صورهم في المجالس وغيرها لا يشك عاقل شمَّ أدنى رائحة من العلم النافع أنه مثل ما فعله قوم نوح من تصوير الصالحين ونصب صورهم في المجالس سواء بسواء؛ وهذا مصداق قوله صلى الله عليه وسلم ((لا تقوم الساعة حتى تأخذ أمتي بأخذ القرون قبلها شبرًا بشبر وذراعًا بذراع)).
আরও জানা যায় যে, খ্রিস্টানরা তাদের পুণ্যবান ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি তৈরি করত এবং সেই প্রতিকৃতিগুলোর সামনে সিজদা করত ও আল্লাহ তাআলাকে বাদ দিয়ে সেগুলোকে আহ্বান করত। এমতাবস্থায় মূর্খ মুসলিমদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটা বিচিত্র নয় যে, তাদের সন্তান ও বংশধরদের মাঝে এমন কেউ বের হবে যারা সেইসব প্রতিকৃতির পূজা করবে যা তারা তাদের সভা-মজলিস ও দোকানপাটে স্থাপন করে; বিশেষ করে রাজা-বাদশাহ, মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি, যাদের ছবি তোলা ও মজলিসে স্থাপন করার ফিতনায় নির্বোধ লোকেরা অন্যদের তুলনায় অধিক মোহগ্রস্ত হয়েছে।

এর চেয়েও গুরুতর বিষয় হলো, বর্তমান যুগে অনেক আনুষ্ঠানিক মজলিসে কতক ব্যক্তির প্রতিকৃতি স্থাপনকে দাপ্তরিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে; আর এটি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সরাসরি বিরোধিতার শামিল। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, যাতে সে চিরকাল থাকবে? এটিই হলো চরম লাঞ্ছনা।” [আত-তাওবাহ: ৬৩]।

এই পাপাচারীরা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ছবি তোলা এবং মজলিস ও অন্যান্য স্থানে তা স্থাপন করার মাধ্যমে যা করছে, উপকারী ইলমের সামান্যতম ঘ্রাণ পেয়েছেন এমন কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এতে সন্দেহ করবেন না যে, এটি নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের পুণ্যবান ব্যক্তিদের ছবি তৈরি ও মজলিসগুলোতে তা স্থাপন করার কাজের সাথে হুবহু সদৃশ। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীরই বাস্তব প্রতিফলন: “ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না আমার উম্মত পূর্ববর্তী জাতিগুলোর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে—প্রতিটি বিঘত ও প্রতিটি হাতের মাপে।”
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১৮)
وما وقع من قوم نوح والنصارى وغيرهم من الشرك الأكبر بسبب الصور لا يبعد أن يقع مثله في آخر هذه الأمة؛ فالواجب على ولاة أمور المسلمين أن يمنعوا رعاياهم من صناعة التصاوير واتخاذها، وأن يطمسوا ما يوجد منها؛ عملاً بقول النبي صلى الله عليه وسلم لعلي رضي الله عنه: ((لا تدع صورة إلا طمستها)).

وقد أخبر الله تبارك وتعالى عن خليله إبراهيم عليه الصلاة والسلام أنه قال: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَنْ نَعْبُدَ الأَصْنَامَ} [إبراهيم: 35].

فإذا كان خليل الرحمن أمام الحنفاء ووالد مَن بعده من الأنبياء قد خاف على نفسه وعلى بنيه من عبادة الأصنام، مع أنه قد كسرها بيده، مع أنه كان معصومًا عن عبادتها، فكيف لا يخاف عبادتها من ليس بمعصوم؟!

ولهذا قال: إبراهيم التيمي: ومَن يأمن البلاء بعد إبراهيم؛ رواه ابن جرير وابن أبي حاتم.

 

ومن أعظم أسباب البلاء نصب الصور في المجالس والدكاكين وغيرها مما قد افتتن به كثير من الناس في هذه الأزمان، و‌‌الصور داخله في مسمى الأصنام عند أهل اللغة؛ فتدخل فيما دعا إبراهيم ربه أن يجنبه وبنيه عبادتها.
নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কওম, নাসারা এবং অন্যান্যদের মাঝে ছবির কারণে যে বড় শিরক সংঘটিত হয়েছিল, এই উম্মতের শেষ যুগেও তদ্রূপ ঘটা অসম্ভব নয়। সুতরাং মুসলিম শাসকদের কর্তব্য হলো তাদের প্রজাদের ছবি নির্মাণ ও তা গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা এবং বিদ্যমান ছবিগুলো মুছে ফেলা; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার অনুসরণে: "কোনো ছবি পেলেই তা না মুছে ছাড়বে না।"

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর খলিল ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি বলেছিলেন: "স্মরণ করো যখন ইব্রাহিম বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন।" [সুরা ইব্রাহিম: ৩৫]।

যদি রহমানের খলিল, একনিষ্ঠ তাওহিদবাদীদের ইমাম এবং পরবর্তী নবীদের পিতা তাঁর নিজের ও তাঁর সন্তানদের জন্য মূর্তিপূজার ভয় করে থাকেন—অথচ তিনি নিজ হাতে সেগুলো ভেঙেছিলেন এবং তা পূজা করা থেকে সুরক্ষিত ছিলেন—তবে যে ব্যক্তি সুরক্ষিত নয়, সে কীভাবে মূর্তিপূজার ভয় করবে না?!

এ কারণেই ইব্রাহিম আত-তাইমি বলেছেন: ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পর আর কে বিপদমুক্ত থাকার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে? এটি ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন।

 

বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ যে ফিতনায় নিপতিত হয়েছে, তার অন্যতম বড় কারণ হলো মজলিস, দোকানপাট এবং অন্যান্য স্থানে ছবি টাঙিয়ে রাখা। ভাষাবিদদের নিকট ছবিও মূর্তির সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং এটি সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে দূরে থাকার জন্য ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবের কাছে দুআ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال ابن الأثير: قد تكرر ذكر الصنم والأصنام وهو ما اتُّخِذ إلهًا من دون الله، وقيل: هو ما كان له جسم أو صورة، فإن لم يكن له جسم أو صورة فهو وثن.

وقال أيضًا: الفرق بين الوثن والصنم أن الوثن كل ما له جثة معمولة من جواهر الأرض أو من الخشب والحجارة كصورة الآدمي تعمل وتنصب فتعبد، والصنم الصورة بلا جثة، ومنهم مَن لم يفرق بينهما وأطلقهما على المعنيين، وقد يطلق الوثن على غير الصورة، ومنه حديث عدي بن حاتم: قدمت على النبي صلى الله عليه وسلم وفي عنقي صليب من ذهب فقال لي: ((ألقِ هذا الوثن عنك)).

قلت: هذا الحديث رواه البخاري في "التاريخ الكبير"، والترمذي وقال: حسن غريب.

ومن إطلاق الوثن على الصليب قول الأعشى:

يَطُوفُ العُفَاةُ بِأَبْوَابِهِ كَطَوْفِ النَّصَارَى بِبَيْتِ الوَثَنْ

قال الأزهري: عن شمر: أراد بالوثن الصليب، نقله عنه ابن منظور في "لسان العرب".

قال الحافظ ابن حجر: بين الوثن والصنم عموم وخصوص وجهي؛ فإن كان مصورًا فهو وثن وصنم، انتهى.

وقد جاء عن على رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه سمى
ইবনুল আসীর বলেন: 'সানাম' ও 'আসনাম' (মূর্তি) শব্দের উল্লেখ বারবার এসেছে। এটি হলো এমন কিছু যা আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। বলা হয়েছে: যার দেহ বা প্রতিকৃতি রয়েছে তা-ই 'সানাম'; আর যদি দেহ বা প্রতিকৃতি না থাকে তবে তা 'ওয়াসান' (প্রতিমা)।

তিনি আরও বলেন: 'ওয়াসান' ও 'সানাম'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো—'ওয়াসান' হলো ভূমির উপাদান অথবা কাঠ ও পাথর দিয়ে তৈরি দেহবিশিষ্ট বস্তু, যেমন মানুষের আকৃতিতে তৈরি করে স্থাপন করা হয় এবং উপাসনা করা হয়। আর 'সানাম' হলো দেহহীন প্রতিকৃতি। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি এবং উভয় অর্থেই শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন। কখনো কখনো প্রতিকৃতিহীন বস্তুর ক্ষেত্রেও 'ওয়াসান' শব্দ ব্যবহৃত হয়। এর প্রমাণ আদি ইবনে হাতিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস: তিনি বলেন, আমি যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম, তখন আমার গলায় একটি স্বর্ণের ক্রুশ ছিল। তখন তিনি আমাকে বললেন: "তোমার থেকে এই প্রতিমাটি (ওয়াসান) ছুঁড়ে ফেলে দাও।"

আমি বলছি: এই হাদিসটি ইমাম বুখারী তাঁর 'আত-তারিখুল কাবীর' গ্রন্থে এবং ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে 'হাসান গারীব' বলেছেন।

ক্রুশের ক্ষেত্রে 'ওয়াসান' শব্দের প্রয়োগ হিসেবে আল-আশার পঙক্তিটি উল্লেখযোগ্য:

অভাবীরা তাঁর দুয়ারে এমনভাবে প্রদক্ষিণ করে, যেমন নাসারারা (খ্রিস্টানরা) তাঁদের উপাসনালয়ের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে।

আল-আযহারী শাম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি 'ওয়াসান' বলতে এখানে ক্রুশ বুঝিয়েছেন। ইবনে মানযুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: 'ওয়াসান' ও 'সানাম'-এর মধ্যে আংশিক সাধারণ ও আংশিক বিশেষ (উমুম ওয়া খুসুস ওজহি) সম্পর্ক বিদ্যমান। যদি কোনোটি সচিত্র বা রূপবিশিষ্ট হয়, তবে তা একই সাথে 'ওয়াসান' এবং 'সানাম'। সমাপ্ত।

আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নাম দিয়েছেন—
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২০)
الصورة ضمنًا، وسيأتي هذا الحديث في آخر الأحاديث التي ستأتي قريبًا - إن شاء الله تعالى.

إذا تقرر هذا فكيف يستجيز المسلم صناعة الصور ونصبها في مجلسه أو دكانه وهي من الأصنام التي تُعْبَد من دون الله - تعالى؟ وكيف يستحل المسلم بيعها وأكل ثمنها وذلك حرام عليه؛ لما في الصحيحين و"المسند" و"السنن" عن جابر بن عبدالله رضي الله عنهما أنه سمع رسول صلى الله عليه وسلم يقول وهو بمكة عام الفتح: ((إن الله ورسوله حرم بيع الخمر والميتة والخنزير والأصنام …)) الحديث؛ قال الترمذي: حديث حسن صحيح، والعمل على هذا عند أهل العلم؟

وقال الخطابي: في تحريمه ثمن الأصنام دليلٌ على تحريم بيع جميع الصور المتَّخذة من الطين والخشب والحديد والذهب والفضة وما أشبه ذلك من اللعب ونحوها.

 

قلت: وكذلك فيه دليل على‌‌ تحريم بيع الصور المرقومة والمأخوذة بالآلة الفوتوغرافية؛ لأنها من جملة الأصنام.

ومن أعظم الصور تحريمًا على البائع المبتاع والمتَّخذ ما يُصْنَع في زماننا من المطاط على صور النساء فإذا نفخت لم يفرق الرائي بينها وبين الآدميات في الصورة الظاهرة، وكثير من الكَفَرة ومَن فسَّاق المسلمين يستعملونها للجماع بدل الآدميات، وذلك حرام كالزنا، وقد فشا بيعها وابتياعها في كثير من البلدان التي ينتسب أهلها
প্রতিকৃতিটি এর অন্তর্ভুক্ত, এবং এই হাদিসটি অতি শীঘ্রই আগত হাদিসগুলোর শেষে আসবে - ইনশাআল্লাহ।

যদি এটিই সাব্যস্ত হয়, তবে একজন মুসলিম কীভাবে প্রতিকৃতি নির্মাণ করা এবং তা তার বৈঠকখানায় বা দোকানে স্থাপন করা বৈধ মনে করতে পারে, অথচ তা সেই সব মূর্তির পর্যায়ভুক্ত যেগুলোর আল্লাহ তাআলা ব্যতিরেকে উপাসনা করা হয়? আর একজন মুসলিম কীভাবে এগুলো বিক্রি করা এবং এর লব্ধ মূল্য ভোগ করাকে হালাল মনে করতে পারে, অথচ তা তার জন্য হারাম; কেননা সহীহাইন, "মুসনাদ" এবং "সুনান" গ্রন্থসমূহে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মক্কায় থাকাকালীন বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল মদ, মৃত জীব, শূকর এবং মূর্তি বিক্রি হারাম করেছেন ..." (হাদিস); ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ, এবং বিজ্ঞ আলেমগণের নিকট এর ওপরই আমল সাব্যস্ত রয়েছে।

ইমাম খাত্তাবী বলেছেন: মূর্তির মূল্য হারাম হওয়ার বিষয়টি মাটি, কাঠ, লোহা, সোনা, রুপা এবং অনুরূপ খেলনা ও এই জাতীয় বস্তু দ্বারা নির্মিত সকল প্রতিকৃতি বিক্রি হারাম হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

 

আমি বলছি: একইভাবে এতে অঙ্কিত এবং ক্যামেরার মাধ্যমে গৃহীত প্রতিকৃতি বিক্রির অবৈধতার দলিল রয়েছে; কেননা সেগুলো মূর্তিরই শ্রেণিভুক্ত।

বিক্রেতা, ক্রেতা এবং ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে জঘন্য ও হারাম প্রতিকৃতিসমূহের মধ্যে একটি হলো আমাদের যুগে রবার দিয়ে তৈরি নারীদের অবয়ব; যখন এগুলোতে বাতাস পূর্ণ করা হয়, তখন দর্শক বাহ্যিক অবয়বে এগুলোকে রক্ত-মাংসের মানুষের থেকে আলাদা করতে পারে না। অনেক কাফের এবং মুসলিম পাপাচারীরা এগুলোকে মানুষের বিকল্প হিসেবে মৈথুনের কাজে ব্যবহার করে, যা ব্যভিচারের মতোই হারাম। আর এর ক্রয়-বিক্রয় এমন অনেক জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানকার অধিবাসীরা নিজেদের ইসলামের অনুসারী হিসেবে দাবি করে...
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২১)
إلى الإسلام من غير نكير إلا أن يكون من أفراد قليلين مستضعفين لا يؤبه لهم ولا يستمع إلى قولهم، فالله المستعان.

وبائع هذه الصور الفتانة قد جمع بين إثمين عظيمين؛ أحدهما: بيع الأصنام، والثاني: الإعانة على فعل الفاحشة، إذ قد ثبت أنها تثير شهوة الرجال كما تثيرها الحسناء من الآدميات، وتدعو ذوي القلوب المريضة إلى الفجور بها كما تدعو إلى ذلك الحسناء من الآدميات.

وقد نص العلماء على أنه لا يجوز بيع الأمرد ممَّن علم أنه يفجر به، ولا يبع الأمة ممَّن يطؤها في الدبر، وهكذا يقال في بيع صور النساء والمردان؛ لأن الغالب على مشتريها أنه إنما يشتريها لفعل الفاحشة بها.

وقد حرم الله تبارك وتعالى جماع ما عدا الزوجات والسراري؛ فقال - تعالى - في وصف المؤمنين: {وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ * إِلَاّ عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ * فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ} [المؤمنون: 5 - 7].

فدلت الآية الثانية بمفهومها على أن الجامعِين للصور المصنوعة ملومون على جماعها، ودلت الآية الثالثة بالنص على أنهم عادون - والله أعلم.

فإن قال جاهل: إن الصور المصنوعة من ملك اليمين فيجوز وطئها
ইসলামের প্রতি কোনো প্রকার প্রতিবাদ ছাড়াই, কেবল গুটিকয়েক দুর্বল ও স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তি ছাড়া যাদের প্রতি কেউ ভ্রুক্ষেপ করে না এবং যাদের কথা শোনা হয় না; আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।

আর এই বিভ্রান্তিকর ছবিগুলোর বিক্রেতা দুটি মহাপাপকে একত্রিত করেছেন; তার একটি হলো: মূর্তিবিক্রয়, এবং দ্বিতীয়টি হলো: অশ্লীল কাজে সহায়তা করা। কেননা এটি প্রমাণিত যে, এই ছবিগুলো পুরুষের কামভাবকে ঠিক সেভাবেই উত্তেজিত করে যেভাবে মানবজাতির রূপসী নারীরা করে থাকে। আর তা ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরের অধিকারীদের পাপাচারের দিকে প্ররোচিত করে, যেমনটি রূপসী নারীরা প্ররোচিত করে থাকে।

আলেমগণ সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এমন ব্যক্তির কাছে কোনো সুদর্শন বালককে বিক্রয় করা বৈধ নয় যে তার সাথে পাপাচার করবে বলে জানা যায়। তেমনিভাবে এমন ব্যক্তির কাছে কোনো দাসী বিক্রয় করা যাবে না যে তার সাথে পায়ুকামে লিপ্ত হবে। নারী ও সুদর্শন বালকদের ছবির বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য; কারণ এই ধরনের ছবির ক্রেতাদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় দেখা যায় যে, তারা এগুলো কেবল অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যেই ক্রয় করে থাকে।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা স্ত্রী এবং দাসী ব্যতীত অন্য কারো সাথে যৌন মিলন হারাম করেছেন। মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে হিফাযত করে। তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে (দাসী), তাদের ক্ষেত্রে তারা তিরস্কৃত হবে না। সুতরাং যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করবে, তারাই হলো সীমা লঙ্ঘনকারী।" [আল-মুমিনুন: ৫-৭]।

সুতরাং দ্বিতীয় আয়াতের মর্মার্থ দ্বারা এটি নির্দেশিত হয় যে, যারা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি ছবির সাথে কামাচারে লিপ্ত হয় তারা তিরস্কৃত হবে। আর তৃতীয় আয়াতের সুষ্পষ্ট পাঠের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, তারা সীমা লঙ্ঘনকারী—আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

এখন কোনো মূর্খ ব্যক্তি যদি বলে যে: কৃত্রিম ছবিগুলোও তো মালিকানাধীন সম্পদের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং এগুলোর সাথে কামাচার করা বৈধ—
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২২)
فالجواب من وجهين:

أحدهما: أن الصور من الأصنام كما تقدم بيان ذلك قريبًا، سواء في ذلك الجسد منها وغير الجسد، والأصنام لا تدخل في ملك اليمين أصلاً لا بصناعة ولا ابتياع، ولا اتهاب ولا إرث، ولا غير ذلك من أسباب التملك؛ لأنها محرمة من جميع الوجوه فصناعتها حرام وبيعها حرام وابتياعها حرام واتخاذها حرام، ومتى وجدت فالواجب إتلافها؛ لأنها من أعظم المنكرات.

الثاني: أن ملك اليمين الذي أباحه الله تبارك وتعالى في الآية الكريمة خاصٌّ بالآدميات فيجوز للمالك وإذا خلون من الموانع ما عداهن من ملك اليمين فهو حرام كالغلمان والبهائم، ومثل الغلمان في التحريم أدبار الإماء، كما تدل على ذلك أحاديث كثيرة ليس هذا موقع ذكرها.

* * *

 

فصل

 

و‌‌من المنكر المستهجَن تقبيل الصور المصنوعة على صور النساء والمردان الحسان كما يُذْكَر ذلك عن بعض السفهاء، وكما أن هذا مستقبح عند كل عاقل فهو أيضًا من أنواع الزنا، كما في حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((والفم يزني وزناه القُبَل))؛ رواه أبو داود بإسناد جيد، وأصله في مسلم.

* * *
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে, প্রতিকৃতি বা ছবি মূর্তির অন্তর্ভুক্ত, চাই তা ত্রিমাত্রিক দেহের অধিকারী হোক কিংবা দেহহীন। আর মূর্তি কোনোভাবেই শরয়ি মালিকানাভুক্ত সম্পদের (মিলকুল ইয়ামিন) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না; তা নির্মাণ, ক্রয়, দান গ্রহণ, উত্তরাধিকার কিংবা মালিকানা অর্জনের অন্য কোনো মাধ্যমেই হোক না কেন। কেননা এগুলো সর্বতোভাবে হারাম; এগুলোর নির্মাণ হারাম, ক্রয়-বিক্রয় হারাম এবং এগুলো সংরক্ষণ করাও হারাম। তাই যখনই এগুলো পাওয়া যাবে, তা ধ্বংস করে ফেলা ওয়াজিব; কারণ এগুলো অন্যতম গুরুতর গর্হিত কাজ (মুনকার)।

দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহ পবিত্র আয়াতে যে ‘মিলকুল ইয়ামিন’ বা অধিকারভুক্ত দাসীর কথা বৈধ করেছেন, তা কেবল মানবজাতির নারীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট। সুতরাং মালিকের জন্য (শারীরিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলে) কেবল তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন জায়েয। তারা ব্যতীত অন্য যা কিছু মালিকানাধীন আছে, যেমন কিশোর বালক বা চতুষ্পদ জন্তু—তাদের সাথে এমন আচরণ হারাম। কিশোর বালকদের সাথে কুকর্মের ন্যায় দাসীদের গুহ্যদ্বার ব্যবহার করাও হারামের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, যা এখানে সবিস্তারে উল্লেখ করার অবকাশ নেই।

* * *

 

পরিচ্ছেদ

 

এবং নারী ও সুদর্শন কিশোরদের আদলে তৈরি প্রতিকৃতি বা ছবি চুম্বন করা এক জঘন্য ও গর্হিত কাজ, যা কিছু নির্বোধ লোকের ক্ষেত্রে শোনা যায়। প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তির নিকট এটি যেমন ঘৃণ্য, তেমনি এটি যিনারও একটি প্রকার। যেমনটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আর মুখ যিনা করে এবং এর যিনা হলো চুম্বন"; এটি ইমাম আবু দাউদ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল বর্ণনা সহীহ মুসলিমে রয়েছে।

* * *
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
فصل

ومن أعظم المنكرات وأقبح التهوُّكات ما يُفْعَل في بعض الأقطار التي ينتسب أهلها إلى الإسلام من فتح المدارس لتعليم صناعة التصوير الملعون فاعله، ويسمون تلك المدارس الفنون الجميلة.

وكل مَن في قلبه حياة وله أدنى معرفة بما بعث الله به رسوله محمدًا صلى الله عليه وسلم لا يشك أن فتح تلك المدارس والتعليم والتعلم فيها هو عين المحادة لله - تعالى - ولرسوله صلى الله عليه وسلم وقد قال الله - تعالى -: {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ذَلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 63].

ومن القبائح والفضائح التي ذُكِرت عن تلك المدارس المؤسسة على معصية الله - تعالى - ومعصية رسوله صلى الله عليه وسلم أنهم يصوِّرون فيها الفاجرات الماجنات عاريات على أوضاع مختلفة؛ قائمات، وقاعدات، ومضطجعات، وهذا عين ما يفعله أهل الخلاعة من دول الإفرنج وغيرهم من أعداء الله - تعالى - ومَن تشبه بقوم فهو منهم، وفي هذه الأفعال الشنيعة من الترغيب في الفجور والدعاء إلى الإباحية ما لا يخفي على عاقل.

وقد روى البخاري في "صحيحه" وأبو داود وابن ماجه في سننيهما عن أبي مسعود عقبة بن عمرو البدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن مما أدرك الناس من كلام النبوة الأولى إذا لم تستح فاصنع ما شئت))،
পরিচ্ছেদ

সবচেয়ে বড় অপকর্ম এবং অত্যন্ত জঘন্য সীমালঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত হলো ইসলামের দাবিদার একদল লোক অধ্যুষিত কিছু জনপদে এমন সব শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে চিত্রাঙ্কন বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া হয়, যার কারিগর অভিশপ্ত। তারা সেই সব প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেছে ‘চারুকলা’।

যাঁদের অন্তরে প্রাণস্পন্দন বিদ্যমান এবং মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যা দিয়ে প্রেরণ করেছেন সে সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে, তাঁদের কারোরই এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে, এই সব স্কুল খোলা এবং সেখানে শিক্ষা দান ও শিক্ষা গ্রহণ করা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতা ও শত্রুতারই নামান্তর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে; এটিই চরম লাঞ্ছনা।} [সূরা আত-তাওবাহ: ৬৩]।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ঐ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জঘন্য ও কলঙ্কজনক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, সেখানে তারা পাপাচারী ও নির্লজ্জ নারীদের নগ্ন অবস্থায় বিভিন্ন ভঙ্গিতে চিত্রিত করে; যেমন—দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায়। এটি হুবহু সেই কাজ যা ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহের পাপাচারী এবং আল্লাহ তাআলার অন্যান্য শত্রুরা করে থাকে। আর যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পাপাচারের প্রতি প্রলুব্ধ করা এবং অবাধ অনাচারের প্রতি আহ্বান করার বিষয়টি কোনো বিবেকবান মানুষের কাছে অস্পষ্ট নয়।

ইমাম বুখারী তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এবং আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ তাঁদের ‘সুনান’ গ্রন্থদ্বয়ে আবু মাসউদ উকবা বিন আমর আল-বাদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ((পূর্ববর্তী নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে মানুষ যা পেয়েছে তার অন্যতম হলো: যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছে তা-ই করো)),
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
وتفسيره على أحد الأقوال: أن الذي لا يستحي يفعل ما شاء من القبائح ولا يبالي، وهكذا أهل تلك المدارس الملعونة هي وأهلها لا يبالون بفعل القبائح؛ إذ لا دين يردعهم عما حرمه الله - تعالى - ورسوله صلى الله عليه وسلم ولا حياء ولا مروءة يمنعانهم من تعاطي الأمور القبيحة.

وقد قال الله - تعالى -: {أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَنًا فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَصْنَعُونَ} [فاطر: 8].

وقال - تعالى -: {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ} [الأعراف: 179].

* * *

 

فصل

 

وقد تواترت‌‌ الأدلة على تحريم التصوير ومشروعية طمْس الصور، وفيها الوعيد الشديد للمصورين، والأخبار بأن الملائكة لا تدخل بيتًا فيه صورة.

وقد تقدم ما رواه أبو نعيم في "الحلية" وذكره غير واحد من المفسرين عن عكرمة في قول الله - تعالى -: {إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُهِينًا} [الأحزاب: 57]، قال: هم أصحاب التصاوير.
এর ব্যাখ্যা একটি মতানুসারে এই: যার লজ্জা নেই সে নিজের ইচ্ছামতো কুৎসিত কর্মে লিপ্ত হয় এবং কোনো পরোয়া করে না; আর ওই সকল অভিশপ্ত শিক্ষালয় ও তার অনুসারীদের অবস্থাও তদ্রূপ, তারা কদর্য কর্মে লিপ্ত হতে দ্বিধা করে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা হারাম করেছেন তা থেকে বিরত রাখার মতো কোনো দীন তাদের নেই, আর কোনো লজ্জা বা ব্যক্তিত্ববোধও তাদের মন্দ কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বাধা দেয় না।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যাকে তার মন্দ কাজ শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে তাকে উত্তম মনে করে (সে কি হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতো?)। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। সুতরাং তাদের জন্য আক্ষেপ করে আপনার প্রাণ যেন বিনাশ না হয়; তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।} [ফাতির: ৮]।

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {আর আমি অবশ্যই জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট; তারাই হলো গাফেল বা উদাসীন।} [আল-আরাফ: ১৭৯]।

* * *

 

পরিচ্ছেদ

 

আর প্রতিকৃতি নির্মাণ হারাম হওয়ার দলিলাদি ও ছবি মিটিয়ে ফেলার বিধান ধারাবাহিকভাবে (তাওয়াতুর সূত্রে) বর্ণিত হয়েছে, এবং তাতে চিত্রকরদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে এবং এ মর্মে সংবাদ রয়েছে যে, ফেরেশতারা এমন গৃহে প্রবেশ করেন না যেখানে কোনো প্রতিকৃতি থাকে।

আর ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যা আবু নুআইম 'আল-হিলয়্যাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একাধিক মুফাসসির ইকরিমা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের প্রতি লানত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} [আল-আহযাব: ৫৭]। তিনি বলেন: তারা হলো প্রতিকৃতি তৈরিকারীরা।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما الأحاديث: فالأول منها ما رواه الإمام أحمد والشيخان عن أبي زرعة بن عمرو بن جرير قال: دخلت مع أبي هريرة دار مروان بن الحكم فرأى فيها تصاوير وهي تبنى فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((بقول الله عز وجل: ومَن أظلم ممن ذهب يخلق خلقًا كخلقي، فليخلقوا ذرة، أو فليخلقوا حبة، أو ليخلقوا شعيرة))، وهذا لفظ أحمد، ولفظ مسلم ونحوه.

ولفظ البخاري قال: دخلت مع أبي هريرة دارًا بالمدينة فرأى في أعلاها مصورًا يصور فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((ومَن أظلم ممن ذهب يخلق كخلقي، فليخلقوا حبة، وليخلقوا ذرة)).

وروى أيضًا المرفوع منه في موضع آخر من "صحيحه" بنحو رواية أحمد ومسلم، ورواه الإمام أحمد أيضًا من حديث أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((قال الله عز وجل: ومَن أظلم ممن يخلق كخلقي، فليخلقوا بعوضة، أو ليخلقوا ذرة)).

وقال الحافظ ابن حجر في "فتح الباري": قوله: ((كخلقي)) التشبيه في فعل الصورة وحدها لا من كل الوجوه، وقال أيضًا: نسب الخلق إليهم على سبيل الاستهزاء أو التشبيه في الصورة فقط.

قلت: والأخير أقرب - والله اعلم.
আর হাদিসসমূহের বিষয় হলো: এগুলোর মধ্যে প্রথমটি ইমাম আহমাদ এবং শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) আবু যুরআ বিন আমর বিন জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে মারওয়ান বিন হাকামের বাড়িতে প্রবেশ করলাম। সেখানে তিনি কিছু চিত্র দেখতে পেলেন যা তখন নির্মাণ করা হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল বলেন: সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো কোনো কিছু সৃষ্টি করার প্রয়াস চালায়? তারা পারলে একটি অণু সৃষ্টি করুক, অথবা একটি শস্যদানা সৃষ্টি করুক, কিংবা একটি যব সৃষ্টি করুক।" এটি আহমাদের শব্দমালা, এবং মুসলিমের শব্দমালাও এর অনুরূপ।

আর বুখারীর শব্দমালা হলো, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে মদীনার একটি বাড়িতে প্রবেশ করলাম। তিনি সেটির ওপরের অংশে একজন চিত্রকরকে চিত্র অঙ্কন করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে যায়? তারা পারলে একটি শস্যদানা সৃষ্টি করুক এবং একটি অণু সৃষ্টি করুক।"

তিনি (বুখারী) তাঁর "সহীহ" গ্রন্থের অন্য স্থানেও এর মারফু বর্ণনাটি ইমাম আহমাদ ও মুসলিমের বর্ণনার অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম আহমাদও আবু সালামাহর সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল বলেছেন: সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করে? তারা পারলে একটি মশা সৃষ্টি করুক অথবা একটি অণু সৃষ্টি করুক।"

হাফেজ ইবনে হাজার "ফাতহুল বারী" গ্রন্থে বলেন: তাঁর উক্তি "আমার সৃষ্টির মতো" - এখানে সাদৃশ্য কেবল রূপ বা আকৃতি গঠনের ক্ষেত্রে, সব দিক থেকে নয়। তিনি আরও বলেন: সৃষ্টির কাজকে তাদের প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে উপহাস স্বরূপ অথবা কেবল আকৃতিগত সাদৃশ্যের কারণে।

আমি বলি: শেষোক্ত বিষয়টিই অধিকতর সঠিক বলে মনে হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
وفي هذا الحديث القدسي عدة فوائد؛ إحداها: تحريم التصوير لما فيه من المضاهاة بخلق الله - تعالى - وذلك من أعظم الظلم.

وقد روى مسلم في "صحيحه" والبخاري في "الأدب المفرد" وأبو داود الطيالسي في "مسنده" من حديث أبي ذر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما يروى عن الله تبارك وتعالى أنه قال: يا عبادي، إني حرمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرمًا فلا تظالموا.

قال النووي - رحمه الله تعالى -: قال أصحابنا وغيرهم من العلماء: تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر؛ لأنه مُتَوَعَّد عليه بهذا الوعيد الشديد المذكور في الأحاديث، وسواء صنعه بما يمتهن أو بغيره فصنعته حرام بكل حال؛ لأن فيه مضاهاة لخلق الله، وسواء ما كان في ثوب أو بساط أو درهم أو دينار أو فلس أو إناء أو حائط أو غيرها.

قال: ولا فرق في هذا كله بين ماله ظل وما لا ظل له، هذا تلخيص مذهبنا في المسألة وبمعناه قال جماهير العلماء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم، وهو مذهب الثوري ومالك وأبي حنيفة وغيرهم.

وقال بعض السلف: إنما ينهى عما كان له ظل، ولا بأس بالصورة التي ليس لها ظل، وهذا مذهب باطل، انتهى.

وستأتي تتمة كلامه مع الكلام على حديث عائشة رضي الله عنها، إن شاء الله تعالى.

 

الثانية: أن‌‌ التصوير من الكبائر؛ كما يدل على ذلك قول الله - تعالى -
এই হাদীসে কুদসীতে বেশ কিছু শিক্ষা বা উপকারিতা রয়েছে; যার অন্যতম হলো: চিত্রাঙ্কন বা ছবি নির্মাণ হারাম হওয়া, কারণ এতে মহান আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সদৃশ করার প্রয়াস থাকে—আর এটিই হলো সর্বাপেক্ষা বড় জুলুম।

মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে, বুখারী তাঁর "আল-আদাবুল মুফরাদ" গ্রন্থে এবং আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর "মুসনাদ" গ্রন্থে আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান বরকতময় আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: হে আমার বান্দারা, আমি নিজের ওপর জুলুমকে হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম সাব্যস্ত করেছি, সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: আমাদের মাযহাবের ইমামগণ এবং অন্যান্য উলামায়ে কিরাম বলেছেন: প্রাণীর ছবি তৈরি করা অত্যন্ত কঠোরভাবে হারাম এবং এটি কবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ হাদীসসমূহে এই কাজের জন্য কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ছবি এমন কোনো বস্তুর ওপর তৈরি করা হোক যা অবজ্ঞা বা তুচ্ছ জ্ঞান করা হয় কিংবা অন্য কিছুতে—সব অবস্থাতেই এর নির্মাণ হারাম। কেননা এতে আল্লাহর সৃষ্টির সদৃশ করার প্রয়াস রয়েছে। চাই তা কাপড়, বিছানা, দিরহাম, দিনার, পয়সা, পাত্র, দেওয়াল বা অন্য যেকোনো কিছুর ওপরই হোক না কেন।

তিনি বলেন: এ সবকিছুর ক্ষেত্রে যার ছায়া আছে (ত্রিমাত্রিক) এবং যার ছায়া নেই (দ্বিমাত্রিক)—উভয় প্রকার ছবির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটিই হলো এই মাসআলায় আমাদের মাযহাবের সারকথা। সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মতও এটাই। এটিই সুফিয়ান আস-সাওরী, মালিক, আবু হানিফা এবং অন্যান্য ইমামদের মাযহাব।

সালাফদের (পূর্বসূরী) কেউ কেউ বলেছেন: কেবল ছায়া বিশিষ্ট ছবিই নিষিদ্ধ, আর যার ছায়া নেই তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটি একটি বাতিল মত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

ইনশাআল্লাহ তাআলা, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদীসের আলোচনার সাথে তাঁর বক্তব্যের অবশিষ্ট অংশ সামনে আসবে।

 

দ্বিতীয়ত: চিত্রাঙ্কন বা ছবি নির্মাণ কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা প্রমাণিত হয়—
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
في هذا الحديث: "ومَن أظلم ممن ذهب يخلق كخلقي"، وغير ذلك من الأدلة الكثيرة، كما سأنبه على كل منها في موضعه - إن شاء الله تعالى.

وقد ذكر بعض الفقهاء أن المصور لا تقبل شهادته؛ لأنه فاسق.

الثالثة: التنفير من التصوير.

الرابعة: الحكم على المصورين بأنهم من أظلم الظالمين؛ لأنهم عمدوا إلى ما اختصَّ به الرب تبارك وتعالى من الخلق والتصوير فصنعوا على مثاله ليضاهئوا بخلق الله، وذلك جور منهم ومجاوزة للحد، ووضع للشيء في غير موضعه وهذا هو حقيقة الظلم، كما نص على ذلك أئمة اللغة وغيرهم من العلماء.

قال الجوهري وغيره من أهل اللغة: الظلم وضع الشيء في غير موضعه، زاد الراغب الأصفهاني: إما بنقصان أو بزيادة، وإما بعدول عن وقته أو مكانه، قال: والظلم في مجاوزة الحق.

وقال الهروي وابن الأثير: أصل الظلم الجور ومجاوزة الحد.

قلت: وهذا القول يرجع إلى ما قاله الجوهري؛ لأن الجور ومجاوزة الحد من وضع الشيء في غير موضعه، إذا كان المعتدي على حقوق الخلق ظالمًا جائرًا فالمصور أَوْلَى بأن يكون ظالمًا جائرًا؛ لأنه قد تعاطى ما ليس له بحقٍّ ونازع الرب تبارك وتعالى في أفعاله وخصائصه التي لا يشركه فيها أحد.
এই হাদিসে এসেছে: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে প্রবৃত্ত হয়", এছাড়াও আরও অনেক দলীল রয়েছে, যেমনটি আমি ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে প্রত্যেকটি সম্পর্কে আলোকপাত করব।

কোনো কোনো ফকিহ উল্লেখ করেছেন যে, ছবি অঙ্কনকারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না; কেননা সে ফাসেক।

তৃতীয়ত: ছবি অঙ্কনের প্রতি ঘৃণা বা অনীহা সৃষ্টি করা।

চতুর্থত: ছবি অঙ্কনকারীদের ওপর এই হুকুমারোপ করা যে, তারা চরম জালেমদের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তারা সৃষ্টি এবং রূপদানের ক্ষেত্রে বরকতময় ও সুউচ্চ রবের সেই বিশেষ গুণের দিকে হাত বাড়িয়েছে যা কেবল তাঁর জন্যই নির্ধারিত। তারা তাঁর সৃষ্টির অনুরূপ তৈরি করে আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সামঞ্জস্য বিধানে সচেষ্ট হয়েছে। এটি তাদের পক্ষ থেকে সীমালঙ্ঘন ও অবিচার এবং কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে স্থাপন করা; আর এটাই হলো জুলুমের প্রকৃত স্বরূপ, যেমনটি ভাষাবিদ ইমামগণ এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরাম সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

জওহারী এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'জুলুম' হলো কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে স্থাপন করা। রাগেব আসফাহানী এতে অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে: তা হয় হ্রাসের মাধ্যমে অথবা বৃদ্ধির মাধ্যমে, নতুবা তার নির্ধারিত সময় বা স্থান থেকে বিচ্যুত করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: 'জুলুম' মূলত সত্য বা ন্যায়কে অতিক্রম করার নাম।

হারাবী এবং ইবনুল আসীর বলেছেন: জুলুমের মূল অর্থ হলো অবিচার এবং সীমালঙ্ঘন।

আমি বলি: এই বক্তব্যটি মূলত জওহারীর বক্তব্যের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; কেননা অবিচার এবং সীমালঙ্ঘন মূলত কোনো বিষয়কে তার অযোগ্য স্থানে স্থাপন করারই নামান্তর। সৃষ্টির অধিকার হরণকারী যদি জালেম ও অনৈসাফকারী হয়, তবে ছবি অঙ্কনকারী জালেম ও অনৈসাফকারী হিসেবে গণ্য হওয়ার অধিকতর যোগ্য; কেননা সে এমন বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে যা করার তার কোনো অধিকার নেই এবং সে বরকতময় ও সুউচ্চ রবের সেই সকল কর্ম ও বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে যা অন্য কারো সাথে তুলনীয় নয়।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
الخامسة: أن في وصف المصورين بالظلم العظيم إشعار بالوعيد الشديد لهم بدليل قول الله - تعالى -: {وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [الشورى: 21].

وفي "صحيح مسلم" و"سنن أبي داود" وابن ماجه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((قال: الله عز وجل: الكبرياء ردائي والعظمة أزاري، فمن نازعني واحدًا منها قذفته في النار))، وروى مسلم أيضًا من حديث أبي سعيد وأبي هريرة رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه.

وروى الطبراني في "الصغير" من حديث علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه، وهكذا الأمر في المصورين لمشاركتهم للمتكبرين والمتعظمين في الملة التي اقتضت قذفهم في النار، وهي منازعتهم للرب تبارك وتعالى في خصائصه التي لا يشركه فيها أحد.

وسيأتي النص الصريح على أن كل مصور في النار وأنه يجعل له بكل صورة صورها نفس يعذب بها في جهنم، وأن المصورين من أشد الناس عذابًا يوم القيامة.

السادسة: أن في قوله: ((فليخلقوا ذرة أو حبة أو شعيرة)) تبكيتًا لهم وتعجيزًا، قال النووي: معناه فليخلقوا ذرة فيها روح تتصرف بنفسها كهذه الذرة التي هي خلق الله - تعالى - وكذلك: ((فليخلقوا حبة حنطة أو
পঞ্চম: চিত্রকরদের ‘মহা যালিম’ হিসেবে বর্ণনা করার মাঝে তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারির ইঙ্গিত রয়েছে; যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি} [সূরা আশ-শূরা: ২১]।

এবং ‘সহীহ মুসলিম’, ‘সুনানে আবি দাউদ’ ও ‘ইবনে মাজাহ’-তে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((মহান আল্লাহ বলেন: অহংকার আমার চাদর এবং মহিমা আমার ভূষণ; সুতরাং যে ব্যক্তি এ দুটির কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে বিবাদ করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।)) ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীসেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এবং তাবারানী ‘আল-মুজামুস সাগীর’-এ আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। চিত্রকরদের বিষয়টিও এমন; কারণ তারা দম্ভকারী ও অহংকারীদের সাথে সেই বৈশিষ্ট্যে অংশীদার হয়েছে যা তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করাকে আবশ্যক করে। আর তা হলো—প্রভু মহান ও বরকতময় আল্লাহর সেই বিশেষ গুণাবলির ব্যাপারে তাঁর সাথে বিবাদে লিপ্ত হওয়া, যে গুণাবলিতে কেউ তাঁর অংশীদার নয়।

অচিরেই এমন সুস্পষ্ট বর্ণনা আসবে যে, প্রত্যেক চিত্রকরই জাহান্নামে যাবে এবং তার অঙ্কিত প্রতিটি ছবির বিপরীতে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে যা দ্বারা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে। আর কিয়ামতের দিন চিত্রকররাই হবে মানুষের মধ্যে কঠোরতম শাস্তির সম্মুখীন।

ষষ্ঠ: তাঁর এই বাণী— ((তারা যেন একটি অণু (বা ক্ষুদ্র পিঁপড়া) অথবা একটি শস্যদানা অথবা একটি যব সৃষ্টি করে))—এর মাঝে রয়েছে তাদের প্রতি কঠোর তিরস্কার এবং তাদের অক্ষমতা প্রতিপাদন। ইমাম নববী বলেন: এর অর্থ হলো—তারা যেন এমন একটি অণু সৃষ্টি করে যার মধ্যে প্রাণ থাকবে এবং যা এই অণুর মতো নিজে নিজে নড়াচড়া করবে যা মহান আল্লাহর সৃষ্টি। অনুরূপভাবে: ((তারা যেন একটি গমের দানা অথবা...
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
شعير))؛ أي: ليخلقوا حبة فيها طعم تؤكل وتزرع تنبت، ويوجد فيها ما يوجد في حبة الحنطة والشعير ونحوهما من الحب الذي يخلقه الله - تعالى - وهذا أمر تعجيز، انتهى.

السابعة: أنه لا فرق بين الصور المجسدة وغير المجسدة، فكل من النوعين صناعته حرام وظلم عظيم، وهذا هو الذي فهمه أبو هريرة رضي الله عنه قال ابن بطال: فهم أبو هريرة أن التصوير يتناول ما له ظل وما ليس له ظل، فلهذا أنكر ما يُنْقَش في الحيطان.

قلت: والأدلة على ما فهمه أبو هريرة رضي الله عنه كثيرة في الأحاديث الآتية وسأنبه عليها - إن شاء الله تعالى.

الثامنة: فيه الرد على صاحب الأغلال وأضرابه من الزنادقة المارقين من دين الإسلام؛ فقد زعم عدو الله أن بني آدم قد يقدرون على خلق الإنسان وغيرة من الحيوان، قال في الصفحة السابعة والستين من أغلاله: وإنا لنخشى أو نرجو وقد تحقق الأيام أي الأمرين أحسن أن يأتي الزمن الذي يقال فيه الإنسان الصناعي والحيوان الصناعي.

وهذا ما لا يزال العلم أمامه حيران عاجزًا ولكنه لم يعترف بالعجز ولم يفكر في الاستسلام للإخفاق، بل ما فتئ يهاجم ويناضل يعزم مَن يعلم أنه منتصر لا محالة، هذا لفظة بحروفه.
যব)); অর্থাৎ: তারা যেন এমন একটি দানা সৃষ্টি করে যাতে স্বাদ থাকে, যা আহার করা যায় এবং যা রোপণ করলে অঙ্কুরিত হয়, এবং যাতে সেটিই বিদ্যমান থাকে যা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সৃষ্ট গম, যব ও অনুরূপ শস্যদানায় থাকে। আর এটি একটি অক্ষমতা প্রকাশের নির্দেশ (তাজিজ), সমাপ্ত।

সপ্তম: দেহধারী ও দেহহীন ছবির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; উভয় প্রকারের প্রতিকৃতি তৈরি করা হারাম এবং চরম জুলুম। এটিই আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অনুধাবন করেছিলেন। ইবনে বাত্তাল বলেন: আবু হুরায়রা অনুধাবন করেছিলেন যে, চিত্র অঙ্কনের বিষয়টি ছায়াযুক্ত (মূর্তি) এবং ছায়াহীন (অঙ্কিত ছবি) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। একারণেই তিনি দেয়ালের নকশা বা কারুকার্যের নিন্দা করেছিলেন।

আমি বলি: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যা বুঝেছেন, তার সপক্ষে পরবর্তী হাদিসগুলোতে বহু দলীল রয়েছে এবং আমি ইনশাআল্লাহ সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করব।

অষ্টম: এতে 'আল-আগলাল' গ্রন্থের রচয়িতা এবং তার ন্যায় ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্যুত যিনদীকদের প্রতি উত্তর রয়েছে। আল্লাহর এই শত্রু দাবি করেছে যে, আদম সন্তান মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী সৃষ্টি করতে সক্ষম হতে পারে। সে তার 'আগলাল' গ্রন্থের সাতষট্টি পৃষ্ঠায় বলেছে: "আমরা আশঙ্কা করি অথবা আশা করি—আর কালপরিক্রমায় প্রমাণিত হবে যে এই দুইটির মধ্যে কোনটি অধিকতর সমীচীন—এমন এক সময় আসবে যখন 'কৃত্রিম মানুষ' ও 'কৃত্রিম প্রাণী'র কথা বলা হবে।"

আর এটি এমন এক বিষয় যার সামনে বিজ্ঞান এখনও কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও অক্ষম হয়ে আছে, তবে সে তার অক্ষমতা স্বীকার করেনি এবং ব্যর্থতার কাছে নতি স্বীকারের চিন্তাও করেনি; বরং সে অবিরত আক্রমণ ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এমন একজনের দৃঢ় সংকল্প নিয়ে যে জানে যে সে অবশ্যই বিজয়ী হবে—এটিই তার হুবহু বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) ইলানুন নাকীর আলাল মাফতূনীনা বিত-তাসবীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
والجواب أن يقال له ما قال الله - تعالى - لأشباهه وسلفه: {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلا كَذِبًا} [الكهف: 5].

ويقال أيضًا: قد دلَّ الكتاب والسنة وإجماع المسلمين على أن خلْق جميع الأشياء وإيجاد الحياة في كل مخلوق هي من خصائص الرب تبارك وتعالى التي لا يشاركه فيها أحد، وهذا مما لا يشك فيه مسلم، وجميع الأديان السماوية متفقة على هذا.

وقد كان المشركون الأوَّلون مقرِّين به، كما أخبر الله تبارك وتعالى بذلك عنهم في آيات كثيرة من كتابه، فهم أحسن حالاً من صاحب الأغلال وأضرابه من الزنادقة الذين يدندنون حول تشريك المخلوقين مع الخالق في خصائص الربوبية.

ويقال أيضًا لصاحب الأغلال: لا يشك مسلم أن ظنك كاذب وأن رجاءك خائب، فلن يأتي الزمن الذي توهمته بعقلك الفاسد أبدًا، ولن يقدر أعداء الله على خلق ذرة ولا بعوضة ولا حبة شعير فضلاً عن خلق الإنسان، ولو اجتمعت الإنس والجن على أن يخلقوا ذرة واحدة أو حبة واحدة لما قدروا على ذلك ولو جمعوا جميع قواهم وأسبابهم، وقول الخبيث: وهذا ما لا يزال العلم أمامه حيران … إلى آخره يعني بذلك علم أهل الصناعات الكيماوية، وجوابه أن يقال: ولا يزال علمهم كذلك حيران عاجزًا أبد الآبدين، ومَن شك في هذا فليس بمسلم.

وكيف يكون مسلمًا مَن يشك في تفرد الرب تبارك وتعالى بخصائص الربوبية
এর উত্তরে তাকে তাই বলা হবে যা আল্লাহ তাআলা তার সদৃশ ব্যক্তি এবং পূর্বসূরিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: "তাদের মুখ থেকে নির্গত বাক্যটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলছে।" [সূরা কাহাফ: ৫]।

আরও বলা হবে যে: কিতাব, সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত (ইজমা) একথার অকাট্য প্রমাণ দেয় যে, সকল বস্তুর সৃষ্টি এবং প্রতিটি প্রাণীর মাঝে জীবনের সঞ্চার করা হলো রব্ব তাবারাকা ওয়া তাআলার সেই একচ্ছত্র বৈশিষ্ট্য, যাতে তাঁর কোনো শরিক নেই। কোনো মুসলিমের এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই এবং সকল আসমানি ধর্ম এই বিষয়ে একমত।

এমনকি পূর্ববর্তী মুশরিকরাও এটি স্বীকার করত, যেমনটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবের বহু আয়াতে তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। সুতরাং তারা (মুশরিকরা) 'আল-আগলাল' গ্রন্থের লেখক এবং তার সমজাতীয় ঐসব যিনদিকদের (ধর্মদ্রোহীদের) চেয়ে উত্তম অবস্থায় রয়েছে, যারা রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) বৈশিষ্ট্যে স্রষ্টার সাথে সৃষ্টিকে শরিক করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

'আল-আগলাল' এর লেখককে আরও বলা হবে: কোনো মুসলিম এতে সন্দেহ পোষণ করে না যে, তোমার ধারণা ভ্রান্ত এবং তোমার আশা ব্যর্থ। তোমার কলুষিত মস্তিষ্ক দিয়ে যে সময়ের কল্পনা করেছ তা কখনোই আসবে না। আল্লাহর শত্রুরা একটি অণু, একটি মশা কিংবা একটি যবের দানা সৃষ্টি করতেও কখনো সক্ষম হবে না, মানুষের সৃষ্টি তো বহু দূরের কথা। যদি মানুষ ও জিন জাতি একত্রিত হয়ে একটি অণু বা একটি দানা সৃষ্টি করতে চায়, তবে তারা কখনোই তা পারবে না, যদিও তারা তাদের সমস্ত শক্তি ও উপায়-উপকরণ একত্রিত করে। আর ঐ পাপিষ্ঠের উক্তি: "এটি এমন এক বিষয় যার সামনে বিজ্ঞান এখনও হতবাক..." ইত্যাদি—এর দ্বারা সে রসায়নবিদদের জ্ঞানকে বুঝাতে চেয়েছে। এর উত্তর হলো: তাদের সেই বিজ্ঞান চিরকাল এভাবেই হতবাক ও অক্ষম হয়েই থাকবে; আর যে ব্যক্তি এতে সন্দেহ করবে সে মুসলিম নয়।

আর সে ব্যক্তি কীভাবে মুসলিম হতে পারে, যে রব্ব তাবারাকা ওয়া তাআলার রুবুবিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যে তাঁর এককত্বের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে?