(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
أسرار البلاغة - ت هنداوي القسم: البلاغة
الكتاب: أسرار البلاغة فى علم البيان
المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (ت 471 هـ)
المحقق: عبد الحميد هنداوي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 296
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 شوّال 1436
আসরারুল বালাগা - তাহকীক হিন্দাউয়ী বিভাগ: বালাগাত (অলঙ্কার শাস্ত্র)
বই: আসরারুল বালাগা ফী ইলমিল বায়ান
লেখক: আবু বকর আব্দুল কাহের বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ, মূলগতভাবে পারস্যের، এবং বাসস্থানের দিক থেকে জুরজানের (মৃত্যু ৪৭১ হি.)
সম্পাদক: আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ী
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হি. - ২০০১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাওয়াল ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة السيد محمد رشيد رضابسم الله الرّحمن الرّحيم الرَّحْمنُ
عَلَّمَ الْقُرْآنَ* خَلَقَ الْإِنْسانَ عَلَّمَهُ الْبَيانَ فله الحمد أن علم، والشكر على ما أنعم، ومنه الصلاة والتسليم، على نبيه الرءوف الرحيم، الذي جاء بتوحيد اللغة والدين، وجعل الكتاب والحكمة في الأميين، فكانوا بذلك أئمة وكانوا هم الوارثين.
الإنسان يمتاز بالعلم، وإنما العلم بالتعلم، والتعلم باللغة، واللغات تتفاضل في حقيقتها وجوهرها بالبيان، وهو تأدية المعاني التي تقوم بالنفس تامة على وجه يكون أقرب إلى القبول وأدعى إلى التأثير. وفي صورتها وأجراس كلمها بعذوبة النطق، وسهولة اللفظ والإلقاء، والخفة على السمع. وإن للغة العربية من هذه المميزات الميزان الراجح، والجواد القارح، يعرف ذلك من أخذها بحق، وجرى فيها على عرق، فكان من مفرداتها على علم، وضرب في أساليبها بسهم. ومن آية ذلك لعير العارف، أن أولئك الشراذم والأوزاع من أهلها قد حملوها إلى الأمم التي كان للغاتها في العلوم قدم، ولم يحملوهم عليها بالإلزام، ولا بالتعليم العام. وكان من أمرها مع هذا أن نسخت بطبيعتها لغة المصريين من مصرهم، والرومانيين من شامهم، واستعلت على الفارسية العذبة في مهدها وموطنها، وامتد شعاعها إلى الأندلس في غربي أوربة.
بعد ما طاف ساحل إفريقيا الشمالي، وإلى جدار الصين من الشرق- كل ذلك في زمن قريب لم يعرف في التاريخ مثله للغة أخرى من لغات الفاتحين الذين يتخذون كل الوسائل لنشر لغاتهم، وتعميمها بالتعليم العام، وضرب الترغيب والترهيب.
كانت لغة أميين وثنيين جاهليين، فظهر فيها أكمل الأديان، فكانت له أكمل مظهر، وتجلى لها العلم فكانت له خير مجلى. وصارت بذلك لغة الدين والشريعة، وعلوم العقل والطبيعة، ولكن عدت على أهلها عواد كونية، وطرأت عليهم أمراض اجتماعية، فضعف فيهم كل مقوم من مقومات الأمم الحية. ومن تلك المقومات الحقيقية اللغة فقد فسدت ملكتها في الألسنة، والتوى طريق تعليمها في المدارس، حتى كادت تكون من اللغات الدوارس.
সৈয়দ মুহাম্মদ রশিদ রিযার ভূমিকাপরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। পরম করুণাময়
তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাকে ভাবপ্রকাশ (বায়ান) শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য যিনি শিক্ষা দিয়েছেন, আর কৃতজ্ঞতা তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য। তাঁর পক্ষ থেকে রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর স্নেহশীল ও দয়ালু নবীর ওপর, যিনি ভাষা ও দীনের একত্ব নিয়ে এসেছেন এবং উম্মীদের (নিরক্ষরদের) মাঝে কিতাব ও হিকমত স্থাপন করেছেন, ফলে তারা এর মাধ্যমে ইমাম ও উত্তরাধিকারী হতে পেরেছেন।
মানুষ জ্ঞানের মাধ্যমেই বিশিষ্টতা লাভ করে, আর জ্ঞান অর্জিত হয় শিক্ষার মাধ্যমে, শিক্ষা হয় ভাষার মাধ্যমে। ভাষাসমূহ তাদের হাকিকত ও সত্তাগত দিক থেকে 'বায়ান' বা ভাবপ্রকাশের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। বায়ান হলো মনের মধ্যে বিদ্যমান ভাবসমূহকে পূর্ণাঙ্গভাবে এমনভাবে প্রকাশ করা যা গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। আর এর বাহ্যিক রূপ এবং শব্দের ঝংকারে থাকে উচ্চারণের মাধুর্য, শব্দ চয়ন ও উপস্থাপনের সহজবোধ্যতা এবং শ্রবণের সাবলীলতা। আরবি ভাষার এই বৈশিষ্ট্যসমূহের ক্ষেত্রে রয়েছে এক পাল্লাভারী মানদণ্ড এবং পারদর্শী ঘোড়ার ন্যায় ক্ষিপ্রতা। যারা একে যথাযথভাবে গ্রহণ করেছে, এর মূলে বিচরণ করেছে, এর শব্দভাণ্ডার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছে এবং এর প্রকাশভঙ্গিতে অংশীদার হয়েছে, তারাই এটি অনুভব করতে পারে। যারা এ সম্পর্কে জানে না তাদের জন্য এর একটি নিদর্শন হলো এই যে, এই ভাষার অনুসারীদের সেই বিচ্ছিন্ন ও ক্ষুদ্র দলগুলো একে এমন সব জাতির কাছে নিয়ে গিয়েছিল যাদের ভাষা বিজ্ঞানের ময়দানে সুপ্রাচীন ছিল। তারা তাদের ওপর এটি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে বা গণশিক্ষার মাধ্যমে চাপিয়ে দেয়নি। এতদসত্ত্বেও এর প্রভাব এমন ছিল যে, এটি আপন স্বভাবগুণে মিশর থেকে মিশরীয়দের ভাষাকে এবং শাম (সিরিয়া) অঞ্চল থেকে রোমানদের ভাষাকে বিলুপ্ত করে দিয়েছিল। পারস্যের সেই মধুর ভাষার ওপর তার আপন জন্মভূমি ও বাসস্থানেই বিজয় লাভ করেছিল এবং এর জ্যোতি পশ্চিম ইউরোপের আন্দালুস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
উত্তর আফ্রিকার উপকূল পরিভ্রমণ করার পর পূর্ব দিকে চীনের প্রাচীর পর্যন্ত—এই সবই অতি অল্প সময়ের মধ্যে ঘটেছিল, যার কোনো নজির ইতিহাসের পাতায় অন্য কোনো বিজয়ী জাতির ভাষার ক্ষেত্রে দেখা যায় না, যারা তাদের ভাষা প্রচারের জন্য এবং গণশিক্ষা, প্রলোভন ও ভীতির মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকে।
এটি ছিল এমন এক নিরক্ষর, মূর্তিপূজক ও জাহেলি যুগের মানুষের ভাষা, যাতে পূর্ণাঙ্গতম দীন আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং এটি ছিল সেই দীনের শ্রেষ্ঠতম প্রকাশস্থল। জ্ঞান এর সামনে উন্মোচিত হয়েছিল এবং এটি হয়েছিল জ্ঞানের সর্বোত্তম আধার। এর মাধ্যমেই এটি দীন, শরীয়ত এবং আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ভাষায় পরিণত হয়েছিল। কিন্তু এর ধারকদের ওপর জাগতিক বিপদ-আপদ আপতিত হলো এবং তাদের মাঝে সামাজিক ব্যাধি দেখা দিল, ফলে একটি জীবন্ত জাতির প্রতিটি স্তম্ভই তাদের মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়ল। সেই প্রকৃত স্তম্ভগুলোর একটি হলো ভাষা; জিহ্বায় এর পারদর্শিতা নষ্ট হয়ে গেল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর পাঠদান পদ্ধতি জটিল হয়ে পড়ল, এমনকি এটি মৃতপ্রায় ভাষাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উপক্রম হলো।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৪)
ظهر ضعف اللغة في القرن الخامس، وكانت في ريعان شبابها، وأوج عزها وشرفها، وكان أول مرض ألم بها الوقوف عند ظواهر قوانين النحو، ومدلول الألفاظ المفردة، والجمل المركبة، والانصراف عن معاني الأساليب، ومغازي التركيب، وعدم الاحتفال بتصريف القول ومناحيه، وضروب التجوز والكناية فيه- وهذا ما بعث عزيمة الشيخ عبد القاهر الجرجاني إمام علوم اللغة في عصره إلى تدوين علم البلاغة، ووضع قوانين للمعاني والبيان،
كما وضعت قوانين النحو عند ظهور الخطأ في الإعراب. فوضع هذا الكتاب في البيان، ومن فاتحته يتنسم القارئ أن دولة الألفاظ كانت قد تحكمت في عصره، واستبدت على المعاني، وأنه يحاول بكتابه تأييد المعاني ونصرها، وتعزيز جانبها وشد أزرها.
كتب قبل عبد القاهر في مسائل من البيان بعض البلغاء كالجاحظ وابن دريد وقدامة الكاتب، ولكنهم لم يبلغوا فيما بنوه أن جعلوه فنا مرفوع القواعد مفتح الأبواب كما فعل عبد القاهر من بعدهم فهو واضع علم البلاغة كما صرح به بعض علمائها، وإن لم يذكر له هذه المنقبة المؤرخون الذين رأينا ترجمته في كتبهم، حتى أن ابن خلدون الذي تصدى دون القوم للإلمام بتاريخ الفنون أهمل ذكره، وزعم أن الذي هذب الفن بعد أولئك الذين كتبوا في مسائل متفرقة منه هو السكاكي، وما كان السكاكي إلا عيالا على عبد القاهر، تلا تلوه، وأخذ عنه، مع المخالفة في شيء من الترتيب والتبويب، ولكنه لم يسلم من التكلف في بعض عباراته، والتعقيد في بعض منازعه، فإذا جاز لنا أن نقول: إنه فاق لتأخره بالترتيب المعلوم، وبما حرره من الحدود والرسوم. فإننا لا ننسى من فضل المتقدم سلامة عبارته، وصفاء ديباجته، وغوصه على أسرار الكلام، ووضع دررها في أبدع نظام.
كان السكاكي وسطا بين عبد القاهر الذي جمع في البلاغة بين العلم والعمل وأضرابه من البلغاء العاملين، وبين المتكلفين من المتأخرين الذين سلكوا بالبيان مسلك العلوم النظرية، وفسروا اصطلاحاته كما يفسرون المفردات اللغوية، ثم تنافسوا في الاختصار والإيجاز، حتى صارت كتب البيان أشبه بالمعميات والألغاز، فضاعت حدود بتلك الحدود. ودرست رسومه بهاتيك الرسوم (1)، وكان من أثر فساد ذوق
--------------------------------------------
পঞ্চম শতাব্দীতে ভাষার দুর্বলতা প্রকাশ পায়, অথচ তখন তা ছিল তার যৌবনের পূর্ণতায় এবং সম্মান ও মর্যাদার শিখরে। এর প্রথম যে রোগটি একে আক্রমণ করে তা ছিল কেবল নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের বাহ্যিক নিয়মাবলী, একক শব্দের আভিধানিক অর্থ এবং যৌগিক বাক্যের গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং বাচনভঙ্গির অন্তর্নিহিত অর্থ, রচনার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, এবং শব্দের ব্যবহারিক বৈচিত্র্য ও রূপক-ইঙ্গিতের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করা। আর এটিই ভাষার ইমাম শেখ আব্দুল কাহের আল-জুরজানিকে তাঁর সমসাময়িককালে অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) সংকলন করতে এবং 'মাআনি' ও 'বায়ান'-এর নিয়মাবলী প্রণয়ন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল,
ঠিক যেভাবে ইরাব (শব্দের শেষাংশের পরিবর্তন) তথা ব্যাকরণে ভুল প্রকাশ পাওয়ার পর নাহুর নিয়মাবলী প্রণয়ন করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি 'বায়ান' বিষয়ে এই গ্রন্থটি রচনা করেন। এর ভূমিকা থেকেই পাঠক উপলব্ধি করতে পারেন যে, তাঁর যুগে শব্দের আড়ম্বর অর্থের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল এবং অর্থের ওপর আধিপত্য বজায় রাখত। তিনি তাঁর এই গ্রন্থের মাধ্যমে অর্থের পক্ষ অবলম্বন, তার সহায়তা এবং একে শক্তিশালী ও সুসংহত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
আব্দুল কাহেরের পূর্বে অলঙ্কারশাস্ত্রের কিছু মাসআলা বা বিষয়ে জাহিজ, ইবনে দুরিদ এবং কুদামা আল-কাতিবের মতো কতিপয় প্রাঞ্জল ভাষাবিদ লিখেছেন; কিন্তু তাঁরা যা কিছু নির্মাণ করেছিলেন তা অলঙ্কারশাস্ত্রকে এমন একটি সুসংগঠিত শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি যার ভিত্তি সুদৃঢ় এবং যার দ্বার উন্মুক্ত—যেমনটি আব্দুল কাহের তাঁর পরবর্তী সময়ে করেছিলেন। তাই তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা, যেমনটি এই শাস্ত্রের কতিপয় বিশেষজ্ঞ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; যদিও সেই সকল ঐতিহাসিকগণ তাঁদের গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করার সময় এই কৃতিত্বের কথা বলেননি। এমনকি ইবনে খালদুনও, যিনি অন্যান্যদের তুলনায় শিল্পকলার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তিনিও তাঁর নাম উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, বিচ্ছিন্নভাবে লেখা সেই পূর্ববর্তীদের পর এই শিল্পকে যিনি পরিমার্জিত করেছেন তিনি হলেন সাক্কাকি। অথচ সাক্কাকি আব্দুল কাহেরেরই মুখাপেক্ষী ছিলেন, তিনি তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন এবং তাঁর থেকেই গ্রহণ করেছিলেন, যদিও বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাসে কিছুটা ভিন্নতা ছিল। তবে তিনি তাঁর কিছু অভিব্যক্তিতে কৃত্রিমতা এবং কিছু চিন্তা পদ্ধতিতে জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারেননি। সুতরাং আমাদের জন্য যদি বলা বৈধ হয় যে: তিনি কালানুক্রমিক পশ্চাৎবর্তিতার কারণে এবং সংজ্ঞা ও নিয়মাবলী সুবিন্যস্ত করার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তবুও আমরা পূর্ববর্তীদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা ভুলে যেতে পারি না—যা ছিল তাঁদের বাচনভঙ্গির সাবলীলতা, রচনার স্বচ্ছতা, বাক্যের রহস্য উন্মোচন এবং তার মুক্তাসমূহকে অপূর্ব বিন্যাসে সাজানোর মাঝে নিহিত।
সাক্কাকি ছিলেন আব্দুল কাহের—যিনি অলঙ্কারশাস্ত্রে জ্ঞান ও প্রয়োগের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং তাঁর মতো অন্যান্য পারদর্শী আলেমদের—এবং পরবর্তী যুগের সেই কৃত্রিম পণ্ডিতদের মাঝামাঝি স্তরের, যারা অলঙ্কারশাস্ত্রকে কেবল তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা এর পারিভাষিক শব্দগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতেন যেন তা কেবল আভিধানিক একক শব্দের ব্যাখ্যা। এরপর তাঁরা এর সংক্ষিপ্তকরণে এমন প্রতিযোগিতা শুরু করেন যে, অলঙ্কারশাস্ত্রের গ্রন্থগুলো শেষ পর্যন্ত ধাঁধা ও রহস্যের মতো হয়ে দাঁড়াল। ফলে সেই সব সংজ্ঞার ভিড়ে শাস্ত্রের মূল সীমারেখা হারিয়ে গেল এবং সেই সব রীতির আড়ালে এর প্রকৃত সৌন্দর্য বিলীন হয়ে গেল (১)। আর এটি ছিল রুচিবোধের বিপর্যয়ের ফল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৫)
اللغة اختيار هذه الكتب التي ملكت العجمة عليها أمرها، على الكتب التي ملكت العجمة عليها أمرها، على الكتب التي تهديك إلى العلم الصحيح بمعانيها، وتهدي إليك الذوق السليم بأساليبها، فكادت كتب عبد القاهر تمحى وتنسخ، وصارت حواشي السعد تطبع وتنسخ، وهذا هو حظ العلم النافع إذا ألقي إلى الأمة في طور التدلي والضعف، فمثل عبد القاهر في أسرار بلاغته ودلائل إعجازه، كمثل ابن خلدون في مقدمته والسلطان سليمان العثماني في قوانينه.
رب غذاء طيب نافع عافته النفس لمرض ألم بها حتى إذا نقهت أو أبلت اشتهته وطلبته. وهذا هو مثلنا أمس واليوم،
فقد كنا متفقهين على أخذ العلم من كتب علمائنا المتأخرين كما يختار المريض الغذاء الضار، فظهر فينا هداة مرشدون يسعون في إحياء ما أماته الجهل من آثار سلفنا ومصنفات أئمتنا، ويدلوننا على العلم الحي الذي تفجر من ينابيع النفوس الحية، لنفرق بينه وبين الرسوم الميتة التي سماها الجهل علما.
ولما هاجرت إلى مصر في سنة 1315 لإنشاء (المنار) الإسلامي ألفيت إمام النهضة الإسلامية الحديثة الأستاذ الحكيم الشيخ محمدا عبده رئيس جمعية إحياء العلوم العربية ومفتي الديار المصرية، اليوم مشتغلا في بعض وقته بتصحيح كتاب دلائل الإعجاز للإمام عبد القاهر الجرجاني. وقد استحضر نسخة من المدينة المنورة ومن بغداد ليقابلها على النسخة التي عنده، فسألته عن كتاب (أسرار البلاغة) للإمام المذكور فقال: إنه لا يوجد في هذه الديار فأخبرته بأن في أحد بيوت العلم في طرابلس الشام نسخة منه، فحثني على استحضارها وطبعها فطلبتها من صديقي الحميم العالم الأديب عبد القادر أفندي المغربي، وهي مما تركه والده فلبى الطلب.
وعلمنا أن نسخة أخرى من الكتاب في إحدى دور الكتب السلطانية في دار السلطنة السنية، فندبنا بعض طلاب العلم الأذكياء لمقابلة نسختنا بتلك النسخة، فخرج لنا من مجموعهما نسخة صحيحة سرعنا في طبعها ووضعنا في ذيل المطبوع شرحا لطيفا ضبطنا فيها الكلمات الغريبة وفسرنا منها ومن جمل الكتاب ما رأيناه يستحق التفسير. وأشرنا إلى الخلاف بين النسختين، فيما يحتمل صحة الاثنتين.
أما كون عبد القاهر واضع الفن ومؤسسه. فقد صرح به غير واحد من العلماء الأعلام، أجلهم قدرا، وأرفعهم ذكرا، أمير المؤمنين محيي علوم اللغة والدين، السيد يحيى بن حمزة الحسيني صاحب كتاب (الطراز، في علوم حقائق الإعجاز)، فقد
ভাষার ক্ষেত্রে এমন সব গ্রন্থ নির্বাচন করা হয়েছে যেগুলোর ওপর অনারবীয় প্রভাব বিস্তার করেছে, অথচ সেইসব গ্রন্থকে উপেক্ষা করা হয়েছে যা আপনাকে সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে অর্থের সঠিক দিশা প্রদান করে এবং ভাষার শৈলী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক রসবোধের দিকনির্দেশনা দেয়। ফলে আব্দুল কাহিরের গ্রন্থসমূহ প্রায় বিলুপ্ত ও বিস্মৃত হতে বসেছিল এবং সা’দ-এর টীকাগ্রন্থসমূহ মুদ্রিত ও অনুলিপি হতে থাকল। জাতির অধঃপতন ও দুর্বলতার সময়ে উপকারী জ্ঞানের ভাগ্যে এমনই ঘটে থাকে। আব্দুল কাহিরের 'আসরারুল বালাগাত' এবং 'দালাইলুল ই’জায' গ্রন্থদ্বয়ের দৃষ্টান্ত ঠিক ইবনে খালদুনের 'মুকাদ্দিমাহ' এবং উসমানীয় সুলতান সুলাইমানের 'কানুন' সমূহের মতো।
অনেক সময় এমন উত্তম ও উপকারী খাদ্য থাকে যা অসুস্থতার কারণে মানুষের মন ঘৃণা করে, কিন্তু যখন সে সুস্থ হয় বা আরোগ্য লাভ করে তখন সে তা পেতে চায় এবং অন্বেষণ করে। আমাদের গতকাল এবং আজকের অবস্থা ঠিক এমনই।
আমরা আমাদের পরবর্তী যুগের আলেমদের রচিত গ্রন্থসমূহ থেকে জ্ঞান আহরণে অভ্যস্ত ছিলাম, ঠিক যেমন একজন অসুস্থ ব্যক্তি ক্ষতিকর খাদ্য নির্বাচন করে। অতঃপর আমাদের মাঝে এমন কিছু পথপ্রদর্শক ও দিশারীর আবির্ভাব ঘটল যারা আমাদের পূর্বসূরিদের সেইসব নিদর্শন এবং ইমামদের রচনাবলীকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হলেন যা অজ্ঞতা বিলীন করে দিয়েছিল। তারা আমাদের সেই জীবন্ত জ্ঞানের পথ দেখালেন যা জীবন্ত প্রাণ থেকে উৎসারিত হয়েছে, যাতে আমরা এর এবং সেই প্রাণহীন বাহ্যিক কাঠামোর মাঝে পার্থক্য করতে পারি যাকে অজ্ঞতা 'জ্ঞান' হিসেবে অভিহিত করেছিল।
আমি যখন ১৩১৫ হিজরীতে ইসলামি 'আল-মানার' প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মিসরে হিজরত করি, তখন আধুনিক ইসলামি রেনেসাঁসের ইমাম, প্রাজ্ঞ উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ আবদুহ-কে দেখতে পাই—যিনি জামিয়াতু ইহ্য়ায়িল উলূমিল আরাবিয়্যাহ-এর প্রধান এবং মিশরের তৎকালীন মুফতি ছিলেন। তিনি তখন তাঁর সময়ের কিছু অংশ ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানীর 'দালাইলুল ই’জায' গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি সংশোধনে ব্যয় করছিলেন। তাঁর নিকট থাকা পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করার জন্য তিনি মদিনা মুনাওয়ারা এবং বাগদাদ থেকে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন। আমি তাঁকে উক্ত ইমামের 'আসরারুল বালাগাত' গ্রন্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এই দেশে তা পাওয়া যায় না। তখন আমি তাঁকে জানালাম যে, সিরিয়ার ত্রিপোলির একটি বিদ্যাপীঠে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। তিনি আমাকে সেটি সংগ্রহ ও মুদ্রণের জন্য উৎসাহিত করলেন। ফলে আমি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাহিত্যিক আলেম আব্দুল কাদির আফান্দি আল-মাগরিবীর নিকট তা চাইলাম; এটি ছিল তাঁর পিতার রেখে যাওয়া একটি পাণ্ডুলিপি এবং তিনি আমার অনুরোধ রক্ষা করলেন।
আমরা জানতে পারলাম যে, রাজকীয় সালতানাতের একটি গ্রন্থাগারে এই গ্রন্থের আরেকটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। তাই আমরা আমাদের পাণ্ডুলিপির সাথে সেই পাণ্ডুলিপির মিল অনুসন্ধানের জন্য কিছু মেধাবী ছাত্রকে নিযুক্ত করলাম। উভয় পাণ্ডুলিপির সমন্বয়ে আমাদের কাছে একটি নির্ভুল সংস্করণ তৈরি হলো যা আমরা দ্রুত মুদ্রণের ব্যবস্থা করলাম। আমরা এই মুদ্রিত সংস্করণের শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা যুক্ত করেছি, যেখানে কঠিন শব্দসমূহের অর্থ নির্ধারণ করেছি এবং গ্রন্থের সেসব বাক্যাংশ ব্যাখ্যা করেছি যা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন বলে মনে করেছি। আর যেখানে উভয় পাঠই সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে দুটি পাণ্ডুলিপির পাঠভেদও আমরা উল্লেখ করেছি।
আব্দুল কাহির যে এই শাস্ত্রের উদ্ভাবক ও প্রতিষ্ঠাতা, সে সম্পর্কে বিশিষ্ট ও প্রখ্যাত আলেমদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান ও স্মরণীয় হলেন আমীরুল মুমিনীন এবং ভাষা ও দ্বীনি জ্ঞান বিজ্ঞানের পুনরুজ্জীবক সাইয়্যেদ ইয়াহইয়া বিন হামযাহ আল-হুসাইনী, যিনি 'আত-তিরাজ ফি উলূমি হাকাইকিল ই’জায' গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি...
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৬)
قال في فاتحة كتابه هذا وهو من أحسن ما كتب في البلاغة بعد عبد القاهر ما نصه:
«وأول من أسس من هذا الفن قواعده وأوضح براهينه، وأظهر فرائده ورتب أفانينه، الشيخ العالم النحرير علم المحققين عبد القاهر الجرجاني، فلقد فك قيد الغرائب بالتقييد، وهد من سور المشكلات بالتسوير المشيد، وفتح أزهاره من أكمامها. وفتق أزراره بعد استغلاقها واستبهامها، فجزاه الله عن الإسلام أفضل الجزاء، وجعل نصيبه من ثوابه أوفر النصيب والإجزاء، وله من المصنفات فيه كتابان أحدهما لقبه بدلائل الإعجاز. والآخر لقبه بأسرار البلاغة، ولم أقف على شيء منهما. مع شغفي بحبهما وشدة إعجابي بهما، إلا ما نقله العلماء في تعاليقهم منهما» (1).
وأما مكانة هذا الكتاب وبيان ما يمتاز به على كتب البيان فحسبي في بيانها عرضه على الأنظار مع التنبيه على
مسألتين نافعتين (إحداهما) أن العلم هو صورة المعلوم مأخوذة عنه بواسطة الإدراك كما تؤخذ الصورة الشمسية بالآلة المعروفة فإن كان المعنى المنتزع من الجزئيات قانونا كليا يرشد إليها فهو القاعدة. وإن كان صورة تناسبها وتقربها من الفهم فهو المثل. (والثانية) أن القاعدة الكلية هي صورة إجمالية للمعلومات الجزئية، والأمثلة والشواهد صور تفصيلية لها. والتعليم النافع إنما يكون بقرن الصور المفصلة بالصورة المجملة، إذ بالتفصيل تعرف المسائل، وبالإجمال تحفظ في العقل. وبهذه الطريقة يجمع بين العلم والعمل الذي يثبت به العلم، وهي طريقة عبد القاهر في كتابه هذا وكتاب دلائل الإعجاز، على أن كلام الشيخ رحمه الله تعالى كله من آيات البلاغة فهو يعطيك علمها بمعانيه، وعملها بمبانيه، وبهذه المميزات يفضل هذا الكتاب جميع ما بين أيدينا من كتب الفن لأنها إنما تقتصر على سرد القواعد والأحكام بعبارات اصطلاحية، تنكرها بلاغة الأساليب العربية. ولا تذكر من الشواهد والأمثلة إلا القليل النادر، الذي أدلى به السابق إلى اللاحق والأول إلى الآخر.
لهذا بادر الإمام، مفتي الديار المصرية في هذه الأعوام، إلى تدريس الكتاب في الأزهر الشريف عقيب شروعنا في طبعه فأقبل على حضور درسه مع أذكياء الطلاب كثيرون من العلماء والمدرسين وأساتذة المدارس الأميرية. وقد قال أحد فضلاء هؤلاء
--------------------------------------------
তিনি তাঁর এই গ্রন্থের ভূমিকায়—যা আব্দুল কাহিরের পর অলঙ্কারশাস্ত্রে লিখিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম—যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:
«এবং এই শিল্পের মূলনীতিসমূহ যিনি প্রথম প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এর প্রমাণাদি স্পষ্ট করেছেন, এর অনন্য রত্নরাজি প্রকাশ করেছেন এবং এর বিভিন্ন শাখাসমূহ বিন্যস্ত করেছেন, তিনি হলেন বিজ্ঞ আলেম, গভীর জ্ঞানসম্পন্ন এবং গবেষকদের শিরোমণি শায়খ আব্দুল কাহির আল-জুরজানি। তিনি এর বিস্ময়কর বিষয়গুলোর জটিলতাকে সুসংজ্ঞায়িত করার মাধ্যমে মুক্ত করেছেন এবং সুদৃঢ় ব্যাখ্যার প্রাচীর দিয়ে জটিলতার প্রাচীর ধসিয়ে দিয়েছেন। তিনি এর মুকুল থেকে ফুল ফুটিয়েছেন এবং তা রুদ্ধ ও অস্পষ্ট থাকার পর তার গ্রন্থিগুলো উন্মোচন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইসলামের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর সওয়াবের অংশকে পূর্ণ ও প্রাচুর্যময় করুন। এই বিষয়ে তাঁর দুটি গ্রন্থ রয়েছে; একটির নামকরণ করেছেন 'দালাইলুল ইজায' এবং অন্যটির নাম দিয়েছেন 'আসরারুল বালাগাহ'। আমি এই গ্রন্থ দুটির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং মুগ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আলেমগণ তাঁদের টীকাগ্রন্থে এ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা ব্যতীত মূল গ্রন্থ দুটির সন্ধান পাইনি» (১)।
আর এই গ্রন্থের মর্যাদা এবং বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি একে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি এবং সেই সাথে
দুটি উপকারী বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। (প্রথমটি হলো) জ্ঞান হলো জ্ঞাত বিষয়ের একটি রূপ যা উপলব্ধির মাধ্যমে গৃহীত হয়, যেমনটি পরিচিত যন্ত্রের (ক্যামেরা) সাহায্যে সূর্যের ছবি তোলা হয়। যদি আংশিক বিষয়গুলো থেকে আহরিত অর্থ এমন কোনো সার্বিক বিধান হয় যা সেগুলোর দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করে, তবে তা হলো 'মূলনীতি' (কায়েদা)। আর যদি তা এমন কোনো রূপ হয় যা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বোধগম্য হতে সাহায্য করে, তবে তা হলো 'উদাহরণ' (মিসাল)। (দ্বিতীয়টি হলো) সার্বিক মূলনীতি হলো আংশিক তথ্যাবলির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, আর উদাহরণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণসমূহ হলো সেগুলোর বিস্তারিত রূপ। উপকারী শিক্ষাদান কেবল তখনই সম্ভব যখন বিস্তারিত রূপগুলোকে সংক্ষিপ্ত রূপের সাথে সংযুক্ত করা হয়; কারণ বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে মাসআলাসমূহ জানা যায়, আর সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো স্মৃতিতে সংরক্ষিত থাকে। এই পদ্ধতির মাধ্যমেই জ্ঞান ও প্রয়োগের মধ্যে সমন্বয় ঘটে যার দ্বারা জ্ঞান সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই শায়খ আব্দুল কাহিরের তাঁর এই গ্রন্থে এবং 'দালাইলুল ইজায' গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতি। প্রকৃতপক্ষে শায়খের (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) সমস্ত বক্তব্যই অলঙ্কারশাস্ত্রের নিদর্শনস্বরূপ; তিনি এর অর্থের মাধ্যমে আপনাকে তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং এর গঠনশৈলীর মাধ্যমে আপনাকে প্রায়োগিক জ্ঞান দান করেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণেই এই গ্রন্থটি আমাদের হাতে থাকা এই শিল্পের অন্যান্য সমস্ত গ্রন্থের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। কারণ অন্য গ্রন্থগুলো কেবল পারিভাষিক শব্দের মাধ্যমে মূলনীতি ও বিধানাবলির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকে, যা আরবি শৈলীর সাবলীল অলঙ্কারপূর্ণ ভাষার পরিপন্থী। সেখানে উদাহরণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে কেবল খুব সামান্যই উল্লেখ করা হয়, যা পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের নিকট এবং প্রথম যুগের লোকেরা শেষ যুগের লোকেদের নিকট কেবল হস্তান্তর করে এসেছেন।
এই কারণেই এই সময়কালের মিশরের মুফতি, ইমাম (মুহাম্মদ আবদুহ), আমাদের মুদ্রণ কাজ শুরু হওয়ার অব্যবহিত পরেই আল-আযহার আল-শরীফে এই গ্রন্থটি পাঠদানের উদ্যোগ নেন। ফলে মেধাবী ছাত্রদের পাশাপাশি অনেক আলেম, শিক্ষক এবং সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকগণ তাঁর পাঠে উপস্থিত হতে শুরু করেন। তাঁদের মধ্য থেকে একজন গুণী ব্যক্তি বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأستاذين (1) بعد حضور الدرس الأول «إننا قد اكتشفنا في هذه الليلة معنى علم البيان».
وقد ظهر للأستاذ في غضون التدريس والمطالعة أغلاط في الكتاب بعضها من الطبع، وبعضها من تحريف النساخ في الأصل، وأغلاط أخرى في التعليقات فأحصيناها كلها من نسخته، ووضعنا لها جدولا في آخر الكتاب إتماما للفائدة ومما يجب التنبيه عليه أن بعض تراجم فصول الكتاب هي من وضعنا فإن المصنف رحمه الله تعالى كان يكتفي في كثير منها بكلمة (فصل).
ونختم هذه المقدمة بملخص ترجمة المصنف رحمه الله تعالى فنقول:
اتفق المؤرخون على الثناء عليه بالعلم والدين، ولقبوه بالإمام، واشتهر بالنحوي من قبل أن يضع علم البلاغة. على أنه كان متكلما وفقيها أيضا، قال الحافظ الذهبي في تاريخه (دول الإسلام): «وفي سنة إحدى وسبعين وأربعمائة مات إمام النحاة أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجاني صاحب التصانيف» وقال تاج الدين السبكي في (طبقات الشافعية الكبرى): عبد القاهر بن عبد الرحمن الشيخ الكبير أبو بكر الجرجاني النحوي
المتكلم على مذهب الأشعري الفقيه على مذهب الشافعي أخذ النحو بجرجان عن أبي الحسين محمد بن الحسن الفارسي ابن أخت الشيخ أبي علي الفارسي، وصار الإمام المشهور المقصود من جميع الجهات، مع الدين المتين، والورع والسكون». قال السلفي: كان ورعا قانعا دخل عليه لص وهو في الصلاة فأخذ ما وجد وعبد القاهر ينظر ولم يقطع صلاته. (ثم قال السبكي):
«ومن مصنفاته كتاب (المغني على شرح الإيضاح) في نحو ثلاثين مجلدا، وكتاب (المقصد في شرح الإيضاح) أيضا ثلاث مجلدات، وكتاب (إعجاز القرآن الصغير) و (العوامل المائة). و (المفتاح)، و (شرح الفاتحة)، و (العمدة في التصريف)، وكتاب (الجمل المختصر المشهور).
وفي كتاب (شذرات الذهب في أخبار من ذهب) نحو من ذلك وزاد في ذكر المصنفات شرح كتاب الجمل، وذكر أن علي بن أبي زيد الفصيحي أخذ عنه وذكروا له شعرا فمنه ما أورده الصلاح الكتبي في فوات الوفيات:
--------------------------------------------
দুইজন শিক্ষক (১) প্রথম পাঠে উপস্থিত হওয়ার পর বললেন, «আমরা আজ রাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের (ইলমুল বয়ান) প্রকৃত অর্থ আবিষ্কার করেছি।»
পাঠদান এবং অধ্যয়নের সময় বইটিতে কিছু ভুল প্রকাশ পেয়েছে, যার কিছু মুদ্রণজনিত, কিছু মূলে লিপিকারদের বিকৃতিজনিত এবং কিছু ভুল টীকাসমূহতে রয়েছে। আমরা তাঁর কপি থেকে সেগুলো সংগ্রহ করেছি এবং পূর্ণাঙ্গ উপকারের লক্ষ্যে বইয়ের শেষে একটি তালিকা যুক্ত করেছি। একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বইয়ের কিছু পরিচ্ছেদের শিরোনাম আমাদের দেওয়া, কারণ গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অনেক ক্ষেত্রে কেবল (পরিচ্ছেদ) শব্দটি লিখেই ক্ষান্ত হয়েছেন।
আমরা এই ভূমিকাটি গ্রন্থকারের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সংক্ষিপ্ত জীবনীর মাধ্যমে সমাপ্ত করছি। আমরা বলছি:
ঐতিহাসিকগণ তাঁর জ্ঞান ও ধর্মপরায়ণতার প্রশংসায় একমত হয়েছেন এবং তাঁকে ইমাম উপাধিতে ভূষিত করেছেন। অলঙ্কারশাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপনের আগেই তিনি নাহবি (ব্যাকরণবিদ) হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি একজন কালাম শাস্ত্রবিদ এবং ফকিহও ছিলেন। হাফেজ আজ-জাহাবি তাঁর ইতিহাসগ্রন্থ (দুওয়ালুল ইসলাম)-এ বলেছেন: «৪৭১ হিজরি সনে ব্যাকরণবিদদের ইমাম এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান আল-জোরজানি ইন্তেকাল করেন।» তাজউদ্দীন আস-সুবকি (তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা) গ্রন্থে বলেছেন: আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান, মহান শায়খ আবু বকর আল-জোরজানি, ব্যাকরণবিদ
আশআরি মাযহাব অনুযায়ী কালাম শাস্ত্রবিদ এবং শাফিয়ি মাযহাব অনুযায়ী ফকিহ। তিনি জোরজানে আবু আলী আল-ফারিসির ভাগ্নে আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-ফারিসির কাছে ব্যাকরণ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি সর্বদিক থেকে গ্রহণযোগ্য এক প্রখ্যাত ইমামে পরিণত হন, সেই সাথে তিনি ছিলেন সুদৃঢ় দ্বীনদার, পরহেজগার এবং শান্ত স্বভাবের।» আস-সিলাফি বলেছেন: তিনি অত্যন্ত পরহেজগার ও অল্পে তুষ্ট ছিলেন। একবার তিনি নামাজরত অবস্থায় এক চোর তাঁর ঘরে প্রবেশ করে যা পেল নিয়ে গেল, আব্দুল কাহির তা দেখছিলেন কিন্তু তিনি তাঁর নামাজ ভঙ্গ করেননি। (অতঃপর সুবকি বলেন):
«তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: (আল-মুগনি আলা শারহিল ইদাহ) প্রায় ৩০ খণ্ডে, (আল-মাকসাদ ফি শারহিল ইদাহ) ৩ খণ্ডে, (ইজাযুল কুরআন আস-সাগির), (আল-আওয়ামিলুল মিয়াহ), (আল-মিফতাহ), (শারহুল ফাতিহা), (আল-উমদাহ ফিত তাসরিফ) এবং বিখ্যাত গ্রন্থ (আল-জুমালুল মুখতাসার)।
(শাজারাতুজ জাহাব ফি আখবারি মান জাহাব) গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং গ্রন্থ তালিকায় (শারহু কিতাবিল জুমাল) এর নাম যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলী বিন আবি যায়েদ আল-ফাসিহি তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁরা তাঁর কিছু কবিতাও উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে সালাহ আল-কুতুবি (ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত) গ্রন্থে যা উদ্ধৃত করেছেন তা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৮)
لا تأمن النفثة من شاعر
… ما دام حيا سالما ناطقا
فإن من يمدحكم كاذبا
… يحسن أن يهجوكم صدقا
واتفقوا على أنه توفي سنة 471، قال السبكي: (وقيل: 474) رحمه الله تعالى.
السيد محمد رشيد رضا منشئ مجلة (المنار)
একজন কবির ফুঁৎকার থেকে নিরাপদ থেকো না
… যতক্ষণ সে জীবিত, সুস্থ ও বাকপটু থাকে।
কেননা যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তোমাদের প্রশংসা করে
… সে সত্যের সাথে তোমাদের নিন্দা করতেও পারদর্শী।
এবং তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে তিনি ৪৭১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন, সুবকী বলেন: (এবং বলা হয়েছে: ৪৭৪) আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রশীদ রিদা, (আল-মানার) সাময়িকীর প্রতিষ্ঠাতা।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المحققالحمد لله الذي شرفنا بعد أخذ آيات القرآن، بتعلم علوم البلاغة والبيان؛ فلا جرم أنها تقع من سائر العلوم اللغوية بمنزلة الرأس من الجسد، فهي باسمى منزلة، وأعلى مكان، وذلك لتعلقها ببيان أسرار الكتاب المجيد، ومن ثم بيان مقصود الله ومراده من العبيد.
وبعد؛ فإن كتاب (أسرار البلاغة) يعد وهو وكتاب (دلائل الإعجاز) لشيخ البلاغيين- بلا منازع- الإمام عبد القاهر الجرجاني، يعدان بالمقام الأول من كتب البلاغة بلا نزاع بين أهل العلم بهذا الفن، ولم أر في كلام أحد من
المتقدمين أو المتأخرين من يقدم عليهما كتابا في هذا الفن؛ بل إنك إذا سألت أحدا عن كتاب جيد يحفظ للبلاغة رونقها وطلاوتها غير هذين الكتابين فإنه يقف باهتا متحيرا فلا يعيرك جوابا، غير النفي القاطع، فإن سألته عن أجود الكتب بعدهما، فإنه يتردد ويتلعثم من جهة عظم الهوّة وعظم الفارق والبون، بين هذين الكتابين وما يجعل تاليا لهما وما ذلك إلا لأن كتب المتقدمين قبل عبد القاهر كانت عبارة عن مباحث متفرقة، وإشارات خاطفة، وعبارات متناثرة، تكد في جمعها من هنا وهناك، فجاء ذلك الإمام فجمع أصول هذا العلم، وردّ إليها فروعه، ووضع له قواعده وأصوله، بغير جفاف ولا تعقيد، وبغير مبالغة في الحصر والإحصاء والتفريع والتمييز، والتحديد، مما عرف عن المتأخرين كالسكاكي ومن تابعه من صرامة المنطق والمبالغة في التحديد والتجريد.
فكانت طريقته قصدا بين الطريقة الأدبية القديمة في تحليل النصوص وترك الأمور هملا دون تقييد ولا تعقيد ولا تجريد لقواعد العلم وأصوله، وبين طريقة المتأخرين الذين غلب عليهم جفاف المنطق وصرامته، وشدة التجريد والتعقيد وقوته. ويأتي هذا الكتاب الجليل (أسرار البلاغة) ليفرده الشيخ لمعالجة أكثر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কুরআনের আয়াতসমূহ গ্রহণের পর অলঙ্কারশাস্ত্র ও বর্ণনাশৈলী শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সমস্ত ভাষাতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের মধ্যে এর স্থান দেহের মধ্যে মস্তকের মতো। এটি সর্বোচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠ স্থানের অধিকারী, আর তা মহিমান্বিত কিতাবের রহস্য উন্মোচনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে এবং ফলশ্রুতিতে বান্দাদের নিকট আল্লাহর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় স্পষ্ট করার কারণে।
অতঃপর; নিশ্চয়ই অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের অবিসংবাদিত প্রধান ইমাম আব্দুল কাহির আল-জুরজানির ‘আসরারুল বালাগাত’ এবং ‘দালাইলুল ই’জায’ গ্রন্থদ্বয় এই বিদ্যায় পারদর্শী আলেমদের নিকট কোনো বিতর্ক ছাড়াই প্রথম স্তরের অলঙ্কারশাস্ত্রের গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। আমি পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো বক্তব্যে এমন কোনো গ্রন্থ দেখিনি যা এই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই দুটি গ্রন্থের ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য হতে পারে; বরং আপনি যদি কাউকে এই দুটি গ্রন্থ ব্যতীত অন্য কোনো উত্তম কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যা অলঙ্কারশাস্ত্রের লাবণ্য ও মাধুর্যকে অক্ষুণ্ণ রাখে, তবে সে হতবাক ও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে এবং চূড়ান্ত না-বোধক উত্তর ছাড়া আপনাকে কোনো জবাব দিতে পারবে না। আর যদি আপনি তাকে এই দুটির পরে সর্বোত্তম গ্রন্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে এই দুটি গ্রন্থ এবং পরবর্তী গ্রন্থগুলোর মধ্যকার বিশাল ব্যবধান ও পার্থক্যের কারণে সে ইতস্তত ও তোতলামি করবে। আর এটি কেবল এজন্যই যে, আব্দুল কাহিরের পূর্ববর্তী লেখকদের কিতাবসমূহ ছিল বিক্ষিপ্ত আলোচনা, সংক্ষিপ্ত ইশারা এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু বক্তব্যের সমষ্টি, যা এখান ওখান থেকে অনেক কষ্টে সংগ্রহ করতে হতো। অতঃপর এই ইমাম আগমন করলেন এবং এই শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ সংকলন করলেন, এর শাখা-প্রশাখাগুলোকে মূলের দিকে ফিরিয়ে আনলেন এবং এর জন্য কোনো প্রকার শুষ্কতা বা জটিলতা ছাড়াই নিয়ম ও মূলনীতি নির্ধারণ করলেন। এতে ব্যাপক সীমাবদ্ধতা, গণনা, উপ-বিভাজন, পার্থক্যকরণ ও সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে এমন কোনো অতিরঞ্জন ছিল না, যা পরবর্তীকালের সাক্কাকি এবং তার অনুসারীদের কঠোর যৌক্তিকতা এবং সংজ্ঞায়ন ও বিমূর্তকরণের অতিরঞ্জন থেকে জানা যায়।
সুতরাং তাঁর পদ্ধতিটি ছিল পাঠ্য বিশ্লেষণের প্রাচীন সাহিত্যিক পদ্ধতি—যেখানে বিষয়গুলোকে কোনো প্রকার নিয়মবদ্ধতা, জটিলতা বা শাস্ত্রের মূলনীতি ও নিয়মাবলির বিমূর্তায়ন ছাড়াই মুক্তভাবে ছেড়ে দেওয়া হতো—এবং পরবর্তীকালিন লেখকদের পদ্ধতি—যাদের ওপর যুক্তির শুষ্কতা ও কঠোরতা এবং বিমূর্তায়ন ও জটিলতার তীব্রতা ও শক্তি প্রাধান্য পেয়েছিল—এই দুইয়ের মাঝামাঝি একটি পরিমিত পন্থা। আর এই মহান গ্রন্থ ‘আসরারুল বালাগাত’ এসেছে যা শায়খ বিশেষভাবে অধিকতর সমাধানের জন্য পৃথক করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১০)
مباحث علمي البديع والبيان بحسب التقسيم الثلاثي للبلاغة عند المتأخرين، كما اشتمل كتابه دلائل الإعجاز على أكثر مباحث (علم المعاني).
وتأتي قيمة هذا الكتاب الجليل (أسرار البلاغة) في أنه يبين وجه الحق في قضية المحسنات البديعية التي اعتبرها البلاغيون المتأخرون أمرا خارجا عن مطابقة الكلام لمقتضى الحال، فهي مجرد زينة لفظية يؤتى بها بعد استيفاء الكلام وجوه المطابقة، فيؤتى به لمجرد الزخرف والزينة والكلام في غنى عنه.
هذه النظرة الخاطئة هي التي جعلت من البديع حجر عثرة في سبيل ارتقاء النصوص الأدبية في العصر الذي شاعت فيه تلك النظرة العقيمة حيث تبارى قارضو الشعر في تدبيج قصائدهم بصور الزخرف اللفظي الكثيرة المتعددة التي تبارى هؤلاء البلاغيون في تعدادها وبيانها والإيصاء بها.
فكانت سمة تلك العصور هي الإكثار من تلك المحسنات والزخارف دون أن يكون لها دور في التعبير عن المعاني أو الأفكار التي صيغت لها تلك النصوص والأشعار، ولعل هذه النظرة الخاطئة قد ظهرت بوادرها في عصر الإمام عبد القاهر الجرجاني بدليل ما استشهد به من الأبيات الدالة على التكلف في استخدام صور الجناس وغيرها من فنون البديع.
الأمر الذي دعاه إلى أن يرد الأمر إلى نصابه، ويكشف النقاب عن الدور الذي يمكن أن تضطلع به تلك المحسنات
إذا ما أتي بها مواكبة للمعنى، موافقة له، وذلك إذا أرسلت النفوس على سجيتها، ولم يتكلف في إيراد تلك الوجوه من المحسنات.
ولذا فقد اجتهاد الإمام عبد القاهر في وضع ضوابط توظيف تلك المحسنات، وبيان متى تحسن، ومتى تقبح؛ فمن ذلك قوله: «أما التجنيس؛ فإنك لا تستحسن تجانس اللفظتين إلا إذا كان موقع معنييهما من العقل موقعا حميدا، ولم يكن مرمى الجامع بينهما مرمى بعيدا
… إلخ».
وتراه ينعي على المتأخرين في زمانه المغالاة في أمر تلك المحسنات فيقول:
«وقد تجد في كلام المتأخرين الآن كلاما حمل صاحبه فرط شغفه بأمور ترجع إلى ما له اسم في البديع إلى أن ينسى أنه يتكلم ليفهم، ويقول ليبين، ويخيل إليه أنه إذا جمع بين أقسام البديع في بيت فلا ضير أن يقع ما عناه في عمياء، وأن يوقع
পরবর্তী যুগের বালাগাতবিদদের নিকট বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের ত্রিবিধ বিভাজন অনুযায়ী ইলমে বাদি’ এবং ইলমে বয়ানের আলোচ্য বিষয়সমূহ, যেমনটি তাঁর ‘দালায়িলুল ই’জায’ কিতাবটি ‘ইলমে মাআনি’র অধিকাংশ আলোচ্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এই মহান গ্রন্থ ‘আসরারুল বালাগাহ’-এর গুরুত্ব এখানে যে, এটি বাদি’র অলঙ্কার বা ‘মুহাসসিনাতুল বাদিইয়াহ’ সংক্রান্ত বিষয়ে সত্য রূপটি ফুটিয়ে তোলে। পরবর্তী যুগের বালাগাতবিদগণ এগুলোকে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী (মুকতাদাল হাল) বক্তব্য প্রদানের বহির্ভূত বিষয় বলে গণ্য করতেন। তাঁদের মতে এগুলো কেবল শাব্দিক সৌন্দর্য বর্ধনকারী বিষয়, যা বক্তব্য তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করার পর আনা হয়; ফলে এগুলো কেবল চাকচিক্য ও শোভাবর্ধনের জন্যই আনা হয় এবং বক্তব্য এগুলো থেকে অমুখাপেক্ষী থাকে।
এই ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিই ইলমে বাদি’কে সেই যুগে সাহিত্যকর্মের উন্নতির পথে একটি প্রতিবন্ধক করে তুলেছিল, যে যুগে এই বন্ধ্যা দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময়ে কবিরা তাদের কাসিদাসমূহকে অসংখ্য শাব্দিক অলঙ্কারে সজ্জিত করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন, যা এই বালাগাতবিদগণ গণনা করা, বর্ণনা করা এবং সেগুলোর সুপারিশ করার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে পাল্লা দিতেন।
ফলে সেই যুগের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই সব অলঙ্কার ও চাকচিক্যের প্রাচুর্য, অথচ অর্থ প্রকাশে বা যে ভাবনার জন্য সেই টেক্সট বা কবিতাগুলো রচিত হয়েছিল, সেখানে এগুলোর কোনো ভূমিকা ছিল না। সম্ভবত এই ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা ইমাম আবদুল কাহের আল-জোরজানি-এর যুগে দেখা দিয়েছিল, যার প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর উপস্থাপিত সেই কবিতাগুলোতে, যা জেনাস (তাজনিস) এবং বাদি’র অন্যান্য শিল্পরীতির ব্যবহারের কৃত্রিমতা নির্দেশ করে।
এই বিষয়টিই তাঁকে বিষয়টিকে সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে এবং এই অলঙ্কারসমূহ যে ভূমিকা পালন করতে পারে তা উন্মোচন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে—
যদি এগুলো অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে আসে এবং তা তখনই সম্ভব যখন অন্তর স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা প্রকাশ করে এবং এই অলঙ্কারগুলো নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কোনো কৃত্রিমতা বা জবরদস্তি করা না হয়।
আর এই কারণেই ইমাম আবদুল কাহের এই অলঙ্কারগুলো ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন করতে এবং কখন এগুলো সুন্দর হয় আর কখন কুৎসিত হয় তা স্পষ্ট করতে সচেষ্ট হয়েছেন। যেমন তাঁর একটি উক্তি হলো: «তাজনিস বা অনুপ্রাস সম্পর্কে কথা হলো: তুমি দুটি শব্দের সমজাতীয় হওয়াকে তখনই সুন্দর মনে করবে যখন বিবেকের নিকট তাদের অর্থদ্বয়ের অবস্থান প্রশংসনীয় হবে এবং তাদের সংযোগকারী বিষয়টি সুদূরপরাহত হবে না
… ইত্যাদি»।
আপনি তাঁকে তাঁর সমসাময়িক উত্তরসূরিদের এই অলঙ্কারগুলোর বিষয়ে অতিরঞ্জনের সমালোচনা করতে দেখবেন, যেখানে তিনি বলেন:
«বর্তমানে উত্তরসূরিদের কথায় আপনি এমন বক্তব্য পাবেন, যার বক্তাকে বাদি’র নামযুক্ত বিষয়গুলোর প্রতি অত্যধিক আসক্তি এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, সে ভুলেই যায় যে সে কথা বলছে অন্যকে বোঝানোর জন্য এবং বর্ণনা করার জন্য। সে ধারণা করে যে, যদি সে একটি চরণে বাদি’-এর বিভিন্ন প্রকারকে একত্রিত করতে পারে, তবে তার উদ্দেশ্যটি অস্পষ্টতায় ঢাকা পড়লেও কোনো ক্ষতি নেই এবং সে...»
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১১)
السامع من طلبه في خبط عشواء، وربما طمس بكثرة ما يتكلفه على المعنى وأفسده، كمن ثقل العروس بأصناف الحلى حتى ينالها من ذلك مكروه في نفسها».
هذا وقد فصلت الكلام على هذه القضية مرارا في تعليقاتي على هذا الكتاب، وفيما كتبته من قبل في رسالتي للماجستير عن الجهود البلاغية للإمام الطيبي (1)، وغيرها من كتبي، وأمر آخر مما يحمد لعبد القاهر في هذا الكتاب وهو تناوله لمباحث علمي البديع والبيان بلا فصل بينهما فهي لديه جميعا مجرد أساليب لغوية بلاغية ينبغي على البلاغي أن يقف أمامها بالتحليل الأدبي البلاغي الذي يوازن فيها بين الصياغة التعبيرية الأسلوبية التي تشكلت بها تلك الفنون والأساليب وبين المعاني الفنية التي تدل عليها، بلا تفريق بين تلك المباحث وبغير تشتيت للنظر بوضع الحدود المصطنعة بينها بلا داع ولا ضرورة تملها النظرة البلاغية الأدبية، اللهم إلا أن تكون النظرة المنطقية العقلانية المتجردة المهوّمة في خيالات العقول بغير مطابقة لحقيقة تلك الفنون، ولا مناسبة لطبيعتها. والحق أننا هنا لسنا بصدد تعداد مظاهر الجودة والتوفيق في هذا السفر العظيم فهي عديدة تنأى عن الحصر، وقد كتب في دراستها وتحليلها أسفار عديدة، وسيقف القارئ بنفسه على كثير من تلك الفوائد والأسرار كلما نظر في هذا الكتاب ثم راح يوازن بينه وبين ما انتهت إليه أحدث النظريات الأسلوبية والبلاغية في علوم البلاغة والأسلوب.
منهج التحقيق:أما عن منهجنا في تحقيق هذا الكتاب فيتلخص في تلك النقاط:
1 - ضبط متن الكتاب اعتمادا على نسخه المتداولة لا سيما نسختي الشيخ (رشيد رضا) ونسخة الشيخ (محمود
شاكر) وهي أجود طبعات الكتاب وتحقيقاته.
2 - تخريج جميع شواهد الكتاب ونصوصه القرآنية والحديثية والشعرية في مصادرها الأصلية ما أمكن مع الاهتمام بعزو الشواهد الشعرية إلى مصادرها التي استشهدت بها في كتب البلاغة العربية لخدمة القارئ إذا ما أراد الوقوف على وجه الاستشهاد بالبيت أو جمع كلام البلاغيين في الاستشهاد به.
--------------------------------------------
শ্রোতা তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে তালাশ করে, এবং অনেক সময় সে অর্থের ওপর যা কৃত্রিমভাবে চাপিয়ে দেয় তার আধিক্যের কারণে অর্থকে বিলুপ্ত ও কলুষিত করে ফেলে। এটি সেই ব্যক্তির মতো, যে কনেকে নানা পদের অলঙ্কার দিয়ে ভারাক্রান্ত করে তোলে, যার ফলে কনের নিজের কষ্ট হয়।
আমি এই বইয়ের ওপর আমার টীকাগুলোতে এবং এর আগে ইমাম তীবির অলঙ্কারশাস্ত্রীয় প্রচেষ্টার ওপর আমার মাস্টার্স থিসিসে (১) ও আমার অন্যান্য বইয়ে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এই বইয়ে আব্দুল কাহিরের প্রশংসনীয় আরেকটি দিক হলো, তিনি ইলমুল বাদী এবং ইলমুল বয়ানের বিষয়গুলো আলাদা না করে আলোচনা করেছেন। তাঁর নিকট এগুলো সবই কেবল ভাষাগত অলঙ্কারিক শৈলী, যার সামনে একজন অলঙ্কারবিদের সাহিত্যিক ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে দাঁড়ানো উচিত। এই বিশ্লেষণ এমনভাবে হওয়া প্রয়োজন যা ওই শিল্পকলা ও শৈলীর মধ্য দিয়ে গঠিত অভিব্যক্তির রূপ এবং তার নির্দেশিত শৈল্পিক অর্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে। সেই বিষয়গুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে এবং কোনো কারণ বা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই সেগুলোর মাঝে কৃত্রিম সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত না করে এটি করা হয়েছে। অবশ্য এমনটি কেবল তখনই হতে পারে যখন দৃষ্টিভঙ্গিটি হয় নিছক যুক্তিভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক, যা ওই শিল্পকলার প্রকৃত স্বরূপের সাথে সামঞ্জস্যহীন এবং তার প্রকৃতির সাথে সংগতিহীন হয়ে মনের কল্পনায় ঘুরে বেড়ায়। প্রকৃতপক্ষে, আমরা এই মহান গ্রন্থে উৎকর্ষ ও সাফল্যের দিকগুলো গণনার পর্যায়ে নেই; কারণ সেগুলো এতই অধিক যে তা সীমাবদ্ধ করা অসম্ভব। এর অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। পাঠক নিজে যখনই এই বইটি দেখবেন এবং অলঙ্কার ও শৈলী বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক শৈলীগত ও অলঙ্কারশাস্ত্রীয় তত্ত্বগুলোর সাথে এর তুলনা করবেন, তখনই তিনি এমন অনেক উপকারিতা ও রহস্যের সন্ধান পাবেন।
সম্পাদনা পদ্ধতি:এই কিতাবটি সম্পাদনায় আমাদের পদ্ধতি নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষিপ্ত করা হলো:
১ - কিতাবের প্রচলিত পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করে এর মূল পাঠ (মতন) নির্ধারণ করা হয়েছে, বিশেষ করে শেখ (রশিদ রিযা) এবং শেখ (মাহমুদ শাকির)-এর পাণ্ডুলিপিদ্বয়। এটি এই বইয়ের সর্বোত্তম সংস্করণ ও সম্পাদনাগুলোর অন্যতম।
২ - বইয়ের সমস্ত উদ্ধৃতি এবং এর কোরআনিক, হাদিসভিত্তিক ও কাব্যিক পাঠগুলো যথাসম্ভব তাদের মূল উৎস থেকে উদঘাটন (তাখরিজ) করা হয়েছে। বিশেষ করে কাব্যিক উদ্ধৃতিগুলোকে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের বইগুলোতে ব্যবহৃত তাদের উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখানোর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি পাঠকের সুবিধার্থে করা হয়েছে, যাতে তিনি কাব্যিক পঙ্ক্তিগুলোর উদ্ধৃতির ধরন সম্পর্কে জানতে পারেন অথবা সেগুলো উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে অলঙ্কারবিদদের বক্তব্যগুলো একত্রে পেতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১২)
3 - شرح الغريب.
4 - إثبات أهم فروق النسخ المؤثرة في إحالة المعاني.
5 - إثبات أهم تعليقات الشيخ رشيد رضا، وشيخه محمد عبده لأهميتها وجلالتها، مع الانتفاع بتعليقات الشيخ محمود شاكر كذلك، وقد رمزت لتعليقات الشيخ رشيد بكلمة (رشيد) بين قوسين بعد تمام النقل. ولشيخه محمد عبده برمز (ش) ولكلام الشيخ محمود شاكر برمز (شاكر).
ووضحت تعليقاتي وإضافاتي لما عقبت به بعد أحدهم بقولي (قلت) بين قوسين.
هذا، ولا يفوتنا في هذا المقام أن نتوجه بالشكر لدار الكتب العلمية على ما قامت به من جهد مشكور في مراجعة تجارب الكتاب وتصحيحه وطباعته تلك الطباعة اللائقة.
هذا، والله نسأل أن يجزل لنا المثوبة في هذا العمل، ولكل من شارك فيه بجهد مشكور، وأن ينفع به ويعين على معرفة أسرار كتابه العزيز، إنه سبحانه مولى ذلك وهو القادر عليه.
وكتبه د. عبد الحميد هنداوي المدرس بقسم البلاغة والنقد الأدبي والأدب المقارن بكلية دار العلوم- جامعة القاهرة الجيزة في رجب 1421 هـ.
৩ - বিরল শব্দাবলির ব্যাখ্যা।
৪ - পাণ্ডুলিপির গুরুত্বপূর্ণ পাঠভেদসমূহ সাব্যস্ত করা, যা অর্থের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে।
৫ - শায়খ রশীদ রিযা এবং তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ আবদুহ-এর টীকাগুলোর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্যের কারণে সেগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে; সেই সাথে শায়খ মাহমুদ শাকিরের টীকাগুলো থেকেও উপকৃত হওয়া হয়েছে। উদ্ধৃতি সমাপ্তির পর বন্ধনীতে (রশীদ) শব্দের মাধ্যমে শায়খ রশীদের টীকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ আবদুহর জন্য (শ) প্রতীক এবং শায়খ মাহমুদ শাকিরের বক্তব্যের জন্য (শাকির) প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।
তাদের কারো বক্তব্যের ওপর আমার করা টীকা ও সংযোজনগুলোকে আমি বন্ধনীতে (আমি বলছি) শব্দের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি।
পরিশেষে, আমরা এখানে 'দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ'-কে ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না, বইটির পাণ্ডুলিপি সংশোধন, পরিমার্জন এবং একে যথোপযুক্ত মুদ্রণে তাদের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার জন্য।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজের জন্য আমাদেরকে এবং যারা এতে প্রশংসনীয় শ্রম দিয়েছেন তাদের সকলকে পরিপূর্ণ প্রতিদান দান করেন; আর এটি যেন মানুষের উপকারে আসে এবং তাঁর মহাগ্রন্থের গূঢ় রহস্যসমূহ জানতে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই তিনি এর অধিপতি এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
এটি লিখেছেন ড. আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ি, শিক্ষক, অলঙ্কারশাস্ত্র, সাহিত্য সমালোচনা ও তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগ, দারুল উলুম অনুষদ, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, গিজা, রজব ১৪২১ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
[مقدمة المؤلف]قال الشيخ الإمام مجد الإسلام أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجاني النحوي رحمة الله عليه ورضوانه:
الحمد لله رب العالمين، وصلواته على سيدنا محمد النبي وآله أجمعين.
اعلم أن الكلام هو الذي يعطي العلوم منازلها، ويبيّن مراتبها، ويكشف عن صورها، ويجني صنوف ثمرها، ويدلّ على سرائرها، ويبرز مكنون ضمائرها، وبه أبان الله تعالى الإنسان من سائر الحيوان، ونبّه فيه على عظم الامتنان، فقال عزّ من قائل:
الرَّحْمنُ عَلَّمَ الْقُرْآنَ، خَلَقَ الْإِنْسانَ، عَلَّمَهُ الْبَيانَ [الرحمن 1 - 4]، فلولاه لم تكن لتتعدّى فوائد العلم عالمه، ولا صحّ من العاقل أن يفتق عن أزاهير العقل كمائمه، ولتعطّلت قوى الخواطر والأفكار من معانيها، واستوت القضيّة في موجودها وفانيها.
نعم، ولوقع الحيّ الحسّاس في مرتبة الجماد، ولكان الإدراك كالذي ينافيه من الأضداد، ولبقيت القلوب مقفلة على ودائعها، والمعاني مسجونة في مواضعها، ولصارت القرائح عن تصرّفها معقولة، والأذهان عن سلطانها معزولة، ولما عرف كفر من إيمان، وإساءة من إحسان، ولما ظهر فرق بين مدح وتزيين، وذمّ وتهجين. ثم إنّ الوصف الخاصّ به، والمعنى المثبت لنسبه، أنه يريك المعلومات بأوصافها التي وجدها العلم عليها، ويقرّر كيفياتها التي تناولها (1) المعرفة إذا سمت إليها.
وإذا كان هذا الوصف مقوّم ذاته وأخصّ صفاته، كان أشرف أنواعه ما كان فيه أجلى وأظهر، وبه أولى وأجدر. ومن هاهنا يبيّن للمحصل، ويتقرّر في نفس المتأمّل، كيف ينبغي أن يحكم في تفاضل الأقوال إذا أراد أن يقسّم بينها حظوظها من الاستحسان، ويعدّل القسمة بصائب القسطاس والميزان.
ومن البيّن الجليّ أن التباين في هذه الفضيلة، والتباعد عنها إلى ما ينافيها من
--------------------------------------------
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
[লেখকের ভূমিকা]শায়খ, ইমাম, মাজদুল ইসলাম আবু বকর আবদুল কাহির ইবনে আবদুর রহমান আল-জুরজানি আন-নাহবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষণ করুন) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর দরুদ বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবারের ওপর।
জেনে রাখুন যে, কথা হচ্ছে সেটিই যা জ্ঞানসমূহকে তাদের নিজ নিজ মর্যাদা প্রদান করে, তাদের স্তরসমূহ স্পষ্ট করে, তাদের রূপ উন্মোচন করে, তাদের বিভিন্ন প্রকারের ফল আহরণ করে, তাদের রহস্যের দিকে ইঙ্গিত করে এবং তাদের অন্তনিহিত বিষয়সমূহকে প্রকাশ করে। এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহ মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর মহান অনুগ্রহের বিষয়ে সচেতন করেছেন। সুতরাং সেই মহান সত্তা বলেছেন:
পরম করুণাময়। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনি তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা। [আর-রহমান ১ - ৪], সুতরাং কথা যদি না থাকত, তবে জ্ঞানের উপকারিতা কেবল জ্ঞানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, কোনো বুদ্ধিমানের পক্ষেই বুদ্ধিবৃত্তিক পুষ্পের কুঁড়ি বিকশিত করা সম্ভব হতো না, চিন্তা ও ভাবনার শক্তিগুলো তাদের অর্থ হারিয়ে অকেজো হয়ে যেত এবং বিদ্যমান ও বিলুপ্ত বিষয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকত না।
হ্যাঁ, আর জীবন্ত ও সংবেদনশীল সত্তা জড় পদার্থের স্তরে নেমে যেত এবং উপলব্ধি ও এর বিপরীত বিষয়গুলো সমপর্যায়ে চলে আসত। হৃদয়গুলো তাদের আমানতসহ তালাবদ্ধ থাকত, অর্থগুলো তাদের নিজ স্থানে বন্দি হয়ে থাকত, প্রতিভাগুলো তাদের ক্রিয়া থেকে রহিত হতো এবং মেধা তার কর্তৃত্ব থেকে বিচ্যুত হতো। আর কুফর ও ঈমানের মাঝে পার্থক্য করা যেত না, না মন্দ ও ভালোর মাঝে পার্থক্য হতো, আর না প্রশংসা ও সৌন্দর্য এবং নিন্দা ও কুৎসিত হওয়ার মাঝে কোনো তফাত প্রকাশ পেত। অতঃপর, এর যে বিশেষ গুণ এবং এর সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট যে অর্থ রয়েছে, তা হলো এটি আপনাকে তথ্যসমূহকে সেই গুণাবলির সাথে দেখায় যার ওপর ভিত্তি করে জ্ঞান সেগুলোকে লাভ করেছে, এবং এটি সেগুলোর স্বরূপকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে যা প্রজ্ঞা আহরণ করে যখন সে তার উচ্চশিখরে আরোহণ করে।
আর যখন এই গুণটি তার সত্তার মূল উপাদান এবং এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয়, তখন এর প্রকারভেদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো সেটি যাতে এটি সবচেয়ে স্পষ্ট ও উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হয় এবং যা এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও যোগ্য হয়। আর এখান থেকেই একজন গবেষকের নিকট এটি স্পষ্ট হয় এবং একজন চিন্তাশীল ব্যক্তির মনে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিভিন্ন উক্তির শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে কীভাবে বিচার করা উচিত যখন সে সেগুলোর মধ্যে প্রশংসনীয় অংশের ভাগ বণ্টন করতে চায় এবং সঠিক তুলাদণ্ড ও মিজানের মাধ্যমে সেই বণ্টনকে সুষম করতে চায়।
আর এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, এই উৎকর্ষের ক্ষেত্রে যে বৈচিত্র্য এবং এর থেকে বিচ্যুত হয়ে এর বিপরীত বিষয়ের দিকে ধাবিত হওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرذيلة، ليس بمجرّد اللفظ (1). كيف؟ والألفاظ لا تفيد حتى تؤلّف ضربا خاصّا من التأليف، ويعمد بها إلى وجه دون وجه من التركيب والترتيب. فلو أنك عمدت إلى بيت شعر أو فصل نثر فعددت كلماته عدّا كيف جاء واتّفق، وأبطلت نضده (2) ونظامه الذي عليه بني، وفيه أفرغ المعنى وأجري، وغيّرت ترتيبه الذي بخصوصيته أفاد ما أفاد، وبنسقه المخصوص أبان المراد، نحو أن تقول في: [من الطويل] قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل (3) «منزل قفا ذكرى من نبك حبيب»، أخرجته من كمال البيان، إلى مجال الهذيان. نعم وأسقطت نسبته من صاحبه، وقطعت الرّحم بينه وبين منشئه، بل أحلت أن يكون له إضافة إلى قائل، ونسب يختصّ بمتكلم. وفي ثبوت هذا الأصل ما تعلم به أنّ المعنى الذي له كانت هذه الكلم بيت شعر أو فصل خطاب، هو ترتيبها على طريقة معلومة، وحصولها
على صورة من التأليف مخصوصة. وهذا الحكم- أعني الاختصاص في الترتيب- يقع في الألفاظ مرتّبا على المعاني المرتّبة في النفس، المنتظمة فيها على قضيّة العقل (4). ولا يتصوّر في الألفاظ وجوب تقديم وتأخير، وتخصّص في ترتيب وتنزيل، وعلى ذلك وضعت المراتب والمنازل في الجمل المركّبة، وأقسام الكلام المدوّنة، فقيل: من حق هذا أن يسبق ذلك، ومن حقّ ما هاهنا أن يقع هنالك، كما قيل في المبتدأ والخبر والمفعول والفاعل، حتى حظر
--------------------------------------------
হীনতা কেবল শব্দের মাধ্যমে নয় (১)। কীভাবে? শব্দসমূহ ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো উপকার দেয় না যতক্ষণ না সেগুলোকে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করা হয় এবং বিন্যাস ও সুশৃঙ্খলতার একটি সুনির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করা হয়। যদি আপনি কোনো কবিতার একটি পঙ্ক্তি অথবা গদ্যের একটি অনুচ্ছেদ নেন এবং সেটির শব্দগুলোকে যথেচ্ছভাবে গণনা করেন যেভাবে সেগুলো এসেছে, এবং সেটির বিন্যাস (২) ও শৃঙ্খলাকে বাতিল করে দেন যার ওপর ভিত্তি করে সেটি রচিত হয়েছে এবং যার মধ্যে অর্থ ঢেলে দেওয়া হয়েছে ও প্রবাহিত হয়েছে, এবং সেটির বিন্যাস পরিবর্তন করে দেন যার বৈশিষ্ট্যের কারণেই তা অর্থপূর্ণ হয়েছিল এবং যার বিশেষ পারম্পর্যের কারণে উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছিল; যেমন আপনি যদি এই দীর্ঘ ছন্দের কবিতার পঙ্ক্তির ক্ষেত্রে বলেন: [তবীল ছন্দ] "থামো, আমরা প্রিয়তম ও তার আবাসের স্মরণে ক্রন্দন করি" (৩) — "আবাস থামো স্মৃতি থেকে আমরা ক্রন্দন করি প্রিয়তম", তবে আপনি একে পূর্ণাঙ্গ স্পষ্টতা থেকে প্রলাপের স্তরে নামিয়ে দিলেন। হ্যাঁ, আপনি এর রচয়িতার সাথে এর সম্পর্ককে ছিন্ন করে দিলেন এবং এর স্রষ্টার সাথে এর বন্ধন কেটে দিলেন। বরং একে কোনো বক্তার সাথে সম্পৃক্ত করা বা কোনো কথা বলনেওয়ালার সাথে বিশেষায়িত করাও অসম্ভব করে তুললেন। এই মূলনীতিটি সাব্যস্ত হওয়ার মাধ্যমেই আপনি জানতে পারেন যে, এই শব্দসমূহ একটি কবিতার পঙ্ক্তি বা ভাষণের একটি অনুচ্ছেদ হওয়ার কারণ হলো একটি জানা পদ্ধতিতে সেগুলোর বিন্যাস এবং একটি বিশেষ গঠনের মাধ্যমে সেগুলোর অর্জিত রূপ। আর এই বিধান—অর্থাৎ বিন্যাসের বিশেষত্ব—শব্দসমূহের মধ্যে ঘটে মনের ভেতরে সাজানো অর্থের বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে, যা বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির ভিত্তিতে বিন্যস্ত থাকে (৪)। শব্দের মধ্যে আগে-পরে আসা এবং বিন্যাস ও উপস্থাপনায় বিশেষত্ব থাকার বিষয়টি কল্পনা করা যায় না, যতক্ষণ না তা অর্থের বিন্যাস অনুযায়ী হয়। আর সে অনুযায়ীই বাক্য গঠন এবং সংকলিত বক্তব্যের বিভিন্ন স্তরের পদমর্যাদা ও অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বলা হয়: এর অধিকার হলো তার আগে থাকা, আর যা এখানে আছে তার অধিকার হলো সেখানে থাকা, যেমনটি বলা হয় উদ্দেশ্য (মুবতাদা), বিধেয় (খবর), কর্ম (মাফউল) এবং কর্তা (ফায়িল) সম্পর্কে, এমনকি নিষিদ্ধ করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
في جنس من الكلم بعينه أن يقع إلّا سابقا، وفي آخر أن يوجد إلا مبنيّا على غيره وبه لاحقا، كقولنا: إن الاستفهام له صدر الكلام، وإن الصفة لا تتقدم على الموصوف إلا أن تزال عن الوصفية إلى غيرها من الأحكام.
فإذا رأيت البصير بجواهر الكلام يستحسن شعرا أو يستجيد نثرا، ثم يجعل الثناء عليه من حيث اللّفظ فيقول: حلو رشيق، وحسن أنيق، وعذب سائغ، وخلوب رائع، فاعلم أنه ليس ينبئك عن أحوال ترجع إلى أجراس الحروف (1)، وإلى ظاهر الوضع اللغويّ، بل إلى أمر يقع من المرء في فؤاده، وفضل يقتدحه العقل من زناده.
وأمّا رجوع الاستحسان إلى اللفظ من غير شرك من المعنى فيه، وكونه من أسبابه ودواعيه، فلا يكاد يعدو نمطا واحدا، وهو أن تكون اللفظة مما يتعارفه الناس في استعمالهم، ويتداولونه في زمانهم، ولا يكون وحشيا غريبا، أو عامّيا سخيفا، سخفه بإزالته عن موضوع اللغة، وإخراجه عما فرضته من الحكم والصفة، كقول العامة
«أشغلت» و «انفسد». وإنما شرطت هذا الشرط، فإنه ربما استسخف اللفظ بأمر يرجع إلى المعنى دون مجرّد اللفظ، كما يحكى من قول عبيد الله بن زياد لما دهش: «افتحوا لي سيفي»، وذلك أن «الفتح» خلاف «الإغلاق»، فحقّه أن يتناول شيئا هو في حكم المغلق والمسدود، وليس السّيف بمسدود، وأقصى أحواله أن يكون كونه في الغمد بمنزله كون الثوب في العكم (2)، والدرهم في الكيس، والمتاع في الصندوق. و «الفتح» في هذا الجنس (3) يتعدّى أبدا إلى الوعاء المسدود على الشيء الحاوي له لا إلى ما فيه، فلا يقال: «افتح الثوب»، وإنما يقال: «افتح العكم» و «أخرج الثوب» و «افتح الكيس».
وهاهنا أقسام قد يتوهّم في بدء الفكرة، وقبل إتمام العبرة، أنّ الحسن والقبح فيها لا يتعدّى اللفظ والجرس، إلى ما يناجي فيه العقل النفس، ولها إذا حقّق النظر مرجع إلى ذلك، ومنصرف فيما هنالك، منها: «التجنيس» و «الحشو».
--------------------------------------------
নির্দিষ্ট কিছু শব্দের বৈশিষ্ট্য হলো যে তা সর্বদা বাক্যের শুরুতে আসে, আবার অন্যগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো তা অন্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং পরে আসে। যেমন আমাদের কথা: জিজ্ঞাসাবোধক শব্দ বাক্যের শুরুতে থাকে, এবং বিশেষণ তার বিশেষিত বিশেষ্যের পূর্বে আসে না, যতক্ষণ না সেটি বিশেষণের বৈশিষ্ট্য হতে বিচ্যুত হয়ে অন্য কোনো বিধানে পরিণত হয়।
সুতরাং যখন আপনি বাক্যের নিগুঢ় রহস্যের বোদ্ধাকে কোনো কবিতা বা গদ্যের প্রশংসা করতে দেখেন, এবং সেই প্রশংসার কারণ হিসেবে তিনি কেবল শব্দাবলির দিক থেকে করে বলেন: ‘মিষ্টি ও কমনীয়’, ‘সুন্দর ও পরিপাটি’, ‘স্বাদযুক্ত ও সাবলীল’ কিংবা ‘মনোমুগ্ধকর ও চমৎকার’, তখন জেনে রাখুন যে তিনি আপনাকে অক্ষরের ঝংকার (১) বা বাহ্যিক ভাষাগত অবস্থানের অবস্থার কথা বলছেন না; বরং এমন এক বিষয়ের সংবাদ দিচ্ছেন যা মানুষের অন্তরে উদিত হয় এবং সেই উৎকর্ষের কথা বলছেন যা বুদ্ধি তার প্রজ্ঞা দিয়ে উদ্ভাসিত করে।
আর অর্থের সংশ্লিষ্টতা ব্যতিরেকে নিছক শব্দের গুণের কারণে প্রশংসিত হওয়া—এবং শব্দই সেই প্রশংসার কারণ ও ভিত্তি হওয়া—তা মূলত একটি নির্দিষ্ট ধারার বাইরে যায় না। তা হলো এই যে, শব্দটি এমন হওয়া যা মানুষ তাদের কথোপকথনে ব্যবহার করে এবং তাদের যুগে প্রচলিত; সেটি যেন বন্য ও অদ্ভুত না হয়, কিংবা স্থূল ও অমার্জিত না হয়। অমার্জিত হওয়ার বিষয়টি হলো ভাষাগত মূল কাঠামো থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং নির্ধারিত বিধান ও বৈশিষ্ট্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া। যেমন সাধারণ মানুষের কথা
‘আশগালাত’ (ব্যস্ত করেছে) এবং ‘ইনফাসাদা’ (নষ্ট হয়েছে)। আর আমি এই শর্তটি এজন্য দিয়েছি কারণ কখনও কখনও নিছক শব্দের পরিবর্তে অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কারণে শব্দটি তুচ্ছ বা স্থূল বিবেচিত হয়। যেমন ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের ব্যাপারে বর্ণিত আছে, যখন তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েছিলেন তখন বলেছিলেন: ‘আমার তরবারিটি খুলে দাও’। কারণ ‘খোলা’ (ফাতহ) হলো ‘বন্ধ করার’ বিপরীত। এর প্রয়োগ সেখানে হওয়া উচিত যা বন্ধ বা অবরুদ্ধ। অথচ তরবারি অবরুদ্ধ নয়; এর সর্বোচ্চ অবস্থা হলো খাপের মধ্যে থাকা, যেমন কাপড়ের পোটলায় থাকা (২), থলেতে দিরহাম থাকা বা সিন্দুকে মালপত্র থাকা। এই জাতীয় ক্ষেত্রে (৩) ‘খোলা’ ক্রিয়াটি সর্বদা এমন আধার বা পাত্রের দিকে নির্দেশিত হয় যা ভেতরে থাকা বস্তুটিকে আগলে রেখে বন্ধ হয়ে আছে, খোদ বস্তুটির দিকে নয়। সুতরাং বলা হয় না: ‘কাপড়টি খোলো’, বরং বলা হয়: ‘পোটলাটি খোলো’ এবং ‘কাপড়টি বের করো’ অথবা ‘থলেটি খোলো’।
আর এখানে এমন কিছু প্রকার রয়েছে যেখানে প্রাথমিক চিন্তায় এবং গভীর পর্যবেক্ষণের আগে মনে হতে পারে যে, সৌন্দর্য ও কদর্যতা কেবল শব্দ ও ধ্বনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যা বুদ্ধিবৃত্তিক অনুভবের স্তরে পৌঁছায় না। তবে গভীর দৃষ্টিতে পর্যালোচনার পর দেখা যায় যে, এগুলোর প্রত্যাবর্তন সেই বুদ্ধিবৃত্তিক অনুভবের দিকেই। এর মধ্যে রয়েছে: ‘তাজনিস’ (অনুপ্রাস) এবং ‘হাশও’ (অপ্রয়োজনীয় শব্দ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
القول في التجنيسأما «التجنيس» فإنك لا تستحسن تجانس اللفظتين إلا إذا كان وقع معنييهما من العقل موقعا حميدا، ولم يكن مرمى الجامع بينهما مرمى بعيدا، أتراك استضعفت تجنيس أبي تمام في قوله: [من الكامل]
ذهبت بمذهبه السّماحة فالتوت
… فيه الظّنون: أمذهب أم مذهب (1)
واستحسنت تجنيس القائل: [من الرجز] حتى نجا من خوفه وما نجا (2) وقول المحدث: [من الخفيف]
ناظراه فيما جنى ناظراه
… أو دعاني أمت بما أو دعاني (3)
لأمر يرجع إلى اللفظ؟ أم لأنك رأيت الفائدة ضعفت عن الأوّل وقويت في الثاني؟ ورأيتك لم يزدك «بمذهب ومذهب» على أن أسمعك حروفا مكررة، تروم فائدة فلا تجدها إلا مجهولة منكرة، ورأيت الآخر قد أعاد عليك اللفظة كأنه يخدعك عن الفائدة وقد أعطاها، ويوهمك كأنه لم يزدك وقد أحسن الزيادة ووفّاها، فبهذه السريرة
صار «التجنيس» - وخصوصا المستوفى منه المتّفق في الصورة- من حلى الشّعر، ومذكورا في أقسام البديع.
فقد تبين لك أن ما يعطي «التجنيس» من الفضيلة، أمر لم يتمّ إلا بنصرة المعنى، إذ لو كان باللفظ وحده لما كان فيه مستحسن، ولما وجد فيه معيب مستهجن. ولذلك ذمّ الاستكثار منه والولوع به.
وذلك أن المعاني لا تدين في كل موضع لما يجذبها التجنيس إليه، إذ الألفاظ
--------------------------------------------
শব্দালঙ্কার (তাজনীত) সংক্রান্ত আলোচনাতাজনীত বা শব্দের সমরূপতার বিষয়টি আপনার নিকট কেবল তখনই প্রশংসনীয় হবে, যখন শব্দদ্বয়ের অর্থের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানটি চমৎকার হবে এবং তাদের মধ্যকার সমন্বয়কারী বিষয়টি খুব দূরবর্তী হবে না। আপনি কি আবু তাম্মামের নিম্নোক্ত চরণে তার তাজনীতকে দুর্বল মনে করেন না? যেখানে সে বলেছে: [কামিল ছন্দ]
বদান্যতা তার আদর্শকে (মাযহাব) নিয়ে গেছে, ফলে সেখানে নানাবিধ সংশয় ঘনীভূত হয়েছে: এটি কি পথ (মাযহাব) নাকি স্বর্ণ (মুযহাব)? (১)
অথবা আপনি কি নিম্নোক্ত কবির তাজনীতকে সুন্দর মনে করেছেন: [রাজায ছন্দ] এমনকি সে তার ভয়ের কারণে মলত্যাগ করল, অথচ সে মুক্তি পেল না। (২) এবং আধুনিক কবির উক্তি: [খাফীফ ছন্দ]
সে যা অন্যায় করেছে, সে বিষয়ে তার চক্ষুদ্বয় তাকে পর্যবেক্ষণ করেছে... অথবা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি যেন তার আমানতের কারণে ধ্বংস হয়ে যাই। (৩)
এটি কি কেবল শব্দের কোনো বিষয়ের দিকে ফিরে যায়? নাকি এজন্য যে, আপনি দেখেছেন প্রথম উদাহরণে উপকারিতা বা মাধুর্য দুর্বল এবং দ্বিতীয়টিতে তা অত্যন্ত শক্তিশালী? আপনি লক্ষ্য করেছেন যে, "মাযহাব ও মাযহাব" শব্দদ্বয় আপনার কানে কেবল বর্ণমালার পুনরাবৃত্তি ছাড়া নতুন কিছু যোগ করেনি। আপনি সেখানে একটি অর্থমাধুর্য খুঁজছেন, কিন্তু তা অপরিচিত ও অজ্ঞাত হওয়া ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে আপনি দেখছেন যে, অপর জন আপনার কাছে শব্দটি এমনভাবে পুনরায় ফিরিয়ে এনেছেন যেন তিনি আপনাকে অর্থমাধুর্য থেকে বঞ্চিত করছেন, অথচ তিনি তা ঠিকই প্রদান করেছেন। তিনি আপনাকে এমন একটি ধারণা দিচ্ছেন যেন তিনি নতুন কিছু যোগ করেননি, অথচ তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে এবং পরিপূর্ণরূপে নতুনত্বের সংযোজন ঘটিয়েছেন। এই রহস্যের কারণেই
তাজনীত—বিশেষ করে যা পরিপূর্ণ (মুসতাওফা) এবং দেখতে একরূপ—কাব্যের অলঙ্কার এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (বাদী') অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
আপনার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাজনীত যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে, তা অর্থের সহায়তা ছাড়া সম্পন্ন হয় না। যদি এটি কেবল শব্দের কারণেই হতো, তবে তাতে প্রশংসনীয় কিছু থাকত না এবং তাতে কোনো মন্দ বা কদর্য বিষয়ও খুঁজে পাওয়া যেত না। আর এই কারণেই এর আধিক্য এবং এর প্রতি অত্যধিক আসক্তিকে নিন্দা জানানো হয়েছে।
তার কারণ হলো, অর্থসমূহ প্রতিটি স্থানে সেই দিকে অনুগত হয় না যেদিকে তাজনীত তাকে টেনে নিয়ে যেতে চায়। কারণ শব্দসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
خدم المعاني والمصرّفة في حكمها، وكانت المعاني هي المالكة سياستها، المستحقّة طاعتها. فمن نصر اللفظ على المعنى كان كمن أزال الشيء عن جهته، وأحاله عن طبيعته، وذلك مظنّة من الاستكراه، وفيه فتح أبواب العيب، والتّعرّض للشّين.
ولهذه الحالة كان كلام المتقدّمين الذين تركوا فضل العناية بالسجع، ولزموا سجيّة الطبع، أمكن في العقول، وأبعد من القلق، وأوضح للمراد، وأفضل عند ذوي التّحصيل، وأسلم من التفاوت، وأكشف عن الأغراض، وأنصر للجهة التي تنحو نحو العقل، وأبعد من التّعمّد الذي هو ضرب من الخداع بالتزويق، والرضى بأن تقع النقيصة في نفس الصّورة. وإنّ الخلقة، إذا أكثر فيها من الوشم والنقش، وأثقل صاحبها بالحلي والوشي، قياس الحلي على السيف الدّدان (1)، والتوسّع في الدعوى بغير برهان، كما قال: [من الطويل]
إذا لم تشاهد غير حسن شياتها
… وأعضائها فالحسن عنك مغيّب (2)
وقد تجد في كلام المتأخرين الآن كلاما حمل صاحبه فرط شغفه بأمور ترجع إلى ما له اسم في البديع، إلى أن ينسى أنّه يتكلم ليفهم، ويقول ليبين، ويخيّل إليه أنه إذا جمع بين أقسام البديع في بيت فلا ضير أن يقع ما عناه في عمياء، وأن يوقع السامع من طلبه في خبط عشواء، وربّما طمس بكثرة ما يتكلّفه على المعنى وأفسده، كمن ثقّل
العروس بأصناف الحلي حتى ينالها من ذلك مكروه في نفسها (3).
--------------------------------------------
শব্দসমূহ হলো অর্থের সেবক এবং অর্থের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত। অর্থই হলো শব্দের রাজনীতির মালিক এবং আনুগত্যের দাবিদার। সুতরাং যে ব্যক্তি অর্থের ওপর শব্দকে প্রাধান্য দিল, সে যেন কোনো বস্তুকে তার যথাস্থান থেকে বিচ্যুত করল এবং তার প্রকৃতিকে পরিবর্তিত করে ফেলল। এটি কৃত্রিমতার আশঙ্কাজনক স্থান, আর এতে দোষ-ত্রুটির দ্বার উন্মোচিত হয় এবং কলঙ্কিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এই কারণেই পূর্বসূরিদের কালাম—যাঁরা অনুপ্রাসের (সাজউ) প্রতি অতিরিক্ত যত্ন ত্যাগ করেছিলেন এবং স্বভাবজাত প্রবৃত্তিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন—তা ছিল বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অধিক শক্তিশালী, অস্থিরতা থেকে দূরে, উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট, জ্ঞানপিপাসুদের নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ, অসামঞ্জস্যতা থেকে অধিক মুক্ত, লক্ষ্যসমূহ উন্মোচনে অধিক কার্যকর এবং যুক্তিনির্ভর দিকের জন্য অধিক সহায়ক। এটি সেই কৃত্রিমতা থেকে দূরে যা অলংকরণের মাধ্যমে এক ধরণের প্রতারণা এবং খোদ অবয়বের মধ্যে ত্রুটি থাকাকে মেনে নেওয়ার শামিল। সৃষ্টিকে যদি ট্যাটু ও নকশা দ্বারা অতিশয়িত করা হয় এবং তার মালিককে অলংকার ও কারুকাজ দ্বারা ভারাক্রান্ত করা হয়, তবে তা ভোঁতা তলোয়ারের (১) ওপর অলংকারের সদৃশ হয় এবং প্রমাণ ছাড়াই দাবির বিস্তার ঘটায়, যেমনটি কবি বলেছেন: [তওয়ীল ছন্দে]
যদি তুমি তার কেবল বাহ্যিক চিহ্ন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সৌন্দর্যই দেখো
… তবে প্রকৃত সৌন্দর্য তোমার থেকে গোপন রয়ে গেছে। (২)
বর্তমানে আপনি পরবর্তী যুগের লোকদের কথায় এমন কথা পাবেন যার প্রবক্তাকে 'বদী' (অলংকারশাস্ত্র) সংক্রান্ত বিষয়াদির প্রতি অত্যধিক আসক্তি এই পর্যন্ত নিয়ে গেছে যে, সে ভুলে গেছে যে সে বোঝার জন্যই কথা বলছে এবং স্পষ্ট করার জন্যই বলছে। সে কল্পনা করে যে, যদি সে একটি চরণে বদী-র বিভিন্ন প্রকার একত্র করতে পারে, তবে তার উদ্দিষ্ট অর্থটি যদি অস্পষ্টতায় হারিয়েও যায় বা শ্রোতাকে উদ্দেশ্য সন্ধানে বিভ্রান্তিতেও ফেলে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। কখনও কখনও সে অর্থকে কৃত্রিমতার আধিক্য দিয়ে বিলুপ্ত ও নষ্ট করে ফেলে, যেমনটি কোনো
কনেকে বিভিন্ন প্রকার অলংকারে এমনভাবে ভারাক্রান্ত করা হয় যাতে তার নিজেরই ক্ষতি হয়। (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فإن أردت أن تعرف مثالا فيما ذكرت لك، من أن العارفين بجواهر الكلام لا يعرّجون على هذا الفنّ إلا بعد الثقة بسلامة المعنى وصحّته، وإلا حيث يأمنون جناية منه عليه، وانتقاصا له وتعويقا دونه، فانظر إلى خطب الجاحظ في أوائل كتبه هذا- والخطب من شأنها أن يعتمد فيها الأوزان والأسجاع، فإنها تروى وتتناقل تناقل الأشعار، ومحلّها محلّ النسيب والتشبيب (1) من الشعر الذي هو كأنه لا يراد منه إلّا الاحتفال في الصنعة، والدّلالة على مقدار شوط القريحة (2)، والإخبار عن فضل القوة، والاقتدار على التفنّن في الصنعة- قال في أول كتاب الحيوان:
«جنّبك الله الشّبهة، وعصمك من الحيرة، وجعل بينك وبين المعرفة سببا، وبين الصدق نسبا، وحبّب إليك التثبّت، وزيّن في عينك الإنصاف، وأذاقك حلاوة التقوى، وأشعر قلبك عزّ الحق، وأودع صدرك برد اليقين وطرد عنك ذلّ اليأس، وعرّفك ما في الباطل من الذلّة، وما في الجهل من القلّة».
فقد ترك أوّلا أن يوفّق بين «الشبهة» و «الحيرة» في الإعراب، ولم ير أن يقرن «الخلاف» إلى «الإنصاف»، ويشفع «الحق» «بالصدق»، ولم يعن بأن يطلب «لليأس» قرينة تصل جناحه، وشيئا يكون رديفا له، لأنه رأى التوفيق بين المعاني أحقّ، والموازنة فيها أحسن، ورأى العناية بها حتى تكون إخوة من أب وأمّ؛ ويذرها على ذلك تتّفق
بالوداد، على حسب اتّفاقها بالميلاد، أولى من أن يدعها، لنصرة السجع وطلب الوزن، أولاد علّة (3)، عسى أن لا يوجد بينها وفاق إلا في الظواهر، فأما أن يتعدّى ذلك إلى الضمائر، ويخلص إلى العقائد والسّرائر، ففي الأقلّ النادر.
وعلى الجملة فإنك لا تجد تجنيسا مقبولا، ولا سجعا حسنا، حتى يكون المعنى هو الذي طلبه واستدعاه وساق نحوه، وحتى تجده لا تبتغي به بدلا، ولا تجد عنه حولا، ومن هاهنا كان أحلى تجنيس تسمعه وأعلاه، وأحقّه بالحسن وأولاه، ما وقع من غير قصد من المتكلم إلى اجتلابه، وتأهّب لطلبه، أو ما هو- لحسن ملاءمته، وإن كان مطلوبا- بهذه المنزلة وفي هذه الصورة، وذلك كما يمثّلون به أبدا من قول الشافعي رحمه الله تعالى وقد سئل عن النّبيذ فقال: «أجمع
--------------------------------------------
আমি তোমাকে যা বলেছি, তার যদি কোনো উদাহরণ তুমি জানতে চাও—অর্থাৎ যারা বাক্যের নিগূঢ় অলংকার সম্পর্কে অবগত, তারা অর্থের বিশুদ্ধতা ও সঠিকতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং অর্থের কোনো ক্ষতি বা ত্রুটি না হওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত না হওয়া পর্যন্ত এই শিল্পের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন না—তবে তুমি আল-জাহিজের বিভিন্ন বইয়ের ভূমিকাগুলোর দিকে তাকাও। আর ভূমিকা বা ভাষণের বৈশিষ্ট্যই হলো এতে ছন্দ ও অন্ত্যমিলের ওপর নির্ভর করা হয়, কারণ এগুলো কবিতার মতো বর্ণিত ও স্থানান্তরিত হয়। এগুলোর স্থান হলো কবিতার প্রেমগাথা ও যৌবনস্মৃতির (১) মতো, যার লক্ষ্য যেন কেবল শিল্পের প্রদর্শন, মেধার দৌড়ের (২) পরিমাপ করা এবং শিল্পনৈপুণ্যে পারদর্শিতা ও সক্ষমতার সংবাদ দেওয়া। তিনি ‘কিতাবুল হাইওয়ান’-এর শুরুতে বলেছেন:
«আল্লাহ তোমাকে সংশয় থেকে দূরে রাখুন, তোমাকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন, তোমার ও মারেফাতের (পরিচয়) মাঝে একটি মাধ্যম তৈরি করে দিন, সত্যের সাথে তোমার বংশীয় সম্পর্ক স্থাপন করে দিন, তোমার নিকট স্থিরতাকে প্রিয় করে দিন, তোমার দৃষ্টিতে ইনসাফকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন, তোমাকে তাকওয়ার স্বাদ আস্বাদন করান, তোমার অন্তরে সত্যের মর্যাদা গেঁথে দিন, তোমার বক্ষে নিশ্চিত বিশ্বাসের শীতলতা স্থাপন করুন, তোমার থেকে নিরাশার লাঞ্ছনা দূর করে দিন এবং বাতিলের অপদস্থতা ও মূর্খতার হীনতা সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করুন।»
এখানে তিনি শুরুতে ব্যাকরণগত দিক থেকে «সংশয়» (শুবহা) এবং «বিভ্রান্তি» (হায়রা)-র মধ্যে মিল করার চেষ্টা করেননি। তিনি «বিরোধিতা»-কে «ইনসাফ»-এর সাথে যুক্ত করা প্রয়োজন মনে করেননি, কিংবা «সত্য»-কে «সততা»-র অনুগামী করেননি। তিনি «নিরাশা»-র জন্য এমন কোনো জোড়া বা সমার্থক শব্দ খুঁজতেও সচেষ্ট হননি যা এর পালক বা অনুগামী হবে। কারণ তিনি মনে করেছেন যে, অর্থের মাঝে সমন্বয় সাধন করাই অধিক জরুরি এবং অর্থের ভারসাম্য রক্ষাই অধিক সুন্দর। তিনি অর্থের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যাতে তারা সহোদর ভাইদের মতো হয়; আর তিনি সেগুলোকে সেভাবেই থাকতে দিয়েছেন যাতে সেগুলো
জন্মগত মিলের মতো পারস্পরিক ভালোবাসা ও মিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এটি অন্ত্যমিলের সহায়তা নেওয়া বা ছন্দের সন্ধানে সেগুলোকে বৈমাত্রেয় ভাই (৩) বানানোর চেয়ে অনেক উত্তম। কেননা বৈমাত্রেয় ভাইদের ক্ষেত্রে বাহ্যিক রূপ ছাড়া আন্তরিক মিল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, আর তা আকিদা ও হৃদয়ের গভীর পর্যন্ত পৌঁছানো তো বিরল ঘটনা।
সারকথা হলো, তুমি কোনো গ্রহণযোগ্য অনুপ্রাস (তাজনিস) বা সুন্দর অন্ত্যমিল (সাজ) পাবে না যতক্ষণ না অর্থই তাকে দাবি করবে, আহ্বান করবে এবং তার দিকে ধাবিত করবে। এমনকি তুমি দেখবে যে তার বদলে অন্য কিছু তুমি কামনা করছ না এবং তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো পথ পাচ্ছ না। এই কারণেই তোমার শোনা সবচেয়ে মিষ্টি ও উচ্চাঙ্গের এবং সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সবচেয়ে যোগ্য অনুপ্রাস বা অন্ত্যমিল সেটিই, যা বক্তার পক্ষ থেকে কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা কষ্টসাধ্য অনুসন্ধান ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশিত হয়। অথবা যা তার চমৎকার সামঞ্জস্যের কারণে—অনুসন্ধানের মাধ্যমে অর্জিত হলেও—এই পর্যায়ের ও এই রূপের হয়ে থাকে। যেমনটি তারা ইমাম শাফেয়ি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-র একটি উক্তি দ্বারা সর্বদা উদাহরণ পেশ করেন। তাকে ‘নাবিয’ (এক প্রকার পানীয়) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: «একত্রিত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أهل الحرمين على تحريمه». ومما تجده كذلك قول البحتري: [من الكامل]
يعشى عن المجد الغبيّ ولن ترى
… في سؤدد أربا لغير أريب (1)
وقوله: [من الوافر]
فقد أصبحت أغلب تغلبيّا
… على أيدي العشيرة والقلوب (2)
ومما هو شبيه به قوله: [من الكامل]
وهوى هوى بدموعه فتبادرت
… نسقا يطأن تجلّدا مغلوبا (3)
وقوله: [من الكامل]
ما زلت تقرع باب بابل بالقنا
… وتزوره في غارة شعواء (4)
وقوله: [من الكامل]
ذهب الأعالي حيث تذهب مقلة
… فيه بناظرها حديد الأسفل (5)
ومثال ما جاء من السجع هذا المجيء وجرى هذا المجرى في لين مقادته، وحل هذا المحلّ من القبول قول القائل:
«اللهم هب لي حمدا، وهب لي مجدا، فلا مجد إلا بفعال، ولا فعال إلّا بمال» (6)، وقول ابن العميد: «فإن الإبقاء على خدم السلطان عدل الإبقاء على ماله، والإشفاق على حاشيته وحشمه، عدل الإشفاق على ديناره ودرهمه».
--------------------------------------------
উভয় পবিত্র নগরের (মক্কা ও মদীনা) অধিবাসীগণ এর হারামের ব্যাপারে একমত।" এবং অনুরুপভাবে আপনি বুহতুরীর এই পঙ্ক্তিটিও পাবেন: [কামিল ছন্দ হতে]
নির্বোধ ব্যক্তি মর্যাদা লাভে অন্ধ থাকে, এবং বুদ্ধিমান ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের কোনো উদ্দেশ্য আপনি দেখতে পাবেন না (১)
এবং তাঁর উক্তি: [ওয়াফির ছন্দ হতে]
ফলে আপনি বংশ ও হৃদয়ের শক্তির মাধ্যমে তাগলিব গোত্রের চেয়েও অধিক বিজয়ী তাগলিবী হয়ে গেছেন (২)
এবং এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তাঁর উক্তি: [কামিল ছন্দ হতে]
আর তার চোখের জল ঝরে পড়ল, যা সুশৃঙ্খলভাবে প্রবাহিত হয়ে বিজিত ধৈর্যকে পদদলিত করল (৩)
এবং তাঁর উক্তি: [কামিল ছন্দ হতে]
আপনি বর্শা দিয়ে বাবিল (ব্যাবিলন) এর দরজায় করাঘাত করে চলেছেন এবং এক ভয়াবহ আক্রমণে সেখানে উপস্থিত হচ্ছেন (৪)
এবং তাঁর উক্তি: [কামিল ছন্দ হতে]
তার দেহের উপরিভাগ সেদিকেই ধাবিত হয় যেদিকে চোখের দৃষ্টি যায়, যার নিম্নাংশ দৃষ্টির সাথে অত্যন্ত ক্ষিপ্র (৫)
এই ধরণের প্রাঞ্জল ও সাবলীলভাবে ব্যবহৃত অন্ত্যমিলের উদাহরণ এবং যা গ্রহণযোগ্যতার এই স্তরে উন্নীত হয়েছে, তা হলো কোনো এক বক্তার উক্তি:
«হে আল্লাহ! আমাকে প্রশংসা দান করুন, আমাকে মর্যাদা দান করুন; কেননা সুকর্ম ব্যতীত কোনো মর্যাদা নেই, আর সম্পদ ব্যতীত কোনো সুকর্ম নেই» (৬), এবং ইবনুল আমীদের উক্তি: «নিশ্চয়ই সুলতানের ভৃত্যদের রক্ষা করা তাঁর সম্পদ রক্ষা করার সমান, আর তাঁর অনুচর ও পরিজনদের প্রতি মমত্ববোধ তাঁর দিনার ও দিরহামের প্রতি মমত্ববোধের তুল্য»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولست تجد هذا الضرب يكثر في شيء، ويستمرّ كثرته واستمراره في كلام القدماء، كقول خالد: «ما الإنسان، لولا اللسان، إلا صورة ممثلة، وبهيمة مهملة»، وقول الفضل بن عيسى الرقاشي: «سل الأرض فقل: من شقّ أنهارك، وغرس أشجارك، وجنى ثمارك، فإن لم تجبك حوارا، أجابتك اعتبارا».
وإن أنت تتبّعته من الأثر وكلام النبي صلى الله عليه وسلم، تثق كلّ الثقة بوجودك له على الصّفة التي قدمت، وذلك كقول النبي عليه السلام: «الظّلم ظلمات يوم القيامة»، وقوله صلوات الله عليه: «لا تزال أمّتي بخير ما لم تر الغنى مغنما، والصدقة مغرما»، وقوله: «يا أيّها الناس؛ أفشوا السلام، وأطعموا الطعام، وصلوا الأرحام، وصلّوا بالليل، والناس نيام، تدخلوا الجنّة بسلام».
فأنت لا تجد في جميع ما ذكرت لفظا اجتلب من أجل السجع، وترك له ما هو أحقّ بالمعنى منه وأبرّ به، وأهدى إلى مذهبه.
ولذلك أنكر الأعرابي حين شكا إلى عامل ألما بقوله: «حلأت (1) ركابي، وشقّقت ثيابي، وضربت صحابي»، فقال له العامل: «أو تسجع أيضا» إنكار العامل السجع حتى قال: «فكيف أقول؟»، وذاك أنّه لم يعلم أصلح لما أراد من هذه الألفاظ ولم يره بالسجع مخلّا بمعنى، أو محدثا في الكلام استكراها، أو خارجا إلى تكلّف واستعمال لما ليس بمعتاد في غرضه. وقال الجاحظ: «لأنه لو قال: «حلّئت إبلي» أو «جمالي» أو «نوقي» أو «بعراني» أو «صرمتي» (2) لكان لم يعبّر عن حقّ معناه، وإنما حلّئت ركابه، فكيف يدع «الركاب» إلى غير الركّاب؟ وكذلك قوله: «وشقّقت ثيابي، وضربت صحابي».
فقد تبين من هذه الجملة أن المعنى المقتضى اختصاص هذا النّحو بالقبول:
هو أنّ المتكلم لم يقد المعنى نحو التجنيس والسّجع، بل قاده المعنى إليهما، وعبر
--------------------------------------------
আপনি এই প্রকারের আধিক্য অন্য কোনো বিষয়ে এত বেশি পাবেন না, যতটা প্রাচীনদের বক্তব্যে এর আধিক্য ও ধারাবাহিকতা বিদ্যমান। যেমন খালিদের উক্তি: “জিহ্বা না থাকলে মানুষ একটি চিত্রিত প্রতিচ্ছবি এবং লক্ষ্যহীন চতুষ্পদ জন্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।” ফাদল ইবনে ঈসা আর-রাক্কাশীর উক্তি: “পৃথিবীকে জিজ্ঞেস করো এবং বলো: কে তোমার নদীগুলোকে বিদীর্ণ করেছে, তোমার বৃক্ষগুলোকে রোপণ করেছে এবং তোমার ফলগুলোকে আহরণ করেছে? যদি সে তোমার সাথে বাক্যালাপের মাধ্যমে উত্তর না দেয়, তবে সে তোমাকে শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে উত্তর দেবে।”
আর যদি আপনি এটি হাদিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মধ্যে অনুসন্ধান করেন, তবে আমি পূর্বে যে বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছি, সেই অনুযায়ী এর অস্তিত্বের ব্যাপারে আপনি পূর্ণ নিশ্চিত হবেন। যেমন নবী আলাইহিস সালাম-এর উক্তি: “জুলুম কিয়ামতের দিনে অনেক অন্ধকারের রূপ নেবে।” তাঁর (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহি) বাণী: “আমার উম্মত ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ তারা সচ্ছলতাকে লুটের মাল এবং দান-সদকাকে জরিমানা হিসেবে মনে না করবে।” এবং তাঁর বাণী: “হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, অন্ন দান করো, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখো এবং রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করো; তবে তোমরা শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”
সুতরাং আমি যা উল্লেখ করেছি তার সবটুকুর মধ্যে এমন কোনো শব্দ আপনি পাবেন না যা কেবল অনুপ্রাস বা অন্ত্যমিল রক্ষার জন্য আনা হয়েছে এবং যার পরিবর্তে অর্থের জন্য অধিকতর উপযুক্ত, বেশি সংগতিপূর্ণ কিংবা উদ্দিষ্ট বিষয়ের দিকে অধিকতর পথপ্রদর্শক অন্য কোনো শব্দ বর্জন করা হয়েছে।
এই কারণেই যখন এক বেদুঈন কোনো এক প্রশাসকের কাছে তার কষ্টের অভিযোগ করে বলেছিল: “আমার সওয়ারি উটগুলোকে পানি থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, আমার কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং আমার সঙ্গীদের প্রহার করা হয়েছে,” তখন প্রশাসক তার এই অনুপ্রাসযুক্ত কথার সমালোচনা করে বলেছিল: “তুমি কি অনুপ্রাসও করছো?” প্রশাসকের অনুপ্রাস ব্যবহারের এই আপত্তির প্রেক্ষিতে সে বলেছিল: “তবে আমি কীভাবে বলব?” আসলে সে যা বুঝাতে চেয়েছিল তার জন্য এই শব্দগুলো অপেক্ষা অধিক উপযুক্ত অন্য কিছু তার জানা ছিল না এবং সে একে অর্থের জন্য ক্ষতিকারক মনে করেনি, কিংবা কথার মধ্যে কোনো অপ্রীতিকর বিষয় সৃষ্টিকারী বা কৃত্রিমতা এবং অপ্রচলিত শব্দের ব্যবহার হিসেবেও দেখেনি। আল-জাহিজ বলেছেন: “কারণ সে যদি ‘আমার উটসমূহ’ বা ‘আমার উষ্ট্রীগুলো’ বা ‘আমার মাদি উটগুলো’ বা ‘আমার উটের পাল’ বলত, তবে তার মূল অর্থটি সঠিকভাবে প্রকাশিত হতো না। মূলত তার ‘সওয়ারি উটসমূহকেই’ পানি থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, সুতরাং সে ‘সওয়ারি উট’ শব্দ ছেড়ে অন্য শব্দ কেন ব্যবহার করবে? অনুরূপভাবে তার এই উক্তি: ‘আমার কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং আমার সঙ্গীদের প্রহার করা হয়েছে’।”
সেহেতু এই পূর্ণ আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ধরনের রচনা পদ্ধতি কবুলযোগ্য হওয়ার কারণ হলো:
বক্তা অর্থকে জোর করে অনুপ্রাস বা অন্ত্যমিলের দিকে টেনে নিয়ে যাননি, বরং অর্থই তাকে এগুলোর দিকে পরিচালিত করেছে এবং প্রকাশ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২১)
به الفرق عليهما، حتى إنه لو رام تركهما إلى خلافهما مما لا تجنيس فيه ولا سجع، لدخل من عقوق المعنى وإدخال الوحشة عليه، في شبيه بما ينسب إليه المتكلف للتّجنيس المستكره، والسجع النّافر. ولن تجد أيمن طائرا، وأحسن أوّلا وآخرا، وأهدى إلى الإحسان، وأجلب للاستحسان، من أن ترسل المعاني على سجيّتها، وتدعها تطلب لأنفسها الألفاظ، فإنها إذا تركت وما تريد لم تكتس إلا ما يليق بها، ولم تلبس من المعارض إلا ما يزينها. فأمّا أن تضع في نفسك أنه لا بدّ من أن تجنس أو تسجع بلفظين مخصوصين، فهو الذي أنت منه بعرض الاستكراه (1)، وعلى خطر من الخطأ والوقوع في الذّمّ، فإن ساعدك الجدّ كما ساعد في قوله: «أو دعاني أمت بما أو دعاني»، وكما ساعد أبا تمام في نحو قوله: [من الطويل]
وأنجدتم من بعد إتهام داركم
… فيا دمع أنجدني على ساكني نجد (2)
وقوله: [من الكامل]
هنّ الحمام، فإن كسرت عيافة
… من حائهن فإنهنّ حمام (3)
فذاك، وإلّا أطلقت ألسنة العيب، وأفضى بك طلب الإحسان من حيث لم يحسن الطلب، إلى أفحش الإساءة وأكبر الذنب، ووقعت فيما ترى من ينصرك، لا يرى أحسن من أن لا يرويه لك، ويودّ لو قدر على نفيه عنك، وذلك كما تجده لأبي
--------------------------------------------
তাদের উভয়ের মধ্যে পার্থক্য এর মাধ্যমেই হয়, এমনকি তিনি যদি এই দুটিকে বর্জন করে এমন কিছু গ্রহণ করতে চান যাতে কোনো অনুপ্রাস (তাজনিস) বা অন্ত্যমিল (সাজ') নেই, তবে তা অর্থের প্রতি অবাধ্যতা এবং তাতে এক প্রকার জনবিচ্ছিন্নতা ও ভীতিকর ভাব প্রবেশের নামান্তর হবে। এটি অনেকটা কৃত্রিম অনুপ্রাস এবং শ্রুতিকটু অন্ত্যমিল ব্যবহারকারীর কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আপনি এর চেয়ে অধিক শুভলক্ষণযুক্ত এবং শুরু ও শেষে অধিক সুন্দর, এবং সুকৃতির পথে অধিক নির্দেশক ও প্রশংসাপ্রাপ্তির জন্য অধিক সহায়ক আর কিছু পাবেন না যে, আপনি অর্থগুলোকে তাদের আপন স্বভাবে ছেড়ে দেবেন এবং সেগুলোকে নিজেদের জন্য শব্দ খুঁজে নিতে দেবেন। কারণ, অর্থগুলোকে যখন তাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন তারা কেবল তা-ই পরিধান করে যা তাদের জন্য উপযুক্ত, এবং তারা এমন কোনো বাহ্যিক রূপ গ্রহণ করে না যা তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না। পক্ষান্তরে, আপনি যদি নিজের মনে এটা স্থির করে নেন যে, আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট দুটি শব্দের মাধ্যমে অনুপ্রাস বা অন্ত্যমিল সৃষ্টি করতে হবে, তবে আপনি নিজেকে কৃত্রিমতার সম্মুখীন করছেন, এবং ভুল করা ও নিন্দিত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এমতাবস্থায় যদি ভাগ্য আপনার সহায় হয় যেমনটি সহায় হয়েছিল এই উক্তিতে: "সে আমাকে যা আমানত রেখেছিল তা নিয়ে আমাকে মরতে দাও অথবা আমাকে ছেড়ে দাও", এবং যেমনটি আবু তাম্মামকে তার এই উক্তিতে সহায়তা করেছিল: [তবীল ছন্দ]
তোমাদের ঘর তিহামাতে থাকার পর তোমরা নজদ অভিমুখে যাত্রা করেছ
… হে অশ্রু, নজদবাসীদের বিরহে আমাকে সাহায্য করো।
এবং তার এই উক্তি: [কামিল ছন্দ]
তারা হলো মৃত্যু (হিমাম), আর যদি তুমি শুভাশুভ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে
… তাদের 'হা' বর্ণটিকে কাসরা দিয়ে পড়ো, তবে তারা হলো কবুতর (হামাম)।
তবে তো ভালো; অন্যথায় মানুষের সমালোচনার জিহ্বা খুলে যাবে। আর উত্তম কিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করা আপনাকে জঘন্য মন্দ কাজ ও বড় পাপের দিকে ঠেলে দেবে। আপনি তখন এমন অবস্থায় পতিত হবেন যেখানে আপনার সাহায্যকারীও আপনার সেই কথাটি বর্ণনা না করাকেই শ্রেয় মনে করবে এবং সে আকাঙ্ক্ষা করবে যদি সে আপনার থেকে এটি দূর করতে পারত। এটি ঠিক তেমনই যেমনটি আপনি আবুর ক্ষেত্রে দেখতে পান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২২)
تمام إذا أسلم نفسه للتكلف، ويرى أنه إن مرّ على اسم موضع يحتاج إلى ذكره أو يتصل بقصة يذكرها في شعره، من دون أن يشتقّ منه تجنيسا، أو يعمل فيه بديعا، فقد باء بإثم، وأخلّ بفرض حتم، من نحو قوله: [من البسيط]
سيف الإمام الذي سمّته هبّته
… لمّا تخرّم أهل الكفر مخترما
إنّ الخليفة لمّا صال كنت له
… خليفة الموت فيمن جار أو ظلما
قرّت بقرّان عين الدين واشتترت
… بالأشترين عيون الشّرك فاصطلما (1)
وكقول بعض المتأخرين: [من الكامل]
البس جلابيب القنا
… عة إنّها أوقى رداء
ينجيك من داء الحري
… ص معا ومن أوقار داء (2)
وكقول أبي الفتح البستي: [من السريع]
جفّوا فما في طينهم للذي
… يعصره من بلّة بلّه (3)
وقوله: [من الوافر]
أخ لي لفظه درّ
… وكلّ فعاله برّ
تلقّاني فحيّاني
… بوجه بشره بشر (4)
لم يساعدهما حسن التوفيق كما ساعد في نحو قوله: [من الوافر]
وكلّ غنى يتيه به غنيّ
… فمرتجع بموت أو زوال
--------------------------------------------
আবু তামাম যখন নিজেকে কৃত্রিমতার (তাকাল্লুফ) হাতে সঁপে দেন, তখন তিনি মনে করেন যে, যদি তিনি এমন কোনো স্থানের নামের পাশ দিয়ে যান যা উল্লেখ করা প্রয়োজন বা তাঁর কবিতায় বর্ণিত কোনো কাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তিনি সেখান থেকে কোনো শব্দালঙ্কার (তাজনিস) উদ্ভূত না করেন বা তাতে কোনো চমৎকারিত্ব (বাদি) সৃষ্টি না করেন, তবে তিনি যেন পাপে লিপ্ত হলেন এবং একটি অবধারিত ফরজ আদায়ে অবহেলা করলেন। যেমন তাঁর এই উক্তি: [বাসীত ছন্দ থেকে]
ইমামের তলোয়ার, যাঁর দানশীলতা তাঁকে নাম দিয়েছে... যখন তিনি কুফরের অনুসারীদের সমূলে বিনাশ করেছেন।
নিশ্চয় খলিফা যখন আক্রমণাত্মক হলেন, আপনি তাঁর জন্য ছিলেন... মৃত্যুর খলিফা তাদের বিরুদ্ধে যারা সীমালঙ্ঘন বা জুলুম করেছে।
কুররান নামক স্থানে দ্বীনের চক্ষু শীতল হলো এবং আশতারাইন নামক স্থানে... শিরকের চক্ষুগুলো ছিঁড়ে গেল ও সমূলে উপড়ে ফেলা হলো। (১)
এবং পরবর্তীকালের কোনো একজনের উক্তির মতো: [কামিল ছন্দ থেকে]
অল্পে তুষ্টির চাদর পরিধান করো... নিশ্চয় এটি সবচেয়ে সুরক্ষিত পোশাক।
এটি তোমাকে লোভের ব্যাধি থেকে বাঁচাবে... একই সাথে ব্যাধির গুরুভার থেকেও রক্ষা করবে। (২)
এবং আবু আল-ফাতহ আল-বুস্তির উক্তির মতো: [সারি‘ ছন্দ থেকে]
তারা শুষ্ক হয়ে গেছে, ফলে তাদের মাটিতে এমন কোনো সিক্ততা নেই... যা নিংড়ালে কোনো কল্যাণ পাওয়া যায়। (৩)
এবং তাঁর উক্তি: [ওয়াফির ছন্দ থেকে]
আমার এক ভাই আছে যার শব্দমালা মুক্তাসম... এবং তার সকল কাজ পুণ্যময়।
তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং আমাকে অভিবাদন জানালেন... এমন এক প্রফুল্ল চেহারায় যার ত্বক অত্যন্ত লাবণ্যময়। (৪)
এই দুজনের ক্ষেত্রে তৌফিক বা সৌভাগ্য তেমন সহায়ক হয়নি, যেমনটি সহায়ক হয়েছে এই উক্তিতে: [ওয়াফির ছন্দ থেকে]
প্রত্যেক ঐশ্বর্য যা নিয়ে কোনো ধনী ব্যক্তি অহংকার করে... তা মৃত্যু অথবা পতনের মাধ্যমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهب جدّي طوى لي الأرض طرّا
… أليس الموت يزوي ما زوى لي (1)
ونحوه: [من السريع]
منزلتي تحفظ من ذلّتي
… وباحتي تكرم ديباجتي (2)
واعلم أنّ النكتة التي ذكرتها في التجنيس، وجعلتها العلّة في استيجابه الفضيلة وهي حسن الإفادة، مع أنّ الصورة
صورة التكرير والإعادة وإن كانت لا تظهر الظهور التامّ الذي لا يمكن دفعه، إلا في المستوفى المتفق الصورة منه كقوله: [من الكامل]
ما مات من كرم الزمان فإنه
… يحيى لدى يحيى بن عبد الله (3)
أو المرفوّ الجاري هذا المجرى كقوله: «أو دعاني أمت بما أو دعاني». فقد يتصوّر في غير ذلك من أقسامه أيضا، فمما يظهر ذاك فيه ما كان نحو قول أبي تمام:
[من الطويل]
يمدّون من أيد عواص عواصم
… تصول بأسياف قواض قواضب (4)
وقول البحتري: [من الطويل]
لئن صدفت عنّا فربّت أنفس
… صواد إلى تلك الوجوه الصّوادف (5)
--------------------------------------------
আমার সৌভাগ্য কি পুরো জমিনকে আমার জন্য সম্পূর্ণ গুটিয়ে দেয়নি? মৃত্যু কি তাকে সংকুচিত করে না যা আমার জন্য গুটিয়ে দেওয়া হয়েছিল? (১)
এবং তদ্রূপ: [সারি’ ছন্দ থেকে]
আমার উচ্চমর্যাদা আমাকে লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করে এবং আমার আঙিনা আমার চেহারার লাবণ্যকে সম্মানিত করে। (২)
জেনে রাখুন যে, তাজনিস (শব্দালঙ্কার) সম্পর্কে আমি যে সূক্ষ্ম বিষয়টি উল্লেখ করেছি এবং যাকে এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছি—অর্থাৎ সুন্দর অর্থ প্রদান—যদিও এর বাহ্যিক রূপটি পুনরাবৃত্তি ও আবর্তনের মতো মনে হয়; তবে এর সেই পূর্ণ প্রকাশ যা খণ্ডন করা সম্ভব নয়, তা কেবল সেই 'মুস্তাওফা' (সম্পূর্ণ) প্রকারেই পরিলক্ষিত হয় যার রূপ অভিন্ন। যেমন কবির উক্তি: [কামিল ছন্দ থেকে]
মহাকালের যে বদান্যতা বিলীন হয়ে গিয়েছিল, তা ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহর কাছে পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছে। (৩)
অথবা এই ধারায় প্রবহমান 'মারফু' প্রকার, যেমন তাঁর উক্তি: "অথবা তিনি আমাকে ডাকুন, আমি মারা যাই তার মাধ্যমে যা তিনি আমার নিকট গচ্ছিত রেখেছেন"। এটি তাজনিসের অন্যান্য প্রকারগুলোতেও কল্পনা করা যেতে পারে। যার মধ্যে এটি প্রকাশ পায় তার অন্যতম উদাহরণ হলো আবু তাম্মামের উক্তি:
[তবিল ছন্দ থেকে]
তারা বাড়িয়ে দেয় এমন সব অবাধ্য ও রক্ষাকারী হাত, যা আক্রমণ করে এমন সব ফয়সালাকারী ও তীক্ষ্ণ তলোয়ার দিয়ে। (৪)
এবং বুহতরীর উক্তি: [তবিল ছন্দ থেকে]
যদি তুমি আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে কত প্রাণই না তৃষ্ণার্ত হয়ে আছে সেই বিমুখ চেহারাগুলোর প্রতি। (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وذلك أنك تتوهم قبل أن يرد عليك آخر الكلمة كالميم من «عواصم» والباء من «قواضب»، أنها هي التي مضت، وقد أرادت أن تجيئك ثانية، وتعود إليك مؤكّدة، حتى إذا تمكن في نفسك تمامها، ووعى سمعك آخرها، انصرفت
عن ظنّك الأول، وزلت عن الذي سبق من التخيّل، وفي ذلك ما ذكرت لك من طلوع الفائدة بعد أن يخالطك اليأس منها، وحصول الربح بعد أن تغالط فيه حتى ترى أنه رأس المال.
فأما ما يقع التجانس فيه على العكس من هذا، وذلك أن تختلف الكلمات من أوّلها كقول البحتري: [من الخفيف]
بسيوف إيماضها أوجال
… للأعادي ووقعها آجال (1)
وكذا قول المتأخر: [من الطويل]
وكم سبقت منه إليّ عوارف
… ثنائي من تلك العوارف وارف
وكم غرر من برّه ولطائف
… لشكري على تلك اللّطائف طائف
وذلك أنّ زيادة «عوارف» على «وارف» بحرف اختلاف من مبدأ الكلمة في الجملة، فإنه لا يبعد كلّ البعد عن اعتراض طرف من هذا التخيّل فيه، وإن كان لا يقوى تلك القوة، كأنك ترى أن اللفظة أعيدت عليك مبدلا من بعض حروفها غيره أو محذوفا منها. ويبقى في تتبّع هذا الموضع كلام حقّه غير هذا الفصل وذلك حيث يوضع.
فصل في قسمة التجنيس وتنويعهفالذي يجب عليه الاعتماد في هذا الفنّ، أن التوهّم على ضربين: ضرب يستحكم حتى يبلغ أن يصير اعتقادا.
وضرب لا يبلغ ذلك المبلغ، ولكنه شيء يجري في الخاطر، وأنت تعرف ذلك وتتصور وزنه إذا نظرت إلى الفرق بين الشيئين يشتبهان الشبه التامّ؛ والشيئين يشبه أحدهما بالآخر على ضرب من التقريب، فاعرفه.
وأما «الحشو» فإنما كره وذمّ وأنكر وردّ، لأنه خلا من الفائدة، ولم يحل منه
--------------------------------------------
আর এর কারণ হলো, শব্দের শেষ অংশ—যেমন 'আওয়াছিম' শব্দের 'মীম' এবং 'কাওয়াদিব' শব্দের 'বা'—তোমার নিকট পৌঁছানোর পূর্বেই তুমি ধারণা করে নাও যে, এটি সেই শব্দ যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এটি পুনরায় তোমার নিকট আসার ও সুনিশ্চিতভাবে ফিরে আসার ইচ্ছা পোষণ করেছে। শেষ পর্যন্ত যখন তোমার অন্তরে এর পূর্ণতা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তোমার শ্রবণেন্দ্রিয় এর শেষাংশ অনুধাবন করে, তখন তুমি তোমার প্রাথমিক ধারণা থেকে ফিরে আসো এবং পূর্বে যে কল্পনা মনে উদিত হয়েছিল তা দূরীভূত হয়। আর এর মধ্যেই আমি তোমার নিকট যা উল্লেখ করেছি তা নিহিত রয়েছে, অর্থাৎ কোনো বিষয়ের আশা ছেড়ে দেওয়ার পর তার উপকারিতা প্রকাশ পাওয়া এবং তাতে বিভ্রান্ত হওয়ার পর মুনাফা অর্জন হওয়া, এমনকি তুমি একে মূলধন হিসেবেই দেখতে পাও।
তবে যে ক্ষেত্রে শব্দালঙ্কার (তজনীস) এর বিপরীতভাবে সংঘটিত হয়, তা হলো যখন শব্দের শুরু থেকে শব্দের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়; যেমন আল-বুহতুরীর উক্তি: [খাফীফ ছন্দ থেকে]
এমন তলোয়ারের মাধ্যমে যার ঝলকানি শত্রুদের জন্য আতঙ্ক (আওজাল) স্বরূপ
… আর যার আঘাত তাদের জন্য মৃত্যুর নির্ধারিত সময় (আজাল) (১)
অনুরূপভাবে পরবর্তী যুগের কবির উক্তি: [তওয়ীল ছন্দ থেকে]
তার পক্ষ থেকে কতই না অনুগ্রহ (আওয়ারিফ) আমার নিকট অগ্রগামী হয়েছে
… সেই সব অনুগ্রহের জন্য আমার প্রশংসা অতিশয় বিস্তৃত (ওয়ারিফ)।
তার দয়া ও সূক্ষ্ম অনুগ্রহ (লাতায়েফ) কতই না শ্রেষ্ঠ
… আর সেই সব সূক্ষ্ম অনুগ্রহের জন্য আমার কৃতজ্ঞতা সদা বিচরণকারী (তায়েফ)।
আর এর কারণ হলো, 'আওয়ারিফ' শব্দের শুরুতে একটি অক্ষরের ভিন্নতার মাধ্যমে 'ওয়ারিফ' শব্দের ওপর এর আধিক্য সামগ্রিকভাবে বিদ্যমান, তাই এই ধরণের কল্পনার কোনো দিকের উপস্থিতি থেকে এটি মোটেও দূরে নয়, যদিও তা পূর্বের মতো অতটা শক্তিশালী হয় না। মনে হয় যেন শব্দটি তোমার কাছে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এর কিছু অক্ষর পরিবর্তন করে অথবা কিছু অক্ষর বিলোপ করে। আর এই বিষয়টি অনুসরণের ক্ষেত্রে এমন কিছু আলোচনার অবকাশ থাকে যার উপযুক্ত স্থান এই পরিচ্ছেদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থান, যেখানে একে স্থাপন করা হবে।
তজনীসের বিভাজন ও এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদএই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে যার ওপর নির্ভর করা আবশ্যক তা হলো, কল্পনা বা বিভ্রম দুই প্রকার: এক প্রকার যা সুদৃঢ় হয় এমনকি তা বিশ্বাসে পরিণত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
আর দ্বিতীয় প্রকার যা সেই পর্যায়ে পৌঁছে না, তবে তা অন্তরে উদিত হয় মাত্র। তুমি যখন এমন দুটি বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য লক্ষ্য করবে যা পূর্ণরূপে সদৃশ, এবং এমন দুটি বিষয় যার একটি অপরটির সাথে কোনো একভাবে নিকটবর্তী সাদৃশ্য রাখে, তখন তুমি এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে; সুতরাং এটি চিনে নাও।
আর 'হাশাউ' (অনর্থক শব্দের প্রয়োগ) এর বিষয় হলো, একে অপছন্দ করা হয়েছে, এর নিন্দা করা হয়েছে এবং একে প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করা হয়েছে; কারণ এটি ফায়দাহ বা উপকারিতা বর্জিত এবং এটি শূন্য নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بعائدة، ولو أفاد لم يكن حشوا، ولم يدع لغوا. وقد تراه مع إطلاق هذا الاسم عليه واقعا من القبول أحسن موقع، ومدركا من الرّضى أجزل حظّ، وذاك لإفادته إيّاك، على مجيئه مجيء ما لا يعوّل في الإفادة عليه، ولا طائل للسامع لديه، فيكون مثله مثل الحسنة تأتيك من حيث لم ترقبها، والنافعة أتتك ولم تحتسبها، وربّما رزق الطّفيليّ ظرفا يحظى به حتى يحلّ محلّ الأضياف الذين وقع الاحتشاد لهم، والأحباب الذين وثق بالأنس منهم وبهم.
وأما التطبيق والاستعارة وسائر أقسام البديع، فلا شبهة أنّ الحسن والقبح لا يعترض الكلام بهما إلّا من جهة المعاني خاصّة، من غير أن يكون للألفاظ في ذلك نصيب، أو يكون لها في التحسين أو خلاف التحسين تصعيد
وتصويب.
أما «الاستعارة»، فهي ضرب من التشبيه، ونمط من التمثيل، والتشبيه قياس، والقياس يجري فيما تعيه القلوب، وتدركه العقول، وتستفتى فيه الأفهام والأذهان، لا الأسماع والآذان.
وأما «التطبيق»، فأمره أبين، وكونه معنويا أجلى وأظهر، فهو مقابلة الشيء بضده، والتضادّ بين الألفاظ المركّبة محال، وليس لأحكام المقابلة ثمّ مجال.
فخذ إليك الآن بيت الفرزدق الذي يضرب به المثل في تعسّف اللفظ: [من الطويل]
وما مثله في الناس إلا مملّكا
… أبو أمّه حيّ أبوه يقاربه (1)
فانظر أتتصوّر أن يكون ذلك للفظه من حيث إنّك أنكرت شيئا، من حروفه، أو صادفت وحشيّا غريبا، أو سوقيّا ضعيفا؟ أم ليس إلّا لأنه لم يرتّب الألفاظ في الذكر، على موجب ترتيب المعاني في الفكر، فكدّ وكدّر، ومنع السامع أن يفهم الغرض إلّا بأن يقدّم ويؤخّر، ثم أسرف في إبطال النّظام، وإبعاد المرام، وصار كمن رمى بأجزاء تتألّف منها صورة، ولكن بعد أن يراجع فيها بابا من الهندسة، لفرط ما عادى بين أشكالها، وشدّة ما خالف بين أوضاعها.
وإذا وجدت ذلك أمرا بيّنا لا يعارضك فيه شكّ، ولا يملكك معه امتراء، فانظر
--------------------------------------------
উপকারের মাধ্যমে; আর যদি তা অর্থবহ হতো তবে তা অতিরিক্ত হতো না এবং তাকে অনর্থক বলা যেত না। আপনি হয়তো দেখবেন যে, এই নামটির প্রয়োগ সত্ত্বেও এটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে গৃহীত হচ্ছে এবং সন্তুষ্টির সর্বোচ্চ স্তরে স্থান করে নিচ্ছে। আর তা হলো আপনার প্রতি এর বিশেষ উপকারিতার কারণে, যদিও তা এমনভাবে এসেছে যেভাবে সাধারণত কোনো অর্থপূর্ণ বিষয়ের প্রত্যাশা করা হয় না এবং শ্রোতার কাছে যার বিশেষ কোনো গুরুত্ব থাকে না। ফলে এর দৃষ্টান্ত সেই কল্যাণের মতো যা আপনার কাছে এমনভাবে আসে যা আপনি কল্পনাও করেননি, এবং সেই উপকারের মতো যা আপনি প্রত্যাশা করেননি। কখনও কখনও একজন অনাহূত অতিথিও এমন চাতুর্য লাভ করে যার মাধ্যমে সে সমাদৃত হয়, এমনকি সে সেই অতিথিদের স্থলাভিষিক্ত হয় যাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল এবং সেই বন্ধুদের কাতারে শামিল হয় যাদের সান্নিধ্য ও বন্ধুত্ব ছিল সুনিশ্চিত।
আর বিপরীতার্থক শব্দের মিলন (ততবিক), রূপক (ইস্তিআরা) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যান্য শাখার ক্ষেত্রে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কথার সৌন্দর্য ও কদর্যতা কেবল অর্থের দিক থেকেই বিচার্য; এতে শব্দগুলোর কোনো সরাসরি অংশ নেই, কিংবা কোনো শব্দকে সুন্দর করার বা সৌন্দর্য নষ্ট করার ক্ষেত্রে শব্দের কোনো উত্থান
বা পতন নেই।
আর 'রূপক' (ইস্তিআরা) হলো এক প্রকারের উপমা এবং এক ধরনের উদাহরণ। আর উপমা হলো একটি তাত্ত্বিক কিয়াস বা অনুমান, আর এই অনুমান কার্যকর হয় সেই বিষয়ে যা অন্তর ধারণ করে এবং বুদ্ধি উপলব্ধি করে এবং যে বিষয়ে প্রজ্ঞা ও মেধার কাছে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়, শ্রবণ বা কানের কাছে নয়।
আর 'বিপরীত শব্দের সমন্বয়' (ততবিক)-এর বিষয়টি আরও স্পষ্ট এবং এর অর্থগত হওয়ার বিষয়টি অধিকতর উজ্জ্বল ও প্রকাশ্য। তা হলো কোনো বস্তুকে তার বিপরীতের মুখোমুখি করা। আর যৌগিক শব্দাবলির মধ্যে পারস্পরিক বৈপরিত্য অসম্ভব, এবং সেখানে বৈপরিত্যের বিধান প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই।
এবার আপনি আল-ফারাজদাকের সেই কবিতাটি লক্ষ্য করুন যা শব্দের জটিলতা ও বিন্যাসের অসংলগ্নতার উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়: [তওয়ীল ছন্দে]
আর মানুষের মাঝে তাঁর তুলনীয় কেউ নেই সেই বাদশাহ ছাড়া, যাঁর মাতার পিতা এমন এক জীবিত ব্যক্তি যাঁর পিতা তাঁর নিকটাত্মীয়
… (১)
লক্ষ্য করুন, আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে, এই ত্রুটি শব্দের কারণে হয়েছে—এভাবে যে আপনি এর কোনো বর্ণকে অপছন্দ করেছেন, অথবা কোনো অদ্ভুত-অপরিচিত শব্দ পেয়েছেন, কিংবা কোনো অমার্জিত-দুর্বল শব্দ পেয়েছেন? নাকি এর কারণ কেবল এটাই যে, তিনি চিন্তার মধ্যে অর্থের বিন্যাস অনুযায়ী বর্ণনায় শব্দগুলোকে সাজাননি? ফলে তিনি বৃথা শ্রম দিয়েছেন এবং বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছেন। তিনি শ্রোতাকে মূল উদ্দেশ্য বুঝতে বাধা দিয়েছেন—যতক্ষণ না শ্রোতা শব্দগুলোকে আগে-পিছে করে সাজিয়ে নেয়। এরপর তিনি বাক্যকাঠামো বিনষ্ট করতে এবং উদ্দেশ্যকে সুদূরপরাহত করতে বাড়াবাড়ি করেছেন। তিনি সেই ব্যক্তির মতো হয়ে গেছেন যে একটি ছবির বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে, যা কেবল জ্যামিতির একটি নিয়ম পর্যালোচনার পরেই মেলানো সম্ভব; কারণ তিনি এর আকারগুলোর মধ্যে অতিমাত্রায় দূরত্ব তৈরি করেছেন এবং এর বিন্যাসের মধ্যে চরম বৈপরীত্য ঘটিয়েছেন।
যখন আপনি একে একটি সুস্পষ্ট বিষয় হিসেবে পাবেন যাতে কোনো সন্দেহ আপনাকে দ্বিধায় ফেলবে না এবং কোনো সংশয় আপনাকে বিভ্রান্ত করবে না, তখন লক্ষ্য করুন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إلى الأشعار التي أثنوا عليها من جهة الألفاظ، ووصفوها بالسلامة، ونسبوها إلى الدّماثة، وقالوا: كأنّها الماء جريانا، والهواء لطفا، والرياض حسنا، وكأنها النّسيم، وكأنها الرّحيق مزاجها التّسنيم، وكأنها الديباج الخسروانيّ في مرامي الأبصار، ووشي اليمن منشورا على أذرع التّجار، كقوله: [من الطويل]
ولمّا قضينا من منى كلّ حاجة
… ومسّح بالأركان من هو ماسح
وشدّت على دهم المهارى رحالنا
… ولم ينظر الغادي الّذي هو رائح
أخذنا بأطراف الأحاديث بيننا
… وسالت بأعناق المطيّ الأباطح (1)
ثم راجع فكرتك، واشحذ بصيرتك، وأحسن التأمّل، ودع عنك التجوّز في الرأي، ثم انظر هل تجد لاستحسانهم وحمدهم وثنائهم ومدحهم منصرفا، إلّا إلى استعارة وقعت موقعها، وأصابت غرضها، أو حسن ترتيب تكامل معه
البيان حتى وصل المعنى إلى القلب مع وصول اللفظ إلى السمع، واستقرّ في الفهم مع وقوع العبارة في الأذن، وإلا إلى سلامة الكلام من الحشو غير المفيد، والفضل الذي هو كالزيادة في التحديد، وشيء داخل المعاني المقصودة مداخلة الطفيليّ الذي يستثقل مكانه، والأجنبيّ الذي يكره حضوره، وسلامته من التقصير الذي يفتقر معه السامع إلى تطلّب زيادة بقيت في نفس المتكلم، فلم يدلّ عليها بلفظها الخاصّ بها، واعتمد دليل حال غير مفصح، أو نيابة مذكور ليس لتلك النّيابة بمستصلح.
وذلك أن أوّل ما يتلقّاك من محاسن هذا الشعر أنه قال:
ولمّا قضينا من منى كلّ حاجة فعبّر عن قضاء المناسك بأجمعها والخروج من فروضها وسننها، من طريق أمكنه أن يقصّر معه اللفظ، وهو طريقة العموم، ثم نبّه بقوله:
--------------------------------------------
সেই কবিতাগুলোর প্রতি, যেগুলোর তারা শব্দের দিক থেকে প্রশংসা করেছেন, সেগুলোকে সাবলীল বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে কোমলতার মিষ্টতায় অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন: এই কবিতাগুলো যেন প্রবাহের দিক থেকে স্বচ্ছ জল, সূক্ষ্মতায় নির্মল বাতাস এবং সৌন্দর্যে সুশোভিত উদ্যান। এগুলো যেন মৃদুমন্দ বাতাস, যেন জান্নাতী তাসনীম মিশ্রিত সুধা, আর দৃষ্টির নিশানায় যেন রাজকীয় পারস্য রেশমবস্ত্র, অথবা যেন ব্যবসায়ীদের বাহুতে ছড়িয়ে রাখা ইয়ামেনি কারুকাজ করা বস্ত্র। যেমন তাঁর উক্তি: [তবীল ছন্দ]
আর যখন আমরা মিনা থেকে আমাদের সকল হাজত পূরণ করলাম
… এবং যারা রুকনসমূহ স্পর্শ করার তারা তা স্পর্শ করে নিল।
আমাদের কৃষ্ণাভ দ্রুতগামী উটগুলোর পিঠে হাওদা কষে বাঁধা হলো
… এবং প্রাতঃভ্রমণকারী ফিরে যাওয়া ব্যক্তির দিকে তাকালো না।
আমরা আমাদের মাঝে কথোপকথনের মাধুর্য বিনিময় করলাম
… আর উটের ঘাড়ের (দোলনের) সাথে সাথে উপত্যকার নিম্নাঞ্চলগুলো যেন প্রবাহিত হতে লাগল। (১)
অতঃপর আপনি আপনার চিন্তাশক্তিকে পুনরায় চালিত করুন, আপনার অন্তর্দৃষ্টিকে শাণিত করুন, উত্তমরূপে গভীরভাবে ভাবুন এবং বিচার-বিশ্লেষণে অতিরঞ্জন বর্জন করুন। তারপর দেখুন, তাদের এই পছন্দ, প্রশংসা ও গুণকীর্তনের ভিত্তি কি যথাযথ স্থানে ব্যবহৃত রূপক (ইস্তিয়ারা) ছাড়া আর কিছু হতে পারে? যা তার উদ্দেশ্য সঠিকভাবে পূরণ করেছে। অথবা এটি কি এমন সুশৃঙ্খল বিন্যাস নয়, যার মাধ্যমে অলঙ্কারিতা পূর্ণতা পেয়েছে?
এমনকি শব্দ কানে পৌঁছানোর সাথে সাথে অর্থ হৃদয়ে পৌঁছে যায় এবং বাক্য কর্ণে প্রবেশের সাথে সাথে বোধগম্যতায় স্থির হয়ে যায়। অথবা এটি কি নিরর্থক পুনরুক্তি থেকে কালামের মুক্ত হওয়া নয়—যে পুনরুক্তি কেবল সংজ্ঞার অতিরিক্ত অংশের মতো অনর্থক? আর যা মূল উদ্দেশ্যের ভেতর এমনভাবে প্রবেশ করে যেন কোনো অনাহুত ব্যক্তি যার উপস্থিতি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, অথবা কোনো অপরিচিত আগন্তুক যার উপস্থিতি অপছন্দনীয় হয়। এছাড়াও এটি সংক্ষিপ্তকরণের ত্রুটি থেকেও মুক্ত, যে ত্রুটির কারণে শ্রোতাকে বক্তার মনে অবশিষ্ট থাকা কোনো অতিরিক্ত অংশ তালাশ করতে হয়, যা বক্তা তার নির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করেননি, বরং অস্পষ্ট পরিস্থিতির ইঙ্গিতের ওপর নির্ভর করেছেন অথবা এমন কোনো পদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন যা সেই কাজের জন্য উপযুক্ত নয়।
আর বিষয়টি এই যে, এই কবিতার সৌন্দর্য থেকে সর্বপ্রথম যা আপনার সামনে উদ্ভাসিত হবে তা হলো তাঁর এই উক্তি:
"আর যখন আমরা মিনা থেকে আমাদের সকল হাজত পূরণ করলাম"—এখানে তিনি হজ্জের যাবতীয় বিধান সম্পন্ন করা এবং এর ফরজ ও সুন্নাতসমূহ থেকে ফারেগ হওয়াকে এমনভাবে ব্যক্ত করেছেন যার মাধ্যমে তিনি শব্দকে সংক্ষিপ্ত করতে সক্ষম হয়েছেন, আর তা হলো সাধারণতার পদ্ধতি। এরপর তিনি তাঁর এই উক্তি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومسّح بالأركان من هو ماسح على طواف الوداع الذي هو آخر الأمر، ودليل المسير الذي هو مقصوده من الشعر. ثم قال:
أخذنا بأطراف الأحاديث بيننا فوصل بذكر مسح الأركان، ما وليه من زمّ الركاب وركوب الرّكبان، ثم دلّ بلفظة «الأطراف» على الصّفة التي يختصّ بها الرّفاق في السّفر، من التصرف في فنون القول وشجون الحديث، أو ما هو عادة المتظرّفين، من الإشارة والتلويح والرّمز والإيماء، وأنبأ بذلك عن طيب النفوس، وقوّة النشاط، وفضل الاغتباط، كما توجبه ألفة الأصحاب وأنسة الأحباب، وكما يليق بحال من وفّق لقضاء العبادة الشريفة ورجا حسن الإياب، وتنسّم روائح الأحبّة والأوطان، واستماع التهاني والتّحايا من الخلّان والإخوان.
ثم زان ذلك كلّه باستعارة لطيفة طبّق فيها مفصل التشبيه، وأفاد كثيرا من الفوائد بلطف الوحي والتنبيه، فصرّح أوّلا بما أومأ إليه في الأخذ بأطراف الأحاديث، من أنهم تنازعوا أحاديثهم على ظهور الرّواحل، وفي حال التوجّه
إلى المنازل، وأخبر بعد بسرعة السير، ووطاءة الظّهر، إذ جعل سلاسة سيرها بهم كالماء تسيل به الأباطح، وكان في ذلك ما يؤكّد ما قبله، لأن الظّهور إذا كانت وطيئة وكان سيرها السّير السهل السريع، زاد ذلك في نشاط الرّكبان، ومع ازدياد النشاط يزداد الحديث طيبا.
ثم قال: «بأعناق المطيّ»، ولم يقل «بالمطيّ»، لأن السرعة والبطء يظهران غالبا في أعناقها، ويبين أمرهما من هواديها وصدورها، وسائر أجزائها تستند إليها في الحركة، وتتبعها في الثّقل والخفّة، ويعبّر عن المرح والنشاط، إذا كانا في أنفسها، بأفاعيل لها خاصّة في العنق والرأس، وتدلّ عليهما بشمائل مخصوصة في المقاديم.
فقل الآن: هل بقيت عليك حسنة تحيل فيها على لفظة من ألفاظها حتى إنّ فضل تلك الحسنة يبقى لتلك اللفظة لو ذكرت على الانفراد، وأزيلت عن موقعها من نظم الشاعر ونسجه وتأليفه وترصيفه، وحتى تكون في ذلك كالجوهرة التي هي، وإن ازدادت حسنا بمصاحبة أخواتها، واكتست بهاء بمضامّة أترابها، فإنها إذا جليت للعين فردة، وتركت في الخيط فذّة، لم تعدم الفضيلة الذاتية، والبهجة التي في نفسها مطويّة والشّذرة من الذهب تراها بصحبة الجواهر لها في القلادة، واكتنافها لها في عنق الغادة، ووصلها بريق جمرتها والتهاب جوهرها، بأنوار تلك الدّرر التي
আর বিদায়ী তাওয়াফের শেষে রুকনসমূহ স্পর্শকারী ব্যক্তি তা স্পর্শ করল, যা হলো সবকিছুর সমাপ্তি এবং সেই সফরের প্রমাণ যা কাব্যের মূল লক্ষ্য। এরপর তিনি বললেন:
“আমরা আমাদের মাঝে কথাবার্তার প্রান্তসমূহ আঁকড়ে ধরলাম।” তিনি রুকনগুলো স্পর্শ করার আলোচনার সাথে পরবর্তী বিষয়ের সংযোগ ঘটিয়েছেন, যা হলো সওয়ারি প্রস্তুত করা এবং আরোহীদের আরোহণ করা। এরপর তিনি ‘প্রান্তসমূহ’ (আতরাফ) শব্দটির মাধ্যমে সেই বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা সফরের সাথীদের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট হয়ে থাকে; যেমন বিভিন্ন বিষয়ের অবতারণা এবং গল্পের শাখা-প্রশাখা নিয়ে আলোচনা করা, অথবা রুচিবান ব্যক্তিদের অভ্যাস অনুযায়ী ইঙ্গিত, ইশারা ও প্রতীকের ব্যবহার। এর মাধ্যমে তিনি মনের প্রফুল্লতা, প্রবল উদ্দীপনা এবং আনন্দের আতিশয্যের সংবাদ দিয়েছেন, যা বন্ধুদের সখ্যতা এবং প্রিয়জনদের হৃদ্যতার দাবি রাখে; এবং যা সেই ব্যক্তির অবস্থার সাথে উপযুক্ত যাকে এই মহান ইবাদত পালনের তাওফিক দেওয়া হয়েছে এবং যে সুন্দর প্রত্যাবর্তনের আশা রাখে, এবং যে প্রিয়জন ও জন্মভূমির সুঘ্রাণ অনুভব করছে এবং বন্ধুদের থেকে অভিনন্দন ও অভিবাদন শুনছে।
এরপর তিনি এই সব কিছুকে একটি সূক্ষ্ম রূপকের মাধ্যমে অলঙ্কৃত করেছেন যেখানে তিনি উপমার প্রতিটি দিক চমৎকারভাবে প্রয়োগ করেছেন। তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ও সতর্কবার্তার মাধ্যমে অনেক উপকার প্রদান করেছেন। তিনি প্রথমে সেই বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন যার প্রতি ‘কথাবার্তার প্রান্তসমূহ আঁকড়ে ধরা’র মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছিলেন; আর তা হলো এই যে, তারা তাদের উটের পিঠে থাকা অবস্থায় এবং গন্তব্যের দিকে যাত্রাকালে একে অপরের সাথে কথোপকথনে লিপ্ত হয়েছিলেন।
এরপর তিনি সফরের দ্রুতগতি এবং পিঠের আরামদায়ক হওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন; কেননা তিনি তাদের নিয়ে উটের চলার সাবলীলতাকে উপত্যকায় প্রবাহিত পানির সাথে তুলনা করেছেন। আর এর মধ্যে পূর্ববর্তী কথারই জোরালো সমর্থন রয়েছে। কারণ উটের পিঠ যদি আরামদায়ক হয় এবং তার চলন যদি সহজ ও দ্রুত হয়, তবে তা আরোহীদের উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয়। আর উদ্দীপনা বৃদ্ধির সাথে সাথে কথাবার্তাও আরও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
এরপর তিনি বললেন: ‘সওয়ারি উটগুলোর ঘাড়ের মাধ্যমে’; তিনি ‘সওয়ারিগুলোর মাধ্যমে’ বলেননি। কারণ দ্রুততা এবং মন্থরতা সাধারণত তাদের ঘাড়ে প্রকাশ পায়। তাদের অগ্রভাগ এবং বুক থেকে তাদের অবস্থা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শরীরের অন্যান্য অংশ নড়াচড়ার ক্ষেত্রে ঘাড়ের ওপর নির্ভর করে এবং ভার বা হালকাতার ক্ষেত্রে ঘাড়কে অনুসরণ করে। আর যখন তাদের মাঝে চপলতা ও উদ্দীপনা থাকে, তখন তা ঘাড় ও মাথার বিশেষ ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং অগ্রভাগের বিশেষ ভঙ্গিমা দ্বারা তা নির্দেশিত হয়।
এখন আপনিই বলুন: আপনার কাছে কি এমন কোনো সৌন্দর্য অবশিষ্ট আছে যা দিয়ে আপনি কোনো শব্দের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন? এমনকি সেই শব্দের শ্রেষ্ঠত্ব কি অক্ষুণ্ণ থাকবে যদি তাকে এককভাবে উল্লেখ করা হয় এবং কবির ছন্দবদ্ধ বুনন, বিন্যাস ও গঠন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়? তা কি সেই মণির মতো হবে যা তার সহোদরদের সংস্পর্শে শ্রী বৃদ্ধি করলেও এবং সমজাতীয়দের মিলনে উজ্জ্বলতা লাভ করলেও, চোখের সামনে এককভাবে উপস্থাপন করা হলে বা সুতোর মাঝে একা রাখা হলে তার সহজাত শ্রেষ্ঠত্ব এবং অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে না? আর স্বর্ণখণ্ডকে আপনি মুক্তার মালায় অন্যান্য মণি-মুক্তার সাথে দেখতে পান যা কোনো সুন্দরীর গলায় শোভা পায়; সেই মুক্তাগুলোর দ্যুতি তার আগুনের স্ফুরণ ও মূল সত্তার প্রজ্বলনকে সেই মণিরাজির আলোর সাথে যুক্ত করে দেয় যা...
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تجاورها، ولألاء اللآلئ تناظرها تزداد جمالا في العين، ولطف موقع من حقيقة الزين. ثم هي إن حرمت صحبة تلك العقائل، وفرّق الدهر الخئون بينها وبين هاتيك النفائس، لم تعر من بهجتها الأصيلة، ولم تذهب عنها فضيلة الذّهبية. كلّا، ليس هذا بقياس الشعر الموصوف بحسن اللفظ، وإن كان لا يبعد أن يتخيّله من لا ينعم النظر، ولا يتمّ التدبّر، بل حقّ هذا المثل أن يوضع في نصرة بعض المعاني (1) الحكمية والتشبيهية بعضا، وازدياد الحسن منها بأن يجامع شكل منها شكلا، وأن يصل الذّكر بين متدانيات في ولادة العقول إياها، ومتجاورات في تنزيل الأفهام لها.
واعلم أن هذه الفصول التي قدّمتها وإن كانت قضايا لا يكاد يخالف فيها من به طرق، فإنه قد يذكر الأمر المتّفق عليه، ليبنى عليه المختلف فيه. هذا وربّ وفاق من موافق قد بقيت عليه زيادات أغفل النظر فيها، وضروب من التلخيص والتهذيب لم يبحث عن أوائلها وثوانيها، وطريقة في العبارة عن المغزى في تلك الموافقة لم يمهّدها، ودقيقة في الكشف عن الحجة على مخالف لو عرض من المتكلفين لم يجدها، حتى تراه يطلق في عرض كلامه ما يبرز به وفاقا في معرض خلاف، ويعطيك إنكارا وقد هم باعتراف، وربّ صديق والاك قلبه، وعاداك فعله، فتركك مكدودا لا تشتفي من دائك بعلاج، وتبقى منه في سوء مزاج.
المقصدواعلم أن غرضي في هذا الكلام الذي ابتدأته، والأساس الذي وضعته، أن أتوصّل إلى بيان أمر المعاني كيف تختلف وتتفق، ومن أين تجتمع وتفترق، وأفصل أجناسها وأنواعها، وأتتبّع خاصّها ومشاعها، وأبين أحوالها في كرم منصبها من العقل، وتمكّنها في نصابه، وقرب رحمها منه، أو بعدها حين تنسب عنه، وكونها كالحليف الجاري مجرى النّسب، أو الزّنيم الملصق بالقوم لا يقبلونه، ولا يمتعضون له ولا يذبّون دونه.
وإنّ من الكلام ما هو كما هو شريف في جوهره كالذهب الإبريز الذي تختلف
--------------------------------------------
তাদের সান্নিধ্য, এবং মুক্তার দ্যুতি যা তাদের সদৃশ, চোখে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং প্রকৃত শোভার এক সূক্ষ্ম স্থান লাভ করে। অতঃপর, যদি সে সেই সম্ভ্রান্ত নারীদের সাহচর্য থেকে বঞ্চিত হয় এবং বিশ্বাসঘাতক কাল তার ও সেই অমূল্য সম্পদগুলোর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়, তবুও সে তার সহজাত আভা থেকে বঞ্চিত হয় না এবং তার স্বর্ণালি গুণাবলি তাকে ছেড়ে যায় না। না, এটি কেবল শব্দমাধুর্যের দ্বারা বর্ণিত কবিতার উপমা নয়, যদিও এমন ব্যক্তি থাকতে পারে যে গভীর দৃষ্টিপাত করে না বা যথাযথ চিন্তা করে না এবং একে সেভাবেই কল্পনা করে। বরং এই দৃষ্টান্তটি প্রদান করার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো—কিছু হিকমতপূর্ণ ও রূপক অর্থকে একে অপরের মাধ্যমে শক্তিশালী করা, এবং যখন একটি রূপ অন্য রূপের সাথে মিলিত হয় তখন তাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়া। এছাড়াও বুদ্ধিপ্রসূত নিকটবর্তী বিষয়সমূহ এবং উপলব্ধিজাত নিকটবর্তী বিষয়সমূহের মধ্যে বর্ণনার মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা।
জেনে রাখুন যে, আমি যে পরিচ্ছেদগুলো পেশ করেছি, যদিও সেগুলো এমন বিষয় যাতে সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন কেউ দ্বিমত পোষণ করে না, তবুও কখনও কখনও সর্বসম্মত বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয় যাতে তার ওপর ভিত্তি করে মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠা করা যায়। অনেক সময় এমন হয় যে, কোনো একমত পোষণকারী ব্যক্তির নিকট এমন কিছু অতিরিক্ত বিষয় অবশিষ্ট থাকে যা সে লক্ষ্য করেনি, অথবা এমন কিছু সংক্ষিপ্তকরণ ও পরিমার্জনের ধরণ থাকে যার শুরু ও শেষ নিয়ে সে গবেষণা করেনি। আবার সেই ঐকমত্যের মূল উদ্দেশ্যের অভিব্যক্তির এমন কোনো পদ্ধতি থাকে যা সে প্রস্তুত করেনি, কিংবা কোনো বিরোধীর যুক্তির স্বরূপ উন্মোচনের এমন কোনো সূক্ষ্ম দিক থাকে যা কোনো কৃত্রিম প্রচেষ্টাকারী ব্যক্তি পেশ করলে সে তা খুঁজে পেত না। এমনকি আপনি তাকে দেখতে পাবেন যে, তার আলোচনার প্রবাহে এমন কিছু বলছে যা বাহ্যিকভাবে বিরোধপূর্ণ মনে হলেও আসলে ঐকমত্য প্রকাশ করে, আবার কখনও সে আপনাকে অস্বীকৃতি জানায় অথচ সে স্বীকৃতির ইচ্ছা পোষণ করছিল। অনেক সময় এমন বন্ধু থাকে যার অন্তর আপনার সাথে একাত্ম কিন্তু তার কাজ আপনার বিরুদ্ধাচরণ করে, ফলে সে আপনাকে ক্লান্ত অবস্থায় ফেলে রাখে যেখানে আপনি আপনার রোগের কোনো নিরাময় পান না এবং তার কারণে এক মন্দ মেজাজের মধ্যে আটকা পড়ে থাকেন।
উদ্দেশ্যজেনে রাখুন যে, আমি যে আলোচনা শুরু করেছি তার উদ্দেশ্য এবং যে ভিত্তি আমি স্থাপন করেছি তার লক্ষ্য হলো—অর্থের প্রকৃতি কীভাবে ভিন্ন হয় এবং কীভাবে এক হয়, কোথা থেকে তারা একত্রিত হয় এবং পৃথক হয়, তা বর্ণনা করার উপায়ে পৌঁছানো। আমি অর্থের প্রকার ও উপ-প্রকারসমূহ বিশ্লেষণ করব, এবং এর বিশেষ ও সাধারণ দিকগুলো অনুসন্ধান করব। আকল বা বুদ্ধিবৃত্তির সাথে এর উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের অবস্থা, বুদ্ধিবৃত্তিতে এর দৃঢ় অবস্থান, এবং বুদ্ধিবৃত্তির সাথে এর নৈকট্য অথবা দূরত্বের বিষয়গুলো স্পষ্ট করব। এছাড়াও এটি কখন এমন মিত্রের মতো হয় যে বংশমর্যাদার স্থলাভিষিক্ত হয়, আর কখন এমন বহিরাগত ব্যক্তির মতো হয় যাকে কোনো গোষ্ঠীর সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে অথচ তারা তাকে গ্রহণ করে না, তার জন্য ক্রুদ্ধ হয় না এবং তাকে রক্ষাও করে না।
নিশ্চয়ই কথার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা তার মূল সত্তায় খাঁটি সোনার মতো মূল্যবান, যা বিভিন্ন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
عليه الصور وتتعاقب عليه الصناعات، وجلّ المعوّل في شرفه على ذاته، وإن كان التصوير قد يزيد في قيمته ويرفع من قدره، ومنه ما هو كالمصنوعات العجيبة من موادّ غير شريفة، فلها، ما دامت الصورة محفوظة عليها لم تنتقض، وأثر الصنعة باقيّا معها لم يبطل قيمة تغلو، ومنزلة تعلو، وللرغبة إليها انصباب، وللنفوس بها إعجاب، حتى إذا خانت الأيام فيها أصحابها، وضامت الحادثات أربابها، وفجعتهم فيها بما يسلب حسنها المكتسب بالصّنعة، وجمالها المستفاد من طريق العرض، فلم يبق إلا المادّة العارية من التصوير، والطّينة الخالية من التشكيل سقطت قيمتها، وانحطت رتبتها، وعادت الرّغبات التي كانت فيها زهدا، وأوسعتها عيون كانت تطمح إليها إعراضا دونها، وصدّا، وصارت كمن أحظاه الجدّ (1) بغير فضل كان يرجع إليه في نفسه، وقدّمه البخت من غير معنى يقضي بتقدّمه، ثم أفاق فيه الدهر عن رقدته، وتنبّه لغلطته، فأعاده إلى دقّة أصله، وقلّة فضله.
وهذا غرض لا ينال على وجهه، وطلبة لا تدرك كما ينبغي، إلا بعد مقدّمات تقدّم، وأصول تمهّد، وأشياء هي كالأدوات فيه حقّها أن تجمع، وضروب من القول هي كالمسافات دونه، يجب أن يسار فيها بالفكر وتقطع.
وأوّل ذلك وأولاه، وأحقّه بأن يستوفيه النظر ويتقصّاه، القول على «التشبيه» و «التمثيل» و «الاستعارة»، فإن هذه أصول كبيرة، كأنّ جلّ محاسن الكلام إن لم نقل: كلّها، متفرّعة عنها، وراجعة إليها، وكأنها أقطاب تدور عليها المعاني في متصرّفاتها، وأقطار تحيط بها من جهاتها، ولا يقنع طالب التحقيق أن يقتصر فيها على أمثلة تذكر،
ونظائر تعدّ، نحو أن يقال: «الاستعارة» مثل قولهم «الفكرة فخّ العمل»، وقوله: [من الطويل] وعرّي أفراس الصّبا ورواحله (2) وقوله: «السفر ميزان القوم»، وقول الأعرابي: «كانوا إذا اصطفّوا سفرت بينهم
--------------------------------------------
এর ওপর বিভিন্ন রূপ আরোপিত হয় এবং বিভিন্ন কারুকার্য একের পর এক আসতে থাকে। এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান ভিত্তি হলো এর নিজস্ব সত্তা, যদিও রূপায়ন এর মূল্য বৃদ্ধি করতে পারে এবং এর মর্যাদা উন্নত করতে পারে। আবার এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা নিকৃষ্ট উপাদান দিয়ে তৈরি বিস্ময়কর শিল্পকর্মের মতো; যতক্ষণ পর্যন্ত এর রূপ সংরক্ষিত থাকে এবং তা নষ্ট না হয়, আর কারুকার্যের প্রভাব অবশিষ্ট থাকে ও তা বাতিল না হয়ে যায়, ততক্ষণ এর মূল্য অনেক বেশি থাকে, মর্যাদা উচ্চ থাকে, এর প্রতি আগ্রহ প্রবল হয় এবং মানুষের মনে এর জন্য বিস্ময় জাগে। অবশেষে যখন মহাকাল এর মালিকদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং দুর্ঘটনাগুলো এর স্বত্বাধিকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, আর শিল্পের মাধ্যমে অর্জিত এর সৌন্দর্য এবং প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রাপ্ত এর কমনীয়তা ছিনিয়ে নিয়ে তাদের শোকাতুর করে তোলে, তখন রূপায়নহীন রিক্ত উপাদান এবং আকারহীন মৃত্তিকা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। ফলে এর মূল্য পড়ে যায়, এর মর্যাদা হ্রাস পায় এবং এর প্রতি যে আগ্রহ ছিল তা অনাগ্রহে পরিণত হয়। যে চোখগুলো এর দিকে আকাঙ্ক্ষার সাথে তাকিয়ে থাকত, সেগুলো এখন একে উপেক্ষা করে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এটি এমন এক ব্যক্তির মতো হয়ে যায় যাকে ভাগ্য কোনো নিজস্ব গুণ ছাড়াই উচ্চাসনে বসিয়েছিল এবং সৌভাগ্য কোনো অর্থবহ কারণ ছাড়াই তাকে অগ্রগণ্য করেছিল, তারপর মহাকাল তার তন্দ্রা থেকে জেগে উঠল এবং নিজের ভুল বুঝতে পারল, ফলে তাকে পুনরায় তার তুচ্ছ মূলে এবং নগণ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিল।
এটি এমন এক লক্ষ্য যা তার প্রকৃত রূপে অর্জন করা সম্ভব নয় এবং এমন এক অন্বেষা যা যথাযথভাবে আয়ত্ত করা যায় না, যতক্ষণ না কিছু ভূমিকা উপস্থাপন করা হয়, কিছু মূলনীতি সুবিন্যস্ত করা হয় এবং এমন কিছু বিষয় যা যন্ত্রপাতির সমতুল্য—সেগুলোকে একত্রিত করা হয়। আর কিছু কথা রয়েছে যা গন্তব্যের পথের দূরত্বের মতো, চিন্তার মাধ্যমে সেখানে ভ্রমণ করা এবং তা অতিক্রম করা আবশ্যক।
এর মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে অগ্রগণ্য বিষয়, যা গভীর দৃষ্টিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা উচিত, তা হলো ‘উপমা’ (তাশবিহ), ‘তামসিল’ এবং ‘রূপক’ (ইস্তিআরা) সংক্রান্ত আলোচনা। কেননা এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। বলা যায় যে, বক্তব্যের অধিকাংশ সৌন্দর্য—যদি না বলি সবটুকু—এগুলো থেকেই শাখা হিসেবে নির্গত এবং এগুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। এগুলো যেন এমন মেরু যার ওপর অর্থের পরিবর্তনগুলো আবর্তিত হয় এবং এমন এক দিগন্ত যা একে সব দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রাখে। সত্য অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তি কেবল কিছু উল্লিখিত উদাহরণে সন্তুষ্ট হতে পারেন না,
এবং কিছু সমজাতীয় বিষয়ের গণনায় সন্তুষ্ট হওয়া যায় না, যেমন বলা হয়: ‘ইস্তিআরা’ বা ‘রূপক’ হলো তাদের এই কথার মতো: “চিন্তা হলো কাজের ফাঁদ”। অথবা কবির এই পঙ্ক্তি: “যৌবনের অশ্ব ও আরোহীগুলো রিক্ত হয়েছে”। অথবা এই প্রবাদ: “সফর হলো মানুষের (চরিত্রের) তুলাদণ্ড”। অথবা সেই বেদুইনের কথা: “যখন তারা সারিবদ্ধ হতো, তখন সফর তাদের মাঝে দূতিয়ালি করত...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
السهام، وإذا تصافحوا بالسيوف قفز الحمام»، و «التمثيل» كقوله:
فإنك كاللّيل الّذي هو مدركي (1) ويؤتى بأمثلة إذا حقّق النّظر في الأشياء يجمعها الاسم الأعمّ، وينفرد كل منها بخاصّة، من لم يقف (2) عليها كان قصير الهمّة في طلب الحقائق، ضعيف المنّة في البحث عن الدقائق، قليل التّوق إلى معرفة اللطائف، يرضى بالجمل والظواهر، ويرى أن لا يطيل سفر الخاطر، ولعمري إنّ ذلك أروح للنفس، وأقلّ للشّغل، إلا أنّ من طلب الراحة ما يعقب تعبا، ومن اختيار ما تقلّ معه الكلفة ما يفضي إلى أشدّ الكلفة، وذلك أن الأمور التي تلتقي عند الجملة وتتباين لدى التفصيل، وتجتمع في جذم ثم يذهب بها التشعّب ويقسمها قبيلا بعد قبيل، إذا لم تعرف حقيقة الحال في تلاقيها حيث التقت، وافتراقها حيث افترقت، كان قياس من يحكم فيها، إذا توسّط الأمر قياس من أراد الحكم بين رجلين في شرفهما وكرم أصلهما وذهاب عرقهما في الفضل، ليعلم أيّهما أقعد في السؤدد، وأحقّ بالفخر، وأرسخ في أرومة المجد، وهو لا يعرف من نسبتهما أكثر من ولادة الأب الأعلى والجد الأكبر، لجواز أنّ يكون واحد منهما قرشيا أو تميميا، فيكون في العجز عن أن يبرم قضية في معناهما، ويبيّن فضلا أو نقصا في منتماهما في حكم من لا يعلم أكثر من أن كل واحد منهما آدميّ، ذكر، أو خلق مصوّر.
واعلم أن الذي يوجبه ظاهر الأمر، وما يسبق إلى الفكر، أن يبدأ بجملة من القول في «الحقيقة» و «المجاز» ويتبع ذلك القول في «التشبيه» و «التمثيل»، ثم ينسّق ذكر «الاستعارة» عليهما، ويؤتى بها في أثرهما. وذلك أن «المجاز» أعمّ من «الاستعارة»، والواجب في قضايا المراتب أن يبدأ بالعامّ قبل الخاصّ، و «التشبيه» كالأصل في «الاستعارة»، وهي شبيه بالفرع له، أو صورة مقتضبة من صوره إلّا أنّ
--------------------------------------------
...তীরসমূহ, এবং যখন তারা তলোয়ার দ্বারা করমর্দন করে তখন কবুতরগুলো লাফিয়ে ওঠে", এবং "তামসিল" (প্রতিনিধিত্বমূলক উপমা) যেমন কবির উক্তি:
কেননা নিশ্চয়ই আপনি সেই রাত্রির মতো যা আমাকে স্পর্শ করবেই (১)
এবং এমন কিছু উদাহরণ পেশ করা হয় যেখানে বস্তুসমূহের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে একটি সাধারণ নাম সেগুলোকে একত্রিত করছে, কিন্তু তাদের প্রতিটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। যে ব্যক্তি এই বৈশিষ্ট্যগুলো (২) সম্পর্কে অবগত নয়, সে সত্যের সন্ধানে দুর্বল সংকল্পের অধিকারী, সূক্ষ্ম বিষয়াবলি গবেষণায় অক্ষম এবং সুনিপুণ তত্ত্বসমূহ জানার ক্ষেত্রে খুব কমই আগ্রহী। সে ভাসাভাসা কথা ও বাহ্যিক বিষয় নিয়েই তুষ্ট থাকে এবং চিন্তার পথ দীর্ঘ না করাকেই শ্রেয় মনে করে। আমার জীবনের কসম! এটা মনের জন্য বেশি আরামদায়ক এবং পরিশ্রমের দিক থেকে কম। তবে যে ব্যক্তি এমন আরাম খোঁজে যার পরিণামে ক্লান্তি আসে, এবং এমন পথ বেছে নেয় যাতে কষ্ট কম কিন্তু পরিণাম অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়; কারণ যেসব বিষয় সারসংক্ষেপে একত্রিত হয় কিন্তু বিস্তারিত আলোচনায় পৃথক হয়ে যায়, এবং যেগুলো একটি মূলে মিলিত থাকে কিন্তু পরে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন দলে বিন্যস্ত হয়, সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা যদি তাদের মিলনের স্থানে ও পার্থক্যের স্থলে সঠিকভাবে জানা না থাকে—তবে এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দাতার অনুমান হবে সেই ব্যক্তির অনুমানের মতো যে দুই ব্যক্তির মর্যাদা, বংশীয় আভিজাত্য এবং শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে তাদের শেকড়ের গভীরতা বিচার করে ফয়সালা দিতে চায়; যেন সে জানতে পারে কে বেশি সম্মানিত, কে গৌরবের অধিকতর যোগ্য এবং কার আভিজাত্য অধিক সুদৃঢ়। অথচ সে তাদের বংশ সম্পর্কে মহান পিতা ও ঊর্ধ্বতন দাদার নাম ছাড়া আর কিছুই জানে না। ফলে তাদের একজন কুরাইশ বা তামীম গোত্রের হওয়া সত্ত্বেও, সে তাদের প্রকৃত মর্যাদার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এবং তাদের বংশের শ্রেষ্ঠত্ব বা ত্রুটি বর্ণনা করতে অক্ষম হবে—তার অবস্থা হবে সেই ব্যক্তির মতো যে কেবল এটুকুই জানে যে তারা উভয়েই মানুষ, পুরুষ এবং দেহধারী সৃষ্টি।
জেনে রাখুন যে, বিষয়ের আপাত রূপ এবং চিন্তায় প্রথমেই যা আসা উচিত তা হলো—প্রথমে "হাকিকত" (প্রকৃত অর্থ) এবং "মাজায" (রূপক অর্থ) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শুরু করা। এরপর "তাশবিহ" (উপমা) এবং "তামসিল" (প্রতিনিধিত্বমূলক উপমা) সম্পর্কে আলোচনা করা। অতঃপর এ দুটির সাথে সংগতি রেখে "ইস্তি'আরা" (রূপক অলঙ্কার)-এর আলোচনা নিয়ে আসা এবং সেগুলোকে এগুলোর পর উপস্থাপন করা। কারণ "মাজায" এর পরিধি "ইস্তি'আরা" অপেক্ষা ব্যাপকতর। আর নিয়ম হলো সাধারণ বিষয়কে বিশেষ বিষয়ের পূর্বে আলোচনা করা। আর "তাশবিহ" হলো "ইস্তি'আরা"র মূল ভিত্তি স্বরূপ, আর ইস্তি'আরা হলো তারই একটি শাখা বা তার বিভিন্ন রূপের একটি বিচ্ছিন্ন রূপ। কিন্তু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসরারুল বালাগাহ - ত হিন্দাউয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
هاهنا أمورا اقتضت أن تقع البداية بالاستعارة، وبيان صدر منها، والتنبيه على طريق الانقسام فيها، حتى إذا عرف بعض ما يكشف عن حالها، ويقف على سعة مجالها، عطف عنان الشرح إلى الفصلين الآخرين، فوفّيا حقوقها، وبيّن فروقهما، ثم ينصرف إلى استقصاء الكلام في «الاستعارة».
تعريف الاستعارةاعلم أن «الاستعارة» في الجملة أن يكون للّفظ أصل في الوضع اللغوي معروف تدلّ الشواهد على أنه اختصّ به حين وضع، ثم يستعمله الشاعر أو غير الشاعر في غير ذلك الأصل، وينقله إليه نقلا غير لازم، فيكون هناك كالعارية.
تقسيم الاستعارةثم إنها تنقسم أوّلا قسمين:
أحدهما: أن يكون لنقله فائدة.
والثاني: أن لا يكون له فائدة، وأنا أبدأ بذكر غير المفيد، فإنه قصير الباع، قليل الاتساع، ثم أتكلم على المفيد الذي هو المقصود.
وموضع هذا الذي لا يفيد نقله، حيث يكون اختصاص الاسم بما وضع له من طريق أريد به التوسّع في أوضاع اللغة، والتنوّق (1) في مراعاة دقائق في الفروق في المعاني المدلول عليها، كوضعهم للعضو الواحد أسامي كثيرة بحسب اختلاف أجناس الحيوان، نحو وضع «الشفة» للإنسان و «المشفر» للبعير و «الجحفلة» للفرس، وما شاكل ذلك من فروق ربما وجدت في غير لغة العرب وربما لم توجد، فإذا استعمل الشاعر شيئا منها في غير الجنس الذي وضع له، فقد استعاره منه ونقله عن أصله وجاز به موضعه، كقول العجّاج: [من الرجز] وفاحما، ومرسنا مسرّجا (2)
يعني أنفا يبرق كالسّراج، و «المرسن» في الأصل للحيوان، لأنه الموضع الذي يقع عليه «الرسن» وقال آخر: يصف إبلا: [من الرجز]
--------------------------------------------
এখানে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা দাবি করে যে রূপক (ইস্তিয়ারা) দিয়ে আলোচনা শুরু করা হোক, এর প্রারম্ভিক বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হোক এবং এর বিভাজন পদ্ধতির প্রতি আলোকপাত করা হোক; যাতে করে এর স্বরূপ উন্মোচনকারী বিষয়গুলো জানা যায় এবং এর ব্যাপকতা অনুধাবন করা যায়। এরপর ব্যাখ্যার মোড় অন্য দুটি পরিচ্ছেদের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, যাতে সেগুলোর যথাযথ হক আদায় করা যায় এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করা যায়। অতঃপর পুনরায় রূপকের আলোচনা পূর্ণ করার দিকে ফিরে আসা হবে।
রূপকের সংজ্ঞাজেনে রাখুন যে, সামগ্রিকভাবে 'রূপক' হলো শব্দের একটি সুপরিচিত ভাষাতাত্ত্বিক মূল ভিত্তি থাকা, যা বিভিন্ন প্রমাণাদি দ্বারা সাব্যস্ত যে শব্দটি যখন গঠন করা হয়েছিল তখন সেই অর্থের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। অতঃপর কোনো কবি বা অন্য কেউ সেই মূল ভিত্তি ছাড়া অন্য কোনো অর্থে তা ব্যবহার করেন এবং একে এমনভাবে সেখানে স্থানান্তরিত করেন যা স্থায়ী নয়। ফলে সেটি সেখানে ধারের মতো গণ্য হয়।
রূপকের প্রকারভেদঅতঃপর এটি প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি হলো: যার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো উপকারিতা বা তাৎপর্য থাকে।
দ্বিতীয়টি হলো: যার কোনো উপকারিতা থাকে না। আমি অনুপকারী বা তাৎপর্যহীন অংশটি দিয়ে আলোচনা শুরু করব, কারণ এর পরিধি ছোট এবং বিস্তার কম। অতঃপর আমি উপকারী বা তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি নিয়ে আলোচনা করব, যা মূলত উদ্দিষ্ট বিষয়।
এই অনুপকারী রূপান্তরের ক্ষেত্র হলো সেখানে, যেখানে কোনো নামের বিশেষত্ব তার মূল অর্থের সাথে এমনভাবে থাকে যা কেবল ভাষার পরিধির বিস্তৃতি এবং অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্যের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার জন্য করা হয়েছে। যেমন প্রাণীদের ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি অনুযায়ী একই অঙ্গের জন্য বিভিন্ন নাম নির্ধারণ করা। যেমন মানুষের জন্য 'ঠোঁট' (শাফাহ্), উটের জন্য 'মিশফার' এবং ঘোড়ার জন্য 'জাহফালাহ' শব্দ নির্ধারণ করা। এ জাতীয় পার্থক্যগুলো হয়তো আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় পাওয়া যেতে পারে আবার নাও পাওয়া যেতে পারে। সুতরাং কোনো কবি যখন এর কোনো একটিকে তার জন্য নির্ধারিত প্রজাতি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন, তখন তিনি মূলত তা সেখান থেকে রূপক হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একে তার মূল উৎস থেকে সরিয়ে অন্য স্থানে প্রয়োগ করেছেন। যেমন আল-আজ্জাজের উক্তি: "কয়লার মতো কালো এবং প্রদীপের মতো উজ্জ্বল নাসিকা।"
এখানে তিনি নাক বুঝিয়েছেন যা প্রদীপের মতো উজ্জ্বল। 'মারসান' (নাসিকা) শব্দটি মূলত পশুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি সেই স্থান যেখানে 'রাসা্ন' বা লাগাম রাখা হয়। আর উটের বর্ণনা দিতে গিয়ে অন্য একজন বলেছেন:
--------------------------------------------