(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: -)
إرشاد السالك إلى حل ألفية ابن مالك القسم: النحو والصرف
الكتاب: إرشاد السالك إلى حل ألفية ابن مالك
المؤلف: برهان الدين إبراهيم بن محمد بن أبي بكر بن أيوب بن قيم الجوزية (المتوفى 767 هـ)
المحقق: د. محمد بن عوض بن محمد السهلي
قسم من هذا الكتاب: هو أطروحة دكتوراة للمحقق
الناشر: أضواء السلف - الرياض
الطبعة: الأولى، 1373 هـ - 1954 م.
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 صفر 1437
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যতি ইবনি মালিক বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যতি ইবনি মালিক
লেখক: বুরহানুদ্দিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৬৭ হিজরি)
সম্পাদক: ড. মুহাম্মদ বিন আওয়াদ বিন মুহাম্মদ আল-সাহলি
এই বইয়ের অংশ বিশেষ: এটি সম্পাদকের ডক্টরেট থিসিস
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৭৩ হিজরি - ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ.
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: মারকাযু নুখাবিল ইলমিয়্যাহ-এর পৃষ্ঠপোষকতায় রাবিতাতুন নুসসাখ দল
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[إرشاد السالك إلى حل ألفية ابن مالك]ـ
المؤلف: برهان الدين إبراهيم بن محمد بن أبي بكر بن أيوب بن قيم الجوزية (المتوفى 767 هـ)
المحقق: د. محمد بن عوض بن محمد السهلي
قسم من هذا الكتاب: هو أطروحة دكتوراة للمحقق
الناشر: أضواء السلف - الرياض
الطبعة: الأولى، 1373 هـ - 1954 م.
عدد الأجزاء: 2 (في ترقيم مسلسل واحد)
أعده للشاملة/ فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় ইর্শাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক
লেখক: বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৬৭ হিজরি)
গবেষক: ড. মুহাম্মাদ বিন আওয়াদ বিন মুহাম্মাদ আস-সাহলি
এই বইয়ের একটি অংশ: এটি গবেষকের ডক্টরেট থিসিস
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৭৩ হিজরি - ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (একটি ধারাবাহিক ক্রমিক সংখ্যায়)
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: লিপি প্রস্তুতকারক দল, (সায়েন্টিফিক এলিট সেন্টারের) পৃষ্ঠপোষকতায়
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: نسبه، وكنيته ولقبهنسبه:
هو أبو عبد الله جمال الدين: محمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الله ابن مالك الطائي الجّياني، وهذه السلسة النسبية هي رواية دائرة المعارف الإسلامية، وسار عليها الدماميني في تعليق الفرائد على تسهيل الفوائد وتكميل المقاصد، وقد ذكرها بروكلمان، وذهب المقري في نفخ الطيب إلى أ، بعض الحٌفاظ-حين عَرف بابن مالك- قال"يقال: إن "عبدالله" في نسبه مذكور مرتين متواليتين، وبعض يقول مرة واحدة، وهو الوجود بخطه في أول شرحه لعمدته، وهو الذي اعتمده الصفدي".
هذا وقد عرّف محمد بن على بن طولون في هداية السالك فقال: (هو: محمد بن عبد الله بن عبد الله بن عبدالله-ثلاثاً- ابن مالك".
وقد اكتفى بعضهم بذكر: محمد بن عبدالله بن مالك، أو محمد بن مالك، اكتفاء بالمشهور.
كنيته ولقبه:
يكنى ابن مالك ب: أبي عبدالله، ويلقب بجمال الدين.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয়, কুনিয়া এবং উপাধিবংশপরিচয়:
তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ জামালুদ্দিন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জাইয়ানি। এই বংশপরম্পরাটি 'দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামি বিশ্বকোষ)-এর বর্ণনা এবং আদ-দামামিনি 'তাসহিলুল ফাওয়াইদ ওয়া তাকমিলুল মাকাসিদ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তালিকুল ফারাইদ'-এ এটিই অনুসরণ করেছেন। ব্রোকলম্যানও এটি উল্লেখ করেছেন। আল-মাক্কারি 'নাফহুত তিব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কিছু হাফেজ—যখন ইবনে মালিকের পরিচয় দিয়েছেন—বলেছেন: "বলা হয় যে, তাঁর বংশপরম্পরায় 'আবদুল্লাহ' নামটি পরপর দুবার উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কেউ বলেন একবার; আর এটিই তাঁর নিজের হাতের লেখায় তাঁর 'উমদাহ'-এর শারহ্-এর শুরুতে বিদ্যমান রয়েছে এবং আস-সাফাদি একেই নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন।"
মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে তুলুন 'হিদায়াতুস সালিক' গ্রন্থে তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন: "তিনি হলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ—তিনবার—ইবনে মালিক।"
আবার কেউ কেউ প্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে শুধু 'মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক' অথবা 'মুহাম্মদ ইবনে মালিক' উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।
কুনিয়া ও উপাধি:
ইবনে মালিকের কুনিয়া হলো 'আবু আবদুল্লাহ' এবং তাঁর উপাধি হলো 'জামালুদ্দিন'।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: أسرتهلم تفد المصادر بشيء عن أسرة ابن مالك، كما أنه لم ينقل عنه أنه صرح بشيء من ذلك _ أيضاً_ ويرجح كثير من الباحثين أن يكون والداه قد توفيا وهو صغير، وهذا -إن صح- يمكن اعتباره من دواعي راحلته إلى المشرق، ولا سيما أنه لم يعد إلى مسقط رأسه "الأندلس" بعد ارتحاله الموفق عنها.
المبحث الثالث: مولدهولد ابن مالك في "جَيَّان"-بفتح الجيم وتشديد الياء_ وهي إحدى مدن الأندلس الوسطى، وكانت ولادته سنة 600 هـ على أكثر الروايات وأقربها إلى الصحة.
المبحث الرابع: دراسته بالأندلسيبدو أن ابن مالك بدأ دراسته بحفظ القرآن الكريم كما جرت عليه
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিবারউৎসসমূহ ইবনে মালিকের পরিবার সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রদান করেনি। তেমনিভাবে তাঁর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা উদ্ধৃত হয়নি। অনেক গবেষকই এই মতকে প্রাধান্য দেন যে, সম্ভবত তাঁর পিতা-মাতা তাঁর শৈশবেই ইন্তেকাল করেছিলেন। এটি যদি সঠিক হয়, তবে প্রাচ্যের অভিমুখে তাঁর সফরের অন্যতম কারণ হিসেবে একে বিবেচনা করা যেতে পারে; বিশেষ করে যেহেতু তিনি তাঁর জন্মভূমি 'আন্দালুস' থেকে সফলভাবে প্রস্থান করার পর সেখানে আর ফিরে যাননি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্মইবনে মালিক 'জাইয়ান' (জীম বর্ণে ফাতহাহ এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদসহ) নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। এটি মধ্য আন্দালুসের অন্যতম একটি শহর। অধিকাংশ বর্ণনা অনুযায়ী এবং যা সত্যের অধিক নিকটবর্তী, তাঁর জন্ম হয়েছিল হিজরি ৬০০ সনে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আন্দালুসে তাঁর শিক্ষাপ্রতীয়মান হয় যে, তৎকালীন প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ইবনে মালিক পবিত্র কুরআন হিফজ করার মাধ্যমেই তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১১)
عادة طلاب العلم في عصره وصره، واستتبع ذلك دراسة القراءات وحفظ ما تيسر له من المتون المختلفة، ولا سيما متون النحو واللغة، وقد ذكره ابن الجزري -في طبقات القراء- فقال: "قد شاع عند كثير من منتحلي العربية أن ابن مالك لا يُعرف له شيخ في العربية ولا في القراءات ولي كذلك، بل قد أخذ العربية _في بلاده عن ثابت بن خيار، وحضر عند الأستاذ أبي علي الشلوبين نحو العشرين يوماً".أ. هـ.
المبحث الخامس: رحلته وأثرها فيهولد ابن مالك في الأندلس، وقضى باكورة شبابه فيها في حين لم تكن فيه الأحوال السياسية مستقرة، فقد كان الصراع على أشده بين المسلمين والإفرنج، تبع ذلك تساقط البلاد الإسلامية بعد حروب طاحنة كانت الدولة فيها للإفرنج على من عاصرهم من ملوك الموحدين، وعلى {اسهم الناصر بن يعقوب الذي ولى الأندلس بعد وفاة أبيه سنه 595 هـ.
لذا يمكن القول بأن تلك الفتن والاضطرابات السياسية كانت من بين أسباب ارتحال ابن مالك إلى المشرق إن لم تكن أهم تلك الأسباب، كما أن الرغبة في زيارة الديار المقدسة، والشغف بمشاهدة مواقع التنزيل، ومصدر إشعاع الحضارة الإسلامية، أمور تستحث طلاب العلم -عامة- فضلاً عن ابن مالك، ذلك الشاب المتوقد الذهن، الولوع بالعلم ومصاحبة العلماء.
لذا نجد ابن مالك يزمع الرحلة إلى المشرق، وتتم تلك الرحلة، ويؤدي
তাঁর সময় ও কালের জ্ঞানান্বেষীদের রীতি অনুযায়ী, এর ফলশ্রুতিতে তিনি কিরাতসমূহ অধ্যয়ন করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক মৌলিক গ্রন্থ (মুতুন) মুখস্থ করেন যা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল, বিশেষ করে ব্যাকরণ (নাহু) ও ভাষার মূল পাঠসমূহ। ইবনুল জাজারি তাঁর 'তাবাকাতুল কুররা' গ্রন্থে ইবনে মালিকের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আরবি ভাষার অনেক দাবিদারের মধ্যে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, আরবি ভাষা ও কিরাতের ক্ষেত্রে ইবনে মালিকের কোনো শিক্ষকের কথা জানা যায় না, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং তিনি নিজ দেশে সাবিত বিন খিয়ারের নিকট আরবি শিক্ষা লাভ করেছেন এবং উস্তাদ আবু আলি আশ-শালুবিনের নিকট প্রায় বিশ দিন অবস্থান করে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর সফর এবং তাঁর ওপর এর প্রভাবইবনে মালিক আন্দালুসে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর যৌবনের প্রারম্ভকাল সেখানেই অতিবাহিত করেন এমন এক সময়ে যখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল না। মুসলমান ও ফ্রাঙ্কদের মধ্যে চরম সংঘাত চলছিল, যার ফলশ্রুতিতে বিধ্বংসী যুদ্ধের পর একের পর এক মুসলিম ভূখণ্ডের পতন হতে থাকে। সেই যুদ্ধগুলোতে সমসাময়িক মুওয়াহহিদিন রাজাদের ওপর ফ্রাঙ্করা আধিপত্য বিস্তার করেছিল, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন আন-নাসির বিন ইয়াকুব, যিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ৫৯৫ হিজরিতে আন্দালুসের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন।
তাই বলা যেতে পারে যে, ইবনে মালিকের প্রাচ্যের দিকে হিজরত করার কারণগুলোর মধ্যে সেই ফিতনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্যতম ছিল, যদি তা প্রধানতম কারণ না-ও হয়ে থাকে। এছাড়াও পবিত্র ভূমি যিয়ারতের আকাঙ্ক্ষা, ওহী নাজিল হওয়ার স্থানসমূহ দেখার তীব্র বাসনা এবং ইসলামি সভ্যতার বিচ্ছুরণের কেন্দ্রগুলো প্রত্যক্ষ করার ইচ্ছা এমন বিষয় ছিল যা সাধারণ জ্ঞানান্বেষীদের উদ্দীপ্ত করে—বিশেষ করে ইবনে মালিকের মতো একজন তীক্ষ্ণ মেধাবী যুবককে, যিনি ছিলেন জ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং আলেমদের সাহচর্য প্রিয়।
এ কারণে আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে মালিক প্রাচ্যে সফরের সংকল্প করেন এবং সেই সফর সম্পন্ন হয়, আর তিনি পালন করেন...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১২)
فريضة الحج، ثم يلحق بالشام بيد أن الأحوال السياسية فيه لم تكن بأسعد حالاً ولا أهدأ بالا من بلاد الأندلس، فقد كانت البلاد الشامية في فتن وحروب دامية بين الصلبين والتتار من جهة، وبين الدولة الأيوبية التي دب الخلاف فيها بعد موت صلاح الدين بسبب النزاع بين أبنائه الثلاثة وأخيه على السلطة من جهة أخرى.
ويظل ابن مالك يطوف بالبلاد الشامية وينتقل بين حواضرها: دمشق، وحلب، وحماة، وبعلبك، ويستقر به المطاف في دمشق، على ما ذكره الرواة، فقد ذكر ابن الجزري أنه قدم دمشق، ثم توجه إلى حلب فنزل فيها وفي حماة، واُخِذَ عنه بهذين البلدين، ثم قدم دمشق مستوطنا.
ولقد كان لارتحال ابن مالك من بلاد المغرب إلى بلاد المشرق أثر كبير في ملامح حياته، في أخلاقه ومذهبه، وسلوكه، فقد كان قبل رحيله، مالكي المذهب، وذلك لسيادة المذهب المالكي في تلك البلاد فلما استوطن المشرق عدل عن مذهبه وأخذ بمذهب الشافعي، أما عن أخلاقه وسلوكه فقد قال الصفدي عنه: "إن ابن مالك انفرد عن المغاربة بشيئين: الكرم ومذهب الشافعي".
وذكر نحو قول الصفدي هذا ابنُ عساكر والسيوطي، وزاد
হজ্জের ফরজ বিধান পালন করেন, এরপর তিনি শামে গমন করেন। তবে সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আন্দালুসের তুলনায় মোটেও সুখকর কিংবা শান্তিপূর্ণ ছিল না। কেননা একদিকে শামের ভূখণ্ড ক্রুসেডার ও তাতারদের মাঝে ফিতনা ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সম্মুখীন ছিল, আর অন্যদিকে আইয়ুবী রাষ্ট্রের ভেতরে সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর ইন্তেকালের পর তাঁর তিন পুত্র ও ভাইয়ের মধ্যে ক্ষমতার দখল নিয়ে বিরোধের কারণে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল।
ইবনে মালিক শামের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতে থাকেন এবং এর প্রধান শহরগুলোতে যাতায়াত করেন: দামেস্ক, হালাব, হামাত ও বালবাক। ঐতিহাসিকদের বর্ণনা অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত তিনি দামেস্কে থিতু হন। ইবনুল জাজারী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দামেস্কে আসেন, অতঃপর হালাবের দিকে রওয়ানা হন এবং সেখানে ও হামাতে অবস্থান করেন। এই দুই শহরে তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা হয়। এরপর তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে পুনরায় দামেস্কে পদার্পণ করেন।
ইবনে মালিকের মাগরিব (পশ্চিম) অঞ্চল থেকে মাশরিক (পূর্ব) অঞ্চলে হিজরত তাঁর জীবনের গতিপ্রকৃতি, চরিত্র, মাযহাব ও আচরণের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। দেশান্তরী হওয়ার পূর্বে তিনি মালিকী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, কারণ ওই অঞ্চলে মালিকী মাযহাবেরই প্রাধান্য ছিল। তবে যখন তিনি মাশরিকে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেন, তখন তিনি তাঁর মাযহাব পরিবর্তন করে শাফেয়ী মাযহাব গ্রহণ করেন। তাঁর আখলাক ও আচরণের বিষয়ে সাফাদী বলেছেন: "ইবনে মালিক দুটি বৈশিষ্ট্যের কারণে মাগরিববাসীদের থেকে অনন্য ছিলেন: দানশীলতা এবং শাফেয়ী মাযহাব গ্রহণ।"
সাফাদীর এই বক্তব্যের অনুরূপ মত প্রকাশ করেছেন ইবনে আসাকির ও সুয়ূতী, এবং তাঁরা আরও যোগ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ابن العماد: "حسن الخلق"، ولا غرابة في ذلك، فإن الهجرة من أكبر عوامل التأثير والتأثر.
المبحث السادس: شيوخهأولاً: شيوخه في الأندلس:
ذكر ابن الجزري: "أن ابن مالك أخذ العربية في بلاده عن ثابت ابن خيار، وأنه حضر على أبي علي الشلوبين نحو العشرين يوماً، كما ذكر السيوطي أن له رواية عن أبي الصقر.
ثانياً: شيوخه في المشرق:
ذكر السيوطي: أنه سمع بدمشق من السخاوي، وجالس بحلب
ইবনুল ইমাদ: "উত্তম চরিত্র", আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ হিজরত হলো প্রভাব রাখা এবং প্রভাবিত হওয়ার অন্যতম প্রধান নিয়ামক।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকগণপ্রথমত: আন্দালুসে তাঁর শিক্ষকগণ:
ইবনুল জাজারি উল্লেখ করেছেন: "ইবনে মালিক নিজ দেশে সাবেত ইবনে খিয়ারের নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করেছেন এবং তিনি আবু আলি আশ-শালুবিনের নিকট প্রায় বিশ দিন উপস্থিত ছিলেন, যেমন সুয়ুতি উল্লেখ করেছেন যে আবু সাকর থেকে তাঁর বর্ণনা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: মাশরিকে (প্রাচ্যে) তাঁর শিক্ষকগণ:
সুয়ুতি উল্লেখ করেছেন: তিনি দামেস্কে সাখাভি থেকে শুনেছেন এবং আলেপ্পোতে (উলামাদের মজলিসে) বসেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ابن عمرون-تلميذ ابن يعيش- وأن له شيخاً جليلاً هو ابن يعيش الحلبي، وأقام بدمشق مدة يصنف ويشتغل، وتصدر بالتربة التعادلية، والجامع المعمور، وقال المقّرى: "
… وسمع بدمشق من مكرم، وأبي صادق الحسن بن صباح، وأبي الحسن بن السخاوي وغيرهم .... ، وجالس ابن يعيش تلميذه ابن عمرون بحلب، وأقام بدمشق مدة يصنف
… وتصدر بحلب مدة، وأمّ بالسلطانية، ثم تحول إلى دمشق، وتصدر بحماة مدة".
المبحث السابع: مذهبه النحويمما لاشك فيه أن ابن مالك اطلع على كتب سابقيه من النحاة البصريين والكوفيين والبغداديين ومن جاء بعدهم، وأفاد من هؤلاء جميعا حتى تكونت شخصيته العلمية ولاسيما في النحو والتصريف ثم استوت، يدل على ذلك إنه يورد المسائل النحوية ويعرض آراء النحاة فيها بدقة وأمانة، ثم يجيل فيها رأيه
ইবনে আমরুন—ইবনে ইয়াঈশের ছাত্র—এবং তাঁর একজন মহান শায়খ ছিলেন, তিনি হলেন ইবনে ইয়াঈশ আল-হালাবি। তিনি দামেস্কে দীর্ঘকাল অবস্থান করে গ্রন্থ রচনা ও জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত ছিলেন এবং আত-তুরবাতুত তা'আদুলিয়্যাহ ও আল-জামি আল-মামুরে প্রধান শিক্ষকের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আল-মাক্কারি বলেছেন: "
… তিনি দামেস্কে মাকরাম, আবু সাদিক আল-হাসান ইবনে সাব্বাহ, আবুল হাসান ইবনে আস-সাখাভি এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে (ইলম) শুনেছেন... এবং ইবনে ইয়াঈশ হালাবে তাঁর ছাত্র ইবনে আমরুনের সাথে বৈঠকে বসেছেন। তিনি দামেস্কে দীর্ঘকাল অবস্থান করে গ্রন্থ রচনা করেছেন
… এবং হালাবে দীর্ঘকাল প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন ও আস-সুলতানিয়্যাহ মসজিদে ইমামতি করেছেন। এরপর তিনি দামেস্কে স্থানান্তরিত হন এবং হামায় দীর্ঘকাল প্রধানের পদে আসীন ছিলেন।"
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যাকরণিক মাযহাবএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে মালিক তাঁর পূর্বসূরি বসরা, কুফা ও বাগদাদের ব্যাকরণবিদ এবং তাঁদের পরবর্তী আলেমদের গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেছিলেন। তিনি তাঁদের সকলের থেকেই উপকৃত হয়েছিলেন, ফলে তাঁর ইলমি ব্যক্তিত্ব—বিশেষ করে নাহু (ব্যাকরণ) ও সারফ (রূপতত্ত্ব) শাস্ত্রে—গঠিত হয়েছিল এবং এরপর তা পূর্ণতা লাভ করেছিল। এর প্রমাণ হলো, তিনি ব্যাকরণিক মাসআলাসমূহ উপস্থাপন করেন এবং অত্যন্ত নির্ভুলতা ও আমানতদারিতার সাথে সে বিষয়ে ব্যাকরণবিদদের মতামত তুলে ধরেন, এরপর তিনি সে বিষয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بحسب ما يمليه عليه اجتهادهن وما يبلغه تفكيره الحر، وحسه المرهف، فيؤيد هذا ويضعّف ذاك، ويصحح هذا ويرد ما يخالفه من غير تحيز إلى مذهب معين لذاته، وإنما ينتصر لما تشهد بصحته الشواهد المعتبرة لديهن أو ماله نظير يمكن قياسه عليه.
وكون ابن مالك موافقا في كثير من آرائه النحوية لما عليه البصريون لا يعني تحيزه إلى هذا المذهب أو هذه المدرسة، وإنما لكون ذلك هو المترجح لديه بعد إعمال فكر وإجالة نظر، ولا يخفي تفوق المدرسة البصرية على غيرها من المدارس النحوية، ومع ذلك فإنك تجد ابن مالك ينتصر لقول الكسائي أو الفراء -أحياناً- لما تقدم.
ومصنفات ابن مالك مليئة بآراء النحويين المتقدمين والمتأخرين مما يدل دلالة واضحة على أنه لم يدخر وسعاً في تتبع الآراء النحوية عند عرضه للمسائل، فإنك واجد في كتبه أقوال سيبويه والكسائي والفراء، والأخفش، والمبرد، والزجاج، وابن السراج، وثعلب، والجرمي، والزجاجي، والفارسي، والسيرافي، وابن كيسان، وابن برهان، وابن جنى، وابن الأنباري، والزمخشري، وابن مضاء، وابن خروف، والشلوبين، وابن عصفور، وابن الحاجب، ابن يعيش
… وغيرهم. وفي هذا الخضم تجد ابن مالك يؤيد هذا ويرد ذاك وقد يضرب رأيا برأي ويبدي رأيا مستقلاً في المسألة، ولست-هنا- بصدد عرض النماذج للتدليل على ذلك، فقد كفاني ذلك من قاموا بدراسة مصنفات ابن مالك.
المبحث الثامن: منهجهإن من يستقرئ كتب ابن مالك -ولاسيما الكافية الشافية وشرحها وخلاصتها، والتسهيل- استقراءاً يهدف إلى استخلاص منهجه، لا ريب
তাদের ইজতিহাদ যা নির্দেশ দেয় এবং তাদের স্বাধীন চিন্তা ও সূক্ষ্ম অনুভূতি যে পর্যন্ত পৌঁছায়, সে অনুযায়ী তিনি একে সমর্থন করেন ও ওটিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন, একে বিশুদ্ধ বলেন এবং এর বিপরীতটিকে কোনো বিশেষ মাযহাবের প্রতি পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করেন। বরং তিনি তাকেই জয়যুক্ত করেন যার সত্যতার ব্যাপারে তাঁর কাছে নির্ভরযোগ্য প্রমাণাদি বিদ্যমান থাকে অথবা যার এমন কোনো সমরূপ দৃষ্টান্ত থাকে যার ওপর কিয়াস (অনুমান) করা সম্ভব।
ইবনে মালিক তাঁর অনেক নাহু সংক্রান্ত মতামতে বসরী মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে একমত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তিনি এই মাযহাব বা এই পাঠশালার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। বরং চিন্তা ও গভীর পর্যালোচনার পর এটিই তাঁর কাছে প্রাধান্যযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ব্যাকরণিক অন্যান্য পাঠশালার তুলনায় বসরী পাঠশালার শ্রেষ্ঠত্ব গোপন কিছু নয়, তা সত্ত্বেও আপনি ইবনে মালিককে কখনো কখনো কিসাঈ বা ফাররা-এর মতের সপক্ষে অবস্থান নিতে দেখবেন, যার কারণ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইবনে মালিকের রচনাবলি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ব্যাকরণবিদদের মতামতে ভরপুর, যা স্পষ্ট প্রমাণ দেয় যে, তিনি মাসয়ালাগুলো উপস্থাপনের সময় ব্যাকরণিক মতামতগুলো অনুসরণে কোনো কমতি করেননি। আপনি তাঁর বইগুলোতে সিবওয়াইহি, আল-কিসাঈ, আল-ফাররা, আল-আখফাশ, আল-মুবররাদ, আজ-জাজ্জাজ, ইবনুস সাররাজ, সা’লাব, আল-জারমী, আজ-জাজ্জাজি, আল-ফারিসি, আস-সিরাফি, ইবনে কাইসান, ইবনে বুরহান, ইবনে জিন্নি, ইবনুল আনবারি, আয-যামাখশারী, ইবনে মাদা, ইবনে খারুফ, আশ-শালুবিন, ইবনে আসফুর, ইবনুল হাজিব, ইবনে ইয়াইশ
… এবং আরও অনেকের উক্তি খুঁজে পাবেন। এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারে আপনি দেখবেন ইবনে মালিক একে সমর্থন করছেন এবং ওটিকে প্রত্যাখ্যান করছেন, কখনো এক মতের বিপরীতে অন্য মত উপস্থাপন করছেন এবং কোনো বিষয়ে স্বতন্ত্র মত প্রকাশ করছেন। আমি এখানে এর প্রমাণের জন্য উদাহরণ পেশ করতে যাচ্ছি না, কারণ যারা ইবনে মালিকের রচনাবলি নিয়ে গবেষণা করেছেন তারা আমার জন্য এটি যথেষ্ট করে দিয়েছেন।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর পদ্ধতি (মানহাজ)নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইবনে মালিকের কিতাবগুলো—বিশেষ করে আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া ও এর ব্যাখ্যা, আল-খুলাসা এবং আত-তাসহীল—তাঁর মানহাজ বের করার উদ্দেশ্যে গভীরভাবে পাঠ করবেন, তার কোনো সন্দেহ থাকবে না...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سيقف على كثير من السمات التي اتصف بها مصنفات هذا العلم، فمن أبرز تلك السمات ميل ابن مالك إلي الابتكار، فبينما نجد صاحب الكتاب رحمه الله قد قسم النحو إلى أبواب، والزمخشري قد قسمه إلى فصول في كتابه المفصل، وكذلك فعل ابن الحاجب في كافيته، وهذه الكتب الثلاثة من أهم كتب النحو السابقة لابن مالك، نجد ابن مالك يستعمل كلا المصطلحين جاعلاً "الباب" لرؤوس المسائل، و"الفصل" لما يندرج تحت تلك المسائل ويتفرع عنها.
وكذلك نجده ينهج في ترتيب أبوابه منهجاً تعليمياً يعتمد على المناسبة والارتباط.
كما نجده يسلك منهج النظم في ضبط العلوم إدراكاً منه لما للنظم من ميزة على النثر، فقد لجأ ابن مالك إلى هذه الوسيلة -أعني النظم- المشوقة المعينة على حفظ العلوم ونقلها ودرج على ذلك في معظم مؤلفاته، فقد استطاع -بما آتاه الله من قوة القريحة الشعرية- أن يسخر قوالب الشعر لخدمة القضايا العلمية، فكان ذلك دعماً لما يسمى بالشعر التعليمي.
أقول: دعماً، لا اختراعاً، لأن ابن مالك قد سُبق في هذا المجال، فقد نظم الشاطبي المتوفي سنة: 590 هـ قصيدة في القراءات سماها: "حرز الأماني ووجه التهاني"، كما نظم ابن معطي المتوفى سنة 628 هـ منظومته القيمة في النحو المسماة: "الدرر الألفية في علم اللغة العربية"، التي أفاد منها ابن مالك كثيراً، وأشار إليها في خلاصته المسماة: " ألفية ابن مالك"، وكذلك نظم ابن الحاجب
(পাঠক) এই শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের অনেকগুলো বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো ইবনে মালিকের উদ্ভাবনী প্রবণতা। আমরা যখন দেখি 'কিতাব' (সিবাওয়াইহ)-এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) নাহু শাস্ত্রকে বিভিন্ন অধ্যায়ে (বাব) বিভক্ত করেছেন, আয-যামাখশারী তাঁর 'আল-মুফাসসাল' গ্রন্থে একে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে (ফাসল) ভাগ করেছেন এবং ইবনুল হাজিব তাঁর 'কাফিয়া' গ্রন্থে অনুরূপ করেছেন—আর এই তিনটি গ্রন্থ ইবনে মালিকের পূর্ববর্তী নাহু শাস্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত—তখন আমরা দেখি ইবনে মালিক উভয় পরিভাষাই ব্যবহার করছেন। তিনি প্রধান বিষয়বস্তুর শিরোনামের জন্য 'বাব' এবং সেই বিষয়গুলোর অধীনে বিন্যস্ত ও শাখা-প্রশাখামূলক আলোচনার জন্য 'ফাসল' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
অনুরূপভাবে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি তাঁর অধ্যায়গুলো সাজানোর ক্ষেত্রে একটি শিক্ষামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যা প্রাসঙ্গিকতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
এছাড়াও আমরা দেখতে পাই যে, তিনি শাস্ত্রীয় বিষয়গুলো সুসংবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ছন্দোবদ্ধ কাব্যরীতির পথ অবলম্বন করেছেন। গদ্যের তুলনায় পদ্যের যে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে তা অনুধাবন করেই তিনি এটি করেছেন। ইবনে মালিক এই আকর্ষণীয় মাধ্যমটির—অর্থাৎ কাব্যরীতির—আশ্রয় নিয়েছেন, যা জ্ঞান মুখস্থ রাখতে ও তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়ক। তাঁর অধিকাংশ রচনায় তিনি এই ধারা অনুসরণ করেছেন। আল্লাহ প্রদত্ত প্রখর কাব্যপ্রতিভার মাধ্যমে তিনি কাব্যের কাঠামোকে শাস্ত্রীয় বিষয়গুলোর সেবায় নিয়োজিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে এটি 'শিক্ষামূলক কাব্য' হিসেবে পরিচিত ধারার জন্য একটি বড় সহায়ক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
আমি বলছি: এটি ছিল সহায়ক শক্তি, উদ্ভাবন নয়; কারণ এই ক্ষেত্রে ইবনে মালিকের পূর্বেও কাজ হয়েছে। যেমন ৫৯০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইমাম শাতবি কিরাআত শাস্ত্রের ওপর একটি কবিতা রচনা করেছিলেন যার নাম: 'হিরযুল আমানি ওয়া ওয়াজহুত তাহানি'। অনুরূপভাবে ৬২৮ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে মু'তি নাহু শাস্ত্রের ওপর তাঁর মূল্যবান কাব্যগ্রন্থ 'আদ-দুরারুল আলফিয়্যাহ ফী ইলমিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ' রচনা করেছিলেন, যা থেকে ইবনে মালিক ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর 'আল-খুলাসাত' নামক গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা 'আলফিয়্যাতে ইবনে মালিক' নামে পরিচিত। অনুরূপভাবে ইবনুল হাজিবও কাব্য রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المتوفى سنة 646 هـ، منظومة النحو سماها: "الوافية بنظم الكافية"، وأخرى في العروض سماها: "المقصد الجليل في علم الخليل".
أما في مجال الاستشهاد فهو يستشهد بالقرآن الكريم وقراءاته، وقد يستشهد بالشواذ منها، ويستشهد كذلك بالحديث، وأشعار العرب وأمثالها وأقوالها، وقد أدى استشهاده بالحديث الشريف إلى توسيع دائرة الاستشهاد عنده، وقد أنكر عليه أبو حيان الاستشهاد بالحديث بحجة أنه مظنة اللحن، لجواز روايته بالمعنى وكون بعض رواته أعاجم، وقد تصدى العلماء قديماً وحديثاً لأبى حيان معترضين عليه ومؤيدين لابن مالك فيما ذهب إليه، ومن أوفى ما كتب حول هذه المسألة ما جاء في خزانة الأدب البغدادي، وما كتبه الأستاذ سعيد الأفغاني.
ويغلب على مصنفات ابن مالك سهولة العبارة ووضوحها مع الدقة والميل إلى الإيجاز.
المبحث التاسع: تلاميذهتتلمذ على ابن مالك خلق كثيرون، فممن تلقى عنه:
- ابنه بدر الدين المشهور بابن الناظم، وقد شرح ألفية والده وتوفي سنة 86 هـ.
- القاضي شرف الدين أبي القاسم هبة الله بن نجم الدين الجهني الشهير بابن البارزي، المتوفى سنة 738 هـ.
৬৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন; নাহু শাস্ত্রের ওপর তাঁর একটি পদ্যগ্রন্থ রয়েছে যার নাম: "আল-ওয়াফিয়া বি-নাজমিল কাফিয়া" এবং ছন্দবিদ্যার ওপর অপর একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম: "আল-মাকসাদুল জলীল ফী ইলমিল খলীল"।
দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি পবিত্র কুরআন ও এর কিরাআতসমূহ থেকে প্রমাণ পেশ করেন, কখনও কখনও তিনি শায বা বিরল কিরাআত থেকেও দলিল গ্রহণ করেন। একইভাবে তিনি হাদিস, আরবদের কবিতা, প্রবাদ-প্রবচন ও তাদের উক্তি থেকেও প্রমাণ পেশ করেন। হাদিস শরীফ থেকে দলিল গ্রহণের কারণে তাঁর প্রমাণের ক্ষেত্রটি বেশ বিস্তৃত হয়েছে। তবে আবু হাইয়ান হাদিস থেকে দলিল গ্রহণের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, হাদিসের শব্দে ভুল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে; কারণ হাদিস অর্থগতভাবে বর্ণনা করা জায়েজ এবং এর কোনো কোনো বর্ণনাকারী অনারব ছিলেন। প্রাচীন ও আধুনিককালের আলেমগণ আবু হাইয়ানের এই মতের বিরোধিতা করে তাঁর মোকাবিলা করেছেন এবং ইবনে মালিকের মতকে সমর্থন করেছেন। এই বিষয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ যা কিছু লেখা হয়েছে তার মধ্যে বাগদাদীর 'খিজানাতুল আদব' এবং উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানীর লেখনি উল্লেখযোগ্য।
ইবনে মালিকের রচনাবলিতে সূক্ষ্মতা ও সংক্ষিপ্তকরণের প্রবণতার পাশাপাশি ভাষার সাবলীলতা ও স্পষ্টতা লক্ষ্য করা যায়।
নবম পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দইবনে মালিকের নিকট বহু ছাত্র শিক্ষালাভ করেছেন। যারা তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- তাঁর পুত্র বদরুদ্দীন, যিনি 'ইবনুন নাজিম' নামে পরিচিত। তিনি তাঁর পিতার 'আলফিয়া'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
- কাজী শরফুদ্দীন আবুল কাসেম হিবাতুল্লাহ বিন নাজমুদ্দীন আল-জুহানী, যিনি 'ইবনুল বারিজী' নামে পরিচিত। তিনি ৭৩৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
-أحمد بن سليمان بن أبي الحسن الكاتب، المتوفي سنة: 769 هـ.
وغير هؤلاء مما يطول الحديث بذكرهم، وليس هذا موضع حصرهم.
هذا ويعد الدارسون لمصنفات ابن مالك والعاكفون عليها تلامذةً له في مختلف العصور، وهم خلق لا يحيط بهم إلا الله.
المبحث العاشر: مصنفاتهلقد أمد ابن مالك رحمه الله المكتبة العربية بمؤلفاته الكثيرة البالغة الأهمية، وخاصة فيما يتعلق منها بعلمي النحو والصرف، وقد وهبه الله -سبحانه- القدرة الفائقة على النظم العلمي، فأخرج الكثير من مؤلفاته النحوية واللغوية نظما عذبا سائغا على الرغم من جفاف مواده وصعوبة موضوعاته وقد بلغت مؤلفاته في النحو والصرف واللغة وغير ذلكن ما يقارب الأربعين مؤلفا، ومن أشهر مؤلفاته:
"الكافية الشافية"، وهي منظومة طويلة تقرب من ثلاثة آلاف بيت من الرجز، ضمنها النحو والصرف، وقد شرحها ابن مالك نثرا بشرح مسماه: "الوافية في شرح الكافية الشافية"، كما شرحها -أيضا- ابنه بدر الدين.
ومن مؤلفاته -أيضاً- "الخلاصة" المشهورة ب "الألفية"، وهي منظومة في نحو ألف بيت من الرجز، أودع فيها ابن مالك خلاصة ما في الكافية الشافية، وقد وفق فيها ابن مالك توفيقا أدهش العقول وألبسها حلل الرضا والقبول،
আহমদ বিন সুলায়মান বিন আবুল হাসান আল-কাতিব, মৃত্যু সন: ৭৬৯ হিজরি।
এবং তারা ব্যতীত আরও অনেকে রয়েছেন যাদের কথা উল্লেখ করলে আলোচনা দীর্ঘ হবে, আর এটি তাদের সীমাবদ্ধ করার স্থান নয়।
এছাড়াও, ইবনে মালিকের রচনাবলি অধ্যয়নকারী এবং এগুলোতে নিবিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন যুগে তার ছাত্র হিসেবে গণ্য করা হয়; তারা সংখ্যায় এত বেশি যে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তাদের পরিবেষ্টন করতে পারে না।
দশম পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলিইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ) আরবি লাইব্রেরিকে তাঁর অসংখ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন, বিশেষ করে নাহু এবং সরফ বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে ইলমি কবিতা রচনার ক্ষেত্রে অসামান্য ক্ষমতা দান করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর অনেক নাহু ও ভাষাতাত্ত্বিক রচনাকে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুমধুর ছন্দাকারে পেশ করেছেন, যদিও এর বিষয়বস্তুগুলো ছিল নিরস এবং কঠিন। নাহু, সরফ, ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর রচনার সংখ্যা প্রায় চল্লিশটির কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
"আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ", এটি একটি দীর্ঘ কাব্যগ্রন্থ যা রাজায ছন্দে রচিত প্রায় তিন হাজার চরণের সমন্বয়ে গঠিত। এতে তিনি নাহু ও সরফ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনে মালিক নিজেই এটি গদ্য আকারে ব্যাখ্যা করেছেন যার নাম: "আল-ওয়াফিয়াহ ফি শারহিল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ"। তদুপরি তাঁর পুত্র বদরুদ্দীনও এর ব্যাখ্যা লিখেছেন।
তাঁর রচনাবলির মধ্যে আরও রয়েছে "আল-খুলাসাহ", যা "আলফিয়াহ" নামে পরিচিত। এটি রাজায ছন্দে রচিত প্রায় এক হাজার চরণের একটি কাব্যগ্রন্থ। এতে ইবনে মালিক "আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ"-এর সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন। ইবনে মালিক এতে এমন এক অভাবনীয় সাফল্য লাভ করেছেন যা বুদ্ধিকে অভিভূত করে এবং একে সন্তুষ্টি ও গ্রহণযোগ্যতার পোশাকে ভূষিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فعكف العلماء عليها، دراسة وتدريسا وحفظا وشرحا وتعليقا، حتى أربت مصنفاتهم حولها على الخمسين، ما بين شرح لها، وإعراب لأبياتها أو حواش على شروحا.
ومن تلك الشروح: هذا الشرح الذي بن أيدينا.
ومن مؤلفات ابن مالك -أيضا- كتابه "التسهيل" المعروف: "بتسهيل الفوائد وتكميل المقاصد" وهو كتاب جليل تناول فيه ابن مالك مسائل النحو والصرف في ثمانين بابا، تتضمن ما يزيد على مائتي فصل، وعليه شروح كثيرة، منها شرح للمؤلف نفسه.
هذه بعض مؤلفات ابن مالك، ومن أراد الوقوف عليها مفصلة فليرجع إلى مقدمتي كِتابي: "التسهيل، وشرح الألفية لابن الناظم، الأول: تحقيق الدكتور: محمد كامل بركات، والثاني: تحقيق الدكتور: عبد الحميد السيد محمد عبد الحميد: وإلى مراجعهما.
المبحث الحادي عشر: أخلاقهأجمع الذين ترجموا لابن مالك على أنه كان ذا دين متين، وسمت حسن، وقلب رقيق، وعقل راجح، وتؤدة، ووقار، وكان شديد الطلب للعلم، شديد الحرص على الوقت، كثير المطالعة، سريع المراجعة، لا يكتب من محفوظة حتى
আলেমগণ এর ওপর নিবিষ্ট হয়েছেন—অধ্যয়ন, পাঠদান, মুখস্থকরণ, ব্যাখ্যা প্রদান এবং টীকা সংযোজনের মাধ্যমে; এমনকি এর ওপর তাঁদের রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এর পংক্তিগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই’রাব) এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর ওপর লিখিত টীকা (হাশিয়া)।
আর সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো: আমাদের হাতে থাকা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি।
ইবনে মালিকের রচনাবলির মধ্যে তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "আত-তাসহিল"-ও রয়েছে, যা "তাসহিলুল ফাওয়ায়িদ ওয়া তাকমিলুল মাকাসিদ" নামে পরিচিত। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ যেখানে ইবনে মালিক নাহু ও সরফের মাসআলাগুলো আশিটি অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দুই শতাধিক পরিচ্ছেদ। এর ওপর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে স্বয়ং লেখকের নিজের একটি ব্যাখ্যাও শামিল।
এগুলো ইবনে মালিকের কিছু রচনা। যে ব্যক্তি এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক, সে যেন "আত-তাসহিল" এবং ইবনুন নাযিমের "শারহুল আলফিয়্যাহ" গ্রন্থদ্বয়ের ভূমিকা দুটির দিকে রুজু করে। প্রথমটি ডক্টর মুহাম্মদ কামিল বারাকাত এবং দ্বিতীয়টি ডক্টর আব্দুল হামিদ আস-সাইয়িদ মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ কর্তৃক সম্পাদিত। এছাড়াও এগুলোর তথ্যসূত্রগুলো দেখা যেতে পারে।
একাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর চারিত্রিক গুণাবলিযাঁরা ইবনে মালিকের জীবনী লিখেছেন, তাঁরা এ ব্যাপারে একমত যে, তিনি ছিলেন সুদৃঢ় দ্বীনদারি, উত্তম স্বভাব, কোমল হৃদয়, প্রখর বুদ্ধি, স্থিরতা ও গাম্ভীর্যের অধিকারী। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সময়ের ব্যাপারে অতি যত্নশীল ছিলেন। তিনি প্রচুর অধ্যয়ন করতেন এবং দ্রুত পর্যালোচনা করতে পারতেন। তিনি তাঁর মুখস্থ স্মৃতি থেকে কোনো কিছু লিখতেন না যতক্ষণ না পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২০)
يراجعه في محلهن وكان لا يرى إلا وهو يصلي أو يتلو أو يصنف ويقرئ.
المبحث الثاني عشر: وفاتهتوفي ابن مالك بدمشق سنة 672 هـ باتفاق، وصلي عليه بالجامع الأموي ودفن بسفح قاسيون، بتربة القاضي عز الدين بن الصائغ، وقيل: بتربة ابن جعوان.
তিনি সে সব বিষয়ে তাদের সাথে যথাস্থানে পর্যালোচনা করতেন এবং তাঁকে নামাজ পড়া, তিলাওয়াত করা অথবা গ্রন্থনা কিংবা শিক্ষাদানরত অবস্থা ছাড়া দেখা যেত না।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যুইবনে মালিক সর্বসম্মতিক্রমে ৬৭২ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জানাজার নামাজ উমাইয়্যা জামে মসজিদে পড়া হয় এবং তাঁকে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে কাজি ইজ্জুদ্দিন ইবনুস সায়িঘের সমাধিস্থলে দাফন করা হয়। আবার বলা হয়েছে: ইবনে জা’ওয়ানের সমাধিস্থলে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الثاني: إبراهيم بن قيم الجوزيةوفيه مباحث
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবরাহিম ইবনে কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহএবং এতে বেশ কিছু আলোচনা রয়েছে
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الأول: نسبه، وكنيته، ولقبهنسبه:
هو إبراهيم بن محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد بن حريز بن مكي الزُرْعِي الحنبلي.
وكتب التراجم تتفق في سرد نسبه إلى (سعد)، أما والد (سعد) فالذي عليه الأكثرون والمشهور على ألسنة أهل العلم أن أسمه: (حَرِيز) -بالحاء والراء المهملتين، ثم الياء المثناة، والزاي المعجمة-على وزن (فعيل) -بفتح الفاء- وفي بعض كتب التراجم (جرير) وفي بعضها (جريز)، وأما جده: (مكي) فمتحصل من ترجمة عمه: (عبدالرحمن بن أبي بكر) في الدرر الكامنة، وأما الزُرعي فهو بضم الزاي المشددة نسبة إلى قرية: (زُرْع) من أعمال حوران، وحوران: ناحية واسعة من نواحي دمشق.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধিবংশপরিচয়:
তিনি হলেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আইয়ুব ইবনে সাদ ইবনে হারীজ ইবনে মাক্কি আল-যুরয়ী আল-হাম্বলী।
জীবনী গ্রন্থসমূহ তাঁর বংশপরম্পরা (সাদ) পর্যন্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে একমত। তবে (সাদ)-এর পিতার ব্যাপারে অধিকাংশ জীবনীকার এবং আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো তাঁর নাম: (হারীজ)—যাতে নুকতাহীন 'হা' ও 'রা', এরপর দুই নুকতা বিশিষ্ট 'ইয়া' এবং সবশেষে নুকতাযুক্ত 'যা' রয়েছে—এটি (ফা-ঈল) ওজনে প্রথম অক্ষরে জবর যোগে উচ্চারিত। কোনো কোনো জীবনী গ্রন্থে এটি (জারীর) এবং কোনোটিতে (জারীয) হিসেবেও এসেছে। আর তাঁর পিতামহ (মাক্কি)-র নাম 'আদ-দুরার আল-কামিনাহ' গ্রন্থে তাঁর চাচা (আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর)-এর জীবনী থেকে সংগৃহীত। আর (আল-যুরয়ী) শব্দটি তাশদীদযুক্ত 'যা' বর্ণে পেশ যোগে উচ্চারিত; যা হাওরান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত (যুর') নামক গ্রামের দিকে সম্বন্ধিত। আর হাওরান হলো দামেস্কের উপকণ্ঠের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كنيته ولقبه:
يُكني إبراهيم بن محمد بن أبي بكر: ب (أبي إسحاق، أو ابن قيم الجوزية، أو ابن القيم)، وذلك أن جده (أبا بكر بن أيوب) كان قيما على المدرسة المعروفة بالجوزية -نسبة إلى منشئها وواقفها: محي الدين بن الحافظ الجوزي - الموجودة آنذاك بدمشق، فكان أبو بكر هذا يقوم على شئونها، حتى قيل له: قيم الجوزية، واشتهرت ذريته وحفدتهم بذلك، فصار الواحد منهم يدعي بابن قيم الجوزية.
أما لقبه: فبرهان الدين.
المبحث الثاني: مولدهكثير من المراجع التي ترجمت له لم يؤرخ لمولده، وقد أُرخ له في بعضها على اختلاف في ذلك، فذهب ابن حجر في (الدرر الكامنة)، وابن مكي في (السحب الوابلة) إلى أنه ولد سنة 716 هـ، وهو كذلك في فهرس الخزانة التيمورية، وذكر عمر رضا كحالة أنه ولد سنة 719 هـ، وهذا يناسب رواية الأكثرين في سنة وفاته، وأنها 767 هـ، عن 48 سنة.
তার কুনিয়াত (উপনাম) ও লকব (উপাধি):
ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর-কে অভিহিত করা হয়: (আবু ইসহাক, অথবা ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ, অথবা ইবনুল কায়্যিম) নামে। এর কারণ হলো, তার দাদা (আবু বকর বিন আইয়ুব) তৎকালীন দামেস্কে অবস্থিত 'আল-জাওজিয়্যাহ' নামক মাদরাসার তত্ত্বাবধায়ক (কায়্যিম) ছিলেন—যা এর প্রতিষ্ঠাতা ও ওয়াকিফ (দানকারী) মহিউদ্দিন বিন আল-হাফিজ আল-জাওজির নামানুসারে নামাঙ্কিত ছিল। এই আবু বকর মাদরাসাটির যাবতীয় কার্যাদি পরিচালনা করতেন, এমনকি তাকে 'কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ' বলা হতো। পরবর্তীতে তার বংশধর ও পৌত্রদের মধ্যেও এটি প্রসিদ্ধ হয়ে যায়, ফলে তাদের প্রত্যেকে 'ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ' নামে পরিচিতি লাভ করেন।
আর তার লকব (উপাধি) হলো: বুরহানুদ্দীন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তার জন্মতার জীবনী সংক্রান্ত অনেকগুলো উৎস বা গ্রন্থে তার জন্ম তারিখ নথিভুক্ত করা হয়নি। তবে কোনো কোনো গ্রন্থে মতভেদসহ তা উল্লিখিত হয়েছে। ইবনে হাজার (আদ-দুরার আল-কামিনা) গ্রন্থে এবং ইবনে মাক্কী (আস-সুহুব আল-ওয়াবিলা) গ্রন্থে অভিমত দিয়েছেন যে, তিনি ৭১৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। আল-খিজানাহ আত-তাইমুরিয়্যাহ-র সূচিপত্রেও তাই রয়েছে। উমর রেজা কাহহালা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭১৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। এটিই অধিকাংশের বর্ণনানুসারে তার মৃত্যু সনের (৭৬৭ হিজরি) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, অর্থাৎ মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثالث: جوانب من حياتهأما قيل فيه:
لقد كانت المراجع حيال إبراهيم بن قيم الجوزية وجوانب حياته- بالغة الضنة، ولا تثريب عليها في ذلك، إذ أن المصادر الأساسية لم تمد إلا بالنزر اليسير من ذلك، فقد جاء في البداية والنهاية: أنه كان فاضلاً في النحو والفقه، وفنون أخرى، على طريقة أبيه، وأنه كان مدروسا بالصدرية، والتدمرية، وله تصدير بالجامع، وخطابه بجامع ابن صلحان، وذكر في الدرر الكامنة نحو ما تقدم، وقال: (حضر على أيوب الكحال، وابن الشحنة، واشتهر، وتقدمن وأفتى، ودرس).
وقال عنه في شذرات الذهب: (سمع من ابن الشحنة وغيرهن واشتغل في أنواع العلوم وأفتى، ودرس، وناظر).
ونقل النعيمي عن ابن مفلح قوله -في طبقات الحنابلة-: (حضر على أيوب بن نعمة الله النابلسي -أي الكحال-، ومنصور بن سليمان البعلي، وسمع من ابن الشحنة، واشتغل في أنواع العلوم
… إلى آخر ما تقدم عن الشذرات.
وقال عنه صاحب معجم المؤلفين: (عالم في النحو والصرف).
هذا ما ذكروه عنه.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনের কিছু দিকতাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে:
ইবরাহীম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ এবং তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিকের ব্যাপারে তথ্যসূত্রসমূহ অত্যন্ত সীমিত তথ্য প্রদান করেছে; আর এ জন্য তাদের ওপর কোনো দোষারোপ নেই, কেননা মৌলিক উৎসসমূহ এ বিষয়ে সামান্য কিছু তথ্য ছাড়া আর কিছুই প্রদান করেনি। ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে এসেছে: তিনি তাঁর পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নাহু (ব্যাকরণ), ফিকহ ও অন্যান্য বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি সাদরিয়্যাহ ও তাদমুরিয়্যাহ মাদরাসায় শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন এবং জামে মসজিদে তাঁর একটি পাঠদানের আসন ছিল। এছাড়া তিনি ইবনু সলহান জামে মসজিদে খুতবা প্রদান করতেন। ‘আদ-দুরাতুল কামিনা’ গ্রন্থেও পূর্বোক্ত কথার অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং বলা হয়েছে: (তিনি আইয়ুব আল-কাহহাল ও ইবনুশ শুহনার নিকট জ্ঞানার্জন করেছেন এবং খ্যাতি ও অগ্রগতি লাভ করেছেন। তিনি ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং পাঠদান করেছেন)।
‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: (তিনি ইবনুশ শুহনা ও অন্যদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন, বিভিন্ন প্রকারের ইলমে আত্মনিয়োগ করেছেন এবং ফতোয়া প্রদান, পাঠদান ও বিতর্ক করেছেন)।
নুআইমী তাঁর ‘তাবাকাতুল হানাবিলাহ’ গ্রন্থে ইবনু মুফলিহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলেছেন: (তিনি আইয়ুব বিন নি’মাতুল্লাহ আন-নাবুলুসী —অর্থাৎ আল-কাহহাল— এবং মানসুর বিন সুলাইমান আল-বালি-এর নিকট উপস্থিত হয়েছেন এবং ইবনুশ শুহনার নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বিভিন্ন প্রকারের বিদ্যায় আত্মনিয়োগ করেছেন
… ‘শাযারাত’ থেকে পূর্বে যা উদ্ধৃত হয়েছে তার শেষ পর্যন্ত)।
‘মু’জামুল মুআল্লিফীন’-এর লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি নাহু ও সরফ শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন)।
এগুলোই তাঁর সম্পর্কে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ويمكن القول -بناء على غلبة الظن- في بعض الجوانب التي أغفلتها المصادر بعد عرض لمحة من حياة أبيه، وتلك أن أباه الشيخ العالم الرباني محمد ابن أبي بكر (المعروف ب"قيم الجوزية") نشأ بدمشق من الفترة: 691 - 751 هـ، وهي ما يسمى بعصر سلاطين المماليك، وقد تميز هذا العصر بانتقال مركز الثقل العسكري والثقافي في العالم الإسلامي إلى القطرين: مصر، والشام، بعد نكبة بغداد وسقوطها على أيدي التتار، فكثرت معاهد التدريس، في هذين القطرين، فزخرت المساجد بحلق العلم، وأنشئت بجانبها المدارس، وأوقف على عمارتها ونظارتها وشيوخها وطلابها، ومن تلك المدارس: (المدرسة الجوزية) التي سبق ذكرها، وكان يقوم عليها جد إبراهيم هذا فنشأ إبراهيم ووالده من قبل، في ظلال هذه المدرسة، فمن المرجح أن يتلقى إبراهيم فيها العلوم الأساسية كحفظ القرآن الكريم وقسط كبير من السنة والمتون المشهورة، كما جرت على ذلك سنة العلماء قديماً وحتى زمن قريب، ولا سيما أنه توافر له ما لم يتوافر للكثير من طلاب العلم، فلأسرة عريقة في العلم، وتقوم على معقله، مع ما نسب إليها من صلاح وتقى وحب للعلم.
ولعل مما يدل على صدق هذا الحدس، ما سنقف عليه -إن شاء الله تعالى- عند الحديث عن شرحه للألفية من قوة استحضار للآيات القرآنية في الاستشهاد للقضايا النحوية والصرفية.
ب أخلاقه:
لم تأخذ سيرة الشيخ إبراهيم بن محمد بن قيم الجوزية حظها من الذيوع والشهرة، وهذا شأن كثير من العلماء، ولا سيما أن بعضهم كان يتحاشى الشهرة والظهور في أعماله، حرصاً على سلامتها من داء الرياء، فإذا انقضت
প্রবল ধারণার ভিত্তিতে—উৎসগ্রন্থগুলো যে বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছে—তার পিতার জীবনের এক ঝলক তুলে ধরার পর সেগুলোর কিছু দিক সম্পর্কে বলা যেতে পারে। আর তা হলো, তাঁর পিতা শাইখ, আলেমে রব্বানি মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর (যিনি ‘কাইয়্যিমুল জাওজিয়্যাহ’ নামে পরিচিত) ৬৯১ - ৭৫১ হিজরি সময়কালে দামেস্কে বেড়ে ওঠেন। এই সময়কালটি ‘মামলুক সুলতানদের যুগ’ নামে পরিচিত। তাতারদের হাতে বাগদাদের বিপর্যয় ও পতনের পর ইসলামি বিশ্বের সামরিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু মিশর ও শাম (সিরিয়া)—এই দুই অঞ্চলে স্থানান্তরিত হওয়ার মাধ্যমে এই যুগটি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছিল। ফলে এই দুই অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, মসজিদগুলো ইলমি হালকায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং মসজিদের পাশে মাদ্রাসা গড়ে তোলা হয়। এই মাদ্রাসাগুলোর নির্মাণ, তত্ত্বাবধান, শিক্ষক ও ছাত্রদের জন্য সম্পদ ওয়াকফ করা হয়েছিল। আর সেই মাদ্রাসাগুলোর অন্যতম ছিল ‘আল-মাদরাসাতুল জাওজিয়্যাহ’, যার উল্লেখ ইতিপূর্বে করা হয়েছে। এই ইব্রাহিমের দাদা এর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তাই ইব্রাহিম এবং ইতিপূর্বে তাঁর পিতা এই মাদ্রাসার ছায়াতলে বেড়ে উঠেছেন। সুতরাং প্রবল সম্ভাবনা যে, ইব্রাহিম এখানে মৌলিক জ্ঞান অর্জন করেছেন, যেমন পবিত্র কুরআন মুখস্থ করা এবং সুন্নাহ ও প্রসিদ্ধ মূল পাঠ্যবইগুলোর (মুতুন) একটি বড় অংশ আত্মস্থ করা। যেভাবে প্রাচীনকাল থেকে নিকট অতীত পর্যন্ত আলেমদের কর্মপন্থা চালু ছিল। বিশেষ করে, তাঁর জন্য এমন কিছু সুযোগ সহজলভ্য ছিল যা অনেক ইলম অন্বেষীর জন্য ছিল না; কেননা তিনি ইলমের দিক থেকে এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ইলমের একটি দুর্গের (মাদ্রাসা) দায়িত্বে ছিলেন, তদুপরি এই পরিবারের সাথে নেক আমল, খোদাভীতি ও ইলমের প্রতি ভালোবাসা সংশ্লিষ্ট ছিল।
সম্ভবত এই অনুমানের সত্যতার প্রমাণ হলো—ইনশাআল্লাহ তাআলা—তাঁর আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) নিয়ে আলোচনার সময় আমরা যা দেখতে পাব, তা হলো নাহু ও সরফ সংক্রান্ত বিষয়ে দলীল প্রদানের ক্ষেত্রে কুরআনের আয়াত উপস্থাপনের অসাধারণ সক্ষমতা।
খ. তাঁর চরিত্র:
শাইখ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন কাইয়্যিমুল জাওজিয়্যাহর জীবনী তেমন প্রচার ও খ্যাতি লাভ করেনি, আর এটি অনেক আলেমের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ লোকদেখানো বা রিয়া নামক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকার জন্য তাঁদের কর্মের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি ও আত্মপ্রকাশ এড়িয়ে চলতেন। সুতরাং যখন শেষ হলো
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
آجال هذا الصنف من العلماء المخلصين سَدَل الزمان على سيرهم ستورهن فلم يكد يوقف لهم على أثر أو خبر، أضف إلى ذلك ما لحق بالتراث الإسلامي عبر القرون من الاعتداء عليه بالنهب أو الحرق، وكل ما أشرت إليه ممكن بالنسبة لإبراهيم بن قيم الجوزية، هذا وقد ذكرت المصادر التي ترجمت له شيئاً يسيراً من أخلاقه فذكرت أنه كان فاضلاً، وأن له أجوبة مسكتة، وذكرت بعض نوادره، ومن ذلك أنه وقع بينه وبين ابن كثير منازعة في بعض المحافل، فقال له ابن كثير: "أنت تكرهني لأنني أشعري"، فقال له: "لو كان من رأسك إلى قدميك شعر ما صدقك الناس في قولك، إنك أشعريّ وشيخك ابن تيمية".
قلت: وقد استخلصت شيئا من أخلاقه أثناء دراستي شرحه، من ذلك ما يمر في المبحث الخامس عند ذكر تعقبه لبعض النحويين، فقد كان متأثراً بأخلاق الفضلاء، فكان عف اللسان، يرد بأدب، وكثيراً ما يكتفي برد القول المخالف من غير تشهير بقائله، وقد جاء عنه قوله: "ولا أحفظ له شاهداً"، فهذا يدل على التواضع والصراحة التي هي من شيم العلماء.
ج- آثاره العلمية:
من أهم آثار إبراهيم بن قيم الجوزية، هذا الشرح النافع الذي بين أيدينا، وله رسالة صغيرة مطبوعة اسمها: "اختيارات شيخ الإسلام ابن تيمية النميري"، جمع في هذه الرسالة 98 مسألة من مسائل قيل إن شيخ الإسلام ابن تيمية انفرد بها خارقاً بها الإجماع، فقام إبراهيم بن القيم بتتبع هذه المسائل
এই শ্রেণির একনিষ্ঠ আলেমদের জীবনকাল সম্পর্কে কালচক্র তাদের জীবনচরিতের ওপর পর্দার আস্তরণ ফেলে দিয়েছে, ফলে তাদের কোনো চিহ্ন বা খবরের সন্ধান পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলামি ঐতিহ্যের ওপর লুণ্ঠন বা অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে যে আক্রমণ চালানো হয়েছে। আর আমি যা কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তা ইব্রাহিম বিন কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর ক্ষেত্রেও ঘটা সম্ভব। তাঁর জীবনী আলোচনা করা উৎসসমূহ তাঁর চরিত্রের সামান্য কিছু দিক উল্লেখ করেছে; সেখানে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি একজন গুণী ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর কাছে এমন উত্তর ছিল যা অপরকে নিরুত্তর করে দিত। তাঁর কিছু বিরল ঘটনাও বর্ণনা করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো—কোনো এক মজলিসে তাঁর এবং ইবনে কাসীরের মধ্যে একটি বিতর্ক হয়েছিল। তখন ইবনে কাসীর তাঁকে বললেন: "আপনি আমাকে অপছন্দ করেন কারণ আমি একজন আশআরি।" জবাবে তিনি তাঁকে বললেন: "যদি আপনার মাথা থেকে আপনার পা পর্যন্ত চুল থাকতো, তবুও মানুষ আপনার এই কথা বিশ্বাস করত না যে আপনি একজন আশআরি, অথচ আপনার শায়খ হলেন ইবনে তাইমিয়্যাহ।"
আমি বলছি: তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অধ্যয়নকালে আমি তাঁর চরিত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য আহরণ করেছি। এর মধ্যে একটি হলো পঞ্চম পরিচ্ছেদে যা আলোচিত হয়েছে, যেখানে কিছু ব্যাকরণবিদের ওপর তাঁর পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মহৎ ব্যক্তিদের চারিত্রিক গুণাবলি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন; ফলে তাঁর ভাষা ছিল মার্জিত এবং তিনি শিষ্টাচারের সাথে উত্তর দিতেন। প্রায়শই তিনি প্রবক্তাকে কলঙ্কিত না করে কেবল ভিন্নমতটি খণ্ডন করেই ক্ষান্ত হতেন। তাঁর থেকে এই উক্তিটি বর্ণিত হয়েছে: "এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ আমার জানা নেই।" এটি সেই বিনয় ও স্পষ্টবাদিতার পরিচয় দেয়, যা আলেমদের ভূষণ।
গ- তাঁর ইলমি অবদানসমূহ:
ইব্রাহিম বিন কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো আমাদের হাতে থাকা এই উপকারী ব্যাখ্যাগ্রন্থটি। এ ছাড়া তাঁর একটি ছোট মুদ্রিত পুস্তিকা রয়েছে যার নাম: "ইখতিয়ারাতু শায়খিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আন-নুমাইরি"। এই পুস্তিকায় তিনি ৯৮টি মাসআলা একত্রিত করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে যে, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সেগুলোতে একক মত পোষণ করে ইজমা বা ঐক্যমত লঙ্ঘন করেছেন। অতঃপর ইব্রাহিম বিন আল-কাইয়্যিম এই মাসআলাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وحصرها، ثم بين زيف الدعوى الموجهة ضد الشيخ، وأثبت أنه لم يعرف له مسألة خرق فيها الأجماع، ومن ادعى عليه ذلك فهو إما جاهل وإما كاذب.
كما ذكر أن له كتاباً اسمه: (اختلاف المذهبين) تعرض فيه للمسائل الخلافية بين أحمد والشافعي، ولم أعثر له على خبر.
المبحث الرابع: مذهبه النحويحينما أتحدث عن المذهب النحوي لإبراهيم ابن القيم، فإنما أتحدث عنه بعد طول ممارسة لشرحه لألفية ابن مالك، وبعد استجلاء رأيه وآراء الآخرين فيما يعرض من القضايا النحوية، وبخاصة الخلافية منها، فمن بعد تلك الممارسة تبين لي أن ابن القيم-رحمه الله لم يأسره مذهب معين عن النظر في بقية المذاهب والآراء، وإنما كان يطالع جميع الآراء الواردة في مسألة ما، ثم ينتخب لنفسه ما ترجح لديه، فهو يُعنى عناية كبيرة بما يؤازره الدليل، بغض النظر عن كونه منسوباً إلى زيد أو عمرو-كما سيأتي قريباً- وهو في ذلك متأثر بأبيه الشيخ محمد بن أبي بكر، فإنه وإن كان موصوفاً في ترجمته بالحنبلي كأسلافه، لكن حظه منه الاتباع لما أيده الدليل، فلقد كان ثائراً على التقليد وأهله، يندد بهم وينعى عليهم حظهم من العلم، ويصف التقليد بأنه بدعه، وأنه من المحدثات بعد القرون المفضلة، ولكنه لم يصل به ذلك إلى الإزراء بالأئمة، وأصحابهم، كغلاة الظاهرية ومن نحا نحوهم، ولم يكن من أولئك الذين أسرهم التعصب فأصمهم وأعمى أبصارهم عن نور الوحيين: الكتاب
এবং সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করেছেন, অতঃপর শাইখের বিরুদ্ধে আনীত দাবির অসারতা স্পষ্ট করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে, এমন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জানা যায়নি যাতে তিনি ইজমা (ঐক্যমত্য) লঙ্ঘন করেছেন। আর যে ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে এমন দাবি করে, সে হয় জাহিল (মূর্খ), নতুবা মিথ্যাবাদী।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর একটি কিতাব রয়েছে যার নাম: (ইখতিলাফুল মাযহাবাইন), যাতে তিনি আহমাদ ও শাফিঈর মধ্যকার মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আমি এ সম্পর্কে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাইনি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক মাযহাবআমি যখন ইবরাহিম ইবনুল কায়্যিমের নাহু বিষয়ক মাযহাব সম্পর্কে আলোচনা করি, তখন ইবনে মালিকের আলফিয়ার ওপর তাঁর শারহ (ব্যাখ্যা) দীর্ঘ সময় অনুশীলনের পরই তা করছি। এছাড়া নাহু বিষয়ক বিশেষ করে মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতে তাঁর মত ও অন্যদের মতামত পর্যালোচনা করার পরই এ আলোচনা করছি। সেই অনুশীলনের পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইবনুল কায়্যিম—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—অন্যান্য মাযহাব ও মতামত পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিলেন না। বরং তিনি কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে বর্ণিত সকল মতামত পর্যবেক্ষণ করতেন, অতঃপর নিজের কাছে যা অগ্রগণ্য মনে হতো তা-ই নির্বাচন করতেন। তিনি প্রমাণের দ্বারা সমর্থিত মতের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন, সেটি যায়িদ বা আমরের (অর্থাৎ যে কারোই) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হোক না কেন—যেমনটি অচিরেই সামনে আসবে—এবং এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর পিতা শাইখ মুহাম্মদ বিন আবু বকরের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। কেননা, যদিও তাঁর জীবনীতে তাঁর পূর্বপুরুষদের ন্যায় তাঁকে হাম্বলি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাঁর বৈশিষ্ট্য ছিল প্রমাণের ভিত্তিতে অনুকরণ (ইত্তিবা) করা। কেননা তিনি তাকলিদ (অন্ধ অনুকরণ) ও মুকাল্লিদদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, তাদের নিন্দা করতেন এবং তাদের ইলমের স্বল্পতার জন্য আক্ষেপ করতেন। তিনি তাকলিদকে বিদআত এবং সর্বোত্তম যুগসমূহের পরের নব উদ্ভাবিত বিষয় হিসেবে অভিহিত করতেন। কিন্তু এটি তাঁকে ইমামগণ ও তাঁদের অনুসারীদের হেয় প্রতিপন্ন করার পর্যায়ে নিয়ে যায়নি, যেমনটি চরমপন্থী যাহেরি এবং তাদের পথ অনুসরণকারীরা করে থাকে। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যাদেরকে গোঁড়ামি বন্দী করে ফেলেছে এবং অহীদ্বয়ের নূর—তথা কিতাবুল্লাহ—থেকে তাদের অন্ধ ও বধির করে রেখেছে।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والسنة، ولكنه كان يسلك مسلكاً وسطاً ينشد الدليل، ولا يثرب على العلماء ولم يمنعه مسلكه هذا من التفقه في المذهب الحنبلي وبيان أصوله، وتحرير فروعه مع مخالفته لما ذهب إليه الإمام أحمد في عشرات المسائل، وفي ذلك يقول: "وكثيراً ما ترد المسألة نعتقد فيها خلاف المذهب فلا يسعنا أن نفتي بخلاف ما نعتقده، فنحكي المذهب الراجح ونرجحه، ونقول هذا هو الصواب وهو أولى أن يؤخذ به، وبالله التوفيق".
أقول: إن إبراهيم ابن القيم، لم يذكر في مقدمته الموجزة سوى السبب الذي بعثه إلى شرح الألفية، وأما ما ذكرته من مذهبه فإنه يظهر لكل من وقف على شرحه وتدبره. وسأذكر -إن شاء الله- في نقاط آتية ما يدل على ما ذكرت من موافقته للبصريين في كثير من المسائل النحوية لا لذات المهب وإنما لكون ذلك هو ما ترجح لديه، ومن موافقته للكوفيين في بعض المسائل، ومن مخالفته لكلا الفريقين وأَخذِه بقول بعض النحاة، أو القول باجتهاده -في غالب ظني- حيث لم أجده لغيره.
المبحث الخامس: ابن القيم والمذاهب النحويةتقدم أن إبراهيم ابن القيم لم يكن أسير مذهب معين، وإنما كان ينتظر في الآراء المختلفة وينتقي منها ما كان أسعد بالدليل، ويتضح ذلك من تفننه في الاختيار، فبينما تجده يختار في كثير من القضايا النحوية المذهب البصري حتى إنك لتكاد أن تحكم عليه بأنه بصري النزعة، تجده يختار في مسائل متعددة المذهب
...এবং সুন্নাহ। তবে তিনি এমন এক মধ্যপন্থা অবলম্বন করতেন যা দলীলের অনুসন্ধান করে এবং আলেমদের প্রতি কটাক্ষ করে না। তাঁর এই কর্মপন্থা তাঁকে হাম্বলী মাযহাবে গভীর জ্ঞান অর্জন, এর মূলনীতিসমূহ বর্ণনা এবং এর উপশাখাগুলো বিন্যাস করতে বাধা দেয়নি, যদিও তিনি কয়েক ডজন মাসআলায় ইমাম আহমাদ যে মত গ্রহণ করেছেন তার বিরোধিতা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন: "অধিকাংশ সময় এমন সব মাসআলা উপস্থাপিত হয় যাতে আমরা মাযহাবের বিপরীত মত পোষণ করি, এমতাবস্থায় আমাদের পক্ষে আমাদের বিশ্বাসের বিপরীতে ফতোয়া দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে আমরা অগ্রগণ্য মতটি উল্লেখ করি এবং তাকেই প্রাধান্য দেই; আর বলি যে, এটিই সঠিক এবং এটিই অনুসরণের যোগ্যতর। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফীক আসে।"
আমি বলছি: ইবরাহীম ইবনুল কায়্যিম তাঁর সংক্ষিপ্ত মুকাদ্দিমায় আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা লেখার কারণ ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর মাযহাব সম্পর্কে আমি যা বলেছি, তা তাঁর শারহ (ব্যাখ্যা) পাঠকারী ও গভীর চিন্তাকারীর নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আমি ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পয়েন্টগুলোতে এমন কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করব যা ব্যাকরণিক অনেক মাসআলায় বসরীগণের সাথে তাঁর ঐকমত্যের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলবে—তা মাযহাবগত কারণে নয় বরং তাঁর নিকট সেটিই অগ্রগণ্য হওয়ার কারণে। এছাড়া কিছু মাসআলায় কূফীগণের সাথে তাঁর ঐকমত্য এবং উভয় পক্ষের বিপরীতে অন্য কোনো ব্যাকরণবিদের মত গ্রহণ করা কিংবা তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদের কথা—আমার প্রবল ধারণা মতে—উল্লেখ করব যা আমি অন্য কারও নিকট পাইনি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইবনুল কায়্যিম এবং ব্যাকরণিক মাযহাবসমূহইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ইবরাহীম ইবনুল কায়্যিম নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের কাছে বন্দী ছিলেন না, বরং তিনি বিভিন্ন মতামতের পর্যালোচনা করতেন এবং যা দলীলের সবচেয়ে নিকটবর্তী মনে হতো তা-ই গ্রহণ করতেন। তাঁর এই চয়নশৈলী থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়; কেননা অনেক ব্যাকরণিক বিষয়ে আপনি তাঁকে বসরী মাযহাব গ্রহণ করতে দেখবেন, এমনকি আপনি তাঁকে বসরী ঘরানার মনে করতে শুরু করবেন, ঠিক তখনই দেখবেন তিনি বিভিন্ন মাসআলায় মাযহাব...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الكوفي ويرجحه، وقد يختار مذهباً مخالفاً لكلا المذهبين وينصره، كما سيأتي:
أ- متابعة المذهب البصري:
لقد تتبعت ابن القيم وهو يستعرض المسائل النحوية، فوجدته وافق البصريين فيما يزيد على أربعين مسألة، وهذه نماذج منها:
1 - تابع البصريين في القول ببناء فعل الأمر، فقال: "وأما الأمر فمبني على ما يجزم به المضارع"، والكوفيون يقولون بإعرابه.
2 - تابع جمهورهم في كون متعلق الظرف أو الجار والمجرور فعلاً، فقال: "وكل منهما متعلق بفعل، تقديره: استقر، أو نحوه" والأخفش على أن متعلقهما مفرد.
3 - تابع البصريين في جواز تقديم الخبر ما لم يمنع مانع، فقال: "الأصل تقديم المبتدأ وتأخير الخبر، والعكس جائز ما لم يمنع منه مانع من الموانع الآتية:
… ".
4 - تابع البصريين في أن "كان وأخواتها" هن الرافعات للمبتدأ على أنه اسم لهن الناصبات للخبر على أنه خبر لهن، فقال: "كان وأخواتها هي العاملة في المبتدأ والخبر، فترفع المبتدأ لشبهه بالفاعل، ويسمى اسمها، وتنصب الخبر لشبهه بالمفعول ويسمى خبرها". والكوفيون على أن الاسم بعد هذه الأفعال مرفوع بما كان مرفوعاً به قبل دخولهن، وأن الاسم المنصوب بعدها إنما نصب على الحال.
কুফীয় এবং তিনি একে প্রাধান্য দেন; আবার কখনও তিনি উভয় মাযহাবের বিপরীত কোনো মাযহাব গ্রহণ করেন এবং তার সপক্ষে যুক্তি প্রদান করেন, যেমনটি সামনে আসবে:
ক- বসরীয় মাযহাবের অনুসরণ:
আমি ইবনুল কাইয়্যিমকে লক্ষ্য করেছি যখন তিনি নাহব বা ব্যাকরণিক মাসআলাসমূহ পর্যালোচনা করছিলেন; আমি তাকে চল্লিশটিরও বেশি মাসআলায় বসরীয়দের সাথে ঐকমত্য পোষণ করতে দেখেছি, নিচে এর কিছু নমুনা তুলে ধরা হলো:
১ - তিনি 'ফে'লে আমর' বা আদেশবাচক ক্রিয়া মাবনী (অপরিবর্তনীয়) হওয়ার বিষয়ে বসরীয়দের অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর আমরের ক্ষেত্রে কথা হলো, এটি সেই অবস্থার ওপর মাবনী হয় যে অবস্থায় মুযারে জযম বিশিষ্ট হয়", অন্যদিকে কুফীয়রা একে মুরব (পরিবর্তনশীল) বলেন।
২ - তিনি অধিকাংশ বসরীয় পণ্ডিতদের মতানুসারে যরফ অথবা জার-মাজরুরের 'মুতাল্লিক' (সংশ্লিষ্টতা) ক্রিয়া বা ফে'ল হওয়ার বিষয়ে তাদের অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "এদের প্রতিটিই একটি ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, যার ঊহ্য রূপ হলো: 'ইস্তাকাররা' (স্থির হয়েছে) বা এই জাতীয় কিছু।" আর আখফাশের মতে এগুলোর মুতাল্লিক হলো 'মুফরাদ' (একক শব্দ)।
৩ - কোনো প্রতিবন্ধক না থাকলে খবরকে আগে আনা বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বসরীয়দের অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "মূল নীতি হলো মুক্তাদাকে আগে আনা এবং খবরকে পরে রাখা, তবে এর বিপরীত করা বৈধ যতক্ষণ না পরবর্তী প্রতিবন্ধকাসমূহের কোনো একটি তা থেকে বাধা প্রদান করে:
… "।
৪ - তিনি বসরীয়দের অনুসরণ করে মনে করেন যে 'কানা ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ' মুক্তাদাকে তাদের 'ইসম' হিসেবে রাফা প্রদান করে এবং খবরকে তাদের 'খবর' হিসেবে নাসব প্রদান করে। তিনি বলেছেন: "কানা ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ মূলত মুক্তাদা ও খবরের ওপর ক্রিয়াশীল হয়; ফলে এটি ফায়েলের (কর্তা) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে মুক্তাদাকে রাফা প্রদান করে এবং একে তার ইসম বলা হয়, আর মাফউলের (কর্ম) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে খবরকে নাসব প্রদান করে এবং একে তার খবর বলা হয়।" অন্যদিকে কুফীয়দের মতে, এই ক্রিয়াগুলোর পরের ইসমটি সেই আমিল দ্বারাই মারফু থাকে যা এই ক্রিয়াগুলো প্রবেশের পূর্বে তাকে মারফু করেছিল, আর এরপরের মানসুব ইসমটি মূলত 'হাল' হিসেবে নাসব প্রাপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
5 - تابع البصريين في كون الخبر بعد "إن وأخواتها" مرفوعاً بهن، فقال: "عملت هذه الأدوات لاختصاصها بالأسماء، وعلمن الرفع والنصب لشبهها بالأفعال الناقصة
… " والكوفيون على أن الخبر بعد هذه الأدوات مرفوع بما كان مرفوعاً به قبل دخولهن.
6 - تابعهم في أن أصل المشتقات المصدر، فقال: "والمختار مذهب البصريين أنه أصل للفعل والوصف، وكل منهما مشتق منه".
7 - تابعهم في كون التمييز نكرة، ولا يكون معرفة، فقال: " الثاني: كونه نكرة، فلا تمييز بمعرفة". والكوفيون يجيزون كونه معرفة.
8 - تابعهم فيما قالوا بإعماله من صيغ المبالغة وهو ثلاث صيغ، ووافق سيبويه في إعمال الباقي وهو صيغتان.
9 - تابع جمهورهم في كون "ما" نكرة تامة محلها الرفع على الابتداء.
فقال: "ما" نكرة تامة محلها رفع بالابتداء، وما بعدها في محل الخبر".
وذهب الأخفش إلى أنها موصولة، وما بعدها لا محل له من الإعراب صلة لها، ونقل عن الكوفيين أنها استفهامية.
10 - تابع البصريين ومن وافقهم من الكوفيين في القول بفعلية " أَفعَل" التعجب، فقال: "و" أفعل "فِعلٌ للزوم نون الوقاية إياه قبل ياء المتكلم"
5 - তিনি বসরাবাসীদের অনুসরণ করেছেন যে, 'ইন্না ও তার সমজাতীয় অব্যয়সমূহের' পরের খবর বা সংবাদ তাদের কারণেই রফ' (পেশ) বিশিষ্ট হয়। তিনি বলেন: "এই অব্যয়গুলো বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট হওয়ার কারণে আমল করে, এবং অপূর্ণাঙ্গ ক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে রফ' ও নসব প্রদান করে..." আর কুফাবাসীদের মতে, এই অব্যয়গুলোর পরের খবর সেই কারণেই রফ' বিশিষ্ট হয় যা সেগুলোর প্রবেশের পূর্বে রফ' প্রদানকারী ছিল।
6 - তিনি তাদের অনুসরণ করেছেন যে, শব্দমূল বা মাসদার হলো রূপান্তরিত শব্দসমূহের মূল। তিনি বলেন: "বসরাবাসীদের মাযহাবই পছন্দনীয় যে, এটি ক্রিয়া এবং গুণের মূল, এবং এদের প্রতিটিই তা থেকে নির্গত।"
7 - তিনি তাদের অনুসরণ করেছেন এই বিষয়ে যে, তামিয বা সুনির্দিষ্টকরণ পদটি অনির্দিষ্ট হয়, এবং তা নির্দিষ্ট হতে পারে না। তিনি বলেন: "দ্বিতীয় শর্ত: এটি অনির্দিষ্ট হওয়া, সুতরাং নির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে কোনো তামিয হয় না।" আর কুফাবাসীরা এটি নির্দিষ্ট হওয়াকেও বৈধ মনে করেন।
8 - আধিক্যসূচক রূপগুলোর আমল করার বিষয়ে তারা যা বলেছেন, তিনি তাতে তাদের অনুসরণ করেছেন এবং তা হলো তিনটি রূপ; আর অবশিষ্ট দু’টি রূপের আমলের ক্ষেত্রে তিনি সিবওয়াইহ-এর সাথে একমত হয়েছেন।
9 - তিনি তাদের অধিকাংশের অনুসরণ করেছেন যে, 'মা' হলো একটি পূর্ণাঙ্গ অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, যার স্থানটি মুবতাদা হিসেবে রফ' বিশিষ্ট।
তিনি বলেন: "'মা' একটি পূর্ণাঙ্গ অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, যার স্থানটি মুবতাদা হিসেবে রফ' বিশিষ্ট, আর তার পরবর্তী অংশটি খবরের স্থানে থাকে।"
আখফাশ-এর অভিমত হলো এটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য, আর তার পরবর্তী অংশের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে কোনো স্থান নেই কারণ সেটি সম্বন্ধপূরক বাক্য, এবং কুফাবাসীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে এটি প্রশ্নবোধক অব্যয়।
10 - বিস্ময়সূচক 'আফ'আলা' শব্দের ক্রিয়া হওয়ার বিষয়ে তিনি বসরাবাসী এবং তাদের সাথে একমত পোষণকারী কুফাবাসীদের অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন: "'আফ'আলা' হলো একটি ক্রিয়া, কারণ ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের পূর্বে সুরক্ষা প্রদানকারী নূন যুক্ত হওয়া এর জন্য আবশ্যক।"
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والكوفيون على أنه اسم.
11 - تابعهم في أنه لا يجوز العطف على الضمير المتصل المرفوع إلا بعد الفصل بضمير منفصل، فقال: "فأما ضمير الرفع المتصل أو المستتر فلا يجوز العطف عليه إلا بعد الفصل بالضمير المنفصل المؤكد للمعطوف عليه".
والكوفيون لا يرون وجوب ذلك.
12 - جرى على اصطلاحهم في تسمية البدل بدلاً، وأما الكوفيون فيسمونه الترجمة والتبيين.
13 - تابع البصريين والكسائي في القول بفعلية "نِعْم وبئس". فقال: "والدليل على فعلية" "نِعْم" و "بئس" دخول تاء التأنيث عليهما، ولا دليل للكوفيين على اسميتهما باتصالهما بحرف الجر
… ".
14 - صحح مذهبهم في أن: "فُلُ" و "فُلَة" كناية من "رجل" و "امرأة" على الأصح" والكوفيون يرون أنهما مرخماً: "فلان" و "فلانة".
ب - متابعته المذهب الكوفي:
ولقد تتبعته وهو يستعرض المسائل النحوية، فوجدته قد وافق الكوفيين فيما يزيد على عشر مسائل، أشرت إليها في مواضعها، وهو في معظمها متابع لابن مالك، وهذه نماذج من تلك المسائل:
1 - تابع الكوفيين في تعليلهم دخول الباء على خبر "ليس" و "ما" وأنه لتأكيد
কুফাবাসীরা একে বিশেষ্য (ইসিম) বলে মনে করেন।
১১ - তিনি তাঁদের অনুসরণ করেছেন এই বিষয়ে যে, মারফু মুত্তাসিল জমির বা সংলগ্ন কর্তৃবাচক সর্বনামের ওপর সংযোজন (আতফ) করা জায়েয নয়, যতক্ষণ না একটি মুনফাসিল জমির বা পৃথক সর্বনাম দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করা হয়। তিনি বলেন: "মারফু মুত্তাসিল বা সুপ্ত সর্বনামের ক্ষেত্রে, যার ওপর সংযোজন করা হচ্ছে তাকে জোর প্রদানের জন্য একটি পৃথক সর্বনাম দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করা ছাড়া তার ওপর সংযোজন করা জায়েয নয়।"
আর কুফাবাসীরা এটিকে আবশ্যক মনে করেন না।
১২ - তিনি বদল-কে ‘বদল’ নামকরণের ক্ষেত্রে তাঁদের পরিভাষা অনুসরণ করেছেন, আর কুফাবাসীরা একে ‘আত-তারজামা’ এবং ‘আত-তাবয়িন’ নামে অভিহিত করেন।
১৩ - তিনি ‘নি’মা’ এবং ‘বি’সা’-কে ক্রিয়া বলার ক্ষেত্রে বসরীবাসী এবং কিসায়ীর অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন: " ‘নি’মা’ এবং ‘বি’সা’-এর ক্রিয়া হওয়ার প্রমাণ হলো এগুলোর সাথে স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ যুক্ত হওয়া। আর অব্যয় যুক্ত হওয়ার কারণে এগুলোর বিশেষ্য হওয়ার সপক্ষে কুফাবাসীদের কোনো দলিল নেই..."
১৪ - তিনি তাঁদের মতবাদকে সঠিক বলে গণ্য করেছেন এই বিষয়ে যে: "ফুলু" এবং "ফুলাহ" হলো সঠিক মতানুসারে "পুরুষ" ও "নারী" শব্দের পরোক্ষ রূপ বা কিনায়া; আর কুফাবাসীরা মনে করেন যে এ দুটি হলো "ফুলান" ও "ফুলানা"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
খ - কুফি মাযহাবের অনুসরণ:
আমি যখন তাঁর ব্যাকরণিক মাসআলাসমূহ পর্যালোচনার বিষয়গুলো অনুসরণ করেছি, তখন তাঁকে দশটিরও বেশি মাসআলায় কুফাবাসীদের সাথে একমত হতে দেখেছি, যেগুলো আমি যথাস্থানে উল্লেখ করেছি। এগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি ইবনে মালিকের অনুসারী। এই মাসআলাগুলোর কিছু নমুনা নিম্নরূপ:
১ - তিনি 'লাইসা' এবং 'মা'-এর খবরের শুরুতে 'বা' যুক্ত হওয়ার কারণ বর্ণনায় কুফাবাসীদের অনুসরণ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি গুরুত্ব প্রদানের জন্য।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
النفي. فقال: " تدخل الباء على الخبر بعد "ما" و "ليس" لتأكيد النفي".
والبصريون على أن هذا الباء مأتي به لدفع توهم أن يكون الكلام موجباً.
2 - تابعهم في تجويزهم إعمال اسم المصدر غير الجاري على فعله قياساً، فقال: "واسم المصدر يطلق على ثلاثة أشياء: "أحدهما: ما لم يجر على فعله قياساً
… والثاني:
… والثالث
… وأما الأول فالكوفيون يجيزون إعماله، وهو الحق
… ".
3 - تابعهم في تجويزهم توكيد النكرة إذا كان ذلك يفيد، بأن كانت النكرة متبعضة أو محدودة. فقال: "لا تؤكد النكرة عند عدم الفائدة اتفاقاً، ومع حصول الفائدة لكون المؤكد محدودا
… فالتحقيق جوازه، كما ذهب إليه الكوفيون، لورود السماع بذلك".
4 - تابع الكوفيين في القول بجواز ندب الموصول إذا كانت صلته مشهورة فقال: "الموصول من قسم المبهم فلا يندب إلا إذا كانت صلته مشهورة نحو: "ومن حفر بئر زمزماه". والبصريون لا يرون جواز ذلك، وما جاء منه محمول عندهم على الشذوذ".
ج- مخالفته الفريقين:
خالف ابن القيم كلا الفريقين: البصري والكوفي في بعض المسائل
নেতিবাচকতা। তিনি বলেছেন: "নেতিবাচকতাকে জোরালো করার জন্য 'মা' এবং 'লাইসা'-এর পরবর্তী খবরের (প্রেডিকেট) শুরুতে 'বা' বর্ণটি যুক্ত হয়।"
আর বসরাবাসীদের মতে, এই 'বা' আনা হয় কথাটি ইতিবাচক হওয়ার সংশয় দূর করার জন্য।
২ - তিনি নিয়মানুযায়ী ক্রিয়ার অনুরূপ নয় এমন ইসমুল মাসদারকে আমল দেওয়ার বৈধতার ক্ষেত্রে তাদের (কুফাবাসীদের) অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "ইসমুল মাসদার তিনটি বিষয়ের ওপর ব্যবহৃত হয়: প্রথমটি: যা নিয়মানুযায়ী তার ক্রিয়ার সদৃশ নয়
… এবং দ্বিতীয়টি:
… এবং তৃতীয়টি
… তবে প্রথমটির ক্ষেত্রে কুফাবাসীরা একে আমল প্রদান বৈধ মনে করেন, আর এটিই সঠিক
… "।
৩ - তিনি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ)-কে তাকিদ করার বৈধতার ক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করেছেন যদি তা অর্থবহ হয়, যেমন নাকিরাহ-টি যদি খণ্ডিত বা সীমাবদ্ধ হয়। তিনি বলেছেন: "উপকারিতা না থাকলে সর্বসম্মতিক্রমে নাকিরাহ-কে তাকিদ করা যায় না, তবে যদি তাকিদকৃত বিষয়টি সীমাবদ্ধ হওয়ার কারণে অর্থবহ হয়
… তবে গবেষণালব্ধ সঠিক মত হলো এটি বৈধ, যেমনটি কুফাবাসীরা মনে করেন, কারণ এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ভাষাগত প্রমাণ বিদ্যমান।"
৪ - ইসমে মাওসুল-এর জন্য নুদবা (বিলাপসূচক সম্বোধন) জায়েজ হওয়ার বিষয়ে তিনি কুফাবাসীদের অনুসরণ করেছেন যদি তার সিলাহ (পরবর্তী অংশ) প্রসিদ্ধ হয়। তিনি বলেন: "মাওসুল অস্পষ্ট প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, তাই এর নুদবা করা যাবে না যদি না তার সিলাহ প্রসিদ্ধ হয়, যেমন: 'হায় সে ব্যক্তি, যে যমযম কূপ খনন করেছে'। আর বসরাবাসীরা একে বৈধ মনে করেন না, এবং এ সংক্রান্ত যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা তাদের নিকট বিরল বা শায হিসেবে গণ্য।"
গ- উভয় পক্ষের বিরোধিতা:
ইবনুল কাইয়্যিম কিছু মাসআলায় বসরা এবং কুফা—উভয় পক্ষের ভাষাবিদদেরই বিরোধিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
النحوية: وهو حينما يخالف أحد الفرقين، إما أن يخالفه ليوافق الفريق الآخر -كما تقدم آنفا- وإما أن يخالفهما جمعا، وحيذ إما أن يأخذ بآراء آحاد النحويين، وهذا هو الغالب وإما أن يقول برأيه وهذا قليل فمما تابع فيه بعض أفراد النحويين مخالفاً جمهورهم ما يأتي:
- تابع ابن مالك في القول بإعمال المصدر المحلى ب "أل" بقلة. فقال: "وعمله -أي المصدر- متلبسا ب "أل" قليل". أ. هـ. وسيبويه، والخليل وبعض البصريين يذهبون إلى إعماله مطلقاً، والكوفيون وابن السراج يمنعون إعماله.
- تابع ابن مالك -أيضاً- في القول برجحان نصب تمييز "كم" الخيرية إذا فصل بينها وبينه بظرف أو جار ومجرور، فقال: " متى فصل بينها وبين مميزها بغير الظرف والجار والمجرور تعين نصبه، وإن كان بواحد منهما فلأرجح نصبه، وقد يجر في الشعر
… ". أ. هـ. والبصريون يوجبون النصب".
- تابع ابن مالك القائل بقول المبرد بصحة نداء ما سمي به من الوصلات المبدوءة ب "أل". فقال " لو سميت رجلاً ب "المنطلق زيد" فإنك تقول في ندائه: "يا المنطلق زيد" ومثله ما سمي به من الموصولات المبدوءة ب "أل". أ. هـ.
- تابع ابن مالك وغيره في تجويزهم الإخبار بظرف الزمان عن الأعيان، إذا حصل بذلك فائدة، بأن كانت عامة وهو خاص. فقال: "أما إن أفاد الإخبار باسم الزمان عن الذوات لكونها عامة واسم الزمان خاص فغنه يجوز". أ. هـ.
- كما تابعه في القول بعدم وجوب تأخير الفاعل المحصور ب "إلا" وهو قول
ব্যাকরণিক মাসআলাসমূহ: এটি তখন ঘটে যখন তিনি দুটি দলের কোনো একটির বিরোধিতা করেন; হয় তিনি তাদের বিরোধিতা করেন অন্য দলের সাথে একমত হওয়ার জন্য—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—অথবা তিনি উভয় দলেরই বিরোধিতা করেন। এমতাবস্থায় তিনি হয়তো কতিপয় বৈয়াকরণের একক মত গ্রহণ করেন—আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে—অথবা তিনি নিজের মত প্রকাশ করেন, তবে তা বিরল। জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) বৈয়াকরণদের বিরোধিতা করে তিনি যে বিষয়গুলোতে কতিপয় বৈয়াকরণের অনুসরণ করেছেন, তা নিম্নরূপ:
- তিনি 'আল' যুক্ত মাসদারের আমল (ক্রিয়াশীলতা) অল্প হওয়ার বিষয়ে ইবনে মালিকের অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর 'আল' যুক্ত মাসদারের আমল করা কম।" সমাপ্ত। সিবাহওয়াইহি, খলীল এবং কতিপয় বসরী বৈয়াকরণ এটিকে নিরঙ্কুশভাবে আমলযোগ্য মনে করেন, অন্যদিকে কুফীগণ এবং ইবনে সাররাজ এর আমলকে নিষিদ্ধ মনে করেন।
- তিনি 'কাম' আল-খবরিয়ার তামীযকে নসব (জবর) প্রদান করা উত্তম হওয়ার বিষয়েও ইবনে মালিকের অনুসরণ করেছেন, যখন 'কাম' এবং তার তামীযের মাঝে যরফ (কাল/স্থানবাচক শব্দ) অথবা যার-মাজরুর দ্বারা ব্যবধান তৈরি হয়। তিনি বলেছেন: "যখন 'কাম' এবং তার মুমায়্যিযের মধ্যে যরফ ও যার-মাজরুর ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে ব্যবধান তৈরি হয়, তখন নসব দেওয়া অবধারিত হয়ে পড়ে; আর যদি ব্যবধান এই দুটির কোনো একটির মাধ্যমে হয়, তবে নসব প্রদান করাই অধিকতর উত্তম, আর কবিতায় কখনো কখনো জর (জের) হতে পারে
… "। সমাপ্ত। বসরীগণ নসব দেওয়াকে ওয়াজিব (আবশ্যক) মনে করেন।
- তিনি ইবনে মালিকের অনুসরণ করেছেন যিনি মুবাররাদের এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, 'আল' দ্বারা শুরু হওয়া শব্দগুচ্ছ দিয়ে যদি কারো নাম রাখা হয়, তবে তাকে নিদা (সম্বোধন) করা বৈধ। তিনি বলেছেন, "যদি আপনি কোনো ব্যক্তির নাম রাখেন 'আল-মুনতালিকু যাইদ' তবে তাকে ডাকার সময় আপনি বলবেন: 'ইয়া আল-মুনতালিকু যাইদ'। অনুরূপভাবে 'আল' দ্বারা শুরু হওয়া ইসমে মাউসুল দিয়ে নাম রাখা হলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।" সমাপ্ত।
- তিনি সত্তাবাচক বিশেষ্যের সংবাদ বা খবর হিসেবে যরফে যামান (কালবাচক শব্দ) ব্যবহারের বৈধতার ক্ষেত্রে ইবনে মালিক এবং অন্যান্যদের অনুসরণ করেছেন, যদি এর মাধ্যমে কোনো উপকারিতা হাসিল হয়, অর্থাৎ সত্তাটি যদি সাধারণ এবং যরফে যামানটি যদি সুনির্দিষ্ট হয়। তিনি বলেছেন: "যদি সত্তা সাধারণ হওয়ার কারণে এবং যরফে যামান সুনির্দিষ্ট হওয়ার কারণে তা দ্বারা সংবাদ প্রদান করা অর্থবহ হয়, তবে তা জায়েয হবে।" সমাপ্ত।
- অনুরূপভাবে তিনি 'ইল্লা' দ্বারা সীমাবদ্ধ ফায়েলকে দেরিতে আনা আবশ্যক না হওয়ার মতের ক্ষেত্রেও তাকে অনুসরণ করেছেন, আর এটি হলো একটি মত...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الكسائي. فقال: " وقد يسبق المحصور من الفاعل أو المفعول إذا ظهر الحصر فيه، بأن يكون الحصر ب "إلا" نحو:
… ". أ. هـ.
هذه نماذج متابعة ابن القيم لابن مالك، وهناك مسائل كثيرة وافقه فيها. وقد أشرت إلى ذلك عند ورود تلك المسائل في الشرح.
- كما تابع ابن القيم: المبرد في القول بأن انتصاب: "أحقا أنك ذاهب" ونحوه على المصدرية. فقال: " وذلك قولهم: " غير شك" أنك قائم و "جَهْدَ رأيي أنك ذاهب" و "ظناً مني أنك قادم" وفي ادعاء الظرفية في هذا كله نظر، والصواب أنه منصوب انتصاب المصادر بأفعال مقدرة".أ. هـ. والجمهور على أن انتصاب ذلك على الظرفية.
- كما تابع ابن العلج في قوله بجواز تقديم المقطوع على المتبع -بفتح الباء- إذا لم يكن المنعوت محتاجاً في بيانه إلى النعت، فقال: "ولا يتعين في مثل هذا تقديم المتبع على المقطوع" يشير إلى قول الشاعرة:
لا يبعدن قومي الذين همُ سُمُ العداة وآفة الجزر
النازلين بكل معترك
… والطيبون معاقد الأُزُرِ
فإنه يروي بنصب "النازلين" "والطيبين" ورفعهما، ورفع الأول ونصب الثاني، والعكس، والجمهور لا يجيزون تقديم المقطوع على المتبع.
- كما تابع الزمخشري في إعراب: "والمسجد الحرام" من قوله تعالى: {وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ اللهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} [البقرة:217] بأنه معطوف على "سبيل" وغير
আল-কিসায়ী। তিনি বলেছেন: "এবং কর্তা বা কর্মের মধ্য থেকে যা সীমাবদ্ধ (মাহসুর), তা কখনো অগ্রবর্তী হতে পারে যদি তাতে সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট থাকে; আর তা হলো সীমাবদ্ধতাটি 'ইল্লা' (ব্যতীত) এর মাধ্যমে হওয়া। যেমন:
…।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
এগুলো ইবনুল কাইয়্যিম কর্তৃক ইবনে মালিককে অনুসরণের কিছু নমুনা, এবং এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যাতে তিনি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। আমি এই মাসআলাগুলো ব্যাখ্যার মধ্যে আসার সময় তা উল্লেখ করেছি।
- তেমনিভাবে ইবনুল কাইয়্যিম 'আ-হাক্কান আন্নাকা যাহিবুন' (সত্যিই কি তুমি যাচ্ছ) এবং এই জাতীয় বাক্যের নসব (যবর) হওয়ার ক্ষেত্রে আল-মুবররিদকে অনুসরণ করেছেন যে, এগুলো মাসদার (ক্রিয়ামূল) হিসেবে মানসুব হয়েছে। তিনি বলেছেন: "আর তা হলো তাদের এই কথা: 'গাইরা শাক্কিন' (নিঃসন্দেহে) তুমি দণ্ডায়মান এবং 'জাহদা রাইয়ি' (আমার পূর্ণ বিবেচনার ভিত্তিতে) তুমি যাচ্ছ এবং 'যন্নান মিন্নী' (আমার ধারণায়) তুমি আসছ। এই সবগুলোর ক্ষেত্রে জরফিয়্যাহ (ক্রিয়া বিশেষণ) হওয়ার দাবির ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে, বরং সঠিক হলো এগুলো উহ্য ক্রিয়া দ্বারা মাসদারের ন্যায় মানসুব হয়েছে।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আর জমহুর উলামাদের মতে এগুলোর নসব জরফিয়্যাহ-এর ভিত্তিতে।
- তেমনিভাবে তিনি ইবনুল ইলিজিকে অনুসরণ করেছেন 'মুকতা' (বিচ্ছিন্ন)-কে 'মুততাবাহ' (অনুসৃত)-এর আগে আনা জায়েজ হওয়ার বিষয়ে—যখন গুণান্বিত বিশেষ্যটি (মানউত) তার অর্থ স্পষ্ট করার জন্য গুণের (নআত) মুখাপেক্ষী না হয়। তিনি বলেছেন: "এই ধরণের ক্ষেত্রে মুততাবাহকে মুকতা-র আগে আনা আবশ্যক নয়।" তিনি এই নারী কবির উক্তির দিকে ইঙ্গিত করেছেন:
আমার স্বগোত্রীয়রা যেন ধ্বংস না হয়, যারা শত্রুদের জন্য বিষ এবং যিয়াফতের জন্য উট জবাই করার ক্ষেত্রে আপদস্বরূপ।
যারা প্রতিটি যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণকারী
… এবং যাদের তহবন্দের গিঁটগুলো পবিত্র (চ্চরিত্রবান)।
এখানে 'আন-নাযিলীন' এবং 'আত-তয়্যিবীন' শব্দদ্বয়কে নসব ও রফ (পেশ) উভয়ভাবে পড়ার বর্ণনা রয়েছে, আবার প্রথমটিকে রফ ও দ্বিতীয়টিকে নসব, এবং এর বিপরীত পড়ারও বর্ণনা রয়েছে। অথচ জমহুর উলামাগণ মুততাবাহ-এর আগে মুকতা আনা জায়েজ মনে করেন না।
- তেমনিভাবে তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করা এবং তাঁর সাথে কুফরি করা ও মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেওয়া} [আল-বাকারা: ২১৭] এর মধ্যে 'আল-মাসজিদিল হারামি' শব্দটির ইরাবের (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) ক্ষেত্রে যামাখশারীকে অনুসরণ করেছেন যে, এটি 'সাবীল' শব্দের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে এবং অন্য...
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الزمخشري يذهب إلى أنه معطوف على الضمير المجرور: "به" قال في ذلك: "بل الصواب أنه عطف على "سبيل" ليطابق قوله: {إنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَام} [الحج:25].
وتابع سيبويه في القول بإعمال: "فَعِل" و "فَعيل" إعمال اسم الفاعل كبقية صيغ المبالغة. فقال: "يحوّل اسم الفعل إلى أبنية المبالغة فيبقى على عمل اسم الفاعل في ثلاثة منها بكثرة وهي:
… وفي اثنين منها بقلة، وهما: "فعيل" و "فعل ".أ. هـ. وأكثر النحويين يخالف سيبويه في إعمال هذين الأخرين.
د- اعتراضات ابن القيم على بعض النحويين:
خاض ابن القيم غمار النحو وصال وجال في صفوف النحويين فإن من يطالع شرحه لألفيه ابن مالك يجد فيه أقوال الخليل ويونس، ونقول سيبويه، وآراء الكسائي، والفراء، والأخفش، وابن السكيت، والمبرد، وابن كيسان، والزمخشري، وثعلب، والرماني، والجرمي، والفارسي، والسيرافي، وابن كيسان، والزمخشري، وابن الحاجب، وابن عصفور، والشلوبين، وابن مالك، وأبي حيان، وابن هشام
… وغيرهم من النحويين واللغويين، فجميع هؤلاء الأعلام ذكر أعيانهم وتعرض لآرائهم، وكانت له وقفات انتقادية عند آراء بعضهم، وهو حينما ينقد رأياً فإنما ينقده بطريقة معتدلة بصل من خلالها إلى تقرير المسألة حسب ما يترجح لديه ورد ما يخالفها من غير تثريب على صاحب رأي أو حط من شانه، بل كثيراً ما يترك التشهير بأعيان من يرد عليهم ويكتفي برد أقوالهم، وربما لا يصرح بالقول المنتقد، وإنما يشير إليه إشارة خفية
যামাখশারী এই মত পোষণ করেন যে, এটি মাজরুর সর্বনাম "বিহি"-এর সাথে সংযুক্ত (আতফ): তিনি এ বিষয়ে বলেছেন: "বরং সঠিক হলো এটি 'সাবীল'-এর সাথে সংযুক্ত হওয়া, যাতে আল্লাহর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়: {নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথ ও মসজিদুল হারাম থেকে বাধা প্রদান করে} [হজ্জ: ২৫]।
আর তিনি 'ফায়িল' ও 'ফায়ীল' ওজনে ইসমে ফায়িলের মতো আমল (কার্যকারিতা) করার ক্ষেত্রে সিবওয়াইহকে অনুসরণ করেছেন, যেমনটি অন্যান্য আতিশয্যবোধক (মুবালাগা) রূপের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তিনি বলেছেন: "ইসমে ফায়িলকে আতিশয্যবোধক কাঠামোতে রূপান্তরিত করা হয়, ফলে তা তিনটি কাঠামোর ক্ষেত্রে অধিকহারে ইসমে ফায়িলের আমলের ওপর বহাল থাকে, আর সেগুলো হলো:
… এবং দুটির ক্ষেত্রে স্বল্পহারে, আর সেগুলো হলো: 'ফায়ীল' ও 'ফায়িল'।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত। অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ এই শেষোক্ত দুটির আমল করার ব্যাপারে সিবওয়াইহের বিরোধিতা করেছেন।
ঘ- কিছু ব্যাকরণবিদের প্রতি ইবনুল কাইয়্যিমের আপত্তি সমূহ:
ইবনুল কাইয়্যিম ব্যাকরণ শাস্ত্রের গভীরে অবগাহন করেছেন এবং ব্যাকরণবিদদের সারিতে বিচরণ করেছেন। যে ব্যক্তি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করবে, সে সেখানে খলীল ও ইউনুসের উক্তি, সিবওয়াইহের উদ্ধৃতি এবং কিসায়ী, ফাররা, আখফাশ, ইবনুস সিক্কীত, মুবাররাদ, ইবনে কায়সান, যামাখশারী, সা'লাব, রুমমানী, জারমী, ফারিসী, সীরাফী, ইবনুল হাজিব, ইবনে আসফূর, শালুবীন, ইবনে মালিক, আবু হাইয়্যান, ইবনে হিশাম
… এবং অন্যান্য ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদদের মতামত দেখতে পাবে। এই সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের মতামতের ওপর আলোচনা করেছেন। তাঁদের কারো কারো মতামতের ব্যাপারে তাঁর সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ ছিল। তিনি যখন কোনো মতের সমালোচনা করেন, তখন তা অত্যন্ত পরিমিত পদ্ধতিতে করেন, যার মাধ্যমে তিনি বিষয়টি তাঁর নিকট অগ্রগণ্য মত অনুযায়ী নিরসন করেন এবং এর বিপরীত মতটিকে কোনো প্রকার তিরস্কার বা প্রবক্তার মর্যাদা হানি না করেই প্রত্যাখ্যান করেন। বরং অনেক সময় তিনি যাদের খণ্ডন করেন তাঁদের নাম প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন এবং কেবল তাঁদের বক্তব্য খণ্ডন করাই যথেষ্ট মনে করেন। এমনকি কখনো কখনো তিনি সমালোচিত মতটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে কেবল সূক্ষ্ম ইঙ্গিতের মাধ্যমে তা নির্দেশ করেন।
(খণ্ড: ১)
ইরশাদুস সালিক ইলা হাল্লি আলফিয়্যাতি ইবনু মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فلا يشعر بذلك إلا المتدبر المتأني، وسأذكر نماذج من اعتراضاته ونقده.
- اعترض على ابن مالك في حكايته الاتفاق على جواز جعل الثاني من مفعولي باب "أعطى" نائباً عن الفاعل وترك الأول على نصبه عند أمن اللبس.
فقال في ذلك: "وليس باتفاق كما زعم المصنف، بل من النحاة من منعه مطلقاً، ومنهم من منعه في النكرة دون المعرفة".
- كما رد عليه في قوله بعدم جواز حذف مفعولي "ظن" وأخواتها اقتصاراً.
فقال: "والصحيح جوازه أي حذفهما- فيها خلاف ما ذهب إليه المصنف، ومنه:
… ".
- كما عارضه في إثباته اسم الفاعل من الفعل "كاد" فقال: ""ولا يثبت استعماله -أي اسم الفاعل- من "كاد"".
وهناك مواضع أخرى اعترض عليه فيها، وقد نبهت إليها في مكانها من الشرح.
- كما ألح ابن القيم إبراهيم إلى وهم ابن الناظم في إيراده بيتاً زعم أنه تعدد فيه الخبر وهو قول الشاعر:
يداك يد خيرها يرتجى وأخرى لأعدائها غائظه
فقال ابن القيم: "والاستشهاد به على تعدد الخبر وهم" ولم يتعرض إلى ذكر من استشهد به على ذلك من النحاة.
কেবল ধীরস্থির ও চিন্তাশীল ব্যক্তিই এটি অনুভব করতে পারেন; আমি তাঁর আপত্তি ও সমালোচনার কিছু নমুনা উল্লেখ করব।
- তিনি ইবন মালিকের সেই বর্ণনার ওপর আপত্তি জানিয়েছেন যেখানে তিনি বিভ্রান্তির আশঙ্কা না থাকলে 'আ’তা' পরিচ্ছেদের দ্বিতীয় কর্মকে (মাফ'উল) নায়েবে ফায়িল করা এবং প্রথমটিকে নসব অবস্থায় রেখে দেওয়ার বৈধতার ওপর ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি এ বিষয়ে বলেছেন: "এটি ঐকমত্যের বিষয় নয় যেমনটি লেখক দাবি করেছেন; বরং ব্যাকরণবিদদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা এটিকে নিঃশর্তভাবে নিষিদ্ধ করেছেন, আবার কেউ কেউ একে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরাহ) ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছেন, নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (মা’রিফাহ) ক্ষেত্রে নয়।"
- অনুরূপভাবে, তিনি ইবন মালিকের এই বক্তব্যেরও প্রতিবাদ করেছেন যে, 'যন্না' ও এর সমজাতীয় ক্রিয়াগুলোর উভয় কর্মকে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে বিলুপ্ত করা জায়েয নয়।
তিনি বলেছেন: "সঠিক মত হলো এতে উভয় কর্মকে বিলুপ্ত করা জায়েয—যা লেখকের মতের বিপরীত, আর এর উদাহরণ হলো:
... ।"
- এছাড়া তিনি 'কাদা' ক্রিয়া থেকে ইসমে ফায়িল সাব্যস্ত করার বিষয়েও তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: "'কাদা' থেকে এর (অর্থাৎ ইসমে ফায়িল) ব্যবহার প্রমাণিত নয়।"
আরও এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে তিনি তাঁর ওপর আপত্তি করেছেন, যা আমি ব্যাখ্যার নির্দিষ্ট স্থানে উল্লেখ করেছি।
- ইবনুল কায়্যিম ইব্রাহিম ইবনুন নাযিমের ভুলের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন, যখন তিনি এমন একটি কাব্য পঙক্তি পেশ করেছিলেন যার সম্পর্কে তিনি দাবি করেছিলেন যে সেখানে খবর (বিধেয়) একাধিক হয়েছে, আর কবির সেই কথাটি হলো:
আপনার দুই হাত; একটি হাত যার কল্যাণ প্রত্যাশা করা হয়, আর অন্যটি শত্রুদের জন্য ক্ষোভের কারণ।
ইবনুল কায়্যিম বলেন: "খবর একাধিক হওয়ার স্বপক্ষে এটি দলিল হিসেবে পেশ করা একটি ভুল।" তবে তিনি ঐসব ব্যাকরণবিদদের নাম উল্লেখ করেননি যারা এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।