(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أساليب بلاغية القسم: البلاغة
الكتاب: أساليب بلاغية، الفصاحة - البلاغة - المعاني
المؤلف: أحمد مطلوب أحمد الناصري الصيادي الرفاعي
الناشر: وكالة المطبوعات - الكويت
الطبعة: الأولى، 1980 م
عدد الصفحات: 303
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 شوّال 1436
অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শৈলীসমূহ বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র
গ্রন্থ: অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শৈলীসমূহ, প্রাঞ্জলতা - অলঙ্কারশাস্ত্র - অর্থবিজ্ঞান
গ্রন্থকার: আহমদ মাতলুব আহমদ আন-নাসিরি আস-সাইয়াদি আর-রিফায়ি
প্রকাশক: ওকালাতুল মাতবুআত - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাওয়াল ১৪৩৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةبسم الله الرّحمن الرّحيم هذه محاضرات فى علم المعانى أريد بها أن تكمل ما بدأناه فى «فنون بلاغية» وتقدم صورة صادقة للبلاغة العربية وتطور موضوعاتها. وهى محاضرات أخذت من القديم خطوطها واعتمدت على السابقين فى فصولها، ولم ترجع إلى ما أثير فى هذه الأيام، لأن الهدف ليس تجديد البلاغة وإنما تقديم ما عند القدماء بأسلوب يجمع بين عباراتهم وينسّق آراءهم، لتكون منطلقا إلى التجديد.
وقد اقتضى المقرر الذى ينبغى أن يلم به طالب اللغة العربية فى مرحلة دراسته الجامعية الأولى أن يكون لأهم أساليب البلاغة نصيب فى هذه المحاضرات التى انقسمت إلى قسمين:
الأول: الفصاحة والبلاغة، وهى مقدمة ينبغى أن يعرفها الدارس لأنّها الأساس الذى ينطلق منها إلى أساليب البلاغة وفنونها، بل هى الغاية التى يصل إليها حينما ينهى تطوافه فى الموضوعات التى وضعت لتنير الطريق له فى دراسة الأدب.
الثانى: علم المعانى، الذى كان أحد علوم البلاغة العربية حينما قسمها السكاكى إلى البيان والمعانى والمحسنات اللفظية والمعنوية أى البديع.
وكان العرب قبل ذلك قد درسوا هذا العلم فى كتب النحو، ولعل كتاب سيبويه أصدق ما وصل إلينا وأقربه إلى ذوق العربية، لأنه عنى بالأساليب إلى جانب عنايته بالقواعد والأصول. وقد سمينا هذا القسم «أساليب
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এগুলো ইলমে মা‘আনী বা অর্থ-বিজ্ঞানের ওপর কিছু বক্তৃতা, যার মাধ্যমে আমি 'ফুনুন বালাগিয়া' (অলংকার কলা) গ্রন্থে যা শুরু করেছিলাম তা সম্পন্ন করতে চেয়েছি এবং আরবি অলংকারশাস্ত্র ও এর বিষয়বস্তুর বিবর্তনের একটি সঠিক চিত্র উপস্থাপন করতে চেয়েছি। এই বক্তৃতাগুলো প্রাচীন পণ্ডিতদের থেকে এর রূপরেখা গ্রহণ করেছে এবং এর অধ্যায়গুলোতে পূর্বসূরিদের ওপর নির্ভর করেছে; বর্তমান সময়ে যা কিছু উত্থাপিত হয়েছে সেদিকে এটি ফিরে তাকায়নি। কারণ, লক্ষ্য অলংকারশাস্ত্রের সংস্কার বা নবায়ন নয়, বরং প্রাচীনদের জ্ঞানকে এমন এক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা যা তাদের ভাষ্যসমূহকে একত্রিত করে এবং তাদের মতামতগুলোকে সুবিন্যস্ত করে, যাতে তা সংস্কারের একটি সূচনা হতে পারে।
স্নাতক পর্যায়ের প্রথম স্তরে একজন আরবি ভাষার শিক্ষার্থীর যা কিছু জানা প্রয়োজন, সেই পাঠ্যক্রমের দাবি অনুযায়ী অলংকারশাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ শৈলীসমূহকে এই বক্তৃতাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দুটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথম: ফাসাহাত (বাকপটুতা) ও বালাগাত (অলংকারিতা)। এটি এমন এক ভূমিকা যা শিক্ষার্থীর জানা আবশ্যক, কারণ এটিই সেই ভিত্তি যেখান থেকে সে অলংকারশাস্ত্রের শৈলী ও শিল্পকলার দিকে ধাবিত হয়। বরং এটিই সেই চরম লক্ষ্য যেখানে সে পৌঁছায় যখন সে সাহিত্য চর্চার পথকে আলোকিত করার জন্য নির্ধারিত বিষয়গুলোর পরিক্রমা শেষ করে।
দ্বিতীয়: ইলমে মা‘আনী, যা আরবি অলংকারশাস্ত্রের অন্যতম শাখা ছিল যখন সাক্কাকি একে ইলমে বয়ান, ইলমে মা‘আনী এবং শাব্দিক ও অর্থগত সৌন্দর্য অর্থাৎ ইলমে বাদী‘—এই ভাগে বিভক্ত করেছিলেন।
এর পূর্বে আরবরা ব্যাকরণ শাস্ত্রের বইগুলোতে এই জ্ঞানটি অধ্যয়ন করত। সম্ভবত সিবাওয়াইহ-এর কিতাবটি আমাদের কাছে পৌঁছানো সবচেয়ে সঠিক এবং আরবি রুচির সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রন্থ, কারণ এটি নিয়ম-কানুন ও মূলনীতির পাশাপাশি প্রকাশভঙ্গি বা শৈলীর প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছে। আমরা এই অংশের নামকরণ করেছি 'আসালিব' (শৈলীসমূহ)
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بلاغية» لأنه يتصل بأهم وسائل التعبير وصياغة الكلام. وليس أدل على ذلك من أنّ المتحدث أو الأديب لا ينطلق فى تصوير نفسه وعرض أفكاره إلّا من خلالها. فالخبر والإنشاء، والتعريف والتنكير، والذكر والحذف، والتقديم والتأخير، والقصر، والفصل والوصل، والإيجاز والإطناب والمساواة، وخروج الكلام على مقتضى الظاهر- عمدة الكلام وزاد المنشئين.
والدرس النحوى أولى بهذه الموضوعات لولا انصراف النحاة إلى العناية بالإعراب والبناء، والعوامل والتقديرات مما أبعد النحو عن هدفه وأحاله قواعد لا روح فيها. وسنظل نؤمن بأن هذه الدراسة من البلاغة حتى تعود إلى النحو أصالته وحتى نجد أساتذة النحو يغيّرون طرق تدريسه ويعنون بالأساليب البلاغية كعنايتهم بالقواعد والإعراب.
إنّ دراسة الأساليب والوقوف عندها تفتح السبيل أمام الأديب مادام يكتب باللغة العربية، وهى لغة عريقة تشعبت
فنون التعبير فيها وأصبحت طيعة لمن تعمق فيها وفهم أسرارها، ولن يكون المنشئ أديبا إذا نأى عن لغته وضرب عن أساليبها صفحا، وإنّه لمن أعجب العجب إذا لم ير فى الخبر والإنشاء، والتقديم والتأخير، والحذف والذكر، والإيجاز والإطناب وغيرها- فائدة وهى أصل الكلام وعمدة التعبير. ولن يغنى ما تقدّمه الكتب المترجمة والأساليب الغربية عما تتسم به لغة الضاد، وإن كانت تضيف أبعادا جديدة وتفتح آفاقا واسعة. وستبقى الأساليب البلاغية التى عرضت لها هذه المحاضرات خالدة ما دامت اللغة العربية حية فى العقول ونابضة فى القلوب، ولن يقدر على إنكارها من سولت له نفسه وظن أنّه سبق العصر وتخطّى الزمان.
لقد سار البحث فى هذه المحاضرات كما سار فى «فنون بلاغية» ويتجلى ذلك فى أمرين:
الأول: الوقوف على تعريفات القدماء وتقسيماتهم وآرائهم.
অলঙ্কারশাস্ত্রীয় হিসেবে, কারণ এটি ভাবপ্রকাশের মাধ্যম ও বাক্য গঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের সাথে সম্পৃক্ত। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে যে, বক্তা বা সাহিত্যিক তাঁর নিজের চিত্রায়ণ ও চিন্তা প্রকাশের ক্ষেত্রে এগুলোকেই একমাত্র অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেন। খবর (সংবাদমূলক বাক্য) ও ইনশা (উদ্দেশ্যমূলক বাক্য), নির্দিষ্টকরণ ও অনির্দিষ্টকরণ, উল্লেখ ও বিলোপ, অগ্রায়ন ও পশ্চাদায়ন, সীমাবদ্ধকরণ, বিচ্ছেদ ও সংযোগ, সংক্ষিপ্তকরণ, বিশদ বর্ণনা ও সমতা, এবং বাহ্যিক চাহিদার বিপরীতে বাক্যের বহিঃপ্রকাশ—এগুলোই হলো বক্তব্যের মূল স্তম্ভ এবং রচয়িতাদের পাথেয়।
ব্যাকরণিক পাঠ এই বিষয়গুলোর জন্য অধিক উপযুক্ত ছিল, যদি না ব্যাকরণবিদগণ ই’রাব (কারক বিভক্তি) ও বিনা (অপরিবর্তনীয়তা), আমেল (প্রভাবক) ও তাকদির (উহ্য বিষয়)-এর গবেষণায় অতিমাত্রায় নিমগ্ন হতেন; যা ব্যাকরণকে তার মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং এটিকে প্রাণহীন কিছু নিয়মে পরিণত করেছে। আমরা বিশ্বাস করে যাব যে, এই শিক্ষা অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, যতক্ষণ না ব্যাকরণ তার স্বকীয়তা ফিরে পায় এবং যতক্ষণ না আমরা ব্যাকরণবিদদের তাদের পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তন করতে এবং ব্যাকরণগত নিয়ম ও ই’রাবের মতো আলঙ্কারিক শৈলীগুলোর প্রতিও যত্নশীল হতে দেখি।
শৈলীসমূহ অধ্যয়ন করা এবং সেগুলোর গভীরে প্রবেশ করা একজন সাহিত্যিকের সামনে পথ উন্মোচন করে দেয় যতক্ষণ তিনি আরবি ভাষায় লিখছেন। এটি একটি প্রাচীন ভাষা যার প্রকাশভঙ্গি ও শিল্পকলা বহুমুখী এবং এটি তাদের জন্য অত্যন্ত অনুগত হয়ে যায় যারা এর গভীরে প্রবেশ করে এবং এর রহস্যসমূহ অনুধাবন করে। কোনো রচয়িতা কখনোই সাহিত্যিক হতে পারবেন না যদি তিনি নিজের ভাষা থেকে দূরে সরে যান এবং এর শৈলীসমূহকে উপেক্ষা করেন। এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হবে যদি কেউ খবর ও ইনশা, অগ্রায়ন ও পশ্চাদায়ন, বিলোপ ও উল্লেখ, সংক্ষিপ্তকরণ ও বিশদ বর্ণনা এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কোনো উপকারিতা খুঁজে না পান, অথচ এগুলোই হলো বক্তব্যের মূল ভিত্তি ও ভাবপ্রকাশের প্রধান স্তম্ভ। অনূদিত বইপত্র ও পশ্চিমা শৈলীসমূহ যা প্রদান করে, তা কখনোই ‘দাদ’-এর ভাষার (আরবি ভাষা) স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের বিকল্প হতে পারবে না, যদিও সেগুলো নতুন মাত্রা যোগ করে এবং বিস্তৃত দিগন্ত উন্মোচন করে। এই বক্তৃতাগুলোতে উপস্থাপিত আলঙ্কারিক শৈলীগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত অমর থাকবে যতক্ষণ আরবি ভাষা মগজে জীবিত থাকবে এবং হৃদয়ে স্পন্দিত হবে। আর যার কুপ্রবৃত্তি তাকে প্ররোচিত করেছে এবং যে নিজেকে যুগজয়ী ও সময়ের ঊর্ধ্বে মনে করেছে, সে কখনোই এগুলোকে অস্বীকার করতে সক্ষম হবে না।
এই বক্তৃতাগুলোর গবেষণা ‘ফুনুনুন বালাগিয়্যাহ’ (অলঙ্কারশাস্ত্রের শিল্পকলা)-এর মতোই পরিচালিত হয়েছে এবং তা দুটি বিষয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
প্রথমত: প্রাচীন পণ্ডিতদের সংজ্ঞা, শ্রেণিবিন্যাস ও মতামতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অবগত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الثانى: الأخذ بالأمثلة التى ذكروها لئلا تتجرد القواعد والأصول من روحها التى ارتبطت بها حينما فكّر العرب الأوائل بضبط لغتهم وحفظها من الضياع.
ولذلك لم يكن للجديد نصيب فيها، لأنّ فى ذلك ابتعادا عن منهج دراسة القديم وتجنيا على الأدب الحديث الذى خطا خطوات واسعة وكانت له مناهج درس جديرة بالتأمل العميق والنظر السليم والبحث الرصين. ولن يقدر على بحثه إلّا من وطن نفسه وأخلص النية، ووقف على القديم وأساليبه وعرف الحديث وفنونه، وليس ذلك بيسير.
هذه ملامح محاضرات «أساليب بلاغية» جاءت كما بناها القدماء ليعرف الجيل الجديد ما كان من هذا العلم الذى لم ينضج ولم يحترق، ولتكون مقدمة لمن يريد أن يخطو باتزان فى طريق التجديد الذى من أول متطلباته قتل القديم درسا.
ومن الله العون والتوفيق.
الدكتور أحمد مطلوب أستاذ البلاغة والنقد فى كلية الآداب جامعة بغداد
দ্বিতীয়ত: তাঁরা যে সকল উদাহরণ উল্লেখ করেছেন তা গ্রহণ করা, যাতে নিয়মাবলি ও মূলনীতিসমূহ সেই প্রাণসত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে যার সাথে এগুলো যুক্ত হয়েছিল যখন আদি আরবরা তাদের ভাষাকে সুসংবদ্ধ করার এবং একে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার কথা চিন্তা করেছিলেন।
আর একারণেই এতে নতুনের কোনো অংশ ছিল না, কারণ তা ছিল প্রাচীন অধ্যয়ন পদ্ধতি থেকে বিচ্যুতি এবং আধুনিক সাহিত্যের প্রতি অবিচার—যে সাহিত্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে এবং যার এমন কিছু পাঠদান পদ্ধতি রয়েছে যা গভীর অভিনিবেশ, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সুদৃঢ় গবেষণার দাবি রাখে। আর এর গবেষণায় কেবল তিনিই সক্ষম হবেন যিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন, নিয়তকে বিশুদ্ধ করেছেন, প্রাচীন ও এর শৈলীসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং আধুনিক ও এর শিল্পকলা সম্পর্কে জেনেছেন; আর এটি কোনো সহজ কাজ নয়।
এগুলো হলো ‘আসালিবু বালাঝিয়্যাহ’ (অলঙ্কারশাস্ত্রীয় শৈলীসমূহ) শীর্ষক বক্তৃতামালার রূপরেখা, যা প্রাচীনদের নির্মিত কাঠামোর আলোকেই উপস্থাপিত হয়েছে; যেন নতুন প্রজন্ম এই শাস্ত্র সম্পর্কে জানতে পারে যা পূর্ণ পরিপক্বতা লাভ করেনি আবার একেবারে বিলুপ্তও হয়ে যায়নি। আর এটি যেন তাদের জন্য একটি ভূমিকা স্বরূপ হয় যারা সংস্কারের পথে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে চায়, যার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রাচীনকে গভীর অধ্যয়নের মাধ্যমে আয়ত্ত করা।
আর আল্লাহর নিকট থেকেই সাহায্য ও তাওফিক কাম্য।
ডক্টর আহমদ মাতলুব, অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনা সাহিত্যের অধ্যাপক, কলা অনুষদ, বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়।
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الكتاب الأول الفصاحة والبلاغة
প্রথম গ্রন্থ: বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول الفصاحة
فى اللغة:لفظة الفصاحة مما شاع وعرفه العرب بمفهومه اللغوى قبل أن تأخذ الألفاظ دلالتها الفنية. ونجد لها فى المعاجم دلالتين:
الأولى: لغوية تقوم على المعنى الأول الذى وضعه العرب واستعملوه قبل أن تظهر علوم البلاغة والنقد. ففى لسان العرب: «يوم مفصح: لا غيم فيه ولا قر. أفصح اللبن: ذهب اللبأ عنه. فصح اللبن: إذا أخذت عنه الرغوة. قال فضلة السلمى:
رأوه فاز دروه وهو خرق
… وينفع أهله الرجل القبيح
فلم يخشوا مصالته عليهم
… وتحت الرغوة اللبن الفصيح
أفصحت الشاة والناقة: خلص لبنها. أفصح الصبح: بدا ضوؤه واستبان، وكل ما وضح فقد أفصح، وكل واضح مفصح. ويقال: قد فصحك الصبح، أى: بان لك وغلبك ضوؤه. فصحه الصبح: هجم عليه»
الثانية: دلالة تقرب من المعنى الاصطلاحى الذى تعارف عليه البلاغيون، ففى اللسان: «الفصاحة: البيان. فصح الرجل فصاحة فهو فصيح من قوم فصحاء وفصاح وفصح، وامرأة فصيحة من نسوة فصاح وفصائح. رجل فصيح وكلام فصيح، أى: بليغ. لسان فصيح، أى: طلق. وقد جاء فى الشعر فى وصف العجم: أفصح، يريد به بيان القول وإن كان بغير العربية، كقول أبى النجم:
أعجم فى آذانها فصيحا
يعنى: صوت الحمار أنه أعجم، وهو فى آذان الأتن فصيح بين.
প্রথম অধ্যায়: ফাসাহাত (বাকপটুতা)আভিধানিক অর্থে:ফাসাহাত শব্দটি এমন একটি শব্দ যা পরিভাষা হিসেবে নির্দিষ্ট শিল্পতাত্ত্বিক অর্থ পরিগ্রহ করার পূর্বেই আরবরা তাদের আভিধানিক ধারণায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করত এবং একে জানত। অভিধানসমূহে আমরা এর জন্য দুটি অর্থ খুঁজে পাই:
প্রথমটি: আভিধানিক, যা সেই আদি অর্থের ওপর ভিত্তি করে গঠিত যা আরবরা বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও সমালোচনা সাহিত্য উদ্ভূত হওয়ার পূর্বেই নির্ধারণ করেছিল এবং ব্যবহার করত। লিসানুল আরবে বলা হয়েছে: «পরিচ্ছন্ন দিন: যাতে কোনো মেঘ নেই এবং কোনো কনকনে শীত নেই। দুধ স্বচ্ছ হয়েছে: যখন তা থেকে শালদুধ চলে যায়। দুধ পরিচ্ছন্ন হয়েছে: যখন তা থেকে ফেনা সরিয়ে নেওয়া হয়। ফাদলাহ আস-সুলামী বলেছেন:
তারা তাকে দেখে তুচ্ছজ্ঞান করেছিল, অথচ সে ছিল অত্যন্ত সাহসী
… আর কুৎসিত ব্যক্তিও তার স্বজনদের উপকারে আসে।
তারা তার বীরত্বকে ভয় পায়নি
… অথচ ফেনার নিচেই রয়েছে স্বচ্ছ পরিষ্কার দুধ।
ভেড়া ও উষ্ট্রী স্বচ্ছ দুধ দিয়েছে: যখন তাদের দুধ খাঁটি ও পরিষ্কার হয়েছে। ভোর স্পষ্ট হয়েছে: যখন তার আলো প্রকাশ পেয়েছে এবং তা সুস্পষ্ট হয়েছে। আর যা কিছু স্পষ্ট হয়, তাই ফাসাহাতপ্রাপ্ত। এবং প্রতিটি স্পষ্ট বিষয়ই ‘মুফসিহ’। বলা হয়: সকাল আপনার দৃষ্টিতে ধরা দিয়েছে, অর্থাৎ: আপনার সামনে স্পষ্ট হয়েছে এবং এর আলো আপনার দৃষ্টির ওপর প্রবল হয়েছে। সকাল তার ওপর চড়াও হয়েছে: অর্থাৎ হঠাৎ করে তার ওপর আপতিত হয়েছে।»
দ্বিতীয়টি: এমন এক অর্থ যা আলঙ্কারিকদের নিকট পরিচিত পারিভাষিক অর্থের নিকটবর্তী। লিসান গ্রন্থে বলা হয়েছে: «ফাসাহাত: তথা সুস্পষ্ট বর্ণনা। কোনো ব্যক্তি বাকপটু হয়েছে, তখন সে ‘ফাসিহ’। এর বহুবচন হলো ‘ফুসাহা’, ‘ফিসাহ’ এবং ‘ফুসাহ’। আর নারীর ক্ষেত্রে ‘ফাসিহাহ’, যার বহুবচন ‘ফিসাহ’ এবং ‘ফাসাইহ’। বাকপটু ব্যক্তি এবং প্রাঞ্জল কথা, অর্থাৎ: যা অত্যন্ত বলিষ্ঠ বা অলঙ্কারপূর্ণ। ক্ষিপ্র ও সাবলীল জিহ্বা। অনারবদের বর্ণনায় কবিতায় ‘আফসাহা’ শব্দটি এসেছে, যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কথার স্পষ্টতা যদিও তা আরবি ভিন্ন অন্য ভাষায় হয়। যেমন আবু নাজমের উক্তি:
তার কানে অস্পষ্ট কিন্তু তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
অর্থাৎ: গাধার ডাক যদিও মানুষের কানে অস্পষ্ট, কিন্তু মাদি গাধাদের কানে তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও বোধগম্য।»
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وفصح الأعجمى فصاحة: تكلم بالعربية وفهم عنه. وقيل: جادت لغته حتى لا يلحن. أفصح كلامه إفصاحا وأفصح تكلم بالفصاحة، وكذلك الصبى يقال: أفصح الصبى فى منطقه إفصاحا إذا فهمت ما يقول فى أول ما يتكلم.
أفصح الأغتم: إذا فهمت كلامه بعد غتمته. أفصح عن الشئ إفصاحا إذا بينه وكشفه. فصح الرجل وتفصح إذا كان عربى اللسان فازداد فصاحة.
وقيل: تفصح فى كلامه وتفاصح: تكلف الفصاحة. يقال: ما كان فصيحا ولقد فصح فصاحة وهو البين فى اللسان والبلاغة. التفصح استعمال الفصاحة، وقيل: التشبه بالفصحاء.
وقيل: جميع الحيوان ضربان: أعجم وفصيح، فالفصيح كل ناطق، والأعجم كل ما لا ينطق.
الفصيح فى اللغة: المنطلق اللسان فى القول الذى يعرف جيد الكلام من رديئه. أفصح الكلام وأفصح به وأفصح
عن الأمر. الفصيح فى كلام العامة: المعرب».
وفى هذا يتضح معنى البيان والظهور فى كلمة «الفصاحة»، وليس هذا المعنى بعيدا عن الدلالة الأولى ولا عن المعنى الذى اصطلح عليه علماء البلاغة وهو رقة الألفاظ وجمالها، وبيان التعبير ووضوحه.
فى القرآن والحديث:ولو مضينا نبحث عن لفظة «الفصاحة» فى تراثنا لرأيناها فى قوله تعالى حكاية عن نبيه موسى- عليه السلام: «وَأَخِي هارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِساناً» (1) وفى الحديث النبوى الشريف: «أنا أفصح العرب بيد أنّى من قريش» (2)، و «غفر له بعدد كل فصيح وأعجم». وفسّره أصحاب
--------------------------------------------
অনারব ব্যক্তি প্রাঞ্জল হয়েছে: সে আরবিতে কথা বলেছে এবং তার কথা বোঝা গেছে। বলা হয়েছে: তার ভাষা উন্নত হয়েছে যাতে সে আর ভুল না করে। সে তার কথাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে এবং সে প্রাঞ্জলতার সাথে কথা বলেছে, তেমনি শিশুর ক্ষেত্রেও বলা হয়: শিশুটি তার কথা বলায় প্রাঞ্জল হয়েছে যখন সে কথা বলা শুরু করার প্রথম দিকে যা বলে তা বোঝা যায়।
অস্পষ্টভাষী ব্যক্তি প্রাঞ্জল হয়েছে: যখন তার অস্পষ্টতার পর তার কথা বোঝা যায়। কোন বিষয় সম্পর্কে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা যখন সে তা বর্ণনা করে এবং উন্মোচিত করে। ব্যক্তিটি প্রাঞ্জল হয়েছে এবং প্রাঞ্জলতা অবলম্বন করেছে যখন সে আরবি ভাষী ছিল এবং তার প্রাঞ্জলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এবং বলা হয়েছে: সে তার কথায় প্রাঞ্জলতা দেখিয়েছে এবং প্রাঞ্জল হওয়ার ভান করেছে: অর্থাৎ সে কষ্ট করে প্রাঞ্জলতা অর্জন করার চেষ্টা করেছে। বলা হয়: সে প্রাঞ্জল ছিল না এবং সে প্রাঞ্জলতা অর্জন করেছে, আর সে ভাষায় এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে স্পষ্ট। প্রাঞ্জলতা প্রদর্শন হলো প্রাঞ্জলতার ব্যবহার, আবার বলা হয়েছে: প্রাঞ্জল ব্যক্তিদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা।
এবং বলা হয়েছে: সকল প্রাণী দুই প্রকার: নির্বাক এবং বাকপটু, সুতরাং বাকপটু হলো প্রত্যেক কথা বলতে সক্ষম প্রাণী, আর নির্বাক হলো যা কথা বলে না।
অভিধানে প্রাঞ্জল হলো: কথা বলায় সাবলীল জিহ্বা যা ভালো কথাকে মন্দ কথা থেকে পৃথক করতে জানে। সে কথাকে প্রাঞ্জল করেছে এবং এর মাধ্যমে প্রাঞ্জলভাবে ব্যক্ত করেছে এবং বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। সাধারণ মানুষের কথায় 'ফাসিহ' বা প্রাঞ্জল হলো: যা ব্যাকরণসম্মত।
আর এর মাধ্যমে 'ফাসাহাত' (প্রাঞ্জলতা) শব্দের মধ্যে বর্ণনা ও স্পষ্টতার অর্থ ফুটে ওঠে, এবং এই অর্থটি তার প্রাথমিক আভিধানিক অর্থ থেকে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ যে পারিভাষিক অর্থের ওপর একমত হয়েছেন তা থেকে দূরে নয়, যা হলো শব্দের কোমলতা ও সৌন্দর্য, এবং অভিব্যক্তির বর্ণনা ও স্পষ্টতা।
কুরআন ও হাদিসে:আর আমরা যদি আমাদের ঐতিহ্যে 'প্রাঞ্জলতা' শব্দটি অনুসন্ধান করতে যাই, তবে আমরা তা মহান আল্লাহর বাণীতে দেখতে পাই যা তিনি তাঁর নবী মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: "আর আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে বেশি প্রাঞ্জলভাষী।" (১) এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "আমি আরবদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জলভাষী, যদিও আমি কুরাইশ বংশের।" (২), এবং "প্রত্যেক বাকপটু ও নির্বাকের সমপরিমাণ তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।" এবং এর ব্যাখ্যা করেছেন এর প্রবক্তাগণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الحديث بأن النبى محمدا- صلى الله عليه وسلم أراد بالفصيح بنى آدم، وبالأعجم البهائم. (1)
ولا تخرج لفظة «الفصاحة» فى القرآن الكريم والحديث النبوى الشريف عن معناها اللغوى وهو الظهور والبيان. وحينما دخلت هذه اللفظة الدراسات البلاغية والنقدية ارتبطت بلفظة البلاغة وصارت صنوها، وأصبح رجال البلاغة الأوائل لا يفرقون بينهما، بل لم يروا بأسا من أن يستعملوا إحداهما مكان الأخرى كما فعل أبو عثمان عمرو بن بحر
الجاحظ (هـ) الذى لم يضع حدّا فاصلا بين اللفظتين وإنما أجراهما بمعنى واحد فى مواضع كثيرة من كتابه «البيان والتبيين».
الجاحظ:
عرف الجاحظ البلاغة بقوله: «وقال بعضهم- وهو أحسن ما اجتبيناه ودوناه-: لا يكون الكلام يستحق اسم البلاغة حتى يسابق معناه لفظه، ولفظه معناه، فلا يكون لفظه إلى سمعك أسبق من معناه إلى قلبك» (2).
وفى هذا التعريف التقاء الفصاحة بالبلاغة، والنص على امتزاجهما.
والفصاحة- عنده- واسعة المعنى، ولذلك نراه يتحدث عنها وعن الألفاظ كثيرا، وتعتبر إشاراته فى كتابه «البيان والتبيين» من أوسع ما وصل إلينا من عهد التدوين الأول. ويرى أنّ الألفاظ جديرة بالرعاية والاهتمام، يقول: «و
قد يستخف الناس ألفاظا ويستعملونها وغيرها أحق بذلك منها، ألا ترى أنّ الله تبارك وتعالى لم يذكر فى القرآن الجوع إلّا فى موضع العقاب أو فى موضع الفقر المدقع والعجز الظاهر. والناس لا يذكرون السّغب ويذكرون الجوع فى حال القدرة والسلامة، وكذلك ذكر المطر، لأنك لا تجد القرآن يلفظ به إلّا فى موضع الانتقام. والعامة وأكثر الخاصة لا يفصلون
--------------------------------------------
হাদিস অনুযায়ী নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'ফাসিহ' (স্পষ্টভাষী) দ্বারা আদম সন্তানকে এবং 'আ'জাম' (অস্পষ্টভাষী) দ্বারা চতুষ্পদ জন্তুদের বুঝিয়েছেন। (১)
পবিত্র কুরআন ও শরিফ হাদিসে 'ফাসাহাত' (বাকপটুতা/স্পষ্টতা) শব্দটি তার আভিধানিক অর্থ—অর্থাৎ প্রকাশ ও স্পষ্টতা—থেকে বেরিয়ে যায়নি। যখন এই শব্দটি অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনা সাহিত্যে প্রবেশ করল, তখন এটি 'বালাগাত' (অলঙ্কারিতা) শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে তার সমার্থক হয়ে উঠল। ফলে প্রাথমিক যুগের অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এই দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেননা; বরং তারা একটির স্থলে অন্যটি ব্যবহার করতে কোনো দ্বিধা বোধ করতেন না। যেমনটি করেছেন আবু উসমান আমর ইবন বাহর আল-জাহিজ (রহ.), যিনি এই শব্দদ্বয়ের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সীমারেখা টানেননি, বরং তাঁর 'আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন' গ্রন্থের অনেক স্থানে এই দুটিকে একই অর্থে ব্যবহার করেছেন।
আল-জাহিজ:
আল-জাহিজ বালাগাতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: «কেউ কেউ বলেছেন—এবং এটিই আমাদের চয়ন করা ও লিপিবদ্ধ করা সবচেয়ে চমৎকার কথা—কোনো কথা ততক্ষণ পর্যন্ত বালাগাত নামের যোগ্য হয় না, যতক্ষণ না তার অর্থ তার শব্দের আগে চলে যায় এবং তার শব্দ তার অর্থের আগে চলে যায়; ফলে শব্দগুলো তোমার কানে পৌঁছানোর আগেই যেন তার অর্থ তোমার হৃদয়ে পৌঁছে যায়» (২)।
এই সংজ্ঞায় ফাসাহাত ও বালাগাতের মিলন ঘটেছে এবং তাদের সংমিশ্রণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর নিকট ফাসাহাত শব্দটির অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক, আর তাই আমরা তাঁকে এই বিষয়ে এবং শব্দাবলী নিয়ে প্রচুর আলোচনা করতে দেখি। তাঁর 'আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন' গ্রন্থের সংকেতসমূহ প্রথম যুগের সংকলনকাল থেকে আমাদের নিকট পৌঁছানো সবচেয়ে বিস্তৃত আলোচনার অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি মনে করতেন যে, শব্দাবলী বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য। তিনি বলেন: «এবং
মাঝে মাঝে মানুষ কোনো কোনো শব্দকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং তা ব্যবহার করে, অথচ অন্য শব্দগুলোই ছিল সেটির অধিকতর যোগ্য। আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে 'ক্ষুধা' (জু') শব্দটিকে শাস্তি অথবা চরম দারিদ্র্য ও প্রকাশ্য অক্ষমতার ক্ষেত্র ছাড়া উল্লেখ করেননি? অথচ মানুষ সচ্ছলতা ও সুস্থতার অবস্থায় 'সাগাব' (ক্ষুধা) শব্দটি ব্যবহার না করে 'ক্ষুধা' (জু') শব্দটি ব্যবহার করে। একইভাবে 'বৃষ্টি' (মাতার) শব্দের উল্লেখের ক্ষেত্রেও দেখা যায়; কারণ আপনি কুরআনে এই শব্দটি প্রতিশোধ বা শাস্তির ক্ষেত্র ছাড়া খুঁজে পাবেন না। অথচ সাধারণ মানুষ এবং অধিকাংশ বিশেষ ব্যক্তিরা এর মধ্যে পার্থক্য করেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بين ذكر المطر وبين ذكر الغيت، ولفظ القرآن الذى عليه نزل أنه إذا ذكر الأبصار لم يقل الأسماع، وإذا ذكر سبع سماوات لم يقل الأرضين. ألا تراه لا يجمع الأرض أرضين ولا السمع أسماعا. والجارى على أفواه العامة غير ذلك لا يتفقدون من الألفاظ ما هو أحق بالذكر وأولى بالاستعمال» (1).
وتكلم على تنافر الحروف فقال: «فأما فى اقتران الحروف فان الجيم لا تقارن الظاء ولا القاف ولا الطاء ولا الغين بتقديم ولا تأخير، والزاى لا تقارن الظاء ولا السين ولا الضاد ولا الذال بتقديم ولا بتأخير. وهذا باب كبير وقد يكتفى بذكر القليل حتى يستدل به على الغاية التى إليها يجرى» (2)
وتحدث عن تنافر الألفاظ فقال: «ومن ألفاظ العرب ألفاظ تتنافر وإن كانت مجموعة فى بيت شعر لم يستطع المنشد إنشادها إلّا ببعض الاستكراه فمن ذلك قول الشاعر:
وقبر حرب بمكان قفر
… وليس قرب قبر حرب قبر
ولما رأى من لا علم له أنّ أحدا لا يستطيع أن ينشد هذا البيت ثلاث مرات فى نسق واحد فلا يتتعتع ولا يتلجلج، وقيل لهم: إنّ ذلك إنما اعتراه إذ كان من أشعار الجن، صدقوا بذلك.
ومن ذلك قول ابن يسير:
لم يضرها والحمد لله شئ
… وانثنت نحو عزف نفس ذهول
فتفقّد النصف الأخير من هذا البيت فانك ستجد بعض ألفاظه يتبرأ من بعض» (3).
--------------------------------------------
বৃষ্টির সাধারণ উল্লেখ এবং সাহায্যকারী বৃষ্টির উল্লেখের মধ্যকার পার্থক্য, আর কুরআনের শব্দাবলী সেভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে যে, যখন চক্ষুসমূহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তখন শ্রবণেন্দ্রিয়সমূহের কথা বলা হয়নি, এবং যখন সাত আসমানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তখন জমিনসমূহের কথা বলা হয়নি। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, কুরআন ‘জমিন’ শব্দটিকে বহুবচনে ‘জমিনসমূহ’ হিসেবে এবং ‘শ্রবণ’ শব্দটিকে বহুবচনে ‘শ্রবণসমূহ’ হিসেবে ব্যবহার করে না। অথচ সাধারণ মানুষের মুখে এর বিপরীতটিই প্রচলিত; তারা কোন শব্দগুলো উল্লেখের অধিক যোগ্য এবং ব্যবহারের জন্য অধিকতর উত্তম সেদিকে লক্ষ্য রাখে না (১)।
তিনি বর্ণমালার বিপ্রকর্ষ বা শ্রুতিকটুতা সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন: “বর্ণের মিলনের ক্ষেত্রে ‘জীম’ বর্ণটি ‘জা’, ‘কাফ’, ‘ত্ব’ কিংবা ‘গাইন’ বর্ণের সাথে আগে বা পরে যুক্ত হয় না। ‘যা’ বর্ণটি ‘জা’, ‘সীন’, ‘দদ’ কিংবা ‘যাল’ বর্ণের সাথে আগে বা পরে যুক্ত হয় না। এটি একটি বিশাল অধ্যায় এবং সামান্য কিছু আলোচনার মাধ্যমেই সেই গন্তব্যের ইঙ্গিত দেওয়া সম্ভব যেদিকে এটি পরিচালিত হচ্ছে” (২)।
তিনি শব্দের বিপ্রকর্ষ সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন: “আরবদের এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা একে অপরের সাথে শ্রুতিকটুতা তৈরি করে; সেগুলো যদি কোনো কাব্য চরণে একত্রিত হয়, তবে আবৃত্তিকার তা কিছুটা কষ্ট স্বীকার করা ছাড়া আবৃত্তি করতে পারেন না। এর উদাহরণ হলো কবির এই উক্তি:
‘এবং হারব-এর কবর এক জনমানবহীন স্থানে অবস্থিত … আর হারব-এর কবরের নিকটবর্তী কোনো কবর নেই’
যাদের এ বিষয়ে জ্ঞান নেই তারা যখন দেখল যে, কেউ এই পংক্তিটি টানা তিনবার তোতলামি বা জড়তা ছাড়া পাঠ করতে পারছে না, আর তাদের বলা হলো যে—এটি আসলে জিনদের কবিতা থেকে নেওয়া, তখন তারা তা বিশ্বাস করে নিল।
এর আরেকটি উদাহরণ হলো ইবনে ইয়াসির-এর উক্তি:
‘আল্লাহর প্রশংসায় তার কোনো ক্ষতি হয়নি … এবং সে এক বিস্মৃত হৃদয়ের বাজনার দিকে ঝুঁকে পড়ল’
এই কবিতার শেষ অর্ধাংশটি পরীক্ষা করে দেখুন, আপনি দেখতে পাবেন এর কিছু শব্দ অন্য শব্দগুলোকে বর্জন করছে” (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وينبغى أن تكون الألفاظ متماثلة متلائمة كى لا يقع بينها التنافر فتصبح كأولاد علة، يقول: «وأنشدنى أبو العاصى، قال: أنشدنى خلف الأحمر فى هذا المعنى:
وبعض قريض القوم أولاد علة
… يكد لسان الناطق المتحفظ (1)
وقال أبو العاصى: وأنشدنى فى ذلك أبو البيداء الرياحى:
وشعر كبعر الكبش فرّق بينه
… لسان دعىّ فى القريض دخيل
فانه يقول: إذا كان الشعر مستكرها وكانت ألفاظ البيت من الشعر لا يقع بعضها مماثلا لبعض كان بينها من التنافر ما بين أولاد العلّات. وإذا كانت الكلمة ليس موقعها إلى جنب أختها مرضيا موافقا كان على اللسان عند إنشاد ذلك الشعر مؤونة.
قال: وأجود الشعر ما رأيته متلاحم الأجزاء سهل المخارج، فتعلم بذلك أنّه قد أفرغ إفراغا واحدا، وسبك سبكا واحدا، فهو يجرى على اللسان كما يجرى على الدهان.
وأما قوله: «كبعر الكبش» فانما ذهب إلى أنّ بعر الكبش يقع متفرقا غير مؤتلف ولا متجاور، وكذلك حروف الكلام وأجزاء البيت من الشعر تراها متفقة ملسا ولينة المعاطف سهلة، وتراها مختلفة متباينة ومتنافرة مستكرهة تشق على اللسان وتكده، والأخرى تراها سهلة لينة ورطبة مواتية، سلسة النظام خفيفة على اللسان حتى كأنّ البيت بأسره كلمة واحدة، وحتى كأنّ الكلمة بأسرها حرف واحد» (2).
ويرى أنّ اللفظ كما لا ينبغى أن يكون عاميا وساقطا سوقيا، فكذلك لا ينبغى أن يكون غريبا وحشيا إلّا أن يكون المتكلم بدويا أعرابيا، فان
--------------------------------------------
শব্দসমূহ সদৃশ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয় যাতে সেগুলোর মধ্যে কোনো অনৈক্য সৃষ্টি না হয় এবং সেগুলো বৈমাত্রেয় ভাইদের মতো না হয়ে পড়ে। তিনি বলেন: "আমাকে আবুল আসী আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালাফ আল-আহমার এই বিষয়ে আমাকে শুনিয়েছেন:
লোকদের কিছু কবিতা যেন বৈমাত্রেয় ভাইদের মতো
… যা অত্যন্ত সতর্ক বক্তার জিহ্বাকেও ক্লান্ত করে দেয় (১)
আবুল আসী বলেন: এই প্রসঙ্গে আবুল বায়দা আর-রিয়াহি আমাকে শুনিয়েছেন:
এমন কাব্য যা ভেড়ার বিষ্ঠার মতো বিচ্ছিন্ন
… কাব্যের জগতে অনধিকার প্রবেশকারী এক ভণ্ড ব্যক্তির জিহ্বা যা আলাদা করে ফেলেছে
নিশ্চয় তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: যখন কবিতা শ্রুতিকটু হয় এবং কাব্য-পংক্তির শব্দগুলো একে অপরের সদৃশ না হয়, তখন সেগুলোর মধ্যে এমন অনৈক্য থাকে যেমনটি থাকে বৈমাত্রেয় ভাইদের মধ্যে। আর যখন কোনো শব্দ তার পার্শ্ববর্তী শব্দের পাশে সন্তোষজনক ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অবস্থান না করে, তখন সেই কবিতা আবৃত্তি করার সময় জিহ্বার ওপর এক প্রকার বোঝা চেপে বসে।
তিনি বলেন: সর্বোত্তম কবিতা সেটিই যার অংশগুলো সুসংবদ্ধ এবং উচ্চারণ সহজ; যার মাধ্যমে তুমি বুঝতে পারবে যে তা যেন এক ঢালাইয়ে ঢালা হয়েছে এবং একক ছাঁচে গঠন করা হয়েছে। ফলে তা জিহ্বায় এমন সাবলীলভাবে প্রবাহিত হয় যেমনটি তেলের ওপর দিয়ে বয়ে যায়।
আর তার উক্তি "ভেড়ার বিষ্ঠার মতো" দ্বারা তিনি এটাই বুঝিয়েছেন যে, ভেড়ার বিষ্ঠা যেমন বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে থাকে, পরস্পর সংযুক্ত বা সংলগ্ন হয় না; তেমনিভাবে বাক্যের বর্ণসমূহ এবং কবিতার চরণের অংশসমূহ; তুমি সেগুলোকে কখনো সুসংগত, মসৃণ, কোমল ও সহজ দেখতে পাবে। আবার কখনো দেখবে সেগুলো ভিন্ন, বিসদৃশ, অনৈক্যপূর্ণ ও শ্রুতিকটু, যা জিহ্বার জন্য কষ্টকর এবং ক্লান্তিকর। পক্ষান্তরে অন্যগুলো সহজ, কোমল, সিক্ত ও অনুকূল; এর বিন্যাস এতো সাবলীল এবং জিহ্বার জন্য এতো হালকা যে, মনে হয় যেন পুরো চরণটি একটি মাত্র শব্দ এবং পুরো শব্দটি একটি মাত্র বর্ণ (২)।
তিনি মনে করেন যে, শব্দ যেমন হওয়া উচিত নয় অতি সাধারণ, নিম্নমানের বা বাজারু; তেমনি তা অদ্ভুত বা বুনো হওয়াও অনুচিত, যদি না বক্তা স্বয়ং কোনো মরুচারী আরব হন। কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الوحشى من الكلام يفهمه الوحشى من الناس كما يفهم السوقى رطانة السوقى. (1)
لقد اهتم الجاحظ بالألفاظ اهتماما عظيما أولاها عناية كبيرة، وقد دفعه هذا الاهتمام إلى أن يقول: «والمعانى مطروحة فى الطريق يعرفها العجمى والعربى والبدوى والقروى والمدنى، وإنما الشأن فى إقامة الوزن، وتخير
اللفظ وسهولة المخرج، وكثرة الماء، وفى صحة الطبع وجودة السبك، فانما الشعر صناعة وضرب من النسج، وجنس من التصوير» (2).
وظن بعض الباحثين أنّه يميل إلى اللفظ كل الميل، وأنّه لا يرى للمعنى كبير أهمية، والواقع أنّه عنى باللفظ وأعطاه نصيبه من الاهتمام، وشغل بالمعنى والتصوير الأدبى الذى يقول عنه: «فانما الشعر صناعة، وضرب من النسج، وجنس من التصوير»، وهذه نظريته التى شرحها عبد القاهر الجرجانى وسماها «نظرية النظم»، فالجاحظ اهتم بالألفاظ والمعانى والتصوير مع أنّه يروى أنّ بعضهم لا يحفل إلّا بالمعنى وحده كأبى عمرو الشيبانى الذى يرى أنّ المعنى متى كان رائعا حسنا ظل كذلك فى أية عبارة وضع. فالبيتان:
لا تحسبنّ الموت موت البلى
… فانما الموت سؤال الرجال
كلاهما موت ولكنّ ذا
… أفظع من ذاك لذل السؤال
استحسنهما أبو عمرو على حين ليست عليهما مسحة من جمال سوى الوزن.
وعابه الجاحظ ورأى أنّه مسرف فى تقديرهما، وقال: «وأنا رأيت أبا عمرو الشيبانى وقد بلغ من استجادته لهذين البيتين ونحن فى المسجد يوم الجمعة أن كلّف رجلا حتى أحضره دواة وقرطاسا حتى كتبهما له، وأنا أزعم أنّ صاحب هذين البيتين لا يقول شعرا أبدا، ولولا أن أدخل فى الحكم بعض الفتك لزعمت أنّ ابنه لا يقول شعرا أبدا» (3).
--------------------------------------------
অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য কথা কেবল মানুষের মধ্য হতে যারা অস্পষ্টভাষী তারাই বুঝতে পারে, ঠিক যেমন সাধারণ বাজারী মানুষ অন্য বাজারী মানুষের অসংলগ্ন ভাষা বুঝতে পারে। (১)
আল-জাহিজ শব্দের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং একে বিশেষ যত্ন প্রদান করেছেন। এই গুরুত্ববোধই তাকে বলতে প্ররোচিত করেছে: «অর্থ বা ভাব তো রাস্তার মোড়ে মোড়ে পড়ে থাকে; যা অনারব, আরব, বেদুইন, গ্রামবাসী ও শহরবাসী—সবাই জানে। আসল কৃতিত্ব তো ছন্দ রক্ষা করা, উপযুক্ত শব্দ নির্বাচন করা, উচ্চারণের সাবলীলতা, বাচনভঙ্গির স্নিগ্ধতা, স্বভাবজাত শুদ্ধতা এবং বিন্যাসের উৎকর্ষতার মধ্যে। কবিতা তো মূলত একটি শিল্প এবং এক প্রকার বুনন ও এক ধরনের চিত্রায়ন মাত্র» (২)।
কোনো কোনো গবেষক ধারণা করেছেন যে, তিনি সম্পূর্ণভাবে শব্দের দিকেই ঝুঁকে ছিলেন এবং অর্থের বিশেষ কোনো গুরুত্ব আছে বলে মনে করতেন না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি শব্দের প্রতি যেমন যত্নশীল ছিলেন এবং একে এর প্রাপ্য গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনি তিনি অর্থের প্রতি এবং সাহিত্যিক চিত্রায়নের প্রতিও নিবিষ্ট ছিলেন, যে চিত্রায়ন সম্পর্কে তিনি বলেছেন: «কবিতা তো মূলত একটি শিল্প, এক প্রকার বুনন এবং এক ধরনের চিত্রায়ন মাত্র।» আর এটিই হচ্ছে তার সেই তত্ত্ব যা আব্দুল কাহির আল-জুরজানি ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন «নযম তত্ত্ব» (বিন্যাস তত্ত্ব)। সুতরাং জাহিজ শব্দ, অর্থ এবং চিত্রায়ন—সবকিছুর প্রতিই গুরুত্ব দিয়েছেন; যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো কোনো ব্যক্তি কেবল অর্থের প্রতিই ভ্রুক্ষেপ করেন, যেমন আবু আমর আল-শায়বানি। তিনি মনে করতেন, অর্থ যখন চমৎকার ও সুন্দর হয়, তখন তা যে শব্দেই প্রকাশ করা হোক না কেন, তা সুন্দরই থাকে। যেমন এই দুটি পঙ্ক্তি:
মৃত্যুকে কেবল দেহের পচন ও ক্ষয় মনে করো না
… প্রকৃত মৃত্যু তো মানুষের কাছে যাঞ্চা করা (হাত পাতা)।
উভয়ই মৃত্যু, তবে যাঞ্চার লাঞ্ছনার কারণে
… এটি অন্যটি অপেক্ষা অধিক ভয়াবহ।
আবু আমর এই পঙ্ক্তি দুটিকে অত্যন্ত পছন্দ করেছেন, অথচ এতে ছন্দ ছাড়া সৌন্দর্যের কোনো ছোঁয়াই নেই।
আল-জাহিজ এর সমালোচনা করেছেন এবং মনে করেছেন যে তিনি এগুলোর মূল্যায়নে বাড়াবাড়ি করেছেন। তিনি বলেছেন: «আমি আবু আমর আল-শায়বানিকে দেখেছি যে, এই পঙ্ক্তি দুটির প্রতি তার মুগ্ধতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে—তখন আমরা জুমার দিনে মসজিদে ছিলাম—তিনি একজনকে পাঠিয়ে দোয়াত ও কাগজ আনিয়ে তা লিখিয়ে নিয়েছেন। আর আমার দাবি হলো, এই পঙ্ক্তি দুটির রচয়িতা কখনো প্রকৃত কবিতা বলতে পারবে না। যদি আমার বিচারে কিছুটা কঠোরতা প্রকাশ পাওয়ার ভয় না থাকত, তবে আমি বলতাম যে তার সন্তানও কখনো কবিতা বলতে পারবে না» (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لقد اهتم الجاحظ باللفظ ولكنه لم يهمل المعنى، ولذلك فليس صحيحا ما ذهب إليه بعضهم وهو أنّ الجاحظ كرّس جهوده لخدمة الألفاظ، ولأجله خاض عبد القاهر الجرجانى غمار هذا البحث. ويرى الدكتور محمد مندور أنّ كل آراء عبد القاهر تنحصر فى مسألتين:
الأولى: إنكاره لما رآه الجاحظ من أهمية فصاحة الألفاظ باعتبار تلك الفصاحة صنعة فى اللفظ ذاته، ثم ثورته على مذهب أبى هلال العسكرى الذى يرد جودة الكلام إلى محسنات لفظية تقف عند الشكل.
الثانية: تعليقة جودة الكلام بخصائص فى النظم. (1)
وعبارة الجاحظ «فانما الشعر صناعة، وضرب من النسج، وجنس من التصوير»، وما نقله عبد القاهر من اهتمامه بالصياغة والصناعة، خير ما يفند هذا الرأى، لأنّ عبد القاهر سار على خطا الجاحظ ونقل مصطلحه فى التصوير وقال: «وليس العبارة عن ذلك بالصورة شيئا نحن ابتدأناه فينكره منكر بل هو مستعمل مشهور فى كلام العرب، ويكفيك قول الجاحظ: وإنّما الشعر صناعة، وضرب من التصوير» (2). فالجاحظ من أصحاب الصياغة ولذلك تسقط عنه تهمة الاهتمام بالشكلية والألفاظ، وإن كان كثير الاعتناء باللفظ واختيار ما يؤدى المعنى أداء حسنا، وهذه مهمة الأديب الذى يقدر قيمة الكلام ويبذل فى سبيله أعظم الجهود، وقد كان الجاحظ أديبا كبيرا وعالما قديرا، فعنى بالألفاظ كما عنى بالمعانى وكان له الفضل فى تصوير نظم الكلام.
ابن قتيبة:وتحدث ابن قتيبة (- هـ) عن الألفاظ، وذكر أنّ الشعر أربعة أضرب:
--------------------------------------------
আল-জাহিজ শব্দের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন কিন্তু তিনি অর্থকে অবহেলা করেননি। তাই কারও কারও এই অভিমত সঠিক নয় যে, আল-জাহিজ কেবল শব্দশৈলীর সেবায় তার প্রচেষ্টাকে নিবেদিত করেছিলেন এবং এই কারণেই আব্দুল কাহের আল-জুরজানি এই গবেষণার গভীরে প্রবেশ করেছিলেন। ডক্টর মুহাম্মদ মান্দুর মনে করেন যে, আব্দুল কাহেরের সকল অভিমত দুটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ:
প্রথমত: শব্দের প্রাঞ্জলতাকে শব্দের নিজস্ব শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে আল-জাহিজ একে যে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তা তিনি অস্বীকার করেছেন। অতঃপর তিনি আবু হিলাল আল-আসকারীর মতবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন, যিনি বক্তব্যের উৎকর্ষকে কেবল বাহ্যিক রূপের মাঝে সীমাবদ্ধ শব্দালঙ্কারের ওপর নির্ভরশীল মনে করতেন।
দ্বিতীয়ত: বক্তব্যের উৎকর্ষকে রচনারীতির বৈশিষ্ট্যের সাথে সংশ্লিষ্ট করা। (১)
আল-জাহিজের উক্তি «কবিতা হলো একটি শিল্প, বুননের একটি ধরন এবং চিত্রায়নের একটি প্রকার», এবং আব্দুল কাহের তার গঠন ও শৈল্পিক কারুকার্যের প্রতি যে গুরুত্ব প্রদানের কথা উল্লেখ করেছেন, তা এই মত খণ্ডন করার জন্য সর্বোত্তম প্রমাণ। কারণ আব্দুল কাহের আল-জাহিজের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং চিত্রায়ন সংক্রান্ত তার পরিভাষাটি ব্যবহার করে বলেছেন: «এই বিষয়টি 'চিত্র' হিসেবে ব্যক্ত করা এমন কিছু নয় যা আমরা নতুন করে শুরু করেছি যে কেউ তা অস্বীকার করবে; বরং এটি আরবদের বক্তব্যে একটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রসিদ্ধ বিষয়। আল-জাহিজের এই কথাটিই তোমার জন্য যথেষ্ট: কবিতা হলো একটি শিল্প এবং চিত্রায়নের একটি ধরন» (২)। সুতরাং আল-জাহিজ হলেন শৈল্পিক বাক্য গঠনকারীদের অন্তর্ভুক্ত, তাই কেবল রূপক ও শব্দের প্রতি অতি-মনোযোগী হওয়ার অভিযোগ তার ক্ষেত্রে অসার প্রমাণিত হয়। যদিও তিনি শব্দের প্রতি এবং অর্থের সঠিক বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এমন শব্দ চয়নের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, আর এটিই হলো একজন সাহিত্যিকের কাজ যিনি বক্তব্যের মূল্য উপলব্ধি করেন এবং এর জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। আল-জাহিজ ছিলেন একজন মহান সাহিত্যিক এবং বিজ্ঞ আলেম; তিনি যেমন শব্দের প্রতি যত্নবান ছিলেন, তেমনি অর্থের প্রতিও মনোযোগী ছিলেন এবং বক্তব্যের বিন্যাসকে চিত্রায়িত করার ক্ষেত্রে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।
ইবনে কুতায়বাহ:ইবনে কুতায়বাহ (- হিজরি) শব্দের বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, কবিতা চার প্রকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
- ضرب منه حسن لفظه وجاد معناه، كقول القائل فى بعض بنى أمية (1):
فى كفه خيزران ريحه عبق
… من كف أروع فى عرنينه شمم
يغضى حياء ويغضى من مهابته
… فما يكلّم إلا حين يبتسم
وكقول أوس بن حجر:
أيّتها النفس أجملى جزعا
… إنّ الذين تحذرين قد وقعا
- وضرب منه حسن لفظه وحلا فاذا أنت فتشته لم تجد هناك فائدة فى المعنى كقول القائل:
ولما قضينا من منى كلّ حاجة
… ومسّح بالأركان من هو ماسح
وشدّت على حدب المهارى رحالنا
… ولم ينظر الغادى الذى هو رائح
أخذنا بأطراف الأحاديث بيننا
… وسالت بأعناق المطّى الأباطح
يقول ابن قتيبة: «هذه الألفاظ كما ترى أحسن شئ مخارج ومطالع ومقاطع، وإن نظرت إلى ما تحتها من المعنى
وجدته: ولمّا قطعنا أيام منى واستلمنا الأركان وعالينا إبلنا الأنضاء، ومضى الناس لا ينتظر الغادى الرائح ابتدأنا فى الحديث وسارت المطى فى الأباطح» (2). ونحوه قول المعلوط:
--------------------------------------------
- এর একটি প্রকার হলো যার শব্দশৈলী সুন্দর এবং অর্থও চমৎকার, যেমন বনু উমাইয়াদের কারো প্রশংসায় এক কবির উক্তি (১):
তাঁর হাতের তালুতে সুগন্ধি কঞ্চি রয়েছে... এমন এক দীপ্তিময় ব্যক্তির হাতের তালু থেকে যাঁর নাসিকা সুউচ্চ।
তিনি লজ্জায় দৃষ্টি অবনমিত রাখেন এবং তাঁর গাম্ভীর্যের কারণে (অন্যরাও) দৃষ্টি অবনমিত রাখে... কেবল তখনই তাঁর সাথে কথা বলা হয় যখন তিনি মৃদু হাসেন।
এবং যেমন আউস বিন হাজরের উক্তি:
হে আত্মা! তোমার ব্যাকুলতাকে সংযত করো... নিশ্চয়ই তুমি যা ভয় পেতে তা ঘটে গিয়েছে।
- এবং এর অন্য একটি প্রকার হলো যার শব্দশৈলী সুন্দর ও মিষ্ট, কিন্তু যদি তুমি তা অনুসন্ধান করো তবে অর্থের ক্ষেত্রে তেমন কোনো বিশেষ উপকারিতা পাবে না, যেমন কবির উক্তি:
যখন আমরা মিনার যাবতীয় প্রয়োজন শেষ করলাম... এবং যে স্পর্শ করার সে (কাবাগৃহের) রুকনসমূহ স্পর্শ করল।
এবং দ্রুতগামী উটের কুঁজের উপর আমাদের হাওদাগুলো বাঁধা হলো... আর প্রাতঃকালীন যাত্রী অপরাহ্ণের যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করল না।
আমরা নিজেদের মাঝে টুকরো আলাপচারিতা শুরু করলাম... আর সওয়ারিগুলোর দীর্ঘ গ্রীবায় উপত্যকাগুলো প্লাবিত হলো।
ইবনে কুতায়বা বলেন: «এই শব্দগুলো যেমন তুমি দেখছ—এগুলোর উচ্চারণস্থল, প্রারম্ভ এবং সমাপ্তি অত্যন্ত চমৎকার; কিন্তু যদি তুমি এর অন্তনিহিত অর্থের দিকে তাকাও,
তবে দেখতে পাবে যে তা হলো: যখন আমরা মিনার দিনগুলো পার করলাম এবং রুকনসমূহ চুম্বন করলাম, আর আমাদের কৃশ উটগুলোর পিঠে চড়লাম এবং লোকজন প্রস্থান করল—যেখানে প্রাতঃকালীন যাত্রী অপরাহ্ণের যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করল না—তখন আমরা কথা বলা শুরু করলাম এবং উপত্যকা দিয়ে সওয়ারিগুলো চলতে লাগল» (২)। এবং আল-মালুতের উক্তিও এর অনুরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إنّ الذين غدوا بلبك غادروا
… وشلا بعينك لا يزال معينا
غيّضن من عبراتهنّ وقلن لى:
… ماذا لقيت من الهوى ولقينا (1)
- وضرب منه جاد معناه وقصرت ألفاظه عنه كقول لبيد بن ربيعة:
ما عاتب المرء الكريم كنفسه
… والمرء يصلحه الجليس الصالح
- وضرب منه تأخر معناه وتأخر لفظه، كقول الأعشى فى امرأة:
وفوها كأقاحى
… غذاه دائم الهطل
كما شيب براح با
… رد من عسل النّحل
ولم يشر ابن قتيبة إلى لفظة «الفصاحة» فى كتابه «الشعر والشعراء» ولكنه استعمل كلمة «الألفاظ»، ويرى أنّ المحدث ليس له أن يتبع المتقدم فى استعمال وحشى الكلام ككثير من أبنية سيبويه، ولا أن يسلك فيما يقول الأساليب التى لا تصح فى الوزن ولا تحلو فى الأسماع. يقول:
«وهذا يكثر، وفيما ذكرت منه ما دلك على ما أردت من اختيارك أحسن الروىّ وأسهل الألفاظ وأبعدها من التعقيد والاستكراه، وأقربها من أفهام العوام. وكذلك اختار للخطيب إذا خطب والكاتب إذا كتب فانه يقال:
«أسير الشعر والكلام المطمع» يراد الذى يطمع فى مثله من سمعه وهو مكان النجم من يد المتناول» (2).
وفى كتابه «أدب الكاتب» حديث عن الألفاظ والأبنية، ولكنه لا يسميها «فصاحة» وإنما هى قواعد يستعين بها الكاتب. وعقد فى كتابه «عيون الأخبار» بابا سماه «كتاب العلم والبيان» تحدّث فيه عن الإعراب واللحن والتشادق والغريب والبيان والألفاظ التى تقع فى كتب الأمان والعهود والخطب. وهو فى هذه الأبواب والفصول ليس
كالجاحظ الذى أرسى كثيرا من قواعد الفصاحة ووضع أمثلتها التى تتردد فى كتب البلاغة والنقد.
--------------------------------------------
যাঁরা তোমার হৃদয় হরণ করে নিয়ে গেছে তাঁরা চলে গেছে
… তোমার চোখে এমন এক অশ্রুধারা রেখে গেছে যা প্রবহমান ঝরনার মতো।
তারা তাদের অশ্রু সংবরণ করল এবং আমাকে বলল:
… তুমি প্রেমের কী যন্ত্রণা ভোগ করেছ আর আমরাই বা কী করেছি (১)
- এর একটি প্রকার হলো যার অর্থ চমৎকার কিন্তু শব্দগুলো তার তুলনায় সংক্ষিপ্ত, যেমন লাবীদ ইবনে রাবী'আর উক্তি:
কোনো মহান ব্যক্তি নিজের আত্মার মতো নিজেকে ভর্ৎসনা করতে পারে না
… আর মানুষকে তার সৎ সঙ্গীই সংশোধন করে।
- এর আরেকটি প্রকার হলো যার অর্থ এবং শব্দ উভয়ই নিম্নমানের, যেমন আল-আ'শা জনৈক নারী সম্পর্কে বলেছেন:
তার মুখ গহ্বর যেন ডেইজি ফুলের মতো
… যা নিরন্তর বর্ষণে পুষ্ট হয়েছে।
যেন মৌমাছির মধু মিশ্রিত শীতল শরাব
… দ্বারা তা শাণিত।
ইবনে কুতায়বাহ তাঁর 'আশ-শি'র ওয়া আশ-শু'আরা' গ্রন্থে 'ফাসাহাত' (সাবলীলতা) শব্দটি ব্যবহার করেননি, বরং তিনি 'আল-আলফাজ' (শব্দাবলি) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি মনে করেন যে, আধুনিক কবিদের জন্য প্রাচীনদের অনুসরণ করে দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করা সংগত নয়, যেমনটি সিবওয়াইহ-র অনেক বাক্য গঠনে দেখা যায়। তেমনিভাবে কাব্য রচনায় এমন কোনো শৈলী অনুসরণ করা উচিত নয় যা ছন্দে সঠিক নয় কিংবা শ্রুতিমধুর নয়। তিনি বলেন:
«এরকম উদাহরণ অনেক আছে, আর আমি যা উল্লেখ করেছি তা আপনাকে আমার উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করবে। তা হলো—উত্তম ছন্দ ও সহজ শব্দাবলি নির্বাচন করা, যা জটিলতা ও শ্রুতিকটুতা থেকে মুক্ত এবং সাধারণ মানুষের বোধগম্যের কাছাকাছি। অনুরূপভাবে তিনি বক্তার বক্তৃতা এবং লেখকের রচনার জন্যও এটি পছন্দ করেছেন, কেননা বলা হয়:
«সহজ কবিতা ও বাক্য হলো প্রলুব্ধকারী», এর দ্বারা এমন কিছু বোঝানো হয়েছে যা শুনে শ্রোতা অনুরূপ কিছু বলার আকাঙ্ক্ষা করে, অথচ তা আহরণকারীর হাতের কাছে নক্ষত্রের দূরত্বের মতো দুর্লভ» (২)।
তাঁর 'আদাবুল কাতিব' গ্রন্থে শব্দাবলি ও বাক্য গঠন নিয়ে আলোচনা রয়েছে, তবে সেগুলোকে তিনি 'ফাসাহাত' নাম দেননি; বরং এগুলো এমন কিছু নিয়ম যা লেখককে সহায়তা করে। তিনি তাঁর 'উয়ুনুল আখবার' গ্রন্থে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন 'কিতাবুল ইলম ওয়াল বায়ান'। সেখানে তিনি ইরাব (ব্যাকরণগত কারক), লাহ্ন্ (ভাষাগত ভুল), বাকপটুতা, দুর্বোধ্য শব্দ, প্রাঞ্জলতা এবং নিরাপত্তা ও সন্ধিপত্র ও বক্তৃতায় ব্যবহৃত শব্দাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব অধ্যায় ও অনুচ্ছেদে তিনি
আল-জাহিজের মতো নন, যিনি সাবলীলতার অনেক নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এমন সব উদাহরণ পেশ করেছেন যা অলঙ্কারশাস্ত্র ও সমালোচনা সাহিত্যে বারবার উচ্চারিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبرد:وليس فيما كتب المبرد (- هـ) إشارة إلى الفصاحة وإن كان يفضل أن تكون الألفاظ جزلة. (1)
ثعلب:ولا فيما كتب أبو العباس ثعلب (- هـ) الذى أشار إلى جزالة الألفاظ. (2)
ابن المعتز:ولا فيما ألّف ابن المعتز (- هـ) صاحب كتاب البديع.
قدامة:وتحدث قدامة بن جعفر (- هـ) عن نعت اللفظ، وقال ينبغى أن يكون سمحا، سهل مخارج الحروف من مواضعها، عليه رونق الفصاحة مع الخلو من البشاعة. (3) وذكر عيوب اللفظ وهى:
- أن يكون ملحونا وجاريا على غير سبيل الإعراب واللغة.
- وأن يركب الشاعر منه ما ليس بمستعمل إلّا فى الفرط.
- ولا يتكلم به إلّا شاذا، وذلك هو الوحشى الذى مدح عمر بن الخطاب- رضى الله عنه- زهيرا بمجانبته له وتنكّبه إياه فقال: «لا يتبع حوشىّ الكلام».
- ومن عيوب اللفظ المعاظلة، وهى التى وصف عمر بن الخطاب زهيرا بمجانبته لها فقال: «كان لا يعاظل بين الكلام». وهى ليست مداخلة الشئ فى الشئ، لأنه محال أن ينكر مداخلة بعض الكلام فيما يشبهه من
--------------------------------------------
মুবাররাদ:মুবাররাদ (- হিজরি) যা লিখেছেন তাতে বাগ্মিতার (ফাসাহাত) কোনো ইঙ্গিত নেই, যদিও তিনি শব্দগুলো বলিষ্ঠ হওয়াকে পছন্দ করতেন। (১)
সা'লাব:আবু আব্বাস সা'লাব (- হিজরি) যা লিখেছেন তাতেও নেই, যিনি শব্দের বলিষ্ঠতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। (২)
ইবনুল মু'তাযয:এবং 'কিতাবুল বাদি'-এর রচয়িতা ইবনুল মু'তাযয (- হিজরি) যা সংকলন করেছেন তাতেও নেই।
কুদামা:কুদামা ইবনে জাফর (- হিজরি) শব্দের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি সাবলীল হওয়া উচিত, এর বর্ণগুলোর মাখরাজ বা উচ্চারণস্থল থেকে উচ্চারণ সহজ হওয়া উচিত, এতে কদর্যতাহীন বাগ্মিতার লাবণ্য থাকা উচিত। (৩) তিনি শব্দের ত্রুটিসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো হলো:
- ব্যাকরণগত ভুল থাকা এবং ইরাব ও ভাষার নিয়ম বহির্ভূত হওয়া।
- কবি এমন শব্দ ব্যবহার করবেন যা কদাচিৎ ছাড়া ব্যবহৃত হয় না।
- এবং তা কেবল বিরল ক্ষেত্রেই বলা হয়ে থাকে; আর তা হলো সেই শ্রুতিকটু শব্দ (ওয়াহশি), যা পরিহার করার কারণে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যুহাইরের প্রশংসা করে বলেছিলেন: «তিনি শ্রুতিকটু কথা অনুসরণ করেন না»।
- শব্দের ত্রুটিসমূহের মধ্যে একটি হলো 'মুআযলাহ' (জটিল শব্দবিন্যাস), যা পরিহার করার কারণে উমর ইবনুল খাত্তাব যুহাইরকে বিশেষিত করে বলেছিলেন: «তিনি কথার মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করতেন না»। আর এটি এক বিষয়ের মধ্যে অন্য বিষয়ের প্রবেশ নয়, কারণ কোনো কথার মধ্যে তার সদৃশ বিষয়ের প্রবেশকে অস্বীকার করা অসম্ভব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بعض أو فيما كان من جنسه، وإنما يكون الإنكار فيما يدخل بعضه فيما ليس من جنسه وما هو غير لائق به. (1)
ابن وهب:وفى كتاب «البرهان فى وجوه البيان» (2) لأبى الحسين إسحاق بن ابراهيم بن سليمان بن وهب الكاتب إشارات إلى جزالة اللفظ وسخافته وركاكته. ولم يحدد معانى هذه المصطلحات واكتفى بالتمثيل وقال: «وأما جزالة اللفظ فكقوله:
وعلى عدوّك يا ابن عمّ محمد
… رصدان: ضوء الشمس والإظلام
فاذا تنبه رعته وإذا غفا
… سلّت عليه سيوفك الأحلام
وأما سخافة اللفظ وركاكته فمثل قول الآخر:
يا عتب سيدتى أما لك دين
… حتى متى قلبى لديك رهين
فأنا الصبور لكل ما حملتنى
… وأنا الشقىّ البائس المسكين (3)
وقال عن الفصيح: «وأما الفصيح من الكلام، فهو ما وافق لغة العرب ولم يخرج عما عليه أهل الأدب، ولتصحيح ذلك وضع النحو، ولجمعه وضعت الكتب فى اللغة، وذكر المستعمل منها والشاذ والمهمل.
وحق من ينشأ فى العرب أن يستعمل الاقتداء بلغتهم، ولا يخرج عن جملة ألفاظهم، ولا يقنع من نفسه بمخالفتهم فيخطئوه ويلحنوه» (4)
وليس فى هذه الإشارات ما يوضّح رأى صاحب «البرهان» فى الفصاحة كما عرفها الجاحظ ومعاصروه.
--------------------------------------------
কিছু অংশ বা যা তার স্বজাতীয় ছিল, মূলত সমালোচনা সেখানেই হয় যেখানে এর অংশবিশেষ এমন কিছুর অন্তর্ভুক্ত হয় যা তার স্বজাতীয় নয় এবং যা তার জন্য অনুপযুক্ত। (১)
ইবনে ওয়াহাব:আবুল হুসাইন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন সুলাইমান বিন ওয়াহাব আল-কাতিব-এর 'আল-বুরহান ফি উজুহিল বায়ান' (২) গ্রন্থে শব্দের মজবুত গঠন (জাযালাহ), এর লঘুতা (সাখাফাহ) ও দুর্বলতার (রাকাকাহ) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তিনি এই পরিভাষাগুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেননি বরং কেবল উদাহরণ প্রদানের ওপরই ক্ষান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন: "শব্দের মজবুত গঠনের (জাযালাহ) উদাহরণ হলো কবির এই উক্তি:
হে মুহাম্মাদের ভ্রাতুষ্পুত্র, আপনার শত্রুর ওপর যেন রয়েছে দুটি অতন্দ্র প্রহরী: সূর্যের আলো এবং অন্ধকার
…সে যখন সজাগ হয় আপনি তাকে আতঙ্কিত করেন, আর যখন সে ঘুমিয়ে পড়ে
… আপনার স্বপ্নগুলো তার বিরুদ্ধে তলোয়ার উন্মুক্ত করে।
আর শব্দের লঘুতা (সাখাফাহ) ও দুর্বলতার (রাকাকাহ) উদাহরণ হলো অন্য এক কবির উক্তির মতো:
হে আমার কর্ত্রী উতবা, আপনার কি কোনো দ্বীন নেই?
… কতক্ষণ পর্যন্ত আমার হৃদয় আপনার কাছে বন্ধক থাকবে?
আপনি আমার ওপর যা কিছু চাপিয়ে দিয়েছেন আমি তাতে ধৈর্যশীল
… আর আমিই দুর্ভাগা, আর্ত ও মিসকিন (৩)।
তিনি প্রাঞ্জল ভাষা (ফাসিহ) সম্পর্কে বলেন: "আর কথার মধ্যে যা প্রাঞ্জল, তা হলো যা আরবদের ভাষার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং সাহিত্যিকদের অনুসৃত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত নয়। আর তা সংশোধনের জন্যই নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে এবং তা সংকলনের জন্যই ভাষাবিজ্ঞানের কিতাবসমূহ রচিত হয়েছে, যেখানে ব্যবহৃত, বিরল ও পরিত্যক্ত শব্দসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
আর যে ব্যক্তি আরবদের পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তার কর্তব্য হলো তাদের ভাষার অনুসরণ করা এবং তাদের শব্দসমষ্টির গণ্ডি থেকে বের না হওয়া; আর তাদের বিরোধিতার মাধ্যমে নিজের ওপর তুষ্ট না হওয়া, যার ফলে তারা তাকে ভুল সাব্যস্ত করবে এবং তার ভাষায় ভুল ধরবে" (৪)।
এই ইঙ্গিতগুলোর মধ্যে এমন কিছু নেই যা 'আল-বুরহান' গ্রন্থের লেখকের 'ফাসাহাত' (প্রাঞ্জলতা) বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্ট করে, যেমনটি আল-জাহিজ ও তাঁর সমসাময়িকরা সংজ্ঞায়িত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
العسكرى:وذكر أبو هلال العسكرى (- هـ) رأيين فى الفصاحة:
الأول: إن الفصاحة والبلاغة ترجعان إلى معنى واحد وإن اختلف أصلاهما؛ لأنّ كل واحد منهما هو الإبانة عن المعنى والإظهار له. يقول:
«فأما الفصاحة فقد قال قوم: إنّها من قولهم: أفصح فلان عما فى نفسه إذا أظهره، والشاهد على أنّها هى الإظهار قول العرب: أفصح الصبح إذا اضاء. وأفصح اللبن إذا انجلت عنه رغوته فظهر، وفصح أيضا. وأفصح الأعجمى إذا أبان بعد أن لم يكن يفصح ويبين، وفصح اللحان إذا عبر عما فى نفسه وأظهره على جهة الصواب دون الخطأ.
وإذا كان الأمر على هذا فالفصاحة والبلاغة ترجعان إلى معنى واحد وإن اختلف أصلاهما» (1).
الثانى: أنهما مختلفان، وذلك أنّ الفصاحة تمام آلة البيان فهى مقصورة على اللفظ، لأنّ الآلة تتعلق باللفظ دون المعنى، والبلاغة إنّما هى إنهاء المعنى إلى القلب فكأنّها مقصورة على المعنى. يقول: «وقال بعض علمائنا:
الفصاحة تمام آلة البيان، فلهذا لا يجوز أن يسمّى الله تعالى فصيحا إذ كانت الفصاحة تتضمن الآلة، ولا يجوز على الله تعالى الوصف بالآلة ويوصف كلامه بالفصاحة لما يتضمن من تمام البيان. والدليل على ذلك أنّ الألثغ والتمتام لا يسميان فصيحين لنقصان آلتهما عن إقامة الحروف. وقيل:
«زياد الأعجم» لنقصان آلة نطقه عن إقامة الحروف، وكان يعبر عن «الحمار» بالهمار، فهو أعجم وشعره فصيح لتمام بيانه» (2).
ووضّح الأمر بقوله: «ومن الدليل على أنّ الفصاحة تتضمن اللفظ والبلاغة تتناول المعنى، أنّ الببغاء يسمّى فصيحا ولا يسمى بليغا إذ هو مقيم
--------------------------------------------
আল-আসকারি:আবু হিলাল আল-আসকারি (- হিজরি) ফাসাহাত (প্রাঞ্জলতা) সম্পর্কে দুটি মত উল্লেখ করেছেন:
প্রথমটি: ফাসাহাত ও বালাগাত (বাগ্মিতা) একই অর্থের দিকে ফিরে যায়, যদিও তাদের মূলগত অর্থ ভিন্ন; কারণ তাদের প্রত্যেকটিই হলো অর্থকে সুস্পষ্ট করা ও তা প্রকাশ করা। তিনি বলেন:
«ফাসাহাতের ব্যাপারে একদল বলেছেন: এটি আরবদের এই উক্তি থেকে এসেছে—অমুক ব্যক্তি তার মনের কথা ‘আফসাহা’ (স্পষ্ট করেছে), যখন সে তা প্রকাশ করে। আর এটি যে ‘প্রকাশ করা’ অর্থে ব্যবহৃত হয় তার প্রমাণ হলো আরবদের উক্তি: ‘আফসাহাস সুবহু’ যখন সকাল আলোকিত হয়। এবং ‘আফসাহাল লাবানু’ যখন দুধের উপরিভাগ থেকে ফেনা সরে যায় ও দুধ প্রকাশিত হয়; তখন ‘ফাসাহা’ শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। আর ‘আফসাহাল আজমিয়ু’ বলা হয় যখন কোনো অনারব ব্যক্তি অস্পষ্টতার পর স্পষ্টভাবে কথা বলে। আর ‘ফাসাহাল লাহহানু’ বলা হয় যখন কোনো ব্যক্তি ভুল পরিহার করে সঠিক উপায়ে তার মনের ভাব প্রকাশ ও ব্যক্ত করে।
যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে ফাসাহাত ও বালাগাত একই অর্থের দিকে ফিরে যায়, যদিও তাদের মূলগত ব্যুৎপত্তি ভিন্ন» (১)।
দ্বিতীয়টি: এই দুটি ভিন্ন বিষয়। কারণ, ফাসাহাত হলো বর্ণনার সরঞ্জামের পূর্ণতা, তাই এটি শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কেননা সরঞ্জাম শব্দের সাথেই সংশ্লিষ্ট থাকে, অর্থের সাথে নয়। আর বালাগাত হলো হৃদয়ে অর্থ পৌঁছে দেওয়া, তাই এটি যেন অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন: «আমাদের কোনো কোনো আলেম বলেছেন:
ফাসাহাত হলো বর্ণনার সরঞ্জামের পূর্ণতা; এই কারণে আল্লাহ তাআলাকে ‘ফাসিহ’ (সুস্পষ্টভাষী) বলা জায়েজ নয়, যেহেতু ফাসাহাত সরঞ্জামের আবশ্যকতা রাখে, আর আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে কোনো সরঞ্জামের গুণ আরোপ করা জায়েজ নয়। তবে তাঁর কালামকে (কথাকে) ফাসাহাত দ্বারা গুণান্বিত করা যায়, কারণ এর মধ্যে বর্ণনার পূর্ণতা বিদ্যমান। এর প্রমাণ হলো, যার জিহ্বায় জড়তা রয়েছে এবং যে তোতলা, তাদেরকে ‘ফাসিহ’ বলা হয় না; কারণ অক্ষর উচ্চারণের ক্ষেত্রে তাদের সরঞ্জামের ত্রুটি রয়েছে। আর বলা হয়েছে:
‘যিয়াদ আল-আ’জাম’ নাম হওয়ার কারণ হলো অক্ষর উচ্চারণে তার বাগযন্ত্রের ত্রুটি ছিল। সে ‘হিমার’ (গাধা) শব্দটিকে ‘হামার’ হিসেবে উচ্চারণ করত; ফলে সে ছিল আ’জাম (অস্পষ্টভাষী), কিন্তু তার কবিতা ছিল ফাসিহ (প্রাঞ্জল), কারণ তার বর্ণনা ছিল নিখুঁত» (২)।
তিনি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলেছেন: «ফাসাহাত যে শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং বালাগাত যে অর্থকে পরিবেষ্টন করে তার অন্যতম প্রমাণ হলো—তোতাপাখিকে ‘ফাসিহ’ বলা হয় কিন্তু ‘বালিগ’ বলা হয় না, যেহেতু সে যথাযথভাবে উচ্চারণ করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الحروف وليس له قصد إلى المعنى الذى يؤديه. وقد يجوز مع هذا أن يسمى الكلام الواحد فصيحا بليغا إذا كان واضح المعنى، سهل اللفظ، جيد السبك، غير مستكره فج ولا متكلف وخم، ولا يمنعه من أحد الاسمين شئ لما فيه من إيضاح المعنى وتقويم الحروف». (1)
وهذا هو رأيه، أما الرأى الأول فقد عرضه، لأنّ بعضهم يذهب إلى ذلك. وعقد فصلا فى تمييز الكلام تحدث فيه عن صفات الألفاظ الحسنة، وانتهى إلى أنّ الكلام إذا جمع العذوبة والجزالة والسهولة والرصانة مع السلاسة والنصاعة، واشتمل على الرونق والطلاوة، وسلم من الحيف فى التأليف، وبعد عن سماجة التركيب، وورد على
الفهم الثاقب- قبله ولم يرده، وعلى السمع المصيب استوعبه ولم يمجه، والنفس تقبل اللطيف وتنبو عن الغليظ. (2)
وأعطى الألفاظ أهمية كبيرة، لأنه ليس الشأن فى إيراد المعانى، لأنّ المعانى يعرفها العربى والعجمى والقروى والبدوى، وإنما هو فى جودة اللفظ وصفائه، وحسنه وبهائه، ونزاهته ونقائه، وكثرة طلاوته ومائه مع صحة السبك والتركيب. وليس يطلب من المعنى إلّا أن يكون على هذه الأوصاف، وهو ما أشار إليه الجاحظ من قبل، ولكنه جعل التصوير أساس البيان.
ابن سنان:وعقد ابن سنان الخفاجى (- هـ) فى كتابه «سر الفصاحة» فصولا ضافية تحدث فيها عن صفات الحروف ومخارجها، وفصاحة اللفظة المفردة والألفاظ المؤلفة.
--------------------------------------------
বর্ণসমূহ এবং এর মাধ্যমে তিনি যে অর্থ প্রদান করতে চান তার কোনো উদ্দেশ্য নেই। এর পাশাপাশি কোনো একটি বক্তব্যকে একই সাথে প্রাঞ্জল ও অলঙ্কারপূর্ণ বলা বৈধ হতে পারে যদি তার অর্থ স্পষ্ট হয়, শব্দ সহজ হয়, গাঁথুনি চমৎকার হয়, কোনো প্রকার কদর্যতা বা বিস্বাদহীনতা না থাকে এবং কৃত্রিমতা ও অপ্রীতিকরতা থেকে মুক্ত থাকে। অর্থের স্পষ্টতা ও বর্ণের সঠিক বিন্যাসের কারণে এই দুই নামের কোনোটি থেকেই তাকে কোনো কিছু বাধা দেবে না। (১)
এটিই তার নিজস্ব অভিমত, আর প্রথম মতটি তিনি কেবল উপস্থাপন করেছেন কারণ কেউ কেউ সেদিকেই মত পোষণ করেন। তিনি বক্তব্যের স্বাতন্ত্র্য বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যেখানে তিনি উত্তম শব্দাবলির বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বক্তব্য যখন মাধুর্য, গাম্ভীর্য, সহজবোধ্যতা ও দৃঢ়তার সাথে সাবলীলতা ও স্বচ্ছতাকে একত্রিত করে, এবং তাতে লাবণ্য ও সৌন্দর্য বিদ্যমান থাকে, রচনার অসংগতি থেকে মুক্ত থাকে এবং বিন্যাসের কদর্যতা থেকে দূরে থাকে, আর তা যখন প্রখর ধীসম্পন্ন ব্যক্তির নিকট উপস্থাপিত হয়—তখন সে তা গ্রহণ করে এবং প্রত্যাখ্যান করে না, আর সঠিক শ্রবণশক্তি তা অনুধাবন করে এবং তা থেকে বিমুখ হয় না। বস্তুত আত্মা সূক্ষ্ম বিষয়কে গ্রহণ করে এবং স্থূল বিষয়কে বর্জন করে। (২)
তিনি শব্দাবলিকে ব্যাপক গুরুত্ব প্রদান করেছেন, কেননা কেবল অর্থের অবতারণা করাই মূল বিষয় নয়; কারণ অর্থ তো আরব, অনারব, গ্রামবাসী ও মরুবাসী সকলেই জানে। বরং মূল কৃতিত্ব হলো শব্দের উৎকর্ষ ও স্বচ্ছতায়, এর সৌন্দর্য ও ঔজ্জ্বল্যে, এর পবিত্রতা ও বিশুদ্ধতায় এবং সঠিক গঠন ও বিন্যাসের সাথে এর অধিক লাবণ্য ও প্রাঞ্জলতায়। অর্থ থেকে কেবল এটাই কাম্য যে তা যেন এই গুণাবলি সমৃদ্ধ হয়। ইতিপূর্বে আল-জাহিজও এ দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন, তবে তিনি চিত্রায়নকে অলঙ্কারশাস্ত্রের ভিত্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেছিলেন।
ইবনে সিনান:ইবনে সিনান আল-খাফাজি (মৃত - হিজরি) তার ‘সিররুল ফাসাহাহ’ গ্রন্থে বিস্তারিত কয়েকটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যেখানে তিনি বর্ণের গুণাবলি ও তাদের উচ্চারণস্থল, এবং একক শব্দ ও যৌগিক শব্দাবলির প্রাঞ্জলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والفصاحة- عنده: «الظهور والبيان» (1)، والفرق بينها وبين البلاغة» أنّ الفصاحة مقصورة على وصف الألفاظ والبلاغة لا تكون إلّا وصفا للألفاظ مع المعانى. لا يقال فى كلمة واحدة لا تدل على معنى يفضل عن مثلها بليغة وإن قيل فيها فصيحة، وكل كلام بليغ فصيح، وليس كل فصيح بليغا» (2).
ولكى تكون اللفظة الواحدة فصيحة ينبغى أن تتوفر فيها بعض الشروط قال: «إنّ الفصاحة على ما قدمنا نعت للألفاظ إذا وجدت على شروط عدة ومتى تكاملت تلك الشروط فلا مزيد على فصاحة تلك الألفاظ وبحسب الموجود منها تأخذ القسط من الوصف وبوجود أضدادها تستحق الاطّراح والذم. وتلك الشروط تنقسم قسمين:
فالأول منها: يوجد فى اللفظة الواحدة على انفرادها من غير أن ينضم إليها شئ من الألفاظ وتؤلف معه.
والقسم الثانى: «يوجد فى الألفاظ المنظومة بعضها مع بعض» (3)
فأما الذى يوجد فى اللفظة الواحدة فثمانية أشياء:
الأول: أن يكون تأليف تلك اللفظة من حروف متباعدة المخارج، وعلة ذلك أنّ الحروف التى هى أصوات تجرى من السمع مجرى الألوان من البصر، ولا شك فى أنّ الألوان المتباينة إذا جمعت كانت فى المنظر أحسن من
الألوان المتقاربة، ولهذا كان البياض مع السواد أحسن منه مع الصفرة.
ومثال التأليف من الحروف المتباعدة كثير جل كلام العرب عليه، فأما تأليف الحروف المتقاربة فمثل «الهعخع»، وقد روى أنّ الخليل بن أحمد الفراهيدى قال: «سمعنا كلمة شنعاء هى «الهعخع» وأنكرنا تأليفها.
--------------------------------------------
এবং ফাসাহাত—তাঁর নিকট: "প্রকাশ ও স্পষ্টতা" (১), এবং এর ও বালাঘাতের (অলঙ্কারশাস্ত্র) মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, ফাসাহাত কেবল শব্দের বর্ণনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ এবং বালাঘাত শব্দ ও অর্থ উভয়টির বর্ণনা ছাড়া হয় না। এমন কোনো একক শব্দ সম্পর্কে বলা হয় না যা তার সমজাতীয় শব্দের চেয়ে অতিরিক্ত কোনো অর্থের ওপর নির্দেশনা প্রদান করে যে এটি বালিগ (অলঙ্কারপূর্ণ), যদিও তাকে ফাসিহ (সাবলীল) বলা হয়। প্রতিটি বালিগ কালামই ফাসিহ, কিন্তু প্রতিটি ফাসিহ বালিগ নয় (২)।
এবং একটি একক শব্দ ফাসিহ হওয়ার জন্য তাতে কিছু শর্ত থাকা আবশ্যক। তিনি বলেন: "আমরা যা আগে উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী ফাসাহাত হলো শব্দের বিশেষণ যখন তা বেশ কিছু শর্তের ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান থাকে। যখন সেই শর্তগুলো পূর্ণতা পায়, তখন সেই শব্দের ফাসাহাতের ওপর আর কোনো আধিক্য থাকে না। আর সেই শর্তগুলোর বিদ্যমানতার পরিমাণ অনুযায়ী এটি বর্ণনার প্রাপ্য অংশ লাভ করে এবং এর বিপরীত বিষয়গুলোর উপস্থিতির কারণে তা বর্জন ও নিন্দার যোগ্য হয়। সেই শর্তগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি: যা অন্য কোনো শব্দের সাথে যুক্ত হওয়া এবং তার সাথে বিন্যস্ত হওয়া ছাড়াই একক শব্দের মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় বিভাগ: "যা একে অপরের সাথে গ্রথিত বা বিন্যস্ত শব্দসমূহের মধ্যে পাওয়া যায়" (৩)
একক শব্দের মধ্যে যা পাওয়া যায় তা আটটি বিষয়:
প্রথম: সেই শব্দটি মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) থেকে দূরবর্তী অক্ষর দ্বারা গঠিত হওয়া। এর কারণ হলো এই যে, অক্ষরসমূহ যা মূলত শব্দ, তা শ্রবণেন্দ্রিয়ের নিকট ঠিক তেমনই যেমন দৃষ্টির নিকট রঙ। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বৈচিত্র্যময় রঙগুলো যখন একত্রিত হয়, তখন তা দেখার ক্ষেত্রে
কাছাকাছি রঙের চেয়ে বেশি সুন্দর হয়। এই কারণেই কালোর সাথে সাদার সংমিশ্রণ হলুদের সাথে সাদার সংমিশ্রণের চেয়ে বেশি সুন্দর।
দূরবর্তী অক্ষর দ্বারা গঠিত শব্দের উদাহরণ অনেক এবং আরবদের অধিকাংশ কথা এর ওপরই ভিত্তি করে। আর কাছাকাছি মাখরাজের অক্ষর দ্বারা গঠিত শব্দের উদাহরণ যেমন: "আল-হু’খু’", আর বর্ণিত আছে যে, খলীল ইবন আহমদ আল-ফারাহিদী বলেছেন: "আমরা একটি কুৎসিত শব্দ শুনেছি যা হলো 'আল-হু’খু’' এবং আমরা এর গঠনকে অপছন্দ করেছি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقيل: إنّ أعرابيا سئل عن ناقته فقال: تركتها ترعى الهعخع» (1). وقال ابن سنان: «ولحروف الحلق مزية فى القبح إذا كان التأليف منها فقط وأنت تدرك هذا وتستقبحه كما يقبح عندك بعض الأمزجة من الألوان وبعض النغم من الأصوات» (2).
الثانى: أن يكون لتأليف اللفظة فى السمع حسن ومزية على غيرها وإن تساويا فى التأليف من الحروف المتباعدة كما نجد لبعض النغم والألوان حسنا يتصور فى النفس ويدرك بالبصر والسمع دون غيره مما هو من جنسه. ومثاله فى الحروف «ع. ذ. ب» فان السامع يجد لقولهم «العذيب» - اسم موضع و «عذيبة» - اسم امرأة- و «عذب» و «عذاب» و «عذب» و «عذبات» ما لا يجده فيما يقارب هذه الألفاظ فى التأليف. وليس سبب ذلك بعد الحروف فى المخارج فقط ولكنه تأليف مخصوص مع البعد، ولو قدّمت الذال أو الباء لم تجد الحسن على الصفة الأولى فى تقديم العين على الذال لضرب من التأليف فى النغم يفسده التقديم والتأخير. وليس يخفى على أحد من السامعين أنّ تسمية الغصن غصنا أو فننا أحسن من تسميته عسلوجا، وأنّ أغصان البان أحسن من عساليج الشوحط (3). ومن الكلمات العذبة الجميلة «تفاوح» وقد استعملها المتنبى فقال:
إذا سارت الأحداج فوق نباته
… تفاوح مسك الغانيات ورنده (4)
وهى فى غاية من الحسن، وقيل: إنّ المتنبى أول من نطق بها على هذا المثال.
--------------------------------------------
বলা হয়েছে যে, জনৈক বেদুইনকে তার উষ্ট্রী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল: "আমি তাকে আল-হুখু (একটি কণ্টকাকীর্ণ ঝোপ) চরতে রেখে এসেছি।" (১)। ইবনে সিনান বলেছেন: "কণ্ঠনালীর বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে একটি বিশেষ কদর্যতা লক্ষ্য করা যায় যখন শব্দের গঠন কেবল সেগুলো দিয়েই সম্পন্ন হয়। আপনি এটি উপলব্ধি করতে পারেন এবং একে কদর্য মনে করেন, ঠিক যেমন আপনার কাছে রঙের কিছু মিশ্রণ এবং শব্দের কিছু সুর কদর্য মনে হয়।" (২)।
দ্বিতীয়ত: শ্রবণের ক্ষেত্রে শব্দের বিন্যাসে একটি বিশেষ সৌন্দর্য এবং অন্য শব্দের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব থাকা, যদিও তারা পরস্পর দূরবর্তী উচ্চারণস্থলের বর্ণ দিয়ে গঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে সমান হয়; যেমনটি আমরা কিছু সুর ও রঙের ক্ষেত্রে বিশেষ সৌন্দর্য দেখতে পাই যা হৃদয়ে অনুভূত হয় এবং দৃষ্টি ও শ্রবণ দ্বারা উপলব্ধি করা যায়, অথচ তার সমজাতীয় অন্য বস্তুতে তা পাওয়া যায় না। বর্ণের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো 'আইন, যাল, বা'। কেননা শ্রোতা যখন তাদের শব্দ প্রয়োগ যথা 'আল-উযাইব' (একটি স্থানের নাম), 'উযাইবাহ' (একজন মহিলার নাম), 'আযব', 'আযাব', 'আযিব' এবং 'আযাবাত' শোনে, তখন সে এমন এক মাধুর্য পায় যা এই শব্দগুলোর বিন্যাসের কাছাকাছি অন্য শব্দে পায় না। এর কারণ কেবল বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থলের দূরত্ব নয়, বরং দূরত্বের সাথে এটি একটি বিশেষ বিন্যাস। যদি 'যাল' অথবা 'বা' বর্ণটিকে আগে আনা হতো, তবে 'আইন'কে 'যাল'-এর আগে রাখার ফলে যে সৌন্দর্য তৈরি হয়েছিল তা সেই রূপে পাওয়া যেত না; কারণ সুরের বিন্যাসের এমন একটি ধরণ রয়েছে যা আগে-পাছে করলে নষ্ট হয়ে যায়। শ্রোতাদের কারও কাছেই এটি অস্পষ্ট নয় যে, বৃক্ষশাখাকে 'গুসুন' বা 'ফানান' বলা 'উসলুজ' বলার চেয়ে অধিকতর সুন্দর, এবং 'বান' বৃক্ষের ডালপালা বলা 'শাওহাত' বৃক্ষের কচি ডাল বলার চেয়ে উত্তম (৩)। সুমিষ্ট ও সুন্দর শব্দগুলোর মধ্যে একটি হলো 'তাফাউহ', যা আল-মুতানাব্বি ব্যবহার করে বলেছেন:
যখন উটের পিঠের হাওদাগুলো তার উদ্ভিদের ওপর দিয়ে চলল
… তখন সুন্দরী ললনাদের কস্তুরী ও তাদের সুগন্ধি বৃক্ষের সুঘ্রাণ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল (৪)
এটি অত্যন্ত সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি শব্দ। বলা হয়ে থাকে যে, আল-মুতানাব্বিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই রূপে শব্দটিকে উচ্চারণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومثال ما يكره قول المتنبى:
مبارك الاسم أغرّ اللقب
… كريم الجرشّى شريف النسب (1)
فانك تجد فى «الجرشى» تأليفا يكرهه السمع وينبو عنه، وأين كلمة «النفس» من هذه اللفظة الثقيلة؟
الثالث: أن تكون الكلمة غير متوعرة وحشية كقول أبى تمام:
لقد طلعت فى وجه مصر بوجهه
… بلا طائر سعد ولا طائر كهل
فان «كهلا» هنا من غريب اللغة، وروى أنّ الأصمعى لم يعرف هذه الكلمة وأنّها ليست موجودة إلّا فى شعر بعض الهذليين وهو قوله:
فلو أنّ سلمى جاره أو أجاره
… رياح بن سعد ردّه طائر كهل
وقيل: إنّ الكهل الضخم، وهى لفظة ليست قبيحة التأليف لكنها وحشية غريبة لا يعرفها مثل الأصمعى.
ولهذا اعتمد الحذاق من الشعراء على اختيار أسماء المنازل والنساء فى الغزل وتجنبوا ما لا يحسن لفظه، وعابوا على جرير قوله:
وتقول بوزع قد دببت على العصا
… هلا هزئت بغيرنا يا بوزع
وذكروا أنّ الوليد بن عبد الملك قال له: أفسدت شعرك ب «بوزع».
وقد قال ابن سنان: «وأنا أكره من قول كثير بن عبد الرحمن صاحب عزة:
وما روضة بالحزن طيبة الثرى
… يمجّ الندى جثجاثها وعرارها
ذكر «الجثجاث» لأنه اسم غير مختار، ولو أمكنه ذكر غيره كان عندى أليق وأوفق. ولا أحب أيضا تسمية أبى تمام صاحبه- علاثة- ونداءه بالترخيم فى قوله:
--------------------------------------------
অপছন্দনীয় বা শ্রুতিকটু শব্দের উদাহরণ হলো মুতানাব্বির এই উক্তি:
নামটি বরকতময়, উপাধিটি উজ্জ্বল
… অন্তর মহৎ, বংশমর্যাদা উচ্চ (১)
কারণ আপনি "আল-জুরাশশি" (الجرشى) শব্দটির গঠনে এমন এক বিন্যাস পাবেন যা শ্রবণেন্দ্রিয় অপছন্দ করে এবং তা থেকে বিমুখ হয়। এই ভারী শব্দটির তুলনায় "নাফস" (النفس - আত্মা) শব্দটি কতই না সাবলীল!
তৃতীয় শর্ত: শব্দটি দুর্গম বা বুনো (অপ্রচলিত ও কর্কশ) হবে না, যেমনটি আবু তাম্মামের উক্তিতে দেখা যায়:
সে তার চেহারা নিয়ে মিশরের সামনে উদিত হয়েছে
… সৌভাগ্যের পাখি ছাড়াই, আবার 'কাহল' পাখি ছাড়াই
এখানে "কাহলান" (كهلا) শব্দটি ভাষার এক অদ্ভুত ও বিরল শব্দ। বর্ণিত আছে যে, আল-আসমাঈ এই শব্দটি চিনতেন না এবং এটি হুদাইল গোত্রের কিছু কবির কাব্য ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না, যেমনটি কবি বলেছেন:
যদি সালমা তার প্রতিবেশী হতো অথবা রিয়াহ বিন সাদ তাকে আশ্রয় দিত
… তবে 'কাহল' পাখি তাকে ফিরিয়ে দিত
বলা হয়ে থাকে যে, 'কাহল' অর্থ বিশাল। এই শব্দটির গঠন কুৎসিত নয়, কিন্তু এটি একটি বুনো ও বিরল শব্দ যা আল-আসমাঈর মতো পণ্ডিতও চিনতেন না।
একারণেই দক্ষ কবিগণ গজল বা প্রেমকাব্য রচনার ক্ষেত্রে স্থানের নাম এবং নারীদের নাম নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শ্রুতিকটু শব্দ এড়িয়ে চলেন। তারা জারিরের এই উক্তির সমালোচনা করেছেন:
আর বাওযা বলছে যে, আপনি তো লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটছেন
… ওহে বাওযা, তুমি কি আমাদের ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে উপহাস করতে পারো না?
তারা উল্লেখ করেছেন যে, ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক তাকে বলেছিলেন: "তুমি 'বাওযা' শব্দটি ব্যবহার করে তোমার কাব্যকে নষ্ট করে ফেলেছ।"
ইবন সিনান বলেছেন: "আমি 'ইজ্জাহ'র সাথী কুসাইয়ির বিন আব্দুর রহমানের এই উক্তিটি অপছন্দ করি:
হাযন প্রান্তরে এমন কোনো বাগান নেই যার মাটি সুগন্ধযুক্ত
… যার 'জাজজাস' এবং 'আরার' উদ্ভিদ শিশির ছড়ায়
তিনি এখানে "আল-জাজজাস" উল্লেখ করেছেন, কারণ এটি একটি অনুত্তম নাম। যদি তিনি এর পরিবর্তে অন্য কিছু ব্যবহার করতে পারতেন, তবে সেটি আমার কাছে অধিক শোভনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হতো। একইভাবে আমি আবু তাম্মামের তার সাথীকে "আলাসাহ" নামে নামকরণ এবং তাঁর কবিতায় তাকে সংক্ষেপিত সম্বোধন করাকেও পছন্দ করি না:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قف بالطلول الدارسات علاثا
… أضحت حبال قطينهن رثاثا
وإن كان الروى قاده إلى ذلك، فليت شعرى من حظر عليه القوافى واقتصر به على الثاء دون غيرها من الحروف» (1).
الرابع: أن تكون الكلمة غير ساقطة عامية، ومثال العامية قول أبى تمام:
جليت والموت مبد حرّ صفحته
… وقد تفرعن فى أفعاله الأجل
فان «تفرعن» مشتق من اسم «فرعون» وهو من ألفاظ العامة، وعادتهم أن يقولوا:
«تفرعن فلان» إذا وصفوه بالجبرية.
ومنه قول أبى نصر عبد العزيز بن نباتة:
أقام قوام الدين زيغ قناته
… وأنضج كىّ الجرح وهو فطير
فلفظة «فطير» عامية مبتذلة.
ومنه قول أبى تمام:
قد قلت لما لجّ فى صدّه
… اعطف على عبدك يا قابرى
فان «قابرى» من ألفاظ عوام النساء.
ومن ذلك لفظة «أو جعتها» فى قول ابن نباتة:
فقد رفعت أبصارها كل بلدة
… من الشوق حتى أوجعتها الأخادع
ولفظة «الجورب» فى قول المتنبى:
تستغرق الكفّ فوديه ومنكبه
… وتكتسى منه ريح الجورب الخلق
--------------------------------------------
আলাসের চিহ্নহীন ধ্বংসাবশেষের কাছে থামো
… তাদের বাসিন্দাদের বন্ধনগুলো আজ জীর্ণ হয়ে গেছে।
যদি অন্ত্যমিল তাকে এই পথে চালিত করে থাকে, তবে আক্ষেপ! কে তার জন্য অন্যান্য অন্ত্যমিল নিষিদ্ধ করেছিল এবং তাকে অন্য কোনো বর্ণের পরিবর্তে কেবল 'সা' বর্ণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছিল? (১)।
চতুর্থত: শব্দটি যেন নিম্নমানের বা লৌকিক না হয়। লৌকিক শব্দের উদাহরণ আবু তাম্মামের এই উক্তি:
তুমি আত্মপ্রকাশ করলে যখন মৃত্যু তার নগ্ন রূপ প্রকাশ করেছে
… আর নির্ধারিত কাল তার আচরণে ফেরাউনের ন্যায় উদ্ধত হয়েছে।
কেননা 'তাফারাআনা' শব্দটি 'ফেরাউন' শব্দ থেকে উদ্ভূত এবং এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত শব্দ। তাদের রীতি হলো, যখন তারা কাউকে স্বৈরাচারী হিসেবে বর্ণনা করে তখন বলে:
'অমুক ফেরাউনি আচরণ করেছে' যখন তারা তাকে জুলুমের বিশেষণে বিশেষিত করে।
অনুরূপভাবে আবু নাসর আব্দুল আজিজ ইবনে নুবাতাহ-এর উক্তি:
কিওয়ামুদ্দীন তার বর্শার বক্রতা সংশোধন করলেন
… এবং ক্ষতস্থান কাঁচা থাকাবস্থায় তাতে সেঁক প্রদান করে তা পাকালেন।
এখানে 'ফাতীর' শব্দটি একটি স্থূল লৌকিক শব্দ।
অনুরূপভাবে আবু তাম্মামের উক্তি:
আমি বললাম যখন সে বিমুখতায় অটল থাকল
… হে আমার দাফনকারী, তোমার দাসের প্রতি সদয় হও।
কেননা 'কাবিরি' (আমার দাফনকারী) শব্দটি সাধারণ নারীদের ব্যবহৃত একটি শব্দ।
অনুরূপভাবে ইবনে নুবাতাহ-এর উক্তিতে 'আওজাআতাহা' শব্দটি:
প্রতিটি জনপদ তার দৃষ্টি উত্তোলন করেছে
… ব্যাকুলতায়, এমনকি ঘাড়ের শিরাগুলোও তাতে যন্ত্রণাকাতর হয়েছে।
এবং মুতানাব্বির উক্তিতে 'আল-জাওরাব' (মোজা) শব্দটি:
হাতের তালু তার কপাল ও কাঁধকে আচ্ছন্ন করে ফেলে
… আর তা থেকে জীর্ণ মোজার দুর্গন্ধ নির্গত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الخامس: أن تكون الكلمة جارية على العرف العربى الصحيح غير شاذّة. ويدخل فى هذا القسم ما ينكره أهل اللغة ويردّه علماء النحو من التصرف الفاسد فى الكلمة، وقد يكون ذلك لأجل أنّ اللفظة بعينها غير عربية كما أنكروا على أبى الشيص قوله:
وجناح مقصوص تحيّف ريشه
… ريب الزمان تحيّف المقراض
وقالوا: ليس «المقراض» من كلام العرب، ولم يسمع عنهم إلا مثنى.
وقد تكون الكلمة عربية إلا أنّها قد عبّر بها عن غير ما وضعت له فى عرف اللغة، كما قال البحترى:
يشق عليه الريح كلّ عشية
… جيوب الغمام بين بكر وأيّم
فوضع «الأيم» مكان «الثيب» وليس الأمر كذلك، وإنّما «الأيم» التى لا زوج لها بكرا كانت أو ثيبا. ومن ذلك قول
البحترى:
شرطى الإنصاف إن قيل اشترط
… وصديقى من إذا صافى قسط
وأراد ب «قسط» عدل، لأنّ الأمر عليه، وليس الأمر كذلك وإنّما يقال «أقسط» إذا عدل، و «قسط» إذا جار، ومنه قوله تعالى:
«وَأَمَّا الْقاسِطُونَ فَكانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَباً» (1)
وقد يكون على جهة الحذف من الكلمة كقول رؤبة بن العجاج:
قواطنا مكة من ورق الحما
يريد: الحمام
وقد يكون على وجه الزيادة فى الكلمة مثل أن تشبع الحركة فيها فتصير حرفا، كما قال الشاعر:
وأنت على الغواية حين ترمى
… وعن عيب الرجال بمنتزاح
أى: بمنتزح.
--------------------------------------------
পঞ্চম: শব্দটি বিশুদ্ধ আরবী রীতি অনুযায়ী প্রচলিত হওয়া এবং তা বিরল (শায) না হওয়া। এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হলো শব্দে এমন বিকৃত রূপান্তর যা ভাষাবিদগণ অস্বীকার করেন এবং ব্যাকরণবিদগণ প্রত্যাখ্যান করেন। এটি কখনও কখনও শব্দটির মূল সত্তা আরবী না হওয়ার কারণেও হতে পারে, যেমনটি তারা আবুশ শিসের নিম্নোক্ত উক্তিটিকে অস্বীকার করেছেন:
একটি ডানা যার পালকগুলো ছেঁটে ফেলা হয়েছে
… কালের বিপর্যয় তাকে কাঁচির মতো ছেঁটে ফেলেছে
তারা বলেন: 'আল-মিকরাদ' (একবচনে কাঁচি) আরবদের কথাবার্তার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তাদের নিকট এটি দ্বিবচন রূপ (মিকরাদান) ব্যতীত শোনা যায়নি।
আবার কখনও শব্দটি আরবী হতে পারে, কিন্তু ভাষাগত রীতিতে সেটি যে অর্থের জন্য প্রণীত হয়েছে তা ব্যতিরেকে অন্য অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন বুহুতুরী বলেছেন:
প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাতাস তার উপর বিদীর্ণ করে
… কুমারী ও স্বামীহীনার মাঝে মেঘমালার বক্ষপট
এখানে তিনি 'আস-সাইয়িব' (অকুমারী) শব্দের স্থলে 'আল-আইয়িম' শব্দটি ব্যবহার করেছেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। প্রকৃতপক্ষে 'আল-আইয়িম' হলো সেই নারী যার স্বামী নেই, সে কুমারী হোক বা অকুমারী। এরই অন্তর্ভুক্ত বুহুতুরীর এই উক্তি:
ইনসাফ বা ন্যায়বিচারই আমার শর্ত যদি শর্ত করার কথা বলা হয়
… আর আমার বন্ধু সে-ই, যে বন্ধুত্ব রক্ষায় ন্যায়পরায়ণ হয়
তিনি 'কাসাতা' দ্বারা 'আদালা' (ন্যায়বিচার করা) উদ্দেশ্য নিয়েছেন, কারণ প্রসঙ্গের দাবি তাই। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং যখন কেউ ন্যায়বিচার করে তখন বলা হয় 'আকসাতা', আর যখন কেউ অন্যায় বা জুলুম করে তখন বলা হয় 'কাসাতা'। আর মহান আল্লাহর বাণীও এই অর্থেই:
«পক্ষান্তরে জালেমরা তো জাহান্নামের ইন্ধন হবে» (১)
আবার কখনও এটি শব্দ থেকে কোনো অংশ বিলোপ করার মাধ্যমে হতে পারে, যেমন রু'বাহ ইবনুল আজ্জাজের উক্তি:
মক্কায় বসবাসকারী ধূসর বর্ণের কবুতরগুলো
তিনি 'আল-হামাম' (কবুতর) বুঝাতে চেয়েছেন।
আবার কখনও শব্দে কোনো অংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে হতে পারে, যেমন কোনো স্বরচিহ্নে অতিরিক্ত টান দেওয়ার ফলে তা বর্ণে পরিণত হয়, যেমন কবি বলেছেন:
তুমি যখন পথভ্রষ্টতায় নিমগ্ন থাকো
… তখন মানুষের দোষত্রুটি থেকে দূরে থাকো
অর্থাৎ: 'বি-মুনতাযাহ'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد يكون إيراد الكلمة على وجه الشاذ القليل، كلفظة «باهت» التى جاءت رديئة شاذة فى قول البحترى:
متحيرين فباهت متعجب
… مما يرى أو ناظر متأمّل
والعربى المستعمل «بهت الرجل يبهت فهو مبهوت».
ويدخل فى هذا القسم ما يسمى الضرورة الشعرية من إظهار التضعيف، أو مدّ المقصور، أو قصر الممدود، أو تأنيث المذكر على بعض التأويل، أو صرف ما لا ينصرف، وغير ذلك.
السادس: أن لا تكون الكلمة قد عبّر بها عن أمر آخر يكره ذكره، فاذا أوردت وهى غير مقصود بها ذلك المعنى قبحت وإن كملت فيها الصفات كقول الشريف الرضى:
أعزز علىّ بأن أراك وقد خلت
… من جانبيك مقاعد العوّاد
فايراد «مقاعد» فى هذا البيت صحيح، إلّا أنّه موافق لما يكره ذكره فى مثل هذا الشأن، لا سيما إضافته إلى من يحتمل إضافته إليهم وهم «العواد»، ولو انفرد لكان الأمر فيه سهلا فأما إضافته إلى ما ذكره ففيها قبح لاخفاء به.
السابع: أن تكون الكلمة معتدلة غير كثيرة الحروف فانها متى زادت على الأمثلة المعتادة المعروفة قبحت وخرجت
عن وجه من وجوه الفصاحة.
ومن ذلك قول أبى نصر بن نباتة:
فاياكم أن تكشفوا عن رؤوسكم
… ألا إنّ مغناطيسهن الذوائب
ف «مغناطيسهن» كلمة غير مرضية لطولها.
ومنه قول أبى تمام:
فلأذربيجان اختيال بعد ما
… كانت معرّس عبرة ونكال
سمجت ونبهنا على استسماجها
… ما حولها من نضرة وجمال
কখনো কখনো কোনো শব্দের প্রয়োগ বিরল ও ব্যতিক্রমী রূপেও হতে পারে, যেমন 'বাহীত' শব্দটি, যা বুহতুরীর উক্তিতে নিকৃষ্ট ও ব্যতিক্রমী হিসেবে এসেছে:
হতবিহ্বল হয়ে, অতঃপর এক বিস্ময়াভিভূত ব্যক্তি যা দেখছে তা দেখে হতভম্ব
… অথবা একজন গভীর পর্যবেক্ষক।
আর আরবী ভাষার প্রচলিত প্রয়োগ হলো 'লোকটি হতভম্ব হলো, সে হয় হতভম্ব'।
এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো যাকে কাব্যিক অনিবার্যতা বলা হয়; যেমন দ্বিত্বতা প্রকাশ করা, হ্রস্ব স্বরকে দীর্ঘ করা, দীর্ঘ স্বরকে হ্রস্ব করা, কোনো ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পুংলিঙ্গকে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে গণ্য করা, অথবা অপরিবর্তনীয় শব্দকে পরিবর্তনযোগ্য করা ইত্যাদি।
ষষ্ঠ: শব্দটি যেন এমন কোনো বিষয়কে প্রকাশ না করে যা উল্লেখ করা অপছন্দনীয়। যদি শব্দটি এমনভাবে আনা হয় যেখানে ওই অর্থটি উদ্দেশ্য নয়, তবুও তা কুরুচিপূর্ণ বলে গণ্য হবে, যদিও তাতে অন্যান্য গুণাবলি পূর্ণ থাকে; যেমন শরীফ আল-রাযীর উক্তি:
আমার জন্য এটি কতই না কঠিন যে আমি তোমাকে দেখছি এমতাবস্থায় যে তোমার চারপাশ থেকে রোগীদের সেবাকারীদের বসার স্থানগুলো শূন্য হয়ে পড়েছে
… এই চরণে 'বসার স্থানসমূহ' শব্দের ব্যবহার সঠিক, কিন্তু তা এমন একটি বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যা এই ধরনের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা অপছন্দনীয়। বিশেষ করে যখন একে এমন ব্যক্তিদের সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে যাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হওয়া সম্ভব, আর তারা হলেন 'সেবাকারীগণ'। শব্দটি যদি এককভাবে থাকত তবে বিষয়টি সহজ হতো, কিন্তু উল্লেখিত বিষয়ের সাথে একে সম্বন্ধ করার কারণে এতে স্পষ্ট কুরুচিপূর্ণতা রয়েছে যা গোপন নয়।
সপ্তম: শব্দটি যেন সুষম হয় এবং অধিক অক্ষরবিশিষ্ট না হয়। কেননা, যখন তা সাধারণ ও পরিচিত দৃষ্টান্তগুলোর চেয়ে দীর্ঘ হয়ে যায়, তখন তা কুরুচিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং
অলঙ্কারশাস্ত্রের কোনো একটি মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত হয়।
এর উদাহরণ হলো আবু নাসর ইবনে নুবাতার উক্তি:
সাবধান! তোমরা তোমাদের মস্তক উন্মোচন করো না
… জেনে রেখো তাদের অলকগুচ্ছ হলো চুম্বক।
'তাদের চুম্বক' শব্দটি এর দীর্ঘতার কারণে সন্তোষজনক নয়।
এর অন্তর্ভুক্ত আবু তাম্মামের উক্তি:
আজারবাইজান এখন গর্বিত, অথচ তা এক সময়
… শিক্ষা ও শাস্তির বিশ্রামস্থল ছিল।
এটি কুরুচিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল, আর এর চারপাশের সজীবতা ও সৌন্দর্যই আমাদের তার সেই কুরুচিপূর্ণতার প্রতি সজাগ করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فقوله «فلأذربيجان» كلمة رديئة لطولها وكثرة حروفها وهى غير عربية، وكذلك قوله «استسماجها» ردئ لكثرة الحروف وخروج الكلمة بذلك عن المعتاد فى الألفاظ إلى الشاذ النادر.
ومنه قول المتنبى:
إنّ الكريم بلا كرام منهم
… مثل القلوب بلا سويداواتها (1)
ف «سويداواتها» كلمة طويلة جدا.
الثامن: أن تكون الكلمة مصغرة فى موضع عبر بها فيه عن شئ لطيف أو خفى أو قليل أو ما يجرى مجرى ذلك، فانها تحسن به. ومن ذلك قول عمر بن أبى ربيعة:
وغاب قمير كنت أرجو طلوعه
… وروّح رعيان ونوّم سمّر
وهذا تصغير مختار فى موضعه، فأما الأسماء التى لم ينطق بها إلّا مصغرة كاللجين والثريا فليس للتصغير فيهما حسن يذكر، لأنّه غير مقصود بهما ما ذهب إليه ابن سنان.
ومعظم هذه الشروط تدخل فى فصاحة الألفاظ المؤلفة، والإخلال بها قد يؤدى إلى زيادة القبح والتنافر فى الكلام، لأنّه حين تكون الألفاظ مجتمعة تحتاج إلى دقة فى التركيب واختيار اللطيف منها. يقول ابن سنان متحدثا عن الشرط الأول: «إنّ الأول منها أن يكون تأليف اللفظة من حروف متباعدة المخارج، وهذا بعينه فى التأليف وبيانه أن يجتنب الناظم تكرر الحروف المتقاربة فى تأليف الكلام كما أمرناه بتجنب ذلك فى اللفظة الواحدة، بل هذا فى التأليف أقبح، وذلك أنّ اللفظة المفردة لا يستمر فيها من تكرار الحرف الواحد أو تقارب الحرف مثلما يستمر فى الكلام المؤلف إذا طال واتسع» (2).
--------------------------------------------
তার উক্তি ‘ফলি-আজারবাইজান’ শব্দটি এর দীর্ঘতা এবং অক্ষরের আধিক্যের কারণে মন্দ, তদুপরি এটি একটি অনারবি শব্দ। অনুরূপভাবে ‘ইস্তিসমাঝুহা’ উক্তিটিও অক্ষরের আধিক্যের কারণে এবং শব্দটির স্বাভাবিক ব্যবহার থেকে বিচ্যুত হয়ে বিরল ও অস্বাভাবিক রূপ পরিগ্রহ করায় তা মন্দ।
এর মধ্যে রয়েছে মুতানাব্বির উক্তি:
তাদের মাঝে মহানুভব ব্যক্তি ব্যতীত কোনো মহানুভবতা নেই
… যেমন হৃদপিণ্ডের মূল বিন্দু ব্যতীত অন্তঃকরণ। (১)
এখানে ‘সুওয়াইদাওয়াতুহা’ শব্দটি অত্যন্ত দীর্ঘ।
অষ্টম: শব্দটি এমন স্থানে ক্ষুদ্রতা জ্ঞাপক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া যা দ্বারা সূক্ষ্ম, লুকায়িত বা স্বল্প কোনো কিছুর অর্থ প্রকাশ পায় অথবা এই জাতীয় কোনো কিছু বুঝায়; এমতাবস্থায় শব্দটি সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়। এর উদাহরণ হলো উমর ইবনে আবি রাবিআহ-এর উক্তি:
সেই ছোট চাঁদটি অদৃশ্য হয়ে গেল যার উদয়ের আমি প্রত্যাশা করছিলাম
… রাখালরা ফিরে এল এবং নৈশ-আলাপকারীরা ঘুমিয়ে পড়ল।
এটি তার উপযুক্ত স্থানে ব্যবহৃত একটি পছন্দনীয় ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দ। পক্ষান্তরে ঐসব নাম যা ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ ব্যতিরেকে ব্যবহৃত হয় না, যেমন ‘লুজাইন’ (রুপা) ও ‘সুরাইয়া’ (নক্ষত্রপুঞ্জ), সেগুলোতে ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ ব্যবহারের বিশেষ কোনো সৌন্দর্য নেই; কারণ ইবনে সিনান যা বুঝাতে চেয়েছেন তা এখানে উদ্দেশ্য নয়।
এই শর্তগুলোর অধিকাংশ যৌগিক শব্দের প্রাঞ্জলতার অন্তর্ভুক্ত। এই শর্তসমূহ লঙ্ঘিত হলে বাক্যে কদর্যতা ও অসংলগ্নতা বৃদ্ধি পায়। কারণ শব্দগুলো যখন একত্রিত হয়, তখন সেগুলোর বিন্যাসে সূক্ষ্মতা ও সুন্দর শব্দ চয়নের প্রয়োজন হয়। ইবনে সিনান প্রথম শর্ত সম্পর্কে বলেন: ‘এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো—শব্দের গঠন এমন বর্ণ দ্বারা হওয়া যা উচ্চারণের স্থান (মাখরাজ) থেকে একে অপরের থেকে দূরবর্তী। রচনার ক্ষেত্রে এটি একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এর ব্যাখ্যা হলো—রচয়িতা যেন রচনার বিন্যাসে কাছাকাছি উচ্চারণের বর্ণের পুনরাবৃত্তি পরিহার করেন, যেমনটি আমরা একটি একক শব্দের ক্ষেত্রে পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছি। বরং রচনার ক্ষেত্রে এটি অধিকতর কুৎসিত। কারণ একক শব্দের মধ্যে একটি বর্ণের পুনরাবৃত্তি বা কাছাকাছি বর্ণের সমাবেশ তেমন দীর্ঘ হয় না যেমনটি দীর্ঘ ও বিস্তৃত রচনার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।’ (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ومما قبح قول أبى تمام:
فالمجد لا يرضى بأن ترضى بأن
… يرضى المؤمل منك إلّا بالرضى
ومنه قول الآخر:
وقبر حرب بمكان قفر
… وليس قرب قبر حرب قبر
ومنه قول المتنبى:
وتسعدنى فى غمرة بعد غمرة
… سبوح لها منها عليها شواهد
وأما الثانى من شروط اللفظة المفردة فيكون فى التأليف إذا ترادفت الكلمات المختارة فيوجد الحسن فيها أكثر وتزيد طلاوته على ما لا يجمع من تلك الكلمات إلا القليل، وهذا يرجع إلى اللفظة بانفرادها وليس للتأليف فيه إلّا ما أثاره التواتر والترادف. وكذلك الثالث والرابع من الأقسام لا علقة للتأليف بهما، وإنّما يقبح إذا كثر فيه الكلام الوحشى أو العامى.
وأما الخامس فللتأليف به علقة وكيدة، لأنّ إعراب اللفظة تبع لتأليفها من الكلام وعلى حكم الموضع الذى وردت فيه.
وأما السادس فللتأليف فيه تعلق بحسب إضافة الكلمة إلى غيرها، فانّ القبح يختلف بحسب ذلك.
وأما السابع فلا علقة للتأليف به، إلّا أنّ ظهور قبحه أجلى إذا ترادفت فيه الكلمات الطوال.
وأما الثامن فلا علقة للتأليف به إذ كان لا يتعدى الكلمة بانفرادها.
ودراسة ابن سنان للفصاحة من أخصب الدراسات، ولا يكاد المتأخرون يخرجون عنها فى كل ما ألفوا أو اختصروا أو شرحوا.
عبد القاهر:وكانت الفصاحة والبلاغة والبراعة والبيان ألفاظا مترادفة عند عبد القاهر الجرجانى (- هـ أو هـ)، وكلها يعبر بها عن «فضل بعض القائلين
আবু তামমামের উক্তির মধ্যে যা কদর্য তা হলো:
মর্যাদা এতে সন্তুষ্ট নয় যে আপনি সন্তুষ্ট হবেন যে
… আপনার নিকট প্রত্যাশী ব্যক্তি সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হবে।
এরই অন্তর্ভুক্ত অন্য একজনের উক্তি:
আর হারবের কবর এক নির্জন স্থানে
… আর হারবের কবরের নিকটে অন্য কোনো কবর নেই।
এরই অন্তর্ভুক্ত আল-মুতানাব্বির উক্তি:
আর এক বিপদের পর অন্য বিপদে আমাকে সাহায্য করে
… এমন এক দ্রুতগামী ঘোড়া যার জন্য তার নিজের পক্ষ হতে তার ওপরই সাক্ষ্য রয়েছে।
আর একক শব্দের শর্তাবলির মধ্যে দ্বিতীয়টি রচনার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়; যখন নির্বাচিত শব্দগুলো পর্যায়ক্রমে আসে তখন তাতে সৌন্দর্য অধিক পাওয়া যায় এবং তার মাধুর্য সেই রচনার চেয়ে বৃদ্ধি পায় যাতে এই শব্দগুলোর খুব অল্পই একত্রিত হয়। এটি একক শব্দের নিজস্ব গুণের দিকেই ফিরে যায় এবং এতে রচনার কোনো ভূমিকা নেই কেবল শব্দের পৌনঃপুনিকতা ও সমার্থকতার প্রভাব ছাড়া। একইভাবে প্রকারভেদের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থটির সাথে রচনার কোনো সম্পর্ক নেই; এটি কেবল তখনই কদর্য হয় যখন তাতে অপ্রচলিত বা গ্রাম্য শব্দের আধিক্য ঘটে।
আর পঞ্চমটির সাথে রচনার এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে, কারণ শব্দের ব্যাকরণিক বিভক্তি (ইরাব) বাক্যে তার বিন্যাস এবং সে যে স্থানে এসেছে তার বিধানের অনুগামী।
আর ষষ্ঠটির ক্ষেত্রে রচনার সংশ্লিষ্টতা শব্দটিকে অন্যের সাথে সম্বন্ধ (ইজাফত) করার ওপর ভিত্তি করে, কেননা এর ওপর ভিত্তি করেই কদর্যতার তারতম্য ঘটে।
আর সপ্তমটির সাথে রচনার কোনো সম্পর্ক নেই, তবে এর কদর্যতা অধিক স্পষ্ট হয় যখন এতে দীর্ঘ শব্দগুলো পর্যায়ক্রমে আসে।
আর অষ্টমটির সাথে রচনার কোনো সম্পর্ক নেই, যেহেতু এটি একক শব্দকে অতিক্রম করে না।
আর বাগ্মিতা (ফাসাহাত) সম্পর্কে ইবনে সিনানের গবেষণা অন্যতম সমৃদ্ধ গবেষণা, এবং পরবর্তীগণ যা কিছু রচনা করেছেন, সংক্ষেপ করেছেন বা ব্যাখ্যা করেছেন তার কোনোটিতেই তারা প্রায় এর বাইরে যেতে পারেননি।
আব্দুল কাহির:আব্দুল কাহির আল-জুরজানি (মৃত্যু ৪৭১ হি. বা ৪৭৪ হি.)-এর নিকট ফাসাহাত (বাগ্মিতা), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), বারায়াত (নিপুণতা) এবং বায়ান (সুস্পষ্ট বর্ণনা) শব্দগুলো সমার্থক ছিল এবং এগুলোর সবকটি দ্বারাই ‘বক্তাদের কারো কারো শ্রেষ্ঠত্ব’ প্রকাশ করা হতো।
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
على بعض من حيث نطقوا وتكلموا وأخبروا السامعين عن الأغراض والمقاصد وراموا أن يعلموهم ما فى نفوسهم، ويكشفوا لهم عن ضمائر قلوبهم» (1)
والألفاظ عنده خدم للمعانى وأوعية تتبعها فى حسنها وجمالها أو قبحها ورداءتها، يقول: «ولن تجد أيمن طائرا، وأحسن أولا وآخرا، وأهدى إلى الاحسان، وأجلب للاستحسان من أن ترسل المعانى على سجيتها وتدعها تطلب لأنفسها الألفاظ، فانها إذا تركت وما تريد لم تكتس إلّا ما يليق بها ولم تلبس من المعارض إلّا ما يزينها. فأما أن تضع فى نفسك أن لا بدّ من أن تجنس أو تسجع بلفظين مخصوصين فهو الذى أنت بعرض الاستكراه وعلى خطر من الخطأ والوقوع فى الذم. فان ساعدك الجد كما ساعد فى قوله:
أو دعانى أمت بما أودعانى
وكما ساعد أبا تمام فى نحو قوله:
وأنجدتم من بعد إتهام داركم
… فيا دمع أنجدنى على ساكنى نجد
وقوله:
هنّ الحمام فان كسرت عيافة
… من حائهن فانهنّ حمام
فذاك وإلا أطلقت ألسنة العيب» (2).
إنّ الفصاحة تكون فى المعنى وليس للكلمة المفردة كبير قيمة، وكثيرا ما تستعمل اللفظة فى موضع فتكون حلوة الجرس عذبة، وتستعمل فى موضع آخر فتفقد تلك المزية، وإنما كان ذلك «لأنّ المزية التى من أجلها نصف اللفظ فى شأننا هذا بأنه فصيح مزية تحدث بعد أن لا تكون وتظهر فى العلم من بعد أن يدخلها النظم. وهذا شئ إن أنت طلبته فيها وقد جئت بها إفرادا
--------------------------------------------
...কারো উপর, যেখান থেকে তারা উচ্চারণ করেছেন, কথা বলেছেন এবং শ্রোতাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং তারা চেয়েছেন যা তাদের অন্তরে রয়েছে তা তাদের জানাতে এবং তাদের হৃদয়ের গহীনের রহস্য তাদের নিকট উন্মোচন করতে। (১)
আর তাঁর নিকট শব্দাবলী হলো অর্থের সেবক এবং আধারস্বরূপ, যা অর্থের সৌন্দর্য ও লাবণ্য অথবা তার কদর্যতা ও হীনতাকে অনুসরণ করে। তিনি বলেন: "অর্থসমূহকে তাদের স্বাভাবিক গতিতে ছেড়ে দেওয়া এবং শব্দসমূহকে নিজ হতেই অর্থের অনুগামী হতে দেওয়ার চেয়ে অধিক কল্যাণকর, শুরু ও শেষে অধিক সুন্দর, ইহসানের দিকে অধিক পথপ্রদর্শক এবং প্রশংসার উদ্রেককারী আর কিছু আপনি পাবেন না। কেননা যখন অর্থসমূহকে তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন তারা নিজেদের জন্য উপযুক্ত পোশাক ছাড়া অন্য কিছু পরিধান করে না এবং অলংকারের মধ্য থেকে তা-ই গ্রহণ করে যা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর আপনি যদি নিজের মনে স্থির করে নেন যে, আপনাকে নির্দিষ্ট দুটি শব্দের মাধ্যমে অনুপ্রাস বা অন্ত্যমিল আনতেই হবে, তবে আপনি নিজেকে কৃত্রিমতার সম্মুখীন করছেন এবং ভুল করা ও নিন্দিত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। যদি ভাগ্য আপনাকে সহায়তা করে যেমন এই উক্তিতে সহায়তা করেছে:
অথবা আমাকে ছেড়ে দাও আমি যেন তাতে মৃত্যুবরণ করি যা সে আমার নিকট গচ্ছিত রেখেছে
আর যেমন আবু তাম্মামকে তাঁর এই জাতীয় উক্তিতে সহায়তা করেছে:
তোমরা তোমাদের গৃহ নিচু ভূমিতে থাকার পর এখন উঁচু ভূমিতে গমন করেছ... হে অশ্রু, নাজদবাসীদের বিরহে আমাকে সাহায্য করো
এবং তাঁর উক্তি:
তারা হলো কবুতর, যদি শুভ-অশুভ নির্ণয় করতে গিয়ে এর 'হা' বর্ণটি বিলুপ্ত করেন, তবে তারা হবে মরণ
তবে তো হলোই, অন্যথায় ত্রুটি অন্বেষণকারীদের জিহ্বা উন্মুক্ত হয়ে পড়বে।" (২)।
নিশ্চয়ই সাবলীলতা বা ফাসাহাত অর্থের মধ্যেই থাকে এবং একক শব্দের কোনো বড় মূল্য নেই। অনেক সময় একটি শব্দ এক স্থানে ব্যবহৃত হলে শ্রুতিমধুর ও সুমিষ্ট হয়, আবার অন্য স্থানে ব্যবহৃত হলে সেই বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে। এটি কেবল এই কারণে যে, "যে বৈশিষ্ট্যের কারণে আমরা শব্দকে আমাদের এই আলোচনায় সাবলীল বলে বর্ণনা করি, তা এমন এক বৈশিষ্ট্য যা পূর্বে বিদ্যমান ছিল না এবং এটি জ্ঞানের রাজ্যে তখনই প্রকাশিত হয় যখন শব্দগুলো বাক্যশৈলীর অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি এমন একটি বিষয় যা আপনি শব্দের মধ্যে খুঁজছেন অথচ আপনি শব্দটিকে এককভাবে নিয়ে এসেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لم ترم فيها نظما ولم تحدث لها تأليفا طلبت محالا. وإذا كان كذلك وجب أن تعلم قطعا أنّ تلك المزية فى المعنى دون اللفظ» (1).
فالألفاظ عند عبد القاهر لا تتفاضل من حيث هى ألفاظ مجردة، ولا من حيث هى كلم مفردة، وإنما تثبت لها
الفضيلة وخلافها فى ملاءمة معنى اللفظة لمعنى التى تليها وما أشبه ذلك مما لا تعلق له بصريح اللفظ. ومما يشهد لذلك أنّك ترى الكلمة تروقك وتؤنسك فى موضع ثم تراها بعينها تثقل عليك وتوحشك فى موضع آخر كلفظ «الأخدع» فى بيت الحماسة:
تلفتّ نحو الحى حتى وجدتنى
… وجعت من الإصغاء ليتا وأخدعا (2)
وبيت البحترى:
وإنى وإن بلّغتنى شرف الغنى
… وأعتقت من رقّ المطامع أخدعى
فان لها فى هذين البيتين ما لا يخفى من الحسن، ثم إنك تتأملها فى بيت أبى تمام:
يا دهر قوّم من أخدعيك فقد
… أضججت هذا الأنام من خرقك
فتجد لها من الثقل على النفس ومن التنغيص والتكدير أضعاف ما وجدت هناك من الروح والخفة والإيناس والبهجة.
ومن أعجب ذلك لفظة «الشئ» فانك تراها مقبولة حسنة فى موضع وضعيفة مستكرهة فى موضع آخر، وإن أردت أن تعرف ذلك فانظر إلى قول عمر بن أبى ربيعة:
ومن مالئ عينيه من شئ غيره
… إذا راح نحو الجمرة البيض كالدّمى
وإلى قول أبى حية النميرى:
إذا ما تقاضى المرء يوم وليلة
… تقاضاه شئ لا يملّ التقاضيا
--------------------------------------------
যদি আপনি তাতে কোনো বিন্যাস অন্বেষণ না করেন এবং তার জন্য কোনো রচনা সৃষ্টি না করেন, তবে আপনি অসম্ভব কিছু প্রার্থনা করলেন। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আপনাকে নিশ্চিতভাবে জানতে হবে যে, সেই শ্রেষ্ঠত্ব শব্দের নয় বরং অর্থের মধ্যে নিহিত। (১)।
আবদুল কাহিরের নিকট শব্দসমূহ কেবল নিছক শব্দ হিসেবে বা একক শব্দ হিসেবে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে না, বরং শব্দটির শ্রেষ্ঠত্ব ও এর বিপরীত অবস্থা সাব্যস্ত হয় তার অর্থের সাথে তার পরবর্তী শব্দের অর্থের সামঞ্জস্যতা এবং এই জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে, যার সাথে কেবল শব্দের বাহ্যিক রূপের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এর একটি প্রমাণ হলো, আপনি দেখবেন একটি শব্দ কোনো এক স্থানে আপনাকে মুগ্ধ ও আনন্দিত করছে, আবার সেই একই শব্দ অন্য স্থানে আপনার কাছে ভারী ও অপ্রীতিকর মনে হচ্ছে; যেমন ‘হামাসা’র কবিতায় ‘আখদা’ (ঘাড়ের রগ) শব্দটি:
আমি জনপদের দিকে তাকাচ্ছিলাম যতক্ষণ না আমি দেখলাম যে, ঘাড় কাত করে রাখার কারণে আমার ঘাড়ের পার্শ্বদেশ ও ঘাড়ের রগ ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছে। (২)
এবং বুহতুরীর কবিতা:
আমি, যদিও আপনি আমাকে সম্পদের শ্রেষ্ঠত্বে পৌঁছে দিয়েছেন এবং লালসার দাসত্ব থেকে আমার ঘাড়ের রগকে মুক্ত করেছেন।
এই দুই চরণে শব্দটির যে সৌন্দর্য রয়েছে তা অত্যন্ত স্পষ্ট। এরপর আপনি আবু তাম্মামের এই চরণে শব্দটি নিয়ে চিন্তা করুন:
হে মহাকাল! তোমার ঘাড়ের রগদ্বয়কে সোজা করো, কেননা তোমার মূর্খতার কারণে তুমি এই সৃষ্টিজগতকে অতিষ্ঠ করে তুলেছ।
সেখানে আপনি প্রাণের স্পন্দন, লঘুতা, মাধুর্য ও আনন্দের যা পেয়েছিলেন, এখানে তার বিপরীতে মনের ওপর এক প্রকার ভার, বিরক্তি ও কলুষতা বহুগুণ বেশি অনুভব করবেন।
এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো ‘শাই’ (বস্তু) শব্দটি; আপনি দেখবেন এটি এক স্থানে গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর, অথচ অন্য স্থানে দুর্বল ও অপছন্দনীয়। আপনি যদি তা জানতে চান তবে উমর ইবনে আবি রাবিআহ-এর এই উক্তিটি দেখুন:
এবং এমন ব্যক্তি যে অন্যের কোনো কিছু দিয়ে নিজের চোখ জুড়ায়, যখন শুভ্রবর্ণা রমণীরা পুতুলের মতো জামরাহর দিকে অগ্রসর হয়।
এবং আবু হাইয়্যাহ আন-নুমাইরীর উক্তি:
যখন দিন ও রাত মানুষের কাছে পাওনা দাবি করে, তখন এমন এক বস্তু তার কাছে দাবি করে যা দাবি করতে কখনো ক্লান্ত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فانك تعرف حسنها ومكانها من القبول، ثم انظر فى بيت المتنبى:
لو الفلك الدوّار أبغضت سعيه
… لعوّقه شئ عن الدوران
فانك تراها تقل وتضؤل بحسب نبلها وحسنها فيما تقدم.
ومن سر هذا الباب أنّك ترى اللفظة المستعارة قد استعيرت فى عدة مواضع ثم ترى لها فى بعض ذلك ملاحة لا تجدها فى الباقى، مثال ذلك أنك تنظر إلى لفظة «الجسر» فى قول أبى تمام:
لا يطمع المرء أن يجتاب لجّته
… بالقول ما لم يكن جسرا له العمل
وقوله:
بصرت بالراحة العظمى فلم ترها
… تنال إلا على جسر من التّعب
فترى لها فى الثانى حسنا لا تراه فى الأول، ثم تنظر إليها فى قول ربيعة الرقى:
قولى: نعم، ونعم إن قلت واجبة
… قالت: عسى وعسى جسر إلى نعم
ترى لها لطفا وخلابة وحسنا ليس الفضل فيه بقليل.
وينتهى عبد القاهر إلى أنّ الكلمة لو كانت إذا حسنت من حيث هى لفظ واذا استحقت المزية والشرف، استحقت ذلك فى ذاتها وعلى انفرادها دون أن يكون السبب فى ذلك حال لها مع أخواتها المجاورة لها فى النظم لما اختلفت بها الحال ولكانت إما أن تحسن أبدا أو لا تحسن أبدا (1).
ولعل الغرض الدينى كان دافعا إلى هذا الرأى، لأن كلمات القرآن الكريم عربية نطق بها الشعراء والخطباء وتداولها الناس، وليس لها مزية وهى مفردة لا يضمها سلك يوحد بينها ويجمع متفرقها، ولكى يظهر عبد القاهر
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই আপনি এর সৌন্দর্য এবং গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে এর অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন। অতঃপর আল-মুতানাব্বির এই পঙক্তিটির দিকে লক্ষ্য করুন:
যদি আপনি ঘূর্ণায়মান আসমানের গতিকে অপছন্দ করতেন
… তবে কোনো কিছুই তাকে ঘূর্ণন থেকে বিরত রাখতে পারত
আপনি দেখতে পাবেন যে, পূর্বে উল্লেখিত বিষয়গুলোর শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্যের তুলনায় এখানে তা সংকুচিত ও ম্লান হয়ে গেছে।
এই অধ্যায়ের একটি রহস্য হলো, আপনি দেখবেন একটি রূপক শব্দ বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু কোনো কোনো স্থানে এমন মাধুর্য পরিলক্ষিত হয় যা অন্যগুলোতে পাওয়া যায় না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি আবু তাম্মামের উক্তিতে 'সেতু' শব্দটির দিকে লক্ষ্য করুন:
কোনো ব্যক্তি যেন কেবল কথার মাধ্যমে এর গভীরতা পাড়ি দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা না করে
… যতক্ষণ না কর্ম তার জন্য সেতু হয়ে দাঁড়ায়
এবং তাঁর অন্য উক্তি:
আপনি পরম সুখ দেখেছেন, কিন্তু তা কেবল
… ক্লান্তির সেতুর উপর দিয়েই অর্জন করতে দেখেছেন
আপনি দ্বিতীয় পঙক্তিটিতে এমন সৌন্দর্য দেখতে পাবেন যা প্রথমটিতে দেখেননি। অতঃপর রবিআ আল-রাক্কির উক্তিতে শব্দটি লক্ষ্য করুন:
বলো: ‘হ্যাঁ’। আর তুমি যদি ‘হ্যাঁ’ বলো তবে তা রক্ষা করা আবশ্যক
… সে বলল: ‘হয়তো’। আর ‘হয়তো’ হলো ‘হ্যাঁ’ পর্যন্ত পৌঁছানোর একটি সেতু
আপনি এতে এমন এক সূক্ষ্মতা, আকর্ষণ ও সৌন্দর্য দেখতে পাবেন যার শ্রেষ্ঠত্ব সামান্য নয়।
আব্দুল কাহিয়ের এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কোনো শব্দ যদি শব্দ হিসেবেই সুন্দর হতো এবং যদি তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা এককভাবে শব্দটির মধ্যেই নিহিত থাকত—যার পেছনে রচনার মধ্যে তার পার্শ্ববর্তী অন্যান্য সহ-শব্দগুলোর সাথে কোনো সম্পর্কের প্রভাব না থাকত—তবে তার অবস্থার কোনো পরিবর্তন হতো না। সেক্ষেত্রে শব্দটি হয় সর্বদা সুন্দর হতো, নয়তো কখনোই সুন্দর হতো না (১)।
সম্ভবত ধর্মীয় উদ্দেশ্যই এই মতামতের পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। কারণ কুরআনুল কারীমের শব্দসমূহ আরবি ভাষা থেকেই নেওয়া, যা কবি ও বাগ্মীরা উচ্চারণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ ব্যবহার করেছেন। যখন এই শব্দগুলো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে এবং কোনো সূত্র এদের একীভূত ও সুসংবদ্ধ না করে, তখন এগুলোর কোনো বিশেষ মর্যাদা থাকে না। আর আব্দুল কাহিয়ের এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসালীবু বালাগিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
إعجاز القرآن ويردّ ما كان يشيع فى البيئات المختلفة اتجه إلى نظرية النظم ليسد بها المسالك ويفند آراء المختلفين ويوقف طعنات الحاقدين.
ولم يقف عند الاهتمام بالنظم وإنما اهتم بالتصوير الأدبى الذى لا يكون إلا بترتيب الألفاظ والتأليف بينها، يقول: «ومعلوم أنّ سبيل الكلام سبيل التصوير والصياغة، وأنّ سبيل المعنى الذى يعبر عنه سبيل الشئ الذى يقع التصوير والصوغ فيه كالفضة والذهب يصاغ منهما خاتم أو سوار، فكما أنّ محالا إذا أنت أردت النظر فى صوغ الخاتم وفى جودة العمل ورداءته أن تنظر إلى الفضة الحاملة لتلك الصورة أو الذهب الذى وقع فيه العمل وتلك الصنعة، كذلك محال إذا أردت أن تعرف مكان الفضل والمزية فى الكلام أن تنظر فى مجرد معناه. وكما أنا لو فضلنا خاتما على خاتم بأن تكون فضة هذا أجود أو فضة ذاك أنفس لم يكن ذلك تفضيلا له من حيث هو خاتم، كذلك ينبغى إذا فضلنا بيتا على بيت من أجل معناه أن لا يكون تفضيلا له من حيث هو شعر وكلام» (1).
فعبد القاهر يرى أنّ للتصوير الأدبى قيمة كبيرة، ولذلك أطال الكلام فى «أسرار البلاغة» على الوسائل التى تجعل الصورة حسنة مقبولة، وفصل القول فى نظرية النظم، وذهب إلى أبعد من ذلك ورأى أنّ فى الاستعارة ما لا يمكن بيانه إلّا بعد العلم بالنظم والوقوف على حقيقته. يقول متحدثا عن الاستعارة فى بيت الشاعر:
سالت عليه شعاب الحىّ حين دعا
… أنصاره بوجوه كالدنانير
«فانك ترى هذه الاستعارة على لطفها وغرابتها إنمّا تم لها الحسن وانتهى إلى حيث انتهى بما توخّى فى وضع الكلام من التقديم والتأخير، وتجدها قد ملحت ولطفت بمعاونة تلك ومؤازرته لها. وإن شككت فاعمد إلى الجارين والظرف فأزل كلّا منها عن مكانه الذى وضعه الشاعر فيه فقل: «طالت
--------------------------------------------
কুরআনের অলৌকিকতা এবং বিভিন্ন পরিবেশে যা প্রচলিত ছিল তা খণ্ডন করার জন্য তিনি শব্দ গ্রন্থন (নাজম) তত্ত্বের দিকে মনোনিবেশ করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে পথগুলো রুদ্ধ করা যায়, ভিন্নমতাবলম্বীদের মতামত ভ্রান্ত প্রমাণ করা যায় এবং বিদ্বেষীদের আক্রমণ প্রতিহত করা যায়।
তিনি কেবল শব্দ গ্রন্থনের প্রতি গুরুত্ব দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং সাহিত্যিক চিত্রায়নের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন, যা শব্দের বিন্যাস ও তাদের মধ্যকার সুসমন্বয় ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন: «এটি সুপরিচিত যে, বক্তব্যের ধরণ হলো রূপদান ও শৈল্পিক নির্মাণের মতো, আর যে অর্থের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা হয় তার ধরণ হলো সেই উপাদানের মতো যাতে রূপদান ও নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়; যেমন রৌপ্য ও স্বর্ণ, যা থেকে আংটি বা কঙ্কণ তৈরি করা হয়। সুতরাং, আপনি যখন আংটির গড়ন এবং কাজের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ বিচার করতে চান, তখন সেই রূপ বহনকারী রৌপ্য বা যে স্বর্ণে সেই কাজ ও কারুকার্য করা হয়েছে তার দিকে তাকানো যেমন অসম্ভব, তেমনিভাবে আপনি যখন বক্তব্যের শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্যের স্থান জানতে চান, তখন কেবল তার নিছক অর্থের দিকে তাকানোও অসম্ভব। আর আমরা যদি একটি আংটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিই এই কারণে যে, এটির রৌপ্য অধিকতর উৎকৃষ্ট বা ওটির স্বর্ণ অধিক মূল্যবান, তবে আংটি হিসেবে সেটির শ্রেষ্ঠত্ব বিবেচিত হবে না। একইভাবে, যখন আমরা কোনো কবিতাকে অন্য কবিতার ওপর তার অর্থের কারণে শ্রেষ্ঠত্ব দিই, তখন কবিতা বা বক্তব্য হিসেবে সেটির শ্রেষ্ঠত্ব হওয়া উচিত নয়» (১)।
আব্দুল কাহির মনে করেন যে, সাহিত্যিক চিত্রায়নের ব্যাপক মূল্য রয়েছে। এজন্য তিনি «আসরারুল বালাগাহ» গ্রন্থে চিত্রায়নকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করার উপায়সমূহ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং শব্দ গ্রন্থন (নাজম) তত্ত্বের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি এর চেয়েও অগ্রবর্তী হয়ে মনে করেন যে, রূপকের (ইসতিয়ারা) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা শব্দ গ্রন্থন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এর প্রকৃত স্বরূপ অবগত হওয়া ছাড়া স্পষ্ট করা সম্ভব নয়। জনৈক কবির কবিতায় রূপক সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন:
গোত্রের উপত্যকাগুলো তার দিকে ধাবিত হলো যখন সে ডাকলো
… স্বর্ণমুদ্রার মতো উজ্জ্বল চেহারার সাহায্যকারীদের
«আপনি এই রূপকটিকে এর সূক্ষ্মতা ও চমৎকারিত্ব সত্ত্বেও দেখবেন যে, এর সৌন্দর্য পূর্ণতা পেয়েছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বক্তব্যের বিন্যাসে শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ করার নিপুণ লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে। আপনি লক্ষ্য করবেন যে, এটি সেই বিন্যাসের সাহায্য ও সহযোগিতার ফলেই শ্রুতিমধুর ও সূক্ষ্ম হয়েছে। আপনার যদি সন্দেহ হয়, তবে অব্যয় ও অধিকরণবাচক শব্দগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন এবং কবি সেগুলোকে যে স্থানে রেখেছেন তা থেকে সরিয়ে দিন, অতঃপর বলুন: দীর্ঘ হয়েছে
--------------------------------------------