(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
تفسير حدائق الروح والريحان في روابي علوم القرآن   (محمد الأمين الهرري)

القسم: التفسير


الكتاب: تفسير حدائق الروح والريحان في روابي علوم القرآن

المؤلف: محمد الأمين بن عبد الله الأرمي العلوي الهرري الشافعي [ت 1441 هـ]

المدرس بدار الحديث الخيرية في مكة المكرمة

إشراف ومراجعة: الدكتور هاشم محمد علي بن حسين مهدي

خبير الدراسات برابطة العالم الإسلامي

الناشر: دار طوق النجاة، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م

عدد الأجزاء: 33 (المقدمة و 32)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 رمضان 1436

তাফসীর হাদা-ইকুর রূহ ওয়ার রায়হান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন   (মুহাম্মাদ আল-আমীন আল-হারারী)

বিভাগ: তাফসীর


কিতাব: তাফসীর হাদা-ইকুর রূহ ওয়ার রায়হান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন

লেখক: মুহাম্মাদ আল-আমীন বিন আব্দুল্লাহ আল-উরামী আল-আলাওয়ী আল-হারারী আশ-শাফিঈ [মৃ. ১৪৪১ হিজরী]

মক্কা মুকাররামাহর দারুল হাদীস আল-খাইরিয়্যাহর শিক্ষক

তত্ত্বাবধান ও পর্যালোচনা: ডক্টর হাশেম মুহাম্মাদ আলী বিন হুসাইন মাহদী

রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী-এর গবেষণা বিশেষজ্ঞ

প্রকাশক: দার তূকুন নাজাত, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরী - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩৩ (ভূমিকা এবং ৩২)

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
مقدمة التفسير

المسماة

«نزل كرام الضيفان في ساحة حدائق الروح والريحان»

 

تأليف

الشيخ العلامة محمد الأمين بن عبد الله الأرمي العلوي الهرري الشافعي

المدرس بدار الحديث الخيرية في مكة المكرمة

 

ترجم للمؤلف وقدم له تلميذه

الدكتور هاشم محمد علي بن حسين مهدي

خبير الدراسات برابطة العالم الإسلامي - مكة المكرمة
তাফসীরের ভূমিকা

নামক

«রুহ ও রায়হানের উদ্যান চত্বরে সম্মানিত অতিথিদের আতিথেয়তা»

 

গ্রন্থনায়

শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আবদুল্লাহ আল-উরামি আল-আলাউয়ি আল-হারারি আল-শাফিঈ

মক্কা মুকাররমার দারুল হাদিস আল-খায়রিয়্যাহ-র শিক্ষক

 

লেখকের জীবনী এবং ভূমিকা উপস্থাপনায় তাঁর ছাত্র

ডক্টর হাশিম মুহাম্মদ আলী বিন হোসেন মাহদী

গবেষণা বিশেষজ্ঞ, রাবেতাতুল আলম আল-ইসলামী - মক্কা মুকাররমা
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٣)
حقوق الطبع محفوظة للناشر

الطبعة الأولى

1421 هـ - 2001 م

 

دار طوق النجاة

بيروت - لبنان
স্বত্বাধিকার প্রকাশকের নিকট সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

 

দার তওকুন নাজাত

বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌مقدمة التفسير

المسماة

«نزل كرام الضيفان في ساحة حدائق الروح والريحان»
তাফসীরের ভূমিকা

নামক

«রূহ ও রায়হানের উদ্যানসমূহের প্রাঙ্গণে সম্মানিত মেহমানদের আতিথেয়তা»
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌ترجمة وتقديم

الحمد لله واهب النعم ودافع النقم، وأشهد أن لا إله إلا الله الذي علّم بالقلم علّم الإنسان ما لم يعلم، والصلاة والسلام على عبده الأكرم سيد العرب والعجم، وعلى آله وصحبه وكل عالم ومتعلّم.

أما بعد فقد أذن لي مؤلّف «حدائق الروح والريحان» وهو العالم الجهبذ والعلّامة النحرير فريد عصره وأوانه متّع الله بحياته ونفع بعلومه؛ بأن أرتّب وأراجع وأحقّق سفره العظيم .. وأجازني كذلك في جميع مؤلفاته ومروياته من فنون العلم وصنوف المعرفة في هذا الدين التي نقلها العدول من هذه الأمة خير خلف عن خير سلف فلله الحمد والمنة.

وإنه ليشرّفني التعريف بهذا الحجة العلم والمقيم بأرض الحرم فأقول هو محمد أمين بن عبد الله بن يوسف بن حسن أبو ياسين الأرمي جنسا، العلوي قبيلة، الأثيوبي دولة، الهرري منطقة، الكري ناحية، البويطي قرية، السلفي مذهبا، السعودي إقامة نزيل مكة المكرمة جوار الحرم الشريف في المسفلة حارة الرشد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌অনুবাদ ও ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিয়ামত দানকারী এবং বিপদাপদ দূরকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরম সম্মানিত বান্দা, আরব ও অনারবদের সরদার, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং প্রত্যেক আলেম ও জ্ঞানপিপাসুর ওপর।

অতঃপর, 'হাদাইকুর রুহ ওয়ার রায়হান' গ্রন্থের রচয়িতা—যিনি একজন প্রাজ্ঞ আলেম, অপ্রতিদ্বন্দ্বী পণ্ডিত এবং নিজ যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, আল্লাহ তাঁর জীবনকে বরকতময় করুন এবং তাঁর ইলম দ্বারা (উম্মতকে) উপকৃত করুন—তিনি আমাকে তাঁর এই মহান গ্রন্থটি বিন্যস্ত করা, পর্যালোচনা করা এবং তাহকীক করার অনুমতি প্রদান করেছেন। সেই সাথে তিনি আমাকে তাঁর সকল রচনা ও বর্ণিত বিষয়াদিরও ইজাজত (অনুমতি) দিয়েছেন, যা দ্বীনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সংশ্লিষ্ট এবং যা এই উম্মতের নির্ভরযোগ্য উত্তরসূরিগণ তাঁদের ন্যায়পরায়ণ পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যাবতীয় প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহর জন্য।

হারামাইনের পুণ্যভূমিতে অবস্থানকারী এই বিদগ্ধ আলেম ও প্রামাণ্য ব্যক্তিত্বের পরিচয় প্রদান করা আমার জন্য গৌরবের বিষয়। তিনি হলেন: মুহাম্মাদ আমীন বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন হাসান আবু ইয়াসিন; জাতিগতভাবে আরমি, গোত্রগতভাবে আলভী, নাগরিকত্বে ইথিওপীয়, হারারি অঞ্চলের, কুরি এলাকার, বুয়াইতি গ্রামের অধিবাসী। মাযহাব বা মানহাজে তিনি সালাফি এবং বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসরত। তিনি মক্কা মুকাররমায় মাসফালাহ এলাকার হারাতুর রুশদে হারাম শরীফের পাশেই অবস্থান করেন।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌مولده: ولد في الحبشة في منطقة الهرر في قرية بويطه في عصر يوم الجمعة أواخر شهر ذي الحجة، سنة ألف وثلاثمائة وثمان وأربعين من الهجرة النبوية على صاحبها أفضل الصلوات وأزكى التحيات.

‌‌نشأته: ترّبى بيد والده وهو يتيم عن أمه، ووضعه عند المعلّم وهو ابن أربع سنين، وتعلّم القرآن وختمه وهو ابن ست سنين، ثمّ حوّله إلى مدارس علوم التوحيد والفقه، وحفظ من توحيد الأشاعرة «عقيدة العوام» للشيخ أحمد المرزوقي، و «الصغرى»، و «صغرى الصغرى»، و «الكبرى»، و «كبرى الكبرى» للشيخ محمد بن يوسف السنوسي؛ لأن أهل الحبشة كانوا وقتئذ من الأشاعرة، وحفظ من مختصرات فقه الشافعية كثيرا، ك «مختصر بافضل الحضرمي»، و «مختصر أبي شجاع» مع «كفاية الأخيار»، و «عمدة السالك» لأحمد بن النقيب، «وزبد أحمد بن رسلان» وهي ألفية في فقه الشافعية، وقرأ «المنهاج» للإمام النووي مع شرحه «مغني المحتاج»، و «المنهج» لشيخ الإسلام الأنصاري مع شرحه «فتح الوهاب»، وقرأ كثيرا من مختصرات كتب الشافعية ومبسوطاتها على مشايخ عديدة من مشايخ بلدانه.

‌‌رحلته: ثم رحل إلى شيخه سيبويه زمانه، وفريد أوانه أبي محمد الشيخ موسى بن محمد الأدّيلي (1)، وبدأ عنده دراسة الفقه، بدأ بشرح جلال الدين المحلي على «منهاج» النووي، ثم بعد ما

--------------------------------------------

(1) الأديلي - بفتح الهمزة وتشديد الدال المفتوحة -: نسبة إلى أديل من أعمال دردوا.
তাঁর জন্ম: তিনি হাবাশার (ইথিওপিয়া) হারার অঞ্চলের বুয়াইতাহ গ্রামে হিজরি ১৩৪৮ সনের জিলহজ মাসের শেষদিকে শুক্রবার আসরের সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম সেই মহান সত্তার হিজরতের সাথে সম্পৃক্ত, যাঁর প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম।

তাঁর বেড়ে ওঠা: তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন, তিনি ছিলেন মাতৃহীন এতিম। তাঁর চার বছর বয়সে তাঁর পিতা তাঁকে শিক্ষকের কাছে সোপর্দ করেন। তিনি কুরআন শিক্ষা করেন এবং ছয় বছর বয়সে তা সমাপ্ত (খতম) করেন। অতঃপর তিনি তাঁকে তাওহিদ ও ফিকহ শাস্ত্রের মাদরাসাগুলোতে স্থানান্তরিত করেন। তিনি আশআরি আকিদা বিষয়ক শাইখ আহমদ আল-মারজুকির ‘আকিদাতুল আওয়াম’ এবং শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আস-সেনুসীর ‘আস-সুগরা’, ‘সুগরাস সুগরা’, ‘আল-কুবরা’ ও ‘কুবরাল কুবরা’ মুখস্থ করেন; কারণ তৎকালীন হাবাশার অধিবাসীরা আশআরি আকিদার অনুসারী ছিলেন। তিনি শাফেয়ি ফিকহ-এর অনেক সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ মুখস্থ করেন, যেমন বাফাদল আল-হাদরামি রচিত ‘মুখতাসার বাফাদল’, আবু শুজা রচিত ‘মুখতাসার আবি শুজা’ (কিফায়াতুল আখইয়ার-সহ), আহমদ ইবনুন নাকিব রচিত ‘উমদাতুস সালিক’ এবং আহমদ বিন রুসলান রচিত ‘যুবাদ’—যা শাফেয়ি ফিকহ বিষয়ক একটি হাজার পঙক্তির পদ্য (আলফিয়াহ)। এছাড়া তিনি ইমাম নববি রচিত ‘আল-মিনহাজ’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মুগনিউল মুহতাজ’, এবং শাইখুল ইসলাম আল-আনসারী রচিত ‘আল-মানহাজ’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল ওয়াহহাব’ পাঠ করেন। তিনি তাঁর দেশের বিভিন্ন শাইখদের কাছে শাফেয়ি মাযহাবের বহু সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত গ্রন্থ পাঠ করেন।

তাঁর সফর: এরপর তিনি তাঁর সমকালীন সিবাওয়াইহ (ব্যাকরণ সম্রাট) এবং অদ্বিতীয় পন্ডিত আবু মুহাম্মাদ শাইখ মুসা বিন মুহাম্মাদ আল-আদিলি (১)-এর নিকট সফর করেন। তাঁর কাছে তিনি ফিকহ পাঠ শুরু করেন। তিনি ইমাম নববির ‘মিনহাজ’-এর উপর জালালুদ্দিন আল-মহল্লির ব্যাখ্যাগ্রন্থ দিয়ে পাঠ শুরু করেন, এরপর যা...

--------------------------------------------

(১) আল-আদিলি—হামজার উপরে ফাতহা এবং দাল-এর উপরে তাশদিদ ও ফাতহা যোগে—এটি দিরদাওয়া অঞ্চলের ‘আদিল’ নামক স্থানের দিকে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٧)
وصل إلى كتاب (السّلم) حوّله شيخه المذكور - رحمه الله تعالى - إلى دراسة النحو لما رأى فيه من النجابة والاجتهاد في العلم، وقرأ عليه مختصرات النحو، ك «متن الأجرومية» وشروحها العديدة، و «متن الأزهرية» و «ملحة الإعراب» مع شرحه «كشف النقاب» لعبد الله الفاكهي، و «قطر الندى» مع شرحه «مجيب النّدا» لعبد الله الفاكهي، وقرأ «الألفية» لابن مالك مع شروحها العديدة، ك «شرح ابن عقيل»، و «شرح المكودي»، و «شرح السيوطي»، ثم اشتغل بكتب الصرف والبلاغة والعروض والمنطق والمقولات والوضع، واجتهد فيها وحفظ «ألفية ابن مالك» و «ملحة الإعراب» و «لامية الأفعال» و «السلّم» في المنطق، و «الجوهر المكنون» في البلاغة، وكان لا ينام كل ليلة حتى يختم القصائد المذكورة حفظا، وكان قليل النوم في صغره إلى كبره، حتى أنه كان لا ينام غالبا بعد ما كبر إلا أربع ساعات من أربع وعشرين ساعة لكثرة اجتهاده في مذاكرة العلم، وكان يدرّس هذه الفنون جنب حلقة شيخه، مع دراسته على الشيخ المذكور، ثم رحل من عنده بعد ما لازمه نحو سبع سنوات إلى شيخه خليل زمانه، وحبيب عصره وأوانه الشيخ محمد مديد الأدّيلي أيضا، وقرأ عنده مطولات كتب النحو ك «مجيب الندا على قطر الندى»، و «مغني اللبيب» كلاهما لابن هشام، و «الفواكه الجنيّة على المتممة الآجرومية»، وغير ذلك من مطولات علم النحو، وكان يدرّس أيضا جنب حلقة شيخه، وقرأ عليه أيضا التفسير إلى سورة يس.
যখন তিনি 'আস-সুল্লাম' কিতাব পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন তার উল্লিখিত উস্তাদ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—তার মাঝে বুদ্ধিমত্তা ও ইলমের প্রতি কঠোর পরিশ্রম দেখে তাকে নাহু (ব্যাকরণ) অধ্যয়নের দিকে মনোনিবেশ করালেন। তিনি তাঁর কাছে নাহুর সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহ পাঠ করেন, যেমন: 'মাতনুল আজরুমিয়্যাহ' ও এর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ, 'মাতনুল আজহারিয়্যাহ', 'মুলহাতুল ই'রাব' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আবদুল্লাহ আল-ফাকিহী রচিত 'কাশফুন নিকাব', এবং 'কাতরুন নাদা' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আবদুল্লাহ আল-ফাকিহী রচিত 'মুজিবুন নিদা'। তিনি ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ' এবং এর বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন, যেমন: 'শারহুবনু আকিল', 'শারহুল মাকুদি' এবং 'শারহুস সুয়ূতি'। এরপর তিনি সরফ (রূপতত্ত্ব), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), আরুজ (ছন্দশাস্ত্র), মানতিক (তর্কশাস্ত্র), মাকুলাত এবং ওয়াদ'-এর কিতাবসমূহ নিয়ে ব্যস্ত হন এবং এগুলোতে কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি মুখস্থ করেন: ইবনে মালিকের 'আলফিয়্যাহ', 'মুলহাতুল ই'রাব', 'লামিয়াতুল আফআল', তর্কশাস্ত্রে 'আস-সুল্লাম' এবং বালাগাত শাস্ত্রে 'আল-জাওহারুল মাকনুন'। তিনি প্রতি রাতে উল্লিখিত কবিতাগুলো মুখস্থ পাঠ করে শেষ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত তিনি খুব কম ঘুমাতেন। এমনকি বৃদ্ধ বয়সেও ইলমি মুজাকারা বা জ্ঞানচর্চায় অধিক পরিশ্রমের কারণে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সাধারণত চার ঘণ্টার বেশি ঘুমাতেন না। তিনি উল্লিখিত উস্তাদের কাছে অধ্যয়নের পাশাপাশি তাঁর হালকার পাশেই এই শাস্ত্রগুলো পাঠ দান করতেন। সাত বছর তাঁর সান্নিধ্যে থাকার পর তিনি তাঁর নিকট থেকে সে যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং সমসাময়িকদের প্রিয় শায়খ মুহাম্মদ মাদিদ আল-আদিলীর কাছে গমন করেন। সেখানে তিনি নাহু শাস্ত্রের বিস্তারিত কিতাবসমূহ পাঠ করেন, যেমন: ইবনে হিশাম রচিত 'মুজিবুন নিদা আলা ক্বাতরিন নাদা' এবং 'মুগনিল লাবিব', এবং 'আল-ফাওয়াকিহুল জানিয়্যাহ আলাল মুতাম্মিমাতি আজরুমিয়্যাহ'সহ নাহু শাস্ত্রের অন্যান্য বিস্তারিত গ্রন্থাবলি। তিনি তাঁর উস্তাদের হালকার পাশেই দরস প্রদান করতেন। তিনি তাঁর কাছে সূরা ইয়াসিন পর্যন্ত তাফসীরও পাঠ করেন।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٨)
ثم رحل من عنده بعد ما لازمه ثلاث سنوات، إلى شيخه الشيخ الحاوي، المفسّر في زمانه، الشيخ إبراهيم بن يس الماجتي (1)، فقرأ عليه التفسير بتمامه والعروض من مختصراته ومطولاته ك «حاشية الدمنهوري الكبير على متن الكافي»، و «شرح شيخ الإسلام الأنصاري على المنظومة الخزرجية»، و «شرح الصبان» على منظومته في العروض، وقرأ عليه أيضا مطولات المنطق والبلاغة ولازمه نحو: ثلاث سنوات.

ثم رحل من عنده إلى الشيخ الفقيه الشيخ يوسف بن عثمان الورقي (2)، وقرأ عليه مطولات علم الفقه ك «شرح الجلال المحلى على المنهاج»، و «فتح الوهاب على المنهج» لشيخ الإسلام مع «حاشيته» لسليمان البجيرمي، و «حاشيته» لسليمان الجمل، و «حاشية التوشيح على متن أبي شجاع»، و «مغني المحتاج» للشيخ الخطيب إلى كتاب (الفرائض)، وقرأ عليه غير ذلك من كتب الفرائض ك «حواشي الرّحبية» و «الفرات الفائض في فن الفرائض» وهو كتاب جيد من مطولاتها، ولازمه نحو: أربع سنوات.

ثم رحل من عنده إلى الشيخ إبراهيم المجّي (3) وقرأ عليه فتح الجواد لابن حجر الهيتميّ على متن الإرشاد لابن المقرىء الجزئين الأولين منه.

--------------------------------------------

(1) الماجتي: نسبة إلى ماجة من بلاد ولّو.

(2) الورقيّ: نسبة إلى ورقة من أعمال مدينة هرر.

(3) المجّي: نسبة إلى قبيلة من قبائل نولي.
এরপর তিনি তাঁর নিকট তিন বছর অতিবাহিত করার পর তাঁর শাইখ, তাঁর সময়ের মুফাসসির শাইখ আল-হাভি শাইখ ইব্রাহিম বিন ইয়াস আল-মাজেতি (১)-এর নিকট গমন করেন। সেখানে তিনি পূর্ণ তাফসির এবং ছন্দশাস্ত্রের (আরুজ) সংক্ষিপ্ত ও বিস্তৃত গ্রন্থসমূহ পাঠ করেন, যেমন— ‘মাতনুল কাফি’-এর ওপর ‘হাশিয়াতুদ দামানহুরি আল-কাবির’, ‘আল-মানজুমাহ আল-খাজরাজিয়াহ’-এর ওপর ‘শরহু শাইখিল ইসলাম আল-আনসারী’, এবং ছন্দশাস্ত্রের ওপর তাঁর স্বরচিত মানজুমাহর ওপর ‘শরহুস সাব্বান’। তিনি তাঁর নিকট যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) ও অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) দীর্ঘ গ্রন্থসমূহও পাঠ করেন এবং প্রায় তিন বছর তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর নিকট থেকে ফকিহ শাইখ ইউসুফ বিন উসমান আল-ওয়ারাকি (২)-এর নিকট গমন করেন এবং ইলমে ফিকহের বিস্তারিত গ্রন্থসমূহ পাঠ করেন, যেমন: ‘মিনহাজ’-এর ওপর ‘শরহুল জালালিল মাহাল্লি’, শাইখুল ইসলামের ‘ফাতহুল ওয়াহহাব আলাল মানহাজ’ এবং সাথে সুলাইমান আল-বুজাইরিমির ‘হাশিয়া’, সুলাইমান আল-জামালের ‘হাশিয়া’, ‘মাতনে আবু শুজা’-এর ওপর ‘হাশিয়াতুত তওশিহ’ এবং ‘কিতাবুল ফারিদ’ (উত্তরাধিকার আইন) অধ্যায় পর্যন্ত শাইখ আল-খাতিব প্রণীত ‘মুগনী আল-মুহতাজ’। এছাড়াও তিনি ফারায়েজের অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন যেমন: ‘হাওয়াশির রাহবিয়্যাহ’ এবং ‘আল-ফুরাতুল ফাইদ ফি ফান্নিল ফারায়েদ’—যা এই শাস্ত্রের বিস্তৃত কিতাবগুলোর মধ্যে একটি চমৎকার কিতাব। তিনি তাঁর নিকট প্রায় চার বছর অবস্থান করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর নিকট থেকে শাইখ ইব্রাহিম আল-মাজ্জি (৩)-এর নিকট গমন করেন এবং ইবনে মুকরির ‘মাতনুল ইরশাদ’-এর ওপর ইবনে হাজার আল-হাইতামির ‘ফাতহুল জাওয়াদ’-এর প্রথম দুই খণ্ড তাঁর নিকট পাঠ করেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজেতি: ওলো অঞ্চলের মাজেহ নামক স্থানের সাথে সম্পৃক্ত।

(২) আল-ওয়ারাকি: হারার শহরের অন্তর্গত ওয়ারাকাহ নামক স্থানের সাথে সম্পৃক্ত।

(৩) আল-মাজ্জি: নুলি গোত্রসমূহের একটি গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٩)
ثم رحل من عنده إلى شيخ المحدثين الشيخ الحافظ الفقيه الشيخ أحمد بن إبراهيم الكري، وقرأ عليه «البخاري» بتمامه و «صحيح الإمام مسلم» وبعض كتب الاصطلاح.

ثم رحل من عنده إلى مشايخ عديدة، وقرأ عليهم «السنّن الأربعة»، و «الموطأ» وغير ذلك من كتب الحديث مما يطول بذكره الكلام، ثم رحل من عندهم إلى شيخ عبد الله نورو القرسيّ (1)، فقرأ عليه مطولات كتب البلاغة ك «شروح التلخيص» لسعد الدين التفتازاني وغيره، ومطولات كتب أصول الفقه ك «شرح جمع الجوامع» لجلال الدين المحلي، وقرأ عليه من النحو «حاشية الخضريّ على ابن عقيل».

وقرأ على غير هؤلاء المشايخ كتبا عديدة من فنون متنوعة مما يطول الكلام بذكره من كتب السيرة، وكتب الأمداح النبوية ك «بانت سعاد» و «همزية البوصيري» و «بردته» و «القصيدة الوترية» و «الطرّاف والطرائف وإضاءة الدجنّة» ألفية في كتب الأشاعرة، وغير ذلك مما يطول الكلام بذكره، وكان يدرّس مع دراسته جنب حلقة مشايخه ما درس عليهم من أربع عشرة سنة من عمره.

ثم استجاز من مشايخه هؤلاء كلهم التدريس، استقلالا في ما درس عليهم فأجازوا له، فبدأ التدريس استقلالا في جميع الفنون، في أوائل سنة ألف وثلاثمائة وثلاث وسبعين، في اليوم

--------------------------------------------

(1) القرسي: نسبة إلى قرسا ناحية من أعمال دردوا.
এরপর তিনি তাঁর নিকট হতে শায়খুল মুহাদ্দিসীন, আল-হাফিজ, আল-ফকিহ শায়খ আহমাদ বিন ইবরাহিম আল-কুররির নিকট গমন করেন এবং তাঁর নিকট পূর্ণাঙ্গ ‘বুখারি’, ‘সহিহুল ইমাম মুসলিম’ এবং উসুলুল হাদিসের কিছু কিতাব পাঠ করেন।

অতঃপর তিনি তাঁর নিকট হতে বহু শায়খের নিকট গমন করেন এবং তাঁদের নিকট ‘সুনানে আরবাআ’ (চার সুনান গ্রন্থ), ‘মুয়াত্তা’ এবং হাদিসের অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন যা বিস্তারিত আলোচনা করলে কথা দীর্ঘ হয়ে যাবে। এরপর তিনি তাঁদের নিকট হতে শায়খ আবদুল্লাহ নূরু আল-কুরসি (১)-এর নিকট যান এবং তাঁর নিকট বালাগাত শাস্ত্রের বিস্তারিত কিতাবসমূহ যেমন সা’দুদ্দিন তাফতাযানী ও অন্যদের ‘শুরুহুত তালখিস’ এবং উসুলুল ফিকহের বিস্তারিত কিতাবসমূহ যেমন জালালুদ্দিন মহল্লীর ‘শারহু জামউল জাওয়ামি’ পাঠ করেন। আর নাহু শাস্ত্র থেকে তিনি তাঁর নিকট ইবনে আকীলের ওপর ‘হাশিয়াতুল খুদরি’ পাঠ করেন।

তিনি এই শায়খগণ ব্যতীত অন্যদের নিকটও বিভিন্ন শাস্ত্রের অসংখ্য কিতাব পাঠ করেন যা বিস্তারিত উল্লেখ করা দীর্ঘসাধ্য; যেমন—সিরাত গ্রন্থসমূহ, নবিজির প্রশংসামূলক কাব্যগ্রন্থসমূহ (মাদহ) যেমন ‘বানাত সুয়াদ’, বুসিরির ‘হামজিয়্যাহ’, তাঁর ‘বুরদাহ’, ‘আল-কাসিদাতুল বিতরিয়্যাহ’ এবং আশায়েরা মতবাদের কিতাবের অন্তর্ভুক্ত আলফিয়্যাহ ‘আত-তাররাফ ওয়াত তারাঈফ ওয়া ইদাআতুদ দুজান্নাহ’ ও অন্যান্য কিতাব যা উল্লেখ করতে গেলে কথা দীর্ঘ হবে। তিনি তাঁর অধ্যয়নের পাশাপাশি চৌদ্দ বছর বয়স থেকে তাঁর শায়খদের মজলিসের পাশে নিজে যা পাঠ করেছেন তা শিক্ষাদান করতেন।

অতঃপর তিনি তাঁর এই সকল শায়খদের নিকট থেকে তাঁদের কাছে যা পাঠ করেছেন সেগুলোর ওপর স্বতন্ত্রভাবে পাঠদানের অনুমতি প্রার্থনা করেন এবং তাঁরা তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন। এরপর তিনি তেরশ তিয়াত্তর হিজরি সালের শুরুর দিকে সকল শাস্ত্রে স্বতন্ত্রভাবে পাঠদান শুরু করেন, নির্দিষ্ট দিনে...

--------------------------------------------

(১) কুরসি: দিরদাওয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত কুরসা নামক এলাকার সাথে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٠)
الثاني عشر من ربيع الأول 12/ 3/ 1373 من الهجرة النبوية، فاجتمع عنده خلق كثير من طلّاب كلّ الفنون زهاء ستمائة طالب، أو سبعمائة طالب وكان يدرس من صلاة الفجر إلى صلاة العشاء الآخرة نحو: سبع وعشرين حصة من حصص الفنون المتنوعة، وكان يحيي ليله دائما بكتابة التآليف وبما قدّر الله له من طاعته.

والله أعلم

* * *
১২ই রবিউল আউয়াল ১৩৭৩ হিজরি; তাঁর নিকট বিভিন্ন শাস্ত্রের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সমবেত হন, যাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ছয়শত কিংবা সাতশত। তিনি ফজর নামায হতে ইশার নামায পর্যন্ত বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রায় সাতাশটি পাঠ দান করতেন। তিনি সর্বদা গ্রন্থ রচনা এবং আল্লাহ তাঁর জন্য ইবাদতের যা নির্ধারণ করেছিলেন তার মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করতেন।

এবং আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত

* * *
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌ومؤلفاته كثيرة من كل الفنون حتى أوشكت إلى أن لا تحصى، و‌‌المطبوع المنتشر منها اثنا عشر كتابا:

‌‌[من النحو]

1 - «الباكورة الجنية في إعراب متن الآجرومية».

2 - «الفتوحات القيومية في علل وضوابط متن الآجرومية».

3 - «الدرر البهية في إعراب أمثلة الآجرومية».

4 - «جواهر التعليمات شرح على التقريظات ومقدمة علم النحو».

5 - «هدية أولي العلم والإنصاف في إعراب المنادى المضاف».

 

*‌‌ ومن الصرف:

6 - «مناهل الرجال على لامية الأفعال».

7 - «تحنيك الأطفال على لامية الأفعال».

 

*‌‌ ومن المصطلح:

8 - «الباكورة الجنية على منظومة البيقونية».

9 - «هداية الطالب المعدم على ديباجة صحيح مسلم».

10 - «خلاصة القول المفهم على تراجم رجال صحيح مسلم» مجلدان.
তাঁর গ্রন্থাবলি অনেক যা সকল শাস্ত্রেই বিস্তৃত এবং তা প্রায় গণনাতীত, আর সেগুলোর মধ্যে মুদ্রিত ও প্রচলিত হলো বারোটি বই:

[ব্যাকরণ শাস্ত্র হতে]

১ - «আল-আজরুমিয়্যাহর মূলপাঠের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে আহরিত পরিপক্ক ফলসমূহ»।

২ - «আল-আজরুমিয়্যাহর মূলপাঠের কারণ ও নিয়মাবলির ক্ষেত্রে চিরন্তন বিজয়সমূহ»।

৩ - «আল-আজরুমিয়্যাহর উদাহরণসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে উজ্জ্বল মুক্তাসমূহ»।

৪ - «ব্যাকরণ শাস্ত্রের উপক্রমণিকা ও প্রশংসাপত্রসমূহের ব্যাখ্যায় নির্দেশনাবলির রত্নরাজি»।

৫ - «সম্বন্ধযুক্ত সম্বোধিত পদের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে জ্ঞানবান ও ন্যায়পরায়ণদের জন্য উপহার»।

 

*‌‌ এবং রূপতত্ত্ব (সরফ) হতে:

৬ - «লামিয়াতুল আফআলের ব্যাখ্যায় বিজ্ঞজনদের ঝর্ণাধারা»।

৭ - «লামিয়াতুল আফআলের ব্যাখ্যায় শিশুদের তাহনিক»।

 

*‌‌ এবং পরিভাষা শাস্ত্র হতে:

৮ - «মানজুমা আল-বাইকুনিইয়্যাহর ব্যাখ্যায় আহরিত পরিপক্ক ফলসমূহ»।

৯ - «সহিহ মুসলিমের মুখবন্ধের ব্যাখ্যায় অকিঞ্চন শিক্ষার্থীর নির্দেশনা»।

১০ - «সহিহ মুসলিমের বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনায় বোধগম্য আলোচনার সারসংক্ষেপ» দুই খণ্ডে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٢)
*‌‌ ومن كتب الأسماء والصفات:

11 - «هدية الأذكياء على طيبة الأسماء في توحيد الأسماء والصفات».

12 - «سلّم المعراج على خطبة المنهاج» للإمام النواوي.

 

‌‌وغير المطبوع منها من الفنون المتنوعة:

*‌‌ من التفسير:

13 - «حدائق الروح والريحان في روابي علوم القرآن» اثنان وثلاثون مجلدا جمع فيه سبعة فنون، بل ثمانية، بل تسعة لم يسبق له نظير من كتب التفسير وهو الذي ننشر مقدمته الآن.

 

*‌‌ ومن النحو:

14 - «حاشية على كشف النقاب على ملحة الإعراب».

15 - «هدية الطلاب في إعراب ملحة الإعراب».

16 - «الصور العقلية على تراجم الألفية» لابن مالك.

17 - «التقريرات على حاشية الخضري على الألفية».

18 - «حاشية على الفواكه الجنية على متمّمة الآجرومية».

19 - «التقريرات على مجيب النّدا على قطر النّدى» كلاهما لعبد الله الفاكهي.
*‌‌ এবং আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলি) বিষয়ক কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১১ - «হাদিয়াতুল আজকিয়া আলা তাইবাতিল আসমা ফি তাওহিদিল আসমা ওয়াস-সিফাত»।

১২ - ইমাম নববী রচিত «সুল্লামুল মেরাজ আলা খুতবাতিল মিনহাজ»।

 

‌‌এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের অপ্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:

*‌‌ তাফসির শাস্ত্র হতে:

১৩ - «হাদায়িকুর রুহ ওয়ার-রাইহান ফি রাওয়াবি উলূমিল কুরআন» বত্রিশ খণ্ডে রচিত, যাতে তিনি সাতটি, বরং আটটি, এমনকি নয়টি শাস্ত্র একত্রিত করেছেন; তাফসির গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর কোনো নজির নেই। এটি সেই কিতাব যার ভূমিকা আমরা এখন প্রকাশ করছি।

 

*‌‌ এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র হতে:

১৪ - «হাশিয়া আলা কাশফিন নিকাব আলা মুলহাতিল ইরাব»।

১৫ - «হাদিয়াতুত তুল্লাব ফি ইরাবি মুলহাতিল ইরাব»।

১৬ - ইবনে মালিক রচিত «আস-সুওয়ারুল আকলিয়া আলা তারাজিমিল আলফিয়া»।

১৭ - «আত-তকরীরাত আলা হাশিয়াতিল খুদরি আলাল আলফিয়া»।

১৮ - «হাশিয়া আলাল ফাওয়াকিহিল জানিইয়া আলা মুতাম্মিমাতিল আজরুমিয়া»।

১৯ - «আত-তকরীরাত আলা মুজীবিন নিদা আলা ক্বাতরিন নিদা», উভয়টিই আবদুল্লাহ আল-ফাকিহি-র রচনা।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٣)
*‌‌ ومن البلاغة:

20 - «الدرّ المصون على الجوهر المكنون» لعبد الرحمن الأخضري.

21 - «التقريرات على مختصر سعد الدين، على التلخيص».

 

*‌‌ ومن المنطق:

22 - «الكنز المكتّم على متن السّلّم» للأخضري أيضا.

23 - «التذهيب على متن التهذيب في المنطق».

 

*‌‌ ومن العروض:

24 - «الفتوحات الربانية على منظومة الخزرجية في العروض».

25 - «التبيان على منظومة الصبان في العروض».

 

*‌‌ ومن الحديث:

26 - «النهر الجاري على تراجم البخاري ومشكلاته».

27 - «رفع الصدود على سنن أبي داود» على الربع الأول منه لم يكمّل.

 

*‌‌ ومن الأصول:

28 - «التقريرات على شرح المحلي على جمع الجوامع في الأصول».
*‌‌ অলঙ্কার শাস্ত্র হতে:

২০ - আব্দুর রহমান আল-আখদারী রচিত «আল-দুররুল মাসুন আলাল জাওহারিল মাকনুন»।

২১ - «তাকরিরাত আলা মুখতাসার সাআদুদ্দীন, আলাত তালখিস»।

 

*‌‌ যুক্তিবিদ্যা হতে:

২২ - আল-আখদারী রচিত «আল-কানজুল মাকতুম আলা মাতনিস সুল্লাম»।

২৩ - «আত-তাজহিব আলা মাতনিত তাহজিব ফিল মানতিক»।

 

*‌‌ ছন্দশাস্ত্র হতে:

২৪ - «আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ আলা মানজুমাতিল খাজরাজিয়্যাহ ফিল আরুদ»।

২৫ - «আত-তিবইয়ান আলা মানজুমাতুস সাব্বান ফিল আরুদ»।

 

*‌‌ হাদিস শাস্ত্র হতে:

২৬ - «আন-নাহরুল জারি আলা তারাজিমিল বুখারি ওয়া মুশকিলাতিহি»।

২৭ - «রাফউস সুদুুদ আলা সুনানি আবি দাউদ», এর প্রথম এক-চতুর্থাংশের ওপর, যা সম্পন্ন হয়নি।

 

*‌‌ উসুল (মূলনীতি শাস্ত্র) হতে:

২৮ - «তাকরিরাত আলা শারহিল মাহাল্লি আলা জামউল জাওয়ামি ফিল উসুল»।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٤)
*‌‌ ومن الفقه:

29 - «التقريرات على شرح المحلي وحاشيتي القليوبي وعميرة عليه على المنهاج» في فقه الشافعية.

30 - «حاشية على فتح الجواد على متن الإرشاد» في فقه الشافعية.

31 - «أضوأ المسالك على عمدة الناسك» لأحمد بن النقيب.

32 - «التقريرات على التوشيح على غاية الاختصار».

33 - «التقريرات على فتح الوهاب مع حاشيته التجريد» لسليمان البجيرمي.

34 - «التقريرات على قصيدة زبد أحمد بن رسلان».

 

*‌‌ ومن الأمداح النبوية والسيرة المرضية:

35 - «نيل المراد على متن بانت سعاد» لكعب بن زهير الصحابي الجليل رضي الله عنه.

36 - «البيان الصريح على بردة المديح» للبوصيري.

37 - «البيان الظريف على العنوان الشريف».

38 - «المقاصد السّنيّة على القصائد البرعية».

39 - «التقريرات على همزية البوصيري».
*‌‌ এবং ফিকহ শাস্ত্র থেকে:

২৯ - শাফিয়ী ফিকহ শাস্ত্রের ‘আল-মিনহাজ’-এর ওপর আল-মহল্লীর ব্যাখ্যা এবং তার ওপর আল-কালিউবী ও উমাইরাহর টীকাগুলোর ওপর «আত-তাকরীরাত»।

৩০ - শাফিয়ী ফিকহ শাস্ত্রের ‘মাতনুল ইরশাদ’-এর ওপর «ফাতহুল জাওয়াদ»-এর ওপর টীকা।

৩১ - আহমদ ইবনে আন-নাকীব রচিত ‘উমদাতুন নাসিক’-এর ওপর «আদওয়াউল মাসালিক»।

৩২ - ‘গায়াতুল ইখতিসার’-এর ওপর ‘আত-তাওশীহ’-এর ওপর «আত-তাকরীরাত»।

৩৩ - সুলাইমান আল-বুজাইরিমী রচিত ‘ফাতহুল ওয়াহহাব’ ও এর টীকা ‘আত-তাজরীদ’-এর ওপর «আত-তাকরীরাত»।

৩৪ - আহমদ ইবনে রুসলানের «কাসিদাতু জুবাদ»-এর ওপর «আত-তাকরীরাত»।

 

*‌‌ এবং নবী-প্রশস্তি ও পুত-সীরাত থেকে:

৩৫ - মহান সাহাবী কাব ইবনে যুহাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রচিত ‘মাতনু বানাত সুয়াদ’-এর ওপর «নাইলুল মুরাদ»।

৩৬ - আল-বুসীরী রচিত ‘বুরদাতুল মাদীহ’-এর ওপর «আল-বায়ানুস সারীহ»।

৩৭ - ‘আল-উনুয়ানুশ শারীফ’-এর ওপর «আল-বায়ানুয যারীফ»।

৩৮ - ‘আল-কাসাইদুল বারইয়্যাহ’-এর ওপর «আল-মাকাসিদুস সানিইয়্যাহ»।

৩৯ - আল-বুসীরীর ‘হামজিয়্যাহ’-এর ওপর «আত-তাকরীরাত»।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٥)
*‌‌ ومنها في المصطلح:

40 - «جوهرة الدّرر على ألفية الأثر» لعبد الرحمن السيوطي.

41 - ومنها «نزل كرام الضيفان مقدمة تفسير حدائق الروح والريحان» وهو هذا الكتاب الذي بين أيدينا الآن.

42 - ومنها «مجمع الأسانيد ومظفر المقاصد من أسانيد كل الفنون».

43 - «فتح الملك العلام في عقائد أهل الإسلام على ضوء الكتاب والسنة».

 

- وكانت هجرته من الحبشة إلى هذه المملكة السعيدة في تاريخ سنة ثمان وتسعين بعد ألف وثلاثمائة كما أرّخه بقوله:

هاجرت في ثمان وتسعين … من بعد ألف وثلاث مئين

وكان سبب هجرته؛ اتفاق الشيوعيّين على قتله، حين أسس في منطقته الجبهة الإسلامية الأرومية، وجاهد بهم وأوقع في الشيوعيين قتلا ذريعا، وحاصروه لقتله وخرج من بين أيديهم بعصمة الله تعالى، وكان بعد ما دخل هذه المملكة، وحصل على النظام مدرسا في دار الحديث الخيرية من بداية سنة ألف وأربعمائة، وكان أيضا مدرسا في المسجد الحرام ليلا نحو: ثمان سنوات، بإذن رئاسة شئون الحرمين حتى تقرر تكريس وقته لمزيد من التأليف. فتصدى لشرح صحيح مسلم في خمسة عشر جزءا مجلدا وله أسانيد عديدة من مشايخ كثيرين في
পরিভাষা (মুসতালাহ) বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:

৪০ - আব্দুর রহমান সুয়ূতী রচিত «জাওহারাতুদ দুরার আলা আলফিয়্যাতিল আসার»।

৪১ - এবং এর মধ্যে রয়েছে «নুযুলু কিরামিল দাইফান মুকাদ্দিমা তাফসীর হাদাইকুর রুহ ওয়ার রায়হান», যা বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা এই কিতাবটি।

৪২ - এবং এর মধ্যে রয়েছে «মাজমাউল আসানিদ ওয়া মুজাফফারুল মাকাসিদ মিন আসানিদি কুল্লিল ফুনুন»।

৪৩ - «কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে আকাইদি আহলিল ইসলাম বিষয়ে ফাতহুল মালিকিল আল্লাম»।

 

- আবিসিনিয়া (হাবশা) থেকে এই সুখী রাজ্যে তার হিজরত ছিল তেরোশ আটানব্বই হিজরি সালে, যেমনটি তিনি তার এই উক্তির মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন:

আমি আটানব্বই সালে হিজরত করেছি... তেরোশ সালের পর।

তার হিজরতের কারণ ছিল; কমিউনিস্টদের তাকে হত্যা করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যখন তিনি তার অঞ্চলে 'ইসলামিক ওরুমিয়া ফ্রন্ট' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে জিহাদ করেছিলেন ও কমিউনিস্টদের শোচনীয়ভাবে হত্যা করেছিলেন। তারা তাকে হত্যার জন্য ঘেরাও করেছিল, কিন্তু তিনি মহান আল্লাহর সুরক্ষায় তাদের কবল থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তিনি যখন এই রাজ্যে প্রবেশ করেন এবং প্রশাসনিক অনুমতি লাভ করেন, তখন চৌদ্দশ হিজরি সালের শুরু থেকে তিনি 'দারুল হাদিস আল-খায়রিয়াহ'-তে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি হারামাইন প্রেসিডেন্সির অনুমতিতে প্রায় আট বছর যাবৎ রাতে মসজিদে হারামেও শিক্ষকতা করেন, যতক্ষণ না অধিকতর গ্রন্থ রচনার জন্য তার পূর্ণ সময় উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর তিনি পনেরো খণ্ডে সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনার কাজ হাতে নেন এবং অনেক শায়খের নিকট থেকে বিভিন্ন বিষয়ে তার অসংখ্য সনদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٦)
جميع الفنون خصوصًا في التفسير والأمهات الستة فسبحان المنفرد بالكمال.

والله سبحانه وتعالى أعلم

***
সকল শাস্ত্রে, বিশেষত তাফসির এবং ছয়টি মূল হাদিসগ্রন্থের ক্ষেত্রে; সুতরাং মহিমা কেবল তাঁরই, যিনি পূর্ণতায় অনন্য।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্যক অবগত

***
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٧)
هذا وبعد التفصيل في ذكر سيرة هذا المفسّر الجليل يحسن بنا التمهيد لمقدمة هذا التفسير، بالثناء على الله الحميد المجيد، الفعّال لما يريد، الذي اختار صفوة العبيد، سيدنا ونبينا محمد صلى الله عليه وسلم وبعثه بمكارم الأخلاق، ونشر فضله وذكره في جميع الآفاق، وأنزل عليه نورا هدى به من الضلالة، وأنقذ به من وفّق من الجهالة، وحكم بالفوز والفلاح لمن اتّبعه، وبالخسران لمن أعرض عنه، بعد ما سمعه، عجز الخلائق عن معاندته، ومعارضته، حين تحدّاهم على أن يأتو بسورة من مثله، في مقابلته، ثمّ سهّل على عباده المؤمنين مع إعجازه تلاوته، ويسّر على الألسن قراءته، ودراسته، أمر فيه، وزجر، وبشّر فيه، وأنذر، وذكر فيه المواعظ، ليتذكّر، وضرب فيه الأمثال، ليتدبّر، وقصّ فيه من أخبار الماضين؛ ليعتبر، ودلّ فيه على آيات التوحيد؛ ليتفّكر، ثمّ لم يرض منّا بسرد حروفه، دون حفظ حدوده، ولا بإقامة كلماته، دون العمل بمحكماته، ولا بتلاوته، دون تدبّر آياته، في قراءته، ولا بدراسته دون تعلم حقائقه، وتفهم دقائقه ولا حصول لهذه المقاصد منه، إلا بدراية تفسيره وأحكامه، ومعرفة حلاله وحرامه، وأسباب نزوله وأقسامه، والوقوف على ناسخه ومنسوخه، ومعرفة تناسب آياته، خاصّه وعامّه، ومطلقه ومجمله، فإنّه: أرسخ العلوم أصلا وأسبغها فرعا وفضلا، وأكرمها نتاجا، وأنورها سراجا، فلا شرف إلّا وهو السبيل

এরপর, এই মহান মুফাসসিরের জীবনী বিস্তারিত বর্ণনার পর, প্রশংসিত ও মহিমান্বিত আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে এই তাফসীরের ভূমিকার অবতারণা করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে; তিনি যা চান তা-ই করেন। যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠজনকে বেছে নিয়েছেন, যিনি আমাদের সর্দার ও আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), এবং তাঁকে উত্তম চরিত্রের সাথে প্রেরণ করেছেন, আর সকল প্রান্তে তাঁর মর্যাদা ও আলোচনা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তাঁর ওপর এমন এক নূর অবতীর্ণ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়াত দিয়েছেন, আর যাকে তাওফিক দিয়েছেন তাকে মূর্খতা থেকে উদ্ধার করেছেন। যারা তাঁর অনুসরণ করেছে তাদের জন্য সফলতা ও কামিয়াবীর ফয়সালা করেছেন, আর যারা শোনার পর মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের জন্য অবধারিত করেছেন ক্ষতি। সৃষ্টিজগত তাঁর বিরোধিতা ও মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়েছে যখন তিনি তাদের এর সমরূপ একটি সূরা আনয়নের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি মুমিন বান্দাদের জন্য এর অলৌকিকত্ব থাকা সত্ত্বেও এর তিলাওয়াত সহজ করে দিয়েছেন, আর জিহ্বাগুলোর জন্য এর পাঠ ও অধ্যয়নকে সহজতর করেছেন। এতে তিনি আদেশ দিয়েছেন এবং নিষেধ করেছেন, সুসংবাদ দিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন, উপদেশসমূহ বর্ণনা করেছেন যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে, উপমা দিয়েছেন যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে, এবং পূর্ববর্তীদের কাহিনী বর্ণনা করেছেন যাতে তারা শিক্ষা লাভ করে। এতে তিনি তাওহীদের নিদর্শনাবলি প্রদর্শন করেছেন যাতে মানুষ চিন্তা করে। এরপর তিনি কেবল এর অক্ষরগুলো পাঠ করাতেই আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হননি যতক্ষণ না এর সীমারেখা সংরক্ষণ করা হয়, না এর শব্দাবলি উচ্চারণ করায় সন্তুষ্ট হয়েছেন এর সুস্পষ্ট বিধানাবলি অনুযায়ী আমল করা ব্যতীত, না এর তিলাওয়াতে সন্তুষ্ট হয়েছেন এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা ব্যতীত, আর না এর অধ্যয়নে সন্তুষ্ট হয়েছেন এর প্রকৃত অর্থ শিক্ষা করা ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অনুধাবন করা ব্যতীত। আর এই লক্ষ্যসমূহ অর্জন সম্ভব নয় এর তাফসীর ও হুকুম-আহকাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, এর হালাল ও হারাম জানা, এর শানে নুযূল ও প্রকারভেদ অবগত হওয়া, এর রহিতকারী ও রহিত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এর আয়াতসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, এর বিশেষ ও সাধারণ, এবং শর্তহীন ও সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো জানার মাধ্যম ব্যতীত। কেননা এটি মূলের দিক থেকে সবচেয়ে সুদৃঢ় এবং শাখা ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ জ্ঞান; ফলাফলের দিক থেকে এটি সবচেয়ে সম্মানিত এবং প্রদীপ্ত চেরাগের মতো উজ্জ্বল; এর পথ অবলম্বন করা ছাড়া কোনো প্রকৃত সম্মান নেই।

(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٨)
إليه، ولا خير إلّا وهو الدالّ عليه، وقد قيّض الله تعالى له رجالا موفّقين، وبالحقّ ناطقين، حتّى صنّفوا في سائر علومه المصنّفات، وجمعوا سائر فنونه المتفرّقات، كلّ على قدر فهمه، ومبلغ علمه، نظرا للخلف، واقتداء بالسّلف، فشكر الله سعيهم، ورحم كافّتهم، وأشهد أن لا إله إلا الله، الفرد الصمد، الواحد الأحد، الذي لم يكن له كفوا أحد، وأشهد أنّ محمّدا عبده ورسوله، شهادة تشهد لي يوم الدين، بكامل الإيمان واليقين، فيا واجب الوجود، ويا فائض الجود، ويا غاية كلّ مقصود، صلّ وسلّم على حبيبك المحمود، صاحب اللّواء المعقود، وعلى آله وصحبه ذوي الكرم والجود، صلاة توازي غناءه وتجازي عناءه، وكلّ من أعانه، وقرّر بنيانه.

أمّا بعد: فلمّا فرغ واضع هذا التفسير «حدائق الروح والريحان في روابي علوم القرآن» منه، حبّذ له مقدمة وجيزة لتكون سفينة لمن أراد الخوض في بحاره، والمفتاح لمن أراد معالجة قفل أسراره، أسماها «نزل كرام الضيفان في ساحة حدائق الروح والريحان» وقد أشتملت هذه المقدمة على ثلاثين فصلا.

هاك مقدمة طابت فرعا … وطابا أصلها أصلا أصلا

* * *

 

ألا إنما القرآن تسعة أحرف … سأنبيكها في بيت شعر بلا خلل

حلال حرام محكم متشابه … بشير نذير قصة عظة مثل

* * *
তাঁরই প্রতি, এবং এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে তিনি দিকনির্দেশনা দেননি। মহান আল্লাহ তাঁর এই দ্বীনের জন্য এমন কিছু তাওফীকপ্রাপ্ত ও সত্যভাষী ব্যক্তি নির্ধারণ করেছেন, যারা এর সমস্ত ইলম নিয়ে গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন এবং এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সংকলন করেছেন; প্রত্যেকেই নিজ নিজ বুঝ ও জ্ঞানের পরিধি অনুযায়ী, পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং পূর্বসূরীদের অনুসরণে। আল্লাহ তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই; তিনি একক, অমুখাপেক্ষী, অদ্বিতীয়, যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল; এমন এক সাক্ষ্য যা বিচার দিবসে পূর্ণ ঈমান ও ইয়াকীনের সাথে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। হে ওয়াজিবুল উজুদ (অনিবার্য অস্তিত্ববান), হে মহান দানশীল, হে সকল উদ্দেশ্যের শেষ লক্ষ্য! আপনার প্রশংসিত হাবীবের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন, যিনি সুউচ্চ পতাকার অধিকারী; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও মহানুভব দানশীল সাহাবীগণের প্রতিও। এমন দরুদ যা তাঁর মর্যাদার সমতুল্য হয় এবং তাঁর পরিশ্রমের প্রতিদানস্বরূপ হয়, আর যে তাঁকে সাহায্য করেছে এবং তাঁর ভিত্তিকে সুসংহত করেছে তাদের প্রত্যেকের প্রতিও।

অত:পর: এই তাফসীর ‘হাদাইকুর রুহ ওয়ার রায়হান ফি রাওয়াবি উলুমিল কুরআন’-এর রচয়িতা যখন এটি সমাপ্ত করলেন, তখন তিনি এর জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা প্রদান করা সমীচীন মনে করলেন, যেন তা এর সমুদ্রে অবগাহনকারীদের জন্য একটি নৌকাস্বরূপ এবং এর রহস্যের তালা খোলার চাবিকাঠিস্বরূপ হয়। তিনি এর নামকরণ করেছেন ‘নুযুলু কিরামিল দাইফান ফি সাহাতি হাদাইকির রুহ ওয়ার রায়হান’। এই ভূমিকাটি ত্রিশটি অধ্যায় সম্বলিত।

এই নিন এক ভূমিকা যার শাখা-প্রশাখা হয়েছে উত্তম … এবং যার মূলও হয়েছে অত্যন্ত চমৎকার

* * *

 

জেনে রেখো, কুরআন মূলত নয়টি বিষয়ের সমাহার … আমি কোনো বিচ্যুতি ছাড়াই একটি কাব্যচরণে তোমাকে তা বলে দিচ্ছি

হালাল, হারাম, মুহকাম, মুতাশাবিহ … সুসংবাদ, সতর্কবাণী, কাহিনী, উপদেশ ও উদাহরণ

* * *
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ١٩)
ما حوى العلم جميعا أحد … لا ولو مارسه ألف سنه

إنما العلم بعيد غوره … فخذو من كل علم أحسنه

هذا وقد آن أوان شروع القارىء في تفحص هذا الكنز وإلقاء النظر على جواهره الثمينة والفريدة وبالله التوفيق والهداية لأقوم طريق، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

الدكتور/ هاشم بن محمد علي مهدي الأربعاء 5/ 5/ 1420 هـ
জ্ঞান সবটুকুই কেউ আয়ত্ত করতে পারেনি … না, যদিও সে তা হাজার বছর ধরে চর্চা করে।

নিশ্চয়ই জ্ঞানের গভীরতা অত্যন্ত অতল … সুতরাং প্রতিটি শাস্ত্র হতে তার সর্বোত্তম অংশটি গ্রহণ করো।

এখন পাঠকের জন্য এই জ্ঞানভাণ্ডারটি অনুসন্ধান করার এবং এর মূল্যবান ও অনন্য মণি-মুক্তার ওপর দৃষ্টিপাত করার সময় সমাগত। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক এবং সঠিকতম পথের হেদায়াত প্রার্থনা করছি। আমাদের শেষ আহ্বান হলো—সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

ডক্টর হাশেম বিন মুহাম্মদ আলী মাহদী, বুধবার ৫/ ৫/ ১৪২০ হিজরি
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌الفصل الأول في فضل القرآن الكريم وتلاوته، وتعلّمه، وتعليمه (1)

فقد ورد في فضله، وتعلُّمه، وتعليمه أحاديث كثيرة:

فمنها: ما رواه الإمام مسلم - رحمه الله تعالى - في «صحيحة» عن زيد بن أرقم رضي الله عنه قال: قام رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فينا خطيبا بماء يدعى: خمّا، بين مكّة والمدينة، فحمد الله، وأثنى عليه، ووعظ وذكّر، ثمّ قال: «أمّا بعد: ألا أيّها النّاس! إنّما أنا بشر يوشك أن يأتيني رسول ربّي فأجيب، وإنّي تارك فيكم ثقلين، أوّلهما كتاب الله، فيه الهدى والنور، فخذوا بكتاب الله واستمسكوا به»، فحثّ على كتاب الله، ورغّب فيه، ثمّ قال: وأهل بيتي، أذكّركم الله في أهل بيتي». زاد في رواية:

«كتاب الله فيه الهدى والنور، من استمسك به، وأخذ به كان على الهدى، ومن أخطأه ضلّ». وفي رواية: «كتاب الله هو حبل الله من اتّبعه كان على الهدى، ومن تركه كان على ضلالة». وفي رواية الترمذي عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنّي تارك فيكم ما إن تمسّكتم به لن تضلّوا بعدي»، أحدهما أعظم من الآخر: وهو كتاب الله؛ «حبل ممدود من السماء إلى الأرض، وعترتي أهل

--------------------------------------------

(1) الخازن.
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারীম, এর তিলাওয়াত, শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা প্রদানের ফযীলত প্রসঙ্গে (১)

নিশ্চয়ই কুরআনের ফযীলত এবং এর শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে:

তার মধ্য থেকে একটি হলো: ইমাম মুসলিম -রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলা- তাঁর «সহীহ» গ্রন্থে যায়েদ ইবনে আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী «খুম» নামক স্থানে পানির নিকটে আমাদের মাঝে খুতবা প্রদানের জন্য দণ্ডায়মান হলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন এবং নসীহত ও উপদেশ প্রদান করলেন। এরপর তিনি বললেন: «অতঃপর শোনো হে লোকসকল! আমি কেবল একজন মানুষ, শীঘ্রই আমার রবের প্রেরিত দূত আমার নিকট উপস্থিত হবেন এবং আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি, যার প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, এতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো।» অতঃপর তিনি আল্লাহর কিতাবের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করলেন। এরপর বললেন: «আর আমার পরিবারবর্গ; আমি তোমাদেরকে আমার পরিবারবর্গের বিষয়ে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।» এক বর্ণনায় বর্ধিত হয়েছে:

«আল্লাহর কিতাব, যাতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর; যে ব্যক্তি একে শক্তভাবে ধারণ করবে এবং গ্রহণ করবে সে হেদায়েতের ওপর থাকবে, আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হবে সে পথভ্রষ্ট হবে।» অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: «আল্লাহর কিতাবই হলো আল্লাহর রশি, যে এর অনুসরণ করবে সে হেদায়েতের ওপর থাকবে এবং যে তা পরিত্যাগ করবে সে পথভ্রষ্টতার ওপর থাকবে।» ইমাম তিরমিযীর বর্ণনায় তাঁর থেকেই বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে এমন বিষয় রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না», যার একটি অপরটির চেয়ে মহত্তর: আর তা হলো আল্লাহর কিতাব; যা আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত প্রলম্বিত একটি রশি, আর আমার বংশধর তথা পরিবারবর্গ...

--------------------------------------------

(১) আল-খাযেন।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢١)
بيتي، لن يفترقا حتّى يردا عليّ الحوض، فانظروا كيف تخلفوني فيهما».

ومنها: ما أخرجه مسلم أيضا: عن عمر بن الخطاب قال: أما إنّ نبيّكم صلى الله عليه وسلم قال: «إنّ الله تعالى يرفع بهذا الكتاب أقواما، ويضع به آخرين».

ومنها: ما روي عن ابن عبّاس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنّ الرجل الذي ليس في جوفه شيء من القرآن، كالبيت الخرب». أخرجه الترمذيّ، وقال: حديث حسن صحيح.

ومنها: ما أخرجه البخاريّ، عن عثمان بن عفان رضي الله عنه: عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «خيركم من تعلّم القرآن، وعلّمه».

ومنها: ما روي عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الماهر بالقرآن مع السّفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن، ويتعتع فيه وهو عليه شاقّ له أجران». متّفق عليه.

(الماهر): الحاذق الكامل الحفظ، الجيّد التلاوة. (يتعتع)؛ أي: يتردّد في تلاوته؛ لضعف حفظه. (له أجران) يعني: أجر بسبب القراءة، وأجر بسبب تعبه فيها والمشقّة فيها، وليس معناه: أنّ له أجرا أكثر من أجر الماهر، بل الماهر أفضل منه، وأكثر أجرا.

ومنها: ما روي عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أنّ النبيّ صلى الله عليه وسلم قال: «مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن؛ كمثل الأترجّة طعمها طيّب، وريحها طيّب، ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن،
আমার আহলে বাইত; তারা হাউজে (কাউসারে) আমার নিকট আসার আগ পর্যন্ত কখনো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। সুতরাং লক্ষ্য করো যে, তোমরা আমার পরে এই দুইয়ের সাথে কেমন আচরণ করো।"

এর মধ্যে একটি হলো যা ইমাম মুসলিমও বর্ণনা করেছেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উন্নত করেন এবং অন্য কোনো জাতিকে এর দ্বারা অবনমিত করেন।"

এর মধ্যে একটি হলো যা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তির অন্তরে কুরআনের কোনো অংশ নেই, সে একটি পরিত্যক্ত ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের ন্যায়।" এটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।

এর মধ্যে একটি হলো যা ইমাম বুখারী উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।"

এর মধ্যে একটি হলো যা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনে দক্ষ সে সম্মানিত পুণ্যবান ফেরেশতাদের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে আটকে যায় অথচ সে এটি পাঠে সচেষ্ট থাকে ও তা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(দক্ষ): নিপুণ ও পূর্ণাঙ্গ হাফেজ এবং উত্তম তিলাওয়াতকারী। (আটকে যাওয়া): অর্থাৎ হিফজ দুর্বল হওয়ার কারণে তিলাওয়াতের সময় বারবার থেমে যাওয়া বা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া। (তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান): অর্থাৎ পাঠ করার কারণে একটি প্রতিদান এবং এতে তার ক্লান্তি ও পরিশ্রমের কারণে আরেকটি প্রতিদান। এর অর্থ এই নয় যে, তার প্রতিদান দক্ষ ব্যক্তির প্রতিদানের চেয়ে বেশি, বরং দক্ষ ব্যক্তি তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ এবং অধিক প্রতিদানের অধিকারী।

এর মধ্যে একটি হলো যা আবু মুসা আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে মুমিন কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো বাতাবি লেবুর মতো; যার স্বাদও সুস্বাদু এবং ঘ্রাণও চমৎকার। আর যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না,
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
كمثل التمرة طعمها طيّب، ولا ريح له، ومثل الفاجر الذي يقرأ القرآن، كمثل الريحانة ريحها طيّب، وطعمها مرّ، ومثل الفاجر الذي لا يقرأ القرآن، كمثل الحنظلة طعمها مرّ، ولا ريح لها».

متّفق عليه. فيه دليل على فضيلة حفّاظ القرآن، ومشروعيّة ضرب الأمثال؛ لإيضاح المقاصد.

ومنها: ما روي عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ حرفا من كتاب الله، فله حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول: {الم} * حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف». أخرجه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح.

ومنها: ما روي عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رجل: يا رسول الله! أيّ الأعمال أحبّ إلى الله تعالى؟ قال:

«الحالّ المرتحل»، قال: وما الحال المرتحل؟ قال: «الذي يضرب من أوّل القرآن إلى آخره، كلّما حلّ ارتحل». أخرجه الترمذي.

ومنها: ما روي عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يقال لصاحب القرآن: اقرأ، وارق، ورتّل كما كنت ترتّل في الدنيا، فإنّ منزلك عند الله آخر آية تقرؤها» أخرجه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح.

ومنها: ما روي عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يجيء القرآن يوم القيامة، فيقول: يا ربّ! حلّه، فيلبس تاج الكرامة، ثمّ يقول: يا ربّ! زده، فيلبس حلّة الكرامة، ثمّ يقول: يا ربّ! ارض
...খেজুরের মতো যার স্বাদ চমৎকার, কিন্তু তাতে কোনো সুবাস নেই। আর সেই পাপাচারীর উদাহরণ যে কুরআন পাঠ করে, তা রায়হানা (সুগন্ধিযুক্ত উদ্ভিদ) এর মতো যার সুবাস চমৎকার কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর সেই পাপাচারীর উদাহরণ যে কুরআন পাঠ করে না, তা মাকাল ফলের মতো যার স্বাদ তিক্ত এবং তাতে কোনো সুবাস নেই।"

মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)। এতে কুরআন হিফজকারীদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য উদাহরণ পেশ করার বৈধতার প্রমাণ রয়েছে।

আর তার মধ্যে রয়েছে: ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকি রয়েছে, আর প্রতিটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।

আর তার মধ্যে রয়েছে: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বললেন:

"অবস্থান গ্রহণকারী ও প্রস্থানকারী", সে জিজ্ঞেস করল: অবস্থান গ্রহণকারী ও প্রস্থানকারী কী? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করে, যখনই সে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে (অবস্থান নেয়), তখনই পুনরায় শুরু থেকে যাত্রা (প্রস্থান) করে।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

আর তার মধ্যে রয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআনের সাথীকে বলা হবে: তুমি পাঠ করতে থাকো এবং উপরে আরোহণ করতে থাকো এবং ধীরস্থিরভাবে তিলাওয়াত করো যেমনটি তুমি দুনিয়াতে তিলাওয়াত করতে। কেননা তোমার মর্যাদা হবে সেই শেষ আয়াতের নিকট যা তুমি পাঠ করবে।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।

আর তার মধ্যে রয়েছে: আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন কুরআন উপস্থিত হবে এবং বলবে: হে আমার রব! তাকে অলঙ্কৃত করুন। তখন তাকে সম্মানের মুকুট পরিধান করানো হবে। তারপর সে বলবে: হে আমার রব! তাকে আরও বাড়িয়ে দিন। তখন তাকে সম্মানের পোশাক পরিধান করানো হবে। তারপর সে বলবে: হে আমার রব! আপনি সন্তুষ্ট..."
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
عنه، فيرضى عنه، فيقال: اقرأ، وارق، ويزاد بكلّ آية حسنة».

أخرجه الترمذي، وقال: حديث حسن.

ومنها: ما روي عن سهل بن معاذ الجهنيّ، عن أبيه، أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من قرأ القرآن وعمل به، ألبس والداه يوم القيامة تاجا، ضوءه أحسن من ضوء الشمس في بيوت الدنيا لو كانت فيكم، فما ظنّكم بالذي عمل بهذا» أخرجه أبو داود.

ومنها: ما روي عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ القرآن فاستظهره، فأحلّ حلاله، وحرّم حرامه، أدخله الله الجنّة، وشفّعه في عشرة من أهل بيته، كلّهم قد وجبت لهم النار». أخرجه الترمذي، وقال: حديث غريب، وليس له إسناد صحيح.

ومنها: ما روي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما أذن الله لشيء، كإذنه لنبيّ يتغنّى بالقرآن يجهر به» متّفق عليه. ما أذن الله، أي: استمع لمن يتغنّى بالقرآن، أي: يحسّن صوته به.

ومنها: ما روي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس منّا من لم يتغنّ بالقرآن».

ومنها: ما روي عن عقبة بن عامر رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الجاهر بالقرآن كالجاهر بالصدقة، والمسرّ بالقرآن كالمسرّ بالصدقة» أخرجه أبو داود، والنسائيّ، والدارميّ، والترمذي، وقال: حديث حسن غريب.
তাঁর থেকে, অতঃপর তিনি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন, তখন বলা হয়: পাঠ করো এবং উপরে উঠতে থাকো, আর প্রতি আয়াতের বিনিময়ে একটি করে পুণ্য বৃদ্ধি করা হয়।

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান হাদিস।

এর মধ্যে রয়েছে: যা সাহল ইবনে মুআয আল-জুহানি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং সে অনুযায়ী আমল করল, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন একটি মুকুট পরানো হবে, যার আলো দুনিয়ার ঘরসমূহে থাকা সূর্যের আলোর চেয়েও উত্তম হবে—যদি সেই সূর্য তোমাদের মাঝে থাকত। তাহলে যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করেছে, তার ব্যাপারে তোমাদের ধারণা কী?» এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যা আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করল এবং তা মুখস্থ করল, অতঃপর এর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করল এবং এর হারামকে হারাম হিসেবে গণ্য করল, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের এমন দশজন সদস্যের ব্যাপারে তার সুপারিশ কবুল করবেন, যাদের সবার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছিল।» এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি গরিব হাদিস, আর এর কোনো সহিহ সনদ নেই।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ কোনো বিষয়ের প্রতি তেমন কর্ণপাত করেন না, যেমন তিনি সেই নবীর প্রতি কর্ণপাত করেন যিনি সুমধুর স্বরে উচ্চকণ্ঠে কুরআন পাঠ করেন» এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। আল্লাহ কর্ণপাত করেছেন—অর্থাৎ: তিনি তাঁর তিলাওয়াত শোনেন যে সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ করে, অর্থাৎ: এর মাধ্যমে নিজের কণ্ঠকে সুন্দর করে।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে সুমধুর স্বরে কুরআন পাঠ করে না।»

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যা উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে সদকাকারীর ন্যায়, আর চুপিচুপি কুরআন পাঠকারী গোপনে সদকাকারীর ন্যায়» এটি আবু দাউদ, নাসাঈ, দারেমি এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: এটি হাসান গরিব হাদিস।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وفي «مسند أبي داود الطيالسيّ: وهو أوّل مسند ألّف في الإسلام، عن عبد الله بن عمرو، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

قال: «من قام بعشر آيات، لم يكتب من الغافلين، ومن قام بمائة آية، كتب من القانتين، ومن قام بألف آية، كتب من المقنطرين». والآثار في معنى هذا الفصل كثيرة، وفيما ذكرناه كفاية، والله الموفّق للهداية.

والله أعلم

* * *
এবং ‘মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি’-তে বর্ণিত আছে—এটিই ইসলামে রচিত সর্বপ্রথম মুসনাদ—আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি (রাতের সালাতে) দশটি আয়াত নিয়ে দাঁড়াল, তাকে গাফেলদের (উদাসীনদের) অন্তর্ভুক্ত লেখা হবে না; যে ব্যক্তি একশত আয়াত নিয়ে দাঁড়াল, তাকে কানেতীনদের (একনিষ্ঠ আনুগত্যকারীদের) অন্তর্ভুক্ত লেখা হবে; আর যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত নিয়ে দাঁড়াল, তাকে মুকানতিরীনদের (বিপুল সওয়াব অর্জনকারীদের) অন্তর্ভুক্ত লেখা হবে।” এই পরিচ্ছেদের মর্মার্থ বহনকারী আসার বা বর্ণনা অনেক রয়েছে, এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট। আল্লাহই হিদায়াতের তাওফিকদাতা।

এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

* * *
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌الفصل الثاني في كيفية التلاوة لكتاب الله تعالى، وما يكره منها، وما يحرم، واختلاف الناس في ذلك (1)

روى البخاري، عن قتادة قال: سألت أنسا عن قراءة رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: (يمدّ مدّا، إذ قرأ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ (1)} (1)، يمدّ بسم الله ويمدّ بالرحمن ويمدّ بالرحيم).

وروى الترمذي، عن أمّ سلمة قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقطّع قراءته، يقول: «الحمد لله ربّ العالمين»، ثمّ يقف الرحمن الرحيم، ثمّ يقف، وكان يقرأ مالك يوم الدين. قال: حديث غريب. وأخرجه أبو داود بنحوه.

وروي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنّه قال: «أحسن الناس صوتا؛ من إذا قرأ رأيته يخشى الله تعالى».

وروي عن زياد النّميري: «أنّه جاء مع القرّاء إلى أنس بن مالك، فقيل له: اقرأ، فرفع صوته وطرّب؛ وكان رفيع الصّوت، فكشف أنس عن وجهه، وكان على وجهه خرقة سوادء، فقال: (يا هذا ما هكذا يفعلون)، وكان إذا رأى شيئا ينكره، كشف عن وجهه الخرقة.

--------------------------------------------

(1) القرطبي.
দ্বিতীয় অধ্যায়: মহান আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতের পদ্ধতি, এর মধ্যে যা অপছন্দনীয় ও যা নিষিদ্ধ এবং এ বিষয়ে মানুষের মতভেদ(১)

ইমাম বুখারি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিলাওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: (তিনি দীর্ঘ করে বা টেনে টেনে পড়তেন; যখন তিনি {বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম} পাঠ করতেন, তখন তিনি ‘বিসমিল্লাহ’ শব্দে টান দিতেন, ‘আর-রাহমান’ শব্দে টান দিতেন এবং ‘আর-রাহিম’ শব্দে টান দিতেন)।

ইমাম তিরমিজি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর তিলাওয়াতকে বিরতি দিয়ে দিয়ে পাঠ করতেন। তিনি বলতেন: ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’, তারপর থামতেন; ‘আর-রাহমানির রাহিম’, তারপর থামতেন। আর তিনি ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দিন’ পাঠ করতেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি গারিব হাদিস। ইমাম আবু দাউদও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম কণ্ঠস্বরের অধিকারী, যাকে তিলাওয়াত করতে দেখলে তুমি মনে করবে যে সে মহান আল্লাহকে ভয় করছে।”

জিয়াদ আন-নুমাইরি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি কয়েকজন ক্বারীর সাথে আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর নিকট আসলেন। তাকে বলা হলো: তিলাওয়াত করুন। তখন তিনি উচ্চৈঃস্বরে এবং সুর করে পড়তে লাগলেন; তাঁর কণ্ঠ ছিল বেশ উঁচু। তখন আনাস (রা.) তাঁর মুখ থেকে আবরণ সরালেন—তাঁর মুখে একটি কালো কাপড় ছিল—এবং বললেন: (হে ব্যক্তি! তাঁরা তো এমনটি করতেন না)। আনাস (রা.) যখনই কোনো গর্হিত বা অপছন্দনীয় বিষয় দেখতেন, তখন তাঁর মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে নিতেন।

--------------------------------------------

(১) আল-কুরতুবি।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وروي عن قيس بن عبّاد أنّه قال: كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يكرهون رفع الصوت عند الذكر، وممّن روي عنه كراهة رفع الصوت عند قراءة القرآن: سعيد بن المسيّب، وسعيد بن جبير، والقاسم بن محمد، والحسن، وابن سيرين، والنّخعيّ وغيرهم، وكرهه مالك بن أنس، وأحمد بن حنبل، كلّهم كره رفع الصوت بالقرآن، والتّطريب فيه.

وروي عن سعيد بن المسيب: أنّه سمع عمر بن عبد العزيز يؤمّ الناس، فطرّب في قراءته، فأرسل إليه سعيد يقول: أصلحك الله! إنّ الأمّة لا تقرأ هكذا، فترك عمر التّطريب بعد.

وروي عن القاسم بن محمد: أنّ رجلا قرأ في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم فطرّب، فأنكر ذلك القاسم وقال: يقول الله عز وجل: {وَإِنَّهُ لَكِتابٌ عَزِيزٌ لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ} الآية.

وروي عن مالك: أنّه سئل عن النّبر في قراءة القرآن في الصلاة، فأنكر ذلك، وكرهه كراهة شديدة، وأنكر رفع الصوت به.

وروى ابن القاسم عنه: أنّه سئل عن الألحان في الصلاة؟ فقال: لا يعجبني، وقال: إنّما هو غناء يتغنّون به؛ ليأخذوا عليه الدّراهم. وأجازت طائفة رفع الصوت بالقرآن والتطريب به؛ لأنّه إذا حسن الصوت به، كان أوقع في النّفوس وأسمع في القلوب، واحتجّوا بقوله صلى الله عليه وسلم: «زيّنوا القرآن بأصواتكم» رواه البراء بن عازب. أخرجه أبو داود والنسائي. وبقوله صلى الله عليه وسلم: «ليس منّا من لم
কায়স বিন আব্বাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ যিকিরের সময় উচ্চস্বরে শব্দ করা অপছন্দ করতেন। আর কুরআন তিলাওয়াতের সময় উচ্চস্বরে শব্দ করা যাদের থেকে অপছন্দীয় হিসেবে বর্ণিত হয়েছে তারা হলেন: সাঈদ বিন মুসাইয়িব, সাঈদ বিন জুবাইর, কাসিম বিন মুহাম্মদ, হাসান, ইবনে সিরীন, নাখয়ী এবং অন্যান্যগণ। মালিক বিন আনাস এবং আহমাদ বিন হাম্বলও এটি অপছন্দ করেছেন; তাঁরা সকলেই কুরআনের ক্ষেত্রে উচ্চস্বরে শব্দ করা এবং তাতে সুরলহরী তোলা অপছন্দ করতেন।

সাঈদ বিন মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি উমর বিন আব্দুল আযীযকে লোকদের ইমামতি করতে শুনলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর তিলাওয়াতে সুরলহরী তুলছিলেন। তখন সাঈদ তাঁর কাছে এই বলে সংবাদ পাঠালেন: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন! নিশ্চয়ই উম্মত এভাবে তিলাওয়াত করে না। এরপর উমর পরবর্তীতে সুরলহরী তোলা বর্জন করেন।

কাসিম বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে কুরআন তিলাওয়াত করার সময় সুরলহরী তুলছিল। তখন কাসিম এটি প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কিতাব। এর সামনে কিংবা পেছন থেকে এতে মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না" - আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে: তাঁকে নামাযে কুরআন তিলাওয়াতের সময় উচ্চস্বরে ঝংকার তোলা (নাবর) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং একে অত্যন্ত অপছন্দ করেন। আর তিনি এর মাধ্যমে উচ্চস্বরে শব্দ করাকেও প্রত্যাখ্যান করেন।

ইবনুল কাসিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: তাঁকে নামাযে সুরের সাথে তিলাওয়াত করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: এটি আমার নিকট পছন্দীয় নয়। তিনি আরও বললেন: এটি তো কেবল এক প্রকার গান যা তারা গেয়ে থাকে, যাতে তারা এর বিনিময়ে দিরহাম গ্রহণ করতে পারে। একদল আলিম কুরআনের ক্ষেত্রে উচ্চস্বরে শব্দ করা এবং সুরলহরী তোলা বৈধ বলেছেন; কারণ যখন এর মাধ্যমে কণ্ঠ সুন্দর করা হয়, তখন তা অন্তরে অধিক প্রভাব ফেলে এবং হৃদয়ে অধিক শ্রুত হয়। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "তোমরা তোমাদের কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কুরআনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো।" এটি বারা বিন আযিব বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ ও নাসায়ী এটি সংকলন করেছেন। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে: "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে...
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
يتغنّ بالقرآن»، أخرجه مسلم. وبقول أبي موسى للنبي صلى الله عليه وسلم: (لو أعلم أنّك تستمع قراءتي لحبّرته لك تحبيرا). وبما رواه عبد الله بن مغفّل، قال: قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم، عام الفتح في مسير له، (سورة الفتح) على راحلته، فرجّع في قراءته.

وممّن ذهب إلى هذا أبو حنيفة، وأصحابه، والشافعيّ، وابن المبارك، والنضر بن شميل، وهو اختيار أبي جعفر الطبري، وأبي الحسن بن بطّال، والقاضي أبي بكر بن العربي، وغيرهم. قلت:

القول (1) الأول أصحّ لما ذكرناه ويأتي، وأمّا ما احتجّوا به من الحديث الأوّل؛ فليس على ظاهره؛ وإنّما هو من المقلوب، أي: زيّنوا أصواتكم بالقرآن. قال الخطّابي، وكذا فسّره غير واحد من أئّمة الحديث. (زيّنوا أصواتكم بالقرآن) وقالوا: هو من المقلوب، كما قالوا: عرضت الحوض على الناقة؛ وإنّما هو عرضت الناقة على الحوض. قال: ورواه معمر، عن منصور، عن طلحة، فقدّم الأصوات على القرآن، وهو الصحيح. قلت: وهذا الخلاف ما لم يمنع فهم معنى القرآن بترديد الأصوات، وكثرة التّرجيعات، فإن زاد الأمر على ذلك حتى لا يفهم معناه، فذلك حرام باتفاق، كما يفعل القرّاء بالديار المصريّة، الذين يقرؤون أمام الملوك والجبابرة، ويأخذون على ذلك الأجور والجوائز، ضلّ سعيهم وخاب عملهم، فيستحلّون بذلك تغيير كتاب الله، ويهوّنون على أنفسهم الاجتراء على الله، بأن يزيدوا في تنزيله ما ليس فيه، جهلا

--------------------------------------------

(1) الطبري.
"কুরআনের মাধ্যমে সুর করে পড়ে", মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আবু মুসার উক্তি দ্বারা: (যদি আমি জানতাম যে আপনি আমার তিলাওয়াত শুনছেন, তবে আমি আপনার জন্য একে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সুশোভিত করতাম)। এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল কর্তৃক বর্ণিত হাদীস দ্বারা, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিজয়ের বছরে এক সফরে তাঁর বাহনের পিঠে বসে সূরা আল-ফাতহ পাঠ করেন এবং তিনি তাঁর তিলাওয়াতের সুর প্রলম্বিত (তারজি) করেছিলেন।

যারা এই মত গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীবৃন্দ, শাফেয়ী, ইবনুল মুবারক এবং নজর বিন শুমাইল। এটি আবু জাফর তবারী, আবুল হাসান ইবনে বাত্তাল, কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী সহ অন্যদেরও পছন্দ। আমি বলি:

আমরা যা উল্লেখ করেছি এবং সামনে যা আসবে তার ভিত্তিতে প্রথম (১) মতটিই অধিকতর সহীহ। তারা প্রথম হাদীসটি দিয়ে যে প্রমাণ পেশ করেছেন, তা তার বাহ্যিক অর্থে নয়; বরং এটি 'মাকলুব' (উল্টে যাওয়া শব্দবিন্যাস), অর্থাৎ: কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের কণ্ঠস্বরকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো। খাত্তাবী এটি বলেছেন এবং হাদীসের একাধিক ইমামও একইভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন—(কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের কণ্ঠস্বরকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করো)। তারা বলেছেন: এটি 'মাকলুব' পর্যায়ের, যেমন তারা বলে থাকে: 'আমি হাউজকে উটনীর সামনে পেশ করেছি', অথচ মূলত কথাটি হলো 'আমি উটনীকে হাউজের সামনে পেশ করেছি'। তিনি বলেন: এটি মা'মার, মনসুর ও তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি কুরআনের আগে কণ্ঠস্বরকে উল্লেখ করেছেন এবং এটিই সঠিক। আমি বলি: কণ্ঠস্বরের অনুরণন এবং অতিরিক্ত সুর প্রয়োগ যতক্ষণ পর্যন্ত কুরআনের অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক না হয়, ততক্ষণ পর্যন্তই এই মতভেদ। কিন্তু যদি বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তার অর্থ আর বোঝা যায় না, তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমনটি মিসরের কারীগণ করে থাকেন, যারা রাজা-বাদশাহ ও স্বৈরশাসকদের সামনে তিলাওয়াত করেন এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক ও পুরস্কার গ্রহণ করেন; তাদের চেষ্টা বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত এবং তাদের কর্ম বিফল হয়েছে। তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব পরিবর্তন করাকে বৈধ মনে করে নেয় এবং অজ্ঞতাবশত তাঁর ওহীর মধ্যে যা নেই তা যোগ করে আল্লাহর বিরুদ্ধে ধৃষ্টতা প্রদর্শনকে নিজেদের জন্য তুচ্ছ ও সহজ করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) তবারী।
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
بدينهم، ومروقا عن سنّة نبيّهم، ورفضا لسير الصّالحين فيه من سلفهم، ونزوعا إلى ما يزيّن لهم الشيطان من أعمالهم، وهم يحسبون أنّهم يحسنون صنعهم، فهم في غيّهم يتردّدون، وبكتاب الله يتلاعبون، فإنا لله وإنّا إليه راجعون. لكن قد أخبر الصادق المصدوق: أنّ ذلك يكون، فكان كما أخبر النبيّ صلى الله عليه وسلم. ذكر الإمام الحافظ، أبو الحسن رزين، وأبو عبد الله، الترمذيّ الحكيم في «نوادر الأصول»، من حديث حذيفة: أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اقرأوا القرآن بلحون العرب، وأصواتها، وإيّاكم ولحون أهل الفسق، ولحون أهل الكتابين، وسيجيء بعدي قوم يرجّعون بالقرآن ترجيع الغناء، والنّوح لا يجاوز حناجرهم، مفتونة قلوبهم، وقلوب الذين يعجبهم شأنهم».

اللّحون: جمع لحن: وهو التّطريب، وترجيع الصوت، وتحسينه بالقراءة، والشعر، والغناء، قال علماؤنا: ويشبه أن يكون هذا الذي يفعله قرّاء زماننا بين يدي الوعّاظ، وفي المجالس من اللّحون الأعجميّة، الّتي يقرؤون بها، ما نهى عنه رسول الله صلّى الله

عليه وسلم.

والترجيع في القراءة: ترديد الحروف، كقراءة النصارى.

والترتيل في القراءة: هو التّأنيّ فيها، والتمهّل، وتبيين الحروف، والحركات؛ تشبيها بالثغر المرتّل، وهو المشبه بنور الأقحوان، وهو المطلوب في قراءة القرآن، قال تعالى: {وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا}. وسئلت أمّ سلمة؛ عن قراءة رسول الله صلى الله عليه وسلم وصلاته؟ فقالت: (ما لكم وصلاته)، ثمّ نعتت قراءته، فإذا هي تنعت قراءة
তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে, তাদের নবীর সুন্নাহ থেকে সরে গিয়ে, তাদের পূর্বসূরি নেককারদের জীবনপদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের জন্য সুশোভিত করে দেওয়ার ফলে তারা সেদিকে ঝুঁকে পড়েছে। অথচ তারা মনে করে যে তারা ভালো কাজই করছে। তারা তাদের পথভ্রষ্টতায় দিশেহারা হয়ে ঘুরছে এবং আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলছে। আমরা তো আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে। কিন্তু সত্যবাদী এবং সত্যায়িত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে এমনটি ঘটবে; ফলে তা তেমনই ঘটেছে যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন। ইমাম হাফিজ আবুল হাসান রাযীন এবং আবু আব্দুল্লাহ তিরমিযী আল-হাকীম 'নাওয়াদিরুল উসুল' গ্রন্থে হুযায়ফার হাদীস থেকে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আরবদের সুরে ও স্বরে কুরআন পাঠ করো। আর ফাসিক ও কিতাবধারী (ইহুদি ও খ্রিস্টান) দুই সম্প্রদায়ের সুর থেকে বেঁচে থাকো। অচিরেই আমার পরে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআনকে গানের সুরের মতো এবং শোকগাথার মতো করে টেনে টেনে পড়বে, যা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তাদের অন্তরসমূহ ফিতনায় লিপ্ত এবং যারা তাদের এই অবস্থা দেখে মুগ্ধ হবে তাদের অন্তরগুলোও ফিতনাগ্রস্ত।”

'লুহুন' (সুর) শব্দটি 'লাহন'-এর বহুবচন: আর তা হলো তিলাওয়াত, কবিতা ও গানের ক্ষেত্রে সুরের ঝঙ্কার তোলা, স্বরকে টেনে টেনে পড়া এবং তা শ্রুতিমধুর করা। আমাদের আলেমগণ বলেছেন: আমাদের যমানার ক্বারীগণ ওয়াজকারীদের সামনে এবং বিভিন্ন মজলিসে যেসব অনারবীয় সুরে তিলাওয়াত করেন, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিষেধ করেছেন সম্ভবত তার অন্তর্ভুক্ত।

তিলাওয়াতের মধ্যে 'তারজী' হলো অক্ষরগুলোকে বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পড়া, যেমনটি খ্রিস্টানরা পাঠ করে থাকে।

আর তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে 'তারতীল' হলো ধীরস্থিরভাবে পাঠ করা, তাড়াহুড়ো না করা এবং প্রতিটি অক্ষর ও হরকতকে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা; একে 'সুসজ্জিত ও পৃথক পৃথক দাঁতের সারির' সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা ডেইজি ফুলের শুভ্র আভার সাথে সদৃশ। আর এটিই কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে কাম্য। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “আর আপনি কুরআন তিলাওয়াত করুন তারতীলের সাথে (ধীরস্থিরভাবে ও সুস্পষ্টভাবে)।” উম্মু সালামাহ (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিলাওয়াত এবং তাঁর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: “তাঁর সালাতের সাথে তোমাদের কী সম্পর্ক (অর্থাৎ তা ছিল অবর্ণনীয়)!” অতঃপর তিনি তাঁর তিলাওয়াতের বর্ণনা দিলেন। তাঁর সেই বর্ণনাটি ছিল এমন এক তিলাওয়াতের বর্ণনা যা—
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
مفسّرة حرفا حرفا. أخرجه النسائي، وأبو داود، والترمذي، وقال هذا حديث صحيح غريب.

والله أعلم

* * *
অক্ষর অক্ষর করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি নাসায়ি, আবু দাউদ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন এটি একটি সহিহ গরিব হাদিস।

আল্লাহই ভালো জানেন

* * *
(খণ্ড: ১) তাফসীরু হাদায়িকির রূহি ওয়ার-রাইহান ফী রাওয়াবী উলূমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌الفصل الثالث في تحذير أهل القرآن والعلم من الرياء، وغيره

قال الله تعالى: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا}، وقال تعالى: {فَمَنْ كانَ يَرْجُوا لِقاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صالِحًا وَلا يُشْرِكْ بِعِبادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا}.

روى مسلم، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إنّ أوّل الناس يقضى عليه يوم القيامة؛ رجل استشهد فأتي به، فعرّفه نعمه، فعرفها، قال: فما عملت فيها؟

قال: قاتلت فيك حتّى استشهدت، قال: كذبت، ولكنّك قاتلت ليقال: جرىء، فقد قيل، ثمّ أمر به فسحب على وجهه، حتى ألقي في النار، ورجل تعلّم العلم، وعلّمه، وقرأ القرآن. فأتي به، فعرّفه نعمه، فعرفها، قال: فما عملت فيها؟ قال: تعلّمت العلم وعلّمته، وقرأت فيك القرآن، قال: كذبت، ولكنّك تعلّمت العلم ليقال: عالم، وقرأت القرآن ليقال: هو قارىء، فقد قيل، ثمّ أمر به فسحب على وجهه، حتى ألقي في النار، ورجل وسّع الله عليه، وأعطاه من أصناف المال كلّه، فأتي به، فعرّفه نعمه، فعرفها، قال: فما عملت فيها؟ قال: ما تركت فيها من سبيل تحبّ أن ينفق فيها، إلّا أنفقت فيها لك، قال: كذبت، ولكنّك فعلت ليقال: هو
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের বাহক ও জ্ঞানীদের রিয়া (লোকদেখানো আমল) এবং অন্যান্য বিষয়ে সতর্কীকরণ প্রসঙ্গে

মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না।" মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "অতএব, যে ব্যক্তি তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।"

মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হলো এমন এক ব্যক্তি যে শহিদ হয়েছিল। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন: 'তুমি এগুলোর দ্বারা কী আমল করেছ?'

সে বলবে: 'আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করেছি যতক্ষণ না আমি শহিদ হয়েছি।' তিনি বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি লড়াই করেছ যেন তোমাকে সাহসী বলা হয় এবং তা বলা হয়েছে।' এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এমন এক ব্যক্তি যে ইলম (দ্বীনি জ্ঞান) অর্জন করেছে, তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন: 'তুমি এগুলোর দ্বারা কী আমল করেছ?' সে বলবে: 'আমি ইলম অর্জন করেছি, তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি।' তিনি বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি ইলম অর্জন করেছ যেন তোমাকে আলেম বলা হয় এবং কুরআন পাঠ করেছ যেন তোমাকে ক্বারি বলা হয় এবং তা বলা হয়েছে।' এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দান করেছিলেন এবং সব ধরনের ধন-সম্পদ দিয়েছিলেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন: 'তুমি এগুলোর দ্বারা কী আমল করেছ?' সে বলবে: 'আপনি যে পথে ব্যয় করা পছন্দ করেন এমন কোনো পথ আমি বাদ দিইনি যাতে আপনার জন্য ব্যয় না করেছি।' তিনি বলবেন: 'তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি তা করেছ যেন বলা হয় যে সে... '