(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: -)
مسائل في الفتن   (فيصل آل صبحان)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مسائل في الفتن

المؤلف: أبو عبد الله فيصل بن حيان آل صبحان

الناشر: مؤسسة الريان للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 79

مصدر الكتاب/ أرسله المؤلف جزاه الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 شعبان 1436

ফিতনা সংক্রান্ত মাসায়েল   (ফয়সাল আল-সুবহান)

বিভাগ: ফিকহি মাসায়েল


গ্রন্থ: ফিতনা সংক্রান্ত মাসায়েল

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ ফয়সাল বিন হাইয়ান আল-সুবহান

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রাইয়ান মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯

গ্রন্থের উৎস/ লেখক এটি পাঠিয়েছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ শাবান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: -)
مسائل في الفتن

 

تأليف

أبي عبد الله فيصل بن حيان آل صبحان

 

مؤسسة الريان
ফেতনা সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ

 

গ্রন্থনায়

আবু আব্দুল্লাহ ফয়সাল বিন হাইয়্যান আল-সুবহান

 

আল-রাইয়ান ফাউন্ডেশন
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألاّ إله إلاّ الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته، ولا تموتن إلاّ وأنتم مسلمون}، {يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء، واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا}، {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولا سديدا، يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما}.

أما بعد:

فإن الله تعالى بعث رسوله بالهدى ودين الحق، ووصفه في كتابه بالرحمة والرأفة وتمام الحرص والشفقة فقال سبحانه: {وما أرسلناك إلاّ رحمة للعالمين} وقال جل شأنه: {لقد جاءكم رسول من أنفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمؤمنين رؤوف رحيم}، ولما كانت هذه هي صفته صلى الله عليه وسلم كما وصفه بذلك ربه سبحانه، فإنه صلى الله عليه وسلم ما ترك خيرا يعلمه إلا دل الأمة عليه،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না}। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন}। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করবে}।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর রাসুলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবে তাঁকে দয়া, অনুকম্পা এবং পূর্ণ মঙ্গলকামনা ও মমতার গুণে ভূষিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি আপনাকে কেবল বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসুল এসেছেন, তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর জন্য অসহনীয়। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান ও পরম করুণাময়}। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য ছিল ঠিক তেমনটিই, যেমন তাঁর মহান প্রতিপালক বর্ণনা করেছেন, তাই তিনি এমন কোনো কল্যাণের কথা জানতেন না যা তিনি তাঁর উম্মতকে দিকনির্দেশনা দেননি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৬)
وأمرهم به، ولا شرا إلا حذرهم منه، ونفرهم عنه، حتى ترك الأمة عليه الصلاة والسلام على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلاّ هالك.

ألا وإن من تلك الأمور التي حذر منها صلى الله عليه وسلم أشد التحذير وبينها أتم البيان: الفتن وما يتعلق بها. وما ذلك إلا لأن الفتن مؤثرة على الدين والأنفس والأموال والأعراض. فكان التحذير منها أشد من غيرها والأحاديث فيها أكثر.

والناس في هذا الزمان قد تكاثرت عليهم الفتن، وتفتحت عليهم أبوابها، كما أخبر بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكثر كلامهم فيها؛ بالحق تارة، وبالباطل أخرى، وبالدليل والبرهان مرة، وبالجهل والهوى مرة أخرى، فوقعوا في تعارض الآراء واختلاف الأهواء، فزادت الفتن واضطرب الناس. وإذا كان الواجب على من تكلم في أي باب من أبواب العلم أن يتكلم بعلم، ويزين كلامه بالحلم؛ فإن باب الفتن أولى وأحرى لما يترتب عليه من الأحوال والأفعال والتصرفات، العامة والخاصة.

فلازم على كل من تكلم في هذا الباب ونظر فيه: أن يتتبع ما ورد فيه في الكتاب والسنة، وما ورد فيه عن سلف الأمة، حتى يقع على الدليل، ويرى كيف يكون العمل والتنزيل.

وهذه الرسالة إنما هي محاولة لتأصيل هذا الباب، بالنظر فيما جاء فيه من النصوص والآثار، ومواقف السلف الأبرار، حتى تتضح المسألة ويبين الحق إن شاء الله.

هذا وقد رتبتها على مسائل ليكون ذلك أنشط للقارئ، وأروح لنفسه وفكره، ولم أكثر الكلام فيها- وإن كان مجال القول في بعضها يطول - خشية الإملال.

ومما يحسن بي في هذه المقدمة أن أنبه على أمور:

أولها: أنه ليس مقصودي في هذه الرسالة جمع ما ورد في كل فتنة من
এবং তিনি তাদেরকে সে নির্দেশ দিয়েছেন, আর এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদেরকে সতর্ক করেননি এবং তা থেকে বিমুখ করেননি। এমনকি আল্লাহর রাসুল (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এই উম্মতকে এক সুষ্পষ্ট উজ্জ্বল পথের (المحجة البيضاء) ওপর রেখে গেছেন, যার রাত দিনের মতো পরিষ্কার; পথভ্রষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।

জেনে রাখুন, সেই বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম যা থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন এবং পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন, তা হলো: ফিতনা (الفتن) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ। এর কারণ এই যে, ফিতনা (الفتن) দ্বীন, জীবন, সম্পদ ও সম্মানের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই অন্য বিষয়ের তুলনায় এটি থেকে সতর্কবার্তা ছিল অধিক কঠোর এবং এর বিষয়ে হাদিসও ছিল সংখ্যায় অধিক।

আর বর্তমান সময়ে মানুষের ওপর ফিতনা (الفتن) বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর দ্বারসমূহ উন্মোচিত হয়েছে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) সংবাদ দিয়েছিলেন। ফলে ফিতনা সম্পর্কে মানুষের কথা বলাও বেড়ে গেছে; কখনও সত্যের মাধ্যমে, কখনও মিথ্যার মাধ্যমে; কখনও দলিল (الدليل) ও প্রমাণের (البرهان) ভিত্তিতে, আবার কখনও অজ্ঞতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। এর ফলে তারা মতবিরোধ ও খেয়ালখুশির অনুসরণে লিপ্ত হয়েছে, ফলে ফিতনা (الفتن) বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষ অস্থির হয়ে পড়েছে। জ্ঞানের যে কোনো শাখায় কথা বলার ক্ষেত্রে যদি জ্ঞানের ভিত্তিতে বলা এবং কথাকে ধৈর্য ও গাম্ভীর্যের দ্বারা সজ্জিত করা আবশ্যক হয়ে থাকে, তবে ফিতনার (الفتن) অধ্যায়ে এটি আরও বেশি অগ্রগণ্য ও যথাযথ; কারণ এর সাথে সাধারণ ও বিশেষ পর্যায়ের বহু অবস্থা, কর্মকাণ্ড ও আচরণের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সুতরাং এই অধ্যায়ে যে ব্যক্তি কথা বলে বা এটি নিয়ে গবেষণা করে, তার জন্য অপরিহার্য হলো: কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ এবং এই উম্মতের পূর্বসূরিদের (سلف الأمة) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুসন্ধান করা, যাতে করে সে দলিলে (الدليل) উপনীত হতে পারে এবং কীভাবে আমল ও তার প্রয়োগ (التنزيل) করতে হবে তা অনুধাবন করতে পারে।

আর এই পুস্তিকাটি মূলত এই অধ্যায়টির মূলনীতি নির্ধারণের (لتأصيل) একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস; যেখানে সংশ্লিষ্ট পাঠ্য (النصوص) ও বর্ণনা (الآثار) এবং পুণ্যবান পূর্বসূরিদের অবস্থানের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়েছে, যাতে বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং ইনশাআল্লাহ সত্য প্রতিভাত হয়।

আমি এটিকে বিভিন্ন মাসয়ালার (مسائل) ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছি যাতে তা পাঠকের জন্য সহজবোধ্য হয় এবং তার মন ও চিন্তার প্রশান্তি যোগায়। আমি এতে আলোচনা দীর্ঘায়িত করিনি—যদিও এর কোনো কোনো ক্ষেত্রে কথা দীর্ঘ করার সুযোগ ছিল—পাছে বিরক্তির উদ্রেক না হয় সেই আশঙ্কায়।

এই ভূমিকার প্রেক্ষিতে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি সতর্ক করা আমি সমীচীন মনে করছি:

প্রথমত: এই পুস্তিকায় আমার উদ্দেশ্য প্রতিটি ফিতনার (فتنة) ক্ষেত্রে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংকলন করা নয়...
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৭)
الفتن كما هو الشأن في الكتب المؤلفة في ذلك، وإنما المقصود بهذه الرسالة النظر في هذه الفتن من حيث هي فتن واستنباط شيء من فقهها من خلال نصوصها، ولذا فهذه الرسالة عامة في جميع الفتن.

الثاني: في ترتيب هذه المسائل؛ إذ قد يرى البعض أن الأفضل لو غير ترتيب بعض المسائل تقديما وتأخيرا، ولا ضير في ذلك إن شاء الله إذ المقصود بيان كيفية التعامل مع الفتن علما وعملا.

الثالث: أنه قد يلاحظ في أثناء الرسالة التركيز على فتنة الاقتتال بين المسلمين أكثر من غيرها، وما ذلك إلا لخطورتها وما يترتب عليها، مع ما قد يقع في نفوس البعض من التساهل فيها، بدعوى الغيرة على الدين، أو التنافس على الدنيا.

وأخيرا: أسأل الله تعالى أن يقيني وإخواني المسلمين شر الفتن ما ظهر منها وما بطن، وأن يهب لنا منه نورا وهدى ورحمة تكشف لنا المتشابه، فإنه لا حول ولا قوة لنا إلا به، وأسأله جل وعلا أن يعز دينه وأن يعلي كلمته، وأن ينصر عباده الموحدين في كل مكان، إنه ولي ذلك والقادر عليه ..... والله الهادي إلى سواء السبيل، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

وكتبه:

أبو عبد الله: فيصل بن حيان بن مانع آل صبحان.
ফিতনা (الفتن) সংক্রান্ত বিষয়াবলীতে রচিত গ্রন্থসমূহের যে সাধারণ রীতি, এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য কেবল তা অনুসরণ করা নয়; বরং এই পুস্তিকার মূল লক্ষ্য হলো ফিতনাগুলোকে ফিতনা হিসেবেই বিচার করা এবং সংশ্লিষ্ট মূল পাঠ (نصوص) থেকে এর ফিকহ (فقه) বা প্রজ্ঞা উদ্ঘাটন করা। তাই এই পুস্তিকাটি সকল প্রকার ফিতনার জন্য একটি সাধারণ নির্দেশিকা।

দ্বিতীয়ত: এই মাসআলাসমূহের (المسائل) বিন্যাসের ক্ষেত্রে; কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, কিছু বিষয়ের বিন্যাস আগে-পরে করা হলে অধিকতর উত্তম হতো। ইনশাআল্লাহ এতে কোনো ক্ষতি নেই, কারণ মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে ফিতনার সাথে মোকাবিলা করার পদ্ধতি বর্ণনা করা।

তৃতীয়ত: এই পুস্তিকার মাঝে হয়তো লক্ষ্য করা যাবে যে, মুসলমানদের পারস্পরিক লড়াইয়ের ফিতনার (فتنة) ওপর অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এটি কেবল এর ভয়াবহতা এবং এর আনুষঙ্গিক পরিণতির কারণেই করা হয়েছে; অথচ দ্বীনি আত্মমর্যাদাবোধ কিংবা পার্থিব প্রতিযোগিতার অজুহাতে কারো কারো অন্তরে এই বিষয়ে শিথিলতা পরিলক্ষিত হতে পারে।

পরিশেষে: আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের ফিতনার (الفتن) অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন। তিনি যেন তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের এমন নূর, হিদায়াত ও রহমত দান করেন যা আমাদের সামনে অস্পষ্ট ও সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহকে (المتشابه) উন্মোচিত করে দেয়। কেননা তাঁর সাহায্য ছাড়া আমাদের কোনো উপায় বা শক্তি নেই। আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করেন এবং তাঁর কালিমাকে সমুন্নত করেন, আর প্রতিটি জনপদে তাঁর তাওহীদপন্থী (الموحدين) বান্দাদের সাহায্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

এটি লিখেছেন:

আবু আব্দুল্লাহ: ফয়সাল বিন হাইয়ান বিন মানে আল-সুবহান।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৯)
المسألة الأولى:

أن الفتن واقعة في أمة محمد صلى الله عليه وسلم قدرا وكونا، لابد من ذلك رضي الناس أم لم يرضوا، فقد أخبر بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم وإخباره لابد واقع كما أخبر.

ففي الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ستكون فتن القاعد فيها خير من القائم، والقائم فيها خير من الماشي، والماشي فيها خير من الساعي. من تشّرف لها تستشرفه، فمن وجد ملجأ أو معاذ فليعذ به).

فأخبر صلى الله عليه وسلم بكون الفتن في الأمة ولابد من ذلك.

وفي الصحيحين أيضا من حديث حذيفة رضي الله عنه قال: كنا عند عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال: أيكم يحفظ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في الفتنة؟ قال حذيفة: قلت: أنا. قال: إنك لجريء كيف قال؟ قال: قلت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (فتنة الرجل في أهله وماله ونفسه وولده وجاره يكفرها الصيام والصلاة والصدقة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) فقال عمر:

ليس هذا أريد إنما أريد التي تموج كموج البحر. قال: فقلت: مالك ولها يا أمير المؤمنين، أن بينك وبينها بابا مغلقا. قال: أفيكسر الباب أم يفتح؟ قال: قلت: لا بل يكسر. قال: ذلك حري أن لا يغلق أبدا. قال: فقلنا لحذيفة: هل كان عمر يعلم من الباب؟ قال: نعم كما يعلم أن دون غد الليلة، إني أحدثه حديثا ليس بالأغاليط. قال شقيق: فهبنا أن نسأل حذيفة من الباب؟ فقلنا: لمسروق سله، فسأله؛ فقال: عمر.
প্রথম মাসয়ালা:

নিশ্চয়ই উম্মতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে ফিতনা বা বিপর্যয় সংঘটিত হওয়া তাকদির ও জাগতিক বিধান হিসেবে অবধারিত। মানুষ তাতে সন্তুষ্ট হোক বা না হোক, এটি ঘটবেই। কেননা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর দেওয়া সংবাদ অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে যেভাবে তিনি সংবাদ দিয়েছেন।

সহিহাইন-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (অচিরেই এমন ফিতনা দেখা দেবে যেখানে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম, দণ্ডায়মান ব্যক্তি পথচারীর চেয়ে উত্তম এবং পথচারী ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হবে। যে ব্যক্তি সেই ফিতনার দিকে উঁকি দেবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয়স্থল বা নিরাপদ স্থান লাভ করবে, সে যেন সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করে)।

সুতরাং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের মধ্যে ফিতনা সংঘটিত হওয়ার সংবাদ দিয়েছেন এবং এটি অনিবার্য।

সহিহাইন-এ হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকটে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: ফিতনা সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস তোমাদের মধ্যে কার মুখস্থ আছে? হুজাইফা বলেন: আমি বললাম, আমার। তিনি (ওমর) বললেন: তুমি তো অত্যন্ত সাহসী! তিনি কীভাবে তা বর্ণনা করেছেন? হুজাইফা বলেন: আমি বললাম, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (পরিবার, সম্পদ, জীবন, সন্তান ও প্রতিবেশীর ক্ষেত্রে মানুষের যে ফিতনা বা পদস্খলন ঘটে; রোজা, নামাজ, দান-সদকা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ তা মিটিয়ে দেয়)। তখন ওমর বললেন:

আমি এটি জানতে চাইনি, বরং আমি সেই ফিতনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছি যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হবে। হুজাইফা বলেন: আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনিন! সেই ফিতনার সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই; আপনার ও সেই ফিতনার মাঝে একটি রুদ্ধ দ্বার রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: দরজাটি কি ভেঙে ফেলা হবে নাকি খোলা হবে? হুজাইফা বলেন: আমি বললাম, না, বরং তা ভেঙে ফেলা হবে। তিনি বললেন: তবে তো তা আর কখনো বন্ধ হবে না। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা হুজাইফাকে জিজ্ঞেস করলাম, ওমর কি সেই দরজাটি সম্পর্কে জানতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যেভাবে মানুষ জানে যে আগামীকালের পূর্বে রাত আসবে। আমি তাঁকে এমন এক হাদিস শুনিয়েছি যা ভুল (الأغاليط) নয়। শাকিক বলেন: আমরা হুজাইফাকে দরজাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে ভয় পাচ্ছিলাম, তাই আমরা মাসরুককে বললাম তাঁকে জিজ্ঞেস করতে। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন: সেই দরজাটি হলেন ওমর নিজে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ১০)
ففهمنا من هذا الحديث أن باب الفتن إذا فتح لا يغلق، فتكثر الفتن وتختلف الأمور ولا حول ولا قوة إلاّ بالله.

والأحاديث الدالة على لزوم وقوع الفتن في هذه الأمة كثيرة جدا ولعله يمر علينا في أثناء الرسالة طرفا منها.

فإذا علمنا هذا وتيقناه ـ وهو أن الفتن واقعة لا محالة: فلا بد من الاستعداد لها بالعلم والعمل جميعا:

أما العلم: فلأنه سيقل ويرفع كما في الصحيحين من حديث ابن مسعود وأبي موسى رضي الله عنهما قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن بين يدي الساعة لأياما: ينزل فيها الجهل، ويرفع فيها العلم، ويكثر فيها الهرج؛ والهرج القتل).

 

و‌‌سبب قلة العلم في آخر الزمان أمور:

أولها: موت العلماء الذين هم حملته وأهله كما في الصحيحين من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إن الله لا يقبض العلم انتزاعا ينتزعه من الناس؛ ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يترك عالما اتخذ الناس رؤوسا جهالا فسئلوا فأفتوا بغير علم فضلوا وأضلوا).

الثاني: زهد الناس في العلم النافع وانصرافهم عنه وان كان موجودا. كما هو مشاهد في زماننا هذا من عزوف كثير من الناس عن العلم الشرعي، ورغبتهم عنه وعن معاهده وكلياته.

الثالث: ترك العمل به. والتحاكم إلى غيره، عن زياد بن لبيد رضي الله عنه قال: ذكر النبي صلى الله عليه وسلم شيئا فقال: (ذاك أوان ذهاب العلم) قلت: يا رسول الله وكيف يذهب العلم ونحن نقرأ القرآن ونقرئه أبناءنا ويقرئه أبناؤنا أبناءهم إلى يوم القيامة؟ قال: (ثكلتك أمك يا زياد إن كنت لأراك من أفقه رجل بالمدينة، أوليس اليهود والنصارى يقرأون التوراة والإنجيل لا يعملون بشيء مما فيهما) أخرجه ابن ماجة
আমরা এই হাদিস থেকে বুঝতে পারলাম যে, ফিতনার (الفتن) দরজা যখন একবার উন্মুক্ত হয়, তখন আর তা রুদ্ধ হয় না। ফলে ফিতনা (الفتن) বৃদ্ধি পায় এবং পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে; আর আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

এই উম্মতের মধ্যে ফিতনা (الفتন) সংঘটিত হওয়া অনিবার্য হওয়ার স্বপক্ষে দলিল প্রদানকারী হাদিসসমূহ সংখ্যায় অনেক বেশি। সম্ভবত এই রিসালার আলোচনার মধ্যে আমরা এগুলোর কিয়দাংশ দেখতে পাব।

সুতরাং আমরা যখন এটি অবগত হলাম এবং সুনিশ্চিত হলাম যে—ফিতনা (الفتن) ঘটা অনিবার্য—তখন জ্ঞান (العلم) ও আমল (العمل) উভয়ের মাধ্যমেই এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা অপরিহার্য।

জ্ঞানের (العلم) বিষয়টি হলো—অদূর ভবিষ্যতে তা হ্রাস পাবে এবং উঠিয়ে নেওয়া হবে, যেমনটি সহীহাইন-এ ইবনে মাসউদ ও আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে। তাঁরা বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কিয়ামতের প্রাক্কালে এমন কিছু দিন আসবে যখন মূর্খতা (الجهل) নেমে আসবে এবং জ্ঞান (العلم) উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং 'হারজ' (الهرج) বৃদ্ধি পাবে; আর 'হারজ' হলো হত্যাকাণ্ড।"

 

এবং শেষ যুগে জ্ঞান (العلم) কমে যাওয়ার কারণসমূহ কয়েকটি:

প্রথমত: ওলামায়ে কেরামের মৃত্যু, যাঁরা এই ইলমের বাহক ও যোগ্য উত্তরসূরী। যেমনটি সহীহাইন-এ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তর থেকে টেনে জ্ঞান (العلم) ছিনিয়ে নেবেন না; বরং ওলামায়ে কেরামের তিরোধানের মাধ্যমেই তিনি জ্ঞান (العلم) কবজ করবেন। এমনকি যখন তিনি কোনো আলেমকে অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের নিকট ফতোয়া জানতে চাওয়া হবে, আর তারা জ্ঞান (العلم) ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"

দ্বিতীয়ত: উপকারী জ্ঞানের (العلم النافع) প্রতি মানুষের বিমুখতা এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, যদিও তা বিদ্যমান থাকে। যেমনটি আমাদের বর্তমান যুগে পরিলক্ষিত হয় যে, বহু মানুষ শরয়ি জ্ঞান (العلم الشرعي) থেকে বিমুখ এবং এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অনুষদগুলোর প্রতি অনাগ্রহী।

তৃতীয়ত: জ্ঞান অনুযায়ী আমল (العمل) বর্জন করা এবং জ্ঞান ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচার-ফয়সালা করা। যিয়াদ ইবনে লাবীদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) কোনো একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন: "সেটি হবে জ্ঞান (العلم) চলে যাওয়ার সময়।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! জ্ঞান (العلم) কীভাবে চলে যাবে অথচ আমরা কুরআন পাঠ করছি এবং আমাদের সন্তানদের পড়াচ্ছি, আর আমাদের সন্তানরা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের সন্তানদের পড়াবে? তিনি বললেন: "হে যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারাক (এটি একটি আরবি প্রবাদ), আমি তো তোমাকে মদীনার অন্যতম বিজ্ঞ ফকীহ (أفقه) মনে করতাম। এই ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা কি তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করে না অথচ তারা তাতে যা আছে তার কোনো কিছুই আমল (العمل) করে না?" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ১১)
فإذا كان الأمر كذلك وجب على اللبيب العاقل التزود منه قبل ذهابه .......... والله المستعان

 

وأما العمل: فلأمره صلى الله عليه وسلم بالمبادرة به قبل الفتن: ففي صحيح مسلم وغيره من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (بادروا بالأعمال فتنا كقطع الليل المظلم، يصبح الرجل مؤمنا ويمسي كافرا، ويمسي مؤمن ويصبح كافرا، يبيع دينه بعرض من الدنيا).

وفيه أيضا عنه رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (بادروا بالأعمال ستا: الدجال والدخان ودابة الأرض وطلوع الشمس من مغربها وأمر العامة وخويصة أحدكم).

وإنما أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمبادرة إلى الأعمال قبل الفتن -والله أعلم _ لأمور:

أولها: أن الإنسان وقت الفتن يشغل بنفسه وأهله فلا يحصل له من الوقت ما كان يحصل له فبل الفتن.

الثاني: أنه قد لا يمكن من العمل وقت الفتن، بل قد يمنع منه إما بقتل أو سجن أو تعذيب أو تشريد أو نحو ذلك .... فالمبادرة قبل المصادرة.

الثالث: انشغال القلب هما وتفكيرا، فيقل الخشوع والعمل. (والفرق بين هذا الوجه والوجه الأول: أن الأول انشغال عمل بطلب رزق وحفظ نفس ومال ونحو ذلك، وهذا انشغال عقل وتفكير).

الرابع: لالتباس الحق بالباطل واختلاط الأمور في الفتن، فلا يدري الإنسان أين الحق فيتبعه، وأين الباطل فيجتنبه.

فالموفق من وفقه الله للعلم النافع والعمل الصالح ..... جعلنا الله من أولئك.
فإذا كان الأمر كذلك وجب على اللبيب العاقل التزود منه قبل ذهابه .......... والله المستعان

যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে বুদ্ধিমান ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো এর (সুযোগ) চলে যাওয়ার আগেই পাথেয় সংগ্রহ করে নেওয়া। ... আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

 

আর আমল বা কর্মের প্রসঙ্গে: কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিতনা আসার আগেই দ্রুত আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন: সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনা আসার আগেই দ্রুত নেক আমল করো; (তখন) এক ব্যক্তি সকালে মুমিন থাকবে কিন্তু সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে, আবার সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে কিন্তু সকালে কাফিরে পরিণত হবে। সে দুনিয়াবী তুচ্ছ সম্পদের বিনিময়ে নিজ দ্বীনকে বিক্রি করে দেবে।"

সেখানে (সহীহ মুসলিম) আরও বর্ণিত হয়েছে যে, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ছয়টি বিষয় (প্রকাশের) আগে তোমরা দ্রুত আমল করো: দাজ্জাল, ধোঁয়া, ভূগর্ভস্থ প্রাণী (দাব্বাতুল আরদ), পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, সর্বসাধারণের ফিতনা (কিয়ামত) এবং তোমাদের ব্যক্তিগত বিষয় (মৃত্যু)।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ফিতনা আসার পূর্বে আমল করতে ক্ষিপ্রতা প্রদর্শনের যে নির্দেশ দিয়েছেন—আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—তার কিছু কারণ রয়েছে:

প্রথমত: ফিতনার সময় মানুষ নিজেকে এবং পরিবার-পরিজনকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে; ফলে সে ইবাদতের জন্য তেমন সময় পায় না যা সে ফিতনার পূর্বে পেত।

দ্বিতীয়ত: ফিতনার সময় অনেক সময় আমল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না; বরং কখনো তাকে আমল থেকে বাধা দেওয়া হয়—হয়তো হত্যা, কারাবরণ, নির্যাতন, বাস্তুচ্যুতি বা এই জাতীয় কোনো কিছুর মাধ্যমে। ... সুতরাং সুযোগ হরণ করার আগেই দ্রুত আমল করা উচিত।

তৃতীয়ত: দুশ্চিন্তা ও ভাবনায় অন্তরের ব্যস্ততা; ফলে একাগ্রতা (خشوع) এবং আমল হ্রাস পায়। (এই কারণ ও প্রথম কারণের মধ্যে পার্থক্য হলো: প্রথমটি হলো রিযিক অন্বেষণ, জীবন ও সম্পদ রক্ষা ইত্যাদিতে বাহ্যিক কর্মব্যস্ততা; আর এটি হলো মেধা ও চিন্তার ব্যস্ততা)।

চতুর্থত: সত্য ও মিথ্যার সংশয় তৈরি হওয়া এবং ফিতনার সময় বিষয়াবলি গুলিয়ে ফেলা। তখন মানুষ বুঝতে পারে না কোনটি সত্য যাতে সে তার অনুসরণ করবে, আর কোনটি মিথ্যা যাতে সে তা বর্জন করবে।

সুতরাং সফল সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ উপকারী জ্ঞান এবং সৎ আমলের তাওফিক দান করেছেন। ... আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ১৩)
المسألة الثانية:

إذا علمنا أن الفتن لابد واقعة في أمة محمد صلى الله عليه وسلم فينبغي أن يعلم أنها كثيرة جدا لا يمكن حصرها .. فعن أسامة بن زيد رضي الله عنه قال: أشرف النبي صلى الله عليه وسلم على أطم من آطام المدينة فقال: (هل ترون ما أرى؟) قالوا: لا. قال: (فإني لأرى الفتن تقع خلال بيوتكم كوقع القطر) متفق عليه واللفظ للبخاري.

وفي البخاري عن أم سلمة رضي الله عنها قالت: استيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة فزعا يقول: (سبحان الله ماذا أنزل الله من الخزائن، وماذا أنزل من الفتن؟ من يوقظ صواحب الحجرات _ يريد أزواجه _ لكي يصلين، رب كاسية في الدنيا عارية في الآخرة).

فدل ما تقدم على كثرة الفتن حتى شبهت بالقطر من السماء، ومعلوم أن القطر لايحصيه إلاّ الذي أنزله.

فإذا كان الأمر كذلك وأن الفتن كثيرة جدا فليعلم العبد أنه إن أخطأته فتنة .. لم يكد يسلم من الأخرى، فلينج بنفسه وليحذر. وقد تقدم في الحديث: (من تشرف لها تستشرفه، ومن وجد ملجأ أو معاذا فليعذ به).

فالعاقل يوطن نفسه على الهرب منها واجتنابها .. والأحمق الأخرق هو الذي يرفع لها رأسه فيوشك أن تقطعه.

وعلى ما تقدم: فلا يزال العبد في مجاهدة وصبر لكثرة الفتن واستمرارها .. والله المستعان.
দ্বিতীয় মাসআলা:

আমরা যখন অবগত হয়েছি যে উম্মতে মুহাম্মদীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মধ্যে ফিতনা অবশ্যই সংঘটিত হবে, তখন এ কথা জেনে রাখা উচিত যে, তা অনেক বেশি এবং তা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। উসামা ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনার দুর্গসমূহের একটির ওপর আরোহণ করলেন, অতঃপর বললেন: "আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছো?" তারা বললেন: না। তিনি বললেন: "আমি তোমাদের ঘরগুলোর ফাঁকে ফাঁকে ফিতনা আপতিত হতে দেখছি বৃষ্টির ধারার মতো।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং শব্দ বিন্যাস বুখারির।

সহিহ বুখারিতে উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রাতে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় জেগে উঠলেন এবং বলতে লাগলেন: "সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ তাআলা তাঁর ভাণ্ডার থেকে কী প্রাচুর্য অবতীর্ণ করলেন এবং কী পরিমাণ ফিতনা অবতীর্ণ হলো? কামরাবাসিনীদের (অর্থাৎ তাঁর স্ত্রীদের) কে জাগিয়ে দেবে যাতে তারা সালাত আদায় করতে পারে? দুনিয়াতে অনেক পোশাক পরিহিতা পরকালে উলঙ্গ থাকবে।"

ওপরের আলোচনা থেকে ফিতনার আধিক্য প্রমাণিত হয়, এমনকি একে আসমান থেকে বর্ষিত বৃষ্টির সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর এটি সুপরিজ্ঞাত যে, বৃষ্টির ফোঁটা যিনি অবতীর্ণ করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারে না।

বিষয়টি যদি এমনই হয় যে ফিতনা অনেক বেশি, তবে বান্দার জেনে রাখা উচিত যে, যদি সে একটি ফিতনা থেকে রক্ষা পায়ও, অন্যটি থেকে নিরাপদ থাকা তার জন্য কঠিন হবে। সুতরাং সে যেন নিজেকে বাঁচায় এবং সতর্ক থাকে। ইতিপূর্বেই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "যে এর দিকে উঁকি দেবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। আর যে কোনো আশ্রয়স্থল বা আত্মরক্ষার জায়গা পাবে, সে যেন সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করে।"

অতএব বুদ্ধিমান ব্যক্তি ফিতনা থেকে পলায়ন এবং তা বর্জনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখে। পক্ষান্তরে নির্বোধ ও মূর্খ সেই ব্যক্তি, যে এর সামনে মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং অচিরেই তা তাকে ধ্বংস করে ফেলে।

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে: ফিতনার আধিক্য ও নিরবচ্ছিন্নতার কারণে বান্দাকে সর্বদা আত্মসংগ্রাম ও ধৈর্যের মধ্যে থাকতে হবে। আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ১৫)
المسألة الثالثة:

أن الفتن متفاوتة منها الصغير ومنها الكبير، ومنها الخاص ومنها العام:

دليل ذلك ما أخرجه الإمام مسلم في صحيحه عن أبي إدريس الخولاني رحمه الله أنه كان يقول: قال حذيفة بن اليمان: والله إني لأعلم الناس بكل فتنة هي كائنة فيما بيني وبين الساعة، وما بي أن يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم أسر إلي في ذلك شيئا لم يحدثه غيري، ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال وهو يحدث مجلسا أنا فيه عن الفتن، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يعد الفتن: (منهن ثلاث لا يكدن يذرن شيئا، ومنهن فتن كرياح الصيف منها صغار ومنها كبار) قال حذيفة: فذهب أولئك الرهط كلهم غيري.

وقد قدمنا في المسألة (الأولى) حديث حذيفة رضي الله عنه لما سأله عمر عن الفتن فبين له أولا الفتن الخاصة بالإنسان في أهله وماله وولده وجاره، ثم سأله عن الفتنة العامة التي تموج كما يموج البحر فأخبره بها.

وفي مصنف ابن أبي شيبة (8/ 672) والسنن الواردة في الفتن لأبي عمرو الداني (1/ 284) عن طاووس بن كيسان عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال لما قتل عثمان بن عفان رضي الله عنه: (إنما هذه حيصة من حيصات الفتن وبقيت الرداح المطبقة التي من ماج بها ماجت به ومن أشرف لها استشرفت له)

والرداح المطبقة هي الثقيلة العظيمة العامة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

ফিতনা (فتنة) বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে; যার কিছু ছোট এবং কিছু বড়, আবার কিছু ব্যক্তিগত এবং কিছু ব্যাপক:

এর প্রমাণ হলো ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু ইদরিস আল-খাওলানি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলতেন: হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আল্লাহর কসম! কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য প্রতিটি ফিতনা (فتنة) সম্পর্কে আমি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত। এমন নয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ বিষয়ে গোপনীয়ভাবে আমাকে এমন কিছু বলেছেন যা অন্য কাউকে বলেননি। বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক মজলিসে ফিতনা (فتنة) সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন যেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিভিন্ন ফিতনা (فتنة) গণনা করতে গিয়ে বলেন: "সেগুলোর মধ্যে তিনটি এমন হবে যা প্রায় কোনো কিছুই অবশিষ্ট রাখবে না; আর কিছু ফিতনা (فتنة) হবে গ্রীষ্মকালীন বাতাসের মতো, যার মধ্যে কিছু ছোট এবং কিছু বড়।" হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আমি ছাড়া সেই মজলিসে উপস্থিত দলের সবাই বিদায় নিয়েছেন (মারা গেছেন)।"

ইতিপূর্বে আমরা প্রথম পরিচ্ছেদে হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছি, যখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে ফিতনা (فتنة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি প্রথমে মানুষের পরিবার, সম্পদ, সন্তান এবং প্রতিবেশীর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত ফিতনা (فتنة) সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন। এরপর তিনি উমরের কাছে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ধাবমান ব্যাপক ফিতনা (فتنة) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে সে বিষয়ে অবহিত করেন।

মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ (৮/৬৭২) এবং আবু আমর আদ-দানি রচিত আস-সুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান (১/২৮৪) গ্রন্থে তাউস ইবনে কাইসান থেকে বর্ণিত, আবু মুসা আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিহত হওয়ার পর বলেছিলেন: "এটি কেবল ফিতনার (فتنة) একটি ঝাপটা মাত্র। এখনও এমন ব্যাপক ও অন্ধকার ফিতনা (فتنة) বাকি আছে যা মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে; যে ব্যক্তি তাতে নিজেকে সম্পৃক্ত করবে সে তাতে নিমজ্জিত হবে, আর যে এর প্রতি উঁকি দিবে সেটি তাকে গ্রাস করে নিবে।"

আর 'আর-রাদাহ আল-মুতবিকাহ' (الرداح المطبقة) হলো অত্যন্ত ভারী, বিশাল এবং সর্বব্যাপী ফিতনা।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ১৬)
- فإذا علم ذلك: فإن لكل نوع من أنواع الفتن فقها خاصا به: تعاملا وعلما، فليس الصبر في الفتن الكبار كالصبر في الفتن الصغار وهكذا ..

 

- وأيضا: فإن‌‌ الفتن تقدر بقدرها .. فلا تصغر الكبيرة حتى يستهين بها الناس، ولا تكبر الصغيرة حتى ييأس الناس منها … ولا تعمم الخاصة فيفتن الناس بها ولا تخصص العامة فتخذل الأمة.

في كتاب (السنة) للخلاّل (1/ 132) عن أبي الحارث الصائغ قال: سألت أبا عبد الله ـ يعني الإمام أحمد ـ في أمر كان حدث في بغداد وهمّ قوم بالخروج، فقلت: يا أبا عبد الله! ما تقول في الخروج مع هؤلاء القوم؟ فأنكر ذلك عليهم وجعل يقول: سبحان الله! الدماء، الدماء لا أرى ذلك ولا آمر به الصبر على ما نحن فيه خير من الفتنة يسفك فيها الدماء ويستباح فيها الأموال، وينتهك فيها المحارم، أما علمت ما كان الناس فيه - يعني أيام الفتنة؟ قلت: والناس اليوم أليس هم في فتنة يا أبا عبد الله؟ قال: وإن كان، فإنما هي فتنة خاصة فإذا وقع السيف عمت الفتنة، وانقطعت السبل. الصبر على هذا ويسلم لك دينك خير لك، ورأيته ينكر الخروج على الأئمة وقال: الدماء لا أرى ذلك ولا آمر به.

فانظر إلى فقه الإمام أحمد رحمه الله وكيف كان يقدر الفتن بقدرها.

وهذا التقدير للفتن باب علم يفتحه الله لأهل البصائر من عباده .. فيقولون الحق ويهدون إليه .. فإذا أغفل هذا الجانب وقع الزلل.

وعلى هذا الباب أيضا يكون العمل عند دفع الفتن إذا تعارضت، إذ تدفع الأعلى منهما بالأدنى، والكبرى بالصغرى، والعامة بالخاصة وهكذا. … والله المستعان.
যখন এটি পরিজ্ঞাত হলো: তখন ফিতনার প্রতিটি প্রকারেরই একটি সুনির্দিষ্ট ফিকহ (فقه) রয়েছে: যা প্রয়োগ এবং জ্ঞান—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বড় ফিতনার ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করা ছোট ফিতনার ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণের মতো নয় এবং এভাবেই সব...

 

- আরও কথা হলো: নিশ্চয়ই‌‌ ফিতনাকে তার যথার্থ গুরুত্ব অনুযায়ী মূল্যায়ন করতে হবে .. সুতরাং বড় ফিতনাকে এমন ছোট করে দেখা যাবে না যাতে মানুষ তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, আবার ছোট ফিতনাকে এমন বড় করা যাবে না যাতে মানুষ তা থেকে নিরাশ হয়ে পড়ে … এবং বিশেষ বা ব্যক্তিগত ফিতনাকে সার্বজনীন করা যাবে না যাতে মানুষ তাতে বিভ্রান্ত হয়, আবার সার্বজনীন ফিতনাকে বিশেষায়িত করা যাবে না যাতে উম্মাহ লাঞ্ছিত হয়।

আল-খাল্লাল-এর আস-সুন্নাহ (১/১৩২) কিতাবে আবুল হারিস আস-সায়িগ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ ইমাম আহমাদ—কে বাগদাদে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যেখানে একদল লোক বিদ্রোহ (خروج) করার সংকল্প করেছিল। আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! এই লোকদের সাথে বিদ্রোহে (خروج) অংশ নেওয়া সম্পর্কে আপনার মতামত কী? তিনি তাদের এই কাজকে প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বলতে লাগলেন: সুবহানাল্লাহ! রক্তপাত, রক্তপাত! আমি এটি সমর্থন করি না এবং এর নির্দেশও দিই না। আমরা বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্যে আছি তার ওপর ধৈর্যধারণ করা এমন ফিতনার চেয়ে উত্তম যাতে রক্ত প্রবাহিত হয়, সম্পদ লুণ্ঠন বৈধ করা হয় এবং সম্মানহানি ঘটে। তুমি কি জান না মানুষ কিসের মধ্যে ছিল—অর্থাৎ ফিতনার দিনগুলোতে? আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ! বর্তমানের মানুষ কি ফিতনার মধ্যে নেই? তিনি বললেন: যদি থেকেও থাকে, তবে এটি একটি বিশেষ ফিতনা (فتنة خاصة); কিন্তু যখন তলোয়ার চলবে তখন ফিতনাটি সার্বজনীন (فتنة عامة) হয়ে যাবে এবং পথসমূহ রুদ্ধ হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় ধৈর্যধারণ করা এবং তোমার দ্বীন নিরাপদ থাকা তোমার জন্য উত্তম। আর আমি তাঁকে ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ (خروج) করতে নিষেধ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: রক্তপাত! আমি এটি সমর্থন করি না এবং এর নির্দেশও দিই না।

সুতরাং ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফিকহ (فقه)-এর দিকে লক্ষ করুন এবং দেখুন তিনি কীভাবে ফিতনাকে তার যথার্থ গুরুত্ব অনুযায়ী মূল্যায়ন করতেন।

আর ফিতনার এই মূল্যায়ন হলো জ্ঞানের একটি দুয়ার যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের (أهل البصائر) জন্য উন্মুক্ত করে দেন... ফলে তাঁরা সত্য কথা বলেন এবং সেদিকে পথপ্রদর্শন করেন... যখন এই দিকটি উপেক্ষা করা হয়, তখন পদস্খলন ঘটে।

আর ফিতনাসমূহ যখন পরস্পরবিরোধী হয়, তখন সেগুলো প্রতিহত করার ক্ষেত্রেও এই মূলনীতির আলোকে আমল করতে হবে; যেখানে বড় ফিতনাকে তুলনামূলক ছোট ফিতনার মাধ্যমে এবং সার্বজনীন ফিতনাকে বিশেষ বা ব্যক্তিগত ফিতনার মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়গুলো... … আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ১৭)
المسألة الرابعة:

أن من الفتن ما يخرج من الملة ومنها مالا يخرج منها، فهي متفاوتة:

دليل ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: (بادروا بالأعمال فتنا كقطع الليل المظلم يصبح الرجل فيها مؤمنا ويمسي كافرا، ويمسي مؤمنا ويصبح كافرا؛ يبيع دينه بعرض من الدنيا).

- والكفر في هذا الحديث كما قال العلماء قد يراد به الكفر الأصغر ككفر النعمة، وقد يراد به الكفر الأكبر كاستحلال المحرم كما نقل الترمذي في سننه عن الحسن البصري رحمه الله أنه كان يقول في هذا الحديث المتقدم: يصبح الرجل محرما لدم أخيه وعرضه وماله ويمسي مستحلا له، ويمسي محرما لدم أخيه وعرضه وماله، ويصبح مستحلا له).

- ومن الفتن المكفرة التي ابتليت بها الأمة في فترة من فتراتها؛ فتنة القول بخلق القرآن، لولا أن قيض الله لها من أنصار دينه وحماة شرعه من جعلهم سدا في وجه تلك الفتنة وعلى رأسهم إمام أهل السنة: أحمد بن حنبل .. فلله الحمد والمنة.

- لكن ينبغي التنبيه على ثلاثة أمور مهمة جدا:

 

أولها: أن الحكم على الفتنة بأنها مكفرة أم لا؛ إنما هو للعلماء الربانيين الذين يصدرون عن كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم .. وليس الحكم فيها للأهواء والرغبات.
চতুর্থ মাসয়ালা:

ফেতনা (فتن) সমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা দ্বীন (الملة) থেকে বের করে দেয় এবং এমন কিছু রয়েছে যা তা থেকে বের করে দেয় না, সুতরাং ফেতনাগুলো বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে:

এর প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (তোমরা অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ধেয়ে আসা ফেতনা (فتنا) আসার পূর্বেই নেক আমলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। সে সময় এক ব্যক্তি সকালে মুমিন (مؤمنا) থাকবে কিন্তু সন্ধ্যায় কাফের (كافرا) হয়ে যাবে, আবার সন্ধ্যায় মুমিন (مؤمنا) থাকবে কিন্তু সকালে কাফের (كافرا) হয়ে যাবে; সে পার্থিব তুচ্ছ সম্পদের বিনিময়ে নিজের দ্বীন বিক্রি করে দেবে)।

- আলেমগণ যেমনটি বলেছেন, এই হাদিসে কুফর (الكفر) দ্বারা কখনও ছোট কুফর (الكفر الأصغر) উদ্দেশ্য হতে পারে যেমন নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা, আবার কখনও বড় কুফর (الكفر الأكبر) উদ্দেশ্য হতে পারে যেমন হারাম বিষয়কে হালাল মনে করা; যেমনটি ইমাম তিরমিজি তার সুনান গ্রন্থে হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে এই পূর্বোক্ত হাদিস প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেন: (ব্যক্তি সকালে তার ভাইয়ের রক্ত, ইজ্জত ও সম্পদকে হারাম জ্ঞান করে কিন্তু সন্ধ্যায় তা হালাল মনে করে; আবার সন্ধ্যায় সে এগুলোকে হারাম জ্ঞান করে কিন্তু সকালে তা হালাল মনে করে)।

- কুফরি ফেতনা (الفتن المكفرة) সমূহের মধ্যে অন্যতম, যা দ্বারা উম্মাহ একটি নির্দিষ্ট সময়কালে আক্রান্ত হয়েছিল, তা হলো 'কুরআন মাখলুক বা সৃষ্ট' হওয়ার ফেতনা (فتنة)। যদি আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী এবং শরীয়তের এমন হিফাজতকারী সৃষ্টি না করতেন যারা সেই ফেতনার (فتنة) মোকাবিলায় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন—যাদের অগ্রভাগে ছিলেন আহলুস সুন্নাহর (أهل السنة) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল—তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। সুতরাং সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই প্রাপ্য।

- তবে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করা আবশ্যক:

 

প্রথমত: কোনো ফেতনা (فتنة) কুফরি (مكفرة) কি না, সেই ফয়সালা করার দায়িত্ব কেবল রব্বানি আলেমদের (العلماء الربانيين), যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) থেকে সমাধান গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে খেয়ালখুশি বা প্রবৃত্তির কোনো স্থান নেই।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي هذا سد لباب عظيم من الشر قد ينتج عنه من الفتن إضعاف ما ينتج عن الفتنة المنظور إليها.

الثاني: تنزيل الحكم على الأشخاص إنما هو لأهل العلم الراسخين فيه؛ إذ إن إطلاق الحكم على المعين لابد فيه من معرفة الشروط والموانع … وهذا إنما يكون لأهل العلم، ولا سبيل لأحد أن يتقدم عليهم فيه لما في ذلك من الخطر العظيم والبلاء الجسيم.

الثالث: أن المشاركين في الفتن ليسوا على وزان واحد: جرما وإثما وحكما؛ فرؤوس أهل الفتن ليسوا كالأتباع، والقعدة فيها ليسوا كالمشاة، والمشاة فيها ليسوا كالسعاة … وهكذا.

وقد تقدم معنا حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (ستكون فتن القاعد فيها خير من القائم والقائم فيها خير من الماشي، والماشي فيها خير من الساعي، من تشرف لها تستشرفه؛ فمن وجد ملجأ أو معاذا فليعذ به) متفق عليه.

وفي صحيح مسلم عن أبي بكرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنها ستكون فتن القاعد فيها خير من الماشي فيها، والماشي فيها خير من الساعي إليها، فإذا نزلت أو وقعت فمن كان له إبل فليلحق بإبله، ومن كانت له غنم فليلحق بغنمه، ومن كانت له أرض فليلحق بأرضه). قال: فقال رجل: يا رسول الله! أرأيت من لم تكن له أبل ولا غنم ولا أرض؟ قال: (يعمد إلى سيفه فيدق على حده بحجر، ثم لينج إن استطاع النجاء، اللهم هل بلغت؟ اللهم هل بلغت؟ اللهم هل بلغت؟ قال: فقال رجل: يا رسول الله! أرأيت إن أكرهت حتى ينطلق بي إلى أحد الصفين أو إحدى الفئتين فضربني رجل بسيفه أو يجيء سهم فيقتلني؟ قال: (يبؤ بإثمه وإثمك ويكون من أصحاب النار).

- وإنما كان الأمر كذلك: لأن جهد أهل الفتن مختلف، ووقعهم فيها متفاوت؛ فالقاعد غالبا ـ ما لم يكن من رؤوس أهلها ـ أضعف عملا من الماشي، والماشي أضعف من الساعي وهكذا. (هذا أولاً).
এর মাধ্যমে অনিষ্টের এক বিশাল দ্বার রুদ্ধ হয়, যা থেকে এমন ফিতনা সৃষ্টি হতে পারে যা বর্তমান ফিতনার তুলনায় বহুগুণ দুর্বল করে দেয়।

দ্বিতীয়ত: ব্যক্তিদের ওপর বিধান (حكم) প্রয়োগ করা কেবল সেই সকল আলিমদের কাজ যারা ইলমে সুগভীর পাণ্ডিত্য রাখেন; কারণ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর ঢালাওভাবে বিধান (حكم) আরোপের ক্ষেত্রে শর্তাবলি ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক … আর এটি কেবল আলিমদের পক্ষেই সম্ভব। এতে মহান বিপদ ও গুরুতর সংকটের ঝুঁকি থাকায় অন্য কারো জন্য তাদের অগ্রবর্তী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তৃতীয়ত: ফিতনায় অংশগ্রহণকারীরা অপরাধ, পাপ এবং বিধানের (حكم) দিক থেকে এক সমান নয়; ফিতনাবাজদের নেতারা অনুসারীদের মতো নয়, যারা বসে থাকে তারা যারা হাঁটে তাদের মতো নয় এবং যারা পায়ে হেঁটে চলে তারা যারা দ্রুত ধাবিত হয় তাদের মতো নয় … এবং এভাবেই।

আমাদের সামনে ইতিপূর্বেই আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি অতিক্রান্ত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অচিরেই এমন কিছু ফিতনা দেখা দেবে যেখানে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম, দণ্ডায়মান ব্যক্তি পদব্রজে ভ্রমণকারীর চেয়ে উত্তম এবং পদব্রজে ভ্রমণকারী দ্রুত ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি তার দিকে উঁকি দেবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো আশ্রয়স্থল বা নিরাপদ জায়গা পাবে, সে যেন সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করে।" সর্বসম্মতভাবে গৃহীত (متفق عليه)।

সহিহ মুসলিম-এ আবু বাকরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই অচিরেই এমন কিছু ফিতনা প্রকাশ পাবে যেখানে উপবিষ্ট ব্যক্তি পদব্রজে ভ্রমণকারীর চেয়ে উত্তম এবং পদব্রজে ভ্রমণকারী দ্রুত ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। অতঃপর যখন সেই ফিতনা নাজিল হবে বা ঘটে যাবে, তখন যার উট আছে সে যেন তার উটের কাছে চলে যায়, যার বকরি আছে সে যেন তার বকরির কাছে চলে যায় এবং যার জমি আছে সে যেন তার জমির কাছে চলে যায়।" বর্ণনাকারী বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি মনে করেন যার উট, বকরি বা জমি কোনোটিই নেই (সে কী করবে)? তিনি বললেন: "সে যেন তার তলোয়ার নিয়ে পাথরে আঘাত করে এর ধার নষ্ট করে দেয়, এরপর সে যদি বাঁচার কোনো পথ পায় তবে যেন আত্মরক্ষা করে। হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" বর্ণনাকারী বলেন, তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি মনে করেন যদি আমাকে বাধ্য করা হয় এবং কোনো এক কাতারে বা কোনো এক দলে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কোনো ব্যক্তি তার তলোয়ার দিয়ে আমাকে আঘাত করে অথবা কোনো তীর এসে আমাকে বিদ্ধ করে হত্যা করে? তিনি বললেন: "সে তার নিজের এবং তোমার পাপ নিয়ে ফিরে যাবে এবং সে হবে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।"

- বিষয়টি মূলত এই কারণেই এমন: কারণ ফিতনাবাজদের প্রচেষ্টায় ভিন্নতা থাকে এবং এতে তাদের প্রভাব ও অংশগ্রহণও তফাত হয়; কেননা বসে থাকা ব্যক্তি সাধারণত—যদি না সে নেতাদের অন্তর্ভুক্ত হয়—হেঁটে চলা ব্যক্তির চেয়ে কর্মতৎপরতায় দুর্বল হয়ে থাকে এবং হেঁটে চলা ব্যক্তি দ্রুত ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে দুর্বল থাকে এবং এভাবেই অন্যান্য ক্ষেত্রেও। (এটি প্রথমত)।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ১৯)
وثانيا: لأنه قد يشارك فيها من ليس من أهلها كالمكره ونحوه.

- وعليه: فتعميم الحكم على جميع من شارك في فتنة من الفتن؛ خطأ كبير لا يكون من عالم عارف بأحوال الناس.

ولا يعكر على هذا ما ورد في بعض النصوص من إهلاك بعض أهل الفتن مهلكا واحدا، رغم أن فيهم من ليس منهم ـ كالجيش الذي يؤم البيت ـ كما في حديث عائشة رضي الله عنها في الصحيح وغيره، فإن النبي صلى الله عليه وسلم قد بيّن في نفس الحديث أنه وإن شاركهم في عقوبة الله إلاّ أنه يخالفهم يوم القيامة فقال لمّا سئل عن المكره: (يخسف به معهم ولكنه يبعث يوم القيامة على نيّته).

- فإذا علمنا ذلك كله وتيقناه: تيقنا خطر المخاطرة في الفتن .. وعلمنا أنها مزلة أقدام ومضلة أفهام … والله المستعان.
দ্বিতীয়ত: কারণ এতে এমন ব্যক্তিও অংশগ্রহণ করতে পারে যে এর অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন বাধ্যকৃত (مكره) ব্যক্তি এবং তার অনুরূপ।

- এর ওপর ভিত্তি করে: ফিতনাসমূহের (فتن) কোনোটিতে অংশগ্রহণকারী সকলের ওপর ঢালাওভাবে হুকুম প্রয়োগ করা একটি গুরুতর ভুল; যা মানুষের অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ কোনো আলেমের কাজ হতে পারে না।

আর কতিপয় দলিলে ফিতনাবাজদের একযোগে ধ্বংস হওয়ার যে বর্ণনা এসেছে—যদিও তাদের মাঝে এমন ব্যক্তি থাকে যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় (যেমন সেই বাহিনী যারা কাবা অভিমুখে যাত্রা করবে)—তা এই মূলনীতিকে ক্ষুণ্ণ করে না। যেমনটি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সহীহ ও অন্যান্য গ্রন্থে এসেছে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই হাদিসেই স্পষ্ট করেছেন যে, যদিও সে জাগতিক শাস্তিতে তাদের সাথে শরিক হয়, তবে কিয়ামতের দিন সে তাদের থেকে ভিন্ন হবে। তাই বাধ্যকৃত (مكره) ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে তিনি বলেছেন: (তাকে তাদের সাথে ধসিয়ে দেওয়া হবে, কিন্তু কিয়ামতের দিন তাকে তার নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে)।

- সুতরাং যখন আমরা এই সবকিছু অবগত হলাম এবং সুনিশ্চিত হলাম: তখন আমরা ফিতনাসমূহে (فتن) জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হলাম... এবং আমরা জানলাম যে এটি পদস্খলন ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তির (مضلة أفهام) স্থান … আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ২১)
المسألة الخامسة:

أن الحق واضح جلي لا لبس فيه ولا خفاء حتى في أوقات الفتن.

يدل على ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم أمرنا بالتمسك بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وأخبر أن النجاة فيهما أبدا؛ ولو كانت الفتن مما يخفى على الأمة الحق فيها لما صح التمسك بهما حينئذ لأنه لا فائدة في ذلك.

ومما يدل على ذلك أيضا: أحاديث الطائفة المنصورة ـ وستأتي بعد قليل إن شاء الله ـ

ووجه الدلالة منها: أن هذه الطائفة لا تزال مستمسكة بالحق على مر الزمان، ولو كان الحق خفيا لما اهتدت إليه وتمسكت به.

 

- ومرادنا بقولنا (أن الحق لا خفاء به): أي أنه لا يخفى على جميع الأمة، بل إذا خفي أو التبس على أناس ولو كانوا من أهل العلم فلا بد أن يكون واضحا جليا عند طائفة أخرى، وهذا أيضا ما تدل عليه أحاديث الطائفة المنصورة المشار إليها.

- فإن قيل فما سبب خفاء الحق على من خفي عليه؟

فالجواب: سبب ذلك إما: جهل بالحق (قلة العلم)، أو تقصير في طلبه والسؤال عنه، أو ضعف في أهله … والله أعلم.
পঞ্চম মাসআলা:

সত্য সুষ্পষ্ট ও দেদীপ্যমান, যাতে কোনো অস্পষ্টতা বা প্রচ্ছন্নতা নেই, এমনকি ফিতনার সময়েও।

এর প্রমাণ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, এই দুইটির মধ্যেই সর্বদা মুক্তি নিহিত রয়েছে। যদি ফিতনা এমন হতো যা উম্মতের কাছে সত্যকে অস্পষ্ট করে দেয়, তবে সেই মুহূর্তে এই দুটিকে আঁকড়ে ধরা সঠিক হতো না; কারণ তখন এতে কোনো উপকারিতা থাকত না।

এর আরও একটি প্রমাণ হলো: সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ—যা ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই আলোচিত হবে—

এগুলো থেকে প্রমাণের দিকটি হলো: এই দলটি চিরকাল সত্যের ওপর অটল থাকবে, আর যদি সত্য অস্পষ্ট হতো তবে তারা এর হিদায়াত পেত না এবং একে আঁকড়ে ধরতেও সক্ষম হতো না।

 

- আমাদের বক্তব্য "সত্য অপ্রকাশ্য নয়" এর অর্থ হলো: এটি সমগ্র উম্মতের নিকট অপ্রকাশ্য নয়, বরং যদি কোনো একদল মানুষের কাছে—তারা ইলমের অধিকারী (أهل العلم) হওয়া সত্ত্বেও—তা গোপন বা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, তবে অবশ্যই অন্য একদলের কাছে তা সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য থাকবে। আর এটিই সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) সংক্রান্ত উল্লিখিত হাদিসসমূহ প্রমাণ করে।

- যদি প্রশ্ন করা হয়, যার কাছে সত্য গোপন থাকে তার ক্ষেত্রে সত্য গোপন থাকার কারণ কী?

উত্তর হলো: এর কারণ হয় সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা (জ্ঞানের স্বল্পতা), অথবা তা অন্বেষণ ও এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে অবহেলা, অথবা সত্যপন্থীদের দুর্বলতা … আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ২৩)
المسألة السادسة:

وهي مبنية على ما تقدم وهي:

أنه لا تزال طائفة من أمة محمد صلى الله عليه وسلم على الحق ظاهرة منصورة .. لا يضرها من خذلها ولا من خالفها حتى يأتي أمر الله وهم على ذلك، كما ثبت ذلك في أحاديث كثيرة منها:

ما في الصحيحين من حديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (لن يزال قوم من أمتي ظاهرين على الناس حيى يأتيهم أمر الله وهم ظاهرون).

وفي صحيح مسلم وغيره من حديث ثوبان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك).

- ففهمنا من هذه الأحاديث أمورا:

أولها: أنها طائفة وليست الأمة كلها.

الثاني: أنها على الحق وليست على الباطل.

الثالث: أنها ظاهرة: أي عالية رفيعة معلومة غير مختفية.

الرابع: أنها منصورة على أعدائها مهما اشتد بلاؤهم.

الخامس: أنها محفوظة بحفظ الله تعالى لا يضرها من خذلها ولا من خالفها، والخذلان يكون ممن يتوقع منه النصرة، والمخالفة: تكون من الأعداء، ورغم اجتماع البلاءين عليها إلا إنها ظاهرة منصورة محفوظة ((فالله خير حافظا وهو أرحم الراحمين)).
ষষ্ঠ মাসয়ালা:

এটি পূর্বালোচনার ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত, আর তা হলো:

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের একটি দল (طائفة) সর্বদা হকের (الحق) ওপর বিজয়ী (ظاهرة) ও সাহায্যপ্রাপ্ত (منصورة) হিসেবে টিকে থাকবে। যারা তাদের পরিত্যাগ করবে কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয় এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে। যেমনটি অনেক হাদিসে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

সহীহাইন-এ বর্ণিত মুগিরা ইবনে শু’বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (আমার উম্মতের একদল লোক মানুষের ওপর সর্বদা বিজয়ী (ظاهرين) থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ তাদের কাছে আসে এবং তারা বিজয়ী (ظاهرون) অবস্থাতেই থাকবে)।

সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থে সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের একটি দল (طائفة) হকের (الحق) ওপর সর্বদা বিজয়ী (ظاهرين) থাকবে। যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা সে অবস্থাতেই থাকবে)।

- এই হাদিসগুলো থেকে আমরা কয়েকটি বিষয় বুঝতে পারি:

প্রথমত: এটি একটি দল (طائفة), সমগ্র উম্মত নয়।

দ্বিতীয়ত: তারা হকের (الحق) ওপর প্রতিষ্ঠিত, বাতিলের ওপর নয়।

তৃতীয়ত: তারা বিজয়ী (ظاهرة): অর্থাৎ তারা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও সুপরিচিত, তারা আত্মগোপনকারী নয়।

চতুর্থত: তারা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্যপ্রাপ্ত (منصورة), তাদের ওপর পরীক্ষা যতই তীব্র হোক না কেন।

পঞ্চমত: তারা আল্লাহ তাআলার বিশেষ হেফাজতে সংরক্ষিত (محفوظة); যারা তাদের পরিত্যাগ করে কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। ‘পরিত্যাগ’ (الخذلان) সাধারণত তাদের পক্ষ থেকে হয় যাদের কাছে সাহায্যের প্রত্যাশা করা হয়, আর ‘বিরোধিতা’ (المخالفة) হয় শত্রুদের পক্ষ থেকে। এই উভয় সংকটের সম্মিলন সত্ত্বেও তারা বিজয়ী (ظاهرة), সাহায্যপ্রাপ্ত (منصورة) এবং সংরক্ষিত (محفوظة)। “সুতরাং আল্লাহই শ্রেষ্ঠ রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذه الطائفة كما قال العلماء: يجوز أن تكون متعددة من أنواع الأمة: ما بين شجاع وبصير بالحرب وفقيه ومفسر ومحدث وقائم بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وزاهد وعابد، ولا يلزم اجتماعهم ببلد واحد.

فإذا زالت هذه الطائفة زال معها الحق، وعندها تقوم الساعة، ولا تقوم إلا على شرار الخلق.

- وعليه: فتنزيل أحاديث الطائفة المنصورة على فئة معينة من الأمة دون غيرها خطأ؛ لما يترتب على ذلك من تجهيل الآخرين والتقليل من شأنهم رغم أنهم قد يكونون من هذه الطائفة المعنية في الأحاديث.

- فإن قال قائل: فما تقولون فيما ورد عن الإمام أحمد رحمه الله أنه قال عن هذه الطائفة: (إن لم يكونوا أهل الحديث فلا أدري من هم)، فإنه رحمه الله قد حصر هذه الطائفة في أهل الحديث دون غيرهم.

فالجواب: هو ما ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله حين بين المراد بأهل الحديث فقال كما في مجموع الفتاوى (4/ 95): (ونحن لا نعني بأهل الحديث المقتصرين على سماعه أو كتابته أو روايته بل نعني بهم: كل من كان أحق بحفظه ومعرفته وفهمه ظاهرا وباطنا، واتباعه باطنا وظاهرا وكذلك أهل القرآن، وأدنى خصلة في هؤلاء: محبة القرآن والحديث والبحث عنهما وعن معانيهما والعمل بما علموه من موجبهما، ففقهاء الحديث أخبر بالرسول صلى الله عليه وسلم من فقهاء غيرهم، وصوفيتهم أتبع للرسول صلى الله عليه وسلم من صوفية غيرهم، وأمراؤهم أحق بالسياسة النبوية من غيرهم، وعامتهم أحق بموالاة الرسول صلى الله عليه وسلم من غيرهم). اهـ.

فبان من كلامه رحمه الله أن أهل الحديث طائفة تحوي أنواعا من الأمة، فمنهم العالم والمجاهد والعابد والحاكم بل والعامي أيضا، وهذا موافق لما نقلناه عن غيره من أهل العلم كما في أول المسألة.

والله تعالى أعلى وأعلم.
বিদ্বানগণ যেমনটি বলেছেন: এই দলটি উম্মতের বিভিন্ন শ্রেণির সমন্বয়ে গঠিত হওয়া সম্ভব: যাদের মধ্যে থাকতে পারেন সাহসী যোদ্ধা, সমরবিদ্যায় পারদর্শী, ফকিহ (فقيه), মুফাসসির (مفسر), মুহাদ্দিস (محدث), সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী, যাহিদ (زاهد) এবং ইবাদতকারী (عابد); আর তাদের সকলের একটি নির্দিষ্ট শহরে একত্রিত থাকা আবশ্যক নয়।

যখন এই দলটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তখন তাদের সাথে সত্যও বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং তখনই কিয়ামত সংঘটিত হবে; আর কিয়ামত কেবল নিকৃষ্টতম মানুষের ওপরই সংঘটিত হবে।

- সুতরাং: সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) সম্পর্কিত হাদিসগুলোকে উম্মতের অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর প্রয়োগ করা ভুল; কারণ এর ফলে অন্যদের অজ্ঞ সাব্যস্ত করা হয় এবং তাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করা হয়, যদিও তারা হাদিসসমূহে উল্লিখিত এই বিশেষ দলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

- যদি কেউ প্রশ্ন করেন: ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এই দল সম্পর্কে যা বলেছেন সে বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী? তিনি বলেছিলেন: (তারা যদি আহলে হাদিস না হয়, তবে তারা কারা তা আমি জানি না), নিশ্চয়ই তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এই দলটিকে অন্য সব বাদ দিয়ে কেবল আহলে হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন।

উত্তর হলো: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) 'আহলে হাদিস' দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করার সময় যা উল্লেখ করেছেন সেটিই এর উত্তর। তিনি মাজমুউল ফাতাওয়া-তে (৪/৯৫) বলেছেন: (আর আহলে হাদিস বলতে আমরা কেবল তাদেরকেই বুঝাই না যারা হাদিস শ্রবণ, লিখন বা বর্ণনা (رواية) করার মধ্যে সীমাবদ্ধ, বরং আমরা তাদের দ্বারা উদ্দেশ্য নিই: প্রত্যেক ওই ব্যক্তিকে যে হাদিস হিফজ করা, তা চেনা এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তা অনুধাবন করা এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে তা অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিকতর হকদার। অনুরূপভাবে আহলে কুরআনের বিষয়টিও। তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন গুণ হলো: কুরআন ও হাদিসকে ভালোবাসা, এই দুইটির ও এগুলোর অর্থসমূহ নিয়ে অনুসন্ধান করা এবং যা জেনেছে তার দাবি অনুযায়ী আমল করা। সুতরাং হাদিসের ফকিহগণ (فقهاء) অন্যান্য ফকিহদের তুলনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তাদের মধ্যকার সুফিবাদীগণ অন্যান্য সুফিদের তুলনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অধিকতর অনুসারী। তাদের নেতৃবৃন্দ অন্যান্যদের তুলনায় নববী রাষ্ট্রনীতির অধিক হকদার এবং তাদের সাধারণ মানুষ অন্যদের তুলনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে অধিক যোগ্য)। সমাপ্ত।

সুতরাং তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হলো যে, আহলে হাদিস এমন একটি দল যা উম্মতের বিভিন্ন শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করে; তাদের মধ্যে আলিম, মুজাহিদ, ইবাদতকারী, শাসক এমনকি সাধারণ মানুষও রয়েছেন। আর এটি মাসআলার শুরুতে আমরা অন্যান্য আহলে ইলমদের থেকে যা বর্ণনা করেছি তার সাথে সংগতিপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা সর্বাধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المسألة السابعة:

أن الفتن مرتع خصب لأهل الأهواء والبدع
لنشر أهوائهم وبدعهم وتلبيسها على الناس وذلك لأمور:

الأول: اختلاط الأمور وقت الفتن وعدم تميزها.

الثاني: لقلة العلم في الفتن وغلبة الجهل.

الثالث: للتسرع الذي يحصل عند الناس في وقت الفتن.

وعليه: فينبغي على العبد الموفق ألا ينجرف وراء كل دعوى .. ولا يتبع كل صارخ .. فإن فعل فهو الهلكة والخسران.

- ولذا كان من وصاياه عليه الصلاة والسلام: (خذ ما تعرف ودع ما تنكر) .. وبه يتبين فضل العلم وخصوصا وقت الفتن، وأنه من أعظم الأسباب المنجية منها كما سيأتي إن شاء الله تعالى.
সপ্তম বিষয়:

নিশ্চয়ই ফিতনা (فتنة) হলো প্রবৃত্তি পূজারী (أهل الأهواء) ও বিদআতীদের (أهل البدع) জন্য তাদের প্রবৃত্তি ও বিদআত (بدعة) ছড়িয়ে দেওয়ার এবং মানুষের নিকট তা অস্পষ্ট করে তোলার একটি উর্বর বিচরণক্ষেত্র। আর এটি কয়েকটি কারণে হয়ে থাকে:

প্রথম: ফিতনার (فتنة) সময় বিষয়াবলির সংমিশ্রণ ঘটে যাওয়া এবং সেগুলোর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করতে না পারা।

দ্বিতীয়: ফিতনার (فتنة) সময় ইলমের স্বল্পতা এবং মূর্খতার প্রাধান্য।

তৃতীয়: ফিতনার (فتنة) সময় মানুষের মধ্যে তাড়াহুড়ো করার প্রবণতা।

অতএব, তাওফীকপ্রাপ্ত বান্দার জন্য উচিত নয় যে সে প্রতিটি দাবির পেছনে ভেসে যাবে... কিংবা প্রত্যেক চিৎকারকারীর অনুসরণ করবে... কেননা এমনটি করলে তা হবে ধ্বংস ও ক্ষতির কারণ।

- এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম ওসিয়ত ছিল: (যা তোমার নিকট পরিচিত তা গ্রহণ করো এবং যা বর্জনীয় (منكر) তা বর্জন করো) .. এর মাধ্যমেই ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট হয়, বিশেষ করে ফিতনার (فتنة) সময়; আর এটি ফিতনা (فتنة) থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম মহান উপায়, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المسألة الثامنة:

أن بعض البلاد أكثر فتنا من غيرها وأشد:
دليل ذلك ما في الصحيحين من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم وهو مستقبل المشرق يقول: (ألا إن الفتنة ها هنا من حيث يطلع قرنا الشيطان).

وفي البخاري عنه رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (اللهم بارك لنا في شامنا، اللهم بارك لنا في يمننا) قالوا: يا رسول الله وفي نجدنا؟ قال: (اللهم بارك لنا في شامنا، اللهم بارك لنا في يمننا) قالوا يا رسول الله: وفي نجدنا؟ قال: (هناك الزلازل والفتن وبها يطلع قرن الشيطان).

فبان بذلك أن المشرق أكثر فتنا من غيره وأشد.

- وأيضا: فإن بعض البلاد محفوظة من بعض الفتن الكبار - كمكة والمدينة - فإنهما محفوظتان من الدجال والطاعون:

أما الدجال: فالأحاديث في تحريم مكة والمدينة عليه كثيرة منها:

1. ما في الصحيحين عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ليس من بلد إلاّ سيطؤه الدجال، إلاّ مكة والمدينة وليس نقب من أنقابها إلاّ عليه الملائكة صافين تحرسها فينزل السبخة فترجف الدينة ثلاث رجفات يخرج إليه منها كل كافر ومنافق).

2. وفي صحيح مسلم في حديث الجساسة الطويل الذي رواه تميم الداري رضي الله عنه وفيه أن الدجال قال: (وإني مخبركم عني إني أنا المسيح
অষ্টম বিষয়:

কিছু ভূখণ্ড অন্যান্য ভূখণ্ডের তুলনায় অধিক এবং ভয়াবহ ফিতনা-সংকুল (فتنة):
এর দলিল হলো সহিহাইন-এ বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পূর্ব দিকে মুখ করে বলতে শুনেছেন: (জেনে রেখো, ফিতনা (الفتنة) এখান থেকেই হবে, যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়)।

এবং বুখারিতে তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের শামে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের ইয়ামেনে বরকত দান করুন।) তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নজদেও? তিনি বললেন: (হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের শামে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের ইয়ামেনে বরকত দান করুন।) তারা পুনরায় বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নজদেও? তিনি বললেন: (সেখানে ভূমিকম্প এবং ফিতনা (الفتن) সংঘটিত হবে এবং সেখান থেকেই শয়তানের শিং উদিত হবে)।

এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, পূর্ব দিক অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অধিক এবং ভয়াবহ ফিতনা-সংকুল (فتنة)।

— আরও যে, কিছু ভূখণ্ড বড় বড় কিছু ফিতনা (الفتن) থেকে সংরক্ষিত—যেমন মক্কা ও মদিনা—কেননা এ দুটি শহর দাজ্জাল এবং মহামারি থেকে সংরক্ষিত:

দাজ্জালের ব্যাপারে: মক্কা ও মদিনা তার জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বহু হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে:

1. সহিহাইন-এ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (দাজ্জাল মক্কা ও মদিনা ব্যতীত প্রতিটি জনপদেই পদচারণা করবে। মদিনার প্রতিটি প্রবেশপথেই ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারারত থাকবে। অতঃপর দাজ্জাল লোনা জলাভূমিতে অবতরণ করবে, তখন মদিনা তিনবার প্রকম্পিত হবে, যার ফলে মদিনা থেকে সকল কাফির ও মুনাফিক বের হয়ে তার দিকে চলে যাবে)।

2. এবং সহিহ মুসলিম-এ তামীম আদ-দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক বর্ণিত দীর্ঘ জাসসাসার হাদিস, যাতে দাজ্জাল বলেছে: (আমি আমার সম্পর্কে তোমাদের সংবাদ দিচ্ছি, নিশ্চয়ই আমি হলাম মাসীহ [দাজ্জাল])
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ২৮)
الدجال، وإني أوشك أن يؤذن لي في الخروج فأخرج فأسير في الأرض فلا أدع قرية إلا هبطتها في أربعين ليلة غير مكة وطيبة فهما محرمتان عليّ كلتاهما، كلما أردت أن أدخل واحدة أو واحدا منهما استقبلني ملك بيده السيف صلتا يصدني عنها وإن على كل نقب منها ملائكة يحرسونها ..) الحديث.

وأما الطاعون: فلما أخرجه البخاري رحمه الله عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (على أنقاب المدينة ملائكة لا يدخلها الطاعون ولا الدجال).

وفيه أيضا عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (المدينة يأتيها الدجال فيجد الملائكة يحرسونها فلا يقربها الدجال ولا الطاعون إن شاء الله).

- وظاهر هذه الأحاديث أن الحفظ من الطاعون خاص بالمدينة دون مكة؛ لكن ورد عند عمر بن شبة في كتاب (مكة) كما نقل ذلك عنه الحافظ ابن حجر في الفتح (10/ 191ك الطب) عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا: (المدينة ومكة محفوفتان بالملائكة على كل نقب منهما ملك، لا يدخلهما الدجال ولا الطاعون) قال الحافظ: رجاله رجال الصحيح.

- وهذه البلاد المحفوظة من بعض الفتن أو القليلة فيها الفتن ـ سبب حفظها إما:

• لظهور الدين فيها وانتشار العلم بين أهلها، كما في حديث عبد الله بن عمرو

بن العاص رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إني رأيت عمود الكتاب انتزع من تحت وسادتي فنظرت فإذا هو نور ساطع عمد به إلى الشام ألا إن الإيمان إذا وقعت الفتن بالشام) أخرجه الحاكم وصححه الألباني في فضائل الشام (15).

• وإما لتقييض الله تعالى لها من يحفظها من غير أهلها: كالملائكة لمكة والمدينة عند خروج الدجال، كما تقدم في الأحاديث.

إذا علم ذلك: علم تفاضل البلدان في هذا الجانب، وكلما كان البلد أقل فتنا؛ كان أكثر خيرا في العموم لأمور:
...দাজ্জাল, আর অচিরেই আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, তখন আমি বের হব এবং পৃথিবীতে বিচরণ করব। ফলে চল্লিশ রাতের মধ্যে এমন কোনো জনপদ থাকবে না যেখানে আমি প্রবেশ করব না, তবে মক্কা ও তাইবা (মদিনা) ব্যতীত; এই উভয় শহরই আমার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যখনই আমি সেগুলোর কোনো একটিতে প্রবেশ করতে চাইব, তখনই একজন ফেরেশতা উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে আমার সামনে এসে আমাকে তা থেকে বাধা দেবেন। আর সেগুলোর প্রতিটি প্রবেশপথে ফেরেশতারা পাহারায় নিয়োজিত থাকবে...) হাদিস।

আর প্লেগ (মহামারি) প্রসঙ্গে: ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মদিনার প্রবেশপথগুলোতে ফেরেশতারা রয়েছেন, সেখানে প্লেগ (মহামারি) এবং দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।"

তাতে আরও বর্ণিত হয়েছে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দাজ্জাল মদিনায় আসবে এবং ফেরেশতাদের পাহারারত অবস্থায় দেখতে পাবে। সুতরাং ইনশাআল্লাহ দাজ্জাল বা প্লেগ (মহামারি) মদিনার নিকটবর্তী হতে পারবে না।"

- এই হাদিসগুলোর বাহ্যিক অর্থ হলো প্লেগ (মহামারি) থেকে সুরক্ষা কেবল মদিনার জন্য নির্দিষ্ট, মক্কার জন্য নয়; কিন্তু উমর ইবনে শাব্বাহ তার 'মক্কা' নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে (১০/১৯১, কিতাবুত তিব্ব) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে রাসুলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مرفوع) সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন: "মদিনা ও মক্কা ফেরেশতা দ্বারা পরিবেষ্টিত, সেগুলোর প্রতিটি প্রবেশপথে একজন করে ফেরেশতা রয়েছেন; সেখানে দাজ্জাল বা প্লেগ (মহামারি) প্রবেশ করতে পারবে না।" হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

- এই ভূখণ্ডগুলো যা কিছু ফিতনা থেকে সুরক্ষিত অথবা যেখানে ফিতনা কম—সেগুলোর সুরক্ষার কারণ হয়তো:

• সেখানে দ্বীনের প্রাধান্য এবং অধিবাসীদের মধ্যে ইলম (জ্ঞান) প্রসারের কারণে, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি দেখলাম কিতাবের স্তম্ভ আমার বালিশের নিচ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হলো। আমি তাকালাম এবং দেখলাম সেটি একটি উজ্জ্বল জ্যোতি যা শামের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। জেনে রাখো, ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার সময় ঈমান শামে থাকবে।" এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী 'ফাদায়িলে শাম' (১৫) গ্রন্থে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

• অথবা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সেগুলোর জন্য এমন কাউকে নিয়োজিত করার কারণে যারা একে রক্ষা করবে: যেমন দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের সময় মক্কা ও মদিনার জন্য ফেরেশতাগণ, যা পূর্ববর্তী হাদিসগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যখন এটি জানা গেল: তখন এই দিক থেকে জনপদগুলোর পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানা গেল। কোনো জনপদ ফিতনা থেকে যত বেশি মুক্ত হবে; তা সাধারণভাবে বিভিন্ন কারণে তত বেশি কল্যাণকর হবে:
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ২৯)
أولها: لظهور الدين فيه … وتمسك أهله به في الغالب.

الثاني: لاجتماع الناس فيه لقلة الفتن.

الثالث: لأمن الناس فيه على أنفسهم وأعراضهم وأموالهم.

وينبني على ما تقدم أيضا: أن سكنى البلاد التي تقل فيها الفتن أفضل من سكنى غيرها: دليل ذلك ما في الصحيحين من حديث سفيان بن أبي زهير رضي الله عنه أنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (تفتح اليمن فيأتي قوم يبسون فيتحملون بأهلهم ومن أطاعهم، والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون. وتفتح الشام فيأتي قوم يبسون فيتحملون بأهلهم ومن أطاعهم والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون. وتفتح العراق فيأتي قوم يبسون فيتحملون بأهلهم ومن أطاعهم والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون).

وعن عبد الله بن عمر بن العاص رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (ستكون هجرة بعد هجرة، فخيار أهل الأرض ألزمهم مهاجر إبراهيم، ويبقى في الأرض شرار أهلها تلفظهم أرضوهم وتقذرهم نفس الرحمن وتحشرهم النار مع القردة والخنازير) أخرجه أبو داود وحسنه الألباني بشواهده في فضائل الشام (82).

- لكن ينبغي التذكير هنا بقول سلمان الفارسي رضي الله عنه لأبي الدرداء رضي الله عنه: (إن الأرض المقدسة لا تقدس أحدا، وإنما يقدس الإنسان عمله) رواه مالك في الموطأ ك القضاء.

وعليه أيضا: فإنه يلزم في البلاد التي تكثر فيها الفتن من الاستعداد لها علما وعملا أكثر مما يلزم في غيرها ـ ولئن كان ذلك لازم في جميع البلدان إلا إنه في تلك الأقطار ألزم .... والله أعلم.
প্রথমত: সেখানে দ্বীনের প্রকাশ এবং সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশের দ্বারা তা আঁকড়ে ধরার কারণে। …

দ্বিতীয়ত: সেখানে ফিতনা (الفتن) কম হওয়ার কারণে মানুষের একত্রিত হওয়ার জন্য।

তৃতীয়ত: সেখানে মানুষের নিজেদের জীবন, ইজ্জত-আব্রু এবং সম্পদের নিরাপত্তা থাকার কারণে।

পূর্বোক্ত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে আরও বলা যায় যে: যেসব জনপদে ফিতনা (الفتن) কম, সেখানে বসবাস করা অন্য স্থানের চেয়ে উত্তম। এর প্রমাণ সহীহাইনের সুফিয়ান ইবনে আবি জুহাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "ইয়ামান বিজিত হবে, তখন কিছু লোক তাদের উট হাঁকিয়ে আসবে এবং তাদের পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদের নিয়ে চলে যাবে; অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত। শাম বিজিত হবে, তখন কিছু লোক তাদের উট হাঁকিয়ে আসবে এবং তাদের পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদের নিয়ে চলে যাবে; অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত। ইরাক বিজিত হবে, তখন কিছু লোক তাদের উট হাঁকিয়ে আসবে এবং তাদের পরিবার-পরিজন ও অনুসারীদের নিয়ে চলে যাবে; অথচ মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল যদি তারা জানত।"

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "অদূর ভবিষ্যতে হিজরতের পর হিজরত চলতে থাকবে। পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষ হবে তারা, যারা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর হিজরতস্থলের (শাম) প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত থাকবে। আর পৃথিবীতে অবশিষ্ট থাকবে নিকৃষ্টতম মানুষেরা, যাদেরকে তাদের মাটি বের করে দেবে এবং দয়াময় (আল্লাহ) তাদের অপছন্দ করবেন। আগুন তাদেরকে বানর ও শুকরের সাথে একত্রিত করবে।" আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী তার 'ফাদাইলুশ শাম' (৮২) গ্রন্থে শাহেদ (بشواهده) এর মাধ্যমে একে হাসান (حسنه) বলেছেন।

- তবে এখানে সালমান ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রদত্ত উক্তিটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন: "নিশ্চয়ই পবিত্র ভূমি কাউকে পবিত্র করে না, বরং মানুষকে তার আমলই পবিত্র করে।" ইমাম মালিক মুয়াত্তা-এর বিচার বিভাগ অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

এর ওপর ভিত্তি করে আরও বলা যায়: যেসব জনপদে ফিতনা (الفتن) বেশি, সেখানে ইলম ও আমলের মাধ্যমে তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা অন্য জায়গার চেয়ে বেশি আবশ্যক। যদিও তা সব জনপদেই আবশ্যক, তবুও ওইসব অঞ্চলে তা অধিকতর জরুরি... আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৩১)
المسالة التاسعة:

أن بعض الأزمنة أكثر فتنا من بعضها الآخر ..... فقرن الصحابة رضي الله عنهم أقل فتنا من غيره، لاسيما عصر الخليفتين الراشدين - أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، حيث كان عمر أحد الأبواب الموصدة في وجه الفتن حتى كسر رضي الله عنه بقتله فزادت الفتن وانتشرت.

وعليه: فان الفتن في آخر الزمان أكثر وأشد من أوله .. دليل ذلك ما في البخاري عن الزبير بن عدي قال: أتينا أنس بن مالك رضي الله عنه فشكونا إليه ما نلقى من الحَجّاج فقال: (اصبروا فإنه لا يأتي عليكم زمان إلاّ والذي بعده أشد منه، حتى تلقوا ربكم سمعته من نبيكم صلى الله عليه وسلم).

وعند الطبراني عن ابن مسعود رضي الله عنهم بسند صحيح كما قال الحافظ ابن حجر في الفتح (13/ 23) أنه قال: (أمس خير من اليوم، واليوم خير من غد، وكذلك حتى تقوم الساعة)

وروى الخلاّل في (السنة/ 93) بسنده عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: إنكم لن تروا من الدنيا إلاّ بلاء وفتنة، ولن يزداد الأمر إلاّ بلاء وشدة، ولن تروا من الأئمة إلاّ غلظة، ولن تروا أمرا يهولكم ويشتد عليكم إلاّ حضره بعده ما هو أشد منه، أكثر أمير وشر تأمير) قال الإمام أحمد رحمه الله: اللهم رضينا.

- وإنما كان الأمر كذلك والله أعلم لأمور:

أولها: قلة العلم كما مر معنا في أول الرسالة.
নবম বিষয়:

নিশ্চয়ই কোনো কোনো সময় অন্য সময়ের তুলনায় অধিক ফিতনাপূর্ণ... সুতরাং সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম ফিতনাপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে দুই খুলাফায়ে রাশিদুন — আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগ; যেখানে উমর (রা.) ছিলেন ফিতনার সম্মুখে একটি রুদ্ধ দ্বারের মতো, অবশেষে তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে সেই দ্বার ভেঙে যায় এবং ফিতনা বৃদ্ধি পায় ও ছড়িয়ে পড়ে।

তদনুসারে: শেষ জামানার ফিতনাসমূহ এর শুরুর সময়ের চেয়ে অধিক এবং ভয়াবহ হবে। এর প্রমাণ হলো যা বুখারিতে জুবাইর ইবনে আদি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে হাজ্জাজের পক্ষ থেকে আমরা যে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছিলাম সে সম্পর্কে অভিযোগ করলাম। তিনি বললেন: (তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, কেননা তোমাদের ওপর এমন কোনো যুগ আসবে না যার পরবর্তী যুগটি তার চেয়ে অধিক ভয়াবহ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। আমি এটি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি)।

এবং তাবারানিতে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে সঠিক (صحيح) সনদে (سند) বর্ণিত হয়েছে—যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে (১৩/২৩) উল্লেখ করেছেন—তিনি বলেন: (গতকাল আজকের চেয়ে উত্তম ছিল এবং আজ আগামীকালের চেয়ে উত্তম, এভাবেই কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে)।

আল-খলাল আস-সুন্নাহ (৯৩) গ্রন্থে তাঁর সনদে (سند) মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (তোমরা দুনিয়াতে কেবল বালা-মুসিবত ও ফিতনাই দেখবে, আর পরিস্থিতির কেবল অবনতি ও কঠোরতাই বৃদ্ধি পাবে। তোমরা শাসকদের পক্ষ থেকে কেবল নিষ্ঠুরতাই দেখবে। তোমরা এমন কোনো বিষয় দেখবে না যা তোমাদের আতঙ্কিত করবে এবং তোমাদের ওপর কঠোর হবে, যার পরে তার চেয়েও কঠোর কিছু উপস্থিত হবে না। অধিক শাসক এবং নিকৃষ্টতম শাসনকর্তৃত্ব)। ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হে আল্লাহ, আমরা সন্তুষ্ট হলাম।

- আর বিষয়টি মূলত এমনই হওয়ার কারণসমূহ (আল্লাহই ভালো জানেন):

প্রথমত: ইলম বা জ্ঞানের স্বল্পতা, যেমনটি এই রিসালাহর শুরুতে আমাদের নিকট অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৩২)
الثاني: انتشار الجهل كما مر أيضًا.

الثالث: قبض العلماء والصالحين كما في الصحيح عن مرداس الأسلمي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يذهب الصالحون الأول فالأول حتى يبقى مثل حثالة التمر والشعير لا يبالي الله بهم" أخرجه البخاري ك الرقاق

الرابع: تغير الناس وفسادهم: حيث ترفع الأمانة والخشوع وتظهر الخيانة والكذب كما في حديث عمران بن حصين أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن خيركم قرني ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم " قال عمران فلا أدري أقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد قرنه مرتين أو ثلاثاً ثم يكون بعدهم قوم يشهدون ولا يستشهدون ويخونون ولا يؤتمنون وينذرون ولا يوفون ويظهر فيهم السمن "

الخامس: لقرب قيام الساعة، ولا تقوم إلا على شرار الخلق. … والله أعلم
দ্বিতীয়: অজ্ঞতার বিস্তার, যেমনটি পূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয়: আলেম ও নেককার ব্যক্তিদের মৃত্যু, যেমনটি সহিহ গ্রন্থে মিরদাস আল-আসলামি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নেককার ব্যক্তিরা একের পর এক চলে যাবেন, অবশেষে খেজুর বা যবের নিকৃষ্ট অবশিষ্টাংশের মতো কিছু লোক অবশিষ্ট থাকবে, আল্লাহ তাদের কোনো পরোয়া করবেন না।" এটি বুখারি কিতাবুর রিক্বাক-এ বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থ: মানুষের পরিবর্তন ও নৈতিক অবক্ষয়: যেখানে আমানত ও বিনয় তুলে নেওয়া হবে এবং বিশ্বাসঘাতকতা ও মিথ্যাচার প্রকাশ পাবে; যেমনটি ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, তারপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে, তারপর যারা তাদের পরবর্তী আসবে।" ইমরান (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যুগের পর দুইবার নাকি তিনবার বলেছিলেন তা আমি জানি না। "তারপর এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদের সাক্ষ্য দিতে বলা হবে না, তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং তাদের বিশ্বাস করা হবে না, তারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না এবং তাদের মাঝে মেদস্থূলতা প্রকাশ পাবে।"

পঞ্চম: কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার কারণে, আর কিয়ামত কেবল নিকৃষ্টতম সৃষ্টিদের ওপরই সংঘটিত হবে। … আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
المسألة العاشرة:

وهي من أعظم المسائل في هذه الرسالة وأهمها:

أن السنة قد بينت لنا بعض الفتن زماناً ومكاناً … كثرة وقلة.

- فمن ذلك حديث حذيفة المتقدم في مجلس عمر: ففهم منه أن بداية الفتن الكبرى هو موت عمر، وهذا تحديد للزمان.

- وفي المسند وسنن أبي داود وابن ماجة عن عبد الله بن بسر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " بين الملحمة وفتح المدينة ـ أي القسطنطينية - ست سنين ويخرج المسيح الدجال في السابعة"- وهذا أيضاً توقيت وتحديد بالسنين-

- وما ورد في تحديد المكان حديث ابن عمر رضي الله عنهما في صحيحه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مستقبل المشرق يقول "ألا إن الفتنة ههنا، ألا إن الفتنة ههنا من حيث يطلع قرن الشيطان"

ومنه ما ورد في حديث خروج الدجال كما في الصحيح عنه عليه الصلاة والسلام أنه قال: "أنه خارج خله بين الشام والعراق " وغيرها من الأحاديث كثير.

- وعلى ما تقدم فالفتن (استقراء) على أربعة أقسام لا غير:

القسم الأول/ ما بين فيه النبي صلى الله عليه وسلم زمن الفتنة ومكانها.

القسم الثاني/ ما بين لنا صلى الله عليه وسلم فيه زمن الفتنة دون مكانها.

القسم الثالث/ عكسه وهو مابَيّن لنافيه المكان دون الزمان.
দশম মাসআলা:

এটি এই রিসালার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোর (বিষয়) একটি:

সুন্নাহ আমাদের নিকট কিছু ফিতনার সময় ও স্থান... তার আধিক্য ও স্বল্পতা বর্ণনা করেছে।

- এর মধ্যে রয়েছে উমরের মজলিসে হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইতঃপূর্বে বর্ণিত হাদিসটি: এখান থেকে বোঝা যায় যে, বড় ফিতনাগুলোর (فتن كبرى) সূচনা হলো উমরের মৃত্যু, আর এটি সময়ের একটি সুনির্দিষ্টকরণ।

- মুসনাদ, সুনানে আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ-তে আবদুল্লাহ ইবনে বুসর থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মহাযুদ্ধ (الملحمة) এবং শহর বিজয়ের—অর্থাৎ কুস্তুনতিনিয়া—মধ্যে ব্যবধান ছয় বছর এবং সপ্তম বছরে মাসিহ দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে" - এটিও বছরের মাধ্যমে সময়ের একটি সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ও সীমা নির্ধারণ -

- আর স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো সহিহ বুখারিতে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হাদিস যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্ব দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন, "জেনে রেখো, ফিতনা এখান থেকে হবে, জেনে রেখো ফিতনা এখান থেকে হবে যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়।"

এর অন্তর্ভুক্ত হলো দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ সম্পর্কিত হাদিস যা সহিহ-তে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ পথ দিয়ে বের হবে।" এ ধরনের আরও অনেক হাদিস রয়েছে।

- উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণের (استقراء) মাধ্যমে ফিতনা কেবল চার প্রকারেরই হয়ে থাকে:

প্রথম প্রকার/ যার সময় ও স্থান উভয়ই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় প্রকার/ যে ফিতনার সময়কাল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন কিন্তু স্থান বর্ণনা করেননি।

তৃতীয় প্রকার/ এর বিপরীত, অর্থাৎ যার স্থান বর্ণনা করেছেন কিন্তু সময় বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
القسم الرابع/ ما لم يبين زمانه ولا مكانه وهو الأكثر.

- فأما القسم الأول وهو: ما بين لنا فيه المكان والزمان، فيجب الإيمان به كما ورد محددا؛ إذ إن النبي صلى الله عليه وسلم لا يقول إلا حقا وصدقا.

- وأما القسم الثاني: فيجب التسليم فيه بما ورد من تحديد الزمان دون تحديد مكانه لما سيأتي بعد قليل إن شاء الله تعالى.

- وأما القسم الثالث: فكالذي قبله يسلم فيه بما ورد من تحديد المكان دون تحديد الزمان لما سيأتي أيضا.

- وأما القسم الرابع والأخير: فيجب الإيمان به كما ورد؛ ولا يجوز لأحد كائنا من كان أن يحدد فيه زمانا ولا مكانا لأمور:

أولها: أن من ادعى ذلك وحدد الزمان والمكان … فقد تقول على الله بغير علم، وتدخل فيما هو من خصائص الله: علم الغيب .. وهذه الأمور غيب لا يجوز الخوض فيها إلا بدليل .. وما لم يرد دليل: فلنؤمن ولنصدق ونقف حيث وقف بنا النص ..

الثاني: أن في تحديد أزمنة وأمكنة الفتن التي لم يحدد زمانها ولا مكانها إثارة للفتن وزيادة لها .. بل لربما تسبب ذلك في أحداث فتن جديدة ليست هي المقصودة في النص 0

الثالث: أن تحديد ذلك قد يؤدي إلى تكذيب الله ورسوله .. وخصوصًا من الجهال والطغام .. خاصةً إذا وقع الأمر خلاف ما أخبر به ذلك المحدد فيقع اللبس ويحدث الشك .. ولربما كُذِّب الله ورسوله، والإثم على المتجرئ 0

- وعليه: فتوسع بعض الناس لاسيما من الدعاة وطلبة العلم في الرؤى والأحلام .. وتحديد بعض ما يصيب الأمة .. من الأمور والفتن، ونشر ذلك بين الناس … بل (وللأسف) مع الجزم به جزمًا تامًا .. جهل عظيم، وخطأ جسيم 0

- ولا يظنن ظان أننا ممن ينكر الرؤى … ويرد حديث المصطفى صلى الله عليه وسلم في
চতুর্থ বিভাগ/ যার সময় বা স্থান বর্ণনা করা হয়নি এবং এটিই সংখ্যায় সর্বাধিক।

- প্রথম বিভাগ সম্পর্কে বলা যায়: যার স্থান ও সময় আমাদের নিকট স্পষ্ট করা হয়েছে, সেটি যেভাবে সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে তার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য ও সঠিক ব্যতীত কিছুই বলেন না।

- দ্বিতীয় বিভাগ: এতে সময়ের সুনির্দিষ্ট বর্ণনার ওপর সমর্পিত থাকা বা আত্মসমর্পণ (تسليم) করা ওয়াজিব, তবে স্থানের সুনির্দিষ্টতার ক্ষেত্রে নয়, যার কারণ ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই বর্ণিত হবে।

- তৃতীয় বিভাগ: এটি পূর্ববর্তীটির মতোই, এতে স্থানের সুনির্দিষ্ট বর্ণনার ওপর সমর্পিত থাকা বা আত্মসমর্পণ (تسليم) করতে হবে, তবে সময়ের সুনির্দিষ্টতার ক্ষেত্রে নয়, যার কারণও অচিরেই আসবে।

- চতুর্থ ও সর্বশেষ বিভাগ: এটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব; কোনো ব্যক্তির জন্যই—সে যেই হোক না কেন—এক্ষেত্রে সময় বা স্থান নির্ধারণ করা জায়েয নয়, তার কারণসমূহ হলো:

প্রথমত: যে ব্যক্তি তা দাবি করবে এবং সময় ও স্থান নির্ধারণ করবে … সে জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলল এবং আল্লাহর একান্ত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ে প্রবেশ করল, যা হলো: অদৃশ্যের জ্ঞান (غيب)। এই বিষয়গুলো অদৃশ্যের (غيب) অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কোনো প্রমাণ বা দলিল (دليل) ছাড়া প্রবেশ করা জায়েয নয়। আর যেখানে কোনো দলিল (دليل) বর্ণিত হয়নি, সেখানে আমাদের কর্তব্য হলো ঈমান আনা, সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং পাঠ্য বা নস (نص) যেখানে আমাদের থামিয়ে দিয়েছে সেখানে থেমে যাওয়া।

দ্বিতীয়ত: যেসব ফিতনার (فتنة) সময় বা স্থান সুনির্দিষ্ট করা হয়নি, সেগুলোর সময় ও স্থান নির্ধারণ করার মধ্যে ফিতনা (فتنة) উসকে দেওয়া এবং তা বৃদ্ধি করার অবকাশ রয়েছে। বরং সম্ভবত এর ফলে নতুন কোনো ফিতনার (فتنة) সৃষ্টি হতে পারে যা পাঠ্য বা নস (نص)-এ উদ্দেশ্য ছিল না।

তৃতীয়ত: এই নির্ধারণ প্রক্রিয়া আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার দিকে ধাবিত করতে পারে; বিশেষ করে মূর্খ ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে। বিশেষত যখন বিষয়টি ওই নির্ধারণকারীর বর্ণনার বিপরীতে সংঘটিত হয়, তখন বিভ্রান্তি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলে সম্ভবত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হয়, আর এর পাপ সেই দুঃসাহস প্রদর্শনকারীর ওপরই বর্তাবে।

- সুতরাং: কিছু মানুষের, বিশেষ করে একদল দাঈ এবং ইলম অন্বেষণকারীর স্বপ্নের মাধ্যমে এবং উম্মাহর ওপর আপতিত হওয়া বিষয় ও ফিতনা (فتنة) সম্পর্কে সময়-কাল নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করা এবং তা মানুষের মাঝে প্রচার করা … বরং (দুর্भाग्यবশত) পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে তা প্রকাশ করা এক চরম মূর্খতা এবং ভয়াবহ ভুল।

- কেউ যেন এমনটি মনে না করেন যে, আমরা স্বপ্নের অস্তিত্ব অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত … অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস প্রত্যাখ্যান করি...
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أنها جزء من ستة وأربعين جزءً من النبوة، وأنها من المبشرات، معاذ الله من ذلك.

- لكنها تبقى - من غير الأنبياء - ظنونا عرضة للصواب والخطأ: من الرائي والمعبر … فالرؤى يستأنس بها ويستبشر دون أن يجزم ويقرر وصدق إمام أهل السنة (أحمد بن حنبل) حين قال: (الرؤيا تسر المؤمن ولا تغرّه) ....... والله أعلم.
তা নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ এবং তা সুসংবাদসমূহের (المبشرات) অন্তর্ভুক্ত; এ থেকে আল্লাহর পানাহ চাই।

- তবে নবীদের ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে - তা সঠিক অথবা ভুল হওয়ার সম্ভাবনাযুক্ত কেবল ধারণা (ظنون) হিসেবেই গণ্য হয়: যা স্বপ্নদ্রষ্টা এবং ব্যাখ্যাকারী উভয়ের পক্ষ থেকেই হতে পারে … সুতরাং স্বপ্ন দ্বারা কেবল মানসিক প্রশান্তি ও সুসংবাদ লাভ করা যায়, কোনো বিষয়ে অকাট্য নিশ্চয়তা (جزم) প্রদান বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ছাড়াই। আহলে সুন্নাতের ইমাম (আহমাদ বিন হাম্বল) যথার্থই বলেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: (স্বপ্ন মুমিনকে আনন্দিত করে কিন্তু তাকে প্রলুব্ধ করে না) ....... আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
المسألة الحادية عشرة:

أن الفتن الكبيرة العظيمة التي تعم الأمة وتؤثر فيها تأثيراً بالغاً .. قد وصفها رسول الله صلى الله عليه وسلم وصفاً تاماً لا خفاء فيه ولا لبس ..

- كالدجال مثلاً: فإن النبي صلى الله عليه وسلم وصفه في أكثر من حديث في الصحيحين وغيرهما وصفاً دقيقاً .. فوصف هيأته، وسبب خروجه، ومن أين يخرج، ومن معه، وما معه، وكم يبقى، وأين يذهب، وكيف يفتن الناس، ومن يقتله … إلى غير ذلك.

- وكذا المهدي .. فقد بين لنا النبي صلى الله عليه وسلم أمره أتم بيان حتى لا يلتبس على أحد من الناس .. فذكر لنا نسبه، وحاله، وزهده، وكرمه، آية ظهوره.

- وإنما كان ذلك من صاحب الشرع درءاً للفتن .. وتبصيراً للناس .. وقطعاً لأهواء أهل الأهواء ..

ولو تأمل المتأمل في بعض الفتن التي وقعت في الأمة لوجد أن السبب فيها هو عدم فهم هذا الأمر .. وعدم الالتفات إليه .. -فالمهدي مثلاً .. لما جهل عامة الناس أمره .. سهل على المستغلين الاستغلال .. فكم ادعى من دعي أنه المهدي، فوقعت بسببه المحن واضطربت الأمور .. وحرّف الشرع، وبدل الدين، وما (غلام أحمد القادياني) منا ببعيد، وقبله الحاكم بأمر (الشيطان) العبيدي، وقبلهم جميعاً المختار بن أبي عبيد الثقفي .. والله المستعان.
একাদশ প্রসঙ্গ:

নিশ্চয়ই সেই সুবৃহৎ ও ভয়াবহ ফিতনাসমূহ যা উম্মাহকে পরিবেষ্টন করে এবং এর ওপর অত্যন্ত গভীর প্রভাব বিস্তার করে, সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রদান করেছেন যাতে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় নেই...

- উদাহরণস্বরূপ দাজ্জালের কথা বলা যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহিহাইন এবং অন্যান্য কিতাবে একাধিক হাদিসে তার সূক্ষ্ম বিবরণ দিয়েছেন... তিনি তার শারীরিক অবয়ব, তার আত্মপ্রকাশের কারণ, কোথা থেকে সে বের হবে, কারা তার সাথে থাকবে, তার নিকট কী থাকবে, সে কতদিন অবস্থান করবে, কোথায় কোথায় যাবে, সে কীভাবে মানুষকে ফিতনায় ফেলবে এবং কে তাকে হত্যা করবে—এসব কিছুরই বর্ণনা দিয়েছেন … ইত্যাদি।

- তদ্রূপ মাহদী... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিষয়টি আমাদের নিকট পূর্ণাঙ্গরূপে ব্যক্ত করেছেন যাতে কারো নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট না থাকে... তিনি আমাদের নিকট তার বংশপরিচয়, তার অবস্থা, তার দুনিয়াবিমুখতা, তার মহোদয়তা এবং তার আত্মপ্রকাশের নিদর্শন উল্লেখ করেছেন।

- শারিয়াতের প্রবর্তক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূলত ফিতনা প্রতিহত করার জন্য, মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবং প্রবৃত্তিপূজারীদের (أهل الأهواء) খেয়ালখুশিকে সমূলে বিনাশ করার উদ্দেশ্যেই এটি করেছেন...

যদি কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি উম্মাহর মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু ফিতনা নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে, এগুলোর মূল কারণ হলো এই বিষয়টি উপলব্ধি না করা এবং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা... -উদাহরণস্বরূপ মাহদীর কথা ধরা যাক... যখন সাধারণ মানুষ তার বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল, তখন সুবিধাবাদীদের জন্য তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা সহজ হয়ে গিয়েছিল... ফলে কতই না ভণ্ড দাবিদার নিজেকে মাহদী হিসেবে দাবি করেছে, যার দরুন নানাবিধ বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়াবলি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে... শরিয়তকে বিকৃত করা হয়েছে এবং দ্বীনকে পরিবর্তিত করা হয়েছে। আমাদের নিকট (গোলাম আহমদ কাদিয়ানী) এর দৃষ্টান্ত যেমন খুব দূরের নয়, তেমনি তার পূর্বে (শয়তানের) নির্দেশে শাসনকর্তা ওবায়দী এবং তাদের সবার পূর্বে মুখতার বিন আবি উবাইদ আস-সাকাফীর দৃষ্টান্তও উল্লেখযোগ্য... আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৩৮)
ومما يؤسف له: رواج بعض الشائعات والأوهام عن المهدي وغيره عند بعض الصالحين، ومن يتوسم فيهم الخير، رغم أن المأمول فيهم أن يكونوا من أهل البصر والبصيرة .. ولا حول ولا قوة إلاّ بالله، والسبب في ذلك العجلة والتسرع وعدم الرجوع إلى أهل العلم، مع ما يرونه من غلبة الكفار، وانتشار المنكرات، وجور السلطان … والله أعلم.
একটি পরিতাপের বিষয় হলো: মাহদি ও অন্যান্য বিষয়ে কিছু পুণ্যবান এবং যাদের মধ্যে কল্যাণের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়, তাদের নিকট কিছু গুজব ও অমূলক ধারণার (أوهام) ব্যাপক প্রচলন; যদিও তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ছিল যে তারা প্রখর পর্যবেক্ষণ ও অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী হবেন। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই। এর কারণ হলো—তাড়াহুড়ো করা এবং আলেমদের নিকট প্রত্যাবর্তন না করা; বিশেষ করে যখন তারা কাফিরদের আধিপত্য, পাপাচারের (منكرات) প্রসার এবং শাসকের জুলুম প্রত্যক্ষ করছেন … আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৩৯)
المسألة الثانية عشرة:

أن العبادة في الفتن أفضل من العبادة في غيرها، دليل ذلك ما ورد في صحيح مسلم عن معقل بن يسار رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (العبادة في الهرج كهجرة إليّ).

 

فجعل لزوم العبادة في الهرج ـ الذي هو القتل كما في الأحاديث الأخرى ـ كهجرة إليه عليه الصلاة والسلام، و‌‌السبب في ذلك والله أعلم:

أولا: أن الناس في وقت الفتن ينشغلون عن العبادة فلا يتفرغ لها إلاّ الأفذاذ من الناس كما قال الإمام النووي رحمه الله.

الثاني: أن العابد في وقت الفتن يؤدي العبادة وهو في حال خوف من تلف نفس وضياع مال وذهاب حرمة فلذا كانت عبادته أفضل من غيره ممن لا يخاف ذلك.

ولهذا فرق الله تعالى في كتابه بين من أنفق من قبل الفتح وقاتل؛ ومن أنفق من بعده وقاتل فقال: ((لا يستوي منكم من أنفق من قبل الفتح وقاتل أولئك أعظم درجة من الذين أنفقوا من بعد وقاتلوا، وكلا وعد الله الحسنى والله بما تعملون خبير)) وما ذلك إلا لأن الذين أنفقوا من قبل الفتح وقاتلوا فعلوا ذلك في وقت خوف وقلة، بخلاف من فعل ذلك بعد الفتح، فإنهم وإن كانوا موعودين بالحسنى إلا أنهم أنفقوا وقاتلوا بعد عزة الإسلام وقوة أهله.

الثالث: أن لزوم العبادة وقت الفتن دليل على صدق صاحبها مع الله
দ্বাদশ মাসআলা:

ফিতনার (فتن) সময় ইবাদত করা অন্য সময়ের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। এর দলিল হলো সহিহ মুসলিম-এ মা'কিল ইবন ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "বিশৃঙ্খলা বা হারজ (الهرج)-এর সময় ইবাদত করা আমার নিকট হিজরত (هجرة) করার সমতুল্য।"

 

এখানে হারজ (الهرج) বা বিশৃঙ্খলার সময়—যা অন্যান্য হাদিস অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড—ইবাদতে অবিচল থাকাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট হিজরত (هجرة) করার সমতুল্য করা হয়েছে। এর কারণসমূহ (আল্লাহই সর্বজ্ঞ):

প্রথমত: ফিতনার (فتن) সময় মানুষ ইবাদত থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে, ফলে অত্যন্ত অল্প কিছু অসাধারণ মানুষ ছাড়া কেউ এর জন্য অবসর পায় না; যেমনটি ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন।

দ্বিতীয়ত: ফিতনার (فتن) সময় ইবাদতকারী এমন অবস্থায় ইবাদত পালন করেন যখন তিনি প্রাণহানি, সম্পদ বিনষ্ট এবং সম্মানহানির আশঙ্কায় থাকেন। তাই তার ইবাদত ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যার মধ্যে এমন কোনো ভয় নেই।

এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় ও জিহাদকারী এবং বিজয়ের পরে ব্যয় ও জিহাদকারীর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং জিহাদ করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরে ব্যয় করেছে এবং জিহাদ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তোমরা যা করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবহিত।" এটি কেবল এ কারণে যে, যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় ও জিহাদ করেছেন, তারা তা করেছেন ভয় ও সংকটের সময়ে। পক্ষান্তরে যারা বিজয়ের পরে তা করেছেন তাদের বিষয়টি ভিন্ন; যদিও তারা সবাই কল্যাণের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত, তবুও তারা ব্যয় ও জিহাদ করেছেন ইসলামের বিজয় ও মুসলমানদের শক্তির যুগে।

তৃতীয়ত: ফিতনার (فتن) সময় ইবাদতে অবিচল থাকা আল্লাহর সাথে বান্দার একনিষ্ঠতা বা সত্যবাদিতার (صدق) প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) মাসায়িলু ফিল ফিতান (পৃষ্ঠা: ৪০)
وإخلاصه له وقوة صبره ومصابرته، وإيثاره ما عند ربه. وما تفاضل الناس في الدنيا والآخرة إلاّ بالصدق مع الله والصبر على بلائه. والله المستعان.
এবং তাঁর (আল্লাহর) প্রতি তাঁর একনিষ্ঠতা, তাঁর ধৈর্য ও সহনশীলতার শক্তি এবং তাঁর প্রতিপালকের নিকট যা রয়েছে তাকে প্রাধান্য প্রদান। দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব কেবল আল্লাহর প্রতি সত্যবাদিতা (صدق) এবং তাঁর পক্ষ হতে আসা পরীক্ষার ওপর ধৈর্যের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।