(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: -)
التذكرة في الفقه على مذهب الإمام أحمد   (أبو الوفاء ابن عقيل)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: التذكرة في الفقه «على مذهب الإمام أحمد بن محمد بن حنبل»

المؤلف: أبو الوفاء علي بن عقيل بن محمد بن عقيل البغدادي الحنبلي (ت 513 هـ)

تحقيق وتعليق: الدكتور ناصر بن سعود بن عبد الله السلامة، القاضي بمحكمة عفيف

الناشر: دار إشبيليا للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 376

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 ربيع الأول 1440

ইমাম আহমাদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ বিষয়ক স্মারক (আত-তাজকিরাহ ফিল ফিকহ)   (আবুল ওয়াফা ইবনে আকিল)

বিভাগ: হাম্বলী ফিকহ


কিতাব: ফিকহ বিষয়ক স্মারক (আত-তাজকিরাহ ফিল ফিকহ) «ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল-এর মাযহাব অনুযায়ী»

লেখক: আবুল ওয়াফা আলী বিন আকিল বিন মুহাম্মদ বিন আকিল আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী (ওফাত ৫১৩ হিজরি)

তাহকীক ও তালীক: ডক্টর নাসির বিন সাউদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালামা, আফিফ আদালতের বিচারক

প্রকাশক: দার ইশবিলিয়া পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৬

শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতিতে: রাবিতাতুন নুসসাখ (অনুলিপিকারক সমিতি), বাস্তবায়নে (মারকাযু নুখাবিল ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দাহইয়ান চ্যারিটেবল ওয়াকফ)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: -)
التذكرة في الفقه

«على مذهب الإمام أحمد بن محمد بن حنبل»

 

تصنيف

أبي الوفاء علي بن عقيل بن محمد بن عقيل البغدادي الحنبلي

(المتوفى سنة 513 هـ)

 

تحقيق وتعليق

الدكتور ناصر بن سعود بن عبد الله السلامة

القاضي بمحكمة عفيف

 

دار إشبيليا
ফিকহ শাস্ত্রের স্মারকগ্রন্থ

«ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল-এর মাযহাব অনুযায়ী»

 

গ্রন্থনা

আবুল ওয়াফা আলী বিন আকীল বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী

(মৃত্যু ৫১৩ হিজরি)

 

তাহকীক ও তালীক

ডক্টর নাসের বিন সাউদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালামাহ

আফিফ আদালতের বিচারক

 

দার ইশবিলিয়া
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

(ح) نَاصِر بن سعود بن عبد الله السَّلامَة، 1421 هـ

فهرسة مكتبة الْملك فَهد الوطنية أثْنَاء النشر

أبي الْوَفَاء الْبَغْدَادِيّ، عَليّ بن عقيل

التَّذْكِرَة فِي الْفِقْه على مَذْهَب الإِمَام أَحْمد بن مُحَمَّد بن حَنْبَل / تَحْقِيق نَاصِر بن سعود بن عبد الله السَّلامَة - الرياض

408 ص، 17 × 24 سم

ردمك: 5 - 307 - 38 - 9960

1 - الْفِقْه الْحَنْبَلِيّ

أ - السَّلامَة، نَاصِر بن سعود بن عبد الله (مُحَقّق)

ب - العنوان

ديوي 258.4 … 2530/ 21

 

رقم الْإِيدَاع: 2530/ 21

ردمك: 5 - 307 - 38 - 9960

 

حقُوق الطّبع مَحفُوظة لِلمُحقّق

الطّبعَة الأولى

1422 هـ - 2001 م

 

دَار إشبيليَا للنشر والتوزيع

المملكة الْعَرَبيَّة السعودية - ص. ب: 13371 - الرياض: 11493

هَاتِف: 4794354 - 4742458 - فاكس: 4773959
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে

(স্বত্ব) নাসির বিন সাউদ বিন আব্দুল্লাহ আল-সালামাহ, ১৪২১ হিজরি

প্রকাশনাকালীন বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগার ক্যাটালগিং

আবুল ওয়াফা আল-বাগদাদি, আলী বিন আকীল

ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের আত-তাযকিরাহ / সম্পাদনা: নাসির বিন সাউদ বিন আব্দুল্লাহ আল-সালামাহ - রিয়াদ

৪০৮ পৃষ্ঠা, ১৭ × ২৪ সে.মি.

আইএসবিএন: ৫ - ৩০৭ - ৩৮ - ৯৯৬০

১ - হাম্বলি ফিকহ

ক - আস-সালামাহ, নাসির বিন সাউদ বিন আব্দুল্লাহ (সম্পাদক)

খ - শিরোনাম

ডিউই ২৫৮.৪ … ২৫৩০/ ২১

 

জমাদান নম্বর: ২৫৩০/ ২১

আইএসবিএন: ৫ - ৩০৭ - ৩৮ - ৯৯৬০

 

সর্বস্বত্ব সম্পাদকের সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

 

দার ইশবিলিইয়া প্রকাশনা ও বিতরণ

সৌদি আরব সাম্রাজ্য - পো. বক্স: ১৩৩৭১ - রিয়াদ: ১১৪৯৩

ফোন: ৪৭৯৪৩৫৪ - ৪৭৪২৪৫৮ - ফ্যাক্স: ৪৭৭৩৯৫৯
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله. اللهم صل وسلم وبارك عليه، وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد، فهذا هو كتاب "التذكرة" في الفقه على مذهب الإمام أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل رحمه الله تأليف أبي الوفاء بن عقيل بن محمد بن عقيل البغدادي الحنبلي، المتوفى سنة ثلاث عشرة وخمس مئة، وهو كتاب متوسط ليس بالطويل الممل، وليس بالقصير المخل، اقتصر فيه مؤلفه على المذهب الحنبلي في غالب أبوابه، ويذكر أحياناً بعض أقوال المذاهب الفقهية الأربعة المشهورة، وبعض أقوال فقهاء الأمصار، كما في كتاب الفرائض منه، وقد قام المؤلف بذكر الأقوال والروايات في المسألة الواحدة عن الإمام أحمد رحمه الله ورجح فيما بينها، ويختار بعضها.

ومما دعاني إلى تحقيق هذا الكتاب والعناية به ما يلي:

أولاً: قيمة الكتاب العلمية، وأهميته في تصحيح الروايات في المذهب الحنبلي.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের সকলের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।

অতঃপর, এটি হলো ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থ "আত-তাযকিরাহ"। এটি আবু আল-ওয়াফা বিন আকীল বিন মুহাম্মদ বিন আকীল আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৫১৩ হিজরী)-এর রচনা। এটি একটি মাঝারি মানের গ্রন্থ, যা বিরক্তিকর দীর্ঘ নয় এবং অস্পষ্টতাপূর্ণ সংক্ষিপ্তও নয়। লেখক এর অধিকাংশ অধ্যায়ে হাম্বলী মাযহাবের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং মাঝে মাঝে প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের কিছু অভিমত ও বিভিন্ন অঞ্চলের ফকীহগণের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, যেমনটি এই গ্রন্থের উত্তরাধিকার বণ্টন (ফারায়েজ) অধ্যায়ে দেখা যায়। লেখক একটি মাসআলায় ইমাম আহমদ (রহ.) থেকে বর্ণিত বিভিন্ন অভিমত ও বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য প্রদান করেছেন এবং কোনো কোনোটিকে নির্বাচন করেছেন।

এই গ্রন্থটির তাহকীক (সম্পাদনা) এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের পেছনে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা নিম্নরূপ:

প্রথমত: গ্রন্থটির ইলমী বা তাত্ত্বিক মূল্য এবং হাম্বলী মাযহাবের বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
ثانياً: كون مؤلفه من كبار أئمة الحنابلة وأقواله وترجيحاته معتبرة في المذهب الحنبلي.

ثالثاً: اعتماد من جاء بعده من العلماء على هذا الكتاب ونقلهم منه واعتدادهم بترجيحاته، كما هو واضح في كثير من أبواب كتاب "الإنصاف" للمرداوي.

فلما رأيت ما لهذا الكتاب من أهمية وأنه لم يسبق نشره، رغبت في تحقيقه والتعليق عليه راجياً أن ينفع الله به، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.

حرر في عشاء الآخرة يوم الأحد 20/ 12/ 1420 هـ بمنزلي بمحافظة عفيف.

كتبه الدكتور

ناصر بن سعود بن عبد الله السلامة

القاضي بمحكمة عفيف
দ্বিতীয়ত: এর লেখক হাম্বলী মাযহাবের বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং হাম্বলী মাযহাবে তাঁর বক্তব্য ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ নির্ভরযোগ্য বিবেচিত হওয়া।

তৃতীয়ত: তাঁর পরবর্তী আলেমদের এই কিতাবের ওপর নির্ভর করা, তা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান এবং তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহকে গুরুত্ব দেওয়া, যেমনটি আল-মারদাওয়ীর "আল-ইনসাফ" কিতাবের অনেক অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

যখন আমি এই কিতাবটির গুরুত্ব অনুধাবন করলাম এবং দেখলাম যে এটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়নি, তখন আমি এর তাহকীক ও টীকা প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করলাম এই আশায় যে আল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার সাধন করবেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

২০/ ১২/ ১৪২০ হিজরী, রবিবার এশার পরে আফিফ প্রদেশের নিজ বাসভবনে এটি লিখিত হয়েছে।

লিখেছেন ডক্টর

নাসির বিন সাউদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালামাহ

আফিফ আদালতের বিচারক
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ترجمة موجزة للمؤلف

‌‌اسمه ونسبه:

هو أبو الوفاء عليُّ بن عقيل بن محمد بن عقيل بن أحمد الظفري، البغدادي (1).

وذكر ابن أبي يعلي أنه: علي بن محمد بن عقيل (2).

وذكر الذهبي في "السير" أن اسمه: علي بن عقيل بن محمد بن عقيل بن عبد الله (3).

والظفري -بفتح الظاء والفاء- نسبة إلى الظفرية، وهي محلة كبيرة شرقي بغداد (4).

 

‌‌ولادته:

وُلد ابن عقيل في بغداد في جمادى الآخرة سنة إحدى وثلاثين وأربع مئة (5).

وقيل: سنة اثنتين وثلاثين وأربع مئة (6).

وقيل: سنة ثلاثين وأربع مئة (7).

--------------------------------------------

(1) انظر: المنتظم 9212، والبداية والنهاية 12/ 184، وذيل طبقات الحنابلة 1/ 142، المنهج الأحمد 3/ 78.

(2) انظر: طبقات الحنابلة 2/ 259.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء 19/ 443.

(4) انظر: الأنساب 4/ 102.

(5) انظر: المنتظم 9/ 212، والبداية والنهاية 12/ 184، والمنهج الأحمد 3/ 79.

(6) انظر: طبقات الحنابلة 2/ 259.

(7) انظر: مناقب الإمام أحمد ص 635.
লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবুল ওয়াফা আলি বিন আকিল বিন মুহাম্মদ বিন আকিল বিন আহমদ আল-জাফারি, আল-বাগদাদি (১)।

ইবনে আবি ইয়ালা উল্লেখ করেছেন যে তিনি: আলি বিন মুহাম্মদ বিন আকিল (২)।

আল-জাহাবি 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর নাম: আলি বিন আকিল বিন মুহাম্মদ বিন আকিল বিন আব্দুল্লাহ (৩)।

আল-জাফারি—'যা' এবং 'ফা' বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে—জাফারিয়ার সাথে সম্পর্কিত, যা বাগদাদের পূর্বাঞ্চলের একটি বৃহৎ এলাকা (৪)।

 

তাঁর জন্ম:

ইবনে আকিল ৪৩১ হিজরি সালের জমাদিউল আখিরা মাসে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন (৫)।

কারো মতে: ৪৩২ হিজরি সাল (৬)।

আবার কারো মতে: ৪৩০ হিজরি সাল (৭)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/২১২, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/১৮৪, যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/১৪২, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৭৮।

(২) দেখুন: তাবাকাতুল হানাবিলা ২/২৫৯।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৯/৪৪৩।

(৪) দেখুন: আল-আনসাব ৪/১০২।

(৫) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/২১২, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/১৮৪, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৭৯।

(৬) দেখুন: তাবাকাতুল হানাবিলা ২/২৫৯।

(৭) দেখুন: মানাকিবুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ৬৩৫।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أسرته:

يقول ابن عقيل عن أسرته: "وأما أهل بيتي، فإن بيت أبي كلهم أرباب أقلام وكتابة، وشعر، وأدب، وكان جدي محمد بن عقيل كاتب حضرة بهاء الدولة، وهو المنشئ لرسالة عَزْل الطائع وتولية القادر، ووالدي أنظر الناس وأحسنهم جزلاً وعلماً، وبيت أمي بيت الزهري، صاحب الكلام والمدرس على مذهب أبي حنيفة" (1).

 

‌‌شيوخه:

لقد تلقى ابن عقيل العلم عن عدد كبير من العلماء في فنون متعددة، وفيما يلي أهم مشايخ ابن عقيل الذين أخذ عنهم وأفاد منهم:

1 - ابنُ شيطا: أبو الفتح عبد الواحد بن الحسين بن أحمد بن عثمان بن شيطا البغدادي، كان من كبار أئمة القراء، ولد ببغداد سنة سبعين وثلاث مئة، وتوفي بها سنة خمسين وأربع مئة (2).

2 - ابنُ بَرهان: عبد الواحد بن علي بن عمر بن إسحاق بن إبراهيم بن بَرهان العكبري، كان من علماء العربية، عالماً بالنحو والتاريخ وأيام العرب، أخذ عنه ابن عقيل الأدب والنحو، مات سنة ستِ وخمسين وأربع مئة (3).

3 - أبو بكر الدينوري: ذكر ابن عقيل أنه أخذ عنه الزُّهد (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: المنتظم 9/ 213، وذيل طبقات الحنابلة 1/ 143، والمنهج الأحمد 3/ 81.

(2) انظر: تاريخ بغداد 11/ 16، والمنتظم 8/ 199، ومعرفة القُراء الكبار 1/ 333.

(3) انظر: تاريخ بغداد 11/ 17، والمنتظم 8/ 337، والبداية والنهاية 12/ 92.

(4) انظر: المنتظم 9/ 212.
‌‌তাঁর পরিবার:

ইবনুল আকিল তাঁর পরিবার সম্পর্কে বলেন: "আমার পরিবারের কথা বলতে গেলে, আমার পিতার বংশের সবাই ছিলেন কলম ও রচনার কারিগর, কবিতা ও সাহিত্যের অনুরাগী। আমার দাদা মুহাম্মদ বিন আকিল ছিলেন বাহাউদ্দৌলার দরবারের লেখক; তিনি খলিফা আত-তায়িকে অপসারণ এবং আল-কাদিরকে স্থলাভিষিক্ত করার পত্রটির রচয়িতা। আমার পিতা ছিলেন সমকালীন মানুষদের মধ্যে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন এবং উত্তম বাগ্মিতা ও জ্ঞানের অধিকারী। আর আমার মায়ের পরিবার ছিল যুহরি পরিবার, যিনি কালাম শাস্ত্রের পণ্ডিত এবং হানাফি মাযহাবের শিক্ষক ছিলেন।" (১)।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকগণ:

ইবনুল আকিল বহুসংখ্যক উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে বিভিন্ন শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন করেছেন। নিচে ইবনুল আকিলের প্রধান কয়েকজন শায়খের বর্ণনা দেওয়া হলো যাদের থেকে তিনি জ্ঞান লাভ করেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন:

১ - ইবনে শিতা: আবুল ফাতহ আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন উসমান বিন শিতা আল-বাগদাদি। তিনি কিরাত শাস্ত্রের বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ৩৭০ হিজরিতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৫০ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন (২)।

২ - ইবনে বুরহান: আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন উমর বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন বুরহান আল-উকবারি। তিনি আরবি ভাষার অন্যতম পণ্ডিত ছিলেন; তিনি নাহু (ব্যাকরণ), ইতিহাস এবং আরবদের যুদ্ধবিগ্রহের দিনগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। ইবনুল আকিল তাঁর নিকট থেকে আদব (সাহিত্য) ও নাহু শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ৪৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

৩ - আবু বকর আদ-দিনাওয়ারি: ইবনুল আকিল উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর নিকট থেকে যুহদ (তপস্যা) শিক্ষা করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/২১৩, যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/১৪৩, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৮১।

(২) দেখুন: তারিখু বাগদাদ ১১/১৬, আল-মুনতাজাম ৮/১৯৯, মা'রিফাতুল কুররাউল কিবার ১/৩৩৩।

(৩) দেখুন: তারিখু বাগদাদ ১১/১৭, আল-মুনতাজাম ৮/৩৩৭, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/৯২।

(৪) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/২১২।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
4 - أبو منصور ابن زيدان: وقيل: أبو بكر. ذكر ابن عقيل أنه أخذ عنه الزهد (1).

5 - أبو الوفاء القزويني (2): وقيل: أبو الحسين القزويني (3)، وقيل: أبو الحسن، هو علي بن عمر بن محمد بن الحسن الحربي، كان شيخاً لابن عقيل في الزهد، قال ابن عقيل: "شهدتُ جنازته، وكان يوماً لم يُر في الإسلام بعد جنازة أحمد بن حنبل مثله" (4).

6 - أبو منصور ابن صاحب الزيادة العطار: هو محمد بن أحمد بن عبيد، المعروف بابن صاحب الزيادة. توفي سنة ثمانٍ وستين وأربع مئة (5).

7 - ابن التَّوَّزي: أحمد بن علي بن الحسين بن محمد موسى، أبو الحسين، المعروف بابن التَّوَّزي، كان شيخ ابن عقيل في الحديث، توفي سنة اثنتين وأربعين وأربع مئة (6).

8 - ابنُ بِشران: محمد بن عبد الملك بن محمد بن عبد الله بن بشران البغدادي، راوي السنن عن الدارقطني. أخذ عنه ابن عقيل الحديث، وكان ثقة، توفي سنة ثمان وأربعين وأربع مئة (7).

9 - العُشاري: محمد بن علي بن الفتح بن محمد الحربي البغدادي، كان ثقة ديِّناً، مكثراً من الحديث، أخذ عنه الحديث ابن عقيل وغيره، توفي سنة إحدى وخمسين وأربع مئة (8).

--------------------------------------------

(1) انظر: المنتظم 9/ 212، وذيل طبقات الحنابلة 1/ 143، المنهج الأحمد 3/ 79.

(2) انظر: المنتظم 9/ 212، والمنهج الأحمد 3/ 79.

(3) انظر: ذيل طبقات الحنابلة 1/ 142.

(4) انظر: تاريخ بغداد 12/ 43.

(5) انظر: المنتظم 8/ 299، والمنهج الأحمد 3/ 79.

(6) انظر: تاريخ بغداد 4/ 324، والمنتظم 9/ 212، والمنهج الأحمد 3/ 79.

(7) انظر: تاريخ بغداد 4/ 248، والمنتظم 9/ 212، والمنهج الأحمد 3/ 79.

(8) انظر: تاريخ بغداد 3/ 107، وطبقات الحنابلة 2/ 191، والمنهج الأحمد 3/ 79.
৪ - আবু মানসুর ইবনে যাইদান: বলা হয়েছে, আবু বকর। ইবনে আকিল উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর কাছ থেকে যুহদ (পরহেজগারিতা) শিক্ষা করেছেন (১)।

৫ - আবুল ওয়াফা আল-কাজওয়িনি (২): বলা হয়েছে, আবুল হুসাইন আল-কাজওয়িনি (৩), আরও বলা হয়েছে, আবুল হাসান। তিনি হলেন আলি বিন উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আল-হারবি। তিনি যুহদ বিষয়ে ইবনে আকিলের শাইখ ছিলেন। ইবনে আকিল বলেন: "আমি তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলাম; আহমদ বিন হাম্বলের জানাজার পর ইসলামে এমন দিন আর দেখা যায়নি" (৪)।

৬ - আবু মানসুর ইবনে সাহিব আল-জিয়াদা আল-আত্তার: তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন উবাইদ, যিনি ইবনে সাহিব আল-জিয়াদা নামে পরিচিত। তিনি চারশত আটষট্টি হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৫)।

৭ - ইবনে আত-তাউয়াজি: আহমদ বিন আলি বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ মুসা, আবুল হুসাইন, ইবনে আত-তাউয়াজি নামে পরিচিত। তিনি হাদিস শাস্ত্রে ইবনে আকিলের শাইখ ছিলেন। তিনি চারশত বিয়াল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৬)।

৮ - ইবনে বিশরান: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-বাগদাদি, দারা কুতনি থেকে 'সুনান' এর বর্ণনাকারী। ইবনে আকিল তাঁর কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তিনি চারশত আটচল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৭)।

৯ - আল-উশারি: মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আল-ফাতহ বিন মুহাম্মাদ আল-হারবি আল-বাগদাদি। তিনি নির্ভরযোগ্য ও ধর্মপ্রাণ ছিলেন এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনে আকিল ও অন্যরা তাঁর কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তিনি চারশত একান্ন হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/২১২, জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/১৪৩, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৭৯।

(২) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/২১২, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৭৯।

(৩) দেখুন: জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/১৪২।

(৪) দেখুন: তারিখু বাগদাদ ১২/৪৩।

(৫) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৮/২৯৯, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৭৯।

(৬) দেখুন: তারিখু বাগদাদ ৪/৩২৪, আল-মুনতাজাম ৯/২১২, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৭৯।

(৭) দেখুন: তারিখু বাগদাদ ৪/২৪৮, আল-মুনতাজাম ৯/২১২, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৭৯।

(৮) দেখুন: তারিখু বাগদাদ ৩/১০৭, তাবাকাতুল হানাবিলা ২/১৯১, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৭৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
10 - الجوهري: الحسنُ بن علي بن محمد بن الحسن الجوهري البغدادي، كان ثقة، صالحاً، توفي سنة اثنتين -وقيل: أربع- وخمسين وأربع مئة (1).

11 - ابن شبل: محمد بن الحسين بن عبد الله بن أحمد بن يوسف الشِّبلي، أحد الشعراء المشهورين، كان شيخاً لابن عقيل في الشعر، توفي سنة تلاث وسبعين وأربع مئة (2).

12 - ابن الفضل: علي بن الحسين بن علي بن الفضل، أبو منصور الشاعر، المعروف بَصُرَّدُرّ. كان ممن أخذ ابن عقيل الشعر عنهم، توفي سنة خمس وستين وأربع مئة (3).

13 - أبو الفضل الهمذاني: عبد الملك بن إبراهيم بن أحمد الهمذانيُّ الفرضي، كان من أئمة الدين وأوعية العلم، وله اليد الطولى في العلوم الشرعية، وانتهت إليه الرئاسة في علم الفرائض والحساب، توفي سنة تسعٍ وثمانين وأربع مئة (4).

14 - ابن العلاف: محمد بن علي بن محمد بن يوسف أبو طاهر، البغدادي، كانت له حلقة في جامع المهدي، ثم من بعده في جامع المنصور، توفي سنة اثنتين وأربعين وأربع مئة (5).

15 - أبو يعلي ابن الفراء: محمد بن الحسين بن خلف بن أحمد بن الفراء، البغدادي، القاضي، شيخ الحنابلة في وقته. وهو أول من أخذ ابن عقيل

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ بغداد 7/ 393، والمنهج الأحمد 3/ 79، وشذرات الذهب 6/ 59.

(2) انظر: المنتظم 8/ 328، وذيل طبقات الحنابلة 1/ 142، والمنهج الأحمد 3/ 80.

(3) انظر: المنتظم: 8/ 281، ووفيات الأعيان 3/ 385، والمنهج الأحمد 3/ 80.

(4) انظر: المنتظم 9/ 100، والبداية والنهاية 12/ 153، والمنهج الأحمد 3/ 80.

(5) انظر: تاريخ بغداد 3/ 103، والمنتظم 8/ 148، والمنهج الأحمد 3/ 80، وشذرات الذهب 6/ 59.
১০ - আল-জাওহারী: হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-জাওহারী আল-বাগদাদী, তিনি নির্ভরযোগ্য ও নেককার ছিলেন, তিনি চারশত বাহান্ন হিজরীতে—মতান্তরে চারশত চুয়ান্ন হিজরীতে—মৃত্যুবরণ করেন (১)।

১১ - ইবন শিবল: মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইউসুফ আশ-শিবলী, অন্যতম বিখ্যাত কবিদের একজন, তিনি কবিতার ক্ষেত্রে ইবনে আকীলের শিক্ষক ছিলেন, তিনি চারশত তিয়াত্তর হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

১২ - ইবনুল ফাদল: আলী বিন হুসাইন বিন আলী বিন ফাদল, আবু মনসুর কবি, যিনি ‘সুররা-দুররা’ নামে পরিচিত। তিনি তাদের অন্যতম ছিলেন যাদের নিকট থেকে ইবনে আকীল কবিতা শিক্ষা করেছিলেন, তিনি চারশত পঁয়ষট্টি হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

১৩ - আবুল ফাদল আল-হামাযানী: আব্দুল মালিক বিন ইবরাহীম বিন আহমদ আল-হামাযানী আল-ফারদী, তিনি দ্বীনের অন্যতম ইমাম এবং ইলমের আধার ছিলেন, শরয়ী জ্ঞানসমূহে তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল এবং মিরাস ও গণিতশাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব তার মাধ্যমেই পূর্ণতা লাভ করেছিল, তিনি চারশত ঊননব্বই হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।

১৪ - ইবনুল আল্লাফ: মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আবু তাহের আল-বাগদাদী, জামে আল-মাহদীতে তার একটি পাঠদান চক্র ছিল, এরপর জামে আল-মানসূরে তার পাঠদান চলত, তিনি চারশত বিয়াল্লিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (৫)।

১৫ - আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা: মুহাম্মদ বিন হুসাইন বিন খালাফ বিন আহমদ বিন আল-ফারা আল-বাগদাদী, আল-কাজী (বিচারক), নিজ সময়ে হাম্বলিদের প্রধান শায়খ। তিনি প্রথম ব্যক্তি যার নিকট থেকে ইবনে আকীল শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৭/৩৯৩, আল-মানহাজ আল-আহমাদ ৩/৭৯ এবং শাযারাতুয যাহাব ৬/৫৯।

(২) দেখুন: আল-মুনতাযাম ৮/৩২৮, যাইল তাবাকাতিল হানাবিলা ১/১৪২ এবং আল-মানহাজ আল-আহমাদ ৩/৮০।

(৩) দেখুন: আল-মুনতাযাম ৮/২৮১, ওফায়াতুল আইয়ান ৩/৩৮৫ এবং আল-মানহাজ আল-আহমাদ ৩/৮০।

(৪) দেখুন: আল-মুনতাযাম ৯/১০০, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/১৫৩ এবং আল-মানহাজ আল-আহমাদ ৩/৮০।

(৫) দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৩/১০৩, আল-মুনতাযাম ৮/১৪৮, আল-মানহাজ আল-আহমাদ ৩/৮০ এবং শাযারাতুয যাহাব ৬/৫৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
الفقه عنه، توفي سنة ثمانٍ وخمسين وأربع مئة (1).

16 - أبو إسحاق الشيرازي: إبراهيم بن علي بن يوسف بن عبد الله الفيروزآبادي، الشافعي، كان مقدَّماً في الأصول والفقه والجدل، توفي سنة ست وسبعين وأربع مئة (2).

17 - ابن الصباغ: عبدُ السَّيِّد بن محمد بن عبد الواحد بن محمد بن أحمد بن جعفر، أبو نصر، الشافعي، كان مقدماً ورعاً، تقياً، انتهت إليه رئاسة الشافعية في وقته، توفي سنة سبعٍ وسبعين وأربع مئة (3).

18 - الدَّامغانيُّ: محمد بن علي بن محمد بن الحسين، أبو عبد الله الدامغاني، الحنفي، القاضي، كان عفيفاً، وافر العقل، كامل الفضل، مكرماً لأهل العلم، أخذ عنه ابن عقيل الفقه. توفي سنة ثمانٍ وسبعين وأربع مئة (4).

19 - أبو بكر الخطيب: أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد الخطيب، البغدادي، الحافظ المحدِّث، المؤرخ، صاحب التصانيف الكثيرة، أخذ عنه ابن عقيل الحديث. توفي سنة ثلاثٍ وستين وأربع مئة (5).

20 - أبو إسحاق الخزاز: إبراهيم بن الحسين بن الخزاز، المقرئ، الزاهد، الصالح، شيخ القراء في وقته، توفي ببغداد سنة تسع وثمانين وأربع مئة (6).

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ بغداد 2/ 256، والمنظم 8/ 253.

(2) انظر: المنتظم 9/ 7، والبداية والنهايه 12/ 124، والمنهج الأحمد 3/ 80.

(3) انظر: المنتظم 9/ 12، والبداية والنهاية 12/ 126، والمنهج الأحمد 3/ 80.

(4) انظر: تاريخ بغداد 3/ 109، والمنتظم 9/ 22.

(5) انظر: المنتظم 8/ 265، والبداية والنهاية 12/ 101، والمنهج الأحمد 3/ 80.

(6) انظر: المنتظم 9/ 89.
তাঁর নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন, তিনি চারশত আটান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

১৬ - আবু ইসহাক আল-শিরাজি: ইব্রাহিম বিন আলি বিন ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফিরুজাবাদি, আশ-শাফিয়ি। তিনি উসুল, ফিকহ এবং বিতর্কশাস্ত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি চারশত ছিয়াত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

১৭ - ইবনুল সাব্বাগ: আব্দুস সাইয়িদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জাফর, আবু নাসর, আশ-শাফিয়ি। তিনি একজন অগ্রগণ্য, পরহেজগার ও মুত্তাকি ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর সময়ে শাফিয়ি মাজহাবের নেতৃত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল। তিনি চারশত ৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

১৮ - আদ-দামিগানি: মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন, আবু আব্দুল্লাহ আদ-দামিগানি, আল-হানাফি, কাজি। তিনি চারিত্রিক পবিত্রতাসম্পন্ন, প্রজ্ঞাবান ও পূর্ণ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং আহলে ইলমদের সম্মান করতেন। ইবন আকিল তাঁর নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন। তিনি চারশত আটাত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।

১৯ - আবু বকর আল-খাতিব: আহমদ বিন আলি বিন সাবিত বিন আহমদ আল-খাতিব আল-বাগদাদি, আল-হাফিজ, আল-মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা। ইবন আকিল তাঁর নিকট থেকে হাদিস শিক্ষা করেছেন। তিনি চারশত তেষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৫)।

২০ - আবু ইসহাক আল-খাজ্জাজ: ইব্রাহিম বিন আল-হুসাইন বিন আল-খাজ্জাজ, মুকরি, জাহেদ, নেককার ও তাঁর সময়ের কারীগণের শায়খ। তিনি চারশত ঊননব্বই হিজরিতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ বাগদাদ ২/২৫৬ এবং আল-মুনতাজাম ৮/২৫৩।

(২) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/৭, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/১২৪ এবং আল-মানহাজ আল-আহমাদ ৩/৮০।

(৩) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/১২, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/১২৬ এবং আল-মানহাজ আল-আহমাদ ৩/৮০।

(৪) দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৩/১০৯ এবং আল-মুনতাজাম ৯/২২।

(৫) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৮/২৬৫, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/১০১ এবং আল-মানহাজ আল-আহমাদ ৩/৮০।

(৬) দেখুন: আল-মুনতাজাম ৯/৮৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تلاميذه:

لقد تولى ابن عقيل التدريس سنين طويلة، وأخذ عنه العلم مجموعة كبيرة من أهل العلم، وبرز بعضهم منهم:

1 - ابن ناصر: محمد بن ناصر بن محمد بن علي البغدادي، كان حافظاً ضابطاً ثقة، خبيراً بالجرح والتعديل، توفي سنة خمسين وخمس مئة (1).

2 - المغازلي: عمر بن ظفر بن حفص المغازلي البغدادي، كان مقرئاً، محدثاً، توفي سنة اثنتين وأربعين وخمس مئة (2).

3 - أبو المعمَّر الأنصاري: المبارك بن أحمد بن عبد العزيز الخزرجي الأنصاري، كان ذا فهم وعلم بالحديث، توفي سنة تسع وأربعين وخمس مئة (3).

4 - أبو سعد السمعاني: عبد الكريم بن محمد بن منصور السمعاني، العالم، الحافظ، البارع، صاحب التصانيف، أحد من أجاز لهم ابن عقيل، توفي سنة ثلاث وستين وخمس مئة (4).

 

‌‌مكانته العلمية:

لقد برع ابن عقيل في علوم كثيرة وخاصة علم الفقه وأصوله، فأثنى عليه العلماء، ووصفوه بالإمام المجتهد شيخ الإسلام، وهذه بعض أوصافهم له التي تدل على مكانته العلمية:

--------------------------------------------

(1) انظر: المنتظم 10/ 162، وذيل طبقات الحنابلة 1/ 225، والمنهج الأحمد 3/ 89.

(2) انظر: معرفة القراء الكبار 2/ 407، والمنهج الأحمد 3/ 89.

(3) انظر: المنتظم 10/ 160، والمنهج الأحمد 3/ 89.

(4) انظر: المنتظم 10/ 224، والمنهج الأحمد 3/ 89.
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

ইবনে আকীল দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষকতা করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে এক বিশাল আলেম গোষ্ঠী জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে কতিপয় প্রসিদ্ধ হলেন:

১ - ইবনে নাসির: মুহাম্মদ বিন নাসির বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-বাগদাদী। তিনি ছিলেন হাফেজ, প্রাজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য, এবং জারাহ ও তা’দীল শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ। তিনি ৫৫০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (১)।

২ - আল-মাগাযেলী: উমর বিন জাফার বিন হাফস আল-মাগাযেলী আল-বাগদাদী। তিনি ছিলেন ক্বারী ও মুহাদ্দিস। তিনি ৫৪২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।

৩ - আবু আল-মুয়াম্মার আল-আনসারী: আল-মুবারক বিন আহমদ বিন আব্দুল আযীয আল-খাযরাজী আল-আনসারী। তিনি হাদিস শাস্ত্রে গভীর বুঝ ও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি ৫৪৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।

৪ - আবু সা’দ আস-সামআনী: আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আস-সামআনী। তিনি ছিলেন প্রাজ্ঞ আলেম, হাফেজ, সুনিপুণ ও বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁদেরকে ইবনে আকীল ইজাযত প্রদান করেছিলেন। তিনি ৫৬৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।

 

তাঁর ইলমী মর্যাদা:

ইবনে আকীল বহু শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, বিশেষ করে ফিকহ ও উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে। ফলে উলামায়ে কেরাম তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে ইমাম মুজতাহিদ ও শাইখুল ইসলাম হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর ইলমী মর্যাদার পরিচায়ক উলামায়ে কেরামের কিছু বর্ণনা নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুনতাযাম ১০/ ১৬২, যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/ ২২৫ এবং আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/ ৮৯।

(২) দেখুন: মা’রিফাতুল কুররা আল-কিবার ২/ ৪০৭ এবং আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/ ৮৯।

(৩) দেখুন: আল-মুনতাযাম ১০/ ১৬০ এবং আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/ ৮৯।

(৪) দেখুন: আল-মুনতাযাম ১০/ ২২৪ এবং আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/ ৮৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
قال ابن رجب: "كان من أفاضل العالم، وأذكياء بني آدم، مُفرط الذكاء، متسع الدائرة في العلوم، وكان خبيراً بالكلام، مطلعاً على مذاهب المتكلمين" (1).

وقال ابن الجوزي: "انتهت إليه الرئاسة في الأصول والفروع، وله الخاطر العاطر، والفهم الثاقب، واللباقة، والفطنة البغدادية، والتبريز في المناظرة على الأقران، والتصانيف الكبار" (2).

وقال الذهبي: "الإمام العلاّمة، البحر، شيخ الحنابلة، المتكلم، صاحب التصانيف. كان يتوقد ذكاء، وكان بحر معارف، وكنز فضائل، لم يكن له في زمانه نظير" (3).

وقال ابن مفلح: "المقرئ، الفقيه، الأصولي، الواعظ، المتكلم، أوحد المجتهدين" (4).

وقال العليمي: "المقرئ، الفقيه، الأصولي، الواعظ، التكلم، أحد الأعلام، شيخ الإسلام (5).

وقال ابن العماد الحنبلي: "كان إماماً مبرزاً، كثير العلوم، فائق الذكاء، مكباً على الاشتغال والتصنيف، عديم النظير" (6).

--------------------------------------------

(1) انظر: ذيل طبقات الحنابلة 1/ 155.

(2) انظر: مناقب الإمام أحمد ص 634.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء 19/ 443 - 445.

(4) انظر: المقصد الأرشد 2/ 245.

(5) انظر: المنهج الأحمد 3/ 79.

(6) انظر: شذرات الذهب 6/ 58.
ইবনে রজব বলেছেন: "তিনি ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত এবং আদম সন্তানদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী। তাঁর মেধা ছিল প্রখর, জ্ঞানের পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। তিনি ইলমে কালামে পারদর্শী এবং মুতাকাল্লিমদের মতবাদসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবহিত ছিলেন।" (১)।

ইবনুল জাওযী বলেছেন: "উসূল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা)-তে নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছিল। তাঁর ছিল চমৎকার চিন্তা, প্রখর বোধশক্তি, পারদর্শিতা এবং বাগদাদী বুদ্ধিমত্তা। সমসাময়িকদের সাথে বিতর্কে শ্রেষ্ঠত্ব এবং বড় বড় গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ছিলেন।" (২)।

আয-যাহাবী বলেছেন: "তিনি ছিলেন ইমাম, আল্লামা, জ্ঞানের সমুদ্র, হাম্বলীদের শায়খ, মুতাকাল্লিম ও বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর মেধা ছিল প্রদীপ্ত, তিনি ছিলেন জ্ঞানের সাগর এবং শ্রেষ্ঠত্বের খনি। তাঁর যুগে তাঁর কোনো তুলনা ছিল না।" (৩)।

ইবনে মুফলিহ বলেছেন: "ক্বারী, ফকীহ, উসূলবিদ, ওয়ায়েজ, মুতাকাল্লিম এবং মুজতাহিদদের মধ্যে অনন্য।" (৪)।

আল-আলীমী বলেছেন: "ক্বারী, ফকীহ, উসূলবিদ, ওয়ায়েজ, মুতাকাল্লিম, অন্যতম বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এবং শায়খুল ইসলাম" (৫)।

ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য ইমাম, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, প্রখর মেধাবী, জ্ঞানচর্চা ও গ্রন্থ রচনায় নিবেদিতপ্রাণ এবং অতুলনীয়" (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/ ১৫৫।

(২) দেখুন: মানাক্বিবুল ইমাম আহমাদ পৃষ্ঠা ৬৩৪।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১৯/ ৪৪৩ - ৪৪৫।

(৪) দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/ ২৪৫।

(৫) দেখুন: আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/ ৭৯।

(৬) দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ৬/ ৫৮।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌مؤلفاته:

لقد ألف ابن عقيل في فنون متعددة، وهذا بيانها: (1)

1 - الفنون. وصفه ابن رجب بقوله: "هو كتاب كبير جداً، فيه فوائد جليلة في الوعظ والتفسير، والفقه، والأصلين، والنحو، واللغة، والشعر، والتاريخ، والحكايات، وفيه مناظراته ومجالسه التي وقعت له، وخواطره، ونتائج فكره قيدها فيه".

وقال عنه الذهبي في تاريخه: "لم يصنف في الدنيا أكبر من هذا الكتاب، حدثني من رأى منه المجلد الفلاني بعد الأربع مئة" وقد وجدت قطعة منه في مكتبة باريس وقام جورج المقدسي بطبعها عام 1969 م ونشرته دار الشروق ببيروت في مجلدين.

2 - الفصول في الفقه الحنبلي، ويسمى "كفاية المفتي" ويقع في عشرة مجلدات، وقد وجد منه جزء في المكتبة الظاهرية بمكتبة الأسد بدمشق تحت رقم "63" فقه حنبلي، ويحتوي على كتاب الجهاد، ومنه جزء من مكتبة شستر بيتي بأيرلندا تحت رقم (5369) وله صور بمكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، ومنه جزء بدار الكتب المصرية تحت رقم "13" فقه حنبلي.

3 - الواضح في أصول الفقه. حقق رسائل علمية بكلية الشريعة بجامعة أم القرى بمكة المكرمة، وقد طبع بتحقيق الدكتور عبد الله التركي ونشرته مؤسسة الرسالة عام 1419 هـ.

--------------------------------------------

(1) انظر في ذكر مؤلفاته: ذيل طبقات الحنابلة 1/ 155، 156، والمنهج الأحمد 3/ 90، 91، والمدخل إلى مذهب الإمام أحمد ص 209.
তাঁর রচনাবলি:

ইবনে আকীল বিভিন্ন জ্ঞান-শাখায় গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার বিবরণ নিম্নরূপ: (১)

১ - আল-ফুনুন। ইবনে রজব একে বর্ণনা করে বলেছেন: "এটি অত্যন্ত বিশাল একটি গ্রন্থ, এতে ওয়াজ, তাফসির, ফিকহ, দুই উসুল (উসুলুদ দ্বীন ও উসুলুল ফিকহ), ব্যাকরণ, ভাষা, কবিতা, ইতিহাস এবং গল্পের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে। এতে তাঁর করা বিভিন্ন বিতর্ক ও মজলিসের বিবরণ, তাঁর ভাবনা এবং তাঁর চিন্তাপ্রসূত ফলাফলগুলো লিপিবদ্ধ রয়েছে।"

এবং আয-যাহাবি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেছেন: "পৃথিবীতে এই গ্রন্থের চেয়ে বড় কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। আমাকে এমন একজন ব্যক্তি বলেছেন যিনি এর চারশত খণ্ডের পরের কোনো একটি খণ্ড দেখেছেন।" এর একটি অংশ প্যারিস লাইব্রেরিতে পাওয়া গিয়েছে এবং জর্জ মাকদিসি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে তা সম্পাদনা করে ছেপেছেন। বৈরুতের দারুশ শুরূক এটি দুই খণ্ডে প্রকাশ করেছে।

২ - আল-ফুসুল ফিল ফিকহিল হাম্বালি, একে "কিফায়াতুল মুফতি" বলা হয়। এটি দশ খণ্ডে সমাপ্ত। এর একটি অংশ দামেস্কের আসাদ লাইব্রেরির জাহিরিয়া বিভাগে "৬৩" নম্বর হাম্বালি ফিকহ হিসেবে পাওয়া গিয়েছে। এর আরেকটি অংশ আয়ারল্যান্ডের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে (৫৩৬৯) নম্বর অধীনে রয়েছে এবং রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে এর অনুলিপি সংরক্ষিত আছে। এছাড়া এর একটি অংশ মিশরের দারুল কুতুব-এ "১৩" নম্বর হাম্বালি ফিকহ হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

৩ - আল-ওয়াদিহ ফি উসুলিল ফিকহ। এটি মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদে বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে এবং ড. আবদুল্লাহ আত-তুর্কির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়ে ১৪১৯ হিজরিতে মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাঁর গ্রন্থাবলির তালিকার জন্য দেখুন: যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ১/ ১৫৫, ১৫৬; আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/ ৯০, ৯১; এবং আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ২০৯।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
4 - التذكرة. وهو كتابنا هذا، وسوف يأتي الحديث عنه.

5 - عمدة الأدلة.

6 - المفردات.

7 - الإرشاد في أصول الدين.

8 - المنثور في الفقه.

9 - الإشارة، وهو مجلد لطيف اختصر فيه كتاب "الروايتين والوجهين".

10 - الانتصار لأهل الحديث.

11 - نفي التشبيه.

12 - مسألة الحرف والصوت. نشر في مجلة الدراسات الشرقية للمعهد الفرنسي بدمشق سنة 1971 م بتحقيق جورج المقدسي، وله نسخة خطية بمكتبة الظاهرية بمكتبة الأسد بدمشق تحت رقم "245" حديث.

13 - الجدل على طريقة الفقهاء. طبع أكثر من مرة.

14 - مسائل مشكلة في آيات من القرآن.

15 - تهذيب النفس.

16 - تفضيل العبادات على نعيم الجنات.

17 - المجالس النظريات.

18 - رؤوس المسائل في الفقه.
4 - আত-তাযকিরাহ। এটি আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থটি, অচিরেই এটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

5 - উমদাতুল আদিল্লাহ।

6 - আল-মুফরাদাত।

7 - আল-ইরশাদ ফি উসুলিদ দিন।

8 - আল-মানসুর ফিল ফিকহ।

9 - আল-ইশারা; এটি একটি ছোট খণ্ড যাতে তিনি "আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন" গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন।

10 - আল-ইনতিসার লি-আহলিল হাদিস।

11 - নাফিয়ুত তাশবিহ।

12 - মাসআলাতুল হারফি ওয়াস সাউত। এটি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কের ফরাসি ইনস্টিটিউটের 'মাজাল্লাত আদ-দিরাসাত আশ-শারকিয়্যাহ'-তে জর্জ মাকদিসির সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে। দামেস্কের আসাদ লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে "২৪৫" হাদিস নম্বরের অধীনে এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।

13 - আল-জাদাল আলা তরিকাতিল ফুকাহা। এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে।

14 - মাসাইলুন মুশকিলাতুন ফি আয়াতিম মিনাল কুরআন।

15 - তাহযিবুন নাফস।

16 - তাফদিলুল ইবাদাতি আলা নায়িমিল জান্নাত।

17 - আল-মাজালিসুন নাজারিয়্যাত।

18 - রুউসুল মাসাইল ফিল ফিকহ।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌وفاته:

توفي ابن عقيل رحمه الله بكرة الجمعة، ثاني عشر من جمادى الأولى، سنة ثلاث عشرة وخمس مئة، وصُليّ عليه في جامعي القصر والمنصور. وكان الإمام عليه في جامع القصر ابن شافع، وكان الجمع يفوت الإحصاء، قال ابن ناصر: حزرتهم بثلاث مئة ألف. ودفن في دكة قبر الإمام أحمد رحمه الله (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: ذيل طبقات الحنابلة 1/ 162، وسير أعلام النبلاء 19/ 447، والمقصد الأرشد 2/ 248، والمنهج الأحمد 3/ 96، 97، وشذرات الذهب 6/ 58.
তাঁর মৃত্যু:

ইবনে আকিল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৫১৩ হিজরির ১২ই জুমাদাল উলা শুক্রবার সকালে ইন্তেকাল করেন। কাসর এবং মানসুর—উভয় জামে মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। জামে কাসর-এ তাঁর জানাজার ইমাম ছিলেন ইবনে শাফি। মানুষের সমাবেশ এত অধিক ছিল যে তা গণনা করা সম্ভব ছিল না; ইবনে নাসের বলেন: আমি তাঁদের সংখ্যা তিন লক্ষ হিসেবে অনুমান করেছি। তাঁকে ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর কবরের চত্বরে (দাক্কা) দাফন করা হয় (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: যাইল তবাকাতুল হানাবিলা ১/১৬২, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৯/৪৪৭, আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/২৪৮, আল-মানহাজুল আহমাদ ৩/৯৬, ৯৭, এবং শাযারাতুয যাহাব ৬/৫৮।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌وصف النسخة الخطية

اعتمدت في تحقيق هذا الكتاب على نسخة فريدة لم أقف على غيرها وهي محفوظة في المكتبة الظاهرية بدمشق تحت رقم (87) فقه حنبلي، وعدد أوراقها 246 ورقة، وناسخها لم يتبين لي اسمه لعدم وضوحه بصورة المخطوط، وتاريخ نسخها 20/ 7/ 621 هـ، وقد أصابتها رطوبة أذهبت بعض الأسطر في مواضع متعددة من الكتاب، كما أنه يوجد سقط يسير في بعض الصفحات وترقيمها فيه خلل كبير قمت بإصلاحه.

ويوجد لهذه النسخة صورة على مكروفلم بمكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، وكذلك صورة بمعهد البحوث والدراسات الإسلامية بجامعة أم القرى بمكة المكرمة.
পাণ্ডুলিপির বিবরণ

এই গ্রন্থটির সম্পাদনায় (তাহকীক) আমি একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা ছাড়া অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি আমি খুঁজে পাইনি। এটি দামেস্কের জাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে ৮৭ নম্বর হাম্বলি ফিকহ বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৪৬টি। পাণ্ডুলিপির কপিতে অস্পষ্টতার কারণে এর লিপিকারের নাম আমার কাছে প্রতীয়মান হয়নি। এর অনুলিপি তৈরির তারিখ ২০/০৭/৬২১ হিজরি। পাণ্ডুলিপিটি আর্দ্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে কিছু পংক্তি মুছে গেছে। এছাড়া কিছু পৃষ্ঠায় সামান্য বিচ্যুতি রয়েছে এবং এর পৃষ্ঠা বিন্যাসে বড় ধরনের ত্রুটি ছিল যা আমি সংশোধন করেছি।

রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে এই পাণ্ডুলিপির একটি মাইক্রোফিল্ম কপি রয়েছে। অনুরূপভাবে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি গবেষণা ও অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটেও এর একটি অনুলিপি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌تحقيق الكتاب

قمت بتحقيق الكتاب على النحو التالي:

1 - نسخت الكتاب مراعياً في ذلك قواعد الإملاء وعلامات الترقيم الحديثة، وذلك بعد ترتيب أوراقه المختلفة، وذلك لأن الترقيم غير سليم.

2 - عزوت الآيات القرآنية، وذلك بذكر اسم السورة ورقم الآية.

3 - خرجت الأحاديث النبوية والآثار في كتب السنّة وفي الغالب أذكر الحكم على الحديث إذا لم يكن في الصحيحين.

4 - شرحت الكلمات الغريبة.

5 - قمت ببيان الذهب عند الحنابلة في الروايات التي أطلقها المؤلف، وكذلك التي نص على أنها الصحيح من الذهب.

6 - ختمت الكتاب بفهارس فنية مختلفة.
‌গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা

আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছি:

১ - আধুনিক বানানরীতি ও বিরামচিহ্ন অনুসরণ করে আমি গ্রন্থটি প্রতিলিপি করেছি। এর অগোছালো পাতাগুলো বিন্যস্ত করার পর এটি সম্পন্ন করা হয়েছে, কারণ পূর্বের পৃষ্ঠাসংখ্যা সঠিক ছিল না।

২ - আমি কুরআনের আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ করেছি এবং এক্ষেত্রে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।

৩ - আমি সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ হতে হাদিস ও আছারসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি এবং হাদিসটি যদি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ না থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি হাদিসটির হুকুম বা মান উল্লেখ করেছি।

৪ - আমি দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

৫ - লেখক যে সকল বর্ণনা সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন এবং যেগুলোকে তিনি মাজহাবের সঠিক অভিমত হিসেবে গণ্য করেছেন, আমি সেগুলোর ক্ষেত্রে হাম্বলি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য অবস্থান স্পষ্ট করেছি।

৬ - বিভিন্ন তাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র সংযোজনের মাধ্যমে আমি গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
نماذج من صور المخطوط
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহের নমুনা
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
التَّذكرَةَ

في الفِقهِ

عَلى مَذهَب الإمَام أحمد بَن محَمَّد بن حَنَبل

تصنيف

أبي الوفَاء عَلي بن عَقيل بن محمّد بنَ عقيل

البغدَادي الحَنبَلي

المتوفى سنة 513 هـ

تحقيق وَتَعليق:

الدّكتور نَاصِر بن سُعُود بن عَبد الله السَّلَامَة

القَاضِي بمَحكمَة عَفيف
আত-তাজকিরাহ

ফিকহ শাস্ত্র বিষয়ক

ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী

রচনায়

আবুল ওয়াফা আলী বিন আকিল বিন মুহাম্মাদ বিন আকিল

আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী

মৃত্যু: ৫১৩ হিজরী

তাহকীক ও টীকা প্রদান:

ডক্টর নাসির বিন সুউদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সালামাহ

বিচারক, আফিফ আদালত
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين [] (1) لأبواب الفقه [] (1) ويسهل حفظه فأجبتك إلى ذلك مؤملاً من الله بلوغ غرضك، وحسن التوفيق في ذلك، وهو ولي ذلك.

 

‌‌كتاب الطهارة

‌‌باب المياه

قال الله سبحانه وتعالى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا} (2)

الماء في أصل خلقته طاهر مطهر يزيل الأحداث والأنجاس ما لم يخالطه شيء، وما يخالطه على ثلاثة أضراب: ما يوافقه {2/ أ} {} (1)

الضرب الثاني: {} (1) المائعات والزعفران {} (1) والجامدات، فإذا غيره سلبه الطهورية فصار الماء لا يرفع حدثاً ولا يزيل نجساً في أصح الروايتين (3).

الضرب الثالث: ما خالفه في الطهارة والتطهير وهي الأنجاس، فإذا خالطته وهو دون القلتين، أو غيرته وكان قلتين فصاعداً سلبته الطهارة والتطهير.

 

‌‌فصل

فأما ما لا ينفك عن الماء مثل الطحلب وورق الشجر وقرار الماء إذا انفصل

--------------------------------------------

(1) ما بين المعكوفين لم يتضح بالمخطوط من جراء رطوبة أصابته.

(2) سورة الفرقان "48".

(3) وهو المذهب. انظر الإنصاف 1/ 32.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। [] (১) ফিকহ-এর অধ্যায়সমূহের জন্য [] (১) এবং এটি মুখস্থ করা সহজ করবে। তাই আমি আল্লাহর নিকট আপনার উদ্দেশ্য পূরণ এবং এই বিষয়ে উত্তম তাওফীক লাভের আশা করে আপনার আবেদনে সাড়া দিয়েছি; আর তিনি-ই এর অভিভাবক।

 

‌‌পবিত্রতা বিষয়ক গ্রন্থ

‌‌পানি বিষয়ক পরিচ্ছেদ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {এবং আমি আকাশ থেকে বিশুদ্ধ পানি বর্ষণ করেছি} (২)

পানি তার সৃষ্টিগত মূল অবস্থায় পবিত্র ও পবিত্রকারী, যা ওজু-গোসল ভঙ্গকারী অপবিত্রতা ও নাপাকি দূর করে যতক্ষণ না তাতে অন্য কিছু মিশে যায়। পানির সাথে যা মিশে যায় তা তিন প্রকার: প্রথম প্রকার যা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ {২/ ক} {} (১)

দ্বিতীয় প্রকার: {} (১) তরল পদার্থসমূহ, জাফরান {} (১) এবং কঠিন বস্তুসমূহ। সুতরাং এগুলো যদি পানিকে পরিবর্তিত করে দেয়, তবে তা পানির পবিত্রকারী হওয়ার গুণটি ছিনিয়ে নেয়। ফলে সর্বাধিক বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী সেই পানি আর কোনো হাদাস (অপবিত্রতা) দূর করতে পারে না এবং নাপাকিও দূর করতে পারে না (৩)।

তৃতীয় প্রকার: যা পবিত্রতা ও পবিত্রকারী হওয়ার গুণে পানির বিপরীত, আর তা হলো নাপাকি। সুতরাং নাপাকি যদি পানির সাথে মিশে যায় এবং পানির পরিমাণ দুই কুল্লার কম হয়, অথবা যদি তা পানিকে পরিবর্তিত করে দেয় এবং পানির পরিমাণ দুই কুল্লা বা তার বেশি হয়, তবে তা পানির পবিত্রতা ও পবিত্রকারী হওয়ার গুণটি বিলুপ্ত করে দেয়।

 

‌‌অনুচ্ছেদ

আর যা পানি থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়, যেমন শৈবাল, গাছের পাতা এবং পানির তলানি যা পানির সাথে মিশে থাকে যখন তা বিচ্ছিন্ন হয়

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশগুলো পাণ্ডুলিপিতে আর্দ্রতার কারণে স্পষ্ট নয়।

(২) সূরা আল-ফুরকান "৪৮"।

(৩) আর এটিই মাযহাবের সিদ্ধান্ত। দেখুন: আল-ইনসাফ ১/ ৩২।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
حمأة، والعود {14/ ب} التي يجري الماء عليها، كالنفط، والقار، والكبريت فلا يسلب الماء تطهيره، لأنه لا يمكن التحرز منه، ولا حفظ الماء عنه.

فإن نقلت هذه الأشياء عن أماكنها ومعادنها وطرحت في الماء كانت بمثابة الزعفران.

وسائر ما تقدم من المائعات التي لا يجوز الوضوء بها، والجامدات التي لا يجوز التيمم بها تسلب الماء تطهيره.

 

‌‌‌‌‌‌فصل

فأما الأشياء التي تتماسك عن المخالطة إما لصلابتها كالعود، والعنبر، والكافور، أو لخفتها وقهر الماء لها عن الانتشار، كالدهن، فإذا حصلت في الماء فإن لم يجد ريحها لم تمنع تطهيره، لأنها غير مخالطة لكنها مجاورة، فإن سحقت أو طحنت حتى صارت كالذريرة (1)، أو الدقيق {15/ أ} وطرحت في الماء كان حكمها حكم الزعفران والدقيق إذا غيرت إحدى أوصافه أزالت تطهيره

 

فصل

فأما إذا طبخ في الماء الباقلاء، والحمص، والأرز، والعدس، وما شاكل ذلك من الحبوب لم يجز الوضوء به، ولا إزالة النجاسة به، رواية واحدة، لأنه استحال مرقةً وأدما.

 

فصل

فإن تغير بالتراب، أو الرمل، أو طين الحُدّ، أو الأطيان كلها على اختلاف ألونها وأنواعها فهو على حكم أصله من طهارته وتطهيره سواء كان

--------------------------------------------

(1) الذريرة: هي الطيب المسحوق. انظر: المغني 3/ 388.
কাদা এবং কাষ্ঠখণ্ড {১৪/ খ} যার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়, যেমন পেট্রোলিয়াম, আলকাতরা এবং গন্ধক; এগুলো পানির পবিত্রতা বিধানের ক্ষমতা কেড়ে নেয় না। কারণ এগুলো থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় এবং এগুলো থেকে পানিকে রক্ষা করাও দুষ্কর।

যদি এই বস্তুগুলোকে তাদের মূল স্থান বা খনি থেকে সরিয়ে এনে পানিতে নিক্ষেপ করা হয়, তবে তা জাফরানের মতো গণ্য হবে।

পূর্বে উল্লেখিত অন্যান্য তরল পদার্থ যা দিয়ে ওযু করা বৈধ নয় এবং কঠিন পদার্থ যা দিয়ে তায়াম্মুম করা বৈধ নয়, সেগুলো পানির পবিত্রতা বিধানের ক্ষমতা বিলোপ করে।

 

‌‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

আর যেসব বস্তু কাঠিন্যের কারণে পানির সাথে পুরোপুরি মিশে যায় না যেমন কাষ্ঠখণ্ড, আম্বর এবং কর্পূর; অথবা তাদের হালকা হওয়ার কারণে এবং পানির ওপর ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতার কারণে পানির সাথে মিশে যায় না যেমন তেল; সেগুলো যদি পানিতে পতিত হয় এবং তার ঘ্রাণ পাওয়া না যায়, তবে তা পানির পবিত্রতা বিধানে বাধা দেয় না। কারণ সেগুলো পানির সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে যায় না বরং পাশাপাশি অবস্থান করে। কিন্তু যদি সেগুলোকে চূর্ণ করা হয় বা পিষে ফেলা হয় যতক্ষণ না তা সুগন্ধি গুঁড়ো (১) অথবা ময়দার {১৫/ ক} মতো হয় এবং পানিতে নিক্ষেপ করা হয়, তবে তার বিধান জাফরান ও ময়দার বিধানের অনুরূপ হবে; যদি তা পানির কোনো একটি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে দেয়, তবে তা পানির পবিত্রতা বিধানের ক্ষমতা দূর করে দেবে।

 

পরিচ্ছেদ

আর যদি পানিতে শিম, ছোলা, চাল, মসুর ডাল এবং এই জাতীয় শস্য রান্না করা হয়, তবে তা দিয়ে ওযু করা বৈধ হবে না এবং নাপাকি দূর করাও বৈধ হবে না—এটিই একমাত্র বর্ণনা। কারণ তা ঝোল বা ব্যঞ্জনে রূপান্তরিত হয়ে গেছে।

 

পরিচ্ছেদ

যদি পানি মাটি, বালু বা কালচে কাদা অথবা বিভিন্ন রঙ ও প্রকারের সকল প্রকার মাটির কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা তার মূল বিধান অনুযায়ী পবিত্র এবং পবিত্রকারী হিসেবেই গণ্য হবে, চাই তা...

--------------------------------------------

(১) যারীরাহ: এটি হলো চূর্ণকৃত সুগন্ধি। দেখুন: আল-মুগনি ৩/ ৩৮৮।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
تغيره به وهو قرار له، أو أخذ وطرح في الماء، لأن التراب طهور، والماء طهور، ولهذا يستباح به الصلاة عند عدم الماء.

 

‌‌فصل

والماء الجاري على عضو المتطهر لا يخلو من خمسة أحوال:

إما أن {15/ ب} ينفصل عن طهارة حدث فيكون طاهراً في نفسه غير مطهر لغيره لا يرفع حدثاً ولا يزيل نجساً.

أو ينفصل عن تجديد وضوء ففيه روايتان: إحداهما: يكون طاهراً مطهراً، لأنه لم يرفع حدثاً ولا أزال نجساً، ولا تغير بغير طهور. (1)

والثانية: يكون مستعملاً فيزول تطهيره، لأنه انفصل عن تطهير شرعي، فهو كما لو توضئ به، أو ينفصل عن طهارة ندب واستحباب، كغسل الجمعة، والعيدين، والإحرام، وأغسال الحج كلها فيكون على الروايتين المتقدمتين في التجديد.

أو ينفصل عن إزالة نجاسة فتنظر، فإن انفصل قبل إكمال العدد على قولنا باعتباره، أو انفصل بعد أن كمل العدد لكن قبل الحكم بطهارة المحل، أو انفصل بعد العدد {16/ أ} وبعد الحكم بطهارة المحل، لكنه انفصل متغيراً فيكون في هذه الأحوال الثلاثة نجساً.

وإن انفصل غير متغير وبعد إكمال العدد والحكم بطهارة المحل فهو على روايتين: إحداهما: إنه نجس، لأن النجاسة التي كانت على المحل قبل الغسلة انفصلت إلى الماء، فصار الماء ناقلاً للنجاسة عن المحل إلى نفسه إذ لا واسطة بينهما.

--------------------------------------------

(1) هذه الرواية هي المذهب. انظر: الإنصاف 1/ 37.
তা দ্বারা এতে পরিবর্তন ঘটে এবং তা এর জন্য স্থির অবস্থায় থাকে, অথবা পানি গ্রহণ করে তাতে নিক্ষেপ করা হয়, কারণ মাটি পবিত্রকারী এবং পানিও পবিত্রকারী। এই কারণেই পানির অনুপস্থিতিতে তা দ্বারা সালাত বৈধ করা হয়।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

পবিত্রতা অর্জনকারীর অঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত পানি পাঁচটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়:

হয় সেটি {১৫/ খ} অপবিত্রতা (হাদাস) থেকে পবিত্রতা অর্জনের পর আলাদা হবে, এমতাবস্থায় তা নিজে পবিত্র হলেও অন্যকে পবিত্রকারী নয়; তা কোনো হাদাস দূর করে না এবং কোনো নাজাসাতও (নাপাকি) দূরীভূত করে না।

অথবা অযু নবায়নের মাধ্যমে আলাদা হবে। এ ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে: প্রথমটি হলো: সেটি পবিত্র ও পবিত্রকারী হবে, কারণ তা কোনো হাদাস দূর করেনি এবং কোনো নাজাসাতও অপসারিত করেনি, আর কোনো অপবিত্রকারী নয় এমন বস্তু দ্বারাও পরিবর্তিত হয়নি। (১)

দ্বিতীয়টি হলো: সেটি ব্যবহৃত (মুসতামাল) হবে, ফলে তার পবিত্র করার ক্ষমতা চলে যাবে; কারণ তা শরয়ি পবিত্রতা অর্জন থেকে আলাদা হয়েছে। সুতরাং এটি এমন যেন তা দিয়ে অযু করা হয়েছে। অথবা সেটি কোনো নফল ও মুস্তাহাব পবিত্রতা অর্জন থেকে আলাদা হবে, যেমন জুমার গোসল, দুই ঈদের গোসল, ইহরামের গোসল এবং হজের সকল গোসল। এমতাবস্থায় তা অযু নবায়নের ক্ষেত্রে উল্লিখিত পূর্ববর্তী দুটি বর্ণনার অনুরূপ হবে।

অথবা কোনো নাজাসাত (নাপাকি) দূর করার মাধ্যমে আলাদা হবে। তখন দেখতে হবে, যদি আমাদের মতানুসারে প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই তা আলাদা হয়, অথবা সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার পর কিন্তু স্থানটি পবিত্র হওয়ার ফয়সালার পূর্বে আলাদা হয়, অথবা সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার পর {১৬/ ক} এবং স্থানটি পবিত্র হওয়ার ফয়সালার পর আলাদা হয় কিন্তু তা পরিবর্তিত অবস্থায় থাকে—তবে এই তিন অবস্থায় তা নাপাক গণ্য হবে।

আর যদি তা অপরিবর্তিত অবস্থায় আলাদা হয় এবং সংখ্যা পূর্ণ হওয়ার ও স্থানটি পবিত্র হওয়ার ফয়সালার পর হয়, তবে সে ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে: প্রথমটি হলো: সেটি নাপাক; কারণ ধোয়ার পূর্বে স্থানটিতে যে নাজাসাত ছিল তা পানির সাথে মিশে আলাদা হয়ে গেছে। ফলে পানি সেই স্থান থেকে নিজের মাঝে নাজাসাত স্থানান্তরকারী হিসেবে গণ্য হবে, যেহেতু তাদের উভয়ের মাঝে কোনো মাধ্যম নেই।

--------------------------------------------

(১) এই বর্ণনাটিই হলো মাযহাব। দেখুন: আল-ইনসাফ ১/ ৩৭।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
والثانية: أنه طاهر (1)، لأن البلل الذي بقى في الثوب جزء منه وهو طاهر، فإذا كان بعضه طاهراً كان جميعه طاهراً، وهل يكون مطهراً؟ يحتمل وجهين (2): أحدهما: أنه طاهر مطهر، لأنه ما لاقى نجاسة لم يحكم بنجاسته بملاقاتها فكان طاهراً مطهراً، كالقلتين إذا حصلت فيها نجاسة ولم تتغير بها، أو من‌‌‌‌فصل عن استعمال في تبرد وتنظيف، {16/ ب} فيكون على حكم أصله من طهارته وتطهيره.

فصل

والماء إذا وردت عليه النجاسة على ضربين: جارٍ، وراكد، فالراكد ضربان: قليل، وكثير، فالقليل ما كان دون القلتين، والكثير ما بلغ القلتين، فإن وردت على القليل نجسته سواء غيرته أو لم تغيره، وإن وردت على الكثير نظرت، فإن غيرته نجس سواء غيرت لونه، أو طعمه، أو ريحه، وإن لم تغير أحد أوصافه كان الماء على حكم أصله طاهراً مطهراً.

 

فصل

فأما الجاري فإن كانت النجاسة عيناً تسير معه فالجرية التي قبل الجرية التي فيها النجاسة طاهرة، لأنها لم تصل إلى النجاسة، والجرية التي أمامها طاهرة، لأن النجاسة لم تصل {17/ أ} إليها، وأما الجرية التي فيها النجاسة فإن كانت قلتين فصاعداً غير متغيرة بالنجاسة فهي طاهرة، وإن كانت متغيرة بها، أو كانت دون القلتين فهي نجسة سواء كانت متغيرة أو غير متغيرة على ما ذكرنا في الماء الراكد، والجرية هي ما تحت النجاسة من الماء وفوقها، وعن يمينها وشمالها.

--------------------------------------------

(1) هذا هو المذهب. انظر: الإنصاف 1/ 45.

(2) الوجه الثاني أنه لا يكون طهوراً، وهو المذهب. انظر الإنصاف 1/ 47.
দ্বিতীয়ত: এটি পবিত্র (১), কারণ কাপড়ে যে আর্দ্রতা অবশিষ্ট থাকে তা কাপড়েরই অংশ এবং তা পবিত্র; তাই যখন এর অংশবিশেষ পবিত্র, তখন এর সম্পূর্ণটাই পবিত্র। আর এটি কি পবিত্রকারী হবে? এতে দুটি সম্ভাব্য মত (২) রয়েছে: তার একটি হলো, এটি পবিত্র ও পবিত্রকারী, কেননা যা নাপাকির সংস্পর্শে এসেছে অথচ সেই সংস্পর্শের কারণে একে নাপাক বলে ফয়সালা দেওয়া হয়নি, তা পবিত্র ও পবিত্রকারী থাকে; যেমন দুই কুল্লা পানি যাতে নাপাকি পড়েছে অথচ তার কারণে পরিবর্তিত হয়নি, অথবা যা ঠান্ডা হওয়া বা পরিষ্কার হওয়ার জন্য ব্যবহারের পর পৃথক হয়েছে, {১৬/ খ} ফলে তা তার মূল বিধান অনুযায়ী পবিত্র ও পবিত্রকারী হিসেবেই গণ্য হবে।

পরিচ্ছেদ

পানিতে নাপাকি পতিত হলে তা দুই প্রকার: বহমান এবং স্থির। স্থির পানি আবার দুই প্রকার: অল্প এবং অধিক। অল্প হলো যা দুই কুল্লার কম, আর অধিক হলো যা দুই কুল্লা পর্যন্ত পৌঁছেছে। যদি অল্প পানিতে নাপাকি পতিত হয়, তবে তা পানিকে নাপাক করে দেবে, চাই তা পানির গুণাগুণ পরিবর্তন করুক বা না করুক। আর যদি অধিক পানিতে (নাপাকি) পতিত হয়, তবে দেখতে হবে; যদি তা পরিবর্তন করে ফেলে তবে তা নাপাক, চাই তা পানির রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধ পরিবর্তন করুক। আর যদি এর কোনো একটি বৈশিষ্ট্যকেও পরিবর্তন না করে, তবে পানি তার মূল বিধান অনুযায়ী পবিত্র ও পবিত্রকারী হিসেবেই থাকবে।

 

পরিচ্ছেদ

বহমান পানির ক্ষেত্রে যদি নাপাক বস্তুটি পানির সাথে প্রবাহিত হয়, তবে নাপাকিযুক্ত স্রোতের পূর্ববর্তী স্রোতটি পবিত্র, কারণ তা নাপাকি পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আর তার সামনের দিকের স্রোতটিও পবিত্র, কারণ নাপাকি তার {১৭/ ক} পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আর যে স্রোতে নাপাকি রয়েছে, তা যদি দুই কুল্লা বা তার বেশি হয় এবং নাপাকির কারণে পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্র। কিন্তু যদি তা নাপাকির কারণে পরিবর্তিত হয় অথবা দুই কুল্লার কম হয়, তবে তা নাপাক; চাই তা পরিবর্তিত হোক বা না হোক—যেভাবে আমরা স্থির পানির ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। আর স্রোত হলো নাপাকির নিচে, উপরে, ডানে এবং বামে থাকা পানি।

--------------------------------------------

(১) এটিই মাযহাব। দেখুন: আল-ইনসাফ ১/ ৪৫।

(২) দ্বিতীয় মতটি হলো, এটি পবিত্রকারী (তহুর) হবে না, আর এটিই মাযহাব। দেখুন: আল-ইনসাফ ১/ ৪৭।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌‌‌‌‌فصل

فإن كانت النجاسة على جانب النهر والماء يجري عليها فاعتبر كل جارية بنفسها، فإن مرت على النجاسة وهي دون القلتين نجست وانفصلت عنها نجسة، وإن كانت قلتين فصاعداً وتغيرت نجست وانفصلت نجسة أيضاً.

وإن انفصلت غير متغيرة كانت طاهرة.

 

فصل

فإن كانت كل جرية نجسة واجتمعت في محلة كان الكل نجساً {17/ ب} لأن من أصلنا أن النجس إذا انضم إلى نجس لا يحدث بينهما طهارة وإن كثره.

 

فصل

فإن انفصل الماء عن وهدة في النهر فيها نجاسة نظرت، فإن كان ماء الوهدة دون القلتين، أو كان قلتين لكنه متغير بها نظرت إلى الجرية، فإن كانت دون القلتين انفصلت نجسة، لأن ماء الوهدة كعين نجسه مرت عليها جرية قليلة.

وإن كانت الجرية قلتين نظرت، فإن تغيرت بماء الوهدة فهي نجسة، وإن لم تتغير انفصلت طاهرة.

 

‌‌فصل

في تطهير الماء النجس

وهو على ثلاثة أضرب: أن يكون وفق القلتين، أو زيادة على القلتين، أو دون القلتين، فإن كان وفق القلتين فتطهيره بأحد ثلاثة أشياء: إما أن يكاثر
‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

যদি নাপাকি নদীর কোনো এক পাশে থাকে এবং পানি তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তবে প্রতিটি প্রবাহকে স্বতন্ত্রভাবে বিবেচনা করা হবে। সুতরাং পানি যদি নাপাকির ওপর দিয়ে বয়ে যায় এবং তা পরিমাণে দুই কুল্লার কম হয়, তবে তা নাপাক হয়ে যাবে এবং নাপাক হিসেবেই বিচ্ছিন্ন হবে। আর যদি তা দুই কুল্লা বা তার বেশি হয় এবং (নাপাকির কারণে) পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তাও নাপাক হবে এবং নাপাক হিসেবেই বিচ্ছিন্ন হবে।

আর যদি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা পবিত্র হবে।

 

পরিচ্ছেদ

যদি প্রতিটি প্রবাহ নাপাক হয় এবং তা এক স্থানে একত্রিত হয়, তবে সবটুকুই নাপাক হবে {১৭/ খ}। কারণ আমাদের মূলনীতি হলো—নাপাক যখন অন্য নাপাকের সাথে যুক্ত হয়, তখন তাদের মধ্যে পবিত্রতা সৃষ্টি হয় না, যদিও তা পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।

 

পরিচ্ছেদ

যদি পানি নদীর এমন কোনো গর্ত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসে যাতে নাপাকি রয়েছে, তবে লক্ষ্য করতে হবে—যদি গর্তের পানি দুই কুল্লার কম হয় অথবা দুই কুল্লা হয় কিন্তু নাপাকির কারণে পরিবর্তিত থাকে, তবে প্রবাহমান পানির দিকে লক্ষ্য করা হবে। যদি তা দুই কুল্লার কম হয়, তবে তা নাপাক হিসেবে বিচ্ছিন্ন হবে। কারণ গর্তের পানিটি একটি মূল নাপাক বস্তুর মতো, যার ওপর দিয়ে অল্প পানি প্রবাহিত হয়েছে।

আর যদি প্রবাহটি দুই কুল্লা হয়, তবে লক্ষ্য করা হবে—যদি গর্তের পানির কারণে তা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা নাপাক। আর যদি পরিবর্তিত না হয়, তবে তা পবিত্র হিসেবে বিচ্ছিন্ন হবে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

নাপাক পানি পবিত্র করা প্রসঙ্গে

এটি তিন প্রকার: পানি দুই কুল্লার সমান হওয়া, অথবা দুই কুল্লার বেশি হওয়া, অথবা দুই কুল্লার কম হওয়া। যদি পানি দুই কুল্লার সমান হয়, তবে তা তিন পদ্ধতির কোনো একটির মাধ্যমে পবিত্র করা সম্ভব: হয় পানি বৃদ্ধির মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بقلتين طاهرة فيزول تغيره، أو ينبع {18/ أ} فيزيد ذلك القدر فيزول تغيره، أو يترك فيزول تغيره بطول المكث.

فأما إن كان أكثر من قلتين كان تطهيره بأحد الثلاثة المذكورة في وفق القلتين وزيد عليه أن ينزح منه ماء ويبقى منه قلتان غير متغيرة.

فإن كان دون القلتين فلا يطهر إلا بشيء واحد وهو المكاثرة بالقلتين، لأن نجاسته بالقلة لا تزول إلا بالكثرة.

 

‌‌فصل

في الحيوان إذا مات في الماء فلا يخلو إما أن يكون حيوان بحر فجميعه ينجس الماء القليل إذا مات فيه سوى السمك، لأنه طاهر بعد الموت، أو ما لا نفس له سائلة، كالعلوق، والسرطانات.

أو يكون حيوان بر فجميعه لا ينجس إلا القليل إذا حصل فيه، والكثير إذا غير أحد أوصافه {18/ ب} إلا الآدمي في إحدى الروايتين، والجراد رواية واحدة، وكل حيوان لا نفس له سائلة كالذباب، والعقرب، والصرر.

 

‌‌فصل

في الماء الذي يشرب منه الحيوان

وذلك على خمسة أضرب: طاهر رواية واحدة، وهو الآدمي والمأكول، وما لا يمكن الاحتراز منه، فالمأكول كالشاة، والبقرة، وما شاكل ذلك، وما لا يمكن الاحتراز منه كالسنور وما دونها في الخلقة.

وما هو نجس رواية واحدة، وهو الكلب والخنزير.
দুই কুল্লা পবিত্র পানি দ্বারা, ফলে তার পরিবর্তন (নাপাকির চিহ্ন) দূর হয়ে যায়, অথবা (পানি) যদি উৎসারিত হয় {১৮/ ক} ফলে সেই পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং তার পরিবর্তন দূর হয়ে যায়, অথবা যদি রেখে দেওয়া হয় ফলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে তার পরিবর্তন দূর হয়ে যায়।

আর যদি (পানি) দুই কুল্লার বেশি হয়, তবে তা পবিত্র করার পদ্ধতি হলো দুই কুল্লার ক্ষেত্রে উল্লিখিত তিনটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে, এবং এর সাথে অতিরিক্ত কাজ হলো সেখান থেকে কিছু পানি সেচে ফেলা হবে এবং অপরিবর্তিত অবস্থায় দুই কুল্লা পরিমাণ পানি অবশিষ্ট থাকবে।

আর যদি তা দুই কুল্লার কম হয়, তবে তা কেবল একটি উপায়েই পবিত্র হবে, আর তা হলো দুই কুল্লা পরিমাণ পানি মিশিয়ে অধিক করা; কেননা পানির অল্পতার কারণে সৃষ্ট অপবিত্রতা পানির আধিক্য ছাড়া দূর হয় না।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

পানির মধ্যে প্রাণী মারা যাওয়ার বিষয়ে: (বিষয়টি এমন যে,) তা হয় সামুদ্রিক প্রাণী হবে; সেক্ষেত্রে মাছ ব্যতীত বাকি সব প্রাণী অল্প পানিতে মারা গেলে পানিকে নাপাক করে দেয়, কারণ মাছ মৃত্যুর পরও পবিত্র। অথবা এমন প্রাণী হবে যার প্রবাহিত রক্ত নেই, যেমন জোঁক এবং কাঁকড়া।

অথবা তা স্থলচর প্রাণী হবে; সেক্ষেত্রে মানুষ—দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী, পঙ্গপাল—একমাত্র বর্ণনা অনুযায়ী, এবং প্রবাহিত রক্তহীন সকল প্রাণী যেমন মাছি, বিচ্ছু ও ঝিঁঝিঁ পোকা ব্যতীত অন্য সব প্রাণী তাতে পড়লে কেবল অল্প পানিকে নাপাক করে, আর বেশি পানির ক্ষেত্রে যদি তার কোনো একটি গুণ পরিবর্তন করে দেয় {১৮/ খ}।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

যেসব প্রাণী পানি পান করে সেটির (উচ্ছিষ্ট) প্রসঙ্গে

আর এটি পাঁচ প্রকার: (প্রথমত) যা একমাত্র বর্ণনা অনুযায়ী পবিত্র, আর তা হলো মানুষ, ভক্ষণযোগ্য প্রাণী এবং যেখান থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। ভক্ষণযোগ্য প্রাণী যেমন ছাগল, গরু এবং এই জাতীয় প্রাণী। আর যেখান থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয় যেমন বিড়াল এবং শারীরিক গঠনে এর চেয়ে ছোট প্রাণী।

আর যা একমাত্র বর্ণনা অনুযায়ী নাপাক, আর তা হলো কুকুর ও শুকর।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وما في نجاسته روايتان: السباع، والبهائم، وجوارح الطير، إحداهما: إنها طاهرة، والثانية: إنها نجسة. (1)

وما في المشتك في سورها ونجاسته روايتان: وهو الحمار الأهلي، والبغل. وإذا قلنا: إنهما {19/ أ} مشكوك فيهما توضأ به وتيمم.

وما له حالتان، وهو الجلال من المأكولات، فسوره نجس قبل الحبس، طاهر بعد الحبس، وسنذكر قدر الحبس في كتاب الأطعمة إن شاء الله

 

‌‌‌‌فصل

والآدمي على ضربين: مسلم ومشرك.

فالمسلم طاهر الأواني، والسور، والثياب.

والمشرك على ضربين: كتابي لا يدين بالنجاسات، فهو كالمسلم في طهارة الأواني، والسور، والثياب.

وغير كتابي، وهم المجوس وعبدة الأوثان، فأوانيهم نجسة، فلا تستعمل في طهارة، ولا يتوضأ من أسوارهم، لأن ذبائحهم نجسة.

 

فصل

والأنجاس تختلف على أربعة أضرب:

ما يعفى عن يسيره رواية واحدة، وهو القيح، والدم، ويسيره ما لم يفحش في {19/ ب} النفس.

وما في العفو عن يسيره روايتان: المذي، والمني إذا قلنا: إنه نجس، وبول

--------------------------------------------

(1) هذه الرواية هي المذهب. انظر: المغني 1/ 66، والإنصاف 342
যে প্রাণীর নাপাক হওয়ার বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে: হিংস্র পশু, চতুষ্পদ জন্তু এবং শিকারি পাখি। এর একটি বর্ণনা হলো: এগুলো পবিত্র, আর দ্বিতীয়টি হলো: এগুলো অপবিত্র। (১)

আর যার উচ্ছিষ্ট নিয়ে সংশয় রয়েছে এবং নাপাক হওয়ার বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে: তা হলো গৃহপালিত গাধা এবং খচ্চর। যদি আমরা বলি যে, এ দুটির ব্যাপারে {১৯/ অ} সংশয় রয়েছে, তবে সে তা দিয়ে অজু করবে এবং তায়াম্মুমও করবে।

আর যার দুটি অবস্থা রয়েছে, তা হলো ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর মধ্যে 'জাল্লালাহ' (নাজাসাত ভক্ষণকারী প্রাণী); আবদ্ধ রাখার পূর্বে তার উচ্ছিষ্ট অপবিত্র, আর আবদ্ধ রাখার পর তা পবিত্র। আমরা খাদ্য অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ আবদ্ধ রাখার সময়সীমা উল্লেখ করব।

 

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

মানুষ দুই প্রকার: মুসলিম ও মুশরিক।

সুতরাং মুসলিমের পাত্রসমূহ, উচ্ছিষ্ট এবং পোশাক পবিত্র।

আর মুশরিক দুই প্রকার: কিতাবি (আহলে কিতাব), যারা নাপাকিকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে না; সে পাত্র, উচ্ছিষ্ট এবং পোশাকের পবিত্রতার ক্ষেত্রে মুসলিমের মতোই।

আর অ-কিতাবি, তারা হলো অগ্নিপূজক ও মূর্তিপূজক; তাদের পাত্রসমূহ অপবিত্র, তাই পবিত্রতা অর্জনে তা ব্যবহার করা যাবে না এবং তাদের উচ্ছিষ্ট দিয়ে অজু করা যাবে না, কারণ তাদের জবাইকৃত পশু অপবিত্র।

 

পরিচ্ছেদ

নাপাকি চার প্রকারে বিভক্ত:

যার সামান্য পরিমাণ ক্ষমাযোগ্য হওয়ার বিষয়ে একটিই বর্ণনা রয়েছে; আর তা হলো পুঁজ এবং রক্ত। এর সামান্য পরিমাণ বলতে যা {১৯/ ব} মনের কাছে অত্যধিক মনে না হয়।

আর যার সামান্য পরিমাণ ক্ষমাযোগ্য হওয়ার বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে: মযি এবং মনি (বীর্য)—যদি আমরা বলি যে তা অপবিত্র—এবং প্রস্রাব

--------------------------------------------

(১) এই বর্ণনাটিই হলো মাযহাব। দেখুন: আল-মুগনি ১/ ৬৬, এবং আল-ইনসাফ ৩৪২।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الخشاف، وريق البغل، والحمار وعرقهما، وروثهما، ويسير النبيذ.

وما لا يعفى عن يسيره رواية واحدة، وهو ما عدا ذلك من البول، والغائط، وسور الكلب، والخنزير.

وما يجب رشه بالماء دون غسله، وهو بول الغلام الذي لم يتغذ بالطعام.

 

‌‌فصل

ومحال الأنجاس تختلف: ما يجزئ في زوال حكمه للجامد، وهو محل الاستنجاء ما لم يعد المخرج، ولم تكن النجاسة أصابته من غيره. يجزئ فيه الأحجار فقط.

وما فيه روايتان: وهو {} (1) أحدهما: يزول حكمه بالدلك، والثانية: لا يزول إلا بالغسل.

وعنه رواية أخرى: إن كان بولاً أو غائطاً لم يزل إلا بالغسل، وغيرهما يجزئ فيه الدلك.

وما يجب فيه للجامد والمائع متعدداً، وهو {20/ أ} ولوغ الكلب يغسل سبعاً إحداهن بالتراب إذا كان إناءً، أو ثوباً يحتمل التراب.

وما يجب غسله سبعاً بالماء من غير تراب، وهو الثوب الرقيق في أصح الوجهين. (2)

وما في اعتبار العدد في غسله بالماء روايتان: وهو ما عدا الولوغ من غير تراب في أصح الوجهين.

--------------------------------------------

(1) كلمتان لم استطع قراءتهما

(2) انظر: الروايتين والوجهين 1/ 64، والمغني 1/ 75 والإنصاف 1/ 313.
বাদুড়, খচ্চর ও গাধার লালা ও তাদের ঘাম, তাদের বিষ্ঠা এবং সামান্য পরিমাণ নাবীজ।

আর যার সামান্য পরিমাণও ক্ষমাযোগ্য নয়—এক বর্ণনা অনুযায়ী—তা হলো এগুলো ব্যতীত অন্য সব প্রস্রাব, মল এবং কুকুর ও শূকরের উচ্ছিষ্ট।

আর যা ধৌত করা ছাড়া কেবল পানি ছিটিয়ে দেওয়া ওয়াজিব, তা হলো সেই বালকের প্রস্রাব যে এখনও খাদ্য গ্রহণ শুরু করেনি।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

নাপাকির স্থানসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে: যা কঠিন বস্তুর ক্ষেত্রে তার বিধান দূর করতে যথেষ্ট হয়, তা হলো ইস্তিনজার স্থান; যতক্ষণ না তা নির্গমন পথ অতিক্রম করে এবং অন্য কোনো নাপাকি তাতে না লাগে। সেক্ষেত্রে কেবল পাথর ব্যবহারই যথেষ্ট।

আর যাতে দুটি বর্ণনা রয়েছে: তা হলো {} (১) তার একটি হলো: ঘষার মাধ্যমে তার বিধান দূর হয়ে যাবে, আর দ্বিতীয়টি হলো: ধৌত করা ছাড়া তা দূর হবে না।

তাঁর থেকে অন্য একটি বর্ণনা হলো: যদি তা প্রস্রাব বা মল হয় তবে ধৌত করা ছাড়া দূর হবে না, আর এ দুটি ছাড়া অন্য কিছুর ক্ষেত্রে ঘষাই যথেষ্ট হবে।

আর কঠিন ও তরল বস্তুর ক্ষেত্রে যাতে একাধিকবার ধৌত করা ওয়াজিব, তা হলো {২০/ ক} কুকুরের চাটন; যা সাতবার ধৌত করতে হবে যার মধ্যে একবার মাটি দিয়ে, যদি তা কোনো পাত্র হয় অথবা এমন কাপড় হয় যা মাটি ব্যবহারের উপযোগী।

আর যা মাটি ছাড়া কেবল পানি দিয়ে সাতবার ধৌত করা ওয়াজিব, তা হলো পাতলা কাপড়—দুই অভিমতের মধ্যে অধিকতর সঠিকটি অনুযায়ী। (২)

আর পানি দিয়ে ধৌত করার ক্ষেত্রে সংখ্যা বিবেচনার ব্যাপারে যাতে দুটি বর্ণনা রয়েছে: তা হলো কুকুরের চাটন ব্যতীত অন্যান্য নাপাকি মাটি ছাড়া ধৌত করার ক্ষেত্রে—দুই অভিমতের মধ্যে অধিকতর সঠিকটি অনুযায়ী।

--------------------------------------------

(১) দুটি শব্দ যা আমি পড়তে পারিনি।

(২) দেখুন: আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাইন ১/৬৪, আল-মুগনি ১/৭৫ এবং আল-ইনসাফ ১/৩১৩।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وما لا يجب فيه إلا المكاثرة بالماء دفعة واحدة، وهي النجاسة على وجه الأرض.

ولا تطهر النجاسة بالاحتراق، ولا تطهر الأرض بالشمس، ولا تطهر الأدهان بالغسل، ولا يطهر مائع بالغسل سوى الزئبق.

 

‌‌فصل

في الإزالة

والإزالة تختلف باختلاف محلها في الغسل، فإن كان ثوباً وجب عصره عقيب كل غسلة، وإن كان إناءً، أو بدناً لم يجب إلا عدد إفاضة الماء عليه، ولا يطهر الثوب إلا بعصره بعد الغسل، وعصر كل ثوب على قدر الإمكان.

{12/ ب} {} (1)

 

‌‌فصل

في الأواني

الأواني {على ضربين منها} (2) ما يحرم استعماله، وما يباح، فأما ما يحرم استعماله على ضربين: ما يحرم لعينه، وما يحرم لغيره، فما يحرم لعينه على ضربين: طاهر، كأواني الذهب والفضة، والمضبب بهما.

وما يحرم وينجس، وهو ما كان من جلد الكلب والخنزير، والميتات.

وما يحرم لغيره: المغصوب، وما نجاسته جارية.

--------------------------------------------

(1) أربعة أسطر لم تتضح بالمخطوط من جراء رطوبة أصابته.

(2) ما بين المعكوفين لم يتضح بالمخطوط من جراء رطوبة أصابته ولعله ما أثبت.
আর যাতে একবারে প্রচুর পানি ঢেলে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু আবশ্যিক নয়, তা হলো জমিনের উপরিভাগের অপবিত্রতা।

আগুনের দহনে নাপাকি পবিত্র হয় না, সূর্যের তাপে জমিন পবিত্র হয় না, ধৌত করার মাধ্যমে তৈলাক্ত দ্রব্য পবিত্র হয় না এবং পারদ ছাড়া অন্য কোনো তরল পদার্থ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

নাপাকি দূরীকরণ প্রসঙ্গে

ধৌত করার ক্ষেত্রে স্থানভেদে নাপাকি দূর করার পদ্ধতি ভিন্ন হয়। যদি তা কাপড় হয়, তবে প্রতিবার ধৌত করার পর তা নিংড়ানো আবশ্যক। আর যদি তা কোনো পাত্র বা শরীর হয়, তবে তার ওপর নির্দিষ্ট সংখ্যক পানি প্রবাহিত করা ছাড়া অন্য কিছু আবশ্যক নয়। ধৌত করার পর কাপড় নিংড়ানো ছাড়া তা পবিত্র হয় না এবং প্রতিটি কাপড় সাধ্যমতো নিংড়াতে হবে।

{১২/ খ} {} (১)

 

‌‌পরিচ্ছেদ

পাত্রসমূহ প্রসঙ্গে

পাত্রসমূহ {দুই প্রকার, তার মধ্যে একটি হলো} (২) যার ব্যবহার হারাম এবং অন্যটি যা বৈধ। আর যা ব্যবহার করা হারাম তা আবার দুই প্রকার: যা সত্তাগত কারণে হারাম এবং যা অন্য কোনো কারণে হারাম। সত্তাগত কারণে যা হারাম তা দুই প্রকার: পবিত্র, যেমন সোনা ও রুপার পাত্র এবং সোনা-রুপার প্রলেপযুক্ত পাত্র।

এবং যা হারাম ও নাপাক, তা হলো কুকুর, শুকর এবং মৃত জন্তুর চামড়া দ্বারা তৈরি বস্তু।

আর যা অন্য কোনো কারণে হারাম: জবরদখল করা বস্তু এবং যার নাপাকি বহমান।

--------------------------------------------

(১) পান্ডুলিপিতে আর্দ্রতার কারণে চারটি লাইন অস্পষ্ট রয়ে গেছে।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটি পান্ডুলিপিতে আর্দ্রতার কারণে অস্পষ্ট ছিল, সম্ভবত এটিই সঠিক পাঠ যা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
فأما أواني الذهب والفضة والوضوء فيها محرم، وفي صحته روايتان (1). والماء {13/ أ} {} (2) فأما {} (2) ما عدا الذهب والفضة وأما {} (2) كانت أو فاخرة مثل اللؤلؤ والياقوت فجائز استعمالها والطهارة منها وفيها صحيحة.

 

‌‌‌‌‌‌فصل

مسنون الطهارة عشرة: غسل الكفين قبل إدخالها الإناء ثلاثاً، والدلك والمبالغة في الاستنشاق، وتخليل اللحية، وتخليل ما بين الأصابع، وغسل الميامين قبل المياسر، والدفعتان العامه لجميع العضو بعد تعميمه {13/ ب} بالأولى بين الغسلات، ومسح العنق، وأخذ ماء جديد للأذنين، وغسل داخل العينين.

 

فصل

ويستعمل السواك على آداب خمسة: أن يكون عرضاً، ولا يستاك طولاً لئلا يجرح عمود أسنانه، ويكون بعرجون يحل، أو خشب زيتون، أو آراك، ولا يصيب سنة السواك بيده ولا بخرقة، ويكون عند كل صلاة إلا الصيام، فإنه يتركه من وقت الزوال لئلا يزول الخلوف الذي هو أثر العبادة.

 

فصل

وفرائضها عشرة: النية، وهي أن تقصد أحد ثلاثة أشياء: رفع الحدث، أو استباحة الصلاة المفروضة، أو النافلة، أو فعلاً شرط له الوضوء، كالطواف

--------------------------------------------

(1) المذهب تصح الطهارة منها. انظر: الإنصاف 1/ 80.

(2) ستة أسطر لم تتضح بالمخطوط من جراء رطوبة أصابته.
সোনা ও রূপার পাত্রের ক্ষেত্রে, তাতে অজু করা হারাম এবং তার শুদ্ধতার বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে (১)। আর পানি {১৩/ অ} {} (২) তবে সোনা ও রূপা ব্যতীত যা কিছু আছে, আর তা যদি হয় সাধারণ কিংবা মূল্যবান যেমন মুক্তা ও ইয়াকুত, তবে তা ব্যবহার করা জায়েজ এবং তার মাধ্যমে ও তাতে পবিত্রতা অর্জন করা সঠিক।

 

‌‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

পবিত্রতার সুন্নাতসমূহ দশটি: পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে দুই কবজি তিনবার ধৌত করা, মর্দন করা, নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা, দাড়ি খিলাল করা, আঙুলের ফাঁকসমূহ খিলাল করা, বামের আগে ডান দিক ধৌত করা, প্রথমবার পুরো অঙ্গে পানি পৌঁছানোর পর {১৩/ ব} ধোয়ার মধ্যবর্তী সময়ে পুরো অঙ্গে আরও দুইবার পানি প্রবাহিত করা, ঘাড় মাসেহ করা, কানের জন্য নতুন পানি গ্রহণ করা এবং চোখের ভেতরের অংশ ধৌত করা।

 

পরিচ্ছেদ

মেসওয়াক পাঁচটি আদবের সাথে ব্যবহার করা হবে: তা প্রস্থে (আড়াআড়ি) হতে হবে, লম্বালম্বিভাবে মেসওয়াক করবে না যাতে দাঁতের গোড়ায় আঘাত না লাগে, এবং মেসওয়াকটি হতে হবে এমন ডাল দিয়ে যা নরম হয়, অথবা জয়তুন কাঠ কিংবা আরাক কাঠ, হাত বা কাপড় দিয়ে মেসওয়াকের সুন্নাত অর্জিত হবে না, এবং তা প্রত্যেক সালাতের সময় হতে হবে রোজা ব্যতীত, কারণ রোজাদার সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে তা ত্যাগ করবে যাতে মুখের গন্ধ যা ইবাদতের চিহ্ন তা দূর না হয়ে যায়।

 

পরিচ্ছেদ

এর ফরজসমূহ দশটি: নিয়ত, আর তা হলো তিনটি বিষয়ের কোনো একটির সংকল্প করা: অপবিত্রতা দূর করা, অথবা ফরজ সালাত বৈধ করা, কিংবা নফল সালাত, অথবা এমন কাজ যার জন্য অজু শর্ত, যেমন তাওয়াফ

--------------------------------------------

(১) মাজহাব অনুযায়ী এর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা সহিহ। দেখুন: আল-ইনসাফ ১/৮০।

(২) আর্দ্রতার কারণে পাণ্ডুলিপির ছয়টি লাইন অস্পষ্ট ছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তাযকিরাহ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومس المصحف، أو شرع له الوضوء في أحد الوجهين.

فإن نوى تجديد الوضوء فبان أنه لم يكن على وضوء. {14/ أ}

والتسمية قوله: بسم الله.

والمضمضة، وهو حصول الماء في فيه ومجه بعد ذلك.

والاستنشاق، وهو حصول الماء في الأنف ونثره بعد ذلك.

وغسل الوجه وهو محدود طولاً وعرضاً، فالطول من منابت شعر الرأس إلى ما انحدر من اللحيين والذقن، وحده عرضاً من الأذن إلى الأذن، والعارضان من الوجه، وهو ما بين الصدع والأذن

وغسل اليدين إلى المرفقين ويدخلهما في الغسل.

ومسح جميع الرأس في أصح الروايتين (1)، والأخرى يجب أن يمسح منه قدر الناصية.

وغسل الرجلين إلى الكعبين، ويدخل الكعبين في الغسل.

والترتيب، والموالاة.

فثلاثة من هذه العشرة في وجوبها روايتان.

{2/ ب} {} (2) إثباته في أصح الروايات.

وأما أكل لحم الجزور ينقض على أي حال أكله، ولا شيء عليه شحماً، وكبداً، لأنه موضع استحسان، وغسل الميت.

--------------------------------------------

(1) هذه الرواية هي المذهب. انظر: الروايتين والوجهين 1/ 73، والمغني 1/ 175، والإنصاف 1/ 161.

(2) فيه سقط الله أعلم بمقداره قد يكون صحيفة أو ورقة أو أكثر.
এবং মুসহাফ স্পর্শ করা, অথবা দুই মতের একটি অনুযায়ী তার জন্য অজু বিধিবদ্ধ হওয়া।

অতঃপর সে যদি অজু নবায়নের নিয়ত করে, কিন্তু পরে প্রকাশ পায় যে সে অজুর অবস্থায় ছিল না। {১৪/ আ}

এবং তাসমিয়াহ হলো 'বিসমিল্লাহ' বলা।

এবং মাদমাদাহ (কুলি করা), তা হলো মুখের ভেতর পানি নেওয়া এবং এরপর তা বের করে দেওয়া।

এবং ইস্তিনশাক (নাকে পানি দেওয়া), তা হলো নাকের ভেতর পানি নেওয়া এবং এরপর তা ঝেড়ে ফেলা।

এবং মুখমণ্ডল ধৌত করা, যা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সুনির্দিষ্ট; দৈর্ঘ্যে মাথার চুলের উৎপত্তিস্থল থেকে দুই চোয়াল ও চিবুকের নিচের অংশ পর্যন্ত, আর প্রস্থে এক কান থেকে অপর কান পর্যন্ত। গালের দুই পাশের অংশ মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত, যা কানের লতি ও কানের মধ্যবর্তী অংশ।

এবং দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করা এবং ধৌত করার সময় উভয় কনুইকেও অন্তর্ভুক্ত করা।

এবং দুটি বর্ণনার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা (১), আর অন্য বর্ণনা মতে কপালের উপরিভাগের চুল পরিমাণ মাসেহ করা ওয়াজিব।

এবং দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করা এবং ধৌত করার সময় উভয় টাখনুকে অন্তর্ভুক্ত করা।

এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ও বিরতিহীনভাবে সম্পাদন করা।

এই দশটির মধ্যে তিনটির ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

{২/ ব} {} (২) অধিক বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী তা সাব্যস্ত করা।

আর উটের গোশত খাওয়ার ক্ষেত্রে কথা হলো, যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন তা অজু ভঙ্গ করবে। তবে চর্বি ও কলিজার ক্ষেত্রে কিছু হবে না, কারণ এটি ইসতিহসানের জায়গা। আর মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো।

--------------------------------------------

(১) এই বর্ণনাটিই হলো মাযহাব। দেখুন: আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল-ওয়াজহাঈন ১/৭৩, আল-মুগনি ১/১৭৫, আল-ইনসাফ ১/১৬১।

(২) এখানে কিছু অংশ বাদ পড়েছে, যার পরিমাণ আল্লাহই ভালো জানেন; এটি একটি পৃষ্ঠা বা একটি পাতা অথবা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।