(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: -)
التاج المكلل من جواهر مآثر الطراز الآخر والأول القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: التاج المكلل من جواهر مآثر الطراز الآخر والأول
المؤلف: أبو الطيب محمد صديق خان بن حسن بن علي ابن لطف الله الحسيني البخاري القِنَّوجي (ت 1307هـ)
الناشر: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية، قطر
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 545
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
আত-তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আউয়াল বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
গ্রন্থ: আত-তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আউয়াল
লেখক: আবু তাইয়্যেব মুহাম্মদ সিদ্দিক খান ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে লুতফুল্লাহ আল-হুসাইনি আল-বুখারি আল-কান্নাউজি (মৃ. ১৩০৭ হি.)
প্রকাশক: আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কাতার
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হি. - ২০০৭ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: -)
التاج المكلل من جواهر مآثر الطراز الآخر والأول
تأليف
السيد العلامة محمد صديق حسن خان القنوجي البخاري
المولود سنة 1248 هـ والمتوفى سنة 1308 هـ - رحمه الله تعالى -
إصدارات
وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية
إدارة الشؤون الإسلامية - دولة قطر
আত-তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আউওয়াল
রচনা করেছেন
সায়্যিদ আল্লামা মুহাম্মদ সিদ্দিক হাসান খান আল-কান্নৌজি আল-বুখারি
জন্ম ১২৪৮ হিজরি এবং মৃত্যু ১৩০৮ হিজরি - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন -
প্রকাশনায়
আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ইসলামি বিষয়ক বিভাগ - কাতার রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٤)
حُقُوق الطَّبْع مَحفُوظَة
لوزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية
إدارة الشؤون الإسلامية
دولة قطر
الطبعة الأولى 1428 هـ - 2007 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য
ইসলামি বিষয়ক বিভাগ
কাতার রাষ্ট্র
প্রথম সংস্করণ ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة إدارة الشؤون الإسلاميةإن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
عودًا على بدء
نواصلُ المسيرةَ في ظل قيادة حكيمة، ترى تراث الأمة أمانة، وجديرة بالعناية والرعاية، كانت هذه المجموعة من
مطبوعات الشيخ علي بن عبد الله آل ثاني رحمه الله
حيث طبعت متلاحقة على نفقته الخاصة، كسائر مطبوعاته التي أتحف بها العالم الإسلامي كله، وها نحن نقدمها متوافقة، تجديدًا للصلة، في مساراتها الأربعة:
الأول: "الدين الخالص".
معالم التوحيد، مؤسسةٌ على النصوص الخالدة من الكتاب والسنة، إنه الدين في صورته الحقيقية.
الثاني: "التاج المكلل من مآثر الطراز الآخر والأول".
تراجم جملة من علماء الإسلام الأعلام الهداة الأئمة، مآثر واضحة، فضائل لائحة، مناقب سائرة.
الثالث: "الموعظة الحسنة بما يُخطب في شهور السنة".
نماذج فاعلة بكلماتها الجميلة للخُطب كافة، بدايةً من خُطبة الجمعة،
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইসলামী বিষয়াবলি অধিদপ্তরের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
সূচনাপ্রান্তে প্রত্যাবর্তন
আমরা এক প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের অধীনে এই পথচলা অব্যাহত রাখছি, যারা উম্মাহর ঐতিহ্যকে একটি আমানত হিসেবে দেখে এবং যা বিশেষ যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি রাখে। এটি ছিল নিম্নোক্ত সংকলন থেকে:
শাইখ আলী বিন আব্দুল্লাহ আল সানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রকাশনা
যা তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয়েছে, যেমনটি তাঁর অন্যান্য প্রকাশনার ক্ষেত্রেও হয়েছে যার মাধ্যমে তিনি সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে উপহার দিয়েছেন। আর এখন আমরা সম্পর্কের নবায়নে চারটি ধারায় এগুলো সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করছি:
প্রথম: "আদ-দীনুল খালিস" (বিশুদ্ধ দ্বীন)।
তাওহীদের নিদর্শনাবলি, যা কুরআন ও সুন্নাহর চিরন্তন দলীলসমূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত; এটিই দ্বীনের প্রকৃত রূপ।
দ্বিতীয়: "আত-তাজুল মুকাল্লাল মিন মাসিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আউয়াল" (পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের কীর্তিগাঁথার মুকুট)।
ইসলামের একদল প্রখ্যাত পথপ্রদর্শক ইমাম ও আলেমগণের জীবনী; যার মাঝে রয়েছে স্পষ্ট কীর্তিসমূহ, উজ্জ্বল গুণাবলি এবং সুপ্রসিদ্ধ মর্যাদা।
তৃতীয়: "আল-মাউয়িজাতুল হাসানাহ বিমা ইয়ুখতাবু ফী শুহুরিস সানাহ" (বছরের মাসসমূহে খুতবার উত্তম নসিহত)।
সকল প্রকার খুতবার জন্য সুন্দর শব্দচয়নে গঠিত কার্যকর নমুনা, জুমার খুতবা থেকে শুরু করে,
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٦)
والعيدين، والاستسقاء، والكسوف والخسوف، حيث المناسبة، مع ذكر الأحكام الشرعية المتعلقة، فجاء الكتاب حافلًا مهمًا في بابه.
الرابع: "رحلة الصديق إلى البلد العتيق".
صورة شائقة لهذه الرحلة المباركة، من الهند على ظهر سفينة، وصولًا إلى جدة، ومن ثم إلى مكة المكرمة، مع ذكر الأحكام الخاصة بالحج والعمرة والزيارة، وأحكام وفضائل مكة والمدينة، جامعة بين المتعة بذكر جملة مما وقع له من حوادث أثناء الرحلة، وتلك الروح العلمية. لهذا كله وقع الاختيار عليها بعد نصف قرنٍ من نشرتها الأولى.
حيثُ عهدت إدارة الشؤون الإسلامية إلى دار النوادر لصاحبها نور الدين طالب للعمل عليها لإخراجها في حلتها الجديدة، وفق خطة علمية، تلخصت في الآتي:
1 - إعادةُ تنضيد الكتب على أفضل وأرقى البرامج الطباعة الحالية.
2 - تصحيح الكتب بما ورد فيها من أخطاء مطبعية سابقة، وقد بلغت مئات الأخطاء.
3 - كتابةُ الآيات القرآنية بالرسم العثماني، منقولة من المصحف الشريف، إضافة إلى عزوها عقب الآية بين معكوفتين.
4 - ضبطُ النصوص المهمة والمشكلة بالشكل الضروري، كالأحاديث النبوية الشريفة، وأبيات الشعر، وغريب اللغة.
5 - إعادةُ تقسيم الكتاب، وتفصيل فقراته، بما يتناسب مع سهولة تناوله وقراءته.
6 - وضعُ علامات الترقيم المناسبة للنص، حتى يخرج نصًا صحيحًا من حيث اللغة والإعراب.
وإنا لنرجو الله تعالى أن يكون في عملنا هذا الإفادةَ لطلبة العلم وأهله.
وصلى الله وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
إدارة الشؤون الإسلامية
এবং দুই ঈদ, ইস্তিসকা (বৃষ্টির প্রার্থনা), এবং সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ—যেখানে যা প্রাসঙ্গিক—সংশ্লিষ্ট শরয়ী বিধানাবলি বর্ণনাসহ। ফলে কিতাবটি তার নিজ বিষয়ে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।
চতুর্থ: "প্রাচীন শহরের দিকে সিদ্দিকের সফরনামা"।
এই বরকতময় সফরের একটি চিত্তাকর্ষক চিত্র, ভারত থেকে জাহাজে চড়ে জেদ্দা পৌঁছানো এবং সেখান থেকে মক্কা মোকাররমা পর্যন্ত; হজ্জ, উমরা ও যিয়ারত সংক্রান্ত বিশেষ বিধানাবলি এবং মক্কা ও মদিনার বিধান ও ফযিলত বর্ণনাসহ। এটি সফরের সময় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনার মাধ্যমে আনন্দ এবং ইলমি রূহের (জ্ঞানতাত্ত্বিক চেতনা) সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। এই সব কারণেই এর প্রথম প্রকাশের অর্ধ শতাব্দী পর একে নির্বাচন করা হয়েছে।
যেখানে ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগ দারুন নাওয়াদিরকে (যার স্বত্বাধিকারী নূরুদ্দীন তালেব) দায়িত্ব প্রদান করেছে একে নতুন আঙ্গিকে প্রকাশের জন্য কাজ করতে, একটি ইলমি পরিকল্পনার অধীনে, যা নিম্নরূপে সংক্ষেপিত:
১ - বর্তমানের শ্রেষ্ঠ ও উন্নত মুদ্রণ প্রোগ্রামসমূহের মাধ্যমে কিতাবসমূহকে পুনরায় কম্পোজ করা।
২ - কিতাবগুলোতে থাকা পূর্বের শত শত মুদ্রণজনিত ভুল সংশোধন করা।
৩ - কুরআনের আয়াতসমূহকে পবিত্র মুসহাফ থেকে উদ্ধৃত করে উসমানি লিপিতে লেখা, সাথে আয়াতের শেষে ব্র্যাকেটের মধ্যে তার সূত্র উল্লেখ করা।
৪ - গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল পাঠ্যাংশসমূহে প্রয়োজনীয় হরকত প্রদান করা, যেমন—নবীজির পবিত্র হাদিসসমূহ, কাব্যরচনাবলি এবং ভাষার দুর্লভ শব্দাবলি।
৫ - কিতাবটিকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করা এবং এর অনুচ্ছেদগুলোকে বিস্তারিত করা, যাতে এটি গ্রহণ ও পাঠ করা সহজ হয়।
৬ - পাঠে যথাযথ বিরামচিহ্ন বসানো, যাতে ভাষা ও ব্যাকরণগত দিক থেকে এটি একটি সঠিক পাঠ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
আর আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে আশা করি যে, আমাদের এই কাজ ইলম অন্বেষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জন্য উপকারী হবে।
আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগ
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله على سوابغ نعمائه، وضوافي آلائه، حمدًا يملأ مكان الإمكان، وأركان الأمكنة، ويعطر شذاه خياشيم العصور والأزمنة.
والصلاة والسلام على عبده ورسوله، محمدٍ أكرمِ رسله، وأفضل أنبيائه صلاة تبلغ قائلَها والآتي بها مَأْمَنَه؛ وسلامًا يحله بشفاعته في جنة الفردوس الأعلى وأسكنه.
وعلى آله وصحبه سادة نجبائه، وأهل الحديث قدوة علمائه، وحفاظ هديه قادة أصفيائه، الذين استمعوا القول فاتبعوا أصوبه وأحسنه، ودعوا إلى سبيل ربهم بالحكمة والموعظة الحسنة، ونستغفره سبحانه من حصائد الألسنة.
وبعد: فهذا تذكارُ عصابة مباركة من أهل العلم بالحديث الشريف النبوي، وذوي العمل بالأثر المصطفوي، ومآثرهم الجليلة التي يحتاج إليها طلبة العلم في معرفة ما كان عليه سلف هذه الأمة وخلفُها الأئمةُ من العمل بالدليل، وطرح التقليد ورفض القال والقيل، وتحريرُ بعض فوائدهم الجميلة التي لا مندوحة عنها لمريد سلوك سبيلهم السوي الجليل؛ من كتب طبقات المحدِّثين الحفاظ المجتهدين، وصحائف زبر العلماء المتقدمين والمتأخرين، على غير ترتيب لذكر ذوي الباقيات الصالحات، وتبويب لسنين مواليدهم والوفيات، كما هو صنيع بعض أهل العلم والأدب؛ كالعلامة ابن رجب؛ لأني لم أرد استيعاب جميع ذلك، ولا جمع جملة ما هنالك؛ فإن الدواوين المبسوطة المؤلفة في هذا الشأن تغني عن الإطناب والإطالة، وطولُ الكلام يفضي بالناظر الناقد البصير إلى السآمة والملالة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অফুরন্ত নিয়ামত এবং ব্যাপক অনুগ্রহের ওপর; এমন প্রশংসা যা সম্ভবপর সকল স্থান এবং জগতের প্রতিটি প্রান্তকে পরিপূর্ণ করে দেয় এবং যার সুগন্ধি যুগ ও সময়ের নাসিকাকে সুবাসিত করে।
আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর, যিনি তাঁর রাসূলগণের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত এবং নবীদের মধ্যে সর্বোত্তম; এমন দরুদ যা এর পাঠকারী ও বাহককে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। এবং এমন সালাম যা তাঁর সুপারিশের বরকতে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত করে।
আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর মহান অভিজাত সঙ্গীগণের ওপর, আর হাদিস বিশারদগণের ওপর যারা আলেমদের আদর্শ, এবং তাঁর হেদায়েতের হিফাজতকারীগণের ওপর যারা তাঁর মনোনীত মুখলিস বান্দাদের নেতা; যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্যে যা সবচেয়ে সঠিক ও উত্তম তা অনুসরণ করে, আর তারা তাদের রবের পথের দিকে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করে। এবং আমরা মহান পবিত্র আল্লাহর কাছে জিহ্বার অনিষ্টতা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
অতপর: এটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বিশারদ এবং সুন্নাহর অনুসারী এক বরকতময় জামাআতের স্মারক; এবং তাদের সেই মহান কীর্তিগাঁথা যা ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য অপরিহার্য এই উম্মতের সালাফ এবং পরবর্তী ইমামগণের আদর্শ জানার ক্ষেত্রে—দলিলের ওপর আমল করা, অন্ধ অনুকরণ বর্জন করা এবং ভিত্তিহীন বাদানুবাদ প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে। এছাড়া তাদের কিছু সুন্দর উপকারিতা যা তাদের সুদৃঢ় ও মহান পথ অনুসরণে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; যা হাফেজ ও মুজতাহিদ মুহাদ্দিসগণের জীবনীগ্রন্থ এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের কিতাবসমূহ থেকে সংকলিত। এখানে নেক আমলকারীদের আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি এবং জন্ম-মৃত্যু সন অনুযায়ী অনুচ্ছেদ বিন্যাস করা হয়নি, যেমনটি ইলম ও সাহিত্যের কিছু পন্ডিত করেছেন, যেমন আল্লামা ইবনে রজব; কারণ আমি এ সবকিছুর বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাইনি এবং সেখানে যা কিছু আছে তার সবটুকুও একত্র করতে চাইনি। কেননা এ বিষয়ে রচিত দীর্ঘ গ্রন্থসমূহ অতিরিক্ত বর্ণনা ও দীর্ঘসূত্রিতা থেকে বিমুখ রাখে, আর দীর্ঘ আলোচনা প্রখর ও সমালোচক পাঠকের মনে ক্লান্তি ও বিরক্তি সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٨)
وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما روينا عنه: "ما قَلَّ وكفى خيرٌ مما كثير وألهى"، فهم - وإن كانوا في هذا الكتاب قليلين في العدد -؛ فإنهم كثيرون بسبب أنهم ذريعة للمَدَد في كل المُدَد.
وقد يقال: إن أعداد الكبار الشم الأنوف ربما عدلت عشراتها بالمئين، ومئوها بالألوف، وأضفت إليهم: أخبار بعض الملوك والشعراء والزهاد، من أعيان الأعيان وأمجاد الأمجاد.
ولما كان الشروع ملزمًا، وإتمام ما شرعت فيه متحتمًا، لم أر بدًا من إلحام ما أسديتُه، وإصماء ما أنميته، فتذكرت من الكلام أوائلَه، وألحقت بكل منه ما شاكَلَه، وما أقدمني على هذا الشأن إلا تخلُّفُ أبناء الزمان، عن إحراز فضيلة السبق في هذا الميدان.
وليس غرضي إلا أداءَ بعض حقهم المفترض، وأبرأ إلى الله من تهمة الغرض، وإني وإن قصرت في مواضع من تراجمهم، فما قصرت وإن طولت في مجال، فما تطولت، وغاية النصفة في هذا المقام هو الاعتراف بقصوره، والإقرار بعدم شعوره؛ فإن المرء ولو بلغ جهده، فالإحاطةُ بهذا الشان وتراجم أهله لله وحده.
ولا أعتقد أني وفيتُ بالمقصود، أو أتيت بالمراد على الوجه الموعود، بل كل ما آمل من هذا الصنيع هو نيل ثواب في المبدأ ونجاة في اليوم المشهود.
فقد ذكر غير واحد من العلماء؛ كابن فهد المكي وغيره، أن الاشتغال بنشر أخبار الأخيار، من أهل العلم والآثار، من علامات سعادة الدنيا وسيادة الآخرة؛ إذ هم شهود الله في أرضه، ولهم المراتب الفاخرة.
والذين ذكرتهم في هذا المختصر - إنما هم بالنسبة إلى من تركتُ ذكرهم من الحفاظ العالمين بالكتاب والسنة، العاملين بهما من بين الأمة، كحركات العوامل، أو عدد الأنامل.
فهاك - أيها المتفضل عليّ - كتابًا لطيفًا يحاكي في حسنه وجماله غصنَ البان، وفنن الجِنان، ويرد ورودَ ماء عذب بارد فراتٍ على الظمآن، ودونك أيها
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন: "অল্প এবং পর্যাপ্ত যা কিছু আছে, তা এমন প্রাচুর্যের চেয়ে উত্তম যা মানুষকে (আল্লাহর স্মরণ থেকে) বিমুখ করে দেয়।" যদিও এই কিতাবে তাদের সংখ্যা অল্প, তবুও তারা অধিক; কারণ তারা সর্বাবস্থায় সাহায্য লাভের মাধ্যমস্বরূপ।
বলা যেতে পারে যে, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সংখ্যার দশজন সম্ভবত অন্যদের শতজনের সমান এবং তাদের শতজন অন্যদের হাজারজনের সমান। আমি তাঁদের সাথে শ্রেষ্ঠদের মাঝে শ্রেষ্ঠ এবং মহিমান্বিতদের মাঝে মহিমান্বিত কিছু বাদশাহ, কবি এবং দুনিয়াত্যাগী তাপসদের জীবনীও যুক্ত করেছি।
যেহেতু কোনো কাজ শুরু করলে তা সম্পন্ন করা আবশ্যক এবং যা শুরু করেছি তা পূর্ণ করা অনিবার্য হয়ে পড়ে, তাই আমি যা বুনন করেছি তা সংযুক্ত করা এবং যা উৎপন্ন করেছি তা সুসংহত করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখলাম না। ফলে আমি আমার আলোচনার আদি কথাগুলো স্মরণ করলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের সাথে তার সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে যুক্ত করলাম। আর সমসাময়িকদের এই ময়দানে অগ্রগামিতার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে পিছিয়ে থাকাই আমাকে এই কাজে প্রবৃত্ত করেছে।
আমার উদ্দেশ্য তাঁদের ওপর অর্পিত হকের কিয়দাংশ আদায় করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর আমি কোনো হীন স্বার্থের অপবাদ থেকে আল্লাহর নিকট মুক্তি চাই। যদিও আমি জীবনীগুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো কোনো স্থানে সংক্ষিপ্ত করেছি, তবে তা অবহেলার কারণে নয়; আবার কোনো ক্ষেত্রে দীর্ঘ করেছি, কিন্তু তা সীমালঙ্ঘনের জন্য নয়। আর এই ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার চূড়ান্ত স্তর হলো নিজের অক্ষমতা স্বীকার করা এবং নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া; কারণ মানুষ তার সাধ্যমতো চেষ্টা করলেও এই শাস্ত্র এবং এর ব্যক্তিবর্গের জীবনীর ওপর পূর্ণ জ্ঞান রাখা কেবল আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব।
আমি মনে করি না যে আমি আমার উদ্দেশ্য পূর্ণরূপে হাসিল করতে পেরেছি অথবা কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি প্রতিশ্রুত পন্থায় উপস্থাপন করতে পেরেছি। বরং এই কর্মের মাধ্যমে আমার একমাত্র প্রত্যাশা হলো শুরুতে সওয়াব অর্জন এবং কিয়ামতের দিবসে মুক্তি লাভ করা।
ইবনে ফাহাদ আল-মাক্কী এবং তাঁর ন্যায় একাধিক আলিম উল্লেখ করেছেন যে, ইলম ও হাদীসবেত্তা নেককার ব্যক্তিদের সংবাদ প্রচারে মগ্ন থাকা ইহকালের সৌভাগ্য এবং পরকালের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম নিদর্শন। কারণ তাঁরা এই জমিনে আল্লাহর সাক্ষী এবং তাঁদের জন্য রয়েছে অতি উচ্চ মর্যাদা।
আর এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে আমি যাদের নাম উল্লেখ করেছি, তারা কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞানে সমৃদ্ধ ও তার ওপর আমলকারী উম্মতের যে মহান হাফেজদের নাম আমি বাদ দিয়েছি, তাদের তুলনায় কেবল একটি সাধারণ হরকতের নড়াচড়া বা আঙুলের কর গণনার ন্যায়।
সুতরাং হে আমার প্রতি অনুগ্রহকারী পাঠক! গ্রহণ করুন এই সূক্ষ্ম কিতাবটি, যা আপন সৌন্দর্য ও মাধুর্যে সুঠাম বৃক্ষশাখা এবং জান্নাতের উদ্যানের সদৃশ; যা তৃষ্ণার্তের হৃদয়ে সুমিষ্ট, শীতল ও নির্মল পানির ন্যায় প্রশান্তি বয়ে আনে। আর হে পাঠক, আপনার সম্মুখে রইল...
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٩)
المحسن إليّ - خطابًا شريفًا يرد ما شاع على ألسنة جماعة من الرعاع؛ من اختصاص سلفِ هذه الأمة بإحراز فضيلة البلوغ إلى ذروة الاجتهاد والتجديد، وتعذُّر وجودِ المجتهدين بعد المئة السادسة أو السابعة على التعيين والتحديد، وكانت هذه المقالة بمكان من الجهالة، لا تخفى على مَنْ له أدنى حظ من علم، وأنزرُ نصيب من عرفان، وخصر حصة من فهم وجلالة؛ لأنها كما قال العلامة الرباني، مجتهدُ القطر اليماني، مجددُ المئة الثالثة عشرة في إحياء الأمر الإيماني، شيخُنا وبركتنا قاضي القضاة شيخُ الإسلام، وحسنةُ الليالي والأيام، محمدُ بنُ علي بن محمدٍ الشوكاني رضي الله عنه: قصرٌ للفضل الإلهي والفيض الرباني على بعض العباد دون البعض، وعلى أهل عصر دون عصر، وعلى أبناء دهر دون دهر، بدون برهان ولا قرآن، على أن هذه المقالة المخذولة، والحكاية المرذولة، تستلزم خلو هذه الأعصار المتأخرة عن قائم بحجج الله، ومترجم عن كتابه العزيز، وسنة رسوله المطهرة، ومبين لما شرعه الله لعباده.
وذلك هو ضياع الشريعة الحقة بلا مِرْية، وذهاب الدين المتين بلا شك، وهو تعالى قد تكفل بحفظ دينه القويم، وليس المراد به حفظه في بطون الصحف والدفاتر، بل إيجاد من يبينه للناس في كل وقت وعند كل حاجة، فليعلم صاحب تلك المقالة: أن الله تعالى - وله المنة - قد تفضل على الخلف كما تفضل على السلف، بل ربما كان في العصور المتأخرة من العلماء المحيطين بالمعارف العلمية، والمدارك الشرعية، على اختلاف أنواعها، من يقل نظيرُه من أهل العصور المتقدمة، انتهى.
وسوق هذا الكلام منه - أعلى الله منزلته في دار السلام - فيمن يعرف الكتاب والسنة وعلومهما، دون من لم يرفع رأسه إليهما، بل أضاع عمره في الفروع سرمدًا، فإنه لا يكون مجتهدًا ولا مجددًا للدين أبدًا.
وسيقف على ذلك من أمعن النظر في هذا "الكتاب"، وحل من عنقه عرا التقليد والارتياب، والمذكورون في هذا "المختصر" هم صميم الكرام، الذين
আমার প্রতি অনুগ্রহকারী - একটি মহান পত্র যা একদল মূর্খদের মুখে প্রচলিত কথাকে খণ্ডন করে; যা হলো এই উম্মতের পূর্বসূরিদের (সালাফ) জন্য ইজতিহাদ ও সংস্কারের চূড়ায় পৌঁছানোর শ্রেষ্ঠত্বকে নির্দিষ্ট করা এবং সুনির্দিষ্টভাবে ষষ্ঠ বা সপ্তম শতাব্দীর পর মুজতাহিদদের অস্তিত্ব থাকাকে অসম্ভব সাব্যস্ত করা। এই বক্তব্যটি মূর্খতার এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যা ন্যূনতম জ্ঞান, সামান্যতম প্রজ্ঞা এবং যৎসামান্য বোধশক্তি ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও গোপন নয়; কারণ এটি, যেমনটি বলেছেন আল্লামা রব্বানী, ইয়ামেনি ভূখণ্ডের মুজতাহিদ, ঈমানি বিষয়সমূহ পুনর্জীবিত করার ক্ষেত্রে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, আমাদের শাইখ ও বরকত, প্রধান বিচারক, শাইখুল ইসলাম এবং দিবা-রাত্রির সৌন্দর্য, মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আশ-শাওকানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন): এটি হলো কোনো দলীল বা কুরআন ছাড়াই আল্লাহর অনুগ্রহ ও রব্বানী ফয়েজকে কিছু বান্দার জন্য নির্দিষ্ট করা অন্যদের বাদ দিয়ে, এবং কোনো এক যুগের অধিবাসীদের জন্য অন্য যুগের তুলনায়, কোনো এক যমানার সন্তানদের জন্য অন্য যমানার তুলনায়। অধিকন্তু, এই লাঞ্ছিত বক্তব্য এবং ঘৃণ্য কাহিনীটি এই বিষয়টিকে আবশ্যক করে তোলে যে, এই পরবর্তী যুগসমূহ আল্লাহর প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠাকারী, তাঁর সুমহান কিতাব ও তাঁর রাসূলের পবিত্র সুন্নাহর ব্যাখ্যাকারী এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা বর্ণনাকারী ব্যক্তি থেকে শূন্য।
আর তা নিঃসন্দেহে সত্য শরীয়তের বিলুপ্তি এবং সুদৃঢ় দ্বীনের বিনাশ। অথচ মহান আল্লাহ নিজেই তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। আর সংরক্ষণের অর্থ কেবল কিতাব ও খাতার অভ্যন্তরে তা সংরক্ষণ করা নয়, বরং এমন লোক সৃষ্টি করা যারা একে মানুষের জন্য প্রতি সময়ে এবং প্রতিটি প্রয়োজনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন। সুতরাং ওই বক্তব্যের প্রবক্তার জানা উচিত যে, মহান আল্লাহ—এবং সমস্ত অনুগ্রহ তাঁরই—পরবর্তীদের প্রতিও তেমনি অনুগ্রহ করেছেন যেমনটি তিনি পূর্ববর্তীদের প্রতি করেছিলেন। এমনকি অনেক সময় পরবর্তী যুগসমূহের আলেমদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও থাকতে পারেন যারা বিভিন্ন প্রকারের ইলমি জ্ঞান ও শরয়ী উপলব্ধিতে এমনভাবে পরিবেষ্টিত যে, পূর্ববর্তী যুগের লোকদের মধ্যে তাদের দৃষ্টান্ত মেলা ভার। সমাপ্ত।
তাঁর—আল্লাহ জান্নাতে তাঁর মর্যাদা উচ্চ করুন—এই বক্তব্যের অবতারণা কেবল তাদের জন্য যারা কিতাব ও সুন্নাহ এবং এগুলোর ইলম সম্পর্কে অবগত; তাদের জন্য নয় যারা এগুলোর দিকে মাথা তুলেও তাকায়নি, বরং চিরকাল ফروع বা আনুষঙ্গিক মাসআলায় নিজের জীবন নষ্ট করেছে। কারণ সে কখনোই মুজতাহিদ কিংবা দ্বীনের মুজাদ্দিদ হতে পারবে না।
আর যারা এই "কিতাব"-এ গভীর দৃষ্টি দেবে এবং নিজের ঘাড় থেকে তাকলীদের বন্ধন ও সন্দেহের রজ্জু ছিন্ন করবে, তারা তা জানতে পারবে। আর এই "সংক্ষিপ্ত সংকলন"-এ যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন সেই অভিজাতদের মূল নির্যাস, যারা
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
هم صميم الكرام من العلماء وأكابر الزمان، من أهل القرون الأولى ومَنْ بعدهم إلى الآن، مع ذكر فوائد نافعة غريبة، وبيان عوائد نفيسة عجيبة.
ومن أمعن النظر في مطالعة كتب القوم: 1 - كتاريخ الإسلام، 2 - وتذكرة الحفاظ، 3 - والنبلاء، 4 - وكامل ابن الأثير، 5 - وتاريخ القاضي ابن خلكان، 6 - وفوات الوفيات، 7 - وتاريخ ابن الوردي، 8 - وطبقات ابن رجب، 9 - ونفح الطيب للمَقَّري، 10 - والدرر الكامنة، 11 - والنور المسافر، 12 - وخلاصة الأثر، 13 - والضوء اللامع، 14 - والبدر الطالع، ونحو ذلك، علم أن الفيض الإلهي لم ينقطع، وأن اللطف الرباني لم يتم، وأن الرحمة العامة لم تنصرم، وأن التفضل الرحماني لم يختم، وأن الجود المهيمني لم يبخل، وسميت هذا المختصر:
التاج المكلل من جواهر مآثر الطراز الآخر والأول
وما أنا فيما أوردت فيه من التراجم والأخبار بمعتقد كمالي، ولا معتصم من إخلالي، على أني بجسارة أقول: إنه حوى صفوة أقوال الرواة العدول، ونخبة أحوال الأعلام الفحول، دون عدول يجيء به تعصب ديني، أو ميل غرضي.
ولقد سلكت في هذا الكتاب مسلك أبناء العصر، ومهيع أولاد الدهر؛ فإن الناس بزمانهم، أشبهُ منهم بآبائهم.
ولو أخذت فيه أخذ الأدباء، وألبسته من براعة الكلام وبلاغة المعاني الإزار والرداء، فأبرزت فيه من المعاني الجزلة كلَّ بديع، في قوالب مبان فحلة ولفظ رفيع، لما عرف أحد قدره، ولا التفت إليه، ولا عوّل لقصور الأفهام والهمم عليه.
ولما كانت المجازات خيرًا من الحقائق، والغلط المستعمَل أولى من الصواب في الدقائق، حررته في عبارات يسيرة، وإشارات رقيقة غير عسيرة، ولنعم ما قيل شعرًا:
إذا أحسستَ في لفظي قُصورًا
… وحظي والبراعةِ والبيانِ
তাঁরা আলেমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত এবং যুগের মহান ব্যক্তিত্ব, প্রাথমিক শতাব্দীসমূহের অধিবাসী এবং বর্তমান পর্যন্ত তাঁদের পরবর্তীগণ। এর সাথে সাথে এতে বিরল ও উপকারী অনেক বিষয় এবং চমৎকার ও মূল্যবান অনেক অভ্যাসের বর্ণনা রয়েছে।
আর যে ব্যক্তি এই জামাতের (পূর্বসূরিদের) কিতাবসমূহ গভীর মনোযোগের সাথে পাঠ করবে, যেমন: ১ - তারিখুল ইসলাম, ২ - তাযকিরাতুল হুফফাজ, ৩ - আন-নুবালা, ৪ - কামিল ইবনুল আসির, ৫ - তারিখুল কাজি ইবনে খাল্লিকান, ৬ - ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত, ৭ - তারিখু ইবনুল ওয়ারদি, ৮ - তাবাকাতু ইবনে রজব, ৯ - নাফহুত তিব লিল-মাক্কারি, ১০ - আদ-দুরারুল কামিনাহ, ১১ - আন-নূরুল মুসাফির, ১২ - খুলাসাতুল আসার, ১৩ - আদ-দাওউল লামি', ১৪ - আল-বদরুত তালি' এবং এ জাতীয় গ্রন্থসমূহ—সে জানতে পারবে যে, ঐশ্বরিক অনুগ্রহ কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি, রব্বানি মেহেরবানি সমাপ্ত হয়ে যায়নি, সাধারণ রহমত কখনো শেষ হয়নি, রহমানি করুণার দ্বার রুদ্ধ হয়নি এবং মহাপ্রভুর দানশীলতায় কোনো কার্পণ্য আসেনি। আর আমি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির নামকরণ করেছি:
আত-তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাসিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আউয়াল (পূর্বাপর মহান ব্যক্তিদের কীর্তিগাঁথার মণি-মুক্তায় খচিত মুকুট)
আমি এতে যে সকল জীবনী ও সংবাদ উল্লেখ করেছি, সেগুলোর ব্যাপারে আমি নিজের পূর্ণতার দাবি করি না এবং ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকারও কোনো আশ্রয় খুঁজি না। তবে আমি সাহসের সাথে বলছি যে, এতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের শ্রেষ্ঠ উক্তি এবং মহান মনীষীদের নির্বাচিত জীবনাবস্থা সংকলিত হয়েছে; কোনো ধর্মীয় গোঁড়ামি বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচ্যুতি ছাড়াই।
আর এই কিতাব রচনায় আমি সমকালীনদের পথ এবং এই যুগের সন্তানদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; কারণ মানুষ তাদের পিতৃপুরুষদের চেয়ে নিজ যুগের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হয়।
আমি যদি এটি রচনায় সাহিত্যিকদের পথ অবলম্বন করতাম এবং একে বাকচাতুর্য ও অর্থপূর্ণ অলংকারের পোশাকে সজ্জিত করতাম, আর বলিষ্ঠ অর্থের প্রতিটি অভিনব বিষয়কে শক্তিশালী কাঠামোর উচ্চাঙ্গের শব্দে প্রকাশ করতাম—তবে এর সমঝদার খুঁজে পাওয়া যেত না, কেউ এর দিকে ভ্রুক্ষেপ করত না এবং বোধশক্তির সংকীর্ণতা ও হিম্মতের অভাবে কেউ এর ওপর নির্ভর করত না।
যেহেতু রূপক ব্যবহারের চেয়ে বাস্তবতাই শ্রেয় এবং সূক্ষ্ম বিষয়ে জটিল শুদ্ধাশুদ্ধির চেয়ে বহুল প্রচলিত সহজ ভুলগুলোই উত্তম, তাই আমি একে সহজ ইবারত এবং স্বচ্ছ ও সহজবোধ্য ইশারা-ইঙ্গিতে লিপিবদ্ধ করেছি। আর কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:
যদি আপনি আমার শব্দে কোনো অপূর্ণতা খুঁজে পান
… আর আমার প্রতিভা ও বাগ্মিতার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি দেখেন।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١١)
فلا ترتَبْ لفهمي إنَّ رقصي
… على مقدار إيقاعِ الزمانِ
وقد انقلب الآن بأهله الزمان، فصار حاملُ الأدب والفضل من رهطه، والمنسلك من العلم في نظمه وسمطه، وصار فيه باقلٌ جريرًا، وجريرٌ جاهلًا كبيرًا، وليتني كنت في هذا وذاك كفافا، ومن خير الزمان وشره معافى. وإنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرىء ما نوى، من الحسنات والسيئات.
وقد جعلت هذا الكتاب خدمة لأحبابي، ونصيحة لأخلافي - الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه، ويحبون العمل بالكتاب والسنة، والإتيان بالموعظة الحسنة، ملتمسًا من ذوي الانتقاد أن يُقيلوا العِثار، ويقبلوا الأعذار، فيشدوا أسره، ويجبروا كسره، ويرقعوا خلَلَه، ويحققوا أملَه، متوسلًا إليه سبحانه وتعالى أن ينفع به قارئه من الفحول، فإنه أكرم مسؤول، وخير مأمول، حرسنا الله تعالى من التمادي في مهاوي الغواية، وجعل لنا من العرفان بأقدارنا أمنعَ وقاية، وسلك بنا مسلك أهدى هداية، وصلى الله تعالى على سيدنا محمد عبده ورسوله وآله وصحبه - ما ذَرَّ شارِق، ولمع بارِق.
***
অতএব আমার বোধশক্তি নিয়ে সংশয় করো না, কেননা আমার নৃত্য
… সময়ের ছন্দের তাল অনুযায়ী।
আর এখন সময় তার অধিবাসীদের নিয়ে ওলটপালট হয়ে গেছে; ফলে সাহিত্য ও মর্যাদার বাহক তার দল থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং জ্ঞানের পথে চলা ব্যক্তি তার শৃঙ্খলা ও বিন্যাস হারিয়েছে। এতে বাকিল (নির্বোধ) ব্যক্তি জারির (শ্রেষ্ঠ কবি) হয়ে গেছে, আর জারির হয়ে গেছে এক মস্ত মূর্খ। হায়! আমি যদি এই সব বিষয়ে সমান সমান থাকতাম এবং সময়ের ভালো ও মন্দ থেকে নিরাপদ থাকতাম। নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রতিটি মানুষ যা নিয়ত করে তাই সে পায়—তা নেকি হোক কিংবা গুনাহ।
আমি এই কিতাবটি আমার প্রিয়জনদের সেবা এবং আমার উত্তরসূরিদের উপদেশের জন্য তৈরি করেছি—যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে, আর যারা কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা এবং উত্তম উপদেশের চর্চাকে ভালোবাসে। আমি সমালোচকদের নিকট বিনয়াবনত আবেদন করছি যেন তারা ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন এবং ওজর কবুল করেন; এরপর এর গাঁথুনি মজবুত করেন, এর ভাঙন মেরামত করেন, এর অসংগতিগুলো দূর করেন এবং এর প্রত্যাশাকে পূর্ণ করেন। আমি মহান পবিত্র আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে বিজ্ঞ পাঠকদের উপকৃত করেন; কারণ তিনিই প্রার্থিতদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আশার উত্তম স্থল। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ভ্রষ্টতার গহ্বরে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করুন, আমাদের নিজেদের মর্যাদা অনুধাবন করার মাধ্যমে এক সুদৃঢ় আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করে দিন এবং আমাদের সর্বোত্তম হিদায়াতের পথে পরিচালিত করুন। আল্লাহ তায়ালার রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ—যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল—এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর; যতক্ষণ সূর্য উদিত হবে এবং বিদ্যুৎ চমকাবে।
***
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
1 - الإمام أَبو عبد الله، أحمد بن محمد بن حنبل ابن هلال بن أسد بن إدريس بن عبد الله بن حيان بن عبد الله بن أنس بن عوف بن قاسط بن مازن بن شيبان بن ذهل بن ثعلبة بن عكابة بن صعب بن علي بن بكر بن وائل بن قاسط بن هنب بن أفصى بن دعمي بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان الشيباني، المروزي الأصل.
هذا هو الصحيح في نسبه، وقيل: إنه من بني مازن بن ذهل بن شيبان، وذهل بن ثعلبة المذكور: هو عم ذهل بن شيبان، فليعلم ذلك، والله أعلم.
خرجت أمه من مرو وهي حاملٌ به، فولدته في بغداد، في شهر ربيع الأول سنة 164، وقيل: إنه ولد بمرو، وحُمل إلى بغداد وهو رضيع.
وكان إمام المحدثين، صنف كتابه "المسند"، وجمع فيه من الحديث ما لم يتفق لغيره، وقيل: إنه كان يحفظ ألف ألف حديث، وكان من أصحاب الإمام الشافعي وخواصه، ولم يزل مصاحبَه إلى أن ارتحل الشافعي إلى مصر، وقال في حقه: خرجتُ من بغداد، وما خلفت بها أتقى ولا أفقه من ابن حنبل.
وادعي إلى القول بخلق القرآن، فلم يجب، فضُرب وحُبس وهو مصرٌّ على الامتناع، وكان ضربه في العشر الأخير من شهر رمضان سنة 220 عشرين ومئتين، وكان حسن الوجه، ربعة، يخضِب بالحناء خضبًا ليس بالقاني، في لحيته شعيرات سود.
أخذ عنه الحديث جماعةٌ من الأماثل، منهم: محمد بن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجاج النيسابوري، ولم يكن في آخر عصره مثله في العلم والورع.
توفي ضحوة نهار الجمعة لثنتي عشرة ليلة خلت من شهر ربيع الأول، وقيل: بل لثلاث عشرة ليلة بقين من الشهر المذكور، وقيل: من ربيع الآخر سنة 241 ببغداد، ودفن بمقبرة باب حرب. وباب حرب: منسوب إلى حرب بن عبد الله أحدِ أصحاب أبي جعفر المنصور، وإلى حرب هذا، تُنسب المحلة المعروفة بـ "الحربية".
1 - ইমাম আবু আব্দুল্লাহ, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাইয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস ইবনে আউফ ইবনে কাসিত ইবনে মাযিন ইবনে শায়বান ইবনে যুহল ইবনে সালাবা ইবনে উকাবাহ ইবনে সাব ইবনে আলী ইবনে বাকর ইবনে ওয়ায়িল ইবনে কাসিত ইবনে হিনব ইবনে আফসা ইবনে দামি ইবনে জাদিরা ইবনে আসাদ ইবনে রাবিয়া ইবনে নিযার ইবনে মাদ ইবনে আদনান আশ-শায়বানি, মূলত মার্ভ অঞ্চলের।এটিই তাঁর বংশপরম্পরার সঠিক বর্ণনা। তবে বলা হয়েছে যে, তিনি বনু মাযিন বিন যুহল বিন শায়বানের বংশধর। উল্লিখিত যুহল বিন সালাবা হলেন যুহল বিন শায়বানের চাচা। সুতরাং এটি জেনে রাখা উচিত। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
তাঁর মা যখন গর্ভবতী ছিলেন তখন তিনি মার্ভ থেকে বের হন এবং ১৬৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে বাগদাদে তাঁকে জন্ম দেন। কেউ কেউ বলেন যে, তিনি মার্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং শিশু অবস্থায় তাঁকে বাগদাদে নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি মুহাদ্দিসগণের ইমাম ছিলেন। তিনি তাঁর ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এতে এমন সব হাদিস সংকলন করেন যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। বলা হয় যে, তিনি দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন। তিনি ইমাম শাফেয়ীর বিশিষ্ট সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং শাফেয়ী মিশরে হিজরত করার আগ পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যেই ছিলেন। ইমাম শাফেয়ী তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: “আমি বাগদাদ ত্যাগ করেছি অথচ সেখানে ইবনে হাম্বল অপেক্ষা অধিক মুত্তাকী এবং ফকীহ আর কাউকে রেখে আসিনি।”
তাঁকে ‘কুরআন সৃষ্টির’ আকিদা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। ফলে তাঁকে প্রহার করা হয় এবং কারারুদ্ধ করা হয়, তবুও তিনি তাঁর অবস্থানে অটল ছিলেন। তাঁকে ২২০ হিজরি সালের রমজান মাসের শেষ দশকে প্রহার করা হয়েছিল। তিনি সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং মাঝারি গড়নের ছিলেন। তিনি মেহেদি দিয়ে দাড়ি রাঙাতেন যা গাঢ় লাল ছিল না এবং তাঁর দাড়িতে কিছু কালো চুল ছিল।
একদল শ্রেষ্ঠ আলেম তাঁর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী এবং মুসলিম বিন হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী। তাঁর যুগের শেষভাগে জ্ঞান এবং তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না।
তিনি ২৪১ হিজরি সালে বাগদাদে রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর শুক্রবার দ্বিপ্রহরের প্রাক্কালে (চাশতের সময়) মৃত্যুবরণ করেন। আবার কেউ বলেন, উক্ত মাসের তেরো দিন বাকি থাকতে তিনি মারা যান। অন্য মতে, এটি ছিল রবিউস সানি মাস। তাঁকে ‘বাবুল হারব’ নামক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ‘বাবুল হারব’ স্থানটি আবু জাফর আল-মানসুরের অন্যতম সহযোগী হারব বিন আব্দুল্লাহর নামে নামকরণ করা হয়েছে। আর এই হারব-এর নামানুসারেই প্রসিদ্ধ ‘আল-হারবিয়া’ মহল্লার নামকরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وقبر أحمد بن حنبل مشهور بها يزار - رحمه الله تعالى - وحُرز من حضر جنازته من الرجال، فكانوا ثمانمئة ألف 800000، ومن النساء - ستين ألفًا 60000.
وقيل: إنه أسلم يوم مات عشرون ألفًا من النصارى واليهود والمجوس. وذكر أَبو الفرج بن الجوزي في كتابه الذي صنفه في أخبار بشر بن الحارث الحافي رضي الله عنه في الباب السادس والأربعين ما صورته: حدث إبراهيم الحربي، قال: رأيت بشر بن الحارث الحافي في المنام؛ كأنه خارج من باب مسجد الرصافة، وفي كمه شيء يتحرك، فقلت: ما فعل الله بك؟ فقال: غفر لي وأكرمني، فقلت: ما هذا الذي في كمك؟ قال: قدم علينا البارحةَ روح أحمد بن حنبل فنثر عليه الدرر والياقوت، فهذا مما التقطتُ، قلت: فما فعل يحيى بن معين وأحمد بن حنبل؟ قال: تركتهما وقد زارا ربَّ العالمين، ووضعت لهما الموائد، قلت: فلمَ لم تأكل أنت؟ قال: قد عرف هوانَ الطعام عليَّ، فأباحني النظر إلى وجهه الكريم.
وفي أجداده: حيان - بفتح الحاء المهملة وتشديد الياء المثناة من تحتها وبعد الألف نون -، وبقية الأجداد لا حاجة إلى ضبط أسمائهم لشهرتها وكثرتها، ولولا خوف الإطالة لقيدتها، ورأيت: في نسبه اختلافًا، وهذا أصح الطرق التي وجدتها.
وكان له ولدان عالمان، وهما: صالح، وعبد الله، فأما صالح: فتقدمت وفاته في شهر رمضان سنة 266، وكان قاضي أصبهان، فمات بها، ومولده في سنة 203.
وأما عبد الله، فإنه بقي إلى سنة تسعين ومئتين، وتوفي يوم الأحد لثمان بقين من جمادى الأولى، وقيل: الآخرة، وله سبع وسبعون سنة، وكنيته: أَبو عبد الرحمن، وبه كان يكنى الإمام أحمد رحمهم الله أجمعين -، انتهى ما في "وفيات الأعيان".
وذكر ابن رجب في "طبقاته" في جملة ترجمة الحافظ يحيى المعروف بابن
আহমদ বিন হাম্বলের কবর সেখানে প্রসিদ্ধ এবং সেখানে যিয়ারত করা হয়—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁর জানাজায় উপস্থিত পুরুষদের সংখ্যা গণনা করা হয়েছিল আট লক্ষ ৮০০,০০০ জন, আর নারীদের সংখ্যা ছিল ষাট হাজার ৬০,০০০ জন।
বলা হয়েছে যে, তাঁর মৃত্যুর দিন বিশ হাজার নাসারা (খ্রিস্টান), ইহুদি ও মজুসি (অগ্নিউপাসক) ইসলাম গ্রহণ করেছিল। আর আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী বিশর ইবনুল হারিস আল-হাফী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সংবাদ সম্পর্কে রচিত তাঁর কিতাবের ৪৬তম অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, যার ভাষ্য হলো: ইব্রাহীম আল-হারবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি স্বপ্নে বিশর ইবনুল হারিস আল-হাফীকে দেখলাম; যেন তিনি রুসাফা মসজিদের দরজা দিয়ে বের হচ্ছেন এবং তাঁর হাতার মধ্যে কিছু একটা নড়ছে। আমি বললাম: আল্লাহ আপনার সাথে কী আচরণ করেছেন? তিনি বললেন: তিনি আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন। আমি বললাম: আপনার হাতার মধ্যে ওটা কী? তিনি বললেন: গত রাতে আমাদের নিকট আহমদ বিন হাম্বলের রুহ এসেছে, অতঃপর তাঁর ওপর মুক্তা ও ইয়াকুত ছিটানো হয়েছে; আর এগুলো তা-ই যা আমি কুড়িয়ে নিয়েছি। আমি বললাম: তাহলে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আহমদ বিন হাম্বল কী করছেন? তিনি বললেন: আমি তাঁদের এমন অবস্থায় রেখে এসেছি যে, তাঁরা রব্বুল আলামীনের যিয়ারত করেছেন এবং তাঁদের জন্য দস্তরখান বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি বললাম: আপনি কেন খেলেন না? তিনি বললেন: আমার কাছে খাবারের তুচ্ছতার কথা তিনি জানতেন, তাই তিনি আমাকে তাঁর সম্মানিত চেহারার দিকে তাকানোর অনুমতি দিয়েছেন।
তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে রয়েছেন: হাইয়ান — ‘হা’ বর্ণে ফাতহা এবং নিচে দুই নুক্তাওয়ালা ‘ইয়া’ বর্ণে তাশদীদ সহযোগে, যার শেষে আলিফ ও নূন রয়েছে। বাকি পূর্বপুরুষদের নামের উচ্চারণ স্পষ্ট করার প্রয়োজন নেই তাদের প্রসিদ্ধি ও আধিক্যের কারণে; দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয় না থাকলে আমি তা লিপিবদ্ধ করতাম। আমি তাঁর বংশপরম্পরায় মতভেদ দেখেছি, তবে এটিই আমার পাওয়া সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সূত্র।
তাঁর দুইজন আলেম পুত্র ছিলেন, তাঁরা হলেন: সালেহ এবং আবদুল্লাহ। সালেহর কথা বললে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে ২৬৬ হিজরির রমজান মাসে। তিনি আসফাহানের কাজী ছিলেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল ২০৩ হিজরিতে।
আর আবদুল্লাহর কথা হলো, তিনি ২৯০ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তিনি জুমাদাল উলা মাসের আট দিন বাকি থাকতে রবিবার দিন মৃত্যুবরণ করেন—কারো মতে এটি ছিল জুমাদাল আখিরা মাস। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তাঁর উপনাম ছিল আবু আব্দুর রহমান, আর ইমাম আহমদকেও এই উপনামেই ডাকা হতো—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। ‘ওয়াফায়াতুল আ’য়ান’ গ্রন্থের আলোচনা এখানেই শেষ।
আর ইবনে রজব তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে হাফেজ ইয়াহইয়া, যিনি ইবনে... নামে পরিচিত, তাঁর জীবনী আলোচনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
مَنْدَهْ ما لفظه: صنف "مناقبَ" الإمام أحمد رضي الله عنه في مجلد كبير، وفيه فوائد حسنة، وقال في أوله: ومن أعظم جهالاتهم - يعني: المبتدعة -، وغلوهم في مقالاتهم، وقوعُهم في الإمام المرضي، إمام الأئمة، وكهف الأمة، ناصر الإسلام والسنة، من لم تر عين مثله علمًا وزهدًا وديانة وأمانة، إمامِ أهلِ الحديث: أحمدَ بن محمد بن حنبل الشيباني - قدس الله سره، وبرد عليه ضريحه -، الإمامِ الذي لا يُجارى، والبحر الذي لا يُبارى، ومن أجمع أئمةُ الدين في زمانه، على تقدمه في شأنه ونبله وعلو مكانه، والذي له من المناقب ما لا يعد ولا يحصى، قام لله تعالى مقامًا، لولاه لتجهم الناس، ولمشوا على أعقابهم القهقرى، ولضعف الإسلام واندرس العلم.
ولقد صدق الإمام أَبو رجا، قتيبةُ بن سعيد البغلاني حيث قال: إن أحمد في زمانه بمنزلة أبي بكر وعمر في زمانهما، وأحسنَ من قال: لو كان أحمد في بني إسرائيل، لكان آية، أعاشنا الله تعالى على عقيدته، وحشرنا يوم القيامة في زمرته -.
وحين وقفت على سرائر هؤلاء، وخبثِ اعتقادهم في هذا الإمام، قصدت لمجموع نبهت فيه على بعض فضائله، ونبذة من مناقبه؛ وذكرت طرفًا مما منحه الله تعالى من المنزلة الرفيعة، والرتبة العلية في الإسلام والسنة، مع أني لست أرى لنفسي أهلية لذلك، وأن المشايخ الماضين قد عنوا بجمعه فشفوا؛ لكني أردت أن يبقى لي بجمع مناقبه ذكر، وأن أكون متشرفًا فيما بين أهل العلم من أهل السنة بانتسابي إليه، وتحلي مذهبه وطريقته.
قال فوران: ماتت امرأة لبعض أهل العلم، فجاء يحيى بنُ معين والدَّورقي، قال: فلم يجدوا امرأة تغسلها إلا امرأة حائضًا، فجاء أحمد وهم جلوس، فقال: ما شأنكم؟ فقال أهل المرأة: ليس نجد غاسلة إلا امرأة حائضًا، فقال أحمد: أليس تروون عن النبي صلى الله عليه وسلم: "يا عائشة! ناوليني الخمرة"، قالت: إني حائض، فقال: "إنّ حيضتك ليست في يدك"، يجوز أن تغسلها، قال: فحجلوا. ومن أقواله رحمه الله: الدنيا دار عمل، والآخرة دار جزاء، فمن لم يعمل هنا، ندم هناك.
মানদাহ বলেন: তিনি একটি বিশাল খণ্ডে ইমাম আহমাদের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ‘মানাকিব’ (মর্যাদা ও গুণাবলি) সংকলন করেছেন, তাতে চমৎকার কিছু উপকারিতা রয়েছে। তিনি এর শুরুতে বলেন: তাদের—অর্থাৎ বিদআতিদের—সবচেয়ে বড় মূর্খতা এবং তাদের বক্তব্যের সীমালঙ্ঘন হলো সন্তুষ্টচিত্ত ইমাম, ইমামদের ইমাম, উম্মাহর আশ্রয়স্থল, ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী, যার মতো আর কাউকে ইলম, যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), দ্বীনদারি ও আমানতদারির ক্ষেত্রে চোখ কখনো দেখেনি—আহলুল হাদিসের ইমাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানি—আল্লাহ তাঁর রহস্যকে পবিত্র করুন এবং তাঁর সমাধিকে শীতল করুন—তাঁর ব্যাপারে কুৎসা রটানো। তিনি এমন এক ইমাম যার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, এমন এক সমুদ্র যার কোনো তুলনা নেই। তাঁর সমসাময়িক সকল দ্বীনি ইমামগণ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, মহত্ত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদার ব্যাপারে একমত ছিলেন। তাঁর এত অধিক গুণাবলি রয়েছে যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়েছিলেন যে, তিনি না থাকলে মানুষ ‘জাহমি’ হয়ে যেত, তারা পেছনের দিকে ফিরে যেত, ইসলাম দুর্বল হয়ে পড়ত এবং ইলম বিলুপ্ত হয়ে যেত।
ইমাম আবু রাজা কুতাইবাহ বিন সাঈদ আল-বাগলানি সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: ‘নিশ্চয়ই আহমদ তাঁর সময়ে আবু বকর ও উমরের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সমতুল্য ছিলেন।’ আর সেই ব্যক্তি কতই না চমৎকার বলেছেন: ‘যদি আহমদ বনী ইসরাঈলের মধ্যে থাকতেন, তবে তিনি একটি নিদর্শন হতেন।’ আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর আকিদাহর ওপর জীবিত রাখুন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের হাশর করুন।
আমি যখন এই লোকদের গোপন বিষয় এবং এই ইমামের ব্যাপারে তাদের বিশ্বাসের কদর্যতা সম্পর্কে অবগত হলাম, তখন আমি একটি সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করলাম যাতে তাঁর কিছু ফযিলত এবং গুণাবলির সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি। আমি ইসলাম ও সুন্নাহর মধ্যে আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে সুউচ্চ মর্যাদা ও উচ্চতর সম্মান দান করেছেন তার কিছু অংশ বর্ণনা করেছি। যদিও আমি নিজেকে এর যোগ্য মনে করি না এবং পূর্ববর্তী শায়খগণ তাঁর জীবনী সংকলনে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন এবং অভাব পূরণ করেছেন; তবে আমি চেয়েছি তাঁর গুণাবলি সংকলনের মাধ্যমে আমার একটি স্মৃতি থেকে যাক এবং আমি যেন আহলুস সুন্নাহর আলেমদের মধ্যে তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এবং তাঁর মাযহাব ও পথ অনুসরণের মাধ্যমে নিজেকে সম্মানিত বোধ করি।
ফাওরান বলেন: জনৈক আলেমের স্ত্রী মারা গেলেন। তখন ইয়াহইয়া বিন মাইন এবং আদ-দাওরাকি সেখানে আসলেন। তিনি বলেন: তারা লাশ ধৌত করার জন্য ঋতুবতী নারী ছাড়া আর কাউকে পেলেন না। এমতাবস্থায় ইমাম আহমদ সেখানে আসলেন যখন তারা বসে ছিলেন। তিনি বললেন: তোমাদের কী হয়েছে? মহিলার পরিবার বলল: আমরা ঋতুবতী নারী ছাড়া আর কোনো গোসলদাত্রী পাচ্ছি না। তখন ইমাম আহমদ বললেন: তোমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করো না যে তিনি বলেছিলেন: ‘হে আয়েশা! আমাকে জায়নামাজটি দাও।’ আয়েশা (রা.) বললেন: ‘আমি তো ঋতুবতী।’ তখন তিনি বললেন: ‘নিশ্চয়ই তোমার ঋতুস্রাব তোমার হাতে লেগে নেই।’ সুতরাং সে (ঋতুবতী নারী) তাকে গোসল দিতে পারবে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তারা আনন্দিত হয়ে দ্রুত প্রস্থান করলেন। তাঁর (ইমাম আহমদের) অন্যতম বাণী হলো: ‘দুনিয়া হলো আমলের ঘর এবং আখিরাত হলো প্রতিদানের ঘর। সুতরাং যে এখানে আমল করবে না, সে সেখানে অনুতপ্ত হবে।’
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وسئل عن الفتوة؟ فقال: تركُ ما تهوى لما تخشى. وكان يقول: إن القلنسوة لتقع من السماء على رأس مَنْ لا يحبها. وقال ابنه عبد الله: قلت لأبي: يقولون إنك تتوضأ مما مست النار، قال: ما فعلته قط، ولم يثبت عندي في ذا خبر.
ولقد ذكر له رجل من أهل العلم: كانت له زلة، وأنه تاب من زلته، فقال: لا يقبل ذلك منه حتى يظهر التوبة والرجوع عن مقالته، ليعلنْ أنه قال مقالته كيت وكيت، وأنه قد تاب إلى الله تعالى عن مقالته، ورجع عنها، فإذا ظهر ذلك منه، فحينئذ تقبل، ثم تلا: {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا} [البقرة: 160]، وروى عنه أنه قال: طلب إسناد العلوم من السنة، وقال أيضًا: كنا نرى السكوت عن هذا قبل أن يخوض فيه هؤلاء، فلما أظهروه، لم نجد بدًا من مخالفتهم.
وقيل له: إن ها هنا رجلًا يفضل عمر بن عبد العزيز على معاوية بن أبي سفيان، فقال أحمد: لا تجالسه، ولا تؤاكلْه ولا تشاربه، وإذا مرض فلا تعدْه. وكان يقول: سبحانك ما أغفلَ هذا الخلقَ عما أمامهم، الخائف منهم مقصر، والراجي منهم متوانٍ. وسئل عن رجلٍ عليه تحريرُ رقبة مؤمنة، فكان عبدٌ يقول بخلق القرآن، فقال: لا يجزي عنه عتقُه؛ لأن الله تبارك وتعالى أمره بتحرير رقبة مؤمنة، وليس هذا بمؤمن، هذا كافر.
وقال عبد الله: سألت أبي عن قوم يقولون: لما كلم الله موسى عليه السلام لم يتكلم بصوت، فقال: بل تكلم عز وجل بصوت، هذه الأحاديث نمرها كما جاءت - يعني: حديث ابن مسعود: إذا تكلم الله عز وجل، سمع له صوت كممر السلسلة على الصفوان، قال: وهذه الجهمية تنكره، قال: وهؤلاء كفار يريدون أن يموهوا على الناس، من زعم أن الله عز وجل لم يتكلم، فهو كافر، إنا نروي هذه الأحاديث كما جاءت.
وقال أحمد: أصولُ الإيمان ثلاثة: دالٌّ، ودليلٌ، ومستدلٌّ، فالدالُّ: الله تعالى، والدليل: القرآن، والمستدل: المؤمن، من طعن على حرف من القرآن؛ فقد طعن على الله عز وجل، وعلى كتابه، وعلى رسوله.
তাকে বীরত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "যাকে তুমি ভয় করো (আল্লাহ), তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিজের কুপ্রবৃত্তি বর্জন করা।" তিনি বলতেন: "নিশ্চয়ই টুপি আকাশ থেকে এমন ব্যক্তির মাথায় পড়ে যে তা পেতে চায় না।" তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: লোকে বলে আপনি আগুনের স্পর্শ লেগেছে এমন খাবার খেয়ে অজু করেন। তিনি বললেন: আমি কখনোই তা করিনি এবং এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই।
তাঁর নিকট জনৈক আলিম ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো যার একটি বিচ্যুতি ঘটেছিল এবং সে তা থেকে তাওবা করেছে। তিনি বললেন: তার সেই তাওবা ততক্ষণ কবুল হবে না যতক্ষণ না সে তার তাওবা এবং তার ভ্রান্ত মতবাদ থেকে ফিরে আসার বিষয়টি প্রকাশ করে। তাকে প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে যে সে অমুক অমুক কথা বলেছিল এবং এখন সে আল্লাহ তাআলার নিকট সেই মতবাদ থেকে তাওবা করেছে ও তা থেকে ফিরে এসেছে। যখন তার পক্ষ থেকে তা প্রকাশ পাবে, তখনই কেবল তা কবুল করা হবে। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "তবে যারা তাওবা করে, সংশোধন করে এবং সত্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।" [সূরা আল-বাকারাহ: ১৬০]। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "সুন্নাহ থেকে ইলমের সনদ তালাশ করা জরুরি।" তিনি আরও বলেছেন: "বিদআতিরা এই বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার পূর্বে আমরা চুপ থাকাকেই পছন্দ করতাম। কিন্তু যখন তারা একে প্রকাশ করল, তখন তাদের বিরোধিতা করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকল না।"
তাঁকে বলা হলো: এখানে এমন এক ব্যক্তি আছে যে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের উপরে উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। ইমাম আহমদ বললেন: "তার সাথে বসবে না, তার সাথে পানাহার করবে না এবং সে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাবে না।" তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি কতই না পবিত্র; এই সৃষ্টিজগত তাদের সামনে যা রয়েছে সে বিষয়ে কতই না গাফেল! তাদের মধ্যে যারা ভীত তারা ত্রুটিপূর্ণ, আর যারা আশাবাদী তারা অলস।" তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যার ওপর একজন মুমিন গোলাম মুক্ত করা আবশ্যক, এমতাবস্থায় জনৈক গোলাম কুরআনকে সৃষ্টি বলে বিশ্বাস করে। তিনি বললেন: "তাকে মুক্ত করলে আদায় হবে না; কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মুমিন গোলাম মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর এই ব্যক্তি মুমিন নয় বরং কাফির।"
আবদুল্লাহ বলেন: আমি আমার পিতাকে এমন এক গোষ্ঠী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যারা বলে—যখন আল্লাহ মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছিলেন তখন তিনি কোনো আওয়াজ ছাড়াই কথা বলেছিলেন। তিনি বললেন: "বরং আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী আওয়াজের মাধ্যমেই কথা বলেছেন। আমরা এই হাদিসগুলোকে ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করি যেভাবে তা বর্ণিত হয়েছে।" অর্থাৎ ইবনে মাসউদের হাদিস: "যখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল কথা বলেন, তখন মসৃণ পাথরের ওপর দিয়ে শিকল টেনে নেওয়ার মতো শব্দ শোনা যায়।" তিনি বললেন: "জাহমিয়ারা একে অস্বীকার করে।" তিনি আরও বললেন: "ওরা কাফির, ওরা মানুষের চোখে ধুলো দিতে চায়। যে ব্যক্তি মনে করে যে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল কথা বলেননি সে কাফির। আমরা এই হাদিসগুলো ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করি যেভাবে তা এসেছে।"
ইমাম আহমদ বলেন: "ঈমানের মূল ভিত্তি তিনটি: নির্দেশক, নির্দেশিকা এবং প্রমাণ গ্রহণকারী। নির্দেশক হলেন আল্লাহ তাআলা, নির্দেশিকা হলো কুরআন এবং প্রমাণ গ্রহণকারী হলো মুমিন। যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষরের ওপরও কটাক্ষ করল সে মূলত আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল, তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের ওপরই কটাক্ষ করল।"
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وقال: ثلاثة كتب ليس لها أُصول: 1 - المغازي، 2 - والملاحم، 3 - والتفسير.
وقال: من لم يجمع علم الحديث وكثرَة طرقها واختلافها، لا يحل له الحكم على الحديث، ولا الفتيا به.
وقال: إذا روينا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحلال والحرام، والسنن والأحكام، تشددنا في الأسانيد، وإذا روينا عنه صلى الله عليه وسلم في فضائل الأعمال، وما لا يضيع حكمًا، ولا يرفع، تساهلنا في الأسانيد. وسئل عن هذه الكتابة متى العمل بها؟ قال: أخذها العمل بها. وقال: ما الناسُ إلا من يقول حدثنا وأخبرنا، وسائر الناس لا خير فيهم.
قال أَبو رجا، قتيبة: أحمد إمام، ومن لا يرضى بإمامته، فهو مبتدعٌ ضال.
قال يحيى بن منده: نقول وبالله التوفيق: إن أحمد بن حنبل إمام المسلمين، وسيد المؤمنين، وبه نحيا، وبه نموت، وبه نبعث إن شاء الله تعالى، فمن قال غير هذا، فهو عندنا من الجاهلين.
وحدث شيخ من أهل سجستان بمكة ذُكر عنه فضل ودين، قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في المنام، فقلت: يا رسول الله! من تركت لنا في عصرنا هذا من أمتك نقتدي به في ديننا؟ قال: "أحمد بن حنبل" قال: من فما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في نومه ويقظته، فهو حق، وقد ندب صلى الله عليه وسلم إلى الاقتداء به، فلزمنا جميعًا امتثالُ مرسومه، واقتفاء مأموره، انتهى كلامه - رحمه الله تعالى -.
2 - أَبو بكر، أحمد بن الحسين بن علي بن عبد الله بن موسى، البيهقي، الخُسْرَوْجِردي.
الفقيه الشافعي، الحافظ الكبير المشهور، واحدُ زمانه، وفرد أقرانه في الفنون، من كبار أصحاب الحاكم أبي عبد الله بنِ البَيِّع في الحديث، ثم الزائد عليه في أنواع العلوم.
أخذ الفقه عن أبي الفتح ناصرِ بنِ محمد العمري المروزي، غلب عليه الحديث، واشتهر به، ورحل في طلبه إلى العراق والجبال والحجاز، وسمع
তিনি বলেছেন: তিনটি কিতাবের কোনো ভিত্তি নেই: ১- আল-মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), ২- আল-মালাহিম (মহাযুদ্ধের ভবিষ্যদ্বাণী), এবং ৩- আত-তাফসির।
তিনি আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান এবং এর অসংখ্য সূত্র ও মতপার্থক্যগুলো একত্রিত করেনি, তার জন্য হাদিসের ওপর হুকুম লাগানো বা এর মাধ্যমে ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়।
তিনি বলেছেন: যখন আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হালাল-হারাম এবং সুন্নাহ ও বিধিবিধান সম্পর্কে বর্ণনা করি, তখন আমরা সনদের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করি; আর যখন আমরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমলের ফজিলত এবং এমন বিষয় বর্ণনা করি যা কোনো বিধানকে নষ্ট বা রদ করে না, তখন আমরা সনদের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করি। এই লেখা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, কখন এর ওপর আমল করা হবে? তিনি বললেন: এটি গ্রহণ করাই হলো এর ওপর আমল করা। তিনি আরও বলেছেন: মানুষ তো কেবল তারাই যারা বলে 'আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন' এবং 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন', আর অবশিষ্ট মানুষের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।
আবু রাজা কুতায়বা বলেন: আহমদ হলেন ইমাম; আর যে ব্যক্তি তার ইমামতের প্রতি সন্তুষ্ট নয়, সে ভ্রান্ত বিদআতি।
ইয়াহইয়া ইবনে মান্দাহ বলেন: আমরা আল্লাহর তাওফিকে বলছি: নিশ্চয়ই আহমদ ইবনে হাম্বল মুসলিমদের ইমাম এবং মুমিনদের সর্দার। আমরা এই বিশ্বাসের ওপরই বেঁচে থাকি, এর ওপরই মৃত্যুবরণ করব এবং ইনশাআল্লাহ এর ওপরই পুনরুত্থিত হব। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিপরীত কিছু বলবে, সে আমাদের নিকট জাহিলদের অন্তর্ভুক্ত।
মক্কায় সিজিস্তানের অধিবাসী এক শাইখ—যার মর্যাদা ও দ্বীনদারির কথা উল্লেখ করা হয়—তিনি বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি স্বপ্নে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার উম্মতের মধ্য থেকে আমাদের এই যুগে আমাদের দ্বীনের বিষয়ে অনুকরণের জন্য কাকে রেখে গেছেন? তিনি বললেন: "আহমদ ইবনে হাম্বল"। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বপ্নে বা জাগ্রত অবস্থায় যা কিছু বলেন তা সত্য। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন, তাই আমাদের সবার জন্য তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। তাঁর কথা সমাপ্ত হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।
২ - আবু বকর, আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী বিন আবদুল্লাহ বিন মুসা, আল-বাইহাকি, আল-খুসরাওজিরদি.
শাফেয়ী ফকিহ, সুপ্রসিদ্ধ মহান হাফেজ, নিজ যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তার সমসাময়িকদের মধ্যে অতুলনীয়। তিনি হাদিস শাস্ত্রে হাকেম আবু আবদুল্লাহ ইবনে বাইয়ি-এর প্রধান সঙ্গীদের অন্যতম, বরং বিভিন্ন প্রকার জ্ঞানে তিনি তার চেয়েও অগ্রগামী।
তিনি আবুল ফাতাহ নাসির বিন মুহাম্মদ আল-উমারি আল-মারওয়াজির নিকট থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন। তার ওপর হাদিস চর্চার প্রাধান্য ছিল এবং তিনি এর মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি হাদিস অন্বেষণে ইরাক, জিবাল এবং হিজাজে সফর করেন এবং শ্রবণ করেন
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
بخراسان من علماء عصره، وكذلك ببقية البلاد التي انتهى إليها.
وشرع في التصنيف، فصنف فيه كثيرًا، حتى قيل: تبلغ تصانيفه ألف جزء، وهو أول من جمع نصوص الإمام الشافعي رضي الله عنه في عشر مجلدات، ومن مشهور مصنفاته "السنن الكبير" (1)، "والسنن الصغير"، و"دلائل النبوة"، و"السنن والآثار"، و"شعب الإيمان"، و"مناقب الشافعي المطلبي"، و"مناقب أحمد بن حنبل"، وغير ذلك.
وكان قانعًا من الدنيا بالقليل، وقال إمام الحرمين في حقه: ما من شافعي المذهب، إلا وللشافعيِّ عليه مِنَّة إلا أحمد البيهقي، فإن له على الشافعي منة، وكان من أكثر الناس نصرًا لمذهب الشافعي، وطلب إلى نيسابور لنشر العلم، فأجاب، وانتقل إليها.
وكان على سيرة السلف، وأخذ عنه الحديث جماعةٌ من الأعيان، منهم: زاهر الشحامي، ومحمد الفراوي، وعبد المنعم القشيري، وغيرهم.
وكان مولده في شعبان سنة أربع وثمانين وثلاث مئة 384، وتوفي في العاشر من جمادى الأولى سنة 458 بنيسابور، ونقل إلى بيهق - رحمه الله تعالى -، ونسبته إلى بيهق - بفتح الباء الموحدة وسكون الياء المثناة من تحته وبعد الهاء المفتوحة قاف -، وهي قرى مجتمعة بنواحي نيسابور على عشرين فرسخًا منها، وخُسْرَوْجِرد، من قراها، وهي - بضم الخاء المعجمة وسكون السين وفتح الراء المهملتين وسكون الواو، وكسر الجيم ثم راء ودال مهملتين -، هكذا في "تقويم البلدان" نقلًا عن "اللباب".
3 - أَبو عبد الرحمن، أحمد بن علي بن شعيب بن علي بن سنان بن بحر النسائي الحافظ.
كان إمام عصره في الحديث، وله كتاب "السنن"، وسكن بمصر، وانتشرت بها تصانيفه، وأخذ عنه الناس.
--------------------------------------------
খোরাসানে তিনি তাঁর সমসাময়িক আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং একইভাবে অন্যান্য জনপদেরও আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যেখানে তিনি পৌঁছেছিলেন।
তিনি গ্রন্থ রচনায় ব্রতী হন এবং এতে প্রচুর রচনা করেন, এমনকি বলা হয় যে তাঁর রচনার সংখ্যা এক হাজার খণ্ডে পৌঁছেছে। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইমাম শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর পাঠ্যসমূহ দশ খণ্ডে একত্রিত করেছেন। তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে "আস-সুনানুল কাবীর" (১), "আস-সুনানুল সাগীর", "দালাইলুন নুবুওয়াহ", "আস-সুনান ওয়াল আসার", "শুআবুল ঈমান", "মানাকিবুল শাফিঈ আল-মুত্তালিবী", "মানাকিবুল আহমাদ ইবনে হাম্বল" এবং আরও অনেক কিছু।
তিনি দুনিয়ার অল্প কিছুতেই তুষ্ট ছিলেন। ইমামুল হারামাইন তাঁর সম্পর্কে বলেন: শাফিঈ মাযহাবের এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার ওপর ইমাম শাফিঈর অনুগ্রহ নেই, কেবল আহমাদ আল-বায়হাকী ব্যতীত, কারণ ইমাম শাফিঈর ওপর তাঁরই অনুগ্রহ রয়েছে। তিনি শাফিঈ মাযহাবের সহায়তাকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। জ্ঞান প্রচারের জন্য তাঁকে নিশাপুরে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তাতে সাড়া দেন এবং সেখানে স্থানান্তরিত হন।
তিনি সালাফদের আদর্শের ওপর অটল ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি হাদীস গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: যাহির আশ-শাহামী, মুহাম্মাদ আল-ফারাভী, আব্দুল মুনইম আল-কুশাইরী এবং আরও অনেকে।
তিনি ৩৮৪ হিজরীর শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৫৮ হিজরীর ১০ই জুমাদাল উলা-তে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে বায়হাক —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— এ স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর নিসবত (সম্বন্ধ) ‘বায়হাক’ এর দিকে—বরণটির উচ্চারণে বা-এর উপর ফাতহাহ (যবর), ইয়া-এর ওপর সুকুন এবং হা-এর ফাতহার পর ক্বাফ। এটি নিশাপুরের পার্শ্ববর্তী বিশ ফরসাখ দূরে অবস্থিত কতগুলো গ্রামের সমষ্টি। ‘খুসরওজীরদ’ এর একটি গ্রাম—যা উচ্চারণ করা হয় খা-এর যাম্মাহ (পেশ), সীন-এর সুকুন, রা-এর ফাতহাহ, ওয়াও-এর সুকুন, জীম-এর কাসরাহ (যের) এবং এরপর রা ও দাল এর মাধ্যমে। ‘তাকভীমুল বুলদান’ গ্রন্থে ‘আল-লুবাব’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে এভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
৩ - আবু আব্দুর রহমান, আহমাদ ইবনে আলী ইবনে শুআইব ইবনে আলী ইবনে সিনান ইবনে বাহর আন-নাসায়ী আল-হাফিয.
তিনি হাদীস শাস্ত্রে তাঁর যুগের ইমাম ছিলেন। তাঁর ‘আস-সুনান’ নামক কিতাব রয়েছে। তিনি মিশরে বসবাস করতেন এবং সেখানে তাঁর রচনাবলি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং মানুষ তাঁর কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
قال محمد بن إسحاق الأصبهاني: سمعت مشايخنا بمصر يقولون: إن أبا عبد الرحمن فارق مصر في آخر عمره، وخرج إلى دمشق، فسئل عن معاوية، وما روي من فضائله، فقال: أما يرضى معاوية أن يخرج رأسًا برأس حتى يفضل؟! وفي رواية أخرى: ما أعرف له فضيلة إلا: لا أشبع الله بطنك، وكان يتشيع، فما زالوا يدفعون في حضنه حتى أخرجوه من المسجد، وفي رواية أخرى: يدفعون في خصيته وداسوه، ثم حُمل إلى الرملة، فمات بها.
وقال الحافظ أَبو الحسن الدارقطني: لما امتُحن النسائي بدمشق، قال: احملوني إلى مكة، فحمل إليها، فتوفي بها، وهو مدفون بين الصفا والمروة.
وكانت وفاته في شعبان من سنة 303.
وقال الحافظ أَبو نعيم الأصفهاني: لما داسوه بدمشق، مات بسبب ذلك الدوس، وهو منقول، قال: وكان قد صنف كتاب "الخصائص" في فضل علي بن أبي طالب رضي الله عنه وأهلِ البيت، وأكثر رواياته فيه عن أحمد بن حنبل - رحمه الله تعالى -، فقيل له: ألا تصنف كتابًا في فضائل الصحابة رضي الله عنهم؟ فقال: دخلت دمشق والمنحرفُ عن علي رضي الله عنه كثير، فأردت أن يهديهم الله تعالى بهذا الكتاب، وكان يصوم يومًا ويفطر يومًا، وكان موصوفًا بكثرة الجماع.
قال الحافظ أَبو القاسم المعروف بابن عساكر الدمشقي: كان له أربع زوجات يقسم لهنَّ، وسراري.
وقال الدارقطني: امتحن بدمشق، فأدرك الشهادة، وتوفي يوم الاثنين لثلاثَ عشرةَ ليلة خلت من صفر سنة 303 بمكة - حرسها الله تعالى -، وقيل: بالرملة من أرض فلسطين.
وقال أَبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد بن يونس صاحب "تاريخ مصر" في تاريخه: إن أبا عبد الرحمن النسائي قدم مصر قديمًا، وكان إمامًا في الحديث، ثقة حافظًا ثبتًا، وكان خروجه من مصر في ذي القعدة سنة 302.
মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-আসবাহানি বলেন: আমি মিশরে আমাদের শায়খদের বলতে শুনেছি যে, আবু আবদুর রহমান তার জীবনের শেষভাগে মিশর ত্যাগ করে দামেস্কে গমন করেন। সেখানে তাকে মুয়াবিয়া এবং তার বর্ণিত ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: মুয়াবিয়া কি এতেই সন্তুষ্ট নন যে তিনি সমান-সমান হিসেবে নিষ্কৃতি পাবেন, যে আবার তার ফজিলত বর্ণনা করতে হবে?! অন্য এক বর্ণনায় আছে: 'আল্লাহ যেন তোমার পেট না ভরেন'—এটি ছাড়া তার আর কোনো ফজিলত আমি জানি না। তিনি আলী (রা.)-এর প্রতি অতিশয় অনুরাগী ছিলেন। ফলে লোকেরা অনবরত তার বুকে আঘাত করতে লাগল এবং শেষ পর্যন্ত তাকে মসজিদ থেকে বের করে দিল। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তারা তার অণ্ডকোষে আঘাত করল এবং তাকে পদদলিত করল। এরপর তাকে রামলায় নিয়ে যাওয়া হলে তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।
হাফেজ আবু হাসান আদ-দারা কুতনি বলেন: আন-নাসায়ি যখন দামেস্কে পরীক্ষার (নির্যাতনের) সম্মুখীন হলেন, তখন তিনি বললেন: আমাকে মক্কায় নিয়ে যাও। এরপর তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তিনি সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তিনি সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে সমাহিত আছেন।
তার মৃত্যু ছিল ৩০৩ হিজরির শাবান মাসে।
হাফেজ আবু নুআইম আল-আসবাহানি বলেন: যখন তারা তাকে দামেস্কে পদদলিত করল, সেই আঘাতের কারণেই তিনি মারা যান—এটি বর্ণিত আছে। তিনি বলেন: তিনি আলী বিন আবি তালিব (রা.) এবং আহলে বায়তের ফজিলতে 'আল-খাসায়িস' নামক কিতাব রচনা করেছিলেন এবং এতে তার অধিকাংশ বর্ণনা আহমদ বিন হাম্বল—আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এর সূত্রে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনি কেন সাহাবিদের (রা.) ফজিলত সম্পর্কে কোনো কিতাব রচনা করেন না? তিনি বললেন: আমি দামেস্কে প্রবেশ করে দেখলাম যে আলী (রা.)-এর প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন লোকের সংখ্যা অনেক, তাই আমি চেয়েছিলাম যেন আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের মাধ্যমে তাদের হেদায়েত দান করেন। তিনি একদিন রোজা রাখতেন এবং একদিন রোজা ভাঙতেন, আর তিনি অধিক স্ত্রী-সহবাসকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ইবনে আসাকির আদ-দামেশকি নামে পরিচিত হাফেজ আবুল কাসিম বলেন: তার চারজন স্ত্রী ছিলেন যাদের মাঝে তিনি সময় বণ্টন করতেন, এবং তার ক্রীতদাসীও ছিল।
আদ-দারা কুতনি বলেন: তিনি দামেস্কে পরীক্ষার সম্মুখীন হন এবং শাহাদাত লাভ করেন। তিনি ৩০৩ হিজরির ১৩ই সফর সোমবার মক্কায়—আল্লাহ তাআলা একে রক্ষা করুন—ইন্তেকাল করেন। আবার কেউ বলেন: ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের রামলায়।
'তারিখে মিসর'-এর লেখক আবু সাঈদ আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন ইউনুস তার ইতিহাসে বলেন: আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ি অনেক আগে মিশরে এসেছিলেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে ইমাম, নির্ভরযোগ্য, হাফেজ ও সুদৃঢ় ব্যক্তি ছিলেন। ৩০২ হিজরির জিলকদ মাসে তিনি মিশর ত্যাগ করেন।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
قال ابن خلكان: ورأيت بخطي في مسوداتي أن مولده: بنَساء، في سنة 215، وقيل: سنة 214، والله تعالى أعلم. ونسبته إلى نَساء - بفتح النون وفتح السين وبعدها همزة -، وهي مدينة بخراسان، خرج منها جماعة من الأعيان.
4 - الحافظ أَبو نعيم أحمدُ بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق بن موسى بن مهران الأصبهاني، الحافظ المشهور، صاحب كتاب "حلية الأولياء".
كان من الأعلام المحدثين، وأكابر الحفاظ، أخذ عن الأفاضل، وأخذوا عنه، وانتفعوا به، وكتابه "الحلية" من أحسن الكتب، وله كتاب "تاريخ أصبهان"، نقلتُ منه في ترجمة والده عبد الله نسبتَه على هذه الصورة.
وذكر أن جده مهران أسلم إشارة إلى أنه أولُ من أسلم من أجداده، وأنه مولى عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر بن أبي طالب رضي الله عنه، وذكر أن والده توفي في رجب سنة 365، ودفن عند جده من قبل أمه.
ولد في رجب سنة 336، وقيل: سنة 334، وتوفي في صفر، وقيل: يوم الاثنين الحادي والعشرين من المحرم سنة 430 بأصبهان، وأصبهان: - بكسر الهمزة وفتحها، وسكون الصاد المهملة وفتح الباء الموحدة، ويقال: - بالفاء أيضًا، وفتح الهاء بعد الألف نون -، وهي من أشهر بلاد الجبال، وإنما قيل لها هذا الاسم؛ لأنها تسمى بالعجمية: سباهان، وسباه: العسكر، وهان: الجمع، وكانت جموع عساكر الأكاسرة تجتمع إذا وقعت لهم واقعة في هذا الموضع؛ مثل عسكر فارس، وكرمان، والأهواز، وغيرها، فعرِّب، فقيل: أصبهان، وبناها: إسكندر ذو القرنين، هكذا ذكره السمعاني هكذا في "وفيات الأعيان" تاريخ ابن خلكان.
5 - الحافظ أَبو بكر، أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي بن ثابت البغدادي، المعروف بـ "الخطيب"، صاحب "تاريخ بغداد" وغيره من المصنفات.
كان من الحفاظ المتقنين، والعلماء المتبحِّرين، ولو لم يكن له سوى التاريخ، لكفاه؛ فإنه يدل على اطلاع عظيم، وصنف قريبًا من مئة مصنف،
ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: আমি আমার খসড়া পাণ্ডুলিপিতে নিজ হস্তাক্ষরে দেখেছি যে তার জন্ম নাসা শহরে, ২১৫ হিজরিতে, আবার বলা হয়েছে ২১৪ হিজরিতে, আর আল্লাহ তাআলাই অধিক ভালো জানেন। তার নিসবত বা উপাধি নাসা (নুন ও সিনে জবর এবং এরপর হামযাহ)-র দিকে সম্পৃক্ত; এটি খোরাসানের একটি শহর, যেখান থেকে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি বের হয়েছেন।
৪ - হাফেজ আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক বিন মুসা বিন মেহরান আল-আসবাহানি; তিনি একজন প্রসিদ্ধ হাফেজ এবং 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' কিতাবের রচয়িতা।তিনি প্রথিতযশা মুহাদ্দিস এবং বড় মাপের হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠ আলেমদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন এবং তারাও তার থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন ও তার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। তার 'হিলইয়া' কিতাবটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি গ্রন্থ। এছাড়াও তার 'তারিখে আসবাহান' (আসবাহানের ইতিহাস) নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে; আমি তার পিতার জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে সেখান থেকেই তার নিসবত বা বংশধারা এভাবে উদ্ধৃত করেছি।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার দাদা মেহরান ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনিই তার পূর্বপুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুয়াবিয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুক্ত করা দাস ছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তার পিতা ৩৬৫ হিজরির রজব মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তার নানার পাশে তাকে দাফন করা হয়।
তিনি ৩৩৬ হিজরির রজব মাসে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে ৩৩৪ হিজরিতে। তিনি ইন্তেকাল করেন সফর মাসে, মতান্তরে ৪৩০ হিজরির মহররম মাসের একুশ তারিখ সোমবার আসবাহানে। আসবাহান শব্দটি হামযাহর কাসরা (জের) বা ফাতহা (জবর), সদ-এর সুকুন এবং বা-এর ফাতহা (জবর) দিয়ে উচ্চারিত হয়। একে 'ফা' দিয়ে (আস্ফাহান) উচ্চারণ করা হয়। আলিফের পরে হা-এর ফাতহা এবং এরপর নুন। এটি জাবাল অঞ্চলের অন্যতম প্রসিদ্ধ শহর। এই নামের নামকরণের কারণ হলো, অনারব ভাষায় একে 'স্পাহান' বলা হয়; 'স্পাহ' অর্থ সেনাবাহিনী এবং 'হান' অর্থ সমাবেশ। পারস্য সম্রাটদের (কিসরা) সেনাবাহিনী কোনো যুদ্ধের ঘটনার সময় এই স্থানে সমবেত হতো, যেমন পারস্য, কিরমান, আহওয়ায ইত্যাদির সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে একে আরবিকরণ করে 'আসবাহান' করা হয়েছে। এটি আলেকজান্ডার জুলকারনাইন নির্মাণ করেছিলেন; সামআনি এভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান' ইতিহাস গ্রন্থেও এমনটি রয়েছে।
৫ - হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদী বিন সাবিত আল-বাগদাদি, যিনি 'খতিব' নামে পরিচিত। তিনি 'তারিখে বাগদাদ' ও অন্যান্য বহু গ্রন্থের রচয়িতা।তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হাফেজ এবং প্রজ্ঞাবান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যদি তার 'তারিখ' (ইতিহাস গ্রন্থ) ছাড়া অন্য কিছু নাও থাকতো, তবে এটিই (তার যোগ্যতার জন্য) যথেষ্ট হতো; কারণ এটি তার বিশাল জ্ঞানভাণ্ডারের প্রমাণ দেয়। তিনি প্রায় একশটির মতো গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وفضله أشهر من من أن يوصف، وأخذ الفقه عن أبي الحسن المحاملي، والقاضي أبي الطيب الطبري، وغيرهما، وكان فقيهًا، فغلب عليه الحديث والتاريخ. ولد في جمادى الآخرة سنة 392 يوم الخميس لست بقين من الشهر، وتوفي يوم الاثنين سابع ذي الحجة سنة 463 ببغداد.
وقال السمعاني: توفي في شوال، وسمعت أن الشيخ أبا إسحاق الشيرازي كان من جملة من حمل نعشه؛ لأنه انتفع به كثيرًا، وكان يراجعه في تصانيفه، والعجب أنه كان في وقته حافظ المشرق، وأبو عمرو يوسفُ بنُ عبد البر صاحبُ كتاب "الاستيعاب" حافظُ المغرب، وماتا في سنة واحدة كما سيأتي - إن شاء الله تعالى -.
وذكر محب الدين بن النجار في "تاريخ بغداد": أن أبا البركات إسماعيل بن سعد الصوفي، قال: إن الشيخ أبا بكر بن زهراء الصوفي، كان قد أعد لنفسه قبرًا إلى جانب قبر بِشْر الحافي، وكان يمضي إليه في كل أسبوع مرة، وينام فيه، ويقرأ فيه القرآن كله، فلما مات أَبو بكر الخطيب، وكان قد أوصى أن يدفن إلى جانب قبر بشر الحافي، فجاء أصحاب الحديث إلى أبي بكر بن زهراء، وسألوه: أن يدفن الخطيب في القبر الذي كان قد أعده لنفسه، وأن يؤثره به، فامتنع من ذلك امتناعًا شديدًا، وقال: موضع قد أعددته لنفسي منذ سنين، يؤخذ مني!.
فلما رأوا ذلك، جاؤوا إلى والدي الشيخ أبي سعد، وذكروا له ذلك، فأحضر الشيخ أبا بكر بن زهراء، وقال له: أنا لا أقول لك أعطهم القبر، ولكن أقول لك: لو أن بشرًا الحافي في الأحياء، وأنت إلى جانبه، فجاء أَبو بكر الخطيب يقعد دونك، أكان يحسن بك أن تقعد أعلى منه؟ قال: لا، بل كنت أقوم وأُجلسه مكاني، قال: فهكذا ينبغي أن يكون الساعة، قال: فطاب قلب الشيخ أبي بكر، وأذن لهم في دفنه، فدفنوه إلى جانبه بباب حرب، وقد كان تصدق بجميع ماله، وهو مئتا دينار فرقها على أرباب الحديث والفقهاء والفقراء في مرضه، وأوصى أن يتصدق عنه بجميع ما عليه من الثياب، ووقف جميع كتبه على المسلمين، ولم يكن له عقب.
তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনাতীত প্রসিদ্ধ। তিনি আবুল হাসান আল-মাহামিলি, কাজী আবু তাইয়্যিব আত-তাবারী এবং আরও অনেকের নিকট থেকে ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন। তিনি একজন ফকীহ ছিলেন, তবে তাঁর ওপর হাদীস এবং ইতিহাস শাস্ত্রের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। তিনি ৩৯২ হিজরীর জমাদিউল আখিরা মাসের শেষের ছয় দিন বাকি থাকতে বৃহস্পতিবার জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৬৩ হিজরীর ৭ই জিলহজ সোমবার বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।
আস-সামআনী বলেন: তিনি শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। আমি শুনেছি যে, শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজী তাঁর খাটিয়া বহনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; কারণ তিনি তাঁর নিকট থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছিলেন এবং নিজের গ্রন্থাদি রচনার সময় তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তিনি তাঁর সময়ে ছিলেন 'মাশরিকের (পূর্বাঞ্চলের) হাফেজ', আর "আল-ইস্তিআব" গ্রন্থের রচয়িতা আবু আমর ইউসুফ ইবনে আবদিল বার ছিলেন 'মাগরিবের (পশ্চিমাঞ্চলের) হাফেজ'; এবং তাঁরা উভয়েই একই বছরে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
মুহিব্বুদ্দীন ইবনুন নাজ্জার "তারিখে বাগদাদ"-এ উল্লেখ করেছেন যে, আবুল বারাকাত ইসমাঈল ইবনে সাদ আস-সুফী বলেছেন: শায়খ আবু বকর ইবনে জাহরা আস-সুফী বিশর আল-হাফীর কবরের পাশে নিজের জন্য একটি কবর প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে একবার সেখানে যেতেন, তাতে শুয়ে থাকতেন এবং সেখানে পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করতেন। যখন আবু বকর আল-খাতীব ইন্তেকাল করলেন—আর তিনি বিশর আল-হাফীর কবরের পাশে সমাহিত হওয়ার অসিয়ত করে গিয়েছিলেন—তখন হাদীস বিশারদগণ আবু বকর ইবনে জাহরার নিকট আসলেন এবং তাঁর কাছে আবেদন জানালেন যেন তিনি তাঁর নিজের জন্য প্রস্তুত করা কবরে আল-খাতীবকে দাফন করতে দেন এবং তাঁকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন। তিনি এতে কঠোরভাবে অস্বীকৃতি জানালেন এবং বললেন: "যে স্থানটি আমি বছরের পর বছর ধরে নিজের জন্য প্রস্তুত করেছি, তা আমার কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হবে!"
যখন তারা এটি দেখলেন, তখন তারা আমার পিতা শায়খ আবু সা’দের কাছে আসলেন এবং বিষয়টি তাঁর নিকট ব্যক্ত করলেন। তখন তিনি শায়খ আবু বকর ইবনে জাহরাকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁকে বললেন: "আমি তোমাকে কবরটি দিয়ে দিতে বলছি না, তবে আমি তোমাকে বলছি: যদি বিশর আল-হাফী জীবিত থাকতেন এবং তুমি তাঁর পাশে থাকতে, আর এমতাবস্থায় আবু বকর আল-খাতীব এসে তোমার নিচে বসতেন, তবে তুমি কি তাঁর চেয়ে উঁচুতে বসে থাকা শোভনীয় মনে করতে?" তিনি বললেন: "না, বরং আমি উঠে দাঁড়াতাম এবং তাঁকে আমার জায়গায় বসাতাম।" তিনি (আবু সা’দ) বললেন: "এখনও ঠিক এমনই হওয়া উচিত।" বর্ণনাকারী বলেন: তখন শায়খ আবু বকরের অন্তর সন্তুষ্ট হলো এবং তিনি তাঁকে দাফন করার অনুমতি দিলেন। অতঃপর তারা তাঁকে 'বাবুল হারব'-এ তাঁর (বিশর আল-হাফীর) পাশে দাফন করলেন। তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ সদকা করে দিয়েছিলেন—যা ছিল দুইশ দিনার—যা তিনি তাঁর অসুস্থ থাকাকালীন হাদীস বিশারদ, ফকীহ এবং দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ব্যবহৃত সমস্ত পোশাক তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করার অসিয়ত করেছিলেন এবং তাঁর সমস্ত কিতাব মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। তাঁর কোনো সন্তানাদি ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وصنف أكثر من ستين كتابًا، وكان الشيخ أَبو إسحق الشيرازي أحدَ من حمل جنازته، وقيل: إنه ولد سنة 391، والله أعلم. ورُئيت له منامات صالحة بعد موته، وكان قد انتهى إليه علمُ الحديث، وحفظه في وقته، هذا آخر ما نقلته من كتاب ابن النجار - رحمه الله تعالى رحمة واسعة -، ذكره ابن خلكان.
6 - أَبو عبيد، أحمد بن محمد بن محمد بن أبي عبيد العبدي المؤدب الهروي الفاشاني، صاحب كتاب "الغريبين"، هذا هو المنقول في نسبه.
قال ابن خلكان: ورأيت على ظهر كتابه "الغريبين": أنه أحمد بن محمد بن عبد الرحمن، والله أعلم. كان من العلماء الأكابر، وما قصر في كتابه المذكور، ولم أقف على شيء من أخباره لأذكره، سوى أنه كان يصحب أبا منصور الأزهريَّ اللغويَّ، وعليه اشتغل، وبه انتفع وتخرّج، وكتابه المذكور جمع فيه: بين تفسير غريب القرآن الكريم، والحديث النبوي، وسار في الآفاق، وهو من الكتب النافعة.
وقيل: إنه كان يحب البذلة، ويتناول
… في الخلوة، ويعاشر أهل الأدب في مجالس اللذة والطرب، عفا الله عنه وعنا، أشار الباخرزي في ترجمة بعض أدباء خراسان إلى شيء من ذلك، والله أعلم.
وكانت وفاته في رجب سنة 401 رحمه الله.
والهروي - بفتح الهاء والراء - نسبة إلى هراة، وهي إحدى مدن خراسان الكبار، فتحها الأحنف بن قيس صلحًا من قبل عبد الله بن عامر.
والفاشاني - بفتح الفاء وبعد الألف شين معجمة وبعد الألف الثانية نون - نسبة إلى فاشان، وهي قرية من قرى هراة، ويقال لها: باشان - بالباء الموحدة أيضًا -، ذكره السمعاني.
7 - الحافظ أَبو طاهر، أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم سلفة الأصبهاني، أحد الحفاظ المكثرين.
رحل في طلب الحديث، ولقي أعيان المشايخ، وكان شافعي المذهب، ورد
তিনি ষাটেরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং শেখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি তাঁর জানাজা বহনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ৩৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে অনেক উত্তম স্বপ্ন দেখা গিয়েছিল। তাঁর সময়ে হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান এবং তার হিফজ বা মুখস্থকরণ তাঁর কাছেই এসে সমাপ্ত হয়েছিল (অর্থাৎ তিনি শীর্ষস্থানে ছিলেন)। ইবনে নাজ্জারের কিতাব থেকে আমি যা নকল করেছি তার শেষ অংশ এটিই—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন—ইবনে খাল্লিকান এটি উল্লেখ করেছেন।
৬ - আবু উবাইদ, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উবাইদ আল-আবদি আল-মুয়াদ্দিব আল-হারাবি আল-ফাশানি, "আল-গারিবাইন" গ্রন্থের লেখক। এটিই তাঁর বংশপরিচয় সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।ইবনে খাল্লিকান বলেন: আমি তাঁর "আল-গারিবাইন" গ্রন্থের মলাটের ওপর দেখেছি যে, তিনি হলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান, আর আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি বড় মাপের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর উল্লিখিত কিতাবটিতে তিনি কোনো ত্রুটি করেননি। তাঁর জীবনী সম্পর্কে উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু আমি পাইনি, শুধু এটুকু ছাড়া যে, তিনি ভাষাবিদ আবু মনসুর আল-আযহারীর সান্নিধ্যে ছিলেন, তাঁর কাছেই ইলম চর্চা করেছেন, তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর অধীনেই শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। তাঁর উল্লিখিত গ্রন্থে তিনি পবিত্র কুরআনের বিরল শব্দাবলি এবং নববী হাদিসের ব্যাখ্যাকে একত্রিত করেছেন। এটি দিগ্বিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থসমূহের একটি।
বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সাদাসিধে পোশাক ও চালচলন পছন্দ করতেন এবং নির্জনে
… গ্রহণ করতেন, আর আনন্দ ও আমোদ-প্রমোদের মজলিসে সাহিত্যিকদের সাথে মেলামেশা করতেন। আল্লাহ তাকে এবং আমাদের ক্ষমা করুন। বাখারজি খোরাসানের কিছু সাহিত্যিকের জীবনীতে এ জাতীয় কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৪০১ হিজরির রজব মাসে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আর হারাবি শব্দটি—হা এবং রা বর্ণে জবর সহ—হরাত শহরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এটি খোরাসানের বড় শহরগুলোর একটি, যা আবদুল্লাহ ইবনে আমিরের পক্ষ থেকে আহনাফ ইবনে কাইস সন্ধির মাধ্যমে জয় করেছিলেন।
আর ফাশানি শব্দটি—ফা বর্ণে জবর এবং আলিফের পরে নুকতাহযুক্ত শিন এবং দ্বিতীয় আলিফের পরে নুন সহ—ফাশান গ্রামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এটি হরাত অঞ্চলের একটি গ্রাম, যাকে বাশান—নিচে একটি নুকতাহওয়ালা 'বা' বর্ণ দিয়েও—বলা হয়। সামআনী এটি উল্লেখ করেছেন।
৭ - হাফেজ আবু তাহির, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম সিলাফাহ আল-আসবাহানি, অধিক হাদিস সংগ্রহকারী হাফেজদের একজন।তিনি হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে সফর করেছেন এবং প্রথিতযশা মাশায়েখদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং আগমন করেন...
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
بغداد، واشتغل بها على الكيا أبي الحسن علي الهرَّاسي في الفقه، وعلى الخطيب أبي زكريا يحيى بن علي التبريزي اللغوي باللغة، وروى عن أبي محمد جعفر بن السراج وغيره من الأئمة الأماثل، وجاب البلاد، وطاف الآفاق، ودخل ثغر الإسكندرية سنة 511 في ذي القعدة، وكان قدومه إليه في البحر من مدينة صور، وأقام به، وقصده الناس من الأماكن البعيدة، وسمعوا عليه، وانتفعوا به، ولم يكن في آخر عمره مثله.
وبنى له العادل أَبو الحسن، عليُّ بن السلار وزيرُ الظافر العبيدي صاحبِ مصر في سنة 546 مدرسةً بالثغر المذكور، وفوضها إليه، وهي معروفة به إلى الآن.
قال ابن خلكان: وأدركت جماعة من أصحابه بالشام والديار المصرية، وسمعت عليهم، وأجازوني، وأماليه وتعاليقه كثيرة؛ والاختصار بالمختصر أولى.
وكانت ولادته سنة 472 تقريبًا بأصبهان، وتوفي ضحوة نهار الجمعة، وقيل: ليلة الجمعة خامس شهر ربيع الآخر سنة 576 بثغر الإسكندرية، ودفن في وعلة، وهي مقبرة داخل السور عندا الباب الأخضر، فيها جماعة من الصالحين؛ كالطرطوشي، وغيره.
قلت: وجدت العلماء المحدِّثين بالديار المصرية، من جملتهم الحافظُ زكي الدين أَبو محمد، عبد العظيم بن عبد القوي المنذري محدثُ مصرَ في زمانه يقولون في مولد الحافظ السلفي هذه المقالة، ثم وجدت في كتاب "زهر الرياض المفصح عن المقاصد والأغراض" تأليف الشيخ جمال الدين أبي القاسم، عبدِ الرحمن بن أبي الفضل، عبد المجيد بن إسماعيل بن حفص الصفراوي الاسكندري: أن الحافظ أبا طاهر السلفيَّ المذكور، وهو شيخه، كان يقول: مولدي بالتخمين - لا باليقين - سنة 478، فيكون مبلغ عمره على مقتضى ذلك ثمانيا وتسعين سنة. هذا آخر ما قاله الصفراوي المذكور.
ورأيت في تاريخ الحافظ محب الدين محمد بن محمود، المعروف بابن
বাগদাদে, এবং সেখানে তিনি আল-কিয়া আবুল হাসান আলী আল-হাররাসির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং ভাষাবিদ খতিব আবু জাকারিয়া ইয়াহিয়া ইবনে আলী আত-তাবরিজির নিকট ভাষা শিক্ষা করেন। তিনি আবু মুহাম্মদ জাফর ইবনে আস-সিরাজ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ইমামদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বহু দেশ ভ্রমণ করেন, দিগ দিগন্ত পরিভ্রমণ করেন এবং সমুদ্রপথে সোর শহর থেকে ৫১১ হিজরির জিলকদ মাসে আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানে বসবাস করেন এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর নিকট আসার সংকল্প করত, তাঁর কাছে হাদিস শুনত এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত হত। তাঁর শেষ জীবনে তাঁর সমতুল্য আর কেউ ছিল না।
মিসরের শাসক আজ-জাফির আল-উবায়দির উজির আল-আদিল আবুল হাসান আলী ইবনে আস-সাল্লার ৫৪৬ হিজরিতে উক্ত বন্দরে তাঁর জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করে দেন এবং সেটির দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত করেন; যা আজ পর্যন্ত তাঁর নামেই পরিচিত।
ইবনে খাল্লিকান বলেন: আমি সিরিয়া ও মিসর ভূখণ্ডে তাঁর একদল ছাত্রকে পেয়েছি, তাঁদের নিকট হাদিস শুনেছি এবং তাঁরা আমাকে ইজাজত (অনুমতি) দিয়েছেন। তাঁর বর্ণিত শ্রুতিলিপি ও টীকা-টিপ্পনী অনেক; তবে সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে সংক্ষেপ করাই শ্রেয়।
তাঁর জন্ম আনুমানিক ৪৭২ হিজরিতে ইসফাহানে হয়েছিল এবং তিনি ৫৭৬ হিজরির রবিউস সানি মাসের পাঁচ তারিখ শুক্রবার পূর্বাহ্নে, মতান্তরে জুমার রাতে আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে 'ওয়ালাহ'-তে দাফন করা হয়, যা প্রাচীরের অভ্যন্তরে 'বাবুল আখদার'-এর নিকটে অবস্থিত একটি কবরস্থান। সেখানে আত-তারতুশি এবং আরও অনেক নেককার ব্যক্তি সমাহিত আছেন।
আমি বলছি: আমি মিসর ভূখণ্ডের মুহাদ্দিস উলামাদের পেয়েছি, যাঁদের মধ্যে তাঁর সময়ের মিসরের মুহাদ্দিস হাফেজ জাকিউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিম ইবনে আবদুল কাভি আল-মুনজিরিও ছিলেন; তাঁরা হাফেজ সিলাফির জন্ম সম্পর্কে এই কথাটিই বলতেন। অতঃপর আমি শেখ জামালুদ্দিন আবুল কাসেম আবদুর রহমান ইবনে আবুল ফজল আবদুল মাজিদ ইবনে ইসমাইল ইবনে হাফস আস-সাফরাভি আল-ইসকান্দারির রচিত 'যাহরুর রিয়াদ আল-মুফসিহ আনিল মাকাসিদ ওয়াল আগরাদ' গ্রন্থে পেয়েছি যে, উক্ত হাফেজ আবু তাহের সিলাফি—যিনি তাঁর উস্তাদ ছিলেন—বলতেন: "আমার জন্ম নিশ্চিতভাবে নয় বরং অনুমান অনুযায়ী ৪৭৮ হিজরিতে।" সেই অনুযায়ী তাঁর বয়স হয় আটানব্বই বছর। এটিই ছিল উক্ত সাফরাভির বক্তব্যের শেষ অংশ।
আর আমি হাফেজ মুহিব্বুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ, যিনি ইবনে... নামে পরিচিত তাঁর ইতিহাসে দেখেছি...
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
النجار البغدادي، ما يدل على صحة ما قاله الصفراوي، وهو تلميذه، مع أننا ما علمنا أن أحدًا منذ ثلاث مئة سنة إلى الآن بلغ المئة، فضلًا عن أنه زاد عليها، سوى القاضي أبي الطيب، طاهرِ بنِ عبد الله الطبري؛ فإنه عاش مئة سنة وسنتين، ونسبته إلى جده إبراهيم.
سِلَفَةَ - بكسر السين المهملة وفتح اللام والفاء وفي آخره الهاء -، وهو لفظ عجمي، ومعناه بالعربي: ثلاث شفاه؛ لأن شفته الواحدة كانت مشقوقة، فصارت مثل شفتين غير الأخرى الأصلية، والأصل فيه سلبه - بالباء -، فابدلت بالفاء.
8 - أَبو بكر، أزهر بن سعد السمان، الباهلي بالولاء، البصري - رحمه الله تعالى -.
روى الحديث عن حُميد الطويل، وروى عنه أهل العراق، كان يصحب أبا جعفر المنصور قبل أن يلي الخلافة، فلما وليها، جاءه أزهر مهنئًا، فحجبه المنصور، فترصد له يومَ جلوسه العام، وسلم عليه، قال له المنصور: ما جاء بك؟ فقال: جئت مهنئًا بالأمر، فقال المنصور: أعطوه ألف دينار، وقولوا له: قد قضيتَ وظيفة الهناء، فلا تعد إلي، فمضى وعاد في قابل، فحجبه، فدخل عليه في مثل ذلك المجلس، وسلم عليه، فقال له: ما جاء بك؟ فقال: سمعت أنك مرضت، فجئتك عائدًا، فقال: أعطوه ألف دينار، وقولوا له: قد قضيتَ وظيفة العيادة، فلا تعدْ إليَّ؛ فإني قليل الأمراض، فمضى وعاد في قابل، فقال له في مثل ذلك المجلس: ما جاء بك؟ فقال: سمعت منك دعاء مستجابًا، فجئت لأتعلمه منك، فقال له: يا هذا! إنه غيرُ مستجاب، إني في كل سنة أدعو الله به ألا تأتيني، وأنت تأتي. وله وقائع وحكايات مشهورة.
كانت ولادته سنة 111، وتوفي سنة 203، وقيل سبع ومئتين، وأزهرُ اسمُ علم، والسمان: - بتشديد الميم -، هذه النسبة إلى بيع السمن، وحملِه، والبصري: هذه النسبة إلى بصرة، وهي من أشهر مدن العراق، وهي إسلامية، بناها عمر بن الخطاب رضي الله عنه في سنة 14 للهجرة على يد عتبة بن غزوان.
আন-নাজ্জার আল-বাগদাদি, যা তাঁর ছাত্র আস-সাফরাভি যা বলেছেন তার সত্যতা নির্দেশ করে; যদিও আমরা জানি না যে গত তিনশ বছর থেকে এখন পর্যন্ত কেউ একশ বছর বয়সে পৌঁছেছেন, তার চেয়ে বেশি হওয়া তো দূরের কথা, কেবল কাজী আবু তাইয়িব তাহির বিন আব্দুল্লাহ আত-তাবারী ছাড়া। তিনি একশ দুই বছর বেঁচে ছিলেন এবং তাঁর নিসবত (সম্পর্ক) তাঁর দাদা ইব্রাহিমের দিকে।
সিলাফাহ — সিন অক্ষরে কাসরা (জের), লাম ও ফা অক্ষরে ফাতহা (জবর) এবং শেষে হা সহযোগে — এটি একটি অনারব শব্দ। আরবিতে এর অর্থ হলো: তিন ঠোঁট; কারণ তাঁর একটি ঠোঁট চেরা ছিল, ফলে সেটি মূল ঠোঁট ছাড়াও আরও দুটি ঠোঁটের মতো হয়ে গিয়েছিল। শব্দটির মূল রূপ ছিল 'সিলাবাহ' — বা অক্ষর দিয়ে — পরবর্তীতে যা ফা দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে।
৮ - আবু বকর, আজহার বিন সাদ আস-সাম্মান, আনুকূল্যে বাহেলি, আল-বাসরি - আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন-.
তিনি হুমাইদ আত-তাবিল থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইরাকবাসীরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি আবু জাফর আল-মানসুরের সাহচর্যে থাকতেন। যখন তিনি খলিফা হলেন, তখন আজহার তাঁকে অভিনন্দন জানাতে এলেন, কিন্তু আল-মানসুর তাঁকে বাধা দিলেন। তিনি আম-দরবারের দিনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। আল-মানসুর তাঁকে বললেন: "তোমার আসার কারণ কী?" তিনি বললেন: "আমি অভিনন্দন জানাতে এসেছি।" আল-মানসুর বললেন: "তাঁকে এক হাজার দিনার দিয়ে দাও এবং তাঁকে বলো: তুমি অভিনন্দন জানানোর দায়িত্ব সম্পন্ন করেছ, সুতরাং আর আমার কাছে ফিরে এসো না।" এরপর তিনি চলে গেলেন এবং পরের বছর আবার ফিরে এলেন, কিন্তু এবারও তাঁকে বাধা দেওয়া হলো। তিনি পূর্বের মতো সেই একই মজলিসে প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। খলিফা তাঁকে বললেন: "তোমার আসার কারণ কী?" তিনি বললেন: "আমি শুনেছি আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তাই আপনাকে দেখতে এসেছি।" তিনি বললেন: "তাঁকে এক হাজার দিনার দিয়ে দাও এবং তাঁকে বলো: তুমি রুগ্নাবস্থায় সাক্ষাতের দায়িত্ব সম্পন্ন করেছ, তাই আর আমার কাছে ফিরে এসো না; কারণ আমি খুব কমই অসুস্থ হই।" এরপর তিনি চলে গেলেন এবং পরের বছর আবার ফিরে এলেন। খলিফা তাঁকে সেই একই মজলিসে বললেন: "তোমার আসার কারণ কী?" তিনি বললেন: "আমি আপনার থেকে একটি কবুল হওয়া দোয়ার কথা শুনেছি, তাই সেটি আপনার থেকে শিখতে এসেছি।" তিনি তাঁকে বললেন: "হে লোক! এটি কবুল হওয়া দোয়া নয়; কারণ আমি প্রতি বছর আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি যেন তুমি আমার কাছে না আসো, অথচ তুমি এসেই যাচ্ছ।" তাঁর আরও অনেক প্রসিদ্ধ ঘটনা ও কাহিনী রয়েছে।
তাঁর জন্ম ১১১ হিজরিতে এবং মৃত্যু ২০৩ হিজরিতে, আবার মতান্তরে ২০৭ হিজরিতে। আজহার একটি নাম। আস-সাম্মান শব্দটি মিম অক্ষরে তাশদিদ সহযোগে; এটি ঘি বিক্রি ও তা বহন করার পেশার সাথে সম্পৃক্ত নিসবত। আল-বাসরি শব্দটি বসরার সাথে সম্পৃক্ত নিসবত, যা ইরাকের অন্যতম প্রসিদ্ধ শহর। এটি একটি ইসলামি শহর, যা ১৪ হিজরি সনে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নির্দেশে উতবা বিন গাজওয়ানের হাতে নির্মিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قال ابن قتيبة في كتاب "أدب الكاتب" في باب: ما تغير من أسماء البلاد: البصرة: الحجارة الرخوة، فإن حذفوا الهاء، قالوا: البِصْر - بكسر الباء -، وإنما أجازوا في النسب بِصْري؛ لذلك، والبصر: أيضًا الحجارة الرخوة، قاله في "الصحاح"، انتهى ملخصًا.
9 - أَبو يعقوب، إسحاق بن أبي الحسن، إبراهيم بن مخلد بن إبراهيم بن عبد الله ابن مطر بن عبيد الله بن غالب بن عبد الوارث بن عبيد الله بن عطية بن كعب بن مرة بن كعب بن همام بن أسد بن مرة بن عمرو بن حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم بن مرة الحنظلي المروزي المعروف بابن راهويه.
جمع بين الحديث والفقه والورع، وكان أحد أئمة الإسلام، ذكره الدارقطني فيمن روى عن الشافعي رضي الله عنه، وعده البيهقي في أصحاب الشافعي، وكان قد ناظر الشافعي في مسألة: جواز بيع دور مكة، وقد استوفى الشيخ فخر الدين الرازي صورة ذلك المجلس الذي جرى بينهما في كتابه الذي سماه: "مناقب الإمام الشافعي"، فلما عرف فضله، نسخ كتبه، وجمع مصنفاته بمصر.
قال أحمد بن حنبل رضي الله عنه: إسحق عندنا إمام من أئمة المسلمين، وما عبر الجسر أفقهُ من إسحق، وقال إسحق: أحفظ سبعين ألف حديث، وأذاكر بمئة ألف حديث، وما سمعت شيئًا قط إلا حفظته، ولا حفظت شيئًا قط فنسيته، وله مسند مشهور.
وكان قد رحل إلى الحجاز والعراق واليمن والشام، وسمع من سفيان بن عيينة ومَنْ في طبقته، وسمع منه: البخاري، ومسلم، والترمذي.
وكانت ولادته سنة 161، وقيل: سنة 163 - وقيل سنة 166، وسكن في آخر عمره نيسابور، وتوفي بها ليلة الخميس النصف من شعبان، وقيل: الأحد، وقيل: السبت سنة 238، وقيل: سبع وثلاثين ومئتين، وقيل: سنة 230.
ورَاهْوَيْهْ - بفتح الراء وبعد الألف هاء ساكنة ثم واو مفتوحة وبعدها ياء مثناة من تحتها ساكنة وبعدها هاء ساكنة -: لُقب أبيه أبي الحسن إبراهيم، وإنما لقب بذلك؛ لأنه ولد في طريق مكة، والطريق بالفارسية: رَاهْ، ووَيْه معناه: وُجد،
ইবনে কুতায়বা 'আদাবুল কাতিব' কিতাবের 'দেশের নামের পরিবর্তন' অধ্যায়ে বলেছেন: বসরা অর্থ হলো কোমল পাথর। তারা যদি 'হা' বর্ণটি বাদ দেয়, তবে বলে 'বিসর'—বা-এর নিচে কাসরা (যের) দিয়ে। সে কারণেই তারা নিসবত বা সম্বন্ধের ক্ষেত্রে 'বিসরী' বলার অনুমতি দিয়েছেন। 'সাহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'আল-বাসর' অর্থও কোমল পাথর। সংক্ষেপিত সমাপ্ত।
৯ - আবু ইয়াকুব, ইসহাক বিন আবিল হাসান, ইবরাহীম বিন মাখলাদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ বিন মাতার বিন উবাইদুল্লাহ বিন গালিব বিন আব্দুল ওয়ারিস বিন উবাইদুল্লাহ বিন আতিয়্যাহ বিন কাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন হাম্মাম বিন আসাদ বিন মুররাহ বিন আমর বিন হানজালা বিন মালিক বিন যাইদ মানাত বিন তামীম বিন মুররাহ আল-হানজালী আল-মারওয়াযী, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত.
তিনি হাদিস, ফিকহ এবং তাকওয়ার সমন্বয় করেছিলেন এবং ইসলামের অন্যতম ইমাম ছিলেন। দারা কুতনী তাকে ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বাইহাকী তাকে শাফিয়ী ঘরানার আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মক্কার ঘরবাড়ি কেনাবেচা জায়েজ হওয়ার মাসআলায় তিনি ইমাম শাফিয়ীর সাথে মুনাযারা (বিতর্ক) করেছিলেন। ইমাম ফখরউদ্দীন রাযী তার 'মানাকিবে ইমাম শাফিয়ী' নামক কিতাবে তাদের মাঝে অনুষ্ঠিত সেই মজলিসের চিত্র বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। যখন তিনি তার (শাফিয়ীর) মর্যাদা বুঝতে পারলেন, তখন তিনি তার কিতাবসমূহ অনুলিপি করেন এবং মিশরে তার সংকলনগুলো সংগ্রহ করেন।
আহমদ বিন হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: ইসহাক আমাদের নিকট মুসলিমদের ইমামদের মধ্যে একজন ইমাম। বাগদাদের সেতু পার হয়ে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ইসহাকের চেয়ে বড় কোনো ফকীহ নেই। ইসহাক বলেছেন: আমি সত্তর হাজার হাদিস মুখস্থ করেছি এবং এক লক্ষ হাদিস নিয়ে আলোচনা করতে পারি। আমি যা শুনেছি তা-ই মুখস্থ করেছি এবং যা মুখস্থ করেছি তা কখনো ভুলিনি। তার একটি প্রসিদ্ধ 'মুসনাদ' গ্রন্থ রয়েছে।
তিনি হিজাজ, ইরাক, ইয়ামেন ও সিরিয়া সফর করেছিলেন এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনা ও তার সমসাময়িকদের থেকে হাদিস শুনেছিলেন। তার থেকে বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তার জন্ম ১৬১ হিজরিতে হয়েছিল, মতান্তরে ১৬৩ বা ১৬৬ হিজরিতে। জীবনের শেষ সময়ে তিনি নিশাপুরে বসবাস করতেন এবং সেখানেই ২৩৮ হিজরির শাবান মাসের মাঝামাঝি বৃহস্পতিবার রাতে ইন্তেকাল করেন। তবে তার মৃত্যু সম্পর্কে রবিবার বা শনিবারের কথাও বলা হয়েছে এবং সাল হিসেবে ২৩৭ বা ২৩০ হিজরির বর্ণনাও পাওয়া যায়।
রাহওয়াইহ (রা-এর ওপর ফাতহা বা যবর, আলিফের পর সাকিন 'হা', এরপর ফাতহাযুক্ত 'ওয়াও', এরপর সাকিন 'ইয়া' এবং শেষে সাকিন 'হা')—এটি তার পিতা আবুল হাসান ইবরাহীমের উপাধি ছিল। তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি মক্কার পথে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ফারসি ভাষায় 'রাহ' অর্থ পথ এবং 'ওয়াইহ' অর্থ পাওয়া গেছে।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فكأنه: وجد في الطريق، وقيل فيه أيضًا: راهوُيَه - بضم الهاء وسكون الواو وفتح الياء -.
وقال إسحاق المذكور: قال لي عبد الله بن طاهر أميرُ خراسان: لم قيل لك: ابن راهويه؟ وما معنى هذا؟ وهل تكره أن يقال لك هذا؟ قلت: اعلم أيها الأمير أن أبي ولد في الطريق، فقالت المراوزة: راهويه؛ لأنه ولد في الطريق، وكان أبي يكره هذا، وأما أنا، فلست أكره ذلك، ومَخْلَد - بفتح الميم وسكون الخاء المعجمة وفتح اللام وبعدها دال مهملة، والحنظلي - بفتح الحاء المهملة وسكون النون وفتح الظاء المعجمة وبعدها لام -، هذه النسبة إلى حنظلة بن مالك -، ينسب إليه بطن من تميم.
10 - أَبو الطاهر، بركات بن الشيخ أبي إسحاق، إبراهيم بن الشيخ أبي الفضل، طاهر بن بركات بن إبراهيم بن علي بن محمد بن أحمد بن العباس بن هاشم الخشوعي الدمشقي الجبروتي الفرشي الرفاء الأنماطي.
كان له سماعات عالية، وإجازات تفرد بها، وألحق الأصاغر بالأكابر؛ فإنه انفرد في آخر عمره بالسماع والإجازة من أبي محمد، هبة الله بن أحمد بن الأكفاني، وانفرد بالإجازة من أبي محمد القاسم الحريري البصري صاحب "المقامات" أجازه في سنة 512 من البصرة، وهو من بيت الحديث، حدث هو وأبوه وجده، وسئل أبوه: لِمَ سموا الخُشوعيين؟ فقال: كان جدنا الأعلى يؤم بالناس، فتوفي في المحراب، فسمي: الخشوعي، نسبة إلى الخُشوع.
وكان مولد أبي الطاهر المذكور بدمشق في رجب سنة 510، وتوفي ليلة السابع والعشرين من صفر سنة 598 بدمشق، ودفن من الغد بباب الفراديس عند والده رحمه الله، وهو آخر من روى بالإجازة عن الحريري.
والفُرْشي - بضم الفاء وسكون الراء -: نسبة إلى بيع الفُرش، والأنماطي: الذي يبيع الفرش أيضًا، والرفاء معروف، قال ابن خلكان: واجتمعت بجماعة من أصحاب أبي الطاهر المذكور، وسمعت عليهم، وأجازوني، ولقيت ولده
যেন তাকে পথেই পাওয়া গিয়েছিল। একে 'রাহওয়াইহি' (হা-তে পেশ, ওয়াও-তে সাকিন এবং ইয়া-তে জবর যোগে) ও বলা হয়।
উল্লিখিত ইসহাক বলেন: খোরাসানের আমীর আবদুল্লাহ ইবনে তাহির আমাকে বললেন: আপনাকে কেন ইবনে রাহওয়াইহি বলা হয়? এর অর্থ কী? আর আপনাকে এই নামে ডাকলে কি আপনি অপছন্দ করেন? আমি বললাম: হে আমীর, জেনে রাখুন যে, আমার পিতা পথিমধ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ফলে মারওয়াজবাসীরা তাঁকে 'রাহওয়াইহি' বলত; যেহেতু তিনি পথেই জন্মেছিলেন। আমার পিতা এটি অপছন্দ করতেন, কিন্তু আমি তা অপছন্দ করি না। আর 'মাখলাদ' (মীম-এ জবর, খা-তে সাকিন, লাম-এ জবর এবং এরপর দাল সহযোগে) এবং 'আল-হানজালি' (হা-তে জবর, নূন-এ সাকিন, জা-তে জবর এবং এরপর লাম সহযোগে), এই নিসবতটি হানজালা ইবনে মালিকের দিকে—যার সাথে তামীম গোত্রের একটি শাখা সম্পর্কযুক্ত।
১০ - আবু তাহির, বারাকাত বিন আশ-শাইখ আবি ইসহাক, ইব্রাহিম বিন আশ-শাইখ আবি আল-ফাদল, তাহির বিন বারাকাত বিন ইব্রাহিম বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আল-আব্বাস বিন হাশিম আল-খুশুয়ি আদ-দিমাশকি আল-জাবরুতি আল-ফুরশি আর-রাফ্ফা আল-আনমাতি.
তাঁর হাদীস শ্রবণ ছিল উচ্চমানের এবং এমন কিছু ইজাযত তাঁর ছিল যাতে তিনি অনন্য ছিলেন। তিনি ছোটদের বড়দের কাতারে শামিল করেছিলেন; কারণ জীবনের শেষভাগে তিনি আবু মুহাম্মাদ হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আল-আকফানির নিকট থেকে শ্রবণ ও ইজাযত প্রাপ্তিতে একক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি 'মাকামাত' রচয়িতা আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম আল-হারিরি আল-বাসরির নিকট থেকে এককভাবে ইজাযত প্রাপ্ত ছিলেন, যা তিনি ৫১২ হিজরীতে বসরা থেকে প্রদান করেছিলেন। তিনি ছিলেন একটি হাদীসচর্চাকারী পরিবারের সদস্য; তিনি নিজে, তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদাও হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর পিতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কেন আপনাদের 'খুশুয়ি' বলা হয়? তিনি বলেছিলেন: আমাদের আদি পিতামহ মানুষের ইমামতি করতেন, তিনি মিহরাবেই ইন্তেকাল করেন; ফলে খুশু' বা ভীতি-বিহ্বলতার সাথে সম্বন্ধ করে তাঁকে 'খুশুয়ি' নামকরণ করা হয়।
উল্লিখিত আবু তাহিরের জন্ম ৫১০ হিজরীর রজব মাসে দামেস্কে এবং তিনি ৫৯৮ হিজরীর ২৭শে সফর রাতে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। পরদিন তাঁকে বাবু আল-ফারাদিসে তাঁর পিতার কবরের পাশে দাফন করা হয় (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনিই ছিলেন হারিরির নিকট থেকে ইজাযত সূত্রে বর্ণনা প্রদানকারী সর্বশেষ ব্যক্তি।
'আল-ফুরশি' (ফা-তে পেশ ও রা-তে সাকিন যোগে) বিছানাপত্র বিক্রির সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবত। 'আল-আনমাতি' অর্থও যে বিছানাপত্র বিক্রি করে। আর 'আর-রাফ্ফা' (তালি প্রদানকারী) বিষয়টি সুপরিচিত। ইবনে খাল্লিকান বলেন: আমি উল্লিখিত আবু তাহিরের একদল ছাত্রের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছি এবং তারা আমাকে ইজাযত দিয়েছেন। এছাড়া আমি তাঁর পুত্রের সাথেও দেখা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
بالديار المصرية، وكان يتردد إليّ في كثير من الأوقات، وأجازني جميع مسموعاته، وإجازاته من أبيه.
11 - أبو محمد، جعفر بن أحمد بن الحسين بن أحمد بن جعفر السراج، المعروف بالقاري البغدادي.
كان حافظ عصره، وعلامة زمانه، وله التصانيف العجيبة، منها: كتاب "مصارع العشاق"، وغيره، حدَّث عن أبي علي بن شاذان، وأبي القاسم بن شاهين، والخلال والبرمكي، والقزويني، وابن غيلان، وغيرهم، وأخذ عنه خلق كثير، وروى عنه خلق كثير، وروى عنه الحافظ أَبو طاهر السلفي، وكان يفتخر بروايته، مع أنه لقي أعيان ذلك الزمان، وأخذ عنهم، وله شعر حسن، فمنه:
بانَ الخليطُ فأَدْمُعي
… وَجْدًا عليهم تَسْتَهِلُّ
وحَدا بهم حادي الفِرا
… قِ عن المنازلِ فاستقلُّوا
قلْ للذين ترحَّلوا
… عن ناظري والقلبَ حَلُّوا
ودَمي بلا جُرم أتيتُ
… غَداةَ بَيْنِهِمُ استحلُّوا
ما ضَرَّهُم لو أَنْهَلُوا
… من ماءِ وصلِهم وعَلُّوا
وله غير ذلك نظم جيد. وكانت ولادته إما في أواخر سنة 418، أو أوائل سنة 418.
وذكر الشريف أَبو المعمر المبارك بنُ أحمد بنِ عبد العزيز الأنصاريُّ في كتاب "وفيات الشيوخ": أن مولده سنة ست عشرة ببغداد، وتوفي بها ليلة الأحد الحادي والعشرين من صفر سنة خمس مئة، ودفن بباب أبزر.
12 - أبو عبد الله، حرملة بن يحيى بن عبد الله بن حرملة بن عمران التجيبي الزميلي المصري، صاحب الإمام الشافعي.
كان أكثر أصحابه اختلافًا إليه، واقتباسًا منه، وكان حافظًا للحديث، وصنف "المبسوط"، و"المختصر"، وروى عنه: مسلم بن الحجاج، فأكثرَ في "صحيحه" من ذكره.
মিসর দেশে অবস্থানকালে তিনি প্রায়ই আমার নিকট যাতায়াত করতেন এবং তিনি তার সমস্ত শ্রুত বিষয় ও তার পিতার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইজাজতসমূহের অনুমতি আমাকে প্রদান করেছেন।
১১ - আবু মুহাম্মদ, জাফর ইবনে আহমদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে জাফর আস-সাররাজ, যিনি বাগদাদী ক্বারী হিসেবে পরিচিত।
তিনি তার যুগের হাফেজ এবং তার সময়ের আল্লামা ছিলেন। তার চমৎকার কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে ‘মাসারিউল উশাক’ ও অন্যান্য গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবু আলী ইবনে শাযান, আবুল কাসিম ইবনে শাহীন, আল-খাল্লাল, আল-বারমাকি, আল-কাযউইনি, ইবনে গাইলান এবং অন্যান্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে অসংখ্য লোক জ্ঞান অর্জন ও হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তার থেকে বর্ণনা করতে গর্ব বোধ করতেন, যদিও তিনি সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তাদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তার সুন্দর কাব্য প্রতিভা ছিল, তার কিছু কবিতা হলো:
সাথীরা বিদায় নিল, তাই তাদের বিরহে আমার অশ্রু
... অঝোরে ঝরছে
বিচ্ছেদের সারথি তাদের নিয়ে
... আবাসস্থল থেকে প্রস্থান করল
তাদের বল যারা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে
... কিন্তু হৃদয়ে বসতি গড়েছে
কোনো অপরাধ ছাড়াই আমার রক্ত
... তাদের বিচ্ছেদের ভোরে তারা বৈধ করে নিয়েছে
তাদের কী ক্ষতি হতো যদি তারা মিলনের সুধা
... পান করাত এবং তৃপ্ত করত
তার এ ছাড়াও আরও উত্তম কবিতা রয়েছে। তার জন্ম হয়েছিল ৪১৮ হিজরির শেষাংশে অথবা ৪১৮ হিজরির প্রথমাংশে।
শরীফ আবু আল-মুয়াম্মার আল-মুবারক ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-আনসারি তার ‘ওয়াফাইয়াতুশ শুয়ুখ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তার জন্ম ৪১৬ হিজরিতে বাগদাদে এবং সেখানেই তিনি ৫০০ হিজরির ২১শে সফর রবিবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন। তাকে বাব আবযারে দাফন করা হয়।
১২ - আবু আব্দুল্লাহ, হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হারমালা ইবনে ইমরান আত-তুজিবি আয-যামিলি আল-মিসরি, ইমাম শাফেয়ীর শিষ্য।
তিনি তার সঙ্গীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তার কাছে যাতায়াতকারী এবং তার থেকে জ্ঞান আহরণকারী ছিলেন। তিনি হাদিসের হাফেজ ছিলেন এবং ‘আল-মাবসুত’ ও ‘আল-মুখতাসার’ রচনা করেছেন। মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তার ‘সহীহ’ গ্রন্থে অধিক হারে তার উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ومولده في سنة 166، وتوفي ليلة الخميس لتسع بقين من شوال سنة 243 بمصر، وقيل: أربع وأربعين، والتُّجيبي: هذه النسبة إلى تُجيب، وهو اسم امرأة، فنسب إليها أولادُها، والزميلي - نسبة إلى زميل: وهو بطن من تُجيب، توفي حرملة بن عمران جدُّ حرملةَ المذكورِ في صفر سنة ستين ومئة، ومولده سنة ثمانين للهجرة - رحمه الله تعالى -.
13 - أَبو علي، الحسن بن محمد بن الصباح، الزعفراني، صاحب الإمام الشافعي رضي الله عنهما -.
برع في الفقه والحديث، وصنف فيهما كتبًا، وسار ذكره في الآفاق، ولزم الإمام الشافعي حتى تبحر، وكان يقول: أصحابُ الحديث كانوا رقودًا حتى أيقظهم الشافعي، وما حمل أحد محبرة إلا وللشافعيِّ عليه مِنَّة، وكان يتولى قراءة كتب الشافعي عليه.
وسمع من سفيان بن عيينة، ومن في طبقته؛ مثل: وكيع بن الجراح، وعمرو بن الهيثم، ويزيد بن هارون، وغيرهم، وهو أحد رواة الأقوال القديمة عن الشافعي رضي الله عنه.
ورواتها أربعة: هو، وأبو ثور، وأحمد بن حنبل، والكرابيسي.
ورواة الأقوال الجديدة ستة: المزني، والربيع بن سليمان الجيزي، والربيع بن سليمان المرادي، والبويطي، وحرملة، ويونس بن عبد الأعلى.
وروى عنه: البخاري في "صحيحه"، وأبو داود السجستاني، والترمذي، وغيرهم.
توفي في سلخ شعبان، وقال ابن قانع: في شهر رمضان سنة 260، وذكر السمعاني في "كتاب الأنساب" أنه توفي في شهر ربيع الآخر سنة 249 رحمه الله.
والزَعفراني - بفتح الزاي وسكون العين المهملة وفتح الفاء والراء وبعد الألف نون - هذه النسبة إلى الزعفرانية، وهي قرية بقرب بغداد، والمحلة التي
তাঁর জন্ম ১৬৬ হিজরিতে এবং তিনি মিশরে ২৪৩ হিজরির শাওয়াল মাসের অবশিষ্ট নয় দিন থাকতে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন। আবার বলা হয়েছে: ২৪৪ হিজরিতে। আর তুজিবি: এই নিসবত বা সম্বন্ধটি 'তুজিব'-এর দিকে, যা একজন মহিলার নাম, তাঁর সন্তানগণ তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। আর যুমাইলি - যুমাইলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত: যা তুজিব গোত্রের একটি শাখা। উল্লেখিত হারমালার দাদা হারমালা ইবনে ইমরান ১৬০ হিজরির সফর মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম ছিল ৮০ হিজরিতে - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
১৩ - আবু আলী, হাসান বিন মুহাম্মদ বিন সাব্বাহ, আল-জা’ফরানি, ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর সহচর -।
তিনি ফিকহ ও হাদিসে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং এই উভয় বিষয়ে কিতাব রচনা করেন। তাঁর খ্যাতি দিগন্ত বিস্তৃত হয়। তিনি ইমাম শাফেয়ির সান্নিধ্যে থাকেন যতক্ষণ না তিনি গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি বলতেন: হাদিসের অনুসারীরা ঘুমন্ত ছিল যতক্ষণ না শাফেয়ি তাদের জাগিয়ে তুলেছেন। আর এমন কেউ দোয়াত বহন করেনি যার ওপর শাফেয়ির অনুগ্রহ নেই। তিনি শাফেয়ির নিকট তাঁর কিতাবসমূহ পাঠ করার দায়িত্ব পালন করতেন।
তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ এবং তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের থেকে শুনেছেন; যেমন: ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আমর বিন হাইসাম, ইয়াজিদ বিন হারুন এবং অন্যান্যদের থেকে। তিনি ইমাম শাফেয়ি (রা.)-এর প্রাচীন মতসমূহের (কওল কদিম) অন্যতম বর্ণনাকারী।
এর বর্ণনাকারী হলেন চারজন: তিনি নিজে, আবু সাওর, আহমদ বিন হাম্বল এবং কারাবিসি।
আর নতুন মতসমূহের (কওল জাদিদ) বর্ণনাকারী হলেন ছয়জন: মুজানি, রাবি বিন সুলাইমান আল-জিজি, রাবি বিন সুলাইমান আল-মুরাদি, বুয়াইতি, হারমালা এবং ইউনুস বিন আবদুল আলা।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে, আবু দাউদ সাজিস্তানি, তিরমিজি এবং অন্যান্যরা।
তিনি শাবান মাসের শেষে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে কানি বলেন: রমজান মাসে, ২৬০ হিজরিতে। আর সামআনি 'কিতাবুল আনসাব'-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২৪৯ হিজরির রবিউল আখির মাসে মৃত্যুবরণ করেন - আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আর যা’ফরানি - ‘যা’ বর্ণে ফাতহা (যবর), ‘আইন’ বর্ণে সুকুন, ‘ফা’ ও ‘রা’ বর্ণে ফাতহা এবং আলিফের পর ‘নুন’ যোগে - এই নিসবতটি যা’ফরানিয়ার দিকে, যা বাগদাদের নিকটবর্তী একটি গ্রাম। আর যে এলাকাটি...
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ببغداد تسمى: درب الزعفراني منسوبةٌ إلى هذا الإمام؛ لأنه أقام بها.
وقال الشيخ أَبو إسحاق الشيرازي في "طبقات الفقهاء": وفيه مسجد الشافعي، وهو المسجد الذي كنت أدرس فيه بدرب الزعفراني، ولله الحمد والمنة.
14 - أَبو علي، الحسين بن علي بن يزيد الكرابيسي البغدادي.
صاحب الإمام الشافعي رضي الله عنهما، وأشهرهم بانتياب مجلسه، وأحفظهم لمذهبه.
وله تصانيف كثيرة في أصول الفقه وفروعه، وكان متكلمًا عارفًا بالحديث، وصنف أيضًا في الجرح والتعديل وغيره، وأخذ عنه الفقه خلقٌ كثير.
وتوفي سنة خمس، وقيل: ثمان وأربعين ومئتين، وهو أشبه بالصواب.
والكرابيسي: نسبة إلى الكرابيس، وهي الثياب الغليظة، واحدها كِرْباس- بكسر الكاف -، وهو لفظ فارسي عُرِّب، وكان يبيعها، فنسب إليها.
15 - أَبو محمد، حسين بن مسعود بن محمد، المعروف بالفراء، البغوي.
الفقيه الشافعي المحدِّث المفسِّر، كان بحرًا في العلوم، وأخذ الفقه عن القاضي حسين بن محمد.
وصنف في تفسير كلام الله تعالى، وأوضح المشكلات من قول النبي صلى الله عليه وسلم، وروى الحديث ودرّس، وكان لا يلقي الدرس إلا على الطهارة.
وصنف كتبًا كثيرة، منها كتاب "التهذيب" في الفقه، وكتاب "شرح السنة" في الحديث، و"معالم التنزيل" في تفسير القرآن الكريم، وكتاب "المصابيح" (أي: مشكاة المصابيح)، و"الجمع بين الصحيحين"، وغير ذلك.
وتوفي في شوال سنة 510 بمروروذ، ودفن عند شيخه القاضي حسين بمقبرة الطالقاني، وقبره مشهور هنالك.
ورأيت في كتاب "الفوائد السفرية" التي جمعها الشيخ الحافظ زكي الدين عبد العظيم المنذري: إنه توفي في سنة ست عشرة وخمس مئة، ومن خطه نقلت
বাগদাদে একটি স্থান রয়েছে যাকে 'দারবুল জাফরানি' বলা হয়; এটি এই ইমামের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত, কারণ তিনি সেখানে বসবাস করতেন।
শাইখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি 'তাবাকাতুল ফুকাহা' গ্রন্থে বলেছেন: সেখানে শাফেয়ি মসজিদ রয়েছে, এটি সেই মসজিদ যেখানে আমি দারবুল জাফরানিতে পাঠদান করতাম। সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই প্রাপ্য।
১৪ - আবু আলি, আল-হুসাইন ইবনে আলি ইবনে ইয়াজিদ আল-কারাবিসি আল-বাগদাদি।
তিনি ইমাম শাফেয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর মজলিসে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং তাঁর মাযহাবের সবচেয়ে বড় হাফেজ (সংরক্ষণকারী) ছিলেন।
উসুলুল ফিকহ ও ফুরুউল ফিকহ (শাখা বিধান) বিষয়ে তাঁর বহু রচনা রয়েছে। তিনি একজন মুতাকাল্লিম (ধর্মতাত্ত্বিক) ও হাদিস বিশারদ ছিলেন। তিনি 'জারহ ও তাদিল' এবং অন্যান্য বিষয়েও গ্রন্থ রচনা করেছেন। বহু মানুষ তাঁর নিকট থেকে ফিকহ শিক্ষা লাভ করেছেন।
তিনি ২৪৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে ২৪৮ হিজরি; আর এটাই সত্যের অধিক নিকটবর্তী।
'কারাবিসি' শব্দটি 'কারাবিস' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যার অর্থ মোটা কাপড়। এর একবচন হলো 'কিরবাস' (কাফ বর্ণে জের যোগে)। এটি একটি ফারসি শব্দ যা আরবিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি এই কাপড় বিক্রি করতেন, তাই তাঁর নাম এর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে।
১৫ - আবু মুহাম্মদ, হুসাইন ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ, যিনি 'আল-ফাররা' এবং 'আল-বাগাওয়ি' নামে পরিচিত।
তিনি একজন শাফেয়ি ফকিহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির ছিলেন। তিনি ইলমের সমুদ্র ছিলেন। তিনি কাজি হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ থেকে ফিকহ শিক্ষা করেছেন।
তিনি মহান আল্লাহর কালামের (কুরআন) তাফসির রচনা করেছেন এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর জটিল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং পাঠদান করেছেন। তিনি পবিত্রতা অর্জন ব্যতিরেকে পাঠদান করতেন না।
তিনি অনেক কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব 'আত-তাহজিব', হাদিস শাস্ত্রের কিতাব 'শারহুস সুন্নাহ', পবিত্র কুরআনের তাফসির 'মাআলিমুত তানজিল', 'আল-মাসাবিহ' (অর্থাৎ মিশকাতুল মাসাবিহ), 'আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন' ইত্যাদি।
তিনি ৫১০ হিজরির শাওয়াল মাসে মারভুররুদ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে তাঁর উস্তাদ কাজি হুসাইনের পাশে তালকানি কবরস্থানে দাফন করা হয় এবং সেখানে তাঁর কবর প্রসিদ্ধ।
শাইখ হাফেজ জাকিউদ্দিন আব্দুল আজিম আল-মুনজিরি সংকলিত 'আল-ফাওয়াইদুস সাফারিয়্যাহ' নামক কিতাবে আমি দেখেছি যে: তিনি ৫১৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন; আমি তাঁর নিজ হস্তাক্ষর থেকেই এটি নকল করেছি।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
هذا، والله أعلم، ونقل عنه أيضًا: أنه ماتت له زوجة، فلم يأخذ من ميراثها شيئًا، وأنه كان يأكل الخبز البحت، فعذل في ذلك، فصار يأكل الخبز مع الزيت.
والفراء: نسبة إلى عمل الفِراء وبيعِها، والبَغَوي: نسبة إلى بلدة بخراسان بين مرو وهراة يقال لها: بغ، وبَغْشُور - بفتح الباء وضم الشين -، وهذه النسبة شاذة على خلاف الأصل، قاله السمعاني في "كتاب الأنساب".
16 - أَبو عبد الله، الحسين بن الحسين بن محمد بن حليم الفقيه الشافعي، المعروف بالحليمي الجرجاني.
ولد بجرجان سنة 338، وحمل إلى بخارى.
وكتب الحديث: عن أبي بكر، محمدِ بن أحمد بن حبيب وغيره، وتفقه على أبي بكر الأودني، وأبي بكر القفال، ثم صار إمامًا معظمًا مرجوعًا إليه بما وراء النهر، وله في المذاهب وجوه حسنة، وحدَّث بنيسابور، وروى عنه الحافظ الحاكمُ وغيره.
وتوفي في جمادى الأولى، وقيل: في شهر ربيع الأول سنة ثلاث وأربع مئة رحمه الله، ونسبته إلى جده حليم المذكور.
17 - أَبو علي، الحسين بن محمد بن أحمد الغساني الجياني الأندلسي، المحدث.
كان إماماً في الحديث والأدب، وله كتاب مفيد سماه: "تقييد المهمل"، ضبط فيه كل لفظ يقع فيه اللَّبْس من رجال "الصحيحين"، وما قصر فيه، وهو في جزأين، وكان من جهابذة المحدثين، وكبار العلماء المفيدين، وكان حسن الخط، جيد الضبط، وكان له معرفة بالغريب والشعر والأنساب.
وكان يجلس في جامع قرطبة، ويسمع منه أعيانها، قال ابن خلكان: ولم أقف على شيء من أخباره حتى أذكر طرفًا منها.
وكانت ولادته في المحرم سنة 427، وطلب الحديث سنة 444، وتوفي ليلة الجمعة لاثنتي عشرة ليلة خلت من شعبان سنة 498.
এটিই কথা, আর আল্লাহ ভালো জানেন। তাঁর সম্পর্কে আরও বর্ণিত হয়েছে যে: তাঁর এক স্ত্রী মারা যান, কিন্তু তিনি তাঁর উত্তরাধিকার থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি। তিনি কেবল শুকনো রুটি খেতেন, এ কারণে তাঁকে তিরস্কার করা হলে তিনি তেলের সাথে রুটি খেতে শুরু করেন।
আর 'আল-ফাররা' (Al-Farra): এটি পশমী পোশাক (ফার) তৈরি ও বিক্রির সাথে সম্পর্কিত নিসবত। আর 'আল-বাগাওয়ী' (Al-Baghawi): এটি খোরাসানের মার্ভ ও হেরাতের মধ্যবর্তী একটি শহরের সাথে সম্পর্কিত নিসবত, যাকে 'বাগ' বা 'বাগশুর' (বা-এর ওপর ফাতহা এবং শিন-এর ওপর যম্মাহ সহকারে) বলা হয়। এই নিসবতটি মূল নিয়মের পরিপন্থী ও ব্যতিক্রমী; এ কথা আস-সামআনী তাঁর 'কিতাবুল আনসাব'-এ বলেছেন।
১৬ - আবু আবদুল্লাহ, হুসাইন ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হালিম আল-ফকিহ আশ-শাফিয়ি, যিনি আল-হালিমী আল-জুরজানী নামে পরিচিত.
তিনি ৩৩৮ হিজরিতে জুরজানে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁকে বুখারায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে হাবিব ও অন্যদের থেকে হাদিস লিখেছিলেন। তিনি আবু বকর আল-আওদানী ও আবু বকর আল-কাফফালের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। অতঃপর তিনি মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলে একজন মহাসম্মানিত ইমামে পরিণত হন, যাঁর নিকট সকলে ফিরে আসতেন। মাযহাবের ক্ষেত্রে তাঁর অনেক উত্তম অভিমত রয়েছে। তিনি নিশাপুরে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে হাফিজ আল-হাকিম ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।
তিনি ৪০৩ হিজরির জুমাদাল উলা মাসে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেছেন রবিউল আউয়াল মাসে, আল্লাহ তাঁকে রহম করুন। তাঁর নিসবত তাঁর উল্লিখিত দাদা হালিমের দিকে সম্পর্কিত।
১৭ - আবু আলী, হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-গাসসানী আল-জায়্যানী আল-আন্দালুসী, আল-মুহাদ্দিস.
তিনি হাদিস ও আদব (সাহিত্য) শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন। তাঁর একটি উপকারী কিতাব রয়েছে যার নাম: "তাকয়ীদুল মুহমাল", এতে তিনি "সহীহাইন" (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারীদের নামের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ঘটতে পারে এমন প্রতিটি শব্দ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করেছেন এবং এতে তিনি কোনো ত্রুটি করেননি। এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি ছিলেন প্রথিতযশা মুহাদ্দিসদের অন্যতম এবং বড় মাপের উপকারী আলেম। তাঁর হাতের লেখা ছিল সুন্দর, স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতা ছিল চমৎকার। 'গারিব' শব্দাবলি, কবিতা ও বংশবৃত্তান্ত বিদ্যায় তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল।
তিনি কর্ডোভা জামে মসজিদে বসতেন এবং শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁর নিকট থেকে হাদিস শুনতেন। ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: আমি তাঁর সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাইনি যা আমি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে পারি।
তাঁর জন্ম ছিল ৪২৭ হিজরির মহররম মাসে, তিনি ৪৪৪ হিজরিতে হাদিস অন্বেষণ শুরু করেন এবং ৪৯৮ হিজরির শাবান মাসের বারো তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আত তাজুল মুকাল্লাল মিন জাওয়াহিরি মাআছিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আওয়াল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
والجَيَّاني - بفتح الجيم -: نسبة إلى جَيَّان، وهي مدينة كبيرة بالأندلس، وبأعمال الري قرية يقال لها: جَيَّان أيضًا.
18 - أَبو سليمان، حمد بن محمد بن إبراهيم بن الخطاب، الخطابي البستي.
كان فقيهًا أَديبًا محدثًا، له التصانيف البديعة، منها: "غريب الحديث"، و"معالم السنن في شرح سنن أبي داود"، و"أعلام السنن في شرح البخاري"، و"كتاب الشجاج"، وكتاب "شأن الدعاء"، وكتاب "إصلاح غلط المحدثين"، وغير ذلك.
سمع بالعراق أبا علي الصفار، وأبا جعفر الرزاز، وغيرهما، وروى عنه الحاكم أَبو عبد الله بن البَيِّع النيسابوريُّ، وعبد الغفار بن محمد الفارسي، وأبو القاسم، عبد الوهاب بن أبي سهل الخطابي، وغيرهم، وذكره صاحب "يتيمة الدهر"، وأنشد له:
وما غُربةُ الإنسانِ في شُقَّةِ النوى
… ولكنَّها واللهِ في عَدَمِ الشَّكْلِ
وإنِّي غريبٌ بينَ "بُسْتَ" وأهلِها
… وإن كانَ فيها أسرتي وبها أَهلي
وأنشد له أيضًا:
شرُّ السباعِ العوادي دونه وَزَرٌ
… والناسُ شَرّهم ما دونَه وَزَرُ
كَمْ معشرٍ سَلِموا لم يؤذِهم سَبُعٌ
… وما ترى بَشَرًا لم يؤذِهِ بَشَرُ
وأنشد له أيضًا - عفا الله عنه -:
فسامِحْ ولا تستوفِ حقَّك كلَّه
… وأَبقِ فلِم يَسْتقص قَطُّ كريمُ
ولا تَغْلُ في شيءٍ من الأمرِ واقتصدْ
… كِلا طَرَفَيْ قصدِ الأمورِ ذميمُ
وذكر له أشياء غير ذلك، وكان يشبَّه في عصره بأبي عبيد القاسم بن سلام علمًا وأدبًا، وورعًا وزهدًا، وتدريسًا وتأليفًا.
وكانت وفاته في شهر ربيع الأول سنة 388 بمدينة "بُست" رح.
والخَطَّابي - بفتح الخاء المعجمة وتشديد الطاء المهملة -: نسبة إلى جده
আল-জায়ইয়ানি - জীম বর্ণে ফাতহা যোগে -: এটি জায়ইয়ান-এর সাথে সম্পৃক্ত একটি নিসবত, এটি আন্দালুসের একটি বড় শহর। আবার রয় শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি গ্রাম রয়েছে তাকেও জায়ইয়ান বলা হয়।
১৮ - আবু সুলাইমান, হামদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আল-খাত্তাব, আল-খাত্তাবি আল-বুস্তি.
তিনি একজন ফকীহ, সাহিত্যিক ও মুহাদ্দিস ছিলেন। তাঁর চমৎকার কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: "গারিবুল হাদিস", সুনানে আবু দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ "মাআলিমুস সুনান", বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আলামুস সুনান", "কিতাবুশ শিজাজ", "শা'নুদ্দুআ", "ইসলাহু গালাতিল মুহাদ্দিসিন" এবং আরও অন্যান্য।
তিনি ইরাকে আবু আলী আস-সাফফার, আবু জাফর আর-রাযযায এবং তাঁদের ব্যতীত অন্যদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-বাইয়্যি আন-নিসাবুরি, আব্দুল গাফফার বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি, আবুল কাসিম আব্দুল ওয়াহহাব বিন আবু সাহল আল-খাত্তাবি এবং আরও অনেকে। "ইয়াতিমাতুদ দাহর" এর লেখক তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর কিছু কবিতা উদ্ধৃত করেছেন:
দূরত্বের ব্যবধানে মানুষের একাকীত্ব নয়
… বরং আল্লাহর কসম, সমমনা মানুষের অভাবেই প্রকৃত একাকীত্ব।
যদিও সেখানে আমার বংশ ও পরিবার রয়েছে
… তবুও আমি "বুস্ত" ও তার অধিবাসীদের মাঝে এক আগন্তুক।
তাঁর আরও কিছু কবিতা উদ্ধৃত করেছেন:
হিংস্র পশুদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার আশ্রয় রয়েছে
… কিন্তু মানুষের অনিষ্ট থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয় নেই।
এমন অনেক দল আছে যারা পশুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে
… কিন্তু এমন কোনো মানুষ দেখবে না যে অন্য মানুষের দ্বারা কষ্ট পায়নি।
তাঁর থেকে আরও উদ্ধৃত করেছেন —আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—:
ক্ষমা করো এবং তোমার পাওনা পূর্ণমাত্রায় আদায় করো না
… কিছুটা ছাড় দাও, কারণ কোনো মহৎ ব্যক্তিই কখনো কড়াকড়িভাবে হিসাব নেয় না।
কোনো বিষয়েই বাড়াবাড়ি করো না এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন করো
… কারণ বিষয়ের উভয় প্রান্তই (বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি) নিন্দনীয়।
তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও কিছু বিষয় বর্ণনা করেছেন। তাঁর যুগে ইলম, সাহিত্য, তাকওয়া, যুহদ, অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাঁকে আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালামের সাথে তুলনা করা হতো।
তিনি ৩৮৮ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে "বুস্ত" শহরে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)।
আল-খাত্তাবি - খ-এ ফাতহা এবং ত-এ তাশদীদ যোগে -: এটি তাঁর দাদার নামের সাথে সম্পৃক্ত একটি নিসবত।