(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: -)
الانتباه لما قال الحاكم ولم يخرجاه وهو في أحدهما أو روياه   (محمد محمود عطية)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: الانتباه لما قال الحاكم ولم يخرجاه وهو في أحدهما أو روياه

المؤلف: محمد بن محمود بن إبراهيم عطية

الناشر: دار النوادر، سوريا

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2008 م

عدد الصفحات: 512

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

আল-হাকিম যা বলেছেন এবং তারা যা সংকলন করেননি অথচ তা তাদের কোনো একজনের কিতাবে রয়েছে অথবা তারা উভয়েই তা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে সতর্কীকরণ   (মুহাম্মদ মাহমুদ আতিয়্যাহ)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


কিতাব: আল-হাকিম যা বলেছেন এবং তারা যা সংকলন করেননি অথচ তা তাদের কোনো একজনের কিতাবে রয়েছে অথবা তারা উভয়েই তা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে সতর্কীকরণ

লেখক: মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন ইব্রাহিম আতিয়্যাহ

প্রকাশক: দারুন নাওয়াদির, সিরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১২

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: -)
الانتباه لما قال الحاكم ولم يخرجاه وهو في أحدهما أو روياه

 

تأليف

محمد بن محمود بن إبراهيم عطية

 

إصدارات

وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية

إدارة الشؤون الإسلامية - دولة قطر

طبع بتمويل

الهيئة القطرية للأوقاف
হাকেম যা বলেছেন যে তারা (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেননি অথচ তা তাদের কোনো একজনের কিতাবে রয়েছে অথবা তারা উভয়েই তা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে মনোনিবেশ

 

রচনা

মুহাম্মাদ বিন মাহমুদ বিন ইব্রাহিম আতিয়্যাহ

 

প্রকাশনা

ধর্মবিষয়ক ও ইসলামি মন্ত্রণালয়

ইসলামি বিষয়াবলি বিভাগ - কাতার রাষ্ট্র

অর্থায়নে মুদ্রিত

কাতার ওকফ কর্তৃপক্ষ
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ৪)
حُقُوق الطَّبع محَفُوظَة

لوزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية

إدارة الشؤون الإسلامية

دولة قطر

الطبعة الأولى 1428 هـ - 2008 م

 

قامت بعمليات التنضيد الضوئي والتدقيق اللغوي والإخراج الفني والطباعة

دار النوادر

لصاحبها ومديرها العام

نور الدين طالب

سوريا - دمَشق - ص. ب: 34306

لبنان - بَيروت - ص. ب: 5180/ 14

هَاتف: 0096311227001 - فاكس: 00963112227011

www.daralnawader.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ইসলাম বিষয়ক বিভাগ

কাতার রাষ্ট্র

প্রথম সংস্করণ ১৪২৮ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

 

কম্পিউটার কম্পোজ, ভাষাগত নিরীক্ষণ, শৈল্পিক নির্দেশনা ও মুদ্রণ কাজ সম্পন্ন করেছে

দার আল-নাওয়াদির

এর স্বত্বাধিকারী ও সাধারণ ব্যবস্থাপক

নুর আদ-দীন তালিব

সিরিয়া - দামেস্ক - পি. ও. বক্স: ৩৪৩০৬

লেবানন - বৈরুত - পি. ও. বক্স: ৫১৮০/ ১৪

ফোন: ০০৯৬৩১১২২৭০০০১ - ফ্যাক্স: ০০৯৬৩১১২২২৭০১১

www.daralnawader.com
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌هذا الكتاب

استدراكي على المستدرك بيان لفضل الصحيحين، وليس فيه الحط من قدر الحافظ أبي عبد الله الحاكم عليه رحمة الله، وقد اعتذر له أهل العلم فيما وقع فيه من أوهام، فعامة كتابه إملاء، وكان ذلك في أواخر عمره، ولم يسعفه الأجل لتنقيحه.

رحم الله الشيخين والحاكم، وجزاهم عن الإِسلام والمسلمين خير الجزاء.

المؤلف
এই কিতাবটি

আল-মুস্তাদরাক-এর ওপর আমার এই ইস্তিদরাক (পরিমার্জন) মূলত সহীহাইন-এর শ্রেষ্ঠত্বেরই বর্ণনা, আর এতে হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মর্যাদা খাটো করা হয়নি। তিনি যেসব ভুলের শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে বিদগ্ধ আলেমগণ তাঁর পক্ষ থেকে ওজর পেশ করেছেন; কারণ তাঁর কিতাবটির অধিকাংশ ছিল শ্রুতিলিখনের (ইমলা) অন্তর্ভুক্ত, যা তাঁর জীবনের শেষভাগে সম্পন্ন হয়েছিল এবং মৃত্যু ঘনিয়ে আসার কারণে তিনি তা পরিমার্জন করার সুযোগ পাননি।

আল্লাহ তাআলা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং হাকিমকে রহম করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

লেখক
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

رَبَّ يَسَّر وَأَعِن وَتَقَبَّل

 

‌‌مقدمة

إنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليماً .. أما بعد:

فمن المعلوم عند القاصي والداني والسلف والخلف أن الصحيحين هما أصح الكتب بعد كتاب الله تعالى، وقد تلقتهما الأمة سلفا وخلفا بالقبول، وحكموا لهما بالصحة إجمالاً، وأنهما أعلى مراتب الصحة بين كتب الحديث. قال الإمام النووي في (شرح مسلم): اتفق العلماء رحمهم الله على أن أصح الكتب بعد القرآن العزيز الصحيحان: البخاري ومسلم، وتلقتهما الأمة بالقبول، وكتاب البخاري أصحهما وأكثرهما فوائد ومعارف ظاهرة وغامضة، وقد صح أن مسلما كان يستفيد من البخاري ويعترف بأنه ليس له نظير في علم الحديث، وهذا الذي ذكرناه من ترجيح كتاب البخاري هو المذهب المختار الذي قاله الجماهير وأهل الإتقان والحذق والغوص على أسرار الحديث (1). وذهب بعض المغاربة إلى ترجيح مسلم على البخاري، ووجه ذلك الجمهور بما يرجع إلى حسن الترتيب والسياق وجودة الوضع، وتوقف البعض في الترجيح بينهما، وما أجمل ما قاله الحافظ عبد الرحمن بن علي بن الديبع:

--------------------------------------------

(1) المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج: 1/ 14 (دار الفكر).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার রব, সহজ করে দিন, সাহায্য করুন এবং কবুল করুন।

 

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন... অতঃপর:

দূরবর্তী ও নিকটবর্তী এবং পূর্বসূরি (সালাফ) ও উত্তরসূরি (খালাফ) সকলের নিকট এটি সুবিদিত যে, আল্লাহর কিতাবের পর সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) হলো বিশুদ্ধতম কিতাব। উম্মতের পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিগণ এই দুটি কিতাবকে গ্রহণ করে নিয়েছেন এবং সামগ্রিকভাবে এ দুটিকে সহিহ (বিশুদ্ধ) হওয়ার রায় দিয়েছেন। হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্যে এই দুটি কিতাব বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। ইমাম নববী (রহ.) 'শরহে মুসলিম'-এ বলেছেন: উলামায়ে কেরাম (রহ.) এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, মহাগ্রন্থ কুরআনের পর বিশুদ্ধতম কিতাবসমূহ হলো সহিহাইন: বুখারি ও মুসলিম। উম্মত এ দুটিকে কবুল করে নিয়েছে। বুখারি এ দুটির মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ এবং এতে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বহু ফায়দা ও জ্ঞান নিহিত রয়েছে। এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, ইমাম মুসলিম ইমাম বুখারির নিকট থেকে উপকৃত হতেন এবং স্বীকার করতেন যে, হাদিস শাস্ত্রে তাঁর (বুখারির) কোনো সমকক্ষ নেই। বুখারির কিতাবকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা-ই হলো জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ), পারদর্শী, দক্ষ এবং হাদিসের রহস্য উদঘাটনকারী আলেমদের নিকট মনোনীত মত (১)। মাগরিবের (মরক্কো অঞ্চলের) কিছু আলেম বুখারির ওপর মুসলিমকে প্রাধান্য দিয়েছেন। জমহুর উলামায়ে কেরাম এর কারণ হিসেবে সুবিন্যস্ত বিন্যাস, বর্ণনাভঙ্গি এবং চমৎকার বিন্যাসকে চিহ্নিত করেছেন। কেউ কেউ আবার উভয়ের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরত থেকেছেন। হাফেজ আব্দুর রহমান বিন আলি বিন আদ-দাইবা কী চমৎকারই না বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) আল-মিনহাজ শরহু সহিহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ: ১/১৪ (দারুল ফিকর)।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ৮)
تَنَازَعَ الناسُ في البخاري ومُسْلِمِ … لَدَيَّ وقالوا أيُ ذَيْن يُقَدَمُ

فقلت: لقدَ فَاقَ البخاريُ صِحْةً … كما فَاقَ في حُسْنِ الصِنَاعَةِ مُسْلِمُ

 

‌‌المستخرجات على الصحيحين:

هذا وقد خُرِّجَتْ كُتبٌ كثيرة على الصحيحين أو على أحدهما، وهي ما تسمى بالمستخرجات. قال السيوطي رحمه الله: وموضوع المستخرج كما قال الحافظ العراقي: أن يأتي المصنف إلى الكتاب فيخرج أحاديثه بأسانيد لنفسه من غير طريق صاحب الكتاب، فيجتمع معه في شيخه أو من فوقه. ا. هـ. قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: وشرطه أن لا يصل إلى شيخ أبعد حتى يفقد سندا يوصله إلى الأقرب، إلا لعذر من علو أو زيادةٍ مهمة … إلى أن قال: وربما أسقط الْمُسْتَخْرِجُ أحاديث لم يجد له بها سندا يرتضيه، وربما ذكرها من طريق صاحب الكتاب (1).

ولنذكر بعضا من هذه المستخرجات لإتمام الفائدة:

 

‌‌المستخرجات على صحيح البخاري:

وهي كثيرة منها: مستخرج الحافظ أبي بكر الإسماعيلي الجرجاني (ت: 371). ومستخرج الحافظ الغطريفي (ت: 377). ومستخرج الحافظ أبي بكر البرقاني (ت: 425)، ومستخرج الحافظ أبي بكر ابن مردويه (ت: 416). ومستخرج الحافظ أبي عبد الله محمَّد بن العباس المعروف بابن أبي ذهل (ت: 378).

 

‌‌المستخرجات على صحيح مسلم:

منها: مستخرج الحافظ أحمد بن سلمة النيسابوري البزار رفيق مسلم في الرحلة إلى بلخ والبصرة (ت: 286). ومستخرج الحافظ أبي بكر محمَّد بن محمَّد بن رجاء النيسابوري (ت: 286) ويشارك مسلما في أكثر شيوخه.

--------------------------------------------

(1) تدريب الراوي ص 66.
মানুষেরা বুখারী ও মুসলিম সম্পর্কে আমার নিকট বিতর্কে লিপ্ত হলো … এবং তারা বলল, এই দুইটির মধ্যে কোনটি অগ্রগণ্য?

আমি বললাম: বুখারী বিশুদ্ধতার দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন … যেমন মুসলিম শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন সংকলন শৈলীর নৈপুণ্যে।

 

‌‌সহীহাইন-এর ওপর মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহ:

সহীহাইন বা এই দুইটির কোনো একটির ওপর ভিত্তি করে অনেক গ্রন্থ সংকলন করা হয়েছে, আর সেগুলোকেই মুস্তাখরাজাত বলা হয়। আস-সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাফেজ আল-ইরাকী যেমন বলেছেন, মুস্তাখরাজের মূল বিষয় হলো—লেখক কোনো একটি গ্রন্থের নিকট আসেন, অতঃপর তিনি মূল গ্রন্থের লেখকের সূত্র (তরিক) ব্যবহার না করে নিজের সনদে সেই গ্রন্থের হাদিসগুলো বর্ণনা করেন, ফলে তিনি মূল লেখকের উস্তাদ বা তার উপরের স্তরের কোনো উস্তাদের সাথে মিলিত হন। সমাপ্ত। হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর শর্ত হলো, যতক্ষণ পর্যন্ত নিকটবর্তী উস্তাদের নিকট পৌঁছানোর সনদ পাওয়া যাবে, ততক্ষণ দূরবর্তী উস্তাদের নিকট যাওয়া যাবে না; তবে 'উলু' (উচ্চ সনদ) বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনের ওজর থাকলে ভিন্ন কথা … তিনি আরও বলেন: কখনো কখনো মুস্তাখরাজ রচয়িতা এমন হাদিসগুলো বাদ দিয়ে দেন যার জন্য তিনি সন্তোষজনক কোনো সনদ পাননি, আবার কখনো তিনি মূল গ্রন্থের লেখকের সূত্র থেকেই তা উল্লেখ করেন (১)।

বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আমরা এই মুস্তাখরাজগুলোর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করছি:

 

‌‌সহীহ বুখারীর ওপর মুস্তাখরাজসমূহ:

এগুলো অনেক, যার মধ্যে রয়েছে: হাফেজ আবু বকর আল-ইসমাঈলী আল-জুরজানী (মৃত্যু: ৩৭১ হিজরী)-র মুস্তাখরাজ। হাফেজ আল-গিতরীফী (মৃত্যু: ৩৭৭ হিজরী)-র মুস্তাখরাজ। হাফেজ আবু বকর আল-বারকানী (মৃত্যু: ৪২৫ হিজরী)-র মুস্তাখরাজ। হাফেজ আবু বকর ইবনে মারদুওয়াইহ (মৃত্যু: ৪১৬ হিজরী)-র মুস্তাখরাজ। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস, যিনি ইবনে আবি যুহাল নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৩৭৮ হিজরী)-র মুস্তাখরাজ।

 

‌‌সহীহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজসমূহ:

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: হাফেজ আহমদ বিন সালামা আন-নিশাপুরী আল-বাযযার-এর মুস্তাখরাজ, যিনি বলখ ও বসরা সফরে ইমাম মুসলিমের সফরসঙ্গী ছিলেন (মৃত্যু: ২৮৬ হিজরী)। হাফেজ আবু বকর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন রাজা আন-নিশাপুরী (মৃত্যু: ২৮৬ হিজরী)-র মুস্তাখরাজ, যিনি ইমাম মুসলিমের অধিকাংশ উস্তাদের বর্ণনায় শরিক হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) তাদরীবুর রাবী, পৃষ্ঠা ৬৬।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ৯)
ومستخرج الحافظ أبي عوانة يعقوب بن إسحاق الاسفرائيني (ت: 316).

ومستخرج الحافظ أبي بكر محمَّد بن عبد الله الجوزقي النيسابوري (ت: 388).

ومن العلماء من استخرج عليهما معا في كتاب واحد كالحافظ أبي بكر بن عبدان الشيرازي (ت: 388 هـ) (1).

 

‌‌المستدركات على الصحيحين:

هذا، وقد استدرك بعض أهل العلم على الشيخين أحاديث على شرطهما أو على شرط أحدهما لم يخرجاها في صحيحيهما؛ منهم الحافظ أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني البغدادي (ت: 385 هـ) في كتابه الإلزامات، جمع فيه سبعين حديثا مما رأى أنه على شرطيهما أو شرط أحدهما وألزمهما ذكرها، ولا يلزمهما ذلك، فإنهما رحمهما الله لم يلتزما إخراج جميع الصحيح، وإنما لم يخرجا في كتابيهما إلا الصحيح. والكتاب مطبوع متداول مع كتاب (التتبع) للدارقطني بتحقيق مقبل الوادعي.

ومنهم الحافظ أبو عبد الله الحاكم (ت: 405) وكتابه (الجامع الصحيح المستدرك) والمشهور بـ (المستدرك على الصحيحين). وقد اهتم به أهل العلم من أجل أن الحاكم أبا عبد الله صنفه لاستدراك ما لم يدخله البخاري ومسلم في صحيحيهما ويرى أنه صحيح: إما على شرطيهما، أو على شرط أحدهما، أو على شرط الصحيح عنده، خاصة والحاكم رحمه الله يحكم على الحديث ويورد طرقه أحيانا، فيقف الباحث على الحديث والحكم عليه فيستريح من عناء البحث، خاصة وإن وافقه الحافظ الذهبي في تصحيح الحديث. ومن هنا كانت أهمية الكتاب.

وقد اهتم بدراسة هذا الكتاب جمع من أهل العلم منهم الذهبي وابن حجر والسيوطي، كما اهتم به بعض المحدَثين ممن له اهتمام بعلم الحديث.

--------------------------------------------

(1) انظر الحديث والمحدثون لمحمد محمَّد أبو زهو ص 404، 405.
এবং হাফিয আবু আওয়ানা ইয়াকুব ইবন ইসহাক আল-ইসফরাইনি (মৃত্যু: ৩১৬)-এর মুস্তাখরাজ।

এবং হাফিয আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-জাওযাকি আন-নিশাপুরি (মৃত্যু: ৩৮৮)-এর মুস্তাখরাজ।

আলেমদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি একটি কিতাবে উভয় গ্রন্থের (সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম) ওপর ভিত্তি করে মুস্তাখরাজ রচনা করেছেন, যেমন হাফিয আবু বকর ইবন আবদান আশ-শিরাজি (মৃত্যু: ৩৮৮ হিজরি) (১)।

 

‌‌সহীহাইনের ওপর মুস্তাদরাকসমূহ:

উল্লেখ্য যে, কিছু ইলম অন্বেষণকারী আলেম শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্ত অনুযায়ী অথবা তাঁদের যে কোনো একজনের শর্ত অনুযায়ী এমন কিছু হাদিস সংকলন করেছেন যা তাঁরা তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে উল্লেখ করেননি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফিয আবুল হাসান আলী ইবন উমর আদ-দারাকুতনি আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরি) তাঁর 'আল-ইলযামাত' কিতাবে। সেখানে তিনি সত্তরটি হাদিস একত্রিত করেছেন যা তাঁর দৃষ্টিতে তাঁদের উভয়ের শর্তে অথবা তাঁদের যে কোনো একজনের শর্তে ছিল এবং তিনি তাঁদের ওপর সেই হাদিসগুলো উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করেছিলেন। অথচ তা তাঁদের জন্য আবশ্যক ছিল না, কারণ তাঁরা (রহিমাহুমুল্লাহ) সমস্ত সহীহ হাদিস বের করার প্রতিশ্রুতি দেননি, বরং তাঁরা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে শুধুমাত্র সহীহ হাদিসই সংকলন করেছেন। কিতাবটি মুদ্রিত এবং দারাকুতনির 'আত-তাতাব্বু' কিতাবের সাথে মুকবিল আল-ওয়াদয়ি-এর সম্পাদনায় প্রচলিত আছে।

তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন হাফিয আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম (মৃত্যু: ৪০৫) এবং তাঁর কিতাব 'আল-জামি আস-সহীহ আল-মুস্তাদরাক', যা 'আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহািন' নামে প্রসিদ্ধ। আলেমগণ এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন কারণ আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম এটি সংকলন করেছেন সেই হাদিসগুলো সংগ্রহের জন্য যা বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং তাঁর মতে সেগুলো সহীহ: হয় সেগুলো তাঁদের উভয়ের শর্ত অনুযায়ী, অথবা তাঁদের যে কোনো একজনের শর্ত অনুযায়ী, অথবা কেবল তাঁর নিকট সহীহ হওয়ার শর্তে। বিশেষ করে হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান করেন এবং কখনো কখনো এর সূত্রগুলো বর্ণনা করেন, ফলে গবেষক হাদিসটি এবং এর ওপর প্রদত্ত হুকুমটি পেয়ে যান এবং গবেষণার পরিশ্রম থেকে নিষ্কৃতি পান; বিশেষ করে যদি হাফিয আয-যাহাবি হাদিসটি সহীহ বলার ক্ষেত্রে তাঁর সাথে একমত হন। এখান থেকেই এই কিতাবের গুরুত্ব ফুটে ওঠে।

একদল আলেম এই কিতাবটি অধ্যয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আয-যাহাবি, ইবন হাজার এবং আস-সুয়ুতি। তেমনিভাবে বর্তমানকালের কিছু আলেমও এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন যাঁদের হাদিস শাস্ত্র নিয়ে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু যাহু রচিত 'আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন', পৃষ্ঠা ৪০৪, ৪০৫।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১০)
ومع هذا لم أجد أحدا قد استوعب ما أوهم فيه الحاكم رحمه الله فيما استدركه مما ليس من باب الاستدرك عليهما إذ قد خرجاه أو خرجه أحدهما. غير أن الإِمام الذهبي رحمه الله استدرك على الحاكم ستة وثلاثين حديثا في تلخيصه للمستدرك، كما قد أشار بعض أئمة الحديث كابن الصلاح والعراقي وابن كثير وابن حجر إلى هذه المسألة دون استيعاب.

من أجل ذلك قويت الهمة في كتابة هذه الدراسة لكتاب المستدرك والتي قصرتها على بيان ما قاله الحاكم رحمه الله: صحيح ولم يخرجاه، وهما قد أخرجاه أو أخرجه أحدهما.

 

‌‌قصة الكتاب:

ولهذه الدراسة قصة في ابتدائها، فقد كنت وأنا أعمل في كتابي (فتح الجواد الكريم في اختصار وتحقيق تفسير القرآن العظيم) وقفت على تعليق للحافظ ابن كثير في مواضع معدودة من كتابه يذكر حديثا للحاكم في المستدرك ثم يقول: قال الحاكم صحيح على شرطهما ولم يخرجاه. ثم يقول ابن كثير: كذا قال .. ويشير إلى أنه في الصحيحين أو في أحدهما، فلفت انتباهي لذلك؛ وكذا كنت أجد في تخريجي لبعض الأحاديث ما أشار إليه الحافظ ابن كثير رحمه الله غير أني لم أكن ألتفت لذلك لما أعلمه من أن هذا الباب لا يسلم منه أحد، فلما تكرر وقوفي على ذلك، رأيت لزاما علي أن أسجل ما أجده من هذه الأحاديث ثم أنظر فيها بعد فراغي مما كنت فيه؛ فبدأت أجمع ما يكون من هذا الباب فاجتمع عندي قريبا من مائة حديث، فعرضت ذلك على بعض أهل العلم بالحديث فأشار علي بتتبع ذلك، فقوى من همتي وشحذ من نشاطي فأخذت في تتبع ذلك في المستدرك كله حتى خرجت هذه الدراسة بفضل الله تعالى، وله الحمد والمنة.

فلما اجتمعت مادة الكتاب رأيت أن أقدم له بترجمة للحاكم رحمه الله، ثم دراسة لكتابه مما وفقني الله تعالى بالوقوف عليه، مع كتابة موجزة عن الوهم
তা সত্ত্বেও আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি আল-হাকিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যা ভুলবশত 'ইস্তিদরাক' (পরবর্তীতে সংযোজন) হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেছেন, অথচ সেগুলো আসলে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে অথবা তাঁদের অন্তত একজন তা বর্ণনা করেছেন। তবে ইমাম আয-যাহাবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর 'তালখিসুল মুস্তাদরাক' গ্রন্থে আল-হাকিমের ওপর ছত্রিশটি হাদিসের ক্ষেত্রে ইস্তিদরাক করেছেন। এছাড়াও ইবনুস সালাহ, আল-ইরাকি, ইবনু কাসির এবং ইবনু হাজারের মতো কিছু হাদিস বিশারদ ইমামগণ এই বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ছাড়াই ইঙ্গিত করেছেন।

এই কারণেই 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থের ওপর এই গবেষণাটি লেখার সংকল্প দৃঢ় হয়েছে, যা আমি কেবল আল-হাকিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সেই উক্তিগুলোর ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি যেখানে তিনি বলেছেন: 'এটি সহিহ এবং তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি', অথচ প্রকৃতপক্ষে তাঁরা উভয়েই তা বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁদের অন্তত একজন তা বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌গ্রন্থটির প্রেক্ষাপট:

এই গবেষণার সূচনার একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। আমি যখন আমার গ্রন্থ 'ফাতহুল জাওয়াদিল কারিম ফি ইখতিসার ওয়া তাহকিক তাফসিরিল কুরআনিল আজিম' নিয়ে কাজ করছিলাম, তখন হাফেজ ইবনু কাসিরের গ্রন্থের কিছু স্থানে তাঁর মন্তব্য দেখতে পাই। তিনি আল-মুস্তাদরাকে আল-হাকিমের বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করে বলেন: 'আল-হাকিম বলেছেন এটি তাঁদের শর্তানুযায়ী সহিহ অথচ তাঁরা তা বর্ণনা করেননি'। এরপর ইবনু কাসির বলেন: 'তিনি এমনই বলেছেন...' এবং তিনি ইঙ্গিত করেন যে এটি সহিহাইন বা তাঁদের কোনো একজনের গ্রন্থে রয়েছে। বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একইভাবে আমি কিছু হাদিসের উৎস নির্ণয় করার সময় হাফেজ ইবনু কাসির (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যা ইঙ্গিত করেছেন তেমনটি পাচ্ছিলাম। তবে আমি সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছিলাম না, কারণ আমি জানতাম যে এই বিষয়টি থেকে কেউ মুক্ত নন। কিন্তু যখন বারবার এমনটি ঘটতে লাগল, তখন আমি এই হাদিসগুলো লিখে রাখা নিজের জন্য আবশ্যক মনে করলাম যাতে বর্তমান কাজ শেষ করার পর এগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করতে পারি। আমি এই পর্যায়ের হাদিসগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করলাম এবং আমার কাছে প্রায় একশ হাদিস জমা হলো। আমি বিষয়টি হাদিস শাস্ত্রের কিছু পণ্ডিতের নিকট পেশ করলে তাঁরা আমাকে এটি অনুসরণ করার পরামর্শ দিলেন। এতে আমার সংকল্প দৃঢ় হলো এবং উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেল। ফলে আমি সমগ্র মুস্তাদরাক গ্রন্থে এই বিষয়টি অনুসন্ধান করতে শুরু করলাম, যতক্ষণ না আল্লাহর অনুগ্রহে এই গবেষণাটি সম্পন্ন হলো। সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা একমাত্র তাঁরই।

যখন গ্রন্থটির বিষয়বস্তু একত্রিত হলো, তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে এর শুরুতে আল-হাকিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর একটি জীবনী তুলে ধরব, এরপর তাঁর গ্রন্থের ওপর একটি গবেষণা পেশ করব যা আল্লাহ তাআলা আমাকে অনুধাবন করার তৌফিক দিয়েছেন, সেই সাথে 'ওয়াহাম' (ভ্রম) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সংযোজন করব।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১১)
والإيهام ومنهج الحاكم أبي عبد الله في المستدرك والحافظ الذهبي في التلخيص.

هذا وسميته: (الانتباه لما قال الحاكم: ولم يخرجاه، وهو في أحدهما أو روياه)

والله أسأل أن يتقبله مني وأن يجعل له القبول في الأرض وأن ينفع به كاتبه وناشره وقارئه والدال عليه، إنه سبحانه خير مسؤول وأكرم مأمول، وصلى الله وسلم وبارك على النبي محمَّد وعلى آله وصحبه.

وَكَتَبَهُ

أَفقَر العِبَاد إلى عفو رَبّ البَرِيَّة

محمَّد بن محمود بن إبراهيم عطية
...এবং বিভ্রান্তি এবং আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে হাকিম আবু আবদুল্লাহ ও আত-তালখিস গ্রন্থে হাফিজ আয-যাহাবীর অনুসৃত পদ্ধতি।

আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ করেছি: (আল-হাকিমের উক্তি: ‘এবং তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি’, অথচ তা তাঁদের কোনো একজনের কিতাবে রয়েছে অথবা তাঁরা উভয়েই তা বর্ণনা করেছেন—এ বিষয়ের প্রতি সতর্কতা)।

আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং পৃথিবীতে এর গ্রহণযোগ্যতা দান করেন এবং এর মাধ্যমে এর লেখক, প্রকাশক, পাঠক ও এর দিকনির্দেশনাকারীকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি পবিত্র, যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হয় তাঁদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ এবং যাঁর কাছে আশা করা হয় তাঁদের মধ্যে তিনি সর্বাধিক মহান। আর আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর।

এটি লিখেছেন—

সৃষ্টি জগতের রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী অত্যন্ত অভাবী এক বান্দা

মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন ইবরাহিম আতিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ترجمة الحاكم أبي عبد الله الحافظ

‌‌1 - اسمه وكنيته ولقبه:

هو محمَّد بن عبد الله بن محمَّد بن حمدويه بن نعيم بن الحكم، أبو عبد الله الضبي الطهماني النيسابوري الحاكم، المعروف بابن البَيِّع. لُقب بالحاكم لتقليده القضاء (1).

 

‌‌2 - مولده ونشأته:

ولد رحمه الله في يوم الاثنين في الثالث من ربيع الأول سنة إحدى وعشرين وثلاثمائة بنيسابور. وكان أول سماعه في سنة ثلاثين وثلاثمائة، بعناية والده وخاله، واستملى على أبي حاتم بن حبان في سنة أربع وثلاثين وهو ابن ثلاث عشرة. وجد في الطلب ولحق الأسانيد العالية بخراسان وما وراء النهر وسمع نحوا من ألفي شيخ. وتفقه على أبي علي بن أبي هريرة، وأبي الوليد حسان بن محمَّد، وأبي سهل الصعلوكي. وأخذ فنون الحديث عن أبي علي الحافظ والجعابي وأبي أحمد الحاكم والدارقطني وعدة.

قال الذهبي: وصنف وخرَّج، وجرَح وعدَّل، وصحح وعلل، وكان من بحور العلم، على تشيع قليل فيه. ا. هـ.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: تاريخ بغداد: 5/ 473، الأنساب: 2/ 370 (البيع)، تبيين كذب المفتري: 227، والمنتظم: 7/ 274، ووفيات الأعيان: 4/ 280، سير أعلام النبلاء: 17/ 162، طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة: 2/ 193، لسان الميزان: 5/ 232، وشذرات الذهب: 3/ 176، وغيرها.
আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ-এর জীবনী

১ - তাঁর নাম, উপনাম ও উপাধি:

তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদুওয়াইহ ইবনে নুয়াইম ইবনুল হাকাম, আবু আবদুল্লাহ আদ-দাব্বি আত-তাহমানি আন-নিসাবুরি আল-হাকিম, যিনি ইবনুল বায়্যি' নামে পরিচিত। বিচারকার্য (কাজা) পরিচালনার দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁকে আল-হাকিম উপাধিতে ভূষিত করা হয় (১)।

 

২ - তাঁর জন্ম ও লালন-পালন:

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৩২১ হিজরি সনের ৩রা রবিউল আউয়াল সোমবার নিসাবুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ও মামার তত্ত্বাবধানে ৩৩০ হিজরি সনে তিনি প্রথম হাদিস শ্রবণ শুরু করেন। ৩৩৪ হিজরি সনে তেরো বছর বয়সে তিনি আবু হাতিম ইবনে হিব্বানের নিকট হাদিস শ্রবণ ও লিপিবদ্ধ (ইস্তিমলা) করেন। তিনি ইলম অন্বেষণে কঠোর সাধনা করেন এবং খুরাসান ও মা ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলে উচ্চতর সনদ লাভ করেন। তিনি প্রায় দুই হাজার শায়খের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি আবু আলি ইবনে আবি হুরায়রা, আবু ওয়ালিদ হাসান ইবনে মুহাম্মদ এবং আবু সাহল আস-সালুকির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন। আর আবু আলি আল-হাফিজ, আল-জুয়াবি, আবু আহমদ আল-হাকিম, আদ-দারা কুতনি এবং আরও অনেকের নিকট হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা আয়ত্ত করেন।

ইমাম আয-যাহাবি বলেন: "তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং হাদিস তাখরিজ করেছেন, বর্ণনাকারীদের জারাহ-তাদিল করেছেন, হাদিসের শুদ্ধতা যাচাই (তাসহিহ) এবং ত্রুটি (ইলল) বর্ণনা করেছেন। তাঁর মাঝে সামান্য শিয়া মতাবলম্বী ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন ইলমের এক বিশাল সমুদ্র।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখ বাগদাদ: ৫/৪৭৩, আল-আনসাব: ২/৩৭০ (আল-বায়্যি'), তাবয়িনু কাযিবিল মুফতারি: ২২৭, আল-মুনতাযাম: ৭/২৭৪, ওয়াফায়াতুল আইয়ান: ৪/২৮০, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১৭/১৬২, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লি ইবনি কাদি শুহবাহ: ২/১৯৩, লিসানুল মিজান: ৫/২৩২, শাযারাতুয যাহাব: ৩/১৭৬ এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌3 - ثناء العلماء عليه:

شهد علماء عصره ومن بعدهم بجلالته وحفظه وعلمه وعظم قدره، منهم: الدارقطني وكان سئل: أيهما أحفظ: ابن منده أو ابن البيع؟ فقال: ابن البيع أتقن حفظا. ا. هـ. وقال ابن طاهر: سألت سعد بن علي الحافظ عن أربعة تعاصروا: أيهم أحفظ؟ قال: من؟ قلت: الدارقطني، وعبد الغني، وابن منده، والحاكم. فقال: أما الدارقطني فأعلمهم بالعلل، وأما عبد الغني فأعلمهم بالأنساب، وأما ابن منده فأكثرهم حديثا مع معرفة تامة، وأما الحاكم فأحسنهم تصنيفا. ا. هـ. وقال الخليلي: ناظر الدارقطني فرضيه، وهو ثقة واسع العلم، بلغت تصانيفه قريبا من خمسمائة جزء. ا. هـ.

وقال الخطيب البغدادي: كان من أهل العلم والفضل والمعرفة والحفظ، وله في علوم الحديث مصنفات عدة … قال: وكان ثقة. ا. هـ. وقال عبد الغافر بن إسماعيل: الحاكم أبو عبد الله هو إمام أهل الحديث في عصره، العارف به حق معرفته. ا. هـ. وقال الذهبي: الإِمام الحافظ الناقد العلامة شيخ المحدثين. ا. هـ. وقال ابن ناصر الدين: هو صدوق من الأثبات. ا. هـ. وقال ابن خلكان: إمام أهل الحديث في عصره، كان عالما عارفا واسع العلم. إلى غير ذلك من شهادات أهل العلم له، رحمهم الله جميعا.

 

‌‌4 - مصنفاته:

تقدم قول تلميذه الخليلي: بلغت تصانيفه قريبا من خمسمائة جزء. ونقل الحافظ ابن عساكر في (تبيين كذب المفتري) عن الحافظ أبي حازم عمر بن أحمد بن إبراهيم العبدوي (ت: 417 هـ): سمعته (يعني الحاكم) يقول: شربت ماء زمزم وسألت الله أن يرزقني حسن التصنيف. فوقع من تصانيفه المسموعة في أيدي الناس ما يبلغ ألفا وخمسمائة جزء (1). ا. هـ. وقال عبد الغافر ابن

--------------------------------------------

(1) الذي يظهر أنه إن كان المراد بالجزء - في كلام الخليلي - الرسالة الصغيرة، فإن كلام الحافظ أبي حازم أرجح، إذ كتب الحاكم رحمه الله تفوق بكثير الخمسمائة من الرسائل =
৩ - তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:

তাঁর সমসাময়িক এবং পরবর্তী যুগের আলেমগণ তাঁর মাহাত্ম্য, স্মৃতিশক্তি (হেফজ), জ্ঞান এবং সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আদ-দারাকুতনি; তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ইবনে মানদাহ এবং ইবনুল বাইয়্য—এই দুইজনের মধ্যে কার হেফজ বেশি শক্তিশালী? তিনি বললেন: ইবনুল বাইয়্য-এর হেফজ অধিক সুদৃঢ়। সমাপ্ত। ইবনে তাহির বলেন: আমি হাফেজ সা’দ বিন আলীকে এমন চারজন সমসাময়িক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তাঁদের মধ্যে কার হেফজ বেশি? তিনি বললেন: তাঁরা কারা? আমি বললাম: আদ-দারাকুতনি, আব্দুল গনি, ইবনে মানদাহ এবং আল-হাকিম। তিনি বললেন: আদ-দারাকুতনি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাল) সম্পর্কে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। আর আব্দুল গনি বংশপরম্পরা (আনসাব) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানতেন। ইবনে মানদাহ ছিলেন পূর্ণ প্রজ্ঞাসহ তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী। আর আল-হাকিম ছিলেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থকার। সমাপ্ত। আল-খলিলি বলেন: তিনি আদ-দারাকুতনির সাথে তাত্ত্বিক আলোচনা করেছিলেন এবং তিনি (দারাকুতনি) তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুবিস্তৃত ইলমের অধিকারী ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় পাঁচশ খণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সমাপ্ত।

আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেন: তিনি জ্ঞান, মর্যাদা, প্রজ্ঞা ও হেফজের অধিকারী ছিলেন এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর বহু রচনা রয়েছে... তিনি বলেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য। সমাপ্ত। আব্দুল গাফির বিন ইসমাইল বলেন: আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ হলেন তাঁর যুগের হাদিস বিশারদদের ইমাম এবং এই শাস্ত্রের প্রকৃত সম্যক জ্ঞানের অধিকারী। সমাপ্ত। আয-যাহাবি বলেন: তিনি ইমাম, হাফেজ, হাদিস পর্যালোচক, আল্লামা এবং মুহাদ্দিসদের শায়খ। সমাপ্ত। ইবনে নাসিরুদ্দিন বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত। ইবনে খাল্লিকান বলেন: তিনি তাঁর সময়ের হাদিস বিশারদদের ইমাম ছিলেন, তিনি ছিলেন এক মহান আলিম এবং সুবিস্তৃত জ্ঞানের অধিকারী। এ ছাড়াও তাঁর সম্পর্কে আলেমদের আরও বহু প্রশংসা রয়েছে, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

‌৪ - তাঁর রচনাবলি:

ইতিপূর্বে তাঁর ছাত্র আল-খলিলির উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে যে: তাঁর রচনাবলি প্রায় পাঁচশ খণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। হাফেজ ইবনে আসাকির ‘তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারি’ গ্রন্থে হাফেজ আবু হাযেম উমর বিন আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-আবদুয়ি (মৃত্যু: ৪১৭ হিজরি) থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি তাঁকে (অর্থাৎ আল-হাকিমকে) বলতে শুনেছি: আমি যমযমের পানি পান করেছি এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আমাকে সুন্দর লেখনশৈলী দান করেন। ফলে মানুষের হাতে তাঁর শ্রুত রচনাবলির যা পৌঁছেছে, তার পরিমাণ প্রায় পনেরশ খণ্ড (১)। সমাপ্ত। এবং আব্দুল গাফির ইবনে...

--------------------------------------------

(১) স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, আল-খলিলির বক্তব্যে যদি ‘খণ্ড’ দ্বারা ছোট পুস্তিকা বোঝানো হয়ে থাকে, তবে হাফেজ আবু হাযেমের বক্তব্যই অধিকতর গ্রহণযোগ্য; কারণ আল-হাকিম (রহ.)-এর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পাঁচশ পুস্তিকার চেয়েও অনেক বেশি। =
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
إسماعيل: وقد شرع الحاكم في التصنيف سنة سبع وثلاثين، فاتفق له من التصانيف ما لعله يبلغ قريبا من ألف جزء من تخريج الصحيحين، والعلل، والتراجم، والأبواب والشيوخ، ثم المجموعات. ا. هـ. وعلى ذلك فقد ابتدأ الحاكم التصنيف وعمره ست عشرة سنة، وتوفي رحمه الله عن عمر يناهز أربع وثمانين سنة، فلا عجيب أن كثرت تصانيفه.

وإليك بيان ما انتهى إلينا من أسماء كتبه:

1 - معرفة علوم الحديث. وهو مطبوع متداول.

2 - المستدرك على الصحيحين. وهو مطبوع أيضا.

3 - تاريخ نيسابور. ذكره الذهبي في السير، والكتاني في (الرسالة المستظرفة).

4 - كتاب مزكي الأخبار. ذكره ابن عساكر في (تبيين كذب المفتري) والذهبي، والكتاني وغيرهم.

5 - المدخل إلى علم الصحيح. مطبوع.

6 - كتاب الإكليل في دلائل النبوة. ذكره ابن عساكر في (تبيين كذب المفتري)، وحاجي خليفة في (كشف الظنون) وغيرهما.

7 - فضائل الشافعي. ذكره الذهبي وابن خلكان وغيرهما.

8 - كتاب الأربعين. ذكره حاجي خليفة، والكتاني.

9 - أمالي العشيات. ذكره ابن عساكر والكتاني.

10 - الأمالي. ذكره ابن عساكر والكتاني.

11 - سؤالات مسعود السجزي للحاكم. مطبوع.

--------------------------------------------

= الصغيرة، وإن كان المراد بالجزء ما كتبه من أجزاء كتبًا كانت أو رسائل، فالكلام متقارب إذا حُمل كلام الحافظ أبي حازم على الرسائل الصغيرة، والحافظ أبو حازم ممن عاصر الحاكم، فلا يبعد أن يكون قد اطلع على ما لم يطلع عليه الخليلي.
ইসমাইল: হাকিম ৩৩৭ হিজরিতে গ্রন্থ রচনায় প্রবৃত্ত হন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় এক হাজার জুয (খণ্ড) পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সহীহাইন-এর তাখরীজ, আল-ইলাল (ত্রুটিসমূহ), আত-তারাজিম (জীবনী), আল-আবওয়াব (অধ্যায়সমূহ) এবং আশ-শুয়ুখ (শায়খদের তালিকা), অতঃপর বিভিন্ন সংকলনসমূহ। সমাপ্ত। এই তথ্যের ভিত্তিতে হাকিম ১৬ বছর বয়সে গ্রন্থ রচনা শুরু করেন এবং তিনি প্রায় চুরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। সুতরাং তাঁর রচনার প্রাচুর্য কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়।

নিম্নে তাঁর যে সকল গ্রন্থের নাম আমাদের নিকট পৌঁছেছে তার বিবরণ দেওয়া হলো:

১ - মারিফাতু উলূমিল হাদীস। এটি মুদ্রিত ও প্রচলিত।

২ - আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন। এটিও মুদ্রিত।

৩ - তারিখু নিসাবুর। যাহাবী ‘আস-সিয়ার’ গ্রন্থে এবং কাত্তানী ‘আর-রিসালাতুল মুসতাযরাফাহ’ গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন।

৪ - কিতাবু মুযাক্কিল আখবার। ইবনে আসাকির ‘তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী’ গ্রন্থে, যাহাবী, কাত্তানী এবং অন্যান্যরা এর উল্লেখ করেছেন।

৫ - আল-মাদখাল ইলা ইলমিস সাহীহ। এটি মুদ্রিত।

৬ - কিতাবুল ইকলীল ফী দালাাইলিন নুবুওয়াহ। ইবনে আসাকির ‘তাবয়ীনু কাযিবিল মুফতারী’ গ্রন্থে, হাজি খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা এর উল্লেখ করেছেন।

৭ - ফাযায়িলুশ শাফিঈ। যাহাবী, ইবনে খাল্লিকান এবং অন্যান্যরা এর উল্লেখ করেছেন।

৮ - কিতাবুল আরবাঈন। হাজি খলিফা এবং কাত্তানী এর উল্লেখ করেছেন।

৯ - আমালিল আশিয়াত। ইবনে আসাকির এবং কাত্তানী এর উল্লেখ করেছেন।

১০ - আল-আমালি। ইবনে আসাকির এবং কাত্তানী এর উল্লেখ করেছেন।

১১ - সুয়ালাতু মাসউদ আস-সিজযি লিল-হাকিম। এটি মুদ্রিত।

--------------------------------------------

= ক্ষুদ্র (পুস্তিকা), আর যদি 'জুয' দ্বারা তাঁর লিখিত খণ্ডগুলো উদ্দেশ্য হয়, চাই সেগুলো পূর্ণ কিতাব হোক বা ছোট রিসালা, তবে হাফেজ আবু হাযিমের বক্তব্যটি ক্ষুদ্র রিসালার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরলে উভয় বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান হয়। হাফেজ আবু হাযিম হাকিমের সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাই তিনি এমন কিছু অবগত হয়ে থাকতে পারেন যা খালিলি অবগত হননি—এটা অসম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
12 - الضعفاء. ذكره ابن حجر في (لسان الميزان).

13 - علل الحديث. ذكره ابن عساكر، والذهبي في (تذكرة الحفاظ)، وحاجي خليفة.

14 - فضائل فاطمة. ذكره السبكي في (طبقات الشافعية)، وحاجي خليفة.

15 - فوائد الشيوخ. ذكره ابن خلكان في (وفيات الأعيان)، وحاجي خليفة.

16 - ما تفرد به كل واحد من الإمامين. ذكره ابن عساكر، وابن خلكان.

17 - المدخل إلى معرفة المستدرك. ذكره ابن الصلاح في (صيانة صحيح مسلم).

18 - مقتل الحسين. ذكره الحاكم في المستدرك.

19 - معجم الشيوخ. ذكره ابن عساكر.

20 - فوائد النسخ. ذكره ابن عساكر.

21 - فوائد الخراسانيين. ذكره ابن عساكر.

22 - التلخيص. ذكره ابن عساكر.

23 - تراجم المسند على شرط الشيخين. ذكره ابن عساكر.

24 - تسمية من أخرجهم البخاري ومسلم. ذكره الزركلي في (الأعلام).

هذا ما وقفت عليه من مصنفاته رحمه الله، وهي تدل على علو كعبه في الحديث وعلومه لمن تأمل وكان له دراية بذلك.

***
১২ - আয-যু'আফা। ইবনে হাজার এটি (লিসানুল মিজান)-এ উল্লেখ করেছেন।

১৩ - ইলালুল হাদিস। এটি ইবনে আসাকির, (তাযকিরাতুল হুফফায)-এ আয-যাহাবি এবং হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন।

১৪ - ফাদায়িলু ফাতিমা। এটি (তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ)-তে আস-সুবকি এবং হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন।

১৫ - ফাওয়ায়িদুশ শুয়ুখ। এটি (ওয়াফায়াতুল আইয়ান)-এ ইবনে খাল্লিকান এবং হাজি খলিফা উল্লেখ করেছেন।

১৬ - মা তাফাররাদা বিহি কুল্লু ওয়াহিদ মিনাল ইমামাইন। এটি ইবনে আসাকির এবং ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন।

১৭ - আল-মাদখাল ইলা মা'রিফাতিল মুস্তাদরাক। এটি (সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম)-এ ইবনে আস-সালাহ উল্লেখ করেছেন।

১৮ - মাকতালুল হুসাইন। এটি আল-হাকিম মুস্তাদরাক-এ উল্লেখ করেছেন।

১৯ - মু'জামুশ শুয়ুখ। এটি ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন।

২০ - ফাওয়ায়িদুন নুসখ। এটি ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন।

২১ - ফাওয়ায়িদুল খুরাসানিইয়্যিন। এটি ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন।

২২ - আত-তালখিস। এটি ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন।

২৩ - তারাজিমুল মুসনাদ আলা শারতিশ শাইখাইন। এটি ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন।

২৪ - তাসমিয়াতu মান আখরাজাহুমুল বুখারি ওয়া মুসলিম। এটি (আল-আলাম)-এ আয-যিরিকলি উল্লেখ করেছেন।

এগুলোই তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি যা আমি জানতে পেরেছি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন), আর এগুলো হাদিস ও হাদিসশাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে—সেই ব্যক্তির জন্য যে এ নিয়ে চিন্তা করবে এবং এ বিষয়ে যার প্রজ্ঞা রয়েছে।

***
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المستدرك: دراسة ونتائج

كتاب المستدرك على الصحيحين كتاب أراد الحاكم بتأليفه خدمة السنة النبوية بلا شك، فمن المعلوم مما تواتره أهل العلم أن أصح الكتب بعد كتاب الله تعالى الصحيحان، ولكنهما لم يجمعا كل الصحيح، لذا كانت همة بعض العلماء أن يضيفا إليهما مما ليس فيهما ويساويهما في الصحة مما هو على شرط البخاري ومسلم أو على شرط أحدهما أو يكون صحيحا مقاربا لذلك. ومن هؤلاء أبو عبد الله الحاكم رحمه الله.

بيد أن الحاكم رحمه الله وقع في أوهام في هذا المستدرك، وتبعه الذهبي أيضا في كثير منها في تلخيصه على المستدرك، ولعل ذلك لأن الحاكم صنف المستدرك في نهاية عمره، وكان يملي من حفظه غالبا، ثم لم يتسن له أن يراجع ما كتبه وأملاه، ووافته منيته قبل أن ينقحه، وقد ذكر بعضهم أنه حدث له في نهاية عمره تغيرا وغفلة فوقع بذلك في الأوهام. ونقل السيوطي في (تدريب الراوي) عن الحافظ ابن حجر قوله: وإنما وقع للحاكم التساهل لأنه سوَّد الكتاب لينقحه فأعجلته المنية. قال: وقد وجدت في قريب نصف الجزء الثاني من تجزئة ستة من المستدرك: إلى هنا انتهى إملاء الحاكم. ثم قال: وما عدا ذلك من الكتاب لا يؤخذ عنه إلا بطريق الإجازة، فمن الأكبر أصحابه وأكثر الناس له ملازمة البيهقي، وهو إذا ساق عنه في غير المملى شيئا لا يذكره إلا بالإجازة، قال: والتساهل في القدر المملى قليل جدا بالنسبة لما بعده (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: تدريب الراوي ص 62.
আল-মুস্তাদরাক: পর্যালোচনা ও ফলাফল

আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন এমন একটি গ্রন্থ যা রচনার মাধ্যমে আল-হাকিম নিঃসন্দেহে নববী সুন্নাহর খিদমত করতে চেয়েছিলেন। আলিমগণের নিকট এটি ধারাবাহিকভাবে সুপ্রসিদ্ধ যে, মহান আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)। কিন্তু এই দুটি গ্রন্থ সমস্ত সহীহ হাদীসকে একত্রিত করেনি। তাই কিছু আলিমের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল যে, তাঁরা এই গ্রন্থদ্বয়ে নেই এমন হাদীসগুলো এতে যুক্ত করবেন যা বিশুদ্ধতার দিক থেকে সেগুলোর সমপর্যায়ের; অর্থাৎ যা ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী কিংবা তাঁদের যে কোনো একজনের শর্তানুযায়ী অথবা এমন সহীহ যা এর কাছাকাছি পর্যায়ের। আর তাঁদেরই একজন হলেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ)।

তবে আল-হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ) এই মুস্তাদরাক গ্রন্থে কিছু ভুলের মধ্যে নিপতিত হয়েছেন, এবং ইমাম যাহাবীও আল-মুস্তাদরাকের সংক্ষিপ্তসার (তালখিস) রচনার সময় অনেক ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন। সম্ভবত এর কারণ হলো, আল-হাকিম তাঁর জীবনের শেষ ভাগে মুস্তাদরাক সংকলন করেছিলেন এবং তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের স্মৃতি থেকে হাদীস ইমলা (শ্রুতিলিখনের জন্য পাঠ) করতেন। অতঃপর তিনি যা লিখেছিলেন ও ইমলা করেছিলেন তা পুনরায় পর্যালোচনা করার সুযোগ পাননি এবং তা পরিমার্জিত করার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, জীবনের শেষ সময়ে তাঁর মধ্যে কিছু পরিবর্তন ও অসতর্কতা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে তিনি ভুলের শিকার হয়েছেন। সুয়ূতী 'তাদরীবুর রাবী' গ্রন্থে হাফিয ইবনে হাজার থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি বলেছেন: আল-হাকিমের মাঝে শিথিলতা মূলত এ কারণে এসেছে যে, তিনি পরিমার্জনের উদ্দেশ্যে গ্রন্থটির একটি খসড়া প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যু তাঁকে ত্বরান্বিত করে। তিনি বলেন: আমি মুস্তাদরাকের ছয় ভাগের দ্বিতীয় ভাগের প্রায় অর্ধেকাংশে পেয়েছি যে: "আল-হাকিমের ইমলা (শ্রুতিলিখন) এখানেই শেষ হয়েছে"। অতঃপর তিনি বলেন: এর বাইরের অংশগুলো তাঁর থেকে ইজাজাহ (অনুমতি) ব্যতীত গ্রহণ করা হয় না। তাঁর প্রধান ছাত্র এবং তাঁর দীর্ঘ সাহচর্য লাভকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন বায়হাকী। তিনি যখন তাঁর (হাকিম) থেকে ইমলাকৃত অংশ ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করেন, তখন তা কেবল ইজাজাহর মাধ্যমেই উল্লেখ করেন। তিনি বলেন: ইমলাকৃত অংশে শিথিলতার পরিমাণ তার পরবর্তী অংশের তুলনায় খুবই নগণ্য (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাদরীবুর রাবী, পৃষ্ঠা ৬২।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال ابن حجر في (لسان الميزان): والحاكم أجل قدرا وأعظم خطرا وأكبر ذكرا من أن يذكر في الضعفاء، لكن قيل في الاعتذار عنه: إنه عند تصنيفه للمستدرك كان في أواخر عمره، وذكر بعضهم أنه حصل له تغير وغفلة في آخر عمره، ويدل على ذلك أنه ذكر جماعة في كتاب الضعفاء له وقطع بترك الرواية عنهم ومنع من الاحتجاج بهم، ثم أخرج أحاديث بعضهم في مستدركه وصححها (1).

قلت: ابتدأ الحاكم إملاء المستدرك في يوم الإثنين السابع من المحرم سنة ثلاث وسبعين وثلاث مائة كما جاء ذلك في مقدمة الكتاب (1/ 2). وفي المطبوع: 2/ 63 (2367) حدثنا الحاكم أبو عبد الله محمَّد بن عبد الله الحافظ إملاء في شهر رمضان سنة سبع وتسعين وثلاث مائة، وفيه أيضا: 2/ 132 (2595) قال: حدثنا الحاكم أبو عبد الله محمَّد بن عبد الله الحافظ إملاء في شهر ربيع الآخر سنة ثمان وتسعين وثلاث مائة؛ وآخر ما وجدته في تاريخ الإملاء: 3/ 199 (4900): حدثنا الحاكم أبو عبد الله محمَّد بن عبد الله الحافظ إملاء في المحرم سنة ثلاث وأربع مائة.

فهذا يدل على أن الحاكم استغرق في إملاء وتصنيف الكتاب أكثر من ثلاثين سنة، ولعله لكثرة انشغالاته العلمية وغيرها كان إملاؤه لهذا الكتاب متباعدا، وحدث بين إملاءاته توقف طويل لم أقف على سببه، والعلم عند الله تعالى. كما يدل ذلك أيضًا على أن غالب الكتاب كان إملاء.

وإنما قلت: (غالب الكتاب كان إملاء) لأن الحاكم رحمه الله قال: 2/ 229، 230 (2902) أخبرنا أبو جعفر محمَّد البغدادي، حدثنا يحيى بن أيوب العلاف، حدثنا سعيد بن أبي مريم، أبنا محمَّد بن جعفر بن أبي كثير، حدثنا شريك بن عبد الله بن أبي نمر، عن عطاء بن يسار، عن أبي ذر رضي الله عنه أنه قال: دخلت المسجد يوم الجمعة والنبي صلى الله عليه وسلم يخطب، فجلست قريبا من

--------------------------------------------

(1) انظر لسان الميزان: 5/ 233 (حيدر أباد).
এবং ইবন হাজার লিসানুল মিযান-এ বলেছেন: আল-হাকিম এতই উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন, গুরুত্বপূর্ণ এবং সুপরিচিত যে তাঁকে দুর্বলদের কাতারে উল্লেখ করা সাজে না। তবে তাঁর পক্ষ থেকে ওজরের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে: তিনি যখন মুস্তাদরাক সংকলন করছিলেন, তখন তিনি জীবনের শেষ পর্যায়ে ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, জীবনের শেষ সময়ে তাঁর স্মৃতির পরিবর্তন ও অসতর্কতা দেখা দিয়েছিল। এর প্রমাণ হলো, তিনি তাঁর দুর্বল বর্ণনাকারীদের কিতাবে একদল বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা বর্জন করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন; এরপর তিনি তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে তাঁদের কারো কারো হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে সহিহ বলেছেন (১)।

আমি বলছি: আল-হাকিম মুস্তাদরাকের পাঠদান (ইমলা) শুরু করেন সোমবার, ৭ই মহররম, ৩৭৩ হিজরি সালে, যেমনটি কিতাবের ভূমিকায় (১/২) উল্লেখ আছে। আর মুদ্রিত কপিতে ২/৬৩ (২৩৬৭) নং হাদিসে আছে: আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ ৩৯৭ হিজরির রমজান মাসে আমাদের কাছে হাদিসটি পাঠ (ইমলা) করেন। এবং এতে আরও আছে: ২/১৩২ (২৫৯৫): তিনি বলেন: আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ ৩৯৮ হিজরির রবিউল আখের মাসে আমাদের কাছে পাঠ (ইমলা) করেন। পাঠদানের (ইমলা) তারিখের মধ্যে সর্বশেষ যা আমি পেয়েছি তা হলো: ৩/১৯৯ (৪৯০০): আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ ৪০৩ হিজরির মহররম মাসে আমাদের কাছে পাঠ (ইমলা) করেন।

এটি প্রমাণ করে যে, আল-হাকিম এই কিতাবটি পাঠদান এবং সংকলনের পেছনে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন। সম্ভবত তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও অন্যান্য ব্যস্ততার আধিক্যের কারণে এই কিতাবটির পাঠদান দীর্ঘ সময় পরপর অনুষ্ঠিত হতো। এবং পাঠদানগুলোর মাঝে দীর্ঘ বিরতি ঘটত যার কারণ আমি জানতে পারিনি, আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ তাআলার কাছেই। এটি আরও প্রমাণ করে যে, কিতাবের অধিকাংশ অংশই পাঠদানের (ইমলা) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল।

আমি একারণেই বলেছি যে, (কিতাবের অধিকাংশ অংশই ইমলা বা পাঠদান ছিল), কারণ আল-হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ) ২/২২৯-২৩০ (২৯০২)-এ বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ আল-বাগদাদি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-আল্লাফ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সাঈদ বিন আবি মারিয়াম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি কাসির, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন শারিক বিন আবদুল্লাহ বিন আবি নামির, আতা বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: আমি জুমার দিনে মসজিদে প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবা দিচ্ছিলেন, এরপর আমি তাঁর কাছাকাছি বসলাম...

--------------------------------------------

(১) দেখুন লিসানুল মিযান: ৫/২৩৩ (হায়দারাবাদ)।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
أبي بن كعب فقرأ النبي صلى الله عليه وسلم سورة براءة، فقلت لأبي: متى نزلت هذه السورة؟ قال: فتجهمني ولم يكلمني .... وذكر الحديث. ثم قال: هكذا وجدته في كتابي وطلبته في المسانيد فلم أجده بطوله، والحديث بإسناده صحيح. ا. هـ.

وهذا يدل على أنه إنما كان من كتاب؛ والحاكم رحمه الله كان يملي من الكتاب لا مشافهة؛ فالذي يظهر أنه كان كتب من حفظه مسوَّدة الكتاب ثم أملاه منها، فكان إذا أراد الاستيثاق رجع إلى المصادر؛ فغالب ما نقل عنه من الكتاب كان إملاء، ثم باقي الكتاب كان بالإجازة كما قال ابن حجر رحمه الله.

وقال: 2/ 521 بعد أن روى حديث عائشة في قراءة النبي صلى الله عليه وسلم في الوتر من طريق سعيد بن أبي مريم عن يحيى بن أيوب، ومن طريق خصيف عن عبد العزيز بن جريج: قد أتى إمام أهل مصر في الحديث والرواية سعيد بن كثير بن عفير عن يحيى بن أيوب. طلبتها وقت إملائي كتاب الوتر فلم أجدها، فوجدتها بعد. ا. هـ.

وهذا يدل أيضًا على أنه كان يرجع إلى كتبه.

فالذي يظهر مما سبق أن الحاكم أبا عبد الله رحمه الله ابتدأ في إملاء الكتاب قبل موته باثنتين وثلاثين سنة، وانتهى من الكتاب بعد سنة ثلاث وأربعمائة، كما يظهر من آخر تأريخ في أواخر الثلث الأول من الجزء الثالث، فقد انتهى يقينا منه في أواخر عمره، فقد توفي رحمه الله سنة خمس وأربعمائة. كما يظهر أيضًا أنه كان يطلب بعض الطرق التي يريد الاستيثاق منها، ولم يكن يرجع إلى المصادر في كل ما يملي؛ ثم وافته المنية قبل أن ينقح الكتاب، مع ما أصابه من التغير والغفلة، فوقع الوهم؛ والعلم عند الله تعالى.

 

‌‌التعليقات على المستدرك

اشتغل على خدمة المستدرك بعض الحفاظ لإتمام الفائدة منه، فعمل الحافظ الذهبي التلخيص: لخص فيه كلام الحاكم، وله عليه استدراكات، وله فيه أوهام
উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরা বারাআত পাঠ করলেন, তখন আমি উবাইকে বললাম: এই সূরাটি কখন নাযিল হয়েছে? তিনি বললেন: তখন তিনি আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করলেন এবং আমার সাথে কথা বললেন না... এবং হাদীসটি উল্লেখ করলেন। অতঃপর তিনি (হাকিম) বললেন: আমি এটি আমার কিতাবে এভাবেই পেয়েছি এবং মুসনাদ গ্রন্থগুলোতে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে তালাশ করেছি কিন্তু পাইনি, আর হাদীসটির সনদ সহীহ। উদ্ধৃতি শেষ।

এটি প্রমাণ করে যে, এটি কিতাব থেকেই ছিল; আর হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) কিতাব থেকে পাঠ করে শোনাতেন (ইমলা করতেন), মৌখিকভাবে নয়। যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে কিতাবের একটি খসড়া লিখেছিলেন এবং পরে তা থেকে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। যখন তিনি নিশ্চিত হতে চাইতেন, তখন মূল উৎসগুলোর দিকে ফিরে যেতেন। কিতাব থেকে তাঁর বর্ণিত অধিকাংশ অংশই ছিল পাঠ করে শোনানো (ইমলা), অতঃপর কিতাবের অবশিষ্ট অংশ ছিল ইজাযতের মাধ্যমে, যেমনটি ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন।

তিনি ২/৫২১ পৃষ্ঠায় সাঈদ ইবনে আবি মারিয়াম কর্তৃক ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুবের সূত্রে এবং খুসাইফ কর্তৃক আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজের সূত্রে বিতর নামাজে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিরাত সংক্রান্ত আয়েশা (রা.)-এর হাদীস বর্ণনা করার পর বলেছেন: হাদীস ও বর্ণনার ক্ষেত্রে মিশরের ইমাম সাঈদ ইবনে কাসীর ইবনে উফাইর ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বিতর অধ্যায়টি পাঠ করে শোনানোর (ইমলা করার) সময় এটি তালাশ করেছিলাম কিন্তু পাইনি, পরে তা পেয়েছি। উদ্ধৃতি শেষ।

এটি আরও প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর কিতাবগুলোর দিকে ফিরে যেতেন।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, হাকিম আবু আব্দুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মৃত্যুর বত্রিশ বছর আগে কিতাবটি পাঠ করে শোনানো (ইমলা) শুরু করেছিলেন এবং চারশত তিন হিজরীর পরে কিতাবটি শেষ করেছিলেন, যেমনটি তৃতীয় খণ্ডের প্রথম এক-তৃতীয়াংশের শেষের তারিখ থেকে বোঝা যায়। তিনি নিশ্চিতভাবেই তাঁর জীবনের শেষ দিকে এটি শেষ করেছিলেন, কেননা তিনি চারশত পাঁচ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। এটিও স্পষ্ট হয় যে, তিনি এমন কিছু সূত্র তালাশ করতেন যা দ্বারা তিনি নিশ্চিত হতে চাইতেন, এবং তিনি যা কিছু পাঠ করে শোনাতেন তার সবকিছুর জন্য মূল উৎসের দিকে ফিরে যেতেন না। অতঃপর কিতাবটি পরিমার্জন করার আগেই তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে, সেই সাথে তাঁর মধ্যে বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন ও অসতর্কতা দেখা দিয়েছিল, ফলে ভুল (ওয়াহম) সংঘটিত হয়েছে; আর প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহর কাছে।

 

‌‌আল-মুসতাদরাক-এর ওপর টীকা ও মন্তব্যসমূহ

মুসতাদরাক কিতাবটি থেকে পূর্ণাঙ্গ উপকার লাভের উদ্দেশ্যে কিছু হাফেজে হাদীস এর খিদমতে আত্মনিয়োগ করেছেন। হাফেজ যাহাবী 'আত-তালখীস' রচনা করেছেন: এতে তিনি হাকিমের বক্তব্য সংক্ষেপ করেছেন, এবং এর ওপর তাঁর কিছু সংযোজন বা সংশোধনী (ইস্তিদরাক) রয়েছে, আর এতে তাঁর কিছু ভুলও (ওয়াহম) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
أيضًا تبع فيها الحاكم. والظاهر أنه لانشغاله لم يوله عناية كبيرة عند تلخيصه، فقد قال في (سير أعلام النبلاء) بعد أن نقل قول أبي سعد الماليني: طالعت كتاب (المستدرك على الشيخين) الذي صنفه الحاكم من أوله إلى آخره، فلم أر فيه حديثا على شرطهما. ا. هـ. قال الذهبي: قلت: هذه مكابرة وغلو، وليست رتبة أبي سعد أن يحكم بهذا، بل في (المستدرك) شيء كثير على شرطهما، وشيء كثير على شرط أحدهما، ولعل مجموع ذلك ثلث الكتاب بل أقل، فان في كثير من ذلك أحاديث في الظاهر على شرط أحدهما أو كليهما، وفي الباطن علل خفية مؤثرة؛ وقطعة من الكتاب إسنادها صالح وحسن وجيد، وذلك نحو ربعه؛ وباقي الكتاب مناكير وعجائب، وفي غضون ذلك نحو المائة يشهد القلب ببطلانها، كنت قد أفردت منها جزء، وحديث الطير بالنسبة لها سماء، وبكل حال، فهو كتاب مفيد قد اختصرته ويعوز عملا وتحريرا. ا. هـ (1).

قلت: رحم الله الذهبي، كم كان منصفا حتى من نفسه، فقوله الأخير: (ويعوز عملا وتحريرا) دليل على ما ذكرنا، والله الموفق.

هذا وقد شرع الحافظ ابن حجر في كتاب (التعليق على مستدرك الحاكم) لكن لم يصل إلينا منه شيء، ولا أدري إلى أين انتهى فيه؟ ولا منهجه. وللسيوطي (توضيح المدرك في تصحيح المستدرك) لم يكمل، واختصر المستدرك أيضًا برهان الدين الحلبي.

 

‌‌منهج الحاكم ومصطلحاته في الكتاب

من المعروف أن الحاكم إذا قال: صحيح على شرطهما، فإنه يعني أن رجال الحديث ممن اتفق الشيخان على الإخراج لهما في صحيحيهما، وكذلك إذا قال: على شرط البخاري، فإنه يعني أن رجال الحديث ممن أخرج لهم البخاري في الصحيح، وكذلك إذا قال على شرط مسلم، فإنه يعني أن رجال الحديث

--------------------------------------------

(1) انظر سير أعلام النبلاء: 17/ 176.
তিনি এখানেও আল-হাকিমকে অনুসরণ করেছেন। স্পষ্টতই মনে হয় যে, ব্যস্ততার কারণে তিনি এটি সংক্ষেপ করার সময় খুব বেশি মনোযোগ দিতে পারেননি। কেননা তিনি (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা) গ্রন্থে আবু সাদ আল-মালিনির উক্তি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: আমি আল-হাকিম সংকলিত (আল-মুস্তাদরাক আলাশ শাইখাইন) গ্রন্থটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছি, কিন্তু তাতে তাদের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী কোনো হাদিস দেখতে পাইনি। আয-যাহাবি বলেন: আমি বলি, এটি অহংকার ও বাড়াবাড়ি। আবু সাদের মর্যাদা এমন নয় যে তিনি এই বিষয়ে ফয়সালা দেবেন। বরং (মুস্তাদরাক)-এ তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী অনেক হাদিস রয়েছে এবং তাদের যে কোনো একজনের শর্তানুযায়ীও অনেক হাদিস রয়েছে। সম্ভবত এর সমষ্টি বইটির এক-তৃতীয়াংশ বা তারও কম হবে। কেননা এর অনেকগুলো হাদিস বাহ্যিকভাবে তাদের একজনের বা উভয়ের শর্তানুযায়ী মনে হলেও অভ্যন্তরে সূক্ষ্ম ও প্রভাব বিস্তারকারী ত্রুটি রয়েছে; এবং গ্রন্থের একটি অংশের সনদ গ্রহণযোগ্য, হাসান এবং উত্তম, যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ; আর গ্রন্থের বাকি অংশটি মুনকার ও আশ্চর্যজনক বর্ণনায় পূর্ণ। এর মধ্যে প্রায় একশত হাদিস এমন রয়েছে যেগুলোর অসারতার ব্যাপারে অন্তর সাক্ষ্য দেয়। আমি সেগুলোকে একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে একত্র করেছিলাম। আর 'হাদিসুত তইর' (পাখির হাদিস) এগুলোর তুলনায় আকাশের মতো (অর্থাৎ অনেক উন্নত)। যা হোক, এটি একটি উপকারী গ্রন্থ যা আমি সংক্ষেপ করেছি এবং এটি আরও কাজ ও সম্পাদনার মুখাপেক্ষী। (১)।

আমি বলি: আল্লাহ তাআলা আয-যাহাবির ওপর রহম করুন, তিনি নিজের ব্যাপারেও কতটা ইনসাফকারী ছিলেন। তার শেষ কথা: (এবং এটি আরও কাজ ও সম্পাদনার মুখাপেক্ষী) আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের প্রমাণ। আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা।

এদিকে হাফেজ ইবনে হাজার (আত-তালিক আলা মুস্তাদরাকিল হাকিম) গ্রন্থটি লিখতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু তার কোনো অংশ আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি। আমি জানি না তিনি এটি কতদূর পর্যন্ত সম্পন্ন করেছিলেন বা তার পদ্ধতি কী ছিল। এছাড়া আস-সুয়ুতির (তাওদিহুল মুদরিক ফি তাসহিহিল মুস্তাদরাক) রয়েছে যা অসম্পূর্ণ। বুরহানুদ্দিন আল-হালাবিও মুস্তাদরাক সংক্ষেপ করেছেন।

 

‌গ্রন্থে আল-হাকিমের কর্মপদ্ধতি ও পরিভাষাসমূহ

এটি সুপরিচিত যে, আল-হাকিম যখন বলেন: তাদের উভয়ের শর্তানুযায়ী সহিহ, তখন তিনি বুঝান যে হাদিসটির বর্ণনাকারীগণ এমন যাদের থেকে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাদের সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করতে একমত হয়েছেন। একইভাবে তিনি যখন বলেন: বুখারির শর্তানুযায়ী, তখন তিনি বুঝান যে বর্ণনাকারীগণ এমন যাদের থেকে বুখারি সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে তিনি যখন বলেন: মুসলিমের শর্তানুযায়ী, তখন তিনি বুঝান যে বর্ণনাকারীগণ...

--------------------------------------------

(১) দেখুন সিয়ারু আ’লামিন নুবালা: ১৭/ ১৭৬।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২০)
ممن أخرج لهم مسلم في الصحيح، مع الوضع في الاعتبار إسناده هو إلى شيخ البخاري أو مسلم، وأما إذا قال: صحيح ولم يخرجاه، فمعناه صحيح عنده على ما اشترط في رجال الإسناد.

قال النووي رحمه الله: المراد بقول المحدثين: على شرطهما أو على شرط أحدهما: أن يكون رجال الإسناد في كتابيهما أو في كتاب أحدهما؛ لأنهما ليس لهما شرط في كتابيهما، ولا في غيرهما (1).

قال ابن الصلاح في (علوم الحديث): واعتنى الحاكم أبو عبد الله الحافظ بالزيادة في عدد الحديث الصحيح على ما في الصحيحين، وجمع ذلك في كتاب سماه (المستدرك) أودعه ما ليس في واحد من الصحيحين مما رآه على شرط الشيخين قد أخرجا عن رواته في كتابيهما. ا. هـ. قال الحافظ العراقي في (التقييد والإيضاح): فيه بيان أن ما هو على شرطهما هو ما أخرجا عن رواته في كتابيهما، ولم يرد الحاكم ذلك، فقد قال في خطبة كتاب المستدرك: (وأنا أستعين الله تعالى على إخراج أحاديث رواتها ثقات قد احتج بمثلها الشيخان أو أحدهما). فقول الحاكم: (بمثلها) أي: بمثل رواتها، لا بهم أنفسهم، ولا يحتمل أن يراد بمثله تلك الأحاديث، وفيه نظر، ولكن الذي ذكره المصنف هو الذي فهمه ابن دقيق العيد من عمل الحاكم، فإنه ينقل تصحيح الحاكم لحديث وإنه على شرط البخاري مثلا، ثم يعترض عليه بأن فيه فلانا لم يخرج له البخاري، وهكذا فعل الذهبي في مختصر المستدرك، ولكن ظاهر كلام الحاكم مخالف لما فهموه عنه، والله أعلم (2). وتعقبه الحافظ ابن حجر قال: ما اعترض به شيخنا على ابن دقيق العيد والذهبي ليس بجيد، لأن الحاكم استعمل لفظة (مثل) في أعم من الحقيقة والمجاز في الأسانيد والمتون، دل على ذلك صنعه، فإنه تارة يقول: على شرطهما، وتارة على شرط البخاري، وتارة على شرط

--------------------------------------------

(1) انظر: تدريب الراوي ص 76.

(2) انظر: التقييد والإيضاح ص 33، 34.
যাদের বর্ণনা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে গ্রহণ করেছেন, তবে এক্ষেত্রে বুখারী বা মুসলিমের উস্তাদ পর্যন্ত তাঁর (হাকিম) নিজস্ব সনদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। আর যখন তিনি বলেন: "সহীহ কিন্তু তাঁরা এটি সংকলন করেননি," তখন এর অর্থ হলো এটি তাঁর নিকট সেই শর্তানুযায়ী সহীহ যা তিনি সনদের রাবীদের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেছেন।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মুহাদ্দিসগণের উক্তি—"তাঁদের উভয়ের শর্তানুযায়ী" বা "তাঁদের একজনের শর্তানুযায়ী"—বলতে উদ্দেশ্য হলো সনদের রাবীগণ যেন তাঁদের উভয়ের কিতাবে অথবা তাঁদের একজনের কিতাবে বিদ্যমান থাকেন; কেননা তাঁদের (বুখারী ও মুসলিমের) নিজস্ব কিতাবে বা অন্য কোথাও (শর্তের বিষয়ে) কোনো সুনির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ নেই (১)।

ইবনুস সালাহ (উলূমুল হাদীস) গ্রন্থে বলেন: হাফিয আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর অতিরিক্ত সহীহ হাদীসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেছেন। তিনি তা (আল-মুস্তাদরাক) নামক গ্রন্থে সংকলন করেছেন। সেখানে তিনি এমন সব হাদীস রেখেছেন যা সহীহাইন-এর কোনোটিতেই নেই, অথচ তাঁর দৃষ্টিতে সেগুলো শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী। কেননা তাঁরা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে উক্ত রাবীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। হাফিয ইরাকী (আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদাহ) গ্রন্থে বলেন: এতে স্পষ্ট হয় যে, যা তাঁদের শর্তানুযায়ী তা মূলত এমন হাদীস যার রাবীদের থেকে তাঁরা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাকিম এটি উদ্দেশ্য করেননি। কেননা তিনি মুস্তাদরাক গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "আমি আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করছি এমন সব হাদীস সংকলন করার বিষয়ে যার রাবীগণ নির্ভরযোগ্য, আর শায়খাইন বা তাঁদের কোনো একজন তাঁদের সমপর্যায়ের রাবীদের মাধ্যমে দলীল গ্রহণ করেছেন।" সুতরাং হাকিমের উক্তি "তাদের সমপর্যায়ের" অর্থ হলো রাবীদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ, সরাসরি সেই রাবীগণ নন। আর এর দ্বারা সেই হাদীসগুলো উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এ বিষয়ে আপত্তি রয়েছে। কিন্তু লেখক যা উল্লেখ করেছেন, সেটিই ইবনু দাকীকিল ঈদ হাকিমের কর্মপদ্ধতি থেকে বুঝেছেন। কেননা তিনি হাকিম কর্তৃক কোনো হাদীসকে সহীহ বলা এবং সেটি উদাহরণস্বরূপ বুখারীর শর্তানুযায়ী হওয়ার বিষয়টি উদ্ধৃত করেন, অতঃপর এই বলে আপত্তি করেন যে, এতে অমুক ব্যক্তি রয়েছে যার থেকে ইমাম বুখারী হাদীস বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবীও (মুখতাসারুল মুস্তাদরাক) গ্রন্থে অনুরূপ করেছেন। কিন্তু হাকিমের কথার বাহ্যিক দিকটি তাঁদের বোঝার বিপরীত, আর আল্লাহই ভালো জানেন (২)। হাফিয ইবনু হাজার এর পর্যালোচনা করে বলেন: আমার উস্তাদ ইবনু দাকীকিল ঈদ ও যাহাবীর ওপর যে আপত্তি করেছেন তা সঠিক নয়; কেননা হাকিম সনদ ও মতনের ক্ষেত্রে 'মিসল' (অনুরূপ/সমপর্যায়ের) শব্দটি হাকীকত ও মাজায অপেক্ষা ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। তাঁর কর্মপদ্ধতিই এর প্রমাণ। কারণ তিনি কখনো বলেন: 'তাঁদের শর্তানুযায়ী', কখনো বলেন: 'বুখারীর শর্তানুযায়ী', আবার কখনো বলেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাদরীবুর রাবী, পৃষ্ঠা ৭৬।

(২) দেখুন: আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদাহ, পৃষ্ঠা ৩৩, ৩৪।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২১)
مسلم، وتارة صحيح الإسناد ولا يعزوه لأحدهما، وأيضًا فلو قصد بكلمة (مثل) معناها الحقيقي حتى يكون المراد: احتج بغيرها ممن فيهم من الصفات مثل ما في الرواة الذين خرجَّا عنهم، لم يقل قط على شرط البخاري، فإن شرط مسلم دونه، فما كان على شرطه فهو على شرطهما لأنه حوى شرط مسلم وزاد (1).

قلت: الذي قاله الحافظ ابن حجر رحمه الله حسن جداً؛ وأضيف إلى ذلك أن الحاكم إذا قال: (ولم يخرجاه) فمعناه عنده: أنهما لم يخرجاه من الوجه الذي خرجه ولا من غيره، ولم يخرجاه بسياقه، ولا بغيره. ودليل ذلك أنه كثيرا ما يذكر: ولم يخرجاه بهذه السياقة، ونحو ذلك مما يدل على صحة ما ذكرناه؛ فمثلا:

1 - روى: 2/ 96 (2472) حديث سعد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم أحد للمسلمين: "أنبلوا سعدا، إرم يا سعد رمى الله لك، إرم فداك أبي وأمي". هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه بهذه السياقة.

2 - وروى: 2/ 141 (2626) حديث عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ذمة المسلمين واحدة، فإن جازت عليهم جائزة فلا تخفروها، فإن لكل غادر لواء يعرف به يوم القيامة". هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه بهذه السياقة، إنما اتفقا على ذكر الغادر فقط. ا. هـ. قلت: اتفقا عليه من حديث ابن عمر (خ 3188) و (م 1735)؛ وابن مسعود وأنس (خ 3187) و (م 1736، 1737)؛ وانفرد مسلم بروايته عن أبي سعيد (1738)، ولم يخرجاه من حديث عائشة. وهذا دليل بيِّنٌ واضح لما قررناه.

3 - وقال رقم (3236): حدثنا علي بن حمشاذ العدل، حدثنا بشر بن موسى، حدثنا عبد الله بن الزبير الحميدي، حدثنا سفيان، حدثنا عمرو بن دينار قال: قلت لجابر بن عبد الله أنهم يزعمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن لحوم الحمر

--------------------------------------------

(1) انظر: تدريب الراوي ص 77.
মুসলিম, এবং কখনো সহিহ ইসনাদ অথচ কোনোটির দিকে সম্বন্ধ করেন না। আবার যদি (মতো) শব্দ দ্বারা তার প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য হতো যাতে অর্থ হয়: তিনি এমন অন্যদের দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন যাদের মাঝে বর্ণনাকারীদের গুণাবলীর মতো গুণাবলী রয়েছে যাদের থেকে তারা (বুখারি ও মুসলিম) হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি কখনোই ‘বুখারির শর্ত অনুযায়ী’ বলতেন না। কেননা মুসলিমের শর্ত তার চেয়ে নিচে। সুতরাং যা বুখারির শর্ত অনুযায়ী হয় তা উভয়ের শর্ত অনুযায়ী হয়, কারণ তাতে মুসলিমের শর্ত রয়েছে এবং আরও অতিরিক্তও রয়েছে (১)।

আমি বলি: হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা অত্যন্ত চমৎকার; আমি এর সাথে যোগ করতে চাই যে, হাকেম যখন বলেন: ‘এবং তারা দুজন এটি বর্ণনা করেননি’, তখন তাঁর নিকট এর অর্থ হলো: তিনি যে দিক দিয়ে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তারা সে দিক দিয়ে বা অন্য কোনো দিক দিয়েও এটি বর্ণনা করেননি, এবং তারা এটি তাঁর বর্ণনার ধারাবাহিকতায় বা অন্য কোনোভাবেও বর্ণনা করেননি। এর প্রমাণ হলো, তিনি প্রায়ই উল্লেখ করেন: ‘তারা এটি এই বর্ণনার ধারায় (সিয়াক) বর্ণনা করেননি’, এবং এর অনুরূপ বক্তব্য যা আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের সঠিকতা প্রমাণ করে। যেমন:

১ - বর্ণিত হয়েছে: ২/ ৯৬ (২৪৭২) সা’দ-এর হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের দিন মুসলিমদের উদ্দেশে বললেন: “তোমরা সা’দকে তীর দাও। হে সা’দ, তীর নিক্ষেপ করো, আল্লাহ তোমার জন্য নিক্ষেপ করুন (বা তোমার নিক্ষেপকে লক্ষ্যভেদী করুন)। তীর নিক্ষেপ করো, তোমার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক।” এটি শায়খাইনের শর্ত অনুযায়ী একটি সহিহ হাদিস, কিন্তু তারা এটি এই বর্ণনার ধারায় উল্লেখ করেননি।

২ - এবং বর্ণিত হয়েছে: ২/ ১৪১ (২৬২৬) আয়েশা (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “মুসলিমদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নিরাপত্তা এক ও অভিন্ন। যদি তাদের মধ্য থেকে কেউ কাউকে নিরাপত্তা দান করে, তবে তোমরা তা ভঙ্গ করো না। কেননা প্রত্যেক বিশ্বাসঘতকের জন্য কিয়ামতের দিন একটি পতাকা থাকবে যা দিয়ে তাকে চেনা যাবে।” এটি সহিহ ইসনাদ বিশিষ্ট হাদিস, কিন্তু তারা এটি এই বর্ণনার ধারায় উল্লেখ করেননি; তারা কেবল বিশ্বাসঘতকের বিষয়টি উল্লেখ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। (সমাপ্ত)। আমি বলি: তারা উভয়ে ইবনে ওমর (বুখারি ৩১৮৮) ও (মুসলিম ১৭৩৫), এবং ইবনে মাসউদ ও আনাস (বুখারি ৩১৮৭) ও (মুসলিম ১৭৩৬, ১৭৩৭)-এর হাদিস থেকে এর ওপর একমত হয়েছেন; আর মুসলিম এককভাবে আবু সাঈদ (১৭৩৮) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তারা আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেননি। আর এটি আমাদের নির্ধারিত বিষয়ের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার দলিল।

৩ - এবং তিনি ৩২৩৬ নম্বরে বলেছেন: আলী ইবনুল হামশায আল-আদল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের আল-হুমাইদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে দিনার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাবের ইবনে আবদুল্লাহকে বললাম যে, লোকেরা ধারণা করে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাদরীবুর রাবী, পৃষ্ঠা ৭৭।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২২)
الأهلية يوم خيبر؟ قال: قد كان يقول ذلك الحكم بن عمرو عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن أبي ذلك البحر (يعني ابن عباس رضي الله عنهما وقرأ: {قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا} الآية، وقد كان أهل الجاهلية يتركون أشياء تقذرا، فأنزل الله عز وجل في كتابه وبين حلاله وحرامه، فما أحل فهو حلال، وما حرم فهو حرام، وما سكت عنه فهو عفو، ثم تلا هذه الآية: {قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ}. هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه بهذه السياقة.

قلت: أخرجه البخاري (5529) قال: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ عَمْرٌو: قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ زَيْدِ يَزْعُمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ حُمُرِ الأَهْلِيَّةِ؟ فَقَالَ: قَدْ كَانَ يَقُولُ ذَاكَ الْحَكَمُ بْنُ عَمْرٍو الْغِفَارِيُّ عِنْدَنَا بِالْبَصْرَةِ، وَلَكِنْ أَبَى ذَاكَ الْبَحْرُ ابْنُ عَبَّاسِ وَقَرَأَ: {قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا}. فالسياق فيه اختصار؛ ومع هذا قال ابن كثير في تفسيره عند تفسير هذه الآية: ورواه الحاكم وقال: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه؛ مع أنه في صحيح البخاري كما رأيت. ا. هـ.

قلت: لم ينتبه الحافظ ابن كثير رحمه الله لقول الحاكم: (بهذه السياقة).

4 - وقال: 1/ 35: بعد أن روى حديث فضالة مرفوعًا: "طوبى لمن هدي إلى الإِسلام وكان عيشه كفافا وقنع". هذا حديث صحيح على شرط مسلم، وبلغني أنه خرجه بإسناد آخر. قلت: رواه مسلم (1054) عن عبد الله بن عمرو بنحوه.

5 - وقال: 2/ 148، 149: (2652) بعد أن روى حديث حذيفة: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "دوروا مع كتاب الله حيث ما دار" فقلنا: فإذا اختلف الناس فمع من نكون؟ فقال: "انظروا الفئة التي فيها ابن سمية فالزموها فإنه يدور مع كتاب الله" قال: قلت: ومن ابن سمية؟! قال: أو ما تعرفه؟ قلت: بينه لي؟ قال: عمار بن ياسر، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لعمار:"يا أبا اليقظان لن تموت حتى تقتلك الفئة الباغية عن الطريق" هذا حديث له طرق بأسانيد صحيحة أخرجا بعضها، ولم يخرجاه بهذا اللفظ. قلت: اتفقا عليه من حديث أبي سعيد
গৃহপালিত গাধা কি খায়বারের দিনে নিষিদ্ধ হয়েছিল? তিনি বললেন: হাকাম ইবনে আমর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমনটি বলতেন, কিন্তু সেই সমুদ্র (অর্থাৎ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তা অস্বীকার করেছেন এবং তিলাওয়াত করেছেন: {বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাতে আমি কোনো হারাম পাচ্ছি না...} আয়াতটি। জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা অপবিত্র মনে করে কিছু জিনিস বর্জন করত, এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আয়াত নাযিল করেন এবং তাঁর হালাল ও হারাম স্পষ্ট করে দেন। সুতরাং তিনি যা হালাল করেছেন তা হালাল, আর যা হারাম করেছেন তা হারাম, এবং যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন তা সাধারণ ক্ষমা। এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাতে ভক্ষণকারীর জন্য কোনো হারাম আমি পাচ্ছি না, যা সে আহার করে; তবে তা যদি মৃত হয় অথবা প্রবহমান রক্ত কিংবা শূকরের মাংস হয়...}। এই হাদীসটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ, তবে তারা এই বিন্যাসে এটি বর্ণনা করেননি।

আমি বলছি: ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন (৫৫২৯)। তিনি বলেছেন: আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, আমর বলেছেন: আমি জাবির ইবনে যাইদকে বললাম, তারা ধারণা করে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধা নিষিদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন: আমাদের বসরায় হাকাম ইবনে আমর আল-গিফারী এমনটি বলতেন, কিন্তু সেই সমুদ্র ইবনে আব্বাস তা অস্বীকার করেছেন এবং তিলাওয়াত করেছেন: {বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাতে আমি কোনো হারাম পাচ্ছি না}। সুতরাং এই বর্ণনায় সংক্ষিপ্ততা রয়েছে; তা সত্ত্বেও ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ কিন্তু তারা তা বর্ণনা করেননি; অথচ আপনি যেমন দেখলেন এটি সহীহ বুখারীতে রয়েছে। (সমাপ্ত)

আমি বলছি: হাফিয ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইমাম হাকিমের উক্তি: (এই বিন্যাসে) এর প্রতি লক্ষ্য করেননি।

৪ - এবং তিনি বলেছেন: ১/ ৩৫: ফাদালাহ থেকে বর্ণিত মারফু হাদীসটি বর্ণনা করার পর: "সুসংবাদ তার জন্য যাকে ইসলামের পথে পরিচালিত করা হয়েছে এবং যার জীবনধারণের উপকরণ পর্যাপ্ত এবং সে অল্পে তুষ্ট থাকে।" এই হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং আমি সংবাদ পেয়েছি যে তিনি এটি অন্য সনদে বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: ইমাম মুসলিম এটি (১০৫৪) আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৫ - এবং তিনি বলেছেন: ২/ ১৪৮, ১৪৯: (২৬৫২) হুযায়ফা থেকে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করার পর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর কিতাব যেদিকে আবর্তিত হয় তোমরাও সেদিকে আবর্তিত হও।" আমরা বললাম: মানুষ যখন মতবিরোধ করবে তখন আমরা কার সাথে থাকব? তিনি বললেন: "তোমরা সেই দলটির দিকে লক্ষ করো যাতে ইবনে সুমাইয়া রয়েছে, তোমরা তাদের সাথে থাকো; কারণ সে আল্লাহর কিতাবের সাথেই আবর্তিত হয়।" বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: ইবনে সুমাইয়া কে? তিনি বললেন: তুমি কি তাকে চেনো না? আমি বললাম: আমার কাছে স্পষ্ট করুন। তিনি বললেন: আম্মার ইবনে ইয়াসির। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আম্মার সম্পর্কে বলতে শুনেছি: "হে আবুল ইয়াকজান, তুমি ততক্ষণ মরবে না যতক্ষণ না পথভ্রষ্ট দলটি তোমাকে হত্যা করবে।" এটি এমন একটি হাদীস যার বিভিন্ন সহীহ সনদের ধারা রয়েছে, যেগুলোর কিছু অংশ তারা বর্ণনা করেছেন, তবে এই শব্দে তারা বর্ণনা করেননি। আমি বলছি: তারা উভয়েই আবু সাঈদের হাদীস থেকে এর ওপর একমত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
الخدري (خ 447، 2812) و (م 2915)، ورواه مسلم (2916) عن أم سلمة. ولم يروياه من حديث حذيفة.

6 - بل قال: 1/ 327 (1220) بعد أن روى حديث عبد الرحمن بن مهدي ثنا شعبة عن ثابت عن أنس: كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يرفع يديه في شيء من دعائه إلا في الاستسقاء. هذا حديث صحيح على شرط الشيخين، وقد خرجه مسلم من حديث يحيى بن أبي بكير عن شعبة. ا. هـ. قلت: رواه مسلم (895).

7 - وقال: 2/ 245، 246: (2967) بعد أن روى حديث قتادة عن الحسن عن عمران بن حصين رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ: {وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى} [الحج: 2]: قد أخرج البخاري هذا الحديث عن عمر بن حفص بن غياث عن أبيه عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي سعيد رضي الله عنه: "يقول الله: يا آدم أخرج بعث النار" الحديث بطوله وفي آخره: {وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى}. وأصح الحديثين الحديث الذي أخرجه الإِمام البخاري. ا. هـ. قلت: أخرجه البخاري بهذا الإسناد (4741)، واتفقا عليه من حديث جرير عن الأعمش به (خ 6530) و (م 222).

8 - وقال: 2/ 250 (2990) بعد أن روى حديث ابن جرير عن أبي الزبير عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ: (فطلقوهن في قبل عدتهن). قد أخرج مسلم هذا الحديث بطوله، عن ابن جريج عن أبي الزبير أنه سمع عبد الرحمن بن أيمن يسأل عبد الله بن عمر في رجل طلق امرأته وهي حائض، وأظنه ذكر هذا اللفظ. ا. هـ.

قلت: صدق ظنه رواه مسلم (1741) وذكر هذا اللفظ.

9 - وقال: 1/ 340 بعد أن روى حديث جابر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "يبعث كل عبد على ما مات": هذا حديث صحيح على شرط مسلم، ولم يخرجه البخاري. ا. هـ. قلت: صدق، فقد أخرجه مسلم (2878).
খুদরি (বুখারি ৪৪৭, ২৮১২) এবং (মুসলিম ২৯১৫), আর মুসলিম উম্মু সালামাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (২৯১৬)। তবে তাঁরা উভয়ে হুজাইফার হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেননি।

৬ - বরং তিনি বলেছেন: ১/ ৩২৭ (১২২০) আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি থেকে হাদিসটি বর্ণনা করার পর, যেখানে শু'বাহ সাবিত থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইস্তিসকার (বৃষ্টির প্রার্থনা) দোয়া ব্যতিরেকে অন্য কোনো দোয়ায় তাঁর হাত উঠাতেন না। এটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী একটি সহিহ হাদিস, এবং মুসলিম এটি ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর থেকে শু'বাহর হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলছি: এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৮৯৫)।

৭ - এবং তিনি বলেছেন: ২/ ২৪৫, ২৪৬: (২৯৬৭) কাতাদাহ থেকে হাসান এবং তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করার পর যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করেছেন: {আর তুমি মানুষকে মাতাল অবস্থায় দেখতে পাবে, যদিও তারা মাতাল নয়} [হজ্জ: ২]: ইমাম বুখারি এই হাদিসটি উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ বলবেন: হে আদম, জাহান্নামীদের বের করে আনো" - হাদিসটি দীর্ঘ এবং এর শেষে রয়েছে: {আর তুমি মানুষকে মাতাল অবস্থায় দেখতে পাবে, যদিও তারা মাতাল নয়}। এই দুটি হাদিসের মধ্যে ইমাম বুখারি বর্ণিত হাদিসটিই অধিক সহিহ। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলছি: বুখারি এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন (৪৭৪১), এবং আমাশ থেকে জারিরের হাদিসের সূত্রে তাঁরা উভয়ে (বুখারি ও মুসলিম) এ বিষয়ে একমত হয়েছেন (বুখারি ৬৫৩০) ও (মুসলিম ২২২)।

৮ - এবং তিনি বলেছেন: ২/ ২৫০ (২৯৯০) ইবনে জারির থেকে আবু জুবাইর এবং তিনি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে হাদিসটি বর্ণনা করার পর যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করেছেন: (অতএব তোমরা তাদের ইদ্দতের শুরুতে তালাক দাও)। ইমাম মুসলিম এই হাদিসটি দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন ইবনে জুরাইজ থেকে আবু জুবাইর সূত্রে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আইমানকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছেন এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছে, এবং আমার মনে হয় তিনি এই শব্দগুলো উল্লেখ করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমি বলছি: তাঁর ধারণা সত্য ছিল, মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১৭৪১) এবং এই শব্দগুলো উল্লেখ করেছেন।

৯ - এবং তিনি ১/ ৩৪০ পৃষ্ঠায় জাবিরের হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেন, তিনি (জাবির) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "প্রত্যেক বান্দাকে সে অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে": এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী একটি সহিহ হাদিস, তবে বুখারি এটি বর্ণনা করেননি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলছি: তিনি সত্য বলেছেন, কারণ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (২৮৭৮)।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
10 - وقال: 2/ 90 (2449) بعد أن روى حديث أبي مسعود رضي الله عنه قال: جاء رجل بناقة مخطومة فقال: هذه في سبيل الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لك بها يوم القيامة سبع مائة كلها مخطومة" هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجه البخاري. وصدق، فقد أخرجه مسلم (1892).

11 - وروى: 2/ 174 (2719) عن الحسن في قول الله عز وجل: {فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ} قال: حدثني معقل بن يسار المزني أنها نزلت فيه، قال: كنت زوجت أختا لي من رجل فطلقها، حتى إذا انقضت عدتها جاء يخطبها، فقلت له: زوجتك وفرشتك وأكرمتك فطلقتها ثم جئت تخطبها! لا والله لا تعود إليها أبدا، قال: وكان رجلا لا بأس به، وكانت المرأة تريد أن ترجع إليه، قال: فأنزل الله هذه الآية، فقلت: الآن أفعل يا رسول الله، فزوجتها إياه. قال أبو بكر محمَّد بن إسحاق: في هذا الحديث دلالة واضحة على أن الله عز وجل جعل عقد النكاح إلى الأولياء دونهن، وإنه ليس إلى النساء وإن كن ثيبات من العقد شيء. ثم قال: هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجه مسلم. قلت: صدق، انفرد بإخراجه البخاري (5130) بنحوه، ومختصرا (4529)، وبمعناه (5331).

12 - وقال: 1/ 569 بعد أن أورد طرق حديث سعد بن أبي وقاص مرفوعًا: "ليس منا من لم يتغن بالقرآن": هذا حديث صحيح الإسناد، ولم يخرجاه بهذا الإسناد.

قلت: أخرجه البخاري (7527) عن أبي هريرة.

13 - وقال: 2/ 91 (2454) بعد أن روى حديث أبي كبشة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "الخيل معقود في نواصيها الخير، وأهلها معانون عليها، والمنفق عليها كالباسط يده بالصدقة" هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه بهذه الزيادة وفيها له شاهد. ثم ساق الشاهد. قلت: اتفقا عليه من حديث ابن عمر (خ 2849) و (م 1871)، وعروة البارقي (خ 2850، 2852، 3119) و (م
১০ - এবং তিনি ২/ ৯০ (২৪৪৯) নম্বরে আবু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: এক ব্যক্তি একটি লাগাম লাগানো উটনী নিয়ে এসে বলল, এটি আল্লাহর রাস্তায় দান। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "কিয়ামতের দিন এর বিনিময়ে তুমি সাতশ উটনী পাবে যার প্রত্যেকটিই লাগাম লাগানো থাকবে।" এটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী একটি সহিহ হাদিস, কিন্তু ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেননি। আর তিনি সত্য বলেছেন, কারণ ইমাম মুসলিম এটি (১৮৯২) বর্ণনা করেছেন।

১১ - এবং তিনি ২/ ১৭৪ (২৭১৯) নম্বরে হাসান (বসরি) হতে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: {তবে তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা দিও না}। তিনি (হাসান) বলেন: মা’কাল বিন ইয়াসার আল-মুজানি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি তার ব্যাপারেই নাজিল হয়েছিল। তিনি বলেন: আমি আমার এক বোনকে এক ব্যক্তির সাথে বিবাহ দিয়েছিলাম, অতঃপর সে তাকে তালাক দেয়। এমনকি যখন তার ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তখন সে পুনরায় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তখন আমি তাকে বললাম: আমি তোমাকে আমার বোনের সাথে বিবাহ দিয়েছি, তোমার শয্যা বিছিয়ে দিয়েছি এবং তোমাকে সম্মানিত করেছি, অথচ তুমি তাকে তালাক দিলে! তারপর তুমি আবার বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসেছ! না, আল্লাহর কসম, সে আর কখনোই তোমার কাছে ফিরবে না। তিনি বলেন: লোকটি মন্দ ছিল না, আর মহিলাটি চাচ্ছিল তার কাছে ফিরে যেতে। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করলেন। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এখন আমি তা করব, অতঃপর আমি তাকে পুনরায় তার সাথে বিবাহ দিলাম। আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বলেন: এই হাদিসে এ কথার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, মহান আল্লাহ বিবাহের চুক্তির অধিকার নারীদের পরিবর্তে অভিভাবকদের হাতে ন্যস্ত করেছেন এবং বিবাহের চুক্তির ক্ষেত্রে নারীদের কোনো হাত নেই, যদিও তারা অকুমারী হয়। অতঃপর তিনি বললেন: এটি শাইখাইন-এর শর্তানুযায়ী একটি সহিহ হাদিস কিন্তু ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি। আমি বলছি: তিনি সত্য বলেছেন, ইমাম বুখারি এককভাবে এটি (৫১৩০) অনুরূপ শব্দে, সংক্ষিপ্ত আকারে (৪৫২৯) এবং একই অর্থে (৫৩৩১) বর্ণনা করেছেন।

১২ - এবং তিনি ১/ ৫৬৯ পৃষ্ঠায় সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস: "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে ব্যক্তি সুমিষ্ট স্বরে কুরআন পাঠ করে না" এর সনদসমূহ উল্লেখ করার পর বলেছেন: এটি সহিহ সনদের হাদিস, কিন্তু তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এই সনদে এটি বর্ণনা করেননি।

আমি বলছি: এটি ইমাম বুখারি (৭৫২৭) আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেছেন।

১৩ - এবং তিনি ২/ ৯১ (২৪৫৪) নম্বরে আবু কাবশাহ হতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করার পর বলেছেন: "ঘোড়ার কপালে কল্যাণ আবদ্ধ রয়েছে, এর মালিকরা এতে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়, আর এর পেছনে ব্যয়কারী সদকার জন্য নিজের হাত প্রসারিতকারীর ন্যায়।" এটি সহিহ সনদের একটি হাদিস কিন্তু তাঁরা এটি এই বর্ধিত অংশসহ বর্ণনা করেননি এবং এতে তার একটি সাক্ষী রয়েছে। অতঃপর তিনি সাক্ষীটি উল্লেখ করেছেন। আমি বলছি: তাঁরা ইবনে উমর (বুখারি ২৮৪৯ ও মুসলিম ১৮৭১) এবং উরওয়া আল-বারিকি (বুখারি ২৮৫০, ২৮৫২, ৩১১৯ ও মুসলিম... ) হতে বর্ণিত হাদিসের বিষয়ে একমত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
1873)، وانفرد البخاري بروايته عن أنس (3645)، ومسلم بروايته عن جرير (1872)، ولم يروياه عن أبي كبشة.

14 - وقال: 2/ 303 (3185) بعد حديث عمرو بن أبي قيس عن محمَّد بن المنكدر عن جابر: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعودني وأنا مريض في بني سلمة، فقلت: يا رسول الله كيف أقسم مالي بين ولدي؟ فلم يرد علي شيئًا، فنزلت: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ}. قال: قد اتفق الشيخان على إخراج حديث شعبة عن محمَّد بن المنكدر في هذا الباب بألفاظ غير هذه، وهذا إسناد صحيح ولم يخرجاه. قلت: انفرد البخاري بحديث شعبة عن ابن المنكدر (194، 5676، 6743)؛ واتفقا على حديث سفيان عن ابن المنكدر: البخاري (5651، 6723، 7309) ومسلم (1616)؛ وابن جريج عن ابن المنكدر: البخاري (4577) ومسلم (1616).

15 - وقال: 2/ 268 (3061) أخبرنا الشيخ أبو بكر بن إسحاق الفقيه، أبنا محمَّد بن غالب، حدثنا عيسى بن إبراهيم البركي، حدثنا المعافى بن عمران الموصلي، حدثنا مصعب بن ثابت عن محمَّد بن كعب القرظي، عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في جنازة فينا في بني سلمة، وأنا أمشي إلى جنب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رجل: نعم المرء، ما علمنا إن كان لعفيفا مسلما، إن كان .. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنت الذي تقول؟ " قال: يا رسول الله ذاك بدا لنا، والله أعلم بالسرائر، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "وجبت". قال: وكنا معه في جنازة رجل من بني حارثة أو من بني عبد الأشهل، فقال رجل: بئس المرء ما علمنا، إن كان لفظا غليظا، إن كان .. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أنت الذي تقول؟ " قال: يا رسول الله، الله أعلم بالسرائر، فأما الذي بدا لنا منه فذاك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "وجبت". ثم تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا}. هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه، إنما اتفقا على
১৮৭৩); এবং বুখারি এককভাবে এটি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন (৩৬৪৫), এবং মুসলিম এককভাবে এটি জারির থেকে বর্ণনা করেছেন (১৮৭২), কিন্তু তাঁরা উভয়ে এটি আবু কাবশাহ থেকে বর্ণনা করেননি।

১৪ - এবং তিনি বলেছেন: ২/ ৩০৩ (৩১৮৫), মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে আমর ইবনে আবু কায়স বর্ণিত হাদিসের পর, জাবির (রা.)-এর সূত্রে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সালামাহ গোত্রে আমার অসুস্থতার সময় আমাকে দেখতে আসতেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমার সন্তানদের মধ্যে কীভাবে আমার সম্পদ বণ্টন করব? তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না, তখন নাজিল হলো: {আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন}। তিনি বলেন: শায়খাইন এই অধ্যায়ে মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে শু'বাহ বর্ণিত হাদিসটি অন্য শব্দে বর্ণনায় একমত হয়েছেন। এটি একটি সহিহ সনদ, কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি। আমি বলি: বুখারি এককভাবে ইবনুল মুনকাদির থেকে শু'বাহ বর্ণিত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (১৯৪, ৫৬৭৬, ৬৭৪৩); এবং তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) ইবনুল মুনকাদির থেকে সুফিয়ান বর্ণিত হাদিসটির ব্যাপারে একমত হয়েছেন: বুখারি (৫৬৫১, ৬৭২৩, ৭৩০৯) এবং মুসলিম (১৬১৬); আর ইবনুল মুনকাদির থেকে ইবনে জুরাইজ বর্ণিত হাদিসটি: বুখারি (৪৫৭৭) এবং মুসলিম (১৬১৬)।

১৫ - এবং তিনি বলেছেন: ২/ ২৬৮ (৩০৬১), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু বকর ইবনে ইসহাক আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে গালিব, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ঈসা ইবনে ইব্রাহিম আল-বারকি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আল-মুয়াফা ইবনে ইমরান আল-মাওসিলি, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসয়াব ইবনে সাবিত, মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমাদের বনু সালামাহ গোত্রের একটি জানাজায় ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে হাঁটছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলল: কতই না উত্তম ব্যক্তি, আমাদের জানামতে তিনি অবশ্যই পবিত্র চরিত্রের অধিকারী মুসলিম ছিলেন, তিনি ছিলেন...। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি কি এই কথা বলছো?" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কাছে তো এটাই প্রকাশ পেয়েছে, আর আল্লাহ গোপন বিষয় সম্পর্কে ভালো জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "ওয়াজিব হয়ে গেল"। তিনি বললেন: আমরা তাঁর সাথে বনু হারিসাহ অথবা বনু আব্দুল আশহাল গোত্রের এক ব্যক্তির জানাজায় ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলল: কতই না মন্দ লোক, আমাদের জানামতে সে অবশ্যই কথাবার্তায় রূঢ় ও কঠোর ছিল, সে ছিল...। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি কি এই কথা বলছো?" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ গোপন বিষয় সম্পর্কে ভালো জানেন, তবে আমাদের কাছে যা প্রকাশ পেয়েছে তা তো এটাই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "ওয়াজিব হয়ে গেল"। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে তৈরি করেছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হতে পার এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন}। এটি একটি সহিহ সনদের হাদিস কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি, বরং তাঁরা একমত হয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
"وجبت" فقط. كذا قال، وتعقبه الذهبي فقال: مصعب ليس بالقوي. ا. هـ. قلت: إنما أخرجاه بنحوه عن أنس: البخاري (1367) ومسلم (949).

16 - وروى 3/ 267 (5163) حديث أنس أن أهل اليمن قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: أبعث معنا رجلا يعلمنا القرآن، فأخذ بيد أبي عبيدة فأرسله معهم وقال: "هذا أمين هذه الأمة"، ثم قال: صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه بذكر القرآن. ا. هـ. قلت: صدق، فقد أخرجه مسلم (2419) بلفظ: أن أهل اليمن قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: أبعث معنا رجلًا يعلمنا السنة والإِسلام، قال: فأخذ بيد أبي عبيدة فقال: "هذا أمين هذه الأمة".

17 - بل قال: 4/ 247 (7626) حدثنا أبو الحسين أحمد بن إسحاق العدل الصيدلاني، ثنا الفضل بن محمَّد الشعراني، ثنا إسماعيل بن أبي أويس، ثنا إبراهيم بن سعد، عن صالح بن كيسان، عن الأعرج، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لتدخلن الجنة إلا من أبى وشرد على الله كشراد البعير". هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه، وقد أخرجه البخاري رحمه الله عن محمَّد بن سنان العوفي، عن فليح بن سليمان، عن هلال بن علي، عن عطاء بن يسار، عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى" قيل: يا رسول الله ومن أبى؟ قال: "من عصاني فقد أبى". قلت: رواه البخاري (7280).

18 - وقال: 2/ 142 (2629) أخبرنا أبو بكر بن إسحاق الفقيه، أبنا أبو المثنى، حدثنا مسدد، حدثنا معاذ بن هشام، حدثني أبي، عن قتادة، عن أبي بردة بن عبد الله بن قيس أن أباه رضي الله عنه حدث أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا خاف قوما قال: "اللهم إنا نجعلك في نحورهم ونعوذ بك من شرورهم". هذا حديث صحيح على شرط الشيخين، وأكبر ظني أنهما لم يخرجاه. ا. هـ. قلت: صدق ظنه فإنهما لم يخرجاه، وإنما رواه أحمد: 4/ 414، وأبو داود (1537)، والنسائي في الكبرى (8631، 10437).
"ওয়াজিব হয়েছে" শুধু। তিনি এভাবেই বলেছেন, আর যাহাবি তার সমালোচনা করে বলেছেন: মুসআব শক্তিশালী রাবী নন। সমাপ্ত। আমি বলছি: বুখারি (১৩৬৭) ও মুসলিম (৯৪৯) আনাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৬ - এবং তিনি ৩/ ২৬৭ (৫১৬৩) আনাসের হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ইয়ামেনের অধিবাসীরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: আমাদের সাথে এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠান যিনি আমাদের কুরআন শিক্ষা দেবেন। অতঃপর তিনি আবু উবাইদাহর হাত ধরলেন এবং তাকে তাদের সাথে পাঠিয়ে দিলেন এবং বললেন: "ইনি এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি"। তারপর তিনি বললেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ, কিন্তু তারা কুরআন উল্লেখ করে এটি বর্ণনা করেননি। সমাপ্ত। আমি বলছি: তিনি সত্য বলেছেন, মুসলিম (২৪১৯) এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ইয়ামেনের অধিবাসীরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: আমাদের সাথে এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠান যিনি আমাদের সুন্নাহ ও ইসলাম শিক্ষা দেবেন। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আবু উবাইদাহর হাত ধরলেন এবং বললেন: "ইনি এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি"।

১৭ - বরং তিনি ৪/ ২৪৭ (৭৬২৬) বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবন ইসহাক আল-আদল আস-সাইদালানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফজল ইবন মুহাম্মাদ আশ-শা'রানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবন আবি উওয়াইস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবন সাদ, সালেহ ইবন কায়সান থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হয়ে অবাধ্য উটের মতো পালিয়ে যায়।" এই হাদিসটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেননি। অথচ ইমাম বুখারি রাহিমাহুল্লাহ এটি মুহাম্মাদ ইবন সিনান আল-আউফি থেকে, তিনি ফালিহ ইবন সুলাইমান থেকে, তিনি হিলাল ইবন আলি থেকে, তিনি আতা ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে সে ব্যতীত যে অস্বীকার করে।" বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: "যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই অস্বীকার করল।" আমি বলছি: এটি বুখারি (৭২৮০) বর্ণনা করেছেন।

১৮ - এবং তিনি ২/ ১৪২ (২৬২৯) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন ইসহাক আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুসান্না, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুআজ ইবন হিশাম, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু বুরদাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কায়স থেকে, যে তার পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো কওমকে ভয় করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের কন্ঠনালীর সম্মুখে রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।" এই হাদিসটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ, আর আমার প্রবল ধারণা যে তারা এটি বর্ণনা করেননি। সমাপ্ত। আমি বলছি: তার ধারণা সত্য, কেননা তারা এটি বর্ণনা করেননি। বরং এটি আহমাদ: ৪/ ৪১৪, আবু দাউদ (১৫৩৭) এবং নাসায়ি আল-কুবরা গ্রন্থে (৮৬৩১, ১০৪৩৭) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
19 - بل قال: 3/ 462 (5944) حدثنا الشيخ أبو بكر بن إسحاق الإِمام، أنا العباس بن الفضل الأسفاطي، ثنا إسماعيل بن أويس، حدثني أخي، عن سليمان بن بلال، عن أسامة بن زيد، عن ابن شهاب، عن إبراهيم بن عبد الله بن حنين أن عبد الله بن عباس والمسور بن مخرمة اختلفا في المحرم يغسل رأسه بالماء جنابة، فأرسلاني إلى أبي أيوب الأنصاري وهو في بعض مياه مكة أسأله عن ذلك، فذكر الحديث بطوله. هذه فضيلة لأبي أيوب أن ابن عباس والمسور بن مخرمة رجعا إليه في السؤال، وأظن أن الشيخين رضي الله عنهما قد خرجاه أو أحدهما في كتاب الطهارة. قلت: صدق الحاكم رحمه الله، فقد أخرجاه ولكن في كتاب الحج، لا في كتاب الطهارة: البخاري (1840)، ومسلم (1205).

فهذه أمثلة تثبت ما ذهبنا إليه من أن الحاكم رحمه الله أراد بقوله: (ولم يخرجاه) أنهما لم يخرجاه بالسياق الذي أورده ولا من الطريق التي أوردها. والعلم عند الله تعالى.

 

‌‌سكوت الحاكم عن الحديث

ليس معنى سكوت الحاكم عن تصحيح الحديث أو تضعيفه أن الحديث صحيح، بل قد يكون صحيحًا وقد خرجاه أو أحدهما، أو صحيحًا ولم يخرجاه، وقد يكون ضعيفًا؛ وقد وجدت الذهبي علق على حديث رقم (7138) بقوله: حديث منكر، ولم يصححه المؤلف.

 

‌‌منهج الذهبي في التلخيص

اختصر الحافظ الذهبي رحمه الله المستدرك، قال في مقدمته: هذا ما لخص محمَّد بن أحمد بن عثمان الذهبي من كتاب المستدرك على الصحيحين للحافظ أبي عبد الله الحاكم رحمه الله، فأتى بالمتون، وعلق الأسانيد وتكلم عليها. ا. هـ. ومع أنه له تعليقات مفيدة، وتعقيبات علمية متينة، إلا أني وجدته
১৯ - বরং তিনি বলেছেন: ৩/৪৬২ (৫৯৪৪) আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমাম শায়খ আবু বকর ইবনে ইসহাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস ইবনুল ফদল আল-আসফাতী, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে উওয়াইস, আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার ভাই, তিনি সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হুনাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ ইহরাম অবস্থায় জানাবাতের (অপবিত্রতা) কারণে পানি দিয়ে মাথা ধৌত করার বিষয়ে মতভেদ করলেন। তখন তারা আমাকে মক্কার কোনো একটি পানির উৎসের নিকট অবস্থানরত আবু আইয়ুব আনসারীর কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন। এরপর তিনি দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেন। এটি আবু আইয়ুবের জন্য একটি ফযীলত যে, ইবনে আব্বাস এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ মাসআলাটি জিজ্ঞাসার জন্য তাঁরই শরণাপন্ন হয়েছিলেন। আমার ধারণা যে, শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়ে অথবা তাঁদের কোনো একজন এটি 'কিতাবুত তাহারাহ' (পবিত্রতা অধ্যায়)-তে বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: হাকীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি সত্য বলেছেন, তাঁরা উভয়েই এটি বর্ণনা করেছেন তবে 'কিতাবুল হাজ্জ' (হজ্জ অধ্যায়)-তে, 'কিতাবুত তাহারাহ'-তে নয়: বুখারী (১৮৪০) এবং মুসলিম (১২০৫)।

এগুলো এমন কিছু উদাহরণ যা আমাদের সেই মতকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে, হাকীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি যখন তাঁর উক্তিতে বলেন: (তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি), তখন এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চান যে, তাঁরা হাদীসটি সেই শব্দবিন্যাসে বর্ণনা করেননি যা তিনি উল্লেখ করেছেন অথবা সেই সনদে বর্ণনা করেননি যা তিনি নিয়ে এসেছেন। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহ তাআলার কাছেই।

 

‌‌হাদীসের ব্যাপারে হাকীমের নীরবতা

হাদীসকে সহীহ বা যঈফ বলার ক্ষেত্রে হাকীমের নীরব থাকার অর্থ এই নয় যে হাদীসটি সহীহ; বরং তা সহীহ হতে পারে এবং শাইখাইন বা তাঁদের কেউ একজন তা বর্ণনা করেছেন, অথবা সহীহ কিন্তু তাঁরা তা বর্ণনা করেননি, আবার তা যঈফও হতে পারে। আমি দেখেছি যে, যাহাবী ৭১৩৮ নম্বর হাদীসের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: এটি মুনকার হাদীস, আর গ্রন্থকার (হাকীম) একে সহীহ বলেননি।

 

‌‌তালখীস-এর ক্ষেত্রে যাহাবীর মানহাজ

হাফেয যাহাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: এটি হলো হাফেয আবু আবদুল্লাহ হাকীম রহমাতুল্লাহি আলাইহির কিতাব ‘আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাঈন’ থেকে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান যাহাবীর প্রস্তুতকৃত সারসংক্ষেপ। এতে তিনি মূল পাঠগুলো (মতন) নিয়ে এসেছেন, সনদগুলোর ওপর টীকা দিয়েছেন এবং সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তাঁর অনেক উপকারী মন্তব্য এবং মজবুত ইলমী পর্যালোচনা থাকা সত্ত্বেও আমি তাঁকে পেয়েছি...
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
- رحمه الله تبع الحاكم كثيرا في بعض أوهامه، ولعل ذلك لأنه لم يتسن له أن يرجع دائما إلى المصادر. وقد مر بك قوله: وبكل حال، فهو كتاب مفيد قد اختصرته ويعوز عملا وتحريرا. ا. هـ. وقد وجدته كثيرا ما يقول: على شرط البخاري ومسلم، وقد يكونا أخرجاه أو أخرجه أحدهما، وإنما استدرك من ذلك طائفة قليلة؛ وقد قال الحاكم تعقيبا على حديث أبي شريح الكعبي في الضيافة: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه، وقد صحت الرواية فيه أيضًا عن أبي هريرة، وأظنهما قد خرجاه، والذي عندي أن الشيخين رضي الله عنهما أهملا حديث أبي شريح لرواية عبد الرحمن بن إسحاق عن سعيد المقبري عن أبي هريرة رضي الله عنه. فاختصر ذلك الذهبي قال: وصح من طريق أبي هريرة، وأظن أخرجاه.

وغلبة الظن أن الحافظ الذهبي كانت تعليقاته على المستدرك متباعدة، بحيث أنه كان ينسى ما علق به على الحديث في موضعه الأول إذا تكرر، فقد تكرر منه المخالفة في التعليق عند تكرار الحديث: مثاله: ما علق به على الحديث رقم (7486) قال: قد أخرجه البخاري. ولما تكرر برقم (8276) قال: على شرط البخاري ومسلم.

والذي يظهر لي من استقراء تعليقات الذهبي رحمه الله أنه إذا قال: على شرط البخاري ومسلم، ولم يقيده بشيء فمراده: ولم يخرجاه، كما ذهب إليه الحاكم، لأنه يذكر في استدراكاته ما يراه صوابا، فيقول مثلا: ذا في مسلم، أو: ذا في البخاري، أو نحو ذلك. بل قال تعليقا على الحديث رقم (6758) على شرط البخاري ومسلم إن لم يكونا أخرجاه. ا. هـ. فظهر أن مراده ما أسلفنا.

وليس معنى سكوت الذهبي عن الحكم على الحديث الموافقة أو المخالفة للحاكم، فقد يرجىء الحكم للنظر: هل الحديث رواه الشيخان أو أحدهما أو لا؟ بل إنه حذف بعض الأحاديث من التلخيص، وقد أخرجها الشيخان أو أحدهما.
আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ইমাম হাকিমকে তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তিতে প্রচুর অনুসরণ করেছেন; আর সম্ভবত এর কারণ হলো উৎসগ্রন্থগুলোর দিকে সর্বদা ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য সম্ভব হয়নি। এবং আপনার নিকট তাঁর এই কথাটি অতিক্রান্ত হয়েছে: "যাই হোক না কেন, এটি একটি উপকারী কিতাব যা আমি সংক্ষেপ করেছি, তবে এটি কাজ ও পরিমার্জনের দাবি রাখে।" সমাপ্ত। আমি তাঁকে প্রায়ই বলতে দেখেছি: "বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী," অথচ সম্ভবত তাঁরা উভয়ে অথবা তাঁদের কোনো একজন তা বর্ণনা করেছেন; তিনি এর মধ্য থেকে সামান্য কিছু অংশই সংশোধন (ইস্তিদরাক) হিসেবে গণ্য করেছেন। ইমাম হাকিম মেহমানদারি বিষয়ে আবু শুরাইহ আল-কাবির হাদিসের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন: "এই হাদিসটি সহিহ সনদের অধিকারী কিন্তু তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) তা বর্ণনা করেননি। এই বিষয়ে আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণনাটি সহিহ হয়েছে এবং আমার ধারণা তাঁরা তা বর্ণনা করেছেন। আমার নিকট বিষয়টি হলো, শাইখাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আবু শুরাইহর হাদিসটি বর্জন করেছেন সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাকের বর্ণনার কারণে, যা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত।" হাফেজ জাহাবি তা সংক্ষেপ করে বলেছেন: "এটি আবু হুরায়রার সূত্র থেকে সহিহ এবং আমার ধারণা তাঁরা তা বর্ণনা করেছেন।"

প্রবল ধারণা এই যে, হাফেজ জাহাবির 'মুস্তাদরাক'-এর ওপর লিখিত মন্তব্যগুলো দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ছিল, যার ফলে তিনি কোনো হাদিসের পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রথম স্থানে করা মন্তব্যটি ভুলে যেতেন। ফলে হাদিসের পুনরাবৃত্তির সময় তাঁর মন্তব্যে বৈপরীত্য দেখা দিত। উদাহরণস্বরূপ: তিনি ৭৪৮৬ নম্বর হাদিসের ওপর করা মন্তব্যে বলেছেন: "ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।" আবার যখন এটি ৮২৭৬ নম্বরে পুনরাবৃত্ত হয়েছে, তখন বলেছেন: "বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী।"

হাফেজ জাহাবি (রহ.)-এর মন্তব্যগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, যখন তিনি বলেন "বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী" এবং এর সাথে অন্য কিছু যুক্ত না করেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য থাকে যে তাঁরা তা বর্ণনা করেননি, যেমনটি ইমাম হাকিম মনে করতেন। কারণ তিনি তাঁর সংশোধনীগুলোতে যা সঠিক মনে করেন তা উল্লেখ করেন; যেমন তিনি বলেন: "এটি মুসলিমে আছে" অথবা "এটি বুখারিতে আছে" বা এই জাতীয় কিছু। বরং তিনি ৬৭৫৮ নম্বর হাদিসের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী, যদি তাঁরা তা বর্ণনা না করে থাকেন।" সমাপ্ত। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, তাঁর উদ্দেশ্য তাই যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

আর কোনো হাদিসের হুকুমের ব্যাপারে হাফেজ জাহাবির নিরব থাকার অর্থ ইমাম হাকিমের সাথে একমত হওয়া বা দ্বিমত পোষণ করা নয়; বরং তিনি হুকুম প্রদানকে পর্যালোচনার জন্য স্থগিত রাখতে পারেন যে, হাদিসটি শাইখাইন বা তাঁদের কেউ বর্ণনা করেছেন কি না? এমনকি তিনি 'তালখিস' থেকে এমন কিছু হাদিস বাদ দিয়েছেন যা শাইখাইন বা তাঁদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌تعليقات الذهبي على كلام الحاكم

كان من عادة الذهبي رحمه الله أنه لم يكن ليسكت على كلام يعلم فيه مخالفة، يعلم ذلك من قرأ كتبه رحمه الله. ولذلك كان له تعليقات مفيدة على المستدرك سواء أكان ذلك يتعلق بالصنعة الحديثية أو غيرها من فروع العلم، من ذلك:

1) قال الحاكم: 1/ 370، بعد أن أورد حديث جابر: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يبنى على القبر، أو يجصص، أو يباع عليه ونهى أن يكتب عليه. هذا حديث صحيح على شرط مسلم وقد خرَّج بإسناده غير الكتابة، فإنها لفظة صحيحة غريبة، وكذلك رواه أبو معاوية عن ابن جريج ثم ساق الحديث، ثم قال: هذه الأسانيد صحيحة، وليس العمل عليها، فإن أئمة المسلمين من الشرق إلى الغرب مكتوب على قبورهم، وهو عمل أخذ به الخلف عن السلف. ا. هـ. فتعقبه الذهبي قال: قلت: ما قال طائلا، ولا نعلم صحابيا فعل ذلك، وإنما هو شيء أحدثه بعض التابعين فمن بعدهم، ولم يصلهم النهي. ا. هـ.

2) قال تعقيبا على حديث رقم (4650) والمعروف بحديث الطير: ابن عياض لا أعرفه، وقد كنت زمانا طويلاً أظن أن حديث الطير لم يجسر الحاكم أن يودعه في مستدركه، فلما علقت هذا الكتاب رأيت الهول من الموضوعات التي فيه، فإذا حديث الطير بالنسبة إليه سماء. ا. هـ.

3) الحديث رقم (6788) عن أنس: أطعم النبي صلى الله عليه وسلم على صفية بنت حيي خبرا ولحما. هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه. قال الذهبي: بل غلط إنما ذي زينب. ا. هـ.

4) وقال تعقيبا على حديث رقم (8516): بل سليمان هالك، والخبر شبه خرافة.

5) كثيرا ما يقول: سنده مظلم، وأمثلته (4015)، (7893)، (8239).
ইমাম হাকিমের বক্তব্যের ওপর ইমাম যাহাবীর মন্তব্যসমূহ

ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অভ্যাস ছিল যে, তিনি এমন কোনো বক্তব্যের ব্যাপারে নীরব থাকতেন না যাতে তিনি ভুল বা বিরোধিতা লক্ষ্য করতেন। যারা তার কিতাবসমূহ পড়েছেন তারা বিষয়টি জানেন। এ কারণেই ‘আল-মুস্তাদরাক’-এর ওপর তার অনেক উপকারী মন্তব্য রয়েছে, চাই তা হাদিস শাস্ত্রীয় কারিগরি বিষয় সংক্রান্ত হোক অথবা ইলমের অন্যান্য শাখা। এর কিছু উদাহরণ হলো:

১) ইমাম হাকিম বলেন (১/৩৭০): জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস উল্লেখ করার পর, যেখানে বলা হয়েছে: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ করতে, চুনকাম করতে, কবরের ওপর বেচাকেনা করতে এবং তার ওপর লিখতে নিষেধ করেছেন।” এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী একটি সহিহ হাদিস, আর তিনি ‘লেখা’র অংশটি ব্যতীত বাকি অংশগুলো বর্ণনা করেছেন। কেননা ‘লেখা’র শব্দটুকু সহিহ হলেও ‘গারীব’। অনুরূপভাবে আবু মুয়াবিয়া এটি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি হাদিসের সূত্রসমূহ উল্লেখ করে বললেন: এই সনদগুলো সহিহ, কিন্তু এর ওপর আমল নেই। কেননা পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের ইমামদের কবরের ওপর লেখা রয়েছে এবং এটি এমন এক আমল যা পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের থেকে গ্রহণ করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এর প্রেক্ষিতে ইমাম যাহাবী বলেন: আমি বলি: তিনি সারগর্ভ কিছুই বলেননি। আমরা কোনো সাহাবীর কথা জানি না যে তিনি এমনটি করেছেন। বরং এটি এমন কিছু যা জনৈক তাবেয়ী বা তাদের পরবর্তী কেউ উদ্ভাবন করেছেন, যাদের নিকট এই নিষেধ পৌঁছায়নি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

২) ৪৬৫০ নম্বর হাদিস (যা পাখির হাদিস হিসেবে পরিচিত) সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন: ইবনে ইয়াদকে আমি চিনি না। দীর্ঘ সময় ধরে আমি ধারণা করতাম যে, ইমাম হাকিম তার ‘মুস্তাদরাক’-এ পাখির হাদিসটি অন্তর্ভুক্ত করার সাহস করবেন না। কিন্তু যখন আমি এই কিতাবের ওপর টীকা লিখলাম, তখন এতে থাকা জাল বর্ণনাসমূহের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করলাম; সেগুলোর তুলনায় পাখির হাদিসটিকে আকাশসম (উন্নত) মনে হলো। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

৩) ৬৭৮৮ নম্বর হাদিস, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই-এর ওলিমায় রুটি ও গোশত খাইয়েছিলেন।” (হাকিম বলেন) এটি সহিহ সনদের হাদিস কিন্তু তারা (বুখারি ও মুসলিম) তা বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবী বলেন: বরং এটি ভুল, এটি মূলত যয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘটনা। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

৪) ৮৫১৬ নম্বর হাদিস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন: বরং সুলাইমান পরিত্যক্ত, আর এই বর্ণনাটি রূপকথার মতো।

৫) তিনি প্রায়শই বলেন: “এর সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন (অত্যন্ত দুর্বল)”, এর উদাহরণগুলো হলো: ৪০১৫, ৭৮৯৩, ৮২৩৯।
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
6) قال تعقيبا على حديث (4731) عن جميع بن عمير: دخلت مع أمي على عائشة، فسمعتها من وراء الحجاب وهي تسألها عن علي، فقالت: تسألني عن رجل والله ما أعلم رجلًا كان أحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من علي، ولا في الأرض امرأة كانت أحب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من امرأته. هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه. قال الذهبي: جميع متهم، ولم تقل عائشة هذا أصلًا. ا. هـ.

إلى غير ذلك من التعليقات والتعقيبات المفيدة التي يطول المقام بذكرها.

***
৬) তিনি (৪৭৩১) নম্বর হাদীসের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে জামি' ইবনে উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেন, আমি আমার মায়ের সাথে আয়েশা (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। এমতাবস্থায় আমি পর্দার আড়াল থেকে তাঁকে শুনতে পেলাম যখন আমার মা তাঁকে আলী (রা.) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন। তখন তিনি (আয়েশা) বললেন: তুমি আমাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ, আল্লাহর কসম, আমি এমন কোনো পুরুষকে জানি না যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আলী অপেক্ষা অধিক প্রিয় ছিলেন এবং যমীনে তাঁর (আলীর) স্ত্রী অপেক্ষা অধিক প্রিয় কোনো নারী ছিল না। এই হাদীসটির সনদ সহীহ কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি উদ্ধৃত করেননি। আয-যাহাবী বলেন: জামি' অভিযুক্ত, আর আয়েশা (রা.) আদতেই এটি বলেননি। সমাপ্ত।

এরূপ আরো অনেক উপকারী মন্তব্য ও পর্যালোচনার উদাহরণ রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে।

***
(খণ্ড: ১) আল ইনতিবাহ লিমা ক্বলাল হাকিম ওয়া লাম ইয়ুখরিজাহু ওয়াহুয়া ফী আহাদিহিমা আও রওয়াইয়াহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الوهم عند أهل الحديث

الوهم لغة: قال في اللسان: الوَهْمُ: من خَطَراتِ القلب، والجمع أَوْهامٌ، وللقلب وَهْمٌ. وتَوَهَّمَ الشيءَ: تخيَّله وتمثَّلَه، كانَ في الوجود أَو لم يكن … قال: وأَوْهَمْت الشيء إِذا أَغفَلْته. ويقال: وَهِمْتُ في كذا وكذا أَي: غلِطْتُ. وقال الأَصمعي: أَوْهَمَ إِذا أَسقَطَ، ووَهِمَ إِذا غَلِط. وقال الجوهري: وَهَمْتُ في الشيء بالفتح، أَهِمُ وَهْماً إِذا ذَهَبَ وَهْمُك إِليه وأَنت تريد غيره، وتوهَّمْتُ أَي: ظننت، وأَوْهَمْتُ غيري إِيهاماً، والتَّوْهِيمُ مثلُه. وأَوْهَمْتُ الشيءَ إِذا تركته كلَّه. يقال: أَوْهَمَ من الحساب مائةً أَي أَسقَطَ، وأَوْهَمَ من صلاته ركعةً. ا. هـ. ووَهِمَ، بكسر الهاء: غَلِطَ وسَها. وأَوْهَمَ من الحساب كذا: أَسقط، وكذلك في الكلام والكتاب. وقال ابن الأَعرابي: أَوْهَمَ ووَهِمَ ووَهَمَ سواء؛ وأَنشد:

فإِن أَخْطَأْتُ أَو أَوْهَمْتُ شيئًا … فقد يَهِمُ المُصافي بالحَبيب

وقال أَبو عبيد: أَوْهَمْتُ أَسقطتُ من الحساب شيئًا، فلم يُعَدّ. وأَوْهَمَ الرجلُ في كتابه وكلامه إِذا أَسقَط. ووَهِمْتُ في الحساب وغيره أَوْهَمُ وَهَمًا إِذا غَلِطتُ فيه وسَهَوْت (1).

والوهم عند أهل الحديث هو بمعناه اللغوي، أي: الإسقاط والسهو والغلط دون قصد، وإلا كان كذبا. وهو يقع في الإسناد والمتن؛ ونقل السيوطي في (تدريب الراوي) عن الحافظ أبو الحجاج المزي في (الأطراف) أن الوهم تارة

--------------------------------------------

(1) انظر لسان العرب مادة (وهم).
মুহাদ্দিসগণের নিকট ওয়াহম (ভ্রান্তি)

শাব্দিক অর্থে ওয়াহম: ‘লিসানুল আরব’ অভিধানে বলা হয়েছে: ওয়াহম হলো অন্তরে উদিত হওয়া চিন্তা, এর বহুবচন হলো আওহাম; আর অন্তরের জন্য এক প্রকার ধারণা বা কল্পনা থাকে। কোনো কিছু ‘তাওয়াহহুম’ করা মানে তা কল্পনা করা এবং মানসপটে চিত্রায়িত করা, তা বাস্তবে বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক … তিনি বলেন: আমি কোনো বিষয়কে ‘আওহামতু’ বলেছি যখন আমি তা উপেক্ষা করেছি বা তা থেকে গাফেল হয়েছি। বলা হয়: আমি অমুক অমুক বিষয়ে ‘ওয়াহিমতু’, অর্থাৎ আমি ভুল করেছি। আল-আসমাঈ বলেন: ‘আওহামা’ অর্থ যখন সে কোনো কিছু বাদ দেয় বা ফেলে যায়, আর ‘ওয়াহিমা’ অর্থ যখন সে ভুল করে। আল-জাওহারী বলেন: ‘ওয়াহামতু’ (হা বর্ণে ফাতহা যোগে) অর্থ যখন তোমার কল্পনা কোনো বিষয়ের দিকে চলে যায় অথচ তুমি অন্য কিছু চাচ্ছিলে। আর ‘তাওয়াহহামতু’ অর্থ আমি ধারণা করেছি। ‘আওহামতু’ মানে অন্যকে বিভ্রান্তিতে ফেলা, ‘তাওহীম’ শব্দটিও একই অর্থ দেয়। ‘আওহামতুশ শাইআ’ অর্থ যখন আমি তা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছি বা বর্জন করেছি। বলা হয়: সে হিসাব থেকে একশ ‘আওহামা’ করেছে অর্থাৎ বাদ দিয়েছে, আর সে তার নামাজ থেকে এক রাকাত ‘আওহামা’ (বাদ দিয়েছে)। ‘ওয়াহিমা’ (হা বর্ণে কাসরা যোগে) অর্থ: ভুল করা ও বিচ্যুত হওয়া। হিসাব থেকে এমন ‘আওহামা’ করা অর্থ বাদ দেওয়া, অনুরূপভাবে কথা ও লেখার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। ইবনুল আরাবী বলেন: ‘আওহামা’, ‘ওয়াহিমা’ এবং ‘ওয়াহামা’ একই অর্থবোধক; তিনি এই কবিতাটি পাঠ করেছেন:

যদি আমি ভুল করি বা কোনো কিছু বাদ দিই … তবে অকৃত্রিম বন্ধুও তো প্রিয়জনের বিষয়ে ভুল করতে পারে।

আবু উবাইদ বলেন: ‘আওহামতু’ অর্থ আমি হিসাব থেকে কোনো কিছু কমিয়ে ফেলেছি বা বাদ দিয়েছি, যা আর গণনা করা হয়নি। কোনো ব্যক্তি তার লেখায় বা কথায় ‘আওহামা’ করেছে বলা হয় যখন সে কিছু বাদ দেয়। আর আমি হিসাব বা অন্য বিষয়ে ‘ওয়াহামতু’ বা ‘ওয়াহামান’ বলেছি যখন আমি তাতে ভুল ও বিচ্যুতি ঘটিয়েছি (১)।

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ‘ওয়াহম’ তার আভিধানিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ: অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু বাদ পড়ে যাওয়া, বিস্মৃতি বা ভুল করা। অন্যথায় (ইচ্ছাকৃত হলে) তা মিথ্যা বলে গণ্য হতো। এটি সনদে (বর্ণনাসূত্র) এবং মতনে (মূল পাঠ) উভয় ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। ইমাম সুয়ূতী ‘তাদরীবুর রাবী’ গ্রন্থে হাফেজ আবু হাজ্জাজ আল-মিযযী-এর ‘আল-আতরাফ’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, ওয়াহম কখনো...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লিসানুল আরব, ‘ওয়াহম’ পরিচ্ছেদ।