(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: -)
الرد القويم على المجرم الأثيم   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الرد القويم على المجرم الأثيم

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1403 هـ

عدد الصفحات: 362

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

পাপিষ্ঠ অপরাধীর সমুচিত জবাব   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরী)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন


বই: পাপিষ্ঠ অপরাধীর সমুচিত জবাব

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরী (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরী)

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ফতোয়া, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগসমূহের সাধারণ প্রেসিডেন্সি, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬২

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: -)
الرد القويم على المجرم الأثيم

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين

 

الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد
পাপিষ্ঠ অপরাধীর বিরুদ্ধে সুদৃঢ় প্রতিবাদ

 

রচনা

আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী হামূদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামূদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরী

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন

 

বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক অধিদপ্তরের জেনারেল প্রেসিডেন্সি
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له. الذي أنزل على عبده الكتاب والحكمة، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله الذي قال الله فيه (وما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى) أرسله الله رحمة للعالمين، وحجة على المعاندين. صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليما كثيرا.

أما بعد فقد رأيت كتاباً لبعض أهل الزيغ والفساد والإلحاد من العصريين، تهجم فيه على بعض الصحابة والتابعين وعلى مائة وعشرين حديثا في صحيح البخاري الذي هو أصح الكتب بعد القرآن وزعم أنها أحاديث إسرائيلية وأنه يكتسحها بالأضواء القرآنية ويطهر البخاري منها. وتهجم أيضا على غير ذلك من الأحاديث الصحيحة وقابلها بالرد والإنكار.

وقد سمى المؤلف نفسه بالسيد صالح أبي بكر، وليس بسيد ولا صالح ولا كرامة له ولا نعمة عين. لما رواه أبو داود والنسائي والبخاري في الأدب المفرد عن بريدة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «لا تقولوا للمنافق سيد فإنه إن يك سيداً فقد أسخطتم ربكم عز وجل» ورواه الحاكم في مستدركه والبيهقي بنحوه وصححه الحاكم.

وفي تهجمه على بعض الصحابة والتابعين وعلى الأحاديث الصحيحة أوضح دليل على زيغه وفساد عقيدته وأنه ليس بصالح في الحقيقة.

وقد سمى الملحد كتابه «الأضواء القرآنية، في اكتساح الأحاديث الإسرائيلية وتطهير البخاري منها «وهو مطبوع في شركة مطابع محرم الصناعية في سنة 1974 ميلادية، وقد جعله جزءين، تصدى في الجزء الأول للطعن في بعض الصحابة والتابعين والطعن في بعض الأحاديث الصحيحة أو الحسنة بالشبه الباطلة، وتصدى في الجزء الثاني للطعن في مائة وعشرين حديثا في صحيح البخاري. وكثيرا ما كان يعتمد على ظلمات الملحد أبي رية وشبهاته في كتابه الذي سماه «أضواء على السنة المحمدية» «أو دفاع عن الحديث» وهو في الحقيقة ظلمات بعضها فوق بعض ودفع للأحاديث الصحيحة واطراح لها، كما أن كلام الملحد الثاني في كتابه المسمى «بالأضواء القرآنية» كله شبهات وحمل لكتاب الله على غير محامله فهو في الحقيقة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা) নাযিল করেছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: "তিনি নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না, বরং এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।" আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ এবং হঠকারীদের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর আল্লাহর অজস্র শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আমি বর্তমান যুগের কতিপয় পথভ্রষ্ট, ফাসাদ সৃষ্টিকারী ও নাস্তিকের একটি কিতাব দেখেছি, যেখানে সে কতিপয় সাহাবী ও তাবেয়ী এবং সহীহ বুখারীর একশত বিশটি হাদীসের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে—যা কুরআনের পর বিশুদ্ধতম কিতাব। সে দাবি করেছে যে, এগুলো ইসরাঈলী বর্ণনা এবং সে এগুলোকে "কুরআনী আলো" (আদওয়াউল কুরআনিয়া) দ্বারা নির্মূল করবে এবং বুখারীকে তা থেকে পবিত্র করবে। সে এছাড়া আরও অনেক সহীহ হাদীসের ওপর আক্রমণ করেছে এবং সেগুলো প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করেছে।

গ্রন্থকার নিজের নাম রেখেছে ‘আস-সাইয়্যেদ সালেহ আবু বকর’, অথচ সে সাইয়্যেদও নয়, সালেহ (সৎ)ও নয়; তার জন্য কোনো সম্মান নেই এবং চোখের শীতলতাও নেই। কারণ আবু দাউদ, নাসাঈ এবং বুখারী (আল-আদাবুল মুফরাদ-এ) বুরাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মুনাফিককে ‘সাইয়্যেদ’ (জনাব/নেতা) সম্বোধন করো না; কারণ সে যদি তোমাদের সাইয়্যেদ হয়, তবে তোমরা তোমাদের মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করলে।" হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’-এ এবং বায়হাকী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন।

কতিপয় সাহাবী ও তাবেয়ী এবং সহীহ হাদীসসমূহের ওপর তার এই আক্রমণই তার পথভ্রষ্টতা ও আকীদার নষ্টামির সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং এটিই প্রমাণ করে যে সে বাস্তবে মোটেই সালেহ (সৎ) নয়।

এই নাস্তিক তার কিতাবটির নাম দিয়েছে ‘আল-আদওয়াউল কুরআনিয়া, ফি ইক্তিসাহিল আহাদিসিল ইসরাঈলিয়্যাহ ওয়া তাতহিরিল বুখারী মিনহা’ (ইসরাঈলী হাদীসসমূহ উচ্ছেদ এবং বুখারীকে তা থেকে পবিত্রকরণে কুরআনী আলোকপাত)। এটি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে মুহররম ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রেসে মুদ্রিত হয়েছে। সে একে দুই খণ্ডে বিভক্ত করেছে। প্রথম খণ্ডে সে ভ্রান্ত সংশয় উত্থাপনের মাধ্যমে কতিপয় সাহাবী ও তাবেয়ী এবং কিছু সহীহ ও হাসান হাদীসের নিন্দা করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। আর দ্বিতীয় খণ্ডে সে সহীহ বুখারীর একশত বিশটি হাদীসের সমালোচনা ও কুৎসা রটনা করেছে। সে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাস্তিক আবু রাইয়্যার অন্ধকারের ন্যায় কুসংস্কার ও তার সংশয়গুলোর ওপর নির্ভর করেছে, যা সে তার ‘আদওয়া আলাস সুন্নাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ’ (মুহাম্মাদী সুন্নাহর ওপর আলোকপাত) অথবা ‘দিফা আনিল হাদীস’ (হাদীসের প্রতিরক্ষা) নামক কিতাবে উল্লেখ করেছে। প্রকৃতপক্ষে তা অন্ধকারের ওপর অন্ধকার ছাড়া আর কিছু নয় এবং সহীহ হাদীসসমূহকে প্রত্যাখ্যান ও ছুঁড়ে ফেলার এক হীন প্রয়াস। অনুরূপভাবে, এই দ্বিতীয় নাস্তিকের ‘আল-আদওয়াউল কুরআনিয়া’ নামক কিতাবের কথাগুলো সম্পূর্ণ সংশয়পূর্ণ এবং আল্লাহর কালামকে তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করার নামান্তর। প্রকৃতপক্ষে এটি—
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২)
ظلمات بعضها فوق بعض كما سأبينه إن شاء الله تعالى.

ومن تأمل كتابه لم يشك أنه محارب للإسلام والمسلمين وأنه إنما أراد بكتابه الطعن في الإسلام وأهل الإسلام. وإن أظهر ذلك في قالب الإصلاح فهو بلا شك ممن يسعى في الأرض فساداً وإن كان يزعم لنفسه أنه مصلح. وقد قال الله تعالى مخبراً عن سلف هذا الملحد (وإذا قيل لهم لا تفسدوا في الأرض قالوا إنما انحن مصلحون. ألا إنهم هم المفسدون ولكن لا يشعرون) وهذه الآية الكريمة مطابقة لحال الملحد غاية المطابقة، طهر الله الأرض منه ومن أمثاله من المفسدين في الأرض إنه سميع مجيب.

وقد رأيت من الواجب الرد على أباطيل هذا الزائغ المفتري على الله وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم وتطهير الأحاديث الصحيحة في صحيح البخاري وغيره من كتب السنة من تلطيخ هذا الظالم المعتدي.

والله المسئول أن يريني وإخواني المسلمين الحق حقا ويرزقنا اتباعه ويرينا الباطل باطلا ويرزقنا اجتنابه ولا يجعله ملتبساً علينا فنضل، والله المستعان وعليه التكلان ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم وهو حسبنا ونعم الوكيل.

 

فصل

وكل حديث صح إسناده إلى النبي صلى الله عليه وسلم فالإيمان به واجب على كل مسلم وذلك من تحقيق الشهادة بأن محمدا رسول الله، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم «أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله ويؤمنوا بي وبما جئت به فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله» رواه مسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

ومن كذّب بشيء مما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم فهو ممن يشك في إسلامه لأنه لم يحقق الشهادة بأن محمداً رسول الله، ومن تحقيقها تصديقه صلى الله عليه وسلم فيما أخبر به.

وقد قال الإمام الشافعي رحمه الله تعالى إذا حدث الثقة عن الثقة إلى أن ينتهي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو ثابت ولا يترك لرسول الله صلى الله عليه وسلم حديث أبداً إلا حديث وجد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم آخر يخالفه انتهى.
একের ওপর এক অন্ধকারের স্তর, যা আমি ইনশাআল্লাহ স্পষ্ট করব।

যে ব্যক্তি তার কিতাবটি গভীর অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করবে, তার মনে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না যে, সে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। সে তার কিতাবের মাধ্যমে ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের ওপর কলঙ্ক লেপন ও আঘাত হানতে চেয়েছে। যদিও সে একে সংস্কারের আবরণে প্রকাশ করেছে, তদুপরি সে নিঃসন্দেহে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত; যদিও সে নিজেকে সংশোধনকারী হিসেবে দাবি করে। মহান আল্লাহ এই নাস্তিকের পূর্বসূরিদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে ইরশাদ করেছেন: (আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো কেবল সংশোধনকারী। জেনে রেখো, তারাই মূলত ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারে না।) এই মহিমান্বিত আয়াতটি উক্ত নাস্তিকের অবস্থার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ যেন পৃথিবীকে তার থেকে এবং তার মতো অন্যান্য বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের থেকে পবিত্র করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী।

আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ওপর মিথ্যা অপবাদকারী এই পথভ্রষ্ট ব্যক্তির অসারতা খণ্ডন করা এবং সহিহ বুখারি ও সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবের বিশুদ্ধ হাদিসসমূহকে এই সীমাঙ্ঘনকারী জালিমের কলুষতা থেকে পবিত্র করাকে আমি আমার জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য বলে মনে করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাকে ও আমার মুসলিম ভাইদের কাছে সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিভাত করেন এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করেন; আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে প্রতিভাত করেন এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করেন। তিনি যেন সত্যকে আমাদের জন্য অস্পষ্ট না করেন, নতুবা আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ব। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তাঁর ওপরই আমাদের একান্ত ভরসা। সুউচ্চ মহান আল্লাহ ব্যতীত অনিষ্ট দূর করার কোনো উপায় এবং কল্যাণ অর্জনের কোনো শক্তি নেই। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

অনুচ্ছেদ

নবিজির (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি যে হাদিসের সনদই বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে, তার ওপর ঈমান আনা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। আর এটিই হলো 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল'—এই সাক্ষ্য প্রদানের প্রকৃত দাবি ও বাস্তবায়ন। নবিজি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ইরশাদ করেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমার ওপর ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার ওপর ঈমান আনে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার নিকট থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট।" ইমাম মুসলিম এটি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

নবিজি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে প্রমাণিত কোনো বিষয়কে যে ব্যক্তি মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, তার ইসলামের ব্যাপারে সংশয় রয়েছে; কারণ সে 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল'—এই সাক্ষ্যের যথাযথ বাস্তবায়ন করেনি। কেননা এই সাক্ষ্যের অন্যতম শর্ত হলো তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা।

ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "যখন কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী অপর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেন এবং তা আল্লাহর রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) পর্যন্ত পৌঁছে, তবে তা সুসাব্যস্ত দলিল। আল্লাহর রাসুলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) কোনো হাদিসই কখনো বর্জন করা যাবে না, যদি না আল্লাহর রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে এর বিপরীত অন্য কোনো হাদিস পাওয়া যায়।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ৩)
وقال الإمام أحمد رحمه الله تعالى كل ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم إسناد جيد أقررنا به وإذا لم نقر بما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم ودفعناه ورددناه رددنا على الله أمره قال الله تعالى (وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا).

وروى القاضي أبو الحسين في طبقات الحنابلة من طريق أبي بكر الآدمي المقري حدثنا الفضل بن زياد القطان قال سمعت أبا عبد الله - يعني أحمد بن حنبل - يقول من رد حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو على شفا هلكة.

وذكر محمد بن نصر المروزي ونقله عنه ابن حزم في كتابه الإحكام أن إسحاق بن راهويه قال من بلغه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر يقر بصحته ثم رده بغير تقية فهو كافر.

وذكر القاضي أبو الحسين أيضا في ترجمة الحسن بن علي بن خلف أبي محمد البربهاري - وهو من أعيان العلماء في آخر القرن الثالث وأول القرن الرابع من الهجرة - أنه قال في كتابه «شرح السنة» ، إذا سمعت الرجل يطعن على الآثار ولا يقبلها أو ينكر شيئا من أخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتهمه على الإسلام فإنه رجل رديء المذهب والقول وإنما يطعن على رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى أصحابه لإِنا إنما عرفنا الله وعرفنا رسوله صلى الله عليه وسلم وعرفنا القرآن وعرفنا الخير والشر والدنيا والآخرة بالآثار، وإن القرآن أحوج إلى السنة من السنة إلى القرآن.

وقوله إن القرآن أحوج إلى السنة من السنة إلى القرآن معناه أن السنة تفسر القرآن وتبين معانيه وما أراد الله به فلهذا كان القرآن محتاجا إلى السنة قال الله تعالى (وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم).

وقال البربهاري أيضا ولا يخرج أحد من أهل القبلة من الإسلام حتى يرد آية من كتاب الله عز وجل أو يرد شيئا من آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم أو يصلي لغير الله أو يذبح لغير الله فقد وجب عليك أن تخرجه من الإسلام.

وقال البربهاري أيضا من رد آية من كتاب الله فقد رد الكتاب كله ومن رد حديثا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد رد الأثر كله وهو كافر بالله العظيم.

وقال البربهاري أيضا واعلم أنه ليس بين العبد وبين أن يكون كافراً إلا أن
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে উত্তম সনদে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে আমরা তা সাব্যস্ত করি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন আমরা যদি তা সাব্যস্ত না করি এবং তা প্রত্যাখ্যান ও রদ করি, তবে আমরা আল্লাহর নির্দেশকেই রদ করলাম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।"

কাজী আবু আল-হুসাইন 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' গ্রন্থে আবু বকর আল-আদামি আল-মুকরি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ফাদল ইবনে যিয়াদ আল-কাত্তান বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে (অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাম্বল) বলতে শুনেছি—যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস প্রত্যাখ্যান করে, সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হাযম তার 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেছেন: যার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে এমন কোনো বর্ণনা পৌঁছেছে যার বিশুদ্ধতা সে স্বীকার করে, অতঃপর কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই তা প্রত্যাখ্যান করে, সে কাফির।

কাজী আবু আল-হুসাইন আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে খালাফ আবু মুহাম্মাদ আল-বারবাহারী—যিনি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগ ও চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকের একজন প্রথিতযশা আলেম ছিলেন—তার জীবনীতে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বলেছেন: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে দেখবে যে সে হাদিস ও ঐতিহ্যের (আসার) সমালোচনা করছে কিংবা তা গ্রহণ করছে না, অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর কোনো কিছু অস্বীকার করছে, তবে তার ইসলামের ব্যাপারে তাকে সন্দেহ করো। কেননা সে নিকৃষ্ট মতাদর্শ ও ভ্রান্ত কথার অধিকারী। সে মূলত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের ওপরই কটাক্ষ করছে। কারণ আমরা আল্লাহকে চিনেছি, তাঁর রাসূলকে চিনেছি, কুরআনকে চিনেছি এবং কল্যাণ-অকল্যাণ ও দুনিয়া-আখিরাত সম্পর্কে জেনেছি এই ঐতিহ্যের (আসার) মাধ্যমেই। নিশ্চয়ই সুন্নাহর প্রতি কুরআনের মুখাপেক্ষিতা, কুরআনের প্রতি সুন্নাহর মুখাপেক্ষিতার চেয়েও অধিক।

তার এই উক্তি "সুন্নাহর প্রতি কুরআনের মুখাপেক্ষিতা কুরআনের প্রতি সুন্নাহর মুখাপেক্ষিতার চেয়েও অধিক"—এর অর্থ হলো সুন্নাহ কুরআনকে ব্যাখ্যা করে এবং এর মর্মার্থ ও আল্লাহ এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন তা সুস্পষ্ট করে। এ কারণেই কুরআন সুন্নাহর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।"

আল-বারবাহারী আরও বলেছেন: আহলে কিবলার (মুসলমানদের) অন্তর্ভুক্ত কাউকেই ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা যাবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত প্রত্যাখ্যান করে, কিংবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো আসার (হাদিস বা বর্ণনা) প্রত্যাখ্যান করে, অথবা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য সালাত আদায় করে কিংবা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে পশু যবেহ করে। এমতাবস্থায় তাকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা তোমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে।

আল-বারবাহারী আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত প্রত্যাখ্যান করল, সে যেন পুরো কিতাবকেই প্রত্যাখ্যান করল। আর যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি হাদিস প্রত্যাখ্যান করল, সে যেন সকল বর্ণনাকেই (আসার) প্রত্যাখ্যান করল; এমতাবস্থায় সে মহান আল্লাহর প্রতি কুফরি করল।

আল-বারবাহারী আরও বলেছেন: জেনে রাখো, একজন বান্দা এবং কাফির হওয়ার মধ্যে কেবল এটুকুই ব্যবধান যে...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ৪)
يجحد شيئا مما أنزل الله أو يزيد في كلام الله أو ينقص أو ينكر شيئا مما قال الله عز وجل أو شيئا مما تكلم به رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقال البربهاري أيضا وإذا سمعت الرجل يطعن على الآثار أو يرد الآثار أو يريد غير الآثار فاتهمه على الإسلام ولا شك أنه صاحب هوى مبتدع.

وقال البربهاري أيضا وإذا سمعت الرجل تأتيه بالأثر فلا يريده ويريد القرآن فلا تشك أنه رجل قد احتوى على الزندقة فقم من عنده ودعه.

وقال البربهاري أيضا ومن جحد أو شك في حرف من القرآن أو في شيء جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لقي الله مكذبا. انتهى ملخصا مما ذكره صاحب طبقات الحنابلة.

وذكر القاضي أبو الحسين أيضا في ترجمة إبراهيم بن أحمد بن عمر بن حمدان بن شاقلا أنه قال من خالف الأخبار التي نقلها العدل عن العدل موصولة بلا قطع في سندها ولا جرح في ناقليها وتجرأ على ردها فقد تهجم على رد الإسلام لأن الإسلام وأحكامه منقولة إلينا بمثل ما ذكرت انتهى.

وقال الشيخ أبو الحسن علي بن إسماعيل الأشعري في كتابه «مقالات الإسلاميين» جملة ما عليه أهل الحديث والسنة الإقرار بالله وملائكته وكتبه ورسله وما جاء من عند الله وما رواه الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يردون من ذلك شيئا انتهى.

وهذا حكاية إجماع من أهل الحديث والسنة على الإقرار بما جاء من عند الله وما رواه الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنهم لا يردون من ذلك شيئا، والعبرة بأهل الحديث والسنة ولا عبرة بمن خالفهم من أهل الأهواء والبدع والضلالة والجهالة.

وقال الموفق أبو محمد المقدسي في كتابه «لمعة الاعتقاد» ويجب الإيمان بكل ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم وصح به النقل عنه فيما شهدناه أو غاب عنا نعلم أنه حق وصدق وسواء في ذلك ما عقلناه وجهلناه ولم نطلع على حقيقة معناه مثل حديث الإسراء والمعراج، ومن ذلك أشراط الساعة مثل خروج الدجال ونزول عيسى بن مريم عليه السلام فيقتله وخروج يأجوج ومأجوج وخروج الدابة وطلوع الشمس من
আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার কিছু অস্বীকার করা, অথবা আল্লাহর কালামে কোনো কিছু বৃদ্ধি করা বা হ্রাস করা, অথবা মহান আল্লাহ যা বলেছেন তার কিছু অস্বীকার করা, অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছেন তার কিছু অস্বীকার করা।

ইমাম আল-বারবাহারী আরও বলেন: যখন তুমি দেখবে কোনো ব্যক্তি হাদীস বা আসারসমূহের সমালোচনা করছে, অথবা বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করছে, অথবা আসার ব্যতিরেকে অন্য কিছু অন্বেষণ করছে, তবে তার ইসলামের ব্যাপারে তাকে অভিযুক্ত করো; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সে প্রবৃত্তিপূজারী বিদআতী।

ইমাম আল-বারবাহারী আরও বলেন: যখন তুমি দেখবে কোনো ব্যক্তির কাছে হাদীস বা আসার পেশ করা হচ্ছে অথচ সে তা গ্রহণ করতে চাচ্ছে না বরং কেবল কুরআনই দাবি করছে, তবে তুমি নিশ্চিত থাকো যে সেই ব্যক্তি জিন্দিকাপনায় (ধর্মহীনতায়) লিপ্ত; সুতরাং তার নিকট হতে উঠে যাও এবং তাকে বর্জন করো।

ইমাম আল-বারবাহারী আরও বলেন: যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফকে অস্বীকার করল কিংবা তাতে সন্দেহ পোষণ করল, অথবা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আগত কোনো বিষয়কে অস্বীকার বা তাতে সন্দেহ পোষণ করল, সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এমন অবস্থায় যে সে সত্যকে অস্বীকারকারী। 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' প্রণেতা যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ এখানেই শেষ।

কাজী আবুল হুসাইনও ইব্রাহীম বিন আহমাদ বিন উমর বিন হামদান বিন শাকলা-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি এমন সব সংবাদের (হাদীস) বিরোধিতা করল যা একজন ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী অপর ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী থেকে নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন, যার সনদে কোনো ছেদ নেই এবং বর্ণনাকারীদের মাঝে কোনো দোষ নেই, আর সে তা প্রত্যাখ্যান করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করল, তবে সে মূলত ইসলামকেই প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস দেখাল। কেননা ইসলাম ও এর বিধানসমূহ আমাদের কাছে এই নির্ভরযোগ্য নিয়মেই পৌঁছেছে যেমনটি আমি বর্ণনা করেছি। সমাপ্ত।

শাইখ আবুল হাসান আলী বিন ইসমাঈল আল-আশআরী তাঁর 'মাক্বালাতুল ইসলামিয়্যীন' গ্রন্থে বলেন: আহলে হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারীরা যা কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত তার সারকথা হলো—আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেসবের স্বীকৃতি প্রদান করা; তারা এর কোনো কিছুই প্রত্যাখ্যান করেন না। সমাপ্ত।

এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য রাবীগণ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার স্বীকৃতির ওপর আহলে হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারীদের ঐকমত্যের (ইজমা) একটি বিবরণ; এবং তারা এর কোনো কিছুই প্রত্যাখ্যান করেন না। আর এক্ষেত্রে আহলে হাদীস ও সুন্নাহর অনুসারীদের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য, এবং যারা প্রবৃত্তিপূজারী, বিদআতী, বিভ্রান্ত ও অজ্ঞ হিসেবে তাদের বিরোধিতা করে, তাদের কোনো ধর্তব্য নেই।

মুয়াফফাক আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসী তাঁর 'লুমআতুল ইতিকাদ' গ্রন্থে বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর থেকে যা সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব—চাই তা আমাদের সামনে ঘটুক কিংবা আমাদের অগোচরে হোক, আমরা জানি যে তা সত্য ও বাস্তব। এক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য সেইসব বিষয় যা আমাদের বুদ্ধি দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি এবং যা পারি না, অথবা যেগুলোর প্রকৃত অর্থ আমরা জানতে পারিনি; যেমন ইসরা ও মিরাজের হাদীস। এর অন্তর্ভুক্ত হলো কিয়ামতের আলামতসমূহ—যেমন দাজ্জালের আবির্ভাব, ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণ ও দাজ্জালকে হত্যা করা, ইয়াজুজ ও মাজুজের নির্গমন, দাব্বাতুল আরদ-এর আত্মপ্রকাশ এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ৫)
مغربها وأشباه ذلك مما صح به النقل انتهى.

وقال ابن القيم رحمه الله تعالى في كتابه «إعلام الموقعين» والذي ندين به ولا يسعنا غيره أن الحديث إذا صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يصح عنه حديث آخر ينسخه أن الفرض علينا وعلى الأمة الأخذ بحديثه وترك كل ما خالفه ولا نتركه لخلاف أحد من الناس كائنا من كان لا راويه ولا غيره انتهى المقصود من كلامه.

 

فصل

وتكذيب الأحاديث الصحيحة ليس بالأمر الهين ولا سيما ما ثبت في الصحيحين أو في أحدهما، وقد قال الهيثمي في مجمع الزوائد «باب فيمن كذب بما صح من الحديث» ثم ذكر حديث جابر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من بلغه عني حديث فكذب به فقد كذب ثلاثة، الله ورسوله والذي حدث به» رواه الطبراني في الأوسط قال الهيثمي وفيه محفوظ بن ميسور ذكره ابن أبي حاتم ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا انتهى.

وهذا الحديث وإن لم يبلغ درجة الصحيح فمعناه صحيح لأن من كذب حديثا صحيحا فلا شك أنه قد كذب الله تعالى في قوله مخبرا عن نبيه صلى الله عليه وسلم (وما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى) وقد كذب النبي صلى الله عليه وسلم حيث رد ما ثبت عنه برواية الثقات الأثبات. وقد كذب الرواة الثقات الذين حفظوا أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وبلغوها إلى الأمة، ومن كذب أهل الصدق والعدالة فهو الكاذب في الحقيقة.

 

فصل

وقد ورد التشديد في معارضة السنة بالقرآن وذلك فيما رواه الإمام أحمد عن أبي رافع رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال «لا أعرفن ما يبلغ أحدكم من حديثي شيء وهو متكئ على أريكته فيقول ما أجد هذا في كتاب الله تعالى» في إسناده ابن لهيعة وهو حسن الحديث وفيه كلام وبقية رجاله ثقات. وقد رواه أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة بنحوه.

ورواه أبو داود بإسناد صحيح على شرط الشيخين ولفظه عن النبي صلى الله
...এর অস্তগমন এবং তদ্রূপ অন্যান্য বিষয় যা সহীহ বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। (সমাপ্ত)

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’ গ্রন্থে বলেছেন: “আমরা মহান আল্লাহর দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি লালন করি এবং যা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো গত্যন্তর নেই তা হলো—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যখন কোনো হাদীস সহীহভাবে প্রমাণিত হয় এবং তাঁর পক্ষ থেকে এমন অন্য কোনো হাদীস সাব্যস্ত না হয় যা একে রহিত (মানসুখ) করে, তখন আমাদের এবং সমগ্র উম্মতের ওপর আবশ্যক হলো তাঁর হাদীসকে গ্রহণ করা এবং এর পরিপন্থী সবকিছু বর্জন করা। আমরা হাদীসটিকে বর্জন করব না অন্য কারো বিরোধিতার কারণে, তিনি যেই হোন না কেন—চাই তিনি সেই হাদীসের বর্ণনাকারী হোন বা অন্য কেউ।” তাঁর বক্তব্য থেকে উদ্দিষ্ট অংশ এখানেই শেষ হলো।

 

পরিচ্ছেদ

সহীহ হাদীসসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, বিশেষ করে যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা এর কোনো একটিতে সাব্যস্ত হয়েছে। ইমাম হাইসামী ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’-এ একটি অধ্যায় রচনা করেছেন যার শিরোনাম: ‘যে ব্যক্তি সহীহ হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তার বর্ণনা’। অতঃপর তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস পৌঁছেছে এবং সে তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, সে মূলত তিনজনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে: আল্লাহকে, তাঁর রাসূলকে এবং যে ব্যক্তি হাদীসটি বর্ণনা করেছে তাকে।” এটি ইমাম তাবারানী ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাইসামী বলেছেন যে, এর সনদে মাহফুয ইবনে মাইসুর নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন; ইবনে আবী হাতিম তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাঁর ব্যাপারে কোনো ‘জারহ’ (অযোগ্যতা) বা ‘তাদীলে’র (যোগ্যতা) কথা উল্লেখ করেননি। (সমাপ্ত)

যদিও এই হাদীসটি সহীহ-এর স্তরে পৌঁছেনি, তবে এর অর্থ সঠিক। কারণ, যে ব্যক্তি কোনো সহীহ হাদীসকে অস্বীকার করে, সে নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহকে তাঁর এই বাণীতে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল যেখানে তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: (তিনি নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না; এটি তো কেবল অহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়)। তদুপরি, সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল যেহেতু সে নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর থেকে সাব্যস্ত বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া সে ঐ সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদেরও মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল যারা নবীর হাদীসসমূহ সংরক্ষণ করেছেন এবং উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের মিথ্যা সাব্যস্ত করে, মূলত সেই প্রকৃত মিথ্যাবাদী।

 

পরিচ্ছেদ

কুরআনের দোহাই দিয়ে সুন্নাহর বিরোধিতা করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। ইমাম আহমাদ আবূ রাফি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমি যেন তোমাদের কাউকেই এমন অবস্থায় না দেখি যে, তার কাছে আমার কোনো হাদীস পৌঁছাল এমতাবস্থায় যে সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে আছে, আর সে বলে উঠল: ‘আমি আল্লাহর কিতাবে তো এটি পাচ্ছি না’।” এর সনদে ইবনু লাহীআহ রয়েছেন, তিনি হাসান হাদীস বর্ণনাকারী তবে তাঁর সম্পর্কে কিছুটা সমালোচনা রয়েছে। সনদের অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আবূ বকর আল-আজুররী ‘আশ-শারীআহ’ গ্রন্থে তদ্রূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আবূ দাউদ এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর শব্দাবলী হলো...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ৬)
عليه وسلم قال «لا ألفين أحدكم متكئا على أريكته يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول لا ندري ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه» ورواه الترمذي وابن ماجه والحاكم في مستدركه وأبو بكر الآجري في كتاب الشريعة بنحوه وقال الترمذي هذا حديث حسن وقال الحاكم صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه.

ورواه ابن حبان في صحيحه ولفظه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «لا أعرفن الرجل يأتيه الأمر من أمري إما أمرت به وإما نهيت عنه فيقول ما ندري ما هذا عندنا كتاب الله ليس هذا فيه».

وفي رواية للحاكم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال والناس حوله «لا أعرفن أحدكم يأتيه أمر من أمري قد أمرت به أو نهيت عنه وهو متكئ على أريكته فيقول ما وجدنا في كتاب الله عملنا به وإلا فلا».

وعن المقدام بن معد يكرب الكندي رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه ألا يوشك رجل ينثني شبعانا على أريكته يقول عليكم بالقرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه» الحديث رواه الإمام أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه والدارمي وابن حبان في صحيحه والحاكم في مستدركه وأبو بكر الآجري في كتاب الشريعة وقال الترمذي هذا حديث حسن غريب وصححه الحاكم وأقره الذهبي.

ولفظه عند ابن ماجه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «يوشك الرجل متكئا على أريكته يحدث بحديث من حديثي فيقول: بيننا وبينكم كتاب الله عز وجل فما وجدنا فيه من حلال استحللناه وما وجدنا فيه من حرام حرمناه ألا وإن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما حرم الله» ورواه الترمذي والدارمي بهذا اللفظ، وفي رواية ابن حبان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «إني أوتيت الكتاب وما يعدله» وذكر بقية الحديث بنحو ما تقدم.

وقد بوب الترمذي على هذا الحديث وحديث أبي رافع بقوله «باب ما نهي عنه أن يقال عند حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم» وبوب عليه ابن ماجه بقوله «باب تعظيم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم والتغليظ على من عارضه»
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকেই তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় না পাই, যার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো বিষয় আসে—যা আমি নির্দেশ করেছি অথবা যা থেকে নিষেধ করেছি—অতঃপর সে বলে: 'আমরা জানি না, আল্লাহর কিতাবে আমরা যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি'।" এটি তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আল-হাকিম তাঁর মুস্তাদরাকে এবং আবু বকর আল-আজুরি তাঁর কিতাবুশ শরীয়াহতে অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন, এটি হাসান হাদিস। আল-হাকিম বলেছেন, এটি শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ, যদিও তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি এবং আয-যাহাবী তাঁর তালখিসে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি যেন এমন কোনো ব্যক্তিকে না চিনি, যার কাছে আমার কোনো নির্দেশ আসে—হয় আমি তা আদেশ করেছি অথবা তা থেকে নিষেধ করেছি—অতঃপর সে বলে: 'আমরা জানি না এটি কী? আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব আছে, এতে তো এটি নেই'।"

আল-হাকিমের এক বর্ণনায় রয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর চারপাশের মানুষের সামনে বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকেই এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসে যা আমি ইতিপূর্বে আদেশ করেছি অথবা যা থেকে নিষেধ করেছি—আর সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় বলে: 'আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি সে অনুযায়ী আমল করেছি, অন্যথায় নয়'।"

মিকদাম বিন মাদি কারিব আল-কিন্দি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জেনে রাখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তি আসবে যে পেটভর্তি আহার করে নিজের সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: 'তোমরা কেবল কুরআনকেই গ্রহণ করো; তাতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল জ্ঞান করবে এবং তাতে যা হারাম পাবে তাকেই হারাম জ্ঞান করবে'।" হাদিসটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারেমি, ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে, আল-হাকিম তাঁর মুস্তাদরাকে এবং আবু বকর আল-আজুরি তাঁর কিতাবুশ শরীয়াহতে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন, এটি একটি হাসান গারিব হাদিস এবং আল-হাকিম একে সহিহ বলেছেন আর আয-যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।

ইবনে মাজাহ-এর নিকট এর শব্দমালা হলো: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "অচিরেই এমন ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার হাদিসসমূহের কোনো একটি বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; তাতে যা হালাল পাবো তাকেই আমরা হালাল গণ্য করবো এবং তাতে যা হারাম পাবো তাকেই আমরা হারাম গণ্য করবো।' জেনে রাখো, আল্লাহর রাসুল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়েরই অনুরূপ।" তিরমিযী ও দারেমি এই শব্দমালায় হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বানের এক বর্ণনায় এসেছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমাকে কিতাব এবং তার সমতুল্য কিছু দেওয়া হয়েছে।" এরপর তিনি হাদিসের অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত বর্ণনার ন্যায় উল্লেখ করেছেন।

ইমাম তিরমিযী এই হাদিস এবং আবু রাফি’র হাদিসের ওপর এই শিরোনামে পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের সামনে যা বলা নিষেধ সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ।" আর ইবনে মাজাহ এর ওপর শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং যে এর বিরোধিতা করে তার প্রতি কঠোরতা অবলম্বন সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ।"
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ৭)
وترجم عليه ابن حبان بقوله «ذكر الخبر المصرح بأن سنن المصطفى صلى الله عليه وسلم كلها عن الله لا من تلقاء نفسه». وبوب عليه الآجري بقوله «باب التحذير من طوائف تعارض سنن النبي صلى الله عليه وسلم بكتاب الله عز وجل وشدة الإنكار على هذه الطبقة».

قوله صلى الله عليه وسلم «ألا يوشك رجل ينثني شبعانا على أريكته يقول عليكم بالقرآن» قال الخطابي ونقله عنه ابن الأثير في جامع الأصول أنه صلى الله عليه وسلم يحذر بهذا القول من مخالفة السنن التي سنها هو مما ليس في القرآن. وإنما أراد بالأريكة صفة أصحاب الترفه والدعة الذين لزموا البيوت ولم يطلبوا العلم من مظانه انتهى.

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «لا أعرفن أحدا منكم أتاه عني حديث وهو متكئ على أريكته فيقول اتل به قرآناً» رواه أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة. وقد رواه ابن ماجه بإِسناد رجاله كلهم ثقات ولفظه قال «لا أعرفن ما يحدث أحدكم عني الحديث وهو متكئ على أريكته فيقول اقرأ قرآنا. ما قيل من قول حسن فأنا قلته».

وعن الحسن قال بينما عمران بن حصين يحدث عن سنة نبينا صلى الله عليه وسلم إذ قال له رجل يا أبا نجيد حدثنا بالقرآن فقال له عمران أنت وأصحابك تقرءون القرآن أكنت محدثي عن الصلاة وما فيها وحدودها أكنت محدثي عن الزكاة في الذهب والإبل والبقر وأصناف المال ولكن قد شهدت وغبت أنت ثم قال فرض علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم في الزكاة كذا وكذا فقال الرجل أحييتني أحياك الله قال الحسن فما مات ذلك الرجل حتى صار من فقهاء المسلمين. رواه الحاكم في مستدركه وصححه وأقره الذهبي.

وقد رواه مسدد كما في «المطالب العالية» ولفظه قال بينما عمران بن حصين وعنده أصحاب له يحدثهم فقال رجل لا تحدثنا إلا بالقرآن - أو لا نريد إلا القرآن - فقال أرأيت لو وكلت أنت وأصحابك إلى القرآن أكنت تجد صلاة الظهر أربعا وصلاة العصر أربعا وصلاة المغرب ثلاثا تقرأ في الركعتين الأوليين، أرأيت لو وكلت أنت وأصحابك إلى القرآن أكنت تجد في كل مائتين من الغنم خمسا وفي الإبل كذا وكذا وفي البقر كذا وكذا. أرأيت لو وكلت أنت وأصحابك إلى القرآن أكنت تجد
ইবন হিব্বান (রহ.) এর ওপর এই শিরোনাম দিয়েছেন: "সেই খবরের বর্ণনা যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমস্ত সুন্নাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত, তা তাঁর নিজের পক্ষ থেকে নয়।" এবং আল-আজুরি (রহ.) এর ওপর অধ্যায় রচনা করেছেন এই শিরোনামে: "আল্লাহর কিতাবের দোহাই দিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর বিরোধিতা করা একদল লোকের ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং এই শ্রেণীর বিরুদ্ধে কঠোর অস্বীকৃতির অধ্যায়।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যে উদরপূর্তি করে নিজ সিংহাসনে আরামে হেলান দিয়ে বলবে, 'তোমরা কেবল কুরআনকে আঁকড়ে ধরো'।" আল-খাত্তাবি (রহ.) বলেন—এবং ইবনুল আসির (রহ.) 'জামি আল-উসুল' গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন—যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বাণীর মাধ্যমে কুরআনে নেই এমন সব সুন্নাহর বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যা তিনি স্বয়ং প্রবর্তন করেছেন। আর 'সিংহাসন' বা 'আরামে হেলান দেওয়া' বলতে তিনি বিলাসিতা ও আয়েশে গা ভাসিয়ে দেওয়া ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য বুঝিয়েছেন, যারা ঘরে বসে থাকে এবং জ্ঞানের প্রকৃত উৎস থেকে ইলম অন্বেষণ করে না। সমাপ্ত।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের কাউকে যেন এমন অবস্থায় না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদিস পৌঁছাল আর সে তার সিংহাসনে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় বলল—'এর সপক্ষে কুরআন পাঠ করো (অন্যথা মানব না)'।" এটি আবু বকর আল-আজুরি 'আশ-শারিয়াহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ এটি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। এর শব্দসমূহ হলো: "আমি যেন এমন কাউকে না পাই, যাকে আমার কোনো হাদিস শোনানো হবে আর সে তার সিংহাসনে হেলান দিয়ে বলবে—'কুরআন পাঠ করো'। যেকোনো উত্তম কথা বলা হোক না কেন, তা আমিই বলেছি।"

হাসান (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) যখন আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ বর্ণনা করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, "হে আবু নুজাইদ! আমাদের কাছে কেবল কুরআন থেকে বর্ণনা করুন।" ইমরান (রা.) তাকে বললেন, "তুমি এবং তোমার সাথীরা তো কুরআন পড়ো; তুমি কি আমাকে সালাত এবং এর বিষয়াবলী ও সীমারেখা সম্পর্কে কিছু বলতে পারবে? তুমি কি আমাকে স্বর্ণ, উট, গরু এবং বিভিন্ন প্রকার সম্পদের জাকাত সম্পর্কে কিছু বলতে পারবে? আমি তো রাসূলের দরবারে উপস্থিত ছিলাম আর তোমরা ছিলে অনুপস্থিত।" এরপর তিনি বললেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ওপর জাকাতে এই এই পরিমাণ ফরজ করেছেন।" তখন লোকটি বলল, "আপনি আমাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন।" হাসান (রহ.) বলেন, সেই ব্যক্তিটি মৃত্যুবরণ করার পূর্বেই মুসলিমদের অন্যতম ফকিহ হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন। এটি আল-হাকিম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবিও এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

মুসাদ্দাদ (রহ.) এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' গ্রন্থে রয়েছে। এর শব্দসমূহ হলো: ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.)-এর নিকট তাঁর সাথীরা থাকাকালীন তিনি তাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, "আমাদের কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না—অথবা বলল—আমরা কেবল কুরআনই চাই।" তখন তিনি বললেন, "তুমি কি ভেবে দেখেছ, যদি তোমাকে এবং তোমার সাথীদেরকে কেবল কুরআনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে কি তোমরা জোহরের সালাত চার রাকাত, আসরের সালাত চার রাকাত এবং মাগরিবের সালাত তিন রাকাত (যার প্রথম দুই রাকাতে তিলাওয়াত করতে হয়) হওয়ার কথা খুঁজে পেতে? তুমি কি মনে করো, যদি তোমাকে এবং তোমার সাথীদেরকে কেবল কুরআনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে কি তোমরা প্রতি দুইশত বকরির বিপরীতে পাঁচটি জাকাত এবং উট ও গরুর ক্ষেত্রে এই এই পরিমাণ বিধান খুঁজে পেতে? তুমি কি মনে করো, যদি তোমাকে ও তোমার সাথীদেরকে কেবল কুরআনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে কি তোমরা খুঁজে পেতে—"
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ৮)
الطواف بالبيت أسبوعا وبين الصفا والمروة كذا وكذا.

وعن أبي نضرة عن عمران بن حصين رضي الله عنهما أنه قال لرجل أنك إحمق أتجد في كتاب الله عز وجل الظهر أربعا لا يجهر فيها بالقراءة ثم عدد عليه الصلاة والزكاة ونحوهما ثم قال أتجد هذا في كتاب الله عز وجل مفسرا إن كتاب الله جل وعلا أحكم ذلك وإن السنة تفسر ذلك رواه الآجري في كتاب الشريعة.

وعن سعيد بن جبير أنه حدث يوما بحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم فقال رجل في كتاب الله ما يخالف هذا قال ألا أراني أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتعرض فيه بكتاب الله كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أعلم بكتاب الله منك، رواه الدارمي في سننه ورواته ثقات. وقد رواه أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة بنحوه.

وعن عبد الرحمن بن يزيد أنه رأى محرما عليه ثيابه فنهر المحرم فقال ائتني بآية من كتاب الله عز وجل بنزع ثيابي فقرأ عليه (وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا) رواه أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة.

وعن بكير بن عبد الله بن الأشج قال أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال «سيأتي ناس يجادلونكم بشبه القرآن فخذوهم بالسنن فإن أصحاب السنن أعلم بكتاب الله عز وجل» رواه الدارمي وأبو بكر الآجري في كتاب الشريعة.

وعن يحيى بن أبي كثير قال «السنة قاضية على القرآن وليس القرآن بقاض على السنة» رواه الدارمي في سننه ورواته ثقات.

وعن حسان - وهو ابن عطية أحد التابعين - قال كان جبريل ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم بالسنة كما ينزل بالقرآن» رواه الدارمي في سننه ورجاله رجال الصحيح.

 

ويدل لهذا قول الله تعالى (وأنزل الله عليك الكتاب والحكمة) قال ابن كثير الكتاب هو القرآن و‌‌الحكمة هي السنة انتهى. وقوله تعالى (واذكروا نعمة الله عليكم وما أنزل عليكم من الكتاب والحكمة يعظكم به) قال ابن جرير في قوله (والحكمة) يعني وما أنزل عليكم من الحكمة وهي السنن التي علمكموها رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنها لكم. وقال ابن كثير في قوله (وما أنزل عليكم من الكتاب) يعني القرآن
বাইতুল্লাহর সাতবার তাওয়াফ করা এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সাঈ করা।

আবু নাজরাহ থেকে বর্ণিত, ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এক ব্যক্তিকে বললেন, ‘তুমি তো এক নির্বোধ লোক! তুমি কি মহামহিম আল্লাহর কিতাবে জোহরের নামাজ চার রাকাত এবং তাতে কিরাত অনুচ্চ স্বরে পড়ার বিধান পাও?’ অতঃপর তিনি তার সামনে নামাজ, জাকাত এবং এ জাতীয় বিধানগুলোর গণনা দিলেন। এরপর বললেন, ‘তুমি কি মহান আল্লাহর কিতাবে এগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাও? নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এগুলোকে মূল বিধান হিসেবে সুদৃঢ় করেছেন আর সুন্নাহ তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে।’ আল-আজরুরী তাঁর ‘আশ-শারীআহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি হাদিস বর্ণনা করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, ‘আল্লাহর কিতাবে এমন কিছু আছে যা এর পরিপন্থী।’ তিনি বললেন, ‘আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস শোনাচ্ছি আর তুমি তার বিপরীতে আল্লাহর কিতাব পেশ করছ! অথচ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমার চেয়ে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত ছিলেন।’ ইমাম দারেমী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আবু বকর আল-আজরুরী তাঁর ‘আশ-শারীআহ’ গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত যে, তিনি জনৈক ইহরামকারী ব্যক্তিকে সাধারণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখলেন। তিনি তাকে ধমক দিলে সেই ব্যক্তি বলল, ‘আমার পোশাক খুলে ফেলার ব্যাপারে মহামহিম আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত দেখান।’ তখন তিনি তাকে এই আয়াত পড়ে শোনালেন— ‘রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।’ আবু বকর আল-আজরুরী তাঁর ‘আশ-শারীআহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

বুকায়ের ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আশাজ থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: ‘অদূর ভবিষ্যতে এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তোমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে। তখন তোমরা সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করবে। কারণ সুন্নাহর ধারকগণই মহামহিম আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন।’ ইমাম দারেমী এবং আবু বকর আল-আজরুরী তাঁর ‘আশ-শারীআহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘সুন্নাহ কুরআনের প্রয়োগক্ষেত্র নির্ধারণকারী, কিন্তু কুরআন সুন্নাহর ওপর অনুরূপ নির্ণায়ক নয়।’ ইমাম দারেমী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

হাসসান—যিনি তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ইবনে আতিয়্যাহ—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন, ঠিক যেভাবে তিনি কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন।’ ইমাম দারেমী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ ‘সহীহ’ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

 

এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: ‘আল্লাহ আপনার ওপর কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন।’ ইবনে কাসীর বলেন, ‘কিতাব হলো কুরআন এবং হিকমত হলো সুন্নাহ।’ (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: ‘তোমাদের ওপর আল্লাহর যে নেয়ামত রয়েছে তা স্মরণ করো এবং তোমাদের ওপর যে কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন যা দ্বারা তিনি তোমাদের উপদেশ দেন।’ ইবনে জারীর ‘হিকমত’ শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ ‘তোমাদের ওপর যে হিকমত অবতীর্ণ করা হয়েছে তা হলো সেই সকল সুন্নাহ যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের শিখিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য প্রবর্তন করেছেন।’ আর ইবনে কাসীর ‘তোমাদের ওপর কিতাব থেকে যা অবতীর্ণ করেছেন’ এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘অর্থাৎ কুরআন’।
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ৯)
(والحكمة) يعني السنة وقيل مواعظ القرآن، وقال تعالى مخبراً عن إبراهيم وإسماعيل أنهما قالا (ربنا وابعث فيهم رسولا منهم يتلو عليهم آياتك ويعلمهم الكتاب والحكمة) قال ابن كثير في قوله (ويعلمهم الكتاب) يعني القرآن (والحكمة) يعني السنة قاله الحسن وقتادة ومقاتل بن حيان وأبو مالك. وقيل الفهم في الدين ولا منافاة انتهى. وقال تعالى (كما أرسلنا فيكم رسولا منكم يتلو عليكم آياتنا ويزكيكم ويعلمكم الكتاب والحكمة) قال ابن كثير الكتاب هو القرآن والحكمة هي السنة. وقال ابن جرير يعني بالحكمة السنن والفقه في الدين انتهى.

ونقل البيهقي في كتابه المدخل عن الشافعي أنه قال سمعت من أرضى من أهل العلم بالقرآن يقول الحكمة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم روى بأسانيده عن الحسن وقتادة ويحيى بن أبي كثير أنهم قالوا الحكمة في هذه الآية السنة انتهى.

وقد ثبت في قضايا كثيرة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا سئل عن الشيء الذي لا علم له به نزل عليه الوحي ببيان ذلك. وفي كل منها دليل لما قاله حسان بن عطية.

قال ابن حزم في كتاب الأحكام. لما بينا أن القرآن هو الأصل المرجوع إليه في الشرائع نظرنا فيه فوجدنا فيه إيجاب طاعة ما أمرنا به رسول الله صلى الله عليه وسلم ووجدناه عز وجل يقول فيه واصفا لرسوله صلى الله عليه وسلم (وما ينطق عن الهوى، إن هو إلا وحي يوحى) فصح لنا بذلك أن الوحي ينقسم من الله عز وجل إلى رسوله صلى الله عليه وسلم على قسمين أحدهما وحي متلو مؤلف تأليفا معجز النظام وهو القرآن، والثاني وحي مروي منقول غير مؤلف ولا معجز النظام ولا متلو لكنه مقروء وهو الخبر الوارد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو المبين عن الله عز وجل مراده منا قال الله تعالى (لتبين للناس ما نزل إليهم) ووجدناه تعالى قد أوجب طاعة هذا القسم الثاني كما أوجب طاعة القسم الأول الذي هو القرآن ولا فرق فقال تعالى (وأطيعوا الله وأطيعوا الرسول) فكانت الأخبار التي ذكرنا أحد الأصول الثلاثة التي ألزمنا طاعتها في الآية الجامعة لجميع الشرائع أولها وآخرها وهي قوله تعالى (يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله) فهذا أصل وهو القرآن، ثم قال تعالى (وأطيعوا الرسول) فهذا ثان وهو الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم قال تعالى (وأولي الأمر منكم) فهذا ثالث وهو الإجماع المنقول إلى رسول الله حكمه، وصح لنا بنص القرآن أن
(প্রজ্ঞা) মানে হলো সুন্নাহ, আবার কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ কুরআনের উপদেশাবলি। মহান আল্লাহ ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিমাস সালাম)-এর সংবাদ দিয়ে বলেন: (হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেবেন)। ইবনে কাসীর (কিতাব শিক্ষা দেবেন) অংশের ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ কুরআন; আর (প্রজ্ঞা) মানে হলো সুন্নাহ—একথা হাসান, কাতাদাহ, মুকাতিল ইবনে হাইয়ান এবং আবু মালিক বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ দ্বীনের সঠিক বুঝ। তবে এ সবগুলোর মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (যেভাবে আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন)। ইবনে কাসীর বলেন, কিতাব হলো কুরআন আর প্রজ্ঞা হলো সুন্নাহ। ইবনে জারীর বলেন, প্রজ্ঞা দ্বারা সুন্নাহসমূহ এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফকহ) বোঝানো হয়েছে।

বায়হাকী তাঁর 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি কুরআনের জ্ঞানে পারদর্শী এমন বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বলতে শুনেছি যে, প্রজ্ঞা (হিকমত) হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ। অতঃপর তিনি হাসান, কাতাদাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে তাঁদের সনদসহ বর্ণনা করেন যে, তাঁরা বলেছেন: এই আয়াতে প্রজ্ঞা বলতে সুন্নাহকেই বোঝানো হয়েছে।

অসংখ্য ঘটনায় এটি প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতেন যে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল না, তখন সেই বিষয়ের বর্ণনায় তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতো। এগুলোর প্রত্যেকটির মধ্যেই হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ যা বলেছেন তার সপক্ষে দলিল রয়েছে।

ইবনে হাযম তাঁর 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে বলেন: যখন আমরা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছি যে, শরীআতের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে কুরআনই হলো মূল উৎস যেদিকে প্রত্যাবর্তন করতে হয়, তখন আমরা তাতে লক্ষ্য করে দেখলাম যে, সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন তা মান্য করাকে ওয়াজিব করা হয়েছে। আমরা মহান আল্লাহকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলতে শুনেছি: (তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়)। এর মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহী দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো তিলাওয়াতকৃত ওহী যা অলৌকিক রচনশৈলীতে সুসংবদ্ধ আর তা হলো কুরআন। দ্বিতীয়টি হলো বর্ণিত ও হস্তান্তরিত ওহী যা আলৌকিক রচনশৈলীতে সুসংবদ্ধ নয় এবং তিলাওয়াতও করা হয় না, তবে তা পাঠ করা হয়—আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদ (হাদীস), যা আমাদের জন্য মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য বর্ণনা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (যাতে আপনি মানুষের কাছে তা বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে)। আমরা দেখেছি যে, আল্লাহ তাআলা এই দ্বিতীয় প্রকার ওহীর আনুগত্যকেও তেমনভাবেই আবশ্যক করেছেন যেমনভাবে প্রথম প্রকার ওহী অর্থাৎ কুরআনের আনুগত্যকে আবশ্যক করেছেন, এ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: (তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো)। সুতরাং আমরা যে সংবাদগুলোর কথা উল্লেখ করেছি তা শরীআতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত বিধানের অন্তর্ভুক্তিকারী সেই ব্যাপক আয়াতটিতে নির্দেশিত তিনটি মূলনীতির একটি, যার আনুগত্য করা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয়াতের প্রথমাংশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো)—এটি প্রথম মূলনীতি অর্থাৎ কুরআন। এরপর তিনি বলেন: (এবং রাসূলের আনুগত্য করো)—এটি দ্বিতীয় মূলনীতি অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত সংবাদ (সুন্নাহ)। এরপর তিনি বলেন: (এবং তোমাদের উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের আনুগত্য করো)—এটি তৃতীয় মূলনীতি যা হলো ইজমা বা ঐকমত্য, যার বিধান রাসূলুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর কুরআনের ভাষ্য দ্বারাই আমাদের কাছে এটি প্রমাণিত যে—
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১০)
الأخبار هي أحد الأصلين المرجوع إليهما عند التنازع قال تعالى (فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر) انتهى.

وقال ابن حزم أيضا في كتاب الأحكام جاء النص ثم لم يختلف فيه مسلمان في أن ما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قاله ففرض اتباعه وأنه تفسير لمراد الله تعالى في القرآن وبيان لمجمله انتهى.

وقد تقدم في الفصل الأول قول البربهاري إذا سمعت الرجل تأتيه بالأثر فلا يريده ويريد القرآن فلا تشك أنه رجل قد احتوى على الزندقة انتهى.

وقال أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة ينبغي لأهل العلم والعقل إذا سمعوا قائلا يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في شيء قد ثبت عند العلماء فعارض إنسان جاهل فقال لا أقبل إلا ما كان في كتاب الله عز وجل قيل له أنت رجل سوء وأنت ممن حذرناك رسول الله صلى الله عليه وسلم وحذر منك العلماء. وقيل له يا جاهل إن الله عز وجل أنزل فرائضه جملة وأمر نبيه صلى الله عليه وسلم أن يبين للناس ما أنزل إليهم قال الله عز وجل (وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم ولعلهم يتفكرون) فأقام الله عز وجل نبيه صلى الله عليه وسلم مقام البيان عنه وأمر الخلق بطاعته ونهاهم عن معصيته وأمرهم بالانتهاء عما نهاهم عنه وقال عز وجل (وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا) ثم حذرهم أن يخالفوا أمر الرسول صلى الله عليه وسلم فقال عز وجل (فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب اليم) وقال تبارك وتعالى (فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما) ثم فرض على الخلق طاعته صلى الله عليه وسلم في نيف وثلاثين موضعا من كتابه عز وجل.

وقيل لهذا المعارض لسنن الرسول صلى الله عليه وسلم يا جاهل قال الله عز وجل (وأقيموا الصلاة وآتوا الزكاة) أين تجد في كتاب الله عز وجل أن الفجر ركعتان وأن الظهر أربع وأن العصر أربع وأن المغرب ثلاث وأن العشاء أربع وأين تجد أحكام الصلاة ومواقيتها وما يصلحها وما يبطلها إلا من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومثلها الزكاة أين تجد في كتاب الله عز وجل من مائتي درهم خمسة دراهم ومن عشرين دينارا نصف دينار ومن أربعين شاة شاة ومن خمس من الإِبل شاة، ومن جميع أحكام الزكاة أين تجدها في كتاب الله عز وجل. وكذلك جميع فرائض الله عز وجل التي فرضها الله جل وعلا في كتابه لا يعلم الحكم فيها إلا بسنن الرسول صلى
সংবাদসমূহ (হাদিস) হলো সেই দুটি মূল উৎসের একটি, যার দিকে বিরোধের সময় প্রত্যাবর্তন করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো।) উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

ইবনে হাজম তাঁর 'আল-ইহকাম' গ্রন্থে আরও বলেছেন: অকাট্য দলিল অবতীর্ণ হয়েছে এবং এরপর কোনো দুইজন মুসলিমের মধ্যেও এই বিষয়ে দ্বিমত নেই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা সহিহ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি তা বলেছেন, তবে তার অনুসরণ করা ফরজ। আর তা হলো কুরআনে আল্লাহ তাআলার অভিপ্রায়ের তাফসির এবং তাঁর সংক্ষিপ্ত বাণীর বিশদ বর্ণনা। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

প্রথম পরিচ্ছেদে আল-বারবাহারির উক্তি অতিবাহিত হয়েছে: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে দেখবে যে, তুমি তার কাছে কোনো বর্ণনা (আসার) নিয়ে এসেছ অথচ সে তা চাইছে না বরং কেবল কুরআন চাইছে, তবে তুমি নিশ্চিত থেকো যে সে ব্যক্তি জিন্দিকি বা ধর্মদ্রোহিতায় লিপ্ত। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

আবু বকর আল-আজুররি তাঁর 'আশ-শারিয়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারীদের উচিত যখন তারা কোনো বক্তাকে বলতে শুনবেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো বিষয়ে কিছু বলেছেন যা ওলামাদের নিকট প্রমাণিত, এমতাবস্থায় যদি কোনো মূর্খ লোক এর বিরোধিতা করে বলে—'আমি মহান আল্লাহর কিতাবে যা আছে তা ছাড়া আর কিছু গ্রহণ করব না', তবে তাকে বলা হবে—তুমি একজন মন্দ লোক, আর তুমি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সতর্ক করেছেন এবং ওলামায়ে কেরামও তোমার সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এবং তাকে বলা হবে, হে মূর্খ! আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর ফরজ বিধানসমূহ সংক্ষিপ্তভাবে অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি মানুষের কাছে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন (আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে)। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যাদাতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন, সৃষ্টির সকল জীবকে তাঁর আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁর অবাধ্যতা হতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি যা হতে বারণ করেছেন তা হতে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন (রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা হতে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো)। অতঃপর তিনি তাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশের বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করে বলেছেন (সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে)। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আরও বলেছেন (কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে না নেবে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে বিষয়ে নিজেদের মনে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বোধ করবে না এবং তা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেবে)। অতঃপর তিনি তাঁর কিতাবের ত্রিশটিরও বেশি স্থানে সৃষ্টির ওপর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনুগত্য ফরজ করেছেন।

রাসুলের সুন্নাহর এই বিরোধিতাকারীকে বলা হবে: হে মূর্খ! মহান আল্লাহ বলেছেন (তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো)। আল্লাহর কিতাবের কোথায় তুমি পাবে যে ফজরের সালাত দুই রাকাত, জোহরের চার রাকাত, আসরের চার রাকাত, মাগরিবের তিন রাকাত এবং এশার চার রাকাত? আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ ব্যতীত কোথায় তুমি সালাতের হুকুম-আহকাম, এর ওয়াক্তসমূহ এবং যা সালাতকে সংশোধন করে কিংবা বাতিল করে—সেসবের হদিস পাবে? তেমনিভাবে জাকাত—কোথায় তুমি আল্লাহর কিতাবে পাবে যে দুইশ দিরহামে পাঁচ দিরহাম, বিশ দিনারে অর্ধেক দিনার, চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল এবং পাঁচটি উটে একটি ছাগল দিতে হয়? জাকাতের যাবতীয় আহকাম আল্লাহর কিতাবের কোথায় তুমি খুঁজে পাবে? অনুরূপভাবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে যেসব ফরজ বিধান নির্ধারণ করেছেন, রাসুলের সুন্নাহ ব্যতিরেকে সেগুলোর কোনো হুকুমই জানা সম্ভব নয়...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১১)
الله عليه وسلم. هذا قول علماء المسلمين ومن قال غير هذا خرج عن ملة الإِسلام ودخل في ملة الملحدين، نعوذ بالله من الضلالة بعد الهدى. انتهى كلامه رحمه الله تعالى.

وفيما ذكرته أبلغ رد على الملحد الجاهل صالح أبي بكر وعلى أمثاله من الملحدين الذين يردون الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم ويعارضونها بالشبه والآراء والأهواء.

 

فصل

قال ابن القيم رحمه الله تعالى في كتابه «إعلام الموقعين» وقد صنف الإِمام أحمد رضي الله عنه كتابا في طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم رد فيه على من احتج بظاهر القرآن في معارضة سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم وترك الاحتجاج بها فقال في أثناء خطبته. إن الله جل ثناؤه وتقدست أسماؤه بعث محمدا بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون وأنزل عليه كتابه الهدى والنور لمن اتبعه وجعل رسوله الدال على ما أراد من ظاهره وباطنه وخاصه وعامه وناسخه ومنسوخه وما قصد له الكتاب فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو المعبر عن كتاب الله الدال على معانيه. شاهده في ذلك أصحابه الذين ارتضاهم الله لنبيه واصطفاهم له ونقلوا ذلك عنه فكانوا هم أعلم الناس برسول الله صلى الله عليه وسلم وبما أراد الله من كتابه بمشاهدتهم وما قصد له الكتاب فكانوا هم المعبرين عن ذلك بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال جابر رضي الله عنه، ورسول الله صلى الله عليه وسلم بين أظهرنا عليه ينزل القرآن وهو يعرف تأويله وما عمل به من شيء عملنا. ثم ساق الآيات الدالة على طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم إلى أن قال - ثم ذكر أحمد الاحتجاج على إبطال قول من عارض السنن بظاهر القرآن وردها بذلك.

قال ابن القيم وهذا فعل الذين يستمسكون بالمتشابه في رد المحكم فإن لم يجدوا لفظا متشابها غير المحكم يردونه به استخرجوا من المحكم وصفا متشابها وردوه به فلهم طريقان في رد السنن أحدهما ردها بالمتشابه من القرآن أو من السنن، الثاني جعلهم المحكم متشابها ليعطلوا دلالته، وأما طريقة الصحابة والتابعين وأئمة الحديث كالشافعي
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এটিই মুসলিম আলেমগণের অভিমত। যে ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম কিছু বলবে, সে ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে এবং নাস্তিকদের দলে অন্তর্ভুক্ত হবে। হিদায়াত লাভের পর আমরা গোমরাহি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁর কথা এখানেই শেষ হলো, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন।

আমি যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যে মূর্খ নাস্তিক সালিহ আবু বকর এবং তার মতো অন্যান্য নাস্তিকদের জন্য দাঁতভাঙা জবাব রয়েছে, যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত হাদিসগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সেগুলোকে সংশয়, ব্যক্তিগত রায় ও প্রবৃত্তির দ্বারা মোকাবিলা করে।

 

পরিচ্ছেদ

ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিইন' গ্রন্থে বলেছেন: ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন, যেখানে তিনি তাদের প্রতিবাদ করেছেন যারা রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর বিরোধিতা করতে এবং তা থেকে দলিল গ্রহণ বর্জন করতে কুরআনের বাহ্যিক অর্থের (যাহির) দোহাই দেয়। তিনি তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা অতি উচ্চ এবং নামসমূহ পবিত্র—মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। তিনি তাঁর প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যা তাঁর অনুসারীদের জন্য হিদায়াত ও আলো। তিনি তাঁর রাসূলকে ঐ কিতাবের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, বিশেষ ও সাধারণ, রহিতকারী ও রহিত এবং কিতাবের মূল উদ্দেশ্য কী তার পথপ্রদর্শক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অতএব, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন আল্লাহর কিতাবের ভাষ্যকার এবং এর মর্মার্থের দিশারি। এ বিষয়ে তাঁর সাক্ষী ছিলেন তাঁর সাহাবীগণ, যাঁদের আল্লাহ তাঁর নবীর জন্য পছন্দ করেছেন ও মনোনীত করেছেন। তাঁরা তাঁর থেকে এগুলো বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তাঁরাই ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে এবং কিতাবের মাধ্যমে আল্লাহ কী ইচ্ছা করেছেন সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞাত; কারণ তাঁরা ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী এবং কিতাবের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর তাঁরাই ছিলেন এর ব্যাখ্যা প্রদানকারী। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে অবস্থান করছিলেন, তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং তিনি এর ব্যাখ্যা জানতেন। তিনি যা আমল করতেন, আমরাও তাই করতাম।" এরপর তিনি (ইমাম আহমাদ) রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্যের নির্দেশক আয়াতগুলো উল্লেখ করেন এবং বলেন—অতঃপর আহমাদ ঐ ব্যক্তিদের বক্তব্য বাতিল করার সপক্ষে যুক্তি প্রদান করেন যারা কুরআনের বাহ্যিক অর্থ দিয়ে সুন্নাহর বিরোধিতা করে এবং তার মাধ্যমে সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করে।

ইবনুল কায়্যিম বলেন: এটি তাদেরই কাজ যারা মুহকাম (সুস্পষ্ট) বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট বা রূপক) বিষয়কে আঁকড়ে ধরে। যদি তারা মুহকাম ব্যতীত কোনো মুতাশাবিহ শব্দ খুঁজে না পায় যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করবে, তবে তারা মুহকাম থেকেই কোনো অস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য উদ্ভাবন করে এবং তা দিয়ে সেটি প্রত্যাখ্যান করে। সুন্নাহ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে তাদের দুটি পথ রয়েছে: প্রথমত, কুরআন বা সুন্নাহর কোনো মুতাশাবিহ বিষয় দিয়ে সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা। দ্বিতীয়ত, মুহকাম বিষয়কে মুতাশাবিহ বানিয়ে ফেলা যাতে তার প্রমাণিকতাকে অকার্যকর করা যায়। অন্যদিকে সাহাবী, তাবিঈ এবং শাফিঈর ন্যায় হাদিসের ইমামগণের পদ্ধতি হলো...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১২)
وأحمد مالك وأبي حنيفة وأبي يوسف والبخاري وإسحاق فعكس هذه الطريق وهي أنهم يردون المتشابه إلى المحكم ويأخذون من المحكم ما يفسر لهم المتشابه ويبينه لهم فتتفق دلالته مع دلالة المحكم وتوافق النصوص بعضها بعضا ويصدق بعضها بعضا فإِنها كلها من عند الله وما كان من عند الله فلا اختلاف فيه ولا تناقض وإنما الاختلاف والتناقض فيما كان من عند غيره انتهى المقصود من كلامه رحمه الله تعالى.

وقال ابن القيم أيضا في كتابه «إعلام الموقعين» ولو كان كل ما أوجبته السنة ولم يوجبه القرآن نسخا له لبطل أكثر سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم ودفع في صدورها وأعجازها وقال القائل هذه زيادة على ما في كتاب الله فلا تقبل ولا يعمل بها.

وهذا بعينه هو الذي أخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه سيقع وحذر منه كما في السنن من حديث المقدام بن معد يكرب عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال «ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه» وفي لفظ «يوشك أن يقعد الرجل على أريكته فيحدث بحديثي فيقول بيني وبينكم كتاب الله فما وجدنا فيه حلالا استحللناه وما وجدنا فيه حراماً حرمناه وإن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم كما حرم الله» قال الترمذي حديث حسن وقال البيهقي إسناده صحيح.

وقال صالح بن موسى عن عبد العزيز بن رفيع عن أبي صالح عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إني قد خلفت فيكم شيئين لن تضلوا بعدهما كتاب الله وسنتي ولن يفترقا حتى يردا عليّ الحوض» فلا يجوز التفريق بين ما جمع الله بينهما ويرد أحدهما بالآخر - إلى أن قال - والسنة مع القرآن على ثلاثة أوجه أحدها أن تكون موافقة له من كل وجه فيكون توارد القرآن والسنة على الحكم الواحد من باب توارد الأدلة وتظافرها، الثاني أن تكون بيانا لما أريد بالقرآن وتفسيراً له، الثالث أن تكون موجبة لحكم سكت القرآن عن إيجابه أو محرمة لما سكت عن تحريمه ولا تخرج عن هذه الأقسام فلا تعارض القرآن بوجه ما. فما كان منها زائداً على القرآن فهو تشريع مبتدأ من النبي صلى الله عليه وسلم تجب طاعته فيه ولا تحل معصيته وليس هذا تقديما لها على كتاب الله بل امتثال لما أمر الله به من طاعة رسوله، ولو
আহমদ, মালিক, আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, বুখারী এবং ইসহাক (রাহিমাহুমুল্লাহ) এই পথের বিপরীত পথ অবলম্বন করেছেন; আর তা হলো তারা মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) বিষয়গুলোকে মুহকাম (সুস্পষ্ট) বিষয়ের দিকে প্রত্যানয়ন করেন এবং মুহকাম থেকে এমন নির্যাস গ্রহণ করেন যা তাদের নিকট মুতাশাবিহকে ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করে দেয়। ফলে এগুলোর মর্মার্থ মুহকামের মর্মার্থের সাথে সংগতিপূর্ণ হয় এবং শরিয়তের পাঠসমূহ একে অপরের অনুকূল হয় ও একটি অন্যটিকে সত্যায়ন করে। কারণ এ সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আর যা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাতে কোনো বিভেদ বা বৈপরীত্য থাকে না। বৈপরীত্য ও বিভেদ কেবল তাতেই থাকে যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে আসে। তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) বক্তব্যের উদ্দেশ্য এখানেই সমাপ্ত।

ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘ই’লামুল মুওয়াক্কিয়িন’ গ্রন্থে আরও বলেন, সুন্নাহ যে বিষয়কে ওয়াজিব করেছে অথচ কুরআন তা সরাসরি ওয়াজিব করেনি, এমন প্রতিটি বিষয়কে যদি কুরআনের জন্য রহিতকারী (নাসখ) গণ্য করা হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকাংশ সুন্নাহ বাতিল হয়ে যেত এবং সেগুলোর মূলে ও শাখায় আঘাত আসত। তখন কোনো বক্তা হয়তো বলত: এটি আল্লাহর কিতাবের অতিরিক্ত বিধান, তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর ওপর আমল করা যাবে না।

আর এটিই সেই বিষয় যা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন যে তা অচিরেই ঘটবে এবং তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। যেমন সুনান গ্রন্থসমূহে মিকদাম ইবনে মাদীকারিব (রা.) হতে বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সাবধান! আমাকে কুরআন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে, তোমরা কেবল এই কুরআনকে আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল মানবে আর যা হারাম পাবে তাকেই হারাম মানবে।” অন্য শব্দে এসেছে: “অচিরেই কোনো ব্যক্তি তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার কোনো হাদীস বর্ণনা করা হলে সে বলবে, আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; তাতে আমরা যা হালাল পাব তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তা-ই হারাম হিসেবে গ্রহণ করব। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ।” ইমাম তিরমিযী একে হাসান হাদীস বলেছেন এবং ইমাম বায়হাকী এর সনদকে সহীহ বলেছেন।

সালিহ ইবনে মূসা আব্দুল আজীজ ইবনে রফী থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যে পর্যন্ত তোমরা তা আঁকড়ে থাকবে সে পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না; তা হলো আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ। এ দুটি হাউজে (কাওসারে) আমার নিকট উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত কখনোই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।” সুতরাং আল্লাহ যে দুটি বিষয়কে একত্রিত করেছেন তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো জায়েজ নয় এবং একটির মাধ্যমে অন্যটিকে প্রত্যাখ্যান করাও বৈধ নয়। —তিনি আরও বলেন— কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক তিন প্রকার: প্রথমত, সুন্নাহ কুরআনের সাথে সর্বাংশে সংগতিপূর্ণ হবে; ফলে একই বিধানের ওপর কুরআন ও সুন্নাহর একত্র হওয়া হবে দলিলের আধিক্য ও পারস্পরিক শক্তিশালীকরণের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত, সুন্নাহ কুরআনের উদ্দেশ্যের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা প্রদানকারী হবে। তৃতীয়ত, সুন্নাহ এমন কোনো বিধান আবশ্যক করবে যে বিষয়ে কুরআন নিরব ছিল, কিংবা এমন কিছু হারাম করবে যে বিষয়ে কুরআন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। সুন্নাহ এই প্রকারগুলোর বাইরে যায় না, তাই কোনো অবস্থাতেই তা কুরআনের বিরোধী নয়। সুন্নাহর যে অংশ কুরআনের অতিরিক্ত, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রবর্তিত স্বতন্ত্র বিধান (তাশরি), যার আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং অবাধ্য হওয়া অবৈধ। এটি আল্লাহর কিতাবের ওপর সুন্নাহকে প্রাধান্য দেওয়া নয়, বরং রাসূলের আনুগত্য করার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশেরই অনুসরণ। আর যদি
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يطاع في هذا القسم لم يكن لطاعته معنى وسقطت طاعته المختصة به. وأنه إذا لم تجب إلا فيما وافق القرآن لا فيما زاد عليه لم يكن له طاعة خاصة تختص به وقد قال الله تعالى (من يطع الرسول فقد أطاع الله).

وكيف يمكن أحداً من أهل العلم أن لا يقبل حديثا زائداً على كتاب الله فلا يقبل حديث تحريم المرأة على عمتها ولا على خالتها ولا حديث التحريم بالرضاعة. لكل ما يحرم من النسب ولا حديث خيار الشرط ولا أحاديث الشفعة ولا حديث الرهن في الحضر مع أنه زائد على ما في القرآن ولا حديث ميراث الجدة ولا حديث تخيير الأمة إذا عتقت تحت زوجها ولا حديث منع الحائض من الصوم والصلاة ولا حديث وجوب الكفارة على من جامع في نهار رمضان ولا أحاديث إحداد المتوفى عنها زوجها مع زيادتها على ما في القرآن من العدة - ثم ذكر ابن القيم رحمه الله تعالى أمثلة كثيرة من الأحاديث التي أخذ الناس بها وهي زائدة على ما في القرآن إلى أن قال - بل أحكام السنة التي ليست في القرآن إن لم تكن أكثر منها لم تنقص عنها فلو ساغ لنا رد كل سنة كانت زائدة على نص القرآن لبطلت سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم كلها إلا سنة دل عليها القرآن وهذا هو الذي أخبر النبي صلى الله عليه وسلم بأنه سيقع ولا بد من وقوع خبره - إلى أن قال - والله سبحانه ولاه منصب التشريع عنه ابتداء كما ولاه منصب البيان لما أراد بكلامه، بل كلامه كله بيان عن الله والزيادة بجميع وجوهها لا تخرج عن البيان بوجه من الوجوه، بل كان السلف الصالح الطيب إذا سمعوا الحديث عنه وجدوا تصديقه في القرآن ولم يقل أحد منهم قط في حديث واحد أبداً أن هذه زيادة على القرآن فلا نقبله ولا نسمعه ولا نعمل به، ورسول الله صلى الله عليه وسلم أجل في صدورهم وسنته أعظم عندهم من ذلك وأكبر انتهى المقصود من كلامه رحمه الله تعالى.

 

فصل

وقد كان السف الصالح يعظون السنة غاية التعظيم وينكرون أشد الإِنكار على الذين يتهاونون بالأحاديث الصحيحة وعلى الذين يعارضونها بأقوال الناس وآرائهم وربما هجروا بعضهم إلى الممات. وقد روى مسلم في صحيحه عن سالم بن عبد الله أن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول
যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই ক্ষেত্রে আনুগত্য না করা হয়, তবে তাঁর আনুগত্যের কোনো অর্থ থাকে না এবং তাঁর বিশেষ আনুগত্যের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর যদি তাঁর আনুগত্য কেবলমাত্র কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং কুরআনের অতিরিক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ওয়াজিব না হয়, তবে তাঁর জন্য আর কোনো বিশেষ আনুগত্য অবশিষ্ট থাকে না। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।"

ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে এমনটি কার পক্ষে সম্ভব যে, তিনি আল্লাহর কিতাবের অতিরিক্ত কোনো হাদিস গ্রহণ করবেন না? ফলে তিনি ফুফু বা খালার উপস্থিতিতে কোনো মহিলাকে বিবাহ করা হারাম হওয়ার হাদিস গ্রহণ করবেন না, কিংবা বংশীয় সম্পর্কের কারণে যা কিছু হারাম হয় দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম হওয়ার হাদিস গ্রহণ করবেন না। তেমনিভাবে তিনি শর্তসাপেক্ষ এখতিয়ার (খিয়ারুশ শর্ত), শুফআহ সংক্রান্ত হাদিস, এবং মুকিম অবস্থায় বন্ধক রাখার হাদিস গ্রহণ করবেন না—অথচ এগুলো কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের অতিরিক্ত। একইভাবে দাদীর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত হাদিস, স্বামীর অধীনে থাকাবস্থায় দাসী মুক্ত হলে তার এখতিয়ার সংক্রান্ত হাদিস, ঋতুবতী মহিলার রোজা ও সালাত নিষিদ্ধ হওয়ার হাদিস, রমজানের দিনে সহবাসকারীর ওপর কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার হাদিস, এবং বিধবা নারীর শোক পালনের হাদিসগুলোও গ্রহণ করবেন না—অথচ এগুলো কুরআনে বর্ণিত ইদ্দতের মেয়াদের অতিরিক্ত। অতঃপর ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ এমন বহু হাদিসের উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা মানুষ আমল হিসেবে গ্রহণ করেছে অথচ সেগুলো কুরআনের অতিরিক্ত। অবশেষে তিনি বলেন— বরং সুন্নাহর যে সমস্ত বিধান কুরআনে নেই, সেগুলো যদি কুরআনের বিধানের চেয়ে বেশি না-ও হয়, তবে তা কোনো অংশেই কম নয়। সুতরাং কুরআনের স্পষ্ট বিধানের অতিরিক্ত প্রতিটি সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা যদি আমাদের জন্য বৈধ হতো, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত সুন্নাহই বাতিল হয়ে যেত, কেবল সেই সুন্নাহ ব্যতীত যার প্রতি কুরআন নির্দেশ করেছে। আর এটিই সেই বিষয় যার সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছিলেন যে তা অবশ্যই ঘটবে—এবং তাঁর সংবাদ বাস্তবায়িত হওয়া অনিবার্য। তিনি আরও বলেন— আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে প্রথম থেকেই তাঁর পক্ষ থেকে বিধান প্রণয়নের মর্যাদা দান করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁকে তাঁর কালামের উদ্দেশ্য বর্ণনার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। বরং তাঁর সমগ্র বক্তব্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা ও ব্যাখ্যাস্বরূপ। আর সুন্নাহর এই অতিরিক্ত বিধানসমূহ কোনোভাবেই ব্যাখ্যার সীমানার বাইরে নয়। বরং পুণ্যবান সালাফগণ যখনই তাঁর থেকে কোনো হাদিস শুনতেন, তাঁরা কুরআনে তার সত্যায়ন খুঁজে পেতেন। তাঁদের কেউ কোনো একটি হাদিস সম্পর্কেও কখনো বলেননি যে, এটি কুরআনের অতিরিক্ত, তাই আমরা এটি গ্রহণ করব না, শুনব না বা এর ওপর আমল করব না। তাঁদের অন্তরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা এবং তাঁর সুন্নাহর গুরুত্ব এর চেয়ে অনেক বেশি ও মহান ছিল। তাঁর বক্তব্য থেকে উদ্দিষ্ট অংশ এখানেই সমাপ্ত।

 

পরিচ্ছেদ

সালাফগণ সুন্নাহকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করতেন এবং যারা সহিহ হাদিসের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করত কিংবা যারা মানুষের কথা ও মতামতের মাধ্যমে সুন্নাহর বিরোধিতা করত, তাদের তারা তীব্র নিন্দা জানাতেন। এমনকি অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত তারা এদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখতেন। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে সালিম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
«لا تمنعوا نساءكم المساجد إذا استأذنكم إليها» قال فقال بلال بن عبد الله والله لنمنعهن قال فأقبل عليه عبد الله فسبه سبا سيئا ما سمعته سبه مثله قط وقال أخبرك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول والله لنمنعهن، وفي رواية له عن مجاهد أنه ضرب في صدره. وقد روى البخاري المرفوع منه فقط. ورواه الإِمام أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه والدارمي وغيرهم بنحو رواية مسلم. وروى أبو داود الطيالسي رواية مجاهد وقال فرفع يده فلطمه فقال أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول هذا، وفي رواية لأحمد فما كلمه عبد الله حتى مات.

قال النووي فيه تعزير المعترض على السنة والمعارض لها برأيه، وفيه تعزير الوالد ولده وإن كان كبيراً انتهى.

وفيه أيضا جواز التأديب بالهجران قاله الحافظ ابن حجر وفي مستدرك الحاكم عن عمرو بن مسلم قال خذف رجل عند ابن عمر رضي الله عنهما فقال لا تخذف فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم «ينهى عن الخذف» ثم رآه ابن عمر رضي الله عنهما بعد ذلك يخذف فقال أنبأتك أن النبي صلى الله عليه وسلم ينهى عن الخذف ثم خذفت والله لا أكلمك أبداً.

وفي الصحيحين عن عبد الله بن بريدة قال رأى عبد الله بن المغفل رضي الله عنه رجلا من أصحابه يخذف فقال له لا تخذف فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يكره أو قال ينهى عن الخذف فإِنه لا يصاد به الصيد ولا ينكأ به العدو ولكنه يكسر السن ويفقأ العين ثم رآه بعد ذلك يخذف فقال له أخبرك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يكره أو ينهى عن الخذف ثم أراك تخذف لا أكلمك كلمة كذا وكذا، هذا لفظ مسلم. وقد رواه الدارمي في سننه بنحوه وقال فيه والله لا أكلمك أبدا، وإسناده صحيح على شرط الشيخين، ورواه الإِمام أحمد وأبو داود مختصرا. ورواه مسلم أيضا وابن ماجه من حديث سعيد بن جبير أن قريبا لعبد الله بن مغفل رضي الله عنه خذف قال فنهاه وقال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم «نهى عن الخذف وقال إنها لا تصيد صيدا ولا تنكأ عدواً ولكنها تكسر السن وتفقأ العين» قال فعاد فقال أحدثك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى ثم تخذف لا أكلمك أبداً. هذا لفظ مسلم. وفي رواية ابن ماجه أن عبد الله بن مغفل رضي الله عنه كان جالسا
«তোমরা তোমাদের নারীদের মসজিদে যেতে বাধা দিও না যখন তারা তোমাদের কাছে অনুমতি চায়» বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবদুল্লাহর পুত্র বিলাল বললেন, "আল্লাহর শপথ! আমরা অবশ্যই তাদের বাধা দেব।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) তার দিকে ফিরে তাকে এমন কঠোর ভাষায় তিরস্কার করলেন যা আমি তাকে ইতিপূর্বে কখনও করতে শুনিনি। তিনি বললেন, "আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী শোনাচ্ছি, আর তুমি বলছ—আল্লাহর শপথ, আমরা অবশ্যই তাদের বাধা দেব!" মুজাহিদ থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি তার বুকে আঘাত করেছিলেন। ইমাম বুখারী কেবল মারফু (রাসূলের কথা সম্বলিত) অংশটুকু বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারেমী এবং অন্যান্যরা মুসলিমের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ আত-তায়ালিসি মুজাহিদের বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি হাত উঠিয়ে তাকে একটি চড় মারলেন এবং বললেন, "আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস শোনাচ্ছি আর তুমি এরূপ কথা বলছ!" আহমাদের অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, আবদুল্লাহ তার সাথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর কথা বলেননি।

ইমাম নববী বলেন, এতে সুন্নাহর প্রতি আপত্তিকারী এবং নিজ যুক্তি দিয়ে সুন্নাহর বিরোধিতা করা ব্যক্তির তিরস্কার ও শাস্তির প্রমাণ রয়েছে। এতে আরও প্রমাণ রয়েছে যে, পিতা তার সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তাকে শাসন বা তিরস্কার করতে পারেন। (সমাপ্ত)

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, এতে কথাবার্তা বন্ধ রাখার (হিজরান) মাধ্যমে শাসন করার বৈধতাও প্রমাণিত হয়। হাকেমের মুস্তাদরাকে আমর ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার সামনে ছোট পাথর নিক্ষেপ করছিল। তিনি বললেন, "পাথর নিক্ষেপ করো না, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করতে শুনেছি।" এরপর ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে পুনরায় পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে বললেন, "আমি তোমাকে জানালাম যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন, অথচ তুমি আবারও তা করছ! আল্লাহর শপথ, আমি তোমার সাথে কখনও কথা বলব না।"

সহীহাইন-এ আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তার এক সাথীকে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে বললেন, "পাথর নিক্ষেপ করো না; কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করা অপছন্দ করতেন অথবা তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন। কারণ এর দ্বারা শিকার করা যায় না এবং শত্রুকেও পরাস্ত করা যায় না, বরং এটি দাঁত ভেঙে ফেলে এবং চোখ উপড়ে ফেলে।" এরপর তিনি পুনরায় তাকে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে বললেন, "আমি তোমাকে জানাচ্ছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করা অপছন্দ করতেন বা নিষেধ করেছেন, অথচ আমি তোমাকে আবারও পাথর নিক্ষেপ করতে দেখছি! আমি তোমার সাথে আর কোনো কথা বলব না।" এটি মুসলিমের শব্দ। দারেমী তার সুনানে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে, "আল্লাহর শপথ, আমি তোমার সাথে কখনও কথা বলব না।" এর সনদ শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ। ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এবং ইবনে মাজাহ সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর এক নিকটাত্মীয় পাথর নিক্ষেপ করছিল, তখন তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি শিকার ধরে না এবং শত্রুকেও ঘায়েল করে না, বরং এটি দাঁত ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে পুনরায় তা করল। তখন তিনি বললেন, "আমি তোমাকে হাদীস শোনাচ্ছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, আর তুমি পুনরায় পাথর নিক্ষেপ করছ! আমি তোমার সাথে কখনও কথা বলব না।" এটি মুসলিমের শব্দ। ইবনে মাজাহর বর্ণনায় রয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বসা ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
إلى جنب ابن أخ له فخذف فنهاه وذكر تمام الحديث بنحو رواية مسلم وفيه قال لا أكلمك أبداً.

وروى الدارمي في سننه عن خراش بن جبير قال رأيت في المسجد فتى يخذف فقال له شيخ لا تخذف فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم «ينهى عن الخذف» فغفل الفتى فظن أن الشيخ لا يفطن له فخذف فقال له الشيخ أحدثك أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن الخذف ثم تخذف والله لا أشهد لك جنازة ولا أعودك في مرض ولا أكلمك أبداً.

وروى الدارمي أيضا عن أيوب عن سعيد بن جبير عن عبد الله بن مغفل رضي الله عنه قال «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخذف وقال إنها لا تصطاد صيدا ولا تنكأ عدوا ولكنها تكسر السن وتفقأ العين» فرفع رجل بينه وبين سعيد قرابة شيئا من الأرض فقال هذه وما تكون هذه فقال سعيد ألا أراني أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم تهاون به لا أكلمك أبداً، إسناده صحيح على شرط الشيخين.

وروى الدارمي أيضا عن قتادة قال حدث ابن سيرين رجلا بحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم فقال رجل قال فلان كذا وكذا فقال ابن سيرين أحدثك عن النبي صلى الله عليه وسلم وتقول قال فلان كذا وكذا لا أكلمك أبداً. إسناده جيد رجاله كلهم ثقات.

قال النووي في الكلام على حديث عبد الله بن مغفل رضي الله عنه فيه هجران أهل البدع والفسوق ومنابذي السنة مع العلم وأنه يجوز هجرانه دائما. والنهي عن الهجران فوق ثلاثة أيام إنما هو فيمن هجر لحظ نفسه ومعايش الدنيا. وأما أهل البدع ونحوهم فهجرانهم دائما، وهذا الحديث مما يؤيده مع نظائر له كحديث كعب بن مالك وغيره انتهى.

وقال الحافظ ابن حجر في الحديث جواز هجران من خالف السنة وترك كلامه ولا يدخل ذلك في النهي عن الهجر فوق ثلاث فإنه يتعلق بمن هجر لحظ نفسه انتهى.

وفي سنن ابن ماجه أن عبادة بن الصامت رضي الله عنه غزى مع معاوية رضي الله عنه أرض الروم فنظر إلى الناس وهم يتبايعون كسر الذهب بالدنانير وكسر
[তিনি] তাঁর এক ভ্রাতুষ্পুত্রের পাশে ছিলেন, যে পাথর ছুড়ছিল। তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং ইমাম মুসলিমের বর্ণনার অনুরূপ পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করলেন, যাতে রয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: "আমি তোমার সাথে কখনোই কথা বলব না।"

দারেমি তাঁর সুনান গ্রন্থে খিরাশ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মসজিদে এক যুবককে ছোট পাথর ছুড়তে দেখলাম। তখন এক বৃদ্ধ তাকে বললেন: তুমি পাথর ছুড়ো না, কারণ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘পাথর ছোড়া নিষেধ করতে’ শুনেছি। যুবকটি অমনোযোগী হয়ে পড়ল এবং ভাবল যে বৃদ্ধটি তাকে লক্ষ্য করছেন না, তাই সে আবারও পাথর ছুড়ল। তখন বৃদ্ধটি তাকে বললেন: আমি তোমাকে বলছি যে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাথর ছোড়া নিষেধ করতে শুনেছি, আর তুমি তবুও পাথর ছুড়ছ! আল্লাহর কসম, আমি তোমার জানাজায় উপস্থিত হব না, তোমার অসুস্থতায় তোমাকে দেখতে যাব না এবং তোমার সাথে কখনোই কথা বলব না।

দারেমি আরও বর্ণনা করেন আইয়ুব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, যিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট পাথর ছোড়া নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন যে, এর দ্বারা কোনো শিকার করা যায় না এবং শত্রুকেও ঘায়েল করা যায় না, বরং এটি দাঁত ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে।" তখন সাঈদ এবং তাঁর এক আত্মীয়ের মাঝে থাকা এক ব্যক্তি মাটি থেকে কিছু একটা তুলে নিল [তাচ্ছিল্যভরে]। সাঈদ বললেন: আমি তোমার কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করছি আর তুমি তা অবজ্ঞা করছ? আমি তোমার সাথে কখনোই কথা বলব না। এর সনদ বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ।

দারেমি আরও বর্ণনা করেন কাতাদা থেকে, তিনি বলেন: ইবনে সিরিন এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস শোনালেন। তখন এক ব্যক্তি বলল: অমুক তো এমন এমন কথা বলেছেন। ইবনে সিরিন বললেন: আমি তোমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করছি আর তুমি বলছ অমুক এমন বলেছে? আমি তোমার সাথে কখনোই কথা বলব না। এর সনদ উত্তম এবং বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য।

ইমাম নববী আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: এতে বিদআতপন্থী, পাপাচারী এবং জেনে-শুনে সুন্নাহ ত্যাগকারীদের বর্জন করার প্রমাণ রয়েছে এবং এটিও প্রমাণিত হয় যে তাদের স্থায়ীভাবে বর্জন করা জায়েজ। আর তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ ও পার্থিব জীবন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু বিদআতপন্থী ও তাদের ন্যায় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বর্জন স্থায়ী হবে। এই হাদিসটি কাব ইবনে মালেক ও অন্যদের হাদিসের ন্যায় অনুরূপ বর্ণনার মাধ্যমে সমর্থিত। (সমাপ্ত)

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এই হাদিসে সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের বর্জন করার এবং তাদের সাথে কথাবার্তা ত্যাগ করার বৈধতা রয়েছে। এটি তিন দিনের বেশি বর্জনের নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ সেই নিষেধাজ্ঞা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে বর্জনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (সমাপ্ত)

সুনান ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত আছে যে, উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে রোম দেশে যুদ্ধে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লোকজনকে সোনার টুকরোর বিনিময়ে দিনার এবং সোনার টুকরো ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখলেন...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
الفضة بالدراهم فقال يا أيها الناس إنكم تأكلون الربا سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول «لا تبتاعوا الذهب بالذهب إلا مثلا بمثل لا زيادة بينهما ولا نظرة» فقال له معاوية يا أبا الوليد لا أرى الربا في هذا إلا ما كان من نظرة فقال عبادة أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتحدثني عن رأيك لئن أخرجني الله لا أساكنك بأرض لك عليّ فيها إمرة فلما قفل لحق بالمدينة فقال له عمر بن الخطاب رضي الله عنه ما أقدمك يا أبا الوليد فقص عليه القصة وما قال من مساكنته فقال ارجع يا أبا الوليد إلى أرضك فقبح الله أرضا لست فيها وأمثالك وكتب إلى معاوية لا إمرة لك عليه واحمل الناس على ما قال فإِنه هو الأمر.

ورواه الدارمي في سننه مختصراً ولفظه عن أبي المخارق قال ذكر عبادة بن الصامت رضي الله عه أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن درهمين بدرهم فقال فلان ما أرى بهذا بأسا يداً بيد فقال عبادة أقول قال النبي صلى الله عليه وسلم وتقول لا أرى به بأسا والله لا يظلني وإياك سقف أبداً.

وفي هذا الحديث جواز هجر من خالف السنة وعارضها برأيه وروى مالك في الموطأ والشافعي في مسنده من طريق مالك عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار أن معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما باع سقاية من ذهب أو ورق بأكثر من وزنها فقال أبو الدرداء رضي الله عنه سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن مثل هذا إلا مثلا بمثل فقال له معاوية ما أرى بمثل هذا بأسا فقال أبو الدراء رضي الله عنه من يعذرني من معاوية أنا أخبره عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ويخبرني عن رأيه لا أساكنك بأرض أنت بها ثم قدم أبو الدرداء على عمر بن الخطاب رضي الله عنه فذكر ذلك له فكتب عمر بن الخطاب رضي الله عنه إلى معاوية أن لا تبيع ذلك إلا مثلا بمثل وزنا بوزن.

قوله فقال أبو الدرداء رضي الله عنه من يعذرني من معاوية إلى آخره قال ابن عبد البر كان ذلك منه أنفة من أن يرد عليه سنة علمها من رسول الله صلى الله عليه وسلم برأيه، وصدور العلماء تضيق عن مثل هذا وهو عندهم عظيم رد السنن بالرأي. قال وجائز للمرء أن يهجر من لم يسمع منه ولم يطعه وليس هذا من الهجرة المكروهة ألا ترى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر الناس أن لا يكلموا كعب بن مالك حين تخلف عن تبوك. قال وهذا أصل عند العلماء في مجانبة من ابتدع وهجرته وقطع
দিরহামের বিনিময়ে রৌপ্য (লেনদেন বিষয়ে), তিনি বললেন: হে লোকসকল! তোমরা সুদ ভক্ষণ করছ। আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ ক্রয় করো না, তবে তা সমান সমান হতে হবে; তাতে কোনো কম-বেশি থাকবে না এবং কোনো বাকিতে লেনদেন হবে না।" তখন মুআবিয়া তাকে বললেন: হে আবু ওয়ালিদ! আমি এতে বাকিতে লেনদেন ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে সুদ দেখি না। তখন উবাদাহ বললেন: আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করছি, আর তুমি আমাকে নিজের অভিমত দিচ্ছ! যদি আল্লাহ আমাকে (এখান থেকে) নিষ্কৃতি দেন, তবে আমি এমন কোনো স্থানে তোমার সাথে বসবাস করব না যেখানে আমার ওপর তোমার কর্তৃত্ব থাকবে। অতঃপর তিনি যখন প্রস্থান করে মদিনায় পৌঁছালেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু ওয়ালিদ! কিসে আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছে? তখন তিনি তাঁর নিকট পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন এবং তাঁর সাথে বসবাস না করার বিষয়ে যা বলেছিলেন তা উল্লেখ করলেন। ওমর বললেন: হে আবু ওয়ালিদ! আপনি আপনার এলাকায় ফিরে যান। আল্লাহ সেই ভূখণ্ডকে কলঙ্কিত করুন যেখানে আপনার এবং আপনার মতো লোকদের উপস্থিতি নেই। এরপর তিনি মুআবিয়ার নিকট লিখে পাঠালেন: তাঁর (উবাদাহর) ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব নেই, এবং লোকজনকে তিনি যা বলেছেন সে অনুযায়ী পরিচালিত করো, কারণ এটাই সঠিক নির্দেশ।

ইমাম দারেমি তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। এর পাঠ হলো: আবুল মুখারিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উবাদাহ ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম (বিনিময়) করতে নিষেধ করেছেন। তখন অমুক ব্যক্তি বলল: হাতে হাতে (নগদ) লেনদেনে আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। তখন উবাদাহ বললেন: আমি বলছি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তুমি বলছ এতে কোনো সমস্যা দেখছ না! আল্লাহর শপথ! কোনো ছাদ কখনো আমাকে এবং তোমাকে একত্রে ছায়া দেবে না।

এই হাদিসে এমন ব্যক্তিকে বর্জন বা বয়কট করার বৈধতা পাওয়া যায় যে সুন্নাহর বিরোধিতা করে এবং সুন্নাহর বিপরীতে নিজের রায় বা অভিমত পেশ করে। ইমাম মালিক 'মুয়াত্তা' গ্রন্থে এবং শাফিঈ তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে মালিকের সূত্রে জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা স্বর্ণ বা রৌপ্যের তৈরি একটি পানির পাত্র তার ওজনের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করেছিলেন। তখন আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই জাতীয় লেনদেন থেকে নিষেধ করতে শুনেছি, তবে তা সমান সমান হতে হবে। তখন মুআবিয়া তাকে বললেন: আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: মুআবিয়ার ব্যাপারে কে আমাকে সাহায্য করবে? আমি তাঁকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শোনাচ্ছি আর তিনি আমাকে নিজের অভিমত ব্যক্ত করছেন! আমি এমন ভূখণ্ডে তোমার সাথে বসবাস করব না যেখানে তুমি আছো। অতঃপর আবু দারদা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আসলেন এবং বিষয়টি তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মুআবিয়ার নিকট লিখে পাঠালেন যে, সমান সমান এবং ওজনে ওজন (ঠিক রেখে) ছাড়া তা বিক্রি করবে না।

তাঁর উক্তি—"আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: মুআবিয়ার ব্যাপারে কে আমাকে সাহায্য করবে"—প্রসঙ্গে ইবনে আব্দুল বার বলেন: এটি তাঁর পক্ষ থেকে এমন এক আত্মমর্যাদাবোধ ছিল যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তিনি যে সুন্নাহর জ্ঞান লাভ করেছেন, সেটিকে ব্যক্তিগত অভিমত দিয়ে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। উলামায়ে কেরামের অন্তরসমূহ এই জাতীয় বিষয়ে সংকুচিত হয়ে যায়; তাঁদের নিকট যুক্তির মাধ্যমে সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা এক অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি (সুন্নাহর কথা) শোনে না এবং আনুগত্য করে না, তাকে বর্জন করা একজন ব্যক্তির জন্য বৈধ। এটি সেই ঘৃণ্য সম্পর্কচ্ছেদ (হিজরত) নয়। আপনি কি দেখেন না যে, কাব ইবনে মালিক যখন তাবুক যুদ্ধ থেকে পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনকে তাঁর সাথে কথা না বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন? তিনি বলেন: বিদআতি ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা, বর্জন করা এবং তাঁর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের নিকট এটিই মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
الكلام عنه. وقد رأى ابن مسعود رضي الله عنه رجلا يضحك في جنازة فقال والله لا أكلمك أبداً. انتهى كلام ابن عبد البر رحمه الله تعالى.

وهذا الأثر الذي ذكره عن ابن مسعود رضي الله عنه قد رواه الإِمام أحمد في كتاب الزهد فقال حدثنا سفيان حدثنا عبد الرحمن بن حميد سمعه من شيخ من بني عبس أبصر عبد الله رجلا يضحك في جنازة فقال تضحك في جنازة لا أكلمك أبداً.

وفي المسند بإِسناد صحيح عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما قال تمتع النبي صلى الله عليه وسلم فقال عروة بن الزبير نهى أبو بكر وعمر عن المتعة فقال ابن عباس رضي الله عنهما ما يقول عرية قال يقول نهى أبو بكر وعمر عن المتعة فقال ابن عباس رضي الله عنهما أراهم سيهلكون أقول قال النبي صلى الله عليه وسلم ويقولون نهى أبو بكر وعمر.

وإذا كان هذا قول ابن عباس رضي الله عنهما لمن عارض قول النبي صلى الله عليه وسلم بقول أبي بكر وعمر رضي الله عنهما فكيف بمن اطرح الأحاديث الصحيحة ونبذها وراء ظهره ولم يعبأ بها مثل صالح أبي بكر وأشباهه من الملحدين فهؤلاء أولى بالإِنكار الشديد والتأديب الذي يردعهم عن معارضة الأحاديث الصحيحة والاستهانة بها والله المستعان.

وروى الإِمام أحمد والبخاري والنسائي عن الزبير بن عربي قال سأل رجل ابن عمر رضي الله عنهما عن استلام الحجر فقال رأيت رسول الله صلى عليه وسلم يستلمه ويقبله قال قلت أرأيت إن زحمت أرأيت إن غلبت قال اجعل أرأيت باليمن، رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يستلمه ويقبله.

وقد رواه أبو داود الطيالسي في مسنده قال حدثنا حماد بن زيد قال حدثنا الزبير بن العربي قال سألت ابن عمر رضي الله عنهما عن المزاحمة على الحجر فقال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يستلمه ويقبله فقلت أرأيت أن أغلب أو أزحم قال اجعل أرأيت مع ذلك الكوكب رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبله ويستلمه.

قوله اجعل أرأيت باليمن قال الحافظ بن حجر في فتح الباري إنما قال له ذلك لأنه فهم منه معارضة الحديث بالرأي فأنكر عليه ذلك وأمره إذا سمع الحديث أن
তাঁর বিষয়ে আলোচনা। ইবনে মাসউদ (রা.) এক ব্যক্তিকে জানাজায় হাসতে দেখে বলেছিলেন, "আল্লাহর কসম, আমি তোমার সাথে কখনোই কথা বলব না।" ইবনে আবদিল বার (রহ.)-এর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এই আসারটি (বর্ণনাটি) ইমাম আহমাদ তাঁর 'কিতাবুয যুহদ'-এ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনুল হুমাইদ থেকে, তিনি বনু আবস গোত্রের একজন শায়খের নিকট শুনেছেন—তিনি আব্দুল্লাহকে (ইবনে মাসউদ) এক ব্যক্তিকে জানাজায় হাসতে দেখতে পেলেন; তখন তিনি বললেন: "তুমি জানাজায় হাসছ? আমি তোমার সাথে কখনোই কথা বলব না।"

এবং 'মুসনাদ'-এ সহীহ সনদে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামাত্তু (হজ্জ) করেছেন। তখন উরওয়াহ ইবনে যুবাইর বললেন: আবু বকর ও উমর তামাত্তু করতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: উরাইয়াহ (উরওয়াহ-এর আদুরে নাম) কী বলছে? বর্ণনাকারী বললেন: সে বলছে যে আবু বকর ও উমর তামাত্তু করতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: আমার মনে হয় তারা অচিরেই ধ্বংস হবে; আমি বলছি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তারা বলছে আবু বকর ও উমর নিষেধ করেছেন।

যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিপরীতে আবু বকর ও উমর (রা.)-এর কথা পেশ করার কারণে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বক্তব্য এমন হয়, তবে তাদের অবস্থা কী হবে যারা সহীহ হাদীসসমূহকে বর্জন করে এবং সেগুলো পিঠের পেছনে ফেলে দেয়, আর সেগুলোর কোনো তোয়াক্কাই করে না—যেমন সালেহ আবু বকর এবং তার মতো অন্যান্য ধর্মত্যাগীরা (মুলহিদ)? এরা কঠোর তিরস্কার এবং এমন শাস্তির অধিক উপযুক্ত যা তাদের সহীহ হাদীসের বিরোধিতা ও অবজ্ঞা করা থেকে বিরত রাখবে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

ইমাম আহমাদ, বুখারী ও নাসাঈ জুবায়ের ইবনে আরাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি ইবনে উমর (রা.)-কে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা স্পর্শ করতে ও চুম্বন করতে দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম: আপনার কী মত যদি আমি ভিড়ের মধ্যে পড়ি? আপনার কী মত যদি আমি পরাস্ত হই? তিনি বললেন: তোমার 'আপনার কী মত' কথাটি ইয়ামেনে পাঠিয়ে দাও; আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা স্পর্শ করতে ও চুম্বন করতে দেখেছি।

আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে জায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জুবায়ের ইবনুল আরাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমর (রা.)-কে হাজরে আসওয়াদের নিকট ভিড় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা স্পর্শ করতে ও চুম্বন করতে দেখেছি। আমি বললাম: আপনার কী মত যদি আমি পরাস্ত হই বা ভিড়ে পড়ে যাই? তিনি বললেন: তোমার 'আপনার কী মত' কথাটি ঐ নক্ষত্রের সাথে রেখে দাও; আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা চুম্বন করতে ও স্পর্শ করতে দেখেছি।

তাঁর উক্তি 'তোমার "আপনার কী মত" কথাটি ইয়ামেনে পাঠিয়ে দাও' সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'-তে বলেন: তিনি তাকে এই কথাটি বলেছিলেন কারণ তিনি তার থেকে হাদীসের বিপরীতে নিজস্ব রায়ের (মতামত) বিরোধিতা উপলব্ধি করেছিলেন। ফলে তিনি তার এই আচরণের প্রতিবাদ করেন এবং তাকে নির্দেশ দেন যে যখন সে হাদীস শুনবে তখন যেন...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
يأخذ به ويتقي الرأي انتهى.

وروى الدارقطني بإِسناد صحيح عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إذا استيقظ أحدكم من منامه فلا يدخل يده في الإناء حتى يغسلها ثلاث مرات فإِنه لا يدري أين باتت يده منه أو أين طافت يده» فقال له رجل أرأيت إن كان حوضا فحصبه ابن عمر وقال أخبرك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول أرأيت إن كان حوضا. وقد رواه ابن ماجه مختصرا ولم يذكر قصة الرجل مع ابن عمر وإسناده صحيح على شرط مسلم.

وإنما حصب ابن عمر رضي الله عنهما الرجل لأنه فهم منه معارضة الحديث بالرأي فأنكر عليه وحصبه.

وروى الإِمام أحمد بإِسناد صحيح والبيهقي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إذا استيقظ أحدكم من نومه فليفرغ على يديه من إنائه ثلاث مرات فإنه لا يدري أين باتت يده» فقال له قيس الأشجعي فإِذا جئنا مهراسكم هذا فكيف نصنع به فقال أبو هريرة أعوذ بالله من شرك. هذا لفظ البيهقي.

وإنما تعوذ أبو هريرة رضي الله عنه من شره لأنه فهم منه معارضة الحديث بالرأي فأنكر عليه ذلك وتعوذ بالله من شره.

وقال الترمذي في جامعه «باب ما جاء في اشعار البدن» حدثنا أبو كريب أخبرنا وكيع عن هشام الدستوائي عن قتادة عن أبي حسان الأعرج عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم «قلد نعلين وأشعر الهدي في الشق الأيمن بذي الحليفة وأماط عنه الدم» قال الترمذي حديث حسن صحيح. قال والعمل على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم يرون الإشعار وهو قول الثوري والشافعي وأحمد وإسحاق. قال سمعت يوسف بن عيسى يقول سمعت وكيعا يقول حين روى هذا الحديث فقال لا تنظروا إلى قول أهل الرأي في هذا فإن الإِشعار سنة وقولهم بدعة. قال سمعت أبا السائب يقول كنا عند وكيع فقال لرجل ممن ينظر في الرأي أشعر رسول الله صلى الله عليه وسلم ويقول أبو حنيفة هو مثلة، قال الرجل فإِنه قد روي عن إبراهيم النخعي أنه قال الإِشعار مثلة قال فرأيت وكيعا غضب غضبا شديدا وقال أقول لك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول قال إبراهيم ما أحقك بأن تحبس ثم لا تخرج حتى تنزع عن قولك هذا.
তিনি তা গ্রহণ করতেন এবং ব্যক্তিগত রায় (মতামত) থেকে বেঁচে থাকতেন। (সমাপ্ত)

দারাকুতনী সহীহ সনদে ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, সে যেন তার হাত পাত্রে না ঢোকায় যতক্ষণ না তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কেননা সে জানে না তার হাতটি শরীরের কোথায় রাত কাটিয়েছে বা কোথায় বিচরণ করেছে।" তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, "যদি তা হাউজ (বড় জলাধার) হয়, তবে আপনার অভিমত কী?" ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে পাথর ছুড়ে মারলেন এবং বললেন, "আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীস শোনাচ্ছি, আর তুমি বলছ 'যদি হাউজ হয় তবে আপনার অভিমত কী'?" ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে ওমরের সাথে লোকটির ঘটনা উল্লেখ করেননি; এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।

ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) লোকটিকে কেবল এ কারণেই পাথর ছুড়ে মেরেছিলেন যে, তিনি তার কথায় রায়ের (ব্যক্তিগত অভিমত) মাধ্যমে হাদীসের বিরোধিতা করার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন; ফলে তিনি তার প্রতিবাদ করলেন এবং তাকে পাথর ছুড়ে মারলেন।

ইমাম আহমদ সহীহ সনদে এবং বায়হাকী আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, তখন সে যেন পাত্র থেকে নিজের হাতের ওপর তিনবার পানি ঢালে; কেননা সে জানে না তার হাতটি কোথায় রাত কাটিয়েছে।" তখন কায়েস আল-আশজাঈ তাঁকে বললেন, "যদি আমরা আপনাদের এই 'মিহরাস' (পাথরের বড় পানির পাত্র) এর কাছে আসি, তবে আমরা কী করব?" আবু হুরায়রা বললেন, "আমি তোমার মন্দভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।" এটি বায়হাকীর শব্দবিন্যাস।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার মন্দভাব থেকে এ কারণেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন যে, তিনি তার কথায় রায়ের মাধ্যমে হাদীসের বিরোধিতা করার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন; ফলে তিনি তার প্রতিবাদ করলেন এবং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইলেন।

ইমাম তিরমিযী তাঁর জামে (সুনান) গ্রন্থে লিখেছেন: "কুরবানীর পশুর পিঠে চিহ্ন দেওয়া (ইশআর) সংক্রান্ত অধ্যায়"। আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি ওয়াকী থেকে, তিনি হিশাম আদ-দাস্তুয়ায়ী থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আবু হাসসান আল-আরাজ থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুল-হুলাইফাতে দুটি জুতো পশুর গলায় ঝুলিয়েছিলেন এবং কুরবানীর পশুর ডান পাশে ইশআর (চামড়া চিরে চিহ্ন) করেছিলেন এবং রক্ত মুছে দিয়েছিলেন। ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। তিনি আরও বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এবং অন্যদের মধ্যে যারা জ্ঞানী ছিলেন, তাঁদের আমল ছিল এর ওপরই; তাঁরা ইশআর করাকে জায়েয মনে করতেন। এটি সাওরী, শাফেঈ, আহমদ এবং ইসহাক-এর অভিমত। তিনি বলেন, আমি ইউসুফ ইবনে ঈসাকে বলতে শুনেছি, তিনি ওয়াকীকে এই হাদীস বর্ণনা করার সময় বলতে শুনেছেন যে, "তোমরা এ বিষয়ে আহলে রায়ের (যুক্তিপন্থীদের) কথার দিকে দৃষ্টি দিও না; কেননা ইশআর হচ্ছে সুন্নাত, আর তাদের কথা হলো বিদআত।" তিনি আরও বলেন, আমি আবু সাইবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা ওয়াকীর কাছে ছিলাম, তখন তিনি রায় নিয়ে গবেষণাকারী এক ব্যক্তিকে বললেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশআর করেছেন, অথচ আবু হানীফা বলেন এটি 'মুসলাহ' (অঙ্গহানি)!" লোকটি বলল, "ইবরাহীম নাখঈ থেকেও তো বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন—ইশআর হলো মুসলাহ।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি ওয়াকীকে প্রচণ্ড রাগান্বিত হতে দেখলাম এবং তিনি বললেন, "আমি তোমাকে বলছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আর তুমি বলছ ইবরাহীম (নাখঈ) বলেছেন! তোমার তো কারাবরণ করাই পাওনা, যেখান থেকে তুমি তোমার এই কথা পরিহার না করা পর্যন্ত বের হতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال الشافعي في كتاب الرسالة أخبرني أبو حنيفة سماك بن الفضل الشيباني قال حدثني ابن أبي ذئب عن المقبري عن أبي شريح الكعبي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال عام الفتح «من قتل له قتيل فهو بخير النظرين إن أحب أخذ العقل وإن أحب فله القود» فقلت لابن أبي ذئب أتأخذ بهذا يا أبا الحارث فضرب صدري وصاح عليّ صياحا كثيرا ونال مني وقال أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقول تأخذ به. نعم آخذ به وذاك الفرض عليّ وعلى من سمعه. إن الله عز وجل اختار محمداً صلى الله عليه وسلم من الناس فهداهم به وعلى يديه واختار لهم ما اختار له وعلى لسانه فعلى الخلق أن يتبعوه طائعين أو داخرين لا مخرج لمسلم من ذلك. قال وما سكت عني حتى تمنيت أن يسكت.

وقال الفضل بن زياد عن أحمد بن حنبل قال بلغ ابن أبي ذئب أن مالكا لم يأخذ بحديث «البيعان بالخيار» فقال يستتاب في الخيار فإِن تاب وإلا ضربت عنقه، قال أحمد ومالك لم يرد الحديث ولكن تأوله على غير ذلك، فقال شامي من أعلم مالك أو ابن أبي ذئب فقال ابن أبي ذئب في هذا أكثر من مالك وابن أبي ذئب أصلح في بدنه وأورع وأقوم بالحق من مالك عند السلاطين انتهى من طبقات الحنابلة.

وإذا كان هذا قول ابن أبي ذئب في الإِمام مالك حين تأول حديثا واحداً على غير تأويله فكيف بأدعياء العلم من العصريين الذين يردون المئات من الأحاديث الصحيحة وينبذونها وراء ظهورهم زاعمين كذبا وزوراً أنها أحاديث إسرائيلية تخالف القرآن فهؤلاء أولى أن يستتابوا فإِن تابوا وإلا ضربت أعناقهم. والله المسئول أن يبعث لدينه وأحاديث رسوله صلى الله عليه وسلم أنصاراً يجاهدون أهل الزيغ والفساد ولا تأخذهم في الله لومة لائم.

وقال أبو العباس أحمد بن يحيى المعروف بثعلب حدثني محمد بن عبيد بن ميمون حدثني عبد الله بن إسحاق الجعفري قال كان عبد الله بن الحسن يكثر الجلوس إلى ربيعة قال فتذاكروا يوما السنن فقال رجل كان في المجلس ليس العمل على هذا فقال عبد الله أرأيت إن كثر الجهال حتى يكونوا هم الحكام أفهم الحجة على السنة فقال ربيعة أشهد أن هذا كلام أبناء الأنبياء ذكره ابن القيم في كتابه «إغاثة اللهفان».

ইমাম শাফেঈ তাঁর ‘আর-রিসালা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আবু হানিফা সিমাক ইবনুল ফজল আশ-শায়বানি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনে আবি জিব আল-মাকবুরি থেকে এবং তিনি আবু শুরাইহ আল-কাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কারো কোনো আত্মীয় নিহত হলে সে দুটি বিষয়ের মধ্যে উত্তমটি বেছে নেওয়ার অধিকার লাভ করবে; সে চাইলে রক্তপণ গ্রহণ করবে অথবা চাইলে কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণ করবে।” তখন আমি ইবনে আবি জিবকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু আল-হারিস! আপনি কি এই হাদিস অনুযায়ী আমল করেন? তখন তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন এবং আমার ওপর অত্যন্ত চিৎকার করলেন ও আমাকে ভর্ৎসনা করে বললেন, “আমি তোমার কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বর্ণনা করছি, আর তুমি জিজ্ঞেস করছ আমি তা গ্রহণ করি কি না! হ্যাঁ, আমি তা গ্রহণ করি এবং এটি আমার ওপর এবং যে ব্যক্তি তা শুনেছে তার ওপরও ফরজ। মহান আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর হাতে তাদের হিদায়াত দান করেছেন। আর তিনি যা তাঁর নিজের জন্য পছন্দ করেছেন, তাঁর রসনার মাধ্যমে তা মানুষের জন্যও পছন্দ করেছেন। সুতরাং সৃষ্টির কর্তব্য হলো সন্তুষ্ট চিত্তে বা অবাধ্যতা পরিহার করে তাঁর অনুসরণ করা। কোনো মুসলিমের জন্য তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমার প্রতি ধমক দেওয়া থেকে ততক্ষণ বিরত হলেন না, যতক্ষণ না আমি মনে মনে আকাঙ্ক্ষা করছিলাম যে তিনি যেন এখন থামেন।

ফজল ইবনে যিয়াদ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ইবনে আবি জিবের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, ইমাম মালিক ‘ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার’ সংক্রান্ত হাদিস অনুযায়ী আমল করেননি। তখন ইবনে আবি জিব বললেন, “তাকে তওবা করতে বলা উচিত, যদি সে তওবা করে তবে ভালো, নতুবা তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া উচিত।” ইমাম আহমাদ বলেন, ইমাম মালিক হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং তিনি এর ভিন্ন ব্যাখ্যা করেছিলেন। তখন এক শামি ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “মালিক এবং ইবনে আবি জিব—এই দুজনের মধ্যে কে বেশি জ্ঞানী?” তিনি বললেন, “এই বিষয়ে ইবনে আবি জিব ইমাম মালিকের চেয়েও অগ্রগামী। আর ইবনে আবি জিব শারীরিক দিক থেকে অধিক সৎকর্মশীল, অধিক পরহেজগার এবং শাসকদের সামনে সত্য প্রতিষ্ঠায় ইমাম মালিকের চেয়েও বেশি দৃঢ় ছিলেন।” তবাকাতুল হানাবিলা থেকে সমাপ্ত।

ইমাম মালিকের মতো মহান ব্যক্তি যখন একটি হাদিসের ভিন্ন ব্যাখ্যা করেছিলেন, তখন তাঁর সম্পর্কে যদি ইবনে আবি জিবের বক্তব্য এমন কঠোর হয়, তবে বর্তমান যুগের সেই সব জ্ঞানপাপীদের অবস্থা কী হবে যারা শত শত সহিহ হাদিস প্রত্যাখ্যান করে এবং সেগুলোকে অবজ্ঞার সাথে পেছনে নিক্ষেপ করে? তারা মিথ্যা ও প্রবঞ্চনার আশ্রয় নিয়ে দাবি করে যে, এই হাদিসগুলো নাকি ‘ইসরায়েলি বর্ণনা’ এবং কুরআনের পরিপন্থী! মূলত এরাই তওবা করানোর জন্য বেশি যোগ্য; যদি তারা তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাদের গর্দান উড়িয়ে দেওয়া সমীচীন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন তাঁর দ্বীন এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের জন্য এমন সাহায্যকারী পাঠান যারা বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে তোয়াক্কা করবে না।

আবু আব্বাস আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া (যিনি ছা’লাব নামে পরিচিত) বলেন, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে মাইমুন আমাকে বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-জাফরি বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে হাসান প্রায়ই রাবিয়ার মজলিসে বসতেন। তিনি বলেন, একদিন তারা সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন মজলিসে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলে উঠল, “বর্তমান আমল তো এর ওপর ভিত্তি করে নয়।” তখন আবদুল্লাহ বললেন, “তোমার কী মনে হয়, যদি মূর্খদের সংখ্যা এত বৃদ্ধি পায় যে তারাই বিচারক হয়ে বসে, তবে কি তারা সুন্নাহর বিপরীতে দলিল হিসেবে গণ্য হবে?” তখন রাবিয়া বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, এটি নবীদের বংশধরদের যোগ্য কথা।” ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘ইগাছাতুল লাহফান’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২০)
وروى الخطيب البغدادي في تأريخه من طريق يعقوب بن سفيان قال سمعت علي بن المديني يقول قال محمد بن خازم كنت أقرأ حديث الأعمش عن أبي صالح على أمير المؤمنين هارون فكلما قلت قال رسول الله. قال صلى الله على سيدي ومولاي حتى ذكرت حديث «التقى آدم وموسى» فقال عمه - وسماه عليٌّ فذهب عليَّ - فقال يا محمد أين التقيا قال فغضب هارون وقال من طرح إليك هذا وأمر به فحبس ووكل بي من حشمه من أدخلني إليه في محبسه فقال يا محمد والله ما هو إلا شيء خطر ببالي وحلف لي بالعتق وصدقة المال وغير ذلك من مغلظات الأيمان. ما سمعت ذلك من أحد ولا جرى بيني وبين أحد في هذا كلام وما هو إلا شيء خطر ببالي لم يجر بيني وبين أحد فيه كلام قال فلما رجعت إلى أمير المؤمنين كلمته قال ليدلني على من طرح إليه هذا الكلام فقلت يا أمير المؤمنين قد حلف بالعتق ومغلظات الأيمان أنه إنما هو شيء خطر ببالي لم يجر بيني وبين أحد فيه كلام قال فأمر به فأطلق من الحبس وقال لي يا محمد ويحك إنما توهمت أنه طرح إليه بعض الملحدين هذا الكلام الذي خرج منه فيدلني عليهم فأستبيحهم وإلا فأنا على يقين أن القرشي لا يتزندق. قال هذا أو نحوه من الكلام.

وروى أبو عثمان الصابوني في عقيدته بإِسناده عن محمد بن حاتم المظفري قال كان أبو معاوية الضرير يحدث هارون الرشيد فحدثه بحديث أبي هريرة «احتج آدم وموسى» فقال عيسى بن جعفر كيف هذا وبين آدم وموسى ما بينهما قال فوثب به هارون وقال يحدثك عن الرسول صلى الله عليه وسلم وتعارضه بكيف قال فما زال يقول حتى سكت عنه.

قال الصابوني هكذا ينبغي للمرء أن يعظم أخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم ويقابلها بالقبول والتسليم والتصديق وينكر أشد الإِنكار على من يسلك فيها غير هذا الطريق الذي سلكه هارون الرشيد مع من اعترض على الخبر الصحيح الذي سمعه بكيف على طريق الإِنكار له والابتعاد عنه ولم يتلقه بالقبول كما يجب أن يتلقى جميع ما يرد عن الرسول صلى الله عليه وسلم انتهى كلامه رحمه الله تعالى.

وقال الإِمام أحمد رحمه الله تعالى عجبت لقوم عرفوا الإِسناد وصحته يذهبون إلى رأي سفيان والله تعالى يقول (فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم) أتدري ما الفتنة. الفتنة الشرك لعله إذا رد بعض قوله أن يقع في
খতিব আল-বাগদাদি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল মাদিনিকে বলতে শুনেছি, মুহাম্মাদ ইবনে খাযিম বলেছেন: আমি আমিরুল মুমিনিন হারুনের সামনে আবু সালেহ থেকে বর্ণিত আমাশের হাদিসগুলো পাঠ করছিলাম। যখনই আমি বলতাম, 'রাসূলুল্লাহ বলেছেন', তখনই তিনি বলতেন, 'আমার সায়্যিদ ও মাওলার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক'। যতক্ষণ না আমি 'আদম ও মুসার সাক্ষাৎ' বিষয়ক হাদিসটি উল্লেখ করলাম। তখন তাঁর চাচা—যাঁর নাম আলী (ইবনুল মাদিনি) উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আমি তা ভুলে গিয়েছি—প্রশ্ন করলেন, 'হে মুহাম্মাদ! তাঁদের কোথায় সাক্ষাৎ হয়েছিল?' এতে হারুন অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, 'কে তোমাকে এই সংশয় শিখিয়ে দিয়েছে?' এরপর তিনি তাকে বন্দি করার আদেশ দিলেন এবং তার ওপর নিজের এক পরিচারককে নিযুক্ত করলেন যে আমাকে তার বন্দিশালায় নিয়ে গেল। তখন তিনি (চাচা) বললেন, 'হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর কসম, এটি কেবল আমার মনে উদয় হওয়া একটি ধারণা মাত্র।' তিনি দাসমুক্তি, সম্পদ সদকা এবং অন্যান্য কঠোর শপথের মাধ্যমে কসম খেলেন যে, তিনি এটি কারো কাছ থেকে শোনেননি এবং এ বিষয়ে কারো সাথে তাঁর কোনো কথা হয়নি। এটি নিছক একটি ভাবনা যা তাঁর মনে উদয় হয়েছিল। মুহাম্মাদ বলেন, আমি যখন আমিরুল মুমিনিনের কাছে ফিরে এসে তাঁর সাথে কথা বললাম, তিনি বললেন, 'সে আমাকে বলুক কে তাকে এই কথা শিখিয়ে দিয়েছে।' আমি বললাম, 'হে আমিরুল মুমিনিন! তিনি দাসমুক্তি ও কঠোর শপথের মাধ্যমে কসম খেয়েছেন যে এটি কেবল তাঁর মনে আসা একটি ভাবনা ছিল এবং এ নিয়ে কারো সাথে তাঁর কোনো আলাপ হয়নি।' হারুন তখন তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিলেন এবং আমাকে বললেন, 'হে মুহাম্মাদ! তোমার আফসোস হয়, আমি আসলে ধারণা করেছিলাম যে কোনো নাস্তিক তাকে এই কথা শিখিয়ে দিয়েছে যা তার মুখ থেকে বের হয়েছে। যদি সে আমাকে তাদের সন্ধান দিত, তবে আমি তাদের রক্ত বৈধ করে নিতাম। অন্যথায়, আমার সুনিশ্চিত বিশ্বাস যে কোনো কুরাইশি ধর্মত্যাগী হতে পারে না।' তিনি এই জাতীয় কথা বলেছিলেন।

আবু উসমান আস-সাবূনী তাঁর আকিদাহ গ্রন্থে নিজস্ব সনদে মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম আল-মুজাফফারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির হারুনুর রশিদের কাছে হাদিস বর্ণনা করছিলেন। তিনি আবু হুরায়রা বর্ণিত ‘আদম ও মুসার বিতর্ক’ সংক্রান্ত হাদিসটি শোনালেন। তখন ঈসা ইবনে জাফর বললেন, ‘এটি কীভাবে সম্ভব, অথচ আদম ও মুসার সময়ের মাঝে দীর্ঘ ব্যবধান রয়েছে?’ তখন হারুন তাঁর দিকে তেড়ে এলেন এবং বললেন, ‘তিনি তোমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা করছেন, আর তুমি এর বিরোধিতা করছ ‘কীভাবে’ বলে?’ বর্ণনাকারী বলেন, হারুন ক্রমাগত তাকে তিরস্কার করতে থাকলেন যতক্ষণ না সে চুপ হয়ে গেল।

ইমাম সাবূনী বলেন: মানুষের উচিত এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদসমূহকে সম্মান করা এবং তা কবুল, আত্মসমর্পণ ও সত্যয়নের মাধ্যমে গ্রহণ করা। আর যে ব্যক্তি এই পথের বিপরীতে চলবে, তার তীব্র প্রতিবাদ করা উচিত—যেমনটি হারুনুর রশিদ করেছিলেন সেই ব্যক্তির সাথে যে একটি সহিহ হাদিস শুনে অস্বীকৃতি ও বিমুখতার সুরে ‘কীভাবে’ বলে আপত্তি তুলেছিল এবং তা সেভাবে গ্রহণ করেনি যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রতিটি বিষয় গ্রহণ করা আবশ্যক। তাঁর কথা এখানেই সমাপ্ত, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আমি সেই সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আশ্চর্যান্বিত হই যারা সনদের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও সুফিয়ানের মতের দিকে ঝুঁকে পড়ে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন (সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের স্পর্শ করবে)। তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হলো শিরক। সম্ভবত যখন সে তাঁর কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করে, তখন সে নিপতিত হয়...
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২১)
قلبه شيء من الزيغ فيهلك، ثم جعل يتلو هذه الآية (فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما).

وقال الحاكم سمعت الأصم يقول سمعت الربيع يقول سمعت الشافعي يقول وروى حديثا فقال له رجل تأخذ بهذا يا أبا عبد الله فقال متى رويت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثا صحيحا فلم آخذ به فأشهدكم أن عقلي قد ذهب وأشار بيده إلى رأسه - يعني أن منزلة الحديث الصحيح عنده على الرأس.

وقال شارح العقيدة الطحاوية طريق أهل السنة أن لا يعدلوا عن النص الصحيح ولا يعارضوه بمعقول ولا قول فلان كما قال البخاري رحمه الله سمعت الحميدي يقول كنا عند الشافعي رحمه الله فأتاه رجل فسأله عن مسألة فقال قضى فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا فقال رجل للشافعي ما تقول أنت فقال سبحان الله تراني في كنيسة، تراني في بيعة، تراني على وسطي زنار، أقول لك قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنت تقول ما تقول أنت.

وقال الحاكم أنباني أبو عمرو السماك مشافهة أن أبا سعيد الجصاص حدثهم قال سمعت الربيع بن سليمان يقول سمعت الشافعي يقول وسأله رجل عن مسألة فقال روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال كذا وكذا. فقال له السائل يا أبا عبد الله أتقول بهذا فارتعد الشافعي واصفر وحال لونه وقال ويحك أي أرض تقلني وأي سماء تظلني إذا رويت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا فلم أقل به. نعم على الرأس والعينين نعم على الرأس والعينين.

وقال الربيع قال الشافعي لم أسمع أحداً نسبته عامة أو نسب نفسه إلى علم يخالف في أن فرض الله اتباع أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم والتسليم لحكمه فإِن الله لم يجعل لأحد بعده إلا اتباعه وأنه لا يلزم قول رجل قال إلا بكتاب الله أو سنة رسوله وإن ما سواهما تبع لهما وإن فرض الله علينا وعلى من بعدنا وقبلنا في قبول الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم واحد لا يختلف فيه الفرض وواجب قبول الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقد ذكر ياقوت الحموي في كتابه «معجم الأدباء» مناظرة جرت بين الشافعي وإسحاق بن راهويه وقد نقلها ياقوت من تاريخ نيسابور للحاكم ومن كتاب مناقب الشافعي للآبري. وهذا ملخص ما ذكره.
তার অন্তরে কোনো বিচ্যুতি প্রবেশ করবে যার ফলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতে লাগলেন, "না, তোমার রবের কসম! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদে তোমাকে বিচারক মান্য করবে, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।"

ইমাম হাকিম বলেন, আমি আসমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাবিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি শাফিয়ীকে বলতে শুনেছি—একদা তিনি একটি হাদিস বর্ণনা করলেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি কি এই হাদিস অনুযায়ী আমল করেন?" তিনি বললেন, "আমি যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো সহিহ হাদিস বর্ণনা করি আর তা গ্রহণ না করি, তখন আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে আমার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে।" এই বলে তিনি তাঁর হাত দিয়ে নিজের মাথার দিকে ইঙ্গিত করলেন—অর্থাৎ সহিহ হাদিসের মর্যাদা তাঁর কাছে মস্তকোপরি (শিরোধার্য)।

শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকার বলেন, আহলে সুন্নতের পথ হলো সহিহ নস (দলিল) থেকে বিচ্যুত না হওয়া এবং কোনো যুক্তি বা অমুকের কথা দিয়ে তার বিরোধিতা না করা। যেমন ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আমি হুমাইদীকে বলতে শুনেছি যে, আমরা শাফিয়ীর (রহিমাহুল্লাহ) নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে এই এই ফয়সালা দিয়েছেন।" তখন এক ব্যক্তি শাফিয়ীকে বলল, "এ বিষয়ে আপনার নিজের অভিমত কী?" তিনি বললেন, "সুবহানাল্লাহ! তুমি কি আমাকে গির্জায় দেখছ? তুমি কি আমাকে সিনাগগে দেখছ? তুমি কি আমার কোমরে যুননার (অমুসলিমদের বিশেষ চিহ্নবাহী কোমরবন্ধ) দেখতে পাচ্ছ? আমি তোমাকে বলছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফয়সালা দিয়েছেন, আর তুমি বলছ আমার নিজের মতামত কী!"

ইমাম হাকিম বলেন, আবু আমর আস-সাম্মাক আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন যে, আবু সাঈদ আল-জাসসাস তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাবি ইবনে সুলাইমানকে বলতে শুনেছি যে, তিনি শাফিয়ীকে বলতে শুনেছেন—এক ব্যক্তি তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি এমন এমন বলেছেন।" তখন প্রশ্নকারী তাঁকে বলল, "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনিও কি এটি বলেন?" এতে ইমাম শাফিয়ী বিচলিত হয়ে উঠলেন, তাঁর চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল এবং শরীরের বর্ণ বদলে গেল। তিনি বললেন, "দুর্ভোগ তোমার! কোন জমিন আমাকে ধারণ করবে আর কোন আসমান আমাকে ছায়া দেবে, যদি আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিছু বর্ণনা করি আর নিজে তা গ্রহণ না করি? হ্যাঁ, এটি শিরোধার্য এবং পরম শ্রদ্ধার সাথে কবুলযোগ্য; হ্যাঁ, শিরোধার্য এবং পরম শ্রদ্ধার সাথে কবুলযোগ্য!"

রাবি বলেন, ইমাম শাফিয়ী বলেছেন, আমি এমন কাউকে দেখিনি—যাকে সাধারণ মানুষ আলেম মনে করে কিংবা যে নিজে নিজেকে ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করে—যিনি এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশের অনুসরণ করা এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণ করা। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর (রাসূলের) পর অন্য কারো জন্য কেবল অনুসরণ ছাড়া অন্য কোনো অবকাশ রাখেননি। আর আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসূলের সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কারো কথা মানা আবশ্যক নয়, বরং এই দুটি ছাড়া অন্য সব কিছুই এ দুটির অনুসারী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খবর (হাদিস) গ্রহণ করার ব্যাপারে আমাদের ওপর এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের ওপর আল্লাহর ফরজ বিধান অভিন্ন, এতে কোনো মতভেদ নেই; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খবর গ্রহণ করা ওয়াজিব বা অপরিহার্য।

ইয়াকুত আল-হামাউয়ি তাঁর ‘মুজামুল উদাবা’ গ্রন্থে ইমাম শাফিয়ী ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-এর মধ্যে সংঘটিত একটি মুনাজারা (বিতর্ক) উল্লেখ করেছেন। ইয়াকুত এটি হাকিমের ‘তারিখে নিশাপুর’ এবং আবুরির ‘মানাকিবে শাফিয়ী’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ।
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২২)
قال الآبري قال إسحاق فسألته - يعني الشافعي - عن سكنى بيوت مكة - أراد الكراء - فقال جائز فقلت أي يرحمك الله وجعلت أذكر له الحديث عن عائشة وعبد الرحمن وعمر وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن كره كراء بيوت مكة وهو ساكت يسمع وأنا أسرد عليه فلما فرغت سكت ساعة وقال أي يرحمك الله أما علمت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال «هل ترك لنا عقيل من رباع أو دار» قال فوالله ما فهمت عنه ما أراد بها ولا أرى أن أحداً فهمه. قال الحاكم فقال إسحاق أتأذن لي في الكلام فقال نعم فقلت حدثنا يزيد بن هارون عن هشام عن الحسن أنه لم يكن يرى ذلك. وأخبرنا أبو نعيم وغيره عن سفيان عن منصور عن إبراهيم أنه لم يكن يرى ذلك. قال الحاكم ولم يكن الشافعي عرف إسحاق فقال الشافعي لبعض من عرفه من هذا فقال هذا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي ابن راهوية الخراساني فقال له الشافعي أنت الذي يزعم أهل خراسان أنك فقيههم قال إسحق هكذا يزعمون. قال الشافعي ما أحوجني أن يكون غيرك في موضعك فكنت آمر بعرك أذنيه. وقال الحاكم في خبر آخر قال له الشافعي لو قلت قولك احتجت إلى أن أسلسل أنا أقول لك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنت تقول عطاء وطاوس ومنصور وإبراهيم والحسن هولاء لا يرون ذلك. هل لأحد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حجة. وفي خبر الآبري أن إسحاق قال فلما تدبرت ما قال من قول رسول الله صلى الله عليه وسلم «هل ترك لنا عقيل من رباع أو دار» علمت أنه قد فهم ما ذهب عنا. قال إسحاق ولو كنت قد أدركني هذا الفهم وأنا بحضرته لعرفته ذاك انتهى المقصود مما ذكره ياقوت.

 

فصل

والأخذ بالأحاديث الصحيحة وتعظيمها دليل على قوة الإِيمان في قلب العبد. والتهاون بها ونبذها واطراحها دليل على ضعف الإِيمان أو عدمه بالكلية قال الله تعالى (فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجاً مما قضيت ويسلموا تسليما) فأقسم سبحانه وتعالى بنفسه الكريمة المقدسة على نفي الإِيمان عمن لم يحكم الرسول صلى الله عليه وسلم عند التنازع ويرض بحكمه ويطمئن إليه قلبه ولا يجد في نفسه حرجاً مما قضى به ويسلم له تسليما وينقاد له ظاهراً وباطناً.

وهذه الآية هي الحكم الفاصل في الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم
আল-আবরি বর্ণনা করেছেন যে, ইসহাক বলেছেন: আমি তাকে—অর্থাৎ শাফিঈকে—মক্কার ঘরবাড়িতে বসবাস (অর্থাৎ ভাড়া নেওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘এটি বৈধ’। আমি বললাম, ‘আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক’ এবং আমি তার সামনে আয়েশা, আবদুর রহমান, উমর এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো উল্লেখ করতে লাগলাম, যারা মক্কার ঘর ভাড়া দেওয়া অপছন্দ করতেন। তিনি চুপচাপ শুনছিলেন এবং আমি একে একে বর্ণনা করে যাচ্ছিলাম। যখন আমি শেষ করলাম, তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন এবং বললেন, ‘আল্লাহ আপনার ওপর রহমত বর্ষিত হোক, আপনি কি জানেন না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আকিল কি আমাদের জন্য কোনো ঘর বা বসতবাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে?”’ ইসহাক বললেন, ‘আল্লাহর কসম, তিনি এটি দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা আমি তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারিনি এবং আমার মনে হয় না অন্য কেউ তা বুঝতে পেরেছিল।’ আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বললেন, ‘আপনি কি আমাকে কথা বলার অনুমতি দেবেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। আমি বললাম, ‘আমাদের কাছে ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন হিশাম থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে যে, তিনি এটিকে সমীচীন মনে করতেন না। এবং আমাদের কাছে আবু নুয়াইম ও অন্যরা সুফিয়ান থেকে, তিনি মনসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম নাখঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটিকে সমীচীন মনে করতেন না।’ আল-হাকিম বলেন, শাফিঈ তখনো ইসহাককে চিনতেন না। শাফিঈ তাকে চেনেন এমন একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইনি কে?’ তিনি বললেন, ‘ইনি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি ইবনে রাহওয়াই আল-খুরাসানি।’ শাফিঈ তাকে বললেন, ‘আপনিই কি সেই ব্যক্তি যাকে খুরাসানবাসীরা তাদের ফকিহ বলে দাবি করে?’ ইসহাক বললেন, ‘তারা এমনটাই দাবি করে।’ শাফিঈ বললেন, ‘আপনার স্থানে অন্য কেউ থাকলে আমি তার কান মলে দেওয়ার নির্দেশ দিতাম!’ আল-হাকিম অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, শাফিঈ তাকে বলেছিলেন, ‘যদি আমি আপনার মতো কথা বলতাম, তবে আমাকে দীর্ঘ বিতর্কে লিপ্ত হতে হতো। আমি আপনাকে বলছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর আপনি বলছেন আতা, তাউস, মনসুর, ইব্রাহিম এবং হাসান—এরা এটি সমর্থন করেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর বিপরীতে কি কারো কোনো যুক্তি থাকতে পারে?’ আল-আবরির বর্ণনায় রয়েছে যে ইসহাক বলেছিলেন, ‘যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই বাণী—“আকিল কি আমাদের জন্য কোনো ঘর বা বসতবাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে?”—নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে তিনি এমন গভীর অর্থ উপলব্ধি করেছেন যা আমাদের বোধগম্য হয়নি।’ ইসহাক আরও বলেন, ‘যদি তাঁর নিকট থাকাকালেই আমার এই উপলব্ধি হতো, তবে আমি তাঁকে তা জানাতাম।’ ইয়াকুত যা উল্লেখ করেছেন তার উদ্দেশ্য এখানেই শেষ হলো।

 

পরিচ্ছেদ

সহিহ হাদিসসমূহ গ্রহণ করা এবং সেগুলোকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা বান্দার হৃদয়ে ঈমানের শক্তির পরিচায়ক। আর সেগুলোর প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা, সেগুলোকে ছুড়ে ফেলা বা বর্জন করা ঈমানের দুর্বলতা অথবা ঈমান পুরোপুরি না থাকার প্রমাণ। মহান আল্লাহ বলেছেন: “অতএব আপনার রবের কসম, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করবে, অতঃপর আপনার মীমাংসার বিষয়ে তাদের মনে কোনো দ্বিধা বা সংকোচ রাখবে না এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেবে।” এখানে মহান আল্লাহ তাঁর নিজ সম্মানিত ও পবিত্র সত্তার শপথ করে ওই ব্যক্তির ঈমান নাকচ করেছেন, যে বিবাদের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিচারক হিসেবে মান্য করে না, তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয় না, তাঁর প্রতি হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভব করে না, তাঁর মীমাংসার বিষয়ে মনে কোনো প্রকার দ্বিধা পোষণ করে না এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য প্রকাশ করে না।

এই আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হাদিসসমূহের বিষয়ে এক অকাট্য ও চূড়ান্ত ফয়সালা।
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
فمن قبلها واطمئن قلبه إليها وانقاد لما قال الرسول صلى الله عليه وسلم ظاهراً وباطناً فهو مؤمن. ومن قابلها بالرد والإِنكار فليس بمؤمن قال الله تعالى (فإِن لم يستجيبوا لك فاعلم أنما يتبعون أهواءهم ومن أضل ممن اتبع هواه بغير هدى من الله إن الله لا يهدي القوم الظالمين) وقال تعالى (وما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله أمراً أن يكون لهم الخيرة من أمرهم ومن يعص الله ورسوله فقد ضل ضلالا مبينا).

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به» قال النووي حديث صحيح رويناه في كتاب الحجة بإِسناد صحيح.

قال الحافظ ابن رجب في كتابه «جامع العلوم والحكم» يريد بصاحب كتاب الحجة الشيخ أبا الفتح نصر بن إبراهيم المقدسي الشافعي الفقيه الزاهد نزيل دمشق، وكتابه هذا هو كتاب الحجة على تاركي سلوك طريق المحجة، قال وقد خرج هذا الحديث الحافظ أبو نعيم في كتاب الأربعين وشرط في أولها أن تكون من صحاح الأخبار وجياد الآثار مما أجمع الناقلون على عدالة ناقليه وخرجته الأئمة في مسانيدهم. ثم خرجه عن الطبراني. قال ورواه الحافظ أبو بكر ابن أبي عاصم الأصبهاني، انتهى المقصود من كلامه.

 

فصل

ومن أشكل عليه شيء من الأحاديث الصحيحة أو وقع في نفسه منه شيء فينبغي له أن يظن به أحسن الظن ولا يبادر إلى إنكاره ورده كما يفعله أهل الزيغ والإِلحاد. قال علي رضي الله عنه «إذا حدثتم شيئا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فظنوا به الذي هو أهدى والذي هو أتقى والذي هو أهيأ» رواه الإِمام أحمد وأبو داود الطيالسي والدارمي وابن ماجه وعبد الله بن الإِمام أحمد في زوائد المسند بأسانيد صحيحة.

وعن عون بن عبد الله عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال «إذا حدثتم بالحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فظنوا به الذي هو أهيأ والذي هو أهدى والذي هو أتقى» رواه الإِمام أحمد والدارمي وابن ماجه وفيه انقطاع بين عون بن عبد الله وابن مسعود فإِنه لم يسمع منه ولكن حديث علي رضي الله عنه يشهد لحديث ابن مسعود رضي الله عنه ويقويه.

সুতরাং যিনি এটি গ্রহণ করে নেন, তাঁর অন্তর এতে প্রশান্তি লাভ করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার প্রতি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে অনুগত হন, তিনিই মুমিন। আর যে ব্যক্তি একে প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকৃতির মাধ্যমে মোকাবিলা করে, সে মুমিন নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: (অতঃপর তারা যদি তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রেখো, তারা কেবল তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াত ছাড়া যে ব্যক্তি নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দের অবকাশ থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে সুষ্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো)।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।" ইমাম নববী বলেন: এটি একটি সহীহ হাদীস, যা আমরা 'কিতাবুল হুজ্জাহ' গ্রন্থে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছি।

হাফেজ ইবনে রজব তাঁর 'জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম' গ্রন্থে বলেন: কিতাবুল হুজ্জাহ-এর লেখক বলতে তিনি দামেস্কের বাসিন্দা, শাফেয়ী ফকীহ ও যাহিদ শায়খ আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইব্রাহীম আল-মাকদিসীকে বুঝিয়েছেন। তাঁর এই কিতাবটি হলো 'কিতাবুল হুজ্জাহ আলা তারিকী সুলুকি ত্বরিকিল মাহাজ্জাহ'। তিনি বলেন: হাফেজ আবু নুআইম তাঁর 'কিতাবুল আরবাঈন' গ্রন্থে এই হাদীসটি বের করেছেন এবং এর শুরুতে শর্ত দিয়েছেন যে, হাদীসগুলো হতে হবে সহীহ সংবাদ ও উৎকৃষ্ট আছার থেকে যার বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার ওপর বর্ণনাকারীগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং ইমামগণ তাঁদের মুসনাদ গ্রন্থসমূহে তা সংকলন করেছেন। অতঃপর তিনি এটি তাবারানী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এটি হাফেজ আবু বকর ইবনে আবী আসিম আল-আসফাহানীও বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য হতে উদ্দিষ্ট বিষয় এখানেই শেষ।

 

পরিচ্ছেদ

সহীহ হাদীসসমূহের কোনোটি যদি কারও কাছে অস্পষ্ট মনে হয় অথবা সে বিষয়ে তার মনে কোনো খটকা তৈরি হয়, তবে তার উচিত সে সম্পর্কে সর্বোত্তম ধারণা পোষণ করা এবং বিভ্রান্ত ও নাস্তিকদের মতো তা অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করতে তাড়াহুড়ো না করা। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "যখন তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস বর্ণনা করা হয়, তখন সে সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করো যা অধিক হিদায়াতপূর্ণ, অধিক তাকওয়াপূর্ণ এবং অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।" এটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, দারেমী, ইবনে মাজাহ এবং ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ মুসনাদের অতিরিক্ত অংশসমূহে (যাওয়ায়েদ) সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

আওন ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "যখন তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস বর্ণনা করা হয়, তখন সে সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করো যা অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ, অধিক হিদায়াতপূর্ণ এবং অধিক তাকওয়াপূর্ণ।" এটি ইমাম আহমাদ, দারেমী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এতে আওন ইবনে আবদুল্লাহ এবং ইবনে মাসউদের মাঝে সনদ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, কেননা তিনি তাঁর থেকে সরাসরি শোনেননি। তবে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের সত্যতা নিশ্চিত করে এবং একে শক্তিশালী করে।

(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
فصل

وقد أذن النبي صلى الله عليه وسلم في التحديث عن بني إسرائيل. وكان صلى الله عليه وسلم كثيراً ما يحدث أصحابه عنهم، وقد جاء في ذلك أحاديث كثيرة.

منها ما رواه الإِمام أحمد والبخاري والترمذي عن عبد الله بن عمرو ابن العاص رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «بلغوا عني ولو آية وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج ومن كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار» قال الترمذي هذا حديث حسن صحيح.

ومنها ما رواه الإِمام أحمد أيضا وأبو داود وابن حبان في صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال «حدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج» زاد ابن حبان في روايته «وحدثوا عني ولا تكذبوا علي».

ومنها ما رواه الإِمام أحمد أيضا عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال «حدثوا عني ولا تكذبوا علي ومن كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج» إسناده صحيح على شرط الشيخين.

ومنها ما رواه أبو يعلى والبزار عن جابر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «حدثوا عن بني إسرائيل فإِنه قد كان فيهم الأعاجيب».

ومنها ما رواه الإِمام أحمد في مسند عمران بن حصين عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال كان نبي الله صلى الله عليه وسلم يحدثنا عن بني إسرائيل لا يقوم فيها إلا إلى عظم صلاة» ورواه أبو داود والبزار بنحوه، ولفظ البزار «كان نبي الله صلى الله عليه وسلم يحدثنا عامة ليله عن بني إسرائيل حتى نصبح ما نقوم فيها إلى لمعظم صلاة» وقد رواه ابن حبان في صحيحه ولفظه لقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحدثنا اليوم والليلة عن بني إسرائيل لا يقوم إلا لحاجة».

ومنها ما رواه الإِمام أحمد أيضا عن عمران بن حصين رضي الله عنهما قال «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحدثنا عامة ليله عن بني إسرائيل لا يقوم إلا إلى عظم صلاة» وفي رواية يعني الفريضة المكتوبة، قال الهيثمي إسناده حسن، وقد
পরিচ্ছেদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়শই তাঁর সাহাবীগণকে তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করতেন এবং এ বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

এর মধ্যে একটি হলো যা ইমাম আহমদ, বুখারী ও তিরমিযী আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয় এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ।

তদ্রূপ ইমাম আহমদ, আবু দাউদ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।" ইবনে হিব্বান তাঁর বর্ণনায় এটুকু বৃদ্ধি করেছেন: "আর তোমরা আমার থেকে বর্ণনা করো এবং আমার ওপর মিথ্যা বলবে না।"

তদ্রূপ ইমাম আহমদ আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার থেকে বর্ণনা করো এবং আমার ওপর মিথ্যা বলবে না। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।" এর সনদ শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহীহ।

আরও রয়েছে যা আবু ইয়ালা ও বাযযার জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, কারণ তাদের মধ্যে অনেক বিস্ময়কর ঘটনা ছিল।"

এর মধ্যে একটি হলো যা ইমাম আহমদ ইমরান ইবনে হুসাইন-এর মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বনী ইসরাঈল সম্পর্কে বর্ণনা করতেন, এই সময়ে তিনি কেবল নামাযের ওয়াক্ত হলেই দাঁড়াতেন।" আবু দাউদ ও বাযযার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। বাযযারের শব্দমালা হলো: "আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সারা রাত আমাদের কাছে বনী ইসরাঈল সম্পর্কে আলোচনা করতেন, এমনকি আমরা ভোর করে ফেলতাম; এই সময়ে কেবল নামাযের ওয়াক্ত হলেই তিনি দাঁড়াতেন।" ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দমালা হলো: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিন-রাত আমাদের কাছে বনী ইসরাঈল সম্পর্কে আলোচনা করতেন, কেবল বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি উঠতেন না।"

তদ্রূপ ইমাম আহমদ ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সারা রাত আমাদের কাছে বনী ইসরাঈল সম্পর্কে আলোচনা করতেন, কেবল নামাযের ওয়াক্ত হলেই তিনি দাঁড়াতেন।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: অর্থাৎ ফরয নামায। হাইসামী বলেছেন, এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
رواه البزار والطبراني في الكبير قال الهيثمي وإسناده صحيح.

ومنها ما رواه الإِمام أحمد أيضا وأبو داود وابن حبان في صحيحه عن أبي نملة الأنصاري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال «إذا حدثكم أهل الكتاب فلا تصدقوهم ولا تكذبوهم وقولوا آمنا بالله وملائكته وكتبه ورسله فإِن كان حقا لم تكذبوهم وإن كان باطلا لم تصدقوهم» زاد ابن حبان وقال «قاتل الله اليهود لقد أوتوا علما».

 

ومنها ما رواه البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه قال كان أهل الكتاب يقرءون التوراة بالعبرانية ويفسرونها بالعربية لأهل الإِسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‌‌«لا تصدقوا أهل الكتاب ولا تكذبوهم وقولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا وما أنزل إليكم».

قال ابن كثير في النهاية وأما الأخبار الإِسرائيلية فيما يذكره كثير من المفسرين والمؤرخين فكثيرة جدا، ومنها ما هو صحيح موافق لما وقع. وكثير منها بل أكثرها مما يذكره القصاص مكذوب مفترى وضعته زنادقتهم وضلالهم، وهي ثلاثة أقسام منها ما هو صحيح لموافقته ما قصه الله في كتابه أو أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومنها ما هو معلوم البطلان لمخالفته كتاب الله وسنة رسوله، ومنها ما يحتمل الصدق والكذب فهذا هو الذي أمرنا بالتوقف فيه فلا نصدقه ولا نكذبه. قال في التفسير ويجوز حكايته لما تقدم - يعني من قول النبي صلى الله عليه وسلم «حدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج».

قلت وما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من الأحاديث التي أخبر فيها عن الأمم الماضية من بني إسرائيل وغيرهم فهو حق لا ريب فيه قال الله تعالى (وما ينطق عن الهوى، إن هو إلا وحي يوحى) ومن كذّب بشيء من الأحاديث الصحيحة التي أخبر فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بني إسرائيل أو عن غيرهم أو شك فيها فهو ممن يشك في إسلامه لأنه لم يحقق الشهادة بأن محمداً رسول الله ومن تحقيقها تصديقه صلى الله عليه وسلم فيما أخبر به من أنباء الغيب مما مضى وما سيأتي.

وأما الأحاديث الصحيحة التي ليس فيها إخبار عن بني إسرائيل ولا عن غيرهم من الأمم الماضية ومع ذلك يزعم المؤلف الملحد أنها أحاديث إسرائيلية وأنها
এটি আল-বাজার এবং আল-তাবারানি 'আল-মু'জাম আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন যে, এর সনদ সহীহ।

এ সংক্রান্ত বর্ণনার মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে আবু নামলা আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আহলে কিতাবরা যখন তোমাদের কাছে কিছু বর্ণনা করবে, তখন তোমরা তাদের কথা বিশ্বাসও করো না, আবার মিথ্যা প্রতিপন্নও করো না। বরং তোমরা বলো, 'আমরা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছি।' কারণ, তাদের কথা যদি সত্য হয় তবে তোমরা তা অস্বীকার করলে না, আর যদি মিথ্যা হয় তবে তোমরা তা বিশ্বাস করলে না।" ইবনে হিব্বান অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন, তারা তো জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল।"

 

অনুরূপভাবে ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহলে কিতাবরা হিব্রু ভাষায় তাওরাত পাঠ করত এবং মুসলমানদের জন্য আরবি ভাষায় তার ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা আহলে কিতাবদের কথা বিশ্বাস করো না এবং মিথ্যাও প্রতিপন্ন করো না এবং বলো, 'আমরা আল্লাহ এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে ও যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছি'।"

ইবনে কাসীর 'আল-নিহায়া' গ্রন্থে বলেছেন: অনেক মুফাসসির ও ঐতিহাসিক যা উল্লেখ করেছেন সেই ইসরাঈলি বর্ণনাগুলো সংখ্যায় প্রচুর। এর মধ্যে কিছু সহীহ যা বাস্তব ঘটনার সাথে মিলে যায়। আর এর মধ্যে অনেক কিছুই, বরং অধিকাংশ বর্ণনাই যা গল্পকাররা বর্ণনা করে থাকেন তা মিথ্যা ও বানোয়াট; যা তাদের ধর্মদ্রোহী ও পথভ্রষ্ট লোকেরা তৈরি করেছে। এগুলো তিন প্রকার: প্রথমত, যা সহীহ, কারণ তা আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা বর্ণনা করেছেন বা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা জানিয়েছেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, যার অসারতা সুনিশ্চিত, কারণ তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর পরিপন্থী। তৃতীয়ত, যা সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; এটিই সেই বিভাগ যে বিষয়ে আমাদের নীরব থাকার (তাওয়াক্কুফ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—আমরা তা বিশ্বাসও করব না, আবার মিথ্যাও বলব না। তিনি তাঁর তাফসীরে বলেছেন, এগুলো বর্ণনা করা জায়েজ কারণ পূর্বোক্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী রয়েছে—অর্থাৎ, "তোমরা বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।"

আমি বলি, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বনী ইসরাঈল এবং অন্যান্য পূর্ববর্তী জাতি সম্পর্কে যে সকল হাদীস সাব্যস্ত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সত্য। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না, এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়)। যে ব্যক্তি বনী ইসরাঈল বা অন্য কোনো জাতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে কিংবা তাতে সন্দেহ পোষণ করে, তবে তার ইসলামের বিষয়টিই সন্দেহজনক। কারণ সে 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল'—এই সাক্ষ্যের যথার্থতা পূরণ করেনি। এই সাক্ষ্যের অন্যতম দাবি হলো, অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি যা কিছু অদৃশ্যের সংবাদ দিয়েছেন সেগুলোতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা।

আর সেই সকল সহীহ হাদীস যেগুলোতে বনী ইসরাঈল বা অন্য কোনো অতীত জাতি সম্পর্কে কোনো সংবাদ নেই, তবুও সেই নাস্তিক লেখক দাবি করে যে সেগুলো ইসরাঈলি বর্ণনা এবং সেগুলো—
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
مكذوبة على النبي صلى الله عليه وسلم فتلك مكابرة منه ومعارضة لأقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله بمجرد الرأي والهوى. وقد قال الله تعالى (ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى ونصله جهنم وساءت مصيرا).

 

فصل

وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يتخوف على أمته من المنافقين الذين يجادلون بالقرآن كما في الحديث الذي رواه البزار والطبراني عن عمران بن حصين رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إن أخوف ما أخاف عليكم بعدي كل منافق عليم اللسان» قال الهيثمي رجاله رجال الصحيح، وقد رواه ابن حبان في صحيحه ولفظه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «أخوف ما أخاف عليكم جدال منافق عليم اللسان».

وروى الإِمام أحمد والبزار وأبو يعلى عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال «حذرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم كل منافق عليم اللسان» قال الهيثمي رجاله موثقون.

وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «إني أخاف على أمتي اثنتين القرآن واللبن أما اللبن فيتبعون الريف ويتبعون الشهوات ويتركون الصلوات وأما القرآن فيتعلمه المنافقون فيجادلون به المؤمنين» رواه الإِمام أحمد والطبراني، قال الهيثمي وفيه دراج أبو السمح وهو ثقة مختلف في الاحتجاج به.

قلت قد صحح له ابن حبان والحاكم والذهبي، وعلى هذا فالحديث صحيح على شرط ابن حبان والحاكم، وقد رواه الإِمام أحمد أيضا عن أبي عبد الرحمن عبد الله بن يزيد المقري حدثنا ابن لهيعة عن أبي قبيل قال لم أسمع من عقبة بن عامر إلا هذا الحديث. قال ابن لهيعة وحدثنيه يزيد بن أبي حبيب عن أبي الخير عن عقبة بن عامر الجهني رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول «هلاك أمتي في الكتاب واللبن» قالوا يا رسول الله ما الكتاب واللبن قال «يتعلمون القرآن فيتأولونه على غير ما أنزل الله عز وجل ويحبون اللبن فيدعون الجماعات والجمع
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করা মূলত তাঁর প্রতি অহংকার প্রদর্শন এবং নিছক খেয়ালখুশি ও ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্মের বিরোধিতা করা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, "আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই পরিচালিত করব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস।" (সূরা নিসা: ১১৫)

 

পরিচ্ছেদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের ব্যাপারে সেই সব মুনাফিকদের নিয়ে আশঙ্কা বোধ করতেন যারা কুরআন নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়; যেমনটি ইমাম বাজ্জার ও তাবারানি ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «নিশ্চয়ই আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যা সবচেয়ে বেশি ভয় পাই তা হলো প্রত্যেক বাকপটু মুনাফিক»। আল-হাইসামি বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দগুলো হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, «তোমাদের ব্যাপারে আমি সবচেয়ে বেশি যা ভয় করি তা হলো বাকপটু মুনাফিকের বিতর্ক»।

ইমাম আহমাদ, বাজ্জার ও আবু ইয়ালা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রত্যেক বাকপটু মুনাফিক সম্পর্কে সতর্ক করেছেন»। আল-হাইসামি বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

উকবা বিন আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে দুটি বিষয়ে আশঙ্কা করি: কুরআন ও দুধ। দুধের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো— তারা গ্রামাঞ্চলে পশুপালনের পেছনে ছুটে প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে এবং সালাত বর্জন করবে। আর কুরআনের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো— মুনাফিকরা তা শিখবে এবং তা দ্বারা মুমিনদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে»। এটি ইমাম আহমাদ ও তাবারানি বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেন, এর সনদে দাররাজ আবু সামহ রয়েছেন; তিনি নির্ভরযোগ্য হলেও তাঁর বর্ণিত হাদীস দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি, ইবনে হিব্বান, হাকিম ও যাহাবি তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন। এই ভিত্তিতে হাদীসটি ইবনে হিব্বান ও হাকিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। ইমাম আহমাদ এটি আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ বিন ইয়াযিদ আল-মুকরি থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, ইবনে লাহিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কাবিল থেকে, তিনি বলেন, আমি উকবা বিন আমির থেকে এই হাদীসটি ব্যতীত আর কিছুই শুনিনি। ইবনে লাহিয়া বলেন, ইয়াযিদ বিন আবি হাবীব আবু খায়েরের সূত্রে উকবা বিন আমির আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, «আমার উম্মতের ধ্বংস নিহিত রয়েছে কিতাব ও দুধে»। সাহাবীগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিতাব ও দুধ কী? তিনি বললেন, «তারা কুরআন শিক্ষা করবে কিন্তু আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত অন্যভাবে সেটির অপব্যাখ্যা করবে; আর তারা দুধ পছন্দ করবে (অর্থাৎ পশুপালনে মত্ত হবে), ফলে তারা জামাআত ও জুমার সালাত ত্যাগ করবে।
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
ويبدون» ابن لهيعة حسن الحديث وفيه كلام وبقية رجاله ثقات.

ويروى عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «إني أخاف عليك ثلاثاً وهن كائنات زلة عالم وجدال منافق بالقرآن ودنيا تفتح عليكم» رواه الطبراني بإِسناد ضعيف.

ويروى أيضا عن معاذ رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «إياكم وثلاثة زلة عالم وجدال منافق بالقرآن ودنيا تقطع أعناقكم» رواه الطبراني بإِسناد ضعيف.

ويروى عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «أكثر ما أتخوف على أمتي من بعدي رجل يتأول القرآن يضعه على غير مواضعه» الحديث رواه الطبراني بإِسناد ضعيف.

وعن زياد بن حدير قال قال لي عمر رضي الله عنه هل تعرف ما يهدم الإِسلام قال قلت لا قال «يهدمه زلة العالم وجدال المنافق بالكتاب وحكم الأئمة المضلين» رواه الدارمي بإِسناد حسن وله حكم الرفع.

وهذه الأحاديث يشد بعضها بعضا وما فيها من ضعيف فالحسن منها يشهد له ويقويه، وهي تنطبق على المؤلف وعلى أمثاله من الزائغين الذين يجادلون بالقرآن ويتأولونه على غير تأويله ويضعونه على غير مواضعه.

 

فصل

قال القاضي عياض في كتابه الشفاء. اعلم وفقنا الله وإياك أن جميع من سب النبي صلى الله عليه وسلم أو عابه أو ألحق به نقصاً في نفسه أو نسبه أو دينه أو خصلة من خصاله أو عرّض به أو شبهه بشيء على طريق السب له أو الإزراء أو التصغير لشأنه أو الغض منه والعيب له فهو ساب له والحكم فيه حكم السّاب يقتل وكذلك من لعنه أو دعا عليه أو تمنى مضرة له أو نسب إليه ما لا يليق بمنصبه على طريق الذم أو عبث في جهته العزيزة بسخف من الكلام وهجر ومنكر من القول وزور أو عيّرة بشيء مما جرى من البلاء والمحنة عليه أو غمصه ببعض العوارض البشرية الجائزة والمعهودة لديه، وهذا كله إجماع من العلماء وأئمة الفتوى من لدن
এবং প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে লাহীআহ-এর বর্ণিত হাদিস হাসান (গ্রহণযোগ্য), যদিও তার ব্যাপারে কিছু সমালোচনা রয়েছে; তবে সনদের অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

মুয়ায ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের ব্যাপারে তিনটি বিষয়ের ভয় করি, যা ঘটবেই: আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং তোমাদের সামনে দুনিয়া উন্মুক্ত হওয়া (পার্থিব প্রাচুর্য)।" তাবারানী এটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।

মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তিনটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকো: আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং এমন দুনিয়া যা তোমাদের ধ্বংস করে দেবে।" তাবারানী এটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার পরে আমার উম্মতের ব্যাপারে যে বিষয়টিকে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় করি, তা হলো এমন ব্যক্তি যে কুরআনের অপব্যাখ্যা করবে এবং একে তার সঠিক স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে প্রয়োগ করবে।" হাদিসটি তাবারানী দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।

যিয়াদ ইবনে হুদাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বললেন: "তুমি কি জানো ইসলামকে কিসে ধ্বংস করে?" তিনি বলেন, আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন: "ইসলামকে ধ্বংস করে আলেমের পদস্খলন, কিতাব (কুরআন) নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং পথভ্রষ্ট নেতাদের শাসন।" দারেমী এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এটি 'হুকমে রাফ' (রাসূলুল্লাহ সা.-এর বাণীর মর্যাদা সম্পন্ন) এর অন্তর্ভুক্ত।

এই হাদিসসমূহ একে অপরকে শক্তিশালী করে। আর এগুলোর মধ্যে যা কিছু দুর্বল রয়েছে, তার সপক্ষে হাসান হাদিসগুলো সাক্ষী হিসেবে বিদ্যমান এবং তাকে শক্তিশালী করে। এই বিষয়গুলো উক্ত লেখক এবং তার মতো সেই সকল পথভ্রষ্টদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা কুরআন নিয়ে বিতর্ক করে, এর অপব্যাখ্যা করে এবং একে তার সঠিক প্রেক্ষিত থেকে বিচ্যুত করে ভিন্ন স্থানে প্রয়োগ করে।

 

পরিচ্ছেদ

কাজী আইয়ায তার 'আশ-শিফা' গ্রন্থে বলেন: জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে তাওফিক দান করুন—যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গালি দিল, কিংবা তাঁর নিন্দা করল, অথবা তাঁর সত্তা, বংশ, দ্বীন কিংবা তাঁর কোনো বৈশিষ্ট্যের মাঝে কোনো ত্রুটি আরোপ করল, অথবা তাঁকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলল, কিংবা তাঁকে গালি দেওয়ার উদ্দেশ্যে, অবজ্ঞা করার জন্য, তাঁর মর্যাদা খাটো করার জন্য বা তাঁকে তুচ্ছ করার উদ্দেশ্যে কোনো কিছুর সাথে তুলনা করল, তবে সে গালিদাতা হিসেবে গণ্য হবে। আর তার ক্ষেত্রে বিধান হলো গালিদাতার বিধান, অর্থাৎ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি তাঁকে অভিশাপ দিল, কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে দুআ করল, অথবা তাঁর ক্ষতির আকাঙ্ক্ষা করল, কিংবা নিন্দার ছলে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো বিষয় তাঁর প্রতি আরোপ করল, অথবা তাঁর সম্মানিত শানে অসার বাক্য, কুরুচিপূর্ণ কথা, গর্হিত উক্তি ও মিথ্যার মাধ্যমে বিদ্রূপ করল, কিংবা তাঁর ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত কোনো বিপদ ও পরীক্ষার কারণে তাঁকে লজ্জা দিল, অথবা তাঁর ক্ষেত্রে সংঘটিত হওয়া স্বাভাবিক মানবীয় বিষয়াবলির কারণে তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করল; এ সবই আলেমগণ এবং ফতোয়া প্রদানকারী ইমামগণের ঐকমত্য (ইজমা) অনুযায়ী কুফরি, যা তাদের যুগ থেকে চলে আসছে।
(খণ্ড: ১) আর রদ্দুল ক্বওয়ীম আলাল মুজরিমিল আছীম (পৃষ্ঠা: ২৮)
الصحابة رضوان الله عليهم إلى هلم جرا.

قال أبو بكر ابن المنذر أجمع عوام أهل العلم على أن من سب النبي صلى الله عليه وسلم يقتل وممن قال ذلك مالك بن أنس والليث وأحمد وإسحاق وهو مذهب الشافعي. قال القاضي عياض وهو مقتضى قول أبي بكر الصديق رضي الله عنه ولا تقبل توبته عند هولاء. وبمثله قال أبو حنيفة وأصحابه والثوري وأهل الكوفة والأوزاعي في المسلمين لكنهم قالوا هي ردة وروى مثله الوليد بن مسلم عن مالك وحكى الطبري مثله عن أبي حنيفة وأصحابه فيمن تنقصه صلى الله عليه وسلم أو برئ منه أو كذبه. وقال سحنون فيمن سبه ذلك ردة كالزندقة. قال القاضي عياض ولا نعلم خلافا في استباحة دمه بين علماء الأمصار وسلف الأمة وقد ذكر غير واحد الإجماع على قتله وتكفيره. قال محمد بن سحنون أجمع العلماء أن شاتم النبي صلى الله عليه وسلم المتنقص له كافر والوعيد جار عليه بعذاب الله له. وحكمه عند الأمة القتل ومن شك في كفره وعذابه كفر. وقال ابن القاسم في العتبية من سبه أو شتمه أو عابه أو تنقصه فإِنه يقتل وحكمه عند الأمة القتل كالزنديق.

وروى ابن وهب عن مالك من قال إن رداء النبي صلى الله عليه وسلم ويروى زر النبي صلى الله عليه وسلم وسخ أراد به عيبه قتل. وقال حبيب بن ربيع القروي مذهب مالك وأصحابه أن من قال فيه صلى الله عليه وسلم ما فيه نقص قتل دون استتابة. وقال ابن عتاب الكتاب والسنة موجبان أن من قصد النبي صلى الله عليه وسلم بأذى أو نقص معّرضا أو مصرحا وإن قلّ فقتله واجب. قال القاضي عياض فهذا الباب كله مما عده العلماء سباً أو تنقصاً يجب قتل قائله لم يختلف في ذلك متقدمهم ولا متأخرهم. وكذلك أقول حكم من غمصه أو عيّره برعاية الغنم أو السهو أو النسيان أو السحر أو ما أصابه من جرح أو هزيمة لبعض جيوشه أو أذى من عدوه أو شدة من زمنه أو بالميل إلى نسائه فحكم هذا كله لمن قصد به نقصه القتل انتهى ملخصا.

وذكر ابن حجر الهيتمي في كتاب الزواجر أن من استخف بالرسول صلى الله عليه وسلم أو استهزأ به أو بشيء من أفعاله كلحس الأصابع أو ألحق به نقصاً في نفسه أو نسبه أو دينه أو فعله أو عرّض بذلك أو شبهه بشيء على طريق الإزراء أو التصغير لشأنه والغض منه أو نسب إليه ما لا يليق بمنصبه أنه يكفر بواحد مما ذكر
সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে শুরু করে পরবর্তী যুগ পর্যন্ত।

আবু বকর ইবনুল মুনযির বলেন, আলেম সমাজের সাধারণ রায় হলো, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেবে তাকে হত্যা করা হবে। ইমাম মালিক বিন আনাস, লাইস, আহমাদ এবং ইসহাক এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং এটিই ইমাম শাফি'র মাযহাব। কাযী ইয়ায বলেন, এটি আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্যের মর্মার্থ। আর উল্লিখিত আলেমদের মতে তার তাওবা কবুল করা হবে না। ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সহচরগণ, সাওরি, কুফাবাসী এবং আওযাঈ মুসলমানদের ক্ষেত্রে অনুরূপ কথা বলেছেন, তবে তারা একে 'মুরতাদ' হওয়া হিসেবে গণ্য করেছেন। ওয়ালিদ বিন মুসলিম ইমাম মালিক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাবারী ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সহচরদের থেকে একই কথা বর্ণনা করেছেন সেই ব্যক্তির ব্যাপারে, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাটো করে দেখে, কিংবা তাঁর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে অথবা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। সাহনুন গালি প্রদানকারীর ব্যাপারে বলেছেন, এটি যিন্দিক হওয়ার মতো একটি ধর্মত্যাগ। কাযী ইয়ায বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলের উলামায়ে কিরাম ও সালাফে সালেহীনের মধ্যে গালি প্রদানকারীর রক্ত হালাল হওয়ার ব্যাপারে আমরা কোনো দ্বিমত জানি না। একাধিক আলেম তাকে হত্যা করা এবং তাকে কাফির সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে সাহনুন বলেন, উলামায়ে কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি প্রদানকারী এবং তাঁকে তুচ্ছজ্ঞানকারী কাফির এবং তার ওপর আল্লাহর শাস্তির ঘোষণা প্রযোজ্য। উম্মতের নিকট তার হুকুম হলো মৃত্যুদণ্ড, এবং যে ব্যক্তি তার কুফরি ও শাস্তির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবে, সে নিজেও কাফির হবে। 'উতবিয়্যাহ' গ্রন্থে ইবনুল কাসিম বলেন, যে ব্যক্তি তাঁকে গালি দেবে, মন্দ বলবে, দোষারোপ করবে কিংবা খাটো করবে, তাকে হত্যা করা হবে। উম্মতের নিকট তার হুকুম হলো যিন্দিকের ন্যায় মৃত্যুদণ্ড।

ইবনে ওয়াহাব ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যদি কেউ বলে—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাদরটি (অন্য বর্ণনায় এসেছে জামার বোতামটি) ময়লা, এবং এর মাধ্যমে সে নবীজিকে দোষারোপ করার ইচ্ছা করে, তবে তাকে হত্যা করা হবে। হাবীব বিন রাবী' আল-কাইরাওয়ানী বলেন, ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীদের মাযহাব হলো, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে এমন কথা বলবে যাতে অবজ্ঞা প্রকাশ পায়, তাকে তাওবা করার সুযোগ না দিয়েই হত্যা করা হবে। ইবনে আত্তাব বলেন, কুরআন ও সুন্নাহর দাবি হলো যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার বা ছোট করার ইচ্ছা করবে—তা ইঙ্গিতে হোক বা স্পষ্টভাবে, কিংবা সামান্য পরিমাণে হোক না কেন—তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। কাযী ইয়ায বলেন, এই অধ্যায়ের সবকিছুই আলেমদের দৃষ্টিতে গালি বা অবমাননা হিসেবে গণ্য, যার বক্তাকে হত্যা করা আবশ্যক। এ বিষয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তদ্রূপ আমি বলছি, যে ব্যক্তি তাঁকে তুচ্ছজ্ঞান করে কিংবা মেষপালন, বিস্মৃতি, ভুল, যাদুগ্রস্ত হওয়া, যুদ্ধে জখম হওয়া, কোনো বাহিনীর পরাজয় বরণ, শত্রুর পক্ষ থেকে কষ্ট পাওয়া, সমসাময়িক কালের প্রতিকূলতা অথবা স্ত্রীদের প্রতি আসক্তির অপবাদ দিয়ে তাঁকে তাচ্ছিল্য করে—এই সবকিছুর হুকুম হলো, যদি এর মাধ্যমে তাঁকে ছোট করার সংকল্প করা হয়, তবে তাকে হত্যা করা হবে। (সংক্ষিপ্ত সার সমাপ্ত)।

ইবনে হাজার আল-হাইতামী তাঁর 'আয-যাওয়াজির' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, কিংবা তাঁকে নিয়ে অথবা তাঁর কোনো কাজ যেমন আঙুল চাটা নিয়ে উপহাস করবে, কিংবা তাঁর সত্তা, বংশ পরিচয়, দ্বীন বা কর্মের কোনো খুঁত বের করবে, অথবা ইশারা-ইঙ্গিতে তা করবে, কিংবা তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বা তাঁর মর্যাদাকে খাটো করার জন্য কোনো কিছুর সাথে তুলনা করবে, অথবা তাঁর সুমহান মর্যাদার সাথে অসংগতিপূর্ণ কোনো বিষয় তাঁর দিকে নিসবত করবে, সে এসকল কাজের যেকোনো একটির কারণেই কাফির হয়ে যাবে।