(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: -)
دلائل الأثر على تحريم التمثيل بالشعر (حمود بن عبد الله التويجري)
القسم: الفرق والردود
الكتاب: دلائل الأثر على تحريم التمثيل بالشعر
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: مطابع القصيم، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1386 هـ
عدد الصفحات: 153
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
চুলের মাধ্যমে সাদৃশ্য অবলম্বনের নিষিদ্ধতার বিষয়ে বর্ণিত প্রমাণাদি (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরী)
বিভাগ: বিভিন্ন দল ও খণ্ডনতত্ত্ব
বই: চুলের মাধ্যমে সাদৃশ্য অবলম্বনের নিষিদ্ধতার বিষয়ে বর্ণিত প্রমাণাদি
লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরী (মৃত্যু: ১৪১৩ হি.)
প্রকাশক: আল-কাসিম মুদ্রণালয়، রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৬ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৩
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: -)
دلائل الأثر على تحريم التمثيل بالشعر تأليفالفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجريغفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين مطابع القصيم
চুলের মাধ্যমে কৃত্রিমতা অবলম্বনের নিষিদ্ধতার বিষয়ে শরয়ি প্রমাণসমূহ গ্রন্থনায়মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামুদ বিন আবদুর রহমান আত-তুওয়াইজরিআল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন কাসিম ছাপাখানা
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم{تقديم هذه الرسالة}للعلامة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده وعلى آله وصحبه.أما بعد فإن الله سبحانه قد ميز الرجال على النساء بميزات كثيرة من أبرزها وأحسنها ما أكرمهم به من اللحى وجعلها ميزة لهم عن النساء والصبيان وكانت العرب في الإسلام والجاهلية تعظم اللحى وتكرمها وتعتبرها وجه الرجل وقد دلت الأدلة الشرعية على إن اللحى من أخلاق الرسل الكرام عليهم الصلاة والسلام ومن صفاتهم الظاهرة وقد كان نبينا صلى الله عليه وسلم وهو أفضل الرسل وخاتم النبيين كثير شعر اللحية وافر الشعور وكان يرخي لحيته ويعفيها ويكرمها وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «خالفوا المشركين قصوا الشوارب وأرخوا اللحى» وقد ألف العلماء في هذه المسألة رسائل كثيرة وجعلوا لها بحثاً خاصاً في الكتب المطولة وأوضحوا ما جاء به الشرع الكامل من وجوب إعفائها وتوفيرها وتحريم حلقها وتقصيرها وممن ألف في هذه المسألة أخونا وصاحبنا الشيخ العلامة حمود بن عبد الله التويجري
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।{এই পুস্তিকার উপস্থাপনা}আল্লামা শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায-এর পক্ষ থেকে সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের প্রতি।অতঃপর, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পুরুষদেরকে নারীদের ওপর অনেক বৈশিষ্ট্য দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম এবং সর্বোত্তম হলো দাড়ি, যা দ্বারা তিনি পুরুষদের সম্মানিত করেছেন এবং নারী ও শিশুদের থেকে তাদের জন্য একে একটি স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ইসলামপূর্ব জাহেলী যুগে এবং ইসলামে আরবগণ দাড়ির প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করত এবং একে মর্যাদা দিত, এমনকি একে পুরুষের ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করত। শরয়ী দলিলসমূহ একথার প্রমাণ দেয় যে, দাড়ি রাখা সম্মানিত রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) স্বভাবজাত আদর্শ এবং তাঁদের অন্যতম প্রকাশ্য বৈশিষ্ট্য ছিল। আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং শেষ নবী, তাঁর দাড়ি ছিল ঘন ও দীর্ঘ। তিনি দাড়ি লম্বা রাখতেন, তা পরিপূর্ণ রাখতেন এবং এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন। তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।" ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে অনেক পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং বিস্তারিত কিতাবসমূহে এর জন্য বিশেষ আলোচনার অবতারণা করেছেন। তাঁরা এই পরিপূর্ণ শরীয়তের বিধান স্পষ্ট করেছেন যে, দাড়ি ছেড়ে দেওয়া ও তা দীর্ঘ রাখা ওয়াজিব এবং তা মুণ্ডন করা বা ছোট করা হারাম। এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁদের মধ্যে আমাদের ভাই ও সুহৃদ আল্লামা শাইখ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ৪)
جمع في ذلك رسالة قيمة أسماها (دلائل الأثر على تحريم التمثيل بالشعر) وهي هذه التي نقدمها للقراء والمسلمين وقد أجاد فيها وأفاد وجمع فيها من الأدلة الشرعية ما قل أن تجده في غيرها وأضاف إلى ذلك بحوثاً سديدة في مسائل كثيرة تتعلق باللحية والقزع وغير ذلك ونقل فيها عن أهل العلم فوائد جليلة وتحقيقات نفيسة ونبه على نكت ومقاصد وإشارات من النصوص ترشد قارئ هذه الرسالة إلى كمال هذه الشريعة الإسلامية وعنايتها بكل دقيق وجليل من مصالح العباد في العاجل والآجل وذكر فيها جملة من الأدلة الدالة على تحريم التشبه بالمشركين ووجوب الحذر من ذلك.وبالجملة فهي رسالة قيمة كثيرة الفرائد جمة الفوائد قد عالجت كثيراً من مشاكل المجتمع الإسلامي علاجاً دقيقاً صادقاً على ضوء الأدلة من الكتاب والسنة فنسأل الله أن ينفع بها المسلمين وأن يضاعف الأجر لمؤلفها ويزيده من الهدى وأن يجزيه عن سعيه ونصحه للأمة خير الجزاء وأن يهدينا وإياه وسائر إخواننا المسلمين إلى صراطه المستقيم إنه على كل شيء قدير وهو حسبنا ونعم الوكيل وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله سيدنا وإمامنا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب الهاشمي العربي المكي ثم المدني وعلى آله وأصحابه ومن سار على سنته إلى يوم الدين والحمد لله رب العالمين.عبد العزيز بن عبد الله بن باز
তিনি এ বিষয়ে একটি মূল্যবান রিসালাহ (পুস্তিকা) সংকলন করেছেন, যার নাম দিয়েছেন 'দালাইলুল আসার আলা তাহরিমিত তামসিলি বিশ-শার' (চুল দ্বারা সাদৃশ্য গ্রহণের হারামী হওয়ার বিষয়ে দলীলসমূহ); এটিই সেই গ্রন্থ যা আমরা পাঠক ও মুসলিমদের খিদমতে পেশ করছি। এতে তিনি অত্যন্ত নিপুণতা ও উপযোগিতার পরিচয় দিয়েছেন এবং এমন সব শরয়ী দলীল একত্র করেছেন যা অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর। এর পাশাপাশি তিনি দাড়ি, মাথার চুল আংশিক মুণ্ডন (কাযা) এবং এজাতীয় আরও অনেক বিষয়ে সঠিক ও সুশৃঙ্খল আলোচনা যোগ করেছেন। তিনি এতে আহলে ইলমদের থেকে মহান ফায়দা ও মূল্যবান তাহকীক (গবেষণা) উদ্ধৃত করেছেন। সেই সাথে তিনি নুসূস (মূল পাঠ) থেকে এমন কিছু সূক্ষ্ম বিষয়, উদ্দেশ্য ও ইঙ্গিতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যা এই রিসালাহ পাঠকারীকে ইসলামী শরীয়তের পূর্ণতা এবং বান্দাদের ইহকালীন ও পরকালীন ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সকল কল্যাণের প্রতি এর বিশেষ গুরুত্বের প্রতি পথপ্রদর্শন করে। তিনি এতে মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বনের নিষিদ্ধতা এবং এ থেকে সতর্ক থাকার আবশ্যকতা সম্পর্কে একগুচ্ছ দলীল উল্লেখ করেছেন।সারসংক্ষেপে, এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান রিসালাহ যা অনন্য তথ্যাবলি ও বহুবিধ উপকারে সমৃদ্ধ। এটি কুরআন ও সুন্নাহর দলীলের আলোকে মুসলিম সমাজের বহু সমস্যার অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সঠিক সমাধান প্রদান করেছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন, এর লেখকের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেন, তাঁর হিদায়াত বৃদ্ধি করেন এবং উম্মতের প্রতি তাঁর এই প্রচেষ্টা ও নসীহতের জন্য তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আর তিনি যেন আমাদের, তাকে এবং আমাদের সকল মুসলিম ভাইদের তাঁর সরল পথের (সিরাত-ই-মুস্তাকীম) দিকে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নেতা ও ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমী আল-আরাবী আল-মাক্কী অতঃপর আল-মাদানী-এর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর সুন্নাহর ওপর পরিচালিত হবে তাদের সকলের ওপর। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله الذي جعل اللحى جمالاً للرجال، وجعل عدمها جمالاً للنساء والأطفال، فسبحان من فاوت بين الرجال والنساء في هذا الجمال.أحمده وهو المحمود على كل حال، وأشكره على ما أولاه من الإنعام والأفضال، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الكبير المتعال، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله وخليله الصادق المقال، الآمر أمته بمخالفة أهل الشرك والزيغ والضلال واللاعن للمتشبهين من الرجال بالنساء والمتشبهات من النساء بالرجال، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهديه في الأقوال والأعمال، وسلم تسليماً كثيراً.أما بعد فلا يخفى ما عظمت به البلوى في زماننا من التشبه بالمشركين واليهود والنصارى والمجوس وغيرهم من أعداء الله تعالى واتباع سننهم حذو النعل بالنعل.وقد أصيب بهذا الداء العضال كثير من المنتسبين إلى العلم من معلمين ومتعلمين فضلاً عن غيرهم من الخاصة والعامة فمستقل من هذا الداء ومستكثر فالله المستعان.وهذا مصداق ما جاء في الحديث الصحيح عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি দাড়িকে পুরুষদের সৌন্দর্য এবং এর অনুপস্থিতিকে নারী ও শিশুদের সৌন্দর্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অতএব পবিত্রতা সেই মহান সত্তার, যিনি এই সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মাঝে পার্থক্য বিধান করেছেন।আমি তাঁর প্রশংসা করি আর তিনি সর্বাবস্থায় প্রশংসিত। তিনি যে নিআমত ও অনুগ্রহ দান করেছেন তার জন্য আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মহান ও সমুন্নত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা, রাসূল এবং তাঁর একান্ত বন্ধু, যাঁর কথা সত্য। তিনি তাঁর উম্মতকে শিরক, বিচ্যুতি ও গোমরাহির অনুসারীদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই সকল পুরুষদের অভিশাপ দিয়েছেন যারা নারীদের বেশ ধারণ করে এবং সেই সকল নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন যারা পুরুষদের বেশ ধারণ করে। আল্লাহর দরুদ ও অধিক পরিমাণে সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরবৃন্দের ওপর এবং তাদের ওপর যারা কথা ও কাজে তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করেছেন।অতঃপর, আমাদের বর্তমান যুগে মুশরিক, ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক এবং আল্লাহর অন্যান্য শত্রুদের সাদৃশ্য গ্রহণ করার এবং প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের রীতিনীতি অনুসরণের যে মহাবিপদ বিস্তৃত হয়েছে তা কারো অজানা নয়।সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তো বটেই, এমনকি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ইলমের সাথে সম্পৃক্ত অনেক ব্যক্তিও এই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ এতে সামান্য আক্রান্ত, আবার কেউ অত্যধিক; আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।আর এটি সেই সহীহ হাদীসেরই বাস্তবায়ন যা আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ৬)
«لتتبعن سنن من كان قبلكم شبراً شبراً وذراعا ذراعاً حتى لو دخلوا جحر ضب تبعتموهم، قلنا: يا رسول الله اليهود والنصارى؟ قال: فمن!» متفق عليه.وفي صحيح البخاري أيضاً وسنن ابن ماجة عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا تقوم الساعة حتى تأخذ أمتي بأخذ القرون قبلها شبراً بشبر وذراعاً بذراع فقيل: يا رسول الله كفارس والروم؟ فقال: ومن الناس إلا أولئك» هذا لفظ البخاري.ولفظ ابن ماجه لتتبعن سنن من كان قبلكم باعاً بباع وذاعاً بذراع وشبراً بشبر حتى لو دخلوا في جحر ضب لدخلتم فيه قالوا: يا رسول الله اليهود والنصارى؟ قال: فمن إذاً.ورواه الحاكم في مستدركه بنحو رواية ابن ماجه ثم قال صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه بهذا اللفظ، ووافقه الحافظ الذهبي في تلخيصه.قال الحافظ بن حجر في فتح الباري الأخذ بفتح الألف وسكون الخاء على الأشهر هو السيرة، يقال أخذ فلان بأخذ فلان أي سار بسيرته وما أخذ أخذه أي ما فعل فعله ولا قصد قصده انتهى.وروى البزار بإسناد جيد والحاكم في مستدركه من حديث ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لتركبن سنن من كان قبلكم شبراً بشبر وذراعاً بذراع حتى لو أن أحدهم
“তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে (হুবহু) অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।” আমরা আরজ করলাম, “হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদি ও নাসারাদের?” তিনি বললেন, “তবে আর কাদের?” (এটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐকমত্যভাবে বর্ণিত)।সহিহ বুখারি এবং সুনান ইবনে মাজাহ-তেও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না আমার উম্মত তাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের রীতিনীতি বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে গ্রহণ করবে।” তখন জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল! পারস্য ও রোমের মতো?” তিনি বললেন, “তাদের ছাড়া আর মানুষ কারা?” এটি বুখারির শব্দমূল।ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনাটি হলো: “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি এক বাহু থেকে অন্য বাহু, এক হাত থেকে অন্য হাত এবং এক বিঘত থেকে অন্য বিঘত (পরিমাপে) অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।” তারা আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদি ও নাসারাদের কথা বলছেন?” তিনি বললেন, “তবে আর কার কথা বলা হচ্ছে?”ইমাম হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনার অনুরূপ এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ, যদিও তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এই শব্দে এটি বর্ণনা করেননি। হাফেজ যাহাবি তাঁর ‘তালখিস’ গ্রন্থে এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে বলেন: ‘আল-আখজু’ (আলিফে ফাতহাহ এবং খ-তে সুকুন সহযোগে) প্রসিদ্ধ অর্থ অনুযায়ী এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জীবনপদ্ধতি বা আদর্শ। বলা হয়, ‘অমুক ব্যক্তি অমুকের রীতিনীতি গ্রহণ করেছে’, অর্থাৎ সে তার আদর্শ বা জীবনপদ্ধতি অনুসরণ করেছে। আর ‘সে তার পন্থা গ্রহণ করেনি’ মানে সে তার মতো কাজ করেনি বা তার লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়নি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।ইমাম বাযযার উত্তম সনদে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে অনুসরণ করবে, এমনকি তাদের কেউ যদি...”
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ৭)
دخل جحر ضب لدخلتم وحتى لو أن أحدهم جامع امرأته بالطريق لفعلتموه» صححه الحاكم ووافقه الذهبي في تلخيصه.وفي جامع الترمذي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «ليأتين على أمتي ما أتى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل حتى إن كان منهم من أتى أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك» وذكر تمام الحديث قال الترمذي هذا حديث حسن غريب.وروى أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة من حديث عمرو بن عوف المزني رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لتسلكن سنن الذين من قبلكم حذو النعل بالنعل ولتأخذن مثل مأخذهم إن شبراً فشبر وإن ذراعاً فذراع وإن باعاً فباع حتى لو دخلوا جحر ضب لدخلتم فيه».وروى الآجري أيضاً عن شداد بن أوس رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لتحملن شرار هذه الأمة على سنن الذين خلوا من قبلهم حذو القذة بالقذة».وروى الترمذي في جامعه عن أبي واقد الليثي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «والذي نفسي بيده لتركبن سنة من كان قبلكم» قال الترمذي هذا حديث حسن صحيح.وروى الطبراني عن المستورد بن شداد رضي الله عنه مرفوعاً لا تترك هذه الأمة شيئاً من سنن الأولين حتى تأتيه.
...যদি তারা কোনো ঘুইসাপের গর্তে প্রবেশ করত, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করতে; এমনকি তাদের কেউ যদি জনসমক্ষে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করত, তবে তোমরাও তা-ই করতে।" ইমাম আল-হাকিম এটি সহিহ বলেছেন এবং ইমাম আয-যাহাবি তার তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।জামে আত-তিরমিজিতে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের উপর অবশ্যই তা-ই আপতিত হবে যা বনী ইসরাঈলের উপর আপতিত হয়েছিল—এক জোড়া জুতো যেমন অন্যটির সমান হয় তেমন হুবহু। এমনকি তাদের মধ্যে যদি এমন কেউ থেকে থাকে যে প্রকাশ্যে নিজ মাতার সাথে ব্যভিচার করেছে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন কেউ থাকবে যে তা করবে।" বর্ণনাকারী হাদিসটির অবশিষ্টাংশ উল্লেখ করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন, এটি একটি হাসান গরিব হাদিস।আবু বকর আল-আজুররি 'কিতাবুশ শারিয়াহ' গ্রন্থে আমর ইবনে আউফ আল-মুজানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করবে—এক জোড়া জুতো যেমন অন্যটির সমান হয় তেমন হুবহু। তোমরা অবশ্যই তাদের কর্মপন্থা গ্রহণ করবে; যদি তা এক বিঘত হয় তবে তোমরাও এক বিঘত, যদি এক হাত হয় তবে তোমরাও এক হাত, আর যদি এক বাম হয় তবে তোমরাও এক বাম হবে। এমনকি তারা যদি কোনো ঘুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।"আল-আজুররি শাদ্দাদ ইবনে আউস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মতের নিকৃষ্ট লোকেরা অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি গ্রহণ করবে—একটি তীরের পালক যেমন অন্যটির সমান হয় তেমন হুবহু।"ইমাম তিরমিজি তার জামে গ্রন্থে আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করবে।" ইমাম তিরমিজি বলেন, এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস।ইমাম তাবারানি মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "এই উম্মত পূর্ববর্তীদের কোনো রীতিনীতিই ছাড়বে না যতক্ষণ না তারা তা সম্পাদন করে।"
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ৮)
وروى الشافعي من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما لتركبن سنة من كان قبلكم حلوها ومرها.وروى أبو بكر الآجري عن حذيفة رضي الله عنه أنه قال لتتبعن أمر من كان قبلكم حذو النعل بالنعل لا تخطئون طريقتهم ولا تخطئكم.ورواه الحاكم في مستدركه ولفظه لتسلكن طريق من كان قبلكم حذو القذة بالقذة وحذو النعل بالنعل لا تخطئون طريقهم ولا تخطئكم. وذكر تمام الحديث قال الحاكم صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه وهذا في حكم المرفوع لأنه إخبار عن أمر غيبي فلا يقال إلا عن توقيف.قال النووي في الكلام على حديث أبي سعيد الذي سبق ذكره السنن بفتح السين والنون وهو الطريق، وقال الحافظ ابن حجر بفتح السين للأكثر وقال ابن التين قرأناه بضمها وقال المهلب بالفتح أولى لأنه الذي يستعمل فيه الذراع والشبر وهو الطريق قال الحافظ وليس اللفظ الأخير ببعيد من ذلك انتهى.قال عياض الشبر والذراع والطريق ودخول الجحر تمثيل للاقتداء بهم في كل شيء مما نهى الشرع عنه وذمه.وكذا قال النووي قال وفي هذا معجزة ظاهرة لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقد وقع ما أخبر به صلى الله عليه وسلم. وقال الحافظ ابن حجر قد وقع معظم ما أنذر به صلى الله عليه وسلم وسيقع بقية ذلك.
ইমাম শাফিঈ (রহ.) আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতির অনুসরণ করবে, চাই তা মধুর হোক বা তিক্ত।"আবু বকর আল-আজুররী (রহ.) হুযাইফা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে হুবহু, যেভাবে এক জোড়া জুতো সমান হয়; তোমরা তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না এবং তাদের পথও তোমাদের ছাড়বে না।"আল-হাকিম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দগুচ্ছ হলো: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথে চলবে, যেমন একটি তীরের পালক অন্যটির সমান হয় এবং এক জোড়া জুতো একে অপরের সমান হয়; তোমরা তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না এবং তাদের পথও তোমাদের ছাড়বে না।" তিনি পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম হাকিম বলেছেন যে, এর সনদ সহীহ, তবে বুখারী ও মুসলিম তা বর্ণনা করেননি; ইমাম যাহাবী তাঁর 'তালখীস' গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। এটি 'হুকমান মারফু' (রাসূলুল্লাহর বাণীর মর্যাদাসম্পন্ন), কারণ এটি একটি গায়েবী বা অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে সংবাদ, যা ওহী বা রাসূলের শিক্ষা ব্যতিরেকে বলা সম্ভব নয়।পূর্বে উল্লিখিত আবু সাঈদ (রাযি.)-এর হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী (রহ.) বলেন, 'আস-সুনান' শব্দটি সীন এবং নূন বর্ণের যবরসহ (ফাতহা), যার অর্থ হলো পথ। হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, অধিকাংশের মতে এটি সীনের যবরযোগে। ইবনুত তীন বলেন, আমরা এটি পেশ (যাম্মা) দিয়ে পড়েছি। মুহাল্লাব বলেন, যবর দিয়ে পড়াই অধিকতর উত্তম, কারণ এই অর্থেই হাত বা বিঘত ব্যবহৃত হয়—যা পথের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হাফেয (ইবনে হাজার) বলেন, শেষোক্ত অর্থটি তা থেকে খুব একটা দূরে নয়। সমাপ্ত।কাযী ইয়ায (রহ.) বলেন, বিঘত, হাত, পথ এবং গর্তে প্রবেশ করা—এগুলো শরীয়ত যা নিষেধ ও নিন্দা করেছে, সেই সব বিষয়ে তাদের অনুকরণের উদাহরণ মাত্র।ইমাম নববীও (রহ.) অনুরূপ বলেছেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সুস্পষ্ট মুজিযা বা অলৌকিক নিদর্শনের প্রমাণ রয়েছে; কারণ তিনি যা সংবাদ দিয়েছিলেন তা বাস্তবে ঘটেছে। হাফেয ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, তিনি (সা.) যা যা সতর্ক করেছিলেন তার অধিকাংশ ঘটে গেছে এবং অবশিষ্ট অংশ অচিরেই ঘটবে।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقال المناوي في شرح الجامع الصغير هذا من معجزاته صلى الله عليه وسلم فقد اتبع كثير من أمته سنن فارس في شيمهم ومراكبهم وملابسهم وإقامة شعارهم في الحروب وغيرها وأهل الكتابين في زخرفة المساجد وتعظيم القبور حتى كاد أن يعبدها العوام وقبول الرشا وإقامة الحدود على الضعفاء دون الأقوياء وترك العمل يوم الجمعة والتسليم بالأصابع وعدم عيادة المريض يوم السبت والسرور بخميس البيض وأن الحائض لا تمس عجيناً إلى غير ذلك مما هو أشنع وأبشع.قلت وفي زماننا لم يبق شيء مما يفعله اليهود والنصارى والمجوس وغيرهم من أمم الكفر والضلال إلا ويفعل مثله في أكثر الأقطار الإسلامية، ولا تجد الأكثرين من المنتسبين إلى الإسلام إلا مهطعين خلف أعداء الله تعالى يأخذون بأخذهم ويحذون حذوهم ويتبعون سننهم في الأخلاق والآداب واللباس والهيئات والنظامات والقوانين وأكثر الأمور أو جميعها فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
আল-মানাবি ‘শরহুল জামিউস সাগির’-এ বলেন, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা তাঁর উম্মতের অনেকেই পারস্যবাসীদের স্বভাব-চরিত্র, যানবাহন, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং যুদ্ধ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের প্রতীকসমূহ ব্যবহারের অনুকরণ করেছে। তারা মসজিদ সজ্জিতকরণ ও কবরের অতিশয় সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আহলে কিতাবদের অনুসরণ করেছে, এমনকি সাধারণ মানুষ প্রায় সেগুলোর পূজা শুরু করে দিয়েছে। এছাড়া তারা ঘুষ গ্রহণ, প্রভাবশালীদের বাদ দিয়ে কেবল দুর্বলদের ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করা, জুমার দিন কর্মবিরতি পালন, আঙুলের ইশারায় সালাম দেওয়া, শনিবার রোগী দেখতে না যাওয়া, ‘খামিসুল বাইদ’ উৎসবে আনন্দ প্রকাশ করা এবং ঋতুবতী নারী আটার মণ্ড স্পর্শ করবে না—ইত্যাদি জঘন্য ও কুৎসিত কুসংস্কারসমূহ গ্রহণ করেছে।আমি বলছি, আমাদের বর্তমান সময়ে ইহুদি, নাসারা, অগ্নিপূজক এবং কুফর ও ভ্রষ্টতায় লিপ্ত অন্যান্য জাতি যা কিছু করে, তার এমন কিছুই অবশিষ্ট নেই যা অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ডে করা হচ্ছে না। ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত অধিকাংশ মানুষকেই আপনি আল্লাহর শত্রুদের পেছনে অন্ধভাবে ছুটতে দেখবেন; তারা তাদের কর্মপন্থা গ্রহণ করছে, হুবহু তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে এবং চরিত্র, শিষ্টাচার, পোশাক-পরিচ্ছদ, অবয়ব, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, আইন-কানুন এবং প্রায় প্রতিটি বিষয়ে তাদের রীতি-নীতি মেনে চলছে। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১০)
(فصلٌ) وقد تظافرت الأحاديث بالأمر بمخالفة أعداء الله تعالى والنهي عن التشبه بهم والتغليظ في ذلك.فأما الأمر بمخالفتهم ففي الصحيحين عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خالفوا المشركين وفروا اللحى واحفوا الشوارب».وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «جزوا الشوارب وأرخوا اللحى خالفوا المجوس». فقوله صلى الله عليه وسلم خالفوا المشركين وقوله خالفوا المجوس أمر مطلق بمخالفتهم في كل شيء من زيهم وأفعالهم وهو أيضاً خاص في الأمر بمخالفتهم فيما يفعلونه من التمثيل باللحى وإعفاء الشوارب.وفي الصحيحين والمسند والسنن عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «إن اليهود والنصارى لا يصبغون فخالفوهم».وروى الإمام أحمد أيضاً من حديث أبي أمامة رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على مشيخة من الأنصار بيض لحاهم فقال: يا معشر الأنصار حمروا وصفروا وخالفوا أهل الكتاب، فقلنا يا رسول الله إن أهل الكتاب يتسرولون ولا يتزرون فقال تسرولوا واتزروا وخالفوا أهل الكتاب.
(পরিচ্ছেদ) আল্লাহ তাআলার শত্রুদের বিরোধিতা করার নির্দেশ প্রদান, তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনে নিষেধাজ্ঞা এবং এ বিষয়ে কঠোরতা আরোপ সম্পর্কে বহু হাদিস সমবেতভাবে বর্ণিত হয়েছে।তাদের বিরোধিতা করার নির্দেশ সম্পর্কে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; দাড়ি বৃদ্ধি করো এবং গোঁফ সুনিপুণভাবে ছেঁটে ফেলো।"সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা গোঁফ কর্তন করো এবং দাড়ি লম্বা করো; অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।" সুতরাং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী "মুশরিকদের বিরোধিতা করো" এবং "অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো" মূলত তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচার-আচরণসহ সকল বিষয়ে বিরোধিতার এক সাধারণ নির্দেশ। পাশাপাশি দাড়ি কর্তন বা মুণ্ডন করা এবং গোঁফ লম্বা রাখার ক্ষেত্রে তারা যা করে, তার বিরোধিতা করার ব্যাপারেও এটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ।সহিহাইন, মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা খেজাব লাগায় না; সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো।"ইমাম আহমাদও আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের একদল প্রবীণ ব্যক্তির নিকট আসলেন যাদের দাড়ি সাদা ছিল। তিনি বললেন: "হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা লাল বা হলুদ রঙের খেজাব ব্যবহার করো এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো।" আমরা বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আহলে কিতাবরা পায়জামা পরে কিন্তু লুঙ্গি পরিধান করে না।" তিনি বললেন: "তোমরা পায়জামাও পরো এবং লুঙ্গিও পরিধান করো; আর আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো।"
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১১)
فقوله صلى الله عليه وسلم خالفوا أهل الكتاب أمر مطلق بمخالفتهم في كل شيء من زيهم وهو أيضاً خاص في الأمر بمخالفتهم في اللباس وفي تركهم صبغ الشيب.وفي سنن أبي داود ومستدرك الحاكم وسنن البيهقي عن شداد بن أوس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «خالفوا اليهود فإنهم لا يصلون في نعالهم ولا خفافهم».قال الحاكم صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الحافظ الذهبي في تلخيصه وفي مستدرك الحاكم أيضاً من حديث ابن جريج عن محمد بن قيس بن مخرمة عن المسور بن مخرمة رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «هدينا مخالف لهديهم يعني المشركين» قال الحاكم صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه ووافقه الحافظ الذهبي في تلخيصه.وقد رواه الشافعي في مسنده من حديث ابن جريج عن محمد بن قيس بن مخرمة مرسلا ولفظه هدينا مخالف لهدي أهل الأوثان والشرك.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো" - এটি তাদের পোশাক-পরিচ্ছদসহ সকল বিষয়ে বিরোধিতার একটি সাধারণ নির্দেশ। এছাড়া এটি বিশেষভাবে তাদের পোশাকের ক্ষেত্রে এবং সাদা চুল না রাঙানোর অভ্যাসের বিরোধিতার বিষয়েও নির্দিষ্ট একটি নির্দেশ।সুনানে আবু দাউদ, মুস্তাদরাকে হাকেম এবং সুনানে বায়হাকিতে শাদ্দাদ ইবনে আউস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা ইহুদিদের বিরোধিতা করো; কারণ তারা তাদের জুতো এবং চামড়ার মোজা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করে না।"ইমাম হাকেম বলেন যে এটি সহীহ সনদে বর্ণিত, তবে ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি। হাফেজ যাহাবীও তাঁর 'তালখীস' গ্রন্থে এই মতের সাথে একমত পোষণ করেছেন। মুস্তাদরাকে হাকেমে ইবনে জুরাইজের সূত্রে মুহাম্মদ বিন কায়েস বিন মাখরামা থেকে, তিনি মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমাদের আদর্শ তাদের (অর্থাৎ মুশরিকদের) আদর্শের বিপরীত।" হাকেম বলেন এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্ত অনুযায়ী সহীহ, তবে তাঁরা তা বর্ণনা করেননি; এবং হাফেজ যাহাবীও তাঁর 'তালখীস' গ্রন্থে এতে একমত হয়েছেন।ইমাম শাফেঈ তাঁর মুসনাদে ইবনে জুরাইজের সূত্রে মুহাম্মদ বিন কায়েস বিন মাখরামা থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দবিন্যাস হলো: "আমাদের আদর্শ মূর্তিপূজক ও শিরকপন্থীদের আদর্শের বিপরীত।"
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১২)
(فصلٌ) وأما النهي عن التشبه بأعداء الله تعالى فقد قال الله تعالى {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نزلَ مِنَ الْحَقِّ وَلا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} [الحديد: 16]، فقوله: ولا يكونوا كالذين أوتوا الكتاب نهي مطلق عن مشابهتهم وهو خاص أيضاً في النهي عن مشابهتهم في قسوة قلوبهم.وفي جامع الترمذي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «غيروا الشيب ولا تشبهوا باليهود» قال الترمذي حديث حسن صحيح ورواه الإمام أحمد وابن حبان في صحيحه ولفظهما قال: «غيروا الشيب ولا تشبهوا باليهود ولا بالنصارى».وفي سنن النسائي عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «غيروا الشيب ولا تشبهوا باليهود» وله أيضاً عن الزبير رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله، قال النسائي وكلاهما غير محفوظ.وروى الطبراني عن شداد بن أوس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «صلوا في نعالكم ولا تشبهوا باليهود» فقوله في هذه الأحاديث ولا تشبهوا باليهود، وفي حديث أبي هريرة ولا بالنصارى نهي مطلق عن مشابهتهم في كل شيء
(পরিচ্ছেদ) আর মহান আল্লাহর শত্রুদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুমিনদের জন্য কি সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের হৃদয় বিগলিত হবে? আর তারা যেন তাদের মতো না হয় যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল অতিবাহিত হলো, ফলে তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেল; আর তাদের অধিকাংশ হলো পাপাচারী।} [আল-হাদীদ: ১৬]। সুতরাং তাঁর বাণী: "আর তারা যেন তাদের মতো না হয় যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল" তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নিষেধাজ্ঞা; আর এটি বিশেষভাবে তাদের অন্তরের কঠোরতার বিষয়ে সাদৃশ্য অবলম্বনের নিষেধাজ্ঞাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।জামে তিরমিযীতে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।" ইমাম তিরমিযী বলেন, এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস। ইমাম আহমাদ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের শব্দগুলো হলো: "তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করো এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।"সুনানে নাসাঈতে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।" তাঁর গ্রন্থে যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। নাসাঈ বলেন, এই দুটি বর্ণনাই অসংরক্ষিত (গাইর মাহফুজ)।তাবারানী শাদ্দাদ বিন আওস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের জুতা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।" সুতরাং এই হাদীসগুলোতে তাঁর বাণী "ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না" এবং আবু হুরায়রার হাদীসে "খ্রিস্টানদেরও নয়" - এটি সকল বিষয়ে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ওপর একটি সাধারণ নিষেধাজ্ঞা।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
من زيهم وهو خاص أيضاً في النهي عن مشابهتهم في تركهم تغيير الشيب وفي تركهم الصلاة في النعال.وفي الصحيحين عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه كتب إلى المسلمين المقيمين ببلاد فارس إياكم والتنعم وزي أهل الشرك.ورواه الإمام أحمد في مسنده بإسناد صحيح ولفظه ذروا التنعم وزي العجم، ورواه أيضاً في كتاب الزهد بإسناد صحيح ولفظه إياكم وزي الأعاجم ونعيمها.قال ابن عقيل رحمه الله تعالى النهي عن التشبه بالعجم للتحريم. وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى التشبه بالكفار منهي عنه بالإجماع. (فصلٌ) وأما التغليظ في التشبه بأعداء الله تعالى ففي المسند وسنن أبي داود وغيرهما عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من تشبه بقوم فهو منهم» صححه ابن حبان وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى إسناده جيد قال وقد احتج الإمام أحمد وغيره بهذا الحديث وهذا الحديث أقل أحواله أنه يقتضي تحريم التشبه بهم وإن كان ظاهره يقتضي كفر المتشبه بهم كما في قوله {وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ} [المائدة: 51]، انتهى.
তাদের বেশভূষা থেকে, যা পাকা চুল পরিবর্তন না করা এবং জুতা পরে সালাত আদায় না করার ক্ষেত্রে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের নিষেধাজ্ঞার সাথেও বিশেষভাবে সম্পৃক্ত।সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি পারস্যে অবস্থানরত মুসলিমদের নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন: "তোমরা বিলাসিতা এবং মুশরিকদের বেশভূষা থেকে বেঁচে থাকো।"ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যার শব্দাবলী হলো: "বিলাসিতা ও অনারবদের বেশভূষা বর্জন করো।" তিনি এটি কিতাবুয যুহদ-এও সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যার শব্দাবলী হলো: "তোমরা অনারবদের বেশভূষা ও তাদের ভোগবিলাস থেকে সাবধান থাকো।"ইবনে আকীল (রহ.) বলেন, অনারবদের সাদৃশ্য গ্রহণের নিষেধাজ্ঞাটি হারামের পর্যায়ভুক্ত। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন, কাফিরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা সর্বসম্মতিক্রমে নিষিদ্ধ। (পরিচ্ছেদ) আর আল্লাহর শত্রুদের সাদৃশ্য অবলম্বনের কঠোরতা সম্পর্কে মুসনাদ (আহমদ), সুনানে আবু দাউদ ও অন্যান্য কিতাবে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন এবং শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন, এর সনদটি উত্তম। তিনি বলেন, ইমাম আহমদ ও অন্যান্যগণ এই হাদীসটি দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। এই হাদীসটির নূন্যতম দাবি হলো তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ হারাম হওয়া, যদিও এর বাহ্যিক অর্থ সাদৃশ্য গ্রহণকারীর কুফরীকেই নির্দেশ করে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে নিশ্চয়ই তাদের অন্তর্ভুক্ত} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৫১]। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وفي جامع الترمذي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ليس منا من تشبه بغيرنا لا تشبهوا باليهود ولا بالنصارى».وروى الإمام أحمد في كتاب الزهد عن عقيل بن مدرك السلمي قال: أوحى الله إلى نبي من أنبياء بني إسرائيل قل لقومك لا يأكلوا طعام أعدائي ولا يشربوا شراب أعدائي ولا يتشكلوا شكل أعدائي فيكونوا أعدائي كما هم أعدائي.وروى أبو نعيم في الحلية عن مالك بن دينار نحوه.وروى الخلال عن حذيفة رضي الله عنه أنه أتى بيتاً فرأى شيئاً من زي العجم فخرج وقال من تشبه بقوم فهو منهم.قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى في الكلام على حديث ابن عمر رضي الله عنهما قد يحمل هذا على التشبه المطلق فإنه يوجب الكفر ويقتضي تحريم أبعاض ذلك وقد يحمل على أنه صار منهم في القدر المشترك الذي شابههم فيه فإن كان كفراً أو معصية أو شعاراً للكفر أو للمعصية كان حكمه كذلك وبكل حال فهو يقتضي تحريم التشبه بهم بعلة كونه تشبهاً، والتشبه يعم من فعل الشيء لأجل أنهم فعلوه وهو نادر ومن تبع غيره في فعل لغرض له في ذلك إذا كان أصل الفعل مأخوذاً عن ذلك الغير، فأما من فعل الشيء واتفق أن الغير فعله أيضاً ولم يأخذه أحدهما عن صاحبه ففي كون هذا تشبهاً نظر لكن قد ينهى عن هذا لئلا يكون ذريعة إلى التشبه
জামে আত-তিরমিজীতে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে আমাদের ব্যতীত অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) অনুকরণ করো না।"ইমাম আহমাদ তাঁর 'কিতাবুয যুহদ'-এ আকীল ইবনে মুদরিক আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের জনৈক নবীর প্রতি ওহী নাযিল করেন যে, তুমি তোমার কওমকে বলো— তারা যেন আমার শত্রুদের খাদ্য গ্রহণ না করে, আমার শত্রুদের পানীয় পান না করে এবং আমার শত্রুদের আকৃতি (বেশভুষা) ধারণ না করে; অন্যথায় তারা আমার শত্রু হয়ে যাবে যেমনভাবে তারা (পূর্বের শত্রুরা) আমার শত্রু।আবু নুআইম 'আল-হিলয়্যাহ' গ্রন্থে মালিক ইবনে দীনার থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আল-খলাল হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একদা একটি গৃহে উপস্থিত হয়ে সেখানে অনারবদের (আযমদের) পোশাক-পরিচ্ছদ বা বেশভুষার কিছু নমুনা দেখতে পেলেন। তখন তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, "যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।"শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসের আলোচনায় বলেছেন— এটি 'নিরঙ্কুশ সাদৃশ্য' (আত-তাশাব্বুহুল মুতলাক) অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে, যা কুফরকে অবধারিত করে এবং এর অংশবিশেষের নিষিদ্ধ হওয়াকে সাব্যস্ত করে। আবার এটি এ অর্থেও হতে পারে যে, ব্যক্তি সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যেটিতে সে তাদের অনুকরণ করেছে; সুতরাং বিষয়টি যদি কুফর হয় কিংবা পাপাচার হয় অথবা কুফর বা পাপাচারের প্রতীক (শিয়ার) হয়, তবে তার বিধানও সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। সর্বাবস্থায়, এটি শুধুমাত্র সাদৃশ্য হওয়ার কারণেই তাদের অনুকরণ করা হারাম হওয়াকে সাব্যস্ত করে। সাদৃশ্য অবলম্বনের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক; এটি সেই ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে যে কোনো কাজ এই উদ্দেশ্যে করে যে তারা সেটি করেছে (যদিও এমনটি হওয়া বিরল), আবার তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে নিজের কোনো প্রয়োজনে অন্যের অনুসরণ করে অথচ কাজের মূল উৎসটি সেই অন্য পক্ষ থেকেই গৃহীত। তবে যদি কেউ কোনো কাজ করে আর কাকতালীয়ভাবে অন্যরাও তা করে থাকে, কিন্তু কেউ কারো থেকে তা গ্রহণ করেনি, তবে তাকে 'সাদৃশ্য অবলম্বন' বলা হবে কি না সে বিষয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে; তবে একেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে যাতে এটি অনুকরণের মাধ্যম (যারিয়াহ) হয়ে না দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولما فيه من المخالفة كما أمر بصبغ اللحى وإعفائها وإحفاء الشوارب مع أن قوله صلى الله عليه وسلم غيروا الشيب ولا تشبهوا باليهود دليل على أن التشبه بهم يحصل بغير قصد منا ولا فعل بل بمجرد ترك تغيير ما خلق فينا وهذا من أبلغ الموافقة الفعلية الاتفاقية.وقد روي في هذا الحديث عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه نهى عن التشبه بالأعاجم وقال من تشبه بقوم فهو منهم ذكره القاضي أبو يعلى، وبهذا احتج غير واحد من العلماء على كراهة أشياء من زي غير المسلمين.وقال الشيخ أيضاً قد بعث الله عبده ورسوله محمداً صلى الله عليه وسلم بالحكمة التي هي سنته وهي الشرعة والمنهاج الذي شرعه له فكان من هذه الحكمة أن شرع لنا من الأعمال والأقوال ما يباين سبيل المغضوب عليهم والضالين وأمر بمخالفتهم في الهدي الظاهر وإن لم يظهر لكثير من الخلق في ذلك مفسدة لأمور منها أن المشاركة في الهدي الظاهر تورث تناسباً وتشاكلاً بين المتشابهين يقود إلى الموافقة في الأخلاق والأعمال.وهذا أمر محسوس فإن اللابس لثياب أهل العلم مثلاً يجد من نفسه نوع انضمام إليهم واللابس لثياب الجند المقاتلة مثلاً يجد في نفسه نوع تخلق بأخلاقهم ويصير طبعه مقتضياً لذلك إلا أن يمنعه من ذلك مانع.ومنها أن المخالفة في الهدي الظاهر توجب مباينة ومفارقة توجب الانقطاع عن موجبات الغضب وأسباب الضلال والانعطاف
আর এতে তাদের বিরোধিতা বিদ্যমান, যেমন তিনি দাড়ি রাঙানো, দাড়ি লম্বা রাখা এবং গোঁফ কাটার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করো এবং ইহুদিদের সদৃশ হয়ো না" এই বিষয়ের দলিল যে, তাদের সাথে সাদৃশ্য আমাদের কোনো উদ্দেশ্য বা কর্ম ছাড়াই অর্জিত হতে পারে; বরং কেবল আমাদের মাঝে যা সৃষ্টি করা হয়েছে তা অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমেই তা ঘটে যায়। আর এটি হলো কর্মগত ও জাগতিক ঐকমত্যের অন্যতম জোরালো পর্যায়।এই হাদিসে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনারবদের অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জাতির সদৃশ হবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" এটি কাজী আবু ইয়ালা উল্লেখ করেছেন। আর এর মাধ্যমেই একাধিক আলেম অমুসলিমদের পোশাক-পরিচ্ছদের বিশেষ কিছু বিষয় মাকরূহ হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন।শায়খ আরও বলেছেন, আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিকমত বা প্রজ্ঞা দিয়ে পাঠিয়েছেন যা হলো তাঁর সুন্নাহ; আর এটিই সেই শরীয়ত ও জীবনপদ্ধতি যা তিনি তাঁর জন্য নির্ধারণ করেছেন। এই হিকমতের অন্যতম দিক হলো যে, তিনি আমাদের জন্য এমন আমল ও কথা বিধিবদ্ধ করেছেন যা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ থেকে ভিন্ন। তিনি বাহ্যিক চালচলন ও বেশভূষায় তাদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও অনেক মানুষের কাছে এর মধ্যে কোনো ক্ষতিকর দিক ধরা পড়ে না। এর কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে—বাহ্যিক বেশভূষায় সামঞ্জস্য সদৃশ ব্যক্তিদের মধ্যে এক প্রকার মিল ও সাদৃশ্য তৈরি করে যা শেষ পর্যন্ত চরিত্র ও কর্মের ক্ষেত্রেও ঐকমত্যের দিকে ধাবিত করে।এটি একটি অনুভূত বিষয়। কেননা যে ব্যক্তি উদাহরণস্বরূপ আলেমদের পোশাক পরিধান করে, সে নিজের মাঝে তাদের সাথে এক প্রকার সম্পৃক্ততা অনুভব করে। আর যে ব্যক্তি যোদ্ধা সৈনিকদের পোশাক পরে, সে নিজের মাঝে তাদের স্বভাব-সুলভ আচরণের প্রভাব খুঁজে পায় এবং তার প্রকৃতিও সে অনুযায়ী গড়ে উঠতে চায়, যদি না কোনো বাধা তাকে তা থেকে নিবৃত্ত করে।এর আরেকটি কারণ হলো, বাহ্যিক বেশভূষায় বৈসাদৃশ্য বজায় রাখা এমন এক স্বাতন্ত্র্য ও বিচ্ছেদ নিশ্চিত করে যা আল্লাহর গযব ও বিভ্রান্তির কারণসমূহ থেকে এবং তাদের প্রতি অনুরাগী হওয়া থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করে।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إلى أهل الهدى والرضوان وتحقق ما قطع الله من الموالاة بين جنده المفلحين وأعدائه الخاسرين.وكلما كان القلب أتم حياة وأعرف بالإسلام كان إحساسه بمفارقة اليهود والنصارى باطناً وظاهرا أتم وبعده عن أخلاقهم الموجودة في بعض المسلمين أشد ومنها أن مشاركتهم في الهدي الظاهر توجب الاختلاط الظاهر حتى يرتفع التمييز ظاهراً بين المهديين المرضيين وبين المغضوب عليهم والضالين، إلى غير ذلك من الأسباب الحكمية، هذا إذا لم يكن ذلك الهدي الظاهر إلا مباحاً محضاً لو تجرد عن مشابهتهم فأما إن كان من موجبات كفرهم فإنه يكون شعبة من شعب الكفر فموافقتهم فيه موافقة في نوع من أنواع ضلالهم ومعاصيهم: فهذا أصل ينبغي أن يتفطن له.وقال الشيخ أيضاً مشاركتهم في الظاهر إن لم تكن ذريعة أو سبباً قريباً أو بعيداً إلى نوع ما من الموالاة والموادة فليس فيها مصلحة المقاطعة والمباينة مع أنها تدعو إلى نوع ما من المواصلة كما توجبه الطبيعة وتدل عليه العادة.وقال الشيخ أيضاً المشابهة والمشاكلة في الأمور الظاهرة توجب مشابهة ومشاكلة في الأمور الباطنة على وجه المسارقة والتدريج الخفي وقد رأينا اليهود والنصارى الذين عاشروا المسلمين هم أقل كفراً من غيرهم كما رأينا المسلمين الذين أكثروا من معاشرة اليهود والنصارى هم أقل إيماناً من غيرهم ممن جرد الإسلام.
হেদায়েত ও সন্তুষ্টির অনুসারীদের প্রতি এবং আল্লাহ তাঁর সফলকাম বাহিনী ও ক্ষতিগ্রস্ত শত্রুদের মধ্যে বন্ধুত্বের যে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, তার বাস্তবায়নের প্রতি। অন্তর যত বেশি জীবন্ত হবে এবং ইসলাম সম্পর্কে যত বেশি সম্যক অবগত হবে, ইহুদি ও নাসারাদের থেকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে পৃথক থাকার অনুভূতি তত পূর্ণাঙ্গ হবে এবং কিছু মুসলমানের মধ্যে বিদ্যমান তাদের স্বভাব-চরিত্র থেকে দূরত্ব তত তীব্র হবে। এর অন্যতম কারণ হলো, বাহ্যিক চালচলনে তাদের সাথে অংশগ্রহণ করা বাহ্যিক সংমিশ্রণকে অনিবার্য করে তোলে, যার ফলে হেদায়েতপ্রাপ্ত ও সন্তুষ্ট বান্দাদের সাথে অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের বাহ্যিক পার্থক্য বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ ছাড়াও আরও অনেক হিকমতপূর্ণ কারণ রয়েছে। এটি তখন প্রযোজ্য যখন সেই বাহ্যিক চালচলন তাদের সাথে সাদৃশ্য বর্জন করলে নিছক বৈধ হতো; কিন্তু যদি তা তাদের কুফরির আবশ্যিক কোনো বিষয় হয়, তবে তা কুফরির একটি শাখায় পরিণত হবে। সুতরাং সেক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হওয়া মানে তাদের বিভ্রান্তি ও নাফরমানির কোনো একটি প্রকারের সাথে একমত হওয়া। এটি এমন একটি মূলনীতি যা গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত।শাইখ আরও বলেন, বাহ্যিক বিষয়ে তাদের সাথে অংশগ্রহণ যদি কোনো ধরনের বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মাধ্যম নাও হয়, তবুও তাতে সম্পর্কচ্ছেদ ও পৃথক থাকার সেই কল্যাণ অর্জিত হয় না; যদিও এটি এক প্রকারের যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করে, যেমনটি মানুষের স্বভাব ও অভ্যাসের দাবি।শাইখ আরও বলেন, বাহ্যিক বিষয়গুলোতে সাদৃশ্য ও অভিন্নতা অলক্ষ্যে এবং সূক্ষ্ম ধারাবাহিকতায় অভ্যন্তরীণ বিষয়েও সাদৃশ্য ও অভিন্নতা সৃষ্টি করে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, যে সকল ইহুদি ও নাসারা মুসলমানদের সাথে মেলামেশা করেছে, তারা অন্যদের তুলনায় কুফরিতে কম উগ্র। তেমনি আমরা দেখেছি যে সকল মুসলমান ইহুদি ও নাসারাদের সাথে অধিক মেলামেশা করেছে, তারা বিশুদ্ধ ইসলামের ওপর অটল থাকা অন্যদের তুলনায় ঈমানে দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والمشاركة في الهدي الظاهر توجب أيضاً مناسبةً وائتلافاً وإن بعد المكان والزمان فهذا أيضاً أمر محسوس.قال والمشابهة في الظاهر تورث نوع مودة ومحبة وموالاة في الباطن كما أن المحبة في الباطن تورث المشابهة في الظاهر وهذا أمر يشهد به الحس والتجربة انتهى.وما ذكره رحمه الله تعالى من نتائج التشبه بأعداء الله تعالى وثمراته السيئة فكله واقع في زماننا ولاسيما مواصلة أعداء الله تعالى ومؤاخاتهم وموالاتهم وموادتهم ومحبتهم والاختلاط التام بهم في بعض الأقطار بحيث قد ارتفع فيها التمييز ظاهراً بين المسلم والكافر فلا يعرف هذا من هذا إلا من كان يعرفهم بأعيانهم.وقد قادت هذه الموافقة والمشابهة بعض الناس إلى النفاق وبعضهم إلى الردة والخروج من دين الإسلام عياذاً بالله من موجبات غضبه وأليم عقابه. (فصلٌ)إذا علم ما ذكرنا فمن أقبح المشابهة ما ابتلي به كثير من المسلمين من التشبه بالمجوس وطوائف الإفرنج في التمثيل بشعر الوجه، وهم بذلك على طرائق شتى:فمنهم من يحلق لحيته كلها ذقنها وعارضيها ومنهم من ينتفها نتفاً، ومنهم من يحلق العارضين ويقص من الذقن حتى
বাহ্যিক চালচলন ও বেশভুষায় সামঞ্জস্য বজায় রাখা একটি বিশেষ সংগতি ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করে, যদিও স্থান ও কালের ব্যবধান থাকে; এটি একটি অনুভবযোগ্য বিষয়।তিনি বলেন, বাহ্যিক সাদৃশ্য অন্তরে এক প্রকার সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সখ্যতা তৈরি করে; ঠিক যেমন অন্তরের ভালোবাসা বাহ্যিক সাদৃশ্যকে অনিবার্য করে তোলে। এটি এমন এক বিষয় যা ইন্দ্রিয় ও অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রমাণিত। (সমাপ্ত)আল্লাহ তাআলার শত্রুদের অনুকরণ ও সাদৃশ্য অবলম্বনের যেসব অশুভ পরিণাম ও কুফল তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) উল্লেখ করেছেন, তার সবই আমাদের যুগে দৃশ্যমান। বিশেষ করে কিছু জনপদে আল্লাহর শত্রুদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা, তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব, সখ্যতা, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা স্থাপন এবং তাদের সাথে এমনভাবে পূর্ণ সংমিশ্রণ ঘটেছে যে, সেখানে বাহ্যিকভাবে মুসলিম ও কাফিরের মধ্যকার পার্থক্য ঘুচে গেছে। ফলে নির্দিষ্টভাবে কাউকে আগে থেকে না চিনলে কে মুসলিম আর কে কাফির তা আলাদাভাবে চেনার উপায় নেই।এই সামঞ্জস্য ও সাদৃশ্য অনেক মানুষকে মুনাফেকির দিকে পরিচালিত করেছে এবং কাউকে কাউকে তো মুরতাদ হওয়া ও ইসলাম ধর্ম থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে নিয়ে গেছে। আমরা আল্লাহর ক্রোধ ও তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (পরিচ্ছেদ)উপরে যা আলোচনা করা হয়েছে তা যখন জানা হলো, তবে জেনে রাখা উচিত যে, সাদৃশ্যের নিকৃষ্টতম রূপগুলোর অন্যতম হলো—যাতে বর্তমানে অনেক মুসলিম আক্রান্ত হয়েছে—মুখমণ্ডলের চুলের আকার-আকৃতি বিকৃত করার ক্ষেত্রে মজুসি (অগ্নিপূজক) ও ইউরোপীয় জাতিগুলোর অনুকরণ করা। এ ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন পথ অবলম্বন করে থাকে:তাদের মধ্যে কেউ কেউ পুরো দাড়ি অর্থাৎ থুতনি ও দুই গালের অংশই মুণ্ডন করে ফেলে, কেউ কেউ তা উপড়ে ফেলে, আবার কেউ কেউ গালের দুই পাশের অংশ মুণ্ডন করে এবং থুতনির অংশটি এমনভাবে ছেঁটে ফেলে যে...
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
لا يبقى منه إلا القليل، وكثير منهم يبالغون في قص الذقن حتى لا يبقى فيه إلا أصول الشعر، وبعضهم يحلق لحيته وشاربه ويترك من الشارب نقطة أو نقطتين تحت الأنف ومن اللحية نقطة في العنفقة والذقن، وكثير منهم يحلقون لحاهم ويعفون شواربهم.وكل من هذه الأفعال مثلة قبيحة، وقد روى الطبراني عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «من مثل بالشعر فليس له عند الله خلاق».قال الهروي والزمخشري وغيرهما من أهل اللغة مثل بالشعر صيره مثلة بأن حلقه من الخدود أو نتفه أو غيَّره بالسواد وكذا قال ابن الأثير وابن منظور في لسان العرب.وقد عظمت بالبلوى بالتمثيل بالشعر في زماننا وزين الشيطان ذلك لكثير من المنتسبين إلى العلم من معلمين ومتعلمين فأجابوا دعوة عدو الله وامتثلوا أمره وعصوا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم على بصيرة.قال الله تعالى {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7]، وقال تعالى: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 158]، وقال تعالى {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً} [النساء: 80]،وثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «خالفوا المشركين وفروا اللحى واحفوا الشوارب» وفي لفظ «انهكوا الشوارب واعفوا اللحى».
এর সামান্য অংশই বাকি থাকে। তাদের অনেকে চিবুকের চুল কাটতে কাটতে এমন বাড়াবাড়ি করে যে, শুধু চুলের গোড়া ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। আবার কেউ কেউ দাড়ি ও গোঁফ কামিয়ে ফেলে এবং নাকের নিচে গোঁফের এক বা দুই বিন্দু এবং থুতনি ও নিচের ঠোঁটের মধ্যবর্তী স্থানে সামান্য চুল রেখে দেয়। আর তাদের অধিকাংশই দাড়ি কামিয়ে ফেলে এবং গোঁফ লম্বা রাখে।এই সকল কাজই অত্যন্ত কদর্য অঙ্গহানি বা বিকৃতি। ইমাম তাবারানি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি চুলের বিকৃতি ঘটায়, আল্লাহর নিকট তার কোনো অংশ (কল্যাণ) নেই।"হারাবি, যামাখশারি ও অন্যান্য ভাষাবিদগণ বলেছেন, চুলের বিকৃতি বলতে বুঝায়— গাল কামিয়ে ফেলা অথবা চুল উপড়ে ফেলা কিংবা কালো রং দিয়ে তা পরিবর্তন করে বিকৃত রূপ দান করা। ইবনুল আসির এবং ইবনে মানযুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।আমাদের বর্তমান সময়ে চুলের এই বিকৃতি সাধনের বিপদ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। শয়তান এই বিষয়টিকে অনেক আলেম ও তালিবে ইলমের নিকট সুশোভিত করে পেশ করেছে; ফলে তারা আল্লাহর শত্রুর ডাকে সাড়া দিয়েছে, তার নির্দেশ মেনে চলেছে এবং সজ্ঞানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাফরমানি করেছে।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [হাশর: ৭]। তিনি আরও বলেন: {সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল উম্মি নবীর প্রতি ঈমান আনো, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীর প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও} [আরাফ: ১৫৮]। তিনি আরও ইরশাদ করেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি আপনাকে তাদের প্রতি হেফাযতকারী করে পাঠাইনি} [নিসা: ৮০]।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; দাড়ি বাড়াও এবং গোঁফ খাটো করো।" অন্য শব্দে এসেছে: "গোঁফ একেবারে ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।"
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال «جزوا الشوارب وأرخو اللحى خالفوا المجوس».فقال أولئك العصاة بلسان الحال سمعنا وعصينا وآثروا هدي أولياء الشيطان اللعين على هدي الأنبياء والمرسلين.وسيأتي ذكر الأحاديث في الأمر بإحفاء الشوارب وإعفاء اللحى والأمر بالشيء نهي عن ضده كما هو مقرر عند الأصوليين فالأمر بإحفاء الشوارب وإنهاكها هو في الحقيقة نهي عن إعفائها وتوفيرها. والأمر بإعفاء اللحى وإرخائها هو في الحقيقة نهي عن حلقها ونتفها وقصها.وقد ورد النهي عن النتف بخصوصه والتشديد في ذلك كما في المسند والسنن إلا الترمذي عن أبي ريحانة رضي الله عنه قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عشر وذكر منها النتف.وفي رواية للنسائي قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم «حرم الوشر والوشم والنتف» قال بعض العلماء النتف يعم نتف الشيب ونتف الشعر عند المصيبة ونتف اللحية ونتف الحاجب والعلة في جميع ذلك تغيير خلق الله تعالى.وفي الصحيحين والمسند والسنن عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: لعن الله الواشمات والمستوشمات والمتنمصات والمتفلجات للحسن المغيرات خلق الله مالي لا ألعن من لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في كتاب الله.وفي رواية للنسائي عن عبد الله رضي الله عنه قال:
নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন, "তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা করো, আর অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।"অতঃপর সেই অবাধ্যরা তাদের আচরণের মাধ্যমে বলছে— আমরা শুনলাম এবং অমান্য করলাম। তারা অভিশপ্ত শয়তানের বন্ধুদের পথকে নবী ও রাসূলগণের হেদায়েতের ওপর প্রাধান্য দিয়েছে।সামনে গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ সম্বলিত হাদিসগুলো আলোচিত হবে। আর কোনো বিষয়ে আদেশ করা তার বিপরীতটি থেকে নিষেধ করার নামান্তর, যেমনটি উসুলবিদগণের নিকট স্বীকৃত। সুতরাং গোঁফ ছোট ও ছাঁটার আদেশ মূলত তা লম্বা রাখা ও বৃদ্ধি করার ব্যাপারে নিষেধ। আর দাড়ি লম্বা ও ছেড়ে দেয়ার আদেশ মূলত তা মুণ্ডানো, উপড়ানো এবং ছোট করার ব্যাপারে নিষেধ।পশম উপড়ানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা এবং এ বিষয়ে কঠোরতা বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থসমূহে (তিরমিজি ব্যতীত) আবু রায়হানা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দশটি কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো পশম উপড়ানো।নাসায়ীর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "দাঁত ঘষে সরু করা, উল্কি আঁকা এবং পশম উপড়ানো হারাম করেছেন।" কোনো কোনো আলিম বলেন, পশম উপড়ানোর এই নিষেধাজ্ঞা সাদা চুল উপড়ানো, বিপদের সময় চুল উপড়ানো, দাড়ি উপড়ানো এবং ভ্রু উপড়ানোকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এই সবকিছুর পেছনের কারণ হলো মহান আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনা।সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম), মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থসমূহে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা সেই নারীদের ওপর লানত করেছেন যারা উল্কি আঁকে এবং যারা উল্কি আঁকায়, যারা ভ্রু উপড়ায় এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করে— যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে। আমার কী হলো যে, আমি তাকে লানত করব না যাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লানত করেছেন, অথচ এটি আল্লাহর কিতাবেও (মূলনীতি হিসেবে) বিদ্যমান।নাসায়ীর একটি বর্ণনায় আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২০)
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يلعن المتنمصات والمتفلجات والمتوشمات اللاتي يغيرن خلق الله عز وجل.وفي سنن أبي داود عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لعنت الواصلة والمستوصلة والنامصة والمتنمصة والواشمة والمستوشمة من غير داء.وفي سنن النسائي عن عائشة رضي الله عنها قالت: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الواشمة والمستوشمة والواصلة والمستوصلة والنامصة والمتنمصة. قال الخطابي والهروي وغيرهما من أهل اللغة المتنمصات من النمص وهو نتف الشعر من الوجه ومنه قيل للمنقاش المنماص والنامصة هي التي تنتف الشعر بالمنماص والمتنمصة هي التي يفعل بها ذلك.وإذا كان النمص محرماً على النساء وملعوناً من فعل ذلك منهن فتحريمه على الرجال يكون من باب الأولى لوجهين:أحدهما: ما فيه من المثلة وتغيير خلق الله وقد نص الإمام أحمد في رواية المروذي على كراهة أخذ الشعر بالمنقاش من الوجه وقال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المتنمصات. والمراد بالكراهة عند أحمد رحمه الله تعالى كراهة التحريم والدليل على ذلك احتجاجه بحديث اللعن لمن فعل ذلك واللعن لا يكون إلا على كبائر الإثم.الوجه الثاني: أن الرجال مأمورون بإعفاء اللحى والنمص ينافي ذلك وقد قال البخاري رحمه الله تعالى في صحيحه باب إعفاء اللحية: عفوا كثروا أو كثرت أموالهم ثم ساق في الباب
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই সব নারীদের অভিশাপ দিতে শুনেছি যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে, দাঁতের মাঝে কৃত্রিমভাবে ফাঁকা সৃষ্টি করে এবং যারা উল্কি অঙ্কন করে; যারা মহান আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।সুনানে আবু দাউদে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো রোগব্যাধি ছাড়াই যারা চুলে আলগা চুল সংযোগ করে ও যারা সংযোগ করায়, যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে ও যারা উপড়ে নেয় এবং যারা উল্কি অঙ্কন করে ও যারা অঙ্কন করায়—তাদের অভিশপ্ত করা হয়েছে।সুনানে নাসায়িতে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্কি অঙ্কনকারিণী ও যে উল্কি গ্রহণ করে, চুলে আলগা চুল সংযোগকারিণী ও যে সংযোগ করায় এবং যে ভ্রু উপড়ে ফেলে ও যার ভ্রু উপড়িয়ে দেওয়া হয়—তাদের নিষেধ করেছেন। খাত্তাবি, হারায়ি এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণ বলেন, 'মুতানাম্মিসাত' শব্দটি 'নামস' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ মুখমণ্ডলের চুল উপড়ে ফেলা। আর এ কারণেই চিমটাকে 'মিনমাস' বলা হয়। 'নামিসাহ' হলো সেই নারী যে চিমটা দিয়ে চুল উপড়ে দেয়, আর 'মুতানাম্মিসাহ' হলো যার জন্য এই কাজটি করা হয়।যদি নারীদের জন্য ভ্রু বা মুখমণ্ডলের চুল উপড়ানো হারাম হয়ে থাকে এবং এ কাজ করার কারণে তারা অভিশপ্ত হয়, তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি হারাম হওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত। এর কারণ দুটি:প্রথমত: এর মধ্যে অঙ্গবিকৃতি এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তনের বিষয়টি বিদ্যমান। ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ আল-মাররুযির বর্ণনায় চিমটা দিয়ে মুখমণ্ডল থেকে চুল তোলার ব্যাপারে 'কারাহাত' বা অপছন্দনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সব নারীদের লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে। ইমাম আহমাদের পরিভাষায় এখানে 'কারাহাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'কারাহাতে তাহরিমি' বা হারাম হওয়া। এর প্রমাণ হলো এ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য লানতের হাদিস দ্বারা তাঁর দলিল পেশ করা, আর লানত কেবল কবিরা গুনাহর ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে।দ্বিতীয়ত: পুরুষরা দাড়ি লম্বা রাখতে আদিষ্ট, আর মুখমণ্ডলের চুল উপড়ানো এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর সহিহ গ্রন্থে 'দাড়ি লম্বা রাখা' অনুচ্ছেদে বলেছেন: 'আফু' অর্থ তারা বৃদ্ধি করেছে বা তাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতঃপর তিনি এই অনুচ্ছেদে প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২১)
حديث عبيد بن عمر العمري عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «انهكوا الشوارب واعفوا اللحى». ورواه الإمام أحمد ومسلم والترمذي والنسائي من حديث عبيد الله به ولفظهم احفوا الشوارب واعفوا اللحى.ورواه البخاري ومسلم أيضاً من حديث عمر بن محمد بن زيد عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال «خالفوا المشركين وفروا اللحى واحفوا الشوارب» هذا لفظ البخاري. ولفظ مسلم خالفوا المشركين احفوا الشوارب وأوفوا اللحى.ورواه مالك في الموطأ عن أبي بكر بن نافع عن أبيه نافع عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بإحفاء الشوارب وإعفاء اللحى.ورواه مسلم وأبو داود والترمذي من طريق مالك به وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح.ورواه الإمام أحمد والنسائي أيضاً من حديث عبد الرحمن بن علقمة قال سمعت ابن عمر رضي الله عنهما يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «اعفوا اللحى واحفوا الشوارب».وفي رواية لأحمد عن عبد الرحمن قال: سمعت ابن عمر رضي الله عنهما يقول: أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تعفى اللحى وأن تجز الشوارب.وفي صحيح مسلم من حديث العلاء بن عبد الرحمن بن يعقوب
উবাইদ ইবনে উমর আল-উমারি থেকে নাফে’-এর সূত্রে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা গোঁফ একেবারে ছোট করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।" ইমাম আহমাদ, মুসলিম, তিরমিজি এবং নাসাঈ উবাইদুল্লাহর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাদের শব্দচয়ন হলো: "তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।"ইমাম বুখারি ও মুসলিমও উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে নাফে’-এর সূত্রে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; দাড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ ছেঁটে ফেলো।" এটি বুখারির শব্দ। আর মুসলিমের শব্দ হলো: "মুশরিকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি পরিপূর্ণভাবে বাড়তে দাও।"ইমাম মালিক মুয়াত্তায় আবু বকর ইবনে নাফে’ থেকে, তিনি তার পিতা নাফে’ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোঁফ ছেঁটে ফেলার এবং দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।মুসলিম, আবু দাউদ এবং তিরমিজিও মালিকের সূত্র ধরে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ।ইমাম আহমাদ ও নাসাঈও আবদুর রহমান ইবনে আলকামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা দাড়ি ছেড়ে দাও এবং গোঁফ ছেঁটে ফেলো।"আহমাদের এক বর্ণনায় আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাড়ি ছেড়ে দেওয়ার এবং গোঁফ কাটার নির্দেশ দিয়েছেন।এবং সহিহ মুসলিমে আল-আলা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াকুবের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২২)
مولى الحرقة عن أبيه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «جزوا الشوارب وأرخوا اللحى خالفوا المجوس». ورواه الإمام أحمد في مسنده من وجه آخر فقال حدثنا هشيم عن عمر بن أبي سلمة عن أبيه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «قصوا الشوارب واعفوا اللحى».ورواه البخاري في التاريخ الكبير من حديث أبي عوانة عن عمر عن أبيه عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم «اعفوا اللحى وخذوا من الشوارب».وقد رواه الطبراني من طريق عمر بن أبي سلمة ولفظه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن أهل الشرك يعفون شواربهم ويحفون لحاهم فخالفوهم فاعفوا اللحى واحفوا الشوارب.وقال البخاري في التاريخ الكبير قال لي إسماعيل بن أبي أويس حدثني أخي عن سليمان عن محمد بن عبد الله بن أبي مريم عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كانت المجوس تعفي شواربها وتحفي لحاها فخالفوهم فجزوا شواربكم واعفوا لحاكم».وروى البزار عن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال «خالفوا المجوس جوزا الشوارب وأوفروا اللحى».وروى البيهقي وغيره من حديث ميمون بن مهران عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم المجوس فقال
মাওলা আল-হুরকাহ তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও; অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো।» ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে অন্য সূত্রে এটি বর্ণনা করে বলেন, হুশাইম আমাদের নিকট উমর ইবনে আবি সালামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «তোমরা গোঁফ কর্তন করো এবং দাড়ি লম্বা হতে দাও।»এবং ইমাম বুখারী তাঁর 'আত-তারিখ আল-কাবীর'-এ আবু আওয়ানাহ-এর সূত্রে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, নবী কারীম (সা.)-এর বরাতে বর্ণনা করেছেন: «তোমরা দাড়ি লম্বা হতে দাও এবং গোঁফ ছেঁটে নাও।»ইমাম তবারানি উমর ইবনে আবি সালামাহ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দগুলো হলো: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «নিশ্চয়ই মুশরিকরা তাদের গোঁফ লম্বা রাখে এবং দাড়ি মুণ্ডন করে; সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো—দাড়ি বাড়তে দাও এবং গোঁফ পরিষ্কার করো (ছেঁটে ফেলো)।»ইমাম বুখারী 'আত-তারিখ আল-কাবীর'-এ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে আবি উওয়াইস আমাকে বলেছেন, আমার ভাই সুলাইমান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন: «অগ্নিপূজকরা (মাজুসরা) তাদের গোঁফ লম্বা রাখত এবং দাড়ি মুণ্ডন করত; সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো। তোমরা তোমাদের গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি বাড়তে দাও।»ইমাম বাযযার আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন: «তোমরা অগ্নিপূজকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি পূর্ণরূপে হতে দাও (লম্বা করো)।»ইমাম বায়হাকী ও অন্যান্যরা মাইমুন ইবনে মিহরান-এর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) অগ্নিপূজকদের কথা উল্লেখ করে বললেন:
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
«إنهم يوفون سبالهم ويحلقون لحاهم فخالفوهم» قال فكان ابن عمر رضي الله عنهما يستقرض سبلته فيجزها كما يجز الشاة والبعير.وروى الإمام أحمد والطبراني عن أبي أمامة رضي الله عنه قال: قلنا يا رسول الله إن أهل الكتاب يقصون عثانينهم ويوفرون سبالهم: قال: فقال النبي صلى الله عليه وسلم قصوا سبالكم ووفروا عثانينكم وخالفوا أهل الكتاب. قال الهيثمي رجال أحمد رجال الصحيح خلا القاسم وهو ثقة وفيه كلام لا يضر، قلت قد وثقه ابن معين والبخاري والترمذي والعجلي والجوزجاني وقال عبد الرحمن بن يزيد بن جابر ما رأيت أفضل من القاسم أبي عبد الرحمن.السبال جمع سبلة بالتحريك وهو الشارب قاله الجوهري.وقال الأزهري السبلة ما على الشفة العليا من الشعر يجمع الشاربين وما بينهما والمرأة إذا كان لها هناك شعر قيل امرأة سبلاء انتهى.وتطلق السبلة أيضاً على اللحية أو على مقدمها كما سيأتي بيانه قريباً إن شاء الله تعالى.والعثانين جمع عثنون وهي اللحية.وروى الطبراني من حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «احفوا الشوارب واعفوا اللحى».وروى البخاري في التاريخ الكبير عن سويد بن حيان عن أبي سلمة بن عبد الله عن رجل من الأنصار عن النبي صلى الله عليه وسلم «اعفوا لحاكم ولا تشبهوا باليهود».
"নিশ্চয়ই তারা তাদের গোঁফ লম্বা রাখে এবং দাড়ি মুণ্ডন করে, সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো।" বর্ণনাকারী বলেন, ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর গোঁফ মুষ্টি করে ধরতেন এবং এর অতিরিক্ত অংশ এমনভাবে ছেঁটে ফেলতেন যেভাবে ভেড়া বা উটের পশম ছাঁটা হয়।ইমাম আহমাদ ও তাবারানি আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল! আহলে কিতাবগণ তাদের দাড়ি ছোট করে এবং গোঁফ লম্বা রাখে।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা তোমাদের গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি বৃদ্ধি করো এবং আহলে কিতাবের বিরোধিতা করো।" আল-হাইসামি বলেন: আাহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, কেবল কাসিম ছাড়া; তিনি নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর ব্যাপারে কিছু সমালোচনা রয়েছে যা ক্ষতিকর নয়। আমি বলছি, ইবনে মাঈন, বুখারি, তিরমিযি, ইজলি ও জাওযাজানি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযিদ ইবনে জাবীর বলেন, "আমি আবু আব্দুর রহমান আল-কাসিমের চেয়ে উত্তম কাউকে দেখিনি।"'সিবাল' শব্দটি হরকতযুক্ত 'সাবালাহ' শব্দের বহুবচন, আর তা হলো গোঁফ—এটি আল-জাওহারি বলেছেন।আল-আযহারি বলেন: 'সাবালাহ' হলো উপরের ঠোঁটের ওপরের লোম যা গোঁফের দুই প্রান্ত ও তার মধ্যবর্তী অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। কোনো মহিলার সেখানে লোম থাকলে তাকে 'সাবলা' বলা হয়। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।'সাবালাহ' শব্দটি দাড়ির ক্ষেত্রে অথবা দাড়ির সম্মুখভাগের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমনটি শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ বর্ণিত হবে।'আল-আসানীন' হলো 'উসনুন' শব্দের বহুবচন, আর তা হলো দাড়ি।তাবারানি আমর ইবনে শুয়াইব, তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা গোঁফ খুব ছোট করো এবং দাড়ি বৃদ্ধি পেতে দাও।"বুখারি তাঁর 'আত-তারিখুল কবির' গ্রন্থে সুওয়াইদ ইবনে হাইয়ান, আবু সালামাহ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং একজন আনসারি সাহাবির সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা তোমাদের দাড়ি বাড়তে দাও এবং ইহুদিদের সদৃশ হয়ো না।"
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «قصوا الشوارب واعفوا اللحى ولا تمشوا في الأسواق إلا وعليكم الأزر إنه ليس منا من عمل سنة غيرنا» رواه الطبراني في الأوسط والكبير قال الهيثمي وفيه يوسف بن ميمون ضعفه أحمد والبخاري وجماعة ووثقه ابن حبان وبقية رجاله ثقات.وفي صحيح مسلم ومسند الإمام أحمد والسنن عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «عشر من الفطرة قص الشارب وإعفاء اللحية الحديث».قال الخطابي: فسر أكثر العلماء الفطرة في هذا الحديث بالسنة وتأويله أن هذه الخصال من سنن الأنبياء الذين أمرنا أن نقتدي بهم لقوله سبحانه {فبهداهم اقتده} قال النووي وقيل هي الدين.وفي سنن النسائي عن طلق بن حبيب قال: عشر من السنة وذكر منها قص الشارب وتوفير اللحية.وإذا قال الصحابي أو التابعي من السنة كذا فله حكم المرفوع لأن المراد بذلك سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم كما قرر ذلك المحققون من العلماء. وقد أفاد البخاري رحمه الله تعالى في الترجمة التي تقدم ذكرها أن إعفاء اللحية معناه تركها على حالها موفرة حتى تعفوا أي تكثر واستدل لذلك بقول الله تعالى {ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ السَّيِّئَةِ الْحَسَنَةَ حَتَّى عَفَوْا} [الأعراف: 95]، أي كثروا وكثرت أموالهم.وكذا قال الخطابي والهروي وغيرهما من أهل اللغة.
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা করো, আর বাজারে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থা ছাড়া চলাফেরা করো না; কেননা যে ব্যক্তি আমাদের ব্যতীত অন্যদের আদর্শ অনুযায়ী আমল করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" এটি তাবারানি তাঁর আল-আওসাত ও আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেন, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইউসুফ ইবনে মাইমুন রয়েছেন, যাকে ইমাম আহমাদ, বুখারি ও একদল মুহাদ্দিস দুর্বল বলেছেন, তবে ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং বর্ণনাকারী দলের অবশিষ্ট সকলেই নির্ভরযোগ্য।সহীহ মুসলিম, মুসনাদে ইমাম আহমাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "দশটি বিষয় ফিতরাতের (স্বভাবজাত বিষয়ের) অন্তর্ভুক্ত: গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি লম্বা করা... (পুরো হাদিস)।"খাত্তাবি বলেন: অধিকাংশ আলিম এই হাদিসে 'ফিতরাত' শব্দটিকে 'সুন্নাহ' অর্থে ব্যাখ্যা করেছেন। এর তাৎপর্য হলো, এই বৈশিষ্ট্যগুলো সেই সকল নবীগণের সুন্নাহ বা তরীকা যাদের অনুসরণ করতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তাদের পথেরই অনুসরণ করো}। আন-নববী বলেন, কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো 'দীন'।সুনানে নাসাঈতে তালক ইবনে হাবীব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: দশটি বিষয় সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে তিনি গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি পরিপূর্ণ রাখার কথা উল্লেখ করেছেন।আর যখন কোনো সাহাবী বা তাবিঈ বলেন যে "অমুক কাজ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত", তখন তা 'মারফু' (রাসূলুল্লাহ সা.-এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত) বর্ণনার পর্যায়ভুক্ত হয়। কারণ এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নতকেই উদ্দেশ্য করা হয়, যেমনটি গবেষক আলিমগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) পূর্বে উল্লেখিত অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করেছেন যে, দাড়ি ছেড়ে দেওয়া বা লম্বা করার অর্থ হলো সেটিকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া যাতে তা বৃদ্ধি পায় এবং ঘন হয়। তিনি এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর এই বাণীটি প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন: {অতঃপর আমরা অকল্যাণকে কল্যাণে রূপান্তরিত করলাম, এমনকি তারা সংখ্যায় ও ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পেল} [সূরা আল-আরাফ: ৯৫], অর্থাৎ তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল এবং তাদের ধন-সম্পদও বৃদ্ধি পেল।খাত্তাবি, হারবি এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال الهروي إعفاء اللحى هو أن يوفر شعرها ولا يقص كالشوارب من عفا الشيء إذا كثر وزاد يقال أعفيته وعفيته. وقال الخطابي في معالم السنن إعفاء اللحية توفيرها من قولك عفا النبت إذا طال ويقال عفى الشيء بمعنى كثر قال الله تعالى {حتى عفوا} أي كثروا.وقال في موضع آخر منه أما إعفاء اللحية فهو إرسالها وتوفيرها كره لنا أن نقصها كفعل بعض الأعاجم وكان من زي آل كسرى قص اللحى وتوفير الشوارب فندب صلى الله عليه وسلم أمته إلى مخالفتهم في الزي والهيئة ويقال عفا الشعر والنبات إذا وفا وقد عفوته وأعفيته لغتان قال تعالى {حتى عفوا} أي كثروا.وقال النووي إعفاء اللحية معناه توفيرها وهو معنى أوفوا اللحى في الرواية الأخرى وكان من عادة الفرس قص اللحية فنهى الشرع عن ذلك.وقال أيضاً وأما أوفوا فهو بمعنى اعفوا أي اتركوها وافية كاملة لا تقصوها. قال وأما قوله صلى الله عليه وسلم وأرخوا اللحى فمعناه اتركوها ولا تتعرضوا لها بتغيير.وقال ابن الأثير إعفاء اللحية تركها لا تقص حتى تعفوا أي تكثر. وقد روى ابن عساكر في تاريخه عن الحسن مرسلاً أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «عشر خصال عملها قوم لوط، بها أهلكوا وتزيدها أمتي بخلة - فذكر الخصال ومنها قص اللحية وطول الشارب» قلت وقد زاد كثير من الممثلين باللحى في
আল-হারাউয়ী বলেন, দাড়ির 'ই'ফা' (ছেড়ে দেওয়া) হলো এর চুলকে পরিপূর্ণ রাখা এবং গোঁফের মতো না কাটা। এটি 'আফা' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ কোনো কিছু বৃদ্ধি পাওয়া ও বেশি হওয়া। বলা হয়, আমি একে বাড়তে দিয়েছি। খাত্তাবী 'মাআলিমুস সুনান' গ্রন্থে বলেন, দাড়ির 'ই'ফা' মানে হলো তা বৃদ্ধি পেতে দেওয়া। এটি 'আফা আল-নাবতু' (উদ্ভিদ লম্বা হওয়া) থেকে গৃহীত। আবার 'আফা' অর্থ কোনো কিছু অধিক হওয়া; যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, "যতক্ষণ না তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল।"তিনি অন্য এক স্থানে বলেন, দাড়ির 'ই'ফা' হলো তা ছেড়ে দেওয়া এবং পরিপূর্ণ রাখা। অনারবদের মতো দাড়ি কাটা আমাদের জন্য অপছন্দনীয় করা হয়েছে। কিসরার বংশীয়দের রীতি ছিল দাড়ি কাটা এবং গোঁফ বড় রাখা। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে বেশভূষা ও অবয়বে তাদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। বলা হয় চুল বা উদ্ভিদ 'আফা' হয়েছে যখন তা পূর্ণতা পায়। 'আফাউতুহু' এবং 'আ’ফাতুহু'—উভয়টিই ভাষাগত প্রয়োগ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, "যতক্ষণ না তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল।"ইমাম নববী বলেন, দাড়ির 'ই'ফা' অর্থ হলো তা বৃদ্ধি পেতে দেওয়া। অন্য বর্ণনায় বর্ণিত 'আওফুল লিহা' (দাড়ি পূর্ণ করো) শব্দের অর্থও এটাই। পারস্যবাসীদের অভ্যাস ছিল দাড়ি কাটা, তাই শরীয়ত তা থেকে নিষেধ করেছে।তিনি আরও বলেন, 'আওফু' শব্দটি 'ই'ফা' বা ছেড়ে দেওয়ার অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ তোমরা দাড়িগুলোকে পরিপূর্ণ ও অবিকৃত অবস্থায় ছেড়ে দাও, তা কাটবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী 'আরখুল লিহা' (দাড়ি ঝুলিয়ে দাও) এর অর্থ হলো সেগুলোকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও এবং কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে তাতে হস্তক্ষেপ করো না।ইবনুল আসীর বলেন, দাড়ির 'ই'ফা' মানে হলো তা না কেটে ছেড়ে দেওয়া যাতে তা বৃদ্ধি পায়। ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে হাসান বসরী থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "দশটি অভ্যাস লূত আলাইহিস সালামের জাতি পালন করত, যার ফলে তারা ধ্বংস হয়েছিল এবং আমার উম্মত এতে আরও একটি বিষয় যোগ করবে—অতঃপর তিনি সেই অভ্যাসগুলো উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ছিল দাড়ি কাটা এবং গোঁফ লম্বা করা।" আমি (গ্রন্থকার) বলছি, দাড়ি নিয়ে বিকৃতি সাধনকারীদের অনেকেই এই ক্ষেত্রে আরও বাড়াবাড়ি করেছে...
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
زماننا وقبله بأزمان على ما ذكر عن المجوس وعن قوم لوط.فالمجوس وقوم لوط يقصون اللحى قصاً، وأما طوائف الإفرنج وكثير ممن يتشبه بهم من سفهاء المسلمين فهم يحلقونها وبعضهم ينتفها، فالحلق والنتف أبلغ من القص وأعظم منه في تشويه الوجه.ولا يعرف التمثيل باللحى عن أحد من أوائل هذه الأمة وإنما ذكر ذلك عن بعض الصوفية في منتصف القرن السابع.قال الحافظ ابن كثير رحمه الله تعالى في تاريخه في حوادث سنة خمس وخمسين وستمائة. وفيها دخلت الفقراء الحيدرية الشام ومن شعارهم لبس الراحي والطراطير ويقصون لحاهم ويتركون شواربهم وهو خلاف السنة تركوها لمتابعة شيخهم حيدر حين أسره الملاحدة فقصوا لحيته وتركوا شواربه فاقتدوا به في ذلك وهو معذور وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك وليس لهم في شيخهم قدوة.ونقل الحافظ ابن حجر في فتح الباري عن أبي شامة أنه قال: قد حدث قوم يحلقون لحاهم وهو أشد مما نقل عن المجوس أنهم كانوا يقصونها انتهى.فالحيدرية قلدوا الملاحدة في صنيعهم بحيدر وأما السفهاء في زماننا فإنهم قلدوا طوائف الإفرنج ومن شاكلهم من أعداء الله تعالى والجميع مقلدون للمجوس.فهذه مآخذ التمثيل باللحى وأصوله التي يرجع إليها.
আমাদের বর্তমান যুগে এবং এর পূর্বের দীর্ঘ সময় ধরে যেমনটি মজুসি (অগ্নিউপাসক) এবং লুতের কওমের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে।মজুসি ও লুতের কওম দাড়ি ছোট করে ছাঁটত; আর ইউরোপীয় গোষ্ঠীসমূহ এবং তাদের অনুকরণকারী মুসলিমদের মধ্য হতে বহু নির্বোধ ব্যক্তি দাড়ি কামিয়ে ফেলে, আবার কেউ কেউ তা উপড়ে ফেলে। অথচ দাড়ি কামানো বা উপড়ে ফেলা ছোট করে ছাঁটার চেয়েও অধিক জঘন্য এবং চেহারা বিকৃত করার ক্ষেত্রে অধিক ভয়াবহ।এই উম্মতের পূর্ববর্তীদের কারও থেকে দাড়ির এমন অবমাননা বা বিকৃতি সম্পর্কে জানা যায় না। তবে সপ্তম হিজরি শতকের মাঝামাঝি সময়ে কিছু সুফির ব্যাপারে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।হাফেজ ইবনে কাসির (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ৬৫৫ হিজরির ঘটনাবলিতে উল্লেখ করেছেন: "এই বছর 'হায়দারিয়া' ফকির সম্প্রদায় সিরিয়ায় প্রবেশ করে। তাদের প্রতীকের মধ্যে ছিল বিশেষ প্রকারের বস্ত্র ও টুপি পরিধান করা। তারা তাদের দাড়ি কেটে ছোট করত এবং গোঁফ লম্বা রাখত, যা সুন্নাহর পরিপন্থী। তারা তাদের শায়খ হায়দারের অনুসরণে এটি করত; কারণ নাস্তিকরা তাকে বন্দি করার পর তার দাড়ি কেটে ফেলেছিল এবং গোঁফ রেখে দিয়েছিল। ফলে তারা এ বিষয়ে তাঁর অন্ধ অনুকরণ করেছিল, অথচ তিনি ছিলেন অপারগ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ থেকে নিষেধ করেছেন এবং তাদের শায়খ এক্ষেত্রে তাদের জন্য কোনো অনুসরণীয় আদর্শ নন।"হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে আবু শামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছে যারা দাড়ি কামিয়ে ফেলে; এটি মজুসিদের ব্যাপারে বর্ণিত দাড়ি ছোট করে কাটার চেয়েও অধিক গুরুতর।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)সুতরাং হায়দারিয়া সম্প্রদায় হায়দারের প্রতি নাস্তিকদের কৃত কর্মের অনুকরণ করেছে। আর আমাদের জামানার নির্বোধরা ইউরোপীয় গোষ্ঠীসমূহ এবং মহান আল্লাহর শত্রুদের মধ্য হতে তাদের সমমনাদের অনুকরণ করছে। প্রকৃতপক্ষে এরা সকলেই মজুসিদেরই অনুকরণকারী।দাড়ির অবমাননা ও বিকৃতির প্রেক্ষাপট এবং এর মূল ভিত্তিগুলো এমনই, যা উপরোক্ত বিষয়গুলোর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فأولها المجوس المشركون أعداء الله تعالى وآخرها أعداء الله تعالى من الملاحدة وإخوانهم من ضلال الإفرنج ومن شاكلهم من الكفرة الفجرة.وقد روي عن بعض المجوس أنهم كانوا يقصون لحاهم امتثالاً لأمر كسرى لهم بذلك فروى ابن إسحاق عن يزيد بن أبي حبيب ما ملخصه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث إلى كسرى يدعوه إلى الإسلام فكتب كسرى إلى باذام وهو نائبه على اليمن أن ابعث إلى هذا الرجل بالحجاز رجلين من عندك جلدين فليأتياني به فبعث باذام قهرمانه وبعث معه رجلاً من الفرس فدخلا على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد حلقا لحاهما وأعفيا شواربهما فكره النظر إليهما وقال: ويلكما من أمركما بهذا؟ قالا: أمرنا ربنا يعنيان كسرى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لكن ربي أمرني بإعفاء لحيتي وقص شاربي.وقد رواه ابن جرير من طريق ابن إسحاق وإذا كان أصل التمثيل باللحى صادراً عن أمر كسرى لقومه بذلك فالواجب على المسلم مجانبة أوضاع الأعاجم والبعد عن مشابهتهم فيها غاية البعد. وإذا لم يكن في المرء تقوى تحجزه عن التشبه بأعداء الله تعالى فينبغي أن تكون فيه أنفة تحجزه عن تقليد الأعاجم ومزاحمتهم في زيهم القبيح ومثلتهم التي جاء الشرع المطهر بتحريمها والأمر بمخالفتهم فيها.
এদের প্রথমটি হলো মহান আল্লাহর শত্রু অগ্নিপূজক মুশরিকগণ এবং শেষটি হলো আল্লাহর শত্রু সেই নাস্তিক ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম পথভ্রষ্ট ইউরোপীয় সম্প্রদায় এবং তাদের সমমনা পাপাচারী কাফিররা।বর্ণিত আছে যে, কিছু অগ্নিপূজক কিসরার (পারস্য সম্রাট) নির্দেশ পালনার্থে তাদের দাড়ি কেটে ফেলত। ইবনে ইসহাক ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসরার কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র পাঠালেন। তখন কিসরা ইয়ামেনে তার প্রতিনিধি বাযামকে লিখে পাঠাল যে, হিজাজের এই লোকটির কাছে তোমার নিকট থেকে দুজন শক্তিশালী লোক পাঠাও, তারা যেন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসে। ফলে বাযাম তার এক তদারককারী এবং অপর এক পারস্য ব্যক্তিকে পাঠাল। তারা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হলো, তখন তাদের দাড়ি কামানো এবং গোঁফ অনেক লম্বা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দিকে তাকাতে ঘৃণা বোধ করলেন এবং বললেন: ‘তোমাদের ধ্বংস হোক! কে তোমাদের এমন করার নির্দেশ দিয়েছে?’ তারা বলল: ‘আমাদের প্রভু (অর্থাৎ কিসরা) আমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন: ‘কিন্তু আমার প্রতিপালক আমাকে দাড়ি লম্বা রাখতে এবং গোঁফ খাটো করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’ইবনে জারীরও ইবনে ইসহাকের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং দাড়ির এই বিকৃতির উৎস যদি কিসরার পক্ষ থেকে তার জাতির প্রতি প্রদত্ত নির্দেশ হয়ে থাকে, তবে একজন মুসলমানের জন্য আবশ্যক হলো অনারবদের রীতি-নীতি বর্জন করা এবং তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন থেকে চূড়ান্তভাবে দূরে থাকা। আর যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে মহান আল্লাহর শত্রুদের সাদৃশ্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখার মতো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি না থাকে, তবে অন্তত তার মাঝে এমন আত্মমর্যাদাবোধ থাকা উচিত যা তাকে অনারবদের অন্ধ অনুকরণ এবং তাদের সেই কদর্য বেশভূষা ও অঙ্গবিকৃতিতে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবে, যা পবিত্র শরীয়ত হারাম করেছে এবং তাদের বিরোধিতা করার নির্দেশ প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(فصلٌ)وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كث اللحية ضخمها عظيمها قد ملأت نحره وكان أشبه الناس بإبراهيم خليل الرحمن كما في الصحيحين وغيرهما عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «أنا أشبه ولد إبراهيم به».وفي الصحيحين أيضاً من حديث ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: أما إبراهيم فانظروا إلى صاحبكم.وفي رواية لأحمد نظرت إلى إبراهيم فلم أنظر إلى أرب منه إلا نظرت إليه مني حتى كأنه صاحبكم.وفي هذين الحديثين دليل على أن إبراهيم عليه الصلاة والسلام كان ذا لحية عظيمة تشبه لحية رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد كان إعفاء اللحى من ملته وهدي من قبله ومن بعده من الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين.وفي حديث الإسراء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى هارون بن عمران وقال في نعته تكاد لحيته تصيب سرته من طولها رواه ابن جرير وابن أبي حاتم وغيرهما من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، وقد أخبر الله عنه أنه قال لأخيه موسى: يا ابن أم لا تأخذ بلحيتي ولا برأسي فدلت الآية الكريمة على أنه كان ذا لحية طويلة يتمكن موسى من الأخذ بها.
(পরিচ্ছেদ)রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন ও সুমহান দাড়ির অধিকারী ছিলেন যা তাঁর বক্ষদেশ পূর্ণ করে রাখত। তিনি মানুষের মধ্যে খলিলুর রহমান ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সর্বাধিক সদৃশ ছিলেন; যেমনটি সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি ইব্রাহিমের সন্তানদের মধ্যে তাঁর সর্বাধিক সদৃশ।"সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেকটি হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "আর ইব্রাহিমের ব্যাপারে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর (অর্থাৎ স্বয়ং নবীজির) দিকে লক্ষ্য করো।"আহমদের একটি বর্ণনায় এসেছে: "আমি ইব্রাহিমের দিকে তাকালাম; তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখে আমার নিজের কথাই মনে পড়ল, যেন তিনি তোমাদের এই সঙ্গীই।"এই হাদিসদ্বয় প্রমাণ করে যে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সুমহান দাড়ির অধিকারী ছিলেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ির সদৃশ ছিল। আর দাড়ি লম্বা রাখা ছিল তাঁর আদর্শ এবং তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল নবী-রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) প্রদর্শিত পথ।ইসরা সংক্রান্ত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারুন ইবনে ইমরানকে দেখেছিলেন এবং তাঁর বর্ণনায় বলেছিলেন যে, দীর্ঘ হওয়ার কারণে তাঁর দাড়ি প্রায় নাভি স্পর্শ করছিল। এটি আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস থেকে ইবনে জারীর ও ইবনে আবি হাতেমসহ অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা হারুনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন যে, তিনি তাঁর ভাই মুসাকে বলেছিলেন: "হে আমার সহোদর ভাই! আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরবেন না।" এই মহিমান্বিত আয়াতটি প্রমাণ করে যে, তিনি দীর্ঘ দাড়ির অধিকারী ছিলেন যা ধরার সুযোগ মুসা আলাইহিস সালামের হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد روى الحاكم عن هشام بن العاص الأموي قال: بعثت أنا ورجل آخر إلى هرقل صاحب الروم ندعوه إلى الإسلام - فذكر القصة بطولها وفيها أن هرقل أراهم صور الأنبياء فذكر في صفة نوح عليه الصلاة والسلام أنه كان حسن اللحية، وفي صفة إبراهيم عليه الصلاة والسلام أنه كان أبيض اللحية وفي صفة إسحاق عليه الصلاة والسلام أنه كان خفيف العارضين وفي صفة عيسى عليه الصلاة والسلام أنه كان شديد سواد اللحية.قال الحافظ ابن كثير إسناده لا بأس به.وروى الحاكم أيضاً في مستدركه عن كعب الأحبار أنه قال كان إسحاق بن إبراهيم عليهما الصلاة والسلام جعد الرأس واللحية.وقد جاء وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم في حديث قدسي بأنه كث اللحية، فروى إسحاق بن بشر عن سعيد بن أبي عروبة ومقاتل عن قتادة عن عبد الرحمن بن آدم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: أوحى الله عز وجل إلى عيسى ابن مريم عليهما الصلاة والسلام =فذكر الأثر وفيه= صدقوا النبي الأمي العربي = فذكر جملة من صفاته ومنها = الجعد الرأس الكث اللحية.ورواه البيهقي في دلائل النبوة من طريق يعقوب بن سفيان حدثنا فيض البجلي حدثنا سلام بن مسكين عن مقاتل بن حيان قال: أوحى الله إلى عيسى فذكره.وروى الإمام أحمد في مسنده من حديث محمد بن علي عن أبيه علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كث اللحية.
ইমাম হাকেম হিশাম ইবনে আস আল-উমায়বী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে এবং অন্য এক ব্যক্তিকে রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে তাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল। অতপর তিনি দীর্ঘ সেই ঘটনাটি উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ছিল যে, হেরাক্লিয়াস তাদের নবীদের প্রতিকৃতি দেখিয়েছিলেন। সেখানে নূহ আলাইহিস সালামের বর্ণনায় উল্লেখ ছিল যে তিনি সুন্দর দাড়ির অধিকারী ছিলেন; ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের বর্ণনায় ছিল যে তাঁর দাড়ি ছিল শুভ্র; ইসহাক আলাইহিস সালামের বর্ণনায় ছিল যে তাঁর গালের দুই পাশের দাড়ি ছিল পাতলা এবং ঈসা আলাইহিস সালামের বর্ণনায় ছিল যে তাঁর দাড়ি ছিল অত্যন্ত ঘন কালো।হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন, এর বর্ণনাপরম্পরা বা সনদ গ্রহণযোগ্য।হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে কাব আল-আহবার থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইব্রাহিম-পুত্র ইসহাক আলাইহিমাস সালামের মাথার চুল ও দাড়ি ছিল কোঁকড়ানো।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি একটি হাদিসে কুদসিতেও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি ঘন দাড়ির অধিকারী ছিলেন। ইসহাক ইবনে বিশর, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ ও মুকাতিল থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আদম থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তাআলা ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিমাস সালামের প্রতি ওহী অবতীর্ণ করলেন—অতপর তিনি সেই বর্ণনাটি উল্লেখ করেন যেখানে বলা হয়েছে—"তোমরা উম্মী আরবীয় নবীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো।"—এরপর তিনি তাঁর একগুচ্ছ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেন যার মধ্যে ছিল—তিনি কোঁকড়ানো চুল ও ঘন দাড়ির অধিকারী।বায়হাকী এটি ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে ইয়াকুব ইবনে সুফিয়ান সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের কাছে ফায়জ আল-বাজালি বর্ণনা করেছেন, তিনি সালাম ইবনে মিসকিন থেকে এবং তিনি মুকাতিল ইবনে হাইয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ওহী পাঠালেন, অতপর তিনি তা উল্লেখ করেন।ইমাম আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আলীর সূত্রে তাঁর পিতা আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়ির অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
দলাইলুল আছার আলা তাহরীমিত তামছীল বিশ শার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قال الجوهري كث الشيء كثاثة أي كثف وكذا قال ابن منظور في لسان العرب قال ولحية كثة وكثاء كثرت أصولها وكثفت وقصرت وجعدت فلم تنبسط وفي صفته صلى الله عليه وسلم أنه كان كث اللحية أراد كثرة أصولها وشعرها وأنها ليست بدقيقة ولا طويلة وفيها كثافة قال: وقال ابن دريد لحية كثة كثيرة النبات انتهى.وروى الإمام أحمد أيضاً والحاكم في مستدركه من طريق عثمان بن مسلم بن هرمز عن نافع بن جبير بن مطعم عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ضخم الرأس واللحية، قال الحاكم صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الحافظ الذهبي في تلخيصه.قال الجوهري وابن منظور في لسان العرب الضخم الغليظ من كل شيء وقال صاحب القاموس العظيم من كل شيء، والمراد بضخامة اللحية عظمها لما روى عبد الله بن الإمام أحمد في زوائد المسند بأسانيد جيدة من طريق عبد الملك بن عمير وصالح بن سعيد عن نافع بن جبير بن مطعم عن علي رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم عظيم اللحية.وفي المسند وصحيح مسلم عن جابر بن سمرة رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كثير شعر اللحية.وفي سنن النسائي عن البراء رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كث اللحية.
আল-জাওহারী বলেছেন যে, কোনো বস্তুর 'কাশাশাহ' হওয়ার অর্থ হলো সেটি ঘন হওয়া। অনুরূপভাবে ইবনুল মানযুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলেছেন যে, 'লহ্ইয়াহ কাস্সাহ' (ঘন দাড়ি) বলতে এমন দাড়িকে বোঝায় যার গোড়াগুলো প্রচুর, যা নিবিড়, দৈর্ঘ্যে পরিমিত এবং যা কোঁকড়ানো হওয়ার কারণে অধিক ঝুলে পড়ে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন; এর দ্বারা তাঁর দাড়ির গোড়া ও চুলের আধিক্য বুঝানো হয়েছে এবং এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে যে তাঁর দাড়ি চিকন বা অতি দীর্ঘ ছিল না, বরং তাতে পূর্ণ ঘনত্ব ছিল। তিনি আরও বলেন: ইবনে দুরেদ বলেছেন, ঘন দাড়ি মানে অধিক চুলবিশিষ্ট দাড়ি। সমাপ্ত।ইমাম আহমাদ এবং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে ওসমান ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুজের সূত্রে নাফে ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে এবং তিনি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্থূল মস্তক ও ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন। হাকেম বলেছেন যে এর সনদ সহীহ, তবে বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি এবং হাফেজ আয-যাহাবী তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে এর সাথে একমত হয়েছেন।আল-জাওহারী এবং ইবনুল মানযুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, 'আয-যখম' বলতে যেকোনো জিনিসের স্থূলতাকে বোঝায়। 'আল-কামুস' প্রণেতা বলেছেন যে এর অর্থ যেকোনো জিনিসের বিশালতা। দাড়ির স্থূলতা বলতে এর বিশালতাকেই বোঝানো হয়েছে। কেননা ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ 'যাওয়াইদুল মুসনাদ'-এ উত্তম সনদে আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের ও সালেহ ইবনে সাঈদের সূত্রে নাফে ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে এবং তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশাল দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন।'মুসনাদ' এবং 'সহীহ মুসলিম'-এ জাবের ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচুর ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন।'সুনানে নাসাঈ'-তে বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন।