(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإجابة الجلية على الأسئلة الكويتية   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الإجابة الجلية على الأسئلة الكويتية

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413 هـ)

الناشر: مكتبة المعارف، الرياض - المملكة العربية السعودية

عام النشر: 1406 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 42

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

কুয়েতি প্রশ্নাবলির সুস্পষ্ট উত্তর   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরি)

বিভাগ: ফিরকা এবং খণ্ডন


গ্রন্থ: কুয়েতি প্রশ্নাবলির সুস্পষ্ট উত্তর

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরি (ওফাত ১৪১৩ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য

প্রকাশের বছর: ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإجابة الجلية على الأسئلة الكويتية

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين

 

مكتبة المعارف
কুয়েতি প্রশ্নাবলির সুস্পষ্ট উত্তর

 

রচনায়

মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজারি

আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন

 

মাকতাবাতুল মাআরিফ
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد:

فهذا جواب كتاب أرسله أحد الإخوان من سكان الكويت واسمه عبد الله بن إبراهيم العلي، وقد ذكر أقوالاً باطلة وأفعالاً سيئة صدرت من رؤساء جماعة يزعمون أنهم على عقيدة سليمة صحيحة موافقة للكتاب والسنة.

ويطلب الأخ عبد الله الإفادة عن الجماعة المشار إليها هل يقال: إن عقيدتهم على الكتاب والسنة مع ما سيأتي ذكره عنهم من الأقوال الباطلة والأفعال السيئة، أم لا؟ ومن قال: إنهم على عقيدة صحيحة موافقة للكتاب والسنة فهل يكون محسنا أو مسيئا؟ وماذا يقال في الذين انضموا إليهم وهم مع ذلك يخالفونهم في أقوالهم وأفعالهم ولكنهم لا يستطيعون المجاهرة بالإنكار لأقوالهم وأفعالهم خوفا من شق الصف وتفريق الكلمة؟ وماذا يقال في الذي يعتذر عن أقوالهم الباطلة وأفعالهم السيئة ويقول: إنها لا تخالف العقيدة ولا تكون طعناً فيها وإنما هي مواقف والمواقف لا تدخل في العقيدة؟
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

এটি কুয়েত নিবাসী জনৈক ভাই আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহীম আল-আলীর প্রেরিত একটি চিঠির উত্তর। তিনি সেখানে এমন একটি জামাতের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কিছু বাতিল বক্তব্য ও মন্দ কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা দাবি করে যে তারা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক ও বিশুদ্ধ আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

ভাই আব্দুল্লাহ উল্লিখিত জামাতটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন যে—তাদের আকিদাকে কি কুরআন ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত বলা যাবে, যেখানে তাদের পক্ষ থেকে বাতিল বক্তব্য ও মন্দ কর্মকাণ্ড প্রকাশিত হয়েছে (যা সামনে উল্লেখ করা হবে)? নাকি তেমনটি বলা যাবে না? আর যে ব্যক্তি বলবে যে, তারা কুরআন ও সুন্নাহ সম্মত সঠিক আকিদার ওপর রয়েছে, সে কি সঠিক কাজ করছে নাকি ভুল? আর ঐসব ব্যক্তিদের সম্পর্কেই বা কী বলা হবে যারা তাদের সাথে যোগদান করেছে অথচ তারা তাদের কথা ও কাজের সাথে একমত নয়; কিন্তু ঐক্য বিনষ্ট হওয়া ও বিভেদ সৃষ্টির আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছে না? এছাড়া ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলা হবে যে তাদের বাতিল বক্তব্য ও মন্দ কর্মকাণ্ডের পক্ষে অজুহাত পেশ করে এবং বলে যে—এগুলো আকিদা বিরোধী নয় এবং এতে আকিদাতে কোনো আঘাত আসে না, বরং এগুলো নিছক কিছু অবস্থানগত বিষয় মাত্র, আর অবস্থানগত বিষয় আকিদার অন্তর্ভুক্ত নয়?
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وهذا ملخص ما ذكره الأخ عبد الله عنهم من الأقوال الباطلة والأفعال السيئة.

 

الأول: تجويزهم طلب الاستغفار من النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته، وزعمهم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم يستغفر حيا وميتاً لمن جاءه قاصداً رحابه.

والجواب: أن يقال: أما طلب الاستغفار من النبي صلى الله عليه وسلم في حال حياته فهو جائز لقول الله تعالى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا}؛ ولأن الله تعالى قد أمر رسوله صلى الله عليه وسلم أن يستغفر للمؤمنين والمؤمنات فقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} وقال تعالى: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ} وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لَا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ
ভাই আবদুল্লাহ তাদের সম্পর্কে যে সকল বাতিল বক্তব্য ও মন্দ কর্মের কথা উল্লেখ করেছেন, এটি তারই একটি সারসংক্ষেপ।

 

প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করাকে বৈধ জ্ঞান করা এবং তাদের এই দাবি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় তাঁর সান্নিধ্যে আগত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

উত্তর: এর জবাবে বলা হবে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা বৈধ; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {আর তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত}; এবং এজন্য যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনি ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ত্রুটির জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতেন তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আর কাজ-কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন}। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন: {হে নবী! যখন মুমিন নারীরা আপনার কাছে এসে এই শর্তে বায়আত করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না, সজ্ঞানে কোনো অপবাদ রচনা করে আনবে না এবং কোনো সৎকাজে আপনার অবাধ্য হবে না, তখন আপনি তাদের বায়আত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল...}
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
رَحِيمٌ} وقال تعالى مخبرا عن المنافقين: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ لَوَّوْا رُءُوسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُمْ مُسْتَكْبِرُونَ * سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} وقال تعالى: {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ}.

وأما طلب الاستغفار من النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته فهو من المحدثات التي لم تكن في عهد الصحابة والتابعين، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم وأبو داود وابن ماجه من حديث عائشة رضي الله عنها. وفي رواية لأحمد ومسلم والبخاري تعليقا مجزوما به: «من عمل عملًا ليس عليه أمرنا فهو رد» الرد هو المردود، والمعنى فهو باطل غير معتد به، وروى الإمام أحمد أيضا وأهل السنن وابن حبان في صحيحه والحاكم في مستدركه عن العرباض بن سارية رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة» قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح وصححه
পরম দয়ালু}। এবং মহান আল্লাহ মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা এসো, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন’, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয় এবং আপনি তাদেরকে দেখবেন যে তারা অহংকারবশত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন, উভয়ই তাদের জন্য সমান; আল্লাহ তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না}। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন; যদি আপনি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না}।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করা এমন এক নব-উদ্ভাবিত বিষয় যা সাহাবী এবং তাবেয়ীদের যুগে ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছুর উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত»। এটি ইমাম আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ, মুসলিম এবং বুখারীর এক বর্ণনায় সুনিশ্চিত উদ্ধৃতি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: «যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত»। প্রত্যাখ্যাত অর্থ হলো বর্জিত, অর্থাৎ এটি বাতিল এবং অগ্রহণযোগ্য। ইমাম আহমাদ, সুনান গ্রন্থকারগণ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইরবায বিন সারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার সুন্নাত এবং পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে অবশ্যই অনুসরণ করবে, তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং চোয়ালের দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা»। ইমাম তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
والحاكم وابن عبد البر والذهبي. وروى الإمام أحمد أيضا ومسلم والنسائي عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها ، وكل بدعة ضلالة» زاد النسائي «وكل ضلالة في النار».

وفي هذه الأحاديث أبلغ رد على من أجاز سؤال الاستغفار من النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر أمته بذلك ولم يكن ذلك من سنة الخلفاء الراشدين المهديين ولا من عمل غيرهم من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، ولو كان جائزا لكان الصحابة أسبق إليه من غيرهم، وقد قال الراجز وأحسن فيما قال:

وكل خير في اتباع من سلف … وكل شر في ابتداع من خلف

ومما يدل على رد هذه المحدثة أيضا ما رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم والترمذي والنسائي عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيبا بموعظة - فذكر الحديث وفيه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ألا وإنه سيُجاء برجال من أمتي فيؤخذ بهم ذات الشمال فأقول:
আল-হাকিম, ইবন আবদিল বার এবং আয-যাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ, মুসলিম এবং আন-নাসায়ীও জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «অতঃপর সমাচার এই যে, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতা»; নাসায়ীর বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে: «আর প্রতিটি গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম»।

এই হাদীসগুলোর মধ্যে তাদের প্রতি অত্যন্ত জোরালো খণ্ডন রয়েছে যারা নবী (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) চাওয়াকে বৈধ মনে করেন। কারণ নবী (সা.) তাঁর উম্মতকে এর নির্দেশ দেননি এবং এটি হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত কিংবা অন্য কোনো সাহাবীর (রা.) কর্ম থেকেও প্রমাণিত নয়। যদি এটি বৈধ হতো, তবে সাহাবায়ে কেরাম অন্যদের তুলনায় এর প্রতি অধিক অগ্রগামী হতেন। আর জনৈক কাব্যকার কতই না চমৎকার বলেছেন:

সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে পূর্বসূরীদের অনুসরণে … আর সকল অকল্যাণ নিহিত রয়েছে পরবর্তী উম্মতের নবউদ্ভাবিত বিষয়ের মধ্যে

এই নবউদ্ভাবিত বিষয়টি প্রত্যাখ্যানের আরেকটি প্রমাণ হলো ইমাম আহমদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী এবং নাসায়ী কর্তৃক ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের মাঝে নসীহতপূর্ণ খুতবা প্রদানের জন্য দাঁড়ালেন - অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করলেন যাতে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «সাবধান! নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্য থেকে কিছু লোককে নিয়ে আসা হবে এবং তাদেরকে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব:
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
يا رب أصحابي. فيقال: إنك لا تدري ما أحدثوا بعدك فأقول كما قال العبد الصالح {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ}» الحديث ، وفي قوله: «إنك لا تدري ما أحدثوا بعدك» وقوله: {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ} دليل على أن النبي صلى الله عليه وسلم إنما كان يعلم بسؤال الذين يسألونه الاستغفار لهم إذ كان حياً شهيداً عليهم وأنه لا يدري بما أحدثه الذين يسألونه الاستغفار لهم بعد موته، وما يذكر في هذا الباب من الحكايات عن بعض الجهال الذين يسألون الاستغفار من النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته فلا عبرة بها، لأنها من المحدثات، والمحدثات كلها مردودة بالأحاديث الصحيحة التي تقدم ذكرها، وقد قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية في كتاب (التوسل والوسيلة): إن الذين يطلبون الاستغفار من النبي صلى الله عليه وسلم بعد موته قد خالفوا إجماع الصحابة والتابعين وسائر المسلمين انتهى.

 

الثاني من أقوالهم الباطلة: إباحة الاستنجاد بالنبي صلى الله عليه وسلم بعد موته وزعمهم أنه ليس بمستنكر من الناحية الشرعية وزعمهم أنه لا داعي للتشدد في الإنكار على من يعتقد كرامة الأولياء واللجوء
হে আমার প্রতিপালক! এরা তো আমার সহচর। তখন বলা হবে: নিশ্চয়ই আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন করেছে। তখন আমি তেমনই বলব যেমন পুণ্যবান বান্দা বলেছিলেন: {আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম যতদিন তাদের মাঝে অবস্থান করেছি; অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন, তখন আপনিই ছিলেন তাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী}—আল-হাদিস। আর তাঁর বাণী: 'নিশ্চয়ই আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন করেছে' এবং আল্লাহর বাণী: {আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম যতদিন তাদের মাঝে অবস্থান করেছি; অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন তখন আপনিই ছিলেন তাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী}—এ কথারই প্রমাণ বহন করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল তখনই তাদের ইস্তিগফারের আবেদন সম্পর্কে জানতেন যখন তিনি জীবিত ও তাদের ওপর সাক্ষী হিসেবে বর্তমান ছিলেন। পক্ষান্তরে তাঁর মৃত্যুর পর যারা তাঁর কাছে ইস্তিগফারের আবেদন জানায়, তাদের উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত নন। আর এই প্রসঙ্গে কতিপয় মূর্খদের থেকে যেসব কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণিত হয়—যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে—সেগুলো মোটেও ধর্তব্য নয়। কারণ তা নব উদ্ভাবিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, আর সকল নব উদ্ভাবিত বিষয়ই পূর্বে উল্লিখিত সহীহ হাদীসসমূহের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'আত-তাওয়াসসুল ওয়াল অসীলাহ' নামক গ্রন্থে বলেছেন: যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তারা সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং সকল মুসলিমের ঐকমত্যের বিরোধিতা করেছে। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

 

তাদের বাতিল বক্তব্যসমূহের দ্বিতীয়টি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করাকে বৈধ জ্ঞান করা। তাদের দাবি অনুযায়ী এটি শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে অনভিপ্রেত কিছু নয় এবং তাদের ধারণা মতে যারা আউলিয়াদের অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাস করে ও তাঁদের শরণাপন্ন হয়, তাদের ওপর কঠোর আপত্তি তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
إليهم في قبورهم والدعاء فيها عند الشدائد.

والجواب أن يقال: أما اللجوء إلى أهل القبور والاستنجاد بهم ودعاؤهم عند الشدائد فإنه شرك أكبر، وسواء في ذلك الاستنجاد بالنبي صلى الله عليه وسلم ودعاؤه واللجوء إلى قبره، والاستنجاد بغيره من الأموات ودعاؤهم واللجوء إلى قبورهم فكله من الشرك الأكبر وقد قال الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا} وفي الآية الأخرى: {وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا} وقال تعالى: {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ * وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ} فسمى دعاءهم إياهم عبادة وأخبر أنهم لا يستجيبون لهم إلى يوم القيامة وأنهم عن دعائهم غافلون وأنهم يكونون لهم أعداء يوم القيامة ويكفرون بعبادتهم إياهم وأخبر في آية أخرى أنهم يتبرءون منهم فأي خير يحصل لمن يدعو غير الله ويلجأ إلى الأموات ويستغيث بهم عند الشدائد، لقد خاب وخسر من فعل ذلك، وقال تعالى: {وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ * إِنْ تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ
তাদের কবরে এবং বিপদের সময় সেখানে দোয়া করা প্রসঙ্গে।

এর উত্তরে বলা হবে: কবরবাসীদের শরণাপন্ন হওয়া, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং বিপদের সময় তাদের কাছে দোয়া করা বড় শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য চাওয়া, তাঁর কাছে দোয়া করা এবং তাঁর কবরের শরণাপন্ন হওয়া, আর অন্যান্য মৃতব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চাওয়া, তাদের কাছে দোয়া করা এবং তাদের কবরের শরণাপন্ন হওয়া—সবই সমান; এ সবই বড় শির্ক। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, আর তিনি যাকে ইচ্ছে করেন এ ছাড়া অন্য সবকিছু ক্ষমা করে দেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে নিশ্চয়ই এক মহাপাপের জাল বুনল।" অন্য আয়াতে রয়েছে: "আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে নিশ্চয়ই সুদূর বিভ্রান্তিতে পথ হারিয়ে ফেলল।" মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: "সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে বেখবর। আর যখন হাশরের ময়দানে মানুষকে একত্র করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবে এবং তারা তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে।" সুতরাং আল্লাহ তাদের কাছে প্রার্থনা করাকে 'ইবাদত' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত তাদের ডাকে সাড়া দেবে না এবং তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে উদাসীন। আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে। তিনি অন্য আয়াতে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে প্রার্থনা করে, মৃতদের শরণাপন্ন হয় এবং বিপদের সময় তাদের কাছে সাহায্য চায়, তার জন্য আর কী কল্যাণ থাকতে পারে? যে ব্যক্তি এমনটি করল সে তো বিফল ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন: "আর তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে ডাকো, তারা খেজুরের আঁটির পাতলা পর্দারও মালিক নয়। তোমরা যদি তাদেরকে ডাকো, তবে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না; আর যদিও...
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ} فسمى دعاءهم إياهم شركا وأخبر أنهم لا يسمعون دعاء الذين يدعونهم وأنهم لو سمعوا ما استجابوا لهم، فأي خير يحصل لمن يدعو غير الله ويستغيث بالأولياء أو من تدَّعى فيهم الولاية ويلجأ إليهم ويستنجد بهم عند الشدائد والملمات {ذَلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيدُ} وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ

الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا} ومن زعم أن الاستنجاد بالنبي صلى الله عليه وسلم بعد موته مباح وأنه ليس بمستنكر من الناحية الشرعية فقد أباح الشرك بالله وافترى على الشريعة المحمدية. وفيما ذكرته من الآيات أبلغ رد وتكذيب لزعمه وفريته.

وقد روى الطبراني عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: كان في زمن النبي صلى الله عليه وسلم منافق يؤذي المؤمنين فقال بعضهم: قوموا بنا نستغيث برسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا المنافق. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنه لا يستغاث بي وإنما يستغاث بالله» وإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم قد أنكر الاستغاثة به في حين حياته وأخبر أن الاستغاثة لا تكون إلا بالله فماذا يقال فيمن زعم أن الاستنجاد بالنبي صلى الله عليه وسلم بعد موته مباح وأنه ليس بمستنكر من الناحية الشرعية، والجواب أن
...তারা যদি শুনত তবে তোমাদের ডাকে সাড়া দিত না এবং কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরককে অস্বীকার করবে। আর সর্বজ্ঞের (আল্লাহর) ন্যায় কেউ তোমাকে অবহিত করতে পারবে না।} অতঃপর তিনি তাদের এই আহ্বানকে শিরক হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, যাদেরকে তারা আহ্বান করে তারা তাদের সেই আহ্বান শোনে না এবং তারা যদি শুনত তবে তাদের ডাকে সাড়া দিত না। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকে এবং অলিদের কাছে কিংবা যাদের ব্যাপারে বেলায়েতের দাবি করা হয় তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং বিপদ-আপদে ও সংকটের সময় তাদের কাছে আশ্রয় নেয় ও সাহায্য কামনা করে, তার কী কল্যাণ অর্জিত হতে পারে? {এটাই হলো ঘোর বিভ্রান্তি।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের (উপাস্য) মনে করো তাদের ডাকো, তারা তো তোমাদের দুঃখ-কষ্ট

দূর করার বা পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা রাখে না।} আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা বৈধ এবং শরয়ী দৃষ্টিভিকোণ থেকে এটি আপত্তিকর নয়, সে মূলত আল্লাহর সাথে শিরককে বৈধ সাব্যস্ত করল এবং মুহাম্মাদী শরীয়তের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করল। আমি যে আয়াতগুলো উল্লেখ করেছি, তা তার এই দাবি ও অপবাদের অত্যন্ত জোরালো প্রত্যুত্তর এবং তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য যথেষ্ট।

তাবারানি উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একজন মুনাফিক ছিল যে মুমিনদের কষ্ট দিত। তখন তাদের কেউ কেউ বলল: চলো, আমরা এই মুনাফিকের অনিষ্ট থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নিশ্চয়ই আমার কাছে ইস্তেগাসা (বিপদমুক্তির প্রার্থনা) করা যাবে না, বরং ইস্তেগাসা কেবল আল্লাহর কাছেই করতে হবে»। এখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর কাছে ইস্তেগাসা করাকে অস্বীকার করে থাকেন এবং জানিয়ে দিয়ে থাকেন যে ইস্তেগাসা কেবল আল্লাহর কাছেই হতে হবে, তবে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলা যেতে পারে যে দাবি করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা বৈধ এবং শরয়ী বিচারে তা আপত্তিকর নয়? এর উত্তর হলো এই যে...
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
يقال لا شك أن هذا عين المحادة لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم وقد قال الله تعالى: {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ذَلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ}.

الثالث من أقوالهم الباطلة: زعمهم أن قبور الصالحين تنزل عليها رحمة الله وبركاته ونفحاته وأنه لابد للمسلم أن يتعرض ويقترب ويدعو في تلك الأماكن.

والجواب أن يقال: هذا ما زينه الشيطان لكثير من الجهال ليضلهم عن سبيل الله ويوقعهم في الشرك بالله، فإن التبرك بالقبور والدعاء عندها من أعظم الأسباب للإشراك بأصحابها، وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ قبره عيداً، ونهيه عن ذلك يدل بطريق الأولى على النهي عن اتخاذ قبور الصالحين أعياداً، والعيد اسم لما يعتاد مجيئه وقصده من زمان ومكان مأخوذ من المعاودة والاعتياد. ومنه اعتياد المجيء إلى القبور للتبرك بها والدعاء عندها. وقد روى الحافظ الضياء في المختارة عن زين العابدين على بن الحسين أنه رأى رجلا يجيء إلى فرجة كانت عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم فيدخل فيها فيدعو فنهاه وقال: ألا أحدثكم حديثا سمعته من أبي عن جدي عن رسول الله: «لا تتخذوا قبري عيدا ولا بيوتكم وصلوا عليَّ فإن تسليمكم يبلغني أين
বলা হয় যে, নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সরাসরি বিরোধিতা ও শত্রুতা পোষণ করার নামান্তর। আর আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: "তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে; এটিই হলো চরম লাঞ্ছনা।"

তাদের বাতিল বক্তব্যসমূহের মধ্যে তৃতীয়টি হলো: তাদের এই দাবি যে, পুণ্যবানদের কবরের ওপর আল্লাহর রহমত, বরকত ও অনুগ্রহধারা বর্ষিত হয় এবং একজন মুসলিমের জন্য সেসব স্থানে উপস্থিত হওয়া, কবরের নিকটবর্তী হওয়া এবং সেখানে দোয়া করা আবশ্যক।

এর উত্তরে বলা হবে: শয়তান অনেক অজ্ঞ লোকের নিকট বিষয়টি সুশোভিত করেছে যাতে সে তাদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে এবং আল্লাহর সাথে শিরকে লিপ্ত করতে পারে। নিশ্চয়ই কবরের মাধ্যমে বরকত অন্বেষণ করা এবং সেখানে দোয়া করা হলো কবরবাসীদের সাথে শিরক করার অন্যতম প্রধান কারণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের কবরকে 'ঈদ' (উৎসবের মতো বারবার সমবেত হওয়ার স্থান) হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তাঁর এই নিষেধ অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, নেককারদের কবরকে 'ঈদ' হিসেবে গ্রহণ করা আরও স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। 'ঈদ' মূলত এমন সময় বা স্থানকে বলা হয় যেখানে মানুষ বারবার ফিরে আসে এবং যাতায়াত করে; যা পুনরাবৃত্তি ও অভ্যস্ততা থেকে গৃহীত। কবরে বরকত ও দোয়ার উদ্দেশ্যে বারবার যাতায়াত করাও এর পর্যায়ভুক্ত। হাফেজ জিয়া আল-মাকদিসি 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে জয়নুল আবেদিন আলী ইবনুল হোসেন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে থাকা একটি ছিদ্রের নিকট আসতে দেখলেন, সে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে দোয়া করছিল। তখন তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন: "আমি কি তোমাদের এমন একটি হাদিস শোনাব না যা আমি আমার পিতার নিকট থেকে, তিনি আমার দাদার নিকট থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি বলেছেন: 'তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ে ফেলো না। তোমরা আমার প্রতি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের সালাম আমার নিকট পৌঁছে যায়।'"
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
كنتم» قال بعض العلماء: هذا يدل على النهي عن قصد القبور والمشاهد لأجل الدعاء والصلاة عندها، لأن ذلك من اتخاذها عيداً كما فهمه علي بن الحسين من الحديث فنهي ذلك الرجل عن المجيء إلى قبر النبي صلى الله عليه وسلم للدعاء عنده، فكيف بقبر غيره، وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية كان الصحابة والتابعون يأتون إلى مسجده صلى الله عليه وسلم فيصلون خلف أبي بكر وعمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم ثم إذا قضوا الصلاة فعدوا أو خرجوا ولم يكونوا يأتون القبر للسلام لعلمهم أن الصلاة والسلام عليه في الصلاة أكمل وأفضل.

وأما دخولهم عند قبره للصلاة والسلام عليه هناك أو للصلاة والدعاء فلم يشرعه لهم بل نهاهم عنه بقوله: «لا تتخذوا قبري عيداً وصلوا علي فإن صلاتكم تبلغني» فبين أن الصلاة تصل إليه من بعد وكذلك السلام. ولعن من اتخذ قبور الأنبياء مساجد، وكانت الحجرة في زمانهم يدخل إليها من الباب إذ كانت عائشة فيها وبعد ذلك إلى أن بني الحائط الآخر وهم من ذلك التمكن من الوصول إلى قبره لا يدخلون إليه لا للسلام ولا للصلاة ولا للدعاء لأنفسهم ولا لغيرهم ولا لسؤال عن حديث أو علم ولا كان الشيطان يطمع فيهم حتى يسمعهم كلاما أو سلاماً فيظنون أنه هو كلمهم وأفتاهم وبين لهم الأحاديث أو أنه قد رد عليهم السلام بصوت يسمع من خارج
তোমরা যেখানেই থাকো» কিছু আলেম বলেছেন: এটি দুআ ও সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে কবর ও মাজারসমূহের দিকে গমনের নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ বহন করে। কারণ তা কবরকে উৎসবে পরিণত করার নামান্তর, যেমনটি আলি ইবনুল হুসাইন এই হাদিস থেকে বুঝেছিলেন। তাই তিনি সেই লোকটিকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের নিকট দুআ করার উদ্দেশ্যে আসতে নিষেধ করেছিলেন; তাহলে অন্যের কবরের বিষয়টি তো আরও সংগতভাবেই নিষিদ্ধ হবে। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন, সাহাবী ও তাবেয়ীগণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে আসতেন এবং আবু বকর, উমর, উসমান ও আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পেছনে সালাত আদায় করতেন। এরপর যখন তারা সালাত শেষ করতেন, তখন তারা প্রস্থান করতেন অথবা বের হয়ে যেতেন। তারা সালাম দেওয়ার জন্য কবরের কাছে আসতেন না, কারণ তারা জানতেন যে সালাতের ভেতর তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ ও উত্তম।

আর সেখানে তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার জন্য অথবা সালাত ও দুআ করার জন্য কবরের কাছে প্রবেশ করাকে তিনি তাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেননি, বরং তিনি তাদের তা থেকে নিষেধ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: «তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না এবং আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছানো হয়»। ফলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দরুদ দূর থেকে তাঁর কাছে পৌঁছায় এবং সালামের বিষয়টিও তদ্রূপ। আর তিনি তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন যারা নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করে। তাদের যুগে হুজরা বা কক্ষে প্রবেশের দরজা ছিল যেহেতু আয়েশা (রা.) সেখানে বসবাস করতেন, এবং পরবর্তীতে অন্য দেয়াল নির্মিত হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে প্রবেশের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কবরের নিকট যেতেন না—সালামের জন্য নয়, সালাতের জন্য নয়, নিজেদের বা অন্যের জন্য দুআ করার জন্য নয় এবং কোনো হাদিস বা জ্ঞান অর্জনের জিজ্ঞাসার জন্যও নয়। এমনকি শয়তানও তাদের প্রলুব্ধ করার সাহস পেত না যে সে তাদের কোনো কথা বা সালাম শোনাবে, যার ফলে তারা মনে করবে যে তিনিই (নবিজি) তাদের সাথে কথা বলেছেন বা ফতোয়া দিয়েছেন অথবা তাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন কিংবা তিনি তাদের সালামের উত্তর এমন উচ্চস্বরে দিয়েছেন যা বাইরে থেকে শোনা যায়।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
كما طمع الشيطان في غيرهم فأضلهم عند قبره وقبر غيره حتى ظنوا أن صاحب القبر يأمرهم وينهاهم ويفتيهم ويحدثهم في الظاهر وأنه يخرج من القبر ويرونه خارجاً من القبر ويظنون أن نفس أبدان الموتى خرجت تكلمهم وأن روح الميت تجسدت لهم فرأوها كما رآهم النبي صلى الله عليه وسلم ليلة المعراج.

والمقصود أن الصحابة ما كانوا يعتادون الصلاة والسلام عليه عند قبره كما يفعله من بعدهم من الخلوف وإنما كان بعضهم يأتي من خارج فيسلم عليه إذا قدم من سفر كما كان ابن عمر رضي الله عنهما يفعله. قال عبيد الله بن عمر عن نافع كان ابن عمر إذا قدم من سفر أتى قبر النبي صلى الله عليه وسلم فقال: السلام عليك يا رسول الله السلام عليك يا أبا بكر السلام عليك يا أبتاه، ثم ينصرف، قال عبيد الله ما نعلم أحدا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فعل ذلك إلا ابن عمر. وهذا يدل على أنه لا يقف عند القبر للدعاء إذا سلم كما يفعله كثير. قال شيخ الإسلام رحمه الله تعالى لأن ذلك لم ينقل عن أحد من الصحابة فكان بدعة محضة انتهى.

وإذا كان الوقوف عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم للدعاء بدعة محضة فكيف بالوقوف للدعاء عند قبور الصالحين أو من يظن صلاحهم فهو أولى باسم البدعة وأولى بالمنع لأنه من أعظم الوسائل إلى الغلو
যেমন শয়তান অন্যদের প্রলুব্ধ করেছে এবং তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) কবরের পাশে ও অন্যের কবরের পাশে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে, এমনকি তারা ধারণা করতে শুরু করেছে যে কবরের অধিবাসী তাদের আদেশ দেন, নিষেধ করেন, ফতোয়া দেন এবং বাহ্যিকভাবে তাদের সাথে কথা বলেন। তারা আরও মনে করে যে, তিনি কবর থেকে বের হয়ে আসেন এবং তারা তাঁকে কবরের বাইরে দেখতে পায়। তারা ধারণা করে যে মৃতদের মূল দেহগুলোই বের হয়ে তাদের সাথে কথা বলছে এবং মৃতের রুহ তাদের সামনে দেহ ধারণ করেছে, ফলে তারা সেগুলোকে সেভাবেই দেখতে পায় যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাতে তাঁদের দেখেছিলেন।

মূল উদ্দেশ্য হলো, সাহাবীগণ তাঁর কবরের নিকট এসে সালাত ও সালাম পেশ করাকে অভ্যাসে পরিণত করেননি, যেমনটি তাদের পরবর্তী উত্তরসূরিরা করে থাকে। বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন বাইরে থেকে এসে তাঁর ওপর সালাম পেশ করতেন, যেমনটি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা করতেন। উবাইদুল্লাহ বিন উমর নাফে’ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে উমর যখন সফর থেকে ফিরতেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের কাছে আসতেন এবং বলতেন: "আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে আবু বকর, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে পিতা।" এরপর তিনি চলে যেতেন। উবাইদুল্লাহ বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে ইবনে উমর ছাড়া আর কাউকে আমরা এমনটি করতে দেখিনি।" এটি প্রমাণ করে যে, সালাম দেওয়ার পর তিনি দোয়ার জন্য কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন না, যেমনটি অনেকে করে থাকে। শায়খুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "যেহেতু এটি সাহাবীগণের কারো থেকে বর্ণিত হয়নি, তাই এটি ছিল একটি নিরেট বিদআত।" সমাপ্ত।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে দোয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো যদি নিরেট বিদআত হয়, তবে নেককার লোক বা যাদের নেককার বলে ধারণা করা হয়, তাদের কবরের পাশে দোয়ার জন্য দাঁড়ানোর বিষয়টি কেমন হবে? তা তো বিদআত হিসেবে গণ্য হওয়ার এবং নিষিদ্ধ হওয়ার অধিক যোগ্য; কেননা এটি হলো অতিরঞ্জন বা চরমপন্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
في القبور والإشراك بأصحابها.

الرابع: زعمهم أن سعيد بن المسيب كان يسمع الأذان من القبر النبوي في أيام الحرة، وقولهم من ذا الذي كان يؤذن من داخل قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والجواب أن يقال: أما ما ذكر عن سعيد بن المسيب أنه كان يسمع الأذان من قبر النبي صلى الله عليه وسلم في أيام الحرة فهو غير ثابت عنه، وقد رواه ابن سعد في الطبقات بإسنادين ضعيفين جداً، أما أحدهما ففيه عبد الحميد بن سليمان الخزاعي قال ابن معين في رواية عنه: ليس بشيء وقال في رواية أخرى: ليس بثقة. وكذا قال أبو داود والنسائي أنه ليس بثقة. وقال النسائي في موضع آخر: إنه ضعيف. وضعفه أيضا ابن المديني وصالح بن محمد والدارقطني والذهبي، وأما الإسناد الثاني ففيه الواقدي وهو متروك، وما كان بهذه المثابة فإنه لا يعتد به وعلى تقدير ثبوته فليس فيه ما يدل على جواز الاستنجاد بالنبي صلى الله عليه وسلم ولا على جواز اللجوء إلى قبره والدعاء عنده ولا عند قبور الصالحين لأن الاستنجاد بالنبي صلى الله عليه وسلم واللجوء إلى قبره أو إلى قبور الصالحين شرك أكبر. وأما الدعاء عند قبره صلى الله عليه وسلم وعند قبور الصالحين فهو من أعظم الوسائل إلى الشرك، والوسائل لها حكم الغايات والمقاصد وما كان كذلك فإنه
কবরসমূহ এবং কবরের বাসিন্দাদের সাথে শিরক করা প্রসঙ্গে।

চতুর্থত: তাদের দাবি হলো যে, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হাররার যুদ্ধের দিনগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর থেকে আযানের শব্দ শুনতে পেতেন; এবং তাদের প্রশ্ন হলো—আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের ভেতর থেকে কে আযান দিচ্ছিলেন?

এর উত্তরে বলা হবে: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে হাররার দিনগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর থেকে আযান শোনার যে বর্ণনাটি উল্লেখ করা হয়েছে, তা তাঁর থেকে প্রমাণিত নয়। ইবনে সা'দ 'আত-তাবাকাত'-এ এটি অত্যন্ত দুর্বল দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন। প্রথম সনদে রয়েছেন আব্দুল হামিদ বিন সুলায়মান আল-খুজাঈ; তাঁর সম্পর্কে ইবনে মাঈন এক বর্ণনায় বলেছেন: 'তিনি কিছুই নন', এবং অন্য বর্ণনায় বলেছেন: 'তিনি নির্ভরযোগ্য নন'। অনুরূপভাবে আবু দাউদ এবং নাসাঈও তাঁকে অনির্ভরযোগ্য বলেছেন। নাসাঈ অন্য স্থানে তাঁকে 'দুর্বল' বলেছেন। ইবনুল মাদীনী, সালেহ বিন মুহাম্মদ, দারাকুতনী এবং যাহাবীও তাঁকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। আর দ্বিতীয় সনদটিতে রয়েছেন ওয়াকিদী, যিনি একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী। যার মান এই পর্যায়ের, তা দলিল হিসেবে গণ্য হয় না। আর যদি একে প্রমাণিত ধরেও নেওয়া হয়, তবুও এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, তাঁর কবরের শরণাপন্ন হওয়া অথবা তাঁর কবরের নিকট কিংবা নেককার লোকদের কবরের নিকট দুআ করার বৈধতার কোনো প্রমাণ নেই। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর কবরের নিকট বা নেককার লোকদের কবরের নিকট আশ্রয় নেওয়া বড় শিরক। আর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের নিকট এবং নেককার লোকদের কবরের নিকট দুআ করা শিরকের অন্যতম বড় মাধ্যম; আর মাধ্যমসমূহ মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিধানভুক্ত হয়ে থাকে। আর যা এরূপ, তা...
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
لا يجوز فعله.

وأما قولهم: من ذا الذي كان يؤذن من داخل قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فجوابه أن يقال: إن إسناد الخبر في سماع الأذان من القبر النبوي ضعيف جداً وقد تقدم بيان ذلك، وما لم يثبت بإسناد صحيح فإنه لا يعتد به، ولم يذكر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أذن في حياته ولا مرة واحدة، فكيف يتوهم أنه كان يؤذن في قبره بعد مماته وانقطاع التكاليف عنه، على تقدير ثبوت ما ذكر عن سعيد بن المسيب فإنه محمول على أن الأذان كان من بعض الملائكة الذين كانوا يحضرون عند القبر الشريف ويبلغون رسول الله صلى الله عليه وسلم من أمته السلام فقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن لله ملائكة سياحين في الأرض يبلغوني من أمتي السلام» رواه الإمام أحمد والنسائي والدرامي بأسانيد صحيحة على شرط مسلم. ورواه أيضا ابن حبان في صحيحه، وبالجملة فليس في سماع الأذان من القبر النبوي ما يتعلق به أهل الغلو في القبور والإشراك بأصحابها.

الخامس قولهم: ما لنا وللحملة على أولياء الله وزوارهم الداعين عند قبورهم ومقاماتهم بعد أن قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن رب العزة: «إني لأثأر لأوليائي كما يثأر الليث
এটি করা জায়েয নয়।

আর তাদের এই কথা সম্পর্কে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের ভেতর থেকে কে আযান দিত?

এর উত্তরে বলা হবে যে: নববী কবর থেকে আযান শোনার বর্ণনার সনদ অত্যন্ত দুর্বল এবং ইতিপূর্বে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর যা সহীহ সনদে প্রমাণিত নয়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকালে তিনি কখনো একবারও আযান দিয়েছেন বলে উল্লেখ নেই। এমতাবস্থায় তাঁর ইন্তেকালের পর এবং তাঁর ওপর থেকে শরীয়তের দায়বদ্ধতা (তাকলিফ) শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি কবরে আযান দিতেন—এমনটি ধারণা করা কীভাবে সম্ভব? সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা যদি সাব্যস্ত বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবে এর অর্থ হবে যে আযানটি সেই সব ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ছিল যারা সেই সম্মানিত কবরের নিকট উপস্থিত থাকতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দিতেন। কেননা তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যারা পৃথিবীতে বিচরণ করেন এবং আমার নিকট আমার উম্মতের সালাম পৌঁছে দেন।" এটি ইমাম আহমাদ, নাসায়ী এবং দারেমী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বানও তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। পরিশেষে, নববী কবর থেকে আযান শোনার বর্ণনার মধ্যে এমন কিছু নেই যার সাথে কবরপূজারী এবং কবরের অধিবাসীদের সাথে শিরককারীরা সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

পঞ্চম: তাদের কথা: আল্লাহর ওলী এবং তাঁদের যিয়ারতকারী—যারা তাঁদের কবর ও মাযারে দুআ করে—তাদের ওপর এই আক্রমণের কারণ কী? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহান রবের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি আমার বন্ধুদের (ওলী) পক্ষ থেকে এমনভাবে প্রতিশোধ গ্রহণ করি যেভাবে সিংহ প্রতিশোধ গ্রহণ করে..."
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الحرب».

والجواب أن يقال: ليس في النهي عن الدعاء عند قبور الصالحين شيء من الحملة عليهم وإنما فيه النهي عن الغلو فيهم وعن اتخاذ قبورهم مساجد وأعيادا يعتاد المجيء إليها للتبرك بها والدعاء عندها لأن ذلك من أعظم أسباب الشرك، وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ قبره عيداً وعن اتخاذ القبور مساجد ولعن الذين اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد وأخبر أنهم من شرار الناس وأنه قد اشتد غضب الله عليهم، وفي هذا أبلغ زجر عن الصلاة عند القبور والدعاء عندها. وعلى هذا فينبغي أن تشدد الحملة على الزوار الذين يأتون إلى قبور الصالحين ومقاماتهم للتبرك بها والدعاء عندهم ويُمنعون من الغلو في الأموات واتخاذ قبورهم مساجد وأعياداً.

وأما الأثر الذي فيه: «إني لأثأر لأوليائي كما يثأر الليث الحرب». فليس فيه ما يتعلق به المفتونون بالدعاء عند القبور، وإنما معناه أن الله تعالى ينصر أولياءه المتقين ويأخذ لهم بالثأر ممن يؤذيهم ويظلمهم ويبغي عليهم في حال حياتهم. وربما عجل العقوبة لمن يسبهم ويقع في أعراضهم من بعد موتهم كما وقع ذلك لبعض الذين يسبون الصحابة ويتنقصونهم، فأما تحري الدعاء
যুদ্ধ।»

এর উত্তরে বলা যায় যে: নেককার লোকদের কবরের কাছে দুআ করতে নিষেধ করার অর্থ এই নয় যে, তাঁদের ওপর কোনো আক্রমণ করা হচ্ছে; বরং এর উদ্দেশ্য হলো তাঁদের নিয়ে অতিরঞ্জন (গুলু) করা এবং তাঁদের কবরকে সেজদাগাহ ও উৎসবে পরিণত করতে নিষেধ করা, যেখানে বরকত লাভ ও দুআ করার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করা হয়ে থাকে। কারণ এটি শিরকের অন্যতম প্রধান কারণ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের কবরকে উৎসবে পরিণত করতে এবং কবরসমূহকে মসজিদে রূপান্তর করতে নিষেধ করেছেন। তিনি ঐসব লোকদের অভিশাপ দিয়েছেন যারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছিল এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা হচ্ছে নিকৃষ্টতম মানুষ এবং তাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ অত্যন্ত তীব্র। এর মধ্যে কবরের কাছে সালাত আদায় ও দুআ করার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। অতএব, যেসব যিয়ারতকারী নেককার লোকদের কবর ও মাজারগুলোতে বরকত লাভ ও দুআ করার উদ্দেশ্যে আসে, তাদের ওপর কড়াকড়ি করা উচিত এবং মৃতদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা এবং কবরকে মসজিদ ও উৎসবে পরিণত করা থেকে তাদের বিরত রাখা আবশ্যক।

আর যে বর্ণনায় এসেছে: «নিশ্চয়ই আমি আমার ওলিদের জন্য এমনভাবে প্রতিশোধ গ্রহণ করি যেমন রণক্ষেত্রের সিংহ প্রতিশোধ নেয়»; কবরের কাছে দুআ করার ফিতনায় লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এতে কোনো দলিল নেই। বরং এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর মুত্তাকী বন্ধুদের সাহায্য করেন এবং যারা তাঁদের জীবিত অবস্থায় কষ্ট দেয়, যুলুম করে ও সীমালঙ্ঘন করে, আল্লাহ তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। এমনকি তাঁদের মৃত্যুর পর যারা তাঁদের গালি দেয় বা মানহানি করে, আল্লাহ হয়তো তাদের ওপর দ্রুত শাস্তি আপতিত করেন, যেমনটি ঘটেছিল সাহাবায়ে কেরামকে গালি দানকারী ও তাঁদের অবমাননাকারীদের ক্ষেত্রে। আর বিশেষভাবে দুআ করার অন্বেষণ...
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
عند قبور الصالحين ومقاماتهم فهو من أقرب الوسائل وأعظم الأسباب إلى الإشراك بهم، وقد حذر الله تعالى من الشرك غاية التحذير وأخبر أنه لا يغفر لأهله، وما كان وسيلة إلى الشرك فإنه لا يجوز فعله ويجب الإنكار والتشديد على من يفعله.

السادس قولهم: لقد أثبت القرآن صراحة لا تلميحاً ولا مجازاً أن بقايا الصالحين وآثارهم يمكن التوسل بها في استجلاب الخير ودفع الضر مهما تقادم بها العهد، يقول الله تبارك وتعالى: {وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ آَيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِمَّا تَرَكَ آَلُ مُوسَى وَآَلُ هَارُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلَائِكَةُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ}.

والجواب أن يقال: إن الشريعة المحمدية الكاملة قد نسخت الشرائع التي كانت قبلها فليس لأحد أن يعمل بشيء يخالفها، وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الغلو، وأعظم الغلو ما كان وسيلة إلى الشرك بالله تعالى ومنه التبرك ببقايا الصالحين وآثارهم والتوسل بها في استجلاب الخير واستدفاع الضرر، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يموت بخمس: «ألا وإن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصالحيهم مساجد ألا فلا تتخذوا القبور مساجد إني أنهاكم عن ذلك» رواه مسلم من حديث جندب بن
নেককার বান্দাদের কবর এবং তাদের মাজারসমূহের নিকট অবস্থান করা তাদের সাথে শিরক করার অন্যতম নিকটতম মাধ্যম এবং অন্যতম প্রধান কারণ। মহান আল্লাহ শিরক সম্পর্কে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি শিরককারীকে ক্ষমা করবেন না। যা কিছু শিরকের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, তা করা জায়েজ নয় এবং যে ব্যক্তি তা করে, তার প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও কঠোরতা অবলম্বন করা ওয়াজিব।

ষষ্ঠত, তাদের বক্তব্য: কুরআন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে, কোনো রূপক বা ইঙ্গিত ছাড়াই এটি সাব্যস্ত করেছে যে, নেককার বান্দাদের দেহাবশেষ ও স্মৃতিচিহ্ন দ্বারা কল্যাণ অর্জন ও অকল্যাণ দূর করার জন্য উসিলা তালাশ করা সম্ভব, চাই তা যত পুরনোই হোক না কেন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেন: {এবং তাদের নবী তাদের বললেন, নিশ্চয়ই তার রাজত্বের নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট সেই সিন্দুকটি আসবে যাতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রশান্তি রয়েছে এবং মুসা ও হারুন পরিবারের রেখে যাওয়া কিছু পরিত্যক্ত সামগ্রী রয়েছে, যা ফেরেশতারা বহন করে আনবে। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যদি তোমরা মুমিন হও।}।

এর উত্তরে বলা হবে যে: পূর্ণাঙ্গ মুহাম্মাদী শরীয়ত তার পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে রহিত করে দিয়েছে, সুতরাং একে লঙ্ঘন করে এমন কোনো কিছু পালন করার অধিকার কারো নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। আর সবচেয়ে বড় অতিরঞ্জন হলো তা-ই যা মহান আল্লাহর সাথে শিরক করার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। নেককারদের দেহাবশেষ ও স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা এবং কল্যাণ লাভ ও অকল্যাণ দূর করার জন্য সেগুলোকে উসিলা হিসেবে গ্রহণ করা এর অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তেকালের পাঁচ দিন পূর্বে বলেছিলেন: «সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে সিজদাহগাহ বা মসজিদে পরিণত করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না; আমি তোমাদেরকে তা করতে নিষেধ করছি»। এটি ইমাম মুসলিম জুনদুব বিন... এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
عبد الله البجلي رضي الله عنه.

قال النووي في شرح مسلم: قال العلماء: إنما نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ قبره وقبر غيره مسجداً خوفاً من المبالغة في تعظيمه والافتتان به فربما أدى ذلك إلى الكفر كما جرى لكثير من الأمم الخالية انتهى.

في الصحيحين وغيرهما عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في مرضه الذي لم يقم منه: «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» وفي الصحيحين وغيرهما أيضا عن عائشة وابن عباس رضي الله عنهم قالا: لما نزل برسول الله صلى الله عليه وسلم: طفق يطرح خميصة له على وجهه فإذا اغتم بها كشفها عن وجهه فقال وهو كذلك: «لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد يحذر مثل ما صنعوا».

وفي هذه الأحاديث دليل على أنه لا يجوز التبرك بآثار الصالحين ولا الدعاء عند قبورهم ومقاماتهم، لأن ذلك وسيلة إلى الغلو فيهم والإشراك بهم، وسد الذرائع المفضية إلى الشرك هو الحكمة في نهيه صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ قبره عيداً وعن اتخاذ قبور الأنبياء والصالحين مساجد ولعنه الذين اتخذوا قبورهم مساجد. وبالجملة
আবদুল্লাহ আল-বাজালি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।

ইমাম নববী 'শারহে মুসলিম'-এ বলেছেন: উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিজের কবর এবং অন্যের কবরকে মসজিদে রূপান্তর করতে নিষেধ করেছেন যেন তাঁর সম্মান প্রদর্শনে অতিরঞ্জন এবং তাতে বিভ্রান্ত হওয়ার ভয় না থাকে; কারণ এটি অনেক সময় কুফরি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে, যেমনটি পূর্ববর্তী অনেক জাতির ক্ষেত্রে ঘটেছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সেই অসুস্থতার সময়, যা থেকে তিনি আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি, বলেছিলেন: "আল্লাহ ইয়াহূদী ও নাসারাদের প্রতি লানত বর্ষণ করুন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে সিজদাহগাহ (মসজিদ) হিসেবে গ্রহণ করেছে।" সহীহাইন এবং অন্যান্য কিতাবে আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্তিম সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি নিজের একটি চাদর চেহারার ওপর দিতে লাগলেন; যখন দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতো, তখন চেহারা থেকে তা সরিয়ে নিতেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেন: "ইয়াহূদী ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর লানত হোক, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে সিজদাহগাহ (মসজিদ) হিসেবে গ্রহণ করেছে।" তিনি তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে সতর্ক করছিলেন।

এই হাদীসগুলোতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, নেককার ব্যক্তিদের স্মৃতিচিহ্ন দিয়ে বরকত গ্রহণ করা এবং তাঁদের কবরের পাশে বা মাজারে দুআ করা জায়েজ নয়। কেননা তা তাঁদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন এবং তাঁদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। আর শিরকের দিকে ধাবিত করে এমন সব পথ রুদ্ধ করাই ছিল নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই হিকমত বা প্রজ্ঞা, যার কারণে তিনি তাঁর কবরকে উৎসবস্থলে পরিণত করতে এবং নবী ও নেককারদের কবরকে মসজিদে রূপান্তর করতে নিষেধ করেছেন; আর যারা তাদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছিল তাদের ওপর লানত করেছেন। মোটের ওপর...
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فليس في الآية من سورة البقرة قوله تعالى: {وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ} الآية ما يدل على جواز التوسل ببقايا الصالحين وآثارهم في استجلاب الخير واستدفاع الضرر، ومن زعم أن الآية تدل على جواز التوسل ببقاياهم وآثارهم فقد جمع بين ثلاثة أمور محرمة، أحدها الغلو في الصالحين، والغلو فيهم من أعظم الوسائل إلى الشرك بهم، وقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الغلو وتقدم ذكر الحديث في ذلك.

الثاني القول في القرآن بمجرد الرأي: وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من قال في القرآن بغير علم فليتبوأ مقعده من النار» رواه الإمام أحمد والترمذي وابن جرير والبغوي من حديث ابن عباس رضي الله عنهما وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح، وفي رواية له: «من قال في القرآن برأيه فليتبوأ مقعده من النار» قال الترمذي: هذا حديث حسن.

قال: وهكذا روي عن بعض أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم أنهم شددوا في هذا في أن يفسر القرآن بغير علم انتهى.

الثالث: اتباع ما تشابه من القرآن ابتغاء الفتنة وتضليل
সুরা বাকারার এই আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদের নবী তাদের বললেন}—এর মধ্যে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা কল্যাণ লাভ এবং ক্ষতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নেককার ব্যক্তিদের দেহাবশেষ বা স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমে উসিলা ধরার বৈধতা নির্দেশ করে। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, এই আয়াতটি তাঁদের অবশিষ্টাংশ বা স্মৃতিচিহ্নের মাধ্যমে উসিলা ধরার বৈধতা প্রমাণ করে, সে মূলত তিনটি হারাম বিষয়কে একত্র করল। তার একটি হলো নেককার ব্যক্তিদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা; আর তাঁদের বিষয়ে অতিরঞ্জন করা হলো তাঁদের সাথে শিরকে লিপ্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতিরঞ্জন করতে নিষেধ করেছেন এবং এ সংক্রান্ত হাদিস ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, নিছক নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে কুরআন সম্পর্কে কোনো উক্তি করা। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান ব্যতীত কুরআন সম্পর্কে কোনো কথা বলে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" এটি ইমাম আহমদ, তিরমিযী, ইবনে জারীর এবং বাগাভী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ। তাঁর অপর এক বর্ণনায় এসেছে: "যে ব্যক্তি নিজের খেয়ালখুশি বা মতামতের ভিত্তিতে কুরআন সম্পর্কে কিছু বলে, সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি হাসান হাদিস।

তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এবং অন্যান্য উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা সঠিক জ্ঞান ব্যতীত কুরআনের ব্যাখ্যা করার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

তৃতীয়ত: ফিতনা সৃষ্টি এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কুরআনের অস্পষ্ট বা রূপক আয়াতসমূহের অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الجهال الذين لا يعرفون الفرق بين الحق والباطل، وقد قال الله تعالى: {فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ}.

ومن الأدلة على المنع من تتبع آثار الأنبياء والصالحين ما رواه أبو بكر بن أبي شيبة في مصنفه بإسناد صحيح إلى نافع مولى ابن عمر رضي الله عنهما قال: بلغ عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن ناسا يأتون الشجرة التي بويع تحتها قال: فأمر بها فقطعت، وروى ابن أبي شيبة أيضا بإسناد صحيح عن المعرور بن سويد قال: خرجنا مع عمر رضي الله عنه في حجة حجها فقرأ بنا في الفجر: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ} و {لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ} فلما قضي حجة ورجع والناس يبتدرون فقال: ما هذا؟ فقالوا: مسجد صلى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «هكذا هلك أهل الكتاب اتخذوا آثار أنبيائهم بيعا من عرضت له منكم فيه الصلاة فليصل ومن لم تعرض له منكم فيه الصلاة فلا يصل» فهذا فعل الخليفة الراشد في الإنكار على الذين يعظمون الشجرة التي بويع تحتها رسول الله صلى الله عليه وسلم. وهذا قوله في الإنكار على الذين يعظمون المكان الذي قد صلى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولو كان تعظيم آثار الأنبياء والصالحين جائزا لما قطع عمر رضي الله عنه
সেইসব অজ্ঞ ব্যক্তি যারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য বোঝে না, এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা অস্পষ্ট তার অনুসরণ করে।"

নবিগণের এবং নেককার ব্যক্তিদের স্মৃতিচিহ্ন অনুসন্ধানের নিষিদ্ধতার দলিলের মধ্যে একটি হলো যা আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে ইবনে উমরের (রা.) আযাদকৃত গোলাম নাফে’ থেকে একটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, কিছু লোক সেই গাছটির কাছে যাতায়াত করছে যার নিচে বাইআত সম্পন্ন হয়েছিল। তখন তিনি সেটি কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং তা কেটে ফেলা হলো। ইবনে আবি শাইবাহ আরও একটি সহিহ সনদে মা’রুর ইবনে সুওয়াইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা উমরের (রা.) সাথে তাঁর একটি হজে বের হলাম। তিনি আমাদের নিয়ে ফজরের সালাতে পাঠ করলেন: "আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কী রূপ ব্যবহার করেছেন?" এবং "কুরাইশদের আসক্তির কারণে।" যখন হজ সম্পন্ন হলো এবং তিনি ফিরে আসছিলেন, তখন দেখলেন মানুষজন দ্রুত কোনো একটি দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এটা কী?" তারা বলল: "এটি এমন একটি মসজিদ যেখানে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করেছেন।" তখন তিনি বললেন: "এভাবেই কিতাবধারী জাতিগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; তারা তাদের নবিদের স্মৃতিচিহ্নসমূহকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছিল। তোমাদের মধ্যে যার সালাতের সময় সেখানে উপস্থিত হয়, সে যেন সালাত আদায় করে, আর যার সালাতের সময় সেখানে উপস্থিত না হয়, সে যেন (উদ্দেশ্যমূলকভাবে) সেখানে না যায়।" এটি হলো খুলাফায়ে রাশিদীনের অন্তর্ভুক্ত খলিফার কাজ, যা সেইসব লোকদের প্রতিবাদে ছিল যারা আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাইআত গ্রহণের গাছটিকে মহিমান্বিত করছিল। আর এটি ছিল তাঁর সেই বক্তব্য যা সেইসব লোকদের প্রতিবাদে ছিল যারা এমন স্থানকে মহিমান্বিত করছিল যেখানে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করেছিলেন। যদি নবিগণের এবং নেককার ব্যক্তিদের স্মৃতিচিহ্নকে মহিমান্বিত করা বৈধ হতো, তবে উমর (রা.) সেটি কেটে ফেলতেন না।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الشجرة التي بويع النبي صلى الله عليه وسلم تحتها، ولما نهي الناس عن تحري الصلاة في المسجد الذي قد صلى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي فعل عمر رضي الله عنه وقوله أبلغ رد على من زعم أن بقايا الصالحين وآثارهم يمكن التوسل بها في استجلاب الخير واستدفاع الضرر. وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله تعالى جعل الحق على لسان عمر وقلبه» رواه الإمام أحمد والترمذي وابن حبان في صحيحه من حديث ابن عمر رضي الله عنهما وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح غريب، قال وفي الباب عن الفضل بن العباس وأبي ذر وأبي هريرة انتهى.

ولفظه عند ابن حبان: «إن الله جعل الحق على لسان عمر يقول به» وروى الإمام أحمد أيضا وابن حبان في صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه» وروى الإمام أحمد أيضا وأبو داود وابن ماجه والحاكم في مستدركه عن أبي ذر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الله وضع الحق على لسان عمر يقول به» قال الحاكم: صحيح على شرط الشيخين وقال الذهبي في تلخيصه على شرط مسلم، وروى الإمام أحمد أيضا والترمذي وابن ماجه والبخاري في التاريخ والحاكم في مستدركه عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنهما
সেই বৃক্ষ যার নিচে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনুগত্যের শপথ (বায়আত) গ্রহণ করা হয়েছিল, এবং যখন লোকদের সেই মসজিদে বিশেষভাবে সালাত আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছিল যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন, আর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের মধ্যে ওই ব্যক্তিদের প্রতি বলিষ্ঠতম প্রত্যাখ্যান রয়েছে যারা দাবি করে যে, পুণ্যবানদের দেহাবশেষ ও স্মৃতিচিহ্ন দ্বারা কল্যাণ লাভ ও অকল্যাণ দূর করার উদ্দেশ্যে উসিলা গ্রহণ করা সম্ভব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সুসাব্যস্ত যে তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ উমরের জিহ্বা ও হৃদয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন»। ইমাম আহমাদ, তিরমিযী এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব। তিনি আরও বলেন: এই অনুচ্ছেদে ফজল ইবন আব্বাস, আবু যার এবং আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণনা রয়েছে। সমাপ্ত।

ইবনে হিব্বানের বর্ণনায় হাদীসের শব্দগুলো হলো: «নিশ্চয়ই আল্লাহ উমরের জিহ্বায় সত্যকে স্থাপন করেছেন, তিনি সে অনুযায়ী কথা বলেন»। ইমাম আহমাদ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ উমরের জিহ্বা ও হৃদয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন»। ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং হাকীম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ উমরের জিহ্বায় সত্যকে ন্যস্ত করেছেন, তিনি সে অনুযায়ী কথা বলেন»। হাকীম বলেন: এটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং যাহাবী তাঁর তালখীসে বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, বুখারী তাঁর 'তারীখ' গ্রন্থে এবং হাকীম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «اقتدوا باللذين من بعدي أبي بكر وعمر» قال الترمذي هذا حديث حسن وصححه الحاكم والذهبي، وروى الإمام أحمد أيضا وأهل السنن وابن حبان في صحيحه والحاكم في مستدركه عن العرباض بن سارية رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة» قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح وصححه أيضا الحاكم وابن عبد البر والذهبي.

وفي هذه الأحاديث أبلغ رد على الذين يتتبعون آثار الصالحين ويخالفون فعل عمر رضي الله عنه في قطع الشجرة التي بويع النبي صلى الله عليه وسلم تحتها ويخالفون أيضا نهيه عن اتخاذ آثار الأنبياء بيعاً، وقد قال ابن وضاح في كتاب (البدع والنهي عنها): كان مالك بن أنس وغيره من علماء المدينة يكرهون إتيان تلك المساجد وتلك الآثار للنبي صلى الله عليه وسلم ما عدا قباء وأحداً. قال ابن وضاح: وسمعتهم يذكرون أن سفيان الثوري دخل مسجد بيت المقدس فصلى فيه ولم يتبع تلك الآثار ولا الصلاة فيها. وكذلك فعل غيره أيضا ممن يقتدى به، وقدم وكيع أيضا مسجد بيت المقدس فلم يعدُ فعل
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমার পরে তোমরা দুইজনের অনুসরণ করো—আবু বকর ও উমর।" ইমাম তিরমিজি বলেন, এটি একটি হাসান হাদিস এবং ইমাম হাকিম ও ইমাম যাহাবি একে সহিহ বলে গণ্য করেছেন। ইমাম আহমদ, সুনান গ্রন্থকারগণ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের ওপর অপরিহার্য হলো আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা। তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক থাকো, কেননা প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান-সহিহ হাদিস। ইমাম হাকিম, ইবনে আব্দুল বার এবং ইমাম যাহাবিও একে সহিহ বলে অভিহিত করেছেন।

এই হাদিসগুলোর মধ্যে সেই সকল ব্যক্তিদের জন্য বলিষ্ঠ খণ্ডন রয়েছে, যারা নেককার বান্দাদের স্মৃতিচিহ্নসমূহ অনুসন্ধান করে বেড়ায় এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে, যখন তিনি সেই গাছটি কেটে ফেলেছিলেন যার নিচে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বায়আত সম্পন্ন হয়েছিল। তদুপরি, তারা নবীদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহকে উপাসনালয় বা ইবাদতগাহে পরিণত করার ব্যাপারে তাঁর (উমরের) নিষেধাজ্ঞারও বিরুদ্ধাচরণ করে। ইবনে ওয়াদদাহ তাঁর 'আল-বিদা' ওয়ান-নাহয়ু আনহা' (বিদআত ও তা থেকে নিষেধ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: মালিক ইবনে আনাস এবং মদিনার অন্যান্য বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম কুবা ও ওহুদ ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট সেই সকল মসজিদ ও নিদর্শনসমূহে যাতায়াত করা অপছন্দ করতেন। ইবনে ওয়াদদাহ বলেন: আমি তাঁদেরকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, সুফিয়ান সাওরি যখন বাইতুল মাকদিস মসজিদে প্রবেশ করেন, তখন তিনি সেখানে কেবল নামাজ আদায় করেছিলেন; তিনি সেখানকার বিশেষ নিদর্শনগুলো অনুসন্ধান করেননি কিংবা সেসব স্থানে আলাদাভাবে নামাজও পড়েননি। অনুরূপভাবে অন্যান্য অনুসরণীয় ইমামগণও করেছেন। তদ্রূপ ওয়াকি ইবনুল জাররাহ যখন বাইতুল মাকদিস মসজিদে উপস্থিত হয়েছিলেন, তিনিও পূর্বসূরীদের কর্মের বাইরে কোনো কিছু করেননি।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
سفيان، قال ابن وضاح: فعليكم بالاتباع لأئمة الهدى المعروفين انتهى.

والسابع قول بعضهم: إن عقيدة أهل السنة والجماعة هي عقيدة الأشاعرة.

والجواب أن يقال: هذا خطأ وجهل لأن الأشاعرة قد سلكوا في باب الصفات مسلك التأويل وصرف الأخبار الواردة في ذلك عن ظاهرها، وهذا خلاف ما كان عليه الصحابة والتابعون وتابعوهم بإحسان فإنهم كانوا يؤمنون بما وصف الله به نفسه وبما وصفه به رسول الله صلى الله عليه وسلم ويمرون الأخبار التي جاءت في الصفات كما جاءت من غير تحريف ولا تعطيل ولا تكييف ولا تمثيل، وينزهون الله تعالى عن مشابهة المخلوقات: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} وهؤلاء هم أهل السنة والجماعة وهم الفرقة الناجية من فرق هذه الأمة كما جاء ذلك في الحديث الذي رواه الترمذي وغيره عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة كلهم في النار إلا ملة واحدة» قالوا: من هي يا رسول الله؟ قال: «ما أنا عليه وأصحابي» قال الترمذي: هذا حديث حسن غريب.
সুফিয়ান; ইবন ওয়াদদাহ বলেন: "সুতরাং তোমাদের জন্য অপরিহার্য হলো সুপরিচিত হিদায়াতের ইমামদের অনুসরণ করা।" সমাপ্ত।

সপ্তম বিষয়টি হলো কারো কারো এই উক্তি যে: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ হলো আশআরিদের আকিদাহ।

এর উত্তরে বলা হবে: এটি একটি ভুল ও অজ্ঞতা; কারণ আশআরিগণ মহান আল্লাহর গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে রূপক ব্যাখ্যার (তাবিল) পথ অবলম্বন করেছেন এবং এ সংক্রান্ত বর্ণিত দলিলগুলোকে সেগুলোর প্রকাশ্য অর্থ থেকে বিচ্যুত করেছেন। এটি সাহাবী, তাবেঈন এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণের (তাবে-তাবেঈন) অনুসৃত পথের পরিপন্থী। কেননা তাঁরা আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তার ওপর ঈমান পোষণ করতেন। তাঁরা গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোকে কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অর্থহীনকরণ (তাতিল), ধরন নির্ধারণ (তাকিয়িফ) বা সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই যেভাবে এসেছে সেভাবেই সাব্যস্ত করতেন। তাঁরা মহান আল্লাহকে সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র রাখতেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" আর এরাই হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং এরাই এই উম্মতের বিভিন্ন দলের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত দল (ফিরকা নাজিয়াহ); যেমনটি তিরমিযী ও অন্যান্যরা আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে; একটি দল ব্যতীত তাদের সকলেই জাহান্নামে যাবে।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।" ইমাম তিরমিযী বলেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদীস।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وروى الطبراني نحوه من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه. وهذا الحديث هو القول الفصل في تعيين أهل السنة والجماعة من غيرهم من الفرق، فكل من ادعى أنه من أهل السنة والجماعة فإن أعماله وأقواله في الأصول والعقائد تعرض على ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم فإن كان موافقا لما كانوا عليه فهو من أهل السنة والجماعة وإن كان مخالفا لهم فدعواه باطلة مردودة.

الثامن: إطلاق بعضهم صفة الجهل على من ينقد الأخطاء في عقيدة الأشاعرة واتهامه بالتكفير لأئمة الإسلام.

والجواب أن يقال: إن الأولى بصفة الجهل من يعترض على العلماء الذين ينقدون الأخطاء الموجودة في عقيدة الأشاعرة ويبينون ما فيها من المخالفة لما كان عليه الصحابة والتابعون لهم بإحسان، فإن الصحابة والتابعين لهم بإحسان كانوا يمرون الأخبار التي جاءت في الصفات كما جاءت ولا يصرفونها عن ظاهرها، وأما الأشاعرة فإنهم كانوا يؤولونها ويصرفونها عن ظاهرها، وشتان ما بين طريقتهم وطريقة الصحابة وأتباعهم، وقد تصدى لبيان الأخطاء الموجودة في عقيدة الأشاعرة كثيرة من كبار العلماء قديما وحديثاً، فجزاهم الله عن بيان الحق وتأييده خير الجزاء،
ইমাম তাবারানি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই হাদিসটি অন্যান্য দল থেকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফয়সালা। সুতরাং যে কেউ নিজেকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করবে, তার মৌলিক মূলনীতি ও আকিদা বিষয়ক কথা ও কাজসমূহ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আদর্শের ওপর পেশ করা হবে। যদি তা তাঁদের আদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবে সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত; আর যদি তা তাঁদের পরিপন্থী হয়, তবে তার দাবি অসার ও প্রত্যাখ্যাত।

অষ্টম: আশআরি আকিদার ভুলগুলোর সমালোচনা যারা করেন, তাদের ওপর কোনো কোনো মহলের পক্ষ থেকে অজ্ঞতার অপবাদ আরোপ করা এবং তারা ইসলামের ইমামদেরকে কাফির বলেন বলে অভিযোগ তোলা।

এর উত্তরে বলা হবে: মূলত সেই ব্যক্তিই অজ্ঞতা গুণের অধিক যোগ্য, যে ওই সকল আলিমের বিরোধিতা করে যারা আশআরি আকিদায় বিদ্যমান ভুলগুলোর সমালোচনা করেন এবং সাহাবায়ে কিরাম ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়িগণের আদর্শের সাথে এগুলোর যে বৈপরীত্য রয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। কেননা সাহাবায়ে কিরাম ও তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীগণ মহান আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই গ্রহণ করতেন এবং সেগুলোকে সেগুলোর প্রকাশ্য অর্থ থেকে বিচ্যুত করতেন না। পক্ষান্তরে আশআরিগণ সেগুলোর অপব্যাখ্যা করে এবং প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে দেয়। তাদের কর্মপন্থা এবং সাহাবায়ে কিরাম ও তাঁদের অনুসারীদের কর্মপন্থার মাঝে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। প্রাচীন ও বর্তমান যুগের বহু প্রথিতযশা আলিম আশআরি আকিদাগত ভুলসমূহ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আল্লাহ তাআলা সত্য উন্মোচন ও তার সমর্থনের জন্য তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وليس في نقد الأخطاء الموجودة في عقيدة الأشاعرة وبيانها تكفير لأئمة الإسلام كما قد توهم ذلك من لا علم عنده.

التاسع: إنكار بعضهم توحيد الأسماء والصفات وإنكاره أن يكون لله يد.

والجواب أن يقال: من أنكر توحيد الأسماء والصفات فهو جهمي، وكذلك من أنكر أن يكون لله يد أو أنكر غير ذلك من أسماء الله وصفاته فهو جهمي، وقد صرح كثير من أكابر العلماء في زمان أتباع التابعين ومن بعدهم بتكفير الجهمية وأخرجهم بعض العلماء من الثنتين وسبعين فرقة من فرق هذه الأمة، والكلام في تكفيرهم مذكور في كتاب السنة لعبد الله بن الإمام أحمد وغيره من كتب السنة، وقد قال ابن القيم رحمه الله تعالى في الكفاية الشافية:

ولقد تقلد كفرهم خمسون في … عشر من العلماء في البلدان

واللالكائي الإمام حكاه عنـ … ـهم بل حكاه قبله الطبراني

 

فذكر أن خمسمائة من العلماء تقلدوا القول بتكفير الجهمية.

والأدلة على تكفيرهم مذكورة في كتب السنة وليس هذا موضع ذكرها.
আশআরী আকিদায় বিদ্যমান ভুলত্রুটিগুলো সমালোচনা করা এবং সেগুলো বর্ণনা করার অর্থ ইসলামের ইমামগণকে কাফির সাব্যস্ত করা নয়, যেমনটি জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা ধারণা করে থাকে।

নবম: তাদের কারো কারো আসমা ওয়াস-সিফাত বা নাম ও গুণাবলির তাওহীদ অস্বীকার করা এবং আল্লাহর 'হাত' থাকাকে অস্বীকার করা।

জবাবে বলা হবে: যে ব্যক্তি নাম ও গুণাবলির তাওহীদ অস্বীকার করে সে জাহমি, তেমনিভাবে যে ব্যক্তি আল্লাহর হাত থাকাকে অস্বীকার করে কিংবা আল্লাহর অন্যান্য নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করে, সেও জাহমি। তাবে-তাবেঈদের যুগ ও পরবর্তীকালের অনেক বড় বড় আলেম জাহমিয়াদের কাফির হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং কোনো কোনো আলেম তাদেরকে এই উম্মতের বাহাত্তর ফিরকার বাইরে গণ্য করেছেন। তাদের কাফির হওয়া সংক্রান্ত আলোচনা ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহর 'কিতাবুস সুন্নাহ' এবং সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) 'আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া' কাব্যগ্রন্থে বলেছেন:

নিশ্চয়ই বিভিন্ন ভূখণ্ডের পাঁচশ (পঞ্চাশ গুণিত দশ) আলেম তাদের কুফরের বিষয়টি ... গ্রহণ করেছেন।

ইমাম লালকায়ী তাদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, ... বরং তার পূর্বে তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।

 

অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন যে, পাঁচশ আলেম জাহমিয়াদের কাফির বলার মতটি গ্রহণ করেছেন।

তাদের কাফির হওয়ার প্রমাণসমূহ সুন্নাহর কিতাবসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত আছে, এটি সেগুলো উল্লেখ করার স্থান নয়।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
العاشر: قول بعضهم إن أحاديث الآحاد لا يؤخذ بها في العقيدة.

والجواب أن يقال: قد دل القرآن والسنة على قبول أخبار الآحاد من غير تفريق بين ما يتعلق بالعقائد وما يتعلق بالأحكام. وهذا هو قول أهل السنة والجماعة من لدن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا، وإنما خالف في ذلك بعض أهل البدع ومن تبعهم من المتفقهة المقلدين وغيرهم من العصريين المتكلفين فزعموا أن أخبار الآحاد لا يؤخذ بها في العقائد وهذا قول لا دليل عليه، وما ليس عليه دليل فليس عليه تعويل، والأدلة من القرآن والسنة وأفعال الصحابة رضي الله عنهم تقتضي التسوية بين العقائد والأحكام وغيرها مما يتعلق بأمور الدين. فأما الأدلة من القرآن ففي آيات كثيرة. منها قول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} فأمر تبارك وتعالى بالتثبت في خبر الفاسق لأنه يحتمل الصدق والكذب فلا يسارع إلى تصديقه خشية أن يكون كاذباً، ولا يسارع إلى تكذيبه خشية أن يكون صادقاً. والتثبت تنجلي حقيقة خبره، ومفهوم الآية دال على قبول خبر الواحد العدل من غير توقف فيه.
দশম: কেউ কেউ দাবি করেন যে, আকিদাগত বিষয়ে একক বর্ণনা (আহাদ হাদিস) গ্রহণযোগ্য নয়।

এর উত্তরে বলা হবে: কুরআন ও সুন্নাহ আকিদা এবং বিধান (আহকাম) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য না করেই একক বর্ণনা গ্রহণের প্রমাণ প্রদান করেছে। আর এটাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের যুগ থেকে আজ অবধি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সুদৃঢ় অভিমত। কেবল কতিপয় বিদআতি সম্প্রদায় এবং তাদের অনুসারী কতিপয় মুকাল্লিদ ফকিহ ও আধুনিকমনস্ক কষ্টকল্পনাকারীরা এর বিরোধিতা করেছেন; তারা দাবি করেন যে, আকিদাগত বিষয়ে একক বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না। অথচ এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই, আর যে বিষয়ের কোনো দলিল নেই, তার ওপর নির্ভর করারও কোনো সুযোগ নেই। কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কিরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কর্মপদ্ধতি আকিদা, আহকাম এবং দ্বীন সংশ্লিষ্ট অপরাপর বিষয়ের মধ্যে সমতা রক্ষার দাবি রাখে। কুরআনের দলিলসমূহের মধ্যে অনেক আয়াত রয়েছে। তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখো, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে ফেলো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের লজ্জিত হতে হয়।" এখানে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ফাসিকের সংবাদের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন; কারণ তাতে সত্য ও মিথ্যা—উভয় সম্ভাবনা বিদ্যমান। ফলে সে মিথ্যাবাদী হওয়ার আশঙ্কায় যেমন তাকে দ্রুত বিশ্বাস করা যাবে না, তেমনি সে সত্যবাদী হওয়ার সম্ভাবনায় তাকে দ্রুত প্রত্যাখ্যানও করা যাবে না। আর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই তার সংবাদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত হয়। এই আয়াতের মর্মার্থ স্পষ্টভাবে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির একক সংবাদ কোনো দ্বিধা বা বিলম্ব ছাড়াই গ্রহণ করার প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الآية الثانية قول الله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ * إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} قال القرطبي في تفسيره: فيه دليل على وجوب العمل بقول الواحد لأنه لا يجب عليه البيان إلا وقد وجب قبول قوله وقال: {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا} فحكم بوقوع البيان بخبرهم انتهى.

قلت: ولهذه الآية نظائر من القرآن تدل على ما دلت عليه من وجوب العمل بخبر الواحد.

الآية الثالثة قول الله تعالى: {وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آَيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ} قال القرطبي في تفسيره: أمر الله سبحانه وتعالى أن يخبرن بما ينزل من القرآن في بيوتهن وما يرين من أفعال النبي صلى الله عليه وسلم ويسمعن من أقواله حتى يبلغن ذلك إلى الناس فيعلموا ويقتدوا، وهذا يدل على جواز قبول خبر الواحد من الرجال والنساء في الدين انتهى.

الآية الرابعة قول الله تعالى: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ
দ্বিতীয় আয়াত মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমাদের অবতীর্ণ করা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও হেদায়েত, মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর; তাদের ওপর লানত করেন আল্লাহ এবং লানতকারীরাও তাদের ওপর লানত করে। তবে যারা তওবা করে, সংশোধন হয় এবং (সত্যকে) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে, আমি তাদের তওবা কবুল করি; আর আমি পরম তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসিরে বলেন: এতে খবর-এ ওয়াহিদ (একজনের সংবাদ) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার দলিল রয়েছে। কারণ, তার ওপর সত্য বর্ণনা করা তখনই কেবল ওয়াজিব হয়, যখন তার কথা গ্রহণ করা ওয়াজিব হয়। তিনি আরও বলেছেন: {তবে যারা তওবা করে, সংশোধন হয় এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে} — এখানে তাদের সংবাদের মাধ্যমে সত্য প্রকাশিত হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমি বলছি: কুরআনে এই আয়াতের সমজাতীয় আরও আয়াত রয়েছে, যা খবর-এ ওয়াহিদ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার নির্দেশনার ব্যাপারে একই অর্থ বহন করে।

তৃতীয় আয়াত মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রেখো।} ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসিরে বলেন: মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যে, নবীপত্নীগণ যেন তাদের ঘরে অবতীর্ণ হওয়া কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সকল কাজ তারা দেখেন ও কথা শোনেন, তা মানুষকে অবহিত করেন; যাতে মানুষ তা জানতে পারে এবং অনুসরণ করতে পারে। এটি দ্বীনের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের পক্ষ থেকে খবর-এ ওয়াহিদ গ্রহণ করার বৈধতার ওপর দলিল। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

চতুর্থ আয়াত মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুমিনদের পক্ষে সম্ভব নয় যে তারা সকলে একসাথে অভিযানে বের হবে; তবে তাদের প্রত্যেক বড় দলের একটি অংশ কেন বের হয় না...
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} وهذه الآية الكريمة دالة على قبول خبر الواحد لأن الطائفة تقع على الواحد فما فوقه، قال ابن الأثير في النهاية، وابن منظور في لسان العرب: الطائفة الجماعة من الناس وتقع على الواحد، قلت: ويدل على ذلك قول الله تعالى: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا} الآية، قال البخاري في صحيحه ويسمى الرجل طائفة لقوله تعالى: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا} فلو اقتتل رجلان دخلا في معنى الآية انتهى. ويدل على ذلك أيضا قول الله تعالى: {وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} قال ابن عباس رضي الله عنهما: الطائفة الرجل فما فوقه. وقال مجاهد وعكرمة: الطائفة الرجل الواحد إلى الألف، وقال إبراهيم النخعي: أقله رجل فما فوقه، وقال الإمام أحمد الطائفة تصدق على واحد. ذكره ابن كثير عنه.

وأما الأدلة من السنة ففي أحاديث كثيرة، منها قوله صلى الله عليه وسلم: «بلغوا عني ولو آية» الحديث رواه الإمام أحمد والبخاري والدارمي والترمذي: هذا حديث صحيح، والأمر بالتبليغ
"যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসবে, তখন যেন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে।" এই মহিমান্বিত আয়াতটি খবর-এ-ওয়াহিদ (একজনের বর্ণিত সংবাদ) গ্রহণের আবশ্যকতা নির্দেশ করে, কারণ 'তয়িফা' শব্দটি একজনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এবং তার অধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও। ইবনুল আসির 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে এবং ইবনু মনজুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলেছেন: "তয়িফা হলো একদল মানুষ, যা একজনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।" আমি বলছি: মহান আল্লাহর এই বাণীটিও এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়: "আর যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।" ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: একজন ব্যক্তিকেও তয়িফা বলা হয়, কেননা মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়..." অনুযায়ী যদি দুইজন ব্যক্তিও যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তারাও এই আয়াতের অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে। (এখানেই উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। মহান আল্লাহর এই বাণীটিও এর ওপর প্রমাণ পেশ করে: "এবং মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।" ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "তয়িফা হলো একজন ব্যক্তি থেকে শুরু করে তার অধিক।" মুজাহিদ ও ইকরিমা বলেছেন: "তয়িফা হলো একজন ব্যক্তি থেকে শুরু করে হাজার জন পর্যন্ত।" ইবরাহিম নাখয়ি বলেছেন: "এর সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো একজন ব্যক্তি এবং তার উর্ধ্বে।" ইমাম আহমাদ বলেছেন: "তয়িফা শব্দটি একজনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।" ইবনু কাসির তাঁর সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন।

আর সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি অনেক হাদিসে বিদ্যমান, তন্মধ্যে রয়েছে নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।" হাদিসটি ইমাম আহমাদ, বুখারি, দারেমি এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। এটি একটি সহিহ হাদিস, আর (দ্বীনি বার্তা) পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ...
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
يعم الواحد فما فوقه، وهذا يدل على وجوب العمل بأخبار الآحاد.

الحديث الثاني قوله صلى الله عليه وسلم: «نضر الله امرأ سمع منا شيئا فبلغه كما سمعه فرب مبلغ أوعى من سامع» رواه الإمام أحمد وأبو داود والترمذي وابن حبان في صحيحه بنحوه وقال الترمذي حديث حسن صحيح، وهذا يدل على قبول خبر الواحد، وقد روي نحوه عن زيد بن ثابت وأنس بن مالك وجبير بن مطعم والنعمان بن بشير وغيرهم رضي الله عنهم.

وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يبعث رسله آحاداً ويرسل كتبه مع الآحاد، ولم يكن المرسل إليهم يقولون لا نقبل أخبارهم لأنها أخبار آحاد، وكان يبعث المبلغين عنه والداعين إلى الإسلام جماعات وآحاداً، وكانت وفود العرب تقدم عليه جماعات وآحاداً فيأمر كلاً منهم أن يبلغ قومه ويدعوهم إلى الإسلام، وقد قبل صلى الله عليه وسلم خبر تميم الداري عن الدجال وروى ذلك عنه على المنبر كما ثبت ذلك في صحيح مسلم وغيره من حديث فاطمة بنت قيس رضي الله عنها، وقبل صلى الله عليه وسلم خبر ابن عمر رضي الله عنهما في رؤية هلال شهر رمضان وعمل به رواه أبو داود، قال الخطابي في الكلام على حديث ابن عمر رضي الله عنها فيه دليل على وجوب قبول أخبار
এটি একজনকে এবং তার ঊর্ধ্বের সংখ্যাকে শামিল করে, আর এটি একক সংবাদ বা আখবারে আহাদ অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে।

দ্বিতীয় হাদিস হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের নিকট থেকে কোনো কিছু শুনল এবং তা হুবহু পৌঁছে দিল ঠিক যেভাবে সে তা শুনেছে; কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে»। এটি ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী একে হাসান সহীহ হাদিস বলেছেন। এটি একক সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা নির্দেশ করে। যায়েদ ইবনে সাবিত, আনাস ইবনে মালিক, জুবায়ের ইবনে মুতয়িম, নুমান ইবনে বশীর এবং অন্যান্য (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দূতগণকে এককভাবে প্রেরণ করতেন এবং তাঁর পত্রসমূহ এককের মাধ্যমেই পাঠাতেন। যাদের নিকট এগুলো পাঠানো হতো তারা এমনটি বলতেন না যে, আমরা তাদের সংবাদ গ্রহণ করব না কারণ এগুলো একক সংবাদ। তিনি তাঁর পক্ষ থেকে সংবাদ পৌঁছানোর জন্য এবং ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য দলবদ্ধভাবে এবং এককভাবে লোক পাঠাতেন। আরব প্রতিনিধি দলগুলো তাঁর নিকট দলবদ্ধভাবে এবং এককভাবে আসত; তখন তিনি তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ গোত্রের নিকট সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার এবং ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে তামীম আদ-দারীর সংবাদ গ্রহণ করেছিলেন এবং মিম্বরে দাঁড়িয়ে তা বর্ণনাও করেছিলেন, যেমনটি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসে সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সংবাদ গ্রহণ করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছিলেন, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে খাত্তাবী বলেন, এতে সংবাদ কবুল করার আবশ্যকতা সম্পর্কে প্রমাণ রয়েছে
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الآحاد، وقبل صلى الله عليه وسلم خبر أعرابي في رؤية شهر رمضان وعمل به رواه أهل السنن وفيه دليل على وجوب قبول أخبار الآحاد.

وأما قبول الصحابة رضي الله عنهم لأخبار الآحاد وعملهم بها فهو مشهور عنهم وقد جاء في ذلك أحاديث كثيرة، منها ما في الصحيحين وغيرهما عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: بينما الناس في صلاة الصبح بقباء إذ جاءهم آت فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أنزل عليه الليلة قرآن وقد أمر أن يستقبل الكعبة فاستقبلوها وكانت وجوههم إلى الشام فاستداروا إلى الكعبة.

فهؤلاء أهل قباء قبلوا خبر الواحد وعملوا به وأقرهم النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك.

ومنها ما في الصحيحين واللفظ للبخاري عن البراء بن عازب رضي الله عنهما قال: لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة صلى نحو بيت المقدس ستة عشر أو سبعة عشر شهراً وكان يحب أن يوجه إلى الكعبة فأنزل الله تعالى: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا} فوجه نحو الكعبة وصلى معه رجل العصر ثم خرج فمر على قوم من الأنصار فقال: هو يشهد أنه صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم وأنه قد وجه إلى الكعبة فانحرفوا وهم
একক ব্যক্তির সংবাদ (আখবারে আহাদ); আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে একজন মরুবাসীর সংবাদ গ্রহণ করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছিলেন। এটি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং এতে একক ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।

আর সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কর্তৃক একক ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী তাঁদের আমল করার বিষয়টি তাঁদের মাঝে সুপ্রসিদ্ধ এবং এ বিষয়ে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো যা সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: যখন কুবা মসজিদে লোকগণ ফজরের সালাত আদায় করছিলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি এসে তাঁদের বললেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আজ রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং আপনারা কাবার অভিমুখী হোন। তাঁদের মুখ তখন শামের দিকে ছিল, অতঃপর তাঁরা কাবার দিকে ঘুরে গেলেন।

এভাবে কুবাবাসীগণ একজন মাত্র ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছিলেন, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের এই কাজকে অনুমোদন দিয়েছিলেন।

তন্মধ্যে আরেকটি দলিল যা সহীহাইনে বর্ণিত এবং এর শব্দবিন্যাস বুখারির, আল-বারা ইবনে আজিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন তিনি ষোলো বা সতেরো মাস বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি কাবার দিকে মুখ ফিরাতে পছন্দ করতেন। ফলে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার আকাশের দিকে বারবার মুখ ফিরানো লক্ষ্য করি। সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন।} অতঃপর তিনি কাবার দিকে মুখ ফিরালেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁর সাথে আসরের সালাত আদায় করলেন এবং এরপর বের হয়ে আনসারদের একটি দলের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন: তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন এবং কিবলা কাবার দিকে পরিবর্তিত হয়েছে। তখন তাঁরা ঘুরে গেলেন এবং তাঁরা...
(খণ্ড: ১) আল ইজাবাতুল জালিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ركوع في صلاة العصر، وقد رواه الإمام أحمد والترمذي بنحو رواية البخاري وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.

وهؤلاء المذكورون في حديث البراء رضي الله عنه غير المذكورين في حديث ابن عمر رضي الله عنهما وقد قبلوا خبر الواحد وعملوا به وأقرهم النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك.

ومنها ما رواه الإمام مسلم وأبو داود عن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي نحو بيت المقدس فنزلت: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} فمر رجل من بني سلمة وهم ركوع في صلاة الفجر وقد صلوا ركعة فنادى: ألا إن القبلة قد حولت، فمالوا كما هم نحو القبلة.

وهؤلاء المذكورون في حديث أنس رضي الله عنه غير المذكورين في حديثي ابن عمر والبراء رضي الله عنهم وقد قبلوا خبر الواحد وعملوا به وأقرهم النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك.

قال الخطابي في الكلام على حديث أنس رضي الله عنه: فيه دليل على وجوب قبول أخبار الآحاد، وقال أبو البركات ابن تيمية: هو حجة في قبول أخبار الآحاد.
আসরের সালাতে রুকু অবস্থায় ছিলেন। ইমাম আহমাদ এবং তিরমিযী এটি ইমাম বুখারীর বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান সহীহ হাদিস।

আর বারা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ থেকে ভিন্ন। তারা একক ব্যক্তির বর্ণনা (খবরে ওয়াহিদ) গ্রহণ করেছিলেন এবং তদনুযায়ী আমল করেছিলেন; আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের এই কাজের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

এর মধ্যে রয়েছে ইমাম মুসলিম ও আবু দাউদ কর্তৃক আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করছিলেন, তখন অবতীর্ণ হলো: {নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখ বারবার আকাশের দিকে ফিরে তাকানো লক্ষ্য করছি। সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরিয়ে নিন।} এরপর বনু সালামার এক ব্যক্তি এমন অবস্থায় তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তারা ফজরের সালাতে রুকু অবস্থায় ছিলেন এবং ইতিমধ্যে তারা এক রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: "জেনে রেখো, কিবলা পরিবর্তিত হয়েছে।" তখন তারা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থাতেই কিবলার দিকে ঘুরে গেলেন।

আর আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ইবনে উমর ও বারা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাদিসদ্বয়ে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ থেকে ভিন্ন। তারাও একক ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করেছিলেন এবং তদনুযায়ী আমল করেছিলেন; আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের এই আমলকে বহাল রেখেছিলেন।

ইমাম খাত্তাবী আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের আলোচনায় বলেছেন: এতে একক ব্যক্তির সংবাদ (আখবারে আহাদ) গ্রহণ করা ওয়াজিব হওয়ার দলিল রয়েছে। আর আবু আল-বারাকাত ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এটি একক ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি অকাট্য প্রমাণ।