(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: -)
تغليظ الملام على المتسرعين إلى الفتيا وتغيير الأحكام القسم: الفرق والردود
الكتاب: تغليظ الملام على المتسرعين إلى الفتيا وتغيير الأحكام
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1992 م
عدد الصفحات: 117
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
ফতোয়া প্রদানে তড়িঘড়ি করা এবং বিধান পরিবর্তনের প্রবক্তাদের কঠোর তিরস্কার বিভাগ: ভ্রান্ত মতবাদ ও খণ্ডন
গ্রন্থ: ফতোয়া প্রদানে তড়িঘড়ি করা এবং বিধান পরিবর্তনের প্রবক্তাদের কঠোর তিরস্কার
লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরি (মৃত্যু ১৪১৩ হি.)
প্রকাশক: দার আস-সুমায়ি প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: -)
تغليظ الملام على المتسرعين إلى الفتيا وتغيير الأحكام
تأليف
الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري
غفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين
دار الصميعي
ফতোয়া প্রদানে তড়িঘড়ি করা এবং বিধি-বিধান পরিবর্তনের প্রবক্তাদের প্রতি কঠোর নিন্দা
রচনায়
মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরি
আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন
দারুস সুমাইয়ি
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله؛ نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله؛ فلا مضل له، ومن يضلل؛ فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الذي شرع الشرائع، وفصَّل الأحكام، وبيَّن الحلال والحرام.
وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، الذي بلغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، ونصح الأمَّة، ودلَّهم على كل خير، ونهاهم عن كل شر، وتركهم على البيضاء؛ ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك.
صلًّى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلَّم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فقد فشى في زماننا التسرع إلى الفتيا بغير علم، وتغيير الأحكام الثابتة في الكتاب والسنة، وكثر ذلك في المنتسبين إلى العلم، وقلَّت المبالاة بما يترتب على ذلك من الوعيد الشديد.
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি শরয়ি বিধানসমূহ প্রবর্তন করেছেন, হুকুম-আহকাম বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং হালাল ও হারাম সুস্পষ্ট করেছেন।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; যিনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন, তাঁদেরকে সকল কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন এবং সকল অকল্যাণ থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি তাঁদেরকে এক অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট দ্বীনের ওপর রেখে গিয়েছেন, যার রাতও দিনের ন্যায় উজ্জ্বল; কোনো ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
আল্লাহর দরুদ ও অগণিত সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাঁদের ওপর।
অতঃপর:
বর্তমান সময়ে জ্ঞান ব্যতিরেকে ফতোয়া প্রদানে তাড়াহুড়ো করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর সুপ্রতিষ্ঠিত বিধানাবলি পরিবর্তনের প্রবণতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ইলমের দিকে সম্বন্ধিত ব্যক্তিদের মাঝে এর আধিক্য দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে যে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি অবধারিত হয়, সে বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ ও সচেতনতা হ্রাস পেয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
وهو ما ثبت عن النبيَّ صلى الله عليه وسلم: أنه قال: «من أفتى بفتيا غير ثَبَت (1)؛ فإنما إثمه على من أفتاه».
رواه: الإمام أحمد، وأبو داود، وابن ماجه، والدارمي، والحاكم؛ من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
وقال الحاكم: «صحيح على شرط الشيخين»، ووافقه الذهبي في «تلخيصه».
وروى الدارمي أيضا عن عبيد الله بن أبي جعفر مرسلاً؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أجرؤكم على الفتيا أجرؤكم على النار».
وقد سُئل أحمد عن هذا الحديث: ما معناه؟ فقال: «يفتي بما لم يسمع».
ذكره ابن مفلح في «الآداب الشرعية».
--------------------------------------------
এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন: "যাকে সঠিক ভিত্তি (১) ব্যতীত ফতোয়া প্রদান করা হলো, তার পাপ কেবল সেই ব্যক্তির ওপরই বর্তাবে যে তাকে ফতোয়া দিয়েছে।"
এটি বর্ণনা করেছেন: ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমি এবং হাকিম; আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে।
হাকিম বলেছেন: "এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ," এবং যাহাবি তার 'তালখিস' গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
দারেমি উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু জাফর থেকে মুরসাল সূত্রে আরও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সাহসী, সে জাহান্নামের আগুনের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি সাহসী।"
ইমাম আহমাদকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: এর অর্থ কী? তিনি বললেন: "এমন বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করা যা সে (নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে) শুনেনি।"
ইবনে মুফলিহ এটি 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
فصلٌ
وقد كان السلف الصالح من الصحابة والتابعين يهابون الفتيا، ويتدافعونها بينهم، ويذمُّون من يسارع إليها، وقد جاء عنهم في ذلك آثار كثيرة؛ منها:
ما رواه: الإمام أحمد، والبخاري، ومسلم، والترمذي، والدارمي؛ عن ابن مسعود رضي الله عنه: أنه قال: «أيها الناس! من سُئل عن علم يعلمه؛ فليقل به، ومن لم يكن عنده علم؛ فليقل: الله أعلم؛ فإن من العلم أن يقول لما لا يعلم: الله أعلم؛ إن الله تبارك وتعالى قال لنبيه: {قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُتَكَلِّفِينَ}.
وفي رواية لمسلم: أن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال «من فقه الرجل أن يقول لما لا علم به: الله أعلم».
ورواه الإمام أحمد بنحوه.
وروى الدارمي أيضا عن أبي موسى رضي الله عنه: أنه قال في خطبته: «من علم علماً؛ فليعلِّمه الناس، وإياه أن يقول ما لا علم له به فيمرق من الدين، ويكون من المتكلفين».
পরিচ্ছেদ
সাহাবী এবং তাবিঈগণের মধ্যবর্তী সালাফে সালেহীনগণ ফতোয়া প্রদানের বিষয়টিকে অত্যন্ত ভয়ের চোখে দেখতেন এবং একে অপরের দিকে তা ঠেলে দিতেন। যারা ফতোয়া প্রদানে দ্রুত ধাবিত হতো তারা তাদের নিন্দা করতেন। এ বিষয়ে তাঁদের থেকে অনেক বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে:
ইমাম আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী এবং দারেমী ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «হে লোকসকল! যাকে এমন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় যা সে জানে, সে যেন তা বলে। আর যার নিকট সে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে যেন বলে: আল্লাহই সর্বজ্ঞ; কেননা কোনো বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে ‘আল্লাহই সর্বজ্ঞ’ বলাও জ্ঞানেরই অংশ। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে বলেছেন: {বলুন, আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই}।
মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: «কোনো ব্যক্তির গভীর প্রজ্ঞার পরিচায়ক হলো, যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই সে সম্পর্কে ‘আল্লাহই সর্বজ্ঞ’ বলা।»
ইমাম আহমাদও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
দারেমী আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর খুতবায় বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান অর্জন করেছে সে যেন তা মানুষকে শিক্ষা দেয়। আর সে যেন খবরদার এমন কিছু না বলে যে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই; অন্যথায় সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে এবং কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।»
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
وروى الدارمي أيضا عن ابن عباس رضي الله عنهما: أنه قال: «من أحدث رأياً ليس في كتاب الله ولم تمض به سنة من رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لم يدر على ما هو منه إذا لقي الله عز وجل».
وروى الدارمي أيضا وابن عبد البر عن ابن عباس رضي الله عنهما: أنه قال: «من أفتى بفتيا وهو يعمى عنها؛ كان إثمها عليه».
وروى الدارمي وابن عبد البر أيضاً عن ابن مسعود رضي الله عنه: أنه قال: «إن الذي يفتي الناس في كل ما يستفتونه لمجنون».
زاد ابن عبد البر: «قال الأعمش: فذكرت ذلك للحكم بن عتيبة، فقال: لو سمعت هذا منك قبل اليوم ما كنت أفتي في كل ما أفتي».
وروى ابن عبد البر أيضاً عن ابن عباس رضي الله عنهما: أنه قال: «إن من أفتى الناس في كل ما يسألونه لمجنون».
وروى ابن عبد البر أيضاً عن نُعيم بن حماد؛ قال: سمعت ابن عيينة يقول: «أجسر الناس على الفتيا أقلُّهم علماً».
وروى أيضاً عن سحنون بن سعيد: أنه قال: «أجسر الناس على الفتيا أقلهم علماً، يكون عند الرجل الباب الواحد من العلم، فيظنُّ أن الحق كله فيه».
وروى الدارمي وابن عبد البر عن محمد بن سيرين؛ قال: قال حذيفة رضي الله عنه: «إنما يفتي الناس أحد ثلاثة: رجل يعلم باسخ القرآن ومنسوخه، وأمير لا يجد بدّاً، وأحمق متكلُّف».
قال ابن سيرين: «فأنا لست بأحد هذين، وأرجو أن لا أكون أحمق
ইমাম আদ-দারিমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরও বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো নব্য অভিমত উদ্ভাবন করল যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং যার স্বপক্ষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সুন্নাহ অতিবাহিত হয়নি; সে যখন মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সে কীসের ওপর রয়েছে (সেটি তার জন্য কতটা ভয়াবহ হবে) তা সে অনুধাবন করতে পারবে না।"
আদ-দারিমি এবং ইবনে আবদিল বারও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ে ফতোয়া দিল যা তার কাছে অস্পষ্ট, তার পাপের দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে।"
আদ-দারিমি এবং ইবনে আবদিল বার আরও ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষের জিজ্ঞাসিত প্রতিটি বিষয়েই ফতোয়া প্রদান করে, সে তো উন্মাদ।"
ইবনে আবদিল বার অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "আমাশ বলেন: আমি হাকাম ইবনে উতায়বার নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আমি যদি আজ থেকে আগে আপনার নিকট হতে এই কথাটি শুনতাম, তবে আমি যা কিছু ফতোয়া প্রদান করেছি তার সব বিষয়ে ফতোয়া দিতাম না।"
ইবনে আবদিল বারও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষের জিজ্ঞাসিত প্রতিটি বিষয়েই ফতোয়া প্রদান করে, সে পাগল।"
ইবনে আবদিল বার নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ থেকেও বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমি ইবনে উইয়াইনাকে বলতে শুনেছি: "ফতোয়া প্রদানে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দুঃসাহসী তারাই, যাদের জ্ঞান সবচেয়ে কম।"
তিনি সাহনুন ইবনে সাঈদ থেকেও বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দুঃসাহসী হলো স্বল্পজ্ঞানী ব্যক্তিরা; কোনো লোকের নিকট ইলমের বা জ্ঞানের একটি মাত্র অধ্যায় থাকে, আর সে মনে করে যে সত্যের সবটুকুই বুঝি কেবল এর মধ্যেই নিহিত।"
আদ-দারিমি এবং ইবনে আবদিল বার মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: হুজায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "মানুষকে ফতোয়া কেবল তিন প্রকারের ব্যক্তি প্রদান করে: এমন ব্যক্তি যে কুরআনের নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) সম্পর্কে জ্ঞান রাখে, অথবা এমন এক আমীর (শাসক) যার ফতোয়া দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই, নতুবা সে একজন নির্বোধ কষ্টকল্পনাকারী।"
ইবনে সিরিন বলেন: "আমি প্রথমোক্ত দুই শ্রেণীর কেউ নই, আর আমি আশা করি যে আমি সেই নির্বোধও নই।"
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
متكلَّفاً».
وروى الدارمي عن محمد - وهو ابن سيرين -؛ قال: «قال عمر لابن مسعود: ألم أنبأ - أو أنبئت - أنك تفتي ولست بأمير؟! وَلَّ حارَّها من تولى قارَّها».
ورواه ابن عبد البر في كتابه «جامعه بيان العلم وفضله» عن ابن سيرين، قال: «قال عمر لأبي مسعود وعقبة بن عمرو: ألم أنبأ أنك تفتي الناس؟! وَلَّ حارَّها من تولَّى قارَّها».
قلت: ما جاء في رواية ابن عبد البر أنَّ عمر رضي الله عنه نهى أبا مسعود عقبة بن عمرو عن الفتيا؛ هو الصحيح، وأما ما جاء في رواية الدارمي أن عمر رضي الله عنه نهى ابن مسعود عن الفتيا؛ فهو غلط وتصحيف؛ لأنه قد ثبت عن عمر رضي الله عنه أنه كتب إلى أهل الكوفة:
«إني قد بعثتُ إليكم عماراً أميراً، وابن مسعود معلَّماً ووزيراً، وهما من النجباء من أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم من أهل بدر؛ فاسمعوا لهما، وتعلَّموا منهما، واقتدوا بهما، وقد آثرتُكم بعبد الله على نفسي».
رواه: ابن سعد، والطبراني، والحاكم، وقال: «صحيح على شرط الشيخين»، ووافقه الذهبي في «تلخيصه».
وقوله: «وَلَّ حارَّها مَن تَوَلَّى قارَّها»: هو مثل أمثال من العرب، ذكره أبو عُبيد القاسم بن سلَاّم في «كتاب الأمثال»، وذكره غيره ممَّن صنَّف في الأمثال.
قال ابن الأثير في «النهاية في غريب الحديث والأثر»: «وفي حديث عمر: قال لأبي مسعود البدري: «بلغني أنَّكّ تفتي، ولَّ حارَّها مَن تولَّى
অপ্রাসঙ্গিক কষ্টকল্পনাকারী হিসেবে।"
দারেমি মুহাম্মদ (যিনি ইবনে সিরিন) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: "উমর (রা.) ইবনে মাসউদকে বলেছিলেন: আমি কি সংবাদ পাইনি—অথবা আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে—যে আপনি ফতোয়া দিচ্ছেন অথচ আপনি আমির (শাসক) নন?! যে এর শীতলতা (সুফল) ভোগ করে, তাকেই এর উষ্ণতা (ঝুঁকি) বহন করতে দিন।"
ইবনে আবদিল বার তাঁর 'জামি'উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' গ্রন্থে ইবনে সিরিন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "উমর (রা.) আবু মাসউদ ও উকবাহ বিন আমরকে বলেছিলেন: আমি কি সংবাদ পাইনি যে আপনি মানুষকে ফতোয়া দিচ্ছেন?! যে এর শীতলতা ভোগ করে, তাকেই এর উষ্ণতা বহন করতে দিন।"
আমি বলছি: ইবনে আবদিল বারের বর্ণনায় যা এসেছে যে, উমর (রা.) আবু মাসউদ উকবাহ বিন আমরকে ফতোয়া প্রদান থেকে নিষেধ করেছিলেন—সেটিই সঠিক। আর দারেমির বর্ণনায় যা এসেছে যে, উমর (রা.) ইবনে মাসউদকে ফতোয়া প্রদান থেকে নিষেধ করেছিলেন—তা ভুল এবং লিপিক্রমিক প্রমাদ; কারণ উমর (রা.) থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি কুফাবাসীদের নিকট লিখেছিলেন:
"আমি তোমাদের নিকট আম্মারকে আমির হিসেবে এবং ইবনে মাসউদকে শিক্ষক ও উজির হিসেবে পাঠিয়েছি। তাঁরা উভয়েই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বদরি সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান ব্যক্তি; সুতরাং তোমরা তাঁদের কথা শোনো, তাঁদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করো এবং তাঁদের অনুসরণ করো। আমি আবদুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) মাধ্যমে নিজের ওপর তোমাদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।"
এটি বর্ণনা করেছেন: ইবনে সাদ, তাবারানি ও হাকেম। হাকেম বলেছেন: "এটি শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ," এবং হাফেজ জাহাবি তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
এবং তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি এর শীতলতা ভোগ করে, তাকেই এর উষ্ণতা বহন করতে দিন"—এটি আরবদের একটি প্রচলিত প্রবাদ। আবু উবাইদ কাসিম বিন সাল্লাম এটি 'কিতাবুল আমসাল'-এ উল্লেখ করেছেন এবং প্রবাদ বিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থকারগণও এটি উল্লেখ করেছেন।
ইবনুল আসির 'আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার' গ্রন্থে বলেন: "উমর (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে: তিনি আবু মাসউদ আল-বদরিকে বলেছিলেন: 'আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি ফতোয়া দিচ্ছেন; সুতরাং যে এর শীতলতা ভোগ করে, তাকেই এর উষ্ণতা..."
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
قارَّها»: جعل الحرَّ كناية عن الشرَّ والشدَّة، والبرد كناية عن الخير والهيِّن؛ أراد: ولَّ شرَّها من تولى خيرها، وولَّ شديدها من تولَّى هيِّنها» وانتهى.
وفي «لسان العرب» نحو ذلك.
وروى ابن عبد البر عن عبد الرحمن بن أبي ليلى؛ قال: أدركت عشرين ومئة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أراه قال: في المسجد -، فما كان منهم محدِّث إلا ودَّ أنَّ أخاه قد كفاه الحديث، ولا مفتٍ إلا ودَّ أنَّ أخاه كفاه الفتيا».
ورواه الدارمي، ولفظه: «لقد أدركت في هذا المسجد عشرين ومئة من الأنصار، وما منهم من أحد يحدِّث بحديث؛ إلاًّ ودَّ أنَّ أخاه كفاه الحديث، ولا يُسأل عن فتيا؛ إلا ودَّ أنَّ أخاه كفاه الفتيا».
وروى الدارمي أيضاً عن داود - وهو ابن أبي هند -؛ قال: «سألت الشعبي: كيف كنتم تصنعون إذا سُئلتم؟ قال: على الخبير وقعت؛ كان إذا سُئل الرجل؛ قال لصاحبه: أفتهم، فلا يزال حتى يرجع إلى الأول».
وروى ابن عبد البر من طريق ابن وهب؛ قال: أخبرني محمد بن سليمان المرادي عن شيخ من أهل المدينة يُكنى أبا إسحاق؛ قال: «كنت أرى الرجل في ذلك الزمان، وإنه ليدخل يسأل عن الشيء، فيدفعه الناس من مجلس إلى مجلس، حتى يدفع إلى مجلس سعيد بن المسيب؛ كراهية الفتيا، وكانوا يدعون سعيد بن المسيب: الجريء».
وروى ابن عبد البر أيضا عن أبي المنهال؛ قال: «سألت زيد بن أرقم والبراء بن عازب عن الصرف؟ فجعل كلما سألت أحدهما؛ قال: سل الآخر؛ فإنه خير مني وأعلم مني».
'ক্বাররাহা': এখানে 'উষ্ণতা' বা 'গরম' শব্দটিকে মন্দ ও কঠোরতার রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং 'শীতলতা' বা 'ঠাণ্ডা' শব্দটিকে কল্যাণ ও নমনীয়তার রূপক করা হয়েছে। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: যে এর কল্যাণ ভোগ করেছে, সে-ই যেন এর মন্দকে পরিচালনা করে; আর যে এর নমনীয়তা ভোগ করেছে, সে-ই যেন এর কঠোরতাকে পরিচালনা করে। সমাপ্ত।
'লিসানুল আরব' গ্রন্থেও অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে আব্দুল বার আব্দুর রহমান ইবনে আবি লাইলা থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর একশত বিশজন সাহাবীর দেখা পেয়েছি—সম্ভবত তিনি বলেছেন: মসজিদে—তাদের মধ্যে এমন কোনো হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন না যিনি এটি কামনা করতেন না যে, তার পরিবর্তে তার কোনো ভাই যদি হাদীস বর্ণনার দায়িত্বটি পালন করে নিতেন। আর এমন কোনো ফতোয়া প্রদানকারী ছিলেন না যিনি এটি কামনা করতেন না যে, তার পরিবর্তে তার কোনো ভাই যেন ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বটি পালন করে নিতেন।"
ইমাম দারেমী এটি বর্ণনা করেছেন, যার শব্দবিন্যাস হলো: "আমি এই মসজিদে একশত বিশজন আনসারী সাহাবীর দেখা পেয়েছি; তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি কোনো হাদীস বর্ণনা করার সময় এটি কামনা করতেন না যে, তার পরিবর্তে তার কোনো ভাই যেন সেই হাদীসটি বর্ণনা করতেন। আর তাদের কাউকে ফতোয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কেবল এটিই কামনা করতেন যে, তার পরিবর্তে তার অন্য কোনো ভাই যেন সেই ফতোয়াটি দিয়ে দিতেন।"
দারেমী আরও বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে; তিনি বলেন: "আমি ইমাম শাবিকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনাদের নিকট কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আপনারা কী করতেন? তিনি বললেন: 'তুমি একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছেই এসেছো; যখন কোনো ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হতো, তখন তিনি তার সাথীকে বলতেন: তুমি তাদের ফতোয়া দাও। এভাবে প্রশ্নটি একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে ঘুরতে ঘুরতে পুনরায় প্রথম ব্যক্তির কাছে ফিরে আসত'।"
ইবনে আব্দুল বার ইবনে ওয়াহাবের সূত্রে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আল-মুরাদী আমাকে মদিনার জনৈক শায়খ (যার উপনাম আবু ইসহাক) থেকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: "আমি সেই যুগে কোনো ব্যক্তিকে দেখতাম যে, সে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য আসত, আর মানুষ ফতোয়া প্রদানের প্রতি অনীহাবশত তাকে এক মজলিস থেকে অন্য মজলিসে পাঠিয়ে দিত। অবশেষে তাকে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের মজলিসে পাঠানো হতো। আর তারা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবকে 'সাহসী' বলে ডাকতেন।"
ইবনে আব্দুল বার আবু মিনহাল থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "আমি যায়েদ ইবনে আরকাম এবং বারা ইবনে আযিবকে মুদ্রা বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন আমি তাদের যার কাছেই প্রশ্ন করতাম, তিনি বলতেন: 'অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করো; কারণ তিনি আমার চেয়ে উত্তম এবং অধিক জ্ঞানী'।"
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقال أبو حصين عثمان بن عاصم: «إن أحدهم ليفتي في المسألة، ولو وردت على عمر؛ لجمع لها أهل بدر».
ذكره ابن مفلح في «الآداب الشرعية».
وإذا كان هذا في زمان التابعين؛ فكيف بأهل زماننا؛ فإن كثيراً منهم لا يتورَّعون عن الفتيا بغير علم؛ بل إن بعضهم لا يبالي بمخالفة الكتاب والسنة في فتاويه؛ كما سيأتي بيان ذلك في ذكر بعض فتاويهم وأقوالهم الباطلة إن شاء الله تعالى.
আবু হুসাইন উসমান বিন আসিম বলেন: "তাদের কেউ কেউ এমন বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করে, যা যদি উমরের (রা.) নিকট আসত, তবে তিনি এর জন্য বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একত্রিত করতেন।"
ইবনে মুফলিহ এটি 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
যদি তাবিঈগণের যুগেই এই অবস্থা হয়ে থাকে, তবে আমাদের সময়ের লোকদের অবস্থা কী হবে? তাদের অনেকেই জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দিতে কোনো সতর্কতা অবলম্বন করে না; বরং তাদের কেউ কেউ নিজের ফতোয়ায় কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করতেও পরোয়া করে না; যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই তাদের কিছু বাতিল ফতোয়া ও বক্তব্যের বর্ণনায় স্পষ্ট করা হবে।
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
فصلٌ
وقد كان السلف الصالح يتورَّعون عن الفتيا بغير علم، وإذا سُئل أحدهم عمَّا لا علم به؛ لم يأنف أن يقول: لا أعلم هذا، أو يقول: لا أدري، أو يقول: سل عن هذا غيري.
وهذا بخلاف ما عليه بعض المنتسبين إلى العلم في زماننا؛ فإن كثيرا منهم يتسرعون إلى الفتيا بغير علم، ويأنف أحدهم أن يقول فيما لا يعلمه: لا أعلم هذا، أو: لا أدري، أو يقول: سل عن هذا غيري! ويرون في الإحجام عن إجابة السائل غضاضة عليهم، وما علموا أن الخطر العظيم في التسرع إلى الفتيا بغير علم.
وقد تقدَّم قول ابن مسعود رضي الله عنه: «أيها الناس! مَن سُئل عن علم يعلمه؛ فليقل به، ومَن لم يكن عنده علم؛ فليقل: الله أعلم؛ فإن من العلم أن يقول لما لا يعلم: الله أعلم».
وذكر ابن عبد البر بإسناده عن ابن سيرين؛ قال: «لم يكن أحد بعد النبي صلى الله عليه وسلم أهيب لما لا يعلم من عمر، وإن أبا بكر نزلت به قضيَّة، فلم يجد في كتاب الله منها أصلا ولا في السنة أثراً، فاجتهد رأيه، ثم قال: هذا رأيي، فإن يكون صوابا؛ فمن الله، وإن يكون خطأ؛ فمني، وأستغفر الله».
وروى ابن عبد البر أيضا عن أبي معمر - واسمه عبد الله بن سخبرة الأزدي - عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه: أنه قال: «أي سماء تظلني، وأي أرض تقلَّني، إذا قلتُ في كتاب الله بغير علم؟!».
قال ابن عبد البر: «وذَكَر مثلَ هذا عن أبي بكر رضي الله عنه ميمون ابن مهران وعامر الشعبي وابن أبي مليكة».
পরিচ্ছেদ
নিশ্চয়ই নেককার পূর্বসূরিগণ (সালাফে সালেহীন) জ্ঞান ব্যতীত ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত থাকতেন। যখন তাঁদের কাউকে এমন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো যা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান নেই, তখন তিনি এ কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না যে: 'আমি এটি জানি না', অথবা 'আমি অবগত নই', কিংবা 'এ বিষয়ে অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করুন'।
এটি বর্তমান সময়ে ইলম বা জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্টতার দাবিদার একদল লোকের অবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত; কারণ তাদের অনেকেই জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া প্রদানে তাড়াহুড়ো করে। তাদের কেউ এমন বিষয়ে যা সে জানে না, তা বলতে কুণ্ঠাবোধ করে যে: 'আমি এটি জানি না', অথবা 'আমি অবগত নই', কিংবা 'এ বিষয়ে অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করুন!' তারা প্রশ্নকর্তার উত্তর প্রদান থেকে বিরত থাকাকে নিজেদের জন্য মর্যাদাহানি মনে করে। অথচ তারা জানে না যে, জ্ঞান ছাড়া ফতোয়া প্রদানে তাড়াহুড়ো করার মধ্যে কত বড় বিপদ নিহিত রয়েছে।
ইতোপূর্বে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাণী উল্লেখ করা হয়েছে: "হে লোকসকল! যাকে এমন জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যা সে জানে, সে যেন তা বলে। আর যার কাছে সে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে যেন বলে: 'আল্লাহই সর্বজ্ঞ'; কেননা কোনো বিষয় না জানা সত্ত্বেও 'আল্লাহই সর্বজ্ঞ' বলা ইলমেরই অন্তর্ভুক্ত।"
ইবনুল বার্র স্বীয় সনদসহ ইবনে সিরিন থেকে উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর অজানা বিষয়ে ওমরের চেয়ে অধিক সাবধানী আর কেউ ছিল না। আবু বকরের নিকট যখন কোনো বিষয়ের সমাধান চাওয়া হতো এবং তিনি আল্লাহর কিতাবে এর কোনো মূলভিত্তি কিংবা সুন্নাহতে কোনো বর্ণনা পেতেন না, তখন তিনি নিজ বিচারবুদ্ধি দ্বারা ইজতিহাদ করতেন। অতঃপর বলতেন: 'এটি আমার অভিমত; যদি তা সঠিক হয় তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার পক্ষ থেকে, আর আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি'।"
ইবনুল বার্র আবু মা'মার—যার নাম আবদুল্লাহ ইবনে সাখবারাহ আল-আযদী—থেকে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে আর কোন জমিন আমাকে আশ্রয় দেবে, যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞানহীন কোনো কথা বলি?!"
ইবনুল বার্র বলেন: "আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণনা মায়মুন ইবনে মিহরান, আমির আশ-শা'বী এবং ইবনে আবি মুলাইকাহ-ও উল্লেখ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وروى أيضاً عن زاذان وأبي البختري عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: أنه قال: «أي أرض تقلّني، أو سماء تظلّني، إذا قلتُ في كتاب الله ما لا أعلم؟!».
وروى الدارمي عن أبي البختري وزاذان؛ قالا: قال علي رضي الله عنه: «وَابَرْدَها على الكبد، إذا سُئلت عمَّا لا أعلم أن أقول: الله أعلم».
وروى أيضا عن أبي النعمان - واسمه سالم بن سرج المدني، ويقال: ابن خرَّبُوذ - عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: أنه قال: «إذا سُئلتم عمَّا لا تعلمون؛ فاهربوا». قالوا: وكيف الهرب يا أمير المؤمنين؟! قال: «تقولون: الله أعلم».
وروى أيضا عن أبي البختري عن علي رضي الله عنه: أنه قال: «يا بَرْدَها على الكبد أن تقول لما لا تعلم: الله أعلم».
وروى أيضا عن عزرة التميمي؛ قال: قال علي رضي الله عنه: «وابَرْدَها على الكبد «ثلاث مرات»». قالوا: وما ذلك يا أمير المؤمنين؟ قال: «أن يسأل الرجل عمَّا لا يعلم، فيقول: الله أعلم».
وذكر ابن مفلح في «الآداب الشرعية» عن علي رضي الله عنه: أنه قال: «خمس لو سافر الرجل فيهنَّ إلى اليمن؛ لكن عوضاً عن سفره: لا يخشى عبد إلا ربَّه، ولا يخاف إلا ذنبه، ولا يستحي مَن لا يعلم أن يتعلَّم، ولا يستحي مَن تعلَّم إذا سُئل عمَّا لا يعلم أن يقول: الله أعلم، والصبر من الدين بمنزلة الرأس من الجسد، وإذا قُطع الرأس؛ توى الجسد».
التوى: الهلاك.
وروى الدارمي أيضا عن هشام بن عروة عن أبيه عن ابن عمر رضي
জাযান ও আবুল বাখতারি থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "কোন জমিন আমাকে বহন করবে, অথবা কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে, যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু বলি যা আমি জানি না?!"
ইমাম দারেমি আবুল বাখতারি ও জাযান থেকে বর্ণনা করেন; তাঁরা বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "কলিজার জন্য কতই না শীতলদায়ক বিষয় এটি যে, যখন আমাকে এমন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যা আমি জানি না, তখন আমি বলি: আল্লাহ ভালো জানেন।"
আবু নুমান থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে — তাঁর নাম সালেম বিন সারজ আল-মাদানি, তাঁকে ইবনে খাররাবুযও বলা হয় — তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যখন তোমাদেরকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে যা তোমরা জানো না, তখন তোমরা পালিয়ে যেয়ো।" তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আমিরুল মুমিনিন! পালানো কীভাবে সম্ভব?! তিনি বললেন: "তোমরা বলবে: আল্লাহ ভালো জানেন।"
আবুল বাখতারি থেকে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "অজানা বিষয়ে 'আল্লাহ ভালো জানেন' বলাটা কলিজার জন্য কতই না প্রশান্তিদায়ক।"
আজরা আত-তামিমি থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "এটি কলিজার জন্য কতই না শীতলদায়ক (তিনবার)।" তাঁরা বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, সেটি কী? তিনি বললেন: "কোনো ব্যক্তিকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা যা সে জানে না, অতঃপর সে বলে: আল্লাহ ভালো জানেন।"
ইবনে মুফলিহ 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' গ্রন্থে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "পাঁচটি বিষয় এমন যে, যদি কোনো ব্যক্তি এগুলোর সন্ধানে ইয়ামেন পর্যন্ত সফর করে, তবে তা হবে তার সফরের সার্থক বিনিময়: কোনো বান্দা যেন তার প্রতিপালক ছাড়া আর কাউকে ভয় না করে, নিজের গুনাহ ছাড়া আর কিছুকে ভয় না পায়, যে জানে না সে যেন শিখতে লজ্জা না পায়, এবং যে ব্যক্তি জ্ঞান রাখে তাকে যদি এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় যা সে জানে না, তবে সে যেন 'আল্লাহ ভালো জানেন' বলতে সংকুচিত না হয়। আর দ্বীনের ক্ষেত্রে সবরের স্থান হলো দেহের মাথার ন্যায়; যখন মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন দেহ ধ্বংস হয়ে যায়।"
আত-তাওয়া: ধ্বংস বা বিনাশ হওয়া।
ইমাম দারেমি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আরও বর্ণনা করেন...
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الله عنهما: «أن رجلا سأله عن مسألة؟ فقال: لا علم لي بها، فلما أدبر الرجل؛ قال ابن عمر رضي الله عنهما: نعم ما قال ابن عمر: سُئل عما لا يعلم؟ فقال: لا علم لي به».
وروى أيضا عن نافع ابن عمر رضي الله عنهما نحوه.
وروى ابن عبد البر عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما: أنه سُئل عن شيء؟ فقال: لا أدري، فلمَّا ولَّى الرجل؛ نِعِمَّا قال عبد الله بن عمر؛ سُئل عمَّا لا يعلم؟ فقال: لا علم لي به».
وروى ابن عبد البر أيضا عن مجاهد؛ قال: «سُئل ابن عمر عن فريضة من الصلب؟ فقال: لا أدري، فقيل له: ما يمنعك أن تجيبه؟ فقال: سُئل ابن عمر عمَّا لا يدري؟ فقال: لا أدري».
وروى ابن عبد البر أيضا عن عقبة بن مسلم؛ قال: «صحبتُ ابن عمر رضي الله عنهما أربعة وثلاثين شهراً، فكان كثيراً ما يُسأل فيقول: لا أدري، ثم يلتفت إليَّ فيقول: أتدري ما يريد هؤلاء؟ يريدون أن يجعلوا ظهورنا جسراً إلى جهنَّم».
وروى ابن عبد البر أيضا عن حماد بن زيد عن أيوب؛ قال: «تكاثروا على القاسم بن محمد يوماً بمنى، فجعلوا يسألونه؟ فيقول: لا أدري، ثم قال: إنا والله ما نعلم كلَّ ما تسألونا عنه، ولو علمنا؛ ما كتمناكم، ولا حَلَّ لنا أن نكتمكم».
وذكر ابن عبد البر أيضا عن القاسم: أنه قال: «يا أهل العراق: إنا والله لا نعلم كثيراً مما تسألونا عنه، ولأن يعيش المرء جاهلاً لا يعلم ما افُترض عليه خير له من أن يقول على الله ورسوله ما لا يعلم».
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন: "এক ব্যক্তি তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই। অতঃপর যখন লোকটি প্রস্থান করল, ইবনে উমর (রা.) বললেন: ইবনে উমর কতই না চমৎকার কথা বলেছে! তাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা সে জানে না, তখন সে বলেছে: এ বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই।"
নাফে’ থেকে ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে আব্দুল বার নাফে’র সূত্রে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: তাঁকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: আমি জানি না। অতঃপর যখন লোকটি প্রস্থান করল, (তিনি বললেন): আব্দুল্লাহ ইবনে উমর কতই না উত্তম বলেছে! তাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা সে জানে না, ফলে সে বলেছে: এ বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই।
ইবনে আব্দুল বার মুজাহিদ থেকেও বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: "ইবনে উমরকে সরাসরি উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একটি ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: আমি জানি না। তখন তাঁকে বলা হলো: উত্তর দিতে আপনাকে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেন: ইবনে উমরকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা সে জানে না, তাই সে বলেছে: আমি জানি না।"
ইবনে আব্দুল বার উকবাহ বিন মুসলিম থেকেও বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: "আমি ইবনে উমর (রা.)-এর সান্নিধ্যে চৌত্রিশ মাস ছিলাম। প্রায়শই তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো এবং তিনি বলতেন: আমি জানি না। এরপর তিনি আমার দিকে ফিরে বলতেন: তুমি কি জানো এরা কী চায়? তারা আমাদের পিঠকে জাহান্নামের পথে সেতু বানাতে চায়।"
ইবনে আব্দুল বার আইয়ুবের সূত্রে হাম্মাদ বিন জায়েদ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: "একদিন মিনায় লোকজন কাসিম বিন মুহাম্মাদের ওপর ভিড় জমাল। তারা তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে লাগল। তিনি বলছিলেন: আমি জানি না। অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! আপনারা আমাদের যা জিজ্ঞাসা করেন তার সবটুকু আমরা জানি না। যদি আমরা জানতাম, তবে আপনাদের কাছে তা গোপন করতাম না, আর আমাদের জন্য তা গোপন করা বৈধও নয়।"
ইবনে আব্দুল বার কাসিম থেকে আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি বলেছেন: "হে ইরাকবাসী! আল্লাহর শপথ, আপনারা আমাদের কাছে যা জিজ্ঞাসা করেন তার অনেক কিছুই আমরা জানি না। কোনো ব্যক্তির জন্য তার ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা না জেনে মূর্খ হিসেবে বেঁচে থাকা তার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নামে এমন কিছু বলার চেয়ে উত্তম যা সে জানে না।"
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وذكر ابن عبد البر أيضاً عن ابن عون؛ قال: «كنت عند القاسم بن محمد، إذ جاءه رجل فسأله عن شيء؟ فقال القاسم: لا أحسنه، فجعل الرجل يقول: إني دُفعت إليك، لا أعرف غيرك، فقال القاسم: لا تنظر إلى طول لحيتي وكثرة الناس حولي، والله ما أحسنه، فقال شيخ من قريش جالس إلى جنبه: يا ابن أخي! الزمها؛ فوالله؛ ما رأيتك في مجلس أنبل منك اليوم، فقال القاسم: والله؛ لأن يُقطَع لساني أحبُّ إليَّ من أن أتكلَّم بما لا علم لي به».
وروى ابن عبد البر أيضا عن عبد الملك بن أبي سليمان؛ قال: «سُئِلِ سعيد بن جبير عن شيء؟ فقال: لا أعلم، ثم قال: ويل للذي يقول لما لا يعلم: إني أعلم».
وروى ابن عبد البر أيضاً عن ابن وهب؛ قال: سمعتُ مالكاً يقول: «سأل عبد الله بن نافع أيوب السختياني عن شيء؟ فلم يجبه، فقال له: لا أراك فهمت ما سألتك عنه، قال: بلى، قال: فلم لا تجيبيني؟ قال: لا أعلمه».
وروى أيضا عن عبد الرحمن بن مهدي؛ قال: «كنا عند مالك بن أنس، فجاءه رجل، فقال له: يا أبا عبد الله! جئتك من مسيرة ستة أشهر، حمَّلني أهل بلدي مسألة أسألك عنها، قال: فسَل، فسأله الرجل عن المسألة؟ فقال: لا أحسنها، قال: فبهت الرجل كأنه قد جاء إلى مَن يعلم كل شيء، فقال أي شيء أقول لأهل بلدي إذا رجعتُ إليهم؟ قال: تقول لهم: قال مالك: لا أحسن».
قال ابن عبد البر: «وذكر ابن وهب في كتاب «المجالس»؛ قال
ইবনে আব্দুল বার ইবনে আউন থেকে আরও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: «আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদের নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। কাসিম বললেন: আমি এটি ভালো জানি না। লোকটি বলতে লাগল: আমাকে আপনার কাছেই পাঠানো হয়েছে, আমি অন্য কাউকে চিনি না। তখন কাসিম বললেন: আমার দীর্ঘ দাড়ি আর চারপাশের মানুষের ভিড় দেখে ধোঁকা খেয়ো না; আল্লাহর কসম, আমি এটি ভালো জানি না। তখন তাঁর পাশে বসা কুরাইশ বংশীয় এক বৃদ্ধ বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র! এই নীতিই আঁকড়ে ধরো; আল্লাহর কসম, আজকের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ কোনো মজলিসে আমি তোমাকে আগে দেখিনি। তখন কাসিম বললেন: আল্লাহর কসম; আমার জিহ্বা কেটে ফেলা আমার কাছে অধিক প্রিয়, তবুও যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই তা বলা নয়।»
ইবনে আব্দুল বার আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: «সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: আমি জানি না। অতঃপর তিনি বললেন: ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যে না জেনে বলে: আমি জানি।»
ইবনে আব্দুল বার ইবনে ওয়াহাব থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: «আব্দুল্লাহ ইবনে নাফে আইয়ুব সাখতিয়ানিকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে কোনো উত্তর দিলেন না। তখন তিনি তাঁকে বললেন: আমার মনে হয় আপনি আমার প্রশ্নটি বুঝতে পারেননি। তিনি বললেন: অবশ্যই বুঝেছি। তিনি বললেন: তাহলে আমাকে উত্তর দিচ্ছেন না কেন? তিনি বললেন: আমি এটি জানি না।»
তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: «আমরা মালিক ইবনে আনাসের নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি ছয় মাসের পথ পাড়ি দিয়ে আপনার কাছে এসেছি, আমার এলাকার লোকজন একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করার জন্য আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছে। তিনি বললেন: তবে জিজ্ঞাসা করো। লোকটি তাঁকে মাসআলাটি জিজ্ঞাসা করল। তখন তিনি বললেন: আমি এটি ভালো জানি না। এতে লোকটি হতভম্ব হয়ে গেল, যেন সে এমন একজনের কাছে এসেছে যিনি সব জানেন। সে বলল: আমি যখন আমার এলাকায় ফিরে যাব, তখন তাদের কী বলব? তিনি বললেন: তাদের বলবে: মালিক বলেছেন: আমি এটি ভালো জানি না।»
ইবনে আব্দুল বার বলেন: «ইবনে ওয়াহাব তাঁর ‘আল-মাজালিস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন...»
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
سمعت مالكاً يقول: ينبغي للعالم أن يألف فيما أشكل عليه قول: لا أدري؛ فإنه عسى أن يهيَّأ له خير، قال ابن وهب: وكنتُ أسمعه كثيراً ما يقول: لا أدري، وقال في موضع آخر: لو كتبنا عن مالك: لا أدري؛ لملأنا الألواح».
قال ابن وهب: وسمعتُ مالكاً - وذُكر قول القاسم بن محمد: «لأن يعيش الرجل جاهلاً خير من أن يقول على الله ما لا يعلم» -، ثم قال: «وهذا أبوبكر الصديق، وقد خصَّه الله بما خصَّه به من الفضل، يقول: لا أدري».
وقال ابن وهب: وحدَّثني مالك؛ قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إمام المسلمين، وسيد العالمين، يسئل عن الشيء، فلا يجيب حتى يأتيه الوحي».
وذكر عبد الرحمن بن مهدي عن مالك بعض هذا، وفي روايته هذه: «الملائكة قد قالت: لا علم لنا».
قال ابن عبد البر: وذكر أبو داود في تصنيفه لحديث مالك: حدثنا عباس العنبري؛ قال: حدثنا عبد الرزاق؛ قال: قال: مالك: «كان ابن عباس رضي الله عنهما يقول: إذا أخطأ العالم: لا أدري؛ أصيبت مقاتله».
وروى أبو داود أيضا عن مالك عن يحيى بن سعيد؛ قال: قال ابن عباس رضي الله عنهما: «إذا ترك العالم: لا أعلم؛ فقد أصيبت مقاتله».
قال: وحدثنا أحمد بن حنبل؛ قال: حدثنا محمد بن إدريس؛ قال: سمعت مالكاً يقول: سمعت ابن عجلان يقول: «إذا أخطأ العالم: لا أدري؛ أصيبت مقاتله».
আমি মালিককে বলতে শুনেছি: "আলেমের উচিত কোনো অস্পষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে ‘আমি জানি না’ বলায় অভ্যস্ত হওয়া; কারণ সম্ভবত এর মাধ্যমেই তার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত হবে।" ইবনে ওয়াহাব বলেন: "আমি তাঁকে প্রায়শই ‘আমি জানি না’ বলতে শুনতাম।" তিনি অন্য এক স্থানে বলেন: "আমরা যদি মালিকের কাছ থেকে ‘আমি জানি না’ কথাটি লিখে রাখতাম, তবে আমরা আমাদের লিখনফলকগুলো পূর্ণ করে ফেলতাম।"
ইবনে ওয়াহাব বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি—সেখানে কাসিম বিন মুহাম্মদের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করা হয়েছিল: "একজন মানুষের মূর্খ হয়ে বেঁচে থাকা আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে কথা বলার চেয়ে উত্তম"—অতঃপর তিনি বলেন: "এই তো আবু বকর সিদ্দিক, যাঁকে আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তিনিও বলতেন: ‘আমি জানি না’।"
ইবনে ওয়াহাব বলেন: মালিক আমাকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মুসলিমদের ইমাম এবং বিশ্বজগতের সরদার; তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ততক্ষণ উত্তর দিতেন না যতক্ষণ না তাঁর কাছে ওহী আসত।"
আবদুর রহমান ইবনে মাহদী মালিক থেকে এর কিয়দাংশ উল্লেখ করেছেন, এবং তাঁর এই বর্ণনায় রয়েছে: "ফেরেশতারা বলেছিল: ‘আমাদের কোনো জ্ঞান নেই’।"
ইবনে আবদুল বার বলেন: আবু দাউদ মালিকের হাদিস সংকলনে উল্লেখ করেছেন: আব্বাস আল-আনবারী আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মালিক বলেছেন: "ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলতেন: ‘আলেম যখন “আমি জানি না” বলতে ভুল করেন (অর্থাৎ তা বলতে ব্যর্থ হন), তখন তিনি মরণঘাতী আঘাতের শিকার হন’।"
আবু দাউদ আরও বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে; তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: "আলেম যখন ‘আমি জানি না’ বলা ত্যাগ করেন, তখন তিনি ধ্বংসাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন।"
তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আমাদের বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি ইবনে আজলানকে বলতে শুনেছেন: "আলেম যখন ‘আমি জানি না’ বলতে ভুল করেন, তখন তিনি মরণঘাতী আঘাতের শিকার হন।"
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وروى ابن عبد البر أيضا من طريق الإمام أحمد؛ قال: حدثني محمد بن إدريس الشافعي؛ قال: سمعت مالك بن أنس يقول: سمعت ابن عجلان يقول: «إذا أغفل العالم: لا أدري؛ أصيبت مقاتله».
قال ابن عبد البر: «وقال أبو الدرداء: قول الرجل فيما لا يعلم: لا أعلم: نصف العلم».
وذكر ابن مفلح في «الآداب الشرعية» عن الشعبي: أنه قال:
«لا أدري: نصف العلم».
قال: وبإسناد حسن عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه: أنه قال: «من علم الرجل أن يقول لما لا يعلم: الله أعلم؛ لأن الله عز وجل قال لرسوله عليه الصلاة والسلام: {قُلْ ما أسْألُكُمْ عَلَيْه مِنْ أجْر ومَا أنا مِنَ المُتَكَلِّفينَ}.
قال: وصح عن ابن عمر رضي الله عنهما: أنه قال: «العلم ثلاثة: كتاب ناطق، وسنة ماضية، ولا أدري».
قال: وقال أحمد في رواية المروذي: «ليس كل شيء ينبغي أن يُتكَلَّم فيه، وذكر أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وكان يُسأل؟ فيقول: «لا أدري، حتى أسأل جبريل»».
قال: وقال عبد الله: سمعت أبي يقول: «كان سفيان لا يكاد يفتي في الطلاق، ويقول: مَن يحسن ذا؟ مَن يحس ذا؟».
وقال في رواية أبي الحارث: «وددت أنه لا يسألني أحدٌ عن مسألة، وما شيء أشدّ عليَّ من أن أسأل عن هذه المسائل، البلاء يخرجه الرجل عن عُنُقه ويقلِّدك، وخاصة مسائل الطلاق والفروج».
ইবনে আবদিল বার ইমাম আহমাদের সূত্রে আরও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি যে, আমি ইবনে আজলানকে বলতে শুনেছি: «যখন আলেম 'আমি জানি না' বলতে অবহেলা করেন, তখন তার মরণস্থল আক্রান্ত হয় (অর্থাৎ তিনি ধ্বংস হয়ে যান)»।
ইবনে আবদিল বার বলেছেন: «আবু দারদা বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যা জানে না সে বিষয়ে 'আমি জানি না' বলা হলো ইলমের অর্ধেক»।
ইবনে মুফলিহ 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' গ্রন্থে আশ-শাবী থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
«'আমি জানি না' হলো ইলমের অর্ধেক»।
তিনি বলেন: হাসান সনদে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «কোনো ব্যক্তির পাণ্ডিত্যের পরিচায়ক হলো সে যা জানে না সে বিষয়ে বলা: 'আল্লাহ ভালো জানেন'; কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছেন: {বলুন, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি কৃত্রিমতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই}»।
তিনি বলেন: ইবনে উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «ইলম তিন প্রকার: সুস্পষ্ট কিতাব, প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত এবং 'আমি জানি না'»।
তিনি বলেন: ইমাম আহমাদ আল-মারওয়াযীর বর্ণনায় বলেছেন: «সব বিষয়ে কথা বলা উচিত নয়। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহ উল্লেখ করলেন যে তাঁকে প্রশ্ন করা হতো, আর তিনি বলতেন: 'আমি জানি না, যতক্ষণ না জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করি'»।
তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: «সুফিয়ান (আস-সাওরী) তালাকের বিষয়ে ফাতাওয়া দিতেনই না বলতে গেলে এবং বলতেন: কে এটি সুন্দরভাবে সমাধা করতে পারে? কে এটি করতে সক্ষম?»।
তিনি আবুল হারিসের বর্ণনায় আরও বলেছেন: «আমার আকাঙ্ক্ষা এই যে, কেউ যেন আমাকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করে। এই সকল মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার চেয়ে কঠিন আমার কাছে আর কিছুই নেই। মানুষ তার ঘাড় থেকে বিপদ (দায়ভার) নামিয়ে তোমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়, বিশেষ করে তালাক ও লজ্জাস্থান (বিবাহ) সংক্রান্ত মাসআলাগুলোতে»।
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال سفيان: «من فتنة الرجل إذا كان فقيها أن يكون الكلام أحب إليه من السكوت».
وقال المروذي: «قلت لأبي عبد الله: إن العالم يظنُّونه عنده علم كل شيء فقال: قال ابن مسعود رضي الله عنه: «إن الذي يفتي الناس في كل ما يستفتونه لمجنون»، وأنكر أبو عبد الله على من يتهجَّم في المسائل والجوابات.
وسمعت أبا عبد الله يقول: «ليتَّقِ الله عبدٌ ولينظر ما يقول وما يتكلَّم به؛ فإنه مسؤول».
وقال: «مَن أفتى الناس ليس ينبغي أن يحمل الناس على مذهبه ويشدِّد عليهم».
وقال في رواية ابن القاسم: «إنما ينبغي أن يؤمر الناس بالأمر البيِّن الذي لا شكَّ فيه، وليت الناس إذا أمروا بالشيء الصحيح أن لا يجاوزوه».
ونقل محمد بن أبي طاهر عنه: أنه سُئل عن مسألة في الطلاق؟ فقال: «سل غيري، ليس لي أفتي في الطلاق بشيء».
وقال في رواية ابن منصور: «لا ينبغي أن يجيب في كل ما يُستفتى».
وصحَّ عن مالك: أنه قال: «ذلّ وإهانة للعلم أن تجيب كل مَن سألك».
وقال أيضا: «كل مَن أخبر الناس بكل ما يسمع فهو مجنون».
وقال أحمد في رواية أحمد بن علي الأبَّار: وقال له رجل: حلفتُ بيمين لا أدري إيش هي؟ قال: «ليت أنك إذا دريت دِريتُ أنا».
সুফিয়ান বলেন: "একজন ব্যক্তি ফকীহ হলে তার জন্য অন্যতম ফিতনা হলো, তার কাছে নীরব থাকার চেয়ে কথা বলা অধিক প্রিয় হওয়া।"
আল-মাররুজি বলেন: "আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম: মানুষ আলেমদের সম্পর্কে ধারণা করে যে তাদের কাছে সব বিষয়ের জ্ঞান আছে। তখন তিনি বললেন: ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষকে তাদের জিজ্ঞাসিত সকল বিষয়ে ফতোয়া দেয়, সে উম্মাদ।' আর আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) মাসআলা ও উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে যারা হঠকারিতা করে, তাদের প্রতি কঠোর আপত্তি জানিয়েছেন।"
আমি আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: "বান্দার উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং সে কী বলছে ও কী বিষয়ে কথা বলছে, তা লক্ষ্য করা; কেননা তাকে এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি মানুষকে ফতোয়া প্রদান করেন, তার জন্য উচিত নয় মানুষকে নিজের মাযহাবের ওপর চলতে বাধ্য করা এবং তাদের ওপর কঠোরতা আরোপ করা।"
ইবনুল কাসেমের বর্ণনায় তিনি বলেন: "মানুষকে কেবল এমন সুস্পষ্ট বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া উচিত যাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর মানুষ যদি সঠিক বিষয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর তা অতিক্রম না করত (তবে কতই না ভালো হতো)!"
মুহাম্মাদ বিন আবি তাহির তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: তাঁকে তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করো, তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো ফতোয়া দেওয়া আমার কাজ নয়।"
ইবনে মনসুরের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "জিজ্ঞাসিত সকল বিষয়ের উত্তর দেওয়া সমীচীন নয়।"
ইমাম মালিক থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে-ই তোমাকে প্রশ্ন করবে তার উত্তর দেওয়া ইলমের জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননাকর।"
তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি যা শুনে তার সবকিছুই মানুষকে বলে বেড়ায়, সে উম্মাদ।"
আহমাদ বিন আলী আল-আব্বারের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বলেন: জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বলল, "আমি একটি শপথ করেছি কিন্তু সেটি কী ছিল তা আমি জানি না।" তিনি উত্তর দিলেন: "যদি তুমি নিজেই না জানো (তুমি কী শপথ করেছ), তবে আমি কীভাবে জানব?"
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال في رواية الأثرم: «إذا هاب الرجل شيئاً؛ فلا ينبغي أن يُحمل على أن يقول».
وقال في رواية المروذي: «إن الذي يفتي الناس يتقلَّد أمراً عظيماً، أو قال: يقدم على أمر عظيم، ينبغي لمَن أفتى أن يكون عالماً بقول من تقدَّم، وإلا؛ فلا يفتي».
وقال في رواية الميموني: «مَن تكلَّم في شيء ليس له فيه إمام؛ أخافُ عليه الخطأ».
وسأله إسحاق بن إبراهيم عن الحديث الذي جاء: «أجرؤكم على الفتيا أجرؤكم على النار»؛ ما معناه؟ قال أبو عبد الله: «يفتي بما لم يسمع».
وقال محمد بن أبي حرب: سمعت أبا عبد الله وسُئل عن الرجل يفتي بغير علم؟ قال: «يروى عن أبي موسى؛ قال: يمرق من دينه».
وقال ابن مفلح: قال الزهري عن خالد بن أسلم أخي زيد بن أسلم؛ قال: «كنا مع ابن عمر رضي الله عنهما، فسأله أعرابي: أترث العمة؟ فقال: لا أدري، قال: أنت لا تدري؟! قال: نعم؛ اذهب إلى العلماء فاسألهم، فلما أدبر الرجل قبَّل ابن عمر يده، فقال: نِعِمَّا قال أبو عبد الرحمن، سُئل عمَّا لا يدري؟ فقال: لا أدري».
وقال أبو حصين عثمان بم عاصم: «إن أحدهم ليفتي في المسألة، ولو وردت على عمر؛ لجمع لها أهل بدر».
وقال القاسم وابن سيرين: «لأن يموت الرجل جاهلاً خير له من أن يقول ما لا يعلم».
আল-আছরামের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে (ভুল করার) ভয় পায়, তবে তাকে সে বিষয়ে কথা বলতে বাধ্য করা উচিত নয়।"
আল-মাররূযীর বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষকে ফতোয়া প্রদান করে, সে এক মহান দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় (অথবা বলেছেন: এক মহান কাজের সম্মুখীন হয়)। ফতোয়া প্রদানকারীর জন্য আবশ্যক হলো তার পূর্বসূরিদের মতামত সম্পর্কে অবগত হওয়া; অন্যথায় সে যেন ফতোয়া না দেয়।"
আল-মায়মুনীর বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ে কথা বলে যে ক্ষেত্রে তার কোনো অনুসরণীয় ইমাম নেই, আমি তার ব্যাপারে ভুলের আশঙ্কা করি।"
ইসহাক ইবনে ইবরাহীম তাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তোমাদের মধ্যে ফতোয়া প্রদানে যে সবচেয়ে বেশি দুঃসাহসী, সে জাহান্নামের আগুনের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি দুঃসাহসী"—এর অর্থ কী? আবু আব্দুল্লাহ বললেন: "সে এমন বিষয়ে ফতোয়া দেয় যা সে শোনেনি।"
মুহাম্মদ ইবনে আবি হারব বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে শুনেছি, যখন তাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেয়। তিনি বললেন: "আবু মূসা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: সে তার দীন থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।"
ইবনে মুফলিহ বলেন: আয-যুহরী, যায়দ ইবনে আসলামের ভাই খালিদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা ইবনে উমরের (রাযি.) সাথে ছিলাম। তখন এক বেদুইন তাকে জিজ্ঞাসা করল: ফুফু কি উত্তরাধিকার লাভ করে? তিনি বললেন: আমি জানি না। সে বলল: আপনি জানেন না?! তিনি বললেন: হ্যাঁ; তুমি আলেমদের কাছে যাও এবং তাদের জিজ্ঞাসা করো। যখন লোকটি চলে গেল, তখন ইবনে উমর নিজের হাতে চুমু খেয়ে বললেন: আবু আব্দুর রহমান কতই না চমৎকার কথা বলেছেন! তাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা তিনি জানেন না, আর তিনি বললেন: আমি জানি না।"
আবু হুসাইন উসমান বিন আসিম বলেন: "তাদের মধ্যে কেউ এমন কোনো বিষয়ে ফতোয়া দিয়ে দেয়, যা যদি উমর (রাযি.)-এর নিকট আসত, তবে তিনি এর মীমাংসার জন্য বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একত্রিত করতেন।"
আল-কাসিম এবং ইবনে সিরীন বলেন: "কোনো ব্যক্তির অজ্ঞ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা তার জন্য সেই বিষয়ে কথা বলার চেয়ে উত্তম যা সে জানে না।"
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال مالك عن القاسم بن محمد: «إن من إكرام المرء لنفسه أن لا يقول إلا ما أحاط به علمه».
وقال عبد الرزاق: عن معمر؛ قال: «سأل رجل عمرو بن دينار عن مسألة؟ فلم يجبه، فقال الرجل: إن في نفسي منها شيئا؛ فأجبني، فقال: إن يكن في نفسك منها مثل أبي قبيس أحب إليًّ أن يكون في نفسي منها مثل الشعرة».
وقال ابن مهدي: «سأل رجل مالك بن أنس عن مسألة؟ فطال ترداده إليه فيها، وألحَّ عليه، فقال: ما شاء الله يا هذا! إني لم أتكلَّم إلا فيما أحتسب فيه الخير، ولست أحسن مسألتك هذه».
وقال ابن وهب: سمعت مالكاً يقول: «العجلة في الفتوى نوع من الجهل والخُرْق (1)، وكان يقُال: التأني في الله، والعجلة من الشيطان».
قال ابن مفلح: وإن كان مَن يفتي يعلم من نفسه أنه ليس أهلا للفتوى؛ لفوات شرط، أو وجود مانع، ولا يعلم الناس ذلك منه؛ فإنه يحرم إفتاء الناس في هذه الحال بلا إشكال، فهو يسارع إلى ما يحرم، ولا سيَّما إن كان الحامل ذلك غرض الدنيا - وأما السلف؛ فكانوا يتركون ذلك خوفاً، ولعل غيره يكفيه، وقد يكون أدنى؛ لوجود من هو أولى منه.
قال ابن معين: «الذي يحدث بالبلدة وبها مَن هو أولى منه بالحديث فهو أحمق».
وقال مالك: «ما أفتيت حتى شهد لي سبعون أني أهل لذلك».
--------------------------------------------
ইমাম মালিক কাসিম ইবন মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির নিজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন হলো এমন বিষয়ে কথা না বলা যা সম্পর্কে তার পূর্ণ জ্ঞান নেই।"
আব্দুর রাজ্জাক মা'মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি আমর ইবন দীনারকে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে কোনো উত্তর দিলেন না। লোকটি বলল: আমার অন্তরে এ নিয়ে খটকা রয়েছে, সুতরাং আমাকে উত্তর দিন। তিনি বললেন: তোমার অন্তরে যদি আবূ কুবাইস পাহাড়ের সমপরিমাণ খটকা থাকে তবে তা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় এর চেয়ে যে, আমার অন্তরে (ভুল উত্তর দেওয়ার দরুন) চুলের পরিমাণ বোঝা থাকুক।"
ইবন মাহদী বলেন: "এক ব্যক্তি মালিক ইবন আনাসকে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করলেন। সে বারবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে লাগল এবং পীড়াপীড়ি করতে লাগল। তখন তিনি বললেন: আল্লাহ যা চান হে লোক! আমি কেবল সে বিষয়েই কথা বলি যাতে আমি সওয়াবের আশা করি, আর আমি তোমার এই মাসআলাটি ভালোভাবে অবগত নই।"
ইবন ওয়াহাব বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: "ফতোয়া প্রদানে তাড়াহুড়ো করা এক প্রকার মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতা (১)। বলা হয়ে থাকে: ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাড়াহুড়ো করা শয়তানের পক্ষ থেকে।"
ইবন মুফলিহ বলেন: যদি কোনো ফতোয়া প্রদানকারী নিজের সম্পর্কে জানেন যে তিনি ফতোয়া প্রদানের যোগ্য নন—কোনো শর্তের অপূর্ণতা বা কোনো বাধার কারণে, অথচ সাধারণ মানুষ তা জানে না—তবে এই অবস্থায় ফতোয়া প্রদান করা নিঃসন্দেহে হারাম। কারণ সে একটি হারাম বিষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, বিশেষ করে যদি এর পেছনের উদ্দেশ্য হয় পার্থিব স্বার্থ। আর সলফগণ তো (আল্লাহর) ভয়ে এটি পরিহার করতেন, এই আশায় যে অন্য কেউ হয়তো তার জন্য যথেষ্ট হবেন, অথবা তার চেয়েও কম যোগ্য কেউ থাকতে পারেন যখন সেখানে তাঁর চেয়ে অধিক উপযুক্ত ব্যক্তি বিদ্যমান থাকেন।
ইবন মাঈন বলেন: "যে ব্যক্তি এমন শহরে হাদিস বর্ণনা করে যেখানে তার চেয়ে অধিক যোগ্য ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছেন, সে ব্যক্তি নির্বোধ।"
ইমাম মালিক বলেন: "আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ফতোয়া প্রদান করিনি যতক্ষণ না সত্তর জন বিশেষজ্ঞ আমার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে আমি এর যোগ্য।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال ابن عيينة وسحنون: «أجسر الناس على الفتيا أقلهم علما».
قال سحنون: «أشقى الناس من باع آخرته بدنيا غيره».
وقال سفيان: «أدركت الفقهاء وهم يكرهون أن يجيبوا في المسائل والفتيا حتى لا يجدوا بدّاً من أن يفتوا».
وقال: «أعلم الناس بالفتيا أسكتهم عنها، وأجهلهم بها أنطقهم فيها».
وبكى ربيعة، فقيل له: ما يبكيك؟ فقال: «استفتي مَن لا علم له، وظهر في الإسلام أمر عظيم».
وقال: «ولَبَعْضُ مَن يفتي ها هنا أحقُّ بالسجن من السرَّاق».
وذكر الحافظ ابن حجر في «تهذيب التهذيب» عن عبد العزيز بن أبي سلمة - يعني: الماجشون -؛ قال: «قلت لربيعة في مرضه الذي مات فيه: إنا قد تعلَّمنا منك، وربما جاءنا من يستفتينا في الشيء لم نسمع فيه شيئا، فترى أن رأينا خير له من رأيه لنفسه فنفتيه؟ قال: فقال: أقعدوني. ثم قال: ويحك يا عبد العزيز! لأن تموت جاهلاً خير من أن تقول في شيء بغير علم، لا، لا «ثلاث مرات».
فليتأمل المتسرعون إلى الفتيا بغير علم ما ذكرته في هذا الفصل والفصل الذي قبله من أقوال الصحابة والتابعين ومَن بعدهم من أكابر العلماء في التشديد في الفتيا بغير علم، ولا يأمنوا أن يكون لهم نصيب وافر من الإثم على فتاويهم الخاطئة.
ولا يأنف العاقل أن يقول فيما لا يعلمه: لا أعلم هذا، أو يقول: لا
ইবনে উয়ায়না ও সাহনুন বলেছেন: «ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী সে-ই, যার জ্ঞান সবচেয়ে কম»।
সাহনুন বলেছেন: «মানুষের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগা সে, যে অন্যের দুনিয়ার বিনিময়ে নিজের আখিরাতকে বিক্রি করে দেয়»।
সুফিয়ান বলেছেন: «আমি ফকিহদের এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, তারা মাসআলার উত্তর দিতে এবং ফতোয়া প্রদান করতে অপছন্দ করতেন, যতক্ষণ না তারা ফতোয়া দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় পেতেন»।
তিনি আরও বলেছেন: «ফতোয়া সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী সে-ই, যে এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি নীরব থাকে; আর এ বিষয়ে সবচেয়ে অজ্ঞ সে, যে এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি কথা বলে»।
রাবিয়া কেঁদে ফেললেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার কান্নার কারণ কী? তিনি বললেন: «এমন ব্যক্তির কাছে ফতোয়া চাওয়া হচ্ছে যার কোনো জ্ঞান নেই, আর ইসলামে এক ভয়াবহ বিষয় প্রকাশ পেয়েছে»।
তিনি আরও বলেছেন: «এখানে যারা ফতোয়া দিচ্ছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ চোরদের চেয়েও বেশি কারাগারে থাকার যোগ্য»।
হাফিজ ইবনে হাজার ‘তাহযীবুত তাহযীব’-এ আব্দুল আজিজ ইবনে আবু সালামাহ—অর্থাৎ আল-মাজিশুন—থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: «আমি রাবিয়াকে তাঁর মৃত্যুশয্যায় বলেছিলাম: আমরা আপনার নিকট জ্ঞান অর্জন করেছি। কখনও কখনও এমন কেউ আমাদের কাছে কোনো বিষয়ে ফতোয়া নিতে আসে যে বিষয়ে আমরা আপনার নিকট থেকে কিছু শুনিনি। এমতাবস্থায় আপনি কি মনে করেন যে, তার নিজের চিন্তার চেয়ে আমাদের রায় তার জন্য বেশি কল্যাণকর হবে এবং আমরা তাকে ফতোয়া দেব? বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি বললেন: আমাকে বসিয়ে দাও। এরপর তিনি বললেন: হায় আব্দুল আজিজ! না জেনে কোনো বিষয়ে কথা বলার চেয়ে তোমার মূর্খ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা অনেক শ্রেয়। না, না (তিনি তিনবার এ কথা বললেন)»।
সুতরাং জ্ঞানহীনভাবে ফতোয়া প্রদানে যারা তাড়াহুড়ো করেন, তাদের উচিত এই পরিচ্ছেদে এবং এর পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে বর্ণিত সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ আলেমদের সেই বাণীগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করা, যেখানে জ্ঞানহীন ফতোয়া প্রদানের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে। তাদের ভুল ফতোয়ার কারণে পাপের এক বিশাল অংশ তাদের ওপর বর্তানো থেকে তারা যেন নিরাপদ বোধ না করেন।
আর একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য যা সে জানে না সে সম্পর্কে ‘আমি এটি জানি না’ বা ‘না’ বলতে লজ্জাবোধ করা উচিত নয়...
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
أدري؛ فقد تقدَّم عن أبي الدرداء والشعبي أن هذه الكلمة نصف العلم.
وللعاقل أسوة حسنة في رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فقد تقدَّم أنه كان يُسأل عن الشيء؟ فلا يجيب حتى يأتيه الوحي، وتقدَّم أيضا أنه كان يُسأل؟ فيقول: «لا أدري حتى أسأل جبريل».
وللعاقل أيضا أسوة بأبي بكر الصديق وعمر بن الخطاب وعلي بن أبي طالب رضي الله عنهم؛ فقد تقدَّم عنهم أنهم كانوا يتورَّعون عن الفتيا بغير علم.
وكذلك له أسوة بمن تقدم ذكرهم من الصحابة والتابعين الذين قد ثبت عنهم أنهم كانوا يمتنعون من الفتيا بغير علم، ولا يأنفون من قول: لا أعلم هذا، أو: لا أدري، ولا يرون بذلك بأسا ولا غضاضة عليهم.
ولقد أحسن الراجز حيث يقول:
وكُلُّ خَيْرٍ فِي اتِّباع مَن سَلَفْ
… وكُلُّ شَرّ في ابْتداعِ مَنْ خَلَفْ
আমি জানি না; কেননা ইতোপূর্বে আবু দারদা এবং শাবী (র.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এই বাক্যটি হলো ইলমের অর্ধেক।
আর বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে; ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ততক্ষণ উত্তর দিতেন না যতক্ষণ না তাঁর কাছে ওহি আসত। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন: «আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত জানি না»।
তদ্রূপ বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য আবু বকর সিদ্দীক, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রাজিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মাঝেও আদর্শ রয়েছে; তাঁদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা ইলম ছাড়া ফতোয়া প্রদান থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতেন।
একইভাবে তাঁর জন্য ইতিপূর্বে উল্লেখিত সেই সব সাহাবী ও তাবেয়ীদের মাঝেও আদর্শ নিহিত রয়েছে, যাঁদের থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তাঁরা ইলম ব্যতীত ফতোয়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন এবং 'আমি এটি জানি না' কিংবা 'আমি জানি না' বলতে কোনো প্রকার সংকোচ বোধ করতেন না; আর এতে তাঁরা নিজেদের কোনো দোষ বা অমর্যাদা মনে করতেন না।
রাজেয (কবি) কতই না চমৎকার বলেছেন:
সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে পূর্বসূরিদের অনুসরণে
… আর সকল অকল্যাণ নিহিত রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহে।
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فصلٌ
وقد كان السلف الصالح يكرهون السؤال عمَّا لم يقع، ويمتنعون من الإفتاء فيه، وبعضهم يشدِّد في ذلك وينهى عنه، وقد جاء عنهم في ذلك آثار كثيرة؛ منها:
ما رواه الدارمي: «أن رجلاً جاء إلى ابن عمر رضي الله عنهما، فسأله عن شيء؟ فقال له ابن عمر رضي الله عنهما: لا تسأل عمَّا لم يكن؛ فإني سمعتُ عمر بن الخطاب يلعن مَن سأل عمَّا لم يكن».
وقد رواه ابن عبد البر من طريقين عن ابن عمر رضي الله عنهما: أنه قال: «لا تسألوا عمَّا لم يكن؛ فإني سمعتُ عمر يلعن مَن سأل عمَّا لم يكن».
وروى ابن عبد البر أيضا عن طاووس؛ قال: قال عمر رضي الله عنه: «إَّنه لا يحلُّ لأحد أن يسأل عمَّا لم يكن، إن الله تبارك وتعالى قد قضى فيما هو كائن».
وروى الدارمي وابن عبد البر عن طاووس؛ قال: قال عمر بن الخطاب وهو على المنبر: «أحرج بالله على كل امرئ سأل عن شيء لم يكن؛ فإن الله قد بيَّن ما هو كائن».
وروى الإمام أحمد من رواية ليث عن طاووس عن ابن عمر رضي الله عنهما؛ قال: «لا تسألوا عمَّا لم يكن؛ فإني سمعتُ عمر ينهى أن يسأل عمَّا لم يكن».
وروى ابن عبد البر عن مسروق؛ قال: «سألت أبي بن كعب عن
পরিচ্ছেদ
সালাফে সালেহীন বা পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা অপছন্দ করতেন যা এখনো সংঘটিত হয়নি এবং এই বিষয়ে ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত থাকতেন। তাঁদের কেউ কেউ এই ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করতেন এবং তা থেকে নিষেধ করতেন। এই বিষয়ে তাঁদের থেকে বহু আছার বা বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে; তার মধ্যে রয়েছে:
দারেমী বর্ণনা করেছেন: এক ব্যক্তি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট এসে কোনো একটি বিষয়ে প্রশ্ন করল। তখন ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বললেন: "যা এখনো ঘটেনি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করো না; কেননা আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিতে শুনেছি যে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করে যা এখনো সংঘটিত হয়নি।"
ইবনে আব্দুল বার ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তোমরা যা এখনো ঘটেনি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করো না; কেননা আমি উমরকে ওই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিতে শুনেছি যে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করে যা এখনো সংঘটিত হয়নি।"
ইবনে আব্দুল বার তাউস থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "যা এখনো সংঘটিত হয়নি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা কারো জন্য বৈধ নয়; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা যা ঘটবে সে বিষয়ে ফয়সালা করে দিয়েছেন।"
দারেমী এবং ইবনে আব্দুল বার তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন: "আমি আল্লাহর কসম দিয়ে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ করছি যা এখনো ঘটেনি; কারণ যা ঘটবে তা আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন।"
ইমাম আহমাদ লায়সের সূত্রে তাউস থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "তোমরা যা ঘটেনি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করো না; কারণ আমি উমরকে যা ঘটেনি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করতে নিষেধ করতে শুনেছি।"
ইবনে আব্দুল বার মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "আমি উবাই ইবনে কাবকে প্রশ্ন করলাম..."
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مسألة؟ فقال: أكانت هذه بعدُ؟ قلت: لا، قال: فأجمنَّي (1) حتى تكون».
وروى الدارمي عن عامر - وهو الشعبي -؛ قال: «سُئل عمَّار بن ياسر رضي الله عنه عن مسألة؟ فقال: هل كان هذا بعد؟ قالوا: لا، قال: دعونا حتى تكون، فإذا كانت؛ تجشَّمناها (2) لكم».
وروي أيضاً عن الزهري؛ قال: «بلغنا أن زيد بن ثابت الأنصاري رضي الله عنه كان يقول إذا سُئل عن الأمر: أكان هذا؟ فإن قالوا: نعم قد كان؛ حدَّث فيه بالذي يعلم والذي يرى، وإن قالوا: لم يكن؛ قال: فذروه حتى يكون».
وروى ابن عبد البر عن خارجة بن زيد بن ثابت عن أبيه: «أنه كان لا يقول برأيه في شيء يُسأل عنه حتى يقول: أنزل أم لا؟ فإن لم يكن نزل؛ لم يقل فيه، وإن يكن وقع؛ تكلَّم فيه».
قال: «وكان إذا سُئل عن مسألة يقول: أوقَعَت؟ فيقال له: يا أبا سعيد! ما وقعت، ولكنَّا نُعِدُّها، فيقول: دعوها، فإن كانت وقعت؛ أخبرهم».
وروى أيضا عن موسى بن علي عن أبيه؛ قال: «كان زيد بن ثابت إذا سأله إنسان عن شيء؛ قال: آلله؟ أكان هذه؟ فإن قال: نعم، نظر، وإلا؛ لم يتكلَّم».
وروى أيضا عن عامر - وهو الشعبي -؛ قال: «أتى زيد بن ثابت قوم، فسألوه عن أشياء؟ فأخبرهم بها، فكتبوها، ثم قالوا: لو أخبرناه»، قال: «فأتوه، فأخبروه، فقال: عذراً؛ لعل كل شيء حدثتكم به خطأ، إنما
--------------------------------------------
একটি মাসআলা [সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম]? তিনি বললেন: «এটি কি ইতোমধ্যে ঘটেছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে এটি ঘটা পর্যন্ত আমাকে বিশ্রাম দাও (১)»।
আদ-দারিমি আমির—যিনি আশ-শাবি নামে পরিচিত—থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: «আম্মার বিন ইয়াসির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি কি ইতোমধ্যে ঘটেছে? তারা বলল: না। তিনি বললেন: এটি ঘটা পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে দাও। যখন এটি ঘটবে, তখন আমরা তোমাদের জন্য এর কষ্ট স্বীকার করব (২)»।
যুহরি থেকেও বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন: «আমাদের কাছে খবর পৌঁছেছে যে, যায়িদ বিন সাবিত আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে যখন কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন: এটি কি ঘটেছে? যদি তারা বলত: হ্যাঁ, ঘটেছে; তবে তিনি সে বিষয়ে যা জানেন এবং যা মনে করেন তা বর্ণনা করতেন। আর যদি তারা বলত: এটি ঘটেনি; তবে তিনি বলতেন: তবে এটি ঘটা পর্যন্ত তা ছেড়ে দাও»।
ইবনে আব্দুল বারর খারিজাহ বিন যায়িদ বিন সাবিত থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে: «তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সে বিষয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করতেন না যতক্ষণ না তিনি বলতেন: [এই ঘটনা কি] ঘটেছে কি না? যদি তা না ঘটত, তবে তিনি সে বিষয়ে কিছু বলতেন না। আর যদি তা ঘটত, তবে তিনি সে বিষয়ে কথা বলতেন»।
তিনি বলেন: «তাঁকে যখন কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন: এটি কি ঘটেছে? তাঁকে বলা হতো: হে আবু সাঈদ! এটি ঘটেনি, কিন্তু আমরা এটি [ঘটার আশঙ্কায়] প্রস্তুত রাখছি। তখন তিনি বলতেন: এটি ছেড়ে দাও, যদি এটি ঘটে তবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে»।
তিনি মুসা বিন আলি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে আরও বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: «যায়িদ বিন সাবিতকে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত, তখন তিনি বলতেন: আল্লাহর শপথ! এটি কি ঘটেছে? যদি সে বলত: হ্যাঁ, তবে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতেন। অন্যথায় তিনি কথা বলতেন না»।
তিনি আমির—যিনি আশ-শাবি—থেকে আরও বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: «একদল লোক যায়িদ বিন সাবিতের নিকট এসে তাঁকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাদের সে বিষয়ে অবগত করলেন এবং তারা তা লিখে নিল। এরপর তারা ভাবল: যদি আমরা তাঁকে [সত্য বিষয়টি] জানাতাম। তিনি বলেন: অতঃপর তারা তাঁর নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি জানালো। তিনি বললেন: ক্ষমা করবেন; সম্ভবত আমি তোমাদের যা কিছু বলেছি তার সবই ভুল, নিশ্চয়ই...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
اجتهدت لكم رأيي».
وروى الدارمي عن عامر؛ قال: «استفتى رجل أبي بن كعب، فقال: يا أبا المنذر! ما تقول في كذا وكذا؟ قال: يا بني! أكان الذي سألتني عنه؟ قال: لا، قال: أمَّا لا؛ فأجِّلني حتى يكون، فنعالج حتى نخبرك».
وروى أيضا عن مسروق؛ قال: «كنت أمشي مع أبي بن كعب، فقال فتى: ما تقول يا عمَّاه كذا وكذا؟ قال: يا ابن أخي! أكان هذا؟ قال: لا، قال: فأعفنا حتى يكون».
وروى أيضا عن عمرو بن ميمون عن أبيه عن ابن عباس؛ قال: «سألته عن رجل أدركه رمضانان؟ فقال: أكان أو لم يكن؟ قال: لم يكن بعدُ، قال: اترك بليَّة حتى تنزل، قال: فدلسنا له رجلا، فقال: قد كان، فقال: يطعم عن الأول منهما ثلاثين مسكينا لكل يوم مسكين».
وروى أيضاً عن عبيد بن جريج؛ قال: «كنت أجلس بمكة إلى ابن عمر يوماً وإلى ابن عباس يوماً، فما يقول ابن عمر فيما يُسأل: لا علم لي: أكثر مما يفتي به».
وروى أيضا عن الصلت بن راشد؛ قال: «سألت طاووساً عن مسألة؟ فقال: كان هذا، قلت: نعم، قال: آلله؟ قلت: آلله، ثم قال: إن أصحابنا أخبرونا عن معاذ بن جبل أنه قال: يا أيها الناس! لا تعجلوا بالبلاء قبل نزوله فيذهب بكم هنا وهنا؛ فإنكم إن لم تعجلوا بالبلاء قبل نزوله؛ لم ينفك المسلمون أن يكون فيهم مَن إذا سُئل سُدِّد، وإذا قال وُفِّق».
وقد رواه ابن عبد البر في كتاب «جامع بيان العلم وفضله» مرفوعاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ورجاله ثقات؛ إلا أنه مرسل؛ فإن طاووساً لم يدرك معاذ بن
আমি তোমাদের জন্য আমার অভিমত প্রদানের আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।
আদ-দারিমি আমির থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি উবাই ইবনে কাবের নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করল। সে বলল: হে আবুল মুনজির! অমুক অমুক বিষয়ে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: হে বৎস! তুমি যা সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ তা কি ঘটেছে? সে বলল: না। তিনি বললেন: যেহেতু ঘটেনি, তাই বিষয়টি ঘটা পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও, তখন আমরা তা নিয়ে সচেষ্ট হব যাতে তোমাকে উত্তর জানাতে পারি।"
তিনি মাসরুক থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "আমি উবাই ইবনে কাবের সাথে হাঁটছিলাম। তখন এক যুবক বলল: হে চাচাজান! অমুক অমুক বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র! এটি কি ঘটেছে? সে বলল: না। তিনি বললেন: তাহলে এটি ঘটা পর্যন্ত আমাদের রেহাই দাও।"
তিনি আমর ইবন মাইমুন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "আমি তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যার উপর দুটি রমজান অতিবাহিত হয়েছে (পূর্বেরটি কাজা না করেই)? তিনি বললেন: এটি কি ঘটেছে নাকি ঘটেনি? সে বলল: এখনও ঘটেনি। তিনি বললেন: বিপদ ঘটার আগে তা ছেড়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা তাঁর নিকট এক ব্যক্তিকে এমনভাবে পাঠালাম যেন বিষয়টি ঘটেছে, তখন সেই ব্যক্তি বলল: এটি ঘটেছে। তখন তিনি বললেন: সে তাদের প্রথমটির বিনিময়ে ত্রিশজন মিসকিনকে খাওয়াবে, প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকিন।"
তিনি উবাইদ ইবন জুরাইজ থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "আমি মক্কায় একদিন ইবনে উমরের কাছে এবং একদিন ইবনে আব্বাসের কাছে বসতাম। ইবনে উমরকে যা জিজ্ঞাসা করা হতো, তার উত্তরে তিনি 'আমার জানা নেই' কথাটি ফতোয়া দেওয়ার চেয়েও বেশি বলতেন।"
তিনি সালত ইবন রাশিদ থেকেও বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "আমি তাউসকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন: এটি কি ঘটেছে? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম? আমি বললাম: আল্লাহর কসম। অতঃপর তিনি বললেন: আমাদের সঙ্গীরা মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: হে লোকসকল! বিপদ ঘটার আগে তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না, অন্যথায় তা তোমাদের এখানে-সেখানে নিয়ে হন্যে করে ছাড়বে। কারণ তোমরা যদি বিপদ ঘটার আগে তাড়াহুড়ো না করো, তবে মুসলমানদের মধ্যে সর্বদা এমন কেউ থাকবে যাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সঠিক পথনির্দেশ পাবে এবং কথা বললে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক বা সফলতা পাবে।"
ইবন আবদিল বার তাঁর 'জামি বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' গ্রন্থে এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (মারফু) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য; তবে এটি মুরসাল; কেননা তাউস মুয়াজ ইবনে (জাবালের) সাক্ষাৎ পাননি।
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
جبل رضي الله عنه.
وروى ابن عبد البر أيضا عن زيد بن أبي حبيب: «أن عبد الملك بن مروان سأل ابن شهاب عن شيء؟ فقال له ابن شهاب: أكان هذا يا أمير المؤمنين؟ قال: لا، قال: فدعه؛ فإنه إذا كان؛ أتى الله بفرج».
وروى الحاكم في «تاريخه» عن عكرمة؛ قال: قال لي ابن عباس رضي الله عنهما: «انطلق؛ فأفت الناس، فمن سألك عمَّا يعنيه؟ فأفته، ومَن سألك عمَّا لا يعنيه؛ فلا تفته؛ فإنك تطرح عن نفسك ثلثي مؤنة الناس».
وقد ذكر ابن مفلح في «الآداب الشرعية» عن الشافعي أنه احتجَّ على كراهة السؤال عن الشيء قبل وقوعه بقول الله تعالى: {يا أَيُّها الَّذين اَمنُوا لَا تَسْأَلوا عَنْ أَشْياءَ إنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ
…} الآية، وبما جاء في حديث اللعان: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كره المسائل وعابها، وبما في «الصحيحين» عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «كان ينهى عن قيل وقال، وكثرة السؤال، وإضاعة المال».
قال: وقال البيهقي في كتاب «المدخل»: «كره السلف السؤال عن المسألة قبل كونها إذا لم يكن فيها كتاب ولا سنة» انتهى.
وروى ابن عبد البر عن عمر رضي الله عنه: أنه كان يقول: «إياكم وهذه العضل؛ فإنها إذا نزلت؛ بعث الله لها من يقيمها ويفسرها».
قلت: ما ذكر في هذا الفصل من كراهة السؤال عمَّا لم يقع، والنهي عنه، والتشديد فيه، قد خالفه بعض طلاب العلم في زماننا، فتجد أحدهم يجمع المسائل الكثيرة من غرائب المسائل وصعابها، ومن الأشياء التي لم
জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।
ইবনে আবদিল বার জায়েদ ইবনে আবি হাবিব থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে: «আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ইবনে শিহাবকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন ইবনে শিহাব তাকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! এটি কি ঘটেছে? তিনি বললেন: না। তখন তিনি (ইবনে শিহাব) বললেন: তাহলে এটি ছেড়ে দিন; কারণ যখন এটি ঘটবে, তখন আল্লাহ এর সমাধানের পথ করে দেবেন»।
হাকেম তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে বলেছেন: «যাও এবং মানুষকে ফতোয়া দাও। যে তোমাকে তার প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, তাকে ফতোয়া দাও। আর যে তোমাকে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে, তাকে ফতোয়া দিয়ো না; কেননা এতে তুমি মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ বোঝা নিজের থেকে সরিয়ে ফেলবে»।
ইবনে মুফলিহ ‘আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ’ গ্রন্থে ইমাম শাফিয়ী থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো বিষয় ঘটার আগে তা নিয়ে প্রশ্ন করার অপছন্দনীয়তার বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে
…} (আয়াত শেষ পর্যন্ত), এবং লিয়ানের হাদিসে যা এসেছে তার দ্বারা: যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অহেতুক প্রশ্ন করা অপছন্দ করতেন এবং এর নিন্দা জানাতেন। এছাড়া ‘সহিহাইন’-এ মুগীরা ইবনে শুবা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «অসার কথাবার্তা, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ অপচয় করা থেকে নিষেধ করতেন»।
তিনি বলেন: বায়হাকী তাঁর ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে বলেছেন: «সালাফগণ কোনো মাসআলা ঘটার আগে তা নিয়ে প্রশ্ন করাকে অপছন্দ করতেন, যদি সে বিষয়ে কিতাব বা সুন্নাহর কোনো বর্ণনা না থাকত» (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
ইবনে আবদিল বার উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি বলতেন: «তোমরা এই জটিল সমস্যাগুলো থেকে সাবধান থাকো; কারণ যখন এগুলো বাস্তবে ঘটবে, তখন আল্লাহ এমন কাউকে পাঠাবেন যে তা যথাযথভাবে সমাধান করবে এবং ব্যাখ্যা করবে»।
আমি বলি: এই পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করা হয়েছে—অনাগত বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করার অপছন্দনীয়তা, এর নিষেধাজ্ঞা এবং এ বিষয়ে কঠোরতা—আমাদের বর্তমান সময়ের কিছু ইলম অন্বেষণকারী তার বিরোধিতা করেছে। আপনি তাদের কাউকে দেখবেন যে বিরল ও কঠিন মাসআলাগুলো থেকে প্রচুর মাসআলা সংগ্রহ করছে এবং এমন সব বিষয় নিয়ে লিপ্ত হচ্ছে যা এখনো...
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تقع، ثم يدور بها على العلماء والمنتسبين إلى العلم ليستزلهم ويأخذ بزلاتهم فيها.
وهؤلاء قد ارتكبوا ما نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم من كثرة السؤال، وما نهى عنه عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وشدَّد فيه، من السؤال عما لم يكن.
وينبغي للعلماء أن يحذروا من هؤلاء المتعمِّقين، ولا يسترسلوا معهم في الإجابة عن الأشياء التي لم تقع.
وقد قال الإمام أحمد في رواية ابن منصور: «لا ينبغي أن يُجيب في كل ما يستفتى».
ذكره ابن مفلح في «الآداب الشرعية»؛ قال: «وصح عن مالك أنه قال: ذل وإهانة للعلم أن تجيب كل من سألك».
وذَكَر عن الحسن البصري أنه قال: «شرار عباد الله ينتقون شرار المسائل يُعَمُّونَ بها عباد الله».
وقال مالك: «قال رجل للشعبي: إني خبأت لك مسائل، قال: اخبأها لإبليس حتى تلقاه فتسأله عنها».
وقال مالك: «العلم والحكمة نور يهدي الله به من يشاء، وليس بكثرة المسائل».
ঘটে থাকে, অতঃপর সে এগুলো নিয়ে উলামায়ে কিরাম ও ইলমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘোরে যেন তাদের পদস্খলন ঘটাতে পারে এবং এর মাধ্যমে তাদের ভুলত্রুটিগুলো পাকড়াও করতে পারে।
আর এরা এমন কাজে লিপ্ত হয়েছে যা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরিক্ত প্রশ্ন করার ব্যাপারে এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু যা ঘটেনি এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন ও কঠোরতা অবলম্বন করেছেন।
উলামায়ে কিরামের উচিত এই অনর্থক গভীরে প্রবেশকারীদের থেকে সতর্ক থাকা এবং যে বিষয়গুলো এখনো সংঘটিত হয়নি সেগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সাথে অতি উৎসাহী না হওয়া।
ইমাম আহমাদ ইবনে মানসুরের বর্ণনায় বলেছেন: "সব বিষয়ে ফতোয়া চাওয়া হলে তার উত্তর দেওয়া সমীচীন নয়।"
ইবনে মুফলিহ এটি 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন: "ইমাম মালিক থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: যে কেউ তোমাকে প্রশ্ন করবে তাকেই উত্তর দেওয়া ইলমের জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননাকর।"
হাসান বসরী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা, যারা নিকৃষ্ট ও জটিল মাসআলাসমূহ বাছাই করে তা দিয়ে আল্লাহর বান্দাদের বিভ্রান্তিতে ফেলে।"
ইমাম মালিক বলেন: "এক ব্যক্তি ইমাম শাবী-কে বললেন: আমি আপনার জন্য কিছু মাসআলা জমিয়ে রেখেছি। তিনি বললেন: এগুলো ইবলিসের জন্য জমিয়ে রাখো, যতক্ষণ না তার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয় এবং তুমি তাকে সেগুলো জিজ্ঞেস করতে পারো।"
ইমাম মালিক বলেন: "ইলম ও হিকমত হলো এক প্রকার নূর বা জ্যোতি যার মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন; এটি অধিক মাসআলা চর্চা করার নাম নয়।"
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فصلٌ
ومن هذا الباب السؤال عن الأغلوطات، وهي شداد المسائل وصعابها، وهذا مما يفعله بعض الناس في زماننا.
وقد ورد النهي عن ذلك؛ كما في الحديث الذي رواه الإمام أحمد من طريق الأوزاعي عن عبد الله بن سعد عن الصنابحي عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم؛ قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الغلوطات».
قال الأوزاعي: ««الغلوطات»: شداد المسائل وصعابها».
وروى الإمام أحمد أيضا وأبو داود من طريق الأوزاعي عن عبد الله ابن سعد عن الصنابحي عن معاوية رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أنه نهى عن الغلوطات».
ورواه ابن عبد البر، ولفظه: «أن النبي صلى الله عليه وسلم نهي عن الأغلوطات».
وفي رواية له عن معاوية رضي الله عنه: أنهم ذكروا المسائل عنده، فقال: «أما تعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن عضل المسائل؟».
قال الخطابي في «معالم السنن»: «المعنى: أنه نهى أن يُعترض العلماء بصعاب المسائل التي يكثر فيها الغلط ليستزلوا ويستسقط رأيهم فيها، وفيه كراهة التعمُّق والتكلُّف فيما لا حاجة للإنسان إليه من المسألة، ووجوب التوقُّف عما لا علم للمسؤول به، وقد روينا عن أبي بن كعب: أن رجلاً سأله عن مسألة فيها غُموض، فقال: هل كان هذا بعدُ». قال: لا، فقال: «أمهلني إلى أن يكون»، وسأل رجل مالك بن أنس عن رجل شرب في الصلاة ناسياً، فقال: ولَم لم يأكل؟! ثم قال: حدثنا الزهري عن علي ابن حسين: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه»
परिচ্ছেদ
এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো বিভ্রান্তিকর জটিল মাসআলা (আল-আগলুতাত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা, যা মূলত অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ বিষয়াবলি। বর্তমান সময়ে কিছু মানুষকে এটি করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে নিষেধজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে; যেমনটি ইমাম আহমাদ আওযাঈর সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাআদ থেকে, তিনি সানাবিহি থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভ্রান্তিকর জটিল মাসআলা (আল-গলুতাত) থেকে নিষেধ করেছেন»।
আওযাঈ বলেন: «‘আল-গলুতাত’ হলো অত্যন্ত কঠিন ও জটিল মাসআলাসমূহ»।
ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদও আওযাঈর সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাআদ থেকে, তিনি সানাবিহি থেকে এবং তিনি মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: «বিভ্রান্তিকর জটিল মাসআলা থেকে নিষেধ করেছেন»।
ইবনুল বার এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দাবলী হলো: «নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভ্রান্তিকর জটিল মাসআলা (আল-আগলুতাত) থেকে নিষেধ করেছেন»।
মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তাঁর অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: সাহাবীগণ তাঁর নিকট বিভিন্ন মাসআলা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: «তোমরা কি জানো না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিশয় জটিল ও কঠিন মাসআলা নিয়ে আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন?»।
খাত্তাবি ‘মাআলিমুস সুনান’ গ্রন্থে বলেন: «এর অর্থ হলো, তিনি আলেমদের এমন সব কঠিন মাসআলা দিয়ে বাধাগ্রস্ত করতে নিষেধ করেছেন যাতে ভুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, যাতে করে তারা পদস্খলিত হন এবং আলেমদের মতামত সাধারণের চোখে তুচ্ছ ও অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে এমন সব মাসআলা নিয়ে অতি-গভীরতা ও কৃত্রিমতা অবলম্বনের প্রতি অপছন্দনীয়তা প্রকাশ করা হয়েছে যার কোনো প্রয়োজন মানুষের নেই। সেই সাথে যার কাছে প্রশ্ন করা হয়েছে তার অজানা বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকার আবশ্যকতাও এতে ফুটে উঠেছে। উবাই ইবনে কা’ব থেকে আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁকে একটি অস্পষ্ট মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: ‘এটি কি ইতিমধ্যে ঘটেছে?’ সে বলল: না, তখন তিনি বললেন: ‘তাহলে এটি ঘটা পর্যন্ত আমাকে সময় দাও’। জনৈক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে ভুলবশত নামাজের মধ্যে পানি পান করেছে, তখন তিনি বললেন: ‘সে কেন খাবার খেল না?!’ এরপর তিনি বললেন: যুহরী আমাদের কাছে আলী ইবনুল হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘একজন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের অন্যতম দিক হলো তার জন্য অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা’»।
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
انتهى.
وروى ابن عبد البر عن الأوزاعي: أنه قال: «إذا أراد الله أن يحرم عبده بركة العلم؛ ألقى على لسانه الأغاليط».
قال ابن عبد البر: وروينا عن حسن: أنه قال: «إن شرار عباد الله الذين يجيئون بشرار المسائل يعنتون بها عباد الله».
وقد تقدَّم هذا فيما ذكره ابن مفلح في «الآداب الشرعية».
সমাপ্ত।
ইবনে আব্দিল বার আল-আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দাকে ইলমের বরকত থেকে বঞ্চিত করার ইচ্ছা করেন, তখন তার জিহ্বায় অসার ও বিভ্রান্তিকর বিষয়সমূহ নিক্ষেপ করেন।”
ইবনে আব্দিল বার বলেন: হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তারাই সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট, যারা মন্দ ও জটিল সব মাসআলা নিয়ে আসে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর বান্দাদেরকে কষ্টে নিপতিত করে।”
ইবনে মুফলিহ ‘আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, সেখানে এই বিষয়টি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فصلٌ
ومن أعظم الأمور خطراً: الإفتاء بالآراء المخالفة للكتاب والسنة، وهذا مما وقع فيه كثير من المنتسبين إلى العلم قديماً وحديثاً، وما أكثرهم في زماننا، كفانا الله وجميع المسلمين من شرهم ومن شر فتاويهم.
وقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم عن هذا الصنف من الناس فيما رواه: الإمام أحمد، والبخاري، ومسلم، والترمذي، وابن ماجه، والدارمي؛ عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما؛ قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الله لا يقبض العلم انتزاعاً ينتزعه من العباد، ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يُبْق عالماً؛ اتَّخَذَ الناسُ رؤساء جهالاً، فسُئلوا؟ فأفتوا بغير علم، فضلُّوا وأضلوا».
قال الترمذي: «هذا حديث حسن صحيح، وقد روى هذا الحديث الزهري عن عروة عن عبد الله بن عمرو، وعن عروة عن عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل هذا».
وقال البخاري في «كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة» من «صحيحه»: «باب ما يذكر من ذم الرأي وتكلُّف القياس): «{وَلا تَقْفُ}: لا تقل، {مَا لَيْسَ لَكَ بِه عِلْمَ}».
ثم روى عن عروة؛ قال: «حجَّ علينا عبد الله بن عمرو، فسمعته يقول: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الله لا ينزع العلم بعد أن أعطاكموه انتزاعاً، ولكن ينتزعه منهم مع قبض العلماء بعلمهم، فيبقى ناسٌ جهَّالٌ، يستفتون فيفتون برأيهم، فيَضلُّون ويُضلُّون»، فحدثت به عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم، ثم إن عبد الله بن عمرو حج بعدُ، فقالت: يا ابن أختي! انطلق إلى
পরিচ্ছেদ
অন্যতম ভয়াবহ ও বিপজ্জনক বিষয় হলো: কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী মতামতের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদান করা। এটি এমন একটি বিষয় যাতে প্রাচীন ও আধুনিক কালে ইলমের সাথে সম্পৃক্ত অনেক ব্যক্তিই লিপ্ত হয়েছেন। আমাদের বর্তমান যুগে তাদের সংখ্যা কতই না বেশি! আল্লাহ আমাদের এবং সমস্ত মুসলিমকে তাদের অনিষ্ট ও তাদের ফতোয়ার অপকারিতা থেকে রক্ষা করুন।
এই শ্রেণির মানুষ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন, যা ইমাম আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও দারেমী বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে; তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম তুলে নেবেন না; বরং তিনি আলেমদের তুলে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তারা জ্ঞান ছাড়াই ফতোয়া দেবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"
তিরমিযী বলেন: "এই হাদীসটি হাসান সহীহ। যুহরী এই হাদীসটি উরওয়া থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার উরওয়া থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।"
ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের 'কিতাবুল ই'তিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ' (কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা অধ্যায়)-এ বলেছেন: "পরিচ্ছেদ: নিজস্ব মতামত (রায়) ও জবরদস্তিমূলক কিয়াস বা অনুমানের নিন্দা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে: {অনুসরণ করো না}: বলো না, {যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই}।"
অতঃপর তিনি উরওয়া থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে আমর আমাদের সাথে হজ্জে এলেন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ইলম দান করার পর তা তোমাদের থেকে ছিনিয়ে নেবেন না; বরং আলেমদের বিদায় নেওয়ার সাথে সাথে ইলমও তাদের থেকে চলে যাবে। ফলে কিছু মূর্খ লোক অবশিষ্ট থাকবে, যাদের কাছে ফতোয়া চাওয়া হবে এবং তারা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো ফতোয়া দেবে; ফলে তারা নিজেরাও বিভ্রান্ত হবে এবং অন্যদেরও বিভ্রান্ত করবে।' অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে এই হাদীসটি শোনালাম। এরপর যখন আবদুল্লাহ ইবনে আমর পুনরায় হজ্জে এলেন, তখন তিনি (আয়েশা) বললেন: হে আমার ভাগ্নে! তুমি তাঁর কাছে যাও..."
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عبد الله، فاستثبت لي منه الذي حدَّثتني عنه، فجئتُه، فسألتُه، فحدَّثني به كنحو ما حدَّثني، فأتيت عائشة، فأخبرتها، فعجبتْ فقالت: والله؛ لقد حفظ عبد الله بن عمرو»، وقد رواه مسلم بنحوه.
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم نحو حديث عبد الله ابن عمرو رضي الله عنهما.
رواه الطبراني في «الأوسط»، قال الهيثمي: «وفيه عبد الله بن صالح كاتب الليث، وهو ضعيف، وقد وُثِّق».
قلت: يشهد لحديثه ما تقدَّم قبله عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما.
وعن عائشة رضي الله عنها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم نحو حديث عبد الله ابن عمرو رضي الله عنهما.
رواه البزار، قال الهيثمي: «وفيه عبد الله بن صالح كاتب الليث، وهو ضعيف، ووثقه عبد الملك بن شعيب بن الليث».
قلت: يشهد لحديثها ما تقدَّم من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما.
وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: أنه قال: «لا يأتي عليكم عامٌ إلا وهو شر من الذي كان قبله، أما إني لست أعني عاماً أخصب من عام، ولا أميرا خيراً من أمير، ولكن علماؤكم وخياركم يذهبون، ثم لا تجدون منهم خَلَفاً، ويجيء قوم يقيسون الأمور بآرائهم، فيهدم الإسلام ويُثْلم».
رواه: الدارمي، وابن وضاح، وابن عبد البر.
আব্দুল্লাহর কাছে যাও এবং তুমি আমাকে যা বলেছ তা তার থেকে নিশ্চিত হয়ে নাও। অতঃপর আমি তাঁর কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে সেরূপই বর্ণনা করলেন যেরূপ আগে করা হয়েছিল। এরপর আমি আয়েশার কাছে ফিরে এসে তাঁকে জানালাম। তিনি বিস্মিত হলেন এবং বললেন: «আল্লাহর কসম; আব্দুল্লাহ ইবনে আমর অবশ্যই তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছে», আর মুসলিম এটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
তাবারানী এটি «আল-আওসাত» গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাইতামী বলেন: «এর সনদে লাইসের লেখক আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ রয়েছেন; তিনি দুর্বল, তবে তাঁকে নির্ভরযোগ্যও বলা হয়েছে।»
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে পূর্বে বর্ণিত হাদীসটি এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন। হাইতামী বলেন: «এর সনদে লাইসের লেখক আব্দুল্লাহ ইবনে সালেহ রয়েছেন; তিনি দুর্বল, তবে আব্দুল মালিক ইবনে শুআইব ইবনে লাইস তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।»
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পূর্ববর্তী হাদীসটি তাঁর বর্ণিত হাদীসের সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «তোমাদের নিকট এমন কোনো বছর আসে না যা তার পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে নিকৃষ্ট নয়। জেনে রেখো, আমি ফসলের সচ্ছলতা কিংবা উত্তম শাসকের কথা বুঝাচ্ছি না; বরং তোমাদের আলেম ও নেককার লোকগণ বিদায় নেবেন, অতঃপর তোমরা তাঁদের কোনো যোগ্য উত্তরসূরি পাবে না। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যারা নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো বিষয়াদি বিচার-বিশ্লেষণ করবে, যার ফলে ইসলাম ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।»
এটি দারেমী, ইবনে ওয়াদদাহ এবং ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাগলীযুল মালাম আলাল মুতাসারিঈনা ইলাল ফুতইয়া ওয়া তাগয়ীরিল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فصلٌ
وقد كان السلف الصالح يعتمدون في القضاء والإفتاء على ما جاء في القرآن، وإذا لم يجدوا الحكم في القرآن؛ رجعوا إلى السنة، وإذا لم يجدوه في السنة، اجتهدوا آراءهم، وقد جاء في ذلك حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم وآثار كثيرة عن الصحابة رضي الله عنهم:
فأما الحديث الذي جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ فهو حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أراد أن يبعثه إلى اليمن؛ قال: «كيف تقضي إذا عرض لك قضاء؟». قال: أقضي بكتاب الله، قال: «فإن لم تجد في كتاب الله؟»، قال: أقضي بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: «فإن لم تجد في سنة رسول الله؟»، قال: أجتهد رأيي ولا آلو، قال: فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده في صدري، وقال: «الحمد لله الذي وفَّق رسول رسول الله لما يرضي رسول الله».
رواه: الإمام أحمد، وأبو داود، والترمذي، والدارمي، والدارقطني، والبيهقي، وغيرهم.
وأما الآثار المرويَّة عن الصحابة رضي الله عنهم:
فالأول منها ما رواه الدارمي عن ميمون بن مهران؛ قال: كان أبو بكر رضي الله عنه إذا ورد عليه الخصم؛ نظر في كتاب الله، فإن وجد فيه ما يقضي بينهم قضى به، وإن لم يكن في الكتاب، وعلم من رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك الأمر سنة؛ قضى بها، فإن أعياه؛ خرج فسأل المسلمين وقال: أتاني كذا وكذا؛ فهل علمتُم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى في ذلك بقضاء، فربما اجتمع إليه النفر كلهم يذكر من رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه قضاء، فيقول أبو
পরিচ্ছেদ
সালাফে সালেহীন বিচারকার্য ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করতেন। যদি তাঁরা কুরআনে কোনো বিধান না পেতেন, তবে সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। আর যদি সুন্নাহতেও তা না পেতেন, তবে নিজেদের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী ইজতিহাদ করতেন। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে অনেক আছার (বর্ণনা) বর্ণিত হয়েছে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে ইয়ামেনে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি বললেন: «তোমার কাছে যখন কোনো বিচার্য বিষয় উপস্থিত হবে, তখন তুমি কীভাবে ফয়সালা করবে?». তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। তিনি বললেন: «যদি আল্লাহর কিতাবে তা না পাও?», তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করব। তিনি বললেন: «যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতেও তা না পাও?», তিনি বললেন: আমি আমার বিচারবুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ করব এবং এতে কোনো ত্রুটি করব না। বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: «সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফিক দান করেছেন যা আল্লাহর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে।»
হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, দারেমি, দারা কুতনি, বায়হাকি এবং অন্যান্যগণ।
আর সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত আছারসমূহ:
তার মধ্যে প্রথমটি হলো যা দারেমি মায়মুন ইবনে মেহরান থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে যখন কোনো বিবাদী পক্ষ আসত, তখন তিনি আল্লাহর কিতাবে লক্ষ্য করতেন। যদি তিনি তাতে এমন কিছু পেতেন যা দিয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা করা যায়, তবে তিনি সেই অনুযায়ী ফয়সালা করতেন। আর যদি কিতাবে তা না থাকত এবং সেই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুন্নাহ তাঁর জানা থাকত, তবে তিনি তা দিয়ে ফয়সালা করতেন। আর যদি তিনি তা খুঁজে পেতে অপারগ হতেন, তবে তিনি বাইরে বের হয়ে মুসলমানদের জিজ্ঞেস করতেন এবং বলতেন: আমার কাছে এমন এমন বিষয় এসেছে; তোমরা কি জানো যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিষয়ে কোনো ফয়সালা প্রদান করেছিলেন? ফলে অনেক সময় অনেক লোক তাঁর কাছে একত্রিত হতো এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সেই বিষয়ে ফয়সালার কথা উল্লেখ করত। তখন আবু...