0/0
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: -)
تبرئة الخليفة العادل والرد على المجادل بالباطل   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: تبرئة الخليفة العادل والرد على المجادل بالباطل

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: شركة المدينة للطباعة والنشر، جدة - المملكة العربية السعودية

عام النشر: 1388 هـ

عدد الصفحات: 46

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

ন্যায়পরায়ণ খলীফার নির্দোষিতা প্রমাণ এবং মিথ্যাচারীর বিতর্কের খণ্ডন   (হামুদ বিন আবদুল্লাহ আল-তুওয়াইজরী)

বিভাগ: ফেরকাসমূহ এবং খণ্ডন


গ্রন্থ: ন্যায়পরায়ণ খলীফার নির্দোষিতা প্রমাণ এবং মিথ্যাচারীর বিতর্কের খণ্ডন

লেখক: হামুদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামুদ বিন আবদুর রহমান আল-তুওয়াইজরী (মৃত্যু ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: মদীনা প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং কোম্পানি, জেদ্দা - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

প্রকাশকাল: ১৩৮৮ হি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: -)
تبرئة الخليفة العادل والرد على المجادل بالباطل

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين

 

طبع على نفقة

دار الإفتاء - المملكة العربية السعودية

 

إشراف وتصحيح

مندوب دار الإفتاء الأستاذ عبد العزيز ابن سليان آل هيشة
ন্যায়পরায়ণ খলিফার নির্দোষিতা প্রমাণ এবং ভ্রান্ত বিতর্ককারীর খণ্ডন

 

রচনায়

আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরি

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন

 

সৌজন্যে মুদ্রিত

দারুল ইফতা - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

 

তত্ত্বাবধান ও সংশোধনে

দারুল ইফতা-র প্রতিনিধি উস্তায আব্দুল আযীয ইবনে সুলায়মান আল-হায়শাহ
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

قرأ على الشيخ الفاضل حمود بن عبد الله بن حمود التويجري مؤلَّفه هذا المسمى (تبرئة الخليفة العادل والرد على المجادل بالباطل) فوجدته قد أدى واجبا من الذب عن أمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز رحمه الله ورد الافتراءات عليه من استعماله الأغاني المحرمة. وقد أتى المؤلف الشيخ حمود بما يشفي ويكفي فجزاه الله خيرا ووفقه. قاله الفقير إلى عفو الله محمد بن إبراهيم آل الشيخ مفتي الديار السعودية ورئيس القضاة. وصلى الله على نبينا محمد وآله وأصحابه وسلم.

12/ 8/ 1387
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

বিচক্ষণ শায়খ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ আত-তুওয়াইজারি তার রচিত 'তাবরিয়াতুল খলিফা আল-আদিল ওয়াররাদ্দু আলাল মুজাদিল বিল বাতিলের' (ন্যায়পরায়ণ খলিফার নির্দোষিতা প্রমাণ এবং বাতিলপন্থীর প্রতিবাদ) নামক গ্রন্থটি আমার নিকট পাঠ করেছেন। আমি একে আমিরুল মুমিনীন উমর বিন আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ হতে প্রতিরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি আবশ্যিক দায়িত্ব পালন হিসেবে পেয়েছি এবং তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগীত ব্যবহারের যে অপবাদ আরোপ করা হয়েছিল, তা তিনি খণ্ডন করেছেন। লেখক শায়খ হামুদ এমন আলোচনা উপস্থাপন করেছেন যা পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাকে তাওফিক দান করুন। আল্লাহর ক্ষমার মুখাপেক্ষী মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আলুশ শায়খ, সৌদি ভূখণ্ডের মুফতি ও প্রধান বিচারপতি কর্তৃক এটি ব্যক্ত হয়েছে। এবং আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

১২/ ০৮/ ১৩৮৭ হিজরী
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه. ونستغفره ونتوب إليه. ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا. من يهدي الله فلا مضل له. ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله المبعوث رحمة وهدى للعالمين. والمأمور بمحق المعازف والمزامير وأوثان المشركين. صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. وسلم تسليماً كثيرا .. أما بعد فقد رأيت نبذة بتراء في ترجمة عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى جمعها أحمد زكي صفوت وقرر فيها أن عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى كان يغني قبل الخلافة ويصنع الألحان في الغناء. واعتمد في ذلك على ما نقله صاحب الأغاني من الأكاذيب في ذلك. وقد غلط الناقل والمنقول عنه غلطا فاحشا وأخطأ كل منهما خطأ كبيرا على أمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز حيث رمياه بما هو برئ عنه ومنكر له أشد الإنكار.

وقد رأيت أنه يتعين التنبيه على هذا القول الباطل والذب عن أمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز وتبرئته من هذا الإفك المبين.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত ও হেদায়েতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে; এবং যাকে বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি ও মুশরিকদের মূর্তিগুলো বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর দরুদ ও অবারিত সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। অতঃপর, আমি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীর ওপর আহমদ জাকি সাফওয়াত কর্তৃক সংকলিত একটি অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্ত রচনা দেখেছি, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) খিলাফত লাভের পূর্বে গান গাইতেন এবং সুর তৈরি করতেন। এ বিষয়ে তিনি 'কিতাবুল আগানি'-এর লেখকের বর্ণিত কিছু মিথ্যার ওপর নির্ভর করেছেন। বর্ণনাকারী এবং যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে—উভয়েই আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনে আব্দুল আজিজের ব্যাপারে জঘন্য ও গুরুতর ভুল করেছেন। তারা তাঁর ওপর এমন অপবাদ আরোপ করেছেন যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন এবং যা তিনি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করতেন।

তাই আমি মনে করি যে, এই বাতিল বক্তব্যের ব্যাপারে সতর্ক করা, আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনে আব্দুল আজিজের পক্ষ অবলম্বন করা এবং এই সুস্পষ্ট মিথ্যাচার থেকে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌(فصل)

والذي ذكر عنه الميل إلى المعازف والغناء هو عمر بن الوليد بن عبد الملك بن مروان لا عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى.

قال النسائي في سننه الصغرى أخبرنا عمرو بن يحيى قال حدثنا محبوب يعني ابن موسى قال أنبأنا أبو إسحاق وهو الغزاري عن الأوزاعي قال كتب عمر بن عبد العزيز إلى عمر بن الوليد كتابا - فذكره وفيه - واظهارك المعازف والمزمار بدعة في الإسلام ولقد هممت أن أبعث إليك من يجر جمتك جمة السوء. إسناده جيد. وقد رواه أبو نعيم في الحلية من طريق المسيب بن واضح عن أبي إسحاق الفزاري عن الأوزاعي فذكره بمثله.

وروى أيضاً من طريق ضمرة بن ربيعة عن ابن شوذب قال كتب عمر بن عبد العزيز إلى عمر بن الوليد أن أظلم مني وأخون من ولى قرة بن شريك مصر أعرابي جلف جاف أظهر فيها المعازف.

وقد ذكره أبو الفرج ابن الجوزي من حديث سهل بن يحيى المروزي قال أخبرني أبي عن عمر بن عبد العزيز قال كتب عمر بن عبد العزيز إلى عمر بن الوليد بن عبد الملك - فذكره وفيه - وان أظلم مني وأترك لعهد الله من استعمل قرة بن شريك أعرابياً جافياً على مصر اذن له في المعازف واللهو والشرب.

وروى ابن أبي الدنيا وأبو الفرج ابن الجوزي من طريقه عن عمر بن عبيد الله الأرموي قال كتب عمر بن عبد العزيز إلى مؤدب ولده ليكن أول ما يعتقدون من أدبك بغض الملاهي التي بدأها من الشيطان وعاقبتها سخط الرحمن جل وعز فإنه بلغني عن الثقات من
(পরিচ্ছেদ)

বাদ্যযন্ত্র ও সঙ্গীতের প্রতি যাঁর আসক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে, তিনি হলেন উমর বিন আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান; উমর বিন আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) নন।

ইমাম নাসাঈ তাঁর ‘সুনান আস-সুগরা’ গ্রন্থে বলেন: আমর বিন ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মাহবুব—অর্থাৎ ইবনে মুসা—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু ইসহাক—যিনি আল-ফাজারি—আমাদের জানিয়েছেন আল-আওযায়ী থেকে, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ উমর বিন আল-ওয়ালিদের নিকট একটি পত্র লিখলেন—যাতে বর্ণিত ছিল—তোমার বাদ্যযন্ত্র ও বাঁশি প্রকাশ করা ইসলামের মাঝে একটি বিদআত। আমি সংকল্প করেছি যে, তোমার কাছে এমন একজনকে পাঠাব যে তোমার সেই মন্দ বাবরি চুল ধরে তোমাকে টেনে আনবে। এর সনদ উত্তম। আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে মুসায়্যিব বিন ওয়াদিহ-এর সূত্রে আবু ইসহাক আল-ফাজারি থেকে আল-আওযায়ীর মাধ্যমে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তিনি যমরাহ বিন রাবিয়াহ-এর সূত্রে ইবনে শাওযাব থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ উমর বিন আল-ওয়ালিদের কাছে লিখলেন যে, যে ব্যক্তি কুররাহ বিন শারীককে মিসরের গভর্নর নিয়োগ করেছে, সে আমার চেয়েও অধিক জালিম এবং আমানতের খেয়ানতকারী; সে এক রূঢ় ও অভদ্র বেদুইন, যে সেখানে বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটিয়েছে।

আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী এটি সাহল বিন ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযী-এর হাদীস থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে উমর বিন আব্দুল আজিজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর বিন আব্দুল আজিজ উমর বিন আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের কাছে লিখলেন—যাতে বর্ণিত ছিল—যে ব্যক্তি কুররাহ বিন শারীক নামক এক অভদ্র বেদুইনকে মিসরের দায়িত্ব দিয়েছে, সে আমার চেয়েও অধিক জালিম এবং আল্লাহর অঙ্গীকার অধিক লঙ্ঘনকারী; সে সেখানে বাদ্যযন্ত্র, অনর্থক আমোদ-প্রমোদ এবং মদ্যপানের অনুমতি দিয়েছিল।

ইবনে আবিদ দুনইয়া এবং আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী তাঁর সূত্রে উমর বিন উবাইদুল্লাহ আল-আরমাওয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ তাঁর সন্তানদের শিক্ষকের কাছে লিখেছিলেন: তোমার নিকট থেকে অর্জিত শিষ্টাচারের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি তারা বিশ্বাস করবে বা অন্তরে ধারণ করবে, তা হলো সেই সব আমোদ-প্রমোদের (মালাহি) প্রতি ঘৃণা যা শয়তানের পক্ষ থেকে সূচিত হয় এবং যার পরিণাম হলো পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি। কেননা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের সূত্রে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ৬)
حملة العلم أن حضور المعازف واستماع الأغاني واللهج بها ينبت النفاق في القلب كما ينبت الماء العشب ولعمري لتوقي ذلك بترك حضور تلك المواطن أيسر على ذي الذهن من الثبوت على النفاق في قلبه.

فهذا هو الثابت عن عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى - أعني إنكار الغناء والنهي عنه لا ما يذكره صاحب الأغاني عمن هب ودب ممن لا يوثق بهم ولا يعتمد على خبرهم.

وأيضاً فصاحب الأغاني غير موثوق به لأنه شيعي والشيعة من أكذب الناس. وقد روى الخطيب البغدادي عن الحسن بن الحسين النونتجي أنه قال كان أبو الفرج الأصبهاني أكذب الناس كان يدخل سوق الوراقين وهي عامرة والدكاكين مملوءة بالكتب فيشتري شيئا كثيرا من الصحف ويحملها إلى بيته ثم تكون رواياته كلها منها.

وقال أبو الفتح ابن أبي الفوارس خلط قبل موته.

قال ابن الجوزي ومثله لا يوثق به فإنه يصرح في كتبه بما يوجب العشق ويهون شرب الخمر وربما حكى ذلك نفسه. ومن تأمل كتاب الأغاني رأى فيه كل قبيح ومنكر.

قلت وقد ذكر عنه ياقوت الحموي في معجم الأدباء أشياء تدل على فسقه ومجونه ومن كان كذلك فهو ساقط العدالة مردود الرواية. وما ذكره عن عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى من الغناء وصناعة الألحان فهو مما يقطع كل عاقل نبيه أنه كذب مفترى .. والدليل على ذلك ما تقدم من الآثار التي ذكرنا فإنها دالة على أن عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى كان شديد الإنكار للغناء والمعازف.

وأيضا فالمعروف عن عمر بن عبد العزيز أنه كان ملازما للعلماء منذ
জ্ঞানান্বেষী আলিমগণ বলেন যে, বাদ্যযন্ত্রের আসরে উপস্থিত হওয়া, গান শোনা এবং তাতে মত্ত হওয়া অন্তরে মুনাফিকি বা কপটতা উৎপন্ন করে, যেমনভাবে পানি ঘাস উৎপন্ন করে। আমার জীবনের শপথ! বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য ঐ সকল স্থান বর্জন করে তা থেকে বেঁচে থাকা তার অন্তরে মুনাফিকি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি সহজ।

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে এটিই প্রমাণিত—অর্থাৎ গানের প্রতি তাঁর অস্বীকৃতি এবং তা থেকে নিষেধ করা; 'কিতাবুল আগানি'-এর লেখক অখ্যাত ও অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বরাতে যা উল্লেখ করেছেন তা সঠিক নয়, যাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না এবং যাদের সংবাদের ওপর নির্ভর করা চলে না।

অধিকন্তু, 'আগানি' গ্রন্থের লেখক নির্ভরযোগ্য নন, কারণ তিনি শিয়া মতাবলম্বী ছিলেন এবং শিয়ারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মিথ্যাবাদী। খতীব আল-বাগদাদী হাসান বিন হুসাইন আন-নাউনবাজি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানী ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী। তিনি জমজমাট পুস্তক বিক্রেতাদের বাজারে প্রবেশ করতেন যখন দোকানগুলো বইয়ে ঠাসা থাকতো, এরপর তিনি সেখান থেকে অনেক পাণ্ডুলিপি ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে আসতেন এবং তার সমস্ত বর্ণনা সেই সব পাণ্ডুলিপি থেকেই হতো।

আবু আল-ফাতহ ইবনে আবি আল-ফাওয়ারিস বলেছেন: মৃত্যুর পূর্বে তিনি বর্ণনায় বিভ্রান্তি ঘটিয়েছিলেন।

ইবনুল জাওজি বলেন: তাঁর মতো ব্যক্তির ওপর আস্থা রাখা যায় না, কারণ তিনি তাঁর বইগুলোতে এমন সব বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যা অবৈধ প্রেমের উদ্রেক করে এবং মদ্যপানকে তুচ্ছ জ্ঞান করে; এমনকি কখনো কখনো তিনি নিজের সম্পর্কেও এমন কথা বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি 'কিতাবুল আগানি' গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে তাতে প্রতিটি কদর্য ও গর্হিত বিষয় দেখতে পাবে।

আমি বলি: ইয়াকুত আল-হামাভী 'মু'জামুল উদাবা' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা তাঁর পাপাচার ও নির্লজ্জতার প্রমাণ দেয়। আর যার চরিত্র এমন হয়, তার ন্যায়পরায়ণতা বিনষ্ট হয় এবং তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) গান গাইতেন বা সুর রচনা করতেন বলে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা যে এক নির্জলা মিথ্যা ও অপবাদ, সে বিষয়ে যেকোনো বুদ্ধিমান ও সচেতন ব্যক্তি নিশ্চিত হবেন। এর প্রমাণ হলো পূর্বে উল্লেখিত বর্ণনাগুলো, যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) গান ও বাদ্যযন্ত্রের ঘোর বিরোধী ছিলেন।

এছাড়াও উমর ইবনে আব্দুল আজিজের ব্যাপারে এটি সুপরিচিত যে, তিনি আলেমদের সান্নিধ্যে থাকতেন...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ৭)
كان صغيرا إلى أن كبر ولم يعرف بمعاشرة أحد من المغنين ولا مجالستهم فما ذكر عنه من الغناء وصناعة الالحان باطل لا أصل له.

وأيضا فقد أنكر عمر بن عبد العزيز رحمه الله تعالى على عمر بن الوليد إظهاره للمعازف والمزمار وذكر أن ذلك بدعة في الإسلام وعرض بأبيه الوليد بن عبد الملك وانكر عليه اذ ولى قرة بن شريك على مصر واذن له في المعازف واللهو والشرب.

وما كان عمر رحمه الله تعالى لينكر على الناس شيئاً وهو يفعل مثله لا سيما انكاره فعل الوليد بعد موته فانه لو كان يغني ويصنع الالحان قبل الخلافة لما انكر على الوليد وقرة بن شريك شيئا قد مضى منذ سنين كثيرة.

فقد دل انكاره عليهما على أن ما قيل عنه من الغناء وصناعة الالحان في زمان امارته على المدينة كذب مفترى عليه.

وايضا فان الشعراء لما قدموا على عمر رحمه الله تعالى لما ولي الخلافة منعهم من الدخول عليه ولما قيل له فيهم ذكر لاكثرهم ابياتا في التشبيب بالنساء ومنعهم من الدخول عليه من اجل ذلك. واذا كان عمر رحمه الله تعالى شديد الانكار للتشبيب بالنساء فيكف يقال انه كان يشبب بسعاد وسعدى ويصنع الالحان في ذلك ويغني بها. هذا قول ظاهر البطلان.

وأيضاً فقد قال الإِمام أحمد رحمه الله تعالى حدثنا اسحاق بن عيسى الطباع قال سألت مالك بن انس عما يترخص فيه أهل المدينة من الغناء فقال انما يفعله عندنا الفساق. قال الحافظ ابن رجب وكذا قال ابراهيم بن منذر الحزامي وهو من علماء أهل المدينة المعتبرين.

قلت ويلزم على قول صاحب الاغاني واحمد زكي صفوت أن يكون
তিনি শৈশব থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত কোনো গায়ক বা সঙ্গীতশিল্পীর সাথে মেলামেশা বা তাদের মজলিসে বসার জন্য পরিচিত ছিলেন না। সুতরাং তাঁর সম্পর্কে গান এবং সুর তৈরির যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

এছাড়াও ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) ওমর ইবনে ওয়ালিদের বাদ্যযন্ত্র ও বাঁশি প্রদর্শনের নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং উল্লেখ করেছিলেন যে, এটি ইসলামে একটি বিদআত। তিনি তার পিতা ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের সমালোচনা করেছিলেন এবং কুররাহ ইবনে শারীককে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করে তাকে বাদ্যযন্ত্র, আমোদ-প্রমোদ ও মদ্যপানের অনুমতি দেওয়ায় তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

ওমর (রাহিমাহুল্লাহ) মানুষের কোনো কাজের নিন্দা জানাতেন না যদি তিনি নিজে সেরকম কিছু করতেন। বিশেষ করে ওয়ালিদের মৃত্যুর পর তাঁর কাজের নিন্দা করার বিষয়টি লক্ষণীয়। কারণ তিনি যদি খেলাফত লাভের পূর্বে গান গাইতেন বা সুর তৈরি করতেন, তবে তিনি ওয়ালিদ এবং কুররাহ ইবনে শারীকের বহু বছর আগের কোনো কাজের প্রতিবাদ করতেন না।

তাদের উভয়ের প্রতি তাঁর এই প্রতিবাদই প্রমাণ করে যে, মদিনার গভর্নর থাকাকালীন তাঁর গান গাওয়া ও সুর তৈরির বিষয়ে যা কিছু বলা হয়েছে, তা তাঁর ওপর আরোপিত একটি ডাহা মিথ্যা।

তদুপরি, ওমর (রাহিমাহুল্লাহ) যখন খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন কবিরা তাঁর কাছে আসলে তিনি তাদের সাক্ষাতে বাধা দেন। যখন তাঁদের সম্পর্কে তাঁকে বলা হলো, তখন তিনি তাঁদের অধিকাংশের কবিতায় নারীদের রূপচর্চা ও প্রেমের বর্ণনা থাকার কথা উল্লেখ করেন এবং সেই কারণেই তাঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। যদি ওমর (রাহিমাহুল্লাহ) নারীদের রূপ বর্ণনা ও প্রেমের কবিতার বিষয়ে এত কঠোর প্রতিবাদী হন, তবে কীভাবে বলা সম্ভব যে তিনি সুয়াদ ও সুআদাকে নিয়ে প্রেমের কবিতা পড়তেন, তাতে সুরারোপ করতেন এবং গান গাইতেন? এটি একটি স্পষ্টত অসার দাবি।

এছাড়াও ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ইসহাক ইবনে ঈসা আত-তাব্বা আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মালিক ইবনে আনাসকে মদিনাবাসীদের গান শোনার অবকাশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। জবাবে তিনি বলেছিলেন, "আমাদের এখানে কেবল পাপাচারীরাই (ফাসেক) এটি করে থাকে।" হাফেজ ইবনে রাজাব বলেন, ইব্রাহিম ইবনে মুনজির আল-হিযামিও অনুরূপ বলেছেন, যিনি মদিনার অন্যতম নির্ভরযোগ্য আলেম ছিলেন।

আমি বলছি, 'কিতাবুল আগানি'র লেখক এবং আহমাদ জাকি সাফওয়াতের উক্তি অনুসারে এটি অনিবার্য হয়ে পড়ে যে—
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ৮)
عمر بن عبد العزيز من جملة الفساق قبل ان يلي الخلافة. وهذا قول باطل معلوم البطلان بالضرورة عند كل عاقل.

ولو كان ما ذكره صاحب الاغاني صحيحا لذكره اهل العلم بالاخبار كابن جرير وابن كثير وغيرهما من اهل التواريخ الذين يوثق بنقلهم وكذلك من صنف في اخبار عمر بن عبد العزيز كابن عبد الحكم وابي الفرج ابن الجوزي وغيرهما. وقد استقصى ابن الجوزي اخبار عمر ابن عبد العزيز ولم يذكر عنه انه كان يغني ولا يصنع الألحان ولا يعاشر المغنين ولا يجالسهم وكذلك ابو نعيم الاصبهاني فانه ترجم لعمر بن عبد العزيز ترجمة حافلة في كتاب الحلية ولم يذكر عنه انه كان يغني ولا يصنع الالحان ولا يعاشر المغنين ولا يجالسهم فتبين انه لا اصل لما ذكره صاحب الاغاني والله أعلم.

 

‌‌(فصل)

ثم قال صاحب النبذة ما نصه:

ان احدا لا يماري في ان الغناء فن جميل يتعشقه كل انسان بفطرته وتهيم به كل نفس بطبيعتها. يتوق اليه الملك في قصره. ويشتاقه الصعلوك في كوخه. وهو غذاء الأرواح. وسلسبيل القلوب. وصقال النفوس. وروضة الاذهان. وهو بعد متعة مشروعة لا يأباها الدين ولا تنكرها الشريعة. ما دام لا يكتنفه رفث ولا فسوق ولا شراب. دع عنك ما يتشدق به المتزمتون من ان الدين يحظره وان الشرع لا يبيحه. وحسبنا في تفنيد زعمهم ما ورد في الحديث الشريف عن عائشة رضي الله عنها انها زفت امرأة إلى رجل من الانصار فقال نبي الله صلى الله
উমর ইবনে আবদুল আজিজ খিলাফত লাভের পূর্বে ফাসেকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—এই দাবিটি একটি বাতিল কথা, যার অসারতা প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট অকাট্যভাবে সুপরিচিত।

কিতাবুল আগানি-র লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা যদি সঠিক হতো, তবে ইতিহাসবিদদের মধ্যে যারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী হিসেবে পরিচিত, যেমন ইবনে জারীর, ইবনে কাসীর ও অন্যান্যরা তা অবশ্যই বর্ণনা করতেন। একইভাবে উমর ইবনে আবদুল আজিজের জীবনীর ওপর যারা স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন ইবনে আবদুল হাকাম এবং আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী প্রমুখও তা উল্লেখ করতেন। অথচ ইবনুল জাওযী উমর ইবনে আবদুল আজিজের ঘটনাবলি তন্নতন্ন করে অনুসন্ধান করেছেন কিন্তু তিনি কোথাও এটি উল্লেখ করেননি যে উমর গান গাইতেন, সুর তৈরি করতেন কিংবা গায়ক-বাদকদের সাথে মেলামেশা বা ওঠাবসা করতেন। অনুরূপভাবে আবু নুয়াইম আল-আসফাহানিও তার 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে উমর ইবনে আবদুল আজিজের একটি সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ জীবনী তুলে ধরেছেন, সেখানেও তিনি উমর গান গাইতেন, সুরারোপ করতেন অথবা গায়কদের সংশ্রবে থাকতেন—এমন কিছু উল্লেখ করেননি। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, কিতাবুল আগানি-র লেখক যা উল্লেখ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ)

অতঃপর 'নুবযাহ' লেখক যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো:

এতে কেউ বিতর্ক করবে না যে, সংগীত একটি নান্দনিক শিল্প যা প্রতিটি মানুষ তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দিয়ে ভালোবাসে এবং প্রতিটি প্রাণ তার প্রকৃতির টানে এতে বিমোহিত হয়। প্রাসাদে অবস্থানরত সম্রাট এর জন্য ব্যাকুল হন এবং কুটিরের নিঃস্ব ব্যক্তিও এর প্রতি আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। এটি আত্মার খোরাক, হৃদয়ের জন্য সালসাবিল (সুমিষ্ট প্রস্রবণ), নফসের মার্জক এবং চিন্তাজগতের উদ্যান। সর্বোপরি এটি একটি বৈধ বিনোদন যা দ্বীন প্রত্যাখ্যান করে না এবং শরীয়তও একে অস্বীকার করে না; যতক্ষণ না এর সাথে কোনো অশ্লীলতা, পাপাচার বা মদ্যপান সংশ্লিষ্ট হয়। কট্টরপন্থীরা যে বাগাড়ম্বর করে বলে থাকে যে দ্বীন একে নিষিদ্ধ করে এবং শরীয়ত একে অনুমতি দেয় না—তা বর্জন করুন। তাদের এই দাবি খণ্ডন করার জন্য আমাদের কাছে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত সেই হাদীসটিই যথেষ্ট, যাতে এসেছে যে তিনি জনৈক নারীকে এক আনসারী ব্যক্তির কাছে কনে হিসেবে পাঠালেন, তখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ৯)
عليه وسلم عليه وسلم يا عائشة ما كان معكم لهو فان الانصار يعجبهم اللهو وفي رواية فهلا بعثتم معها جارية تضرب بالدف وتغني وقال صاحب العقد الفريد، واحتجوا في اباحة الغناء واستحسانه بقول النبي صلى الله عليه وسلم لعائشة اهديتم الفتاة الى بعلها قالت نعم قال فبعثتم معها من يغني قالت لا قال او ما علمت ان الانصار قوم يعجبهم الغزل. الا بعثتم معها من يقول:

أتيناكم أتيناكم فحيونا نحييكم

ولولا الحبة السمرا … ء لم تحلل بواديكم

واحتجوا بحديث عبد الله بن اويس ابن عم مالك وكان من افضل رجال الزهري قال مر النبي صلى الله عليه وسلم بجارية في ظل فارع وهي تغني:

هل علي ويحكم … ان لهوت من حرج

فقال النبي لا حرج ان شاء الله.

قال صاحب النبذة فلا حرج اذاً على عمر ان يهوى الغناء ويصبو اليه ولا يغتمز ذلك فيه ولا ينقص ذلك من دينه وفضله. وليس ببدع ان يهفو عمر إلى الغناء ويشرب فؤاده حبه وهو قد نشأ في بيئة غنائية فياضة بالألحان والإِيقاع مفعمة بحذاق المغنين والمغنيات - إلى أن قال - وقد سبقت المدينة سائر المدائن الاسلامية الى الغناء وشاع اللهو والقصف بين اهلها. ثم ذكر جملة من المغنين والمغنيات ومن كان يغنى لهم من قريش - إلى أن قال - وهذه شذرة تصور لك الحياة الغنائية بالمدينة في ذلك العهد وتريك ان حياة المرح واللهو والطرب كانت تساير فيها حياة الفقه والحديث والورع والتقوى جنبا لجنب. قال واكثر
আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক, আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক; হে আয়েশা, তোমাদের সাথে কি কোনো আমোদ-প্রমোদ ছিল না? কারণ আনসারগণ আমোদ-প্রমোদ পছন্দ করেন। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে—তবে তোমরা কেন তার সাথে এমন এক কিশোরীকে পাঠালে না যে দফ (খঞ্জনি) বাজাবে এবং গান গাইবে? ‘আল-ইকদ আল-ফারিদ’ গ্রন্থের লেখক বলেন: তারা সংগীতের বৈধতা ও এর প্রশংসনীয়তার পক্ষে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর সেই উক্তির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যা তিনি আয়েশাকে বলেছিলেন—তোমরা কি তরুণীটিকে তার স্বামীর নিকট পাঠিয়েছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে কি তোমরা তার সাথে এমন কাউকে পাঠিয়েছ যে গান গাইবে? তিনি বললেন, না। তিনি বললেন, তুমি কি জানো না যে আনসারগণ এমন এক সম্প্রদায় যারা প্রেমমূলক কবিতা পছন্দ করে? কেন তোমরা তার সাথে এমন কাউকে পাঠালে না যে বলবে:

আমরা তোমাদের নিকট এসেছি, আমরা তোমাদের নিকট এসেছি, তাই আমাদের অভিবাদন জানাও, আমরাও তোমাদের অভিবাদন জানাব

আর সেই বাদামী দানা (বা প্রিয়তমা) না থাকলে … আমরা তোমাদের উপত্যকায় বসতি স্থাপন করতাম না

তারা মালিকের চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ বিন উওয়াইসের হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন, যিনি যুহরীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) একটি সুউচ্চ অট্টালিকার ছায়ায় অবস্থানরত এক কিশোরীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে গান গাইছিল:

তোমাদের দুর্ভোগ হোক, আমার ওপর কি … আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত হলে কোনো দোষ হবে?

তখন নবী বললেন, ইনশাআল্লাহ কোনো দোষ নেই।

‘আন-নুবযা’ গ্রন্থের লেখক বলেন: সুতরাং ওমরের জন্য সংগীতকে ভালোবাসা বা সেদিকে ঝুঁকে পড়ায় কোনো দোষ নেই, আর এর কারণে তাকে নিন্দা করা যাবে না এবং এটি তার দ্বীনদারী বা মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না। ওমরের সংগীতে আসক্ত হওয়া বা তার হৃদয়ে এর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়া কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়, কারণ তিনি এমন এক সংগীতময় পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন যা সুর ও তালের প্রাচুর্যে ভরপুর এবং দক্ষ গায়ক ও গায়িকাদের দ্বারা মুখরিত ছিল। —তিনি আরও বলেন— মদিনা সংগীতের ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল ইসলামি শহরের চেয়ে অগ্রগামী ছিল এবং সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে আমোদ-প্রমোদ ও আনন্দ-উৎসব ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। এরপর তিনি একদল গায়ক ও গায়িকার নাম উল্লেখ করেন এবং কুরাইশদের মধ্যে কারা তাদের গান শুনতেন তাদের কথা বলেন। —তিনি আরও বলেন— এটি একটি খণ্ডচিত্র যা তোমার কাছে সেই যুগের মদিনার সংগীতময় জীবনকে চিত্রায়িত করে এবং তোমাকে দেখায় যে, আনন্দ, আমোদ-প্রমোদ ও উল্লাসের জীবন সেখানে ফিকহ, হাদিস, খোদাভীতি ও তাকওয়ার জীবনের সাথে পাশাপাশি চলত। তিনি বলেন, এবং অধিকাংশ...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১০)
من ذلك ان بعض كبار الائمة في المدينة كان له مشاركة حسنة في هذا الفن الجميل. وهاك استمع لصاحب الاغاني يحدثك عن الامام مالك بن انس صاحب المذهب المالكي. قال حسين بن دحمان الاشقر كنت بالمدينة فخلا لي الطريق وسط النهار فجعلت اتغنى بصوت فاذا خوخة قد فتحت واذا وجه قد بدا تتبعه لحية حمراء فقال اسأت التأدية ومنعت القائلة ثم اندفع يغنيه فظننت ان طويسا قد نشر بعينه فقلت له اصلحك الله من اين لك هذا الغناء قال نشأت وانا غلام حدث اتبع المغنين وآخذ عنهم فقالت لي امي يا بني ان المغني اذا كان قبيح الوجه لم يلتفت الى غنائه فدع الغناء واطلب الفقه فانه لايضر معه قبح الوجه فتركت المغنين واتبعت الفقهاء فبلغ الله بي عز وجل ما ترى فقلت له فأعد جعلت فداءك قال لا ولا كرامة أتريد أن تقول أخذته عن مالك بن انس. واذا هو مالك بن انس ولم اعلم. قال صاحب النبذة وملاك القول ان عمر بن عبد العزيز نشأ في ظلال هذه الأريكة الفنانة وسمع بلابلها المغردة واطيارها المرنة ووهب الله له حنجرة موسيقية فشدا ولحن وتغنى وترنم.

هذا حاصل ما ذكره صاحب النبذة. ونقول وبالله التوفيق.

اما قوله ان احدا لا يماري في ان الغناء فن جميل فجوابه من وجوه. احدها ان يقال ان المعارضين لما ذكره اكثر من ان يحصيهم كتاب. وكل من تمسك بالكتاب والسنة منذ عصر الصحابة رضي الله عنهم الى زماننا هذا فانه يعارض هذا القول المأفون بالرد والانكار. وامام المعارضين لهذا القول الباطل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد ثبت عنه انه نهى عن المزمار والغناء وسماه الصوت الاحمق الفاجر واخبر انه صوت ملعون في الدنيا والآخرة.
মদীনার মহান ইমামগণের মধ্যে কেউ কেউ এই সুকুমার শিল্পের প্রতি ইতিবাচক অনুরাগ পোষণ করতেন বলে দাবি করা হয়। এই যে শুনুন, 'কিতাবুল আগানি'-এর লেখক আপনাকে মালেকী মাযহাবের ইমাম মালিক বিন আনাস সম্পর্কে বলছেন। হুসাইন বিন দাহমান আল-আশকার বর্ণনা করেন: আমি মদীনায় ছিলাম এবং ভরদুপুরে পথঘাট নির্জন পেয়ে আমি সুর করে গান গাইতে লাগলাম। হঠাৎ একটি বাতায়ন খুলে গেল এবং একটি মুখমণ্ডল উঁকি দিল, যার সাথে ছিল একটি লাল দাড়ি। তিনি বললেন, 'তুমি সুরটি যথাযথভাবে দিতে পারোনি এবং মানুষের মধ্যাহ্নকালীন বিশ্রামে বিঘ্ন ঘটিয়েছ।' এরপর তিনি নিজেই গানটি গেয়ে শোনালেন; আমার মনে হলো যেন স্বয়ং তুয়াইস পুনরুত্থিত হয়েছেন। আমি তাকে বললাম, 'আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আপনি এই গান গাওয়া কোথায় শিখলেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'আমি যখন কিশোর ছিলাম, তখন গায়কদের অনুসরণ করতাম এবং তাদের কাছ থেকে শিখতাম। তখন আমার মা আমাকে বললেন, "হে বৎস! গায়কের চেহারা যদি কুশ্রী হয়, তবে কেউ তার গানের প্রতি কর্ণপাত করে না। সুতরাং তুমি গান গাওয়া ত্যাগ করো এবং ফিকহ চর্চায় মনোনিবেশ করো; কারণ ফিকহ চর্চাকারীর চেহারা কুশ্রী হলেও কোনো ক্ষতি নেই।" তাই আমি গায়কদের সঙ্গ ত্যাগ করে ফকীহদের অনুসরণ শুরু করলাম এবং আল্লাহ আমাকে সেই মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছেন যা তুমি এখন দেখছ।' আমি তাকে বললাম, 'আপনার জন্য আমার প্রাণ উৎসর্গিত হোক, গানটি পুনরায় গাওন।' তিনি বললেন, 'না, মোটেও না; তুমি কি এখন গিয়ে বলতে চাও যে তুমি মালিক বিন আনাসের কাছ থেকে গান শিখেছ?' তখনই আমি বুঝতে পারলাম যে তিনি স্বয়ং মালিক বিন আনাস, যা আমি আগে জানতাম না। 'আন-নুবযাহ' গ্রন্থের লেখক বলেন, মোদ্দা কথা হলো উমর বিন আব্দুল আজিজ এই শিল্পমনা পরিবেশের ছায়াতলে লালিত-পালিত হয়েছেন, এখানকার সুমিষ্ট কণ্ঠের বুলবুলি ও সুরের পাখিদের গান শুনেছেন এবং আল্লাহ তাকে এক সুরেলা কণ্ঠ দান করেছিলেন, যার ফলে তিনি ছন্দময় সুরে গান গাইতেন।

এটিই ‘আন-নুবযাহ’ গ্রন্থের লেখকের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ। আমরা আল্লাহর নিকট তৌফিক প্রার্থনা করে বলছি:

তার এই দাবি—গান যে একটি সুকুমার শিল্প সে বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না—এর প্রত্যুত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া সম্ভব। প্রথমত, তার এই বক্তব্যের বিরোধিতাকারীদের সংখ্যা এত বেশি যে কোনো গ্রন্থেই তা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত যারা কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন, তারা সকলেই এই ভ্রান্ত উক্তিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান ও খণ্ডন করেন। আর এই অসার বক্তব্যের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে প্রধান হলেন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)। কেননা তাঁর থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত যে, তিনি বাদ্যযন্ত্র ও গান নিষিদ্ধ করেছেন এবং একে 'মূর্খ ও পাপিষ্ঠ কণ্ঠ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি দুনিয়া ও আখেরাতে এক অভিশপ্ত কণ্ঠস্বর।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১১)
فأما النهي عنه وتسميته الصوت الاحمق الفاجر فرواه وكيع بن الجراح عن ابن ابي ليلى عن عطاء عن جابر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال «نهيت عن صوتين فاجرين صوت عند مصيبة خمش وجه وشق جيوب وصوت عند نعمة لعب ولهو ومزامير الشيطان» اسناده حسن.

وقد رواه ابو داود الطيالسي في مسنده فقال حدثنا ابو عوانة عن ابن ابي ليلى عن عطاء عن جابر رضي الله عنه قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم الى النخل ومعه عبد الرحمن بن عوف فانتهى الى ابنه ابراهيم وهو يجود بنفسه فوضع الصبي في حجره فبكت عائشة فقال له عبد الرحمن اتنهانا عن البكاء قال «لم انه عن البكاء انما نهيت عن صوتين فاجرين صوت مزمار عند نعمة مزمار شيطان ولعب وصوت عند رنة مصيبة شق الجيوب ورنة شيطان وانما هذه رحمة» اسناده حسن.

ورواه الترمذي في جامعه فقال حدثنا علي بن خشرم اخبرنا عيسى بن يونس عن ابن ابي ليلى عن عطاء عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال اخذ النبي صلى الله عليه وسلم بيد عبد الرحمن بن عوف فانطلق به الى ابنه ابراهيم فوجده يجود بنفسه فأخذه النبي صلى الله عليه وسلم فوضعه في حجره فبكى فقال له عبد الرحمن اتبكي او لم تكن نهيت عن البكاء قال «لا ولكن نهيت عن صوتين احمقين فاجرين صوت عند مصيبة خمش وجوه وشق جيوب ورنة شيطان» قال الترمذي هذا حديث حسن. قال وفي الحديث كلام أكثر من هذا. يشير الى انه لم يذكر باقي الحديث وهو ما فيه من ذكر اللهو واللعب والمزامير عند النعمة.
আর এটি নিষিদ্ধ হওয়া এবং একে ‘নির্বোধ ও পাপাচারী শব্দ’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়টি ওকি ইবনুল জাররাহ ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে এবং তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: «আমি দুটি পাপাচারী শব্দ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছি: বিপদের সময় মুখমণ্ডল আঁচড়ানো ও পোশাক ছিঁড়ে ফেলার শব্দ এবং নেয়ামত প্রাপ্তির সময় খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ ও শয়তানের বাঁশির শব্দ»। এর সনদ হাসান।

আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আবু আওয়ানা আমাদের কাছে ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুর বাগানের দিকে বের হলেন এবং তাঁর সাথে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের কাছে পৌঁছালেন যখন সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছিল। তিনি শিশুটিকে তাঁর কোলে রাখলেন। তখন আয়েশা (রা.) কেঁদে ফেললেন। আব্দুর রহমান তাঁকে বললেন, "আপনি কি আমাদের কাঁদতে নিষেধ করেন না?" তিনি বললেন: «আমি কান্না থেকে নিষেধ করিনি; বরং আমি দুটি পাপাচারী শব্দ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছি: নেয়ামতের সময় বাঁশির শব্দ তথা শয়তানের বাঁশি ও খেলাধুলা এবং বিপদের আর্তনাদের সময় পোশাক ছিঁড়ে ফেলা ও শয়তানের চিৎকার। আর এটি (কান্না) তো কেবল রহমত বা দয়া»। এর সনদ হাসান।

তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আলী ইবনে খাশরাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আব্দুর রহমান ইবনে আউফের হাত ধরলেন এবং তাঁকে সাথে নিয়ে তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের কাছে গেলেন। তিনি তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পেলেন। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে কোলে নিলেন এবং কেঁদে ফেললেন। আব্দুর রহমান তাঁকে বললেন, "আপনি কি কাঁদছেন? অথচ আপনি কি কান্নাকাটি করতে নিষেধ করেননি?" তিনি বললেন: «না, বরং আমি দুটি নির্বোধ ও পাপাচারী শব্দ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছি: বিপদের সময় মুখমণ্ডল আঁচড়ানো ও পোশাক ছিঁড়ে ফেলার শব্দ এবং শয়তানের চিৎকার»। ইমাম তিরমিযী বলেন, এটি একটি হাসান হাদীস। তিনি আরও বলেন: এই হাদীসে এর চেয়েও অধিক কথা রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি হাদীসের বাকি অংশ উল্লেখ করেননি, যাতে নেয়ামতের সময় আমোদ-প্রমোদ, খেলাধুলা ও বাঁশির উল্লেখ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد رواه الحاكم في مستدركه من طريق اسرائيل عن محمد بن عبد الرحمن ابن أبي ليلى عن عطاء عن جابر رضي الله عنه عن عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه قال أخذ النبي صلى الله عليه وسلم بيدي فانطلقت معه الى ابراهيم ابنه وهو يجود بنفسه فأخذه النبي صلى الله عليه وسلم في حجره حتى خرجت نفسه قال فوضعه وبكى قال فقلت تبكي يا رسول الله وانت تنهى عن البكاء قال «اني لم أنهَ عن البكاء ولكني نهيت عن صوتين احمقين فاجرين صوت عند نعمة لهو ولعب ومزامير الشيطان وصوت عند مصيبة لطم وجوه وشق جيوب. وهذه رحمة ومن لا يرحم لا يرحم» الحديث.

قال ابن القيم رحمه الله تعالى فانظر الى هذا النهي المؤكد بتسميته صوت الغناء صوتا احمق ولم يقتصر على ذلك حتى وصفه بالفجور ولم يقتصر على ذلك حتى سماه من مزامير الشيطان وقد اقر النبي صلى الله عليه وسلم أبا بكر الصديق رضي الله عنه على تسمية الغناء مزمور الشيطان في الحديث الصحيح فإِن لم يستفد التحريم من هذا لم نستفده من نهي ابدا. قال وقد اختلف في قوله لا تفعل وقوله نهيت عن كذا ايهما ابلغ في التحريم لان لا تفعل يحتمل النهي وغيره بخلاف الفعل الصريح. فكيف يستجيز العارف اباحة ما نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وسماه صوتا احمق فاجرا ومزمور الشيطان وجعله والنياحة التي لعن فاعلها أخوين وأخرج النهي عنهما مخرجاً واحداً ووصفهما بالحمق والفجور وصفا واحدا انتهى.

وروى الامام احمد والبخاري في تاريخه بأسانيد جيدة عن معاوية رضي الله عنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن تسع وذكر منها الغناء.

واما لعن الغناء والمزمار فرواه البزار من حديث انس بن مالك رضي
ইমাম হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইসরাঈলের সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার হাত ধরলেন এবং আমি তাঁর সাথে তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের কাছে গেলাম, যখন সে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে কোলে নিলেন যতক্ষণ না তার প্রাণবায়ু বের হয়ে গেল। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি তাকে রাখলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কাঁদছেন অথচ আপনিই তো কাঁদতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন: "আমি ক্রন্দন থেকে নিষেধ করিনি, বরং আমি দু'টি নির্বোধ ও পাপাচারী কণ্ঠস্বর থেকে নিষেধ করেছি: নেয়ামত প্রাপ্তির সময় আমোদ-প্রমোদ, খেলাধুলা ও শয়তানের বাঁশির শব্দ এবং বিপদের সময় মুখে চপেটাঘাত ও জামার বুক ছিঁড়ে ফেলার শব্দ। এটি তো রহমত, আর যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।" (হাদিসটির শেষ পর্যন্ত)।

ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: আপনি এই জোরালো নিষেধের দিকে লক্ষ্য করুন যেখানে গানের আওয়াজকে 'নির্বোধ শব্দ' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং একে 'পাপাচার' হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি একে 'শয়তানের বাঁশি' বলেও নামকরণ করেছেন। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহীহ হাদিসে গানের ক্ষেত্রে আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর 'শয়তানের বাঁশি' বলাকে সমর্থন করেছেন। সুতরাং যদি এখান থেকে হারাম হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত না হয়, তবে আর কখনও কোনো নিষেধ থেকে তা সাব্যস্ত হবে না। তিনি আরও বলেন, 'তুমি করো না' এবং 'আমি অমুক বিষয় থেকে নিষেধ করেছি'—এই দুইটির মধ্যে কোনটি হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে বেশি জোরালো, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ 'করো না' কথাটি নিষেধ ছাড়াও অন্য অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে, যা স্পষ্ট ক্রিয়াবাচক শব্দের (নিষেধ করেছি) ক্ষেত্রে নেই। এমতাবস্থায় একজন সমঝদার ব্যক্তি কীভাবে সেই বিষয়টিকে বৈধ মনে করতে পারেন যা থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন এবং যাকে তিনি 'নির্বোধ পাপাচারী শব্দ' ও 'শয়তানের বাঁশি' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন? এবং তিনি একে এবং বিলাপকে—যার সম্পাদনকারীকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে—পরস্পর ভাই (সমজাতীয়) বানিয়েছেন এবং উভয়ের জন্য একই পদ্ধতিতে নিষেধ ব্যক্ত করেছেন এবং উভয়কে একইসাথে নির্বুদ্ধিতা ও পাপাচার বলে বিশেষিত করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

ইমাম আহমাদ এবং ইমাম বুখারী তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে উত্তম সনদে মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নয়টি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন এবং তিনি তার মধ্যে গানের কথা উল্লেখ করেছেন।

আর গান ও বাঁশির ওপর অভিশাপের বিষয়টি ইমাম বাযযার আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১৩)
الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «صوتان ملعونان في الدنيا والآخرة مزمار عند نعمة ورنة عند مصيبة» قال المنذري والهيثمي رواته ثقات.

وقد رواه الحافظ الضياء المقدسي في كتابه المختارة وهو ما اختاره من الاحاديث الجياد الزائدة على ما في الصحيحين قال شيخ الاسلام ابو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى وهو اعلى مرتبة من تصحيح الحاكم وهو قريب من تصحيح الترمذي وابي حاتم البستي ونحوهما فان الغلط في هذا قليل ليس هو مثل تصحيح الحاكم انتهى.

قال القرطبي وغيره في هذا الحديث دلالة على تحريم الغناء فان المزمار هو نفس صوت الانسان يسمى مزمارا كما في قوله لقد أوتيت مزمارا من مزامير آل داود.

قلت المزمار يطلق ويراد به الصوت الحسن كما في قوله لقد أوتيت مزماراً من مزامير آل داود ويطلق ويراد به الغناء كما في الصحيحين وغيرهما عن عائشة رضي الله عنها قالت دخل علي النبي صلى الله عليه وسلم وعندي جاريتان تغنيان بغناء بعاث فاضطجع على الفراش وحول وجهه ودخل ابو بكر رضي الله عنه فانتهرني وقال مزمار الشيطان عند النبي صلى الله عليه وسلم الحديث ويطلق ويراد به الآلة التي يزمر بها كما سيأتي في حديث ابن عمر رضي الله عنهما في زمارة الراعي. وكذلك كل ما له نغمة وصوت مطرب كالجرس لحديث ابي هريرة رضي الله عنه مرفوعا «الجرس مزامير الشيطان» وكذلك الدف وسائر آلات اللهو والطرب فكلها من مزامير الشيطان وكما ان اللعن يتناول صوت آلات اللهو وصوت الغناء فكذلك التحريم شامل لهما والله اعلم.

وقد ذكرت اقوال الصحابة والتابعين وتابعيهم في ذم الغناء والمنع عنه في كتابي «فصل الخطاب في الرد على ابي تراب» فلتراجع هناك.
(আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "দুটি শব্দ দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত; নিআমত প্রাপ্তির সময় বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ এবং বিপদের সময় উচ্চস্বরে বিলাপধ্বনি।" আল-মুনজিরি এবং আল-হাইসামি বলেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

হাফিজ আল-দিয়া আল-মাকদিসি এটি তাঁর 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যা মূলত সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর অতিরিক্ত উত্তম হাদিসগুলোর সংকলন। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটি হাকিমের সত্যায়ন অপেক্ষা উচ্চ পর্যায়ের এবং তিরমিযী ও আবু হাতিম আল-বুস্তি প্রমুখের সত্যায়নের কাছাকাছি; কেননা এতে ভুল খুবই সামান্য, যা হাকিমের সত্যায়নের মতো নয়। [সমাপ্ত]

ইমাম কুরতুবি ও অন্যান্যগণ বলেন, এই হাদিসে গান হারাম হওয়ার প্রমাণ রয়েছে; কেননা 'মিযমার' (বাদ্য) মানুষের কণ্ঠস্বরকেও বলা হয়, যেমনটি (রাসূলুল্লাহর) বাণীতে এসেছে: "নিশ্চয়ই তোমাকে দাউদ পরিবারের সুরের ন্যায় একটি সুর প্রদান করা হয়েছে।"

আমি বলি, 'মিযমার' শব্দটি কখনও সুন্দর কণ্ঠস্বরের অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি বলা হয়েছে: "তোমাকে দাউদ পরিবারের একটি সুর দেওয়া হয়েছে।" আবার কখনও এটি গানের অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলেন, তখন আমার নিকট দুটি বালিকা 'বুয়াস' যুদ্ধের গান গাচ্ছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রবেশ করলেন এবং আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শয়তানি বাদ্য?'..." [হাদিসের শেষ পর্যন্ত]। আবার এটি দ্বারা ওই যন্ত্রকেও বোঝানো হয় যা দিয়ে বাঁশি বাজানো হয়, যেমনটি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত রাখালের বাঁশি সংক্রান্ত হাদিসে সামনে আসবে। তদ্রূপ প্রতিটি সুমধুর ও আমোদদায়ক সুর যেমন ঘণ্টা—আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত মারফু হাদিস অনুযায়ী: "ঘণ্টা হলো শয়তানের বাদ্য।" একইভাবে দফ এবং অন্যান্য আমোদ-প্রমোদের বাদ্যযন্ত্রসমূহ সবই শয়তানের বাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। আর যেহেতু অভিশাপ বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ এবং গানের আওয়াজ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তাই এদের নিষিদ্ধতাও উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লাহই ভালো জানেন।

গান-বাজনার নিন্দা ও তা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন এবং তাবে-তাবিঈনদের বক্তব্যসমূহ আমি আমার 'ফসলুল খিতাব ফির রাদ্দি আলা আবি তুরাব' নামক গ্রন্থে বিস্তারিত উল্লেখ করেছি; সুতরাং বিষয়টি সেখান থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১৪)
وذكرت أيضاً أقوال الأئمة الأربعة: مالك وأبي حنيفة والشافعي وأحمد في ذلك وما حكاه غير واحد من الاجماع على تحريم الغناء والمنع منه وفي ذلك رد لقول صاحب النبذة ان احدا لا يماري في ان الغناء فن جميل.

الوجه الثاني ان يقال كيف يكون الغناء فنا جميلا والنبي صلى الله عليه وسلم قد نهى عنه وسماه الصوت الاحمق الفاجر واخبر انه صوت ملعون في الدنيا والآخرة.

لا شك ان القول بهذا محادة لله تعالى ولرسوله صلى الله عليه وسلم فإِن الصوت الأحمق الفاجر لا يكون جميلاً وانما يكون قبيحاً، وكذلك الملعون في الدنيا والآخرة لا يكون جميلا وانما يكون من القبائح.

الوجه الثالث ان الغناء صوت الشيطان ومزماره والشيطان اقبح من كل قبيح وافعاله اقبح الافعال فالغناء اذا فن قبيح بلا شك.

الوجه الرابع ان الله تعالى قال في صفة رسوله صلى الله عليه وسلم (يأمرهم بالمعروف وينهاهم عن المنكر ويحل لهم الطيبات ويحرم عليهم الخبائث) وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم انه نهى عن الغناء والمزامير. واخبر صلى الله عليه وسلم انه يكون في امته اقوام يستحلون المعازف. والنبي صلى الله عليه وسلم انما كان ينهى عن مساوئ الاخلاق ومذامها لا عن محاسنها والجميل منها.

وعلى هذا فالغناء فن قبيح خبيث لان النبي صلى الله عليه وسلم قد نهى عنه وحرمه.

الوجه الخامس ان الله تعالى ذم الغناء في آيات من كتابه. وما ذمه الله تعالى فهو قبيح بلا شك.
এ বিষয়ে আমি চার ইমাম—মালিক, আবু হানিফা, শাফেয়ী ও আহমাদের অভিমত এবং গান-বাজনা হারাম হওয়া ও তা থেকে নিষেধ করার বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির বর্ণিত ঐকমত্যের (ইজমা) কথা উল্লেখ করেছি। এর মধ্যে 'আন-নুবযাহ' লেখকের সেই উক্তির জবাব রয়েছে যে, গান একটি অনিন্দ্য সুন্দর শিল্প—এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: গান কীভাবে একটি সুন্দর শিল্প হতে পারে অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে নিষেধ করেছেন এবং একে ‘নির্বোধ ও পাপাচারী কণ্ঠ’ বলে অভিহিত করেছেন? তিনি আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত একটি কণ্ঠস্বর।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ জাতীয় কথা বলা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধাচরণ করার নামান্তর। কারণ, একটি নির্বোধ ও পাপাচারী কণ্ঠ কখনোই সুন্দর হতে পারে না, বরং তা কদর্য। তদ্রূপ দুনিয়া ও আখিরাতে যা অভিশপ্ত, তা সুন্দর হতে পারে না; বরং তা নিকৃষ্ট বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় দিকটি হলো: গান হলো শয়তানের কণ্ঠস্বর ও তার বাঁশি। আর শয়তান প্রতিটি কুৎসিত বস্তুর চেয়েও অধিক কুৎসিত এবং তার কর্মসমূহ নিকৃষ্টতম। সুতরাং গান নিঃসন্দেহে একটি কদর্য শিল্প।

চতুর্থ দিকটি হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণাবলি বর্ণনায় বলেছেন— ‘তিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎকাজে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন’। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি গান ও বাদ্যযন্ত্র থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে এমন একদল লোক আসবে যারা বাদ্যযন্ত্রকে বৈধ মনে করবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল মন্দ ও নিন্দনীয় স্বভাব থেকেই বারণ করতেন, উত্তম ও সুন্দর বিষয় থেকে নয়।

এর ওপর ভিত্তি করে গান একটি কদর্য ও অপবিত্র শিল্প, কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে বারণ করেছেন এবং একে হারাম করেছেন।

পঞ্চম দিকটি হলো: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের বিভিন্ন আয়াতে গানের নিন্দা করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা যে বিষয়ের নিন্দা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে কদর্য।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১৫)
الآية الاولى قوله تعالى (ومن الناس من يشتري لهو الحديث) الآية. قال ابن مسعود رضي الله عنه هو والله الغناء. وفي رواية عنه هو الغناء والله الذي لا اله الا هو يرددها ثلاث مرات. رواه ابن ابي شيبة وابن جرير والحاكم بأسانيد صحيحة.

وكذا قال جابر ابن عبد الله وابن عباس رضي الله عنهم ومجاهد وعكرمة والحسن وسعيد بن جبير وقتادة وابراهيم النخعي وحبيب بن ابي ثابت ومكحول وعمرو بن شعيب وعلي بن بذيمة ان لهو الحديث هو الغناء.

الآية الثانية قوله تعالى (واستفزز من استطعت منهم بصوتك) قال مجاهد صوته الغناء والباطل رواه ابن ابي حاتم باسناد حسن. وفي رواية عنه قال صوته هو المزامير رواه ابن أبي حاتم بإِسناد صحيح. وفي رواية عنه قال هو الغناء والمزامير رواه ابن الجوزي باسناد حسن. وعنه انه قال هو اللهو والغناء رواه ابن جرير باسناد حسن.

الآية الثالثة قوله تعالى (والذين لا يشهدون الزور واذا مروا باللغو مروا كراما) قال محمد بن الحنفية الزور اللهو والغناء. وقال مجاهد في قوله لا يشهدون الزور قال لا يسمعون الغناء. وقال ثعلب الزور هنا مجالس اللهو، وقال الزجاج قيل الزور ههنا مجالس الغناء.

وروى ابن جرير وابن ابي حاتم عن ابراهيم بن ميسرة ان ابن مسعود رضي الله عنه مر بلهو فلم يقف فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم «لقد اصبح ابن مسعود وامسى كريما» ثم تلا ابراهيم بن ميسرة (وإِذا مروا باللغو مروا كراماً).

الآية الرابعة قوله تعالى (أفمِن هذا الحديث تعجبون. وتضحكون ولا تبكون وانتم سامدون).
প্রথম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী, "মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে, যে অসার বাক্য ক্রয় করে..." (আয়াত)। ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম, তা হলো গান। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করে বলেন— আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তা হলো গান। এটি ইবনে আবি শায়বা, ইবনে জারির এবং হাকেম সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, ইবনে আব্বাস (রা.), মুজাহিদ, ইকরিমা, হাসান, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, কাতাদা, ইব্রাহিম নাখঈ, হাবিব ইবনে আবি সাবিত, মাকহুল, আমর ইবনে শুআইব এবং আলী ইবনে বাযিমা বলেছেন যে, অসার বাক্য (লাহওয়াল হাদীস) হলো গান।

দ্বিতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী, "আর তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো বিচলিত করো"। মুজাহিদ বলেন, তার কণ্ঠ হলো গান ও বাতিল; এটি ইবনে আবি হাতিম হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, তার কণ্ঠ হলো বাদ্যযন্ত্র; এটি ইবনে আবি হাতিম সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, তা হলো গান ও বাদ্যযন্ত্র; এটি ইবনে আল-জাওজি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, তা হলো ক্রীড়া-কৌতুক ও গান; এটি ইবনে জারির হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী, "এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না এবং যখন তারা অসার ক্রিয়াকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন মর্যাদার সাথে অতিক্রম করে"। মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ বলেন, 'যুর' (মিথ্যা/অসারতা) হলো ক্রীড়া-কৌতুক ও গান। মুজাহিদ "তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না" আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বলেন, তারা গান শোনে না। সা'লাব বলেন, এখানে 'যুর' অর্থ ক্রীড়া-কৌতুকের মজলিস। আজ-জাজ্জাজ বলেন, বলা হয়েছে যে এখানে 'যুর' অর্থ গানের মজলিস।

ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম ইব্রাহিম ইবনে মাইসারা থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে মাসঊদ (রা.) কোনো এক অসার ক্রীড়া-কৌতুকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় সেখানে থামেননি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, "ইবনে মাসঊদ সম্মানিত অবস্থায় সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত করেছে।" অতঃপর ইব্রাহিম ইবনে মাইসারা পাঠ করেন— "এবং যখন তারা অসার ক্রিয়াকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন মর্যাদার সাথে অতিক্রম করে"।

চতুর্থ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী, "তবে কি তোমরা এই কথায় বিস্ময় বোধ করছো? এবং তোমরা হাসছ, কাঁদছ না? আর তোমরা উদাসীন হয়ে খেল-তামাশায় মগ্ন রয়েছ (গান গাইছ)।"
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال الجوهري السمود اللهو والسامد اللاهي والمغني يقال للقينة أسمدينا أي ألهينا بالغناء وغنينا.

وقال ابن منظور في لسان العرب سمد سموداً لهى وسمده ألهاه وسمد سمودا غنى قال ثعلب وهي قليلة. وقوله عز وجل (وانتم سامدون) فسر باللهو وفسر بالغناء ويقال للقينة أسمدينا أي ألهينا بالغناء، انتهى وروى ابن أبي الدنيا وأبو الفرج ابن الجوزي من طريقه عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما (وأنتم سامدون) قال هو الغناء بالحميرية يقال اسمدي لنا أي غنِّي لنا. قال ابو الفرج وقال مجاهد هو الغناء يقول اهل اليمن سمد فلان اذا غنى وكذا حكى ابو العباس القرطبي عن مجاهد انه قال هو الغناء بلغة اهل اليمن. وقال ابو زبيد:

وكأن العزيف فيها غناء … للندامى من شارب مسمود

قال ابو عبيدة المسمود الذي غني له. وقال عكرمة كانوا اذا سمعوا القرآن تغنوا فنزلت هذه الآية.

واذا كان الغناء بهذه المثابة من الذم فهو فن قبيح وليس بجميل.

الوجه السادس ان الغناء ينبت النفاق في القلب قاله ابن مسعود رضي الله عنه وابراهيم النخعي وعمر بن عبد العزيز ومكحول والامام احمد. وما كان منبتا للنفاق فهو فن قبيح.

الوجه الثامن أن الغناء مسخطة للرب تبارك وتعالى قاله الضحاك كان مفسدا للقلب فهو فن قبيح.

الوجه الثاني من الغناء مسخطة للرب تبارك وتعالى قاله الضحاك وعمر بن عبد العزيز وانما كان مسخطة للرب تبارك وتعالى لانه يصد عن ذكره وطاعته وما كان مسخطة للرب فهو مرضاة للشيطان وذلك قبيح على كل حال.

الوجه التاسع ان الغناء رقية الزنا. وقد ذكر القاضي محمد بن
আল-জাওহারী বলেন, 'সামুদ' হলো আমোদ-প্রমোদ বা খেল-তামাশা, আর 'সামিদ' হলো খেল-তামাশায় মগ্ন ব্যক্তি বা গায়ক। গায়িকাদের উদ্দেশ্যে বলা হয় 'আসমদিনা' অর্থাৎ আমাদের গানের মাধ্যমে বিনোদন দাও এবং গান শোনাও।

ইবনে মানযুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলেন, 'সামাদা' ও 'সামুদান' অর্থ হলো সে খেল-তামাশা করল। আর 'সামমাদাহু' মানে সে তাকে খেল-তামাশায় লিপ্ত করল। 'সামাদা' এর অর্থ গান গাওয়াও হয়—সা'লাব বলেন, তবে এর ব্যবহার বিরল। মহান আল্লাহর বাণী 'ওয়ান্তুম সামিদুন' (এবং তোমরা উদাসীন/ক্রীড়ারত) এর ব্যাখ্যা খেল-তামাশা এবং গান—উভয় মাধ্যমেই করা হয়েছে। গায়িকাদের বলা হয় 'আসমদিনা' অর্থাৎ আমাদের গানের মাধ্যমে আমোদ-প্রমোদ দান করো। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী স্বীয় সূত্রে ইকরিমার মাধ্যমে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি 'ওয়ান্তুম সামিদুন' সম্পর্কে বলেছেন: এটি হিময়ারি ভাষায় গান গাওয়াকে বোঝায়। হিময়ারি ভাষায় বলা হয় 'আসমুদী লানা' অর্থাৎ আমাদের গান শোনাও। আবুল ফারাজ বলেন, মুজাহিদ বলেছেন: এটি গান গাওয়া। ইয়েমেনবাসীরা বলে 'সামাদা ফুলানুন' যখন কেউ গান গায়। একইভাবে আবুল আব্বাস আল-কুরতুবী মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি ইয়েমেনি ভাষায় গান গাওয়া। আবু যুবাইদ বলেছেন:

যেন সেখানে বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি হলো গান … গান শোনানো হচ্ছে এমন পানরত সঙ্গীদের জন্য

আবু উবাইদাহ বলেন, 'আল-মাসমুদ' হলো সেই ব্যক্তি যার উদ্দেশ্যে গান গাওয়া হয়। ইকরিমা বলেন, তারা যখন কুরআন শুনত তখন গান গেয়ে শোরগোল করত, ফলে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

যেহেতু গান এই পর্যায়ের নিন্দনীয় বিষয়, তাই এটি একটি কদর্য শিল্প এবং এটি মোটেও সুন্দর নয়।

ষষ্ঠ দিক হলো, গান হৃদয়ে নিফাক (কপটতা) উৎপন্ন করে। এ কথা বলেছেন ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), ইব্রাহিম আন-নাখয়ী, উমর ইবনে আবদুল আজিজ, মাকহুল এবং ইমাম আহমাদ। আর যা নিফাক উৎপন্ন করে তা একটি কদর্য শিল্প।

অষ্টম দিক হলো, গান মহান রবের অসন্তুষ্টির কারণ। এটি যাহহাক বলেছেন। গান যেহেতু হৃদয়ের বিপর্যয় ঘটায়, তাই এটি একটি কদর্য শিল্প।

গানের দ্বিতীয় দিক হলো এটি মহান রবের অসন্তুষ্টির কারণ—একথা যাহহাক এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ বলেছেন। এটি মহান রবের অসন্তুষ্টির কারণ এই জন্য যে, এটি আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য থেকে বিরত রাখে। আর যা মহান রবের অসন্তুষ্টির কারণ তা শয়তানের সন্তুষ্টির কারণ, আর তা সর্বাবস্থায় কদর্য।

নবম দিক হলো, গান ব্যভিচারের মন্ত্র স্বরূপ। কাজী মুহাম্মদ বিন... উল্লেখ করেছেন যে—
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১৭)
المظفر الشامي الشافعي عن ابن مسعود رضي الله عنه انه قال الغناء خطبة الزنا.

وذكر ابن القيِّم رحمه الله تعالى عنه رضي الله عنه انه قال الغناء رقية الزنا.

وقال ابن ابي الدنيا اخبرنا الحسين بن عبد الرحمن قال قال فضيل بن عياض الغناء رقية الزنا.

وقال ابن ابي الدنيا ايضا اخبرني محمد بن الفضل الازدي قال نزل الحطيئة برجل من العرب ومعه ابنته مليكة فلما جنه الليل سمع غناء فقال لصاحب المنزل كف هذا عني فقال وما تكره من ذلك فقال ان الغناء رائد من رادة الفجور ولا احب ان تسمعه هذه يعني ابنته فان كففته والا خرجت عنك.

وقال ابن ابي الدنيا ايضا اخبرنا الحسين بن عبد الرحمن قال قال ابو عبيدة معمر بن المثنى جاور الحطيئة قوما من بني كلب فمشى ذو النهي منهم بعضهم الى بعض وقالوا يا قوم انكم قد رميتم بداهية هذا الرجل شاعر والشاعر يظن فيحقق ولا يستأني فيتثبت ولا يأخذ الفضل فيعفو فأتوه وهو في فناء خبائه فقالوا يا أبا مليكة انه قد عظم حقك علينا بتخطيك القبائل الينا وقد اتيناك لنسألك عما تحب فنأتيه وعما تكره فنزدجر عنه فقال جنبوني ندي مجلسكم ولا تسمعوني اغاني شبيبتكم فان الغناء رقية الزنا.

قال ابن القيم رحمه الله تعالى فاذا كان هذا الشاعر المفتون اللسان الذي هابت العرب هجاءه خاف عاقبة الغناء وان تصل رقيته الى حرمته فما الظن بغيره.

ولا ريب ان كل غيور يجنب اهله سماع الغناء كما يجنبهن اسباب
আল-মুজাফফর আশ-শামী আশ-শাফিঈ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: গান হলো ব্যভিচারের প্ররোচনা।

ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর (ইবনে মাসউদের) পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: গান হলো ব্যভিচারের মন্ত্র।

ইবনে আবিদ দুনিয়া বলেছেন, হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ফুদাইল ইবনে ইয়াদ বলেছেন: গান হলো ব্যভিচারের মন্ত্র।

ইবনে আবিদ দুনিয়া আরও বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ফাদল আল-আজদি আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হুতাইয়াহ জনৈক আরবের নিকট অতিথি হলেন, তাঁর সাথে তাঁর কন্যা মুলাইকা ছিল। যখন রাত ঘনিয়ে এলো, তিনি গান শুনতে পেলেন। তখন তিনি গৃহকর্তাকে বললেন, "এটি আমার থেকে বন্ধ করো।" গৃহকর্তা জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি এতে কী অপছন্দ করেন?" তিনি উত্তরে বললেন, "নিশ্চয়ই গান পাপাচারের অগ্রদূতদের একজন। আমি চাই না যে সে (অর্থাৎ তাঁর কন্যা) এটি শুনুক। হয় তুমি এটি বন্ধ করবে, নয়তো আমি তোমার এখান থেকে চলে যাব।"

ইবনে আবিদ দুনিয়া আরও বলেন, হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উবাইদাহ মা’মার ইবনে আল-মুসান্না বলেছেন: আল-হুতাইয়াহ বনু কালব গোত্রের এক কওমের নিকট অবস্থান করছিলেন। তখন তাদের মধ্যকার বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা একে অপরের কাছে গিয়ে বলতে লাগল, "হে কওম, তোমরা এক মহাবিপদে পড়েছ। এই ব্যক্তি একজন কবি; আর কবিরা যখন কোনো কিছু ধারণা করে, সেটাকেই সত্য বলে প্রচার করে দেয়, তারা যাচাই করার জন্য সবুর করে না এবং ক্ষমা করার মতো মহানুভবতাও তাদের নেই।" এরপর তারা তাঁর কাছে গেল, যখন তিনি তাঁর তাঁবুর আঙিনায় ছিলেন। তারা বলল, "হে আবু মুলাইকা, অন্য সব গোত্র বাদ দিয়ে আমাদের কাছে আসার কারণে আমাদের ওপর আপনার অধিকার অনেক বেড়ে গিয়েছে। আমরা আপনার কাছে এসেছি এটা জিজ্ঞেস করতে যে, আপনি কী পছন্দ করেন যাতে আমরা তা পালন করতে পারি এবং কী অপছন্দ করেন যাতে আমরা তা থেকে বিরত থাকতে পারি।" তখন তিনি বললেন, "তোমাদের সভার শোরগোল থেকে আমাকে দূরে রাখো এবং তোমাদের যুবকদের গান আমাকে শুনিয়ো না; কারণ গান হলো ব্যভিচারের মন্ত্র।"

ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: যদি এই মুখরা কবি, যার বিদ্রূপাত্মক কবিতাকে আরবরা ভয় পেত, গানের পরিণাম সম্পর্কে এবং এর মন্ত্র তাঁর পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলার ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করেন, তবে অন্যদের অবস্থা কী হতে পারে!

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি তাঁর পরিবারকে গান শোনা থেকে দূরে রাখেন, ঠিক যেমন তিনি তাদের পাপাচারের অন্যান্য কারণসমূহ থেকে দূরে রাখেন।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১৮)
الريب. ومن طرق اهله الى سماع رقية الزنا فهو اعلم بالاثم الذي يستحقه انتهى.

وذكر ابن ابي الدنيا وابو الفرج ابن الجوزي عن خالد بن عبد الرحمن قال كنا في عسكر سليمان بن عبد الملك فسمع غناء من الليل فأرسل اليهم بكرة فجيء بهم اليه فقال ان الفرس ليصهل فتستودق له الرمكة وان الفحل ليهدر فتضبع له الناقة وان التيس لينب فتستحرم له العنز وان الرجل ليتغنى فتشتاق اليه المرأة ثم قال اخصوهم فقال عمر بن عبد العزيز هذه المثلة ولا تحل فخل سبيلهم قال فخلى سبيلهم.

وروى ابو الفرج ايضا باسناده عن معن بن عبد الرحمن بن ابي الزناد عن ابيه قال كان سليمان بن عبد الملك في بادية له فسمر ليلة على ظهر سطح ثم تفرق عنه جلساؤه فدعا بوضوء فجاءت به جارية له فبينما هي تصب عليه اذ استمدها بيده واشار اليها فاذا هي ساهية مصغية بسمعها مائلة بجسدها كله الى صوت غناء تسمعه في ناحية العسكر فأمرها فتنحت واستمع هو الصوت فاذا صوت رجل يغني فأنصت له حتى فهم ما يغني به من الشعر ثم دعا جارية من جواريه غيرها فتوضأ فلما اصبح اذن للناس اذنا عاما فلما اخذوا مجالسهم اجرى ذكر الغناء ومن كان يسمعه ولين فيه حتى ظن القوم انه يشتهيه فأفاضوا في التليين والتحليل والتسهيل فقال هل بقي احد يسمع منه فقام رجل من القوم فقال يا امير المؤمنين عندي رجلان من أهل ايلة حاذقان قال واين منزلك من العسكر فأومأ إلى الناحية التي كان الغناء منها فقال سليمان يبعث اليهما فوجد الرسول أحدهما فأقبل به حتى أدخله على سليمان فقال له ما اسمك قال سمير فسأله عن الغناء كيف هو فيه فقال حاذق محكم
সন্দেহ। আর যারা ব্যভিচারের মন্ত্র (গান) শ্রবণের দিকে ধাবিত হয়, তাদের জন্য নির্ধারিত পাপ সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। সমাপ্ত।

ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী খালেদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমরা সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিকের সেনাদলে ছিলাম। তিনি রাতে গানের আওয়াজ শুনতে পান, তাই পরদিন সকালে তাদের কাছে লোক পাঠালেন এবং তাদের তাঁর কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি বললেন, 'ঘোড়া যখন হ্রেষাধ্বনি দেয় তখন মাদী ঘোড়া তার প্রতি আসক্ত হয়, উট যখন গর্জন করে তখন মাদী উট কামার্ত হয়, পাঁঠা যখন ডাক দেয় তখন ছাগী উত্তেজিত হয়, আর পুরুষ যখন গান গায় তখন নারী তার প্রতি লালায়িত হয়।' এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন, 'তাদের খোজা করে দাও।' তখন উমর ইবনে আবদুল আজিজ বললেন, 'এটি অঙ্গহানি, যা বৈধ নয়; সুতরাং তাদের ছেড়ে দিন।' ফলে তিনি তাদের ছেড়ে দিলেন।

আবুল ফারাজ আরও একটি সূত্রে মা'ন ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: সুলাইমান ইবনে আবদুল মালিক তাঁর এক মরু-নিবাসে ছিলেন। এক রাতে তিনি ছাদের ওপর রাত্রিযাপনকালীন গল্পগুজব করছিলেন। এরপর তাঁর সঙ্গীরা বিদায় নিলে তিনি ওযুর পানি চাইলেন। তাঁর এক দাসী পানি নিয়ে এল। সে যখন তাঁর হাতে পানি ঢালছিল, তখন তিনি তার দিকে হাত বাড়িয়ে ইশারা করলেন। তিনি দেখলেন যে, মেয়েটি অন্যমনস্ক হয়ে কান পেতে আছে এবং সেনাদলের এক প্রান্ত থেকে ভেসে আসা একটি গানের সুরের দিকে নিজের পুরো শরীর ঝুঁকিয়ে রেখেছে। তিনি তাকে সরে যেতে আদেশ করলেন এবং নিজেই সেই সুরটি শুনতে লাগলেন। তিনি শুনলেন এক ব্যক্তি গান গাইছে। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনলেন যতক্ষণ না সে যে কবিতাটি গাইছিল তা বুঝতে পারলেন। এরপর তিনি অন্য এক দাসীকে ডেকে ওযু করলেন। সকাল হলে তিনি সাধারণ সমাবেশের অনুমতি দিলেন। সবাই যখন নিজ নিজ আসনে উপবিষ্ট হলো, তখন তিনি গানের প্রসঙ্গ এবং যারা গান শোনে তাদের কথা তুললেন এবং বিষয়টিকে এমন নমনীয়ভাবে উপস্থাপন করলেন যে, উপস্থিত লোকজন মনে করল তিনি হয়তো এটি পছন্দ করছেন। ফলে তারা গানের বৈধতা ও সহজতার পক্ষে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করল। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'আর কি কেউ আছে যার গান শোনা যেতে পারে?' সমবেতদের মধ্যে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, 'হে আমিরুল মুমিনিন, আমার কাছে আয়লাহ অঞ্চলের দুজন অতি দক্ষ গায়ক আছে।' সুলাইমান জিজ্ঞেস করলেন, 'সেনাদলে তোমার তাবু কোথায়?' সে সেই দিকের দিকে ইঙ্গিত করল যেখান থেকে গানের আওয়াজ আসছিল। সুলাইমান তাদের কাছে লোক পাঠাতে বললেন। বার্তাবাহক তাদের একজনকে খুঁজে পেল এবং তাকে সুলাইমানের সামনে নিয়ে এল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার নাম কী?' সে উত্তর দিল, 'সামির।' তিনি তার গানের দক্ষতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, সে বলল, 'আমি অত্যন্ত নিপুণ ও দক্ষ।'
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال ومتى عهدك به قال في ليلتي هذه الماضية قال وفي أي نواحي العسكر كنت فذكر له الناحية التي سمع منها الصوت قال فما غنيت فذكر الشعر الذي سمعه سليمان فأقبل سليمان فقال هدر الجمل فضبعت الناقة ونب التيس فشكرت الشاة وهدل الحمام فزافت الحمامة وغنى الرجل فطربت المرأة ثم امر به فخصى وسأل عن الغناء اين اصله واكثر ما يكون قالوا بالمدينة وهو في المخنثين وهم الحذاق به والأئمة فيه فكتب الى عامله على المدينة وهو أبو بكر بن محمد بن حزم ان اخص من قبلك من المخنثين المغنين.

وقال ابن ابي الدنيا حدثني ابراهيم بن محمد المروزي عن ابي عثمان الليثي قال قال يزيد بن الوليد الناقص يا بني امية اياكم والغناء فانه ينقص الحياء ويزيد الشهوة ويهدم المروءة وانه لينوب عن الخمر ويفعل ما يفعل المسكر فان كنتم لا بد فاعلين فجنبوه النساء فان الغناء داعية الزنا .. قال الحافظ أبو الفرج ابن الجوزي اعلم ان سماع الغناء يجمع شيئين احدهما انه يلهي القلب عن التفكر في عظمة الله سبحانه والقيام بخدمته.

والثاني انه يميله الى اللذات العاجلة ويدعو الى استيفائها من جميع الشهوات الحسية ومعظمها النكاح وليس تمام لذته الا في المتجددات ولا سبيل الى كثرة المتجددات من الحل فلذلك يحث على الزنا. فبين الغناء والزنا تناسب من جهة ان الغناء لذة الروح والزنا اكبر لذات النفس ولهذا جاء في الحديث الغناء رقية الزنا.

وقال ابن القيم رحمه الله تعالى من الامر المعلوم عند القوم ان المرأة اذا استعصت على الرجل اجتهد ان يسمعها صوت الغناء فحينئذ تعطي الليان وهذا لأن المرأة سريعة الانفعال للاصوات جدا فاذا كان الصوت
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তার সাথে তোমার শেষ দেখা কখন?" সে বলল, "আমার এই গত রাতে।" তিনি বললেন, "তুমি শিবিরের কোন এলাকায় ছিলে?" সে তাঁকে সেই এলাকার কথা জানাল যেখান থেকে তিনি শব্দ শুনেছিলেন। তিনি বললেন, "তুমি কী গেয়েছিলে?" সে সেই কবিতাগুলো উল্লেখ করল যা সুলাইমান শুনেছিলেন। অতঃপর সুলাইমান এগিয়ে এসে বললেন, "উট গর্জন করলে উষ্ট্রী কামার্ত হয়, পাঠা ডাকলে ভেড়ি সাড়া দেয়, কবুতর ডাকলে স্ত্রী-কবুতর নেচে ওঠে; আর পুরুষ যখন গান গায় তখন নারী মোহিত হয়।" এরপর তিনি তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে খোজা করে দেওয়া হলো। তিনি গানের উৎস এবং এটি কোথায় সবচেয়ে বেশি হয় সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলল, "মদিনায়; এটি সেখানকার হিজড়াদের (মুখান্নাস) মধ্যে রয়েছে এবং তারাই এতে পারদর্শী ও এর গুরু।" তখন তিনি মদিনার প্রশাসকের নিকট—যিনি ছিলেন আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাযম—চিঠি লিখলেন যে, তোমার সেখানে যেসকল গায়ক হিজড়া রয়েছে তাদের খোজা করে দাও।

ইবনে আবিদ দুনিয়া বর্ণনা করেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-মারওয়াযি আবু উসমান আল-লায়সি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াযিদ ইবনে ওয়ালিদ আন-নাকিস বলেছেন: "হে বনু উমাইয়া! তোমরা গান থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা লজ্জা কমিয়ে দেয়, কামভাব বৃদ্ধি করে এবং ব্যক্তিত্ব ধ্বংস করে। এটি মদের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য যা করে এটিও তা-ই করে। যদি তোমাদের এটি করতেই হয়, তবে নারীদের থেকে একে দূরে রাখো; কারণ গান ব্যভিচারের প্ররোচক।" হাফেজ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি বলেন, জেনে রাখো যে গান শোনা দুটি বিষয়কে একত্রিত করে: প্রথমটি হলো, এটি অন্তরকে মহান আল্লাহর মহিমা নিয়ে চিন্তা করা এবং তাঁর ইবাদতে মশগুল হওয়া থেকে বিমুখ করে দেয়।

দ্বিতীয়টি হলো, এটি অন্তরকে নগদ লালসার দিকে ধাবিত করে এবং সকল ইন্দ্রিয়জ কামনাবাসনা পূর্ণ করার আহ্বান জানায়, যার মূল হলো যৌনতৃপ্তি। আর এই তৃপ্তির পূর্ণতা কেবল নতুনত্বের মধ্যেই পাওয়া যায়, কিন্তু বৈধ পন্থায় অধিক নতুনত্ব লাভের কোনো সুযোগ নেই; তাই এটি ব্যভিচারের প্রতি প্ররোচিত করে। সুতরাং গান ও ব্যভিচারের মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে এই দিক থেকে যে, গান হলো আত্মার স্বাদ আর ব্যভিচার হলো নফসের সবচেয়ে বড় স্বাদ। এই কারণেই হাদিসে এসেছে: "গান হলো ব্যভিচারের মন্ত্র।"

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অভিজ্ঞ মহলে এটি একটি জানা বিষয় যে, কোনো নারী যদি কোনো পুরুষের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করে, তবে সে তাকে গান শোনানোর চেষ্টা করে; ফলে সে কোমল হয়ে যায়। এর কারণ হলো, নারীরা শব্দের দ্বারা অত্যন্ত দ্রুত প্রভাবিত হয়। যখন সেই শব্দ...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২০)
بالغناء صار انفعالها من وجهين من جهة الصوت ومن جهة معناه - الى ان قال - فلعمر والله كم من حرة صارت بالغناء من البغايا. وكم من حر اصبح به عبدا للصبيان او الصبايا. وكم من غيور تبدل اسما قبيحا بين البرايا.

وقال ايضا ليس على الناس اضر من سماع المكاء والتصدية والمعازف ولا افسد لعقولهم وقلوبهم واديانهم واموالهم واولادهم وحريمهم منه.

وقال أيضاً وقد شاهد الناس أنه ما عاناه صبي إِلا فسد ولا امرأة إِلا وبغت ولا شاب إِلا وإِلا. ولا شيخ الا والا. والعيان من ذلك يغْني عن البرهان .. وقال شيخ الإسلام ابو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى الغناء رقية الزنا وهو من اعظم الاسباب لوقوع الفواحش ويكون الرجل والصبي والمرأة في غاية العفة والحرية حتى يحضره فتنحل نفسه وتسهل عليه الفاحشة ويميل لها فاعلا او مفعولا به او كلاهما كما يحصل بين شاربي الخمر واكثر انتهى.

ومما ذكرنا يعلم ان الغناء فن قبيح لان الزنا من اقبح الاشياء وما كان رقية للفجور وداعيا اليه فهو قبيح مثله. ومن قال انه فن جميل فقد عكس القضية وقلب الحقيقة.

الوجه العاشر ان الغناء صنو الخمر في الصد عن ذكر الله وعن الصلاة. وقد شاهدنا وشاهد غيرنا ثقل الصلاة على المفتونين بالغناء والمعازف وتهاونهم بها ولا سيما صلاة العشاء وصلاة الفجر.

وما كان فيه صد عن ذكر الله وعن الصلاة فهو فن قبيح على كل حال.

الوجه الحادي عشر أن الغناء مجلبة للشياطين وما كان كذلك فهو مطردة للملائكة لأن الملائكة والشياطين ضدان فلا يجتمعان
গানের মাধ্যমে (আত্মার) উত্তেজনা বা প্রভাব সৃষ্টি হয় দুটি দিক থেকে: সুরের দিক থেকে এবং এর অর্থের দিক থেকে। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর কসম! গানের কারণে কত সচ্চরিত্রা স্বাধীন নারী ব্যভিচারিণীতে পরিণত হয়েছে। এর কারণে কত স্বাধীন পুরুষ কিশোর বা কিশোরীদের দাসে পরিণত হয়েছে। আর কত আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি সৃষ্টির মাঝে কলঙ্কিত নামে পরিচিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন: শিস দেওয়া, তালি বাজানো এবং বাদ্যযন্ত্র শ্রবণ করার চেয়ে মানুষের জন্য অধিক ক্ষতিকর আর কিছু নেই; আর এটি তাদের বুদ্ধি, অন্তর, দ্বীন, সম্পদ, সন্তান এবং পরিবার-পরিজনের জন্য সর্বাধিক ধ্বংসাত্মক।

তিনি আরও বলেন: মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে যে, কোনো কিশোর এতে লিপ্ত হলে সে পথভ্রষ্ট হয়েছে, কোনো নারী এতে জড়ালে সে ব্যভিচারিণী হয়েছে, কোনো যুবক এতে মত্ত হলে সে নানাবিধ পাপে নিমজ্জিত হয়েছে এবং কোনো বৃদ্ধও এর ব্যতিক্রম নয়। এক্ষেত্রে চাক্ষুষ চাক্ষুষ বাস্তবতা যে কোনো যুক্তিনির্ভর প্রমাণের অভাব পূরণ করে। আর শাইখুল ইসলাম আবু আল-আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: গান হচ্ছে ব্যভিচারের মন্ত্র। অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এটি। কোনো পুরুষ, কিশোর বা নারী অত্যন্ত সচ্চরিত্র ও স্বাধীন থাকা সত্ত্বেও যখন সে গানের আসরে উপস্থিত হয়, তখন তার নফস শিথিল হয়ে পড়ে এবং তার কাছে অশ্লীলতা সহজ হয়ে যায়। ফলে সে ব্যভিচারের প্রতি ঝুঁকে পড়ে—হোক সে সক্রিয়ভাবে কিংবা নিষ্ক্রিয়ভাবে অথবা উভয়ভাবেই, যেমনটি মদপায়ীদের ক্ষেত্রে এবং তার চেয়েও বেশি ঘটে থাকে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমাদের উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, গান একটি নিকৃষ্ট বিষয়; কারণ ব্যভিচার হলো নিকৃষ্টতম কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর যা পাপাচারের মন্ত্র এবং এর প্রতি আহ্বানকারী, তা-ও অনুরূপভাবে নিকৃষ্ট। সুতরাং যে ব্যক্তি একে ‘সুন্দর শিল্প’ বলে আখ্যায়িত করে, সে বিষয়টিকে উল্টে দিয়েছে এবং সত্যকে বিকৃত করেছে।

দশম দিক: গান হলো মদের সহোদর সদৃশ, যা আল্লাহর স্মরণ এবং সালাত থেকে বিমুখ করে। আমরা এবং অন্যরা প্রত্যক্ষ করেছি যে, গান ও বাদ্যযন্ত্রে আসক্ত ব্যক্তিদের নিকট সালাত অত্যন্ত ভারী মনে হয় এবং তারা এর প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করে, বিশেষ করে এশা ও ফজরের সালাতের ক্ষেত্রে।

আর যা আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিমুখ করে, তা সর্বাবস্থায় একটি জঘন্য বিষয়।

একাদশ দিক: গান শয়তানদের আকর্ষণ করে। আর যা শয়তানকে আকর্ষণ করে, তা ফেরেশতাদের বিতাড়িত করে; কারণ ফেরেশতা ও শয়তান পরস্পর বিপরীতমুখী, তারা কখনো একত্রে অবস্থান করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد روى البغوي في تفسيره عن ابي امامة رضي الله عنه مرفوعا. ما من رجل يرفع صوته بالغناء الا بعث الله عليه شيطانين احدهما على هذا المنكب والآخر على هذا المنكب فلا يزالان يضربانه بأرجلهما حتى يكون هو الذي يسكت.

ورواه الحافظ ابو الفرج ابن الجوزي ولفظه ما من رجل يرفع عقيرة صوته بالغناء الا بعث الله له شيطانين يرتدفانه اعني هذا من ذا الجانب وهذا من ذا الجانب ولا يزالان يضربانه بأرجلهما في صدره حتى يكون هو الذي يسكت.

وروى الطبراني عن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «ما من راكب يخلو في مسيره بالله وذكره الا ردفه ملك ولا يخلو بشعر ونحوه الا كان ردفه شيطان» ، قال المنذري والهيثمي اسناده حسن .. وذكر ابن الجوزي وابن رجب عن ابن مسعود رضي الله عنه انه قال «اذا ركب الانسان الدابة ولم يسم ردفه الشيطان وقال له تغنه فان لم يحسن الغناء قال تمنه» واذا كان الغناء جالبا للشياطين ومبعدا للملائكة فلا شك انه فن قبيح.

الوجه الثاني عشر ان الغناء سبب لأنواع العقوبات في الدنيا والآخرة قال الله تعالى (ومن الناس من يشتري لهو الحديث ليضل عن سبيل الله بغير علم ويتخذها هزوا أولئك لهم عذاب مهين، وإِذا تتلى عليه آياتنا ولى مستكبرا كأن لم يسمعها كأن في اذنيه وقرا فبشره بعذاب أليم) وقد تقدم قول ابن مسعود وابن عباس رضي الله عنهم وجماعة من التابعين ان لهو الحديث هو الغناء. وقد حلف ابن مسعود رضي الله عنه على ذلك وكرر الحلف ثلاث مرات وهو الصادق البار في يمينه
ইমাম বগভী তাঁর তাফসীরে আবু উমামাহ (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "কোন ব্যক্তি যখন গান গেয়ে তার কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করে, আল্লাহ তার কাছে দুটি শয়তান প্রেরণ করেন; যাদের একজন এই কাঁধে এবং অন্যজন ওই কাঁধে অবস্থান করে। তারা তাদের পা দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকে যতক্ষণ না সে নিজে নীরব হয়।"

হাফেজ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দাবলী হলো: "কোন ব্যক্তি গান গেয়ে তার কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করলে আল্লাহ তার জন্য দুটি শয়তান প্রেরণ করেন যারা তার পেছনে সওয়ার হয়—অর্থাৎ একজন এই পাশ থেকে এবং অন্যজন ওই পাশ থেকে। তারা তাদের পা দিয়ে তার বক্ষে আঘাত করতে থাকে যতক্ষণ না সে নিজে নীরব হয়।"

ইমাম তাবারানী উকবাহ বিন আমের (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কোন আরোহী যখন তার সফরে আল্লাহ এবং তাঁর জিকিরে মগ্ন থাকে, তখন একজন ফেরেশতা তার সঙ্গী হয়; আর যখন সে কবিতা বা এই জাতীয় কিছু নিয়ে মগ্ন থাকে, তখন শয়তান তার সঙ্গী হয়।" আল-মুনজিরী এবং আল-হাইসামি বলেছেন যে, এর সনদ হাসান। ইবনুল জাওযী এবং ইবনে রাজাব ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যখন কোন মানুষ পশুর পিঠে আরোহণ করে এবং আল্লাহর নাম না নেয়, তখন শয়তান তার পেছনে সওয়ার হয় এবং তাকে বলে: 'গান গাও'। যদি সে গান গাইতে না জানে, তবে সে তাকে বলে: 'মনে মনে কল্পনা করো'।" সুতরাং গান যদি শয়তানদের আকর্ষণকারী এবং ফেরেশতাদের বিতাড়ক হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি কদর্য শিল্প।

দ্বাদশ দিক হলো: গান দুনিয়া ও আখেরাতে বিভিন্ন প্রকার শাস্তির কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: "মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে অবান্তর কথা ক্রয় করে যাতে অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে এবং একে উপহাসের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। আর যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে অহংকারে মুখ ফিরিয়ে নেয় যেন সে তা শুনতে পায়নি, যেন তার দুই কানে বধিরতা রয়েছে। সুতরাং তাকে যন্ত্রণাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও।" ইতিপূর্বে ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস (রা.) এবং তাবেয়ীদের এক জামাতের বক্তব্য অতিক্রান্ত হয়েছে যে, 'অবান্তর কথা' দ্বারা গানই উদ্দেশ্য। ইবনে মাসউদ (রা.) এ বিষয়ে শপথ করেছেন এবং তিনবার শপথের পুনরাবৃত্তি করেছেন, অথচ তিনি তাঁর শপথে সত্যবাদী ও ন্যায়নিষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২২)
وقد ورد الوعيد الشديد لاهل الغناء والمعازف في أكثر من عشرين حديثاً ذكرتها في كتابي «فصل الخطاب في الرد على أبي تراب» فلتراجع هناك، وفي اكثرها الوعيد لهم ولشاربي الخمر بالخسف والقذف والمسخ. وما كان الامر فيه هكذا فهو من الفنون القبيحة.

الوجه الثالث عشر ان الغناء يغير العقل وينقص الحياء ويهدم المروءة ولهذا يرقص اهله كما ترقص القرود والدباب ويتمايلون كما يتمايل المجانين والسكارى ويصفقون كما تصفق النساء ولا يرون بهذه الروعونات بأسا. ومن له ادنى عقل لا يخفى عليه قبح هذه الأفعال ومضادتها للعقل وللحياء والمروءة. فالغناء اذاً فن قبيح.

قال الحافظ ابو الفرج ابن الجوزي رحمه الله تعالى الغناء يخرج الانسان عن الاعتدال ويغير العقل وبيان هذا ان الانسان اذا طرب فعل ما يستقبحه في حال صحته من غيره من تحريك رأسه وتصفيق يديه ودق الارض برجليه الى غير ذلك مما يفعله اصحاب العقول السخيفة. والغنا يوجب ذلك بل يقارب فعله فعل الخمر في تغطية العقل، فينبغي أن يقع المنع منه انتهى.

الوجه الرابع عشر ان الغناء من لذات الفساق كما ان الزنا وشرب الخمر من لذاتهم ايضا. فهل يقول عاقل ان الزنا فن جميل لانه لذيذ الى النفس او ان شرب الخمر فن جميل لانه لذيذ الى المفتونين به. كلا لايقول هذا عاقل ابدا.

وكذلك لا يقول عاقل ان الغناء فن جميل من اجل التذاذ الفساق به. الوجه الخامس عشر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال «ان الله جميل يحب الجمال» رواه الامام احمد ومسلم والترمذي من حديث
গান ও বাদ্যযন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশটিরও বেশি হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে, যা আমি আমার ‘ফসলুল খিতাব ফির রাদ্দি আলা আবি তুরাব’ কিতাবে উল্লেখ করেছি; সুতরাং সেখান থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যেতে পারে। সেগুলোর অধিকাংশতেই তাদের জন্য এবং মদ্যপায়ীদের জন্য ভূমিধস, পাথর বর্ষণ এবং আকৃতি বিকৃতির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আর যে বিষয়ের পরিণতি এমন হয়, তা অবশ্যই নিকৃষ্ট কলার অন্তর্ভুক্ত।

ত্রয়োদশ দিক হলো, গান বিবেককে বিকৃত করে, লজ্জাশীলতা কমিয়ে দেয় এবং পৌরুষত্ব ধ্বংস করে। এই কারণেই এর অনুসারীরা বানর ও ভল্লুকের মতো নৃত্য করে, পাগল ও মাতালদের মতো হেলেদুলে চলে এবং নারীদের মতো তালি বাজায়; অথচ তারা এসব নির্বুদ্ধিতাকে কোনো দোষের মনে করে না। যার সামান্যতম বিবেক আছে, তার কাছে এই কাজগুলোর জঘন্যতা এবং বিবেক, লজ্জা ও পৌরুষত্বের সাথে এগুলোর বৈপরীত্য স্পষ্ট। অতএব, গান একটি কুৎসিত শিল্প।

হাফেজ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: ‘গান মানুষকে ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত করে এবং বিবেককে পরিবর্তন করে দেয়। এর ব্যাখ্যা হলো, মানুষ যখন গানের সুরে মাতোয়ারা হয়, তখন সে এমন সব কাজ করে যা সুস্থ অবস্থায় অন্যের থেকে প্রকাশ পাওয়াকে সে কদর্য মনে করে; যেমন মাথা ঝাকানো, হাততালি দেওয়া এবং মাটিতে পা দিয়ে আঘাত করা ইত্যাদি—যা স্থুলবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিরা করে থাকে। গান এই কাজগুলো করতে বাধ্য করে, বরং বিবেককে আচ্ছন্ন করার ক্ষেত্রে এর প্রভাব মদের প্রভাবের কাছাকাছি। অতএব, এটি নিষিদ্ধ হওয়া আবশ্যক।’ (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

চতুর্দশ দিক হলো, গান পাপাচারীদের অন্যতম প্রবৃত্তিগত আনন্দ, যেমন ব্যভিচার ও মদ্যপানও তাদের আনন্দের বিষয়। এখন কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কি বলবে যে ব্যভিচার একটি ‘সুন্দর শিল্প’, কারণ এটি নফসের কাছে আনন্দদায়ক? অথবা মদ্যপান একটি ‘সুন্দর শিল্প’, কারণ এটি এতে মোহগ্রস্তদের কাছে আনন্দদায়ক? না, কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কখনোই এমন কথা বলবে না।

অনুরূপভাবে কোনো বিবেকবান ব্যক্তি বলবে না যে, পাপাচারীরা এতে আনন্দ পায় বলে গান একটি সুন্দর শিল্প। পঞ্চদশ দিক হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন।’ ইমাম আহমদ, মুসলিম ও তিরমিজি এটি হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২৩)
عبد الله بن مسعود رضي الله عنه وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح غريب.

وهذا الحديث من اوضح الادلة على ان الغناء فن قبيح لانه مسخطة للرب تبارك وتعالى ومرضاة للشيطان ولانه صوت الشيطان ومزماره. فهل يقول عاقل ان الله تعالى يحب صوت الشيطان ومزماره وانه فن جميل.

كلا لا يقول هذا الا من اعمى الله بصيرته فصار يرى الباطل في صورة الحق والقبيح في صورة الحسن. وقد قيل:

يقضى على المرء في أيام محنته … حتى يرى حسنا ما ليس بالحسن

وابلغ من هذا قول الله تعالى (ومن يرد الله فتنته فلن تملك له من الله شيئا اولئك الذين لم يرد الله ان يطهر قلوبهم لهم في الدنيا خزي ولهم في الآخرة عذاب عظيم).

 

‌‌(فصل)

واما قوله يتعشقه كل انسان بفطرته. وتهيم به كل نفس بطبيعتها فجوابه من وجوه:

احدها ان يقال ان الغناء مزمار الشيطان وصوته فلا يتعشقه وتهيم به نفسه الا من استفزه الشيطان وغلب عليه كما قال الله تعالى (واستفزز من استطعت منهم بصوتك) وقد ثبت عن مجاهد انه قال صوته هو الغناء والمزامير. ومجاهد انما تلقى التفسير عن حبر الامة وترجمان القرآن ابن عباس رضي الله عنهما كما قال محمد بن اسحاق حدثنا ابان ابن صالح عن مجاهد قال عرضت المصحف على ابن عباس ثلاث عرضات من فاتحته الى خاتمته اوقفه عند كل آية منه واسأله عنها ..
আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব।

আর এই হাদীসটি গান যে একটি নিকৃষ্ট শিল্প, তার অন্যতম স্পষ্ট দলিল। কেননা এটি বরকতময় ও সুউচ্চ মহান রবের অসন্তুষ্টির কারণ এবং শয়তানের সন্তুষ্টির মাধ্যম; তদুপরি এটি শয়তানের কণ্ঠস্বর ও তার বংশীবাদন। কোনো বিবেকবান কি বলতে পারে যে, মহান আল্লাহ শয়তানের কণ্ঠস্বর ও তার বাঁশিকে ভালোবাসেন এবং এটি একটি সুন্দর শিল্প?

কখনোই নয়! কেবল সেই ব্যক্তিই এমন কথা বলতে পারে যার অন্তর্দৃষ্টিকে আল্লাহ অন্ধ করে দিয়েছেন, ফলে সে বাতিলকে হকের রূপে এবং কুৎসিতকে সুন্দরের অবয়বে দেখতে পায়। যেমনটি বলা হয়েছে:

বিপদের দিনে মানুষের ওপর এমন ফয়সালা অবতীর্ণ হয় … যার ফলে সে অসুন্দরকেও সুন্দর হিসেবে দেখতে শুরু করে।

এর চেয়েও অধিক তাৎপর্যপূর্ণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহ যার ফিতনা বা পথভ্রষ্টতা চান, তার জন্য আল্লাহর কাছে আপনার কিছুই করার নেই। এরাই তারা, যাদের অন্তরসমূহ পবিত্র করার ইচ্ছা আল্লাহ করেননি। তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে রয়েছে মহা আজাব)।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ)

আর তার এই উক্তি—"প্রত্যেক মানুষ স্বভাবজাতভাবেই এর প্রেমে পড়ে এবং প্রতিটি আত্মা প্রাকৃতিকভাবেই এতে মগ্ন থাকে"—এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: গান হলো শয়তানের বাঁশি এবং তার কণ্ঠস্বর। সুতরাং যার ওপর শয়তান প্রভাব বিস্তার করেছে এবং যাকে সে প্ররোচিত করেছে, সে ছাড়া অন্য কেউ এর প্রেমে মগ্ন হয় না। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো প্ররোচিত করো)। মুজাহিদ (রহ.) থেকে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "তার কণ্ঠস্বর" হলো গান ও বাদ্যযন্ত্র। আর মুজাহিদ (রহ.) মূলত এই তাফসির উম্মতের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ও কুরআনের ব্যাখ্যাকার ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেই গ্রহণ করেছেন। যেমনটি মুহাম্মদ বিন ইসহাক বর্ণনা করেছেন: আবান ইবনে সালিহ আমাদের কাছে মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: "আমি ইবনে আব্বাসের নিকট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ কুরআন তিনবার পেশ করেছি; প্রতিটি আয়াতের কাছে তাঁকে থামিয়েছি এবং সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি..."
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وروى ابن جرير عن ابي مليكة قال رأيت مجاهدا سأل ابن عباس رضي الله عنهما عن تفسير القرآن ومعه ألواحه قال فيقول له ابن عباس رضي الله عنهما اكتب حتى سأله عن التفسير كله.

ولهذا قال سفيان الثوري اذا جاءك التفسير عن مجاهد فحسبك به.

الوجه الثاني انه لا يتعشق الغناء ويستبيحه الا الفساق. قال الامام احمد رحمه الله تعالى حدثنا اسحاق ابن عيسى الطباع قال سألت مالك بن انس عما يترخص فيه اهل المدينة من الغناء فقال انما يفعله عندنا الفساق. قال الحافظ ابن رجب وكذا قال ابراهيم بن المنذر الحزامي وهو من علماء اهل المدينة المعتبرين.

الوجه الثالث ان اهل التقوى ينفرون من سماع الغناء والمزامير اشد النفرة ويبغضونها غاية البغض وقد قال الله تعالى في نعتهم (والذين لا يشهدون الزور واذا مروا باللغو مروا كراما).

قال محمد بن الحنفية الزور اللهو والغناء. وقال مجاهد لا يسمعون الغناء وقال ثعلب الزور ههنا مجالس اللهو وقال الزجاج قيل الزور ههنا مجالس الغناء.

قال ابن القيم رحمه الله تعالى والمعنى لا يحضرون مجالس الباطل واذا مروا بكل ما يلغي من قول وعمل أكرموا أنفسهم أن يقفوا عليه أو يميلوا اليه ويدخل في هذا اعياد المشركين كما فسرها به السلف والغناء وانواع الباطل كلها. قال وتأمل كيف قال سبحانه لا يشهدون الزور ولم يقل بالزور لأن يشهدون بمعنى يحضرون فمدحهم على ترك حضور مجالس الزور فكيف بالتكلم به وفعله. والغناء من اعظم الزور انتهى.

وروى ابن جرير وابن ابي حاتم عن ابراهيم بن ميسرة ان ابن
ইবনে জারির আবু মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে দেখেছি যে তিনি ইবনে আব্বাসের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) কাছে কুরআনের তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন এবং তাঁর সাথে তাঁর লেখার তখতিসমূহ ছিল। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে বলতেন: ‘লেখো’। এমনকি তিনি তাকে সম্পূর্ণ তাফসির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।

এ কারণেই সুফিয়ান সাওরি বলেছেন: যখন তোমার কাছে মুজাহিদের পক্ষ থেকে তাফসির আসে, তখন তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট।

দ্বিতীয় দিকটি হলো এই যে, পাপাচারীরা ব্যতীত কেউ গানের প্রতি আসক্ত হয় না এবং একে বৈধ মনে করে না। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন, আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে ঈসা আত-তাব্বা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে মদিনাবাসীদের গানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উত্তরে বললেন, আমাদের এখানে কেবল পাপাচারীরাই (ফাসেক) এটি করে থাকে। হাফেজ ইবনে রজব বলেন, তদ্রূপ ইব্রাহিম ইবনুল মুনজির আল-হিজামিও বলেছেন, আর তিনি মদিনার নির্ভরযোগ্য আলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তৃতীয় দিকটি হলো, পরহেজগার ব্যক্তিবর্গ গান ও বাদ্যযন্ত্র শোনা থেকে চরমভাবে বিমুখ থাকেন এবং এগুলোকে চরমভাবে ঘৃণা করেন। আল্লাহ তাআলা তাদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: “এবং যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না (বা অনর্থক মজলিশে উপস্থিত হয় না) এবং যখন তারা অসার ক্রিয়াকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন সসম্মানে তা এড়িয়ে চলে।”

মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ বলেন, ‘আয-যুর’ হলো খেলাধুলা ও গান। মুজাহিদ বলেন, তারা গান শোনে না। সা’লাব বলেন, এখানে ‘আয-যুর’ অর্থ হলো ক্রীড়া-কৌতুকের মজলিশ। আয-যাজ্জাজ বলেন, বলা হয়েছে যে এখানে ‘আয-যুর’ হলো গানের মজলিশ।

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন, এর অর্থ হলো—তারা বাতিল বা অসার মজলিশসমূহে উপস্থিত হয় না। আর যখন তারা এমন কোনো কথা বা কাজের পাশ দিয়ে যায় যা অনর্থক, তখন তারা সেখানে অবস্থান করা বা তার প্রতি ঝুঁকে পড়া থেকে নিজেদের মর্যাদাকে রক্ষা করে চলে। পূর্বসূরিরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, সে অনুযায়ী এর মধ্যে মুশরিকদের উৎসবসমূহ, গান এবং সব ধরনের বাতিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্য করুন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কীভাবে বলেছেন ‘তারা মিথ্যা বা অসার বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় না’, তিনি ‘বিয-যুর’ (মিথ্যার সাথে) বলেননি। কারণ ‘ইয়াশহাদুন’ এর অর্থ হলো তারা উপস্থিত হওয়া। সুতরাং আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন মিথ্যা বা অসার মজলিশে উপস্থিত হওয়া বর্জন করার কারণে; তাহলে সেই কাজ করা বা সেই বিষয়ে কথা বলা তো আরও গুরুতর। আর গান হলো সবচাইতে বড় ‘যুর’ বা অসার বিষয়। (সমাপ্ত)।

ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম ইব্রাহিম ইবনে মাইসারা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২৫)
مسعود رضي الله عنه مر بلهو فلم يقف فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لقد اصبح ابن مسعود وامسى كريما ثم تلا ابراهيم بن ميسرة (واذا مروا باللغو مروا كراما).

وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم انه سد اذنيه لما سمع صوت الزمارة وعدل راحلته عن الطريق. قال الامام احمد رحمه الله تعالى حدثنا الوليد حدثنا سعيد بن عبد العزيز عن سليمان بن موسى عن نافع مولى ابن عمر ان ابن عمر رضي الله عنهما سمع صوت زمارة راع فوضع اصبعيه في اذنيه وعدل راحلته عن الطريق وهو يقول يا نافع اتسمع فأقول نعم فيمضي حتى قلت لا فوضع يديه واعاد راحلته الى الطريق وقال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وسمع صوت زمارة راع فصنع مثل هذا. اسناده صحيح. وقد رواه ابو داود في سننه عن احمد بن عبيد الله الغداني عن الوليد بن مسلم فذكره بنحوه، وبوب عليه بقوله «باب كراهية الغناء والزمر» وقد رواه ابن الجوزي من طريق الامام احمد ثم قال اذا كان هذا فعلهم في حق صوت لا يخرج عن الاعتدال فكيف بغناء اهل الزمان وزمورهم.

قلت واعظم من ذلك ما فشى في زماننا من الحان الغناء واصوات المعازف التي تفعل في نفس من اصغى اليها نحو ما تفعل الخمر فهذه اولى بأن تسد عنها المسامع وان يبتعد عن سماعها غاية البعد. وما اصعب ذلك في زماننا فالله المستعان.
মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একটি অনর্থক ক্রিড়া-কৌতুকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন কিন্তু সেখানে অবস্থান করলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "ইবনে মাসউদ আজ সম্মানিত অবস্থায় সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত করেছেন।" এরপর ইব্রাহিম ইবনে মাইসারা (কুরআনের এই আয়াত) পাঠ করলেন: "এবং যখন তারা অনর্থক বিষয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন তারা সসম্মানে তা এড়িয়ে চলে।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি যখন বাঁশির শব্দ শুনতেন তখন নিজ কান দুটি বন্ধ করে ফেলতেন এবং পথ থেকে নিজের সওয়ারি সরিয়ে নিতেন। ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন, ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ সুলায়মান ইবনে মুসা থেকে, তিনি ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি’ থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এক রাখালের বাঁশির শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি তার দুই আঙুল নিজ কানে প্রবেশ করালেন এবং সওয়ারি নিয়ে পথ থেকে সরে গেলেন। তিনি বলছিলেন, "হে নাফি’, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?" আমি বলতাম, "হ্যাঁ।" তিনি চলতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি বললাম, "না।" তখন তিনি তার হাত সরিয়ে নিলেন এবং সওয়ারিকে পুনরায় পথে ফিরিয়ে আনলেন। তিনি বললেন, "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি যখন কোনো রাখালের বাঁশির শব্দ শুনতেন, তখন তিনি অনুরূপ করতেন।" এর সনদ সহিহ। আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-গাদানি থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এই বিষয়ে তিনি পরিচ্ছেদ বিন্যাস করেছেন এই বলে: "গান ও বাঁশি অপছন্দনীয় হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।" ইবনুল জাওজি এটি ইমাম আহমাদের সূত্রে বর্ণনা করার পর বলেছেন, "যদি একটি স্বাভাবিক ও পরিমিত শব্দের ক্ষেত্রে তাদের এমন আচরণ হয়ে থাকে, তবে বর্তমান যুগের লোকেদের গান এবং তাদের বাদ্যযন্ত্রের ক্ষেত্রে কী অবস্থা হতে পারে!"

আমি বলব, এর চেয়েও ভয়াবহ হলো আমাদের বর্তমান যুগে ছড়িয়ে পড়া গানের সুর এবং বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ, যা শ্রবণকারীর হৃদয়ে মদের মতো নেশা ও প্রভাব সৃষ্টি করে। সুতরাং এগুলি থেকে কান বন্ধ রাখা এবং শ্রবণ থেকে চূড়ান্ত দূরত্ব বজায় রাখা আরও বেশি জরুরি। আমাদের এই যুগে এটি কতই না কঠিন কাজ! আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌‌‌(فصل)

وأما قوله يتوق اليه الملك في قصره. ويشتاقه الصعلوك في كوخه. فجوابه من وجهين:

احدهما ان يقال ليس كل الملوك يتوقون الى الغناء ولا كل الصعاليك يشتاقون اليه وانما يتوق اليه ويشتاقه من قل نصيبه من التقوى من ملك وصعلوك وغيرهما من سائر اصناف الناس.

الوجه الثاني ان يقال ليس كل ما يتوق اليه الملوك ويشتاقه غيرهم من الناس يكون مباحا بل منه ما يكون مباحا ومنه ما يكون محرما كالغناء والمزامير وغيرها من المحرمات التي يشتاق اليها من استزله الشيطان واغواه.

وليست العبرة في حل الاشياء او حرمتها باهواء الناس وشهواتهم وانما العبرة في ذلك بالكتاب والسنة فما شهدا له بالحل فهو حلال وما شهدا له بالتحريم فهو حرام ولو تاقت إِليه أنفس الملوك أو غيرهم من الناس. وقد قام الدليل من الكتاب والسنة على تحريم الغناء والمزامير فلا يلتفت الى ما خالفه من اهواء الناس وشهواتهم.

 

(فصل)

واما قوله وهو غذاء الارواح وسلسبيل القلوب وصقال النفوس وروضة الاذهان.

فجوابه أن يقال هذا من قلب الحقائق فإِن هذه الصفات لا تنطبق على الغناء وانما تنطبق على القرآن فهو غذاء ارواح المؤمنين وسلسبيل قلوبهم وصقال نفوسهم وروضة اذهانهم. واما سماع المكاء والتصدية فانه
‌‌‌(পরিচ্ছেদ)

আর তাঁর এই বক্তব্য: "রাজা তাঁর প্রাসাদে এর প্রতি লালায়িত হন এবং নিঃস্ব ব্যক্তি তার কুঁড়েঘরে এর জন্য ব্যাকুল হয়।" এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: বলা হবে যে, সকল রাজা গানের প্রতি লালায়িত হন না এবং সকল নিঃস্ব ব্যক্তিও এর জন্য ব্যাকুল হয় না। বরং রাজা, নিঃস্ব কিংবা অন্য যেকোনো শ্রেণির মানুষের মধ্যে কেবল সেই এর প্রতি লালায়িত ও ব্যাকুল হয়, যার তাকওয়ার (আল্লাহভীতির) অংশ সামান্য।

দ্বিতীয়ত: বলা হবে যে, রাজা এবং অন্য মানুষ যা কিছুর প্রতি লালায়িত বা ব্যাকুল হয়, তার সবই বৈধ নয়। বরং এর মধ্যে কিছু বৈধ এবং কিছু নিষিদ্ধ; যেমন গান, বাদ্যযন্ত্র এবং অন্যান্য হারাম বিষয়, যার প্রতি সেই ব্যক্তিই ব্যাকুল হয় যাকে শয়তান পদস্খলিত ও বিভ্রান্ত করেছে।

কোনো বস্তুর বৈধতা কিংবা অবৈধতার মানদণ্ড মানুষের খেয়ালখুশি বা কামনা-বাসনা নয়; বরং এর মানদণ্ড হলো কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ। কিতাব ও সুন্নাহ যেটিকে বৈধ বলে সাক্ষ্য দেয় সেটিই হালাল, আর যেটিকে অবৈধ বলে সাক্ষ্য দেয় সেটিই হারাম—তা রাজাবাদশাহ কিংবা অন্য মানুষের মন তার প্রতি যতই লালায়িত হোক না কেন। গান ও বাদ্যযন্ত্র হারামের বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সুতরাং মানুষের খেয়ালখুশি ও কামনা-বাসনা এর পরিপন্থী হলে তা ধর্তব্য নয়।

 

(পরিচ্ছেদ)

আর তাঁর এই উক্তি: "এটি আত্মার খাদ্য, হৃদয়ের সুমিষ্ট প্রস্রবণ, নফসের মার্জক এবং মেধার উদ্যান।"

এর উত্তরে বলা হবে যে, এটি সত্যকে উল্টে দেওয়ার নামান্তর। কেননা এই গুণাবলি গানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, বরং এগুলো কুরআনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কুরআনই হলো মুমিনদের আত্মার খাদ্য, তাদের হৃদয়ের সুমিষ্ট প্রস্রবণ, তাদের নফসের মার্জক এবং মেধার উদ্যান। আর শিস দেওয়া ও তালি বাজানোর শব্দের শ্রবণ তো...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২৭)
فساد للارواح والقلوب والنفوس والاذهان لانه صوت احمق فاجر ملعون في الدنيا والآخرة وهو صوت الشيطان وقرآنه ورقية الزنا ومنبت النفاق في القلوب وجالب الشياطين ومبعد الملائكة وصنو الخمر في الصد عن ذكر الله وعن الصلاة. الى غير ذلك من صفاته الذميمة وما كان كذلك فهو شر محض.

 

‌‌(فصل)

واما قوله وهو بعد متعة مشروعة لا يأباها الدين ولا تنكرها الشريعة ما دام لا يكتنفه رفث ولا فسوق ولا شراب.

فجوابه من وجوه:

احدها ان ما زعمه من كون الغناء متعة مشروعة قول باطل معلوم البطلان بالضرورة من الدين. وكيف يكون الغناء متعة مشروعة والله تبارك وتعالى قد ذمه في مواضع من كتابه وتوعد من اختاره بالعذاب المهين. وكذلك قد نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وسماه الصوت الاحمق الفاجر واخبر انه صوت ملعون في الدنيا والآخرة.

الوجه الثاني ان يقال انما يتمتع بالغناء الفساق الذين لا يبالون بارتكاب المحرمات. وقد تقدم قول مالك وابراهيم بن المنذر الحزامي في ذلك.

والذي شرع هذه المتعة للفساق هو ابليس وأولياؤه. وقد روى ابن جرير عن ابن عباس رضي الله عنهما انه ذكر عن اهل الجاهلية الاولى ان ابليس صنع مزمارا فانتابه الناس يستمعون اليه وصار ذلك سببا لتبرج النساء للرجال وظهور الفاحشة فيهم.

وذكر ابن جرير ايضا ان الذي اتخذ الملاهي رجل من ولد قابيل يقال
এটি আত্মা, অন্তর, নফস এবং মেধার জন্য এক বিপর্যয়; কারণ এটি একটি নির্বোধ, পাপাচারী এবং ইহকাল ও পরকালে অভিশপ্ত শব্দ। এটি শয়তানের কণ্ঠস্বর, তার কুরআন, ব্যভিচারের মন্ত্র, অন্তরে নিফাকের চারাগাছ, শয়তানদের আকর্ষণকারী, ফেরেশতাদের দূরে সরিয়ে দেয় এবং আল্লাহর জিকির ও সালাত থেকে বিমুখ করার ক্ষেত্রে মদের সমকক্ষ। এর বাইরেও আরও অনেক নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে; আর যা এই বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, তা কেবলই অনিষ্ট।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ)

আর তার এই বক্তব্য যে, এটি একটি বৈধ উপভোগ, যা ধর্ম অস্বীকার করে না এবং শরিয়তও প্রত্যাখ্যান করে না, যতক্ষণ না তা অশ্লীলতা, পাপাচার বা মদ্যপানে জড়িয়ে যায়।

এর উত্তর কয়েক দিক থেকে দেওয়া যায়:

প্রথমত, গানকে বৈধ উপভোগ বলে তিনি যে দাবি করেছেন, তা একটি বাতিল বা ভিত্তিহীন কথা, যা দ্বীনের অকাট্য দলিলাদি দ্বারা বাতিল বলে সাব্যস্ত। গান কীভাবে বৈধ উপভোগ হতে পারে, যেখানে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা স্বীয় কিতাবের বিভিন্ন স্থানে গানকে নিন্দা করেছেন এবং যারা একে বেছে নেয় তাদের জন্য লাঞ্ছনাকর আজাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? একইভাবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিষেধ করেছেন, একে নির্বোধ পাপাচারী শব্দ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এটি ইহকাল ও পরকালে অভিশপ্ত শব্দ।

দ্বিতীয়ত, এটি বলা প্রয়োজন যে, কেবল সেই ফাসিকরাই গানের মাধ্যমে আনন্দ পায় যারা হারাম কাজ করার ব্যাপারে কোনো পরোয়া করে না। এ প্রসঙ্গে ইমাম মালিক এবং ইবরাহিম ইবনে আল-মুনজির আল-হিযামির উক্তি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাসিকদের জন্য এই উপভোগের প্রবর্তন করেছে ইবলিস ও তার অনুসারীরা। ইবনে জারির (রহ.) ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাহেলিয়াত যুগের লোকদের সম্পর্কে উল্লেখ করেন যে, ইবলিস একটি বাঁশি তৈরি করেছিল। এরপর মানুষ তা শোনার জন্য ভিড় জমাতে শুরু করল, আর এটিই পুরুষদের সামনে নারীদের বেপর্দা হওয়া এবং তাদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াল।

ইবনে জারির আরও উল্লেখ করেছেন যে, বাদ্যযন্ত্রের উদ্ভাবক ছিল কাবিলের বংশধরের জনৈক ব্যক্তি, যাকে বলা হয়...
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২৮)
له ثوبال اتخذ في زمانه مهلائيل بن قينان آلات اللهو من المزامير والطبول والعيدان فانهمك ولد قابيل في اللهو وتناهى خبرهم الى من بالجبل من نسل شيث فنزل منهم قوم وفشت الفاحشة وشرب الخمر.

الوجه الثالث ان في كلام صاحب النبذة كذبا ظاهرا على الدين والشريعة المحمدية حيث زعم ان الدين لا يأبى الغناء وان الشريعة لا تنكره. وقد تقدم من الآيات والاحاديث ما يكفي في رد قوله.

وقد وردت الادلة الكثيرة من الكتاب والسنة بتحريم الغناء والمعازف. وجاء في ذلك آثار كثيرة عن الصحابة والتابعين وتابعيهم وعن الائمة الاربعة وغيرهم من العلماء. وحكى غير واحد الاجماع على ذلك وقد ذكرت ذلك مستقصى في كتابي «فصل الخطاب في الرد على ابي تراب» فليراجع هناك ففيه رد لقول صاحب النبذة ان الغناء متعة مشروعة لا يأباها الدين ولا تنكرها الشريعة. ونكتفي ههنا بايراد حديثين صحيحين في ذلك. احدهما ما رواه البخاري في صحيحه والاسماعيلي والطبراني وابن حبان والبيهقي وغيرهم عن عبد الرحمن بن غنم الاشعري رضي الله عنه قال حدثني ابو عامر او ابو مالك الاشعري رضي الله عنه والله ما كذبني سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول «ليكونن من أمتي أقوام يستحلون الحر والحرير والخمر والمعازف» وهذا الحديث واضح في تحريم الغناء لان الاستحلال انما يكون للشيء المحرم. وقد قرن استحلاله باستحلال الزنا وشرب الخمر ولبس الحرير في حق الذكور وهذا يدل على غلظ تحريمه.

والمعازف جمع معزف ويقال ايضا معزفة بكسر الميم وفتح الزاي فيهما قال الجوهري المعازف الملاهي والعازف اللاعب بها والمغني وقد عزف
তুবাল-এর জন্য মাহলাইল ইবনে কাইনান-এর যুগে বাঁশি, ঢোল এবং বীণার মতো আমোদ-প্রমোদের সরঞ্জামসমূহ তৈরি করা হয়েছিল। ফলে কাবিলের বংশধরেরা আমোদ-প্রমোদে মত্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের সংবাদ পাহাড়ে বসবাসরত শীষ-এর বংশধরদের কাছে পৌঁছে। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে একদল লোক নিচে নেমে আসে এবং অশ্লীলতা ও মদ্যপান ছড়িয়ে পড়ে।

তৃতীয় দিক হলো, 'নুবজাহ' পুস্তিকার লেখকের বক্তব্যে দীন এবং মুহাম্মাদীয় শরীয়তের ওপর এক সুস্পষ্ট মিথ্যাচার রয়েছে; যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, ধর্ম সংগীতকে প্রত্যাখ্যান করে না এবং শরীয়ত একে অস্বীকার করে না। অথচ ইতিপূর্বে এমন অনেক আয়াত এবং হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা তার বক্তব্য খণ্ডন করার জন্য যথেষ্ট।

কুরআন ও সুন্নাহ হতে গান ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে অনেক প্রমাণ বর্ণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীন, চার ইমাম এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে অসংখ্য বর্ণনা এসেছে। একাধিক আলেম এ বিষয়ে ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন। আমি আমার 'ফসলুল খিতাব ফির্ রাদ্দি আলা আবি তুরাব' গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, সুতরাং সেখানে তা দেখা যেতে পারে। সেখানে 'নুবজাহ' লেখকের সেই উক্তির জবাব রয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন যে, গান একটি বৈধ বিনোদন যা ধর্ম প্রত্যাখ্যান করে না এবং শরীয়তও তা অস্বীকার করে না। আমরা এখানে এ প্রসঙ্গে কেবল দুটি সহীহ হাদীস উল্লেখ করছি। এর মধ্যে একটি ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে এবং ইসমাইলী, তবারানী, ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ও অন্যান্যরা আব্দুর রহমান ইবনে গানম আল-আশআরী (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবু আমির অথবা আবু মালিক আল-আশআরী (রাযি.) বর্ণনা করেছেন—আল্লাহর শপথ, তিনি আমার কাছে মিথ্যা বলেননি—যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে যারা ব্যভিচার, রেশমি বস্ত্র, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে বৈধ মনে করবে।" এই হাদীসটি গান নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট, কারণ কোনো কিছুকে 'বৈধ মনে করা' কেবল তখনই ঘটে যখন তা মূলত নিষিদ্ধ। আর এখানে বাদ্যযন্ত্রের বৈধতা মনে করার বিষয়টি ব্যভিচার, মদ্যপান এবং পুরুষদের জন্য রেশমি পোশাক পরিধানকে বৈধ মনে করার সাথে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যা এর নিষিদ্ধতার কঠোরতাকে নির্দেশ করে।

'মাআযিফ' হলো 'মিযাফ'-এর বহুবচন, একে 'মিযাফাহ'-ও বলা হয়—উভয় ক্ষেত্রেই 'মীম' বর্ণে কাসরা এবং 'যা' বর্ণে ফাতহা হবে। আল-জাওহারী বলেন: 'মাআযিফ' অর্থ হলো বাদ্যযন্ত্র বা আমোদ-প্রমোদের সরঞ্জাম। আর 'আযিফ' হলো সেই ব্যক্তি যে এগুলো বাজায় এবং গায়ক; যখন সে সুর তোলে তখন 'আযাফা' শব্দ ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ২৯)
عزفا. وقد تقدم قول ابي زبيد:

وكان العزيف فيها غناء … للندامى من شارب مسمود

قال ابن حجر العسقلاني ويطلق على الغناء عزف وعلى كل لعب عزف.

الثاني ما رواه الامام احمد وابن ابي شيبة والبخاري في التاريخ الكبير وابن ماجه في سننه وابن حبان في صحيحه عن عبد الرحمن بن غنم الاشعري رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «ليشربن ناس من امتي الخمر يسمونها بغير اسمها يعزف على رؤوسهم بالمعازف والمغنيات يخسف الله بهم الارض ويجعل منهم القردة والخنازير».

وهذا الحديث يدل على تحريم الغناء واستعمال المعازف والاستماع اليها وان ذلك من الكبائر لشدة الوعيد عليه.

الوجه الرابع ان الغناء محرم لذاته سواء اكتنفه رفث او فسوق او شراب او لم يكتنفه. واذا اكتنفه شيء مما ذكر كان اعظم لتحريمه لجمعه بين امرين محرمين.
আযফ বা বাদ্যধ্বনি। ইতিপূর্বে আবু যুবাইদ-এর উক্তি বর্ণিত হয়েছে:

সেখানে আযীফ ছিল গায়নশৈলী … সেই মদ্যপায়ীদের সঙ্গীদের জন্য যারা বিভোর হয়ে পান করত।

ইবনে হাজার আল-আসকালানী বলেছেন, গানকেও আযফ বলা হয় এবং প্রতিটি খেল-তামাশাকেও আযফ বলা হয়।

দ্বিতীয়ত, ইমাম আহমাদ, ইবনে আবি শায়বাহ, আল-বুখারী তাঁর 'আত-তারিখুল কাবীর'-এ, ইবনে মাজাহ তাঁর 'সুনান'-এ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ'-তে আব্দুর রহমান ইবনে গানম আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আমার উম্মতের কিছু লোক অবশ্যই মদ পান করবে এবং তারা এর ভিন্ন নাম দেবে; তাদের মাথার ওপর বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে এবং গায়িকারা গান গাইবে। আল্লাহ তাদেরকে ভূমিধসের মাধ্যমে মাটির নিচে গেঁথে দেবেন এবং তাদের মধ্য থেকে অনেককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন।"

এই হাদীসটি গান গাওয়া, বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা এবং তা শোনার নিষিদ্ধতার প্রমাণ দেয়। আর এর ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি আসার কারণে এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

চতুর্থ দিক হলো, গান তার স্বীয় সত্তাগত কারণেই হারাম, চাই এর সাথে অশ্লীলতা, পাপাচার বা মদ্যপান যুক্ত থাকুক বা না থাকুক। আর যদি উল্লেখিত বিষয়গুলোর কোনোটি এর সাথে যুক্ত হয়, তবে তা হারামের দিক থেকে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে; কারণ তখন এটি দুটি হারাম বিষয়ের সমষ্টিতে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) তিবরিয়াতুল খলীফাতিল আদিল ওয়ার রদ্দু আলাল মুজাদিলি বিল বাতিল (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌(فصل)

واما قوله: دع عنك ما يتشدق به المتزمتون من ان الدين يحظره وان الشرع لا يبيحه.

فجوابه من وجهين. احدهما ان يقال ان الذين يحرمون الغناء ليسوا بالمتشدقين ولا بالمتزمتين كما رماهم بذلك صاحب النبذة بغياً وظلماً. وانما هم متمسكون بما جاء عن الله ورسوله صلى الله عليه وسلم في ذلك ومتبعون لخيار هذه الأمة من الصحابة والتابعين وأئمة العلم والهدي من بعدهم. ومن سار على الصراط المستقيم فليس بمتشدق ولا متزمت وانما المتشدق من اتبع غير سبيل المؤمنين وجادل بالباطل ليدحض به الحق كصاحب النبذة واشباهه.

الوجه الثاني ان النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الغناء وسماه الصوت الاحمق الفاجر وقرنه بالنياحة واخبر انه ملعون في الدنيا والآخرة. وأخبر أيضا ان أقواماً من أمته يستحلونه وان الله يخسف بهم الارض ويجعل منهم القردة والخنازير. وقرن استحلاله باستحلال الزنا والخمر ولبس الحرير للرجال. فهل يقول صاحب النبذة ان هذا تشدق وتزمت. وهل يقول ايضا ان اقوال الصحابة والتابعين وتابعيهم في ذم الغناء والمنع عنه كلها تشدق وتزمت. أم ماذا يجيب به عن كلامه السيء الذي لم يتأمل فيه وفيما يترتب عليه.
(পরিচ্ছেদ)

আর তার বক্তব্য: "কট্টরপন্থীরা যা বলে বেড়ায় তা ছেড়ে দাও যে, ধর্ম একে নিষিদ্ধ করে এবং শরীয়ত একে অনুমতি দেয় না।"

এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়। প্রথমত, বলা হবে যে যারা গান-বাজনা হারাম করেন তারা বাগাড়ম্বরকারী বা কট্টরপন্থী নন, যেমনটি 'নুবযাহ' লেখক অন্যায়ভাবে ও জুলুমবশত তাদের প্রতি অপবাদ দিয়েছেন। বরং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন এবং এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী জ্ঞান ও হিদায়াতের ইমামগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। আর যে ব্যক্তি সরল পথে চলে সে বাগাড়ম্বরকারী বা কট্টরপন্থী নয়; বরং প্রকৃত বাগাড়ম্বরকারী সেই ব্যক্তি যে মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করে এবং সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য বাতিল দিয়ে তর্ক করে, যেমন 'নুবযাহ' লেখক ও তার সমমনা ব্যক্তিরা।

দ্বিতীয় দিক হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গান-বাজনা নিষেধ করেছেন এবং একে 'নির্বোধ পাপাচারী কণ্ঠস্বর' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি একে বিলাপের সাথে তুলনা করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে এটি দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তাঁর উম্মতের কিছু সম্প্রদায় একে হালাল মনে করবে, ফলে আল্লাহ তাদের ভূমিধসে বিলীন করবেন এবং তাদের বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করবেন। তিনি গান-বাজনা হালাল জ্ঞান করাকে ব্যভিচার, মদ্যপান এবং পুরুষদের রেশম পরিধান হালাল করার সমপর্যায়ে রেখেছেন। এমতাবস্থায় 'নুবযাহ' লেখক কি বলবেন যে এটিও বাগাড়ম্বর ও কট্টরপন্থা? তিনি কি সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের অনুসারীদের গান-বাজনার নিন্দা ও তা নিষিদ্ধ করার বক্তব্যসমূহকেও বাগাড়ম্বর ও কট্টরপন্থা বলবেন? নাকি তিনি তাঁর এই মন্দ বক্তব্যের কী জবাব দেবেন, যা নিয়ে এবং এর পরিণাম নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তা করেননি।