(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: -)
إيضاح المحجة في الرد على صاحب طنجة   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: إيضاح المحجة في الرد على صاحب طنجة

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: مؤسسة النور للطباعة والتجليد، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1385 هـ

عدد الصفحات: 194

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

ইযাহুল মাহাজ্জাহ ফি আর-রাদ্দি আলা সাহিবি তানজাহ (তানজাহর অধিবাসীর খণ্ডনে সঠিক পথের স্পষ্ট ব্যাখ্যা)   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরি)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডনসমূহ


গ্রন্থ: ইযাহুল মাহাজ্জাহ ফি আর-রাদ্দি আলা সাহিবি তানজাহ (তানজাহর অধিবাসীর খণ্ডনে সঠিক পথের স্পষ্ট ব্যাখ্যা)

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুয়াইজিরি (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরি)

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুন নূর লিত-তিবাআতি ওয়াত-তাজলিদ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: -)
إيضاح المحجة في الرد على صاحب طنجة

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين

 

مؤسسة النور
তনজাহর অধিবাসীর খণ্ডনে সঠিক পথের বিশদ ব্যাখ্যা

 

রচনায়

আল্লাহ তাআলার প্রতি মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরী

আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন

 

আল-নূর ফাউন্ডেশন
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২)
من مطبوعات دار الإفتاء

(توزع مجاناً)
দারুল ইফতা-র প্রকাশনা থেকে

(বিনামূল্যে বিতরণের জন্য)
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

تقديم بقلم:

مفتي البلاد السعودية

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده وبعد فقد اطلعت على هذا المؤلف لفضيلة الشيخ حمود بن عبد الله التويجري الموسوم (بإيضاح المحجة في الرد على صاحب طنجة) كشفاً للشبهات للردود عليه وإبطالا لترهاته، فوجدته ردا كافياً شافياً، فجزى الله الشيخ حموداً خيراً وزاده من التصدي لنصرة الدين ورد شبهات المبطلين.

قاله الفقير إلى عفو الله محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم. … 14/ 5/ 1385

الختم:

محمد بن إبراهيم آل الشيخ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

উপস্থাপনা:

সৌদি আরবের মুফতি

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর, আমি শ্রদ্ধেয় শাইখ হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরি রচিত 'ইদাহুল মাহাজ্জাহ ফির রাদ্দি আলা সাহিবে তানজাহ' (তানজাহর অধিবাসীর খণ্ডনে সত্যপথের স্পষ্টীকরণ) নামক গ্রন্থটি পাঠ করেছি, যা সংশয়সমূহ উন্মোচন ও খণ্ডন এবং বাতিলপন্থীদের অসারতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে লিখিত। আমি একে একটি পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক উত্তর হিসেবে পেয়েছি। অতএব আল্লাহ শাইখ হামুদকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং দ্বীনের সাহায্যার্থে কাজ করা ও বাতিলপন্থীদের সংশয় নিরসনে তাঁর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে দিন।

এটি বলেছেন আল্লাহর ক্ষমার মুখাপেক্ষী মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন আব্দুল লতিফ। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। … ১৪/ ৫/ ১৩৮৫ হিজরি

সীলমোহর:

মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম আলুশ শাইখ
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين. والعاقبة للمتقين. ولا عدوان الا على الظالمين.

وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له الملك الحق المبين. وأشهد أن محمداً عبده ورسوله الصادق الأمين. صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم باحسان إلى يوم الدين. وسلم تسليماً كثيرا.

أما بعد فقد وقفت على مؤلف لاحمد بن محمد بن الصديق الغماري الحسني من اهالي طنجة البلدة المعروفة في اقصى المغرب. سماه «مطابقة الاختراعات العصرية. لما اخبر به سيد البرية» فرأيت فيه اخطاءا كثيرة من تأويل الآيات والأحاديث على غير تأويلها ومن وقيعة في انصار الدين. ومدح واطراء لاعداء الدين. إلى غير ذلك من الاخطاء التي قد شوه بها كتابه. وقد نبهت على ما لا يسع السكوت عنه من تلك الاخطاء خشية ان يغتر بها من قل نصيبه من العلم النافع.

والله المسئول ان يوفقني واخواني المسلمين لما يحب ويرضى من الاقوال والاعمال. وان يرينا الحق حقا ويرزقنا اتباعه. ويرينا الباطل باطلا ويرزقنا اجتنابه ولا يجعله ملتبسا علينا فنضل.

وما اشير اليه من صفحات الكتابِ فالمراد بذلك الطبعة الثانية سنة 1379 هـ مطبعة محمد عاطف.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর জালিমদের ব্যতীত অন্য কারো প্রতি কোনো শত্রুতা নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি সত্য ও সুস্পষ্ট অধিপতি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সবার ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আমি মরক্কোর দূরবর্তী অঞ্চলের সুপরিচিত শহর তানজাহর অধিবাসী আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সিদ্দিক আল-গুমারি আল-হাসানির একটি রচনার সন্ধান পেয়েছি। তিনি এর নামকরণ করেছেন ‘মুতাবাকাতুল ইখতিরাআত আল-আসরিয়া লিমা আখবারা বিহি সাইয়্যিদুল বারিয়্যাহ’ (সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তার ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে আধুনিক আবিষ্কারসমূহের সংগতি)। আমি এতে আয়াত ও হাদীসের অপব্যাখ্যা, দ্বীনের সাহায্যকারীদের প্রতি বিষোদগার এবং ইসলামের শত্রুদের অহেতুক প্রশংসা ও স্তুতিসহ অসংখ্য ভুল দেখতে পেয়েছি। এ জাতীয় আরও অনেক ভুল রয়েছে যার দ্বারা তিনি তাঁর কিতাবটিকে কলঙ্কিত করেছেন। আমি সেই সব ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করেছি যেগুলোর বিষয়ে নীরব থাকা সম্ভব নয়; এই আশঙ্কায় যে, যাদের উপকারী ইলম বা জ্ঞান সামান্য, তারা যেন এর দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের সেই সব কথা ও কাজের তাওফীক দান করেন যা তিনি ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। তিনি যেন আমাদের নিকট সত্যকে সত্য হিসেবে উদ্ভাসিত করেন এবং তা অনুসরণের তাওফীক দেন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে উদ্ভাসিত করেন এবং তা বর্জনের তাওফীক দেন; এবং সত্য-মিথ্যা যেন আমাদের কাছে অস্পষ্ট না হয়ে পড়ে যার ফলে আমরা পথভ্রষ্ট হতে পারি।

বইটির যেসব পৃষ্ঠা নম্বরের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তার দ্বারা ১৩৭৯ হিজরীর মুহাম্মদ আতিফ ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণ উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
فصل

قال المؤلف في خطبة الكتاب ما نصه.

أما بعد فان علم النبي صلى الله عليه وسلم بالغيب واطلاع الله تعالى اياه على ما كان وما يكون الى قيام الساعة والى ان يصير الفريقان الى منازلهم من الجنة أو النار، بل وما بعد ذلك الى ما لا نهاية له من الازمان، معلوم ضرورة لأهل الايمان، مقطوع به عند اهل المعرفة والإيقان؛ لا يختلف في ذلك منهم اثنان ولا يشك فيه فاضلان.

والجواب ان يقال أما اطلاع الله تعالى لرسوله محمد صلى الله عليه وسلم على ما كان وما يكون الى قيام الساعة والى أن يصير الفريقان الى منازلهم من الجنة أو النار فهذا صحيح، وقد جاء في ذلك عدة احاديث ذكر المصنف بعضها، منها حديث عمر رضي الله عنه قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقاما فاخبرنا عن بدء الخلق حتى دخل اهل الجنة منازلهم واهل النار منازلهم حفظ ذلك من حفظه ونسيه من نسيه رواه البخاري تعليقا مجزوما به ووصله الطبراني وأبو نعيم.

ومنها حديث حذيفة رضي الله عنه قال لقد خطبنا النبي صلى الله عليه وسلم خطبته ما ترك فيها شيئا الى قيام الساعة الا ذكره علمه من علمه وجهله من جهله. رواه الامام احمد والشيخان وابو داود.

ومنها حديث حذيفة ايضا رضي الله عنه قال اخبرني رسول الله صلى الله عليه وسلم بما هو كائن الى ان تقوم الساعة فما منه شيء الا قد سألته الا اني لم أسأله ما يخرج اهل المدينة من المدينة رواه الامام احمد وابو داود الطيالسي ومسلم.
পরিচ্ছেদ

গ্রন্থকার তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন তা নিম্নরূপ:

অনন্তর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অদৃশ্যের জ্ঞান এবং মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁকে অতীত ও কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সে বিষয়ে অবগত করা, এমনকি জান্নাতী ও জাহান্নামীরা যখন নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে যাবে সেই সময় পর্যন্ত এবং এর পরবর্তী অনন্তকাল পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে—সে সম্পর্কে নবীজীর জ্ঞান থাকা মুমিনদের নিকট অকাট্যভাবে সুপরিচিত এবং প্রজ্ঞা ও দৃঢ় বিশ্বাসের অধিকারীদের কাছে সুনিশ্চিত বিষয়। এই বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই এবং কোনো দুজন বিজ্ঞ ব্যক্তিও এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না।

এর উত্তর হলো, মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টিজগতের শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে ও ঘটবে এবং দুই দল যখন জান্নাত ও জাহান্নামের নিজ নিজ ঠিকানায় পৌঁছে যাবে—তদবধি সব বিষয়ে অবগত করার বিষয়টি সত্য। এ প্রসঙ্গে বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে গ্রন্থকার কিছু হাদীস উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসটি উল্লেখযোগ্য; তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে এক স্থানে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং আমাদের সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে জান্নাতবাসীদের জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে প্রবেশ করা পর্যন্ত সবকিছু অবহিত করলেন। যে এটি মুখস্থ রাখার সে রাখল, আর যে ভুলে যাওয়ার সে ভুলে গেল।" এটি ইমাম বুখারী সুনিশ্চিত সূত্রের (মুয়াল্লাক) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তাবারানী ও আবু নুআইম এটি নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন।

অন্যান্য হাদীসের মধ্যে হযরত হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসটি রয়েছে; তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে এমন এক ভাষণ দিলেন যেখানে তিনি কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার কোনোটিই বাদ দেননি; বরং সবকিছুর বর্ণনা দিয়েছেন। যে তা জানার সে জেনেছে, আর যে তা জানে না সে জানে না।" এটি ইমাম আহমদ, শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

হযরত হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আরও একটি হাদীসে আছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। এমন কোনো বিষয় ছিল না যা আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিনি; তবে আমি কেবল এটুকু জিজ্ঞাসা করিনি যে, কোন বিষয়টি মদীনার অধিবাসীদের মদীনা থেকে বের করে দেবে।" এটি ইমাম আহমদ, আবু দাউদ তায়ালিসী এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ومنها حديث ابي زيد وهو عمرو بن اخطب الانصاري رضي الله عنه قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الفجر وصعد المنبر فخطبنا حتى حضرت الظهر فنزل فصلى ثم صعد المنبر فخطبنا حتى حضرت العصر ثم نزل فصلى ثم صعد المنبر فخطبنا حتى غربت الشمس فاخبرنا بما كان وبما هو كائن فاعلمنا احفظنا رواه الامام احمد ومسلم.

ومنها حديث ابي سعيد الخدري رضي الله عنه قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما صلاة العصر بنهار ثم قام خطيبا فلم يدع شيئا يكون الى قيام الساعة الا اخبر به حفظه من حفظه ونسيه من نسيه رواه الامام احمد وابو داود الطيالسي والترمذي والحاكم.

وقال الترمذي هذا حديث حسن.

ومنها حديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه قال قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقاماً اخبرنا بما يكون في امته الى يوم القيامة وعاه من وعاه ونسيه من نسيه رواه الامام احمد والطبراني.

ومنها حديث عمر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (ان الله عز وجل قد رفع لي الدنيا فانا انظر اليها والى ما هو كائن فيها الى يوم القيامة كأنما انظر الى كفي هذه) رواه الطبراني.

وأما علمه صلى الله عليه وسلم بما بعد دخول الجنة والنار الى ما لا نهاية له من الازمان فهذا لا دليل عليه. وقد قال الله تعالى (ولا تقف ما ليس لك به علم) وقد استدل المصنف على ذلك بقول الله تعالى (عالم الغيب فلا يظهر على غيبه احدا. الا من ارتضى من رسول) ولا دليل في الآية على ما ذهب اليه.
এগুলোর মধ্যে রয়েছে আবু যায়েদ অর্থাৎ আমর ইবনে আখতাব আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং মিম্বরে আরোহণ করলেন। এরপর তিনি যোহরের ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন। অতঃপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে সালাত আদায় করলেন এবং পুনরায় মিম্বরে আরোহণ করলেন। এরপর আসরের ওয়াক্ত হওয়া পর্যন্ত আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন। অতঃপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে সালাত আদায় করলেন এবং পুনরায় মিম্বরে আরোহণ করলেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন। তিনি আমাদের নিকট যা কিছু অতীতে ঘটেছে এবং যা কিছু ভবিষ্যতে ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ দিলেন। আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক জ্ঞানী যে সবচেয়ে বেশি মুখস্থ রাখতে পেরেছে। ইমাম আহমাদ ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

এগুলোর মধ্যে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন দিনের বেলা আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে গেলেন। কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার মধ্যে এমন কোনো কিছুই তিনি বাদ দেননি যে সম্পর্কে তিনি সংবাদ দেননি। যে তা মুখস্থ রাখার সে মুখস্থ রেখেছে এবং যে ভুলে যাওয়ার সে তা ভুলে গিয়েছে। ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ আত-তায়ালিসী, তিরমিযী এবং হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তিরমিযী বলেন, এটি একটি হাসান হাদীস।

এগুলোর মধ্যে মুগীরা ইবনে শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে এক স্থানে দাঁড়ালেন এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাঁর উম্মতের মাঝে যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিলেন। যে তা মনে রাখার সে মনে রেখেছে এবং যে ভুলে যাওয়ার সে তা ভুলে গিয়েছে। ইমাম আহমাদ ও তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেন।

এগুলোর মধ্যে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমার সামনে পৃথিবী উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, ফলে আমি পৃথিবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত এতে যা কিছু ঘটবে তার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছি যেন আমি আমার এই হাতের তালুর দিকে তাকাচ্ছি।" তাবারানী এটি বর্ণনা করেছেন।

আর জান্নাত ও জাহান্নামে প্রবেশের পরবর্তী অনন্তকালের ঘটনাবলী সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জ্ঞানের বিষয়ে কোনো দলীল নেই। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না।" লেখক এ বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন: "তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না; তবে তাঁর মনোনীত কোনো রাসূল ব্যতীত।" অথচ লেখক যে মত পোষণ করেছেন, এই আয়াতে তার পক্ষে কোনো দলীল নেই।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
فصل

وقال المصنف في صفحة 6 وصفحة 7 ما نصه.

فمن تلك الامور العظام التي قال صلى الله عليه وسلم اننا سنراها بابور السكة الحديد والاوطمبيل والبسكليتة وما في معناها.

وقد اخبر بها صلى الله عليه وسلم بخصوصها ووردت الاشارة اليها في القرآن والاحاديث النبوية.

أما القرآن ففي ثلاث آيات حسبما حضر لنا، الآية الاولى قوله تعالى (وآية لهم انا حملنا ذريتهم في الفلك المشحون. وخلقنا لهم من مثله ما يركبون) أي خلقنا لهم مما يماثل الفلك المشحون ما يركبون في البر. والذي يماثل الفلك المشحون في كبره وكثرة حمله هو بابور السكة الحديد وسيارات النقل التي تحمل عشرات الركاب مع بضائعهم وحاجياتهم وتكون مارة كأنها الاعلام طولا وعلوا كما وصف الله تعالى به السفن الجواري في البحر كالاعلام. وكذلك بابور السكة الحديد بل هو أولى بالشبه والمثلية للفلك المشحون.

أما المفسرون الذين فسروا المثل في الآية بالابل فمعذورون لانه لم يكن في زمانهم ما يشبه الفلك في حمل الركاب والبضائع فاضطروا لحمل الآية على الابل، وان كان حملا باطلا مقطوعا ببطلانه لان الفلك المشحون يحمل العشرات من الناس باثقالهم ويحمل مع ذلك الكثير من السلع والبضائع، وهذا بالنسبة لما كان في زمانهم، أما ما حدث
পরিচ্ছেদ

গ্রন্থকার ৬ এবং ৭ পৃষ্ঠায় যা বলেছেন তার ভাষ্য নিম্নরূপ:

সেই সব মহান বিষয়াবলীর মধ্যে, যেগুলোর ব্যাপারে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে আমরা অচিরেই তা দেখতে পাব, তা হলো রেলগাড়ি, অটোমোবাইল (মোটরগাড়ি), বাইসাইকেল এবং এই জাতীয় অন্যান্য মাধ্যম।

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিশেষভাবে এগুলোর সংবাদ দিয়েছেন এবং কুরআন ও হাদীসে এগুলোর প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।

কুরআনের ক্ষেত্রে আমাদের সামনে তিনটি আয়াত উপস্থিত হয়েছে; যার প্রথমটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের জন্য একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের বংশধরদেরকে মালবোঝাই নৌকায় আরোহণ করিয়েছি। এবং তাদের জন্য আমি এর অনুরূপ এমন যানবাহন সৃষ্টি করেছি যাতে তারা আরোহণ করে।" অর্থাৎ, আমি তাদের জন্য মালবোঝাই নৌকার সদৃশ এমন কিছু সৃষ্টি করেছি যাতে তারা স্থলে আরোহণ করে। আর বিশালত্ব এবং অধিক মাল বহনের ক্ষেত্রে যা মালবোঝাই নৌকার সাথে সাদৃশ্য রাখে, তা হলো রেলগাড়ি এবং পণ্যবাহী যানবাহন, যা অসংখ্য যাত্রীসহ তাদের মালামাল ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বহন করে এবং চলার পথে এগুলো দৈর্ঘ্য ও উচ্চতায় পাহাড়ের মতো মনে হয়, যেমনটি মহান আল্লাহ সমুদ্রগামী জাহাজসমূহকে পাহাড়ের মতো বলে বর্ণনা করেছেন। ঠিক তেমনি রেলগাড়িও, বরং এটি মালবোঝাই নৌকার সাথে সাদৃশ্য ও তুলনার ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগণ্য।

তবে যেসব মুফাসসিরীন এই আয়াতে বর্ণিত 'অনুরূপ বস্তু'র ব্যাখ্যা 'উট' দ্বারা করেছেন, তারা ক্ষমার যোগ্য; কেননা তাদের যুগে যাত্রী ও মালপত্র বহনের ক্ষেত্রে নৌকার সদৃশ অন্য কিছু ছিল না, ফলে তারা আয়াতটিকে উটের ওপর প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও এটি একটি অসার ব্যাখ্যা এবং এর অসারতা সুনিশ্চিত, কারণ মালবোঝাই জাহাজ বা নৌকা অসংখ্য মানুষকে তাদের ভারী বোঝাসহ বহন করে এবং সেই সাথে প্রচুর পণ্য ও মালামালও বহন করে। আর এটি ছিল তাদের যুগের প্রেক্ষাপটে, তবে যা পরবর্তীতে উদ্ভাবিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
في زماننا فالسفينة تحمل الآلاف من الناس ومن القناطر المقنطرة من البضائع، ثم السفن التي كانت في زمانهم ايضا مع كبرها وحملها الكثير من الركاب والاثقال كانت تجري في البحر جريا حثيثا بالرياح كما قال تعالى (وله الجواري المنشئات في البحر كالاعلام).

وكل ذلك مخالف لوصف الابل تمام المخالفة فمشيها بطيء للغاية وحملها لا يقاس بحمل السفن بل كانت السفينة تحمل ما يزيد على حمل مائة بعير، فكيف يصح تفسير الآية بها، بل ذلك باطل قطعا.

وإنما الذي يماثل الفلك المشحون تمام الماثلة في كثرة حمله وسرعة سيره في البحر هو بابور السكة الحديد ثم السيارات فهي المرادة بالآية جزما.

وقد قال ابن عباس والحسن والضحاك وجماعة في الآية المذكورة وخلقنا لهم سفنا امثال تلك السفن يركبونها. قال النحاس وهذا اصح لانه متصل الاسناد عن ابن عباس، وهذا يدل على شفوف نظر ابن عباس رضي الله عنهما ونظره بنور الله تعالى في معاني القرآن الكريم تصديقا لدعاء رسول الله صلى الله عليه وسلم اذ قال «اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل». فان وجود السفينة في البر لا يخطر ببال احد ولا يكاد ينطق به عاقل في ذلك الوقت، ولكن ابن عباس رضي الله عنهما نظر الى الغيب من ستر رقيق اذ قال ذلك فكان هو المطابق للحال الموافق للواقع، انتهى المقصود من كلامه. وفيه ثلاثة أخطاء.
বর্তমান যুগে একটি জাহাজ হাজার হাজার মানুষ এবং প্রচুর পরিমাণ পণ্য সামগ্রী বহন করে; আবার তাদের যুগের জাহাজগুলোও—বিশাল আকৃতি এবং বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও মালামাল বহন করা সত্ত্বেও—বাতাসের সাহায্যে সমুদ্রে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলত, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "সমুদ্রে বিচরণশীল পাহাড়সম জাহাজসমূহ তাঁরই (দান)।"

আর এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য উটের বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত; কারণ উটের গতি অত্যন্ত ধীর এবং এর ভার বহনের ক্ষমতা জাহাজের সাথে কোনোভাবেই তুলনীয় নয়। বরং একটি জাহাজ একশটিরও বেশি উটের সমান ভার বহন করতে পারত। এমতাবস্থায় উটের মাধ্যমে আয়াতের তাফসির করা কীভাবে সঠিক হতে পারে? বরং তা নিশ্চিতভাবেই অসার ও বাতিল।

প্রকৃতপক্ষে, মালবোঝাই জাহাজের সাথে ভার বহনের প্রাচুর্য এবং গতির দ্রুততার দিক থেকে যার পূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে, তা হলো রেলগাড়ি এবং পরবর্তীতে মোটরগাড়ি; সুতরাং আয়াতে নিশ্চিতভাবে এগুলোই উদ্দেশ্য।

ইবনে আব্বাস, হাসান, যাহহাক এবং একদল আলিম উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায়—"এবং আমি তাদের জন্য অনুরূপ বস্তু সৃষ্টি করেছি যেগুলোতে তারা আরোহণ করে"—বলেছেন যে, এর দ্বারা জাহাজ সদৃশ যান বুঝানো হয়েছে। ইমাম নাহহাস বলেন, এটিই অধিকতর সঠিক মত; কেননা ইবনে আব্বাস থেকে এর বর্ণনাসূত্র অবিচ্ছিন্ন। এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সূক্ষ্ম দূরদৃষ্টির এবং পবিত্র কুরআনের মর্মার্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর প্রদত্ত নূরের সাহায্যে তাঁর পর্যবেক্ষণের প্রমাণ দেয়, যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই দুআরই সত্যতা প্রমাণ করে যেখানে তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! আপনি তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে ব্যাখ্যাতত্ত্ব শিক্ষা দিন।" কেননা সেই সময়ে স্থলপথে জাহাজের অস্তিত্ব কারো কল্পনাতেও আসত না এবং কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ তা উচ্চারণও করত না। কিন্তু ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন এ কথা বলেছিলেন, তখন তিনি যেন এক সূক্ষ্ম পর্দার অন্তরাল থেকে অদৃশ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করেছিলেন; ফলে তাঁর সেই বক্তব্য বর্তমান পরিস্থিতির সাথে হুবহু মিলে গেছে এবং বাস্তবসম্মত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু এখানেই সমাপ্ত। তবে এতে তিনটি ভুল রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الأول: قوله ان حمل الآية على الابل باطل مقطوع ببطلانه.

والثاني: قوله ان بابور السكة الحديد والسيارات هي المرادة بالآية جزما.

والثالث: زعمه ان ابن عباس رضي الله عنهما حين قال وخلقنا لهم سفنا امثال تلك السفن يركبونها اراد بذلك السيارات وبابور السكة الحديد.

والجواب عن هذه الاخطاء وعما ذهب اليه في تفسير الآية من وجوه.

 

الأول: أن الله تعالى عبر في الآية بصيغة الماضي الذي قد وقع فقال تعالى (وخلقنا لهم من مثله ما يركبون). وهذا صريح في إرادة السفن الموجودة في زمن النزول وما قبله. ولو كان المراد بها ما حدث بعد النزول باكثر من الف وثلاثمائة سنة لعبر عن ذلك بصيغة المستقبل.

وهذا ظاهر في ابطال ما جزم به المصنف في تفسير الآية الكريمة، يوضح ذلك.

 

‌‌الوجه الثاني: وهو ان الله تعالى امتن على عباده بما يسره من حمل ابائهم في سفينة نوح عليه الصلاة والسلام وجعل ذلك من آياته الدالة على كمال قدرته. ثم امتن عليهم بما خلق لهم من السفن المشابهة لسفينة نوح ليشكروه على ما انعم به عليهم ويفردوه بالعبادة. واول من خوطب بهذا التذكير والامتنان هم كفار قريش ومن حولهم من أحياء العرب.
প্রথমত: তাঁর এই দাবি যে, আয়াতটিকে উটের ওপর প্রয়োগ করা বাতিল এবং এর অসারতা নিশ্চিত।

দ্বিতীয়ত: তাঁর এই উক্তি যে, রেলগাড়ি ও মোটরগাড়িই এই আয়াতের নিশ্চিত উদ্দেশ্য।

তৃতীয়ত: তাঁর এই ধারণা যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন বলেছিলেন—"এবং আমি তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি উক্ত জলযানের সদৃশ এমন কিছু যাতে তারা আরোহণ করে"—তখন তিনি এর দ্বারা মোটরগাড়ি ও রেলগাড়ি উদ্দেশ্য করেছিলেন।

এসব ভুলভ্রান্তি এবং উক্ত আয়াতের তাফসীরে তিনি যে মত গ্রহণ করেছেন, তার উত্তর কয়েকটি দিক থেকে প্রদান করা হলো।

 

প্রথমত: মহান আল্লাহ আয়াতে অতীতকালীন ক্রিয়ার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যা ইতিপূর্বেই সংঘটিত হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর আমি তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি অনুরূপ এমন কিছু যাতে তারা আরোহণ করে।" এটি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময়কালে এবং তার পূর্বে বিদ্যমান জলযানসমূহকে উদ্দেশ্য করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। আর যদি এর দ্বারা ওহী অবতীর্ণ হওয়ার তেরোশ বছরেরও বেশি সময় পরে আবিষ্কৃত হওয়া বিষয়সমূহ উদ্দেশ্য হতো, তবে অবশ্যই তা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্ত করা হতো।

সম্মানিতা এই আয়াতের তাফসীরে লেখক যা দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন, তার অসারতা প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট; যা বিষয়টিকে পরিষ্কার করে দেয়।

 

‌‌দ্বিতীয় দিক: আর তা হলো মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি নূহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নৌকায় তাদের পূর্বপুরুষদের বহন করার সহজ সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন এবং একে তাঁর পূর্ণ কুদরতের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি নূহের নৌকার সদৃশ অন্যান্য জলযান সৃষ্টি করে তাঁদের প্রতি কৃপা করেছেন, যাতে তারা তাঁর প্রদত্ত নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করে এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে। আর এই উপদেশ ও অনুগ্রহের বর্ণনায় সর্বপ্রথম সম্বোধিত হয়েছেন কুরাইশ কাফেররা এবং তাদের আশপাশের আরব গোত্রসমূহ।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ويدل على ذلك قوله تعالى في اول السورة (لتنذر قوما ما انذر اباؤهم فهم غافلون) وقوله بعد الآية التي ذكر فيها الفلك (وما تأتيهم من آية من آيات ربهم الا كانوا عنها معرضين).

وليس من المعقول ان يخاطبهم الله تعالى ويذكرهم بما لا يعرفونه وان يمتن عليهم بما يحدث بعدهم باكثر من الف وثلثمائة سنة.

 

‌‌الوجه الثالث: ان الله تعالى عقب الآية بقوله (وإن نشأ نغرقهم فلا صريخ لهم ولا هم ينقذون) وهذا واضح في إرادة السفن التي تجري في البحر. ولو كان المراد ما حدث من السيارات وبابور السكة الحديد لكان ذكر الغرق ههنا لا معنى له ولا فائدة في ذكره.

‌‌الوجه الرابع: ان ابن عباس رضي الله عنهما قال في تفسير الآية هي السفن جعلت من بعد سفينة نوح على مثلها. وكذا قال ابو مالك والضحاك وقتادة وابو صالح والسدي ان المراد بذلك السفن. وهذا يرد ما زعمه المصنف من ان ابن عباس رضي الله عنهما اراد بذلك السيارات وبابور السكة الحديد.

وقال العوفي عن ابن عباس رضي الله عنهما يعني بذلك الإبل. فانها سفن البر يحملون عليها ويركبونها. وكذلك قال عكرمة ومجاهد والحسن وغيرهم. ويشهد لهذا قول الله تعالى (وإن لكم في الانعام لعبرة نسقيكم مما في بطونها ولكم فيها منافع كثيرة ومنها تأكلون. وعليها وعلى الفلك تحملون) وهذا يرد قول المصنف إن حملها على الابل باطل مقطوع ببطلانه. والقول الأول أقوى وأولى بظاهر الآية والله أعلم.
এর প্রমাণ হলো সূরার শুরুতে আল্লাহ তাআলার বাণী: "যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করতে পারেন যাদের পূর্বপুরুষদের সতর্ক করা হয়নি, ফলে তারা উদাসীন।" এবং নৌকা বা জাহাজের বর্ণনার পরের আয়াতে আল্লাহর বাণী: "তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলির মধ্য থেকে যখনই তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।"

এটা যুক্তিসঙ্গত নয় যে, আল্লাহ তাআলা তাদের এমন কিছু নিয়ে সম্বোধন করবেন এবং স্মরণ করিয়ে দেবেন যা তারা জানে না, অথবা তাদের পরবর্তী তেরশ বছরেরও বেশি সময় পরে যা ঘটবে তা নিয়ে তাদের ওপর অনুগ্রহ প্রকাশ করবেন।

 

‌‌তৃতীয় দিক: আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের পর ইরশাদ করেছেন: "আর আমি ইচ্ছা করলে তাদের ডুবিয়ে দিতে পারি, তখন তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না এবং তারা রক্ষা পাবে না।" এটি সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযান বা জাহাজকে বুঝানোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। যদি এর দ্বারা মোটরগাড়ি বা রেলগাড়ি উদ্দেশ্য হতো, তবে এখানে ডুবে যাওয়ার প্রসঙ্গের কোনো অর্থ বা উপযোগিতা থাকত না।

‌‌চতুর্থ দিক: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এই আয়াতের তাফসিরে বলেছেন, এগুলো হলো সেইসব জাহাজ যা নূহের (আলাইহিস সালাম) নৌকার অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে। আবু মালিক, যাহহাক, কাতাদাহ, আবু সালিহ এবং সুদ্দীও একইভাবে বলেছেন যে এর দ্বারা জাহাজই উদ্দেশ্য। এটি লেখকের সেই দাবিকে খণ্ডন করে যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর দ্বারা মোটরগাড়ি ও রেলগাড়ি বুঝিয়েছেন।

আওফী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এর দ্বারা উটকে বুঝানো হয়েছে। কেননা এগুলো হলো স্থলের জাহাজ, যার ওপর তারা মালপত্র বহন করে এবং আরোহণ করে। ইকরিমা, মুজাহিদ, হাসান এবং অন্যান্যরাও একই কথা বলেছেন। এর স্বপক্ষে আল্লাহ তাআলার এই বাণী প্রমাণ বহন করে: "তোমাদের জন্য গবাদি পশুর মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা রয়েছে; তাদের পেটে যা আছে তা থেকে আমি তোমাদের পান করাই, তোমাদের জন্য এতে প্রচুর উপকার রয়েছে এবং তোমরা তা থেকে আহার করো। আর তাদের ওপর এবং জলযানের ওপর তোমাদের বহন করা হয়।" এটি লেখকের সেই বক্তব্যকে খণ্ডন করে যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, উটের ওপর এটি প্রয়োগ করা বাতিল এবং এর অসারতা সুনিশ্চিত। তবে আয়াতের বাহ্যিক অর্থের বিবেচনায় প্রথম অভিমতটিই অধিক শক্তিশালী ও অগ্রগণ্য। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الوجه الخامس: ان الصحابة رضي الله عنهم اعلم بتفسير القرآن ممن جاء بعدهم ولا سيما حبر الأمة وترجمان القرآن ابن عباس رضي الله عنهما، وقد فسر المراد من الآية بالسفن وفسره ايضا بالابل لاشتراكها مع السفن في حمل الاثقال والركوب عليها ومع هذا يقول المصنف ان حمل الآية على الابل باطل مقطوع ببطلانه، وهذه جراءة عظيمة على مقام حبر الأمة، ومن قال بقوله من أكابر التابعين.

‌‌الوجه السادس: ان الباطل قطعا هو جزم المصنف بان المراد بالآية السيارات وبابور السكة الحديد، وعزوه ذلك الى ابن عباس رضي الله عنهما وذلك من القول عليه بما لم يقله.

‌‌الوجه السابع: ان القول في القرآن بمجرد الرأي حرام. وقد ورد الوعيد الشديد على ذلك كما في الحديث الذي رواه الامام أحمد والترمذي وابن جرير والبغوي عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال «من قال في القرآن برأيه أو بما لا يعلم فليتبوأ مقعده من النار» هذا لفظ ابن جرير وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح. وروى الترمذي ايضا وابو داود وابن جرير والبغوي عن جندب بن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (من قال في القرآن برأيه فاصاب فقد اخطأ) قال الترمذي هذا حديث غريب.

قال وهكذا روي عن بعض اهل العلم من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم انهم شددوا في هذا في أن يفسر القرآن بغير علم.
পঞ্চম দিক: নিশ্চয়ই সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের তুলনায় কুরআনের তাফসীর সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত, বিশেষ করে উম্মাহর বিজ্ঞ পণ্ডিত এবং কুরআনের ব্যাখ্যাদাতা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। তিনি এই আয়াতের উদ্দেশ্য হিসেবে নৌকা বা জাহাজকে বুঝিয়েছেন এবং উটকেও বুঝিয়েছেন, কারণ ভারী বোঝা বহন ও আরোহণের ক্ষেত্রে উটের সাথে নৌকার সাদৃশ্য রয়েছে। এতদসত্ত্বেও গ্রন্থকার বলছেন যে, আয়াতটিকে উটের ওপর প্রয়োগ করা বাতিল এবং এটি নিশ্চিতভাবেই বাতিল। এটি উম্মাহর বিজ্ঞ পণ্ডিত এবং তাঁর মত অনুসরণকারী প্রথিতযশা তাবিঈগণের মর্যাদার প্রতি এক চরম ধৃষ্টতা।

ষষ্ঠ দিক: নিশ্চিতভাবে যা বাতিল তা হলো গ্রন্থকারের এই দৃঢ় উক্তি যে, আয়াতের উদ্দেশ্য হলো মোটরগাড়ি ও রেলগাড়ি; এবং একে ইবনে আব্বাসের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা। মূলত এটি তাঁর নামে এমন এক কথা বলা যা তিনি বলেননি।

সপ্তম দিক: নিছক ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করা হারাম। এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে জারীর ও বাগাভী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের বিষয়ে নিজের রায় (ব্যক্তিগত মতামত) দিয়ে কিছু বলল অথবা যা সে জানে না তা বলল, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।" এটি ইবনে জারীরের শব্দবিন্যাস এবং তিরমিযী একে 'হাসান সহীহ' হাদীস বলেছেন। তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে জারীর ও বাগাভী জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাখ্যায় নিজ রায় প্রদান করল এবং তা সঠিকও হলো, তবুও সে ভুল করল।" তিরমিযী বলেছেন যে, এটি 'গারীব' হাদীস।

তিনি বলেন, এভাবেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একদল সাহাবী এবং অন্যান্য জ্ঞানীদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা ইলম (জ্ঞান) ব্যতীত কুরআনের তাফসীর করার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وأما الذي روي عن مجاهد وقتادة وغيرهما من أهل العلم انهم فسروا القرآن فليس الظن بهم انهم قالوا في القرآن او فسروه بغير علم أو من قبل أنفسهم، وقد روي عنهم ما يدل على ما قلنا انهم لم يقولوا من قبل أنفسهم، ثم ساق باسناده عن قتادة انه قال مافي القرآن آية الا وقد سمعت فيها شيئا.

وباسناده عن مجاهد انه قال لو كنت قرأت قراءة ابن مسعود لم احتج ان أسأل ابن عباس عن كثير من القرآن مما سألت انتهى كلام الترمذي.

وقال البغوي قال شيخنا الامام قد جاء الوعيد في حق من قال في القرآن برأيه وذلك فيمن قال من قبل نفسه شيئا من غير علم.

قال وأما التفسير وهو الكلام في اسباب نزول الآية وشأنها وقصتها فلا يجوز الا بالسماع بعد ثبوته من طريق النقل انتهى.

ولا يخفى ان تفسير المصنف لقول الله تعالى (وخلقنا لهم من مثله ما يركبون) وجزمه بان المراد بذلك السيارات وبابور السكة الحديد لم يكن من طريق النقل الثابت وانما هو تفسير بمجرد الرأي فهو بذلك متعرض للوعيد الشديد والله أعلم.
মুজাহিদ, কাতাদা এবং অন্যান্য উলামায়ে কিরাম থেকে কুরআনের যে তাফসীর বর্ণিত হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কে এমন ধারণা করা সমীচীন নয় যে, তাঁরা ইলম ছাড়া অথবা নিজেদের পক্ষ থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা করেছেন। বরং তাঁদের থেকে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যা আমাদের পূর্বোক্ত বক্তব্যকেই সমর্থন করে যে, তাঁরা নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু বলেননি। অতঃপর তিনি নিজ সনদে কাতাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কুরআনের এমন কোনো আয়াত নেই যার ব্যাপারে আমি কিছু শুনিনি।"

এবং তিনি নিজ সনদে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি যদি ইবনে মাসউদের কিরাআত অনুযায়ী পাঠ করতাম, তবে ইবনে আব্বাসকে কুরআনের অনেক বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হতো না যা আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি।" ইমাম তিরমিযীর বক্তব্যের সমাপ্তি এখানেই।

ইমাম বগভী বলেন, আমাদের শাইখ ও ইমাম বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের রায় বা মতামতের ভিত্তিতে কুরআনের ব্যাখ্যা করবে, তার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি বা শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আর এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে ইলম ছাড়া নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলে।

তিনি আরও বলেন, আর তাফসীর—অর্থাৎ আয়াতের শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), অবস্থা ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করা—তা নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনার ভিত্তিতে শোনা ছাড়া জায়েয নয়। সমাপ্ত।

এটি সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ তাআলার বাণী—"এবং আমি তাদের জন্য অনুরূপ এমন কিছু সৃষ্টি করেছি যাতে তারা আরোহণ করে"—এর ব্যাখ্যায় গ্রন্থকারের এই সুনিশ্চিত দাবি যে, এর দ্বারা মোটরগাড়ি এবং রেলগাড়ি বোঝানো হয়েছে, তা কোনো প্রমাণিত বর্ণনার ভিত্তিতে নয়; বরং এটি নিছক ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কৃত তাফসীর। ফলে এর মাধ্যমে তিনি সেই কঠোর হুঁশিয়ারির সম্মুখীন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فصل

وقال المصنف في صفحة 7 وصفحة 8 ما نصه.

الآية الثالثة قوله تعالى في اشراط الساعة (واذا العشار عطلت) أي عن السفر عليها وحمل الاثقال عليها.

والعشار هي الابل التي قد أتى عليها عشرة أشهر كما قال ثعلب وأئمة اللغة. وانما عطلت عن السفر ونقل السلع والبضائع عليها بوجود السيارات وبوابير سكة الحديد فانها بعد ظهورها لم يعد احد يسافر على الابل او يرسل بضائعه عليها الا نادرا جدا فيما لم يمكن سفر السيارات اليه حتى ان عرب الحجاز وجزيرة العرب تضرروا غاية لما عبدت الطرق في بلادهم وانتشرت فيها السيارات التي عطلت ابلهم عن العمل الذي كانوا منه يرتزقون. وقد ورد التصريح بهذا ايضا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال مسلم في صحيحه حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا ليث عن سعيد بن أبي سعيد عن عطاء بن ميناء عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «والله لينزلن ابن مريم حكما عدلا فليكسرن الصليب وليقتلن الخنزير وليضعن الجزية ولتتركن القلاص فلا يسعى عليها» الحديث. القلاص بكسر القاف جمع قلوص بفتحها وهي من الابل كالفتاة من النساء. فقوله صلى الله عليه وسلم ولتتركن القلاص فلا يسعى عليها تعيين للمراد من قوله تعالى. واذا العشار عطلت. يعني يترك استخدامها في السفر ونقل البضائع كما كان حالها من قبل.
পরিচ্ছেদ

গ্রন্থকার ৭ এবং ৮ পৃষ্ঠায় যা উল্লেখ করেছেন তার মূল পাঠ হলো:

তৃতীয় আয়াতটি কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: "যখন পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রীসমূহ পরিত্যক্ত হবে", অর্থাৎ সেগুলোর পিঠে ভ্রমণ করা এবং ভারবহন করা বন্ধ হয়ে যাবে।

‘ইশার’ বলতে সেই উষ্ট্রীকে বোঝায় যার গর্ভকাল দশ মাস পূর্ণ হয়েছে, যেমনটি ছা’লাব এবং ভাষাতত্ত্বের ইমামগণ বলেছেন। মূলত মোটরগাড়ি এবং রেলগাড়ির বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবির্ভাবের কারণেই উষ্ট্রীর মাধ্যমে ভ্রমণ এবং পণ্য পরিবহন পরিত্যক্ত হয়েছে। কেননা এগুলোর আত্মপ্রকাশের পর খুব নগণ্য ক্ষেত্র ব্যতীত—যেখানে মোটরগাড়ি পৌঁছানো সম্ভব নয়—অন্য কোথাও কেউ উটের পিঠে ভ্রমণ করে না বা পণ্য পাঠায় না। এমনকি হিজাজ এবং আরব উপদ্বীপের আরবরাও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যখন তাদের দেশসমূহে রাস্তাঘাট পাকা করা হয়েছে এবং মোটরগাড়ির বিস্তার ঘটেছে, যা তাদের উষ্ট্রীগুলোকে সেই কাজ থেকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে যার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করত। এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি লায়ছ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবু সাঈদ থেকে, তিনি আতা বিন মীনা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কসম! অবশ্যই মরিয়ম তনয় একজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক হিসেবে অবতরণ করবেন। তিনি অবশ্যই ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন এবং জিজিয়া রহিত করবেন। আর উষ্ট্রীগুলো অবশ্যই পরিত্যক্ত হবে, ফলে সেগুলোর ওপর সওয়ার হওয়ার জন্য কেউ চেষ্টা করবে না।” (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)। ‘কিলাস’ শব্দটি ক্বাফ বর্ণে কাসরা সহ, এটি ‘কালুস’ শব্দের বহুবচন। উটদের মধ্যে এটি মানুষের মধ্যে তরুণী মেয়ের মতো। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী—‘উষ্ট্রীগুলো অবশ্যই পরিত্যক্ত হবে এবং সেগুলোর ওপর সওয়ার হওয়ার চেষ্টা করা হবে না’—এটি মহান আল্লাহর বাণী ‘যখন পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রীসমূহ পরিত্যক্ত হবে’ এর উদ্দেশ্যকেই সুনির্দিষ্ট করে। অর্থাৎ ভ্রমণ এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সেগুলোর ব্যবহার বর্জন করা হবে, যেমনটি আগে প্রচলিত ছিল।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
والجواب عن هذا من وجوه:

 

الأول: ان الآيات في أول سورة التكوير ليست واردة في أشراط الساعة كما زعم ذلك المصنف، وإنما هي في أهوال يوم القيامة كما هو واضح من سياق الآيات، وكما هو ظاهر من كلام المفسرين من الصحابة وأئمة التابعين، والدليل على ذلك ما رواه الإمام احمد والترمذي والحاكم عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من سره ان ينظر إلى يوم القيامة كأنه رأى عين فليقرأ (اذا الشمس كورت). وإذا (السماء انفطرت). (وإذا السماء انشقت)» قال الحاكم صحيح الاسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه.

 

‌‌الوجه الثاني: ان تفسيره لآية التكوير تفسير بمجرد الرأي. وقد تقدم ان ذلك حرام ومتوعد عليه بالوعيد الشديد.

‌‌الوجه الثالث: ان أبي بن كعب رضي الله عنه وغير واحد من أكابر التابعين فسروا الآية بغير ما فسرها به المصنف وهم أعلم بكتاب الله منه. والمرجع في التفسير اليهم وإلى أمثالهم، لا إلى المتكلفين كالمصنف وأمثاله من العصريين. قال أبي بن كعب رضي الله عنه في قوله تعالى (وإذا العشار عطلت) قال أهملها أهلها، وقال عكرمة ومجاهد هي عشار الإبل، قال مجاهد عطلت تركت وسيبت وقال الربيع بن خثيم لم تحلب ولم تصر تخلى منها أربابها. وقال الضحاك تركت لا راعي لها.

قال ابن كثير والمعنى في هذا كله متقارب.
এ প্রশ্নের উত্তর বেশ কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:

 

প্রথমত: সূরা আত-তাকবীরের প্রারম্ভিক আয়াতসমূহ কিয়ামতের আলামত বা লক্ষণসমূহ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়নি, যেমনটি লেখক দাবি করেছেন; বরং এগুলি কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা সম্পর্কে। আয়াতের পূর্বাপর প্রাসঙ্গিকতা (সিয়াক) থেকে এটি সুস্পষ্ট এবং সাহাবী ও তাবিঈ ইমামগণের তাফসীর থেকেও এটি প্রতীয়মান হয়। এর প্রমাণ হলো ইমাম আহমাদ, তিরমিযী ও হাকীম কর্তৃক ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসকে এমনভাবে প্রত্যক্ষ করতে পছন্দ করে যেন সে তা স্বচক্ষে দেখছে, সে যেন পাঠ করে: ‘যখন সূর্য তার জ্যোতি হারাবে (সূরা তাকবীর)’, ‘যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে (সূরা ইনফিতার)’ এবং ‘যখন আকাশ ফেটে যাবে (সূরা ইনশিক্বাক্ব)’।” ইমাম হাকীম বলেছেন, এর সনদ সহীহ, তবে বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি এবং ইমাম যাহাবী তাঁর ‘তালখীস’-এ এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

 

‌‌দ্বিতীয় দিক: সূরা তাকবীরের আয়াতের ক্ষেত্রে তাঁর এই ব্যাখ্যা স্রেফ ব্যক্তিগত মতবাদ বা রায়প্রসূত। আর ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, এরূপ করা হারাম এবং এর পরিণাম হিসেবে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

‌‌তৃতীয় দিক: উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং বরেণ্য তাবিঈদের অনেকেই এই আয়াতের এমন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা লেখকের ব্যাখ্যার বিপরীত, আর তাঁরা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞান রাখেন। তাফসীরের ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন করতে হবে তাঁদের এবং তাঁদের ন্যায় বিজ্ঞজনদের দিকে; লেখকের মতো অহেতুক পাণ্ডিত্য জাহিরকারী এবং তাঁর সমসাময়িকদের দিকে নয়। উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মহান আল্লাহর বাণী— “যখন পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে”—এর ব্যাখ্যায় বলেন, “মালিকরা এগুলোকে অযত্নে ফেলে রাখবে।” ইকরিমা ও মুজাহিদ বলেন, “এগুলো হলো গর্ভবতী উষ্ট্রী।” মুজাহিদ বলেন, “‘উপেক্ষিত’ অর্থ হলো সেগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং মুক্ত রাখা হবে।” রাবী ইবনে খুসাইম বলেন, “সেগুলোর দুধ দোহন করা হবে না এবং ওলানও বেঁধে রাখা হবে না, মালিকরা সেগুলো ছেড়ে দেবে।” দাহহাক বলেন, “সেগুলোকে রাখালহীন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হবে।”

ইবনে কাসীর বলেন, “এসব বর্ণনার মর্মার্থ কাছাকাছি।”
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال والمقصود ان العشار من الإبل وهي خيارها والحوامل منها التي قد وصلت في حملها إلى الشهر العاشر قد اشتغل الناس عنها وعن كفالتها والانتفاع بها بعد ما كانوا ارغب شيء فيها بما دهمهم من الامر العظيم المفظع الهائل وهو امر يوم القيامة وانعقاد أسبابها ووقوع مقدماتها. وقيل بل يكون ذلك يوم القيامة يراها أصحابها كذلك لا سبيل لهم إليها.

قلت ويقوي هذا القول ما تقدم ذكره من حديث ابن عمر رضي الله عنهما.

 

‌‌الوجه الرابع: ان العشار من الإبل لا يركبها أهلها ولا يحملون عليها إلا في النادر، وإنما يركبون ويحملون على الذكور من الإبل والحوائل من إناثها ولا سيما الشواب منها وهي المراد بالقلاص قال الجوهري القلوص من النوق الشابة وهي بمنزلة الجارية من النساء وقال العدوي، القلوص أول ما يركب من إناث الإبل إلى أن تثني فإذا أثنت فهي ناقة. والقعود أول ما يركب من ذكور الإبل إلى أن يثني فإذا أثنى فهو جمل وربما سموا الناقة الطويلة القوائم قلوصا. وقال صاحب القاموس القلوص من الإبل الشابة أو الباقية على السير خاص بالإناث. وقال مرتضى الحسيني في تاج العروس قال ابن دريد هو خاص بالإناث ولا يقال للذكور قلوص انتهى.

وإذا كانت العشار لا تركب ولا يحمل عليها إلا نادرا فأي متعلق للمصنف في قوله تعالى. (وإذا العشار عطلت). إذ لا دليل فيها على ما ذهب إليه.
তিনি বলেন, এর অর্থ হলো, উটের মধ্যে 'ইশার' তথা দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীগুলো—যা তাদের সর্বোত্তম সম্পদ—মানুষ সেগুলোর দেখাশোনা ও তা থেকে উপকৃত হওয়া থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে। অথচ ইতিপূর্বে তারা এগুলোর প্রতি অত্যন্ত লালায়িত ছিল। এই বিমুখতার কারণ হলো কিয়ামত দিবসের সেই মহান, বিভীষিকাময় ও ভয়াবহ পরিস্থিতি যা তাদের আচ্ছন্ন করেছে এবং কিয়ামতের কারণসমূহ ঘনীভূত হওয়া ও এর প্রারম্ভিক লক্ষণসমূহ প্রকাশ পাওয়া। কেউ কেউ বলেছেন, বরং এটি কিয়ামত দিবসেই ঘটবে; মালিকরা তাদের উটগুলোকে সেভাবেই দেখবে কিন্তু তাদের কাছে যাওয়ার কোনো উপায় থাকবে না।

আমি বলি, ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত ইতোপূর্বে উল্লেখিত হাদিসটি এই অভিমতকে শক্তিশালী করে।

 

‌‌চতুর্থ দিক: নিশ্চয়ই 'ইশার' বা গর্ভবতী উষ্ট্রীগুলোর ওপর মালিকরা সচরাচর আরোহণ করে না এবং কদাচিৎ ব্যতীত এগুলোর ওপর বোঝাও বহন করে না। বরং তারা সাধারণত পুরুষ উটের ওপর এবং গর্ভশূন্য মাদী উটের ওপর আরোহণ ও বোঝা বহন করে, বিশেষ করে যুবতী উষ্ট্রীগুলোর ওপর; আর সেগুলোকেই 'কিলাস' বলা হয়। জাওহারী বলেছেন, 'কালুস' হলো তরুণী উষ্ট্রী, যা নারীদের মধ্যে যুবতীদের সমপর্যায়ের। আদাওয়ী বলেছেন, 'কালুস' হলো স্ত্রী উটের মধ্যে যা প্রথম আরোহণের উপযোগী হয় এবং পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একে এই নামেই ডাকা হয়। যখন তা পূর্ণবয়স্ক হয়, তখন তাকে 'নাকাহ' বলা হয়। আর 'কাউদ' হলো পুরুষ উটের মধ্যে যা প্রথম আরোহণের উপযোগী হয় এবং পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই নামে অভিহিত হয়। যখন সে পূর্ণবয়স্ক হয়, তখন তাকে 'জামাল' বলা হয়। কখনো কখনো দীর্ঘ পা-বিশিষ্ট উষ্ট্রীকেও 'কালুস' বলা হয়। আল-কামুস প্রণেতা বলেছেন, 'কালুস' হলো যুবতী উষ্ট্রী অথবা যা পথচলায় অত্যন্ত সহনশীল; এটি কেবল স্ত্রীলিঙ্গের জন্যই নির্দিষ্ট। মুরতাজা আল-হুসাইনী 'তাজুল আরুস'-এ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে দুরাইদ বলেছেন: এটি স্ত্রীলিঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট এবং পুরুষ উটের ক্ষেত্রে 'কালুস' বলা হয় না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

যদি 'ইশার' এর ওপর আরোহণ করা না হয় এবং কদাচিৎ ব্যতীত এর ওপর বোঝা বহন করা না হয়, তবে মহান আল্লাহর বাণী: (যখন গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ উপেক্ষিত হবে) থেকে লেখকের বক্তব্যের পক্ষে কী সম্পর্ক থাকে? কারণ, এতে লেখকের দাবির সপক্ষে কোনো দলিল নেই।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الوجه الخامس: أن المصنف جعل معنى الآية ومعنى ما في حديث أبي هريرة رضي الله عنه واحدا وليس الأمر كذلك، فإن التعطيل المذكور في الآية هو تركها بالكلية لاشتغال الناس عنها بما حل بهم من الهول العظيم. واما الترك المذكور في حديث أبي هريرة فهو ترك السعي عليها لا تركها بالكلية وأين هذا من ذاك.

وقد اختلف في معنى ترك السعي على القلاص فقال النووي معناه أن يزهد فيها ولا يرغب في اقتنائها لكثرة الأموال وقلة الآمال وعدم الحاجة والعلم بقرب القيامة وإنما ذكرت القلاص لكونها أشرف الإبل التي هي أنفس الأموال عند العرب وهو شبيه بمعنى قول الله عز وجل. وإذا العشار عطلت. ومعنى لا يسعى عليها لا يعتني بها أي يتساهل أهلها فيها ولا يعتنون بها هذا هو الظاهر وقال القاضي عياض وصاحب المطالع معنى لا يسعى عليها أي لا تطلب زكاتها إذ لا يوجد من يقبلها.

قلت وهكذا قال ابن الأثير وابن منظور في لسان العرب أن معنى لا يسعى عليها أي لا يخرج ساع إلى زكاة لقلة حاجة الناس إلى المال واستغنائهم عنه.

قال النووي وهذا تأويل باطل من وجوه كثيرة. قلت بل هو أقوى وأظهر من قول النووي. ويؤيده ما رواه ابن ماجه من حديث أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذكر الدجال ونزول عيسى عليه الصلاة والسلام، وفيه قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «فيكون عيسى بن مريم عليه الصلاة والسلام في أمتي حكما عدلا وإماما مقسطا يدق الصليب ويذبح الخنزير ويضع الجزية
পঞ্চম দিক: গ্রন্থকার আয়াতের অর্থ এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের অর্থকে অভিন্ন গণ্য করেছেন, অথচ বিষয়টি সেরূপ নয়। কেননা আয়াতে যে 'পরিত্যক্ত হওয়ার' (তা’তীল) কথা বলা হয়েছে, তার অর্থ হলো মানুষের ওপর আপতিত ভয়াবহ বিপদের কারণে সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দেওয়া। পক্ষান্তরে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে বর্ণিত 'ত্যাগ করা' বলতে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ বা সংগ্রহের পেছনে শ্রম ব্যয় না করাকে বোঝানো হয়েছে, সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা নয়। সুতরাং এই দুই বিষয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।

তরুণ উষ্ট্রীর রক্ষণাবেক্ষণ বা সংগ্রহের জন্য সচেষ্ট না হওয়ার অর্থের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। ইমাম নববী বলেন, এর অর্থ হলো—সম্পদের আধিক্য, পার্থিব আকাঙ্ক্ষার স্বল্পতা, প্রয়োজনের অভাব এবং কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানার ফলে সেগুলোর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হওয়া এবং তা লালন-পালনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলা। এখানে বিশেষভাবে 'তরুণ উষ্ট্রী'র কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটিই ছিল আরবদের নিকট সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান সম্পদ। এই অর্থটি মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন পূর্ণগর্ভা উষ্ট্রীসমূহ পরিত্যক্ত হবে" এর অর্থের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর 'সেগুলোর জন্য সচেষ্ট না হওয়ার' অর্থ হলো সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা; অর্থাৎ মালিকগণ এ ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করবেন এবং কোনো যত্ন নেবেন না—এটিই স্পষ্টতর অর্থ। অন্যদিকে কাযী ইয়ায এবং 'আল-মাতালি' গ্রন্থের রচয়িতা বলেছেন, 'সেগুলোর জন্য সচেষ্ট না হওয়ার' অর্থ হলো—সেগুলোর যাকাত তলব করা হবে না, কারণ তখন যাকাত গ্রহণ করার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না।

আমি বলি, ইবনুল আসীর এবং ইবনে মানযুর 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে অনুরূপই বলেছেন যে, 'সেগুলোর পেছনে সচেষ্ট না হওয়ার' অর্থ হলো—মানুষের অর্থের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া ও অভাবমুক্ত হওয়ার কারণে যাকাত সংগ্রহকারী আর বের হবেন না।

ইমাম নববী বলেছেন, এটি বিভিন্ন দিক থেকে একটি অসার ব্যাখ্যা। আমি বলি, বরং এটি ইমাম নববীর উক্তির চেয়েও অধিক শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট। ইবনে মাজাহ বর্ণিত আবু উমামাহ আল-বাহিলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসটি একে সমর্থন করে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাজ্জালের আবির্ভাব এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম) আমার উম্মতের মাঝে একজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক ও ইনসাফকারী ইমাম হিসেবে আবির্ভূত হবেন; তিনি ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন, শূকর নিধন করবেন এবং জিযয়া রহিত করবেন।"
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويترك الصدقة فلا يسعى على شاة ولا بعير» الحديث وهو مطابق لحديث أبي هريرة الذي تقدم ذكره في كلام المصنف ومفسر لمعنى ترك السعي على القلاص اذ كل من الحديثين وارد فيما يكون في أيام عيسى عليه الصلاة والسلام فما أبهم في حديث أبي هريرة رضي الله عنه فهو مفسر في حديث أبي أمامة رضي الله عنه.

ويؤيده أيضا ما في الصحيحين وغيرهما عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى يكثر المال ويفيض حتى يخرج الرجل بزكاة ماله فلا يجد أحدا يقبلها منه» هذا لفظ مسلم.

وفي الصحيحين أيضا من حديث حارثة بن وهب وأبي موسى رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه. وروى الإمام أحمد والبخاري من حديث عدي بن حاتم رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو ذلك أيضا.

ومما يرد قول النووي ما رواه الإمام أحمد ومسلم من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال «ثم ينفخ في الصور فلا يسمعه أحد إلا أصغى ليتا ورفع ليتا (1) قال وأول من يسمعه رجل يلوط حوض ابله فيصعق ويصعق الناس».

وهذا يدل على أن الرغبة في اقتناء الإبل لا تزال باقية إلى أن ينفخ في الصور لا كما يقول النووي أن أهلها يزهدون فيها ولا يعتنون بها.

--------------------------------------------

(1) الليت: صفحة العنق وهما ليتان، وأصغى: أمال «نهاية».
"এবং তিনি যাকাত আদায় বর্জন করবেন, ফলে বকরি বা উটের যাকাত সংগ্রহের জন্য কোনো পরিশ্রম বা ছুটাছুটি করা হবে না।" এই হাদীসটি আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা ইতিপূর্বে গ্রন্থকারের বক্তব্যে উল্লিখিত হয়েছে এবং এটি 'যুবতী উট সংগ্রহের প্রচেষ্টা বর্জন' করার অর্থের ব্যাখ্যাস্বরূপ। কেননা এই উভয় হাদীসই ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর যুগে যা ঘটবে সে বিষয়ে বর্ণিত। সুতরাং আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে যা অস্পষ্ট ছিল, তা আবূ উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) ও অন্যান্য গ্রন্থে আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসটিও একে সমর্থন করে, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না সম্পদের প্রাচুর্য ঘটবে এবং তা উপচে পড়বে, এমনকি কোনো ব্যক্তি তার সম্পদের যাকাত নিয়ে বের হবে কিন্তু তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাবে না।" এটি মুসলিমের শব্দ বিন্যাস।

সহীহাইন-এ হারিসা বিন ওয়াহাব এবং আবূ মূসা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমাদ ও বুখারী আদী বিন হাতিম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম নববীর বক্তব্যকে যা খণ্ডন করে তা হলো ইমাম আহমাদ ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অতঃপর শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখন যে কেউ তা শুনবে সে-ই ঘাড়ের এক পাশ কাত করবে এবং অন্য পাশ উঁচু করবে (১)। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম এক ব্যক্তি তা শুনতে পাবে যে তার উটের হাউজ বা জলাধার মেরামত করতে থাকবে, ফলে সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে এবং অন্য সকল মানুষও সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে।"

এটি প্রমাণ করে যে, শিংগায় ফুঁ দেওয়ার আগ পর্যন্ত উট পালনের আগ্রহ অবশিষ্ট থাকবে; ইমাম নববী যেমনটি বলেছেন তেমনটি নয় যে, উটের মালিকরা সেটির প্রতি বিমুখ হয়ে পড়বে এবং এর যত্ন নেবে না।

--------------------------------------------

(১) আল-লাইত: ঘাড়ের পার্শ্বদেশ, আর ঘাড়ের দুটি পার্শ্বদেশ থাকে। আর আসগা: কাত করা বা হেলানো (নিহায়াহ)।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ويحتمل أن يكون معنى قوله وتترك القلاص لا يسعى عليها أي يترك ركوبها في الأسفار والحمل عليها وهذا مطابق للواقع في هذه الأزمان وإن كان قول عياض ومن وافقه أقوى منه من حيث الدليل.

ويحتمل أن يكون كل من الأمرين مراداً في الحديث أعنى ترك السعي عليها للصدقة وترك ركوبها والحمل عليها والله أعلم.

 

‌‌الوجه السادس: أن عرب الحجاز وجزيرة العرب لم يتضرروا من تعبيد الطرق في بلادهم وانتشار السيارات فيها كما زعمه المصنف بل انتفعوا به كثيراً واستراحوا من كثير من المشقة والعناء مما كان يصيبهم بسبب السفر على الابل والحمل عليها، وكان ارتزاقهم بسبب السيارات أعظم بكثير من ارتزاقهم بسبب الإبل. وانتفعوا أيضا بكثرة أثمان الإبل فقد كانت الناقة الجيدة في زمن السفر على الإبل والحمل عليها تساوي مائة ريال او نحوها وأما الآن فتساوي سبعمائة وثمانمائة وربما زادت على الألف وهذا خير لأهل الإبل مما كان من قبل.

فصل

وفي صفحة (8) جزم المصنف ببقاء استعمال السيارات إلى زمان نزول عيسى بن مريم عليهما الصلاة والسلام.

وهذا مما لا ينبغي الجزم به لأن ما يقع في المستقبل أمر غيبي لا يعلمه إلا الله تعالى قال الله تعالى (قل لا يعلم من في السموات والأرض الغيب إلا الله) وقال تعالى (وما تدري نفس ماذا تكسب غدا) وقال تعالى (وعنده مفاتح الغيب لا يعلمها إلا هو) الآية.
এবং তাঁর বাণী "তরুণ উটনিগুলো পরিত্যক্ত হবে, সেগুলোর ওপর আর সওয়ার হওয়া হবে না"—এর অর্থ এমন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে, ভ্রমণে সেগুলোর পিঠে চড়া এবং সেগুলোর ওপর মালপত্র বহন করা ত্যাগ করা হবে। এটি বর্তমানকালের বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও দলীলের দিক থেকে ইয়ায এবং তাঁর অনুসারীদের অভিমত অধিক শক্তিশালী।

এবং হাদীসে উভয় অর্থই উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; অর্থাৎ যাকাত আদায়ের জন্য সেগুলোর পেছনে ছোটা ত্যাগ করা এবং সেগুলোর ওপর আরোহণ ও মালপত্র বহন বর্জন করা। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌ষষ্ঠ দিক: হেজাজের আরববাসী এবং আরব উপদ্বীপের অধিবাসীগণ তাদের ভূখণ্ডে রাস্তাঘাট পাকাকরণ এবং সেখানে মোটরগাড়ি ছড়িয়ে পড়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হননি, যেমনটি লেখক দাবি করেছেন; বরং তারা এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং উটের পিঠে ভ্রমণ ও পণ্য বহনের কারণে তারা যে নিদারুণ কষ্ট ও পরিশ্রমের সম্মুখীন হতেন, তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মোটরগাড়ির মাধ্যমে তাদের জীবিকা অর্জন উটের মাধ্যমে উপার্জনের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া তারা উটের উচ্চমূল্যের মাধ্যমেও লাভবান হয়েছেন; কেননা উটের পিঠে সফর ও মাল বহনের যুগে একটি ভালো উটনির দাম ছিল ১০০ রিয়াল বা এর কাছাকাছি, কিন্তু বর্তমানে এর দাম সাতশ, আটশ, এমনকি কখনও হাজার রিয়ালও ছাড়িয়ে যায়। আর এটি উটের মালিকদের জন্য পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি কল্যাণকর।

পরিচ্ছেদ

অষ্টম পৃষ্ঠায় লেখক নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর অবতরণ পর্যন্ত মোটরগাড়ির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

এটি এমন একটি বিষয় যা নিশ্চিতভাবে বলা অনুচিত; কারণ ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা অদৃশ্যের বিষয়, যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ জানেন না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "বলুন, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না।" তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: "আর কোনো প্রাণই জানে না সে আগামীকাল কী অর্জন করবে।" তিনি আরও বলেন: "অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই কাছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না" (আয়াতাংশ)।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي الحديث الصحيح عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال «مفاتيح الغيب خمس لا يعلمهن إلا الله لا يعلم ما في غد إلا الله، ولا يعلم نزول الغيث إلا الله، ولا يعلم ما في الأرحام إلا الله، ولا يعلم الساعة إلا الله، وما تدري نفس ماذا تكسب غدا، وما تدري نفس بأي أرض تموت» رواه الإمام أحمد والبخاري.

وإذا علم هذا فإثبات ما يكون في المستقبل يحتاج إلى دليل قاطع من نصوص الكتاب أو السنة، ولا دليل على ما ذكره المصنف فلا ينبغي إذن الجزم ببقاء السيارات إلى زمان نزول عيسى عليه الصلاة والسلام فقد يفنيها الله ويفني صانعها كما أفنى القرون الأولى وأفنى صنائعهم معهم وأبقى من آثارهم نموذجا يسيرا أدهش به المتأخرين وحيرهم كالأهرام المصرية وغيرها من الآثار القديمة.

ولا ينبغي أيضا الجزم بعدم السيارات فقد يبقيها الله تعالى إلى زمان نزول عيسى عليه الصلاة والسلام.

والمقصود ههنا أنه لا يجوز الخوض في الأمور المستقبلة بمجرد الظن والتخرص، بل يرد علم ذلك إلى عالم الغيب والشهادة الذي يعلم ما كان وما يكون. لا إله إلا هو، ولا رب سواه.
সহীহ হাদীসে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «অদৃশ্যের চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না; আগামীকাল কী ঘটবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, বৃষ্টি কখন বর্ষিত হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, জরায়ুতে কী রয়েছে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না এবং কোনো ব্যক্তিই জানে না যে আগামীকাল সে কী অর্জন করবে, আর কোনো ব্যক্তিই জানে না যে কোন ভূমিতে তার মৃত্যু হবে» এটি ইমাম আহমাদ ও ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন।

এটি অবগত হওয়ার পর, ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা সাব্যস্ত করার জন্য কুরআন বা সুন্নাহর নস (বাণী) থেকে অকাট্য দলিলের প্রয়োজন। লেখক যা উল্লেখ করেছেন সে বিষয়ে কোনো দলিল নেই। অতএব, ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম)-এর অবতরণের সময় পর্যন্ত মোটরযানগুলো অবশিষ্ট থাকবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন নয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা এগুলোকে এবং এগুলোর নির্মাতাদের ধ্বংস করে দিতে পারেন, যেমন তিনি পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোকে ধ্বংস করেছেন এবং তাদের সাথে তাদের শিল্পকর্মগুলোকেও বিলুপ্ত করেছেন। তিনি তাদের নিদর্শনের অতি সামান্য কিছু নমুনা অবশিষ্ট রেখেছেন যা পরবর্তী যুগের মানুষদের বিস্মিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়, যেমন মিসরের পিরামিড এবং অন্যান্য প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

তেমনিভাবে, মোটরযানগুলোর অস্তিত্ব থাকবে না বলে নিশ্চিতভাবে বলাও সংগত নয়; কেননা আল্লাহ তাআলা সম্ভবত ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম)-এর অবতরণের সময় পর্যন্ত এগুলোকে টিকিয়ে রাখতে পারেন।

এখানের মূল উদ্দেশ্য হলো—ভবিষ্যতের বিষয়গুলো নিয়ে কেবল ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে লিপ্ত হওয়া জায়েজ নয়। বরং এ সংক্রান্ত জ্ঞান গায়েব ও প্রকাশ্য জগতের পরিজ্ঞাতা মহান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করতে হবে, যিনি যা অতীতে হয়েছে এবং যা ভবিষ্যতে হবে—সবই জানেন। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
فصل

في صفحة (9 و 15) جزم المصنف أن الدجال وأعوانه يسيرون في الطائرات والسيارات.

وهذا مما لا ينبغي الجزم به لان ما يكون في المستقبل لا يعلمه إلا الله تعالى، وليس مع المصنف دليل قاطع فيما ذهب إليه.

وأما قوله في حديث النواس بن سمعان رضي الله عنه قلنا يا رسول الله وما اسراعه في الأرض؟ قال كالغيث استدبرته الريح فلا يلزم منه أن يكون سيره على الطائرات والسيارات بل قد تخرق له العادة إما بطي الأرض وإما بغير ذلك.

وقد جاء في حديث جابر رضي الله عنه قال قام رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم على المنبر فقال: «يا أيها الناس إني لم أجمعكم لخبر جاء من السماء - فذكر حديث الجساسة وزاد فيه - هو المسيح تطوى له الأرض في أربعين يوما». الحديث رواه أبو يعلى بإسنادين قال الهيثمي: رجال أحدهما رجال الصحيح.

وروى الحاكم في مستدركه من حديث أبي الطفيل عن حذيفة بن أسيد رضي الله عنه أنه قال «الدجال يخرج في نقص من الناس وخفة من الدين وسوء ذات بين، فيرد كل منهل فتطوى له الأرض طي فروة الكبش» الحديث وفيه «ولا يسخر له من المطايا إلا الحمار فهو رجس على رجس» وقال الذهبي في تلخيصه: على شرط البخاري ومسلم.
পরিচ্ছেদ

(৯ ও ১৫) পৃষ্ঠায় লেখক দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, দাজ্জাল এবং তার সহযোগীরা উড়োজাহাজ ও মোটরগাড়িতে ভ্রমণ করবে।

এটি এমন একটি বিষয় যা দৃঢ়ভাবে বলা সমীচীন নয়, কারণ ভবিষ্যতে যা ঘটবে তা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেউ জানেন না এবং লেখক তার এই মতের স্বপক্ষে কোনো অকাট্য দলিল পেশ করেননি।

নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.) বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে তাঁর বক্তব্যের প্রসঙ্গে—যেখানে আমরা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে তার গতির তীব্রতা কেমন হবে?' তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, 'বাতাসতাড়িত মেঘের মতো'—এ থেকে এটি অনিবার্য হয় না যে তার সফর উড়োজাহাজ বা মোটরগাড়িতেই হতে হবে। বরং অলৌকিকভাবে তার জন্য ভূমি সংকুচিত করে দেওয়া হতে পারে অথবা অন্য কোনো উপায়েও হতে পারে।

জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন, 'হে লোকসকল! আমি তোমাদের আকাশ থেকে আসা কোনো বার্তার জন্য সমবেত করিনি'—এরপর তিনি জাসসাসার হাদিসটি উল্লেখ করলেন এবং তাতে অতিরিক্ত যোগ করলেন—'সে হলো মসিহ (দাজ্জাল), যার জন্য চল্লিশ দিনে পৃথিবীকে সংকুচিত করে দেওয়া হবে।' হাদিসটি আবু ইয়ালা দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন। আল-হাইসামি বলেছেন: এর একটির বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে আবু তুফায়ল থেকে, তিনি হুজাইফা ইবনে আসিদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: 'দাজ্জাল এমন এক সময়ে বের হবে যখন মানুষের সংখ্যা কমে যাবে, দ্বীন দুর্বল হয়ে পড়বে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে। সে প্রতিটি পানির ঘাটে পৌঁছাবে এবং তার জন্য জমিনকে এমনভাবে সংকুচিত করা হবে যেমন ভেড়ার চামড়া গুটিয়ে ফেলা হয়।' হাদিসের অন্য অংশে আছে: 'গাধা ব্যতীত তার বশীভূত কোনো বাহন থাকবে না; আর সে তো অপবিত্রের ওপর অপবিত্র।' যাহাবি তাঁর তালখিস গ্রন্থে বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وروى الإمام أحمد في مسنده عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «يخرج الدجال في خفة من الدين وإدبار من العلم، وله أربعون ليلة يسيحها في الأرض اليوم منها كالسنة واليوم منها كالشهر واليوم منها كالجمعة ثم سائر أيامه كأيامكم هذه، وله حمار يركبه عرض ما بين أذنيه أربعون ذراعا» الحديث، وإسناده صحيح على شرط الشيخين.

ورواه الحاكم في مستدركه وقال صحيح الإسناد ولم يخرجاه وقال الذهبي في تلخيصه: على شرط مسلم.

وما في هذه الأحاديث هو المعتمد في سير الدجال في الأرض لصحة أسانيدها وعدم ما ينافيها. وركوبه على الحمار الذي عرض ما بين أذنيه أربعون ذراعاً أبلغ في الافتتان به من ركوبه على الطائرات والسيارات وغيرهما مما قد عرفه الناس واعتادوا ركوبه، وكذلك سيره على الحمار العظيم الجسم قد يكون أسرع من سير الطائرات بكثير والله أعلم.

والمقصود هنا أنه لا ينبغي الجزم بسير الدجال في الطائرات والسيارات ولا بعدم ذلك؛ لأنه أمر غيبي، والخوض في مثل ذلك من الرجم بالغيب.

 

فصل

وفي صفحة (10) جزم المصنف في شأن المهدي بنحو ما جزم به في شأن عيسى والدجال من بقاء الطائرات والسيارات إلى زمانه.

والجواب عنه هو ما تقدم في الفصلين قبله والله أعلم.
ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «দীন পালনে শিথিলতা এবং ইলম বা জ্ঞান চর্চা থেকে বিমুখতার সময়ে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে। পৃথিবীতে বিচরণ করার জন্য সে চল্লিশ দিন সময় পাবে, যার মধ্যে একটি দিন হবে এক বছরের সমান, একটি দিন এক মাসের সমান এবং একটি দিন এক সপ্তাহের সমান। আর তার অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের বর্তমান দিনগুলোর মতোই হবে। তার একটি গাধা থাকবে যাতে সে সওয়ার হবে, যার দুই কানের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে চল্লিশ হাত» (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)। এর সনদ শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুসারে সহীহ।

ইমাম হাকেম এটি তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ সহীহ, যদিও তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবি তাঁর 'তালখিস' গ্রন্থে বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ।

দাজ্জালের পৃথিবী ভ্রমণের বিষয়ে এই হাদিসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই নির্ভরযোগ্য; কারণ এগুলোর সনদ বিশুদ্ধ এবং এর পরিপন্থী কোনো শক্তিশালী দলিল নেই। আর যার দুই কানের প্রশস্ততা চল্লিশ হাত—এমন গাধার পিঠে তার আরোহণ করাটা মানুষের পরিচিত ও অভ্যস্ত বিমান, গাড়ি বা অন্য কিছুর চেয়ে ফেতনার ক্ষেত্রে অধিকতর প্রভাবশালী। তেমনিভাবে, এই বিশাল দেহের গাধার ওপর তার বিচরণ বিমানের গতির চেয়েও অনেক দ্রুত হতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এখানে উদ্দেশ্য হলো—দাজ্জাল বিমান বা গাড়িতে ভ্রমণ করবে কি করবে না, এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়; কারণ এটি গায়েবি বা অদৃশ্যের বিষয়। আর এ জাতীয় বিষয়ে কোনো কিছু নিশ্চিত করে বলা অদৃশ্যের ব্যাপারে অনুমান করার নামান্তর।

 

পরিচ্ছেদ

দশম পৃষ্ঠায় গ্রন্থকার ইমাম মাহদী সম্পর্কেও ঈসা ও দাজ্জালের মতোই নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, তাঁর সময় পর্যন্ত বিমান ও গাড়ি অবশিষ্ট থাকবে।

এর উত্তর হলো যা পূর্ববর্তী দুটি পরিচ্ছেদে গত হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فصل

وقال المصنف في صفحة (16) ما نصه:

وأما الطائرات الحربية فمذكورة في القرآن العظيم وفي السنة النبوية. قال الله تعالى (والمرسلات عرفا. فالعاصفات عصفا. والناشرات نشرا. فالفارقات فرقا. فالملقيات ذكرا. عذراً أو نذرا. إنما توعدون لواقع).

فهذا وصف للطائرات الحربية بجميع حركاتها وأفعالها تعصف بقنابلها، وهي تحتمل في اللغة معنيين ترك الناس كعصف مأكول وتميل أحيانا عن هدفها وهو معنى العصف أيضاً وتنشر المنشورات على الجنود في ميادين الحرب وعلى الأهالي والسكان في المدن للدعاية والإخبار بما تريده الدولة المحاربة وتفرق بين الجموع والكتائب فرقا لأن الرعب بها والهزيمة أشد من غيرها بحيث لا يثبت تحتها جمع بل بمجرد رؤيتها من بعيد يقع الفرار والتفرق والاختفاء في الكهوف والملاجئ. فالملقيات ذكرا عذرا: تعذر به الدولة عن ضربها بعض الأماكن البريئة والتي ليست من مراكز الحرب. أو نذرا تنذر به السكان وتخوف وتوعد وتهدد وتطلب التسليم ونحو ذلك من نوع الإنذار كما هو معروف.

والجواب عن هذا من وجوه:

 

‌‌الأول: أن تفسيره للآيات تفسير بمجرد الرأي بل إلحاد في آيات الله تعالى وقرمطة فيها شبيهة بقرمطة الرافضة وتأويلهم للقرآن.
পরিচ্ছেদ

লেখক ১৬ নং পৃষ্ঠায় নিম্নরূপ বলেছেন:

আর যুদ্ধবিমানের কথা মহান কুরআন ও সুন্নাতে নববীতে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (শপথ সেই ফেরেশতাদের বা বায়ুর, যারা একের পর এক প্রেরিত হয়। অতঃপর যারা প্রচণ্ড বেগে ঝঞ্ঝার ন্যায় প্রবাহিত হয়। আর যারা মেঘমালাকে বিস্তৃত করে। অতঃপর যারা সত্য-মিথ্যার মাঝে সুষ্পষ্ট পার্থক্য করে দেয়। অতঃপর যারা উপদেশ পৌঁছে দেয়, ওজর-আপত্তি খণ্ডনের জন্য অথবা সতর্ক করার জন্য। তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে)।

এটি যুদ্ধবিমানের যাবতীয় গতিবিধি ও কর্মকাণ্ডের একটি বর্ণনা। এগুলো বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ধ্বংসলীলা চালায়। ভাষাগতভাবে এর দুটি অর্থ হতে পারে: মানুষকে চর্বিত তৃণের ন্যায় নিঃশেষ করে দেওয়া, অথবা কখনও কখনও লক্ষ্যচ্যুত হওয়া—যা ‘আস্ফ’ শব্দের একটি অর্থ। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের ওপর এবং জনপদে অধিবাসীদের ওপর প্রচারপত্র ছড়িয়ে দেয়, যাতে যুদ্ধরত রাষ্ট্র তাদের উদ্দেশ্য ও প্রচারণা সম্পর্কে অবহিত করতে পারে। এগুলো বিভিন্ন জনসমাবেশ ও সেনাদলকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়, কারণ এগুলোর সৃষ্ট আতঙ্ক ও পরাজয় অন্য যেকোনো কিছুর তুলনায় অনেক বেশি প্রবল; এমনকি এগুলোর নিচে কোনো জনসমষ্টি অটল থাকতে পারে না, বরং দূর থেকে দেখামাত্রই পলায়ন, বিচ্ছিন্নতা এবং গুহা ও আশ্রয়স্থলে আত্মগোপনের হিড়িক পড়ে যায়। ‘অতঃপর যারা ওজর-আপত্তি খণ্ডনের জন্য উপদেশ পৌঁছে দেয়’: অর্থাৎ রাষ্ট্র এর মাধ্যমে কোনো নিরপরাধ স্থান বা যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে কোনো জায়গায় হামলার বিষয়ে কৈফিয়ত পেশ করে। ‘অথবা সতর্ক করার জন্য’: অর্থাৎ এর মাধ্যমে অধিবাসীদের সতর্ক করা হয়, ভয় দেখানো হয়, হুমকি প্রদান করা হয় এবং আত্মসমর্পণ বা এ জাতীয় কোনো দাবির বিষয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যেতে পারে:

 

‌‌প্রথমত: আয়াতগুলোর প্রতি তাঁর এই তাফসীর নিছক মনগড়া অভিমত ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং এটি আল্লাহর আয়াতের ক্ষেত্রে এক প্রকার ধর্মদ্রোহিতা এবং এমন এক অপব্যাখ্যা, যা রাফেজিদের ভ্রান্ত ব্যাখ্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد تقدم أن تفسير القرآن بالرأي حرام ومتوعد عليه بالوعيد الشديد.

قال الله تعالى (إن الذين يلحدون في آياتنا لا يخفون علينا أفمن يلقى في النار خير أم من يأتي آمناً يوم القيامة اعملوا ما شئتم انه بما تعملون بصير).

وفي هذه الآية الكريمة تهديد شديد ووعيد أكيد لمن ألحد في آيات الله تعالى وتأولها على غير تأويلها. قال ابن عباس رضي الله عنهما: الإلحاد وضع الكلام على غير مواضعه.

ولا يخفى على ذي علم ما جرى عليه أحمد بن محمد بن الصديق الغماري من تفسيره لآيات كثيرة بمجرد الرأي ووضعه الكلام فيها على غير مواضعه ومخالفة ما جاء عن السلف الصالح في ذلك.

وقد روى الفريابي عن الحسن قال سأل صبيغ التميمي عمر بن الخطاب رضي الله عنه عن الذاريات ذروا. وعن المرسلات عرفا وعن النازعات غرقا. فقال عمر رضي الله عنه اكشف رأسك فإذا له ضفيرتان فقال: والله لو وجدتك محلوقاً لضربت عنقك ثم كتب إلى أبي موسى الأشعري رضي الله عنه أن لا يجالسه مسلم ولا يكلمه، وقد روي من غير وجه أن عمر رضي الله عنه ضربه ضرباً وجيعاً وحمله على قتب.

وروى الآجري في كتاب الشريعة من حديث السائب بن يزيد قال أتى عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقالوا يا أمير المؤمنين انا لقينا رجلا يسأل عن تأويل القرآن فقال اللهم أمكني منه فبينما عمر رضي الله عنه ذات يوم يغدى الناس إذ جاءه رجل عليه ثياب
পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, নিজ অভিমত বা খেয়াল-খুশি অনুযায়ী কুরআনের তাফসীর করা হারাম এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির ধমক প্রদান করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহের বিকৃতি ঘটায়, তারা আমার অগোচরে নয়। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সে উত্তম, নাকি যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে আসবে সে? তোমরা যা চাও তা-ই করো; নিশ্চয় তোমরা যা করো তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।”

এই মহিমান্বিত আয়াতে ঐ ব্যক্তির জন্য কঠোর হুমকি ও নিশ্চিত সতর্কবাণী রয়েছে, যে মহান আল্লাহর আয়াতসমূহের বিকৃতি ঘটায় এবং সেগুলোকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: ‘ইলহাদ’ বা বিকৃতি হলো কোনো কথাকে তার সঠিক প্রয়োগস্থল থেকে সরিয়ে অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করা।

কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তির কাছেই আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সিদ্দীক আল-গুমারীর কর্মকাণ্ড গোপন নয়, যিনি অসংখ্য আয়াতের ক্ষেত্রে নিছক নিজ রায়ের ভিত্তিতে তাফসীর করেছেন, সেগুলোকে ভুলভাবে প্রয়োগ করেছেন এবং এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন থেকে বর্ণিত পন্থার বিরোধিতা করেছেন।

আল-ফারিইয়াবী হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাবীগ আত-তামীমী উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ‘ধূলি-বিক্ষেপকারী বাতাস’, ‘পরপর প্রেরিত বায়ু’ এবং ‘ডুব দিয়ে টেনে বের করা আত্মা’ সম্বলিত আয়াতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তোমার মাথার আবরণ সরাও। দেখা গেল তার মাথায় দু’টি বেণী রয়েছে। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! যদি আমি তোমাকে মাথা মুণ্ডানো অবস্থায় পেতাম, তবে অবশ্যই তোমার ঘাড় উড়িয়ে দিতাম। অতঃপর তিনি আবু মুসা আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-র নিকট লিখে পাঠালেন যে, কোনো মুসলিম যেন তার সাথে না বসে এবং তার সাথে কথা না বলে। বিভিন্ন সূত্রে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক প্রহার করেছিলেন এবং তাকে উটের জিনের ওপর চড়িয়ে দিয়েছিলেন।

আল-আজুররী ‘কিতাবুশ শরীআহ’-তে সায়িব বিন ইয়াযীদ-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট লোকেরা এসে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আমরা এমন এক ব্যক্তির দেখা পেয়েছি যে কুরআনের ব্যাখ্যা (তাওয়ীল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমাকে তার ওপর সামর্থ্য দিন। একদিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন লোকেদের দুপুরের খাবার খাওয়াচ্ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি পোশাক পরিহিত অবস্থায় তাঁর নিকট এল...
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وعمامة يتغدى حتى إذا فرغ قال يا أمير المؤمنين (والذاريات ذرواً. فالحاملات وقراً) فقال عمر رضي الله عنه أنت هو فقام إليه فحسر عن ذراعيه فلم يزل يجلده حتى سقطت عمامته فقال والذي نفس عمر بيده لو وجدتك محلوقاً لضربت رأسك ألبسوه ثيابه واحتملوه على قتب ثم أخرجوه حتى تقدموا به بلاده ثم ليقم خطيبا ثم ليقل ان صبيغا طلب العلم فأخطأه. فلم يزل وضيعا في قومه حتى هلك وكان سيد قومه. وإذا كان هذا فعل عمر رضي الله عنه مع من كان يسأل عن متشابه القرآن فكيف لو رأى من يتأول القرآن على غير تأويله.

 

‌‌الوجه الثاني: أن الصحابة والتابعين فسروا الآيات التي ذكرها المصنف بغير ما فسرها به وهم أعلم بتفسير القرآن ممن بعدهم.

قال أبو هريرة رضي الله عنه في قوله عز وجل (والمرسلات عرفا) قال هي الملائكة أرسلت بالمعروف رواه ابن أبي حاتم والحاكم في مستدركه وقال صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه.

وروى ابن جرير من طريق مسروق عن ابن مسعود رضي الله عنه (والمرسلات عرفا) قال: الملائكة.

وروى ابن المنذر عن ابن عباس رضي الله عنهما (والمرسلات عرفا) قال: الملائكة (فالفارقات فرقا) قال: الملائكة فرقت بين الحق والباطل. (فالملقيات ذكرا) قال: الملائكة بالتنزيل.

وروى ابن جرير عن مسروق (والمرسلات عرفا) قال: الملائكة.
...এবং পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় সকালের খাবার খাচ্ছিল। যখন সে খাওয়া শেষ করল তখন বলল, "হে আমিরুল মুমিনীন! (শপথ সেই বাতাসের যা ধূলিকণা উড়িয়ে দেয়। অতঃপর শপথ সেই মেঘমালার যা বোঝার ভার বহন করে—আয়াতদ্বয়ের অর্থ কী?)"। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "তুমিই তাহলে সেই ব্যক্তি!" এরপর তিনি তার দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের দুই হাত থেকে কাপড় গুটিয়ে নিলেন এবং তাকে প্রহার করতে থাকলেন যতক্ষণ না তার মাথা থেকে পাগড়ি পড়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, "সেই সত্তার শপথ যার হাতে উমরের প্রাণ, আমি যদি তোমাকে মুণ্ডিত মস্তক অবস্থায় (খারেজী হিসেবে) পেতাম, তবে অবশ্যই তোমার মাথা উড়িয়ে দিতাম। তোমরা তাকে তার কাপড় পরিয়ে দাও এবং একটি উটের জিনের ওপর চড়িয়ে তার নিজ দেশে পাঠিয়ে দাও। এরপর সেখানে একজন বক্তা দাঁড়িয়ে ঘোষণা করবে যে, সবীগ ইলম অন্বেষণ করতে চেয়েছিল কিন্তু সে ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে।" ফলে সে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লাঞ্ছিত অবস্থায় ছিল, অথচ ইতিপূর্বে সে ছিল তার সম্প্রদায়ের নেতা। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আচরণ যদি সেই ব্যক্তির সাথে এমন হয় যে কুরআনের অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) বিষয় সম্পর্কে কেবল প্রশ্ন করছিল, তবে তিনি যদি বর্তমানের এমন কাউকে দেখতেন যে কুরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা করছে, তবে তার অবস্থা কেমন হতো!

 

‌‌দ্বিতীয় দিক: সাহাবী ও তাবেয়ীগণ লেখক কর্তৃক উল্লিখিত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা এমনভাবে করেছেন যা লেখকের ব্যাখ্যার বিপরীত, আর তাঁরা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের তুলনায় কুরআনের তাফসীর সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত ছিলেন।

মহান আল্লাহর বাণী (শপথ সেই প্রেরিত বাতাসের যা একের পর এক আসে) সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "এরা হলো ফেরেশতা যাদেরকে সৎ কাজের জন্য পাঠানো হয়।" এটি ইবনে আবি হাতিম এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন যদিও তাঁরা তা তাঁদের গ্রন্থে উল্লেখ করেননি, আর যাহাবী তাঁর তালখীস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইবনে জারীর মাসরুকের সূত্রে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই প্রেরিত বাতাসের যা একের পর এক আসে) এর অর্থ হলো: ফেরেশতা।

ইবনুল মুনযির ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই প্রেরিত বাতাসের যা একের পর এক আসে) এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: ফেরেশতা। (অতঃপর শপথ সেই শক্তির যা সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে দেয়) এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: ফেরেশতা যারা সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য বিধান করে। (অতঃপর শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা ওহী পৌঁছে দেয়) এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: ওহী নিয়ে অবতীর্ণ ফেরেশতা।

ইবনে জারীর মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই প্রেরিত বাতাসের যা একের পর এক আসে) এর অর্থ হলো: ফেরেশতা।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وروى عبد بن حميد عن مجاهد (والمرسلات عرفا. فالعاصفات عصفاً. والناشرات نشرا. فالفارقات فرقا. فالملقيات ذكرا) قال: الملائكة.

وروى عبد بن حميد وأبو الشيخ وابن المنذر عن أبي صالح (والمرسلات عرفا) قال: هي الرسل ترسل بالمعروف (فالعاصفات عصفا) قال: الريح (والناشرات نشرا) قال: المطر (فالفارقات فرقا) قال: الرسل. وروى عبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر من وجه آخر عن أبي صالح (والمرسلات عرفا) قال: الملائكة يجيئون بالأعارف (فالعاصفات عصفا) قال: الريح العواصف (والناشرات نشرا) قال: الملائكة ينشرون الكتب (فالفارقات فرقا) قال: الملائكة يفرقون بين الحق والباطل (فالملقيات ذكرا) قال: الملائكة يجيئون بالقرآن والكتاب (عذرا) من الله (أو نذرا) منه إلى الناس وهم الرسل يعذرون وينذرون.

وروى عبد بن حميد وابن جرير وابن أبي حاتم وابن المنذر من طريق أبي العبيدين أنه سأل ابن مسعود رضي الله عنه (والمرسلات عرفا) قال: الريح (فالعاصفات عصفا) قال: الريح (والناشرات نشراً) قال الريح (فالفارقات فرقا) قال: حسبك.

وروى عبد بن حميد وابن المنذر والحاكم وغيرهم عن خالد بن عرعرة قال: قام رجل إلى علي رضي الله عنه فقال: ما العاصفات
আবদ বিন হুমাইদ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই প্রেরিতদের যারা একের পর এক প্রেরিত। যারা সজোরে প্রবাহিত। যারা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে। যারা স্পষ্টভাবে পার্থক্যকারী। যারা উপদেশ অবতীর্ণ করে) তিনি বলেন: এরা হলো ফেরেশতা।

আবদ বিন হুমাইদ, আবুশ শাইখ এবং ইবনুল মুনজির আবু সলিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই প্রেরিতদের যারা একের পর এক প্রেরিত) তিনি বলেন: এরা হলো রাসুলগণ যাদের কল্যাণের সাথে প্রেরণ করা হয়; (যারা সজোরে প্রবাহিত) তিনি বলেন: বাতাস; (যারা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে) তিনি বলেন: বৃষ্টি; (যারা স্পষ্টভাবে পার্থক্যকারী) তিনি বলেন: রাসুলগণ। আবার আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির এবং ইবনুল মুনজির অন্য সূত্রে আবু সলিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই প্রেরিতদের যারা একের পর এক প্রেরিত) তিনি বলেন: ফেরেশতাগণ যারা অলংকার বা গুচ্ছ আকারে (একের পর এক) আসেন; (যারা সজোরে প্রবাহিত) তিনি বলেন: প্রবল বাতাস; (যারা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে) তিনি বলেন: ফেরেশতাগণ যারা আসমানি কিতাবসমূহ ছড়িয়ে দেন; (যারা স্পষ্টভাবে পার্থক্যকারী) তিনি বলেন: ফেরেশতাগণ যারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করেন; (যারা উপদেশ অবতীর্ণ করে) তিনি বলেন: ফেরেশতাগণ যারা কুরআন ও আসমানি কিতাব নিয়ে আসেন; (ক্ষমা প্রদর্শনের জন্য) আল্লাহর পক্ষ থেকে (অথবা সতর্ক করার জন্য) তাঁর পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি, আর তারা হলেন রাসুল যারা ওজর পেশ করেন ও সতর্ক করেন।

আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনুল মুনজির আবুল উবাইদাইন-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে (শপথ সেই প্রেরিতদের যারা একের পর এক প্রেরিত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি বলেন: বাতাস; (যারা সজোরে প্রবাহিত) তিনি বলেন: বাতাস; (যারা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে) তিনি বলেন: বাতাস; (যারা স্পষ্টভাবে পার্থক্যকারী) তিনি বলেন: তোমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।

আবদ বিন হুমাইদ, ইবনুল মুনজির, হাকেম এবং অন্যান্যরা খালিদ বিন আরআরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল: সজোরে প্রবাহিতগুলো কী?
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
عصفا؟ قال: الرياح. قال الحاكم: صحيح الإسناد ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي في تلخيصه.

وروى ابن جرير عن ابن عباس رضي الله عنهما (والمرسلات عرفا) قال: الريح (فالعاصفات عصفا) قال: الريح (فالفارقات فرقا) قال: الملائكة (فالملقيات ذكرا) قال: الملائكة.

وروى ابن جرير عن مجاهد (والمرسلات عرفا) قال: الريح (فالعاصفات عصفا) قال: الريح (والناشرات نشرا) قال: الريح.

وروى عبد الرزاق وعبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر عن قتادة (والمرسلات عرفا) قال: هي الريح (فالعاصفات عصفا) قال: هي الريح (فالفارقات فرقا) يعني القرآن ما فرق الله به بين الحق والباطل (فالملقيات ذكرا) هي الملائكة تلقي الذكر على الرسل وتلقيه الرسل على بني آدم (عذرا أو نذرا) قال: عذرا من الله ونذرا منه إلى خلقه.

فهذه أقوال الصحابة والتابعين في تفسير الآيات من أول سورة المرسلات كما ترى، والعمدة عليها لا على قرمطة المقرمطين وشطحات المنحرفين الخاطئين.

 

‌‌الوجه الثالث (*): أن الله تبارك وتعالى أقسم بالآيات من أول سورة المرسلات على وقوع المعاد والجزاء، والله تبارك وتعالى أعظم وأجل من أن يقسم بظلم بني آدم وعدوان بعضهم على

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: بالمطبوع (الوجه الثاني)، وهو خطأ طباعي
প্রবলভাবে? তিনি বললেন: এগুলো হলো বাতাস। ইমাম হাকেম বলেন: এর সনদ বিশুদ্ধ, তবে তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি; ইমাম যাহাবী তাঁর ‘তালখিস’ গ্রন্থে এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই বায়ুর যা ধারাবাহিকভাবে প্রেরিত হয়), তিনি বলেন: এগুলো হলো বাতাস; (শপথ সেই বায়ুর যা প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়), তিনি বলেন: এগুলো হলো বাতাস; (শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা সত্য-মিথ্যা পৃথক করে দেয়), তিনি বলেন: তারা হলো ফেরেশতামণ্ডলী; (শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা ওহী বা উপদেশ পৌঁছে দেয়), তিনি বলেন: তারা হলো ফেরেশতামণ্ডলী।

ইবনে জারীর মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই বায়ুর যা ধারাবাহিকভাবে প্রেরিত হয়), তিনি বলেন: বাতাস; (শপথ সেই বায়ুর যা প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়), তিনি বলেন: বাতাস; (শপথ সেই বায়ুর যা মেঘরাশিকে বিস্তৃত করে দেয়), তিনি বলেন: বাতাস।

আব্দুর রাজ্জাক, আব্দ বিন হুমাইদ, ইবনে জারীর এবং ইবনুল মুনযির কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (শপথ সেই বায়ুর যা ধারাবাহিকভাবে প্রেরিত হয়), তিনি বলেন: এটি হলো বাতাস; (শপথ সেই বায়ুর যা প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়), তিনি বলেন: এটি হলো বাতাস; (শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা সত্য-মিথ্যা পৃথক করে দেয়), অর্থাৎ আল-কুরআন, যার মাধ্যমে আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছেন; (শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা ওহী বা উপদেশ পৌঁছে দেয়), তারা হলো ফেরেশতামণ্ডলী যারা রাসূলদের কাছে ওহী পৌঁছে দেন এবং রাসূলগণ তা আদম সন্তানের কাছে পৌঁছে দেন; (ক্ষমা প্রার্থনার অবকাশ হিসেবে অথবা সতর্ক করার জন্য), তিনি বলেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর সৃষ্টির প্রতি সতর্কতা।

যেমনটি আপনি দেখছেন, সূরা আল-মুরসালাতের শুরুর আয়াতগুলোর তাফসীরের ক্ষেত্রে সাহাবী ও তাবেয়ীদের বক্তব্য এগুলোই। এই বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করা আবশ্যক; তথাকথিত গূঢ়তত্ত্ববাদীদের অপব্যাখ্যা এবং পথভ্রষ্ট অপরাধীদের অলীক প্রলাপের ওপর নয়।

 

‌তৃতীয় দিক (*): আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সূরা আল-মুরসালাতের শুরুর আয়াতগুলোর মাধ্যমে কিয়ামত এবং প্রতিদান সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে শপথ করেছেন। আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এর চেয়েও মহান ও মহিমান্বিত যে, তিনি আদম সন্তানের জুলুম এবং একে অপরের প্রতি শত্রুতার শপথ করবেন...

--------------------------------------------

(*) শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক বলেছেন: মুদ্রিত কপিতে এখানে ‘দ্বিতীয় দিক’ রয়েছে, যা একটি মুদ্রণজনিত ভুল।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
بعض وإهلاكهم للحرث والنسل بالطائرات والقنابل وما يلقونه من منشورات البغي والإفساد في الأرض، ومن زعم أن الله تعالى أقسم بالطائرات والقنابل ومنشورات أهلها فقد أعظم على الله الفرية.

 

فصل

وقال المصنف في صفحة (16 - 17) ما نصه:

وقال تعالى: (قل هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم أو من تحت أرجلكم) الآية. فإنها واردة في إلقاء القنابل من الطائرات. فقد سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الآية الكريمة فقال: (أما إنها كائنة ولم يأت تأويلها بعد) رواه أحمد في مسنده من حديث سعد بن أبي وقاص بسند حسن.

فهذا يفيد القطع بأن المراد بالعذاب من فوق في الآية المذكورة هو القنابل النازلة من الطائرات، لأنه لم يقع فيما مضى شيء من ذلك في هذه الأمة حتى ظهرت الطائرات ورميها بالقنابل، والنبي صلى الله عليه وسلم أخبر بأن ذلك كائن لا محالة وأنه آت بعده، فحصل من ذلك القطع أنها المراد من الآية. وقد تحقق ذلك وضرب المسلمون وغيرهم بالقنابل من فوقهم، ولا يزال الناس مهددين بالنوع الخطر منها وهي القنابل الذرية التي هي عذاب عام شامل وستأتي الإشارة إليها بخصوصها في آية أخرى.

وأما العذاب من تحت الأرجل فأشار إلى الألغام التي تنصب
...এবং বিমান ও বোমার মাধ্যমে তাদের ফসল ও গবাদি পশু ধ্বংস করা এবং পৃথিবীতে বিদ্রোহ ও বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা যে সকল প্রচারপত্র নিক্ষেপ করে; আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে মহান আল্লাহ বিমান, বোমা এবং এগুলোর ব্যবহারকারীদের প্রচারপত্রের শপথ করেছেন, সে আল্লাহর ওপর এক গুরুতর অপবাদ আরোপ করল।

 

পরিচ্ছেদ

এবং গ্রন্থকার ১৬-১৭ পৃষ্ঠায় যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:

মহান আল্লাহ বলেন: (বলুন, তিনিই সক্ষম তোমাদের ওপর তোমাদের ওপরের দিক থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে) শেষ পর্যন্ত। নিশ্চয় এটি বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা এই মহিমান্বিত আয়াত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: (জেনে রেখো, এটি অবশ্যই ঘটবে এবং এর ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন এখনও আসেনি) আহমদ তাঁর মুসনাদে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

এটি এই অকাট্য সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, উল্লিখিত আয়াতে ওপর থেকে আজাব বলতে উদ্দেশ্য হলো বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা। কারণ এই উম্মতের অতীতে এমন কিছু ঘটেনি যতক্ষণ না বিমানের আবির্ভাব হয়েছে এবং তার মাধ্যমে বোমা নিক্ষেপ শুরু হয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে এটি অনিবার্যভাবে ঘটবে এবং তাঁর পরে আসবে, ফলে এ থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে আয়াত দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য। আর এটি বাস্তবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং মুসলিম ও অমুসলিমদের ওপর ওপর থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। মানুষ এখনও এর বিপজ্জনক ধরন অর্থাৎ পারমাণবিক বোমার হুমকিতে রয়েছে, যা একটি ব্যাপক ও সর্বগ্রাসী আজাব এবং অন্য একটি আয়াতে বিশেষভাবে এর প্রতি ইঙ্গিত আসবে।

আর পায়ের নিচ থেকে আজাব বলতে মূলত জমিনে স্থাপিত মাইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
في الأرض فيمر عليها من يراد إهلاكه فتنفجر تحت رجله أو عربته فيهلك أو تنصب تحت الدور والمنازل فتتهدم على من فيها ممن يريد الله هلاكه وعذابه.

ومن الأحاديث العجيبة في هذا الباب ما رواه أحمد في مسنده بسند صحيح عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تمطر السماء مطراً لا تكن منها بيوت المدر ولا تكن منها إلا بيوت الشعر». فالمطر الذي لا تكن منه البيوت المبنية بالحجر هو القنابل النازلة من الطائرات، فإنه يهدمها على من فيها ولو لم تنزل على البيت نفسه، لأن قوة انفجارها تهدم البيوت القريبة من مكان الانفجار على من فيها، فلا تكن بيوت المدر منها وإنما تكن منها بيوت الشعر في البوادي التي سكن أهلها خيام الشعر، فإن القنابل إذا لم تنزل على نفس الخيمة لا يحصل منها ضرر لسكان القرية الذين يختبئون في المغارات وتحت الاحجار. فالحديث لولا ظهور القنابل لما تصور أحد معناه.

والجواب أن يقال: إن تأويله للآية الكريمة وقطعه بما قطع به فيها من نمط ما قبله من التكلف وتأول القرآن على غير تأويله.

والصحيح أن المراد بقوله (عذابا من فوقكم) الرجم من السماء (أو من تحت أرجلكم) الخسف، قاله أبي بن كعب وأبو العالية ومجاهد وسعيد بن جبير وأبو مالك والسدي وابن زيد وغير واحد.
মাটিতে, অতঃপর যার ধ্বংস নির্ধারিত সে তার উপর দিয়ে অতিক্রম করলে তা তার পা অথবা যানের নিচে বিস্ফোরিত হয়, ফলে সে ধ্বংস হয়ে যায়; অথবা তা ঘরবাড়ি ও বাসস্থানের নিচে স্থাপন করা হয়, ফলে তা আল্লাহ যাদের ধ্বংস ও শাস্তি দিতে চান তাদের উপর ধসে পড়ে।

এই অধ্যায়ের বিস্ময়কর হাদিসসমূহের মধ্যে একটি হলো ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ-এ সহিহ সনদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না আকাশ থেকে এমন বৃষ্টি বর্ষিত হবে যা থেকে মাটির তৈরি ঘরসমূহ কোনো সুরক্ষা দিতে পারবে না, কেবল পশমের তৈরি তাবুসমূহ ব্যতীত।" সুতরাং যে বৃষ্টি থেকে পাথরের তৈরি ঘরগুলো সুরক্ষা দিতে পারে না, তা হলো বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা; কারণ এটি ঘরের বাসিন্দাদের ওপর ঘরকে ধসিয়ে দেয়, যদিও তা সরাসরি ঘরের ওপর না পড়ে। কেননা এর বিস্ফোরণের শক্তি বিস্ফোরণস্থলের নিকটবর্তী ঘরগুলোকে তার বাসিন্দাদের ওপর ধ্বংস করে দেয়। ফলে মাটির তৈরি ঘরগুলো এর থেকে কোনো সুরক্ষা দিতে পারে না, বরং মরুভূমির পশমি তাবুগুলোই এর থেকে নিরাপদ থাকতে পারে যেখানে মানুষ পশমের তাবুতে বসবাস করে। কারণ বোমা যদি সরাসরি তাবুর ওপর না পড়ে, তবে গুহায় বা পাথরের নিচে আত্মগোপনকারী অধিবাসীদের কোনো ক্ষতি হয় না। মূলত বোমার আবির্ভাব না হলে কেউ এই হাদিসের অর্থ কল্পনাও করতে পারত না।

এর উত্তরে বলা হবে: উক্ত পবিত্র আয়াতের ক্ষেত্রে তার এই ব্যাখ্যা এবং এ বিষয়ে তার সুনিশ্চিত দাবি পূর্ববর্তী কৃত্রিমতা ও কষ্টকল্পনারই অনুরূপ, এবং এটি কুরআনকে তার প্রকৃত মর্মের বাইরে অপব্যাখ্যা করার শামিল।

আর সঠিক মত হলো, মহান আল্লাহর বাণী—"তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ হতে শাস্তি"—এর উদ্দেশ্য হলো আসমান থেকে পাথর বর্ষণ বা বজ্রপাত, এবং "তোমাদের পদতল হতে"—এর উদ্দেশ্য হলো ভূমিধস। এই মত ব্যক্ত করেছেন উবাই বিন কাব, আবুল আলিয়া, মুজাহিদ, সাঈদ বিন জুবাইর, আবু মালিক, সুদ্দি, ইবনে যায়েদ এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) ঈযহুল মাহাজ্জাহ ফীর রদ্দি আলা সাহিবি তনজাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال ابن جرير: حدثني محمد بن عيسى الدمغاني قال: أخبرنا ابن المبارك عن الربيع بن أنس عن أبي العالية في قوله (قل هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم) الآية.

قال: فهن أربع، وكلهن عذاب، فجاء منهن اثنتان بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بخمس وعشرين سنة فألبسوا شيعا وأذيق بعضهم بأس بعض، وبقيت اثنتان فهما لابد واقعتان، يعني الخسف والمسخ. وقد رواه الإمام أحمد وابن جرير من طريق أبي جعفر الرازي عن الربيع بن أنس عن أبي العالية عن أبي بن كعب رضي الله عنه في قوله تبارك وتعالى (قل هو القادر على أن يبعث عليكم عذابا من فوقكم أو من تحت أرجلكم أو يلبسكم شيعا) قال: أربع خلال وكلهن عذاب، وكلهن واقع قبل يوم القيامة؛ فمضت اثنتان بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بخمس وعشرين سنة: ألبسوا شيعا؛ وأذيق بعضهم بأس بعض، وثنتان واقعتان لا محالة: الخسف، والرجم. قال الهيثمي: رجال أحمد ثقات. قلت وكذا رجال ابن جرير. قال الهيثمي: والظاهر أن من قوله: فمضت اثنتان … إلى آخره من قول رفيع - يعني أبا العالية - فإن أبي بن كعب رضي الله عنه لم يتأخر إلى زمن الفتنة انتهى.

والقول الثاني في الآية أن المراد بقوله (عذابا من فوقكم) أئمة السوء (أو من تحت أرجلكم) الخدم وسفلة الناس رواه ابن جرير وابن أبي حاتم عن ابن عباس رضي الله عنهما.
এবং ইবনে জারির বলেন: মুহাম্মদ বিন ঈসা আদ-দামগানী আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবি বিন আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে মহান আল্লাহর বাণী "বলুন, তিনিই সক্ষম তোমাদের ওপর তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে আজাব পাঠাতে" আয়াতাংশ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন: এগুলো হলো চারটি বিষয়, যার প্রতিটিই আজাব। এর মধ্যে দুটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পঁচিশ বছর পর প্রকাশ পেয়েছে। তা হলো: তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং একে অপরের রক্তপাতের স্বাদ আস্বাদন করানো হয়েছে। আর বাকি দুটি অবশ্যই সংঘটিত হবে, তা হলো—ভূমিধস ও বিকৃতি (আকৃতি পরিবর্তন)। ইমাম আহমাদ ও ইবনে জারির এটি আবু জাফর আর-রাজি-এর সূত্রে রাবি বিন আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মহান আল্লাহর বাণী "বলুন, তিনিই সক্ষম তোমাদের ওপর তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে আজাব পাঠাতে কিংবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে" সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: চারটি বৈশিষ্ট্য এবং এর সবকটিই আজাব, আর এর সবগুলোই কিয়ামতের আগে সংঘটিত হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পঁচিশ বছর পর দুটি অতিবাহিত হয়েছে: তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেওয়া এবং একে অপরের রক্তপাতের স্বাদ আস্বাদন করানো। আর দুটি অবশ্যই ঘটবে: ভূমিধস ও পাথর বর্ষণ। আল-হাইসামি বলেন: আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আমি (গ্রন্থকার) বলি, ইবনে জারিরের বর্ণনাকারীগণও তদ্রূপ। আল-হাইসামি আরও বলেন: স্পষ্টত "দুটি অতিবাহিত হয়েছে" থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটুকু রফী—অর্থাৎ আবুল আলিয়া—এর উক্তি। কেননা উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু ফিতনার সময় পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন না। সমাপ্ত।

এই আয়াতের ব্যাপারে দ্বিতীয় মতটি হলো: মহান আল্লাহর বাণী "তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে আজাব" বলতে উদ্দেশ্য হলো অসৎ শাসকগোষ্ঠী, আর "তোমাদের পদতল থেকে" বলতে উদ্দেশ্য হলো ভৃত্য ও নিম্নস্তরের মানুষ। এটি ইবনে জারির ও ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন।