(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: -)
المعجم الكبير للطبراني   (الطبراني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: المعجم الكبير

المؤلف: سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الشامي، أبو القاسم الطبراني (ت 360 هـ)

المحقق: حمدي بن عبد المجيد السلفي [ت 1433 هـ]

دار النشر: مكتبة ابن تيمية - القاهرة

الطبعة: الثانية

عدد الأجزاء:25

ويشمل القطعة التي نشرها لاحقا المحقق الشيخ حمدي السلفي من المجلد 13 (دار الصميعي - الرياض / الطبعة الأولى، 1415 هـ - 1994 م)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাবারানির আল-মু'জামুল কাবীর   (আত-তাবারানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আল-মু'জামুল কাবীর

লেখক: সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব বিন মুতাইর আল-লাখমি আশ-শামি, আবুল কাসিম আত-তাবারানি (মৃত্যু ৩৬০ হি.)

মুহাক্কিক: হামদি বিন আব্দুল মাজিদ আস-সালাফি [মৃত্যু ১৪৩৩ হি.]

প্রকাশনী: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া - কায়রো

সংস্করণ: দ্বিতীয়

খণ্ড সংখ্যা: ২৫

এবং এতে সেই অংশটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা মুহাক্কিক শায়খ হামদি আস-সালাফি পরবর্তীতে ১৩তম খণ্ড থেকে প্রকাশ করেছেন (দারুস সুমাইয়ি - রিয়াদ / প্রথম সংস্করণ, ১৪১৫ হি. - ১৯৯৪ খ্রি.)

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌مقدمة

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَوَاتُهُ عَلَى نَبِيِّهِ مُحَمِّدٍ وَآلِهِ أَجْمَعِينَ، هَذا الْكِتَابُ أَلَّفْنَاهُ جَامِعًا لِعَدَدِ مَا انْتَهَى إِلَيْنَا مِمَّنْ رَوَى عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، عَلَى حُرُوفِ أَلِفٍ ب ت ث، بَدَأْتُ فِيهِ بِالْعَشْرَةِ رضي الله عنهم، لِأَنْ لَا يَتَقَدَّمَهُمْ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، خَرَّجْتُ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ حَدِيثًا وَحَدِيثَيْنِ وَثَلاثًا وَأَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ عَلَى حَسَبِ كَثْرَةِ رِوَايَتْهِمْ وَقِلَّتِهَا، وَمَنْ كَانَ مِنَ الْمُقِلِّينَ خَرَّجْتُ حَدِيثَهُ أَجْمَعَ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ رِوَايَةٌ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ لَهُ ذِكْرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ مَنِ اسْتُشْهدَ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، أَوْ تَقَدَّمَ مَوْتُهُ ذَكَرْتُهُ مِنْ كُتِبِ الْمَغَازِي وَتَارِيخِ الْعُلَمَاءِ، لِيُوقَفَ عَلَى عَدَدِ الرُّوَاةِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَذِكْرِ أَصْحَابِهِ رضي الله عنهم، وَسَنُخْرِجُ مُسْنَدَهُمْ بِالِاسْتِقْصَاءِ عَلَى تَرْتِيبِ الْقَبَائِلِ بِعَوْنِ اللهِ وَقُوَّتِهِ إِنْ شَاءَ اللهُ وَحْدَهُ
ভূমিকা

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবারের ওপর। এই গ্রন্থটি আমরা সংকলন করেছি আমাদের নিকট পৌঁছানো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনাকারী পুরুষ ও নারীগণের বর্ণনার সমষ্টি হিসেবে, যা আলিফ, বা, তা, সা বর্ণের ক্রমানুসারে সাজানো। এতে আমি সেই দশজন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী)—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর মাধ্যমে শুরু করেছি, কারণ তাঁদের আগে অন্য কেউ অগ্রগণ্য হতে পারে না। আমি তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি, দুটি, তিনটি বা তারও বেশি হাদিস উল্লেখ করেছি, যা তাঁদের বর্ণনার আধিক্য বা স্বল্পতার ওপর নির্ভর করে। আর যাঁরা স্বল্প বর্ণনাকারী ছিলেন, তাঁদের বর্ণিত সকল হাদিসই আমি উল্লেখ করেছি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীদের মধ্যে যাঁদের কোনো বর্ণনা নেই, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শহীদ হয়েছেন কিংবা তাঁর আগেই মৃত্যু বরণ করেছেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়, তাঁদের কথা আমি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং আলেমগণের ইতিহাসের কিতাবসমূহ থেকে উল্লেখ করেছি, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনাকারী এবং তাঁর সাহাবীগণের—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—সংখ্যা ও বর্ণনা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। আর আমরা আল্লাহর সাহায্য ও শক্তিতে, ইনশাআল্লাহ একা তাঁরই ইচ্ছায়, গোত্রসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী বিস্তারিতভাবে তাঁদের মুসনাদসমূহ সংকলন করব।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌نِسْبَةُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ " وَاسْمُهُ رضي الله عنه: أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ كَعْبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ "
আবু বকর আস-সিদ্দীকের বংশপরিচয় " এবং তাঁর নাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন): আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌1 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ خَالِدٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: " أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ اسْمُهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ كَعْبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ، شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَأُمُّ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه: أُمُّ الْخَيْرِ سَلْمَى بِنْتُ صَخْرِ بْنِ عَامِرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ كَعْبِ بْنِ سَعْدِ بْنِ تَيْمِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكٍ، وَأُمُّ أُمِّ الْخَيْرِ: دِلَافُ وَهِي أُمَيْمَةُ بِنْتُ عُبَيْدِ بْنِ النَّاقِدِ الْخُزَاعِيِّ، وَجَدَّةُ أَبِي بَكْرٍ: أُمُّ أَبِي قُحَافَةَ أَمِينَةُ بِنْتُ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ حُرْثَانَ بْنِ عَوْفِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُوَيْجِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ "
১ - মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে খালিদ আল-হাররানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহীআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আবু বকর আস-সিদ্দীক, তাঁর নাম আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। আর আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাতা হলেন উম্মুল খায়ের সালমা বিনতে সাখর ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক। উম্মুল খায়েরের মাতা হলেন দিলাফ, আর তিনি হলেন উমায়মাহ বিনতে উবাইদ ইবনে আন-নাক্বিদ আল-খুযাঈ। আর আবু বকরের পিতামহী—যিনি আবু কুহাফার মাতা—হলেন আমীনাহ বিনতে আব্দুল উযযা ইবনে হুরসান ইবনে আউফ ইবনে উবাইদ ইবনে উইয়াইজ ইবনে আদী ইবনে কাব।"
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَدِينِيُّ الْبَغْدَادِيُّ، ثنا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، عَنِ الْهَيْثَمِ بْنِ عَدِيٍّ، قَالَ: " أُمُّ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه يُقَالُ لَهَا: أُمُّ الْخَيْرِ بِنْتُ صَخْرِ بْنِ عَامِرٍ، وَهَلَكَ أَبُو بَكْرٍ فَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ جَمِيعًا، وَكَانَا قَدْ أَسْلَمَا، وَمَاتَتْ أُمُّ أَبِي بَكْرٍ قَبْلَ أَبِيهِ "
২ - মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মাদিনী আল-বাগদাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে রুশাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাইসাম ইবনে আদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাকে উম্মুল খায়ের বিনতে সাখর ইবনে আমির বলা হতো। আবু বকর ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর পিতামাতা উভয়েই তাঁর উত্তরাধিকার লাভ করেন; তাঁরা উভয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আর আবু বকরের মা তাঁর পিতার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।"
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌3 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ شَبِيبٍ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَحْيَى بْنِ هَانِئٍ الشَّجَرِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ خَازِمِ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: " أَسْلَمَتْ أُمُّ أَبِي بَكْرٍ، وَأُمُّ عُثْمَانَ، وَأُمُّ طَلْحَةَ، وَأُمُّ الزُّبَيْرِ، وَأُمُّ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَأُمُّ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رضي الله عنهم، وَيُقَالُ: عَتِيقُ بْنُ عُثْمَانَ، وَإِنَّما سُمِّيَ عَتِيقًا لِحُسْنِ وَجْهِهِ "
৩ - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আল-মুকাদ্দামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন শাবিব আল-মাদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম বিন ইয়াহইয়া বিন হানি আল-শাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খাযিম বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবি বকর থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আবু বকরের মাতা, উসমানের মাতা, তালহার মাতা, যুবায়েরের মাতা, আবদুর রহমান বিন আউফের মাতা এবং আম্মার বিন ইয়াসিরের মাতা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আর বলা হয়: আতিক বিন উসমান; এবং মূলত তাঁর চেহারার সৌন্দর্যের কারণেই তাঁকে আতিক নামকরণ করা হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌4 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُعَلَّى الدِّمَشْقِيُّ، ثنا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ، ثنا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: «إِنَّمَا سُمِّيَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه عَتِيقًا لَجَمَالِ وَجْهِهِ، وَاسْمُهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ»
৪ - আহমাদ ইবনুল মুআল্লা আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দামরা ইবনে রাবিআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মূলত তাঁর চেহারার সৌন্দর্যের কারণেই ‘আতীক’ নামকরণ করা হয়েছে, আর তাঁর নাম হলো আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান।»
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌5 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَدَقَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَفْصٍ عَمْرَو بْنَ عَلِيٍّ يَقُولُ: كَانَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه مَعْرُوقَ الْوَجْهِ، وَإِنَّمَا سُمِّيَ عَتِيقًا لِعَتَاقَةِ وَجْهِهِ، وَكَانَ اسْمُهُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُثْمَانَ، وِقَدْ رُوِيَ «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم سَمَّاهُ عَتِيقًا مِنَ النَّارِ»
৫ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন সাদাকাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হাফস আমর ইবন আলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কৃশ চেহারার অধিকারী ছিলেন। মূলত তাঁর চেহারার আভিজাত্য ও সৌন্দর্যের কারণেই তাঁকে ‘আতীক’ নামকরণ করা হয়েছিল। তাঁর নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবন উসমান। আর এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ‘জাহান্নাম থেকে মুক্ত’ (আতীক) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌6 - حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنْبَاعِ رَوْحُ بْنُ الْفَرَجِ الْمِصْرِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، ثنا قَيْسُ بْنُ أَبِي قَيْسٍ الْبُخَارِيُّ، ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، ثنا، ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ اسْمِ أَبِي بَكْرٍ، فَقَالَتْ: «عَبْدُ اللهِ» . فَقُلْتُ: إِنَّهُمْ يَقُولُونَ: عَتِيقٌ، فَقَالَتْ: «إِنَّ أَبَا قُحَافَةَ كَانَ لَهُ ثَلَاثَةٌ فَسَمَّى وَاحِدًا عَتِيقًا، وَمُعَيْتِقًا، وَمُعْتَقًا»
৬ - আমাদের নিকট আবুয যিনবা’ রাউহ ইবনুল ফারাজ আল-মিসরী বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কায়স ইবনু আবী কায়স আল-বুখারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু লাহীআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমারা ইবনু গাযিয়্যাহ থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে আবু বকরের নাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: «আবদুল্লাহ»। আমি বললাম: লোকেরা তো তাঁকে 'আতীক' বলে। তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আবু কুহাফার তিনটি সন্তান ছিল, তিনি একজনের নাম রেখেছিলেন আতীক, (অন্যদের) মুআইতিক এবং মু'তাক»।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌7 - حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ التُّسْتَرِيُّ، ثنا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ اسْمُ أَبِي بَكْرٍ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُثْمَانَ «فَسَمَّاهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَتِيقًا مِنَ النَّارِ»
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে ইসহাক আত-তুস্তারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বালখি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, যিয়াদ ইবনে সা'দ থেকে, তিনি আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আয-যুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু বকরের নাম ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত (আতীক) বলে নামকরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌8 - حَدَّثَنَا الْمِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ الْمِصْرِيُّ، ثنا حَبِيبُ بْنُ زُرَيْقٍ، ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَامِرٍ الْأَسْلَمِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، يَقُولُ: " كَانَ اسْمُ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه: عَبْدَ اللهِ بْنَ عُثْمَانَ "
৮ - মিকদাম ইবনে দাউদ আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাবিব ইবনে জুরাইক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমির আল-আসলামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "আবু বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর নাম ছিল: আবদুল্লাহ ইবনে উসমান।"
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعُمَرِيُّ الْقَاضِي، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَمِّهِ إِسْحَاقَ بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رضي الله عنها، فَقَالَتْ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ: «أَنْتَ عَتِيقٌ مِنَ النَّارِ» فَمِنْ يَوْمَئِذٍ سُمِّيَ عَتِيقًا
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-উমারী আল-কাজী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন আবু উওয়াইস, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইয়াহইয়া বিন তালহা, তিনি তাঁর চাচা ইসহাক বিন তালহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন: আবু বকর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন: «তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্ত», আর সেই দিন থেকেই তাঁর নাম 'আতীক' রাখা হলো।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الصَّائِغُ الْمَكِّيُّ، وَأَبُو زُرْعَةَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الدِّمَشْقِيُّ، قَالَا: ثنا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، ثنا صَالِحُ بْنُ مُوسَى الطَّلْحِيُّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنهما، مَرَّ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى عَتِيقٍ مِنَ النَّارِ، فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا» . قَالَتْ: وَاسْمُهُ الَّذِي سَمَّاهُ أَهْلُهُ: عَبْدُ اللهِ بْنُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আলী আস-সাইগ আল-মাক্কী এবং আবু যুরআহ আবদুর রহমান বিন আমর আদ-দিমাশকী, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন মানসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ বিন মূসা আত-তালহী, তিনি মুআবিয়া বিন ইসহাক থেকে, তিনি আয়েশা বিনতে তালহা থেকে, তিনি মুমিনদের জননী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকে দেখতে চায়, সে যেন এর দিকে তাকায়»। তিনি (আয়েশা) বলেন: তাঁর পরিবার তাঁর যে নাম রেখেছিলেন তা হলো: আবদুল্লাহ বিন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، قَالَ: " لَا نَعْلَمُ أَرْبَعَةً أَدْرَكُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبْنَاؤُهُمْ، إِلَّا هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةَ: أَبُو قُحَافَةَ، وَأَبُو بَكْرٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، وَأَبُو عَتِيقِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَاسْمُ أَبِي عَتِيقٍ مُحَمَّدٌ رضي الله عنهم "
১১ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি বলেন: "আমরা এমন চারজন (প্রজন্ম) সম্পর্কে জানি না যারা এবং তাঁদের সন্তানরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভ করেছেন, কেবল এই চারজন ব্যতীত: আবু কুহাফা, আবু বকর, আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর এবং আবু আতিক ইবনে আবদুর রহমান। আবু আতিকের নাম হলো মুহাম্মদ (রাদিআল্লাহু আনহুম)।"
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৪)
‌‌12 - حَدَّثَنَا مُطَّلِبُ بْنُ شُعَيْبٍ الْأَزْدِيُّ، ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ سَيْفٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ جَلَسَ مَعَ شُفَيٍّ الْأَصْبَحِيِّ فَقَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " يَكُونُ بَعْدِي اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً: أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ لَا يَلْبَثُ بَعْدِي إِلَّا قَلِيلًا، وَصَاحِبُ رَحًى دَارَّةٍ يَعِيشُ حَمِيدًا، وَيَمُوتُ شَهِيدًا ". قِيلَ: مَنْ هُوَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ» رضي الله عنه، ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى عُثْمَانَ فَقَالَ: «وَأَنْتَ سَيَسْأَلُكَ النَّاسُ أَنْ تَخْلَعَ قَمِيصًا كَسَاكَ اللهُ عز وجل، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَئِنْ خَلَعْتَهُ، لَا تَدْخُلُ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ»
১২ - মুত্তালিব ইবনে শুআইব আল-আযদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস ইবনে সাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি রাবিআহ ইবনে সাইফ থেকে যে, তিনি শুফাই আল-আসবাহীর নিকট বসেছিলেন, তখন তিনি বললেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমার পরে বারোজন খলিফা হবেন: আবু বকর আস-সিদ্দিক, তিনি আমার পরে অল্প সময় ব্যতীত অবস্থান করবেন না, এবং আবর্তনশীল যাঁতার অধিকারী ব্যক্তি, যিনি প্রশংসিত অবস্থায় বেঁচে থাকবেন এবং শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তিনি কে? তিনি বললেন: «ওমর ইবনুল খাত্তাব» রাযিয়াল্লাহু আনহু। অতঃপর তিনি উসমানের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: «আর তুমি—লোকেরা তোমাকে সেই জামাটি খুলে ফেলতে বলবে যা মহান আল্লাহ তোমাকে পরিধান করিয়েছেন। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তুমি যদি তা খুলে ফেলো, তবে সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ না করা পর্যন্ত তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।»
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌13 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثنا حَجَّاجُ بْنُ الْمَهَّالِ، ح وَحَدَّثَنَا الْمِقْدَامُ، ثنا أَسَدُ بْنُ مُوسَى، قَالَا: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ، مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْخِلَافَةُ ثَلَاثُونَ سَنَةً، ثُمَّ يَكُونُ مُلْكًا» قَالَ: «أمْسَكَ ثِنْتَيْنِ أَبُو بَكْرٍ، وَعَشْرًا عُمَرُ، وَاثْنَتَيْ عَشْرَةَ عُثْمَانُ، وَسِتًّا عَلِيٌّ رضي الله عنهم»
১৩ - আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনুল মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (অন্য সূত্রে) আল-মিকদাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসাদ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে জুমহান থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত দাস সাফীনাহ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «খিলাফত হবে ত্রিশ বছর, এরপর তা রাজতন্ত্রে পরিণত হবে।» তিনি (সাফীনাহ) বললেন: «আবু বকর দুই বছর, উমর দশ বছর, উসমান বারো বছর এবং আলী ছয় বছর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) দায়িত্ব পালন করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌14 - حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ الْمُثَنَّى، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ السَّلُولِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْعَبْدِيُّ، عَنْ هَارُونَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِي يَحْيَى حَكِيمِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيًّا رضي الله عنه " يَحْلِفُ: لَلَّهُ أَنْزَلَ اسْمَ أَبِي بَكْرٍ مِنَ السَّمَاءِ الصِّدِّيقُ "
১৪ - মুআজ ইবনে আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আল-মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে মানসুর আস-সালুলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আল-আবদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইমরান ইবনে জাবইয়ান থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া হাকিম ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে শপথ করে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান থেকে আবু বকরের নাম 'আস-সিদ্দিক' হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌15 - حَدَّثَنَا بُهْلُولُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ بُهْلُولٍ الْأَنْبَارِيُّ، ثنا أَبِي، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ أَبِي الْمُسَاوِرِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: أَخْبَرَتْنِي أُمُّ هَانِئٍ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أُسْرِيَ بِهِ: «أَنِّي أُرِيدُ أَنْ أَخْرُجَ إِلَى قُرَيْشٍ فَأُخْبِرَهُمْ» ، فَأَخْبَرَهُمْ فَكَذِّبُوهُ، وَصَدَّقَهُ أَبُو بَكْرٍ فَسُمِّي يَوْمَئِذٍ الصِّدِّيقُ
১৫ - আমাদের নিকট বুহলুল ইবনে ইসহাক ইবনে বুহলুল আল-আনবারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আলা ইবনে আবিল মুসাওয়ির থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি বলেন: উম্মু হানি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নৈশভ্রমণ (ইসরা) করলেন তখন বললেন: «আমি কুরাইশদের নিকট গিয়ে তাদেরকে সংবাদ দিতে চাই», অতঃপর তিনি তাদের সংবাদ দিলেন, ফলে তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং আবু বকর তাঁকে সত্যয়ন করলেন, আর সেদিন থেকেই তাঁর নাম রাখা হলো 'সিদ্দিক'।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌صِفَةُ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বৈশিষ্ট্য
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌16 - حَدَّثَنَا طَاهِرُ بْنُ عِيسَى بْنِ قَيْرِسٍ الْمِصْرِيُّ، ثنا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، ثنا ابْنُ لَهِيعَةَ، ثنا الْحَارِثُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو رضي الله عنه، قَالَ: " ثَلَاثَةٌ مِنْ قُرَيْشٍ أَصْبَحُ قُرَيْشٍ وُجُوهًا، وَأَحْسَنُهَا أَخْلَاقًا، وَأثْبَتُها حَيَاءً، إِنْ حَدَّثُوكَ لَمْ يَكْذِبُوكَ، وَإِنْ حَدَّثْتَهُمْ لَمْ يُكَذِّبُوكَ: أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ، وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَعُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رضي الله عنهم "
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাহির ইবনে ঈসা ইবনে কায়রিস আল-মিসরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়াহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হারিস ইবনে ইয়াজিদ, আলি ইবনে রাবাহ থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "কুরাইশদের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি রয়েছেন যারা কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দর এবং লজ্জাশীলতায় সবচেয়ে সুদৃঢ়; যদি তারা তোমার সাথে কথা বলে তবে তোমার সাথে মিথ্যা বলে না, আর যদি তুমি তাদের কাছে কোনো কথা বলো তবে তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে না: তারা হলেন আবু বকর আস-সিদ্দিক, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ এবং উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।"
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌17 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثنا عَارِمٌ أَبُو النُّعْمَانِ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، «أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه خَضَبَ بِالْحِنَّاءِ وَالْكَتَمِ»
১৭ - আমাদের নিকট আলী ইবনে আব্দুল আজীজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আরিম আবু নুমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যায়দ বর্ণনা করেছেন সাবিত হতে, তিনি আনাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) হতে বর্ণনা করেন যে, «নিশ্চয়ই আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) মেহেদি এবং কাতাম (এক প্রকার উদ্ভিদ) দ্বারা খিযাব করেছেন (চুলে রঙ লাগিয়েছেন)।»
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌18 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ، أنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أنا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، وَثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه «أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه خَضَبَ لِحْيَتَهُ بِالْحِنَّاءِ وَالْكَتَمِ، وَأَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه خَضَبَ بِالْحِنَّاءِ فَرْدًا» ،

 

‌‌19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ، ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ مِثْلَهُ
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাবারী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি কাতাদাহ ও সাবিত থেকে, তাঁরা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «নিশ্চয়ই আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর দাড়ি মেহেদি ও কাতাম দ্বারা রাঙিয়েছেন এবং ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এককভাবে মেহেদি দ্বারা রাঙিয়েছেন»,

 

‌১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ আন-নারসি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে জুরাই, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدُوسِ بْنِ كَامِلٍ، ثنا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، ثنا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه كَانَ يَخْضِبُ بِالْحِنَّاءِ وَالْكَتَمِ، وَأَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه كَانَ يَخْضِبُ بِالْحِنَّاءِ»
২০ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুস ইবনে কামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল জা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ থেকে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর (রা.) মেহেদি ও কাতাম দ্বারা খেজাব লাগাতেন এবং উমর (রা.) মেহেদি দ্বারা খেজাব লাগাতেন।
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৬)
‌‌21 - ثنا عَلَيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثنا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنِي الْوَاقِدِيُّ، حَدَّثَنِي شُعَيْبُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها، أَنَّهَا رَأَتْ رَجُلًا مَارًّا، وَهِي فِي هَوْدَجِهَا فَقَالَتْ: «مَا رَأَيْتُ رَجُلًا أَشْبَهَ بِأَبِي بَكْرٍ مِنْ هَذَا» ، فَقِيلَ لَهَا: صِفِي لَنَا أَبَا بَكْرٍ، فَقَالَتْ: «كَانَ رَجُلًا أَبْيَضَ نَحِيفًا خَفِيفَ الْعَارِضَيْنِ، أحْنَا لَا تَسْتَمْسِكُ إِزْرَتُهُ، تَسْتَرْخِي عَنْ حَقْوَيْهِ، مَعْرُوقَ الْوَجْهِ، غَائِرَ الْعَيْنَيْنِ، نَاتِئَ الْجَبْهَةِ، عَارِيَ الْأشَاجِعِ هَذِهِ صِفَتُهُ»
২১ - আলী বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুবাইর বিন বাক্কার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহীম বিন মুনযির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়াকিদী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব বিন তালহা বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর আল-সিদ্দিক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর হাওদায় থাকাকালীন এক ব্যক্তিকে অতিক্রম করতে দেখলেন এবং বললেন: "আমি এই ব্যক্তির চেয়ে আবু বকরের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আর কোনো ব্যক্তিকে দেখিনি।" তখন তাঁকে বলা হলো: "আমাদের কাছে আবু বকরের দৈহিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন।" তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন ফর্সা বর্ণের, কৃশকায় এবং তাঁর দুই গালের দাড়ি ছিল হালকা। তিনি ছিলেন সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে থাকা, তাঁর লুঙ্গি (কোমরে) স্থির থাকত না বরং তা তাঁর কটিদেশ থেকে ঝুলে পড়ত। তাঁর চেহারা ছিল মাংসহীন, চোখ দুটি ছিল কোটরগত, কপাল ছিল উন্নত এবং তাঁর আঙ্গুলের গিঁটগুলো ছিল মাংসহীন (স্পষ্ট)। এটিই ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য।"
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌22 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعَمَ، ثنا عُمَارَةُ بْنُ غُرَابٍ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ: «رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ وَهُوَ خَلِيفَةُ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْمَرَ اللِّحْيَةِ قَانِيَهَا»
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবন মুসা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবন যিয়াদ ইবন আনআম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমারাহ ইবন গুরাব, তিনি তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি আবু বকর সিদ্দীককে দেখেছি যখন তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলিফা ছিলেন, তাঁর দাড়ি ছিল লাল এবং অত্যন্ত গাঢ় লাল বর্ণের।»
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌23 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ، ثنا مِسْعَرٌ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ قَالَ: «كَانَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه يَخْضِبُ بِالْحِنَّاءِ»
২৩ - আলী বিন আবদুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মিসআর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ বিন ইলাকাহ থেকে, তিনি বলেন: «আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মেহেদি দিয়ে খেজাব করতেন»
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌24 - حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَلْطِيُّ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ، ثنا مِسْعَرٌ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي أَسَدٍ قَالَ: «رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه فِي غَزْوَةِ ذَاتِ السَّلَاسِلِ، وَكَأَنَّ لِحْيَتَهُ لَهَبُ الْعَرْفَجِ، عَلَى نَاقَةٍ لَهُ أَدَمًا أَبْيَضَ خَفِيفًا»
24 - আমাদের নিকট ফুযাইল ইবন মুহাম্মদ আল-মালতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মিসআর বর্ণনা করেছেন আবু আউন থেকে, তিনি বনু আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেন: «আমি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জাতুস সালাসিল যুদ্ধে দেখেছি; তাঁর দাড়ি যেন আরফাজ বৃক্ষের আগুনের শিখার ন্যায় ছিল এবং তিনি তাঁর একটি হালকা সাদা ও লালাভ বর্ণের উটনীর পিঠে আরোহী ছিলেন।»
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌25 - حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبَّادٍ الْخَطَّابِيُّ الْبَصْريُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ لُوَيْنٌ، ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ: قَالَ مُعَاوِيَةُ رضي الله عنه: «دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه، فَرَأَيْتُ أَسْمَاءَ قَائِمَةً عَلَى رَأْسِهِ بَيْضَاءَ، وَرَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه أَبْيَضَ نَحِيفًا فَحَمَلَنِي وَأَبِي عَلَى فَرَسَيْنِ، ثُمَّ عُرِضْنَا عَلَيْهِ، وَأَجَازَنَا»
২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম ইবনে আব্বাদ আল-খাত্তাবি আল-বাসরি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান লুওয়াইন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ, তিনি ইসমাঈল থেকে, তিনি কায়স থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: «আমি আমার পিতার সাথে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি আসমাকে তাঁর শিয়রে দণ্ডায়মান দেখলাম, তিনি ছিলেন শ্বেতবর্ণা। আর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-কেও দেখলাম শ্বেতবর্ণ ও কৃশকায়। অতঃপর তিনি আমাকে এবং আমার পিতাকে দুটি ঘোড়ার ওপর সওয়ার করালেন, এরপর আমাদের তাঁর নিকট উপস্থাপন করা হলো এবং তিনি আমাদের পুরস্কৃত করলেন।»
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌سِنُّ أَبِي بَكْرٍ وَخُطْبَتُهُ، وَوَفَاتُهُ رضي الله عنه
আবু বকরের বয়স, তাঁর ভাষণ এবং তাঁর ইন্তেকাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
(খণ্ড: ১) আল মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌26 - حَّدَثَنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّبَرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَاتَ عَلَى رَأْسِ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ»
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আদ-দাবারী, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন।