(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: -)
عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن القسم: الفرق والردود
الكتاب: عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: دار اللواء للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1409 هـ - 1989 م
عدد الصفحات: 133
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
রহমানের আকৃতিতে আদম সৃষ্টির বিষয়ে ঈমানদারগণের আকিদা বিভাগ: ফেরকা এবং খণ্ডন
গ্রন্থ: রহমানের আকৃতিতে আদম সৃষ্টির বিষয়ে ঈমানদারগণের আকিদা
লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরি (মৃত্যু ১৪১৩ হি.)
প্রকাশক: দারুল লিওয়া প্রকাশনা ও বিতরণ، রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৯ হি. - ১৯৮৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: -)
عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن
تأليف
الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود التويجري
غفر الله له ولوالديه وللمؤمنين والمؤمنات
دار اللواء
রাহমানের অবয়বে আদম সৃষ্টির বিষয়ে আহলে ঈমানের আক্বীদা
গ্রন্থনায়
মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হামূদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামূদ আত-তুওয়াইজীরী
আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করুন
দারুল লিওয়া
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٣)
عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن
রহমানের আকৃতিতে আদম সৃষ্টির বিষয়ে আহলে ঈমানের আকিদাহ
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٤)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة الثانية
1409 هـ - 1989 م
المملكة العربية السعودية - الرياض 11461
دار اللواء ص. ب: 2856 شارع الملك فيصل
هاتف: 4028084 - 4051754 - برقياً: نشر دار
স্বত্বাধিকার লেখকের নিকট সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ
সৌদি আরব রাজ্য - রিয়াদ ১১৪৬১
দারুল লিওয়া, ডাকবক্স: ২৮৫৬, কিং ফয়সাল স্ট্রিট
ফোন: ৪০২৮০৮৪ - ৪০৫১৭৫৪ - টেলিগ্রাম: নাশর দার
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد فإن هذه هي الطبعة الثانية لكتاب «عقيدة أهل الإيمان، في خلق آدم على صورة الرحمن»، وهي تمتاز عن الطبعة الأولى بأربعة أشياء. أولها تصدير الكتاب بتقريظ صاحب الفضيلة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز. الثاني تصحيح كثير من الإشكالات الواقعة في كلام شيخ الإسلام أبي العباس ابن تيمية رحمه الله على نسخة أخرى خطية قد كتبت في القرن الثامن من الهجرة بعد وفاة شيخ الإسلام ابن تيمية بأربع وأربعين سنة. وقد جاء في آخر هذه النسخة ما نصه فرغ منها كاتبها أبو بكر المقدسي بتاريخ العشرين من شهر جمادى الأولى سنة اثنتين وسبعين وسبعمائة في القاهرة المعزية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর, এটি হলো ‘আকীদাতু আহলিল ঈমান ফি খালকি আদামা আলা সূরাতির রহমান’ (রহমানের আকৃতিতে আদম সৃষ্টির বিষয়ে মুমিনদের বিশ্বাস) কিতাবটির দ্বিতীয় সংস্করণ। এটি প্রথম সংস্করণের তুলনায় চারটি বৈশিষ্ট্যে অনন্য। প্রথমত: কিতাবটির শুরুতে শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায-এর প্রশংসা ও অভিমত যুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যে বিদ্যমান অনেক অস্পষ্টতা অপর একটি পাণ্ডুলিপির সাহায্যে সংশোধন করা হয়েছে, যা হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মৃত্যুর চুয়াল্লিশ বছর পর প্রতিলিপি করা হয়েছিল। সেই পাণ্ডুলিপির শেষে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভাষ্য হলো: লেখক আবু বকর আল-মাকদিসী কায়রোতে সাতশ বাহাত্তর হিজরি সালের বিশে জুমাদাল উলা তারিখে এটি সমাপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٦)
الثالث تذييل الكتاب بواب العلامة الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبا بطين رحمه الله عن حديث الصورة. وهو مع اختصاره مفيد جداً ومطابق لجواب شيخ الإسلام ابن تيمية عن حديث الصورة فليراجع. الرابع ما ذكر في التعليق على جواب الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبا بطين رحمه الله أنه قد طبع مرتين ضمن الأجوبة النجدية بأمر الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن آل سعود رحمه الله وعلى نفقته. وأن دار الإفتاء في المملكة العربية السعودية طبعته مرتين أولاهما بأمر الملك فيصل بن عبد العزيز آل سعود رحمه الله، وكانت دار الإفتاء حينذاك تحت رئاسة العلامة الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله. وفي التعليق أيضاً ذكر من قرظ الأجوبة النجدية من أكابر العلماء في القرن الرابع عشر من الهجرة. فليراجع التعليق المشار إليه فإنه مهم جداً والله الموفق ..
المؤلف
তৃতীয়ত, আল্লামা শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বুতাইন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সূরাত (আকৃতি) সংক্রান্ত হাদিসের উত্তরের পরিশিষ্ট দ্বারা কিতাবটি সমাপ্ত করা হয়েছে। এটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত উপকারী এবং সূরাত সংক্রান্ত হাদিসের বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর উত্তরের সাথে সংগতিপূর্ণ; সুতরাং এটি দেখে নেওয়া উচিত। চতুর্থত, শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বুতাইন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উত্তরের টীকায় যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো, এটি বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল সাউদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নির্দেশে এবং তাঁর অর্থায়নে 'আল-আজউইবাহ আন-নাজদিয়্যাহ'-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে দুইবার মুদ্রিত হয়েছে। আর সৌদি আরব রাজ্যের দারুল ইফতা এটি দুইবার মুদ্রণ করেছে, যার প্রথমটি ছিল বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল সাউদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নির্দেশে; আর তৎকালীন সময়ে দারুল ইফতা আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আল-শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সভাপতিত্বে পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়া টীকায় হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর যে সকল বরেণ্য আলেম 'আল-আজউইবাহ আন-নাজদিয়্যাহ'-এর প্রশংসা করেছেন, তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং নির্দেশিত টীকাটি দেখে নেওয়া উচিত, কেননা এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
লেখক
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
المملكة العربية السعودية
… الرقم 380/خ
رئاسة إدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد
… التاريخ 30/ 3/1408 هـ
مكتب الرئيس
… المرفقات: ............
الموضوع: ....................
الحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لا نبي بعده وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهداه أما بعد.
فقد اطلعت على ما كتبه صاحب الفضيلة الشيخ حمود بن عبد الله التويجري وفقه الله وبارك في أعماله فيما ورد من الأحاديث في خلق آدم على صورة الرحمن وسمى مؤلفه في ذلك «عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن» فألفيته كتاباً قيماً كثير الفائدة قد ذكر فيه الأحاديث الصحيحة الواردة في خلق آدم على صورة الرحمن وفيما يتعلق بمجيء الرحمن يوم القيامة على صورته وقد أجاد وأفاد وأوضح ما هو الحق في هذه المسألة وهو أن الضمير في الحديث الصحيح في خلق آدم على صورته يعود إلى الله عز وجل وهو موافق لما جاء في حديث ابن عمر أن الله خلق آدم على صورة الرحمن وقد صححه الإمام أحمد وإسحاق بن راهويه والآجري وشيخ الإسلام ابن تيمية وآخرون من الأئمة رحمة الله عليهم جميعاً وقد بين كثير من الأئمة خطأ الإمام ابن خزيمة رحمه الله في إنكار عود الضمير إلى الله سبحانه في حديث ابن عمر والصواب ما قاله الأئمة المذكورون وغيرهم في عود الضمير إلى الله عز وجل بلا كيف ولا تمثيل بل صورة الله سبحانه تليق به وتناسبه كسائر صفاته ولا يشابهه فيها شيء من خلقه سبحانه وتعالى كما قال عز وجل: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (1) اللَّهُ الصَّمَدُ (2) لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (3) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ (4)} [الإخلاص: 1 - 4]، وقال عز وجل: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11]، وقال سبحانه {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيّاً} [مريم: 65]، وقال عز وجل {فَلا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} [النحل: 74].
والآيات في هذا المعنى كثيرة، والواجب على أهل العلم والإيمان إمرار آيات الصفات وأحاديثها الصحيحة كما جاءت وعدم التأويل لها بما يخالف ظاهرها كما درج على ذلك سلف الأمة وأئمتها مع الإيمان بأن الله سبحانه ليس كمثله شيء في صورته ولا وجهه ولا يده ولا سائر صفاته بل هو سبحانه له الكمال المطلق من جميع الوجوه في جميع صفاته لا شبيه له ولا مثل له ولا تكيف صفاته بصفات خلقه كما نص على ذلك سلف الأمة وأئمتها من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وأتباعهم بإحسان رحمهم الله جميعاً وجعلنا من أتباعهم بإحسان.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সৌদি আরব রাজতন্ত্র
… নম্বর ৩৮০/খ
বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগসমূহের প্রেসিডেন্সি
… তারিখ ৩০/ ৩/ ১৪০৮ হিজরি
সভাপতির কার্যালয়
… সংযুক্তি: ............
বিষয়: ....................
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করে তাদের উপর। অতঃপর:
আমি সম্মানিত শায়খ হামুদ বিন আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী (আল্লাহ তাঁকে তাওফীক দান করুন এবং তাঁর আমলসমূহে বরকত দিন) 'রহমানের আকৃতিতে আদমের সৃষ্টি' বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহ সম্পর্কে যা লিখেছেন তা পাঠ করেছি। তিনি তাঁর গ্রন্থের নামকরণ করেছেন «রহমানের আকৃতিতে আদমের সৃষ্টির বিষয়ে ঈমানদারদের আকীদা»। আমি এটিকে একটি মূল্যবান এবং অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যাতে তিনি রহমানের আকৃতিতে আদমের সৃষ্টি সংক্রান্ত এবং কিয়ামতের দিন রহমানের তাঁর নিজ আকৃতিতে আসার বিষয় সম্পর্কিত বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছেন। তিনি চমৎকার লিখেছেন, উপকৃত করেছেন এবং এই বিষয়ের সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। সেটি হলো, সহীহ হাদীসে উল্লিখিত 'তাঁর আকৃতিতে' আদমের সৃষ্টির বর্ণনায় সর্বনামটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকেই ফিরেছে। এটি ইবনে উমরের হাদীসে যা এসেছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, "আল্লাহ আদমকে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন"। ইমাম আহমাদ, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আল-আজুরী, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং অন্যান্য ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের উপর রহমত বর্ষণ করুন) একে সহীহ বলেছেন। অনেক ইমাম ইবনে উমরের হাদীসে সর্বনামটি আল্লাহ সুবহানাহুর দিকে ফেরার বিষয়টি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে ইমাম ইবনে খুযাইমাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ভুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সঠিক সেটিই যা উল্লিখিত ইমামগণ এবং অন্যরা বলেছেন যে, সর্বনামটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকেই ফিরেছে কোনো 'কাইফ' (ধরণ) এবং 'তামসীল' (সাদৃশ্য) ব্যতীত। বরং আল্লাহর আকৃতি তাঁর জন্য যেমন উপযুক্ত তেমনই হবে, যেমনটি তাঁর অন্যান্য গুণাবলীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} [আল-ইখলাস: ১ - ৪], এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [আশ-শূরা: ১১], এবং আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন {তুমি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জানো?} [মারইয়াম: ৬৫], এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন {অতএব আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।} [আন-নাহল: ৭৪]।
এই অর্থের আয়াত অনেক রয়েছে। আর আলেম এবং ঈমানদারদের উপর ওয়াজিব হলো সিফাত বা গুণাবলী সংক্রান্ত আয়াত এবং সহীহ হাদীসসমূহ যেভাবে এসেছে সেভাবেই রাখা, এবং সেগুলোর প্রকাশ্য অর্থের বিপরীত কোনো অপব্যাখ্যা না করা, যেমনটি উম্মতের সালাফ এবং ইমামগণ অনুসরণ করেছেন। এর সাথে সাথে এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ সুবহানাহুর আকৃতি, তাঁর চেহারা, আল্লাহর হাত কিংবা তাঁর অন্যান্য কোনো গুণের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। বরং সকল গুণাবলীর ক্ষেত্রে সকল দিক থেকে তাঁর জন্য পূর্ণাঙ্গতা সাব্যস্ত। তাঁর কোনো সদৃশ নেই, কোনো সমতুল্য নেই এবং তাঁর গুণাবলীকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলীর সাথে তুলনা করা যাবে না, যেমনটি উম্মতের সালাফ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ও তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারী ইমামগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং আমাদের তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٨)
ومن تأمل ما كتبه أخونا العلامة الشيخ حمود التويجري في هذا الكتاب وما نقله عن الأئمة اتضح له ما ذكرنا فجزاه الله خيرا وزاده من العلم والإيمان وجعلنا وإياه وسائر إخواننا من أنصار السنة والقرآن إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وآله وأصحابه ومن استقام على نهجه إلى يوم الدين.
عبد العزيز بن عبد الله بن باز
الرئيس العام
لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد
যে ব্যক্তি আমাদের ভাই আল্লামা শাইখ হামুদ আত-তুওয়াইজারি এই কিতাবে যা লিখেছেন এবং ইমামগণের থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা গভীরভাবে অনুধাবন করবেন, তাঁর নিকট আমরা যা উল্লেখ করেছি তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর ইলম ও ঈমান বৃদ্ধি করে দিন। আর আমাদের, তাঁকে এবং আমাদের সকল ভাইকে সুন্নাহ ও কুরআনের সাহায্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ সক্ষম।
আর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর আদর্শের ওপর অটল থাকবে তাঁদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায
জেনারেল প্রেসিডেন্ট
বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগসমূহ
(খণ্ড: ১)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: -)
عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن القسم: الفرق والردود
الكتاب: عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: دار اللواء للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1409 هـ - 1989 م
عدد الصفحات: 133
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436
আদমকে রহমানের সুরতে সৃষ্টির বিষয়ে ঈমানদারদের আকিদা বিভাগ: ফেরকা এবং খণ্ডন
বই: আদমকে রহমানের সুরতে সৃষ্টির বিষয়ে ঈমানদারদের আকিদা
লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আল-তুওয়াইজিরি (মৃত্যু ১৪১৩ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল লিওয়া প্রকাশনা এবং বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: -)
عقيدة أهل الإيمان في خلق آدم على صورة الرحمن
تأليف
الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود التويجري
غفر الله له ولوالديه وللمؤمنين والمؤمنات
রহমানের আকৃতিতে আদমের সৃষ্টির বিষয়ে ঈমানদারদের আকিদা
রচনায়
আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ আত-তুওয়াইজিরী
আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং মুমিন নর-নারীদের ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي خلق آدم بيديه وخلقه على صورته ونفخ فيه من روحه وعلمه الأسماء كلها وأمر الملائكة أن يسجدوا له. وفضله بهذه المزايا على سائر المخلوقات والله ذو الفضل العظيم. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له. وأشهد أن محمداً عبده ورسوله وخيرته من خلقه. صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد فقد ثبت عن النبي صلى لله عليه وسلم من طرق كثيرة أنه قال: «إن الله تعالى خلق آدم على صورته» وقد قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى في رده على الرازي: إن هذا الحديث مستفيض من طرق متعددة عن عدد من الصحابة رضي الله عنهم وأنه لم يكن بين السلف من القرون الثلاثة نزاع في أن الضمير عائد إلى الله تعالى وأن سياق الأحاديث كلها تدل على ذلك. وقال أيضاً إن الأمة اتفقت على تبليغه وتصديقه ولكن لما انتشرت الجهمية في المائة الثالثة جعل طائفة الضمير فيه عائداً إلى غير الله تعالى وسيأتي كلامه في الرد على هذه الطائفة مستوفى إن شاء الله تعالى.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আদমকে তাঁর নিজ দুই হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে তাঁর নিজের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর রূহ থেকে তাতে ফুঁ দিয়েছেন, তাঁকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে সিজদাহ করার জন্য। আর এই বৈশিষ্ট্যসমূহের মাধ্যমে তিনি তাঁকে অন্যান্য সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর দরূদ ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বহু সূত্রে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আদমকে তাঁর নিজের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।" শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) আল-রাযীর খণ্ডনে বলেছেন: এই হাদীসটি অনেক সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বহু সূত্রে বর্ণিত এবং এটি সুপ্রসিদ্ধ। আর প্রথম তিন প্রজন্মের পূর্বসূরীদের (সালাফ) মধ্যে এ বিষয়ে কোনো বিরোধ ছিল না যে, এই সর্বনামটি আল্লাহর দিকেই ফিরেছে এবং সমস্ত হাদীসের প্রেক্ষাপটও এটিই নির্দেশ করে। তিনি আরও বলেছেন যে, উম্মত এই হাদীসটি প্রচার ও সত্য বলে বিশ্বাস করার ব্যাপারে একমত হয়েছিল; কিন্তু যখন তৃতীয় শতাব্দীতে জাহমিয়্যাহ মতবাদের বিস্তার ঘটলো, তখন একটি দল এর সর্বনামটিকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের দিকে ফিরিয়ে দিল। ইনশাআল্লাহ, এই দলের খণ্ডনে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٦)
والقول بأن الضمير فيه عائد إلى غير الله تعالى هو قول الجهمية ومن تبعهم على قولهم الباطل من علماء أهل السنة في المائة الثالثة فما بعدها. وقد ذهب إليه كثير من الأكابر المشهورين وأصحاب المصنفات الكثيرة في أنواع العلوم. وقانا الله وسائر المسلمين من اتباع زلاتهم. ولا يزال القول بمذهب الجهمية مستمرا إلى زماننا. وقد رأيت ذلك في بعض مؤلفات المعاصرين وتعليقاتهم الخاطئة. وذكر لي عن بعض المنتسبين إلى العلم أنه ألقى ذلك على الطلبة في بعض المعاهد الكبار في مدينة الرياض. ولما ذكر له بعض الطلبة قول أهل السنة أعرض عنه وأصر على قول الجهمية. عافانا الله وسائر المسلمين مما ابتلاه به.
وقد استعنت بالله تعالى وابتدأت في الكتابة فيما يتعلق بحديث الصورة. وسأذكر إن شاء الله تعالى قول أهل السنة فيه وأذكر أيضاً ما خالفه من أقوال أهل الكلام الباطل، والله المسئول أن يريني وإخواني المسلمين الحق حقاً ويرزقنا اتباعه ويرينا الباطل باطلاً ويرزقنا اجتنابه ولا يجعله ملتبساً علينا فنضل. والله المستعان وهو حسبنا ونعم الوكيل.
فصلقال عبد الرزاق في مصنفه أخبرنا معمر عن همام بن منبه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خلق الله آدم على صورته طوله ستون ذراعاً فلما خلقه قال اذهب فسلم على أولئك النفر -وهم نفر من الملائكة جلوس- فاستمع إلى ما يجيبونك فإنها تحيتك وتحية ذريتك قال فذهب فقال: السلام عليكم فقالوا: السلام عليك ورحمة الله فزادوه ورحمة الله قال: فكل من يدخل الجنة على صورة آدم طوله ستون ذراعاً فلم يزل الخلق ينقص حتى الآن» وقد رواه الإمام
এবং এতে বিদ্যমান সর্বনামটি মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো দিকে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি হলো জাহমিয়াহ এবং তৃতীয় হিজরি শতক ও তার পরবর্তী সময়ে আহলুস সুন্নাহর যেসব আলেম তাদের এই ভ্রান্ত মতবাদের অনুসরণ করেছেন তাদের বক্তব্য। বিভিন্ন শাস্ত্রের অনেক প্রসিদ্ধ বড় বড় ব্যক্তিত্ব এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা এই মত গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ আমাদের এবং সকল মুসলিমকে তাদের পদস্খলন অনুসরণ করা থেকে রক্ষা করুন। জাহমিয়াহদের এই মতবাদ বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। আমি সমকালীন কিছু লেখকের রচনাবলী এবং তাদের ভুল ব্যাখ্যাগুলোতেও এটি দেখেছি। ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কারো সম্পর্কে আমাকে জানানো হয়েছে যে, তিনি রিয়াদ শহরের কিছু বড় বড় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে এটি পাঠ দিয়েছেন। যখন কোনো কোনো শিক্ষার্থী তার কাছে আহলুস সুন্নাহর বক্তব্য উল্লেখ করল, তখন সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং জাহমিয়াহদের বক্তব্যের ওপর অটল থাকল। আল্লাহ তাকে যে বিপদে ফেলেছেন তা থেকে আমাদের এবং সকল মুসলিমকে নিরাপদ রাখুন।
আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং সুরত (আকৃতি) সংক্রান্ত হাদিস বিষয়ে লেখা শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ আমি এতে আহলুস সুন্নাহর বক্তব্য উল্লেখ করব এবং সেই সাথে ইলমুল কালামপন্থীদের ভ্রান্ত বক্তব্য যা এর বিরোধী তাও উল্লেখ করব। আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এবং আমার মুসলিম ভাইদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান এবং তা অনুসরণ করার তৌফিক দান করেন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করেন। আর সত্য-মিথ্যাকে আমাদের কাছে অস্পষ্ট না করেন যার ফলে আমরা পথভ্রষ্ট হব। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয় এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।
পরিচ্ছেদআব্দুর রাজ্জাক তার ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে বলেন, মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ সুরতে (আকৃতিতে) সৃষ্টি করেছেন, তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। যখন তিনি তাকে সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন: যাও এবং ঐ দলটিকে সালাম দাও—তারা ফেরেশতাদের একটি উপবিষ্ট দল—অতঃপর মনোযোগ দিয়ে শোনো তারা তোমাকে কী উত্তর দেয়, কারণ সেটিই হবে তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন। তিনি গিয়ে বললেন: আসসালামু আলাইকুম। তারা উত্তর দিল: আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তারা ‘ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ শব্দটি বাড়িয়ে বলল। তিনি বলেন: সুতরাং যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদমের সুরতে (আকৃতিতে) হবে, যাদের উচ্চতা হবে ষাট হাত। এরপর থেকে সৃষ্টির উচ্চতা এখন পর্যন্ত ক্রমাগত কমছেই।’ ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٧)
أحمد والبخاري ومسلم وابن خزيمة في كتاب «التوحيد» كلهم من طريق عبد الرزاق.
وقال الإمام أحمد حدثنا أبو عامر - يعني عبد الملك بن عمرو العقدي- عن المغيرة بن عبد الرحمن عن أبي الزناد عن موسى بن أبي عثمان عن أبيه عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله عز وجل خلق آدم على صورته وطوله ستون ذراعاً» إسناده لا بأس به. وقد رواه ابن خزيمة في كتاب «التوحيد» والدارقطني في كتاب «الصفات» من طريق أبي عامر.
وقال عبد الله بن الإمام أحمد في كتاب «السنة» حدثنا أبي عن عبد الرحمن بن إسحاق عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خلق الله آدم على صورته وطوله ستون ذراعاً» قال ابن حجر في «تهذيب التهذيب» قال المروذي عن أحمد أنه قال في عبد الرحمن بن إسحاق. أما ما كتبنا من حديثه فصحيح.
قلت وعلى هذا فهذا الحديث صحيح. ويشهد له وللحديث الذي قبله ما تقدم من حديث همام بن منبه عن أبي هريرة رضي الله عنه.
وقال الإمام أحمد حدثنا سليمان بن داود - يعني أبا داود الطيالسي - أخبرنا المثنى- وهو ابن سعيد الضبعي - عن قتادة عن أبي أيوب - وهو يحيى بن مالك المراغي - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا قاتل أحدكم فليتق الوجه فإن الله عز وجل خلق آدم على صورته» إسناده صحيح على شرط مسلم. ورواه أحمد أيضاً عن عبد الرحمن بن مهدي قال حدثنا المثنى بن سعيد وبهز قالا
আহমদ, বুখারী, মুসলিম এবং ইবনে খুযাইমা তাঁর 'কিতাবুত তাওহীদ'-এ, তাঁরা সকলেই আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং ইমাম আহমদ বলেন, আমাদের নিকট আবু আমির—অর্থাৎ আবদুল মালিক ইবনে আমর আল-আকাদী—বর্ণনা করেছেন, তিনি মুগীরা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি মূসা ইবনে আবু উসমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত।" এর সনদটি গ্রহণযোগ্য বা ভালো। আর ইবনে খুযাইমা তাঁর 'কিতাবুত তাওহীদ'-এ এবং দারাকুতনী তাঁর 'কিতাবুস সিফাত'-এ আবু আমিরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ তাঁর 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত।" ইবনে হাজার 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ বলেছেন, আল-মারওয়াযী আহমদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক সম্পর্কে বলেছেন: "আমরা তাঁর থেকে যে হাদিসগুলো লিখেছি তা সহীহ।"
আমি বলছি, সেই হিসেবে এই হাদিসটি সহীহ। আর এর স্বপক্ষে এবং এর পূর্ববর্তী হাদিসের স্বপক্ষে হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ কর্তৃক আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসটি সাক্ষ্য দেয়।
এবং ইমাম আহমদ বলেন, আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনে দাউদ—অর্থাৎ আবু দাউদ আত-তায়ালিসি—বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মুসান্না—যিনি ইবনে সাঈদ আদ-দুবায়ী—তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে—যিনি ইয়াহইয়া ইবনে মালিক আল-মারায়ী—তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন লড়াই করবে, তখন সে যেন চেহারা পরিহার করে, কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।" এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। আহমদ এটি আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-মুসান্না ইবনে সাঈদ এবং বাহয বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই বলেছেন...
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٨)
حدثنا همام عن قتادة عن أبي أيوب عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا قاتل أحدكم فليجتنب الوجه - قال ابن مهدي- فإن الله عز وجل خلق آدم على صورته» إسناده صحيح على شرط البخاري ومسلم. وقد رواه مسلم وابن خزيمة في كتاب «التوحيد» عن نصر بن علي الجهضمي عن أبيه عن المثنى بن سعيد عن قتادة عن أبي أيوب عن أبي هريرة رضي الله عنه. ورواه مسلم أيضاً عن محمد بن حاتم عن عبد الرحمن بن مهدي عن المثنى بن سعيد عن قتادة عن أبي أيوب عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا قاتل أحدكم أخاه فليجتنب الوجه فإن الله خلق آدم على صورته».
وقال الإمام أحمد حدثنا سفيان عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا ضرب أحدكم فليجتنب الوجه فإن الله خلق آدم على صورته» ورواه الحميدي عن سفيان بمثله، وقد رواه مسلم من طريق سفيان بن عيينة عن أبي الزناد ولم يذكر من لفظه سوى قوله: «إذا ضرب أحدكم» ورواه أبو بكر الآجري في كتاب «الشريعة» من طريق سفيان عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم بمثل رواية أحمد. وفي رواية له بهذا الإسناد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقبحوا الوجه فإن الله تعالى خلق آدم على صورته».
وقال الإمام أحمد حدثنا يحيى بن سعيد قال حدثنا ابن عجلان قال حدثني سعيد - يعني المقبري- عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا ضرب أحدكم فليجتنب الوجه ولا يقل قبح الله وجهك ووجه من أشبه وجهك فإن الله عز وجل خلق آدم عليه السلام على صورته» رجاله رجال الصحيح سوى ابن عجلان وقد روى
হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন লড়াই করবে তখন সে যেন চেহারা পরিহার করে - ইবন মাহদী বলেছেন - কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদমকে তাঁর নিজের সুরতে সৃষ্টি করেছেন» এর সানাদ বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। এবং ইমাম মুসলিম ও ইবন খুযাইমাহ 'কিতাবুত তাওহীদ'-এ নাসর বিন আলী আল-জাহদামী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুসান্না বিন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং মুসলিম এটি মুহাম্মাদ বিন হাতিম থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন মাহদী থেকে, তিনি মুসান্না বিন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের সাথে লড়াই করবে তখন সে যেন চেহারা পরিহার করে, কেননা আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজের সুরতে সৃষ্টি করেছেন»।
এবং ইমাম আহমাদ বলেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে: «তোমাদের কেউ যখন প্রহার করবে তখন সে যেন চেহারা পরিহার করে, কেননা আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজের সুরতে সৃষ্টি করেছেন» এবং আল-হুমাইদী সুফিয়ান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর মুসলিম সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ এর সূত্রে আবুল যিনাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর শব্দে «তোমাদের কেউ যখন প্রহার করবে» এই কথাটুকু ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। এবং আবু বকর আল-আজুররী 'কিতাবুশ শারীআহ'-তে সুফিয়ান থেকে, তিনি আবুল যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আহমাদ এর বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর একটি বর্ণনায় এই সানাদেই এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা চেহারাকে কদাকার বলো না, কেননা আল্লাহ তা'আলা আদমকে তাঁর নিজের সুরতে সৃষ্টি করেছেন»।
এবং ইমাম আহমাদ বলেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবন আজলান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ—অর্থাৎ আল-মাকবুরী—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন প্রহার করবে তখন সে যেন চেহারা পরিহার করে এবং সে যেন না বলে যে—আল্লাহ তোমার চেহারাকে এবং তোমার চেহারার সদৃশ যার চেহারা তাকে কদাকার করুন; কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদম (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর নিজের সুরতে সৃষ্টি করেছেন» এর বর্ণনাকারীগণ ইবন আজলান ব্যতীত সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, আর তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٩)
له مسلم في المتابعات ووثقه ابن عيينة وأحمد وابن معين وأبو زرعة وأبو حاتم والنسائي والعجلي. ولحديثه هذا شواهد مما تقدم وبهذا يرتقي إلى درجة الصحيح. وقد رواه ابن أبي عاصم وعبد الله بن الإمام أحمد في كتابي «السنة» لهما وابن خزيمة في كتاب «التوحيد» والدارقطني في كتاب «الصفات» وأبو بكر الآجري في كتاب «الشريعة» والبيهقي في كتاب «الأسماء والصفات» كلهم من طريق يحيى بن سعيد عن ابن عجلان. ورواه ابن أبي عاصم وابن خزيمة أيضاً من طريق الليث عن ابن عجلان.
وقد روي بإسناد ضعيف عن الإمام مالك أنه أنكر هذا الحديث مع اشتهاره وكثرة من رواه من التابعين عن أبي هريرة رضي الله عنه ومن رواه من أتباع التابعين ومن بعدهم من الأئمة قال أبو جعفر العقيلي في كتاب الضعفاء الكبير حدثنا مقدام بن داود (1) قال حدثنا أبو زيد أحمد بن أبي الغمر والحارث بن مسكين قالا حدثنا عبد الرحمن بن القاسم قال سألت مالكاً عمن يحدث بالحديث الذي قالوا: «إن الله خلق آدم على صورته». فأنكر ذلك مالك إنكاراً شديداً ونهى أن يتحدث به أحد، فقيل له إن ناساً من أهل العلم يتحدثون به فقال من هم فقيل محمد بن عجلان عن أبي الزناد. فقال لم يكن يعرف ابن عجلان هذه الأشياء ولم يكن عالماً. وذكر أبا الزناد فقال إنه لم يزل عاملاً لهؤلاء حتى مات وكان صاحب عمال يتبعهم. قال العقيلي وكان مالك بن أنس لا يرضى أبا الزناد.
قال الذهبي في الميزان في ترجمة أبي الزناد بعد إيراده لما ذكره العقيلي عن مالك من إنكاره لحديث «إن الله خلق آدم على صورته» وكلامه في أبي الزناد وابن عجلان، قلت الحديث في أن الله خلق آدم على صورته لم ينفرد به ابن عجلان فقد رواه همام عن قتادة عن أبي أيوب
--------------------------------------------
ইমাম মুসলিম তার সংকলনে একে মুতাবাআতে (সমর্থক বর্ণনা হিসেবে) এনেছেন এবং ইবনে উইয়ায়না, আহমাদ, ইবনে মাঈন, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, নাসায়ী এবং ইজলী তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তার এই হাদিসের সপক্ষে পূর্বে বর্ণিত সাক্ষ্য বিদ্যমান এবং এর মাধ্যমে এটি সহিহ স্তরে উন্নীত হয়। এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি আসিম ও ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ তাদের 'আস-সুন্নাহ' নামক কিতাবদ্বয়ে, ইবনে খুযাইমাহ তার 'আত-তাওহিদ' কিতাবে, দারাকুতনী 'আস-সিফাত' কিতাবে, আবু বকর আল-আজুরি 'আশ-শারীয়াহ' কিতাবে এবং বাইহাকী 'আল-আসমা ওয়া আস-সিফাত' কিতাবে; তারা সকলেই ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ-এর সূত্রে ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি আসিম এবং ইবনে খুযাইমাহ এটি লাইসের সূত্রে ইবনে আজলান থেকেও বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মালিক থেকে একটি দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এই হাদিসটি অস্বীকার করেছেন; যদিও হাদিসটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনেক তাবেয়ী এবং তাদের পর তাবি-তাবেয়ীগণ ও অন্যান্য ইমামগণ এটি বর্ণনা করেছেন। আবু জাফর আল-উকায়লী তার 'আদ-দুয়াফা আল-কাবির' গ্রন্থে বলেন: মিকদাম ইবনে দাউদ (১) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবু যাইদ আহমাদ ইবনে আবিল গামর ও হারিস ইবনে মিসকিন বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন আমাদের কাছে আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে ঐ হাদিসটি বর্ণনা করে যাতে তারা বলে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর সুরতে সৃষ্টি করেছেন।" তখন মালিক একে কঠোরভাবে অস্বীকার করলেন এবং কাউকে এটি বর্ণনা করতে নিষেধ করলেন। তাকে বলা হলো যে, ইলম অন্বেষণকারীদের কিছু লোক এটি বর্ণনা করে থাকেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তারা কারা?" তাকে বলা হলো, "মুহাম্মদ ইবনে আজলান আবু যিনাদ থেকে বর্ণনা করেন।" তিনি বললেন, "ইবনে আজলান এই বিষয়গুলো বুঝতেন না এবং তিনি আলেম ছিলেন না।" এরপর তিনি আবু যিনাদের কথা উল্লেখ করে বললেন, "তিনি মৃত্যু পর্যন্ত তাদের (শাসকদের) কর্মচারী ছিলেন এবং তিনি কর্মকর্তাদের সাথী ছিলেন ও তাদের অনুসরণ করতেন।" উকায়লী বলেন, মালিক ইবনে আনাস আবু যিনাদকে পছন্দ করতেন না।
ইমাম যাহাবী 'আল-মিযান' গ্রন্থে আবু যিনাদের জীবনীতে ইমাম মালিক কর্তৃক "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর সুরতে সৃষ্টি করেছেন" হাদিসটি অস্বীকার করা এবং আবু যিনাদ ও ইবনে আজলান সম্পর্কে উকায়লীর উদ্ধৃতি উল্লেখ করার পর বলেন: "আমি বলি, 'আল্লাহ আদমকে তাঁর সুরতে সৃষ্টি করেছেন' হাদিসটি বর্ণনায় ইবনে আজলান একাকী নন, বরং হাম্মাম এটি কাতাদাহর সূত্রে আবু আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
عن أبي هريرة، ورواه شعيب وابن عيينة عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة، ورواه معمر عن همام عن أبي هريرة، ورواه جماعة كالليث بن سعد وغيره عن ابن عجلان عن المقبري عن أبي هريرة. ورواه شعيب أيضاً وغيره عن أبي الزناد عن موسى بن أبي عثمان عن أبي هريرة، ورواه جماعة عن ابن لهيعة عن الأعرج وأبي يونس عن أبي هريرة، ورواه جرير عن الأعمش عن حبيب بن أبي ثابت عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم، وله طرق أخر. وهو مخرج في الصحاح. وأبو الزناد فعمدة في الدين وابن عجلان صدوق من علماء المدينة وأجلائهم ومفتيهم. وغيره أحفظ منه. أما معنى حديث الصورة فنرد علمه إلى الله ورسوله ونسكت كما سكت السلف مع الجزم بأن الله ليس كمثله شيء انتهى.
وذكر الذهبي أيضاً في ترجمة محمد بن عجلان قول مالك لم يكن ابن عجلان يعرف هذه الأشياء ولم يكن عالماً، وذلك لما بلغه أن ابن عجلان حدث بحديث «خلق الله آدم على صورته» قال الذهبي ولابن عجلان فيه متابعون وخرج في الصحيح انتهى.
ومن المستبعد أن يكون مالك لا يرضى أبا الزناد وهو قد أكثر الرواية عنه في الموطأ وأما ما روي عنه من إنكار الحديث الذي فيه «إن الله خلق آدم على صورته» ونهيه عن التحديث به فعلى تقدير ثبوت ذلك عنه فهو محمول على ما قيل عنه أنه كان يكره التحديث بأحاديث الصفات ذكر ذلك الحافظ ابن حجر في الباب التاسع والأربعين من «كتاب العلم» من «فتح الباري».
وأيضاً فلعل مالكاً رحمه الله تعالى كان يخشى أن يكون في التحديث بحديث الصورة فتنة لبعض الناس فيشبهون الله بخلقه أو يتأولون الحديث بما يوافق أقوال الجهمية وذلك من التحريف لكلام
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, এবং শুআইব ও ইবনে উয়াইনা এটি আবুল জিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। মা'মার এটি হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং লাইস ইবনে সা'দ ও অন্যান্যদের এক জামাত এটি ইবনে আজলান থেকে, তিনি মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। শুআইব এবং আরও অনেকে এটি আবুল জিনাদ থেকে, তিনি মুসা ইবনে আবু উসমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। এক জামাত এটি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি আরায ও আবু ইউনুস থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং জারির এটি আমাশ থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবু সাবিত থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এর আরও অন্যান্য সূত্র রয়েছে এবং এটি সিহাহ গ্রন্থাবলীতে সংকলিত হয়েছে। আর আবুল জিনাদ দ্বীনের ক্ষেত্রে এক নির্ভরযোগ্য ভিত্তি, এবং ইবনে আজলান মদিনার আলেমদের মধ্যে সত্যবাদী, মহান এবং ফতোয়া প্রদানকারী ছিলেন; যদিও অন্যরা তার চেয়ে অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। আর 'সুরাত' (আকৃতি) সংক্রান্ত হাদিসের অর্থের ব্যাপারে আমরা এর জ্ঞান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ন্যস্ত করি এবং সেভাবেই নীরব থাকি যেভাবে সালাফগণ নীরব ছিলেন, সাথে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখি যে আল্লাহর সদৃশ কিছুই নেই। সমাপ্ত।
যাহাবিও মুহাম্মাদ ইবনে আজলানের জীবনীতে ইমাম মালিকের উক্তি উল্লেখ করেছেন যে, "ইবনে আজলান এই বিষয়গুলো জানতেন না এবং তিনি আলেম ছিলেন না।" এটি তিনি তখন বলেছিলেন যখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছিল যে ইবনে আজলান "আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। যাহাবি বলেন, এই বর্ণনায় ইবনে আজলানের আরও সমর্থনকারী বর্ণনাকারী রয়েছেন এবং এটি সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সমাপ্ত।
আর এটি অসম্ভব যে ইমাম মালিক আবুল জিনাদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না, অথচ তিনি মুয়াত্তা গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর থেকে "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" হাদিসটি অস্বীকার করা এবং এটি বর্ণনা করতে নিষেধ করার যে বিবরণ পাওয়া যায়, তা যদি তাঁর থেকে সাব্যস্তও হয়, তবে তাকে এই অর্থে গ্রহণ করা হবে যা তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত হাদিসগুলো বর্ণনা করা অপছন্দ করতেন। হাফেজ ইবনে হাজার এটি 'ফাতহুল বারী'র 'কিতাবুল ইলম'-এর ঊনপঞ্চাশতম অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও, সম্ভবত ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) আশঙ্কা করেছিলেন যে 'সুরাত' সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনা করার মধ্যে কিছু মানুষের জন্য ফিতনা হতে পারে, ফলে তারা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করতে পারে অথবা হাদিসের এমন ব্যাখ্যা করতে পারে যা জাহমিয়াদের মতবাদের সাথে মিলে যায়, আর তা আল্লাহর বাণীর বিকৃতির অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١١)
رسول الله صلى الله عليه وسلم والإلحاد فيه، وقد روى مسلم في مقدمة صحيحه عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «ما أنت بمحدث قوماً حديثاً لا تبلغه عقولهم إلا كان لبعضهم فتنة» ومن أعظم الفتن صرف النصوص الواردة في الصفات عن ظاهرها وحملها على ما يوافق أقوال المعطلة. وقد وقع في هذا الباب كثير من الأكابر المرموقين وأهل المصنفات الكبار، وهو معدود من زلاتهم التي كان النبي صلى الله عليه وسلم يخاف منها على أمته والتي قال فيها أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه إنها تهدم الإسلام، وقد جاء في ذلك أحاديث كثيرة، منها ما رواه الطبراني في الكبير عن أبي الدرداء رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أخاف على أمتي ثلاثاً زلة عالم وجدال منافق بالقرآن والتكذيب بالقدر».
ومنها ما رواه أبو نعيم في الحلية عن عمرو بن عوف المزني رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إني أخاف على أمتي من بعدي ثلاثة أعمال قالوا وما هي يا رسول الله قال: زلة عالم وحكم جائر وهوى متبع».
ومنها ما رواه البيهقي عن ابن عمر رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن أشد ما أتخوف على أمتي ثلاث زلة عالم وجدال منافق بالقرآن ودنيا تقطع أعناقكم».
ومنها ما رواه الطبراني في الصغير عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إني أخاف عليكم ثلاثاً وهي كائنات زلة عالم وجدال منافق بالقرآن ودنيا تفتح عليكم».
ومنها ما رواه الإمام أحمد في الزهد عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: «إنما أخشى عليكم زلة عالم وجدال المنافق بالقرآن».
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাতে বিচ্যুতি। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের ভূমিকায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তুমি যদি কোনো কওমের সামনে এমন কোনো কথা বলো যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তি অনুধাবন করতে সক্ষম নয়, তবে তা তাদের কারো কারো জন্য ফিতনা হয়ে দাঁড়াবে।" আর সুউচ্চ ফিতনাগুলোর অন্যতম হলো সিফাত (গুণাবলি) সম্পর্কিত দলীলগুলোকে তাদের প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং সেগুলোকে মুআত্তিলাদের (গুণাবলি অস্বীকারকারীদের) বক্তব্যের অনুকূলে ব্যাখ্যা করা। আর এই ক্ষেত্রে অনেক প্রসিদ্ধ বড় বড় ব্যক্তিত্ব ও প্রখ্যাত গ্রন্থপ্রণেতারা পতিত হয়েছেন, যা তাদের এমন পদস্খলন হিসেবে গণ্য যে সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এবং যে সম্পর্কে আমীরুল মুমিনীন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন যে তা ইসলামকে ধ্বংস করে দেয়। এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি তাবারানি তাঁর 'আল-কাবীর'-এ আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে তিনটি জিনিসের ভয় করছি: আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং তাকদীর অস্বীকার করা।"
আরেকটি হলো যা আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ'-তে আমর ইবনে আউফ আল-মুযানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমি আমার পরে আমার উম্মতের ব্যাপারে তিনটি বিষয়ের ভয় করি।" তারা বলল, "হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলো কী?" তিনি বললেন: "আলেমের পদস্খলন, যালিম শাসকের বিচার এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ।"
আরেকটি হলো যা বায়হাকি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো তিনটি: আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং দুনিয়া যা তোমাদের গ্রাস করবে।"
আরেকটি হলো যা তাবারানি তাঁর 'আস-সাগীর'-এ মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের ব্যাপারে তিনটি জিনিসের ভয় করি যা সংঘটিত হবেই: আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং দুনিয়া যা তোমাদের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।"
আরেকটি হলো যা ইমাম আহমাদ 'আয-যুহদ'-এ আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি তোমাদের ব্যাপারে কেবল আলেমের পদস্খলন এবং কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্কের ভয় করি।"
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ومنها ما رواه الدارمي في سننه وأبو نعيم في الحلية عن زياد بن حدير قال، قال لي عمر رضي الله عنه: هل تعرف ما يهدم الإسلام، قال قلت: لا. قال: «يهدمه زلة عالم وجدال المنافق بالكتاب وحكم الأئمة المضلين». وهذه الأحاديث يشد بعضها بعضاً، وفيها أبلغ تحذير من الاغترار بزلات العلماء والأخذ بها.
وإذا علم هذا فليعلم أيضاً أنه لا يجوز كتمان ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم بل لا بد من تبليغه ولا يلتفت إلى نهي من نهى عن ذلك وأنكره.
فصلوقد اختلف في الضمير في قوله «خلق الله آدم على صورته» على من يعود الضمير.
وقد ذكر الحافظ ابن حجر في «فتح الباري» ثلاثة أقوال في ذلك، أحدها: وهو قول الأكثر أنه يعود على المضروب لما تقدم من الأمر بإكرام وجهه.
قلت وإلى هذا ذهب ابن خزيمة فقال في «كتاب التوحيد» بعد إيراده لحديث أبي هريرة رضي الله عنه في ذلك من عدة طرق. قال أبو بكر توهم بعض من لم يتحر العلم أن قوله «على صورته» يريد صورة الرحمن عز ربنا وجل عن أن يكون هذا معنى الخبر. بل معنى قوله «خلق الله آدم على صورته» الهاء في هذا الموضع كناية عن اسم المضروب والمشتوم. أراد صلى الله عليه وسلم أن الله خلق آدم على صورة هذا المضروب الذي أمر الضارب باجتناب وجهه بالضرب والذي قبح وجهه، فزجر صلى الله عليه وسلم أن يقول ووجه من أشبه وجهك لأن وجه آدم شبيه وجه بنيه فإذا قال الشاتم لبعض بني آدم. قبح الله وجهك ووجه من أشبه وجهك كان مقبحاً وجه آدم صلوات الله
এগুলোর মধ্যে রয়েছে যা আদ-দারিমি তাঁর ‘সুনান’-এ এবং আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’-তে যিয়াদ বিন হুদায়র থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন: “তুমি কি জানো ইসলামকে কী ধ্বংস করে?” তিনি বলেন, আমি বললাম: “না।” তিনি বললেন: “বিদ্বানের পদস্খলন, কিতাব নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং পথভ্রষ্ট ইমামদের হুকুম একে ধ্বংস করে।” এই হাদিসগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে এবং এতে আলেমদের পদস্খলনে বিভ্রান্ত হওয়া ও তা গ্রহণ করার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে।
যখন এটি জানা হলো, তখন এটাও জেনে রাখা উচিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা গোপন করা জায়েয নয়, বরং তা প্রচার করা অপরিহার্য। আর যে ব্যক্তি তা প্রচার করতে নিষেধ করবে বা অস্বীকার করবে, তার নিষেধের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না।
অনুচ্ছেদ“আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন”—এই বাণীতে ব্যবহৃত সর্বনামটি কার দিকে ফিরেছে, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারি’-তে এ বিষয়ে তিনটি মত উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো—যা অধিকাংশের মত—তা এই যে, সর্বনামটি প্রহৃত ব্যক্তির দিকে ফিরেছে; কারণ এর আগেই চেহারাকে সম্মান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমি বলছি: ইবনে খুযাইমাহ এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই সংক্রান্ত হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করার পর বলেন: আবু বকর (ইবনে খুযাইমাহ) বলেন, যারা ইলম অন্বেষণে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেনি, তাদের কেউ কেউ ধারণা করেছে যে, “তাঁর আকৃতিতে” বলতে পরম দয়াময় (আর-রহমান)-এর আকৃতি বোঝানো হয়েছে—অথচ আমাদের রব মহান ও মহিমান্বিত এই অর্থ হওয়া থেকে পবিত্র। বরং “আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন” বাণীতে ব্যবহৃত ‘হা’ (সর্বনামটি) এই স্থানে প্রহৃত ও গালিপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য এসেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা আদমকে সেই প্রহৃত ব্যক্তির আকৃতিতেই সৃষ্টি করেছেন যার চেহারায় আঘাত করতে তিনি আঘাতকারীকে নিষেধ করেছেন এবং যার চেহারাকে সে মন্দ বলেছে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন যে, “এবং তোমার চেহারার মতো আর যার চেহারা তাকেও (আল্লাহ কুৎসিত করুন)”; কারণ আদমের চেহারা তাঁর সন্তানদের চেহারার সদৃশ। সুতরাং গালিদাতা যদি আদম সন্তানদের কাউকে বলে: “আল্লাহ তোমার চেহারা এবং যার চেহারা তোমার চেহারার মতো তার চেহারাকে কুৎসিত করুন”, তবে সে আল্লাহর নবী আদমের চেহারাকেই কুৎসিত সাব্যস্ত করল।
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وسلامه عليه الذي وجوه بنيه شبيهة بوجه أبيهم. فتفهموا رحمكم الله. معنى الخبر لا تغلطوا ولا تغالطوا فتضلوا عن سواء السبيل وتحملوا على القول بالتشبيه الذي هو ضلال.
هذا نص كلام ابن خزيمة على حديث أبي هريرة رضي الله عنه في الصورة وهو معدود من زلاته لأنه قد ذهب إلى قول الجهمية في تفسيره لمعنى قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله خلق آدم على صورته» وقد نقل شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى في كتابه المسمى «نقض أساس التقديس» عن الشيخ أبي الحسن محمد بن عبد الملك الكرجي (1) الشافعي أنه قال في كتابه الذي سماه «الفصول في الأصول عن الأئمة الفحول إلزاماً لذوي البدع والفضول» فأما تأويل من لم يتابعه عليه الأئمة فغير مقبول وإن صدر ذلك التأويل عن إمام معروف غير مجهول نحو ما ينسب إلى أبي بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة تأويل الحديث «خلق آدم على صورته» فإنه يفسر ذلك بذلك التأويل ولم يتابعه عليه من قبله من أئمة الحديث لما روينا عن أحمد رحمه الله تعالى. ولم يتابعه أيضاً من بعده، حتى رأيت في «كتاب الفقهاء» للعبادي الفقيه أنه ذكر الفقهاء وذكر عن كل واحد منهم مسألة تفرد بها، فذكر الإمام ابن خزيمة وأنه تفرد بتأويل هذا الحديث «خلق آدم على صورته» على أني سمعت عدة من المشايخ رووا أن ذلك التأويل مزور مربوط على ابن خزيمة وإفك مفترى عليه. فهذا وأمثال ذلك من التأويل لا نقبله ولا نلتفت إليه بل نوافق ونتابع ما اتفق الجمهور عليه. قال شيخ الإسلام أبو العباس وقد ذكر الحافظ أبو موسى المديني فيما جمعه من مناقب الإمام الملقب بقوام
--------------------------------------------
এবং তাঁর ওপর সালাম বর্ষিত হোক, যাঁর সন্তানদের চেহারা তাদের পিতার চেহারার সদৃশ। সুতরাং আপনারা বুঝুন, আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন। এই বর্ণনার অর্থ অনুধাবন করুন, ভুল করবেন না এবং কাউকে বিভ্রান্ত করবেন না; অন্যথায় আপনারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বেন এবং সাদৃশ্য প্রদানের (তাশবিহ) মতবাদের দিকে ধাবিত হবেন, যা মূলত পথভ্রষ্টতা।
এটি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত আকৃতি সংক্রান্ত হাদিসের ওপর ইবনে খুজাইমার বক্তব্যের পাঠ্য, যা তাঁর ভুলগুলোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য। কারণ তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" এর অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাহমিয়াদের মতবাদের দিকে ঝুঁকেছেন। আর শাইখুল ইসলাম আবু আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর "নাকদ আসাসিত তাকদিস" নামক গ্রন্থে শাইখ আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-কারাজি (১) আশ-শাফিয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর "আল-ফুসুল ফিল উসুল আনিল আইম্মাতিল ফুহুল ইলযামান লি-যাবিল বিদা'ই ওয়াল ফুদুল" নামক গ্রন্থে বলেছেন: তবে এমন ব্যাখ্যা যা ইমামগণ সমর্থন করেননি, তা গ্রহণযোগ্য নয়; যদিও সেই ব্যাখ্যা কোনো সুপরিচিত ইমামের কাছ থেকেও প্রকাশ পায়, যেমনটি আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন খুজাইমার দিকে "আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সম্বন্ধ করা হয়। কারণ তিনি সেই ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁর পূর্ববর্তী হাদিসের ইমামগণের কেউ এই ক্ষেত্রে তাঁর সাথে একমত হননি, যেমনটি আমরা আহমদ (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) থেকে বর্ণনা করেছি। এমনকি তাঁর পরবর্তীগণও তাঁকে অনুসরণ করেননি, এমনকি আমি ফকিহ আল-আবাদির "কিতাবুল ফুকাহা" গ্রন্থে দেখেছি যে, তিনি ফকিহদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের এমন একটি মাসআলা বর্ণনা করেছেন যে বিষয়ে তাঁরা একক মত পোষণ করেছেন। সেখানে তিনি ইমাম ইবনে খুজাইমা সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি "আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" হাদিসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একক বা বিচ্ছিন্ন মত পোষণ করেছেন। যদিও আমি অনেক শাইখের নিকট শুনেছি, তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে, সেই ব্যাখ্যাটি ইবনে খুজাইমার নামে একটি জালিয়াতি ও বানোয়াট কথা এবং তাঁর প্রতি একটি অপবাদ। সুতরাং এই ধরনের ব্যাখ্যা আমরা গ্রহণ করি না এবং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপও করি না; বরং জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামা) যে বিষয়ে একমত হয়েছেন, আমরা তারই অনুসরণ ও অনুকরণ করি। শাইখুল ইসলাম আবু আব্বাস বলেছেন, হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনি "কাওয়াম" উপাধিতে ভূষিত ইমামের মর্যাদা বর্ণনায় যা সংকলন করেছেন তাতে উল্লেখ করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
السنة أبي القاسم إسماعيل بن محمد التيمي صاحب «كتاب الترغيب والترهيب» قال سمعته يقول: أخطأ محمد بن إسحاق بن خزيمة في حديث الصورة. ولا يطعن عليه بذلك بل لا يؤخذ عنه هذا فحسب. قال أبو موسى أشار بذلك إلى أنه قل من إمام إلا وله زلة فإذا ترك ذلك الإمام لأجل زلته ترك كثير من الأئمة، وهذا لا ينبغي أن يفعل. انتهى.
وقال الذهبي في كتابه «سير أعلام النبلاء» في ترجمة ابن خزيمة وكتابه في التوحيد مجلد كبير، وقد تأول في ذلك حديث الصورة. فليعذر من تأول بعض الصفات. وأما السلف فما خاضوا في التأويل. بل آمنوا وكفوا وفوضوا علم ذلك إلى الله ورسوله: ولو أن كل من أخطأ في اجتهاده - مع صحة إيمانه وتوخيه لاتباع الحق- أهدرناه وبدعناه، لقل من يسلم من الأئمة معنا. رحم الله الجميع بمنه وكرمه».
وقد ذكر ابن قتيبة في كتابه المسمى «تأويل مختلف الحديث» عدة أقوال من أقوال أهل الكلام في تأويل قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله خلق آدم على صورته» ومنها أن المراد أن الله جل وعز خلق آدم على صورة الوجه، قال ابن قتيبة: وهذا لا فائدة فيه، والناس يعلمون أن الله تبارك وتعالى خلق آدم على خلق ولده ووجهه على وجوههم، وزاد قوم في الحديث أنه عليه السلام مر برجل يضرب وجه رجل آخر فقال: «لا تضربه فإن الله تعالى خلق آدم عليه السلام على صورته» أي صورة المضروب، وفي هذا القول من الخلل ما في الأول. انتهى وسيأتي ذكر ما أشار إليه من الخلل في القول الأول إن شاء الله تعالى والزيادة التي ذكرها ابن قتيبة في حديث الصورة لا أصل لها ولم أرها في شيء من الروايات الصحيحة. وقد ذكر شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية أنه لا أصل لذلك ولا يعرف في شيء من كتب الحديث.
وقد رد الإمام أحمد رحمه الله تعالى على من قال إن الضمير في قول
আস-সুন্নাহর লেখক আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আত-তাইমি, যিনি ‘কিতাবুত তারগিব ওয়াত তারহিব’-এর রচয়িতা, তিনি বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা সূরার (আকৃতি) হাদিসের ব্যাপারে ভুল করেছেন। আর এ কারণে তাঁকে দোষারোপ করা যাবে না, বরং কেবল তাঁর এই কথাটি গ্রহণ করা যাবে না। আবু মুসা বলেন: তিনি এর মাধ্যমে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন ইমাম খুব কমই আছেন যাঁর কোনো পদস্খলন ঘটেনি। সুতরাং যদি কোনো ইমামকে তাঁর পদস্খলনের কারণে বর্জন করা হয়, তবে বহু ইমামকেই বর্জন করতে হবে, আর এটি করা মোটেও সমীচীন নয়। সমাপ্ত।
আয-যাহাবি তাঁর ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে ইবনে খুজাইমার জীবনীতে বলেছেন যে, তাওহিদ বিষয়ে তাঁর গ্রন্থটি একটি বিশাল খণ্ড, আর তিনি তাতে সূরার হাদিসের ব্যাখ্যা (তাউয়িল) করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কিছু সিফাতের (গুণাবলির) ব্যাখ্যা করে তাকে যেন মার্জনা করা হয়। আর সালাফগণ ব্যাখ্যার (তাউয়িলের) গভীরে প্রবেশ করেননি। বরং তাঁরা ঈমান এনেছেন, বিরত থেকেছেন এবং এর জ্ঞান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সোপর্দ করেছেন। আর যদি এমন হয় যে, যখনই কেউ তাঁর ইজতিহাদে ভুল করবে—তাঁর ঈমান সঠিক হওয়া এবং সত্য অনুসরণের চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও—আমরা তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করি ও বিদআতি আখ্যা দেই, তবে আমাদের মাঝে খুব কম ইমামই অবশিষ্ট থাকবেন। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় সকলকে রহম করুন।
ইবনে কুতায়বা তাঁর ‘তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস’ নামক গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর সূরায় (আকৃতিতে) সৃষ্টি করেছেন’—এর ব্যাখ্যায় আহলে কালামদের (তত্ত্ববিদদের) বেশ কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো, এর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা আদমকে চেহারার আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। ইবনে কুতায়বা বলেন: এতে কোনো ফায়দা নেই, কেননা মানুষ জানে যে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আদমকে তাঁর সন্তানদের অবয়বে এবং তাঁর চেহারাকে তাদের চেহারার অনুরূপ করে সৃষ্টি করেছেন। একদল লোক হাদিসে এই অংশটি বাড়িয়ে বর্ণনা করেছে যে, নবী আলাইহিস সালাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে অন্য এক ব্যক্তির চেহারায় আঘাত করছিল, তখন তিনি বললেন: ‘তাকে আঘাত করো না, কারণ আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে তাঁর সূরায় (আকৃতিতে) সৃষ্টি করেছেন’ অর্থাৎ প্রহৃত ব্যক্তির আকৃতিতে। এই বক্তব্যেও প্রথমটির মতোই ত্রুটি বিদ্যমান। সমাপ্ত। ইনশাআল্লাহ প্রথম বক্তব্যে যে ত্রুটির কথা তিনি ইঙ্গিত করেছেন তা সামনে আসবে। ইবনে কুতায়বা সূরার হাদিসে যে অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই এবং আমি সহীহ বর্ণনাগুলোর কোনোটিতেই তা দেখিনি। শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া উল্লেখ করেছেন যে, এর কোনো ভিত্তি নেই এবং হাদিসের কোনো কিতাবে এটি পরিচিত নয়।
ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছেন যে বলেছে যে বাণীর সর্বনামটি...
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٥)
النبي صلى الله عليه وسلم: «خلق الله آدم على صورته» يعود على المضروب ونص على أن هذا قول الجهمية.
قال الطبراني في «كتاب السنة» حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل قال: قال رجل لأبي إن رجلاً قال خلق الله آدم على صورته، أي صورة الرجل، فقال: كذب هذا قول الجهمية، وأي فائدة في هذا، وقد نقل الحافظ الذهبي هذه الرواية في «الميزان» في ترجمة حمدان بن الهيثم، ونقلها الحافظ ابن حجر في آخر «كتاب العتق» من «فتح الباري».
القول الثاني: أن الضمير يعود على آدم، قال الحافظ ابن حجر في «فتح الباري»: زعم بعضهم أن الضمير يعود على آدم، أي على صفته أي خلقه موصوفاً بالعلم الذي فضل به الحيوان. قال الحافظ: وهذا محتمل. قلت: ما أبعده من الاحتمال وإنما هو قول باطل مردود بالنص على أن الله خلق آدم على صورة الرحمن. وسيأتي ذكر هذا النص قريباً إن شاء الله تعالى.
والقول بأن الضمير يعود على آدم وأن الله تعالى خلق آدم على صورته، أي على صورة آدم مروي عن أبي ثور إبراهيم بن خالد الكلبي. وبه يقول بعض أكابر العلماء بعد القرون الثلاثة المفضلة، وهو معدود من زلاتهم، وقد ذكر ابن قتيبة هذا القول عن أهل الكلام والمراد بأهل الكلام عند أهل السنة أهل الكلام الباطل الذي ذمه السلف وحذروا منه - قال في كتابه الذي سماه «تأويل مختلف الحديث» وقد اضطرب الناس في تأويل قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنه خلق آدم عليه السلام على صورته» فقال قوم من أصحاب الكلام: أراد خلق آدم على صورة آدم، لم يزد على ذلك. قال ابن قتيبة ولو كان المراد هذا ما كان في الكلام فائدة، ومن يشك في أن الله تعالى خلق الإنسان على صورته والسباع على صورها والأنعام على صورها، قال وقال قوم:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" [এখানে সর্বনামটি] যাকে আঘাত করা হয়েছে তার দিকে ফিরে যায় এবং তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এটি জাহমিয়াদের বক্তব্য।
তাবারানী 'কিতাবুস সুন্নাহ'-তে বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আমার পিতাকে বললেন, এক ব্যক্তি বলেছে আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন—অর্থাৎ সেই লোকটির (যাকে আঘাত করা হয়েছে) আকৃতিতে। তখন তিনি (ইমাম আহমাদ) বললেন: সে মিথ্যা বলেছে, এটি জাহমিয়াদের বক্তব্য; আর এতে ফায়দাই বা কী আছে? হাফেজ আয-যাহাবী এই বর্ণনাটি 'আল-মিযান'-এ হামদান বিন আল-হাইসামের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'-র 'কিতাবুল ইতক্ব' এর শেষে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
দ্বিতীয় মত: সর্বনামটি আদমের দিকে ফিরে যায়। হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'-তে বলেছেন: কেউ কেউ দাবি করেছেন যে সর্বনামটি আদমের দিকে ফিরে যায়, অর্থাৎ তার বৈশিষ্ট্যের দিকে; তথা তাকে এমন জ্ঞানের গুণে গুণান্বিত করে সৃষ্টি করেছেন যার মাধ্যমে সে অন্যান্য প্রাণীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। হাফেজ বলেন: এটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমি (লেখক) বলি: এই সম্ভাবনা কতই না সুদূরপরাহত! বরং এটি একটি বাতিল মত যা এই অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত যে, আল্লাহ আদমকে পরম করুণাময়ের (আর-রাহমান) আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। ইনশাআল্লাহ অচিরেই এই দলিলটি উল্লেখ করা হবে।
আর সর্বনামটি আদমের দিকে ফিরে যায় এবং আল্লাহ তাআলা আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন—অর্থাৎ আদমেরই আকৃতিতে—এই বক্তব্যটি আবু সাওর ইবরাহিম বিন খালিদ আল-কালবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ তিন শতাব্দীর পরের কিছু বড় আলেমও এই কথা বলেছেন, তবে এটি তাঁদের পদস্খলন হিসেবে গণ্য। ইবনে কুতায়বা এই বক্তব্যটি আহলে কালামদের থেকে উল্লেখ করেছেন—আর আহলে সুন্নাতের নিকট আহলে কালাম বলতে সেই বাতিল কালামপন্থীদের বোঝায় যাদের সালাফগণ নিন্দা করেছেন এবং যাদের থেকে সতর্ক করেছেন—তিনি তাঁর 'তাউইলে মুখতালিফ আল-হাদীস' নামক গ্রন্থে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী "নিশ্চয়ই তিনি আদম আলাইহিস সালামকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" এর ব্যাখ্যায় মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে। কালামপন্থীদের একদল বলেছে: তিনি আদমকে আদমের আকৃতিতেই সৃষ্টি করা বুঝিয়েছেন, এর বেশি কিছু নয়। ইবনে কুতায়বা বলেন, যদি এটাই উদ্দেশ্য হতো তবে এই কথার কোনো ফায়দা থাকত না; কারণ কে সন্দেহ করে যে আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার আকৃতিতে, হিংস্র প্রাণীদের তাদের আকৃতিতে এবং চতুষ্পদ জন্তুদের তাদের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বলেন, আবার একদল লোক বলেছে:
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
إن الله تعالى خلق آدم على صورة عنده، وهذا لا يجوز لأن الله عز وجل لا يخلق شيئاً من خلقه على مثال.
قلت: وهذا القول يرجع إلى قول من قال: إن الله خلق آدم على صورة آدم. قال ابن قتيبة: ولما وقعت هذه التأويلات المستكرهة وكثر التنازع حمل قوماً اللجاج على أن زادوا في الحديث فقالوا: روى ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله عز وجل خلق آدم على صورة الرحمن» يريدون أن تكون الهاء في «صورته» لله جل وعز وأن ذلك يتبين بأن يجعلوا الرحمن مكان الهاء. ثم تكلم ابن قتيبة في رد لحديث بما لا حاصل تحته - إلى أن قال- فإن صحت رواية ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم فلا تأويل ولا تنازع فيه.
قلت: قد صحت الرواية بذلك عن ابن عمر رضي الله عنهما وصححها أحمد وإسحاق بن راهويه وسيأتي بيان صحة الحديث إن شاء الله تعالى.
قال ابن قتيبة ولم أر في التأويلات شيئاً أقرب من الاطراد ولا أبعد من الاستكراه من تأويل بعض أهل النظر فإنه قال فيه: أراد أن الله تعالى خلق آدم في الجنة على صورته في الأرض. كأن قوماً قالوا كان من طوله في الجنة كذا ومن حليته كذا ومن نوره كذا ومن طيب رائحته كذا. لمخالفة ما يكون في الجنة ما يكون في الدنيا فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله خلق آدم» يريد في الجنة «على صورته» يعني في الدنيا.
قلت: وهذا القول يرجع إلى قول من قال: إن الله خلق آدم على صورة آدم. قال ابن قتيبة: ولست أحتم بهذا التأويل على هذا الحديث ولا أقضي بأنه مراد رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه لأني قرأت في التوراة: «أن الله جل وعز لما خلق السماء والأرض قال: نخلق بشراً بصورتنا فخلق آدم من أدمة الأرض ونفخ في وجهه نسمة الحياة» وهذا لا يصلح له ذلك التأويل، وكذلك حديث ابن عباس رضي الله عنهما أن
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আদমকে তাঁর নিকটস্থ এক অবয়বে সৃষ্টি করেছেন, আর এটি জায়েজ নয় কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর কোনো সৃষ্টিকেই পূর্ববর্তী কোনো নমুনার ভিত্তিতে সৃষ্টি করেন না।
আমি বলছি: এই বক্তব্যটি সেই ব্যক্তির বক্তব্যের দিকেই ফিরে যায় যে বলে যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে আদমেরই অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। ইবনে কুতায়বা বলেন: যখন এই অপছন্দনীয় ব্যাখ্যাসমূহ সংঘটিত হলো এবং বিবাদ বেড়ে গেল, তখন একগুঁয়েমি কিছু লোককে হাদিসে অতিরিক্ত কথা যোগ করতে প্ররোচিত করল। তারা বলল: ইবনে উমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আদমকে রহমানের অবয়বে সৃষ্টি করেছেন»। তারা চায় যে «সুরতিহি» (তাঁর অবয়ব) শব্দের সর্বনামটি যেন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা-র দিকে ফিরে যায় এবং তারা সর্বনামের স্থলে 'রহমান' শব্দটি বসিয়ে তা স্পষ্ট করতে চায়। অতঃপর ইবনে কুতায়বা এমন কিছু কথা দ্বারা হাদিসটির প্রতিবাদ করেন যার কোনো সারবত্তা নেই —পরবর্তীতে তিনি বলেন— যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ইবনে উমরের বর্ণনাটি সহিহ হয়ে থাকে, তবে এতে কোনো অপব্যাখ্যা বা বিবাদের অবকাশ নেই।
আমি বলছি: ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এই বর্ণনাটি সহিহ প্রমাণিত হয়েছে এবং ইমাম আহমাদ ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এটিকে সহিহ বলেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে হাদিসটির বিশুদ্ধতার বিবরণ আসবে।
ইবনে কুতায়বা বলেন, ব্যাখাসমূহের মধ্যে আমি এমন কোনো কিছু দেখিনি যা কতিপয় চিন্তাবিদদের ব্যাখ্যার চেয়ে অধিক সংগতিপূর্ণ অথবা অপছন্দনীয়তা থেকে অধিক দূরবর্তী। তারা এতে বলেছেন: তাঁর উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহ আদমকে জান্নাতে সেই অবয়বে সৃষ্টি করেছেন যে অবয়বে তিনি পৃথিবীতে ছিলেন। যেন কোনো এক দল বলেছিল যে জান্নাতে তাঁর দৈর্ঘ্য এমন ছিল, তাঁর ভূষণ এমন ছিল, তাঁর নূর এমন ছিল এবং তাঁর সুগন্ধি এমন ছিল; যেহেতু জান্নাতের বিষয়সমূহ দুনিয়ার বিষয়ের বিপরীত হয়ে থাকে। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন» —অর্থাৎ জান্নাতে— «তাঁর অবয়বে» অর্থাৎ দুনিয়ার অবয়বে।
আমি বলছি: এই বক্তব্যটি সেই ব্যক্তির বক্তব্যের দিকেই ফিরে যায় যে বলে যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে আদমেরই অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। ইবনে কুতায়বা বলেন: আমি এই হাদিসের ওপর এই ব্যাখ্যাটিকে অবধারিত করছি না এবং ফয়সালা দিচ্ছি না যে এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উদ্দেশ্য এটাই ছিল। কারণ আমি তাওরাতে পড়েছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা যখন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন: আমরা আমাদের অবয়বে একজন মানুষ সৃষ্টি করব। অতঃপর তিনি পৃথিবীর মাটি থেকে আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর চেহারায় প্রাণের ফুঁক দিলেন»। আর এই বর্ণনার জন্য ঐ ব্যাখ্যাটি সঠিক হয় না। অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদিসটিও যে...
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
موسى صلى الله عليه وسلم ضرب الحجر لبني إسرائيل فتفجر وقال: «اشربوا يا حمير» فأوحى الله تبارك وتعالى إليه: «عمدت إلى خلق من خلقي خلقتهم على صورتي فشبهتهم بالحمير» فما برح حتى عوتب، هذا معنى الحديث.
قال أبو محمد بن قتيبة والذي عندي -والله تعالى أعلم- أن الصورة ليست بأعجب من اليدين والأصابع والعين، وإنما وقع الإلف لتلك لمجيئها في القرآن ووقعت الوحشة من هذه لأنها لم تأت في القرآن، ونحن نؤمن بالجميع، ولا نقول في شيء منه بكيفية ولا حد. انتهى كلام ابن قتيبة.
وقد رد الإمام أحمد رحمه الله تعالى على من قال: إن الضمير في قول النبي صلى الله عليه وسلم: «خلق الله آدم على صورته» أي على صورة آدم ونص على أنه من أقوال الجهمية. ذكر ذلك القاضي أبو الحسين في «طبقات الحنابلة» عن أبي جعفر محمد بن علي الجرجاني المعروف بحمدان قال: سألت أبا ثور عن قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله خلق آدم على صورته» فقال على صورة آدم، وكان هذا بعد ضرب أحمد بن حنبل والمحنة، فقلت لأبي طالب: قل لأبي عبد الله فقال أبو طالب: قال لي أحمد بن حنبل صح الأمر على أبي ثور. من قال: إن الله خلق آدم على صورة آدم فهو جهمي. وأي صورة كان لآدم قبل أن يخلقه. وروى الخلال عن أبي طالب من وجهين قال: سمعت أبا عبد الله يعني أحمد بن حنبل يقول من قال: إن الله خلق آدم على صورة آدم فهو جهمي .. وأي صورة كانت لآدم قبل أن يخلقه. وروى الخلال أيضاً عن المروذي أنه قال: أظن أني ذكرت لأبي عبد الله عن بعض المحدثين بالبصرة أنه قال: قول النبي صلى الله عليه وسلم: «خلق الله آدم على صورته» قال صورة الطين: قال هذا جهمي. وقال
মুসা (আলাইহিস সালাম) বনী ইসরাঈলের জন্য পাথরে আঘাত করলেন, ফলে তা থেকে পানি উথলে উঠল এবং তিনি বললেন: "হে গাধারা, পান করো।" তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর প্রতি ওহি নাজিল করলেন: "তুমি আমার সৃষ্টির এমন এক সৃষ্টির প্রতি উদ্ধত হয়েছ যাদের আমি আমার সুরতে (আকৃতিতে) সৃষ্টি করেছি, অথচ তুমি তাদের গাধার সাথে তুলনা করলে?" এরপর তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার আগেই তাঁকে তিরস্কার করা হলো। এটিই হাদিসের অর্থ।
আবু মুহাম্মাদ ইবনে কুতায়বাহ বলেন, আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়—আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—তাহলো 'সুরত' (আকৃতি) আল্লাহর দুই হাত, আল্লাহর আঙুলসমূহ এবং আল্লাহর চোখের চেয়ে অধিক বিস্ময়কর কিছু নয়। মূলত কুরআনুল কারীমে ওইসব সিফাতের উল্লেখ থাকায় সেগুলোর প্রতি মানুষের এক প্রকারের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে, আর এটি (সুরত) কুরআনে না আসায় এর প্রতি একটি ভীতি বা সংকোচ তৈরি হয়েছে। আমরা এ সবকিছুর ওপরই ঈমান রাখি এবং এর কোনোটির ক্ষেত্রেই কোনো ধরণ (কাইফিয়্যাত) বা সীমা নির্ধারণ করি না। ইবনে কুতায়বার বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছেন যে বলেছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ আদমকে তাঁর সুরতে (আকৃতিতে) সৃষ্টি করেছেন"—এতে সর্বনামটি আদমের দিকে ফিরেছে (অর্থাৎ আদমের সুরতে)। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এটি জাহমিয়াদের বক্তব্য। কাযী আবুল হুসাইন 'ত্ববাকাতুল হানাবিলাহ' গ্রন্থে আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-জুরজানী (যিনি হামদান নামে পরিচিত) থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আমি আবু সাওরকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর সুরতে সৃষ্টি করেছেন" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন—আদমের সুরতে। এটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ওপর প্রহার ও অগ্নিপরীক্ষার (মিহনা) পরের ঘটনা। আমি আবু তালিবকে বললাম: আপনি আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদকে) এ সম্পর্কে বলুন। তখন আবু তালিব বললেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাকে বলেছেন যে, আবু সাওরের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। যে ব্যক্তি বলে: "আল্লাহ আদমকে আদমের সুরতে সৃষ্টি করেছেন", সে একজন জাহমি। আদমের সৃষ্টির পূর্বে তার আবার কী সুরত ছিল? আল-খলাল আবু তালিব থেকে দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বলে: "আল্লাহ আদমকে আদমের সুরতে সৃষ্টি করেছেন" সে একজন জাহমি... আর আদমের সৃষ্টির আগে তার কী সুরত ছিল? আল-খলাল আরও আল-মারউযী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমার মনে হয় আমি আবু আব্দুল্লাহর কাছে বসরার কোনো কোনো মুহাদ্দিসের কথা উল্লেখ করেছিলাম যে তারা বলেছেন: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী "আল্লাহ আদমকে তাঁর সুরতে সৃষ্টি করেছেন" এর অর্থ মাটির সুরতে; তখন তিনি (ইমাম আহমাদ) বললেন: এ ব্যক্তি জাহমি। এবং তিনি বললেন—
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
نسلم الخبر كما جاء. قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى في رده على الرازي: فأخبر أحمد أن هذا جهمي كما أن من قال على صورة الأرحام فهو جهمي لأن الجهمية هم الذين ينكرون الصفات ويتأولون ما ورد في ذلك من الأخبار والآيات انتهى. وقال القاضي أبو الحسين في «طبقات الحنابلة» في ترجمة عبد الوهاب بن عبد الحكم الوراق - وهو من أصحاب الإمام أحمد- قال محمد بن جعفر: سألت عبد الوهاب عن أبي ثور فقال: أتدين فيه بما حدثني به أبو طالب عن أبي عبد الله أنه سأله عنه فقال: يجفى ويجفى من أفتى برأيه. وقال زكريا بن الفرج سألت عبد الوهاب غير مرة عن أبي ثور فأخبرني أن أبا ثور جهمي، وذلك أنه قطع بقول أبي يعقوب الشعراني، حكى أنه سأل أبا ثور عن خلق آدم فقال: إنما هو على صورة آدم ليس هو على صورة الرحمن.
قال زكريا: فقلت ذلك لعبد الوهاب: ما تقول في أبي ثور فقال: ما أدين فيه إلا بقول أحمد بن حنبل، يهجر أبو ثور ومن قال بقوله، قال زكريا وقلت لعبد الوهاب مرة أخرى وقد تكلم في هذه المسألة: «خلق الله آدم على صورته» فقال: من لم يقل إن الله خلق آدم على صورة الرحمن فهو جهمي.
وذكر الذهبي في «الميزان» في ترجمة حمدان بن الهيثم أنه يروى عن أبي مسعود أحمد بن الفرات وعنه أبو الشيخ ووثقه، قال الذهبي: لكنه أتى بشيء منكر عن أحمد -يعني ابن الفرات- عن أحمد بن حنبل في معنى قوله عليه السلام: «إن الله خلق آدم على صورته» زعم أنه قال صوّر الله صورة آدم قبل خلقه ثم خلقه على تلك الصورة. فأما أن يكون خلق الله آدم على صورته فلا فقد قال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11].
قال يحيى بن مندة في مناقب أحمد قال المظفر بن أحمد الخياط
আমরা যেভাবে এসেছে সেভাবেই সংবাদটিকে গ্রহণ করি। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) আল-রাজির প্রতিবাদে বলেছেন: আহমাদ (ইবনে হাম্বল) জানিয়েছেন যে, এই ব্যক্তি একজন জাহমি; ঠিক যেমন যে ব্যক্তি বলে ‘জরায়ুর আকৃতিতে’ সেও একজন জাহমি। কারণ জাহমিরাই হলো তারা যারা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করে এবং এ বিষয়ে যেসব সংবাদ ও আয়াত এসেছে সেগুলোর অপব্যাখ্যা করে। (সমাপ্ত)। আল-কাদি আবুল হুসাইন ‘তাবাকাতুল হানাবিলা’ গ্রন্থে আব্দুল ওয়াহহাব বিন আব্দুল হাকাম আল-ওয়াররাক—যিনি ইমাম আহমাদের অন্যতম সাথী—এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, মুহাম্মাদ বিন জাফর বলেন: আমি আব্দুল ওয়াহহাবকে আবু সাওর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: আমি তার ব্যাপারে সেভাবেই দ্বীন পালন করি যেভাবে আবু তালিব আমাকে আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন: তাকে বর্জন করতে হবে এবং তাকেও বর্জন করতে হবে যে নিজের রায় বা মত অনুযায়ী ফতোয়া দেয়। জাকারিয়া বিন আল-ফারাজ বলেন, আমি আব্দুল ওয়াহহাবকে একাধিকবার আবু সাওর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তখন তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে আবু সাওর একজন জাহমি। আর তা এই কারণে যে, তিনি আবু ইয়াকুব আশ-শা’রানির বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন, যিনি বর্ণনা করেছেন যে তিনি আবু সাওরকে আদমের সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: এটি কেবল আদমের নিজ আকৃতিতে, এটি রহমানের আকৃতিতে নয়।
জাকারিয়া বলেন: আমি আব্দুল ওয়াহহাবকে বললাম: আপনি আবু সাওর সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: আমি তার ব্যাপারে আহমাদ বিন হাম্বলের উক্তি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা দ্বীন পালন করি না; আবু সাওর এবং যে ব্যক্তি তার মতো কথা বলে তাদের উভয়কে বর্জন করতে হবে। জাকারিয়া বলেন, আমি আব্দুল ওয়াহহাবকে অন্য একবার বললাম, যখন তিনি এই মাসআলা সম্পর্কে কথা বলছিলেন যে, ‘আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন’, তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি বলে না যে আল্লাহ আদমকে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, সে একজন জাহমি।
আল-যাহাবি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে হামদান বিন আল-হাইসামের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু মাসউদ আহমাদ বিন আল-ফুরাত থেকে এবং তার থেকে আবুল শাইখ বর্ণনা করেছেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। যাহাবি বলেন: কিন্তু তিনি (ইবনে আল-ফুরাত) আহমাদ বিন হাম্বল থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ‘নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন’ এর অর্থ সম্পর্কে একটি আপত্তিকর বিষয় বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি (ইমাম আহমাদ) বলেছেন: আল্লাহ আদমের সৃষ্টির আগে তার একটি আকৃতি চিত্রিত করেছেন এবং তারপর তাকে সেই আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন—এই অর্থটি তিনি অস্বীকার করেছেন, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} [আশ-শুরা: ১১]।
ইয়াহইয়া বিন মানদাহ ‘মানাকিবে আহমাদ’ গ্রন্থে বলেন, আল-মুজাফফর বিন আহমাদ আল-খাইয়াত বলেছেন
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
في كتاب «السنة» وحمدان بن الهيثم يزعم أن أحمد قال: صور الله صورة آدم قبل خلقه، وأبو الشيخ فوثقه في «كتاب الطبقات» ويدل على بطلان روايته ما رواه حمدان بن علي الوراق الذي هو أشهر من حمدان بن الهيثم وأقدم أنه سمع أحمد بن حنبل وسأله رجل عن حديث خلق آدم على صورته على صورة آدم فقال أحمد: فأين الذي يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم أن الله خلق آدم على صورة الرحمن، ثم قال أحمد: وأي صورة لآدم قبل أن يخلق - ثم ذكر الذهبي ما رواه الطبراني عن عبد الله بن أحمد عن أبيه، وتقدم ذكره في آخر الكلام في رد القول الأول - قال الذهبي وقيل إن أبا عمر بن عبد الوهاب هجر أبا الشيخ لمكان حكاية حمدان وقال: إن أردت أن أسلم عليك فأخرج من كتابك حكاية حمدان بن الهيثم.
قلت: هذا القول الذي ذكره حمدان بن الهيثم عن أحمد لا شك أنه مفترى على أحمد بن حنبل، وجميع الروايات التي تقدم ذكرها عن أحمد رحمه الله تعالى في الرد على من أعاد الضمير في حديث الصورة على المضروب وعلى من أعاده على آدم كلها صريحة في الرد على من افترى على الإمام أحمد ونسب إليه القول الذي قد نص على أنه من أقوال الجهمية.
القول الثالث: أن الضمير يعود على الله تعالى قال الحافظ ابن حجر في: «فتح الباري» قال القرطبي: أعاد بعضهم الضمير على الله تعالى متمسكاً بما ورد في بعض طرقه «أن الله خلق آدم على صورة الرحمن».
قلت: هذا هو قول أهل السنة والجماعة، وسيأتي النص على ذلك في حديثي ابن عمر وأبي هريرة رضي الله عنهما، وقد ذكر الإمام أحمد هذا القول فيما أملاه على بعض أصحابه من أقوال أهل السنة
'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে হামদান ইবনুল হাইসাম দাবি করেন যে, আহমাদ বলেছেন: আল্লাহ আদমের সৃষ্টির পূর্বে আদমের আকৃতি চিত্রিত করেছেন। আবুশ শায়খ 'কিতাবুত তাবাকাত'-এ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তার বর্ণনার অসারতা প্রমাণ করে হামদান ইবনে আলী আল-ওয়াররাকের বর্ণনা, যিনি হামদান ইবনুল হাইসামের চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন। তিনি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছেন—একজন ব্যক্তি তাকে আদমের আকৃতিতে আদমকে সৃষ্টির হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আহমাদ বলেন: তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই হাদিসটি কোথায় গেল, যাতে বলা হয়েছে যে আল্লাহ আদমকে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন? এরপর আহমাদ বলেন: সৃষ্টির পূর্বে আদমের আবার কী আকৃতি ছিল? এরপর আয-যাহাবি তাবারানি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন এবং প্রথম মতটি খণ্ডন করার আলোচনার শেষে তা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আয-যাহাবি বলেন, বলা হয়ে থাকে যে আবু ওমর ইবনে আব্দুল ওয়াহাব হামদানের কাহিনীটি বর্ণনার কারণে আবুশ শায়খকে বর্জন করেছিলেন এবং বলেছিলেন: আমি যদি তোমাকে সালাম দিই, তবে তোমার কিতাব থেকে হামদান ইবনুল হাইসামের বর্ণনাটি বের করে দাও।
আমি বলি: হামদান ইবনুল হাইসাম কর্তৃক আহমাদের উদ্ধৃতিতে বর্ণিত এই বক্তব্যটি নিঃসন্দেহে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের ওপর একটি মিথ্যা অপবাদ। আকৃতি সম্পর্কিত হাদিসের সর্বনামকে প্রহৃত ব্যক্তি বা আদমের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে পূর্বে বর্ণিত সকল বর্ণনা সেই ব্যক্তির খণ্ডনে সুস্পষ্ট দলিল, যে ইমাম আহমাদের প্রতি এই মিথ্যা আরোপ করেছে এবং তার দিকে এমন কথা নিসবত করেছে যা তিনি নিজেই জহমিয়াদের বক্তব্য হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় মত: সর্বনামটি আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরবে। হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি'-তে উল্লেখ করেছেন যে, আল-কুরতুবি বলেছেন: তাদের কেউ কেউ সর্বনামটি আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরিয়েছেন এবং এর স্বপক্ষে কিছু সূত্রে বর্ণিত এই পাঠটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন যে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন'।
আমি বলি: এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অভিমত। অচিরেই ইবনে ওমর ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসে এর স্বপক্ষে সুস্পষ্ট বর্ণনা আসবে। ইমাম আহমাদ তার কিছু সঙ্গীর নিকট আহলে সুন্নাতের আকিদা বিষয়ে যা লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন, তাতেও এই মতটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
والجماعة، قال القاضي أبو الحسين في: «طبقات الحنابلة» في ترجمة أبي جعفر محمد بن عوف بن سفيان الطائي الحمصي، نقلت من خط أحمد الشنجي بإسناده قال سمعت محمد بن عوف يقول، أملى علي أحمد بن حنبل -فذكر جملة من المسائل التي أملاها عليه مما يعتقده أهل السنة والجماعة، ومنها وأن آدم صلى الله عليه خلق على صورة الرحمن كما جاء الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم رواه ابن عمر عن سول الله صلى الله عليه وسلم.
قلت: هذا الحديث رواه عبد الله بن الإمام أحمد في كتاب «السنة» قال حدثني أبو معمر حدثنا جرير عن الأعمش عن حبيب بن أبي ثابت عن عطاء عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقبحوا الوجه فإن الله خلق آدم على صورة الرحمن» رجاله رجال الصحيح، وأبو معمر اسمه إسماعيل بن إبراهيم بن معمر الهذلي، وجرير هو ابن عبد الحميد الضبي، والأعمش اسمه سليمان بن مهران وعطاء هو ابن أبي رباح وقد رواه ابن أبي عاصم في كتاب «السنة» وابن خزيمة في «كتاب التوحيد» عن يوسف بن موسى -وهو القطان- عن جرير ابن عبد الحميد عن الأعمش عن حبيب بن أبي ثابت عن عطاء عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقبحوا الوجه فإن ابن آدم خلق على صورة الرحمن» هذا لفظه عند ابن أبي عاصم، ولفظه عند ابن خزيمة «لا تقبحوا الوجه فإن ابن آدم خلق على صورة الرحمن» ورواه البيهقي في «كتاب الأسماء والصفات» من طريق عثمان بن أبي شيبة عن جرير فذكره بمثل رواية عبد الله بن أحمد. ورواه أبو بكر الآجري في كتاب «الشريعة» عن أبي محمد عبد الله بن صالح البخاري قال حدثنا إسحاق بن إبراهيم المروزي قال حدثنا جرير بن عبد الحميد، فذكره بمثل رواية ابن خزيمة، ورواته كلهم
এবং জামাআত। কাজী আবুল হুসাইন 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' গ্রন্থে আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আউফ ইবনে সুফিয়ান আত-তায়ী আল-হিমসির জীবনীতে উল্লেখ করেছেন, আমি আহমাদ আশ-শানজির হাতের লেখা থেকে তার সনদে নকল করেছি, তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে আউফকে বলতে শুনেছি যে, আহমাদ ইবনে হাম্বল আমার নিকট শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন—অতঃপর তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা সংক্রান্ত এমন কতগুলো মাসআলা উল্লেখ করেন যা তিনি (ইমাম আহমাদ) তাকে লিখিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি হলো: আদম (আলাইহিস সালাম) রহমানের আকৃতিতে সৃষ্ট হয়েছেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সংবাদে এসেছে; ইবনে উমর এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আমি বলি: এই হাদিসটি ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার নিকট আবু মা’মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জারির বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা চেহারাকে কদর্য বলো না, কারণ আল্লাহ আদমকে রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।" এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। আবু মা’মারের নাম ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম ইবনে মা’মার আল-হুযালি। জারির হলেন ইবনে আব্দুল হামিদ আদ-দব্বি। আল-আমাশের নাম সুলাইমান ইবনে মিহরান এবং আতা হলেন ইবনে আবি রাবাহ। ইবনে আবি আসিম এটি 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে এবং ইবনে খুযাইমাহ 'কিতাবুত তাওহিদ' গ্রন্থে ইউসুফ ইবনে মুসা—যিনি আল-কাত্তান—তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি জারির ইবনে আব্দুল হামিদ থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা চেহারাকে কদর্য বলো না, কেননা আদম সন্তান রহমানের আকৃতিতে সৃষ্ট হয়েছে।" ইবনে আবি আসিমের নিকট শব্দগুলো এরূপ। আর ইবনে খুযাইমাহর নিকট শব্দগুলো হলো: "তোমরা চেহারাকে কদর্য বলো না, কেননা আদম সন্তান রহমানের আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে।" আল-বায়হাকি 'কিতাবুল আসমা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে উসমান ইবনে আবি শায়বাহর সূত্রে জারির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদের বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। আবু বকর আল-আজুরি 'কিতাবুশ শারিয়াহ' গ্রন্থে আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-মারওয়াযি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট জারির ইবনে আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি ইবনে খুযাইমাহর বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই...
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ثقات. أبو محمد عبد الله بن صالح البخاري قال فيه أبو علي الحافظ ثقة مأمون، وقال أبو بكر الإسماعيلي ثقة ثبت، وقال أبو الحسين ابن المنادي هو أحد الثقات وأهل الصلاح والفهم لما يحدث به، وبقية رجاله رجال الصحيح.
ورواه الدارقطني في «كتاب الصفات» من طريق هارون بن معروف عن جرير فذكره بمثل رواية عبد الله بن أحمد، وقد رواه ابن خزيمة في «كتاب التوحيد» عن عطاء مرسلاً فقال حدثنا أبو موسى محمد بن المثنى قال: حدثنا عبد الرحمن بن مهدي قال: حدثنا سفيان عن حبيب بن أبي ثابت عن عطاء قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يقبح الوجه فإن ابن آدم خلق على صورة الرحمن» أبو موسى هو المعروف بالزمن وهو ثقة ثبت احتج سائر الأئمة بحديثه.
وقد ادعى الألباني في تعليقه على «كتاب السنة» لابن أبي عاصم أن هذا المرسل أصح من الموصول، وهذه دعوى لا دليل عليها فلا تقبل، وكما أن الأعمش قد روى الموصول بالعنعنة عن حبيب بن أبي ثابت فكذلك الثوري قد روى المرسل بالعنعنة عن حبيب بن أبي ثابت، وكل من الأعمش والثوري مدلس، وكل منهما من المرتبة الثانية من المدلسين فلا مزية إذاً لإسناد المرسل على إسناد الموصول، وقد قال الحافظ ابن حجر في تعريف المرتبة الثانية من المدلسين أنه من احتمل الأئمة تدليسه وأخرجوا له في الصحيح لإمامته وقلة تدليسه في جنب ما روى كالثوري، وذكر أيضاً الأعمش في هذه المرتبة، وعلى هذا فينبغي أن يساوى بين الأعمش والثوري في الرواية عن حبيب بن أبي ثابت إذ لا فرق بينهما في مرتبة التدليس.
وقد أعل ابن خزيمة الحديث الموصول عن ابن عمر رضي الله عنهما بثلاث علل إحداهن أن الثوري قد خالف الأعمش في إسناده فأرسل
তারা নির্ভরযোগ্য। আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ আল-বুখারি সম্পর্কে আবু আলী আল-হাফিয বলেছেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত; আবু বকর আল-ইসমাঈলি বলেছেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়; আর আবু আল-হুসাইন ইবনুল মুনাদি বলেছেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্যতম এবং তিনি যা বর্ণনা করেন তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে একজন সৎ ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। আর এর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।
আর আদ-দারাকুতনি এটি তার 'কিতাবুস সিফাত'-এ হারুন ইবনে মা’রূফ-এর সূত্রে জারির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ-এর বর্ণনার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। ইবনে খুজাইমা এটি তার 'কিতাবুত তাওহিদ'-এ আতা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের নিকট আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান হাদিস বর্ণনা করেছেন হাবিব ইবনে আবু সাবিত থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মুখমণ্ডলকে কদর্য বলো না, কেননা আদম সন্তানকে রহমানের সুরতে (আকৃতিতে) সৃষ্টি করা হয়েছে।" আবু মুসা 'আয-যামান' হিসেবে পরিচিত এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়, সকল ইমামগণ তার হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন।
আলবানি ইবনে আবি আসিম-এর 'কিতাবুস সুন্নাহ'-এর টিকায় দাবি করেছেন যে, এই মুরসাল বর্ণনাটি মাওসুল (সংযুক্ত) বর্ণনার চেয়ে অধিক সহীহ। এটি এমন এক দাবি যার কোনো দলিল নেই, তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। যেমনিভাবে আ’মাশ হাবিব ইবনে আবু সাবিত থেকে 'আন'আনা শব্দযোগে মাওসুল বর্ণনা করেছেন, তেমনি সাওরিও হাবিব ইবনে আবু সাবিত থেকে 'আন'আনা শব্দযোগে মুরসাল বর্ণনা করেছেন। আ’মাশ এবং সাওরি উভয়েই মুদাল্লিস, এবং তারা উভয়েই মুদাল্লিসদের দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মাওসুল বর্ণনার সনদের ওপর মুরসাল বর্ণনার সনদের কোনো বিশেষত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব নেই। হাফিয ইবনে হাজার দ্বিতীয় স্তরের মুদাল্লিসদের সংজ্ঞায় বলেছেন যে, তারা এমন স্তরের যাদের তাদলিস ইমামগণ সহ্য করেছেন এবং তাদের ইমামত ও তাদের বর্ণিত হাদিসের তুলনায় তাদলিসের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে সহীহ গ্রন্থসমূহে তাদের হাদিস গ্রহণ করেছেন, যেমন সাওরি। তিনি আ’মাশকেও এই স্তরে উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় হাবিব ইবনে আবু সাবিত-এর বর্ণনার ক্ষেত্রে আ’মাশ এবং সাওরীর মধ্যে সমতা বজায় রাখা উচিত, যেহেতু তাদলিসের স্তরের দিক থেকে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
ইবনে খুজাইমা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত মাওসুল হাদিসটিকে তিনটি ত্রুটির কারণে সমস্যাযুক্ত বলেছেন, যার একটি হলো এই যে, সাওরি এর সনদের বর্ণনায় আ’মাশের বিরোধিতা করেছেন এবং একে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
الثوري ولم يقل عن ابن عمر، والثانية أن الأعمش مدلس لم يذكر أنه سمعه من حبيب بن أبي ثابت، والثالثة أن حبيب بن أبي ثابت أيضاً مدلس لم يعلم أنه سمعه من عطاء، وقد تبعه الألباني على تعليل الحديث بهذه العلل الثلاث.
والجواب عن هذا التعليل من وجوه أحدها أن يقال إن العلل التي ذكرها ابن خزيمة والألباني واهية جداً، فأما مخالفة الثوري للأعمش فإنها لا تؤثر في رواية الأعمش لأن كلاً منهما حافظ إمام وشيخ من شيوخ الإسلام، وقد قال ابن عيينة: كان الأعمش أقرأهم لكتاب الله وأحفظهم للحديث وأعلمهم بالفرائض، وقال عمرو بن علي الفلاس: كان الأعمش يسمى المصحف من صدقه، وقال يحيى القطان: الأعمش علامة الإسلام وقال شعبة: ما شفاني أحد في الحديث ما شفاني الأعمش، وقال عبد الله بن داود الخريبي كان شعبة إذا ذكر الأعمش قال: المصحف المصحف، وقال ابن عمار: ليس في المحدثين أثبت من الأعمش وقال يحيى بن معين: كان جرير إذا حدث عن الأعمش قال: هذا الديباج الخسرواني وقال ابن المديني: حفظ العلم على أمة محمد صلى الله عليه وسلم ستة عمرو بن دينار بمكة والزهري بالمدينة وأبو إسحاق السبيعي والأعمش بالكوفة وقتادة ويحيى بن أبي كثير بالبصرة، وفضائل الأعمش كثيرة جداً وهو من شيوخ الثوري، ومن كان بهذه المثابة من الفضائل فروايته لا تعلل بمخالفة الثوري له لأنه قد حفظ ما لم يحفظه الثوري.
وأما عنعنة الأعمش في روايته عن حبيب بن أبي ثابت فإنها لا تؤثر في صحة الإسناد لأن الأعمش معدود من المرتبة الثانية من المدلسين، ذكر ذلك الحافظ ابن حجر في كتابه الذي سماه «تعريف أهل التقديس،
আছ-সাওরী এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেননি। দ্বিতীয়ত, আল-আ'মাশ একজন মুদাল্লিস, তিনি হাবীব ইবনে আবী সাবিত থেকে এটি শুনেছেন বলে উল্লেখ করেননি। তৃতীয়ত, হাবীব ইবনে আবী সাবিতও একজন মুদাল্লিস, তিনি আতা থেকে এটি শুনেছেন বলে জানা যায়নি। আলবানী এই তিনটি ত্রুটির কারণে হাদিসটিকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁকে (ইবনে খুজাইমাকে) অনুসরণ করেছেন।
এই ত্রুটি প্রদর্শনের উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়। প্রথমত, ইবনে খুজাইমা এবং আলবানী যে ত্রুটিগুলো উল্লেখ করেছেন তা অত্যন্ত দুর্বল। আছ-সাওরী কর্তৃক আল-আ'মাশের বিরোধিতা করার বিষয়টি আল-আ'মাশের বর্ণনার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। কারণ তাঁদের প্রত্যেকেই একজন হাফেজ, ইমাম এবং ইসলামের শাইখদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে উয়াইনাহ বলেছেন: আল-আ'মাশ তাঁদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব পাঠে অধিক দক্ষ, হাদিস মুখস্থ রাখায় শ্রেষ্ঠ এবং উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস বলেছেন: আল-আ'মাশকে তাঁর সত্যবাদিতার কারণে 'আল-মুসহাফ' (পবিত্র গ্রন্থ সদৃশ নির্ভুল) বলা হতো। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেছেন: আল-আ'মাশ ইসলামের মহাজ্ঞানী। শু'বাহ বলেছেন: হাদিসের ক্ষেত্রে আল-আ'মাশের মতো আমাকে আর কেউ পরিতৃপ্ত করতে পারেনি। আব্দুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবী বলেছেন, শু'বাহ যখন আল-আ'মাশের কথা উল্লেখ করতেন, তখন বলতেন: তিনি হলেন 'আল-মুসহাফ', 'আল-মুসহাফ'। ইবনে আম্মার বলেছেন: মুহাদ্দিসদের মধ্যে আল-আ'মাশের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য আর কেউ নেই। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেছেন: জারীর যখন আল-আ'মাশ থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: এটি হলো 'আদ-দীবাজ আল-খুসরওয়ানী' (উৎকৃষ্ট রেশমি বস্ত্র সদৃশ)। ইবনে আল-মাদীনী বলেছেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের জ্ঞান ছয়জন ব্যক্তি সংরক্ষণ করেছেন— মক্কায় আমর বিন দীনার, মদীনায় যুহরী, কূফায় আবু ইসহাক আস-সাবিঈ ও আল-আ'মাশ, এবং বসরার কাতাদাহ ও ইয়াহইয়া বিন আবী কাসীর। আল-আ'মাশের গুণাবলি অনেক এবং তিনি আছ-সাওরীর অন্যতম শিক্ষক। যিনি এমন মর্যাদার অধিকারী, আছ-সাওরীর বিরোধিতার কারণে তাঁর বর্ণনাকে ত্রুটিপূর্ণ বলা যাবে না; কারণ তিনি হয়তো এমন কিছু মুখস্থ রেখেছেন যা আছ-সাওরী রাখেননি।
আর হাবীব ইবনে আবী সাবিত থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-আ'মাশের 'আন'আনা' (সরাসরি শোনার কথা উল্লেখ না করে বর্ণনা করা) সূত্রের বিশুদ্ধতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। কারণ আল-আ'মাশকে মুদাল্লিসদের দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'তারীফু আহলিত তাকদীস' নামক গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আক্বীদাহু আহলিল ঈমান ফী খলক্বি আদামা আলা সূরতির রহমান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بمراتب الموصوفين بالتدليس» وذكر أن أهل هذه المرتبة قد احتمل الأئمة تدليسهم وأخرجوا لهم في الصحيح لإمامتهم وقلة تدليسهم في جنب ما رووا. وأيضاً فإن موافقة الثوري للأعمش في رواية الحديث عن حبيب بن أبي ثابت تدل على أن الأعمش لم يدلس في روايته عنه.
وأما عنعنة حبيب بن أبي ثابت في روايته عن عطاء فإنها لا تؤثر في صحة الإسناد لأن الظاهر أنه لم يدلس في هذه الرواية، ويدل على ذلك أنه كان يروي عن ابن عمر رضي الله عنهما مباشرة فلو كان قد دلس في هذا الحديث لكان جديراً أن يرويه عن ابن عمر رضي الله عنهما بدون واسطة بينه وبينه ليحصل له علو الإسناد ولكن لما رواه عن عطاء عن ابن عمر رضي الله عنهما دل ذلك على أنه لم يدلس في روايته، وقد قال ابن أبي مريم عن ابن معين أنه قال: في حبيب بن أبي ثابت ثقة حجة قيل له ثبت قال نعم إنما روى حديثين قال أظن يحيى يريد منكرين، حديث المستحاضة تصلي وإن قطر الدم على الحصير. وحديث القبلة للصائم، وقال ابن عدي هو ثقة حجة كما قال ابن معين، ويؤخذ من قول ابن معين وابن عدي أن رواية حبيب عن عطاء لا تؤثر فيها العنعنة.
الوجه الثاني: أن يقال إن الإمام أحمد وإسحاق بن راهويه قد صححا حديث ابن عمر رضي الله عنهما الذي فيه «إن الله خلق آدم على صورة الرحمن» وقد قال قتيبة بن سعيد، أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه إماما الدنيا. رواه الخطيب في تاريخه. وقد تقدم ما ذكره القاضي أبو الحسين في «طبقات الحنابلة» مما أملاه الإمام أحمد على محمد بن عوف الطائي من عقيدة أهل السنة والجماعة، ومنه وأن آدم صلى الله عليه خلق على صورة الرحمن كما جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم رواه ابن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقدم أيضاً ما ذكره الحافظ الذهبي في «الميزان» عن حمدان بن علي الوراق
তাদলিস দ্বারা বিশেষায়িতদের পর্যায়সমূহে' এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই পর্যায়ের লোকদের তাদলিসকে ইমামগণ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের হাদিস সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন তাঁদের ইমামত (নেতৃত্ব) এবং তাঁদের বর্ণিত হাদিসের তুলনায় তাদলিসের পরিমাণ খুব কম হওয়ার কারণে। এছাড়াও, হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আ'মাশের সাথে সাওরির ঐক্যমত এটি প্রমাণ করে যে, আ'মাশ তাঁর বর্ণনায় তাদলিস করেননি।
আর আতা থেকে হাবিব ইবনে আবি সাবিতের বর্ণনায় 'আন'আনাহ' (عنعنة) সনদের বিশুদ্ধতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ প্রকাশ্যত তিনি এই বর্ণনায় তাদলিস করেননি। এর প্রমাণ হলো, তিনি সরাসরি ইবনে উমর (রা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন। যদি তিনি এই হাদিসে তাদলিস করতেন, তবে উচ্চতর সনদ (উলুউ আল-ইসনাদ) অর্জনের জন্য তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই বর্ণনা করতে পারতেন। কিন্তু যেহেতু তিনি আতা-এর মাধ্যমে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তা প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর বর্ণনায় তাদলিস করেননি। ইবনে আবি মারয়াম ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও দলিলযোগ্য (সিকাহ হুজ্জাহ)। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি কি সুদৃঢ় (সাবত)? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে তিনি এমন দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে সম্পর্কে আমার ধারণা ইয়াহইয়া (ইবনে মাঈন) সেগুলোকে মুনকার (অস্বীকৃত) হিসেবে বোঝাতে চেয়েছেন: ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার সালাত আদায় করা—যদিও চাটাইয়ের ওপর রক্ত ঝরে, এবং সিয়াম পালনকারীর জন্য চুম্বনের হাদিস। ইবনে আদি বলেছেন, তিনি ইবনে মাঈনের কথা অনুযায়ীই নির্ভরযোগ্য ও দলিলযোগ্য। ইবনে মাঈন এবং ইবনে আদির বক্তব্য থেকে এটি গ্রহণ করা হয় যে, আতা থেকে হাবিবের বর্ণনায় আন'আনাহ কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না।
দ্বিতীয় দিক: এটি বলা হয় যে, ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ ইবনে উমর (রা.)-এর সেই হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন যাতে উল্লেখ আছে: "নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে রহমানের সূরতে সৃষ্টি করেছেন"। কুতাইবা ইবনে সাঈদ বলেছেন, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ হলেন দুনিয়ার দুই ইমাম; খতিব বাগদাদি তাঁর ইতিহাসে এটি বর্ণনা করেছেন। ইতিপূর্বে 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' গ্রন্থে কাজী আবুল হুসাইন যা উল্লেখ করেছেন তা অতিক্রান্ত হয়েছে, যা ইমাম আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে আউফ আত-তায়ীকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হিসেবে শ্রুতিলিপি লিখিয়েছিলেন; তার অন্তর্ভুক্ত হলো: আদম (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী রহমানের সূরতে সৃষ্ট হয়েছেন, যা ইবনে উমর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ যাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে হামদান ইবনে আলী আল-ওয়াররাক থেকে যা উল্লেখ করেছেন তাও ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।