(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: -)
الرد على الكاتب المفتون   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الرد على الكاتب المفتون

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: دار اللواء للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م

عدد الصفحات: 242

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

বিভ্রান্ত লেখকের খণ্ডন   (হামুদ বিন আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজারি)

বিভাগ: বিভিন্ন দল ও তাদের খণ্ডন


গ্রন্থ: বিভ্রান্ত লেখকের খণ্ডন

লেখক: হামুদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামুদ বিন আবদুর রহমান আত-তুওয়াইজারি (মৃ. ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: দারুল লিওয়া পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হি. - ১৯৮৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: -)
الرد على الكاتب المفتون

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين

 

دار اللواء
বিভ্রান্ত লেখকের প্রত্যুত্তর

 

রচনায়

মহান আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজারি

আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন

 

দারুল লিওয়া
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

الطبعة الأولى

1407 هـ - 1987 م

 

المملكة العربية السعودية - الرياض 11461

دار اللواء: ص. ب: 2856 شارع الملك فيصل

هاتف: 4028084 - 4051754 - برقياً: نشر دار
সর্বস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ

 

সৌদি আরব বাদশাহি - রিয়াদ ১১৪৬১

দারুল লিওয়া: পোস্ট বক্স: ২৮৫৬, বাদশাহ ফয়সাল সড়ক

টেলিফোন: ৪০২৮০৮৪ - ৪০৫১৭৫৪ - টেলিগ্রাফ: নাশরু দার
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ৫)
«القسم الأول»
«প্রথম পরিচ্ছেদ»
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله الله رحمة للعالمين، وحجة على المعاندين، وأمره بجهاد الكفار والمنافقين، وصلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد فقد رأيت مقالاً سيئاً لبعض المفتونين ببعض البدع المحدثة في الإسلام، وقد نشرته جريدة الندوة في عددها 7845 الصادر في اليوم الثاني من شهر ربيع الثاني سنة 1405 هـ وقد تهجم الكاتب على خطباء المساجد وأنكر عليهم ما صرحوا به في خطبهم من إنكار الولائم التي يصنعها أهل الميت للعزاء، وتهجم أيضاً على الخطيب في المسجد الحرام وأنكر عليه ما صرح به من إنكار الاحتفال بالمولد النبوي، وقد قيل: «من أمن العقوبة أساء الأدب» ، وبعد إيراد المقال السيء بنصه أذكر ما فيه من الأخطاء الكثيرة إن شاء الله تعالى.

قال صاحب المقال: «خطب الجمعة وحوادث الساعة»:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করছি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করছি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ এবং সত্যবিমুখদের জন্য প্রমাণস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁকে কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর, ইসলামে নব-উদ্ভাবিত কিছু বিদআতের প্রতি মোহাচ্ছন্ন এক ব্যক্তির একটি আপত্তিকর নিবন্ধ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এটি ১৪০৫ হিজরি সালের ২রা রবিউস সানি তারিখে প্রকাশিত 'আল-নাদওয়া' পত্রিকার ৭৮৪৫ নম্বর সংখ্যায় মুদ্রিত হয়েছে। লেখক এতে মসজিদের খতিবদের ওপর আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং তাঁরা তাঁদের খুতবায় শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত ভোজ বা মেজবানিকে যে শরীয়তসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি মসজিদুল হারামের খতিবের ওপরও আক্রমণ করেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্মবার্ষিকী পালনের বিরোধিতার কারণে তাঁর সমালোচনা করেছেন। প্রবাদ আছে যে: "শাস্তির ভয় নেই যার, শিষ্টাচার বিসর্জন দেয় সে।" উক্ত মন্দ নিবন্ধটি হুবহু উদ্ধৃত করার পর আমি ইনশাআল্লাহ এতে বিদ্যমান অসংখ্য ভুল-ভ্রান্তিগুলো উল্লেখ করব।

নিবন্ধের লেখক বলেছেন: "জুমার খুতবা ও সমসাময়িক ঘটনাবলী":
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ৮)
ما بال خطباء المساجد عندنا يريدون أن يحجروا واسعاً ويتدخلوا حتى في خصوصيات الناس ويفتون بأن الولائم التي تقام للعزاء محرمة ومخالفة لسنة رسول الله، لماذا؟ وهل هذه الولائم أصبحت من الدين حتى تكون بدعة؟ وهل نجحنا في محاربة الرذائل والمفاسد في المجتمع الإسلامي وواجب علينا الكلام في هذه الأمور التي لا تمت إلى الدين أو العبادة من قريب أو بعيد.

أيها الناس إن الحلال بيِّن والحرام بيِّن وليتنا نستطيع أن نطهر مجتمعنا من الحرام ونقنع الناس باجتنابه بدلاً من إكثار الممنوعات والمحرمات حتى نطفشهم وندفعهم للتمرد وعدم تصديقنا في أن كل شيء حرام حتى المأدبة التي يقيمها أهل الميت في اليوم الثالث من الوفاة حيث يجلسون لاستقبال المعزين والمعزيات ويطعمون الفقير والفقيرات.

ماذا في ذلك؟ وهل كل ما لم يفعله الرسول وأصحابه حرام أو العكس هو الصحيح؟ أي إن الأصل في كل الأعمال هو الحل إلا ما ورد نص بالتحريم له، وأين النص الصريح في تحريم المآدب في المآتم؟.

كذلك شغل خطيب المسجد الحرام جمعتين بالكلام عن الاحتفال بالمولد النبوي وتحريمه وتجريمه، وكان المفروض أن يتحدث عن أحداث الساعة، عن المجاعة التي تفتك بالمسلمين في عدد من بلادهم، عن حث إخوانهم المصلين على إغاثتهم قبل أن يسعفهم التبشير الصليبي والإغراء الصهيوني كما فعل بعض خطباء المساجد.

أيها الناس ارحمونا من هذا الكلام الممل من كثرة التكرار وعظونا وبصرونا بالمفاسد والمحرمات الحقيقية وأنفذوا بكلامكم إلى أعماق نفوسنا بالحكمة والموعظة الحسنة واتركوا الكلام عن الموائد والمآتم إلا عما هو محرم فيها قطعاً لا مجال فيه للتأويل أو الحل، فقد كان من الملاحظ أنه
আমাদের মসজিদের খতীবদের কী হয়েছে যে তারা একটি প্রশস্ত বিষয়কে সংকীর্ণ করতে চাচ্ছেন এবং এমনকি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়েও হস্তক্ষেপ করছেন? তারা ফতোয়া দিচ্ছেন যে, শোক প্রকাশের জন্য আয়োজিত ভোজানুষ্ঠানগুলো হারাম এবং রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর পরিপন্থী। কিন্তু কেন? এই ভোজগুলো কি দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গিয়েছে যে একে বিদআত হতে হবে? আমরা কি মুসলিম সমাজে বিদ্যমান পাপাচার ও অনিষ্টতা দমনে এতটাই সফল হয়েছি যে, এখন আমাদের এমন সব বিষয়ে কথা বলা আবশ্যক হয়ে পড়েছে যার সাথে দ্বীন বা ইবাদতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই?

হে লোকসকল! নিশ্চয়ই হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। আফসোস, আমরা যদি মানুষের সামনে নিষেধাজ্ঞা ও হারামের ফিরিস্তি দীর্ঘ করে তাদেরকে বিতশ্রদ্ধ করে তোলার এবং আমাদের প্রতি অবিশ্বাসী ও বিদ্রোহী করে তোলার পরিবর্তে—যাতে তারা সবকিছুকেই হারাম মনে করতে শুরু না করে—আমাদের সমাজকে প্রকৃত হারাম থেকে পবিত্র করতে পারতাম এবং মানুষকে তা বর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে পারতাম! এমনকি মৃত্যুর তৃতীয় দিনে মৃত ব্যক্তির পরিবার যে ভোজের আয়োজন করে, যেখানে তারা শোকাতুর ব্যক্তিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বসেন এবং অভাবী নারী-পুরুষদের আহার করান, সেটিকেও হারামের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এতে দোষের কী আছে? রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণ যা করেননি তার সবই কি হারাম, নাকি বিষয়টি এর বিপরীত? অর্থাৎ, সকল পার্থিব কাজের মূল বিধান হলো তা বৈধ হওয়া, যতক্ষণ না তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট দলিল পাওয়া যায়। শোকানুষ্ঠানে ভোজ আয়োজনের বিপক্ষে সুস্পষ্ট দলিলটি কোথায়?

একইভাবে, মসজিদুল হারামের খতীব পরপর দুই জুমুআ ব্যয় করেছেন ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন, এর নিষিদ্ধতা এবং একে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করার আলোচনায়। অথচ কাম্য ছিল তিনি সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করবেন; মুসলিম দেশসমূহে জাঁকিয়ে বসা দুর্ভিক্ষ নিয়ে কথা বলবেন এবং মুসল্লি ভাইদের তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবেন—যাতে খ্রিষ্টান মিশনারি বা জায়নবাদী প্রলোভন তাদের গ্রাস করার আগেই সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়, যেমনটি কোনো কোনো মসজিদের খতীব করেছেন।

হে লোকসকল! একই কথার অতি-পুনরাবৃত্তিমূলক এই ক্লান্তিকর আলোচনা থেকে আমাদের রেহাই দিন। আমাদের নসিহত করুন এবং প্রকৃত অনর্থ ও হারাম সম্পর্কে সজাগ করুন। প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে আপনাদের কথা আমাদের হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে দিন। ভোজসভা ও শোকানুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা বর্জন করুন, যদি না তাতে অকাট্যভাবে হারাম এমন কিছু থাকে যাতে ব্যাখ্যা বা বৈধতার কোনো অবকাশ নেই। কেননা এটি লক্ষণীয় ছিল যে—
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ৯)
لم يبدأ الخطيب في الكلام عن مآدب المآتم وتحريمها حتى نهض المصلون وتركوا المسجد رغبة عن السماع لمثل هذا الكلام. انتهى كلامه.

والجواب: أن يقال هذا الكلام كله خطأ من أوله إلى آخره لأنه يتضمن الأمر بالمنكر والنهي عن المعروف، ويتضمن أيضاً رؤية المعروف منكراً ورؤية المنكر معروفاً، وهذا من مصداق ما جاء في الحديث الذي رواه رزين عن علي رضي الله عنه مرفوعاً، وفيه: «كيف بكم إذا أمرتم بالمنكر ونهيتم عن المعروف» قالوا: يا رسول الله وإن ذلك لكائن قال: «نعم وأشد، كيف بكم إذا رأيتم المعروف منكراً والمنكر معروفاً» قالوا: يا رسول الله وإن ذلك لكائن قال: «نعم». وروى أبو يعلى والطبراني في الأوسط عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: «كيف بكم إذا رأيتم المنكر معروفاً والمعروف منكراً». وروى ابن وضاح عن ضمام بن إسماعيل المعافري عن غير واحد من أهل العلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كيف بكم إذا رأيتم المعروف منكراً والمنكر معروفاً».

وروى ابن وضاح أيضاً عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «يأتي على الناس زمان تكون السنة فيه بدعة والبدعة سنة والمعروف منكراً والمنكر معروفاً» ، وهذه الأحاديث يشد بعضها بعضاً، وهي تنطبق على صاحب المقال وعلى أمثاله من المفتونين بالبدع. وما أكثرهم في زماننا لا كثرهم الله.

فأما قول الكاتب ما بال خطباء المساجد عندنا يريدون أن يحجروا واسعاً ويتدخلوا حتى في خصوصيات الناس ويفتون بأن الولائم التي تقام للعزاء محرمة ومخالفة لسنة رسول الله، لماذا؟

فجوابه من وجوه، أحدها أن يقال: إن الخطباء الذين أشار إليهم الكاتب لم يحجروا شيئاً من الأمور الجائزة وهي التي لم يرد الشرع المطهر
খতিব যখনই জানাজার ভোজ এবং এর হারামের বিষয়ে আলোচনা শুরু করলেন, অমনি মুসল্লিগণ দাঁড়িয়ে মসজিদ ত্যাগ করলেন, কারণ তারা এ জাতীয় আলোচনা শুনতে আগ্রহী ছিলেন না। এখানেই তার বক্তব্য সমাপ্ত।

এর উত্তর হলো: এ কথাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভুল। কারণ এর মাঝে রয়েছে অসৎ কাজের আদেশ এবং সৎ কাজের নিষেধ। পাশাপাশি এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সৎ কাজকে অসৎ হিসেবে এবং অসৎ কাজকে সৎ হিসেবে দেখা। এটি সেই হাদিসেরই বাস্তব চিত্র যা রাজীন আলী (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যাতে বলা হয়েছে: ‘তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমরা মন্দ কাজের আদেশ দেবে এবং ভালো কাজে নিষেধ করবে?’ তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এমনটি কি সত্যিই ঘটবে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ এবং এর চেয়েও ভয়াবহ কিছু হবে। তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমরা ভালোকে মন্দ মনে করবে এবং মন্দকে ভালো মনে করবে?’ তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এমনটিও কি ঘটবে? তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ আবু ইয়ালা এবং তাবারানি তার ‘আল-আওসাত’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ‘তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমরা মন্দকে ভালো এবং ভালোকে মন্দ দেখবে?’ ইবনে ওয়াদদাহ দিমাম ইবনে ইসমাইল আল-মুয়াফিরি থেকে এবং তিনি একাধিক বিজ্ঞ আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমরা ভালোকে মন্দ মনে করবে এবং মন্দকে ভালো মনে করবে?’

ইবনে ওয়াদদাহ আরও বর্ণনা করেন ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে যে, তিনি বলেছেন: ‘মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন সুন্নাতকে বিদআত হিসেবে এবং বিদআতকে সুন্নাত হিসেবে গণ্য করা হবে। সৎ কাজকে অসৎ এবং অসৎ কাজকে সৎ মনে করা হবে।’ এই হাদিসসমূহ একে অপরকে শক্তিশালী করে এবং এগুলো প্রবন্ধকার ও তার মতো বিদআতে মত্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমাদের সময়ে তাদের সংখ্যা কতই না বেশি! আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন।

আর লেখকের বক্তব্য যে—আমাদের মসজিদের খতিবদের কী হলো যে তারা প্রশস্ত বিষয়কে সংকুচিত করতে চাচ্ছেন এবং এমনকি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়েও হস্তক্ষেপ করছেন? তারা ফতোয়া দিচ্ছেন যে শোক পালনার্থে আয়োজিত ভোজগুলো হারাম এবং আল্লাহর রাসুলের সুন্নাতের পরিপন্থী; কিন্তু কেন?

এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়। প্রথমত বলা যায় যে: লেখক যে খতিবদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তারা বৈধ কোনো বিষয়কে সংকুচিত করেননি—যা পবিত্র শরীয়তে নিষিদ্ধ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১০)
بالمنع منها. وإنما حجروا البدع والمحدثات التي حذر منها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمر بردها، وقد جاء في ذلك أحاديث صحيحة ثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم ، منها ما رواه الإمام أحمد وأهل السنن وابن حبان في صحيحه والحاكم في مستدركه عن العرباض بن سارية رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة» قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح وصححه الحاكم الذهبي وقال ابن عبد البر في كتابه: «جامع بيان العلم وفضله» حديث عرباض بن سارية في الخلفاء الراشدين حديث ثابت صحيح انتهى كلامه.

ولم يذكر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أمر أمته بإقامة الولائم للعزاء، ولا أنه فعل ذلك، ولا أن أحداً من أصحابه فعل ذلك فأقره عليه، وكذلك لم يذكر عن أحد من الخلفاء الراشدين أنه أقام وليمة للعزاء أو أنه أمر بذلك أو أن أحداً فعل ذلك في زمانهم فأقروه عليه، وعلى هذا فإن إقامة الولائم للعزاء يكون من المحدثات التي حذّر منها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخبر أنها بدعة وضلالة.

ومنها ما رواه الإمام أحمد أيضاً ومسلم وابن ماجه والدارمي عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خطب احمرت عيناه وعلا صوته واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول صبحكم ومساكم ويقول: «أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة» وقد رواه النسائي بإسناد جيد ولفظه «إن أصدق الحديث كتاب الله وأحسن الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة
নিষেধ করার মাধ্যমে। বরং তাঁরা কেবল সেসব বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ নিষিদ্ধ করেছেন যে ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সতর্ক করেছেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহ ও সুসাব্যস্ত বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো যা ইমাম আহমাদ, সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ, ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদুনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো; একে মজবুতভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।’ ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আর হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। ইবনে আব্দুল বার তাঁর ‘জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ গ্রন্থে বলেছেন: খুলাফায়ে রাশিদুনের বিষয়ে ইরবাদ ইবনে সারিয়ার হাদীসটি সুসাব্যস্ত ও সহীহ। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণিত হয়নি যে, তিনি তাঁর উম্মতকে শোক পালনের উদ্দেশ্যে ভোজের আয়োজন করতে নির্দেশ দিয়েছেন, না তিনি নিজে এমনটি করেছেন, আর না তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে কেউ এমনটি করেছেন যা তিনি অনুমোদন করেছেন। অনুরূপভাবে খুলাফায়ে রাশিদুনের কারো থেকেও বর্ণিত হয়নি যে তাঁরা শোকের জন্য ভোজের আয়োজন করেছেন অথবা এর নির্দেশ দিয়েছেন, কিংবা তাঁদের যুগে কেউ তা করেছে আর তাঁরা তা অনুমোদন করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে শোকের জন্য ভোজের আয়োজন করা সেসব নবউদ্ভাবিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে যে ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সতর্ক করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে তা বিদআত ও পথভ্রষ্টতা।

এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম আহমাদ, মুসলিম, ইবনে মাজাহ এবং দারেমী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় লাল হয়ে যেত, তাঁর কণ্ঠস্বর উঁচু হতো এবং তাঁর ক্রোধ তীব্রতর হতো, যেন তিনি কোনো এক সৈন্যদলকে সতর্ককারী এবং বলছেন: (শত্রু) সকালে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে কিংবা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে। তিনি বলতেন: ‘অতঃপর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মাদের পথনির্দেশ; আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।’ নাসাঈ এটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দরূপ হলো: ‘নিশ্চয়ই সত্যতম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়েত মুহাম্মাদের হিদায়েত; আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই...
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১১)
بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار».

ومنها ما رواه ابن ماجه عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إنما هما اثنتان الكلام والهدي فأحسن الكلام كلام الله وأحسن الهدي هدي محمد ألا وإياكم ومحدثات الأمور فإن شر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة» وقد رواه ابن وضاح وابن عبد البر وغيرهما موقوفاً على عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، وعلى تقدير صحة وقفه فله حكم الرفع لأنه لا يقال بالرأي وإنما يقال عن توقيف كما قد جاء ذلك في حديث جابر رضي الله عنه.

وفي حديثي جابر وابن مسعود رضي الله عنهما دليل على المنع من إقامة الولائم للعزاء لأن ذلك لم يكن من هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما لم يكن من هديه فهو من المحدثات التي هي من شر الأمور ومن البدع والضلالات وقد حذّر النبي صلى الله عليه وسلم من المحدثات غاية التحذير كما تقدم النص على ذلك في الأحاديث المذكورة.

ومنها ما رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم وأبو داود وابن ماجه عن عائشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» وفي رواية لأحمد ومسلم والبخاري تعليقاً مجزوماً به: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد».

قال النووي في شرح مسلم قال أهل العربية الرد هنا بمعنى المردود ومعناه فهو باطل غير معتد به، قال: وهذا الحديث قاعدة عظيمة من قواعد الإسلام وهو من جوامع كلمه صلى الله عليه وسلم فإنه صريح في رد كل البدع والمخترعات. وقال أيضاً: وهذا الحديث مما ينبغي حفظه
...বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।”

এর মধ্যে রয়েছে যা ইবনে মাজাহ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “বিষয় মূলত দুটি: কথা এবং পথনির্দেশ। সুতরাং সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কালাম এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। সাবধান! তোমরা দীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো, আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।” ইবনে ওয়াদদাহ, ইবনে আবদিল বার এবং অন্যান্যরা এটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর মাওকুফ (নিজস্ব উক্তি) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এটি মাওকুফ হিসেবে সহীহ হওয়ার সূত্রেও তা মারফু (রাসূলের বাণীর মর্যাদা) এর হুকুম রাখে; কেননা এ জাতীয় বিষয় ব্যক্তিগত রায়ের ভিত্তিতে বলা সম্ভব নয়, বরং তা কেবল ওহী বা রাসূলের শিক্ষা থেকেই প্রাপ্ত হতে পারে, যেমনটি জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে।

জাবের ও ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসদ্বয়ের মধ্যে শোক পালনের উদ্দেশ্যে ভোজসভার আয়োজন নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। কারণ এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ বা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আর যা তাঁর আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলোর পর্যায়ভুক্ত, যা নিকৃষ্টতম বিষয় এবং বিদআত ও পথভ্রষ্টতা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসব নব-উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন, যেমনটি পূর্বোক্ত হাদিসসমূহের পাঠে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

এ সংক্রান্ত দলিলের মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে আমাদের এই দীনের মধ্যে এমন কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।” আহমাদ, মুসলিম এবং বুখারীর (তা’লীক হিসেবে নিশ্চিতভাবে বর্ণিত) অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: “যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যা আমাদের নির্দেশনার বহির্ভূত, তা প্রত্যাখ্যাত।”

ইমাম নববী ‘শারহ মুসলিম’-এ বলেন: ভাষাবিদগণ বলেছেন, এখানে ‘আর-রাদ্দ’ শব্দটি ‘আল-মারদুদ’ বা প্রত্যাখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো তা বাতিল এবং অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন: এই হাদিসটি ইসলামের মূলনীতিসমূহের মধ্যে এক বিশাল মূলনীতি এবং এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) সমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা এটি সকল প্রকার বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট দলিল। তিনি আরও বলেন: এই হাদিসটি মুখস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১২)
واستعماله في إبطال المنكرات وإشاعة الاستدلال به انتهى.

وقال الحافظ ابن حجر في «فتح الباري» هذا الحديث معدود من أصول الإسلام وقاعدة من قواعده فإن معناه من اخترع في الدين ما لا يشهد له أصل من أصوله فلا يلتفت إليه. ثم ذكر قول النووي: إن هذا الحديث مما ينبغي أن يعتنى بحفظه واستعماله في إبطال المنكرات وإشاعة الاستدلال به كذلك، قال وقال الطرقي: هذا الحديث يصلح أن يسمى نصف أدلة الشرع. قال الحافظ: وفيه رد المحدثات وأن النهي يقتضي الفساد لأن المنهيات كلها ليست من أمر الدين فيجب ردها.

قلت: ومن الأعمال المردودة إقامة الولائم للعزاء لأن ذلك لم يكن من أمر النبي صلى الله عليه وسلم ولا من عمل الصحابة رضي الله عنهم ولا من عمل التابعين وتابعيهم بإحسان إنما هو من المحدثات التي حذّر منها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخبر أنها بدعة وضلالة. وما كان كذلك فهو مردود بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» وبقوله أيضاً: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد».

وقد كان هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أهل الميت مخالفاً لهدي أهل البدع فإنه كان يأمر أن يصنع الطعام لأهل الميت لشغلهم بالمصيبة عن صنع الطعام. قال عبد الله بن جعفر رضي الله عنهما لما جاء نعي جعفر قال النبي صلى الله عليه وسلم: «اصنعوا لآل جعفر طعاماً فإنه قد جاءهم ما يشغلهم» رواه الشافعي وأحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه والدارقطني والحاكم والبيهقي وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح وصححه الحاكم والذهبي. وقد ترجم أبو داود على هذا الحديث بقوله: «باب صنعة الطعام لأهل الميت» وترجم عليه
...এবং অন্যায় বিষয়াদি বাতিল করতে ও এর মাধ্যমে দলীল প্রদানের বিষয়টিকে প্রচার করতে হাদিসটির প্রয়োগ হওয়া উচিত। সমাপ্ত।

হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’-তে বলেছেন, এই হাদিসটি ইসলামের মূলনীতিসমূহের অন্যতম এবং এর একটি বুনিয়াদী ভিত্তি। কেননা এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যার পক্ষে শরীয়তের কোনো মূলনীতির সমর্থন নেই, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। অতঃপর তিনি ইমাম নববীর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসটি এমন যা মুখস্থ রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত এবং অন্যায় কার্যাদি বাতিল করার ক্ষেত্রে ও এর মাধ্যমে দলীল প্রদানের বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আত-তুরকী বলেছেন: এই হাদিসটি শরীয়তের দলীলসমূহের অর্ধাংশ হিসেবে অভিহিত হওয়ার যোগ্য। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এতে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (বিদআত) প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ রয়েছে এবং (এটি নির্দেশ করে যে) নিষেধ মূলত সেই বিষয়টি বাতিল বা অকার্যকর হওয়াকেই দাবি করে, কারণ নিষিদ্ধ সকল বিষয়ই দ্বীনের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে তা অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হবে।

আমি বলছি: সেই সকল প্রত্যাখ্যাত আমলের অন্তর্ভুক্ত হলো শোক পালনের উদ্দেশ্যে ভোজসভার আয়োজন করা। কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ ছিল না, সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের আমল ছিল না এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেঈন বা তাবে-তাবেঈনদেরও আমল ছিল না। বরং এটি সেই সব নবউদ্ভাবিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তা বিদআত ও পথভ্রষ্টতা। আর যা এই পর্যায়ের, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে প্রত্যাখ্যাত: “যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।” এবং তাঁর এই বাণীর কারণেও: “যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ওপর আমাদের (শরীয়তের) কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।”

মৃত ব্যক্তির পরিবারের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ ছিল বিদআতপন্থীদের রীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করার নির্দেশ দিতেন, যাতে শোকের কারণে খাবার তৈরির ব্যস্ততা থেকে তারা রেহাই পায়। আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, যখন জাফর (রা.)-এর শাহাদাতের সংবাদ এল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাবার তৈরি কর, কারণ তাদের নিকট এমন এক সংবাদ এসেছে যা তাদের ব্যস্ত করে ফেলেছে।” ইমাম শাফেয়ী, আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারা কুতনী, হাকেম এবং বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ। আর ইমাম হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন। ইমাম আবু দাউদ এই হাদিসটির শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: “মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাবার তৈরির পরিচ্ছেদ” এবং তিনি এর ওপর শিরোনাম দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১৩)
الترمذي بقوله: «باب ما جاء في الطعام يصنع لأهل الميت» وترجم عليه ابن ماجه بقوله: «باب ما جاء في الطعام يبعث إلى أهل الميت» وترجم عليه البيهقي بقوله: «باب ما يهيأ لأهل الميت من الطعام» وقد روى الإمام أحمد وابن ماجه من حديث أسماء بنت عميس رضي الله عنها نحو حديث ابنها عبد الله بن جعفر رضي الله عنهما ولفظه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأهله: لا تغفلوا آل جعفر من أن تصنعوا لها طعاماً فإنه قد شغلوا بأمر صاحبهم».

فهذا هو المشروع مع أهل الميت. فأما الاجتماع إلى أهل الميت وصنعهم الطعام للذين يأتون إليهم للعزاء فهو من النياحة. قال ابن أبي شيبة في مصنفه حدثنا وكيع عن مالك بن مغول عن طلحة - يعني ابن مصرف - قال قدم جرير على عمر فقال: هل يناح قِبَلكم على الميت؟ قال: لا، قال: فهل تجتمع النساء عندكم على الميت ويطعم الطعام؟ قال: نعم، فقال: تلك النياحة. وروى الإمام أحمد عن جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال: «كنا نعد الاجتماع إلى أهل الميت وصنيعة الطعام بعد دفنه من النياحة» وقد رواه ابن ماجه بإسنادين صحيحين أحدهما على شرط البخاري والآخر على شرط مسلم. وبوّب عليه بقوله: «باب ما جاء في النهي عن الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام». وروى ابن أبي شيبة عن وكيع بن الجراح عن سفيان عن هلال بن خباب عن أبي البختري قال: الطعام على الميت من أمر الجاهلية والنوح من أمر الجاهلية. وقد ذكره عبد الرزاق في مصنفه عن الثوري عن هلال بن خباب عن أبي البختري. وروى ابن أبي شيبة أيضاً عن فضالة بن حصين عن عبد الكريم عن سعيد بن جبير قال: ثلاث عن أمر الجاهلية بيتوتة المرأة عند أهل المصيبة ليست منهم والنياحة ونحر الجزور عند المصيبة. وقد رواه عبد الرزاق عن معمر عن ليث عن
ইমাম তিরমিযী এই পরিচ্ছেদটি এভাবে ব্যক্ত করেছেন: «মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য প্রস্তুতকৃত খাবার সংক্রান্ত অধ্যায়» এবং ইবনে মাজাহ এর শিরোনাম দিয়েছেন: «মৃত ব্যক্তির পরিবারের নিকট প্রেরিত খাবার সংক্রান্ত অধ্যায়» এবং আল-বায়হাকী এর শিরোনাম দিয়েছেন: «মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য যা প্রস্তুত করা হয় সেই খাবার সংক্রান্ত অধ্যায়»। ইমাম আহমদ এবং ইবনে মাজাহ আসমা বিনতে উমাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে তার পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদীসের অনুরূপ একটি বর্ণনা করেছেন, যার শব্দমালা হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারকে বলেছিলেন: «তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতে বিস্মৃত হয়ো না, কেননা তারা তাদের সঙ্গীর (বিয়োগান্তক) ঘটনায় মগ্ন রয়েছে»।

মৃত ব্যক্তির পরিবারের সাথে এটিই হলো শরীয়তসম্মত আচরণ। পক্ষান্তরে, শোকপ্রকাশের জন্য যারা আগমন করেন তাদের জন্য মৃতের পরিবার সমবেত হওয়া এবং তাদের আপ্যায়নের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করা বিলাপের (নিয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত। ইবনে আবী শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আমাদের নিকট ওয়াকী' বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি তালহা (অর্থাৎ ইবনে মুসাররিফ) থেকে বর্ণনা করেন যে, জারীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন। তখন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের ওখানে কি মৃতের জন্য বিলাপ করা হয়? তিনি বললেন: না। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তবে কি মহিলারা তোমাদের ওখানে মৃতের নিকট সমবেত হয় এবং খাবার খাওয়ানো হয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: এটিই তো বিলাপ। ইমাম আহমদ জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা মৃতের দাফন সম্পন্ন করার পর তার পরিজনদের নিকট একত্রিত হওয়া এবং খাবার প্রস্তুত করাকে বিলাপের (নিয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম»। ইবনে মাজাহ এটি দুটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, যার একটি বুখারীর শর্ত অনুযায়ী এবং অন্যটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী। তিনি এই পরিচ্ছেদের শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: «মৃতের পরিজনদের নিকট সমবেত হওয়া এবং খাদ্য প্রস্তুত করার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত অধ্যায়»। ইবনে আবী শায়বাহ ওয়াকী' ইবনে জাররাহ থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি হেলাল ইবনে খাব্বাব থেকে এবং তিনি আবুল বাখতারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবুল বাখতারী) বলেছেন: মৃতের বাড়িতে ভোজ দেওয়া জাহেলিয়াতের কাজ এবং বিলাপ করাও জাহেলিয়াতের কাজ। আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ গ্রন্থে সাওরী থেকে, তিনি হেলাল ইবনে খাব্বাব থেকে এবং তিনি আবুল বাখতারী থেকে এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবী শায়বাহ পুনরায় ফাদ্বালাহ ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি আব্দুল কারীম থেকে এবং তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তিনটি কাজ জাহেলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত—বিপদগ্রস্ত পরিবারের লোক না হওয়া সত্ত্বেও কোনো মহিলার তাদের নিকট রাত্রিযাপন করা, বিলাপ করা এবং বিপদের সময় উট যবেহ করা। আব্দুর রাজ্জাক এটি মা'মার থেকে, তিনি লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১৪)
سعيد بن جبير قال: ثلاث من عمل الجاهلية النياحة والطعام على الميت وبيتوتة المرأة عند أهل الميت ليست منهم. وروى ابن أبي شيبة أيضاً عن معن بن عيسى عن ثابت بن قيس قال: أدركت عمر بن عبد العزيز يمنع أهل الميت الجماعات يقول: ترزون وتغرمون.

قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى وأما صنعة أهل الميت طعاماً يدعون الناس إليه فهذا غير مشروع وإنما هو بدعة انتهى.

ونقل العلامة أبو الطيب محمد شمس الحق العظيم آبادي في «عون المعبود» قول ابن الهمام: في «فتح القدير» شرح الهداية. يستحب لجيران أهل الميت والأقرباء الأباعد تهيئة طعام لهم يشبعهم يومهم وليلتهم، ويكره اتخاذ الضيافة من الطعام من أهل البيت لأنه شرع في السرور لا في الشرور وهي بدعة مستقبحة انتهى. قال أبو الطيب ويؤيده حديث جرير بن عبد الله البجلي قال: «كنا نرى الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام من النياحة» أخرجه ابن ماجه: وبوّب «باب ما جاء في النهي عن الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام» وهذا الحديث سنده صحيح ورجاله على شرط مسلم قاله السندي. وقال أيضاً: قوله كنا نرى. هذا بمنزلة رواية إجماع الصحابة أو تقرير من النبي صلى الله عليه وسلم ، وعلى الثاني فحكمه الرفع وعلى التقديرين فهو حجة، وبالجملة فهذا عكس الوارد، إذ الوارد أن يصنع الناس الطعام لأهل الميت.

فاجتماع الناس في بيتهم حتى يتكلفوا لأجلهم الطعام قلب لذلك. وقد ذكر كثير من الفقهاء أن الضيافة لأهل الميت قلب للمعقول لأن الضيافة حقاً أن تكون للسرور لا للحزن انتهى. وقوله: أن الضيافة لأهل الميت. معناه من أهل الميت وهي إقامتهم الولائم للعزاء.

وقد نقل المباركفوري في «تحفة الأحوذي» قول ابن الهمام يكره
সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহি.) বলেন: তিনটি বিষয় জাহেলিয়াতের আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত—বিলাপ করা, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা এবং এমন কোনো মহিলার মৃত ব্যক্তির আত্মীয়দের কাছে রাতযাপন করা যে তাদের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইবনে আবি শায়বাহ মাআন ইবনে ঈসা থেকে এবং তিনি সাবিত ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজকে দেখেছি তিনি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে লোক সমাগম করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেন—তোমরা একে তো শোকাহত, তদুপরি তোমাদের ওপর (আর্থিক) বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহি.) বলেন: মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার প্রস্তুত করে তাতে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়, বরং এটি একটি বিদআত। সমাপ্ত।

আল্লামা আবু তায়্যিব মুহাম্মদ শামসুল হক আজিমাবাদি তাঁর ‘আউনুল মাবুদ’ গ্রন্থে ‘ফাতহুল কাদির’ (হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ) থেকে ইবনুল হুমামের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: মৃত ব্যক্তির প্রতিবেশী এবং দূরবর্তী আত্মীয়-স্বজনদের জন্য মুস্তাহাব হলো তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা, যা তাদের একদিন ও একরাত পরিতৃপ্ত রাখবে। তবে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মেহমানদারির আয়োজন করা মাকরুহ (অপছন্দনীয়); কেননা মেহমানদারি মূলত আনন্দের দিনে বিধেয়, বিপদের দিনে নয়। আর এটি একটি ঘৃণ্য বিদআত। সমাপ্ত। আবু তায়্যিব বলেন: জারির ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালি (রা.)-এর হাদিসটি একে সমর্থন করে, তিনি বলেছেন—‘আমরা মৃত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের কাছে একত্রিত হওয়া এবং খাবারের আয়োজন করাকে বিলাপের (নিইয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম।’ এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন ‘মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে সমবেত হওয়া ও খাবারের আয়োজন করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ’। এই হাদিসটির সনদ সহিহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী—একথা আস-সিন্দি বলেছেন। তিনি আরও বলেন: তাঁর কথা ‘আমরা মনে করতাম’—এটি সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যের (ইজমা) বর্ণনার স্থলাভিষিক্ত অথবা এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌনসম্মতির অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় সুরত অনুযায়ী এর বিধান হবে ‘মারফু’ (রাসূলের ভাষ্যতুল্য) এবং উভয় অবস্থাতেই এটি দলিল হিসেবে গণ্য। মোটকথা, বর্তমানের এই প্রথা বর্ণিত সুন্নাহর বিপরীত। কেননা সুন্নাহ হলো মানুষ মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করে নিয়ে আসবে।

সুতরাং মৃত ব্যক্তির বাড়িতে মানুষের এমনভাবে সমবেত হওয়া যার ফলে পরিবারটিকে খাবারের আয়োজনে লিপ্ত হতে হয়, তা সুন্নাহর সম্পূর্ণ উল্টো। বহু ফকিহ উল্লেখ করেছেন যে, মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মেহমানদারি করা যুক্তি ও বিবেকের পরিপন্থী। কারণ আপ্যায়ন মূলত খুশির মুহূর্তে হয়, শোকের মুহূর্তে নয়। সমাপ্ত। আর তাঁর উক্তি ‘মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য মেহমানদারি’ এর অর্থ হলো মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত মেহমানদারি, অর্থাৎ শোকপ্রকাশের সময় তাদের খাবারের যে ভোজের আয়োজন করা হয়।

আর আল্লামা মুবারকপুরী ‘তুহফাতুল আহওয়াযি’ গ্রন্থে ইবনুল হুমামের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন যে, এটি মাকরুহ (অপছন্দনীয়)।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১৫)
اتخاذ الضيافة من أهل الميت لأنه شرع في السرور لا في الشرور وهي بدعة مستقبحة. قال: وقال القاري واصطناع أهل الميت الطعام لأجل اجتماع الناس عليه بدعة مكروهة، بل صح عن جرير رضي الله عنه «كنا نعده من النياحة» وهو ظاهر في التحريم انتهى.

ونقل النووي في الروضة وشرح المهذب عن صاحب الشامل أنه قال: وأما إصلاح أهل الميت طعاماً وجمعهم الناس عليه فلم ينقل فيه شيء. قال: وهو بدعة غير مستحبة. قال النووي في الروضة وهو كما قال انتهى واستدل في «شرح المهذب» على كونه بدعة بحديث جرير بن عبد الله رضي الله عنه الذي تقدم ذكره وقال: رواه أحمد بن حنبل وابن ماجه بإسناد صحيح.

ونقل الشيخ محمد الشربيني الخطيب في «مغني المحتاج. إلى معرفة معاني ألفاظ المنهاج» عن ابن الصباغ وغيره أنهم قالوا: أما إصلاح أهل الميت طعاماً وجمع الناس عليه فبدعة غير مستحب، ثم استدل على كونه بدعة بحديث جرير بن عبد الله رضي الله عنه الذي تقدم ذكره.

وقال شمس الدين محمد بن أبي العباس أحمد بن حمزة بن شهاب الدين الرملي في كتابه «نهاية المحتاج. إلى شرح المنهاج» ويكره كما في الأنوار وغيره أخذاً من كلام الرافعي والمصنف - يعني النووي - أنه بدعة لأهله صنع طعام يجمعون الناس عليه قبل الدفن وبعده لقول جرير: «كنا نعد ذلك من النياحة» انتهى.

وقال ابن الحاج في «المدخل»: وأما إصلاح أهل الميت طعاماً وجمع الناس عليه فلم ينقل فيه شيء وهو بدعة غير مستحب. قال: وقد سئل مالك رحمه الله عن جمع الناس على العقيقة فأنكر ذلك وقال: تشبه بالولائم. قال ابن الحاج: فإذا كان هذا قوله في العقيقة فما بالك به في
মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মেহমানদারির আয়োজন করা নিষিদ্ধ, কারণ এটি আনন্দের উপলক্ষে বিধানবদ্ধ হয়েছে, বিপদের সময় নয়; এবং এটি একটি অত্যন্ত কদর্য বিদআত। তিনি বলেন: আল-কারি বলেছেন, মানুষের সমাগমের উদ্দেশ্যে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার প্রস্তুত করা একটি অপছন্দনীয় বিদআত। বরং জারির (রা.) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "আমরা একে বিলাপের অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম।" এবং এটি হারামের পর্যায়ে পড়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট। সমাপ্ত।

ইমাম নববী 'আর-রাওদা' এবং 'শারহুল মুহাজ্জাব'-এ 'আশ-শামিল' গ্রন্থের লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মৃত ব্যক্তির পরিবারের খাবার প্রস্তুত করা এবং তাতে মানুষকে একত্রিত করার বিষয়ে কোনো শরয়ি ভিত্তি বর্ণিত হয়নি। তিনি বলেছেন: এটি একটি অনুত্তম বিদআত। ইমাম নববী 'আর-রাওদা' গ্রন্থে বলেছেন: বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন। সমাপ্ত। তিনি 'শারহুল মুহাজ্জাব' গ্রন্থে একে বিদআত হওয়ার স্বপক্ষে জারির বিন আবদুল্লাহ (রা.)-এর পূর্বে উল্লেখিত হাদীসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: আহমদ বিন হাম্বল ও ইবনে মাজাহ এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

শায়খ মুহাম্মদ আশ-শারবিনী আল-খতিব 'মুগনী আল-মুহতাজ ইলা মারিফাতি মাআনি আলফায আল-মিনহাজ' গ্রন্থে ইবনুস সাব্বাগ ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা বলেছেন: মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার প্রস্তুত করা এবং তাতে মানুষকে সমবেত করা একটি অনুত্তম বিদআত। এরপর তিনি এটি বিদআত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে জারির বিন আবদুল্লাহ (রা.)-এর সেই হাদীসটি পেশ করেছেন যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবিল আব্বাস আহমদ বিন হামজা বিন শিহাবুদ্দিন আর-রামলি তার 'নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ' গ্রন্থে বলেছেন: যেমনটি 'আল-আনওয়ার' ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে—ইমাম রাফেয়ি এবং গ্রন্থকার (অর্থাৎ নববী)-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত—যে দাফনের আগে বা পরে মৃত ব্যক্তির পরিবারের এমন খাবার প্রস্তুত করা যাতে তারা মানুষকে একত্রিত করে, তা মাকরূহ এবং বিদআত; কেননা জারির (রা.) বলেছেন: "আমরা একে বিলাপের অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম।" সমাপ্ত।

ইবনুল হাজ 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে বলেছেন: মৃত ব্যক্তির পরিবারের খাবার প্রস্তুত করা এবং তাতে মানুষকে সমবেত করার বিষয়ে কোনো ভিত্তি বর্ণিত হয়নি, এবং এটি একটি অনুত্তম বিদআত। তিনি বলেন: ইমাম মালিক (রহ.)-কে আকিকার উপলক্ষে মানুষকে সমবেত করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন: এটি ওয়ালিমা বা বিয়ের ভোজের সদৃশ হয়ে যায়। ইবনুল হাজ বলেন: আকিকার বিষয়ে যদি তাঁর এই বক্তব্য হয়, তবে এই বিষয়ে (জানাজার খাবারের ক্ষেত্রে) আপনার ধারণা কী হতে পারে?
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১৬)
الطعام الذي اعتاد بعضهم عمله في بيت الميت وجمع الناس عليه. قال وقال أزهر بن عبد الله: من صنع طعاماً لرياء وسمعة ولم يستجب الله لمن دعا له ولم يخلف الله عليه نفقة ما أنفق. قال ابن الحاج: وإذا كان هذا في وليمة العرس والختان فما بالك بما اعتاده بعضهم في هذا الزمان من أهل الميت يعملون الطعام ثلاث ليال ويجمعون الناس عليه عكس ما حكي عن السلف رضي الله عنهم. فليحذر من فعل ذلك فإنه بدعة مكروهة انتهى.

وكلام العلماء في المنع من إقامة الولائم في المآتم وتصريحهم بأن ذلك من البدع كثير جداً، وفيما ذكرته ههنا كفاية لمن أراد الله به خيراً، ومن يضلل الله فلا هادي له.

وفيما ذكرته من الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في التحذير من المحدثات والأمر بردها. وما رواه ابن أبي شيبة عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه قال: في اجتماع النساء على الميت وإطعام الطعام تلك النياحة. وما رواه الإمام أحمد وابن ماجه عن جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه أنه ذكر عن الصحابة رضي الله عنهم أنهم كانوا يعدون الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام من النياحة. وما رواه ابن أبي شيبة عن أبي البختري وسعيد بن جبير وعمر بن عبد العزيز أنهم أنكروا الاجتماع إلى أهل الميت وإطعام الطعام، كل هذا فيه رد على الكاتب الذي تهجم على خطباء المساجد وأنكر عليهم الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والتحذير من البدع والمحدثات، ومنها إقامة الولائم في المآتم والاحتفال بالمولد النبوي، وفيما ذكرته أيضاً عن العلماء من الذم لإقامة الولائم في المآتم وتصريحهم أن ذلك بدعة مستقبحة وأنه من قلب المعقول. فيه أبلغ رد على الكاتب الذي بذل جهده في تقرير
সেই খাবার যা কেউ কেউ মৃত ব্যক্তির বাড়িতে তৈরি করতে এবং সেখানে মানুষকে একত্রিত করতে অভ্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আযহার ইবনে আবদুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি লোক দেখানো ও সুখ্যাতির উদ্দেশ্যে খাবার তৈরি করবে, আল্লাহ তার জন্য দোয়াকারীদের দোয়া কবুল করবেন না এবং সে যা খরচ করেছে আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে কোনো প্রতিদান দেবেন না। ইবনুল হাজ্জ বলেন: যদি বিবাহ ও খতনার ওয়ালিমার ক্ষেত্রে এই বিধান হয়, তবে বর্তমান যুগে মৃত ব্যক্তির পরিজনদের মাঝে যা প্রচলিত হয়েছে—অর্থাৎ তারা তিন রাত ধরে খাবার তৈরি করে এবং সেখানে মানুষকে একত্রিত করে—সে সম্পর্কে আপনার কী ধারণা? অথচ এটি সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত রীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। সুতরাং এটি করা থেকে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ এটি একটি অপছন্দনীয় বিদআত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

শোকসভায় ভোজের আয়োজন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে এবং এগুলো যে বিদআত সে সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য অত্যন্ত ব্যাপক। আমি এখানে যা উল্লেখ করেছি, তা সেই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট যাকে আল্লাহ কল্যাণের তাওফিক দিয়েছেন; আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত সেই সব হাদিস উল্লেখ করেছি যা নবউদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) সম্পর্কে সতর্ক করে এবং তা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেয়। ইবনে আবি শাইবাহ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মৃত ব্যক্তির বাড়িতে নারীদের একত্র হওয়া এবং খাবারের আয়োজন করাকে বিলাপ (নিয়াহাহ) হিসেবে গণ্য করতেন। ইমাম আহমাদ এবং ইবনে মাজাহ জারীর ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তারা মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে সমবেত হওয়া এবং খাবারের আয়োজন করাকে বিলাপের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। ইবনে আবি শাইবাহ আবুল বাখতারি, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে একত্রিত হওয়া এবং খাবারের আয়োজন করাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই সব কিছু সেই লেখকের দাঁতভাঙা জবাব, যে মসজিদের খতিবদের ওপর আক্রমণ করেছে এবং তাদের সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ এবং বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে সতর্ক করার দায়িত্বকে অস্বীকার করেছে। এই বিদআতগুলোর মধ্যে রয়েছে শোকসভায় ভোজের আয়োজন করা এবং মিলাদুন্নবী উদযাপন করা। শোকসভায় ভোজের আয়োজনের নিন্দা জানিয়ে আলেমদের থেকে আমি যা উল্লেখ করেছি এবং তাদের এই সুস্পষ্ট বক্তব্য যে—এটি একটি জঘন্য বিদআত এবং যুক্তিবিরুদ্ধ কাজ; এর মধ্যে সেই লেখকের প্রতি জোরালো প্রতিবাদ রয়েছে, যে এটি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১৭)
بدعة المآتم والذب عنها.

وبالجملة فالخطباء قد أحسنوا غاية الإحسان في نصيحتهم المسلمين وتوجيههم إلى الخير وتحذيرهم من البدع وأنواع المنكرات.

 

وأما صاحب المقال فإنه قد أساء إلى نفسه وإلى غيره من الناس، فأما إساءته إلى نفسه فهو أنه قد وضعها في صف الذين أخبر الله عنهم أنهم يأمرون بالمنكر وينهون عن المعروف، وأما إساءته إلى الغير فهو أنه قد حسّن لهم بدعة المآتم والمولد ودعاهم بكتابته التي نشرها في جريدة الندوة إلى ارتكاب ما حذر منه رسول الله صلى الله عليه وسلم من المحدثات التي قد أمر بردها ووصفها بالضلالة وأخبر أنها من شر الأمور وأنها في النار، فلا يأمن الكاتب أن يكون له نصيب من قول الله تعالى: {ليحملوا أوزارهم كاملة يوم القيامة ومن أوزار الذين يضلونهم بغير علم ألا سآء ما يرزون} وفي الحديث الصحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «و‌‌من دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئاً» رواه الإمام أحمد ومسلم وأهل السنن من حديث أبي هريرة رضي الله عنه وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح. وقد قرر النووي في شرح مسلم أن الإثم يكون لمن دعا إلى الضلالة سواء كان هو والذي ابتدأها أم كان مسبوقاً إليها.

الوجه الثاني: أن يقال: أنه يجب التدخل في خصوصيات الناس وفي عمومياتهم إذا تركوا شيئاً مما أمر الله به أو أمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم أو ارتكبوا شيئاً مما نهى الله عنه أو نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم. ومن ذلك فعل البدع والمحدثات لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد حذّر منها أشد التحذير. والدليل على وجوب التدخل في مخالفة الأوامر وارتكاب النواهي قول الله تعالى: {ولتكن
শোকসভার বিদআত এবং এর সপক্ষে সাফাই।

সারকথা হলো, খতীবগণ মুসলমানদের নসিহত প্রদান, তাদের কল্যাণের পথে পরিচালিত করা এবং বিদআত ও নানা প্রকার গর্হিত কাজ থেকে সতর্ক করার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম ভূমিকা পালন করেছেন।

 

পক্ষান্তরে, নিবন্ধকার নিজের এবং অন্যদের প্রতি অন্যায় করেছেন। নিজের প্রতি তার অন্যায় হলো এই যে, তিনি নিজেকে সেই সব লোকেদের কাতারে দাঁড় করিয়েছেন যাদের সম্পর্কে আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তারা মন্দ কাজের আদেশ দেয় এবং সৎ কাজে বাধা প্রদান করে। আর অন্যদের প্রতি তার অন্যায় হলো এই যে, তিনি তাদের নিকট শোকসভা ও মিলাদ মাহফিলের ন্যায় বিদআতসমূহকে সুশোভিত করেছেন এবং 'নাদওয়া' পত্রিকায় প্রকাশিত তার লেখার মাধ্যমে তাদের এমন সব নব-আবিষ্কৃত বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন, যা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেগুলোকে ভ্রষ্টতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, এগুলো নিকৃষ্টতম কাজ এবং এর পরিণাম জাহান্নাম। অতএব, লেখকের জন্য এ বিষয়ে নিষ্কৃতি পাওয়ার অবকাশ নেই যে মহান আল্লাহর এই বাণীতে তার অংশ থাকবে: {যাতে কিয়ামতের দিন তারা পূর্ণমাত্রায় নিজেদের পাপভার বহন করে এবং ঐসব লোকেদের পাপের কিছু অংশও বহন করে যাদেরকে তারা অজ্ঞতাবশত বিভ্রান্ত করে। জেনে রেখো, তারা যা বহন করে তা কতই না নিকৃষ্ট!} আর সহীহ হাদীসে এসেছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «এবং যে ব্যক্তি কোনো ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানাবে, তার ওপর সেই পরিমাণ গুনাহ বর্তাবে যারা তার অনুসরণ করবে তাদের সবার গুনাহের সমপরিমাণ; এতে তাদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না»। ইমাম আহমাদ, মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারগণ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে হাসান সহীহ বলেছেন। ইমাম নববী শরহে মুসলিমে সুনিশ্চিত করেছেন যে, ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বানকারীর ওপর গুনাহ বর্তাবে, চাই সে নিজেই এটি উদ্ভাবন করুক অথবা তার পূর্বে অন্য কেউ এটি শুরু করে থাকুক।

দ্বিতীয় দিক: বলা আবশ্যক যে, মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা তখন ওয়াজিব হয়ে পড়ে যখন তারা আল্লাহ বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো নির্দেশ বর্জন করে অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিষেধ করেছেন তাতে লিপ্ত হয়। বিদআত ও নব-আবিষ্কৃত বিষয়াদি সম্পাদন করাও এর অন্তর্ভুক্ত, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে কঠোরতম সতর্কতা প্রদান করেছেন। নির্দেশ অমান্য করা ও নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ ওয়াজিব হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের মধ্য থেকে যেন...
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১৮)
منكم أمة يدعون إلى الخير ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر وأولئك هم المفلحون}. وفي الحديث الصحيح عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من رأى منكم منكراً فليغيره بيده فإن لم يستطيع فبلسانه فإن لم يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان» رواه الإمام أحمد وأبو داود الطيالسي ومسلم وأهل السنن وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح. وروى مسلم أيضاً عن ابن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ما من نبي بعثه الله في أمة قبلي إلا كان له من أمته حواريون وأصحاب يأخذون بسنته ويقتدون بأمره ثم إنها تخلف من بعدهم خلوف يقولون ما لا يفعلون ويفعلون ما لا يؤمرون فمن جاهدهم بيده فهو مؤمن ومن جاهدهم بلسانه فهو مؤمن ومن جاهدهم بقلبه فهو مؤمن وليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل» والآيات والأحاديث في الحث على الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والوعيد الشديد على ترك ذلك كثيرة جداً. وقد ذكرت طرفاً منها في كتابي المسمى بـ «القول المحرر، في الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر» فلتراجع هناك.

والتدخل في خصوصيات الناس وعمومياتهم إذا تركوا شيئاً من الواجبات أو ارتكبوا شيئاً من المنهيات من أهم أمور الدين ومن النصيحة الواجبة على كل مسلم لإخوانه المسلمين لما جاء في الحديث الصحيح عن تميم الداري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال «الدين النصيحة» قلنا لمن قال: «لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم» رواه الإمام أحمد ومسلم وأبو داود والنسائي. وفي الباب عن أبي هريرة وابن عمر وجرير وحكيم بن أبي يزيد عن أبيه وثوبان وابن عباس رضي الله عنهم عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو حديث تميم الداري رضي الله عنه. وقد ذكرت هذه الأحاديث بألفاظها في كتابي
...তোমাদের মধ্য থেকে এমন এক দল হোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে, সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম। এবং সহীহ হাদীসে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় দেখে, তবে সে যেন তা নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়; যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে যেন মুখ দ্বারা (প্রতিবাদ করে); আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে যেন অন্তর দ্বারা (তা ঘৃণা করে); আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর।" ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ তায়ালিসি, মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান সহীহ হাদীস। মুসলিম আরও বর্ণনা করেছেন ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে আল্লাহ যে নবীকেই পাঠিয়েছেন, তাদের উম্মতের মধ্যে তাঁর কিছু একনিষ্ঠ সাহায্যকারী ও সঙ্গী থাকত, যারা তাঁর সুন্নাত গ্রহণ করত এবং তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করত। অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের উদ্ভব ঘটে যারা যা বলে তা করে না এবং যা নির্দেশিত হয়নি তা-ই করে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে হাত দ্বারা জিহাদ করবে সে মুমিন, যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে মুখ দ্বারা জিহাদ করবে সে মুমিন এবং যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে অন্তর দ্বারা জিহাদ করবে সেও মুমিন; আর এর বাইরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই।" সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের উৎসাহ প্রদান এবং তা বর্জনের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী সম্বলিত আয়াত ও হাদীসসমূহ অত্যন্ত অধিক। আমি এগুলোর একটি অংশ আমার ‘আল-কাওলুল মুহাররার ফিল আমর বি-মা’রুফ ওয়ান-নাহয়ি আনিল মুনকার’ নামক কিতাবে উল্লেখ করেছি, তাই সেখানে তা দেখে নেয়া যেতে পারে।

মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা—যখন তারা কোনো ওয়াজিব কাজ বর্জন করে অথবা কোনো নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়—তা দ্বীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রত্যেক মুসলিমের ওপর তার মুসলিম ভাইদের প্রতি আবশ্যকীয় উপদেশের অন্তর্ভুক্ত। কেননা সহীহ হাদীসে তামীম আদ-দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "দ্বীন হলো নসীহত (শুভকামনা ও সদুপদেশ)।" আমরা জিজ্ঞেস করলাম: কার জন্য? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের নেতা ও সাধারণ জনগণের জন্য।" ইমাম আহমাদ, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে আবু হুরাইরাহ, ইবনে উমর, জারীর, হাকিম বিন আবু ইয়াযীদ তাঁর পিতা থেকে, সাওবান এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সূত্রে তামীম আদ-দারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আমি আমার কিতাবে এই হাদীসগুলো তাদের মূল শব্দসহ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ১৯)
المسمى بـ «القول المحرر، في الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر» فلتراجع هناك.

وإذا علم هذا فليعلم أيضاً أنه يجب النهي عن إقامة الولائم للمآتم لأن إقامتها من البدع المستقبحة ومن النياحة المحرمة. وليس النهي عن البدع والنياحة من التدخل فيما لا يجوز التدخل فيه من خصوصيات الناس كما قد توهم ذلك صاحب المقال الباطل، وإنما هو من النهي عن المنكر. والنهي عن المنكر واجب بحسب القدرة.

الوجه الثالث: أن يقال: إن خطباء المساجد الذين أفتوا بتحريم الولائم التي تقام للعزاء وقالوا إنها مخالفة لسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم قد أصابوا فيما أفتوا به وفي قولهم إنها مخالفة للسنة. وحجتهم ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يحذر أمته عن محدثات الأمور ويقول: «إن شر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار» وما جاء عنه أيضاً أنه قال: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» وفي رواية «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد» وقد ذكرت هذه الأحاديث في الوجه الأول فلتراجع.

ومن حججهم أيضاً ما ثبت عن جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه أنه قال: «كنا نعد الاجتماع إلى أهل الميت وصنيعة الطعام بعد دفنه من النياحة» وقد تقدم قول السندي إن هذا بمنزلة رواية إجماع الصحابة أو تقرير من النبي صلى الله عليه وسلم. قال وعلى التقديرين فهو حجة. وتقدم أيضاً قول القاري إن قول جرير رضي الله عنه ظاهر في التحريم. وتقدم أيضاً قول عمر رضي الله عنه إن اجتماع النساء على الميت وإطعام الطعام من النياحة، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله تعالى جعل الحق على لسان عمر وقلبه» رواه الإمام أحمد والترمذي وابن حبان في صحيحه من حديث ابن عمر رضي الله عنهما، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح غريب. قال وفي الباب عن الفضل بن العباس وأبي ذر وأبي هريرة انتهى. ولفظه عند ابن حبان: «إن الله جعل الحق على لسان عمر يقول به». وروى الإمام أحمد أيضاً وأبو داود وابن ماجه والحاكم في مستدركه عن أبي ذر رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الله وضع الحق على لسان عمر يقول به». قال الحاكم صحيح على شرط الشيخين. وقال الذهبي في تلخيصه على شرط مسلم، وروى الإمام أحمد أيضاً وابن حبان في صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه». وروى الإمام أحمد
‘আল-কাওলুল মুহাররার ফিল আমরি বিল মা’রুফ ওয়ান নাহয়ি আনিল মুনকার’ (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ সংক্রান্ত পরিশোধিত বক্তব্য) নামক কিতাবে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে, সুতরাং বিষয়টি সেখানে দেখে নেওয়া উচিত।

বিষয়টি যখন অবগত হওয়া গেল, তখন এটিও জেনে রাখা উচিত যে, জানাজা পরবর্তী শোক পালনের উদ্দেশ্যে ভোজসভার আয়োজন করা থেকে বারণ করা ওয়াজিব। কারণ এ ধরনের আয়োজন করা নিকৃষ্ট বিদআত এবং হারাম শোকগাঁথা বা বিলাপের (নিয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত। আর বিদআত ও বিলাপ থেকে বারণ করা মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে অনধিকার চর্চা নয়—যেভাবে সেই বাতিল প্রবন্ধের লেখক ধারণা করেছেন; বরং এটি মূলত ‘নাহি আনিল মুনকার’ বা অসৎকাজে বাধা প্রদানের অন্তর্ভুক্ত। আর সামর্থ্য অনুযায়ী অসৎকাজে বাধা প্রদান করা ওয়াজিব।

তৃতীয় দিক: এটি বলা আবশ্যক যে, মসজিদের যে সকল খতিব শোক প্রকাশের উদ্দেশ্যে আয়োজিত ভোজসভাগুলোকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন এবং বলেছেন যে এগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী, তারা তাদের ফতোয়া ও বক্তব্যে সঠিক সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছেন। তাদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত সেই সকল বাণী, যেখানে তিনি তাঁর উম্মতকে দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়াদি সম্পর্কে সতর্ক করতেন এবং বলতেন: ‘নিশ্চয়ই নিকৃষ্টতম কাজ হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।’ তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ অন্য রেওয়ায়েতে আছে: ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’ এই হাদিসগুলো প্রথম দিকে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই সেখানে দেখে নেওয়া যেতে পারে।

তাদের দলিলের মধ্যে আরও রয়েছে হজরত জারির বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত বর্ণনা, তিনি বলেন: ‘আমরা মৃত ব্যক্তির দাফনকার্যের পর তার পরিবারের নিকট একত্রিত হওয়া এবং খাবারের আয়োজন করাকে শোকাতুর বিলাপের (নিয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম।’ আল্লামা সিন্ধি রহ.-এর উক্তি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এই বর্ণনাটি সাহাবায়ে কেরামের ইজমা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বর্ণনার সমপর্যায়ভুক্ত অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৌন সম্মতির পর্যায়ভুক্ত। তিনি বলেছেন, উভয় অবস্থাতেই এটি একটি অকাট্য দলিল। মোল্লা আলি কারি রহ.-এর বক্তব্যও পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত জারির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তিটি স্পষ্টভাবে এই কাজের হারাম হওয়াকে নির্দেশ করে। আরও অতিক্রান্ত হয়েছে হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বক্তব্য যে, মৃত ব্যক্তির বাড়িতে নারীদের একত্রিত হওয়া এবং খাবার পরিবেশন করা বিলাপেরই অন্তর্ভুক্ত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা উমরের জিহ্বায় ও অন্তরে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন।’ এটি ইমাম আহমদ, তিরমিজি এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ ও গরিব। তিনি আরও বলেন, এ অধ্যায়ে ফজল ইবনুল আব্বাস, আবু যার এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও বর্ণনা রয়েছে। সমাপ্ত। ইবনে হিব্বানের শব্দে বর্ণিত হয়েছে: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা উমরের জিহ্বায় সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা দিয়ে তিনি কথা বলেন।’ ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ উমরের জিহ্বায় সত্যকে স্থাপন করেছেন, যা দিয়ে তিনি কথা বলেন।’ ইমাম হাকিম বলেছেন এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ। ইমাম জাহাবি তাঁর তালখিস গ্রন্থে একে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ বলেছেন। ইমাম আহমদ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ উমরের জিহ্বায় ও হৃদয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’ ইমাম আহমদ আরও বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২০)
أيضاً والترمذي وابن ماجه والبخاري في التاريخ والحاكم في مستدركه عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «اقتدوا باللذين من بعدي أبي بكر وعمر» قال الترمذي: هذا حديث حسن وصححه الحاكم والذهبي.

وفي هذه الأحاديث دليل على المنع من الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام لأن عمر رضي الله عنه قد عد ذلك من النياحة وقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أن الله تعالى جعل الحق على لسانه وقلبه وأخبر أيضاً أنه يقول بالحق وأمر أمته بالاقتداء به وبأبي بكر رضي الله عنهما. وفي هذا مع ما تقدم ذكره من الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم وما ذكره جرير بن عبد الله رضي الله عنه عن الصحابة رضي الله عنهم أبلغ رد على استنكار صاحب المقال الباطل للفتوى بتحريم ولائم العزاء واستنكاره للقول بأنها مخالفة للسنة، وقوله: لماذا؟.
এছাড়াও তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, বুখারী তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার পরবর্তী এই দুই ব্যক্তির অনুসরণ করবে: আবু বকর ও উমর।" ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান হাদীস এবং হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।

এই হাদীসসমূহের মধ্যে মৃত ব্যক্তির পরিবারের নিকট সমবেত হওয়া এবং খাবারের আয়োজন করা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ বিদ্যমান; কেননা উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) একে বিলাপের (নিয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেছেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা উমরের জিহ্বা ও অন্তরে সত্যকে ন্যাস্ত করেছেন এবং তিনি এ-ও জানিয়েছেন যে তিনি সত্য কথা বলেন। তদুপরি তিনি উম্মতকে তাঁর এবং আবু বকরের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত প্রমাণিত হাদীসসমূহ এবং সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সম্পর্কে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যা উল্লেখ করেছেন, তার সাথে এই বর্ণনাগুলো সেই বাতিল প্রবন্ধকারের আপত্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত খণ্ডন, যিনি শোকের ভোজ হারাম হওয়ার ফতোয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে সুন্নাহ-পরিপন্থী বলার প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রশ্ন করেছেন: "কেন?"।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২১)
وأما قوله: وهل هذه الولائم أصبحت من الدين حتى تكون بدعة؟.

فجوابه من وجهين أحدهما: أن يقال: لو كانت ولائم المآتم من الدين لما كانت من البدع ولكنها ليست من الدين فكانت من البدع التي ورد التحذير منها والأمر بردها في الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم ، وقد تقدم ذكرها قريباً فلتراجع.

الوجه الثاني: أن يقال: إن الصحابة رضي الله عنهم كانوا يعدون الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام من النياحة. وقد تقدم ذلك في قول عمر وجرير بن عبد الله رضي الله عنهما، والنياحة من أمر الجاهلية كما في الحديث الذي رواه الإمام أحمد ومسلم عن أبي مالك الأشعري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أربع في أمتي من أمر الجاهلة لا يتركونهن الفخر في الأحساب والطعن في الأنساب والاستسقاء بالنجوم والنياحة» وإذا كانت الولائم في المآتم من أمر الجاهلية فلا يقول بجوازها ونفي البدعة عنها إلا أحد رجلين، إما جاهل لا يعرف الفرق بين أمور الإسلام وأمور الجاهلية، وإما معاند لا يبالي بمخالفة الأمر الذي كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم، ولا يبالي برد الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في التحذير من المحدثات والأمر بردها.

وأما قوله: وهل نجحنا في محاربة الرذائل والمفاسد في المجتمع الإسلامي وواجب علينا الكلام في هذه الأمور التي لا تمت إلى الدين أو العبادة من قريب أو بعيد.

فجوابه من وجوه أحدها: أن يقال: إن محاربة البدع أهم من محاربة الرذائل والمفاسد الخُلُقية لأن البدع أحب إلى إبليس من المعاصي.
আর তাঁর কথা: "এই ভোজসভাগুলো কি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যে এটি বিদআত হবে?"।

এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়। প্রথমত: বলা যায় যে, যদি শোকসভার ভোজগুলো দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতো তবে তা বিদআত হতো না; কিন্তু এগুলো দ্বীনের অংশ নয়, বিধায় এগুলো সেই সব বিদআতের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর ব্যাপারে সতর্কবাণী এসেছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত হাদীসগুলোতে এগুলো প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এগুলোর আলোচনা ইতিপূর্বে করা হয়েছে, সুতরাং তা দেখে নেওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত: বলা যায় যে, সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মৃত ব্যক্তির পরিবারের নিকট সমবেত হওয়া এবং খাবার তৈরি করাকে বিলাপের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতেন। উমর এবং জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বক্তব্যে ইতিপূর্বে তা অতিক্রান্ত হয়েছে। আর বিলাপ হলো জাহিলিয়াতের বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি ইমাম আহমাদ ও মুসলিম আবু মালিক আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে জাহিলিয়াতের চারটি স্বভাব রয়েছে যা তারা বর্জন করবে না: আভিজাত্যের গৌরব করা, বংশমর্যাদায় অপবাদ দেওয়া, নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং বিলাপ করা।" সুতরাং শোকসভার ভোজগুলো যদি জাহিলিয়াতের বিষয় হয়, তবে দুই ধরনের লোক ছাড়া এর বৈধতা ও বিদআত না হওয়ার দাবি কেউ করবে না: হয় এমন মূর্খ যে ইসলামের বিধিবিধান ও জাহিলিয়াতের রীতিনীতির মধ্যে পার্থক্য বোঝে না, অথবা এমন এক হঠকারী যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের অনুসৃত পথের বিরোধিতাকে ভ্রুক্ষেপ করে না এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ককারী ও তা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ সম্বলিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাব্যস্ত হাদীসসমূহ বর্জন করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

আর তাঁর কথা: "আমরা কি মুসলিম সমাজে চারিত্রিক নিকৃষ্টতা ও মন্দ স্বভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সফল হয়েছি? আর আমাদের জন্য কি এমন সব বিষয়ে কথা বলা আবশ্যক যা দ্বীন বা ইবাদতের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়?"

এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়। প্রথমত: বলা যায় যে, বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াই করা চারিত্রিক স্খলন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদআত ইবলিসের কাছে সাধারণ পাপাচারের চেয়ে অধিক প্রিয়।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২২)
وقد روى أبو الفرج ابن الجوزي بإسناده إلى سفيان الثوري أنه قال: ‌‌«البدعة أحب إلى إبليس من المعصية، المعصية يتاب منها والبدعة لا يتاب منها» ، وأيضاً فإن البدع بريد الشرك وهي تؤول إليه. قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى:‌‌ المبتدع يؤول إلى الشرك ولم يوجد مبتدع إلا وفيه نوع من الشرك كما قال تعالى: {اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله والمسيح ابن مريم وما أمروا إلا ليعبدوا إلهاً واحداً لا إله إلا هو سبحانه عما يشركون} وكان من شركهم أنهم أحلوا لهم الحرام فأطاعوهم وحرموا عليهم الحلال فأطاعوهم انتهى. وقال السدي في تفسير هذه الآية استنصحوا الرجال ونبذوا كتاب الله وراء ظهورهم.

قلت: وهذا هو المطابق لحال أهل البدع فإنه استنصحوا الذين يدعونهم إلى البدع ويرغبونهم فيها ونبذوا كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم وراء ظهورهم.

ومن هذا الباب ما يفعله المفتونون بإقامة الولائم في المآتم فإنهم قد استنصحوا أدعياء العلم الذين يفتون بجواز إقامتها وحضورها ويحسّنون ذلك للعوام ولا يبالون بمخالفة أمر النبي صلى الله عليه وسلم برد المحدثات ولا يبالون بما ثبت عنه من التحذير منها والمبالغة في ذمها ووصفها بالصفات الذميمة.

الوجه الثاني: أن يقال: إنه يجب على العلماء محاربة البدع والتحذير منها ومحاربة الرذائل والمفاسد وجميع المنكرات والتحذير منها، ولا يكتفى بمحاربة أحدها عن محاربة غيره ولكن يبدأ بالأهم فالأهم منها، فيبدأ بالنهي والتحذير من أشدها خطراً على الدين وهي البدع التي تمحو السنن وتهدم الإسلام كما في الحديث الذي رواه الإمام أحمد عن
আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযী তাঁর সনদসহ সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "বিদআত ইবলিসের নিকট গুনাহের চেয়েও অধিক প্রিয়, কেননা গুনাহ থেকে তওবা করা হয় কিন্তু বিদআত থেকে তওবা করা হয় না"। তদুপরি, বিদআত হলো শিরকের অগ্রদূত এবং এটি শিরকের দিকেই পর্যবসিত হয়। শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: বিদআতী ব্যক্তি শিরকের দিকেই ধাবিত হয় এবং এমন কোনো বিদআতী পাওয়া যাবে না যার মধ্যে শিরকের কোনো না কোনো অংশ বিদ্যমান নেই, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়ম-পুত্র মাসীহকেও; অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তারা যা শরীক করে তিনি তা থেকে পবিত্র।" তাদের শিরকের একটি দিক ছিল এই যে, তারা (পন্ডিত ও সংসারবিরাগীরা) তাদের জন্য হারামকে হালাল করেছিল এবং তারা তাদের আনুগত্য করেছিল, আর তারা তাদের জন্য হালালকে হারাম করেছিল এবং তারা তাদের আনুগত্য করেছিল (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আস-সুদ্দী এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, তারা মানুষের নিকট উপদেশ প্রার্থনা করেছে এবং আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করেছে।

আমি (লেখক) বলছি: এটিই হলো বিদআতীদের অবস্থার সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ; কেননা তারা ঐ সকল ব্যক্তিদের নিকট উপদেশ প্রার্থনা করে যারা তাদের বিদআতের দিকে আহ্বান করে এবং সেগুলোর প্রতি তাদের প্রলুব্ধ করে, আর তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতকে তাদের পিঠের পেছনে ফেলে দিয়েছে।

এই বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত হলো সেই কাজ যা ফিতনায় নিমজ্জিত ব্যক্তিরা শোকানুষ্ঠানে ভোজের আয়োজনের ক্ষেত্রে করে থাকে। তারা এমন সব তথাকথিত আলেমদের উপদেশ গ্রহণ করেছে যারা এই সব অনুষ্ঠান আয়োজন ও তাতে উপস্থিত হওয়া বৈধ হওয়ার ফতোয়া দেয় এবং সাধারণ মানুষের সামনে এগুলোকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে। তারা নব প্রবর্তিত বিষয়সমূহ (বিদআত) প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ লঙ্ঘনের পরোয়া করে না এবং বিদআত সম্পর্কে তাঁর থেকে সাব্যস্ত হওয়া সতর্কবাণী, সেগুলোর কঠোর নিন্দা এবং সেগুলোকে নিকৃষ্ট বিশেষণে বিশেষিত করার বিষয়েও ভ্রূক্ষেপ করে না।

দ্বিতীয় দিক: এটি বলা আবশ্যক যে, আলেমদের ওপর ওয়াজিব হলো বিদআতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ও তা থেকে সতর্ক করা এবং যাবতীয় চারিত্রিক অবক্ষয়, ফাসাদ ও সকল প্রকার অপকর্মের (মুনকারাত) বিরুদ্ধে লড়াই করা ও তা থেকে সতর্ক করা। এগুলোর কোনো একটির বিরুদ্ধে লড়াই করলেই অন্যটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে না, বরং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ক্রমান্বয়ে শুরু করতে হবে। সুতরাং দ্বীনের জন্য যা সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক তা থেকে নিষেধ ও সতর্ক করার মাধ্যমে শুরু করতে হবে, আর তা হলো সেই বিদআত যা সুন্নাতকে মিটিয়ে দেয় এবং ইসলামকে ধ্বংস করে দেয়, যেমনটি ইমাম আহমাদ বর্ণিত হাদীসে এসেছে...
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২৩)
غضيف بن الحارث الثمالي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما أحدث قوم بدعة إلا رفع من السنة مثلها» وهذا يدل على شؤم البدع وعظم مضرتها على الإسلام فيجب التحذير منها والإنكار على من يذب عنها ويحسّنها للناس.

الوجه الثالث: أن يقال: إن صاحب المقال قد اعترف أن إقامة الولائم في المآتم من الأمور التي لا تمت إلى الدين أو العبادة من قريب أو بعيد، ويجاب بأن ما كان كذلك فهو من المحدثات، والمحدثات كلها شر وضلالة كما تقدم النص على ذلك فيما رواه العرباض بن سارية وجابر بن عبد الله وابن مسعود رضي الله عنهم عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يجوز إقرار المحدثات ولا العمل بشيء منها، بل يجب ردها لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» وفي رواية: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد». ويجب أيضاً التحذير منها لأن النبي صلى الله عليه وسلم قد حذّر منها وأخبر أنها شر وضلالة. وأيضاً فإن إقامة الولائم في المآتم من النياحة بإجماع الصحابة رضي الله عنهم كما تقدم التصريح بذلك في حديث جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه، وقد صرح بذلك أيضاً عمر بن الخطاب رضي الله عنه فيما رواه ابن أبي شيبة عنه وتقدم ذكره، والنياحة من الأمور التي لا تمت إلى الدين أو العبادة من قريب أو بعيد وإنما هي من أمور الجاهلية وقد جاء الإسلام بتحريمها ولعن فاعلها، وما كان بهذه المثابة فإنه لا يجوز إقراره، بل يجب رده ومحاربته، ومن قال بجوازه فقد أخطأ خطأ كبيراً وشاق الرسول صلى الله عليه وسلم واتبع غير سبيل المؤمنين. وقال الله تعالى: «ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى ونصله جهنم وساءت مصيراً».
গুদাইফ ইবনুল হারিস আস-সুমালি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখনই কোনো জাতি কোনো বিদআত বা নতুন প্রথার প্রবর্তন করে, তখনই তার সমপরিমাণ সুন্নাহ তুলে নেওয়া হয়।» এটি বিদআতের অশুভ পরিণতি এবং ইসলামের ওপর এর ক্ষতির ভয়াবহতা প্রমাণ করে। সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক করা এবং যারা বিদআতের পক্ষাবলম্বন করে ও মানুষের কাছে তা সুশোভিত করে পেশ করে, তাদের প্রতিবাদ করা আবশ্যক।

তৃতীয় দিক: এটি বলা যায় যে, প্রবন্ধকার স্বীকার করেছেন যে শোকানুষ্ঠানে ভোজের আয়োজন করা এমন একটি বিষয় যার সাথে দ্বীন বা ইবাদতের নিকটবর্তী বা দূরবর্তী কোনো সম্পর্ক নেই। এর উত্তর হলো, যা এমন পর্যায়ের তা নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর সকল নবউদ্ভাবিত বিষয়ই অনিষ্ট ও গোমরাহি (পথভ্রষ্টতা), যেমনটি ইতিপূর্বে ইরবাদ বিন সারিয়াহ, জাবির বিন আব্দুল্লাহ এবং ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে। এই নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া বা এগুলোর কোনোটি পালন করা বৈধ নয়, বরং এগুলো প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।» অন্য বর্ণনায় রয়েছে: «যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার ওপর আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।» এ বিষয়ে সতর্ক করাও আবশ্যক কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এগুলো থেকে সতর্ক করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে এগুলো অনিষ্ট ও গোমরাহি। তাছাড়া, সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ঐকমত্যে শোকানুষ্ঠানে ভোজের আয়োজন করা বিলাপের (নিইয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত, যা ইতিপূর্বে জারীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও ইবনে আবি শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিলাপ এমন একটি বিষয় যার সাথে দ্বীন বা ইবাদতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি জাহেলি যুগের কর্ম। ইসলাম একে হারাম করেছে এবং এর কর্তাকে অভিশপ্ত করেছে। যে বিষয়টি এমন স্তরের, তা বহাল রাখা বৈধ নয়, বরং তা প্রত্যাখ্যান করা ও নিরসন করা আবশ্যক। যে ব্যক্তি এটি বৈধ বলবে সে বড় ধরনের ভুল করবে এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতা করবে ও মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে। মহান আল্লাহ বলেন: «কারো কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যেদিকে ফিরে যেতে চায় আমরা তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, আর তা কতই না মন্দ আবাসস্থল।»
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما قوله إن الحلال بيّن والحرام بيّن.

فجوابه أن يقال: إن من الحرام البيّن إقامة الولائم في المآتم لأنه من المحدثات التي ليس عليها أمر النبي صلى الله عليه وسلم ولم يكن ذلك من سنة الخلفاء الراشدين ولا من عمل الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين. بل كانوا يعدونه من النياحة كما تقدم فيما رواه ابن أبي شيبة عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه وفيما رواه الإمام أحمد وابن ماجه عن جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه. وقال أبو البختري إنه من أمر الجاهلية وقال سعيد بن جبير إنه من عمل الجاهلية. وكان عمر بن عبد العزيز يمنع منه وهو من الخلفاء الراشدين والأئمة المهديين. وفي هذا أوضح البيان أن إقامة الولائم في المآتم من الحرام البيّن. ولا يخفى هذا إلا على إنسان لا يميّز بين الحلال والحرام.

وأما قوله وليتنا نستطيع أن نطهر مجتمعنا من الحرام ونقنع الناس باجتنابه بدلاً من إكثار الممنوعات والمحرمات حتى نطفشهم وندفعهم للتمرد وعدم تصديقنا في أن كل شيء حرام حتى المأدبة التي يقيمها أهل الميت في اليوم الثالث من الوفاة حيث يجلسون لاستقبال المعزين والمعزيات ويطعمون الفقير والفقيرات. ماذا في ذلك.

فجوابه من وجوه أحدها: أن يقال إن إقامة الولائم في المآتم من الأمور التي يجب منعها والتحذير منها لأن هذا العمل محدث في الإسلام وهو من النياحة كما تقدم بيانه. وما كان من المحدثات والنياحة فهو حرام يجب تطهير المجتمع منه.

الوجه الثاني: أن يقال إن تطهير المجتمع من البدع أهم من تطهيره من جمع الأموال من الحرام لأن البدع بريد الشرك وهي تؤول إليه. وما كان بهذه المثابة فتطهير المجتمع منه أهم من تطهيره من
আর তাঁর কথা—নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারাম স্পষ্ট—প্রসঙ্গে উত্তর হলো:

এর উত্তরে বলা হবে: শোকানুষ্ঠানে ভোজের আয়োজন করা স্পষ্ট হারামের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এটি এমন এক নবউদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত), যা পালন করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দেননি। এটি খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত কিংবা সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)-এর কর্মপন্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বরং তাঁরা একে বিলাপের (নিয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতেন, যেমনটি পূর্বে ইবনে আবি শাইবা কর্তৃক উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহ কর্তৃক জারির ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাজালি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আবুল বাখতারি বলেছেন, এটি জাহেলিয়াতের বিষয়। সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন, এটি জাহেলি আমল। উমর ইবনে আবদুল আজিজ একে নিষেধ করতেন, অথচ তিনি ছিলেন খুলাফায়ে রাশিদীন ও হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত। এতে অত্যন্ত স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, শোকানুষ্ঠানে ভোজসভা করা একটি স্পষ্ট হারাম বিষয়। এটি কেবল সেই ব্যক্তির কাছেই অস্পষ্ট থাকতে পারে যে হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না।

আর তাঁর কথা—"হায়, আমরা যদি আমাদের সমাজকে হারাম থেকে পবিত্র করতে পারতাম এবং মানুষকে নিষিদ্ধ ও হারাম জিনিসের আধিক্য দিয়ে অতিষ্ঠ ও বিদ্রোহী না করে বরং হারাম বর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে পারতাম! যাতে তারা আমাদের এই কথায় অবিশ্বাস না করে যে সবকিছুই হারাম; এমনকি মৃত্যুর তৃতীয় দিনে মৃত ব্যক্তির পরিবার যে ভোজের আয়োজন করে যেখানে তারা সমবেদনা জানাতে আসা নারী-পুরুষদের অভ্যর্থনা জানায় এবং দরিদ্র নারী-পুরুষদের খাবার খাওয়ায়। এতে দোষের কী আছে?"—প্রসঙ্গে উত্তর...

এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়। প্রথমত: শোকানুষ্ঠানে ভোজের আয়োজন করা এমন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা প্রতিরোধ করা এবং যা থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। কারণ ইসলামে এই কাজটি একটি নবউদ্ভাবিত বিষয় এবং এটি বিলাপের (নিয়াহাহ) পর্যায়ভুক্ত, যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর যা কিছু নবউদ্ভাবিত বিদআত ও বিলাপের অন্তর্ভুক্ত, তা হারাম; সমাজকে তা থেকে পবিত্র করা আবশ্যক।

দ্বিতীয় দিক: সমাজকে বিদআত থেকে পবিত্র করা হারাম উপায়ে সম্পদ উপার্জনকে নির্মূল করার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদআত হলো শিরকের অগ্রদূত এবং তা শিরকের দিকেই নিয়ে যায়। আর যা এ পর্যায়ের বিষয়, সমাজকে তা থেকে পবিত্র করা সমাজকে তা থেকে পবিত্র করার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২৫)
المعاصي التي هي دون ذلك. وقد ذكرت قريباً قول سفيان الثوري إن البدعة أحب إلى إبليس من المعصية. المعصية يتاب منها والبدعة لا يتاب منها. ومع هذا فإنه يجب السعي في تطهير المجتمع من البدع ومن ملابسة الأمور المحرمة واكتساب الأموال المحرمة وغير ذلك من المنكرات الظاهرة لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر أمته بتغيير المنكرات الظاهرة بحسب القدرة ولم يفرق بينها.

الوجه الثالث: أن يقال مما يدل على أهمية تطهير المجتمع من البدع والمحدثات أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يحذر منها في خطبته. والظاهر من حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما الذي تقدم ذكره في أول الكتاب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يفعل ذلك في كل جمعة.

الوجه الرابع: أن يقال إنه يجب على العلماء تحذير الناس من المحدثات وإعلامهم بما فيها من الشر والضلالة. وذلك من التأسي برسول الله صلى الله عليه وسلم فإنه كان يحذر أمته من المحدثات في خطبته يوم الجمعة ويبين لهم أنها شر الأمور وأن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار. فعلى الخطباء أن يقتدوا برسول الله صلى الله عليه وسلم في التحذير من المحدثات وبيان ما فيها من الشر والضلالة وإن لم تحصل القناعة بذلك من بعض الناس لأن الله تعالى قال بنبيه محمد صلى الله عليه وسلم: {فذكّر إنما أنت مذكّر. لست عليهم بمصيطر} وقال تعالى: {فذكّر إن نفعت الذكرى. سيذكر من يخشى. ويتجنبها الأشقى} وقال تعالى: {وذكّر فإن الذكرى تنفع المؤمنين} وقال تعالى: {فإن أعرضوا فما أرسلناك عليهم حفيظاً إن عليك إلا البلاغ} وقال تعالى: {ليس عليك هداهم ولكن الله يهدي من يشاء}.
যেসব গুনাহ এর চেয়ে কম স্তরের। আমি ইতিপূর্বে সুফিয়ান সাওরী (রহ.)-এর একটি উক্তি উল্লেখ করেছি যে, "ইবলিসের নিকট গুনাহের চেয়ে বিদআত অধিক প্রিয়। কেননা গুনাহ থেকে তওবা করা হয়, কিন্তু বিদআত থেকে তওবা করা হয় না।" তা সত্ত্বেও, সমাজকে বিদআত, হারাম বিষয়ে লিপ্ত হওয়া, অবৈধ সম্পদ উপার্জন এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রকাশ্য মন্দ কাজ থেকে পবিত্র করার চেষ্টা করা ওয়াজিব। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে সাধ্যানুযায়ী প্রকাশ্য মন্দ কাজ পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।

তৃতীয় দিক: সমাজকে বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয় থেকে পবিত্র করার গুরুত্বের একটি প্রমাণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় এ বিষয়ে সতর্ক করতেন। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যে হাদীসটি বইয়ের শুরুতে উল্লিখিত হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি জুমুয়াবার এরূপ করতেন।

চতুর্থ দিক: আলেমদের জন্য আবশ্যক হলো মানুষকে নব-উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করা এবং সেগুলোর অনিষ্ট ও ভ্রষ্টতা সম্পর্কে তাদের জানানো। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ ও অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তিনি জুমুয়াবারের খুতবায় তাঁর উম্মতকে নব-উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করতেন এবং তাদের কাছে স্পষ্ট করতেন যে, এগুলো নিকৃষ্টতম কাজ এবং প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। সুতরাং খতীবদের উচিত নব-উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করার ক্ষেত্রে এবং এর অনিষ্ট ও ভ্রষ্টতা বর্ণনার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা, যদিও কিছু মানুষ এতে সন্তুষ্ট না হয়। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা। আপনি তাদের উপর জোরজবরদস্তিকারী নন।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতএব আপনি উপদেশ দিন, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়। যে ভয় করে সে উপদেশ গ্রহণ করবে। আর যে হতভাগা সে তা পরিহার করবে।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন, কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমি তো আপনাকে তাদের রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি। আপনার দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া।} আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তাদেরকে হেদায়েত করার দায়িত্ব আপনার নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন।}
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২৬)
إلى غير ذلك من الآيات في هذا المعنى. وعلى هذا فالخطباء الذين أشار إليهم الكاتب لهم أسوة بنبيهم صلى الله عليه وسلم في تذكير الناس وحثهم على التقوى ونهيهم عن البدع والمحدثات وتحذيرهم منها ومن سائر المنكرات وليس عليهم أن يقنعوا الناس بما يأمرون به وما ينهون عنه فإن ذلك ليس في قدرتهم. وإنما الهداية والإضلال بيد الله تعالى فهو الذي يهدي من يشاء ويضل من يشاء وله الحجة البالغة والحكمة التامة.

ولا ينبغي الالتفات إلى ما يحصل لبعض الناس من النفور والتضايق من سماع النهي والتحذير عما وجدوا عليه آباءهم وأشياخهم من البدع والمحدثات كما قد حصل ذلك لصاحب المقال الباطل. هدانا الله وإياه إلى الصراط المستقيم الذي كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتابعون لهم بإحسان. وأعاذنا جميعاً من نزغات الشيطان وتضليله. بل ينبغي بذل النصيحة للمسلمين ودعوتهم إلى الخير وأمرهم بالمعروف ونهيهم عن المنكر وتعليمهم ما يجهلونه من أمور الدين، فمن اهتدى فلنفسه ومن ضل فإنما يضل عليها.

الوجه الخامس: أن يقال إن الخطباء الذين أشار صاحب المقال الباطل إلى أنهم قد أكثروا من الممنوعات والمحرمات لم يبتدعوا شيئاً من الممنوعات والمحرمات ويأتوا بذلك من عند أنفسهم. وإنما كانوا يمنعون ويحرمون الأمور التي قد دل الكتاب والسنة على تحريمها والمنع منها، فتجدهم إذا نهوا عن شيء من العقائد أو الأقوال أو الأفعال يأتون بالأدلة الدالة على المنع مما نهوا عنه، وعلى هذا فلا لوم على الخطباء الذين ينهون عن البدع ويحذرون منها وإنما اللوم على من لامهم واعترض عليهم.

الوجه السادس: أن يقال إنه لا يتضايق من سماع النهي عن المحدثات والتحذير منها ويتمرد عن قبول ما جاء عن النبي - صلى الله
এই মর্মে আরও বহু আয়াত রয়েছে। এমতাবস্থায়, লেখক যে খতীবদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তাদের জন্য তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে—মানুষকে নসিহত করার ক্ষেত্রে, তাকওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এবং বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলি এবং অন্যান্য অপছন্দনীয় কাজ থেকে নিষেধ ও সতর্ক করার ক্ষেত্রে। তারা যা আদেশ করেন বা যা থেকে নিষেধ করেন, সে বিষয়ে মানুষকে সন্তুষ্ট বা রাজি করানো তাদের দায়িত্ব নয়; কারণ তা তাদের সাধ্যায়ত্ত নয়। বরং হেদায়েত ও পথভ্রষ্টতা মহান আল্লাহর হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। তাঁরই জন্য রয়েছে চূড়ান্ত দলিল ও পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা।

আর কোনো কোনো মানুষের মনে যে অনীহা ও সংকীর্ণতার সৃষ্টি হয়—তাদের পূর্বপুরুষ ও পীর-মাশায়েখদের থেকে প্রাপ্ত বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে নিষেধ ও সতর্কবাণী শোনার কারণে—তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা উচিত নয়, যেমনটি সেই বাতিল প্রবন্ধের লেখকের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আল্লাহ আমাদের এবং তাকে সেই সরল পথের (সিরাতুল মুস্তাকিম) দিকে হেদায়েত দান করুন, যার ওপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং উত্তমভাবে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়ীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি আমাদের সকলকে শয়তানের প্ররোচনা ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করুন। বরং মুসলমানদের নসিহত করা, তাদের কল্যাণের দিকে আহ্বান জানানো, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা এবং দ্বীনের যেসব বিষয় তারা জানে না তা শিক্ষা দেওয়া উচিত। অতএব যে ব্যক্তি হেদায়েত প্রাপ্ত হলো সে নিজের কল্যাণের জন্যই হলো, আর যে পথভ্রষ্ট হলো সে নিজের ক্ষতির জন্যই হলো।

পঞ্চম দিক: এটি বলা প্রয়োজন যে, সেই বাতিল প্রবন্ধের লেখক যেসব খতীবদের ব্যাপারে ইঙ্গিত করেছেন যে তারা নিষিদ্ধ ও হারাম বিষয়ের ফিরিস্তি দীর্ঘ করেছেন, তারা নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো কিছুকে নিষিদ্ধ বা হারাম উদ্ভাবন করেননি। বরং তারা কেবল সেসব বিষয় থেকেই বারণ ও হারাম ঘোষণা করছিলেন, যেগুলোর নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কিতাব ও সুন্নাহর দলিল বিদ্যমান রয়েছে। আপনি দেখবেন, যখনই তারা কোনো আকিদা, কথা বা কাজ থেকে নিষেধ করেন, তখন তারা তাদের সেই নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে দলিল উপস্থাপন করেন। সুতরাং, যেসব খতীব বিদআত থেকে নিষেধ করেন এবং তা থেকে সতর্ক করেন তাদের ওপর কোনো নিন্দা নেই; বরং নিন্দা তো তার প্রাপ্য যে তাদের নিন্দা করে এবং তাদের ওপর আপত্তি উত্থাপন করে।

ষষ্ঠ দিক: এটি বলা প্রয়োজন যে, নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে নিষেধ ও সতর্কবাণী শোনার কারণে সেই ব্যক্তিই সংকীর্ণতা বোধ করে না এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা গ্রহণে অবাধ্যতা প্রদর্শন করে না যে...
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২৭)
عليه وسلم - من النهي عنها والأمر بردها إلا من كان في قلبه مرض من أمراض الشبهات والفتن. فهؤلاء هم الذي يغتاظون من سماع النهي عن المحدثات التي قد نشأوا على اعتيادها ووجدوا آباءهم وأشياخهم عليها. وهم الذين يصدون ويعرضون عن قبول الحق ولا يصدقون بتحريم البدع ولا يعبأون بالأحاديث الواردة في التحذير منها والأمر بردها. وينبغي لهؤلاء أن يتدبروا قول الله تعالى: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجاً مما قضيت ويسلموا تسليماً}.

الوجه السابع: أن يقال إنه ليس أحد من الخطباء الذين أشار إليهم الكاتب في كلامه الباطل يقول إن كل شيء حرام وإنما هذا من تمويه الكاتب وتلبيسه على الجهال ودندنته حول التشويه لسمعة الخطباء الذين يدعون إلى الخير ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر ويجاهدون أهل الباطل ويحذرون الناس مما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحذر أمته منه. فجزى الله الخطباء الناصحين خير الجزاء وأعظم لهم الأجر والثواب.

الوجه الثامن: أن يقال أن الخطباء الذين أشار إليهم الكاتب إنما كانوا يحرمون ما قامت الأدلة الشرعية على تحريمه، ومنه إقامة الولائم في المآتم لأن هذا العمل مخالف لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بصنعة الطعام لأهل البيت، ولأنه من النياحة في قول عمر بن الخطاب رضي الله عنه وقد أجمع الصحابة رضي الله عنه على عده من النياحة كما تقدم في حديث جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه، والنياحة حرام وهي من أمور الجاهلية. وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد» أي مردود. وقد ذكرت هذا الحديث
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - থেকে আগত এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এবং তা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশের ব্যাপারে কেবল তারাই বিমুখ হয় যাদের অন্তরে সংশয় ও ফিতনার ব্যাধি রয়েছে। এরাই সেই সকল ব্যক্তি যারা ঐ সকল নব উদ্ভাবিত বিষয়ের (বিদআত) নিষিদ্ধতা শ্রবণে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়, যেগুলোর অভ্যাসে তারা বেড়ে উঠেছে এবং তাদের পিতৃপুরুষ ও শিক্ষকদেরও যেগুলোর ওপর আমল করতে দেখেছে। তারা সত্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকে ও বিমুখ হয়, বিদআত হারামের বিষয়টি বিশ্বাস করে না এবং এ ব্যাপারে সতর্ককারী ও তা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ সম্বলিত হাদীসসমূহের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। তাদের উচিত আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ওপর চিন্তা-গবেষণা করা: "না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক মনোনীত করে, অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো প্রকার কুণ্ঠা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।"

সপ্তম দিক: লেখক তার ভ্রান্ত বক্তব্যে যে সকল খতীবের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তাদের কেউ-ই বলেন না যে সব কিছুই হারাম; বরং এটি লেখকের একটি প্রতারণা ও মূর্খদের বিভ্রান্ত করার প্রয়াস। মূলত তিনি সেই সকল খতীবের সম্মান ক্ষুণ্ণ করার জন্য অপচেষ্টা করছেন যারা কল্যাণের পথে আহ্বান করেন, সৎকাজের আদেশ দেন, মন্দ কাজে বাধা প্রদান করেন, বাতিলপন্থীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে যা থেকে সতর্ক করেছেন, মানুষকেও তা থেকে সতর্ক করেন। আল্লাহ তাআলা সেই হিতাকাঙ্ক্ষী খতীবদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাদের সওয়াব ও পুরস্কারকে সুমহান করুন।

অষ্টম দিক: লেখক যে সকল খতীবের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তারা কেবল সেসব বিষয়কেই হারাম বলেছেন যার হারামের স্বপক্ষে শরয়ি দলিল বিদ্যমান। এর অন্যতম হলো শোক সভায় ভোজের আয়োজন করা; কারণ এই কাজটি শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের পরিপন্থী। অধিকন্তু ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভাষ্য অনুযায়ী এটি বিলাপের (নিয়াহাহ) অন্তর্ভুক্ত। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম এটিকে বিলাপ হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যা পূর্বে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আর বিলাপ করা হারাম এবং তা জাহেলী যুগের রীতি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করবে যাতে আমাদের শরীয়তের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" আমি ইতিপূর্বে এই হাদীসটি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وغيره من الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في التحذير من المحدثات في أول الكتاب فلتراجع.

الوجه التاسع: أن يقال إن الله تعالى لم يشرع لأهل الميت أن يطعموا الفقراء في أيام العزاء ولم يأمر بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يفعله ولم يأذن فيه. ولم يكن ذلك من سنة الخلفاء الراشدين. ولم يذكر عن غيرهم من الصحابة أنهم فعلوا ذلك، ولو كان خيراً لكانوا أسبق إليه من غيرهم. وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد» وعلى هذا فمن خص إطعام الفقراء بأيام العزاء فقد شرع من الدين ما لم يأذن به الله، ومن أحب أن يطعم الفقراء ويتصدق عليهم فله مندوحة عن أيام المصائب والأحزان، ولا يجوز أن يجعل إطعام الفقراء وسيلة إلى إحياء بدعة المآتم لأن هذه الوسيلة من الحيل، والحيل لا تبيح المحرم.

وقد سئل شيخ الإسلام أبو العباس أبو تيمية رحمه الله تعالى عن إطعام أهل الميت لمن هو مستحق؟ فأجاب بقوله: وأما صنعة أهل الميت طعاماً يدعون الناس إليه فهذا غير مشروع وإنما هو بدعة، ثم استدل على كونه بدعة بحديث جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه الذي تقدم ذكره. قال وإنما المستحب إذا مات الميت أن يصنع لأهله طعام واستدل على ذلك بحديث عبد الله بن جعفر بن أبي طالب رضي الله عنهما الذي تقدم ذكره.

وأما قول الكاتب: ماذا في ذلك؟.

فجوابه أن يقال فيه: أنه مخالف لهدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنته في صنعة الطعام لأهل الميت، ومخالف لإجماع الصحابة رضي الله عنهم على عد الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام من
এ ছাড়া কিতাবের শুরুতে নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি (বিদআাত) সম্পর্কে সতর্কবাণী সংবলিত আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অন্যান্য সুসাব্যস্ত হাদিসগুলো দেখে নেওয়া উচিত।

নবম দিক: আল্লাহ তাআলা মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য শোক পালনের দিনগুলোতে দরিদ্রদের অন্নদান করার কোনো বিধান প্রণয়ন করেননি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দেননি, তিনি নিজেও তা করেননি এবং এর অনুমতিও দেননি। এটি খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অন্য কোনো সাহাবী থেকেও এমন কাজের বর্ণনা পাওয়া যায় না; যদি এটি কল্যাণকর হতো, তবে তাঁরা অন্যদের চেয়ে এর দিকে অগ্রগামী হতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল, যা আমাদের এ বিষয়ের (শরিয়তের) অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" এর ভিত্তিতে, যে ব্যক্তি দরিদ্রদের অন্নদান করার বিষয়টিকে শোকের দিনগুলোর সাথে সুনির্দিষ্ট করবে, সে দ্বীনের মাঝে এমন কিছু প্রবর্তন করল যার অনুমতি আল্লাহ প্রদান করেননি। আর যে ব্যক্তি দরিদ্রদের খাওয়াতে এবং তাদের দান-সদকা করতে চায়, তার জন্য বিপদ ও শোকের দিনগুলো ছাড়াও প্রশস্ত অবকাশ রয়েছে। দরিদ্রদের অন্নদান করাকে মাতমের বিদআাতকে পুনর্জীবিত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ নয়; কারণ এই মাধ্যমটি এক প্রকার অপকৌশল (হিলা), আর অপকৌশল কোনো হারাম বিষয়কে বৈধ করতে পারে না।

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়য়াহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে কি হকদারদের অন্নদান করা যাবে? তিনি উত্তরে বলেন: মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার তৈরি করে মানুষকে দাওয়াত দেওয়া শরীয়তসম্মত নয়, বরং এটি একটি বিদআাত। অতঃপর তিনি এটি বিদআাত হওয়ার স্বপক্ষে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালী রাদিয়াল্লাহু আনহুর পূর্বে উল্লিখিত হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেন। তিনি আরও বলেন, মুস্তাহাব হলো যখন কেউ মারা যায় তখন তার পরিবারের জন্য খাবার তৈরি করা এবং এর সপক্ষে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত পূর্বে উল্লিখিত হাদিসটি পেশ করেন।

আর লেখকের এই উক্তির ব্যাপারে যে: "এতে দোষের কী আছে?"

এর উত্তর হলো: এটি মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য খাবার তৈরির ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিদায়াত ও সুন্নাহর পরিপন্থী এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের নিকট সমবেত হওয়া ও খাবার তৈরি করাকে গণ্য করার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণের ঐকমত্যের (ইজমা) পরিপন্থী...
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ২৯)
النياحة، وما كان بهذه المثابة فإنه غير جائز. وفيه أيضاً أنه من المحدثات والأعمال التي ليس عليه أمر النبي صلى الله عليه وسلم ، والمحدثات كلها شر وضلالة بنص رسول الله صلى الله عليه وسلم ، وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم برد المحدثات والأعمال التي ليس عليها أمره، وقد قال الله تعالى: {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا واتقوا الله إن الله شديد العقاب} وقال تعالى: {وإن تطيعوه تهتدوا} وقال تعالى: {فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم} قال الإمام أحمد رحمه الله تعالى أتدري ما الفتنة. الفتنة الشرك لعله إذا رد بعض قوله أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك ثم جعل يتلو قول الله تعالى: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجاً مما قضيت ويسلموا تسليماً}.

وأما قوله وهل كل ما لم يفعله الرسول وأصحابه حرام أم العكس هو الصحيح، أي إن الأصل في كل الأعمال هو الحل إلا ما ورد نص بالتحريم له. وأين النص الصريح في تحريم المآدب في المآتم.

فجوابه من وجوه أحدها: أن يقال إن الأعمال التي يتقرب بها إلى الله تعالى مربوطة بالأمر الذي كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم. فمن عمل عملاً ليس عليه أمر النبي صلى الله عليه وسلم فعمله مردود لقوله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم وأبو داود وابن ماجه من حديث عائشة رضي الله عنها، وفي رواية لأحمد ومسلم والبخاري تعليقاً «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد» وفي هذا الحديث نص صريح على رد الأعمال التي ليس عليها أمر النبي صلى الله عليه وسلم. ومنها إقامة الولائم في المآتم
বিলাপ এবং এই জাতীয় কার্যকলাপ বৈধ নয়। এতে আরও রয়েছে যে, এটি এমন একটি নব-আবিষ্কৃত বিষয় এবং এমন কাজ যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো নির্দেশ নেই। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুস্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী সমস্ত নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই মন্দ ও পথভ্রষ্টতা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নব-আবিষ্কৃত বিষয় এবং সেই সকল কাজ প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দিয়েছেন যা তাঁর নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য করো, তবেই তোমরা হেদায়েত পাবে।" তিনি আরও বলেছেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।" ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হলো শিরক। হয়তো তাঁর (রাসূলের) কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করার কারণে তার অন্তরে কোনো বক্রতা সৃষ্টি হতে পারে, ফলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।" অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: "তোমার রবের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফয়সালার বিষয়ে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধাবোধ না থাকে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে তা মেনে নেয়।"

আর তাঁর বক্তব্য—"রাসূল ও সাহাবীগণ যা করেননি তা কি সবই হারাম, নাকি এর বিপরীতটাই সঠিক? অর্থাৎ সব কাজের মূল ভিত্তি কি বৈধতা, যতক্ষণ না তার হারামের পক্ষে কোনো দলিল আসে? আর শোকানুষ্ঠানে ভোজের আয়োজনের হারামের স্বপক্ষে সুস্পষ্ট দলিল কোথায়?"

এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়। প্রথমত: এটি বলা যায় যে, যেসব কাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয়, তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশিত পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো নির্দেশ নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" ইমাম আহমাদ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ এটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ ও মুসলিমের অন্য বর্ণনায় এবং বুখারিতে তালীক হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ওপর আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" এই হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশবহির্ভূত সকল কাজ প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। শোকানুষ্ঠানে ভোজের আয়োজন করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ৩০)
لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يشرع ذلك لأمته، ولأنه مخالف للسنة في بعث الطعام إلى أهل الميت. وما خالف السنة فهو مردود بنص حديث عائشة رضي الله عنها. وفي هذا النص أبلغ رد على ما لفقه صاحب المقال الباطل من التمويه والتلبيس على ضعفاء البصيرة.

الوجه الثاني: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر أمته أن يأخذوا بسنته وسنة الخلفاء الراشدين المهديين ونهاهم عن محدثات الأمور وحذرهم منها بأبلغ التحذير وأخبرهم أن كل محدثة بدعة وأن كل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار وأن شر الأمور محدثاتها. وفي هذه النصوص أبلغ رد على من أباح بدعة الولائم في المآتم وعلى من أباح غيرها من المحدثات.

الوجه الثالث: أن يقال إن الصحابة رضي الله عنهم قد عدوا الاجتماع إلى أهل الميت وصنعة الطعام بعد دفنه من النياحة. وهذا إجماع منهم على تحريم إقامة المآدب في المآتم لأن النياحة من أمر الجاهلية وهي حرام وملعون فاعلها، وإجماع الصحابة رضي الله عنهم حجة على كل مبطل. ومن خالف إجماعهم فقد تعرض للوعيد الشديد الذي ذكره الله في قوله: {ومن يشاقق الرسول من بعد ما تبين له الهدى ويتبع غير سبيل المؤمنين نوله ما تولى ونصله جهنم وساءت مصيراً}. وقد وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم الفرقة الناجية من أمته بأنهم من كان على مثل ما كان عليه هو وأصحابه. وقد كان هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وإجماع أصحابه على خلاف ما يفعله أهل البدع من إقامة الولائم في المآتم:

وكل خير في اتباع من سَلَف … وكل شيء في ابتداع من خَلَف

 

الوجه الرابع: أن يقال إنه لا يتم الإيمان لأحد حتى يحقق الشهادة
কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য এটি বিধিবদ্ধ করেননি এবং এটি মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে খাবার পাঠানোর সুন্নাহর পরিপন্থী। আর যা কিছু সুন্নাহর পরিপন্থী, তা আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নয় এমন ব্যক্তিদের বিভ্রান্ত করার জন্য বাতিল নিবন্ধের লেখক যে ধূম্রজাল ও প্রতারণার জাল বুনেছে, এই ভাষ্যের মধ্যে তার বলিষ্ঠ প্রতিবাদ রয়েছে।

দ্বিতীয় দিক: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে তাঁর সুন্নাহ ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে নিষেধ করেছেন ও অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি তাদের জানিয়েছেন যে, প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতা জাহান্নামে যাবে এবং সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো। শোকসভায় খাবারের আয়োজনের বিদআতকে যারা বৈধতা দেয় এবং অন্যান্য নব-উদ্ভাবিত বিষয়কে যারা বৈধ করে, এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব রয়েছে।

তৃতীয় দিক: এটি বলা যে, সাহাবায়ে কিরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে সমবেত হওয়া এবং দাফনের পর খাবারের আয়োজন করাকে 'নিয়াহাহ' বা বিলাপের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতেন। শোকসভায় ভোজের আয়োজন হারাম হওয়ার ব্যাপারে এটি তাঁদের একটি ইজমা বা ঐকমত্য। কারণ বিলাপ করা জাহিলিয়াত যুগের কাজ এবং এটি হারাম ও এর কর্তার ওপর অভিশাপ বর্ষিত হয়। সাহাবায়ে কিরামের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) ইজমা প্রত্যেক বাতিলপন্থীর বিরুদ্ধে এক অকাট্য প্রমাণ। আর যে ব্যক্তি তাঁদের ঐকমত্যের বিরোধিতা করবে, সে আল্লাহ তাআলার বাণীতে বর্ণিত সেই কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে: {কারও কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে সে যে পথ বেছে নিয়েছে আমি তাকে সে পথেই ছেড়ে দেব এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস!}। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দলটির বর্ণনায় বলেছেন যে, তারা সেই পথের ওপর থাকবে যে পথের ওপর তিনি নিজে এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য ছিল শোকসভায় খাবারের আয়োজন করার মতো বিদআতিদের কর্মপন্থার সম্পূর্ণ বিপরীত:

সকল কল্যাণ নিহিত আছে পূর্বসূরিদের অনুসরণে … আর সকল অকল্যাণ নিহিত আছে উত্তরসূরিদের নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহে

 

চতুর্থ দিক: এটি বলা যে, কোনো ব্যক্তির ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ না সে সাক্ষ্য প্রদানকে বাস্তবে রূপদান করে
(খণ্ড: ১) আররাদ্দু আলাল কাতিবিল মাফতূন (পৃষ্ঠা: ৩১)
بالرسالة وذلك بتحكيم رسول الله صلى الله عليه وسلم في مواضع الاختلاف والتمسك بسنته ولزوم متابعته وتقديم هديه على هدي غيره.

وقد روى عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعاً لما جئت به» قال النووي في الأربعين له، حديث صحيح رويناه في كتاب الحجة بإسناد صحيح. ثم قال في الكلام على هذا الحديث. يعني أن الشخص يجب عليه أن يعرض عمله على الكتاب والسنة ويخالف هواه ويتبع ما جاء به صلى الله عليه وسلم ، وهذا نظير قوله تعالى: {وما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله أمراً أن يكون لهم الخيرة من أمرهم} فليس لأحد مع الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم أمر ولا هوى انتهى.

وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية في بعض فتاويه: العبادات مبناها على الشرع والاتباع لا على الهوى والابتداع فإن الإسلام مبني على أصلين أحدهما: أن نعبد الله وحده لا شريك له.

والثاني: أن نعبده بما شرعه على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم لا نعبده بالأهواء والبدع، فليس لأحد أن يعبد الله إلا بما شرعه رسوله صلى الله عليه وسلم من واجب ومستحب ولا يعبده بالأمور المبتدعة انتهى.

وقال شيخ الإسلام أيضاً ولا ينبغي لأحد أن يخرج عما مضت به السنة وجاءت به الشريعة ودل عليه الكتاب والسنة وكان عليه سلف الأمة. وقال أيضاً من طلب بعبادته الرياء والسمعة فلم يحقق شهادة أن لا إله إلا الله، ومن خرج عما أمره به الرسول من الشريعة وتعبد بالبدعة فلم يحقق شهادة أن محمداً رسول الله وإنما يحقق هذين الأصلين من لم يعبد إلا الله ولم يخرج عن شريعة رسول الله صلى الله عليه وسلم التي بلغها عن الله انتهى المقصود من كلامه رحمه الله.
রিসালাতের প্রতি ঈমানের দাবি হলো—মতভেদের বিষয়গুলোতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করা, তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, তাঁর অনুসরণে অবিচল থাকা এবং অন্য যে কারো নির্দেশনার ওপর তাঁর হিদায়াত বা পথনির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার খেয়াল-খুশি আমার আনীত আদর্শের অনুসারী হয়।” ইমাম নববী তাঁর ‘আরবাঈন’ গ্রন্থে বলেছেন, এটি একটি সহীহ হাদীস; আমরা এটি ‘কিতাবুল হুজ্জাহ’ গ্রন্থে সহীহ সনদসহ বর্ণনা করেছি। অতঃপর তিনি এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ মানুষের জন্য আবশ্যক হলো তার আমলকে কুরআন ও সুন্নাহর কাছে পেশ করা, নিজের প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণ করা। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্তের ইখতিয়ার থাকে না।} সুতরাং মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের বিপরীতে কারো কোনো আদেশ বা খেয়াল-খুশির অবকাশ নেই। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর কোনো এক ফতোয়ায় বলেছেন: ইবাদতের ভিত্তি হলো শরীয়ত ও অনুসরণের ওপর, খেয়াল-খুশি ও বিদআতের ওপর নয়। কেননা ইসলাম দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত; যার প্রথমটি হলো: আমরা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করব, যাঁর কোনো অংশীদার নেই।

দ্বিতীয়টি হলো: আমরা তাঁর ইবাদত করব সেই পদ্ধতিতে যা তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে বিধিবদ্ধ করেছেন; আমরা নিজেদের খেয়াল-খুশি ও বিদআতের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করব না। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াজিব বা মুস্তাহাব হিসেবে যা বিধিবদ্ধ করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনোভাবে আল্লাহর ইবাদত করার অধিকার কারো নেই; এবং কোনো নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করা যাবে না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

শাইখুল ইসলাম আরও বলেন: সুন্নাহর চিরন্তন পথ, শরীয়তের বিধান, কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা এবং উম্মতের সালাফ বা পূর্বসূরিগণ যে পথের ওপর ছিলেন, তা থেকে বিচ্যুত হওয়া কারো জন্য সংগত নয়। তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি তার ইবাদতের মাধ্যমে লোকদেখানো মনোভাব বা সুখ্যাতি কামনা করল, সে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’—এই সাক্ষ্যের হাকীকত বাস্তবায়ন করল না। আর যে ব্যক্তি রাসূলের নির্দেশিত শরীয়ত থেকে বিচ্যুত হয়ে বিদআতের মাধ্যমে ইবাদত করল, সে ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল’—এই সাক্ষ্যের হাকীকত বাস্তবায়ন করল না। প্রকৃতপক্ষে এই দুটি মূলনীতি কেবল সেই ব্যক্তিই বাস্তবায়ন করে, যে আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করে না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে যে শরীয়ত পৌঁছে দিয়েছেন তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য থেকে উদ্দিষ্ট অংশ এখানেই সমাপ্ত।