(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: -)
الإيضاح والتبيين لما وقع فيه الأكثرون من مشابهة المشركين   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الإيضاح والتبيين لما وقع فيه الأكثرون من مشابهة المشركين

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الطبعة: الثانية، 1405 هـ

عدد الصفحات: 282

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1436

মুশরিকদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ যা লিপ্ত হয়েছে, তার স্পষ্টীকরণ ও বিশদ ব্যাখ্যা   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরি)

বিভাগ: দল-উপদল এবং খণ্ডন


কিতাব: মুশরিকদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ যা লিপ্ত হয়েছে, তার স্পষ্টীকরণ ও বিশদ ব্যাখ্যা

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজিরি (মৃ. ১৪১৩ হিজরি)

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮২

[কিতাবটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: -)
الإيضاح والتبيين لما وقع فيه الأكثرون من مشابهة المشركين

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المؤمنين
মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ লোক যে সকল বিষয়ে নিপতিত হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণ

 

গ্রন্থনায়

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরী

আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه، أما بعد: فقد اطلعت على هذا المؤلف الجليل الموسوم بـ (الإيضاح والتبيين لما وقع فيه الأكثرون من مشابهة المشركين) تأليف أخينا وصاحبنا الشيخ العلامة (حمود بن عبد الله التويجري) وسمعته بقراءة مؤلفه من أوله إلى آخره فألفيته عظيم الفوائد، كثير الفرائد، قد اشتمل على بيان جملة كبيرة من الأشياء التي شابه فيها الكثير من المسلمين أعداء الله من اليهود والنصارى والمجوس وسائر المشركين معززًا بالأدلة الواضحة من الكتاب والسنة، موشحًا بالكثير من كلام السلف الصالح وأئمة الإسلام في بيان الحق بدليله وتزييف الباطل وإقامة الحجة عليه، وفي التحقيق أني لا أعلم أنه ألف في منواله مثله مع وضوح العبارة والعناية بالأدلة والعلل المهمة والحكم الشرعية والأضرار الكثيرة الناجمة عن مشابهة المشركين، والاقتداء بهم المفضية إلى نسيان الكثير من السنة وطمس الكثير من أعلام الحق، ولا سيما في هذا العصر الذي قد استحكمت فيه غربة الإسلام وفشت فيه البدع والمنكرات، وقلَّ فيه العلم وغلب فيه الجهل وكثر فيه أنصار الهوى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাঁর অনুসারীদের ওপর। অতঃপর: আমি আমাদের ভ্রাতা ও সুহৃদ শায়খ আল্লামা হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরী রচিত ‘আল-ঈজাহ ওয়াত-তাবয়ীন লি-মা ওয়াকাআ ফিহিল আকসারুনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন’ (মুশরিকদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ যাতে লিপ্ত হয়েছে তার স্পষ্টীকরণ ও বিশদ বিবরণ) শীর্ষক এই মহান গ্রন্থটি আদ্যোপান্ত পর্যবেক্ষণ করেছি এবং গ্রন্থকারের কণ্ঠে তা আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত শ্রবণ করেছি। আমি একে অতীব কল্যাণকর এবং দুর্লভ জ্ঞানগর্ভ তথ্যে পরিপূর্ণ পেয়েছি। এতে এমন অনেক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যেগুলোতে অনেক মুসলিম আল্লাহর শত্রু—ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক ও অন্যান্য মুশরিকদের সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে। গ্রন্থটি কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলীল দ্বারা সুদৃঢ় এবং সালাফে সালেহীন ও ইসলামের ইমামগণের বহু বাণীতে সুশোভিত, যা দলীলসহ সত্য প্রকাশে, বাতিলকে খণ্ডন করতে এবং এর বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনে সহায়ক। বস্তুনিষ্ঠভাবে বলতে গেলে, প্রকাশভঙ্গির প্রাঞ্জলতা, দলীলের প্রতি গভীর মনোযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কারণসমূহ ও শারয়ি হিকমত এবং মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বন ও অনুকরণের ফলে উদ্ভূত বহুমুখী ক্ষতি—যা বহু সুন্নাহকে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে দেয় এবং সত্যের অনেক নিদর্শনকে বিলুপ্ত করে—এসব বিবেচনা করলে আমার জানামতে এই ধারায় এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। বিশেষত বর্তমান যুগে এর আবশ্যকতা অপরিসীম, যখন ইসলামের গুরবাত বা পরদেশি অবস্থা অত্যন্ত প্রকট হয়েছে, বিদআত ও অপকর্ম ছড়িয়ে পড়েছে, ইলম কমে গেছে, মূর্খতা জয়লাভ করেছে এবং প্রবৃত্তির অনুসারী ও সহায়কদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ৬)
وقل فيه اتباع الهدى، فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم. وأسأل الله أن ينفع المسلمين بهذا الكتاب العظيم، وأن يصلح قلوبهم وأعمالهم وأن يهدي قادتهم وينصر بهم الحق ويخذل بهم الباطل، وأن يضاعف الأجر للمؤلف ويزيده من العلم النافع والعمل الصالح، وأن يكلل جهوده بالصلاح والنجاح، وأن يكثر في المسلمين دعاة الهدى وأنصار الحق، وأن يجعلنا وإياه وسائر إخواننا من هذا الرعيل، إنه على كل شيء قدير وحسبنا الله ونعم الوكيل، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله محمد سيد ولد آدم وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهداه إلى يوم الدين والحمد لله رب العالمين.

أملاه الفقير إلى عفو ربه (عبد العزيز بن عبد الله بن باز) نائب رئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة [سابقًا] غفر الله له ولوالديه ولمشايخه ولسائر المسلمين آمين.
এবং এতে হিদায়াতের অনুসরণ খুবই নগণ্য; আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই মহান কিতাবের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন, তাদের অন্তর ও আমলসমূহ সংশোধন করে দেন, তাদের নেতৃবৃন্দকে হিদায়াত দান করেন, তাদের মাধ্যমে সত্যকে বিজয়ী করেন এবং বাতিলকে লাঞ্ছিত করেন। আরও প্রার্থনা করি যেন তিনি লেখকের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করেন এবং তাঁকে আরও উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল দান করেন। আল্লাহ যেন তাঁর প্রচেষ্টাকে কল্যাণ ও সাফল্যের মাধ্যমে পূর্ণতা দান করেন এবং মুসলিমদের মধ্যে হিদায়াতের আহ্বানকারী ও সত্যের সাহায্যকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দেন। তিনি যেন আমাদের, তাঁকে এবং আমাদের সকল ভাইকে এই পুণ্যবান দলের অন্তর্ভুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আদম সন্তানদের সরদার মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করবে তাদের ওপর। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করিয়েছেন তাঁর রবের ক্ষমার ভিখারি (আব্দুল আজীজ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায), মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের [সাবেক] উপাচার্য; আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে, তাঁর শিক্ষকগণকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। আমীন।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي هدى أولياءه إلى صراط مستقيم، ووفقهم لمخالفة أصحاب الجحيم. فضلا منه ونعمة والله ذو الفضل العظيم. أحمده سبحانه على فضله العميم. وأشكره وهو المستحق للحمد والشكر والتعظيم. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له يهدي من يشاء ويضل من يشاء وهو العزيز الحكيم. وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله وخليله المصطفى الكريم. الذي حذَّر أمته من مشابهة الكفار وأخبر أن هديه مخالف لهديهم الذميم. صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم على الدين القويم. وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد: فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أخبر عن هذه الأمة أنها تتبع سنن اليهود والنصارى والمجوس، وأكد ذلك بالقسم عليه تحقيقًا لوقوعه والأحاديث في ذلك كثيرة.

الأول: منها ما في الصحيحين عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لتتبعن سنن من كان قبلكم شبرًا شبرًا وذراعًا ذراعًا حتى لو دخلوا جحر ضب لتبعتموهم، قلنا يا رسول الله اليهود والنصارى، قال: فمن؟».

قال النووي: السنن بفتح السين والنون وهو الطريق. وقال ابن حجر العسقلاني بفتح السين للأكثر، وقال ابن التين: قرأناه بضمها، وقال
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রিয়জনদের সরল পথ প্রদর্শন করেছেন এবং জাহান্নামবাসীদের বিরোধিতা করার তাওফিক দান করেছেন। এটি তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও নেয়ামত, আর আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী। আমি তাঁর সুমহান অনুগ্রহের জন্য তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আর তিনিই একমাত্র প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও মহত্ত্বের যোগ্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন; তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা, রাসূল এবং তাঁর মনোনীত প্রিয় বন্ধু। তিনি তাঁর উম্মতকে কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর আদর্শ তাদের নিন্দনীয় আদর্শের বিপরীত। আল্লাহর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে এই সুদৃঢ় দ্বীন অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

অতঃপর: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি সুপ্রমাণিত যে, তিনি এই উম্মত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা ইহুদি, নাসারা ও অগ্নিপূজকদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে। তিনি শপথের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাতে এর বাস্তবতা প্রমাণিত হয়। এ বিষয়ে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

প্রথমত: সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত-বিঘত এবং হাত-হাত (অক্ষরে অক্ষরে) অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।" আমরা আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদি ও নাসারাদের কথা বলছেন কি?" তিনি বললেন, "তবে আর কার?"

ইমাম নববী (রহ.) বলেন: 'সুনান' শব্দটি সীন ও নূন অক্ষরে ফাতাহ (যবর) যোগে পঠিত, যার অর্থ হলো পথ বা পদ্ধতি। ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, অধিকাংশের মতে এটি সীন অক্ষরে ফাতাহ যোগে পঠিত। ইবনুত তীন (রহ.) বলেন, আমরা এটি সীন অক্ষরে যম্মাহ (পেশ) যোগে পড়েছি। তিনি আরও বলেন...
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ৮)
المهلب: بالفتح أولى؛ لأنه الذي يستعمل فيه الذراع والشبر وهو الطريق، قال ابن حجر وليس اللفظ الأخير ببعيد من ذلك انتهى. قال عياض الشبر والذراع والطريق ودخول الجحر تمثيل للاقتداء بهم في كل شيء مما نهى الشرع عنه وذمه. وكذا قال النووي. قال وفي هذا معجزة ظاهرة لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقد وقع ما أخبر به. وقال ابن حجر قد وقع معظم ما أنذر به صلى الله عليه وسلم وسيقع بقية ذلك انتهى.

الحديث الثاني: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا تقوم الساعة حتى تأخذ أمتي بأخذ القرون قبلها شبرا بشبر وذراعًا بذراع. فقيل: يا رسول الله كفارس والروم، فقال: ومن الناس إلا أولئك؟» رواه البخاري بهذا اللفظ. ورواه ابن ماجه ولفظه: «لتتبعن سنن من كان قبلكم باعًا بباع وذراعًا بذراع وشبرا بشبر حتى لو دخلوا في جحر ضب لدخلتم فيه. قالوا: يا رسول الله اليهود والنصارى، قال: فمن إذًا؟!». ورواه الحاكم في مستدركه بنحو رواية ابن ماجه ثم قال: صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه بهذا اللفظ ووافقه الذهبي في تلخيصه.

قال ابن حجر في فتح الباري الأخذ بفتح الألف وسكون الخاء على الأشهر هو السيرة يقال أخذ فلان بأخذ فلان أي سار بسيرته وما أخذ أخذه أي ما فعل فعله وما قصد قصده انتهى.

الحديث الثالث: عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لتتبعن سنن من كان قبلكم شبرا بشبر وذراعًا بذراع وباعًا بباع حتى لو دخلوا جحر ضب لدخلتموه قالوا من يا رسول الله اليهود والنصارى، قال: فمن إلا هم؟» رواه محمد بن نصر المروزي في كتاب السنة وإسناده جيد.
আল-মুহাল্লাব বলেন: ফাতহা সহকারে উচ্চারণ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত; কারণ এর মাধ্যমেই হাত এবং বিঘাতের পরিমাপ ব্যবহৃত হয় এবং এটিই হলো পথ। ইবনে হাজার বলেন যে, শেষোক্ত শব্দটিও এর থেকে খুব একটা দূরে নয়। কাজী ইয়াদ বলেন: বিঘাত, হাত ও পথের উল্লেখ করা এবং গর্তে প্রবেশ করা—এগুলো মূলত শরীয়তে নিষিদ্ধ এবং নিন্দিত প্রতিটি বিষয়ে তাদের অন্ধ অনুসরণের উপমা হিসেবে পেশ করা হয়েছে। ইমাম নববীও অনুরূপ বলেছেন। তিনি আরও বলেন: এর মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সুস্পষ্ট মুজিজা বিদ্যমান, কেননা তিনি যা সংবাদ দিয়েছিলেন তা বাস্তবে সংঘটিত হয়েছে। ইবনে হাজার বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা যা সতর্ক করেছিলেন তার অধিকাংশ ইতিমধ্যেই সংঘটিত হয়েছে এবং অবশিষ্টাংশ ভবিষ্যতে ঘটবে।

দ্বিতীয় হাদীস: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না আমার উম্মত পূর্ববর্তী জাতিসমূহের আদর্শকে বিঘত বিঘত এবং হাত হাত হিসেবে হুবহু গ্রহণ করবে।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, পারস্য ও রোমের মতো? তিনি বললেন: "মানুষের মধ্যে তারা ছাড়া আর কারা আছে?" ইমাম বুখারী এই শব্দেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দগুলো হলো: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত, হাত হাত এবং বাহু বাহু অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি কোনো গোসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।" তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কি ইয়াহূদী ও নাসারা? তিনি বললেন: "তবে আর কারা?!" আল-হাকিম তার 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ, যদিও তাঁরা এই শব্দে এটি বর্ণনা করেননি। ইমাম যাহাবীও তার 'তালখিস' গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বলেন: প্রসিদ্ধ মতানুসারে 'আল-আখজ' শব্দটি আলিফে ফাতহা এবং খা-তে সুকুন সহযোগে গঠিত, যার অর্থ হলো জীবনপদ্ধতি বা সীরাত। বলা হয়ে থাকে 'অমুক ব্যক্তি অমুকের আদর্শ গ্রহণ করেছে' অর্থাৎ সে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। আর 'সে তার পথ ধরেনি' অর্থ হলো সে তার মতো কাজ করেনি বা তার লক্ষ্য অনুসরণ করেনি।

তৃতীয় হাদীস: আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত, হাত হাত এবং বাহু বাহু অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি কোনো গোসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? ইয়াহূদী ও নাসারা? তিনি বললেন: "তারা ছাড়া আর কারা?" মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী এটি 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ উত্তম।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ৯)
الحديث الرابع: عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لتركبن سنن من كان قبلكم شبرا بشبر وذارعًا بذارع وباعًا بباع حتى لو أن أحدهم دخل جحر ضب لدخلتم وحتى لو أن أحدهم جامع امرأته بالطريق لفعلتموه» رواه محمد بن نصر المروزي والبزار بأسانيد جيدة والحاكم في مستدركه وصححه ووافقه الذهبي في تلخيصه.

الحديث الخامس: عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليأتين على أمتي ما أتى على بني إسرائيل حذو النعل بالنعل حتى إن كان منهم من أتى أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك» رواه الترمذي، وقال: هذا حديث حسن غريب، وقد رواه محمد بن نصر المروزي في كتاب السنة بنحوه مختصرًا، وإسناده حسن.

الحديث السادس: عن كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف المزني عن أبيه عن جده رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لتسلكن سنن الذين من قبلكم حذو النعل بالنعل ولتأخذن مثل مأخذهم إن شبرا فشبر وإن ذراعًا فذراع وإن باعًا فباع حتى لو دخلوا جحر ضب لدخلتم فيه» رواه محمد بن نصر المروزي في كتاب السنة وأبو بكر الآجري في كتاب الشريعة.

الحديث السابع: عن شداد بن أوس رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لتحملن شرار هذه الأمة على سنن الذين خلوا من قبلهم حذو القذة بالقذة» رواه أبو داود الطيالسي في مسنده ومحمد بن نصر في كتاب السنة وأبو بكر الآجري في كتاب الشريعة.

الحديث الثامن: عن أبي واقد الليثي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «والذي نفسي بيده لتركبن سنة من كان قبلكم». رواه
চতুর্থ হাদিস: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে—প্রতিটি বিঘত, প্রতিটি হাত এবং প্রতিটি কদম অনুসরণ করে। এমনকি তাদের কেউ যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। এমনকি তাদের কেউ যদি রাস্তার মাঝে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে থাকে, তবে তোমরাও তা-ই করবে»। এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী এবং আল-বাযযার উত্তম সনদে, এবং আল-হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করে একে সহীহ বলেছেন এবং আয-যাহাবী তাঁর তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

পঞ্চম হাদিস: আবদুল্লাহ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের উপর অবশ্যই তা আসবে যা বনী ইসরাঈলের উপর এসেছিল, এক জোড়া জুতার সদৃশ হয়ে। এমনকি তাদের মধ্যে যদি কেউ প্রকাশ্যে স্বীয় মাতার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন কেউ থাকবে যে তা করবে»। এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদিস। মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী তাঁর কিতাবুস সুন্নাহ গ্রন্থে সংক্ষেপে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান।

ষষ্ঠ হাদিস: কাসীর বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আওফ আল-মুযানী তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে এক জোড়া জুতার সদৃশ হয়ে এবং তোমরা অবশ্যই তাদের মতো পথ অবলম্বন করবে—বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে এবং কদমে কদমে। এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে»। এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী কিতাবুস সুন্নাহ গ্রন্থে এবং আবু বকর আল-আজুররী কিতাবুল শারিয়াহ গ্রন্থে।

সপ্তম হাদিস: শাদ্দাদ বিন আওস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এই উম্মতের মন্দ লোকেরা অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি ধারণ করবে, তীরের এক পালকের সাথে অন্য পালকের সদৃশ হয়ে»। এটি আবু দাউদ আত-তায়ালিসি তাঁর মুসনাদে, মুহাম্মদ বিন নাসর কিতাবুস সুন্নাহ গ্রন্থে এবং আবু বকর আল-আজুররী কিতাবুল শারিয়াহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

অষ্টম হাদিস: আবু ওয়াকিদ আল-লাইসী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে»। এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১০)
الترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح. ورواه أبو داود الطيالسي في مسنده ولفظه: «إنكم ستركبون سنن من كان قبلكم»، ورواه محمد بن نصر المروزي في كتاب السنة بنحوه وأسانيده كلها جيدة.

الحديث التاسع: عن المستورد بن شداد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تترك هذه الأمة شيئًا من سنن الأولين حتى تأتيه» رواه الطبراني.

الحديث العاشر: عن حذيفة رضي الله عنه أنه قال: «لتتبعن أمر من كان قبلكم حذو النعل بالنعل لا تخطئون طريقتهم ولا تخطئكم» رواه أبو بكر الآجري في كتاب الشريعة بهذا اللفظ، ورواه الحاكم في مستدركه ولفظه: «لتسلكن طريق من كان قبلكم حذو القذة بالقذة وحذو النعل بالنعل لا تخطئون طريقتهم ولا تخطئكم» قال الحاكم: صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه، وهذا الأثر له حكم المرفوع لأنه إخبار عن أمر غيبي فلا يقال إلا عن توقيف، وقد قال الله تعالى: {كَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالاً وَأَوْلادًا فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِخَلاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَالَّذِي خَاضُوا أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ}.

وروى ابن جريج عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لتأخذنَّ كما أخذت الأمم من قبلكم ذراعًا بذراع وشبرًا بشبر وباعًا بباع حتى لو أن أحدًا من أولئك دخل جحر ضب لدخلتموه» قال أبو هريرة رضي الله عنه اقرءوا إن شئتم: {كَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً} الآية. قالوا: يا رسول الله كما صنعت فارس والروم؟ قال: «فهل الناس إلا
তিরমিযী এবং তিনি বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।" মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী এটি কিতাবুস সুন্নাহ-তে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সকল সনদই উত্তম।

নবম হাদীস: মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মত পূর্ববর্তীদের রীতিনীতির কোনো কিছুই বাদ দেবে না যতক্ষণ না তারা তাতে উপনীত হবে।" এটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন।

দশম হাদীস: হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক হুবহু অনুসরণ করবে, এক জোড়া জুতার একটির সাথে অন্যটির যেমন সামঞ্জস্য থাকে; তোমরা তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না আর তারাও তোমাদের ছাড়বে না।" আবু বকর আল-আজুরী কিতাবুশ শারীয়াহ-তে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথে চলবে, তীরের পালকের সাথে পালকের এবং জুতার সাথে জুতার সামঞ্জস্যের মতো; তোমরা তাদের পথ থেকে বিচ্যুত হবে না আর তারাও তোমাদের ছাড়বে না।" হাকেম বলেছেন: এর সনদ সহীহ কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি উদ্ধৃত করেননি এবং যাহাবী তাঁর তালখীস-এ এর সাথে একমত হয়েছেন। আর এই বর্ণনাটি 'মারফূ' হাদীসের হুকুম রাখে, কারণ এটি একটি অদৃশ্যের সংবাদ যা কেবল প্রত্যাদেশ ব্যতিরেকে বলা সম্ভব নয়। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো, যারা তোমাদের চেয়ে শক্তিতে অধিক প্রবল এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অধিক প্রাচুর্যশালী ছিল; অতঃপর তারা তাদের অংশ ভোগ করে নিয়েছে, আর তোমরাও তোমাদের অংশ ভোগ করে নিলে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অংশ ভোগ করেছিল। আর তোমরাও সেই অনর্থক আলোচনায় লিপ্ত হয়েছ যেরূপ তারা লিপ্ত হয়েছিল। এরাই তারা, দুনিয়া ও আখেরাতে যাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে এবং এরাই ক্ষতিগ্রস্ত।}

আর ইবনে জুরাইজ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে হাত-পরিমাপে হাত, বিঘত-পরিমাপে বিঘত এবং বাহু-পরিমাপে বাহু দিয়ে; এমনকি তাদের কেউ যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।" আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তোমরা চাইলে পড়ো: {তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো, যারা তোমাদের চেয়ে শক্তিতে প্রবল ছিল...} আয়াতাংশ। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! পারস্য ও রোম যেমন করেছিল তেমন? তিনি বললেন: "মানুষ তো তারাই ছাড়া আর কারা?"
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১১)
هم؟» وروى ابن جريج أيضا عن عمر بن عطاء عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى: {كَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ} الآية قال ابن عباس رضي الله عنهما: «ما أشبه الليلة بالبارحة {كَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ} هؤلاء بنو إسرائيل شبهنا بهم» لا أعلم إلا أنه قال: «والذين نفسي بيده لتتبعنهم حتى لو دخل الرجل منهم جحر ضب لدخلتموه».

وروى محمد بن نصر المروزي في كتاب السنة بإسناد جيد عن سعيد ابن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «لم يكن في بني إسرائيل شيء إلا كائن فيكم».

وذكر البغوي في تفسيره عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «أنتم أشبه الأمم ببني إسرائيل سمتا وهديا تتبعون عملهم حذو القذة بالقذة غير أني لا أدري أتعبدون العجل أم لا؟». وروى محمد بن نصر المروزي في كتاب السنة عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «إن أشبه الناس سمتا وهيئة ببني إسرائيل أنتم تتبعون آثارهم حذو القذة بالقذة لا يكون فيهم شيء إلا كان فيكم مثله». وروى محمد بن نصر أيضًا عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «أنتم أشبه الناس ببني إسرائيل والله لا تدعون شيئًا عملوه إلا عملتموه، ولا كان فيهم شيء إلا سيكون فيكم مثله» فقال رجل أيكون فينا مثل قوم لوط؟ فقال: «نعم. ممن أسلم وعرف نسبه»، وروى محمد بن نصر أيضًا عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه أنه قال: «والله ما من شيء كان ممن قبلكم إلا سيكون فيكم».

وروى محمد بن نصر أيضًا عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه قال: «لتركبن سنة من كان قبلكم حلوها ومرّها» وروى محمد بن نصر أيضًا عن همام بن الحارث قال: كنا عند حذيفة رضي الله عنه فذكروا {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} فقال رجل من القوم إنما
তারা কি?» ইবনে জুরাইজ আরও বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আতা থেকে, তিনি ইকরামা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো} আয়াতাংশ প্রসঙ্গে। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: «গতকালের সাথে আজকের রাত কতই না সদৃশ! {তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো}—এরা হলো বনী ইসরাঈল, যাদের সাথে আমাদের তুলনা করা হয়েছে।» আমি কেবল এতটুকুই জানি যে তিনি বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই তাদের অনুসরণ করবে, এমনকি তাদের কেউ যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।»

মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী তাঁর 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে উত্তম সনদে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন কিছুই ছিল না যা তোমাদের মাঝে ঘটবে না।»

ইমাম বাগভী তাঁর তাফসীরে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: «আচরণ ও পথনির্দেশনার দিক থেকে তোমরাই উম্মতদের মধ্যে বনী ইসরাঈলের সবচেয়ে বেশি সদৃশ; তোমরা পা ফেলায় পা ফেলে হুবহু তাদের কর্মের অনুসরণ করছ, তবে আমি জানি না তোমরা বাছুর পূজা করবে কি না?।» মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «আচরণ ও আকৃতির দিক থেকে মানুষের মধ্যে তোমরাই বনী ইসরাঈলের সবচেয়ে বেশি সদৃশ। তোমরা পা ফেলায় পা ফেলে হুবহু তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছ। তাদের মধ্যে এমন কিছুই ছিল না যার অনুরূপ তোমাদের মাঝেও হবে না।» মুহাম্মদ ইবনে নাসর আরও আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «তোমরাই মানুষের মধ্যে বনী ইসরাঈলের সবচেয়ে বেশি সদৃশ। আল্লাহর শপথ, তারা যা যা করেছে তার কিছুই তোমরা ছাড়বে না বরং তোমরাও তা করবে। আর তাদের মাঝে এমন কিছু ছিল না যা তোমাদের মাঝেও হবে না।» তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, আমাদের মাঝে কি কওমে লূতের মতো কাজও হবে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, তাদের মাঝেও যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং যাদের বংশপরিচয় জানা আছে», মুহাম্মদ ইবনে নাসর আরও উবাদা ইবনে সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «আল্লাহর শপথ, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে যা কিছু ছিল, তার কিছুই বাকি থাকবে না যা তোমাদের মাঝে ঘটবে না।»

মুহাম্মদ ইবনে নাসর আরও আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে—তা মিষ্টি হোক বা তিক্ত।» মুহাম্মদ ইবনে নাসর আরও হাম্মাম ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ছিলাম, তখন তারা {আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেই অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির} আয়াতটি আলোচনা করলেন। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল, এটি তো কেবল...
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১২)
هذا في بني إسرائيل فقال حذيفة رضي الله عنه: «نعم الإخوة لكم بنو إسرائيل إن كان لكم الحلو ولهم المر كلا والذي نفسي بيده حتى تحذى السنة بالسنة حذو القذة بالقذة».

 

فصل

 

وقد وقع ما أخبر به الصادق المصدوق صلوات الله وسلامه عليه من اتباع أمته لسنن أعداء الله تعالى حذو القذة بالقذة، ولا سيما في زماننا هذا فإنه لم يبق شيء مما يفعله اليهود والنصارى والمجوس وغيرهم من أعداء الله تعالى إلا ويفعل مثله في كثير من الأقطار الإسلامية، وقد تضمن إخباره صلى الله عليه وسلم بذلك تحذير المؤمنين عن سلوك مسالك العصاة المتشبهين بأعداء الله تعالى فإن من تشبه بهم حتى يموت وهو كذلك حشر معهم.

لما روى البيهقي بإسناد صحيح عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: «من بنى ببلاد الأعاجم وصنع نيروزهم ومهرجانهم وتشبه بهم حتى يموت وهو كذلك حشر معهم يوم القيامة».

قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى: وهذا يقتضي أنه جعله كافرًا بمشاركتهم في مجموع هذه الأمور، أو جعل ذلك من الكبائر الموجبة للنار وإن كان الأول ظاهر لفظه، فتكون المشاركة في بعض ذلك معصية لأنه لو لم يكن مؤثرًا في استحقاق العقوبة لم يجز جعله جزءًا من المقتضي إذ المباح لا يعاقب عليه وليس الذم على بعض ذلك مشروطًا ببعض؛ لأن أبعاض ما ذكره تقتضي الذم مفردًا انتهى.
এটি বনী ইসরাঈল সম্পর্কে। তখন হুযায়ফা (রা.) বললেন: “বনী ইসরাঈল তোমাদের কতই না চমৎকার ভাই হবে যদি মিষ্ট অংশ তোমাদের জন্য থাকে আর তিক্ত অংশ তাদের জন্য! কক্ষনই নয়, সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি হুবহু অনুসরণ করবে, যেমন তীরের এক পালকের সাথে অন্য পালক হুবহু মিলে যায়।”

 

পরিচ্ছেদ

 

সাদিক আল-মাসদুক (সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত নবী) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মত কর্তৃক আল্লাহর শত্রুদের রীতিনীতি হুবহু অনুসরণের যে সংবাদ দিয়েছিলেন, তা বাস্তবে সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সময়ে ইহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক এবং আল্লাহর অন্যান্য শত্রুরা যা কিছু করে, তার এমন কিছুই বাকি নেই যা অনেক মুসলিম জনপদে তাদের অনুকরণে করা হচ্ছে না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই সংবাদ প্রদানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুমিনদের সেই সব পাপাচারীদের পথ অবলম্বন করা থেকে সতর্ক করা, যারা আল্লাহর শত্রুদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে। কেননা, যে ব্যক্তি তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে এবং সেই অবস্থায় মৃত্যু পর্যন্ত অটল থাকে, তার হাশর তাদের সাথেই হবে।

যেমন বায়হাকী একটি সহীহ সনদে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “যে ব্যক্তি অনারবদের দেশে বসবাস করল এবং তাদের নওরোজ ও মেহেরজান (উৎসব) পালন করল এবং তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করল এবং এই অবস্থায় তার মৃত্যু হলো, কিয়ামতের দিন তাদের সাথেই তার হাশর হবে।”

শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: এর দাবি হলো— এই সব বিষয়ের সামগ্রিক অংশগ্রহণের কারণে তিনি তাকে কাফির গণ্য করেছেন, অথবা একে জাহান্নাম অবধারিতকারী কবিরা গুনাহ সাব্যস্ত করেছেন, যদিও শব্দের বাহ্যিক অর্থ থেকে প্রথমটিই প্রতীয়মান হয়। সুতরাং এর আংশিক অংশগ্রহণও একটি পাপ হিসেবে গণ্য হবে; কারণ যদি এটি শাস্তির যোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব না রাখত, তবে একে শাস্তির কারণের অংশ করা বৈধ হতো না। যেহেতু কোনো বৈধ কাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হয় না এবং এসব কাজের কোনোটির নিন্দা অন্যটির ওপর শর্তযুক্ত নয়; কেননা তিনি যা যা উল্লেখ করেছেন তার প্রত্যেকটি অংশই পৃথকভাবে নিন্দার দাবি রাখে। ইতি।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويشهد لما قاله عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قول الله تعالى: {احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ} الآية. قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه في قوله: وأزواجهم قال أشباههم، وكذا قال ابن عباس والنعمان بن بشير رضي الله عنهم يعني بأزواجهم أشباههم وأمثالهم.

وقال قتادة والكلبي كل من عمل مثل عملهم.

وقال الراغب الأصفهاني أي أقرانهم المقتدين بهم في أفعالهم.

وقال الله تعالى: {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} قال ابن كثير أي جمع كل شكل إلى نظيره.

وروى ابن أبي حاتم عن النعمان بن بشير رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} قال: «الضرباء كل رجل مع كل قوم كانوا يعملون عمله».

وروى ابن أبي حاتم أيضا عن النعمان بن بشير رضي الله عنهما أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه خطب الناس فقرأ {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} فقال: «تزوجها أن تؤلف كل شيعة إلى شيعتهم».

وفي رواية قال: «هما الرجلان يعملان العمل فيدخلان به الجنة أو النار»، وقال مجاهد: {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} قال: الأمثال من الناس جمع بينهم، قال ابن كثير وكذا قال الربيع بن خثيم والحسن وقتادة. واختاره ابن جرير وهو الصحيح.

 

فصل

وقد جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يتعوذ من بلوغ الزمان الذي يشتبه فيه المسلمون بالأعاجم ويعوذ أصحابه من بلوغه.
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যা বলেছেন, আল্লাহ তাআলার এই বাণী তার সাক্ষ্য দেয়: “যারা জুলুম করেছে এবং তাদের সহচরদের একত্র করো” (সুরা সাফফাত: ২২)। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ‘তাদের সহচরদের’ ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ তাদের সদৃশ ব্যক্তিদের। একইভাবে ইবনে আব্বাস ও নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বলেছেন যে, ‘সহচর’ অর্থ হলো তাদের সদৃশ ও সমশ্রেণীয় লোক।

কাতাদাহ ও কালবী বলেন: যারা তাদের মতো কাজ করেছে তারা সবাই এর অন্তর্ভুক্ত।

রাগিব আল-আসফাহানী বলেন: অর্থাৎ তাদের সেই সব সঙ্গী, যারা তাদের কর্মে তাদের অনুসরণ করত।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: “আর যখন প্রাণসমূহকে জোড়া লাগানো হবে” (সুরা তাকভীর: ৭)। ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ প্রত্যেক প্রকারের মানুষকে তার সমজাতীয়দের সাথে একত্রিত করা হবে।

ইবনে আবী হাতিম নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘যখন প্রাণসমূহকে জোড়া লাগানো হবে’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: “তারা হলো সমশ্রেণীয় লোক; প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেই সম্প্রদায়ের সাথে রাখা হবে যারা তার মতো আমল করত।”

ইবনে আবী হাতিম আরও বর্ণনা করেন নুমান ইবনে বশীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় ‘যখন প্রাণসমূহকে জোড়া লাগানো হবে’ আয়াতটি পাঠ করেন এবং বলেন: “তাদের জোড়া লাগানোর অর্থ হলো প্রতিটি দলকে তাদের স্বজাতীয় দলের সাথে মিলিয়ে দেওয়া।”

অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: “তারা হলো সেই ব্যক্তিরা যারা একই ধরনের আমল করে, ফলে তারা তার মাধ্যমে জান্নাতে বা জাহান্নামে প্রবেশ করে।” মুজাহিদ ‘যখন প্রাণসমূহকে জোড়া লাগানো হবে’ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: মানুষের মধ্যে যারা একে অপরের সদৃশ, তাদের একত্র করা হবে। ইবনে কাসীর বলেন: রবী বিন খুসাইম, হাসান এবং কাতাদাহও অনুরূপ বলেছেন। ইবনে জারীর একেই গ্রহণ করেছেন এবং এটিই সঠিক মত।

 

পরিচ্ছেদ

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এমন যুগে পৌঁছানো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, যেখানে মুসলিমরা বিজাতীয়দের সদৃশ হয়ে যাবে; এবং তিনি তাঁর সাহাবীদেরকেও সেই যুগে পৌঁছানো থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে রাখতেন।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ففي المسند من حديث سهل بن سعد الساعدي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اللهم لا يدركني زمان أو لا تدركوا زمانًا لا يتبع فيه العليم ولا يستحيا فيه من الحليم قلوبهم قلوب الأعاجم وألسنتهم ألسنة العرب».

وفي مستدرك الحاكم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اللهم لا يدركني زمان أو لا أدرك زمان قوم لا يتبعون العليم ولا يستحيون من الحليم قلوبهم قلوب الأعاجم وألسنتهم ألسنة العرب». قال الحاكم: صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه.

قال المناوي في شرح الجامع الصغير قلوبهم قلوب الأعاجم أي بعيدة من الخلاق مملوءة من الرياء والنفاق، وألسنتهم ألسنة العرب متشدقون متفصحون متفيهقون يتلونون في المذاهب ويروغون كالثعالب.

قال الأحنف لأن أبتلى بألف جموح لجوج أحب إلي من أن ابتلى بمتلون. قال والمعنى اللهم لا تحيني ولا أصحابي إلى زمن يكون فيه ذلك انتهى. وهذان الحديثان مطابقان لحال الأكثرين من زماننا فإنهم لا يتبعون العليم ولا يستحيون من الحليم. «إن يتبعون إلا الظن وما تهوى الأنفس». ويطيعون المغوين ويعصون المرشدين، وليس معهم من مكارم الأخلاق ومحاسن الشيم ما يحملهم على الحياء. ويمنعهم من تعاطي ما يدنس ويشين عند ذوي الأحلام والنهى.

وإنما شبه قلوبهم بقلوب الأعاجم لقلة فقههم في الدين، وانحرافهم عن المرواءات العربية وتخلقهم بأخلاق الأعاجم من طوائف الإفرنج وغيرهم من أعداء الله تعالى وشدة ميلهم إلى مشابهتهم في الزي الظاهر واتباع سننهم حذو القذة بالقذة.

মুসনাদে আহমাদে সাহল বিন সা’দ আস-সা’ঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আল্লাহ! এমন সময় যেন আমাকে না পায় অথবা তোমরা এমন সময় না পাও, যাতে বিজ্ঞ ব্যক্তিকে অনুসরণ করা হবে না এবং সহনশীল ব্যক্তিকে লজ্জা করা হবে না। তাদের অন্তর হবে অনারবদের অন্তর এবং তাদের জিহ্বা হবে আরবদের জিহ্বা।»

হাকেমের মুস্তাদরাকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আল্লাহ! এমন সময় যেন আমাকে না পায় অথবা আমি যেন এমন এক সম্প্রদায়ের সময় না পাই যারা বিজ্ঞ ব্যক্তিকে অনুসরণ করে না এবং সহনশীল ব্যক্তির প্রতি লজ্জাবোধ করে না। তাদের অন্তর হবে অনারবদের অন্তর এবং তাদের জিহ্বা হবে আরবদের জিহ্বা।» ইমাম হাকেম বলেছেন: এটি সহীহুল ইসনাদ বা শক্তিশালী সূত্রবিশিষ্ট, তবে বুখারী ও মুসলিম তা বর্ণনা করেননি এবং ইমাম যাহাবী তাঁর ‘তালখিস’ গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আল-মানাবী ‘শারহুল জামিউস সাগীর’-এ বলেছেন: «তাদের অন্তর অনারবদের অন্তর» অর্থাৎ তা সৎগুণাবলী থেকে বহু দূরে এবং রিয়া ও নিফাকে (কপটতা) পরিপূর্ণ। আর «তাদের জিহ্বা আরবদের জিহ্বা» অর্থাৎ তারা অত্যন্ত বাকপটু, বাগ্মী ও দাম্ভিক বক্তা; তারা বিভিন্ন মতাদর্শের ক্ষেত্রে বহুরূপী এবং শিয়ালের মতো ধূর্তামি করে বেড়ায়।

আহনাফ বলেছেন: «হাজারো অবাধ্য ও একগুঁয়ে মানুষের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়া আমার কাছে একজন বহুরূপী মানুষের দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়।» তিনি আরও বলেছেন, এর অর্থ হলো: «হে আল্লাহ! আমাকে এবং আমার সঙ্গীদেরকে এমন সময় পর্যন্ত জীবিত রাখবেন না যাতে ওই অবস্থার সৃষ্টি হয়—বক্তব্য সমাপ্ত।» আর এই হাদীস দুটি আমাদের বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষের অবস্থার সাথে হুবহু মিলে যায়; কেননা তারা বিজ্ঞ বা আলেমদের অনুসরণ করে না এবং সহনশীল বা ধৈর্যশীলদের প্রতি লজ্জাবোধ করে না। «তারা কেবল ধারণা এবং নিজেদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে।» তারা বিভ্রান্তিকারীদের আনুগত্য করে এবং পথপ্রদর্শকদের অবাধ্য হয়। তাদের মধ্যে এমন কোনো মহৎ চরিত্র বা প্রশংসনীয় স্বভাব অবশিষ্ট নেই যা তাদেরকে লজ্জাবোধ করতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবানদের দৃষ্টিতে যা কলঙ্কজনক ও নিন্দনীয় তা থেকে বিরত রাখবে।

মূলত তাদের অন্তরকে অনারবদের অন্তরের সাথে তুলনা করা হয়েছে দ্বীনের ব্যাপারে তাদের প্রজ্ঞার স্বল্পতা, আরবীয় বীরত্ব ও নৈতিকতা থেকে বিচ্যুতি এবং আল্লাহ তাআলার শত্রু তথা ফিরিঙ্গি ও অন্যান্য অনারব গোষ্ঠীর স্বভাব-চরিত্র গ্রহণ করার কারণে। সেই সাথে বাহ্যিক পোশাকে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনের প্রতি তীব্র আসক্তি এবং প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের রীতিনীতি অন্ধভাবে অনুসরণ করার কারণে এমনটি বলা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
والمشابهة في الظاهر إنما تنشأ من تقارب القلوب وتشابهها. قال الله تعالى: {كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ} الآية.

وقد عظمت البلوى بداء المشابهة في زماننا وعمت جميع الأقطار الإسلامية ولم ينج منها إلا القليل من الناس. فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

 

فصل

وقد كان هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم مخالفًا لهدي المشركين كما في مستدرك الحاكم من حديث ابن جريج عن محمد بن قيس بن مخرمة عن المسور بن مخرمة رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «هدينا مخالف لهديهم» يعني المشركين.

قال الحاكم: صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي في تلخيصه.

وقد رواه الشافعي في مسنده من حديث ابن جريج عن محمد بن قيس ابن مخرمة مرسلاً. ولفظه: «هدينا مخالف لهدي أهل الأوثان والشرك».

وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من عدة أوجه أنه كان يأمر بمخالفة أعداء الله تعالى وينهى عن التشبه بهم.

فمن ذلك ما في الصحيحين ومسند الإمام أحمد وجامع الترمذي وسنن النسائي عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خالفوا المشركين وفروا اللحى وأحفوا الشوارب».
বাহ্যিক সাদৃশ্য মূলত অন্তরের নৈকট্য এবং তাদের মধ্যকার সাদৃশ্য থেকেই উৎপন্ন হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা তাদের কথার মতোই কথা বলেছিল; তাদের অন্তরসমূহ সদৃশ হয়ে গেছে।” (আল-আয়াত)।

বর্তমান সময়ে অনুকরণের এই ব্যাধি এক ভয়াবহ বিপদে রূপ নিয়েছে এবং তা সমস্ত মুসলিম ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে; হাতেগোনা অল্প কিছু মানুষ ছাড়া কেউ এর থেকে রেহাই পায়নি। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

 

পরিচ্ছেদ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ মুশরিকদের আদর্শের বিপরীত ছিল, যেমনটি হাকেম-এর মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইবনে জুরাইজ-এর সূত্রে মুহাম্মদ বিন কাইস বিন মাখরামা থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “আমাদের আদর্শ তাদের (অর্থাৎ মুশরিকদের) আদর্শের বিপরীত।”

ইমাম হাকেম বলেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ, তবে তারা তা বর্ণনা করেননি; এবং ইমাম যাহাবি তাঁর ‘তালখিস’ গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইমাম শাফিঈ তাঁর মুসনাদে ইবনে জুরাইজের সূত্রে মুহাম্মদ বিন কাইস বিন মাখরামা থেকে এটি ‘মুরসাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দমালা হলো: “আমাদের আদর্শ মূর্তিপূজারি ও শিরকপন্থীদের আদর্শের পরিপন্থী।”

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, তিনি আল্লাহর শত্রুদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিতেন এবং তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করতেন।

এরই উদাহরণ হিসেবে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম), মুসনাদে ইমাম আহমদ, জামে তিরমিযি এবং সুনানে নাসাঈতে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; দাড়ি পরিপূর্ণ রাখো এবং গোঁফ কেটে ছোট করো।”
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومنها ما في صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «جزوا الشوارب وأرخوا اللحى خالفوا المجوس».

ومنها ما في الصحيحين والمسند والسنن عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أن اليهود والنصارى لا يصبغون فخالفوهم» هذا لفظهم سوى الترمذي ولفظ الترمذي: «غيروا الشيب ولا تشبهوا باليهود» ثم قال: حديث حسن صحيح، وفي لفظ للإمام أحمد «غيروا الشيب ولا تشبهوا باليهود ولا بالنصارى»، وأخرجه ابن حبان في صحيحه بهذا اللفظ، وفي رواية للنسائي: «أن اليهود والنصارى لا تصبغ فخالفوا عليهم فأصبغوا».

ومنها ما رواه الإمام أحمد عن أبي أمامة رضي الله عنه قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على مشيخة من الأنصار بيض لحاهم فقال: «يا معشر الأنصار حمروا وصفروا وخالفوا أهل الكتاب فقلنا: يا رسول الله إن أهل الكتاب يتسرولون ولا يتزرون فقال: تسرولوا واتزروا وخالفوا أهل الكتاب».

ومنها ما رواه أبو داود والحاكم والبيهقي عن شداد بن أوس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خالفوا اليهود فإنهم لا يصلون في نعالهم ولا خفافهم» قال الحاكم صحيح الإسناد ولم يخرجاه ووافقه الذهبي في تلخيصه، وقد رواه الطبراني في الكبير ولفظه: «صلوا في نعالكم ولا تشبهوا باليهود».

ومنها ما رواه الإمام أحمد ومسلم والنسائي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم علي ثوبين معصفرين فقال: «إن هذه من ثياب الكفار فلا تلبسها»، وفي الصحيحين عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أنه كتب إلى المسلمين المقيمين ببلاد فارس: «إياكم والتنعم
এগুলোর মধ্যে একটি হলো সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা গোঁফ ছেঁটে ফেলো এবং দাড়ি লম্বা করো; অগ্নিউপাসকদের বিপরীত চলো।"

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম), মুসনাদ এবং সুনানে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইহুদি ও খ্রিস্টানরা রঙ (খিযাব) ব্যবহার করে না, সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো।" তিরমিযী ব্যতীত এটিই সবার শব্দবিন্যাস, আর তিরমিযীর শব্দবিন্যাস হলো: "তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।" অতঃপর তিনি বলেন: এটি হাসান সহীহ হাদীস। ইমাম আহমাদ-এর বর্ণনায় রয়েছে: "তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করো এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।" ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই শব্দবিন্যাসেই হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। নাসায়ীর এক বর্ণনায় রয়েছে: "নিশ্চয়ই ইহুদি ও খ্রিস্টানরা রঙ লাগায় না, সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করো এবং রঙ ব্যবহার করো।"

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম আহমাদ আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারদের এমন একদল প্রবীণ ব্যক্তির নিকট আসলেন যাদের দাড়ি সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন: "হে আনসার সম্প্রদায়, তোমরা (দাড়ি) লাল বা হলুদ রঙ করো এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো।" আমরা বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, আহলে কিতাবরা তো পায়জামা পরিধান করে কিন্তু লুঙ্গি পরিধান করে না।" তখন তিনি বললেন: "তোমরা পায়জামা ও লুঙ্গি উভয়ই পরিধান করো এবং আহলে কিতাবদের বিরোধিতা করো।"

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা আবু দাউদ, হাকেম এবং বায়হাকী শাদ্দাদ বিন আউস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ইহুদিদের বিরোধিতা করো, কেননা তারা তাদের জুতা ও মোজা (খুফ) পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করে না।" হাকেম বলেছেন এর সনদ সহীহ, তবে বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি এবং যাহাবী তাঁর তালখীস গ্রন্থে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। তাবারানী তাঁর আল-কাবীর গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দবিন্যাস হলো: "তোমরা জুতাসহ সালাত আদায় করো এবং ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য রেখো না।"

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম আহমাদ, মুসলিম এবং নাসায়ী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পরিধানে কুসুম ফুলের রঙে রঞ্জিত দুটি বস্ত্র দেখে বললেন: "নিশ্চয়ই এগুলো কাফেরদের পোশাক, সুতরাং তুমি এগুলো পরিধান করো না।" এবং সহীহাইন-এ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি পারস্যে বসবাসরত মুসলিমদের নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন: "তোমরা বিলাসিতা বর্জন করো...
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وزي أهل الشرك» ورواه الإمام أحمد في مسنده بإسناد صحيح ولفظه: «ذروا التنعم وزي العجم» ورواه أيضًا في كتاب الزهد بإسناد صحيح، ولفظه: «إياكم وزي الأعاجم ونعيمها».

 

قال ابن عقيل رحمه الله تعالى‌‌ النهي عن التشبه بالعجم للتحريم.

وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى التشبه بالكفار منهي عنه بالإجماع. وقال أيضًا إذا نهت الشريعة عن مشابهة الأعاجم دخل في ذلك ما عليه الأعاجم الكفار قديمًا وحديثًا ودخل في ذلك ما عليه الأعاجم المسلمون مما لم يكن عليه السابقون الأولون كما يدخل في مسمى الجاهلية العربية ما كان عليه أهل الجاهلية قبل الإسلام وما عاد إليه كثير من العرب في الجاهلية التي كانوا عليها ومن تشبه من العرب بالعجم لحق بهم.

 

فصل

وقد ورد التغليظ في التشبه بأعداء الله تعالى كما في المسند وسنن أبي داود وغيرهما عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من تشبه بقوم فهو منهم» صححه ابن حبان.

وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى إسناده جيد. وقال ابن حجر العسقلاني إسناده حسن. قال شيخ الإسلام وقد احتج الإمام أحمد وغيره بهذا الحديث. قال وهذا الحديث أقل أحواله أنه يقتضي تحريم التشبه بهم وإن كان ظاهره يقتضي كفر المتشبه بهم كما في قوله: {وَمَنْ يَتَوَلهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ}. وقال الشيخ أيضًا في موضع آخر
...এবং মুশরিকদের পোশাক-পরিচ্ছদ।" ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর পাঠ হলো: "তোমরা বিলাসিতা ও অনারবদের পোশাক-পরিচ্ছদ বর্জন করো।" তিনি কিতাবুজ জুহদ-এও এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যার পাঠ হলো: "তোমরা অনারবদের পোশাক ও তাদের আরাম-আয়েশ থেকে বেঁচে থাকো।"

 

ইবনু আকীল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—অনারবদের সাদৃশ্য অবলম্বন করার নিষেধাজ্ঞাটি হারামের পর্যায়ভুক্ত।

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা সর্বসম্মতিক্রমে নিষিদ্ধ। তিনি আরও বলেছেন, শরীয়ত যখন অনারবদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করেছে, তখন এর মধ্যে অতীত ও বর্তমানের কাফির অনারবদের রীতিনীতি অন্তর্ভুক্ত হবে। একইভাবে এর মধ্যে অনারব মুসলিমদের ঐসব নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হবে যা পূর্ববর্তী অগ্রগামী (সালাফে সালেহীন) মহোদয়গণের মাঝে ছিল না। যেমন 'আরবীয় জাহেলিয়াত' বলতে প্রাক-ইসলামী যুগের জাহেলী কর্মকাণ্ড এবং বর্তমানে অনেক আরব যে জাহেলিয়াতের দিকে ফিরে গেছে—উভয়টিই বোঝায়। আর আরবদের মধ্যে যে ব্যক্তি অনারবদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।

 

পরিচ্ছেদ

আল্লাহ তাআলার শত্রুদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি বর্ণিত হয়েছে। যেমন মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ এবং অন্যান্য গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" ইবনু হিব্বান একে সহীহ বলে গণ্য করেছেন।

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এর সনদ উত্তম। ইবনু হাজার আসকালানী বলেছেন, এর সনদ হাসান। শাইখুল ইসলাম বলেন, ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যগণ এই হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই হাদিসের নূন্যতম দাবি হলো এটি তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হারাম হওয়াকে আবশ্যক করে, যদিও এর প্রকাশ্য অর্থ সাদৃশ্য অবলম্বনকারীর কুফরিকে নির্দেশ করে; যেমনটি আল্লাহর বাণীতে বলা হয়েছে: "তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই একজন।" শাইখ অন্য এক স্থানে আরও বলেছেন—
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
قوله صلى الله عليه وسلم: «من تشبه بقوم فهو منهم» موجب هذا تحريم التشبه بهم مطلقًا انتهى.

وفي جامع الترمذي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ليس منا من تشبه بغيرنا لا تشبهوا باليهود ولا بالنصارى».

قال ابن مفلح في قوله: ليس منا، هذه الصيغة تقتضي عند أصحابنا التحريم انتهى.

وروى الإمام أحمد في كتاب الزهد عن عقيل بن مدرك السلمي قال: أوحى الله إلى نبي من أنبياء إسرائيل قل لقومك: لا يأكلوا طعام أعدائي ولا يشربوا شراب أعدائي ولا يتشكلوا شكل أعدائي فيكونوا أعدائي كما هم أعدائي. وروى أبو نعيم في الحلية عن مالك بن دينار قال: أوحى الله إلى نبي من الأنبياء أن قل لقومك لا تدخلوا مداخل أعدائي ولا تطعموا مطاعم أعدائي ولا تلبسوا ملابس أعدائي ولا تركبوا مراكب أعدائي فتكونوا أعدائي كما هم أعدائي. وروى الخلال عن حذيفة رضي الله عنه أنه أتى بيتًا فرأى شيئا من زي العجم فخرج وقال: من تشبه بقوم فهو منهم. وتقدم ما رواه البيهقي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أنه قال: من بنى ببلاد الأعاجم وصنع نيروزهم ومهرجانهم وتشبه بهم حتى يموت وهو كذلك حشر معهم يوم القيامة، وفي صحيح البخاري عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أبغض الناس إلى الله ثلاثة ملحد في الحرم ومبتغ في الإسلام سنة الجاهلية ومطلب دم امرئ بغير حق ليهريق دمه».

قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى أخبر صلى الله عليه وسلم أن أبغض الناس إلى الله هؤلاء الثلاثة وذلك لأن الفساد إما في الدين وإما
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে» - এর মর্মার্থ হলো নিঃশর্তভাবে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হারাম। (সমাপ্ত)

জামে তিরমিযীতে আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমাদের ব্যতীত অন্য কারো সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না»।

ইবনে মুফলিহ (রহ.) 'সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়'—এই উক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন: এই পরিভাষাটি আমাদের (হাম্বলী) আলিমদের মতে হারাম বা নিষিদ্ধ হওয়ার দাবি রাখে। (সমাপ্ত)

ইমাম আহমাদ 'কিতাবুত যুহদ'-এ আকীল ইবনে মুদরিক আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের জনৈক নবীর প্রতি ওহী নাযিল করেছেন যে, তোমার সম্প্রদায়কে বলে দাও: তারা যেন আমার শত্রুদের খাদ্য গ্রহণ না করে, আমার শত্রুদের পানীয় পান না করে এবং আমার শত্রুদের আকৃতি ধারণ না করে; অন্যথায় তারা আমার শত্রুদের ন্যায় আমারও শত্রুতে পরিণত হবে। আবু নুআইম 'হিলয়াতুল আউলিয়া'-তে মালিক ইবনে দীনার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা নবীদের মধ্য থেকে কোনো একজনের নিকট ওহী পাঠিয়েছেন যে, তোমার সম্প্রদায়কে বলো—তারা যেন আমার শত্রুদের প্রবেশস্থলে প্রবেশ না করে, আমার শত্রুদের ভোজনালয়ে ভোজন না করে, আমার শত্রুদের পোশাক পরিধান না করে এবং আমার শত্রুদের বাহনে আরোহণ না করে; নতুবা তারা আমার শত্রুদের মতো আমারও শত্রু হয়ে যাবে। আল-খাল্লাল হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একটি বাড়িতে এলেন এবং সেখানে অনারবদের সাজসজ্জার কিছু নমুনা দেখতে পেয়ে বেরিয়ে গেলেন এবং বললেন: যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। পূর্বে বাইহাকী কর্তৃক আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি অনারবদের দেশে গৃহ নির্মাণ করল এবং তাদের নওরোজ ও মেহেরজান উৎসব পালন করল এবং সেই অবস্থায় মৃত্যু পর্যন্ত তাদের সাদৃশ্য বজায় রাখল, কিয়ামতের দিন তাদের সাথেই তার হাশর হবে। এবং সহীহ বুখারীতে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি তিনজন—হারাম শরীফে সীমালঙ্ঘনকারী, ইসলামের মধ্যে জাহেলী রীতিনীতির অন্বেষণকারী এবং অন্যায়ভাবে কোনো ব্যক্তির রক্ত প্রবাহিত করার জন্য তার রক্তের প্রত্যাশী»।

শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি হলো এই তিনজন। আর তা এই কারণে যে, বিপর্যয় হয় দ্বীনের ক্ষেত্রে, নয়তো...
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
في الدنيا فأعظم فساد الدنيا قتل النفوس بغير الحق، ولهذا كان أكبر الكبائر بعد أعظم فساد الدين الذي هو الكفر. وأما فساد الدين فنوعان نوع يتعلق بالعمل، ونوع يتعلق بمحل العمل. فأما المتعلق بالعمل فهو ابتغاء سنة الجاهلية، وأما المتعلق بمحل العمل فالإلحاد في الحرم؛ لأن أعظم محال العمل هو الحرم، وانتهاك حرمة المحل المكاني أعظم من انتهاك حرمة المحل الزماني - إلى أن قال- والمقصود أن من هؤلاء الثلاثة من ابتغى في الإسلام سنة جاهلية فكل من أراد في الإسلام أن يعمل بشيء من سنن الجاهلية دخل في هذا الحديث، والسنة الجاهلية كل عادة كانوا عليها، فإن السنة هي: العادة وهي الطريق التي تتكرر لتتسع لأنواع الناس مما يعدونه عبادة أو لا يعدونه عبادة قال تعالى: {قد خلت من قبلكم سنن فسيروا في الأرض}، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لتتبعن سنن من كان قبلكم»، والاتباع هو الاقتفاء والاستنان، فمن عمل بشيء من سننهم فقد اتبع سنة جاهلية، وهذا نص عام يوجب تحريم متابعة كل شيء كان من سنن الجاهلية في أعيادهم وغير أعيادهم انتهى.

وقال أيضا في الكلام على قول النبي صلى الله عليه وسلم: «من تشبه بقوم فهو منهم»، قد يحمل هذا على التشبه المطلق فإنه يوجب الكفر ويقتضي تحريم أبعاض ذلك. وقد يحمل على أنه صار منهم في القدر المشترك الذي شابههم فيه فإن كان كفرا أو معصية أو شعارا للكفر أو للمعصية كان حكمه كذلك، وبكل حال فهو يقتضي تحريم التشبه بهم بعلة كونه تشبها. والتشبه يعم من فعل الشيء لأجل أنهم فعلوه وهو نادر، ومن تبع غيره في فعل لغرض له في ذلك إذا كان أصل الفعل مأخوذًا عن ذلك الغير فأما من فعل الشيء واتفق أن الغير فعله أيضا ولم يأخذه
পার্থিব জগতে দুনিয়ার সর্ববৃহৎ বিপর্যয় হলো অন্যায়ভাবে প্রাণহানি ঘটানো; এ কারণেই এটি দ্বীনের সর্ববৃহৎ বিপর্যয় তথা কুফরের পর সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ। আর দ্বীনের বিপর্যয় দুই প্রকার: এক প্রকার আমল বা কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর অন্যটি কর্মস্থলের সাথে সংশ্লিষ্ট। কর্ম সংশ্লিষ্ট বিপর্যয় হলো জাহেলিয়াতের রীতিনীতি অন্বেষণ করা। আর কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট বিপর্যয় হলো হারামে (পবিত্র মক্কায়) ধর্মদ্রোহিতা করা; কারণ ইবাদতের বা কর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান হলো হারাম। আর কোনো স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘন করার চেয়েও গুরুতর। —তিনি আরও বলেন— মূল উদ্দেশ্য হলো, এই তিন শ্রেণির মানুষের মধ্যে একজন হলো সেই ব্যক্তি যে ইসলামের মাঝে জাহেলিয়াতের রীতিনীতি তালাশ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের ভেতর থাকাবস্থায় জাহেলিয়াতের কোনো রীতিনীতি অনুযায়ী আমল করতে চায়, সে এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবে। জাহেলিয়াতের 'সুন্নাহ' বা রীতি বলতে এমন প্রতিটি অভ্যাসকে বোঝায় যা তাদের মাঝে প্রচলিত ছিল। কেননা 'সুন্নাহ' হলো অভ্যাস বা এমন পথ যা বারবার অনুসৃত হওয়ার মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপকতা লাভ করে— চাই তারা সেটাকে ইবাদত মনে করুক বা না করুক। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের পূর্বেও বহু রীতিনীতি অতিবাহিত হয়েছে, সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে।" আর অনুসরণ বলতে পদাঙ্ক অনুসরণ ও অনুকরণ করাকে বোঝায়। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের কোনো রীতিনীতি অনুযায়ী আমল করল, সে মূলত জাহেলি রীতিনীতিই অনুসরণ করল। এটি একটি সাধারণ 'নস' বা শরয়ি পাঠ যা জাহেলিয়াতের প্রতিটি রীতিনীতি অনুসরণ করা হারাম সাব্যস্ত করে, চাই তা তাদের উৎসব কেন্দ্রিক হোক বা অন্য কিছু। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে"—এই প্রসঙ্গের আলোচনায় তিনি আরও বলেন: একে নিরঙ্কুশ সাদৃশ্য অবলম্বনের ওপর প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা কুফরিকে অবধারিত করে এবং এর অংশবিশেষকেও হারাম সাব্যস্ত করে। আবার একে এমনভাবেও ধরা যেতে পারে যে, সে ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাতে সে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে। সুতরাং যদি বিষয়টি কুফর, পাপাচার বা কুফর ও পাপাচারের প্রতীক হয়, তবে তার বিধানও অনুরূপ হবে। সর্বাবস্থায়, এটি তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনের কারণেই উক্ত কর্মকে হারাম সাব্যস্ত করে। আর সাদৃশ্য অবলম্বন বলতে সেই ব্যক্তিকে শামিল করে যে কোনো কাজ এই উদ্দেশ্যে করে যে তারা তা করেছে—যদিও এমনটি ঘটা বিরল। আবার এটি সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে নিজের কোনো প্রয়োজনে অন্যের কোনো কর্মের অনুসরণ করে, যখন ওই কর্মের মূল উৎসটি সেই অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে গৃহীত। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কোনো কাজ করল এবং ঘটনাচক্রে অন্য কেউও তা করল অথচ সে তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করেনি...
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২০)
أحدهما عن صاحبه ففي كون هذا تشبها نظر. لكن قد ينهى عن هذا لئلا يكون ذريعة إلى التشبه ولما فيه من المخالفة كما أمر بصبغ اللحى وإعفائها وإحفاء الشوارب، مع أن قوله صلى الله عليه وسلم: «غيروا الشيب ولا تشبهوا باليهود» دليل على أن التشبه بهم يحصل بغير قصد منا ولا فعل بل بمجرد ترك تغيير ما خلق فينا، وهذا أبلغ من الموافقة الفعلية الاتفاقية وقد روي في هذا الحديث عن ابن عمر رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه نهى عن التشبه بالأعاجم، وقال: «من تشبه بقوم فهو منهم»، ذكره القاضي أبو يعلى، وبهذا احتج غير واحد من العلماء على كراهة أشياء من زي غير المسلمين. قال محمد بن حرب سئل أحمد عن نعل سندي يخرج فيه فكرهه للرجل والمرأة وقال: إن كان للكنيف والوضوء فلا بأس، وأكره الصرار قال: وهو من زي الأعاجم. وروى الخلال عن أحمد بن إبراهيم الدورقي قال: سألت سعيد بن عامر عن لباس النعال السبتية فقال: زي نبينا أحب إلينا من زي باكهن ملك الهند ولو كان في مسجد المدينة لأخرجوه من المدينة.

وقال الشيخ رحمه الله تعالى أيضًا: قد بعث الله عبده ورسوله محمدًا صلى الله عليه وسلم بالحكمة التي هي سنته وهي الشرعة والمنهاج الذي شرعه له، فكان من هذه الحكمة أن شرع له من الأعمال والأقوال ما يباين سبيل المغضوب عليهم والضالين وأمر بمخالفتهم في الهدي الظاهر وإن لم يظهر لكثير من الخلق في ذلك مفسدة لأمور:

منها أن المشاركة في الهدي الظاهر تورث تناسبًا وتشاكلاً بين المتشابهين يقود إلى الموافقة في الأخلاق والأعمال وهذا أمر محسوس فإن اللابس لثياب أهل العلم مثلا يجد من نفسه نوع انضمام إليهم واللابس
একজনের সাথে অন্যজনের মিল থাকলে একে অনুকরণ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে দ্বিমত রয়েছে। তবে অনুকরণ যেন কোনো অছিলা বা উপলক্ষ্য হয়ে না দাঁড়ায় এবং এতে যে বিরোধিতার পরিপন্থী বিষয় রয়েছে সে কারণে এটি নিষিদ্ধ হতে পারে। যেমন দাড়ি রাঙানো, দাড়ি বড় রাখা এবং গোঁফ ছোট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা বার্ধক্যের চিহ্ন (সাদা চুল) পরিবর্তন করো এবং ইহুদিদের সাদৃশ্য গ্রহণ করো না" এই মর্মে দলিল যে, তাদের অনুকরণ আমাদের কোনো উদ্দেশ্য বা কর্ম ছাড়াও হতে পারে; বরং কেবল আমাদের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে যা সৃষ্টি হয়েছে তা পরিবর্তন না করার মাধ্যমেই তা সংঘটিত হতে পারে। আর এটি কোনো দৈবাৎ ঘটে যাওয়া কর্মগত সাদৃশ্যের চেয়েও অধিক প্রভাবশালী। এই হাদিসটি ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনারবদের অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" কাজী আবু ইয়ালা এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর মাধ্যমেই অনেক আলেম অমুসলিমদের পোশাক-পরিচ্ছদের অনেক কিছুকে অপছন্দনীয় (মাকরূহ) বলে দলিল পেশ করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে হারব বলেন, ইমাম আহমাদকে একটি সিন্ধি জুতা পরে বাইরে বের হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি পুরুষ ও মহিলার জন্য তা অপছন্দ করেন এবং বলেন: যদি এটি শৌচাগার বা ওযুর কাজের জন্য হয় তবে কোনো সমস্যা নেই। তিনি 'সরার' (এক প্রকার খড়ম) অপছন্দ করে বলেন: এটি অনারবদের পোশাকের অন্তর্ভুক্ত। খাল্লাল আহমদ ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাওরাকী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনে আমিরকে 'সাবতিয়া' জুতা পরিধান করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আমাদের নবীর পোশাক আমাদের কাছে ভারতের রাজা বাকহীনের পোশাকের চেয়ে অধিক প্রিয়; যদি সে মদীনার মসজিদে থাকত, তবে তারা তাকে মদীনা থেকে বের করে দিত।

শাইখ রাহিমাহুল্লাহ আরও বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিকমত বা প্রজ্ঞা দিয়ে পাঠিয়েছেন, যা তাঁর সুন্নাত এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত শরীয়ত ও কর্মপন্থা। এই প্রজ্ঞারই অংশ ছিল যে, তিনি তাঁর জন্য এমন সব কাজ ও কথা বিধিবদ্ধ করেছেন যা আল্লাহর অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ থেকে ভিন্ন। তিনি বাহ্যিক চালচলনে তাদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও সাধারণ মানুষের কাছে তাতে কোনো বাহ্যিক ক্ষতির দিক স্পষ্ট না হয়। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে:

তার মধ্যে একটি হলো—বাহ্যিক চালচলন ও বেশভুষায় অংশীদারিত্ব বা সাদৃশ্য বজায় রাখা দুই পক্ষের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য ও অনুরূপতা তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত চরিত্র ও কর্মের ঐক্যের দিকে পরিচালিত করে। এটি একটি অনুভূত বিষয়; উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি আলেমদের পোশাক পরিধান করে, সে নিজের অন্তরে তাদের সাথে এক ধরনের সম্পৃক্ততা অনুভব করে, আর যে পরিধান করে...
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২১)
لثياب الجند المقاتلة مثلا يجد في نفسه نوع تخلق بأخلاقهم ويصير طبعه مقتضيا لذلك إلا أن يمنعه من ذلك مانع.

ومنها أن المخالفة في الهدي الظاهر توجب مباينة ومفارقة تتوجب الانقطاع عن موجبات الغضب وأسباب الضلال والانعطاف إلى أهل الهدى والرضوان وتحقق ما قطع الله من الموالاة بين جنده المفلحين وأعدائه الخاسرين.

وكلما كان القلب أتم حياة وأعرف بالإسلام كان إحساسه بمفارقة اليهود والنصارى باطنًا وظاهرًا أتم، وبعده عن أخلاقهم الموجودة في بعض المسلمين أشد.

ومنها: أن مشاركتهم في الهدي الظاهر توجب الاختلاط الظاهر حتى يرتفع التمييز بين المهديين المرضيين وبين المغضوب عليهم والضالين. إلى غير ذلك من الأسباب الحكمية. هذا إذا لم يكن ذلك الهدي الظاهر إلا مباحًا محضًا لو تجرد عن مشابهتهم، فأما إن كان من موجبات كفرهم فإنه يكون شعبة من شعب الكفر فموافقتهم فيه موافقة في نوع من أنواع ضلالهم ومعاصيهم. فهذا أصل ينبغي أن يتفطن له.

وقال الشيخ أيضا مشاركتهم في الهدي الظاهر إن لم تكن ذريعة أو سببًا قريبًا أو بعيدًا إلى نوع ما من الموالاة والمودة فليس فيها مصلحة المقاطعة والمباينة مع أنها تدعو إلى نوع ما من المواصلة كما توجبه الطبيعة وتدل عليه العادة.

وقال الشيخ أيضًا المشابهة والمشاكلة في الأمور الظاهرة توجب مشابهة ومشاكل في الأمور الباطنة على وجه المسارقة والتدريج الخفي،
উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি যুদ্ধরত সৈনিকদের পোশাক পরিধান করে, তবে সে নিজের মধ্যে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের এক ধরনের প্রভাব অনুভব করে এবং তার স্বভাব সেই অনুযায়ী গড়ে উঠতে চায়, যদি না অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তাকে তা থেকে বিরত রাখে।

এর মধ্যে একটি হলো, বাহ্যিক বেশভূষা ও চালচলনে বৈসাদৃশ্য বজায় রাখা এমন এক পার্থক্য ও বিচ্ছেদ নিশ্চিত করে, যা আল্লাহর ক্রোধের কারণসমূহ ও বিভ্রান্তির উৎসগুলো থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করে এবং হিদায়াত ও সন্তুষ্টির অধিকারীদের দিকে ধাবিত করে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর সফলকাম বাহিনী এবং ক্ষতিগ্রস্ত শত্রুদের মধ্যে বন্ধুত্বের যে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছেন, তা বাস্তবে রূপ পায়।

অন্তর যত বেশি জীবন্ত এবং ইসলাম সম্পর্কে যত অধিক অভিজ্ঞ হবে, ইহুদি ও নাসারাদের থেকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে পৃথক থাকার বোধ তত পূর্ণতা লাভ করবে; আর কিছু মুসলিমের মধ্যে বিদ্যমান তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে দূরে থাকার তাড়না তত তীব্রতর হবে।

অন্যতম কারণ হলো: বাহ্যিক চালচলনে তাদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখা এমন এক প্রকাশ্য সংমিশ্রণ তৈরি করে, যার ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হিদায়াতপ্রাপ্ত গোষ্ঠী এবং অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের মধ্যকার পার্থক্য ঘুচে যায়। এছাড়াও আরও অনেক হিকমতপূর্ণ কারণ রয়েছে। এটি তখন প্রযোজ্য, যখন সেই বাহ্যিক বিষয়টি তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখা ব্যতিরেকে সম্পূর্ণ বৈধ বা মুবাহ হয়। কিন্তু যদি তা তাদের কুফরির আবশ্যিক বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা কুফরির একটি শাখা হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করা মানে তাদের পথভ্রষ্টতা ও পাপাচারের কোনো একটি প্রকারের সাথে একাত্ম হওয়া। এটি এমন একটি মূলনীতি যা গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করা উচিত।

শায়খ আরও বলেন: বাহ্যিক বেশভূষায় তাদের সাথে অংশীদারিত্ব যদি কোনো প্রকার বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মাধ্যমও না হয়, তবুও তাতে সম্পর্কচ্ছেদ ও পার্থক্যের সেই কল্যাণ অর্জিত হয় না। উপরন্তু এটি এক ধরণের পারস্পরিক যোগসূত্র তৈরি করে, যা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও চিরাচরিত অভ্যাসের দাবি।

শায়খ আরও বলেন: বাহ্যিক বিষয়ে সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য অবলম্বন অবধারিতভাবে অভ্যন্তরীণ বিষয়েও সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্যের জন্ম দেয়, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ধীর প্রক্রিয়ায় অলক্ষ্যেই অন্তরে প্রভাব বিস্তার করে।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২২)
وقد رأينا اليهود والنصارى الذين عاشروا المسلمين هم أقل كفرا من غيرهم كما رأينا المسلمين الذين أكثروا من معاشرة اليهود والنصارى هم أقل إيمانًا من غيرهم ممن جرد الإسلام. والمشاركة في الهدي الظاهر توجب أيضا مناسبة وائتلافا وإن بعد المكان والزمان فهذا أيضا أمر محسوس. قال والمشابهة في الظاهر تورث نوع مودة ومحبة وموالاة في الباطن كما أن المحبة في الباطن تورث المشابهة في الظاهر وهذا أمر يشهد به الحس والتجربة انتهى.

وما ذكره رحمه الله تعالى من نتائج التشبه بأعداء الله تعالى وثمراته السيئة كله واقع في زماننا، ولا سيما مواصلة أعداء الله تعالى ومؤاخاتهم وموالاتهم وموادتهم ومحبتهم والاختلاط التام بهم في بعض الأقطار بحيث قد ارتفع فيها التمييز ظاهرًا بين المسلم والكافر فلا يعرف هذا من هذا إلا من كان يعرفهم بأعيانهم، وقد قادت هذه الموافقة والمشابهة كثيرًا من الناس إلى النفاق وكثيرًا منهم إلى الردة والخروج من دين الإسلام عياذًا بالله من موجبات غضبه وأليم عقابه.

 

فصل

ولما كان التشبه بأعداء الله تعالى واتباع سننهم والأخذ بأخذهم من أعظم العوامل في هدم الإسلام ومحو السنن النبوية واطراح المناهج السلفية والمروآت والشيم العربية والاعتياض عن ذلك كله بأدناس المدنية الإفرنجية، أحببت أن أنبه ههنا على أنواع من المشابهة فشت في زماننا وكثر الواقعون فيها وقل المنكرون لها، وكثير مما أذكره قد وقع من أزمان
আমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা মুসলমানদের সাথে মেলামেশা করেছে, তাদেরকে অন্যদের তুলনায় কুফরের দিক থেকে নমনীয় দেখেছি। ঠিক তেমনিভাবে, যেসব মুসলমান ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে অধিক মেলামেশা করেছে, তাদেরকে বিশুদ্ধ ইসলাম পালনকারী অন্যদের তুলনায় ঈমানের দিক থেকে দুর্বল দেখেছি। আর বাহ্যিক চালচলনে অংশীদারিত্ব বা সামঞ্জস্য অন্তরে এক ধরণের নৈকট্য ও সখ্যতা তৈরি করে, যদিও স্থান ও কালের ব্যবধান থাকুক না কেন। এটি একটি অনুভূত ও প্রমাণিত বিষয়। তিনি (ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ.) বলেছেন, বাহ্যিক সাদৃশ্য অন্তরে এক প্রকার সখ্যতা, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের জন্ম দেয়; ঠিক যেমন অভ্যন্তরীণ ভালোবাসা বাহ্যিক সাদৃশ্যের উদ্রেক করে। এটি এমন এক বাস্তবতা, যা মানুষের সাধারণ বোধ ও অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আল্লাহ তাআলার শত্রুদের অনুকরণের কুফল ও অশুভ পরিণতি সম্পর্কে তিনি (রহ.) যা উল্লেখ করেছেন, তার প্রতিটিই আমাদের যুগে পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো কোনো জনপদে আল্লাহর শত্রুদের সাথে নিরন্তর যোগাযোগ রাখা, তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব, মৈত্রী ও হৃদ্যতা স্থাপন এবং তাদের সাথে এমনভাবে সংমিশ্রণ ঘটা যে, বাহ্যিকভাবে মুসলমান ও কাফিরের মাঝে কোনো পার্থক্য অবশিষ্ট থাকে না। ফলে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে পূর্ব থেকে না চিনলে, কে মুসলিম আর কে কাফির তা আলাদাভাবে চেনার উপায় থাকে না। আর এই সামঞ্জস্য ও সাদৃশ্য অনেক মানুষকে মুনাফিকির দিকে ধাবিত করেছে এবং অনেককে ইসলামের গণ্ডি থেকে বিচ্যুত করে ধর্মত্যাগের দিকে নিয়ে গেছে। আল্লাহর ক্রোধ ও তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কারণসমূহ থেকে আমরা তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

 

পরিচ্ছেদ

যেহেতু আল্লাহর শত্রুদের অনুকরণ করা, তাদের রীতিনীতি অনুসরণ করা এবং তাদের পথ অবলম্বন করা ইসলাম ধ্বংসের, নববী সুন্নাহ মুছে ফেলার এবং সালাফদের আদর্শ ও মহৎ চারিত্রিক গুণাবলী বিসর্জন দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ; আর এসকল মহৎ গুণের পরিবর্তে ইউরোপীয় সভ্যতার কলুষতাকে গ্রহণ করে নেওয়া হয়েছে, তাই আমি বর্তমান যুগে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু সাদৃশ্যের প্রকারভেদ সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছি, যাতে লিপ্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর প্রতিবাদকারীর সংখ্যা অত্যন্ত কমে গেছে। আর আমি যা উল্লেখ করতে যাচ্ছি, তার অনেক কিছুই দীর্ঘকাল পূর্ব থেকেই সংঘটিত হয়ে আসছে।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
طويلة وما زال شره يزداد على مر الأوقات حتى عاد الماضي منه شبه لا شيء بالنسبة إلى ما تم في هذه الأزمان.

 

وبعض ما أذكره لم يقع إلا في هذه الأزمان.

والقصد من ذلك النصيحة للمسلمين وبيان ما خفي على أكثرهم من أنواع المشابهة وتحذيرهم من شؤم التشبه بأعداء الله تعالى وسوء عاقبته.

والله المسئول أن يوفقنا جميعا لاتباع هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وأن يجنبنا هدي المشركين وأشباههم إنه على كل شيء قدير وبالإجابة جدير.

النوع الأول من المشابهة وهو من أقبحها وأسوأها عاقبة ما ابتلى به الأكثرون من الغلو في القبور وبناء القباب عليها واتخاذ المساجد والسرج عليها وتعظيمها وتعظيم غيرها من الأشجار والأحجار وغيرها بما نهى عنه الشرع المطهر حتى آل الأمر بكثير منها إلى أن اتخذت أوثانا تعبد من دون الله ويفعل عندها من أنواع الشرك مثل ما كان المشركون الأولون يفعلونه عند اللات والعزى ومناة وغيرهن من الطواغي بل أعظم بكثير.

وقد وردت أحاديث كثيرة أخبر فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم أن اتخاذ القبور مساجد من فعل اليهود والنصارى ولعنهم على ذلك وأخبر أنهم شرار الخلق عند الله يوم القيامة وحذر أمته ونهاهم أن يفعلوا كفعلهم، فيلحقهم من غضب الله ولعنته ولعنة رسوله صلى الله عليه وسلم مثل ما لحق أولئك وهذا من كمال نصحه لأمته وشدة شفقته عليهم صلوات الله وسلامه عليه دائمًا إلى يوم الدين.
এটি একটি দীর্ঘ পরিক্রমা এবং সময়ের আবর্তনে এর অনিষ্ট ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমনকি অতীতকালে যা ঘটেছিল তা বর্তমান সময়ে যা ঘটছে তার তুলনায় নগণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

আমি যা উল্লেখ করছি তার কিছু বিষয় কেবল বর্তমান কালেই সংঘটিত হয়েছে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিমদের প্রতি নসিহত পেশ করা, সাদৃশ্য অবলম্বনের যে প্রকারগুলো অধিকাংশের নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে তা বর্ণনা করা এবং মহান আল্লাহর শত্রুদের সাদৃশ্য অবলম্বনের অশুভ পরিণাম ও এর মন্দ পরিণতি সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা।

মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের সকলকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণের তাওফিক দান করেন এবং আমাদের মুশরিক ও তাদের সদৃশ ব্যক্তিদের পথ থেকে দূরে রাখেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং প্রার্থনা কবুলের উপযুক্ত।

সাদৃশ্য অবলম্বনের প্রথম প্রকার—যা অত্যন্ত কদর্য এবং এর পরিণতি অত্যন্ত মন্দ—তা হলো সেই ফিতনা যাতে অধিকাংশ লোক লিপ্ত হয়েছে; আর তা হলো কবরের ব্যাপারে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি করা, এর উপর গম্বুজ নির্মাণ করা, একে মসজিদে রূপান্তর করা, সেখানে প্রদীপ প্রজ্বলন করা এবং কবরসহ গাছপালা, পাথর ও অন্যান্য বস্তুকে এমনভাবে সম্মান প্রদর্শন করা যা পবিত্র শরীয়ত নিষেধ করেছে। এমনকি এর অনেকগুলো শেষ পর্যন্ত মূর্তিতে পরিণত হয়েছে যাদের আল্লাহর পরিবর্তে উপাসনা করা হয়। এগুলোর নিকট এমন সব শিরকী কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা হয় যা পূর্ববর্তী মুশরিকরা লাত, উজ্জা, মানাত ও অন্যান্য তাগুতদের নিকট করত; বরং বর্তমানকালের অবস্থা তার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ।

এ প্রসঙ্গে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, কবরকে সেজদাগাহ বা মসজিদে রূপান্তরিত করা ইয়াহুদি ও নাসারাদের কর্ম। তিনি এ কারণে তাদের ওপর লানত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন তারা আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম সৃষ্টি হিসেবে গণ্য হবে। তিনি তাঁর উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং তাদের মতো কাজ করতে নিষেধ করেছেন, যাতে তাদের ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও লানত এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লানত বর্ষিত না হয় যেমনটি তাদের ওপর হয়েছিল। এটি উম্মতের প্রতি তাঁর নসিহতের পূর্ণতা এবং তাঁর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ। কিয়ামত পর্যন্ত সর্বদা তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
فمنها ما في الصحيحين عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه الذي لم يقم منه: «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» قالت: فلولا ذلك لأبرز قبره غير أنه خشي أن يتخذ مسجدًا.

ومنها ما في الصحيحين أيضًا عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قاتل الله اليهود اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد»، وفي رواية لمسلم قال: «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد».

ومنها ما في الصحيحين أيضًا عن عائشة وعبد الله بن عباس رضي الله عنهم قالا: لما نزل برسول الله صلى الله عليه وسلم طفق يطرح خميصة له على وجهه فإذا اغتم بها كشفها عن وجهه فقال وهو كذلك: «لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد»، يحذر ما صنعوا.

ومنها ما في الصحيحين أيضا عن عائشة رضي الله عنها أن أم حبيبة وأم سلمة رضي الله عنهما ذكرتا كنيسة رأينها بالحبشة فيها تصاوير فذكرتا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: «إن أولئك إذا كان فيهم الرجل الصالح فمات بنوا على قبره مسجدًا وصوروا فيه تلك الصور فأولئك شرار الخلق عند الله يوم القيامة».

ومنها ما في المسند وصحيح ابن حبان عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن من شرار الناس من تدركهم الساعة وهم أحياء والذين يتخذون القبور مساجد»، وقد أخرج البخاري بعض هذا الحديث في صحيحه.
এগুলোর মধ্যে একটি হলো যা সহীহায়নে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সেই অন্তিম অসুস্থতার সময় বলেছিলেন: "আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের অভিশাপ দিন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে সেজদাহগাহে পরিণত করেছে।" তিনি (আয়েশা) বলেন: যদি এই আশঙ্কা না থাকত, তবে তাঁর কবরকেও উন্মুক্ত রাখা হতো, কিন্তু আশঙ্কা করা হয়েছিল যে সেটিকে মসজিদে পরিণত করা হবে।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা সহীহায়নে আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে।" মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের অভিশাপ দিন, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে।"

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা সহীহায়নে আয়েশা ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হলো, তখন তিনি তাঁর মুখমণ্ডলে একটি নকশা করা চাদর টানতে লাগলেন। যখন তিনি এর কারণে শ্বাসকষ্ট অনুভব করতেন, তখন তা মুখ থেকে সরিয়ে দিতেন এবং সেই অবস্থাতেই বলতেন: "ইহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে সেজদাহগাহে পরিণত করেছে।" তারা যা করেছিল, তিনি সে সম্পর্কে সতর্ক করছিলেন।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা সহীহায়নে আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে হাবীবা ও উম্মে সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হাবশায় দেখা একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন যাতে বিভিন্ন চিত্র ছিল। তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সেটি বর্ণনা করলে তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তাদের রীতি ছিল যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো সৎ লোক মারা যেত, তখন তারা তার কবরের ওপর উপাসনালয় নির্মাণ করত এবং সেখানে ওইসব চিত্র স্থাপন করত। কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট এরাই সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।"

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা মুসনাদ ও সহীহ ইবনে হিব্বানে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই তারা নিকৃষ্টতম মানুষের অন্তর্ভুক্ত যাদের জীবদ্দশায় কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং যারা কবরকে সেজদাহগাহে পরিণত করে।" ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই হাদিসের কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومنها ما في المسند أيضا عن أبي عبيدة بن الجراح رضي الله عنه قال: آخر ما تكلم به النبي صلى الله عليه وسلم: «أخرجوا يهود أهل الحجاز وأهل نجران من جزيرة العرب واعلموا أن شرار الناس الذين اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد».

ومنها ما في صحيح مسلم عن جندب رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم قبل أن يموت بخمس وهو يقول: «إني أبرأ إلى الله أن يكون لي منكم خليلٌ فإن الله قد اتخذني خليلاً كما اتخذ إبراهيم خليلا ولو كنت متخذا من أمتي خليلا لاتخذت أبا بكر خليلاً، ألا وإن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصالحيهم مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد إني أنهاكم عن ذلك».

ومنها ما في المسند عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «اللهم لا تجعل قبري وثنًا يعبد، لعن الله قومًا اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد».

ومنها ما في موطأ مالك عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اللهم لا تجعل قبري وثنا يعبد اشتد غضب الله على قوم اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد».

ومنها ما في المسند والسنن عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج»، قال الترمذي: حديث حسن وصححه ابن حبان، وقد رواه الحاكم في مستدركه وقال: هو حديث متداول فيما بين الأئمة.

وقد قابل القبوريون هذه الأحاديث الصحيحة بالتصامم والتعامي
এর মধ্যে আরও রয়েছে মুসনাদে বর্ণিত আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশেষ যে কথাটি বলেছিলেন তা হলো: "তোমরা হিজায ও নাজরানবাসীদের মধ্য থেকে ইহুদিদের আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দাও। আর জেনে রাখো, সেই জাতিই নিকৃষ্ট যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।"

এর অন্তর্ভুক্ত হলো সহীহ মুসলিমের জুন্দুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর ইন্তেকালের পাঁচ দিন আগে বলতে শুনেছি: "আমি আল্লাহর নিকট এই মর্মে দায়মুক্তি ঘোষণা করছি যে তোমাদের মধ্য থেকে আমার কোনো 'খলীল' (অন্তরঙ্গ বন্ধু) থাকুক; কারণ আল্লাহ আমাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন যেভাবে তিনি ইব্রাহিমকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আমি যদি আমার উম্মতের মধ্য থেকে কাউকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে অবশ্যই আবু বকরকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করতাম। সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত। খবরদার! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না; আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।"

মুসনাদে আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার পূজা করা হয়। আল্লাহ সেই জাতির ওপর অভিশাপ বর্ষণ করুন যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।"

মুয়াত্তা মালিক-এ যায়েদ ইবনে আসলামের সূত্রে আতা ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার পূজা করা হয়। সেই জাতির প্রতি আল্লাহর ক্রোধ অত্যন্ত কঠোর হয়েছে যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।"

মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থসমূহে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর যিয়ারতকারী নারী এবং কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণকারী ও প্রদীপ প্রজ্বলনকারীদের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।" ইমাম তিরমিযী একে 'হাসান' হাদিস বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। ইমাম হাকেমও তাঁর 'মুসতাদরাক' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইমামগণের মাঝে সুপরিচিত ও প্রচলিত একটি হাদিস।

কিন্তু কবরপূজারীরা এই সহীহ হাদিসগুলোকে কর্ণপাত না করে বধিরতা ও অন্ধত্বের মাধ্যমে উপেক্ষা করেছে।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
عنها والعمل بخلافها محادة منهم لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم واتباعًا لسنن اليهود والنصارى.

وما زال الشيطان يعظم عندهم أمر القبور ويزين لهم الغلو في أصحابها ويأمرهم بالتوسل بهم إلى الله في قضاء الحاجات وتفريج الكربات وإغاثة اللهفان ويوحي إليهم أنهم ينفعون ويضرون ويقربون عابديهم إلى الله زلفى ويشفعون لهم عنده حتى تمكنت وساوس الشيطان ووحيه وتزيينه من قلوبهم ورسخت فيها فصار افتتانهم بالقبور أعظم من افتتان اليهود والنصارى بقبور الأنبياء والصالحين، وما تركوا شيئا مما نهى عنه الرسول صلى الله عليه وسلم وحذر من فعله ولعن فاعله إلا وقد ارتكبوه وشاقوا الله ورسوله، فإنه صلى الله عليه وسلم نهاهم أن يتخذوا القبور مساجد كما اتخذها اليهود والنصارى فعاندوه وبنوا عليها المساجد وسموها مشاهد ثم آل الأمر بكثير منهم إلى أن شرعوا للقبور حجا ووضعوا لذلك مناسك وكسوا القبور كما تكسى الكعبة وجعلوا حول بعض الضرائح المعظمة عندهم مطافًا يطوفون فيه على القبر كما يطوف المسلمون بالكعبة وسموا ذلك المطاف حرما يريدون أن يضاهئوا بأوثانهم البيت العتيق الذي جعله الله مثابة للناس وحرما آمنًا.

وقد حدثني غير واحد من رآهم يطوفون بالقبور ويتضرعون إلى أصحابها ويسألونهم قضاء الحاجات وتفريج الكربات وإغاثة اللهفان، فما أشبه هؤلاء الضلال بالذين قال الله تعالى فيهم: {إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللهَ وَرَسُولَهُ كُبِتُوا كَمَا كُبِتَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَقَدْ أَنْزَلْنَا آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُهِينٌ * يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللهُ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا أَحْصَاهُ اللهُ وَنَسُوهُ وَاللهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ}.
সেগুলো বর্জন করা এবং সেগুলোর পরিপন্থী আমল করা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে শত্রুতা পোষণ করা এবং ইহুদি ও নাসারাদের রীতিনীতির অনুসরণ করা।

শয়তান ক্রমাগত তাদের নিকট কবরের বিষয়টিকে মহিমান্বিত করে চলেছে, কবরবাসীদের নিয়ে বাড়াবাড়িকে তাদের সামনে সুশোভিত করছে এবং প্রয়োজন পূরণ, বিপদমুক্তি ও আর্তের উদ্ধারের জন্য তাদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সুপারিশ বা ওসিলা তালাশ করার নির্দেশ দিচ্ছে। সে তাদের মনে এই কুমন্ত্রণা দেয় যে, এই কবরবাসীরা উপকার ও অপকার করতে পারে, তারা তাদের উপাসনাকারীদের আল্লাহর নৈকট্য লাভে ধন্য করে এবং তাঁর কাছে তাদের জন্য সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত শয়তানের এই কুমন্ত্রণা, প্ররোচনা ও প্রলুব্ধকর উপস্থাপন তাদের অন্তরে এমনভাবে শিকড় গেড়েছে যে, কবরের প্রতি তাদের এই মোহ ইহুদি ও নাসারাদের নবী ও নেককারদের কবরের প্রতি মোহের চেয়েও প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু নিষেধ করেছেন, যা থেকে সতর্ক করেছেন এবং যার সম্পাদনকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন, তারা তার প্রতিটিই লিপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদি ও নাসারাদের ন্যায় কবরকে সেজদাহগাহ বা মসজিদ বানাতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তারা তাঁর অবাধ্যতা করে কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করেছে এবং সেগুলোর নামকরণ করেছে ‘মাশহাদ’ বা স্মৃতিধাম। অতঃপর তাদের অনেকের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা কবরের জন্য হজের প্রবর্তন করেছে, এর জন্য হজের নিয়মাবলি বা মানাসিক নির্ধারণ করেছে এবং কাবাঘরের ন্যায় কবরে গিলাফ চড়িয়েছে। তারা তাদের নিকট সম্মানিত কিছু মাজারের চারপাশে ‘তাওয়াফের স্থান’ তৈরি করেছে, যেখানে তারা কবরের চারদিকে ঠিক তেমনিভাবে তাওয়াফ করে যেমনটি মুসলমানরা কাবার চারপাশে করে থাকে। তারা সেই তাওয়াফের স্থানকে ‘হারাম’ বলে অভিহিত করেছে। এর মাধ্যমে তারা তাদের এই প্রতিমাসমূহকে আল্লাহর সেই প্রাচীন গৃহ বা বায়তুল আতিকের সমকক্ষ করতে চায়, যাকে আল্লাহ মানুষের প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

একাধিক ব্যক্তি যারা তাদের দেখেছেন, তারা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা কবরের চারদিকে তাওয়াফ করে, কবরবাসীদের নিকট অনুনয়-বিনয় করে এবং তাদের কাছে প্রয়োজন পূরণ, সংকট মোচন ও বিপদে সাহায্য প্রার্থনা করে। এই পথভ্রষ্টরা সেই সব লোকদের সাথে কতই না সাদৃশ্যপূর্ণ যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা অপদস্থ হয়েছে যেমন অপদস্থ হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীরা। আর আমি অবশ্যই সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি অবতীর্ণ করেছি; এবং কাফিরদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তারা যা করত তা তাদের জানিয়ে দেবেন। আল্লাহ তা গণনা করে রেখেছেন, যদিও তারা তা ভুলে গেছে। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।}
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكذلك قد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن تجصيص القبور والبناء عليها والكتابة عليها، كما في صحيح مسلم ومسند الإمام أحمد والسنن عن جابر رضي الله عنه قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يجصص القبر وأن يقعد عليه وأن يبنى عليه»، زاد الترمذي: «وأن يكتب عليها»، وقال: هذا حديث حسن صحيح. وفي رواية لأبي داود والنسائي أو يزاد عليه أو يكتب عليه.

ورواه ابن ماجه مختصرًا ولفظه: قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يكتب على القبر شيء».

ورواه الحاكم في مستدركه ولفظه: قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يبنى على القبر أو يجصص أو يقعد عليه ونهى أن يكتب عليه» قال الحاكم على شرط مسلم وقد خرج بإسناده غير الكتابة فإنها لفظة صحيحة غريبة، وقال الذهبي في تلخيصه على شرط مسلم، وخرج منه.

وفي رواية للحاكم: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن تجصيص القبور والكتاب فيها والبناء عليها والجلوس عليها»، صححه الحاكم ووافقه الذهبي في تلخيصه.

وفي سنن ابن ماجه بإسناد صحيح عن أبي سعيد رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم: «نهى أن يبنى على القبر».

وقد خالف القبوريون هذه الأحاديث جملة وارتكبوا ما نهاهم النبي صلى الله عليه وسلم عنه من البناء على القبور والزيادة عليها وتجصيصها والكتابة عليها حتى لقد ذكر لنا عن بعض الأوثان أنه قد كتبت عليه الكتابات بماء الذهب، وذكر عن بعضها أنه كتب عليه بماء الذهب قول الله تعالى: {وإنك لعلى خلق عظيم}، فجعلوه ندا لله تعالى بالعبادة والتعظيم. وجعلوه
একইভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরসমূহ চুনকাম করা, সেগুলোর ওপর ইমারত নির্মাণ করা এবং সেগুলোর ওপর কিছু লেখা নিষিদ্ধ করেছেন। যেমনটি সহীহ মুসলিম, মুসনাদে ইমাম আহমাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহে জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর চুনকাম করতে, তার ওপর বসতে এবং তার ওপর ইমারত নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন। তিরমিযী এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "এবং তার ওপর কিছু লেখা"। তিনি বলেন: এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস। আবু দাউদ ও নাসাঈর একটি বর্ণনায় রয়েছে: "অথবা তাতে অতিরিক্ত কিছু করা কিংবা তাতে কিছু লেখা।"

ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দমালা হলো: তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের ওপর কোনো কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন।"

হাকিম তাঁর মুসতাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দমালা হলো: তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ করতে, চুনকাম করতে বা তার ওপর বসতে নিষেধ করেছেন এবং তার ওপর কিছু লিখতে নিষেধ করেছেন।" হাকিম বলেন, এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী এবং তিনি এর সনদ বর্ণনা করেছেন, তবে 'লিখন' অংশটি ব্যতীত; কারণ এটি একটি সহীহ কিন্তু গরীব (একক) শব্দ। যাহাবী তাঁর তালখীস গ্রন্থে বলেছেন যে এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী এবং এটি সেখান থেকেই সংকলিত।

হাকিমের অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরসমূহ চুনকাম করা, তাতে কিছু লেখা, তার ওপর ইমারত নির্মাণ করা এবং তার ওপর বসতে নিষেধ করেছেন।" হাকিম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর তালখীস গ্রন্থে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

সুনান ইবনে মাজাহ-তে সহীহ সনদে আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): "কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।"

কিন্তু কবরপূজারীরা সামগ্রিকভাবে এই হাদীসগুলোর বিরোধিতা করেছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা করতে নিষেধ করেছেন—যেমন কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ, কবরে অতিরিক্ত কিছু যোগ করা, চুনকাম করা এবং কিছু লেখা—তার সবই তারা লিপ্ত হয়েছে। এমনকি আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, কিছু মূর্তিসদৃশ কবরের ওপর স্বর্ণের জল দিয়ে লিপি খোদাই করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী" স্বর্ণের জল দিয়ে লেখা হয়েছে। এভাবে তারা তাকে ইবাদত ও সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে ফেলেছে। এবং তারা একে...
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
ندا للرسول صلى الله عليه وسلم بوصفه بما وصف الله به رسوله صلى الله عليه وسلم في كتابه وهذا غاية المحادة لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم.

وكذلك قد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ السرج على القبور ولعن من أسرجها فأبى القبوريون إلا أن يغالوا في إسراجها.

وكذلك قد لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم زائرات القبور من النساء فأبين إلا أن يزاحمن الرجال في زيارتها وأن يسافرن إلى زيارة الأوثان وحجها من الأماكن البعيدة والقريبة ويطفن حولها تضطرب إلياتهن كاسيات عاريات متبرجات يفتن الحي ويؤذين الميت.

وكثير من المنتسبين إلى الإسلام يضعون الخوص على القبور. وبعضهم يضع عليها الأزهار الحسنة تحية للموتى كما يزعمون، وبعضهم يضع عليها الأزهار الصناعية. وبعضهم يضع عليها الرياحين. وبعضهم يصب عليها ماء الورد وأنواع الطيب، وكل هذه الأفعال الذميمة من التقاليد الإفرنجية، ومن تشبه بقوم فهو منهم.

 

فصل

النوع الثاني: من المشابهة وهو من أعظمها شرًا وأسوأها عاقبة ما ابتلي به كثيرون من اطّراح الأحكام الشرعية والاعتياض عنها بحكم الطاغوت من القوانين والنظامات الإفرنجية أو الشبيهة بالإفرنجية المخالف كل منها للشريعة المحمدية، وقد قال الله تعالى: {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ}، وقال تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللهُ وَلَوْلا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই সকল বিশেষণে সম্বোধন করা যা দ্বারা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে স্বয়ং নিজেকে বিশেষিত করেছেন, আর এটি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চূড়ান্ত বিরোধিতার শামিল।

অনুরূপভাবে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের ওপর বাতি জ্বালাতে নিষেধ করেছেন এবং যারা কবরে আলোকসজ্জা করে তাদের ওপর লানত করেছেন। অথচ কবরপূজারীরা সেখানে অত্যধিক আলোকসজ্জা করতেই বদ্ধপরিকর।

তদ্রূপ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর জিয়ারতকারী নারীদের প্রতি লানত করেছেন; কিন্তু তারা জিয়ারতের নামে পুরুষদের সাথে ভিড় জমাতে, দূর-দূরান্ত থেকে মূর্তি সদৃশ মাজার জিয়ারত ও হজের উদ্দেশ্যে সফর করতে এবং এর চারপাশে তওয়াফ করতে পিছুপা হয় না। এমতাবস্থায় তাদের শরীরের অবয়ব দৃশ্যমান হয়, তারা পোশাক পরিহিতা হওয়া সত্ত্বেও নগ্ন থাকে এবং সাজসজ্জা প্রদর্শন করে জীবিতদের ফিতনায় ফেলে ও মৃতদের কষ্ট দেয়।

ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত অনেক ব্যক্তিই কবরের ওপর খেজুর পাতা রাখে। তাদের কেউ কেউ মৃতদের প্রতি অভিবাদন জানানোর অজুহাতে কবরে সুন্দর ফুল অর্পণ করে, কেউ কৃত্রিম ফুল রাখে, কেউ সুগন্ধি লতাপাতা দেয়, আবার কেউ কেউ কবরের ওপর গোলাপ জল ও বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি ঢালে। এই সমস্ত নিন্দনীয় কাজ ইউরোপীয় অপসংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত; আর যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

 

পরিচ্ছেদ

দ্বিতীয় প্রকার: বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের অন্যতম নিকৃষ্ট ও অশুভ পরিণতির দিক হলো—যা দ্বারা অনেকেই আজ লিপ্ত—শরীয়তের বিধানসমূহকে বর্জন করা এবং তার পরিবর্তে তাগুতি বিধান অর্থাৎ ইউরোপীয় বা তদনুরূপ আইন ও শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণ করা, যার প্রতিটিই মুহাম্মাদী শরীয়তের পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম ফয়সালাকারী আর কে হতে পারে?”। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: “নাকি তাদের এমন কিছু অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি চূড়ান্ত ফয়সালার ঘোষণা না থাকত, তবে তাদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। আর নিশ্চয়ই জালেমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد انحرف عن الدين بسبب هذه المشابهة فئام من الناس فمستقل من الانحراف ومستكثر. وآل الأمر بكثير منهم إلى الردة والخروج من دين الإسلام بالكلية فلا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

والتحاكم إلى غير الشريعة المحمدية من الضلال البعيد والنفاق الأكبر قال الله تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلهُمْ ضَلالاً بَعِيدًا * وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُودًا}.

ثم نفى تبارك وتعالى الإيمان عمن لم يحكم الرسول صلى الله عليه وسلم عند التنازع ولم يرض بحكمه ويطمئن إليه قلبه ولا يبقى لديه شك إن ما حكم به هو الحق الذي يجب المصير إليه فيذعن لذلك وينقاد له ظاهرًا وباطنا، وأقسم سبحانه وتعالى على هذا النفي بنفسه الكريمة المقدسة فقال تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا}.

وما أكثر المعرضين عن أحكام الشريعة المحمدية من أهل زماننا ولا سيما أهل الأمصار الذين غلبت عليهم الحرية الإفرنجية، وهان لديهم ما أنزل الله على رسوله محمد صلى الله عليه وسلم من الكتاب والحكمة فاعتاضوا عن التحاكم إليهما بالتحاكم إلى القوانين والسياسات والنظامات التي ما أنزل الله بها من سلطان وإنما هي متلقاة عن الدول الكافرة بالله ورسوله أو ممن يتشبه بهم ويحذو حذوهم من الطواغيت الذين ينتسبون إلى الإسلام وهم عنه بمعزل.
এই অনুকরণের ফলে একদল মানুষ দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে; কেউ সামান্য পরিমাণে আবার কেউ অধিক পরিমাণে। এমনকি তাদের অনেকের অবস্থা মুরতাদ হওয়া এবং সামগ্রিকভাবে ইসলাম ধর্ম থেকে বহিষ্কৃত হওয়া পর্যন্ত গড়িয়েছে। সুউচ্চ ও মহীয়ান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

মুহাম্মাদী শরীয়ত ব্যতীত অন্য কিছুর কাছে বিচারপ্রার্থনা করা চরম বিভ্রান্তি ও বড় মুনাফিকির অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন: ‘আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা দাবি করে যে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর তারা ঈমান এনেছে? তারা তাগুতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করার জন্য। আর শয়তান চায় তাদেরকে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে। আর যখন তাদের বলা হয়—আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে এসো, তখন আপনি মুনাফিকদের দেখবেন আপনার কাছ থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিতে।’

অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ঐ ব্যক্তির ঈমান নাকচ করে দিয়েছেন, যে বিবাদের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয় না, তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট হয় না এবং তাতে মন স্থির করে না; এমনকি তার মনে এই বিশ্বাসে কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট থাকে না যে, তিনি যা ফয়সালা করেছেন তাই ধ্রুব সত্য যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা অপরিহার্য। ফলে সে প্রকাশ্যে ও গোপনে তার অনুগত হয়। সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর আপন পবিত্র সত্তার শপথ করে এই ঈমানহীনতা ঘোষণা করে বলেছেন: ‘অতএব আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে এবং তা সর্বান্তকরণে মেনে নেয়।’

আমাদের বর্তমান সময়ে মুহাম্মাদী শরীয়তের বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া লোকের সংখ্যা কতই না বেশি! বিশেষ করে বড় বড় শহরের সেই সব মানুষ যাদের ওপর ইউরোপীয় স্বাধীনতার প্রভাব প্রবল হয়েছে। আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কিতাব ও হিকমত হিসেবে যা অবতীর্ণ করেছেন, তাদের কাছে তা তুচ্ছ হয়ে গেছে। ফলে তারা কিতাব ও সুন্নাহর বিধানের পরিবর্তে এমন সব আইন, রাজনীতি ও ব্যবস্থার কাছে বিচারপ্রার্থনা করছে যেগুলোর স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। বরং এগুলো গ্রহণ করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাসী রাষ্ট্রসমূহ থেকে, অথবা তাদের অনুকরণকারী এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী এমন সব তাগুতের পক্ষ থেকে যারা নিজেদের ইসলামের সাথে সম্পর্কিত দাবি করলেও আদতে তারা ইসলাম থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأقبح من فعل المنافقين ما يذكر عن بعض أهل زماننا أنهم قالوا: إن العمل بالشريعة المحمدية يؤخرهم عن اللحاق بأمم الإفرنج وأضرابهم من أعداء الله تعالى. وهذه ردة صريحة والله المسئول أن يقيض لأهلها ولكل من لم يرض بأحكام الشريعة المحمدية من يعاملهم معاملة أبي بكر الصديق رضي الله عنه لإخوانهم من قبل.

 

فصل

ومن اطراح الأحكام الشرعية ما يفعله كثير من المنتسبين إلى الإسلام من إبدال الحدود والتعزيرات بالحبس موافقة للإفرنج وأشباههم من أعداء الله تعالى وهذا مصداق ما في حديث أبي أمامة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لتنتقضن عرى الإسلام عروة عروة وكلما انتقضت عروة تشبث الناس بالتي تليها فأولهن نقضًا الحكم وآخرهن الصلاة» رواه الإمام أحمد وابنه عبد الله وابن حبان في صحيحه والحاكم في مستدركه.

 

فصل

النوع الثالث: من المشابهة وهو من أشنعها وأسوأها عاقبة ما ابتلي به بعض المنتسبين إلى الإسلام من تقليد الشيوعيين في ظلم الأغنياء وأخذ أموالهم قهرًا بغير حق بدعوى الاشتراك بين الأغنياء والفقراء في المال. وهذا المذهب الخبيث مأخوذ عن المزدكية من المجوس وأول من أحدثه زرادشت ثم أظهر ذلك مزدك في أيام قباذ ودعا الناس إليه.

وقد ذكر الحافظ أبو الفرج ابن الجوزي عن يحيى بن بشر بن عمير النهاوندي أنه قال: كان أول ملوك المجوس كومرث فجاءهم بدينهم
মুনাফিকদের কর্মের চেয়েও অধিক জঘন্য বিষয় হলো যা আমাদের বর্তমান সময়ের কিছু লোক সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে, তারা বলেছে: মুহাম্মদী শরীয়ত অনুযায়ী আমল করা তাদেরকে ইউরোপীয় জাতিসমূহ এবং তাদের ন্যায় আল্লাহর অন্যান্য শত্রুদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে পিছিয়ে দেয়। আর এটি একটি স্পষ্ট ধর্মত্যাগ। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন এই মতবাদে বিশ্বাসীদের জন্য এবং মুহাম্মদী শরীয়তের বিধানাবলীতে যারা সন্তুষ্ট নয় তাদের প্রত্যেকের জন্য এমন কাউকে নির্ধারণ করেন, যিনি তাদের সাথে তেমন আচরণ করবেন যেমনটি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইতিপূর্বে তাদের পূর্বসূরিদের সাথে করেছিলেন।

 

পরিচ্ছেদ

শরয়ী বিধানাবলি বর্জনের একটি রূপ হলো যা ইসলামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত অনেকে করে থাকে, তা হলো—ইউরোপীয় এবং তাদের সদৃশ আল্লাহর শত্রুদের অনুকরণ করে হদ (নির্ধারিত দণ্ডবিধি) ও তা'যীরকে (শাস্তিমূলক বিধান) কারাবাস দ্বারা পরিবর্তন করা। এটি আবু উমামা (রা.) বর্ণিত সেই হাদিসেরই বাস্তব প্রতিফলন যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ইসলামের রজ্জুসমূহ একটি একটি করে ছিঁড়ে যাবে। যখনই একটি রজ্জু ছিঁড়ে যাবে, মানুষ তার পরবর্তীটিকে আঁকড়ে ধরবে। এর মধ্যে সর্বপ্রথম যা ছিঁড়ে যাবে তা হলো বিচারিক বিধান (শাসনব্যবস্থা), আর সর্বশেষটি হলো সালাত।" ইমাম আহমদ, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

পরিচ্ছেদ

তৃতীয় প্রকার: বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনের অন্যতম জঘন্য এবং অশুভ পরিণতির দিক হলো—ইসলামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত কিছু লোক সাম্যবাদীদের (কমিউনিস্ট) অনুকরণ করার ফিতনায় আক্রান্ত হয়েছে। তারা ধনীদের ওপর জুলুম করে এবং সম্পদে ধনী ও দরিদ্রের অংশীদারত্বের দাবি তুলে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক তাদের সম্পদ গ্রহণ করে। এই কদর্য মতবাদটি অগ্নিপূজকদের মাজদাকিয়াহ মতবাদ থেকে গৃহীত। এটি সর্বপ্রথম প্রবর্তন করে জরথুস্ত্র, অতঃপর কাবাদের রাজত্বকালে মাজদাক একে প্রকাশ করে এবং মানুষের মাঝে এর আহ্বান জানায়।

হাফেজ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী, ইয়াহইয়া ইবনে বিশর ইবনে উমাইর আন-নাহাওয়ান্দীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: অগ্নিপূজকদের প্রথম রাজা ছিল কায়ুমারস, সে-ই তাদের জন্য তাদের ধর্ম নিয়ে এসেছিল।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
ثم تتابع مدعو النبوة فيهم حتى اشتهر بها زرادشت وكان مما سنه زرادشت عبادة النار والصلاة إلى الشمس، وكانوا يستحلون فروج الأمهات وقالوا الابن أحرى بتسكين شهوة أمه، وإذا مات الزوج فابنه أولى بالمرأة فإن لم يكن له ابن اكترى رجل من مال الميت ويجيزون للرجل أن يتزوج بمائة وألف وأظهر هذا الأمر مزدك في أيام قباذ وأباح النساء لكل من شاء ونكح نساء قباذ لتقتدي به العامة فيفعلون في النساء مثله فلما بلغ إلى أم أنوشروان قال لقباذ أخرجها إليّ فإنك إن منعتني شهوتي لم يتم إيمانك فهم بإخراجها فجعل أنوشروان يبكي بين يدي مزدك ويقبل رجله بين يدي أبيه قباذ ويسأله أن يهب له أمه فقال قباذ لمزدك ألست تزعم أن المؤمن لا ينبغي أن يرد عن شهوته؟ قال: بلى قال: فلم ترد أنوشروان عن شهوته؟ قال: قد وهبتها له، ثم أطلق للناس في أكل الميتة فلما ولي أنوشروان أمتى المزدكية.

وقال القرماني في تاريخه (أخبار الدول وآثار الأول) في الكلام على ملوك الفرس من الساسانية الذي من جملتهم قباذ. قال: وكان قباذ ضعيفًا مهينا في ملكه في أيام ظهر مزدك الزنديق وإليه تضاف المزدكية فادعى النبوة وأمر الناس بالتساوي في الأموال وأن يشتركوا في النساء؛ لأنهم إخوة لأب وأم آدم وحواء ودخل قباذ في دينه فشق ذلك على الناس وعظم عليهم وأجمعوا على خلع قباذ. وانضم إلى مزدك جماعة وقالوا: نحن نقاسم الناس ونرد على الفقراء حقوقهم من الأغنياء فكانوا يدخلون على الرجل في بيته فيغلبونه على أمواله ونسائه، فوثب رجل من الأشراف يعرف بابن ساجور في جماعة من أصحابه على مزدك فقتله فلم تبق ناحية إلا خرج منها خارج فخلعوا قباذ وولوا مكانه أخاه جاماسب بن فيروز ولحق قباذ بالهياطلة فأنجدوه وانتصر على أخيه جاماسب وحبسه واستمر قباذ في
এরপর তাদের মধ্যে নবুওয়াতের দাবিদারদের পর্যায়ক্রমিক আবির্ভাব ঘটতে থাকে, এমনকি তাদের মাঝে জরথুস্ত্র প্রসিদ্ধি লাভ করেন। জরথুস্ত্রের প্রবর্তিত নিয়মাবলির অন্যতম ছিল অগ্নিপূজা ও সূর্যের অভিমুখী হয়ে প্রার্থনা করা। তারা জননীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বৈধ মনে করত এবং বলত যে, মায়ের কামবাসনা প্রশমনে পুত্রই সর্বাধিক উপযুক্ত। স্বামী মারা গেলে তার স্ত্রীর ওপর পুত্রেরই অগ্রাধিকার সাব্যস্ত হতো; আর যদি কোনো পুত্র না থাকত, তবে মৃতের সম্পদ ব্যয় করে কোনো ব্যক্তিকে ভাড়া করা হতো। তারা এক ব্যক্তির জন্য একশ বা এক হাজার বিবাহ করাকেও বৈধ মনে করত। কাবাদ-এর রাজত্বকালে মাজদাক এই মতবাদ প্রকাশ্যে আনেন এবং নারীদেরকে সবার জন্য অবারিত করে দেন। এমনকি তিনি খোদ কাবাদ-এর স্ত্রীদের সাথেও সঙ্গম করেন যাতে সাধারণ প্রজারা তার অনুসরণ করে নারীদের ক্ষেত্রে অনুরূপ আচরণ করে। যখন বিষয়টি আনুশিরওয়ানের মাতা পর্যন্ত গড়াল, তখন তিনি কাবাদকে বললেন: "তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও; কেননা তুমি যদি আমাকে আমার কামতৃপ্তি থেকে বঞ্চিত করো, তবে তোমার ঈমান পূর্ণ হবে না।" কাবাদ তাকে পাঠিয়ে দেওয়ার উপক্রম করলে আনুশিরওয়ান মাজদাকের সামনে রোদন করতে লাগলেন এবং নিজ পিতা কাবাদের উপস্থিতিতে মাজদাকের পদচুম্বন করে তার মাতাকে তার নিকট ভিক্ষা চাইলেন। তখন কাবাদ মাজদাককে বললেন: "আপনি কি এমন দাবি করেন না যে, মুমিন ব্যক্তিকে তার অভিপ্রায় থেকে ফিরিয়ে রাখা উচিত নয়?" তিনি বললেন: "অবশ্যই।" কাবাদ বললেন: "তবে কেন আপনি আনুশিরওয়ানকে তার ইচ্ছা থেকে বঞ্চিত করছেন?" মাজদাক বললেন: "আমি তাকে তার কাছে দান করলাম।" এরপর তিনি মানুষের জন্য মৃত পশু ভক্ষণ বৈধ করে দেন। অতঃপর আনুশিরওয়ান যখন ক্ষমতাসীন হলেন, তখন তিনি মাজদাকীয় মতবাদ নির্মূল করেন।

আল-কারমানি তার ইতিহাস গ্রন্থ 'আখবারুদ দুওয়াল ওয়া আসারুল আউয়াল'-এ পারস্যের সাসানীয় সম্রাটদের বর্ণনায়—যাদের অন্যতম ছিলেন কাবাদ—বলেন: কাবাদ তার শাসনকালে দুর্বল ও লাঞ্ছিত ছিলেন। তার সময়েই জিন্দিক মাজদাকের আবির্ভাব ঘটে, যার সাথে মাজদাকীয় মতবাদটি সংশ্লিষ্ট। সে নবুওয়াতের দাবি করে এবং মানুষকে ধন-সম্পদে সাম্য বিধানের ও নারীদের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের নির্দেশ দেয়; এই যুক্তিতে যে, তারা সবাই একই পিতা-মাতা আদম ও হাওয়ার সন্তান। কাবাদ তার ধর্মাদর্শ গ্রহণ করলে প্রজাদের নিকট তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও গুরুতর মনে হয় এবং তারা কাবাদকে পদচ্যুত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করে। একদল লোক মাজদাকের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বলতে থাকে: "আমরা মানুষের মাঝে সম্পদ বণ্টন করব এবং ধনীদের নিকট থেকে দরিদ্রদের অধিকার ফিরিয়ে দেব।" তারা মানুষের গৃহে প্রবেশ করে তাদের ধন-সম্পদ ও নারীদের ওপর জবরদস্তি করত। অতঃপর ইবনে সাজুর নামক এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তার একদল সঙ্গীসহ মাজদাকের ওপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করেন। তখন দেশের সর্বত্র বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং তারা কাবাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে তার স্থলে তার ভ্রাতা জামাস্প বিন ফিরোজকে ক্ষমতায় বসায়। কাবাদ হায়াতলা (হেফথালীয়) সম্প্রদায়ের নিকট আশ্রয় নিলে তারা তাকে সামরিক সাহায্য প্রদান করে। ফলে তিনি তার ভ্রাতা জামাস্পের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করে তাকে কারারুদ্ধ করেন এবং কাবাদ পুনরায় নিজ রাজত্বে অধিষ্ঠিত থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল ঈজাহ ওয়াত তাবয়ীন লিমা ওয়াকাআ ফীহিল আকসারূনা মিন মুশাবাহাতিল মুশরিকীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
الملك حتى قتل في يد العرب بمدينة الري وكان ملكه إلى أن هلك ثلاثًا وأربعين سنة، ثم ملك بعده ابنه أنوشروان ولما تولى الملك كان صغيرًا فلما استقل بالملك وجلس على السرير قال لخواصه إني عاهدت الله إن صار الملك إلي أن أعيد آل المنذر إلى الحيرة ثانيا وأن أقتل طائفة المزدكية الذين أفسدوا في أموال الناس ونسائهم، وكان مزدك قائمًا إلى جانب السرير فقال: هل تقتل الناس جميعا هذا فساد في الأرض والله قد ولاك لتصلح لا لتفسد. فقال له أنوشروان يا ابن الخبيثة أتذكر وقد سألت أبي قباذ أن يأذن لك في المبيت عند أمي، فأمر لك فمضيت نحو حجرتها فلحقت بك وقبلت رجلك وما زال نتن جواربك في أنفي منذ ذلك اليوم إلى الآن وسألتك حتى وهبتها لي ورجعت؟ فقال: نعم فأمر بقتله فقتل بين يديه وأخرج وأحرقت جثته وأمر بقتل أتباعه فقتل منهم خلقًا كثيرًا وأثبت ملة المجوسية القديمة وكتب بذلك إلى أصحاب الولايات وقوى جنده بالأسلحة والكراع وعمر البلاد وقسم أموال الزنادقة على الفقراء ورد الأموال التي لها أصحاب إلى أصحابها وأجرى الأرزاق للضعيفات اللاتي مات عنهن أزواجهن وأمر أن يزوجهن من مال كسرى وكذلك فعل بالبنات اللاتي لم يوجد لهن أب وأما البنون الذين لم يوجد لهم أب فأضافهم إلى مماليكه ورد المنذر إلى الحيرة وطرد الحارث عنها وكان الحارث مزدكيًا انتهى.

وقد ذكر ابن جرير في تاريخه عن المزدكية نحو ما ذكره القرماني. فذكر أنهم قالوا: إن الله إنما جعل الأرزاق في الأرض ليقسمها العباد بينهم بالتآسي ولكن الناس تظالموا فيها، وزعموا أنهم يأخذون للفقراء من الأغنياء. ويردون من المكثرين على المقلين وأن من كان عنده فضل من الأموال
তিনি রায় শহরে আরবদের হাতে নিহত হওয়া পর্যন্ত রাজত্ব করেন এবং তাঁর মৃত্যু অবধি তাঁর রাজত্বকাল ছিল তেতাল্লিশ বছর। এরপর তাঁর পুত্র অনোশিরওয়ান রাজত্বভার গ্রহণ করেন। যখন তিনি ক্ষমতার অধিকারী হন, তখন তিনি অল্পবয়স্ক ছিলেন। যখন তিনি স্বাধীনভাবে রাজকার্য পরিচালনা করতে শুরু করলেন এবং সিংহাসনে আরোহণ করলেন, তখন তিনি তাঁর পারিষদবর্গকে বললেন, “আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিলাম যে, যদি রাজত্ব আমার হাতে আসে, তবে আমি আল-মুনজির বংশকে পুনরায় হিরায় ফিরিয়ে আনব এবং মাজদাকিয়া সম্প্রদায়কে হত্যা করব, যারা মানুষের ধন-সম্পদ ও নারীদের মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।” তখন মাজদাক সিংহাসনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, সে বলল, “আপনি কি সকল মানুষকে হত্যা করবেন? এটি পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে, অথচ আল্লাহ আপনাকে সংস্কার করার জন্য ক্ষমতা দিয়েছেন, বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য নয়।” অনোশিরওয়ান তাকে বললেন, “হে অপবিত্রার পুত্র! তোমার কি মনে আছে, তুমি আমার পিতা কুবাদ-এর কাছে আমার মায়ের সাথে রাত কাটানোর অনুমতি চেয়েছিলে? তিনি তোমাকে অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তুমি যখন তাঁর কক্ষের দিকে যাচ্ছিলে তখন আমি তোমার পিছু নিয়েছিলাম এবং তোমার পায়ে চুম্বন করেছিলাম—সেই দিন থেকে আজও তোমার মোজার দুর্গন্ধ আমার নাকে লেগে আছে—এবং আমি তোমার কাছে অনুনয়-বিনয় করেছিলাম যতক্ষণ না তুমি তাকে আমার জন্য দান করলে এবং ফিরে এলে?” সে বলল, “হ্যাঁ।” তখন তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁর সম্মুখেই তাকে হত্যা করা হলো। এরপর তাকে বাইরে বের করে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হলো। তিনি তার অনুসারীদেরও হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং তাদের বিশাল এক গোষ্ঠীকে হত্যা করা হলো। তিনি প্রাচীন মজুসি (অগ্নিপূজক) ধর্মকে পুনরায় সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন এবং এ বিষয়ে প্রদেশসমূহের শাসনকর্তাদের কাছে লিপি পাঠালেন। তিনি অস্ত্রশস্ত্র ও অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা তাঁর সৈন্যদের শক্তিশালী করলেন, জনপদ আবাদ করলেন এবং ধর্মদ্রোহীদের সম্পদ দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করলেন। আর যে সম্পদের প্রকৃত মালিক বর্তমান ছিল, তা তাদের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। তিনি বিধবা নারীদের জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করলেন এবং কিসরার রাজকীয় অর্থ ব্যয় করে তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন। যে কন্যাদের পিতা নেই, তাদের ক্ষেত্রেও তিনি একই ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। আর পিতৃহীন পুত্রদের তিনি তাঁর রাজকীয় অনুচরদের অন্তর্ভুক্ত করলেন। তিনি মুনজিরকে হিরায় ফিরিয়ে আনলেন এবং সেখান থেকে হারিসকে বিতাড়িত করলেন; কারণ হারিস ছিল মাজদাকি মতাবলম্বী। (সমাপ্ত)।

ইবনে জারীর তাঁর ইতিহাসে মাজদাকিয়াদের সম্পর্কে আল-কারমানী যা উল্লেখ করেছেন তার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তারা বলত: আল্লাহ পৃথিবীতে জীবনোপকরণ সৃষ্টি করেছেন যেন বান্দারা তা সহমর্মিতার ভিত্তিতে নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেয়, কিন্তু মানুষ এ ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর জুলুম করেছে। তারা দাবি করত যে, তারা ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ নিয়ে দরিদ্রদের প্রদান করে এবং বিত্তশালীদের কাছ থেকে নিয়ে অভাবীদের ফিরিয়ে দেয়; আর যার কাছে অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে...