(খণ্ড: ১)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: -)
صلة التكملة لوفيات النقلة القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: صلة التكملة لوفيات النقلة
المؤلف: عز الدين أحمد بن محمد بن عبد الرحمن الحسيني (636 - 695 هـ)
حققه وضبط نصه وعلق عليه: الدكتور بشار عواد معروف
الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1442
সিলাতুত তাকমিলা লি ওফায়াতিন নাক্বালাহ বিভাগ: জীবনী ও রাবীগণের স্তরসমষ্টি
বই: সিলাতুত তাকমিলা লি ওফায়াতিন নাক্বালাহ
লেখক: ইযযুদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-হুসাইনী (৬৩৬ - ৬৯৫ হিজরি)
সম্পাদনা, পাঠ-পরিশোধন ও টীকাভাষ্য প্রদান করেছেন: ডক্টর বাশশার আওয়াদ মারুফ
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামী، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدّمة التحقيقبسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنّا لنهتدي لولا أن هدانا الله، الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيّئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إلها صمدا، وأشهد أنّ سيّدنا وسندنا وأسوتنا وقدوتنا وشفيعنا وحبيبنا محمدا عبده ورسوله، بعثه الله بالهدى ودين الحقّ ليظهره على الدّين كلّه ولو كره المشركون.
{يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اِتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:
102].
{يا أَيُّهَا النّاسُ اِتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالاً كَثِيراً وَنِساءً وَاِتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: 1].
{يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اِتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً
* يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70 - 71].
أما بعد،
فهذا كتاب «صلة التكملة لوفيات النقلة» للحافظ عزّ الدين أبي القاسم الحسينيّ أقدّمه لعشاق تراث أمتي الحريصين عليه، وقد حققته تحقيقا علميا حتى تجلّى بهذه الهيئة التي تسرّ كلّ طالب علم غيور على تراث الأمة، لم أبخل عليه بوقت ولا جهد مستطاع، وأنا الخبير به، وبما ذيّل عليه، إذ كنت نشرت «التكملة لوفيات النقلة» لشيخه الحافظ زكيّ الدّين المنذريّ قبل أربعين عاما، وكتبت دراسة موسعة عن «المنذري وكتابه التكملة» نشرتها في مجلد مستقلّ سنة 1968 م.
ومنذ ذلك الحين وأنا أتطلّع إلى تحقيقه ونشره لتعمّ فوائده وترتجى
সম্পাদনার ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন; আল্লাহ আমাদের হেদায়েত না দিলে আমরা পথ পেতাম না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি অমুখাপেক্ষী ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের অবলম্বন, আমাদের আদর্শ, আমাদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, আমাদের সুপারিশকারী এবং আমাদের প্রিয়জন মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান:
১০২]।
{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর নজরদারি করেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো।
* তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, সে এক মহা সাফল্য অর্জন করবে।} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর,
এটি হাফেজ ইযযুদ্দীন আবু কাসেম আল-হুসাইনী রচিত ‘সিলাতুত তাকমিলা লি ওফায়াতিন নাকলা’ গ্রন্থ, যা আমি উম্মাহর ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহী ও যত্নশীল অনুরাগীদের সামনে পেশ করছি। আমি এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পাদনা করেছি, যাতে এটি এমন এক রূপে আত্মপ্রকাশ করে যা উম্মাহর ঐতিহ্যের প্রতি যত্নশীল প্রত্যেক ইলম অন্বেষণকারীকে আনন্দিত করে। আমি এতে আমার পর্যাপ্ত সময় বা সাধ্যানুযায়ী শ্রম ব্যয় করতে কার্পণ্য করিনি। আমি এই গ্রন্থ এবং এর ওপর লিখিত পরিশিষ্টসমূহ (তাজয়ীল) সম্পর্কে অভিজ্ঞ; কেননা আজ থেকে চল্লিশ বছর পূর্বে আমি তাঁর উস্তাদ হাফেজ জাকিউদ্দীন আল-মুনজিরীর ‘আত-তাকমিলা লি ওফায়াতিন নাকলা’ প্রকাশ করেছিলাম এবং ‘আল-মুনজিরী ও তাঁর গ্রন্থ তাকমিলা’ বিষয়ে একটি বিস্তারিত গবেষণা লিখেছিলাম যা ১৯৬৮ সালে একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
সেই সময় থেকেই আমি এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলাম যাতে এর উপকারিতা ব্যাপ্ত হয় এবং তা প্রত্যাশিত হয়...
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
عوائده، ولكن شغلتني عنه صروف الزّمان، حتى شاء الله سبحانه أن يوفّقني في هذه الأيام إلى تحقيق ما كنت أصبو إليه، فالحمد له على ما أنعم وتفضّل.
وقد رأيت من المفيد أن أقدّم له مقدّمة وجيزة تناولت فيها المؤلّف والكتاب، ثم وصفا لنسخته الخطّية الفريدة بخطّ مؤلّفه وما عليها من سماعات. وتطرّقت إلى طبعة أصدرتها من قريب دار ابن حزم بعناية السيد أبي يحيى عبد الله الكندريّ، ثم أوضحت منهجي في تحقيق الكتاب، سائلا الله سبحانه توفيقي إلى قول سديد يصلح لي عملي ويغفر لي ذنبي، وما ذلك على الله بعزيز، وآخر دعواي أن الحمد لله ربّ العالمين.
المحقّق
তার কল্যাণসমূহ, কিন্তু কালের বিবর্তন আমাকে তা থেকে বিমুখ করে রেখেছিল, অবশেষে মহান আল্লাহ এই দিনগুলোতে আমাকে সেই বিষয়টি সম্পাদনা করার তাওফিক দান করার ইচ্ছা করলেন যার আকাঙ্ক্ষা আমি পোষণ করতাম। সুতরাং তিনি যা নিআমত ও অনুগ্রহ দান করেছেন তার জন্য সকল প্রশংসা তাঁরই।
আমি এর জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পেশ করা উপকারী মনে করেছি, যাতে আমি লেখক ও গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা করেছি, অতঃপর লেখকের নিজস্ব হস্তলিপিতে লিখিত এর অনন্য পাণ্ডুলিপি এবং এর ওপর থাকা শ্রুতি-নোটসমূহের (সামা'আত) বর্ণনা প্রদান করেছি। এছাড়া আমি নিকট অতীতে দার ইবনে হাজম থেকে জনাব আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহ আল-কানদারির তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত একটি মুদ্রণ সম্পর্কেও আলোকপাত করেছি। এরপর আমি গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট সঠিক কথা বলার তাওফিক প্রার্থনা করছি, যা আমার আমলকে সংশোধন করবে এবং আমার গুনাহ ক্ষমা করবে; আর এটি আল্লাহর জন্য কোনো কঠিন বিষয় নয়। আমাদের শেষ কথা হলো—সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সম্পাদক
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
مؤلّف الكتاب:هو عزّ الدّين أبو القاسم أحمد
(1) بن أبي عبد الله محمد بن أبي القاسم عبد الرّحمن بن أبي الحسن عليّ بن محمد بن محمد بن قاسم بن محمد بن إبراهيم بن محمد بن عليّ بن عبيد الله بن عليّ بن عبيد الله بن الحسين بن عليّ ابن الحسين بن عليّ بن أبي طالب - هكذا ذكر نسبه بخطّه في ترجمة والده من «الصّلة»
(2) - العلويّ الحسينيّ المصريّ، المعروف بابن الحلبيّ.
واتفقت المصادر على أنه ولد بالقاهرة سنة 636 هـ - من عائلة علميّة شريفة أصلها من الكوفة وسكنت دمشق. ونشأ جدّه في حلب فعرف بالحلبي، وقد ترجمه المنذريّ في وفيات سنة 582 هـ - من «التكملة» فقال: «وفي الثالث عشر من شوّال توفّي الشريف الأجلّ الفاضل أبو القاسم عبد الرّحمن ابن الشريف الأجلّ أبي الحسن عليّ بن محمد بن قاسم العلويّ الحسينيّ، بالقاهرة. ومولده بدمشق سنة عشرين وخمس مئة تقريبا، وكان منشؤه بحلب»
(3). وأخذ الذهبيّ هذه الترجمة، فذكرها في «تاريخ الإسلام»، قال:
«عبد الرّحمن بن عليّ بن محمد بن قاسم، الشريف الأجلّ، أبو القاسم، العلويّ الحسيني. توفّي في شوال بالقاهرة. ولد بدمشق في حدود سنة عشرين
--------------------------------------------
গ্রন্থকার:তিনি হলেন ইযযুদ্দীন আবুল কাসিম আহমাদ
(১) ইবনে আবি আবদিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবিল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে আবিল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আলী ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব—তাঁর পিতার জীবনীতে ‘আস-সিলাহ’
(২) গ্রন্থে তিনি স্বহস্তে এভাবেই তাঁর বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছেন—তিনি আল-আলাভি আল-হুসাইনি আল-মিসরি, যিনি ইবনুল হালাবি নামে পরিচিত।
ঐতিহাসিক উৎসসমূহ একমত যে তিনি ৬৩৬ হিজরিতে কায়রোতে এক সম্ভ্রান্ত ইলমি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যাদের আদি নিবাস ছিল কুফায় এবং তারা দামেস্কে বসবাস করতেন। তাঁর দাদা হালবে (আলেপ্পো) বেড়ে ওঠেন, ফলে তিনি ‘আল-হালাবি’ নামে পরিচিতি পান। আল-মুনযিরি ‘আত-তাকমিলা’ গ্রন্থে ৫৮২ হিজরির মৃত্যুসংবাদের অধ্যায়ে তাঁর জীবনী উল্লেখ করে বলেছেন: “শাওয়াল মাসের ১৩ তারিখে কায়রোতে অত্যন্ত সম্মানিত ও বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব শরিফ আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে শরিফ আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম আল-আলাভি আল-হুসাইনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জন্ম আনুমানিক ৫২০ হিজরিতে দামেস্কে এবং তিনি হালবে লালিত-পালিত হন।”
(৩) আয-যাহাবি এই জীবনীটি গ্রহণ করেছেন এবং ‘তারিখুল ইসলাম’ গ্রন্থে তা উল্লেখ করে বলেছেন:
“আবদুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম, মহান শরিফ, আবুল কাসিম, আল-আলাভি আল-হুসাইনি। তিনি কায়রোতে শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ৫২০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
وخمس مئة. وهو جدّ الشريف عزّ الدين الحافظ»
(1).
ويلاحظ أنّ المنذريّ لم يذكر شيئا من سيرته العلميّة، فكأنّه لم يقف عليها، أو أنه ذكره لنسبه وشرفه ومنصبه. على أنّ حفيده عزّ الدين المؤلف ذكر أنه كان أحد الفضلاء المشهورين، وأنّ له تصانيف حسنة، وأنه أقرأ العربية والأصول وغيرهما
(2). ويبدو لي أنه لم يعن بالرواية، ولذلك لم يذكر المنذريّ شيئا من سيرته في السّماع أو العطاء.
ويظهر أنّ أبا القاسم عبد الرّحمن هذا هو الذي قدم إلى القاهرة واتخذها موطنا، فقد ولد بدمشق، ونشأ بحلب كما مرّ في ترجمته، وولد له «محمد» والد المؤلّف بالقاهرة قبل وفاته بتسع سنوات تقريبا.
وقد ترجم عزّ الدّين لوالده في وفيات سنة 666 هـ من كتابه، فقال:
«وفي ضحوة السادس من صفر توفّي سيّدي ووالدي الإمام العالم أبو عبد الله محمد. . . الكوفيّ الأصل المصريّ المولد والدار، المعروف والده بالحلبي، بالقاهرة، ودفن من يومه بسفح المقطّم. ومولده في عشيّة السادس والعشرين من شهر رمضان سنة ثلاث وسبعين وخمس مئة بالقاهرة. قرأ القرآن الكريم على أبي الحسن الإسكندرانيّ وغيره. واشتغل بالعربية والأصول، وبرع فيهما. وسمع من أبي الطاهر محمد بن محمد بن بنان الأنباري، والشريف أبي محمد عبد الله بن عبد الجبّار العثماني، وأبي الطاهر إسماعيل بن عبد الرّحمن الأنصاري، وأبي صابر حامد بن أبي القاسم بن روزبة، وأبي محمد عبد القويّ بن أبي الحسن القيسراني، والأمير أبي الفوارس مرهف بن أسامة بن منقذ، وآخرين غيرهم. وحدّث، وأقرأ العربية وغيرها مدة. وكان ذا فنون متعدّدة ومعارف جمّة، مع ما هو عليه من حسن الطريقة وكرم الأخلاق، وكان مؤثرا للانفراد والتخلي، محبّا في الانقطاع وعدم الاختلاط بالنّاس، ذا
--------------------------------------------
এবং পাঁচশ। তিনি হলেন শরীফ ইযযুদ্দীন আল-হাফিজের দাদা।
(১)লক্ষণীয় যে, আল-মুনযিরী তাঁর ইলমী জীবনী সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি, মনে হচ্ছে যেন তিনি এ বিষয়ে অবগত হননি, অথবা হয়তো তিনি তাঁর বংশমর্যাদা, সম্মান ও পদের কারণে তাঁর উল্লেখ করেছেন। যদিও তাঁর নাতি লেখক ইযযুদ্দীন উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রখ্যাত গুণীজনদের একজন ছিলেন, তাঁর চমৎকার কিছু রচনা রয়েছে এবং তিনি আরবি ভাষা, উসূলে ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্র পড়াতেন
(২)। আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি হাদীস বর্ণনার (রিওয়ায়াত) প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন না, আর একারণেই মুনযিরী তাঁর হাদীস শ্রবণ (সামা') বা শিক্ষাদানের (আতা) জীবনী সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি।
এটি স্পষ্ট যে, এই আবু আল-কাসিম আবদুর রহমানই কায়রোতে এসেছিলেন এবং একে নিজের আবাসভূমি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন; কারণ তিনি দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং হালবে (আলেপ্পো) বেড়ে উঠেছিলেন, যা তাঁর জীবনীতে পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। তাঁর পুত্র এবং লেখকের পিতা 'মুহাম্মদ' তাঁর মৃত্যুর প্রায় নয় বছর আগে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন।
ইযযুদ্দীন তাঁর কিতাবে ৬৬৬ হিজরির মৃত্যুসংবাদে তাঁর পিতার জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন:
«সফর মাসের ছয় তারিখের দ্বিপ্রহরের প্রাক্কালে আমার সায়্যিদ ও পিতা ইমাম আলিম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ... ইন্তেকাল করেছেন। তিনি মূলে কূফী হলেও মিশরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন। তাঁর পিতা 'আল-হালাবী' নামে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি কায়রোতে ইন্তেকাল করেন এবং সে দিনই আল-মুকাট্টাম পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়। তাঁর জন্ম ছিল পাঁচশ তিয়াত্তর হিজরির ছাব্বিশে রমজান সন্ধ্যায় কায়রোতে। তিনি আবুল হাসান আল-ইসকান্দারানী এবং অন্যদের নিকট পবিত্র কুরআন পাঠ করেন। তিনি আরবি ভাষা ও উসূলে ফিকহ চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং এই দুই বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি আবু তাহির মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন বান্নান আল-আনবারী, শরীফ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদুল জাব্বার আল-উসমানী, আবু তাহির ইসমাঈল বিন আবদুর রহমান আল-আনসারী, আবু সাবির হামিদ বিন আবুল কাসিম বিন রুজবাহ, আবু মুহাম্মদ আবদুল কাভী বিন আবুল হাসান আল-কায়সারানী, আমীর আবু আল-ফাওয়ারিস মুরহাফ বিন উসামা বিন মুনকিয এবং আরও অনেকের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং দীর্ঘকাল আরবি ও অন্যান্য বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বহুমুখী জ্ঞান ও অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। এর পাশাপাশি তাঁর চলার পথ ছিল চমৎকার এবং চরিত্র ছিল অত্যন্ত উন্নত। তিনি নির্জনতা ও একাকীত্ব পছন্দ করতেন এবং মানুষের সাথে মেলামেশা বর্জন করে ইবাদতে মগ্ন থাকতে ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
جدّ وعمل»
(1). ونقل قطب الدّين اليونينيّ هذه الترجمة بتمامها من وفيات الحسينيّ هذه وإن لم يشر إليه
(2)، وترجمه الذهبيّ في «تاريخ الإسلام» نقلا من هذا الكتاب أيضا، لكنه أضاف إلى الترجمة أنه سمع من ابن بنان الأنباري «السيرة النبويّة»، وذكر ممّن روى عنه: الدمياطيّ، والشيخ شعبان، وعلم الدّين الدواداريّ والمصريين، وعليّ بن قريش، وعبد الله بن علي الصّنهاجيّ، وشمس الدّين محمد بن أحمد ابن القمّاح
(3). ووصفه تلميذه قاضي القضاة بدر الدّين ابن جماعة الكنانيّ المتوفّى سنة 733 هـ بأنه «شريف جليل فاضل خطير، من أمثل أسرته علما وأدبا ورياسة، موصوف بالعقل والجلالة، من سادات عترته وقارا ودينا، قطع زمانه بطاعة الله والصّيانة وما توجبه الدّيانة».
وأخرج له في «مشيخته» من روايته عن القاضي الأثير أبي الطاهر ابن بنان الأنباريّ أحاديث من «السّيرة»
(4). أما الصفديّ فلخّص ترجمة الذهبيّ له، ولم يزد عليها
(5) كما هي عادته. وأما المقريزيّ فالظاهر أنه نقل ترجمته من الوفيات مباشرة، وذكر أنه دفن بكهف الأشراف من القرافة
(6). كما ترجمه الدّمياطيّ في «معجم شيوخه»
(7).
وهكذا، يظهر أنّ والده كان من متعيّني عصره منزلة وشرفا وعلما، وهو، كما وصفه ابن جماعة، من أمثل أسرته.
--------------------------------------------
প্রচেষ্টা ও কর্ম
(১)। কুতুবুদ্দিন আল-ইউনিনি এই জীবনীটি সম্পূর্ণভাবে আল-হুসাইনির ‘ওফায়াত’ থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যদিও তিনি এর সূত্র উল্লেখ করেননি
(২)। আয-যাহাবিও এই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে ‘তারিখুল ইসলাম’-এ তার জীবনী আলোচনা করেছেন, তবে তিনি জীবনীতে আরও যোগ করেছেন যে, তিনি ইবনে বানান আল-আনবারি থেকে ‘আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ’ (নবীর জীবনী) শুনেছিলেন। তার থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আদ-ডিমইয়াতি, আশ-শাইখ শাবান, আলামুদ্দিন আদ-দাওয়াদারি ও মিসরীয়গণ, আলি ইবনে কুরাইশ, আব্দুল্লাহ ইবনে আলি আস-সানহাজি এবং শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনুল কাম্মাহ
(৩)। তার ছাত্র কাযিল কুযাত বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ আল-কিনানি (মৃত্যু ৭৩৩ হিজরি) তাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হলেন ‘মর্যাদাবান, মহান, বিদগ্ধ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব; জ্ঞান, সাহিত্য ও নেতৃত্বের বিচারে নিজ পরিবারের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি প্রজ্ঞা ও মাহাত্ম্যের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং তার বংশের নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে গাম্ভীর্য ও দ্বীনদারির প্রতীক ছিলেন। তিনি তার জীবনকাল আল্লাহর আনুগত্য, আত্মরক্ষা এবং ধর্মের আবশ্যিক বিষয়াবলি পালনে অতিবাহিত করেছেন’।
তিনি তার ‘মাশয়াখাহ’ গ্রন্থে কাযি আল-আসির আবু তাহির ইবনে বানান আল-আনবারির সূত্রে তার বর্ণিত ‘সিরাত’ থেকে কিছু হাদিস সংকলন করেছেন
(৪)। আস-সাফাদি আয-যাহাবির প্রদানকৃত তার জীবনীটি সংক্ষেপ করেছেন এবং তার স্বভাবসুলভ অভ্যাসের ন্যায় এতে নতুন কিছু যোগ করেননি
(৫)। আল-মাকরিজির ক্ষেত্রে প্রকাশ থাকে যে, তিনি তার জীবনী সরাসরি ‘ওফায়াত’ থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, তাকে কারাফার ‘কাহফুল আশরাফ’ বা সম্ভ্রান্তদের গুহায় দাফন করা হয়েছে
(৬)। একইভাবে আদ-ডিমইয়াতিও তার ‘মুজামু শুয়ুখিহি’ গ্রন্থে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন
(৭)।
এভাবে এটি স্পষ্ট হয় যে, তার পিতা মর্যাদা, আভিজাত্য ও জ্ঞানের দিক থেকে স্বীয় সময়ের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন এবং ইবনে জামাআহ যেমনটি বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন তার পরিবারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
نشأته وشيوخه:في هذا البيت الشريف نشأ عزّ الدين أبو القاسم، فكان من الطبيعيّ أن يحذو حذو والده في طلب العلم، فقرأ على علماء عصره ممن ذكرهم في هذا الكتاب، وهم كثرة، لكنه لازم حافظ الديار المصريّة يومئذ زكيّ الدّين المنذريّ (581 - 656 هـ) وتخرّج به
(1)، وتأثيره ظاهر في شخصيته وأسلوبه في صياغة الترجمة. كما تأثر بشيخه الرّشيد العطّار المتوفّى سنة 662 هـ، حيث قال: «سمعت منه وصحبته مدة»
(2).
وأقدم شيوخه وفاة هو القاضي أبو الفضل أحمد بن محمد بن عبد العزيز التميميّ السّعديّ الأغلبيّ، المعروف بابن الجبّاب، المتوفّى سنة 648 هـ، قال في ترجمته: «سمعت منه، وكان أحد المشايخ والأعيان ببلده، وبيته مشهور بالعلم والرواية والتقدّم»
(3)، ومعنى ذلك أنه طلب العلم مبكّرا، إذ كانت وفاة ابن الجبّاب وعزّ الدّين في الثانية عشرة من عمره.
وكتب شيئا يسيرا عن والي القاهرة محمد ابن الأمير أبي سعيد خاصّ بك المتوفّى سنة 653 هـ، وقد أجاز له
(4).
وسمع شيئا يسيرا من الشيخ أبي الحسن عليّ بن عبد الوهّاب بن عتيق القرشيّ العامريّ المتوفّى سنة 656 هـ
(5).
كما سمع من الشيخ عبد المحسن بن مرتفع الخثعميّ المصريّ السّراج، المتوفّى سنة 656 هـ أيضا، وكان آخر من حدّث عن أبي القاسم عبد الرّحمن
--------------------------------------------
তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষকগণ:এই সম্মানিত পরিবারেই ইযযুদ্দীন আবুল কাসেম বেড়ে ওঠেন। তাই জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক। তিনি তাঁর সমসাময়িক সেইসব আলেমদের নিকট পাঠগ্রহণ করেছেন যাঁদের নাম তিনি এই গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আর তাঁদের সংখ্যা অনেক। তবে তিনি তৎকালীন মিশরের হাফিয যাকিউদ্দীন আল-মুনযিরীর (৫৮১ - ৬৫৬ হিজরী) সান্নিধ্যে অবস্থান করেন এবং তাঁর মাধ্যমেই শিক্ষা সমাপন করেন
(১)। তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং জীবনী রচনার শৈলীতে মুনযিরীর প্রভাব সুস্পষ্ট। এছাড়াও তিনি তাঁর শিক্ষক রশীদ আল-আত্তার (মৃত্যু ৬৬২ হিজরী) দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যাঁর সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছি এবং দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম"
(২)।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে যাঁর মৃত্যু সবচেয়ে আগে হয়েছে তিনি হলেন কাযী আবুল ফযল আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আযীয আত-তামীমী আস-সাদী আল-আগলাবী, যিনি ইবনুল জাব্বাব নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৮ হিজরী)। তাঁর জীবনীতে তিনি বলেছেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছি। তিনি ছিলেন তাঁর অঞ্চলের অন্যতম শায়খ ও গণ্যমান্য ব্যক্তি; তাঁর পরিবার ইলম, বর্ণনা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সুপরিচিত ছিল"
(৩)। এর অর্থ হলো তিনি অতি অল্প বয়সেই জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেন, কারণ ইবনুল জাব্বাবের মৃত্যুর সময় ইযযুদ্দীনের বয়স ছিল মাত্র বারো বছর।
তিনি কায়রোর গভর্নর মুহাম্মদ ইবনে আল-আমীর আবু সাঈদ খাস বাক (মৃত্যু ৬৫৩ হিজরী) সম্পর্কে সামান্য কিছু লিখেছেন, যিনি তাঁকে ইজাযাহ (বর্ণনার অনুমতি) প্রদান করেছিলেন
(৪)।
তিনি শেখ আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতিক আল-কুরাশী আল-আমেরীর (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরী) নিকট থেকে যৎসামান্য শ্রবণ করেছেন
(৫)।
অনুরূপভাবে তিনি শেখ আব্দুল মুহসিন ইবনে মুরতাফি আল-খাসআমি আল-মিসরী আস-সাররাজ (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরী) থেকেও শ্রবণ করেছেন, যিনি আবুল কাসেম আব্দুল রহমান থেকে বর্ণনা প্রদানকারী সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
ابن محمد السّبيي سماعا
(1).
وسمع من الشيخ شرف الدّين أبي الغيث منهال بن محمد العسقلانيّ الأصل المصريّ المولد والدار، المتوفّى سنة 657 هـ، وكانت له معرفة حسنة بالوراقة والشّروط
(2).
وسمع من الشيخ أبي الكرم لا حق بن عبد المنعم بن قاسم الأنصاريّ الأرتاحيّ الأصل المصريّ الحريريّ اللبّان المتوفّى سنة 658 هـ، قال:
«سمعت منه، وقد سمع منه شيخانا الحافظان أبو محمد عبد العظيم بن عبد القوي المنذريّ وأبو الحسن يحيى بن عليّ القرشيّ، وجماعة جمّة من مشايخنا ورفقائنا وغيرهم. وكان شيخا عفيفا صابرا على الرواية والتحديث»
(3).
وقال في ترجمة الشيخ جمال الدّين أبي عمرو عثمان بن مكيّ السّعديّ الشارعيّ المتوفّى سنة 659 هـ: «وحدّث بالكثير مدة، سمعت منه. وكان شيخا فاضلا مشهورا بالدّين والصّلاح»
(4).
وسمع من الشيخ أبي العبّاس أحمد بن حامد بن أحمد الأرتاحيّ الأصل المصريّ المقرئ الحنبليّ المتوفّى سنة 659 هـ، وكان ممن تصدّر بالجامع العتيق بمصر وبغيره
(5).
كما سمع من الشيخ أبي المكارم محمد بن عبد الدائم القضاعيّ المصريّ المعروف بابن حمدان المتوفّى سنة 659 هـ أيضا
(6)، والشيخ أبي
--------------------------------------------
ইবনে মুহাম্মদ আস-সুবায়য়ী-এর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে
(১)।
এবং তিনি শেখ শরাফুদ্দিন আবুল গায়স মিনহাল বিন মুহাম্মদ আল-আসকালানী আল-আসল আল-মিসরী আল-মাওলিদ ওয়াদ-দার-এর নিকট শ্রবণ করেছেন, যিনি ৬৫৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। অনুলিপি বিদ্যা এবং দলিল লিখন পদ্ধতিতে তার উত্তম জ্ঞান ছিল
(২)।
এবং তিনি শেখ আবুল করম লাহিক বিন আব্দুল মুনইম বিন কাসিম আল-আনসারী আল-আরতাহী আল-আসল আল-মিসরী আল-হারীরী আল-লাব্বান-এর নিকট শ্রবণ করেছেন, যিনি ৬৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন:
«আমি তার নিকট শ্রবণ করেছি; আমাদের দুই হাফেজ উস্তাদ আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিম বিন আব্দুল কউয়ী আল-মুনজিরী এবং আবুল হাসান ইয়াহইয়া বিন আলী আল-কুরাশী এবং আমাদের উস্তাদদের ও সহকর্মীদের একটি বিশাল দল এবং অন্যান্যরা তার নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি একজন সচ্চরিত্র এবং হাদিস বর্ণনা ও রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল শায়খ ছিলেন»
(৩)।
এবং তিনি শেখ জামালুদ্দিন আবু আমর উসমান বিন মক্কী আস-সা’দী আশ-শারেয়ী—যিনি ৬৫৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন—তাঁর জীবনীতে বলেন: «তিনি দীর্ঘকাল যাবৎ অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁর নিকট শ্রবণ করেছি। তিনি দ্বীনদারি এবং নেক আমলের জন্য সুপরিচিত একজন মর্যাদাবান শায়খ ছিলেন»
(৪)।
এবং তিনি শেখ আবুল আব্বাস আহমদ বিন হামিদ বিন আহমদ আল-আরতাহী আল-আসল আল-মিসরী আল-মুকরি আল-হাম্বলী-এর নিকট শ্রবণ করেছেন, যিনি ৬৫৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মিশরের জামিউল আতীক এবং অন্যান্য স্থানে শিক্ষকতার আসনে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
(৫)।
তেমনিভাবে তিনি শেখ আবুল মাকারিম মুহাম্মদ বিন আব্দুল দায়িম আল-কুদায়ী আল-মিসরী—যিনি ইবনে হামদান নামে পরিচিত—এর নিকট থেকেও শ্রবণ করেছেন, যিনি ৬৫৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৬), এবং শেখ আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
حامد محمد ابن قاضي القضاة صدر الدّين أبي القاسم عبد الملك المارانيّ الشافعيّ المتوفّى في السنة نفسها
(1).
وسمع من الشيخ نجم الدّين أبي بكر بن عليّ بن مكارم بن فتيان الأنصاريّ الدمشقيّ الأصل المصريّ المولد والدار
(2)، ومن الشيخ أبي محمد النّصير بن نبا بن سليمان المصريّ الزّفتاوي الدّفوفي
(3)، وأبي العبّاس أحمد بن الحسين الداريّ الخليلي
(4)، وأبي الحسن عبد الوهاب بن الحسن الدمشقيّ المعروف بابن عساكر شيخ دار الحديث النّورية
(5)، والشيخ كمال الدّين أبي القاسم عمر بن أحمد المعروف بابن العديم صاحب تاريخ حلب
(6)، والشيخ ضياء الدّين عيسى بن سليمان بن رمضان الثعلبيّ القرافيّ الشافعيّ
(7)، المتوفّين جميعا في سنة 660 هـ.
ومن شيوخه بالسّماع الذين وافتهم المنيّة سنة 661 هـ: أبو الضياء بدر ابن عبد الله الحبشيّ الشّهابيّ
(8)، وأبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم المعروف بابن الحاج
(9)، وأبو يحيى زكريا بن عبد السيّد بن ناهض الأنصاريّ المصريّ النّويريّ المالكي
(10)، وأبو محمد قاسم بن بركات بن أبي القاسم
--------------------------------------------
হামিদ মুহাম্মদ ইবনে কাযিউল কুযাত সদরুদ্দীন আবুল কাসেম আবদুল মালিক আল-মারানি আশ-শাফিয়ি, যিনি একই বছরে মৃত্যুবরণ করেছেন
(১)।
তিনি শাইখ নাজমুদ্দীন আবু বকর ইবনে আলি ইবনে মাকারিম ইবনে ফিতইয়ান আল-আনসারি—যিনি মূলত দামেস্কের অধিবাসী কিন্তু মিশরে জন্ম ও বসবাস করেছেন—তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন
(২); এবং শাইখ আবু মুহাম্মদ আন-নাসির ইবনে নাবা ইবনে সুলাইমান আল-মিসরি আজ-জাফতাউয়ি আদ-দাফুফি
(৩), আবুল আব্বাস আহমদ ইবনুল হুসাইন আদ-দারি আল-খালিলি
(৪), আবুল হাসান আবদুল ওয়াহহাব ইবনুল হাসান আদ-দিমাশকি—যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত এবং দারুল হাদিস আন-নুরিয়ার শাইখ ছিলেন—তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন
(৫); আরও শ্রবণ করেছেন শাইখ কামালুদ্দীন আবুল কাসেম উমর ইবনে আহমদ—যিনি ইবনুল আদিম নামে পরিচিত এবং 'তারিখু হালাব' গ্রন্থের প্রণেতা
(৬)—তাঁর নিকট; এবং শাইখ যিয়াউদ্দীন ঈসা ইবনে সুলাইমান ইবনে রমজান আস-সালাবি আল-কারাফি আশ-শাফিয়ি
(৭)—এঁদের নিকট শ্রবণ করেছেন, যাঁরা সকলেই ৬৬০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এবং শ্রবণের (সামা') মাধ্যমে প্রাপ্ত তাঁর শাইখদের মধ্যে যাঁরা ৬৬১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন, তাঁরা হলেন: আবুয যিয়া বদর ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাবাশি আশ-শিহাবি
(৮), আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম—যিনি ইবনুল হাজ নামে পরিচিত
(৯), আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে আবদুস সাইয়িদ ইবনে নাহিদ আল-আনসারি আল-মিসরি আন-নুওয়াইরি আল-মালিকি
(১০) এবং আবু মুহাম্মদ কাসেম ইবনে বারাকাত ইবনে আবিল কাসেম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
المصريّ
(1)، والشيخ المسند عبد الغنيّ بن سليمان بن بنين المصريّ الشافعيّ القبّاني
(2)، وأبو محمد عبد المنعم بن عبد الوهاب القضاعيّ الخولانيّ المعروف بابن سمعون
(3)، وأبو عليّ حسن بن عليّ بن المنتصر الفاسيّ الأصل الإسكندرانيّ الكتبيّ
(4)، والشيخ صلاح بن جعفر العجلانيّ المطيريّ الفيّوميّ المؤدّب
(5)، وأبو يوسف يعقوب بن عبد الله المقدسيّ الصّيّاد المعروف بتربية البدوي
(6)، والشيخ تقيّ الدّين أبو القاسم عبد الرّحمن بن مرهف بن عبد الله المصريّ الناشري
(7)، والشيخ المقرئ كمال الدّين أبو الحسن عليّ بن شجاع العبّاسيّ الضّرير الذي انتهت إليه رياسة الإقراء بالديار المصرية
(8)، والشيخ أبو محمد عبد الخالق بن جعفر الشافعي
(9).
ولو تتبّعنا شيوخه لطال بنا المقال، وفيما ذكرناه غنية ودلالة أكيدة تظهر حرصه على الطلب وشغفه به. فضلا عن أنه حصل على مجموعة من الإجازات ممن لم يتفق له السماع منهم
(10). وكتب أقطاعا من شعر بعض الشّعراء
(11).
وتولّى الشريف عزّ الدّين نقابة الأشراف بالدّيار المصريّة خلفا لأبيه،
--------------------------------------------
আল-মিসরি
(১), এবং শাইখুল মুসনিদ আব্দুল গনি বিন সুলাইমান বিন বানিন আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি আল-কাব্বানি
(২), এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুনইম বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-কুদায়ি আল-খাওলানি, যিনি ইবনে সামউন নামে পরিচিত
(৩), এবং আবু আলি হাসান বিন আলি বিন আল-মুনতাসির আল-ফাসি আল-আসল আল-ইসকান্দারানি আল-কুতুবি
(৪), এবং শাইখ সালাহ বিন জাফর আল-আজলানি আল-মুতাইরি আল-ফাইউমি আল-মুয়াদ্দিব
(৫), এবং আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসি আস-সাইয়াদ, যিনি তারবিয়াতুল বাদাওয়ি নামে পরিচিত
(৬), এবং শাইখ তাকিউদ্দীন আবুল কাসিম আব্দুর রহমান বিন মুরহাফ বিন আব্দুল্লাহ আল-মিসরি আন-নাশিরি
(৭), এবং শাইখুল মুকরি কামালুদ্দীন আবুল হাসান আলি বিন শুজা আল-আব্বাসি আদ-দারির, যাঁর নিকট মিসর ভূখণ্ডে কিরাআত শাস্ত্রের নেতৃত্ব সমাপ্ত হয়েছিল
(৮), এবং শাইখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল খালিক বিন জাফর আশ-শাফিয়ি
(৯)।
আমরা যদি তাঁর শাইখদের তালিকা করতে যাই তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে; আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের প্রতি একাগ্রতা এবং অনুরাগের অকাট্য প্রমাণ ও নিদর্শন হিসেবে যথেষ্ট। তদুপরি, তিনি এমন একদল ব্যক্তির নিকট থেকেও ইজাজত লাভ করেছিলেন যাঁদের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের সুযোগ তাঁর ঘটেনি
(১০)। আর তিনি কিছু কবির কবিতার অংশবিশেষও লিখেছিলেন
(১১)।
আর শরিফ ইজ্জুদ্দীন তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে মিসর ভূখণ্ডে ‘নাকাবাতুল আশরাফ’ (বংশীয় প্রধান)-এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وهو منصب رفيع يدلّ على منزلة أسرته ومنزلته هو في الشرف والسيادة.
أما مؤلفاته فلا نعرف له سوى هذا الكتاب «صلة التكملة» إذا استثنينا بعض التخاريج التي خرّجها لبعض شيوخه ورفقائه مما ذكره هو في كتابه هذا.
تلامذته:فأمّا تلاميذه فقد ذكر الذهبيّ أنّ سائر الطلبة قد سمعوا منه
(1)، وهو أمر يدلّ على كثرتهم، ولكننا لم نقف إلاّ على القليل منهم، ولعلّ ذلك يعود إلى وفاته في سنّ مبكّرة، وعدم حصول العلوّ في سماعاته ورواياته، مما حدا بهم إلى قلة الرواية عنه.
ومن بين تلامذته: السامعون لهذا الكتاب، وهم: وجيه الدّين أبو القاسم موسى ابن القاضي شرف الدّين أبي عبد الله محمد بن موسى الأنصاريّ الشافعيّ المصري، ترجمه الذهبيّ في وفيات سنة 695 هـ من كتابه «تاريخ الإسلام» فقال: «أحد من عني بهذا الشأن وتجرّد له، وتعب في الطلب وسمع الكثير بمصر والشام، وكتب الكثير، وقرأ بنفسه
(2)، وصار له نباهة ومعرفة متوسّطة، لكثرة ما سمع. وتوفّي في جمادى الآخرة بالقاهرة
(3)، وكان قد صار من جملة الشهود. وسمع بعد السّتين وستّ مئة من الرشيد وطبقته، والنجيب، وابن عزّون، وابن علاّن، والشيخ، وخلق»
(4).
ومنهم: القاضي العدل الرئيس شرف الدّين أبو عبد الله الحسين بن أبي المنصور بن أبي الفرج الشافعي
(5).
--------------------------------------------
এটি একটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন পদ যা তার পরিবারের মর্যাদা এবং আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্বে তার নিজের মর্যাদাকে নির্দেশ করে।
তার রচনাবলির ক্ষেত্রে আমরা এই ‘সিলাতুত তাকমিলা’ গ্রন্থটি ছাড়া অন্য কিছু জানি না, যদি আমরা সেই কিছু তাখরিজকে (উদ্ধৃতি যাচাই) বাদ দেই যা তিনি তার কিছু শায়খ ও সাথীদের জন্য করেছিলেন এবং যা তিনি নিজেই তার এই কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
তার ছাত্রগণ:তার ছাত্রদের ব্যাপারে ইমাম যাহাবি উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন
(১), যা তাদের অধিক সংখ্যার প্রতি নির্দেশ করে। তবে আমরা তাদের মধ্য থেকে অল্প কয়েকজনের খোঁজই পেয়েছি। সম্ভবত এর কারণ হলো অল্প বয়সে তার মৃত্যু হওয়া এবং তার শ্রবণ ও বর্ণনাগুলোর মধ্যে উচ্চ সনদ (উলু) অর্জিত না হওয়া, যা তাদের নিকট তার থেকে বর্ণনা করার হার কমিয়ে দিয়েছিল।
তার ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন এই কিতাবটি শ্রবণকারীরা, আর তারা হলেন: ওয়াজিহুদ্দীন আবুল কাসিম মূসা ইবনুল কাযী শরাফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মূসা আল-আনসারী আশ-শাফেয়ী আল-মিসরী। ইমাম যাহাবি তার ‘তারিখুল ইসলাম’ গ্রন্থে ৬৯৫ হিজরির ইন্তেকালকারীদের অংশে তার জীবনী আলোচনা করে বলেছেন: “তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা এই শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন এবং এর জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন। তিনি অন্বেষণে অনেক কষ্ট করেছেন এবং মিসর ও সিরিয়ায় প্রচুর শ্রবণ করেছেন, অনেক লিখেছেন এবং নিজেও পাঠ করেছেন
(২)। প্রচুর শ্রবণের ফলে তার মাঝে প্রসিদ্ধি ও পরিমিত জ্ঞান অর্জিত হয়েছিল। তিনি কায়রোতে জমাদিউল আখিরা মাসে ইন্তেকাল করেন
(৩) এবং তিনি ‘শুহুদ’ (সাক্ষী) শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ৬৬০ হিজরির পরে রাশিদ ও তার সমসাময়িক স্তরের ব্যক্তিগণ, নাজীব, ইবনে আযযুন, ইবনে আল্লান, শায়খ এবং বহু লোক থেকে শ্রবণ করেছিলেন”
(৪)।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন: বিচারক আল-আদল আর-রাঈস শরাফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবি মনসুর বিন আবিল ফারাজ আশ-শাফেয়ী
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وكاتب الطّباق أحمد بن عبد الرحيم بن أبي عبد الله الشافعيّ، ولعلّه هو الذي ذكره الذهبيّ في وفيات سنة 695 هـ من «تاريخ الإسلام» فقال: «أحمد ابن عبد الرحيم بن أبي عبد الله، المحدّث شهاب الدّين ابن المقشراني. سمع الكثير بعد الثمانين (يعني وستّ مئة)، وحصّل وتعب. وخطّه رديء، وكان فيه تواضع وتودّد وإفادة. توفيّ في صفر، وله رحلة إلى دمشق»
(1).
وابنه القاضي السيّد شرف الدّين أبو الحسن محمد بن أحمد بن محمد الحسيني
(2).
وسمع منه الشيخ أبو حفص عمر بن أيوب بن عمر التّركماني الدّمشقي المعروف بابن طغريل، وتوفّي قبله سنة 670، وذكره المصنف في كتابه هذا فقال: «وخرّج معجما لشيوخه الذين سمع منهم ذكرني فيه»
(3).
كما سمع منه الشيخ صائن الدّين أبو بكر أحمد بن يوسف بن أحمد بن عبد الدائم الحلبيّ، قال ابن قاضي شهبة: «سمع من الشريف عزّ الدين الحسيني، والشريف نور الدّين الزّينبي، ووزيرة، والحجّار، وزينب بنت شكر، وحسن الكرديّ في آخرين، قال الحافظ زين الدّين العراقيّ: كان من خيار الناس دينا وقناعة»، وذكر أنه توفّي سنة 743 هـ
(4).
وأخوه الشيخ الإمام الفقيه نبيه الدّين عليّ بن يوسف بن أحمد بن عبد الدائم الحلبيّ، المتوفّى سنة 749 هـ، ذكره ابن قاضي شهبة في تاريخه فقال: «سمع من الشريف عزّ الدين الحسينيّ، والحجّار، وزينب بنت شكر، وحسن الكرديّ في آخرين. وأعاد بالمدرسة الصّالحية جوار الشافعي»
(5).
--------------------------------------------
এবং শ্রুতি-লিপিকার হলেন আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম ইবনে আবি আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ। সম্ভবত তিনিই সেই ব্যক্তি যার কথা আয-যাহাবী ‘তারীখুল ইসলাম’-এর ৬৯৫ হিজরীর মৃত্যু-সংবাদের অধীনে উল্লেখ করে বলেছেন: “আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম ইবনে আবি আব্দুল্লাহ, মুহাদ্দিস শিহাবুদ্দীন ইবনুল মুকাশরানী। তিনি ৬৮০ হিজরীর পর প্রচুর (হাদিস) শ্রবণ করেছেন এবং অনেক জ্ঞান অর্জন ও মেহনত করেছেন। তাঁর হস্তাক্ষর ছিল নিম্নমানের, এবং তাঁর মধ্যে বিনয়, হৃদ্যতা ও উপকার করার মানসিকতা ছিল। তিনি সফর মাসে ইন্তেকাল করেন এবং দামেস্কে তাঁর একটি জ্ঞান-সফর রয়েছে।”
(১).
আর তাঁর পুত্র হলেন কাজী সাইয়্যেদ শারফুদ্দীন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হুসাইনী
(২).
তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন শাইখ আবু হাফস উমর ইবনে আইয়ুব ইবনে উমর আত-তুরকুমানী আদ-দিমাশকী, যিনি ইবনে তুগরিল নামে পরিচিত; তিনি লেখকের পূর্বে ৬৭০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। লেখক তাঁর এই কিতাবে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: “তিনি তাঁর সেই সব শাইখদের একটি অভিধান (মুজাম) সংকলন করেছেন যাদের নিকট থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন, সেখানে তিনি আমার কথাও উল্লেখ করেছেন”
(৩).
তদ্রূপ তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন শাইখ সায়িনুদ্দীন আবু বকর আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল দায়িম আল-হালাবী। ইবনে কাজী শুহবা বলেন: “তিনি শরীফ ইযযুদ্দীন আল-হুসাইনী, শরীফ নুরুদ্দীন আয-যাইনাবী, ওয়াযীরাহ, হাজ্জার, যাইনাব বিনতে শুকর এবং হাসান আল-কুর্দী সহ আরও অনেকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। হাফেয যাইনুদ্দীন আল-ইরাকী বলেন: তিনি দ্বীনদারী ও অল্পে তুষ্টির দিক থেকে সর্বোত্তম লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।” তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭৪৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন
(৪).
আর তাঁর ভাই হলেন শাইখ ইমাম ফকীহ নাবিহুদ্দীন আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল দায়িম আল-হালাবী, যিনি ৭৪৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। ইবনে কাজী শুহবা তাঁর ইতিহাসে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেন: “তিনি শরীফ ইযযুদ্দীন আল-হুসাইনী, হাজ্জার, যাইনাব বিনতে শুকর এবং হাসান আল-কুর্দী সহ আরও অনেকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ইমাম শাফিঈর (মাযারের) নিকটবর্তী সালিহিয়া মাদরাসায় পুনরাবৃত্তি করাতেন (সহকারী শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন)”
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ومنهم: نجم الدّين أيوب بن موسى بن عبّاس الراشديّ المصري الفقيه الشافعيّ، مدرّس القوصيّة بالقاهرة، والمتوفّى سنة 761 هـ، قال ابن قاضي شهبة: «مولده قبل سنة تسع وسبعين، حدّث عن الشريف عزّ الدين وغيره، توفّي في ربيع الأول»
(1).
ومنهم: المحدّث شهاب الدّين أبو سعيد أحمد بن أحمد بن أحمد بن أحمد بن الحسين الهكّاريّ المتوفّى سنة 763 هـ، قال ابن قاضي شهبة: «سمع من ابن الصوّاف، والشريف عزّ الدين، وحسن الكرديّ، وهذه الطبقة. وقرأ بنفسه، وعني بالطلب، وبرع وأفاد، وأعاد بالمنصورية، وتصدّر للإقراء، ودرّس بالجامع الحاكميّ والقطبيّة. . . وكتب بخطّه المتقن شيئا كثيرا. وكان عارفا بالرّجال، جمع كتابا في رجال الصّحيحين، وكان موصوفا بالدّين والخير»
(2)، وترجمه الحافظ ابن حجر في «الدّرر»
(3).
ومنهم: القاضي قطب الدّين أبو عبد الله محمد بن عبد المحسن بن حمدان السّبكيّ الشافعيّ قاضي حمص المتوفّى سنة 764 هـ، قال ابن قاضي شهبة في تاريخه: «وسمع بالقاهرة من أبي الحسن الثعلبيّ، وعليّ ابن الصوّاف، والشريف عزّ الدين وغيرهم. وبمكة من جماعة»
(4). وترجمه ابن رافع في وفياته
(5)، والحسينيّ في «ذيل العبر»
(6)، وابن حجر في «الدّرر»
(7).
كما أجاز للشيخ شمس الدّين محمد بن عبد الله الهنديّ في عام مولده
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে রয়েছেন: নাজম আল-দীন আইয়ুব বিন মুসা বিন আব্বাস আল-রাশিদি আল-মিসরি, শাফিঈ ফকিহ, কায়রোর আল-কুসিয়ার শিক্ষক, মৃত্যু ৭৬১ হিজরি। ইবনে কাজি শুহবা বলেন: «তার জন্ম ৭৯ সালের আগে, তিনি শরিফ ইজ্জ আল-দীন এবং অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন»
(১)।
তাদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাদ্দিস শিহাব আল-দীন আবু সাঈদ আহমাদ বিন আহমাদ বিন আহমাদ বিন আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-হাক্কারি, মৃত্যু ৭৬৩ হিজরি। ইবনে কাজি শুহবা বলেন: «তিনি ইবনে আল-সাউওয়াফ, শরিফ ইজ্জ আল-দীন, হাসান আল-কুর্দি এবং এই স্তরের আলেমদের থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন। তিনি নিজে অধ্যয়ন করেছেন, ইলম অন্বেষণে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং পারদর্শিতা অর্জন করে অন্যদের উপকৃত করেছেন। তিনি মানসুরিয়া মাদ্রাসায় মুয়িদ (পুনরাবৃত্তিকারক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পাঠদানের প্রধান হিসেবে আসীন হন। এছাড়া তিনি জামে আল-হাকিমি ও আল-কুতবিয়াতে শিক্ষকতা করেন... এবং তিনি অত্যন্ত নিপুণ হস্তাক্ষরে প্রচুর পরিমাণে লিখেছিলেন। তিনি রিজাল (বর্ণনাকারীদের জীবনী) শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলেন, সহীহাইন-এর রিজালদের নিয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেন এবং তিনি দ্বীনদারি ও কল্যাণের গুণে গুণান্বিত ছিলেন»
(২)। হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-দুরার'-এ তার জীবনী বর্ণনা করেছেন
(৩)।
তাদের মধ্যে রয়েছেন: কাজী কুতব আল-দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন হামদান আল-সুবকি আল-শাফিঈ, হিমসের বিচারক (কাজী), মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি। ইবনে কাজি শুহবা তার ইতিহাসে বলেন: «তিনি কায়রোতে আবুল হাসান আল-সালাবি, আলি ইবনে আল-সাউওয়াফ, শরিফ ইজ্জ আল-দীন এবং অন্যদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেছেন। আর মক্কায় একদল আলেমের নিকট থেকে শুনেছেন»
(৪)। ইবনে রাফে তার 'আল-ওয়াফায়াত'-এ
(৫), আল-হুসাইনি 'যাইল আল-ইবার'-এ
(৬) এবং ইবনে হাজার 'আল-দুরার'-এ
(৭) তার জীবনী বর্ণনা করেছেন।
একইভাবে তিনি শেখ শামস আল-দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হিন্দিকে তার জন্ম সালে ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
سنة 694 هـ، وبقي إلى سنة 776
(1).
وفاته وأولاده:توفّي عزّ الدّين الحسينيّ وهو في سنّ الكهولة في السادس من المحرّم سنة 695 هـ وهو في التاسعة والخمسين.
وعرفنا من أولاده ولدين:
أولهما: ابنه القاضي شرف الدّين أبو الحسن محمد المذكور في طباق السماع.
وثانيهما: بدر الدّين أبو محمد الحسن، ترجمه ابن رافع
(2)، وابن قاضي شهبة
(3)، وابن حجر وقال: «الحسن بن أحمد بن محمد بن عبد الرّحمن بن عليّ بن محمد بن محمد بن قاسم بن محمد بن إبراهيم الحسينيّ، بدر الدّين ابن الشريف عزّ الدين. ولد سنة 676
(4) تقريبا، قاله ابن رافع. وأسمعه أبوه من العزّ الحرّانيّ «مشيخته»، وسمع من سليمان بن داود بن كسا، وعبد الرحيم ابن خطيب المزّة. وحدّث هو وأبوه وجدّه، وولّوا كلّهم نقابة الأشراف بمصر، ومات هو في جمادى الأولى سنة 743 فيما قال الصّفديّ، وفي ربيع الآخر فيما قال ابن رافع»
(5).
وعرفنا من ذريته: حفيده عزّ الدّين محمد ابن الحسن المذكور، قال الحافظ ابن حجر: «ولد سنة 710، وسمع من ابنة الكمال جزء الذّهليّ وغيره.
وحدّث؛ سمع منه الفضلاء. وذكره أبو حامد بن ظهيرة في «معجمه» ولم يؤرّخ وفاته، وكانت ولايته نقابة الأشراف بعد وفاة والده في المحرّم سنة 743»
(6).
--------------------------------------------
৬৯৪ হিজরি সাল এবং তিনি ৭৭৬ হিজরি সাল পর্যন্ত অবস্থান করেন।
(১)
তাঁর মৃত্যু এবং সন্তানসন্ততি:ইযযুদ্দীন আল-হুসাইনী ৫৯ বছর বয়সে প্রৌঢ়াবস্থায় ৬৯৫ হিজরি সালের ৬ই মহররম ইন্তেকাল করেন।
আমরা তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে দুইজনের পরিচয় পেয়েছি:
তাঁদের প্রথমজন: তাঁর পুত্র কাযী শরফুদ্দীন আবুল হাসান মুহাম্মদ, যাঁর উল্লেখ ‘তিবাকুস সামা’ (শ্রবণ তালিকার স্তরবিন্যাস)-এ রয়েছে।
দ্বিতীয়জন: বদরুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান। ইবনে রাফে
(২), ইবনে কাযী শুহবাহ
(৩) এবং ইবনে হাজার তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। ইবনে হাজার বলেন: “হাসান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-হুসাইনী, বদরুদ্দীন ইবনে আশ-শরিফ ইযযুদ্দীন। তিনি আনুমানিক ৬৭৬
(৪) হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন, যা ইবনে রাফে উল্লেখ করেছেন। তাঁর পিতা তাঁকে ইয আল-হাররানী থেকে তাঁর ‘মাশয়াখাহ’ (শিক্ষক-তালিকা) শ্রবণ করিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সুলাইমান বিন দাউদ বিন কাসা এবং আব্দুর রহিম ইবনে খতীব আল-মিযযাহ থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি নিজে, তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদা হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা সবাই মিশরে ‘নিকাবাতুল আশরাফ’ (বংশীয় নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব) পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আস-সাফাদীর বর্ণনা মতে তিনি ৭৪৩ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসে ইন্তেকাল করেন, আর ইবনে রাফে এর বর্ণনা মতে তিনি রবিউল আখের মাসে ইন্তেকাল করেন।”
(৫).
আমরা তাঁর বংশধরদের মধ্যে তাঁর পৌত্র ইযযুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (যাঁর কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে)-এর কথা জানতে পেরেছি। হাফেয ইবনে হাজার বলেন: “তিনি ৭১০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনাতুল কামাল থেকে জুয আদ-দুহলী এবং অন্যান্য কিতাব শ্রবণ করেছেন।
তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন; অনেক গুণীজন তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। আবু হামিদ বিন যুহাইরা তাঁর ‘মুজাম’-এ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাঁর মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণ করেননি। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ৭৪৩ হিজরি সালের মহররম মাসে তিনি ‘নিকাবাতুল আশরাফ’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।”
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
«صلة التكملة»:يعدّ التنظيم على الوفيات واحدا من الأساليب الخمسة لعرض التراجم عند المؤلّفين المسلمين، وهي إضافة إليه: التنظيم على الطبقات، والتنظيم على الأنساب، والتنظيم على البلدان، ثم على حروف المعجم
(1).
وكان هذا النوع من طريقة عرض التراجم قد تأخّر التأليف فيه قياسا بالتنظيمات الأخرى التي عرفت منذ مدة مبكّرة، فلم يظهر إلاّ في المئة الرابعة، حين ألّف أبو الحسين عبد الباقي بن قانع بن مرزوق البغداديّ المتوفّى سنة 351 هـ كتابا في الوفيات ابتدأه من الهجرة ووصل به إلى سنة 346 هـ
(2)، لكنه لم يصل إلينا.
وأول كتاب وصل إلينا هو: «تاريخ موالد العلماء ووفياتهم» الذي ألّفه الحافظ أبو سليمان محمد بن عبد الله بن أحمد بن ربيعة، المعروف بابن زبر، الرّبعيّ الدمشقيّ المتوفّى سنة 379 هـ، ابتدأه من الهجرة ووصل به إلى سنة 338 هـ، وهو كتاب مختصر
(3). ومع أنه اتخذ الوفاة أساسا في التنظيم كما هو متعارف في هذا النوع من أساليب العرض، إلا أنه لم يراع دقة التنظيم في اليوم والشّهر والسنة، ولعلّ ذلك يعود إلى عدم نضج الفكرة التنظيميّة لهذا النوع نضجا نجده واضحا في الكتب المتأخّرة.
وكتاب «الصّلة» هذا حلقة من حلقات ارتبطت بكتاب ابن زبر الرّبعي، فذيّلت عليه، فقدت بعض هذه الحلقات، فلا نعرف لها وجودا في عالم
--------------------------------------------
«সিলাতুত তাকমিলা»:মৃত্যু তারিখের ভিত্তিতে জীবনী বিন্যাস করা মুসলিম লেখকদের নিকট জীবনী উপস্থাপনের পাঁচটি পদ্ধতির একটি। এর পাশাপাশি অন্যগুলো হলো: স্তরভিত্তিক (তাবাকাত) বিন্যাস, বংশানুক্রমিক বিন্যাস, দেশভিত্তিক বিন্যাস এবং বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস
(১)।
জীবনী উপস্থাপনের এই পদ্ধতিটি অন্যান্য বিন্যাসের তুলনায় বিলম্বে শুরু হয়েছিল, যা অনেক আগে থেকেই পরিচিত ছিল। এটি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে, যখন ৩৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবুল হুসাইন আবদুল বাকি বিন কানে' বিন মারজুক আল-বাগদাদি মৃত্যু তারিখের ওপর ভিত্তি করে একটি কিতাব রচনা করেন। তিনি এটি হিজরত থেকে শুরু করেন এবং ৩৪৬ হিজরি পর্যন্ত নিয়ে আসেন
(২), কিন্তু তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি।
আর আমাদের নিকট পৌঁছেছে এমন প্রথম কিতাবটি হলো: «তারিখু মাওয়ালিদিল উলামা ওয়া ওয়াফায়াতিহিম», যা ৩৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী হাফেজ আবু সুলাইমান মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন রাবি'আ—যিনি ইবনে জুবর আল-রিবয়ি আদ-দিমাশকি নামে পরিচিত—রচনা করেছেন। তিনি এটি হিজরত থেকে শুরু করেন এবং ৩৩৮ হিজরি পর্যন্ত নিয়ে আসেন, এবং এটি একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব
(৩)। যদিও তিনি এই ধরণের উপস্থাপন শৈলীতে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী মৃত্যুকে বিন্যাসের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তবুও তিনি দিন, মাস ও বছরের বিন্যাসে সূক্ষ্মতা বজায় রাখেননি। সম্ভবত এর কারণ হলো এই ধরণের বিন্যাসগত চিন্তাধারার পূর্ণতা না পাওয়া, যা আমরা পরবর্তী কিতাবগুলোতে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই।
আর এই «আস-সিলাহ» কিতাবটি ইবনে জুবর আল-রিবয়ির কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকগুলোর একটি অংশ, যা তার ওপর সংযোজন (জায়ল) হিসেবে লেখা হয়েছে। এই ধারাবাহিকগুলোর কিছু অংশ হারিয়ে গেছে, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের জানা নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
المخطوطات اليوم، ووصلت إلينا أخرى
(1).
وقد ذيّل على ابن زبر تلميذه الحافظ أبو محمد عبد العزيز بن أحمد الكتّانيّ الدمشقيّ المتوفّى سنة 466 هـ، فوصل به إلى سنة وفاته، وفي خزانة كتبي نسخة مصوّرة منه.
ثم ذيّل على الكتّانيّ تلميذه أبو محمد هبة الله بن أحمد المعروف بابن الأكفاني المتوفّى سنة 524 هـ، وصل به إلى سنة 485 هـ وسمّاه «جامع الوفيات»، وعندي نسخة مصورة منه.
وذيّل على ابن الأكفانيّ شرف الدّين أبو الحسن عليّ بن المفضّل المقدسيّ ثم الإسكندرانيّ المالكي المتوفّى سنة 611 هـ وسماه «وفيات النّقلة»، بدأ فيه من سنة 485 هـ وانتهى إلى سنة 581 هـ، ولم يصل إلينا فيما أعلم.
وذيّل على ابن المفضّل المقدسيّ تلميذه الحافظ زكيّ الدّين أبو محمد عبد العظيم بن عبد القويّ بن عبد الله المنذريّ المصري (581 - 656 هـ) وسماه «التكملة لوفيات النقلة» ابتدأ به من سنة 581 هـ، وهو عام مولده، وانتهى به إلى أثناء سنة 642 هـ حيث أدركته الوفاة، وقد وصل إلينا كاملا
(2)،
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপিগুলো আজ পর্যন্ত, এবং আমাদের কাছে অন্যগুলো পৌঁছেছে
(১)।
হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ আল-কাত্তানি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৪৬৬ হিজরি), যিনি ইবনে জুবরের ছাত্র ছিলেন, তিনি ইবনে জুবরের গ্রন্থের ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন এবং তাঁর মৃত্যুর বছর পর্যন্ত তা টেনেছেন। আমার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে এর একটি ফটোকপি সংস্করণ রয়েছে।
অতঃপর কাত্তানির ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন তাঁর ছাত্র আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমদ, যিনি ইবনুল আকফানি (মৃত্যু ৫২৪ হিজরি) নামে পরিচিত। তিনি একে ৪৮৫ হিজরি পর্যন্ত টেনেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন «জামেউল ওফায়াত»। আমার কাছে এর একটি ফটোকপি সংস্করণ আছে।
এবং ইবনুল আকফানির ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন শরফউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনুল মুফাজ্জল আল-মাকদিসি অতঃপর আল-ইসকান্দারানি আল-মালিকি (মৃত্যু ৬১১ হিজরি), এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন «ওফায়াতুল নাকলাহ»। তিনি এটি ৪৮৫ হিজরি থেকে শুরু করে ৫৮১ হিজরি পর্যন্ত সমাপ্ত করেছেন। আমার জানামতে এটি আমাদের কাছে পৌঁছেনি।
ইবনুল মুফাজ্জল আল-মাকদিসির ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন তাঁর ছাত্র হাফেজ জাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিম ইবনে আবদুল কাবি ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুনজিরি আল-মিসরি (৫৮১ - ৬৫৬ হিজরি)। তিনি এর নাম দিয়েছেন «আত-তাকমিলা লি ওফায়াতিন নাকলাহ»। তিনি এটি ৫৮১ হিজরি থেকে শুরু করেন, যা ছিল তাঁর জন্মের বছর, এবং ৬৪২ হিজরির মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌঁছে সমাপ্ত করেছেন যেখানে তাঁর মৃত্যু ঘটে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছে
(২),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وهو مطبوع عدة طبعات متداول مشهور، بتحقيقنا، قال في مقدّمته: «فإن ولدي الرشيد أبا بكر محمدا، قدّس الله تعالى روحه ونوّر ضريحه
(1)، لمّا كتب كتاب أبي سليمان محمد بن عبد الله بن زبر الحافظ في موالد العلماء ووفياتهم الذي بدأ فيه من السنة الأولى من الهجرة إلى سنة ثمان وثلاثين وثلاث مئة، ثم كتب ذيله لأبي محمد عبد العزيز بن أحمد الكتّانيّ الحافظ، ثم كتب ذيله لأبي محمد هبة الله بن أحمد الأكفانيّ الحافظ، وانتهى ذلك إلى سنة خمس وثمانين وأربع مئة، ثم وقف على ذيله لشيخنا الحافظ أبي الحسن عليّ بن المفضّل المقدسيّ، رضي الله عنهم، الذي بدأ فيه من سنة خمس وثمانين وأربع مئة وانتهى إلى سنة إحدى وثمانين وخمس مئة، وهي السنة التي ولدت فيها، ورأى ما تضمنته هذه الكتب من الفوائد، تغمّد الله مصنّفيها برضوانه وأسكنهم غرف جنانه وجعل سعيهم في ذلك مشكورا وعلمهم مبرورا، تاقت نفسه إلى أن يقف على ما بعد ذلك إلى وقته، فرغب إليّ مرة بعد أخرى أن أجمع له في ذلك مجموعا، فاعتذرت إليه بما هو مشاهده من كثرة الأشغال وتقسّم البال، وهو يأبى إلا تسهيل مطلوبه وتعجيل مرغوبه، فلم أجد بدّا من إجابة سؤاله وتحقيق آماله. غير أنّي أردت إرجاء ذلك مدة تكون معينة على استقصائه وذريعة إلى استيفائه. ثم خطر لي أنّ المبادرة بما تحصّل أولا والمسارعة إلى ما تيسّر أحرى، وما وجد بعد ذلك ألحقته في حواشيه أو أفردت في جزء يليه. على أنّ الكتب التي قدّمت ذكرها وبيّنت أمرها قد أهمل في كلّ منها جماعة كبيرة وثلة خطيرة، فإن فسح الله في المدة ويسّر جمعت مجموعا يتضمّن ما أهملوه، يكون لهذه التصانيف كالصّلة. وهذا الذي أذكره فمنه ما شاهدته ومنه ما حفظته عن مشايخنا ونبلاء رفقائنا مشافهة ومكاتبة، ومنه ما رأيته بخطّ من يوثق به، إلى غير ذلك مما تجوز الرّواية به ويسوغ الإخبار عنه. وآثرت حذف الأسانيد والاختصار تيسيرا للمتحفّظ، وسمّيته
--------------------------------------------
এটি আমাদের তাহকীকে (সম্পাদনায়) একাধিক সংস্করণে মুদ্রিত ও সুপ্রসিদ্ধ। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার সুবোধ সন্তান আবু বকর মুহাম্মদ—আল্লাহ তাআলা তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন
(১)—যখন সে হাফেজ আবু সুলায়মান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাবরের 'মাওয়ালিদুল উলামা ওয়া ওয়াফায়াতুহুম' (উলামাদের জন্ম ও মৃত্যু) নামক কিতাবটি লিপিবদ্ধ করল, যা হিজরি প্রথম বর্ষ থেকে শুরু হয়ে ৩৩৮ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত, এরপর হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ আল-কাত্তানির লিখিত এর পরিশিষ্টটি লিখল, অতঃপর হাফেজ আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-আকফানির লিখিত পরিশিষ্টটি লিখল, যা ৪৮৫ হিজরি পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে, এরপর সে আমাদের শায়খ হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনুল মুফাদ্দাল আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর পরিশিষ্টটি দেখতে পেল, যা ৪৮৫ হিজরি থেকে শুরু হয়ে ৫৮১ হিজরি পর্যন্ত শেষ হয়েছে—আর এটি সেই বছর যাতে আমি জন্মগ্রহণ করেছি—এবং সে এই কিতাবগুলোতে থাকা জ্ঞানগর্ভ বিষয়সমূহ প্রত্যক্ষ করল—আল্লাহ এই গ্রন্থকারদের তাঁর সন্তুষ্টি দ্বারা আবৃত করুন, তাঁদের জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহে স্থান দান করুন এবং তাঁদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল ও ইলমকে বরকতময় করুন—তখন তার মন তার সমসাময়িক কাল পর্যন্ত পরবর্তী ঘটনাবলি জানার আকাঙ্ক্ষা করল। ফলে সে বারবার আমার কাছে অনুরোধ করতে লাগল যেন আমি তার জন্য এই বিষয়ে একটি সংকলন তৈরি করি। আমি তার কাছে আমার অত্যধিক ব্যস্ততা এবং মানসিক বিক্ষিপ্ততার ওজর পেশ করলাম, যা সে নিজেই প্রত্যক্ষ করছিল। কিন্তু সে তার চাহিদা পূরণ ও আকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারে পীড়াপীড়ি করতে লাগল। ফলে তার আবদার রক্ষা করা এবং আশা পূরণ করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকল না। তবে আমি তা কিছুটা বিলম্বিত করতে চেয়েছিলাম যেন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে তা সহায়ক হয়। এরপর আমার মনে হলো যে, প্রথমে যা হস্তগত হয়েছে তা নিয়েই কাজ শুরু করা এবং যা সহজলভ্য হয়েছে সে ব্যাপারে দ্রুত অগ্রসর হওয়া অধিকতর সমীচীন। পরবর্তীতে যা পাওয়া যাবে, তা আমি পার্শ্বটীকায় যুক্ত করে দেব অথবা এর পরবর্তী কোনো খণ্ডে আলাদাভাবে সংকলন করব। উল্লেখ্য যে, আমি পূর্বে যে কিতাবগুলোর কথা বলেছি এবং যেগুলোর অবস্থা বর্ণনা করেছি, সেগুলোর প্রত্যেকটিতে এক বিরাট দল ও গুরুত্বপূর্ণ একদল ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি আল্লাহ হায়াতে বরকত দেন এবং সহজ করে দেন, তবে আমি এমন একটি সংকলন তৈরি করব যাতে তাঁদের বাদ দেওয়া বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি ওইসব কিতাবের জন্য একটি পরিপূরক (সিলাহ) হিসেবে গণ্য হবে। আর আমি এখানে যা উল্লেখ করছি, তার কিছু আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি, কিছু আমাদের শায়খদের থেকে এবং আমাদের শ্রেষ্ঠ সহকর্মীদের থেকে মৌখিকভাবে ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে মুখস্থ করেছি, আর কিছু নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের হাতের লেখায় দেখেছি। এ ছাড়াও এমন সব উৎস থেকে তথ্য নিয়েছি যা থেকে বর্ণনা করা এবং সংবাদ দেওয়া বৈধ। এবং আমি মুখস্থকারীদের সুবিধার্থে সনদগুলো বাদ দেওয়া ও সংক্ষেপণ করাকে প্রাধান্য দিয়েছি এবং এর নাম দিয়েছি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
«التكملة لوفيات النقلة»
(1).
ومع أنّ المنذريّ وصل «بالتكملة» إلى أثناء سنة 642 هـ، إلا أنّ الحسينيّ ابتدأ كتابه من أوّل سنة 641 هـ، فشارك شيخه المنذريّ في سنة وثلاثة أشهر.
ويظهر من بقيّة المقدّمة التي كتبها عزّ الدين الحسينيّ لكتاب «الصّلة» أنه أراد أن يحقّق رغبة شيخه المنذريّ في الاستدراك على المتقدّمين، بله تأليف كتاب شامل لما ذكروه وما يمكن أن يستدرك عليهم يبدأ من أول الهجرة وينتهي إلى زمانه، لكنّ هذه الرغبة لم تتحقّق، بل وقف هو في كتابه إلى سنة 675 هـ، أي قبل وفاته بعشرين عاما، ولعلّ مشاغل الحياة وأعباء الوظيفة شغلته عن إتمام مشروعه.
لقد سار الحسينيّ على خطّة شيخه الزكيّ المنذريّ في عرض التراجم من حيث تنظيم التراجم باليوم والشهر والسنة، والبدء بتاريخ الوفاة واسم صاحب الترجمة ولقبه وكنيته ونسبه ومكان وفاته والصلاة عليه ومكان دفنه، ثم تاريخ مولده، ودراسته وأخذه عن المشايخ وذكر مسموعاته، وتحديثه، ومنزلته، وذكر المعروفين من أهله، وضبط ما يشتبه في الترجمة من الأسماء والأنساب، وهو ما وضّحته بتفصيل في كتابي «المنذريّ وكتابه التكملة» فلا أجد حاجة لإعادته هنا لاتّحاد الأسلوبين وتماثل الطريقتين.
وقد ذيّل على الحسينيّ شهاب الدين أبو الحسين أحمد بن أيبك بن عبد الله الحساميّ الدّمياطيّ المتوفّى سنة 749 هـ وسماه «تتمة صلة التكملة»
(2)، ووصل به إلى سنة وفاته
(3)، وذكره التقيّ الفاسي المتوفّى سنة
--------------------------------------------
«আত-তাকমিলা লি-ওয়াফায়াতিন নুকালা»
(১)।
যদ্যপি আল-মুনজিরি 'আত-তাকমিলা'-কে ৬৪২ হিজরির মাঝামাঝি পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন, তবে আল-হুসাইনি তার গ্রন্থটি ৬৪১ হিজরির শুরু থেকে আরম্ভ করেছেন; ফলে তিনি তার উস্তাদ আল-মুনজিরির সাথে এক বছর তিন মাস সময়কালে অংশীদার হয়েছেন।
ইজ্জুদ্দিন আল-হুসাইনি 'আস-সিলাহ' গ্রন্থের জন্য যে ভূমিকা লিখেছিলেন তার অবশিষ্টাংশ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি পূর্ববর্তীদের ওপর অতিরিক্ত তথ্য (ইস্তিদরাক) প্রদানের মাধ্যমে তার উস্তাদ আল-মুনজিরির আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চেয়েছিলেন। এমনকি তিনি হিজরতের শুরু থেকে তার নিজ সময় পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন যা তাদের বর্ণিত বিষয়াবলী এবং যা বাদ পড়েছিল তা অন্তর্ভুক্ত করবে। কিন্তু এই ইচ্ছা পূরণ হয়নি, বরং তিনি তার গ্রন্থে ৬৭৫ হিজরি পর্যন্ত এসে থেমে গেছেন, যা তার মৃত্যুর বিশ বছর আগের সময়। সম্ভবত জীবনের ব্যস্ততা এবং দাপ্তরিক পদের গুরুভার তাকে তার প্রকল্পটি সম্পন্ন করা থেকে বিরত রেখেছিল।
আল-হুসাইনি জীবনী উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তার উস্তাদ যাকি আল-মুনজিরির কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করেছেন; যেমন দিন, মাস ও বছর অনুযায়ী জীবনীসমূহ বিন্যস্ত করা এবং মৃত্যুর তারিখ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, উপাধি, কুনিয়াত (উপনাম), বংশপরিচয়, মৃত্যুর স্থান, তার জানাজা ও দাফনের স্থান দিয়ে শুরু করা। অতঃপর তার জন্মের তারিখ, শিক্ষালাভ, মাশায়েখদের নিকট হতে গ্রহণ এবং তার শ্রুত বিষয়াদির (মাসমুআত) বর্ণনা, তার হাদিস বর্ণনা, মর্যাদা এবং তার পরিবারের পরিচিত ব্যক্তিদের উল্লেখ এবং জীবনীতে নাম ও বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে যা অস্পষ্ট বা সমজাতীয় তা সঠিকভাবে নিরূপণ করা। আমি আমার গ্রন্থ 'আল-মুনজিরি ওয়া কিতাবুহু আত-তাকমিলা'-তে এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি, তাই এখানে তার পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন বোধ করছি না, যেহেতু উভয় শৈলী অভিন্ন এবং পদ্ধতিদ্বয় সদৃশ।
শিহাবুদ্দিন আবুল হুসাইন আহমাদ বিন আইবাক বিন আব্দুল্লাহ আল-হুসামি আদ-দিমইয়াতি (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি) আল-হুসাইনির কাজের ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'তাতিম্মাতু সিলাতিত তাকমিলা'
(২)। তিনি এটি তার মৃত্যুর বছর পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন
(৩)। আর তাকে তাক্বি আল-ফাসি (মৃত্যু...) উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
832 هـ من بين مصادره ونقل عنه في «العقد الثمين»
(1). وسيأتي عند وصف النسخة الخطيّة أنه استدرك على الحسينيّ عشرات التراجم، وأضاف إلى تراجم الحسينيّ إضافات مهمة.
وأما قول ابن قاضي شهبة في تاريخه، والسخاويّ في «الإعلان بالتوبيخ» - وأخذه عنه حاجي خليفة في «كشف الظنون» -: إن الحافظ زين الدّين أبا الفضل عبد الرحيم بن عبد الرحمن العراقيّ المتوفّى سنة 806 هـ قد ذيّل على وفيات أبي الحسين أحمد بن أيبك الدّمياطي، ثم ذيّل ولده وليّ الدّين أبو زرعة المتوفّى سنة 826 هـ على ذيل أبيه
(2)، ففيه نظر، ذلك أنّ زين الدّين ابن العراقيّ إنما ذيّل على «ذيل العبر» للذهبيّ وتبعه ولده الوليّ فذيّل على ذيل أبيه، وقد وصل إلينا
(3)، قال وليّ الدّين: «فهذا تاريخ متوسّط ابتداؤه سنة مولدي، وهو ذيل على تاريخ والدي أبقاه الله تعالى الذي ذيّل به على «ذيل العبر» للحافظ أبي عبد الله الذهبيّ رحمه الله»
(4). وقال التقيّ الفاسيّ في مقدّمة «العقد الثمين» وهو يذكر موارده: «ومن ذلك: وفيات شيخنا العراقيّ التي ذيّل بها على «العبر» للذهبي، أنبأنا بها إجازة»
(5). ولعلّهما أرادا أنها تصلح لأن تكون ذيلا على وفيات أبي الحسين الدّمياطيّ لتقارب المدة.
ويعد «صلة التكملة» لعزّ الدين الحسينيّ من أمهات كتب التراجم الأصيلة، ذلك أنّ جميع من ترجم لهم - وعددهم (1242) ترجمة - هم ممّن
--------------------------------------------
৮৩২ হিজরি। এটি তার অন্যতম উৎস এবং 'আল-ইকদ আল-ছামিন' গ্রন্থে তা থেকে উদ্ধৃতি নেওয়া হয়েছে।
(১) পাণ্ডুলিপির বর্ণনার সময় সামনে আসবে যে, তিনি আল-হুসাইনির ওপর কয়েক ডজন জীবনী সংযোজন করেছেন এবং আল-হুসাইনির জীবনীগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত করেছেন।
আর ইবনে কাজি শাহবা তার ইতিহাসে এবং সাখাভি 'আল-ইলান বিত-তাওবিখ' গ্রন্থে যা বলেছেন—এবং তা থেকে হাজি খলিফা 'কাশফ উজ-জুনুন' গ্রন্থে গ্রহণ করেছেন—যে হাফিজ জাইন উদ্দিন আবুল ফজল আব্দুর রহিম ইবনে আব্দুর রহমান আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি) আবু আল-হুসাইন আহমদ ইবনে আইবাক আদ-দামিয়াতির 'ওয়াফায়াত' (মৃত্যুসংক্রান্ত ইতিহাস) গ্রন্থের ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন, অতঃপর তার পুত্র ওয়ালি উদ্দিন আবু জুরআ (মৃত্যু ৮২৬ হিজরি) তার পিতার পরিশিষ্টের ওপর আরও একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন
(২)—তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কেননা, জাইন উদ্দিন ইবনুল ইরাকি মূলত হাফিজ যাহাবির 'জাইলুল ইবার'-এর ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন এবং তার পুত্র ওয়ালি উদ্দিন তাকে অনুসরণ করে তার পিতার পরিশিষ্টের ওপর পরিশিষ্ট লিখেছেন, যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে।
(৩) ওয়ালি উদ্দিন বলেন: "এটি একটি মাঝারি মানের ইতিহাসগ্রন্থ যার সূচনা আমার জন্মের বছর থেকে, এটি আমার পিতার ইতিহাসের ওপর পরিশিষ্ট যা তিনি হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ আল-যাহাবির (রহ.) 'জাইলুল ইবার'-এর ওপর পরিশিষ্ট হিসেবে লিখেছিলেন।"
(৪) তাকি আল-ফাসি 'আল-ইকদ আল-ছামিন'-এর ভূমিকায় তার উৎসসমূহের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন: "আর তার মধ্যে রয়েছে: আমাদের শাইখ আল-ইরাকির 'ওয়াফায়াত' (মৃত্যুসংক্রান্ত ইতিহাস), যা তিনি যাহাবির 'আল-ইবার'-এর ওপর পরিশিষ্ট হিসেবে লিখেছিলেন, যা তিনি আমাদের অনুমতি (ইজাজত) হিসেবে জানিয়েছেন।"
(৫) সম্ভবত তারা দুজনে (ইবনে কাজি শাহবা ও সাখাভি) এটি বুঝাতে চেয়েছেন যে, সময়কাল কাছাকাছি হওয়ার কারণে এটি আবু আল-হুসাইন আদ-দামিয়াতির 'ওয়াফায়াত'-এর ওপর পরিশিষ্ট হওয়ার উপযুক্ত।
ইজ্জুদ্দিন আল-হুসাইনির 'সিলাতুত তাকমিলা' জীবনীসংক্রান্ত মৌলিক গ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ তিনি যাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন—যাদের সংখ্যা (১২৪২) জন—তারা সকলেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
عاصرعهم وعرف الكثير منهم عن قرب، ومثل هذه المصادر قليلة في علم التراجم، ومن ثمّ صار هو الكتاب المعتمد لمن دوّن تاريخ رجال هذه الحقبة ممن جاء بعده، فكان هذا الكتاب هو المصدر الأول لثلاثة من الكتب المهمة في تدوين تاريخ هذه المدة، وهي: «الذّيل على مرآة الزمان» لقطب الدّين اليونينيّ المتوفّى سنة 723 هـ، و «المقتفي لتاريخ أبي شامة» لعلم الدّين البرزالي المتوفّى سنة 739 هـ، و «تاريخ الإسلام ووفيات المشاهير والأعلام» للحافظ الذهبي؛ فاليونينيّ والذهبيّ سلخا الكتاب في كتابيهما إلا ما ندر، فضلا عن المصادر الأخرى التي أفادت منه لمن دوّن علماء هذه المدة.
وقد زاد من قيمة هذا الكتاب أمران، أولهما: أنه وصل إلينا بخطّ المؤلّف، وثانيهما: تلك الاستدراكات النفيسة التي استدركها الحافظ شهاب الدّين أبو الحسين أحمد بن أيبك الدّمياطيّ المتوفّى سنة 749 هـ.
وصف النّسخة الخطية:هي النسخة التي كتبها المؤلّف بخطّه، وتقع في (211) ورقة ذهبت الورقة الأولى منها - أو ربما أكثر - فيها أول مقدّمة المؤلّف، مسطّرتها (21) سطرا في كلّ سطر قدر 10 - 12 كلمة، وخطّ المؤلّف جيّد ومقروء خال من الشكل في الأغلب الأعمّ، وتتكون من اثنين وعشرين جزءا حديثيا في مجلّدين، أولهما: يشمل الأجزاء من الأول إلى نهاية الرابع عشر، وفيه الوفيات من سنة 641 هـ إلى سنة 658 هـ، والثاني: يشمل الأجزاء من الخامس عشر إلى نهاية الجزء الثاني والعشرين ويشمل الوفيات من سنة 659 هـ إلى آخر سنة 675 هـ، وهي محفوظة في مكتبة كوبرلي برقم (1101).
وقد وقع انتقال بعض الأوراق من مكانها عند التجليد، لا سيما الأوراق 62 - 73، حيث هي من الجزء الأخير من الكتاب. على أنّ هذا الارتباك في تجليد النسخة من السهولة تلافيه لمن له معرفة بالمترجمين وإلمام بمصادر هذه الحقبة، مثل: «تاريخ الإسلام» للذهبي، وقد أشرنا إلى ترتيب النسخة في مواضعها.
তিনি তাদের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাদের অনেকের সম্পর্কেই নিবিড়ভাবে জানতেন। জীবনীশাস্ত্রে এ ধরণের উৎসের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে এই গ্রন্থটি পরবর্তীকালে যারা এই যুগের ব্যক্তিদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন, তাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য দলিলে পরিণত হয়েছে। সুতরাং এই গ্রন্থটি উক্ত সময়ের ইতিহাস লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের প্রাথমিক উৎসে পরিণত হয়। গ্রন্থ তিনটি হলো: ৭২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী কুতুবুদ্দীন আল-ইউনিনীয়র 'আয-যাইলু আলা মিরআতিল যামান', ৭৩৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আলামুদ্দীন আল-বিরযালীর 'আল-মুকতাফী লি-তারীখি আবী শামা', এবং হাফেয আয-যাহাবীর 'তারীখুল ইসলাম ওয়া ওফায়াতুল মাশাহীর ওয়াল আ'লাম'। আল-ইউনিনী এবং আয-যাহাবী বিরল কিছু অংশ ব্যতীত এই গ্রন্থের প্রায় সমস্ত অংশই তাদের নিজ নিজ গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছেন। এ ছাড়াও অন্যান্য উৎসসমূহও এই গ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছে যারা এই যুগের আলেমদের জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন।
এই গ্রন্থটির গুরুত্ব দুইটি বিষয়ের কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথমত: এটি লেখকের নিজস্ব হস্তলিপিতে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। দ্বিতীয়ত: ৭৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী হাফেয শিহাবুদ্দীন আবুল হুসাইন আহমদ বিন আইবাক আদ-দিমইয়াতীর করা সেই অমূল্য সংযোজনসমূহ (ইস্তিদরাক)।
পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:এটি লেখকের নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, যা ২১১টি পাতার সমন্বয়ে গঠিত। এর প্রথম পাতাটি—অথবা সম্ভবত তারও বেশি—হারিয়ে গেছে, যাতে লেখকের ভূমিকার শুরুটা ছিল। এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২১টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১০-১২টি শব্দ আছে। লেখকের হস্তাক্ষর সুন্দর এবং পাঠযোগ্য, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বরচিহ্নহীন। এটি দুই খণ্ডে মোট বাইশটি হাদিসী খণ্ডের (জুয) সমন্বয়ে গঠিত। এর প্রথম খণ্ডে প্রথম থেকে চতুর্দশ খণ্ড পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে ৬৪১ হিজরি থেকে ৬৫৮ হিজরি পর্যন্ত মৃত্যুসনসমূহ বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডটি পঞ্চদশ খণ্ড থেকে শুরু করে বাইশতম খণ্ডের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এতে ৬৫৯ হিজরি থেকে ৬৭৫ হিজরির শেষ পর্যন্ত মৃত্যুসনসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি কোপরুলু লাইব্রেরিতে ১১০১ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
বাঁধাই করার সময় কিছু পাতার স্থান পরিবর্তিত হয়ে গেছে, বিশেষ করে ৬২ থেকে ৭৩ নম্বর পাতাগুলো, যা মূলত গ্রন্থের শেষাংশের অন্তর্ভুক্ত। তবে পাণ্ডুলিপির বাঁধাইয়ের এই বিশৃঙ্খলা সংশোধন করা তাদের জন্য সহজ হবে যাদের জীবনীকারদের সম্পর্কে জ্ঞান এবং এই যুগের উৎসগ্রন্থসমূহ—যেমন যাহাবীর 'তারীখুল ইসলাম'—সম্পর্কে ধারণা আছে। আমরা পাণ্ডুলিপির সঠিক বিন্যাস যথাস্থানে নির্দেশ করেছি।
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
وتظهر على النسخة إلحاقات يسيرة، مما يدلّ على أنها المبيّضة التي ارتضاها المؤلّف.
كما توجد في حواشي النسخة استدراكات كتبها عالم جليل هو:
شرف الدّين أبو الحسين أحمد بن أيبك الحساميّ الدّمياطيّ المولود سنة 700 هـ والمتوفّى بالطاعون الجارف الذي ضرب البلاد سنة 749 هـ
(1). ومع أنه لم يصرّح في هذه التعليقات باسمه إلاّ في موضع واحد (لدى تعليقه على الترجمة رقم 453) إلا أننا كنّا قد عرفنا ذلك من خطّه، إذ كنت قد حصلت علي نسخة مصوّرة من كتاب «المستفاد من ذيل تاريخ بغداد» لابن النجّار بخطّه، وهي النسخة التي حقّقها تلميذي النجيب محمد مولود خلف بإشرافي ونال بها رتبة الدبلوم العالي في تحقيق المخطوطات وطبعت في مؤسسة الرّسالة سنة 1986 م، فظهر بذلك تماثل الخطّين، فضلا عن تصريح تقيّ الدّين الفاسيّ في ترجمة شعيب بن يحيى بن أحمد بن محفوظ بن عطية التّميميّ القيروانيّ ثم الإسكندراني نزيل مكة، فقد نقل وفاته من وفيات الحسينيّ هذا ثم قال وهو يغلّطه في تاريخ الوفاة بقوله: «وأكثر من هذا مخالفة أنّي وجدت بخطّ أحمد بن أيبك الدّمياطيّ في وفيات الشريف أبي القاسم الحسينيّ أنّ الزكيّ المنذريّ ذكر أنه توفّي في أواخر ذي القعدة أو أوائل ذي الحجة»
(2).
فاتفقنا أنا وتقيّ الدّين الفاسيّ على معرفة هذا الخط، فضلا عن التصريح الوحيد الذي أشرنا إليه آنفا.
وهذه الاستدراكات في الغاية من الأهمية، وهي على نوعين، الأول:
استدراكات مضافة إلى تراجم الحسينيّ من مصادر أغلبها مفقود اليوم، وتصحيحات وتعقّبات، فكأنه يحقّق معلومات هذا الكتاب. والثاني: تراجم جديدة لم يذكرها الحسينيّ استدركها عليه في مواضعها، وكتبها بخطّه الدقيق في حواشي النسخة وإن كان التجليد السيّئ قد طمس شيئا يسيرا منها حاولنا
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপিটিতে সামান্য কিছু সংযোজন পরিলক্ষিত হয়, যা নির্দেশ করে যে এটিই ছিল লেখকের পছন্দকৃত চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি (আল-মুবাইয়্যাদাহ)।
তেমনিভাবে পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় একজন মহান আলেম কর্তৃক লিখিত কিছু পরিমার্জন ও অতিরিক্ত তথ্য (ইস্তিদরাকাত) রয়েছে, তিনি হলেন:
শরফুদ্দীন আবুল হুসাইন আহমদ বিন আইবাক আল-হুসামি আদ-দামিয়াতি; যিনি ৭০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৪৯ হিজরিতে দেশে হানা দেওয়া প্রলয়ঙ্করী প্লেগ মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন
(১)। যদিও তিনি এই মন্তব্যগুলোতে মাত্র একটি স্থান ব্যতীত (৪৫৩ নম্বর জীবনীর ওপর মন্তব্যের ক্ষেত্রে) নিজের নাম স্পষ্ট করেননি, তবুও আমরা তাঁর হস্তাক্ষর থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। কেননা আমি ইবনে নাজ্জারের ‘আল-মুস্তাফাদ মিন যাইল তারিখ বাগদাদ’ কিতাবটির তাঁর হাতে লেখা একটি পাণ্ডুলিপির অনুলিপি সংগ্রহ করেছিলাম। এটি সেই পাণ্ডুলিপি যা আমার তত্ত্বাবধানে আমার মেধাবী ছাত্র মুহাম্মদ মাওলুদ খালাফ সম্পাদনা করেছে এবং এর মাধ্যমে সে পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ওপর উচ্চতর ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেছে; এটি ১৯৮৬ সালে মুয়্যাসসাসাতুর রিসালাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এর ফলে উভয় হস্তাক্ষরের সাদৃশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাছাড়া শুআইব বিন ইয়াহইয়া বিন আহমদ বিন মাহফুজ বিন আতিয়্যাহ আত-তামিমি আল-কাইরাওয়ানি, পরবর্তীতে আল-ইসকান্দারানি এবং মক্কার অধিবাসী—এর জীবনীর বর্ণনায় তাকিউদ্দীন আল-ফাসির স্পষ্ট বক্তব্যও রয়েছে। তিনি আল-হুসাইনির এই ‘ওয়াফাইয়াত’ থেকে তাঁর মৃত্যুতারিখ উদ্ধৃত করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুর তারিখকে ভুল সাব্যস্ত করে বলেছেন: “এর চেয়েও বড় বৈপরীত্য হলো আমি আহমদ বিন আইবাক আদ-দামিয়াতির হস্তাক্ষরে শরীফ আবুল কাসিম আল-হুসাইনির ‘ওয়াফাইয়াত’-এর ওপর টীকায় পেয়েছি যে, যাকি আল-মুনযিরি উল্লেখ করেছেন যে তিনি যিলকদ মাসের শেষে অথবা যিলহজ মাসের শুরুতে মৃত্যুবরণ করেছেন”
(২)।
ফলে ইতিপূর্বে আমরা যে একটি মাত্র সুস্পষ্ট উল্লেখের দিকে ইঙ্গিত করেছি, সেটি ছাড়াও আমি এবং তাকিউদ্দীন আল-ফাসি এই হস্তাক্ষরটি চেনার ব্যাপারে একমত হলাম।
আর এই পরিমার্জন বা অতিরিক্ত সংযোজনগুলো (ইস্তিদরাকাত) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো দুই প্রকারের; প্রথমটি হলো:
আল-হুসাইনির জীবনীবৃত্তান্তের সাথে এমন সব উৎস থেকে তথ্য সংযোজন করা হয়েছে যার অধিকাংশ আজ বিলুপ্ত, সেই সাথে রয়েছে সংশোধন ও পর্যালোচনা; ফলে মনে হয় যেন তিনি এই কিতাবের তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই (তাহকিক) করছেন। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: এমন নতুন কিছু জীবনী যা আল-হুসাইনি উল্লেখ করেননি, তিনি নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে সেগুলো সংযোজন করেছেন এবং পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় তাঁর সূক্ষ্ম হস্তাক্ষরে তা লিপিবদ্ধ করেছেন, যদিও ত্রুটিপূর্ণ বাঁধাইয়ের কারণে তাঁর সামান্য অংশ অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যা আমরা চেষ্টা করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
استدراكه عند الاستطاعة.
وعلى النسخة أيضا تعليقات يسيرة بخطّ العالم الفاضل أبي الفضل جعفر ابن ثعلب بن جعفر الأدفويّ صاحب كتاب «الطالع السّعيد الجامع أسماء نجباء الصّعيد» وخطّه غليظ غير جيد
(1).
وقد سمع ثلاثة من الفضلاء هذا الكتاب على المؤلّف وهم: ابنه القاضي السيد شرف الدّين أبو الحسن محمد بن أحمد بن محمد الحسينيّ، والشيخ وجيه الدّين أبو القاسم موسى ابن القاضي شرف الدّين أبي عبد الله محمد بن موسى الأنصاريّ الشافعيّ المصريّ المتوفّى سنة 695 هـ، وهو قارئ الكتاب على المؤلّف، وكاتب الطباق أحمد بن عبد الرحيم بن أبي عبد الله الشافعيّ، الذي استرجمت أنه هو الذي ذكره الذهبيّ في وفيات سنة 695 هـ من «تاريخ الإسلام».
وقد كتبوا طبقة سماع لكلّ جزء: بدءا من الجزء السادس حتى نهاية الكتاب، كما كتبوا طبقة سماع في نهاية المجلّدة الأولى. ولمّا كانت هذه الطّباق متشابهة فسوف نكتفي بتدوين طبقة السماع المدوّنة في المجلّد الثاني، وهذا نصّها:
«سمع جميع هذه المجلّدة والمجلّدة قبلها على مصنّفها سيدنا وشيخنا الفقيه الإمام العالم الحافظ ناصر السّنة السيد عزّ الدّين أبي القاسم أحمد ابن الإمام العلاّمة شرف الدّين أبي عبد الله محمد ابن الإمام المفتي نجيب الدّين أبي القاسم عبد الرّحمن الحسينيّ الشافعيّ نقيب النّقباء، فسح الله في مدّته ونفع المسلمين ببركته، بقراءة القاضي العدل المحدّث وجيه الدّين أبي القاسم موسى ابن القاضي العدل شرف الدّين أبي عبد الله محمد بن موسى الأنصاريّ الشافعيّ الصّوفي، والعبد الفقير إلى الله تعالى أحمد بن عبد الرّحيم بن أبي عبد الله الشافعيّ عفا الله عنه وهذا خطّه، وسمع من أوّل الجزء الرابع إلى آخر هذا البلاغ بخطّي السيد الشريف شرف الدّين أبو الحسن محمد ابن سيدنا
--------------------------------------------
সক্ষমতা অনুযায়ী এর সংশোধন।
এই পাণ্ডুলিপিতে ‘আত-তালিউস সাঈদ আল-জামি আসমা নুজাবা আস-সাইদ’ গ্রন্থের লেখক, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত আবুল ফজল জাফর ইবনে ছালাব ইবনে জাফর আল-আদফুয়ীর হস্তাক্ষরে কিছু সংক্ষিপ্ত টীকাও রয়েছে। তাঁর হস্তাক্ষর ছিল স্থূল এবং সুন্দর নয়
(1)।
তিনজন গুণী ব্যক্তি লেখকের কাছে এই গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন। তাঁরা হলেন: তাঁর পুত্র কাজি সাইয়্যেদ শরফুদ্দীন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হুসাইনী; শাইখ ওয়াজিহুদ্দীন আবুল কাসিম মুসা ইবনুল কাজি শরফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-আনসারী আশ-শাফিয়ী আল-মিসরী (মৃত্যু ৬৯৫ হিজরি), যিনি লেখকের সামনে গ্রন্থটি পাঠ করেছিলেন; এবং শ্রবণের অনুমতিপত্রের লেখক আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম ইবনে আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ী, যাঁর সম্পর্কে আমি ধারণা করি যে, ইমাম যাহাবী ‘তারিখুল ইসলাম’-এর ৬৯৫ হিজরির মৃত্যু তালিকায় তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
তাঁরা প্রতিটি খণ্ডের জন্য একটি করে শ্রবণ-সনদ লিখেছেন—ষষ্ঠ খণ্ড থেকে শুরু করে কিতাবের শেষ পর্যন্ত। অনুরূপভাবে তাঁরা প্রথম জিলদের শেষেও একটি শ্রবণ-সনদ লিখেছেন। যেহেতু এই সনদগুলো প্রায় একই রকম, তাই আমরা দ্বিতীয় জিলদে লিপিবদ্ধ শ্রবণ-সনদটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব। সেটি হলো এই:
«এই জিলদ এবং এর পূর্ববর্তী জিলদ—উভয়টিই এর লেখকের কাছে শ্রবণ করা হয়েছে, যিনি হলেন আমাদের সরদার ও শাইখ, ফকিহ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, সুন্নাহর সাহায্যকারী, সাইয়্যেদ ইজ্জুদ্দীন আবুল কাসিম আহমদ ইবনুল ইমামুল আল্লামা শরফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ইমামুল মুফতি নাজীবুদ্দীন আবুল কাসিম আব্দুর রহমান আল-হুসাইনী আশ-শাফিয়ী, নকীবুন নুকাবা (প্রধান প্রতিনিধি); আল্লাহ তাঁর হায়াত বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর বরকত দিয়ে মুসলিমদের উপকৃত করুন। এটি পাঠ করেছেন ন্যায়পরায়ণ কাজি, মুহাদ্দিস ওয়াজিহুদ্দীন আবুল কাসিম মুসা ইবনুল কাজি আল-আদল শরফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-আনসারী আশ-শাফিয়ী আস-সূফী। আর (শ্রবণ করেছেন) আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম ইবনে আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ী—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—এবং এটি তাঁরই হস্তাক্ষর। এছাড়া চতুর্থ খণ্ডের শুরু থেকে এই সমাপ্তি পর্যন্ত আমার অর্থাৎ আমাদের সরদারের পুত্র সাইয়্যেদ শরীফ শরফুদ্দীন আবুল হাসান মুহাম্মদের হস্তাক্ষরে শ্রবণ করা হয়েছে»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
المسمع أيّدهم الله تعالى، وسمع القاضي العدل الرئيس شرف الدّين أبو عبد الله الحسين ابن الشيخ أبي المنصور بن أبي الفرج الشافعيّ من أول الجزء الخامس إلى هذا البلاغ، وصحّ وثبت في مجالس آخرها غرة ربيع الأول من سنة خمس وثمانين وستّ مئة بدار المسمع وأجاز لنا جميع ما يجوز له روايته، والحمد لله وحده».
وكان السّماع في مجالس آخرها غرة ربيع الأول سنة 685 هـ بمنزل صاحب الكتاب الذي كان قبالة جامع السّرّاجين بالقاهرة كما نصّ عليه في بعض الطّباق الأخرى.
ولمّا كانت النّسخة بخطّ مؤلّفها، بل هي المبيّضة كما استرجمنا، فلم تعد هناك حاجة إلى نسخة أخرى، بل لا نعلم بوجود نسخة أخرى حتى عند المؤلّفين الناقلين عنه، فقطب الدّين اليونينيّ، والذهبيّ، وتقيّ الدّين الفاسي، وغيرهم، لم يستعملوا غير هذه النسخة. ومعلوم في بدائه علم تحقيق المخطوطات أنّ نسخة المؤلّف التي ارتضاها في آخر حياته لا تعلوها نسخة أخرى، ولا يحتاج معها إلى نسخ أخرى.
طبعة الكندري:وحين كنت أعدّ هذا الكتاب للنشر، ظهرت طبعة له عن دار ابن حزم في بيروت سنة 2005 م كتب على غلافها: «ضبط النصّ وعلّق عليه أبو يحيى عبد الله الكندري»
(1)، وقد أعجبني في البدء غلافها وورقها، وتوقّفت عن العمل برهة ريثما أقرأ هذا العمل لأقف على مدى التزامه بمناهج التحقيق العلميّ الرّصينة، ومن ثم أتّخذ قرارا بترك عملي أو الاستمرار فيه. ولم يستغرق الأمر كثيرا لأتيقّن من أنّ الأخ الذي تصدّى لهذا العمل على الرّغم من تحمّسه لعمله وبذله الوسع واستفراغه الجهد، لم يكن من المؤهّلين لمثل هذا
--------------------------------------------
বর্ণনাকারী, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সাহায্য করুন, এবং ন্যায়পরায়ণ বিচারক, প্রধান শরফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আশ-শাইখ আবিল মানসুর বিন আবিল ফারাজ আশ-শাফিয়ী পঞ্চম খণ্ডের শুরু থেকে এই স্থান পর্যন্ত শ্রবণ করেছেন। এটি কয়েকটি মজলিসের মাধ্যমে শুদ্ধ ও সাব্যস্ত হয়েছে, যার শেষটি ছিল ৬৮৫ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম তারিখে বর্ণনাকারীর ঘরে। তিনি আমাদের নিকট সেই সবকিছু বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করেছেন যা বর্ণনা করার অনুমতি তাঁর রয়েছে। এবং সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।
এই শ্রবণ অনুষ্ঠানটি কয়েকটি মজলিসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল, যার শেষটি ছিল ৬৮৫ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম তারিখে কায়রোস্থ জামে আস-সাররাজিনের বিপরীত দিকে অবস্থিত গ্রন্থকারের নিজ বাসভবনে, যেমনটি অন্যান্য কিছু শ্রবণসনদে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেহেতু পাণ্ডুলিপিটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত ছিল, বরং আমাদের অনুমান অনুযায়ী এটি ছিল মূল চূড়ান্ত অনুলিপি, তাই অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট থাকেনি। এমনকি তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকারী লেখকদের কাছেও অন্য কোনো অনুলিপির অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। কুতুবুদ্দীন আল-ইউনিনী, আয-যাহাবী, তাকীউদ্দীন আল-ফাসী এবং অন্যান্যরা এই পাণ্ডুলিপি ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করেননি। পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা শাস্ত্রের প্রাথমিক নীতিমালায় এটি সুবিদিত যে, গ্রন্থকার তাঁর জীবনের শেষভাগে যে অনুলিপিটিকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো অনুলিপি হতে পারে না এবং সেটির উপস্থিতিতে অন্য কোনো অনুলিপির প্রয়োজন পড়ে না।
কানদারী সংস্করণ:যখন আমি এই বইটি প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করছিলাম, তখন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে বৈরুতের দার ইবনে হাযম থেকে এর একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়, যার প্রচ্ছদে লেখা ছিল: "মূল পাঠ সংশোধন ও টীকা প্রদান করেছেন আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহ আল-কানদারী"
(১)। শুরুতে এর প্রচ্ছদ এবং কাগজ আমাকে মুগ্ধ করেছিল এবং আমি কিছুক্ষণের জন্য কাজ বন্ধ রেখেছিলাম যাতে এই কর্মটি পড়ে দেখতে পারি যে এটি সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক সম্পাদনা পদ্ধতির প্রতি কতটা দায়বদ্ধ ছিল এবং এরপর আমার কাজটি ছেড়ে দেওয়া বা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে এটি নিশ্চিত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি যে, যে ভাইটি এই কাজের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তাঁর প্রবল উৎসাহ এবং সাধ্যমতো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি এ ধরনের কাজের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
العمل، فوقع في أخطاء قاتلة أتلفت عمله بالكلّية، وأساء إلى هذا الكتاب من حيث أراد أن يحسن إليه، فأخرج طبعة سقيمة فاقدة لأبسط قواعد التحقيق العلميّ الرّصين: لغة، وضبطا، وقراءة، ومعرفة بالمخطوط، ثم جهلا بموضوع الكتاب أوقعه في مزالق خطيرة.
ومما يؤسف عليه في هذه الأزمنة أن يمتهن علم تحقيق النصوص فيما رسه كلّ من هبّ ودبّ، مع أنه اليوم يدرّس في أرقى الجامعات، وتمنح فيه الشّهادات العليا، فصارت آلات الطباعة تدور لتخرج تراثا مشوّها بحروف جميلة وألوان جذّابة وتجليد فاخر، من غير عناية بالمحتوى.
ولست هنا بحال أسعى فيه لتذنيب من تصدّى لهذا العمل ونشره، فالبلية عامة، والخطب خطير، وذلك أنّ تراث الأمة من أعظم جوانب إحياء مجدها خطرا وأبقاها على الأيام أثرا، فهو وجدانها وتجربتها عبر التاريخ، لا سيّما في هذه الأعصر التي تحتاج فيها الأمة إلى تثبيت هويتها الحضارية العربية الإسلامية، لا نطلاق أبنائها نحو استعادة أمجادهم وتطهير أوطانهم من دنس الغزو الفكريّ الذي تعمل جهات العولمة الخبيثة على طمس معالمه وفرض المثل والأخلاقيات الغربيّة الغريبة عليه؛ بغية قطع الاتصال بهذا العمق الحضاريّ العظيم، وإفراغ عقول شبابه من كلّ ما يعتزّون به ويفاخرون، تمهيدا للهيمنة عليهم وإخضاعهم لأصول حضارة لا ينتمون إليها، فيصبحون تابعين بعد أن كانوا متبوعين.
إنّ العناية بالتراث وتحقيقه وتجليته يتطلب توفّر علماء من ذوي الباع الرّحب في علوم شتى، فضلا عن عمق وتخصّص في الموضوع الذي يتناولون تحقيقه. ونحن نعلم أنّ الأمة قد أنجبت في حال نهضتها في المئة الماضية محققّين أجلاء، عمل كلّ في حقل اختصاصه، فنشرت النصوص المتقنة في البلاد المصرية والشامية والعراقية والمغربية، برز فيها الجهد المستند إلى العلم والبصيرة، وقد تلقّاها الباحثون بالنقد المنصف والتعقيب بما قد تسرّب إلى أعمالهم من هنات أو أخطاء طباعيّة، فيتقبّلونه بخلق العلماء، وينوّهون بمن استدرك عليهم ودلّهم على بعض هفواتهم.
কাজটি করতে গিয়ে তিনি এমন সব মারাত্মক ভুল করেছেন যা তার কর্মকে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দিয়েছে। তিনি এই কিতাবটির উপকার করতে চেয়ে উল্টো এর অপকার করেছেন। ফলে তিনি এমন এক ত্রুটিপূর্ণ সংস্করণ বের করেছেন যা সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার নূন্যতম নিয়মাবলিও বজায় রাখেনি: ভাষা, হরকত বিন্যাস, পাঠোদ্ধার এবং পাণ্ডুলিপি বিষয়ক জ্ঞানের ক্ষেত্রে। তদুপরি, কিতাবটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে অজ্ঞতা তাকে ভয়ংকর স্খলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমান সময়ে এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার এই মহান শাস্ত্রকে সাধারণ ও অযোগ্য লোকেরা পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে; অথচ বর্তমানে এটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ানো হয় এবং এতে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ফলে ছাপার যন্ত্রগুলো কেবল সুন্দর হরফ, আকর্ষণীয় রঙ এবং জাঁকজমকপূর্ণ বাঁধাইয়ের মাধ্যমে এক বিকৃত ঐতিহ্য প্রকাশ করে চলেছে, যেখানে মূল বিষয়বস্তুর প্রতি কোনো গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না।
আমি এখানে কোনোভাবেই সেই ব্যক্তিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছি না যিনি এই কাজটি সম্পাদন ও প্রকাশ করেছেন। কারণ এই বিপর্যয় সর্বব্যাপী এবং সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুতর। বস্তুত একটি জাতির ঐতিহ্য হলো তার গৌরব পুনরুজ্জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিক এবং সময়ের বিচারে এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটি হলো ইতিহাসের পরিক্রমায় জাতির বিবেক ও অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে বর্তমান যুগে, যখন জাতির জন্য তার আরবি ও ইসলামি তামাদ্দুনিক পরিচয় সুদৃঢ় করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাতে এর সন্তানেরা তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হতে পারে এবং তাদের স্বদেশকে সেই বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের কলুষতা থেকে পবিত্র করতে পারে, যা বিশ্বায়নের অশুভ শক্তিগুলো ঐতিহ্যের চিহ্নসমূহ মুছে ফেলতে এবং বিজাতীয় পশ্চিমা আদর্শ ও নৈতিকতা চাপিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো এই বিশাল তামাদ্দুনিক গভীরতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং যুবসমাজের মস্তিষ্ককে সেই সব গৌরবময় বিষয় থেকে শূন্য করে দেওয়া যা নিয়ে তারা গর্ববোধ করে; আর এ সবই করা হচ্ছে তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার এবং এমন এক সভ্যতার মূলনীতির অনুগত করার জন্য যার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে তারা অতীতে নেতৃত্বদানকারী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে অনুসারীতে পরিণত হবে।
ঐতিহ্যের যত্ন নেওয়া, তার সম্পাদনা এবং একে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য এমন একদল আলিমের প্রয়োজন যাদের বিভিন্ন শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর গভীর বিশেষত্ব রয়েছে। আমরা জানি যে, গত শতাব্দীতে জাগরণের সময়ে এই জাতি বহু প্রথিতযশা সম্পাদক তৈরি করেছে, যারা প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজ করেছেন। ফলে মিশর, সিরিয়া, ইরাক এবং মাগরিব থেকে অত্যন্ত নিখুঁত সব পাঠ্য প্রকাশিত হয়েছে, যাতে ইলম ও প্রজ্ঞানির্ভর প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। গবেষকগণ সেই কাজগুলোকে ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা এবং সেই সব মুদ্রণজনিত বা অন্য কোনো বিচ্যুতি সংশোধনের মাধ্যমে গ্রহণ করতেন যা অনিচ্ছাকৃতভাবে থেকে যেত। আর সেই সম্পাদকগণও আলিমদের উন্নত চরিত্রের সাথে তা গ্রহণ করতেন এবং যারা তাদের ভুল ধরিয়ে দিতেন বা সংশোধন করে দিতেন, তাদের প্রশংসা করতেন।
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أما اليوم، فإننا، والألم يعتصر قلوبنا، نجد امتهانا لهذا التراث، حين يتصدّى له من لا خبرة له به، وليس هناك من حسيب ولا رقيب، وكثير من دور النشر التجارية تنشر كلّ ما يرد إليها حين لا يكلّفها الأمر أعباء مالية ثقيلة.
إنّ موضوع نشر كتب التراث بحاجة إلى حماية حقيقيّة تسعى إلى وقف تشويهه والاجتراء عليه. ولا بدّ من وقفة مسؤولة يقودها العلماء وتتبناها الأكاديميّات المؤهّلة والجامعات، فتقصر هذا العمل على أهل الخبرة والإتقان، فلا يسمح بنشر الأعمال الرديئة أو غير الحائزة على الشروط المطلوبة، وذلك بالاتفاقيّات الملزمة، والعقوبات الرادعة لدور النّشر غير الملتزمة. ثم لا بدّ من إقامة اللّجان المتخصّصة من أهل العلم والمعرفة في كلّ علم وفنّ لفحص ما يراد طبعه ليسمح به، وأن لا يقتصر الأمر على دوائر المطبوعات التي لا يهمّها سوى أن لا يكون في الكتاب مسّ بسياسة هذا البلد أو ذاك، أو إساءة إلى فئة أو طائفة معيّنة، وما دون ذلك فهو مسموح مباح لا رقيب عليه!
وأعود الآن إلى طبعة السيّد الكندري لأبيّن قصورها في محاور رئيسة، وإخفاق من تصدّى لها لتحقيق أبسط شروط التحقيق العلميّ، من غير تعسّف أو ظلم، فأقول:
أولا: ضعف السيّد (المحقّق) في العربية التي تؤهّله لمثل هذا العمل، فهو يخطئ فيما لا يخطئ فيه المبتدئون، من نحو قوله، وهو يكتب مقدّمة لهذا الكتاب: «على يد الحافظ أبو سليمان» (ص 9 س 22)، و «في ترجمة المحدّث أبو محمد عبد الوهاب» (ص 10 س 22)، و «يقول عن الحافظ أبو جعفر» (ص 10 س 24)، و «عند ذكر شيخه القاضي أبو حفص» (ص 10 س 26)، و «عند ما يترجم لشيخه أبو الفرج عبد اللطيف» (ص 11 س 3)، و «تلقّيت مكالمة لطيفة من الأستاذ الكريم والأخ الفاضل أبو عايض» ومن نحو ما جاء في ص 61: وسمع من. . . والأخوان أبي الفضل سليمان وأبي الحسن. . . إلخ. فضلا عن سوء قراءته لنصّ الكتاب، مما أوقعه في مئات الأخطاء التي سنأتي على نماذج منها.
তবে বর্তমানে আমরা ব্যথিত হৃদয়ে লক্ষ্য করছি যে, এই ঐতিহ্যের অবমাননা করা হচ্ছে, যখন এমন ব্যক্তিরা এর দায়িত্ব গ্রহণ করছে যাদের এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সেখানে কোনো জবাবদিহিতা বা পর্যবেক্ষণ নেই এবং অনেক বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থা তাদের কাছে আসা সবকিছুই প্রকাশ করে দেয় যখন তাতে তাদের কোনো বড় ধরনের আর্থিক দায়ভার বহন করতে হয় না।
ঐতিহ্যবাহী কিতাবসমূহ প্রকাশের বিষয়টি এমন এক প্রকৃত সুরক্ষার মুখাপেক্ষী যা এর বিকৃতি ও এর প্রতি ধৃষ্টতা বন্ধ করতে সচেষ্ট হবে। আলেমদের নেতৃত্বে এবং যোগ্য একাডেমি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করা অপরিহার্য, যা এই কাজটিকে কেবল অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবে। ফলে নিম্নমানের অথবা প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করতে ব্যর্থ এমন কাজগুলো প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হবে না; আর এটি হতে হবে বাধ্যতামূলক চুক্তি এবং নিয়ম অমান্যকারী প্রকাশনীগুলোর জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে। অতঃপর, প্রতিটি জ্ঞান ও শিল্পের জন্য বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা জরুরি, যারা মুদ্রণের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়বস্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমতি প্রদান করবেন। বিষয়টি কেবল মুদ্রণ দপ্তরের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয় যাদের একমাত্র চিন্তা থাকে যাতে কিতাবটি এই বা ওই দেশের রাজনীতির ওপর আঘাত না হানে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীকে অবমাননা না করে; এছাড়া বাকি সবকিছুই তাদের নিকট অনুমতিযোগ্য ও বৈধ, যার কোনো তদারকি নেই!
এখন আমি জনাব কান্দারীর সংস্করণের দিকে ফিরে আসছি যাতে প্রধান দিকগুলোতে এর অপূর্ণতা এবং যিনি এর দায়িত্ব নিয়েছেন তার বৈজ্ঞানিক সম্পাদনার (তাহকিক) ন্যূনতম শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থতা বর্ণনা করতে পারি—কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি বা অবিচার ছাড়াই। আমি বলছি:
প্রথমত: আরবি ভাষায় জনাবের (মুহাক্কিক) দুর্বলতা যা তাকে এ ধরনের কাজের যোগ্য করে তোলে। তিনি এমন সব ভুল করেন যা নতুনরাও করে না। যেমন এই কিতাবের ভূমিকা লিখতে গিয়ে তিনি বলেছেন: «হাফেয আবু সুলাইমান-এর হাতে» (পৃ. ৯, পঙ্ক্তি ২২), এবং «মুহাদ্দিস আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব-এর জীবনীতে» (পৃ. ১০, পঙ্ক্তি ২২), এবং «হাফেয আবু জাফর সম্পর্কে তিনি বলেন» (পৃ. ১০, পঙ্ক্তি ২৪), এবং «তার শায়খ কাযী আবু হাফস-এর বর্ণনায়» (পৃ. ১০, পঙ্ক্তি ২৬), এবং «যখন তিনি তার শায়খ আবুল ফারাজ আব্দুল লতিফ-এর জীবনী লিখছেন» (পৃ. ১১, পঙ্ক্তি ৩), এবং «আমি সম্মানিত উস্তাদ এবং মহৎ ভাই আবু আইয-এর কাছ থেকে একটি সুন্দর ফোন কল পেয়েছি»; এবং পৃষ্ঠা ৬১-তে যা এসেছে: «এবং তিনি শুনেছেন... এবং দুই ভাই আবি আল-ফযল সুলাইমান ও আবি আল-হাসান...» ইত্যাদি। এর পাশাপাশি মূল কিতাবের পাঠ্য পড়ার ক্ষেত্রে তার অযোগ্যতা, যা তাকে শত শত ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত করেছে; আমরা সামনে এর কিছু নমুনা পেশ করব।
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
ثانيا: قلة خبرة (المحقّق) بالنسخة الخطّية، وهي نسخة فريدة بخطّ مؤلّفها محفوظة في مكتبة كوبرلي بإستانبول صوّرتها بعثة معهد إحياء المخطوطات في جامعة الدول العربية، ومنها انتشرت في المعاهد والمؤسسات ومنها المملكة العربية السعودية، حيث حصل (المحقّق) على نسخة مصوّرة منها. ونقل عن العلاّمة خير الدين الزّركلي بأنها موجودة في مكتبة البلدية بالإسكندريّة.
والسيد خير الدّين الزّركليّ إنّما اطّلع على النسخة المصوّرة في جامعة الدّول العربية، لكنه أخطأ في ذكر موطنها، فاشتبهت عليه بكتاب «التكملة لوفيات النقلة» الذي توجد قطعة منه في مكتبة البلدية بالإسكندريّة، فراح (المحقّق) يبحث ويدور في فراغ واستنتاجات لا أصل لها، ولو كان قرأ مقدّمتي لكتاب «التكملة» لعرف كلّ ذلك، لكنه لم يقرأ مقدّمة الكتاب الذي ذيّل الحسينيّ عليه! مع أنه يقتني نسخة منه كما يظهر من نقله عنه.
بل ذهب إلى القول بأنّ الزركليّ يرحمه الله - قد اطّلع على النسخة قبل أن تتعرّض لبعثرة أوراقها، وهو أمر عجيب واستنتاج غريب، ذلك أنّ نسخة كوبرلي مجلّدة منذ دهور، وقد وقع فيها اختلاط في أوراقها منذ عهد بعيد، وهو اختلاط يسير لمن يعرف هذا العصر، ولم تأخذ مني إعادة ترتيب أوراقها أكثر من نصف يوم حين قرأت النسخة في مكتبة كوبرلي باستانبول قبل أكثر من أربعين عاما، وصوّرت نسختي عنها، لا عن طريق جامعة الدول العربية!
وزعم (المحقّق) أنّ الزّركليّ وضع صورة غلاف الجزء الثاني من الكتاب «وزعم أنها مفقودة من الأصل إلا أنها تطابق بخطّها نسخة كوبرلي». وهذا كلام عجيب، ذلك أنّ طرّة المجلد الثاني من المخطوطة موجودة في الأصل، وموجودة في النسخة المصوّرة المحفوظة بجامعة الدّول العربية!
كلّ هذه الأمور تبيّن أنّ علم (المحقّق) بهذه النسخة ضعيف جدا، وسيأتي مزيد إيضاح لذلك.
ثالثا: لم يستطع (المحقّق) التمييز بين خطّ المؤلّف، وخطّ الحافظ
দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে (সম্পাদক)-এর অভিজ্ঞতার অভাব। এটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি অনন্য অনুলিপি যা ইস্তাম্বুলের কোপ্রুলু লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত। আরব লিগের পাণ্ডুলিপি পুনরুজ্জীবন ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিনিধি দল এটি চিত্রিত করেছিল এবং সেখান থেকেই এটি বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে সৌদি আরব রাজ্যও রয়েছে, যেখান থেকে (সম্পাদক) এর একটি চিত্রিত অনুলিপি সংগ্রহ করেন। তিনি আল্লামা খায়রুদ্দীন আজ-জিরিকলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি আলেকজান্দ্রিয়ার মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরিতে বিদ্যমান।
জনাব খায়রুদ্দীন আজ-জিরিকলি মূলত আরব লিগের চিত্রিত অনুলিপিটি দেখেছিলেন, কিন্তু তিনি এর অবস্থান উল্লেখ করতে ভুল করেছেন। তিনি একে ‘আত-তাকমিলা লি-ওয়াফায়াতিন নাকলা’ গ্রন্থের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন, যার একটি অংশ আলেকজান্দ্রিয়ার মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরিতে রয়েছে। ফলে (সম্পাদক) ভিত্তিহীন অনুসন্ধান ও অনুমানের পেছনে ঘুরেছেন। তিনি যদি ‘আত-তাকমিলা’ গ্রন্থের প্রতি আমার ভূমিকাটি পড়তেন, তবে তিনি এই সমস্ত কিছু জানতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই গ্রন্থের ভূমিকাই পড়েননি যার ওপর আল-হুসাইনী পরিশিষ্ট লিখেছেন! অথচ তার কাছে এর একটি অনুলিপি রয়েছে যেমনটি তার উদ্ধৃতি থেকে প্রতীয়মান হয়।
এমনকি তিনি এ দাবিও করেছেন যে, জিরিকলি (আল্লাহ তাকে রহম করুন) পাণ্ডুলিপিটি এর পাতাগুলো বিক্ষিপ্ত হওয়ার পূর্বেই দেখেছিলেন। এটি একটি অদ্ভুত দাবি এবং বিস্ময়কর অনুমান। কারণ কোপ্রুলু অনুলিপিটি বহু যুগ ধরে বাঁধানো অবস্থায় রয়েছে এবং এর পাতাগুলোর ওলটপালট অনেক প্রাচীনকাল থেকেই ঘটে আছে। যারা এই যুগ সম্পর্কে জানেন তাদের নিকট এই ওলটপালট খুবই সামান্য। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় আগে ইস্তাম্বুলের কোপ্রুলু লাইব্রেরিতে যখন আমি পাণ্ডুলিপিটি পড়ি, তখন এর পাতাগুলো পুনরায় বিন্যস্ত করতে আমার অর্ধেক দিনের বেশি সময় লাগেনি। আর আমি আমার কপিটি সরাসরি সেখান থেকেই সংগ্রহ করেছিলাম, আরব লিগের মাধ্যমে নয়!
(সম্পাদক) দাবি করেছেন যে, জিরিকলি গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের প্রচ্ছদের ছবি দিয়েছেন ‘এবং তিনি দাবি করেছেন যে এটি মূল কপিতে হারিয়ে গেছে, তবে এর হস্তলিপি কোপ্রুলু অনুলিপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ’। এটি একটি অদ্ভুত কথা, কারণ পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় খণ্ডের প্রচ্ছদটি মূলে বিদ্যমান এবং আরব লিগে সংরক্ষিত চিত্রিত অনুলিপিতেও তা রয়েছে!
এই সমস্ত বিষয় প্রমাণ করে যে, এই অনুলিপি সম্পর্কে (সম্পাদকের) জ্ঞান অত্যন্ত দুর্বল, এবং এর আরও বিশদ ব্যাখ্যা সামনে আসবে।
তৃতীয়ত: (সম্পাদক) গ্রন্থকারের হস্তলিপি এবং হাফিজের হস্তলিপির মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি।
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
شهاب الدّين أحمد بن أيبك الدّمياطي، الذي علّق على الكتاب بخطّه المتقن الدقيق، فخلط في بعض الأحيان بينه وبين الأصل ونقل منه مواضع يسيرة ظنّها من كلام المؤلّف، كما في ترجمة أبي الحسن الدبّاج (ص 140 من طبعته)، وترجمة أبي الفضائل الصّغاني اللّغويّ المشهور حين ألحق بالترجمة قول شهاب الدّين الدمياطيّ: «وكان قد دفن بداره بالحريم الطّاهري، وقد أوصى أن يدفن بمكة فنقل إلى مكة فدفن بها. نقلته من خطّ الشيخ شرف الدّين الدمياطي»! (ص 192 من طبعته).
وقد استدرك الحافظ شهاب الدّين أحمد بن أيبك الدّمياطيّ على المؤلّف استدراكات نفيسة كتبها في حاشية النسخة، أهملها (المحقّق) جملة، فحرم القارئ والمستفيد من ثروة علمية بحيث أفسد الكتاب وأقلّ قيمته بهذا الإهمال المتعمّد غير المقدّر لقيمة هذه التعليقات والاستدراكات العلميّة المهمّة.
رابعا: إنّ من ضرورات التحقيق العلميّ تنظيم مادة النص، فإنّ النّساخ في عصر المخطوطات لم يعتنوا في الأغلب الأعم، ومنهم مؤلّف هذا الكتاب، بتنظيم مادة النصّ كما هو متعارف عليه في عصرنا من حيث بداية الفقرات، ووضع النّقط عند انتهاء المعاني، والفواصل التي تظهرها وتميّزها، بل يسردون الكلام سردا ويوردونه متتاليا، مما يتعيّن مع هذه الحالة إعادة تنظيم المادة بما يفيد فهم النصّ فهما جيدا، ويوضّح معانيه، ويظهر النّقول والتعقّبات بصورة واضحة، وذلك عن طريق تقيسمه إلى فقرات وجمل.
ومن المعلوم أنّ من أكثر الأمور أهمية في تنظيم النصّ: تعيين بداية الفقرة ونهايتها، حيث أن ذلك يقدّم انطباعا بأنّ المادة التي تتضمنها تكوّن وحدة مستقلّة ذات فكرة واحدة ومرتبطة بالسّياق العامّ لمجموع النص. فمما لا شكّ فيه أنّ كلّ عنصر من عناصر الترجمة يكوّن وحدة مستقلة.
وقد لاحظت أنّ السيد الكندري لم يصنع في هذا الأمر شيئا، فجاء النصّ عنده، ضمن الترجمة الواحدة، متتاليّا ليس فيه أدنى تفصيل، وهو أمر معيب
শিহাব উদ্দীন আহমাদ ইবনে আইবাক আদ-দিমইয়াতি, যিনি তাঁর নিপুণ ও সূক্ষ্ম হস্তাক্ষরে কিতাবটির ওপর টীকা লিখেছিলেন, ফলে তিনি ক্ষেত্রবিশেষে টীকা এবং মূল পাঠের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলেছেন এবং সেখান থেকে সামান্য কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন যেগুলোকে তিনি লেখকের কথা বলে মনে করেছিলেন, যেমনটি আবু আল-হাসান আদ-দাব্বাজ-এর জীবনীতে (তাঁর মুদ্রিত সংস্করণের ১৪০ পৃষ্ঠা) এবং প্রখ্যাত ভাষাবিদ আবু আল-ফাদাইল আস-সাগানি-র জীবনীতে দেখা যায়, যেখানে তিনি জীবনীর সাথে শিহাব উদ্দীন আদ-দিমইয়াতি-র এই কথাটি যুক্ত করেছেন: «তাঁকে হারিমুত তাহিরিতে তাঁর নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল, তিনি মক্কায় দাফন হওয়ার অসিয়ত করেছিলেন, ফলে তাঁকে মক্কায় স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়। আমি এটি শায়খ শরাফ উদ্দীন আদ-দিমইয়াতি-র হস্তাক্ষর থেকে নকল করেছি»! (তাঁর মুদ্রিত সংস্করণের ১৯২ পৃষ্ঠা)।
হাফেজ শিহাব উদ্দীন আহমাদ ইবনে আইবাক আদ-দিমইয়াতি লেখকের ওপর কিছু মূল্যবান সংযোজন ও সংশোধনী লিখেছিলেন যা তিনি পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় লিখেছিলেন, কিন্তু (সম্পাদক) সেগুলো পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন। ফলে তিনি পাঠক ও গবেষককে একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছেন এবং এই ইচ্ছাকৃত অবহেলার মাধ্যমে তিনি কিতাবটি নষ্ট করেছেন এবং এর মান কমিয়ে দিয়েছেন, যা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক টীকা ও সংযোজনগুলোর মূল্যায়নে ব্যর্থতার পরিচায়ক।
চতুর্থত: বৈজ্ঞানিক সম্পাদনার অন্যতম একটি অপরিহার্য দিক হলো পাঠ্যবস্তুর সুশৃঙ্খল বিন্যাস। পাণ্ডুলিপির যুগের অনুলিপিকাররা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাঠ্যবস্তু বিন্যাসের ব্যাপারে যত্নশীল ছিলেন না, এমনকি এই কিতাবের লেখকও নন, যেমনটি আমাদের যুগে অনুচ্ছেদ শুরু করা, বক্তব্যের শেষে যতিচিহ্ন ব্যবহার এবং অর্থ স্পষ্টকারী বিরতিচিহ্নের ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচলিত। বরং তাঁরা কথাগুলোকে একনাগাড়ে লিখে যেতেন, যার ফলে এই অবস্থায় পাঠ্যবস্তুটিকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে যা পাঠটি ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে, এর অর্থ স্পষ্ট করে এবং উদ্ধৃতি ও পর্যালোচনাগুলোকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে; আর তা করা হয় পাঠটিকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও বাক্যে বিভক্ত করার মাধ্যমে।
এটা সর্বজনবিদিত যে, পাঠ্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো: অনুচ্ছেদের শুরু এবং শেষ নির্ধারণ করা। কারণ এটি এই ধারণা দেয় যে, এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু একটি স্বতন্ত্র একক গঠন করে যা একটি একক ধারণার ধারক এবং সমগ্র পাঠের সাধারণ প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জীবনীর প্রতিটি উপাদান এক একটি স্বতন্ত্র একক গঠন করে।
আমি লক্ষ্য করেছি যে, জনাব আল-কানদারি এই বিষয়ে কিছুই করেননি। ফলে একটি জীবনীর ভেতরে তাঁর উপস্থাপিত পাঠটি কোনো প্রকার বিন্যাস ছাড়াই একনাগাড়ে চলে এসেছে, যা একটি ত্রুটিপূর্ণ বিষয়।
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
في تحقيق النصوص ونشرها.
خامسا: خلت طبعة السيد الكندري من تقييد النصّ وضبطه بالحركات، لا سيّما فيما يشتبه من الألفاظ وأسماء الناس وكناهم وأنسابهم وألقابهم وأسماء البلدان والمواضع، وما هو حريّ بالتقييد من اللغة والنحو. ومعلوم أنّ أولى الأشياء بالضّبط أسماء الناس، فإنه شيء لا يدخله القياس ليس هناك شيء قبله يدلّ عليه ولا شيء بعده يدلّ عليه، فهذه منقصة عظيمة وقعت في هذه الطبعة، ولكن أنّى له ذلك وهو لا يدري كيف يقرأ الأسماء أصلا، فضلا عن ضبطها!
سادسا: وقع في هذه الطبعة سقط ليس بالقليل ينمّ عن سوء المقابلة بالأصل الذي انتسخ منه تراوح بين كلمات وجمل وأسطر، ولعلّ الصورة التي ألحقتها بنماذج المخطوط من أول الكتاب من طبعته تنبئ عن هذا الأهمال، وهي مثل لعشرات النظائر، وإليك فيما يأتي نماذج من طبعته:
1 - ص 25 س 13: «الأعز بن كرم بن محمد بن علي بن عبد الرحمن البغدادي الحربي»، سقط منه بعد ذلك: «الإسكاف البزّاز، ببغداد».
2 - ص 27 س 11: «التنوخي الدمشقي». الصواب: «التنوخي الدمشقي الحنبلي».
3 - ص 27 س 18: «وحدث بدمشق». الصواب: «وحدّث بحران وبدمشق».
4 - ص 29 س 21: «عائشة بنت الشيخ أبي المظفر محمد بن علي بن البل». الصواب: «. . . محمد بن علي بن نصر بن البل».
5 - ص 30 س 4: «وكانت فاضلة». الصواب: «وكانت صالحة فاضلة».
6 - ص 30 س 13: «في الخدم الديوانية، وحدث». الصواب: «في الخدم الدّيوانية مدة، وحدّث».
7 - ص 34 س 7: «وطاهر بن محمد». الصواب: «وأبي زرعة طاهر
মূল পাঠ্য সম্পাদন ও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে।
পঞ্চমতঃ জনাব কান্দারীর সংস্করণটি মূল পাঠ্যকে স্বরচিহ্ন (হারাকাত) দ্বারা সুসংবদ্ধ ও নির্ভুল করার প্রয়াস থেকে মুক্ত ছিল; বিশেষ করে সেই সব শব্দের ক্ষেত্রে যা উচ্চারণ বা অর্থের দিক থেকে বিভ্রান্তিকর হতে পারে এবং মানুষের নাম, তাদের উপনাম (কুনিয়াত), বংশপরিচয়, উপাধি, দেশ ও স্থানের নাম এবং ভাষা ও ব্যাকরণগতভাবে যা নির্দিষ্ট করা আবশ্যক ছিল। আর এটি সুবিদিত যে, নির্ভুল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য বিষয় হলো মানুষের নাম; কেননা এটি এমন এক বিষয় যা অনুমানের (কিয়াস) আওতাভুক্ত নয়, কারণ নামের আগে বা পরে এমন কিছু থাকে না যা তাকে নির্দেশ করতে পারে। ফলে এটি এই সংস্করণে ঘটা একটি বড় ধরনের ত্রুটি। তবে তার পক্ষে এটি কীভাবে সম্ভব, যেখানে তিনি নামগুলো কীভাবে পড়তে হয় তা-ই মূলত জানেন না, সেগুলোকে নির্ভুল করার তো প্রশ্নই আসে না!
ষষ্ঠতঃ এই সংস্করণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অংশ বাদ পড়ার (সাক্বাত) ঘটনা ঘটেছে, যা মূল পাণ্ডুলিপির সাথে ত্রুটিপূর্ণ তুলনার (মুক্বাবালা) প্রমাণ দেয়। এই বিচ্যুতি শব্দ, বাক্য এমনকি পুরো লাইনের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। সম্ভবত বইয়ের শুরুতে তার সংস্করণের পাণ্ডুলিপির যে নমুনা চিত্রটি আমি সংযুক্ত করেছি, তা-ই এই অবহেলার কথা জানান দেয়। এটি এমন কয়েক ডজন সদৃশ উদাহরণের একটি নমুনা মাত্র। তার সংস্করণের কিছু নমুনা নিচে দেওয়া হলো:
১ - পৃষ্ঠা ২৫ লাইন ১৩: «আল-আআযয বিন করম বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবদুর রহমান আল-বাগদাদী আল-হারবী», এরপর থেকে বাদ পড়েছে: «আল-ইসকাফ আল-বাযযায, বাগদাদে»।
২ - পৃষ্ঠা ২৭ লাইন ১১: «আত-তানুখি আদ-দিমাশকী»। সঠিক হলো: «আত-তানুখি আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলী»।
৩ - পৃষ্ঠা ২৭ লাইন ১৮: «এবং দামেশকে হাদিস বর্ণনা করেছেন»। সঠিক হলো: «এবং হাররান ও দামেশকে হাদিস বর্ণনা করেছেন»।
৪ - পৃষ্ঠা ২৯ লাইন ২১: «শায়খ আবু মুযাফফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-বাল এর কন্যা আয়েশা»। সঠিক হলো: «. . . মুহাম্মদ বিন আলী বিন নাসর বিন আল-বাল»।
৫ - পৃষ্ঠা ৩০ লাইন ৪: «এবং তিনি গুণবতী ছিলেন»। সঠিক হলো: «এবং তিনি নেককার ও গুণবতী ছিলেন»।
৬ - পৃষ্ঠা ৩০ লাইন ১৩: «প্রশাসনিক দপ্তরে কর্মরত ছিলেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন»। সঠিক হলো: «একটি নির্দিষ্ট সময় প্রশাসনিক দপ্তরে কর্মরত ছিলেন এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন»।
৭ - পৃষ্ঠা ৩৪ লাইন ৭: «এবং তাহের বিন মুহাম্মদ»। সঠিক হলো: «এবং আবু যুরআ তাহের
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ابن محمد».
8 - ص 35 س 20: «علي بن سلامة». الصواب: «علي بن أبي سلامة».
9 - ص 36 س 20: «والفرج يحيى». الصواب: «وأبي الفرج يحيى».
10 - ص 38 س 12: «المعروف بابن الشريشي، ودفن». الصواب:
«المعروف بابن الشريشي، بحلب، ودفن».
11 - ص 47 س 9: «الأندلسي المعروف». الصواب: «الأندلسي القرطبي المعروف».
12 - ص 58 س 6: «وآخرين غيرهما». الصواب: «وآخرين غيرهما وحدّث».
13 - ص 61 س 11: «وأبي عبد الله بن المبارك». الصواب: «وأبي محمد عبد الله بن المبارك».
14 - ص 64 س 4: «من رمضان». الصواب: «من شهر رمضان».
15 - ص 90 س 4: «فاطمة بنت سعد الخير». الصواب: فاطمة بنت سعد الخير الأنصاري».
16 - ص 137 س 23: «. . . الأصبهاني، وأبو الحسن سعد الله».
الصواب: «. . . الأصبهاني، وأبو الحسن علي بن عبد الرحمن ابن تاج القراء، وأبو الحسن سعد الله».
17 - ص 144 س 3: «يونس بن أبي الحسن». الصواب: «يونس بن يحيى بن أبي الحسن».
18 - ص 145 س 12 سقطت من آخر الترجمة العبارة الآتية: «وكان زاهدا ورعا، من بيت علم ورواية وصلاح».
19 - ص 146 س 17 سقط من آخر الترجمة: «وله مشيخة خرّجها له الحافظ أبو عبد الله البرزالي، وحدث كثيرا».
ইবনে মুহাম্মদ।
৮ - পৃষ্ঠা ৩৫ লাইন ২০: «আলী বিন সালামাহ্»। সঠিক হলো: «আলী বিন আবি সালামাহ্»।
৯ - পৃষ্ঠা ৩৬ লাইন ২০: «ওয়াল ফারাজ ইয়াহইয়া»। সঠিক হলো: «ওয়া আবি আল-ফারাজ ইয়াহইয়া»।
১০ - পৃষ্ঠা ৩৮ লাইন ১২: «ইবনুল শারীশি হিসেবে পরিচিত, এবং সমাহিত»। সঠিক হলো:
«ইবনুল শারীশি হিসেবে পরিচিত, হালবে, এবং সমাহিত»।
১১ - পৃষ্ঠা ৪৭ লাইন ৯: «সুপরিচিত আল-আন্দালুসী»। সঠিক হলো: «সুপরিচিত আল-আন্দালুসী আল-কুরতুবী»।
১২ - পৃষ্ঠা ৫৮ লাইন ৬: «তাদের উভয়ের বাইরে অন্যান্যরা»। সঠিক হলো: «তাদের উভয়ের বাইরে অন্যান্যরা এবং হাদিস বর্ণনা করেছেন»।
১৩ - পৃষ্ঠা ৬১ লাইন ১১: «ওয়া আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক»। সঠিক হলো: «ওয়া আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক»।
১৪ - পৃষ্ঠা ৬৪ লাইন ৪: «রমজান থেকে»। সঠিক হলো: «রমজান মাস থেকে»।
১৫ - পৃষ্ঠা ৯০ লাইন ৪: «ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খায়ের»। সঠিক হলো: ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খায়ের আল-আনসারী»।
১৬ - পৃষ্ঠা ১৩৭ লাইন ২৩: «. . . আল-আসফাহানী, এবং আবুল হাসান সাদুল্লাহ»।
সঠিক হলো: «. . . আল-আসফাহানী, এবং আবুল হাসান আলী বিন আব্দুর রহমান ইবনে তাজুল কুররা, এবং আবুল হাসান সাদুল্লাহ»।
১৭ - পৃষ্ঠা ১৪৪ লাইন ৩: «ইউনুস বিন আবিল হাসান»। সঠিক হলো: «ইউনুস বিন ইয়াহইয়া বিন আবিল হাসান»।
১৮ - পৃষ্ঠা ১৪৫ লাইন ১২, জীবনীর শেষ থেকে নিম্নোক্ত বাক্যটি বাদ পড়েছে: «তিনি ছিলেন একজন দুনিয়াবিমুখ ও পরহেজগার ব্যক্তি, এক ইলম, বর্ণনা ও নেককারির পরিবারভুক্ত»।
১৯ - পৃষ্ঠা ১৪৬ লাইন ১৭, জীবনীর শেষ থেকে বাদ পড়েছে: «তাঁর একটি মাশয়াখা (শিক্ষক তালিকা) রয়েছে যা তাঁর জন্য হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-বারযালী সংকলন করে দিয়েছেন এবং তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন»।
(খণ্ড: ١)
সিলাতুত তাকমিলাহ লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
20 - ص 162 س 19: «. . . حسين بن إبراهيم بن سنان». الصواب:
«. . . حسين بن أبي علي حسن بن إبراهيم بن سنان».
21 - ص 166 س 17 في نسب المحدثة أم الخير خديجة: «. . .
هبة الله بن عبد اللطيف بن أبي سعد الصوفي». الصواب: «هبة الله بن أبي البركات الميمون بن أبي الفضل عتيق بن هبة الله بن محمد بن يحيى بن عتيق ابن عبد الرحمن بن عيسى بن وردان المصرية. سمعت بإفادة أبيها من أبي الحسن عبد اللطيف بن إسماعيل، وأبي القاسم عبد المجيب بن عبد الله بن زهير». فتأمل هذا الخلط بسبب السقط!
22 - ص 168 سقطت الترجمة (377) بتمامها وهي: «وفي هذه توفي أيدمر بن عبد الله التركي المحيوي. له شعر حدث بشيء منه. كتب عنه غير واحد من طلبة الحديث».
فهذه أمثلة يسيرة لها عشرات النظائر، فكأنّ (المحقّق) لم يدرك أهمية مقابلة النصّ مقابلة دقيقة.
سابعا: ومع أنّ النّسخة بخطّ مؤلّفها، وخطّه واضح جيّد لا لبس فيه، إلا أنّ السيد الكندريّ لم يستطع قراءة الكثير من النصّ، فوضع نقطا علامة الحذف، وسبب ذلك بلا ريب ضعف القدرة على القراءة، وقلة المعرفة بهذا الفنّ الذي تصدّى له ولم يكن قد تأهّل له التأهيل اللازم، فاستعصت عليه واضحات الأمور، واتّضح ذلك من أول المخطوط، فتأمّل قراءته للأسطر الأولى منه، وقابلها بقراءتنا تجد عجبا من السقط والتصحيف والتحريف، فقد جاء عنده ما تبقّى من المقدّمة كما يأتي:
«. . . ذكرت منهم جماعة كثيرة لعل جملتهم تزيد على جملة من ذكروا وإن أعان الله تعالى ويسر وفسح في الأجل وقدر جمعت ما وقع إليّ مما فاتهم. . . وجعلته كتابا واحدا فردا في وقته إن شاء الله تعالى وعليه أتوكل وبه أستعين وإياه أسأل التيسير والتسديد والصلاح في الدنيا والدين إنه سميع الدعاء فعال لما يشاء».
২০ - ১৬২ পৃষ্ঠা, ১৯ লাইন: «. . . হুসাইন ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সিনান»। সঠিক হলো:
«. . . হুসাইন ইবনে আবি আলি হাসান ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সিনান»।
২১ - ১৬৬ পৃষ্ঠা, ১৭ লাইন, মুহাদ্দিসা উম্মুল খায়ের খাদিজার বংশপরিচয়ে: «. . .
হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে আবি সা'দ আস-সুফি»। সঠিক হলো: «হিবাতুল্লাহ ইবনে আবিল বারাকাত আল-মাইমুন ইবনে আবিল ফাদল আতিক ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আতিক ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ঈসা ইবনে ওয়ারদান আল-মিসরিয়্যা। তিনি তার পিতার নির্দেশনায় আবুল হাসান আব্দুল লতিফ ইবনে ইসমাইল এবং আবুল কাসিম আব্দুল মুজীব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুহাইর থেকে শ্রবণ করেছেন»। সুতরাং কোনো অংশ বাদ পড়ার কারণে সৃষ্ট এই বিশৃঙ্খলাটি লক্ষ করুন!
২২ - ১৬৮ পৃষ্ঠায় ৩৭৭ নম্বর জীবনীটি সম্পূর্ণ বাদ পড়েছে, যা হলো: «এবং এই বছরই আইদমর ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তুর্কি আল-মুহিউয়ি মৃত্যুবরণ করেন। তার কাব্যপ্রতিভা ছিল এবং তিনি এর কিছু বর্ণনা করেছেন। হাদিসের একাধিক ছাত্র তার থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন»।
এগুলো সামান্য কিছু উদাহরণ যার বিপরীতে এমন আরও ডজন ডজন উদাহরণ রয়েছে। দেখে মনে হয় যেন (সম্পাদক) মূল পাণ্ডুলিপির সাথে পাঠ্যের সূক্ষ্ম মেলানোর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেননি।
সপ্তম: যদিও পাণ্ডুলিপিটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত এবং তার হাতের লেখা অত্যন্ত স্পষ্ট ও অস্পষ্টতামুক্ত, তবুও জনাব কানদারি পাঠ্যের অনেক অংশই পড়তে সক্ষম হননি। ফলে তিনি বিলুপ্তির চিহ্ন হিসেবে ডট চিহ্ন ব্যবহার করেছেন। এর কারণ নিঃসন্দেহে পাঠোদ্ধারে অক্ষমতা এবং এই শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতা যা তিনি করার দায়িত্ব নিয়েছেন অথচ এর জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার ছিল না। ফলে সহজ বিষয়গুলোও তার কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাণ্ডুলিপির শুরু থেকেই এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুতরাং পাণ্ডুলিপির প্রথম কয়েক লাইনের তার করা পাঠোদ্ধারটি লক্ষ করুন এবং আমাদের পাঠের সাথে তা তুলনা করুন; আপনি বাদ পড়া অংশ, শব্দ বিকৃতি ও পরিবর্তনের এক বিস্ময়কর রূপ দেখতে পাবেন। ভূমিকার অবশিষ্ট অংশ তার নিকট যেভাবে এসেছে তা নিম্নরূপ:
«. . . আমি তাদের মধ্য থেকে একটি বড় দল উল্লেখ করেছি, সম্ভবত তাদের মোট সংখ্যা তাদের সংখ্যার চেয়ে বেশি হবে যাদের কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি আল্লাহ তাআলা সাহায্য করেন, সহজ করে দেন, হায়াত বৃদ্ধি করেন এবং সামর্থ্য দান করেন, তবে তাদের যা কিছু আমার নজরে আসবে কিন্তু অন্যদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে, তা আমি একত্রিত করব... এবং ইনশাআল্লাহ আমি একে তার সময়ের একটি অনন্য একক কিতাব হিসেবে তৈরি করব। আমি আল্লাহর ওপরই ভরসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছেই দুনিয়া ও দ্বীনের সহজতা, সঠিক পথে অবিচলতা ও কল্যাণ কামনা করি। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী এবং যা ইচ্ছা তা পালনকারী»।