(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: -)
صحيح مسلم - ت عبد الباقي   (مسلم)

القسم: كتب السنة

الكتاب: صحيح مسلم

المؤلف: أبو الحسين مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري (206 - 261 هـ)

المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي [ت 1388 هـ]

الناشر: مطبعة عيسى البابي الحلبي وشركاه، القاهرة

(ثم صورته دار إحياء التراث العربي ببيروت، وغيرها)

عام النشر: 1374 هـ - 1955 م

عدد الأجزاء: 5 (متسلسلة الترقيم) (الأخير فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সহীহ মুসলিম - তাহকীক আব্দুল বাকী   (মুসলিম)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: সহীহ মুসলিম

লেখক: আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নাইসাবুরী (২০৬ - ২৬১ হি.)

তাহকীককারী: মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী [মৃ. ১৩৮৮ হি.]

প্রকাশক: মাতবাআ ঈসা আল-বাবী আল-হালাবী ওয়া শুরাকাউহু، কায়রো

(অতঃপর বৈরুতের দার ইহয়াউত তুরাছিল আরাবী ও অন্যান্য প্রকাশনী এর প্রতিলিপি প্রকাশ করেছে)

প্রকাশকাল: ১৩৭৪ হি. - ১৯৫৫ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন) (সর্বশেষ খণ্ডটি সূচিপত্র)

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين. والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسول الله وخاتم النبيين. وبعد. فهذا هو الكتاب الثالث من أصول السنة الثمانية، التي خار الله لنا أن نخرجها معدودة الكتب والأبواب والأحاديث، بالأرقام المطابقة للتي وضعها مؤلف أصل كتاب "مفتاح كنوز السنة" وواضعو "المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي" - بالنسخ الأصلية التي اعتمدوها في عملهم.

أخرجنا عام 1951 م موطأ الإمام مالك رضي الله عنه. وأخرجنا عام 1953 سنن الإمام ابن ماجه. وها نحن أولاء نعززهما بثالث. هو هذا الكتاب. صحيح الإمام مسلم بن الحجاج رضي الله عنه.

وقد اتخذ واضعو الكتابين، أساسا لعملهما، نسخة صحيح مسلم التي عليها شرح الإمام النووي المطبوعة عام 1283 هجرية بالمطبعة الكستلية.

وقد نشرها العلامة الشيخ حسن العدوي. ووقف على تصحيحها كل من الشيخ محمد السملوطي، والشيخ نصر أبو الوفا الهورني، والشيخ زين المرصفي، والشيخ محمود العالم.

وقد يدل "مفتاح كنوز السنة" على الحديث هنا، بذكر رقم الكتاب ومعه رقم الحديث.

ويدل "المعجم المفهرس لألفاظ الحديث النبوي" على الحديث هنا؛ بذكر رقم الكتاب ومعه رقم الحديث. وزدت أنا من عندي شيئين: أحدهما عد أبواب كل كتاب ووضع رقم مسلسل لها. والثاني وضع رقم مسلسل لأحاديث الصحيح الأصلية، دون الطرق المتعددة لكل حديث. وهو الرقم الموضوع بين قوسين. وبه يستدل على أحاديث صحيح مسلم بالدقة لا بالتقريب أو التخمين.

وقد اعتمدت في تحقيق النص على هذا الشرح المطبوع بالمطبعة الكستلية المذكورة. وعليه، المطبوع بهامش شرح القسطلاني على البخاري، طبعة بولاق عام 1304 هـ.

وعلى النسخة المصححة أتم وأدق تصحيح، والمقيدة بالشكل الكامل، المطبوعة بدار الطباعة العامرة، بالأستانة، عام 1329 هـ

وهذه النسخة لم يأل القائمون على طبعها جهدا في تصحيحها ومراجعة النسخ المخطوطة التي كانت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি আল্লাহর রাসুল এবং সর্বশেষ নবী। অতঃপর, এটি হলো 'উসুলুস সুন্নাহ আল-সামানিয়াহ' (সুন্নাহর আটটি মূল গ্রন্থ)-এর অন্তর্ভুক্ত তৃতীয় গ্রন্থ। আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন যে, আমরা এটিকে কিতাব, অধ্যায় ও হাদিস সমূহের গণনাসহ প্রকাশ করি, যা "মিফতাহু কুনুযিস সুন্নাহ" গ্রন্থের মূল লেখক এবং "আল-মুজামুল মুফাহরাস লি-আলফাযিল হাদিসিন নববী"-এর সংকলকগণের নির্ধারিত নম্বরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ - সেই মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী যা তারা তাদের কাজের ক্ষেত্রে গ্রহণ করেছিলেন।

আমরা ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ইমাম মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুয়াত্তা প্রকাশ করেছি। এবং ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে ইমাম ইবনে মাজাহ-এর সুনান প্রকাশ করেছি। আর এখন আমরা সেই দুটিকে এই তৃতীয়টির মাধ্যমে শক্তিশালী করছি। সেটি হলো এই কিতাব—ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রচিত সহিহ মুসলিম।

উক্ত দুই গ্রন্থের সংকলকগণ তাদের কাজের ভিত্তি হিসেবে ১২৮৩ হিজরিতে কাসতালিয়াহ ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত ইমাম নববীর ব্যাখ্যা সংবলিত সহিহ মুসলিমের পাণ্ডুলিপিটি গ্রহণ করেছেন।

আল্লামা শাইখ হাসান আল-আদাউয়ি এটি প্রকাশ করেছিলেন। এবং এর সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন শাইখ মুহাম্মদ আল-সামলুতি, শাইখ নাসর আবু আল-ওয়াফা আল-হাওরিনি, শাইখ যাইন আল-মারসাফি এবং শাইখ মাহমুদ আল-আলিম।

"মিফতাহু কুনুযিস সুন্নাহ" গ্রন্থে কিতাবের নম্বর এবং সাথে হাদিসের নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে এখানে হাদিসটি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এবং "আল-মুজামুল মুফাহরাস লি-আলফাযিল হাদিসিন নববী"-তেও কিতাবের নম্বর ও হাদিসের নম্বর দ্বারা হাদিসটি চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে দুটি বিষয় বৃদ্ধি করেছি: প্রথমত, প্রতিটি কিতাবের অধ্যায়গুলো গণনা করে সেগুলোর ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি হাদিসের বিভিন্ন সূত্রের পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে সহিহ-এর মূল হাদিসগুলোর জন্য একটি ধারাবাহিক নম্বর নির্ধারণ করেছি। এটি ব্র্যাকেটের মধ্যে দেওয়া নম্বর। এর মাধ্যমে সহিহ মুসলিমের হাদিসগুলো অনুমান বা ধারণার পরিবর্তে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

আমি পাঠ্যটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে উপরে উল্লিখিত কাসতালিয়াহ ছাপাখানায় মুদ্রিত ব্যাখ্যাগ্রন্থটির ওপর নির্ভর করেছি। পাশাপাশি ১৩০৪ হিজরিতে বুলাক থেকে প্রকাশিত বুখারির ওপর কাসতালানির ব্যাখ্যাগ্রন্থের পার্শ্বটীকায় মুদ্রিত কপির ওপরও নির্ভর করা হয়েছে।

এবং ১৩২৯ হিজরিতে আস্তানা (ইস্তাম্বুল)-এর দারুত তিবায়াতিল আমিরাহ থেকে প্রকাশিত অত্যন্ত নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গভাবে সংশোধিত এবং হরকতযুক্ত পাণ্ডুলিপির ওপর (নির্ভর করেছি)।

এই পাণ্ডুলিপিটি মুদ্রণের দায়িত্বশীলগণ এর সংশোধন এবং বিদ্যমান হস্তলিখিত কপিগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি যা ছিল...
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ২)
تحت أيديهم. وقد تضافرت على تصحيحها كل من: العلامة النحرير الحاج محمد ذهني أفندي، والشيخ إسماعيل بن عبد الحميد محمد الطرابلسي، والعلامة أبي نعمة الله الحاج محمد شكري بن حسن الأنقروي. بعد تصحيح مصححي المطبعة المذكورة: أحمد رفعت بن عثمان حلمي القره حصاري، والحاج محمد بن عزت بن الحاج عثمان الزعفران بوليوي، رضي الله عنهم أجمعين.

وقد علقت على المتن خلاصة وزبدة شرح الإمام النووي، مع زيادات من أئمة اللغة.

وطبعة الأستانة هذه هي التي اعتمدتها في تجزئة الكتاب. وهي تقع في ثمانية أجزاء. جعلت كل جزأين منها جزءا واحدا. فيصدر الكتاب، إن شاء الله تعالى في أربعة أجزاء.

وقد خصصت الجزء الخامس لهذه الفهارس:

أولا - مفتاح الصحيح. وهو عبارة عن جميع الأحاديث القولية النبوية الشريفة التي تضمنها الصحيح، مرتبة ترتيبا ألف بائيا على حسب أوائل كلماتها. ومدلول على موضع كل حديث بذكر رقم الصفحة.

ثانيا - فهرس ألف بائي بأسماء الصحابة الذين روى الإمام مسلم أحاديثهم في صحيحه، ومع كل صحابي أرقام أحاديثه التي رواها.

ثالثا - سرد أرقام الأحاديث التي اتفق فيها الإمام مسلم في صحيحه مع الإمام البخاري في صحيحه، وذكر الرقم المسلسل لحديث البخاري الذي اتفق مع مسلم، مأخوذا من طبعة صحيح البخاري، التي سنقدمها، إن شاء الله، عقب إخراج صحيح مسلم منبها فيها على طرق كل حديث.

رابعا - سرد أرقام الأحاديث التي انفرد الإمام مسلم في صحيحه.

خامسا - الفهرس العام لموضوعات الكتاب، بذكر أسماء الكتب مع أرقامها ثم سرد الأبواب التي تحت كل كتاب بأرقامها أيضا … الخ.

ويتبع ذلك ترجمة مستوفاة للإمام مسلم، والكلام على صحيحه ودرجته بين كتب الحديث.

وسبحان اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، والله أكبر، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

 

جزيرة الروضة في 22 من شهر ربيع الأول عام 1374 هـ الموافق 19 من شهر نوفمبر عام 1954 م.

 

(خادم الكتاب والسنة)

محمد فؤاد عبد الباقي
তাদের তত্ত্বাবধানে। আর এটি সংশোধনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়েছেন: বিজ্ঞ পণ্ডিত আল্লামা আল-হাজ্জ মুহাম্মদ জেহনি এফেন্দি, শায়খ ইসমাইল বিন আব্দুল হামিদ মুহাম্মদ আত-তরাবুলুসি, এবং আল্লামা আবু নে’মাতুল্লাহ আল-হাজ্জ মুহাম্মদ শুকরি বিন হাসান আল-আনকারাভি। এটি উক্ত ছাপাখানার সংশোধকদের সংশোধনের পর সম্পন্ন হয়েছে, যারা হলেন: আহমদ রিফ’আত বিন উসমান হিলমি আল-কারাহ-হিসারি এবং আল-হাজ্জ মুহাম্মদ বিন ইজ্জাত বিন আল-হাজ্জ উসমান আজ-জা’ফরান বুলিউই—আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আমি মূল পাঠের (মতন) ওপর ইমাম নববীর শারাহ (ব্যাখ্যা)-এর সারসংক্ষেপ ও নির্যাস এবং সাথে ভাষাতত্ত্ববিদ ইমামগণের পক্ষ থেকে কিছু সংযোজনী যুক্ত করেছি।

আর আস্তানা (ইস্তাম্বুল) সংস্করণটিকেই আমি কিতাবটির খণ্ড বিন্যাসে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। সেটি ছিল আট খণ্ডে। আমি তার প্রতি দুই খণ্ডকে এক খণ্ডে রূপান্তর করেছি। ফলে ইনশাআল্লাহ তাআলা কিতাবটি চার খণ্ডে প্রকাশিত হবে।

আর আমি পঞ্চম খণ্ডটি এই নির্ঘণ্টগুলোর (সূচিপত্র) জন্য নির্দিষ্ট করেছি:

প্রথমত - মিফতাহুস সহীহ (সহীহের চাবিকাঠি)। এটি হলো সহীহ মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত নববী কওল বা বাচনিক হাদিসের সংকলন, যা শব্দের আদ্যক্ষর অনুযায়ী বর্ণানুক্রমে সাজানো হয়েছে। আর পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখের মাধ্যমে প্রতিটি হাদিসের স্থান নির্দেশ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত - সেইসব সাহাবীদের নামের বর্ণানুক্রমিক নির্ঘণ্ট, যাদের বর্ণিত হাদিস ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন; এবং প্রত্যেক সাহাবীর নামের সাথে তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলোর নম্বর যুক্ত করা হয়েছে।

তৃতীয়ত - ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইমাম বুখারীর সাথে যেসব হাদিসে একমত হয়েছেন, সেই হাদিসগুলোর নম্বরের তালিকা; এবং মুসলিমের সাথে মিল থাকা বুখারীর হাদিসটির ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এটি সহীহ বুখারীর সেই সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে যা আমরা ইনশাআল্লাহ সহীহ মুসলিম প্রকাশের পর পেশ করব, যেখানে প্রতিটি হাদিসের সূত্রগুলোর (তুরুক) প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

চতুর্থত - সহীহ মুসলিমে ইমাম মুসলিম যেসব হাদিস এককভাবে বর্ণনা করেছেন সেগুলোর নম্বরের তালিকা।

পঞ্চমত - কিতাবটির বিষয়বস্তুর সাধারণ নির্ঘণ্ট, যেখানে কিতাবসমূহের নাম ও নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে এবং এরপর প্রতিটি কিতাবের অন্তর্গত অধ্যায়গুলোর (আবওয়াব) নাম ও নম্বর ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে … ইত্যাদি।

এর পরবর্তী অংশে থাকবে ইমাম মুসলিমের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী, এবং তাঁর সহীহ গ্রন্থ ও হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহের মাঝে এর মর্যাদা নিয়ে আলোচনা।

আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আল্লাহ মহান। আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ থেকে ফেরার) কোনো উপায় এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই।

 

জাজিরাতুর রওদা, ২২শে রবিউল আউয়াল, ১৩৭৪ হিজরি, মোতাবেক ১৯শে নভেম্বর, ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দ।

 

(কিতাব ও সুন্নাহর খাদেম)

মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৩)
{هو الذي بعث في الأميين رسولا منهم يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة وإن كانوا من قبل لفي ضلال مبين} (62 سورة الجمعة / الآية 2).

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ. وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ. وَعَلَى جَمِيعِ الأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ. أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّكَ، يَرْحَمُكَ اللَّهُ بِتَوْفِيقِ خَالِقِكَ، ذَكَرْتَ أَنَّكَ هَمَمْتَ بِالْفَحْصِ‌‌(1). عَنْ تَعَرُّفِ جُمْلَةِ الأَخْبَارِ الْمَأْثُورَةِ‌‌(2). عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِي سُنَنِ الدِّينِ وَأَحْكَامِهِ. وَمَا كَانَ مِنْهَا فِي الثَّوَابِ وَالْعِقَابِ، وَالتَّرْغِيبِ وَالتَّرْهِيبِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ صُنُوفِ الأَشْيَاءِ. بِالأَسَانِيدِ الَّتِي بِهَا نُقِلَتْ، وَتَدَاوَلَهَا أَهْلُ الْعِلْمِ فِيمَا بَيْنَهُمْ. فَأَرَدْتَ، أَرْشَدَكَ اللَّهُ، أَنْ تُوَقَّفَ‌‌(3). عَلَى جُمْلَتِهَا مُؤَلَّفَةً‌‌(4) مُحْصَاةً‌‌(5). وَسَأَلْتَنِي أَنْ أُلَخِّصَهَا‌‌(6). لَكَ فِي التَّأْلِيفِ بِلَا تَكْرَارٍ يَكْثُرُ. فَإِنَّ ذلك، زعمت‌‌(7)، مما يشغلك عما قَصَدْتَ. مِنَ التَّفَهُّمِ فِيهَا، وَالِاسْتِنْبَاطِ مِنْهَا. وَلِلَّذِي‌‌(8). سَأَلْتَ، أَكْرَمَكَ اللَّهُ، حِينَ رَجَعْتُ إِلَى تَدَبُّرِهِ، وما

--------------------------------------------

‌‌(1) (الفحص) شدة الطلب والبحث عن الشيء. يقال: فحصت عن الشيء وتفحصت وافتحصت بمعنى واحد

‌‌(2) (المأثورة) أي المنقولة المذكورة. يقال: أثرت الحديث إذا نقلته عن غيرك

‌‌(3) (توقف) ضبطناه بفتح الواو وتشديد القاف. ولو قرئ بإسكان الواو وتخفيف القاف لكان صحيحا

‌‌(4) (مؤلفة) أي مجموعة

‌‌(5) (محصاة) أي مجتمعة كلها

‌‌(6) (ألخصها) أي أبينها

‌‌(7) (زعمت) أي قلت. وقد كثر الزعم بمعنى القول. وفي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم: زعم جبريل. وفي حديث ضمام بن ثعلبه رضي الله عنه: زعم رسولك. وقد أكثر سيبويه في كتابه المشهور من قوله: زعم الخليل كذا. في أشياء يرتضيها سيبويه. فمعنى زعم، في كل هذا، قال

‌‌(8) (وللذي الخ) هو بكسر اللام. وهو خبر عاقبة
{তিনি সেই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের মধ্য হতে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল} (৬২ সূরা আল-জুমুআহ / আয়াত ২)।

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আল্লাহ সালাত (রহমত) বর্ষণ করুন সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ এবং সকল নবী ও রাসূলের ওপর। অতঃপর, আপনার স্রষ্টার তাওফীকে আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন; আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত দ্বীনের সুন্নাহ ও এর বিধানাবলী সংক্রান্ত সকল সংবাদের (হাদীসের) অনুসন্ধান করার‌‌(১) ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এবং সওয়াব ও আযাব, উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের বর্ণনাগুলোও (জানার ইচ্ছা পোষণ করেছেন)। সেই সকল সনদ বা সূত্রসহ যার মাধ্যমে এগুলো বর্ণিত হয়েছে‌‌(২) এবং যা ইলমওয়ালাগণ নিজেদের মধ্যে পরস্পর আদান-প্রদান করে থাকেন। তাই আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আপনি চেয়েছেন যে, এগুলোকে যেন সংকলিত‌‌(৩) ও সুশৃঙ্খল অবস্থায়‌‌(৪) আপনার সামনে উপস্থাপন করা হয়‌‌(৫)। এবং আপনি আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যে, আমি যেন আপনার জন্য কোনো প্রকার অধিক পুনরাবৃত্তি ছাড়াই একটি সংকলনে এগুলো সারসংক্ষেপে উপস্থাপন করি‌‌(৬)। কেননা আপনি বলেছেন‌‌(৭) যে, পুনরাবৃত্তি আপনাকে আপনার মূল উদ্দেশ্য—অর্থাৎ সেগুলো বোঝা এবং তা থেকে মাসআলা উদ্ভাবন করা থেকে বিমুখ করে দেয়। আর আপনি যা‌‌(৮) চেয়েছেন সে বিষয়ে যখন আমি গভীরভাবে চিন্তা করতে ফিরলাম, এবং যা

--------------------------------------------

‌‌(১) (আল-ফাহস) কোনো কিছুর সন্ধানে কঠোর প্রচেষ্টা ও অনুসন্ধান করা। বলা হয়: আমি বিষয়টি অনুসন্ধান করেছি, এখানে উল্লিখিত তিনটি শব্দের অর্থ একই।

‌‌(২) (আল-মাসূরাহ) অর্থাৎ যা অন্য কারো নিকট থেকে বর্ণিত বা উল্লিখিত। বলা হয়: আমি হাদীসটি বর্ণনা করেছি, যখন আপনি তা অন্য কারো নিকট থেকে বর্ণনা করেন।

‌‌(৩) (তুয়াক্কাফা) আমরা একে 'ওয়াও' বর্ণে ফাতাহ এবং 'ক্বফ' বর্ণে তাশদীদসহ নির্দিষ্ট করেছি। তবে যদি একে 'ওয়াও' সাকিন এবং 'ক্বফ' হালকা (তাশদীদহীন) করে 'তুওক্বাফা' পড়া হয়, তবুও তা সঠিক হবে।

‌‌(৪) (মুআল্লাফাহ) অর্থাৎ সংকলিত।

‌‌(৫) (মুহসাহ) অর্থাৎ এর সবকিছু একত্রে সংগৃহীত।

‌‌(৬) (উলাখখিসুহা) অর্থাৎ আমি তা বর্ণনা করি বা স্পষ্ট করি।

‌‌(৭) (যাআমতা) অর্থাৎ আপনি বলেছেন। 'ক্বল' (বলা) অর্থে 'যাআম' শব্দের ব্যবহার অনেক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: 'জিবরাঈল বলেছেন'। দিমাম ইবনে সা'লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে: 'আপনার রাসূল বলেছেন'। সিবওয়াইহি তার প্রসিদ্ধ কিতাবে 'খলীল এরূপ বলেছেন' কথাটি অনেক ব্যবহার করেছেন, যা সিবওয়াইহি পছন্দ করেন। সুতরাং এই সকল ক্ষেত্রে 'যাআমা' এর অর্থ হলো 'কালা' বা 'বলা'।

‌‌(৮) (ওয়ালিল্লাজি ইত্যাদি) এটি 'লাম' বর্ণে কাসরা (জের) সহ। এটি পরিণাম বা ফলাফল সংক্রান্ত আলোচনা।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৪)
تَؤُولُ بِهِ الْحَالُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، عَاقِبَةٌ مَحْمُودَةٌ، وَمَنْفَعَةٌ مَوْجُودَةٌ. وَظَنَنْتُ، حِينَ سَأَلْتَنِي تَجَشُّمَ‌‌(1) ذَلِكَ أَنْ لَوْ عُزِمَ‌‌(2) لِي عَلَيْهِ، وَقُضِيَ لِي تَمَامُهُ، كَانَ أَوَّلُ مَنْ يُصِيبُهُ نَفْعُ ذَلِكَ إِيَّايَ خَاصَّةً، قَبْلَ غَيْرِي مِنَ النَّاسِ. لأَسْبَابٍ كَثِيرَةٍ. يَطُولُ بِذِكْرِهَا الْوَصْفُ. إِلَّا أَنَّ جُمْلَةَ ذَلِكَ، أَنَّ ضَبْطَ الْقَلِيلِ مِنْ هَذَا الشَّانِ وَإِتْقَانَهُ، أَيْسَرُ عَلَى الْمَرْءِ مِنْ مُعَالَجَةِ الْكَثِيرِ مِنْهُ. وَلَا سِيَّمَا عِنْدَ مَنْ لَا تَمْيِيزَ عِنْدَهُ مِنَ الْعَوَامِّ. إِلَّا بِأَنْ يُوَقِّفَهُ‌‌(3) عَلَى التَّمْيِيزِ غَيْرُهُ. فَإِذَا كَانَ الأَمْرُ فِي هَذَا كَمَا وَصَفْنَا. فَالْقَصْدُ مِنْهُ إِلَى الصَّحِيحِ القليل، أولى بهم من ازدياد السقيم. و إنما يُرْجَى بَعْضُ الْمَنْفَعَةِ فِي الِاسْتِكْثَارِ مِنْ هَذَا الشان، وجميع الْمُكَرَّرَاتِ مِنْهُ، لِخَاصَّةٍ مِنَ النَّاسِ. مِمَّنْ رُزِقَ فِيهِ بَعْضَ التَّيَقُّظِ، وَالْمَعْرِفَةِ بِأَسْبَابِهِ وَعِلَلِهِ. فَذَلِكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، يَهْجُمُ‌‌(4) بِمَا أُوتِيَ مِنْ ذَلِكَ عَلَى الْفَائِدَةِ فِي الِاسْتِكْثَارِ مِنْ جَمْعِهِ. فَأَمَّا عَوَامُّ النَّاسِ الَّذِينَ هُمْ بِخِلَافِ مَعَانِي الْخَاصِّ، مِنْ أَهْلِ التَّيَقُّظِ وَالْمَعْرِفَةِ، فَلَا مَعْنَى لَهُمْ فِي طَلَبِ الْكَثِيرِ، وَقَدْ عَجَزُوا‌‌(5) عَنْ مَعْرِفَةِ الْقَلِيلِ.

ثُمَّ إِنَّا، إِنْ شَاءَ اللَّهُ، مُبْتَدِئُونَ فِي تَخْرِيجِ مَا سَأَلْتَ وَتَأْلِيفِهِ، عَلَى شَرِيطَةٍ‌‌(6) سَوْفَ أَذْكُرُهَا لَكَ. وَهُوَ إِنَّا نَعْمِدُ إِلَى جُمْلَةِ مَا أُسْنِدَ مِنَ الأَخْبَارِ عَنِ رسول الله صلى الله عنه وَسَلَّمَ فَنَقْسِمُهَا عَلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ. وَثَلَاثِ طَبَقَاتٍ‌‌(7) من الناس. على غير تكرار. إلى أَنْ يَأْتِيَ مَوْضِعٌ لَا يُسْتَغْنَى فِيهِ عَنْ تَرْدَادِ حَدِيثٍ فِيهِ زِيَادَةُ مَعْنًى، أَوْ إِسْنَادٌ‌‌(8). يَقَعُ إِلَى جَنْبِ إِسْنَادٍ، لِعِلَّةٍ تَكُونُ هُنَاكَ. لأن المعنى الزائد في الحديث، المحتاج‌‌(9)

--------------------------------------------

‌‌(1) (تجشم) أي تكلفه والتزم مشقته

‌‌(2) (عزم) قيل معناه لو سهل لي سبيل العزم، أو خلق في قدرة عليه. وقيل: العزم هنا بمعنى الإرادة والنية متقاربات، فيقام بعضها مقام بعض

‌‌(3) (يوقفه) هو بتشديد القاف. ولا يصح أن يقرأ هنا بتخفيف القاف

‌‌(4) (يهجم) هو بفتح الياء وكسر الجيم. هكذا ضبطناه. وهكذا هو في نسخ بلادنا وأصولها. وذكر القاضي عياض رحمه الله أنه روى كذا. وروى ينهجم. قال: ومعنى يهجم يقع عليها ويبلغ إليها وينال بغيته منها. قال بن دريد: انهجم الخباء إذا وقع

‌‌(5) (عجزوا) العجز في كلام العرب أن لا تقدر على ما تريد

‌‌(6) (شريطة) قال أهل اللغة: الشرط والشريطة لغتان بمعنى واحد. وجمع الشرط شروط. وجمع الشريطة شرائط

‌‌(7) (طبقات) الطبقة هم القوم المتشابهون من أهل العصر

‌‌(8) (أو إسناد) هو مرفوع معطوف على قوله موضع

‌‌(9) (المحتاج) هو بالنصب، صفة للمعنى
আল্লাহ যদি চান তবে এর পরিণতি হবে প্রশংসনীয় এবং এর উপকারিতা হবে বিদ্যমান। আমি যখন ভেবেছিলাম, যখন আপনি আমাকে এই কষ্টসাধ্য কাজের অনুরোধ করেছিলেন যে, যদি আমার জন্য এটি সম্পন্ন করার সংকল্প সুদৃঢ় হয় এবং এর সমাপ্তি নির্ধারিত থাকে, তবে মানুষের মধ্যে অন্য সবার আগে আমি নিজেই এর দ্বারা বিশেষভাবে উপকৃত হব। এর অনেক কারণ রয়েছে, যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে। তবে সারকথা হলো, এই শাস্ত্রের অল্প কিছু আয়ত্ত করা এবং তা নিখুঁত করা একজন মানুষের জন্য এর অনেক কিছু নিয়ে কাজ করার চেয়ে সহজ। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য যাদের নিজেদের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা নেই, যতক্ষণ না অন্য কেউ তাকে পার্থক্যের মানদণ্ড বুঝিয়ে দেয়। সুতরাং বিষয়টি যদি এমন হয় যেমন আমরা বর্ণনা করেছি, তবে অসুস্থ (দুর্বল) আধিক্যের চেয়ে সহীহ (বিশুদ্ধ) অল্পের দিকে লক্ষ্য করা তাদের জন্য অধিক উত্তম। আর এই শাস্ত্রের প্রাচুর্য এবং এর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কেবল সেই বিশেষ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই কিছু উপকারের আশা করা যায়, যাদেরকে এই বিষয়ে কিছু সতর্কতা এবং এর কারণ ও ত্রুটিগুলো সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়েছে। আল্লাহ চাহেন তো তারা তাদের সেই অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে এই শাস্ত্রের প্রচুর সংগ্রহের উপকারিতা লাভ করতে পারবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ, যারা সতর্ক ও জ্ঞানবান সেই বিশেষ ব্যক্তিদের গুণের বিপরীত অবস্থানে রয়েছে, তাদের জন্য প্রচুর অন্বেষণ করার কোনো অর্থ নেই, যখন তারা অল্পটুকু জানতেই অক্ষম।

অতঃপর আল্লাহ যদি চান, আমরা আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়গুলো চয়ন এবং সংকলন করা শুরু করব একটি শর্তের ভিত্তিতে যা আমি আপনার কাছে উল্লেখ করব। তা হলো আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীসগুলোর সমষ্টির দিকে মনোনিবেশ করব এবং সেগুলোকে পুনরাবৃত্তি ছাড়াই তিন ভাগে ও মানুষের তিন স্তরে বিন্যস্ত করব। যতক্ষণ না এমন কোনো স্থান আসে যেখানে কোনো হাদীস পুনরাবৃত্তি করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে কারণ তাতে অর্থের আধিক্য রয়েছে অথবা একটি সনদ অন্য একটি সনদের পাশাপাশি থাকার কারণে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি নিরসনের প্রয়োজন হয়। কারণ হাদীসের অতিরিক্ত অর্থ, যার প্রয়োজন...

--------------------------------------------

‌(১) (তাজাশশুম) অর্থাৎ নিজেকে কষ্টে ফেলা এবং কোনো বিষয়ের কষ্টসাধ্যতা বরণ করে নেওয়া।

‌(২) (আযাম) বলা হয়েছে এর অর্থ হলো যদি আমার জন্য সংকল্পের পথ সহজ করে দেওয়া হতো, অথবা আমার মধ্যে এর সামর্থ্য সৃষ্টি করা হতো। আরও বলা হয়েছে: এখানে 'আযম' শব্দটি ইচ্ছা এবং নিয়তের সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা একে অপরের কাছাকাছি, তাই একটির স্থলে অন্যটি ব্যবহৃত হয়।

‌(৩) (ইউয়াক্কিফাহু) এটি 'ক্বাফ' অক্ষরে তাশদীদ যোগে। এখানে তাশদীদ ছাড়া পড়া সঠিক হবে না।

‌(৪) (ইয়াহজিমু) এটি 'ইয়া' অক্ষরে ফাতহাহ (জবর) এবং 'জীম' অক্ষরে কাসরাহ (জের) যোগে। আমরা এভাবেই একে নির্ধারণ করেছি। আমাদের দেশের পাণ্ডুলিপি ও মূল কপিগুলোতে এভাবেই আছে। কাজী আয়াজ (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, এটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আবার 'ইয়ানহাজিমু'ও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: 'ইয়াহজিমু' শব্দের অর্থ হলো এর ওপর আপতিত হওয়া, সেখানে পৌঁছানো এবং তা থেকে উদ্দেশ্য অর্জন করা। ইবনে দুরাইদ বলেছেন: 'ইনহাজামা আল-খিবউ' অর্থ যখন তাবু পড়ে যায়।

‌(৫) (আজাযু) আরবদের ভাষায় 'আজয' (অক্ষমতা) হলো তুমি যা চাও তা করতে সামর্থ্য না থাকা।

‌(৬) (শারীতাহ) ভাষাবিদগণ বলেন: 'শারত' এবং 'শারীতাহ' শব্দ দুটি একই অর্থে ব্যবহৃত। 'শারত' এর বহুবচন 'শুরুত', আর 'শারীতাহ' এর বহুবচন 'শারাইত'।

‌(৭) (তাবাক্বাত) 'তাবাক্বাহ' হলো সমসাময়িক একদল লোক যারা চারিত্রিক বা গুণগত বৈশিষ্ট্যে একে অপরের সদৃশ।

‌(৮) (আও ইসনাদুন) এটি পেশ (রাফা) যুক্ত এবং 'মাওদিউন' শব্দের ওপর আতফ বা অনুগামী হয়েছে।

‌(৯) (আল-মুহতাজু) এটি জবর (নাসব) যুক্ত এবং 'মা'না' শব্দের সিফাত বা বিশেষণ।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৫)
إِلَيْهِ، يَقُومُ مَقَامَ حَدِيثٍ تَامٍّ. فَلَا بُدَّ مِنْ إِعَادَةِ الْحَدِيثِ الَّذِي فِيهِ مَا وَصَفْنَا مِنَ الزِّيَادَةِ. أَوْ أَنْ يُفَصَّلَ ذَلِكَ الْمَعْنَى مِنْ جُمْلَةِ الْحَدِيثِ عَلَى اخْتِصَارِهِ‌‌(1) إِذَا أَمْكَنَ. وَلَكِنْ تَفْصِيلُهُ رُبَّمَا عَسُرَ مِنْ جُمْلَتِهِ. فَإِعَادَتُهُ بِهَيْئَتِهِ، إِذَا ضَاقَ ذَلِكَ، أَسْلَمُ.

فَأَمَّا مَا وَجَدْنَا بُدًّا مِنْ إِعَادَتِهِ بِجُمْلَتِهِ، مِنْ غَيْرِ حَاجَةٍ مِنَّا إِلَيْهِ، فَلَا نَتَوَلَّى فِعْلَهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

فَأَمَّا القِسْمُ الأَوَّلُ، فَإِنَّا نَتَوخَّى‌‌(2) أَنْ نُقَدِّمَ الأَخْبَارَ الَّتِي هِيَ أَسْلَمُ مِنَ الْعُيُوبِ مِنْ غَيْرِهَا وَأَنْقَى‌‌(3) مِنْ أَنْ يَكُونَ نَاقِلُوهَا أَهْلَ اسْتِقَامَةٍ فِي الْحَدِيثِ، وَإِتْقَانٍ لِمَا نَقَلُوا. لَمْ يُوجَدْ فِي رِوَايَتِهِمُ اخْتِلَافٌ شَدِيدٌ. وَلَا تَخْلِيطٌ فَاحِشٌ. كَمَا قَدْ عُثِرَ‌‌(4) فِيهِ عَلَى كَثِيرٍ مِنَ المُحَدِّثِينَ. وَبَانَ ذَلِكَ في حديثهم.

فإن نَحْنُ تَقَصَّيْنَا‌‌(5) أَخْبَارَ هَذَا الصِّنْفِ مِنَ النَّاسِ، أتبعنا أَخْبَارًا يَقَعُ فِي أَسَانِيدِهَا بَعْضُ مَنْ لَيْسَ بِالْمَوْصُوفِ بِالْحِفْظِ والإِتْقَانِ. كَالصِّنْفِ الْمُقَدَّمِ قَبْلَهُمْ. عَلَى أَنَّهُمْ، وَإِنْ كَانُوا فِيمَا وَصَفْنَا دُونَهُمْ، فَإِنَّ اسْمَ السَّتْرِ‌‌(6) وَالصِّدْقِ وَتَعَاطِي الْعِلْمِ يَشْمَلُهُمْ‌‌(7) كَعَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، وَيَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، وَلَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، وَأَضْرَابِهِمْ‌‌(8)، مِنْ حُمَّال الآثَارِ ونقال الأخبار.

--------------------------------------------

‌‌(1) (اختصاره) الاختصار هو إيجاز اللفظ مع استيفاء المعنى. وقيل رد الكلام الكثير إلى قليل فيه معنى الكثير. وسمي اختصارا لاجتماعه

‌‌(2) (نتوخى) معناه نقصد. يقال توخى وتأخى وتحرى وقصد بمعنى واحد

‌‌(3) (وأنقى) معطوف على قوله أسلم. وهنا تم الكلام. ثم ابتدأ بيان كونها أسلم وأنقى فقال: من أن يكون ناقلوها الخ

‌‌(4) (عثر) أي اطلع. من قول الله تعالى: فإن عثر على أنهما استحقا إثما

‌‌(5) (تقصينا) معناه أتينا بها كلها. يقال اقتص الحديث، وقصه، وقص الرؤيا؛ أتى بذلك الشيء بكماله

‌‌(6) (الستر) هو بفتح السين، مصدر سترت الشيء أستره سترا. ويوجد في أكثر الروايات والأصول مضبوطا بكسر السين. ويمكن تصحيح هذا على أن الستر يكون بمعنى المستور. كالذبح بمعنى المذبوح ونظائره

‌‌(7) (يشملهم) أي يعمهم. وهو بفتح الميم على اللغة الفصيحة. ويجوز ضمها في لغة

‌‌(8) (وأضرابهم) فمعناه أشباههم. وهو جمع ضرب. قال أهل اللغة: الضريب، على وزن الكريم، والضرب وهما عبارة عن الشكل والمثل. وجمع الضرب أضراب، وجمع الضريب ضرباء. ككريم وكرماء
এর প্রয়োজনীয়তা একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিসের স্থলাভিষিক্ত হয়। তাই আমরা যে অতিরিক্ত অংশের বর্ণনা দিয়েছি, সম্বলিত সেই হাদিসটি পুনরায় উল্লেখ করা আবশ্যক। অথবা সম্ভব হলে সংক্ষেপে হাদিসের মূল পাঠ থেকে সেই অর্থটি আলাদা করে বর্ণনা করা। কিন্তু অনেক সময় মূল হাদিস থেকে তা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় যদি তা আলাদা করা সংকীর্ণ হয়ে যায়, তবে হাদিসটিকে তার মূল রূপেই পুনরায় উল্লেখ করা অধিকতর নিরাপদ।

পক্ষান্তরে, যে সকল হাদিস আমাদের কোনো প্রয়োজন ছাড়া পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরায় উল্লেখ না করার উপায় আছে, ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা তা করব না।

প্রথম শ্রেণির বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা সেই সকল সংবাদ বা হাদিসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সংকল্প করেছি, যা অন্যান্য বর্ণনার তুলনায় দোষত্রুটি থেকে অধিক মুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন। অর্থাৎ এর বর্ণনাকারীগণ হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং তাদের বর্ণিত বিষয়ের ওপর তাদের পূর্ণ দখল রয়েছে। তাদের বর্ণনার মধ্যে কোনো চরম বৈসাদৃশ্য কিংবা জঘন্য সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়নি, যেমনটি অনেক মুহাদ্দিসের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে এবং তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যখন আমরা এই শ্রেণির লোকদের বর্ণিত সকল হাদিস বিন্যস্ত করা শেষ করব, তখন আমরা এমন সব হাদিস উল্লেখ করব যেগুলোর সনদে এমন কিছু বর্ণনাকারী রয়েছেন যারা হিফয (স্মৃতিশক্তি) ও ইতকান (নির্ভুলতা)-এর ক্ষেত্রে পূর্ববর্ণিত প্রথম শ্রেণির মতো বিশেষিত নন। যদিও আমরা তাদের যে গুণের কথা উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে তারা প্রথম শ্রেণির তুলনায় নিম্নমানের, তবুও সততা, সত্যবাদিতা এবং ইলম চর্চার গুণাবলী তাদের মাঝে বিদ্যমান। যেমন আতা ইবনুস সাইব, ইয়াযিদ ইবনু আবি যিয়াদ, লাইস ইবনু আবি সুলাইম এবং তাদের সমপর্যায়ের অন্যান্য হাদিস ও আসার বহনকারী এবং বর্ণনাকারীগণ।

--------------------------------------------

‌‌(১) (ইখতিসার) ইখতিসার হলো অর্থের পূর্ণতা বজায় রেখে শব্দ সংক্ষেপ করা। বলা হয়ে থাকে যে, অধিক কথাকে অল্প কথায় নিয়ে আসা যাতে অধিক অর্থ নিহিত থাকে। সংকলিত হওয়ার কারণে একে ইখতিসার বা সংক্ষেপণ বলা হয়।

‌‌(২) (নাতাওয়াক্খা) এর অর্থ আমরা সংকল্প করি বা উদ্দেশ্য করি। 'তাওয়াক্খা', 'তাআখ্খা', 'তাহারা' এবং 'কাসাদা'—সবগুলো একই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

‌‌(৩) (আনকা) এটি 'আসলাম' শব্দের সাথে সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে বাক্য শেষ হয়েছে। অতঃপর তা কেন অধিক নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন, তার বর্ণনা শুরু করে বলা হয়েছে: 'যাতে এর বর্ণনাকারীগণ...' ইত্যাদি।

‌‌(৪) (উছিরা) অর্থাৎ অবগত হওয়া বা জানা যাওয়া। আল্লাহ তাআলার বাণী: 'অতঃপর যদি জানা যায় (উছিরা) যে তারা উভয়ে পাপে লিপ্ত হয়েছে' থেকে এটি গৃহীত।

‌‌(৫) (তাকাসসাইনা) এর অর্থ আমরা তা পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে এসেছি। বলা হয় 'ইকতাসসাল হাদিস', 'কাসসাহু' এবং 'কাসসার রুয়্যা'; অর্থাৎ সেই বিষয়টি তার পূর্ণতাসহ উপস্থাপন করা।

‌‌(৬) (আস-সিতর) এটি 'সিন' অক্ষরে যবর সহযোগে 'সাতারতু' ক্রিয়ার মাসদার বা মূল ধাতু। অধিকাংশ বর্ণনা ও পাণ্ডুলিপিতে এটি 'সিন' অক্ষরে যের দিয়ে লিখিত পাওয়া যায়। এটিকে এভাবেও সঠিক বলা যেতে পারে যে, 'সিতর' এখানে 'মাসতুর' (আচ্ছাদিত বা গোপন) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন 'যিবহ' শব্দটি 'মাযবুহ' (যবাইকৃত পশু) অর্থে ব্যবহৃত হয়।

‌‌(৭) (ইয়াশমালুহুম) অর্থাৎ তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফাসিহ ভাষা অনুযায়ী এতে 'মিম' অক্ষরে যবর হবে। তবে একটি ভাষাতত্ত্ব অনুযায়ী পেশ দিয়ে পড়াও বৈধ।

‌‌(৮) (আদরাবিহিম) এর অর্থ তাদের সদৃশ বা সমপর্যায়ের। এটি 'দরব' শব্দের বহুবচন। ভাষাবিদগণ বলেন: 'দারীব' শব্দটি 'কারিম'-এর ওজনে এবং 'দরব'—উভয়টিই আকৃতি ও সদৃশ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 'দরব'-এর বহুবচন হলো 'আদবার' এবং 'দারীব'-এর বহুবচন হলো 'দুরাবা', যেমন 'কারিম' থেকে 'কুরামা'।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৬)
فهم بِمَا وَصَفْنَا مِنَ الْعِلْمِ وَالسَّتْرِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مَعْرُوفِينَ، فَغَيْرُهُمْ مِنْ أَقْرَانِهِمْ مِمَّنْ عِنْدَهُمْ مَا ذَكَرْنَا مِنَ الإِتْقَانِ وَالِاسْتِقَامَةِ فِي الرِّوَايَةِ يَفْضُلُونَهُمْ فِي الْحَالِ وَالْمَرْتَبَةِ. لِأَنَّ هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ دَرَجَةٌ رَفِيعَةٌ وَخَصْلَةٌ سَنِيَّةٌ.

أَلَا تَرَى أَنَّكَ إِذَا وَازَنْتَ‌‌(1) هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةَ الَّذِينَ سميناهم، عطاء ويزيد وليثا، بمنصور بن المعتر وَسُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ وَإِسْمَاعِيل بْنِ أَبِي خَالِدٍ، فِي إتقان الحديث و الاستقامة فيه، وجدتهم مباينين لهم. لا يدانونهم لاشك عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ فِي ذَلِكَ. لِلَّذِي استفاض عندهم من صحة الحديث عند مَنْصُورٍ وَالأَعْمَشِ وَإِسْمَاعِيل. وَإِتْقَانِهِمْ لِحَدِيثِهِمْ. وَأَنَّهُمْ لَمْ يَعْرِفُوا مِثْلَ ذَلِكَ مِنْ عَطَاءٍ وَيَزِيدَ وَلَيْثٍ.

وَفِي مِثْلِ مَجْرَى هَؤُلَاءِ إِذَا وَازَنْتَ بَيْنَ الأَقْرَانِ، كَابْنِ عَوْنٍ وَأَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، مَعَ عَوْفِ بْنِ أَبِي جَمِيلَةَ وَأَشْعَثَ الْحُمْرَانِيِّ وَهُمَا صَاحِبَا الحسن وابن سيرين. كما أن بن عَوْنٍ وَأَيُّوبَ صَاحِبَاهُمَا. إِلَّا أَنَّ الْبَوْنَ‌‌(2) بَيْنَهُمَا وبين هاذين بَعِيدٌ فِي كَمَالِ الْفَضْلِ وَصِحَّةِ النَّقْلِ. وَإِنْ كَانَ عَوْفٌ وَأَشْعَثُ غَيْرَ مَدْفُوعَيْنِ عَنْ صِدْقٍ وَأَمَانَةٍ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ. وَلَكِنَّ الْحَالَ مَا وَصَفْنَا مِنَ الْمَنْزِلَةِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ.

وَإِنَّمَا مَثَّلْنَا هَؤُلَاءِ فِي التَّسْمِيَةِ، لِيَكُونَ تَمْثِيلُهُمْ سِمَةً‌‌(3) يَصْدُرُ‌‌(4) عَنْ فَهْمِهَا مَنْ غَبِيَ‌‌(5) عَلَيْهِ طَرِيقُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي تَرْتِيبِ أَهْلِهِ فِيهِ. فَلَا يُقَصَّرُ بِالرَّجُلِ الْعَالِي الْقَدْرِ عَنْ دَرَجَتِهِ. وَلَا يُرْفَعُ مُتَّضِعُ الْقَدْرِ فِي الْعِلْمِ فَوْقَ مَنْزِلَتِهِ. وَيُعْطَى كُلُّ ذِي حَقٍّ فِيهِ حَقَّهُ. وَيُنَزَّلُ مَنْزِلَتَهُ.

وَقَدْ ذُكِرَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تعالى عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نُنَزِّلَ النَّاسَ مَنَازِلَهُمْ. مَعَ مَا نَطَقَ بِهِ الْقُرْآنُ مِنْ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ}.

فَعَلَى نَحْوِ مَا ذَكَرْنَا مِنَ الْوُجُوهِ، نُؤَلِّفُ مَا سَأَلْتَ مِنَ الأَخْبَارِ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

‌‌(1) (وازنت) معناه قابلت. قال القاضي عياض: ويروى وازيت بالياء أيضا، وهو بمعنى وازنت

‌‌(2) (البون) معناه الفرق. أي أنهما متباعدان

‌‌(3) (ليكون تمثيلهم سمة) السمة العلامة

‌‌(4) (يصدر) أي يرجع. يقال: صدر عن الماء والبلاد والحج، إذا انصرف عنه بعد قضاء وطره. فمعنى يصدر عن فهمهما، ينصرف عنها بعد فهمها وقضاء حاجته منها

‌‌(5) (غبي) أي خفي
সুতরাং জ্ঞান ও আবৃত রাখার যে বর্ণনা আমরা দিয়েছি, সে অনুযায়ী তাঁরা ইলমের ধারকদের নিকট সুপরিচিত। তবে তাঁদের সমসাময়িক অন্যান্যরা, যাঁদের মধ্যে বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের উল্লিখিত পূর্ণতা ও দৃঢ়তা বিদ্যমান, তাঁরা বর্তমান অবস্থা ও মর্যাদার দিক থেকে তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কারণ এটি ইলমের ধারকদের নিকট এক উচ্চতর স্তর ও মহৎ বৈশিষ্ট্য।

আপনি কি দেখেন না যে, যখন আপনি আমাদের নামোল্লেখ করা এই তিন ব্যক্তি—আতা, ইয়াজিদ এবং লাইসকে—হাদিসের নির্ভুলতা ও তাতে দৃঢ়তার ক্ষেত্রে মানসুর বিন আল-মুতামির, সুলাইমান আল-আমাশ এবং ইসমাইল বিন আবি খালিদের সাথে তুলনা করবেন, তখন আপনি তাঁদের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন। ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞদের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁরা (প্রথমোক্তরা) তাঁদের সমপর্যায়ের নন। এর কারণ মানসুর, আমাশ এবং ইসমাইল থেকে বর্ণিত হাদিসের বিশুদ্ধতা এবং নিজ হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁদের সুদৃঢ়তার বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের নিকট বহুল প্রচারিত। পক্ষান্তরে আতা, ইয়াজিদ এবং লাইস সম্পর্কে তাঁরা এমনটি অবগত নন।

সমসাময়িকদের মধ্যে তুলনার ক্ষেত্রেও এদের গতিধারা একইরূপ, যেমন ইবনে আউন ও আইয়ুব আস-সাখতিয়ানিকে যদি আউফ বিন আবি জামিলা ও আশআস আল-হুমরানির সাথে তুলনা করা হয়—আর তাঁরা উভয়েই হাসান ও ইবনে সিরিনের ছাত্র। যেমনটি ইবনে আউন ও আইয়ুবও তাঁদের ছাত্র ছিলেন। তবে পূর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব ও বর্ণনার বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে তাঁদের এবং এই দুইজনের মধ্যে ব্যবধান অনেক। যদিও আউফ ও আশআস ইলমের ধারকদের নিকট সত্যবাদিতা ও আমানতদারির ক্ষেত্রে বিতর্কিত নন। তবে প্রকৃত অবস্থা সেটাই যা আমরা ইলমের ধারকদের নিকট তাঁদের মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছি।

আমরা নাম উল্লেখ করে এঁদের দৃষ্টান্ত পেশ করেছি যাতে তাঁদের উদাহরণ একটি নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়, যা থেকে এমন ব্যক্তি সঠিক উপলব্ধি লাভ করতে পারে যার কাছে আলিমদের স্তরবিন্যাসে তাঁদের স্তরের বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে গেছে। ফলে কোনো উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিকে যেন তাঁর স্তরের চেয়ে নিচে নামানো না হয় এবং ইলমের ক্ষেত্রে নিম্ন স্তরের কাউকে তাঁর মর্যাদার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া না হয়। বরং প্রত্যেক হকদারকে তাঁর প্রাপ্য হক প্রদান করা হয় এবং তাঁর যথাযোগ্য স্থানে রাখা হয়।

আর আয়েশা (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন মানুষকে তাদের স্ব-স্ব মর্যাদা অনুযায়ী স্থান দেই। এর পাশাপাশি কুরআনের সেই বাণী তো রয়েছেই যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং প্রত্যেক জ্ঞানবানের উপরে রয়েছেন সর্বজ্ঞানী}।

সুতরাং আমরা যে সকল দিক উল্লেখ করেছি, সে অনুযায়ীই আপনার চাওয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদিসসমূহ আমরা সংকলন করব।

--------------------------------------------

‌‌(১) (ওয়াজানতা) এর অর্থ তুলনা করা। কাজী ইয়াজ বলেন: এটি 'ওয়াজাইতা' (ইয়া যোগে) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থও তুলনা করা।

‌‌(২) (আল-বাওন) অর্থ পার্থক্য। অর্থাৎ তাঁরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে।

‌‌(৩) (লিইয়াকুনা তামসিলুহুম সিমাতান) সিমা অর্থ চিহ্ন বা নিদর্শন।

‌‌(৪) (ইয়াসদুরু) অর্থ ফিরে আসা। বলা হয়: সে পানি, ভূখণ্ড বা হজ থেকে ফিরে এসেছে, যখন সে তার প্রয়োজন পূরণ করে সেখান থেকে বিদায় নেয়। সুতরাং 'সেটির উপলব্ধি থেকে ফিরে আসা' এর অর্থ হলো সে বিষয়টি বোঝার পর এবং তার প্রয়োজন মেটানোর পর সেখান থেকে প্রস্থান করা।

‌‌(৫) (গাবিয়া) অর্থাৎ অস্পষ্ট বা লুকায়িত থাকা।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৭)
فَأَمَّا مَا كَانَ مِنْهَا عَنْ قَوْمٍ هُمْ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ مُتَّهَمُونَ. أَوْ عِنْدَ الأَكْثَرِ مِنْهُمْ. فَلَسْنَا نَتَشَاغَلُ بِتَخْرِيجِ حَدِيثِهِمْ. كَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مِسْوَرٍ أَبِي جَعْفَرٍ الْمَدَائِنِيِّ. وَعَمْرِو بْنِ خَالِدٍ، وَعَبْدِ الْقُدُّوسِ الشَّامِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَصْلُوبِ، وَغِيَاثِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرٍو أَبِي دَاوُدَ النَّخَعِيِّ، وَأَشْبَاهِهِمْ مِمَّنْ اتُّهِمَ بِوَضْعِ الأَحَادِيثِ وَتَوْلِيدِ‌‌(1) الأَخْبَارِ.

وَكَذَلِكَ مَنِ الْغَالِبُ عَلَى حَدِيثِهِ الْمُنْكَرُ أَوِ الْغَلَطُ، أَمْسَكْنَا أَيْضًا عَنْ حَدِيثِهِمْ.

وَعَلَامَةُ الْمُنْكَرِ فِي حَدِيثِ الْمُحَدِّثِ، إِذَا ما عرضت روايته للحديث عن رِوَايَةِ غَيْرِهِ مِنْ أَهْلِ الْحِفْظِ وَالرِّضَا، خَالَفَتْ رِوَايَتُهُ رِوَايَتَهُمْ. أَوْ لَمْ تَكَدْ‌‌(2) تُوَافِقُهَا. فَإِذَا كَانَ الأَغْلَبُ مِنْ حَدِيثِهِ كَذَلِكَ، كَانَ مَهْجُورَ الْحَدِيثِ، غَيْرَ مَقْبُولِهِ وَلَا مُسْتَعْمَلِهِ.

فَمِنْ هَذَا الضَّرْبِ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَرَّرٍ، وَيَحْيَى بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، وَالْجَرَّاحُ بْنُ الْمِنْهَالِ أَبُو الْعَطُوفِ، وَعَبَّادُ بْنُ كَثِير، وَحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللّهِ بْنِ ضُمَيْرَةَ، وَعُمَرُ بْنُ صُهْبَانَ. وَمَنْ نَحَا نَحْوَهُمْ فِي رِوَايَةِ الْمُنْكَرِ مِنَ الْحَدِيثِ. فَلَسْنَا نُعَرِّجُ عَلَى حَدِيثِهِمْ. وَلَا نَتَشَاغَلُ بِهِ.

لِأَنَّ حُكْمَ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَالَّذِي نَعْرِفُ مِنْ مَذْهَبِهِمْ فِي قَبُولِ مَا يَتَفَرَّدُ بِهِ الْمُحَدِّثُ مِنَ الْحَدِيثِ، أَنْ يَكُونَ قَدْ شَارَكَ الثِّقَاتِ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالْحِفْظِ فِي بَعْضِ مَا رَوَوْا. وَأَمْعَنَ فِي ذَلِكَ عَلَى الْمُوَافَقَةِ لهم. إذا وجد كذلك، ثم ذاد بَعْدَ ذَلِكَ شَيْئًا لَيْسَ عِنْدَ أَصْحَابِهِ، قُبِلَتْ زِيَادَتُهُ.

فَأَمَّا مَنْ تَرَاهُ يَعْمِدُ لِمِثْلِ الزُّهْرِيِّ فِي جَلَالَتِهِ وَكَثْرَةِ أَصْحَابِهِ الْحُفَّاظِ الْمُتْقِنِينَ لِحَدِيثِهِ وَحَدِيثِ غَيْرِهِ، أَوْ لِمِثْلِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، وَحَدِيثُهُمَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مَبْسُوطٌ مُشْتَرَكٌ. قَدْ نَقَلَ أَصْحَابُهُمَا عَنْهُمَا حَدِيثَهُمَا عَلَى الِاتِّفَاقِ مِنْهُمْ فِي أَكْثَرِهِ. فَيَرْوِي عَنْهُمَا أَوْ عَنْ أَحَدِهِمَا الْعَدَدَ مِنَ الْحَدِيثِ، مِمَّا لَا يَعْرِفُهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِمَا، وَلَيْسَ مِمَّنْ قَدْ شَارَكَهُمْ فِي الصَّحِيحِ مِمَّا عِنْدَهُمْ، فَغَيْرُ جَائِزٍ قَبُولُ حَدِيثِ هذا الضرب من الناس. والله أعلم.

--------------------------------------------

‌‌(1) (وتوليد الأخبار) معناه إنشاؤها وزيادتها

‌‌(2) (لم تكد توافقها) معناه لا توافقها إلا في قليل. قال أهل اللغة: كاد موضوعة للمقاربة. فإن لم يتقدمها نفي كانت لمقاربة الفعل، ولم يفعل. كقوله تعالى: يكاد البرق يخطف أبصارهم. وإن تقدمها نفي كانت للفعل بعد بطء. وإن شئت لمقاربة عدم الفعل. كقوله تعالى: {فذبحوها وما كادوا يفعلون}
আর তাদের মধ্য হতে যাদের হাদিস এমন একদল লোকের সূত্রে বর্ণিত, যারা হাদিস বিশারদদের নিকট বা তাদের অধিকাংশের নিকট অভিযুক্ত, আমরা তাদের হাদিস উদ্ধৃত করা নিয়ে ব্যস্ত হই না। যেমন আবদুল্লাহ ইবন মিসওয়ার আবু জাফর আল-মাদায়িনী, আমর ইবন খালিদ, আবদুল কুদ্দুস আল-শামী, মুহাম্মদ ইবন সাঈদ আল-মাসলুব, গিয়াস ইবন ইবরাহিম, সুলায়মান ইবন আমর আবু দাউদ আল-নাখয়ী এবং তাদের মতো অন্যান্য যারা হাদিস জাল করা ও বানোয়াট সংবাদ তৈরির‌‌(১) অভিযোগে অভিযুক্ত।

তদ্রূপ যাদের হাদিসের ওপর 'মুনকার' (অস্বাভাবিক/অপ্রসিদ্ধ) বা ভুলের প্রাধান্য থাকে, আমরা তাদের হাদিস থেকেও বিরত থেকেছি।

একজন মুহাদ্দিসের হাদিসে 'মুনকার' হওয়ার আলামত হলো, যখন তার বর্ণিত হাদিসকে অন্যান্য হাফেজ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে তুলনা করা হয়, তখন তার বর্ণনা তাদের বর্ণনার বিপরীত হয় অথবা তাদের বর্ণনার সাথে খুব একটা মেলে না‌‌(২)। যখন কারো অধিকাংশ হাদিস এমন হয়, তখন তার হাদিস বর্জিত গণ্য হয়, তা কবুলযোগ্য নয় এবং আমলযোগ্যও নয়।

এই শ্রেণির মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাররার, ইয়াহইয়া ইবন আবি উনাইসাহ, আল-জাররাহ ইবন আল-মিনহাল আবু আল-আতুফ, আব্বাদ ইবন কাসীর, হুসাইন ইবন আবদুল্লাহ ইবন দুমাইরাহ এবং উমর ইবন সুহবান। আর যারা মুনকার হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের পথ অনুসরণ করে। আমরা তাদের হাদিসের দিকে ভ্রুক্ষেপ করি না এবং তা নিয়ে ব্যস্ত হই না।

কারণ ইলম অন্বেষণকারীগণের সিদ্ধান্ত এবং তাদের মাযহাব সম্পর্কে আমরা যা জানি—মুহাদ্দিসের এককভাবে বর্ণিত কোনো হাদিস গ্রহণ করার ক্ষেত্রে—তা হলো এই যে, তাকে নির্ভরযোগ্য আলেম ও হাফেজদের সাথে তাদের বর্ণিত কিছু হাদিসে শরিক হতে হবে এবং সে সব বর্ণনায় তাদের সাথে ঐকমত্যের ব্যাপারে সুনিপুণ হতে হবে। যদি তাকে এরূপ পাওয়া যায় এবং এরপর সে এমন কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করে যা তার সাথীদের নিকট নেই, তবে তার সেই অতিরিক্ত অংশটুকু গ্রহণ করা হবে।

কিন্তু যাকে দেখা যায় যে, সে ইমাম যুহরীর মতো মর্যাদাবান এবং যার অধিক সংখ্যক প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন সাথী বা ছাত্র রয়েছে যারা তাঁর ও অন্যদের হাদিস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেন, অথবা হিশাম ইবন উরওয়ার মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে—যাদের উভয়ের হাদিস আলেমদের নিকট ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ও সুপরিচিত এবং তাদের সাথীরা তাদের অধিকাংশ হাদিস ঐকমত্যের সাথে বর্ণনা করেছেন—এমতাবস্থায় সে যদি তাদের থেকে বা তাদের কোনো একজনের থেকে এমন কিছু সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করে যা তাদের কোনো সাথীই জানেন না, আর সে ব্যক্তিও তাদের নিকট থাকা সহিহ হাদিসসমূহের বর্ণনায় তাদের সাথে শরিক ছিল না, তবে এই শ্রেণির লোকদের হাদিস গ্রহণ করা বৈধ নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) (সংবাদ তৈরি করা) এর অর্থ হলো তা উদ্ভাবন করা এবং তাতে নিজের পক্ষ থেকে সংযোগ করা।

‌‌(২) (তাদের সাথে প্রায় মিলে না) এর অর্থ হলো খুব সামান্য ছাড়া তা মেলে না। ভাষাবিদগণ বলেন: 'কাদা' শব্দটি কোনো কিছুর নিকটবর্তী হওয়া বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। যদি তার আগে না-বোধক শব্দ না থাকে, তবে তা কাজটি হওয়ার উপক্রম হওয়া বুঝায়, কিন্তু কাজটি বাস্তবে ঘটেনি। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "বিদ্যুৎচমক তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করে।" আর যদি তার আগে না-বোধক শব্দ থাকে, তবে তা অনেক বিলম্বের পর কাজটি হওয়া বুঝায়। অথবা আপনি চাইলে একে 'কাজটি না হওয়ার উপক্রম হওয়া' বলতে পারেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা তাকে জবাই করল, অথচ তারা তা প্রায় করছিলই না।"
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৮)
قَدْ شَرَحْنَا مِنْ مَذْهَبِ الْحَدِيثِ وَأَهْلِهِ بَعْضَ مَا يَتَوَجَّهُ بِهِ‌‌(1) مَنْ أَرَادَ سَبِيلَ الْقَوْمِ‌‌(2) ووفق لهما‌‌(3). وَسَنَزِيدُ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، شَرْحًا وَإِيضَاحًا فِي مَوَاضِعَ مِنَ الْكِتَابِ. عِنْدَ ذِكْرِ الأَخْبَارِ الْمُعَلَّلَةِ. إِذَا أَتَيْنَا عَلَيْهَا فِي الأَمَاكِنِ الَّتِي يَلِيقُ بِهَا الشَّرْحُ وَالإِيضَاحُ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

وَبَعْدُ، يَرْحَمُكَ اللَّهُ، فَلَوْلَا الَّذِي رَأَيْنَا مِنْ سُوءِ صَنِيعِ كَثِيرٍ مِمَّنْ نَصَبَ نَفْسَهُ مُحَدِّثًا، فِيمَا يَلْزَمُهُمْ مِنْ طَرْحِ الأَحَادِيثِ الضَّعِيفَةِ، وَالرِّوَايَاتِ الْمُنْكَرَةِ، وَتَرْكِهِمُ الِاقْتِصَارَ عَلَى الأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ المشهورة، مما نقله الثقات المعروفين بِالصِّدْقِ وَالأَمَانَةِ. بَعْدَ مَعْرِفَتِهِمْ وَإِقْرَارِهِمْ بِأَلْسِنَتِهِمْ، أَنَّ كَثِيرًا مِمَّا يَقْذِفُونَ بِهِ‌‌(4) إِلَى الأَغْبِيَاءِ‌‌(5) مِنَ النَّاسِ هُوَ مُسْتَنْكَرٌ، وَمَنْقُولٌ عَنْ قَوْمٍ غَيْرِ مَرْضِيِّينَ، مِمَّنْ ذَمَّ الرِّوَايَةَ عَنْهُمْ أَئِمَّةُ أَهْلِ الْحَدِيثِ. مِثْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَشُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ، وَسُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الأَئِمَّةِ - لَمَا سَهُلَ عَلَيْنَا الِانْتِصَابُ لِمَا سَأَلْتَ مِنَ التَّمْيِيزِ وَالتَّحْصِيلِ.

وَلَكِنْ مِنْ أَجْلِ مَا أَعْلَمْنَاكَ مِنْ نَشْرِ الْقَوْمِ الأَخْبَارَ الْمُنْكَرَةَ، بِالأَسَانِيدِ الضِّعَافِ الْمَجْهُولَةِ، وَقَذْفِهِمْ بِهَا إِلَى الْعَوَامِّ الَّذِينَ لَا يَعْرِفُونَ عُيُوبَهَا، خَفَّ عَلَى قُلُوبِنَا إِجَابَتُكَ إلى ما سألت.

--------------------------------------------

‌‌(1) (يتوجه به) يقصد طريقهم ويسلك مذهبهم

‌‌(2) (سبيل القوم) السبيل الطريق. وهما يؤنثان ويذكران

‌‌(3) (ووفق لهما) التوفيق خلق قدرة الطاعة

‌‌(4) (يقذفون به) أي يلقونه إليهم

‌‌(5) (الأغبياء) هم الغفلة والجهال والذين لا فطنة لهم
আমি হাদিস বিশারদগণের মাযহাব ও তাঁদের অনুসারীদের পদ্ধতির এমন কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করেছি যার দ্বারা সেই ব্যক্তি দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারে‌‌(১) যে এই দলের পথ অনুসরণের সংকল্প করেছে‌‌(২) এবং যাকে এই উভয়ের তাওফিক দেওয়া হয়েছে‌‌(৩)। আমি এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ যুক্ত করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা; বিশেষ করে যখন ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাগুলোর (আখবারুল মুয়াল্লালাহ) আলোচনা আসবে। যখনই আমরা এমন স্থানে পৌঁছাব যা ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণের উপযোগী হবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি তা প্রদান করব।

অতঃপর, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। অনেক ব্যক্তি যারা নিজেদের মুহাদ্দিস হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তাদের মন্দ কর্মকাণ্ড যদি আমরা না দেখতাম—বিশেষ করে দুর্বল হাদিস বর্জন ও বর্জনীয় (মুনকার) বর্ণনা ত্যাগের ক্ষেত্রে তাদের যে আবশ্যকতা ছিল এবং নির্ভরযোগ্য, সত্যনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত বর্ণনাকারীদের বর্ণিত সহিহ ও প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখার যে দায়িত্ব ছিল তাতে তাদের অবহেলা—তবে আপনার চাহিত এই পার্থক্য নিরূপণ ও সংগ্রহের কাজটির দায়িত্ব গ্রহণ করা আমাদের জন্য সহজ হতো না। তারা তাদের নিজেদের মুখেই স্বীকার ও ঘোষণা করার পরেও যে, তারা মানুষের মধ্যকার অজ্ঞদের‌‌(৫) কাছে এমন অনেক বর্ণনা পেশ করে‌‌(৪) যা মূলত বর্জনীয় (মুনকার) এবং এমন একদল লোক থেকে বর্ণিত যারা গ্রহণযোগ্য নয়, যাদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করাকে হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ—যেমন মালিক বিন আনাস, শুবা বিন হাজ্জাজ, সুফিয়ান বিন উয়াইনা, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুর রহমান বিন মাহদী এবং অন্যান্য ইমামগণ—নিন্দা করেছেন।

কিন্তু আমি আপনাকে যা অবহিত করলাম—অর্থাৎ একদল লোক কর্তৃক বর্জনীয় (মুনকার) বর্ণনাগুলো প্রচার করা এবং দুর্বল ও অজ্ঞাত সনদে সেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পেশ করা যারা সেগুলোর ত্রুটি সম্পর্কে অবগত নয়—সে কারণেই আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়ে সাড়া দেওয়া আমাদের হৃদয়ে সহজ হয়েছে।

--------------------------------------------

‌‌(১) (দিকনির্দেশনা লাভ করে) অর্থাৎ তাদের পথের সংকল্প করে এবং তাদের মাযহাব অনুসরণ করে।

‌‌(২) (দলের পথ) ‘সাবিল’ মানে পথ। এটি স্ত্রীলিঙ্গ ও পুংলিঙ্গ উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়।

‌‌(৩) (তাকে এই দুইয়ের তাওফিক দেওয়া হয়েছে) তাওফিক হলো আনুগত্যের সক্ষমতা সৃষ্টি করে দেওয়া।

‌‌(৪) (পেশ করে) অর্থাৎ তারা যা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়।

‌‌(৫) (অজ্ঞ) তারা হলো অসতর্ক ও মূর্খ লোক এবং যাদের কোনো বিচারবুদ্ধি নেই।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌(1) بَاب وُجُوبِ الرِّوَايَةِ عَنِ الثِّقَاتِ وَتَرْكِ الْكَذَّابِينَ، والتحذير مِنَ الْكَذِبِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَاعْلَمْ، وَفَّقَكَ اللَّهُ تَعَالَى، أَنَّ الْوَاجِبَ عَلَى كُلِّ أَحَدٍ عَرَفَ التَّمْيِيزَ بَيْنَ صَحِيحِ الرِّوَايَاتِ وسقيمها. و ثقات النَّاقِلِينَ لَهَا، مِنَ الْمُتَّهَمِينَ. أَنْ لَا يَرْوِيَ مِنْهَا إِلَّا مَا عَرَفَ صِحَّةَ مَخَارِجِهِ. وَالسِّتَارَةَ‌‌(1) فِي نَاقِلِيهِ. وَأَنْ يَتَّقِيَ مِنْهَا‌‌(2) مَا كَانَ منها من أهل التهم والمعاندين. من أهل البدع.

--------------------------------------------

‌‌(1) (والستارة) ما يستتر به، وكذلك السترة. وهي هنا إشارة إلى الصيانة

‌‌(2) (وأن يتقي منها) ضبطناه بالتاء المثناة فوق، بعد المثناة تحت، وبالقاف. من الاتقاء وهو الاجتناب. وفي بعض الأصول وأن ينفى بالنون والفاء، وهو صحيح أيضا. وهو بمعنى الأول
‌(১) নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা ও মিথ্যাবাদীদের বর্জন করা ওয়াজিব হওয়া এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করার ব্যাপারে সতর্কবাণী বিষয়ক অধ্যায়.

জেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফিক দান করুন—নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তি যে সহিহ ও দুর্বল বর্ণনার মধ্যে এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম, তার ওপর ওয়াজিব হলো কেবল তাই বর্ণনা করা যার উৎসের বিশুদ্ধতা এবং বর্ণনাকারীদের সততা‌‌(১) সম্পর্কে সে নিশ্চিত। আর তাকে অবশ্যই ওইসব বর্ণনা পরিহার করতে হবে যা অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং বিদআতি হঠকারীদের পক্ষ থেকে এসেছে।

--------------------------------------------

‌‌(১) (আস-সিতারাহ) যা দ্বারা আবৃত করা হয়, তদ্রূপ 'আস-সুতরাহ' শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। এখানে এর দ্বারা চারিত্রিক হেফাজত বা সততা উদ্দেশ্য।

‌‌(২) (ওয়া আন ইয়াত্তাকি মিনহা) আমরা শব্দটি ইয়া-র পরে দুই নুক্তাবিশিষ্ট 'তা' এবং 'কাফ' যোগে লিপিবদ্ধ করেছি। এটি 'আল-ইত্তিকা' শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ পরিহার করা বা বেঁচে থাকা। কোনো কোনো মূল পাণ্ডুলিপিতে 'নুন' ও 'ফা' যোগে 'আন ইউনফা' এসেছে, সেটিও সঠিক এবং একই অর্থবোধক।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৯)
وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ الَّذِي قُلْنَا مِنْ هَذَا هُوَ اللَّازِمُ دُونَ مَا خَالَفَهُ - قَوْلُ اللَّهِ جل ذكره: {يا أيها الذين آمنوا إذا جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بجهالة فتصبحوا على ما فعلتم نادمين}. وَقَالَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ}. وَقَالَ عز وجل: {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ}. فَدَلَّ بِمَا ذَكَرْنَا مِنْ هَذِهِ الآيِ - أَنَّ خَبَرَ الْفَاسِقِ سَاقِطٌ غَيْرُ مَقْبُولٍ، وَأَنَّ شَهَادَةَ غَيْرِ الْعَدْلِ مَرْدُودَةٌ. وَالْخَبَرُ، وَإِنْ فَارَقَ مَعْنَاهُ مَعْنَى الشَّهَادَةِ فِي بَعْضِ الْوُجُوهِ، فَقَدْ يَجْتَمِعَانِ فِي أَعْظَمِ مَعَانِيهِمَا. إِذْ كَانَ خَبَرُ الْفَاسِقِ غَيْرَ مَقْبُولٍ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ. كَمَا أَنَّ شَهَادَتَهُ مَرْدُودَةٌ عِنْدَ جَمِيعِهِمْ. وَدَلَّتِ السُّنَّةُ عَلَى نَفْيِ رِوَايَةِ الْمُنْكَرِ مِنَ الأَخْبَارِ.

كَنَحْوِ دَلَالَةِ الْقُرْآنِ عَلَى نَفْيِ خَبَرِ الْفَاسِقِ. وَهُوَ الأَثَرُ الْمَشْهُورُ‌‌(1) عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَدَّثَ عَنِّى بِحَدِيثٍ يُرَى‌‌(2) أَنَّهُ كذب فهو أحد الكاذبين".‌‌(3).

حدثنا بكر بن أبي شيبة. حدثنا وكيع، عن شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ. ح وحثنا بَكْرِ بْنُ أَبِى شَيْبَةَ أَيْضًا. حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ وَسُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ؛ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذلك.

--------------------------------------------

‌‌(1) (وهو الأثر المشهور) هذا جار على المذهب المختار الذي قاله المحدثون وغيرهم، واصطلح عليه السلف وجماهير الخلف. وهو أن الأثر يطلق على المروي مطلقا. سواء كان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أو عن صحابي

‌‌(2) (يري) ضبطناه يري بضم الياء. وذكر بعض الأئمة جواز فتح الياء من يرى وهو ظاهر حسن. فأما من ضم الياء فمعناه يظن. وأما من فتحها فظاهر، ومعناه وهو يعلم).

‌‌(3) (فهو أحد الكاذبين) قال القاضي عياض: الرواية فيه عندنا الكاذبين على الجمع. ورواه أبو نعيم الأصبهاني في كتابه المستخرج على صحيح مسلم، في حديث سمرة، الكاذبين، بفتح الباء وكسر النون على التثنية
আমরা এ বিষয়ে যা বলেছি যে এটিই অপরিহার্য এবং এর বিপরীতটি অগ্রাহ্য, তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হতে হয়।" মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "যাদেরকে তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ করো।" এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: "এবং তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো।" এই আয়াতগুলো দ্বারা আমরা যা উল্লেখ করেছি তা প্রমাণিত হয়— যে পাপাচারীর সংবাদ বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য, এবং ন্যায়পরায়ণ নয় এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আর সংবাদ (খবর) এবং সাক্ষ্য (শাহাদাত)-এর অর্থের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকলেও, তাদের প্রধান অর্থগত দিক দিয়ে তারা উভয়ই একীভূত হয়। কেননা আলেমগণের নিকট পাপাচারীর সংবাদ যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনি তাদের সকলের নিকট তার সাক্ষ্যও প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আর সুন্নাহ বর্জনীয় সংবাদের বর্ণনার অসারতার ওপর প্রমাণ পেশ করেছে।

যেমন পবিত্র কুরআন পাপাচারীর সংবাদের অসারতার ওপর প্রমাণ পেশ করেছে। আর এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই প্রসিদ্ধ বর্ণনা‌‌(১): "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করে যেটিকে মিথ্যা বলে মনে করা হয়‌‌(২), সেও মিথ্যাবাদীদের একজন।"‌‌(৩)।

আমাদের কাছে বকর ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে ওয়াকি বর্ণনা করেছেন শুবা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সামুরাহ ইবনে জুনদুব থেকে। (হ) এবং আমাদের কাছে বকর ইবনে আবি শাইবাহ পুনরায় বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে ওয়াকি বর্ণনা করেছেন শুবা ও সুফিয়ান থেকে, তারা হাবিব থেকে, তিনি মাইমুন ইবনে আবি শাবিব থেকে, তিনি মুগীরাহ ইবনে শুবা থেকে; তারা উভয়ে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিই বলেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) (এটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা/আছার) এটি সেই মনোনীত মতের অন্তর্ভুক্ত যা মুহাদ্দিসগণ এবং অন্যরা বলেছেন এবং সালাফ ও পরবর্তী অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম যে পরিভাষার ওপর একমত হয়েছেন। আর তা হলো, 'আছার' শব্দটি সাধারণভাবে বর্ণিত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হোক বা কোনো সাহাবী থেকে।

‌‌(২) ('ইউরা' বা মনে করা হয়) আমরা এটিকে 'ইয়া' বর্ণে পেশ দিয়ে 'ইউরা' হিসেবে উল্লেখ করেছি। কোনো কোনো ইমাম 'ইয়া' বর্ণে জবর দিয়ে 'ইয়ারা' পড়ার বৈধতার কথা উল্লেখ করেছেন এবং এটিও স্পষ্ট ও উত্তম। যারা 'ইয়া' বর্ণে পেশ দিয়েছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো 'ধারণা করা হয়'। আর যারা 'ইয়া' বর্ণে জবর দিয়েছেন, তাদের নিকট এর অর্থ স্পষ্ট এবং তা হলো 'সে জানে'।

‌‌(৩) (সে মিথ্যাবাদীদের একজন) কাজী আইয়াজ বলেন: আমাদের কাছে এখানে বর্ণনাটি 'আল-কাযিবীন' অর্থাৎ বহুবচন হিসেবে এসেছে। আবু নুআইম আল-আসফাহানি তার কিতাব 'আল-মুস্তাখরাজ আলা সহিহ মুসলিম'-এ সামুরাহ বর্ণিত হাদিসে 'আল-কাযিবাইন' অর্থাৎ 'বা' বর্ণে জবর এবং 'নুন' বর্ণে যের সহ দ্বিবচন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌(2) باب تغليظ الْكَذِبِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

‌‌1 - (1) وحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ. حدثنا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ. ح وحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المثنى وابن بشار. قالا: حدثنا محمد بْنُ جَعْفَرٍ. حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ؛ أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيًّا رضي الله عنه يَخْطُبُ. قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ مَنْ يَكْذِبْ عَلَيَّ يَلِجِ النَّارَ".
(২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপের ভয়াবহতা বিষয়ক পরিচ্ছেদ.

১ - (১) এবং আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট গুন্দার বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে। (হাওলাহ) এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশার বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি রিবয়ী ইবনে হিরাশ থেকে; তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে খুতবা প্রদানকালে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার ওপর মিথ্যা বলবে না; কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে প্রবেশ করে।"
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌2 - (2) وحدثني زهير بن حرب. حدثنا إسماعيل، يعني ابْنَ عُلَيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ؛ أَنَّه قَالَ: إِنَّهُ لَيَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا كَثِيرًا - أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قال: "من تَعَمَّدَ عَلَيَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ".

--------------------------------------------

(فليتبوأ مقعده من النار) قال العلماء: معناه فلينزل. وقيل: فليتخذ منزله من النار. قال الخطابي: أصله من مباءة الإبل، وهي أعطانها.
২ - (২) যুহাইর ইবনে হারব আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইসমাইল—অর্থাৎ ইবনে উল্যাহ—আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ ইবনে সুহাইব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে; তিনি বলেন: নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনা করতে আমাকে যা বাধা দেয় তা হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

--------------------------------------------

(সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়) উলামায়ে কিরাম বলেছেন: এর অর্থ হলো—সে যেন সেখানে অবতরণ করে। বলা হয়েছে: সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাসস্থল গ্রহণ করে। খাত্তাবি বলেছেন: এর মূল শব্দমূল উটের বিশ্রামস্থল থেকে এসেছে, আর তা হলো উটের অবস্থান করার জায়গা।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌3 - (3) وحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْغُبَرِيُّ. حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ؛ قَالَ: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. "مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ".
3 - (3) এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন উবাইদ আল-গুবরী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন আবু হাসীন থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে; তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌4 - (4) وحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ. حَدَّثَنَا أَبِي. حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ. حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ رَبِيعَةَ؛ قَالَ: أَتَيْتُ الْمَسْجِدَ. وَالْمُغِيرَةُ أَمِيرُ الْكُوفَةِ. قَال فَقَالَ الْمُغِيرَةُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى أَحَدٍ. فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ".

وحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ. حَدَّثَنَا عَلِيُّ بن مسهر. أخبرنا محمد بن قيس الأسدي، عن علي بن ربيعة الأسدي، عن المغيرة بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ وَلَمْ يَذْكُرْ "إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ ليس ككذب على أحد".

--------------------------------------------

(قوله ربيعة الأسدي) كذا في النسخ التي بأيدينا. والصواب فيه سكون السين. انظر مستدركات الزبيدي في: و ل ب.
৪ - (৪) এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন। আলী ইবনে রাবিয়া বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি মসজিদে আসলাম। তখন মুগিরা কুফার আমির ছিলেন। তিনি বলেন, অতঃপর মুগিরা বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারও ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

এবং আলী ইবনে হুজর আস-সাদি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আলী ইবনে মুশহির বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে কায়স আল-আসাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে রাবিয়া আল-আসাদির সূত্রে, তিনি মুগিরা ইবনে শুবা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারও ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়" কথাটি উল্লেখ করেননি।

--------------------------------------------

(তার বক্তব্য: রাবিয়া আল-আসাদি) আমাদের নিকট থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই রয়েছে। আর এতে সঠিক হলো 'সিন' অক্ষরে সুকুন হওয়া। জুবাইদির মুসতাদরাকাত দেখুন: ওয়াও-লাম-বা অধ্যায়ে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌(3) بَاب النَّهْيِ عَنِ الْحَدِيثِ بِكُلِّ مَا سَمِعَ.

‌‌5 - (5) وحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ. حَدَّثَنَا أَبِي. ح وحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى. حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ. قَالَا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عن أبي هريرة؛ قَالَ: قَالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: "كفى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ".

وحدثنا بن أبي بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ. حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ. حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ. عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ ذَلِكَ.

 

‌‌⦗ص: 11⦘

وحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى. أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ؛ قَال: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ الله تعالى عَنْهُ: بِحَسْبِ الْمَرْءِ مِنَ الْكَذِبِ أَنْ يُحَدِّثَ بكل ما سمع.

--------------------------------------------

(بحسب) معناه يكفيه ذلك من الكذب، فإنه قد استكثر منه.
(৩) যা কিছু শুনে তার সবই বর্ণনা করা নিষিদ্ধ হওয়ার অনুচ্ছেদ.

৫ - (৫) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুয়ায আল-আনবারী। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা। (হ) এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী। তাঁরা উভয়েই বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, তিনি খুবাইব ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি হাফস ইবনে আসিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একজন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তার সবই বর্ণনা করে।"

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হাফস। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু’বাহ, তিনি খুবাইব ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি হাফস ইবনে আসিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

 

⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘

আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুশাইম, তিনি সুলাইমান আত-তাইমী থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে; তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেছেন: মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তার সবই বর্ণনা করে।

--------------------------------------------

(বি-হাসবি) এর অর্থ হলো মিথ্যার জন্য এটিই তার জন্য যথেষ্ট, কেননা সে এর মাধ্যমে প্রচুর মিথ্যাচার করে ফেলেছে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১১)
وحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ؛ قَال: قَالَ لِي مَالِكٌ: اعْلَمْ أَنَّهُ لَيْسَ يَسْلَمُ رَجُلٌ حَدَّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ. وَلَا يَكُونُ إِمَامًا أَبَدًا، وَهُوَ يحدث بكل ما سمع

حدثنا محمد بْنُ الْمُثَنَّى. قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ. قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِى إِسْحَاق، عَنْ أَبِى الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ؛ قَالَ: بِحَسْبِ الْمَرْءِ مِنَ الْكَذِبِ أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ.

وحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى. قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ يَقُولُ: لَا يَكُونُ الرَّجُلُ إِمَامًا يُقْتَدَى بِهِ حَتَّى يُمْسِكَ عَنْ بَعْضِ مَا سَمِع.

وحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُقَدَّمٍ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ؛ قَالَ: سَأَلَنِي إِيَاسُ بْنُ مُعَاوِيَةَ فَقَالَ: إِنِّي أَرَاكَ قَدْ كَلِفْتَ بِعِلْمِ الْقُرْآنِ. فَاقْرَأْ عَلَيَّ سُورَةً. وَفَسِّرْ حَتَّى أَنْظُرَ فِيمَا عَلِمْتَ. قَالَ فَفَعَلْتُ. فَقَالَ لِيَ: احْفَظْ عَلَيَّ مَا أَقُولُ لَكَ. إِيَّاكَ وَالشَّنَاعَةَ فِي الْحَدِيثِ فَإِنَّهُ قَلَّمَا حَمَلَهَا أَحَدٌ إِلَّا ذَلَّ فِي نفسه. وكذب في حديثه.

--------------------------------------------

(كلفت) معناه ولعت به ولازمته. قال بن فارس وغيره من أهل اللغة: الكلف الإيلاع بالشيء. وقال أبو قاسم الزمخشري: الكلف الإيلاع بالشيء مع شغل قلب ومشقة. (إياك والشناعة في الحديث) قال أهل اللغة: الشناعة القبح. وقد شنع الشيء أي قبح. فهو أشنع وشنيع. وشنعت بالشيء، و شنعته أي أنكرته. ومعنى كلامه أي حذره أن يحدث بالأحاديث المنكرة التي يشنع عن صاحبها وينكر. ويقبح حال صاحبها فيكذب أو يستراب في روايته فتسقط منزلته، ويذل في نفسه.
আবু তাহের আহমদ ইবনে আমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে সারহ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: মালিক আমাকে বলেছেন: জেনে রেখো, যে ব্যক্তি যা শোনে তার সবই বর্ণনা করে, সে নিরাপদ থাকতে পারে না। আর সে কখনোই (অনুসরণীয়) ইমাম হতে পারবে না, যদি সে যা শোনে তার সবই বর্ণনা করে।

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আবদুর রহমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তার সবই বর্ণনা করে।

মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি: কোনো ব্যক্তি অনুসরণযোগ্য ইমাম হতে পারে না, যতক্ষণ না সে যা শোনে তার কিছু অংশ বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকে।

ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ওমর ইবনে আলী ইবনে মুকাদ্দাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সুফিয়ান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন: আমি দেখতে পাচ্ছি যে তুমি কুরআনের ইলমের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী হয়েছো। সুতরাং আমার কাছে একটি সূরা পাঠ করো এবং তার ব্যাখ্যা করো যাতে আমি দেখতে পারি তুমি কী শিখেছো। সুফিয়ান বলেন, আমি তা করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন: আমি তোমাকে যা বলছি তা ভালো করে স্মরণে রেখো। হাদীস বর্ণনায় অদ্ভুত ও আপত্তিকর কথা থেকে বেঁচে থেকো, কারণ খুব কম লোকই তা বহন করেছে যে নিজে হীনম্মন্যতায় ভোগেনি এবং তার হাদীসে মিথ্যা প্রকাশ পায়নি।

--------------------------------------------

(কালিফতা) এর অর্থ হলো তুমি এর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী হয়েছো এবং এটি আঁকড়ে ধরেছ। ইবনে ফারিস এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'কালফ' অর্থ কোনো বিষয়ের প্রতি অতিশয় অনুরাগী হওয়া। আবুল কাসেম আল-জামাখশারী বলেছেন: 'কালফ' হলো হৃদয়ের একাগ্রতা ও কষ্টের সাথে কোনো বিষয়ের প্রতি অতিশয় অনুরাগী হওয়া। (হাদীস বর্ণনায় অদ্ভুত ও আপত্তিকর কথা থেকে বেঁচে থেকো) ভাষাবিদগণ বলেন: 'শানায়াহ' অর্থ হলো কদর্যতা। যখন কোনো কিছু কদর্য হয় তখন তাকে 'শানাআ' বলা হয়। তা থেকে 'আশনা' এবং 'শানি' শব্দদ্বয় নিষ্পন্ন। আর কোনো কিছুকে 'শানাআ' বলা মানে হলো তা প্রত্যাখ্যান করা। তাঁর কথার উদ্দেশ্য হলো—তিনি তাকে এমন সব প্রত্যাখ্যাত হাদীস বর্ণনা করতে সতর্ক করেছেন যার কারণে বর্ণনাকারীকে দোষারোপ ও প্রত্যাখ্যান করা হয়। এতে বর্ণনাকারীর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে, ফলে সে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয় অথবা তার বর্ণনার ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হয়, যার দরুন তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং সে নিজ সত্তায় হীনম্মন্যতায় ভোগে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১১)
وحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى. قَالَا: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ. قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنِ أبي شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ابن عُتْبَةَ؛ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ قَالَ: مَا أَنْتَ بِمُحَدِّثٍ قَوْمًا حَدِيثًا لَا تَبْلُغُهُ عُقُولُهُمْ، إِلَّا كَانَ لِبَعْضِهِمْ فِتْنَةً.

এবং আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু তাহের ও হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব। তিনি বলেছেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে; নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: "আপনি যখন কোনো সম্প্রদায়ের নিকট এমন কোনো কথা বর্ণনা করেন যা তাদের বুদ্ধি অনুধাবন করতে সক্ষম নয়, তখন তা অবশ্যই তাদের কারো কারো জন্য ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।"

(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌(4) بَاب النَّهْيِ عَنِ الرِّوَايَةِ عَنِ الضُّعَفَاءِ وَالِاحْتِيَاطِ فِي تَحَمُّلِهَا.

‌‌6 - (6) وحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ. قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ. قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِى أَيُّوبَ. قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أبي هريرة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ أَنَّهُ قَالَ "سَيَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِى أُنَاسٌ يُحَدِّثُونَكُمْ مَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ. فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ".
(৪) পরিচ্ছেদ: দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস বর্ণনা করার নিষেধাজ্ঞা এবং তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন

৬ - (৬) মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর ও যুহাইর ইবনু হারব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: সাঈদ ইবনু আবু আইয়ুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু হানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসমান মুসলিম ইবনু ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন কিছু লোক হবে যারা তোমাদের কাছে এমন সব কথা বর্ণনা করবে যা তোমরা শোনোনি এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরাও শোনেনি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধান থেকো এবং তাদের থেকেও নিজেদের বাঁচিয়ে রেখো।"
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌7 - (7) وحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ التُّجِيبِيُّ. قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ. قَال: حَدَّثَنِي أَبُو شُرَيْحٍ؛ أَنَّهُ سَمِعَ شَرَاحِيلَ بْنَ يَزِيدَ يَقُولُ: أَخْبَرَنِي مُسْلِمُ بن يسار؛ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: "يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ. يَأْتُونَكُمْ مِنَ الأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ. فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ. لَا يُضِلُّونَكُمْ وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ"

وحَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ. حَدَّثَنَا وَكِيعٌ. حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبَدَةَ؛ قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: إِنَّ الشَّيْطَانَ لِيَتَمَثَّلُ فِي صُورَةِ الرَّجُلِ. فَيَأْتِي الْقَوْمَ فَيُحَدِّثُهُمْ بِالْحَدِيثِ مِنَ الْكَذِبِ. فَيَتَفَرَّقُونَ. فَيَقُولُ الرَّجُلُ مِنْهُمْ: سَمِعْتُ رَجُلًا أَعْرِفُ وَجْهَهُ، وَلَا أَدْرِى مَا اسْمُهُ، يُحَدِّثُ.

وحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ. حدثنا عبد الرزاق. أخبرنا معمر، عن ابن طاوس عن أبيه، عن عبد الله بن عمر بْنِ الْعَاصِ؛ قَالَ: إِنَّ فِي الْبَحْرِ شَيَاطِينَ مَسْجُونَةً أَوْثَقَهَا سُلَيْمَانُ. يُوشِكُ أَنْ تَخْرُجَ فَتَقْرَأَ على الناس قرآنا.

--------------------------------------------

(العاص) أكثر ما يأتي في كتب الحديث والفقه بحذف الياء.، وهي لغة. والفصيح الصحيح العاص بإثبات الياء. (يوشك) معناه يقرب. ويستعمل أيضا ماضيا فيقال: أوشك كذا أي قرب.
৭ - (৭) হারমালাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হারমালাহ ইবনে ইমরান আত-তুজিবি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু শুরাইহ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শারাহবিল ইবনে ইয়াজিদকে বলতে শুনেছেন: মুসলিম ইবনে ইয়াসার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "শেষ যামানায় এমন কিছু দাজ্জাল ও চরম মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, যারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদিস (কথা) নিয়ে আসবে যা তোমরা শোনোনি এবং তোমাদের পিতৃপুরুষেরাও শোনেনি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধান থাকো এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রাখো। তারা যেন তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে না পারে এবং তোমাদেরকে ফিতনায় না ফেলতে পারে।"

আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন। ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আল-আ'মাশ আল-মুসাইয়্যাব ইবনে রাফি' থেকে, তিনি আমির ইবনে আবদাহ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রূপ ধারণ করে কোনো দলের কাছে আসে এবং তাদের কাছে মিথ্যা কথা বর্ণনা করে। এরপর তারা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তাদের মধ্যকার কোনো লোক বলে: আমি এমন এক ব্যক্তিকে এটি বর্ণনা করতে শুনেছি যার চেহারা আমি চিনি, কিন্তু তার নাম জানি না।"

মুহাম্মদ ইবনে রাফি' আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। মা'মার ইবনে তাউস থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমুদ্রে কিছু বন্দি শয়তান রয়েছে যাদেরকে সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) বেঁধে রেখেছিলেন। অচিরেই তারা বেরিয়ে আসবে এবং মানুষের সামনে কুরআন পাঠ করবে।"

--------------------------------------------

(আল-আস) হাদিস ও ফিকহের কিতাবসমূহে এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'ইয়া' বিলোপ করে ব্যবহৃত হয়, যা একটি ভাষাগত রীতি। তবে অধিকতর বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল হলো 'ইয়া' বজায় রেখে 'আল-আসি' বলা। (ইউশিকু) এর অর্থ হলো নিকটবর্তী হওয়া। এটি অতীতকাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, তখন বলা হয়: 'আওশাকা' অর্থাৎ তা নিকটবর্তী হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১২)
وحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ وَسَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ جَمِيعًا، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ. قَالَ سَعِيدٌ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ هِشَامِ بْنِ حُجَيْرٍ، عَنْ طَاوُسٍ؛ قَالَ: جَاءَ هَذَا إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ (يَعْنِي بُشَيْرَ بْنَ كَعْبٍ). فَجَعَلَ يُحَدِّثُهُ. فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ: عُدْ لِحَدِيثِ كَذَا وَكَذَا.

 

‌‌⦗ص: 13⦘

فعادله. ثُمَّ حَدَّثَهُ. فَقَالَ لَهُ: عُدْ لِحَدِيثِ كَذَا وكذا. فعادله. فَقَالَ لَهُ: مَا أَدْرِى، أَعَرَفْتَ حَدِيثِي كُلَّهُ وَأَنْكَرْتَ هَذَا؟ أَمْ أَنْكَرْتَ حَدِيثِي كُلَّهُ وَعَرَفْتَ هَذَا؟ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّا كُنَّا نُحَدِّثُ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ لَمْ يَكُنْ يُكْذَبُ عَلَيْهِ. فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ وَالذَّلُولَ، تَرَكْنَا الْحَدِيثَ عَنْهُ.

--------------------------------------------

(الصعب والذلول) أصل الصعب والذلول في الإبل. فالصعب العسر المرغوب عنه، والذلول السهل الطيب المحبوب المرغوب فيه. فالمعنى سلك الناس كل مسلك، مما يحمد ويذم.
মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ও সাঈদ ইবনে আমর আল-আশআসী উভয়েই আমার নিকট ইবনে উয়াইনার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ বলেন, সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে হুজাইর থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: এই ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট এলেন (অর্থাৎ বুশাইর ইবনে কাব)। এরপর তিনি তাঁকে হাদীস শোনাতে লাগলেন। তখন ইবনে আব্বাস তাঁকে বললেন: অমুক অমুক হাদীসটি পুনরায় বর্ণনা করো।

 

‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘

অতঃপর তিনি তা পুনরায় বর্ণনা করলেন। এরপর তিনি আবার তাঁকে হাদীস শোনালেন। তিনি তাঁকে বললেন: অমুক অমুক হাদীসটি পুনরায় বর্ণনা করো। তখন তিনি তা পুনরায় বর্ণনা করলেন। তখন তিনি (বুশাইর) তাঁকে বললেন: আমি বুঝতে পারছি না, আপনি কি আমার সব হাদীস সঠিক বলে চিনেছেন আর শুধু এটিই প্রত্যাখ্যান করলেন? নাকি আমার সব হাদীস প্রত্যাখ্যান করেছেন আর শুধু এটিই সঠিক বলে চিনেছেন? তখন ইবনে আব্বাস তাঁকে বললেন: আমরা এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করতাম যখন তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা হতো না। কিন্তু যখন মানুষ কঠিন ও সহজ সব পথেই চলতে শুরু করল, তখন আমরা তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করা ছেড়ে দিলাম।

--------------------------------------------

(আস-সব এবং আদ-দালুল) মূলগতভাবে আস-সব এবং আদ-দালুল শব্দ দুটি উটের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। 'আস-সব' হলো অবাধ্য ও কঠিন যা বর্জনীয়, আর 'আদ-দালুল' হলো অনুগত ও সহজ যা পছন্দনীয় ও কাম্য। এর অর্থ হলো মানুষ প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় সকল পথেই বিচরণ করতে শুরু করেছে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وحدثني محمد بن رافع. حدثنا عبد الرزاق. أخبرنا معمر، عن ابن طاوس، عن أبيه، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ؛ قَالَ: إِنَّمَا كُنَّا نَحْفَظُ الْحَدِيثَ. وَالْحَدِيثُ يُحْفَظُ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَأَمَّا إِذْ رَكِبْتُمْ كُلَّ صعب وذلول، فهيهات.

--------------------------------------------

(فهيهات) أي بعدت استقامتكم أو بعد أن نثق بحديثكم. وهيهات موضوعة لاستبعاد الشيء واليأس منه.
মুহাম্মাদ বিন রাফি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: "আমরা কেবল হাদীস সংরক্ষণ করতাম। আর হাদীস তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু যখন তোমরা প্রতিটি কঠিন ও সহজ বাহনে আরোহণ করলে (অর্থাৎ বাছবিচারহীনভাবে বর্ণনা করতে শুরু করলে), তখন তা অনেক দূরে সরে গেল।"

--------------------------------------------

(তখন তা অনেক দূরে সরে গেল) অর্থাৎ তোমাদের সঠিক পথে থাকা অনেক দূরে চলে গেছে অথবা তোমাদের হাদীসের ওপর আমাদের আস্থা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর 'হায়হাত' শব্দটি কোনো বিষয়কে অসম্ভব সাব্যস্ত করা এবং তা থেকে নিরাশ হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
وحَدَّثَنِي أَبُو أَيُّوبَ سُلَيْمَانُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الغيلاني. حدثنا أبو عامر، يعنى العقدي. حدثنا رَبَاحٌ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ؛ قَالَ: جَاءَ بُشَيْرٌ الْعَدَوِيُّ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ. فَجَعَلَ يُحَدِّثُ وَيَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَجَعَلَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَا يَأْذَنُ لِحَدِيثِهِ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِ. فَقَالَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ! مَالِي لَا أَرَاكَ تَسْمَعُ لِحَدِيثِي؟ أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا تَسْمَعُ. فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّا كُنَّا مَرَّةً إِذَا سَمِعْنَا رَجُلًا يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْتَدَرَتْهُ أَبْصَارُنَا. وَأَصْغَيْنَا إِلَيْهِ بِآذَانِنَا. فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ وَالذَّلُولَ، لَمْ نَأْخُذْ مِنَ النَّاسِ إِلَّا ما نعرف.

--------------------------------------------

(لا يأذن) أي لا يستمع ولا يصغي، ومنه سميت الأذن.
এবং আবু আইয়ুব সুলাইমান ইবন উবাইদুল্লাহ আল-গাইলানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। আবু আমির (অর্থাৎ আল-আকাদি) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। রাবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাইস ইবন সা'দ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: বুশাইর আল-আদাউয়ি ইবন আব্বাসের নিকট আসলেন। এরপর তিনি হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন। কিন্তু ইবন আব্বাস তাঁর হাদিসের প্রতি কর্ণপাত করছিলেন না এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। তখন তিনি বললেন: হে ইবন আব্বাস! আমার কী হলো যে আমি আপনাকে আমার হাদিস শুনতে দেখছি না? আমি আপনার নিকট আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করছি অথচ আপনি শুনছেন না। তখন ইবন আব্বাস বললেন: একসময় আমাদের অবস্থা এমন ছিল যে, যখনই আমরা কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনতাম: ‘আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন’, তখনই আমাদের দৃষ্টিসমূহ দ্রুত তাঁর দিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা আমাদের কানসমূহ দিয়ে তাঁর প্রতি মনোযোগ নিবিষ্ট করতাম। কিন্তু যখন মানুষ ভালো-মন্দ সব পথেই আরোহণ করল (অর্থাৎ বাছবিচারহীনভাবে হাদিস বর্ণনা শুরু করল), তখন আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করি যা আমরা চিনি।

--------------------------------------------

(লা ইয়া’যানা) এর অর্থ হলো সে শ্রবণ করছে না এবং কর্ণপাত করছে না; আর এ থেকেই 'কান' (উযুন)-এর নামকরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضَّبِّيُّ. حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِى مُلَيْكَةَ؛ قَالَ: كَتَبْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَسْأَلُهُ أَنْ يَكْتُبَ لِي كِتَابًا وَيُخْفِي عَنِّى. فَقَالَ: وَلَدٌ نَاصِحٌ. أَنَا أَخْتَارُ لَهُ الأُمُورَ اخْتِيَارًا وَأُخْفِى عَنْهُ. قَال فَدَعَا بِقَضَاءِ عَلِيٍّ، فَجَعَلَ يَكْتُبُ مِنْهُ أَشْيَاءَ، وَيَمُرُّ بِهِ الشَّيْءُ فَيَقُولُ: وَاللَّهِ مَا قَضَى بِهَذَا عَلِيٌّ. إِلَّا أَنْ يَكُونَ ضَلَّ.

--------------------------------------------

(ويخفي عني … وأخفي عنه) قال القاضي عياض رحمه الله: ضبطنا هذين الحرفين وهما (ويخفي عني واخفي عنه) بالحاء المهملة فيهما عن جميع شيوخنا. إلا عن أبي محمد الخشني فإني قرأتهما عليه بالخاء المعجمة. قال: وكان أبو بحر يحكي لنا عن شيخه القاضي أبي الوليد الكناني أن صوابه بالمعجمة.

قال القاضي عياض رحمه الله: ويظهر لي أن رواية الجماعة هي الصواب. وأن معنى أحفى أنقص. من إحفاء الشوارب وهو جزها. أي أمسك عني من حديثك ولا تمسك علي. أو أن يكون الإحفاء الإلحاح أو الاستقصاء، ويكون عني بمعنى علي. أي استقصي ما تحدثني. هذا كلام القاضي عياض رحمه الله.

وذكر صاحب مطالع الأنوار قول القاضي، ثم قال: وفي هذا نظر. قال: وعندي أنه بمعنى المبالغة في البر به والنصيحة له. من قوله تعالى: وكان بي حفيا. أي أبالغ له وأستقصي في النصيحة له والاختيار فيما ألقي إليه من صحيح الآثار.

وقال الشيخ الإمام أبو عمر بن الصلاح: هما بالخاء المعجمة. أي يكتم عني أشياء ولا يكتبها، إذا كان عليه فيها مقال من الشيع المختلفة وأهل الفتن. فإنه إذا كتبها ظهرت. وإذا ظهرت خولف فيها، وحصل فيها قال وقيل. مع أنها ليست مما يلزم بيانها لابن أبي مليكة. وإن لزم فهو ممكن بالمشافهة دون المكاتبة. قال: وقوله: ولد ناصح، مشعر بذلك.
দাউদ ইবনে আমর আদ-দাব্বী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। নাফি' ইবনে উমর আমাদের কাছে ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের কাছে এই মর্মে চিঠি লিখলাম যে, তিনি যেন আমার জন্য একটি কিতাব লিখে দেন এবং কিছু বিষয় আমার জন্য সংক্ষেপ করেন (অথবা গোপন করেন)। তখন তিনি বললেন: "উপদেশ গ্রহণকারী সন্তান। আমি তার জন্য বিষয়গুলো বিশেষভাবে নির্বাচন করব এবং কিছু বিষয় তার থেকে সংক্ষেপ করব (অথবা গোপন করব)।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি আলীর বিচারিক ফয়সালাসমূহ আনালেন এবং সেখান থেকে কিছু বিষয় লিখতে শুরু করলেন। এরপর যখন কোনো বিষয়ের ওপর দিয়ে তিনি অতিক্রম করতেন, তখন বলতেন: "আল্লাহর কসম, আলী এই ফয়সালা করেননি, যদি না তিনি পথভ্রষ্ট হতেন (অর্থাৎ এটি নিশ্চিতভাবেই বানোয়াট)।"

--------------------------------------------

(আমার থেকে সংক্ষেপ করেন ... আমি তার থেকে সংক্ষেপ করি) কাজী আইয়াজ (রহ.) বলেন: আমরা আমাদের সকল উস্তাদ থেকে এই শব্দ দুটি অর্থাৎ (ويحفي عني) এবং (أحفي عنه) নুকতাহীন 'হা' দিয়ে সংরক্ষণ করেছি। কেবল আবু মুহাম্মদ আল-খুশানী ব্যতীত, আমি তার কাছে এটি নুকতাযুক্ত 'খা' দিয়ে পড়েছি। তিনি বলেন: আবু বাহর আমাদের কাছে তার উস্তাদ কাজী আবুল ওয়ালিদ আল-কানানী থেকে বর্ণনা করতেন যে, এর সঠিক উচ্চারণ নুকতাযুক্ত 'খা' দিয়ে।

কাজী আইয়াজ (রহ.) বলেন: আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, অধিকাংশের বর্ণনাটিই সঠিক। আর 'আহফা' এর অর্থ হলো কমিয়ে দেওয়া বা সংক্ষেপ করা। যেমন গোঁফ ছেঁটে ছোট করার ক্ষেত্রে 'ইহফাউশ শাওয়ারিব' বলা হয়। অর্থাৎ আপনি আপনার হাদীস থেকে আমার জন্য কিছু কমিয়ে সংক্ষেপ করুন এবং আমার ওপর সব চাপিয়ে দেবেন না। অথবা 'ইহফা' এর অর্থ হতে পারে কোনো বিষয়ে গভীরভাবে অন্বেষণ করা, সেক্ষেত্রে 'আন্নি' (থেকে) শব্দটি 'আলাইয়্যা' (ওপর) অর্থে ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ আপনি আমার কাছে যা বর্ণনা করবেন তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করবেন। এটি কাজী আইয়াজ (রহ.)-এর বক্তব্য।

'মাতালিউল আনোয়ার' গ্রন্থের লেখক কাজীর বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেছেন: এই ব্যাখ্যায় পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। তিনি বলেন: আমার মতে এর অর্থ হলো তার প্রতি সদাচরণ এবং শুভকামনার ক্ষেত্রে চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করা। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান (হাফিয়্যা)।" অর্থাৎ আমি তার উপদেশের ক্ষেত্রে এবং তার কাছে যেসব সঠিক বর্ণনা পেশ করব তা নির্বাচনে চরম যত্নশীল হব।

শেখ ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ বলেন: শব্দ দুটি নুকতাযুক্ত 'খা' দিয়ে। অর্থাৎ তিনি আমার কাছ থেকে কিছু বিষয় গোপন রাখবেন এবং সেগুলো লিখবেন না, যদি সেগুলোর ব্যাপারে বিভিন্ন দল বা ফেতনা সৃষ্টিকারীদের পক্ষ থেকে কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকে। কারণ তিনি যদি তা লিখে দেন তবে তা প্রকাশ হয়ে পড়বে। আর প্রকাশ পেলে সে বিষয়ে বিরোধিতা হবে এবং বাদানুবাদ সৃষ্টি হবে। অথচ সেগুলো ইবনে আবি মুলাইকার জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা জরুরি নয়। আর যদি জরুরি হয়েই থাকে, তবে তা চিঠিতে না লিখে সরাসরি মৌখিকভাবে বলা সম্ভব। তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসের উক্তি—"উপদেশ গ্রহণকারী সন্তান"—একথাই নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ. حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حُجَيْرٍ، عَنْ طَاوُسٍ؛ قَالَ: أُتِيَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِكِتَابٍ فِيهِ قَضَاءُ عَلِيٍّ رضي الله عنه فمحاه. إِلَّا قَدْرَ وَأَشَارَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ بِذِرَاعِهِ.

--------------------------------------------

(إلا قدر) قدر منصوب غير منون. معناه محاه إلا قدر ذراع.
আম্‌রুন নাকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে হুজায়র থেকে, তিনি তাউস থেকে; তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসের নিকট একটি কিতাব আনা হলো যাতে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিচারকার্য লিপিবদ্ধ ছিল, তখন তিনি কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যতীত বাকি সব মুছে ফেললেন—আর সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ (পরিমাণটি নির্দেশ করতে) তাঁর বাহু দ্বারা ইশারা করলেন।

--------------------------------------------

(কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যতীত) 'কদর' শব্দটি মানসুব এবং তানউইনবিহীন। এর অর্থ হলো: তিনি এক বাহুর সমপরিমাণ জায়গা ব্যতীত বাকি সব মুছে ফেলেছেন।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ. حَدَّثَنَا يَحْيَي بْنُ آدَمَ. حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِى إِسْحَاق؛ قَالَ: لَمَّا أَحْدَثُوا تِلْكَ الأَشْيَاءَ بَعْدَ عَلِيٍّ رضي الله عنه؛ قَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ عَلِيٍّ: قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَيَّ عِلْمٍ أَفْسَدُوا.

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ. أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ، يَعْنِى ابْنَ عَيَّاشٍ. قَالَ: سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ يَقُولُ: لَمْ يَكُنْ يَصْدُقُ عَلَى عَلِيٍّ رضي الله عنه، إِلَّا مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مسعود.

--------------------------------------------

(يصدق) ضبط على وجهين: أحدهما بفتح الياء وإسكان الصاد وضم الدال. والثاني بضم الياء وفتح الصاد والدال المشددة. (إلا من) يجوز في من وجهان: أحدهما أنها لبيان الجنس، والثاني أنها زائدة.
হাসান ইবনে আলী আল-হুলওয়ানী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আদম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইদ্রিস আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: যখন তারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরে ঐসব নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল, তখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কতই না ইলমকে নষ্ট করে ফেলেছে।

আলী ইবনে খাশরাম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু বকর—অর্থাৎ ইবনে আইয়াশ—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমি মুগিরাহকে বলতে শুনেছি: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণিত হাদিস আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের সাথীদের ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে সত্য বলে গ্রহণ করা হতো না।

--------------------------------------------

(ইউসাদ্দাকু/ইয়াসদুকু) শব্দটি দুই ভাবে স্বরচিহ্নযুক্ত করা হয়েছে: একটি হলো 'ইয়া'-তে ফাতহা, 'সদ'-এ সুকুন এবং 'দাল'-এ যম্মাহ দিয়ে। দ্বিতীয়টি হলো 'ইয়া'-তে যম্মাহ এবং 'সদ' ও তাশদীদযুক্ত 'দাল'-এ ফাতহা দিয়ে। (ইল্লা মিন) এখানে 'মিন' শব্দটির ক্ষেত্রে দুইটি দিক হতে পারে: একটি হলো এটি প্রকার বা শ্রেণি বর্ণনার জন্য এসেছে, আর দ্বিতীয়টি হলো এটি অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌(5) بَاب بَيَانِ أَنَّ الإِسْنَادَ مِنَ الدِّينِ. وَأَنَّ الرِّوَايَةَ لَا تَكُونُ إِلَّا عَنِ الثِّقَاتِ. وَأَنَّ جَرْحَ الرُّوَاةِ بِمَا هُوَ فِيهِمْ جَائِزٌ، بَلْ وَاجِبٌ. وَأَنَّهُ لَيْسَ مِنَ الْغِيبَةِ الْمُحَرَّمَةِ، بَلْ مِنَ الذَّبِّ عَنِ الشَّرِيعَةِ الْمُكَرَّمَةِ.

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ. حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ وَهِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ. وَحَدَّثَنَا فُضَيْلٌ عَنْ هِشَامٍ. قَال وَحَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ؛ قَالَ: إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ. فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ.

 

‌‌⦗ص: 15⦘

حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ. حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيل بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَل، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ؛ قَالَ: لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الإِسْنَادِ. فَلَمَّا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ، قَالُوا: سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ. فَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ وَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ فَلَا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ.

حَدَّثَنَا إِسْحَاق بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ. أَخْبَرَنَا عِيسَى، وَهُوَ ابْنُ يُونُسَ. حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى؛ قَالَ: لَقِيتُ طَاوُسًا فَقُلْتُ: حَدَّثَنِي فُلَانٌ كَيْتَ وَكَيْتَ قَالَ: إِنْ كَانَ صَاحِبُكَ مليا فخذ عنه.

--------------------------------------------

(كيت وكيت) هما بفتح التاء وكسرها. لغتان نقلهما الجوهري في صحاحه عن أبي عبيدة. (مليا) يعني ثقة ضابطا متقنا يوثق بدينه ومعرفته، يعتمد عليه كما يعتمد الملي بالمال ثقة بذمته.
‌(৫) পরিচ্ছেদ: সনদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বর্ণনা; নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো নিকট থেকে বর্ণনা গ্রহণ না করা; রাবীদের মধ্যে বিদ্যমান দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা বৈধ বরং ওয়াজিব এবং এটি নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা সম্মানিত শরীয়তকে রক্ষার নামান্তর।

হাসান ইবনুর রবী' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট আইয়ুব ও হিশাম থেকে, তারা মুহাম্মদ (ইবনে সীরীন) থেকে বর্ণনা করেছেন। ফুযাইল হিশাম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারীগণ বলেন এবং মাখলাদ ইবনে হুসাইন হিশাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সীরীন থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন। সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো, কাদের নিকট থেকে তোমরা তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।

 

‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘

আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুস সাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। ইসমাঈল ইবনে যাকারিয়া আসেম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আগে তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না। কিন্তু যখন ফিতনা (বিপর্যয়) দেখা দিল, তখন তারা বলতে লাগলেন, "তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম আমাদের নিকট উল্লেখ করো।" তখন আহলুস সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের প্রতি লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের প্রতি লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।

ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-হানযালী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। ঈসা—তিনি ইবনে ইউনুস—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আওযায়ী সুলাইমান ইবনে মূসা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি তাউস-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, অমুক ব্যক্তি আমার নিকট এমন এমন বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, যদি তোমার সেই সাথী নির্ভরযোগ্য হয়, তবে তার থেকে গ্রহণ করো।

--------------------------------------------

(কাইতা ওয়া কাইতা) শব্দদ্বয়ের 'তা' বর্ণটি ফাতহাহ (যবর) ও কাসরাহ (যের) উভয় যোগে পড়া যায়। জাওহারী তার 'সিহাহ' গ্রন্থে আবু উবায়দাহ থেকে এই দুই ভাষারীতি বর্ণনা করেছেন। (মালিইয়ান) অর্থ হলো এমন নির্ভরযোগ্য, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও দক্ষ বর্ণনাকারী, যার দ্বীনদারী ও জ্ঞানের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা যায়; তার ওপর তেমনি নির্ভর করা হয় যেমন কোনো বিত্তবান ও বিশ্বস্ত ব্যক্তির আর্থিক দায়বদ্ধতার ওপর নির্ভর করা হয়।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ. أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ، يَعْنِى ابْنَ مُحَمَّدٍ الدِّمَشْقِيَّ. حَدَّثَنَا سعيد بن عبد العزيز، عن سليمان ابن مُوسَى؛ قَالَ قُلْتُ لِطَاوُسٍ: إِنَّ فُلَانًا حَدَّثَنِي بِكَذَا وَكَذَا. قَالَ: إِنْ كَانَ صَاحِبُكَ مَلِيًّا فَخُذْ عَنْهُ.

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ. حَدَّثَنَا الأَصْمَعِيُّ، عَنِ ابْنِ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ؛ قَالَ: أَدْرَكْتُ بِالْمَدِينَةِ مِائَةً كُلُّهُمْ مَأْمُونٌ. مَا يُؤْخَذُ عَنْهُمُ الْحَدِيثُ. يُقَالُ: لَيْسَ مِنْ أهله.

حدثني مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ. حَدَّثَنَا سُفْيَانُ. ح وحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلَّادٍ الْبَاهِلِيُّ. وَاللَّفْظُ لَهُ. قَالَ: سَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، عَنْ مِسْعَرٍ. قَالَ: سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ يَقُولُ: لَا يُحَدِّثُ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إلا الثقات.

--------------------------------------------

(لَا يُحَدِّثُ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إلا الثقات) معناه لا يقبل إلا من الثقات.
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দারিমি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। মারওয়ান (অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ সুলায়মান ইবনে মুসা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমি তাউসকে বললাম: অমুক ব্যক্তি আমাকে এই এই বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বললেন: যদি তোমার সেই সাথী নির্ভরযোগ্য হয়, তবে তার থেকে গ্রহণ করো।

নাসর ইবনে আলী আল-জাহদামি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আসমায়ি ইবন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি মদিনায় একশত ব্যক্তিকে পেয়েছি যারা সকলেই আমানতদার ছিলেন। কিন্তু তাদের থেকে হাদীস গ্রহণ করা হতো না। কারণ বলা হতো: তারা হাদীস শাস্ত্রের যোগ্য লোক নন।

মুহাম্মদ ইবনে আবু ওমর আল-মাক্কি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং আবু বকর ইবনে খাল্লাদ আল-বাহিলি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণিত শব্দসমূহ তাঁর। তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাকে মিসআর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন: আমি সাদ ইবনে ইব্রাহিমকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কেউ যেন হাদীস বর্ণনা না করে।

--------------------------------------------

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ ছাড়া যেন কেউ হাদীস বর্ণনা না করে) এর অর্থ হলো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কারো বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُهْزَاذَ. مِنْ أَهْلِ مَرْوَ. قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَانَ بْنَ عُثْمَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْمُبَارَكِ يَقُولُ: الإِسْنَادُ مِنَ الدِّينِ. وَلَوْلَا الإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ.

وقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: حَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ أَبِي رِزْمَةَ؛ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ يَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَ القوم القوائم يعني الإسناد.

--------------------------------------------

(بيننا وبين القوم القوائم) معنى هذا الكلام: إن جاء بإسناد صحيح قبلنا حديثه، وإلا تركناه. فجعل الحديث كالحيوان لا يقوم بغير إسناد. كما لا يقوم الحيوان بغير قوائم.
এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুহজাদ—যিনি মার্ভের অধিবাসী—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আবদান ইবনে উসমানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: "ইসনাদ (সনদ) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি ইসনাদ না থাকতো, তবে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলতো।"

এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন: আব্বাস ইবনে আবি রিজমা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: "আমাদের এবং সেই সম্প্রদায়ের মাঝে ফয়সালাকারী হলো খুঁটিসমূহ," অর্থাৎ ইসনাদ।

--------------------------------------------

(আমাদের এবং সেই সম্প্রদায়ের মাঝে ফয়সালাকারী হলো খুঁটিসমূহ) এই কথার অর্থ হলো: যদি কেউ সহীহ ইসনাদ নিয়ে আসে তবে আমরা তার হাদীস গ্রহণ করি, অন্যথায় আমরা তা বর্জন করি। ফলে তিনি হাদীসকে এমন এক প্রাণীর ন্যায় গণ্য করেছেন যা ইসনাদ ছাড়া দাঁড়াতে পারে না, ঠিক যেমন চতুষ্পদ প্রাণী পা ছাড়া দাঁড়াতে পারে না।
(খণ্ড: ১) সহীহ মুসলিম - ত আব্দুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقَال مُحَمَّدٌ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاق إِبْرَاهِيمَ بْنَ عِيسَى الطَّالَقَانِيَّ؛ قَالَ: قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَك: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ! الْحَدِيثُ الَّذِي جَاءَ "إِنَّ مِنَ الْبِرِّ بَعْدَ الْبِرِّ، أَنْ تُصَلِّيَ لِأَبَوَيْكَ مَعَ صَلَاتِكَ، وَتَصُومَ لَهُمَا مَعَ صَوْمِكَ" قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: يَا أَبَا إِسْحَاق عَمَّنْ هَذَا؟ قَالَ قُلْتُ لَهُ: هَذَا مِنْ حَدِيثِ شِهَابِ بْنِ خِرَاشٍ. فَقَالَ: ثِقَةٌ. عَمَّنْ؟ قَالَ قُلْتُ: عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ. قَالَ: ثِقَةٌ. عَمَّنْ؟ قَالَ قُلْتُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَ: يَا أَبَا إِسْحَاق! إِنَّ بَيْنَ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَفَاوِزَ، تَنْقَطِعُ فِيهَا أَعْنَاقُ الْمَطِيِّ، وَلَكِنْ لَيْسَ فِي الصدقة اختلاف

--------------------------------------------

(مفاوز) جمع مفازة. وهي الأرض القفر البعيدة عن العمارة وعن الماء التي يخاف الهلاك فيها. (ليس في الصدقة اختلاف) معناه أن هذا الحديث لا يحتج به. ولكن من أراد بر والديه فليتصدق عنهما. فإن الصدقة تصل إلى الميت وينتفع بها، بلا خلاف بين المسلمين.
মুহাম্মদ বলেছেন: আমি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে ঈসা আত-তালাকানিকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! সেই হাদিসটি সম্পর্কে আপনি কী বলেন যা বর্ণিত হয়েছে যে, "নিশ্চয়ই সদ্ব্যবহারের পর অন্যতম সদ্ব্যবহার হলো আপনার সালাতের সাথে আপনার পিতামাতার জন্য সালাত আদায় করা এবং আপনার সিয়ামের সাথে তাদের জন্য সিয়াম পালন করা"? তিনি বলেন, তখন আবদুল্লাহ বললেন: হে আবু ইসহাক, এটি কার থেকে বর্ণিত? তিনি বলেন, আমি তাকে বললাম: এটি শিহাব ইবনে খিরাশের হাদিস। তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। এটি কার থেকে? তিনি বলেন, আমি বললাম: হাজ্জাজ ইবনে দিনার থেকে। তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। এটি কার থেকে? তিনি বলেন, আমি বললাম: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন। তিনি বললেন: হে আবু ইসহাক! নিশ্চয়ই হাজ্জাজ ইবনে দিনার এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে এমন বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তর রয়েছে যেখানে সওয়ারি পশুর ঘাড় ভেঙে যায়, তবে সদকার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।

--------------------------------------------

(মাফাউইজ) এটি মাফাজাহ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো এমন এক নির্জন প্রান্তর যা লোকালয় ও পানি থেকে অনেক দূরে, যেখানে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। (সদকার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই) এর অর্থ হলো এই হাদিসটি দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়। তবে যে ব্যক্তি তার পিতামাতার প্রতি অনুগত থাকতে চায়, সে যেন তাদের পক্ষ থেকে দান-সদকা করে। কেননা দান-সদকা মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায় এবং তারা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়, এ বিষয়ে মুসলিমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই।