(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة الغائب القسم: مسائل فقهية
الكتاب: صلاة الغائب - دراسة فقهية مقارنة
المؤلف: حسام الدين بن موسى محمد بن عفانة
الناشر: طبع القدس
الطبعة: الأولى، سنة 1417 هـ، 1996.
عدد الصفحات: 67
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 شوّال 1432
সালাতুল গায়েব (গায়েবানা জানাজা) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সালাতুল গায়েব - একটি তুলনামূলক ফিকহী গবেষণা
লেখক: হুসামুদ্দীন বিন মুসা মুহাম্মদ বিন আফানা
প্রকাশক: আল-কুদস মুদ্রণ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরী، ১৯৯৬।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ২৭ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: -)
صلاة الغائب
دراسة فقهية مقارنة
تأليف
الدكتور حسام الدين عفانة
دكتوراة في أصول الفقه الإسلامي
كلية الدعوة وأصول الدين/جامعة القدس
গায়েবানা জানাজা
একটি তুলনামূলক ফিকহী গবেষণা
রচনা
ডক্টর হুসামুদ্দীন আফানা
ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি (উসুলুল ফিকহ) বিষয়ে ডক্টরেট
দাওয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদ/আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله الا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون}.
{يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيراً ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيباً}.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً}.
وبعد:
فقد اعتاد المصلون في بلادنا فلسطين أن يصلوا صلاة الغائب في مناسبات كثيرة عند وفاة شخص أو أشخاص في بلاد أخرى. وقد رأيتهم يصلون صلاة الغائب على الشهداء الذين يستشهدون في أماكن أخرى فرغبت أن أدرس صلاة الغائب دراسة علمية متأنية فرجعت إلى كتب السنة المشرفة فجمعت الأحاديث التي ذكرت أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة الغائب وأوردت كلام أهل الحديث عليها.
وتبين لي بعد البحث والتنقيب أنه لم يثبت عن الرسول صلى الله عليه وسلم أنه صلى صلاة الغائب الا صلاته عليه
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।}
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।}
অতঃপর:
আমাদের দেশ ফিলিস্তিনে মুসল্লিরা অন্য দেশে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মৃত্যুর পর অনেক ক্ষেত্রে গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) আদায় করতে অভ্যস্ত। আমি তাদের অন্য স্থানে শাহাদাত বরণকারী শহীদদের ওপর গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) আদায় করতে দেখেছি, তাই আমি গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) নিয়ে একটি সতর্ক ও তাত্ত্বিক গবেষণার ইচ্ছা পোষণ করলাম। এজন্য আমি সুন্নাহর সম্মানীত কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং সেই সব হাদিস সংগ্রহ করলাম যেখানে উল্লেখ আছে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) আদায় করেছিলেন এবং সেই হাদিসগুলোর ওপর হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) বক্তব্যও উল্লেখ করেছি।
অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সাব্যস্ত (ثابت) হয়নি যে তিনি গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) আদায় করেছেন, কেবল তিনি যাঁর ওপর এটি আদায় করেছিলেন তিনি ব্যতীত...
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ৬)
الصلاة والسلام على النجاشي وما عدا ذلك فغير ثابت عند المحدثين أهل هذا الشأن، وأتبعت ذلك بدراسة صلاة الغائب عند الفقهاء فذكرت أقوال الفقهاء فيها وأدلتهم وردودهم ورجحت ما أيده الدليل فيما ظهر لي.
ثم ذكرت بعض المسائل الفقهية المتعلقة بصلاة الغائب مثل صلاة الغائب على الشهداء وقدمت لهذه الدراسة بتمهيد موجز ذكرت فيه ما ينبغي على المسلم من الاستعداد للموت وكراهة تمني الموت والصبر عند الموت وذكرت أنه يندب للمسلم حضور الجنازة وتشييعها. ثم عرفت صلاة الجنازة وبينت أن صلاة الغائب هي صلاة الجنازة مع كون الميت غير حاضر أمام المصلين.
وأخيراً فإني أشكر أهل الخير الذين طبعوا هذا الكتاب على نفقتهم وأسأل الله العلي العظيم أن يجزيهم خير الجزاء وأن يتقبل منا ومنهم صالح الأعمال.
وصلى الله وسلم وبارك على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه الدكتور حسام الدين موسى عفانة
أبوديس - القدس.
فجر يوم الأربعاء الخامس عشر من شعبان 1417هـ.
وفق الخامس والعشرين من كانون الأول 1996.
নাজ্জাশির ওপর জানাযার সালাত পাঠ করা এবং এর বাইরে যা কিছু আছে তা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রমাণিত (ثابت) নয়। আমি এর অনুবর্তী হিসেবে ফকিহগণের নিকট গায়েবানা জানাযার সালাত সংক্রান্ত একটি গবেষণা যুক্ত করেছি; যেখানে আমি এ বিষয়ে ফকিহগণের মতামত, তাঁদের দলিলসমূহ এবং সেগুলোর প্রত্যুত্তর উল্লেখ করেছি এবং আমার দৃষ্টিতে দলিলে যা শক্তিশালী মনে হয়েছে আমি তা-ই প্রাধান্য দিয়েছি।
এরপর আমি গায়েবানা জানাযার সালাত সংশ্লিষ্ট কিছু ফিকহি মাসআলা উল্লেখ করেছি, যেমন শহীদদের ওপর গায়েবানা জানাযার সালাত। এই গবেষণার শুরুতে আমি একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা পেশ করেছি, যেখানে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ, মৃত্যু কামনা করার অপছন্দনীয়তা এবং মৃত্যুর সময় ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে একজন মুসলিমের যা করণীয় তা উল্লেখ করেছি। আরও উল্লেখ করেছি যে, জানাযায় উপস্থিত হওয়া এবং জানাযার অনুগমন করা একজন মুসলিমের জন্য মুস্তাহাব। এরপর আমি জানাযার সালাতের সংজ্ঞা প্রদান করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, গায়েবানা জানাযার সালাত হলো জানাযার সালাত যখন মৃত ব্যক্তি মুসল্লিদের সামনে উপস্থিত থাকে না।
পরিশেষে, আমি সেই সকল কল্যাণকামী ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা নিজ খরচে এই বইটি মুদ্রণ করেছেন এবং আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাদের ও তাঁদের নেক আমলসমূহ কবুল করেন।
আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
লিখেছেন ডক্টর হুসামুদ্দিন মুসা আফানা
আবু দিস - আল-কুদস।
১৫ই শাবান ১৪১৭ হিজরি, বুধবার ফজর।
২৫শে ডিসেম্বর ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের সাথে সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد
الموت حق:-
الموت حق وصدق قدره الله سبحانه وتعالى على كل نفس، وهو سيف مسلط على رقاب العباد لا ينجو منه أحد، قال الله تعالى {كل نفس ذائقة الموت وإنما توفون أجوركم يوم القيامة فمن زحزح عن النار وأدخل الجنة فقد فاز وما الحياة الدنيا إلى متاع الغرور} سورة آل عمران الآية 185.
وقال جل جلاله {كل نفس ذائقة الموت ونبلوكم بالشر والخير فتنة وإلينا ترجعون} سورة الأنبياء الآية 35.
وقال أيضاً {كل نفس ذائقة الموت ثم إلينا ترجعون}
… سورة العنكبوت الآية 57.
وهذه الحقيقة القاطعة مسلمة لا شك ولا ريب فيها ويتساوى فيها الناس جميعاً الأنبياء وغيرهم، الصالحون والفاسدون، المؤمنون والكافرون قال تعالى مخاطباً نبينا محمد صلى الله عليه وسلم {إنك ميت وإنهم ميتون}
… سورة الزمر الآية 30.
وسيقبض ملك الموت روح كل إنسان عند انتهاء أجله بغض النظر عن مكانه قال تعالى {قل يتوفاكم ملك الموت الذي وكل بم ثم إلى ربكم ترجعون} سورة السجدة الآية 11.
وقال تعالى {أينما تكونوا يدرككم الموت ولو كنتم في بروج مشيدة} سورة النساء الآية 78.
ভূমিকামৃত্যু ধ্রুব সত্য:-
মৃত্যু এক শাশ্বত সত্য এবং অমোঘ বিধান যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি প্রাণের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এটি বান্দাদের গ্রীবার ওপর প্রলম্বিত এক তলোয়ার, যা থেকে কেউ নিষ্কৃতি পায় না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে এবং কিয়ামতের দিন তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই সফলকাম হবে। আর পার্থিব জীবন তো কেবল ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।} সূরা আল ইমরান, আয়াত ১৮৫।
আল্লাহ জাল্লা জালালুহু ইরশাদ করেছেন, {প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোর মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমাদের নিকটেই তোমরা ফিরে আসবে।} সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৩৫।
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, {প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে, অতঃপর তোমরা আমাদের নিকটই ফিরে আসবে।}
… সূরা আল আনকাবুত, আয়াত ৫৭।
এই অকাট্য (قطعية) বাস্তবতা সর্বজনস্বীকৃত (مسلمة), এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই। নবীগণ এবং অন্যরা, নেককার ও পাপাচারী, মুমিন ও কাফির—সবাই এই বাস্তবতার সামনে সমান। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেছেন, {নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে।}
… সূরা আজ জুমার, আয়াত ৩০।
নির্ধারিত সময় (أجل) শেষ হলে মালাকুল মউত প্রতিটি মানুষের রুহ কবজ করবেন, তার অবস্থান যেখানেই হোক না কেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {বলুন, তোমাদের জন্য নিযুক্ত মালাকুল মউত তোমাদের প্রাণ হরণ করবেন, অতঃপর তোমরা তোমাদের রবের নিকট ফিরে আসবে।} সূরা আস সাজদাহ, আয়াত ১১।
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন, {তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই, এমনকি যদি তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গের ভেতরেও অবস্থান করো।} সূরা আন নিসা, আয়াত ৭৮।
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ৮)
الاستعداد للموت:-
إن الإنسان في هذه الدنيا كالشخص المسافر الذي يستعد لسفره بإعداد أمتعته وأطعمته وحاجياته والمسلم يستعد للسفر من هذه الدنيا التي هي معبر وممر الآخرة دار المقام والمقر فلا بد له من الاستعداد الدائم للموت ومما يعين على ذلك الاستعداد تذكر الموت فقد ورد في الحديث أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال (أكثروا من ذكر هادم اللذات الموت) رواه الترمذي والنسائي وابن ماجة وقال الشيخ الألباني حسن صحيح (1).
وجاء في الحديث عن ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم قال ذات يوم لأصحابه:
استحيوا من الله حق الحياء. قالوا: إنا نستحي من الله يا نبي الله، والحمد لله. قال: ليس ذلك ولكن من استحيى من الله حق الحياء فليحفظ الرأس وما وعى وليحفظ البطن وما حوى وليذكر الموت والبلى ومن أراد الآخرة ترك زينة الدنيا فمن فعل ذلك فقد استحيى من الله حق الحياء) رواه أحمد والترمذي وقال هذا حديث غريب ورواه الحاكم وصححه ووافقه الذهبي وقال الشيخ الألباني: حسن (2).
--------------------------------------------
মৃত্যুর প্রস্তুতি:-
নিশ্চয়ই এই দুনিয়ায় মানুষ একজন মুসাফিরের মতো, যে তার আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি গুছিয়ে সফরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তদ্রূপ একজন মুসলিম এই দুনিয়া থেকে সেই সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করে, যা হলো পরকাল তথা চিরস্থায়ী আবাসের পথ ও অতিক্রমণস্থল। তাই তার জন্য মৃত্যুর প্রতি সর্বদা প্রস্তুতি রাখা অপরিহার্য। আর এই প্রস্তুতি গ্রহণে যা সাহায্য করে তা হলো মৃত্যুকে স্মরণ করা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী অর্থাৎ মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো।" এটি তিরমিজি, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং শেখ আলবানী একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন (১)।
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন তাঁর সাহাবীগণকে বললেন:
"তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করো।" তাঁরা বললেন: "হে আল্লাহর নবী, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা তো আল্লাহকে লজ্জা করি।" তিনি বললেন: "বিষয়টি এমন নয়। বরং যে ব্যক্তি আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করে, সে যেন মস্তক ও তাতে যা সংরক্ষিত আছে তার হিফাজত করে, আর উদর ও তাতে যা অন্তর্ভুক্ত আছে তার হিফাজত করে এবং মৃত্যু ও জরাজীর্ণ হওয়াকে স্মরণ করে। আর যে ব্যক্তি আখিরাত চায়, সে দুনিয়ার চাকচিক্য বর্জন করে। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে-ই আল্লাহকে যথাযথভাবে লজ্জা করল।" এটি আহমাদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) একে বিরল হাদিস (حديث غريب) বলেছেন। ইমাম হাকেমও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর শেখ আলবানী একে হাসান (حسن) বলেছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ৯)
وورد في الأثر عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أنه قال: كفى بالموت واعظاً وكفى باليقين غنى وكفى بالعبادة شغلاً (1).
وقال أبو الدرداء رضي الله عنه: من أكثر ذكر الموت قلَ حسده وقلَّ فرحه. (2).
ومن الأمور التي تذكر بالموت زيارة القبور فإن الزائر للقبور يتعظ بذلك ويتذكر أن حاله سيصير كحال أصحاب القبور فقد ورد في الحديث عن بريدة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال (إني كنت قد نهيتكم عن زيارة القبور فزوروها فإنها تذكركم الآخرة ولتزدكم زيارتها خيراً فمن أراد أن يزور فليزر ولا تقولوا هجراً) رواه مسلم وأبو داود وأحمد وغيرهم (3).
وقوله ولا تقولوا هجراً أي كلاماً باطلاً (4).
وعن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كنت نهيتكم عن زيارة القبور ألا فزوروها فإنها ترق القلب وتدمع العين وتذكر الآخرة ولا تقولوا هجرا) رواه أحمد والحاكم وسنده حسن كما قال الشيخ الألباني) (5).
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (أثر)-এ এসেছে যে, তিনি বলেছেন: উপদেশদাতা হিসেবে মৃত্যুই যথেষ্ট, সচ্ছলতা হিসেবে দৃঢ় বিশ্বাসই যথেষ্ট এবং ব্যস্ততা হিসেবে ইবাদতই যথেষ্ট। (১)।
আবু দারদা (রা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করবে, তার হিংসা ও আনন্দ কমে যাবে। (২)।
মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এমন বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো কবর জিয়ারত। কেননা কবর জিয়ারতকারী এর মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং স্মরণ করে যে, তার অবস্থাও অচিরেই কবরবাসীদের মতো হবে। বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: (আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা জিয়ারত করো; কারণ এটি তোমাদেরকে পরকাল স্মরণ করিয়ে দেয় এবং এই জিয়ারত যেন তোমাদের কল্যাণে বৃদ্ধি ঘটায়। সুতরাং যে ব্যক্তি জিয়ারত করতে চায় সে যেন করে, তবে তোমরা অসংলগ্ন কোনো কথা বলো না)। এটি ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, আহমদ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। (৩)।
তাঁর উক্তি 'তোমরা অসংলগ্ন কথা বলো না' এর অর্থ হলো বাতিল বা অনর্থক কথা। (৪)।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। শোনো, এখন তোমরা তা জিয়ারত করো; কারণ এটি অন্তরকে কোমল করে, চোখকে অশ্রুসিক্ত করে এবং পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে তোমরা অসংলগ্ন কথা বলো না)। এটি ইমাম আহমদ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং শায়খ আলবানীর ভাষ্যমতে এর সনদ (سند) হাসান (حسن)। (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১০)
كراهية تمني الموت:-
ومع أن المسلم مطالب بالاستعداد للموت إلا انه يكره في حقه تمني الموت تخلصاً من مصاعب الحياة وهمومها فقد ورد في الحديث عن أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم قال {لا يتمنين أحدكم الموت من ضرٍ أصابه فإن كان لا بد فاعلاً فليقل اللهم أحيني ما دامت الحياة خيراً لي وتوفني إذا كانت الوفاة خيراً" رواه البخاري ومسلم (1).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال "لا يتمنى أحدكم الموت إما محسناً فلعله أن يزداد خيراً وإما مسيئاً فلعله أن يستعتب" رواه البخاري (2).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن، الرسول صلى الله عليه وسلم قال "لا يتمنى أحدكم الموت ولا يدع به قبل أن يأتيه إنه إذا مات أنقطع عمله وإنه لا يزيد المؤمن عمره إلا خيراً" رواه مسلم (3).
قال الإمام النووي بعد أن ساق حديث أنس "فيه التصريح بكراهة تمني الموت لضر نزل به من مرض أو فاقة أو محنة من عدو أو نحو ذلك من مشاق فأما إذا خاف ضرراً في دينه أو فتنة فيه فلا كراهة فيه لمفهوم هذا الحديث وغيره. وقد فعل هذا الثاني خلائق من السلف عند خوف الفتنة في أديانهم" (4).
--------------------------------------------
মৃত্যু কামনার অপছন্দনীয়তা (كراهية):-
যদিও একজন মুসলিমের জন্য মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক, তবে জীবনের প্রতিকূলতা ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মৃত্যু কামনা করা তার ক্ষেত্রে অপছন্দনীয় (مكروه)। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের কেউ যেন তাকে স্পর্শ করা কোনো কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা না করে। আর যদি কাউকে তা করতেই হয়, তবে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয়, আর যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয় তখন আমাকে মৃত্যু দান করুন।" বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে; কেননা সে যদি সৎকর্মশীল হয়, তবে হয়তো সে তার নেক আমল বৃদ্ধি করবে, আর যদি সে পাপাচারী হয়, তবে হয়তো সে তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের (يستعتب) সুযোগ পাবে।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগে তার জন্য দোয়া না করে। কেননা যখন সে মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিনের দীর্ঘ জীবন কেবল তার কল্যাণই বৃদ্ধি করে।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।
ইমাম নববী আনাসের হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন, "এতে অসুস্থতা, দারিদ্র্য অথবা শত্রুর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষা (محنة) কিংবা এই জাতীয় কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা করা অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। তবে যদি সে তার দ্বীনের ব্যাপারে কোনো ক্ষতি বা ফিতনার (فتنة) আশঙ্কা করে, তবে এই হাদিস ও অন্যান্য দলিলের মর্মানুযায়ী তা অপছন্দনীয় (كراهة) হবে না। পূর্বসূরি সালাফদের (سلف) একটি বিশাল জামাত দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনার (فتنة) আশঙ্কায় এই দ্বিতীয় কাজটি (মৃত্যু কামনা) করেছেন।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১১)
ويطلب من المسلم إذا نزل به الموت أن يتلقاه بالرضا والسرور حباً للقاء الله عز وجل كما قال المنذري (1) لما ثبت في الحديث عن عائشة رضي الله عنها أن الرسول صلى الله عليه وسلم قال "من أحب لقاء الله أحب الله لقائه ومن كره لقاء الله كره الله لقائه. فقلت يا نبي الله أكراهية الموت فكلنا يكره الموت؟ قال ليس ذلك ولكن المؤمن إذا بشر برحمة الله ورضوانه وجنته أحب لقاء الله فأحب الله لقاءه وإن الكافر إذا بشر بعذاب الله وسخطه كره لقاء الله وكره الله لقاءه "
… رواه البخاري ومسلم (2).
الصبر عند الموت:لا ريب أن فقد الأحباب من الأهل والأولاد والآباء والأمهات والأقارب والأصدقاء من المصائب الشديدة الوقع على النفس الإنسانية والمطلوب من المسلم عند حلول المصيبة الصبر الجميل فإنه إن صبر واحتسب ذلك عند الله فله جزيل الأجر والثواب.
يقول الله تعالى {وبشر الصابرين الذين إذا أصابتهم مصيبة قالوا إنا لله وإنا إليه راجعون أولئك عليهم صلوات من ربهم ورحمة وأولئك هم المهتدون} سورة البقرة الآيات 155 - 157.
وقال تعالى {إنما يوفى الصابرون أجرهم بغير حساب}
… سورة الزمر الآية 10.
--------------------------------------------
একজন মুসলিমের নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভের আকাঙ্ক্ষায় সন্তুষ্টি ও আনন্দের সাথে তা গ্রহণ করা তার নিকট কাম্য, যেমনটি আল-মুনজিরি (১) উল্লেখ করেছেন; যেহেতু হাদিসে এটি প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! এটি কি মৃত্যুর প্রতি অপছন্দের কারণে? আমরা তো সবাই মৃত্যুকে অপছন্দ করি। তিনি বললেন, বিষয়টি তেমন নয়; বরং মুমিন ব্যক্তিকে যখন আল্লাহর রহমত, সন্তুষ্টি ও জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, ফলে আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর কাফের ব্যক্তিকে যখন আল্লাহর আজাব ও ক্রোধের সংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, ফলে আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।"
… এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (رواه) (২)।
মৃত্যুর সময় ধৈর্য ধারণ:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের হারানো মানুষের আত্মার ওপর এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক বিপদ। বিপদের সময় একজন মুসলিমের নিকট যা কাম্য তা হলো সুন্দর ধৈর্য ধারণ করা; কারণ সে যদি ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশা রাখে, তবে তার জন্য রয়েছে মহা প্রতিদান ও সওয়াব।
আল্লাহ তাআলা বলেন, {আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন, যাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’। তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে অশেষ করুণা ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত} সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৫৫-১৫৭।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, {নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের পুরস্কার অগণিতভাবে প্রদান করা হবে}
… সূরা আজ-জুমার, আয়াত: ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১২)
وورد في الحديث عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يقول الله تعالى: ما لعبدي المؤمن عندي جزاء إذا قبضت صفيه من أهل الدنيا ثم احتسبه الا الجنة) رواه البخاري (1).
وعن أنس رضي الله عنه قال: مر النبي صلى الله عليه وسلم بامرأة تبكي عند قبر فقال: اتقي الله واصبري فقالت: إليك عني فإنك لم تصب بمصيبتي، ولم تعرفه. قال: فقيل لها: إنه النبي صلى الله عليه وسلم. قال فأخذها مثل الموت قال: فأتت باب النبي صلى الله عليه وسلم فلم تجد عنده بوابين فقالت لم أعرفك، فقال: إنما الصبر عند الصدمة الأولى" رواه البخاري ومسلم (2).
شهود الجنازة والصلاة عليها وتشييعها:-
يستحب للمسلم أن يشهد جنازة أخيه المسلم حتى يصلى عليها ويدفن بل إن ذلك من حق المسلم على أخيه المسلم. وقد ورد في ذلك أحاديث منها:-
عن البراء بن عازب رضي الله عنه قال: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بعيادة المريض واتباع الجنازة وتشميت العاطس وإبراء المقسم ونصر المظلوم وإجابة الداعي وإفشاء السلام" رواه البخاري ومسلم (3).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "من شهد الجنازة حتى يصلى عليها فله
--------------------------------------------
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আমার মুমিন বান্দার যখন আমি দুনিয়ার অধিবাসীদের মধ্য থেকে তার কোনো প্রিয়জনকে কবজ করি, অতঃপর সে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করে, তবে আমার কাছে তার জন্য জান্নাত ছাড়া আর কোনো প্রতিদান নেই।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি কবরের পাশে ক্রন্দনরত এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো।" তখন মহিলাটি বলল: "আমার থেকে দূরে থাকুন, কেননা আমি যে বিপদে পড়েছি আপনি সে বিপদে পড়েননি।" সে তাকে চিনতে পারেনি। বর্ণনাকারী বলেন: তাকে জানানো হলো যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তখন সে মৃত্যুসম অবস্থার (আতঙ্ক ও লজ্জা) শিকার হলো। অতঃপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরজায় গিয়ে সেখানে কোনো দারোয়ান দেখতে পেল না। সে বলল: "আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।" তখন তিনি বললেন: "প্রকৃত ধৈর্য তো প্রথম আঘাতের সময়ই।" বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
জানাজায় উপস্থিত হওয়া, জানাজার নামাজ পড়া এবং মৃতদেহের অনুগমন করা:-
একজন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের জানাজায় উপস্থিত হওয়া পছন্দনীয় (مستحب), যেন সে জানাজার নামাজ পড়তে পারে এবং দাফনে শরিক হতে পারে; বরং এটি এক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:-
বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, জানাজার অনুগমন করা, হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া, শপথকারীর কসম পূর্ণ করা, মজলুমকে সাহায্য করা, দাওয়াতকারীর দাওয়াত কবুল করা এবং সালামের প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন। বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জানাজায় নামাজ পড়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে, তার জন্য রয়েছে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قيراط ومن شهدها حتى تدفن فله قيراطان. قيل وما القيراطان؟ قال مثل الجبلين العظيمين) رواه البخاري ومسلم (1).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {من اتبع جنازة مسلم إيماناً واحتساباً وكان معه حتى يصلى عليها ويفرغ من دفنها فإنه يرجع من الأجر بقيراطين كل قيراط مثل أحد ومن صلى عليها ثم رجع قبل أن تدفن فإنه يرجع بقيراط}
… رواه البخاري (2).
صلاة الجنازة وحكمها وفضلها:-
ذهب جماهير الفقهاء إلى أن صلاة الجنازة فرض كفاية إذا قام به البعض سقط الإثم عن الباقين وقد نقل الإمام النووي الإجماع على ذلك. (3).
وقال بعض المالكية صلاة الجنازة سنة (4).
وقول الجمهور هو الصحيح.
وقد ورد في الحث على صلاة الجنازة أحاديث منها:
1 - عن مالك بن هبيرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {ما من مؤمن يموت فيصلي عليه أمة من المسلمين يبلغون أن يكونوا ثلاثة صفوف إلا غفر له} رواه أحمد وأبو داود وابن ماجة والترمذي وحسنه والحاكم وصححه. وقال الإمام النووي حديث حسن (5).
--------------------------------------------
কিরাত, আর যে ব্যক্তি দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত। জিজ্ঞাসা করা হলো, দুই কিরাত কী? তিনি বললেন, ‘দুইটি বিশাল পাহাড়ের মতো।’) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম (১)।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব লাভের আশায় কোনো মুসলিমের জানাজার অনুসরণ করে এবং জানাজার নামাজ পড়া ও দাফন শেষ হওয়া পর্যন্ত তার সাথে থাকে, সে দুই কিরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসবে; প্রতিটি কিরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাজা পড়ে দাফনের আগেই ফিরে আসে, সে এক কিরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসবে।}
… এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (২)।
জানাজার নামাজ, এর বিধান ও ফযিলত:-
জমহুর (অধিকাংশ) ফকিহ এই মত পোষণ করেছেন যে, জানাজার নামাজ হলো ফরযে কিফায়া (فرض كفاية); যদি কিছু লোক তা আদায় করে তবে বাকিদের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যায়। ইমাম নববী এ বিষয়ে ইজমা (الإجماع) বা ঐক্যমত বর্ণনা করেছেন। (৩)।
জনৈক মালিকি ফকিহ বলেছেন, জানাজার নামাজ হলো সুন্নত (سنة) (৪)।
আর জমহুর বা অধিকাংশের মতটিই সঠিক (الصحيح)।
জানাজার নামাজের প্রতি উৎসাহিত করে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মালিক বিন হুবায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {যদি কোনো মুমিন ব্যক্তি মারা যায় এবং তার জানাজায় একদল মুসলিম শরিক হয় যাদের সংখ্যা তিন কাতার পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।} এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি এবং তিনি এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন; এছাড়া হাকেম এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন। ইমাম নববী বলেছেন এটি হাসান (حسن) হাদিস (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2 - وعن عائشة رضي الله عنها إن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ما من ميت يصلي عليه أمة من المسلمين يبلغون مئة كلهم يشفعون له إلا شفعوا فيه" رواه مسلم (1).
3 - وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ما من رجل مسلم يموت فيقوم على جنازته أربعون رجلاً لا يشركون بالله شيئاً إلا شفعهم الله فيه" رواه مسلم (2). وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في أحاديث كثيرة أنه كان يصلي على الجنازة (3).
تعريف الصلاة على الغائب:الأصل في صلاة الجنازة أن تكون على ميت حاضر موجود بين يدي الإمام والمصلين ويكون الميت موضوعاً على الأرض تجاه القبلة.
وقد اختلف الفقهاء في شرط حضور جثة الميت بين يدي المصلين فاشترط ذلك الحنفية والمالكية وبناء على ذلك لا تشرع عندهم الصلاة على الميت الغائب. جاء في الدر المختار (وشرطها - أي صلاة الجنازة- أيضاً حضوره ووضعه- أمام المصلي وكونه للقبلة فلا تصح على غائب). (4).
وقال القرافي (ويصلى على كل ميت مسلم حاضر) (5).
--------------------------------------------
2 - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "এমন কোনো মৃত ব্যক্তি নেই যার জানাজায় মুসলমানদের একটি দল অংশগ্রহণ করে যাদের সংখ্যা একশ পর্যন্ত পৌঁছায় এবং তারা সবাই তার জন্য সুপারিশ করে, তবে অবশ্যই তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করা হয়।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১)।
3 - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি মারা যায় এবং তার জানাজায় এমন চল্লিশজন ব্যক্তি দাঁড়ায় যারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে না, তবে আল্লাহ তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করেন।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (২)। নবী (সা.) থেকে অনেক হাদিসে এটি প্রমাণিত যে, তিনি জানাজার সালাত আদায় করতেন (৩)।
গায়েবি জানাজার (صلاة الغائب) সংজ্ঞা:জানাজার সালাতের মূল নিয়ম হলো তা উপস্থিত মৃত ব্যক্তির ওপর হওয়া, যে ইমাম ও মুসল্লিদের সামনে উপস্থিত থাকে এবং মৃত ব্যক্তিকে কিবলার দিকে জমিনে রাখা হয়।
মুসল্লিদের সামনে মৃতদেহের উপস্থিতির শর্তের ব্যাপারে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন। হানাফি ও মালিকি মাযহাব এটি শর্ত হিসেবে গণ্য করেছে, যার ওপর ভিত্তি করে তাদের নিকট গায়েবি জানাজার (صلاة الغائب) সালাত বিধিবদ্ধ নয়। আদ-দুররুল মুখতার গ্রন্থে এসেছে: (আর এর শর্ত—অর্থাৎ জানাজার সালাতের—আরও হলো তার উপস্থিতি এবং মুসল্লির সামনে রাখা এবং কিবলামুখী হওয়া, সুতরাং অনুপস্থিত (غائب) ব্যক্তির ওপর তা সহিহ (صحيح) হবে না)। (৪)।
আর আল-কারাফি বলেছেন: (প্রত্যেক উপস্থিত মুসলিম মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়া হবে) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأجاز الشافعية والحنابلة الصلاة على الميت الغائب كما سيأتي تفصيل ذلك لاحقاً.
وبهذا يظهر لنا أن صلاة الغائب هي صلاة الجنازة مع كون الميت غير حاضر أي غائب ومن هنا سميت صلاة الغائب. وبما أن صلاة الغائب هي صلاة الجنازة بالقيد المذكور فهي عبارة عن أربع تكبيرات عند جمهور الفقهاء وقد ثبتت فيها أحاديث كثيرة (1).
وكيفيتها: أن يرفع المصلي يديه في التكبيرة الأولى فقط وهو القول المعتمد في مذهب الحنفية ومذهب المالكية ولا يرفع في سائر التكبيرات وهذا اختيار ابن حزم والشوكاني (2). واختاره أيضا الشيخ الألباني فقال (ولم نجد في السنة ما يدل على مشروعية الرفع في غير التكبيرة الأولى فلا نرى مشروعية ذلك) (3).
ثم يضع يمينه على يساره على صدره ويقرأ الفاتحة ثم يكبر التكبيرة الثانية دون أن يرفع يديه كما سبق ثم يأتي بالصلاة الإبراهيمية ثم يكبر التكبيرة الثالثة وبعدها يخلص الدعاء للميت والسنة أن يدعو بالأدعية المأثورة عن الرسول صلى الله عليه وسلم (4) ثم يكبر التكبيرة الرابعة ثم يسلم تسليمتين (5).
--------------------------------------------
শাফেঈ ও হাম্বলি মাযহাবের ইমামগণ অনুপস্থিত মৃত ব্যক্তির ওপর জানাজার নামাজ (সালাতুল গায়েব) আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন, যার বিস্তারিত বর্ণনা সামনে আসবে।
এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, গায়েবানা জানাজা হলো মৃত ব্যক্তি উপস্থিত না থাকা অবস্থায় অর্থাৎ অনুপস্থিত থাকা অবস্থায় জানাজার নামাজ আদায় করা, আর এ কারণেই একে গায়েবানা জানাজা বলা হয়। যেহেতু গায়েবানা জানাজা হলো উল্লিখিত শর্তসাপেক্ষে জানাজার নামাজই, তাই জুমহুর (অধিকাংশ) ফকিহদের নিকট এটি চার তাকবির বিশিষ্ট এবং এ বিষয়ে অনেক হাদিস সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে (১)।
এর পদ্ধতি হলো: মুসল্লি কেবল প্রথম তাকবিরে হাত তুলবেন—এটিই হানাফি ও মালিকি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত—এবং অন্যান্য তাকবিরে হাত তুলবেন না; এটি ইবনে হাজম ও শাওকানির পছন্দকৃত মত (২)। শেখ আলবানীও এটি পছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: "আমরা সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু পাইনি যা প্রথম তাকবির ব্যতীত অন্য তাকবিরগুলোতে হাত তোলার বৈধতা প্রমাণ করে, তাই আমরা একে বিধিসম্মত মনে করি না" (৩)।
এরপর তিনি বুকের ওপর বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখবেন এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। অতঃপর পূর্বের ন্যায় হাত না তুলে দ্বিতীয় তাকবির দেবেন এবং দরুদে ইব্রাহিম পাঠ করবেন। এরপর তৃতীয় তাকবির দেবেন এবং মৃত ব্যক্তির জন্য একনিষ্ঠভাবে দোয়া করবেন। সুন্নাহ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (مأثور) দোয়াগুলোর মাধ্যমে দোয়া করা (৪)। এরপর চতুর্থ তাকবির দেবেন এবং দুই দিকে সালাম ফেরাবেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الأولالأحاديث الواردة في صلاة الغائبوردت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم روايات كثيرة أنه عليه الصلاة والسلام صلى صلاة الغائب على عدد من الصحابة الذين ماتوا في أماكن بعيدة عن رسول الله عليه الصلاة والسلام ولم يحضر موتهم ولا دفنهم وهؤلاء الصحابة الذين وقفت على الروايات الواردة عن الرسول عليه الصلاة والسلام وتفيد أنه صلى عليهم صلاة الغائب أربعة وهم:
1 - النجاشي ملك الحبشة.
2 - معاوية بن معاوية الليثي أو المزني.
3 - زيد بن حارثة.
4 - جعفر بن أبي طالب رضي الله عنهم.
وهذه الروايات بعضها ثابت بطريق صحيح أو حسن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعضها ضعيف لا يثبت ولا يصلح للاستدلال به وهذا عرض لتلك الروايات:
أولاً: الروايات الواردة في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم على النجاشي.
وردت روايات كثيرة في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم على النجاشي عن جماعة من الصحابة وهم جابر بن عبد الله وأبو هريرة وعمران بن حصين وحذيفة بن أسيد وعبد الله ابن عباس وعبد الله بن عمر وجرير بن عبد الله وأبي سعيد ومجمع بن جارية وهي:
প্রথম পরিচ্ছেদগায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহরাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনেক বর্ণনা (روايات) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন অনেক সাহাবীর গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) আদায় করেছেন যারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দূরে মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তিনি তাঁদের মৃত্যু বা দাফনে উপস্থিত ছিলেন না। সেই সব সাহাবী যাদের সম্পর্কে আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ (روايات) পেয়েছি এবং যেগুলো নির্দেশ করে যে তিনি তাঁদের উপর গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) আদায় করেছেন, তাঁরা হলেন চারজন:
1 - হাবশার বাদশাহ নাজাসি।
2 - মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আল-লাইসি অথবা আল-মুজানি।
3 - যায়দ ইবনে হারিসা।
4 - জাফর ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
এই বর্ণনাগুলোর (روايات) কোনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) সূত্রে প্রমাণিত, আর কোনটি দুর্বল (ضعيف) যা প্রমাণিত নয় এবং দলিল হিসেবে গ্রহণের (استدلال) যোগ্য নয়। নিম্নে সেই বর্ণনাসমূহ (روايات) উপস্থাপন করা হলো:
প্রথমত: নাজাসির জানাজা সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ (روايات).
নাজাসির জানাজা সম্পর্কে একদল সাহাবী থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনেক বর্ণনা (روايات) বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা হলেন— জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, আবু হুরায়রা, ইমরান ইবনে হুসাইন, হুযাইফা ইবনে আসিদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, জারির ইবনে আব্দুল্লাহ, আবু সাঈদ এবং মুজাম্মি ইবনে জারিয়া। সেই বর্ণনাগুলো (روايات) হলো:
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
1 - روى الإمام البخاري بسنده عن عطاء عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى على النجاشي فكنت في الصف الثاني أو الثالث" (1).
2 - وروى الإمام البخاري بسنده عن عطاء أنه سمع جابر بن عبد الله رضي الله عنهما يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قد توفي اليوم رجل صالح من الحبش فهلم فصلوا عليه قال فصففنا فصلى النبي صلى الله عليه وسلم عليه ونحن صفوف" (2).
3 - وروى الإمام البخاري بسنده عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: نعى النبي صلى الله عليه وسلم النجاشي ثم تقدم فصفوا خلفه فكبر أربعاً" (3).
4 - وفي رواية أخرى عند البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: نعى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم النجاشي صاحب الحبشة اليوم الذي مات فيه فقال استغفروا لأخيكم" (4).
5 - وفي رواية أخرى عند البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: إن النبي صلى الله عليه وسلم صف بهم بالمصلى فكبر عليه أربعاً" (5).
--------------------------------------------
1 - ইমাম বুখারি তাঁর সনদ (سند) সহকারে আতা হতে এবং তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশির জানাজা আদায় করেছেন; তখন আমি "দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় কাতারে ছিলাম" (১)।
2 - ইমাম বুখারি তাঁর সনদ (سند) সহকারে আতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আজ হাবশার (আবিসিনিয়া) এক নেককার লোক ইন্তেকাল করেছেন, সুতরাং তোমরা এসো এবং তাঁর জানাজা আদায় করো।" তিনি (জাবির) বলেন, "অতঃপর আমরা কাতারবদ্ধ হলাম এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জানাজা পড়ালেন আর আমরা কাতারবদ্ধ ছিলাম" (২)।
3 - ইমাম বুখারি তাঁর সনদ (سند) সহকারে আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশির মৃত্যুর খবর প্রদান করেন, অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে যান এবং সাহাবীগণ তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হন, এরপর তিনি চার তাকবির প্রদান করেন" (৩)।
4 - বুখারির অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-য় আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবশার অধিপতি নাজ্জাশির মৃত্যুর দিনেই আমাদের কাছে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দেন এবং বলেন, "তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো" (৪)।
5 - বুখারির অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-য় আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের নিয়ে জানাজার স্থানে (মুসাল্লা) কাতারবদ্ধ হলেন এবং তাঁর ওপর চার তাকবির প্রদান করলেন" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
6 - وروى الإمام مسلم بسنده عن أبي الزبير عن جابر ابن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "إن أخا لكم قد مات فقوموا فصلوا عليه. قال فقمنا فصفنا صفين" (1).
7 - وروى الامام مسلم بسنده عن ابن شهاب عن سعيد بن المسيب وأبي سلمة بن عبد الرحمن أنهما حدثاه عن أبي هريرة أنه قال: نعى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم النجاشي صاحب الحبشة في اليوم الذي مات فيه فقال: إستغفروا لأخيكم" (2).
8 - وفي رواية أخرى عند مسلم عن سعيد بن المسيب أن أبا هريرة رضي الله عنه حدثه ان الرسول عليه الصلاة والسلام صف بهم بالمصلى فصلى فكبر عليه أربع تكبيرات" (3)
9 - وروى الامام مسلم بسنده عن سعيد بن ميناء عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى على أصحمة النجاشي فكبر عليه أربعاً" (4).
10 - وروى الامام مسلم بسنده عن عطاء عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مات اليوم عبد لله صالح أصحمة فأمنا وصلى عليه" (5).
11 - وروى الامام مسلم بسنده عن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن اخا لكم قد مات فقوموا فصلوا عليه. يعني النجاشي، وفي رواية زهير
… "إن أخاكم" (6).
--------------------------------------------
৬ - ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (سند) সহকারে আবুয যুবাইর থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের এক ভাই মৃত্যুবরণ করেছেন, সুতরাং ওঠো এবং তাঁর জানাজা পড়ো।" তিনি বলেন, "অতঃপর আমরা দাঁড়ালাম এবং দুই কাতারে সারিবদ্ধ হলাম" (১)।
৭ - ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (سند) সহকারে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে আবু হুরায়রা থেকে তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (আবু হুরায়রা) বলেন: আবিসিনিয়ার অধিপতি নাজ্জাশী যে দিন মৃত্যুবরণ করেন, সে দিনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে তাঁর মৃত্যুসংবাদ দিলেন এবং বললেন, "তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো" (২)।
৮ - মুসলিম-এর অপর একটি বর্ণনায় (رواية) সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে নিয়ে ঈদগাহে সারিবদ্ধ হলেন এবং জানাজা পড়ালেন, অতঃপর তাঁর ওপর চারটি তাকবির পাঠ করলেন (৩)
৯ - ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (سند) সহকারে সাঈদ ইবনে মীনা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসহামাহ আন-নাজ্জাশীর জানাজা পড়িয়েছেন এবং তাঁর ওপর চারটি তাকবির পাঠ করেছেন (৪)।
১০ - ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (سند) সহকারে আতা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আজ আল্লাহর একজন নেককার বান্দা আসহামাহ ইন্তেকাল করেছেন।" অতঃপর তিনি আমাদের ইমামতি করলেন এবং তাঁর জানাজা পড়ালেন (৫)।
১১ - ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (سند) সহকারে ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের এক ভাই মৃত্যুবরণ করেছেন, সুতরাং ওঠো এবং তাঁর জানাজা পড়ো।" অর্থাৎ নাজ্জাশী; আর যুহাইরের বর্ণনায় (رواية)... "তোমাদের ভাই" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
12 - وعن حذيفة بن أسيد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جاء ذات يوم فقال: صلوا على أخ لكم مات بغير أرضكم قالوا من هو يا رسول الله؟ قال: أصحمة النجاشي، فقاموا فصلوا عليه" رواه أحمد واللفظ له وابن ماجة والطيالسي بسند صحيح كما قال الشيخ الألباني وقال في موضع آخر صحيح (1).
13 - وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إن اخاكم النجاشي قد مات فقوموا فصلوا عليه قال: فنهض ونهضنا حتى انتهى إلى البقيع فتقدم وصففنا خلفه فكبر عليه أربعا" رواه أحمد وابن ماجة والطيالسي وأصله في الصحيحين. (2).
14 - وعن مجمع بن جارية رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان أخا لكم قد مات فقوموا فصلوا عليه فصففنا صفين" رواه أحمد وابن ماجة وابن أبي شيبة بسند صحيح كما قال الشيخ الألباني وقال في الزوائد: اسناده صحيح ورجاله ثقات (3).
15 - وعن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: أنبأنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أخاكم النجاشي توفي فقوموا فصلوا عليه فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم وصفوا خلفه
--------------------------------------------
12 - হুযাইফা ইবনে আসীদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) একদিন আসলেন এবং বললেন: "তোমরা তোমাদের এমন এক ভাইয়ের জানাযার নামাজ পড়ো যে তোমাদের ভূখণ্ড ছাড়া অন্য স্থানে মৃত্যুবরণ করেছে।" তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! তিনি কে?" তিনি বললেন: "আসহামাহ আন-নাজাশী।" অতঃপর তারা দাঁড়ালেন এবং তাঁর জানাযার নামাজ আদায় করলেন। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁর, এছাড়া ইবনে মাজাহ ও তায়ালিসি এটি একটি বিশুদ্ধ সনদ (سند صحيح) সহকারে বর্ণনা করেছেন যেমনটি শেখ আলবানী বলেছেন এবং তিনি অন্য স্থানে একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। (1).
13 - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের ভাই নাজাশী মৃত্যুবরণ করেছেন, সুতরাং তোমরা দাঁড়াও এবং তাঁর জানাযার নামাজ আদায় করো।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি উঠলেন এবং আমরাও উঠলাম, শেষ পর্যন্ত তিনি আল-বাকী পর্যন্ত পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং আমরা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলাম। তিনি তাঁর ওপর চারটি তাকবীর দিলেন। এটি আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল অংশ সহীহাইন-এ রয়েছে। (2).
14 - মুজাম্মি' বিন জারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের এক ভাই মৃত্যুবরণ করেছেন, সুতরাং তোমরা দাঁড়াও এবং তাঁর জানাযার নামাজ আদায় করো।" অতঃপর আমরা দুই কাতারে কাতারবদ্ধ হলাম। এটি আহমাদ, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে আবি শায়বাহ একটি বিশুদ্ধ সনদ (سند صحيح) সহকারে বর্ণনা করেছেন যেমনটি শেখ আলবানী বলেছেন এবং তিনি আয-যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ বিশুদ্ধ (اسناده صحيح) এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। (3).
15 - ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের সংবাদ দিলেন যে, তোমাদের ভাই নাজাশী ইন্তেকাল করেছেন, সুতরাং তোমরা দাঁড়াও এবং তাঁর জানাযার নামাজ আদায় করো। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সা.) দাঁড়ালেন এবং তারা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكبر أربعاً وهم لا يظنون إلا أن جنازته بين يديه" رواه ابن حبان وإسناده صحيح كما قال الشيخ الأرناؤوط ورواه أحمد بنحوه (1).
16 - وفي رواية لأحمد "وما نحسب الجنازة إلا موضوعة بين يديه" قال الشيخ الألباني وإسناده صحيح متصل (2).
17 - وفي رواية للترمذي "فقما فصففنا كما يصف على الميت وصلينا عليه كما يصلىعلى الميت" قال الشيخ الألباني صحيح (3).
18 - وعن جرير بن عبد الله رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن اخاكم النجاشي قد مات فإستغفروا له" رواه أحمد وسنده جيد (4) وقال الهيثمي: رواه الطبراني في الكبير ورجاله ثقات (5).
19 - وعن ابن عباس رضي الله عنهما ان رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى على النجاشي" رواه أحمد (6).
وقال الهيثمي وفيه رجل لم يسم (7).
20 - وعن ابن عمر رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم صلى على النجاشي فكبر عليه أربعاً" رواه ابن ماجة والبزار والطبراني في الأوسط ورجال الطبراني رجال الصحيح كما قال الهيثمي (8) وقال في الزوائد: اسناده صحيح ورجاله ثقات (9).
--------------------------------------------
"এবং তিনি চার তাকবির দিলেন, আর তারা কেবল এটাই ভাবছিলেন যে তাঁর জানাজা তাঁর সামনেই রাখা আছে।" এটি ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহিহ (صحيح), যেমনটি শাইখ আরনাউত বলেছেন; এবং ইমাম আহমাদও অনুরুপ বর্ণনা করেছেন (১)।
১৬ - আহমাদের এক বর্ণনায় রয়েছে, "আমরা জানাজাকে তাঁর সামনে রাখা ছাড়া অন্য কিছু মনে করিনি।" শাইখ আলবানি বলেছেন, এর সনদ সহিহ (صحيح) ও মুত্তাসিল (متصل) (২)।
১৭ - তিরমিজির এক বর্ণনায় রয়েছে, "অতঃপর আমরা দাঁড়ালাম এবং মৃত ব্যক্তির জন্য যেভাবে কাতারবদ্ধ হওয়া হয় সেভাবে কাতারবদ্ধ হলাম এবং তাঁর ওপর জানাজা পড়লাম যেভাবে মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়া হয়।" শাইখ আলবানি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন (৩)।
১৮ - জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের ভাই নাজাসি ইন্তেকাল করেছেন, সুতরাং তোমরা তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ জাইয়্যিদ (جيد) (৪)। হাইসামি বলেন: তাবারানি এটি আল-কাবিরে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) (৫)।
১৯ - ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাজাশির জানাজা পড়েছেন। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (৬)।
হাইসামি বলেন, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি (৭)।
২০ - ইবনে উমর (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাজাশির জানাজা পড়েছেন এবং তাতে চার তাকবির দিয়েছেন। এটি ইবনে মাজাহ, বাযযার এবং তাবারানি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন; আর তাবারানির বর্ণনাকারীগণ সহিহ (الصحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী, যেমনটি হাইসামি বলেছেন (৮)। তিনি আয-যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ সহিহ (صحيح) এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২১)
21 - وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى على النجاشي حين نعي. فقيل يا رسول الله تصلي على عبد حبشي فأنزل الله عز وجل {وإن من أهل الكتاب لمن يؤمن بالله} الآية. رواه البزار والطبراني في الأوسط ورجال الطبراني ثقات كما قال الهيثمي (1).
22 - وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال لما قدم على النبي صلى الله عليه وسلم وفاة النجاشي قال اخرجوا فصلوا على أخ لكم لم تروه قط فخرجنا وتقدم النبي صلى الله عليه وسلم وصفنا خلفه فصلى وصلينا فلما إنصرفنا قال المنافقون إنظروا إلى هذا خرج فصلى على علج نصراني لم يره قط فأنزل الله تعالى {وإن من أهل الكتاب لمن يؤمن بالله
… الخ الآية} قال الهيثمي: رواه الطبراني في الأوسط وفيه عبد الرحمن بن أبي الزناد وهو ضعيف. وقال الساعاتي: وله شاهد يقويه (2). يشير إلى حديث أنس السابق.
ويضاف إلى ما سبق أحاديث أخرى وردت في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم على النجاشي ساقها الهيثمي وتكلم عليها (3).
--------------------------------------------
21 - আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাজ্জাশির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর তাঁর জানাজার নামাজ আদায় করলেন। তখন বলা হলো, "হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি একজন আবিসিনীয় ক্রীতদাসের জানাজা পড়ছেন?" তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা নাযিল করলেন: {আর নিশ্চয়ই আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে...} আয়াতাংশ। এটি আল-বাজার এবং আল-তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আল-তাবারানির বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات), যেমনটি হাইসামি উল্লেখ করেছেন (১)।
22 - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে নাজ্জাশির মৃত্যুর খবর পৌঁছাল, তিনি বললেন, "তোমরা বের হও এবং তোমাদের এমন এক ভাইয়ের জানাজা পড় যাকে তোমরা কখনও দেখনি।" অতঃপর আমরা বের হলাম এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সামনে এগিয়ে গেলেন এবং আমরা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলাম। তিনি নামাজ পড়লেন এবং আমরাও নামাজ পড়লাম। যখন আমরা ফিরে এলাম, মুনাফিকরা বলতে লাগল, "এর দিকে তাকাও, সে বের হয়ে এমন এক অবিশ্বাসী খ্রিস্টানের জানাজা পড়েছে যাকে সে কখনও দেখেনি।" তখন আল্লাহ তায়ালা নাযিল করলেন: {আর নিশ্চয়ই আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে... পুরো আয়াত}। হাইসামি বলেন: এটি আল-তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে আব্দুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল (ضعيف)। আস-সাআতি বলেন: এর একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে (২)। তিনি আনাস (রা.)-এর পূর্ববর্তী হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক নাজ্জাশির জানাজা আদায় সংক্রান্ত আরও কিছু হাদিস যুক্ত করা যেতে পারে যা হাইসামি উদ্ধৃত করেছেন এবং সেগুলোর উপর পর্যালোচনা করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثانياً: الروايات الواردة في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم على معاوية بن معاوية الليثي أو المزني:-
1 - قال البيهقي (أخبرنا أبو محمد بن عبد الله بن يوسف من أصل كتابه أنبأ أبو سعيد الاعرابي أنبأ الحسن بن محمد الزعفراني نبأنا يزيد بن هارون أنبأ العلاء أبو محمد، قال: سمعت أنس بن مالك رضي الله عنه قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بتبوك فطلعت الشمس بضياء ونور وشعاع لم أرها طلعت فيما مضى فأتى جبرئيل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا جبرئيل مالي أرى الشمس طلعت بضياء ونور وشعاع لم أرها طلعت فيما مضى فقال ذاك أن معاوية بن معاوية الليثي مات بالمدينة اليوم فبعث الله عز وجل إليه سبعين ألف ملك يصلون عليه قال: وفيم ذلك؟ قال: كان يكثر قراءة قل هو الله أحد بالليل والنهار وفي ممشاه وقيامه وقعوده فهل لك يا رسول الله أن أقبض لك الأرض فتصلي عليه قال نعم فصلى عليه ثم رجع).
قال البيهقي (العلاء هذا - أحد رجال السند - هو ابن زيد ويقال ابن زيدل يحدث عن أنس بن مالك بمناكير. أخبرنا أبو سعد الماليني أنبأ أبو أحمد بن عدي ثنا الجنيدي ثنا البخاري قال: العلاء بن زيد أبو محمد الثقفي عن أنس روى عنه يزيد بن هارون منكر الحديث) (1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আল-লাইসি অথবা আল-মুজানি-এর জানাজার সালাত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক আদায় করা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো:-
১ - ইমাম বায়হাকি বলেন (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ তার মূল পাণ্ডুলিপি থেকে, আমাদের অবহিত করেছেন আবু সাঈদ আল-আরাবি, আমাদের অবহিত করেছেন হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আজ-জাফরানি, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আমাদের অবহিত করেছেন আলা আবু মুহাম্মাদ, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাবুক যুদ্ধে ছিলাম। তখন সূর্য এমন দীপ্তি, নূর ও রশ্মি নিয়ে উদিত হলো যা আমি ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি। অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন: হে জিবরাঈল! আমি সূর্যকে এমন দীপ্তি, নূর ও রশ্মি নিয়ে উদিত হতে দেখছি কেন যা আমি ইতিপূর্বে দেখিনি? তিনি বললেন: এর কারণ হলো, আজ মদিনায় মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আল-লাইসি ইন্তেকাল করেছেন। ফলে মহান আল্লাহ তাঁর জানাজার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন: এটি কিসের বিনিময়ে? তিনি বললেন: তিনি দিবা-রাত্রি এবং তাঁর চলাফেরা, দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় অধিক পরিমাণে 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) তিলাওয়াত করতেন। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে আমি আপনার জন্য জমিনকে সংকুচিত করে দিই যাতে আপনি তাঁর জানাজা পড়তে পারেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তাঁর জানাজা পড়লেন এবং ফিরে আসলেন)।
ইমাম বায়হাকি বলেন (এই আলা —যিনি সনদের অন্যতম রাবি— তিনি হলেন ইবনে জায়েদ, তাঁকে ইবনে যায়দালও বলা হয়। তিনি আনাস ইবনে মালিকের বরাতে অগ্রহণযোগ্য (مناكير) বর্ণনা পেশ করেন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আল-মালিনি, আমাদের অবহিত করেছেন আবু আহমদ ইবনে আদি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-জুনিদি, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইমাম বুখারি। তিনি বলেন: আলা ইবনে জায়েদ আবু মুহাম্মাদ আস-সাকাফি, যিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন এবং যাঁর থেকে ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি হচ্ছেন অগ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী (منكر الحديث))। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
2 - وقال البيهقي أيضا (أخبرنا أبو الحسين بن الفضل القطان ببغداد أنبأ أبو سهل بن زياد القطان ثنا إسماعيل بن اسحق القاضي ثنا عثمان بن الهيثم ثنا محبوب بن هلال عن ابن أبي ميمونة يعني عطاء عن انس بن مالك قال نزل جبريل عليه السلام فقال يا محمد: مات معاوية بن معاوية المزني أفتحب أن تصلي عليه قال نعم قال فضرب جبريل عليه السلام بجناحه فلم تبق شجرة ولا أكمة الا تضعضعت ورفع له سريره حتى نظر إليه وصلى عليه وخلفه صفان من الملائكة كل صف سبعون الف ملك. فقال النبي صلى الله عليه وسلم لجبريل عليه السلام يا جبريل: بما نال هذه المنزلة فقال بحبه قل هو الله أحد وقراءته إياها جائياً وذاهباً وقائماً وقاعداً). أخبرنا أبو سعد الماليني أنبا أبو أحمد بن عدي الحافظ قال محبوب بن هلال مزني عن عطاء بن أبي ميمونة عن أنس نزل جبريل عليه السلام لا يتابع عليه سمعت ابن حماد يذكره عن البخاري) (1).
3 - وذكر الهيثمي رواية أخرى لحديث أنس المتقدم وقال (رواه أبو يعلى والطبراني في الكبير وفي إسناد أبي يعلى محمد بن إبراهيم بن العلاء وهو ضعيف جدا. وفي إسناد الطبراني محبوب بن هلال قال الذهبيي لا يعرف وحديثه منكر) (2).
--------------------------------------------
2 - এবং আল-বায়হাকি আরও বলেছেন (আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আল-ফজল আল-কাত্তান বাগদাদে, সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল বিন যিয়াদ আল-কাত্তান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ইসহাক আল-কাদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আল-হাইসাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাহবুব বিন হিলাল, ইবনে আবি মাইমুনাহ অর্থাৎ আতা থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম অবতরণ করলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, মুয়াবিয়া বিন মুয়াবিয়া আল-মুজানি ইন্তেকাল করেছেন, আপনি কি তাঁর জানাযার সালাত আদায় করতে পছন্দ করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর ডানা দিয়ে আঘাত করলেন, ফলে এমন কোনো গাছ বা টিলা অবশিষ্ট থাকল না যা অবনমিত হয়নি এবং তাঁর খাটিয়াটি তাঁর সামনে তুলে ধরা হলো যতক্ষণ না তিনি সেটি দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর জানাযা আদায় করলেন এবং তাঁর পেছনে ফেরেশতাদের দুটি কাতার ছিল, প্রতি কাতারে সত্তর হাজার ফেরেশতা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে বললেন: হে জিবরাঈল, কিসের বিনিময়ে সে এই মর্যাদা লাভ করল? তিনি বললেন: ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ (সুরা ইখলাস)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে এবং আসা-যাওয়া, দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় তাঁর এটি পাঠ করার কারণে)। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ আল-মালিনি, সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ বিন আদি আল-হাফিজ, তিনি বলেন: মাহবুব বিন হিলাল আল-মুজানি, আতা বিন আবি মাইমুনাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের অবতরণ বিষয়ে যা বর্ণনা করেছেন তা সমর্থিত নয় বা একক (لا يتابع عليه); আমি ইবনে হাম্মাদকে এটি ইমাম বুখারি থেকে উল্লেখ করতে শুনেছি) (১)।
3 - এবং আল-হাইসামি আনাস থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসটির অন্য একটি বর্ণনা উল্লেখ করে বলেছেন (এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা এবং আল-মুজাম আল-কাবিরে আত-তাবারানি। আবু ইয়ালার সনদে মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-আলা রয়েছেন এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)। আর আত-তাবারানির সনদে মাহবুব বিন হিলাল রয়েছেন; ইমাম যাহাবি বলেছেন, তিনি অপরিচিত (لا يعرف) এবং তাঁর বর্ণিত হাদিস প্রত্যাখ্যাত (منكر)) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
4 - وعن أبي أمامة رضي الله عنه قال: أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل وهو بتبوك فقال يا محمد إشهد جنازة معاوية بن معاوية المزني فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ونزل جبريل في سبعين ألفاً من الملائكة فوضع جناحه الأيمن على الجبال فتواضعت ووضع جناحه الأيسر على الأرضين فتواضعن حتى نظر إلى مكة والمدينة فصلى عليه رسول الله وجبريل والملائكة فلما فرغ قال يا جبريل بما بلغ معاوية بن معاوية المزني هذه المنزلة. قال بقراءة قل هو الله أحد قائما وقاعدا وراكبا وماشيا) رواه الطبراني في الكبير والأوسط وفيه نوح بن عمر. قال ابن حبان: يقال إنه سرق هذا الحديث. قلت: ليس هذا بضعف في الحديث وفيه بقية وهو مدلس وليس فيه علة غير هذا قاله الهيثمي (1).
5 - وعن معاوية ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان غازيا بتبوك فأتاه جبريل فقال يا محمد: هل لك في جنازة معاوية بن معاوية؟ فقال: نعم، فقال جبريل بيده هكذا ففرج له عن الجبال والاكام فجاء رسول الله يمشي ومعه جبريل ومع جبريل سبعون الف ملك فصلى على معاوية بن معاوية فقال رسول الله لجبريل بم بلغ معاوية هذا؟ قال: بكثرة قراءة قل هو الله احد كان يقرؤها قائما وقاعدا وراقدا فبهذا بلغ ما بلغ) رواه الطبراني في الكبير وفيه صدقة بن أبي سهل ولم أعرفه وبقية رجاله ثقات قاله الهيثمي (2).
--------------------------------------------
4 - আবু উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবুকে থাকাকালীন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন, ‘হে মুহাম্মদ! মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আল-মুজানি-এর জানাজায় উপস্থিত হোন।’ এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং জিবরাঈল সত্তর হাজার ফেরেশতা নিয়ে অবতরণ করলেন। তিনি তাঁর ডান ডানা পাহাড়গুলোর ওপর রাখলেন, ফলে সেগুলো অবনমিত হলো এবং তাঁর বাম ডানা জমিনগুলোর ওপর রাখলেন, ফলে সেগুলোও অবনমিত হলো, এমনকি মক্কা ও মদিনা দৃষ্টিগোচর হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ, জিবরাঈল এবং ফেরেশতারা তাঁর জানাজা পড়লেন। জানাজা শেষ করে তিনি বললেন, ‘হে জিবরাঈল! মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আল-মুজানি কোন আমলের কারণে এই স্তরে পৌঁছালেন?’ তিনি বললেন, ‘দাঁড়িয়ে, বসে, সওয়ার অবস্থায় এবং হাঁটা অবস্থায় ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করার মাধ্যমে।’ এটি তাবারানি আল-কাবীর এবং আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে নূহ ইবনে উমর রয়েছেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: ‘বলা হয় যে, তিনি এই হাদিসটি চুরি করেছেন।’ আমি (হাইসামি) বলছি: হাদিসের ক্ষেত্রে এটি কোনো দুর্বলতা (ضعف) নয়। এর সনদে বাকিয়্যাহ রয়েছেন এবং তিনি একজন পরিচয় গোপনকারী (مدلس); এছাড়া এতে অন্য কোনো ত্রুটি (علة) নেই। হাইসামি এটি বলেছেন (১)।
5 - মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবুক যুদ্ধে থাকাকালীন জিবরাঈল তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন, ‘হে মুহাম্মদ! আপনি কি মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়ার জানাজায় শরিক হতে চান?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ তখন জিবরাঈল তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন এবং তাঁর জন্য পাহাড় ও টিলাগুলো উন্মুক্ত করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ হেঁটে আসলেন, তাঁর সাথে জিবরাঈল ছিলেন এবং জিবরাঈলের সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা ছিল। এরপর তিনি মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়ার জানাজা পড়লেন। রাসূলুল্লাহ জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মুয়াবিয়া কিসের মাধ্যমে এই স্তরে পৌঁছালেন?’ তিনি বললেন, ‘অধিক পরিমাণে ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি এটি দাঁড়িয়ে, বসে এবং শয়ন অবস্থায় পাঠ করতেন। এরই মাধ্যমে তিনি যা লাভ করার তা লাভ করেছেন।’ এটি তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে সাদাকা ইবনে আবি সাহল রয়েছেন যাকে আমি চিনি না, তবে এর বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)। হাইসামি এটি বলেছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
هذه الروايات التي وقفت عليها في قصة صلاة النبي عليه الصلاة والسلام على معاوية بن معاوية وقد تكلم علماء الحديث عليها كلاما طويلا في نقدها وبينوا ضعفها وأنها لا تصلح للاستدلال في باب الأحكام الشرعية ومن أهم ما قاله المحدثون في نقد هذه الروايات ما قاله الحافظ ابن حجر في ترجمة معاوية بن معاوية المزني أنقله لأهميته حيث قال الحافظ (معاوية بن معاوية المزني ذكره البغوي وجماعة وقالوا مات في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وردت قصته من حديث أبي أمامة وأنس مسندة ومن طريق سعيد بن المسيب والحسن البصري مرسلة.
فأخرج الطبراني ومحمد بن أيوب بن الضريس في فضائل القرآن وسمويه في فوائده وابن منده والبيهقي في الدلائل كلهم من طريق محبوب بن هلال عن عطاء بن أبي ميمونة عن أنس بن مالك قال نزل جبريل - ثم ساق حديث أنس المتقدم ..... وأول حديث ابن الضريس كان النبي صلى الله عليه وسلم بالشام ومحبوب قال أبو حاتم ليس بالمشهور، وذكره ابن حبان في الثقات.
وأخرجه إبن سنجر في مسنده وابن الأعرابي وابن عبد البر. ورويناه بعلو في فوائد حاجب الطوسي كلهم من طريق يزيد بن هارون أنبأنا العلاء أبو محمد الثقفي سمعت أنس بن مالك يقول
… فذكر نحوه .. والعلاء أبو محمد هو ابن زيد الثقفي واهٍ وأخطأ في قوله الليثي. وله طريق ثالثة عن أنس ذكرها ابن منده من رواية أبي عتاب في الدلائل عن يحيى بن أبي محمد
এই বর্ণনাগুলো (روايات), যা আমি মুআবিয়াহ বিন মুআবিয়াহর ওপর নবী (সা.)-এর জানাজার সালাত আদায়ের ঘটনার বর্ণনার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি, হাদিস বিশারদগণ এগুলোর সমালোচনা (نقد) করতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তাঁরা এগুলোর দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো শরয়ি আহকামের ক্ষেত্রে দলিল (استدلال) হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী নয়। এই বর্ণনাগুলোর সমালোচনা (نقد) সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণ যা বলেছেন তার মধ্যে হাফিজ ইবনে হাজার মুআবিয়াহ বিন মুআবিয়াহ আল-মুজানির জীবনীতে (ترجمة) যা বলেছেন তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্ব বিবেচনা করে আমি তা এখানে উদ্ধৃত করছি। হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন: "মুআবিয়াহ বিন মুআবিয়াহ আল-মুজানিকে বাগাভি এবং একদল আলিম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন যে তিনি নবী (সা.)-এর যুগে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর ঘটনাটি আবু উমামা ও আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত (مسندة) সনদে এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও হাসান বসরির সূত্রে বিচ্ছিন্ন (مرسلة) সনদে বর্ণিত হয়েছে।
তাবারানি, মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে আদ-দুরিস তাঁর 'ফাদায়িলুল কুরআন' গ্রন্থে, সামুওয়াইহি তাঁর 'ফাওয়াইদ'-এ এবং ইবনে মানদাহ ও বায়হাকি তাঁর 'দালাইল' গ্রন্থে—তাঁরা সকলে মাহবূব ইবনে হিলালের সূত্রে আতা ইবনে আবি মাইমুনাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, জিবরাইল (আ.) অবতরণ করলেন—অতঃপর তিনি আনাস (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন...। ইবনে আদ-দুরিসের হাদিসের প্রথমাংশ ছিল: নবী (সা.) তখন শাম দেশে ছিলেন। আর মাহবূব সম্পর্কে আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সুপরিচিত নন (ليس بالمشهور), তবে ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) তালিকায় উল্লেখ করেছেন।
ইবনে সাঞ্জার তাঁর মুসনাদে এবং ইবনুল আরাবি ও ইবনে আবদুল বার এটি বর্ণনা করেছেন। আমরা হাজিব আত-তুসির 'ফাওয়াইদ'-এ উচ্চ সনদে (بعلو) এটি বর্ণনা করেছি; তাঁরা সকলে ইয়াজিদ ইবনে হারুনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলা আবু মুহাম্মদ আস-সাকাফি, আমি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে বলতে শুনেছি
… অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেন। আর এই আলা আবু মুহাম্মদ হলেন ইবনে জাইদ আস-সাকাফি, তিনি অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ) এবং তাঁর 'লাইসি' বলার ক্ষেত্রে তিনি ভুল করেছেন। আনাস (রা.) থেকে এর তৃতীয় একটি সূত্র (طريق) রয়েছে যা ইবনে মানদাহ আবু আত্তাবের বর্ণনা থেকে 'দালাইল' গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে আবি মুহাম্মদের সূত্রে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عنه قال ورواه نوح بن عمرو عن بقية عن محمد بن زياد عن أبي أمامة نحوه.
قلت: وأخرجه أبو أحمد الحاكم في فوائده والطبراني في مسند الشاميين والخلال في فضائل قل هو الله أحد وابن عبد البر جميعا من طريق نوح فذكر نحوه ..
وقال ابن حبان في ترجمة العلاء الثقفي من الضعفاء بعد أن أنكر له هذا الحديث سرقه شيخ من اهل الشام فرواه عن بقية فذكره. قلت: فما أدري عنى نوحاً أو غيره فإنه لم يذكر نوحاً في الضعفاء.
وأما طريق سعيد المرسلة فرويناها في فضائل القرآن لابن الضريس من طريق علي بن يزيد بن جدعان عنه.
وأما طريق الحسن البصري فأخرجها البغوي وابن منده من طريق صدقة بن أبي سهل عن يونس بن عبيد عن الحسن عن معاوية بن معاوية المزني .. فذكر الحديث وهذا مرسل
…قال ابن عبد البر: أسانيد هذا الحديث ليست بالقوية ولو أنها في الأحكام لم يكن في شيء منها حجة ومعاوية بن مقرن المزني معروف هو وأخويه وأما معاوية بن معاوية فلا أعرفه) (1).
وقال الإمام الذهبي في الميزان العلاء بن زيد الثقفي بصري روى عن أنس، قال ابن المديني، يضع الحديث وقال أبو حاتم والدارقطني: متروك الحديث.
--------------------------------------------
তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নূহ ইবনে আমর এটি বাকিয়্যাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আবু আহমদ আল-হাকিম তাঁর ফাওয়াইদ গ্রন্থে, তাবারানি মুসনাদ আশ-শামিয়্যীন গ্রন্থে, আল-খাল্লাল ফাদাইল কুল হুয়াল্লাহু আহাদ গ্রন্থে এবং ইবনে আবদিল বার—তাঁরা সকলে নূহের সূত্র থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
ইবনে হিব্বান আলা আস-সাকাফির জীবনীতে দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের আলোচনার মধ্যে এই হাদিসটিকে তাঁর জন্য বর্জনীয় (أنكر) হিসেবে গণ্য করার পর বলেছেন, "শাম অঞ্চলের এক শায়খ এটি চুরি করেছেন এবং তিনি এটি বাকিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।" অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। আমি বলছি: তিনি নূহকে বুঝিয়েছেন নাকি অন্য কাউকে তা আমি জানি না, কারণ তিনি নূহকে দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেননি।
সাঈদের বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রটির ব্যাপারে কথা হলো, আমরা ইবনে আদ-দারিসের ফাদাইলুল কুরআন গ্রন্থে আলী ইবনে ইয়াযিদ ইবনে জাদআনের মাধ্যমে তাঁর থেকে তা বর্ণনা করেছি।
হাসান বসরীর সূত্রের ব্যাপারে কথা হলো, বগভী এবং ইবনে মানদাহ এটি সাদাকা ইবনে আবি সাহলের সূত্রে ইউনুস ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি মুআবিয়া ইবনে মুআবিয়া আল-মুযানী থেকে বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। আর এটি হলো বিচ্ছিন্ন (مرسل)
…ইবনে আবদিল বার বলেন: "এই হাদিসের সনদসমূহ শক্তিশালী (قوية) নয়। যদি এগুলো বিধান সংক্রান্ত বিষয়ে হতো, তবে এগুলোর কোনোটিই দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হতো না। মুআবিয়া ইবনে মুকরিন আল-মুযানী এবং তাঁর দুই ভাই সুপরিচিত, কিন্তু মুআবিয়া ইবনে মুআবিয়াকে আমি চিনি না।" (১)।
ইমাম যাহাবী আল-মিজান গ্রন্থে বলেন: আলা ইবনে যাইদ আস-সাকাফি বসরার অধিবাসী, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আল-মাদিনী বলেন: তিনি হাদিস জাল (يضع) করেন। আবু হাতিম এবং দারাকুতনী বলেন: তিনি হাদিস বর্জনীয় (متروك الحديث)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال البخاري وغيره: منكر الحديث.
وقال إبن حبان: روى عن أنس نسخة موضوعة منها الصلاة بتبوك صلاة الغائب على معاوية بن معاوية الليثي. قال ابن حبان وهذا منكر ولا احفظ في أصحاب رسول الله هذا. والحديث سرقه شيخ شامي فرواه عن بقية عن محمد بن زياد عن أبي أمامة (1).
وقال الامام النووي (وأما حديث العلاء بن زيدل ويقال ابن زيد عن انس أنهم كانوا في تبوك فأخبر جبريل النبي بموت معاوية بن معاوية في ذلك اليوم وأنه قد نزل عليه سبعون ألف ملك يصلون عليه فطويت الأرض حتى ذهب فصلى عليه ورجع. فهو حديث ضعيف ضعفه الحفاظ منهم البخاري في تاريخه والبيهقي واتفقوا على ضعف العلاء هذا وأنه منكر الحديث) (2).
وقال العلامة ابن القيم (وقد روي عنه أنه صلى على معاوية بن معاوية الليثي وهو غائب ولكن لا يصح فإن في إسناده العلاء بن زيد ويقال ابن زيدل. قال علي بن المديني. كان يضع الحديث ورواه محبوب بن هلال عن عطاء بن أبي ميمونة عن أنس قال البخاري لا يتابع عليه) (3).
وذكر إبن كثير حديث العلاء عن أنس كما رواه أبو يعلى أيضاً ثم قال (وكذا رواه الحافظ أبو بكر البيهقي في كتاب دلائل النبوة من طريق يزيد بن هارون عن العلاء بن محمد وهو
--------------------------------------------
ইমাম বুখারি এবং অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি অগ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী (منكر الحديث)।
ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি আনাস (রা.)-এর সূত্রে একটি বানোয়াট (موضوعة) পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে তাবুকে অবস্থানকালে মুআবিয়া বিন মুআবিয়া আল-লাইসির ওপর অনুপস্থিত জানাজার নামাজ। ইবনে হিব্বান বলেন, এটি অগ্রহণযোগ্য (منكر) এবং রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের ব্যাপারে আমি এ ধরনের কোনো কিছু জানি না। এই হাদিসটি একজন শামি শায়খ চুরি করেছেন এবং তিনি এটি বকিয়্যাহ এর সূত্রে, মুহাম্মাদ বিন জিয়াদ থেকে, আবু উমামাহর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন (১)।
ইমাম নববী বলেছেন (আর আলা বিন যাইদাল — যাকে ইবনে যাইদও বলা হয় — আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি যে, তারা তাবুকে ছিলেন, তখন জিবরাঈল নবীকে সেই দিনেই মুআবিয়া বিন মুআবিয়ার মৃত্যুর সংবাদ দেন এবং জানান যে, তার ওপর সত্তর হাজার ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়ে জানাজা পড়ছেন, এরপর জমিন সংকুচিত করা হয়েছিল যাতে তিনি গিয়ে জানাজা পড়ে ফিরে আসতে পারেন—এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস। হাফেজগণ একে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বুখারি তার তারিখ গ্রন্থে এবং বায়হাকি। তারা এই আলার দুর্বলতার (ضعف) ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তিনি একজন অগ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী (منكر الحديث)) (২)।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন (বর্ণিত আছে যে, তিনি মুআবিয়া বিন মুআবিয়া আল-লাইসির ওপর অনুপস্থিত অবস্থায় জানাজা পড়েছেন, কিন্তু এটি সঠিক নয়। কারণ এর সনদে আলা বিন যাইদ — তাকে ইবনে যাইদালও বলা হয় — বিদ্যমান। আলী ইবনুল মাদিনি বলেছেন, তিনি হাদিস জাল করতেন (يضع الحديث)। মাহবুব বিন হিলাল এটি আতা বিন আবি মাইমুনার সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, যার ব্যাপারে বুখারি বলেছেন যে এটি সমর্থিত নয় (لا يتابع عليه)) (৩)।
ইবনে কাসির আবু ইয়ালা-র বর্ণনার মতো আনাস (রা.) থেকে আলা-র হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন (অনুরূপভাবে হাফেজ আবু বকর আল-বায়হাকি দালািলুন নুবুওয়াহ কিতাবে ইয়াজিদ বিন হারুনের সূত্রে আলা বিন মুহাম্মাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আর তিনি হলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
متهم بالوضع والله أعلم) (1). ثم ذكر طريقا آخر له عن أبي يعلى ثم قال (ورواه البيهقي من رواية عثمان إبن الهيثم المؤذن عن محبوب بن هلال عن عطاء بن أبي ميمونة عن أنس فذكره وهو الصواب ومحبوب بن هلال قال أبو حاتم الرازي ليس بالمشهور.
وقد روي هذا من طرق أخرى تركناها إختصاراً وكلها ضعيفة) (2).
وذكر الشوكاني أن الذهبي قال: لا نعلم في الصحابة معاوية بن معاوية (3).
وخلاصة كلام المحدثين أن قصة صلاة النبي عليه الصلاة والسلام على معاوية بن معاوية ليست ثابتة بل هي ضعيفة جداً هذا إن لم تكن مكذوبة والله أعلم.
--------------------------------------------
জালকরণের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالوضع), আর আল্লাহই ভালো জানেন) (১)। এরপর তিনি আবু ইয়ালা থেকে এর অন্য একটি সূত্র (طريق) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন (আর বায়হাকী এটি উসমান ইবনুল হাইসাম আল-মুয়াজ্জিন সূত্রে মাহবুব বিন হিলাল থেকে, তিনি আতা বিন আবি মাইমুনা থেকে এবং তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটাই সঠিক (الصواب)। আর মাহবুব বিন হিলাল সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন যে, তিনি সুপরিচিত (مشهور) নন।
আর এটি অন্যান্য সূত্র (طريق) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যা সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমরা বাদ দিয়েছি এবং তার সবকটিই দুর্বল (ضعيفة)) (২)।
আর শাওকানী উল্লেখ করেছেন যে, যাহাবী বলেছেন: সাহাবীদের মধ্যে মুয়াবিয়া বিন মুয়াবিয়া নামে কাউকে আমরা চিনি না (৩)।
মুহাদ্দিসগণের আলোচনার সারকথা হলো, মুয়াবিয়া বিন মুয়াবিয়ার ওপর নবী (সা.)-এর জানাজার সালাত আদায়ের ঘটনাটি প্রমাণিত (ثابتة) নয়; বরং এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيفة جداً), যদি তা মিথ্যা বা বানোয়াট (مكذوبة) না হয়ে থাকে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثالثاً: الروايات الواردة في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم على زيد بن حارثة وجعفر بن أبي طالب رضي الله عنهما:1 - قال الزيلعي (وغائبان آخران هما زيد بن حارثة وجعفر بن أبي طالب ورد أنه أيضاً كشف له عنهما أخرجه الواقدي في كتاب المغازي فقال حدثني محمد بن صالح عن عاصم بن عمر بن قتادة حدثني عبد الجبار بن عمارة عن عبد الله بن أبي بكر قال: لما إلتقى الناس بمؤتة جلس رسول الله على المنبر وكشف له ما بينه وبين الشام فهو ينظر إلى معركتهم فقال عليه السلام: أخذ الراية زيد بن حارثة فمضى حتى إستشهد وصلى عليه ودعا له وقال: استغفروا له وقد دخل الجنة وهو يسعى. ثم أخذ الراية جعفر بن أبي طالب فمضى حتى استشهد فصلى عليه رسول الله ودعا له وقال استغفروا له وقد دخل الجنة فهو يطير فيها بجناحين حيث شاء"
… وهو مرسل من الطريقين المذكورين (1).
وقال في عون المعبود تعليقا على الرواية السابقة (والحديث مرسل والواقدي ضعيف جدا) (2).
وهذه الرواية التي ساقها الواقدي لا تثبت صلاة الغائب على زيد وجعفر رضي الله عنهما لما يلي:
اولاً: إن هذه الرواية ضعيفة والواقدي ضعيف جدا فلا تصلح للاستدلال.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: যায়েদ ইবনে হারিসাহ এবং জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর ওপর নবী (সা.)-এর জানাযার সালাত আদায় সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো:1 - যাইলায়ী বলেন, (আরও দুইজন অনুপস্থিত ব্যক্তি হলেন যায়েদ ইবনে হারিসাহ এবং জাফর ইবনে আবি তালিব। বর্ণিত আছে যে, তাঁদের বিষয়টিও তাঁর কাছে উন্মোচিত করা হয়েছিল। ওয়াকিদি কিতাবুল মাগাজিতে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ থেকে, তিনি আবদুল জব্বার ইবনে উমারাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন মুতাহ প্রান্তরে লোকেদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) মিম্বরে বসলেন এবং তাঁর ও শামের মধ্যবর্তী পর্দা উন্মোচন করে দেওয়া হলো। ফলে তিনি তাঁদের রণক্ষেত্রের দিকে তাকাচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন: যায়েদ ইবনে হারিসাহ পতাকা গ্রহণ করেছেন এবং তিনি শহীদ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জানাযার সালাত আদায় করলেন ও তাঁর জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন: তোমরা তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো; তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেছেন এবং সেখানে বিচরণ করছেন। এরপর জাফর ইবনে আবি তালিব পতাকা গ্রহণ করলেন এবং তিনিও শহীদ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁরও জানাযার সালাত আদায় করলেন ও তাঁর জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন: তোমরা তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো; তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেছেন এবং সেখানে তিনি দুই ডানার সাহায্যে যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়াচ্ছেন)।
… এবং এটি উল্লেখিত উভয় সূত্রেই বিচ্ছিন্ন (مرسل)। (১)
আওনুল মাবুদ গ্রন্থে পূর্বোক্ত বর্ণনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলা হয়েছে, (হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং ওয়াকিদি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا))। (২)
ওয়াকিদি বর্ণিত এই বর্ণনাটি যায়েদ ও জাফর (রা.)-এর ওপর গায়েবানা জানাযার সালাত সাব্যস্ত করে না, কারণ:
প্রথমত: এই বর্ণনাটি দুর্বল (ضعيفة) এবং ওয়াকিদি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا), তাই এটি দলিল হিসেবে পেশ করার উপযুক্ত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ثانيا: إن المراد بقوله (وصلى عليه) في الموضعين اللذين وردت فيه هو الدعاء له وليست الصلاة المعروفة ويؤكد ذلك أن الروايات الصحيحة في هذه الحادثة لا ذكر فيها للصلاة المعروفة وإنما فيها أن الرسول عليه الصلاة والسلام طلب من المسلمين الاستغفار والدعاء لهما. فقد روى الامام أحمد بإسناده عن أبي قتادة رضي الله عنه بعث رسول الله جيش الأمراء وقال عليكم زيد بن حارثة فإن اصيب زيد فجعفر فإن أصيب جعفر فعبد الله بن رواحة الأنصاري فوثب جعفر فقال: بأبي أنت يا نبي الله ما كنت أرهب أن تستعمل علي زيداً. قال إمضوا فإن لا تدري أي ذلك خير. قال فإنطلق الجيش فلبثوا ما شاء الله ثم إن رسول الله صعد المنبر وأمر أن ينادى الصلاة جامعة فقال رسول الله ناب خبر أو ثاب خبر الا أخبركم عن جيشكم هذا الغازي إنهم إنطلقوا حتى لقوا العدو فأصيب زيداً شهيداً فاستغفروا له فاستغفرله الناس ثم اخذ اللواء جعفر بن أبي طالب فشد على القوم حتى قتل شهيداً إشهدوا له بالشهادة فإستغفروا له ثم أخذ اللواء عبد الله بن رواحة فأثبت قدميه حتى أصيب شهيداً فإستغفروا له ثم أخذ اللواء خالد بن الوليد .. ) ورواه النسائي والبيهقي وهو حديث صحيح رجاله ثقات) (1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: যে দুটি স্থানে ‘তিনি তার জন্য দোয়া করলেন’ (وصلى عليه) বাক্যটি এসেছে, সেখানে উদ্দেশ্য হলো তার জন্য দোয়া করা, প্রচলিত সালাত (নামাজ) নয়। এই বিষয়টি এর দ্বারা নিশ্চিত হয় যে, এই ঘটনার সহিহ (صحيحة) বর্ণনাগুলোতে প্রচলিত সালাতের কোনো উল্লেখ নেই; বরং সেগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের নিকট তাঁদের উভয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) ও দোয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। ইমাম আহমাদ তাঁর সনদ (إسناد) সহ আবু কাতাদাহ (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমিরদের একটি বাহিনী পাঠালেন এবং বললেন, তোমাদের ওপর জায়েদ ইবনে হারিসাহ আমির নিযুক্ত রইল। যদি জায়েদ শহীদ হয় তবে জাফর, আর জাফর শহীদ হলে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা আল-আনসারি আমির হবে। তখন জাফর (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আমার পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক, আমি ভাবিনি যে আপনি জায়েদকে আমার ওপর আমির নিযুক্ত করবেন।’ তিনি বললেন, ‘তোমরা এগিয়ে যাও, কারণ তোমরা জানো না কিসে কল্যাণ নিহিত রয়েছে।’ বর্ণনাকারী বলেন, বাহিনীটি চলে গেল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তারা কিছুদিন অবস্থান করল। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং সালাতের জন্য সমবেত হওয়ার (الصلاة جامعة) আহ্বান জানানোর নির্দেশ দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘একটি বড় সংবাদ এসেছে। আমি কি তোমাদের এই জিহাদী বাহিনী সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তারা অগ্রসর হয়েছে এবং শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে। অতঃপর জায়েদ শহীদ (شهيد) হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে, সুতরাং তোমরা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) করো।’ তখন মানুষ তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করল। এরপর জাফর ইবনে আবি তালিব পতাকা ধারণ করল এবং শত্রুর ওপর তীব্র আক্রমণ চালাল যতক্ষণ না সে শহীদ (شهيد) হলো। তোমরা তার শাহাদাতের সাক্ষ্য দাও এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) করো। এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা পতাকা তুলে নিল এবং যুদ্ধের ময়দানে অটল রইল যতক্ষণ না সে শহীদ (شهيد) হলো। তোমরা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار) করো। এরপর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ পতাকা গ্রহণ করল...। এটি নাসায়ি এবং বায়হাকিও বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وروى الامام البخاري بسنده عن أنس أن النبي نعى زيداً وجعفراً وابن رواحة للناس قبل أن يأتيهم خبرهم فقال أخذ الراية زيد فأصيب ثم أخذ جعفر فأصيب ثم أخذ ابن رواحة فأصيب وعيناه تذرفان حتى أخذ الراية سيف من سيوف الله حتى فتح الله عليهم) (1). وليس في هذه الرواية ذكر لصلاة الغائب.
وورد في رواية أخرى عند الواقدي وعند ابن سعد في الطبقات قوله (فصلى عليه رسول الله أي دعا له وقال إستغفروا لأخيكم قد دخل الجنة وهو يسعى) (2).
وبعد هذا العرض المفصل للروايات الواردة في صلاة الغائب يظهر لنا جلياً أن الروايات الصحيحة والمعتمدة في هذا الباب هي الروايات الواردة في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم على النجاشي فقط وأما الروايات الأخرى فلا تثبت ولا تصح كما قرر ذلك أهل الحديث.
قال الذهبي في سياق ترجمة النجاشي (وقد توفي في حياة النبي صلى الله عليه وسلم فصلى عليه بالناس صلاة الغائب. ولم يثبت انه صلى عليه الصلاة والسلام على غائب سواه) (3).
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী তাঁর সনদে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) তাঁদের নিকট সংবাদ পৌঁছানোর পূর্বেই জনগণের কাছে যায়িদ, জাফর ও ইবনে রাওয়াহার মৃত্যু সংবাদ প্রদান করেন। তিনি বললেন, "পতাকা যায়িদ গ্রহণ করল এবং সে শহীদ হলো, এরপর জাফর তা গ্রহণ করল এবং সেও শহীদ হলো, এরপর ইবনে রাওয়াহা তা গ্রহণ করল এবং সেও শহীদ হলো।" তখন তাঁর দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। (তিনি আরও বললেন) "পরিশেষে আল্লাহর তলোয়ার সমূহের মধ্য হতে এক তলোয়ার পতাকা গ্রহণ করল এবং আল্লাহ তাদের বিজয় দান করলেন।" (১)। এই বর্ণনায় গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب)-এর কোনো উল্লেখ নেই।
ওয়াকিদী এবং ইবনে সা'দ-এর আত-তাবাকাত গ্রন্থে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওপর জানাজা পড়লেন অর্থাৎ তাঁর জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন, "তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে বিচরণ করছে") (২)।
গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) সংক্রান্ত বর্ণিত বর্ণনাগুলোর এই বিস্তারিত উপস্থাপনের পর আমাদের নিকট এটি সুস্পষ্ট হয় যে, এই অধ্যায়ে সহীহ (صحيح) এবং নির্ভরযোগ্য (معتمد) বর্ণনাগুলো কেবল নাজ্জাশীর ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের বর্ণনাসমূহ। পক্ষান্তরে অন্যান্য বর্ণনাগুলো সাব্যস্ত (تثبت) হয় না এবং সহীহ (تصح) নয়, যেমনটি হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) স্থির করেছেন।
ইমাম যাহাবী নাজ্জাশীর জীবনী (ترجمة) আলোচনায় বলেন, "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় মৃত্যুবরণ করেন এবং নবী (সা.) সাহাবীদের নিয়ে তাঁর গায়েবানা জানাজা (صلاة الغائب) আদায় করেন। তিনি (সা.) নাজ্জাশী ব্যতীত অন্য কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির ওপর জানাজা পড়েছেন বলে প্রমাণিত (يثبت) হয়নি" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সালাতুল গায়েব
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المبحث الثانياختلاف الفقهاء في مشروعية صلاة الغائباختلف الفقهاء في صلاة الغائب هل هي مشروعة أم لا؟ وهذه
أقوالهم وأدلة كل قول:
القول الأول: ذهب الشافعية والحنابلة في القول المعتمد عندهم إلى أن صلاة الغائب مشروعة وجائزة في حق المسلم الذي يموت في بلد آخر فتستقبل القبلة ويصلى عليه كما يصلى على الميت الحاضر (1). وهذا قول إبن حزم الظاهري وجمهور السلف (2). وبه قال ابن حبيب من المالكية (3).
القول الثاني: وذهب الحنفية والمالكية إلى أن صلاة الغائب غير مشروعة (4). وهو رواية عن أحمد (5). وهو قول العترة (6). واختلف المالكية هل هي مكروهة أو محرمة على قولين في مذهبهم (7).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদগায়েবানা জানাজার শারীয়তসম্মত (مشروعة) হওয়ার বিষয়ে ফকিহগণের মতপার্থক্যগায়েবানা জানাজা কি শারীয়তসম্মত (مشروعة) নাকি নয়—এ বিষয়ে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন। নিচে তাঁদের
বক্তব্যসমূহ ও প্রতিটি মতের স্বপক্ষে দলিলসমূহ তুলে ধরা হলো:
প্রথম মত: শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মতানুসারে, অন্য কোনো দেশে মৃত্যুবরণকারী মুসলিমের ক্ষেত্রে গায়েবানা জানাজা পড়া শারীয়তসম্মত (مشروعة) এবং বৈধ (جائزة)। এক্ষেত্রে কিবলামুখী হয়ে জানাজা পড়া হবে, যেভাবে উপস্থিত লাশের ওপর জানাজা পড়া হয় (১)। এটি ইবনে হাজম জাহেরি এবং পূর্বসূরিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের (جمهور السلف) অভিমত (২)। মালেকী মাযহাবের ইবনে হাবিবও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন (৩)।
দ্বিতীয় মত: হানাফী ও মালেকী মাযহাবের মতে, গায়েবানা জানাজা শারীয়তসম্মত নয় (غير مشروعة) (৪)। ইমাম আহমদ থেকেও একটি বর্ণনা (رواية) এ রকম রয়েছে (৫)। এটি আহলে বাইতের (العترة) অভিমত (৬)। মালেকী মাযহাবে এটি কি অপছন্দনীয় (مكروهة) নাকি নিষিদ্ধ (محرمة)—এ নিয়ে তাদের মাযহাবে দুটি বক্তব্য পাওয়া যায় (৭)।
--------------------------------------------