(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: -)
شرح السيوطي على مسلم القسم: شروح الحديث
الكتاب: الديباج على صحيح مسلم بن الحجاج
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
حقق أصله، وعلق عليه: أبو اسحق الحويني الأثري
الناشر: دار ابن عفان للنشر والتوزيع - المملكة العربية السعودية - الخبر
الطبعة: الأولى 1416 هـ - 1996 م
عدد الأجزاء: 6
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসলিমের ওপর সুয়ূতী-র ব্যাখ্যা বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
বই: সহীহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজের ওপর আদ-দীবাজ
লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)
মূল পাণ্ডুলিপি যাচাই এবং টীকা প্রদান করেছেন: আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী আল-আসারি
প্রকাশক: দার ইবনে আফফান প্রকাশনী ও পরিবেশনী - সৌদি আরব সাম্রাজ্য - আল-খোবার
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪১৬ হিজরী - ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৬
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
[8] كهمس بِفَتْح الْكَاف وَالْمِيم وَسُكُون الْهَاء آخِره مُهْملَة أول من قَالَ فِي الْقدر أَي بنفيه فابتدع وَخَالف الْحق فوفق لنا بِضَم الْوَاو وَكسر الْفَاء الْمُشَدّدَة قَالَ صَاحب التَّحْرِير مَعْنَاهُ جعل وفقا لنا من الْمُوَافقَة وَهِي الِاجْتِمَاع والالتئام وَفِي مُسْند أبي يعلى الْموصِلِي فَوَافَقَ بِزِيَادَة ألف والموافقة المصادفة فاكتنفته أَنا وصاحبي يَعْنِي صرنا فِي ناحيته من كنفي الطَّائِر وهما جناحاه فَظَنَنْت أَن صَاحِبي سيكل الْكَلَام إِلَيّ زَاد فِي رِوَايَة لِأَنِّي كنت أبسط لِسَانا ويتقفرون الْعلم رِوَايَة الْجُمْهُور بِتَقْدِيم الْقَاف أَي يطلبونه ويتبعونه وَقيل يجمعونه وَرِوَايَة بن ماهان بِتَقْدِيم الْفَاء أَي يبحثون عَن غامضه ويستخرجون خفيه وَفِي رِوَايَة يتقفون بِتَقْدِيم الْقَاف وَحذف الرَّاء وَفِي رِوَايَة أبي يعلى يتفقهون بِالْهَاءِ وَقَالَ القَاضِي عِيَاض وَرَأَيْت بَعضهم قَالَ فِيهِ يتقعرون بِالْعينِ وَفَسرهُ بِأَنَّهُم يطْلبُونَ قَعْره أَي غامضه وخفيه وَذكر من شَأْنهمْ قَالَ النَّوَوِيّ هَذَا الْكَلَام من بعض الروَاة الَّذين دون يحيى بن يعمر وَالظَّاهِر أَنه من بن بُرَيْدَة عَن يحيى يَعْنِي ذكر بن يعمر من حَال هَؤُلَاءِ ووصفهم بالفضيلة فِي الْعلم وَالِاجْتِهَاد فِي تَحْصِيله أنف بِضَم الْهمزَة وَالنُّون أَي مُسْتَأْنف لم يسْبق بِهِ قدر لَا يرى عَلَيْهِ ضبط بِالْمُثَنَّاةِ التَّحْتِيَّة المضمومة وَوضع كفيه على فَخذيهِ قَالَ النَّوَوِيّ أَي فَخذي نَفسه جَالِسا على هَيْئَة المتعلم وَوَافَقَهُ التوربشتي وَزعم الْبَغَوِيّ وَإِسْمَاعِيل التَّيْمِيّ بِأَن الضَّمِير رَاجع للنَّبِي صلى الله عليه وسلم وَرجحه الطَّيِّبِيّ وَقواهُ بن حجر فَإِن فِي رِوَايَة بن خُزَيْمَة ثمَّ وضع يَدَيْهِ على ركبتي النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ وَالظَّاهِر أَنه أَرَادَ بذلك الْمُبَالغَة فِي تعمية أمره ليقوى الظَّن بِأَنَّهُ من جُفَاة الْأَعْرَاب الْإِحْسَان أَن تعبد الله كَأَنَّك ترَاهُ هَذَا من جَوَامِع الْكَلم لِأَنَّهُ لَو قدر أَن أحدا قَامَ فِي عبَادَة ربه وَهُوَ يعاينه لم يتْرك شَيْئا مِمَّا يقدر عَلَيْهِ من الخضوع والخشوع وَحسن السمت واشتماله بِظَاهِرِهِ وباطنه على الاعتناء بتتميمها على أحسن وجوهها إِلَّا أَتَى بِهِ قَالَ القَاضِي عِيَاض وَهَذَا الحَدِيث قد اشْتَمَل على شرح وظائف الْعِبَادَات الظَّاهِرَة والباطنة من عُقُود الْإِيمَان وأعمال الْجَوَارِح وإخلاص السرائر وَالْحِفْظ من آفَات الْأَعْمَال حَتَّى أَن عُلُوم الشَّرِيعَة كلهَا رَاجِعَة إِلَيْهِ أماراتها بِفَتْح الْهمزَة أَي علاماتها أَن تَلد الْأمة ربتها وَفِي الرِّوَايَة الْأُخْرَى رَبهَا بالتذكير أَي سَيِّدهَا ومالكها وَفِي الْأُخْرَى بَعْلهَا وَهُوَ بِمَعْنى رَبهَا كَقَوْلِه تَعَالَى أَتَدعُونَ بعلا الصافات 125 أَي رَبًّا قَالَ النَّوَوِيّ الْأَكْثَر من الْعلمَاء قَالُوا هُوَ إِخْبَار عَن كَثْرَة السراري وأولادهن فَإِن وَلَدهَا من سَيِّدهَا بِمَنْزِلَة سَيِّدهَا وَقيل مَعْنَاهُ أَن الْإِمَاء يلدن الْمُلُوك فَتكون أمة من جملَة رَعيته وَهُوَ سَيِّدهَا وَسيد غَيرهَا من رَعيته وَفِيه أَقْوَال أخر ذكرتها فِي التوشيح العالة الْفُقَرَاء رعاء بِكَسْر الرَّاء وَالْمدّ الشَّاء بِالْمدِّ فَلبث ضبط بمثلثة آخِره بِلَا تَاء وبتاء الْمُتَكَلّم مَلِيًّا بتَشْديد التَّحْتِيَّة أَي وقتا طَويلا وَفِي رِوَايَة أبي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ أَنه قَالَ ذَلِك بعد ثَلَاث وَفِي شرح السّنة لِلْبَغوِيِّ بعد ثَالِثَة قَالَ النَّوَوِيّ وَفِي ظَاهره مُخَالفَة لقَوْله فِي حَدِيث أبي هُرَيْرَة بعد هَذَا ثمَّ أدبر الرجل فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ردوا عَليّ الرجل فَأخذُوا يردوه فَلم يرَوا شَيْئا فَقَالَ هَذَا جِبْرِيل فَيحْتَمل الْجمع بِأَن عمر لم يحضر قَوْله صلى الله عليه وسلم لَهُم فِي الْحَال بل كَانَ قد قَامَ من الْمجْلس وَأخْبر صلى الله عليه وسلم الْحَاضِرين فِي الْحَال وَأخْبر عمر بعد ثَلَاث الغبري بِضَم الْغَيْن الْمُعْجَمَة وَفتح الْمُوَحدَة حجَّة بِكَسْر الْحَاء وَفتحهَا عُثْمَان بن غياث بالغين الْمُعْجَمَة
[৮] কাহমাস (কাফ ও মীম-এ ফাতহা এবং হা-এ সুকুন সহযোগে, শেষে দাল-বিহীন সীন) তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি তাকদির সম্পর্কে অর্থাৎ এর অস্বীকৃতি বিষয়ে কথা বলেছেন। ফলে তিনি বিদআত উদ্ভাবন করেছেন এবং সত্যের বিরোধিতা করেছেন। "ফুউয়্যিকা লানা" (ওয়াও-এ পেশ এবং ফা-এ তাসদীদসহ যের সহযোগে)। আত-তাহরীর গ্রন্থের লেখক বলেছেন, এর অর্থ হলো আমাদের জন্য অনুকূল করা হয়েছে, যা "মুওয়াফাকাত" থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো একত্রিত হওয়া ও মিলিত হওয়া। আবু ইয়ালা আল-মাওসিলির মুসনাদে "ফা-ওয়াফাকা" এসেছে একটি আলিফ বৃদ্ধির সাথে। আর মুওয়াফাকাত অর্থ হলো হঠাৎ দেখা হওয়া। এরপর আমি ও আমার সাথী তাকে বেষ্টন করে নিলাম। অর্থাৎ আমরা তার দুই পাশে অবস্থান নিলাম; যেমন পাখির দুই পার্শ্ব বা ডানা থাকে। আমি ধারণা করলাম যে, আমার সাথী কথা বলার দায়িত্বটি আমার উপর ছেড়ে দেবেন। অন্য একটি বর্ণনায় বর্ধিত হয়েছে: কারণ আমি অধিক বাকপটু ছিলাম। "ইয়াতাক্বাফফারুনাল ইলম" (তারা ইলম অন্বেষণ করে)। জমহুর বা সংখ্যাগুরুদের বর্ণনায় ক্বাফ বর্ণটি আগে এসেছে। এর অর্থ হলো তারা ইলম অনুসন্ধান করে এবং এর অনুসরণ করে। কেউ কেউ বলেছেন, তারা ইলম সংগ্রহ করে। ইবনে মাহানের বর্ণনায় ফা বর্ণটি আগে এসেছে (ইয়াতাফাক্বারুন)। এর অর্থ হলো তারা ইলমের অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করে এবং এর গোপন রহস্যগুলো বের করে আনে। একটি বর্ণনায় "ইয়াতাক্বাফ্ফুন" এসেছে ক্বাফ আগে এবং রা বিলুপ্ত অবস্থায়। আবু ইয়ালার বর্ণনায় হা-সহ "ইয়াতাফাক্কাহুন" এসেছে। কাজী আয়াজ বলেন, আমি কাউকে কাউকে "ইয়াতাক্বাআরুন" (আইন দিয়ে) বলতে দেখেছি। তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তারা এর তলদেশ অর্থাৎ অস্পষ্ট ও লুকায়িত বিষয়গুলো সন্ধান করে। এবং তাদের অবস্থা উল্লেখ করেছেন। ইমাম নববী বলেন, এই কথাটি ইয়াহিয়া ইবনে ইয়ামারের পরবর্তী পর্যায়ের কোনো কোনো বর্ণনাকারীর। সম্ভবত এটি ইবনে বুরাইদা ইয়াহিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ ইবনে ইয়ামার এই ব্যক্তিদের অবস্থা উল্লেখ করেছেন এবং ইলমের ক্ষেত্রে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও তা অর্জনে তাদের কঠোর প্রচেষ্টার বর্ণনা দিয়েছেন। "উনুফ" (হামযা ও নুন-এ পেশ সহযোগে)। অর্থাৎ নতুন করে শুরু হওয়া, যার আগে কোনো তকদীর নির্ধারিত ছিল না। "লা ইউরা আলাইহি" (পেশযুক্ত 'ইয়া' তথা মুসান্নাহ তাহতিয়্যাহর মাধ্যমে পঠিত)। এবং তিনি তার দুই হাতের তালু তার দুই উরুর ওপর রাখলেন। ইমাম নববী বলেন, অর্থাৎ তিনি একজন শিক্ষার্থীর ন্যায় বসে নিজের উরুর ওপর হাত রাখলেন। তুরবিশতি এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে ইমাম বাগাবী ও ইসমাইল তাইমী দাবি করেছেন যে, সর্বনামটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরেছে। আল-তিবী এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং ইবনে হাজার একে শক্তিশালী করেছেন। কারণ ইবনে খুজাইমার বর্ণনায় রয়েছে, "অতঃপর তিনি তার দুই হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন।" তিনি বলেছেন, সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল নিজের পরিচয়কে চরমভাবে গোপন রাখা, যাতে তিনি একজন রুক্ষ গ্রাম্য মরুবাসী—এমন ধারণা প্রবল হয়। ইহসান হলো—তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাকে দেখছ। এটি "জাওয়ামিউল কালিম" (সংক্ষিপ্ত কিন্তু ব্যাপক অর্থবোধক কথা) এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ কোনো ব্যক্তি যদি তার রবের ইবাদতে দাঁড়িয়ে তাকে সচক্ষে অবলোকন করে, তবে সে বিনয়, নম্রতা, উত্তম চালচলন এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে সেই ইবাদতকে সর্বোত্তম উপায়ে পূর্ণ করার জন্য নিজের সাধ্যমতো কোনো কিছুই করতে বাকি রাখবে না। কাজী আয়াজ বলেন, এই হাদিসটি ঈমানের আকিদা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল, অন্তরের ইখলাস এবং আমলের ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষা সহ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ইবাদতের সমস্ত দায়িত্বের বর্ণনার ওপর পরিব্যাপ্ত। এমনকি শরীয়তের সমস্ত জ্ঞানই এর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। "আমারাতুহা" (হামযায় ফাতহা যোগে)। অর্থাৎ এর আলামতসমূহ। "দাসী তার মনিবকে (নারীবাচক) জন্ম দেবে।" অন্য বর্ণনায় পুরুষবাচক শব্দে "তার মনিব" এসেছে। অর্থাৎ তার নেতা ও মালিক। অন্য বর্ণনায় "তার পতি" এসেছে, যা এখানে মনিব অর্থে ব্যবহৃত, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা কি বাআল-এর পূজা করবে?" (আস-সাফফাত: ১২৫) অর্থাৎ রবের বা মনিবের। ইমাম নববী বলেন, অধিকাংশ আলেম বলেছেন—এটি দাসীদের আধিক্য এবং তাদের সন্তানদের সম্পর্কে একটি সংবাদ। কারণ মনিবের পক্ষ থেকে দাসীর সন্তান তার মনিবের সমতুল্য। কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ হলো দাসীরা রাজাদের জন্ম দেবে, ফলে একজন দাসী তার প্রজার অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তিনি (সন্তান) হবেন তার ও অন্যান্য প্রজাদের মনিব। এ বিষয়ে আরও কিছু বক্তব্য রয়েছে যা আমি "আত-তাওশীহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। "আল-আলাহ" অর্থ দরিদ্ররা। "রিআ" (রা-এ যের ও মদ্দ সহকারে)। "আশ-শা" (মদ্দ সহকারে)। "ফা-লাবিসা" (শেষে ছা-সহ, কোনো তা ছাড়া অথবা উত্তম পুরুষের তা-সহ পঠিত)। "মালিইয়ান" (ইয়া-এ তাসদীদ সহকারে)। অর্থাৎ দীর্ঘ সময়। আবু দাউদ ও তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি তা তিন দিন পর বলেছিলেন। বাগভীর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে "তৃতীয় দিন পর" এসেছে। ইমাম নববী বলেন, এটি বাহ্যিকভাবে এর পরবর্তী আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের বিরোধী বলে মনে হয়, যেখানে বলা হয়েছে—"অতঃপর লোকটি ফিরে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: লোকটিকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। তারা তাকে ফিরিয়ে আনতে গেল কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন: ইনি জিবরীল।" এই দুই বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় এভাবে হতে পারে যে, ওমর (রা.) তৎক্ষণাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই কথা বলার সময় উপস্থিত ছিলেন না, বরং তিনি মজলিস থেকে উঠে গিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিতদের তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন, আর ওমর (রা.)-কে তিন দিন পর জানিয়েছিলেন। "আল-গুবরী" (গাইন-এ পেশ এবং বা-এ ফাতহা সহযোগে)। "হিজ্জাহ" (হা-এ যের ও যবর উভয়ভাবেই পঠিত)। উসমান ইবনে গিয়াস (গাইন বর্ণ সহযোগে)।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
[9] عَن أبي حَيَّان بالتحتية بارزا ظَاهرا ولقائه وَرُسُله وتؤمن بِالْبَعْثِ الآخر بِكَسْر الْخَاء قَالَ النَّوَوِيّ وَاخْتلف فِي الْجمع بَينه وَبَين لِقَاء الله فَقيل اللِّقَاء يحصل بالانتقال إِلَى دَار الْجَزَاء والبعث بعده عِنْد قيام السَّاعَة وَقيل اللِّقَاء يكون بعد الْبَعْث عِنْد الْحساب وَقيل المُرَاد باللقاء الرُّؤْيَة وَوصف الْبَعْث بِالْآخرِ قيل مُبَالغَة فِي الْبَيَان والإيضاح وَقيل سَببه أَن خُرُوج الْإِنْسَان إِلَى الدُّنْيَا بعث من الْأَرْحَام وَخُرُوجه من الْقَبْر إِلَى الْحَشْر بعث من الأَرْض فَقيل الآخر ليتميز أَن تعبد الله لَا تشرك بِهِ شَيْئا جمع بَينهمَا لِأَن الْكفَّار كَانُوا يعبدونه فِي الصُّورَة ويعبدون مَعَه أوثانا يَزْعمُونَ أَنهم شركاؤه وأشراطها بِفَتْح الْهمزَة أَي علاماتها وَاحِدهَا شَرط بِفتْحَتَيْنِ البهم بِفَتْح الْبَاء وَإِسْكَان الْهَاء الصغار من أَوْلَاد الْغنم الضَّأْن والمعز جَمِيعًا وَقيل أَوْلَاد الضَّأْن خَاصَّة وَاحِدهَا بهمة وَهِي تقع على الْمُذكر والمؤنث وَوَقع فِي البُخَارِيّ رعاء الْإِبِل البهم وَهُوَ بِضَم الْبَاء لَا غير السراري بتَشْديد الْيَاء وتخفيفها جمع سَرِيَّة بِالتَّشْدِيدِ لَا غير وَهِي الْجَارِيَة المتخذة للْوَطْء فعلية من السِّرّ وَهُوَ النِّكَاح وَقيل من السرُور لِأَنَّهَا سرُور مَالِكهَا
[৯] আবু হাইয়ান থেকে বর্ণিত (নিচে দুটি নুক্তাওয়ালা 'ইয়া' যোগে), প্রকাশ্য ও দৃশ্যমানভাবে; এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ পুনরুত্থানে ঈমান আনা (খ-এর নিচে কাসরা যোগে)। ইমাম নববী বলেন: পুনরুত্থান এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের একত্র উল্লেখের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, প্রতিদান দিবসে স্থানান্তরের মাধ্যমে সাক্ষাৎ ঘটে এবং এরপর কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় পুনরুত্থান ঘটে। আবার বলা হয়েছে যে, পুনরুত্থানের পর হিসাব-নিকাশের সময় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হবে। এটাও বলা হয়েছে যে, সাক্ষাতের উদ্দেশ্য হলো দর্শন; আর পুনরুত্থানকে 'শেষ' হিসেবে বিশেষায়িত করার ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, এটি বর্ণনা ও স্পষ্টীকরণে আধিক্য প্রকাশের জন্য। কেউ কেউ বলেন, এর কারণ হলো মানুষের পৃথিবীতে আগমন জরায়ু থেকে এক প্রকার উত্থান, আর কবর থেকে হাশরের ময়দানে আসা যমীন থেকে পুনরুত্থান; তাই একে 'শেষ' পুনরুত্থান বলা হয়েছে যেন তা পার্থক্য করা যায়। তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না; এই দুটির একত্র উল্লেখ করার কারণ হলো কাফিররা বাহ্যিকভাবে আল্লাহর ইবাদত করত, কিন্তু তারা তাঁর সাথে মূর্তিপূজাও করত এবং দাবি করত যে তারা আল্লাহর শরিক। আর তার আলামত বা চিহ্নসমূহ, হামযাহ-এর ওপর যবর যোগে, এর অর্থ হলো তার নিদর্শনসমূহ; এর একবচন হলো 'শারাত' (শীন ও রা উভয়ের ওপর যবর যোগে)। 'বাহাম' (বা-এর ওপর যবর এবং হা-এর ওপর জযম যোগে): ভেড়া ও ছাগল উভয়েরই ছোট বাচ্চা; কেউ বলেন এটি শুধু ভেড়ার বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; এর একবচন হলো 'বাহামাহ', যা পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। বুখারীতে 'উটের রাখাল, আল-বুহুম' শব্দে এসেছে, যা কেবল বা-এর ওপর পেশ যোগে পঠিত হয়। 'আস-সারারি' (ইয়া-এর ওপর তাশদীদসহ বা তাশদীদ ছাড়া), এটি 'সারিয়্যাহ' (কেবল তাশদীদসহ) শব্দের বহুবচন; আর সে হলো ঐ দাসী যাকে সহবাসের জন্য গ্রহণ করা হয়; এটি 'সির' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো বিবাহ; আবার বলা হয়েছে যে এটি 'সুরূর' বা আনন্দ থেকে এসেছে, কারণ সে তার মালিকের আনন্দের কারণ।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
[10] الحفاة العراة الصم الْبكم هُوَ كِنَايَة عَن الجهلة السفلة الرعاع أَرَادَ أَن تعلمُوا ضبط بِسُكُون الْعين وَفتحهَا وَتَشْديد اللَّام أَي تتعلموا
[১০] নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, বধির ও মূক—এটি মূলত মূর্খ, ইতর ও নিচ শ্রেণির জনসাধারণের প্রতি একটি রূপক। তিনি 'তা'লামু' শব্দটি দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, এটি আইন বর্ণের সুকুন যোগে অথবা আইন বর্ণের ফাতহা ও লাম বর্ণের তাশদীদের সাথে উচ্চারিত হয়; অর্থাৎ যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
[11] ثَائِر الرَّأْس منتفشة أَي قَائِم شعره وَهُوَ بِالرَّفْع صفة الرجل وَيجوز نَصبه على الْحَال نسْمع بالنُّون الْمَفْتُوحَة وَرُوِيَ بالتحتية المضمومة وَكَذَا نفقه دوِي صَوته هُوَ بعده فِي الْهَوَاء بِفَتْح الدَّال وَكسر الْوَاو وَتَشْديد الْيَاء وَحكي ضم الدَّال تطوع الْمَشْهُور تَشْدِيد الطَّاء على إدغام إِحْدَى التائين فِيهَا وَجوز بن الصّلاح تخفيفها على الْحَذف أَفْلح وَأَبِيهِ قيل كَيفَ حلف صلى الله عليه وسلم بِأَبِيهِ مَعَ النَّهْي عَنهُ بقوله إِن الله يَنْهَاكُم أَن تحلفُوا بِآبَائِكُمْ وَأجِيب بأوجه مِنْهَا أَن يكون هَذَا صدر قبل النَّهْي وَمِنْهَا أَنه لَيْسَ حلفا وَإِنَّمَا هِيَ كلمة جرت عَادَة الْعَرَب أَن تدْخلهَا فِي كَلَامهَا غير قاصدة بهَا حَقِيقَة الْحلف كَقَوْلِهِم تربت يَدَاهُ وقاتله الله
[১১] মাথার চুল এলোমেলো বা উষ্কখুষ্ক, অর্থাৎ তার চুল খাড়া ছিল। এটি পেশ (রাফ) অবস্থায় ওই ব্যক্তির বিশেষণ; তবে হাল (অবস্থা) হিসেবে যবর (নাসব) দিয়ে পড়াও জায়েয। 'আমরা শুনি' শব্দটি নুন বর্ণে যবরসহ পঠিত। আবার ইয়া বর্ণে পেশ দিয়েও (প্যাসিভ ভয়েস হিসেবে) বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে 'আমরা বুঝি' শব্দটিও। তার কণ্ঠস্বরের গুঞ্জন; এটি বাতাসে প্রতিধ্বনিত শব্দ। এটি দাল বর্ণে যবর, ওয়াও বর্ণে যের এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদসহ পঠিত। দাল বর্ণে পেশ দিয়ে পড়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে। 'নফল' শব্দের প্রসিদ্ধ পঠনরীতি হলো ত’ বর্ণে তাশদীদসহ, যা মূলত দু’টি তা-এর একটিকে অপরটির মধ্যে সন্ধি করার কারণে হয়েছে। ইবনে আস-সালাহ একটি তা বিলুপ্ত করে তাশদীদ ছাড়া পড়ারও অনুমতি দিয়েছেন। 'সে সফল হলো তার পিতার শপথ'—প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন'—এই নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে তার পিতার শপথ করলেন? এর উত্তরে কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো, এটি নিষেধাজ্ঞা জারির আগের ঘটনা। অন্যটি হলো, এটি কোনো শপথ নয়, বরং এটি এমন একটি বাক্য যা আরবরা তাদের কথাবার্তায় ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিল, যার মাধ্যমে তারা প্রকৃত শপথের উদ্দেশ্য করত না। যেমন তাদের কথা: 'তার দুই হাত ধূলিধূসরিত হোক' এবং 'আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন'।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[12] الْبَادِيَة مَا عدا الْحَاضِرَة فجَاء رجل هُوَ ضمام بن ثَعْلَبَة
[12] মরুপ্রান্তর বলতে জনপদ ব্যতীত এলাকাকে বোঝায়। অতঃপর এক ব্যক্তি আসলেন, তিনি হলেন দ্বিমাম ইবন সা'লাবা।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[13] أَن أَعْرَابِيًا هُوَ بِفَتْح الْهمزَة البدوي الَّذِي يسكن الْبَادِيَة بِخِطَام نَاقَته أَو بزمامها بِكَسْر الْخَاء وَالزَّاي قَالَ الْأَزْهَرِي الخطام هُوَ الَّذِي يخطم بِهِ الْبَعِير وَهُوَ أَن يُؤْخَذ حَبل من لِيف أَو شعر فَيجْعَل فِي إِحْدَى طَرفَيْهِ حَلقَة يسْلك فِيهَا الطّرف الآخر حَتَّى يصير كالحلقة ثمَّ يُقَلّد الْبَعِير ثمَّ يثني على مخطمه وَأما الَّذِي يَجْعَل فِي الْأنف دَقِيقًا فَهُوَ الزِّمَام وَقَالَ صَاحب الْمطَالع الزِّمَام لِلْإِبِلِ مَا يشد بِهِ رؤوسها من حَبل أَو سير لتقاد بِهِ حَدثنَا مُحَمَّد بن عُثْمَان قَالَ النَّوَوِيّ اتَّفقُوا على أَن شُعْبَة وهم فِي تَسْمِيَته مُحَمَّد وَإِنَّمَا هُوَ عَمْرو كَمَا فِي الطَّرِيق الأول موهب بِفَتْح الْمِيم وَسُكُون الْوَاو إِن تمسك بِمَا أَمر بِهِ بِضَم الْهمزَة وَكسر الْمِيم مَبْنِيا للْمَفْعُول وَبِه بباء الْجَرّ مَعَ الضَّمِير وَضَبطه الْعَبدَرِي بِفَتْح الْهمزَة وبالتاء للمتكلم
[১৩] জনৈক বেদুইন—শব্দটি হামজার উপর ফাতহা সহ—যিনি মরুভূমিতে বসবাস করেন; তিনি তাঁর উষ্ট্রীর নাসারজ্জু অথবা লাগাম ধরেছিলেন—এখানে শব্দদ্বয়ে যথাক্রমে 'খা' এবং 'যা' বর্ণে কাসরা হবে। আল-আজহারী বলেন: নাসারজ্জু হলো তা যা দিয়ে উটকে আয়ত্তে আনা হয়; আর তা হলো আঁশ বা পশমের একটি রশি গ্রহণ করা যার এক প্রান্তে একটি লুপ তৈরি করে অপর প্রান্তটি তার ভেতর দিয়ে চালিত করা হয় যতক্ষণ না তা একটি বলয়ে পরিণত হয়, অতঃপর তা উটের গলায় পরিয়ে নাসিকার উপরে প্যাঁচানো হয়। আর যা নাকের ছিদ্রে সূক্ষ্মভাবে পরানো হয় তা হলো লাগাম। 'আল-মাতালি' গ্রন্থের লেখক বলেন: উটের ক্ষেত্রে লাগাম হলো সেই রশি বা ফিতা যা দিয়ে তাদের মাথা বাঁধা হয় যাতে তাদের পরিচালিত করা যায়। 'মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন'—ইমাম নববী বলেন: মুহাদ্দিসগণ একমত হয়েছেন যে, শু'বাহ তার নাম মুহাম্মাদ বলার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন, মূলত তিনি হলেন 'আমর', যেমনটি প্রথম সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। 'মাওহাব' শব্দটি মীমের উপর ফাতহা এবং ওয়াও-এর উপর সুকুন সহ। 'যদি সে তাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা আঁকড়ে ধরে'—এখানে শব্দটি হামজার উপর যম্মাহ ও মীমের নিচে কাসরা সহ কর্মবাচ্যে গঠিত, যার সাথে সর্বনাম যুক্ত অব্যয় রয়েছে। আল-আবদারী একে হামজার উপর ফাতহা এবং উত্তম পুরুষের 'তা' যোগে শব্দবিন্যাস করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[15] قوقل بقافين مفتوحتين بَينهمَا وَاو سَاكِنة وَآخره لَام وَحرمت الْحَرَام قَالَ بن الصّلاح الظَّاهِر أَنه أَرَادَ بِهِ أَمريْن أَن يَعْتَقِدهُ حَرَامًا وَأَن لَا يَفْعَله بِخِلَاف تَحْلِيل الْحَلَال فَإِنَّهُ يَكْفِي مُجَرّد اعْتِقَاده حَلَالا أعين بِفَتْح الْهمزَة والتحتية بَينهمَا عين مُهْملَة سَاكِنة وَآخره نون
[১৫] কওকাল শব্দটি দুটি ফাতহাহযুক্ত ক্বাফ, তাদের মাঝে সুকুনযুক্ত ওয়াও এবং শেষে লাম সহযোগে গঠিত। "এবং আমি হারামকে হারাম করেছি"—ইবনুস সালাহ বলেন: স্পষ্টত এর দ্বারা তিনি দুটি বিষয় উদ্দেশ্য করেছেন; তা হারাম বলে বিশ্বাস করা এবং তা সম্পাদন না করা। এটি হালালকে হালাল জানার বিষয়ের বিপরীত, কারণ সেক্ষেত্রে কেবল তা হালাল বলে বিশ্বাস করাই যথেষ্ট। আইউন শব্দটি ফাতহাহযুক্ত হামযা এবং ইয়া-এর মাঝে সুকুনযুক্ত আইন এবং শেষে নুন সহযোগে গঠিত।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[16] سُلَيْمَان بن حَيَّان بالتحتية بني الْإِسْلَام على خَمْسَة كَذَا فِي الطَّرِيق الأول وَالرَّابِع أَي أَرْكَان أَو أَشْيَاء وَفِي الثَّانِي وَالثَّالِث على خمس أَي خِصَال أَو دعائم أَو قَوَاعِد يوحد بِالْبِنَاءِ للْمَفْعُول فَقَالَ رجل الْحَج وَصِيَام رَمَضَان قَالَ لَا صِيَام رَمَضَان وَالْحج هَكَذَا سمعته من رَسُول الله وَقع فِي مستخرج أبي عوَانَة عكس ذَلِك وَهُوَ أَن بن عمر قَالَ للرجل اجْعَل صِيَام رَمَضَان آخِرهنَّ كَمَا سَمِعت من رَسُول الله قَالَ بن الصّلاح لَا تقاوم هَذِه الرِّوَايَة مَا رَوَاهُ مُسلم قَالَ النَّوَوِيّ وَيحْتَمل أَن يكون جرت الْقِصَّة مرَّتَيْنِ لِرجلَيْنِ وَأَن بن عمر سَمعه من النَّبِي صلى الله عليه وسلم مرَّتَيْنِ مرّة بِتَقْدِيم الْحَج وَمرَّة بِتَأْخِيرِهِ قَالَ وَاسم الرجل الَّذِي رد عَلَيْهِ تَقْدِيم الْحَج يزِيد بن بشر السكْسكِي ذكره الْخَطِيب فِي مبهماته أَن رجلا اسْمه حَكِيم ذكره الْبَيْهَقِيّ أَلا تغزو بتاء الْخطاب فَقَالَ إِنِّي سَمِعت إِلَى آخِره وَزَاد عبد الرَّزَّاق بِآخِرهِ وَإِن الْجِهَاد من الْعَمَل الْحسن
[১৬] সুলাইমান বিন হাইয়ান (নিচে নুকতাযুক্ত 'ইয়া' বর্ণসহ); "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত"—প্রথম ও চতুর্থ সূত্রে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, অর্থাৎ পাঁচটি রুকন বা বিষয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সূত্রে "পাঁচটি" (স্ত্রীবাচক শব্দে) এসেছে, যার অর্থ পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বা স্তম্ভ বা মূলভিত্তি। "ইউওয়াহহাদা" (আল্লাহকে এক হিসেবে স্বীকার করা) শব্দটি এখানে কর্মবাচ্যের ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তখন এক ব্যক্তি বললেন, "হজ এবং রমজানের রোজা।" তিনি (ইবনে উমর) বললেন, "না, বরং রমজানের রোজা এবং হজ; আমি আল্লাহর রাসূলের কাছ থেকে এভাবেই শুনেছি।" আবু আওয়ানার মুস্তাখরাজ গ্রন্থে এর বিপরীত বর্ণনা এসেছে, আর তা হলো ইবনে উমর সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন, "রমজানের রোজাকে সব শেষে রাখো, যেমনটি আমি আল্লাহর রাসূলের কাছ থেকে শুনেছি।" ইবনে আস-সালাহ বলেন, এই বর্ণনাটি ইমাম মুসলিমের বর্ণিত বর্ণনার সমকক্ষ নয়। ইমাম নববী বলেন, সম্ভবত এই ঘটনাটি ভিন্ন ভিন্ন দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুইবার ঘটেছে এবং ইবনে উমর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি দুইবার শুনেছেন—একবার হজকে আগে উল্লেখ করে এবং একবার হজকে পরে উল্লেখ করে। তিনি আরও বলেন, হজকে আগে উল্লেখ করার কারণে যাকে সংশোধন করে দেওয়া হয়েছিল সেই ব্যক্তির নাম ইয়াজিদ বিন বিশর আস-সাকসাকি, যা আল-খতিব তার 'মুবহামাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর জনৈক ব্যক্তি যার নাম হাকিম, তা আল-বায়হাকী উল্লেখ করেছেন। "আপনি কি যুদ্ধে যাবেন না?" (সম্বোধনসূচক 'তা' সহযোগে)। তখন তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি শুনেছি..." হাদিসের শেষ পর্যন্ত। আব্দুর রাজ্জাক এর শেষে বর্ধিত করেছেন যে, "আর নিশ্চয়ই জিহাদ একটি উত্তম আমল।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[17] قدم وَفد عبد الْقَيْس الْوَفْد الْجَمَاعَة المختارة للمصير إِلَيْهِم فِي الْمُهِمَّات واحدهم وَافد وَكَانَ قدومهم فِي عَام الْفَتْح وَكَانُوا أَرْبَعَة عشر رَاكِبًا الْأَشَج العصري ومزيدة بن مَالك الْمحَاربي وَعبيدَة بن همام الْمحَاربي وصحار بن الْعَبَّاس المري وَعَمْرو بن مَرْحُوم العصري والْحَارث بن شُعَيْب العصري والْحَارث بن جُنْدُب من بني عايش وَلم يعثر بعد طول التتبع على أَكثر من أَسمَاء هَؤُلَاءِ كَذَا ذكره النَّوَوِيّ عَن صَاحب التَّحْرِير إِنَّا هَذَا الْحَيّ قَالَ بن الصّلاح الَّذِي نختاره نَصبه على الِاخْتِصَاص وَالْخَبَر من ربيعَة وَالْمعْنَى إِن هَذَا الْحَيّ حَيّ ربيعَة قَالَ صَاحب الْمطَالع الْحَيّ اسْم لمنزل الْقَبِيلَة ثمَّ سميت بذلك الْقَبِيلَة لِأَن بَعضهم يحيا بِبَعْض نخلص نصل فِي شهر الْحَرَام بِالْإِضَافَة على حد قَوْلهم مَسْجِد الْجَامِع فَعِنْدَ الْكُوفِيّين هُوَ من إِضَافَة الصّفة إِلَى الْمَوْصُوف وَعند الْبَصرِيين على حذف مُضَاف تَقْدِيره شهر الْوَقْت الْحَرَام آمركُم بِأَرْبَع إِلَى قَوْله بإيتاء الزَّكَاة فِي بعض طرقه عِنْد البُخَارِيّ وَصَوْم رَمَضَان وَهُوَ زَائِد على الْأَرْبَع وَقد أوضحت الْجَواب عَنهُ فِيمَا علقته عَلَيْهِ قَالَ بن الصّلاح وَالنَّوَوِيّ وَتَركه فِي رِوَايَة مُسلم إهمال من الرَّاوِي خمس بِضَم الْمِيم وإسكانها وأنهاكم عَن الدُّبَّاء بِضَم الدَّال وبالمد القرع الْيَابِس أَي الْوِعَاء مِنْهُ والحنتم بحاء مُهْملَة مَفْتُوحَة ثمَّ نون سَاكِنة ثمَّ فوقية مَفْتُوحَة واحده حنتمة وَهِي جرار خضر كَمَا فسره الْأَكْثَرُونَ من أهل اللُّغَة والغريب والمحدثين وَالْفُقَهَاء وفيهَا خَمْسَة أَقْوَال أخر ذكرتها فِي التوشيح والنقير جذع ينقر وَسطه والمقير هُوَ المزفت المطلي بالقار وَهُوَ الزفت وَمعنى النَّهْي عَنْهَا النَّهْي عَن الانتباذ فِيهَا وَهُوَ أَن يَجْعَل فِي المَاء حبات من تمر أَو زبيب أَو نَحوه ليحلو وَيشْرب وخصت هَذِه بِالنَّهْي لِأَنَّهُ يسْرع إِلَيْهِ الْإِسْكَار فِيهَا وَرُبمَا شربه بعد إسكاره من لم يطلع عَلَيْهِ بِخِلَاف أسقية الْأدم لِأَنَّهَا لرقتها ترى فِيهَا وَلَا يخفى فِيهَا الْمُسكر وَهَذَا النَّهْي كَانَ فِي أول الْأَمر ثمَّ نسخ بِحَدِيث بُرَيْدَة الْآتِي كنت نَهَيْتُكُمْ عَن الانتباذ إِلَّا فِي الأسقية فانتبذوا فِي كل وعَاء وَلَا تشْربُوا مُسكرا كنت أترجم بَين يَدي بن عَبَّاس وَبَين النَّاس قَالَ النَّوَوِيّ كَذَا هُوَ فِي الْأُصُول وَتَقْدِيره بَين يَدي بن عَبَّاس بَينه وَبَين النَّاس فَحذف لَفْظَة بَينه لدلَالَة الْكَلَام عَلَيْهَا وَيجوز أَن يكون المُرَاد بَين بن عَبَّاس وَبَين النَّاس كَمَا فِي البُخَارِيّ بِحَذْف يَدي فَتكون يَدي عبارَة عَن الْجُمْلَة كَقَوْلِه تَعَالَى بِمَا قدمت يداك الْحَج 1 والترجمة التَّعْبِير عَن لُغَة بلغَة ثمَّ قيل إِنَّه كَانَ يتَكَلَّم بِالْفَارِسِيَّةِ فَكَانَ يترجم لِابْنِ عَبَّاس عَمَّن يتَكَلَّم بهَا قَالَ بن الصّلاح وَعِنْدِي أَنه كَانَ يبلغ كَلَام بن عَبَّاس إِلَى من خَفِي عَلَيْهِ من النَّاس لزحام أَو قُصُور فهم قَالَ النَّوَوِيّ وَالظَّاهِر أَن مَعْنَاهُ أَنه يفهمهم عَنهُ ويفهمه عَنْهُم الْجَرّ بِفَتْح الْجِيم وَاحِدهَا جرة وَهُوَ هَذَا الفخار الْمَعْرُوف مرْحَبًا نصب على الْمصدر وَمَعْنَاهُ صادفت رحبا وسعة غير خزايا وَلَا الندامى قَالَ النَّوَوِيّ كَذَا فِي الْأُصُول بِاللَّامِ فِي الندامى وَرُوِيَ فِي غير مُسلم بِالْألف وَاللَّام فيهمَا وبالحذف فيهمَا وَالرِّوَايَة بِنصب غير على الْحَال وَحكي فيهمَا الْكسر على الصّفة وَالْمَعْرُوف الأول وَيدل عَلَيْهِ مَا فِي البُخَارِيّ مرْحَبًا بالقوم الَّذين جَاءُوا غير خزايا وَلَا ندامى الخزايا جمع خزيان وَهُوَ المستحيي وَقيل الذَّلِيل المهان والندامى جمع ندمان وَقيل جمع نادم اتبَاعا للخزايا وَالْأَصْل نادمين شقة بِضَم الشين وَكسرهَا السّفر الْبعيد لِأَنَّهُ يشق على الْإِنْسَان وَقيل هِيَ الْمسَافَة وَقيل الْغَايَة الَّتِي يخرج إِلَيْهَا الْإِنْسَان فعلى الأول قَوْلهم بعيدَة مُبَالغَة فِي بعْدهَا بِأَمْر بِالتَّنْوِينِ فصل هُوَ الْبَين الْوَاضِح الَّذِي ينْفَصل بِهِ المُرَاد وَلَا يشكل من وَرَائِكُمْ بِالْكَسْرِ حرف جر قَالَ أَبُو بكر فِي رِوَايَته من وراءكم أَي بِالْفَتْح
[১৭] আব্দুল কায়সের প্রতিনিধিদলের আগমন। 'আল-ওয়াফদ' বলতে ওই নির্বাচিত দল বা সমষ্টিকে বোঝায় যারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কারও নিকট গমনের জন্য মনোনীত হয়, এর একবচন হলো 'ওয়াফিদ'। তাদের আগমন হয়েছিল মক্কা বিজয়ের বছর এবং তারা চৌদ্দজন আরোহী ছিলেন: আল-আশাজ আল-আসরি, মাজিদাহ ইবনে মালিক আল-মুহারিবি, উবাইদাহ ইবনে হাম্মাম আল-মুহারিবি, সুহার ইবনে আব্বাস আল-মুরি, আমর ইবনে মারহুম আল-আসরি, আল-হারিস ইবনে শুআইব আল-আসরি এবং বনী আইয়িশের আল-হারিস ইবনে জুনদুব। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও এদের অতিরিক্ত নাম পাওয়া যায়নি; ইমাম নববি 'সাহেবে তাহরির' থেকে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। 'আমরা এই গোত্র'—ইবনে আস-সালাহ বলেন, আমরা যেটিকে পছন্দ করি তা হলো একে 'ইখতিসাস' (বিশেষায়িত করা) হিসেবে জবর (নাসব) প্রদান করা এবং এর সংবাদ (খবর) হলো 'রাবিয়াহ' থেকে; এর অর্থ হলো: নিশ্চয়ই এই গোত্রটি রাবিয়াহ গোত্র। 'সাহেবে মাতালি' বলেন, 'আল-হাই' শব্দটি কবিলার বসতির নাম, পরবর্তীতে কবিলাকেও এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাদের একজন অন্যজনের দ্বারা জীবন লাভ করে (পরস্পর নির্ভরশীল)। 'আমরা পৌঁছি' অর্থাৎ আমরা আসব 'পবিত্র মাসে'; এটি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার (ইদাফাত) ভিত্তিতে, যেমন বলা হয় 'জামে মসজিদ'। কুফাবাসীদের মতে এটি বিশেষণের সাথে বিশেষ্যের সম্বন্ধ, আর বসরাবাসীদের মতে এখানে একটি উহ্য শব্দ আছে যার অর্থ 'পবিত্র সময়ের মাস'। 'আমি তোমাদের চারটি বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি'—সহিহ বুখারীর কিছু বর্ণনায় 'জাকাত প্রদান' এর পরে 'রমজানের রোজা'র কথা উল্লেখ আছে যা চারটির অতিরিক্ত; আমি এ বিষয়ে আমার টীকায় ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। ইবনে আস-সালাহ এবং নববি বলেন, মুসলিমের বর্ণনায় এটি বাদ পড়া বর্ণনাকারীর অসতর্কতা। 'খুমুস' (এক-পঞ্চমাংশ) শব্দটি মিম বর্ণে পেশ এবং সাকিন উভয়ভাবেই পড়া যায়। 'আর আমি তোমাদের নিষেধ করছি দুব্বা থেকে'—দাল বর্ণে পেশ এবং দীর্ঘস্বর (মাদ্দ) সহকারে, এর অর্থ শুকনো লাউ অর্থাৎ তা থেকে তৈরি পাত্র। 'হানতাম'—হা বর্ণে জবর, নুন সাকিন এবং তা বর্ণে জবর সহকারে; এর একবচন 'হানতামাহ', যা হলো সবুজ রঙের মাটির কলস, যেমনটি অধিকাংশ ভাষাবিদ, বিরল শব্দ বিশারদ, মুহাদ্দিস এবং ফকিহগণ ব্যাখ্যা করেছেন। এ বিষয়ে আরও পাঁচটি মত আছে যা আমি 'তাওশিহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। 'নাকির' হলো খেজুর গাছের গুঁড়ি যার মাঝখানটা খুঁড়ে গর্ত করা হয়। 'মুরাইয়্যার' হলো সেই পাত্র যাতে আলকাতরা বা পিচ দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। এগুলো ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো এগুলোতে নাবিয তৈরি করতে নিষেধ করা। আর নাবিয হলো পানিতে খেজুর বা কিশমিশ ইত্যাদি ভিজিয়ে রাখা যাতে তা মিষ্টি হয় এবং পান করা যায়। এগুলোকে বিশেষভাবে নিষেধ করার কারণ হলো এগুলোতে দ্রুত মাদকতা তৈরি হয় এবং অনেক সময় নেশা হওয়ার পরও পানকারী তা বুঝতে পারে না। চামড়ার মশক এর ব্যতিক্রম, কারণ তা পাতলা হওয়ার কারণে ভেতরের অবস্থা দেখা যায় এবং মাদকতা গোপন থাকে না। এই নিষেধাজ্ঞা ছিল ইসলামের শুরুর দিকে, যা পরবর্তীতে বুরাইদাহ বর্ণিত হাদিস দ্বারা রহিত হয়ে গেছে: 'আমি তোমাদের নির্দিষ্ট পাত্র ছাড়া নাবিয তৈরি করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা যেকোনো পাত্রেই তা তৈরি করো, তবে কোনো মাদকদ্রব্য পান করো না।' 'আমি ইবনে আব্বাসের সামনে এবং মানুষের মাঝে দোভাষী হিসেবে কাজ করতাম।' নববি বলেন, মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই আছে এবং এর অর্থ হলো: ইবনে আব্বাসের সামনে তার এবং মানুষের মাঝে; ফলে এখানে 'বাইনাহু' (তার মাঝে) শব্দটি উহ্য রাখা হয়েছে কারণ বাক্যের অর্থ তা নির্দেশ করছে। এটিও সম্ভব যে এর অর্থ—ইবনে আব্বাস এবং মানুষের মাঝে, যেমনটি বুখারীতে 'সামনে' শব্দ ছাড়া এসেছে; সেক্ষেত্রে 'সামনে' বা 'হাত' শব্দটি পুরো সত্তার অর্থ প্রদান করছে, যেমন আল্লাহর বাণী: 'তোমার দুই হাত যা আগে পাঠিয়েছে' (সূরা হজ: ১০)। 'তরজমা' মানে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ব্যক্ত করা। বলা হয় যে, তিনি ফারসি ভাষায় কথা বলতেন, তাই যারা ফারসি বলত তাদের কথা তিনি ইবনে আব্বাসকে বুঝিয়ে দিতেন। ইবনে আস-সালাহ বলেন, আমার মতে তিনি ভিড়ের কারণে বা কারো বোঝার অক্ষমতার কারণে ইবনে আব্বাসের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন। নববি বলেন, স্পষ্ট অর্থ হলো—তিনি তাদের কথা ইবনে আব্বাসকে বোঝাতেন এবং ইবনে আব্বাসের কথা তাদের বোঝাতেন। 'আল-জার'—জিম বর্ণে জবর সহকারে, একবচন হলো 'জাররাহ', এটি পরিচিত মাটির পাত্র। 'মারহাবান' শব্দটি ক্রিয়ামূল (মাসদার) হিসেবে জবরযুক্ত হয়েছে এবং এর অর্থ হলো আপনি প্রশস্ততা ও বিশালতা খুঁজে পেয়েছেন। 'লজ্জিত না হয়ে এবং অনুতপ্ত না হয়ে'—নববি বলেন, মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে 'আন-নাদামা' শব্দে আলিফ-লাম আছে। মুসলিম ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে উভয় শব্দে আলিফ-লাম সহ অথবা উভয়টিতে আলিফ-লাম ছাড়া বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনায় 'গাইরা' শব্দটি 'হাল' হিসেবে জবরযুক্ত হয়েছে এবং একে বিশেষণ হিসেবে যের দিয়েও বর্ণনা করা হয়েছে, তবে প্রথমটিই প্রসিদ্ধ। বুখারীর বর্ণনা এর প্রমাণ দেয়: 'স্বাগতম সেই দলকে যারা লজ্জিত ও অনুতপ্ত না হয়েই এসেছে।' 'খাজায়া' হলো 'খাজইয়ান' এর বহুবচন, যার অর্থ লজ্জিত; কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ লাঞ্ছিত ও অপমানিত। 'নাদামা' হলো 'নাদমান' এর বহুবচন; বলা হয় এটি 'খাজায়া' শব্দের ওজনে 'নাদিম' এর বহুবচন হিসেবে এসেছে, যদিও মূল শব্দটি হলো 'নাদিমিন'। 'শুক্কাহ'—শীন বর্ণে পেশ বা যের উভয়ই হতে পারে, এর অর্থ দীর্ঘ সফর কারণ এটি মানুষের জন্য কষ্টদায়ক হয়। কেউ কেউ বলেন এর অর্থ দূরত্ব, আবার কেউ বলেন এর অর্থ গন্তব্যস্থল যেখানে মানুষ পৌঁছাতে চায়। প্রথম অর্থ অনুযায়ী 'দূরের' কথাটি দূরত্বের আধিক্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 'স্পষ্ট নির্দেশ'—এটি হলো সেই সুস্পষ্ট বিষয় যা দ্বারা উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায় এবং কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। 'তোমাদের পেছনে যারা আছে'—যের সহকারে এটি অব্যয়, আবু বকর তার বর্ণনায় জবর দিয়ে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[18] سَاقِطَة أَصَابَته جِرَاحَة كَذَلِك كَانَت فِي سَاقه الْأدم بِفَتْح الْهمزَة وَالدَّال جمع أَدِيم وَهُوَ الْجلد الَّذِي تمّ دباغه يلاث بِضَم التَّحْتِيَّة وَتَخْفِيف اللَّام وَآخره مُثَلّثَة أَي يلف الْخَيط على أفواهها ويربط بِهِ الْخَيط على أفواهها ويربط بِهِ وَضَبطه الْعَبدَرِي بالفوقية أَوله أَي تلف الأسقية على أفواهها كَثِيرَة الجرذان بِكَسْر الْجِيم وَإِسْكَان الرَّاء وبالذال الْمُعْجَمَة جمع جرذ بِضَم الْجِيم وَفتح الرَّاء كصرد نوع من الفأر وَقيل الذّكر مِنْهُ كَثِيرَة رُوِيَ بِالْهَاءِ فِي آخِره وبدونها قَالَ بن الصّلاح وَالتَّقْدِير فِيهِ على حذفهَا أَرْضنَا مَكَان كثير الجرذان وَإِن أكلتها الجرذان مُكَرر ثَلَاث مَرَّات فتذيفون بِفَتْح الْفَوْقِيَّة ويروى بضَمهَا وَكسر الْمُعْجَمَة ويروى بالإهمال بعْدهَا تحتية سَاكِنة وَفَاء مَضْمُومَة من ذاف يذيف بِالْمُعْجَمَةِ كباع يَبِيع وداف يدوف بِالْمُهْمَلَةِ كقال يَقُول وأذاف يذيف إعجاما وإهمالا وَمَعْنَاهُ على الْأَوْجه كلهَا خلط أَنا بن جريج أَنا أَبُو قزعة بِفَتْح الْقَاف وَالزَّاي وَحكي سكونها أَن أَبَا نَضرة أخبرهُ وحسنا أخبرهما أَن أَبَا سعيد الْخُدْرِيّ أخبرهُ قَالَ النَّوَوِيّ وَغَيره هَذَا الْإِسْنَاد مَعْدُود فِي المشكلات ولإعضاله اضْطَرَبَتْ فِيهِ أَقْوَال الْأَئِمَّة فَوَقع فِي مستخرج أبي نعيم أَخْبرنِي أَبُو قزعة أَن أَبَا نَضرة وحسنا أخبرهما أَن أَبَا سعيد الْخُدْرِيّ أخبرهُ وَهَذَا يلْزم مِنْهُ أَن يكون أَبُو قزعة هُوَ الَّذِي سمع من أبي سعيد وَهَذَا مُنْتَفٍ بِلَا شكّ وَقَالَ أَبُو عَليّ الغساني الصَّوَاب فِي الْإِسْنَاد عَن بن جريج أَخْبرنِي أَبُو قزعة أَن أَبَا نَضرة وحسنا أخبراه أَن أَبَا سعيد الْخُدْرِيّ أخبرهُ قَالَ وَإِنَّمَا قَالَ أخبرهُ وَلم يقل أخبرهما لِأَنَّهُ رد الضَّمِير إِلَى أبي نَضرة وَحده وَأسْقط الْحسن لموْضِع الْإِرْسَال فَإِنَّهُ لم يسمع أَبَا سعيد وَلم يلقه قَالَ وَهَذَا اللَّفْظ أخرجه أَبُو عَليّ بن السكن فِي مُصَنفه وَالْبَزَّار فِي مُسْنده الْكَبِير قَالَ وَالْحسن هَذَا سَاقِطَة سَاقِطَة بسطَام بِكَسْر الْمُوَحدَة وَحكي فتحهَا وَالصَّحِيح مَنعه من الصّرْف لِأَنَّهُ أعجمي العيشي بالتحتية والشين الْمُعْجَمَة نِسْبَة إِلَى بني عايش وَأَصله العايش مخفف
[১৮] বিচ্যুত বা পড়ে যাওয়া, সে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল, একইভাবে তা তার পায়ের নলাতেও ছিল। হামযা ও দাল বর্ণে ফাতহা যোগে 'আল-আদাম' শব্দটি 'আদিম'-এর বহুবচন; যা হলো সেই চামড়া যাকে ট্যানিং বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। ইয়া বর্ণে পেশ এবং লাম বর্ণে তাশদিদ ছাড়া হালকা উচ্চারণে এবং শেষে তিন নুকতাহওয়ালা 'ছা' বর্ণ যোগে 'ইউলাছু' শব্দটির অর্থ হলো—ছিদ্র বা মুখের ওপর সুতা পেঁচানো এবং তা দিয়ে সুতাটিকে এর মুখের ওপর বেঁধে দেওয়া। আল-আবদারী একে প্রথম বর্ণে 'তা' দিয়ে (তুলাছু) নির্দিষ্ট করেছেন, যার অর্থ হলো—মশকগুলোর মুখের ওপর সুতা পেঁচানো। 'জিম' বর্ণে কাসরা, 'রা' বর্ণে সুকুন এবং নুকতাহযুক্ত 'যাল' বর্ণ যোগে 'জীরযান' শব্দটি 'জুরায'-এর বহুবচন। 'জিম' বর্ণে পেশ এবং 'রা' বর্ণে ফাতহা যোগে 'জুরায' শব্দটি (যেমন 'ছুরাদ') এক প্রকার ইঁদুর বিশেষ; আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি পুরুষ ইঁদুর। শেষে 'হা' বর্ণ যুক্ত হয়ে এবং 'হা' ছাড়াও 'কাছিরাহ' শব্দটি বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আস-সালাহ বলেছেন, 'হা' বর্ণটি বিলুপ্ত ধরা হলে এর সম্ভাব্য অর্থ হবে—আমাদের ভূমি অধিক ইঁদুর বিশিষ্ট স্থান। "যদি তা ইঁদুর খেয়েও ফেলে"—এই বাক্যটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। প্রথম বর্ণে ফাতহা যোগে 'তাদ্বীফুন'; এটি প্রথম বর্ণে পেশ এবং নুকতাহযুক্ত 'যাল' বর্ণে কাসরা যোগেও বর্ণিত হয়েছে। আবার নুকতাহবিহীন 'দাল' বর্ণ, এরপর সাকিন 'ইয়া' এবং পেশযুক্ত 'ফা' বর্ণ যোগেও বর্ণিত হয়েছে। এটি নুকতাহযুক্ত 'যাল' বর্ণ যোগে 'যাফা-যাধীফু' (যেমন বা'আ-ইয়াবি'উ) এবং নুকতাহবিহীন 'দাল' বর্ণ যোগে 'দাফা-য়aduফু' (যেমন ক্বলা-ইয়াক্বুলু) থেকে আগত। আবার নুকতাহযুক্ত ও নুকতাহবিহীন উভয়ভাবেই 'আযাফা-য়ুযীফু' বা 'আদাফা-য়ুদীফু' রূপেও বর্ণিত। সকল প্রকার পঠন অনুযায়ী এর অর্থ হলো 'মিশ্রিত করা'। ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ক্বাযা'আহ (ক্বাফ ও যা বর্ণে ফাতহা যোগে, তবে যা বর্ণে সুকুনও বর্ণিত হয়েছে) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু নাদ্বরহ তাকে এবং হাসানকে সংবাদ দিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেছেন যে আবু সাঈদ আল-খুদরী তাদের সংবাদ দিয়েছেন। ইমাম নববী ও অন্যান্যরা বলেছেন: এই সনদটি সমস্যামূলক বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর জটিলতার কারণে ইমামগণের মতামতে অস্থিরতা বা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আবু নুয়াইমের 'মুস্তাখরাজ' গ্রন্থে এসেছে: "আবু ক্বাযা'আহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু নাদ্বরহ ও হাসান তাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সাঈদ আল-খুদরী তাকে সংবাদ দিয়েছেন।" এর দ্বারা এটি অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, আবু ক্বাযা'আহ নিজেই আবু সাঈদ থেকে শুনেছেন, অথচ এটি নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব বা নাকচকৃত। আবু আলী আল-গাসসানী বলেন: ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত এই সনদে সঠিক পাঠ হলো—আবু ক্বাযা'আহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু নাদ্বরহ ও হাসান তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সাঈদ আল-খুদরী তাকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি 'তাকে সংবাদ দিয়েছেন' (একবচন) বলেছেন, 'তাদের উভয়কে' (দ্বিবচন) বলেননি; কারণ তিনি সর্বনামটিকে কেবল আবু নাদ্বরহর দিকে ফিরিয়েছেন এবং হাসানকে 'ইরসাল'-এর (সনদের বিচ্ছিন্নতা) কারণে বাদ দিয়েছেন; কেননা হাসান আবু সাঈদ থেকে শোনেননি এবং তার সাথে সাক্ষাৎও করেননি। তিনি বলেন, এই শব্দগুলো আবু আলী ইবনুল সাকান তার সংকলনে এবং বাযযার তার 'মুসনাদে কাবীর' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আর এই হাসান হলেন বিচ্যুত, বিচ্যুত। বিসতাম—প্রথম বর্ণে কাসরা যোগে, তবে ফাতহা দিয়েও বলা হয়েছে; আর সঠিক হলো এটি 'মান-উ মিনাস সারফ' (অপরিবর্তনীয়), কারণ এটি একটি অনারব নাম। 'আইশী' শব্দটি নিচের বিন্দুযুক্ত বর্ণ (ইয়া) এবং নুকতাহযুক্ত 'শিন' বর্ণ যোগে গঠিত, যা বনু আইশ-এর দিকে সম্পৃক্ত; আর এর মূল হলো 'আল-আইশ' যা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
[20] من فرق بتَشْديد الرَّاء وتخفيفها عقَالًا قيل المُرَاد بِهِ زَكَاة عَام وَهُوَ مَعْرُوف بذلك لُغَة وَقيل الْحَبل الَّذِي يعقل بِهِ الْبَعِير مُبَالغَة وَإِن كَانَ لَا يجب دَفعه فِي الزَّكَاة وَلَا الْقِتَال عَلَيْهِ كَحَدِيث لعن الله السَّارِق يسرق الْبَيْضَة فتقطع يَده وَيسْرق الْحَبل فتقطع يَده قَالَ النَّوَوِيّ وَغَيره وَهَذَا هُوَ الصَّحِيح ثمَّ قيل المُرَاد قِيمَته فِي زَكَاة النَّقْدَيْنِ وَقيل زَكَاته إِذا كَانَ من عرُوض التِّجَارَة وَقيل هُوَ نَفسه وَأَن العقال يُؤْخَذ من الْفَرِيضَة لِأَن على صَاحبهَا تَسْلِيمهَا وَإِنَّمَا يَقع قبضهَا التَّام برباطها وَفِي رِوَايَة البُخَارِيّ بدله عنَاقًا رَأَيْت علمت شرح فتح ووسع فَعرفت أَنه الْحق أَي بِمَا أظهر عَلَيْهِ من الدَّلِيل فِي إِقَامَة الْحجَّة لَا تقليدا الدَّرَاورْدِي بِفَتْح الدَّال الْمُهْملَة بعْدهَا رَاء ثمَّ ألف ثمَّ وَاو مَفْتُوحَة ثمَّ رَاء سَاكِنة ثمَّ دَال أُخْرَى نِسْبَة إِلَى دَار بجرد بِفَتْح الدَّال وَالرَّاء وَالْمُوَحَّدَة وَكسر الْجِيم مَدِينَة بِفَارِس من شواذ النّسَب وَقيل إِلَى دراورد وَهِي دَار بجرد وَقيل قَرْيَة بخراسان وَقيل إِلَى أندارية بِفَتْح الْهمزَة وَالدَّال بَينهمَا نون سَاكِنة وَبعد الْألف مُوَحدَة ثمَّ سَاقِطَة سَاقِطَة الْجزع بِفَتْح الْجِيم وَالزَّاي فِي جَمِيع الْأُصُول وَالرِّوَايَات وَذهب قوم من أهل اللُّغَة إِلَى أَنه بِفَتْح الْخَاء الْمُعْجَمَة وَالرَّاء وَهُوَ من الضعْف والخور وَاخْتَارَهُ الزَّمَخْشَرِيّ وَقَالَ عِيَاض نبهنا غير وَاحِد من شُيُوخنَا على أَنه الصَّوَاب لأقررت بهَا عَيْنك قَالَ ثَعْلَب معنى أقرّ الله عَيْنك أَي بلغه الله أمْنِيته حَتَّى ترْضى نَفسه وتقر عينه أَي تسكن فَلَا تستشرف لشَيْء وَقَالَ الْأَصْمَعِي مَعْنَاهُ أبرد الله دمعه لِأَن دمعة الْفَرح بَارِدَة
[২০] যে ব্যক্তি 'রা' বর্ণে তাশদিদ বা তাশদিদহীনভাবে পাঠ করার মাধ্যমে পার্থক্য করেছে, (শব্দটি হলো) 'ইকাল' (উটের পায়ের রশি)। বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এক বছরের জাকাত, এবং আভিধানিকভাবে এটি এই নামেই পরিচিত। আবার বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা সেই রশি উদ্দেশ্য যা দিয়ে উটকে বেঁধে রাখা হয়, যা গুরুত্ব বুঝাতে অতিরঞ্জন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও জাকাত হিসেবে সেটি প্রদান করা ওয়াজিব নয় এবং এর জন্য যুদ্ধও করা হয় না; যেমনটি সেই হাদিসে এসেছে: "আল্লাহ চোরের ওপর লানত করেছেন, যে একটি ডিম চুরি করে ফলে তার হাত কাটা হয় এবং একটি রশি চুরি করে ফলে তার হাত কাটা হয়।" ইমাম নববী ও অন্যান্যগণ বলেছেন যে, এটিই সঠিক। এরপর বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সোনা ও রুপার জাকাতের ক্ষেত্রে এর মূল্য। আবার বলা হয়েছে যে, যদি এটি ব্যবসার পণ্য হয় তবে এর জাকাত উদ্দেশ্য। অন্য এক মতে বলা হয়েছে যে, এটি স্বয়ং সেই রশিই, আর ইকাল বা রশিটি জাকাতের নির্ধারিত পশুর সাথেই নেওয়া হবে; কেননা জাকাতদাতার দায়িত্ব হলো সেটি হস্তান্তর করা, আর রশি দিয়ে বাঁধার মাধ্যমেই এর পূর্ণ দখল অর্জিত হয়। আর সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় এর পরিবর্তে 'আনাক' (বকরির বাচ্চা) শব্দ এসেছে। 'আমি দেখেছি' অর্থাৎ আমি জেনেছি; উন্মোচন ও প্রশস্ত করার মাধ্যমে আমি বুঝতে পেরেছি যে এটিই সত্য; অর্থাৎ দলীল প্রমাণের মাধ্যমে যা তার নিকট স্পষ্ট হয়েছে, অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে নয়। 'আদ-দারাওয়ার্দি' শব্দটি দাল বর্ণে ফাতহা, এরপর রা, এরপর আলিফ, এরপর ওয়াও বর্ণে ফাতহা, এরপর রা বর্ণ সাকিন এবং শেষে আরেকটি দাল। এটি 'দারাবজারদ' নামক স্থানের সাথে সম্পর্কিত; যা দাল, রা এবং বা বর্ণে ফাতহা এবং জীম বর্ণে কাসরা সহকারে উচ্চারিত হয়। এটি পারস্যের একটি শহর এবং এর সম্বন্ধটি ভাষাগত নিয়মের ব্যতিক্রম। আবার বলা হয়েছে যে, এটি 'দারাওয়ার্দ' এর দিকে সম্পর্কিত যা মূলত 'দারাবজারদ'। কারো মতে এটি খোরাসানের একটি গ্রাম। আবার বলা হয়েছে যে, এটি 'আন্দারিয়াহ' এর দিকে সম্পর্কিত; যা হামজা ও দাল বর্ণে ফাতহা, উভয়ের মাঝে নুন সাকিন, এবং আলিফের পরে বা বর্ণ রয়েছে, এরপর অবশিষ্ট বর্ণগুলো। 'সাকিতাতুল জাযা' শব্দটি সকল মূল পাণ্ডুলিপি ও বর্ণনায় জীম ও যা বর্ণে ফাতহা সহকারে এসেছে। তবে ভাষাবিদদের একদল মনে করেন যে, এটি খা ও রা বর্ণে ফাতহা সহকারে হবে, যার অর্থ দুর্বলতা ও নিস্তেজ হওয়া। আল-যামাখশারী একেই পছন্দ করেছেন। কাযী ইয়াদ বলেন, আমাদের উস্তাদদের অনেকেই আমাদের সতর্ক করেছেন যে এটিই সঠিক। 'যাতে আমি তোমার চোখ জুড়াতে পারি'। ছা'লাব বলেন, 'আল্লাহ তোমার চোখ শীতল করুন' এর অর্থ হলো আল্লাহ তাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিন যেন তার মন সন্তুষ্ট হয় এবং তার চোখ প্রশান্ত হয়; অর্থাৎ তা স্থির হয়ে যায় এবং অন্য কিছুর দিকে আর কোনো আকাঙ্ক্ষা নিয়ে না তাকায়। আসমাঈ বলেন, এর অর্থ হলো আল্লাহ তার অশ্রুকে শীতল করুন, কারণ আনন্দের অশ্রু শীতল হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
[26] الْوَلِيد بن مُسلم بن شهَاب الْعَنْبَري الْبَصْرِيّ أَبُو بشر أقدم من الْوَلِيد بن مُسلم الْأمَوِي الدِّمَشْقِي أبي الْعَبَّاس صَاحب الْأَوْزَاعِيّ وَالثَّانِي أعلم وَأجل الْحذاء بِالْمدِّ كَانَ يجلس فِي الحذائين وَقيل كَانَ يَقُول احذ على هَذَا النَّحْو وَلم يحذ نعلا قطّ
[২৬] আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আল-আনবারি আল-বসরি আবু বিশর। তিনি আল-আওজায়ির সহচর আবু আল-আব্বাস আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আল-উমাওয়ি আদ-দিমাশকি অপেক্ষা প্রাচীনতর ছিলেন। আর দ্বিতীয়জন (দিমাশকি) অধিক জ্ঞানী ও মহান। তাকে 'আল-হাদ্দা' (দীর্ঘ স্বরসহ) বলা হয়; তিনি মুচিদের মজলিসে বসতেন। বলা হয় যে, তিনি বলতেন, "এই পদ্ধতি অনুসরণ করো," অথচ তিনি নিজে কখনো কোনো জুতা তৈরি করেননি।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
[27] مغول بِكَسْر الْمِيم وَسُكُون الْغَيْن الْمُعْجَمَة وَفتح الْوَاو مصرف بِضَم الْمِيم وَفتح الصَّاد الْمُهْملَة وَكسر الرَّاء وصحف من حكى فِيهَا الْفَتْح حمائلهم رُوِيَ بِالْحَاء وَالْجِيم فَالْأول جمع حمولة بِالْفَتْح وَهِي الْإِبِل الَّتِي تحمل وَالثَّانِي جمع جمالة بِالْكَسْرِ جمع جمل بَقِي بِكَسْر الْقَاف ولغة طَيء فتحهَا قَالَ وَقَالَ مُجَاهِد قَائِل ذَلِك طَلْحَة بن مصرف وَذُو النواة بنواة الأول بِالتَّاءِ آخِره وَالثَّانِي بحذفها وَفِي مستخرج أبي سَاقِطَة سَاقِطَة دَاوُد بن رشيد بِضَم الرَّاء وَفتح الشين الْوَلِيد بن مُسلم هُوَ الدِّمَشْقِي صَاحب الْأَوْزَاعِيّ هَانِئ بِهَمْزَة آخِره جُنَادَة بِضَم الْجِيم أبي أُميَّة اسْمه كَبِير بِالْمُوَحَّدَةِ وَهُوَ وَولده جُنَادَة صحابيان من قَالَ أشهد أَن لَا إِلَه الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وَأَن عِيسَى عبد الله وَابْن أمته وكلمته أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَم سمي كلمة لِأَنَّهُ كَانَ بِكَلِمَة كن فخلق من غير أَب بِخِلَاف غَيره من بني آدم وروح مِنْهُ أَي رَحْمَة ومتولد مِنْهُ أَي لَيْسَ من أَب إِنَّمَا نفخ فِي أمه الرّوح وَقَالَ بَعضهم أَي مخلوقة من عِنْده وإضافتها إِلَيْهِ إِضَافَة تشريف أدخلهُ الله من أَي أَبْوَاب الْجنَّة الثَّمَانِية شَاءَ قَالَ بن الْعَرَبِيّ فِي شرح التِّرْمِذِيّ الَّذين يدعونَ من أَبْوَاب الْجنَّة الثَّمَانِية أَرْبَعَة الأول هَذَا وَالثَّانِي من مَاتَ يُؤمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر وَالثَّالِث من أنْفق زَوْجَيْنِ فِي سَبِيل الله وَحَدِيثه فِي الصَّحِيح وَالرَّابِع من قَالَ بعد الْوضُوء أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وَحَدِيثه فِي مُسلم قلت هم أَكثر من ذَلِك وَقد استوعبتهم فِي كتاب الْبَعْث أدخلهُ الله الْجنَّة على مَا كَانَ من عمل قَالَ النَّوَوِيّ هَذَا مَحْمُول على إِدْخَاله الْجنَّة فِي الْجُمْلَة فَإِن كَانَ لَهُ معاص من الْكَبَائِر فَهُوَ فِي الْمَشِيئَة فَإِن عذب ختم لَهُ بِالْجنَّةِ
[২৭] 'মুগুল' মীম বর্ণের নিচে যের, গায়িন বর্ণে সুকুন এবং ওয়াও বর্ণে জবর সহযোগে। 'মুসাররিফ' মীম বর্ণে পেশ, সাদ বর্ণে জবর এবং রা বর্ণে যের সহযোগে; আর যারা এখানে জবর পড়ার কথা বর্ণনা করেছেন তারা ভুল করেছেন। 'হামাইলুহুম' শব্দটি 'হা' এবং 'জীম' উভয় বর্ণ যোগে বর্ণিত হয়েছে। প্রথমটি 'হামুলাহ' (জবরসহ) এর বহুবচন, যার অর্থ মালবাহী উট। দ্বিতীয়টি 'জিমাল্লাহ' (যেরসহ) এর বহুবচন, যা 'জামাল' (উট) শব্দের বহুবচন। 'বাকিয়া' কাফ বর্ণে যেরসহ এবং তায় গোত্রের ভাষায় এটি জবর দিয়ে পড়া হয়। তিনি বলেন, মুজাহিদ বলেছেন: এই কথাটির প্রবক্তা হলেন তালহা ইবন মুসাররিফ। 'যু আন-নাওয়াহ' শব্দে 'নাওয়াহ' প্রথমটি শেষে 'তা' সহ এবং দ্বিতীয়টি 'তা' বিহীন। আবু সাকিতার মুস্তাখরাজে রয়েছে: 'সাকিতা'। দাউদ ইবন রুশাইদ; রা বর্ণে পেশ এবং শীন বর্ণে জবরসহ। ওয়ালীদ ইবন মুসলিম হলেন দামেস্কী, ইমাম আওজায়ীর সহচর। 'হানি' শব্দটির শেষে হামযাহ রয়েছে। 'জুনাহদাহ' জীম বর্ণে পেশসহ। আবু উমাইয়্যাহ-এর নাম 'কাবীর' (এক নুকতাহ বিশিষ্ট 'বা' সহ)। তিনি এবং তাঁর পুত্র জুনাহদাহ উভয়েই সাহাবী। যে ব্যক্তি বলবে, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর দাসীর পুত্র এবং তাঁর কালিমা যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন।" তাঁকে কালিমা বলা হয়েছে কারণ তিনি 'কুন' (হও) কালিমার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছেন, ফলে তিনি অন্যান্য আদম সন্তানদের ন্যায় পিতা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছেন। "এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ" অর্থাৎ এটি একটি রহমত এবং তাঁর পক্ষ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ তিনি কোনো পিতা থেকে নন, বরং তাঁর মায়ের মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়েছিল। কেউ কেউ বলেছেন: অর্থাৎ তাঁর পক্ষ থেকে সৃষ্টি এবং রূহকে তাঁর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে সম্মান প্রদর্শনের জন্য। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করাবেন। ইবনুল আরাবী তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: যাদেরকে জান্নাতের আটটি দরজাই আহ্বান করবে তারা চার প্রকার। প্রথম: এই ব্যক্তি। দ্বিতীয়: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রেখে মৃত্যুবরণ করবে। তৃতীয়: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জোড়ায় জোড়ায় (সম্পদ) ব্যয় করবে, যার হাদীস সহীহ গ্রন্থে রয়েছে। চতুর্থ: যে ব্যক্তি ওযুর পর বলবে, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল"; এর হাদীস মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। আমি (গ্রন্থকার) বলি: তারা এর চেয়েও অধিক এবং আমি 'কিতাবুল বা'স'-এ তাঁদের পূর্ণ বিবরণ প্রদান করেছি। "আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যা-ই হোক না কেন।" ইমাম নববী বলেন: এটি সামগ্রিকভাবে জান্নাতে প্রবেশ করানোর বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য। যদি তার কোনো কবীরা গুনাহ থাকে তবে সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে; যদি তাকে শাস্তিও দেওয়া হয়, তবুও শেষ পর্যন্ত তার জান্নাতেই সমাপ্তি ঘটবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
[29] بن عجلَان بِفَتْح الْعين عَن مُحَمَّد بن يحيى بن حبَان بِفَتْح الْحَاء وبالموحدة عَن بن محيريز عَن الصنَابحِي هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَة تابعيون روى بَعضهم عَن بعض فِي هَذَا الْإِسْنَاد بن عجلَان وَمن فَوْقه عَن عبَادَة بن الصَّامِت أَنه قَالَ دخلت عَلَيْهِ قَالَ النَّوَوِيّ سَاقِطَة لقب ثمَّ اخْتلفُوا أَيهمَا اللقب فَقَالَ جمَاعَة هداب وَعَلِيهِ البُخَارِيّ وَقَالَ آخَرُونَ هدبة وَاخْتَارَهُ بن الصّلاح ردف بِكَسْر الرَّاء وَإِسْكَان الدَّال وَهُوَ الرَّاكِب خلف الرَّاكِب وَمثله الرديف وَأَصله من ركُوبه على الردف وَهُوَ الْعَجز مؤخرة الرحل بِضَم الْمِيم وَسُكُون الْهمزَة وَكسر الْخَاء الْمُعْجَمَة أفْصح من فتح الْهمزَة وَالْخَاء الْمُشَدّدَة وأفصح مِنْهُمَا آخِرَة بِهَمْزَة ممدودة وَهُوَ الْعود الَّذِي يكون خلف الرَّاكِب يَا معَاذ بن جبل بِنصب بن لَا غير وَفِي معَاذ النصب وَالضَّم لبيْك الْأَشْهر أَن مَعْنَاهُ إِجَابَة لَك بعد إِجَابَة وَقيل قربا مِنْك وَإجَابَة وَقيل قربا مِنْك وَطَاعَة وَقيل أَنا مُقيم على طَاعَتك من ألب بِالْمَكَانِ إِذا أَقَامَ بِهِ وَلَزِمَه وألب لُغَة فِيهِ ونصبه على الْمصدر وَبني على معنى التَّأْكِيد أَي إلبابا بك بعد الْبَاب وَإِقَامَة بعد إِقَامَة وَسَعْديك قَالَ فِي الصِّحَاح أَي إسعاد لَك بعد إسعاد والإسعاد الْإِعَانَة هَل تَدْرِي مَا حق الله على الْعباد قَالَ صَاحب التَّحْرِير الْحق كل مَوْجُود يتَحَقَّق أَو مَا سيوجد لَا محَالة فَالله هُوَ الْحق الْمَوْجُود الأزلي وَالْمَوْت والساعة وَالنَّار حق لِأَنَّهَا وَاقعَة لَا محَالة وَالْكَلَام الصدْق حق بِمَعْنى أَن الشَّيْء الْمخبر عَنهُ بذلك الْخَبَر حق وَاقع مُتَحَقق لَا تردد فِيهِ وَكَذَلِكَ الْحق الْمُسْتَحق على الْغَيْر من غير أَن يكون فِيهِ تردد فَمَعْنَى حق الله على الْعباد مَا يسْتَحقّهُ عَلَيْهِم وَمعنى حق الْعباد على الله أَنه مُتَحَقق لَا محَالة وَقَالَ غَيره إِنَّمَا يُقَال حَقهم على الله على جِهَة الْمُقَابلَة لحقه عَلَيْهِم ثمَّ قَالَ النَّوَوِيّ وَيجوز أَن يكون نَحْو قَول الرجل لصَاحبه حَقك وَاجِب عَليّ أَي متأكد قيامي بِهِ وَمِنْه حَدِيث حق على كل مُسلم أَن يغْتَسل فِي كل سَبْعَة أَيَّام على حمَار يُقَال لَهُ عفير هُوَ بِعَين مُهْملَة مَضْمُومَة وَفَاء مَفْتُوحَة وَأَخْطَأ من أعجم الْعين قَالَ بن الصّلاح وَلَعَلَّ هَذِه قَضِيَّة غير الْمرة الْمُتَقَدّمَة فِي الحَدِيث السَّابِق فَإِن مؤخرة الرحل يخْتَص بِالْإِبِلِ وَلَا يكون على حمَار قَالَ النَّوَوِيّ يحْتَمل أَن يَكُونَا قَضِيَّة وَاحِدَة وَأَرَادَ بِالْحَدِيثِ الأول قدر مؤخرة الرحل أَن يعبد الله وَلَا يُشْرك بِهِ شَيْء قَالَ النَّوَوِيّ هَكَذَا ضبطناه بِالْبِنَاءِ للْمَفْعُول فيهمَا وَشَيْء بِالرَّفْع وَقَالَ بن الصّلاح وَوَقع فِي الْأُصُول شَيْئا بِالنّصب وَهُوَ صَحِيح على أَن يعبد الله بِالْيَاءِ التَّحْتِيَّة الْمَفْتُوحَة أَي يعبد العَبْد الله وَلَا يُشْرك بِهِ شَيْئا أَو بالفوقية الْمَفْتُوحَة خطابا لِمعَاذ أَو بالتحتية المضمومة وشيئا كِنَايَة عَن الْمصدر لَا على الْمَفْعُول بِهِ أَي لَا تشرك بِهِ إشراكا وَبِه هُوَ النَّائِب عَن الْفَاعِل قَالَ وَإِذا لم يعين الروَاة شَيْئا من هَذِه الْوُجُوه فَحق على من يرْوى هَذَا الحَدِيث منا أَن ينْطق بهَا كلهَا وَاحِدًا بعد وَاحِد ليَكُون اتبَاعا لما هُوَ الْمَقُول فِيهَا فِي نفس الْأَمر جزما حُسَيْن عَن زَائِدَة هَذَا هُوَ الصَّوَاب حُسَيْن بِالسِّين هُوَ بن عَليّ الْجعْفِيّ وَفِي بعض الْأُصُول حُصَيْن بالصَّاد قَالَ عِيَاض وَهُوَ غلط نَحْو حَدِيثهمْ أَي أَن حَدِيث الْقَاسِم شيخ مُسلم فِي الرِّوَايَة الْأَخِيرَة نَحْو حَدِيث شُيُوخ مُسلم الْأَرْبَعَة الْمَذْكُورين فِي الرِّوَايَات الْمُتَقَدّمَة هداب وَابْن أبي شيبَة وَابْن الْمثنى وَابْن بشار
[২৯] ইবনে আজলান ('আইন' বর্ণে ফাতহা যোগে), তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান ('হা' বর্ণে ফাতহা এবং 'বা' বর্ণে নুকতা যোগে) থেকে, তিনি ইবনে মুহাইরিজ থেকে, তিনি সুনাবেহি থেকে। এই চারজনই তাবিঈ। এই সনদে তারা একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আজলান এবং তাঁর উপরের বর্ণনাকারীগণ উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, 'আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম'। ইমাম নববী বলেন, 'উপাধি' শব্দটি বাদ পড়েছে। এরপর তাঁরা মতভেদ করেছেন যে কোনটি উপাধি? একদল বলেছেন, 'হদ্দাব'; ইমাম বুখারী এই মত পোষণ করেছেন। অন্যগণ বলেছেন, 'হুদবাহ'; ইবনে সালাহ এটি পছন্দ করেছেন। 'রিফ' ('রা' বর্ণে কাসরা এবং 'দাল' বর্ণে সুকুন যোগে) এর অর্থ হলো আরোহীর পিছনে বসা আরোহী। 'রাদিফ' শব্দটিও একই অর্থবোধক। এর মূল উৎস হলো নিতম্বের ওপর বসা। 'মু'খিরাতুল রাহল' (সওয়ারির পিছনের অংশ): 'মিম' বর্ণে দম্মাহ, 'হামজা' বর্ণে সুকুন এবং 'খা' বর্ণে কাসরা যোগে পাঠ করা 'হামজা' বর্ণে ফাতহা এবং 'খা' বর্ণে তাশদীদ যুক্ত পাঠ অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ। আর এ দুটির চেয়েও অধিক বিশুদ্ধ পাঠ হলো 'আখিরাহ' (মদযুক্ত হামজা সহ); যার অর্থ হলো আরোহীর পিছনে থাকা কাঠখণ্ড। 'হে মুআয ইবনে জাবাল': এখানে 'ইবনে' শব্দটি কেবল নসব (জবর) যুক্ত হবে। আর 'মুআয' শব্দে নসব ও দম্মাহ (পেশ) উভয়ই সম্ভব। 'লাব্বাইক': এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ অর্থ হলো—আপনার আহ্বানে সাড়া দেওয়ার পর পুনরায় সাড়া দিচ্ছি। কেউ কেউ বলেছেন—আপনার নিকটবর্তী হওয়া ও সাড়া দেওয়া। আবার কেউ বলেছেন—আপনার সান্নিধ্য ও আনুগত্য করা। কেউ বলেছেন—আমি আপনার আনুগত্যে অবিচল আছি; যা 'আল্লাবা বিল মাকান' থেকে এসেছে, যার অর্থ কোথাও অবস্থান করা ও সেখানে স্থায়ী হওয়া। আর 'আল্লাবা' শব্দটি এখানে একটি ভাষাগত রূপ। এটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) হিসেবে নসব হয়েছে এবং তাকিদ বা দৃঢ়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে দ্বিবচন হিসেবে গঠিত হয়েছে; অর্থাৎ বারবার আপনার সমীপে হাজির হওয়া এবং ক্রমাগত অবস্থান করা। 'ওয়া সা'দাইক': 'সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে—অর্থাৎ আপনার জন্য বারবার সৌভাগ্য ও সাহায্য প্রার্থনা করছি। 'ইসাআদ' মানে হলো সাহায্য করা। 'আল্লাহর প্রতি বান্দাদের হক বা অধিকার কী তা কি তুমি জানো?': 'তাহরির' গ্রন্থের লেখক বলেন—'হক' বলতে বিদ্যমান সত্য বা যা অবশ্যই ঘটবে তাকে বোঝায়। সুতরাং আল্লাহ হলেন চিরন্তন সত্য ও বিদ্যমান সত্তা। মৃত্যু, কিয়ামত এবং জাহান্নাম 'হক' বা সত্য; কারণ এগুলো অবশ্যই ঘটবে। সত্য কথাকেও 'হক' বলা হয়, এই অর্থে যে খবরটি প্রদান করা হয়েছে তা বাস্তব এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। তেমনিভাবে অন্যের ওপর প্রাপ্য পাওনাকেও 'হক' বলা হয় যেখানে কোনো সংশয় নেই। সুতরাং 'আল্লাহর প্রতি বান্দাদের হক' এর অর্থ হলো—যা তিনি তাদের ওপর পাওনা হন। আর 'আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক' এর অর্থ হলো—তা নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়িত হবে। অন্যান্যগণ বলেছেন, আল্লাহর ওপর তাদের হক কথাটি কেবল তাঁর হকের বিপরীতে উপমাস্বরূপ বলা হয়েছে। ইমাম নববী বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির তার সাথীকে এই কথা বলার মতো হতে পারে যে—'তোমার হক আমার ওপর ওয়াজিব', অর্থাৎ এটি আদায় করা আমার জন্য একান্ত জরুরি। এ থেকেই এসেছে এই হাদিসটি: 'প্রত্যেক মুসলিমের ওপর হক যে সে প্রতি সাত দিনে একবার গোসল করবে'। 'উফাইর' নামক গাধার ওপর: এটি 'আইন' বর্ণে দম্মাহ এবং 'ফা' বর্ণে ফাতহা যোগে। যারা 'আইন' বর্ণে নুকতা দিয়েছেন তারা ভুল করেছেন। ইবনে সালাহ বলেন, সম্ভবত এই ঘটনাটি পূর্ববর্তী হাদিসের ঘটনার চেয়ে ভিন্ন। কারণ 'মু'খিরাতুল রাহল' (সওয়ারির পিছনের অংশ) উটের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা গাধার ক্ষেত্রে হয় না। ইমাম নববী বলেন, হতে পারে দুটি একই ঘটনা; আর প্রথম হাদিসে 'মু'খিরাতুল রাহল' দ্বারা কেবল সেটির সমপরিমাণ উচ্চতা বোঝানো হয়েছে। 'যেন আল্লাহর ইবাদত করা হয় এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করা হয়': ইমাম নববী বলেন, আমরা এটি উভয় ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্মবাচ্য হিসেবে এবং 'শাইউন' শব্দটিকে রফা (পেশ) যোগে লিপিবদ্ধ করেছি। ইবনে সালাহ বলেন, মূল পাণ্ডুলিপিতে 'শাইআন' নসব (জবর) যোগে এসেছে। এটিও সঠিক হতে পারে যদি 'ইয়াবুদাল্লাহ' ক্রিয়াটি কর্তৃবাচ্য হিসেবে পড়া হয়; অর্থাৎ 'বান্দা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না'। অথবা মুআযকে সম্বোধন করে 'তাবুদাল্লাহ' (তুমি ইবাদত করবে) হিসেবেও পড়া যেতে পারে। অথবা 'শাইআন' শব্দটি মাসদারের বিকল্প হিসেবে হতে পারে, যার অর্থ হবে—তাঁর সাথে কোনো প্রকার শিরক করবে না। এমতাবস্থায় 'বিহি' অংশটি নায়েবে ফায়েল হবে। তিনি আরও বলেন, বর্ণনাকারীগণ যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট রূপ নির্ধারণ না করে থাকেন, তবে আমাদের জন্য উচিত হলো এই হাদিসটি বর্ণনার সময় সবগুলো রূপ একে একে উচ্চারণ করা, যাতে বাস্তবে যা বলা হয়েছিল তা নিশ্চিতভাবে অনুসরণ করা হয়। হুসাইন, যায়েদাহ থেকে: এটিই সঠিক; 'সিন' বর্ণ সহ হুসাইন হলেন ইবনে আলী আল-জু'ফী। কিছু মূল পাণ্ডুলিপিতে 'সোয়াদ' বর্ণ সহ 'হুসাইন' এসেছে, যা কাযী আইয়াযের মতে ভুল। 'তাদের হাদিসের মতো': অর্থাৎ ইমাম মুসলিমের শেষোক্ত বর্ণনার উস্তাদ কাসিমের হাদিসটি পূর্বে উল্লেখিত ইমাম মুসলিমের চারজন উস্তাদ—হদ্দাব, ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে মুসান্না এবং ইবনে বাশারের হাদিসের অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
[31] أَبُو كثير بِالْمُثَلثَةِ أَي يزِيد بن عبد الرَّحْمَن بن أذينة وَيُقَال غفيلة بالغين الْمُعْجَمَة وَالْفَاء قعُودا حول يُقَال قعدنا حوله وحواليه وحواله بِفَتْح اللَّام فِي جَمِيعهَا أَي على جوانبه مَعنا بِفَتْح الْعين أفْصح من سكونها أَن يقتطع دُوننَا أَي يصاب بمكروه وفزعنا قَالَ عِيَاض الْفَزع يكون بِمَعْنى الروع وَبِمَعْنى الهيوب للشَّيْء والاهتمام بِهِ وَبِمَعْنى الإغاثة قَالَ وَالثَّلَاثَة صَحِيحَة هُنَا أَي ذعرنا لاحتباسه عَنَّا بِدَلِيل وخشينا أَن يقتطع دُوننَا وَيدل للآخرين قَوْله فَكنت أول من فزع حَائِط أَي بُسْتَان سمي بِهِ لِأَنَّهُ حَائِط لَا سقف لَهُ ربيع بِفَتْح الرَّاء على اللَّفْظ المشتهر من بِئْر خَارِجَة ضبط بِالتَّنْوِينِ فِي كل مِنْهُمَا وَآخر الثَّانِي تَاء على أَنه صفة ل بِئْر وبتنوين بِئْر وَآخر خَارجه هَاء مَضْمُومَة ضمير الْحَائِط أَي الْبِئْر فِي مَوضِع خَارج عَن الْحَائِط وبإضافة بِئْر إِلَى خَارجه آخِره هَاء التَّأْنِيث اسْم رجل وَالْأول هُوَ الْمَشْهُور والبئر مُؤَنّثَة مَهْمُوزَة وَيجوز تسهيلها مُشْتَقَّة من بأرت أَي حفرت وَالربيع الْجَدْوَل هَذَا مدرج فِي الحَدِيث من التَّفْسِير الْجَدْوَل بِفَتْح الْجِيم النَّهر الصَّغِير فاحتفزت رُوِيَ بالراء وبالزاي وَالثَّانِي أصعب وَمَعْنَاهُ تضاممت ليسعني الْمدْخل وَيدل عَلَيْهِ تشبيهه بِفعل الثَّعْلَب وَهُوَ تضامه فِي المضايق أَبُو هُرَيْرَة أَي أَنْت أَبُو هُرَيْرَة كنت بَين أظهرنَا فِي بعض الْأُصُول ظهرينا وَأَعْطَانِي نَعْلَيْه ليَكُون عَلامَة ظَاهِرَة مَعْلُومَة عِنْدهم يعْرفُونَ بهَا أَنه لَقِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَيكون أوقع فِي نُفُوسهم لما يُخْبِرهُمْ بِهِ عَنهُ مُسْتَيْقنًا بهَا قلبه ذكر الْقلب للتَّأْكِيد وَنفي توهم الْمجَاز وَإِلَّا فالاستيقان لَا يكون إِلَّا بِهِ فَقلت هَاتين نعلا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ النَّوَوِيّ كَذَا فِي جَمِيع الْأُصُول بِنصب هَاتين وَرفع نعلا وَهُوَ صَحِيح وَمَعْنَاهُ فَقلت يَعْنِي هَاتين هما نعلا فنصب هَاتين بإضمار يَعْنِي وَحذف هما الْمُبْتَدَأ للْعلم بِهِ بَعَثَنِي بهما بالتثنية وَفِي كثير من الْأُصُول بهاء بِلَا مِيم وَهُوَ عَائِد إِلَى الْعَلامَة قَالَه النَّوَوِيّ ثديي تَثْنِيَة ثدي بِفَتْح الثَّاء مُذَكّر وَقد يؤنث وَاخْتلف فِي اخْتِصَاصه بِالْمَرْأَةِ وَعَلِيهِ يكون إِطْلَاقه فِي الرجل مجَازًا واستعاره فَخَرَرْت بِفَتْح الرَّاء الأولى لاستي هُوَ من أَسمَاء الدبر فأجهشت بِالْجِيم والشين الْمُعْجَمَة والهمزة وَالْهَاء مفتوحتان وَرُوِيَ فجهشت بِحَذْف الْألف يُقَال جهشت جهشا وأجهشت إجهاشا قَالَ عِيَاض وَهُوَ أَن يفزع الْإِنْسَان إِلَى غَيره وَهُوَ متغير الْوَجْه متهيء للبكاء وَلما يبك بعد وَقَالَ الطَّبَرِيّ هُوَ الْفَزع والإستغاثة وَقَالَ أَبُو زيد جهشت للبكاء والحزن والشوق بكاء نصب على المفعولية وَرُوِيَ للبكاء وَهُوَ يمد وَيقصر وركبني عمر أَي تَبِعنِي وَمَشى خَلْفي فِي الْحَال بِلَا مهلة إثري بِكَسْر الْهمزَة وَإِسْكَان الْمُثَلَّثَة وبفتحهما بِأبي أَنْت وَأمي أَي أفديك أَو أَنْت مفدى
[31] আবু কাসির: 'সা' (তিন নুক্তাবিশিষ্ট) বর্ণযোগে, অর্থাৎ ইয়াজিদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উযাইনাহ। কেউ কেউ বলেন ‘গিফালাহ’—গইন এবং ফা বর্ণযোগে। ‘কুউদান হাওলা’: বলা হয় ‘আমরা তার আশেপাশে এবং চারদিকে বসলাম’—সবগুলোতেই লাম বর্ণে জবর হবে, অর্থাৎ তার চারদিকে। ‘মাআনা’: আইন বর্ণে জবর সহকারে পড়া সুকুন করার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। ‘আন ইয়ুকতাতাআ দুনানা’: অর্থাৎ তিনি কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হবেন। ‘ওয়া ফাযিনা’: কাদি ইয়াদ বলেন, 'ফাযা' শব্দটি কখনো আতঙ্ক অর্থে, কখনো কোনো কিছুর প্রতি ভীতি ও গুরুত্ব প্রদান অর্থে, আবার কখনো সাহায্য প্রার্থনা অর্থে ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন, এখানে তিনটি অর্থই সঠিক। অর্থাৎ তার আমাদের থেকে দূরে অবস্থানের কারণে আমরা ভীত হলাম, যার প্রমাণ হলো ‘খাশিনা আন ইয়ুকতাতাআ দুনানা’ বাক্যটি। আর অন্য দুটি অর্থের প্রমাণ হলো তার এই উক্তি—‘আমিই ছিলাম প্রথম ব্যক্তি যে ভীত হয়েছিল’। ‘হাএত’: অর্থাৎ বাগান; একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি এমন দেয়াল যার কোনো ছাদ নেই। ‘রাবি’: প্রচলিত উচ্চারণ অনুযায়ী র-তে জবর সহকারে, ‘বি’রে খারিজাহ’ থেকে। উভয় শব্দেই তানউইন সহকারে বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয় শব্দের শেষে ‘তা’ রয়েছে যা ‘বি’র’ শব্দের সিফাত বা গুণ। আবার ‘বি’র’ শব্দে তানউইন এবং ‘খারিজাহ’ শব্দের শেষে পেশযুক্ত ‘হা’ (সর্বনাম) সহকারেও বর্ণিত হয়েছে যা বাগানের দিকে নির্দেশ করে, অর্থাৎ কূপটি বাগানের বাইরের কোনো স্থানে অবস্থিত। আবার ‘বি’র’ শব্দটিকে ‘খারিজাহ’ (গোল ‘তা’ যুক্ত জনৈক ব্যক্তির নাম) শব্দের দিকে ইজাফত করেও পড়া হয়েছে। প্রথম মতটিই অধিক প্রসিদ্ধ। ‘বি’র’ (কূপ) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ এবং এটি হামযা যুক্ত শব্দ, তবে হামযা সহজ করে (আলিফ হিসেবে) পড়াও জায়েজ। এটি ‘বা’আরাতু’ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ আমি খনন করেছি। ‘আর-রাবি’ অর্থ হলো নালা; এটি হাদিসের ব্যাখ্যা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ‘জাদওয়াল’: জিম বর্ণে জবর সহকারে, যার অর্থ ছোট নদী। ‘فاحتفزত’ (ফাহতাজাফতু): এটি ‘রা’ এবং ‘যা’ উভয় বর্ণে বর্ণিত হয়েছে, দ্বিতীয়টি অধিক কঠিন। এর অর্থ হলো আমি নিজেকে সংকুচিত করলাম যাতে প্রবেশপথে আমার জায়গা হয়। এর প্রমাণ হলো শেয়ালের কাজের সাথে এর তুলনা করা, কারণ শেয়াল সংকীর্ণ স্থানে নিজেকে সংকুচিত করে নেয়। ‘আবু হুরায়রা’: অর্থাৎ আপনি কি আবু হুরায়রা? ‘কুংতা বাইনা আজহুরিনা’: কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘জহরাইনা’ এসেছে। ‘ওয়া আ’তানি না’লাইহি’: তিনি আমাকে তাঁর এক জোড়া জুতো দিলেন যেন তা তাঁদের কাছে একটি স্পষ্ট ও পরিচিত চিহ্ন হয়, যার মাধ্যমে তাঁরা বুঝতে পারেন যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তিনি তাঁর পক্ষ থেকে যা সংবাদ দিচ্ছেন তা যেন তাঁদের মনে অধিক প্রভাব ফেলে। ‘মুস্তাইকিনান বিহা কালবুহু’: অন্তরের কথাটি তাকীদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য এবং রূপক অর্থের সম্ভাবনা নাকচ করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যথায় একিন বা ধ্রুব বিশ্বাস তো অন্তরের মাধ্যমেই হয়। ‘ফাকুলতু হাতাইনি না’লা রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’: ইমাম নববী বলেন, সকল পাণ্ডুলিপিতে ‘হাতাইনি’ শব্দটিতে নসব (যবর) এবং ‘না’লা’ শব্দটিতে রফ (পেশ) বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই সঠিক। এর অর্থ হলো, আমি বললাম—অর্থাৎ ‘এই দুটি হলো তাঁর জুতো’। এখানে ‘হাতাইনি’ শব্দটি ‘ইয়া’নী’ ক্রিয়া উহ্য থাকার কারণে মানসুব হয়েছে এবং খবর জানা থাকার কারণে ‘হুমা’ মুবতাদাটি উহ্য রাখা হয়েছে। ‘বাআছানি বিাহিমা’: দ্বিবচন শব্দে বর্ণিত। তবে অনেক পাণ্ডুলিপিতে মিম ছাড়াই ‘বিহা’ বর্ণিত হয়েছে, যা চিহ্নের দিকে নির্দেশ করে—ইমাম নববী এমনটিই বলেছেন। ‘ছাদইয়াইয়া’: এটি ‘ছাদি’ শব্দের দ্বিবচন, ছা বর্ণে জবর সহকারে; এটি পুংলিঙ্গ তবে কখনো স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এটি কি কেবল নারীর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কি না তা নিয়ে মতভেদ আছে, সেই হিসেবে পুরুষের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রূপক ও ধার করা অর্থ হতে পারে। ‘ফাখারারতু লি-ইসতি’: প্রথম র-তে জবর সহকারে; ‘ইস্ত’ হলো পাছার অন্যতম নাম। ‘ফা-আজহাশতু’: জিম, শিন, হামযা এবং হা—সবগুলোতে জবর সহকারে। আলিফ ছাড়াই ‘ফাজা हाशতু’ও বর্ণিত হয়েছে। বলা হয় ‘জাহাশতু জাহশান’ এবং ‘আজহাশতু ইজহাশান’। কাদি ইয়াদ বলেন, এর অর্থ হলো মানুষের অন্য কারো দিকে আতঙ্কে ধাবিত হওয়া এমতাবস্থায় যে তার চেহারার রং পরিবর্তিত এবং সে কান্নার উপক্রম হয়েছে কিন্তু এখনও কাঁদেনি। তাবারী বলেন, এর অর্থ আতঙ্ক ও সাহায্য প্রার্থনা। আবু যায়েদ বলেন, কান্না, দুঃখ ও আকাঙ্ক্ষায় কান্নার উপক্রম হওয়া। ‘বুকান’: এটি মাফউল হিসেবে জবরযুক্ত হয়েছে; আবার ‘লিল-বুকাই’ও বর্ণিত হয়েছে। এটি দীর্ঘ এবং সংক্ষিপ্ত—উভয়ভাবেই পড়া যায়। ‘ওয়া রাকিবিানি উমর’: অর্থাৎ তিনি আমার অনুসরণ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ বিলম্ব না করে আমার পেছনে হাঁটলেন। ‘ইছরি’: হামযায় যের এবং ছা-তে সুকুন অথবা উভয় বর্ণে জবর সহকারে। ‘বি-আবি আন্তা ওয়া উম্মি’: অর্থাৎ আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত হই, অথবা আপনি আমার উৎসর্গযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
[32] تأثما بِفَتْح الْهمزَة وَضم الْمُثَلَّثَة الْمُشَدّدَة قَالَ أهل اللُّغَة تأثم الرجل إِذا فعل فعلا ليخرج بِهِ من الْإِثْم وتحرج أَزَال عَنهُ الْحَرج وتحنث أَزَال عَنهُ الْحِنْث وَمعنى تأثم معَاذ أَنه كَانَ يحفظ علما يخَاف فَوَاته وذهابه بِمَوْتِهِ فخشي أَن يكون مِمَّن كتم علما فَيكون آثِما فاحتاط وَأخْبر بِهَذِهِ السّنة مَخَافَة من الْإِثْم وَعلم أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لم يَنْهَهُ عَن الْإِخْبَار بهَا نهي تَحْرِيم أَو أَنه إِنَّمَا نَهَاهُ عَن الإذاعة والتبشير الْعَام خوفًا من أَن يسمع ذَلِك من لَا خبْرَة لَهُ وَلَا علم فيغتر ويتكل بِدَلِيل أَنه أَمر أَبَا هُرَيْرَة بالتبشير فِي الحَدِيث السَّابِق فَيكون ذَلِك مَخْصُوصًا بِمن أَمن عَلَيْهِ الاغترار والاتكال من أهل الْمعرفَة فسلك معَاذ هَذَا المسلك فَأخْبر بِهِ من الْخَاصَّة من رَآهُ أَهلا
[৩২] 'তআছছুমান'—হামযাহর ফাতহ (যবর) এবং তাশদীদযুক্ত 'ছা'-এর যম্মাহ (পেশ) সহকারে। ভাষাবিদগণ বলেন, ব্যক্তি তখন 'তআছছামা' (পাপমুক্ত হওয়ার আমল) করে, যখন সে এমন কোনো কাজ করে যার মাধ্যমে সে গুনাহ থেকে নিষ্কৃতি পায়। 'তাহররাজা' অর্থ সে নিজের থেকে পাপের সংকীর্ণতা দূর করল এবং 'তাহান্নাছা' অর্থ সে নিজের থেকে গুনাহ দূর করল। মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর 'তআছছুমা' বা পাপমুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টার অর্থ হলো, তিনি এমন ইলম সংরক্ষণ করছিলেন যা তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে যাওয়ার বা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, তিনি হয়তো ইলম গোপনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পাপিষ্ঠ হবেন। তাই তিনি সতর্কতা অবলম্বন করলেন এবং পাপের ভয়ে এই সুন্নাহটি বর্ণনা করলেন। তিনি জানতেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে এটি বর্ণনা করতে হারামের ন্যায় চূড়ান্তভাবে নিষেধ করেননি; বরং তিনি তাঁকে কেবল সাধারণ প্রচার ও ব্যাপকভাবে সুসংবাদ দান করা থেকে নিষেধ করেছিলেন। এর কারণ ছিল এই ভয় যে, যার এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান নেই, সে হয়তো এটি শুনে বিভ্রান্ত হবে এবং আমল ছেড়ে কেবল এর ওপরই ভরসা করে বসবে। এর দলিল হলো, পূর্ববর্তী হাদিসে তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে সুসংবাদ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুতরাং বিষয়টি কেবল এমন জ্ঞানীদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল যাদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হওয়া বা কেবল এর ওপর ভরসা করার কোনো ভয় ছিল না। মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই নীতিই অনুসরণ করেছেন এবং বিশেষ ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে যাদেরকে তিনি যোগ্য মনে করেছেন, কেবল তাদেরকে এটি অবগত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫০)
[33] عَن أنس حَدثنَا مَحْمُود بن الرّبيع عَن عتْبَان بن مَالك هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَة صحابيون يروي بَعضهم عَن بعض وَرِوَايَة أنس عَن مَحْمُود من رِوَايَة الأكابر عَن الأصاغر فَإِن أنسا أكبر سنا وعلما ومرتبة وعتبان بِكَسْر الْمُهْملَة وَسُكُون الْفَوْقِيَّة وموحدة أسندوا عظم ذَلِك بِضَم الْعين وَإِسْكَان الظَّاء أَي معظمه وَكبره بِضَم الْكَاف وَكسرهَا أَي أَنهم تحدثُوا وَذكروا شَأْن الْمُنَافِقين وأفعالهم القبيحة وَمَا يلقون مِنْهُم ونسبوا مُعظم ذَلِك إِلَى مَالك بن الدخشم بِضَم الدَّال الْمُهْملَة والشين الْمُعْجَمَة بَينهمَا خاء مُعْجمَة سَاكِنة آخِره مِيم بِلَا ألف وَلَام وَضبط فِي الرِّوَايَة الثَّانِيَة بِزِيَادَة يَاء بعد الْخَاء على التصغير وَألف وَلَام وَرُوِيَ فِي غير مُسلم بالنُّون بدل الْمِيم مكبرا ومصغرا قَالَ بن الصّلاح وَيُقَال أَيْضا بِكَسْر الدَّال والشين قَالَ بن عبد الْبر وَغَيره وَابْن دخشم هَذَا من الْأَنْصَار شهد بَدْرًا وَمَا بعْدهَا من الْمشَاهد قَالَ وَلَا يَصح عَنهُ النِّفَاق فَإِنَّهُ قد ظهر من حسن إِسْلَامه مَا منع من اتهامه قَالَ النَّوَوِيّ وَقد نَص النَّبِي صلى الله عليه وسلم على إيمَانه بَاطِنا وبراءته من النِّفَاق بقوله فِي رِوَايَة البُخَارِيّ أَلا ترَاهُ قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله يَبْتَغِي بهَا وَجه الله ودوا أَنه أَصَابَهُ شَيْء فِي بعض الْأُصُول شَرّ وَبَعضهَا بشر بِزِيَادَة الْبَاء الجارة فَخط لي مَسْجِدا أَي أعلم لي على مَوضِع لأتخذه مَوضِع صَلَاتي متبركا بآثاره
[৩৩] আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মাহমুদ বিন আল-রাবী' আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইতবান বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। এই তিনজনই সাহাবী, যারা একে অপরের থেকে বর্ণনা করেছেন। মাহমুদ থেকে আনাসের বর্ণনাটি মূলত বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের থেকে বর্ণনার (রিওয়ায়াতুল আকাবির আনিল আসাগির) অন্তর্ভুক্ত; কারণ আনাস (রা.) বয়স, জ্ঞান ও মর্যাদায় বড় ছিলেন। 'ইতবান' শব্দটি আইন বর্ণে কাসরা (জের), তা বর্ণে সুকুন এবং এরপর বা বর্ণ সহযোগে। তারা 'আসনাদু উজমা যালিকা' বলেছেন, এখানে উজমা শব্দটি আইন বর্ণে যম্মাহ (পেশ) এবং যা বর্ণে সুকুন যোগে, যার অর্থ এর অধিকাংশ বা প্রধান অংশ। 'কিবরাহু' শব্দটি কাফ বর্ণে যম্মাহ বা কাসরা উভয়ভাবেই পড়া যায়। অর্থাৎ তারা মুনাফিকদের অবস্থা, তাদের জঘন্য কর্মকাণ্ড এবং তাদের থেকে তারা যা ভোগ করেছিলেন তা নিয়ে আলোচনা ও স্মরণ করছিলেন এবং এর অধিকাংশ দায় মালিক বিন আল-দুখশুম-এর ওপর আরোপ করেছিলেন। 'দুখশুম' শব্দটি দাল ও শীন বর্ণে যম্মাহ এবং এ দুটির মাঝে খা বর্ণে সুকুন যোগে, শেষে আলিফ ও লাম ব্যতিরেকে মীম বর্ণ রয়েছে। দ্বিতীয় বর্ণনায় খা বর্ণের পর একটি 'ইয়া' যোগ করে ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দ হিসেবে এবং আলিফ ও লাম যুক্ত অবস্থায় এটি লিপিবদ্ধ হয়েছে। মুসলিম শরীফ ব্যতীত অন্য কিতাবে মীম বর্ণের স্থলে নুন বর্ণ দিয়ে মূল ও ক্ষুদ্রতাবাচক উভয় রূপেই বর্ণিত হয়েছে। ইবনুস সালাহ বলেন, দাল ও শীন বর্ণে কাসরা যোগেও এটি পড়া হয়। ইবনে আবদিল বার ও অন্যান্যরা বলেন, এই ইবনে দুখশুম আনসারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি বদর ও পরবর্তী সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর নিফাক বা মুনাফিকি সাব্যস্ত হওয়া সঠিক নয়, কারণ তাঁর ইসলামের এমন সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে যা তাঁর প্রতি অপবাদ বা সন্দেহ দূর করে দেয়। ইমাম নববী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অন্তরের ঈমান এবং নিফাক থেকে তাঁর মুক্ত হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুখারীর বর্ণনায় এসেছে— "তুমি কি দেখছ না যে তিনি আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছেন?" তারা কামনা করত যে তাঁর কোনো অকল্যাণ হোক; কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'শারর' (মন্দ) এবং কোনটিতে অতিরিক্ত বা-সহযোগে 'বি-শাররিন' এসেছে। "আমার জন্য একটি মাসজিদ চিহ্নিত করে দিন" অর্থাৎ আমার সালাত আদায়ের জন্য একটি স্থান নির্দিষ্ট করে দিন, যেন তাঁর পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত স্থান থেকে বরকত গ্রহণ করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫১)
[34] يزِيد بن الْهَاد يَقُوله المحدثون بِلَا يَاء وَالْمُخْتَار عِنْد أهل الْعَرَبيَّة فِيهِ وَفِي نَظَائِره الْيَاء ذاق طعم الْإِيمَان من رَضِي بِاللَّه رَبًّا قَالَ صَاحب التَّحْرِير معنى رضيت بالشَّيْء قنعت بِهِ واكتفيت بِهِ وَلم أطلب مَعَه غَيره فَمَعْنَى الحَدِيث لم يطْلب غير الله رَبًّا وَلم يسع فِي غير طَرِيق الْإِسْلَام وَلم يسْلك إِلَّا مَا يُوَافق شَرِيعَة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَلَا شكّ أَن من كَانَت هَذِه صفته فقد خلصت حلاوة الْإِيمَان إِلَى قلبه وذاق طعمه وَقَالَ عِيَاض معنى الحَدِيث صَحَّ إيمَانه واطمأنت بِهِ نَفسه وخامر بَاطِنه لِأَن رِضَاهُ بالمذكورات دَلِيل لثُبُوت مَعْرفَته ونفاذ بصيرته ومخالطة بشاشته قلبه لِأَن من رَضِي أمرا سهل عَلَيْهِ فَكَذَا الْمُؤمن إِذا دخل قلبه الْإِيمَان سهلت عَلَيْهِ الطَّاعَة ولذت لَهُ الْإِيمَان
[৩৪] ইয়াজিদ বিন আল-হাদ; মুহাদ্দিসগণ এটি 'ইয়া' বর্ণ ব্যতীত উচ্চারণ করেন, তবে ভাষাবিদদের নিকট এটি এবং এর সমরূপ শব্দসমূহের ক্ষেত্রে 'ইয়া' যুক্ত করাই পছন্দনীয়। 'যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে।' আত-তাহরির গ্রন্থের লেখক বলেছেন: কোনো বিষয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার অর্থ হলো তাতে তুষ্ট হওয়া এবং তাতেই যথেষ্ট বোধ করা এবং তার সাথে অন্য কিছু অন্বেষণ না করা। সুতরাং হাদিসের অর্থ হলো—সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে রব হিসেবে অন্বেষণ করেনি, ইসলামের পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথে সচেষ্ট হয়নি এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরিয়তের অনুকূল পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথে চলেনি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকবে, ঈমানের মিষ্টতা তার অন্তরে পৌঁছাবে এবং সে এর স্বাদ আস্বাদন করবে। কাদি ইয়াজ বলেছেন: হাদিসটির অর্থ হলো—তার ঈমান সঠিক হয়েছে, তার নফস এতে প্রশান্তি লাভ করেছে এবং তার অভ্যন্তরীণ সত্তায় তা মিশে গেছে। কেননা উল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রতি তার সন্তুষ্টি তার মারেফাতের দৃঢ়তা, অন্তর্দৃষ্টির প্রখরতা এবং ঈমানের প্রফুল্লতা হৃদয়ে মিশে যাওয়ার প্রমাণ। কারণ যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়, তা তার জন্য সহজ হয়ে যায়। তদ্রূপ মুমিন ব্যক্তির অন্তরে যখন ঈমান প্রবেশ করে, তখন তার জন্য আনুগত্য সহজ হয়ে যায় এবং ঈমান তার নিকট আনন্দদায়ক মনে হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫২)
[35] الْإِيمَان بضع وَسَبْعُونَ أَو بضع وَسِتُّونَ شُعْبَة قَالَ الْبَيْهَقِيّ الشَّك من سُهَيْل لَكِن رُوَاة أَبُو دَاوُد وَغَيره بِرِوَايَة سُهَيْل بضع وَسَبْعُونَ بِلَا شكّ وَعند التِّرْمِذِيّ من طَرِيق آخر أَرْبَعَة وَسِتُّونَ وَضعف القَاضِي عِيَاض وَغَيره رِوَايَة بضع وَسَبْعُونَ وَقَالَ بن الصّلاح اخْتلفُوا فِي التَّرْجِيح وَالْأَشْبَه بالإتقان وَالِاحْتِيَاط تَرْجِيح رِوَايَة الْأَقَل وَمِنْهُم من رجح رِوَايَة الْأَكْثَر وَإِيَّاهَا اخْتَار الْحَلِيمِيّ والبضع بِكَسْر الْبَاء وَفتحهَا مَا بَين الثَّلَاث أَو الْإِثْنَيْنِ وَالْعشر وَهَذَا هُوَ الصَّحِيح وَورد فِي حَدِيث مَرْفُوع والشعبة الْقطعَة من الشَّيْء وَالْمرَاد بهَا هُنَا الْخصْلَة وَقد سردت هَذِه الشّعب فِيمَا علقته على البُخَارِيّ الْحيَاء بِالْمدِّ الاستحياء قَالَ عِيَاض وَغَيره وَإِنَّمَا عد من الْإِيمَان وَإِن كَانَ غريزة لِأَنَّهُ قد يكون غريزة وَقد يكون اكتسابا كَسَائِر أَعمال الْبر وَإِذا كَانَ غريزة فاستعماله على قانون الشَّرْع يحْتَاج إِلَى اكْتِسَاب وَنِيَّة وَعلم فَهُوَ من الْإِيمَان لهَذَا ولكونه باعثا على أَفعَال الْبر ومانعا من الْمعاصِي إمَاطَة الْأَذَى تنحيته وإبعاده وَهُوَ كل مَا يُؤْذِي من حجر أَو مدر أَو شوك أَو غَيره
[৩৫] ঈমান সত্তরোর্ধ্ব কিংবা ষাটোর্ধ্ব শাখা বিশিষ্ট। ইমাম বায়হাকী বলেন, এই সন্দেহ সুহায়ল থেকে বর্ণিত। তবে আবু দাউদ ও অন্যান্যরা সুহায়লের বর্ণনায় কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই 'সত্তরোর্ধ্ব' বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযীর নিকট অন্য সূত্রে 'চৌষট্টি' (শাখা) বর্ণিত হয়েছে। কাজী আয়াজ ও অন্যান্যরা 'সত্তরোর্ধ্ব' বর্ণনাটিকে দুর্বল বলেছেন। ইবনুস সালাহ বলেন, এগুলোর মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। অধিকতর নির্ভরযোগ্য ও সতর্কতাপূর্ণ হলো কম সংখ্যার বর্ণনাটিকে প্রাধান্য দেওয়া। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অধিক সংখ্যার বর্ণনাটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আল-হালীমী এটিই গ্রহণ করেছেন। 'বিদউন' (ব বর্ণে যের বা যবর সহকারে) দ্বারা তিন অথবা দুই থেকে দশের মধ্যবর্তী সংখ্যা বোঝায়; এটিই সঠিক মত এবং এটি একটি মারফু হাদীসেও বর্ণিত হয়েছে। 'শু'বাহ' হলো কোনো বস্তুর অংশ, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গুণ বা বৈশিষ্ট্য। আমি বুখারীর ওপর আমার টীকায় এই শাখাগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। 'আল-হায়া' (দীর্ঘ স্বরযোগে) অর্থ হলো লজ্জা। কাজী আয়াজ ও অন্যান্যরা বলেন, লজ্জাকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যদিও তা একটি স্বভাবজাত প্রবৃত্তি; কারণ এটি কখনো সহজাত হয় আবার কখনো অন্যান্য নেক আমলের মতো অর্জনীয় হয়। আর যদি তা সহজাত প্রবৃত্তিও হয়, তবে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী এর সঠিক প্রয়োগের জন্য তা অর্জন করা, নিয়্যত এবং ইলমের প্রয়োজন। সুতরাং এই কারণে এবং এটি নেক কাজে উদ্বুদ্ধকারী ও নাফরমানি থেকে বাধা প্রদানকারী হওয়ার কারণে এটি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। 'ইমাতাতুল আযা' অর্থ হলো কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা ও দূরে রাখা; আর তা পাথর, মাটির ঢেলা, কাঁটা কিংবা এ জাতীয় কষ্টদায়ক সব কিছুকেই শামিল করে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
[36] يعظ أَخَاهُ فِي الْحيَاء أَي ينهاه عَنهُ ويقبح لَهُ فعله ويزجره عَن كثرته فَقَالَ الْحيَاء من الْإِيمَان عِنْد البُخَارِيّ فَقَالَ دَعه فَإِن الْحيَاء من الْإِيمَان
[৩৬] তিনি তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিলেন; অর্থাৎ তিনি তাকে এ থেকে নিষেধ করছিলেন, তার এই কাজকে তার নিকট মন্দ হিসেবে তুলে ধরছিলেন এবং এর আধিক্যের কারণে তাকে ধমক দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেন, "লজ্জা ঈমানের অংশ।" বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, অতঃপর তিনি বললেন, "তাকে ছেড়ে দাও, কারণ নিশ্চয়ই লজ্জা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
[37] ثَنَا مُحَمَّد بن الْمثنى هَذَا الْإِسْنَاد وَالَّذِي بعده رجالهما كلهم بصريون أما السوار بِفَتْح السِّين وَتَشْديد الْوَاو وَآخره رَاء الْحيَاء لَا يَأْتِي إِلَّا بِخَير اسْتشْكل من حَيْثُ أَن صَاحب الْحيَاء قد يستحيي أَن يواجه بِالْحَقِّ من لَا يَفْعَله فَيتْرك أمره بِالْمَعْرُوفِ وَنَهْيه عَن الْمُنكر وَقد يحملهُ الْحيَاء عَن الْإِخْلَال بِبَعْض الْحُقُوق وَغير ذَلِك مِمَّا هُوَ مَعْرُوف فِي الْعَادة وَأجَاب بن الصّلاح وَغَيره بِأَن هَذَا الْمَانِع لَيْسَ بحياء حَقِيقَة بل هُوَ عجز وخور ومهانة وَإِنَّمَا يُطلق عَلَيْهِ أهل الْعرف حَيَاء مجَازًا لمشابهته الْحيَاء الْحَقِيقِيّ وَحَقِيقَة الْحيَاء خلق يبْعَث على ترك الْقَبِيح وَيمْنَع من التَّقْصِير فِي حق ذِي الْحق بشير بن كَعْب بِضَم الْبَاء وَفتح الْمُعْجَمَة ضعف بِالْفَتْح وَالضَّم حَتَّى احمرتا عَيناهُ كَذَا فِي الْأُصُول وَهُوَ جَار على لُغَة أكلوني البراغيث وَفِي سنَن أبي دَاوُد احْمَرَّتْ بِلَا ألف وَهُوَ أدل دَلِيل على أَن ذَلِك تعبيرات الروَاة وتعارض فِيهِ أَي تَأتي بِكَلَام فِي مُقَابلَته وتعترض بِمَا يُخَالِفهُ إِنَّه منا أَي لَيْسَ مِمَّن يتهم بِنفَاق أَو زندقة أَو بِدعَة يَا أَبَا نجيد بِضَم النُّون وَفتح الْجِيم آخِره دَال مُهْملَة كنية عمرَان بن حُصَيْن رضي الله عنه أَبُو نعَامَة بِفَتْح النُّون
[৩৭] মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। এই সনদ এবং এর পরবর্তী সনদের বর্ণনাকারীগণ সকলেই বসরার অধিবাসী। 'আস-সাওয়ার' শব্দটি সীন বর্ণে ফাতহাহ (যবর) এবং ওয়াও বর্ণে তাশদীদের সাথে এবং এর শেষে রা বর্ণ রয়েছে। 'লজ্জাশীলতা কেবল কল্যাণই বয়ে আনে'—এ বিষয়ে এই মর্মে আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে যে, একজন লজ্জাশীল ব্যক্তি সত্যের বিমুখ ব্যক্তির মুখোমুখি হতে লজ্জা পেতে পারেন, যার ফলে তিনি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ পরিত্যাগ করতে পারেন। আবার লজ্জাশীলতা তাকে কিছু অধিকার আদায়ে ত্রুটি করতে প্রবৃত্ত করতে পারে, যা সাধারণত লোকসমাজে পরিচিত। ইবনুস সালাহ ও অন্যান্যগণ এর উত্তরে বলেছেন যে, এই প্রতিবন্ধকতা প্রকৃতপক্ষে লজ্জা নয়; বরং এটি হলো অক্ষমতা, ভীরুতা ও হীনতা। সাধারণ মানুষ একে রূপকভাবে লজ্জা বলে অভিহিত করে, কারণ এটি প্রকৃত লজ্জার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রকৃত লজ্জা হলো এমন এক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা মন্দ কাজ বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং হকদারের পাওনা আদায়ে অবহেলা করতে বাধা প্রদান করে। বশীর বিন কাব: বা বর্ণে যাম্মাহ (পেশ) এবং বিন্দুযুক্ত বর্ণে (শীন) ফাতহাহ (যবর) যোগে। 'দু’ইফা' ফাতহাহ ও যাম্মাহর সাথে বর্ণিত হয়েছে, এমনকি তার চোখ দুটি লাল হয়ে গেল—মূল পাঠ্যগুলোতে এভাবেই এসেছে এবং এটি 'আকালুনিল বারগীস' উপভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী সংগতিপূর্ণ। তবে সুনানে আবু দাউদে এটি আলিফ ব্যতিরেকে 'ইহমাররাত' শব্দে এসেছে, যা এক অকাট্য প্রমাণ যে এগুলো বর্ণনাকারীদের নিজস্ব শব্দপ্রয়োগ। 'ওয়া তুআরিযু ফীহি' অর্থাৎ আপনি এর বিপরীতে কথা বলছেন এবং যা এর পরিপন্থী তা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করছেন। 'তিনি আমাদের অন্তর্ভুক্ত' অর্থাৎ তিনি এমন ব্যক্তি নন যিনি নিফাক, যিন্দিকতা বা বিদআতের অভিযোগে অভিযুক্ত। হে আবু নুজাইদ: নূন বর্ণে যাম্মাহ (পেশ) এবং জীম বর্ণে ফাতহাহ (যবর), শেষে বিন্দুহীন দাল রয়েছে। এটি ইমরান বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উপনাম। আবু না’আমাহ: নূন বর্ণে ফাতহাহ (যবর) যোগে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
[38] آمَنت بِاللَّه ثمَّ اسْتَقِم هَذَا من جَوَامِع الْكَلم وَهُوَ مُطَابق لقَوْله تَعَالَى إِن الَّذين قَالُوا رَبنَا الله ثمَّ استقاموا أَي وحدوه وآمنوا بِهِ ثمَّ استقاموا فَلم يحيدوا عَن توحيدهم والتزموا طَاعَته إِلَى أَن توفوا على ذَلِك وَهُوَ معنى الحَدِيث قَالَه عِيَاض وَقَالَ الْقشيرِي الاسْتقَامَة دَرَجَة بهَا كَمَال الْأُمُور وتمامها وبوجودها حُصُول الْخيرَات ونظامها وَقيل الاسْتقَامَة لَا يطيقها إِلَّا الأكابر لِأَنَّهَا الْخُرُوج عَن المعهودات ومفارقة الرسوم والعادات وَالْقِيَام بَين يَدي الله على حَقِيقَة الصدْق وَلذَلِك قَالَ صلى الله عليه وسلم اسْتَقِيمُوا وَلنْ تُحْصُوا وَقَالَ الوَاسِطِيّ الْخصْلَة الَّتِي بهَا كملت المحاسن وبفقدها قبحت المحاسن الاسْتقَامَة قَالَ النَّوَوِيّ وَلم يرو مُسلم لِسُفْيَان بن عبد الله رَاوِي هَذَا الحَدِيث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم غير هَذَا الحَدِيث وَلم يروه البُخَارِيّ وَلَا روى لَهُ فِي صَحِيحه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم شَيْئا وروى التِّرْمِذِيّ هَذَا الحَدِيث وَزَاد فِيهِ قلت يَا رَسُول الله مَا أخوف مَا تخَاف عَليّ قَالَ هَذَا وَأخذ بِلِسَانِهِ
[৩৮] "আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি, অতঃপর অবিচল থাকো"—এটি 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: "নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর তারা অবিচল থাকে।" অর্থাৎ তারা তাঁর একত্ববাদ স্বীকার করে ও তাঁর প্রতি ঈমান আনে, অতঃপর অবিচল থাকে; ফলে তারা তাদের তাওহীদ থেকে বিচ্যুত হয় না এবং তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকে যতক্ষণ না তারা এই অবস্থার ওপর মৃত্যুবরণ করে। হাদিসটির অর্থ এটাই; এটি কাযী ইয়াদ বলেছেন। ইমাম কুশাইরী বলেন: ইসতিকামাত (অবিচলতা) এমন এক পর্যায় যার মাধ্যমে সকল বিষয়ের পূর্ণতা ও সমাপ্তি ঘটে এবং এর উপস্থিতিতেই যাবতীয় কল্যাণ অর্জিত ও সুসংবদ্ধ হয়। বলা হয়েছে: বড় মাপের মানুষ (মনীষী) ছাড়া অন্য কেউ ইসতিকামাত পালনে সক্ষম হয় না; কারণ এটি হলো পরিচিত গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসা, প্রথা ও অভ্যাস ত্যাগ করা এবং পরম সত্যনিষ্ঠার সাথে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়া। আর এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অবিচল থাকো, তবে তোমরা এর পূর্ণ হক আদায় করতে পারবে না।" আল-ওয়াসিতী বলেন: ইসতিকামাত এমন এক বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে উত্তম গুণাবলি পূর্ণতা পায় এবং যার অভাবে সেসব গুণাবলি কদর্য রূপ নেয়। ইমাম নববী বলেন: ইমাম মুসলিম এই হাদিসের বর্ণনাকারী সুফিয়ান বিন আব্দুল্লাহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেননি এবং তাঁর সহীহ গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা উল্লেখ করেননি। ইমাম তিরমিযী এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে এই অংশটুকু বৃদ্ধি করেছেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার জন্য সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়টিকে ভয় করেন? তিনি বললেন: "এটি," এবং তিনি তাঁর জিহ্বা ধরলেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
[39] وَحدثنَا مُحَمَّد بن رمح هَذَا الْإِسْنَاد وَالَّذِي بعده رِجَالهمْ كلهم مصريون أَئِمَّة أجلة قَالَ النَّوَوِيّ وَهَذَا من عَزِيز الْأَسَانِيد فِي مُسلم بل وَفِي غَيره فَإِن اتِّفَاق جَمِيع الروَاة فِي كَونهم مصريين فِي غَايَة الْقلَّة ويزداد قلَّة بِاعْتِبَار الْعَدَالَة أَي الْإِسْلَام خير أَي خصاله أَي أُمُوره وأحواله وَإِنَّمَا وَقع اخْتِلَاف الْجَواب فِي خير الْمُسلمين لاخْتِلَاف حَال السَّائِلين أَو الْحَاضِرين وَكَانَ فِي أحد الْمَوْضِعَيْنِ الْحَاجة إِلَى إفشاء السَّلَام وإطعام الطَّعَام أَكثر وأهم لما حصل من إهمالهما والتساهل فِي أَمرهمَا أَو نَحْو ذَلِك وَفِي الْموضع الآخر الْكَفّ عَن إِيذَاء الْمُسلمين وتقرأ السَّلَام على من عرفت وَمن لم تعرف أَي تسلم على كل من لَقيته وَلَا تخص بِهِ من تعرفه وَهَذَا الْعُمُوم مَخْصُوص بِالْمُسْلِمين
[৩৯] আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ বর্ণনা করেছেন। এই সনদ এবং এর পরবর্তী সনদের বর্ণনাকারীদের সকলেই মিশরীয় এবং তাঁরা অত্যন্ত মর্যাদাবান ইমাম। ইমাম নববী বলেন, এটি মুসলিমের এবং এমনকি অন্যান্য কিতাবের এক বিরল (আজিজ) সনদ। কেননা বর্ণনাকারীদের সকলে মিশরীয় হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত বিরল, আর তাঁদের ন্যায়নিষ্ঠার (আদালাহ) বিবেচনায় এটি আরও বিরল। ‘কোন ইসলাম উত্তম’ অর্থাৎ ইসলামের কোন বৈশিষ্ট্য, বিষয় বা অবস্থাগুলো শ্রেষ্ঠ। মূলত প্রশ্নকারী বা উপস্থিত ব্যক্তিদের অবস্থার ভিন্নতার কারণে ‘উত্তম মুসলিম’ সম্পর্কিত উত্তরের মাঝে ভিন্নতা এসেছে। কোনো এক ক্ষেত্রে সালামের প্রসার ঘটানো এবং অন্ন দান করার প্রয়োজনীয়তা অধিক ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কেননা তখন এই দুটি বিষয়ে অবহেলা ও শিথিলতা প্রকাশ পাচ্ছিল অথবা অনুরূপ কিছু। আর অন্য ক্ষেত্রে মুসলিমদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকাই ছিল লক্ষ্য। তুমি পরিচিত এবং অপরিচিত সকলকেই সালাম দেবে; অর্থাৎ যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হবে তাকেই সালাম দেবে এবং কেবল পরিচিতদের জন্য একে নির্দিষ্ট করবে না। আর এই সাধারণ নির্দেশটি মুসলিমদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
[40] الْمُسلم من سلم الْمُسلمُونَ من لِسَانه وَيَده أَي الْمُسلم الْكَامِل وَلَيْسَ المُرَاد نفي الْإِسْلَام عَمَّن لم يكن بِهَذِهِ الْخصْلَة بِدَلِيل قَوْله فِي الحَدِيث قبله أَي الْمُسلمين خير وَالْمعْنَى من لم يؤذ مُسلما بقول وَلَا فعل وَخص الْيَد بِالذكر لِأَن مُعظم الْأَفْعَال بهَا قَالَ النَّوَوِيّ ثمَّ إِن كَمَال الْإِسْلَام وَالْمُسلم يتَعَلَّق بخصال أخر كَثِيرَة وَإِنَّمَا خص الْمَذْكُور للْحَاجة الراهنة فَائِدَة زَاد البُخَارِيّ بعد هَذِه الْجُمْلَة من حَدِيث بن عَمْرو وَالْمُهَاجِر من هجر مَا نهى الله عَنهُ وَزَاد الْحَاكِم وَابْن حبَان من حَدِيث أنس وَالْمُؤمن من أَمنه النَّاس
[40] মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। অর্থাৎ এটি পূর্ণাঙ্গ মুসলিমের পরিচয়। এই বৈশিষ্ট্য না থাকলে যে সে মুসলিম থাকবে না—এমনটি উদ্দেশ্য নয়; এর প্রমাণ হলো পূর্ববর্তী হাদিসে বর্ণিত তাঁর এই কথা: "কোন মুসলিম সর্বোত্তম?" এর মর্মার্থ হলো—যে ব্যক্তি কথা বা কাজের মাধ্যমে কোনো মুসলিমকে কষ্ট দেয় না। হাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ অধিকাংশ কাজ হাতের মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়। ইমাম নববী বলেন, "অতঃপর ইসলাম ও মুসলিমের পূর্ণতা আরও অনেক বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত, তবে এখানে উল্লিখিত বিষয়টি তৎকালীন বিশেষ প্রয়োজনের কারণে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।" একটি তথ্য: ইমাম বুখারি ইবনে আমরের হাদিসে এই বাক্যের পর আরও যুক্ত করেছেন: "আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে।" এবং হাকেম ও ইবনে হিব্বান আনাসের হাদিসে বৃদ্ধি করেছেন: "আর মুমিন সেই ব্যক্তি, যার নিকট মানুষ নিরাপদ থাকে।"
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
[43] حَدِيث أنس عَن أبي قلَابَة بِكَسْر الْقَاف وَتَخْفِيف اللَّام وبالموحدة ثَلَاث من كن فِيهِ وجد حلاوة الْإِيمَان قَالَ الْعلمَاء معنى حلاوة الْإِيمَان استلذاذه بالطاعات وَتحمل المشاق فِي رضى الله وَرَسُوله وإيثار ذَلِك على عرض الدُّنْيَا ومحبة العَبْد ربه بِفعل طَاعَته وَترك مُخَالفَته وَكَذَلِكَ محبَّة رَسُوله وَقَالَ القَاضِي عِيَاض هَذَا الحَدِيث بِمَعْنى الحَدِيث الْمُتَقَدّم ذاق طعم الْإِيمَان من رَضِي بِاللَّه رَبًّا الحَدِيث وَذَلِكَ أَنه لَا يَصح محبَّة الله وَرَسُوله حَقِيقَة وَحب الْآدَمِيّ فِي الله وَكَرَاهَة الرُّجُوع فِي الْكفْر إِلَّا لمن قوي بِالْإِيمَان يقينه واطمأنت بِهِ نَفسه وانشرح لَهُ صَدره وخالط لَحْمه وَدَمه وَهَذَا هُوَ الَّذِي وجد حلاوته قَالَ وَالْحب فِي الله من ثَمَرَات حب الله يعود أَي يصير وَكَذَا قَوْله فِي الرِّوَايَة الثَّانِيَة يرجع
[৪৩] আবু কিলাবাহ (ক্বাফ বর্ণে কাসরা বা যের, লাম বর্ণে হালকা উচ্চারণ এবং এক নুকতাহ বিশিষ্ট 'বা' সহকারে) হতে বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদীস: "তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে, সে ঈমানের মিষ্টতা খুঁজে পাবে।" উলামায়ে কেরাম বলেছেন, ঈমানের মিষ্টতার অর্থ হলো আনুগত্যের কাজসমূহে আনন্দ লাভ করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনে কষ্ট সহ্য করা এবং ইহকালীন সম্পদের ওপর একে প্রাধান্য দেওয়া। আর বান্দার পক্ষ থেকে তার রবকে ভালোবাসার অর্থ হলো তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর অবাধ্যতা বর্জন করা, অনুরূপভাবে তাঁর রাসূলকেও ভালোবাসা। কাযী ইয়ায বলেন, এই হাদীসটি পূর্ববর্তী হাদীসেরই অর্থ প্রকাশ করে: "সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেছে, যে আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে..."। আর বিষয়টি এই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষকে ভালোবাসা এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে অপছন্দ করা কেবল তখনই সঠিক হয়, যখন কারও ঈমানের দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকীন) শক্তিশালী হয়, তার অন্তর এর দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে, তার বক্ষ এর জন্য উন্মোচিত হয় এবং তা তার রক্ত ও মাংসের সাথে মিশে যায়। আর এই ব্যক্তিই ঈমানের মিষ্টতা লাভ করেছে। তিনি বলেন: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা হলো আল্লাহকে ভালোবাসার একটি ফল। "ইউদু" (ফিরবে) অর্থ "হয়ে যাবে", অনুরূপভাবে দ্বিতীয় বর্ণনায় উল্লেখিত শব্দ "ইয়ারজিউ" এর অর্থও তাই।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৬০)
[44] شَيبَان بن أبي شيبَة هُوَ بن فروخ لَا يُؤمن أحدكُم حَتَّى أكون أحب إِلَيْهِ من وَالِده وَولده وَالنَّاس أَجْمَعِينَ قَالَ الْخطابِيّ أَرَادَ بِهِ حب الِاخْتِيَار لَا حب الطَّبْع لِأَن حب الْإِنْسَان نَفسه وَأَهله طبع وَلَا سَبِيل إِلَى قلبه قَالَ فَمَعْنَاه لَا يصدق فِي إيمَانه حَتَّى يفنى فِي طَاعَتي نَفسه ويؤثر رضاي على هَوَاهُ وَإِن كَانَ فِيهِ هَلَاكه وَقَالَ عِيَاض وَغَيره الْمحبَّة ثَلَاثَة أَقسَام 1 محبَّة إجلال وإعظام ك محبَّة الْوَالِد 2 محبَّة شَفَقَة وَرَحْمَة كمحبة الْوَلَد 3 ومحبة مشاكلة واستحسان كمحبة سَائِر النَّاس فَجمع صلى الله عليه وسلم أَقسَام الْمحبَّة فِي محبته وَقَالَ بن بطال معنى الحَدِيث أَن من اسْتكْمل الْإِيمَان علم أَن حَقه صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ آكِد من حق أَبِيه وَابْنه وَالنَّاس أَجْمَعِينَ لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم استنقذنا من النَّار وهدانا من الضلال
[৪৪] শায়বান বিন আবি শায়বাহ, তিনি হলেন ইবনে ফাররুখ। তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক প্রিয় হই। খাত্তাবী বলেন, এর দ্বারা তিনি ঐচ্ছিক ভালোবাসা উদ্দেশ্য করেছেন, প্রকৃতিগত ভালোবাসা নয়; কেননা মানুষের নিজের নফস এবং তার পরিবার-পরিজনের প্রতি ভালোবাসা হলো স্বভাবজাত, যার ওপর হৃদয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি আরও বলেন, এর অর্থ হলো—সে তার ঈমানে ততক্ষণ সত্যবাদী হবে না, যতক্ষণ না সে আমার আনুগত্যে নিজের নফসকে বিলীন করে দেয় এবং আমার সন্তুষ্টিকে নিজের খেয়াল-খুশির ওপর প্রাধান্য দেয়, যদিও তাতে তার প্রাণহানি ঘটে। ইয়ায ও অন্যান্যরা বলেন, ভালোবাসা তিন প্রকার: ১. শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভালোবাসা, যেমন পিতার প্রতি ভালোবাসা; ২. মমতা ও করুণার ভালোবাসা, যেমন সন্তানের প্রতি ভালোবাসা; এবং ৩. সাদৃশ্য ও পছন্দের ভালোবাসা, যেমন অন্যান্য সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রতি ভালোবাসার মধ্যে ভালোবাসার সকল প্রকারকে শামিল করেছেন। ইবনে বাত্তাল বলেন, হাদিসটির মর্মার্থ হলো—যে ব্যক্তি ঈমান পূর্ণ করেছে, সে অনুধাবন করে যে, তার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হক তার পিতা, সন্তান এবং সকল মানুষের হকের চেয়ে অধিক সুদৃঢ়। কারণ, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে উদ্ধার করেছেন এবং পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের পথ প্রদর্শন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৬১)
[45] لَا يُؤمن أحدكُم أَي الْإِيمَان التَّام حَتَّى يحب لِأَخِيهِ أَو جَاره كَذَا فِي مُسْند عبد على الشَّك أَيْضا وَفِي البُخَارِيّ وَغَيره لِأَخِيهِ من غير شكّ قَالَ النَّوَوِيّ وَالْمرَاد يحب لَهُ من الطَّاعَات والأشياء الْمُبَاحَات وَيدل عَلَيْهِ رِوَايَة النَّسَائِيّ حَتَّى يحب لِأَخِيهِ من الْخَيْر قَالَ بن أبي زيد الماكي جماع آدَاب الْخَيْر تتفرع من أَرْبَعَة أَحَادِيث 1 حَدِيث لَا يُؤمن أحدكُم حَتَّى يحب لِأَخِيهِ مَا يحب لنَفسِهِ 2 وَحَدِيث من كَانَ يُؤمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر فَلْيقل خيرا أَو لِيَسْكُت 3 وَحَدِيث من حسن إِسْلَام الْمَرْء تَركه مَا لَا يعنيه 4 وَقَوله للَّذي اختصر لَهُ وَصِيَّة لَا تغْضب
[৪৫] তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাই অথবা প্রতিবেশীর জন্য তা-ই পছন্দ করে—আবদ-এর মুসনাদে শব্দটির ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশসহ (অর্থাৎ ভাই অথবা প্রতিবেশী) এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তবে বুখারী ও অন্যান্য গ্রন্থে কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই 'তার ভাইয়ের জন্য' শব্দটি এসেছে। ইমাম নববী বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সে তার ভাইয়ের জন্য নেক আমল এবং বৈধ বিষয়াদি পছন্দ করবে। নাসায়ীর বর্ণনায় এসেছে—'যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণ পছন্দ করে', যা এই অর্থটিকেই নির্দেশ করে। ইবনে আবি জায়েদ আল-মালিকী বলেন: যাবতীয় উত্তম শিষ্টাচারের মূল ভিত্তি চারটি হাদীস থেকে উৎসারিত হয়েছে: ১. হাদীস: 'তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে'। ২. হাদীস: 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে'। ৩. হাদীস: 'ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক বিষয় বর্জন করা'। ৪. নবী করীম (সা.)-এর সেই বাণী যেখানে তিনি জনৈক ব্যক্তিকে সংক্ষেপে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন: 'তুমি রাগ করো না'।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৬২)
[46] لَا يدْخل الْجنَّة هُوَ مَحْمُول على المستحل أَو على نفي دُخُولهَا وَقت دُخُول الفائزين إِذا فتحت أَبْوَابهَا بوائقه جمع بائقة وَهِي الغائلة والفتك
[৪৬] জান্নাতে প্রবেশ করবে না—এটি তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে (হারামকে) হালাল মনে করে, অথবা এর অর্থ হলো যখন সফলকাম ব্যক্তিদের জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে, তখন তাদের প্রবেশের সময়ে তার প্রবেশ করতে না পারা। ‘বুওয়ায়েক’ হলো ‘বায়েকা’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো অনিষ্ট ও বিপর্যয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুয়ূতী আলা মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
[47] فَلْيقل خيرا أَو ليصمت بِضَم الْمِيم أَي يسكت قَالَ النَّوَوِيّ مَعْنَاهُ إِذا أَرَادَ أَن يتَكَلَّم فَإِن كَانَ مَا يتَكَلَّم بِهِ خيرا محققا يُثَاب عَلَيْهِ وَاجِبا كَانَ أَو مَنْدُوبًا فَلْيَتَكَلَّمْ وَإِن لم يظْهر لَهُ أَنه خير يُثَاب عَلَيْهِ فليمسك عَن الْكَلَام فعلى هَذَا يكون الْمُبَاح مَأْمُورا بالإمساك عَنهُ خوف انجراره إِلَى الْحَرَام وَالْمَكْرُوه فَلَا يُؤْذِي كَذَا فِي الْأُصُول بِالْيَاءِ وَفِي غير مُسلم بحذفها على النَّهْي فَالْأول خبر بِمَعْنَاهُ
[৪৭] সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে—এখানে 'মিম' বর্ণের ওপর পেশ হবে, যার অর্থ হলো সে যেন চুপ থাকে। ইমাম নববী বলেন, এর অর্থ হলো যখন কেউ কথা বলার ইচ্ছা করে, তখন সে যা বলবে তা যদি নিশ্চিতভাবে কল্যাণকর হয় যার ওপর সওয়াব পাওয়া যাবে—তা ওয়াজিব হোক বা মুস্তাহাব—তবে সে যেন কথা বলে। আর যদি তার কাছে এটি সওয়াবযোগ্য ভালো কাজ হিসেবে স্পষ্ট না হয়, তবে সে যেন কথা বলা থেকে বিরত থাকে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বৈধ বিষয়ের ক্ষেত্রেও তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই ভয়ে যে, তা যেন হারাম বা মাকরুহের দিকে টেনে না নিয়ে যায়। 'সে যেন কষ্ট না দেয়'—মূল গ্রন্থসমূহে এটি 'ইয়া' অক্ষরসহ এসেছে, আর মুসলিম শরিফ ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে এটি 'ইয়া' বিলোপ করে নিষেধাজ্ঞাসূচক রূপে এসেছে। অতএব প্রথমটি অর্থগতভাবে সংবাদ প্রদানকারী বাক্য।