(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
الوجيز في أصول الفقه الإسلامي القسم: أصول الفقه
الكتاب: الوجيز في أصول الفقه الإسلامي (المدخل - المصادر - الحكم الشرعي)
المؤلف: الأستاذ الدكتور محمد مصطفى الزحيلي
الناشر: دار الخير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - سوريا (مطبوعات وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية
إدارة الشؤون الإسلامية - دولة قطر)
الطبعة: الثانية، 1427 هـ - 2006 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الآخر 1437
আল-ওয়াজিজ ফি উসুলিল ফিকহ আল-ইসলামি বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আল-ওয়াজিজ ফি উসুলিল ফিকহ আল-ইসলামি (উপক্রমণিকা - উৎসসমূহ - শারয়ি হুকুম)
লেখক: প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ মুস্তফা আজ-জুহাইলি
প্রকাশক: দারুল খাইর ছাপাখানা ও প্রকাশনী, দামেস্ক - সিরিয়া (ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা
ইসলামি বিষয়ক বিভাগ - কাতার রাষ্ট্র)
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউস সানি ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
الوجيز في أصول الفقه الإسلامي
«المدخل - المصادر - الحكم الشرعي»
تأليف
الأستاذ الدكتور محمد مصطفى الزحيلي
عميد كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجامعة الشارقة
[الجزء الأول]
مطبوعات وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية
إدارة الشؤون الإسلامية - دولة قطر
ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতির সংক্ষিপ্ত সার
«উপক্রমণিকা - উৎসসমূহ - শরয়ি বিধান»
রচনায়
প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ মুস্তফা আয-জুহায়লি
শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের ডিন
[প্রথম খণ্ড]
ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা
ইসলামি বিষয়ক বিভাগ - কাতার রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
الْوَجِيز فِي أصُول الْفِقْه الإسلامي
«الْمدْخل - المصادر - الحكم الشَّرْعِيّ»
ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতিমালার সংক্ষিপ্ত সার
«ভূমিকা - উৎসসমূহ - শরয়ী বিধান»
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة لدار الْخَيْر
الطّبعَة الثّانِيَة
1427 هـ - 2006 م
دَار الْخَيْر
للطباعة والنشر والتوزيع
للمراسلة: دمشق - سوريا - حلبوني - جادة الشَّيْخ تَاج
هَاتِف الْمكتب: 2245822/ 011 - تلفاكس: 2222694/ 011
هَاتِف المكتبة: 2228074/ 011 ص. ب: 13492
E-mail: abualkhair@mail.sy
دَار الْخَيْر
للطباعة والنشر والتوزيع
بيروت - لبنان - فردان - جنوب سيّار الدَّرك - بِنَاء الشَّامي
هَاتِف: 810571/ 01 - تلفاكس: 865697/ 01
ص. ب: 5630/ 113 - الرَّمْز البريدي: 2060/ 1103
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দার আল-খাইরের জন্য সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
দার আল-খাইর
প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণের জন্য
যোগাযোগের ঠিকানা: দামেস্ক - সিরিয়া - হালবোনি - শায়খ তাজ অ্যাভিনিউ
অফিসের ফোন: ০১১ / ২২৪৫৮২২ - টেলিফ্যাক্স: ০১১ / ২২২২৬৯৪
লাইব্রেরির ফোন: ০১১ / ২২২৮০৭৪ পোস্ট বক্স: ১৩৪৯২
ই-মেইল: abualkhair@mail.sy
দার আল-খাইর
প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিতরণের জন্য
বৈরুত - লেবানন - ফেরদান - জুনুব সাইয়ার আদ-দারক - আল-শামি বিল্ডিং
ফোন: ০১ / ৮১০৫৭১ - টেলিফ্যাক্স: ০১ / ৮৬৫৬৯৭
পোস্ট বক্স: ১১৩ / ৫৬৩০ - পোস্টাল কোড: ১১০৩ / ২০৬০
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالحمد لله الذي نزَّل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيرًا، والصلاة والسلام على رسول الله، المبعوث رحمة للعالمين، الذي أدى الأمانة، وبلّغ الرسالة، ونَصَحَ الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، وترك أمته على بيضاء نقية، ليلها كنهارها لا يزيغُ عنها إلا هالك.
وبعد:
فقد عشت مع علم أصول الفقه أكثر من أربعين سنة، فدرَسْته في الثانوية الشرعية، وفي كلية الشريعة وكلية الحقوق بجامعة دمشق، وفي جامعة القاهرة وجامعة الأزهر، ثم درّسته أكثر من ربع قرن.
ومارست كتبه في التأليف والتحقيق، ولمست أهميته وفائدته النظرية والعملية، وأحببت أن أكتب فيه كتابًا مبسطًا يغطي مباحثه؛ لأن دراسة علم الأصول تصقل الذهن، وتشحذ العقل، وتفتح الدماغ، وتنير الطريق، وتكوِّن الملكة الفقهية، وترشد الإنسان إلى ينابيع المعرفة، ومصادر الخير، وتضع اليد على الموازين السليمة، والمعايير الدقيقة، والضوابط الحكيمة، لإدراك الأحكام الشرعية، وبيان مدى الالتزام بشرع الله ودينه القويم، ليكون المؤمن على المحجَّةِ البيضاء، ويقف الإنسان لمامة على محاسبة نفسه قبل أن يحاسب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর দাসের ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে; যিনি আমানত আদায় করেছেন, রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথার্থ জিহাদ করেছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে এক স্বচ্ছ শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
এরপর:
আমি চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইলমে উসুলুল ফিকহের সাথে অতিবাহিত করেছি। আমি এটি মাধ্যমিক শারয়ি স্তরে, দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়া অনুষদ ও আইন অনুষদে এবং কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছি। এরপর আমি এটি এক শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশের বেশি সময় ধরে অধ্যাপনা করেছি।
আমি এই শাস্ত্রের গ্রন্থাবলি রচনা ও সম্পাদনার কাজ করেছি এবং এর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গুরুত্ব ও উপকারিতা অনুধাবন করেছি। আমি চেয়েছি এই বিষয়ে একটি সহজবোধ্য বই লিখতে যা এর সকল আলোচ্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে; কারণ উসুল শাস্ত্রের অধ্যয়ন মেধাকে পরিশীলিত করে, বুদ্ধিকে শাণিত করে, মস্তিষ্ক উন্মুক্ত করে, পথ আলোকিত করে এবং ফিকহি ব্যুৎপত্তি তৈরি করে। এটি মানুষকে জ্ঞানের উৎস ও কল্যাণের আকরগুলোর দিকে পরিচালিত করে এবং শারয়ি বিধানসমূহ অনুধাবনের জন্য সঠিক পাল্লা, সূক্ষ্ম মানদণ্ড ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নিয়মনীতির ওপর হাত স্থাপন করে। এছাড়া আল্লাহর শরিয়ত ও তাঁর সঠিক দ্বীনের প্রতি আনুগত্যের পরিধি স্পষ্ট করে, যাতে মুমিন ব্যক্তি এক উজ্জ্বল রাজপথের ওপর থাকতে পারে এবং হিসাব গ্রহণের আগে মানুষ নিজের আত্মজিজ্ঞাসার জন্য সামান্য সময়ের জন্য হলেও দাঁড়াতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وإن علم أصول الفقه يشكل المنارة الوضَّاءة بين العلوم الشرعية، ويعتبر مفخرة الأمة في حضارتها وعلومها، وذلك أنه عبارة عن القواعد والمبادئ التي سار عليها الفقهاء في استنباط الأحكام وبيانها للناس، وأنه يكوِّن الضوابط التي يلتزم بها الفقيه، بقصد أن يكون طريقه مستقيمًا واضحًا، لا يعتريه وهن أو انحراف، ولا خبط أو اضطراب.
كما أن هذا العلم هو المصباح الذي ورثته الأجيال، وحمله العلماء على مر العصور، لبيان الأحكام الشرعية في كل جديد، ومعالجة المشاكل التي تطرأ، وغير ذلك من تفسير النصوص، وبيان دلالات الألفاظ، والتوفيق بين الأدلة، وإزالة التعارض وكيفية الترجيح، ومنهج الاجتهاد، ومقوماته، وفق منهج محدد يسير عليه العالم في الاجتهاد والاستنباط (1).
ومما يبهج النفس، ويسعد القلب أنه ظهر في هذه السنوات الثلاثين الأخيرة عدد من أمهات كتب الأصول، التي تعتبر من مصادره الأصلية، ومراجعه المعتمدة، كالبرهان لإمام الحرمين الجُويني، والمحصول لفخر الدين الرازي، والعُدَّة لأبي يَعْلى الفراء الحنبلي، وشرح الكوكب المنير لابن النجار الفتوحي، وشرح تنقيح الأصول للقرافي المالكي، والتبصرة للشيخ أبي إسحاق الشيرازي، والمنخول لحجة الإسلام الغزالي، وشفاء الغليل للشيخ أبي جامد الغزالي أيضًا، والمختصر في أصول الفقه لابن اللحام البعلي، والمغني للخبازي الحنفي، والتمهيد لأبي الخطاب الكلوداباذي .. ، وغيرها كثير (2).
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই উসূলে ফিকহ শাস্ত্র শরয়ী জ্ঞানসমূহের মাঝে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং এটি উম্মাহর সভ্যতা ও বিজ্ঞানের এক গৌরবের বিষয়। কারণ এটি হচ্ছে এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতি যার ওপর ভিত্তি করে ফকীহগণ বিধানসমূহ উদ্ভাবন করেন এবং তা মানুষের নিকট বর্ণনা করেন। এটি এমন কিছু মানদণ্ড তৈরি করে যা একজন ফকীহ মেনে চলেন, যাতে তাঁর পথ সুদৃঢ় ও স্পষ্ট হয়, এবং তাতে কোনো দুর্বলতা, বিচ্যুতি, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিরতা প্রবেশ করতে না পারে।
তেমনিভাবে এই জ্ঞান এমন এক প্রদীপ যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে আলিমগণ একে ধারণ করে আসছেন প্রতিটি নতুন বিষয়ে শরয়ী বিধান বর্ণনা করার জন্য, উদ্ভূত সমস্যাবলির সমাধান করতে, পাঠ্যের ব্যাখ্যা প্রদান, শব্দের দ্যোতনা স্পষ্ট করা, দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন, বিরোধ নিরসন ও প্রাধান্য প্রদানের পদ্ধতি নিরূপণ এবং ইজতিহাদের পদ্ধতি ও তার উপাদানসমূহ নির্ধারণে। আর এই সবকিছু একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির আলোকে সম্পাদিত হয় যা একজন আলিম ইজতিহাদ ও বিধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অনুসরণ করেন (১)।
অন্তরকে প্রফুল্ল এবং হৃদয়কে আনন্দিত করার মতো বিষয় এই যে, গত ত্রিশ বছরে উসূলে ফিকহের বেশ কিছু মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য আকর গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। যেমন: ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনীর 'আল-বুরহান', ফখরুদ্দীন আল-রাযীর 'আল-মাহসুল', আবু ইয়ালা আল-ফাররা আল-হাম্বলীর 'আল-উদ্দাহ', ইবনে নাজ্জার আল-ফুতুহীর 'শারহুল কাওকাব আল-মুনীর', আল-কারাফী আল-মালিকীর 'শারহু তানকীহিল উসূল', শায়খ আবু ইসহাক আল-শিরাযীর 'আল-তাবসিরাহ', হুজ্জাতুল ইসলাম আল-গাযালীর 'আল-মানখূল', শায়খ আবু হামিদ আল-গাযালীর 'শিফাউল গালীল', ইবনুল লাহহাম আল-বালীর 'আল-মুখতাসার ফী উসূলিল ফিকহ', আল-খাব্বাযী আল-হানাফীর 'আল-মুগনী', আবু আল-খাত্তাব আল-কালওয়াযানী-এর 'আল-তামহীদ' এবং আরও অনেক (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأعيد طباعة وتصوير بعض الكتب العظيمة في أصول الفقه، كالمعتمد لأبي الحسين البصري المعتزلي، وكشف الأسرار عن أصول البرذوي، وأصول السرخسي، والمستصفى للغزالي، وفوات الرحموت على مسلم الثبوت لابن عبد الشكور، والشرح للأنصاري، وجمع الجوامع لابن السبكي مع شروحه وحواشيه
… ، وغيرها كثير كالشروح على مختصرات ابن الحاجب.
فصارت المكتبة الإسلامية غنية -والحمد لله- بكتب الأصول الأصلية، وصنفت كتب قيمة بأسلوب معاصر، وثوب قشيب في العصر الحاضر، من كبار العلماء، وأساتذة الجامعات، فأصبحت الأمور ميسرة، رجاء أن يكون ذلك مقدمة لعودة الحياة إلى هذا العلم المفيد، عمليًّا، وأن تعود الأمة إلى الاستفادة من تراث السلف الصالح، وذخائر أمتنا المجيدة، ليتجدد العمل بكتاب الله تعالى، وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وتظفر -بعد ذلك- بالعزة والكرامة، وتحرير المقدسات، والنصر على الأعداء في الدنيا، والفوز بالسعادة الأبدية ومرضاة الله تعالى في الآخرة.
طريقة البحث ومنهجه:التزمت غالبًا بالنقاط التالية:
1 - الطريقة المدرسية التي تعتمد الوضوح والتنظيم والموضوعية والإقناع.
2 - الجمع بين القواعد والمبادئ والضوابط الأصولية، مع بيان مدلولاتها، وبين الأحكام الفقهية والفروع الجزئية، باعتبارها أمثلة تطبيقية للقاعدة وتوضيحًا لها، وللترابط الكامل، والتلازم الدائم بين علم أصول الفقه وعلم الفقه.
3 - تجنب طرح الموضوعات الأصولية الجزئية التي تتفرع عن المبادئ العامة، وهي مسائل فرعية بحثها الأصوليون في كتبهم، وبينوا
উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের কিছু মহান কিতাব পুনরায় মুদ্রণ ও অনুলিপি করা হয়েছে, যেমন আবু আল-হুসাইন আল-বসরী আল-মুতাযিলীর 'আল-মুতামাদ', 'কাশফুল আসার আলা উসূলিল বাযদাবী', 'উসূলে সারাখসী', ইমাম গাজালীর 'আল-মুসতাসফা', ইবনে আবদ আল-শাকুরের 'মুসলিমুত সুবুত'-এর ওপর 'ফাওয়াতিহুর রাহমুত', আল-আনসারীর 'আশ-শারহ', এবং ইবনুস সুবকির 'জামউল জাওয়ামি' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং টীকাগুলোর সাথে
… , এবং ইবনুল হাজিবের সংক্ষিপ্তসারগুলোর ভাষ্যসমূহের মতো আরও অনেক কিতাব।
ফলে ইসলামী পাঠাগার -আলহামদুলিল্লাহ- মূল উসূলে ফিকহের কিতাবসমূহের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে। বর্তমান যুগে বিশিষ্ট উলামায়ে কিরাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ কর্তৃক সমকালীন শৈলীতে ও আধুনিক অবয়বে বেশ কিছু মূল্যবান কিতাব রচিত হয়েছে। ফলে বিষয়গুলো সহজতর হয়েছে, এই আশায় যে এটি সম্ভবত এই উপকারী ইলম বা বিজ্ঞানের প্রতি ব্যবহারিকভাবে পুনরায় ফিরে আসার একটি ভূমিকা হবে। এবং উম্মাহ যেন সালাফে সালেহীনের ঐতিহ্য এবং আমাদের মহিমান্বিত উম্মাহর মূল্যবান ভাণ্ডার থেকে উপকৃত হতে ফিরে আসে, যাতে আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল নবায়ন করা যায়। আর এরপর দুনিয়াতে ইজ্জত, মর্যাদা, পবিত্র স্থানসমূহের মুক্তি এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করা যায় এবং পরকালে চিরস্থায়ী সুখ ও আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
গবেষণার পদ্ধতি ও এর কর্মপন্থা:আমি সাধারণত নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করেছি:
১ - শিক্ষা পদ্ধতি যা স্পষ্টতা, সুশৃঙ্খলতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং প্রমাণের ওপর নির্ভর করে।
২ - উসূলে ফিকহের মূলনীতি, নীতিমালা ও নিয়মাবলির সাথে সেগুলোর তাৎপর্য এবং ফিকহী বিধান ও আংশিক শাখা-প্রশাখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা; যাতে সেগুলোকে মূলনীতির প্রায়োগিক উদাহরণ ও ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য করা যায় এবং উসূলে ফিকহ ও ফিকহ শাস্ত্রের মধ্যকার পূর্ণাঙ্গ আন্তঃসম্পর্ক ও অবিচ্ছেদ্য প্রয়োজনীয়তা ফুটে ওঠে।
৩ - উসূলে ফিকহের সেই আংশিক বিষয়গুলো উত্থাপন করা পরিহার করা যা সাধারণ মূলনীতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এগুলো এমন কিছু আনুষঙ্গিক মাসআলা যা উসূলবিদগণ তাদের কিতাবসমূহে আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
آراء العلماء فيها، وأدلتهم، ومناقشة الأدلة، والردَّ عليها، وهي في معظمها نادرة الوقوع، وبعيدة عن الحياة، وقليلة الفائدة، مما يشوِّش ذهن القارئ، ويشتت فكره، ويضعه في متاهات علمية وجدلية، يصعب عليه أن يغوص فيها في المراحل الأولى لدراسة الأصول، ولا يصل فيها إلى شاطئ الأمان والسلامة، وخاصة لمن يدرس هذا العلم لأول مرة، ونترك هذه التفاصيل والجزئيات ريثما تتكون لديه ملكة أصولية، يستعين بها على فهم هذه المباحث.
4 - العرض المبسط لمبادئ أصول الفقه، وبيان الآراء والأقوال المختلفة في المسألة الواحدة، وذكر أصحاب كل رأي، ودليله، مع مناقشة موجزة للأدلة، وما قد يرد عليها من ملاحظات، مع الاقتصار على الآراء المشهورة والمعتمدة، والإعراض عن ذكر الآراء الشاذة والضعيفة.
5 - الاعتماد بشكل مباشر على المراجع الأصلية في الموضوع، والإشارة إلى أهمية بعض المراجع الثانوية في الهامش، واقتباس بعض النصوص أحيانًا، لبيان الدقة العلمية، والصياغة الحكيمة، والأسلوب الناصع لعلماء هذه الأمة وسلفها الصالح الذين بذلوا أقصى طاقاتهم في خدمة هذه الشريعة الغراء، ومن ثمَّ نوجه الأذهان نحو هذه المراجع والمصادر والكتب الأصلية في علم الأصول، ولا يفوتنا أن نستفيد من كتب الأصول الحديثة والمعاصرة.
خطة الكتاب والبحث:سيأتي الكتاب بمشيئة الله تعالى في جزأين، يتضمن كل جزء ثلاثة محاور أساسية، وهي:
الجزء الأول: في المقدمات لعلم أصول الفقه، ومصادر التشريع الإسلامي، والحكم الشرعي.
الجزء الثاني: في الدلالات وتفسير النصوص، والاجتهاد،
আলেমগণের মতামত, তাঁদের দলিলসমূহ, দলিলের পর্যালোচনা এবং সেগুলোর খণ্ডন—যার অধিকাংশই সচরাচর ঘটে না, জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন এবং খুব সামান্যই ফলপ্রসূ, যা পাঠকের মনকে বিভ্রান্ত ও চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে এবং তাকে এমন এক বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক গোলকধাঁধায় ফেলে দেয় যেখান থেকে মূলনীতি (উসুল) অধ্যয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে উত্তরণ পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে এবং সে নিরাপত্তা ও শান্তির তীরে পৌঁছাতে পারে না; বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো এই শাস্ত্রটি অধ্যয়ন করছে। আমরা এই বিস্তারিত ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে আপাতত স্থগিত রেখেছি যতক্ষণ না তাদের মধ্যে একটি উসূলী পারদর্শিতা তৈরি হয়, যা তাদের এই বিষয়গুলো বুঝতে সাহায্য করবে।
৪ - উসুলুল ফিকহের মূলনীতিসমূহের সহজ উপস্থাপন, এবং একই মাসআলায় বিভিন্ন মত ও বক্তব্যের বর্ণনা, প্রতিটি মতের প্রবক্তা ও তাঁদের দলিলের উল্লেখ, সাথে দলিলের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা এবং সেগুলোর ওপর সম্ভাব্য আপত্তিসমূহ আলোচনা করা। এক্ষেত্রে কেবল প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য মতগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল মতামত বর্জন করা হয়েছে।
৫ - সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি মূল উৎসগ্রন্থগুলোর ওপর নির্ভর করা, টীকায় কিছু গৌণ গ্রন্থের গুরুত্ব নির্দেশ করা এবং কখনো কখনো কিছু পাঠ্য উদ্ধৃত করা, যাতে এই উম্মাহর আলেম ও সলফে সালেহীনদের বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতা, প্রজ্ঞাপূর্ণ রচনাশৈলী এবং উজ্জ্বল লিখনশৈলী প্রকাশ পায়, যাঁরা এই দীপ্তিময় শরীয়তের সেবায় তাঁদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করেছেন। অতঃপর আমরা উসুল শাস্ত্রের এই সকল মূল রেফারেন্স, উৎস ও মৌলিক বইগুলোর দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করছি এবং আধুনিক ও সমসাময়িক উসুল গ্রন্থগুলো থেকেও উপকৃত হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করিনি।
বই ও গবেষণার পরিকল্পনা:আল্লাহ চাহেন তো বইটি দুই খণ্ডে আসবে, প্রতিটি খণ্ডে তিনটি প্রধান বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যথা:
প্রথম খণ্ড: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের ভূমিকা, ইসলামী শরীয়তের উৎসসমূহ এবং শরয়ী বিধান সম্পর্কে।
দ্বিতীয় খণ্ড: দলীল বা অর্থের নির্দেশকসমূহ ও নصوص (মূল পাঠ) এর ব্যাখ্যা এবং ইজতিহাদ সম্পর্কে।
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
والتعارض والترجيح. وقسمت الجزء الأول إلى باب تمهيدي، وبابين.
أما الباب التمهيدي: فيتناول تعريف علم أصول الفقه، وفائدته، ولمحة تاريخية عنه، وطرق التأليف فيه، وأهم المصادر والمراجع، وأسباب اختلاف الفقهاء، ومقاصد الشريعة.
والباب الأول: نعرض فيه مصادر التشريع الإسلامي المتفق عليها، والمختلف فيها، بشيء من الإيجاز، وخاصة في الأدلة المختلف فيها.
والباب الثاني: في الحكم الشرعي لتعريفه، وتقسيمه إلى حكم تكليفي، وحكم وضعي، وبيان موجز عن الحاكم، والمحكوم عليه وهو المكلف، والمحكوم به وهو الفعل.
وأسأل الله أن يسدد خطانا، وأن يوفقنا لما يحبه ويرضاه، وأن يأخذ بيدنا إلى الصراط المستقيم، وأن يعلمنا ما ينفعنا، وأن ينفعنا بما علمنا، وأن يلهمنا رشدنا، ويجنبنا شر أنفسنا، وأن يوفقنا لما يحبه ويرضاه، وأن يجعل عملنا خالصًا لوجهه الكريم، وأن يكتب لنا هذا العمل في صحائف أعمالنا المقبولة، ندَّخره ليوم لا ينفع فيه مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم، مع الأمل أن يدعو لنا من يقرؤه وينتفع به دعوة صالحة في ظهر الغيب، تنفعنا في الدنيا، وفي القبر، ويوم الحشر، والحمد لله رب العالمين.
ونقدم -الآن- الجزء الأول للطباعة، ونسأل الله العون على استكمال الجزء الثاني.
الشارقة في 8 رمضان 1422 هـ.
الموافق 23/ 11 / 2001 م.
الأستاذ الدكتور محمد الزحيلي
عميد كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجامعة الشارقة.
وكيل كلية الشريعة للشؤون العلمية بجامعة دمشق- سابقًا.
এবং বিরোধ ও প্রাধান্য প্রদান। আমি প্রথম খণ্ডটিকে একটি প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ এবং দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি।
প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদটি হলো: এতে ইলমে উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা, এর উপকারিতা, এর ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত রূপরেখা, এতে গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিসমূহ, প্রধান উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহ, ফকিহগণের মতভেদের কারণসমূহ এবং মাকাসিদুশ শারিয়াহ আলোচনা করা হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়: এতে আমরা ইসলামি শরিয়তের সর্বসম্মত ও মতভেদপূর্ণ উৎসসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছি, বিশেষ করে মতভেদপূর্ণ দলীলগুলোর ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি হুকুম শরয়ীর সংজ্ঞা, একে হুকুম তকলীফি ও হুকুম ওয়াদয়িতে বিভক্তিকরণ এবং হাকিম (আইনদাতা), মাহকুম আলাইহি অর্থাৎ মুকাল্লাফ এবং মাহকুম বিহি অর্থাৎ কর্ম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে রচিত।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পথ সুদৃঢ় করেন এবং আমাদের সেই কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন। তিনি যেন আমাদের হাত ধরে সরল পথের দিকে নিয়ে যান এবং আমাদের এমন জ্ঞান দান করেন যা আমাদের উপকারে আসবে এবং আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তার দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন। তিনি যেন আমাদের সঠিক বোধ দান করেন এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। তিনি যেন আমাদের সেই সব কাজ করার তাওফিক দেন যা তিনি ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন এবং আমাদের এই আমলকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন। তিনি যেন আমাদের এই আমলকে আমাদের কবুলকৃত আমলনামায় লিখে দেন, যা আমরা সেই দিনের জন্য সঞ্চয় করে রাখব যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। সেই সাথে প্রত্যাশা রাখি যে, যারা এই বইটি পড়বে এবং এর মাধ্যমে উপকৃত হবে, তারা যেন আমাদের জন্য অগোচরে নেক দোয়া করে, যা দুনিয়াতে, কবরে এবং হাশরের ময়দানে আমাদের উপকারে আসবে। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এখন আমরা প্রথম খণ্ডটি মুদ্রণের জন্য পেশ করছি এবং দ্বিতীয় খণ্ডটি সম্পন্ন করার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি।
শারজাহ, ৮ই রমজান ১৪২২ হিজরি।
২৩/ ১১ / ২০০১ ইংরেজি মোতাবেক।
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ আয-যুহাইলি
শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের ডিন।
দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের প্রাক্তন একাডেমিক বিষয়ক ভাইস-ডিন।
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الباب التمهيدي المدخل إلى أصول الفقهقبل أن نبدأ بدراسة موضوعات علم أصول الفقه لا بد لنا من أن نعرفه ونبين فوائده، ونذكر لمحة موجزة عن تطوره وتاريخه، ثم نعرج على المنطلق الأساسي والباعث الحقيقي، بل والثمرة الكاملة التي تنتج عنه، وهي أسباب اختلاف الفقهاء، ثم نعرض المقاصد الأساسية للشريعة الإسلامية (1)، وسوف نخصص كلا من ذلك بفصل.
--------------------------------------------
প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ: উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রের প্রবেশিকাউসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়বস্তুসমূহ অধ্যয়ন শুরু করার আগে, আমাদের জন্য এটি অপরিহার্য যে আমরা এর সংজ্ঞা প্রদান করি এবং এর উপকারিতা বর্ণনা করি। সেই সাথে এর ক্রমবিকাশ ও ইতিহাসের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করি। এরপর আমরা এর মূল ভিত্তি ও প্রকৃত চালিকাশক্তি, বরং এর থেকে উৎপন্ন পূর্ণাঙ্গ ফলাফল নিয়ে আলোচনা করব, যা হলো ফকিহগণের মতপার্থক্যের কারণসমূহ। অতঃপর আমরা ইসলামি শরিয়তের মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহ উপস্থাপন করব (১)। আমরা এই বিষয়গুলোর প্রত্যেকটির জন্য একটি করে পৃথক অধ্যায় নির্ধারণ করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأول في تعريف علم أصول الفقه وموضوعهيذكر العلماء تعريفين لعلم أصول الفقه:
أحدهما: ينظر إليه على أنه علم مستقل، وأن هذا الاسم لقب له، وأصبح حقيقة عرفية دون النظر إلى أجزائه المركب منها، مثل عبد الله وركن الدين، إذا جُعل كل منهما علمًا أو لقبًا لإنسان.
وثانيهما: يعرفه على أنه مركب إضافي مكون من ثلاث كلمات، فيعرف كلًّا منها على حده.
ونتناول كل تعريف في مبحث مع شرح التعريف وبيان حدوده وما يدخل فيه، وما يخرج منه، ونخلص من التعريفين إلى بيان موضوع علم أصول الفقه في مبحث ثالث، ونحدد الموضوعات التي سنتناولها في هذا الكتاب.
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের সংজ্ঞা ও এর আলোচ্য বিষয় সম্পর্কিত প্রথম পরিচ্ছেদউলামায়ে কেরাম উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের দুইটি সংজ্ঞা উল্লেখ করেন:
প্রথমটি: এটিকে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এই নামটিকে এর জন্য একটি উপাধি হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি যে শব্দাংশগুলো নিয়ে গঠিত, সেগুলোর দিকে লক্ষ্য না করে এটি একটি পারিভাষিক সত্যে পরিণত হয়েছে; যেমন- আবদুল্লাহ ও রুকনুদ্দিন, যখন এগুলোর প্রত্যেকটি কোনো ব্যক্তির নাম বা উপাধি হিসেবে নির্ধারিত হয়।
দ্বিতীয়টি: এটিকে তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি সমাসবদ্ধ শব্দসমষ্টি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যেখানে প্রত্যেকটি শব্দের পৃথক পৃথক সংজ্ঞা প্রদান করা হয়।
আমরা প্রতিটি সংজ্ঞাকে পৃথক অনুচ্ছেদে সংজ্ঞার ব্যাখ্যা, এর সীমানা নির্ধারণ এবং এর অন্তর্ভুক্ত ও বহির্ভূত বিষয়াবলি স্পষ্ট করার মাধ্যমে আলোচনা করব। এরপর তৃতীয় একটি অনুচ্ছেদে এই দুই সংজ্ঞা থেকে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় স্পষ্ট করব এবং এই কিতাবে আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব তা নির্ধারণ করব।
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الأول في تعريف علم أصول الفقه مركبًاعرف الكثير من الأصوليين علم أصول الفقه باعتباره مركبًا إضافيًّا، وأنه مؤلف من ثلاث كلمات، وهي: علم، وأصول، وفقه، ولا بد من فهم معنى كل كلمة على حدة لفهم المعنى العام لعلم أصول الفقه، وإدراك مضمونه وحدوده.
أولًا: العلم:العلم في اللغة: هو المعرفة واليقين والشعور (1).
أما في الاصطلاح فيطلق العلماء لفظ العلم على أحد المعاني الأربعة التالية (2):
1 - العلم: هو إدراك الشيء ومعرفته، وهذا الإدراك أو المعرفة إما أن يكون بدليل قطعي يجزم الشخص به ويطمئن إليه، فيفيد العلم القطعي الذي تثبت به الأحكام الاعتقادية كالإيمان بالله وملائكته وكتبه
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: যৌগিক পরিভাষা হিসেবে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের পরিচিতিঅধিকাংশ উসুলবিদ উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রকে একটি সম্বন্ধসূচক যৌগিক শব্দ (মুরাক্কাবে ইদাফি) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন এবং বলেছেন যে এটি তিনটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, সেগুলো হলো: ইলম (জ্ঞান), উসুল (মূলনীতি) এবং ফিকহ (তত্ত্বজ্ঞান)। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের সাধারণ অর্থ অনুধাবন করতে এবং এর বিষয়বস্তু ও সীমা উপলব্ধি করতে প্রতিটি শব্দের অর্থ পৃথকভাবে বোঝা অপরিহার্য।
প্রথমত: ইলম (জ্ঞান):অভিধানে ইলম অর্থ হলো: জ্ঞান, নিশ্চিত বিশ্বাস এবং উপলব্ধি (১)।
আর পরিভাষায় আলেমগণ ইলম শব্দটি নিচের চারটি অর্থের কোনো একটির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন (২):
১ - ইলম: এটি হলো কোনো বিষয় উপলব্ধি করা এবং তা জানা; আর এই উপলব্ধি বা জ্ঞান হয় এমন অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে যার মাধ্যমে ব্যক্তি তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং তার প্রতি আশ্বস্ত হয়। ফলে এটি এমন অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে যার মাধ্যমে আকিদাগত বিধানসমূহ সাব্যস্ত হয়, যেমন আল্লাহর ওপর ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং তাঁর কিতাবসমূহের ওপর ঈমান আনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ورسله واليوم الآخر؛ لأن العقيدة لا تثبت بالظن، وإما أن يكون الدليل غير مقطوع به. وإنما يدل دلالة راجحة على غيره، فيفيد الظن، والأحكام العملية الفقهية تثبت بالقطعي وتثبت بالظني، فالعلم هنا عملية ذهنية في تصور الأشياء، أو تصور المعلوم.
2 - العلم: هو نفس الأشياء المدركة، فعلم الفقه مثلًا هو مسائل الفقه، أو هو مجموعة الأحكام الشرعية العملية، وعلم الطب هو مجموعة التعليمات والمعارف التي تميز بين الذات الصحيحة والمريضة، وعلم الأصول هو مجموعة القواعد والأبواب التي ترشد إلى استنباط الأحكام العملية من أدلتها التفصيلية.
3 - العلم: هو الملكة والقدرة العقلية التي يكتسبها العالم من دراسة العلم ومسائله، فيقال مثلًا: فلان عنده علم.
4 - العلم: هو الاعتقاد الجازم المطابق للواقع عن دليل، مثل: النار محرقة، والعالم حادث، وذلك إذا وصل البحث إلى المعرفة الكاملة المطابقة للحقيقة والواقع، فإنه يسمى علمًا، وإلا فإنه يكون فرضية أو ظنًّا أو شكًّا أو وهمًا وتخمينًا ورجمًا بالغيب، فالعلم أعلى درجات المعرفة (1).
--------------------------------------------
এবং তাঁর রাসূলগণ ও পরকাল; কারণ আকিদা বা বিশ্বাস সংশয় বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত হয় না, নতুবা দলিলটি অকাট্য হবে না। বরং এটি অন্য কিছুর ওপর প্রবল প্রমাণ হিসেবে নির্দেশিত হয়, যা ধারণা প্রদান করে। তবে ব্যবহারিক ফিকহি বিধানসমূহ অকাট্য এবং ধারণা—উভয় প্রকার প্রমাণের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। সুতরাং এখানে জ্ঞান হলো কোনো বস্তু বা জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে ধারণা করার একটি মানসিক প্রক্রিয়া।
২ - জ্ঞান: এটি হলো উপলব্ধি করা বিষয়গুলো স্বয়ং। উদাহরণস্বরূপ, ফিকহ শাস্ত্র হলো ফিকহের মাসআলাসমূহ, অথবা এটি হলো ব্যবহারিক শরয়ি বিধানের সমষ্টি। চিকিৎসা বিজ্ঞান হলো সেই সব নির্দেশনা ও জ্ঞানের সমষ্টি যা সুস্থ ও অসুস্থ শরীরের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে। আর উসুল শাস্ত্র হলো সেই সব নিয়মনীতি ও অধ্যায়সমূহের সমষ্টি যা বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে ব্যবহারিক বিধানসমূহ উদ্ভাবনের পথপ্রদর্শন করে।
৩ - জ্ঞান: এটি হলো সেই যোগ্যতা এবং মানসিক সক্ষমতা যা একজন আলেম জ্ঞান ও তার মাসআলাসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে অর্জন করেন। যেমন বলা হয়: অমুকের জ্ঞান আছে।
৪ - জ্ঞান: এটি হলো দলিলের ভিত্তিতে বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস। যেমন: আগুন দহনকারী এবং জগত নশ্বর বা সৃষ্ট। যখন কোনো গবেষণা সত্য ও বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানে উপনীত হয়, তখন তাকে জ্ঞান বলা হয়। অন্যথায় তা অনুমান, ধারণা, সন্দেহ, বিভ্রম, আন্দাজ কিংবা অদৃশ্যের বিষয়ে ধারণা হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং জ্ঞান হলো উপলব্ধির সর্বোচ্চ স্তর (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وأقرب المعاني التي تتصل بعلم الأصول هو الأول والثاني، فعلم أصول الفقه هو إدراك الأصول ومعرفتها، أو هو نفس الأصول التي تؤخذ منها الأحكام.
ثانيًا: الأصول:الأصول: جمع أصل، وهو في اللغة أسفل الشيء، أو ما يبنى عليه غيره، سواء كان الابتناء حسيًّا، كالأساس الذي يشيد عليه البناء، فهو أصل له، أم كان الابتناء عقليًّا، كابتناء الأحكام الجزئية على القواعد الكلية (1).
أما في الاصطلاح: فقد استعمل العلماء كلمة أصل في معان كثيرة أهمها (2):
1 - الأصل: هو ما يقابل الفرع، وذلك في الفقه وأصول الفقه، مثل الخمر والأب، فالخمر أصل والنبيذ فرع له، والأب أصل والولد فرع له.
2 - الأصل: بمعنى الراجح، مثل الحقيقة أصل للمجاز، أي راجحة عليه عند السامع، والقرآن الكريم أصل للقياس أي راجح عليه، والأصل في الكلام الحقيقة دون المجاز.
3 - الأصل: بمعنى المستصحب، مثل: الأصل الطهارة، لمن كان متيقنًا منها، ويشك في الحدث، أي تستصحب الطهارة حتى يثبت
--------------------------------------------
উসুল শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট নিকটতম অর্থ হলো প্রথম এবং দ্বিতীয়টি। সুতরাং উসুলুল ফিকহ হলো উসুল বা মূলনীতিসমূহ অনুধাবন ও তা পরিজ্ঞাত হওয়া, অথবা এটি মূলত সেই উসুলসমূহ যেখান থেকে আহকাম বা বিধানসমূহ গ্রহণ করা হয়।
দ্বিতীয়ত: উসুল (মূলনীতিসমূহ):উসুল: এটি ‘আসল’-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এটি কোনো বস্তুর নিম্নভাগ, অথবা এমন কিছু যার ওপর অন্য কিছু নির্মাণ করা হয় বা দাঁড়িয়ে থাকে। এই ভিত্তিটি কোনো দৃশ্যমান বিষয় হতে পারে, যেমন ভিত্তিপ্রস্তর যার ওপর অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়, সুতরাং সেটি তার জন্য ‘আসল’। অথবা ভিত্তিটি বুদ্ধিবৃত্তিক হতে পারে, যেমন সামগ্রিক মূলনীতির ওপর আংশিক বিধানসমূহের ভিত্তি স্থাপিত হওয়া (১)।
আর পরিভাষায়: আলেমগণ ‘আসল’ শব্দটি অনেক অর্থে ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে প্রধান হলো (২):
১ - আসল: যা ‘ফার’ (শাখা)-এর বিপরীত। এটি ফিকহ এবং উসুলুল ফিকহ উভয় শাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: মদ এবং পিতা। এখানে মদ হলো আসল এবং নাবীজ হলো তার শাখা। আর পিতা হলো আসল এবং সন্তান হলো তার শাখা।
২ - আসল: অগ্রগণ্য বা রাজেহ অর্থে। যেমন: রূপক (মাজায) অর্থের বিপরীতে প্রকৃত (হাকিকত) অর্থ হলো আসল। অর্থাৎ শ্রোতার নিকট এটিই অধিকতর অগ্রগণ্য। আবার কুরআন মাজিদ কিয়াসের তুলনায় আসল, অর্থাৎ এটি কিয়াসের ওপর অগ্রগণ্য। কথার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থই আসল, রূপক অর্থ নয়।
৩ - আসল: পূর্বাবস্থায় বহাল (মুস্তাসহিব) অর্থে। যেমন: ‘আসল হলো পবিত্রতা’—এমন ব্যক্তির জন্য যে পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত কিন্তু অপবিত্র হওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান। অর্থাৎ পবিত্রতাকেই সাব্যস্ত হিসেবে ধরে নেওয়া হবে যতক্ষণ না অন্য কিছু প্রমাণিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عكسها، ومثل: الأصل براءة الذمة، ويقال: ما هو أصل القضية، أي الأمر الذي كان في الماضي والسابق لنستصحبه إلى الحاضر.
4 - الأصل: بمعنى القاعدة التي تبنى عليها المسائل، مثل: "بني الإسلام على خمسة أصول"، ويقال: أكل الميتة على خلاف الأصل، أي على خلاف الحالة المستمرة.
5 - الأصل: بمعنى الدليل، وهو ما تعارف عليه الفقهاء وعلماء الأصول، مثل قولهم: أصل هذا الحكم من الكتاب آية كذا، ومن السنة حديث كذا.
وهذا المعنى الأخير هو المقصود من استعمال أصول الفقه، أي أدلة الفقه، وهذه الأدلة إما أن تكون إجمالية وكلية وتدرس في أصول الفقه، وهي مصادر التشريع، كما سنرى، وإما أن تكون الأدلة تفصيلية، ويختص بها علم الفقه والخلاف.
ثالثًا: الفقه:الفقه لغة: الفهم (1)، وهو إدراك معنى الكلام، ومنه قوله تعالى: {وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي (27) يَفْقَهُوا قَوْلِي (28)} [طه:27 - 28]، وقوله عليه الصلاة والسلام: "مَنْ يُردِ اللهُ به خيرًا يُفقّهه في الدِّين" (2).
وفي الاصطلاح، عرفه أصحاب الشافعي بأنه "العلم بالأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية" (3)، وهاك شرح هذا التعريف.
--------------------------------------------
এর বিপরীত, যেমন: মূলনীতি হলো দায়মুক্তি। এবং বলা হয়: ঘটনার মূল কী, অর্থাৎ এমন বিষয় যা অতীতে এবং পূর্বে ছিল যেন আমরা বর্তমানের সাথে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখি।
৪ - আসল: এমন ভিত্তি বা মূলনীতির অর্থে যার ওপর মাসআলাসমূহ নির্মিত হয়, যেমন: "ইসলাম পাঁচটি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত", এবং বলা হয়: মৃত জন্তু ভক্ষণ করা আসলের (মূলনীতির) পরিপন্থী, অর্থাৎ যা চলমান অবস্থার বিপরীত।
৫ - আসল: দলীল বা প্রমাণের অর্থে, যা ফকীহগণ এবং উসূলে ফিকহের আলেমদের নিকট পরিচিত, যেমন তাঁদের বক্তব্য: কিতাবুল্লাহর অমুক আয়াত এই বিধানের মূল (দলীল), এবং সুন্নাহর অমুক হাদীস অমুক বিধানের মূল।
আর উসূলে ফিকহ ব্যবহারে এই শেষোক্ত অর্থটিই উদ্দেশ্য, অর্থাৎ ফিকহের দলীলসমূহ। আর এই দলীলসমূহ হয়তো সারসংক্ষেপ ও সামগ্রিক যা উসূলে ফিকহে আলোচিত হয় এবং সেগুলো হলো শরীয়তের উৎস, যা আমরা সামনে দেখব; অথবা দলীলগুলো হয় বিস্তারিত, যা ফিকহ শাস্ত্র ও মতবিরোধপূর্ণ মাসআলা সংক্রান্ত শাস্ত্রের সাথে নির্দিষ্ট।
তৃতীয়ত: ফিকহ:আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো: অনুধাবন (১), আর তা হলো কথার অর্থ উপলব্ধি করা। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, (২৭) যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে (২৮)} [ত্বহা: ২৭-২৮], এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) দান করেন" (২)।
আর পারিভাষিক অর্থে, শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীগণ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, "বিস্তারিত দলীল-প্রমাণ থেকে আমলযোগ্য শরয়ী আহকামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা" (৩)। নিচে এই সংজ্ঞার ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
1 - العلم: هنا هو الإدراك والتصديق والمعرفة، ويدخل فيه سائر العلوم.
2 - الأحكام: جمع حكم، وهو لغةً: القضاء والمنع (1)، وعند الأصوليين هو خطاب الله تعالى المتعلق بأفعال المكلفين اقتضاء أو تخييرًا أو وضعًا، وعرف الفقهاء الحكم بأنه ما ثبت بالخطاب، أو هو أثر الخطاب (2)، كوجوب الصوم؛ فإنه حكم ثبت من الآية الكريمة: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة: 183] ويكون العلم بالأحكام هو التصديق بكيفية تعلق الأحكام بأفعال المكلفين.
ويخرج من التعريف العام بذات الله تعالى وصفاته وأفعاله؛ فإنها تدخل في علم التوحيد والعقيدة، ويخرج العلم بالأدلة الكلية وبالقواعد والضوابط؛ فإنها تدخل في علم الأصول.
3 - الشرعية: أي الأحكام التي تتوقف على الشرع، ويخرج من الفقه العلم بالأحكام العقلية مثل: الواحد نصف الاثنين، والكل أعظم من الجزء، والأحكام اللغوية مثل: الفاعل مرفوع، والباء للتعليل، والأحكام الحسية مثل: النار محرقة، والماء بارد.
4 - العملية: وهي صفة للأحكام، بأن تقتضي عملًا، سواء كان من عمل القلب كوجوب النية، أو من عمل اللسان كالقراءة والكلام، أو من عمل الجوارح كالعبادات والجهاد.
--------------------------------------------
১ - ইলম (জ্ঞান): এখানে এর অর্থ হলো উপলব্ধি, সত্যায়ন এবং পরিজ্ঞান; আর এর অন্তর্ভুক্ত হয় অন্যান্য সকল জ্ঞান।
২ - আহকাম (বিধানসমূহ): এটি 'হুকুম'-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এটি হলো: ফয়সালা এবং প্রতিরোধ (১)। উসুলবিদদের মতে এটি হলো দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর সম্বোধন, যা দাবি করা, ঐচ্ছিকতা প্রদান করা অথবা নির্ধারণ করার সাথে সম্পৃক্ত। আর ফকিহগণ হুকুমের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, যা আল্লাহর সম্বোধন দ্বারা প্রমাণিত হয়, অথবা যা সম্বোধনের প্রভাব (২), যেমন সিয়াম বা রোজা ফরয হওয়া; কেননা এটি পবিত্র আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত একটি বিধান: {তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে} [আল-বাকারাহ: ১৮৩]। সুতরাং বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন হলো দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে বিধানসমূহ যেভাবে সংশ্লিষ্ট হয়, তা সত্যায়ন করা।
এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সত্তা, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর কার্যাবলী সংক্রান্ত সাধারণ সংজ্ঞাটি বের হয়ে যায়; কারণ এগুলো তাওহিদ ও আকীদা শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে কুল্লি বা সামগ্রিক দলিলসমূহ এবং মূলনীতি ও নিয়মাবলী সংক্রান্ত জ্ঞানও এর বাইরে থাকে; কারণ এগুলো উসুল শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
৩ - শারয়িয়্যাহ: অর্থাৎ সেই বিধানসমূহ যা শরীয়তের উপর নির্ভরশীল। এর ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহ ফিকহ থেকে বাদ পড়ে যায়, যেমন: এক হলো দুইয়ের অর্ধেক, এবং অংশ বিশেষের চেয়ে পূর্ণাঙ্গটি বড়। তেমনি ভাষাগত বিধানসমূহও বাদ পড়ে যায়, যেমন: কর্তা পেশযুক্ত হওয়া, এবং 'বা' অক্ষরটি কারণ দর্শানোর জন্য আসা। আবার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিধানসমূহও বাদ পড়ে যায়, যেমন: আগুন দহনকারী এবং পানি শীতল।
৪ - আমালিইয়্যাহ (ব্যবহারিক): এটি বিধানসমূহের একটি গুণ, যার দ্বারা কোনো কাজ উদ্দেশ্য থাকে; তা অন্তরের কাজ হোক যেমন নিয়ত করা ফরয হওয়া, অথবা জিহ্বার কাজ হোক যেমন কিরাত পাঠ ও কথাবার্তা, অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ হোক যেমন ইবাদত ও জিহাদ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويخرج من الفقه الأحكام الاعتقادية التي لا تتعلق بكيفية عمل، وإنما قصد منها الاعتقاد فقط، مثل العلم بأن الله واحد، وأنه يُرى في الآخرة، وأن محمدًا رسول الله، وأن البعث حق، والأحكام الأخلاقية كالوفاء والكرم، كما تخرج الأحكام النظرية في علم الأصول كالعلم بأن الإجماع حجة (1).
5 - من أدلتها: جار ومجرور متعلق بصفة العلم، أي العلم الناشئ من الأدلة، فيخرج من الفقه العلم الذي لا يتوقف على دليل كعلم الله تعالى للأحكام، وعلم رسوله صلى الله عليه وسلم، وعلم جبريل، فإنها علوم غير مكتسبة من الأدلة، وكذلك يخرج العلم الحاصل للمقلد في المسائل الفقهية التي يسأل عنها العالم، فإنه يعلم أنها حكم الله بدون معرفتها من دليل (2)، وهذا ما يفرق العالم وطالب العلم الشرعي عن الأمي وغير المختص بالشريعة.
6 - التفصيلية: وهي الأدلة التفصيلية التي تتعلق بمسألة معينة كوجوب الصلاة في قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [يونس: 87]، وتحريم أكل مال اليتيم في قوله تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إلا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [الأنعام: 152].
وخلاصة ذلك فإن الفقه هو: معرفة الأحكام الشرعية لأفعال المكلفين من تحليل وتحريم، وحظر وإباحة (3).
--------------------------------------------
ফিকহ থেকে ঐ সকল আকিদাগত বিধান বাদ যাবে যা আমল বা কর্মপদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং তা দ্বারা কেবল বিশ্বাসের উদ্দেশ্য থাকে। যেমন: আল্লাহ এক হওয়ার জ্ঞান, পরকালে তাঁকে দেখা যাওয়ার বিষয়, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল হওয়া, পুনরুত্থান সত্য হওয়া এবং চারিত্রিক বিধানসমূহ যেমন বিশ্বস্ততা ও উদারতা। অনুরূপভাবে উসুলুল ফিকহের তাত্ত্বিক বিধানসমূহও বাদ যাবে, যেমন ইজমা যে একটি দলিল সেই জ্ঞান (১)।
৫ - এর দলিলসমূহ থেকে: জার ও মাজরুর এখানে এলম বা জ্ঞানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ দলিল থেকে উদ্ভূত জ্ঞান। ফলে এমন জ্ঞান ফিকহ থেকে বাদ যাবে যা দলিলের ওপর নির্ভরশীল নয়, যেমন বিধানসমূহ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার জ্ঞান, তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জ্ঞান এবং জিবরাঈল-এর জ্ঞান; কেননা এগুলো দলিল থেকে অর্জিত জ্ঞান নয়। একইভাবে ফিকহি মাসআলাসমূহে মুকাল্লিদ বা অনুসরণকারীর অর্জিত জ্ঞানও এর বাইরে থাকবে যা সে কোনো আলেমের নিকট জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে। কারণ সে দলিল ছাড়াই জানে যে এটি আল্লাহর বিধান (২)। আর এটিই আলেম ও শরয়ি ইলম অন্বেষণকারীকে নিরক্ষর এবং শরিয়ত বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি থেকে পৃথক করে।
৬ - বিস্তারিত: এগুলো হলো ঐ সকল বিস্তারিত দলিল যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তোমরা নামাজ কায়েম করো} [ইউনুস: ৮৭]-তে নামাজের আবশ্যকতা এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তোমরা এতিমের সম্পদের কাছেও যেয়ো না শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি ব্যতীত} [আল-আনআম: ১৫২]-তে এতিমের সম্পদ ভক্ষণ হারাম হওয়া।
এর সারসংক্ষেপ হলো: ফিকহ হলো মুকাল্লিফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মসমূহের শরয়ি বিধানাবলি তথা হালাল, হারাম, নিষিদ্ধ ও বৈধতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
يقول أستاذنا الدكتور فوزي فيض الله-: الفقه: "هو التصديق بالقضايا الشرعية المتعلقة بكيفية العلم، تصديقًا حاصلًا من الأدلة التفصيلية التي نصبت في الشرع على تلك القضايا" (1).
وإن علم أصول الفقه هو العلم بأدلة الأحكام، ومعرفة وجوه دلالتها عليها من حيث الجملة (2).
ويظهر لنا أن ميدان عالم الأصول: هو الأدلة الكلية كالكتاب والسنة، وغايته: وضع قواعد كلية لمعرفة كيفية استنباط الأحكام الشرعية من الأدلة بالاجتهاد، كالأمر للوجوب.
أما ميدان الفقه: فهو الأدلة التفصيلية الجزئية الخاصة، وغايته: الوصول إلى الحكم الجزئي لكل فعل من أفعال المكلفين.
--------------------------------------------
আমাদের উস্তাদ ডক্টর ফাউজি ফায়জুল্লাহ বলেন: ফিকহ হলো: "আমল বা কার্যের পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ী বিষয়গুলোকে সত্য বলে মেনে নেওয়া, যা ওই সকল বিষয়ের ওপর শরিয়তে নির্ধারিত বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত সত্যয়ন।" (১)।
আর উসুলুল ফিকহ হলো বিধানের দলিলসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং সামগ্রিকভাবে সেই দলিলগুলোর বিধান নির্দেশনার ধরণগুলো জানা (২)।
আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, উসুলবিদের কর্মক্ষেত্র হলো: কিতাব ও সুন্নাহর মতো সামগ্রিক দলিলসমূহ। আর এর উদ্দেশ্য হলো: ইজতিহাদের মাধ্যমে দলিল থেকে কীভাবে শরয়ী বিধানসমূহ আহরণ করতে হয় তা জানার জন্য কিছু সামগ্রিক নিয়ম নির্ধারণ করা, যেমন- আদেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে।
পক্ষান্তরে ফিকহের কর্মক্ষেত্র হলো: নির্দিষ্ট ও আংশিক বিস্তারিত দলিলসমূহ। আর এর উদ্দেশ্য হলো: মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের প্রতিটি কাজের আংশিক বিধানে পৌঁছানো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني في تعريف أصول الفقه لقبًاعرف الشافعية أصول الفقه -باعتباره لقبًا- بتعريف يختلف عن تعريف الجمهور، وإليك التعريفين:
أولًا: تعريف الشافعية:عرف البيضاوي من الشافعية أصول الفقه بأنه "معرفة دلائل الفقه إجمالًا، وكيفية الاستفادة منها، وحال المستفيد" (1).
1 - المعرفة: هي العلم والتصديق بأدلة الفقه الإجمالية، سواء أكان التصديق على سبيل القطع، أم على سبيل الظن، ومن هذا يظهر السبب
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞাগত পরিভাষা হিসেবে উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞায়নশাফেঈগণ উসুলুল ফিকহকে—পরিভাষা হিসেবে—এমন এক সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন যা জমহুর বা সাধারণ ওলামাদের সংজ্ঞার চেয়ে ভিন্ন। নিচে সংজ্ঞা দুটি তুলে ধরা হলো:
প্রথমত: শাফেঈগণের সংজ্ঞা:শাফেঈদের মধ্য থেকে বায়যাভী উসুলুল ফিকহকে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো "সার্বিকভাবে ফিকহের দলিলসমূহ, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং আহরণকারীর অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা" (১)।
১ - জ্ঞান (মা’রিফাহ): এটি হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং সেগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করা, চাই সেই স্বীকৃতি নিশ্চিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে হোক কিংবা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে হোক। এ থেকে সেই কারণটি স্পষ্ট হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
في اختيار لفظة المعرفة، دون لفظة العلم، لأن البيضاوي يحصر معنى العلم بالتصديق على سبيل القطع. ويخرج من التعريف علم الله تعالى بالأدلة، لأن علمه تعالى قطعي، وليس ظنيًّا (1).
2 - دلائل: جمع دلالة بمعنى دليل، أو جمع دليل، والدليل في اللغة: المرشد إلى الشيء، والكاشف عن حقيقته (2).
وفي الاصطلاح: هو ما يمكن بالنظر فيه التوصل إلى إدراك حكم شرعي على سبيل العلم أو الظن (3)، مثل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ} [المائدة: 1]، وقوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [يونس: 87]، وقوله تعالى: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ} [البقرة: 190].
فهذه الآيات الكريمة أدلة عند الأصوليين، لأنهم ينظرون إليها بأنها أوامر شرعية، ويتوصلون منها إلى إدراك الأحكام الشرعية بوجوب الوفاء بالعقد، وإقامة الصلاة، والجهاد في سبيل الله.
والصحيح عند جمهور الأصوليين أن الدليل إما أن تكون دلالته على الحكم قطعية بأن ينتج حكمًا قطعيًّا، وإما أن تكون ظنية بأن ينتج حكمًا ظنيًّا، بينما قصر بعض الأصوليين الدليل على ما يتوصل منه إلى إدراك حكم شرعي قطعي، أو ما يتوصل منه إلى إدراك حكم شرعي ظني فهو أمارة (4).
--------------------------------------------
'ইলম' (জ্ঞান) শব্দের পরিবর্তে 'মা'রিফাহ' (পরিচয়) শব্দ নির্বাচনের কারণ হলো, বাইযাভী 'ইলম' শব্দের অর্থকে নিশ্চিত বিশ্বাসের (তাসদিক) মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। আর দলীলের মাধ্যমে অর্জিত আল্লাহ তাআলার জ্ঞান এই সংজ্ঞা থেকে বহির্ভূত হয়ে যায়, কারণ তাঁর জ্ঞান নিশ্চিত, ধারণাপ্রসূত নয় (১)।
২ - দালাইল: এটি 'দালালাহ' এর বহুবচন যা 'দলীল' অর্থে ব্যবহৃত হয়, অথবা এটি 'দলীল' শব্দেরই বহুবচন। আভিধানিক অর্থে দলীল হলো: কোনো বিষয়ের পথপ্রদর্শক এবং তার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনকারী (২)।
আর পরিভাষায়: যা গভীরভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে অথবা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে শরয়ি হুকুম অনুধাবনে পৌঁছানো সম্ভব হয় (৩), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো" [আল-মায়িদাহ: ১], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো" [ইউনুস: ৮৭], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে লড়াই করো, যারা তোমাদের সাথে লড়াই করে" [আল-বাকারাহ: ১৯০]।
এই সম্মানিত আয়াতসমূহ উসুলবিদদের নিকট দলীল হিসেবে গণ্য, কারণ তাঁরা এগুলোকে শরয়ি আদেশ হিসেবে দেখেন এবং এগুলোর মাধ্যমে তাঁরা অঙ্গীকার পূর্ণ করা, সালাত কায়েম করা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়ার মতো শরয়ি বিধান উপলব্ধি করেন।
জুমহুর (অধিকাংশ) উসুলবিদের নিকট সঠিক মত হলো, দলীলের নির্দেশিকা শরয়ি বিধানের ওপর নিশ্চিতও হতে পারে যা নিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদান করে, অথবা ধারণাপ্রসূত হতে পারে যা ধারণাপ্রসূত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। পক্ষান্তরে কিছু উসুলবিদ 'দলীল' শব্দটিকে কেবল সেই বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন যার মাধ্যমে নিশ্চিত শরয়ি বিধান উপলব্ধি করা যায়; আর যার মাধ্যমে ধারণাপ্রসূত শরয়ি বিধান উপলব্ধি করা যায়, তাকে তাঁরা 'আলামত' বা চিহ্ন হিসেবে অভিহিত করেছেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والدليل إما أن يكون مجملًا، كمطلق الأمر والنهي، الذي ينتج حكمًا كليًّا، هو الوجوب والحرمة، ويندرج تحته أدلة جزئية، وإما أن يكون دليلًا جزئيًّا تفصيليًّا يدل على الحكم في مسألة بذاتها، ويندرج تحت دليل كلي، كالأمر بإقامة الصلاة، الذي يدل على وجوبها، وهذه من مباحث الفقه، وتذكر استطرادًا في الأصول (1).
والمراد بمعرفة الأدلة أن يعرف أن الكتاب والسنة والإجماع والقياس أدلة يحتج بها، وأن الأمر مثلًا للوجوب، ولا يقصد حفظ الأدلة.
ويخرج من التعريف معرفة غير الأدلة، كمعرفة أحكام الفقه، وقواعد النحو، ومبادئ البلاغة، وأسباب الخلاف؛ فإنها ليست أدلة.
3 - الفقه: لغةً الفهم، وإصطلاحًا: هو العلم بالأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية، ومر شرحه في المبحث السابق.
وإن إضافة الدلائل للفقه تفيد العموم، لأنه جمع مضاف، فيعم جميع الأدلة سواء كانت متفقًا عليها أو مختلفًا فيها (2).
ويخرج من التعريف دلائل غير الفقه، كالنحو والقانون، فلا تدخل في موضوعنا.
4 - إجمالًا: حال من الدلائل، أي دلائل الفقه الإجمالية الكلية غير المعينة، التي يدخل تحتها جزئيات كثيرة، مثل كون الإجماع حجة، وأن شرع من قبلنا شرع لنا إذا ورد ما يؤيده بشريعتنا، وأن النهي يفيد التحريم.
فلا يدخل في علم أصول الفقه الدليل التفصيلي للأحكام الجزئية في
--------------------------------------------
আর দলিল হয় সামগ্রিক হবে, যেমন নিঃশর্ত আদেশ ও নিষেধ, যা একটি সামগ্রিক বিধান প্রদান করে, তা হলো ওয়াজিব হওয়া এবং হারাম হওয়া, এবং এর অধীনে আংশিক দলিলসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়। অথবা এটি হবে একটি আংশিক বিস্তারিত দলিল যা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের বিধান নির্দেশ করে এবং তা একটি সামগ্রিক দলিলের অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন সালাত কায়েমের নির্দেশ, যা এর আবশ্যকতা নির্দেশ করে। এটি ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় এবং উসূল শাস্ত্রে প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা হয় (১)।
আর দলিলসমূহের পরিচয় বা জ্ঞান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি জানা যে, কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস হলো এমন দলিল যা দ্বারা প্রমাণ পেশ করা যায় এবং উদাহরণস্বরূপ আদেশ হলো ওয়াজিব হওয়ার জন্য; দলিল মুখস্থ করা এর উদ্দেশ্য নয়।
আর এই সংজ্ঞা থেকে দলিলের বহির্ভূত বিষয়সমূহ বাদ পড়ে যায়, যেমন ফিকহের বিধানাবলি, নাহুর নিয়মাবলি, বালাগাতের মূলনীতি এবং মতভেদের কারণসমূহ জানা; কেননা এগুলো দলিল নয়।
৩ - ফিকহ: শাব্দিক অর্থে অনুধাবন করা, আর পারিভাষিক অর্থে: বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে আহরিত আমলি শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান। আর গত আলোচনায় এর ব্যাখ্যা অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর ফিকহ শব্দের সাথে দলিলসমূহ শব্দের সংযুক্তি ব্যাপকতা প্রকাশ করে, কারণ এটি ইযাফাতকৃত বহুবচন। সুতরাং এটি সকল দলিলকে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা সর্বসম্মত হোক বা বিতর্কিত (২)।
আর এই সংজ্ঞা থেকে ফিকহ ব্যতীত অন্য বিষয়ের দলিলসমূহ বের হয়ে যায়, যেমন নাহু ও আইনশাস্ত্র; সুতরাং এগুলো আমাদের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
৪ - সামগ্রিকভাবে: এটি দলিলসমূহের অবস্থা বর্ণনা করে, অর্থাৎ ফিকহের সামগ্রিক ও অনির্দিষ্ট দলিলসমূহ, যার অধীনে অনেক আংশিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন ইজমা দলিল হওয়া, এবং আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত আমাদের জন্য শরীয়ত হওয়া যখন আমাদের শরীয়তে তার সমর্থনে কিছু বর্ণিত থাকে, এবং নিষেধ হারাম হওয়া সাব্যস্ত করে।
সুতরাং উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হবে না আংশিক বিধানসমূহের বিস্তারিত দলিলসমূহ যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
علم الفقه وعلم الخلاف، مثل قوله عليه الصلاة والسلام: "لا وصية لوارث" (1) فهو دليل على نسخ الوصية للوارث.
5 - كيفية الاستفادة منها: أي معرفة ما يميز الدليل الصحيح من الدليل الباطل، والدليل القوي من الدليل الضعيف (2)، وذلك أن أدلة الفقه التفصيلية ظنية من جهة دلالتها على الأحكام الشرعية، أو من جهة ثبوتها عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو من الجهتين معًا، وقد يتعارض الدليل الظني مع دليل آخر فيحتاج الفقيه إلى معرفة تعارض الأدلة، ومعرفة الأسباب التي يرجح بها بعض الأدلة على بعض، وهذا ما يدرسه الأصولي في باب التعارض والترجيح الذي يعين المجتهد، ويستفيد منه لبيان الدليل الصحيح المثبت للأمر أو النهي.
6 - وحالة المستفيد: أي معرفة صفة المستفيد، وهو المجتهد، وذلك أن استنباط الأحكام من أدلتها، وترجيح الدليل على غيره عند التعارض، لا يتسنى لكل إنسان، ولذا يشترط في المجتهد أن تتوفر فيه صفات وشروط كثيرة حتى يستطيع القيام بهذا العمل الخطير، وهي شروط المجتهد، وقد بحثها الأصوليون في باب شرائط الاجتهاد (3)، وأهمها:
--------------------------------------------
ফিকহ শাস্ত্র এবং ইখতিলাফ (মতভেদ) শাস্ত্র, যেমন তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: "ওয়ারিশের জন্য কোনো অসিয়ত নেই" (১), যা ওয়ারিশের জন্য অসিয়ত রহিত (মানসুখ) হওয়ার দলিল।
৫ - এগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার পদ্ধতি: অর্থাৎ সঠিক দলিলকে বাতিল দলিল থেকে এবং শক্তিশালী দলিলকে দুর্বল দলিল থেকে পৃথক করার জ্ঞান (২)। এর কারণ হলো, ফিকহের বিস্তারিত দলিলগুলো শরয়ি হুকুমের ওপর নির্দেশনার দিক থেকে, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হওয়ার দিক থেকে, কিংবা উভয় দিক থেকেই ধারণাপ্রসূত (জন্নি) হতে পারে। কখনো একটি ধারণাপ্রসূত দলিল অন্য একটি দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে, ফলে ফকিহকে দলিলের পারস্পরিক বিরোধ (তাআরুদ) সম্পর্কে এবং এক দলিলকে অন্য দলিলের ওপর প্রাধান্য (তারজিহ) দেওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে জানার প্রয়োজন পড়ে। উসুলবিদগণ 'তাআরুদ ও তারজিহ' অধ্যায়ে এটিই আলোচনা করেন, যা মুজতাহিদকে সাহায্য করে এবং তিনি এর মাধ্যমে আদেশ বা নিষেধ সাব্যস্তকারী সঠিক দলিলটি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন।
৬ - উপকৃত হওয়ার অবস্থা: অর্থাৎ উপকার গ্রহণকারীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা, আর তিনি হলেন মুজতাহিদ। এর কারণ হলো, দলিল থেকে হুকুম আহরণ (ইস্তিনবাত) করা এবং বিরোধের সময় এক দলিলকে অন্য দলিলের ওপর প্রাধান্য দেওয়া প্রতিটি মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মুজতাহিদের মধ্যে অনেক গুণাবলী ও শর্ত বিদ্যমান থাকা জরুরি যাতে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম হন। আর এগুলোই হলো মুজতাহিদের শর্তাবলি। উসুলবিদগণ 'ইজতিহাদের শর্তাবলি' অধ্যায়ে এগুলো আলোচনা করেছেন (৩), যার মধ্যে প্রধান হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
العلم بكتاب الله تعالى، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم والإجماع والقياس، وإتقان اللغة العربية، ومعرفة الناسخ والمنسوخ، والحقيقة والمجاز، والمطلق والمقيد، وصحيح السنة وسقيمها، ومتواترها وآحادها، ومسندها ومنقطعها، ومعرفة شروط القياس وطرق العلة وغير ذلك.
ونخلص من هذا التعريف إلى أن علم أصول الفقه هو العلم الذي يكسبنا معرفة مصادر التشريع الإسلامي، ويبين لنا الدليل الصحيح المرشد إلى حكم الله تعالى، وسبب ترجيحه على غيره، وكيفية استخراج الأحكام الشرعية من المصادر، ويرشدنا إلى شرائط الاجتهاد، والطريق الذي يسلكه المجتهد في الاستنباط ضمن الحدود الشرعية.
ثانيًا: تعريف الجمهور:عرف الحنفية والمالكية والحنابلة أصول الفقه بقولهم: "هو العلم بالقواعد الكلية التي يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية" (1).
شرح التعريف:
1 - القواعد: جمع قاعدة، وتعني قضية كلية يدخل تحتها جزئيات كثيرة (2)، مثل قاعدة "الأمر للوجوب" فإنها قضية كلية يدخل تحتها عدد
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন; আরবি ভাষায় পারদর্শিতা; নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত), হাকিকত ও মাজায (রূপক), মুতলাক (অনির্ধারিত) ও মুকায়্যাদ (নির্ধারিত), সহিহ ও যয়িফ সুন্নাহ, মুতাওয়াতির ও আহাদ হাদিস, মুসনাদ ও মুনকাতি' হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান; এবং কিয়াসের শর্তাবলি ও ইল্লাত (কারণ) বের করার পদ্ধতিসমূহ এবং এ জাতীয় বিষয়গুলোর জ্ঞান।
এই সংজ্ঞা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, উসুলুল ফিকহ হলো এমন এক ইলম যা আমাদের ইসলামি শরিয়তের উৎসগুলো সম্পর্কে জ্ঞান দান করে, মহান আল্লাহর বিধানের দিকে পথপ্রদর্শনকারী সঠিক দলিলটি আমাদের সামনে স্পষ্ট করে এবং অন্য দলিলের ওপর একে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে। এটি উৎসগুলো থেকে শরয়ি বিধান আহরণের পদ্ধতি বাতলে দেয় এবং ইজতিহাদের শর্তাবলি ও শরয়ি সীমানার মধ্যে থেকে মাসআলা উদ্ভাবনে মুজতাহিদ যে পথ অনুসরণ করেন সে সম্পর্কে আমাদের দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
দ্বিতীয়ত: জমহুর বা সংখ্যাগুরু উলামায়ে কেরামের সংজ্ঞা:হানাফি, মালিকি এবং হাম্বলিগণ উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি হলো এমন কতগুলো সামগ্রিক মূলনীতি সংক্রান্ত জ্ঞান, যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে ব্যবহারিক শরয়ি বিধান আহরণ করা সম্ভব হয়" (১)।
সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:
১ - আল-কাওয়ায়েদ (মূলনীতিসমূহ): এটি 'কায়েদাহ' শব্দের বহুবচন, আর এর অর্থ হলো এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যার অধীনে অনেকগুলো শাখা বা খুটিনাটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে (২)। যেমন—"আদেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে" মূলনীতিটি, এটি একটি সামগ্রিক বিষয় যার অধীনে অনেক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لا يحصى من الجزئيات كقوله تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125]، وقوله تعالى: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ} [البقرة: 190].
2 - يتوصل بها إلى استنباط الأحكام: أي إن المجتهد يصل إلى استخراج الأحكام الشرعية بوساطة هذه القواعد، ويستدل بها على اجتهاده، مثل قاعدة "النهي يفيد التحريم" فإنه يتوصل بها إلى بيان حكم الله تعالى من الآية الكريمة: {وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ} [البقرة 188] بأنه حرام، لأنه منهي عنه.
3 - الشرعية: أي الأحكام التي تتوقف على الشرع؛ فتخرج الأحكام العقلية واللغوية والحسية وغيرها.
4 - العملية: وهي صفة للأحكام التي تقتضي عملًا وفعلا من أفعال المكلفين، سواء كان من عمل القلب، كوجوب النية فيها، أو من عمل اللسان، أو من عمل الجوارح.
وتخرج الأحكام الاعتقادية والأخلاقية، كما تخرج الأحكام النظرية كما مر سابقًا.
5 - من أدلتها التفصيلية: أي الدليل التفصيلي الجزئي على حادثة معينة، مثل آية {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا} [الاسراء: 32] فإنه دليل جزئي على حكم خاص وهو حكم الزنا.
وخلاصة التعريف أن علم أصول الفقه هو العلم بالقواعد والضوابط الكلية التي يستطيع المجتهد بوساطتها أن يعرف الأحكام الشرعية، ويستخرجها من الآيات والأحاديث وغيرها من مصادر التشريع.
অসংখ্য খুঁটিনাটি বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো} [আন-নাহল: ১২৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে} [আল-বাকারা: ১৯০]।
২ - এর মাধ্যমে বিধান আহরণ করা সম্ভব হয়: অর্থাৎ মুজতাহিদ এই নিয়মগুলোর সাহায্যে শরয়ি বিধানসমূহ আহরণ করেন এবং তার ইজতিহাদের সপক্ষে এগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেন। যেমন একটি নিয়ম হলো— "নিষেধাজ্ঞা হারাম হওয়ার দাবি রাখে"; এর মাধ্যমে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী: {তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না} [আল-বাকারা: ১৮৮] থেকে আল্লাহর বিধান স্পষ্ট করেন যে, এটি হারাম, যেহেতু এটি করতে নিষেধ করা হয়েছে।
৩ - শরয়ি: অর্থাৎ সেই সকল বিধান যা শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরশীল; ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক, ভাষাতাত্ত্বিক, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং অন্যান্য বিধানসমূহ এর বাইরে চলে যায়।
৪ - আমলি (ব্যবহারিক): এটি সেই সব বিধানের বৈশিষ্ট্য যা মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট; চাই তা অন্তরের কাজ হোক—যেমন নিয়ত করা ওয়াজিব হওয়া, অথবা জিহ্বার কাজ হোক কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ হোক।
এর মাধ্যমে আকিদাগত এবং নৈতিক বিধানসমূহ এর আওতামুক্ত হয়ে যায়, যেমনটি পূর্বে তাত্ত্বিক বিধানসমূহ বাদ পড়ার ক্ষেত্রে আলোচিত হয়েছে।
৫ - এর বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে: অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার জন্য বিস্তারিত ও আংশিক দলিল, যেমন এই আয়াতটি: {আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয়ই এটি একটি অশ্লীল কাজ এবং অতি মন্দ পথ} [আল-ইসরা: ৩২]। এটি একটি বিশেষ বিধান তথা ব্যভিচারের বিধানের ওপর একটি আংশিক দলিল।
সংজ্ঞার সারকথা হলো— উসূলে ফিকহ হলো এমন সব মূলনীতি ও সামষ্টিক নিয়মাবলির জ্ঞান, যেগুলোর মাধ্যমে মুজতাহিদ শরয়ি বিধানসমূহ জানতে পারেন এবং তা আয়াত, হাদিস ও শরয়ি বিধানের অন্যান্য উৎস থেকে আহরণ করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثالث في موضوع علم أصول الفقهلكل علم من العلوم موضوع خاص، وهو عبارة عن مجموعة من المسائل الكلية التي يدور فيها البحث عن الأحوال الذاتية.
ويظهر من التعريفات السابقة لأصول الفقه أن موضوعه يتكون من خمسة أجزاء، وهي (1):
1 - مباحث الأدلة التي توصل إلى الأحكام الشرعية، وهي مصادر التشريع الإسلامي الذي يستقي منها المسلم حكم الله تعالى، وهذه الأدلة قسمان: قسم متفق عليه بين أهل السنة والجماعة، وقسم مختلف فيه يعتمد عليه بعض الأئمة دون بعض.
2 - مباحث التعارض والترجيح.
3 - مباحث الاجتهاد، وشروط المجتهد وصفاته.
4 - مباحث الحكم الشرعي سواء أكان اقتضاء أم تخييرًا أم وضعًا.
--------------------------------------------
ইলমে উসুলুল ফিকহের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কিত তৃতীয় পরিচ্ছেদপ্রতিটি শাস্ত্রেরই একটি বিশেষ আলোচ্য বিষয় থাকে, যা এমন কিছু সামগ্রিক মাসআলার সমষ্টি যার মধ্যে বিষয়ের মৌলিক অবস্থাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উসুলুল ফিকহের পূর্ববর্তী সংজ্ঞাসমূহ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, এর আলোচ্য বিষয় পাঁচটি অংশ নিয়ে গঠিত, সেগুলো হলো (১):
১ - শরয়ি হুকুমসমূহ পর্যন্ত পৌঁছানোর দলিলসমূহের আলোচনা। এগুলো হলো ইসলামি আইনের উৎস যেখান থেকে একজন মুসলিম মহান আল্লাহর বিধান গ্রহণ করে। এই দলিলসমূহ দুই প্রকার: এক প্রকার আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যে ঐকমত্যপূর্ণ, আর অন্য প্রকারটি মতভেদপূর্ণ যা কোনো কোনো ইমাম গ্রহণ করেছেন কিন্তু অন্যরা করেননি।
২ - দলিলসমূহের পারস্পরিক বৈপরীত্য ও অগ্রাধিকার প্রদানের আলোচনা।
৩ - ইজতিহাদ এবং মুজতাহিদের শর্তাবলি ও গুণাবলির আলোচনা।
৪ - শরয়ি হুকুমের আলোচনা, তা তলব বা দাবি (ইকতিদা), পছন্দ বা ইখতিয়ার প্রদান (তাখয়ির) কিংবা কোনো কিছু সাব্যস্ত করা (ওয়াদই) সংক্রান্ত যাই হোক না কেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
5 - كيفية اقتباس الأحكام من الأدلة، أي وجوه دلالة الأدلة بالصيغة والنظم، أو بالفحوى والمفهوم، أو بالاقتضاء والضرورة، أو بالمعقول وغير ذلك من مباحث الكتاب والسنة التي سندرسها في الدلالات، أو دلالات الألفاظ.
أما موضوع علم الفقه فهو فعل المكلف من حيث ما يثبت له من أحكام شرعية في عباداته وتصرفاته وأخلاقه، وهل هي واجبة عليه أم مندوبة له أم مباحة أم مكروهة أم محرمة.
فالأصولي يبحث في الدليل الكلي والقواعد الكلية، بينما يبحث الفقيه في الأدلة الجزئية والتطبيق في الفروع (1).
وقد تباينت آراء علماء الأصول في تحديد المسائل الأصلية التي يتناولها موضوع أصول الفقه، واختلفوا على أربعة مذاهب:
المذهب الأول: يرى أن موضوع علم أصول الفقه هو الأدلة التي تثبت الأحكام بها، فالموضوع هو الأدلة، وينتج عن دراسة أدلة التشريع، أو يتفرع عنها الحكم الشرعي .. ، وهو رأي الجمهور.
المذهب الثاني: يرى أن موضوع علم أصول الفقه هو الأحكام التي تثبت بالأدلة، فالموضوع هو الأحكام الشرعية، ولكن معرفة الحكم الشرعي يتوقف على معرفة المصادر أو الأدلة، فتكون دراسة الأدلة مقدمة ووسيلة لدراسة الأحكام، وهو رأي بعض الحنفية.
المذهب الثالث: يرى أن موضوعه هو الأدلة والأحكام معًا، وهو رأي صدر الشريعة وغيره من الحنفية.
المذهب الرابع: يرى أن موضوعه الأدلة والمرجحات وصفات المجتهد، وهو رأي بعض الشافعية.
--------------------------------------------
৫ - দলিলসমূহ থেকে বিধান আহরণ করার পদ্ধতি; অর্থাৎ শব্দরূপ ও বিন্যাস, কিংবা মর্ম ও অনুধাবন, অথবা দাবি ও অপরিহার্যতা, কিংবা যুক্তি ও কিতাব ও সুন্নাহর অন্যান্য বিষয়াবলির মাধ্যমে দলিলের নির্দেশনার ধরণসমূহ, যা আমরা শব্দার্থতত্ত্ব বা শব্দের নির্দেশনার আলোচনায় পাঠ করব।
পক্ষান্তরে ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির কর্ম, তার ইবাদত, লেনদেন ও আচরণের ক্ষেত্রে যা কিছু শরয়ি বিধান হিসেবে সাব্যস্ত হয় সেই দিক থেকে; অর্থাৎ সেগুলো কি তার ওপর ওয়াজিব, নাকি মানদুব (পছন্দনীয়), মুবাহ (বৈধ), মাকরূহ নাকি হারাম।
সুতরাং উসুলবিদ সামগ্রিক দলিল এবং সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন, পক্ষান্তরে ফকিহ বিস্তারিত দলিল এবং শাখা-প্রশাখায় সেগুলোর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন (১)।
উসুলুল ফিকহ-এর আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত মৌলিক বিষয়সমূহ নির্ধারণে উসুলবিদগণের মতামত ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে এবং তাঁরা চারটি মতবাদে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মতবাদ: এই মতানুসারে উসুলুল ফিকহ-এর আলোচ্য বিষয় হলো সেইসব দলিল যার মাধ্যমে বিধানসমূহ সাব্যস্ত হয়। সুতরাং আলোচ্য বিষয় হলো দলিলসমূহ, আর শরয়ি বিধানসমূহ হলো শরিয়তের দলিলসমূহ অধ্যয়নের ফলাফল বা তা থেকে উৎসারিত বিষয়। এটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমের অভিমত।
দ্বিতীয় মতবাদ: এই মতানুসারে উসুলুল ফিকহ-এর আলোচ্য বিষয় হলো দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হওয়া বিধানসমূহ। সুতরাং মূল আলোচ্য বিষয় হলো শরয়ি বিধানসমূহ, তবে শরয়ি বিধান জানা নির্ভর করে এর উৎস বা দলিলসমূহ জানার ওপর। ফলে দলিলসমূহ অধ্যয়ন করা হলো বিধানসমূহ অধ্যয়নের ভূমিকা ও মাধ্যম। এটি কিছু সংখ্যক হানাফি আলিমের অভিমত।
তৃতীয় মতবাদ: এই মতানুসারে এর আলোচ্য বিষয় হলো দলিল ও বিধানসমূহ উভয়ই। এটি সদরুশ শরীয়াহ এবং অন্যান্য হানাফি আলিমের অভিমত।
চতুর্থ মতবাদ: এই মতানুসারে এর আলোচ্য বিষয় হলো দলিলসমূহ, অগ্রাধিকার প্রদানের মানদণ্ডসমূহ (মুরাজজিহাত) এবং মুজতাহিদের গুণাবলি। এটি কিছু সংখ্যক শাফেয়ি আলিমের অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ونتج عن الاختلاف السابق اختلافهم في ترتيب المباحث الأصولية، فبعضهم يقدم الحكم الشرعي، ثم يتبعه بالأدلة، وبعضهم يبدأ بالأدلة ثم بالأحكام (1).
والواقع أن مباحث الأصول متفق عليها، ولكن الاختلاف في اعتبار أحد الأبواب أصلًا، والآخر تبعًا، أو أن أحدها جوهر والآخر تقديم له، أو أن بعضها يدرس من الناحية الذاتية، والآخر من الناحية العرضية، وهكذا.
ويستمد هذا العلم مادته من علم اللغة، وعلم الفقه، وعلم الكلام، ويستند إلى المنطق والعقل (2).
--------------------------------------------
পূর্বোক্ত মতভেদের ফলে উসুল সংক্রান্ত আলোচনার বিন্যাস নির্ধারণে তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ফলে তাদের কেউ কেউ শরয়ি বিধানকে আগে উপস্থাপন করেন এবং এরপর দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন, আবার কেউ কেউ দলিলসমূহ দিয়ে শুরু করেন এবং এরপর বিধানসমূহ আলোচনা করেন (১)।
প্রকৃতপক্ষে উসুলের আলোচ্য বিষয়সমূহ সর্বসম্মত, তবে মতভেদটি হলো কোনো একটি অধ্যায়কে মূল এবং অন্যটিকে তার অনুগামী হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে, অথবা কোনোটি সারবস্তু এবং অন্যটি তার ভূমিকা হিসেবে ধরার ক্ষেত্রে, অথবা কোনোটি সত্তাগত দিক থেকে এবং অন্যটি আপেক্ষিক দিক থেকে পঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে; বিষয়টি এমনই।
এই শাস্ত্র তার উপাদানসমূহ ভাষাতত্ত্ব, ফিকহ শাস্ত্র ও ইলমুল কালাম থেকে গ্রহণ করে এবং এটি যুক্তিবিদ্যা ও বিবেকের ওপর নির্ভর করে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الثاني في فائدة علم أصول الفقهإن علم أصول الفقه من أشرف العلوم، وأعظمها قدرًا، وأكثرها نفعًا، ولا تظهر فائدته إلا بعد بيان الغاية منه.
والغاية من علم أصول الفقه هي الوصول إلى معرفة الأحكام الشرعية (1)، أي أحكام الله تعالى في أفعال العباد، سواء أكانت اعتقادًا بالقلب، أم نطقًا باللسان، أم عملًا بالأعضاء، وسواء أكانت في العقيدة أم العبادات، أم المعاملات، أم الأخلاق، أم العقوبات، وذلك ليلتزم المكلف حدود الله تعالى، ويبتغي مرضاته، ويؤدي واجباته، وينتهي عن المحارم، وباختصار ليكون المكلف في المكان الذي أمره الله به، ويتجنب معاصيه وما نهاه عنه.
وبناء على ذلك فإن علم أصول الفقه ليس غاية في ذاته، وإنما هو
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের উপকারিতা প্রসঙ্গেনিশ্চয়ই উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞান, মর্যাদার দিক থেকে অত্যন্ত মহান এবং অত্যন্ত উপকারী। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করা ব্যতীত এর উপকারিতা স্পষ্ট হয় না।
আর উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো শরয়ী বিধানসমূহ (১) অবগত হওয়া, অর্থাৎ বান্দাদের কর্মসমূহ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বিধানসমূহ; তা অন্তরের বিশ্বাস হোক, জিহ্বার উচ্চারণ হোক কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্ম হোক। আর তা আকীদা, ইবাদত, লেনদেন (মুয়ামালাত), চরিত্র (আখলাক) কিংবা দণ্ডবিধি (উকুবাত) যে কোনো বিষয়েই হোক না কেন। আর তা এই জন্য যাতে মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলে, তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে, নিজের ওয়াজিবসমূহ পালন করে এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যাতে মুকাল্লাফ সেই স্থানেই অবস্থান করে যেখানে আল্লাহ তাকে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর নাফরমানি ও যা থেকে তিনি তাকে নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে।
এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র নিজেই কোনো উদ্দেশ্য নয়, বরং এটি হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল ওয়াজীজ ফী উসূলিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
طريق ووسيلة إلى معرفة حكم الله تعالى في الوقائع، وإن دراسة القواعد والأدلة، ومعرفة طرق الاستنباط ليست مقصودة بذاتها، وإنما تقصد لما وراءها، ولا يجوز بحال من الأحوال أن يغيب ذلك عن ذهن الطالب والعالم والمجتهد الذين يدرسون الأصول ويدركون فائدته وأهميته ومكانته الرفيعة بين العلوم، وأنه لا يقصد منه الحفظ والتلقي، وإنما يقصد منه أن يكون سلاحًا ماضيًا، ومفتاحًا سديدًا في يد الباحث.
وبعد هذه المقدمة نذكر أهم فوائد علم الأصول:
1 - إن علم الأصول يرسم للمجتهد الطريق القويم الموصل إلى استنباط الأحكام، ويضع أمامه منهجًا واضحًا ومستقيمًا في كيفية الاستنباط، فلا ينحرف يمينًا أو يسارًا، ولا يخبط خبط عشواء، ولا يزل به العقل والهوى عند أخذ الأحكام من الأدلة، فيضع عالم الأصول القواعد الكلية لمعرفة كيفية استنباط الأحكام الشرعية من الأدلة والنصوص (1).
2 - كان علم الأصول الوسيلة الناجحة لحفظ الدين من التحريف
--------------------------------------------
এটি বাস্তব ঘটনাপ্রবাহে আল্লাহ তাআলার বিধান জানার একটি পথ ও মাধ্যম। আর নীতিমালা ও দলিলসমূহ অধ্যয়ন এবং বিধান আহরণের পদ্ধতি জানা নিজস্বভাবে উদ্দেশ্য নয়, বরং এর পরবর্তী লক্ষ্যের জন্যই এগুলো উদ্দেশ্য। কোনো অবস্থাতেই এই বিষয়টি ছাত্র, আলিম ও মুজতাহিদের মন থেকে হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়, যারা উসুল শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং বিজ্ঞানসমূহের মাঝে এর উপকারিতা, গুরুত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদা উপলব্ধি করেন। আর এটি কেবল মুখস্থ করা বা তথ্য গ্রহণের জন্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো এটি গবেষকের হাতে একটি ধারালো অস্ত্র এবং একটি সঠিক চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।
এই ভূমিকার পর আমরা উসুল শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতাগুলো উল্লেখ করছি:
১ - উসুল শাস্ত্র মুজতাহিদের জন্য বিধান আহরণের পথে পৌঁছানোর সঠিক রাস্তা অঙ্কন করে দেয় এবং তার সামনে বিধান আহরণের পদ্ধতির ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট ও সরল পথ নির্ধারণ করে দেয়। ফলে তিনি ডানে বা বামে বিচ্যুত হন না, লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়ে বেড়ান না এবং দলিলসমূহ থেকে বিধান গ্রহণের সময় বুদ্ধি ও প্রবৃত্তি তাকে পদস্খলিত করে না। সুতরাং উসুলবিদ দলিল ও নসসমূহ থেকে শারঈ বিধানসমূহ আহরণের পদ্ধতি জানার জন্য সামগ্রিক নীতিমালা প্রণয়ন করেন (১)।
২ - দ্বীনকে বিকৃতি থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে উসুল শাস্ত্র ছিল একটি সফল মাধ্যম।
--------------------------------------------