(খণ্ড: ১) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: -)
شرح النووي على مسلم   (النووي)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: المنهاج شرح صحيح مسلم بن الحجاج

المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676هـ)

الناشر: دار إحياء التراث العربي - بيروت

الطبعة: الثانية، 1392

عدد الأجزاء: 18 (في 9 مجلدات)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসলিম-এর ওপর নওয়াবীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ   (আল-নওয়াবী)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আল-মিনহাজ শারহু সহিহ মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ

লেখক: আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দিন ইয়াহইয়া বিন শরফ আল-নওয়াবী (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি)

প্রকাশক: দারু ইহয়ায়িত তুরাছিল আরাবি - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯২ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১৮ (৯টি ভলিউমে)

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١)
صحيح مسلم شرح النووي
সহীহ মুসলিম: ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহে নববী)
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم قال شيخنا الامام العالم الزاهد الورع محي الدين يحيى بن شرف بن مرى بن حسن بن حسين بن حزام النووي رحمه الله تعالى آمين الحمد لله البر الجواد الذي جلت نعمه عن الاحصاء والاعداد خالق اللطف والارشاد الهادى إلى سبيل الرشاد الموفق بكرمه لطرق السداد المان بالاعتناء بسنة حبيبه وخليله عبده ورسوله صلوات الله وسلامه عليه وعلى من لطف به من العباد المخصص هذه الامة زادها الله شرفا بعلم الاسناد الذي لم يشركها فيه أحد من الأمم على تكرر العصور والآباد الذي نصب لحفظ هذه السنة المكرمة الشريفة المطهرة خواص من الحفاظ النقاد وجعلهم ذابين عنها في جميع الازمان والبلاد باذلين وسعهم في تبيين الصحة من طرقها والفساد خوفا من الانتقاص منها والازدياد وحفظا لها على الأمة زادها الله شرفا إلى يوم التناد مستفرغين جهدهم في التفقه في معانيها واستخراج الاحكام واللطائف منها مستمرين على ذلك في جماعات وآحاد مبالغين في بيانها وايضاح وجوهها بالجد والاجتهاد ولا يزال على القيام بذلك بحمد الله ولطفه جماعات في الاعصار كلها إلى انقضاء الدنيا واقبال المعاد وان قلو وخملت بلدان منهم وقربوا من النفاد أحمده أبلغ حمد على نعمه خصوصا على نعمة الاسلام وأن جعلنا من أمة خير الأولين والآخرين وأكرم السابقين واللاحقين محمد عبده ورسوله وحبيبه وخليله خاتم النبيين صاحب الشفاعة العظمى ولواء الحمد والمقام المحمود سيد المرسلين المخصوص بالمعجزة الباهرة المستمرة على تكرر السنين التي تحدى بها أفصح القرون وأفحم بها المنازعين وظهر بها خزي من لم ينقد لها من المعاندين المحفوظة من أن يتطرق اليها تغيير الملحدين أعنى بها القرآن العزيز كلام ربنا الذي نزل به الروح الأمين على قلبه ليكون من المنذرين بلسان عربي مبين والمصطفى بمعجزات أخر زائدات على الألف والمئين وبجوامع الكلم وسماحة شريعته ووضع اصر المتقدمين المكرم بتفضيل أمته زادها الله شرفا

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, দুনিয়াবিমুখ ও মুত্তাকী মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ ইবনে মুররি ইবনে হাসান ইবনে হুসাইন ইবনে হিযাম আন-নববী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, আমীন) বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পরম পুণ্যবান ও মহান দাতা, যাঁর নিআমতসমূহ গণনা ও সংখ্যাতীত। তিনি অনুগ্রহ ও হিদায়াতের (সঠিক পথপ্রদর্শন) স্রষ্টা, সত্য পথের দিশারী এবং স্বীয় করুণায় সঠিক পথের তাওফীকদাতা। তিনি তাঁর প্রিয়তম বন্ধু, একান্ত সুহৃদ, বান্দা ও রাসূলের সুন্নাহর প্রতি যত্নবান হওয়ার মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন—তাঁর ওপর এবং সেই সব বান্দাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক যাদের প্রতি তিনি সদয় হয়েছেন। তিনি এই উম্মতকে—আল্লাহ এর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন—সনদ বা সূত্রপরম্পরার (ইসনাদ) জ্ঞান দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, যে জ্ঞানে যুগ যুগ ধরে অন্য কোনো জাতি অংশীদার হতে পারেনি। তিনি এই সম্মানিত, মর্যাদাবান ও পবিত্র সুন্নাহ হেফাযতের জন্য একদল বিশিষ্ট সূক্ষ্মদর্শী হাফেযকে (হাদীস বিশারদ) নিয়োজিত করেছেন এবং তাঁদেরকে সকল যুগে ও জনপদে এর অতন্দ্র প্রহরী বানিয়েছেন। তাঁরা এর বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধ বর্ণনাসমূহ স্পষ্ট করতে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, যাতে এতে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন না ঘটে এবং হাশরের দিন পর্যন্ত এই উম্মতের জন্য—আল্লাহ এর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—তা সংরক্ষিত থাকে। তাঁরা এর মর্ম উপলব্ধিতে এবং এর থেকে বিধান ও সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ আহরণে নিজেদের শ্রম নিংড়ে দিয়েছেন। তাঁরা দলবদ্ধভাবে এবং এককভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই কাজ করে যাচ্ছেন এবং অত্যন্ত গুরুত্ব ও কঠোর সাধনার মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা ও দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করতে সচেষ্ট রয়েছেন। আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর অনুগ্রহে, পৃথিবীর শেষ অবধি এবং পরকাল আগমনের পূর্ব পর্যন্ত প্রতিটি যুগেই একদল মানুষ এই দায়িত্ব পালনে রত থাকবেন; যদিও তাঁদের সংখ্যা অল্প হয়, অথবা তাঁদের অঞ্চলসমূহ অপরিচিত হয়ে পড়ে কিংবা তাঁরা বিলুপ্তির কাছাকাছি পৌঁছে যান। আমি আল্লাহর নিআমতসমূহের জন্য তাঁর সর্বোচ্চ প্রশংসা করছি, বিশেষ করে ইসলামের নিআমতের জন্য এবং আমাদের শ্রেষ্ঠ মানব, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর উম্মতভুক্ত করার জন্য। তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর প্রিয়তম বন্ধু, শেষ নবী, মহান শাফায়াতের অধিকারী, প্রশংসার পতাকাধারী এবং মাকামে মাহমুদের (প্রশংসিত স্থান) অধিকারী ও সকল রাসূলের সরদার। তিনি এমন এক সুস্পষ্ট অলৌকিক নিদর্শনের (মুজিযা) অধিকারী যা যুগ যুগ ধরে বিদ্যমান। এর মাধ্যমে তিনি শ্রেষ্ঠ বাগ্মীদের চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং বিরোধীদের নিঃসাড় করে দিয়েছেন। এর ফলে সেই সব হঠকারীদের লাঞ্ছনা প্রকাশ পেয়েছে যারা এর অনুগত হয়নি। এটি নাস্তিকদের বিকৃতি থেকে সংরক্ষিত। আমি সেই মহাগ্রন্থ আল-কুরআনকে বোঝাচ্ছি, যা আমাদের রবের বাণী এবং যা রুহুল আমীন (জিবরাঈল আলাইহিস সালাম) তাঁর হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এছাড়াও তিনি সহস্রাধিক অন্যান্য অলৌকিক নিদর্শন, সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী (জাওয়ামিউল কালিম), তাঁর শরীয়তের সহজসাধ্যতা এবং পূর্ববর্তীদের ওপর অর্পিত কঠিন বোঝা অপসারণের মাধ্যমে মনোনীত হয়েছেন। তিনি নিজ উম্মতের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে সম্মানিত—আল্লাহ এর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন।

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٣)
على الأمم السابقين وبكون أصحابه رضي الله عنهم خير القرون الكائنين وبأنهم كلهم مقطوع بعدالتهم عند من يعتد به من علماء المسلمين ويجعل اجماع أمته حجة مقطوعا بها كالكتاب المبين وأقوال أصحابه المنتشرة من غير مخالفة لذلك عند العلماء المحققين المخصوص بتوفر دواعي أمته زادها الله شرفا على حفظ شريعته وتدوينها ونقلها عن الحفاظ المسندين وأخذها عن الحذاق المتقين والاجتهاد في تبيينها للمسترشدين والدؤوب في تعليمها احتسابا لرضا رب العالمين والمبالغة في الذب عن منهاجه بواضح الأدلة وقمع الملحدين والمبتدعين صلوات الله وسلامه عليه وعلى سائر النبيين وآل كل وصحابتهم والتابعين وسائر عباد الله الصالحين ووفقنا للاقتداء به دائمين في أقواله وأفعاله وسائر أحواله مخلصين مستمرين في ذلك دائبين وأشهد أن لا اله الاالله وحده لا شريك له اقرارا بوحدانيته واعترافا بما يجب على الخلق كافة من الاذعان لربوبيته واشهد ان محمد عبده ورسوله المصطفى من بريته والمخصوص بشمول رسالته وتفضيل امته صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله واصحابه وعترته اما بعد فإن الاشتغال بالعلم من افضل القرب واجل الطاعات واهم انواع الخير وآكد العبادات واولى ما انفقت فيه نفائس الأوقات وشمر في ادراكه والتمكن فيه اصحاب الانفاس الزكيات وبادر إلى الاهتمام به المسارعون إلى الخيرات وسابق إلى التحلى به مستبقو المكرمات وقد تظاهرت على ما ذكرته جمل من الآيات الكريمات والاحاديث الصحيحة المشهورات واقاويل السلف رضىالله عنهم النيرات ولاضرورة لذكرها هنا لكونها من الواضحات الجليات ومن اهم انواع العلوم تحقيق معرفة الاحاديث النبويات اعني معرفة متونها صحيحها وحسنها وضعيفها متصلها ومرسلها ومنقطعها ومعضلعا ومقلوبها ومشهورها وغريبها وعزيزها متوارتها وآحادها وافرادها معروفها وشاذها ومنكرها ومعللها وموضوعها ومدرجها وناسخها ومنسوخها وخاصها وعامها ومجملها ومبينها ومختلفها وغير ذلك من انواعها المعروفات ومعرفة علم الاسانيد اعني معرفة حال رجالها وصفاتهم المعتبرة وضبط اسمائهم وانسابهم ومواليدهم ووفياتهم وغير ذلك من الصفات ومعرفة التدليس والمدلسين وطرق الاعتبار والمتابعات ومعرفة حكم اختلاف الرواة في الأسانيد والمتون والوصل والارسال والوقف والرفع والقطع والانقطاع وزيادات الثقات ومعرفة الصحابة والتابعين واتباعهم

পূর্ববর্তী উম্মতগণের ওপর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব), তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বিদ্যমান সকল প্রজন্মের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়া, এবং গ্রহণযোগ্য মুসলিম আলিমগণের নিকট সাহাবীগণের সকলের ন্যায়নিষ্ঠতা (আদালাত) অকাট্যভাবে প্রমাণিত হওয়ার মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা তাঁর উম্মতের ঐকমত্যকে (ইজমা) মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের ন্যায় একটি অকাট্য দলীল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মুহাক্কিক আলিমগণের নিকট সাহাবীগণের সুপ্রসিদ্ধ অভিমতসমূহ—যেখানে কোনো মতবিরোধ নেই—তাও অনুরূপ মর্যাদাপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছেন তাঁর শরীয়ত সংরক্ষণ, সংকলন এবং নির্ভরযোগ্য সনদধারী হাফিজগণের মাধ্যমে তা বর্ণনা করার তাওফীক দিয়ে। দক্ষ ও সুনিপুণ আলিমগণের নিকট থেকে জ্ঞান গ্রহণ, হিদায়াতপ্রত্যাশীদের জন্য শরীয়তের বিষয়সমূহ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা এবং জগতসমূহের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তা শিক্ষাদানে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এই দ্বীন সংরক্ষিত হয়েছে। সুস্পষ্ট দলীলের মাধ্যমে তাঁর প্রদর্শিত পথের প্রতিরক্ষা এবং নাস্তিক ও বিদআতিদের দমনে এই উম্মত সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। তাঁর ওপর এবং সমস্ত নবীগণের ওপর, তাঁদের পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের তাঁর কথা, কাজ ও সকল অবস্থায় একনিষ্ঠভাবে স্থায়ীভাবে অনুকরণের তাওফীক দান করুন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। এটি তাঁর একত্ববাদের স্বীকৃতি এবং তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের প্রতি সমস্ত সৃষ্টির ওপর আবশ্যকীয় আনুগত্যের স্বীকারোক্তি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা এবং সৃষ্টিজগতের মধ্য হতে মনোনীত রাসূল। তাঁকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করে এবং তাঁর উম্মতকে বিশেষ মর্যাদা দান করে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবী ও বংশধরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতপর, ইলম বা জ্ঞান অর্জনে ব্রতী হওয়া আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আনুগত্য ও ইবাদত। এটি এমন এক কল্যাণকর কাজ যাতে মূল্যবান সময় ব্যয় করা সর্বাধিক সমীচীন। পবিত্র আত্মাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এই জ্ঞান অর্জনে এবং এতে পারদর্শিতা লাভে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। পুণ্যকর্মে আগ্রহীরা এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত এগিয়ে এসেছেন এবং মর্যাদা অন্বেষণকারীরা একে অলঙ্কার হিসেবে গ্রহণ করতে প্রতিযোগিতা করেছেন। আমি যা উল্লেখ করেছি, তার সপক্ষে অসংখ্য আল-কুরআনের আয়াত, সুপ্রসিদ্ধ সহীহ হাদীস এবং পূর্বসূরি সালাফগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উজ্জ্বল বাণী বিদ্যমান। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পষ্ট হওয়ায় এখানে বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন নেই।

জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো হাদীস শাস্ত্রের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা। অর্থাৎ হাদীসের মতন (মূল পাঠ) সম্পর্কে অবগতি লাভ করা—তথা কোনটি সহীহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম), দয়ীফ (দুর্বল), মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন), মুরসাল, মুনকাতি‘ (বিচ্ছিন্ন), মু’দাল, মাকলুব (পরিবর্তিত), মাশহুর (সুপ্রসিদ্ধ), গারীব, আযীয, মুতাওয়াতির, আহাদ (একক), আফরাদ, মারুফ, শায (ব্যতিক্রম), মুনকার (প্রত্যাখ্যাত), মু’আল্লাল (ত্রুটিযুক্ত), মাওদু‘ (জাল), মুদ্রাজ (সংযোজিত), নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত), খাস (বিশেষ) ও আম (সাধারণ), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) ও মুবায়্যান (সুস্পষ্ট), মুখতালিফ (পরস্পর বিরোধী) এবং হাদীসের অন্যান্য পরিচিত প্রকারভেদ সম্পর্কে জানা।

অনুরূপভাবে আসনাদ (সনদ বা সূত্র) সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জন করা। অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের অবস্থা, তাঁদের গ্রহণযোগ্য গুণাবলী, তাঁদের নাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও মৃত্যু তারিখ এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা। এছাড়া তাদলীস (দোষ গোপন করা) ও মুদাল্লিসীন (ত্রুটি গোপনকারী বর্ণনাকারী), ইতিবার (যাচাইকরণ) ও মুতাবাআত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) সম্পর্কে জানা। সনদে ও মতনে বর্ণনাকারীদের মতভেদের বিধান, হাদীস সংযুক্ত হওয়া (ওয়াসল), মুরসাল হওয়া (ইর্সাল), মাওকুফ, মারফু, ইনকিতা‘ (বিচ্ছিন্নতা) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত বর্ণনা (যিয়াদাতুত থিকাত) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। সেই সাথে সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের অনুসারীদের (তাবাতাবিঈন) পরিচিতি লাভ করাও এই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٤)
واتباع اتباعهم ومن بعدهم رضى الله عنهم وعن سائر المؤمنين والمؤمنات وغير ما ذكرته من علومها المشهورات ودليل ما ذكرته أن شرعنا مبني على الكتاب العزيز والسنن المرويات وعلى السنن مدار اكثر الأحكام الفقهيات فإن اكثر الآيات الفروعيات مجملات وبيانها في السنن المحكمات وقد اتفق العلماء على ان من شرط المجتهد من القاضي والمفتي ان يكون عالما بالأحاديث الحكميات فتيت بما ذكرناه ان الانشغال بالحديث من اجل العلوم الراجحات وافضل انواع الخير وآكد القربات وكيف لا يكون كذلك وهو مشتمل مع ماذكرناه على بيان حال افضل المخلوقات عليه من الله الكريم افضل الصلوات والسلام والتبريكات ولقد كان أكثر اشتغال العلماء بالحديث في الاعصار الخاليات حتى لقد كان يجتمع في مجلس الحديث من الطالبين الوف متكاثرات فتناقص ذلك وضعفت الهمم فلم يبق الا آثار من آثارهم قليلات والله المستعان على هذه المصيبة وغيرها من البليات وقد جاء في فضل احياء السنن المماتات احاديث كثيرة معروفات مشهورات فينبغي الاعتناء بعلم الحديث والتحريض عليه لما ذكرنا من الدلالات ولكونه ايضا من النصيحة لله تعالى وكتابه ورسوله صلى الله عليه وسلم وللائمة والمسلمين والمسلمات وذلك هو الدين كما صح عن سيد البريات صلوات الله وسلامة عليه وعلى آله وصحبه وذريته وازواجه الطاهرات ولقد احسن القائل من جمع ادوات الحديث استنار قلبه واستخرج كنوزه الخفيات وذلك لكثرة فوائده البارزات والكامنات وهو جدير بذلك فانه كلام افصح الخلق ومن اعطي جوامع الكلمات صلى الله عليه وسلم صلوات متضاعفات واصح مصنف فى الحديث بل فى العلم مطلقا الصحيحان للإمامين القدوتين ابى عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري وابى الحسين مسلم بن الحجاج القشيرى رضى الله عنهما فلم يوجد لهما نظير فى المؤلفات فينبغي ان يعتنى بشرحهما وتشاع فوائدهما ويتلطف فى استخراج دقائق المعلوم من متونهما واسانيدهما لما ذكرنا من الحجج الظاهرات وانواع الادلة المتظاهرات فأما صحيح البخارى رحمه الله فقد جمعت فى شرحه جملا مستكثرات مشتملة على نفائس من انواع العلوم بعبارات وجيزات وانا مشمر فى شرحه راج من الله الكريم فى اتمامه المعونات واما صحيح مسلم رحمه الله فقد استخرت الله تعالى الكريم الرؤف الرحيم فى جمع كتاب شرحه متوسط بين المختصرات

এবং তাঁদের (তাবেয়ীদের) অনুসারীগণ ও তাঁদের পরবর্তীগণের অনুসরণ—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি এবং সমস্ত মুমিন নর-নারীর প্রতি সন্তুষ্ট হন—আর যা আমি উল্লেখ করেছি তা ব্যতিরেকে এর অন্যান্য প্রসিদ্ধ জ্ঞানসমূহ। আমি যা উল্লেখ করেছি তার প্রমাণ হলো, আমাদের শরিয়ত মহান কিতাব (কুরআন) এবং বর্ণিত সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর অধিকাংশ ফিকহী বিধানের ভিত্তি হলো সুন্নাহ। কেননা শাখা-প্রশাখা সম্পর্কিত অধিকাংশ কুরআনী আয়াত হলো সংক্ষিপ্ত (মুজমাল), আর সেগুলোর বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে সুদৃঢ় সুন্নাহর মধ্যে। ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বিচারক ও মুফতি পর্যায়ের একজন মুজতাহিদের জন্য অন্যতম শর্ত হলো তাকে আইনি বিধান সম্বলিত হাদিসসমূহ (আহাদিসুল আহকাম) সম্পর্কে জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে।

আমরা যা উল্লেখ করলাম তা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগ করা শ্রেষ্ঠতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এটি সর্বোত্তম কল্যাণ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। আর এটি কেনই বা এমন হবে না? অথচ এতে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পাশাপাশি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির অবস্থা ও জীবনচরিত্রের বর্ণনা রয়েছে; যাঁর ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। বিগত যুগসমূহ ও শতাব্দীগুলোতে ওলামায়ে কেরামের অধিকাংশ ব্যস্ততা ছিল হাদিস নিয়ে, এমনকি হাদিসের মজলিসগুলোতে হাজার হাজার তালিবে ইলমের (জ্ঞান অন্বেষী) সমাবেশ ঘটত। অতঃপর তাতে ভাটা পড়েছে এবং মানুষের হিম্মত ও আগ্রহ কমে গেছে, ফলে তাদের ঐতিহ্যের সামান্য কিছু নিদর্শনাদিই অবশিষ্ট রয়েছে। এই মুসিবত এবং অন্যান্য বিপদাপদে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল।

মৃতপ্রায় সুন্নাহসমূহকে পুনর্জীবিত করার ফজিলত সম্পর্কে অনেক সুবিদিত ও প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং উল্লিখিত প্রমাণাদির কারণে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা উচিত। তদুপরি এটি মহান আল্লাহ, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), মুসলিম শাসকবর্গ এবং সাধারণ মুসলিম নর-নারীর প্রতি অকৃত্রিম শুভকামনা বা নসিহতের (আন-নাসিহা) অন্তর্ভুক্ত। আর এটাই হলো প্রকৃত দ্বীন, যেমনটি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তার পক্ষ থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, বংশধর ও পবিত্র সহধর্মিণীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

কোনো এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি কতই না চমৎকার বলেছেন—"যে ব্যক্তি হাদিসের উপকরণসমূহ সংগ্রহ করল, তার অন্তর আলোকিত হলো এবং সে এর সুপ্ত ভাণ্ডারসমূহ উন্মোচন করল।" আর এটি সম্ভব হয়েছে এর প্রকাশ্য ও গোপন অজস্র কল্যাণ ও উপকারিতার কারণে। এটি (হাদিস) এর যোগ্যও বটে; কারণ এটি সৃষ্টির সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী এবং যাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দাবলি (জাওয়ামিউল কালিম) দান করা হয়েছে, তাঁর বাণী। তাঁর ওপর বহুগুণে দরুদ বর্ষিত হোক।

হাদিস শাস্ত্রে—বরং সামগ্রিকভাবে সকল শাস্ত্রের মধ্যে—সর্বাধিক বিশুদ্ধ সংকলন হলো দুই অনুসরণীয় ইমাম: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) রচিত সহিহাইন (বুখারী ও মুসলিম)। গ্রন্থ সংকলনের ইতিহাসে এই দুটির কোনো নজির পাওয়া যায় না। অতএব, এ দুটির ব্যাখ্যা প্রদান ও এর উপকারিতাগুলো প্রচারের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত এবং এদের মূল পাঠ (মতন) ও সনদসমূহ থেকে সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক জ্ঞান আহরণে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন; যা আমরা স্পষ্ট প্রমাণাদি ও জোরালো দলিলাদির মাধ্যমে উল্লেখ করেছি।

ইমাম বুখারী (রহ.)-এর সহিহ বুখারীর ব্যাপারে বলতে গেলে, আমি এর ব্যাখ্যায় অজস্র সারগর্ভ কথা জমা করেছি যা সংক্ষিপ্ত বাণীতে বিভিন্ন শাস্ত্রের অমূল্য রত্নরাজি ধারণ করে আছে। আমি এর ব্যাখ্যা সম্পন্ন করতে সচেষ্ট আছি এবং মহান আল্লাহর কাছে এটি সমাপ্ত করার তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি। আর ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর সহিহ মুসলিমের ক্ষেত্রে আমি মহান করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) করেছি এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ সংকলন করার বিষয়ে, যা অতি সংক্ষিপ্ত ও অতি দীর্ঘের মাঝামাঝি পর্যায়ের হবে।

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٥)
والمبسوطات لا من المختصرات المخلات ولا من المطولات المملات ولولا ضعف الهمم وقلة الراغبين وخوف عدم انتشار الكتاب لقلة الطالبين للمطولات لبسطه فبلغت به ما يزيد على مائة من المجلدات من غير تكرار ولا زيادات عاطلات بل ذلك لكثرة فوائده وعظم عوائده الخفيات والبارزات وهو جدير بذلك فإنه كلام أفصح المخلوقات صلى الله عليه وسلم صلوات دائمات لكنى اقتصر على التوسط واحرص على ترك الاطالات وأوثر الاختصار فى كثير من الحالات فأذكر فيه ان شاء الله جملا من علومه الزاهرات من احكام الاصول والفروع والآداب والاشارات الزهديات وبيان نفائس من اصول القواعد الشرعيات وايضاح معانى الالفاظ اللغوية واسماء الرجال وضبط المشكلات وبيان اسماء ذوى الكنى واسماء آباء الابناء والمبهمات والتنبيه على لطيفة من حال بعض الرواة وغيرهم من المذكورين فى بعض الاوقات واستخراج لطائف من خفيات علم الحديث من المتون والاسنانيد المستفادات وضبط جمل من الاسماء المؤتلفات والمختلفات والجمع بين الاحاديث التى تختلف ظاهرا ويظن البعض من لا يحقق صناعتى الحديث والفقه واصوله كونها متعارضات وانبه على ما يحضرني فى الحال فى الحديث من المسائل العمليات واشير إلى الادلة فى كل ذلك اشارات الا فى مواطن الحاجة إلى البسط للضرورات واحرص فى جميع ذلك على الايجاز وايضاح العبارات وحيث انقل شيئا من اسماء الرجال واللغة وضبط المشكل والاحكام والمعانى وغيرها من المنقولات فإن كان مشهورا لا اضيفه إلى قائليه لكثرتهم الا نادرا لبعض المقاصد الصالحات وان كان غريبا اضفته إلى قائليه الا ان اذهل عنه بعض المواطن لطول الكلام او كونه مما تقدم بيانه من الابواب الماضيات واذا تكرر الحديث او الاسم او اللفظة من اللغة ونحوها بسطت المقصود منه فى اول مواضعه واذا مررت على الموضع الآخر ذكرت انه تقدم شرحه وبيانه فى الباب الفلانى من الابواب السابقات وقد اقتصر على بيان تقدمه من غير اضافة او اعيد الكلام فيه لبعد الموضع الاول أو ارتباط كلام او نحوه او غير ذلك من المصالح المطلوبات واقدم فى اول الكتاب جملا من المقدمات مما يعظم النفع به ان شاء الله تعالى ويحتاج إليه طالبو التحقيقات وأرتب ذلك فى فصول متتابعات ليكون اسهل فى مطالعته وابعد من السآمات وانا مستمد المعونة والصيانة واللطف والرعاية من الله
এটি একটি বিস্তারিত গ্রন্থ, যা সংক্ষেপণ করতে গিয়ে মূল বিষয়বস্তু নষ্ট করেনি, আবার বিরক্তিকর দীর্ঘতাও অবলম্বন করেনি। মানুষের দুর্বল সংকল্প, জ্ঞানান্বেষীদের স্বল্পতা এবং দীর্ঘ কলেবরের কিতাব পাঠে অনাগ্রহের কারণে এর প্রচার না হওয়ার ভয় না থাকলে, আমি একে একশ খণ্ডেরও অধিক বিস্তৃত করতাম; যেখানে কোনো অনর্থক পুনরাবৃত্তি বা অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য থাকত না। বরং এর বহুবিধ কল্যাণ এবং এর গোপন ও প্রকাশ্য মহান উপকারিতার কারণেই তা সম্ভব হতো। আর এটি এর যোগ্যও বটে, কেননা এটি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম বাগ্মী (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী, তাঁর ওপর সর্বদা দরুদ ও রহমত বর্ষিত হোক। তবে আমি পরিমিতি বেছে নিয়েছি এবং দীর্ঘতা বর্জনে সচেষ্ট হয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে আমি সংক্ষেপণকে প্রাধান্য দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আমি এতে তাঁর প্রোজ্জ্বল ইলমসমূহ থেকে উসূল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা)-এর বিধানাবলি, আদব (শিষ্টাচার) এবং যুহদ (বৈরাগ্য) বিষয়ক ইঙ্গিতসমূহ উল্লেখ করব। সেই সাথে শরয়ী নিয়ম-নীতির অমূল্য রত্নভাণ্ডার, ভাষাতাত্ত্বিক শব্দের অর্থ, বর্ণনাকারীদের নাম এবং জটিল শব্দসমূহের যথাযথ উচ্চারণ স্পষ্ট করব। উপনামধারী ব্যক্তিদের নাম, সন্তানদের পিতার নাম এবং অস্পষ্ট নামসমূহের পরিচয়ও তুলে ধরব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী ও অন্যান্য উল্লিখিত ব্যক্তিদের সূক্ষ্ম অবস্থা বা বৈশিষ্ট্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করব। হাদিসের মতন (মূল পাঠ) ও সনদ (সূত্র) থেকে ইলমে হাদিসের নিগূঢ় ও উপকারী সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ আহরণ করব। সেই সাথে এমন একগুচ্ছ নাম নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করব যা দেখতে একরকম হলেও আসলে ভিন্ন (মু’তালিফ ও মুখতালিফ)। বাহ্যিকভাবে বৈপরীত্য আছে মনে হওয়া হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় করব, যা হাদিস, ফিকহ ও উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে অনভিজ্ঞদের কাছে পরস্পরবিরোধী বলে মনে হয়। আমি হাদিস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধ প্রায়োগিক মাসায়েলগুলো সম্পর্কে সচেতন করব এবং বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে সংক্ষেপে দলীলসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করব। এই সকল ক্ষেত্রে আমি সংক্ষিপ্ততা এবং বাক্যের স্পষ্টতার ওপর জোর দেব। যখন আমি বর্ণনাকারীদের নাম, ভাষা, কঠিন শব্দের উচ্চারণ, বিধি-বিধান ও অর্থসমূহ উদ্ধৃত করব, তখন তা যদি প্রসিদ্ধ হয়—তবে প্রচুর সংখ্যক প্রবক্তা থাকার কারণে খুব কম ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কারও দিকে তা সম্পৃক্ত করব না। কিন্তু যদি তা বিরল বা অপ্রসিদ্ধ হয়, তবে অবশ্যই প্রবক্তার নাম উল্লেখ করব; যদি না দীর্ঘ আলোচনার কারণে তা ভুলে যাই বা পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলোতে তা ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। যদি কোনো হাদিস, নাম বা ভাষাতাত্ত্বিক শব্দ পুনরাবৃত্ত হয়, তবে প্রথমবারই এর উদ্দেশ্য বিস্তারিত বর্ণনা করব। পরবর্তীতে অন্য কোথাও তা আসলে উল্লেখ করে দেব যে, এর ব্যাখ্যা অমুক পূর্ববর্তী অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমি কেবল আগে আলোচিত হওয়ার কথা বলেই ক্ষান্ত হতে পারি, অথবা প্রথম আলোচনার স্থানটি অনেক দূরে হওয়ায় কিংবা আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে পুনরায় তার উল্লেখ করতে পারি। আমি কিতাবের শুরুতে এমন কিছু প্রারম্ভিক আলোচনা পেশ করব, যা আল্লাহর ইচ্ছায় অত্যন্ত উপকারী হবে এবং সূক্ষ্ম তত্ত্বের সন্ধানী পাঠকদের জন্য প্রয়োজন হবে। এগুলো আমি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে সাজাব, যাতে পাঠ করা সহজ হয় এবং একঘেয়েমি না আসে। আমি মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য, সুরক্ষা, অনুগ্রহ এবং তত্ত্বাবধান প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٦)
الكريم رب الارضين والسموات مبتهلا إليه سبحانه وتعالى ان يوفقنى ووالدى ومشايخى وسائر اقاربى واحبابى ومن احسن الينا بحسن النيات وان ييسر لنا الطاعات وان يهدينا لها دائما فى ازدياد حتى الممات وان يجود علينا برضاه ومحبته ودوام طاعته والجمع بيننا فى دار كرامته وغير ذلك من انواع المسرات وان ينفعنا اجمعين ومن يقرأ فى هذا الكتاب به وان يجزل لنا المثوبات وان لا ينزع منا ما وهبه لنا ومن به علينا من الخيرات وان لا يجعل شيئا من ذلك فتنة لنا وان يعيذنا من كل شيء من المخالفات انه مجيب الدعوات جزيل العطيات اعتصمت بالله توكلت على الله ما شاء الله لا قوة الا بالله لا حول ولا قوة الا بالله وحسبى الله ونعم الوكيل وله الحمد والفضل والمنة والنعمة وبه التوفيق واللطف والهداية والعصمة

(

(

 

‌‌‌‌فصل)

في بيان اسناد الكتاب وحال رواته منا إلى الامام مسلم رضي الله عنه مختصرا)

أما اسنادي فيه فأخبرنا بجميع صحيح الامام مسلم بن الحجاج رحمه الله الشيخ الأمين العدل الرضى أبو إسحاق ابراهيم بن أبي حفص عمر بن مضر الواسطى رحمه الله بجامع دمشق حماها الله وصانها وسائر بلاد الاسلام وأهله قال أخبرنا الامام ذو الكنى أبو القاسم أبو بكر أبوالفتح منصور بن عبد المنعم الفراوي قال أخبرنا الامام فقيه الحرمين أبو جدى أبو عبد الله محمد بن الفضل الفراوي قال أخبرنا أبو الحسين عبد الغافر الفارسي قال أنا أحمد محمد بن عيسى الجلودي قال أنا أبو إسحاق ابراهيم بن محمد بن سفيان الفقيه انا الامام أبو الحسين مسلم بن الحجاج رحمه الله وهذا الاسناد الذي حصل لنا ولاهل زماننا ممن يشاركنا فيه في نهاية من العلو بحمد الله تعالى فبيننا وبين مسلم ستة وكذلك اتفقت لنا بهذا العدد رواية الكتب الأربعة التي هي تمام الكتب الخمسة التي هي أصول الاسلام أعنى صحيحي الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ وَسُنَنِ أَبِي دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيِّ وَالنَّسَائِيِّ وكذلك رقع لنا بهذا العدد مسندا الامامين أبوي عبد الله أحمد بن حنبل ومحمد بن يزيد أعنى بن ماجه ووقع لنا أعلى من هذه الكتب وان كانت عالية موطأ الامام أبي عبد الله مالك بن أنس فبيننا وبينه رحمه الله سبعة وهو شيخ شيوخ المذكورين كلهم فتعلو روايتنا لاحاديثه برجل ولله الحمد والمنة وحصل في روايتنا لمسلم لطيفة وهو أنه اسناد
মহানুভব, যমীন ও আসমানসমূহের রব; তাঁরই (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) নিকট বিনীত প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, আমার শিক্ষকবৃন্দকে এবং আমার সকল আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনদের এবং যারা আমাদের প্রতি ইহসান করেছেন তাদের সকলকে উত্তম নিয়ত দান করে তাওফীক দান করেন। তিনি যেন আমাদের জন্য আনুগত্যের কাজগুলো সহজ করে দেন এবং আমৃত্যু সর্বদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির সাথে সেদিকে আমাদের পরিচালিত করেন। তিনি যেন তাঁর সন্তুষ্টি, মহব্বত এবং সর্বদা তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর মর্যাদাপূর্ণ আবাসে আমাদের সকলকে একত্রিত করেন এবং অন্যান্য সকল প্রকার আনন্দ দান করেন। তিনি যেন আমাদের সকলকে এবং যারা এই কিতাব পাঠ করবেন তাদের সকলকে এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং আমাদের জন্য প্রতিদান বৃদ্ধি করে দেন। তিনি আমাদের যা কিছু দান করেছেন এবং তাঁর যে নেয়ামতসমূহ আমাদের ওপর অর্পণ করেছেন, তা যেন তিনি ছিনিয়ে না নেন। এগুলোর কোনো কিছুকেই যেন তিনি আমাদের জন্য ফিতনা (পরীক্ষা) না বানান। তিনি যেন সকল প্রকার অবাধ্যতা থেকে আমাদের রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি দোয়াকারীর ডাকে সাড়াদানকারী এবং প্রচুর দানকারী। আমি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করলাম, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম; আল্লাহ যা চান (তা-ই হয়), আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সকল প্রশংসা, শ্রেষ্ঠত্ব, করুণা ও নেয়ামত কেবল তাঁরই। সকল তাওফীক, দয়া, হিদায়াত ও নির্ভুলতা তাঁর পক্ষ থেকেই।

(

(

 

‌‌‌‌(পরিচ্ছেদ)

কিতাবটির সনদ (বর্ণনাসূত্র) এবং আমাদের থেকে ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) পর্যন্ত এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা প্রসঙ্গে)

এই কিতাবে আমার সনদ হলো: আমাদের নিকট ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর পূর্ণ 'সহীহ' বর্ণনা করেছেন আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য শায়খ আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন আবি হাফস উমর বিন মুদার আল-ওয়াসিতী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন); দামেস্কের জামে মসজিদে—আল্লাহ তাআলা একে এবং ইসলামের অন্যান্য জনপদ ও এর অধিবাসীদের রক্ষা ও হেফাযত করুন। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বহু উপনামের অধিকারী ইমাম আবুল কাসিম আবু বকর আবুল ফাতহ মানসুর বিন আব্দুল মুনইম আল-ফারাভী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই পবিত্র হারামের ফকীহ ইমাম, আমার দাদা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-ফারাভী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফির আল-ফারিসী। তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমদ মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-জুলুদী। তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আল-ফাকীহ। তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন হাজ্জাজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। আর এই সনদটি যা আমি এবং আমার সমসাময়িকরা যারা এতে শরিক রয়েছেন তারা লাভ করেছি, তা আল্লাহর প্রশংসায় উচ্চতার (উলুউ) দিক থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আমাদের এবং ইমাম মুসলিমের মাঝে মাত্র ছয়জন রাবী রয়েছেন। অনুরূপভাবে, আমাদের জন্য এই একই সংখ্যক রাবীর মাধ্যমে অন্য চারটি কিতাবও অর্জিত হয়েছে, যা ইসলামের মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত পাঁচটি কিতাবের পরিপূরক; অর্থাৎ সহীহ আল-বুখারী, সহীহ মুসলিম এবং সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ। একইভাবে আমাদের নিকট এই একই সংখ্যক রাবীর মাধ্যমে দুই ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বল এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ—অর্থাৎ ইবনে মাজাহ-এর মুসনাদদ্বয়ও পৌঁছেছে। আমাদের নিকট এর চেয়েও উচ্চতর সনদ পৌঁছেছে—যদিও পূর্বোক্তগুলোও উচ্চতর—ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আনাস-এর মুওয়াত্তার ক্ষেত্রে; ফলে আমাদের এবং তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মাঝে মাত্র সাতজন রাবী রয়েছেন। তিনি উপরে উল্লিখিত সকল ইমামের উস্তাদদের উস্তাদ। সুতরাং তাঁর হাদীসসমূহের বর্ণনায় আমাদের সনদ এক ব্যক্তি পরিমাণ উচ্চ (আলী)। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ। ইমাম মুসলিমের বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের একটি সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য (লতিফাহ) অর্জিত হয়েছে, আর তা হলো এটি এমন একটি সনদ...
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٧)
مسلسل بالنيسابوريين وبالمعمرين فان رواته كلهم معمرون وكلهم نيسابوريون من شيخنا أبي إسحاق إلى مسلم وشيخنا وان كان واسطيا فقد أقام بنيسابور مدة طويلة والله اعلم اما بيان حال رواته فيطول الكلام في تقصي أخبارهم واستقصاء أحوالهم لكن نقتصر على ضبط أسمائهم وأحرف تتعلق بحال بعضهم أما شيخنا أبو إسحاق فكان من أهل الصلاح والمنسوبين إلى الخير والفلاح معروفا بكثرة الصدقات وانفاق المال في وجوه المكرمات ذا عفاف وعبادة ووقار وسكينة وصيانة بلا استكبار توفي رحمه الله بالاسكندرية اليوم السابع من رجب سنة أربع وستين وستمائة وأما شيخ شيخنا فهو الامام ذو الكنى أبو القاسم أبو بكر أبو الفتح منصور بن عبد المنعم بن عبد الله بن محمد بن الفضل بن أحمد بن محمد بن أحمد بن أبي العباس الصاعدي الفراوي ثم النيسابوري منسوب إلى فراوة بليدة من ثغر خراسان وهو بفتح الفاء وضمها فاما الفتح فهو المشهور المستعمل بين أهل الحديث وغيرهم وكذا حكى الشيخ الامام الحافظ أبو عمرو بن الصلاح رحمه الله أنه سمع شيخه منصورا هذا رضي الله عنه يقول انه الفراوي بفتح الفاء وذكره أبو سعيد السمعاني في كتابه الانساب بضم الفاء وكذا ذكر الضم ايضا غير السمعانى وكان منصور هذا جليلا شيخا مكثرا ثقة صحيح السماع روى عن أبيه وجده وجد ابيه أبى عبد الله محمد بن الفضل وروى عن غيرهم مولده فى شهر رمضان سنة اثنين وعشرين وخمسمائة وتوفى بشازياخ نيسابور فى شعبان سنة ثمان وستمائة واما أبو عبد الله الفاروى فهو محمد بن الفضل جد ابى منصور النيسابورى وقد تقدم تمام نسبه فى نسب بن بن ابنه منصور كان أبو عبد الله هذا الفراوى رضى الله عنه اماما بارعا فى الفقه والاصول وغيرهما كثير الروايات بالاسانيد الصحيحة العاليات رحلت إليه الطلبة من الاقطار وانتشرت الروايات عنه فيما قرب وبعد من الامصار حتى قالوا فيه للفراوى ألف راوى وكان يقال له فقيه الحرم لاشاعته ونشره العلم بمكة زادها الله فضلا وشرفا ذكره الامام الحافظ أبو القاسم الدمشقى المعروف بابن عساكر رضى الله عنهما فأطنب فى الثناء عليه بما هو أهله ثم روى عن ابى الحسين عبد الغافر أنه ذكره فقال هو فقيه الحرم البارع فى الفقه والاصول الحافظ للقواعد نشأ بين الصوفية فى حجورهم ووصل إليه بركات أنفاسهم وسمع التصانيف والاصول من الامام زين الاسلام ودرس عليه الاصول والتفسير ثم اختلف إلى مجلس امام الحرمين
এটি নিশাপুরবাসী ও দীর্ঘায়ু বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত একটি পরস্পরসংযুক্ত (মুসালসাল) বর্ণনা; কেননা আমাদের শাইখ আবু ইসহাক থেকে শুরু করে ইমাম মুসলিম পর্যন্ত এর সকল বর্ণনাকারীই ছিলেন দীর্ঘায়ু লাভকারী এবং তারা সকলেই নিশাপুরের অধিবাসী। আমাদের শাইখ ওয়াসিত অঞ্চলের অধিবাসী হলেও তিনি দীর্ঘকাল নিশাপুরে অবস্থান করেছেন, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করা এবং তাদের অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার, তবে আমরা কেবল তাদের নামের সঠিক উচ্চারণ এবং তাদের কারো কারো অবস্থা সম্পর্কিত কিছু বিষয়ের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। আমাদের শাইখ আবু ইসহাক ছিলেন পুণ্যবান এবং কল্যাণ ও সফলতার অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি অধিক পরিমাণে দান-সদকা এবং মহৎ কাজে অর্থ ব্যয়ের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদাবান, ইবাদতগুজার, গাম্ভীর্যপূর্ণ, শান্ত স্বভাবের এবং অহংকারমুক্ত সচ্চরিত্রের অধিকারী। তিনি ৬৬৪ হিজরির ৭ই রজব আলেকজান্দ্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। আর আমাদের শাইখের শাইখ হলেন সেই ইমাম, যাঁর একাধিক উপনাম (কুনিয়াত) ছিল—আবু আল-কাসিম, আবু বকর ও আবু আল-ফাতহ। তিনি হলেন মনসুর বিন আব্দুল মুনইম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবু আল-আব্বাস আস-সাঈদী আল-ফারাওয়ী, অতঃপর আন-নিশাপুরী। তিনি খোরাসানের সীমান্ত অঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র জনপদ 'ফারাওয়া'র দিকে সম্পৃক্ত। 'ফারাওয়া' শব্দটির প্রথম বর্ণ 'ফা' জবরযুক্ত (ফারাওয়ী) অথবা পেশযুক্ত (ফুরাওয়ী) উভয়ভাবেই উচ্চারিত হয়। তবে জবরযুক্ত উচ্চারণটিই মুহাদ্দিসগণ ও অন্যদের নিকট অধিক প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত। একইভাবে ইমাম হাফেজ আবু আমর ইবনে আস-সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর এই শাইখ মনসুরকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতে শুনেছেন যে, এটি 'ফা' বর্ণে জবরসহ 'ফারাওয়ী'। আবু সাঈদ আস-সামআনী তাঁর 'আল-আনসাব' গ্রন্থে এটি পেশসহ (ফুরাওয়ী) উল্লেখ করেছেন এবং সামআনী ছাড়াও অন্যরাও পেশযুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এই মনসুর ছিলেন একজন মহান শাইখ, অধিক হাদিস বর্ণনাকারী, নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর শ্রুত হাদিসসমূহ ছিল বিশুদ্ধ। তিনি তাঁর পিতা, পিতামহ এবং তাঁর প্রপিতামহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফাদলের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর জন্ম ৫২২ হিজরির রমজান মাসে এবং মৃত্যু ৬০৮ হিজরির শাবান মাসে নিশাপুরের শাজিয়াখে। আর আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাওয়ী হলেন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল, যিনি আবু মনসুর আন-নিশাপুরীর পিতামহ। তাঁর পূর্ণ বংশপরম্পরা ইতিপূর্বে তাঁর প্রপৌত্র মনসুরের বংশ বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাওয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ফিকহ, উসুল (নীতিশাস্ত্র) এবং অন্যান্য শাস্ত্রে একজন পারদর্শী ইমাম ছিলেন। বিশুদ্ধ ও উচ্চপর্যায়ের (আলিয়াত) সনদসহ তাঁর প্রচুর বর্ণনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে আসতেন এবং নিকটবর্তী ও দূরবর্তী জনপদসমূহে তাঁর বর্ণনাগুলো ছড়িয়ে পড়েছিল; এমনকি তাঁর সম্পর্কে বলা হতো—'ফারাওয়ীর এক হাজার বর্ণনাকারী (রাবী) রয়েছে'। মক্কায় ইলম প্রচার ও প্রসারের কারণে তাঁকে 'ফকিহুল হারাম' (হারাম শরীফের ফকিহ) বলা হতো, আল্লাহ মক্কার মর্যাদা ও সম্মান আরও বৃদ্ধি করুন। হাফেজ ইমাম আবু আল-কাসিম আদ-দামেশকী, যিনি ইবনে আসাকির (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নামে পরিচিত, তিনি তাঁর যথাযোগ্য প্রশংসা করতে গিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফির থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি ছিলেন হারাম শরীফের ফকিহ, ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রে পারদর্শী এবং মূলনীতিসমূহের (কাওয়ায়েদ) সংরক্ষক। তিনি সুফিদের সান্নিধ্যে তাঁদের তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁদের পবিত্র সংস্পর্শের বরকত লাভ করেছেন। তিনি ইমাম জয়নুল ইসলাম থেকে বিভিন্ন গ্রন্থ ও উসুল শাস্ত্র শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর কাছে উসুল ও তাফসির অধ্যয়ন করেছেন। অতঃপর তিনি ইমামুল হারামাইনের জ্ঞান মজলিসে যাতায়াত শুরু করেন।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٨)
ولازم درسه ماعاش وتفقه عليه وعلق عنه الاصول وصار من جملة المذكورين من أصحابه وخرج حاجا إلى مكة وعقد المجلس ببغداد وسائر البلاد وأظهر العلم بالحرمين وكان منه بهما أثر وذكر ونشر للعلم وعاد إلى نيسابور وما تعدى قط حد العلماء ولا سيرة الصالحين من التواضع والتبذل فى الملابس والتعايش وتستر بكتابة الشروط لاتصاله بالزمرة الشحامية مصاهرة ليصون بها عرضه وعلمه عن توقع الارفاق ويتبلغ بما يكتسبه منها فى اسباب المعيشة من فنون الارزاق وقعد للتدريس فى المدرسة الناصحة وافادة الطلبة فيها وقد سمع المسانيد والصحاح وأكثر عن مشايخ عصره وله مجالس الوعظ والتذكير المشحونة بالفوائد والمبالغة فى النصح وحكايات المشايخ وذكر احوالهم قال الحافظ أبو القاسم والى الامام محمد الفراوى كانت رحلتى الثانية لأنه المقصود بالرحلة فى تلك الناحية لما اجتمع فيه من علو الاسناد ووفور العلم وصحة الاعتقاد وحسن الخلق ولين الجانب والاقبال بكليته على الطالب فأقمت فى صحبته سنة كاملة وغنمت من مسموعاته فوائد حسنة طائلة وكان مكرما لموردى عليه عارفا بحق قصدى إليه ومرض مرضة فى مدة مقامى عنده ونهاه الطبيب عن التمكين من القراءة عليه فيها وعرفه ان ذلك ربما كان سببا لزيادة تألمه فقال لا أستجيز أن أمنعهم من القراءة وربما أكون قد حسبت فى الدنيا لأجلهم وكنت أقرأ عليه فى حال مرضه وهو ملقى على فراشه ثم عوفى من تلك المرضة وفارقته متوجها إلى هراة فقال لى حين ودعته بعد أن اظهر الجزع لفراقى وربما لا نلتقى بعد هذا فكان كما قال فجاءنا نعيه إلى هراة وكانت وافته فى العشر الأواخر من شوال سنة ثلاثين وخمسمائة ودفن فى تربة أبى بكر بن خزيمة رضى الله عنهما وذكر الحافظ أيضا جملا اخرى من مناقبه حذفتها اختصارا وذكر أبو سعيد السمعانى أنه سأل أبا عبد الله الفراوى هذا عن مولده فقال مولدى تقديرا سنة احدى وأربعين وأربعمائة قال غيره وتوفى يوم الخميس الحادى أو الثانى والعشرين من شوال سنة ثلاثين وخمسمائة قال الحافظ الشيخ أبو عمرو رحمة الله له فى علم المذهب كتاب انتخبت منه فوائد استغربتها وسمع صحيح مسلم من عبد الغافر فى السنة التى توفى فيها عبد الغافر سنة ثمان وأربعين وأربعمائة بقراءة أبى سعيد البحيرى رحمه الله ورضى عنه واما شيخ الفراوى فهو أبو الحسين عبد الغافر بن محمد بن عبد الغافر بن أحمد بن محمد بن سعيد الفارسى الفسوى ثم النيسابورى التاجر وكان سماعه صحيح مسلم من الجلودى سنة خمس وستين
তিনি আজীবন তাঁর পাঠদানে নিবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর অধীনে ফিকহশাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে উসূল (মূলনীতিসমূহ) লিপিবদ্ধ করেন এবং তাঁর বিশিষ্ট সাথীদের অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে রওয়ানা হন এবং বাগদাদসহ অন্যান্য শহরে ইলমী মজলিস কায়েম করেন। তিনি হারামাইন শরীফাইনেও তাঁর ইলম প্রকাশ করেন; সেখানে তাঁর জ্ঞান প্রচারের বিশেষ প্রভাব ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। অতঃপর তিনি নিশাপুরে প্রত্যাবর্তন করেন। বিনয়, সাদাসিধে পোশাক পরিধান এবং জীবনযাপনের ক্ষেত্রে তিনি কখনও উলামায়ে কেরামের নির্ধারিত সীমা এবং সৎকর্মশীলদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। শাহ্হামী বংশের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে তিনি দলিলাদি (শুরুত) লিখনের কাজের আড়ালে নিজেকে যুক্ত রাখেন, যাতে কারো সাহায্যের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজ সম্মান ও ইলমকে হেফাযত করতে পারেন এবং উপার্জিত অর্থের দ্বারা বিবিধ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। তিনি নাসেহা মাদরাসায় পাঠদানের জন্য আসীন হন এবং সেখানকার ছাত্রদের উপকৃত করেন। তিনি তাঁর সমকালীন শায়খদের নিকট থেকে প্রচুর মুসনাদ ও সহীহ হাদীসের কিতাব শ্রবণ করেন। তাঁর নসীহতের মজলিসগুলো ছিল ইলমী ফায়েদা, গভীর হিতোপদেশ, পূর্বসূরি শায়খদের কাহিনী এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক অবস্থার বর্ণনায় ভরপুর। হাফিয আবু কাসিম বলেন: ইমাম মুহাম্মদ আল-ফারাভীর সান্নিধ্য গ্রহণই ছিল আমার দ্বিতীয় সফর; কারণ উচ্চতর সনদ (সূত্রপরম্পরা), ইলমের প্রাচুর্য, বিশুদ্ধ আকিদা, সচ্চরিত্র, নম্রতা এবং ছাত্রদের প্রতি পূর্ণ মনোযোগের কারণে তৎকালীন সময়ে তিনিই ছিলেন জ্ঞানপিপাসুদের মূল লক্ষ্যবস্তু। আমি তাঁর সান্নিধ্যে পূর্ণ এক বছর অবস্থান করি এবং তাঁর নিকট শ্রবণকৃত বিষয়াদি হতে প্রভূত ও মূল্যবান ফায়েদা লাভ করি। তিনি আমার মতো আগন্তুকদের প্রতি অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করতেন এবং আমার আসার গুরুত্ব অনুধাবন করতেন। আমার অবস্থানকালে তিনি একবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন চিকিৎসক তাঁকে পাঠদান থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং জানান যে, এর ফলে তাঁর শারীরিক কষ্ট বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি তখন বলেছিলেন: "আমি ছাত্রদের পাঠ করা থেকে বিরত রাখা সমীচীন মনে করি না; সম্ভবত আমি তাদের জন্যই এ দুনিয়াতে বেঁচে আছি।" এমতাবস্থায় আমি তাঁর বিছানায় শায়িত অবস্থায় তাঁকে পাঠ করে শুনাতাম। অতঃপর তিনি সেই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং আমি হেরাতের উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট থেকে বিদায় নেই। বিদায়বেলায় আমার বিচ্ছেদে তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন: "সম্ভবত এরপর আমাদের আর দেখা হবে না।" শেষ পর্যন্ত তাঁর কথাটিই সত্য হলো; হেরাতে অবস্থানকালে তাঁর মৃত্যুসংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছে। ৫৩০ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শেষ দশকে তাঁর ইন্তেকাল হয় এবং আবু বকর ইবনে খুযাইমাহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর সমাধিস্থলে তাঁকে দাফন করা হয়। হাফিয তাঁর আরও কিছু গুণাবলী উল্লেখ করেছেন যা আমি সংক্ষেপ করার জন্য এখানে বর্জন করেছি। আবু সাঈদ আস-সামআনী বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-ফারাভীকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "ধারণা করা হয় আমার জন্ম ৪৪১ হিজরি সনে।" অন্য বর্ণনাকারী বলেছেন: তিনি ৫৩০ হিজরি সনের ২১ বা ২২শে শাওয়াল রোজ বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন। হাফিয শায়খ আবু আমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: মাযহাবের ইলমের ওপর তাঁর একটি কিতাব রয়েছে যা থেকে আমি অত্যন্ত চমৎকার ও বিরল কিছু তথ্য চয়ন করেছি। তিনি ৪৪৮ হিজরিতে তাঁর উস্তাদ আব্দুল গাফিরের ইন্তেকালের বছরে আবু সাঈদ আল-বুহাইরীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কিরাআতে তাঁর নিকট 'সহীহ মুসলিম' শ্রবণ করেন। আর আল-ফারাভীর উস্তাদ হলেন আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল গাফির ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-ফারিসি আল-ফাসাবী, যিনি পরবর্তীতে নিশাপুরে বসবাসকারী একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। ৩৬৫ হিজরি সনে আল-জালুদীর নিকট তাঁর 'সহীহ মুসলিম' শ্রবণ সম্পন্ন হয়েছিল।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٩)
وثلاثمائة ذكره ولد ولده أبو الحسن عبد الغافر بن إسماعيل بن عبد الغافر الفارسى الاديب الامام المحدث بن المحدث بن المحدث صاحب التصانيف كذيل تاريخ نيسابور وكتاب مجمع الغرائب والمفهم لشرح غريب صحيح مسلم وغيرها فقال كان شيخا ثقة صالحا صائنا محظوظا من الدين والدنيا محدودا فى الرواية على قلة سماعه مشهورا مقصودا من الآفاق سمع منه الائمة والصدور وقرأ الحافظ الحسن السمرقندى عليه صحيح مسلم نيفا وثلاثين مرة وقرأه عليه أبو سعيد البحيرى نيفا وعشرين مرة وممن قرأه عليه من مشاهير الائمة زين الاسلام أبو القاسم يعنى القشيرى والواحدى وغيرهما استكمل خمسا وتسعين سنة وألحق أحفاد الاحفاد بالاجداد وتوفى يوم الثلاثاء ودفن يوم الاربعاء السادس من شوال سنة ثمان وأربعين وأربعمائة وقال غيره ولد ثلاث وخمسين وثلاثمائة وسمع منه أئمة الدنيا من الغرباء والطارئين والبلديين وبارك الله سبحانه وتعالى فى سماعه وروايته مع قلة سماعه وكان المشهور برواية صحيح مسلم وغريب الخطابى فى عصره وسمع الخطابى وغيره من أهل عصره رحمه الله ورضى عنه وأما شيخ الفارسى فهو أبو أحمد محمد بن عيسى بن محمد بن عبد الرحمن بن عمرويه بن منصور الزاهد النيسابورى الجلودى بضم الجيم بلا خلاف قال الأمام أبو سعيد السمعانى هو منسوب الجلود المعروفة جمع جلد قَالَ الشَّيْخُ أَبُو عَمْرِو بْنُ الصَّلَاحِ رحمه الله عندى أنه منسوب إلى سكة الجلوديين بنيسابور الدارسة وهذا الذى قاله الشيخ أبو عمرو يمكن حمل كلام السمعانى عليه وانما قلت ان الجلودى هذا بضم الجيم بلا خلاف لان بن السكيت وصاحبه بن قتيبة قالا فى كتابيهما المشهورين أن الجلودى بفتح الجيم منسوب إلى جلود اسم قرية بافريقية وقال غيرهما انها بالشام واراد أن من نسب إلى هذه القرية فهو بفتح الجيم لكونها مفتوحة وأما أبو أحمد الجلودى فليس منسوبا إلى هذه القرية فليس فيما قالاه مخالفة لما ذكرناه والله أعلم قال الحاكم أبو عبد الله كان أبو أحمد هذا الجلودى شيخا صالحا زاهدا من كبار عباد الصوفية صحب أكابر المشايخ من أهل الحقائق وكان ينسخ الكتب ويأكل من كسب يده سمع أبا بكر بن خزيمة ومن كان قبله وكان ينتحل مذهب سفيان الثورى ويعرفه توفى رحمه الله يوم الثلاثاء الرابع والعشرين من ذى الحجة سنة ثمان وستين وثلاثمائة وهو بن ثمانين سنة قال الحاكم وختم لوفاته سماع صحيح مسلم وكل من حدث به بعده عن ابراهيم بن محمد بن سفيان وغيره فليس بثقة والله أعلم

এবং তিনশত। তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর পৌত্র আবুল হাসান আব্দুল গাফির ইবনে ইসমাঈল ইবনে আব্দুল গাফির আল-ফারিসি, যিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক, ইমাম এবং মুহাদ্দিস পরিবারের সন্তান। তিনি 'যাইলু তারিখি নিসাবুর', 'মাজমাউল গরাইব', 'আল-মুফহিম লি-শারহি গরিবি সহিহ মুসলিম' ইত্যাদি প্রসিদ্ধ গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি বলেন, তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য শায়খ, সৎকর্মপরায়ণ, আত্মসংযমী এবং দ্বীন ও দুনিয়ার সৌভাগ্যমন্ডিত ব্যক্তি। তাঁর শ্রুত হাদিসের সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সমাদৃত ও বিখ্যাত, যাঁর কাছে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত। বড় বড় ইমাম ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তাঁর নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। হাফেজ হাসান আস-সামারকান্দি তাঁর কাছে 'সহিহ মুসলিম' ত্রিশবারেরও বেশি পাঠ করেছেন এবং আবু সাঈদ আল-বুহাইরি বিশবারেরও বেশি পাঠ করেছেন। তাঁর কাছে পাঠকারী বিখ্যাত ইমামদের মধ্যে রয়েছেন যাইনুল ইসলাম আবু কাসেম (অর্থাৎ আল-কুশায়রি), আল-ওয়াহিদি এবং আরও অনেকে। তিনি পঁচানব্বই বছর বয়স পূর্ণ করেছিলেন এবং প্রপৌত্রদেরকে পূর্বপুরুষদের কাতারে শামিল করেছেন (অর্থাৎ দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন)। তিনি ৪৪৮ হিজরির ৬ই শাওয়াল মঙ্গলবার ইন্তেকাল করেন এবং বুধবার তাঁকে সমাহিত করা হয়।

অন্য বর্ণনাকারী বলেন, তিনি ৩৫৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। দেশি-বিদেশি সমকালীন বড় বড় ইমামগণ তাঁর নিকট হাদিস শুনেছেন। তাঁর শ্রুত হাদিসের সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর শ্রবণ ও বর্ণনার ওপর বরকত দান করেছেন। তিনি তাঁর যুগে 'সহিহ মুসলিম' এবং খাত্তাবির 'গরিবুল হাদিস' বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি খাত্তাবি এবং তাঁর সমসাময়িক অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আর আল-ফারিসির উস্তাদ হলেন আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আমরওয়াইহ ইবনে মানসুর আজ-জাহিদ আন-নিসাবুরি আল-জুলুদি (জিম হরফে পেশ যোগে)। এই উচ্চারণের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। ইমাম আবু সাঈদ আস-সামআনি বলেন, এটি প্রসিদ্ধ 'জুলুদ' (চামড়া-এর বহুবচন) শব্দের সাথে সম্পর্কিত। শায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন, আমার মতে তিনি নিশাপুরের অধুনালুপ্ত 'সিক্কাতুল জুলুদিয়্যিন' (চর্মকারদের গলি) নামক এলাকার সাথে সম্পর্কিত। শায়খ আবু আমর যা বলেছেন, সামআনির বক্তব্যকেও সেই অর্থে গ্রহণ করা সম্ভব। আমি যে বলেছি এই 'আল-জুলুদি' শব্দটি জিম হরফে পেশ যোগে হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই, তার কারণ হলো ইবনে সিক্কিত এবং তাঁর সঙ্গী ইবনে কুতাইবা তাঁদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থদ্বয়ে উল্লেখ করেছেন যে, জিম হরফে জবর যোগে 'আল-জালুদি' হলো আফ্রিকার 'জালুদ' নামক একটি গ্রামের সাথে সম্পর্কিত। অন্য অনেকে বলেছেন যে এই গ্রামটি সিরিয়ায় অবস্থিত। তাঁরা বোঝাতে চেয়েছেন যে, ওই গ্রামের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে জিম হরফে জবর হবে, যেহেতু গ্রামের নামেই জবর রয়েছে।

কিন্তু আবু আহমদ আল-জুলুদি ওই গ্রামের সাথে সম্পর্কিত নন। সুতরাং তাঁরা যা বলেছেন, তা আমাদের বক্তব্যের পরিপন্থী নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন। হাকেম আবু আব্দুল্লাহ বলেন, এই আবু আহমদ আল-জুলুদি ছিলেন একজন নেককার ও জাহিদ শায়খ এবং সুফি সাধকদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সত্যসন্ধানী (আহলুল হাকায়েক) বড় বড় মাশায়েখের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি বইপত্র নকল (অনুলিপি তৈরি) করতেন এবং নিজ হাতের উপার্জনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি আবু বকর ইবনে খুজাইমা এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি সুফিয়ান সাওরির মাজহাব অনুসরণ করতেন এবং সে বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখতেন। তিনি ৩৮৬ হিজরির ২৪শে জিলহজ মঙ্গলবার আশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। হাকেম আরও বলেন, তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমেই (সরাসরি) সহিহ মুসলিমের শ্রবণের পরিসমাপ্তি ঘটে। তাঁর পরে যারা ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান বা অন্যদের সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছে, তারা নির্ভরযোগ্য নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٠)
وأما الشيخ الجلودى فهو السيد الجليل أبو إسحاق ابراهيم بن محمد بن سفيان النيسابورى الفقيه الزاهد المجتهد العابد قال الحاكم أبو عبد الله بن البيع سمعت محمد بن يزيد العدل يقول كان ابراهيم بن محمد بن سفيان مجاب الدعوة قال الحاكم وسمعت أبا عمرو بن نجيد يقول انه كان من الصالحين قال الحاكم كان ابراهيم بن سفيان من العباد المجتهدين ومن الملازمين لمسلم بن الحجاج وكان من أصحاب أيوب بن الحسن الزاهد صاحب الرأى يعنى الفقيه الحنفى سمع ابراهيم بن سفيان بالحجاز ونيسابور والرى والعراق قال ابراهيم فرغ لنا مسلم من قراءة الكتاب فى شهر رمضان سنة سبع وخمسين ومائتين قال الحاكم مات ابراهيم فى رجب سنة ثمان وثلاثمائة رحمه الله ورضى عنه وأما شيخ ابراهيم بن محمد بن سفيان فهو الامام مسلم صاحب الكتاب وهو أبو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيرى نسبا النيسابورى وطنا عربى صليبة وهو أحد أعلام أئمة هذا الشأن وكبار المبرزين فيه وأهل الحفظ والاتقان والرحالين فى طلبه إلى أئمة الاقطار والبلدان والمعترف له بالتقدم فيه بلا خلاف عند أهل الحذق والعرفان والمرجوع إلى كتابه والمعتمد عليه فى كل الازمان سمع بخرسان يحيى بن يحيى واسحاق بن راهويه وغيرها وبالرى محمد بن مهران الجمال بالجيم وأبا غسان وغيرهما وبالعراق أحمد بن حنبل وعبد الله بن مسلمة القعنبى وغيرهما وبالحجاز سعيد بن منصور وأبا مصعب وغيرهما وبمصر عمرو بن سواد وحرملة بن يحيى وغيرهما وخلائق كثيرين روى عنه جماعات من كبار أئمة عصره وحفاظه وفيهم جماعات فى درجته فمنهم أبو حاتم الرازى وموسى بن هارون وأحمد بن سلمة وأبو عيسى الترمذى وأبو بكر بن خزيمة ويحيى بن صاعد وأبو عوانةالاسفراينى وآخرون لا يحصون وصنف مسلم رحمه الله فى علم الحديث كتبا كثيرة منها هذا الكتاب الصحيح الذى من الله الكريم وله الحمد والنعمة والفضل والمنة به على المسلمين وأبقى لمسلم به ذكرا جميلا وثناء حسنا إلى يوم الدين ومنها كتاب المسند الكبير على أسماء الرجال وكتاب الجامع الكبير على الأبواب وكتاب العلل وكتاب أوهام المحدثين وكتاب التميز وكتاب من ليس له الا راو واحد وكتاب طبقات التابعين وكتاب المخضرمين وغير ذلك قال الحاكم أبو عبد الله حدثنا أبو الفضل محمد بن ابراهيم قال سمعت أحمد بن سلمة يقول رأيت أبا زرعة وأبا حاتم يقدمان مسلم بن الحجاج فى معرفة الصحيح على مشايخ عصرهما وفى رواية فى معرفة الحديث قلت

আর শাইখ জুলুদী হলেন মহান ব্যক্তিত্ব আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আন-নায়সাবুরী; তিনি ছিলেন একজন ফকীহ (আইনজ্ঞ), যাহেদ (সংসারবিরাগী), মুজতাহিদ (গবেষক) ও আবিদ (ইবাদতকারী)। হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-বাইয়ি বলেন, আমি মুহাম্মদ বিন ইয়াযীদ আল-আদলকে বলতে শুনেছি যে, ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান ছিলেন মুজাবুদ দাওয়াহ (যার প্রার্থনা কবুল হয়)। হাকিম আরও বলেন, আমি আবু আমর বিন নুজাইদকে বলতে শুনেছি যে, তিনি ছিলেন পুণ্যবান ব্যক্তিদের (সালিহীন) অন্তর্ভুক্ত। হাকিম বর্ণনা করেন যে, ইবরাহীম বিন সুফিয়ান ছিলেন পরিশ্রমী ইবাদতকারীদের একজন এবং ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজের সার্বক্ষণিক সহচরদের অন্যতম। তিনি সাহেবুর রায় অর্থাৎ হানাফী ফকীহ আইয়ুব বিন হাসান আজ-যাহেদের শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবরাহীম বিন সুফিয়ান হিজায, নায়সাবুর, রাই এবং ইরাকে ইলম অর্জন করেছেন। ইবরাহীম বলেন, ইমাম মুসলিম আমাদের নিকট ২৫৭ হিজরীর রমজান মাসে কিতাবটি পাঠ সম্পন্ন করেছিলেন। হাকিম বলেন, ইবরাহীম ৩০৮ হিজরীর রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন; আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আর ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ানের উস্তাদ হলেন ইমাম মুসলিম, যিনি এই কিতাবের রচয়িতা। তিনি হলেন আবুল হুসাইন মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম আল-কুশাইরী (বংশসূত্রে) আন-নায়সাবুরী (বাসস্থানসূত্রে), তিনি ছিলেন বংশপরম্পরায় খাঁটি আরব। তিনি এই শাস্ত্রের (হাদিস) অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম এবং এতে বিশেষ পারদর্শী অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তি ও নিখুঁত জ্ঞানের অধিকারী এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ইমামদের নিকট ইলম অন্বেষণে সফরকারী। এ শাস্ত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের নিকট কোনো দ্বিমত ছাড়াই স্বীকৃত। তাঁর কিতাবটি সর্বজনগৃহীত এবং সর্বকালে এর ওপর নির্ভর করা হয়। তিনি খোরাসানে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ ও অন্যদের নিকট; রাইয়ে মুহাম্মদ বিন মিহরান আল-জাম্মাল, আবু গাসসান ও অন্যদের নিকট; ইরাকে আহমদ বিন হাম্বল, আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কানাবী ও অন্যদের নিকট; হিজাযে সাঈদ বিন মানসুর, আবু মুসআব ও অন্যদের নিকট এবং মিশরে আমর বিন সাওয়াদ, হারমালাহ বিন ইয়াহইয়া ও আরও অসংখ্য মনীষীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর কাছ থেকে তাঁর সমসাময়িক বড় বড় ইমাম ও হাফেজগণ হাদিস বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই তাঁর সমমর্যাদার ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আবু হাতিম আর-রাজি, মুসা বিন হারুন, আহমদ বিন সালামাহ, আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আবু বকর বিন খুযাইমাহ, ইয়াহইয়া বিন সায়িদ, আবু আওয়ানাহ আল-ইসফরাইনি এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি যাদের গণনা করা সম্ভব নয়।

ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) হাদিস শাস্ত্রে অনেক কিতাব রচনা করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো এই 'সহীহ' কিতাবটি, যার মাধ্যমে করুণাময় আল্লাহ মুসলিম উম্মাহর ওপর অনুগ্রহ করেছেন—সমস্ত প্রশংসা ও নেয়ামত তাঁরই। এর মাধ্যমে তিনি কিয়ামত পর্যন্ত ইমাম মুসলিমের জন্য সুখ্যাতি ও উত্তম প্রশংসা জারি রেখেছেন। তাঁর অন্যান্য কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: রাবীদের নামের ক্রমানুসারে 'কিতাবুল মুসনাদ আল-কাবীর', অধ্যায়ভিত্তিক 'কিতাবুল জামি আল-কাবীর', 'কিতাবুল ইলাল', 'কিতাবুল আওহামুল মুহাদ্দিসীন', 'কিতাবুত তামিয', 'কিতাবু মান লাইসা লাহু ইল্লা রাউয়িন ওয়াহিদ' (যার মাত্র একজন বর্ণনাকারী রয়েছে), 'কিতাবু তাবাকাতিত তাবিঈন', 'কিতাবুল মুখাদরামীন' ইত্যাদি। হাকিম আবু আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের কাছে আবু ফজল মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আহমদ বিন সালামাহকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবু যুরআ ও আবু হাতিমকে সহীহ হাদিস চেনার ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজকে তাদের সমসাময়িক শাইখদের ওপর প্রাধান্য দিতে দেখেছি। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানে (প্রাধান্য দিতে দেখেছি)। আমি বলি—

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١١)
ومن حقق نظره فى صحيح مسلم رحمه الله واطلع على ما أورده فى أسانيده وترتيبه وحسن سياقته وبديع طريقته من نفائس التحقيق وجواهر التدقيق وأنواع الورع والاحتياط والتحرى فى الرواية وتلخيص الطرق واختصارها وضبط متفرقها وانتشارها وكثرة اطلاعه واتساع روايته وغير ذلك مما فيه من المحاسن والاعجوبات واللطائف الظاهرات والخفيات علم أنه امام لا يلحقه من بعد عصره وقل من يساويه بل يدانيه من أهل وقته ودهره وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم وأنا أقتصر من أخباره رضى الله عنه على هذا القدر فان أحواله رحمه الله ومناقبه لا تستقصى لبعدها عن أن تحصى وقد دللت بما ذكرت من الاشارة إلى حالته على ما أهملت من جميل طريقته والله الكريم أسأله أن يجزل فى مثوبته وأن يجمع بيننا وبينه مع احبائنا فى دار كرامته بفضله وجوده ولطفه ورحمته وقد قدمت أن أوثر الاختصار وأحاذر التطويل الممل والاكثار توفى مسلم رحمه الله بنيسابور سنة احدى وستين ومائتين قال الحاكم أبو عبد الله بن البيع فى كتاب المزكين لرواة الاخبار سمعت أبا عبد الله بن الاخرم الحافظ رحمه الله يقول توفى مسلم بن الحجاج رحمه الله عشية الاحد ودفن يوم الاثنين لخمس بقين من رجب سنة احدى وستين ومائتين وهو بن خمس وخمسين سنة رحمه الله ورضى عنه

(

 

‌‌فصل)

صحيح مسلم رحمه الله فى نهاية من الشهرة وهو متواتر عنه من حيث الجملة فالعلم القطعى حاصل بأنه تصنيف أبى الحسين مسلم بن الحجاج وأما من حيث الرواية المتصلة بالاسناد المتصل بمسلم فقد انحصرت طريقه عنده فى هذه البلدان والازمان فى رواية أبى إسحاق ابراهيم بن محمد بن سفيان عن مسلم ويروى فى بلاد المغرب مع ذلك عن أبى محمد أحمد بن على القلانسى عن مسلم ورواه عن بن سفيان جماعة منهم الجلودى وعن الجلودى جماعة منهم الفارسى وعنه جماعة منهم الفراوى وعنه خلائق منهم منصور وعنه خلائق منهم شيخنا أبو إسحاق قال الشيخ الامام الحافظ أبو عمرو بن الصلاح رحمه الله وأما القلانسى فوقعت روايته عند أهل الغرب ولا رواية له عند غيرهم دخلت روايته إليه من جهة أبى عبد الله محمد بن يحيى بن الحذاء التميمى القرطبى وغيره سمعوها بمصر من أبى العلاء عبد الوهاب بن عيسى بن عبد الرحمن بن ماهان البغدادى قال حدثنا أبو بكر أحمد بن محمد بن يحيى الاشقر الفقيه على مذهب الشافعى قال
যে ব্যক্তি সহীহ মুসলিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর ওপর গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেন এবং এর সনদসমূহ (বর্ণনাসূত্র), বিন্যাস, উত্তম উপস্থাপনা এবং এর অনন্য পদ্ধতির মধ্যে নিহিত সূক্ষ্ম গবেষণার অমূল্য সম্পদ, সুনিপুণ বিশ্লেষণের রত্নরাজি, বর্ণনাগ্রহণের ক্ষেত্রে তাকওয়া (খোদাভীতি), সতর্কতা ও অনুসন্ধান এবং সনদসমূহের সারসংক্ষেপকরণ ও সংক্ষেপায়ন এবং বিক্ষিপ্ত ও ছড়িয়ে থাকা বিষয়গুলোর সুসংবদ্ধকরণ ও তাঁর পাণ্ডিত্য ও বর্ণনার বিশালতাসহ অন্যান্য যে সকল সৌন্দর্য, বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য এবং প্রকাশ্য ও গোপন সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ রয়েছে, তা প্রত্যক্ষ করেন; তবে তিনি নিশ্চিতভাবে জানবেন যে, ইমাম মুসলিম এমন একজন ইমাম যাঁর সমকক্ষ তাঁর পরবর্তী যুগে কেউ হতে পারেনি এবং তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যেও খুব অল্পসংখ্যক লোকই তাঁর সমান বা তাঁর কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছেন। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। আর আমি তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) জীবনী সম্পর্কে এই পরিমাণ আলোচনার ওপরই ইতি টানছি; কেননা তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) অবস্থা ও গুণাবলি এতই বিস্তৃত যে তা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। আমি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে যতটুকু ইশারা করেছি, তার মাধ্যমেই তাঁর অন্যান্য সুন্দর পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করেছি যা আমি এখানে উল্লেখ করিনি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ, দানশীলতা, দয়া ও করুণার মাধ্যমে আমাদের ও তাঁকে আমাদের প্রিয়জনদেরসহ তাঁর জান্নাতে (দারুল কারামাহ) একত্রিত করেন। আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, আমি সংক্ষিপ্তকরণকে অগ্রাধিকার দেব এবং বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা ও বাহুল্য পরিহার করব। ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ২৬১ হিজরি সনে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন। 'কিতাবুল মুজাক্কীন লি-রুওয়াতিল আখবার' গ্রন্থে হাকেম আবু আবদুল্লাহ ইবনুল বাইয়ি' বলেন: আমি হাফেজ আবু আবদুল্লাহ ইবনুল আখরাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-কে বলতে শুনেছি যে, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ২৬১ হিজরি সনের রজব মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে (অর্থাৎ ২৫শে রজব) রবিবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন এবং সোমবার তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।

(

 

‌‌পরিচ্ছেদ)

সহীহ মুসলিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) জনপ্রিয়তার চূড়ান্ত শিখরে অবস্থিত এবং এটি তাঁর পক্ষ থেকে সামগ্রিকভাবে মুতাওয়াতির (অকাট্যভাবে প্রমাণিত)। সুতরাং এই বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত যে, এটি আবুল হোসেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজেরই সংকলন। আর ইমাম মুসলিমের সাথে সংযুক্ত অবিচ্ছিন্ন বর্ণনাসূত্রের (সনদ) প্রেক্ষাপটে বর্তমান দেশ ও সময়ে তাঁর নিকট পৌঁছানোর পথটি আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ানের মাধ্যমে ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণিত বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবে মাগরেব (উত্তর আফ্রিকা ও মরক্কো) অঞ্চলে এর পাশাপাশি আবু মুহাম্মদ আহমদ ইবনে আলী আল-কালানিসীর মাধ্যমেও ইমাম মুসলিম থেকে এটি বর্ণিত হয়। ইবনে সুফিয়ান থেকে একদল ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আল-জুলুদী অন্যতম। আল-জুলুদী থেকে একদল বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে আল-ফারিসী অন্যতম। তাঁর (ফারিসী) থেকে একদল বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে আল-ফারাবি অন্যতম। তাঁর (ফারাবি) থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে মনসুর অন্যতম। আর তাঁর (মনসুর) থেকে এক বিশাল জনগোষ্ঠী বর্ণনা করেছেন যাদের মধ্যে আমাদের শায়খ আবু ইসহাক অন্যতম। ইমাম হাফেজ শায়খ আবু আমর ইবনুস সালাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেন: আল-কালানিসীর বর্ণনাটি কেবল পশ্চিমা (মাগরেব) অঞ্চলের অধিবাসীদের কাছেই বিদ্যমান, অন্য কোথাও তাঁর কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনুল হাজ্জা আল-তামিমী আল-কুরতুবী এবং অন্যদের মাধ্যমে তাঁদের কাছে এই বর্ণনাটি পৌঁছেছে। তাঁরা এটি মিশরে আবুল আলা আবদুর ওয়াহহাব ইবনে ঈসা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মাহান আল-বাগদাদীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিকট শাফেয়ী মাযহাবের ফকিহ আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আশকার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٢)
حدثنا أبو محمد القلانسى قال حدثنا مسلم الا ثلاثة أجزاء من آخر الكتاب أولها حديث الافك الطويل فان أبا العلاء بن ماهان كان يروى ذلك عن أبى أحمد الجلودى عن أبى سفيان عن مسلم رضى الله عنه

(

 

‌‌فصل)

قال الشيخ الامام الحافظ أبو عمرو وعثمان بن عبد الرحمن المعروف بابن الصلاح رحمه الله اختلف النسخ فى رواية الجلودى عن ابراهيم بن سفيان هل هي بحدثنا ابراهيم أو أخبرنا والتردد واقع فى أنه سمع لفظ ابراهيم أو قرأه عليه فالأحوط أن يقال أخبرنا ابراهيم حدثنا ابراهيم فليلفظ القارىء بهما على البدل قال وجائز لنا الاقتصار على أخبرنا فانه كذلك فيما نقلته من ثبت الفراوى من خط صاحبه عبد الرزاق الطبسى وفيما انتخبته بنيسابور من الكتاب من أصل فيه سماع شيخنا المؤيد وهو كذلك بخط الحافظ أبى القاسم الدمشقى العساكرى عن الفراوى وفى غير ذلك وأيضا فحكم المتردد فى ذلك المصير إلى أخبرنا لأن كل تحديث من حديث الحقيقة اخبار وليس كل اخبار تحديثا فصل قال الشيخ الامام أبو عمرو بن الصلاح رضى الله عنه اعلم أن ابراهيم بن سفيان فى الكتاب فائتا لم يسمعه من مسلم يقال فيه أخبرنا ابراهيم عن مسلم ولا يقال فيه أخبرنا مسلم ولا حدثنا مسلم وروايته لذلك عن مسلم اما بطريقة الاجازة واما بطريقة الوجادة وقد غفل أكثر الرواة عن تبين ذلك وتحقيقه فى فهاريسهم وتسميعاتهم واجازاتهم وغيرها بل يقولون فى جميع الكتاب أخبرنا ابراهيم قال أخبرنا مسلم وهذا الفوات فى ثلاثة مواضع محققة فى أصول معتمدة فأولها فى كتاب الحج فى باب الحلق والتقصير حديث بن عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَحِمَ اللَّهُ المحلقين برواية بن نمير فشاهدت عنده فى أصل الحافظ أبى القاسم الدمشقى بخطه ما صورته أخبرنا أبو إسحاق ابراهيم بن محمد بن سفيان عن مسلم قال حدثنا بن نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عمر الحديث وكذلك فى أصل بخط الحافظ أبى عامر العبدرى الا أنه قال حدثنا أبو إسحاق وشاهدت عنده فى أصل قديم مأخوذ عن أبى أحمد الجلودى ما صورته من ها هنا قرأت على أبى أحمد حدثكم ابراهيم عن مسلم وكذا كان فى كتابه إلى العلامة وقال الشيخ رحمه الله وهذه العلامة هي بعد ثمان ورقات أو نحوها عند أول حديث بن عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ
আমাদের কাছে আবু মুহাম্মদ আল-কালানিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তবে কিতাবের শেষদিকের তিনটি অংশ ব্যতীত। যার প্রথমটি হলো দীর্ঘ ‘ইফক’ (মিথ্যা অপবাদ) সংক্রান্ত হাদীস। আবু আল-আলা বিন মাহান এটি আবু আহমাদ আল-জাল্লুদি থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে এবং তিনি ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করতেন।

(

 

‌‌পরিচ্ছেদ)

শেখ ইমাম হাফেজ আবু আমর উসমান ইবনে আবদুর রহমান, যিনি ইবনে আল-সালাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) নামে পরিচিত, তিনি বলেছেন: ইব্রাহিম ইবনে সুফিয়ান থেকে আল-জাল্লুদির বর্ণনার ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোতে শব্দগত পার্থক্য রয়েছে; এটি কি ‘আমাদের কাছে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন’ (হাদ্দাসানা ইব্রাহিম) নাকি ‘আমাদের অবহিত করেছেন’ (আখবারানা)? এই দ্বিধাটি মূলত এর ওপর ভিত্তি করে যে, তিনি কি সরাসরি ইব্রাহিমের কণ্ঠ থেকে শব্দগুলো শুনেছেন নাকি তাঁর সামনে পাঠ করেছেন। তাই সতর্কতামূলক পদ্ধতি হলো—‘আমাদের অবহিত করেছেন ইব্রাহিম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম’ বলা, যাতে পাঠক পর্যায়ক্রমে উভয় শব্দই উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন: আমাদের জন্য কেবল ‘আমাদের অবহিত করেছেন’ (আখবারানা) শব্দে সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ, কারণ আমি আল-ফারাবি-র নির্ভরযোগ্য নথিতে তাঁর সঙ্গী আবদুর রাজ্জাক আল-তাবাসি-র হাতের লেখায় যা নকল করেছি এবং নিশাপুরে কিতাবটি থেকে যা নির্বাচন করেছি (যেখানে আমাদের উস্তাদ আল-মুয়াইয়াদ-এর শ্রবণের প্রমাণ রয়েছে), সেখানে এমনই আছে। হাফেজ আবু আল-কাসিম আদ-দিমাশকি আল-আসাকিরি-র হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতেও আল-ফারাবি থেকে অনুরূপ পাওয়া যায়। এছাড়া, যেখানে দ্বিধা রয়েছে সেখানে ‘আমাদের অবহিত করেছেন’ শব্দ গ্রহণ করাই নিয়ম, কারণ প্রতিটি সুনির্দিষ্ট বর্ণনা (তাহদিস) মূলত এক ধরণের সংবাদ প্রদান (ইখবার), কিন্তু প্রতিটি সংবাদ প্রদানই কারিগরি অর্থে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা (তাহদিস) নয়। পরিচ্ছেদ: শেখ ইমাম আবু আমর ইবনে আল-সালাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: জেনে রাখুন যে, ইব্রাহিম ইবনে সুফিয়ান এই কিতাবের কিছু অংশ সরাসরি ইমাম মুসলিম থেকে শোনেননি (ফাওয়াত)। সেসব ক্ষেত্রে বলা হয়, ‘ইব্রাহিম আমাদের অবহিত করেছেন ইমাম মুসলিম থেকে’ এবং সেখানে ‘মুসলিম আমাদের অবহিত করেছেন’ বা ‘মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন’ বলা যাবে না। ইমাম মুসলিম থেকে তাঁর এই অংশগুলোর বর্ণনা পদ্ধতি হয় ‘ইজাজত’ (অনুমতি) অথবা ‘উইজাদাহ’ (পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি) এর মাধ্যমে। অধিকাংশ বর্ণনাকারী তাঁদের সূচিপত্র, শ্রবণলিপি এবং অনুমতিপত্রগুলোতে বিষয়টি স্পষ্ট ও যাচাই করতে অসতর্কতা দেখিয়েছেন। বরং তাঁরা পুরো কিতাবের ক্ষেত্রেই বলেন, ‘ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।’ এই ঘাটতি বা বাদ পড়া অংশ (ফাওয়াত) তিনটি স্থানে রয়েছে যা নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে প্রমাণিত। এর প্রথমটি হলো ‘হজ’ অধ্যায়ে, মাথা মুণ্ডানো ও চুল ছোট করা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে, ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হাদীসে, যেখানে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: “আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি দয়া করুন”—এটি ইবনে নুমাইরের বর্ণনায়। আমি হাফেজ আবু আল-কাসিম আদ-দিমাশকির স্বহস্তে লেখা মূল পাণ্ডুলিপিতে দেখেছি যেখানে লেখা আছে: ‘আমাদের আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান অবহিত করেছেন মুসলিম থেকে, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইবনে নুমাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন’। হাফেজ আবু আমির আল-আবদারি-র হস্তলিখিত মূল পাণ্ডুলিপিতেও অনুরূপ রয়েছে, তবে তিনি ‘আমাদের কাছে আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। এছাড়া আমি আবু আহমাদ আল-জাল্লুদি থেকে সংগৃহীত একটি প্রাচীন মূলে দেখেছি যেখানে লেখা আছে: ‘এখান থেকে আমি আবু আহমাদের সামনে পাঠ করেছি যে, ইব্রাহিম আপনাদের কাছে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন।’ আল-্লামাহ-র কাছে পাঠানো কিতাবেও অনুরূপ ছিল। শেখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেন: এই চিহ্নটি প্রায় আট পৃষ্ঠা বা তার কাছাকাছি পরে রয়েছে, যেখানে ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর হাদীস শুরু হয়েছে যে, ‘রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যখন তাঁর উটের পিঠে সোজা হয়ে বসতেন...’।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٣)
خارجا إلى سفر كبر ثلاثا وعندها فى الاصل المأخوذ عن الجلودى ما صورته إلى هنا قرأت عليه يعنى على الجلودى عن مسلم ومن هنا قال حدثنا مسلم وفى أصل الحافظ أبى القاسم عندها بخطه من هنا يقول حدثنا مسلم والى هنا شك الفائت الثانى لابراهيم أوله فى أول الوصايا قَوْلُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ زُهَيْرُ بْنُ حرب ومحمد بن المثنى واللفظ لمحمد بن المثنى فى حديث بن عمر ما حق أمرىء مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُرِيدُ أَنْ يُوصِيَ فِيهِ إلى قوله فى آخر حديث رواه في قصة حويصة ومحيصة في القسامة حدثني إسحاق بن منصور أخبرنا بشر بن عمرو قال سمعت مالك بن أنس الحديث وهو مقدار عشر ورقات ففي الأصل المأخوذ عن الجلودي والأصل الذي بخط الحافظ أبي عامر العبدري ذكر انتهاء هذا الفوات عند أول هذا الحديث وعود قول ابراهيم حدثنا مسلم وفي أصل الحافظ أبي القاسم الدمشقي شبه التردد في أن هذا الحديث داخل في الفوات أو غير داخل فيه والاعتماد على الاول الفائت الثالث أوله قول مسلم في أحاديث الامارة والخلافة حدثنى زهير بن حرب حدثنا شبابة حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم انما الامام جثة ويمتد إلى قوله في كتاب الصيد والذبائح حدثنا محمد بن مهران الرازي حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ الخياط حديث أبي ثعلبة الخشنى اذا رميت سهمك فمن أول هذا الحديث عاد قول ابراهيم حدثنا مسلم وهذا الفوات أكثرها وهو نحو ثماني عشرة ورقة وفي أوله بخط الحافظ الكبير أبي حازم العبدري النيسابوري وكان يروى الكتاب عن محمد بن يزيد العدل عن ابراهيم ما صورته من هنا يقول ابراهيم قال مسلم وهو في الاصل المأخوذ عن الجلودي وأصل أبي عامر العبدري وأصل أبي القاسم الدمشقي بكلمة عن وهكذا في الفائت الذي سبق في الأصل المأخوذ عن الجلودي وأصل أبي عامر العبدري وأصل أبي القاسم وذلك يحتمل كونه روى ذلك عن مسلم بالوجادة ويحتمل الاجازة ولكن في بعض النسخ التصريح في بعض ذلك أو كله يكون ذلك عن مسلم بالاجازة والله اعلم هذا آخر كلام الشيخ رحمه الله

(

 

‌‌فصل)

قال الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَمْرِو بْنُ الصَّلَاحِ رحمه الله اعلم أن الرواية بالاسانيد المتصلة ليس المقصود منها في عصرنا وكثير من الاعصار قبله اثبات ما يروى اذ لا يخلو اسناد منها عن شيخ لا يدري ما يرويه ولا يضبط ما في كتابه ضبطا يصلح لان يعتمد عليه في ثبوته وانما المقصود بها ابقاء سلسلة الاسناد التي خصت بها هذه الامة زادها الله كرامه واذا كان
সফর থেকে ফিরে আসার সময় তিনবার তাকবির দিলেন। আল-জালুদির নিকট থেকে সংগৃহীত মূল নুসখায় এখানে এরূপ লেখা আছে: "এ পর্যন্ত আমি তাঁর নিকট অর্থাৎ আল-জালুদির নিকট পাঠ করেছি, যিনি মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।" আর এখান থেকেই তিনি বলেছেন, "আমাদের নিকট মুসলিম বর্ণনা করেছেন।" হাফেজ আবুল কাসিমের মূল নুসখায় তাঁর স্বহস্তে লেখা আছে: "এখান থেকে তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুসলিম বর্ণনা করেছেন।" আর এ পর্যন্তই ইবরাহিমের দ্বিতীয় বিচ্যুতি (ফাওয়াত) সম্পর্কে সংশয় রয়েছে। এর শুরু হলো ওসিয়ত অধ্যায়ের শুরুতে মুসলিমের এই উক্তি থেকে: "আমাদের নিকট আবু খাইসামাহ জুহাইর ইবন হারব ও মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেছেন..." হাদিসের শব্দাবলি মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্নার। ইবনে উমরের হাদিসে আছে: "কোনো মুসলিম ব্যক্তির জন্য উচিত নয় যার নিকট ওসিয়ত করার মতো কিছু আছে..." শেষ পর্যন্ত, যা তিনি কাসামাহ (রক্তপণ বিষয়ক শপথ) অধ্যায়ে হুওয়াইসাহ ও মুহাইয়িসাহর ঘটনার শেষ হাদিসে বর্ণনা করেছেন: "আমার নিকট ইসহাক ইবন মনসুর বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিশর ইবন আমর, তিনি বলেন, আমি মালিক ইবন আনাসকে বলতে শুনেছি..." এই হাদিসটি প্রায় দশটি পৃষ্ঠার সমপরিমাণ। আল-জালুদির নিকট থেকে সংগৃহীত মূল নুসখা এবং হাফেজ আবু আমির আল-আবদারির স্বহস্তে লিখিত মূল নুসখায় এই বিচ্যুতি শেষ হওয়ার কথা এই হাদিসের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে এবং পুনরায় ইবরাহিমের উক্তি "আমাদের নিকট মুসলিম বর্ণনা করেছেন" ফিরে এসেছে। হাফেজ আবুল কাসিম আদ-দিমাশকির নুসখায় এই হাদিসটি বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত কি না সে বিষয়ে কিছুটা দ্বিধা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রথম মতটির ওপরই নির্ভর করা হয়েছে। তৃতীয় বিচ্যুতি (ফাওয়াত) শুরু হয়েছে ইমারত ও খিলাফত বিষয়ক হাদিসসমূহে মুসলিমের এই উক্তি থেকে: "আমার নিকট জুহাইর ইবন হারব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শাবাবাহ বর্ণনা করেছেন..." আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস: "নিশ্চয়ই ইমাম হলেন ঢালস্বরূপ..." এটি শিকার ও জবেহ অধ্যায়ে এই উক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত: "আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন মিহরান আর-রাজি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আবদুল্লাহ হাম্মাদ ইবন খালিদ আল-খাইয়াত বর্ণনা করেছেন..." আবু সা’লাবাহ আল-খুশানির হাদিস: "যখন তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করবে..." এই হাদিসের শুরু থেকেই পুনরায় ইবরাহিমের এই উক্তি ফিরে এসেছে: "আমাদের নিকট মুসলিম বর্ণনা করেছেন"। এই বিচ্যুতিটি দীর্ঘতম, যা প্রায় আঠারোটি পৃষ্ঠার মতো। এর শুরুতে মহান হাফেজ আবু হাযিম আল-আবদারি আন-নাইসাবুরির হস্তাক্ষরে লেখা আছে—যিনি মুহাম্মদ ইবন ইয়াযিদ আল-আদলের সূত্রে ইবরাহিম থেকে এই কিতাবটি বর্ণনা করতেন—সেখানে লেখা আছে: "এখান থেকে ইবরাহিম বলেন, মুসলিম বলেছেন"। আল-জালুদির নিকট থেকে প্রাপ্ত মূল নুসখা, আবু আমির আল-আবদারির নুসখা এবং আবুল কাসিম আদ-দিমাশকির নুসখায় "থেকে" (আন) শব্দটি রয়েছে। একইভাবে পূর্ববর্তী বিচ্যুতিতেও আল-জালুদি, আবু আমির ও আবুল কাসিমের নুসখায় এমনটিই রয়েছে। এতে সম্ভাবনা থাকে যে, তিনি এটি মুসলিমের নিকট থেকে লিখিত পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তির (উিজাদাহ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন অথবা অনুমতির (ইজাজাহ) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তবে কোনো কোনো নুসখায় এগুলোর একাংশ বা পূর্ণাংশ মুসলিমের নিকট থেকে অনুমতির (ইজাজাহ) মাধ্যমে প্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।

(

 

‌‌পরিচ্ছেদ)

শাইখ ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: জেনে রাখুন যে, আমাদের যুগে এবং এর পূর্বের অনেক যুগে নিরবচ্ছিন্ন সনদের (আসানিদ) মাধ্যমে বর্ণনা করার মূল উদ্দেশ্য এটি নয় যে, এর মাধ্যমে বর্ণিত বিষয়টিকে অকাট্যভাবে প্রমাণ করা হবে। কারণ, এই সনদগুলোর প্রায় প্রতিটি স্তরেই এমন কোনো না কোনো শাইখ থাকেন যিনি কী বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত নন এবং তাঁর কিতাবে যা আছে তা এমন সূক্ষ্মভাবে সংরক্ষণ করেন না যা তার সঠিকতার ওপর নির্ভর করার জন্য যথেষ্ট হয়। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো সনদের সেই সিলসিলা বা ধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখা, যা বিশেষভাবে এই উম্মতকে দান করা হয়েছে; আল্লাহ তাদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন। আর যেহেতু...
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٤)
كذلك فسبيل من أراد الاحتجاج بحديث من صحيح مسلم وأشباهه أن ينقله من أصل مقابل على يدي ثقتين بأصول صحيحة متعددة مروية بروايات متنوعة ليحصل له بذلك مع اشتهار هذه الكتب وبعدها عن أن تقصد بالتبديل والتحريف الثقة بصحة ما اتفقت عليه تلك الأصول فقد تكثر تلك الأصول المقابل بها كثرة تتنزل منزلة التواتر أو منزلة الاستفاضة هذا كلام الشيخ وهذا الذي قاله محمول على الاستحباب والاستظهار والا فلا يشترط تعداد الأصول والروايات فان الأصل الصحيح المعتمد يكفي وتكفي المقابلة به والله اعلم

(

 

‌‌فصل)

اتفق العلماء رحمهم الله على أن أصح الكتب بعد القرآن العزيز الصحيحان البخاري ومسلم وتلقتهما الامة بالقبول وكتاب البخاري أصحهما وأكثرهما فوائد ومعارف ظاهرة وغامضة وقد صح أن مسلما كان ممن يستفيد من البخاري ويعترف بأنه ليس له نظير في علم الحديث وهذا الذي ذكرناه من ترجيح كتاب البخاري هو المذهب المختار الذي قاله الجماهير وأهل الاتقان والحذق والغوص على أسرار الحديث وقال أبو علي الحسين بن علي النيسابوري الحافظ شيخ الحاكم أبي عبد الله بن البيع كتاب مسلم أصح ووافقه بعض شيوخ المغرب والصحيح الاول وقد قرر الامام الحافظ الفقيه النظار أبو بكر الاسماعيلي رحمه الله في كتابه المدخل ترجيح كتاب البخاري وروينا عن الامام أبي عبد الرحمن النسائي رحمه الله أنه قال ما في هذه الكتب كلها أجود من كتاب البخاري قلت ومن أخصر ما ترجح به اتفاق العلماء على ان البخاري أجل من مسلم وأعلم بصناعة الحديث منه وقد انتخب علمه ولخص ما ارتضاه في هذا الكتاب وبقي في تهذيبه وانتقائه ست عشرة سنة وجمعه من ألوف مؤلفة من الاحاديث الصحيحة وقد ذكرت دلائل هذا كله في أول شرح صحيح البخاري ومما ترجح به كتاب البخاري ان مسلما رحمه الله كان مذهبه بل نقل الاجماع في أول صحيحه أن الاسناد المعنعن له حكم الموصول بسمعت بمجرد كون المعنعن والمعنعن عنه كانا في عصر واحد وان لم يثبت اجتماعهما والبخاري لا يحمله على الاتصال حتى يثبت اجتماعهما وهذا المذهب يرجح كتاب البخاري وان كنا لا نحكم على مسلم بعمله في صحيحه بهذا المذهب لكونه يجمع طرقا كثيرة يتعذر معها وجود هذا الحكم الذي جوزه والله أعلم وقد انفرد مسلم بفائدة حسنة وهي كونه أسهل متناولا من حيث أنه جعل لكل حديث موضعا واحدا يليق به جمع فيه طرقه التي ارتضاها
তেমনিভাবে, যে ব্যক্তি সহীহ মুসলিম বা অনুরূপ গ্রন্থসমূহ থেকে কোনো হাদীস প্রমাণ হিসেবে পেশ করতে চান, তার উচিত হবে সেটি এমন কোনো নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করা যা বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশুদ্ধ ও বিচিত্র বর্ণনাসূত্র সংবলিত পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করা হয়েছে। যাতে করে এই গ্রন্থগুলোর প্রসিদ্ধি এবং এগুলোতে কোনো পরিবর্তন বা বিকৃতির উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি, ওই পাণ্ডুলিপিগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিষয়টির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে পূর্ণ আস্থা অর্জিত হয়। কখনো কখনো এই তুলনাকৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর সংখ্যা এতো বেশি হতে পারে যে, তা 'তাওয়াতুর' (অকাট্য বর্ণনা) বা 'ইস্তিফাযাহ' (প্রসিদ্ধি)-র পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এটি শেখের (ইবনে আল-সালাহ) বক্তব্য। আর তিনি যা বলেছেন তা মূলত মুস্তাহাব (উত্তম) এবং অধিক সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যথায়, পাণ্ডুলিপি বা বর্ণনার সংখ্যাধিক্য হওয়া শর্ত নয়। বরং একটি বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি এবং তার সাথে তুলনা করাই যথেষ্ট। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(

 

‌‌(পরিচ্ছেদ)

উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মহাগ্রন্থ কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধতম কিতাব হলো 'সহীহাইন' অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিম। সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এই কিতাব দুটিকে গ্রহণযোগ্যতার সাথে গ্রহণ করে নিয়েছে। এর মধ্যে বুখারীর কিতাবটি অধিক বিশুদ্ধ এবং এতে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বহু জ্ঞান ও তত্ত্ব বিদ্যমান। এটি প্রমাণিত যে, ইমাম মুসলিম ইমাম বুখারী থেকে উপকৃত হতেন এবং স্বীকার করতেন যে হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারীর কোনো নজির নেই। বুখারীর কিতাবকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার এই অভিমতটিই হলো অগ্রগণ্য মাজহাব (মত), যা জমহুর ওলামায়ে কেরাম, বিশেষজ্ঞগণ এবং হাদীসের নিগূঢ় রহস্য উদ্ঘাটনকারী প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ব্যক্ত করেছেন। যদিও হাফেয আবু আলী আল-হুসাইন বিন আলী আল-নিসাবুরী—যিনি হাকীম আবু আব্দুল্লাহ বিন বাইয়ি-এর উস্তাদ ছিলেন—বলেছেন যে, মুসলিমের কিতাব অধিক বিশুদ্ধ; এবং মাগরিবের (মরক্কো ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল) কোনো কোনো উস্তাদও তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। তবে প্রথম অভিমতটিই সঠিক। ইমাম হাফেয ও ফকীহ আবু বকর আল-ইসমাঈলী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে ইমাম বুখারীর কিতাবকে অগ্রগণ্য বলে সাব্যস্ত করেছেন। আমাদের কাছে ইমাম আবু আব্দুর রহমান আল-নাসায়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "এই সব কিতাবের মধ্যে বুখারীর কিতাবের চেয়ে উত্তম কোনো কিতাব নেই।" আমি (ইমাম নববী) বলছি: বুখারী যে মুসলিমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং হাদীস নির্মাণশৈলীতে যে তাঁর জ্ঞান অধিক—এই বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্যই হলো তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত প্রমাণ। তিনি তাঁর জ্ঞান থেকে সারনির্যাস চয়ন করেছেন এবং যা তিনি পছন্দ করেছেন তা এই কিতাবে সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। এর পরিমার্জন ও নির্বাচনের কাজে তিনি দীর্ঘ ষোলো বছর ব্যয় করেছেন এবং হাজার হাজার সহীহ হাদীস থেকে এটি সংকলন করেছেন। আমি সহীহ বুখারীর শরহের (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) শুরুতে এর সমস্ত প্রমাণাদি বিস্তারিত উল্লেখ করেছি। ইমাম বুখারীর কিতাব শ্রেষ্ঠ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, ইমাম মুসলিমের অভিমত ছিল—বরং তিনি তাঁর সহীহের শুরুতেই এ বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) নকল করেছেন যে—'মুয়ানআন' (যে হাদীসের বর্ণনাসূত্রে 'অমুক হতে বর্ণিত' শব্দ থাকে) হাদীস সরাসরি শ্রবণ করার হুকুমভুক্ত হবে যদি বর্ণনাকারী ও যার থেকে বর্ণিত হচ্ছে তারা একই যুগের হোন, যদিও তাঁদের সাক্ষাৎ প্রমাণিত না হয়। কিন্তু ইমাম বুখারী সাক্ষাতের প্রমাণ ছাড়া একে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা হিসেবে গ্রহণ করেন না। এই নীতিটি বুখারীর কিতাবকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে, যদিও আমরা ইমাম মুসলিমের ক্ষেত্রে তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই নীতির ওপর আমল করার কারণে কোনো ত্রুটির হুকুম দিচ্ছি না, কারণ তিনি সেখানে বহু বর্ণনাসূত্র একত্রিত করেছেন যাতে তাঁর অনুমোদিত এই শিথিলতার অবকাশ থাকে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। অবশ্য ইমাম মুসলিম একটি সুন্দর বৈশিষ্ট্যে অনন্য, আর তা হলো তাঁর কিতাবটি ব্যবহারের দিক থেকে অধিকতর সহজ। কারণ তিনি প্রতিটি হাদীসকে তার উপযুক্ত স্থানে রেখেছেন এবং সেখানে ওই হাদীসের তাঁর মনোনীত সকল বর্ণনাসূত্রকে একত্রিত করেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٥)
واختار ذكرها وأورد فيه أسانيده المتعددة وألفاظه المختلفة فيسهل على الطالب النظر في وجوهه واستثمارها ويحصل له الثقة بجميع ما أورده مسلم من طرقه بخلاف البخاري فانه يذكر تلك الوجوه المختلفة في أبواب متفرقة متباعدة وكثير منها يذكره في غير بابه الذي يسبق إلى الفهم انه اولى به وذلك لدقيقة يفهمها البخاري منه فيصعب على الطالب جمع طرقه وحصول الثقة بجميع ما ذكره البخاري من طرق هذا الحديث وقد رأيت جماعة من الحفاظ المتأخرين غلطوا في مثل هذا فنفوا رواية البخاري أحاديث هي موجودة في صحيحه في غير مظانها السابقة إلى الفهم والله اعلم ومما جاء في فضل صحيح مسلم ما بلغنا عن مكي بن عبدان احد حفاظ نيسابور أنه قال سمعت مسلم بن الحجاج رضي الله عنه يقول لو أن أهل الحديث يكتبون مائتي سنة الحديث فمدارهم على هذا المسند يعني صحيحه قال وسمعت مسلما يقول عرضت كتابي هذا على أبي زرعة الرازي فكل ما أشار أن له علة تركته وكل ما قال أنه صحيح وليس له علة خرجته وذكر غيره ما رواه الحافظ أبو بكر الخطيب البغدادي باسناده عن مسلم رحمه الله قال صنفت هذا المسند الصحيح من ثلاثمائة ألف حديث مسموعة

(

 

‌‌فصل)

قال الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَمْرِو بْنُ الصَّلَاحِ رحمه الله شرط مسلم رحمه الله تعالى في صحيحه أن يكون الحديث متصل الاسناد بنقل الثقة عن الثقة من أوله إلى منتهاه سالما من الشذوذ والعلة قال وهذا حد الصحيح فكل حديث اجتمعت فيه هذه الشروط فهو صحيح بلا خلاف بين أهل الحديث وما اختلفوا في صحته من الأحاديث فقد يكون سبب اختلافهم انتفاء شرط من هذه الشروط وبينهم خلاف في اشتراطه كما اذا كان بعض الرواة مستورا أو كان الحديث مرسلا وقد يكون سبب اختلافهم أنه هل اجتمعت فيه هذه الشروط أم انتفى بعضها وهذا هو الأغلب في ذلك كما اذا كان الحديث في رواته من اختلف في كونه من شرط الصحيح فاذا كان الحديث رواته كلهم ثقات غير أن فيهم أبا الزبير المكي مثلا أو سهيل بن أبي صالح أو العلاء بن عبد الرحمن أو حماد بن سلمة قالوا فيه هذا حديث صحيح على شرط مسلم وليس بصحيح على شرط البخاري لكون هؤلاء عند مسلم ممن اجتمعت فيهم الشروط المعتبرة ولم يثبت عند البخاري ذلك فيهم وكذا حال البخاري فيما خرجه من حديث عكرمة مولى بن عباس واسحاق بن محمد الفروي وعمرو بن مرزوق وغيرهم ممن احتج بهم البخاري ولم يحتج بهم مسلم قال
তিনি [ইমাম মুসলিম] হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা উল্লেখ করা এবং এতে বহুবিধ সনদ ও ভিন্ন ভিন্ন শব্দসম্ভার সন্নিবেশ করাকে পছন্দ করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীর জন্য এর বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা ও তা থেকে ফল আহরণ করা সহজ হয়। ইমাম মুসলিম তাঁর বর্ণিত বিভিন্ন সূত্রের (তরীক) মাধ্যমে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর ব্যাপারে শিক্ষার্থীর পূর্ণ আস্থা অর্জিত হয়। এটি ইমাম বুখারীর পদ্ধতির বিপরীত। কেননা, ইমাম বুখারী বর্ণনার এই বিভিন্ন দিকসমূহকে ভিন্ন ভিন্ন ও দূরবর্তী অধ্যায়গুলোতে উল্লেখ করেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি হাদিসটিকে এমন অধ্যায়ে উল্লেখ করেন যা সাধারণ বুঝ অনুযায়ী সেই হাদিসের জন্য উপযুক্ত স্থান নয়। এটি ইমাম বুখারীর কোনো সূক্ষ্ম ইলমী রহস্য অনুধাবনের কারণে হয়ে থাকে। যার ফলে শিক্ষার্থীর পক্ষে হাদিসের সকল সূত্র একত্রিত করা এবং ইমাম বুখারী কর্তৃক উল্লিখিত ওই হাদিসের সকল সূত্রের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমি পরবর্তী যুগের একদল হাফেজকে (হাদিস বিশারদ) এ বিষয়ে ভুল করতে দেখেছি। তাঁরা ইমাম বুখারীর বর্ণিত এমন কিছু হাদিস অস্বীকার করেছেন যা মূলত তাঁর সহীহ গ্রন্থেই বিদ্যমান, তবে সেগুলো সাধারণ ধারণাপ্রসূত স্থানে নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সহীহ মুসলিমের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আমাদের কাছে মাক্কী বিন আবদান থেকে এই সংবাদ পৌঁছেছে—যিনি নিশাপুরের অন্যতম হাফেজ ছিলেন—যে তিনি বলেন, আমি মুসলিম বিন হাজ্জাজকে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলতে শুনেছি, “যদি হাদিস বিশারদগণ দুইশ বছর ধরেও হাদিস লিখতে থাকেন, তবে তাঁদের নির্ভরতা এই মুসনাদ (অর্থাৎ সহীহ মুসলিম)-এর ওপরই থাকবে।” তিনি আরও বলেন, আমি ইমাম মুসলিমকে বলতে শুনেছি, “আমি আমার এই কিতাবটি আবু জুরআ আর-রাযীর সামনে পেশ করেছি। তিনি যে হাদিসটিতে ত্রুটি (ইল্লত) আছে বলে নির্দেশ করেছেন, আমি তা বর্জন করেছি। আর যে হাদিসটি তিনি সহীহ ও ত্রুটিমুক্ত বলেছেন, আমি তা সংকলন করেছি।” এছাড়া অন্যান্যরা হাফেজ আবু বকর খতীব আল-বাগদাদী থেকে তাঁর সনদে ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমি তিন লক্ষ শ্রবণকৃত হাদিস থেকে এই সহীহ মুসনাদটি সংকলন করেছি।”

(

 

‌‌পরিচ্ছেদ)

শেখ ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই শর্ত আরোপ করেছেন যে, হাদিসের সনদটি যেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারী কর্তৃক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) হয় এবং তা যেন কোনো প্রকার ব্যতিক্রমধর্মী বিচ্যুতি (শায) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লত) থেকে মুক্ত থাকে। তিনি বলেন, এটিই হলো সহীহ হাদিসের সংজ্ঞা। সুতরাং যে হাদিসে এই শর্তগুলো পূর্ণ হবে, হাদিস বিশারদদের নিকট তা কোনো দ্বিমত ছাড়াই সহীহ। আর যে সকল হাদিসের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে তাঁরা মতভেদ করেছেন, তাঁদের সেই মতভেদের কারণ হতে পারে এই শর্তগুলোর কোনো একটির অনুপস্থিতি। আবার কোনো শর্ত আরোপ করার ব্যাপারেও তাঁদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, যেমন কোনো বর্ণনাকারী যদি মাস্তুর (অপ্রকাশিত অবস্থা) হন অথবা হাদিসটি যদি মুরসাল হয়। আবার কখনও মতভেদের কারণ এটি হতে পারে যে, হাদিসটিতে এই শর্তগুলো পূর্ণ হয়েছে কি না, নাকি কোনো শর্তের অভাব রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটিই ঘটে থাকে। যেমন—হাদিসের কোনো বর্ণনাকারী এমন হওয়া যার ব্যাপারে সহীহ হাদিসের শর্ত পূরণ হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং যদি কোনো হাদিসের সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য হন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ আবুল জুবাইর আল-মাক্কী, সুহাইল ইবনে আবি সালিহ, আ’লা ইবনে আবদুর রহমান কিংবা হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থাকেন; তবে বিদ্বানগণ সেই হাদিস সম্পর্কে বলেন: এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, কিন্তু ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ নয়। কারণ, ইমাম মুসলিমের নিকট তাঁরা এমন স্তরের বর্ণনাকারী যাঁদের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্তসমূহ বিদ্যমান, কিন্তু ইমাম বুখারীর নিকট তাঁদের ব্যাপারে সেটি প্রমাণিত হয়নি। অনুরূপভাবে ইমাম বুখারীর বিষয়টিও, তিনি ইকরিমা (ইবনে আব্বাস রা.-এর মুক্তদাস), ইসহাক বিন মুহাম্মদ আল-ফারভি, আমর বিন মারযুক এবং তাঁদের ন্যায় অন্যান্য বর্ণনাকারীদের হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন, অথচ ইমাম মুসলিম তাঁদের দ্বারা দলিল গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন...
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٦)
الحاكم أبو عبد الله الحافظ النيسابوري في كتابه المدخل إلى معرفة المستدرك عدد من خرج لهم البخاري في الجامع الصحيح ولم يخرج لهم مسلم أربعمائة وأربعة وثلاثون شيخا وعدد من احتج بهم مسلم في المسند الصحيح ولم يحتج بهم البخاري في الجامع الصحيح ستمائة وخمسة وعشرون شيخا وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَأَمَّا قَوْلُ مُسْلِمٍ رحمه الله في صحيحه في باب صفة صلاة رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ كل شيء صحيح عندي وضعته ها هنا يعنى في كتابه هذا الصحيح وانما وضعت ها هنا ما أجمعوا عليه فمشكل فقد وضع فيه أحاديث كثيرة مختلفا في صحتها لكونها من حديث من ذكرناه ومن لم نذكره ممن اختلفوا في صحة حديثه قال الشيخ وجوابه من وجهين أحدهما أن مراده أنه لم يضع فيه الا ما وجد عنده فيه شروط الصحيح المجمع عليه وان لم يظهر اجتماعها في بعض الاحاديث عند بعضهم والثاني أنه أراد أنه لم يضع فيه ما اختلفت الثقات فيه في نفس الحديث متنا أو اسنادا ولم يرد ما كان اختلافهم انما هو في توثيق بعض رواته وهذا هو الظاهر من كلامه فانه ذكر ذلك لما سئل عن حديث أبي هريرة فاذا قرأ فأنصتوا هل هو صحيح فقال هو عندي صحيح فقيل لم لم تضعه ها هنا فأجاب بالكلام المذكور ومع هذا فقد اشتمل كتابه على أحاديث اختلفوا في اسنادها أو متنها لصحتها عنده وفي ذلك ذهول منه عن هذا الشرط أو سبب آخر وقد استدركت وعللت هذا آخر كلام الشيخ رحمه الله

(

 

‌‌فصل)

قال الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَمْرِو بْنُ الصَّلَاحِ رحمه الله ما وقع في صحيحي البخاري ومسلم مما صورته صورة المنقطع ليس ملتحقا بالمنقطع في خروجه من حيز الصحيح إلى حيز الضعيف ويسمى هذا النوع تعليقا سماه به الامام أبو الحسن الدارقطني ويذكره الحميدي في الجمع بين الصحيحين وكذا غيره من المغاربة وهو في كتاب البخاري كثير جدا وفي كتاب مسلم قليل جدا قال فاذا كان التعليق منهما بلفظ فيه جزم بأن من بينهما وبينه الانقطاع قد قال ذلك أو رواه واتصل الاسناد منه على الشرط مثل أن يقولا روى الزهري عن فلان ويسوقا اسناده الصحيح فحال الكتابين يوجب أن ذلك من الصحيح عندهما وكذلك ما روياه عمن ذكراه بلفظ مبهم لم يعرف به وأورداه أصلا محتجين به وذلك مثل حدثني بعض أصحابنا ونحو ذلك قال وذكر الحافظ أبو على الغساني الجياني أن الانقطاع وقع فيما رواه مسلم في كتابه في أربعة عشر موضعا أولها في التيمم قوله في حديث أبي الجهم وروى الليث بن سعد ثم قوله في كتاب
আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ আন-নিসাবুরি তাঁর 'আল-মাদখাল ইলা মা'রিফাতিল মুস্তাদরাক' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারি তাঁর 'আল-জামি' আস-সহিহ' গ্রন্থে এমন চারশত চৌত্রিশজন শায়খের (শিক্ষক) হাদিস বর্ণনা করেছেন যাদের থেকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেননি। আর ইমাম মুসলিম তাঁর 'আল-মুসনাদ আস-সহিহ' গ্রন্থে এমন ছয়শত পঁচিশজন শায়খের বর্ণনার মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যাদের থেকে ইমাম বুখারি দলিল পেশ করেননি। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ। ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাতের পদ্ধতি সংক্রান্ত অধ্যায়ে যা বলেছেন যে, "আমার নিকট সহিহ হিসেবে গণ্য এমন সবকিছু আমি এখানে (অর্থাৎ তাঁর এই সহিহ গ্রন্থে) সংকলন করিনি, বরং এখানে কেবল তা-ই সংকলন করেছি যার ওপর তাঁরা (হাদিস বিশারদগণ) ঐক্যমত পোষণ করেছেন"—এই উক্তিটি বিশ্লেষণসাপেক্ষ। কারণ তিনি এতে এমন অনেক হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কেননা সেগুলো এমন সব রাবির (বর্ণনাকারী) বর্ণনা যাদের কথা আমরা উল্লেখ করেছি অথবা যাদের কথা উল্লেখ করিনি অথচ তাঁদের বর্ণনার বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। শায়খ (ইবনুস সালাহ) বলেছেন, এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, তাঁর উদ্দেশ্য হলো তিনি এতে কেবল সেই হাদিসগুলোই সংকলন করেছেন যেগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর নিকট সর্বসম্মত সহিহ হওয়ার শর্তাবলি বিদ্যমান ছিল, যদিও কোনো কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে সেই ঐকমত্য অন্যদের নিকট স্পষ্ট না-ও হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তাঁর উদ্দেশ্য হলো তিনি এতে সেই সব হাদিস সংকলন করেননি যেগুলোর মূল পাঠ (মাতন) বা সনদ নিয়ে নির্ভরযোগ্য রাবিদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; তিনি ঐ বিষয়টিকে বোঝাননি যেখানে রাবিদের নির্ভরযোগ্যতার (তাওসিক) ব্যাপারে কোনো মতভেদ রয়েছে। আর তাঁর কথা থেকে এটাই প্রকাশ পায়; কেননা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত একটি হাদিস—"যখন ইমাম কিরাত পড়েন তখন তোমরা নীরব থাকো"—এই হাদিসটি সম্পর্কে যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে এটি সহিহ কি না, তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন এটি সহিহ। অতঃপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তবে আপনি এটি এখানে (সহিহ মুসলিম গ্রন্থে) কেন সংকলন করেননি? তখন তিনি উক্ত উত্তরটি প্রদান করেছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁর গ্রন্থে এমন কিছু হাদিস স্থান পেয়েছে যেগুলোর সনদ বা মূল পাঠ (মাতন) নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যেহেতু সেগুলো তাঁর নিকট সহিহ ছিল। আর এমনটি ঘটার পেছনে হয়তো উক্ত শর্তের প্রতি তাঁর অসতর্কতা কাজ করেছে অথবা অন্য কোনো কারণ ছিল। আর সেগুলোর ওপর পর্যালোচনা (ইস্তিদরাক) করা হয়েছে এবং ত্রুটি (ইল্লাত) নির্দেশ করা হয়েছে। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।

(

 

‌‌পরিচ্ছেদ)

শায়খ ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম গ্রন্থে এমন কিছু বর্ণনা রয়েছে যেগুলোর বাহ্যিক রূপ বিচ্ছিন্ন বা সংযুক্তিহীন (মুনকাতি), তবে তা 'মুনকাতি'র অন্তর্ভুক্ত হয়ে সহিহর পর্যায় থেকে জইফ বা দুর্বল বর্ণনার পর্যায়ে নেমে যাবে না। এই প্রকারকে 'তালিক' (ঝুলন্ত বা সূত্রবিহীন বর্ণনা) বলা হয়। ইমাম আবুল হাসান আদ-দারাকুতনি একে এই নামে অভিহিত করেছেন এবং হুমাইদি তাঁর 'আল-জাম'ু বাইনাস সহিহাইন' গ্রন্থে এবং মাগরিব অঞ্চলের অন্যান্য আলেমগণও এর উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারির গ্রন্থে এর আধিক্য অনেক বেশি, তবে ইমাম মুসলিমের গ্রন্থে এটি খুবই সামান্য। তিনি বলেন: যদি তাঁদের উভয়ের বর্ণিত 'তালিক' বা সূত্রবিহীন বর্ণনাটি এমন শব্দে হয় যা দৃঢ়তা প্রকাশ করে (জজম)—যেমন যিনি বর্ণনা করেছেন এবং যাঁর থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তাঁদের মধ্যবর্তী বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও তাঁরা যদি নিশ্চিতভাবে বলেন যে, "অমুক বলেছেন" অথবা "অমুক বর্ণনা করেছেন", আর শর্ত অনুযায়ী সনদটি তাঁদের নিকট পর্যন্ত পৌঁছে থাকে—যেমন তাঁরা যদি বলেন: "যুহরি অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন" এবং একটি সহিহ সনদ উল্লেখ করেন; তবে দুই গ্রন্থের মর্যাদা ও গুরুত্ব দাবি করে যে তা তাঁদের নিকট সহিহ হিসেবে গণ্য। অনুরূপভাবে তাঁরা যদি এমন কোনো অস্পষ্ট রাবি (মুভহাম) থেকে বর্ণনা করেন যাঁর পরিচয় পরিষ্কারভাবে জানা যায় না, অথচ তাঁরা একে দলিল হিসেবে মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন—যেমন: "আমাদের কোনো কোনো সাথী আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন" এবং এই জাতীয় শব্দ—তবে তাও সহিহর অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি আরও বলেন: হাফিজ আবু আলী আল-গাসসানি আল-জাইয়ানি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুসলিম তাঁর গ্রন্থে চৌদ্দটি স্থানে বিচ্ছিন্ন সনদ (ইনকিতা) ব্যবহার করেছেন; যার প্রথমটি হলো তায়াম্মুম অধ্যায়ে আবু জাহম বর্ণিত হাদিসে—যেখানে বলা হয়েছে: "লাইস ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন..." অতঃপর...
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٧)
الصلاة فى باب الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حدثنا صاحب لنا عن إسماعيل بن زكريا عن الاعمش وهذا فى رواية أبى العلاء بن ماهان وسلمت رواة أبى أحمد الجلودى من هذا فقال فيه مسلم حدثنا محمد بن بكار قال حدثنا إسماعيل بن زكريا ثم فى باب السكوت بين التكبير والقراءة قوله وحدثت عن يحيى بن حسان ويونس المؤدب ثم قوله فى كتاب الجنائز فى حديث عائشة رضى الله عنها فِي خُرُوجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى البقيع ليلا وَحَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ حَجَّاجًا الْأَعْوَرَ وَاللَّفْظُ لَهُ قال حدثنا بن جريج وقوله فى باب الحوائج فى حديث عائشة رضى الله عنها حدثنى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِنَا قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بن أبى أويس وقوله في هذا الباب وروى اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ ربيعة وذكر حديث كعب بن مالك في تقاضي بن أبي حدرد وقوله في باب احتكار الطعام في حديث معمر بن عبد الله العدوي حدثني بعض أصحابنا عن عمرو بن عون وقوله فِي صِفَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحُدِّثْتُ عَنْ أَبِي أُسَامَةَ وَمِمَّنْ رَوَى ذَلِكَ عنه ابراهيم بن سعيد الجوهري قال حدثنا أبو اسامة وذكر أبو علي أنه رواه أبو أحمد الجلودي عن محمد بن المسيب الارغيابي عن ابراهيم بن سعيد قال الشيخ وريناه من غير طريق أحمد عن محمد بن المسيب ورواه غير بن المسيب عن ابراهيم الجوهري وسنورد ذلك في موضعه ان شاء الله تعالى وقوله في آخر الفضائل في حديث بن عُمَرَ رضي الله عنهما عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (أرأيتكم ليلتكم هذه) رواية مسلم اياه موصولا عن معمر عن الزهري عن سالم عن أبيه ثم قال حدثني عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي قال أخبرنا أبو اليمان قال أخبرنا شعيب ورواه الليث عن عبد الرحمن بن خالد بن مسافر كلاهما عن الزهري باسناد معمر كمثل حديثه وقول مسلم في آخر كتاب القدر في حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه (لتركبن سنن من قبلكم) حَدَّثَنِي عِدَّةٌ مِنْ أَصْحَابِنَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ أبي مريم وهذا قد وصله ابراهيم بن محمد بن سفيان عن محمد بن يحيى عن بن أبي أبي مريم قال الشيخ وانما أورده مسلم على وجه المتابعة والاستشهاد وقوله فيما سبق في الاستشهاد والمتابعة في حديث البراء بن عازب في الصلاة الوسطى بعد أن رواه موصولا ورواه الاشجعي عن سفيان الثوري إلى آخره وقوله أيضا في الرجم في المتابعة لما رواه موصولا من حديث أبي هريرة في الذي اعترف على نفسه بالزنى ورواه

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ পরিচ্ছেদে সালাত প্রসঙ্গে আমাদের একজন সঙ্গী আমাদের কাছে ইসমাঈল বিন যাকারিয়া থেকে, তিনি আ'মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন—আর এটি আবু আল-আলা বিন মাহানের বর্ণনায় রয়েছে। আবু আহমদ আল-জালুদীর বর্ণনাসমূহ এটি থেকে মুক্ত রয়েছে, তাই এতে ইমাম মুসলিম বলেছেন: মুহাম্মদ বিন বাক্কার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন ইসমাঈল বিন যাকারিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তাকবীর ও কিরাআতের মধ্যবর্তী নীরবতা পরিচ্ছেদে তাঁর বক্তব্য: "ইয়াহইয়া বিন হাসান এবং ইউনুস আল-মুয়াদ্দিব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে।" এরপর জানাজা অধ্যায়ে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রাতে বাকী’র দিকে গমনের বর্ণনায় তাঁর উক্তি: "আমার কাছে এমন একজন বর্ণনা করেছেন যিনি হাজ্জাজ আল-আওয়ার থেকে শুনেছেন, আর শব্দাবলি তাঁরই (হাজ্জাজের);" তিনি বলেছেন ইবনে জুরাইজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। এবং প্রয়োজন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসে তাঁর উক্তি: "আমাদের সঙ্গীদের মধ্য থেকে একাধিক ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন ইসমাঈল বিন আবু উওয়াইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।" এবং এই পরিচ্ছেদে তাঁর উক্তি: "লাইস বিন সাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জাফর বিন রাবী'আ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন," এবং তিনি ইবনে আবি হাদরাদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে কাব বিন মালিকের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এবং খাদ্য মজুদদারি পরিচ্ছেদে মা'মার বিন আব্দুল্লাহ আল-আদাবী বর্ণিত হাদিসে তাঁর উক্তি: "আমাদের কিছু সঙ্গী আমর বিন আউন থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।" এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় তাঁর উক্তি: "আবু উসামা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে, এবং তাঁর থেকে যাঁরা এটি বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে ইব্রাহিম বিন সাঈদ আল-জাওহারী অন্যতম, তিনি বলেছেন আবু উসামা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।" আবু আলী উল্লেখ করেছেন যে, আবু আহমদ আল-জালুদী এটি মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব আল-আরগিয়াবী থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। শায়খ বলেন: আমরা এটি আহমদের পথ (সূত্র) ছাড়া মুহাম্মদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছি, এবং ইবনে আল-মুসাইয়িব ছাড়া অন্যরাও এটি ইব্রাহিম আল-জাওহারী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা যথাস্থানে এটি বিস্তারিত উল্লেখ করব। এবং ফাযায়েল (মর্যাদা) অধ্যায়ের শেষে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাঁর উক্তি: "তোমরা কি তোমাদের এই রাতটি সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?" ইমাম মুসলিম এটি মা'মার, তিনি যুহরী, তিনি সালেম, তিনি তাঁর পিতা থেকে নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে (মউসুলান) বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আদ-দারিমি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবুল ইয়ামান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন শুআইব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আর লাইস এটি আব্দুর রহমান বিন খালিদ বিন মুসাফির থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই যুহরী থেকে মা'মারের সনদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এবং তাকদীর অধ্যায়ের শেষে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে ইমাম মুসলিমের উক্তি: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে," আমাদের একাধিক সঙ্গী সাঈদ বিন আবু মারইয়াম থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আর এটি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইবনে আবু মারইয়াম থেকে নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। শায়খ বলেন: ইমাম মুসলিম এটি কেবল সমর্থনমূলক (মুতাবায়াত) এবং সাক্ষ্যমূলক (ইশতিশহাদ) বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এবং ইতিপূর্বে মধ্যবর্তী সালাত (সালাতুল উস্তা) সম্পর্কে বারা বিন আযিবের হাদিসে সাক্ষ্য ও সমর্থনের ক্ষেত্রে তাঁর উক্তি, যা তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করার পর বলেছিলেন: "আশজায়ী সুফিয়ান সাওরী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন..." শেষ পর্যন্ত। এবং রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) পরিচ্ছেদে সমর্থনমূলক বর্ণনায় তাঁর উক্তি, যা তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি নিজের ব্যভিচারের কথা স্বীকার করেছিল, এবং তা বর্ণনা করেছেন...

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٨)
الليث أيضا عن عبد الرحمن بن خالد بن مسافر عن بن شهاب بهذا الاسناد وقوله في كتاب الامارة في المتابعة لما رواه متصلا من حديث عوف بن مالك (خيار أئمتكم الذين تحبونهم) ورواه مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ قال الشيخ وذكر أبو علي فيما رواه عندنا من كتابه في الرابع عشر حديث بن عمر (أرأيتكم ليلتكم هذه) المذكور في الفضائل وقد ذكره مرة أخرى فيسقط هذا من العدد ويسقط الحديث الثاني لكون الجلودي رواه عن مسلم موصولا وروايته هي المعتمدة المشهورة فهي اذا اثنا عشر لا أربعة عشر قال الشيخ وأخذ هذا عن أبي على أبو عبد الله المازري صاحب المعلم فأطلق أن هذا في الكتاب أحاديث مقطوعة في أربعة عشر موضعا وهذا يوهم خللا في ذلك وليس ذلك كذلك وليس شيء من هذا والحمد لله مخرجا لما وجد فيه من حيز الصحيح بل هي موصولة من جهات صحيحة لا سيما ما كان منها مذكورا على وجه المتابعة في نفس الكتاب وصلها فاكتفى بكون ذلك معروفا عند أهل الحديث كما انه روى عن جماعة من الضعفاء اعتمادا على كون ما رواه عنهم معروفا من رواية الثقات على ما سنرويه عنه فيما بعد ان شاء الله تعالى قال الشيخ أبو عمرو رحمه الله وهكذا الأمر في تعليقات البخاري بألفاظ جازمة مثبتة على الصفة التي ذكرناها كمثل ما قال فيه قال فلان أو روى فلان أو ذكر فلان أو نحو ذلك ولم يصب أبو محمد بن حزم الظاهري حيث جعل مثل ذلك انقطاعا قادحا في الصحة واستروح إلى ذلك في تقرير مذهبه الفاسد في اباحة الملاهي وزعمه انه لم يصح في تحريمها حديث مجيبا عن حديث أبي عامر أو أبى مالك الأشعري عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (ليكونن في أمتي أقوام يستحلون الحرير والخمر والمعازف) إلى آخر الحديث فزعم أنه وان أخرجه البخاري فهو غير صحيح لان البخاري قال فيه قال هشام بن عمار وساقه باسناده فهو منقطع فيما بين البخاري وهشام وهذا خطأ من بن حزم من وجوه أحدها أنه لا انقطاع في هذا أصلا من جهة أن البخارى لقى هشاما وسمع منه وقد قررنا فى كتابنا علوم الحديث أنه اذا تحقق اللقاء والسماع مع السلامة من التدليس حمل ما يرويه عنه على السماع بأى لفظ كان كما يحمل قول الصحابى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم على سماعه منه اذا لم يظهر خلافه وكذا غير قال من الالفاظ الثانى أن هذا الحديث بعينه معروف الاتصال بصريح لفظه من غير جهة البخارى الثالث أنه إن كان ذلك انقطاعا فمثل ذلك فى الكتابين غير ملحق بالانقطاع القادح لما عرف

আল-লায়সও আবদুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে মুসাফির থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে এই একই সনদে বর্ণনা করেছেন। আর 'কিতাবুল ইমারাহ'-এ মুতাবায়াত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) হিসেবে তাঁর উক্তিটি আওফ ইবনে মালিকের হাদীসের সাথে মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: (তোমাদের শ্রেষ্ঠ ইমাম বা নেতা তারাই, যাদের তোমরা ভালোবাসো)। এটি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ রাবিয়া ইবনে ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। শায়খ (ইবনুল সালাহ) বলেন: আবু আলী তাঁর কিতাবের চতুর্দশ অংশে আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন তাতে ইবনে উমরের হাদীসটি (তোমরা কি তোমাদের এই রাতটি দেখছো?) উল্লেখ করেছেন, যা ফাযায়েল (মর্যাদা) অধ্যায়ে বর্ণিত। তিনি এটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন, ফলে এটি গণনা থেকে বাদ যাবে। দ্বিতীয় হাদীসটিও বাদ যাবে কারণ আল-জুলুদী এটি ইমাম মুসলিমের সূত্রে মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণনাটিই নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ। অতএব, এগুলি সর্বমোট বারোটি, চৌদ্দটি নয়।

শায়খ বলেন: 'আল-মুআল্লিম' গ্রন্থের লেখক আবু আবদুল্লাহ আল-মাযিরী এটি আবু আলীর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। তিনি সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কিতাবটিতে চৌদ্দটি স্থানে মাকতু (বিচ্ছিন্ন) হাদীস রয়েছে। এটি সেখানে কোনো ত্রুটির বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। আল্লাহর প্রশংসা যে, এর কোনোটিই সহীহ হওয়ার গণ্ডি থেকে বিচ্যুত নয়। বরং এগুলি বিভিন্ন সহীহ সূত্রে মুত্তাসিল (সংযুক্ত), বিশেষ করে যেগুলি একই কিতাবে মুতাবায়াত হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে, তিনি সেগুলি মুত্তাসিল হিসেবেই এনেছেন। হাদীস বিশারদদের নিকট তা সুপরিচিত হওয়ায় তিনি এর ওপরই নির্ভর করেছেন। ঠিক যেভাবে তিনি একদল দুর্বল বর্ণনাকারীর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন এই আস্থার ওপর যে, তাদের বর্ণিত হাদীসগুলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) বর্ণনার মাধ্যমে সুপরিচিত, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করব।

শায়খ আবু আমর (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: ইমাম বুখারীর তালিকাত (সূত্রবিহীন বর্ণনা)-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম, যা আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি সেই দৃঢ়তাপূর্ণ শব্দের মাধ্যমে প্রমাণিত। যেমন তিনি বলেছেন: 'অমুক বলেছেন' বা 'অমুক বর্ণনা করেছেন' বা 'অমুক উল্লেখ করেছেন' অথবা এই জাতীয় শব্দ। আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাযম আল-জাহিরী সঠিক করেননি যখন তিনি এই জাতীয় বর্ণনাকে সহীহ হওয়ার পথে ক্ষতিকর ইনকিতা (সূত্রবিচ্ছিন্নতা) হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি বাদ্যযন্ত্র বৈধ করার স্বপক্ষে তাঁর ভ্রান্ত মতবাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদীস নেই। তিনি আবু আমির বা আবু মালিক আল-আশআরীর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীসটির (অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আসবে যারা রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে বৈধ মনে করবে...) উত্তরে এই দাবি করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন যে, যদিও ইমাম বুখারী এটি উদ্ধৃত করেছেন, তবুও এটি সহীহ নয়, কারণ বুখারী এখানে বলেছেন: 'হিশাম ইবনে আম্মার বলেছেন' এবং তিনি তা তাঁর সনদে পেশ করেছেন। ফলে বুখারী ও হিশামের মধ্যবর্তী সূত্রে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। ইবনে হাযমের এই দাবি কয়েকটি কারণে ভুল: প্রথমত, এখানে আদতে কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই কারণ ইমাম বুখারী হিশামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। আমরা আমাদের 'উলূমুল হাদীস' গ্রন্থে স্থির করেছি যে, যখন তাদলীস (বর্ণনাকারীর তথ্য গোপন করা) থেকে মুক্ত থেকে সাক্ষাৎ ও শ্রবণ সাব্যস্ত হয়, তখন বর্ণনাকারী যে শব্দেই বর্ণনা করুন না কেন, তা সরাসরি শ্রবণ হিসেবেই গণ্য হবে। যেমন সাহাবীর উক্তি 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন' সরাসরি শ্রবণের ওপর ভিত্তি করে ধরা হয় যদি না এর বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়। 'তিনি বলেছেন' (ক্বালা) শব্দ ছাড়া অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। দ্বিতীয়ত, এই হাদীসটি ইমাম বুখারীর সূত্র ছাড়াও অন্যান্য সূত্রে স্পষ্টভাবে মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) হিসেবে সুপরিচিত। তৃতীয়ত, যদি এটি বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা) হয়েও থাকে, তবুও 'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম)-এর এই জাতীয় বর্ণনাগুলো ক্ষতিকর বিচ্ছিন্নতা হিসেবে গণ্য হয় না, যা পূর্বেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ١٩)
من عادتهما وشرطهما وذكرهما ذلك فى كتاب موضوع لذكر الصحيح خاصة فلن يستجيرا فيه الجزم المذكور من غير ثبت وثبوت بخلاف الانقطاع أو الارسال الصادر من غيرهما هذا كله فى المعلق بلفظ الجزم أما اذا لم يكن ذلك منهما بلفظ جازم مثبت له عمن ذاكره عنه على الصفة التى تقدم ذكرها مثل أن يقولا روى عن فلان أو ذكر عن فلان أو في الباب عن فلان ونحو ذلك فليس ذلك في حكم التعليق الذي ذكرناه ولكن يستأنس بإيرادهما له وأما قول مسلم في خطبة كتابه وقد ذكر عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ (أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أن ننزل الناس منازلهم) فهذا بالنظر إلى أن لفظه ليس جازما لا يقتضي حكمه بصحته وبالنظر إلى أنه احتج به وأورده ايراد الاصول لا ايراد الشواهد يقتضى حكمه بصحته ومع ذلك فقد حكم الحاكم أبو عبد الله الحافظ في كتابه كتاب معرفة علوم الحديث بصحته وأخرجه أبو داود في سننه باسناده منفردا به وذكر أن الراوي له عن عائشة ميمون بن أبي شبيب ولم يدركها قال الشيخ وفيما قاله أبو داود نظر فانه كوفى متقدم قد أدرك المغيرة بن شعبة ومات المغيرة قبل عائشة وعند مسلم التعاصر مع امكان التلاقي كاف في ثبوت الادراك فلو ورد عن ميمون أنه قال لم ألق عائشة استقام لابي داود الجزم بعدم ادراكه وهيهات ذلك هذا آخر كلام الشيخ قلت وحديث عائشة هذا قد رواه البزار في مسنده وقال هذا الحديث لا يعلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَّا من هذا الوجه وقد روى عن عائشة من غير هذا الوجه موقوفا والله أعلم

(

 

‌‌فصل)

قَالَ الشَّيْخُ أَبُو عَمْرِو بْنُ الصَّلَاحِ رحمه الله جميع ما حكم مسلم رحمه الله بصحته فى هذا الكتاب فهو مقطوع بصحته والعلم النظرى حاصل بصحته فى نفس الأمر وهكذا ما حكم البخارى بصحته فى كتابه وذلك لان الأمة تلقت ذلك بالقبول سوى من لا يعتد بخلافه ووفاقه فى الاجماع قال الشيخ والذى نختاره أن تلقى الأمة للخبر المنحط عن درجة التواتر بالقبول يوجب العلم النظرى بصدقه خلافا لبعض محققى الاصوليين حيث نفى ذلك بناء على أنه لا يفيد فى حق كل منهم الا الظن وانما قبله لانه يجب عليه العمل بالظن والظن قد يخطىء قال الشيخ وهذا مندفع لان ظن من هو معصوم من الخطأ لا يخطىء والامة في اجماعها معصومة من الخطأ وقد قال امام الحرمين لو حلف انسان بطلاق امرأته أن ما في كتابي البخاري ومسلم مما حكما بصحته مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لما ألزمته الطلاق ولا حنثته لاجماع علماء المسلمين
তাদের অভ্যাস ও শর্ত এবং বিশেষ করে বিশুদ্ধ (সহিহ) হাদিস বর্ণনার জন্য সংকলিত গ্রন্থে এটি উল্লেখ করার কারণে, তাঁরা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা ব্যতীত কোনো বিষয়ে দৃঢ়তাপূর্ণ উক্তি (জজম) করার ঝুঁকি নেবেন না; যা অন্যদের পক্ষ থেকে কৃত সূত্রবিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা) বা অসম্পূর্ণ (ইরসাল) বর্ণনার চেয়ে ভিন্ন। এই সবটুকুই সেই মুআল্লাক (ঝুলন্ত) বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা দৃঢ়তাপূর্ণ শব্দে বর্ণিত হয়েছে। তবে যদি তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণিত ব্যক্তির বরাতে এমন কোনো দৃঢ়তাপূর্ণ শব্দে বর্ণিত না হয় যা উপরে বর্ণিত হয়েছে—যেমন তাঁরা যদি বলেন: ‘অমুক থেকে বর্ণিত হয়েছে’ বা ‘অমুক থেকে উল্লেখ করা হয়েছে’ অথবা ‘এই অধ্যায়ে অমুক থেকে বর্ণনা রয়েছে’ এবং এই জাতীয় শব্দাবলি—তবে তা আমাদের উল্লিখিত মুআল্লাকের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে তাঁদের বর্ণনার মাধ্যমে এর প্রতি সমর্থন ও ইতিবাচক ইঙ্গিত গ্রহণ করা যাবে। আর ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবের মুখবন্ধে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা মানুষকে তাদের মর্যাদা অনুযায়ী মূল্যায়ন করি)—এটির শব্দপ্রয়োগ দৃঢ়তাপূর্ণ না হওয়ায় তা এককভাবে তাঁর পক্ষ থেকে হাদিসটি সহিহ হওয়ার ফয়সালা দাবি করে না। কিন্তু যেহেতু তিনি এটিকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন এবং মূল ভিত্তি (উসুল) হিসেবে উল্লেখ করেছেন—পার্শ্ব-প্রমাণ (শাওয়াাহিদ) হিসেবে নয়—সেহেতু এটি তাঁর নিকট সহিহ হওয়ার ফয়সালাই দাবি করে। তা সত্ত্বেও, হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ তাঁর ‘মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস’ গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলে রায় দিয়েছেন। আর ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে নিজস্ব সনদে এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এর বর্ণনাকারী হলেন মাইমুন ইবনে আবি শাবিব, অথচ তিনি তাঁকে পাননি (সাক্ষাৎ করেননি)। শায়খ (ইবনে সালাহ) বলেন, আবু দাউদের এই মন্তব্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কেননা তিনি (মাইমুন) কুফার একজন অগ্রজ ব্যক্তি এবং তিনি মুগিরা ইবনে শুবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে পেয়েছেন, আর মুগিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন। ইমাম মুসলিমের নিকট সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকার পাশাপাশি সমসাময়িক হওয়াটাই সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। যদি মাইমুন থেকে এমন বর্ণনা পাওয়া যেত যেখানে তিনি বলেছেন ‘আমি আয়েশার সাথে সাক্ষাৎ করিনি’, তবেই আবু দাউদের পক্ষে তাঁর সাক্ষাৎ না হওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রকাশ করা সংগত হতো; কিন্তু বাস্তবে এমনটি পাওয়া অসম্ভব। এটি শায়খের বক্তব্যের শেষ অংশ। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর এই হাদিসটি ইমাম বাজ্জার তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই হাদিসটি শুধুমাত্র এই সূত্রেই জানা যায়।’ তবে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এটি অন্য সূত্রে মাওকুফ (সাহাবীর উক্তি) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

(

 

‌‌পরিচ্ছেদ)

শায়খ আবু আমর ইবনে সালাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই কিতাবে যে সকল হাদিসকে সহিহ বলে হুকুম দিয়েছেন, সেগুলো নিশ্চিতভাবেই সহিহ এবং বাস্তব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণমূলক জ্ঞান (ইলমে নাজারী) দ্বারা সেগুলোর বিশুদ্ধতা প্রমাণিত। ইমাম বুখারি তাঁর কিতাবে যেগুলোকে সহিহ বলেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এর কারণ হলো, মুসলিম উম্মাহ এগুলোকে কবুল করে নিয়েছে; শুধুমাত্র তাদের কথা ভিন্ন যাদের মতবিরোধ বা ঐক্য ইজমার (ঐকমত্যের) ক্ষেত্রে গণ্য নয়। শায়খ বলেন, আমরা যে মতটি পছন্দ করি তা হলো: মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) পর্যায়ের নিচের কোনো সংবাদকে যখন উম্মাহ কবুল করে নেয়, তখন তা উক্ত সংবাদের সত্যতার বিষয়ে পর্যবেক্ষণমূলক জ্ঞান (ইলমে নাজারী) প্রদান করা আবশ্যক করে। এটি কতিপয় দক্ষ উসুলবিদদের (মূলনীতি বিশারদ) মতের বিপরীত; যারা এটি অস্বীকার করেছেন এই যুক্তিতে যে, এটি প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কেবল প্রবল ধারণা (জন্ন) দেয়, আর তাঁরা এটি গ্রহণ করেছেন কেবল এজন্য যে প্রবল ধারণার ওপর আমল করা ওয়াজিব, অথচ প্রবল ধারণা ভুলও হতে পারে। শায়খ বলেন, এই যুক্তিটি খণ্ডনযোগ্য; কেননা যারা ভুলের উর্ধ্বে (মাসুম), তাঁদের প্রবল ধারণা ভুল হতে পারে না, আর উম্মত তাদের সামগ্রিক ঐক্যের (ইজমা) ক্ষেত্রে ভুলের উর্ধ্বে। ইমামুল হারামাইন বলেছেন: ‘যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার শপথ করে এই কথা বলে যে—বুখারি ও মুসলিম তাঁদের কিতাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী হিসেবে যেগুলোকে সহিহ বলে ফয়সালা দিয়েছেন তা নিশ্চিত সত্য—তবে আমি তার ওপর তালাক কার্যকর করব না এবং তাকে শপথ ভঙ্গকারীও সাব্যস্ত করব না; কারণ মুসলিম উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত।’
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
على صحتها قال الشيخ ولقائل أن يقول انه لا يحنث ولو لم يجمع المسلمون على صحتها للشك في الحنث فانه لو حلف بذلك في حديث ليست هذه صفته لم يحنث وان كان راويه فاسقا فعدم الحنث حاصل قبل الاجماع فلا يضاف إلى الاجماع قال الشيخ والجواب أن المضاف إلى الاجماع هو القطع بعدم الحنث ظاهرا وباطنا وأما عند الشك فعدم الحنث محكوم به ظاهرا مع احتمال وجوده باطنا فعلى هذا يحمل كلام امام الحرمين فهو اللائق بتحقيقه فاذا علم هذا فما أخذ على البخاري ومسلم وقدح فيه معتمد من الحفاظ فهو مستنثى مما ذكرناه لعدم الاجماع على تلقيه بالقبول وما ذلك الا في مواضع قليلة سننبة على ما وقع في هذا الكتاب منها ان شاء الله تعالى وهذا آخِرُ مَا ذَكَرَهُ الشَّيْخُ أَبُو عَمْرٍو رحمه الله هنا وقال في جزء له ما اتفق البخاري ومسلم على اخراجه فهو مقطوع بصدق مخبره ثابت يقينا لتلقى الأمة ذلك بالقبول وذلك يفيد العلم النظري وهو في افادة العلم كالمتواتر الا أن المتواتر يفيد العلم الضروري وتلقى الامة بالقبول يفيد العلم النظري وقد اتفقت الأمة على أن ما اتفق البخاري ومسلم على صحته فهو حق وصدق قال الشيخ في علوم الحديث وقد كنت أميل إلى أن ما اتفقنا عليه فهو مظنون وأحسبه مذهبا قويا وقد بان لي الآن أنه ليس كذلك وان الصواب أنه يفيد العلم وهذا الذي ذكره الشيخ في هذه المواضع خلاف ما قاله المحققون والاكثرون فانهم قالوا أحاديث الصحيحين التي ليست بمتواترة انما تفيد الظن فإنها آحاد والآحاد انما تفيد الظن على ما تقرر ولا فرق بين البخاري ومسلم وغيرهما في ذلك وتلقى الأمة بالقبول انما أفادنا وجوب العمل بما فيهما وهذا متفق عليه فان أخبار الآحاد التي في غيرهما يجب العمل بها اذا صحت أسانيدها ولا تفيد الا الظن فكذا الصحيحان وانما يفترق الصحيحان وغيرهما من الكتب في كون ما فيهما صحيحا لا يحتاج إلى النظر فيه بل يجب العمل به مطلقا وما كان في غيرهم لا يعمل به حتى ينظر وتوجد فيه شروط الصحيح ولا يلزم من اجماع الأمة على العمل بما فيهما اجماعهم على أنه مقطوع بأنه كَلَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ اشتد انكار بن برهان الامام على من قال بما قاله الشيخ وبالغ في تغليطه وأما ما قاله الشيخ رحمه الله في تأويل كلام امام الحرمين في عدم الحنث فهو بناء على ما اختاره الشيخ وأما على مذهب الاكثرين فيحتمل أنه أراد أنه لا يحنث ظاهرا ولا يستحب له التزام الحنث حتى تستحب له الرجعة كما لو حلف بمثل ذلك في غير الصحيحين فانا لا نحنثه لكن

এর বিশুদ্ধতার বিষয়ে শেখ বলেন, কোনো আপত্তিকারী বলতে পারেন যে, যদি মুসলমানগণ এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যবদ্ধ নাও হতেন, তবুও শপথ ভঙ্গ হবে না; কারণ শপথ ভঙ্গের বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো হাদিসের ওপর শপথ করে যা এই গুণের (বিশুদ্ধতার) অধিকারী নয়, তবে তার শপথ ভঙ্গ হবে না। এমনকি বর্ণনাকারী যদি ফাসেক (পাপাচারী) হয়, তবুও ঐকমত্যের (ইজমা) পূর্বেই শপথ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। সুতরাং এটি ঐকমত্যের সাথে সম্পৃক্ত নয়। শেখ উত্তর দিয়েছেন যে, ঐকমত্যের সাথে যা সম্পৃক্ত তা হলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকেই শপথ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া। আর সন্দেহের ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে শপথ ভঙ্গ না হওয়ার হুকুম দেওয়া হয়, যদিও অভ্যন্তরীণভাবে শপথ ভঙ্গের সম্ভাবনা থেকে যায়। ইমামুল হারামাইনের বক্তব্য এভাবেই ব্যাখ্যা করা সমীচীন এবং এটিই তার গবেষণালব্ধ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যখন এটি জানা গেল, তখন বুখারী ও মুসলিমের ওপর নির্ভরযোগ্য হাফেজগণের যে সকল সমালোচনা বা আপত্তি গৃহীত হয়েছে, তা আমাদের আলোচিত সাধারণ নিয়ম থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে; কারণ সেগুলোর ওপর উম্মতের গ্রহণযোগ্যতার ঐকমত্য (ইজমা) নেই। এমন স্থানের সংখ্যা খুবই নগণ্য, যা ইনশাআল্লাহ এই কিতাবে যথাস্থানে আমরা উল্লেখ করব।

এটিই শেখ আবু আমর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এখানে যা উল্লেখ করেছেন তার শেষ অংশ। তিনি তার একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় বলেছেন: বুখারী ও মুসলিম যে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন, তার সংবাদদাতার সত্যতা নিশ্চিত এবং তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত; কারণ উম্মত তা গ্রহণযোগ্যতার সাথে গ্রহণ করে নিয়েছে। এটি তাত্ত্বিক জ্ঞান (ইলমে নজরী) প্রদান করে। জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রে এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (মুতাওয়াতির) হাদিসের মতোই, তবে পার্থক্য হলো মুতাওয়াতির হাদিস আবশ্যিক জ্ঞান (ইলমে দরূরী) প্রদান করে, আর উম্মতের গ্রহণযোগ্যতা তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে। উম্মত এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, বুখারী ও মুসলিম যে হাদিসের বিশুদ্ধতার ওপর একমত হয়েছেন তা সত্য ও বাস্তব। শেখ তার ‘উলূমুল হাদীস’ গ্রন্থে বলেছেন: আমি আগে এই মতের দিকে ঝুঁকে ছিলাম যে, তাঁরা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তা প্রবল ধারণা প্রসূত (মাজনুন) এবং আমি এটিকে একটি শক্তিশালী মত মনে করতাম। কিন্তু এখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে বিষয়টি তেমন নয়, বরং সঠিক হলো এটি নিশ্চিত জ্ঞান (ইলম) প্রদান করে।

শেখ এই সকল স্থানে যা উল্লেখ করেছেন তা মুহাক্কিক (গবেষক) এবং সংখ্যাগুরু আলেমদের মতের পরিপন্থী। কেননা তাঁরা বলেন, সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর যে সকল হাদিস মুতাওয়াতির নয়, সেগুলো কেবল প্রবল ধারণা (জন্ন) প্রদান করে। কারণ সেগুলো হলো একক বর্ণনা (আহাদ), আর প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী একক বর্ণনা কেবল প্রবল ধারণা প্রদান করে। এই ক্ষেত্রে বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। উম্মতের নিকট তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার অর্থ হলো এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া, এবং এটি একটি সর্বসম্মত বিষয়। কারণ অন্যান্য কিতাবের একক বর্ণনাও যখন সনদ সহীহ হয়, তখন সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হয়, যদিও তা কেবল প্রবল ধারণা প্রদান করে। সহীহাইন এবং অন্যান্য কিতাবের মধ্যে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, সহীহাইনের হাদিসগুলো সহীহ হওয়ার কারণে তাতে পুনরায় পর্যালোচনার প্রয়োজন হয় না, বরং নিঃশর্তভাবে সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। কিন্তু অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রে পর্যালোচনা ছাড়া এবং সহীহ হওয়ার শর্তাবলি পাওয়া ছাড়া আমল করা হয় না। উম্মত এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে একমত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা এগুলো অকাট্যভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। ইমাম ইবনে বুরহান সেই ব্যক্তির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন যে শেখের মতো কথা বলেছেন এবং তার ভুল প্রমাণের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন।

আর শেখ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইমামুল হারামাইনের বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন—শপথ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে—তা শেখের নিজস্ব পছন্দের ওপর ভিত্তি করে। তবে অধিকাংশ আলেমের মাযহাব অনুযায়ী সম্ভবত তার উদ্দেশ্য ছিল যে, বাহ্যিকভাবে তার শপথ ভঙ্গ হবে না এবং তার জন্য শপথ ভঙ্গজনিত কাফফারা বা দায়বদ্ধতা পালন করা আবশ্যক নয় যাতে করে তার ফিরে আসা মুস্তাহাব হয়, যেমনটি সহীহাইন ব্যতীত অন্য কোনো হাদিসের ওপর শপথ করলে আমরা তাকে শপথ ভঙ্গকারী বলি না, কিন্তু...

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢١)
تستحب له الرجعة احتياطا لاحتمال الحنث وهو ظاهر وأما الصحيحان فاحتمال الحنث فيهما في غاية من الضعف فلا تستحب له المراجعة لضعف احتمال موجبها والله أعلم

(

 

‌‌فصل)

قال الشيخ أبو عمرو رحمه الله روينا عن أبي قريش الحافظ قال كنت عند أبي زرعة الرازي فجاء مسلم بن الحجاج فسلم عليه وجلس ساعة وتذاكرا فلما قام قلت له هذا جمع أربعة آلاف حديث في الصحيح قال أبو زرعة فلمن ترك الباقي قال الشيخ أراد أن كتابه هذا أربعة آلاف حديث أصول دون المكررات وكذا كتاب البخاري ذكر أنه أربعة آلاف حديث باسقاط المكرر وبالمكرر سبعة آلاف ومائتان وخمسة وسبعون حديثا ثم ان مسلما رحمه الله رتب كتابه على أبواب فهو مبوب في الحقيقة ولكنه لم يذكر تراجم الابواب فيه لئلا يزداد بها حجم الكتاب أو لغير ذلك قلت وقد ترجم جماعة أبوابه بتراجم بعضها جيد وبعضها ليس بجيد إما لقصور في عبارة الترجمة واما لركاكة لفظها واما لغير ذلك وانا ان شاء الله أحرص على التعبير عنها بعبارات تلييق بها في مواطنها والله أعلم فصل سلك مسلم رحمه الله في صحيحه طرقا بالغة في الاحتياط والاتقان والورع والمعرفة وذلك مصرح بكمال ورعة وتمام معرفته وغزارة علومه وشدة تحقيقه بحفظه وتقعدده في هذا الشأن وتمكنه من أنواع معارفه وتبريزه في صناعته وعلو محله في التمييز بين دقائق علومه لا يهتدي اليها الا أفراد في الاعصار فرحمه الله ورضى عنه وأنا أذكره أحرفا من أمثلة ذلك تنبيها بها على ماسواها اذ لا يعرف حقيقة حاله الا من أحسن النظر في كتابه مع كمال أهليته ومعرفته بأنواع العلوم التي يفتقر اليها صاحب هذه الصناعة كالفقه والأصولين والعربية وأسماء الرجال ودقائق علم الاسانيد والتاريخ ومعاشرة أهل هذه الصنعة ومباحثتهم ومع حسن الفكر ونباهة الذهن ومداومة الاشتغال به وغير ذلك من الادوات التي يفتقر اليها فمن تحري مسلم رحمه الله اعتناؤه بالتمييز بين حدثنا وأخبرنا وتقييده ذلك على مشايخه وفي روايته وكان من مذهبه رحمه الله الفرق بينهما وأن حدثنا لا يجوز اطلاقه الا لما سمعه من لفظ الشيخ خاصة وأخبرنا لما قرئ على الشيخ وهذا الفرق هو مذهب الشافعي وأصحابه وجمهور أهل العلم بالمشرق قال محمد بن الحسن الجوهري المصري وهو مذهب أكثر أصحاب الحديث الذين لا يحصيهم أحد وروى هذا المذهب أيضا عن بن جريج والاوزاعي وبن وهب والنسائي وصار هو الشائع الغالب على أهل
শপথ ভঙ্গের (হানস) সম্ভাবনার কারণে সতর্কতা হিসেবে তার জন্য (পূর্বের বক্তব্যে) ফিরে আসা মুস্তাহাব এবং এটি সুস্পষ্ট। তবে সহীহাইনদ্বয়ের (বুখারী ও মুসলিম) ক্ষেত্রে শপথ ভঙ্গের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ, তাই এর কারণের সম্ভাবনা দুর্বল হওয়ায় তার জন্য পুনরায় ফিরে আসা মুস্তাহাব নয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

(

 

‌‌অনুচ্ছেদ)

শায়খ আবু আমর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমরা হাফেজ আবু কুরাইশ থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেন: আমি আবু জুরআ আর-রাজীর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আসলেন এবং তাঁকে সালাম দিয়ে কিছুক্ষণ বসলেন। তাঁরা পরস্পর ইলমি আলোচনা করলেন। যখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন, তখন আমি তাঁকে (আবু জুরআকে) বললাম, 'ইনি তাঁর সহীহ গ্রন্থে চার হাজার হাদীস একত্রিত করেছেন।' আবু জুরআ বললেন, 'তাহলে বাকিগুলো তিনি কার জন্য রাখলেন?' শায়খ (আবু আমর) বলেন, আবু জুরআর কথার উদ্দেশ্য ছিল যে, ইমাম মুসলিমের এই কিতাবটি পুনরাবৃত্তি (তাকরার) বাদ দিলে মূল পাঠ হিসেবে চার হাজার হাদীস। অনুরূপভাবে ইমাম বুখারীর কিতাব সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেটি পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে চার হাজার হাদীস, আর পুনরাবৃত্তি সহ সাত হাজার দুইশ পঁচাত্তরটি হাদীস। এরপর ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করেছেন, সুতরাং এটি প্রকৃতপক্ষে অধ্যায় বিন্যাসকৃত। কিন্তু তিনি এতে অধ্যায়ের শিরোনাম (তরাজুমুল আবওয়াব) উল্লেখ করেননি যাতে কিতাবটির কলেবর বৃদ্ধি না পায় অথবা অন্য কোনো কারণে। আমি (ইমাম নববী) বলছি, একদল আলিম এর অধ্যায়গুলোর শিরোনাম দিয়েছেন, যার কিছু অংশ চমৎকার এবং কিছু অংশ তেমন নয়; হয়তো শিরোনামের অভিব্যক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে অথবা শব্দের অসংলগ্নতার জন্য কিংবা অন্য কোনো কারণে। আর আমি ইনশাআল্লাহ সেগুলোর উপযুক্ত স্থানে যথাযথ শব্দ দ্বারা তা প্রকাশ করার আপ্রাণ চেষ্টা করব। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। অনুচ্ছেদ: ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে সতর্কতা, নিপুণতা, তাকওয়া ও গভীর জ্ঞানের অত্যন্ত উচ্চমানের পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। এটি তাঁর পূর্ণ তাকওয়া, পরিপূর্ণ জ্ঞান, ইলমের প্রাচুর্য, গবেষণার গভীরতা, এই শাস্ত্রের মৌলিক বুৎপত্তি, এর বিভিন্ন ধরণের জ্ঞানে তাঁর সক্ষমতা এবং তাঁর শিল্পের শ্রেষ্ঠত্বকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। এছাড়াও ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর পার্থক্য করার ক্ষেত্রে তাঁর উচ্চমর্যাদাকে জাহির করে, যার দিশা যুগে যুগে কেবল হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তিই লাভ করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আমি এর কিছু নমুনা ও উদাহরণ উল্লেখ করব যাতে অন্য বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়। কারণ, যে ব্যক্তি এই শিল্পের পারদর্শী তথা ফিকহ, উসুল (উসুলে ফিকহ ও উসুলে দ্বীন), আরবি ভাষা, রাবীদের নাম, সনদের সূক্ষ্ম ইলম ও ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন এবং এই শিল্পের পণ্ডিতদের সান্নিধ্য ও তাঁদের সাথে আলোচনা করেন, সেইসাথে সুন্দর চিন্তাশক্তি, তীক্ষ্ণ মেধা ও নিরন্তর সাধনার ন্যায় প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর অধিকারী হন, কেবল তিনিই তাঁর (ইমাম মুসলিমের) প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন। ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর সতর্কতার অন্যতম দিক হলো, তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণের সময় এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (হাদ্দাসানা) এবং 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (আখবারানা)-এর মধ্যে পার্থক্য করার প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া। তাঁর মাযহাব বা মত ছিল এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করা। তাঁর মতে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (হাদ্দাসানা) শব্দটি কেবল তখনই ব্যবহার করা জায়েয যখন সরাসরি শায়খের মুখ থেকে শব্দগুলো শোনা হয়, আর 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (আখবারানা) ব্যবহৃত হয় যখন শায়খের সামনে পাঠ করা হয়। এই পার্থক্যটিই ইমাম শাফিঈ, তাঁর অনুসারীগণ এবং প্রাচ্যের অধিকাংশ আলিমের মত। মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-জাওহারী আল-মিসরী বলেন, এটি অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মত যাদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়। এই মতটি ইবনে জুরাইজ, আওযাঈ, ইবনে ওয়াহাব এবং নাসাঈ থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং এটিই জনগণের মধ্যে বহুল প্রচলিত ও প্রভাবশালী মতে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الحديث وذهب جماعات إلى أنه يجوز أن تقول فيما قرئ على الشيخ حدثنا وأخبرنا وهو مذهب الزهري ومالك وسفيان بن عيينة ويحيى بن سعيد القطان وآخرين من المتقدمين وهو مذهب البخارى وجماعة من المحدثين وهو مذهب معظم الحجازيين والكوفيين وذهبت طائفة إلى أنه لا يجوز اطلاق حدثنا ولا أخبرنا فى القراءة وهو مذهب بن المبارك ويحيى بن يحيى وأحمد بن حنبل والمشهور عن النسائى والله أعلم ومن ذلك اعتناؤه بضبط اختلاف لفظ الرواة كقوله حدثنا فلان وفلان واللفظ لفلان قال أو قالا حدثنا فلان وكما اذا كان بينهما اختلاف فى حرف من متن الحديث أو صفة الراوى أونسبه أونحو ذلك فانه يبينه وربما كان بعضه لا يتغير به معنى وربما كان فى بعضه اختلاف فى المعنى ولكن كان خفيا لا يتفطن له الا ماهر فى العلوم التى ذكرتها فى أول الفصل مع اطلاع على دقائق الفقه ومذاهب الفقهاء وسترى فى هذا الشرح من فوائد ذلك ما تقر به عينيك ان شاء الله تعالى وينبغى أن ندقق النظر فى فهم غرض مسلم من ذلك ومن ذلك تحريه فى رواية صحيفة همام بن منبه عن أبى هريرة كقوله حدثنا محمد بن رافع قال حدثنا عبد الرزاق حدثنا معمر عن همام قال هذا ما حدثنا أبو هريرة عن مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم (إِذَا توضأ أحدكم فليستنشق) الحديث وذلك لان الصحائف والاجزاء والكتب المشتملة على أحاديث باسناد واحد اذا اقتصر عند سماعها على ذكر الاسناد فى أولها ولم يجدد عند كل حديث منها وأوراد انسان ممن سمع كذلك أن يفرد حديثنا منها غير الاول بالاسناد المذكور فى أولها فهل يجوز له ذلك قال وكيع بن الجراح ويحيى بن معين وأبو بكر الاسماعيلى الشافعى الامام فى الحديث والفقه والأصول يجوز ذلك وهذا مذهب الاكثرين من العلماء لأن الجميع معطوف على الاول فالاسناد المذكور أولا في حكم المعاد في كل حديث وقال الاستاذ أبو إسحاق الاسفراينى الفقيه الشافعي الامام في علم الاصولين والفقه وغير ذلك لا يجوز ذلك فعلى هذا من سمع هكذا فطريقه أن يبين ذلك كما فعله مسلم فمسلم رحمه الله سلك هذا الطريق ورعا واحتياطا وتحريا واتقانا رضى الله عنه ومن ذلك تحريه في مثل قوله حدثنا عبد الله بن مسلمة حدثنا سليمان يعنى بن بلال عن يحيى وهو بن سعيد فلم يستجز رضى الله عنه أن يقول سليمان بن بلال عن يحيى بن سعيد لكون لم يقع في روايته منسوبا فلو قاله منسوبا لكان مخبرا عن شيخه أنه أخبره بنسبه
হাদিসশাস্ত্রে অনেক বিশেষজ্ঞের অভিমত এই যে, শাইখের নিকট পাঠ করা হয়েছে এমন বর্ণনার ক্ষেত্রে 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) এবং 'আখবারানা' (আমাদের অবহিত করেছেন) উভয় শব্দ ব্যবহার করা বৈধ। এটি যুহরী, মালিক, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং পূর্বসূরিদের অনেকের অভিমত। এটি বুখারী ও একদল মুহাদ্দিসেরও অভিমত এবং হিজায ও কুফার অধিকাংশ আলিমেরও মাযহাব। অপরদিকে একদল আলিমের মতে, শাইখের কাছে পড়ার ক্ষেত্রে 'হাদ্দাসানা' বা 'আখবারানা' কোনোটিই নিঃশর্তভাবে ব্যবহার করা বৈধ নয়। এটি ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আহমাদ ইবনে হাম্বল-এর অভিমত এবং এটিই নাসায়ীর নিকট থেকে প্রসিদ্ধ মত। আল্লাহই সম্যক অবগত। ইমাম মুসলিমের একটি বৈশিষ্ট্য হলো বর্ণনাকারীদের শব্দের পার্থক্যের প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ। যেমন তাঁর উক্তি: 'আমাদের নিকট অমুক ও অমুক বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ অমুকের, তিনি বলেন বা তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট অমুক বর্ণনা করেছেন।' একইভাবে যদি বর্ণনাকারীদের মধ্যে হাদিসের মূল পাঠের (মাতন) কোনো অক্ষরে বা বর্ণনাকারীর গুণাগুণে অথবা তাঁর বংশপরিচয়ে কিংবা অনুরূপ বিষয়ে কোনো পার্থক্য থাকে, তবে তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। কখনও কখনও এই পার্থক্যের কারণে অর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না, আবার কখনও অর্থের পরিবর্তন হয়। কিন্তু তা অত্যন্ত সূক্ষ্ম যা এই পরিচ্ছেদের শুরুতে আমার উল্লিখিত ইলমসমূহে দক্ষ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না, যার পাশাপাশি ফিকহশাস্ত্রের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াবলি এবং ফকীহগণের মাযহাব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা আবশ্যক। ইনশাআল্লাহ তাআলা, আপনি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর এমন সব উপকারিতা দেখতে পাবেন যা আপনার চক্ষু শীতল করবে। ইমাম মুসলিমের এই সূক্ষ্মতা অবলম্বনের উদ্দেশ্য অনুধাবনে আমাদের গভীর দৃষ্টি দেওয়া উচিত। তাঁর সতর্কতার আরেকটি উদাহরণ হলো হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ-এর সহীফা (একই সনদে বর্ণিত হাদিস সংকলন) থেকে আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সূক্ষ্মতা। যেমন তিনি বলেন: 'মুহাম্মদ ইবনে রাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের নিকট হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটিই সেই হাদিস যা আবু হুরায়রা (রাযি.) আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।' এরপর তিনি সেখান থেকে কিছু হাদিস উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: '(যখন তোমাদের কেউ ওজু করে, তখন সে যেন নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে)।'—হাদিসটি। এর কারণ হলো, যখন বিভিন্ন সহীফা, ক্ষুদ্র সংকলন বা কিতাবসমূহ একই সনদে (ইসনাদ) একাধিক হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং শ্রবণের সময় কেবল শুরুতে সনদটি উল্লেখ করা হয় এবং প্রতিটি হাদিসের সাথে তা পুনরায় বলা হয় না, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি এভাবে হাদিসগুলো শুনেছে সে যদি প্রথম হাদিস ছাড়া অন্য কোনো হাদিসকে এককভাবে সেই শুরুতে বর্ণিত সনদে বর্ণনা করতে চায়, তবে তা কি তার জন্য বৈধ হবে? ওকী' ইবনুল জাররাহ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং হাদিস, ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রের ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলী আশ-শাফিয়ী বলেন, এটি বৈধ। এটিই অধিকাংশ আলিমের অভিমত। কারণ পরবর্তী সকল হাদিস প্রথমটির সাথে সংযুক্ত, ফলে শুরুতে উল্লিখিত সনদটি প্রতিটি হাদিসের সাথেই পুনরাবৃত্ত হওয়ার হুকুমে থাকে। কিন্তু উসুল, ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্রের ইমাম উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী আশ-শাফিয়ী বলেন, এটি বৈধ নয়। সুতরাং এই মতানুসারে, যে ব্যক্তি এভাবে হাদিস শুনেছে তাকে ইমাম মুসলিমের মতো বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে। ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) পরহেযগারী, সতর্কতা, সূক্ষ্মতা এবং সুদৃঢ়তার কারণে এই পথ অনুসরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন। তাঁর সতর্কতার আরও একটি উদাহরণ হলো তাঁর এই উক্তি: 'আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান বর্ণনা করেছেন - অর্থাৎ ইবনে বিলাল, তিনি ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন - আর তিনি হলেন ইবনে সাঈদ।' তিনি (রাযি.) সরাসরি 'সুলাইমান ইবনে বিলাল' ও 'ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ' বলা বৈধ মনে করেননি, কারণ তাঁর মূল বর্ণনায় তাঁদের বংশপরিচয় সরাসরি উল্লিখিত ছিল না। যদি তিনি তাঁদেরকে বংশপরিচয়সহ উল্লেখ করতেন, তবে তা হতো এমন এক বিষয়ের সংবাদ দেওয়া যা তাঁর শাইখ তাঁকে সেই পরিচয়ে প্রদান করেননি।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ولم يخبره وسأذكره هذا بعد هذا في

 

‌‌فصل مختص به ان شاء الله تعالى ومن ذلك احتياطه في تلخيص الطرق وتحول الاسانيد مع ايجاز العبارة وكمال حسنها ومن ذلك حسن ترتيبه وترصيفه الأحاديث على نسق يقتضيه تحقيقه وكمال معرفته بمواقع الخطاب ودقائق العلم وأصول القواعد وخفيات علم الاسانيد ومراتب الرواة وغير ذلك

(فصل)

ذكر مسلم رحمه الله في أول مقدمة صحيحه أنه يقسم الأحاديث ثلاثة أقسام الاول ما رواه الحفاظ المتقنون والثاني ما رواه المستورون المتوسطون في الحفظ والاتقان والثالث ما رواه الضعفاء والمتركون وأنه اذا فرع من القسم الاول أتبعه الثاني وأما الثالث فلا يعرج عليه فاختلف العلماء في مراده بهذا التقسيم فقال الامامان الحافظان أبو عبد الله الحاكم وصاحبه أبو بكر البيهقي رحمهما الله أن المنية اخترمت مسلما رحمه الله قبل اخراج القسم الثاني وانه إنما ذكر القسم الاول قال القاضي عياض رحمه الله وهذا مما قبله الشيوخ والناس من الحاكم أبي عبد الله وتابعوه عليه قال القاضي وليس الأمر على ذلك لمن حقق نظره ولم يتقيد بالتقليد فانك اذا نظرت تقسيم مسلم في كتابة الحديث على ثلاث طبقات من الناس كما قال فذكر أن القسم الاول حديث الحفاظ وأنه اذا انقضى هذا أتبعه بأحاديث من لم يوصف بالحذق والاتقان مع كونهم من أهل الستر والصدق وتعاطى العلم ثم أشار إلى ترك حديث من أجمع العلماء أو اتفق الاكثر منهم على تهمته ونفى من اتهمه بعضهم وصححه بعضهم فلم يذكره هنا ووجدته ذكر في أبواب كتابه حديث الطبقتين الاوليين وأتى بأسانيد الثانية منهما على طريق الاتباع للاولى والاستشهاد أو حيث لم يجد في الباب الأول شيئا وذكر أقواما تكلم قوم فيهم وزكاهم آخرون وخرج حديثهم ممن ضعف أو اتهم ببدعة وكذلك فعل البخارى فعندى أنه أتى بطبقاته الثلاث في كتابه على ما ذكر ورتب في كتابه وبينه في تقسيمه وطرح الرابعة كما نص عليه فالحاكم تأول أنه إنما أراد أن يفرد لكل طبقة كتابا ويأتى بأحاديها خاصة مفردة وليس ذلك مراده بل انما أراد بما ظهر من تأليفه وبان من غرضه أن يجمع ذلك في الأبواب ويأتى بأحاديث الطبقتين فيبدأ بالاولى ثم يأتى بالثانية على طريق الاستشهاد والاتباع حتى استوفى جميع الاقسام الثلاثة ويحتمل أن يكون أراد بالطبقات الثلاث الحفاظ ثم الذين يلونهم والثالثة هي التي طرحها وكذلك علل الحديث التي ذكر ووعد أنه يأتي بها قد جاء بها في مواضعها من
এবং তিনি তাকে এটি জানাননি, আর আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে এর জন্য নির্ধারিত একটি

 

‌‌অনুচ্ছেদে এটি আলোচনা করব। এর অন্তর্ভুক্ত হলো বর্ণনার পথসমূহ (তুরুক) সংক্ষেপকরণ এবং সনদের রূপান্তরের (তাহউইল) ক্ষেত্রে তাঁর সতর্কতা, যার সাথে যুক্ত হয়েছে সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি এবং এর চরম শৈল্পিকতা। আরও অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর চমৎকার বিন্যাস এবং হাদীসসমূহকে এমন এক পদ্ধতিতে সুসজ্জিত করা যা তাঁর গভীর গবেষণা, সম্বোধনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান, জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়াবলী, মূলনীতিসমূহ, সনদের ইলমের গূঢ় রহস্য এবং বর্ণনাকারীদের স্তর বিন্যাসসহ অন্যান্য বিষয়ের দাবি পূরণ করে।

(অনুচ্ছেদ)

ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থের ভূমিকার শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাদীসসমূহকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথম প্রকার হলো সেইসব হাদীস যা সুদক্ষ হাফেজগণ (স্মৃতিশক্তিতে অত্যন্ত মজবুত বর্ণনাকারী) বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় প্রকার হলো যা এমন সব বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যারা 'মাস্তুর' (যাদের বাহ্যিক অবস্থা ভালো হলেও অভ্যন্তরীণ দক্ষতা অজ্ঞাত) এবং মুখস্থ ও দৃঢ়তার দিক থেকে মধ্যম পর্যায়ের। আর তৃতীয় প্রকার হলো দুর্বল ও বর্জনীয় বর্ণনাকারীদের বর্ণিত হাদীস। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন প্রথম প্রকারের কাজ শেষ করবেন, তখন দ্বিতীয় প্রকারের হাদীস আনবেন; আর তৃতীয় প্রকারের দিকে তিনি মোটেই ভ্রুক্ষেপ করবেন না। এই বিভাজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। দুই ইমাম ও হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এবং তাঁর সাথী আবু বকর আল-বাইহাকী (রহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন যে, দ্বিতীয় প্রকারের হাদীসসমূহ সংকলনের পূর্বেই ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি কেবল প্রথম প্রকারটিই সংকলন করেছেন। কাজী আয়াজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটি এমন একটি বিষয় যা শিক্ষকগণ এবং সাধারণ মানুষ হাকিম আবু আব্দুল্লাহর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছেন। কাজী আয়াজ আরও বলেন: যারা সূক্ষ্মভাবে বিষয়টির ওপর দৃষ্টিপাত করবেন এবং কেবল অন্ধ অনুকরণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, তাদের নিকট বিষয়টি তেমন নয়। কেননা আপনি যদি ইমাম মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী হাদীস সংকলনের ক্ষেত্রে তিন স্তরের মানুষের বিভাজনটি লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম প্রকার হলো হাফেজদের হাদীস। আর এটি শেষ হওয়ার পর তিনি সেইসব বর্ণনাকারীর হাদীস এর অনুগামী করবেন যাদের সূক্ষ্ম দক্ষতা ও পূর্ণ পারদর্শিতা নেই, তবে তারা সততা ও নিষ্ঠার অধিকারী এবং জ্ঞান অর্জনের সাথে সম্পৃক্ত। এরপর তিনি সেই বর্ণনাকারীর হাদীস ত্যাগের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন অথবা তাদের অধিকাংশ একমত হয়েছেন। কিন্তু যাদের ব্যাপারে কেউ অভিযুক্ত করেছেন আবার কেউ নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তাদের তিনি এখানে বর্জন করেননি। আমি তাঁর গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ে প্রথম দুই স্তরের বর্ণনাকারীদের হাদীস উল্লিখিত পেয়েছি। তিনি দ্বিতীয় স্তরের সনদসমূহ এনেছেন প্রথম স্তরের অনুগামী (মুতাবায়াত) এবং সাক্ষী (শাওয়াহিদ) হিসেবে, অথবা এমন ক্ষেত্রে যেখানে তিনি প্রথম স্তরে কোনো হাদীস পাননি। তিনি এমন কিছু লোকের বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যাদের ব্যাপারে কেউ সমালোচনা করেছেন আবার কেউ তাদের প্রশংসা করেছেন। তিনি এমন ব্যক্তিদের হাদীস বর্ণনা করেছেন যারা দুর্বল সাব্যস্ত হয়েছেন অথবা বিদআতের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন; ইমাম বুখারীও অনুরূপ করেছেন। সুতরাং আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে উল্লিখিত তিনটি স্তরের বর্ণনাই নিয়ে এসেছেন এবং যেভাবে তিনি তাঁর বিভাজনে বর্ণনা করেছেন সেভাবেই বিন্যস্ত করেছেন। আর চতুর্থ স্তরকে তিনি বর্জন করেছেন যেমনটি তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। সুতরাং ইমাম হাকিম ব্যাখ্যা করেছেন যে, মুসলিম (রহ.) প্রতিটি স্তরের জন্য পৃথক গ্রন্থ সংকলন করতে এবং সেগুলোর হাদীস পৃথকভাবে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং তাঁর সংকলন ও লক্ষ্য থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো—তিনি এসব হাদীস অধ্যায়সমূহে একত্র করতে চেয়েছিলেন। তিনি দুই স্তরের হাদীসসমূহ নিয়ে এসেছেন, যেখানে প্রথমে প্রথম স্তর দিয়ে শুরু করেছেন এবং এরপর সাক্ষী ও অনুগামী বর্ণনার পদ্ধতিতে দ্বিতীয় স্তর নিয়ে এসেছেন, এভাবে তিনি তিনটি প্রকারই পূর্ণ করেছেন। আর এটিও সম্ভব যে, তিনটি স্তর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন—প্রথমত হাফেজগণ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী স্তরের, আর তৃতীয়টি হলো সেই স্তর যা তিনি বর্জন করেছেন। একইভাবে হাদীসের ত্রুটিসমূহ (ইল্লাল) যা তিনি উল্লেখ করেছিলেন এবং নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি গ্রন্থটির সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الأبواب من اختلافهم في الاسانيد كالارسال والاسناد والزيادة والنقص وذكر تصاحيف المصحفين وهذا يدل على استيفائه غرضه في تأليفه وادخاله في كتابه كلما وعد به قال القاضي رحمه الله وقد فاوضت في تأويلي هذا ورأيى فيه من يفهم هذا الباب فما رأيت منصفا الا صوبه وبان له ما ذكرت وهو ظاهر لمن تأمل الكتاب وطالع مجموع الأبواب ولا يعترض على هذا بما قاله بن سفيان صاحب مسلم أن مسلما أخرج ثلاثة كتب من المسندات أحدها هذا الذي قرأه على الناس والثاني يدخل فيه عكرمة وبن إسحاق صاحب المغازي وأمثالها والثالث يدخل فيه من الضعفاء فانك اذا تأملت ما ذكر بن سفيان لم يطابق الغرض الذي أشار إليه الحاكم مما ذكر مسلم في صدر كتابه فتأمله تجده كذلك إن شاء الله تعالى هَذَا آخِرُ كَلَامِ الْقَاضِي عِيَاضٍ رحمه الله وهذا الذي اختاره ظاهر جدا والله اعلم

(

 

‌‌فصل)

ألزم الامام الحافظ أبوالحسن على بن عمر الدارقطني رحمه الله وغيره البخارى ومسلما رضي الله عنهما اخراج احاديث تركا اخراجها مع أن أسانيدها أسانيد قد أخرجا لرواتها في صحيحهما بها وذكر الدارقطنى وغيره أن جماعة من الصحابة رضي الله عنهم رووا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ورويت أحاديثهم من وجوه صحاح لامطعن في ناقليها ولم يخرجا من أحاديثهم شيئا فيلزمهما اخراجها على مذهبيهما وذكر البيهقى أنهما اتفقا على أحاديث من صحيفة همام بن منبه وأن كل واحد منهما انفرد عن الآخر بأحاديث منها مع أن الاسناد واحد وصنف الدارقطنى وأبو ذر الهروى في هذا النوع الذي ألزموهما وهذا الالزام ليس بلازم في الحقيقة فانهما لم يلتزما استيعاب الصحيح بل صح عنهما تصريحهما بأنهما لم يستوعباه وانما قصدا جمع جمل من الصحيح كما يقصد المصنف في الفقه جمع جملة من مسائله لا أنه يحصر جميع مسائله لكنهما اذا كان الحديث الذي تركاه أو تركه أحدهما مع صحة اسناده في الظاهر أصلا في بابه ولم يخرجا له نظيرا ولا ما يقوم مقامه فالظاهر من حالها أنهما اطلعا فيه على علة ان كانا روياه ويحتمل أنهما تركاه نسيانا أو ايثارا لترك الاطالة أو رأيا أن غيره مما ذكراه يسد مسده أولغير ذلك والله أعلم فصل عاب عائبون مسلما بروايته في صحيحه عن جماعة من الضعفاء والمتوسطين الواقعين في الطبقة الثانية الذين ليسوا من شرط الصحيح ولا عيب عليه في ذلك بل جوابه من أوجه
সনদের বিভিন্নতা যেমন মুরসাল হওয়া, মুসনাদ হওয়া, অতিরিক্ত হওয়া, কমতি হওয়া এবং বর্ণনাকারীদের ভুল পাঠ (তাসহিফ) উল্লেখ করা সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো। এটি তাঁর কিতাব রচনার উদ্দেশ্য পূর্ণ করার প্রমাণ এবং তিনি কিতাবের শুরুতে যা যা ওয়াদা করেছিলেন তার সবটুকু এখানে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কাজী (আয়াজ) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি আমার এই ব্যাখ্যা ও অভিমত সম্পর্কে এই শাস্ত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করেছি এবং আমি এমন কোনো ইনসাফগার ব্যক্তিকে দেখিনি যে একে সঠিক বলে গণ্য করেনি। আর যে ব্যক্তি এই কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং অধ্যায়গুলো অধ্যয়ন করবে তাঁর নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর মুসলিমের ছাত্র ইবনে সুফিয়ান যা বলেছেন তা দিয়ে এর ওপর আপত্তি তোলা যাবে না যে, ইমাম মুসলিম তিনটি মুসনাদ কিতাব বের করেছেন; যার একটি হলো যা তিনি মানুষের সামনে পাঠ করেছেন, দ্বিতীয়টি যাতে ইকরিমা ও মাগাযী রচয়িতা ইবনে ইসহাক এবং তাঁদের সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীরা রয়েছেন, আর তৃতীয়টি যাতে দুর্বল বর্ণনাকারীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কারণ, আপনি যদি ইবনে সুফিয়ান যা উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন যে এটি ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবের শুরুতে যে উদ্দেশ্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন তাঁর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদি আপনি এ বিষয়ে চিন্তা করেন, তবে ইনশাআল্লাহ একে এমনই পাবেন। কাজী আয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য এখানেই শেষ। আর তিনি যা পছন্দ করেছেন তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(

 

‌‌পরিচ্ছেদ)

হাফেজ ইমাম আবুল হাসান আলী বিন উমর আদ-দারা কুতনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং অন্যান্যগণ ইমাম বুখারী ও মুসলিম রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ওপর এমন কিছু হাদীস অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক করেছেন যা তাঁরা বর্জন করেছেন, অথচ সেগুলোর সনদ এমন ছিল যার বর্ণনাকারীদের থেকে তাঁরা তাঁদের সহীহ কিতাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন। দারা কুতনী ও অন্যান্যগণ উল্লেখ করেছেন যে, সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একটি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের হাদীসগুলো এমন সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই, অথচ তাঁরা তাঁদের কিতাবে সেই হাদীসগুলো থেকে কোনো কিছুই অন্তর্ভুক্ত করেননি। তাই তাঁদের অনুসৃত নীতি অনুযায়ী সেগুলো উল্লেখ করা তাঁদের জন্য আবশ্যক ছিল। ইমাম বায়হাকী উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা দুজন হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ-এর সহীফার কিছু হাদীসের ওপর একমত হয়েছেন, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকেই একে অপরের থেকে ভিন্ন কিছু হাদীস এককভাবে বর্ণনা করেছেন, যদিও সনদ একই ছিল। দারা কুতনী এবং আবু যর আল-হারাভী এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যা তাঁরা ইমাম বুখারী ও মুসলিমের ওপর আবশ্যক মনে করেছিলেন। বস্তুত এই দাবিটি প্রকৃতপক্ষে সঠিক নয়, কারণ তাঁরা সমস্ত সহীহ হাদীস সংকলন করার দায়বদ্ধতা গ্রহণ করেননি। বরং তাঁদের থেকে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা সব সহীহ হাদীস সংকলন করেননি। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সহীহ হাদীসের একটি বড় অংশ একত্রিত করা, যেমন ফিকহ শাস্ত্রের কোনো গ্রন্থকার তাঁর গ্রন্থে ফিকহী মাসআলাসমূহের একটি বড় অংশ সংকলন করার সংকল্প করেন কিন্তু সব মাসআলা আয়ত্ত করার দাবি করেন না। তবে তাঁরা বা তাঁদের কেউ যখন এমন কোনো হাদীস বর্জন করেন যার সনদ আপাতদৃষ্টিতে সহীহ এবং তা ওই বিষয়ের মূল ভিত্তি, অথচ তাঁরা সেটির অনুরূপ বা তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করেননি—এমতাবস্থায় তাঁদের অবস্থা থেকে এটিই স্পষ্ট হয় যে, তাঁরা ওই হাদীসের কোনো ত্রুটি (ইল্লাত) সম্পর্কে অবগত ছিলেন যদি তাঁরা সেটি বর্ণনা করে থাকেন। অথবা হতে পারে যে, তাঁরা তা বিস্মৃতির কারণে ছেড়ে দিয়েছেন, কিংবা দীর্ঘসূত্রিতা এড়ানোর জন্য অথবা তাঁরা মনে করেছেন যে তাঁদের বর্ণিত অন্য হাদীসটিই এর অভাব পূরণ করে দেয়, অথবা অন্য কোনো কারণে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। পরিচ্ছেদ: কিছু সমালোচক ইমাম মুসলিমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থে এমন একদল দুর্বল ও মধ্যম সারির বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন যারা দ্বিতীয় স্তরের (তাবাকাহ আস-সানিয়াহ) অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁরা সহীহ কিতাবের শর্ত পূরণ করেন না। অথচ তাঁর জন্য এতে কোনো দোষ নেই, বরং এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ذكرها الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَمْرِو بْنُ الصَّلَاحِ رحمه الله أحدها أن يكون ذلك فيمن هو ضعيف عند غيره ثقة عنده ولا يقال الجرح مقدم على التعديل لان ذلك فيما اذا كان الجرح ثابتا مفسر السبب والا فلا يقبل الجرح اذا لم يكن كذا وقد قال الامام الحافظ أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي وغيره ما احتج البخارى ومسلم وأبو داود به من جماعة علم الطعن فيهم من غيرهم محمول على أنه لم يثبت الطعن المؤثر مفسر السبب الثاني أن يكون ذلك واقعا في المتابعات والشواهد لافي الأصول وذلك بأن يذكر الحديث أولا باسناد نظيف رجاله ثقات ويجعله أصلا ثم يتبعه باسناد آخر أو أسانيد فيها بعض الضعفاء على وجه التأكيد بالمتابعة أو لزيادة فيه تنبه على فائدة فيما قدمه وقد اعتذر الحاكم أبو عبد الله بالمتابعة والاستشهاد في اخراجه عن جماعة ليسوا من شرط الصحيح منهم مطر الوراق وبقية بن الوليد ومحمد بن إسحاق بن يسار وعبد الله بن عمر العمرى والنعمان بن راشد وأخرج مسلم عنهم في الشواهد في أشباه لهم كثيرين الثالث أن يكون ضعف الضعيف الذى احتج به طرأ بعد أخذه عنه باختلاط حدث عليه فهو غير قادح فيما رواه من قبل في زمن استقامته كما في أحمد بن عبد الرحمن بن وهب بن أخي عبد الله بن وهب فذكر الحاكم أبو عبد الله أنه اختلط بعد الخمسين ومائتين بعد خروج مسلم من مصر فهو في ذلك كسعيد بن أبي عروبة وعبد الرازق وغيرهما ممن اختلط آخرا ولم يمنع ذلك من صحة الاحتجاج في الصحيحين بما أخذ عنهم قبل ذلك الرابع أن يعلو بالشخص الضعيف اسناده وهو عنده من رواية الثقات نازل فيقتصر على العالى ولا يطول باضافة النازل إليه مكتفيا بمعرفه أهل الشأن في ذلك وهذا العذر قد رويناه عنه تنصيصا وهو خلاف حاله فيما رواه عن الثقات أولا ثم أتبعه بمن دونهم متابعة وكأن ذلك وقع منه على حسب حضور باعث النشاط وغيبته روينا عن سعيد بن عمرو البرذعى أنه حضر أبا زرعة الرازي وذكر صحيح مسلم وانكار أبي زرعة عليه روايته فيه عن اسباط بن نصر وقطن بن نسير وأحمد بن عيسى المصرى وأنه قال أيضا يطرق لاهل البدع علينا فيجدون السبيل بأن يقولوا اذا احتج عليهم بحديث ليس هذا في الصحيح قال سعيد بن عمرو فلما رجعت إلى نيسابور ذكرت لمسلم انكار أبي زرعة فقال لي مسلم انما قلت صحيح وانما أدخلت من حديث اسباط وقطن وأحمد ما قد رواه الثقات عن شيوخهم الا أنه ربما وقع إلى عنهم بارتفاع ويكون عندي من رواية أوثق منهم بنزول فأقتصر على ذلك
শেখ ইমাম আবু আমর ইবনুল সালাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এগুলো উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে প্রথমটি হলো, এমন একজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে হওয়া যিনি অন্যের নিকট দুর্বল কিন্তু তাঁর (ইমামের) নিকট নির্ভরযোগ্য। আর এমন ক্ষেত্রে ‘জারহ’ (ত্রুটি বর্ণনা) ‘তাদিল’ (নির্ভরযোগ্যতা প্রদান)-এর ওপর প্রধান্য পাবে—একথা বলা যাবে না; কারণ জারহ তখনই প্রাধান্য পায় যখন তা প্রমাণিত হয় এবং তার কারণ ব্যাখ্যা করা থাকে। অন্যথায়, কারণ ব্যাখ্যা করা না থাকলে জারহ গ্রহণযোগ্য হয় না। হাফেজ ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত খতিব বাগদাদী এবং অন্যান্যরা বলেছেন যে, ইমাম বুখারী, মুসলিম এবং আবু দাউদ এমন একদল বর্ণনাকারী থেকে দলিল গ্রহণ করেছেন যাঁদের ব্যাপারে অন্যের পক্ষ থেকে সমালোচনা রয়েছে। একে এভাবে গ্রহণ করা হবে যে, তাঁদের দৃষ্টিতে সেই সমালোচনা প্রমাণিত হয়নি অথবা সমালোচনার উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। দ্বিতীয় কারণ হলো, এটি ‘মুতাবায়াত’ (পারস্পরিক সমর্থনমূলক বর্ণনা) এবং ‘শাওয়াহিদ’ (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, ‘উসুল’ (মূল বর্ণনা) এর ক্ষেত্রে নয়। এর পদ্ধতি হলো, প্রথমে একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সনদের মাধ্যমে হাদীসটি উল্লেখ করে সেটিকে মূল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, এরপর অন্য কোনো সনদ বা একাধিক সনদ তার পেছনে নিয়ে আসা হয় যাতে কোনো কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী থাকতে পারেন। এটি করা হয় মুতাবায়াত হিসেবে সমর্থন জোগাতে অথবা হাদীসের এমন কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা উপকারিতার জন্য যা আগের বর্ণনায় ছিল না। হাকেম আবু আব্দুল্লাহ হাশিমী তাঁর সংকলনে এমন একদল বর্ণনাকারীর বর্ণনা মুতাবায়াত ও শাহিদ হিসেবে আনার পক্ষে ওজর পেশ করেছেন যারা সহীহ হাদীসের শর্তপূরণ করেন না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাতার আল-ওয়াররাক, বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ, মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার, আব্দুল্লাহ বিন ওমর আল-উমরী এবং নুমান বিন রাশিদ। ইমাম মুসলিমও তাঁদের অনুরূপ অনেক বর্ণনাকারীর হাদীস শাওয়াহিদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তৃতীয় কারণ হলো, যে দুর্বল বর্ণনাকারীর বর্ণনা তিনি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, তাঁর সেই দুর্বলতা তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণের পর বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম বা অন্য কোনো গোলযোগের (ইখতিলাত) কারণে সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং তাঁর সুস্থ ও সঠিক স্মৃতির সময়ে বর্ণিত হাদীসগুলোর ক্ষেত্রে এটি কোনো ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে না। যেমনটি আহমদ বিন আব্দুর রহমান বিন ওয়াহাব (যিনি আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবের ভ্রাতুষ্পুত্র)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। হাকেম আবু আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুসলিমের মিশর ত্যাগের পর ২৫০ হিজরীর পরে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল। সুতরাং তিনি সাঈদ বিন আবু আরুবাহ এবং আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখদের মতো, যাঁদের শেষ বয়সে স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল কিন্তু তা ইতিপূর্বে তাঁদের থেকে গৃহীত বর্ণনার ক্ষেত্রে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ দলিল হিসেবে গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। চতুর্থ কারণ হলো, একজন দুর্বল বর্ণনাকারীর মাধ্যমে তিনি উচ্চতর বা সংক্ষিপ্ত সনদ (উলুউ) লাভ করেন, অথচ সেই একই হাদীস তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে নিম্নতর বা দীর্ঘতর সনদে (নুযূল) বিদ্যমান থাকে। এমতাবস্থায় তিনি কেবল উচ্চতর সনদটির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেন এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের দীর্ঘ সনদটি আর যোগ করেন না, এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের জ্ঞানের ওপর আস্থা রেখে। এই ওজরটি আমরা তাঁর (ইমাম মুসলিম) নিজের বক্তব্য থেকেই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। তবে এটি তাঁর সেই অবস্থার বিপরীত যেখানে তিনি প্রথমে নির্ভরযোগ্যদের থেকে বর্ণনা করেন এবং পরে তাঁদের নিচে অন্যদের মুতাবায়াত হিসেবে উল্লেখ করেন। মনে হয় এটি তাঁর উৎসাহ বা মানসিক অবস্থার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। আমরা সাঈদ বিন আমর আল-বারদায়ি থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি আবু জুরআ আল-রাযীর নিকট উপস্থিত ছিলেন। তখন সহীহ মুসলিমের প্রসঙ্গ আসলো এবং আবু জুরআ তাতে আসবাত বিন নাসর, কাতান বিন নুসাইর এবং আহমদ বিন ঈসা আল-মিসরীর বর্ণনা গ্রহণের কারণে ইমাম মুসলিমের সমালোচনা করলেন। তিনি আরও বললেন যে, এটি বিদাতপন্থীদের জন্য পথ উন্মুক্ত করে দেয়, ফলে যখন কোনো হাদীসের মাধ্যমে তাদের বিপক্ষে দলিল দেওয়া হবে, তখন তারা বলার সুযোগ পাবে যে ‘এটি তো সহীহ গ্রন্থে নেই’। সাঈদ বিন আমর বলেন, যখন আমি নিশাপুরে ফিরে এলাম এবং ইমাম মুসলিমের কাছে আবু জুরআর সমালোচনার কথা উল্লেখ করলাম, তখন মুসলিম আমাকে বললেন: ‘আমি কেবল তা-ই বলেছি যা সহীহ। আর আমি আসবাত, কাতান এবং আহমদের হাদীস কেবল তখনই অন্তর্ভুক্ত করেছি যখন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীরাও তাঁদের শিক্ষকদের থেকে তা বর্ণনা করেছেন। তবে অনেক সময় এমন হয়েছে যে, তাঁদের মাধ্যমে আমি উচ্চতর সনদ লাভ করেছি, আর নির্ভরযোগ্যদের মাধ্যমে আমার কাছে সেই বর্ণনাটি নিম্নতর সনদে ছিল, তাই আমি সংক্ষিপ্ত সনদের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি।’
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وأصل الحديث معروف من رواة الثقات قال سعيد وقدم مسلم بعد ذلك الرى فبلغنى أنه خرج إلى أبى عبد الله محمد بن مسلم بن وارة فجفاه وعاتبه على هذا الكتاب وقال له نحوا مما قاله لى أبو زرعة ان هذا يطرق لاهل البدع فاعتذر مسلم وقال انما أخرجت هذا الكتاب وقلت هو صحاح ولم أقل ان ما لم أخرجه من الحديث فى هذا الكتاب فهو ضعيف وانما أخرجت هذا الحديث من الصحيح ليكون مجموعا عندى وعند من يكتبه عنى ولا يرتاب فى صحته فقبل عذره وحمده قال الشيخ وقد قدمنا عن مسلم أنه عرضت كتابى هذا على أبى زرعة الرازى فكل ما أشار أن له علة تركته وكل ما قال انه صحيح وليس له علة فهو هذا الذى أخرجته قال الشيخ فهذا مقام وعر وقد مهدته بواضح من القول لم أره مجتمعا فى مؤلف ولله الحمد قال وفيما ذكرته دليل على أن حكم لشخص بمجرد رواية مسلم عنه فى صحيحه بأنه من شرط الصحيح عند مسلم فقد غفل وأخطأ بل يتوقف ذلك على النظر فى أنه كيف روى عنه على ما بيناه من انقسام ذلك والله أعلم

(

 

‌‌فصل فى بيان جملة من الكتب المخرجة على صحيح مسلم)

فقد صنف جماعات من الحفاظ على صحيح مسلم كتبا وكان هؤلاء تأخروا عن مسلم وأدركواالاسانيد العالية وفيهم من أدرك بعض شيوخ مسلم فخرجوا أحايث مسلم فى مصنفاتهم المذكورة بأسانيدهم تلك قال الشيخ أبو عمرو رحمه الله فهذه الكتب المخرجة تلتحق بصحيح مسلم فى أن لها سمة الصحيح وان لم تلتحق به فى خصائصه كلها ويستفاد من مخرجاتهم ثلاث فوائد علو الاسناد وزيادة قوة الحديث بكثرة طرقه وزيادة ألفاظ صحيحة مفيدة ثم انهم لم يلتزموا موافقته فى اللفظ لكونهم يروونها بأسانيد أخر فيقع فى بعضها تفاوت فمن هذه الكتب المخرجة على صحيح مسلم كتاب العبد الصالح أبى جعفر أحمد بن أحمد بن حمدان النيسابورى الزاهد العابد ومنها المسند الصحيح لابى بكر محمد بن محمد بن رجا النيسابورى الحافظ وهو متقدم يشارك مسلما فى أكثر شيوخه ومنها مختصر المسند الصحيح المؤلف على كتاب مسلم للحافظ أبى عوانة يعقوب بن إسحاق الاسفراينى روى فيه عن يونس بن عبد الاعلى وغيره من شيوخ مسلم ومنها كتاب أبى حامد الشازكى الفقيه الشافعى الهروى يروى عن أبى يعلى الموصلى ومنها المسند الصحيح لأبى بكر محمد بن عبد الله الجوزقى النيسابورى الشافعى ومنها المسند المستخرج على كتاب
এবং হাদিসের মূল ভিত্তি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে সুপরিচিত। সাঈদ বলেন, পরবর্তীতে ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) ‘রায়’ নামক স্থানে আগমন করেন। আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারাহ-এর নিকট গেলে তিনি তাঁর প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করেন এবং এই কিতাব সংকলনের কারণে তাঁকে তিরস্কার করেন। তিনি তাঁকে আবু যুরআহ যা বলেছিলেন প্রায় অনুরূপ কথাই বললেন যে, "নিশ্চয়ই এটি বিদআতপন্থীদের জন্য (তর্কের) পথ উন্মুক্ত করে দেবে।" তখন ইমাম মুসলিম ওজর পেশ করে বললেন, "আমি তো কেবল এই কিতাবটি বের করেছি এবং বলেছি যে এগুলো সহিহ (বিশুদ্ধ); আমি এ কথা বলিনি যে, এই কিতাবে আমি যে হাদিসগুলো অন্তর্ভুক্ত করিনি সেগুলো দুর্বল। বরং আমি সহিহ হাদিসসমূহ থেকে এগুলো সংকলন করেছি যেন তা আমার নিকট এবং যারা আমার থেকে এগুলো লিখবেন তাদের নিকট সংরক্ষিত থাকে এবং এর বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে।" অতঃপর তিনি (ইবনে ওয়ারাহ) তাঁর ওজর কবুল করলেন এবং তাঁর প্রশংসা করলেন। শাইখ (ইবনে সালাহ) বলেন, আমরা ইমাম মুসলিম থেকে পূর্বেই বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছিলেন: "আমি আমার এই কিতাবটি আবু যুরআহ আল-রাযীর নিকট উপস্থাপন করেছি। তিনি যে হাদিসটি সম্পর্কেই ইঙ্গিত করেছেন যে তাতে সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) রয়েছে, আমি তা বর্জন করেছি। আর যে হাদিসটি সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে এটি সহিহ এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই, কেবল সেটিই আমি এতে অন্তর্ভুক্ত করেছি।" শাইখ বলেন, এটি একটি অত্যন্ত জটিল বিষয় যা আমি সুস্পষ্ট আলোচনার মাধ্যমে সহজবোধ্য করেছি, যা ইতিপূর্বে কোনো একক গ্রন্থে আমি একত্রে দেখিনি, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য। তিনি বলেন, আমি যা উল্লেখ করেছি তাতে এই বিষয়ের প্রমাণ রয়েছে যে, কেউ যদি কেবল ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে কারো থেকে বর্ণনা করেছেন বলেই সেই ব্যক্তিকে ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ হওয়ার মানদণ্ডভুক্ত বলে বিচার করে, তবে সে গাফেল বা অসতর্ক এবং সে ভুল করেছে। বরং তা এই পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল যে, সেই বর্ণনাকারীর থেকে ইমাম মুসলিম কীভাবে বর্ণনা করেছেন, যা আমরা বর্ণনাকারীদের প্রকারভেদ আলোচনার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(

 

‌‌(পরিচ্ছেদ: সহিহ মুসলিমের ওপর ভিত্তি করে রচিত মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের বিবরণ)

একদল হাফিজে হাদিস সহিহ মুসলিমের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কিতাব সংকলন করেছেন। তাঁরা ইমাম মুসলিমের পরবর্তী সময়ের ছিলেন এবং তাঁরা উচ্চতর সনদ (উচ্চ পর্যায়ের বর্ণনাক্রম) লাভ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ইমাম মুসলিমের কতিপয় উস্তাদকেও পেয়েছিলেন। ফলে তাঁরা ইমাম মুসলিমের বর্ণিত হাদিসগুলোই তাঁদের নিজস্ব সনদে উক্ত গ্রন্থসমূহে সংকলন করেছেন। শাইখ আবু আমর (ইবনে সালাহ) রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই মুস্তাখরাজ গ্রন্থগুলো সহিহ মুসলিমের মর্যাদা লাভ করে এই অর্থে যে এগুলোকেও সহিহ বা বিশুদ্ধ বলা যায়, যদিও তা সহিহ মুসলিমের সকল বৈশিষ্ট্যের সমতুল্য নয়। তাঁদের এই মুস্তাখরাজসমূহ থেকে তিনটি উপকার পাওয়া যায়: সনদের উচ্চতা (আলি সনদ), বহু সূত্রের কারণে হাদিসের শক্তি বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত বিশুদ্ধ ও ফলপ্রসূ শব্দাবলি লাভ। অধিকন্তু, তাঁরা মূল শব্দের হুবহু মিল রক্ষা করা আবশ্যক মনে করেননি, যেহেতু তাঁরা এগুলো ভিন্ন ভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দে কিছুটা তফাত দেখা যায়। সহিহ মুসলিমের ওপর রচিত এই মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে নেককার বান্দা আবু জাফর আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে হামদান আল-নায়সাবুরী আল-যাহিদ আল-আবিদের কিতাব। আরও রয়েছে হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রাজা আল-নায়সাবুরীর ‘আল-মুসনাদ আল-সহিহ’। তিনি ইমাম মুসলিমের সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী পর্যায়ের ছিলেন এবং ইমাম মুসলিমের অধিকাংশ উস্তাদের সাথে তিনি (হাদিস বর্ণনায়) শরিক ছিলেন। আরও রয়েছে হাফিজ আবু আওয়ানা ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-ইসফারায়িনী কর্তৃক ইমাম মুসলিমের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে রচিত ‘মুখতাসার আল-মুসনাদ আল-সহিহ’। এতে তিনি ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা এবং ইমাম মুসলিমের অন্যান্য উস্তাদদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আরও রয়েছে শাফিঈ ফকিহ হারাতের আবু হামিদ আল-শাযিকীর কিতাব, যিনি আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী থেকে বর্ণনা করেছেন। আরও রয়েছে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জাওযাকী আল-নায়সাবুরী আল-শাফিঈর ‘আল-মুসনাদ আল-সহিহ’। এবং আরও রয়েছে সেই মুসনাদ যা মুসলিমের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত...
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
مسلم للحافظ المصنف أبى نعيم أحمد بن عبد الله الاصبهانى ومنها المخرج على صحيح مسلم للامام أبى الوليد حسان بن محمد القرشى الفقيه الشافعى وغير ذلك والله أعلم

(

 

‌‌فصل)

قد استدرك جماعة على البخارى ومسلم أحاديث أخلا بشرطهما فيها ونزلت عن درجة ما التزماه وقد سبقت الاشارة إلى هذا وقد ألف الامام الحافظ أبو الحسن على بن عمر الدارقطنى فى بيان ذلك كتابه المسمى بالاستدراكات والتتبع وذلك فى مائتى حديث مما فى الكتابين ولابى مسعود الدمشقى أيضا عليهما استدراك ولابى على الغسانى الجيانى فى كتابه تقييد المهمل فى جزء العلل منه استدراك أكثره على الرواة عنهما وفيه ما يلزمهما وقد أجيب عن كل ذلك أو أكثره وستراه فى مواضعه ان شاء الله تعالى والله أعلم فصل في معرفة الحديث الصحيح وبيان الحسن والضعيف وأنواعها قال العلماء الحديث ثلاثة أقسام صحيح وحسن وضعيف ولكل قسم أنواع فأما الصحيح فهو ما اتصل سنده بالعدول الضابطين من غير شذوذ ولا علة فهذا متفق على أنه صحيح فان اختل بعض هذه الشروط ففيه خلاف وتفصيل نذكره ان شاء الله تعالى وقال الْإِمَامُ أَبُو سُلَيْمَانَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ابراهيم بن الخطاب الخطابى الفقيه الشافعى المتفنن الحديث عند أهله ثلاثة أقسام صحيح وحسن وسقيم فالصحيح ما اتصل سنده وعدلت نقلته والحسن ما عرف مخرجه واشتهر رجاله وعليه مدار أكثر الحديث وهو الذي يقبله أكثر العلماء وتستعمله عامة الفقهاء والسقيم على ثلاث طبقات شرها الموضوع ثم المقلوب ثم المجهول قال الحاكم أبو عبد الله النيسابورى في كتابه المدخل إلى كتاب الاكليل الصحيح من الحديث عشرة أقسام خمسة متفق عليها وخمسة مختلف فيها فالاول من المتفق عليه اختيار البخارى ومسلم وهو الدرجة الاولى من الصحيح وهو أن لا يذكر الا ما رواه صحابى مشهور عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم له راويان ثقتان فأكثر ثم يرويه عنه تابعى مشهور بالرواية عن الصحابة له أيضا روايان ثقتان فأكثر ثم يرويه عنه من تباع الاتباع الحافظ المتقن المشهور على ذلك الشرط ثم كذلك قال الحاكم والاحاديث المروية بهذه الشريطة لا يبلغ عددها عشرة آلاف حديث القسم الثاني مثل الاول الا أن رواية من الصحابة ليس له الا راو واحد القسم الثالث مثل الاول الا أن رواية من التابعين ليس له إلا راو واحد القسم الرابع الأحاديث الافراد الغرائب التي رواها الثقات العدول
হাফেজ ও গ্রন্থকার আবু নুয়াইম আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আসফাহানির (সংকলিত) সহিহ মুসলিমের ওপর মুখরাজ (অন্য সনদে সংকলিত) গ্রন্থ এবং ইমাম আবুল ওয়ালিদ হাসসান ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশি আল-ফকিহ আশ-শাফিয়ির মুখরাজ গ্রন্থ ও এ জাতীয় অন্যান্য কিতাব। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

(

 

‌‌পরিচ্ছেদ)

একদল আলিম বুখারি ও মুসলিমের ওপর এমন কিছু হাদিস নিয়ে পর্যালোচনা (ইসতিদরাক) করেছেন যা তাঁদের শর্তপূরণে ঘাটতি রেখেছে এবং তাঁদের নির্ধারিত মানদণ্ড থেকে নিচে নেমে গিয়েছে। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। ইমাম হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য তাঁর 'আল-ইসতিদরাকাত ওয়াত তাতাব্বু' নামক কিতাব রচনা করেছেন। এতে উভয় কিতাবের অন্তর্ভুক্ত প্রায় দুইশত হাদিসের ওপর আলোচনা করা হয়েছে। আবু মাসউদ আদ-দিমাশকিরও এই কিতাবদ্বয়ের ওপর পর্যালোচনা রয়েছে। আবু আলী আল-গাসসানি আল-জায়ানি তাঁর 'তাকয়িদুল মুহমাল' কিতাবের 'ইলাল' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) অংশেও কিছু পর্যালোচনা করেছেন, যার অধিকাংশ বর্ণনাকারীদের ওপর এবং কিছু বিষয় খোদ ইমামদ্বয়ের ওপরও বর্তায়। এই সকল অথবা অধিকাংশ পর্যালোচনারই উত্তর প্রদান করা হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ আপনি তা যথাস্থানে দেখতে পাবেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সহিহ হাদিসের পরিচিতি এবং হাসান ও যয়িফ হাদিস ও সেগুলোর প্রকারভেদের বর্ণনা। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, হাদিস তিন প্রকার: সহিহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম) এবং যয়িফ (দুর্বল)। প্রতিটি প্রকারেরই বিভিন্ন ধরণ রয়েছে। সহিহ হলো সেই হাদিস যার সনদ (সূত্র) নির্ভরযোগ্য (আদিল) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (জাবিত) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি (শুজুজ) বা সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাত) ছাড়াই সরাসরি যুক্ত থাকে। এটি সহিহ হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। যদি এই শর্তগুলোর কোনো একটিতে বিচ্যুতি ঘটে, তবে সে ক্ষেত্রে মতভেদ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ আমরা উল্লেখ করব। ইমাম আবু সুলাইমান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল খাত্তাব আল-খাত্তাবি আল-ফকিহ আশ-শাফিয়ি আল-মুতফাননিন বলেন, হাদিস বিশেষজ্ঞদের নিকট হাদিস তিন প্রকার: সহিহ, হাসান এবং সাকিম (ত্রুটিযুক্ত)। সহিহ হলো যার সনদ অবিচ্ছিন্ন এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। হাসান হলো যার উৎসস্থল জানা যায় এবং বর্ণনাকারীগণ সুপরিচিত, আর অধিকাংশ হাদিসের ভিত্তি এর ওপরই; এটি অধিকাংশ আলিম গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ এর ওপর আমল করেন। আর সাকিম বা ত্রুটিযুক্ত হাদিসের তিনটি স্তর রয়েছে, যার মধ্যে নিকৃষ্টতম হলো মাউজু (জাল), এরপর মাকলুব (বিপর্যস্ত) এবং সবশেষে মাজহুল (অজ্ঞাত)। হাকেম আবু আবদুল্লাহ আন-নাইসাবুরি তাঁর 'আল-মাদখাল ইলা কিতাবিল ইকলিল' গ্রন্থে বলেছেন যে, সহিহ হাদিস দশ প্রকার। এর মধ্যে পাঁচটি সর্বসম্মত এবং পাঁচটি মতভেদপূর্ণ। সর্বসম্মত প্রকারগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো ইমাম বুখারি ও মুসলিমের পছন্দকৃত মানদণ্ড, যা সহিহ হাদিসের প্রথম বা সর্বোচ্চ স্তর। এর রূপটি হলো, হাদিসটি একজন প্রখ্যাত সাহাবি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করবেন এবং তাঁর থেকে অন্তত দুইজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী তা বর্ণনা করবেন। এরপর তাঁর থেকে একজন প্রখ্যাত তাবেয়ি বর্ণনা করবেন যিনি সাহাবিদের থেকে হাদিস বর্ণনার জন্য সুপরিচিত এবং তাঁর থেকেও অন্তত দুইজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বর্ণনা করবেন। এরপর তাঁর থেকে অনুরূপ শর্তাধীনে একজন প্রখ্যাত ও পারদর্শী হাফেজ তাবে-তাবেয়ি বর্ণনা করবেন। হাকেম বলেন, এই শর্তানুসারে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা দশ হাজারের বেশি হবে না। দ্বিতীয় প্রকারটি প্রথমটির মতোই, তবে পার্থক্য হলো সাহাবি থেকে বর্ণনাকারী মাত্র একজন। তৃতীয় প্রকারটিও প্রথমটির মতো, তবে এতে তাবেয়ি থেকে বর্ণনাকারী মাত্র একজন। চতুর্থ প্রকার হলো সেই একক ও অনন্য বিরল (আফরাদ আল-গুরায়েব) হাদিসসমূহ যা ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
القسم الخامس أحاديث جماعة من الائمة عن آبائهم عن أجدادهم ولم تتواتر الرواية عن آبائهم عن أجدادهم بها الا عنهم كصحيفة عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ وبهز بن حكيم عن أبيه عن جده واياس بن معاوية عن ابيه عن جده وأجدادهم صحابيون وأحفادهم ثقات قال الحاكم فهذه الاقسام الخمسة مخرجة في كتب الائمة فيحتج بها وان لم يخرج منها في الصحيحين حديث يعنى غير القسم الاول قال والخمسة المختلفة فيها المرسل وأحاديث المدلسين اذا لم يذكروا سماعهم وما أسنده ثقة وأرسله جماعة من الثقاة وروايات الثقاة غير الحفاظ العارفين وروايات المبتدعة اذا كانوا صادقين فهذا آخر كلام الحاكم وسنتكلم عليه بعد حكاية قول الجياني ان شاء الله تعالى وقال أبو على الغسانى الجيانى الناقلون سبع طبقات ثلاث مقبولة وثلاث متروكة والسابعة مختلف فيها فالأولى أئمة الحديث وحفاظه وهم الحجة على من خالفهم ويقبل انفرادهم الثانية دونهم فى الحفظ والضبط لحقهم فى بعض روايتهم وهم وغلط والغالب على حديثهم الصحة ويصحح ماوهموا فيه من رواية الأولى وهم لاحقون بهم الثالثة جنحت إلى مذاهب من الاهواء غير غالية ولا داعية وصح حديثها وثبت صدقها وقل وهمها فهذه الطبقات احتمل أهل الحديث الرواية عنهم وعلى هذه الطبقات يدور نقل الحديث وثلاث طبقات أسقطهم أهل المعرفة الأولى من وسم بالكذب ووضع الحديث الثانية من غلب عليه الغلط والوهم والثالثة طائفة غلت فى البدعة ودعت اليها وحرفت الروايات وزادت فيها ليحتجوا بها والسابعة قوم مجهولون انفردوا بروايات لم يتابعوا عليها فقبلهم قوم ووقفهم آخرون هذا كلام الغسانى فأما قوله ان أهل البدع والاهواء الذين لا يدعون اليها ولا يغلون فيها يقبلون بلا خلاف فليس كما قال بل فيهم خلاف وكذلك فى الدعاة خلاف مشهور سنذكرهما قريبا ان شاء الله تعالى حيث ذكره الامام مسلم رحمه الله وأما قوله فى المجهولين خلاف فهو كما قال وقد أخل الحاكم بهذا النوع من المختلف فيه ثم المجهول أقسام مجهول العدالة ظاهرا وباطنا ومجهولا باطنا مع وجودها ظاهرا وهو المستور ومجهول العين فأما الاول فالجمهور على أنه لا يحتج به وأما الآخران فاحتج بهما كثيرون من المحققين وأما قول الحاكم ان من لم يرو عنه الا راو واحد فليس هو من شرط البخارى ومسلم فمردود غلطه الائمة فيه باخراجهما حديث المسيب بن حزن والد سعيد بن المسيب فى وفاة أبى طالب لم يرو عنه غير ابنه سعيد وباخراج البخارى حديث عمرو بن تغلب (انى لأعطى الرجل

পঞ্চম বিভাগ হলো এমন একদল ইমামের হাদিস যারা তাদের পিতা ও তাদের দাদাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর তাদের থেকে ব্যতীত এই বংশপরম্পরার বর্ণনা অন্য কোনোভাবে প্রসিদ্ধ (মুতাওয়াতির) হয়নি। যেমন—আমর ইবনে শুয়াইবের পাণ্ডুলিপি (সহিফা) যা তিনি তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন; বাহজ ইবনে হাকিম তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে; এবং ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাদাগণ ছিলেন সাহাবী এবং তাদের নাতিরা ছিলেন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। আল-হাকিম বলেন, এই পাঁচটি বিভাগ ইমামদের কিতাবসমূহে সংকলিত হয়েছে, সুতরাং এগুলো দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য, যদিও প্রথম বিভাগটি ব্যতীত অন্যগুলোর কোনো হাদিস 'সহিহাইন'-এ (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, যে পাঁচটি বিষয়ে মতভেদ রয়েছে তা হলো: মুরসাল হাদিস, মুদাল্লিস বর্ণনাকারীদের হাদিস যখন তারা সরাসরি শোনার কথা উল্লেখ করেন না, যে হাদিস কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কিন্তু একদল নির্ভরযোগ্য রাবী তা মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেইসব নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনা যারা বিজ্ঞ হাফেজ নন এবং সত্যবাদী বিদআতিদের বর্ণনা। আল-হাকিমের বক্তব্য এখানেই শেষ। আমরা আল-জাইয়ানির বক্তব্য বর্ণনার পর ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আবু আলী আল-গাসসানি আল-জাইয়ানি বলেছেন, বর্ণনাকারীরা সাতটি স্তরে বিন্যস্ত: তিনটি স্তর গ্রহণযোগ্য, তিনটি বর্জনীয় এবং সপ্তম স্তরটি মতভেদপূর্ণ। প্রথম স্তর হলো হাদিসের ইমাম ও হাফেজগণ, যারা তাদের বিরোধীদের ওপর প্রমাণস্বরূপ এবং তাদের একক বর্ণনাও গ্রহণযোগ্য। দ্বিতীয় স্তর হলো যারা মুখস্থ ও নির্ভুলতার (জব্‌ত) ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে কিছুটা নিচের স্তরের, তাদের কিছু বর্ণনায় সংশয় ও ভুল প্রকাশ পেয়েছে; তবে তাদের অধিকাংশ হাদিসই সহিহ এবং তাদের যেসব বর্ণনায় ভুল রয়েছে তা প্রথম স্তরের বর্ণনাকারীদের বর্ণনার মাধ্যমে সংশোধন করা হয়, তারা মূলত প্রথম স্তরের অনুসারী। তৃতীয় স্তর হলো যারা প্রবৃত্তির অনুসারী বা বিদআতি মতাদর্শের দিকে ঝুঁকেছেন কিন্তু তারা চরমপন্থী নন এবং নিজেদের মতবাদের দিকে আহ্বানকারীও নন; তাদের হাদিস সহিহ, সত্যবাদিতা প্রমাণিত এবং তাদের ভুল খুবই কম। এই তিনটি স্তরের বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস বিশারদগণ বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং হাদিস বর্ণনার ধারা এই স্তরগুলোর ওপরই আবর্তিত হয়।

আর যে তিনটি স্তরকে বিশেষজ্ঞরা বর্জন করেছেন: প্রথমত, যারা মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং হাদিস জালকারী। দ্বিতীয়ত, যাদের ওপর ভুল ও সংশয় প্রবল। তৃতীয়ত, ওই দল যারা বিদআতের ক্ষেত্রে চরমপন্থী এবং এর দিকে আহ্বান জানায়, তারা নিজেদের স্বপক্ষে দলীল হিসেবে ব্যবহারের জন্য বর্ণনার শব্দ পরিবর্তন করে এবং তাতে কিছু সংযোজন করে। সপ্তম স্তরটি হলো এমন একদল অজ্ঞাত (মাজহুল) ব্যক্তি যাদের বর্ণনার কোনো সমর্থক বর্ণনা (মুতাবিয়াত) নেই এবং তারা এককভাবে বর্ণনা করেছেন; একদল আলেম তাদের বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং অন্য একদল এ ব্যাপারে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এটিই আল-গাসসানির বক্তব্য।

তবে বিদআতি ও প্রবৃত্তির অনুসারীদের ব্যাপারে তাঁর এই উক্তি—'যারা এর দিকে আহ্বান করেন না এবং চরমপন্থী নন তারা সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য'—এটি সঠিক নয়। বরং তাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, যেমনটি আহ্বানকারীদের ব্যাপারেও প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে। অচিরেই আমরা ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ। আর অজ্ঞাত (মাজহুল) বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে মতভেদ থাকার কথা তিনি যা বলেছেন তা সঠিক। আল-হাকিম এই মতভেদপূর্ণ বিষয়টি উল্লেখ করতে ভুল করেছেন। অজ্ঞাত বর্ণনাকারীরা আবার কয়েক প্রকার: যাদের ন্যায়পরায়ণতা (আদালত) প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কোনোভাবেই জানা নেই; যাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা অজ্ঞাত কিন্তু বাহ্যিক অবস্থা প্রকাশ্য—যাদেরকে 'মাস্তুর' বলা হয়; এবং যাদের পরিচয়ই অজ্ঞাত (মাজহুলুল আইন)। প্রথম প্রকারের ব্যাপারে জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমদের মত হলো—তার বর্ণনা দলীল হিসেবে গণ্য হবে না। আর শেষোক্ত দুই প্রকারের ব্যাপারে অনেক গবেষক আলেম দলীল হিসেবে গ্রহণের পক্ষপাতি।

আল-হাকিমের এই দাবি—'যার থেকে মাত্র একজন রাবী বর্ণনা করেছেন তিনি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী উত্তীর্ণ নন'—তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। এ বিষয়ে ইমামগণ তাঁকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন। কারণ তারা সাইদ ইবনুল মুসায়্যিবের পিতা মুসায়্যিব ইবনে হাজনের হাদিস বর্ণনা করেছেন (আবু তালিবের মৃত্যু সংক্রান্ত), যা তার ছেলে সাইদ ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। অনুরূপভাবে বুখারি আমর ইবনে তাগলিবের হাদিস বর্ণনা করেছেন (যাতে আছে: "নিশ্চয়ই আমি কোনো ব্যক্তিকে (কিছু) প্রদান করি...")।

(খণ্ড: ١) শারহুন নববী আলা মুসলিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
والذى أدع أحب إلى) لم يرو عنه غير الحسن وحديث قيس بن أبى حازم عن مرداس الاسلمى (يذهب الصالحون) لم يرو عنه غير قيس وباخراج مسلم حديث رافع بن عمرو الغفارى لم يرو عنه غير عبد الله بن الصامت وحديث ربيعة بن كعب الاسلمى لم يرو عنه غير أبى سلمة ونظائر فى الصحيحين لهذا كثيرة والله أعلم وأما الاقسام المختلف فيها فسأعقد فى كل واحد منها فصلا ان شاء الله تعالى ليكون أسهل فى الوقوف عليه هذا ما يتعلق بالصحيح وأما الحسن فقد تقدم قول الخطابى رحمه الله انه ما عرف مخرجه واشتهر رجاله وقال أبو عيسى الترمذى الحسن ما ليس فى اسناده من يتهم وليس بشاذ وروى من غير وجه وضبط الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو عَمْرِو بْنُ الصَّلَاحِ رحمه الله الحسن فقال هو قسمان أحدهما الذى لا يخلو اسناده من مستور لم تتحقق أهليته وليس كثير الخطأ فيما يرويه ولا ظهر منه تعمد الكذب ولا سبب آخر مفسق ويكون متن الحديث قد عرف بأن روى مثله أو نحوه من وجه آخر القسم الثانى أن يكون راويه من المشهورين بالصدق والامانة ولم يبلغ درجة رجال الصحيح لقصوره عنهم فى الحفظ والاتقان الا أنه مرتفع عن حال من يعد تفرده منكرا قال وعلى القسم الاول ينزل كلام الترمذى وعلى الثاني كلام الخطابى فاقتصر كل واحد منهما على قسم رآه خفيا ولا بد في القسمين من سلامتهما من الشذوذ والعلة ثم الحسن وان كان دون الصحيح فهو كالصحيح في جواز الاحتجاج به والله أعلم وأما الضعيف فهو مالم يوجد فيه شروط الصحة ولا شروط الحسن وأنواعه كثيرة منها الموضوع والمقلوب والشاذ والمنكر والمعلل والمضطرب وغير ذلك ولهذه الانواع حدود وأحكام وتفريعات معروفة عند أهل هذه الصنعة وقد أتقنها مع ما يحتاج إليه طالب الحديث من الأدوات والمقدمات ويستعين به في جميع الحالات الامام الحافظ أَبُو عَمْرِو بْنُ الصَّلَاحِ فِي كِتَابِهِ عُلُومُ الحديث وقد اختصرته وسهلت طريق معرفته لمن أراد تحقيق هذا الفن والدخول في زمرة أهله ففيه من القواعد والمهمات ما يلتحق به من حققه وتكاملت معرفته له بالحفاظ المتقنين ولا يسبقونه الا بكثرة الاطلاع على طرق الحديث فان شاركهم فيها لحقهم والله أعلم

(

 

‌‌فصل في ألفاظ يتداولها أهل الحديث)

المرفوع ما أضيف إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خاصة لا يقع مطلقه على غيره سواء كان متصلا أو منقطعا وأما الموقوف فما أضيف إلى الصحابي قولا له او فعلا أو نحوه متصلا كان أو منقطعا ويستعمل في غيره مقيدا
(এবং আমি যা রেখে যাচ্ছি তা আমার নিকট অধিক প্রিয়)—তার থেকে হাসান ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। আর মিরদাস আল-আসলামী থেকে কায়স ইবনে আবি হাযিমের বর্ণিত হাদিস (নেককার লোকেরা চলে যাবেন)—তার থেকে কায়স ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি। ইমাম মুসলিম কর্তৃক রাফে ইবনে আমর আল-গিফারীর হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে, যার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে সামিত ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি। রাবিআহ ইবনে কা'ব আল-আসলামীর হাদিস—তার থেকে আবু সালামাহ ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি। সহীহাইনদ্বয়ে (বুখারী ও মুসলিম) এর অনেক নজির রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন। আর যে সকল প্রকারভেদের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, সেগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে আমি ইনশাআল্লাহ একটি করে পরিচ্ছেদ গঠন করব, যাতে বিষয়টি অনুধাবন করা সহজ হয়। সহীহ হাদিস সংক্রান্ত আলোচনা এখানেই শেষ। আর হাসান (Hasan) হাদিস সম্পর্কে ইমাম খাত্তাবী (রহ.)-এর বক্তব্য ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এটি হলো সেই হাদিস যার উৎসস্থল (মাখরাজ) পরিচিত এবং যার বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী বলেছেন: হাসান হাদিস হলো সেই হাদিস যার সনদে এমন কেউ নেই যার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেটি শায (বিচ্ছিন্ন) নয় এবং তা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। শাইখুল ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ (রহ.) হাসান হাদিসকে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন যে, এটি দুই প্রকার: প্রথমটি হলো যার সনদে এমন কোনো 'মাস্তুর' (সুপ্ত বর্ণনাকারী) থাকে যার যোগ্যতার বিষয়টি পূর্ণ নিশ্চিত নয়, তবে তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রচুর ভুল করেন না এবং তার থেকে ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার বা ফাসেক হওয়ার মতো অন্য কোনো কারণ প্রকাশ পায়নি। পাশাপাশি হাদিসের মূল পাঠটি (মাতন) পরিচিত হতে হবে, অর্থাৎ অন্য কোনো সূত্রে এর সমরূপ বা কাছাকাছি অর্থ সম্বলিত বর্ণনা থাকতে হবে। দ্বিতীয় প্রকার হলো—যার বর্ণনাকারী সততা ও আমানতদারিতার জন্য প্রসিদ্ধ, তবে হিফজ ও ইতকান (স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতা) এর ক্ষেত্রে কিছুটা কমতি থাকার কারণে সহীহ হাদিসের বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি, তবে তার অবস্থা এমন বর্ণনাকারীর চেয়ে উন্নত যার একক বর্ণনাকে মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বলেন, ইমাম তিরমিযীর কথাটি প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ইমাম খাত্তাবীর কথাটি দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তারা প্রত্যেকেই এমন এক একটি প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন যা তাদের নিকট অস্পষ্ট মনে হয়েছে। তবে উভয় প্রকারের ক্ষেত্রেই শায (বিচ্ছিন্নতা) এবং ইল্লাত (সুক্ষ্ম ত্রুটি) থেকে মুক্ত থাকা অপরিহার্য। এরপর, হাসান হাদিস সহীহ হাদিসের তুলনায় নিম্নমানের হলেও দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে তা সহীহ হাদিসের মতোই। আল্লাহই ভালো জানেন। আর যঈফ (দুর্বল) হাদিস হলো সেটি যার মধ্যে সহীহ কিংবা হাসান হাদিসের শর্তাবলি পাওয়া যায় না। এর প্রকারভেদ অনেক, যার মধ্যে মাওযু (বানোয়াট), মাকলুব (উল্টে যাওয়া), শায (বিচ্ছিন্ন), মুনকার (প্রত্যাখ্যাত), মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত), মুদতারিব (অসংলগ্ন) এবং আরও অনেক প্রকার রয়েছে। এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এই প্রকারগুলোর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা, বিধান ও শাখা-প্রশাখা সুবিদিত। ইমাম হাফেজ আবু আমর ইবনুস সালাহ তার 'উলুমুল হাদিস' (হাদিস বিজ্ঞান) গ্রন্থে এই বিষয়গুলো এবং একজন হাদিস অন্বেষণকারীর প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ ও ভূমিকা অত্যন্ত নিপুণভাবে বর্ণনা করেছেন। আমি এটিকে সংক্ষিপ্ত করেছি এবং যারা এই শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করতে চান বা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত হতে চান, তাদের জন্য এর জ্ঞান অর্জনের পথ সহজ করে দিয়েছি। এতে এমন সব মূলনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যা আত্মস্থ করলে এবং পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করলে একজন ব্যক্তি দক্ষ হাফেজদের সমকক্ষ হতে পারেন। তারা কেবল অধিক সংখ্যক হাদিসের সূত্র জানার মাধ্যমেই অগ্রগামী হতে পারেন; অন্যথা যদি কেউ সেই সূত্রগুলোতেও তাদের অংশীদার হতে পারে, তবে সে তাদের স্তরেই পৌঁছে যাবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

(

 

‌‌(হাদিস বিশারদদের মাঝে প্রচলিত কতিপয় পরিভাষা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

মারফু (Marfu) হলো তা যা বিশেষভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; এর সাধারণ অর্থ অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না, চাই তা মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হোক বা মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)। আর মাওকুফ (Mawquf) হলো তা যা সাহাবীর কথা বা কাজ হিসেবে তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, চাই তা মুত্তাসিল বা মুনকাতি হোক। তবে এটি অন্যদের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধ অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে।