(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: -)
عمدة الأحكام - ت الزهيري القسم: كتب السنة
الكتاب: العمدة في الأحكام
المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجماعيلي الدمشقي الحنبلي، أبو محمد، تقي الدين (ت 600هـ)
المحقق: سمير بن أمين الزهيري
الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 202
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1436
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক: আল-জুহাইরী বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-উমদাহ ফিল আহকাম
লেখক: আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরুর আল-মাকদিসি আল-জামাঈলি আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি، আবু মুহাম্মদ، তাকিউদ্দীন (মৃ. ৬০০ হিজরি)
তাহকীককারী: সামির বিন আমিন আল-জুহাইরী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন، রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০২
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: -)
العُمْدَةُ في الأَحْكَامِ
تَأليف
الإمَام الحَافِظ عَبد الغَني بْن عَبد الوَاحِد المَقدسي المتوفى 600 هـ
تحقيق
سَمير بْن أمين الزهَيري
উমদাতুল আহকাম
রচনায়
ইমাম হাফেজ আব্দুল গণি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু: ৬০০ হিজরি)
তাহকিক
সামির ইবনে আমিন আল-জুহাইরি
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٣)
جَمِيع الْحُقُوق مَحْفُوظَة للناشر، فَلَا يجوز نشر أَي جُزْء من هَذَا الْكتاب، أَو تخزينه أَو تسجيله بأية وَسِيلَة، أَو تَصْوِيره أَو تَرْجَمته دون مُوَافقَة خطية مسبقة من الناشر
الطَّبَعة الأولى
1419 هـ - 1998 م
(ح) مكتبة المعَارف للنشر والتوزيع، 1419 هـ
فهرسة مكتبة الْملك فَهد الوطنية اثناء النشر
الجماعيلي، عبد الْغَنِيّ بن عبد الْوَاحِد
الْعُمْدَة فِي الاحكام / تَحْقِيق سمير بن أَمِين الزهيري - الرياض
224 ص، 17 × 24 سم
ردمك 9 - 87 - 804 - 9960
1 - الحَدِيث - جَوَامِع الْفُنُون
2 - الحَدِيث - أَحْكَام
أ- الزهيري، سمير بن أَمِين (مُحَقّق)
ب - العنوان
ديوي 237.3 - 3282/ 18
رقم الْإِيدَاع: 3282/ 18
ردمك: 9 - 87 - 804 - 9960
مكتبة المعَارف للنشِر وَالتوزيع
هَاتف: 4114535 - 4113250
فاكس: 4112932 - بَرقياً دَفتر
صَ. بَ: 3281 الريَاض، الرَّمْز البريدي: 11471
سجل تجاري: 6313 الريَاض
সকল স্বত্ব প্রকাশকের সংরক্ষিত, সুতরাং প্রকাশকের পূর্ব লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই গ্রন্থের কোনো অংশ প্রকাশ করা, কোনো উপায়ে এটি সংরক্ষণ বা রেকর্ড করা, অথবা এর আলোকচিত্র গ্রহণ বা অনুবাদ করা বৈধ নয়।
প্রথম সংস্করণ
১৪১৯ হিজরী - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
(স্বত্ব) মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, ১৪১৯ হিজরী
প্রকাশনা চলাকালীন কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং
আল-জামাঈলী, আবদুল গনি ইবন আবদুল ওয়াহিদ
আল-উমদাহ ফিল আহকাম / তাহকীক: সামীর ইবন আমিন আয-যুহাইরী - রিয়াদ
২২৪ পৃষ্ঠা, ১৭ × ২৪ সেমি
আইএসবিএন ৯ - ৮৭ - ৮০৪ - ৯৯৬০
১ - হাদিস - জাওয়ামিউল ফুনুন
২ - হাদিস - আহকাম (বিধান)
ক- আয-যুহাইরী, সামীর ইবন আমিন (তাহকীককারী)
খ - শিরোনাম
ডিউই ২৩৭.৩ - ৩২৮২/ ১৮
ডিপোজিট নম্বর: ৩২৮২/ ১৮
আইএসবিএন: ৯ - ৮৭ - ৮০৪ - ৯৯৬০
মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
ফোন: ৪১১৪৫৩৫ - ৪১১৩২৫০
ফ্যাক্স: ৪১১২৯৩২ - টেলিগ্রাফিক: দাফতার
পি.ও. বক্স: ৩২৮১ রিয়াদ, পোস্ট কোড: ১১৪৭১
বাণিজ্যিক নিবন্ধন: ৬৩১৩ রিয়াদ
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1]
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70، 71].
أما بعد: فإن أحسن الكلام كلام الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন (১)} [নিসা: ১]
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল (৭১)} [আহযাব: ৭০, ৭১]।
অতপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٦)
وبعد:
فهذا كتاب "العمدة في الأحكام" للإمام الحافظ أبي محمد؛ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي رحمه الله.
وهذا تعريف موجز بالمؤلِّف.
اسمه ونسبه:هو الإمام، العالم، الحافظ، الكبير، الصادق، العابد، الأثري، عالم الحفاظ، تقي الدين؛ أبو محمد: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور بن رافع بن حسن بن جعفر المقدسي، الجماعيلي، ثم الدمشقي المنشأ الصالحي.
مولده:اختلف في مولد الحافظ عبد الغني رحمه الله، فقيل: سنة [541 هـ]. وقيل: [543 هـ]. وقيل: [544 هـ].
صفاته الخَلْقية:قال الضياء المقدسي: "ليس بالأبيض الأمهق، بل يميل إلى السمرة، حسن الشعر، كث اللحية، واسع الجبين، عظيم الخلق، تام القامة، كأن النور يخرج من وجهه، وكان قد ضعف بصره من البكاء، والنسخ، والمطالعة".
رحلاته:لقد كان الحافظ عبد الغني شأنه شأن الحفاظ الكبار من قبله، فقلما تجد حافظًا من الحفاظ إلا وقد رحل في طلب العلم.
এরপর:
এটি ইমাম হাফেজ আবু মুহাম্মাদ আবদুল গনি ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (রহিমাহুল্লাহ)-এর "উমদাতুল আহকাম" কিতাব।
এবং এটি লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন ইমাম, আলেম, হাফেজ, মহান ব্যক্তি, সত্যবাদী, ইবাদতকারী, আসারি, হাফেজদের আলেম, তাকিউদ্দীন; আবু মুহাম্মাদ: আবদুল গনি ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আলি ইবনে সুরুর ইবনে রাফে ইবনে হাসান ইবনে জাফর আল-মাকদিসি, আল-জামায়িলি, অতঃপর দামেস্কি বংশোদ্ভূত আস-সালিহি।
তাঁর জন্ম:হাফেজ আবদুল গনি (রহিমাহুল্লাহ)-এর জন্ম সাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে, বলা হয়েছে: [৫৪১ হিজরি] সনে। আবার বলা হয়েছে: [৫৪৩ হিজরি]। আর বলা হয়েছে: [৫৪৪ হিজরি]।
তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য:দিয়া আল-মাকদিসি বলেছেন: "তিনি একেবারে ধবধবে সাদা ছিলেন না, বরং বর্ণ কিছুটা তামাটে ছিল, তাঁর চুল ছিল সুন্দর ও দাড়ি ছিল ঘন, প্রশস্ত ললাট, সুঠাম দেহ ও পূর্ণ উচ্চতার অধিকারী ছিলেন; যেন তাঁর চেহারা থেকে নূর নির্গত হচ্ছিল। আর অধিক ক্রন্দন, পাণ্ডুলিপি লিখন এবং পাঠের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল।"
তাঁর সফরসমূহ:হাফেজ আবদুল গনির বিষয়টি ছিল তাঁর পূর্ববর্তী বড় বড় হাফেজদের মতোই; আপনি খুব কমই এমন কোনো হাফেজ পাবেন যিনি ইলম অর্জনের জন্য দেশ-বিদেশে সফর করেননি।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٧)
ولقد بدأ الحافظ رحمه الله رحلاته وهو في العشرين من عمره تقريبًا، إذ رحل إلى بغداد سنة [561]، وإذا عرفت أنهم لم يكونوا يرحلون إلا بعد سماعهم من مشايخ بلدانهم، علمت أنه طلب العلم منذ صغره رحمه الله.
فرحل إلى بغداد مرتين.
رحل المرة الأولى سنة [561]، هو، وابن خاله الشيخ موفق الدين بن قدامة، واستغرقت إقامتهما ببغداد نحو أربع سنوات، وكان الحافظ رحمه الله ميله إلى الحديث، والموفق يريد الفقه، وكان من أثر تلازمهما تفقه الحافظ، وسماع ابن قدامة.
ثم رحل إلى الحافظ أبي طاهر السِّلفي بالإسكندرية مرتين:
الأولى سنة [566]، وأقام مدة، والثانية سنة [570]، وسمع من السلفي كثرًا، فقد كتب عنه نحوًا من ألف جزء.
وكان قبل رحيله إلى السلفي يحضر مجالس الحديث بدمشق، وكان يحضرها أيضًا الملك نور الدين بن زنكي، وكان إذا أشكل شيء على القارىء، بينه الحافظ، ففقده الملك بعد ذلك، فقال: أين ذاك الشاب؟، فقيل: سافر.
وهذا يدل على نباهته، وقوة حفظه منذ الصغر.
ورحل إلى مصر أيضًا مرتين، فسمع وحدث، وحدثت له فيها أحداث منها: أنه اجتمع بالملك العادل، إذ يقول هو في ذلك:
"والملك العادل اجتمعت به، وما رأيت منه إلا الجميل،
হাফেজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর সফরসমূহ শুরু করেছিলেন যখন তাঁর বয়স প্রায় বিশ বছর, কারণ তিনি ৫৬১ হিজরিতে বাগদাদে সফর করেছিলেন। আর যখন আপনি জানবেন যে, তাঁরা নিজেদের দেশের শাইখদের নিকট শ্রবণের পরেই কেবল সফর করতেন, তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে তিনি তাঁর শৈশব থেকেই ইলম অন্বেষণ করেছিলেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।
অতঃপর তিনি বাগদাদে দুইবার সফর করেন।
তিনি প্রথমবার সফর করেন ৫৬১ হিজরিতে, তিনি এবং তাঁর মামাতো ভাই শাইখ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা। বাগদাদে তাঁদের অবস্থানকাল প্রায় চার বছর স্থায়ী হয়েছিল। হাফেজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর ঝোঁক ছিল হাদীসের প্রতি, আর মুওয়াফ্ফাক চেয়েছিলেন ফিকহ; তাঁদের একে অপরের সাথে লেগে থাকার ফলে হাফেজ ফিকহে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং ইবনে কুদামা হাদীস শ্রবণ করেন।
এরপর তিনি ইস্কান্দারিয়ায় হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফীর নিকট দুইবার সফর করেন:
প্রথমবার ৫৬৬ হিজরিতে এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন; আর দ্বিতীয়বার ৫৭০ হিজরিতে। তিনি আস-সিলাফী থেকে প্রচুর শুনেছেন, এমনকি তিনি তাঁর থেকে প্রায় এক হাজার জুয (পুস্তিকা) লিপিবদ্ধ করেছিলেন।
আস-সিলাফীর নিকট সফরের পূর্বে তিনি দামেশকে হাদীসের মজলিসসমূহে উপস্থিত হতেন। সেখানে বাদশাহ নূরুদ্দীন বিন যাঙ্গিও উপস্থিত হতেন। যখনই কোনো কিছু পাঠকারীর নিকট অস্পষ্ট হতো, হাফেজ তা স্পষ্ট করে দিতেন। এরপর বাদশাহ তাঁকে অনুপস্থিত পেয়ে বললেন: সেই যুবকটি কোথায়? বলা হলো: তিনি সফরে গিয়েছেন।
এটি তাঁর মেধা এবং শৈশব থেকেই তাঁর মুখস্থ শক্তির প্রবলতার প্রমাণ বহন করে।
তিনি মিশরেও দুইবার সফর করেন, সেখানে হাদীস শ্রবণ করেন ও বর্ণনা করেন। সেখানে তাঁর সাথে কিছু ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে একটি হলো: তিনি বাদশাহ আল-আদিলের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন:
"এবং বাদশাহ আল-আদিল, আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর থেকে সদাচরণ ব্যতীত আর কিছুই দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٨)
فأقبل عليَّ، وقام لي، والتزمني، ودعوت له، ثم قلت: عندنا قصور هو الذي يوجب التقصير، فقال: ما عندك لا تقصير ولا قصور، وذكر أمر السنة، فقال: ما عندك شيء تعاب به، لا في الدين ولا الدنيا، ولابد للناس من حاسدين".
وقال الضياء: ولما وصل إلى مصر كُنَّا بها، فكان إذا خرج للجمعة لا نقدر نمشي معه من كثرة الخلق. . . يجتمعون حوله، وكنا أحداثًا نكتب الحديث حوله، فضحكنا من شيء وطال الضحك، فتبسم، ولم يحرد علينا.
ورحل أيضًا إلى أصبهان، واجتمع بالحافظ أبي موسى المديني.
قال الضياء: سمعت الإمام عبد الله بن أبي الحسن الجبائي بأصبهان يقول: أبو نعيم قد أخذ على ابن منده أشياء في كتاب الصحابة، فكان الحافظ أبو موسى يشتهي أن يأخذ على أبي نعيم في كتابه الذي في الصحابة، فما كان يجسر، فلما قدم الحافظ عبد الغني أشار إليه بذلك، فاخذ على أبي نعيم نحوًا من مئتين وتسعين موضعًا.
ولذلك كان أبو موسى رحمه الله يقول: "قل من قدم علينا يفهم هذا الشأن كفهم الشيخ الإمام ضياء الدين أبي محمد؛ عبد الغني المقدسي، وقد وفق لتبين هذه الغلطات، ولو كان الدارقطني وأمثاله في الأحياء، لصوبوا فعله، وقل من يفهم في زماننا ما فهم، زاده الله علمًا وتوفيقًا".
অতঃপর তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন, আমার সম্মানে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি তাঁর জন্য দুআ করলাম, তারপর বললাম: আমাদের মাঝে ত্রুটি রয়েছে যা অবহেলার কারণ হয়। তিনি বললেন: তোমার মাঝে কোনো অবহেলা বা ত্রুটি নেই। এরপর তিনি সুন্নাহর বিষয়টি উল্লেখ করে বললেন: তোমার মধ্যে এমন কিছু নেই যার কারণে তোমাকে দোষারোপ করা যায়, দ্বীন বা দুনিয়া কোনো ক্ষেত্রেই নয়। আর মানুষের জন্য তো হিংসুক থাকবেই।
জিয়া বলেন: যখন তিনি মিসরে পৌঁছালেন, আমরা তখন সেখানেই ছিলাম। তিনি যখন জুমার নামাজের জন্য বের হতেন, মানুষের ভিড়ের কারণে আমরা তাঁর সাথে হাঁটতে পারতাম না। মানুষেরা তাঁর চারপাশে সমবেত হতো। আমরা তখন তরুণ ছিলাম এবং তাঁর চারপাশে বসে হাদিস লিখতাম। একবার আমরা কোনো একটি বিষয়ে হাসাহাসি করলাম এবং হাসির স্থায়িত্ব দীর্ঘ হলো; তিনি কেবল মুচকি হাসলেন এবং আমাদের প্রতি রাগান্বিত হলেন না।
তিনি ইসফাহানেও সফর করেন এবং হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনির সাথে সাক্ষাৎ করেন।
জিয়া বলেন: আমি ইসফাহানে ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে আবুল হাসান আল-জুব্বায়ীকে বলতে শুনেছি যে, আবু নুয়াইম (তাঁর) সাহাবী বিষয়ক গ্রন্থে ইবনে মান্দাহর কিছু ভুল ধরেছিলেন। হাফেজ আবু মুসা নিজেও আবু নুয়াইমের সাহাবী বিষয়ক গ্রন্থের ভুল ধরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সাহস পাচ্ছিলেন না। যখন হাফেজ আব্দুল গনি আসলেন, তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করলেন; অতঃপর তিনি আবু নুয়াইমের প্রায় দুইশত নব্বইটি ভুল চিহ্নিত করলেন।
এ কারণেই আবু মুসা (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: “আমাদের কাছে এমন কম লোকই এসেছেন যারা এই বিষয়টি শাইখ ইমাম জিয়াউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি আল-মাকদিসির মতো বোঝেন। তিনি এই ভুলগুলো স্পষ্ট করার তাওফিক লাভ করেছেন। যদি আল-দারাকুতনি এবং তাঁর সমসাময়িকরা জীবিত থাকতেন, তবে তাঁরা অবশ্যই তাঁর এই কাজকে সঠিক বলে সমর্থন করতেন। আমাদের সময়ে তিনি যা বুঝেছেন তা বোঝার মতো লোক খুব কমই আছে। আল্লাহ তাঁর জ্ঞান ও তাওফিক বৃদ্ধি করে দিন।”
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٩)
ومما وقع له في رحلته إلى أصبهان، قال:
أضافني رجل بأصبهان، فلما تعشينا كان عنده رجل أكل معنا، فلما قمنا إلى الصلاة لم يصل. فقلت: ماله؟! قالوا: هذا رجل شمسي -أي: يعبد الشمس- فضاق صدري. وقلت للرجل: ما أضفتني إلا مع كافر؟! قال: إنه كاتب، ولنا عنده راحة، ثم قمت بالليل أصلي، وذاك يستمع، فلما سمع القرآن تزفَّر، ثم أسلم بعد أيام، وقال: لما سمعتك تقرأ وقع الإسلام في قلبي.
ولقد كان الناس بأصبهان يصطفون في السوق ينظرون إليه، حتى قيل: لو أراد أن يملك أصبهان لملكها.
ورحل أيضًا إلى الموصل، وحران، وهمدان، وغير ذلك، وهو في كل رحلاته يفيد ويستفيد، ينشر سنة النبي صلى الله عليه وسلم.
شيوخه:لا شك أن من كانت رحلاته كالحافظ فلابد أن يكون قد سمع الجم الغفير من العلماء.
فمثلًا:
سمع ببغداد من: أبي الفرج ابن الجوزي، وأبي الفتح ابن البطِّي، وأبي الحسن؛ علي بن رباح الفراء، وعبد القادر الجيلي، وهبة الله بن هلال الدقاق، وأبي زرعة المقدسي، وأبي بكر ابن النقور، وأحمد بن عبد الغني الباجسرائي، وغيرهم.
وسمع بمصر من: محمد بن علي الرحبي، وعبد الله بن بري، وغيرهم.
ইসফাহান সফরের সময় তার সাথে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে তিনি বলেন:
ইসফাহানের এক ব্যক্তি আমাকে মেহমানদারি করল। যখন আমরা রাতের খাবার খেলাম, তখন সেখানে একজন লোক ছিল যে আমাদের সাথে খেয়েছিল। যখন আমরা সালাতের জন্য দাঁড়ালাম, তখন সে সালাত আদায় করল না। আমি বললাম: তার কী হয়েছে? তারা বলল: এ ব্যক্তি একজন শামসি—অর্থাৎ সে সূর্যের উপাসনা করে। এতে আমার মন সংকুচিত হয়ে গেল। আমি সেই ব্যক্তিকে বললাম: আপনি আমাকে একজন কাফিরের সাথেই মেহমানদারি করালেন?! সে বলল: সে একজন লেখক, তার মাধ্যমে আমাদের কিছু সুবিধা হয়। অতঃপর আমি রাতে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালাম, আর সে তা শুনছিল। যখন সে কুরআন শুনল, তখন সে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। এরপর কয়েক দিন পর সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং বলল: যখন আমি আপনাকে তিলাওয়াত করতে শুনলাম, তখন আমার অন্তরে ইসলামের প্রভাব পড়ল।
ইসফাহানের লোকেরা বাজারে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যেত তাকে দেখার জন্য। এমনকি বলা হতো: তিনি যদি ইসফাহানের রাজত্ব চাইতেন, তবে অবশ্যই তা লাভ করতেন।
তিনি মসুল, হাররান, হামাদান এবং অন্যান্য স্থানেও সফর করেছেন। তিনি তার প্রতিটি সফরেই জ্ঞান দান করতেন এবং অর্জন করতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ প্রচার করতেন।
তার শিক্ষকগণ:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাফিজের মতো যার সফর ছিল, তিনি অবশ্যই বিপুল সংখ্যক আলেমের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ:
তিনি বাগদাদে ইলম অর্জন করেছেন: আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি, আবুল ফাতহ ইবনুল বাত্তি, আবুল হাসান আলী বিন রাবাহ আল-ফাররা, আব্দুল কাদির আল-জিলানি, হিবাতুল্লাহ বিন হিলাল আদ-দাক্কাক, আবু যুরআ আল-মাকদিসি, আবু বকর ইবনুন নাক্কুর, আহমাদ বিন আব্দুল গনি আল-বাজাসরাই এবং অন্যদের থেকে।
এবং তিনি মিশরে ইলম অর্জন করেছেন: মুহাম্মাদ বিন আলী আর-রাহাবি, আব্দুল্লাহ বিন বাররি এবং অন্যদের থেকে।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وسمع بالإسكندرية من: الحافظ أبي طاهر السلفي.
وبأصبهان من: الحافظ أبي موسى المديني، وأبي الوفاء؛ محمود بن حَمَكَا، وأبي الفتح الخرقي، وغيرهم.
وسمع بدمشق من: أبي المكارم بن هلال، وسلمان بن علي الرحبي، وأبي المعالي ابن صابر، وعدة.
وغير ذلك الكثير.
تلاميذه:الحافظ عز الدين محمد، والحافظ أبو موسى؛ عبد الله، والفقيه أبو سليمان، وهم أبناؤه.
وحدث عنه أيضًا الشيخ موفق الدين بن قدامة، والحافظ الضياء، والشيخ الفقيه محمد اليونيني، والزين بن عبد الدايم، والشهاب القوصي، وخلق كثير.
حفظه:لقد كان عبد الغني المقدسي من الحفاظ المعدودين، وجاء عنه في ذلك أخبار كثيرة تدل على قوة حفظه، وصفاء ذهنه.
فقد سئل: لم لا تقرأ من غير كتاب؟.
فقال: أخاف العجب.
وقال الضياء المقدسي:
كان شيخنا الحافظ لا يكاد يسأل عن حديث إلا ذكره وبينه، وذكر صحته أو سقمه، ولا يسأل عن رجل إلا قال: هو فلان بن
তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফি থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন।
এবং আসবাহানে হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনি, আবুল ওয়াফা মাহমুদ বিন হামাকা, আবুল ফাতাহ আল-খিরাকি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শুনেছেন।
দামেস্কে শুনেছেন আবুল মাকারিম বিন হিলাল, সালমান বিন আলী আর-রাহবি, আবুল মাআলি ইবনে সাবির এবং আরও অনেকের নিকট থেকে।
এ ছাড়া আরও অনেকে রয়েছেন।
তাঁর ছাত্রগণ:হাফেজ ইজ্জুদ্দিন মুহাম্মদ, হাফেজ আবু মুসা আবদুল্লাহ এবং ফকিহ আবু সুলাইমান; তাঁরা সকলেই তাঁর সন্তান।
তাঁর নিকট থেকে আরও বর্ণনা করেছেন শায়খ মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা, হাফেজ আদ-দিয়া, শায়খ ফকিহ মুহাম্মদ আল-ইউনিনি, যাইন বিন আব্দুল দায়িম, শিহাব আল-কুসি এবং এক বিশাল জনগোষ্ঠী।
তাঁর মুখস্থশক্তি:আব্দুল গনি আল-মাকদিসি ছিলেন প্রখ্যাত হাফেজদের একজন। তাঁর সম্পর্কে এ বিষয়ে অনেক বর্ণনা এসেছে যা তাঁর প্রবল মুখস্থশক্তি এবং প্রখর মেধার পরিচয় দেয়।
তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনি কেন কিতাব ছাড়া (মুখস্থ) পড়েন না?
তিনি বললেন: আমি আত্মমুগ্ধতার ভয় করি।
আদ-দিয়া আল-মাকদিসি বলেন:
আমাদের উস্তাদ হাফেজ (আব্দুল গনি)-কে যখনই কোনো হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হতো, তিনি তা উল্লেখ করতেন ও ব্যাখ্যা করতেন এবং সেটির বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা বর্ণনা করতেন। আর যখনই কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হতো, তিনি বলতেন: তিনি হলেন অমুকের পুত্র...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١١)
فلان الفلاني، ويذكر نسبه، فكان أمير المؤمنين في الحديث، سمعته يقول:
كنت عند الحافظ أبي موسى المديني، فجرى بيني وبين رجل منازعة في حديث.
فقال: هو في "صحيح البخاري".
فقلت: ليس هو فيه.
قال: فكتبه في رقعة، ورفعها إلى أبي موسى يسأله؟
قال: فناولني أبو موسى الرقعة، وقال: ما تقول؟ فقلت: ما هو في البخاري.
فخجل الرجل.
وقال أبو نزار ربيعة الصنعاني: قد حضرت الحافظ أبا موسى، وهذا الحافظ عبد الغني، فرأيت عبد الغني أحفظ منه.
وقال الضياء: سمعت عبد الغني يقول: كنت عند ابن الجوزي، فقال: "وريرة بن محمد الغساني"، فقلت: إنما هو "وَزيرة"، فقال: أنتم أعرف بأهل بلدكم.
وقال رجل للحافظ عبد الغني: رجل حلف بالطلاق أنك تحفظ مئة ألف حديث.
فقال: لو قال أكثر لصدق.
ومن شمائله:أنه نشر الحديث بالشام حتى قال أبو إسحاق؛ إبراهيم بن
অমুক বিন অমুক, তার বংশপরম্পরা উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন। আমি তাকে বলতে শুনেছি:
আমি হাফেজ আবু মুসা আল-মাদীনীর কাছে ছিলাম, তখন একটি হাদিস নিয়ে আমার এবং এক ব্যক্তির মাঝে বিতর্ক সৃষ্টি হলো।
সে বলল: এটি "সহীহ বুখারী"তে রয়েছে।
আমি বললাম: এটি তাতে নেই।
বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে ব্যক্তি একটি চিরকুটে তা লিখে আবু মুসার কাছে পেশ করল তাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য।
তিনি বলেন: আবু মুসা আমাকে চিরকুটটি দিলেন এবং বললেন: তুমি কী বলো? আমি বললাম: এটি বুখারীতে নেই।
এতে লোকটি লজ্জিত হলো।
আবু নিযার রাবিআ আস-সানআনী বলেন: আমি হাফেজ আবু মুসা এবং এই হাফেজ আব্দুল গনির মজলিসে উপস্থিত ছিলাম, আমি আব্দুল গনিকে তাঁর চেয়ে বড় হাফেজ হিসেবে দেখেছি।
আদ-দিয়া বলেন: আমি আব্দুল গনিকে বলতে শুনেছি: আমি ইবনুল জাওযীর নিকট ছিলাম, তিনি বললেন: "ওয়ারীরাহ বিন মুহাম্মদ আল-গাসসানী", আমি বললাম: এটি মূলত "ওয়াযীরাহ", তখন তিনি বললেন: আপনারা আপনাদের অঞ্চলের মানুষ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।
এক ব্যক্তি হাফেজ আব্দুল গনিকে বলল: এক ব্যক্তি তালাকের শপথ করে বলেছে যে, আপনি এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ জানেন।
তিনি বললেন: সে যদি এর চেয়ে বেশিও বলত, তবে সে সত্যই বলত।
তাঁর গুণাবলির মধ্য হতে:তিনি শাম দেশে হাদিস প্রচার করেছিলেন, এমনকি আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন... বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
محمد الحافظ: ما رأيت الحديث في الشام كله إلا ببركة الحافظ، فإنني كل من سألته يقول: أول ما سمعت على الحافظ عبد الغني.
ولقد كان يهتم بالرحلة جدًا، ويحرّض الطلاب على ذلك، ورحّل غير واحد منهم.
وكان رحمه الله لا يضيع شيئًا من وقته في غير فائدة، فإنه كان يصلي الفجر، ويلقن القرآن، وربما أقرأ شيئًا من الحديث تلقينًا، ثم يتوضأ ويصلي ما شاء الله له أن يصلي، ثم ينام نومة، ثم يقوم فيصلي الظهر، ويشتغل بعد ذلك بالتسميع أو بالنسخ إلى المغرب، فإن كان صائمًا أفطر، ثم يصلي العشاء، وينام إلى نصف الليل أو بعده، ثم قام كأن إنسانًا يوقظه، فيتوضأ ويصلي إلى قرب الفجر، وربما توضأ سبع مرات أو أكثر، وكان يقول: ما تطيب لي الصلاة إلا ما دامت أعضائي رطبة، ثم ينام نومة يسيرة إلى الفجر. وهذا دأبه.
وكان أخوة الشيخ العماد يقول: ما رأيت أحدًا أشد محافظة على وقته من أخي.
وكان الحافظ رحمه الله سخيّا جوادًا، لا يدخر دينارًا ولا درهمًا، وكان يخرج في الليل بقفاف الدقيق إلى بيوت الفقراء متنكرًا في الظلمة، وكان يُفتح عليه بالثياب، فيعطي الناس، وثوبه مرقع، وأخباره في ذلك كثيرة.
وقال عنه ابن قدامة: كان الحافظ عبد الغني جامعًا للعلم والعمل، وكان رفيقي في الصبا، وفي طلب العلم، وما كنا نستبق
মুহাম্মদ আল-হাফিজ বলেন: আমি সমগ্র শাম দেশে হাদিসের চর্চা কেবল হাফিজের (আবদুল গনি) বরকতেই দেখেছি। কারণ আমি যাকে জিজ্ঞাসা করেছি, সে-ই বলেছে: আমি সর্বপ্রথম হাফিজ আবদুল গনির নিকট থেকেই হাদিস শুনেছি।
তিনি ইলম অর্জনের সফরের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করতেন এবং ছাত্রদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন; এমনকি তিনি তাদের অনেককেই সফরে পাঠিয়েছিলেন।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি তাঁর সময়ের কিঞ্চিৎ পরিমাণও অনর্থক কাজে নষ্ট করতেন না। তিনি ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং কুরআন পাঠদান করতেন; কখনো কখনো হাদিসও পাঠ করাতেন। এরপর ওযু করে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী সালাত আদায় করতেন। এরপর কিছুক্ষণ ঘুমাতেন। অতঃপর জেগে উঠে জোহরের সালাত আদায় করতেন এবং এরপর মাগরিব পর্যন্ত হাদিস শ্রবণ অথবা পাণ্ডুলিপি অনুলিপির কাজে লিপ্ত থাকতেন। যদি সায়িম হতেন তবে ইফতার করতেন। এরপর এশার সালাত আদায় করে মধ্যরাত বা তার পর পর্যন্ত ঘুমাতেন। এরপর তিনি এমনভাবে জেগে উঠতেন যেন কেউ তাঁকে জাগিয়ে দিয়েছে। এরপর ওযু করে ফজরের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। কখনো কখনো তিনি সাতবার বা তারও বেশি বার ওযু করতেন এবং বলতেন: "আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যতক্ষণ সিক্ত থাকে, ততক্ষণই সালাত আমার কাছে তৃপ্তিদায়ক মনে হয়।" এরপর ফজরের আগে সামান্য সময় ঘুমাতেন। এটাই ছিল তাঁর প্রাত্যহিক নিয়ম।
শাইখ আল-ইমাদের ভাই বলতেন: আমি আমার ভাইয়ের চেয়ে সময়ের প্রতি অধিক যত্নবান আর কাউকে দেখিনি।
হাফিজ (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত দানশীল ও উদার ছিলেন; তিনি কোনো দিনার বা দিরহাম সঞ্চয় করতেন না। তিনি রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে আটার ঝুড়ি নিয়ে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে যেতেন। তাঁর কাছে যখন বিভিন্ন পোশাক আসত, তখন তিনি তা মানুষকে বিলিয়ে দিতেন, অথচ তাঁর নিজের পোশাক ছিল তালি লাগানো। এ বিষয়ে তাঁর অনেক ঘটনা বর্ণিত রয়েছে।
ইবনে কুদামা তাঁর সম্পর্কে বলেন: হাফিজ আবদুল গনি জ্ঞান ও আমলের সমন্বয়কারী ছিলেন। তিনি আমার শৈশবের এবং ইলম অন্বেষণের সাথী ছিলেন; আর আমরা একে অপরের সাথে পাল্লা দিতাম না...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
إلى خير إلا سبقني إليه إلا القليل.
وكمَّل الله فضيلته بابتلائه بأذى أهل البدعة وعداوتهم، ورزق العلم، وتحصيل الكتب الكثيرة، إلا أنه لم يعمر حتّى يبلغ غرضه في روايتها ونشرها.
ما ابتلي به الحافظ:ابتلي الحافظ عبد الغني رحمه الله كثيرًا، كغيره من أهل السنة، فلقد عاداه أهل البدع في زمانه، ووشوا به إلى الحكام.
ولم يكن رحمه الله ممن تأخذه في الله لومة لائم، وأكثر ما جرّ عليه البلاء قيامه بنشر أحاديث النزول والصفات، وكعادة أهل البدع والضلال في كل عصر ومصر، وموقفهم من الآثار، فقد قاموا عليه، ورموه بالتجسيم، وأما هو رحمه الله فقد كان قويّا في الحق، يجهر به، فما كان يداريهم كما فعل غيره من علماء عصره.
ولقد ابتلي كثيرًا.
قال الضياء: "كان الحافظ يقرأ الحديث بدمشق، ويجتمع عليه الخلق، فوقع الحسد، فشرعوا [أن] عملوا لهم وقتًا لقراءة الحديث، وجمعوا الناس، فكان هذا ينام، وهذا بلا قلب، فما اشتفوا، فأمروا الناصح ابن الحنبلي بأن يعظ تحت قبة النسر يوم الجمعة، وقت جلوس الحافظ، فأول ذلك أن الناصح والحافظ أرادا أن يختلفا الوقت، فاتفقا أن الناصح جلس بعد الصلاة، وأن يجلس الحافظ بعد العصر، فدسوا إلى الناصح رجلًا ناقص العقل
কোনো কল্যাণের দিকেই নয় যা আমার আগে তারা অল্প ছাড়া পৌঁছেছে।
এবং আল্লাহ তাঁর মর্যাদা পূর্ণ করেছেন বিদআতীদের কষ্ট ও শত্রুতার মাধ্যমে তাঁকে পরীক্ষার মাধ্যমে। তাঁকে ইলম এবং প্রচুর কিতাব অর্জনের তাওফিক দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি দীর্ঘজীবী হননি যাতে সেগুলো বর্ণনা ও প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেন।
হাফিজ যে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন:হাফিজ আবদুল গনি (রহিমাহুল্লাহ) আহলে সুন্নাতের অন্যদের মতোই অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাঁর সময়ের বিদআতীরা তাঁর সাথে শত্রুতা করেছিল এবং শাসকদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে চোগলখোরি করেছিল।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এমন ব্যক্তি ছিলেন না যিনি আল্লাহর পথে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করতেন। তাঁর ওপর নেমে আসা অধিকাংশ পরীক্ষার কারণ ছিল 'নুজুল' (আল্লাহর নেমে আসা) এবং সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ প্রচার করা। প্রত্যেক যুগে এবং জনপদে বিদআতী ও পথভ্রষ্টদের চিরচেনা অভ্যাস ও আসার (রেওয়ায়েত)-এর প্রতি তাদের চিরাচরিত অবস্থান অনুযায়ী তারা তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল এবং তাঁর ওপর 'তাজসিম' (আল্লাহকে দেহধারী সাব্যস্ত করার) অপবাদ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সত্যের ওপর অটল ও শক্তিশালী ছিলেন এবং তা উচ্চকণ্ঠে প্রচার করতেন; তাঁর সমসাময়িক অন্য আলেমদের মতো তিনি তাদের সাথে আপস করতেন না।
তিনি অনেক পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
দ্বিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "হাফিজ দামেস্কে হাদিস পাঠ করতেন এবং প্রচুর মানুষ তাঁর কাছে সমবেত হতো। ফলে ঈর্ষার সৃষ্টি হলো। তখন তারা (বিরোধীরা) নিজেরাও হাদিস পাঠের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করল এবং লোক জমায়েত করল। কিন্তু দেখা গেল কেউ সেখানে ঘুমাতো, আবার কেউ অন্যমনস্ক থাকত। এতে তারা তৃপ্ত হতে পারল না। তাই তারা নাসিহ ইবনুল হানবালিকে নির্দেশ দিল জুমার দিন 'কুব্বাতুন নাসর'-এর নিচে ওয়াজ করতে, ঠিক যে সময় হাফিজের মজলিস বসত। প্রথমে নাসিহ ও হাফিজ চেয়েছিলেন সময়ের ভিন্নতা রাখতে। তারা একমত হলেন যে, নাসিহ নামাজের পর বসবেন এবং হাফিজ আসরের পর বসবেন। তখন তারা (বিরোধীরা) জনৈক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী লোককে নাসিহের কাছে পাঠাল..."
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
من بني عساكر، فقال للناصح في المجلس ما معناه: إنك تقول الكذب على المنبر، فضرب وهرب، فتمت مكيدتهم، ومشوا إلى الوالي، وقالوا:
هؤلاء الحنابلة قصدهم الفتنة، واعتقادهم يخالف اعتقادنا، ونحو هذا، ثم جمعوا كبراءهم، ومضوا إلى القلعة إلى الوالي، وقالوا: نشتهي أن تحضر عبد الغني، فانحدر إلى المدينة خالي الموفق، وأخي الشمس البخاري، وجماعة، وقالوا: نحن نناظرهم.
وقالوا للحافظ: لا تجيء فإنك حَدٌّ، نحن نكفيك، فاتفق أنهم أخذوا الحافظ وحده، ولم يدر أصحابنا، فناظروه، واحتدّ، وكانوا قد كتبوا شيئًا من الاعتقاد، وكتبوا خطوطهم فيه، وقالوا له: اكتب خطك، فأبى. فقالوا للوالي: الفقهاء كلهم قد اتفقوا على شيء، وهو يخالفهم، واستأذنوه في رفع منبره، وقالوا: نريد أن لا تجعل في الجامع إلا صلاة الشافعية، وكسروا منبر الحافظ، ومنعونا من الصلاة، ففاتتنا صلاة الظهر.
ثم إن الحافظ ضاق صدره، ومضى إلى بعلبك، فأقام بها مدة، ثم توجه إلى مصر، فجاء شاب من دمشق بفتاو إلى صاحب مصر الملك العزيز، ومعه كتب أن الحنابلة يقولون كذا وكذا مما يشنعون به عليهم، فقال: إذا رجعنا أخرجنا من بلادنا من يقول بهذه المقالة، فاتفق أنه عدا به الفرس، فشب به، فسقط، فخسف صدره، كذلك حدثني يوسف بن الطفيل شيخنا، وهو الذي
...বনু আসাকির থেকে, অতঃপর তিনি মজলিসে নাসিহ-কে যা বলেছিলেন তার সারমর্ম হলো: "আপনি মিম্বরে মিথ্যা বলছেন," এরপর তাকে মারধর করা হলো এবং সে পালিয়ে গেল। ফলে তাদের চক্রান্ত সফল হলো এবং তারা ওয়ালীর কাছে গিয়ে বলল:
এই হাম্বলিদের উদ্দেশ্য হলো ফিতনা সৃষ্টি করা এবং তাদের আকিদা আমাদের আকিদার পরিপন্থী—অনুরূপ আরও অনেক কথা। অতঃপর তারা তাদের নেতৃস্থানীয়দের একত্র করল এবং কেল্লায় ওয়ালীর নিকট গিয়ে বলল: "আমরা চাই আপনি আব্দুল গনিকে উপস্থিত করুন।" তখন আমার মামা মুওয়াফফাক, আমার ভাই শামস আল-বুখারি এবং একদল লোক শহরে নেমে এলেন এবং বললেন: "আমরা তাদের সাথে বিতর্ক করব।"
তারা হাফিযকে বললেন: "আপনি আসবেন না, কারণ আপনি তীব্র স্বভাবের মানুষ, আমরাই আপনার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হব।" কিন্তু ঘটনাক্রমে তারা হাফিযকে একাকী পেয়ে গেল এবং আমাদের সাথীরা তা জানতে পারল না। অতঃপর তারা তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো এবং তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। তারা আকিদা বিষয়ে কিছু বিষয় লিখে রেখেছিল এবং তাতে তাদের স্বাক্ষর দিয়েছিল। তারা তাকে বলল: "আপনি আপনার স্বাক্ষর দিন," কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। তখন তারা ওয়ালীর নিকট গিয়ে বলল: "সমস্ত ফকিহ একটি বিষয়ে একমত হয়েছেন, অথচ তিনি তাদের বিরোধিতা করছেন।" তারা তার মিম্বর সরিয়ে ফেলার অনুমতি চাইল এবং বলল: "আমরা চাই জামে মসজিদে শাফিয়িদের সালাত ব্যতীত অন্য কোনো সালাত যেন না রাখা হয়।" তারা হাফিযের মিম্বরটি ভেঙে ফেলল এবং আমাদের সালাত আদায়ে বাধা দিল, ফলে আমাদের যোহরের সালাত ছুটে গেল।
অতঃপর হাফিয ব্যথিত চিত্তে বালবাকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করলেন। এরপর তিনি মিসরের দিকে রওয়ানা হলেন। ইতিমধ্যে দামেস্ক থেকে এক যুবক মিসরের অধিপতি আল-মালিক আল-আজিজের কাছে কিছু ফতোয়া নিয়ে এল এবং তার সাথে এমন কিছু লিপি ছিল যাতে উল্লেখ ছিল যে হাম্বলিরা এই এই কথা বলে—যা দিয়ে তাদের প্রতি কুৎসা রটানো হচ্ছিল। তিনি বললেন: "আমি যখন ফিরে আসব, তখন যারা এই মত পোষণ করে তাদের আমার দেশ থেকে বহিষ্কার করব।" কিন্তু ঘটনাক্রমে ঘোড়াটি তাকে নিয়ে দ্রুত দৌড়াতে লাগল এবং অবাধ্য হয়ে লাফিয়ে উঠল, ফলে তিনি পড়ে গেলেন এবং তার বক্ষদেশ পিষ্ট হয়ে গেল। এভাবেই আমাদের শাইখ ইউসুফ ইবনে তুফাইল আমাকে বর্ণনা করেছেন, যিনি...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
غسله، فأقيم ابنه صبي، فجاء الأفضل من صرخد، وأخذ مصر، وعسكر وكرّ إلى دمشق، فلقي الحافظ عبد الغني في الطريق فأكرمه إكرامًا كثيرًا، ونفّذ يوصي به بمصر، فتلقي الإمام بالإكرام، وأقام بها يُسمعُ الحديث بمواضع -وكان بها كثير من المخالفين- وحصر الأفضل دمشق حصرًا شديدًا، ثم رجع إلى مصر، فسار العادل عمُّه خلفه فتملك مصر، وأقام، وكثر المخالفون على الحافظ، فاستدعي، وأكرمه العادل، ثم سافر العادل إلى دمشق، وبقي الحافظ بمصر، وهم ينالون منه، حتى عزم الملك الكامل على إخراجه، واعتقل في دار أسبوعًا، فكان يقول: ما وجدت راحة في مصر مثل تلك الليالي.
وقال الشجاع بن أبي زكريا الأمير: قال لي الملك يومًا:
هاهنا فقيه. قالوا: إنه كافر. قلت: لا أعرفه. قال: بلى، هو محدِّث. قلت: لعله الحافظ عبد الغني؟ قال: هذا هو. فقلت: أيها الملك! العلماء أحدهم يطلب الآخرة، وآخر يطلب الدنيا، وأنت هنا باب الدنيا، فهذا الرجل جاء إليك، أو أرسل إليك شفاعة أو رقعة، يطلب منك شيئًا؟. قال: لا. فقلت: والله هؤلاء يحسدونه. فهل في هذه البلاد أرفع منك؟. قال: لا. فقلت: هذا الرجل أرفع العلماء، كما أنت أرفع الناس. فقال: جزاك الله خيرًا كما عرفتني.
ثم بعثتُ رقعة إليه، أوصيه به، فطلبني، فجئت، وإذا عنده شيخ الشيوخ ابن حمويه، وعز الدين الزنجاري الأمير، فقال لي
তাকে গোসল করানো হলো, এরপর তার নাবালক পুত্রকে স্থলাভিষিক্ত করা হলো। অতঃপর আল-আফদাল সারখাদ থেকে আসলেন এবং মিসর দখল করলেন। তিনি সৈন্য সমাবেশ করে দামেস্কের অভিমুখে যাত্রা করলেন। পথিমধ্যে হাফেজ আব্দুল গণীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো এবং তিনি তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করলেন। তিনি মিসরে তাঁর সপক্ষে সুপারিশ কার্যকর করলেন, ফলে ইমাম সেখানে বিপুল মর্যাদার সাথে গৃহীত হলেন। তিনি সেখানে বিভিন্ন স্থানে হাদিস পাঠ করাতেন—অথচ সেখানে অনেক বিরোধী লোক ছিল। আল-আফদাল দামেস্ককে কঠোরভাবে অবরোধ করলেন, অতঃপর মিসরে প্রত্যাবর্তন করলেন। এরপর তাঁর চাচা আল-আদিল তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করে মিসর জয় করলেন এবং সেখানে অবস্থান করতে লাগলেন। হাফেজের বিরুদ্ধে বিরোধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেল, ফলে তাঁকে তলব করা হলো। আল-আদিল তাঁকে সম্মান করলেন। অতঃপর আল-আদিল দামেস্কের দিকে যাত্রা করলেন এবং হাফেজ মিসরে অবস্থান করতে লাগলেন। বিরোধীরা তাঁকে নানাভাবে হেনস্তা করতে লাগল, এমনকি মালিক আল-কামিল তাঁকে বহিষ্কারের সংকল্প করলেন। তাঁকে এক সপ্তাহের জন্য একটি গৃহে অন্তরীণ রাখা হলো। তিনি বলতেন: "মিসরে আমি সেই রাতগুলোর মতো প্রশান্তি আর কখনো লাভ করিনি।"
আমির শুজা ইবনে আবি যাকারিয়া বলেন: একদিন বাদশাহ আমাকে বললেন:
"এখানে একজন ফকিহ আছেন। লোকেরা বলছে যে সে কাফের।" আমি বললাম: "আমি তাঁকে চিনি না।" তিনি বললেন: "অবশ্যই চেনেন, তিনি একজন মুহাদ্দিস।" আমি বললাম: "হয়তো তিনি হাফেজ আব্দুল গণী?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তিনিই।" আমি বললাম: "হে বাদশাহ! আলেমদের মধ্যে কেউ পরকাল অন্বেষণ করে, আবার কেউ দুনিয়া অন্বেষণ করে। আর আপনি হলেন এখানে দুনিয়ার প্রবেশদ্বার। এই ব্যক্তি কি কখনো আপনার সমীপে এসেছেন, অথবা আপনার কাছে কোনো সুপারিশনামা বা পত্র পাঠিয়েছেন যাতে আপনার কাছে কিছু প্রার্থনা করেছেন?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "আল্লাহর কসম, এরা কেবল তাঁকে হিংসা করে। এই জনপদে আপনার চেয়ে উচ্চাসীন কি কেউ আছে?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "আপনি যেমন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এই ব্যক্তিও তেমন আলেমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।" তিনি বললেন: "আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, আপনি আমাকে প্রকৃত সত্যটি জানিয়েছেন।"
অতঃপর আমি তাঁর নিকট একটি পত্র পাঠালাম এবং তাঁর বিষয়ে সুপারিশ করলাম। তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং আমি উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর নিকট শায়খুশ শুয়ূখ ইবনে হামুউইয়াহ এবং আমির ইযযুদ্দীন যানজারি উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
السلطان: نحن في أمر الحافظ، فقال: أيها الملك! القوم يحسدونه، وهذا شيخ الشيوخ بيننا، وحلّفته: هل سمعت من الحافظ كلامًا يخرج عن الإسلام؟ فقال: لا والله. وما سمعت عنه إلا كل جميل، وما رأيته.
وتكلم ابن الزنجاري فمدح الحافظ كثيرًا وتلامذته. وقال: أنا أعرفهم، ما رأيت مثلهم. فقلت: وأنا أقول شيثًا آخر: لا يصل إليه مكروه حتى يقتل من الأكراد ثلاثة آلاف. فقال الملك الكامل: لا يؤذى الحافظ.
فقلت: اكتب خطك بذلك. فكتب.
ثم طلب من الحافظ أن يكتب اعتقاده، فكتب: أقول كذا؛ لقول الله كذا، وأقول كذا؛ لقول الله كذا، ولقول النبي صلى الله عليه وسلم كذا.
حتى فرغ من المسائل التي يخالفون فيها، فلما رآها الكامل قال: إيشٍ أقول في هذا، يقول بقول الله، وقول رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! ".
وزعم سبط ابن الجوزي أن الفقهاء أجمعوا على تكفيره، ولكن هذا من مجازفات السبط، وقلة ورعه، كما قال الحافظ الذهبي.
ووقع له من البلاء أيضًا في أصبهان ما كاد يودي إلى قتله، ومثل ذلك وهو بالموصل.
ولكنه رحمه الله كان محبوبًا من أهل السنة، يكرمونه، ويعرفون قدره، وينزلونه منزلته.
قال الضياء: ما أعرف أحدًا من أهل السنة رآه إلا أحبه،
সুলতান বললেন: "আমরা হাফিজের ব্যাপারে (আলোচনা করছি)।" তখন তিনি বললেন: "হে সুলতান! লোকেরা তাকে হিংসা করে। আর আমাদের মাঝে এই যে শায়খুশ শুয়ুখ (শায়েখদের প্রধান) আছেন, আমি তাকে শপথ করে জিজ্ঞাসা করেছি: আপনি কি হাফিজের থেকে এমন কোনো কথা শুনেছেন যা ইসলাম থেকে বিচ্যুত করে দেয়? তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম। আমি তার সম্পর্কে কেবল সুন্দর কথাই শুনেছি এবং (মন্দ কিছু) দেখিনি।"
এরপর ইবনে যানজারি কথা বললেন এবং তিনি হাফিজ ও তার ছাত্রদের অনেক প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন: "আমি তাদের চিনি, তাদের মতো কাউকে দেখিনি।" তখন আমি বললাম: "আমি অন্য একটি কথা বলছি: তার কোনো অনিষ্ট স্পর্শ করবে না যতক্ষণ না তিন হাজার কুর্দি সৈন্য নিহত হয়।" তখন বাদশাহ আল-কামিল বললেন: "হাফিজকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।"
আমি বললাম: "এ বিষয়ে আপনার লিখিত নির্দেশ প্রদান করুন।" তখন তিনি তা লিখলেন।
অতঃপর হাফিজের কাছে অনুরোধ করা হলো যেন তিনি তার আকিদা (বিশ্বাস) লিখে দেন। তিনি লিখলেন: "আমি অমুক কথা বলি, কারণ আল্লাহর বাণী হলো এই; আমি অমুক কথা বলি, কারণ আল্লাহর বাণী হলো এই; এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী হলো এই।"
এভাবে তিনি সেই সব মাসআলা লিখে শেষ করলেন যেগুলোতে তারা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করত। যখন আল-কামিল তা দেখলেন, তিনি বললেন: "এ বিষয়ে আমি কী বলব? তিনি তো আল্লাহর বাণী এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীই বলছেন!"
সিবত ইবনুল জাওযী দাবি করেছেন যে ফকিহগণ তাকে কাফির সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন, তবে হাফিজ আয-যাহাবী যেমনটি বলেছেন, এটি সিবতের অতিরঞ্জন এবং তার তাকওয়ার স্বল্পতার পরিচয়।
ইসফাহানেও তার ওপর এমন বিপদ নেমে এসেছিল যা তাকে প্রায় হত্যার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, এবং মসুলে থাকাকালীনও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল।
তবে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আহলে সুন্নাতের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তারা তাকে সম্মান করত, তার মর্যাদা অনুধাবন করত এবং তাকে তার যোগ্য স্থানে আসীন করত।
আদ-দিয়া বলেছেন: "আহলে সুন্নাতের এমন কাউকে আমি চিনি না যে তাকে দেখেছে অথচ তাকে ভালোবাসেনি।"
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ومدحه كثيرًا.
وقال الذهبي: وبكل حال فالحافظ عبد الغني من أهل الدين، والعلم، والتأله، والصدع بالحق، ومحاسنه كثيرة.
مصنفاته:صنف الحافظ عبد الغني كثيرًا من التصانيف المفيدة النافعة، نذكر منها ما يلي:
1 - الكمال في أسماء الرجال.
وهو أول مؤلف في رجال الكتب الستة، قال عنه المزي: "هو كتاب نفيس، كبير الفائدة".
2 - تبين الإصابة لأوهام حصلت لأبي نعيم في معرفة الصحابة.
يقع في جزأين، يدل على براعة الحافظ وحفظه، وقد مدحه الحافظ أبو موسى المديني لما سمع منه هذا الكتاب.
3 - الجامع الصغير لأحكام البشير النذير.
4 - الصفات.
5 - ذم الرياء.
6 - ذم الغيبة.
7 - فضل الصدقة.
8 - الأحكام الصغرى (وهو كتابنا هذا).
9 - الأحكام الكبرى.
10 - الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر (وقد طبع بتحقيقي
এবং তিনি তাঁর প্রচুর প্রশংসা করেছেন।
যাহাবী বলেন: সর্বাবস্থায় হাফেজ আব্দুল গনি ছিলেন দ্বীনদারী, ইলম, ইবাদত-বন্দেগী এবং সত্য প্রকাশে আপসহীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, আর তাঁর গুণাবলী অনেক।
তাঁর রচনাবলী:হাফেজ আব্দুল গনি অনেক উপকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থ রচনা করেছেন, আমরা তাঁর মধ্য থেকে নিম্নোক্তগুলো উল্লেখ করছি:
১ - আল-কামাল ফী আসমায়ির রিজাল।
এটি কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের বিষয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ, আল-মিজ্জি এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি অমূল্য গ্রন্থ, যার উপকারিতা অপরিসীম।"
২ - তাবয়ীনুল ইসাবাহ লি-আওয়াহামিন হাসালাত লি-আবি নুআইম ফী মা’রিফাতিস সাহাবাহ।
এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত, যা হাফেজের পারদর্শিতা ও মুখস্থশক্তির প্রমাণ দেয়। হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনী যখন তাঁর নিকট থেকে এই বইটি শুনেছেন, তখন তিনি এর প্রশংসা করেছেন।
৩ - আল-জামি’উস সাগীর লি-আহকামিল বাশীরিন নাযীর।
৪ - আস-সিফাত (গুণাবলী)।
৫ - যাম্মুর রিয়া (লোকদেখানো ইবাদতের নিন্দা)।
৬ - যাম্মুল গীবাহ (পরনিন্দার কুৎসা)।
৭ - ফাদলুস সাদাকাহ (দানের ফজিলত)।
৮ - আল-আহকামুস সুগরা (যা আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থটি)।
৯ - আল-আহকামুল কুবরা।
১০ - আল-আমর বিল মা’রুফ ওয়ান-নাহয়ি আনিল মুনকার (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ—যা আমার সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে)।
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
في دار السلف بالرياض).
وغير ذلك الكثير.
وفاته:قال ولده الحافظ أبو موسى: مرض أبي في ربيع الأول مرضًا شديدًا منعه من الكلام والقيام، واشتد ستة عشر يومًا، وكنت أسأله كثيرًا: ما تشتهي؟، فيقول: أشتهي الجنة، أشتهي رحمة الله، لا يزيد على ذلك، فجئته بماء حار، فمد يده، فوضأته وقت الفجر، فقال: يا عبد الله! قم صل بنا وخفف، فصليت بالجماعة، وصلى جالسًا، ثم جلست عند رأسه، فقال: اقرأ يس، فقرأتها، وجعل يدعو، وأنا أؤمن. فقلت: هذا دواء تشربه. قال: يا بني ما بقي إلا الموت. فقلت: ما تشتهي شيئًا؟. قال: أشتهي النظر إلى وجه الله سبحانه. فقلت: ما توصي بشيء؟، قال: ما لي على أحد شيء، ولا لأحد عليَّ شيء. قلت: توصيني؟، قال: أوصيك بتقوى الله، والمحافظة على طاعته، فجاء جماعة يعودونه، فسلموا، فرد عليهم، وجعلوا يتحدثون، فقال: ما هذا؟ اذكروا الله، قولوا: لا إله إلا الله، فلما قاموا جعل يذكر الله بشفتيه، ويشير بعينيه، فقمت لأناول رجلًا كتابًا من جانب المسجد، فرجعت، وقد خرجت روحه رحمه الله، وذلك يوم الاثنين الثالث والعشرين من ربيع الأول، سنة ست مئة، وبقي ليلة الثلاثاء في المسجد، واجتمع الخلق من الغد، فدفناه (1).
--------------------------------------------
(রিয়াদের দারুস সালাফে)।
এবং এর বাইরেও আরও অনেক কিছু।
তাঁর মৃত্যু:তাঁর পুত্র হাফেজ আবু মুসা বলেন: রবিউল আউয়াল মাসে আমার পিতা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা তাঁকে কথা বলা এবং দাঁড়ানো থেকে বিরত রাখে। তা ষোল দিন ধরে তীব্রতর ছিল। আমি তাঁকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করতাম: আপনি কী আকাঙ্ক্ষা করেন? তিনি বলতেন: আমি জান্নাত আকাঙ্ক্ষা করি, আমি আল্লাহর রহমত আকাঙ্ক্ষা করি; এর বেশি তিনি কিছু বলতেন না। এরপর আমি তাঁর কাছে গরম পানি নিয়ে এলাম, তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন, আর আমি ফজর ওয়াক্তে তাঁকে ওজু করিয়ে দিলাম। তখন তিনি বললেন: হে আব্দুল্লাহ! ওঠো, আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করো এবং সংক্ষেপ করো। আমি জামাতের সাথে সালাত আদায় করলাম আর তিনি বসে সালাত আদায় করলেন। এরপর আমি তাঁর মাথার কাছে বসলাম, তখন তিনি বললেন: সুরা ইয়াসিন পাঠ করো। আমি তা পাঠ করলাম, আর তিনি দোয়া করতে শুরু করলেন এবং আমি 'আমীন' বলতে লাগলাম। আমি বললাম: এটি একটি ঔষধ যা আপনি পান করবেন। তিনি বললেন: হে বৎস! মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি বললাম: আপনি কি কিছুই আকাঙ্ক্ষা করেন না? তিনি বললেন: আমি মহান আল্লাহর চেহারার দিকে তাকানোর আকাঙ্ক্ষা করি। আমি বললাম: আপনি কি কোনো কিছুর অসিয়ত করবেন না? তিনি বললেন: কারও কাছে আমার কিছু নেই, আর আমার কাছেও কারও কিছু পাওনা নেই। আমি বললাম: আপনি কি আমাকে কোনো অসিয়ত করবেন? তিনি বললেন: আমি তোমাকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকার অসিয়ত করছি। এরপর একদল লোক তাঁকে দেখতে এলেন, তাঁরা সালাম দিলেন, তিনি তাঁদের সালামের উত্তর দিলেন। তাঁরা কথা বলতে শুরু করলে তিনি বললেন: এটি কী? আল্লাহকে স্মরণ করো, বলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। যখন তাঁরা উঠে দাঁড়ালেন, তিনি তাঁর ঠোঁট নাড়িয়ে আল্লাহকে স্মরণ করতে লাগলেন এবং তাঁর চোখ দিয়ে ইশারা করতে লাগলেন। আমি মসজিদের এক পাশ থেকে এক ব্যক্তিকে একটি বই দেওয়ার জন্য উঠে গেলাম, ফিরে এসে দেখলাম তাঁর প্রাণ নির্গত হয়ে গেছে, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। আর তা ছিল ছয়শ হিজরি সনের তেইশে রবিউল আউয়াল, সোমবার দিন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি মসজিদেই ছিলেন এবং পরের দিন মানুষ একত্রিত হলো, তখন আমরা তাঁকে দাফন করলাম (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وصف النسخ الخطيَّة:
النسخة الأولى:نسخة نفيسة، كُتبت بخط نسخي جميل واضح، وتقع في (98) لوحة، وناسخها هو: محمد بن إلياس بن عثمان، وهذه النسخة منقولة من نسخة قُرئت على الحافظ عبد الغني رحمه الله كما أثبت ذلك الناسخ في آخرها.
وكان الناسخ أمينًا في نقل كل ما وجده في الأصل الذي نقل منه فنقل السماعات والمعارضة والمقابلة، والإشارة إلى اختلاف النسخ، ثم كتب في آخر النسخة: نقله كما شاهده محمد بن إلياس بن عثمان.
وهذا الناسخ هو أحد العلماء الفضلاء، له ترجمة في "شذرات الذهب" (8/ 303).
وقد وقع خرم في هذه النسخة من بعد قوله في الحديث رقم (4): "وفي لفظ لمسلم. . . " إلى قوله: "البارد" في الحديث رقم (89).
وأيضًا ورقة أخرى من قوله: "وفي لفظ. . . " حديث رقم (272) إلى قوله: ". . . جالس فقالت" حديث رقم (275).
وهذه النسخة إليها الإشارة ب "أ" وهي محفوظة بمركز الملك فيصل بالرياض تحت رقم (726).
النسخة الثانية:نسخة تامة متقنة، تقع في (53) لوحة، وهي مقابلة على
পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ:
প্রথম পাণ্ডুলিপি:একটি মূল্যবান অনুলিপি, যা সুন্দর ও স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত এবং এটি ৯৮টি পত্রে (ফলিও) বিন্যস্ত। এর লিপিকার হলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইলিয়াস ইবনে উসমান। এই পাণ্ডুলিপিটি এমন একটি কপি থেকে নকল করা হয়েছে যা হাফেজ আব্দুল গনি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পাঠ করা হয়েছিল, যেমনটি লিপিকার এর শেষে প্রমাণস্বরূপ উল্লেখ করেছেন।
লিপিকার মূল কপিতে যা কিছু পেয়েছেন তা নকলে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন; ফলে তিনি শ্রুতি-টীকা (সামাআ’ত), পর্যালোচনা (মুআ’রাযাহ), মূলের সাথে তুলনা (মুকাবালাহ) এবং পাঠভেদের ইঙ্গিতসমূহ হুবহু নকল করেছেন। অতঃপর তিনি পাণ্ডুলিপির শেষে লিখেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইলিয়াস ইবনে উসমান এটি যেভাবে দেখেছেন সেভাবেই নকল করেছেন।
এই লিপিকার একজন বিজ্ঞ আলেম ছিলেন, যার জীবনী ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৮/৩০৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
এই পাণ্ডুলিপির ৪ নম্বর হাদিসের "মুসলিম-এর এক বর্ণনায়..." অংশের পর থেকে ৮৯ নম্বর হাদিসের "শীতল" শব্দ পর্যন্ত একটি অংশ মাঝখান থেকে বিচ্ছিন্ন (লুপ্ত) হয়ে গেছে।
অনুরূপভাবে ২৭২ নম্বর হাদিসের "এক বর্ণনায়..." অংশ থেকে ২৭৫ নম্বর হাদিসের "...উপবিষ্ট ছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন" পর্যন্ত আরও একটি পাতা নিখোঁজ রয়েছে।
এই পাণ্ডুলিপিটিকে "আলিফ" সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এটি রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টারে ৭২৬ নম্বর অধীনে সংরক্ষিত রয়েছে।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি:এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুসংহত পাণ্ডুলিপি, যা ৫৩টি পত্রে বিন্যস্ত। এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে (মুকাবালাহ করা হয়েছে) এমন একটি...
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
نسخ صحيحة، كما أنه عليها سماع وخط محمد مرتضى الحسيني الزبيدي صاحب "تاج العروس" وقد أثبت سنده المتصل إلى المؤلف الحافظ عبد الغني رحمه الله.
وهذه النسخة إليها الإشارة بـ "ب" وهي برقم (727) في مركز الملك فيصل بالرياض.
النسخة الثالثة:هي النسخة التي شرحها العلَّامة ابن الملقن، وهي نسخة متقنة، وقد كُتِبت هذه النسخة سنة (766 هـ)، وهي منقولة بالحرف من خط ابن الملقن نفسه مما يدل على نفاستها ودقتها.
إلا أن هذه النسخة فيها خرم أيضًا من أول باب القراءة في الصلاة إلى أول باب الغسل للمحرم، وهو يمثل المجلد الثاني من شرح ابن الملقن من حديث (104) إلى حديث (242) من كتاب [العمدة] وهذه النسخة إليها الإشارة بـ: [نسخة ابن الملقن].
كما أنني لم آلو جهدًا في مقابلة أحاديث الكتاب حرفًا حرفًا مع مصدريها؛ البخاري (1) ومسلم، كل ذلك من أجل تحرير نص الكتاب، وأسال الله تعالى أن أكون قد وفقت في ذلك. فإنه لمن المؤسف أن مثل هذا الكتاب النفيس -على كثرة انتشاره
--------------------------------------------
সঠিক পাণ্ডুলিপি, এবং এর ওপর "তাজুল আরুস"-এর লেখক মুহাম্মদ মুর্তজা আল-হুসাইনী আজ-জাবীদী-এর শ্রবণলিপি ও হস্তাক্ষর রয়েছে। তিনি লেখক হাফেজ আব্দুল গনী (রাহিমাহুল্লাহ) পর্যন্ত তার অবিচ্ছিন্ন সনদ সাব্যস্ত করেছেন।
এই পাণ্ডুলিপিটিকে "বা" চিহ্ন দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছে এবং এটি রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টারে (৭২৭) নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
তৃতীয় পাণ্ডুলিপি:এটি সেই পাণ্ডুলিপি যা আল্লামা ইবনুল মুলাক্কিন ব্যাখ্যা করেছেন। এটি একটি সুসংহত পাণ্ডুলিপি, যা (৭৬৬ হিজরি) সালে অনুলিপি করা হয়েছে। এটি সরাসরি ইবনুল মুলাক্কিনের স্বহস্ত লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে, যা এর শ্রেষ্ঠত্ব ও সূক্ষ্মতার প্রমাণ দেয়।
তবে এই পাণ্ডুলিপিতেও কিছুটা অসম্পূর্ণতা রয়েছে; 'সালাতে কিরাত পাঠ' অধ্যায়ের শুরু থেকে 'এহরামকারীর গোসল' অধ্যায়ের শুরু পর্যন্ত অংশটি বাদ পড়েছে। এটি ইবনুল মুলাক্কিনের ব্যাখ্যার দ্বিতীয় খণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করে, যা [উমদাহ] কিতাবের (১০৪) নং হাদিস থেকে (২৪২) নং হাদিস পর্যন্ত। এই পাণ্ডুলিপিটিকে '[ইবনুল মুলাক্কিনের পাণ্ডুলিপি]' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া আমি এই কিতাবের হাদিসগুলোকে তাদের মূল উৎস—বুখারি (১) ও মুসলিমের সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দেখতে কোনো ত্রুটি করিনি। এই সবকিছুই করা হয়েছে কিতাবটির মূল পাঠ্যকে বিশুদ্ধ করার জন্য। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এই কাজে তাওফিক দান করেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই ধরণের একটি মূল্যবান কিতাব—ব্যাপক প্রচার থাকা সত্ত্বেও—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وتدريسه- لا توجد له طبعة صحيحة خالية من الغلط.
وبعد: لا يفوتني أن أشكر الأخ الكبير، والأستاذ الفاضل أبا عبد الرحمن؛ سعد بن عبد الرحمن الراشد صاحب مكتبة المعارف بالرياض، فقد كان هو -جزاه الله خيرًا- صاحب اقتراح تحقيق هذا الكتاب.
كما أشكر الأخ الفاضل الأستاذ صالح الخريجي رئيس قسم المخطوطات بمركز الملك فيصل على ما أجده أنا وغيري من الباحثين من تعاونه الصادق، جزاه الله خيرًا.
وأخيرًا:
أسأل الله عز وجل أن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم، وأن يثبت قلوبنا على دينه، وأن يحشرنا تحت لواء نبيه صلى الله عليه وسلم إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وكتب
سمير بن أمين الزهيري
18/ 3/ 1418 هـ
এবং এর পাঠদান—ভুলমুক্ত এর কোনো সঠিক সংস্করণ বর্তমানে নেই।
অতঃপর: আমি শ্রদ্ধেয় বড় ভাই এবং গুণী উস্তাদ আবু আব্দুর রহমান সা’দ বিন আব্দুর রহমান আর-রাশিদ—যিনি রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ-এর স্বত্বাধিকারী—তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন; কারণ এই কিতাবটি তাহকীক করার প্রস্তাব মূলত তিনিই দিয়েছিলেন।
সেইসাথে আমি গুণী ভাই উস্তাদ সালিহ আল-খুরাইজীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি কিং ফয়সাল সেন্টারের পাণ্ডুলিপি বিভাগের প্রধান। আমি এবং অন্যান্য গবেষকগণ তাঁর থেকে যে আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
সবশেষে:
আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের আমলসমূহকে কেবল তাঁর মহিমান্বিত চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন, আমাদের অন্তরসমূহকে তাঁর দ্বীনের ওপর অটল রাখেন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পতাকাতলে আমাদের একত্রিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বক্ষমতাবান।
ইতি
সামীর বিন আমীন আয-যুহাইরী
১৮/ ০৩/ ১৪১৮ হিজরি
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
العُمْدَةُ في الأَحْكَامِ
تَأليف
الإمَام الحَافِظ عَبد الغَني بْن عَبد الوَاحِد المَقدسي المتوفى 600 هـ
تحقيق
سَمير بْن أمين الزهَيري
উমদাতুল আহকাম
রচনা
ইমাম আল-হাফিজ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬০০ হিজরি)
সম্পাদনা
সামির বিন আমিন আল-জুহাইরি
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَهُوَ حسبي
قال الإمام السعيد، الحافظُ الفقيه الأوحد الصدر الكبير، ناقد الحفاظ، تقي الدين: أبو محمد؛ عبد الغني بن عبد الواحد بن عليّ بن سُرور المقدسيُّ أدام الله توفيقه وأيامه (1):
الحمدُ لله الملكِ الجبّار، الواحدِ القهَّار، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحدَهُ لا شَريكَ له، ربُّ السماوات والأرضِ وما بينهما، العزيزُ الغفَّارُ، وصَلى الله على (2) النبيِّ المُصطفى المختار، وآله (3)، وصحبه الأطهار.
أما بعدُ: فإنّ بعضَ إخواني سألنىِ اختصارَ جُملةٍ في أحاديث الأحكام مما اتفق عليه الإمامانِ: أبو عبد الله؛ محمد بنُ إسماعيل بن إبراهيم البُخاريُّ. ومُسلم بنُ الحجَّاج (4)، فأجبتُهُ إلى
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।
সৌভাগ্যবান ইমাম, অদ্বিতীয় হাফিজ ও ফকিহ, মহান অগ্রজ, হাফিজদের সমালোচক, তাকিউদ্দীন: আবু মুহাম্মদ; আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী ইবনে সুরূর আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর তাওফিক এবং তাঁর দিনগুলোকে দীর্ঘায়িত করুন) বলেছেন (১):
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাজাধিরাজ, মহা প্রতাপশালী, এক ও অদ্বিতীয়, মহাপ্রবল পরাক্রমশালী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, মহা পরাক্রমশালী, অতি ক্ষমাশীল। এবং দরুদ বর্ষিত হোক আল্লাহর মনোনীত ও নির্বাচিত নবীর ওপর (২), এবং তাঁর পরিবারবর্গ (৩) ও পবিত্র সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর: আমার কিছু দ্বীনি ভাই আহকাম বা বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন তৈরি করার জন্য আমার কাছে অনুরোধ করেছেন, যা দুই ইমাম ঐক্যবদ্ধভাবে বর্ণনা করেছেন: আবু আব্দুল্লাহ; মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-বুখারি এবং মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ (৪)। তাই আমি তাঁর অনুরোধ রক্ষা করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
سؤاله؛ رجاءَ المنفعةِ به.
وأسألُ الله أن ينفعنا به، ومَنْ كَتبه، أو سمِعَه، أو حَفِظَهُ، أو نظرَ فيه، وأن يجعله خالصًا لوجهه (1)، موجبًا للفوزِ لديه؛ فإنه حسبُنا، ونعم الوكيل.
--------------------------------------------
তাঁর নিকট প্রার্থনা; এর মাধ্যমে উপকারের প্রত্যাশায়।
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে আমাদের এবং যে এটি লিখেছে, বা শ্রবণ করেছে, বা মুখস্থ করেছে, কিংবা এতে দৃষ্টিপাত করেছে—সবাইকে উপকৃত করেন এবং একে কেবল তাঁর চেহারার জন্য (১) নিবেদিত করেন, যা তাঁর নিকট সফলতার কারণ হবে; কেননা তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
1 - كتاب الطهارة1 - عن عُمر بنِ الخطَّاب رضي الله عنه قال: سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقولُ: "إِنَّما الأعمالُ بالنِّيَّة" -وفي رواية: بالنِّيَّات- وإنَّما لكلِّ امرىءٍ ما نَوى، فمَنْ كانت هِجرتُه إلى الله ورسُولِهِ فهجرتُه إلى الله ورسُولِهِ، ومَنْ كانت هجرتُه إلى دُنيا يُصِيبُها أو امرأةٍ يتزوَّجُها، فهجرتُه إلى ما هاجرَ إليه" (1).
2 - عن أبي هُريرة رضي الله عنه قال: قالَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: "لا يَقْبَلُ الله صلاةَ أحدِكُم -إذا أحْدَثَ- حتى يتوضَّأَ" (2).
3 - عن عبد الله بنِ عَمرو بْن العاص، وأبي هُريرة، وعائشةَ رضي الله عنهم قالوا: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: "وَيْلٌ للأعقابِ مِن النَّارِ" (3).
--------------------------------------------
১ - পবিত্রতা অধ্যায়১ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" -অন্য বর্ণনায়: নিয়তসমূহের ওপর- "এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে। অতএব, যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হবে, তবে তার হিজরত যে উদ্দেশ্যে হবে তাতেই গণ্য হবে" (১)।
২ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়, আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না যতক্ষণ না সে অজু করে" (২)।
৩ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আবু হুরায়রা এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আগুনের কারণে পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
4 - عن أبي هُريرة رضي الله عنه؛ أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قالَ: "إذا توضَّأَ أحدُكم فليجعلْ في أنفِهِ (1)، ثم ليَنْتَثِرْ. ومَن استجمرَ فليُوتِرْ. وإذا استيقظَ أحدُكم مِن نَومِهِ فليغسِلْ يديهِ قبلَ أنْ يُدخِلَهُما في الإناءِ ثلاثًا؛ فإنَّ أحدَكم لا يدرِي أين باتتْ يدُه" (2).
- وفي لفظٍ لمسلم: "فَلْيَسْتَنْشِقْ بِمنخَرَيِه من الماءِ" (3).
- وفي لفظٍ: "مَنْ توضَّأ فليستنشِقْ" (4).
5 - عن أبي هُريرة رضي الله عنه؛ أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قال:
--------------------------------------------
৪ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত; নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ওযু করবে, সে যেন তার নাকে (১) [পানি] দেয়, তারপর তা ঝেড়ে ফেলে। আর যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করে শৌচকার্য (ইস্তিজমার) করে, সে যেন বিজোড় সংখ্যা অবলম্বন করে। আর তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তার হাত দুটি পাত্রে প্রবেশ করানোর আগে তিনবার ধৌত করে; কেননা তোমাদের কেউ জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে" (২)।
- মুসলিমের একটি শব্দে রয়েছে: "সে যেন তার নাসিকারন্ধ্র দিয়ে পানি টেনে নেয়" (৩)।
- অন্য একটি শব্দে রয়েছে: "যে ব্যক্তি ওযু করে, সে যেন নাকে পানি দেয়" (৪)।
৫ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত; নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
"لا يَبُولَنَّ أحدُكم في الماءِ الدَّائِم؛ الذي لا يَجْرِي، ثم يغتسِلُ فيه". (1)
- ولمسلمٍ: "لا يغتسِلْ أحدُكم في الماءِ الدَّائمِ وهُو جُنُبٌ" (2).
6 - عن أبي هُريرة رضي الله عنه؛ أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قالَ: "إذا شَرِبَ الكلبُ في إناءِ أحدِكم، فليغْسِلْهُ سَبْغًا" (3).
- ولمسلمٍ: "أُولاهُنَّ بالتُّرابِ" (4).
7 - وله (5): في حديثِ عبد الله بْن مُغَفَّل؛ أنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم قالَ: "إذا وَلَغَ الكلبُ في الإناءِ، فاغسِلُوه سبعًا، وعَفِّروه الثَّامنةَ بالتُّرابِ" (6).
8 - عن حُمْران -مولى عُثمان بْن عفّان- رضي الله عنهما؛ أنه رأى عثمان دعا بوَضُوءٍ، فأفرغَ على يديهِ من إنائه. فغسلَهُما ثلاث مرَّاتٍ. ثم أدخلَ يمِينَه في الوَضُوءِ، ثم تمضمضَ واستنشقَ واسْتَنْثَرَ، ثم غَسلَ وجهَهُ ثلاثًا، ويديهِ إلى المِرْفقينِ ثلاثًا، ثم
--------------------------------------------
"তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে পেশাব না করে যা প্রবাহিত হয় না; এরপর যেন সে তাতে গোসল না করে।" (১)
- মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে" (২)।
৬ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর পান করে, তখন সে যেন তা সাতবার ধৌত করে" (৩)।
- মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: "সেগুলোর প্রথমবার মাটি দিয়ে" (৪)।
৭ - তাঁর (৫) বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফালের হাদিসে রয়েছে; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন পাত্রে কুকুর মুখ দেয়, তখন তোমরা তা সাতবার ধৌত করো এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে মেজে দাও" (৬)।
৮ - উসমান ইবনে আফফানের মুক্তদাস হুমরান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত; তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছেন যে, তিনি ওযুর পানি চাইলেন, এরপর নিজের পাত্র থেকে উভয় হাতে পানি ঢাললেন। অতঃপর তিনি হাত দুটি তিনবার ধৌত করলেন। এরপর ওযুর পানির পাত্রে নিজের ডান হাত প্রবেশ করালেন, তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনবার নিজের মুখমণ্ডল ধৌত করলেন এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন, এরপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
مَسَحَ برأسِهِ، ثم غسلَ كِلتا رجليهِ ثلاثًا، ثمّ قال: رأيتُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم يتوضَّأَ نحوَ وُضُوئي هذا. وقال: "مَنْ توضَّأ نحوَ وُضُوئي هذا، ثم صلَّى ركعتينِ لا يُحَدِّثُ فيهما نفسَهُ، غُفِرَ له ما تقدَّمَ مِن ذَنبِهِ" (1).
9 - عن عَمرو بن يحيى المَازني، عن أبيه قال: شهدتُ عَمرو بن أبي حسن سألَ عبد الله بنَ زيد: عن وضوء النبيِّ صلى الله عليه وسلم؟ فدعا بتَوْرٍ من ماءٍ، فتوضَّأَ لهم وضوءَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم. فأكفأَ على يديه من التَّوْرِ، فغسل يديه ثلاثًا. ثم أدخلَ يده في التور، فمضمضَ واستنشقَ واستنثرَ -ثلاثًا- بثلاث غَرَفَاتٍ. ثم أدخل يده، فغسلَ وجهَهُ ثلاثًا، ثم أدخلَ يديه، فغسلَهُما مرتين إلى المِرْفقين. ثم أدخلَ يده، فمسح رأسَه، فأقبلَ بهما وأدبرَ -مرةً واحدةً- ثم غسل رِجْليه (2).
- وفي روايةٍ: بدأ بمُقَدَّم رأسِهِ، حتى ذهب بهما إلى قَفَاهُ. ثمّ رَدَّهما حتى رجعَ إلى المكان الذي بدأَ منه (3).
- وفي روايةٍ: أتانا (4) رسولُ الله صلى الله عليه وسلم فأخرجْنَا له ماءً في تورٍ من صُفْرٍ (5).
التَّوْرُ: شِبْهُ الطَّستِ.
10 - عن عائشةَ رضي الله عنها قالتْ: كان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করলেন, তারপর তাঁর উভয় পা তিনবার ধুইলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমার এই অযুর মতো অযু করতে দেখেছি। তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার এই অযুর মতো অযু করবে, অতঃপর এমনভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে যাতে সে মনে মনে অন্য কোনো কথা আনবে না, তবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" (১)।
৯ - আমর ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাযিনী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনে আবি হাসানকে আবদুল্লাহ ইবনে যায়িদ-এর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দেখেছি। তখন তিনি এক পাত্র পানি চাইলেন এবং তাঁদের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অযুর ন্যায় অযু করে দেখালেন। তিনি পাত্র হতে নিজ দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং হাত দুটি তিনবার ধুইলেন। অতঃপর তিনি পাত্রে হাত ঢুকিয়ে তিন আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন ও নাক পরিষ্কার করলেন -তিনবার-। তারপর তিনি পুনরায় হাত ঢুকিয়ে তিনবার মুখমণ্ডল ধুইলেন। এরপর উভয় হাত পাত্রে ঢুকিয়ে কনুই পর্যন্ত দুইবার ধুইলেন। এরপর হাত ঢুকিয়ে মাথা মাসাহ করলেন—তা (হাত দুটি) সামনে নিলেন এবং পেছনে নিলেন—একবার। অতঃপর তিনি তাঁর দুই পা ধুইলেন (২)।
- অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তিনি মাথার সম্মুখভাগ থেকে শুরু করলেন, এমনকি হাত দুটি ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। এরপর হাত দুটিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনলেন যেখান থেকে শুরু করেছিলেন (৩)।
- অন্য বর্ণনায় রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন (৪), তখন আমরা পিত্তলের এক পাত্রে তাঁর জন্য পানি বের করে দিলাম (৫)।
তাওর: গামলা সদৃশ পাত্র।
১০ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
يُعجبُه التَّيَمُّنُ في تَنَعُّلِه، وتَرَجُّلِهِ، وطُهُورِه، وفي (1) شأنه كلِّه" (2).
11 - عن نُعَيْم المُجْمِر، عن أبي هُريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ أنَّه قال: "إنَّ أُمتي يُدْعَوْنَ يومَ القيامةِ غُزًّا مُحَجَّلين؛ من آثارِ الوُضُوء. فمَن استطاعَ منكم أن يُطِيل غُرَّتَهُ فليفعلْ" (3).
- وفي لفظٍ: رأيتُ أَبا هريرة يتوضَّأُ، فغسلَ وجهَه ويديه، حتى كاد يبلُغ المَنكبين، ثم غسلَ رجلَيه حتى رفعَ إلى السَّاقين، ثم قال: سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقولُ: "إنّ أمَّتي يُدْعَوْن يومَ القيامةِ غُرًّا مُحجَّلين مِنْ أثرِ الوُضوءِ. فمَن استطاعَ مِنكم أن يُطيل غُرَّته فليفعلْ" (4).
12 - وفي لفظٍ لمسلم: سمعتُ خليلي صلى الله عليه وسلم يقول: "تَبلغُ الحِليةُ مِن المؤمنِ حيثُ يبلغُ الوُضوءُ" (5).
--------------------------------------------
তিনি জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন এবং তাঁর (১) প্রতিটি কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন (২)।
১১ - নুআইম আল-মুজমির হতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে ওযুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল এবং উজ্জ্বল হাত-পা বিশিষ্ট অবস্থায় ডাকা হবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার উজ্জ্বলতাকে দীর্ঘায়িত করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন তা করে" (৩)।
- অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: আমি আবু হুরায়রাকে ওযু করতে দেখেছি, তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করলেন এমনকি প্রায় কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছালেন, অতঃপর তাঁর পা ধৌত করলেন এমনকি নলা পর্যন্ত পৌঁছালেন, তারপর বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে ওযুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল ও উজ্জ্বল হাত-পা বিশিষ্ট হিসেবে ডাকা হবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার উজ্জ্বলতাকে দীর্ঘায়িত করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন তা করে" (৪)।
১২ - মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: আমি আমার প্রিয় বন্ধুকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: "মুমিনের অলঙ্কার (জান্নাতে) সেখানে পৌঁছাবে যেখানে ওযুর পানি পৌঁছাবে" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উমদাতুল আহকাম - তাহকীক আয-জুহাইরী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
باب الاستطابة (1)
13 - عن أنس بن مالك رضي الله عنه؛ أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل الخلاء قال: "اللهُمَّ إنِّي أعوذُ بك من الخُبُثِ والخَبَائثِ" (2).
الخُبُثُ: بضم الخاء والباء جمع خَبيث، والخبائث: جمع خبيثة.
استعاذَ من ذكران الشياطين وإناثهم (3).
14 - عن أبي أَيوب الأنصاري رضى الله عنه قال: قال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: "إذا أتيتُم الغَائِطَ فلا تستقبلُوا القِبلةَ بغائطٍ ولا بولٍ، ولا تستدبِرُوها، ولكن شَرِّقوا أو غَرِّبوا".
قال أبو أيوب: فقدمنا الشامَ، فوجدنا مراحيضَ قد بُنيت نحو الكعبة (4)، فنَنْحَرِفُ عنها، ونستغفرُ الله عز وجل (5).
قال المصنف: الغائط: الموضعُ المطمئنُ (6) من الأرضِ
--------------------------------------------
শৌচকর্ম অধ্যায় (১)
১৩ - আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি" (২)।
খুবুস: ‘খা’ ও ‘বা’ বর্ণে পেশ যোগে, এটি ‘খবিস’ (অপবিত্র পুরুষ শয়তান) এর বহুবচন; আর খাবাইস: ‘খবিসাহ’ (অপবিত্র নারী শয়তান) এর বহুবচন।
তিনি পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন (৩)।
১৪ - আবু আইয়ুব আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমরা শৌচকর্মের জন্য আসবে, তখন মলত্যাগ বা প্রস্রাবের সময় কিবলামুখী হবে না এবং কিবলাকে পেছনেও রাখবে না; বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করবে।"
আবু আইয়ুব বলেন: অতঃপর আমরা সিরিয়ায় আসলাম এবং সেখানে এমন কিছু শৌচাগার পেলাম যা কাবার দিকে মুখ করে নির্মাণ করা হয়েছিল (৪), ফলে আমরা সেগুলোতে বসার সময় কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতাম (৫)।
গ্রন্থকার বলেন: ‘গাইত’ হলো জমিনের নিচু স্থান (৬)
--------------------------------------------