(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: -)
رحلة الصديق إلى البلد العتيق   (صديق حسن خان)

القسم: الفقه العام


الكتاب: رحلة الصديق إلى البلد العتيق

المؤلف: أبو الطيب محمد صديق خان بن حسن بن علي ابن لطف الله الحسيني البخاري القِنَّوجي (ت 1307هـ)

الناشر: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية، قطر

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 169

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1436

রিহলাতুস সিদ্দিক ইলাল বালাদিল আতিক   (সিদ্দিক হাসান খান)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: রিহলাতুস সিদ্দিক ইলাল বালাদিল আতিক

লেখক: আবুুত তৈয়ব মুহাম্মদ সিদ্দিক খান বিন হাসান বিন আলী ইবনে লুতফুল্লাহ আল-হুসাইনি আল-বুখারি আল-কান্নৌজি (মৃত্যু: ১৩০৭ হিজরি)

প্রকাশক: ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, কাতার

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: -)
رِحْلَةُ الصِّدِّيْقِ إِلى البَلَدِ العَتِيقِ

 

تَأليف

السَيّد العَلّامة

محّمد صدّيق حسن خَان القنّوجي البخاريّ

الْمَوْلُود سَنة 1248 هـ والمتوفى سَنَة 1308 هـ - رَحمَه الله تَعَالَى -
রিহলাতুস সিদ্দিক ইলাল বালাদিল আতিক (প্রাচীন নগরে সিদ্দিকের সফর)

 

রচনায়

সায়্যিদ আল্লামা

মুহাম্মদ সিদ্দিক হাসান খান আল-কান্নুজী আল-বুখারী

জন্ম: ১২৪৮ হিজরি এবং মৃত্যু: ১৩০৮ হিজরি - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন -
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ৩)
رِحْلَةُ الصِّدِّيْقِ إِلى البَلَدِ العَتِيقِ
প্রাচীন জনপদে সিদ্দিকের সফর
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ৪)
حُقُوق الطَّبْع مَحفُوظَة

لوزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية

 

إدارة الشؤون الإسلامية

 

دولة قطر

 

الطَبعَة الأولى 1428 هـ - 2007 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

 

ইসলামি বিষয়ক বিভাগ

 

কাতার রাষ্ট্র

 

প্রথম সংস্করণ ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة إدارة الشؤون الإسلامية

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

عودًا على بدء

نواصلُ المسيرةَ في ظل قيادة حكيمة، ترى تراث الأمة أمانة، وجديرة بالعناية والرعاية، كانت هذه المجموعة من

مطبوعات الشيخ علي بن عبد الله آل ثاني رحمه الله

حيث طبعت متلاحقة على نفقته الخاصة، كسائر مطبوعاته التي أتحف بها العالم الإسلامي كله، وها نحن نقدمها متوافقة، تجديداً للصلة، في مساراتها الأربعة:

الأول: "الدين الخالص".

معالم التوحيد، مؤسسةٌ على النصوص الخالدة من الكتاب والسنة، إنه الدين في صورته الحقيقية.

الثاني: "التاج المكلل من مآثر الطراز الآخر والأول".

تراجم جملة من علماء الإسلام الأعلام الهداة الأئمة، مآثر واضحة، فضائل لائحة، مناقب سائرة.

الثالث: "الموعظة الحسنة بما يُخطب في شهور السنة".

نماذج فاعلة بكلماتها الجميلة للخُطب كافة، بدايةً من خُطبة الجمعة،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ইসলামি বিষয়ক অধিদপ্তরের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

পুনরায় যাত্রা শুরু

আমরা এক প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের অধীনে আমাদের পথচলা অব্যাহত রাখছি, যারা উম্মাহর ঐতিহ্যকে একটি আমানত হিসেবে গণ্য করেন এবং যা বিশেষ যত্ন ও সংরক্ষণের যোগ্য। এটি ছিল শেখ আলি বিন আব্দুল্লাহ আল থানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রকাশনাগুলোর একটি সংকলন।

যা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যয়ে ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয়েছে, তাঁর অন্যান্য প্রকাশনাগুলোর মতোই যা তিনি সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে উপহার দিয়েছেন। এখন আমরা সেগুলোকে সংগতিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করছি—যোগসূত্র নবায়নের লক্ষ্যে—এর চারটি ধারায়:

প্রথম: "আদ-দ্বীন আল-খালিস"।

তাওহিদের দিকনির্দেশনা, যা কুরআন ও সুন্নাহর চিরন্তন দলিলসমূহ (نصوص)-র ওপর প্রতিষ্ঠিত; এটিই মূলত দ্বীনের প্রকৃত রূপ।

দ্বিতীয়: "আত-তাজুল মুকাল্লাল মিন মাসিরিত তিরাযিল আখিরি ওয়াল আউয়াল"।

বরেণ্য ইসলামি পণ্ডিত, পথপ্রদর্শক এবং ইমামদের একগুচ্ছ জীবনী (تراجم); যা স্পষ্ট ঐতিহ্য, উজ্জ্বল মহিমা এবং সুপ্রসিদ্ধ গুণাবলি সমৃদ্ধ।

তৃতীয়: "আল-মাওইয়িজাতুল হাসানাহ বিমা ইউখতাবু ফি শুহুরিস সানাহ"।

জুমার খুতবা থেকে শুরু করে যাবতীয় খুতবার জন্য চমৎকার শব্দশৈলী সমৃদ্ধ খুতবার কার্যকর নমুনা।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ৬)
والعيدين، والاستسقاء، والكسوف والخسوف، حيث المناسبة، مع ذكر الأحكام الشرعية المتعلقة، فجاء الكتاب حافلاً مهماً في بابه.

الرابع: "رحلة الصديق إلى البلد العتيق".

صورة شائقة لهذه الرحلة المباركة، من الهند على ظهر سفينة، وصولاً إلى جدة، ومن ثم إلى مكة المكرمة، مع ذكر الأحكام الخاصة بالحج والعمرة والزيارة، وأحكام وفضائل مكة والمدينة، جامعة بين المتعة بذكر جملة مما وقع له من حوادث أثناء الرحلة، وتلك الروح العلمية. لهذا كله وقع الاختيار عليها بعد نصف قرنٍ من نشرتها الأولى.

حيثُ عهدت إدارة الشؤون الإسلامية إلى دار النوادر لصاحبها نور الدين طالب للعمل عليها لإخراجها في حلتها الجديدة، وفق خطة علمية، تلخصت في الآتي:

1 - إعادةُ تنضيد الكتب على أفضل وأرقى البرامج الطباعة الحالية.

2 - تصحيح الكتب بما ورد فيها من أخطاء مطبعية سابقة، وقد بلغت مئات الأخطاء.

3 - كتابةُ الآيات القرآنية بالرسم العثماني، منقولة من المصحف الشريف، إضافة إلى عزوها عقب الآية بين معكوفتين.

4 - ضبطُ النصوص المهمة والمشكلة بالشكل الضروري، كالأحاديث النبوية الشريفة، وأبيات الشعر، وغريب اللغة.

5 - إعادةُ تقسيم الكتاب، وتفصيل فقراته، بما يتناسب مع سهولة تناوله وقراءته.

6 - وضعُ علامات الترقيم المناسبة للنص، حتى يخرج نصاً صحيحاً من حيث اللغة والإعراب.

وإنا لنرجو الله تعالى أن يكون في عملنا هذا الإفادةَ لطلبة العلم وأهله.

وصلى الله وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.

إدارة الشؤون الإسلامية
এবং দুই ঈদ, ইস্তিসকা (বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা), সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কিত—উপলক্ষ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধানাবলি (الأحكام الشرعية) বর্ণনাসহ। ফলে গ্রন্থটি নিজ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণ সংকলন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

চতুর্থ: "রিহলাতুস সিদ্দিক ইলাল বালাদিল আতিক" (প্রাচীন জনপদে সিদ্দিকের সফর)।

এটি এই বরকতময় সফরের একটি চমৎকার চিত্রায়ন; যা ভারত থেকে জাহাজে চড়ে জেদ্দা পৌঁছানো এবং সেখান থেকে মক্কা মুকাররমা পর্যন্ত বিস্তৃত। এতে হজ, উমরা ও যিয়ারতের বিশেষ বিধানাবলি এবং মক্কা ও মদিনার বিধান ও ফযিলতসমূহ আলোচিত হয়েছে। গ্রন্থটিতে সফরের সময় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাবলি বর্ণনার আনন্দ এবং তাত্ত্বিক জ্ঞানতাত্ত্বিক মেজাজের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে। এসব কারণেই এর প্রথম প্রকাশের অর্ধ শতাব্দী পর এটি পুনরায় প্রকাশের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

এজন্য ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগ নূরুদ্দিন তালিবের মালিকানাধীন 'দারুন নাওয়াদির'-কে এটি নতুন আঙ্গিকে প্রকাশের দায়িত্ব প্রদান করেছে। একটি সুনির্দিষ্ট তাত্ত্বিক পরিকল্পনার অধীনে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে, যার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

১ - বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ ও উন্নত মুদ্রণ সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রন্থগুলোর নতুনভাবে কম্পোজ করা।

২ - পূর্ববর্তী সংস্করণে বিদ্যমান শত শত মুদ্রণজনিত ভুল সংশোধন করা।

৩ - পবিত্র কুরআন থেকে উদ্ধৃত করে কুরআনের আয়াতসমূহ উসমানি লিখন পদ্ধতি (الرسم العثماني) অনুযায়ী লিখন এবং আয়াতের শেষে ব্র্যাকেটে এর সূত্র উল্লেখ করা।

৪ - গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল পাঠ্যসমূহ প্রয়োজনীয় হরকত প্রদানের মাধ্যমে বিন্যস্ত করা, যেমন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ, কাব্যমালা এবং অপ্রচলিত ও কঠিন শব্দাবলি (غريب اللغة)।

৫ - গ্রন্থটির পুনরায় পরিচ্ছেদ বিন্যাস এবং অনুচ্ছেদগুলো বিস্তারিত করা, যাতে এটি অধ্যয়ন ও পাঠ করা সহজতর হয়।

৬ - মূল পাঠে যথাযথ বিরামচিহ্ন স্থাপন করা, যাতে ভাষা ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) এর দিক থেকে এটি একটি নির্ভুল পাঠ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট আশা করি যে, আমাদের এই কাজ ইলম অন্বেষী ও তাত্ত্বিক গবেষকদের জন্য কল্যাণকর হবে।

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবিগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগ
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي وفق من شاء متى شاء من عباده المخلصين، للرحلة إلى بيته العتيق، الذي جعلَه مثابةً للناس وأمناً، تهوي إليه أفئدةٌ من الناس، فيأتونه رجالاً وعلى كل ضامر يأتين من كل فج عميق.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، شهادةً تنجينا من كل خطب وضيق، في الحياة الدنيا وفي الآخرة بصدق الإخلاص وحسن التصديق، وصلى الله تعالى عليه وعلى آله وصحبه المقتفين آثاره في كل جليل ودقيق.

وبعد:

فقد قال الله تعالى في كتابه العزيز: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا} [آل عمران: 97]، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أيها الناس! قد فُرض عليكم الحجُّ فحُجُّوا" أخرجه مسلم، والنسائي.

وقال أهل العلم: الحر المكلَّف القادر، إذا وجد الزاد والراحلة وأمنَ الطريق، يلزمه الحجُّ، وعليه إجماع الأمة، ورأيت البحر المحيط، ومكة المكرمة، والمدينة المنورة -زادهما الله تشريفاً وتعظيماً- مراراً في النوم، فرأيت ليلة كأني ركبت البحر، وقطعت المسافة، وبلغت مكة، ورأيتني كأني في مكان خالٍ له أساطين فخامٌ وأعمدة عظام وأنا جالس فيه، والمسجد الحرام كذلك، ورأيت مرة أخرى أني أدور وأتفرج في أسواق مكة وربوعها، وأمشي وأختلف في سِكَكها، وهي طيبة البناء، عامرة الخانات كالبلاد المأهولة، ومكة المشرفة كذلك، ورأيت المدينة المنورة كأنها بلدة قديمة، ورأيت جدرانها باليةَ البناء،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর একনিষ্ঠ বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা যখন ইচ্ছা তাঁর প্রাচীন ঘরের (বাইতুল আতিক) দিকে সফরের তাওফিক দান করেছেন। যাকে তিনি মানুষের জন্য মিলনস্থল ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন, যার প্রতি মানুষের হৃদয়সমূহ ধাবিত হয়; ফলে তারা সেখানে পদব্রজে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত ক্লান্ত উটের পিঠে চড়ে আগমন করে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। এমন এক সাক্ষ্য যা আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সকল বিপদ ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি দান করবে—নিষ্ঠা ও উত্তম বিশ্বাসের মাধ্যমে। আর আল্লাহ তাআলা দরুদ বর্ষণ করুন তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়ে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।

অতপর:

আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেছেন: "মানুষের মধ্যে যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তাদের ওপর আবশ্যক" [আলে ইমরান: ৯৭]। আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে লোকসকল! তোমাদের ওপর হজ ফরজ করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা হজ করো।" এটি মুসলিম ও নাসায়ি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

বিদ্বানগণ (أهل العلم) বলেছেন: স্বাধীন, শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) ও সক্ষম ব্যক্তি যখন পাথেয় ও বাহন সংগ্রহ করতে পারে এবং পথ নিরাপদ থাকে, তখন তার ওপর হজ করা আবশ্যক হয়ে যায়। এর ওপর উম্মতের ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে। আমি স্বপ্নে বারবার মহাসমুদ্র, মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারা দেখেছি—আল্লাহ এ দুটির মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন। এক রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি সমুদ্রে আরোহণ করেছি, পথ অতিক্রম করেছি এবং মক্কায় পৌঁছেছি। আমি নিজেকে একটি নির্জন স্থানে দেখতে পেলাম যেখানে বিশাল ও সুউচ্চ স্তম্ভসমূহ এবং মহৎ খুঁটি রয়েছে এবং আমি সেখানে বসে আছি; মসজিদুল হারামও ছিল তদ্রূপ। আরেকবার দেখলাম আমি মক্কার বাজার ও এলাকাগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছি এবং এর অলিগলিতে যাতায়াত করছি। এর ভবনগুলো অত্যন্ত সুন্দর এবং সরাইখানাগুলো জনবহুল শহরের মতো আবাদ ছিল। মক্কা মুশাররাফাও ছিল তদ্রূপ। আর মদিনা মুনাওয়ারাকে দেখলাম যেন এটি একটি প্রাচীন শহর এবং এর প্রাচীরগুলোর নির্মাণশৈলী ছিল জরাজীর্ণ।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ৮)
وربوعَها معمولة من الطين والماء، وسككَها ضيقةً خالية عن الناس، وقد وجدتهما على هذه الصفة حين سعدت بالحضور في سوحهما في سنة 1285 خمس وثمانين ومئتين وألف من الهجرة النبوية -على صاحبها أفضل الصلاة والتحية-.

فحملني هذا على الرحلة إلى بلد الله الأمين، وشَدِّ المَطِيِّ إلى مسجد سيدنا محمد سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم في تلك السنة، ودعاني ذلك إلى جمع مناسك الحج والعمرة حسب ما تبين لي من الكتاب والسنة، فجمعتها على سبيل الاختصار؛ تبصرةً لنفسي، وتذكرة لمن أخلصه الله بخالصةِ ذكرى الدار، كيف والابتداع قد دخلِ العبادات من جميع الأنواع، وعارض عن الهَدْي النبوي كلُّ مُفرِط، ومُفرِّط، وخالط الحقَّ بالباطل كلُّ مخالِط ومخبط، فهذا منسك قد ربطت مسائله بالأدلة ودلائله بمذاهب الأجلة، ضمنته خمسة أبواب وخاتمة، أعاذنا الله عن النار الحاطمة، وسميته:

رحلة الصِّدِّيق إلى البيت العتيق

والله أسأل أن يُخلص نيتي، ويحسن طويتي، ويتقبل عملي، وينجح أملي، فقد قال في كتابه العزيز: {أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ} [آل عمران: 195].

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امْرِىءٍ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله، فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرتُه إلى دنيا يُصيبها، أو امرأةٍ يتزوَّجُها، فهجرته إلى ما هاجر إليه" متفق عليه من حديث عمر بن الخطاب -رضي الله تعالى عنه-.

* * *
এর ঘরবাড়ি কাদা ও মাটি দিয়ে তৈরি এবং এর গলিগুলো সংকীর্ণ ও জনশূন্য। আমি ১২৮৫ হিজরি সালে (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের সাল, যাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সেখানে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য লাভের সময় শহর দুটিকে এই অবস্থায় পেয়েছি।

আর এটিই আমাকে সেই বছর আল্লাহর নিরাপদ নগরীর উদ্দেশ্যে সফর করতে এবং রাসূলগণের সর্দার আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের পানে সওয়ারি চালনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আর এটি আমাকে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তদানুযায়ী হজ ও ওমরার নিয়মাবলি সংকলন করতে আহ্বান করেছে। তাই আমি নিজের অন্তর্দৃষ্টির জন্য এবং পরকালের চিন্তার জন্য আল্লাহ যাকে একনিষ্ঠ করেছেন তার স্মারক হিসেবে সংক্ষেপে তা সংকলন করেছি। কেননা সকল প্রকার ইবাদতে আজ নব উদ্ভাবন (بدعة) অনুপ্রবেশ করেছে এবং সীমালঙ্ঘনকারী ও শৈথিল্য প্রদর্শনকারী প্রত্যেকেই নববী হেদায়াতের বিরোধিতা করছে; আর সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করে ফেলেছে প্রত্যেক বিভ্রান্ত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। সুতরাং এটি হজের নিয়মাবলি সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ, যার মাসআলাসমূহকে আমি দলিলের সাথে এবং দলিলসমূহকে বরেণ্য ইমামগণের মাজহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি। আমি একে পাঁচটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের অন্তর্ভুক্ত করেছি। আল্লাহ আমাদের চূর্ণবিচূর্ণকারী আগুন থেকে রক্ষা করুন। আর আমি এর নামকরণ করেছি:

রিহলাতুস সিদ্দিক ইলাল বাইতিল আতিক

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার নিয়তকে খাঁটি করেন, আমার অন্তরকে সুন্দর করেন, আমার আমল কবুল করেন এবং আমার আশা পূর্ণ করেন। কেননা তিনি তাঁর মহাগ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কোনো আমলকারীর আমল নষ্ট করি না" [আল-ইমরান: ১৯৫]।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।" উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত (متفق عليه)।

* * *
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌الباب الأول

في فضل مكة وما يتصل به

وفيه فصول:

 

‌‌1 - فصل في فضل مكة -زادها الله تشريفاً وتكريماً-

* [الآيات]:

1 - قال الله تعالى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ} [آل عمران: 96].

2 - وقال تعالى: {وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا} [آل عمران: 97]

3 - وقال تعالى: {إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ رَبَّ هَذِهِ الْبَلْدَةِ الَّذِي حَرَّمَهَا} [النمل: 91]

4 - وقال تعالى: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا آمِنًا} [العنكبوت: 67]

5 - وقال تعالى: {أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَمًا آمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقًا مِنْ لَدُنَّا} [القصص: 57]

6 - وقال تعالى: {بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ} [سبأ: 15] على بعض الروايات أنها مكة،

7 - وقال تعالى: {وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِي جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ} [الحج: 25]

8 - وقال تعالى: {وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ} [الحج: 25]

9 - وقال تعالى: {لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ} [الفتح: 27]

10 - وقال تعالى: {بِبَطْنِ مَكَّةَ} [الفتح: 24]

11 - وقال تعالى: {لِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا} [الشورى: 7]

12 - وقال تعالى: {بِهَذَا الْبَلَدِ} [البلد: 1]

13 - وقال تعالى: {وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ} [التين: 3]. فهذه الآيات وغيرها أنزلها الله سبحانه وتعالى في مكة المشرفة خاصة، ولم تنزل في بلد سواها.

* [الأحاديث]:

1 - وعن عبد الله بن عدي بن حمراء -رضي الله تعالى عنه-، قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم واقفاً على الخرورة من مكة، وهو يقول لمكة: "والله (1)! لخيرُ

--------------------------------------------

(1) في الحديث: "إنَّكِ لخيرُ".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌প্রথম অধ্যায়

মক্কার শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি প্রসঙ্গে

এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌১ - মক্কার শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক পরিচ্ছেদ -আল্লাহ এর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন-

* [আয়াতসমূহ]:

১ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা হলো বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত; তা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েতের দিশারি} [আল ইমরান: ৯৬]।

২ - তিনি আরও বলেন: {আর যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ থাকবে} [আল ইমরান: ৯৭]

৩ - তিনি আরও বলেন: {আমাকে তো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেবল এই জনপদের রবের ইবাদত করতে, যিনি এটিকে হারাম (সম্মানিত ও নিষিদ্ধ) করেছেন} [আন-নামল: ৯১]

৪ - তিনি আরও বলেন: {তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি একটি নিরাপদ হারাম (পবিত্র ভূমি) তৈরি করেছি} [আল-আনকাবুত: ৬৭]

৫ - তিনি আরও বলেন: {আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারাম (পবিত্র ভূমি) প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে আমার পক্ষ থেকে রিজিক হিসেবে সব রকমের ফলমূল সংগৃহীত হয়?} [আল-কাসাস: ৫৭]

৬ - তিনি আরও বলেন: {পবিত্র জনপদ এবং ক্ষমাশীল রব} [সাবা: ১৫] কোনো কোনো বর্ণনা (روايات) অনুযায়ী এটি হলো মক্কা,

৭ - তিনি আরও বলেন: {এবং মসজিদুল হারাম, যা আমি মানুষের জন্য নির্ধারণ করেছি} [আল-হজ্জ: ২৫]

৮ - তিনি আরও বলেন: {আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সেখানে বিচ্যুতি বা সীমালঙ্ঘনের ইচ্ছা করবে, আমি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব} [আল-হজ্জ: ২৫]

৯ - তিনি আরও বলেন: {আল্লাহ চাইলে তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে নিরাপদ অবস্থায় প্রবেশ করবে} [আল-ফাতহ: ২৭]

১০ - তিনি আরও বলেন: {মক্কা উপত্যকায়} [আল-ফাতহ: ২৪]

১১ - তিনি আরও বলেন: {যাতে আপনি উম্মুল কুরা (জনপদসমূহের মূল) এবং এর আশপাশের লোকদের সতর্ক করতে পারেন} [আশ-শুরা: ৭]

১২ - তিনি আরও বলেন: {এই জনপদের শপথ} [আল-বালাদ: ১]

১৩ - তিনি আরও বলেন: {এবং এই নিরাপদ জনপদের শপথ} [আত-তীন: ৩]। এই আয়াতগুলো এবং এ ছাড়া অন্যান্য আয়াত মহান আল্লাহ বিশেষভাবে মক্কা মোকাররমা সম্পর্কে নাজিল করেছেন, যা অন্য কোনো জনপদ সম্পর্কে নাজিল করেননি।

* [হাদিসসমূহ]:

১ - আবদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনে হামরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মক্কার আল-খারুরা নামক স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তিনি মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন: "আল্লাহর কসম (১)! নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর জমিনের শ্রেষ্ঠ..."

--------------------------------------------

(১) হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই তুমি শ্রেষ্ঠ..."।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১০)
أرض الله، وأحبُّ أرضِ الله إلى الله، ولولا أني أُخرجتُ منك، ما خرجت" رواه أحمد، والحاكم، وسعيد بن منصور، والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح، والنسائي، وابن ماجه، وابن حبان، وهذا لفظه.

2 - وعن عمرو بن الأحوص، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في حجة الوداع: "أي يوم هذا؟ "، قالوا: يوم الحج الأكبر، قال: "فإن دماءكم وأموالكم وأعراضكم بينكم حرام، كحرمة يومكم هذا، في بلدكم هذا، ألا! لا يجني جان إلا على نفسه، ألا! لا يجني جانٍ على ولده، ولا مولود على والده، ألا! وإن الشيطان قد أَيِسَ أن يُعبد في بلدكم هذا أبداً، ولكن ستكون له طاعة فيما تحتقرون من أعمالكم، فسيرضى به" رواه ابن ماجه، والترمذي، وصححه.

3 - وعن ابن عباس -رضي الله تعالى عنهما-، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة: "إن هذا البلد حَرَّمه الله يومَ خلق السموات والأرض، فهو حرامٌ بحرمة الله إلى يوم القيامة، وإنه لم يحلَّ القتالُ فيه لأحد قبلي، ولم يحلَّ لي إلا ساعة من نهار، فهو حرام بحرمة الله إلى يوم القيامة، لا يُعْضَدُ شوكه، ولا يُنَفَّرُ صيدُه، ولا يلتقط لقطته إلا من عَرَّفها، ولا يختلَى خلاها"، فقال العباس: يا رسول الله! إلا الإذخر؛ فإنه لِقَيْنِهم ولبيوتهم، فقال: "إلا الإذخر" متفق عليه، وفي رواية: لقبورنا وبيوتنا.

4 - وعن جابر -رضي الله تعالى عنه-، قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا يحلُّ لأحدِكم أن يحملَ بمكة السلاح" رواه مسلم، وكان ابن عمر يمنع عن ذلك في أيام الحج، وأما عام الفتح، فهو مستثنى من هذا الحكم،

5 - وعن ابن عباس -رضي الله تعالى عنهما- قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لمكة! ما أطيبَكَ من بلد وأحبَّكِ إلي! ولولا أن قومي أخرجوني منكِ، ما سكنتُ غيَركِ" رواه ابن حبان، والحاكم، والترمذي، وقال: هذا حديث حسن صحيح غريب إسناداً.

قال الحسن البصري: ما أعلم اليوم على وجه الأرض بلدةً تُرفع فيها من الحسنات وأنواع البر، كلُّ واحدة منهما بمئة ألف ما تُرفع بمكة، وما أعلم أنه ينزل في الدنيا كلَّ يوم رائحة الجنة ورَوْحُها ما ينزل بمكة، ويقال: إن ذلك
"আল্লাহর ভূমি এবং আল্লাহর কাছে আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। যদি আমাকে তোমার থেকে বের করে দেওয়া না হতো, তবে আমি বের হতাম না।" আহমাদ, আল-হাকিম, সাঈদ বিন মনসুর এবং তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস। এছাড়া নাসায়ি, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বানও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁরই শব্দ।

2 - আমর বিন আল-আহওয়াস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "এটি কোন দিন?" তারা বললেন: এটি হজে আকবরের দিন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন হারাম তোমাদের আজকের এই দিনটি তোমাদের এই শহরে। জেনে রেখো! কোনো অপরাধী তার নিজের ব্যতীত অন্য কারো ওপর অপরাধের বোঝা চাপাবে না। জেনে রেখো! কোনো পিতা তার সন্তানের অপরাধের জন্য এবং কোনো সন্তান তার পিতার অপরাধের জন্য দায়ী হবে না। সাবধান! শয়তান তোমাদের এই শহরে ইবাদত পাওয়ার বিষয়ে চিরতরে নিরাশ হয়েছে, কিন্তু তোমরা তোমাদের যেসব কাজকে তুচ্ছ মনে করো, সেগুলোর মধ্যে তার আনুগত্য করা হবে এবং সে তাতেই সন্তুষ্ট থাকবে।" ইবনে মাজাহ এবং তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে সহিহ (صححه) বলেছেন।

3 - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই শহরকে আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই সম্মানিত করেছেন। সুতরাং এটি আল্লাহর সম্মানে কিয়ামত পর্যন্ত হারাম। আমার পূর্বে কারো জন্য এখানে যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না এবং আমার জন্যও দিনের সামান্য সময় ব্যতীত তা বৈধ করা হয়নি। অতএব এটি আল্লাহর সম্মানে কিয়ামত পর্যন্ত হারাম। এর কাঁটাযুক্ত গাছ কাটা যাবে না, এর শিকার তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না, এর পড়ে থাকা বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া যাবে না—তবে যে ব্যক্তি তার পরিচয় ঘোষণা করবে তার জন্য অনুমতি আছে, আর এর তাজা ঘাস উপড়ানো যাবে না।" তখন আব্বাস (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! ইযখির ঘাস ব্যতীত; কেননা এটি তাদের কর্মকারদের জন্য এবং তাদের ঘরবাড়ির জন্য ব্যবহৃত হয়। তিনি বললেন: "ইযখির ব্যতীত।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। অন্য একটি বর্ণনায় আছে: আমাদের কবরের জন্য এবং আমাদের ঘরবাড়ির জন্য।

4 - জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "তোমাদের কারো জন্য মক্কায় অস্ত্র বহন করা বৈধ নয়।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমর হজের দিনগুলোতে তা থেকে নিষেধ করতেন। তবে মক্কা বিজয়ের বছরটি এই বিধানের ব্যতিক্রম ছিল।

5 - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা সম্পর্কে বলেছেন: "শহর হিসেবে তুমি কতই না পবিত্র এবং আমার কাছে কতই না প্রিয়! যদি আমার কওম আমাকে তোমার থেকে বের করে না দিত, তবে আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কোথাও বসবাস করতাম না।" ইবনে হিব্বান, আল-হাকিম এবং তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস এবং সূত্রের (إسناد) দিক থেকে এটি গরিব (غريب)।

হাসান বসরি (রহ.) বলেন: আমি আজ পৃথিবীর বুকে এমন কোনো ভূখণ্ডের কথা জানি না যেখানে নেক আমল এবং বিভিন্ন প্রকারের পুণ্য কাজ মক্কার মতো প্রতিটি আমলের বিনিময়ে এক লক্ষ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি জানি না যে, দুনিয়াতে প্রতিদিন মক্কার মতো আর কোথায় জান্নাতের সুঘ্রাণ ও প্রশান্তি নাজিল হয়। আর বলা হয়ে থাকে যে, এটি...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১১)
للطائفين، وبالجملة: فهي بلدة الله، وبلدة رسوله، وبلدة أصحابه الكرام، ومأوى جميع المؤمنين -جعلنا الله تعالى من صالحي أهلها-.

ولله درُّ ما قيل فيها:

أرضٌ بها البيتُ المقدَّسُ قبلةٌ … للعالَمين له المساجدُ تعدلُ

حَرَمٌ حرامٌ أرضُها وصيودُها … والصيدُ في كلِّ البلاد محلَّلُ

وبِها المشاعرُ والمناسِك كلُّها … وإلى فضيلتِها البريةُ ترحلُ

وبها المَقامُ وحوضُ زمزمَ مُتْرَعًا … والحِجْرُ والركنُ الذي لا يرحلُ

والمسجدُ العالي الممجَّدُ والصفا … والمَشعرانِ لمن يطوفُ ويَرْمُلُ

وبمكةَ الحسناتُ يُضْعَفُ أجرُها … وبها المسيء عن الخطيئة يغسلُ

يُجزى المسيء من الخطيئة مثلَها … وتضُاعف الحسناتُ فيها تُقبلُ

ما ينبغي لكَ أن تفاخرَ يا فتى … أرضاً بها وُلد النبيُّ المرسَلُ

بالشِّعْب دونَ الردم مسقطُ رأسه … وبها نشا صلَّى عليه المرسِلُ

وبها أَقامَ وجاءه وحيُ السما … وسرى به الملكُ الرفيعُ المنزلُ

نبوة الرحمن فيها أنزلَتْ … والدينُ فيها قبلَ دينك أولُ

 

‌‌2 - فصل في أسمائها

قد أتت لها أسماء جليلة جرى ذكرها في التنزيل، وكثرةُ الأسماء تدل على شرف المسمَّى، كما قيل في أسماء الله تعالى ورسوله، قال النووي: ولا يُعلم بلد أكثرُ أسماءً من مكة والمدينة، لكونهما أفضلَ بقاع الأرض، وذلك لكثرة الصفات المقتضية لها، انتهى.

فمنها:

1 - مكة،

2 - وبكة،

3 - والبلد،

4 - والقرية،

5 - وأم القرى،

6 - والبلدة،

7 - والبلد الأمين،

8 - وأم رُحُم،

9 - وصَلاحِ -مبنيٌّ على الكسر-،

10 - والباسة -بالموحدة-،

11 - والناسة -بالنون-،

12 - والنساسة،

13 - والحاطمة،

14 - والرأس،

15 - وكوثى،

16 - والعَرش -بالفتح-،

17 - والعرش -بالضم-،

18 - والعريش،

19 - والقادس،

20 - والقادسية،

21 - وسَبوحة -
তওয়াফকারীদের জন্য। সংক্ষেপে কথা হলো: এটি আল্লাহর শহর, তাঁর রাসূলের শহর, তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের শহর এবং সকল মুমিনের আশ্রয়স্থল—আল্লাহ তাআলা আমাদের এর নেককার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

এর প্রশংসায় যা বলা হয়েছে তা কতই না চমৎকার:

এটি এমন এক ভূমি যেখানে পবিত্র গৃহ (কাবা) কিবলা হিসেবে বিদ্যমান … যা বিশ্ববাসীর জন্য এবং সব মসজিদই যার সমতুল্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখে।

এটি এক সম্মানিত ও নিষিদ্ধ সীমানা (হারাম), যার ভূমি ও শিকার নিষিদ্ধ … অথচ অন্য সব দেশে শিকার করা হালাল।

এখানেই সমস্ত পবিত্র নিদর্শন ও হজ পালনের স্থানসমূহ অবস্থিত … এবং এর শ্রেষ্ঠত্বের পানেই সৃষ্টিজগত সফর করে।

এখানেই রয়েছে মাকামে ইব্রাহিম ও কানায় কানায় পূর্ণ জমজম কূপ … আরও আছে হিজর ও রুকন (হাজরে আসওয়াদ), যা স্বস্থানচ্যুত হয় না।

রয়েছে উচ্চ ও মহিমান্বিত মসজিদ এবং সাফা পাহাড় … এবং ঐ ব্যক্তির জন্য দুই মাশআর (সাফা ও মারওয়া), যে তওয়াফ ও রামল করে।

মক্কায় নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয় … এবং সেখানে পাপাচারী তার গুনাহ থেকে ধৌত হয়ে যায়।

পাপীকে তার পাপের সমপরিমাণই প্রতিফল দেওয়া হয় … অথচ সেখানে নেক আমলগুলো বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং তা কবুল করা হয়।

হে যুবক! তোমার জন্য এমন কোনো ভূমির উপর গর্ব করা সাজে না … যেখানে প্রেরিত নবী জন্মগ্রহণ করেছেন।

বাঁধের কাছে গিরিপথেই তাঁর জন্মস্থান … সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন, মহান আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

সেখানেই তিনি অবস্থান করেছেন এবং তাঁর নিকট আসমানি ওহি অবতীর্ণ হয়েছে … আর উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ফিরিশতা তাঁকে নিয়ে পরিভ্রমণ করেছেন।

রাহমানের নবুওয়ত সেখানেই অবতীর্ণ হয়েছে … আর সেখানে দ্বীন ছিল তোমার দ্বীনেরও আগে সর্বপ্রথম।

 

‌‌২ - এর নামসমূহ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

এই ভূখণ্ডের বেশ কিছু মহান নাম বর্ণিত হয়েছে যা পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত হয়েছে। নামের আধিক্য নামধারী বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের নামসমূহের ক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে। ইমাম নববী বলেছেন: মক্কা ও মদীনার চেয়ে অধিক নামবিশিষ্ট কোনো শহর সম্পর্কে জানা যায় না, কারণ এ দুটি পৃথিবীর সর্বোত্তম ভূখণ্ড। আর এটি সেগুলোর অনেক গুণাবলির কারণে হয়েছে যা এই নামগুলোর দাবি রাখে। সমাপ্ত।

তন্মধ্যে রয়েছে:

১ - মক্কা,

২ - বাক্কা,

৩ - আল-বালাদ,

৪ - আল-কারইয়াহ,

৫ - উম্মুল কুরা,

৬ - আল-বালদাহ,

৭ - আল-বালাদুল আমিন,

৮ - উম্মু রুহুম,

৯ - সালাহ —যা কাসরা (জের) যোগে অপরিবর্তনীয়—,

১০ - আল-বাস্সাহ —এক নুক্তাবিশিষ্ট 'বা' বর্ণ যোগে—,

১১ - আন-নাস্সাহ —'নুন' বর্ণ যোগে—,

১২ - আন-নাসাসাহ,

১৩ - আল-হাতিমাহ,

১৪ - আর-রাস,

১৫ - কুসা,

১৬ - আল-আরশ —জবর যোগে—,

১৭ - আল-উরুশ —পেশ যোগে—,

১৮ - আল-আরিশ,

১৯ - আল-কাদিস,

২০ - আল-কাদিসিয়াহ,

২১ - সাবুহাহ -
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১২)
بالفتح-،

22 - والحرام،

23 - والمسجد الحرام،

24 - والمعطشة،

25 - وبَرَّة

26 - والرتاج،

27 - وأم،

28 - ورحم،

29 - والبلد الحرام،

30 - وأم الرحمة،

31 - وأم كوثى،

32 - والأمينة،

33 - وأم الصفا،

34 - والمروية،

35 - والمتحفة،

36 - وأم المشاعر،

37 - والبلدة المرزوقة،

38 - والحجاز،

39 - وبلدة طيبة.

وفي وجه تسميتها بهذه الأسماء أقوال ذكرها الحضراوي في "العقد الثمين".

 

‌‌3 - فصل في ألقابها وحدودها

فمنها:

1 - المشرفة،

2 - والمكرمة،

3 - والمهابة،

4 - والوالدة،

5 - والنادرة،

6 - والجامعة،

7 - والمباركة.

قال السروجي: حدُّ الحرم من جهة طريق المدينة دون التنعيم على ثلاثة أميال من مكة، ومن طريق اليمن على سبعة أميال من مكة، ومن طريق الطائف للمار على عرفات من بطن نمرة على ثلاثة أميال من مكة، ومن طريق العراق للمار على ثنية جبل بالمقطع سبعة أميال من مكة، ومن طريق الجعرانة ومن شعب آل عبد الله بن خالد على تسعة أميال، ومن طريق جُدَّة على عشرة أميال، وهذا قول الجمهور، وهو أصح الأقوال، وقد نظمها بعضهم:

وللحرم التحديدُ من أرضِ طيبةٍ … ثلاثةُ أميال، إذا رُمْتَ إتقانَهْ

وسبعةُ أميال، عراقٌ وطائفٌ … وجُدَّةُ عشرٌ، ثم تسعٌ جِعرانَهْ

ومن يمنٍ سبعٌ بتقديمِ سينِه … وقد كَمُلَتْ فاشكر لربك إحسانه

 

‌‌4 - فصل في جبالها وحكم زيارتها

قالوا: جبال مكة لا تحصى، قال ابن النقاش: دونها جبال من ذهب وفضة وكنوز وجواهر، وربما ينكشف عن بعضها لمن هو موعود بذلك، قلت: ولم أقف على نص في هذا الباب، فلا أدري من أين قاله، فمن جبالها:

1 - أَبو قُبيس، وهو الجبل المشرف على الصفا، وهو أحد أخشبي مكة المشرفة،

2 - وجبل حِراء بأعلى مكة، وهذا الجبل على ثلاثة أميال، وهو مقابل ثبير
ফাতাহ যোগে-,

২২ - আল-হারাম,

২৩ - আল-মাসজিদ আল-হারাম,

২৪ - আল-মুআত্তাশাহ,

২৫ - বাররাহ,

২৬ - আর-রিতাজ,

২৭ - উম্ম,

২৮ - রাহম,

২৯ - আল-বালাদ আল-হারাম,

৩০ - উম্মুর রাহমাহ,

৩১ - উম্মু কুসা,

৩২ - আল-আমীনাহ,

৩৩ - উম্মুস সাফা,

৩৪ - আল-মারউইয়্যাহ,

৩৫ - আল-মুতহাফাহ,

৩৬ - উম্মুল মাশা’ইর,

৩৭ - আল-বালদাতুল মারযুক্বাহ,

৩৮ - আল-হিজায,

৩৯ - এবং বালদাতুন তইয়্যিবাহ।

এইসব নামে নামকরণের কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন অভিমত রয়েছে যা আল-হাদরাওয়ী "আল-ইকদ আল-সামীন" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৩ - পরিচ্ছেদ: এর উপাধি ও সীমানা প্রসঙ্গে

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - আল-মুশাররাফাহ,

২ - আল-মুকাররামাহ,

৩ - আল-মাহাবাহ,

৪ - আল-ওয়ালিদাহ,

৫ - আন-নাদিরাহ,

৬ - আল-জামি’আহ,

৭ - আল-মুবারাকাহ।

আস-সারূজী বলেন: মদিনার পথের দিক থেকে হারামের সীমানা হলো মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে তান’ঈম পর্যন্ত। ইয়েমেনের পথের দিক থেকে মক্কা থেকে সাত মাইল দূরে। তয়েফ অভিমুখে আরাফাত অতিক্রমকারীর জন্য বাতনে নামিরাহ থেকে মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে। ইরাকের পথের দিক থেকে পাহাড়ের উপত্যকা আস-সানিয়্যাহ আল-মাক্বতা’ অতিক্রমকারীর জন্য মক্কা থেকে সাত মাইল দূরে। জি’রানা এবং আলে আব্দুল্লাহ বিন খালিদের উপত্যকার দিক থেকে নয় মাইল দূরে এবং জেদ্দার দিক থেকে দশ মাইল দূরে। এটিই জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত এবং এটিই বিশুদ্ধতম (أصح) বক্তব্য। কেউ কেউ পদ্যাকারে তা এভাবে সাজিয়েছেন:

হারামের সীমানা পুণ্যভূমি (মদিনা) হতে … তিন মাইল, যদি তুমি সঠিক জানতে চাও।

সাত মাইল ইরাক ও তায়েফ হতে … জেদ্দা দশ, আর নয় হলো জি’রানা।

ইয়েমেন হতে সাত ‘সীন’ অক্ষর যোগে … এটি পূর্ণ হলো, তোমার রবের অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় করো।

 

‌‌৪ - পরিচ্ছেদ: এর পাহাড়সমূহ ও সেগুলো যিয়ারতের বিধান প্রসঙ্গে

তাঁরা বলেন: মক্কার পাহাড় গণনা করা সম্ভব নয়। ইবনুন নাক্বাশ বলেছেন: এর তলদেশে সোনা, রূপা, ধন-ভাণ্ডার ও মণি-মুক্তার পাহাড় রয়েছে; সম্ভবত যার জন্য এসবের ওয়াদা করা হয়েছে তার কাছে এর কিছু প্রকাশ পেতে পারে। আমি বলছি: এই বিষয়ে আমি কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (نص) পাইনি, তাই আমি জানি না তিনি কোন ভিত্তিতে এটি বলেছেন। মক্কার পাহাড়সমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - আবু কুবাইস, যা সাফা পাহাড়ের ঠিক উপরে অবস্থিত এবং এটি সম্মানিত মক্কার দুটি পাহাড়ের (আখশাবাইন) একটি।

২ - জাবালে হেরা (হেরা পাহাড়) যা মক্কার উচ্চভূমিতে অবস্থিত; এই পাহাড়টি মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে এবং এটি সাবীর পাহাড়ের বিপরীতে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১৩)
والوادي بينهما، وهما على يسار السالك إلى منى، وحراء قبل ثبير مما يلي شمال الشمس، ويسمى: جبل النور. قال الحضراوي: وهو كذلك؛ لكثرة مجاورة النبي صلى الله عليه وسلم له، وتعبده فيه،

3 - وجبل ثور بأسفل مكة، وهو من مكة على ثلاثة أميال، قاله ابن الحاج، وابن جبير، وقيل: على ميلين، وارتفاعه نحو ميل، وفي أعلاه الغار الذي دخله النبي صلى الله عليه وسلم مع أبي بكر، والبحر يُرى من أعلى هذا الجبل، قال الحضراوي: وهذا الغار يزوره الناس، يدخلون إليه من بابه، قلت: وليست زيارة شيء من هذه الجبال بسنة. ومنها:

4 - جبل ثبير وهو على يسار الذاهب من منى إلى مزدلفة، قال القزويني: إنه جبل مبارك، وقال ابن النقاش إنه يستجاب الدعاء به،

ومنها:

5 - الجبل الذي بظهر مسجد الخَيْف بمنى، ويدل له الحديث الثابت في "صحيح البخاري" عن ابن مسعود، قال: بينما نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في غارٍ بمنى، إذ نزلت عليه {الْمُرْسَلَاتِ}. . . الحديث، ويكفي ذكر هذه الخمسة من جبالها، وإن كانت كثيرة.

 

‌‌5 - فصل في حكم المجاورة بها

ذهب الشافعي، وأحمد، وأبو يوسف ومحمد: إلى استحباب المجاورة بمكة، وخالف في ذلك ابن عباس، ومالك، قال في "المبسوط": لا بأس بالمجاورة؛ في قولهم، وإنه الأفضل، وعليه عمل الناس، خصوصاً مع ظلم الفَجَرة في سائر الأقطار، فلا بأس بالهُروع إلى بلد الله، والالتجاءُ ببلد رسوله والاعتصامُ بالله أولى من تحكم الأعداء في ضعفاء المسلمين، فضلًا عن أغنيائهم، وقال أحمد: جاور بها جابرٌ، وابن عمر، وليت أني الآنَ مجاور بمكة، قلت: قد جاور بها خلقٌ كثير، وسكنها من المعوَّل عليهم جمع عظيم، واستوطنها من الصحابة أربعة وخمسون رجلًا، ذكرهم أَبو الفرج، ومات بها أيضًا من الصحابة ومن كبار التابعين ومَنْ بعدهم جَمٌّ غفير، ذكرهم الطبري.

قال علي بن الموفق: جلست يوماً في الحرم بمكة المشرفة، وقد حججت ستين حجة، فقلت في نفسي: إلى متى أتردد في هذه المسالك والقفار؟ ثم غلبتني عيني، فنمت، وإذا قائل يقول: يا بن الموفق! هل تدعو إلى بيتك إلا مَنْ
তাদের মাঝখানে উপত্যকা রয়েছে এবং যারা মিনার দিকে পথ চলেন তাদের বাম পার্শ্বে এ দুটির অবস্থান। হেরা পাহাড় ছাবির পাহাড়ের পূর্বে সূর্যের উত্তর দিকে অবস্থিত এবং একে জাবালে নূর বলা হয়। হাদরাবি বলেছেন: এটি এ কারণেই, যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে প্রচুর অবস্থান করতেন এবং তথায় ইবাদত করতেন।

৩ - মক্কার নিম্নভাগে জাবালে সাওর অবস্থিত। ইবনে আল-হজ ও ইবনে জুবায়েরের মতে এটি মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে অবস্থিত। কেউ কেউ বলেছেন এটি দুই মাইল দূরে। এর উচ্চতা প্রায় এক মাইল। এর চূড়ায় সেই গুহা রয়েছে যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকর (রা.)-কে নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। এই পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্র দেখা যায়। হাদরাবি বলেছেন: মানুষ এই গুহাটি যিয়ারত করে এবং এর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। আমি বলব: এসব পাহাড়ের কোনোটিই যিয়ারত করা সুন্নাহ নয়। আর তার মধ্য থেকে:

৪ - জাবালে ছাবির, এটি মিনা থেকে মুযদালিফাগামী ব্যক্তির বাম দিকে অবস্থিত। কাজভিনি বলেছেন: এটি একটি বরকতময় পাহাড়। ইবনে আন-নাক্কাস বলেছেন: এখানে দোয়া কবুল হয়।

আর তার মধ্য থেকে:

৫ - মিনার মাসজিদুল খাইফের পেছনের পাহাড়। এর স্বপক্ষে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত সহীহ বুখারী-তে একটি প্রতিষ্ঠিত (ثابت) হাদিস রয়েছে, তিনি বলেন: "একদা আমরা মিনায় একটি গুহায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর ওপর {আল-মুরসালাত} অবতীর্ণ হয়..."। পাহাড়সমূহের মধ্য থেকে এই পাঁচটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট, যদিও মক্কার পাহাড় অনেক।

 

‌‌৫ - পরিচ্ছেদ: সেখানে বসবাসের বিধান প্রসঙ্গে

ইমাম শাফেয়ী, আহমাদ, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মাদ মক্কায় বসবাসের পছন্দনীয় (مستحب) হওয়ার মত পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস এবং মালিক দ্বিমত পোষণ করেছেন। ‘আল-মাবসুত’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাদের মতে সেখানে বসবাসের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই; বরং এটিই উত্তম এবং এর ওপরই মানুষের আমল রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জনপদে যখন পাপাচারীদের জুলুম বৃদ্ধি পায়, তখন আল্লাহর শহরের দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া এবং তাঁর রাসূলের শহরে আশ্রয় নেওয়া ও আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা দুর্বল মুসলমানদের ওপর শত্রুদের কর্তৃত্বের চেয়ে বহুগুণ শ্রেয়, ধনীদের কথা তো বলাই বাহুল্য। ইমাম আহমাদ বলেছেন: জাবির এবং ইবনে উমর সেখানে অবস্থান করেছেন, আক্ষেপ! যদি আমি এখন মক্কায় অবস্থানকারী হতাম। আমি বলব: সেখানে অসংখ্য সৃষ্টি অবস্থান করেছেন এবং নির্ভরযোগ্য (المعوَّل عليهم) এক বিশাল জামাত সেখানে বসবাস করেছেন। সাহাবীদের মধ্য থেকে চুয়ান্ন জন সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেছেন, যাদের কথা আবু আল-ফারাজ উল্লেখ করেছেন। এছাড়া সাহাবী ও বড় (كبار) তাবেয়ীনদের মধ্য থেকে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের এক বিশাল গোষ্ঠী সেখানে ইন্তেকাল করেছেন, যাদের নাম তাবারী উল্লেখ করেছেন।

আলী ইবনুল মুয়াফফাক বলেন: একদিন আমি মক্কা মুকাররমার হারামে বসে ছিলাম, তখন আমি ষাটটি হজ সম্পাদন করেছি। আমি মনে মনে বললাম: আর কতকাল এই পথ ও প্রান্তরে আমি যাতায়াত করব? অতঃপর তন্দ্রা আমাকে আচ্ছন্ন করল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। এমতাবস্থায় একজন আহ্বানকারী বললেন: হে ইবনুল মুয়াফফাক! আপনি কি আপনার ঘরে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ডাকেন যে...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১৪)
تحبُّ؟ فطوبى لمن أحبَّه المولى، وحملَه إلى المُقام الأعلى، وأنشد يقول:

دعوتُ إلى الزيارةِ أهلَ وُدِّي … ولمْ أطلبْ بها أحداً سواهُمْ

فجاؤوني إلى بيتي كِراماً … فأهلًا بالكرام ومَنْ دعاهُمْ

وقال بعضهم:

هي البلدُ الأمين وأنتَ حِلٌّ … فطاها يا أمينُ فأنت طاها

ووجِّهْ حيث كنتَ كذا إليها … ولا تعدِلْ إلى شيء سواها

فوجهُ الله قبلةُ كلِّ حيٍّ … لمن شهد الحقيقةَ واجتلاها

وهذا البيتُ بيتُ الله فيه … إذا شاهدْتَ في المعنى سناها

فهلِّلْ عند مشهده كفاحًا … وزمزمْ عندَ زمزمِه شِفاها

وقلْ بلِسان عرفك في رباها … لنفسي في مِنى بلغَتْ مُناها

إليكَ شددتُ يا مولاي رَحْلي … وجئتُ ومهجتي تشكو ظَماها

وها أنا جارُ بيتك يا إلهي … وبالأستار ممتسكٌ عُراها

وللجيرانِ والضيفانِ حقٌّ … على الجارِ الكريمِ إذا رعاها

إليكَ شفيعَنا الهادي محمَّد … ومن قد حلَّ جهراً فَي حِماها

شفيع الخلقِ يومَ الحشر حقاً … رسولُ الله أقوى الخلق جاها

عليه من المهيمِنِ كلَّ وقتٍ … صلاةٌ غيرُ منحصِرٍ مَداها

 

‌‌6 - فصل في الموت بها، وذكر من دُفن بها

عن حاطب بن بَلْعَتة (1)، عن النبي صلى الله عليه وسلم: أنه قال: "من مات في أحد الحرمَيْن، بُعث يوم القيامة من الآمنين" أخرجه أَبو الفرج وأخرج نحوه وأبو حفص المَيَّانشي، وفي الباب أخبار وآثار، وبمكة خلق كثير من الصحابة: منهم: سيدنا عبد الله بن الزبير، وقصته مشهورة، وسيدنا عبد الرحمن بن أبي بكر الصديق، وكان شقيق عائشة -رضي الله تعالى عنهما-، وفي "أسد

--------------------------------------------

(1) الصواب: حاطب بن أبي بلعتة رضي الله عنه، وهو صحابي، ومن فرسان قريش وشعرائها، ومات بالمدينة.
আপনি কি ভালোবাসেন? ধন্য সেই ব্যক্তি যাকে মহান রব (المولى) ভালোবেসেছেন এবং তাকে সুউচ্চ মাকামে আসীন করেছেন। তিনি আবৃত্তি করে বলেন:

আমি আমার প্রিয়জনদের যিয়ারতের দাওয়াত দিয়েছি … এবং আমি তাদের ছাড়া অন্য কাউকে কামনা করিনি

অতঃপর তারা সম্মানিত হয়ে আমার ঘরে এসেছে … সুতরাং স্বাগতম সেই সম্মানীত মেহমানদের এবং যিনি তাদের দাওয়াত দিয়েছেন

তাদের কেউ কেউ বলেন:

এটি নিরাপদ শহর আর আপনি এখানে অবস্থানকারী … হে আমীন, আপনিই তো ত্বহা

আপনি যেখানেই থাকুন না কেন আপনার চেহারা এর দিকেই নিবদ্ধ করুন … আর এটি ছাড়া অন্য কিছুর দিকে ফিরে যাবেন না

আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকই সকল জীবিতের কিবলা … তার জন্য যে হাকীকত বা প্রকৃত সত্য প্রত্যক্ষ করেছে এবং তা প্রকাশ করেছে

আর এই ঘরটি আল্লাহর ঘর, যার ভেতরে … যদি আপনি আধ্যাত্মিকভাবে এর জ্যোতি অবলোকন করেন

সুতরাং তার দর্শনের স্থানে সশব্দে তাহলীল পাঠ করুন … এবং তার যমযমের নিকট মুখে যমযমের পানি পান করে তৃপ্ত হোন

এবং এর উচ্চভূমিতে আপনার আধ্যাত্মিক উপলব্ধির ভাষায় বলুন … মিনায় আমার নফস তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেছে

হে আমার মাওলা, আমি আপনার দিকেই আমার সফরের আসবাবপত্র বেঁধেছি … এবং আমি এসেছি এমন অবস্থায় যে আমার কলিজা তার তৃষ্ণার অভিযোগ করছে

হে আমার ইলাহ, এই তো আমি আপনার ঘরের প্রতিবেশী … এবং আমি কাবার গিলাফের রশি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছি

আর প্রতিবেশী ও মেহমানদের অধিকার রয়েছে … মহান প্রতিবেশীর ওপর, যখন তিনি তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন

আমাদের শাফাআতকারী পথপ্রদর্শক মুহাম্মাদ-এর উসিলায় আপনার নিকট প্রার্থনা করছি … এবং যারা প্রকাশ্যে তাঁর আশ্রয়ে প্রবেশ করেছে

যিনি হাশরের দিনে সৃষ্টির প্রকৃত শাফাআতকারী … আল্লাহর রাসূল, যিনি মর্যাদায় সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী

রক্ষণাবেক্ষণকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতি মূহুর্তে তাঁর ওপর … বর্ষিত হোক অবারিত দরুদ

 

‌‌৬ - সেখানে (মক্কায়) মৃত্যু এবং সেখানে যারা দাফন হয়েছেন তাদের বর্ণনার অনুচ্ছেদ

হাতিব ইবনে বালতাবাহ (১) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি দুই হারামের যেকোনো একটিতে মৃত্যুবরণ করবে, তাকে কিয়ামতের দিন নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করা হবে।" এটি আবু আল-ফারাজ বর্ণনা করেছেন এবং আবু হাফস আল-মায়ানশি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে অনেক সংবাদ (أخبار) এবং আসার (آثار) রয়েছে। মক্কায় অসংখ্য সাহাবী (صحابي) রয়েছেন: তাঁদের মধ্যে আমাদের সায়্যিদ আবদুল্লাহ ইবনে আল-যুবাইর, যাঁর কাহিনী সুবিদিত; এবং আমাদের সায়্যিদ আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর আল-সিদ্দিক, যিনি আয়েশার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সহোদর ভাই ছিলেন। এবং আসাদ (আসাদ আল-গাবাহ গ্রন্থে)...

--------------------------------------------

(১) সঠিক হলো: হাতিব ইবনে আবি বালতাবাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি একজন সাহাবী (صحابي), কুরাইশদের অন্যতম অশ্বারোহী ও কবি ছিলেন। তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১৫)
الغابة": ولما اتصل خبرُ موته بأخته عائشةَ، ظعنت إلى مكة، فوقفت على قبره، وبكت عليه، وتمثلت بِقَولَةِ متمِّم بنِ نُوَيرة في أخيه مالك، فقالت:

وَكُنَّا كندمانَيْ جَذيمةَ حقبةً … من الدَّهر حتى قيل لن يتصدَّعا

ولمَّا تفرقنا كأنِّي ومالكاً … لطولِ اجتماعٍ لم نبتْ ليلةً معا

ثم قالت: أما والله! لو حضرتُك ما بكيتُك، وبها: عتاب بن أسيد، وبها: أم المؤمنين خديجة الكبرى، روى الشيخان والترمذي عن علي -رضي الله تعالى عنه-، قال: خير نسائها مريم بنت عمران، وخير نسائها خديجة بنت خويلد. وفضائلها لا تعد، ومناقبها لا تحد. وبها دفن القاسم بن رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمعلى، وبها قبر طاوس، وكان مستجاب الدعوة، وحج أربعين حجة، وبها قبر عبد الله بن عمر بن الخطاب، مات بمكة، وهو آخر من مات بها، قاله ابن الجوزي، والصحيح أن الآن بمكة قبراً على الجبل المقابل للمعلى على يمين الخارج من باب مكة، وعلى يسار الذاهب إلى التنعيم، أشار بعض الصالحين أنه قبره -رضي الله تعالى عنه-.

وبها: أبو محذورة مؤذنُ رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقبره بالمعلى غيرُ معروف، وبها حبيب بن عدي، وعبد الله بن كريز، وسهل بن حُنيف، وأبو قحافة والدَ أبي بكر الصديق، وأبو عبيد القاسمُ بنُ سَلَاّم، وعطاء بن رباح (1)، وسُفيان بن عُيينة، وأحمد بن حجر الهيتمي، وأم المؤمنين ميمونة، والفُضيل بن عياض رضي الله عنهم، والإمام عبد الله ابن أسعد اليافعي، والشيخ دلاصي، وقبر الديسي، وقبر القشيري بن هوازن، وقبر الشيخ عمراي، والنسفي، وغيرهم من الصحابة والتابعين والأئمة والعارفين، ولو عبرنا عنهم، لم يسعهم الكتاب، فمن زار مقبرة المعلى يستحب له أن يزور هؤلاء الكرام، ويسلم عليهم، ويُكثر من الدعاء والاستغفار لهم ولسائر المؤمنين بها. ومما أنعم الله به على سكان هذا البلد الحرام: أَلَاّ يبيت فيه جائع، كيف لا، وفيه طعام طعم وشفاء سقم. وقال الحضراوي في وجه تسميتها بالبلدة المرزوقة: إنك إذا دخلت مكة في أي وقت

--------------------------------------------

(1) عطاء بن أبي رباح- تقريب التهذيب-.
"উসদুল গাবাহ্": যখন তার মৃত্যুর সংবাদ বোন আয়েশা (রা.)-এর নিকট পৌঁছাল, তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। এরপর তিনি তার কবরের নিকট দাঁড়ালেন এবং ক্রন্দন করলেন। তিনি স্বীয় ভ্রাতা মালিকের স্মরণে মুতামমিম ইবনে নুওয়াইরার পঙ্ক্তিটি আওড়ালেন এবং বললেন:

আমরা জাযীমার দুই সঙ্গীর ন্যায় দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেছিলাম … এক যুগ ধরে, এমনকি বলা হচ্ছিল যে তারা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না

যখন আমাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটল, দীর্ঘ সাহচর্যের পরও আমার ও মালিকের অবস্থা এমন হলো … যেন আমরা কখনো একটি রাতও একত্রে কাটাইনি

এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি যদি তোমার নিকট উপস্থিত থাকতাম, তবে তোমার জন্য কাঁদতাম না। সেখানে (মক্কায়) আরও রয়েছেন: আত্তাব ইবনে আসীদ। সেখানে আরও রয়েছেন: উম্মুল মুমিনীন খাদিজাতুল কুবরা। শাইখাইন এবং তিরমিজি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন ইমরান-কন্যা মারইয়াম এবং নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন খুওয়াইলিদ-কন্যা খাদিজা। তার ফজিলতসমূহ অগণিত এবং তার গুণাবলি সীমাহীন। সেখানে মুয়াল্লা গোরস্থানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পুত্র কাসেম সমাহিত আছেন। সেখানে রয়েছে তাউস-এর কবর; তিনি ছিলেন দোয়া কবুল হওয়া ব্যক্তি এবং তিনি চল্লিশবার হজ পালন করেছিলেন। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব-এর কবর রয়েছে; তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং তিনি সেখানে মৃত্যুবরণকারী সর্বশেষ ব্যক্তি—এমনটি বলেছেন ইবনুল জাওযি। তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো এই যে, বর্তমানে মক্কায় মুয়াল্লার বিপরীত পাহাড়ে একটি কবর রয়েছে, যা মক্কার তোরণ দিয়ে বের হওয়ার সময় ডান দিকে এবং তানঈমের পথে যাওয়ার সময় বাম দিকে পড়ে। জনৈক নেককার ব্যক্তি ইঙ্গিত করেছেন যে, এটিই তার (রা.) কবর।

সেখানে আরও আছেন: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুয়াজ্জিন আবু মাহজুরা, তবে মুয়াল্লায় তার কবরটি পরিচিত নয়। আরও রয়েছেন: খুবাইব ইবনে আদি, আবদুল্লাহ ইবনে কুরাইয, সাহল ইবনে হুনাইফ, আবু বকর সিদ্দিক-এর পিতা আবু কুহাফা, আবু উবাইদ কাসেম ইবনে সাল্লাম, আতা ইবনে রাবাহ (১), সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, আহমাদ ইবনে হাজার আল-হাইতামি, উম্মুল মুমিনীন মাইমুনা এবং ফুযাইল ইবনে আইয়ায (রা.)। আরও আছেন ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে আসআদ আল-ইয়াফেয়ি, শেখ দালাসি, দাইসি-র কবর, কুশাইরি ইবনে হাওয়াজিন-এর কবর, শেখ আমরায়ি-র কবর, নাসাফি এবং অন্যান্য সাহাবি (الصحابة), তাবেয়ি (التابعين), ইমামগণ (الأئمة) ও আরেফগণ। আমরা যদি তাদের বিস্তারিত বর্ণনা করতে যাই, তবে এ কিতাবে সংকুলান হবে না। সুতরাং যে ব্যক্তি মুয়াল্লা গোরস্থান জিয়ারত করবে, তার জন্য মুস্তাহাব হলো এই সকল সম্মানিত ব্যক্তিদের জিয়ারত করা, তাদের সালাম দেওয়া এবং তাদের জন্য ও সেখানে সমাহিত সকল মুমিনদের জন্য অধিকহারে দোয়া ও ইস্তিগফার করা। এই পবিত্র নগরীর অধিবাসীদের ওপর আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত হলো যে, সেখানে কেউ অনাহারে রাত্রিযাপন করে না। তা কেনই বা হবে না, যেখানে পুষ্টিকর খাদ্য ও ব্যাধির আরোগ্য বিদ্যমান। হাজরাবি মক্কাকে ‘রিজিকপ্রাপ্ত নগরী’ নামকরণের কারণ সম্পর্কে বলেন: আপনি যে কোনো সময়ে মক্কায় প্রবেশ করুন না কেন...

--------------------------------------------

(১) আতা ইবনে আবি রাবাহ — 'তাকরীবুত তাহযীব'।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১৬)
من الليل، فإنك تجد ما تطعَمُ فيها، فضلًا عن النهار، ولا يبيت فيها إنسان إلا شعباناً حامداً شاكراً، انتهى، فينبغي لزومُ الأدب بها حسبَ الطاقة، والشكرُ لله.

 

‌‌7 - فصل في آداب المجاورة بها

عن عياش (1) بن ربيعة المخزومي، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال هذه

الأمة بخير ما عَظَّموا هذه الحرمةَ حَقَّ تعظيمها، فإذا ضَيَّعوا ذلك، هلكوا" رواه

ابن ماجه، فمن أراد المجاورة بها ينبغي له أن يتأدب بآداب أهل التقى؛ لأنها

حضرة الله الخاصة في الأرض، وهي كثيرة، منها:

1 - ألا يخطر بباله معصية قطُّ مدة مجاورته بمكة، ولو في بيته، فضلًا عن المسجد الحرام، فضلًا عن الطواف، فضلًا عن الصلوات، فمن لم يعلم من نفسه السلامةَ، فلا ينبغي له الإقامةُ هناك حتى يجاهد نفسه، ولهذا احتاط ابن عباس لنفسه، فسكن الطائف دون مكة، وكذلك كره مالكٌ المجاورةَ بها، وقال: ما لنا ولبلد تُضاعف فيها السيئات كما تُضاعف الحسنات، ويؤاخذ الإنسان فيها بالخاطر؟

قلت: لم أقف على نص صريح في تضاعُف السيئات فيها، والمؤاخذةِ بالخاطر، بل عفا الله عن هذه الأمة ما حدَّثت به نفسَها، نعم المعصيةُ فيها أشدُّ وأكبر من غيرها؛ لشرف المكان، والعاصي فيها أسوأ حالاً وأقبح مآلاً؛ لقلة مبالاته بسخط الرحمن، كيف! والمعصية -وإن كانت فاحشة حيث وجدت- لكنها في حضرة الإله وفِناء بيته ومحلِّ اختصاصه وحرمه أفحشُ وأقبح، وأمرُ الذنب بها عظيم، فليبادر الإنسان من حينِ نزوله بها إلى الذل والانكسار، والتوبة والافتقار، والندم والاستغفار. ومنها:

2 - أن يأكل الحلال الصِّرْفَ مدةَ إقامته: إما بعملِ حرفة شرعية؛ كالكتابة والخياطة والقِصارة والبِزازة ونحوِها، وإما أن يتوجه إلى الله تعالى أن يسخر له الحلال، من بين فَرْثِ الحرام ودم الشبهات.

قلت: وذلك كله غيرُ مخصوص بمكة، بل يتحرى له في كل بلدة. ومنها:

3 - أن لا يبيت وعليه دينار أو درهم دين لأحد إلا أوفاه أو أوصى به.

--------------------------------------------

(1) في سنن ابن ماجه: عياش بن أبي ربيعة بن المغيرة بن عبد الله بن عمر بن مخزوم القرشي، وهو هاجر هجرتين.
রাতের বেলা, কারণ আপনি সেখানে দিনের চেয়েও বেশি খাবার পাবেন। অধিকন্তু, সেখানে কোনো মানুষই পরিতৃপ্ত, আল্লাহর প্রশংসাকারী ও কৃতজ্ঞ হওয়া ছাড়া রাত অতিবাহিত করে না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সুতরাং সামর্থ্য অনুযায়ী সেখানে আদব রক্ষা করা এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক।

 

‌‌৭ - সেখানে (মক্কায়) অবস্থানের আদবসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

আইয়াশ (১) বিন রাবিআ আল-মাখজুমি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের উপর থাকবে যতক্ষণ তারা এই পবিত্র স্থানকে (হারামকে) যথাযথভাবে সম্মান করবে। আর যখন তারা একে অবজ্ঞা করবে, তখন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানে অবস্থান করতে চায়, তার উচিত তাকওয়াবানদের আদব বজায় রাখা; কারণ এটি পৃথিবীতে আল্লাহর বিশেষ সান্নিধ্যের স্থান। আর সেই আদবগুলো অনেক, তার মধ্যে রয়েছে:

1 - মক্কায় অবস্থানকালে কখনও যেন তার মনে কোনো পাপের চিন্তা না আসে, এমনকি তার ঘরে থাকাবস্থায়ও; মসজিদে হারাম, তাওয়াফ বা সালাত তো অনেক পরের বিষয়। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের ব্যাপারে নিরাপত্তা বোধ না করে, নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা পর্যন্ত তার সেখানে অবস্থান করা উচিত নয়। এই কারণেই ইবনে আব্বাস নিজের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন এবং মক্কার পরিবর্তে তায়েফে বসবাস করতেন। একইভাবে ইমাম মালেক সেখানে অবস্থান করা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: "আমাদের জন্য এমন শহরের কী প্রয়োজন যেখানে নেক আমলের মতো পাপও বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং মানুষকে তার মনের কুচিন্তার জন্যও পাকড়াও করা হয়?"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: পাপ বহুগুণ বৃদ্ধি হওয়া এবং মনের কুচিন্তার জন্য পাকড়াও হওয়ার বিষয়ে আমি কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص صريح) পাইনি। বরং আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে তাদের মনের কল্পনা বা কুচিন্তার গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে হ্যাঁ, মক্কায় সংঘটিত পাপ এই স্থানের মর্যাদার কারণে অন্য স্থানের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর ও বড়। সেখানে পাপাচারী ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত মন্দ এবং তার পরিণাম অত্যন্ত কুৎসিত; কারণ সে রহমানের অসন্তুষ্টির প্রতি ভ্রুক্ষেপহীন। তা কেন হবে না! পাপ যেখানেই হোক না কেন তা মন্দই, কিন্তু ইলাহ-র সান্নিধ্যে, তাঁর ঘরের প্রাঙ্গণে এবং তাঁর বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পবিত্র হারামে তা আরও বেশি জঘন্য ও কুৎসিত। সেখানে পাপের বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ। সুতরাং মানুষের উচিত সেখানে পৌঁছানোর মুহূর্ত থেকেই বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করা এবং তাওবা, মুখাপেক্ষিতা, অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনার দিকে ধাবিত হওয়া। আর অন্যান্য আদবের মধ্যে রয়েছে:

2 - সেখানে অবস্থানকালে খাঁটি হালাল ভক্ষণ করা: হয় কোনো শরয়ী পেশার মাধ্যমে; যেমন লেখালেখি, দর্জিগিরি, ধোপার কাজ, কাপড় ব্যবসা বা এই জাতীয় কাজ। অথবা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা যেন তিনি হারাম ও সন্দেহযুক্ত বিষয়সমূহের আবর্জনার মধ্য থেকে তার জন্য হালালকে সহজ করে দেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই সবকিছু কেবল মক্কার জন্যই নির্দিষ্ট নয়, বরং প্রত্যেক শহরেই এই বিষয়ে যত্নবান হওয়া উচিত। এবং অন্যান্য আদবের মধ্যে রয়েছে:

3 - কারো কাছে এক দিনার বা দিরহাম পরিমাণ ঋণ থাকা অবস্থায় রাত অতিবাহিত না করা; হয় তা পরিশোধ করবে নতুবা সে বিষয়ে অসিয়ত করে রাখবে।

--------------------------------------------

(1) সুনানে ইবনে মাজাহ-তে রয়েছে: আইয়াশ বিন আবি রাবিআ বিন আল-মুগিরা বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মাখজুম আল-কুরাশি। তিনি দুইবার হিজরত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومنها:

4 - ألا يسأله أحدٌ في الحرم شيئًا، ويمنعَه منه، إلا إن كان هو أحوجَ إليه من السائل. ومنها:

5 - ألا يحنو قطُّ إلى وطنه وبلاده وأصحابه وأولاده، فيصير ملتفتا عن حضرة ربه. ومنها:

6 - يقلل الأكل جهدَه، ويجعلُ أكثرَ غذائه زمزمَ. ومنها:

7 - ألا يأكل قط وعينٌ تنظر إليه من المحتاجين إلا وأشرَكَه معه في الأكل. ومنها:

8 - ألا يغالي هناك الملابسَ الفاخرة الغالية ولا الروائح الطيبة إلا أن يعلم أنه ليس بمكة عريان ولا جوعان. ومنها:

9 - ألا يرى نفسَه قط أنه خير من أحد من المسلمين في سائر أقطار الأرض. ومنها:

10 - ألا يبول ولا يتغوط في الحرم إلا إذا كان يتأتى له ضرر من البول والغائط خارج الحرم. قلت: ولا يساعده دليل يعتمد عليه. ومنها:

11 - ألا يمشي في الحرم بتاسومته إلا لضرورة؛ كشدة حر أو برد أو جرح أو نحو ذلك. قلت: وهذا أيضاً يحتاج إلى دليل يصار إليه. ومنها:

12 - ألا يرى منه عبادة هناك على وجه الكمال من غير إعجاب أبداً؛ لئلا يقع في الزهو فيهلك، أما الاعترافُ بالنعمة فلا بأس. قلت: وذلك لا يختص بها، بل يعم البلاد كلها. ومنها:

13 - ألا يستحليَ قولَ من قال في حقه: هنيئاً لفلان. ومنها:

14 - ألا يذكر أحداً بسوء من سكان الحرم وسائر أقطار الأرض.

قلت: وهذا هو الغيبة وحكمها معلوم. ومنها:

15 - أن يخاف تعجيل العقوبة حالاً. وكان عمر بن الخطاب -رضي الله تعالى عنه- يدور على الحجاج بعد قضاء النسك بالدرَّة، ويقول: يا أهل اليمن! يمنَكُم، ويا أهل الشام! شامَكُم، ويا أهل العراق! عراقَكم، أبقى لحرمة بيت ربكم في قلوبكم، ولذلك همَّ بمنع الناس من كثرة الطواف، وقال: خشيت أن يأنس الناس بهذا البيت، فتزول هيبته من صدورهم.

 

‌‌8 - فصل في مساجدها ودورها

منها:

1 - مسجد بأعلى مكة عند بئر جُبير بن مطعِم، ويعرف اليوم بمسجد

الراية، يقال: إن النبي صلى الله عليه وسلم صلى فيه،

2 - ومسجد بأسفل مكة، ينسب إلى أبي بكر الصديق،

3 - ومسجد خارج مكة من أعلاها، يقال له: مسجد الجن، ويسمى مسجدَ البيعة،

4 - ومسجد الشجرة بأعلى مكة مقابل لمسجد الجن،
এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

4 - হারাম শরীফে কেউ তাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে বিমুখ করবেন না, যদি না তিনি স্বয়ং যাচনাকারীর চেয়ে সেই জিনিসের অধিক মুখাপেক্ষী হন। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

5 - তিনি কখনোই নিজের স্বদেশ, দেশ, বন্ধু-বান্ধব ও সন্তানদের প্রতি ব্যাকুল হবেন না, যার ফলে তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্য থেকে বিমুখ হয়ে পড়েন। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

6 - তিনি যথাসম্ভব আহার কম করবেন এবং তাঁর খাদ্যের অধিকাংশ জমজম পানিকে নির্ধারণ করবেন। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

7 - কোনো অভাবী ব্যক্তি তাকিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি কখনোই আহার করবেন না, যতক্ষণ না তাকে সেই খাবারে অংশীদার করছেন। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

8 - তিনি সেখানে দামী জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক বা সুগন্ধি নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না, যতক্ষণ না তিনি নিশ্চিত হচ্ছেন যে মক্কায় কোনো বস্ত্রহীন বা ক্ষুধার্ত ব্যক্তি নেই। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

9 - তিনি কখনোই নিজেকে পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তের কোনো মুসলমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করবেন না। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

10 - হারাম শরীফের বাইরে মলমূত্র ত্যাগ করার কারণে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তিনি হারামের ভেতরে তা করবেন না। আমি (লেখক) বলছি: এর স্বপক্ষে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য (يعتمد عليه) প্রমাণ (دليل) নেই যা সমর্থনযোগ্য। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

11 - বিশেষ প্রয়োজন যেমন তীব্র গরম, ঠান্ডা বা জখম ইত্যাদি ছাড়া তিনি হারামে জুতো পরে হাঁটবেন না। আমি বলছি: এটিও গ্রহণ করার মতো একটি প্রমাণের (دليل) মুখাপেক্ষী। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

12 - তিনি সেখানে নিজের কোনো ইবাদতকে কখনোই আত্মতুষ্টি ছাড়া পূর্ণাঙ্গ মনে করবেন না; যাতে তিনি অহংকারে নিপতিত হয়ে ধ্বংস না হন, তবে নিয়ামতের স্বীকৃতি দেওয়াতে কোনো দোষ নেই। আমি বলছি: এটি কেবল মক্কার জন্য খাস নয়, বরং সকল জনপদের জন্যই প্রযোজ্য। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

13 - কেউ যদি তাঁর সম্পর্কে বলে: "অমুকের জন্য মোবারকবাদ", তবে তিনি সেই কথায় তৃপ্তি অনুভব করবেন না। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

14 - তিনি হারামের অধিবাসী বা পৃথিবীর অন্য কোনো প্রান্তের কাউকেই মন্দভাবে স্মরণ করবেন না।

আমি বলছি: এটিই হলো গীবত এবং এর বিধান সবার জানা। এবং তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

15 - তিনি তাৎক্ষণিক শাস্তির ভয় রাখবেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হজের আমল শেষ হওয়ার পর চাবুক হাতে হাজীদের কাছে যেতেন এবং বলতেন: "হে ইয়েমেনবাসী! তোমরা তোমাদের ইয়েমেনে ফিরে যাও। হে শামীরা! তোমরা শামে ফিরে যাও। হে ইরাকীরা! তোমরা ইরাকে ফিরে যাও। এটি তোমাদের অন্তরে তোমাদের রবের ঘরের মর্যাদা অধিক রক্ষাকারী হবে।" এই কারণেই তিনি মানুষকে অধিক তাওয়াফ করা থেকে বিরত রাখার সংকল্প করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি আশঙ্কা করি যে মানুষ এই ঘরের প্রতি বেশি অভ্যস্ত হয়ে যাবে, ফলে তাদের অন্তর থেকে এর গাম্ভীর্য বিলীন হয়ে যাবে।"

 

‌‌8 - পরিচ্ছেদ: মক্কার মসজিদসমূহ ও ঘরবাড়ি প্রসঙ্গে

এর মধ্যে রয়েছে:

1 - মক্কার উচ্চভূমিতে জুবাইর ইবনে মুতয়িম-এর কূপের কাছে অবস্থিত একটি মসজিদ, যা বর্তমানে মসজিদুর রাইয়াহ নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে নামাজ আদায় করেছেন।

2 - মক্কার নিম্নভূমিতে অবস্থিত একটি মসজিদ, যা আবু বকর সিদ্দীকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।

3 - মক্কার বাইরের দিকে উচ্চভূমিতে একটি মসজিদ, যাকে মাসজিদুল জিন বলা হয় এবং এটি মাসজিদুল বাইয়াত নামেও পরিচিত।

4 - মক্কার উচ্চভূমিতে মাসজিদুল জিনের বিপরীতে অবস্থিত মাসজিদুশ শাজারা।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১৮)
5 - ومسجد الإجابة،

6 - ومسجد بمنى عند دار منحر بين الجمرة الأولى والوسطى على يمين الصاعد إلى عرفة،

7 - ومسجد الكبش الذي فدي به إسماعيل عليه السلام،

8 - ومسجد الخيف، وهو مشهور عظيم الفضل،

9 - ومسجد النعيم؛ حيث أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم باعتمار عائشة،

10 - ومسجد بذي طوى، يقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم نزل هناك حين اعتمر،

11 - ومسجد بأجياد، يقال إن النبي صلى الله عليه وسلم اتكأ هناك،

12 - ومسجد الجعرانة،

13 - ومسجد الفتح بقرب الجموم،

14 - ومنها: الموضع الذي يقال له: مولد النبي صلى الله عليه وسلم، وهو معروف بسوق السيل،

15 - وموضع يقال له: مولد علي بن أبي طالب، وفي "تاريخ الخميس": ولد علي في جوف الكعبة،

16 - ومولد سيدنا حمزة بن عبد المطلب،

17 - ومولد جعفر بن أبي طالب -رضي الله تعالى عنهم-،

18 - ودار خديجة -رضي الله تعالى عنها-،

19 - ومولد فاطمة -رضي الله تعالى عنها-،

20 - ودار سيدنا أبي بكر الصديق -رضي الله تعالى عنه-،

21 - وحجرٌ سلَّم على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وروى الترمذي ومسلم: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إني لا أعرف حجراً بمكة، كان يسلِّمُ عليّ قبل أن ينزلَ عليَّ الوحي"، قال المرجاني في "بهجة النفوس": قيل: هو الحجر الأسود، وقيل: هو الحجر المستطيل بدار أبي سفيان بزقاق الحجر، قال: وهذا الحجر باقٍ إلى اليوم، انتهى. قال الحضراوي: وهو كذلك باق إلى الآن، والله تعالى أعلم. قلت: وتعيينه بالدليل الصحيح لا يخلو عن عسر،

22 - ومنها: دار الأرقم المخزومي، وفيها مسجد مشهور،

23 - ودار العباس بن عبد المطلب،

24 - ومعبد الجنيد،

25 - وإبراهيم بن أدهم،

26 - ومسجد الكندرة،

27 - ومسجد المحناطة،

28 - ومسجد قرن مقلة،

29 - ودار أبي سفيان التي قال فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من دخل دار أبي سفيان فهو آمن". قلت: هذه المساجد والمواضع ليس دخول شيء منها لمن اجتاز بها فرضاً ولا سنة.

 

‌‌9 - فصل في خطاها والمشي فيها

قالوا: المشي في أرضٍ مشى فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم يكفر السيئات، خصوصاً مع النية الصالحة التي هي أكبر الأعمال، وفيها بشرى له برجاء أن يكون متبعاً آثاره
5 - এবং মসজিদ আল-ইজাবাহ,

6 - এবং মিনায় অবস্থিত একটি মসজিদ, যা মিনহার (কুরবানির স্থান) ঘরের নিকটে, প্রথম জামরা এবং মধ্যবর্তী জামরার মাঝে, আরাফার দিকে আরোহণকারীর ডান পাশে অবস্থিত,

7 - এবং মসজিদ আল-কাবশ, যার মাধ্যমে ইসমাইল আলাইহিস সালামের মুক্তিপণ (ফিদইয়া) দেওয়া হয়েছিল,

8 - এবং মসজিদ আল-খাইফ, এটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং অনেক মর্যাদাপূর্ণ,

9 - এবং মসজিদ আন-নাঈম; যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশাকে উমরা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন,

10 - এবং যূ-তুয়া নামক স্থানের মসজিদ, বলা হয়ে থাকে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উমরা করেছিলেন তখন সেখানে অবস্থান করেছিলেন,

11 - এবং আজইয়াদ নামক স্থানের মসজিদ, বলা হয়ে থাকে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে হেলান দিয়েছিলেন,

12 - এবং জিরানা মসজিদ,

13 - এবং আল-জুমূমের নিকটবর্তী মসজিদ আল-ফাতহ,

14 - এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত: সেই স্থান যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মস্থান বলা হয়, যা সূক আস-সাইল নামে পরিচিত,

15 - এবং সেই স্থান যাকে আলী ইবনে আবি তালিবের জন্মস্থান বলা হয়, তবে "তারিখ আল-খামিস" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আলী কাবার অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন,

16 - এবং আমাদের নেতা হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের জন্মস্থান,

17 - এবং জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর জন্মস্থান,

18 - এবং খাদিজা (রা.)-এর ঘর,

19 - এবং ফাতিমা (রা.)-এর জন্মস্থান,

20 - এবং আমাদের নেতা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ঘর,

21 - এবং সেই পাথর যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিত। তিরমিজি এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মক্কায় এমন একটি পাথর চিনি, যা আমার ওপর ওহি নাজিল হওয়ার পূর্বে আমাকে সালাম দিত"। আল-মারজানি "বাহজাতুন নুফুস" গ্রন্থে বলেছেন: বলা হয় এটি হাজরে আসওয়াদ, আবার বলা হয় এটি আবু সুফিয়ানের ঘরে 'যুকাক আল-হাজার'-এ অবস্থিত দীর্ঘাকৃতির পাথর। তিনি বলেছেন: এই পাথরটি আজ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আল-হাদরাওয়ী বলেছেন: এটি একইভাবে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে, আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। আমি বলি: সঠিক (صحيح) দলিলের মাধ্যমে একে নির্দিষ্ট করা কাঠিন্য থেকে মুক্ত নয়,

22 - এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত: আরকাম আল-মাখযুমির ঘর, যাতে একটি প্রসিদ্ধ মসজিদ রয়েছে,

23 - এবং আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের ঘর,

24 - এবং জুনাইদের ইবাদতখানা (মা'বাদ),

25 - এবং ইব্রাহিম ইবনে আদহামের স্মৃতিবিজড়িত স্থান,

26 - এবং মসজিদ আল-কানদারাহ,

27 - এবং মসজিদ আল-মিহনাতাহ,

28 - এবং মসজিদ কারন মাকলাহ,

29 - এবং আবু সুফিয়ানের ঘর যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ।" আমি বলি: এই সকল মসজিদ ও স্থানসমূহের কোনোটিতে প্রবেশ করা পথচারীদের জন্য ফরজ কিংবা সুন্নাহ নয়।

 

‌‌9 - অনুচ্ছেদ: তাতে (মক্কায়) পদচারণা এবং হাঁটা প্রসঙ্গে

ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: যে জমিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁটেছেন সেখানে হাঁটা পাপ মোচন করে, বিশেষ করে নেক নিয়তের সাথে যা আমলসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আর এতে ঐ ব্যক্তির জন্য এই সুসংবাদ ও আশা রয়েছে যে, সে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণকারী হবে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ১৯)
الشريفة. قلت: وذلك يحتاج إلى سند؛ لأن المكفِّر إنما هو اتباع هديه وسننه ظاهراً وباطناً دون تتبع آثاره الأرضية فقط فتدبر.

 

‌‌10 - فصل في النظر إلى البيت

إذا وقع النظر على البيت، فليكنْ ذلك مقترناً بالتعظيم والإجلال، وليحضر في نفسه ما خُص به من تشريف النسبة وأوصاف الجلال والجمال. روي عن النبي صلى الله عليه وسلم: "النظر إلى البيت الحرام عبادة" أخرجه ابن الجوزي. وقال ابن عباس: النظر إلى الكعبة محض الإيمان، وعن سعيد بن المسيب: من نظر إلى الكعبة إيماناً وتصديقاً، خرج من الخطايا كيوم ولدته أمه، رواه الأرزقي، وفي الحديث: "فيه عشرون رحمة للناظرين"، وهذه الآثار تحتاج إلى النظر في سندها، وروي أن الشِّبْليَّ لما حج البيت ووصل إليه ورآه، عظم عنده ذلك، فأنشد طرباً:

أبطحاءَ مكةَ هذا الذي … أراهُ عِياناً وهَذا أنا

وصار يكرره حتى غُشي عليه.

وقال آخر:

هذه دارهم وأنتَ محبٌّ … فما بقاءُ الدموعِ في الآماق

قلت: وقد تمثلتُ بهما عند وصولي مكة، وكان العارفون وأرباب القلوب ينزعجون إذا دخلوا مكة، ولاحت لهم أنوار الكعبة، فيهيمون عن مشاهدة ذلك الجمال؛ لأن رؤية المنزل تذكِّر صاحبَ المنزل. وحجت امرأة عابدة، فلما دخلت مكة، جعلت تقول: أين يبيت ربي؟ أين يبيت ربي؟ فاشتدت نحوه تسعى حتى ألصقت جبينها بحائط البيت، فما رُفعت إلا ميتة -رحمها الله تعالى، ورضي عنها-.

 

‌‌11 - فصل في محلات يستجاب الدعاء بها

قال الحسن البصري: الدعاء مستجاب هناك في خمسةَ عشرَ موضعاً:

1 - في الطواف،

2 - وعند الملتزم نصف الليل،

3 - وتحت الميزاب،

4 - وداخل الكعبة عند الزوال،

5 - وعند زمزم، وقت غيبوبة الشمس،

6 - وخلف المقام،

7 - وعلى
শরিফ। আমি বলছি: এর জন্য একটি সনদ (سند) প্রয়োজন; কেননা গুনাহ মোচনকারী বিষয় হলো জাহিরি ও বাতিনীভাবে তাঁর হেদায়েত ও সুন্নাহর অনুসরণ করা, কেবল তাঁর পার্থিব স্মৃতিচিহ্ন অনুসরণ করা নয়। অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন।

 

‌‌১০ - বায়তুল্লাহর প্রতি দৃষ্টিপাত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

যখন বায়তুল্লাহর ওপর দৃষ্টি পড়ে, তখন তা যেন সম্মান ও মর্যাদাবোধের সাথে হয়। আর নিজের মনে যেন সেই বিশেষত্বের কথা হাজির করে, যা এই ঘরের সম্বন্ধের কারণে অর্জিত হয়েছে এবং এর মহিমা ও সৌন্দর্যের গুণাবলি উপস্থিত রাখে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে: "বাইতুল্লাহ হারামের দিকে তাকানো একটি ইবাদত।" এটি ইবনে আল-জাওযী বর্ণনা করেছেন (أخرجه)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: কাবার দিকে তাকানো নিরেট ঈমান। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে কাবার দিকে তাকাবে, সে তার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন। আল-আযরুকী এটি বর্ণনা করেছেন (رواه)। এবং হাদিসে এসেছে: "এতে দর্শকদের জন্য বিশটি রহমত রয়েছে।" আর এই আসার (الآثار) বা বর্ণনাগুলোর সনদ (سند) পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্ণিত (روي) আছে যে, আশ-শিবলী যখন হজ পালন করলেন এবং বায়তুল্লাহর নিকট পৌঁছে তা দর্শন করলেন, তখন তাঁর কাছে এর মহিমা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেল। ফলে তিনি আবেগপ্লুত হয়ে আবৃত্তি করলেন:

এটি কি মক্কার সেই কঙ্করময় প্রান্তর যা আমি … চাক্ষুষ দেখছি? আর এটিই কি আমি?

তিনি এটি বারবার বলতে লাগলেন, এমনকি তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন।

অন্য একজন বলেন:

এটি তাঁদের ঘর আর তুমি হলে প্রেমিক … তবে কেন চোখের কোণে অশ্রু অবশিষ্ট থাকছে?

আমি বলছি: মক্কায় পৌঁছানোর সময় আমি এই কবিতা দুটি আবৃত্তি করেছিলাম। আরিফগণ (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) এবং অন্তরের অধিকারী ব্যক্তিগণ যখন মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং তাঁদের সামনে কাবার নূর উদ্ভাসিত হতো, তখন তাঁরা বিচলিত হয়ে পড়তেন; ফলে তাঁরা সেই সৌন্দর্য অবলোকনে বিমোহিত হয়ে যেতেন। কারণ ঘর দর্শন ঘরের মালিকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জনৈক ইবাদতকারী নারী হজ করতে এলেন। যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন তিনি বলতে লাগলেন: আমার রব কোথায় রাত কাটান? আমার রব কোথায় রাত কাটান? অতঃপর তিনি দ্রুতবেগে সেদিকে দৌড়ে গেলেন, এমনকি বায়তুল্লাহর দেওয়ালে কপাল ঠেকালেন। এরপর মৃত অবস্থাতেই তাঁকে সেখান থেকে সরানো হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

 

‌‌১১ - যেসব স্থানে দোয়া কবুল হয় সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদ

হাসান বসরী (রহ.) বলেন: সেখানে পনেরটি স্থানে দোয়া কবুল (مستجاب) হয়:

১ - তাওয়াফের সময়,

২ - মধ্যরাতে মুলতাযামের নিকট,

৩ - মিযাবে রহমতের নিচে,

৪ - সূর্য ঢলে পড়ার সময় কাবার ভেতরে,

৫ - সূর্যাস্তের সময় যমযমের নিকট,

৬ - মাকামে ইবরাহিমের পেছনে,

৭ - এবং সাফা পাহাড়ের ওপর।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২০)
الصفا،

8 - وعلى المروة،

9 - وفي المسعى،

10 - وفي عرفات،

11 - وفي المزدلفة،

12 - وفي منى،

13 - 14 - 15 - وعند الجمرات الثلاث.

وقيل: عند الحجر الأسود نصفَ النهار، وعند رؤية البيت، وفي الحطيم، وهو الحِجْر، وعند المستجار في ظهر الكعبة، وبين الركن والمقام، وفي موقف النبي صلى الله عليه وسلم بعرفات، وفي المواقف عند المشعر الحرام، وباب بني شيبة، وباب إبراهيم، وباب النبي صلى الله عليه وسلم، وباب الصفا، ومجاور المنبر حيث يقف المحمديون. وذكر مجد الدين الشيرازي في "الوصول والمُنى في فضل مِنى" مواضعَ أخرى بمكة وحرمها يستجاب فيها الدعاء، وقيل: في ثبير، وفي مسجد الكبش، وفي مسجد الخيف، وفي مسجد المنحر ببطن مِنى، وفي مسجد البيعة، وفي دار خديجة، ومولد النبي صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين عند الزوال، ومسجد الشجرة يوم الأربعاء، وفي المتكأ غداة الأحد، وفي جبل ثور عند الظهر، وفي حراء وثبير مطلقاً، وعند الركن اليماني مع الفجر، ويمنى ليلة البدر، وبالمزدلفة عند طلوع الشمس، وبعرفة وقتَ الزوال تحت السِّدرة، وفي ثور عند الغروب، وفي رباط الموفق بأسفل مكة، وفي جبل أبي قبيس، وعند قبر خديجة، وقبر سُفيان بن عيينة، وقبر الفُضيل بن عياض، وقبر القشيري، وقبر اليافعي، وعند باب المعلى، وفي شعبة النور.

قال الحضراوي: فهذه جميع الأماكن التي يُستجاب فيها الدعاء، وهي تنوف عن خمسة وخمسين موضعاً، انتهى. قلت: ولعل ذلك ثبت بكشف الأولياء، فإنه لم يرد بهذا حديث في الصحاح، ولا في السنن، إلا ما روي عنه صلى الله عليه وسلم من الدعاء على الصفا والمروة وبعرفة وأمثالها، والدعاء عند القبور ليس بمأثور، فالأولى لمريد الآخرة الاقتصار على ما وردت به السنة، وثبت عنه صلى الله عليه وسلم، وإلا فجميع مكة مباركة، وأماكنها طيبة.

 

‌‌12 - فصل في بعض آياتها

منها:

1 - الحجر الأسود وما روي فيه من أنه من الجنة، ومنها:

2 - بقاء وبنيانها الموجود الآن، ولا يبقى هذه المدة غيرُ بنائها على ما يذكر المهندسون،
সাফা,

৮ - মারওয়াতে,

৯ - মাসআতে (সাঈ করার স্থান),

১০ - আরাফাতে,

১১ - মুযদালিফায়,

১২ - মিনায়,

১৩ - ১৪ - ১৫ - এবং তিনটি জামারাতে।

এবং বলা হয়েছে: দ্বিপ্রহরে হাজারে আসওয়াদের নিকট, বাইতুল্লাহ দর্শনের সময়, হাতীমে—যা হলো হিজর, কাবার পেছনের অংশে মুস্তাজারের নিকট, রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে, আরাফাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানস্থলে, মাশআরুল হারামের নিকটস্থ অবস্থানস্থলগুলোতে, বাবু বানি শাইবা, বাবু ইবরাহীম, বাবুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বাবুস সাফা এবং মিম্বরের নিকটবর্তী স্থানে যেখানে মুহাম্মাদীগণ দাঁড়ান। মাজদুদ্দীন আশ-শিরাজি তার "আল-উসুল ওয়াল মুনা ফি ফাদলি মিনা" গ্রন্থে মক্কা ও হারামের আরও কিছু স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে দোয়া কবুল হয়। বলা হয়েছে: সাবীরে, মাসজিদুল কাবশে, মাসজিদুল খাইফে, মিনা প্রান্তরের মাসজিদুল মানহারে, মাসজিদুল বাইয়াতে, খাদিজা (রাযি.)-এর ঘরে, সোমবার দ্বিপ্রহরের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মস্থানে, বুধবার মাসজিদুশ শাজারায়, রবিবার সকালে মুত্তাকায়, যোহরের সময় জাবালে সাওরে, হেরা ও সাবীরে সাধারণভাবে, ফজর উদিত হওয়ার সময় রুকনে ইয়ামানিতে, পূর্ণিমার রাতে মিনা প্রান্তরে, সূর্যোদয়ের সময় মুযদালিফায়, যোহরের সময় আরাফাতে সিদরাহ গাছের নিচে, সূর্যাস্তের সময় সাওর পাহাড়ে, মক্কার নিম্নভূমিতে রিবাতুল মুওয়াফ্ফাকে, জাবালে আবু কুবাইসে এবং খাদিজা (রাযি.)-এর কবরের নিকট, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার কবরের নিকট, ফুযাইল ইবনে আইয়াযের কবরের নিকট, কুশায়রীর কবরের নিকট, ইয়াফিয়ীর কবরের নিকট, বাবুুল মুআল্লার নিকট এবং শু'বাতুন নূরে।

হাদরাভী বলেন: এগুলি হলো সেই সব স্থান যেখানে দোয়া কবুল হয়, যার সংখ্যা পঞ্চান্নটিরও বেশি, (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আমি বলি: সম্ভবত এটি আউলিয়ায়ে কেরামের কাশফ বা আধ্যাত্মিক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, কারণ সহিহ গ্রন্থসমূহে বা সুনান গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি; কেবল সাফা, মারওয়া, আরাফাত ও অনুরূপ স্থানসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দোয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। আর কবরের নিকট দোয়া করা কোনো বর্ণিত (مأثور) বিষয় নয়। সুতরাং আখেরাত প্রত্যাশীদের জন্য সুন্নাহয় যা বর্ণিত হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে, তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম। অন্যথায় সমগ্র মক্কাই বরকতময় এবং এর প্রতিটি স্থানই পবিত্র।

 

‌‌১২ - মক্কার কিছু নিদর্শন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

তার মধ্যে রয়েছে:

১ - হাজারে আসওয়াদ এবং এ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে যে এটি জান্নাত থেকে আগত, এবং তার মধ্যে রয়েছে:

২ - এর বর্তমান ইমারত বা কাঠামোর স্থায়িত্ব; স্থপতিদের বর্ণনা অনুযায়ী এই দীর্ঘ সময় ধরে এর কাঠামো ব্যতীত অন্য কোনো নির্মাণ টিকে থাকে না,
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২১)
ولا تزال الكعبة باقية إلى أن يأتي أمر الله، وقضاؤه بتخريب الحبشة إياها في آخر الزمان، ومنها:

3 - أنه لا يرى البيت الحرام أحدٌ ممن لم يكن رآه إلا ضحكَ أو بكى، ومنها:

4 - هيبتها في القلوب، ومنها:

5 - كفُّ الجبابرة عنها مدى الدهر، ومنها:

6 - إذعان النفوس لتوقيرها دون ناهٍ ولا زاجر، ومنها:

7 - كونها بواد غير ذي زرع، والأرزاق من كل قطر تُجبى إليها من قرب ومن بعد، ومنها:

8 - أمنُ الحيوان فيه وسلامةُ الشجر، ومنها:

9 - حجر المقام، قال الزمخشري في قوله تعالى: {فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ} [آل عمران: 97] هو أثرُ قدمِه الشريف في الصخرة الصماء وإبقاؤه دون سائر آيات الأنبياء عليهم السلام، وحفظه مع كثرة أعدائه من المشركين ألف سنة، انتهى، ومنها:

10 - أن الحَمَام وغيرها تُقبل حتى إذا كادت أن تبلغ الكعبة، انفرقت فرقتين، فلم يَعْلُ ظهرها شيء، ومنها:

11 - أن مفتاح الكعبة إذا وُضع في فم الصغير الذي ثقل لسانُه عن الكلام، يتكلم سريعًا بقدرة الله تعالى، ذكره الفاكهي، وقال: إن المكيين يفعلونه، انتهى. قال الحضراوي: هو يُفعل في زماننا هذا، ومنها:

12 - عدم تنافر الصيد في الحرم، حتى إن الظبي يجتمع مع الكلب، فإن أُخرجا منه، تنافرا، ويتبع الجارحَ الصيدَ في الحِلِّ، فإذا دخل الحرم، تركه. ذكره القرطبي، وابن عطية، وغيرهما، ومنها:

13 - أن الكعبة تفتح بحضرة الجم الغفير من الناس، فيدخلها الجميع مزدحمين، فتسعهم بقدرة الله تعالى، قال ابن النقاش: الكعبة تسعُ ألفَ إنسان، وإذا انفتح الباب في أيام الموسم، دخلها آلاف كثيرة. قلت: وفيه نظر، ومنها:

14 - امتحاق حصى الجمار على كثرة الرمي وطولِ الزمان، ومنها:

15 - امتناع تخطيف الطير للُّحوم المُشَرَّقة بمنى على الجدران وغيرها، ومنها:

16 - امتناع وقوع الذباب على الطعام في أيام منى، فتحوم عليه ولا تقع فيه، ومنها:

17 - عدم تعويق الدخان بها مع طبخ هذا ووقود هذا وغيره، ومنها:

18 - إطالتها -أي: الكعبة- في أوقات الصلاة ونصف الليل وليالي الأعياد، وقاله ابن النقاش، ومنها:

19 - أن يوم عرفة يغشى الناسَ نور عظيم، ويخيل للإنسان إذا كان فوق الكعبة أنه فوق العالم كله، ومنها:

20 - أن الطيب بمكة أطيبُ منه في سائر
কাবার অস্তিত্ব ততক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং শেষ জামানায় হাবশাবাসীদের দ্বারা তা ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে তাঁর ফয়সালা বাস্তবায়িত হয়। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

৩ - বাইতুল হারাম ইতিপূর্বে দেখেনি এমন কেউ যখনই তা দেখে, তখনই সে আনন্দাশ্রু ঝরায় অথবা রোদন করে। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

৪ - অন্তরে এর প্রতি গভীর প্রভাব ও গাম্ভীর্য। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

৫ - যুগে যুগে অত্যাচারী ও প্রতাপশালীদের এই গৃহ আক্রমণ করা হতে বিরত রাখা। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

৬ - কোনো বাধা প্রদানকারী বা ভীতি প্রদর্শনকারী ছাড়াই এর প্রতি সম্মানের ক্ষেত্রে মানুষের হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আনুগত্য। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

৭ - এটি শস্যহীন এক উপত্যকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সব প্রান্ত থেকে নিকট ও দূর হতে এর নিকট জীবনোপকরণ ও রিজিক সংগৃহীত হওয়া। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

৮ - সেখানে বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা এবং বৃক্ষরাজির অক্ষত থাকা। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

৯ - মাকামে ইব্রাহিম। মহান আল্লাহর বাণী: {তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে, যেমন- মাকামে ইবরাহীম} [আলে ইমরান: ৯৭] প্রসঙ্গে যামাখশারী বলেন: এটি নিরেট পাথরের ওপর তাঁর (ইবরাহীম আ.-এর) পদচিহ্ন এবং অন্যান্য নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) নিদর্শনসমূহের বিপরীতে একে অবশিষ্ট রাখা। তদুপরি হাজার বছর ধরে অগণিত মুশরিক শত্রুর উপস্থিতিতেও এটি সংরক্ষিত থাকা। (যামাখশারীর বক্তব্য শেষ)। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১০ - কবুতর এবং অন্যান্য পাখি যখন কাবার অভিমুখে আসে, তখন কাবার নিকটবর্তী হওয়া মাত্রই তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়; ফলে কোনো পাখিই এর ছাদের ওপর দিয়ে উড়ে যায় না। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১১ - কাবার চাবি যদি এমন কোনো শিশুর মুখে রাখা হয় যার জিহ্বা কথা বলতে ভারি হয়ে গেছে, তবে সে আল্লাহর কুদরত ও সামর্থে দ্রুত কথা বলতে শুরু করে। ফাকিহি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: মক্কাবাসীরা এটি করে থাকে। (ফাকিহির কথা শেষ)। হাদরাওয়ী বলেন: আমাদের যুগেও এটি করা হয়ে থাকে। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১২ - হারামের সীমানায় শিকারযোগ্য প্রাণীদের মধ্যে একে অপরকে ভয় না পাওয়া, এমনকি হরিণ কুকুরের সাথে একত্রে অবস্থান করে। কিন্তু যদি তাদের হারাম সীমানার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে তারা একে অপরের থেকে পালিয়ে যায়। এছাড়া কোনো শিকারি পশু যদি 'হিল' (হারামের বাইরের এলাকা) অঞ্চলে কোনো শিকারকে তাড়া করে, তবে শিকারটি হারামে প্রবেশ করা মাত্রই সে তাকে ছেড়ে দেয়। কুরতুবী, ইবনে আতিয়্যাহ এবং অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১৩ - বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে যখন কাবা খোলা হয়, তখন সবাই ভিড় করে সেখানে প্রবেশ করে এবং আল্লাহর কুদরত ও সামর্থ্যে তা সবার সংকুলান করে। ইবনে নাক্কাশ বলেন: কাবায় এক হাজার মানুষের জায়গা হয়, অথচ হজের মৌসুমে যখন দরজা খোলা হয়, তখন হাজার হাজার মানুষ এতে প্রবেশ করে। আমি (লেখক) বলব: এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১৪ - প্রচুর পাথর নিক্ষেপ এবং দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও জামারাতে পাথরের স্তূপ না হয়ে বরং তা নিঃশেষ হয়ে যাওয়া। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১৫ - মিনায় দেওয়াল বা অন্য কিছুর ওপর রোদে শুকানো গোশত পাখিদের ছিনিয়ে না নেওয়া। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১৬ - মিনার দিনগুলোতে খাবারের ওপর মাছির না বসা; মাছিরা খাবারের চারপাশে উড়তে থাকে কিন্তু তাতে বসে না। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১৭ - রান্না ও জ্বালানির বিপুল ধোঁয়া সত্ত্বেও সেখানে ধোঁয়ার কারণে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হওয়া। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১৮ - নামাজের সময়ে, মধ্যরাতে এবং ঈদের রাতে কাবার উচ্চতা বেড়ে যাওয়া—অর্থাৎ কাবার। ইবনে নাক্কাশ এটি বলেছেন। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

১৯ - আরাফার দিনে মানুষের ওপর এক মহান নূর (জ্যোতি) ছেয়ে যাওয়া। আর মানুষ যদি কাবার ওপর থাকে, তবে তার মনে হয় যেন সে সমগ্র বিশ্বের ওপর অবস্থান করছে। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো:

২০ - মক্কার সুগন্ধি অন্য যেকোনো স্থানের সুগন্ধির চেয়ে অধিক সুঘ্রাণযুক্ত হওয়া...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২২)
الآفاق، وأطلال مكة أطيبُ من سائر الأطلال، ومنها:

21 - إجابة الدعاء حالاً، ومنها:

22 - حفظُ الله تعالى للحجر الأسود من الضياع منذ أُهبط إلى الأرض، مع ما وقع من الأمور المقتضية لذهابه، ومنها:

23 - أنه يطفو على الماء إذا وضع فيه، ولا يرسخ، ومنها:

24 - أنه لا يسخن من النار، ذكره ابن شاكر المؤرخ، ونقل ذلك عن بعض المحدثين مرفوعاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم. قلت: وهذه الآيات أكثرُها تجربات وقعت لجماعة من أهل العلم، وليس فيها نص عن الشارع، إلا في البعض.

* * *
দিগন্তসমূহ, এবং মক্কার ধ্বংসাবশেষ অন্যান্য সকল ধ্বংসাবশেষের চেয়ে উত্তম, এবং এর মধ্যে রয়েছে:

21 - তাৎক্ষণিকভাবে দোয়া কবুল হওয়া, এবং এর মধ্যে রয়েছে:

22 - হাজরে আসওয়াদ পৃথিবীতে অবতরণের পর থেকে একে হারিয়ে যাওয়া থেকে মহান আল্লাহর সংরক্ষণ, যদিও এমন অনেক পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছিল যা এর বিলুপ্তির কারণ হতে পারত, এবং এর মধ্যে রয়েছে:

23 - একে পানিতে রাখা হলে এটি ভেসে থাকে, ডুবে যায় না, এবং এর মধ্যে রয়েছে:

24 - এটি আগুনে উত্তপ্ত হয় না। ঐতিহাসিক ইবনে শাকির এটি উল্লেখ করেছেন এবং তিনি কিছু মুহাদ্দিসের পক্ষ থেকে এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি মারফূ (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: এই নিদর্শনগুলোর অধিকাংশ হলো একদল আলেমদের অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়, আর এগুলোর ব্যাপারে শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কোনো অকাট্য দলীল (نص) নেই, কেবল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত।

* * *
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الباب الثاني

في فضائل الحجاج والعمار والطواف وما ضاهاها

وفيه فصول:

 

‌‌1 - فصل في فضل الحاج والمعتمر

لا يخفى أن للحج فضيلةً ودرجة ليست لغيره من العبادات والطاعات، دلَّ عليه الكتابُ والسنة، قال تعالى: {لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ} [الحج: 28] قيل: هي المغفرة، وقيل: التجارة، وقال مجاهد وعطاء: بل يعم منافع الدنيا والآخرة، وقال الزمخشري، تحت هذه الآية: كان أبو حنيفة يفاضل بين العبادات قبل أن يحج، فلما حج، فضل الحجَّ على العبادات كلِّها؛ لما شاهد من تلك الخصائص، انتهى. نعم هذه عبادة تعم إنفاقَ المال واستعمالَ البدن، فتكون فاضلةً على ما يختص بواحد منهما، وقال تعالى: {وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ} [النساء: 100] وقال [ابن] مسعود، والحسن، وسعيد بن جبير في قوله تعالى: {لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ} [الأعراف: 16] إنه طريق مكة، والمعنى: أصدُّهم عن الحج.

وعن أم سلمة، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الحج جهادُ كل ضعيف" رواه ابن ماجه. وعن عمران، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "تابعوا بين الحج والعمرة، فإن متابعةَ ما بينهما تزيدُ في العمر والرزق، وتنفي الذنوب كما ينفي الكيرُ خَبَثَ الحديد"، أخرجه ابن أبي خيثمة في "تاريخه"، وابن الجوزي. وعن أبي هريرة -رضي الله تعالى عنه-، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "وفدُ الله ثلاثة: الغازي، والحاجُّ، والمعتمرُ" أخرجه النسائي، وابن حبان، وصححه الحاكم على شرط
‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়

হজ পালনকারী, উমরাহ পালনকারী, তাওয়াফ এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ফযীলত প্রসঙ্গে

আর এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

 

‌‌১ - হজ ও উমরাহ পালনকারীর ফযীলত বিষয়ক পরিচ্ছেদ

এটি অস্পষ্ট নয় যে, হজের এমন ফযীলত ও মর্যাদা রয়েছে যা অন্য কোনো ইবাদত বা আনুগত্যের ক্ষেত্রে নেই; কুরআন এবং সুন্নাহ এর প্রমাণ বহন করে। মহান আল্লাহ বলেন: "যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে" [হজ: ২৮]। বলা হয়েছে: তা হলো ক্ষমা, আবার বলা হয়েছে: তা হলো ব্যবসা। মুজাহিদ ও আতা বলেন: বরং এটি দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। যামাখশারী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: ইমাম আবু হানিফা হজ করার পূর্বে ইবাদতসমূহের মধ্যে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব বিবেচনা করতেন, কিন্তু যখন তিনি হজ করলেন, তখন হজের সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রত্যক্ষ করার পর একে সমস্ত ইবাদতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিলেন; (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। হ্যাঁ, এটি এমন এক ইবাদত যা অর্থ ব্যয় এবং শারীরিক পরিশ্রম উভয়কেই শামিল করে, ফলে এটি সেই আমল অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ যা কেবল এই দুটির কোনো একটির সাথে নির্দিষ্ট। মহান আল্লাহ বলেন: "আর যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করে বের হয়, অতঃপর তাকে মৃত্যু পেয়ে বসে, তবে আল্লাহর কাছে তার পুরস্কার সুনিশ্চিত হয়ে যায়" [নিসা: ১০০]। ইবনে মাসউদ, হাসান এবং সাঈদ ইবনে জুবায়ের মহান আল্লাহর এই বাণী: "আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব" [আরাফ: ১৬] এর ব্যাখ্যায় বলেন: এটি হলো মক্কার পথ। আর এর অর্থ হলো: আমি তাদের হজ থেকে বাধা প্রদান করব।

উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হজ হলো প্রত্যেক দুর্বলের জিহাদ।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইমরান থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা হজ ও উমরার মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখো; কেননা এ দুটির পারস্পরিক ধারাবাহিকতা আয়ু ও রিজিকে প্রবৃদ্ধি ঘটায় এবং গুনাহসমূহকে সেভাবে বিদূরিত করে, যেভাবে কামারের হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।" এটি ইবনে আবি খাইসামা তাঁর "তারিখ"-এ এবং ইবনে জাউজি বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর মেহমান হলো তিন প্রকার: আল্লাহর পথের যোদ্ধা, হজ পালনকারী এবং উমরাহ পালনকারী।" এটি নাসাঈ ও ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং হাকিম একে সহীহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন ... এর শর্তানুসারে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২৪)
مسلم. وعن عمرَ: أنه استأذن صلى الله عليه وسلم في العمرة، فأذن له، وقال: "يا أخي! لا تَنْسَنا في دعائك"، وفي لفظ: "يا أخي! أشركنا في دعائك"، فقال عمر: ما أحببت أن لي بها ما طلعت عليه الشمسُ بقوله: "يا أخي"! رواه أحمد، وهذا لفظه، وأبو داود، والترمذي، وصححه.

وعن أبي هريرة -رضي الله تعالى عنه-: أن رسوله الله صلى الله عليه وسلم قال: "العمرةُ إلى العمرة كفارةٌ لما بينَهما، والحجُّ المبرورُ ليس له جزاء إلا الجنة" رواه مالك، والبخاري، ومسلم، وغيرهم. قال القرشي: معناه: لا يقتصر فيه على تكفير بعض الذنوب، بل لا بد أن تبلغ به إلى الجنة بفضل الله وكرمه، انتهى، وهو الذي لا معصية فيه -ولو صغيرة- من حين الإحرام إلى التحلل الثاني. وعن أبي هريرة -رضي الله تعالى عنه-، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من حج لله، فلم يرفث ولم يفسق، رجع كيومَ ولدته أمه" متفق عليه، واللفظ للبخاري، وفي رواية لمسلم: "من أتى هذا البيت، فلم يرفُثْ ولم يفسق، رجع كما ولدته أمه" رواه النسائي، والدارقطني، فقالا: "من حجَّ واعتمر".

 

‌‌2 - فصل في فضل رمضان بمكة والعمرة بها

أخرج البزار: رمضانُ بمكة أفضلُ من رمضان بغير مكة. وروى ابن ماجه عن ابن عباس مرفوعاً: "من أدرك رمضانَ بمكة، فصامَه، وقام منه ما تيسر له، كتب الله له مئة ألف شهر رمضان فيما سواها، وكتب الله له بكل يوم عتق رقبة، وكل ليلة عتق رقبة، وكل يوم حملان فرس في سبيل الله، وفي كل يوم حسنة، وفي كل ليلة حسنة". وعن ابن عباس -رضي الله تعالى عنهما-، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن عمرة في رمضان تعدل حجة" متفق عليه، وفي لفظ لمسلم: "عمرة تقضي حجى معي"، وفي لفظ لأبي داود، والطبراني، والحاكم "تعدل حجة معي" من غير شك، وللحديث ألفاظ وطرق كثيرة.

 

‌‌3 - فصل في فضل الطواف

عن محمد بن المنكدر، عن أبيه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من طاف بالبيت أسبوعاً، لا يلغو فيه، كان كعدلِ رقبةٍ يعتقها" رواه الطبراني في "الكبير"،
মুসলিম। এবং উমর (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি উমরা করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং বললেন: "হে আমার ভাই! তোমার দোয়ায় আমাদের ভুলে যেও না।" অন্য এক শব্দে এসেছে: "হে আমার ভাই! তোমার দোয়ায় আমাদের শরিক করো।" উমর (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই "হে আমার ভাই" সম্বোধনের পরিবর্তে দুনিয়ার যা কিছুর ওপর সূর্য উদিত হয় তার মালিক হওয়াও আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিল না। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর শব্দমালা, আর আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এক উমরা হতে পরবর্তী উমরা পর্যন্ত সময়টুকু উভয়ের মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ এবং মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।" এটি মালেক, বুখারি, মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। কুরাশি বলেন: এর অর্থ হলো—এটি কেবল কিছু গুনাহের কাফফারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণায় এটি অবশ্যই জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেবে; (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর মাবরুর হজ হলো সেই হজ যাতে ইহরাম বাঁধার সময় হতে দ্বিতীয় হালাল হওয়া পর্যন্ত কোনো পাপাচার নেই—এমনকি ছোট গুনাহও নেই। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করল এবং তাতে কোনো অশ্লীল কথা বা কাজ এবং পাপাচার করল না, সে ঐ দিনের ন্যায় ফিরে আসবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه) এবং শব্দমালা বুখারির। মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে: "যে ব্যক্তি এই ঘরে (বাইতুল্লাহ) আসলো এবং কোনো অশ্লীলতা বা পাপাচার করল না, সে সেভাবেই ফিরে আসবে যেভাবে তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।" নাসাঈ এবং দারাকুতনি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: "যে হজ ও উমরা করল।"

 

‌‌২ - মক্কায় রমজান মাসের ফজিলত এবং তাতে উমরা করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

বাজজার বর্ণনা করেছেন: মক্কায় রমজান মাস অতিবাহিত করা মক্কার বাইরে রমজান পালনের চেয়ে উত্তম। ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি মক্কায় রমজান মাস পেল এবং রোজা রাখল ও সাধ্যমতো কিয়াম করল, আল্লাহ তার জন্য মক্কার বাইরের এক লক্ষ রমজান মাসের সওয়াব লিখে দেবেন। আল্লাহ তার জন্য প্রতিদিন একজন গোলাম আজাদ করার এবং প্রতি রাতে একজন গোলাম আজাদ করার সওয়াব লিখবেন। প্রতিদিন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য ঘোড়া আরোহী পাঠানোর সওয়াব এবং প্রতিদিন ও প্রতি রাতে একটি করে নেকি দান করবেন।" ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রমজানের একটি উমরা একটি হজের সমতুল্য।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)। মুসলিমের এক শব্দে এসেছে: "এমন উমরা যা আমার সাথে হজ আদায়ের সমতুল্য।" আবু দাউদ, তাবারানি এবং হাকেমের বর্ণনায় কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই এসেছে: "আমার সাথে হজের সমতুল্য।" এই হাদিসটির অনেক শব্দমালা ও সূত্র (طرق) রয়েছে।

 

‌‌৩ - তাওয়াফের ফজিলত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাতবার বায়তুল্লাহ তওয়াফ করল এবং তাতে কোনো অনর্থক কথা বলল না, তা একটি গোলাম আজাদ করার সমতুল্য হবে।" এটি তাবারানি 'আল-মুজামুল কাবির'-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২৫)
ورواته ثقات. وعن ابن عباس مرفوعاً: "إن الله تعالى يُنزل على أهل هذا المسجد -يعني: مسجد مكة- في كل يوم وليلة عشرين ومئة رحمة، ستين للطائفين، وأربعين للمصلين، وعشرين للناظرين" أخرجه الطبراني، والحاكم، ورواه البيهقي بإسناد حسن. وعن ابن عباس: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الطوافُ حول البيت صلاة" رواه الترمذي، واللفظ له، وابن حبان في "صحيحه". وعنه -رضي الله تعالى عنه-، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من طاف بالبيت خمسين مرة، خرج من ذنوبه كيوم ولدته أمه" رواه الترمذي، وقال: حديث غريب، وسئل البخاري عن هذا الحديث، قال: إنما يروى عن ابن عباس قولُه، ورواه عبد الرزاق والفاكهي أيضاً. وعن ابن عمر، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من طاف وصلى ركعتين، كان كعتق رقبة" رواه ابن ماجه، وابن خزيمة في "صحيحه". وعنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من طاف بالبيت أسبوعاً، لا يضع قدماً ولا يرفع أخرى، إلا حط عنه خطيئته، وكتب له بها حسنة، ورفع له بها درجة" رواه ابن خزيمة في "صحيحه"، وابن حبان، واللفظ له. قال بعض الصالحين: رأيت في الطواف غلاماً شاباً نحيفَ الجسم رقيقَ الساقين وهو يبكي ويقول: وأشوقاه لمن يراني ولا أراه!

فقلت: من هو؟ فأنشد:

ولي حبيبٌ بلا كيفٍ ولا شبهٍ … ولي مقامٌ بلا رَبْعِ ولا خِيَمِ

أتيتُ من دارِ عشقٍ لا أمثلها … من عندِ مَنْ لم أُطِقْ شرحاً له بفمِ

ثم غشى عليه زماناً، فحركناه فوجدناه قد مات.

وما أحسن قولَ العارف بالله عبدِ الغني النابلسي -رحمه الله تعالى-:

عشقتُ في مكةَ ذات البَها … يدعونها الكعبةَ باسمٍ صريحْ

وهي كعوبٌ غادةٌ حرةٌ … كم قلبِ صَبٍّ في هواها جريحْ

محجوبةٌ بالستر عن كلِّ مَنْ … ينظرها مِنْ أجنبيٍّ قَبيحْ

وإنما ينظرُها محرِمٌ … فيبصرُ الوجهَ الجميلَ الصَّبيحْ

رأيتُها في مدتي مرةً … فراح جسمي في هواها طَريحْ
এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। ইবনে আব্বাস থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এই মসজিদের অধিবাসীদের ওপর—অর্থাৎ মক্কার মসজিদ—প্রতি দিন ও রাতে একশ বিশটি রহমত নাজিল করেন; ষাটটি তাওয়াফকারীদের জন্য, চল্লিশটি সালাত আদায়কারীদের জন্য এবং বিশটি দৃষ্টিপাতকারীদের জন্য।" এটি তাবারানি ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি এটি হাসান (حسن) সনদ (إسنাদ) সহকারে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: নবী করীম (সা.) বলেছেন: "বাইতুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফ করা সালাতের মতোই।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁরই, এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ-তে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর (রা.) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ পঞ্চাশ বার তাওয়াফ করবে, সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হবে যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছেন।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি গরীব (غريب) হাদিস। ইমাম বুখারিকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি কেবল ইবনে আব্বাসের নিজস্ব উক্তি হিসেবেই বর্ণিত। আবদুর রাজ্জাক এবং ফাকিহি-ও এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তাওয়াফ করল এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করল, তা একজন দাস মুক্ত করার সমতুল্য।" এটি ইবনে মাজাহ এবং ইবনে খুজায়মা তাঁর সহিহ-তে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি সাত বার বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করল, সে যখনই একটি কদম ফেলবে কিংবা অন্যটি উঠাবে, তার বিনিময়ে তার একটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে, তার জন্য একটি নেকি লেখা হবে এবং তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।" এটি ইবনে খুজায়মা তাঁর সহিহ-তে এবং ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন, আর শব্দগুলো ইবনে হিব্বানের। জনৈক পুণ্যবান ব্যক্তি বলেন: আমি তাওয়াফের সময় একজন হালকা-পাতলা গড়ন ও চিকন পা বিশিষ্ট যুবককে দেখলাম, সে কাঁদছে আর বলছে: হায়! তাঁর জন্য কতই না ব্যাকুলতা যিনি আমাকে দেখেন কিন্তু আমি তাঁকে দেখি না!

আমি বললাম: তিনি কে? তখন সে আবৃত্তি করল:

আমার এক প্রিয়তম আছেন যার কোনো ধরন বা সাদৃশ্য নেই … আর আমার এমন এক মাকাম আছে যেখানে কোনো বসতি বা তাঁবু নেই।

আমি এসেছি প্রেমের এমন এক আলয় থেকে যার তুলনা আমি দিতে পারি না … এমন সত্তার নিকট থেকে যার বর্ণনা মুখে দেওয়ার সাধ্য আমার নেই।

তারপর সে দীর্ঘক্ষণ মূর্ছিত হয়ে রইল, এরপর আমরা তাকে নাড়া দিলে দেখলাম সে মারা গেছে।

আরিফ বিল্লাহ আব্দুল গনি নাবলুসি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তিটি কতই না সুন্দর:

আমি মক্কায় প্রেমে পড়েছি এক রূপসীর … যাকে সবাই স্পষ্ট করে কাবা নামে ডাকে।

সে এক অনন্যা ও মুক্তাভ কুমারী … তার প্রেমে কত অনুরাগীর হৃদয় যে ক্ষতবিক্ষত।

সে পর্দার অন্তরালে আবৃত সেই ব্যক্তির থেকে … যে কুৎসিত পরপুরুষের দৃষ্টিতে তাকে দেখে।

বরং তাকে তো কেবল মুহরিমরাই (ইহরামকারী) দেখে … ফলে তারাই সেই সুশ্রী ও উজ্জ্বল চেহারার দেখা পায়।

আমি আমার জীবনকালে তাকে একবার দেখেছি … অমনি আমার দেহ তার প্রেমে লুটিয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২৬)
وطُفْتُ سبعاً بِها لاثماً … يمينَ ربِّي هيئة المستبيحْ

ويا له من حجرٍ أسودٍ … كأنه الخالُ بخدِّ المَليحْ

 

‌‌4 - فصل فيما جاء في الحَجَر والركنين والملتزم

عن ابن عباس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحجر الأسود: "واللهِ! ليبعثَنَّهُ اللهُ يوم القيامة وله عينان يُبصِر بهما، ولسانٌ ينطِقُ به، يشهد على من استلمه بحق" أخرجه الترمذي، وحسَّنه أَبو حاتم. وفي رواية في الحجر: أنه يشهد لمن استلمه وقَبَّلَه من أهل الدنيا، وأنا شافعٌ مشفَّعٌ، وسنده حسن. عن عبد الله بن عمرو بن العاص، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يأتي الركن اليماني يومئذ -يعني: يوم القيامة- أعظمَ من أبي قبيس، له لسانٌ وشفتان، وإنه كان أشدَّ بياضاً من الثلج حتى سَوَّدته خطايا أهل الشرك، ولولا ذلك ما مَسَّه ذو عاهة إلا شُفي" رواه أحمد، والحاكم، وسنده حسن. وعن ابن عمر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مسحُ الحجر والركن اليماني يَحُطَّان الخطايا حطاً" رواه أحمد، وابن حبان، والترمذي، معناه: وإنهما يُبعثان يوم القيامة، ولهما عينان ولسان وشفتان يشهدان لمن استلمهما بالوفاء، وإن عنده تسكب العبرات، وإنه والمقام ياقوتتان من يواقيت الجنة، وإن الله طمس نورهما، ولولا ذلك، لأضاء ما بين المشرق والمغرب.

وإن بالركن اليماني سبعين ملَكاً موكلاً يؤمنون على من قال: "اللهمَّ إني أسألك العفو والعافية في الدنيا والآخرة، ربنا آتنا في الدنيا حسنة. . . إلخ. عن أبي هريرة -رضي الله تعالى عنه-، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من فاوض الحجرَ الأسود -أي: لابس وخالط-، فإنما يفاوض يدَ الرحمن"، أخرجه ابن ماجه. وعن ابن عباس مرفوعاً، قال: "الركنُ الأسودُ يمينُ الله في الأرض يُصافح بها عبادَه كما يصافح أحدُكم أخاه" أخرجه الأزرقي. وعن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم: "ما بين الركن والمقام ملتزَمٌ، لا يدعو به صاحبُ عاهة إلا بَرَأ" رواه الطبراني. وعن أبي هريرة، وسعيد بن جبير، وزين العابدين: أنهم كانوا يلتزمون ما تحت الميزاب من الكعبة، ذكره القرشي.
আমি সেখানে সাতবার তওয়াফ করেছি একে চুম্বনরত অবস্থায় … যেন আমার রবের ডান হাত, একজন পবিত্রতা অন্বেষণকারীর ন্যায়

এবং আহা! কী চমৎকার এই হাজরে আসওয়াদ … যেন এটি কোনো সুন্দরের গণ্ডদেশে একটি তিল

 

‌‌৪ - হাজরে আসওয়াদ, রুকনদ্বয় এবং মুলতাজাম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেছেন: "আল্লাহর কসম! আল্লাহ কিয়ামতের দিন একে অবশ্যই এমন অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন যে, এর দুটি চোখ থাকবে যা দিয়ে এটি দেখবে এবং একটি জিহ্বা থাকবে যা দিয়ে এটি কথা বলবে। যে ব্যক্তি হকের সাথে একে স্পর্শ করেছে, এটি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং আবু হাতেম একে হাসান বা উত্তম (حسن) বলে অভিহিত করেছেন। হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: এটি দুনিয়াবাসীদের মধ্যে যারা একে স্পর্শ করেছে এবং চুম্বন করেছে তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে এবং আমি হব এমন সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হয়, আর এর সনদ (سند) হাসান বা উত্তম (حسن)। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন রুকনে ইয়ামানি আবু কুবাইস পাহাড় অপেক্ষা বৃহৎ আকৃতিতে উপস্থিত হবে; এর একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট থাকবে। এটি বরফের চেয়েও অধিক শুভ্র ছিল, পরিশেষে মুশরিকদের পাপরাশি একে কালো করে দিয়েছে। যদি এমনটি না হতো, তবে কোনো রোগাক্রান্ত ব্যক্তি একে স্পর্শ করলেই সে আরোগ্য লাভ করত।" এটি আহমাদ ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (سند) হাসান বা উত্তম (حسن)। ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করা পাপরাশিকে পুরোপুরি ঝরিয়ে দেয়।" এটি আহমাদ, ইবনে হিব্বান এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ হলো: কিয়ামতের দিন এ দুটিকে পুনরুত্থিত করা হবে এবং এদের চোখ, জিহ্বা ও ঠোঁট থাকবে যা দ্বারা তারা বিশ্বস্ততার সাথে স্পর্শকারীদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। এর নিকটেই অশ্রু বিসর্জন করতে হয় এবং এটি ও মাকামে ইব্রাহিম জান্নাতের ইয়াকুত পাথরসমূহের মধ্য থেকে দুটি ইয়াকুত। আল্লাহ এদের জ্যোতি মিটিয়ে দিয়েছেন, নতুবা এদের আলো পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী সব কিছুকে আলোকিত করে দিত।

রুকনে ইয়ামানিকে সত্তর জন ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন, যারা এই দোয়াকারীর দোয়ায় আমীন বলেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন... ইত্যাদি।" আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করল—অর্থাৎ একে আঁকড়ে ধরল ও এর সংস্পর্শে এল—সে যেন দয়াময় আল্লাহর হাত স্পর্শ করল।" এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রুকনে আসওয়াদ (হাজরে আসওয়াদ) পৃথিবীতে আল্লাহর ডান হাত স্বরূপ, এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের সাথে মুসাফাহা করেন যেভাবে তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের সাথে মুসাফাহা করে।" এটি আযরাকী বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে বর্ণিত: "রুকন এবং মাকামের মধ্যবর্তী স্থানটি হলো মুলতাজাম; কোনো ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি সেখানে দোয়া করলে সে সুস্থ হবেই।" এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং যয়নুল আবেদীন থেকে বর্ণিত: তাঁরা কাবার মীযাব (পানির নালা)-এর নিচের অংশে মুলতাজাম হতেন (লেগে থাকতেন)। এটি কুরাশি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌5 - فصل في المشي بين الصفا والمروة

عن ابن عمر، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أما طوافُك بالصفا والمروة كعتق سبعين رقبة. . . " الحديث، رواه الطبراني في "الكبير"، والبزار، واللفظ له، وعنه: "من سعى بين الصفا والمروة، ثَبَّتَ اللهُ قدميه على الصراط يومَ تزلُّ الأقدام" أخرجه صاحب المسالك.

 

‌‌6 - فصل في فضل شرب ماء زمزم

عن ابن عباس مرفوعًا: "ماءُ زمزم لِما شُرب له"، فإن شربته تستشفي، شفاك الله، وإن شربته مستعيذاً، أعاذك الله، وإن شربته لقطع ظمئك، قطعه، ذكره القرشي. وكان ابن عباس إذا شرب زمزم، قال: اللهم إني أسألك علماً نافعاً، ورزقاً واسعاً، وشفاء من كل داء، رواه الحاكم، والدارقطني. قال ابن العربي: وهذا موجود فيه إلى يوم القيامة -يعني: العلم والرزق والشفاء- لمن صحَّت نيتُه، وسلمت طويته، ولم يكن به مكذباً، ولا يشرب مجرباً؛ فإن الله مع المتوكلين، انتهى.

قلت: وقد دعوتُ بما دعا به ابن عباس عندَ شربي له، وأرجو من الله القَبول. وفي حديث إسلام أبي ذر: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إنها مباركة، وإنها طعام طعم" رواه مسلم، وزاد أَبو داود: "وشفاء سُقْم". وعن جابر: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ماء زمزم لما شُرب له" أخرجه أحمد، وابن ماجه، والبيهقي. واستسقى عبد الله بن المبارك من زمزم شربة، واستقبل الكعبة، وقال: اللهم إن أبا الموالي حدثنا عن محمد بن المنكدر، عن جابر: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ماء زمزم لما شرب له"، وهذا أشربه لعطشِ يوم القيامة، ثم شرب، أخرجه الحافظ شرف الدين الدمياطي، وقال: إنه على رسم الصحيح.

وقد قلت ما قاله ابن المبارك، وأرجو قبوله، فما ذلك على الله بعزيز، وفي "الصحيح": أنه لما قدم أبو ذر ليُسْلِم، أقام ثلاثين يوماً وليلةً، وليس له طعامٌ إلا زمزم، فسمن حتى تكسَّرت عُكَنُ بطنه، ولم يجد على بطنه سُخْفَة جوع. عن ابن
‌৫ - সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি (হাঁটা) করার পরিচ্ছেদ

ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সাফা ও মারওয়ার মাঝে তোমার সায়ি করা সত্তর জন দাস মুক্ত করার সমতুল্য..." হাদিসটি তাবারানি আল-কাবির গ্রন্থে এবং বাজ্জার বর্ণনা করেছেন, আর হাদিসের শব্দাবলি বাজ্জারের। তাঁর থেকেই বর্ণিত: "যে ব্যক্তি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ি করবে, কিয়ামতের দিন যখন পদযুগল পিচ্ছিল হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ তার পদযুগলকে পুলসিরাতের ওপর স্থির রাখবেন।" এটি আল-মাসালিক গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন।

 

‌৬ - জমজমের পানি পান করার ফজিলত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত: "জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই কার্যকর হয়।" যদি তুমি তা আরোগ্যের জন্য পান করো, তবে আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন; যদি তুমি তা আশ্রয়ের জন্য পান করো, তবে আল্লাহ তোমাকে আশ্রয় দেবেন; আর যদি তোমার তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পান করো, তবে আল্লাহ তা মিটিয়ে দেবেন। এটি কুরাশি উল্লেখ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) যখন জমজমের পানি পান করতেন, তখন বলতেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সকল ব্যাধি থেকে মুক্তি প্রার্থনা করছি। এটি হাকিম ও দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আল-আরাবি বলেন: এটি কিয়ামত পর্যন্ত এতে বিদ্যমান থাকবে—অর্থাৎ জ্ঞান, রিজিক ও আরোগ্য—সেই ব্যক্তির জন্য যার নিয়ত সঠিক হবে, অন্তঃকরণ কলুষমুক্ত থাকবে এবং সে বিষয়টিকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী হবে না এবং পরীক্ষামূলকভাবে পান করবে না; কারণ আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের সাথে আছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমি বলছি: আমি এটি পান করার সময় ইবনে আব্বাস (রা.) যে দোয়া করেছিলেন, তা-ই করেছি এবং আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার আশা রাখি। আবু যার (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের হাদিসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি বরকতময় এবং এটি তৃপ্তিদায়ক খাবার।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ এতে সংযোজন করেছেন: "এবং রোগের আরোগ্য।" জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই কার্যকর হয়।" এটি আহমদ, ইবনে মাজাহ ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক জমজমের পানি পান করতে চাইলেন, অতঃপর কাবার দিকে মুখ করে বললেন: হে আল্লাহ! আবু আল-মাওয়ালি আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় তা সে উদ্দেশ্যেই কার্যকর হয়", আর আমি এটি কিয়ামত দিবসের তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পান করছি। অতঃপর তিনি পান করলেন। এটি হাফিজ শরফ উদ্দিন আল-দুমইয়াতি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি সহিহ (صحيح) এর মানদণ্ড অনুযায়ী।

ইবনে আল-মুবারক যা বলেছেন, আমিও তা-ই বলেছি এবং তা কবুল হওয়ার আশা রাখি, আর আল্লাহর কাছে এটি মোটেও কঠিন নয়। সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত আছে: আবু যার (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করতে এসেছিলেন, তখন তিনি ত্রিশ দিন ও রাত অবস্থান করেছিলেন, জমজমের পানি ছাড়া তাঁর কোনো খাদ্য ছিল না। এতে তিনি এমন হৃষ্টপুষ্ট হয়েছিলেন যে তাঁর পেটের ভাঁজগুলো মেদবহুল হয়ে পড়েছিল এবং তিনি পেটে ক্ষুধার কোনো দুর্বলতা অনুভব করেননি। ইবনে...
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২৮)
عباس: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "الحُمَّى من فيح جهنم، فأبردوها من ماء زمزم" رواه أحمد، وأبو بكر بن أبي شيبة، وابن حبان في "صحيحه"، وانفرد البخاري بإخراجه، فقال: "فأبردوها بالماء، أو بماء زمزم". وفي حديث شق الصدر: "ثم غسله بماء زمزم". رواه البخاري. وعن ابن عباس، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "خيرُ بئر على وجه الأرض ماء زمزم" أخرجه ابن حبان، والطبري بسند رجاله ثقات، وعنه: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا أراد أن يُتحف الرجل، سقاه من ماء زمزم، رواه الدمياطي، وصححه.

وعن محمد بن عبد الرحمن بن أبي بكر الصديق: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "آيةُ ما بيننا وبين المنافقين أنهم لا يتضَلَّعون من ماء زمزم" رواه ابن ماجه، والدارقطني، والحاكم، وقال: صحيح على شرط الشيخين، والتضَلُّع: الامتلاء حتى تمتدَّ الأضلاع؛ وكم تضلعت به ولله الحمد. وعن ابن عباس، قال: نسميها شبعة -يعني: زمزم-، وكنا نجدها نعمَ العونُ على العِيال، رواه الطبراني في "الكبير"، وهو موقوف صحيح الإسناد، وبالجملة: فقد أجمعوا على أن ماء زمزم أفضلُ من جميع المياه على الإطلاق، إلا الماءَ الذي نبع من بين أصابعه صلى الله عليه وسلم، كيف وهي هزمةُ جبرئيل، وسُقيا إسماعيل عليهما السلام، وفي شربها منافُع لا تحصى، ذكر بعضَها الحضراوي في "العقد الثمين".

 

‌‌7 - فصل في أسماء ماء زمزم

وهي كثيرة تدل على شرفها وفضلها، منها:

1 - زمزم،

2 - وهمزة جبريل،

3 - وهزمة جبريل،

4 - وظبية،

5 - وطيبة،

6 - وبَرَّة،

7 - وعصمة،

8 - ومفنونة،

9 - وشباعة العيال،

10 - وعونة،

11 - وسيدة،

12 - ونافقة،

13 - وبشرى،

14 - وصافية،

15 - ومَعذبة،

16 - وطاهرة،

17 - ومروَية،

18 - وسالمة،

19 - وميمونة،

20 - وكافية،

21 - ومونسة،

22 - وشفاء سُقم،

23 - وشراب الأبرار،

24 - وتَكْتُم -على وزن تكتب- رواها الفاكهي عن أشياخ مكة، وغير ذلك.
ইবনে আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জ্বর হলো জাহান্নামের উত্তাপের অংশ, সুতরাং তোমরা একে জমজমের পানি দিয়ে শীতল করো।" এটি আহমাদ, আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর "সহিহ"-তে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা একে পানি দিয়ে অথবা জমজমের পানি দিয়ে শীতল করো।" বক্ষ বিদীর্ণ করার (শাক্কুস সদর) সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণিত আছে: "অতঃপর তিনি তা জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ভূপৃষ্ঠের সর্বোত্তম কূপ হলো জমজমের পানি।" এটি ইবনে হিব্বান ও তাবারানি এমন একটি সনদ (سند) দ্বারা বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। তাঁর থেকেই বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাউকে কোনো উপহার প্রদান করতে চাইতেন, তখন তাকে জমজমের পানি পান করাতেন; এটি দিমইয়াতি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ (صححه) বলে অভিহিত করেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর সিদ্দিক (রাযি.) হতে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাদের এবং মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্যের নিদর্শন হলো যে, তারা তৃপ্তিসহকারে জমজমের পানি পান করে না।" এটি ইবনে মাজাহ, দারা কুতনি এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন: এটি শাইখাইনের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)। 'তাদাল্লু' (تضلع) অর্থ হলো পেট ভরে পান করা যাতে পাঁজরের হাড়গুলো সম্প্রসারিত হয়; আর আমি এর দ্বারা কতই না তৃপ্ত হয়েছি, আল্লাহর শুকরিয়া। ইবনে আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা একে 'শাবআহ' (তৃপ্তিদায়ক)—অর্থাৎ জমজম—বলতাম এবং আমরা একে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণে উত্তম সহায়ক হিসেবে পেতাম। এটি তাবারানি "আল-কাবির"-এ বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহিহ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد) মাওকুফ (موقوف) বর্ণনা। সারকথা হলো: উলামায়ে কেরাম এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, জমজমের পানি সাধারণভাবে সমস্ত পানির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে ওই পানি ব্যতীত যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঙ্গুল মোবারক থেকে প্রবাহিত হয়েছিল। কেনই বা তা হবে না, যেখানে এটি জিবরাঈল (আ.)-এর পদাঘাতের ফলে সৃষ্ট এবং ইসমাঈল (আ.)-এর পানীয়। এটি পান করার মধ্যে অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে, যার কিছু অংশ হাদরাওয়ি তাঁর "আল-ইকদ আল-সামিন" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৭ - জমজম পানির নামসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

এর নাম অনেক, যা এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দেয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - জমজম,

২ - হামজাতু জিবরাঈল,

৩ - হাযমাতু জিবরাঈল,

৪ - দাবিয়াহ,

৫ - তয়িবাহ,

৬ - বাররাহ,

৭ - ইসমাহ,

৮ - মাফনুনাহ,

৯ - শাবাআতুল ইয়াল,

১০ - আউনাহ,

১১ - সায়্যিদাহ,

১২ - নাফিকাহ,

১৩ - বুশরা,

১৪ - সফিয়াহ,

১৫ - মুআযযিবাহ,

১৬ - তাহিরাহ,

১৭ - মারওয়িয়্যাহ,

১৮ - সালিমাহ,

১৯ - মায়মুনাহ,

২০ - কাফিয়াহ,

২১ - মুনিসাহ,

২২ - শিফাউ সুকম,

২৩ - শারাবুল আবরার,

২৪ - তাক্তুম —যা 'তাক্তুব' এর ওজনে— ফাকিহি এটি মক্কার শায়খদের থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং এ ছাড়াও আরও অনেক নাম রয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিহলাতুস সিদ্দীক ইলাল বালাদিল আতীক (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال بعضهم:

يا سائقاً غن النياقَ وزمزما … أبشرْ فقد نلتَ المقامَ وزمزما

كم كنت تُذكِرنا منازلَ مكةٍ … وتقولُ إن بها المُنى والمَغْنَما

بَرِّدْ بماء سقاية العباس ما … كابدته طولَ الطريق من الظَّما

وانهضْ وهرولْ بينَ زمزم والصفا … وادخلْ إلى الحَجَر الكريم مسلِّما

ومقام إبراهيمَ زُره مبادِراً … وبحِجْر إسماعيلَ صَلِّ معظِّما

وانظرْ عروسَ البيت تجلي حسنَها … للناظرين ولُذْ بها مستَعْصِما

فهي التي ظهرتْ فضائُلها فلا … تَخْفى وهل يخفى سنا قمرِ السما

لم يَلْقَها الإنسانُ إلا باكياً … فَرحاً بها أو ضاحكاً متبسِّما

والنورُ من أحشائها لم يختفي … أبداً وإن جَنَّ الظلام وأعتما

ومن العجائب أنها محروسةٌ … والصيدُ فيها لا يزالُ محرَّما

والطيرُ لا تعلو على أركانها … إلا ليشفي إذ نجا متألِّما

تختال في حُلل السواد وبابُها … بالنور منها مُبَرْقَعاً ومُلَثَّما

هي كعبةُ المولى الكريمِ وكلُّ من … وافى إليها حقُّه أن يُكْرَما

ما منهمُ إلا ذليلٌ خاضع … باكٍ على زَلَاّته متندِّما

يا ربِّ قد وقفتْ ببابك عُصبةٌ … يرجون منك تفضُّلا وتكرُّما

ذا طالبًا فضلًا وذا متقصداً … مِمَّا جناه من الذنوب وقَدَّما

 

‌‌8 - فصل في المحافظة على الصلوات في المسجد الحرام جماعة في أوقاتها

عن ابن الزبير، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "صلاة في مسجدي هذا أفضلُ من ألف صلاة فيما سواه من المساجد، إلا المسجدَ الحرام، وصلاةُ في المسجد الحرام أفضلُ من مئة صلاة في مسجدي" رواه أحمد بسند صحيح، وابن حبان في "صحيحه"، وصححه ابنُ عبد البرّ، وقال: إنه الحُجة عند التنازع، والنص في موضع الخلاف القاطع له، عند من ألهم رشده، ولم تمل به عصبيته، ومضاعفةُ
তাদের কেউ বলেছেন:

হে উষ্ট্রচালক, উটদের নিয়ে গান ধরুন এবং গুঞ্জন করুন … সুসংবাদ গ্রহণ করুন, কেননা আপনি মাকাম ও জমজম লাভ করেছেন

কতই না আপনি আমাদের মক্কার আবাসস্থলগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন … আর বলতেন যে, সেখানেই রয়েছে সকল আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তি

আব্বাসের পানশালা থেকে পানি পান করে সেই পিপাসা মেটান … যা দীর্ঘ পথ জুড়ে আপনি সহ্য করেছেন

জেগে উঠুন এবং জমজম ও সাফার মাঝে দ্রুতপদে চলুন … আর মহিমান্বিত পাথরকে (হাজরে আসওয়াদ) সালাম জানিয়ে প্রবেশ করুন

মাকামে ইবরাহিম অতিদ্রুত জিয়ারত করুন … আর হিজরে ইসমাইলে ভক্তিভরে সালাত আদায় করুন

কাবাগৃহের সেই নববধূর পানে তাকান যে তার রূপ ফুটিয়ে তুলছে … দর্শকদের জন্য, আর আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে তাকে আঁকড়ে ধরুন

এটিই সেই ঘর যার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেয়েছে, যা আর … গোপন নয়; আকাশের চাঁদের জ্যোতি কি কখনো গোপন থাকে?

মানুষ তার দেখা পায় না ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া … আনন্দের আতিশয্যে, অথবা হাসোজ্জ্বল ও মুচকি হাসিতে

এর ভেতর থেকে নূর কখনো অন্তর্হিত হয় না … কখনোই না, যদিও ঘোর অন্ধকার নেমে আসে এবং নিবিড় হয়

আশ্চর্যের বিষয় হলো এটি সুরক্ষিত … আর এর সীমানায় শিকার করা সর্বদা নিষিদ্ধ

পাখিরা এর স্তম্ভগুলোর ওপর দিয়ে উড়ে যায় না … কেবল যন্ত্রণাকাতর অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে আরোগ্য লাভের জন্য ছাড়া

সে কালো পোশাকে আভিজাত্যের সাথে দোলে এবং তার দরজা … নূর দ্বারা অবগুণ্ঠিত ও আবৃত

এটিই মহান রবের কাবা এবং যে কেউ … সেখানে পৌঁছাবে, তার প্রাপ্য হলো তাকে সম্মানিত করা

তাদের প্রত্যেকেই সেখানে বিনীত ও অনুগত … নিজ নিজ পদস্খলনের জন্য ক্রন্দনরত ও অনুতপ্ত

হে রব, আপনার দরবারে একদল লোক দাঁড়িয়েছে … তারা আপনার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও মহানুভবতা কামনা করছে

কেউ অনুগ্রহ প্রার্থী, আর কেউ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে … তার কৃত গুনাহ ও পূর্বে প্রেরিত পাপরাশি থেকে মুক্তির

 

‌‌৮ - মসজিদে হারামে জামাতের সাথে সময়মতো সালাত আদায়ের পাবন্দি করা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মসজিদে হারাম ছাড়া অন্য যেকোনো মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়ে উত্তম, আর মসজিদে হারামে এক ওয়াক্ত সালাত আমার এই মসজিদের একশ সালাতের চেয়ে উত্তম।" এটি আহমাদ বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (سند) সহকারে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তার "সহিহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে আবদিল বার একে বিশুদ্ধ (صححه) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: বিরোধের সময় এটিই হলো দলিল (الحجة), এবং যেখানে মতভেদ আছে সেখানে এটিই চূড়ান্ত অকাট্য বর্ণনা (النص) সেই ব্যক্তির জন্য যাকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া হয়েছে এবং যার ওপর গোঁড়ামি জয়ী হয়নি। আর সওয়াব বৃদ্ধি...