(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح الترغيب والترهيب القسم: كتب السنة
الكتاب: صحيح الترغيب والترهيب
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني
الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع - الرياض
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 جُمادَى الآخرة 1436
সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব
লেখক: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الجديدةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره،
(1) ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد، فقد كنا طبعنا من كتابي الفريد الحبيب "صحيح الترغيب والترهيب" المجلد الأول منه طبعات، آخرها الطبعة الثالثة سنة (1409) من منشورات مكتبة المعارف في الرياض، لصاحبها الشيخ الفاضل (سعد الراشد)، والآن فقد رغب مني -بارك الله فيه- الشروع في طبع بقية مجلداته، وطبع قسيمه "ضعيف الترغيب"؛ الذي لم يتيسر لي نشر شيء منه فيما سبق.
لذلك فقد رأيت أنه من الضروري إعادة النظر، في "الصحيح" و"الضعيف"؛ لأنني مع حرصي الشديد في تحريرهما، وتحقيق القول في أحاديثهما، على المنهج العلمي الدقيق الذي كنت تحدثت عنه في مقدمة الطبعة الأولى للمجلد المذكور، كما ستراه في المقطع (34) الآتي، ومع ذلك فقد كنت مضطراً للاعتماد على المنذري في التصحيح والتضعيف، والتجريح والتعديل،
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নতুন সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।
(১) আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ কর্মসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর, আমার অনন্য ও প্রিয় গ্রন্থ 'সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব'-এর প্রথম খণ্ডটির ইতিপূর্বে কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে; যার সর্বশেষটি ছিল (১৪০৯) হিজরি সনের তৃতীয় সংস্করণ। এটি রিয়াদের মাকতাবাতুল মা’আরিফ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, যার স্বত্বাধিকারী হলেন ফাযিল শাইখ (সা’দ আর-রাশিদ)। আর এখন তিনি —আল্লাহ তাকে বরকত দান করুন— আমার কাছে এর অবশিষ্ট খণ্ডসমূহ এবং এর সহযোগী গ্রন্থ 'যয়ীফুত তারগীব' মুদ্রণ শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন; ইতিপূর্বে যার কোনো অংশ প্রকাশ করা আমার জন্য সহজ হয়ে ওঠেনি।
সেই কারণে, 'সহীহ' ও 'যয়ীফ' উভয় গ্রন্থেই পুনরায় নজর দেওয়া আমি প্রয়োজনীয় মনে করেছি। কারণ, যদিও আমি গ্রন্থদ্বয়ের সম্পাদনায় এবং এর হাদিসগুলোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদানে সেই সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুসরণে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলাম—যেই মানদণ্ড সম্পর্কে আমি উল্লেখিত খণ্ডের প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় আলোচনা করেছি এবং যা আপনি সামনে অনুচ্ছেদ (৩৪)-এ দেখতে পাবেন—তা সত্ত্বেও আমি হাদিস সহীহ বা যয়ীফ বলা এবং জারহ ও তা’দীল (হাদিসের রাবিদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) করার ক্ষেত্রে আল-মুনযিরীর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছিলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৪)
وغيرها حينما لا أتمكن من الرجوع إلى أصوله ومصادره التي رجع إليها، وكذلك اعتمدت على غيره أيضاً كما بينته في المقطع (35) الآتي.
أما اليوم -وبعد مضيّ نحو أكثر من عشرين سنة على التحقيق المذكور- فقد حدثت أمور، وتطورت بعض الآراء والأفكار، أوجبت إعادة النظر في المزبور، انطلاقاً من قولي المعروف: (العلم لا يقبل الجمود). ومن أهم تلك الأمور، وأسباب تطور الأفكار صدور بعض المطبوعات والمصورات من الكتب الحديثية التي لم تكن معروفة من قبل، وفيها كثير من مصادر المنذري المشار إليها آنفاً، منها على سبيل المثال:
1 - صحيح ابن حبان: الإحسان.
2 - مسند أبي يعلى.
3 - كشف الأستار عن زوائد البزار.
4 - وأخيراً أصله المسمى "البحر الزخار"، طبع منه حتى اليوم ثمانية أجزاء.
5 - معجم الطبراني الكبير.
6 - معجم الطبراني الأوسط.
7 - الدعاء. له.
8 - شعب الإيمان للبيهقي.
9 - الزهد الكبير. له.
10 - كتب ابن أبي الدنيا، وهي كثيرة، وطبع لها "فهرس الأحاديث" بقلم
এবং অন্যান্যদের ওপরও (নির্ভর করেছি) যখন আমি তাঁর নির্দেশিত মূল উৎস ও সূত্রগুলোতে ফিরে যেতে সক্ষম হইনি। অনুরূপভাবে আমি অন্যান্যের ওপরও নির্ভর করেছি যেমনটি আমি পরবর্তী (৩৫) অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছি।
আর বর্তমান সময়ে—উল্লিখিত তাহকিকের পর প্রায় বিশ বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর—কিছু নতুন বিষয় ঘটেছে এবং কিছু মতামত ও চিন্তাধারার পরিবর্তন হয়েছে, যা পূর্বোক্ত বিষয়ের ওপর পুনর্বিবেচনা করা আবশ্যক করে দিয়েছে; আর এটি আমার সুপরিচিত উক্তি: (জ্ঞান স্থবিরতা পছন্দ করে না) এর ওপর ভিত্তি করে। আর সেই সকল বিষয় এবং চিন্তাধারা পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হলো হাদিসের এমন কিছু মুদ্রিত কপি ও পাণ্ডুলিপি প্রকাশ পাওয়া যা ইতিপূর্বে পরিচিত ছিল না। এর মাঝে মুনজিরির পূর্বে নির্দেশিত অনেকগুলো মূল উৎস রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ:
১ - সহিহ ইবনে হিব্বান: আল-ইহসান।
২ - মুসনাদে আবু ইয়ালা।
৩ - কাশফুল আস্তার আন যাওয়াইদিল বাজ্জার।
৪ - অবশেষে তাঁর মূল গ্রন্থ যার নাম "আল-বাহরুজ যাখখার", আজ পর্যন্ত এর আটটি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে।
৫ - মুজামে তাবরানি কাবির।
৬ - মুজামে তাবরানি আওসাত।
৭ - আদ-দুআ। তাঁর (তাবরানি) রচিত।
৮ - বায়হাকির শুআবুল ঈমান।
৯ - আয-যুহদুল কাবির। তাঁর (বায়হাকি) রচিত।
১০ - ইবনে আবিদ দুনিয়ার গ্রন্থাবলি, আর সেগুলো অনেক, এবং সেগুলোর জন্য "ফিহরিসুল আহাদিস" (হাদিস সূচি) মুদ্রিত হয়েছে... এর কলমে।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৫)
محمد خير رمضان يوسف.
وغيرها كثير وكثير جداً من مختلف علوم الحديث من المسانيد والتراجم وغيرها.
وأما المصورات، فمن أهمها:
1 - المطالب العالية المسندة، لابن حجر العسقلاني.
2 - تفسير ابن أبي حاتم. ثم طبع أخيراً.
3 - الطب النبوي، لأبي نعيم.
4 - الغرائب الملتقطة من "مسند الفردوس" لابن حجر.
5 - الكنى والأسماء، لأبي أحمد الحاكم.
6 - مسند السراج.
7 - معرفة الصحابة، لأبي نعيم، ثم طبع منه الأول والثاني.
8 - البر والصلة لابن المبارك.
9 - المعجم لابن قانع، ثم طبع في ثلاثة مجلدات.
10 - الوهم والإيهام لابن القطان الفاسي، ثم طبع أخيراً في ستة مجلدات. وغيرها كثير.
فأقول: هذه المصادر كانت من الأسباب التي فتحت لي طريقاً جديداً للتحقيق علاوة على ما كنت قدمت، فقد وقفت فيها على طرق وشواهد
মুহাম্মদ খায়র রমাদান ইউসুফ।
এবং এ ছাড়াও হাদিস বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা যেমন মুসনাদ, জীবনীগ্রন্থ এবং অন্যান্য বিষয়ের আরও অনেক অনেক গ্রন্থ রয়েছে।
আর পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপির ক্ষেত্রে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১ - আল-মাতালিবুল আলিয়া আল-মুসনাদাহ, ইবনে হাজার আসকালানি রচিত।
২ - তাফসির ইবনে আবি হাতিম। এটি সম্প্রতি মুদ্রিত হয়েছে।
৩ - আত-তিব্বুন নববী, আবু নুআইম রচিত।
৪ - আল-গরাইবুল মুলতাকাতাহ মিন "মুসনাদিল ফিরদাউস", ইবনে হাজার রচিত।
৫ - আল-কুনা ওয়াল আসমা, আবু আহমদ আল-হাকিম রচিত।
৬ - মুসনাদুস সাররাজ।
৭ - মা'রিফাতুস সাহাবা, আবু নুআইম রচিত, এর প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে।
৮ - আল-বিররু ওয়াস সিলাহ, ইবনুল মুবারক রচিত।
৯ - আল-মু'জাম, ইবনে কানি' রচিত, এটি তিন খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
১০ - আল-ওয়াহমু ওয়াল ইহোম, ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি রচিত, এটি সম্প্রতি ছয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক রয়েছে।
আমি বলি: এই উৎসগুলো ছিল সেই কারণগুলোর অন্যতম যা আমার জন্য তাহকিকের (গবেষণা ও সম্পাদনা) একটি নতুন পথ উন্মোচন করেছে, যা আমি পূর্বে যা উপস্থাপন করেছিলাম তার অতিরিক্ত ছিল। এর মাধ্যমে আমি হাদিসের বিভিন্ন সূত্র ও শাহিদ (সমর্থক বর্ণনা) সম্পর্কে অবগত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومتابعات لكثير من الأحاديث التي كنت قد ضعفتها تبعاً للمنذري وغيره، أو استقلالاً بالنظر في أسانيد مصادرها التي ذكرها هو أو سواه، فقويتها بذلك، وأنقذتها من الضعف الذي كان ملازماً لأسانيد
(1) مصادرها المذكورة في الكتاب، إلى فوائد أخرى لا يمكن حصرها، وقد نبهت على بعضها بالحواشي، انظر مثلاً التعليق على الحديث (10) (5 - الصلاة/ 8). وعلى الحديث (5) (5 - الصلاة/ 12)، وعلى الحديث (10) منه.
وعلى العكس من ذلك فقد ساعدتني بعض الطرق المذكورة في المصادر الجديدة على اكتشاف علل كثير من الأحاديث التي قواها المؤلف أو غيره: كالشذوذ، والنكارة، والانقطاع، والتدليس، والجهالة، ونحوها، كما ساعدتني على تبين خطأ عزوه إلى بعضها، كأن يطلق العزو للنسائي الذي يعني (السنن الصغرى)، والصواب أنه في (السنن الكبرى) له، أو أن يعزو للطبراني مطلقاً ويعني (المعجم الكبير) له، وهو خطأ صوابه (المعجم الأوسط) له،
(2) ونحو ذلك.
ومن قبل لم يكن ممكناً الوقوف على هذه المصادر التي جدَّت وسميتُ آنفاً بعضها. وكذلك ساعدني ذلك على تصحيح بعض الأخطاء الهامة التي ترتب عليها أحياناً تضعيف الحديث الصحيح براوٍ ضعيف مثل (شهر بن حوشب)، وهو ليس في إسناده كما ستراه في الحديث (2) من (6 - النوافل/ 8)، إلى غير ذلك من أخطاء أخرى ما كانت تظهر لولا هذه المراجع.
هذا ما يتعلق بالمصادر العلمية التي صدرت حديثاً.
--------------------------------------------
এবং অনেক হাদীসের মুতাবায়াত (অনুগামী বর্ণনা) পেয়েছি যেগুলোকে আমি পূর্বে আল-মুনযিরী ও অন্যদের অনুসরণে অথবা স্বতন্ত্রভাবে সেগুলোর উৎসগ্রন্থের সনদসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে দুর্বল সাব্যস্ত করেছিলাম—যা তিনি বা অন্যরা উল্লেখ করেছেন। ফলে সেগুলোর মাধ্যমে আমি হাদীসগুলোকে শক্তিশালী সাব্যস্ত করেছি এবং কিতাবটিতে উল্লিখিত সেগুলোর মূল উৎসগ্রন্থের সনদের
(১) সাথে লেগে থাকা দুর্বলতা থেকে সেগুলোকে রক্ষা করেছি। এছাড়াও আরও অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে যা গণনা করা অসম্ভব। আমি পাদটীকায় এগুলোর কয়েকটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। উদাহরণস্বরূপ ১০ নম্বর হাদীসের (৫- সালাত/ ৮) এবং ৫ নম্বর হাদীসের (৫- সালাত/ ১২) এবং এর অন্তর্গত ১০ নম্বর হাদীসের ওপর মন্তব্য দেখুন।
এর বিপরীতে, নতুন উৎসগ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত কিছু সূত্র (তুরুক) আমাকে এমন অনেক হাদীসের দোষ-ত্রুটি (ইলাল) উদ্ঘাটন করতে সাহায্য করেছে যেগুলোকে লেখক বা অন্যরা শক্তিশালী বলেছিলেন: যেমন শায (বিরলতা), মুনকার (অস্বীকৃতি), ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা), তাদলীস (তথ্য গোপন করা), জাহালাত (অজ্ঞতা) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। একইভাবে এটি আমাকে কিছু উদ্ধৃতির ভুল শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে। যেমন কোনো হাদীসকে সাধারণভাবে নাসায়ীর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে যার দ্বারা 'আস-সুনান আস-সুগরা' বুঝানো হয়, কিন্তু সঠিক হলো সেটি তার 'আস-সুনান আল-কুবরা'-তে রয়েছে। অথবা সাধারণভাবে তাবারানীর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে যার অর্থ 'আল-মু'জাম আল-কাবীর', কিন্তু এটি ভুল এবং সঠিক হলো সেটি তার 'আল-মু'জাম আল-আওসাত'-এ রয়েছে,
(২) এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু।
ইতিপূর্বে এই নতুন উৎসগ্রন্থগুলোর সন্ধান পাওয়া সম্ভব ছিল না যেগুলোর কয়েকটির নাম আমি উপরে উল্লেখ করেছি। তদ্রূপ, এটি আমাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভুল সংশোধনেও সাহায্য করেছে, যার ফলে কখনও কখনও 'শাহর বিন হাওশাব'-এর মতো একজন দুর্বল বর্ণনাকারীর কারণে একটি সহীহ হাদীসকেও দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছিল। অথচ হাদীসটির সনদে তিনি নেই, যেমনটি আপনি ২ নম্বর হাদীসে (৬- নফল/ ৮) দেখতে পাবেন। এছাড়া অন্যান্য আরও ভুল রয়েছে যা এই রেফারেন্সগুলো না থাকলে প্রকাশ পেত না।
এই হলো সম্প্রতি প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক উৎসগ্রন্থগুলোর সাথে সম্পর্কিত বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأما ما يتعلق بالآراء والأفكار، فالإنسان بحكم كونه خلق ضعيفاً، وساعياً مفكراً، فهو في ازدياد من الخير، سواء كان مادياً أو معنوياً على ما يشاء الله عز وجل، ولذلك تتجدد أفكاره، وتزداد معلوماته، وهذا أمر مشاهد في كل العلوم، ومنها علم الحديث القائم على معرفة الألوف من تراجم الرجال، وما قيل فيهم جرحاً وتعديلاً، والأطلاع على آلاف الطرق والأسانيد، فلا غرابة إذن أن يختلف قول الحافظ الواحد في الراوي الواحد والحديث الواحد. كما اختلفت أقوال الإمام الواحد في المسألة الواحدة كما هو معلوم من أقوال الأئمة، ولا داعي لضرب الأمثلة فهي معروفة، فبالأولى أن يكون لأحدنا من الباحثين أكثر من قول واحد في الراوي الواحد وحديثه، ولبيان هذا لا بأس من ضرب بعض الأمثلة:
1 - عبد الله بن لَهيعة المصري القاضي الصدوق،
(1) نشأنا في هذا العلم، ونحن ندري أنه ضعيف الحديث لاختلاطه، إلا فيما كان من رواية أحد العبادلة عنه، ومع البحث والتحري انكشف لي أن الإمام أحمد ألحق بهم (قتيبة بن سعيد المصري)، كما بينت ذلك في "الصحيحة" (2517)، وقد يكون هناك آخرون.
2 - دراج بن سمعان أبو السمح المصري، جريت إلى ما قبل سنين على تضعيف حديثه مطلقاً سواء كان عن أبي الهيثم أو غيره، ثم ترجح عندي أنه حسن الحديث إلا عن أبي الهيثم في بحث أودعته في "الصحيحة" أيضاً برقم (3350)
(2).
--------------------------------------------
আর মতামত ও চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে মানুষ স্বভাবগতভাবেই দুর্বল হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে এবং সে একজন সচেষ্ট চিন্তাশীল সত্তা। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ইচ্ছানুসারে বস্তুগত হোক বা আধ্যাত্মিক, মানুষের কল্যাণের মাত্রা সর্বদা বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই তার চিন্তাভাবনা নবায়ন হয় এবং তার তথ্যাদি বৃদ্ধি পায়। এটি সকল বিজ্ঞানেই দৃশ্যমান একটি বিষয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইলমে হাদিস, যা হাজার হাজার রাবীর জীবনী এবং তাদের বিষয়ে বর্ণিত জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও প্রশংসা) জানার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং হাজার হাজার সূত্র ও সনদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। সুতরাং কোনো একজন হাফিজের (হাদিস বিশারদ) পক্ষ থেকে একজন নির্দিষ্ট বর্ণনাকারী বা একটি নির্দিষ্ট হাদিসের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মত আসা বিস্ময়কর নয়। যেমনটা আইম্মায়ে কিরামের বক্তব্য থেকে সুপরিচিত যে, একজন ইমামের একটি নির্দিষ্ট মাসআলার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। এর উদাহরণ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই কারণ তা সবার জানা। তাই আমাদের মতো গবেষকদের ক্ষেত্রে একজন বর্ণনাকারী ও তার হাদিসের ব্যাপারে একাধিক মত থাকাটা আরও স্বাভাবিক। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
1 - আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া আল-মিসরী আল-কাদী আস-সাদূক। আমরা এই ইলমের পরিবেশে বেড়ে উঠেছি এবং আমরা জানি যে, তিনি তার ইখতিলাত (স্মৃতিভ্রম)-এর কারণে দুর্বল হাদিস বর্ণনাকারী, কেবল ‘ইবাদিলা’গণের বর্ণনাকৃত হাদিস ব্যতীত। তবে গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমার নিকট প্রতিভাত হয়েছে যে, ইমাম আহমাদ তাদের সাথে (কুতাইবা ইবনে সাঈদ আল-মিসরী)-কেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমনটা আমি ‘আস-সহীহাহ’ (২৫১৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছি এবং সম্ভবত আরও অনেকে থাকতে পারেন।
2 - দাররাজ ইবনে সামআন আবুস সামহ আল-মিসরী। কয়েক বছর পূর্ব পর্যন্ত আমি সাধারণভাবে তার হাদিসকে দুর্বল বলার ওপর অটল ছিলাম, চাই তা আবুল হাইসাম থেকে বর্ণিত হোক কিংবা অন্য কারও থেকে। অতঃপর আমার নিকট এটি প্রাধান্য পেয়েছে যে, তিনি ‘হাসান’ হাদিস বর্ণনাকারী, তবে আবুল হাইসাম থেকে তার বর্ণনা ব্যতীত। এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা আমি ‘আস-সহীহাহ’ গ্রন্থেও ৩৩৫০ নং হাদিসের অধীনে সোপর্দ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৮)
فلهذا فقد تطلب مني التحقيق الجديد إعادة النظر في كل حديث في كتاب "الترغيب" في إسناده أحد هذين الراويين، لتلحق -على ضوء هذا التفصيل- بـ "الصحيح" أو "الضعيف" منه.
ويشبه هذا -من حيث إعادة النظر- الرواة المعروفون بالاختلاط أو التدليس، والثقات المضعفون في بعض شيوخهم مما هو معروف عند المشتغلين بهذا العلم الشريف، فهذا النوع أيضاً قد تطلب مني جهداً خاصاً لتمييز صحيح حديثهم من ضعيفه، وقد وفقت في ذلك إلى حد كبير كما سيرى القراء التنبيه على ذلك في التعليقات مع الإيجاز. والفضل لله أولاً وآخراً.
وثمة سبب آخر يستدعي إعادة النظر في الكتاب، ألا وهو ما فطر عليه الإنسان من الخطأ والنسيان، وهو وإن كان لا يؤاخذ عليه المرء كما هو ثابت في القرآن والسنة، فلا يجوز الإصرار عليه إذا تبين، ولذلك فإن من دأبي أنه كلما بدا لي خطأ أو وهم نبهت عليه على هامش نسختي من الكتاب، لأصححها إذا ما قدر له طبعه من جديد. وهذا ما جريت عليه في كل ما يعاد طبعه من كتبي، لا يصدني عن ذلك استغلال ذلك بعض الشانئين والطاعنين من ذوي الأهواء المعروفين بمعاداتهم للسنة والداعين إليها، من الذين يجعلون المعروف منكراً، والمنكر معروفاً، ويتجاهلون ما كان عليه أئمتنا من الرجوع إلى الصواب حينما يتبين لهم. والآثار في ذلك عنهم معروفة مشهورة.
(1)فتذكرُ الإنسان هذه الحقيقة البشرية، مما يدفع عنه العُجب والغرور، ويحمله دائماً على الاعتراف بالعجز والتقصير، ليتدارك من الخير والصواب ما فاته، ويقدم
--------------------------------------------
এজন্য নতুন তাহকিক বা গবেষণার দাবি ছিল 'আত-তারগিব' গ্রন্থের প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে পুনর্দৃষ্টি দান করা যার সনদে এই দুই বর্ণনাকারীর কোনো একজন রয়েছেন, যাতে এই বিস্তারিত বিশ্লেষণের আলোকে সেগুলোকে 'সহিহ' অথবা 'যয়িফ' অংশে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে এর সাদৃশ্যপূর্ণ হলো সেই সব বর্ণনাকারী যারা 'ইখতিলাত' (বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম) বা 'তাদলিস' (তথ্য গোপন) এর জন্য পরিচিত, এবং সেই সব বিশ্বস্ত রাবি যাদেরকে তাদের কিছু নির্দিষ্ট শাইখের বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়, যেমনটি এই মহান শাস্ত্রের চর্চাকারীদের নিকট সুপরিচিত। এই প্রকারের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও তাদের সহিহ হাদিসকে যয়িফ থেকে পৃথক করার জন্য আমার বিশেষ পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়েছে। আমি এতে বড় পরিসরে সফল হয়েছি, যেমনটি পাঠকরা সংক্ষেপে টীকাগুলোতে এ সংক্রান্ত সতর্কতা লক্ষ্য করবেন। আর আদিতে ও অন্তে সকল অনুগ্রহ ও প্রশংসা কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য।
গ্রন্থটি পুনর্নিরীক্ষণের আরেকটি কারণ রয়েছে, আর তা হলো মানুষের সহজাত ভুল ও বিস্মৃতি। যদিও কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত যে এর জন্য মানুষকে পাকড়াও করা হবে না, তবুও সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর ভুলের ওপর জেদ ধরা জায়েয নয়। তাই আমার নিয়ম হলো, যখনই আমার নিকট কোনো ভুল বা বিভ্রান্তি ধরা পড়েছে, আমি আমার ব্যক্তিগত কিতাবের কপিতে পার্শ্বটীকায় তা লিখে রেখেছি, যাতে পুনরায় মুদ্রণের সময় তা সংশোধন করা যায়। আমার যে সকল গ্রন্থ পুনরায় মুদ্রিত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি এই পথই অবলম্বন করেছি। বিদ্বেষপোষণকারী এবং সমালোচনাকারী সেই সমস্ত প্রবৃত্তিপূজারী ব্যক্তিরা—যারা সুন্নাহ ও এর দাঈদের প্রতি তাদের শত্রুতার জন্য পরিচিত—তারা বিষয়টিকে নিজেদের হীন স্বার্থে ব্যবহার করলেও আমাকে এই কাজ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তারা ন্যায়কে অন্যায় এবং অন্যায়কে ন্যায়ে পরিণত করে এবং আমাদের ইমামগণ সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর সত্যের দিকে ফিরে আসার যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তা তারা উপেক্ষা করে। এ বিষয়ে ইমামদের থেকে বর্ণিত ঘটনাবলি সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ।
(১)মানুষের এই মানবিক বাস্তবতার কথা স্মরণ রাখা তাকে আত্মতুষ্টি ও অহংকার থেকে দূরে রাখে এবং তাকে সবসময় নিজের অক্ষমতা ও ত্রুটি স্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে সে যা হারিয়েছে তা থেকে কল্যাণ ও সঠিক বিষয়গুলো পুনরায় অর্জন করে নিতে পারে এবং পেশ করতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৯)
إلى القراء ما هو الأصلح والأنفع بإذن الله تعالى، ليكون كما قال عليه الصلاة والسلام: "خير الناس أنفعهم للناس"، (الصحيحة 127).
ولهذا رأيت أن أجعل مراتب أحاديث "صحيح الترغيب" خمسة -مكان المرتبتين: صحيح وحسن سابقاً- وهي كما يلي:
1 - صحيح. وهو ما اكتملت فيه كل شروط الصحة على ما هو معروف في علم "مصطلح الحديث".
2 - حسن. أي: لذاته. وهو الذي اكتملت فيه شروط "الصحيح"، لكن خف ضبط أحد رواته عن حفظ راوي الحديث "الصحيح".
3 - حسن صحيح. وهو الحسن لذاته إلا أنه تقوى بمتابع أو شاهد له، وهذا الاستعمال معروف من بعض الحفاظ المتقدمين كالترمذي، وهو الذي أشاعه في "سننه"، ولكن لم يأت عنه ما يوضح مراده منه.
4 - صحيح لغيره. وهو الذي تقوى بكثرة طرقه التي لم يشتد ضعفها.
5 - حسن لغيره. وهو الذي قبله، ولكن لم تكثر طرقه، ويكفي فيه طريقان لم يشتد ضعفهما.
وإن مما ينبغي ذكره هنا أن تقرير هاتين المرتبتين الأخيرتين إنما يتم بعد النظر في إسناد الحديث في المصادر المذكورة في الكتاب، ثم بالنظر في أسانيد المصادر التي لم يذكرها المؤلف، فأرفع درجته إلى إحدى هاتين المرتبتين، لكن هذا لا يعني أنه لا يوجد فيهما ما هو صحيح لذاته، فضلاً عن الحسن، كلا، فقد يكون فيها أحدهما، لكني لم ألتزم بيان ذلك في التعليق لكي لا يتضخم حجم
পাঠকদের জন্য আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় যা সবচেয়ে সংশোধনমূলক ও উপকারী, যাতে এটি এমন হয় যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী", (সহিহাহ ১২৭)।
এ কারণেই আমি 'সহিহ আত-তারগিব'-এর হাদিসসমূহের মানকে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করাকে শ্রেয় মনে করেছি - পূর্বেকার দুটি স্তর 'সহিহ' ও 'হাসান'-এর পরিবর্তে। স্তরগুলো নিম্নরূপ:
১ - সহিহ। এটি হচ্ছে সেই হাদিস যাতে 'মুসতালাহুল হাদিস' (হাদিস পরিভাষা) শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ সহিহ হওয়ার সকল শর্ত পূর্ণ হয়েছে।
২ - হাসান। অর্থাৎ: হাসান লি-জাতিহি। এটি হচ্ছে সেই হাদিস যাতে 'সহিহ' হাদিসের শর্তাবলি পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু এর কোনো বর্ণনাকারীর মুখস্থ বা সংরক্ষণের ক্ষমতা 'সহিহ' হাদিসের বর্ণনাকারীর চেয়ে কিছুটা কম।
৩ - হাসান সহিহ। এটি মূলত হাসান লি-জাতিহি, তবে কোনো মুতাবী (সমর্থক বর্ণনা) বা শাহিদ (সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা) দ্বারা তা শক্তিশালী হয়েছে। এই পরিভাষাটি পূর্ববর্তী কিছু হাফেজুল হাদিস যেমন তিরমিজির কাছে পরিচিত, আর তিনিই তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে এটি বহুলভাবে ব্যবহার করেছেন, তবে এর দ্বারা তিনি কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন তা পরিষ্কার করে তাঁর পক্ষ থেকে কিছু বর্ণিত হয়নি।
৪ - সহিহ লি-গাইরিহি। এটি হচ্ছে সেই হাদিস যা এমন একাধিক সূত্রের আধিক্যের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে যেগুলোর দুর্বলতা তীব্র নয়।
৫ - হাসান লি-গাইরিহি। এটি আগেরটির মতোই, তবে এর সূত্রগুলো ততোটা আধিক্য পায়নি; এতে এমন দুটি সূত্র থাকাই যথেষ্ট যেগুলোর দুর্বলতা তীব্র নয়।
এখানে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, শেষোক্ত এই দুটি স্তরের নির্ধারণ কেবল কিতাবে উল্লিখিত উৎসসমূহে হাদিসের সনদের দিকে লক্ষ করার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে লেখক যে উৎসগুলো উল্লেখ করেননি সেগুলোর সনদের ওপর দৃষ্টি দেওয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আমি সেগুলোর মানকে এই দুই স্তরের কোনো একটিতে উন্নীত করেছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এগুলোর মধ্যে এমন কোনো হাদিস নেই যা হাসান তো বটেই এমনকি সহিহ লি-জাতিহিও হতে পারে। না, বরং এমন হওয়া সম্ভব যে এগুলোতে এই দুটির কোনো একটি রয়েছে, তবে আমি টীকায় তা বিস্তারিত বর্ণনা করার দায়ভার গ্রহণ করিনি যাতে কিতাবের কলেবর অনেক বৃদ্ধি না পায়।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১০)
الكتاب، وإنما بيان ذلك في المطولات من مؤلفاتي كـ "الصحيحة" و"الإرواء" وغيرها. وقد أشير إليها أحياناً، فأرجو الانتباه لهذا.
وإنما اتخذت هذا الاصطلاح -والعلماء يقولون: لا مشاحة في الاصطلاح- لسببين اثنين:
أحدهما: أنه أدق في التعبير عن حقيقة قوة الحديث عند المؤلف، وعن الطريقة التي سلكها في إطلاقه مرتبة من هذه المراتب الخمس.
وجدير بالذكر أن الجهد الذي يفرغه المؤلف لإصدار المراتب الثلاث الأخيرة ليس كالجهد الذي يفرغه لمعرفة المرتبة الأولى والثانية، كما لا يخفى على من مارس هذا الفن، ولا أكون مغالياً إذا قلت: إنني أفرغ أحياناً الساعات الطوال، بل وأيّاماً وليالي لإصدار الحكم الرابع والخامس على بعض الأحاديث، وقد تكون النتيجة أحياناً أن يبقى الحديث ضعيفاً؛ لشدة ضعف طرقه، ونكارة متنه، ولا يعرف هذه الحقيقة إلا من عاناها، كل ذلك حرصاً على حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وغيرة عليه أن يقال عليه ما لم يقل، أو أن ينفى عنه ما قال صلى الله عليه وسلم.
والسبب الآخر: أن هذا الاصطلاح أدعى لقطع دابر القيل والقال، والخوض في المناقشة والجدال، مع بعض إخواننا المحبين أو غيرهم، فقد جاءتني على مر السنين استشكالات واعتراضات من عديد من الأشخاص من مختلف البلاد، فيهم المخلص المستفيد، وفيهم المغرض العنيد: كيف حسنت الحديث الفلاني، وصححت الحديث الفلاني، وفي إسناده ابن لهيعة، أو شهر بن حوشب، وأمثالهما؟! فأذكرهم بـ (الحديث الحسن لغيره) المعروف في علم المصطلح، والمطبق عملياً من الإمام الترمذي في "سننه"، ومن الحفاظ المتأخرين
বইটি, বরং এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমার দীর্ঘ রচনাবলিতে রয়েছে, যেমন: "আস-সহীহা" ও "আল-ইরওয়া" এবং অন্যান্য। আমি মাঝে মাঝে সেগুলোর প্রতি ইশারা করেছি, তাই আমি এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করছি।
আমি এই পরিভাষাটি গ্রহণ করেছি—আর ওলামায়ে কেরাম বলেন: পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই—দুটি কারণে:
প্রথমত: লেখকের কাছে হাদিসের শক্তির প্রকৃত অবস্থা এবং এই পাঁচটি স্তরের কোনো একটি স্তর নির্ধারণে তিনি যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, তা ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে এটি অধিকতর সূক্ষ্ম।
এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, শেষোক্ত তিনটি স্তর নির্ধারণের জন্য লেখক যে শ্রম ব্যয় করেন, তা প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর নির্ধারণের শ্রমের মতো নয়, যা এই শাস্ত্রের চর্চাকারীদের কাছে গোপন নয়। আমি যদি বলি যে, আমি কোনো কোনো হাদিসের ওপর চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের হুকুম দেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময়, এমনকি দিন ও রাত ব্যয় করি, তবে তা অত্যুক্তি হবে না। কখনো কখনো ফলাফল এমন হয় যে, হাদিসটির সূত্রের চরম দুর্বলতা এবং এর মূল পাঠের অসংগতির কারণে তা দুর্বল হিসেবেই থেকে যায়। এই বাস্তবতা কেবল তিনিই উপলব্ধি করতে পারেন যিনি এই কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন। এ সবই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি গভীর যত্নশীলতা এবং তাঁর প্রতি মর্যাদাবোধ থেকে করা হয়েছে, যাতে তাঁর নামে এমন কিছু না বলা হয় যা তিনি বলেননি, অথবা তিনি যা বলেছেন তা যেন অস্বীকার করা না হয়।
দ্বিতীয় কারণ: এই পরিভাষাটি আমাদের কিছু প্রিয় ভাই বা অন্যদের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা ও বিতর্ক-তর্ক কাটানোর ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক। দীর্ঘ বছর ধরে বিভিন্ন দেশের বহু মানুষের কাছ থেকে আমার কাছে নানা সংশয় ও আপত্তি এসেছে; যাদের মধ্যে একনিষ্ঠ শিক্ষার্থী যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হঠকারীও। তারা প্রশ্ন করেন: আপনি অমুক হাদিসকে কীভাবে 'হাসান' বললেন, কিংবা অমুক হাদিসকে কীভাবে 'সহীহ' বললেন, অথচ তার সনদে ইবনু লাহিয়া কিংবা শাহর বিন হাওশাব অথবা তাদের মতো বর্ণনাকারী রয়েছে?! তখন আমি তাদের হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রে সুপরিচিত 'হাসান লি-গাইরিহি' (অন্যান্য সূত্রের কারণে হাসান) পরিভাষাটির কথা স্মরণ করিয়ে দিই, যা ইমাম তিরমিজি তাঁর "সুনান" গ্রন্থে এবং পরবর্তী হাফেজগণ ব্যবহারিকভাবে প্রয়োগ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১১)
في تخريجهم للأحاديث كالذهبي، والعراقي، والعسقلاني وغيرهم، فمن أولئك من يتذكر، و {إنما يتذكر أولوا الألباب} ويقنع، ومنهم من يُفحم ويَخنس! وأكثر هؤلاء ممن يحسبون أنهم على شيء من هذا العلم، وليسوا على شيء، والواحد منهم كما قال الذهبي رحمه الله: "يريد أن يطير ولما يريش"! فقد بلوناهم، وابتُلينا بهم. والله المستعان.
(1)وإنّ من فوائد استعمال الاصطلاحين الأخيرين أنه قد يكون في بعض أحاديثهما جملة أو لفظة قد يستشكلها البعض، ويكون له في ذلك وجهة نظر، فيكون له في الاصطلاح المذكور ما ينبهه ويساعده على الرجوع إلى المتن الصحيح لذاته إن وجد، أو إلى تتبع المتون الأخرى، فقد يتبين له بذلك ما يزيل الإشكال.
ولقد كلفني هذا الاصطلاح العلمي النافع إن شاء الله تعالى جهداً جهيداً، وتعباً شديداً، وزمناً مديداً، لأنه اقتضاني مراجعة المرتبتين المشار إليهما آنفاً في الأحاديث كلها أو جلها، لتعديلها إلى المراتب الخمس الجديدة، حتى قد شعرت أنني لو شرعت بتأليفه من جديد كان أهون علي!
لكن الخير كل الخير فيما يقدره الله لعبده المؤمن، فقد نبهني الله عز وجل في أثناء هذه الدراسة على أوهام كثيرة أخرى للمؤلف رحمه الله تعالى في التخريج والمتون وغيرهما سوى التي كنت نبهت عليها فيما سبق. كما تنبهت لبعض الأوهام التي صدرت مني أنا، فانظر مثلاً التعليق على الحديث (2) من (5 - الصلاة/ 31).
وإن من ذلك الخير أنني بينت أن التزام هذا الاصطلاح أمر لا بد منه، لما
--------------------------------------------
হাদীসসমূহের তাখরীজ করার ক্ষেত্রে যাহাবী, ইরাকী, আসকালানী এবং অন্যদের ন্যায় বহু আলেম রয়েছেন। তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা উপদেশ গ্রহণ করেন, আর "কেবল জ্ঞানবানরাই উপদেশ গ্রহণ করে" এবং তারা সন্তুষ্ট হন। আবার তাদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা নিরুত্তর হয়ে পিছিয়ে যান! তাদের অধিকাংশ ঐসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা মনে করে যে তারা এই ইলমের ওপর প্রতিষ্ঠিত, অথচ তারা আসলে কোনো কিছুর ওপরই নেই। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তির মতো: "সে উড়তে চায় অথচ তখনও তার পালকই গজায়নি!" আমি তাদের পরীক্ষা করেছি এবং তাদের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছি। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
(১)শেষোক্ত পরিভাষা দুটি ব্যবহারের একটি উপকারিতা হলো, সেই হাদীসগুলোর কোনো কোনোটিতে এমন কোনো বাক্য বা শব্দ থাকতে পারে যা কেউ কেউ সমস্যাযুক্ত মনে করতে পারেন এবং সে বিষয়ে তাদের নিজস্ব কোনো দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। এমতাবস্থায় উল্লিখিত পরিভাষাটি তাকে সতর্ক করবে এবং তাকে মূল সহীহ (লি-যাতিহি) পাঠের দিকে ফিরে যেতে—যদি তা পাওয়া যায়—অথবা অন্যান্য পাঠগুলো অনুসন্ধান করতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে তার কাছে এমন কিছু স্পষ্ট হতে পারে যা সেই জটিলতা দূর করে দিবে।
ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই উপকারী ইলমী পরিভাষাটি আমার কাছ থেকে প্রচুর শ্রম, কঠোর পরিশ্রম এবং দীর্ঘ সময় দাবি করেছে। কারণ এর জন্য আমাকে পূর্বে উল্লেখিত উভয় স্তরের হাদীসসমূহের সবটুকু বা অধিকাংশ পুনরায় পর্যালোচনা করতে হয়েছে, যাতে সেগুলোকে নতুন পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করা যায়। এমনকি আমার মনে হয়েছে যে, আমি যদি এটি নতুন করে রচনা করতে শুরু করতাম তবে তা আমার জন্য অনেক সহজ হতো!
কিন্তু সকল কল্যাণ কেবল তাতেই রয়েছে যা আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার জন্য নির্ধারণ করেন। এই গবেষণার সময় আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল আমাকে মূল লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) তাখরীজ, মতন ও অন্যান্য বিষয়ে আরও অনেক ভুলের প্রতি সচেতন করেছেন, যা পূর্বে আমি উল্লেখ করিনি। পাশাপাশি আমি নিজের পক্ষ থেকে ঘটা কিছু ভুল সম্পর্কেও সচেতন হয়েছি। উদাহরণস্বরূপ, হাদীস নং (২), (৫ - সালাত/ ৩১)-এর টীকাটি দেখুন।
আর সেই কল্যাণের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, আমি স্পষ্ট করেছি যে এই পরিভাষাটি মেনে চলা অপরিহার্য, কারণ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১২)
سبق بيانه، وتمنيت لو أنني تنبهت له من قبل، أو نُبهت إليه، ولذلك فقد عزمت على التزامي إياه فيما أنا قادم عليه من مشاريعي المتعلقة بـ "تقريب السنة بين يدي الأمة"، كما أنصح بذلك كل خادم للسنة، عارف بفن التخريج والتصحيح والتضعيف ولوازمه.
من أجل ذلك فإني أشكر الله تعالى على ما وفقني ويسر لي مِن تحقيق هذا الكتاب مرة أخرى، وقد دخلت في الخامسة والثمانين من عمري بالتأريخ الهجري، فله تبارك وتعالى الثناء والمجد، وإليه أضرع وأسأل أن يبارك فيما بقي من عمري ووقتي، وأن يمتعني بسمعي وبصري وقوتي ما أحياني، ويمدني بمدد من عنده وفضله، حتى أستمر في خدمة سنة نبيه صلى الله عليه وسلم إلى آخر رمق من حياتي، وأن يلحقني بالصالحين إذا حان أجلي، إنه سميع مجيب.
ثم إنني قد ذكرت آنفاً أني أحيل في تخريج أحاديث الكتاب التي هي بحاجة إلى تخريج -إلى المطولات من مؤلفاتي، وهذا إذا كان الحديث أو الأثر في شيء منها، وإلا كان لا بد من تخريجي إياه في التعليق عليه إذا أعله المؤلف، أو حكم عليه بما يخالف النقد العلمي الدقيق في نظري- بما يكشف عن مرتبته من تلك المراتب الخمس، مع الإيجاز في الكلام بقدر الإمكان. وانظر على سبيل المثال الأرقام التالية (137 و 197 و 390 و 570 و 710) إلى غير ذلك، وهي كثيرة جداً.
ومن المناسب هنا التنبيه أنه قد يمر بالقارئ الرمز لبعض الأحاديث الصحيحة هنا والضعيفة هناك بكلمة إضافية في كل منهما مثل: (موقوف) و (مقطوع)، والمقصود بهما معاً التنبيه إلى أن الحديث ليس مرفوعاً إلى النبي
এর বর্ণনা পূর্বে গত হয়েছে। আমি আকাঙ্ক্ষা করতাম যদি ইতিপূর্বে আমি এ বিষয়ে সজাগ হতাম অথবা আমাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হতো। এ কারণেই, আমি উম্মাহর নিকট সুন্নাহকে সহজলভ্য করার (তাকরীবুস সুন্নাহ) সংশ্লিষ্ট আমার আসন্ন প্রকল্পগুলোতে এই বিষয়টি মেনে চলার দৃঢ় সংকল্প করেছি। সুন্নাহর প্রত্যেক খাদেম—যিনি তাখরিজ, তাসহিহ, তাদঈফ এবং এর আনুষঙ্গিক কলাকৌশল সম্পর্কে অবগত—তাদেরকেও আমি একই পরামর্শ দিচ্ছি।
এই কারণে আমি আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাকে পুনরায় এই কিতাবটির তাহকিক করার তৌফিক ও সুযোগ দান করেছেন। হিজরি বর্ষ অনুযায়ী আমি এখন আমার জীবনের পঁচাশিতম বছরে পদার্পণ করেছি। বরকতময় ও সুউচ্চ মহান রবের জন্যই সমস্ত প্রশংসা ও মহিমা। আমি তাঁরই নিকট বিনীত প্রার্থনা করছি এবং আরজ করছি যেন তিনি আমার জীবনের অবশিষ্ট সময় ও সময়ের মধ্যে বরকত দান করেন। আমি যতদিন জীবিত থাকি, তিনি যেন আমাকে আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা উপভোগ করার সুযোগ দেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্য ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে সহায়তা করেন, যাতে আমি আমার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খেদমত অব্যাহত রাখতে পারি। আর যখন আমার অন্তিম সময় উপস্থিত হবে, তখন যেন তিনি আমাকে নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।
অতঃপর, আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, কিতাবটির যেসব হাদিসের তাখরিজ প্রয়োজন, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি আমার বিস্তারিত গ্রন্থসমূহের দিকে হাওয়ালা প্রদান করেছি—যদি হাদিস বা আসারটি সেগুলোর কোনোটিতে থেকে থাকে। অন্যথায়, যদি লেখক হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেন কিংবা এমন কোনো হুকুম প্রদান করেন যা আমার দৃষ্টিতে সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার পরিপন্থী হয়, তবে টীকায় আমাকে সেটির তাখরিজ করতে হয়েছে—যাতে সেই পাঁচটি স্তরের মধ্য থেকে হাদিসটির স্তর উন্মোচিত হয়। এক্ষেত্রে আমি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। উদাহরণস্বরূপ পরবর্তী নম্বরগুলো (১৩৭, ১৯৭, ৩৯০, ৫৭০ এবং ৭১০) সহ আরও অনেক নম্বর দেখা যেতে পারে, যা সংখ্যায় অনেক।
এখানে এই বিষয়ে সতর্ক করা সমীচীন হবে যে, পাঠক কখনো কোনো সহিহ হাদিসের প্রতীকের সাথে কিংবা কোনো জয়িফ হাদিসের প্রতীকের সাথে অতিরিক্ত শব্দ দেখতে পেতে পারেন, যেমন: (মাওকুফ) এবং (মাকতু)। এই উভয় শব্দের মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো এই বিষয়ে অবগত করা যে, হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু নয়।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- صلى الله عليه وسلم، وإنما هو من كلام بعض السلف، فإن كان من الصحابة قلنا: "موقوف"، وإن كان ممن دونه قلنا: "مقطوع"، وهذا أمر معروف في علم المصطلح، فأحببت إحياءه والتنبيه عليه، انظر مثلاً الأحاديث (348، 349، 964).
وما دمت لا أزال أتحدث عن المراتب المذكورة، فلا بد من لفت نظر القراء إلى الاصطلاح المطبعي الآتي:
لقد بدا لي وأنا في صدد تصحيح التجارب أن من الأنفع والأسرع لتنبيههم على مرتبة الحديث أن تُطبع المراتب بجنب الأحاديث على الأسلوب التالي:
1 - في الحديث الصحيح أو الحسن لذاته تطبع المرتبة بحذاء السطر الأول يميناً أو يساراً من حاشية الصفحة.
2 - وتطبع مرتبة (صحيح لغيره)، و (حسن لغيره) تجاه متن الحديث كذلك، سواء كان أول المتن في السطر الثاني أو بعده، وإذا لم يكن بعد السطر الأول متن، لاكتفاء المؤلف بالذي قبله، طبعت المرتبة حذاء السطر كالحديث (108 و 136).
3 - وأما مرتبة (حسن صحيح) فطبعت لفظة (حسن) حذاء السطر الأول، إشارة إلى حسن الإسناد، بينما وضعت لفظة (صحيح) حذاء السطر الثاني أو بعده، دلالةً على صحة متنه، إما لذاته أو لغيره على ما سبق بيانه.
وبهذه المناسبة أقول:
لقد ساعدني كثيراً على تطبيق هذا المنهج العلمي الدقيق ووضع كل مرتبة في مكانها المناسب لها، وكذلك على تصحيح تجارب الكتاب المرة بعد المرة ابنتي أم عبد الله بارك الله فيها وفي ذريتها، كما تجاوب معنا القائمون على طبع الكتاب
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বরং এটি কিছু সালাফদের কথা। যদি তা সাহাবীদের পক্ষ থেকে হয়, তবে আমরা তাকে বলি: "মাওকুফ", আর যদি তা তাদের পরবর্তী স্তরের কারো পক্ষ থেকে হয়, তবে আমরা তাকে বলি: "মাকতু"। ইলমে মুসতালাহ (পরিভাষা শাস্ত্র)-এ এটি একটি সুপরিচিত বিষয়। তাই আমি একে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এ বিষয়ে সতর্ক করতে পছন্দ করেছি। উদাহরণস্বরূপ দেখুন হাদীস নম্বর (৩৪৮, ৩৪৯, ৯৬৪)।
যেহেতু আমি উল্লিখিত স্তরসমূহ নিয়ে আলোচনা করছি, তাই পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন নিমোক্ত মুদ্রণ সংক্রান্ত পরিভাষার দিকে:
প্রুফ সংশোধনের সময় আমার কাছে মনে হয়েছে যে, পাঠকদের হাদীসের স্তর সম্পর্কে অবগত করার জন্য সবচেয়ে উপকারী ও দ্রুততর পদ্ধতি হলো হাদীসের পার্শ্বে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে স্তরগুলো মুদ্রণ করা:
১ - সহীহ বা হাসান লি-জাতিহি হাদীসের ক্ষেত্রে, পৃষ্ঠার টীকা অংশে প্রথম লাইনের বরাবর ডানে অথবা বামে স্তরটি মুদ্রিত হবে।
২ - এবং (সহীহ লি-গাইরিহি) ও (হাসান লি-গাইরিহি) স্তরগুলো একইভাবে হাদীসের মতন (মূল পাঠ)-এর বিপরীতে মুদ্রিত হবে, চাই মতনের শুরু দ্বিতীয় লাইনে হোক বা তার পরে। আর যদি প্রথম লাইনের পরে কোনো মতন না থাকে—যেহেতু লেখক পূর্ববর্তী পাঠের ওপরই নির্ভর করেছেন—তবে হাদীস নম্বর (১০৮ এবং ১৩৬)-এর মতো লাইনের বরাবর স্তরটি মুদ্রিত হবে।
৩ - আর (হাসান সহীহ) স্তরের ক্ষেত্রে, সনদের হাসান হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করতে প্রথম লাইনের বরাবর 'হাসান' শব্দটি মুদ্রিত হয়েছে। অন্যদিকে মতনের সহীহ হওয়ার প্রমাণের জন্য দ্বিতীয় লাইনের বরাবর বা তার পরে 'সহীহ' শব্দটি রাখা হয়েছে, যা পূর্বে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী 'লি-জাতিহি' বা 'লি-গাইরিহি' উভয়ই হতে পারে।
এই প্রসঙ্গে আমি বলছি:
এই সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ এবং প্রতিটি স্তরকে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করতে, সেই সাথে বারবার বইটির প্রুফ সংশোধনে আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে আমার মেয়ে উম্মে আব্দুল্লাহ—আল্লাহ তার ওপর এবং তার বংশধরের ওপর বরকত নাযিল করুন। পাশাপাশি বইটির মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণও আমাদের সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وصبروا معنا على التحقيق والتصويب، فلهم، ولكل من كان له يد في ذلك وبخاصة منهم الموظفين في المكتبة الإسلامية، لصاحبها صهري الكريم نظام سكجها، فلهم مني جميعاً، الشكر الجزيل.
هذا، وقد عرضت لي مشكلة بعد فرز "الصحيح" عن "الضعيف"، وهي أن المؤلف رحمه الله يعقب الحديث أحياناً ببعض الزيادات أو الألفاظ وهي مما لا تصح، معزوة لبعض المصادر، وعليه فهي مما ينبغي أن يذكر في "الضعيف"، لكن إن ذكرت دون سائر الحديث شقّ على القارئ فهم المراد بها، كما سيأتي بيانه قريباً ببعض الأمثلة، فكان لا بد -والحالة هذه- من أحد أمرين:
1 - إما إيرادها مع حديثها في "الصحيح"، وهذا غير مناسب؛ لأنه قد يوهم غير المنتبه أنها صحيحة كأصلها الذي سِيقت فيه، وبخاصة إذا كان المتن طويلاً، والزيادة قصيرة مثل رواية: "ثم رفع طرفه إلى السماء ثم يقول" في حديث الدعاء بعد الوضوء الآتي برقم (224).
2 - وإما إيرادها كذلك مع الحديث في "الضعيف"، وهو غير مناسب أيضاً، لأنه قد يوهم ضعف الحديث من أصله!
فبدا لي أن الحل المناسب أن لا تذكر، لا في هذا، ولا في هذا، وإنما تذكر في الهامش تعليقاً على الحديث، مع بيان مرتبتها في الضعف. وأقرِّب ذلك إلى القراء الكرام بمثالين اثنين:
أحدهما: الدعاء الوارد في الحديث الآتي برقم (36):
"اللهم إنا نعوذ بك من أن نشرك بك شيئاً نعلمه
… " جاء فيه زيادة:
তারা তাহকীক ও সংশোধনের কাজে আমাদের সাথে ধৈর্য ধারণ করেছেন, তাই তাঁদের প্রতি এবং এই কাজে যাঁরই কোনো প্রকার অবদান রয়েছে, বিশেষ করে 'আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামিক লাইব্রেরি)-র কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ—যার স্বত্বাধিকারী আমার সম্মানিত বৈবাহিক আত্মীয় নিযাম সাকাজহা—তাঁদের সকলের প্রতি আমার পক্ষ থেকে রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
এ পর্যায়ে, "সহীহ" অংশ হতে "যঈফ" অংশ পৃথক করার পর আমার সামনে একটি সমস্যার উদয় হয়েছে। সেটি হলো, গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) কখনো কখনো কোনো হাদীসের শেষে এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ বা শব্দ নিয়ে আসেন যা সহীহ নয়, অথচ তা বিভিন্ন উৎসের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী এই অংশগুলো "যঈফ" গ্রন্থে উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু যদি হাদীসের মূল অংশ বাদ দিয়ে শুধু সেই অতিরিক্ত অংশটুকু উল্লেখ করা হয়, তবে পাঠকের জন্য তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করা কষ্টকর হয়ে পড়বে, যা অচিরেই কিছু উদাহরণের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যাবে। এমতাবস্থায়—এই পরিস্থিতির বিচারে—দুটি বিষয়ের একটি অনিবার্য ছিল:
১ - হয় সেটিকে সংশ্লিষ্ট হাদীসের সাথে "সহীহ" অংশে উল্লেখ করা; কিন্তু তা উপযুক্ত নয়। কারণ এটি অসতর্ক ব্যক্তিকে এমন ধারণা দিতে পারে যে, মূল হাদীসটির মতো এই অংশটিও সহীহ। বিশেষ করে যখন মূল পাঠ (মতন) দীর্ঘ হয় এবং অতিরিক্ত অংশটি ছোট হয়। যেমন ওযুর পরের দুআ সংক্রান্ত হাদীসে (যা সামনে ২২৪ নম্বরে আসবে) এই বর্ণনাটি: "অতঃপর তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি তুললেন, এরপর বললেন"।
২ - অথবা সেটিকে একইভাবে মূল হাদীসের সাথে "যঈফ" অংশে উল্লেখ করা; এটিও অনুপযুক্ত। কারণ এতে হাদীসটি আদিতেই যঈফ বা দুর্বল এমন ভ্রম সৃষ্টি হতে পারে!
তাই আমার নিকট সমীচীন সমাধান এই মনে হলো যে, সেটিকে এই দুইয়ের কোনোটিতেই (মূল পাঠে) উল্লেখ না করে হাদীসের ওপর টীকা হিসেবে পাদটীকায় উল্লেখ করা হবে এবং সেই সাথে তার দুর্বলতার স্তর স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। আমি সম্মানিত পাঠকদের নিকট বিষয়টি দুটি উদাহরণের মাধ্যমে পরিষ্কার করছি:
তার একটি হলো: ৩৬ নম্বর হাদীসে বর্ণিত দুআটি:
"হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করা থেকে যা আমরা জানি
… " এতে একটি অতিরিক্ত অংশ এসেছে:
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
"يقول كل يوم ثلاث مرات". فمن الواضح جداً أن ذكرها منفردة في "الضعيف" مما لا فائدة منه، بل هو مما يشغل بال القارئ ويتساءل: ما مناسبتها؟
والآخر: الحديث الآتي برقم (209) بلفظ: "السواك مطهرة للفم، مرضاة للرب"، فجاء عقبه زيادة في رواية: "ومجلاة للبصر"، ولا يظهر ارتباط هذه الزيادة باللفظ المذكور إلا لبعض الخاصة من العلماء وطلاب العلم.
ولذلك قررت ذكر هذا النوع من الزيادات أو الألفاظ في هامش هذا "الصحيح" -ما أمكنني ذلك- مع بيان المرتبة كما سبق، راجياً أن أكون قد وفقت في هذا وفي كل ما أكتب وأحرر، والله سبحانه وتعالى ولي التوفيق.
وختاماً أقول:
إن مما يحسن التنبيه عليه، ولفت نظر القراء إليه: أن المقصد الأول من هذين الكتابين: "الصحيح"، و"الضعيف"، وأمثالهما مما يدخل في مشروعي المعروف: "تقريب السنة بين يدي الأمة". ولازمه تمييز صحيحها من سقيمها نصحاً لها. ولذلك فإني أقول:
لست أتحمل مسؤولية ما قد يكون في بعض الأصول والمصادر التي أقربها وأميز أحاديثها من الأخطاء، لأن العناية بها، وتصويبها أمر آخر له أهله، وأنا قلما أتفرغ له وأتوجه إليه إلا بقدر؛ لضيق الوقت؛ ولأن همي الأول هو ما ذكرت من التقريب والتمييز، وإن كنت وأنا في صدد القيام بذلك، قد وفقني الله كثيراً لتصويب كثير من الأخطاء التي تقع في بعض النصوص والأسانيد والرجال والتخريجات، لا سيما عند إعادة النظر والطباعة، كما سيتبين ذلك للقراء الكرام جلياً في الجزء الأول من هذا "الصحيح"، وسائر أجزائه إن شاء الله تعالى،
"প্রতিদিন তিনবার বলবে।" এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, একে 'যয়ীফ' গ্রন্থে এককভাবে উল্লেখ করা নিরর্থক। বরং এটি পাঠকের মনোযোগ ব্যাহত করে এবং সে প্রশ্ন করে: এর প্রাসঙ্গিকতা কী?
অন্যটি হলো: ২০৯ নম্বর হাদিসটি যার শব্দ হলো: "মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা এবং রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম।" এরপর একটি বর্ণনায় এই বাড়তি অংশ এসেছে: "এবং এটি দৃষ্টিশক্তি পরিষ্কারকারী।" এই বাড়তি অংশটির সাথে উল্লেখিত শব্দের যোগসূত্র কেবল কিছু বিশেষ আলিম এবং ইলম অন্বেষণকারীদের নিকটই স্পষ্ট হয়।
এই কারণে আমি এই ধরনের অতিরিক্ত অংশ বা শব্দাবলি এই 'সহীহ' গ্রন্থের টীকায় উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি—যতটুকু সম্ভব—এবং পূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোর মানও বর্ণনা করেছি। আমি আশা করি যে আমি এতে এবং যা কিছু লিখছি ও সম্পাদনা করছি তাতে সফল হয়েছি। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা-ই তাওফিক দাতা।
পরিশেষে আমি বলতে চাই:
পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো একটি বিষয় হলো, এই দুটি গ্রন্থ—'সহীহ' ও 'যয়ীফ' এবং আমার পরিচিত প্রকল্প "তাকরীবুস সুন্নাহ বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ" (উম্মাহর সামনে সুন্নাহকে সহজবোধ্য করা)-এর অন্তর্ভুক্ত অনুরূপ গ্রন্থসমূহের মূল উদ্দেশ্য হলো: উম্মাহর কল্যাণের লক্ষ্যে সুন্নাহর সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করা। এই কারণেই আমি বলছি:
আমি সেই সমস্ত মূল গ্রন্থ ও উৎসসমূহের ভুলের দায়িত্ব বহন করি না যেগুলোকে আমি নিকটবর্তী করছি এবং হাদিসগুলো পৃথক করছি। কারণ সেগুলো পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কাজ যার জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে আমি খুব কমই সেই কাজে মনোনিবেশ করতে পারি। কারণ আমার প্রথম লক্ষ্য হলো যা আমি উল্লেখ করেছি—সুন্নাহকে নিকটবর্তী করা এবং পার্থক্য করা। যদিও এই কাজ করার সময় আল্লাহ আমাকে অনেক মূল পাঠ, সনদ, বর্ণনাকারী এবং তাখরীজ সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের তাওফিক দান করেছেন, বিশেষ করে যখন আমি সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনা ও মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করেছি। এটি সম্মানিত পাঠকদের কাছে এই 'সহীহ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ড এবং অন্যান্য খণ্ডগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে, ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بخلاف بعض الناشئين أو الكاتبين ممن يدعون التحقيق والتعليق على بعض كتب الحديث، وهم (ليسوا في العير ولا في النفير) كما يقال في بعض الأمثال.
وبهذه المناسبة يحسن بي محذراً ومنبهاً وناصحاً بيان الآتي:
لقد وقع تحت يدي طبعة جديدة لكتاب الحافظ المنذري "الترغيب والترهيب"، لثلاثة من المحققين والمعلقين -كما قالوا-، وأنا أصحح تجارب هذا "الصحيح"، فاقتنيته؛ لعلي أجد فيه ما يساعدني على ما أنا في صدده من إعادة النظر في "الصحيح" و"الضعيف"، وتصحيح بعض الأخطاء التي وقعت في الأصل؛ فاتني الانتباه لها؛ فيما سبق، فلم أستفد من تحقيقهم المزعوم شيئاً يذكر، بل وجدتهم جهلة لا علم عندهم يخوِّلُهم التعليق على هذا الكتاب الذي وقع فيه مختلف الأوهام التي ضجر من كثرتها الحافظ إبراهيم الناجي كما كنت حكيت ذلك عنه في مقدمة الطبعة الأولى كما سيأتي في المقطع (43) منها، وأقول عن هؤلاء بحق:
إنهم جهلة، فلا علم لهم بالحديث متونه وأصوله، وكذلك الفقه، واللغة، هذه التي تؤهلهم -على الأقل لو كانوا على علم بها- لتحقيق الكلام على النصوص وبيان الراجح من المرجوح منها عند اختلاف النسخ أو المراجع، حتى هذا النوع من التحقيق لم يستطيعوا القيام به، بل إنهم لم يقدروا على تصحيح بعض الأخطاء الفاحشة التي لا تخفى على الطلبة، والتي وقعت في طبعتهم المزخرفة تبعاً للأصل، والأمثلة على ذلك كثيرة جداً، وحسبي أن أقدم مثالاً واحداً على ذلك، وهو الحديث الآتي في (9 - الصوم/ 11 رقم الحديث 5) بلفظ:
সেই সমস্ত কনিষ্ঠ অথবা লেখকদের বিপরীত যারা হাদিসের কিতাবসমূহের ওপর তাহকিক ও টীকা প্রদানের দাবি করে, অথচ তারা কোনো কাজেরই নয়, যেমনটি প্রবাদের মাধ্যমে বলা হয়।
এই সুযোগে সতর্ককারী, সাবধানকারী এবং হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে নিচের বিষয়গুলো স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করছি:
আমার নিকট হাফেজ আল-মুনজিরীর কিতাব "আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব"-এর একটি নতুন সংস্করণ এসেছে, যা তিন জন গবেষক ও টীকাকার কর্তৃক সম্পাদিত—যেমনটি তারা দাবি করেছেন। আমি যখন এই "সহীহ" গ্রন্থের প্রুফ সংশোধন করছিলাম, তখন এটি সংগ্রহ করেছিলাম; এই আশায় যে, এতে হয়তো এমন কিছু পাব যা আমাকে "সহীহ" এবং "যয়ীফ" গ্রন্থদ্বয় পুনর্বিবেচনা করতে এবং মূল পাঠে থাকা এমন কিছু ভুল সংশোধনে সাহায্য করবে যা পূর্বে আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। কিন্তু তাদের সেই কথিত তাহকিক থেকে আমি উল্লেখযোগ্য কোনো উপকারই পাইনি। বরং আমি তাদের অজ্ঞ হিসেবে পেয়েছি, যাদের এই কিতাবের ওপর টীকা লেখার মতো কোনো জ্ঞানই নেই। অথচ এই কিতাবটিতে বিভিন্ন প্রকার সংশয় ও বিভ্রান্তি এমনভাবে ঘটেছে যে, হাফেজ ইব্রাহিম আন-নাজি তার আধিক্যের কারণে বিরক্ত প্রকাশ করেছিলেন, যেমনটি আমি প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় তাঁর থেকে বর্ণনা করেছি এবং যা সামনে ৪৩ নম্বর পরিচ্ছেদে আসবে। আমি তাদের সম্পর্কে যথার্থই বলছি:
তারা অজ্ঞ; হাদিসের মূল পাঠ ও নীতিমালা সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। অনুরূপভাবে ফিকহ এবং ভাষা সম্পর্কেও তাদের জ্ঞান নেই, যা—অন্তত যদি তাদের এই জ্ঞান থাকত—মূল পাঠ্যগুলোর ওপর পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এবং পাণ্ডুলিপি বা সূত্রের ভিন্নতার সময় অগ্রগণ্য ও বর্জনীয় মতের পার্থক্য নিরূপণে তাদের যোগ্য করে তুলত। এমনকি তারা এই ধরনের গবেষণাকর্মও সম্পাদন করতে সক্ষম হয়নি। বরং তারা এমন কিছু জঘন্য ভুল সংশোধন করতেও সক্ষম হয়নি যা সাধারণ ছাত্রদের কাছেও গোপন থাকে না, এবং যা মূল পাণ্ডুলিপির অনুসরণে তাদের সুশোভিত সংস্করণেও রয়ে গেছে। এর উদাহরণ অনেক। আমার জন্য কেবল একটি উদাহরণ পেশ করাই যথেষ্ট, যা (৯- সিয়াম/ ১১, হাদিস নং ৫)-এ নিম্নোক্ত শব্দে এসেছে:
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"لا تصوموا يوم السبت إلا فيما افترض عليكم .. ".
فطبعوه تبعاً لأصله الخطأ بلفظ:
"لا تصوموا ليلة السبت
… ".
وكل أحد يعلم أن الليل ليس محلاً للصيام، فكيف غفلوا عن هذا الخطأ الفاحش؟! كان يمكننا أن نلتمس لهم عذراً -كما هو المأثور عن بعض السلف- بأن نقول إنه خطأ مطبعي، كما هو القول في خطأ الأصل، ولكن هذا غير وارد هنا لأنه يستبعد عادة التطابق في الخطأ في اللفظ الواحد، ثم أين التحقيق المدعى، وليس من فرد واحد، بل من ثلاثة؟!
ولا أدل على جهلهم باللغة من الكتاب الذي اختصروه من طبعتهم لـ "الترغيب"، ثم طبعوه تحت عنوان:
"تهذيب الترغيب والترهيب من الأحاديث الصحاح طبعة محققة متميزة بصحاح الأحاديث
… "!
وتحته أسماء المحققين الثلاثة المشار إليهم فيما تقدم.
وذلك أن هذا العنوان يدل على خلاف مقصدهم، لأن "تهذيب الكتاب" إنما يعني تجريده من الأحاديث الضعيفة وليس "من الأحاديث الصحاح"، ففي كتب اللغة:
"يقال: هذب الكتاب: لخصه وحذف ما فيه من إضافات مقحمة أو غير لازمة". المعجم الوسيط.
"তোমরা শনিবার রোজা রেখো না, তোমাদের জন্য যা ফরজ করা হয়েছে তা ছাড়া..."
অতঃপর তারা এর মূল পাণ্ডুলিপির ভুলের অনুসরণ করে এই শব্দে এটি ছেপেছে:
"তোমরা শনিবার রাতে রোজা রেখো না
… "।
প্রত্যেকেই জানে যে রাত রোজা রাখার সময় নয়, তাহলে কীভাবে তারা এই মারাত্মক ভুলটি এড়িয়ে গেলেন?! আমরা তাদের জন্য ওজর বা অজুহাত তালাশ করতে পারতাম—যেমনটি কোনো কোনো সালাফ থেকে বর্ণিত আছে—এই বলে যে এটি একটি মুদ্রণজনিত ভুল, যেমনটি মূল পাণ্ডুলিপির ভুলের ক্ষেত্রে বলা হয়। কিন্তু এখানে সেটি প্রযোজ্য নয়, কারণ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট শব্দে ভুলের এমন হুবহু মিল হওয়া অসম্ভব। আর তাছাড়া, যে সম্পাদিত গবেষণার (তাহকিক) দাবি করা হয়েছে তা-ই বা কোথায়, যা কি না কোনো একজন ব্যক্তি নয় বরং তিনজনের পক্ষ থেকে এসেছে?!
ভাষার প্রতি তাদের অজ্ঞতার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না যে কিতাবটি তারা তাদের 'আত-তারগিব' এর সংস্করণ থেকে সংক্ষেপ করেছেন, অতঃপর তা এই শিরোনামে ছেপেছেন:
"সহিহ হাদিসসমূহ থেকে আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব-এর তাহজিব (পরিশোধন), সহিহ হাদিস দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত একটি সম্পাদিত সংস্করণ
… "!
আর এর নিচে ইতিপূর্বে উল্লিখিত সেই তিনজন গবেষকের নাম রয়েছে।
এর কারণ হলো, এই শিরোনামটি তাদের উদ্দেশ্যের বিপরীত অর্থ প্রকাশ করছে। কেননা "কিতাবের তাহজিব (পরিশোধন)" মানে হলো এটিকে দুর্বল হাদিসগুলো থেকে মুক্ত করা, "সহিহ হাদিসসমূহ থেকে" মুক্ত করা নয়। অভিধানের কিতাবসমূহে এসেছে:
"বলা হয়: কিতাবটি তাহজিব করেছে অর্থাৎ এর সারসংক্ষেপ করেছে এবং এতে বিদ্যমান প্রক্ষিপ্ত বা অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো বর্জন করেছে।" আল-মু'জামুল ওয়াসিত।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وعلى هذا المعنى ألفت الكتب المعروفة عند طلاب العلم فضلاً عن العلماء مثل: "تهذيب الأسماء واللغات" للنووي، و"تهذيب الكمال" للمزي، و"تهذيب التهذيب" للعسقلاني، وغيرها كثير.
فلو أن أولئك الثلاثة المحققين -زعموا- كان أصلهم من الأعاجم -مثلي! - وكانوا طلاب علم حقاً، لكان هذا وحده كافياً لصرفهم عن الوقوع في مثل هذا الجهل الفاضح، ولكني قد تأكدت من تعليقاتهم أنهم ليسوا من طلاب العلم، ولا من الذين أتيح لهم الاستماع لهذا العلم، ولكني أشك أن يكون أصلهم عجماً، أو أنهم عرب استعجموا!
نعم، هم ليسوا طلاب علم يقيناً، لأن الأعاجم من الطلاب يعلمون ما جهلوه هم، فمن منهم لا يعلم إجماع الأمة على أن تأخير الصلاة عن وقتها نسيانًا أو سهواً ليس معصية، وقد صح أن الله تعالى استجاب دعاء الصحابة حين قالوا: {رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا}؟! أما هؤلاء الجهلة الثلاثة فقد قالوا وتحت ما سموه "فقه الباب" (1/ 446):
"وقد أفادت الأحاديث بمجموعها أن تأخير الصلاة عن وقتها ناسياً أو ساهياً معصية كبيرة .. "!
ولقد كذبوا -والله- فليس في الأحاديث ذكر للناسي مطلقاً، بل في الكثير منها خلافه وهو لفظ (متعمداً)، ولكنهم لجهلهم بإجماع الأمة من جهة، ولقلة بضاعتهم بالفروع الفقهية من جهة أخرى سوّوا بين (الناسي) و (الساهي) المذموم في قوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ (4) الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ}، ولم يعلموا لبالغ غفلتهم أن المراد: بالساهين: المتعمدون إضاعة الصلاة عن وقتها عمداً
এই অর্থেই আলেমদের পাশাপাশি ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট সুপরিচিত কিতাবসমূহ রচিত হয়েছে, যেমন: নববীর ‘তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত’, মিযযির ‘তাহজিবুল কামাল’, আসকালানির ‘তাহজিবুত তাহজিব’ এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিতাব।
যদি সেই তথাকথিত তিনজন গবেষক অনারব বংশোদ্ভূত হতেন—আমার মতো!—এবং তারা যদি প্রকৃত ইলম অন্বেষণকারী হতেন, তবে কেবল এটিই তাদের এমন জঘন্য মূর্খতায় নিপতিত হওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট হতো। কিন্তু আমি তাদের টীকা-টিপ্পনী থেকে নিশ্চিত হয়েছি যে, তারা ইলম অন্বেষণকারী নন, এমনকি তারা সেই দলভুক্তও নন যাদের এই ইলম শ্রবণ করার সুযোগ হয়েছে। তবে আমার সন্দেহ হয় যে তারা হয়তো অনারব বংশোদ্ভূত, অথবা তারা এমন আরব যাদের মধ্যে অনারবীয় ভাবধারা ঢুকে গেছে!
হ্যাঁ, তারা নিশ্চিতভাবেই ইলম অন্বেষণকারী নন; কারণ অনারব ছাত্রদের মধ্যেও যারা আছে তারা এমন বিষয় জানে যা এই লোকগুলো জানে না। তাদের মধ্যে কে না জানে যে, উম্মতের ঐকমত্য অনুযায়ী ভুলে যাওয়ার কারণে বা অসতর্কতাবশত সালাত নির্ধারিত সময়ের পরে আদায় করা গুনাহ নয়? অথচ এটি প্রমাণিত যে, মহান আল্লাহ সাহাবীগণের দুআ কবুল করেছেন যখন তাঁরা বলেছিলেন: "হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।" পক্ষান্তরে এই তিন মূর্খ ব্যক্তি তাদের তথাকথিত "অধ্যায়ের ফিকহ" (১/৪৪৬) শিরোনামের অধীনে বলেছে:
"আর হাদিসগুলোর সমষ্টিগত অর্থ এই যে, ভুলে যাওয়ার কারণে বা অসতর্কতাবশত সালাত তার সময়ের পরে আদায় করা একটি বড় গুনাহ...!"
আল্লাহর কসম, তারা মিথ্যা বলেছে। হাদিসসমূহে ভুলে যাওয়া ব্যক্তির কোনো উল্লেখই নেই, বরং অনেক হাদিসে এর বিপরীত অর্থাৎ ‘ইচ্ছাকৃত’ শব্দ এসেছে। কিন্তু একদিকে উম্মতের ঐকমত্য সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা, আর অন্যদিকে ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ে তাদের জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে তারা ‘ভুলে যাওয়া ব্যক্তি’ এবং সেই ‘উদাসীন’ ব্যক্তিকে এক করে ফেলেছে যাদের নিন্দা মহান আল্লাহর এই বাণীতে করা হয়েছে: "অতঃপর দুর্ভোগ সেই মুসল্লিদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন।" তারা তাদের চরম গাফিলতির কারণে এটিও বুঝতে পারেনি যে, এখানে ‘উদাসীন’ বলতে সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সালাতকে তার নির্ধারিত সময়ের পরে আদায় করে নষ্ট করে ফেলে।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
باللهو عنها كما فسره سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه في الباب الذي أشاروا إليه، ويأتي برقم (576).
ولقد كان يغنيهم عن هذا الجهل المغلف بالفقه الأرعن لو كان عندهم شيء من النباهة والفهم، ترجمةُ المنذري لأحاديث الباب بقوله: "الترهيب من ترك الصلاة تعمداً وإخراجها عن وقتها تهاوناً". ولكن صدق الله: {وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ}.
ومن ذلك أن اسم (جَمع) إذا جاء في حديث من مناسك الحج فهو (مزدلفة) يقيناً، أما هم فقالوا (2/ 154) في تفسيرها:
"بـ (جمع): بعرفات"!!
وسيأتي بيان ذلك في التعليق على حديث عبادة بن الصامت في المجلد الأول من "ضعيف الترغيب" (11 - الحج/ 9/ الحديث 3) إن شاء الله تعالى.
ومن هذا القبيل قولهم في تفسير حديث النبي صلى الله عليه وسلم:
"إذا تبايعتم بالعينة .. ".
(1)قالوا (2/ 305): "بالعينة: بالمال الحاضر من النقد"! مع أنهم نقلوا بعده تفسيره الصحيح عن ابن الأثير، والذي خلاصته أن النقد مؤجل، والبضاعة حاضرة لم تتحرك، تباع من التاجر بثمن مؤجل، ثم يبيعها من اشترى لمن باع بثمن حاضر أقل، فيكون الفرق بين الثمنين مقابل الأجل، لذلك فهو من البيوع الربوية، كما أنه من بركات بيع التقسيط الذي يبيحه كثيرون! والشاهد، أن ما
--------------------------------------------
এর প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শন করা, যেমনটি সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেই অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করেছেন যেটির দিকে তারা ইঙ্গিত করেছেন এবং এটি (৫৭৬) নম্বরে আসবে।
এই স্থুল ফিকহ দ্বারা আবৃত অজ্ঞতা থেকে তাদের জন্য আল-মুনযিরির এই অধ্যায়ের হাদিসসমূহের শিরোনামই যথেষ্ট হতো যদি তাদের সামান্যতম বিচক্ষণতা ও বুঝ থাকত; যেখানে তিনি বলেছেন: "ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন করা এবং অবহেলার কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে সালাত আদায় করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন।" কিন্তু আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "আল্লাহ যার জন্য কোনো নূর (আলো) রাখেননি, তার জন্য কোনো নূর নেই।"
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো হজ্জের বিধিবিধান সম্পর্কিত কোনো হাদিসে যখন 'জাম' শব্দটি আসে, তখন তা নিশ্চিতভাবে 'মুযদালিফা'কে বোঝায়; অথচ তারা এর ব্যাখ্যায় (২/১৫৪) বলেছে:
"'জাম' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আরাফাত"!!
ইনশাআল্লাহ তাআলা, 'যঈফুত তারগীব'-এর প্রথম খণ্ডে (১১ - হজ্জ/ ৯/ হাদিস ৩) উবাদাহ ইবনুস সামিতের হাদিসের ওপর টীকায় এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
এরই সদৃশ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের ব্যাখ্যায় তাদের বক্তব্য:
"যখন তোমরা 'ঈনাহ' পদ্ধতিতে লেনদেন করবে..."
(১)তারা বলেছে (২/৩০৫): "'ঈনাহ' অর্থ: নগদ অর্থের বিনিময়ে"! অথচ তারা এর পরেই ইবনুল আসীরের কাছ থেকে এর সঠিক ব্যাখ্যা উদ্ধৃত করেছে, যার সারকথা হলো: মূল্য পরিশোধ হবে বাকিতে, কিন্তু পণ্যটি নগদে বর্তমান থাকবে যা স্থানান্তরিত হবে না। পণ্যটি বিক্রেতার কাছ থেকে বাকিতে নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করা হয়, অতঃপর যে ব্যক্তি তা ক্রয় করল সে আবার তা পূর্বোক্ত বিক্রেতার কাছেই নগদে কম মূল্যে বিক্রি করে দেয়; ফলে সময়ের বিনিময়ে দুই মূল্যের মধ্যে একটি পার্থক্য তৈরি হয়। একারণে এটি সুদী কেনাবেচার অন্তর্ভুক্ত, ঠিক যেমন কিস্তিতে বিক্রির 'বরকত', যা অনেকেই বৈধ বলে থাকেন! সারকথা এই যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২০)
نقلوه عن ابن الأثير كان يغنيهم أن يقعوا في هذا الجهل، أو العجمة على الأقل، ولكن صدق من قال: وكل إناء بما فيه ينضح.
ومثله وأسوأ منه تفسيرهم (اللَّمَمَ) في حديث المرأة التي كان بها طرف من جنون، وطلبت منه صلى الله عليه وسلم أن يدعو لها، وخيرها صلى الله عليه وسلم بين أن يدعو لها فتشفى، وبين أن تصبر، ولا حساب عليها. فقالت: أصبر ولا حساب عليَّ.
(1)فقال المعلقون الثلاثة الجهلة (4/ 183):
" (لَمَمٌ): مقاربة المعصية، ويعبر بها عن الصغيرة .. ".
فتأمل أيها القارئ الكريم كيف فسروا هذه اللفظة من الحديث بمعناها المذكور في تفسيرها في قوله تعالى: {الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ}، فخلطوا خلطاً قبيحاً جداً؛ فإن هذا المعنى لا يناسب الحديث مطلقاً كما هو ظاهر بأدنى تأمل، لأن معناه حينئذ أن المرأة جاءت تشكو ارتكابها المعصية، وأن النبي صلى الله عليه وسلم خيّرها بين البقاء عليها، وبين أن يدعو لها ولا حساب عليها .. !
وهذا من أبطل الباطل، {فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا}؟!
وإذا كان هذا حالهم في الفقه واللغة، فهم في الحديث أجهل، بل هو الداء العضال، لأنه جهل مركب، إذا حسنا الظن بهم، وإلا فيكونون قد تكلموا بغير علم وهم يعلمون! فيشملهم وعيد قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث المتفق عليه:
"إن الله لا يقبض العلم انتزاعاً ينتزعه من الناس؛ ولكن يقبض العلم بقبض العلماء، حتى إذا لم يترك عالماً اتخذ الناس رؤوساً جهالاً فسئلوا فأفتوا بغير علم،
--------------------------------------------
তারা এটি ইবনে আল-আসির থেকে বর্ণনা করেছে, যা তাদের এই অজ্ঞতা বা অন্ততপক্ষে ভাষাগত অদক্ষতায় পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারত। তবে সেই ব্যক্তির কথাই সত্য: "প্রত্যেক পাত্র থেকে তা-ই চুইয়ে পড়ে যা তাতে থাকে।"
এর মতো এবং এর চেয়েও খারাপ হলো সেই মহিলার হাদিসে বর্ণিত 'লামাম' শব্দের তাদের ব্যাখ্যা, যে মহিলাটি কিছুটা উম্মাদনায় আক্রান্ত ছিল। সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার জন্য দোয়া করতে অনুরোধ করেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন: হয় তিনি তার জন্য দোয়া করবেন এবং সে সুস্থ হয়ে যাবে, আর নয়তো সে ধৈর্য ধরবে এবং তার কোনো হিসাব নেওয়া হবে না। তখন মহিলাটি বলেছিল: "আমি ধৈর্যই ধরব এবং আমার কোনো হিসাব থাকবে না।"
(১)তখন সেই তিন অজ্ঞ টিকাকার (৪/ ১৮৩) বলেছেন:
" (লামাম): গুনাহের নিকটবর্তী হওয়া, যা দ্বারা সগীরা গুনাহ বুঝানো হয়... "।
হে সম্মানিত পাঠক! লক্ষ করুন তারা কীভাবে হাদিসের এই শব্দটিকে মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লেখিত অর্থের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছে: "যারা কবিরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে, ‘লামাম’ (ছোটখাটো ত্রুটি) ব্যতীত", ফলে তারা অত্যন্ত কুৎসিতভাবে বিষয়গুলোকে গুলিয়ে ফেলেছে। সামান্য চিন্তা করলেই বোঝা যায় যে এই অর্থটি হাদিসের সাথে একেবারেই খাপ খায় না। কারণ, তখন এর অর্থ দাঁড়াবে যে, সেই মহিলাটি তার গুনাহ করার অভিযোগ নিয়ে এসেছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হয় গুনাহের ওপর অবিচল থাকা অথবা দোয়া করা এবং হিসাবহীন জান্নাতের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বলেছিলেন...!
এটি চরম বাতুলতা, "তবে এই কওমের কী হয়েছে যে তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না?!"
ফিকহ ও ভাষার ক্ষেত্রে যদি তাদের এই দশা হয়, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে তারা আরও বেশি অজ্ঞ। বরং এটি এক দুরারোগ্য ব্যাধি, কারণ এটি একটি জটিল মূর্খতা—যদি আমরা তাদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করি। অন্যথায়, তারা জেনে-শুনে ইলম ছাড়াই কথা বলেছে! সেক্ষেত্রে মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সতর্কবাণী তাদের ওপরও বর্তাবে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে টেনে নিয়ে ইলম ছিনিয়ে নেবেন না; বরং তিনি আলেমদের মৃত্যু দেওয়ার মাধ্যমে ইলম তুলে নেবেন। শেষ পর্যন্ত যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ অজ্ঞদের নেতা বানিয়ে নেবে। অতঃপর তাদের নিকট ফাতাওয়া চাওয়া হবে এবং তারা ইলম ছাড়াই ফাতাওয়া দেবে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২১)
فضلوا وأضلوا". وإن مما لا شك فيه عند أهل العلم أن ممارسة تصحيح الأحاديث وتضعيفها ممن لا معرفة عنده، أسوأ وأشد من الإفتاء بغير علم، لأن الحديث النبوي هو المرجع الثاني بعد القرآن الكريم، فالكلام فيه بغير علم أخطر ضلالاً وإضلالاً كما لا يخفى، ولا سيما إذا كان لغرض مادي من جاه أو مال أو منصب، وحينئذ يكون له نصيب أو شَبَهٌ بمن قال الله تعالى فيهم:
{فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَهُمْ مِمَّا يَكْسِبُونَ}.
ولا أكون مبالغاً إذا قلت: إنني لم أرَ -مع كثرة أهل الأغراض والأهواء في هذا الزمن- واحداً فضلاً عن ثلاثة يتفقون على الكلام على الأحاديث تصحيحاً وتضعيفاً بغير علم أجرأ من هؤلاء، وبهذا التوسع، حيث بلغ عدد أحاديث طبعتهم (5580) في أربعة مجلدات ضخام في أكثر من ثلاثة آلاف صفحة! ليس فيها من العلم ما يستحق الذكر، إلا تكرار ذكر المصادر التي في "الترغيب" إلى الحاشية مقرونة بأرقام مجلداتها وصفحاتها أو أرقام أحاديثها، بحيث إن القارئ يتوهم أن ذلك من سعيهم وكدهم، وإنما هو مجرد نقل منهم لها من الفهارس التي كثرت في هذا الزمان، ومع ذلك لم يستفيدوا منها شيئاً لتصويب بعض الأخطاء الواقعة في "الترغيب"، وهي كثيرة كما سيرى القراء إن شاء الله ذلك منبهاً عليه في التعليقات.
ولنعد إلى المقصود الأهم هنا، فأقول:
إن الأحكام التي يطلقونها على الأحاديث تنقسم في الجملة إلى قسمين:
القسم الأول: مما سرقوه من بعض المؤلفين قديماً وحديثاً، وفي بعضها نظر،
"তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে।" আর বিদ্বানদের নিকট এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, জ্ঞানহীন ব্যক্তির হাদীস সহীহ বা যঈফ করার চর্চা করা, ইলম ছাড়া ফাতাওয়া প্রদানের চেয়েও জঘন্য ও কঠিন। কারণ কুরআনুল কারীমের পর হাদীসে নববী হলো দ্বিতীয় উৎস। সুতরাং এ বিষয়ে জ্ঞান ছাড়া কথা বলা যে আরও ভয়াবহ পথভ্রষ্টতা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে যদি তা যশ-খ্যাতি, অর্থ-সম্পদ বা পদমর্যাদার মতো কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যে হয়, তবে সেই ব্যক্তির মধ্যে তাদের অংশ বা সাদৃশ্য থাকবে যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন:
“সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে তারপর বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে তারা এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস এবং তারা যা উপার্জন করছে তার জন্যও তাদের ধ্বংস।”
আমি বাড়িয়ে বলছি না যদি বলি যে—এই যুগে হীন লক্ষ্য ও প্রবৃত্তিপূজারী মানুষের আধিক্য সত্ত্বেও—আমি এদের চেয়ে দুঃসাহসী কাউকে দেখিনি (একজনের কথা তো থাক, এমনকি তিনজনকে মেলালেও নয়), যারা জ্ঞান ছাড়াই হাদীসের সহীহ ও যঈফ নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে এমন ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। আর তা-ও আবার এমন বিস্তৃতভাবে যে, তাদের মুদ্রিত সংস্করণের হাদীস সংখ্যা (৫৫৮০)-তে পৌঁছেছে, যা তিন হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার চারটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত! এতে উল্লেখ করার মতো কোনো ইলমি বিষয় নেই, কেবল ‘আত-তারগীব’-এ উল্লিখিত উৎসগুলোকে টীকায় খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর বা হাদীস নম্বরসহ বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে পাঠক ধারণা করতে পারেন যে, এটি হয়তো তাদেরই প্রচেষ্টা ও শ্রমের ফল, অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি বর্তমান সময়ে সহজলভ্য নির্ঘণ্টসমূহ থেকে তাদের সামান্য নকল ছাড়া আর কিছু নয়। তা সত্ত্বেও তারা ‘আত-তারগীব’-এর কিছু ভুল সংশোধনে সেগুলো থেকে কোনো উপকার লাভ করতে পারেনি, অথচ সেখানে ভুলের সংখ্যা অনেক, যা ইনশাআল্লাহ পাঠকগণ পরবর্তী টীকাগুলোতে দেখতে পাবেন।
এখন আমরা মূল বিষয়ের দিকে ফিরে আসি, আমি বলছি:
হাদীসগুলোর ওপর তারা যে হুকুমারোপ করে, তা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম ভাগ: যা তারা প্রাচীন ও আধুনিক কালের কিছু লেখকের কাছ থেকে চুরি করেছে, আর এগুলোর কোনো কোনোটিতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে,
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد أكثروا جداً من الاستفادة من المجلد الأول من هذا "الصحيح" في بعض طبعاته السابقة،
(1) حتى في مقدمتهم، دون أن يتأدبوا بأدب قول العلماء: من بركة العلم عزو كل قول إلى قائله، وبخاصة إذا كان صادراً عن بحث وتحقيق وجهد وعلم ليس في مقدورهم النهوض به، فإني أخشى عليهم وعلى أمثالهم أن يشملهم قول النبي صلى الله عليه وسلم: "المتشبِّع بما لم يُعط كلابس ثوبي زور". متفق عليه
(2).
وإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم لعن الواصلة، وهي التي تصل شعرها بشعر آخر، وسماه (الزّور) كما في "الصحيحين" وغيرهما، وذلك لما فيه من الإيهام والتدليس، فإن مما لا شك فيه أن النظر الصحيح والفقه الرجيح يقتضي تحريم ما هو أسوأ منه، ألا وهو تظاهر الجاهل بأنه عالم، وادعاؤه التحقيق، وهو في الحقيقة في ذلك لغيره مقلد رقيق! وأسوأ منه أن ينسب لنفسه ما هو لغيره كما فعل هؤلاء، هداهم الله.
وقبل الانتقال إلى بيان القسم الآخر، لا بد من ذكر بعض الأمثلة لهذا القسم الأول، لكي لا يظن أحد أن فيما ذكرت شيئاً من المبالغة أو المغالاة، فأقول:
أولاً: ذكرت تحت حديث أنس الآتي برقم (217) في الطبعة السابقة أن الحافظ المنذري رحمه الله وهم في اسم راويه (واصل بن عبد الرحمن الرقاشي).
وقلت: "إنما هو واصل بن السائب الرقاشي، وهو ضعيف اتفاقاً، ثم إن حديث أنس نظيف منه، بل هو شاهد له". أي الحديث الذي قبله. فسرقه المذكورون، فقالوا في تعليقهم على الحديث (1/ 233):
--------------------------------------------
তারা এই "সহীহ" গ্রন্থের পূর্ববর্তী কিছু সংস্করণ থেকে, বিশেষ করে এর প্রথম খণ্ড থেকে অত্যন্ত বেশি উপকৃত হয়েছে,
(১) এমনকি তাদের নিজেদের মুকাদ্দিমা বা মুখবন্ধেও। অথচ তারা ওলামায়ে কেরামের এই শিষ্টাচার অবলম্বন করেনি যে: 'ইলমের বরকত হলো প্রতিটি কথাকে তার প্রকৃত প্রবক্তার দিকে নিসবত করা (অর্থাৎ উদ্ধৃতি প্রদান করা)'। বিশেষ করে যখন সেই কথাটি এমন কোনো গবেষণা, তাহকীক, প্রচেষ্টা এবং ইলমের ফসল হয় যা আঞ্জাম দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই। আমি তাদের এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের ব্যাপারে আশঙ্কা করি যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে: "যাকে যা দেওয়া হয়নি তা নিয়ে যে ব্যক্তি নিজেকে পূর্ণ জাহির করে, সে যেন মিথ্যার দুটি পোশাক পরিধানকারী।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত)।
(২)নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি সেই 'ওয়াসিলাহ' (চুল সংযোজনকারী) নারীকে অভিশাপ দিয়ে থাকেন—যে নিজের চুলের সাথে অন্য চুল জুড়ে দেয়—এবং একে 'মিথ্যা' (যুর) বলে অভিহিত করেছেন যেমনটি "সহীহাইন" ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, আর তা কেবল এতে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও প্রতারণার কারণে; তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সঠিক অন্তর্দৃষ্টি ও জোরালো ফিকহী প্রজ্ঞা তার চেয়েও জঘন্য বিষয়কে হারাম ঘোষণা করার দাবি রাখে। আর তা হলো একজন মূর্খের নিজেকে আলেম হিসেবে জাহির করা এবং তাহকীকের দাবি করা, অথচ বাস্তবে সে এক্ষেত্রে অন্যের একজন সাধারণ অন্ধ অনুসারী মাত্র! এর চেয়েও নিকৃষ্ট হলো নিজের নামে এমন কিছু চালিয়ে দেওয়া যা অন্য কারো, যেমনটি এই লোকেরা করেছে; আল্লাহ তাদের হিদায়াত দান করুন।
অন্য বিভাগটি বর্ণনায় যাওয়ার আগে এই প্রথম বিভাগটির কিছু উদাহরণ উল্লেখ করা আবশ্যক, যাতে কেউ মনে না করে যে আমি যা উল্লেখ করেছি তাতে কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি রয়েছে। অতএব আমি বলছি:
প্রথমত: পূর্ববর্তী সংস্করণে ২১৭ নম্বরে আসা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের অধীনে আমি উল্লেখ করেছিলাম যে, হাফেজ মুনজিরি (রাহিমাহুল্লাহ) এর বর্ণনাকারীর নামে (ওয়াসিল ইবনে আবদুর রহমান আর-রাক্কাশি) ভ্রম বা ভুল করেছেন।
আমি বলেছিলাম: "তিনি মূলত ওয়াসিল ইবনে আস-সাইব আর-রাক্কাশি, আর তিনি সর্বসম্মতিক্রমে যয়ীফ বা দুর্বল। অধিকন্তু, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি তার থেকে মুক্ত, বরং এটি তার জন্য একটি শাহিদ (সমর্থক প্রমাণ)।" অর্থাৎ পূর্ববর্তী হাদিসটির জন্য। উল্লেখিত ব্যক্তিরা সেটি চুরি করেছে এবং তারা হাদিসের ওপর তাদের টিকাতে (১/২৩৩) বলেছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
"قلنا (!): إنما هو واصل بن السائب الرقاشي .. " إلخ بالحرف الواحد، لا زيادة ولا نقص!!
ثانياً: استدركت على الأصل زيادة في الحديث الآتي برقم (764) فقلت هناك:
"سقطت من الأصل، وكذا من مطبوعة عمارة، واستدركتها من الطبراني".
فنقلوه هم (1/ 599) مع تصرف لفظي، وهو مما يفضحهم، فإنهم لا يعرفون الطبراني الكبير، ولا عزوا إليه حديثاً واحداً بالأرقام كما يفعلون بالكتب الستة، مع كثرة ما يعزو المؤلف إليه، ويعتمدون في ذلك على كلام الهيثمي، وفي "1 - كتاب الإخلاص" عدة أحاديث عزاها المؤلف إليه، وأرقامها في طبعتهم (30 و 31 و 33 و 34 و 36 و 37 و 39 - 41 و 52 و 54 و 55 و 57)، ولم يعزوا شيئاً منها بالأرقام، وكذلك في كل أحاديث الطبراني في الكتاب!
وكذلك لم يتعقبوا مطبوعة عمارة، ولو مرة واحدة فيما أذكر.
ثالثاً: سرقوا قول الأعظمي في تعليقه على "الكشف" استدراكه وهماً وقع للبزار في اسم أحد رواة الحديث الآتي في "18 - اللباس 12/ 2"، فقالوا (3/ 53):
"قلنا (!): لكن ليس في الإسناد من يسمى زياداً".
وهذا إنما هو قول الشيخ الأعظمي رحمه الله ادّعوه لأنفسهم زوراً!
وقد شغلهم شهوة النقد عن علة الحديث التي نص عليها البزار، وهي الانقطاع كما سيأتي بيانه هناك إن شاء الله تعالى.
وكما استفادوا من المجلد الأول من هذا "الصحيح"، وكتموا (على النصت)
"আমরা বলেছি (!): তিনি কেবল ওয়াসিল বিন আস-সাইব আর-রাক্কাশিই..." ইত্যাদি হুবহু প্রতিটি হরফে, কোনো বৃদ্ধি বা ঘাটতি ছাড়াই!!
দ্বিতীয়ত: আমি মূল পাণ্ডুলিপির বিপরীতে পরবর্তী (৭৬৪) নম্বর হাদিসে একটি অতিরিক্ত অংশ সংযোজন করেছি, সেখানে আমি বলেছি:
"এটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, এবং উমারা-এর মুদ্রিত কপি থেকেও, আর আমি এটি আত-তাবারানি থেকে সংযোজন করেছি।"
এরপর তারা (১/ ৫৯৯) শব্দগত পরিবর্তনের সাথে এটি উদ্ধৃত করেছে, যা তাদের স্বরূপ উন্মোচন করে দেয়। কারণ তারা 'তাবারানি আল-কাবির' সম্পর্কে জানে না এবং কুতুবে সিত্তাহ-এর ক্ষেত্রে যেমনটি করে থাকে, সেভাবে তারা এই গ্রন্থের একটি হাদিসকেও নম্বরসহ তাঁর দিকে নিসবত করেনি; অথচ লেখক এর প্রতি প্রচুর নিসবত করেছেন। এই ক্ষেত্রে তারা আল-হাইসামি-এর কথার ওপর নির্ভর করে। '১ - কিতাবুল ইখলাস'-এ লেখক এর দিকে বেশ কিছু হাদিস নিসবত করেছেন এবং তাদের ছাপানো কপিতে সেগুলোর নম্বর হলো (৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৩৭, ৩৯-৪১, ৫২, ৫৪, ৫৫ এবং ৫৭); কিন্তু তারা এগুলোর কোনোটিই নম্বরসহ নিসবত করেনি, এবং একইভাবে এই গ্রন্থের তাবারানির সমস্ত হাদিসের ক্ষেত্রেও তারা তা-ই করেছে!
একইভাবে তারা উমারা-এর মুদ্রিত কপিরও কোনো ত্রুটি ধরেনি, আমার যতটুকু মনে পড়ে একবারের জন্যও না।
তৃতীয়ত: তারা 'আল-কাশফ' গ্রন্থের ওপর আল-আ'যামি-এর করা টীকায় তাঁর সেই সংশোধনটি চুরি করেছে, যা পরবর্তী '১৮ - আল-লিবাস ১২/ ২' হাদিসের বর্ণনাকারীদের একজনের নামের ক্ষেত্রে আল-বযযারের ঘটে যাওয়া একটি বিভ্রমের ব্যাপারে ছিল। তারা (৩/ ৫৩) বলেছে:
"আমরা বলেছি (!): কিন্তু সনদে যিয়াদ নামে কেউ নেই।"
অথচ এটি মূলত শাইখ আল-আ'যামি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কথা, যা তারা অন্যায়ভাবে নিজেদের বলে দাবি করেছে!
আর সমালোচনার লালসা তাদের হাদিসের সেই ত্রুটি থেকে বিমুখ করে রেখেছে যা আল-বযযার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো 'ইনকিতা' (বিচ্ছিন্নতা), যা ইনশাআল্লাহ সেখানে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।
আর যেভাবে তারা এই 'সহিহ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ড থেকে উপকৃত হয়েছে এবং তা গোপন করেছে (সরাসরি ভাষ্য অনুযায়ী)
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
-كما يقولون في دمشق-!، فكذلك استفادوا من كتبي الأخرى مثل "السلسلة الصحيحة" و"الضعيفة"، و"الإرواء"، و"صحيح السنن الأربعة"، وغيرها، وقلما يصرحون بأسمائها، ولئن فعلوا، فهم لا يذكرون مؤلفها إما غفلة أو تغافلاً! لا في المقدمة ولا في الحاشية! كقولهم في بعض الأحاديث (2/ 281 و 283 - طبعتهم): "وانظره في صحيح النسائي (ص 1/ 187) ".
وكقولهم عقب حديث (1/ 84 - طبعتهم):
صحيحة. هكذا ودون أن يحصروا اللفظة بين الهلالين المزدوجين؛ أو إشارة على الأقل إلى أنه كتاب كما هو المصطلح في العصر الحاضر، ولا سموا مؤلفه!
ثم رأيت لهم سرقة قد تكون أسوأ مما سبق، لأنهم نقلوا عبارتي بالحرف الواحد، وبتروا تصحيحي للإسناد؛ ليتظاهروا بأنهم علماء مستقلون غير مقلدين، وهم فيه {إِلَى الْأَذْقَانِ فَهُمْ مُقْمَحُونَ}! فقالوا في التعليق على الحديث الآتي في (8 - الصدقات/ 14/ 10):
"حسن، لقد أبعد المصنف النجعة، فالحديث رواه الدارمي (2/ 261)، وأحمد (5/ 300 و 308) ".
وهذا قولي بالحرف الواحد دون التحسين طبعاً، وبتروا من آخره قولي: "بإسناد صحيح"! كما قلت آنفاً مع ذكر السبب، وإذا عرف السبب بطل العجب!!
ولنعد الآن إلى القسم الآخر، وهو قد لا يختلف كثيراً عن القسم الأول، إلا في أنهم انفردوا بالحكم في بعضه، وتنوعت أخطاؤهم فيه، فأردت أن أجمل
—যেমন তারা দামেস্কে বলে—! তেমনি তারা আমার অন্যান্য কিতাব যেমন "সিলসিলা সহীহাহ", "যাঈফাহ", "ইরওয়াউল গালীল" এবং "সহীহুন সুনানি আরবাআ" ও অন্যান্য কিতাব থেকে উপকৃত হয়েছে। তারা খুব কমই এগুলোর নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ করে; আর যদি করেও থাকে, তবে তারা কিতাবটির লেখকের নাম উল্লেখ করে না, হয়তো অসাবধানতাবশত অথবা জেনেশুনেই এড়িয়ে যাওয়ার জন্য! না ভূমিকাভাগে, আর না টীকাতে! যেমন কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য (২/ ২৮১ এবং ২৮৩ - তাদের সংস্করণ): "এটি সহীহুন নাসায়ীতে দেখুন (পৃষ্ঠা ১/ ১৮৭)"।
এবং একটি হাদিসের পর তাদের বক্তব্য (১/ ৮৪ - তাদের সংস্করণ):
সহীহ। এভাবে, তারা না শব্দটিকে দ্বৈত বন্ধনীর মাঝে আবদ্ধ করেছে, আর না বর্তমান যুগের পরিভাষা অনুযায়ী এটি যে একটি কিতাব সেদিকে অন্তত কোনো ইঙ্গিত দিয়েছে, আর তারা এর লেখকের নামও উল্লেখ করেনি!
এরপর আমি তাদের এমন এক চুরির ঘটনা দেখতে পেলাম যা আগের চেয়েও জঘন্য হতে পারে। কারণ তারা আমার বাক্যটি হুবহু নকল করেছে এবং সনদের ব্যাপারে আমার করা সত্যায়ন বা সহীহ করার অংশটুকু কেটে বাদ দিয়েছে; যাতে তারা এটি জাহির করতে পারে যে তারা স্বাধীন আলেম এবং কারো অন্ধ অনুসারী নয়। অথচ এক্ষেত্রে তাদের অবস্থা হলো: {চিবুক পর্যন্ত, ফলে তাদের মাথা উপরে তুলে রাখা হয়েছে (অর্থাৎ তারা চরম ঔদ্ধত্যে নিমজ্জিত)}! তারা (৮ - সদাকাত/ ১৪/ ১০) এ বর্ণিত নিচের হাদিসটির ওপর মন্তব্যে বলেছে:
"হাসান (উত্তম), গ্রন্থকার তো অনেক দূর চলে গেছেন; হাদিসটি দারেমী (২/ ২৬১) এবং আহমদ (৫/ ৩০০ ও ৩০৮) বর্ণনা করেছেন।"
আর এটি ছিল হুবহু আমার বক্তব্য, তবে অবশ্যই 'হাসান' বলা ব্যতিরেকে। তারা এর শেষ থেকে আমার এই কথাটি কেটে দিয়েছে: "সহীহ সনদে"! যা আমি ইতিপূর্বে কারণ উল্লেখসহ বলেছিলাম। আর যখন কারণ জানা হয়ে যায়, তখন আর বিস্ময় থাকে না!!
এখন চলুন আমরা অন্য অংশে ফিরে যাই, যা প্রথম অংশের চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়। তবে পার্থক্য শুধু এই যে, তারা এর কিছু অংশে এককভাবে সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে এবং এতে তাদের ভুলগুলোও বিচিত্র ধরনের। তাই আমি সংক্ষেপে বলতে চাই—
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القول في ذلك باختصار شديد فأقول:
1 - التزموا تصحيح كل ما رواه الشيخان أو أحدهما تأدباً معهما فيما زعموا، فقالوا في "المقدمة" (1/ 17):
"ولم نقصد إساءة الأدب مع الشيخين أو أحدهما رحمهما الله تعالى .. ".
وفيه إشعار قوي بأنهم قادرون على نقدهما، ولكنهم لم يفعلوا تأدباً معهم! وكذبوا والله، فإنهم أجهل وأخس من أن يستطيعوا ذلك، ولكنه العتوّ والغلوّ كما في الحديث "عائل مستكبر"، والتشبع بما لم يعطوا، متسترين بالتظاهر بالأدب معهما! ورأيُنا في ذلك معروف، والنقد بالعلم والأسلوب الرفيع مما لا ينافي الأدب مطلقاً، خلافاً لما زعموا، وأين هم من قول مالك رحمه الله: (ما منا من أحد إلا ردَّ ورُدَّ عليه إلا صاحب هذا القبر صلى الله عليه وسلم)؟! وستأتي بعض الأمثلة على ذلك.
2 - تضعيفهم للأحاديث الصحيحة وبعض رواتها الثقات مع المخالفة للحفاظ والتعالي عليهم مثاله في (13 - قراءة القرآن/ 1/ الحديث 20).
3 - تصحيحهم للأحاديث الضعيفة والمنكرة، بصورة خاصة في ما بعد المجلد الأول، لأنهم اعتمدوا في أكثره على المجلد الأول من كتابي هذا "الصحيح"، فقلّت أخطاؤهم فيه -والحمد لله- ولو نسبياً. وانظر بعض الأمثلة في مقدمة "ضعيف الترغيب" / المقطع (3 - 5).
4 - إكثارهم من تحسين الأحاديث، وفيها جملة كبيرة صحيحة إما لذاتها أو لغيرها، وأخرى ضعيفة، وذلك لجهلهم بفن التصحيح والتضعيف، فيتحفظون
এই বিষয়ে অতি সংক্ষেপে বক্তব্য হলো, আমি বলছি:
১ - তারা তাদের দাবি অনুযায়ী শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা তাঁদের কোনো একজনের বর্ণিত সকল হাদিসকে সহিহ বলে গ্রহণ করার নীতি অবলম্বন করেছেন তাঁদের প্রতি আদব স্বরূপ। তারা "মুকাদ্দিমা" (১/ ১৭)-তে বলেছেন:
"আমরা শায়খাইন বা তাঁদের কোনো একজনের প্রতি আদব পরিপন্থী কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করিনি, আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন..."
এর মধ্যে এক জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে যে তারা তাঁদের সমালোচনা করতে সক্ষম, কিন্তু আদবের খাতিরে তারা তা করেননি! আল্লাহর কসম, তারা মিথ্যা বলেছে। তারা এতটাই অজ্ঞ ও হীন যে তা করার সামর্থ্যই তাদের নেই। বরং এটি হচ্ছে অবাধ্যতা ও বাড়াবাড়ি, যেমনটি হাদিসে এসেছে—"অহংকারী অভাবী"। যা তাদের দেওয়া হয়নি তা নিয়ে তারা পরিতৃপ্তির ভান করছে এবং তাঁদের প্রতি আদব প্রদর্শনের লোকদেখানো আবরণে নিজেদের ঢেকে রাখছে। এই বিষয়ে আমাদের অভিমত সুবিদিত। ইলম এবং উন্নত পন্থায় সমালোচনা করা আদবের মোটেও পরিপন্থী নয়, তাদের দাবির বিপরীতে। ইমাম মালিক (রহ.)-এর এই উক্তি থেকে তারা কোথায়: (আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার কথা প্রত্যাখ্যান করা হয় না অথবা সে অন্যের কথা প্রত্যাখ্যান করে না, কেবল এই কবরের অধিবাসী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত)? এ প্রসঙ্গে কিছু উদাহরণ সামনে আসবে।
২ - হাফেজগণের (মুহাদ্দিস) বিরোধিতা করে এবং তাঁদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে সহিহ হাদিস এবং কিছু নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীকে তাদের জয়িফ (দুর্বল) সাব্যস্ত করা। এর উদাহরণ রয়েছে (১৩ - কুরআন তিলাওয়াত/ ১/ হাদিস ২০)-এ।
৩ - জয়িফ (দুর্বল) ও মুনকার হাদিসসমূহকে তাদের সহিহ সাব্যস্ত করা, বিশেষ করে প্রথম খণ্ডের পরবর্তী অংশগুলোতে। কারণ তারা এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমার এই 'সহিহ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ওপর নির্ভর করেছে, ফলে আলহামদুলিল্লাহ—তুলনামূলকভাবে এতে তাদের ভুল কম হয়েছে। "যইফুত তারগীব"-এর মুকাদ্দিমায় অনুচ্ছেদ (৩ - ৫)-এ কিছু উদাহরণ দেখুন।
৪ - তাদের পক্ষ থেকে হাদিসসমূহকে অধিক হারে 'হাসান' সাব্যস্ত করা। এর মধ্যে এমন এক বড় অংশ রয়েছে যা 'সহিহ লি-যাতিহি' অথবা 'সহিহ লি-গাইরিহি', আবার অন্যগুলো জয়িফ। এটি হাদিস সহিহ ও জয়িফ করার শাস্ত্র সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার ফল, তাই তারা সতর্কতা অবলম্বন করে।
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بالتحسين تلطفاً منهم واحتياطاً إذا ظهر خطؤهم، من باب (أنصاف حلول)!! أو من باب (خالف تعرف)!!
5 - يذكرون التصحيح أو التحسين متظاهرين أنه منهم، والواقع أنه من غيرهم، ويكشف ذلك للباحث المتأمل، أنهم يُتبعون ذلك بنقل صريح من بعض الحفاظ كالهيثمي يعله بعلة قادحة تنافي ما ذكروا! والصواب معه في بعض الأحيان، وقد يضعفون الحديث وينقلون التصحيح!!
6 - يصدرون تخريجهم الحديث بقولهم: "صحيح" ويكون المؤلف قد عقّبه ببعض الروايات الأخرى أو الزيادات، وهي ضعيفة بخلاف أصله الذي قد يكون في البخاري، ولذلك صححوه، وجهلوا ضعف ذلك البعض فشملوه بالتصحيح، وهذا النوع قد تكرر عندهم، ولم يخل منه ما سموه بـ "تهذيب الترغيب"!! فلهم شبه بالمنذري في هذا؛ بل حالهم أسوأ بكثير كما سترى في المقدمة فقرة (د).
وانظر بعض الأمثلة في المقطع (7) من مقدمة "الضعيف".
7 - تضعيفهم للثقات من الرواة، وتوثيقهم للضعفاء منهم، وتضعيفهم للحديث الذي نقلوا تصحيحه عن جمع من الحفاظ، كل ذلك خبط عشواء!
8 - جهلهم بالرواة المتشابهة أسماؤهم، فيعلون الحديث بالضعيف منهم، وإنما هو الثقة! كما أنهم لا يفرقون بين حالتين لبعض الرواة الثقات الذين يُصَحَّح حديثهم تارة، ويُضَعَّف تارة أخرى، كالمختلطين مثلاً.
(1) ومن ذلك توهمهم أن كل (صنعاني) يماني!
9 - خلطهم الموقوف الصحيح مع المرفوع الضعيف، في التضعيف!
--------------------------------------------
তারা তাদের ভুল প্রকাশ পেলে দয়া ও সতর্কতা হিসেবে 'হাসান' (উত্তম) বলার মাধ্যমে (অর্ধ-সমাধান) অথবা 'বিরোধিতা করো, পরিচিতি পাবে' মূলনীতির আশ্রয় নেয়!!
৫ - তারা কোনো হাদিসকে সহিহ বা হাসান হিসেবে উল্লেখ করার সময় এমন ভান করে যেন এটি তাদের নিজস্ব গবেষণা, অথচ বাস্তবে এটি অন্যদের থেকে নেওয়া। একজন মনোযোগী গবেষকের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যখন তারা এর পরপরই আল-হাইসামির মতো কোনো হাফেজে হাদিসের উদ্ধৃতি দেয়, যিনি হাদিসটিতে এমন কোনো ত্রুটি বর্ণনা করেন যা তাদের দাবির পরিপন্থী! অনেক ক্ষেত্রে হাফেজ আল-হাইসামির বক্তব্যই সঠিক থাকে; এমনকি কখনো কখনো তারা কোনো হাদিসকে দুর্বল বলে গণ্য করার পরও তার সহিহ হওয়ার উদ্ধৃতি প্রদান করে!!
৬ - তারা হাদিসের তাখরিজ শুরু করে "সহিহ" শব্দ দিয়ে, অথচ লেখক হয়তো এরপরে এমন কিছু বর্ণনা বা অতিরিক্ত অংশ যুক্ত করেছেন যা দুর্বল—তার মূল হাদিসের বিপরীত যা হয়তো বুখারিতে রয়েছে এবং সে কারণেই তারা একে সহিহ বলেছেন। তারা ঐ অংশগুলোর দুর্বলতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে পুরোটাকেই সহিহ বলে গণ্য করেছে। এই বিষয়টি তাদের কাজে বারবার ঘটেছে এবং তাদের তথাকথিত "তাহজিবুত তারগিব" গ্রন্থটিও এটি থেকে মুক্ত নয়!! এ ক্ষেত্রে তাদের সাথে আল-মুনজিরির সাদৃশ্য রয়েছে; বরং তাদের অবস্থা আরও অনেক খারাপ, যা আপনি ভূমিকার (দ) অনুচ্ছেদে দেখতে পাবেন।
"আদ-দঈফ" (দুর্বল হাদিস সংকলন) গ্রন্থের ভূমিকার ৭ম পরিচ্ছেদে কিছু উদাহরণ দেখুন।
৭ - নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের দুর্বল বলা, দুর্বল বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য বলা এবং যে হাদিসের সহিহ হওয়ার কথা তারা একদল হাফেজে হাদিস থেকে নকল করেছে তাকেই পুনরায় দুর্বল বলা—এসবই উদ্দেশ্যহীন ও এলোমেলো কাজ!
৮ - সমজাতীয় বা একই নামের বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা; ফলে তারা কোনো দুর্বল বর্ণনাকারীর কারণে হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত মনে করে, অথচ সেই বর্ণনাকারী মূলত নির্ভরযোগ্য! এছাড়া তারা এমন কিছু নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর দুই অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না যাদের হাদিস কখনো সহিহ এবং কখনো দুর্বল হিসেবে গণ্য হয়, যেমন উদাহরণস্বরূপ 'মুখতালিত' (স্মৃতিভ্রম হওয়া) বর্ণনাকারীগণ।
(১) এর মধ্যে একটি হলো তাদের এই ধারণা যে প্রত্যেক 'সানআনী' মানেই ইয়েমেনি!
৯ - দুর্বল বলার ক্ষেত্রে সহিহ 'মাওকুফ' রেওয়ায়েতের সাথে দুর্বল 'মারফু' রেওয়ায়েতের মিশ্রণ ঘটানো!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
انظر المقطع (10) من المقدمة المشار إليها آنفاً.
10 - تناقضهم في الحديث الواحد، فيقوونه في موضع، ويضعفونه في موضع، وكذلك يفعلون في الراوي الواحد، بسبب التقليد وغفلتهم، وضعف حفظهم!
11 - إعلالهم الحديث براوٍ، وهو متابع في بعض المصادر التي عزوا الحديث إليها!
12 - أكثر أحاديث مطبوعتهم من "الترغيب" مصدرة بقولهم: "حسن" أو "حسن بشواهده" على الغالب، وتارة "حسن بشاهده"، وإنما لجأوا إلى هذه المرتبة مع ما فيها من الاضطراب والحط من مرتبة الكثير من الصحيح،
(1) إما لذاته، وإما لغيره، لجهلهم بمعرفتها بدقة وحسب القواعد العلمية المعروفة عند العلماء، وتحفظاً منهم كما بينت في الفقرة (4)، والمقصود هنا أنه في كثير من الأحيان يكون ذلك منهم (خبط عشواء في الليلة الظلماء)، إذ لا شواهد، بل ولا شاهد واحد، نعم قد يكون هناك شاهد، ولكنه شاهد قاصر، أي يشهد لبعض متن الحديث دون بعض، وهذا من دقائق هذا العلم، لذلك يغفل عنه كثير ممن له مشاركة في علم التخريج والتصحيح والتضعيف،
(2) وقد يكون الشاهد شاهداً تاماً، لكنه لا يصلح للشهادة لشدة ضعفه، وهو مما غفل عنه الحافظ المنذري كما ستراه في مقدمة الطبعة الأولى فقرة (12)، فماذا يكون حال من يقلده تقليداً أعمى؟! انظر المقطع (4 - 6) من المقدمة السابقة.
--------------------------------------------
উপরে উল্লিখিত ভূমিকা থেকে অনুচ্ছেদ (১০) দেখুন।
১০ - একই হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের স্ববিরোধিতা; তারা এক স্থানে সেটিকে শক্তিশালী বলেন, আবার অন্য স্থানে সেটিকে দুর্বল বলেন। একইভাবে তারা একজন বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও এমনটি করেন, যার কারণ হলো অন্ধ অনুকরণ, তাদের অসতর্কতা এবং তাদের মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা!
১১ - কোনো একজন বর্ণনাকারীর কারণে হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা, অথচ সেই বর্ণনাকারীর সমর্থনে এমন কিছু উৎস রয়েছে যেগুলোর দিকে তারা নিজেরাই হাদিসটিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন!
১২ - তাদের প্রকাশিত "আত-তারগিব"-এর অধিকাংশ হাদিস শুরু করা হয়েছে তাদের এই উক্তির মাধ্যমে: অধিকাংশ ক্ষেত্রে "হাসান" অথবা "হাসান বিশাওয়াতিহি" (সমর্থক বর্ণনাসমূহসহ হাসান), এবং কখনো কখনো "হাসান বিশাহিদিহি" (সমর্থক বর্ণনাসহ হাসান)। মূলত তারা এই স্তরের আশ্রয় নিয়েছেন—এতে অস্থিরতা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক সহিহ হাদিসের মান কমিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও,
(১) চাই তা স্বতন্ত্রভাবে সহিহ হোক কিংবা অন্য বর্ণনার মাধ্যমে সহিহ হোক; কারণ আলেমদের নিকট সুপরিচিত বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুযায়ী যথাযথভাবে সেগুলো চেনার ক্ষেত্রে তাদের অজ্ঞতা এবং তাদের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা, যেমনটি আমি অনুচ্ছেদ (৪)-এ বর্ণনা করেছি। এখানে উদ্দেশ্য হলো, অনেক সময় তাদের এই কাজ হয় (অন্ধকার রাতে লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়ানোর মতো), কারণ সেখানে কোনো সমর্থক বর্ণনা থাকে না, এমনকি একটিও থাকে না। হ্যাঁ, কখনো কখনো হয়তো সেখানে একটি সমর্থক বর্ণনা থাকে, কিন্তু সেটি অপূর্ণাঙ্গ; অর্থাৎ এটি হাদিসের মূল পাঠের কিছু অংশের সাক্ষ্য দেয়, সবটুকুর নয়। আর এটি এই শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, একারণেই যারা হাদিসের উৎস অনুসন্ধান এবং তা সহিহ বা দুর্বল সাব্যস্ত করার বিদ্যায় সম্পৃক্ত, তাদের অনেকেই এ ব্যাপারে অসতর্ক থাকেন।
(২) আবার কখনো সমর্থক বর্ণনাটি পূর্ণাঙ্গ হতে পারে, কিন্তু চরম দুর্বলতার কারণে সেটি সমর্থনের উপযুক্ত হয় না। এটি এমন বিষয় যা হাফেজ আল-মুনজিরিও খেয়াল করেননি, যেমনটি আপনি প্রথম সংস্করণের ভূমিকার ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে দেখতে পাবেন। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি তাকে অন্ধভাবে অনুকরণ করে তার কী দশা হবে?! পূর্ববর্তী ভূমিকার অনুচ্ছেদ (৪ - ৬) দেখুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
13 - ومن ذلك تفاهة تخريجهم لأحاديث الكتاب، إذ إن عامته تقليد له في غالب مصادره، وكل ما يخالفونه فيه أو بالأحرى يزيدون عليه إنما هي أرقامها! وأما سائرها فهم يغضون الطرف عنها لأنها تتطلب بحثاً وجهداً، هم ليسوا من أهله البتة، ولذلك فهم لا يستدركون شيئاً يذكر مما يكون قد فات المنذري عزوه إلى بعض المصادر التي هم يعزون إليها، ولئن فعلوا فسرقة منهم لجهد غيرهم!
(1)
14 - وإن من مخازيهم التي تدل على جهلهم وبالغ غفلتهم أن الحديث يكون معزواً في الكتاب لبعض المصادر المعروفة عندهم، فبدل أن يعزوه إليها بالأرقام كما هي عادتهم -يعزونه لمصادر أخرى بالأرقام هي لحديث آخر!
15 - ونحوه من عادتهم في الحديث المعاد أنهم يحيلون عليه برقمه المتقدم: "سبق تخريجه برقم (
… ) "، ولا يذكرون معه مرتبته! وهذا مما يدل على أنه لا يهمهم راحة القراء، وتقديم المعلومة إليهم ولو بلفظة واحدة: "صحيح سبق .. " ونحوه. ثم هم مع ذلك في كثير من الأحيان يخطئون خطأ فاحشاً بذكر الرقم، فإن القارئ إذا رجع إليه وجده حديثاً آخر!
16 - يستلزمون من قول المنذري وغيره في الحديث: "ورجاله رجال الصحيح" أو "رجاله ثقات"، أو " .. موثقون". الصحة تارة والحسن تارة، هكذا بلا ضابط لهم في ذلك (خبط عشواء)، رغم أنهم وقفوا على تنبيهي في مقدمة الطبعة الأولى أن ذلك ليس تصحيحاً كما سيأتي في البحث رقم (36)، فهو الجهل أو المكابرة، وقد يجتمعان! وانظر بعض الأمثلة في المقدمة الأخرى المقطع (7).
--------------------------------------------
১৩ - এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কিতাবটির হাদিসসমূহের তাখরিজের ক্ষেত্রে তাদের অসারতা; কেননা এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা অধিকাংশ উৎসের বর্ণনায় তার (মুনজিরীর) অন্ধ অনুকরণ করেছে। তারা যে ক্ষেত্রে তার বিরোধিতা করেছে, বা আরও স্পষ্টভাবে বললে, যা তারা বৃদ্ধি করেছে, তা কেবল নম্বরসমূহ! আর অবশিষ্ট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তারা চোখ বুজে থাকে, কারণ সেগুলো গবেষণা ও পরিশ্রমের দাবি রাখে—যার যোগ্য তারা মোটেও নয়। এই কারণেই মুনজিরী কোনো হাদিসকে এমন কিছু উৎসের দিকে সম্বন্ধ করতে যা ছেড়ে গিয়েছেন যেগুলোর হাওয়ালা তারা নিজেরাও প্রদান করছে, সে ক্ষেত্রে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি। আর যদি তারা তা করেও থাকে, তবে তা অন্যের প্রচেষ্টাকে চুরি করা ছাড়া আর কিছু নয়!
(১)১৪ - তাদের লজ্জাজনক বিষয়গুলোর মধ্যে একটি—যা তাদের মূর্খতা ও চরম গাফলতের প্রমাণ দেয়—তা হলো, কিতাবে কোনো হাদিস তাদের পরিচিত কোনো উৎসের দিকে সম্বন্ধ করা থাকা সত্ত্বেও, তাদের অভ্যাস অনুযায়ী নম্বরসহ সেই উৎসের হাওয়ালা দেওয়ার পরিবর্তে তারা নম্বরসহ অন্য কোনো উৎসের দিকে তা সম্বন্ধ করে দেয়, যা মূলত অন্য একটি হাদিসের নম্বর!
১৫ - এরই অনুরূপ হলো পুনরাবৃত্ত হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের অভ্যাস যে, তারা সেটির পূর্ববর্তী নম্বরের হাওয়ালা দিয়ে লেখে: "এর তাখরিজ পূর্বে নম্বর ( ... ) এ অতিক্রান্ত হয়েছে", কিন্তু তারা এর সাথে সেটির মান (সহিহ না জয়িফ হওয়া) উল্লেখ করে না! এটি প্রমাণ করে যে, পাঠকদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং একটি শব্দের মাধ্যমে হলেও তথ্য পৌঁছে দেওয়া—যেমন "সহিহ, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে..." ইত্যাদি—তাদের নিকট কোনো গুরুত্ব বহন করে না। তদুপরি তারা অনেক সময় নম্বর উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মারাত্মক ভুল করে বসে; ফলে পাঠক যখন সেই নম্বরে ফিরে যায়, তখন সেটিকে সম্পূর্ণ অন্য একটি হাদিস হিসেবে দেখতে পায়!
১৬ - মুনজিরী এবং অন্যদের কোনো হাদিস সম্পর্কে মন্তব্য: "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী" অথবা "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ্)" কিংবা "...নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকৃত"—এগুলো থেকে তারা কখনো 'সহিহ' হওয়া আবার কখনো 'হাসান' হওয়ার সিদ্ধান্ত টেনে নেয়। কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই তারা এলোপাথাড়িভাবে এটি করে। অথচ প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় আমার এই সতর্কবাণী তারা প্রত্যক্ষ করেছে যে, এটি (রাবীদের অবস্থা বর্ণনা করা) কোনো 'তাসহিহ' (সহিহ সাব্যস্তকরণ) নয়, যেমনটি ৩৬ নম্বর গবেষণায় সামনে আসবে। সুতরাং এটি হয় তাদের মূর্খতা নতুবা একগুঁয়েমি; আর কখনো উভয়টিরই সংমিশ্রণ! এর কিছু উদাহরণ অন্য ভূমিকার ৭ নং অনুচ্ছেদে দেখুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والأمثلة كثيرة أجتزئ هنا مثالاً واحداً، وهو قولهم في الحديث (5) الآتي في آخر (8 - الصدقات/ 7): "وقد صححه الهيثمي". وهو لم يزد على قوله: "ورجاله رجال الصحيح"!! وقد ذكرت بعض الأمثلة الأخرى في مقدمة "ضعيف الترغيب"، وهو تحت الطبع مع هذا، يسر الله نشرهما
(1).
17 - أوهام أخرى كثيرة لا يمكن حصرها سأكتفي بالإشارة إلى أرقامها، أو بعضها على الأقل، والرقم الذي فوقه خط خاص بما كان عجيباً أو فاحشاً منها:
([15] و 38 و [116] و 153 و [169] و 175 و [194] و 232 و 329 و 339 و 351 و 367 و 396 و 409 و 434 و 481 و 492 و 514 و 521 و 554 و 588 و 598 و 604 و 656 و 691 و 735 و 755 و 766 و 793 و 845 و 862 و 911 و 919 و 939 و 942 و 1017 و 1042 و 1043 و 1049 و 1064 و 1086 و 1091). وانظر المقطع (10) من المقدمة الأخرى.
وتحت أحاديث هذه الأرقام يجد القراء ما أشرت إليه من الأوهام، اكتفيت بالإشارة إليها دون توضيح نماذجها كما فعلت في التي قبل هذه، ولقد كنت أود أن أضرب للنماذج المذكورة كلها بعض الأمثلة، ولكنني شعرت أن المقدمة توسعت وطالت أكثر مما أردت، وفيما ذكر غنية وكفاية لكل مستبصر.
وهناك نماذج أخرى مما ينكر على المعلقين الثلاثة، سيأتي بيانها إن شاء الله تعالى في التعليق على أحاديث القسم الآخر من الكتاب، مع الإشارة إلى أنواعها في جوامع من الكلم في مقدمته كما فعلت هنا إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
উদাহরণ অনেক, আমি এখানে কেবল একটি উদাহরণ উল্লেখ করছি, আর তা হলো (৮ - সদকা/ ৭)-এর শেষে বর্ণিত ৫ নম্বর হাদিস সম্পর্কে তাদের উক্তি: "হায়সামি একে সহিহ বলেছেন।" অথচ তিনি কেবল এটুকু বলেছিলেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী"!! আমি "যঈফুত তারগীব"-এর ভূমিকায় আরও কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছি, যা বর্তমানে এটির সাথেই মুদ্রণাধীন রয়েছে। আল্লাহ এই দুটির প্রকাশনা সহজ করে দিন
(১)।
১৭ - আরও অনেক ভ্রান্তি রয়েছে যা গণনা করা সম্ভব নয়। আমি কেবল সেগুলোর নম্বর অথবা অন্তত কিছু নম্বরের প্রতি ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হবো। যে নম্বরের উপরে রেখা (আন্ডারলাইন) রয়েছে তা বিশেষ করে সেগুলোর জন্য যা ছিল আশ্চর্যজনক অথবা অত্যন্ত জঘন্য:
([১৫] এবং ৩৮ এবং [১১৬] এবং ১৫৩ এবং [১৬৯] এবং ১৭৫ এবং [১৯৪] এবং ২৩২ এবং ৩২৯ এবং ৩৩৯ এবং ৩৫১ এবং ৩৬৭ এবং ৩৯৬ এবং ৪০৯ এবং ৪৩৪ এবং ৪৮১ এবং ৪৯২ এবং ৫১৪ এবং ৫২১ এবং ৫৫৪ এবং ৫৮৮ এবং ৫৯৮ এবং ৬০৪ এবং ৬৫৬ এবং ৬৯১ এবং ৭৩৫ এবং ৭৫৫ এবং ৭৬৬ এবং ৭৯৩ এবং ৮৪৫ এবং ৮৬২ এবং ৯১১ এবং ৯১৯ এবং ৯৩৯ এবং ৯৪২ এবং ১০১৭ এবং ১০৪২ এবং ১০৪৩ এবং ১০৪৯ এবং ১০৬৪ এবং ১০৮৬ এবং ১০৯১)। এবং অন্য ভূমিকার ১০ নম্বর অনুচ্ছেদটি দেখুন।
এই নম্বরযুক্ত হাদিসগুলোর নিচেই পাঠকগণ আমার ইঙ্গিতকৃত ভ্রান্তিগুলো খুঁজে পাবেন। আমি পূর্বের মতো এগুলোর ধরন বিস্তারিত ব্যাখ্যা না করে কেবল ইঙ্গিতের ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি। আমি উল্লিখিত সকল নমুনার জন্য কিছু উদাহরণ দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি অনুভব করলাম যে ভূমিকাটি আমার আকাঙ্ক্ষার চেয়ে বেশি বিস্তৃত ও দীর্ঘ হয়ে গেছে। আর যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা-ই যে কোনো চক্ষুষ্মান ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট।
আরও কিছু নমুনা রয়েছে যা ওই তিন জন টীকাকারের ক্ষেত্রে আপত্তিযোগ্য, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা কিতাবের অন্য অংশের হাদিসগুলোর ওপর টীকায় বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে। আর এখানে যেভাবে করেছি, সেভাবে ইনশাআল্লাহ তাআলা সেই অংশের ভূমিকার সংক্ষিপ্ত আলোচনাতেও সেগুলোর প্রকারভেদ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والله تعالى أرجو أن ينفع بها القراء بعامة وأولئك الثلاثة بخاصة، وأن يعودوا إلى رشدهم، وأن يعتمدوا بعد الله على أنفسهم، وأن يجِدّوا في طلب العلم، حتى يصيروا علماء ينتفع الناس بهم، ولا يستعجلوا ويتزبَّبوا. فقديماً قالوا: (من استعجل الشيء قبل أوانه ابتلي بحرمانه)، وأن يكون طلبهم العلم لوجه الله لا يريدون به جزاء ولا شكوراً، ولذلك فإني أختم هذه المقدمة بهذه الدعوة:
اللهم اجعل عملي كله صالحاً، واجعله لوجهك خالصاً، ولا تجعل لأحد فيه شيئاً.
وصلى الله وبارك على محمد وآله وصحبه أجمعين.
عمان/ 19 صفر سنة 1418 هـ
وكتب
محمد ناصر الدين الألباني
আর আমি মহান আল্লাহর নিকট আশা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে সাধারণভাবে পাঠকদের এবং বিশেষভাবে সেই তিনজনকে উপকৃত করেন, এবং তারা যেন তাদের সুবুদ্ধিতে ফিরে আসে, আর আল্লাহর পর যেন নিজেদের ওপর নির্ভর করে এবং জ্ঞান অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করে, যাতে তারা এমন আলিমে পরিণত হতে পারে যাদের মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হবে; তারা যেন তাড়াহুড়ো না করে এবং পাকার আগেই কিশমিশ হয়ে না যায়। কেননা প্রাচীনকালে বলা হতো: (যে ব্যক্তি কোনো কিছু সময়ের আগে পেতে তাড়াহুড়ো করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়), আর তাদের জ্ঞান অন্বেষণ যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, যার বিনিময়ে তারা কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা কামনা করবে না। আর তাই আমি এই ভূমিকাটি এই দোয়ার মাধ্যমে শেষ করছি:
হে আল্লাহ! আমার এই পুরো আমলটিকে সৎ কাজ হিসেবে কবুল করুন এবং একে একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করুন, আর এতে অন্য কারো জন্য কোনো অংশ রাখবেন না।
আর মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
আম্মান/ ১৯ সফর, ১৪১৮ হিজরি
লিখেছেন
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
(খণ্ড: ১)
সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثالثةالحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، وصلى الله على محمد، وعلى آله وصحبه، ومن اتبع هداهم إلى يوم الدين.
أما بعد، فبين يدَي القراء الكرام الطبعة الثالثة من هذا الكتاب القيِّم "صحيح الترغيب والترهيب"، وهي تمتاز عن الطبعتين السابقتين بمزايا جمة، أهمها اثنتان:
الأولى: أنني نقّحتها، وحذفت منها بعض الأحاديث التي تبيّنَ لي مع الزمن أنها بالكتاب الآخر أولى: "ضعيف الترغيب والترهيب"، يسّر الله لنا نشره، وهذه أرقامها في الطبعتين المشار إليهما: (43 و 53 و 150 و 645 و 851 و 1041 و 1069 و 1071).
والحديث الأول منها يعود الفضل في تنبيهي لضعفه إلى الشيخ الفاضل بكر بن عبد الله أبو زيد في "جزء كيفية النهوض في الصلاة" (ص 86)، أقول هذا قياماً بواجب الاعتراف بالفضل، وتجاوباً مع قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يشكر الله من لا يشكر الناس"، وهذا لا ينافي أنني أخالفه في كثير مما كتب في هذا "الجزء"، وبخاصة في تضعيفه لحديث العجن في النهوض، وقد رددت عليه، وبينت خطأه في التضعيف في بحث واسع أودعته في "تمام المنة" (ص 191 - 201)، طبع عمان، وسيكون بين يدي القراء قريباً إن شاء الله تعالى.
وأما الحديث الثاني منها (53)، فهو مضعّف في "ظلال الجنة" (39)،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের হেদায়েতের অনুসরণ করবেন তাদের সকলের উপর।
অতঃপর, সম্মানিত পাঠকদের সামনে এই মূল্যবান গ্রন্থ "সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব"-এর তৃতীয় সংস্করণ উপস্থিত। এটি পূর্ববর্তী দুই সংস্করণের তুলনায় অনেক বৈশিষ্ট্যে অনন্য, যার মধ্যে প্রধান দুটি হলো:
প্রথমত: আমি এটি পরিমার্জন করেছি এবং এমন কিছু হাদিস বাদ দিয়েছি যা সময়ের সাথে সাথে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে সেগুলো অন্য কিতাব অর্থাৎ "যঈফ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব"-এ থাকাই অধিক সমীচীন। আল্লাহ যেন আমাদের জন্য সেটি প্রকাশ করা সহজ করে দেন। উল্লিখিত দুই সংস্করণে সেই হাদিসগুলোর নম্বর হলো: (৪৩, ৫৩, ১৫০, ৬৪৫, ৮৫১, ১০৪১, ১০۶৯ এবং ১০৭১)।
এর মধ্যে প্রথম হাদিসটির দুর্বলতার বিষয়ে আমাকে সজাগ করার কৃতিত্ব শ্রদ্ধেয় শায়খ বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যাইদ-এর, যা তিনি তাঁর "জুযউ কাইফিয়্যাত আন-নুহূদ ফিস সালাহ" (পৃষ্ঠা ৮৬)-এ উল্লেখ করেছেন। আমি এই কথাটি বলছি অনুগ্রহের স্বীকৃতি প্রদানের দায়িত্ব পালন স্বরূপ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর প্রতি সাড়া দিয়ে যেখানে তিনি বলেছেন: "যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে না।" তবে এটি এই বিষয়ের পরিপন্থী নয় যে, আমি উক্ত পুস্তিকায় তাঁর লিখিত অনেক বিষয়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করি, বিশেষ করে সালাতে দাঁড়ানোর সময় 'হাত মুষ্টিবদ্ধ করা' (আজিন) সংক্রান্ত হাদিসটিকে তাঁর দুর্বল বলার ক্ষেত্রে। আমি তাঁর জবাব দিয়েছি এবং দুর্বল আখ্যায়িত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভুল একটি বিস্তারিত গবেষণায় স্পষ্ট করেছি যা আমি "তামামুল মিন্নাহ" (পৃষ্ঠা ১৯১ - ২০১, আম্মান সংস্করণ)-এ সন্নিবেশিত করেছি। ইনশাআল্লাহ তা শীঘ্রই পাঠকদের হাতে পৌঁছাবে।
আর এর মধ্যে দ্বিতীয় হাদিসটি (৫৩), যা "যিলালুল জান্নাহ" (৩৯)-এ দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে,