(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: -)
ثمر الثمام شرح «غاية الإحكام في آداب الفهم والإفهام»   (الأمير محمد السنباوي المالكي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: ثمر الثمام شرح «غاية الإحكام في آداب الفهم والإفهام»

المؤلف: محمد بن محمد بن أحمد بن عبد القادر بن عبد العزيز السَّنَباوي الأزهري، المعروف بالأمير (ت 1232هـ)

المحقق: عبد الله سليمان العتيق

الناشر: دار المنهاج للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م

عدد الصفحات: 151

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1436

থামারুস সুমাম শারহ «গায়াতুল ইহকাম ফি আদাবিল ফাহম ওয়াল ইফহাম»   (আল-আমীর মুহাম্মাদ আস-সিনবাওয়ী আল-মালিকী)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি


গ্রন্থ: থামারুস সুমাম শারহ «গায়াতুল ইহকাম ফি আদাবিল ফাহম ওয়াল ইফহাম»

লেখক: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন আব্দুল আজিজ আস-সিনবাওয়ী আল-আযহারী, আল-আমীর নামে পরিচিত (মৃত্যু ১২৩২ হি.)

সম্পাদক: আব্দুল্লাহ সুলাইমান আল-আতিক

প্রকাশক: দারুল মিনহাজ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হি. - ২০০৯ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযায়িরী

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: -)
ثَمَرُ الثمامِ

شَرحُ «غَايَة الإحكَامِ فِي آدَابِ الْفَهمِ وَالإِفهَامِ»

 

تأليف

الإِمَام الْعَلامَة الْمُحَقِّق

مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبدِ الْقَادِر السَّنَبَاوي الْأَزْهَرِي الْمَالِكِي الشَّافِعِي الْمَعْرُوف بـ " الْأَمِير الْكَبِير " رَحمَه الله تَعَالَى (1154 هـ - 1232 هـ)

 

عُنِيَ بِهِ

عبد الله سُلَيْمَان الْعَتِيق

 

بمساهمة

اللجنة العلمية بمركز دراسات الْمِنْهَاج للدراسات والنشر

برئاسة أنس مُحَمَّد عدنان الشّرقاوي

 

دَار الْمِنْهَاج
ছামারুছ ছুমাম

«গায়াতুল ইহকাম ফি আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম»-এর ব্যাখ্যা (شرح)

 

গ্রন্থনায়

ইমাম, আল্লামা এবং গবেষক (المحقق)

মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল কাদির আস-সানাবাউয়ি আল-আজহারি আল-মালিকি আশ-শাফিঈ, যিনি "আল-আমির আল-কাবির" হিসেবে সুপরিচিত, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন (১১৫৪ হি. - ১২৩২ হি.)

 

সম্পাদনা ও তত্ত্বাবধানে

আব্দুল্লাহ সুলাইমান আল-আতিক

 

সহযোগিতায়

আল-মিনহাজ সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যান্ড পাবলিশিং-এর বৈজ্ঞানিক কমিটি

আনাস মুহাম্মদ আদনান আশ-শারকাউয়ির সভাপতিত্বে

 

দারুল মিনহাজ
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌بين يدي الكتاب

الحمد لله الذي أبدع الإنسان وعلَّمه البيان، جوداً وفضلاً منه وإحساناً.

والصلاة والسلام على سيد الوجود أفصح من نطق بالضاد وأصدقهم لهجة وبياناً، وعلى آله الأطهار، وصحابته الأبرار، وتابعيهم بإحسان.

وبعد:

فهاك كتاباً فريداً في بابه، نافعاً أيَّما نفعٍ لطلابه، نسجتْ سطورَهُ يراعتان مباركتان، لعالِمَينِ محققَين مدققَين، العلامة المعمَّر عمر الطَّحْلاوي، وأمير العلماء محمد الأمير السَّنَباوي المالكي.

متعاصرين كانت لهما علوم العربية على طرف الثُّمام، فَحْلَينِ تتبعتْ آثارهما الأنام.

خطَّ الأوَّلُ " غاية الإحكام في آداب الفهم والإفهام "، فشرحها الثاني شرحاً رائقاً مفيداً بـ " ثمر الثُّمام ".

والسبب في تفرُّده هو موضوعه الذي يعالج مسألة من أهم المسائل الحيويَّة المتصلة بالنص، وهي قضيّة فهمه وتفهيمه، وطرائق الوصول
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গ্রন্থের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাব প্রকাশের ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন; এটি তাঁর পক্ষ থেকে এক মহান দান, অনুগ্রহ ও ইহসান স্বরূপ।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক অস্তিত্বের সরদার, আরবির বিশুদ্ধতম ভাষী এবং কথা ও বর্ণনায় সর্বাধিক সত্যবাদী মহানবী (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র বংশধর, নেককার সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।

অতঃপর:

এখানে আপনার সম্মুখে উপস্থাপিত হচ্ছে স্বীয় বিষয়ের এক অনন্য গ্রন্থ, যা এর শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর পঙক্তিগুলো দুইজন বরকতময়, গবেষক ও সূক্ষ্মদর্শী আলেমের কলমে নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে; তাঁরা হলেন—সুদীর্ঘায়ু প্রাপ্ত (المعمر) আল্লামা উমর আত-তাহলাভি এবং উলামাদের সম্রাট মুহাম্মদ আল-আমীর আস-সানাবাউয়ি আল-মালিকি।

তাঁরা ছিলেন সমসাময়িক, যাঁদের নিকট আরবি ভাষা ও সাহিত্যের জ্ঞান ছিল অত্যন্ত সহজলভ্য; তাঁরা ছিলেন এমন দুই বিদগ্ধ পণ্ডিত যাঁদের পদাঙ্ক জগতবাসী অনুসরণ করে।

প্রথমজন রচনা করেছেন "গয়্যাতুল ইহকাম ফি আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম", আর দ্বিতীয়জন সেটির একটি মনোমুগ্ধকর ও ফলপ্রসূ ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যার নাম "সামারুত সুমাম"।

এই গ্রন্থটির অনন্য হওয়ার কারণ হলো এর বিষয়বস্তু, যা নস বা মূলপাঠের (النص) সাথে সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জীবন্ত একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে; আর তা হলো—কোনো বিষয় বোঝার ও অন্যকে বোঝানোর পদ্ধতি এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর উপায়সমূহ।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ৮)
إلى مرادات كاتبه، ضمن بحث مقتضب قل نظيره بهذه الطريقة في المكتبة العربية.

إذ يقدم أبرز المحطات التي يجب الوقوف عندها قبل إمرار العبارة، ويبين أهم الأخطاء التي يجب التحرز عنها كيلا نردَّ العبارة الصحيحة متوهمين خطأها.

فالعجلةُ في رد النصوص والحكم عليها بالخطإ آفةٌ بشعة، ومظاهرها اليوم في ازدياد مستمر، وأهل العلم في شكاية من أولئك المتهورين الذين يسارعون في نبذ كل ما لا يفهمون ظانين بصاحبه ظن السوء، دون أدنى لفتةِ عتبٍ على أنفسهم التي تحتمل كغيرها الخطأ الناجم عن سوء الفهم كما احتملت العبارة الخطأ الناجم عن سوء الإفهام.

إنها بليَّة عمَّت حتى أعمت، ولا بد لنا من كبح جماحها الهائج، وليس لكبحها دواء أنجع وأنجح من تبصير طالب العلم بحقيقة طلب العلم، ومحاربة ظاهرة التهجين العلمي التي أخذت بالانتشار، فكان من آثارها أن نصاب بأمثال تلك السرطانات المخيفة.

فما إن نسمع بفلان أنه أخذ بطلب العلم .. حتى نسمع بعد غفوة خاطفة يقدم للعامة عالماً جهبذاً، ومفتياً لوذعياً، وداعية أخَّاذاً؟!!!

أما والذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام، لن تفلح أمة رضيت بهذا الهزال العلمي والتقهقر الثقافي إذ تُملِّكُ أمرها أطفال العلم وتناديهم بنعوت الجلال.
লেখকের অভিপ্রায় অনুধাবনের ক্ষেত্রে এটি একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা, যা আরবি পাঠাগারে এই পদ্ধতিতে খুব কমই দেখা যায়।

কারণ এটি এমন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা বিরতিস্থলগুলো উপস্থাপন করে যা কোনো বক্তব্য বা পাঠ গ্রহণ করার পূর্বে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি এটি সেই সব প্রধান ভুলগুলোকেও চিহ্নিত করে যা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক, যাতে আমরা কোনো সঠিক (صحيح) বক্তব্যকে ভুল মনে করে প্রত্যাখ্যান (رد) না করি।

মূল পাঠ বা নস (نص) প্রত্যাখ্যান (رد) করার ক্ষেত্রে এবং সেটির ওপর ভুল হওয়ার রায় (حكم) দেওয়ার ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করা এক ভয়াবহ ব্যাধি। বর্তমান সময়ে এর প্রকোপ ক্রমাগত বাড়ছে। বিজ্ঞ আলেম সমাজ আজ সেই সব হঠকারীদের নিয়ে অভিযোগ করছেন যারা নিজেদের বোধগম্য নয় এমন সব কিছুকেই বর্জন করতে দ্রুত ধাবিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি কুধারণা পোষণ করে। তারা নিজেদের প্রতি বিন্দুমাত্র তিরস্কারের দৃষ্টি দেয় না, অথচ অন্যদের মতোই তাদের নিজেদের ভুল বোঝার কারণে যেমন ভ্রান্তি হতে পারে, তেমনি কোনো বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপিত না হওয়ার কারণেও ভুল হতে পারে।

এটি এমন এক ব্যাপক বিপর্যয় যা সবকিছুকে আচ্ছন্ন করে অন্ধ করে দিয়েছে। এই লাগামহীন উন্মাদনাকে দমন করা আমাদের জন্য অপরিহার্য। আর এটি দমনের জন্য জ্ঞান অন্বেষণকারীকে (طالب العلم) ইলম অন্বেষণের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে সচেতন করা এবং বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ইলমি পাণ্ডিত্য জাহির করার প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই করার চেয়ে অধিক কার্যকর ও সফল কোনো প্রতিকার নেই। এই ব্যাধির ফলেই আমরা বর্তমানে এই জাতীয় ভয়াবহ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছি।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যখনই আমরা কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে শুনি যে সে ইলম অন্বেষণ শুরু করেছে, তার সামান্য সময় পরেই দেখা যায় তাকে সাধারণ মানুষের সামনে একজন প্রাজ্ঞ আলেম (عالم), একজন তীক্ষ্ণধী মুফতি (مفتي) এবং একজন আকর্ষণীয় দায়ী (داعية) হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে!

শপথ সেই মহান সত্তার, যিনি আসমান ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন! এমন কোনো জাতি কখনো সফল হবে না যারা এই ইলমি দেউলিয়াত্ব এবং সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতাকে মেনে নিয়েছে; যেখানে তারা ইলমের শিশুদের হাতে কর্তৃত্ব সঁপে দেয় এবং তাদেরকে মহিমান্বিত সব উপাধিতে ভূষিত করে।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ৯)
(ب)

و" ثمر الثُّمام " عُودٌ في عجلة العجلة يحاول أن يبطىء من سيرها، ويعلِّمُ فنَّ تأمُّلِ العبارات، وتقليب النظر فيها، وفحصها وتمحيص أمرها، وإعطائها الوقت اللازم قبل قبولها أو ردِّها.

كان ذلك عبر مسلك علمي ينبِّهُ طالبَ الحق لضرورة الرجوع إلى الأمهات وفهم المدلولات، وقراءة الأصول قراءة تحقيق، مع إضافات غالية نفيسة، بسطتها بنان العلامة الأمير رحمه الله تعالى.

 

(ج)

ومن اللازم قراءة " ثمر الثُّمام " بوعي واستيعاب، والأخذ بنصائحه ووصاياه في العودة إلى مآخذ العلم وأصوله، فمن صدر عن الأصول تصدَّر، ومن رضي بهزيل فهمه وقطع نسبته هوى وخسر.

 

(ر)

ولقد نالت دار المنهاج سعادة غامرة عندما قام الأستاذ عبد الله العتيق بتقديم " ثمر الثمام " لها ليخرج إلى عالم النور، فزادت إلى عنايته عناية، حيث استقدمت المزيد من النسخ الخطية لكل من " غاية الإحكام " و " ثمر الثمام "، ودفعت به إلى لجنتها العلمية، التي أعادت مقابلته ودراسته، وركَّنتْ له المقدمات المناسبة من ترجمة لمؤلِّفَيْهِ، وكلمة عن موضوعه، وحلَّته بمزيدٍ مِنَ التعليقات العلمية المفيدة.
(ب)

এবং "সামারুত সুমাম" হলো দ্রুত গতির চাকার মাঝে এমন একটি বাধা যা এর গতিকে ধীর করার চেষ্টা করে। এটি পংক্তিমালা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার শিল্প, তাতে বারবার দৃষ্টিপাত করা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিষয়টিকে যাচাই-বাছাই করা এবং তা গ্রহণ বা বর্জনের পূর্বে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার শিক্ষা প্রদান করে।

এটি ছিল একটি ইলমী পদ্ধতির মাধ্যমে যা সত্য অন্বেষীকে মূল গ্রন্থসমূহের (الأمهات) দিকে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা, অর্থ ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করা এবং মূল উৎসগুলো (الأصول) সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের (تحقيق) সাথে পাঠ করার বিষয়ে সচেতন করে। এর সাথে রয়েছে অত্যন্ত মূল্যবান ও অনন্য সংযোজনী, যা আল্লামা আল-আমীর (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

(জ)

সচেতনতা ও পূর্ণ উপলব্ধির সাথে "সামারুত সুমাম" পাঠ করা এবং ইলমের উৎস ও মূলনীতির (الأصول) দিকে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এর নসিহত ও অসিয়তগুলো গ্রহণ করা অপরিহার্য। কেননা যে ব্যক্তি মূলনীতিসমূহ (الأصول) থেকে জ্ঞান আহরণ করে, সেই নেতৃত্বের আসনে আসীন হয়; আর যে ব্যক্তি নিজের সংকীর্ণ বুঝ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে এবং মূলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, সে প্রবৃত্তি তাড়িত হয় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

(র)

দার আল-মিনহাজ অত্যন্ত আনন্দিত ও সৌভাগ্যবান বোধ করেছিল যখন উস্তাদ আবদুল্লাহ আল-আতিক "সামারুত সুমাম" গ্রন্থটি আলোর মুখ দেখার জন্য তাদের নিকট পেশ করেন। ফলে তাদের পূর্বের যত্নের সাথে আরও যত্ন যুক্ত হয়; তারা "গয়াতুল ইহকাম" এবং "সামারুত সুমাম" উভয় গ্রন্থের আরও কিছু পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে এবং তা তাদের ইলমী কমিটির কাছে ন্যস্ত করে। কমিটি পুনরায় এর পাণ্ডুলিপিগুলোর মাঝে পাঠ-তুলনা ও গবেষণা সম্পন্ন করে, উভয় লেখকের জীবনীসহ উপযুক্ত ভূমিকা তৈরি করে, এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা পেশ করে এবং প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক টীকা-টিপ্পনী যুক্ত করে একে সুশোভিত করে।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১০)
فكان لدار المنهاج يد بيضاء في خدمة الكتاب تضاف لما صنعه الأستاذ العتيق.

وفَّى الله تعالى جميع العاملين فيه خيراً وأجراً سائلين المولى الكريم النفع العميم، والإخلاص في القول والعمل إنه سبحانه القريب المجيب.

الناشر
বইটির খিদমতে দারুল মিনহাজের এক উজ্জ্বল অবদান রয়েছে, যা উস্তাদ আল-আতিকের সম্পাদিত কাজের সাথে একটি বিশেষ সংযোজন।

আল্লাহ তাআলা এতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীকে উত্তম কল্যাণ ও প্রতিদান দান করুন। আমরা মহান রবের নিকট এর ব্যাপক উপকারিতা এবং কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা কামনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী ও প্রার্থনা কবুলকারী।

প্রকাশক
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌ترجمة

العلامة الفقيه المحدث

عمر بن علي بن يحيى الطحلاوي

رحمه الله تعالى

صاحب المتن: " غاية الإحكام في آداب الفهم والإفهام "

 

‌‌اسمه ونسبه

الشيخ الإمام الثبت، العلامة الفقيه المحدث: عمر بن علي بن يحيى بن مصطفى الطحلاوي، المالكي، الأزهري.

ونسبته الطحلاوي - كما ذكر العلامة الزبيدي في " التاج " - هي إلى قرية تدعى: (طحلاء)، مشرفة على النيل من أعمال الشرقية، وذكر الشارح في كتابنا هذا أنها نسبة إلى قرية تدعى: طحلة.

ونعته المؤرخ الفاضل المرادي بالمعمر (1)، ولم تذكر سنة ولادته، غير أنه في عام (1147 هـ) كان له شأن عظيم وصل إلى دار السلطنة (2).

 

‌‌شيوخه

للعلامة الطحلاوي " ثبت " نسبه له بصري المكناسي في " ثبته "، وحلاه الحافظ الزبيدي في " معجمه " بالإمام الثبت العلامة (3).

--------------------------------------------

(1) سلك الدرر (3/ 193).

(2) عجائب الآثار (2/ 256).

(3) فهرس الفهارس (1/ 468).
‌‌জীবনী

যুগশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, ফকিহ ও হাদিস বিশারদ (محدث)

উমর বিন আলী বিন ইয়াহইয়া আত-তাহলাওয়ী

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

মূল পাঠের (متن) রচয়িতা: "গায়াতুল ইহকাম ফি আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম"

 

‌‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

শায়খ, ইমাম, সুদৃঢ় বর্ণনাকারী (ثبت), যুগশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত, ফকিহ ও হাদিস বিশারদ (محدث): উমর বিন আলী বিন ইয়াহইয়া বিন মুস্তফা আত-তাহলাওয়ী, আল-মালিকি, আল-আজহারি।

তাঁর 'তাহলাওয়ী' নিসবতটি (সম্বন্ধ) — যেমনটি আল্লামা জুবাইদি তাঁর "তাজ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন — (তাহলা) নামক একটি গ্রামের দিকে সম্বন্ধিত, যা শারকিয়া অঞ্চলের নীল নদের তীরে অবস্থিত। অত্র গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন যে, এটি (তাহলাহ) নামক একটি গ্রামের দিকে নিসবত।

মর্যাদাবান ঐতিহাসিক আল-মুরাদি তাঁকে দীর্ঘজীবী (معمر) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর জন্ম সাল উল্লেখ করা হয়নি, তবে ১১৪৭ হিজরি সনে তাঁর বিশেষ প্রভাব ও মর্যাদা ছিল যা সুলতানের দরবার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকগণ

আল্লামা তাহলাওয়ীর একটি "সাবেত" (ثبت) [সনদ ও শিক্ষক তালিকা] রয়েছে, যা বসরি আল-মিকনাসি তাঁর "সাবেত"-এ তাঁর নামে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ (حافظ) জুবাইদি তাঁর "মু'জাম" গ্রন্থে তাঁকে ইমাম, সুদৃঢ় বর্ণনাকারী (ثبت) ও যুগশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত হিসেবে ভূষিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সিলকুদ দুরার (৩/ ১৯৩)।

(২) আজাইবুল আসার (২/ ২৫৬)।

(৩) ফিহরিসুল ফাহারিস (১/ ৪৬৮)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১২)
تفقه على الشيخ سالم النفراوي، وحضر دروس الشيخ منصور المنوفي، والشهاب ابن الفقيه، والشيخ محمد الصغير الورزازي، والشيخ أحمد الملوي، والشبراوي، والبليدي.

وسمع الحديث عن الشهابين أحمد البابلي والشيخ أحمد العماوي، وأبي الحسن علي ابن أحمد الحريشي الفاسي (1).

وأخذ عن العلامة العدوي الصعيدي كما ذكره في كتابنا هذا وأشار إلى تلمذته عليه (2).

 

‌‌فضله وعلمه

يقول المؤرخ الجبرتي رحمه الله: (وتمهر في الفنون، ودرَّس بالجامع الأزهر وبالمشهد الحسيني، واشتهر أمره، وطار صيته، وأشير إليه بالتقدم في العلوم.

وتوجه إلى دار السلطنة في مهم اقتضى لأمراء مصر، فقوبل بالإجابة، وألقا هناك دروساً في الحديث في آيا صوفيا، وتلقى عنه أكابر العلماء هناك في ذلك الوقت، وصُرف معززاً مقضياً حوائجه، وذلك في سنة سبع وأربعين ومئة وألف.

ولما تمَّمَ عثمان كتخدا القازدغلي بناء مسجده بالأزبكية في تلك السنة .. تعين المترجَم للتدريس فيه، وذلك قبل سفره إلى الديار

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (2/ 256).

(2) انظر (ص 122).
তিনি শেখ সালিম আল-নাফরাবি-র নিকট ফিকহ (تفقه) শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং শেখ মানসুর আল-মানুফি, শিহাব ইবনে আল-ফকিহ, শেখ মুহাম্মদ আল-সগির আল-ওয়ারজাজি, শেখ আহমদ আল-মাল্লাবি, আশ-শাবরাবি এবং আল-বুলিদি-র পাঠদানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি দুই শিহাব আহমদ আল-বাবিলি ও শেখ আহমদ আল-আমাবি এবং আবুল হাসান আলি ইবনে আহমদ আল-হারিশি আল-ফাসি থেকে হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন (১)।

তিনি আল্লামা আল-আদাবি আল-সাইদি-র নিকট থেকেও জ্ঞান অর্জন করেছেন, যেমনটি তিনি আমাদের এই কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর নিকট ছাত্রত্বের (تلمذته) প্রতি ইঙ্গিত করেছেন (২)।

 

‌‌তাঁর মর্যাদা ও ইলম

ঐতিহাসিক আল-জাবারতি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শিতা লাভ করেন এবং আল-আজহার মসজিদ ও আল-মাশহাদ আল-হুসাইনিতে পাঠদান করেন। তাঁর বিষয়াদি প্রসিদ্ধি লাভ করে, তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের (تقدم) প্রতি ইঙ্গিত করা হতে থাকে।

তিনি মিসরের আমিরদের এক বিশেষ প্রয়োজনে সুলতানি দরবারে গমন করেন, যেখানে তাঁর অনুরোধ গ্রহণ করা হয়। তিনি সেখানে আয়া সোফিয়া-তে হাদিসের ওপর পাঠদান করেন এবং তৎকালীন প্রথিতযশা উলামায়ে কেরাম তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন। অতপর ১১৪৭ হিজরি সনে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে তাঁর প্রয়োজনীয় বিষয়াদি সম্পন্ন করে তাঁকে বিদায় জানানো হয়।

যখন উসমান কিতখুদা আল-কাজদাগলি সেই বছর আল-আজবাকিয়াতে তাঁর মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন করেন, তখন জীবনীতে আলোচিত ব্যক্তি (المترجم) সেখানে শিক্ষকতার জন্য নিযুক্ত হন, আর তা ছিল তাঁর দেশ ভ্রমণের পূর্বে...

--------------------------------------------

(১) আজায়িব আল-আসার (২/ ২৫৬)।

(২) দেখুন (পৃ. ১২২)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
الرومية، وكان مشهوراً في حسن التقرير، وعذوبة البيان، وجودة الإلقاء، وأقرأ " الموطأ " بالمشهد الحسيني، وأفاد وأجاز الأشياخ) (1).

ويقول المؤرخ الفاضل المرادي رحمه الله: (وصار له الفضل العظيم، والعلم الغض، والفضل التام، وتصدر للتدريس والفتوى، وأقبلت عليه الأفاضل، وانتفعوا به.

فمن جملة من أخذ عنه: المحقق عبد الله بن حجازي الشرقاوي، ومحمد بن عبد المعطي الحريري، والشهاب أحمد بن يونس الخليفي، والسيد محمد أبو الأنوار الوفائي وغيرهم (2).

 

‌‌وفاته

توفي العلامة الطحلاوي حادي عشر صفر، سنة (1181 هـ)، وصُلِّي عليه بصباحه في الأزهر في مشهد حافل، ودفن بتربة المجاورين.

رحمه الله تعالى، ونَفَعَ بعُلومه .. آمين (3)

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (2/ 256).

(2) سلك الدرر (3/ 193).

(3) سلك الدرر (3/ 193)، عجائب الآثار (2/ 256)، فهرس الفهارس (1/ 468).
রুমিয়া [মাদরাসায়], তিনি চমৎকার বর্ণনাশৈলী, প্রাঞ্জল ভাষণ ও সুনিপুণ উপস্থাপনার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি মাশহাদ হুসাইনীতে "মুয়াত্তা" পাঠদান করতেন এবং শায়েখদের জ্ঞানদান করতেন ও অনুমতি (إجازة) প্রদান করতেন। (১)

আর বিশিষ্ট ঐতিহাসিক আল-মুরাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (তিনি সুমহান মর্যাদা, সতেজ জ্ঞান এবং পূর্ণ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হন। তিনি পাঠদান ও ফতোয়া (فتوى) প্রদানের আসনে সমাসীন হন, এবং গুণীজনরা তাঁর অভিমুখী হন ও তাঁর দ্বারা উপকৃত হন।

যাঁরা তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: গবেষক (محقق) আব্দুল্লাহ বিন হিজাজী আল-শারকাভী, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মু'তী আল-হারীরী, শিহাব আহমাদ বিন ইউনুস আল-খুলাইফী, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আবু আল-আনওয়ার আল-ওয়াফায়ী এবং অন্যান্য (২)।

 

‌‌ইন্তেকাল

আল্লামা তাহলাভি ১১৮১ হিজরি সনের ১১ই সফর ইন্তেকাল করেন। পরদিন সকালে আল-আজহারে এক বিশাল জনসমাবেশে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁকে মুজাওয়িরিন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর জ্ঞান দ্বারা উপকৃত করুন... আমীন (৩)

--------------------------------------------

(১) আজায়িবুল আসার (২/ ২৫৬)।

(২) সিলকুদ দুরার (৩/ ১৯৩)।

(৩) সিলকুদ দুরার (৩/ ১৯৩), আজায়িবুল আসার (২/ ২৫৬), ফিহরিসুল ফাহরিস (১/ ৪৬৮)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ترجمة

العلّامة البحر المحقِّق

محمّد بن محمّد بن أحمد السَّنَاوي

الأمير الكبير

رحمة الله تعالى 1154 - 1232 هـ

 

‌‌اسمه ونسبه

العلامة البحر العمدة، صاحب التحقيقات الرائقة، والتآليف البارعة الفائقة: أبو محمد (1)، محمد بن محمد بن أحمد بن عبد القادر بن عبد العزيز السَّنباوي الأزهري المالكي الشاذلي، الشهير بالأمير الكبير.

وقد أخبر المصنف عن نفسه أن أصله من المغرب، نزل بعض أجداده بمصر عند الشيخ عبد الوهاب أبي التخصيص (2)، بناحية من قرى الصعيد غربي النيل تدعى: (سَنَبُو) (3)، وإليها نسبته السنباوي.

إمام مالكي المذهب، شاذلي المشرب.

وسبب شهرته بالأمير هو لقب جده الأدنى أحمد، كان وأباه

--------------------------------------------

(1) كما أثبته المصنف نفسه في مقدمة " ثبته " المشهور، والذي وقف عليه غالب من ترجم للشيخ، وفي بعض إجازاتٍ كتبت للعلامة الأمير في هذا الثبت كنِّي بأبي عبد الله، وهو كذلك في " شجرة النور الزكية " (2/ 348).

(2) عجائب الآثار (7/ 421).

(3) بفتح أوله وثانيه، ثم باء موحدة وواو ساكنة. (معجم البلدان) (3/ 261).
জীবনী

আল্লামা, মহাসমুদ্রতুল্য গবেষক (محقق)

মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আস-সানাউয়ি

আল-আমির আল-কাবির

রহমাতুল্লাহি তা'আলা ১১৫৪ - ১২৩২ হিজরি

 

‌‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

আল্লামা, জ্ঞানের সাগর ও মূল স্তম্ভস্বরূপ, চমৎকার গবেষণা এবং সুনিপুণ ও শ্রেষ্ঠ রচনাবলির অধিকারী: আবু মুহাম্মদ (১), মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে আব্দুল আজিজ আস-সানবাউয়ি আল-আজহারি আল-মালিকি আশ-শাজিলি, যিনি আল-আমির আল-কাবির নামে সমধিক পরিচিত।

গ্রন্থকার (مصنف) নিজের সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, তাঁর আদি নিবাস মরক্কো। তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ মিশরের নীল নদের পশ্চিমে উচ্চ মিশরের (সাঈদ) একটি গ্রামে শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব আবু আত-তাখসিস (২)-এর নিকট বসতি স্থাপন করেছিলেন, যা 'সানাবু' (৩) নামে পরিচিত; আর সেই অনুসারেই তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধসূচক নাম হয়েছে আস-সানবাউয়ি।

তিনি মালিকি মাজহাবের ইমাম (إمام) এবং শাজিলি তরিকার অনুসারী ছিলেন।

তাঁর 'আল-আমির' নামে প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো তাঁর নিকটতম দাদা আহমাদের উপাধি; তিনি এবং তাঁর পিতা...

--------------------------------------------

(১) যেমনটি গ্রন্থকার (مصنف) নিজেই তাঁর প্রসিদ্ধ "সাবাত (ثبت)" গ্রন্থের ভূমিকায় সাব্যস্ত করেছেন, যা শায়খের জীবনীকারদের অধিকাংশই অবগত হয়েছেন। এই সাবাত গ্রন্থে আল্লামা আমিরের জন্য লিখিত কিছু ইজাজাহ (إجازات) বা অনুমতিপত্রে তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম 'আবু আব্দুল্লাহ' উল্লেখ করা হয়েছে। শাজারাতুন নূর আল-জাকিয়্যাহ (২/৩৪৮) গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

(২) আজাইব আল-আসার (৭/৪২১)।

(৩) প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা (জবর), এরপর এক নুকতা বিশিষ্ট 'বা' এবং 'ওয়াও' সাকিন। (মু'জাম আল-বুলদান) (৩/২৬১)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
عبد القادر لهما إمرة بالصعيد (1)، فكان العلامة الأمير يلقب بالأمير الكبير لهذه الشهرة، وولده الشيخ محمد من بعده لُقِّب بالأمير الصغير (2).

 

‌‌ولادته ونشأته

ولد العلامة الأمير سنة (1154 هـ) بناحية سنبو المذكورة، ثم ارتحل مع والديه إلى مصر وهو ابن تسع سنين.

نشأ في حجْرِ والدٍ مفضال مقرىء، كان الشيخ الأول في حياته في تلقي كلام رب العالمين.

يقول الأمير عن نفسه وهو يتحدث عن القرآن المجيد: (نَشَأتْ في خدمته عزائمي، من قبل أن تناط عني تمائمي، ولله الحمد على ذلك، أماتنا الله عليه وأحياناَ عليه من كرمه، تلقيته عمَّن لا يحصى كثرة، منهم والدي رحمه الله تعالى، فقد كان من أجلاء حملته الذين يتلونه حق تلاوته (3).

كان استقرار والده رحمه الله في القاهرة وأزهرها يومها عامرٌ بأماثل العلماء في كل فن .. سبباً رئيساً في إيقاف الصبي محمد الأمير نفسه على طلب العلم وشدِّ الهمة في السعي لتحصيله.

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (7/ 421).

(2) معجم المؤلفين (3/ 670).

(3) سدُّ الأرب (ص 17).
আবদুল কাদির—উচ্চ মিশরে তাঁদের শাসন ক্ষমতা ছিল (১), তাই আল্লামা আল-আমীর এই খ্যাতির কারণে 'আল-আমীর আল-কাবীর' (বড় আমীর) উপাধিতে ভূষিত হন এবং তাঁর পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র শেখ মুহাম্মদকে 'আল-আমীর আস-সাগীর' (ছোট আমীর) উপাধি দেওয়া হয় (২)।

 

‌‌তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা

আল্লামা আল-আমীর ১১৫৪ হিজরি সালে উল্লিখিত সানবু নামক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর নয় বছর বয়সে তিনি তাঁর পিতামাতার সাথে মিশরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

তিনি একজন শ্রেষ্ঠ এবং কারী পিতার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কালাম (কুরআন) শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর জীবনের প্রথম শিক্ষক ছিলেন।

পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আল-আমীর নিজের সম্পর্কে বলেন: (শৈশব থেকেই, যখন আমার গলার তাবীজও খোলানো হয়নি, তখন থেকেই এর সেবায় আমার সংকল্পসমূহ গড়ে উঠেছিল। এর জন্য আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা। আল্লাহ যেন তাঁর মেহেরবানীতে আমাদের এই কুরআনের ওপর মৃত্যু দান করেন এবং এই কুরআনের সাথেই জীবিত রাখেন। আমি অগণিত মানুষের কাছ থেকে এটি গ্রহণ করেছি, যাদের মধ্যে আমার পিতা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) অন্যতম। তিনি ছিলেন কুরআনের সেই মহান বাহকদের অন্তর্ভুক্ত যারা যথাযথভাবে এটি তিলাওয়াত করতেন (৩)।

কায়রোতে তাঁর পিতার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) স্থায়ী বসবাস এবং সে সময়ে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি বিদ্যায় শ্রেষ্ঠ আলেমদের পদচারণায় মুখরিত থাকা—কিশোর মুহাম্মদ আল-আমীরকে ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করতে এবং তা অর্জনের প্রচেষ্টায় হিম্মত বাড়াতে প্রধান কারণ হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল।

--------------------------------------------

(১) আজায়িবুল আসার (৭/ ৪২১)।

(২) মু'জামুল মুআল্লিফীন (৩/ ৬৭০)।

(৩) সাদ্দুল আরাব (পৃষ্ঠা ১৭)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌شيوخه ومقروءاته:

وضع العلامة الأمير ثبتاً جليلاً جمع فيه أعيان العلماء الذين لازمهم وعبَّ عنهم، على اختلاف تخصصاتهم ودرجاتهم.

ذكر العلامة الكتاني في " فهرس الفهارس والأثبات) (2/ 1092) أنه عثر على ظهر إحدى النسخ الموجودة بمصر مكتوباً عليها اسم لهذا الثبت، وهو: " سدُّ الأرب في علوم الإسناد والأدب ".

وبالوقوف على هذا الثبت نجد الأمير رحمه الله تعالى يذكر عشرة من شيوخه ويقتصر عليهم ويقول: (ولنقتصر من ذكر الأشياخ على هؤلاء العشرة الكرام، وإن كان لنا غيرهم مشايخ عظام، عُمُدٌ فخام، لكن غالب أسانيدهم عن الأخذ عمَّن ذكرنا (1).

وهؤلاء الأشياخ هم:

- الإمام العلامة نور الدين، أبو الحسن، علي بن أحمد الصعيدي العدوي المالكي، المتوفى سنة (1189 هـ):

قال فيه: (لازمته رحمه الله تعالى ما يفوق على عشرين سنة في كتب المعقول والمنقول إلى أن مات، ففي الحقيقة نسبتنا إليه، وجل انتفاعنا على يديه رضي الله تعالى عنه (2).

وهو المراد عندما يطلق الأمير في كتبه نحو: (قال شيخنا)، وهو شيخ العلامة الطحلاوي كذلك.

--------------------------------------------

(1) سد الأرب (ص 16).

(2) سد الأرب (ص 5).
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও পঠিত বিষয়সমূহ:

আল্লামা আমির একটি মহান সনদ-তালিকা (ثبت) সংকলন করেছেন, যাতে তিনি সেই সকল বিশিষ্ট আলেমদের বিবরণ একত্রিত করেছেন যাঁদের তিনি দীর্ঘকাল সান্নিধ্য দান করেছেন এবং যাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিভিন্ন বিশেষত্ব ও মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও।

আল্লামা কাত্তানি তাঁর ‘ফিহরিসুল ফাহরিস ওয়াল আসবাত’ (২/ ১০৯২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মিশরে প্রাপ্ত একটি পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠদেশে এই সনদ-তালিকাটির (ثبت) একটি নাম লেখা পেয়েছেন, আর তা হলো: ‘সাদ্দুুল আরাব ফি উলুমিল ইসনাদ ওয়াল আদাব’।

এই সনদ-তালিকাটি (ثبت) পর্যালোচনায় আমরা দেখতে পাই যে, আমির (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে দশজনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং কেবল তাঁদের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে বলেছেন: (আমরা শিক্ষকদের বর্ণনার ক্ষেত্রে কেবল এই দশজন মহান ব্যক্তির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব, যদিও আমাদের আরও অনেক মহান শিক্ষক ও সুউচ্চ স্তম্ভতুল্য ব্যক্তিত্ব রয়েছেন; তবে তাঁদের অধিকাংশের সনদসমূহ (أسانيد) আমাদের বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকেই গৃহীত) (১)।

আর এই শিক্ষকগণ হলেন:

- ইমাম আল্লামা নূরুদ্দীন, আবুল হাসান, আলী বিন আহমদ আস-সাঈদী আল-আদাবী আল-মালিকী, মৃত্যু: (১১৮৯ হিজরি):

তাঁর সম্পর্কে তিনি বলেছেন: (আমি তাঁর মৃত্যু অবধি বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বুদ্ধিবৃত্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নে তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্বন্ধ তাঁরই সাথে এবং আমাদের অর্জিত উপকারের সিংহভাগই তাঁর হাতে সম্পন্ন হয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) (২)।

আমির যখন তাঁর গ্রন্থসমূহে ‘আমাদের শায়খ বলেছেন’ জাতীয় বাক্য ব্যবহার করেন, তখন মূলত তাঁকেই উদ্দেশ্য করা হয়। তিনি আল্লামা তাহলাউয়িরও শিক্ষক ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সাদ্দুুল আরাব (পৃষ্ঠা ১৬)।

(২) সাদ্দুুল আরাব (পৃষ্ঠা ৫)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقد أجازه الشيخ العدوي إجازة أثبتها الأمير في " ثبته " المذكور.

- العلامة الأستاذ محمد بن أحمد البليدي المالكي، المتوفى سنة (1176 هـ):

قال فيه: (وهو من مشايخ شيخنا المتقدم، بل ومن مشايخ مشايخه (1).

تلقى عنه الأمير: " الأربعين النووية "، و " قصة المولد الشريف " جمع الشيخ النجم الغيطي، و " شرح السعد على عقائد النسفي "، وأجازه رحمه الله تعالى.

- العلامة المسند التاودي بن سودة المالكي، المتوفى سنة (1192 هـ):

قال فيه: (حضرت عليه في " الموطأ " بالجامع الأزهر عام حجه، وحضره فيه كثير من المدرسين، مالكية وغيرهم، وأجازني إجازة عامة (2).

- العلامة المسند نور الدين، أبو الحسن، علي بن محمد العربي بن علي العربي السقاط المالكي، المتوفى سنة (1183 هـ):

سمع منه " الموطأ " بتمامه، و " البخاري " من باب الجنائز إلى آخره، وجملة كبيرة من أول " مسلم "، وأجازه بإجازة أثبتها في " سد الأرب " (3).

--------------------------------------------

(1) سد الأرب (ص 7).

(2) سد الأرب (ص 8).

(3) سد الأرب (ص 9).
শেখ আদাবি তাঁকে একটি অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছিলেন, যা আল-আমীর তাঁর উল্লেখিত ক্যাটালগে (ثبت) লিপিবদ্ধ করেছেন।

- আল্লামা উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-বুলিদি আল-মালিকি, মৃত্যু (১১৭৬ হিজরি):

তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি আমাদের পূর্বোক্ত শাইখের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত, বরং তাঁর শিক্ষকদের শিক্ষকদেরও অন্তর্ভুক্ত) (১)।

আল-আমীর তাঁর নিকট থেকে পাঠ গ্রহণ করেছেন: "আরবাউন আন-নাবাবিয়্যাহ", শাইখ আন-নাজম আল-গাইতির সংকলিত "কিসসাতুল মাওলিদ আশ-শারিফ" এবং "শারহুস সাদ আলা আকাইদিন নাসাফি"; আর তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছিলেন।

- আল্লামা মুসনিদ (مسند) আত-তাওদি বিন সুদা আল-মালিকি, মৃত্যু (১১৯২ হিজরি):

তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (আমি তাঁর হজের বছর জামে আল-আজহারে "মুয়াত্তা"-এর পাঠে উপস্থিত হয়েছিলাম এবং সেখানে মালিকি ও অন্যান্য মাযহাবের বহু শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাকে একটি সাধারণ অনুমতি (إجازة عامة) প্রদান করেছিলেন) (২)।

- আল্লামা মুসনিদ (مسند) নুর উদ্দিন, আবু আল-হাসান, আলি বিন মুহাম্মদ আল-আরাবি বিন আলি আল-আরাবি আস-সাক্কাত আল-মালিকি, মৃত্যু (১১৮৩ হিজরি):

তিনি তাঁর নিকট থেকে পূর্ণাঙ্গ "মুয়াত্তা", "বুখারি"-র জানাজা অধ্যায় থেকে শেষ পর্যন্ত এবং "মুসলিম"-এর শুরুর দিকের একটি বড় অংশ শ্রবণ করেছেন; আর তিনি তাঁকে একটি অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছিলেন যা তিনি "সাদ্দিল আরাব"-এ লিপিবদ্ধ করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) সাদ্দিল আরাব (পৃ. ৭)।

(২) সাদ্দিল আরাব (পৃ. ৮)।

(৩) সাদ্দিল আরাব (পৃ. ৯)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
- العلامة حسن بن إبراهيم الجبرتي، المتوفى سنة (1188 هـ):

قال فيه: (حضرت عليه مجالس في فقه الحنفية، وعنده رحمه الله تعالى كان اشتغالنا بالعلوم الحكمية، كالهندسة والهيئة والميقات والأوفاق وغير ذلك) (1) ثم أثبت إجازته منه رحمه الله تعالى.

- العلامة الأديب، جمال الدين، يوسف بن سالم الحفني، المتوفى سنة (1178 هـ):

ويقال: الحفناوي، قال فيه: (حضرته في " شرح ملا حنفي على آداب البحث " للعضد، وفي " قصيدة: بانت سعاد "، وفي غير ذلك، وأجازنا رحمه الله تعالى " (2).

- العلامة المحقق العارف، أبو عبد الله، بدر الدين، محمد بن سالم الحفني، المتوفى سنة (1181 هـ):

وهو أخو الشيخ يوسف السابق، وقد أثنى عليه الأمير في " ثبته " ثناء حسناً، قال فيه: (حضرته في مجالس من " الجامع الصغير " و " النجم الغيطي في مولده صلى الله عليه وسلم "، وفي متن " الشمائل " للترمذي، ومات رحمه الله تعالى أثناء قراءتها، وتلقنت عليه الذكر من طريق الخلوتية، وأجازني إجازة عامة) ثم أثبت صورتها في " ثبته " (3).

--------------------------------------------

(1) سد الأرب (ص 11).

(2) سد الأرب (ص 13).

(3) سد الأرب (ص 13).
- আল্লামা হাসান বিন ইবরাহিম আল-জাবারতি, মৃত্যু সন (১১৮৮ হিজরি):

তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (আমি হানাফি ফিকহের মজলিসে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়েছি। তাঁর কাছেই—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—আমাদের হিকমত সংক্রান্ত ইলমসমূহ যেমন: জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সময় গণনাবিদ্যা এবং সংখ্যাতত্ত্ব ইত্যাদি বিষয়ের চর্চা ছিল।) এরপর তিনি তাঁর নিকট থেকে প্রাপ্ত ইজাজত (إجازة) সাব্যস্ত করেছেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

- আল্লামা সাহিত্যিক জামালুদ্দিন ইউসুফ বিন সালিম আল-হিফনি, মৃত্যু সন (১১৭৮ হিজরি):

তাঁকে আল-হিফনাওয়িও বলা হয়। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (আমি তাঁর নিকট আদাবুল বাহসের ওপর আযুদের লেখা ‘শরহে মোল্লা হানাফি’, ‘বানাত সুয়াদ’ কাসিদা এবং এ ছাড়া অন্যান্য মজলিসে উপস্থিত হয়েছি। তিনি আমাদের ইজাজত (إجازة) প্রদান করেছেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।) (২)।

- আল্লামা মুহাক্কিক ও আরেফ আবু আবদুল্লাহ বদরুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন সালিম আল-হিফনি, মৃত্যু সন (১১৮১ হিজরি):

তিনি পূর্বোল্লিখিত শায়খ ইউসুফের ভাই। আল-আমীর তাঁর ‘সাবাত’-এ তাঁর উত্তম প্রশংসা করেছেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (আমি আল-জামি আস-সগির, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মবিষয়ক ‘নাজমুুল গাইতি’ এবং তিরমিযির শামায়েল-এর মূলপাঠ (متن)-এর বিভিন্ন মজলিসে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়েছি। এটি পাঠদান চলাকালীনই তিনি ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন। আমি খলওয়াতিয়া তরীকা অনুযায়ী তাঁর নিকট থেকে যিকিরের দীক্ষা গ্রহণ করেছি এবং তিনি আমাকে সাধারণ ইজাজত (إجازة عامة) প্রদান করেছেন।) এরপর তিনি তাঁর ‘সাবাত’-এ সেই অনুমতির প্রতিলিপিটি যুক্ত করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) সাদ্দুল আরাব (পৃ. ১১)।

(২) সাদ্দুল আরাব (পৃ. ১৩)।

(৩) সাদ্দুল আরাব (পৃ. ১৩)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
- شيخ الإسلام، شهاب الدين، أحمد بن الحسن الجوهري الكبير، المتوفى سنة (1181 هـ):

قال فيه: (حضرته في " الشيخ عبدالسلام على الجوهرة "، وسمعت منه الحديث المسلسل بالأولية، وتلقيت عنه طريق الشاذلية من سلسلة مولاي عبد الله الشريف، وأجازني رحمه الله تعالى (1).

- الإمام العلامة، أبو العباس، أحمد بن عبد الفتاح الملوي، المتوفى سنة (1181 هـ):

أدركه بعد انقطاعه عن التدريس، وراجعه في مسائل شتا في عدة مجالس، وكان إذ ذاك مُقعداً، وكُتِبَ للأمير إجازة بإذنه، أثبت صورتها في " ثبته " (2).

- العالم الفاضل عطية الأجهوري، المتوفى سنة (1194 هـ):

قال فيه: (حضرته في " المختصر " لسعد الدين التفتازاني على " تلخيص المفتاح " وفي " تفسير الجلالين "، وفي " شيخ الإسلام على الجزرية "، وفي " شرح سيدي محمد الزرقاني على البيقونية ") (3).

وأما عن مقروءاته التي أسندها:

فهي كثيرة ومتنوعة.

ففي القراءات: قرأ بالسبع من طريق " الشاطبية " و " الدرة،

--------------------------------------------

(1) سد الأرب (ص 14).

(2) سد الأرب (ص 15).

(3) سد الأرب (ص 16).
- শাইখুল ইসলাম, শিহাবুদ্দীন, আহমদ বিন আল-হাসান আল-জাওহারী আল-কাবীর, মৃত্যু সাল (১১৮১ হিজরি):

তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: (আমি "আল-জাওহারা"-র ওপর শাইখ আব্দুস সালামের ব্যাখ্যাগ্রন্থের পাঠে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়েছি, এবং তাঁর নিকট থেকে 'প্রাথমিকতা বিষয়ক পরম্পরাবদ্ধ হাদিস' (الحديث المسلسل بالأولية) শুনেছি, আর মাওলাই আব্দুল্লাহ আশ-শরীফের সিলসিলা থেকে শাযিলিয়া তরীকা গ্রহণ করেছি, এবং তিনি আমাকে অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন (১)।

- ইমাম আল্লামা, আবুল আব্বাস, আহমদ বিন আব্দিল ফাত্তাহ আল-মাল্লাউয়ি, মৃত্যু সাল (১১৮১ হিজরি):

তিনি তাঁর শিক্ষকতা থেকে অবসরের পর তাঁর সাক্ষাৎ পান এবং বিভিন্ন মজলিসে বিবিধ মাসআলা সম্পর্কে তাঁর সাথে আলোচনা করেন। সে সময় তিনি চলৎশক্তিহীন ছিলেন। তাঁর অনুমতিক্রমে আমীরের জন্য একটি অনুমতিপত্র (إجازة) লেখা হয়েছিল, যার অনুলিপি তিনি তাঁর 'সনদ সংকলনে' (ثبت) সংরক্ষণ করেছেন (২)।

- বিজ্ঞ আলেম আতিয়্যাহ আল-আজহুরী, মৃত্যু সাল (১১৯৪ হিজরি):

তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: (আমি "তালখিসুল মিফতাহ"-এর ওপর সাদউদ্দীন তাফতাযানির "আল-মুখতাসার"-এর পাঠে, "তাফসীরে জালালাইন"-এর পাঠে, "আল-জাযারিয়্যাহ"-এর ওপর শাইখুল ইসলামের ব্যাখ্যাগ্রন্থের পাঠে এবং "আল-বাইকুনিইয়্যাহ"-এর ওপর সায়্যিদী মুহাম্মদ আল-যারকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থের পাঠে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়েছি) (৩)।

আর তাঁর পঠিত কিতাবসমূহ যেগুলোর তিনি সনদ বর্ণনা (أسنَدَ) করেছেন:

সেগুলো অনেক এবং বৈচিত্র্যময়।

কেরাত (قراءات) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে: তিনি "আশ-শাতিবিয়্যাহ" ও "আদ-দুররাহ"-এর পদ্ধতি অনুযায়ী সাত কেরাতে পাঠ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সদ্দুর আরাব (পৃ. ১৪)।

(২) সদ্দুর আরাব (পৃ. ১৫)।

(৩) সদ্দুর আরাব (পৃ. ১৬)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২০)
و " الطيبة " ثلاث ختمات على الشيخ المقرىء محمد بن حسن المنيِّر.

وفي كتب السنة: فقد روى " الموطأ " كاملاً عن المحدث المسند شيخه السقاط، وله أسانيد فيه عديدة.

وروى " البخاري " عن العلامة العدوي الصعيدي، وكان يُقرِئه بالأزهر قراءة دراية وتحقيق وإمعان وتدقيق.

وروى " مسلم " بسماع جلِّه عن الشيخ السقاط.

إلى غير ذلك من كتب المسانيد والمستخرجات والسنن، والأجزاء الحديثة، وكثير من المسلسلات، كما هو مثبت في " ثبته " رحمه الله تعالى.

وتجدر الإشارة هنا إلى اهتمام المترجم رحمه الله بالتحقيق وإتقان الفهم، وتقديم ذلك على السرد والإكثار من المرويات، فبعد أن ذكر علُوَّ إسناده ورفعة رواياته .. ينبهنا ويقول:

(وقد حُررت المتون والأسانيد في كتب الأصول التي كثرت، وتلقيت بالقبول بحيث لا يخفى ذلك على من راجعه، والغرض المهم الآن: تحصيل آلات الدراية وإتقان الفهم، لا حفظ المتن والسند، خلافاً لمن مال إلى العكس، وقد بلغني عن بعض علماء تونس أنه قيل له: فلان يحفظ كتاب كذا بأسانيده!! فقال: وماذا حصل؟ غايته أنه زِيد في مدينة تونس نسخة من ذلك الكتاب) (1).

--------------------------------------------

(1) سد الأرب (ص 26).
এবং "আত-তাইয়িবাহ" এর ওপর ক্বারি শেখ মুহাম্মাদ বিন হাসান আল-মুনাইয়্যিরের কাছে তিনবার খতম সম্পন্ন করেছেন।

আর হাদিসের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে: তিনি সনদধারী (المسند) মুহাদ্দিস তাঁর উস্তাদ আস-সাক্কাত থেকে সম্পূর্ণ "মুওয়াত্তা" বর্ণনা করেছেন এবং এতে তাঁর বহু সনদ (أسانيد) রয়েছে।

তিনি আল্লামা আল-আদাবি আস-সাঈদির নিকট থেকে "বুখারি" বর্ণনা করেছেন; তিনি তাঁকে আল-আজহারে অত্যন্ত গবেষণা ও বোধগম্যতা (دراية), তাহকিক, গভীর পর্যবেক্ষণ ও সূক্ষ্মতার সাথে পাঠ করাতেন।

তিনি "মুসলিম"-এর অধিকাংশ অংশ শেখ আস-সাক্কাতের নিকট থেকে শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া আরও বিভিন্ন মুসনাদ, মুস্তাখরাজ ও সুনান কিতাবসমূহ, হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা (الأجزاء الحديثة) এবং অনেক পর্যায়ক্রমিক হাদিস (المسلسلات) বর্ণনা করেছেন, যা তাঁর সনদ সংগ্রহ (ثبته)-এ লিপিবদ্ধ আছে (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা)।

এখানে জীবনীভুক্ত ব্যক্তিত্ব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তাহকিক এবং সঠিক উপলব্ধির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা তিনি কেবল বর্ণনার আধিক্য বা সনদ পাঠের ওপর প্রাধান্য দিতেন। তাঁর সনদের (إسناد) উচ্চতা (علو) এবং বর্ণনার শ্রেষ্ঠত্ব উল্লেখ করার পর তিনি আমাদের সতর্ক করে বলেন:

(মূলনীতি সংক্রান্ত কিতাবসমূহে মূল পাঠ (المتون) এবং সনদসমূহ (الأسانيد) সুসংগত ও পরিশোধিত হয়েছে এবং তা বিপুলভাবে গৃহীত হয়েছে ও গ্রহণযোগ্যতা (قبول) পেয়েছে, ফলে যারা তা পর্যালোচনা করবেন তাদের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট নয়। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো: গবেষণা ও বোধগম্যতা (دراية)-এর উপকরণ অর্জন করা এবং সঠিক উপলব্ধি লাভ করা, কেবল মূল পাঠ (المتن) ও সনদ (سند) মুখস্থ করা নয়—যা যারা এর বিপরীত পথ অবলম্বন করেন তাদের মতের পরিপন্থী। তিউনিসিয়ার জনৈক আলেম সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি যে, তাঁকে বলা হয়েছিল: 'অমুক ব্যক্তি অমুক কিতাবটি সনদের সাথে মুখস্থ রাখেন!!' তখন তিনি বললেন: 'তাতে কী অর্জিত হলো? বড়জোর তিউনিসিয়া শহরে ঐ কিতাবের আরও একটি কপি বৃদ্ধি পেল মাত্র।') (১)।

--------------------------------------------

(১) সাদ্দুল আরাব (পৃ. ২৬)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم سرد أسانيده إلى مؤلفي كتب التفسير، وعلم الكلام، والسير والمغازي، وإلى أصحاب التصانيف العلمية في علوم شتى، كأصول الفقه، والنحو، وعلوم البلاغة، والأدب، ثم ختم ذلك بكتب التصوف والأخلاق.

 

‌‌مكانة العلامة الأمير العلمية

قال عنه المؤرخ الجبرتي رحمه الله: (إليه انتهت الرئاسة في العلوم بالديار المصرية، وباهت مصر ما سواها بتحقيقاته البهية، استنبط الفروع من الأصول، واستخرج نفائس الدرر من بحور المعقول والمنقول، وأودع الطروس فوائد وقلدها فرائد) (1).

لقد أخذ العلامة الأمير رحمه الله عن الجلَّة من أهل العلم في عصره، وأجازوه إجازة عامة، وشهدوا له بالعلم والفضل (2)، وقد ألَّف المترجَم فهرسةً حافلة أتى فيها على تفصيل روايته عن هؤلاء الأعلام، والكتب المؤلفة في شتى الفنون والعلوم، وطرق سندها إلى مؤلفيها وأسمائهم ووفياتهم.

ونحن أمام نصَّين شريفين يدلَاّن على المتانة العلمية التي حظي بها هذا الإمام العظيم، ونال بها الرفعة عند أهل عصره.

فمن يطالع أسماء أعلام شيوخه الذين أخذ عنهم وعبَّ من علومهم .. رأى أسماء جليلة، وصدور أئمة بالعلم مشحونة، لها من المؤلفات

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (7/ 421)، حلية البشر (3/ 1267).

(2) عجائب الآثار (7/ 420).
এরপর তিনি তাফসির, ইলমুল কালাম, সীরাত ও মাগাজি এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের বৈজ্ঞানিক রচনা যেমন উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه), নাহু, বালাগাত ও সাহিত্যের রচয়িতাদের পর্যন্ত তাঁর সনদসমূহ (أسانيد) ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন। পরিশেষে তিনি তাসাউফ ও আখলাকের কিতাবসমূহ উল্লেখ করে এটি শেষ করেছেন।

 

‌আল্লামা আমীরের ইলমি মর্যাদা

ঐতিহাসিক আল-জাবারতি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (মিসর ভূখণ্ডে সকল বিজ্ঞানের নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে, তাঁর উজ্জ্বল তাহকিকসমূহের (تحقيقات) কারণে মিসর অন্যান্য ভূখণ্ডের ওপর গর্ব করত। তিনি উসুল (أصول) থেকে ফুরু (فروع) উদ্ভাবন করতেন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক (معقول) ও বর্ণনাভিত্তিক (منقول) ইলমের সমুদ্র থেকে মূল্যবান মুক্তাসমূহ আহরণ করতেন। তিনি পাণ্ডুলিপির পাতায় পাতায় ফায়দা (উপকারিতা) লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সেগুলোকে অনন্য রত্নে ভূষিত করেছেন) (১)।

আল্লামা আমীর (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সমসাময়িক যুগের বরেণ্য আলেমদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তাঁরা তাঁকে সাধারণ অনুমতি (إجازة عامة) প্রদান করেছেন এবং তাঁর ইলম ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন (২)। জীবনীভুক্ত ব্যক্তি (المترجم) একটি সমৃদ্ধ ফিহরিসত (فهرسة) রচনা করেছেন, যেখানে তিনি এই সকল বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের থেকে তাঁর বর্ণনার (رواية) বিস্তারিত বিবরণ, বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিজ্ঞানের রচিত গ্রন্থসমূহ এবং সেগুলোর রচয়িতা পর্যন্ত পৌঁছানোর সনদের (سند) মাধ্যমসমূহ, তাঁদের নাম ও মৃত্যুসন বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।

আমরা এমন দুটি উচ্চমর্যাদাপূর্ণ উদ্ধৃতির সামনে রয়েছি যা এই মহান ইমামের ইলমি মজবুতি (متانة) বা গভীরতার প্রমাণ দেয়, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের নিকট উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন।

যে ব্যক্তি তাঁর শাইখগণের (شيوخ) নাম পর্যবেক্ষণ করবেন যাঁদের থেকে তিনি ইলম হাসিল করেছেন এবং যাঁদের ইলম থেকে আকণ্ঠ পান করেছেন... তিনি সুমহান সব নাম এবং ইলমে পরিপূর্ণ ইমামদের বক্ষ দেখতে পাবেন, যাঁদের বহু গ্রন্থ রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আজায়িবুল আসার (৭/ ৪২১), হিলইয়াতুল বাশার (৩/ ১২৬৭)।

(২) আজায়িবুল আসার (৭/ ৪২০)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২২)
العلمية التي تشهد بذلك كله، ومع هذا يقول الجبرتي رحمه الله عن علامتنا الأمير: (ومهر وأنجب، وتصدَّر لإلقاء الدروس في حياة شيوخه!! ونما أمره، واشتهر فضله خصوصاً بعد موت أشياخه) (1).

أنْ يتصدَّر الشيخ للتدريس في حياة أشياخه وهم من هم!! هذا أمر ليس بالهين، فمن قرأ ترجمة العلامة العدوي الصعيدي، والعلامة البليدي والتاودي والنفراوي وغيرهم .. علم عظم هذه الكلمة في حقِّ العلامة الأمير رحمه الله تعالى.

ويقول المؤرخ الجبرتي رحمه الله في حقِّه كذلك: (كان شيخه الصعيدي إذا توقف في موضع .. يقول: هاتوا " مختصر الأمير "!! وهي منقبة شريفة) (2).

والعلامة الصعيدي العدوي إمام المالكية في عصره وصاحب " شرح مختصر خليل " الذي تتهافت عليه الأيدي، ومع ذلك إذا توقف في موضع .. عاد لتحرير الأمير، تلميذه النجيب الذي لازمه أكثر من عشرين سنة!!

فمن أي الأمرين العجب؟ أمن تقدُّمِ العلامة الأميرِ وحسن تحريراته، أو من إنصاف العلامة العدوي وكرم نفسه؟!

ولم يكن هذا الأدب الجمُّ من العلامة العدوي ليُطمعَ علامتنا الأمير

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (7/ 421).

(2) عجائب الآثار (7/ 422)، وهذا المختصر الذي يتحدث عنه العلامة العدوي متن سماه:

" المجموع " حاذى فيه " مختصر خليل "، جمع فيه الراجح من المذهب، وشرحه شرحا نفيساً.
বৈজ্ঞানিক যোগ্যতা এ সবকিছুরই সাক্ষ্য দেয়। এতদসত্ত্বেও আল-জাবরতি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের আল্লামা আল-আমির সম্পর্কে বলেন: (তিনি দক্ষ ও প্রতিভাবান হয়ে ওঠেন এবং নিজ শায়খদের জীবদ্দশাতেই পাঠদানের আসনে উপবিষ্ট হন!! তাঁর প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং বিশেষত তাঁর শায়খদের ইনতিকালের পর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব খ্যাতি লাভ করে) (১)।

নিজ শায়খদের জীবদ্দশায় একজন শায়খের পাঠদানের আসনে বসা—অথচ তাঁরা ছিলেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব—এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। যে ব্যক্তি আল্লামা আল-আদাওয়ি আস-সাইদি, আল্লামা আল-বুলিদি, আত-তাউদি, আন-নাফরাউয়ি এবং অন্যদের জীবনবৃত্তান্ত (ترجمة) পাঠ করেছেন, তিনি আল্লামা আল-আমির (রহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রে এই উক্তির মাহাত্ম্য অনুধাবন করতে পারবেন।

ঐতিহাসিক আল-জাবরতি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: (তাঁর শায়খ আস-সাইদি যখন কোনো স্থানে আটকে যেতেন... তখন বলতেন: "মুখতাসারুল আমির" নিয়ে এসো!! এটি একটি মহান মর্যাদা) (২)।

আল্লামা আস-সাইদি আল-আদাওয়ি ছিলেন তাঁর যুগের মালিকি মাজহাবের ইমাম এবং "শারহু মুখতাসার খলিল"-এর রচয়িতা, যা সংগ্রহের জন্য মানুষ ব্যাকুল হয়ে থাকত। তা সত্ত্বেও তিনি যখন কোনো স্থানে আটকে যেতেন... তখন আল-আমিরের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের (تحرير) দিকে ফিরে আসতেন; যিনি ছিলেন তাঁর সেই মেধাবী ছাত্র, যে বিশ বছরেরও বেশি সময় তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেছেন!!

তাহলে এই দুই বিষয়ের মধ্যে কোনটি বেশি বিস্ময়কর? আল্লামা আল-আমিরের অগ্রগতি ও তাঁর চমৎকার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণসমূহ (تحريرات), নাকি আল্লামা আদাওয়ির ন্যায়পরায়ণতা ও তাঁর মহানুভবতা?!

আল্লামা আদাওয়ির এই অগাধ শিষ্টাচার আমাদের আল্লামা আল-আমিরকে প্রলুব্ধ করার জন্য ছিল না

--------------------------------------------

(১) আজায়িবুল আসার (৭/৪২১)।

(২) আজায়িবুল আসার (৭/৪২২)। আর এই মুখতাসার (সারসংক্ষেপ), যা নিয়ে আল্লামা আদাওয়ি কথা বলছেন, তা একটি মূল পাঠ (متن), যার নাম তিনি দিয়েছিলেন: "আল-মাজমু"। এতে তিনি "মুখতাসার খলিল"-এর সমান্তরালে চলেছেন এবং মাজহাবের অগ্রগণ্য (الراجح) মতগুলো একত্র করেছেন এবং এর একটি চমৎকার ব্যাখ্যা (شرح) প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
في إهدال مقام الشيخ، بل هو العكس، فانظر إليه في مقدمة كتابه " مطلع النيرين " وهو يذكر مسألة رفعت للشيخ العدوي في الكلام على القدرتين، خط أصلَها ودفعها للأمير يتمم طرزها، فيقول الأمير:

(دفع إليَّ مسوَّدَةَ الجواب التي نمقتْها يدُهُ الكريمة، وأفادني أموراً باللسان من عباراته النظيمة، وأمرني بضمِّ ذاك لذلك فامتثلتُ للخدمة … ، وحيثُ سمعتَ أيها الألمعي الأديب، والسمدعي اللوذعي اللبيب لفظَ: " أقول " أو " قلت " .. فذلك كغيره للشيخ نفسه، وكلما استحسنَهُ طبعُك الكريم وذهنك المستقيم .. فهو منه وإليه، وغيره ناشىء عن قصوري في جمعي، أو سوءِ تحملي لديه) (1).

 

‌‌مسلكه التربوي والأخلاقي

كان علامتنا الأمير رحمه الله كما تصفه كتب الترجمات - رقيق القلب، لطيف المزاج، ينزعج طبعه من غير انزعاج، يكاد الوهم يؤلمه، وسماع المنافر يوهنه ويسقمه (2)، وكل هذا وصْفٌ يدل على نبْلٍ في الطبع وصفاء في الروح.

وهو على إمامته في علوم العربية والأصلين، بل وعلوم الشريعة عموماً .. كان أميرَ قلم أدبي بَليل، ونفْس رقيقة شفافة، وصاحب لُطف وظَرْف ممزوج بالتواضع والأدب.

--------------------------------------------

(1) مطلع النيرين (ص 5)، وانظر ترجمة المؤلف لشيخه العدوي في كتابنا هذا (ص 122).

(2) عجائب الآثار (7/ 422).
এটি শায়খের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য নয়, বরং তা ছিল এর বিপরীত। তার 'মাতলাউন্নাইরাইন' গ্রন্থের ভূমিকার দিকে লক্ষ্য করুন, যেখানে তিনি শায়খ আল-আদাউয়ীর নিকট 'দুই ক্ষমতা' সংক্রান্ত উত্থাপিত একটি মাসআলার কথা উল্লেখ করেছেন। শায়খ এর মূল ভিত্তিটি লিখেছিলেন এবং তা আল-আমিরের নিকট সমর্পণ করেছিলেন এর বিন্যাস পূর্ণ করার জন্য। তখন আল-আমির বলেন:

(তিনি আমার নিকট উত্তরের সেই খসড়াটি প্রদান করলেন যা তার সম্মানিত হস্ত সুশোভিত করেছিল এবং তিনি তার চমৎকার বাকভঙ্গির মাধ্যমে মৌখিকভাবে আমাকে অনেক বিষয় শিখিয়েছিলেন। তিনি আমাকে এগুলোর সমন্বয় করার নির্দেশ প্রদান করেন, ফলে আমি সেই খিদমত পালনে সচেষ্ট হই... হে মেধাবী সাহিত্যিক এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি! যখনই আপনি ‘আমি বলছি’ বা ‘আমি বলেছি’ শব্দগুলো পাবেন, জানবেন যে অন্য সবকিছুর মতো তা শায়খেরই নিজস্ব উক্তি। আপনার মহৎ স্বভাব এবং সঠিক মেধা যা কিছু পছন্দ করবে, তা মূলত তারই অবদান। এছাড়া অন্য যা কিছু তা আমার সংকলনের ত্রুটি কিংবা তার নিকট আমার শ্রবণের দুর্বলতা (سوءِ تحملي) থেকে উদ্ভূত।) (১)।

 

‌‌তার শিক্ষাগত ও নৈতিক পথ

আমাদের আল্লামা আল-আমির (রহিমাহুল্লাহ) জীবনীগ্রন্থগুলোর (كتب الترجمات) বর্ণনা অনুযায়ী ছিলেন—কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং কোমল মেজাজের। তুচ্ছ কারণেই তার মেজাজ বিচলিত হয়ে পড়ত। সামান্য কাল্পনিক বিষয়ও তাকে কষ্ট দিত এবং অসংলগ্ন কথা শোনা তাকে দুর্বল ও অসুস্থ করে ফেলত (২)। এই সব কিছুই এমন এক বর্ণনা যা তার মহৎ স্বভাব এবং আত্মার স্বচ্ছতার প্রমাণ দেয়।

তিনি আরবি ভাষা, দুই মূলনীতি (الأصلين) এবং সাধারণভাবে শরীয়াহ বিজ্ঞানে ইমাম হওয়া সত্ত্বেও—ছিলেন সুনিপুণ সাহিত্যিক লেখনীর অধিকারী এক ব্যক্তিত্ব এবং বিনয় ও শিষ্টাচার মিশ্রিত মাধুর্য ও স্বচ্ছ হৃদয়ের মানুষ।

--------------------------------------------

(১) মাতলাউন্নাইরাইন (পৃ. ৫), এবং আমাদের এই কিতাবে (পৃ. ১২২) তার শায়খ আল-আদাউয়ীর ব্যাপারে লেখকের জীবনীমূলক আলোচনা (ترجمة) দেখুন।

(২) আজায়িবুল আসার (৭/৪২২)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولعل مسلكه التربوي الأخلاقي كان من أهم العوامل لتكوين هذه الشخصية العلمية الأدبية الفذَّة.

فقبل أن يجري عليه القلم طابت أنفاسه بصحبة أهل العرفان، وزكت نفسه بزكي نفوسهم، فما زال يتقلب في روضاتهم، ويحظى بأريج ورودهم وأورادهم.

يحدثنا رحمه الله عن ذلك فيقول: (أول من أخذ علي العهد في ذلك - أي: تلقين الذكر - ولقنني: الأستاذ الحفني، بمقتضى أخذه في طريقة الخلوتية، عن السيد مصطفى ابن كمال الدين البكري الشامي صاحب " ورد السحر " وغيره، وذلك قبل بلوغي، ثم تلقنت من جماعة كثيرة، منهم شيخنا العدوي على طريق الشناوية أواخر عمره، ومنهم شيخنا الشهاب الجوهري في الطريقة الشاذلية، وأجازني أن أجيز بها، قال:

ونرويها من طرق، منها طريق القطب مولاي عبد الله الشريف المسلسلة بالأقطاب (1).

ثم سرد أسانيده للسادة الوفائية الشاذلية، والعيدروسية، والنقشبندية، بل - كما قال - وجميع طرق السادة الصوفية (2).

وقد قال عند ختم " ثبته " بكتب القوم: (وإنما أخرناها لأنها الزبدة والمنتهى، فإن الشريعة علم الشرع، والعلوم الآلية وسائلُ لفهمه،

--------------------------------------------

(1) سد الأرب (ص 263)، وكلٌّ من شيخه المحدث السقاط والعلامة التاودي ابن سودة من رؤوس الشاذلية.

(2) سد الأرب (ص 265).
সম্ভবত তাঁর শিক্ষামূলক ও নৈতিক পথপরিক্রমা ছিল এই অনন্য জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার (কলম চলা শুরু হওয়ার) পূর্বেই আধ্যাত্মিক জ্ঞানীদের (أهل العرفان) সংস্পর্শে তাঁর অন্তরাত্মা সুশোভিত হয়েছিল এবং তাঁদের পবিত্র আত্মার সাহচর্যে তাঁর নিজ আত্মাও পরিশুদ্ধ হয়েছিল। তিনি সর্বদা তাঁদের আধ্যাত্মিক বাগানে বিচরণ করতেন এবং তাঁদের প্রজ্ঞা ও জিকির-আযকারের সুবাস লাভ করতেন।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি আমাদের নিকট এ সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: (এ বিষয়ে—অর্থাৎ জিকির তালকিন বা শেখানোর বিষয়ে—সর্বপ্রথম যিনি আমার নিকট থেকে অঙ্গীকার (العهد) গ্রহণ করেছিলেন এবং আমাকে তালকিন করেছিলেন, তিনি হলেন উস্তাদ আল-হিফনি। খলওয়াতিয়া (الخلوتية) তরিকার নীতি অনুযায়ী তিনি সাইয়্যিদ মুস্তফা ইবনে কামালুদ্দিন আল-বাকরি আশ-শামির নিকট থেকে এটি গ্রহণ করেছিলেন, যিনি 'উইর্দ আস-সাহার' ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা। এটি আমার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বের ঘটনা। এরপর আমি আরও অনেক জামাআতের নিকট থেকে তালকিন লাভ করি, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আমাদের শাইখ আল-আদাওয়ি তাঁর জীবনের শেষ দিকে শিন্নাউইয়া (الشناوية) তরিকায়, এবং আমাদের শাইখ আশ-শিহাব আল-জাওহারি শাজিলিয়া (الشاذلية) তরিকায়; তিনি আমাকে এই তরিকায় অনুমতি (أجازني) প্রদানের ইজাজত দেন। তিনি বলেন:

আমরা এটি বিভিন্ন সূত্রে (طرق) বর্ণনা করি, যার মধ্যে কুতুব মাওলাই আবদুল্লাহ আশ-শারিফের সূত্রটিও রয়েছে, যা কুতুবদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক (المسلسلة) ধারায় বর্ণিত (১)।

এরপর তিনি ওয়াফাইয়া শাজিলিয়া, আইদারুসিয়া, নকশবন্দিয়া এবং—যেমনটি তিনি বলেছেন—সুফিদের সকল সিলসিলার জন্য তাঁর সনদসমূহ (أسانيده) উপস্থাপন করেন (২)।

তিনি তাঁর ‘ছাবাত’ (ثبت) গ্রন্থের সমাপ্তিতে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গের কিতাবসমূহ প্রসঙ্গে বলেন: (আমি এগুলোকে শেষে উল্লেখ করেছি কারণ এগুলো হলো সারবস্তু ও চূড়ান্ত লক্ষ্য। কেননা শরিয়ত হলো শরয়ি জ্ঞান, আর সহায়ক শাস্ত্রসমূহ (العلوم الآلية) হলো তা বোঝার মাধ্যম।

--------------------------------------------

(১) সাদ্দ আল-আরাব (পৃ. ২৬৩); তাঁর শাইখ মুহাদ্দিস (المحدث) আস-সাক্কাত এবং আল্লামা আত-তাউদি ইবনে সাওদাহ উভয়েই শাজিলিয়া তরিকার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

(২) সাদ্দ আল-আরাব (পৃ. ২৬৫)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
والطريقة العمل به، والحقيقة أسرار وأنوار يثمرها العمل، (وَاتَّقُوا اللَّهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّهُ (1).

ليختم حديثه عن القوم بقوله: (والمدعون اليوم أفسدوا الأوضاع، واقتصروا على الصور الظاهرية، واعلم بأن طريق القوم دارسة، وحال من يدعيها اليوم كيف ترى (2).

 

‌‌تلامذته

تخرَّج بالعلامة الأمير جماعة لا يحصون، من مصريين وشاميين ومغاربة وحجازيين، وقد أورد العالم المسند الفاضل، الشيخ علم الدين محمد ياسين الفاداني المكي رحمه الله أربعين ونيفاً من تلامذته الذين أجازهم الشيخ الأمير، مسنداً طريقه إليهم وهم:

ولده محمد الأمير الصغير المتوفى سنة (1253 هـ) (3)، وأحمد منَّة الله الشباسي الأزهري المتوفى سنة (1292 هـ).

ومحمد بن أحمد التميمي الخليلي المصري الحنفي، ومحمد بن صالح السباعي العدوي المتوفى سنة (1268 هـ).

وأحمد بن صالح السباعي، ومصطفى البولاقي المتوفى سنة (1263 هـ)، ومصطفى البدري، وعلي خفاجة.

--------------------------------------------

(1) سد الأرب (ص 257).

(2) سد الأرب (ص 267).

(3) وانظر كذلك " عجائب الآثار " (7/ 424).
পদ্ধতি হলো তদানুযায়ী আমল করা, আর হাকিকত হলো এমন কিছু রহস্য ও নূর যা আমলের মাধ্যমে ফলপ্রসূ হয়, (আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং আল্লাহ তোমাদের শিক্ষা দেবেন) (১)।

তিনি এই কাওম (সুফি সমাজ) সম্পর্কে তাঁর আলোচনার ইতি টানেন এই বলে: (বর্তমানে যারা দাবিদার তারা পরিস্থিতিকে কলুষিত করেছে এবং কেবল বাহ্যিক রূপের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছে; জেনে রেখো যে, এই কাওমের পথ আজ বিলুপ্তপ্রায়, আর বর্তমানে যারা এর দাবি করে তাদের অবস্থা তুমি কেমন দেখছ) (২)।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ

আল্লামা আমীর-এর নিকট হতে অগণিত এক জামাত শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন, যাদের মধ্যে মিশরীয়, শামী, মাগরেবী এবং হিজাজী ব্যক্তিগণ রয়েছেন। বিদ্বান, মুসনিদ (المسند), গুণী ব্যক্তিত্ব শায়খ আলম আদ-দীন মুহাম্মদ ইয়াসিন আল-ফাদানি আল-মাক্কি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর এমন চল্লিশের অধিক ছাত্রের নাম উল্লেখ করেছেন যাদেরকে শায়খ আমীর ইজাজত (أجازهم) প্রদান করেছিলেন এবং তাদের পর্যন্ত নিজের সনদ (مسنداً) বর্ণনা করেছেন; তাঁরা হলেন:

তাঁর পুত্র মুহাম্মদ আল-আমীর আস-সগীর, মৃত্যু (১২৫৩ হিজরী) (৩), এবং আহমদ মিন্নাতুল্লাহ আশ-শাবাসি আল-আজহারি, মৃত্যু (১২৯২ হিজরী)।

এবং মুহাম্মদ ইবন আহমদ আত-তামিমি আল-খলিলি আল-মিসরি আল-হানাফি, এবং মুহাম্মদ ইবন সালিহ আস-সিবাঈ আল-আদাবি, মৃত্যু (১২৬৮ হিজরী)।

এবং আহমদ ইবন সালিহ আস-সিবাঈ, মুস্তফা আল-বুলাকি, মৃত্যু (১২৬৩ হিজরী), মুস্তফা আল-বাদরি এবং আলী খাফাজাহ।

--------------------------------------------

(১) সাদ্দ আল-আরাব (পৃ. ২৫৭)।

(২) সাদ্দ আল-আরাব (পৃ. ২৬৭)।

(৩) আরও দেখুন "আজায়িবুল আসার" (৭/৪২৪)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومحمد فتح الله بن عمر السميدس، ومصطفى بن حنفي الذهبي المتوفى سنة (1280 هـ).

وحسن العِدْوي الحمزاوي المتوفى سنة (1303 هـ)، وأحمد بشارة الدمياطي، ومحمد الخضري الدمياطي الكبير المتوفى سنة (1288 هـ).

وأحمد المرصفي الكبير المتوفى سنة (1306 هـ)، وأحمد الصاوي المتوفى سنة (1241 هـ)، ومحمد الصفتي وكان مقرىء الأمير في درسه، توفي بعد سنة (1193 هـ).

وعلي بن عيسى النجاري المتوفى سنة (1256 هـ)، وإبراهيم بن محمد الرشيدي، ومصطفى المبلط الأحمدي المتوفى سنة (1284 هـ)، وإبراهيم بن محمد الباجوري المتوفى سنة (1276 هـ)، ومحمد الفضالي المتوفى سنة (1236 هـ).

وعلي سالم اللقاني، ويوسف بن مصطفى الصاوي، وأحمد الدواخلي.

وأحمد بن علي الدمهوجي المتوفى سنة (1246 هـ)، وحسن بن درويش القويسني المتوفى سنة (1254 هـ).

ومحمد بن صالح البنا الإسكندري، وحسن بن محمد العطار.

وأحمد بن محمد الطحطاوي المتوفى سنة (1231 هـ)، ومحمد بن أحمد العروسي المتوفى سنة (1244 هـ).
মুহাম্মদ ফাতহুল্লাহ বিন উমর আল-সামাইদিস এবং মুস্তফা বিন হানাফি আদ-দাহাবি, যিনি ১২৮০ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হাসান আল-ইদউই আল-হামজাউই, যিনি ১৩০৩ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন, আহমদ বিশারা আদ-দামইয়াতি এবং মুহাম্মদ আল-খুদরি আদ-দামইয়াতি আল-কাবির, যিনি ১২৮৮ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

আহমদ আল-মারসাফি আল-কাবির, যিনি ১৩০৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন, আহমদ আস-সাবি, যিনি ১২৪১ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং মুহাম্মদ আস-সাফতি, যিনি তার পাঠদান মজলিসে আমিরের ক্বারি ছিলেন, তিনি ১১৯৩ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন।

আলি বিন ঈসা আন-নাজ্জারি, যিনি ১২৫৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন, ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আর-রাশিদি, মুস্তফা আল-মুবাল্লাত আল-আহমাদি, যিনি ১২৮৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন, ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-বাজুরি, যিনি ১২৭৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং মুহাম্মদ আল-ফাদালি, যিনি ১২৩৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

আলি সালিম আল-লাক্কানি, ইউসুফ বিন মুস্তফা আস-সাবি এবং আহমদ আদ-দাওয়াখিলি।

আহমদ বিন আলি আদ-দাহমুজি, যিনি ১২৪৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং হাসান বিন দরবেশ আল-কুয়াইসিনি, যিনি ১২৫৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-বান্না আল-ইসকান্দারি এবং হাসান বিন মুহাম্মদ আল-আত্তার।

আহমদ বিন মুহাম্মদ আত-তাহতাবি, যিনি ১২৩১ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আরুসি, যিনি ১২৪৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وعلي بن عبد الحق القوصي، ومحمد بن علي التميمي التونسي المتوفيان سنة (1294 هـ).

وعثمان بن حسن الدمياطي المتوفى سنة (1265 هـ)، وعبد الغني الدمياطي المكي.

وأحمد المرزوقي المكي المتوفى سنة (1262 هـ)، ومحمد المرزوقي المكي المتوفى سنة (1261 هـ).

ومحمد بن حسين الكتبي المكي.

ووالد العلامة محدث الديار الشامية بدر الدين الحسني الشيخ يوسف بن بدر الدين المغربي ثم الدمشقي المتوفى سنة (1279 هـ).

ومحمد أمين بن عمر الشهير بابن عابدين صاحب الحاشية المتوفى سنة (1252 هـ)، وعبد الرحمن بن محمد الكزبري المتوفى سنة (1262 هـ).

وعصمة الله أحمد باي التركي المتوفى سنة (1272 هـ، أو 1275 هـ)، ومحمد بن محمد الصادق العلمي الريسوني المتوفى سنة (1234 هـ).

وعبد القادر المشرفي المعروف بـ (نعبد الله)، كان حياً سنة (1247 هـ) وعبد القادر المعروف بابن الأمين الجزائري المتوفى سنة (1236 هـ).

وحمودة بن محمد المُقايسي، أجازه الأمير سنة (1205 هـ).
আলী বিন আবদুল হক আল-কুসি এবং মুহাম্মদ বিন আলী আল-তামিমি আল-তিউনিসি, যারা ১২৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এবং উসমান বিন হাসান আদ-দামইয়াতি, যিনি ১২৬৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আব্দুল গনি আদ-দামইয়াতি আল-মাক্কি।

এবং আহমদ আল-মারজুকি আল-মাক্কি, যিনি ১২৬২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মুহাম্মদ আল-মারজুকি আল-মাক্কি, যিনি ১২৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এবং মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-কুতুবি আল-মাক্কি।

এবং শাম অঞ্চলের বিদগ্ধ আলেম ও হাদিস বিশারদ (محدث) বদরুদ্দিন আল-হাসানির পিতা শেখ ইউসুফ বিন বদরুদ্দিন আল-মাগরিবি অতঃপর আদ-দামেশকি, যিনি ১২৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এবং মুহাম্মদ আমিন বিন উমর, যিনি ইবনে আবিদিন নামে প্রসিদ্ধ এবং হাশিয়া বা টীকা গ্রন্থের রচয়িতা, তিনি ১২৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন; এবং আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-কুজবারি, যিনি ১২৬২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এবং ইসমাতুল্লাহ আহমদ বায় আল-তুর্কি, যিনি ১২৭২ হিজরি অথবা ১২৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আস-সাদিক আল-ইলমি আল-রাইসুনি, যিনি ১২৩৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এবং আব্দুল কাদির আল-মুশরিফি, যিনি 'নাবুদুল্লাহ' নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি ১২৪৭ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং আব্দুল কাদির, যিনি ইবনুল আমিন আল-জাজায়েরি নামে পরিচিত, তিনি ১২৩৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এবং হাম্মুদা বিন মুহাম্মদ আল-মুকায়িসি, আমির তাকে ১২০৫ হিজরিতে অনুমতি প্রদান (أجاز) করেছেন।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومحمد أبو رأس المعسكري المتوفى سنة (1239 هـ)، وأبو علي حسن قنبور اللجائي (1).

 

‌‌مؤلفات العلامة الأمير

نعتت مؤلفات العلامة الأمير بالاشتهار وغاية التحرير، والمتأمل فيها يرى الطابع العام الذي ساد في عصره قد تجلى فيها، فغالب تآليفه حواشٍ وشروح وتحرير مسائل.

فمما تم الوقوف عليه منها:

في الفقه:

كتاب " المجموع "، وهو من أبرز ما صنَّف، حاكى في اختصاره وحصر مسائله " مختصر خليل " في الفقه المالكي، وكان شيخه العدوي المالكي إذا توقف في موضع قال: هاتوا " مختصر الأمير "!!

وقد شرحه الأمير، وحشَّى عليه كذلك، واسم الحاشية: " ضوء الشموع على شرح المجموع ".

وله في الفقه المالكي كذلك:

" الإكليل في شرح مختصر خليل "، وله: " حاشية على الشيخ عبد الباقي على المختصر "، و " حاشية على شرح الزرقاني على العزية "، وكتاب " الكوكب المنير "، و " حاشية على العشماوية "، وله مناسك نُعتت بـ " مناسك الأمير ".

--------------------------------------------

(1) الدر النثير في الاتصال بثبت الأمير (ص 3 - 17).
এবং মুহাম্মদ আবু রাস আল-মুয়াসকিরি, মৃত্যু (১২৩৯ হিজরী), এবং আবু আলি হাসান কানবুর আল-লাজাই (১)।

 

‌‌আল্লামা আল-আমিরের রচনাবলি

আল্লামা আল-আমিরের রচনাবলি প্রসিদ্ধি এবং অনন্য সূক্ষ্ম পরিমার্জনের (تحرير) জন্য বিশেষায়িত। গবেষক মাত্রই লক্ষ্য করবেন যে, তাঁর যুগে প্রচলিত সাধারণ ধারাটি তাঁর কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে; ফলে তাঁর অধিকাংশ রচনাই হলো টীকা (حواشٍ), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح) এবং মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحرير مسائل)।

তন্মধ্যে যে সকল রচনার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে:

ফিকহ শাস্ত্রে:

"আল-মাজমু" গ্রন্থ, এটি তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থসমূহের অন্যতম। তিনি এর সংক্ষিপ্ততা এবং মাসআলাসমূহ সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে মালিকি ফিকহ শাস্ত্রের "মুখতাসার খলিল"-এর অনুকরণ করেছেন। তাঁর উস্তাদ আদ-আদাওয়ি আল-মালিকি যখন কোনো বিষয়ে সংশয়ে পড়তেন, তখন বলতেন: "মুখতাসার আল-আমির নিয়ে এসো"!!

আল-আমির নিজেই এর ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং এর ওপর টীকা (حشَّى) প্রদান করেছেন; সেই টীকাটির নাম হলো: "দউউশ শুমু' আলা শারহিল মাজমু"।

মালিকি ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর আরও রয়েছে:

"আল-ইকলিল ফি শারহি মুখতাসার খলিল", এবং তাঁর রচিত: "মুখতাসারের ওপর শায়খ আব্দুল বাকির টীকা (حاشية)", এবং "আল-ইজ্জিয়ার ওপর আল-যুরকানির ব্যাখ্যাগ্রন্থের টীকা (حاشية)", এবং "আল-কাওকাবুল মুনির" গ্রন্থ, এবং "আল-আশমাওয়িয়ার ওপর টীকা (حاشية)", এবং তাঁর হজের নিয়মাবলী সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ যা "মানাসিক আল-আমির" নামে পরিচিত।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুররুন নাথির ফিল ইত্তিসালি বি-ছাবাতিল আমির (পৃ. ৩ - ১৭)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وله في النحو:

" حاشية على مغني اللبيب " اشتهرت بـ " حاشية الأمير "، و " حاشية على شرح شذور الذهب "، و " حاشية على الأزهرية ".

وله في بعض المسائل النحوية: " شرح لأبيات لا سيما للسجاعي "، وكتاب: " إتحاف الإنس في الفرق بين اسم الجنس وعلم الجنس ".

وله في الحديث الشريف:

" شرح غرامي صحيح " في علم مصطلح الحديث، وكتاب: " النخبة البهية في الأحاديث المكذوبة على خير البرية ".

وله في العقائد والتفسير والأخلاق والآداب:

" كفاية المريد وغنية الطالب للتوحيد "، و " حاشية على إتحاف المريد شرح الشيخ عبد السلام "، و " مطلع النيرين فيما يتعلق بالقدرتين ".

وله كتاب: " انشراح الصدر في بيان ليلة القدر " لعله هو ما يسمى كذلك بـ " تفسير سورة القدر "، وله " رسالة في اللحن في القراءة والإنكار على من يقول بكفر اللاحن ".

وله في الفرائض:

" حاشية على الشنشوري على الرحبية ".

وفي البلاغة:

" حاشية على شرح الملوي على السمرقندية ".
ব্যাকরণশাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি হলো:

"হাশিয়া আলা মুগনি আল-লাবীব" যা "হাশিয়া আল-আমির" নামে প্রসিদ্ধ, "হাশিয়া আলা শারহ শুযুর আয-যাহাব" এবং "হাশিয়া আলা আল-আযহারিয়্যাহ"।

কতিপয় ব্যাকরণিক বিষয়ে তাঁর রয়েছে: "শারহু লি-আবইয়াতি লা সিয়্যামা লিস-সাজায়ি" এবং একটি কিতাব: "ইতহাফুল ইনসি ফিল ফারকি বাইনা ইসমিল জিনসি ওয়া আলামিল জিনসি"।

হাদিসশাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি:

হাদিস পরিভাষা বিদ্যায় (مصطلح الحديث) "শারহু গরামি সহিহ" এবং "আন-নুখবাতুল বাহিয়্যাহ ফিল আহাদিসিল মাকযুবাহ আলা খায়রিল বারিয়্যাহ" নামক কিতাব।

আকাইদ, তাফসির, আখলাক ও আদব শাস্ত্রে তাঁর রয়েছে:

"কিফায়াতুল মুরিদ ওয়া গুনইয়াতুত তালিব লি-তাওহিদ", "হাশিয়া আলা ইতহাফিল মুরিদ শারহুশ শায়খ আবদিস সালাম" এবং "মাতলাউন নাইরাইনি ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বিল কুদরাতাইনি"।

তাঁর একটি কিতাব হলো: "ইনশিরাহুস সদর ফি বায়ানি লাইলাতিল কদর", যা সম্ভবত "তাফসিরু সুরাতিল কদর" নামেও অভিহিত; এছাড়া তিলাওয়াতের ভুল (لحن) এবং ভুলকারীকে যারা কাফির বলে তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে তাঁর একটি রিসালাহ রয়েছে।

ফারায়েজ শাস্ত্রে তাঁর রয়েছে:

"হাশিয়া আলাশ শানশুরি আলার রাহবিয়্যাহ"।

বালাগাত শাস্ত্রে তাঁর রয়েছে:

"হাশিয়া আলা শারহিল মাল্লাবি আলাস সামারকান্দিয়্যাহ"।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي التزكية:

" الوظيفة الشاذلية وأوراد الطريقة ".

وفي المسائل العامة:

" بهجة الأنس والائتناس شرح زارني المحبوب في رياض الآس "، و " رفع التلبيس عما يسأل به ابن خميس "، و " حسن الذكرى في شأن الإسرا " وهو حاشية على " الابتهاج فيما يتعلق بالإسراء والمعراج ".

وله كتابنا " ثمر الثّمام شرح غاية الإحكام في آداب الفهم والإفهام " في آداب فهم العبارة وطرق إفهامها.

وله " ثبت " جمع فيه رواياته ومسنداته، وذكر فيه شيوخه ومربيه (1).

قال العلامة عبد الحي الكتاني في وصف هذا " الثبت ":

(وثبته مدار رواية المصريين، ومعظم الحجازيين والمغاربة، وفهرسه هذا في نحو أربع كراريس، مفيد جامع للمصنفات الحديثية والكتب، رتبها على الفنون والمسلسلات والطرق، قال عنه وعن " ثبت " رفيقه الشرقاوي النور حسن العطار شيخ الجامع الأزهر في إجازته للدمنتي:

" ومن أجلِّ ثبت عليه الآن الاعتماد في طريق الإسناد ثبت شيخنا الأمير والشرقاوي، وغالب بقية الأشياخ المصريين عنهما آخذ وراوي، وثبتهما مشهور، وأمرهما في الفضل غير منكور، فهذان الثبتان من

--------------------------------------------

(1) واسمه - كما مرَّ -: " سد الأرب من علوم الإسناد والأدب ".
আত্মশুদ্ধি (تزكية) সংক্রান্ত বিষয়ে:

"আল-ওয়াজিফাতুশ শাযিলিয়া ওয়া আওরাদাত ত্বরিকা"।

এবং সাধারণ মাসয়ালা বা বিষয়াবলিতে:

"বাহজাতুল উনসি ওয়াল ইতিিনাস শারহু যরানি আল-মাহবুব ফি রিয়াদিল আস", "রাফউল তালবিস আম্মা ইয়াসআলু বিহি ইবনু খামিস" এবং "হুসনুল যিকরা ফি শানিল ইসরা"; যা "আল-ইবতিহাজ ফিমা ইয়াতাআল্লাকু বিল ইসরা ওয়াল মিরাজ"-এর উপর একটি টিকা বা হাশিয়া।

তার আরও একটি গ্রন্থ হলো "সামারুস সামাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফি আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম", যা মূলত কোনো বক্তব্য বোঝার আদব এবং তা অন্যকে বোঝানোর পদ্ধতি সংক্রান্ত।

তার একটি বর্ণনাসূত্র সংকলন (ثبت) রয়েছে যাতে তিনি তার বর্ণনা (روايات) এবং মুসনাদ বর্ণিত হাদিসসমূহ (مسندات) একত্র করেছেন এবং এতে তিনি তার শিক্ষক (شيوخ) ও আধ্যাত্মিক অভিভাবক (مربيه)-দের কথা উল্লেখ করেছেন (১)।

আল্লামা আব্দুল হাই আল-কাত্তানি এই বর্ণনাসূত্র সংকলন (ثبت)-এর বর্ণনায় বলেন:

(তার এই বর্ণনাসূত্র সংকলন (ثبت) হলো মিশরীয় এবং অধিকাংশ হিজাজি ও মাগরেবিদের বর্ণনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় চার পুস্তিকা সম্বলিত তার এই নির্ঘণ্টটি হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ ও সংকলনসমূহের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও পূর্ণাঙ্গ। তিনি এগুলোকে বিভিন্ন শাস্ত্র, পর্যায়ক্রমিক বর্ণনা (مسلسلات) এবং সূত্রসমূহ (طرق)-এর ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন। জামে আল-আজহারের শায়খ নূর হাসান আল-আত্তার আদ-দামান্তিকে প্রদত্ত তার অনুমতিপত্র (إجازة)-তে এই সংকলন এবং তার সঙ্গী আল-শারকাওয়ির বর্ণনাসূত্র সংকলন (ثبت) সম্পর্কে বলেন:

"বর্তমানে সনদ পরম্পরা (الإسناد)-এর ক্ষেত্রে যেসব বর্ণনাসূত্র সংকলন (ثبت)-এর ওপর নির্ভর করা হয়, তার মধ্যে আমাদের শায়খ আল-আমির এবং আল-শারকাওয়ির বর্ণনাসূত্র সংকলন (ثبت) অন্যতম শ্রেষ্ঠ। অবশিষ্ট অধিকাংশ মিশরীয় শায়খগণ তাদের দুজন থেকেই গ্রহণকারী এবং বর্ণনাকারী (راوي), তাদের উভয় বর্ণনাসূত্র সংকলন (ثبت) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা অনস্বীকার্য। সুতরাং এই দুটি বর্ণনাসূত্র সংকলন (ثبت) থেকে...

--------------------------------------------

(১) আর এর নাম হলো—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—: "সাদ্দুল আরাব মিন উলুমিল ইসনাদ ওয়াল আদাব"।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
غرر مروياتي، وأفضل ما اكتسبته في حياتي ").

وأنشد في حقه الفقيه الفاضل أبو العلاء إدريس بن محمد صهر العلامة الكتاني:

كلامُ الأميرِ أميرُ الكلامْ … فلا حشوَ فيهِ ولاما يلامْ

إذا رمتَ تحقيقَ مسألةٍ … فلازمْ تآليفَهُ والسلامْ

 

‌‌وفاته

يقول المؤرخ الفاضل الجبرتي رحمه الله: (وبأخرة ضعفت قواه، وتراخت أعضاؤه، وزاد شكواه، ولم يزل يتعلل، ويزداد أنينه ويتململ، والأمراض به تسلسل، وداعي المنون عنه لا يتحول .. إلى أن توفي يوم الإثنين، عاشر ذي القعدة الحرام، وكان له مشهد حافل جداً.

ودفن بالصحراء بجوار مدفن الشيخ عبد الوهاب العفيفي، بالقرب من عمارة السلطان قايتباي.

وكثر عليه الأسف والحزن، وخلف ولده العلامة النحرير، الشيخ محمد الأمير، وهو الآن أحد الصدور كوالده، يقرأ الدروس ويفيد الطلبة، ويحضر الدواوين والمجالس العالية) (1)، وكان ذلك في سنة (1232 هـ).

رحمه الله تعالى، وروى ثراه بشآبيب رضوانه

--------------------------------------------

(1) عجائب الآثار (7/ 424).
আমার বর্ণিত বিষয়গুলোর শ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং আমার জীবনে অর্জিত সর্বোত্তম বিষয়।")

এবং ফকিহ ও বিদগ্ধ পণ্ডিত আবুল আলা ইদ্রিস বিন মুহাম্মদ, যিনি আল্লামা কাত্তানির জামাতা ছিলেন, তাঁর সম্মানে আবৃত্তি করেছেন:

আমীরের বাণী হলো বাণীর শ্রেষ্ঠ রূপ … তাতে নেই কোনো অসারতা কিংবা কোনো নিন্দনীয় বিষয়।

যদি তুমি কোনো মাসআলার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) অন্বেষণ করো … তবে তাঁর রচনাবলি আঁকড়ে ধরো, আর এটাই যথেষ্ট।

 

‌‌তাঁর ইন্তেকাল

বিদগ্ধ ইতিহাসবিদ জাবারতি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (শেষ সময়ে তাঁর জীবনীশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শিথিল হয়ে গিয়েছিল এবং শারীরিক অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি ক্রমাগত রুগ্ন হতে থাকেন, তাঁর কষ্টের আর্তনাদ ও অস্থিরতা বাড়তে থাকে এবং রোগব্যাধি তাঁকে একের পর এক ঘিরে ধরে। মৃত্যুর আহ্বান তাঁর থেকে আর ফিরে যায়নি... পরিশেষে তিনি জিলকদ মাসের দশ তারিখ সোমবার ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর জানাজায় মানুষের বিশাল সমাগম হয়েছিল।

তাঁকে সাহরা মরুভূমিতে শেখ আব্দুল ওয়াহহাব আল-আফিফির সমাধির পাশে, সুলতান কাইতবে-র ইমারতের সন্নিকটে দাফন করা হয়।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তিনি তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে রেখে গেছেন তাঁর বিদগ্ধ পণ্ডিত পুত্র শেখ মুহাম্মদ আল-আমীরকে, যিনি বর্তমানে তাঁর পিতার মতোই অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি পাঠদান করেন ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান করেন এবং উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সভা ও মজলিসসমূহে উপস্থিত থাকেন) (১), আর তা ছিল ১২৩২ হিজরি সালে।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহমত করুন এবং তাঁর কবরকে তাঁর সন্তুষ্টির বারিধারায় সিক্ত করুন।

--------------------------------------------

(১) আজায়িবুল আসার (৭/ ৪২৪)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌نسبة الكتابِ لمؤلفِّه، وتاريخ تأليفه

رفع العلامة الأمير رحمه الله قلمَهُ عن هذا الشرح بعدما أتمَّه سنة (1185 هـ) أي: في حياة الشيخين الجليلين، الإمام الطحلاوي صاحب " غاية الإحكام "، وشيخهما العلامة المحقق العدوي الصعيدي رحمهم الله تعالى أجمعين.

نصَّ على ذلك في نهاية شرحه هذا " ثمر الثُّمام ".

والمطالع في سطور هذا الشرح يرى الإشارة لحياة الشيخين بنحو قوله: (حفظه الله، سلك الله بنا وبه فيما يرضاه …).

وقد ذكر المؤرخ الفاضل الجبرتي رحمه الله " ثمر الثُّمام " ضمن الآثار التي خلَّفها العلامة الأمير الكبير (1)، والكتاب نفسه للناظر فيه خير من يؤكد نسبته لمؤلفه كما لا يخفى.

فصاحب المتن " غاية الإحكام " هو مَنْ طلبَ من العلامة الأمير وضع شرح عليه، لِما رأى فيه من النباهة والبراعة العلمية، وهو وإن زامل الشيخ الأمير في الطلب على العلامة العدوي، إلا أنه - بلا شك - أطعن سناً من العلامة الأمير، فقد كان من المعمَّرين كما نرى في ترجمته، وقد توفاه الله إليه في حياة شيخه العدوي، وقبل وفاة العلامة الأمير بأربعين سنة ونيف.

--------------------------------------------

(1) عجاب الآثار (7/ 422)، وكذا صاحب " هدية العارفين " (2/ 358).
গ্রন্থটির লেখকের প্রতি সম্বন্ধকরণ এবং এর রচনার ইতিহাস

আল্লামা আল-আমির (রাহিমাহুল্লাহ) ১১৮৫ হিজরি সালে এই শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) সম্পন্ন করার পর এর লেখনী সমাপ্ত করেন; অর্থাৎ দুই মহান শাইখ— ‘গায়াতুল ইহকাম’-এর লেখক ইমাম আত-তাহলাবি এবং তাঁদের শাইখ বিজ্ঞ গবেষক (محقق) আল-আদাবি আস-সাঈদি (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর জীবদ্দশায়।

তিনি তাঁর এই শারহ ‘সামারুস সুমাম’-এর শেষে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

এই ব্যাখ্যার পংক্তিগুলো পাঠকারী ব্যক্তি শাইখদ্বয়ের জীবিত থাকার প্রতি ইঙ্গিত দেখতে পান, যেমন তাঁর উক্তি: (আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন, আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন …)।

বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ (مؤرخ) আল-জাবারতি (রাহিমাহুল্লাহ), আল্লামা আল-আমির আল-কাবির-এর রেখে যাওয়া রচনা (آثار) সমূহের মধ্যে ‘সামারুস সুমাম’-এর কথা উল্লেখ করেছেন (১), এবং গ্রন্থটি নিবিড়ভাবে পাঠ করলে এটি যে তাঁরই রচনা তা পাঠকের কাছে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

মূল পাঠের লেখক (صاحب المتن) ‘গায়াতুল ইহকাম’ নিজেই আল্লামা আল-আমিরের কাছে এর একটি শারহ রচনার অনুরোধ করেছিলেন, কারণ তিনি তাঁর মধ্যে প্রজ্ঞা ও ইলমি পারদর্শিতা দেখেছিলেন। যদিও তিনি আল্লামা আল-আদাবির নিকট ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে শাইখ আল-আমিরের সহপাঠী ছিলেন, তবে নিঃসন্দেহে তিনি আল্লামা আল-আমিরের চেয়ে বয়সে অনেক বড় ছিলেন। তাঁর জীবনী (ترجمة) থেকে আমরা যেমনটি জানতে পারি, তিনি দীর্ঘজীবী (معمرين) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর শাইখ আল-আদাবির জীবদ্দশায় এবং আল্লামা আল-আমিরের ইন্তেকালের চল্লিশ বছরেরও কিছুকাল আগে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) আজায়েবুল আসার (৭/ ৪২২), এবং একইভাবে ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’-এর লেখক (২/ ৩৫৮)।
(খণ্ড: ১) সামারুস সুমাম শারহু গায়াতিল ইহকাম ফী আদাবিল ফাহমি ওয়াল ইফহাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌موضوع الكتاب

لقد عُني كل من الماتن والشارح رحمهما الله تعالى بما سماه العلامة الأمير في الورقة الأخيرة من إجازةٍ أثبتها في نهاية صورةٍ لـ " ثبته " وهو يشرط فيها بـ (مراعاة قانون التفهم والإفهام).

فالفهم والتفهُّم، والإفهام والتفهيم هي الباعث والغاية في كلٍّ من المتن والشرح.

والمراد بالفهم: ما يخصُّ المرء من علْم المسائل التي يبحث فيها، والتفهُّم: فهْمُ المعلوم شيئاً فشيئاً.

والمراد بالإفهام: توصيل المعلوم للغير، والتفهيم: إيصالُ ذاك المعلوم شيئاً فشيئاً.

والكتاب إنما هو بيان لما يجب على المتفهِّم والمفهِّم أن يعلمه في حل العبارات وطرق فهمها، عموماً دون تخصيص فن دون فن.

وموضوع الفهم والإفهام ذو شأن وخطر، فكم زلت الأقدام، وتشعبت الأنام، وتقطعت الأرحام، لتعدد الأفهام!!

ترى هذا جلياً فيمن يَمْتَسِكُ بأصل واحد وهم بعد ذلك طرائقُ قدداً، فإن تأمَّلت .. رأيت أن الأمر عائد أصالة لطبيعة فهم هذا الأصل وإفهامه.
গ্রন্থের বিষয়বস্তু

মূল গ্রন্থকার (الماتن) ও ব্যাখ্যাকার (الشارح) (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) সেই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যাকে আল্লামা আল-আমীর তাঁর ‘সাবাত’-এর শেষাংশে সংযোজিত একটি ইজাযতের (إجازة) শেষ পৃষ্ঠায় ‘অনুধাবন ও জ্ঞাপনের নিয়মাবলি পর্যবেক্ষণ’ (مراعاة قانون التفهم والإفهام) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সুতরাং অনুধাবন (الفهم) ও উপলব্ধি (التفهم), এবং জ্ঞাপন (الإفهام) ও শিক্ষাদান (التفهيم) হলো মূল পাঠ (المتن) এবং ব্যাখ্যা (الشرح) উভয়ের মূল চালিকাশক্তি ও উদ্দেশ্য।

‘অনুধাবন’ (الفهم) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আলোচ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞান; আর ‘উপলব্ধি’ (التفهم) হলো: জ্ঞাত বিষয়কে ধাপে ধাপে অনুধাবন করা।

‘জ্ঞাপন’ (الإفهام) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: অন্যের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া; আর ‘শিক্ষাদান’ (التفهيم) হলো: সেই জ্ঞানকে ক্রমে ক্রমে অন্যের নিকট পৌঁছে দেওয়া।

এই গ্রন্থটি মূলত সেসব বিষয়ের বর্ণনা, যা কোনো শিক্ষার্থীর উপলব্ধি এবং শিক্ষকের পাঠদানের ক্ষেত্রে ইবারত (العبارات) বিশ্লেষণ ও তা অনুধাবনের পদ্ধতির জন্য জানা আবশ্যক। এটি কোনো বিশেষ শাস্ত্রের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং সাধারণভাবে সকল শাস্ত্রের জন্য প্রযোজ্য।

অনুধাবন (الفهم) ও জ্ঞাপনের (الإفهام) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। কেননা, বহুবিধ অনুধাবনের কারণে কতই না পদস্খলন ঘটেছে, মানুষ অনৈক্যের শিকার হয়েছে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়েছে!

যারা একটিমাত্র মূলনীতির ওপর দৃঢ় থাকে কিন্তু পরবর্তীতে নানাবিধ দলে বিভক্ত হয়ে যায়, তাদের মধ্যে আপনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। আপনি যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে দেখতে পাবেন যে, বিষয়টি মূলত সেই মূলনীতিটি অনুধাবন করার প্রকৃতি এবং তা অন্যকে জ্ঞাপন করার পদ্ধতির ওপরই নির্ভরশীল।