(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: -)
دراسة وتحقيق قاعدة «الأصل في العبادات المنع»   (محمد حسين الجيزاني)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: دراسة وتحقيق قاعدة «الأصل في العبادات المنع»

المؤلف: محمد بن حسين بن حسن الجيزاني

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1431 هـ

عدد الصفحات: 107

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 جُمادَى الآخرة 1436

‘ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো নিষিদ্ধতা (الأصل في العبادات المنع)’ শীর্ষক মূলনীতিটির (قاعدة) গবেষণা ও যাচাইকরণ (تحقيق)   (মুহাম্মাদ হুসাইন আল-জিজানি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতি (القواعد الفقهية) সংক্রান্ত বিজ্ঞানসমূহ


গ্রন্থ: ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো নিষিদ্ধতা (الأصل في العبادات المنع)’ শীর্ষক মূলনীতিটির (قاعدة) গবেষণা ও যাচাইকরণ (تحقيق)

লেখক: মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন হাসান আল-জিজানি

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: -)
دِرَاسَة وَتَحْقِيق قَاعِدَة «الأَصْلُ فِي الْعِبَادَات الْمَنْع»

 

تأليف

مُحَمَّد بن حُسَيْن الجيزاني

 

دَار ابْن الْجَوْزِيّ
মূলনীতি (قاعدة) «ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি (الأصل) হলো নিষিদ্ধতা»-র পর্যালোচনা (دراسة) ও সম্পাদনা (تحقيق)

 

রচনায়

মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-জিজানি

 

দার ইবনুল জাওজি
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين.

أما بعد، فإن الغاية المقصودة من الخَلق إنما هي عبوديته -سبحانه- كما ورد التصريح بذلك في قوله -جلَّ شأنه-: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56].

وحقيقة عبوديته -سبحانه- وسرها إنما يتحقق باتباع أمره واجتناب نهيه، فعند اتباع الأمر واجتناب النهي تتبين حقيقة العبودية وصحتها.

ومن هنا فقد سطَّر أهل العلم قاعدة شرعية جامعة في هذا الباب، ألا وهي: (الأصل في العبادات المنع)

وقد شرح الله صدري لدراسة هذه القاعدة، وجمع ما تناثر من كلام العلماء حولها

ويمكن تقسيم الدراسات السابقة حول هذه القاعدة إلى ما يأتي:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপক্রমণিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে।

অতঃপর, সৃষ্টির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত করা; যেমনটি তাঁর বাণীতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি" [আয-যারিয়াত: ৫৬]।

আর মহান আল্লাহর ইবাদতের প্রকৃত স্বরূপ ও রহস্য কেবল তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়। কেননা আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জনের মাধ্যমেই ইবাদতের বাস্তবতা ও এর বিশুদ্ধতা (صحة) পরিস্ফুটিত হয়।

এ প্রেক্ষাপটে আলেমগণ এই বিষয়ে একটি ব্যাপক শরয়ি মূলনীতি লিপিবদ্ধ করেছেন, আর তা হলো: (ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো নিষিদ্ধতা)।

আল্লাহ তাআলা এই মূলনীতিটি নিয়ে গবেষণা করার এবং এ সংক্রান্ত আলেমদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আলোচনাগুলো একত্রিত করার জন্য আমার বক্ষ উন্মোচিত করে দিয়েছেন।

এই মূলনীতি সংক্রান্ত পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোকে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করা যেতে পারে:
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৬)
أولاً: كتب أصول الفقه، وذلك عند الكلام على ما يجري فيه القياس، وعند الكلام على الصحة والفساد من الحكم الوضعي، وعند الكلام على دليل الاستصحاب، وعلى المسائل المتعلقة بالحاكم، ومسألة اقتضاء النهي الفساد.

ثانيًا: كتب مقاصد الشريعة، وذلك عند الكلام على تقسيم أفعال المكلفين إلى عبادات وعادات، والكلام على التعبد والتعليل.

ثالثًا: كتب القواعد الفقهية، وذلك في الغالب مندرج تحت قاعدة: (اليقين لا يزول بالشك) وما يتفرع عنها من قواعد.

رابعًا: الكتب المصنفة في باب التحذير من البدع (1).

خامسًا: كتب العقيدة، وذلك عند الكلام على توحيد العبادة وإخلاص العبودية لله سبحانه (2).

--------------------------------------------

(1) من أبرز ما كتب في هذا الباب وأنفعه:

1 - الحوادث والبدع: للطرطوشي المتوفى سنة 530 هـ.

2 - اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم: لتقي الدين ابن تيمية المتوفى سنة 728 هـ.

3 - الاعتصام للشاطبي المتوفى سنة 790 هـ.

(2) من أبرز الكتب المصنفة في توحيد الألوهية (العبادة): كتاب التوحيد للشيخ محمد بن عبد الوهاب، ومن أشهر شروحه: فتح المجيد للشيخ عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب، وكتاب تيسير العزيز الحميد للشيخ سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب.
প্রথমত: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) এর কিতাবসমূহ। এটি বিশেষত যখন কিয়াস (القياس) এর প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, হুকমে ওয়াদয়ি (الحكم الوضعي) এর অন্তর্গত শুদ্ধতা (الصحة) ও অবৈধতা (الفساد) সম্পর্কে আলোচনার সময়, ইসতিসহাব (الاستصحاب) এর দলীল সংক্রান্ত আলোচনায়, হাকিম (الحاكم) সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলোতে এবং 'নিষেধাজ্ঞা কি ফাসাদ বা অবৈধতা (الفساد) দাবি করে'—এই মাসআলার আলোচনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

দ্বিতীয়ত: মাকাসিদুশ শারীয়াহ (مقاصد الشريعة) এর কিতাবসমূহ। এটি যখন মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কার্যাবলীকে ইবাদত (عبادات) ও আদত বা প্রথা (عادات) এ বিভক্ত করার আলোচনা করা হয় এবং তাআব্বুদ বা আনুগত্য প্রকাশ (التعبد) ও তালিল বা কারণ নির্ণয় (التعليل) সম্পর্কে আলোচনার সময় প্রযোজ্য।

তৃতীয়ত: কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ (القواعد الفقهية) এর কিতাবসমূহ। এটি প্রধানত ‘নিশ্চয়তা সংশয়ের দ্বারা দূরীভূত হয় না’ (اليقين لا يزول بالشك) এই মূলনীতি এবং এর থেকে উদ্ভূত অন্যান্য মূলনীতিসমূহের অধীনে আলোচিত হয়।

চতুর্থত: বিদআত (البدع) থেকে সতর্কীকরণ অধ্যায়ে রচিত কিতাবসমূহ (১)।

পঞ্চমত: আকীদা (العقيدة) এর কিতাবসমূহ। এটি যখন তাওহিদুল ইবাদাহ (توحيد العبادة) এবং মহান আল্লাহর জন্য দাসত্ব বা উবুদিয়্যাত (العبودية) একনিষ্ঠ করা প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয় (২)।

--------------------------------------------

(১) এই অধ্যায়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও উপকারী হলো:

১ - আল-হাউয়াদিস ওয়াল বিদা: ৫৩০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণকারী আত-তুরতুশির রচিত।

২ - ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম: ৭২৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণকারী তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর রচিত।

৩ - আল-ইতিসাম: ৭৯০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণকারী আশ-শাতিবির রচিত।

(২) তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ বা ইবাদাতের তাওহিদ (توحيد الألوهية) বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে প্রধান হলো: শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের কিতাবুত তাওহিদ। এর প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ফাতহুল মাজিদ এবং শাইখ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের তাইসিরুল আজিজিল হামিদ।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৭)
وتحسن الإشارة في هذا المقام إلى أمور ثلاثة:

أولها: أن لشيخ الإسلام ابن تيمية جهودًا مذكورة ومساعي مشكورة في تحرير هذه القاعدة؛ إذ له رسالة مفردة في ذلك، ألا وهي (العبودية) إضافة إلى عنايته الفائقة بمسألة العبادة والاتباع، وذلك مبثوث في ثنايا كتبه وفتاواه.

والثاني: أن كتاب مدارج السالكين لابن القيم قد حوى معاني جليلة ومقاصد سامية فيما يخص مسألة العبادة وغايتها وأصناف أهلها وغير ذلك من المسائل ذات الصلة بها.

والثالث: أن كتاب الاعتصام للشاطبي يعد من أعمق هذه المصادر فقهًا، وأوسعها مادة في هذه المسألة، وقد انفرد هذا لكتاب بما لا يوجد في غيره.

وقد اقتضى المقام تقسيم هذا البحث إلى تمهيد وأربعة فصول:

التمهيد في بيان: هل الأصل في الشريعة التعبد أو التعليل؟

وتحت هذه المسألة النقاط الآتية:

1 - تحرير محل النزاع.

2 - الأقوال والأدلة.

3 - الرأي الراجح ودليل الترجيح.

4 - أثر الخلاف وثمرته.
এই পর্যায়ে তিনটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা সমীচীন হবে:

প্রথমত: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর এই মূলনীতিটি সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা ও প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে; কেননা এ বিষয়ে তাঁর একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রয়েছে, আর তা হলো ‘আল-উবুদিয়্যাহ’। এর পাশাপাশি ইবাদত ও অনুসরণের মাসআলার প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপের বিষয়টি তাঁর বিভিন্ন কিতাব ও ফাতাওয়ার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে।

দ্বিতীয়ত: ইবনুল কাইয়্যিমের ‘মাদারিজুস সালিকিন’ গ্রন্থটি ইবাদতের মাসআলা, এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ইবাদতকারীদের প্রকারভেদ এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে অত্যন্ত সুগভীর অর্থ ও উচ্চতর লক্ষ্যসমূহ ধারণ করে আছে।

তৃতীয়ত: শাতবির ‘আল-ইতিসাম’ কিতাবটি ফিকহী বিচার-বিশ্লেষণে এই মাসআলার অন্যতম গভীর এবং সবচেয়ে সমৃদ্ধ উপাদানে ভরপুর একটি উৎস। এই গ্রন্থটি এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না।

বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই গবেষণাটিকে একটি ভূমিকা এবং চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা আবশ্যক হয়েছে:

ভূমিকা: শরিয়তের মূল ভিত্তি কি কেবল আনুগত্যমূলক ইবাদত নাকি যৌক্তিক কারণ অনুসন্ধান?

এই মাসআলার অধীনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো রয়েছে:

1 - বিরোধপূর্ণ বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ নির্ধারণ।

2 - বিভিন্ন অভিমত ও তার দলীলসমূহ।

3 - অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত এবং তা নির্বাচনের স্বপক্ষে দলীল।

4 - মতপার্থক্যের প্রভাব ও এর ফলাফল।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الأول: معنى القاعدة.

وفي هذا الفصل مطلبان:

المطلب الأول: المعنى الإفرادي للقاعدة.

وفي هذا المطلب ثلاث مسائل:

المسألة الأولى: معنى الأصل.

المسألة الثانية: معنى العبادة.

المسألة الثالث: معنى المنع.

المطلب الثاني: المعنى الإجمالي للقاعدة.

الفصل الثاني: توثيق القاعدة.

وفي هذا الفصل أربعة مطالب:

المطلب الأول: صيغ القاعدة.

المطلب الثاني: القواعد الأصولية والفقهية ذات الصلة بالقاعدة.

المطلب الثالث: أدلة القاعدة.

المطلب الرابع: سياق كلام أهل العلم حول القاعدة.

الفصل الثالث: أثر القاعدة وتطبيقاتها:

وفي هذا الفصل أربعة مطالب:

المطلب الأول: أسماء الله وصفاته توقيفية.

المطلب الثاني: ألفاظ الأذكار توقيفية.
প্রথম পরিচ্ছেদ (الفصل): মূলনীতির (قاعدة) অর্থ।

এই পরিচ্ছেদে (الفصل) দুটি অনুচ্ছেদ (المطلب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب): মূলনীতির (قاعدة) ব্যুৎপত্তিগত অর্থ।

এই অনুচ্ছেদে (المطلب) তিনটি বিষয় (المسألة) রয়েছে:

প্রথম বিষয় (المسألة): আসলের (أصل) অর্থ।

দ্বিতীয় বিষয় (المسألة): ইবাদতের (عبادة) অর্থ।

তৃতীয় বিষয় (المسألة): নিষেধাজ্ঞার (منع) অর্থ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): মূলনীতির (قاعدة) সামগ্রিক অর্থ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (الفصل): মূলনীতির (قاعدة) প্রামাণিকতা।

এই পরিচ্ছেদে (الفصل) চারটি অনুচ্ছেদ (المطلب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب): মূলনীতির (قاعدة) শব্দরূপ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): এই মূলনীতির (قاعدة) সাথে সংশ্লিষ্ট উসূলী (أصولية) ও ফিকহী (فقهية) মূলনীতিসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): মূলনীতির (قاعدة) দলিলসমূহ (أدلة)।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب): এই মূলনীতি (قاعدة) সম্পর্কে আলেমগণের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (الفصل): মূলনীতির (قاعدة) প্রভাব ও এর প্রয়োগসমূহ:

এই পরিচ্ছেদে (الفصل) চারটি অনুচ্ছেদ (المطلب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب): আল্লাহর নাম ও গুণাবলী ওহি-নির্ভর (توقيفية)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب): জিকিরের শব্দাবলি ওহি-নির্ভর (توقيفية)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৯)
المطلب الثالث: المنع من الغلو في الدين.

المطلب الرابع: مسائل متفرقة.

الفصل الرابع: القواعد المندرجة تحت القاعدة.

وتحت هذا الفصل أربع قواعد:

القاعدة الأولى: لا تثبت العبادة إلا بتوقيف.

القاعدة الثانية: الأصل في العبادات المقيدة: الإتيان بها مقيدة.

القاعدة الثالثة: الأصل في العبادات المطلقة: التوسعة.

القاعدة الرابعة: ما شرع من العبادات على وجه العموم لا يدل على مشروعيته على وجه الخصوص.

وقد ذيلت هذا البحث بخاتمة تضمنت خلاصته، وبثبت للمصادر والمراجع.

أسأل الله -جل شأنه- أن يوفقنا لما يحب ويرضى، وأن يرزقنا العلم النافع والعمل الصالح، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীনের মধ্যে চরমপন্থা (الغلو) অবলম্বন নিষিদ্ধকরণ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিবিধ মাসআলাসমূহ।

চতুর্থ অধ্যায়: মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত নীতিসমূহ।

এই অধ্যায়ের অধীনে চারটি নীতি রয়েছে:

প্রথম নীতি: শারঈ দলিল (توقيف) ব্যতীত কোনো ইবাদত সাব্যস্ত হয় না।

দ্বিতীয় নীতি: শর্তযুক্ত (المقيدة) ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো: সেগুলোকে শর্তযুক্ত অবস্থাতেই পালন করা।

তৃতীয় নীতি: শর্তহীন (المطلقة) ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো: প্রশস্ততা।

চতুর্থ নীতি: ইবাদতসমূহের মধ্যে যা সাধারণভাবে (العموم) বিধিবদ্ধ হয়েছে, তা বিশেষভাবে (الخصوص) তার বিধিবদ্ধতা (مشروعيته) প্রমাণ করে না।

আমি এই গবেষণাটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি যাতে এর সারসংক্ষেপ রয়েছে এবং একটি উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা যুক্ত করেছি।

আমি মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের সেই কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন, আর আমাদের উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমল নসিব করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের সর্বশেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌التمهيد

في بيان هل الأصل في الشريعة التعبد أو التعليل؟

وتحت هذه المسألة النقاط الآتية:

1 - تحرير محل النزاع.

2 - الأقوال والأدلة.

3 - الرأي الراجح ودليل الترجيح.

4 - أثر الخلاف وثمرته.
উপক্রমণিকা

শরিয়তের মূল ভিত্তি কি নিছক আনুগত্য (التعبد) নাকি যৌক্তিক কারণ অনুসন্ধান (التعليل)?—তার বর্ণনায়।

এই মাসআলার অধীনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো রয়েছে:

1 - বিরোধপূর্ণ বিষয়ের (محل النزاع) স্বরূপ নির্ধারণ।

2 - মতামতসমূহ ও দলীলসমূহ (الأدلة)।

3 - অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত এবং প্রাধান্য প্রদানের (الترجيح) দলীল।

4 - মতভেদের প্রভাব ও ফলাফল।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌1 - تحرير محل النزاع

وذلك في أمور ثلاثة:

الأمر الأول: أن كلا من التعبد والتعليل له معنى عام ومعنى خاص.

أولا: المعنى العام لكل من التعبد والتعليل:

التعبد بمعناه العام هو: ما دل عليه قوله صلى الله عليه وسلم: «حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئًا» (1)، وعبادته -سبحانه- هي: امتثال أوامره واجتناب نواهيه بإطلاق.

وبهذا يعلم أن علة التعبد العامة هي: الانقياد لأوامر الله -تعالى- وإفراده بالخضوع والتعظيم لجلاله والتوجه إليه؛ كما قال -سبحانه-: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56].

وبناء على ذلك فيمكن أن يقال: الشريعة كلها تعبدية.

وأما التعليل بمعناه العام هو: ما دل عليه قوله صلى الله عليه وسلم: «حق العباد على الله إذا عبدوه ولم يشركوا به شيئًا ألا يعذبهم» (2)، وهذا

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (7/ 308) برقم (2856)، ومسلم برقم (30).

(2) هو تتمة للحديث السابق ولكن بلفظ: «حق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئًا».
১ - বিরোধপূর্ণ বিষয়ের বিশ্লেষণ

এবং এটি তিনটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত:

প্রথম বিষয়: ইবাদতগত আনুগত্য (تعبد) এবং কার্যকারণ অনুসন্ধান (تعليل) উভয়েরই একটি সাধারণ অর্থ এবং একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে।

প্রথমত: ইবাদতগত আনুগত্য (تعبد) এবং কার্যকারণ অনুসন্ধান (تعليل) উভয়ের সাধারণ অর্থ:

সাধারণ অর্থে ইবাদতগত আনুগত্য (تعبد) হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী যা নির্দেশ করে: "বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না" (১), আর মহান আল্লাহর ইবাদত হলো: নিঃশর্তভাবে তাঁর আদেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা।

এর মাধ্যমে এটি জানা যায় যে, ইবাদতগত আনুগত্যের সাধারণ কার্যকারণ (علة) হলো: মহান আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করা, তাঁর মহিমার প্রতি বিনয় ও সম্মানের ক্ষেত্রে তাঁকে একক সাব্যস্ত করা এবং তাঁর অভিমুখী হওয়া; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি" [আয-যারিয়াত: ৫৬]।

এর ওপর ভিত্তি করে বলা যেতে পারে: সমগ্র শরিয়তই ইবাদতগত আনুগত্য (تعبدية) ভিত্তিক।

পক্ষান্তরে, সাধারণ অর্থে কার্যকারণ অনুসন্ধান (تعليل) হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী যা নির্দেশ করে: "আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো—যখন তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না—তখন তিনি যেন তাদের শাস্তি না দেন" (২), আর এটি...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৭/ ৩০৮) হাদিস নম্বর (২৮৫৬), এবং মুসলিম হাদিস নম্বর (৩০)।

(২) এটি পূর্ববর্তী হাদিসেরই পরিশিষ্টাংশ, তবে শব্দগুলো নিম্নরূপ: "আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো—যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, তাকে তিনি শাস্তি দেবেন না"।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ১৪)
يفيد أن هذه الشريعة إنما وضعت لمصالح العباد عاجلا وآجلا.

ومن هنا يعلم أن أحكام الله سبحانه وتعالى معللة بالحِكم ورعاية المصالح، وأن جميع الأوامر والنواهي مشتملة على حِكم جليلة ومصالح عظيمة.

وبناء على ذلك فيمكن أن يقال: الشريعة كلها معللة.

ثانيًا: المعنى الخاص لكل من التعبد والتعليل:

التعبد بمعناه الخاص هو: ما لا يُعقل معناه من الأحكام على الخصوص، ولا تدرك علته، وهو ما يسمى بالأمور التعبدية.

ومثالها: تحديد أعداد الركعات في الصلوات الخمس، وتحديد مقادير الأنصبة في الأموال التي تجب فيها الزكاة، ومقادير ما يجب فيها، ومقادير الحدود والكفارات، وفروض أصحاب الفروض في الإرث (1).

وهذا التعبد واقع في الشريعة؛ فإن بعض الأحكام قد تخفى علتها.

وأما التعليل بمعناه الخاص فهو: كون الحكم متضمنًا لمعنى مناسب ومصلحة يدركها العقل (2).

--------------------------------------------

(1) علم أصول الفقه للشيخ عبد الوهاب خلاف ص (62).

(2) انظر: شفاء العليل لابن القيم ص (190)، ومفتاح دار السعادة (2/ 22)، ومذكرة الشنقيطي ص (275).
এটি নির্দেশ করে যে, এই শরিয়ত ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণের জন্যই প্রণীত হয়েছে।

এখান থেকে জানা যায় যে, মহান আল্লাহর বিধানসমূহ প্রজ্ঞা ও জনস্বার্থ রক্ষার যৌক্তিক কারণযুক্ত (معللة), এবং সমস্ত আদেশ ও নিষেধ মহান প্রজ্ঞা ও ব্যাপক জনস্বার্থ সম্বলিত।

এর ওপর ভিত্তি করে বলা যেতে পারে: সমস্ত শরিয়তই যৌক্তিক কারণযুক্ত (معللة)।

দ্বিতীয়ত: ইবাদতগত আনুগত্য (التعبد) এবং যৌক্তিক কারণ নির্ণয় (التعليل) -এর বিশেষ অর্থ:

বিশেষ অর্থে ইবাদতগত আনুগত্য (التعبد) হলো: বিধানগুলোর মধ্য থেকে বিশেষভাবে যেটির মর্মার্থ বুদ্ধি দ্বারা বোঝা যায় না এবং যার যৌক্তিক কারণ (علة) অনুধাবন করা যায় না; একেই ইবাদতগত বিষয় (الأمور التعبدية) বলা হয়।

এর উদাহরণ হলো: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে রাকাতের সংখ্যা নির্ধারণ, জাকাত ওয়াজিব হয় এমন সম্পদের নিসাবের পরিমাণ নির্ধারণ এবং তাতে প্রদেয় পরিমাণের নির্ধারণ, দণ্ডবিধি (الحدود) ও কাফফারার পরিমাণ নির্ধারণ এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অংশীদারদের অংশসমূহ নির্ধারণ (১)।

এই ইবাদতগত আনুগত্য (التعبد) শরিয়তে বিদ্যমান; কেননা কিছু বিধানের যৌক্তিক কারণ (علة) অপ্রকাশিত থাকতে পারে।

পক্ষান্তরে বিশেষ অর্থে যৌক্তিক কারণ নির্ণয় (التعليل) হলো: বিধানটি এমন এক উপযুক্ত অর্থ ও জনস্বার্থ সম্বলিত হওয়া যা বুদ্ধি দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব (২)।

--------------------------------------------

(১) শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ রচিত ইলম উসুল আল-ফিকহ, পৃষ্ঠা (৬২)।

(২) দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম রচিত শিফা আল-আলীল, পৃষ্ঠা (১৯০), মিফতাহ দার আস-সা’আদাহ (২/২২), এবং মুজাক্কিরাহ আশ-শানকিতী, পৃষ্ঠা (২৭৫)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ১৫)
ونصوص القرآن والسنة طافحة بتعليل الأحكام ووجوه الحِكم، فمن الأمثلة على ذلك في القرآن الكريم (1):

أنه تارة يذكر ذلك بلام التعليل الصريحة؛ كقوله -تعالى-: {وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنْتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّنْ يَنْقَلِبُ عَلَى عَقِبَيْهِ} [البقرة: 143].

وتارة يذكر "كي" الصريحة في التعليل، كقوله -تعالى-: {كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ} [الحشر: 7].

وتارة يذكر "من أجل" الصريحة في التعليل؛ كقوله -تعالى-: {مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ} [المائدة: 32].

وتارة يذكر "لعل" المتضمنة للتعليل المجردة عن معنى الرجاء المضاف إلى المخلوق؛ كقوله -تعالى-: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 183].

وتارة يذكر المفعول له؛ كقوله-تعالى-: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89].

وتارة ينبه على السبب بذكره صريحًا؛ كقوله -تعالى-: {فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيرًا * وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ} [النساء: 160، 161].

--------------------------------------------

(1) انظر: مفتاح دار السعادة (2/ 22)، وشفاء العليل لابن القيم ص (188 - 196).
কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ বিধানের কারণ দর্শানো (تعليل) এবং হিকমতের বিভিন্ন দিক বর্ণনায় পরিপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে এর কিছু উদাহরণ হলো (১):

কখনো তা সুস্পষ্ট কারণবাচক 'লাম' (لام التعليل) এর মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি যে কিবলার ওপর ছিলেন তাকে আমি কেবল এই জন্যই নির্ধারণ করেছিলাম যাতে আমি জেনে নিতে পারি কে রাসুলের অনুসরণ করে আর কে তার দুই গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে ফিরে যায়।} [আল-বাকারাহ: ১৪৩]।

আবার কখনো কারণ দর্শাতে (التعليل) সুস্পষ্ট 'কাই' (كي) শব্দটির উল্লেখ করা হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তোমাদের ধনীদের মধ্যেই কেবল সম্পদ আবর্তিত না হয়।} [আল-হাশর: ৭]।

কখনো কারণ দর্শাতে (التعليل) সুস্পষ্ট 'মিন আজলি' (من أجل) শব্দটির উল্লেখ করা হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সেই কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের ওপর এই বিধান লিখে দিয়েছিলাম...} [আল-মায়িদাহ: ৩২]।

আবার কখনো কারণবোধক (التعليل) 'লাআল্লা' (لعل) শব্দটি ব্যবহৃত হয় যা সৃষ্টির পক্ষ থেকে আকাঙ্ক্ষার অর্থ থেকে মুক্ত; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমনটি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} [আল-বাকারাহ: ১৮৩]।

কখনো 'উদ্দেশ্যবাচক কর্ম' (المفعول له) এর উল্লেখ করা হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি আপনার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ।} [আন-নাহল: ৮৯]।

আবার কখনো কারণটি (السبب) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার মাধ্যমে সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বস্তুত ইয়াহুদিদের জুলুমের কারণে আমি তাদের জন্য এমন অনেক পবিত্র বস্তু হারাম করে দিয়েছিলাম যা তাদের জন্য হালাল ছিল, আর তা তাদের আল্লাহর পথে অনেককে বাধা দেওয়ার কারণে, এবং তাদের সুদ গ্রহণের কারণে অথচ তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং অন্যায়ভাবে মানুষের ধন-সম্পদ গ্রাস করার কারণে।} [আন-নিসা: ১৬০, ১৬১]।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মিফতাহু দারি আস-সাআদাহ (২/ ২২), এবং ইবনুল কায়্যিম রচিত শিফাউল আলীল, পৃ. ১৮৮-১৯৬।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ১৬)
وتعليل أفعال الله -سبحانه- لا يلزم منه -على مذهب السلف- القول بأنه يجب على الله رعاية مصالح العباد؛ ذلك لأن السلف يثبتون لله كمال القدرة والحكمة، ولا يشبهونه بشيء من خلقه، ولأجل ذلك يقولون:

"إن الله خالق كل شيء ومليكه، وما شاء كان وما لم يشأ لم يكن، وهو على كل شيء قدير، ويفعل -سبحانه- ما يفعل بأسباب ولحكم وغايات محمودة فله المشيئة العامة والقدرة التامة، والحكمة البالغة" (1).

ولا يجب عليه -سبحانه- شيء فيما يحكم ويقضي؛ إذ لا يجوز قياسه على خلقه (2): {لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} [الأنبياء: 23]، لذا فإن القول: بأن العلة مجرد علامة محضة لا يصح، لكونه مبنيًا على إنكار التعليل في أفعال الله، بل العلة هي الوصف المشتمل على الحكمة الباعثة على تشريع الحكم (3).

الأمر الثاني: أن إجراء القياس في الأحكام الشرعية لا يمكن إلا بعد معرفة العلة وتعقل المعنى:

وبناء على ذلك فالقياس إنما يسوغ إجراؤه في الأحكام المعللة، وأما في الأحكام التعبدية غير المعللة فلا يمكن فيها إجراء والقياس بحال.

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى (8/ 97، 99)، وشفاء العليل لابن القيم ص (206).

(2) انظر: اقتضاء الصراط المستقيم (2/ 776).

(3) انظر: مجموع الفتاوى (8/ 485)، ومذكرة الشنقيطي ص (275).
মহান আল্লাহ—সুবহানাহু—এর কাজসমূহের কারণ দর্শানো (التعليل) থেকে—সালাফদের মাযহাব অনুযায়ী—এই কথা আবশ্যক হয় না যে, আল্লাহর ওপর বান্দাদের জনকল্যাণ (مصالح) রক্ষা করা ওয়াজিব; এর কারণ হলো, সালাফগণ আল্লাহর জন্য পূর্ণ ক্ষমতা ও প্রজ্ঞা সাব্যস্ত করেন এবং তাঁকে তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথে তুলনা করেন না। এ কারণেই তাঁরা বলেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক। তিনি যা চান তা-ই হয় এবং যা চান না তা হয় না। তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। তিনি—সুবহানাহু—যা কিছু করেন তা নির্দিষ্ট কারণসমূহ (أسباب), প্রজ্ঞা (حكم) ও প্রশংসিত উদ্দেশ্যসমূহের (غايات محمودة) ভিত্তিতেই করেন। সুতরাং তাঁরই জন্য রয়েছে সাধারণ ইচ্ছা (المشيئة العامة), পূর্ণ ক্ষমতা (القدرة التامة) এবং সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা (الحكمة البالغة)" (১)।

তিনি যা বিধান দেন ও ফয়সালা করেন, তাতে তাঁর ওপর কোনো কিছু আবশ্যক হয় না; যেহেতু সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনা করা (قياسه) বৈধ নয় (২): "তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে" [আল-আম্বিয়া: ২৩]। অতএব, এই উক্তি যে: কার্যকর কারণ (العلة) কেবল একটি নিছক চিহ্ন (علامة) মাত্র, তা সঠিক নয়। কেননা এটি আল্লাহর কাজসমূহে কারণ দর্শানোকে (التعليل) অস্বীকার করার ওপর ভিত্তি করে রচিত। বরং কার্যকর কারণ (العلة) হলো এমন এক বৈশিষ্ট্য যা এমন প্রজ্ঞাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা বিধান (الحكم) প্রবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে (৩)।

দ্বিতীয় বিষয়: শরয়ি বিধানসমূহে (الأحكام الشرعية) কিয়াস (القياس) প্রয়োগ করা কেবল তখনই সম্ভব যখন কার্যকর কারণ (العلة) জানা যায় এবং এর অর্থ বা তাৎপর্য অনুধাবন করা যায়:

এর ওপর ভিত্তি করে, কিয়াস (القياس) প্রয়োগ করা কেবল সেই সকল বিধানেই বৈধ যার কারণ দর্শানো (المعللة) হয়েছে। আর যে সকল ইবাদতগত (التعبدية) বিধানের কারণ দর্শানো হয়নি (غير المعللة), সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই কিয়াস (القياس) প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (৮/ ৯৭, ৯৯) এবং ইবনুল কাইয়্যিমের শিফাউল আলীল, পৃষ্ঠা ২০৬।

(২) দেখুন: ইক্তিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (২/ ৭৭৬)।

(৩) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (৮/ ৪৮৫) এবং মুযাক্কিরাতুশ শানকিতি, পৃষ্ঠা ২৭৫।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الطوفي عند بيانه لشروط القياس: "الشرط الثالث: أن يكون الأصل معقول المعنى، إذ لا تعدية بدون المعقولية، أي: ما لا يعقل معناه لا يمكن القياس فيه؛ لأن القياس تعدية حكم المنصوص عليه إلى غيره، وما لا يعقل لا يمكن تعديه، كأوقات الصلوات وعدد الركعات" (1).

وقال الشاطبي: "ذلك أن التعبد راجع إلى عدم معقولية المعنى، وبحيث لا يصح فيه إجراء القياس.

وإذا لم يعقل معناه دل على أن قصد الشارع فيه الوقوف عند ما حدَّه لا يُتعدى" (2).

الأمر الثالث: محل النزاع في هذه المسألة إنما هو في الأصل الغالب في أحكام الشريعة: هل هو التعبد أو التعليل؟

حيث الاتفاق واقع على أن أحكام الشريعة منها ما هو تعبدي، لا تعرف له علة، ومن هذه الأحكام أيضًا ما هو معلل بنص الكتاب والسنة.

قال الطوفي: "الأحكام إما غير معلل؛ كالتعبدات أو معلل؛ كالحجر على الصبي لضعف عقله حفظًا لماله" (3).

فمحل الخلاف إذن فيما عدا ذلك من الأحكام: ما الأصل فيها؛ هل تحمل على التعبد أو على التعليل؟

--------------------------------------------

(1) شرح مختصر الروضة (3/ 301).

(2) الموافقات (2/ 318).

(3) شرح مختصر الروضة (3/ 275).
আত-তূফী কিয়াসের (القياس) শর্তাবলি বর্ণনায় বলেন: "তৃতীয় শর্ত হলো: মূল বিষয়টি (الأصل) যুক্তিসঙ্গত অর্থবোধক হওয়া; কারণ হুকুমের কারণ বা ইল্লত অনুধাবন করা ছাড়া তা অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রসারিত করা (تعدية) সম্ভব নয়। অর্থাৎ, যার অর্থের হাকিকত বা গূঢ় রহস্য বুদ্ধিগম্য নয়, সেখানে কিয়াস (القياس) করা সম্ভব নয়; কারণ কিয়াস (القياس) হলো দলিলে বর্ণিত (المنصوص عليه) বিধানকে অন্য বিষয়ের দিকে প্রসারিত করা (تعدية), আর যা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয় তাকে প্রসারিত করা অসম্ভব। যেমন সালাতের সময়সমূহ এবং রাকাতের সংখ্যা।" (১)।

শাতীবী বলেন: "তা এই কারণে যে, ইবাদতকেন্দ্রিকতা (التعبد) মূলত অর্থের অবোধগম্যতার সাথে সংশ্লিষ্ট, যার ফলে সেখানে কিয়াস (القيাস) প্রয়োগ করা সহিহ (صحيح) নয়।

যদি এর অর্থ বুদ্ধিগম্য না হয়, তবে তা একথারই প্রমাণ দেয় যে, সেখানে শারিয়াত প্রণেতার উদ্দেশ্য হলো তাঁর নির্ধারিত সীমায় থেমে যাওয়া এবং তা অতিক্রম না করা।" (২)।

তৃতীয় বিষয়: এই মাসআলায় বিরোধের মূল ক্ষেত্র হলো শরিয়তের বিধানসমূহের প্রধান মূল ভিত্তি কোনটি: তা কি নিছক ইবাদতকেন্দ্রিকতা (التعبد), নাকি হুকুমের কারণ অনুসন্ধান বা ইল্লতনির্ভরতা (التعليل)?

যেখানে এই বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত যে, শরিয়তের বিধানসমূহের কিছু অংশ ইবাদতকেন্দ্রিক (تعبدي), যার কোনো ইল্লত (علة) বা কারণ জানা যায় না; আবার কিছু বিধান এমনও রয়েছে যা কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্য (نص) দ্বারাই সুনির্দিষ্ট কারণনির্ভর (معلل) বলে প্রমাণিত।

আত-তূফী বলেন: "বিধানসমূহ হয় কারণহীন; যেমন ইবাদতসমূহ; অথবা কারণনির্ভর (معلل); যেমন শিশুর সম্পদ সুরক্ষার স্বার্থে তার বুদ্ধিগত অপরিপক্বতার কারণে তার ওপর অভিভাবকত্ব বা বিধিনিষেধ আরোপ করা।" (৩)।

অতএব, এ ছাড়া অন্যান্য বিধানসমূহের ক্ষেত্রে বিরোধের মূল জায়গা হলো: সেগুলোর ক্ষেত্রে মৌলিক নীতি (الأصل) কোনটি? সেগুলোকে কি ইবাদতকেন্দ্রিক (التعبد) হিসেবে গণ্য করা হবে, নাকি কারণনির্ভর (التعليل) হিসেবে গণ্য করা হবে?

--------------------------------------------

(১) শারহু মুখতাসারির রওদা (৩/ ৩০১)।

(২) আল-মুয়াফাকাত (২/ ৩১৮)।

(৩) শারহু মুখতাসারির রওদা (৩/ ২৭৫)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌2 - الأقوال والأدلة

القول الأول: أن الغالب في أحكام الشريعة التعليل، وأن التعبد فيها قليل.

وهو مذهب الحنفية، ونسب ذلك إلى الإمام الشافعي، وقال به من الحنابلة القاضي أبو يعلي وأبو الخطاب (1).

واستدلوا بما يأتي (2):

أولاً: أنَّ تعقُّل العلة وإدراك المناسبة أقرب إلى القبول من التعبد، وأدعى إلى العمل والامتثال.

ثانيًا: أن التعبد في الأحكام قليل نادر، وأن التعليل هو الأغلب، وهو المألوف في عرف الشارع، فيلحق الفرد بالأعم الأغلب، ألا وهو التعليل، وإنما يحكم بالتعبد فيما لا تظهر فيه مناسبة.

ثالثًا: العمومات الدالة على العمل بالقياس؛ فإنها تفيد أن هذه الشريعة مبناها على التعليل، وإدراك المناسبات حتى يمكن إلحاق النظير بنظيره.

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح التلويح (2/ 64)، وشرح الكوكب المنير (4/ 151، 152).

(2) انظر: البحر المحيط (5/ 208)، وشرح الكوكب المنير (4/ 152).
২ - বক্তব্য ও প্রমাণসমূহ

প্রথম বক্তব্য: শরিয়তের বিধানসমূহের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানো বা যৌক্তিক ভিত্তি (تعليل) থাকাই প্রধান, এবং নিছক আনুগত্য (تعبد) এর পরিমাণ কম।

এটি হানাফিদের মাযহাব, এবং এটি ইমাম শাফেয়ির দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। হাম্বলিদের মধ্যে কাজি আবু ইয়ালা এবং আবু আল-খাত্তাব এই মত পোষণ করেছেন (১)।

তারা নিম্নোক্ত প্রমাণাদির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন (২):

প্রথমত: কারণ (علة) অনুধাবন করা এবং যৌক্তিক সামঞ্জস্য উপলব্ধি করা নিছক আনুগত্য (تعبد) অপেক্ষা গ্রহণের অধিক নিকটবর্তী এবং আমল ও বিধিবিধান পালনের প্রতি অধিকতর উৎসাহব্যঞ্জক।

দ্বিতীয়ত: বিধানসমূহের ক্ষেত্রে নিছক আনুগত্য (تعبد) এর বিষয়টি খুবই নগণ্য ও বিরল, আর কারণ বা ভিত্তি থাকাটাই (تعليل) অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটাই শারিকের (বিধানদাতার) নিকট পরিচিত রীতি। সুতরাং একক বিষয়গুলোকে এই সাধারণ ও অধিকাংশ বিষয়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, আর তা হলো কারণ দর্শানো বা যৌক্তিক ভিত্তি (تعليل)। নিছক আনুগত্যের (تعبد) নির্দেশ কেবল সেখানেই দেওয়া হয় যেখানে কোনো যৌক্তিক সামঞ্জস্য প্রকাশ পায় না।

তৃতীয়ত: তুলনা বা অনুমান (قياس) অনুযায়ী আমল করার নির্দেশক সাধারণ প্রমাণসমূহ; এগুলো প্রমাণ করে যে এই শরিয়তের ভিত্তি হলো কারণ বা ভিত্তি দর্শানোর (تعليل) ওপর এবং যৌক্তিক সামঞ্জস্য উপলব্ধির ওপর, যাতে করে সমজাতীয় বিষয়কে তার অনুরূপ বিষয়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শরহু আল-তালউইহ (২/ ৬৪), এবং শরহু আল-কাওকাব আল-মুনির (৪/ ১৫১, ১৫২)।

(২) দেখুন: আল-বাহর আল-মুহিত (৫/ ২০৮), এবং শরহু আল-কাওকাব আল-মুনির (৪/ ১৫২)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ১৯)
القول الثاني: أن الغالب في أحكام الشريعة التعبد، وأن التعليل فيها قليل.

وهو المشهور عند الشافعية، وعلى هذا المذهب طائفة من السلف (1).

واستدلوا بالآتي (2):

أولاً: أن الموجب للامتثال إنما هو صيغة الأمر والنهي لا العلة.

ثانيًا: أن الالتفات إلى التعليل يضعف الانقياد، وذلك أن من لم يمتثل الأمر حتى تظهر له علته لم يكن منقادًا للأمر، وأقل درجاته أن يضعف انقياده له.

ولهذا كانت طريقة بعض السلف عدم التعرض لعلل التكاليف؛ خشية هذا المحذور.

وقد ورد في بعض الآثار: "يا بني إسرائيل لا تقولوا: لِم أمر ربنا؟ ولكن قولوا: بم أمر ربنا؟ " (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح التلويح (2/ 64)، ومدارج السالكين (2/ 519)، وشرح الكوكب المنير (4/ 151، 152).

(2) انظر: مدارج السالكين (2/ 519)، وشرح الكوكب المنير (4/ 152).

(3) مدارج السالكين (2/ 519).
দ্বিতীয় মত: শরীয়তের বিধানসমূহের অধিকাংশ হলো নিরঙ্কুশ আনুগত্যমূলক (تعبد) এবং সেগুলোর গূঢ় কারণ-নির্ভরতা (تعليل) কম।

এটি শাফেয়ী মাযহাবের নিকট প্রসিদ্ধ মত এবং একদল পূর্বসূরি (سلف) এই মতের ওপর ছিলেন (১)।

তারা নিম্নোক্ত যুক্তিগুলো পেশ করেছেন (২):

প্রথমত: আনুগত্যের আবশ্যকতা কেবল আদেশ এবং নিষেধের বাচনিক রূপের (صيغة) কারণে হয়ে থাকে, গূঢ় কারণের (علة) জন্য নয়।

দ্বিতীয়ত: গূঢ় কারণ (تعليل) খোঁজার দিকে মনোযোগ দেওয়া আনুগত্যকে দুর্বল করে দেয়। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো বিধানের গূঢ় কারণ (علة) স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তা পালন করে না, সে আসলে সেই নির্দেশের প্রতি অনুগত নয়; আর এর সর্বনিম্ন পর্যায় হলো এটি তার আনুগত্যকে দুর্বল করে দেয়।

একারণে কিছু পূর্বসূরির (سلف) কর্মপন্থা ছিল শরীয়তের অর্পিত দায়িত্বসমূহের (تكاليف) গূঢ় কারণসমূহ (علل) নিয়ে আলোচনা না করা; এই বিপত্তির আশঙ্কায়।

কিছু বর্ণনায় (آثار) বর্ণিত হয়েছে: "হে বনী ইসরাঈল! তোমরা এ কথা বলো না যে, আমাদের রব কেন আদেশ করেছেন? বরং তোমরা বলো, আমাদের রব কী আদেশ করেছেন?" (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শারহুত তালউইহ (২/ ৬৪), মাদারিজুস সালিকিন (২/ ৫১৯), এবং শারহুল কাওকাবিল মুনির (৪/ ১৫১, ১৫২)।

(২) দেখুন: মাদারিজুস সালিকিন (২/ ৫১৯), এবং শারহুল কাওকাবিল মুনির (৪/ ১৫২)।

(৩) মাদারিজুস সালিকিন (২/ ৫১৯)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌3 - الرأي الراجح ودليل الترجيح

يظهر لي أن الراجح في هذه المسألة هو ما اختاره الإمام الشاطبي، وهو: "التفرقة بين العبادات والعادات، وأنه غلب في باب العبادات جهة التعبد، وفي باب العادات جهة الالتفات إلى المعاني، والعكس في البابين قليل" (1).

ومستند هذا الترجيح أمران:

أولهما: أن في هذا القول جمعًا بين أدلة الفريقين، كما أن فيه توفيقًا بين القولين.

وثانيهما: أن الشاطبي قد اعتمد في اختيار هذا الرأي على استقراء الشريعة وتتبُع نصوصها وأحكامها (2).

وبيان ذلك على النحو الآتي:

أما أمور العبادات فمما يدل على أن الأصل فيها الالتفات إلى التعبد دون التعليل:

أن الصلوات خُصَّت بأفعال مخصوصة على هيئات مخصوصة إن خرجت عنها لم تكن عبادات.

--------------------------------------------

(1) الموافقات (2/ 396).

(2) انظر: الموافقات (2/ 300 - 306).
৩ - অগ্রাধিকারযোগ্য (الراجح) মত এবং অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) দলিল

আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, এই মাসআলায় অগ্রাধিকারযোগ্য (الراجح) মতটি হলো ইমাম শাতবি যা পছন্দ করেছেন, আর তা হলো: "ইবাদাত (العبادات) এবং আদাত বা প্রথাগুলোর (العادات) মধ্যে পার্থক্য করা; ইবাদাতের ক্ষেত্রে আনুগত্যের (التعبد) দিকটি প্রাধান্য পায় এবং আদাতের ক্ষেত্রে অর্থের বা হিকমতের (المعاني) প্রতি লক্ষ্য রাখার দিকটি প্রাধান্য পায়, আর উভয় ক্ষেত্রে এর বিপরীত হওয়াটা বিরল" (১)।

এই অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) ভিত্তি হলো দুটি বিষয়:

প্রথমত: এই মতের মধ্যে উভয় পক্ষের দলিলের সমন্বয় ঘটেছে, যেমন এতে উভয় বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: ইমাম শাতবি এই মতটি নির্বাচনে শরিয়তের আরোহ পদ্ধতি (استقراء) এবং এর নস (النصوص) ও বিধানসমূহের অনুসরণের ওপর নির্ভর করেছেন (২)।

এর ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:

ইবাদাতের (العبادات) বিষয়াবলির ক্ষেত্রে যা প্রমাণ করে যে, এতে মূলনীতি (الأصل) হলো কারণ বিশ্লেষণের (التعليل) পরিবর্তে নিছক আনুগত্যের (التعبد) প্রতি লক্ষ্য রাখা:

তা হলো, নামাজকে বিশেষ পদ্ধতি ও বিশেষ কার্যাবলির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা থেকে বিচ্যুত হলে তা আর ইবাদাত (العبادات) থাকে না।

--------------------------------------------

(১) আল-মুওয়াফাকাত (২/ ৩৯৬)।

(২) দেখুন: আল-মুওয়াফাকাত (২/ ৩০০ - ৩০৬)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২১)
وأن الذكر المخصوص في هيئة ما مطلوب، وفي هيئة أخرى غير مطلوب.

وأن طهارة الحدث مخصوصة بالماء الطهور وإن أمكنت النظافة بغيره، وأن التيمم وليست فيه نظافة حسية، يقوم مقام الطهارة بالماء المطهر.

وهكذا سائر العبادات كالصوم والحج وغيرهما.

فالركن الوثيق الذي ينبغي الالتجاء إليه الوقوف عند ما حُدَّ دون التعدي إلى غيره؛ لأنا وجدنا الشريعة حين استقريناها تدور على التعبد في باب العبادات فكان أصلا فيها.

فيجب أن يؤخذ في هذا الضرب التعبد دون الالتفات إلى المعاني أصلا يبني عليه وركنًا يلجأ إليه.

وأما أمور العادات فمما يدل على أن الأصل فيها الالتفات إلى المعاني والتعليل، دون التعبد:

أنا وجدنا الشارع قاصدًا لمصالح العباد، وأن الأحكام العادية وجدناها تدور مع المصلحة حيثما دارت؛ فترى الشيء الواحد يمنع في حال لا تكون فيه مصلحة، فإذا كان فيه مصلحة جاز.

فمن أمثلة ذلك: أن الدرهم بالدرهم إلى أجل يمتنع في المبايعة ويجوز في القرض.
নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট জিকির একটি বিশেষ পদ্ধতিতে কাম্য, আবার অন্য পদ্ধতিতে কাম্য নয়।

এবং অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা (طهارة) অর্জনের বিষয়টি বিশুদ্ধ পানির সাথে সুনির্দিষ্ট, যদিও অন্য কিছুর মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা সম্ভব। তদ্রূপ তায়াম্মুম—যাতে কোনো বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নেই—তা পবিত্রকারী পানির মাধ্যমে অর্জিত পবিত্রতার (طهارة) স্থলাভিষিক্ত হয়।

অনুরূপভাবে অন্যান্য ইবাদতসমূহও, যেমন রোজা, হজ ও অন্যান্য।

অতএব, দৃঢ় ভিত্তি যা অবলম্বন করা উচিত তা হলো—নির্ধারিত সীমানার ওপর স্থির থাকা এবং তা অতিক্রম না করা। কারণ আমরা যখন শরিয়ত পর্যালোচনা করেছি, তখন দেখেছি যে, ইবাদতের অধ্যায়গুলো আনুগত্যের (تعبد) ওপর আবর্তিত হয়, যা এতে মূল নীতি হিসেবে গণ্য।

সুতরাং ইবাদতের এই প্রকারের ক্ষেত্রে অর্থের বা গূঢ় রহস্যের প্রতি লক্ষ্য না রেখে বরং ইবাদতগত আনুগত্যকেই (تعبد) একটি মূল ভিত্তি এবং অবলম্বনযোগ্য রুকন হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক।

আর সাধারণ বা জাগতিক কার্যাবলীর ক্ষেত্রে যে বিষয়টি প্রমাণ করে যে এর মূল ভিত্তি হলো গূঢ় রহস্য ও যৌক্তিক কারণ অনুসন্ধানের (تعليل) দিকে লক্ষ্য রাখা, কেবল আনুগত্য (تعبد) নয়:

তাহলো—আমরা শরিয়ত প্রণেতাকে বান্দার মঙ্গলের (مصالح) সংকল্পকারী হিসেবে পেয়েছি এবং আমরা জাগতিক বিধিবিধানগুলোকে দেখেছি যে সেগুলো জনকল্যাণের (مصلحة) অনুকূলে আবর্তিত হয় যেখানেই তা বিদ্যমান থাকে। তাই আপনি দেখবেন যে, একই বিষয় এক অবস্থায় নিষিদ্ধ হয় যেখানে কোনো কল্যাণ নেই, কিন্তু যখন সেখানে কল্যাণ থাকে তখন তা বৈধ হয়ে যায়।

এর একটি উদাহরণ হলো: দেরহামের বিনিময়ে দেরহাম বাকিতে লেনদেন ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ, তবে করজের (قرض) ক্ষেত্রে তা বৈধ।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن ذلك: نهيه عن الخذف (1)، وتعليل ذلك بأنه: «يفقأ العين ويكسر السن» (2).

وقوله صلى الله عليه وسلم: «لا ضرر ولا ضرار» (3).

وفي القرآن: {إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ} [المائدة: 91] إلى غير ذلك مما لا يحصى.

وجميعه يشير بل يصرِّح باعتبار المصالح للعباد، وأن الإذن دائر معها أينما دارت؛ فدل ذل على أن العادات مما اعتمد الشارع فيها الالتفات إلى المعاني.

--------------------------------------------

(1) الخذف: هو رمي الحصاة ونحوها بطرفي الإبهام والسبابة. انظر: النهاية في غريب الحديث والأثر (2/ 16)، والمصباح المنير ص (165).

(2) رواه البخاري (10/ 599) برقم (6220)، ومسلم برقم (1547).

(3) رواه ابن ماجة (2/ 784) برقم (2341) والحديث صححه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة (1/ 443) برقم (250).
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: পাথর ছোঁড়া থেকে তাঁর নিষেধ করা (১), এবং এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যে: «এটি চোখ উপড়ে ফেলে এবং দাঁত ভেঙে ফেলে» (২)।

এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না» (৩)।

আর কুরআনে এসেছে: {শয়তান তো কেবল এটাই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে} [আল-মায়েদাহ: ৯১]—এর বাইরে আরও অসংখ্য অগণিত দৃষ্টান্ত রয়েছে।

এসবের প্রতিটিই বান্দাদের জনকল্যাণ বিবেচনার প্রতি ইঙ্গিত দেয়, বরং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, (শরিয়তের) অনুমতি কল্যাণের সাথেই আবর্তিত হয় তা যেখানেই থাকুক না কেন; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, প্রথাগত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে বিধানদাতা নিহিত অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখাকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-খাজফ: এটি হলো বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর অগ্রভাগ দিয়ে নুড়ি পাথর বা অনুরূপ কিছু নিক্ষেপ করা। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার (২/ ১৬), এবং আল-মিসবাহুল মুনির পৃষ্ঠা (১৬৫)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১০/ ৫৯৯), হাদিস নম্বর (৬২২০), এবং মুসলিম, হাদিস নম্বর (১৫৪৭)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ (২/ ৭৮৪), হাদিস নম্বর (২৩৪১); আর হাদিসটিকে আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ (১/ ৪৪৩) গ্রন্থে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন, হাদিস নম্বর (২৫০)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌4 - أثر الخلاف وثمرته

انبني على هذه المسألة ثلاث قواعد:

القاعدة الأولى: محل القياس في الأحكام الشرعية؛ حيث يسوغ إجراء القياس في الأحكام المعللة على وجه الخصوص دون الأحكام التعبدية، وهذا أمر واضح.

وأما ما كان من الأحكام مترددًا بين كونه تعبديًا أو معللا فهذا محل نظر وهو يفتقر إلى اجتهاد وترجيح.

قال الطوفي: "الأحكام إما غير معلل كالتعبدات، أو معلل كالحجر على الصبي لضعف عقله حفظًا لماله، أو ما يتردد في كونه معللاً أو لا، كقولنا: استعمال التراب في غسل ولوغ الكلب هل هو تعبد أم معلل؟

وخرج على ذلك الخلاف في قيام الأشنان والصابون الغسلة الثامنة مقامه:

إن قلنا: هو تعبد، لم يقم غيره مقامه، وإن قلنا: معلل بإعانة الماء على إزالة أثر الولوغ؛ قام ذلك مقامه لوجود معنى الإزالة.

وكذلك إن قلنا: هو تعبد؛ كفى بالتراب مُسمَّاه، وإن لم
৪ - মতপার্থক্যের প্রভাব ও ফলাফল

এই মাসআলার ওপর ভিত্তি করে তিনটি মূলনীতি (قواعد) নির্ধারিত হয়েছে:

প্রথম মূলনীতি: শরয়ি বিধানসমূহে অনুমান (قياس) প্রয়োগের ক্ষেত্র; যেখানে বিশেষভাবে কারণভিত্তিক বিধানগুলোর (معلل) ক্ষেত্রে অনুমান (قياس) প্রয়োগ করা বৈধ, তবে ইবাদতগত বিধানগুলোর (تعبدي) ক্ষেত্রে তা নয়, এবং এটি একটি স্পষ্ট বিষয়।

আর যে সকল বিধান ইবাদতগত (تعبدي) হওয়া এবং কারণভিত্তিক (معلل) হওয়ার মাঝে দোদুল্যমান, সেগুলো পর্যালোচনার বিষয় এবং তা ইজতিহাদ (اجتهاد) ও প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) মুখাপেক্ষী।

তূফী বলেন: "বিধানসমূহ হয় কারণহীন যেমন ইবাদতসমূহ (تعبدات), অথবা কারণভিত্তিক (معلل) যেমন তার সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতার কারণে শিশুর ওপর আইনি বিধিনিষেধ (حجر) আরোপ করা, অথবা যা কারণভিত্তিক হওয়া বা না হওয়ার মাঝে দোদুল্যমান, যেমন আমাদের বক্তব্য: কুকুরের লেহনকৃত পাত্র ধোয়ার ক্ষেত্রে মাটি ব্যবহার করা কি ইবাদত (تعبد) নাকি কারণভিত্তিক (معلل)?

আর এর ওপর ভিত্তি করেই অষ্টম ধৌতকরণে ক্ষারজাতীয় উদ্ভিদ ও সাবান মাটির স্থলাভিষিক্ত হওয়া নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে:

যদি আমরা বলি: এটি ইবাদত (تعبد), তবে অন্য কিছু এর স্থলাভিষিক্ত হবে না। আর যদি আমরা বলি: এটি কারণভিত্তিক (معلل), যার উদ্দেশ্য হলো লেহনকৃত লালার চিহ্ন দূর করতে পানিকে সাহায্য করা; তবে পরিষ্কার করার উদ্দেশ্য বিদ্যমান থাকার কারণে তা এর স্থলাভিষিক্ত হবে।

তদ্রূপ যদি আমরা বলি: এটি ইবাদত (تعبد); তবে মাটির সাধারণ ব্যবহারই যথেষ্ট হবে, যদিও তা...
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২৪)
يعم أجزاء محل الولوغ، وإن قلنا: هو معلل؛ اشترط تعميمه به؛ عملا بمقتضى التعليل.

وكذلك غسل اليد عند الوضوء، وعند القيام من النوم إن قيل: هو عبادة، وجبت له النية، وإن قيل: نظافة لم يجب، ونظائر هذا كثير.

وبالجملة لا نقيس إلا حيث فهمنا المعنى ووجدت شروط القياس: فأما كون هذه المسألة الخاصة معللة أو غير معللة؛ فتلك مسألة أخرى خارجة عما نحن فيه يثبت فيها من الحكم بالتعبد أو التعلل ما قام عليه الدليل (1).

القاعدة الثانية: أن الأصل في العبادات المنع والحظر، وذلك بناء على أن الأحكام الشرعية في باب العبادات مبناها على التعبد والوقوف على ما حدَّه الشارع.

القاعدة الثالثة: أن الأصل في العادات الحل والإباحة وهذا مبني على أن الأصل في الأحكام الشرعية في باب العادات التعليل والالتفات إلى المعاني.

وقد أشار الشاطبي إلى ابتناء هاتين القاعدتين على هذين الأصلين؛ حيث قرر أن الأصل في العبادات التعبد وفي العادات التعليل ثم قال: "وإذا ثبت هذا فمسلك النفي متمكن في العبادات ومسلك التوقف متمكن في العادات" (2).

--------------------------------------------

(1) شرح مختصر الروضة (3/ 275).

(2) الموافقات (2/ 396).
এটি চেটে দেওয়া স্থানের সকল অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যদি আমরা বলি যে, এটি কারণ-নির্ভর (معلل), তবে কারণ দর্শানোর (تعليل) দাবি অনুযায়ী এর দ্বারা ঐ স্থানকে পূর্ণভাবে ধৌত করা শর্তযুক্ত হবে।

অনুরূপভাবে ওযুর সময় হাত ধৌত করা এবং ঘুম থেকে ওঠার পর হাত ধৌত করার বিষয়টিও; যদি বলা হয় এটি ইবাদত (عبادة), তবে তার জন্য নিয়ত (نية) ওয়াজিব হবে। আর যদি বলা হয় এটি পরিচ্ছন্নতা, তবে তা ওয়াজিব হবে না। এ জাতীয় উদাহরণ অনেক রয়েছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা কিয়াস (قياس) করি না যতক্ষণ না আমরা অর্থ অনুধাবন করতে পারি এবং কিয়াসের শর্তাবলি (شروط القياس) পাওয়া যায়। আর এই নির্দিষ্ট বিষয়টি কারণ-নির্ভর (معللة) নাকি কারণ-বিহীন (غير معللة) - তা একটি ভিন্ন বিষয় যা আমাদের বর্তমান আলোচনার বহির্ভূত। এতে ইবাদতগত আনুগত্য (تعبد) বা কারণ-নির্ভরতা (تعلل) সম্পর্কিত সেই বিধানই সাব্যস্ত হবে যার সপক্ষে দলিল (دليل) বিদ্যমান রয়েছে (১)।

দ্বিতীয় নীতি: ইবাদতসমূহের (عبادات) ক্ষেত্রে মূল হলো নিষেধাজ্ঞা ও বর্জন। এটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, ইবাদতের ক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুমগুলোর ভিত্তি হলো ইবাদতগত আনুগত্য (تعبد) এবং শরীয়ত প্রণেতা (شارع) কর্তৃক নির্ধারিত সীমার ওপর স্থগিত থাকা।

তৃতীয় নীতি: লৌকিক প্রথা বা অভ্যাসের (عادات) ক্ষেত্রে মূল হলো বৈধতা (حل) ও অনুমতি (إباحة)। এটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, লৌকিক বিষয়ের ক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুমগুলোর মূল ভিত্তি হলো কারণ বিশ্লেষণ (التعليل) এবং অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

ইমাম শাতিবি এই দুটি নীতির ওপর উক্ত দুটি মূল ভিত্তিকে নির্দেশ করেছেন; যেখানে তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে, ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল হলো ইবাদতগত আনুগত্য (تعبد) এবং লৌকিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে মূল হলো কারণ বিশ্লেষণ (التعليل)। এরপর তিনি বলেন: "আর যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি বা নিষেধের পথ এবং লৌকিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে স্থগিত থাকার পথ সুদৃঢ় হয়" (২)।

--------------------------------------------

(১) শরহু মুখতাসারির রওদাহ (৩/২৭৫)।

(২) আল-মুয়াফাকাত (২/৩৯৬)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الأول

معنى القاعدة

وفي هذا الفصل مطلبان:

المطلب الأول: المعنى الإفرادي للقاعدة.

المطلب الثاني: المعنى الإجمالي للقاعدة.
প্রথম পরিচ্ছেদ

মূলনীতির (القاعدة) অর্থ

এবং এই পরিচ্ছেদে দুটি অন্বেষা (المطلب) রয়েছে:

প্রথম অন্বেষা (المطلب الأول): মূলনীতির (القاعدة) ব্যুৎপত্তিগত অর্থ।

দ্বিতীয় অন্বেষা (المطلب الثاني): মূলনীতির (القاعدة) সামগ্রিক অর্থ।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المطلب الأول

المعنى الإفرادي للقاعدة

وفي هذا المطلب ثلاث مسائل:

 

‌‌المسألة الأولى: معنى الأصل:

الأصل في اللغة: يطلق على عدة معان متقاربة، فيطلق على (1):

1 - ما يبنى عليه غيره.

2 - ما مِنه الشيء، وأصل الشيء؛ أي: مادّته؛ كالوالد للولد والشجرة للغصن.

3 - ما يستند وجود الشيء إليه.

4 - المحتاج إليه.

وفي الاصطلاح: يطلق الأصل على معان عدة فمنها (2):

1 - الصورة المقيس عليها، على الخلاف المعروف في

--------------------------------------------

(1) انظر: نهاية السول (1/ 18)، والبحر المحيط (1/ 10)، والمصباح المنير ص (16)، وشرح الكوكب المنير (1/ 39).

(2) انظر: نهاية السول (1/ 18، 19)، والبحر المحيط (1/ 10)، وشرح الكوكب المنير (1/ 39).
প্রথম পরিচ্ছেদ

মূলনীতির (قاعدة) একক অর্থ

এই পরিচ্ছেদে তিনটি বিষয় রয়েছে:

 

প্রথম বিষয়: আসলের (أصل) অর্থ:

অভিধানের ভাষায় আসল (أصل): এটি বেশ কিছু কাছাকাছি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন (১):

১ - যার ওপর অন্য কিছু গড়ে তোলা হয়।

২ - যা থেকে কোনো বস্তুর উৎপত্তি হয়, আর কোনো বস্তুর আসল (أصل) মানে হলো তার মূল উপাদান; যেমন সন্তানের জন্য পিতা এবং শাখার জন্য বৃক্ষ।

৩ - কোনো বস্তুর অস্তিত্ব যার ওপর নির্ভর করে।

৪ - যার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া হয়।

পারিভাষিক অর্থে: আসল (أصل) শব্দটি বেশ কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে রয়েছে (২):

১ - যে বিষয়ের সাথে তুলনা (قِياس) করা হয় (المقيس عليه), যার ব্যাপারে সুবিদিত মতভেদ রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: নিহায়াতুস সুল (১/১৮), আল-বাহরুল মুহিত (১/১০), আল-মিসবাহুল মুনীর পৃষ্ঠা (১৬), শারহুল কাওকাবিল মুনীর (১/৩৯)।

(২) দেখুন: নিহায়াতুস সুল (১/১৮, ১৯), আল-বাহরুল মুহিত (১/১০), শারহুল কাওকাবিল মুনীর (১/৩৯)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২৮)
القياس في تفسير الأصل، وذلك ما يقابل الفرع.

2 - الرجحان؛ كقولهم: الأصل في الكلام الحقيقة، أي: الراجح عند السامع هو الحقيقة لا المجاز.

3 - الدليل؛ كقولهم: أصل هذه المسألة من الكتاب والسنة، أي: دليلها، ومنه أصول الفقه، أي: أدلته.

4 - القاعدة المستمرة؛ كقولهم: إباحة الميتة للمضطر على خلاف الأصل، ومنه قولهم: الأصل في الأبضاع التحريم، أي القاعدة المستمرة والحكم المطرد في الأبضاع التحريم، ومثله قولهم: الأصل في العادات الحِل.

وهذا الإطلاق هو المراد في هذا المقام؛ فقولهم: "الأصل في العبادات المنع" معناه: أن القاعدة المستمرة في العبادات هي المنع.

 

‌‌المسألة الثانية: معنى العبادة:

وفي هذه المسألة ثلاث نقاط.

 

‌‌أولاً: معنى العبادة في اللغة (1):

العبادة في اللغة: الانقياد والخضوع والذل والطاعة.

يقال: عَبَدَ الله عبادة وعبودية انقاد له وخضع وذلَّ.

وتعبَّد: انفرد بالعبادة، والعابد: الموحِّد، وجميع ما

--------------------------------------------

(1) انظر: الكليات ص (650)، والمعجم الوسيط ص (579).
মূলের (الأصل) ব্যাখ্যায় কিয়াস (القياس), আর তা হলো শাখার (الفرع) বিপরীত।

২ - প্রাধান্যতা (الرجحان); যেমন তাদের উক্তি: কথার ক্ষেত্রে মূল (الأصل) হলো প্রকৃত অর্থ (الحقيقة), অর্থাৎ: শ্রোতার নিকট যা প্রাধান্যযোগ্য (الراجح) তা হলো প্রকৃত অর্থ (الحقيقة), রূপক (المجاز) নয়।

৩ - দলিল (الدليل); যেমন তাদের উক্তি: এই মাসআলার মূল (أصل) হলো কুরআন ও সুন্নাহ, অর্থাৎ: এর দলিল (دليل); আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه), অর্থাৎ: ফিকহ-এর দলিলসমূহ।

৪ - ধারাবাহিক নিয়ম (القاعدة المستمرة); যেমন তাদের উক্তি: নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ বৈধ হওয়া মূল (الأصل) নিয়মের পরিপন্থী; এরই অন্তর্ভুক্ত তাদের উক্তি: লজ্জাস্থানের ক্ষেত্রে মূল (الأصل) হলো নিষিদ্ধতা (التحريم), অর্থাৎ লজ্জাস্থানের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক নিয়ম (القاعدة المستمرة) ও প্রচলিত বিধান (الحکم المطرد) হলো নিষিদ্ধতা (التحريم); অনুরূপভাবে তাদের উক্তি: অভ্যাসগত কার্যাবলীর ক্ষেত্রে মূল (الأصل) হলো বৈধতা (الحِل)।

আর এই প্রয়োগটিই এখানে উদ্দেশ্য; সুতরাং তাদের উক্তি: "ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল (الأصل) হলো নিষিদ্ধতা (المنع)" এর অর্থ হলো: ইবাদতের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক নিয়ম (القاعدة المستمرة) হলো তা নিষিদ্ধ হওয়া।

 

‌‌দ্বিতীয় মাসআলা: ইবাদতের অর্থ:

এই মাসআলায় তিনটি বিষয় রয়েছে।

 

‌‌প্রথমত: আভিধানিক অর্থে ইবাদত (১):

আভিধানিক অর্থে ইবাদত হলো: আনুগত্য (الانقياد), বিনয় (الخضوع), হীনতা (الذل) এবং বাধ্যতা (الطاعة)।

বলা হয়ে থাকে: সে আল্লাহর ইবাদত (عبادة) ও দাসত্ব (عبودية) করেছে, অর্থাৎ সে তাঁর আনুগত্য করেছে, তাঁর সামনে বিনত ও হীন হয়েছে।

আর 'তাবেয়্যুদ' (تعبَّد) অর্থ: ইবাদতের জন্য একাগ্র হওয়া, এবং 'আবিদ' (العابد) অর্থ: একত্ববাদী (الموحِّد), এবং যা কিছু...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কুল্লিয়্যাত, পৃষ্ঠা (৬৫০), এবং আল-মু'জামুল ওয়াসিত, পৃষ্ঠা (৫৭৯)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ২৯)
ذكر في القرآن من العبادة فالمراد به التوحيد.

والعبودية أقوى من العبادة؛ لأنها الرضا بما يفعل الرب، والعبادة: فعل ما يرضي الرب، والعبادة تسقط في العقبى، والعبودية لا تسقط.

 

‌‌ثانيًا: معنى العبادة في الاصطلاح:

لأهل العلم في تعريف العبادة كلمات جامعة فمن ذلك:

1 - تعظيم الله وامتثال أوامره (1).

2 - اسم لما يكون المرء بمباشرته مطيعًا لربه (2).

3 - ما أمر به الشارع من غير اطراد عُرفي، ولا اقتضاء عقلي (3).

4 - فعل المكلف على خلاف هوى نفسه تعظيمًا لربه (4).

5 - الأفعال الواقعة على نهاية ما يمكن من التذلل والخضوع المتجاوز لتذلل بعض العباد لبعض (5).

6 - اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه، من الأقوال والأعمال الباطنة والظاهرة (6).

--------------------------------------------

(1) التوقيف على مهمات التعاريف (498).

(2) أصول السرخسي (1/ 83).

(3) التحبير شرح التحرير (2/ 1001).

(4) التعريفات ص (146).

(5) التوقيف على مهمات التعاريف ص (498).

(6) مجموع الفتاوى (10/ 149).
কুরআনে ইবাদত সংক্রান্ত যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওহিদ।

আর উবুদিয়াত (দাসত্ব) ইবাদত (উপাসনা) অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী; কারণ উবুদিয়াত হলো রবের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট থাকা, আর ইবাদত হলো রবের সন্তুষ্টিদায়ক কাজ সম্পাদন করা। পরকালে ইবাদত রহিত হয়ে যায়, কিন্তু উবুদিয়াত রহিত হয় না।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে ইবাদতের পরিচয়:

ইবাদতের সংজ্ঞায় বিজ্ঞ আলেমগণের বেশ কিছু সমন্বিত বক্তব্য রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করা এবং তাঁর নির্দেশাবলি পালন করা (১)।

২ - এমন কাজের নাম যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার রবের অনুগত হয় (২)।

৩ - শরিয়ত প্রণেতা যা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা কেবল প্রথাগত রীতি কিংবা যুক্তিনির্ভর নয় (৩)।

৪ - মুকাল্লাফ (শরয়ী বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) কর্তৃক স্বীয় রবের মহিমা স্মরণে নিজের প্রবৃত্তির চাহিদার বিপরীতে কোনো কাজ সম্পাদন করা (৪)।

৫ - এমন সব কাজ যা চূড়ান্ত পর্যায়ের হীনতা ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ, যা একজন বান্দার প্রতি অন্য বান্দার সাধারণ বিনয় প্রকাশের সীমা অতিক্রম করে (৫)।

৬ - এমন এক সমন্বিত নাম যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, চাই তা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য কোনো কথা কিংবা কাজ হোক (৬)।

--------------------------------------------

(১) আত-তাওকিফ আলা মুহিম্মাতিত তারিফ (৪৯৮)।

(২) উসুলুস সারাখসি (১/ ৮৩)।

(৩) আত-তাহবির শারহুত তাহরির (২/ ১০০১)।

(৪) আত-তারিফাত, পৃষ্ঠা (১৪৬)।

(৫) আত-তাওকিফ আলা মুহিম্মাতিত তারিফ, পৃষ্ঠা (৪৯৮)।

(৬) মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/ ১৪৯)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৩০)
وهذا التعريف لشيخ الإسلام ابن تيمية، وهو أحسن التعريفات وأوعاها.

ونستخلص من هذه الكلمات أن العبادة لا بد أن يجتمع فيها أمران (1):

أولهما: الطاعة والخضوع، وهذا يتحقق بالالتزام بما شرعه الله وأمر به.

والثاني: أن يصدر هذا الامتثال مع المحبة للمعبود جل شأنه.

قال ابن القيم: "العبادة تجمع أصلين: غاية الحب بغاية الذل والخضوع.

والعرب تقول: طريق مُعبَّد، أي مذلل، والتعبد: التذلل والخضوع؛ فمن أحببته ولم تكن خاضعًا له لم تكن عابدًا له، ومن خضعت له بلا محبة لم تكن عابدًا له حتى تكون محبًا خاضعًا" (2).

 

‌‌ثالثًا: أقسام العبادة:

تنقسم العبادة إلى قسمين (3):

القسم الأول: العبادات المحضة، وهي الطاعات من الواجبات والمندوبات، وهذا النوع من العبادات لا يمكن

--------------------------------------------

(1) انظر: العبادات في الإسلام ص (32 - 34).

(2) مدارج لسالكين (1/ 85).

(3) انظر الفروق (1/ 269 - 270)، والموافقات (2/ 300) فما بعدها ص (396)، والاعتصام (2/ 73 - 98).
এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার প্রদানকৃত সংজ্ঞা, যা সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ।

এই কথাগুলো থেকে আমরা এই সারসংক্ষেপ পাই যে, ইবাদতের মধ্যে অবশ্যই দুটি বিষয়ের সমাবেশ ঘটতে হবে (১):

প্রথমটি: আনুগত্য ও বিনয়, যা আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত শরিয়ত এবং তাঁর আদেশগুলো মেনে চলার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।

দ্বিতীয়টি: মহান মাবুদের প্রতি ভালোবাসার সাথে এই আনুগত্য প্রকাশ করা।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "ইবাদত দুটি মূল ভিত্তিকে একত্র করে: চরম ভালোবাসা এবং চরম হীনতা ও বিনয়।

আর আরবরা বলে: ‘সুগম পথ’ (طريق مُعبَّد), অর্থাৎ যা পদদলিত বা বশীভূত। আর ‘তায়া’ব্বুদ’ (التعبد) হলো: হীনতা ও বিনয় প্রকাশ করা; সুতরাং আপনি যাকে ভালোবাসেন অথচ তাঁর প্রতি বিনীত নন, তবে আপনি তাঁর ইবাদতকারী নন। আবার যার কাছে আপনি ভালোবাসা ছাড়াই বিনয় প্রকাশ করেন, তবে আপনি তাঁর ইবাদতকারী হবেন না যতক্ষণ না আপনি একইসাথে অনুরাগী ও বিনীত হচ্ছেন" (২)।

 

‌‌তৃতীয়ত: ইবাদতের প্রকারভেদ:

ইবাদত দুই ভাগে বিভক্ত (৩):

প্রথম ভাগ: বিশুদ্ধ ইবাদতসমূহ (العبادات المحضة), যা হলো আবশ্যিক (واجبات) এবং পছন্দনীয় (مندوبات) আনুগত্যসমূহ। এই প্রকারের ইবাদত সম্ভব নয়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইবাদাতু ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা (৩২ - ৩৪)।

(২) মাদারিজুস সালিকিন (১/ ৮৫)।

(৩) দেখুন: আল-ফুরূক (১/ ২৬৯ - ২৭০), আল-মুওয়াফাকাত (২/ ৩০০) এবং এর পরবর্তী অংশ ৩৯৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত, এবং আল-ইতিসাম (২/ ৭৩ - ৯৮)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৩১)
للعقول أن تهتدي إلى تفاصيلها، وإنما سبيل الوقوف عليها هو الشرع؛ كالصلاة والصيام، والحدود وأنصبة المواريث.

ثم إن العبادات المحضة منها ما يمكن للعقل إدراك علته، ومنها ما لا تدرك علته، وهو ما يسمى بالأمور التعبدية، "ومثالها: تحديد أعداد الركعات في الصلوات الخمس، وتحديد مقادير الأنصبة في الأموال التي تجب فيها الزكاة، ومقادير ما يجب فيها، ومقادير الحدود والكفارات، وفروض أصحاب الفروض في الإرث" (1).

القسم الثاني: العبادات غير المحضة: وضابطها: أنها فعل ذو وجهين؛ إذ يتصور فعلها دون قصد التعبد لله، بل على جهة الاعتياد ونحوه، كما يتصور فعلها على جهة التعبد، فهي إذن كل فعل يتقرب به إلى الله تعالى من غير الطاعات المأمور بها شرعًا.

وإنما يتصور ذلك شرعًا إذا اقترن مع الإتيان بهذه العادة نية صحيحة، أو كانت وسيلة إلى العمل الصالح وعونًا عليه.

مثال ذلك: ما ورد في قوله -تعالى-: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَا نَصَبٌ وَلَا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَطَئُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَيْلًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ} [التوبة: 120].

--------------------------------------------

(1) علم أصول الفقه للشيخ عبد الوهاب خلاف ص (62).
বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ অনুধাবন করা সম্ভব নয়; বরং এগুলো জানার একমাত্র মাধ্যম হলো শরয়ি বিধান; যেমন: সালাত, সিয়াম, দণ্ডবিধি (الحدود) এবং উত্তরাধিকারের অংশসমূহ।

অতঃপর বিশুদ্ধ ইবাদতসমূহের (العبادات المحضة) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার কারণ (علة) বুদ্ধি দ্বারা উপলব্ধি করা সম্ভব, আবার এমন কিছুও রয়েছে যার কারণ (علة) উপলব্ধি করা যায় না; আর একেই বলা হয় তআববুদি বা নিরঙ্কুশ আনুগত্যমূলক বিষয় (الأمور التعبدية)। "এর উদাহরণ হলো: পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করা, যে সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হয় তার নিসাবের (الأنصبة) পরিমাণ নির্ধারণ করা, তাতে প্রদেয় হকের পরিমাণ নির্ধারণ করা, দণ্ডবিধি (الحدود) ও কাফফারার পরিমাণ নির্ধারণ করা এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অংশীদারদের (أصحاب الفروض) অংশসমূহ স্থির করা" (১)।

দ্বিতীয় প্রকার: অবিশুদ্ধ বা পরোক্ষ ইবাদত (العبادات غير المحضة): এর মূলনীতি হলো: এটি এমন এক কাজ যার দুটি দিক রয়েছে; কেননা আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্য ছাড়াই কেবল অভ্যাস বা এই জাতীয় কোনো কারণে এটি করা সম্ভবপর হয়, আবার ইবাদতের উদ্দেশ্যেও এটি করা সম্ভবপর হয়। অতএব, এটি এমন প্রতিটি কাজ যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা হয়, যা সরাসরি শরয়ি নির্দেশিত আনুগত্যমূলক কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত নয়।

শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি তখনই সম্ভব হবে যখন এই অভ্যাসের সাথে সঠিক নিয়ত যুক্ত হবে, অথবা যখন এটি কোনো নেক আমলের মাধ্যম ও তার সহায়ক হবে।

এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণী: "তা এই কারণে যে, আল্লাহর পথে তারা যখনই তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধার সম্মুখীন হয় এবং এমন কোনো স্থানে পদার্পণ করে যা কাফিরদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে, কিংবা কোনো শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করে, তবে এ সবের পরিবর্তে তাদের জন্য একটি নেক আমল লিপিবদ্ধ করা হয়।" [সুরা আত-তাওবাহ: ১২০]।

--------------------------------------------

(১) ইলম উসুল আল-ফিকহ, শেখ আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ, পৃষ্ঠা: ৬২।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقوله صلى الله عليه وسلم: «ولست تنفق نفقة تبتغي بها وجه الله إلا أجرت بها حتى اللقمة تجعلها في فِيِّ امرأتك» (1).

فمن هذا الوجه دون غيره، يصح شرعًا التقرب إلى الله بفعل العادات.

ويجمع ذلك قاعدتان:

أولاهما: قاعدة: (الأمور بمقاصدها) (2).

وثانيهما: قاعدة: (للوسائل أحكام المقاصد) (3).

وبهذا النظر يسوغ التقرب إلى الله بجميع الأفعال والتروك.

فصارت الأقسام ثلاثة:

1 - عبادات محضة، وهي معقولة المعنى.

2 - عبادات محضة، وهي غير معقولة المعنى.

3 - عبادات غير محضة.

تنبيهان مهمان:

التنبيه الأول: المراد بالعبادات في هذه القاعدة: التقرب إلى الله بفعل جميع العبادات، وذلك أن (ال) في لفظ

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (8/ 109) برقم (4409).

(2) انظر: الأشباه والنظائر للسيوطي ص (8).

(3) انظر: شرح تنقيح الفصول ص (449)، والفروق (2/ 451)، وإعلام الموقعين (3/ 135)، والقواعد والأصول الجامعة ص (13 - 19).
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যে অর্থই ব্যয় করো না কেন, তার প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে; এমনকি সেই লোকমাটির জন্যও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও» (১)।

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই—অন্য কোনোভাবে নয়—অভ্যাসগত কাজগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন শরিয়তসম্মত হয়।

এটি দুটি মূলনীতি (قاعدتان) দ্বারা সংকলিত হয়:

প্রথমটি: মূলনীতি: (কার্যাবলি তার নিয়ত বা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল) (২)।

দ্বিতীয়টি: মূলনীতি: (উপকরণের হুকুম তার উদ্দেশ্যের হুকুমের অনুরূপ) (৩)।

আর এই দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্ত কর্ম ও বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ বৈধ হয়।

ফলে প্রকারগুলো তিনটি হয়েছে:

১ - বিশুদ্ধ ইবাদত (عبادات محضة), যা যুক্তিগ্রাহ্য অর্থের (معقولة المعنى) অধিকারী।

২ - বিশুদ্ধ ইবাদত (عبادات محضة), যা যুক্তিগ্রাহ্য অর্থহীন (غير معقولة المعنى)।

৩ - অবিশুদ্ধ ইবাদত (عبادات غير محضة)।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবাণী:

প্রথম সতর্কবাণী: এই মূলনীতিতে (قاعدة) ইবাদত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সকল ইবাদত পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। আর তা হলো এই যে, শব্দটিতে বিদ্যমান (ال) বর্ণটি...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৮/ ১০৯), হাদিস নম্বর (৪৪০৯)।

(২) দেখুন: সুয়ূতী রচিত আল-আশবাত ওয়ান নাজা-ইর, পৃষ্ঠা (৮)।

(৩) দেখুন: শারহু তানকীহিল ফুসুল, পৃষ্ঠা (৪৪৯), আল-ফুরূক (২/ ৪৫১), ই'লামুল মুওয়াক্কিঈন (৩/ ১৩৫), এবং আল-কাওয়াইদ ওয়াল উসুলুল জামি'আহ, পৃষ্ঠা (১৩ - ১৯)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
العبادات للجنس؛ فيكون اللفظ للاستغراق؛ فيشمل العبادات المشروعة وغير المشروعة؛ فما ثبت في الشرع كونه عبادة فهذا النوع مستثنى من حكم المنع، باق بعد الاستثناء؛ إذ هو مأذون فيه، كما دل على ذلك قولهم: "الأصل في العبادات البطلان إلا ما شرعه الله".

وأما ما لم يثبت في الشرع كونه عبادة فهذا النوع يمنع المكلف من فعله، بل هو باطل مردود؛ كما قال صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» (1).

وهذه القاعدة مع اختصارها وقلة ألفاظها دلت على النوعين معًا:

الأول: أن من تعبد الله بما شرعه -سبحانه- فعبادته مشروعة مأذون فيها.

والثاني: أن من تعبد الله بما لم يشرعه -سبحانه- فعبادته باطلة مردودة.

التنبيه الثاني: الفرق بين العبادة والطاعة (2): الطاعة هي الانقياد، وهي الموافقة للأمر، وهي أعم من العبادة؛ لأن العبادة غلب استعمالها في تعظيم الله غاية التعظيم، بخلاف الطاعة فإنها تستعمل لموافقة أمر الله وأمر غيره، وتجوز

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (5/ 301) برقم (2697) ومسلم برقم (1718) واللفظ له.

(2) انظر: الكليات ص (583).
'ইবাদতসমূহ' (العبادات) শব্দটি জাতিগত বা সাধারণ প্রকার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; ফলে শব্দটি সামগ্রিক ব্যাপকতা (استغراق) নির্দেশ করে; যা বিধিবদ্ধ এবং অ-বিধিবদ্ধ উভয় প্রকার ইবাদতকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং শরিয়তে যা ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, সেই প্রকারটি নিষেধাজ্ঞার বিধান থেকে স্বতন্ত্র এবং ব্যতিক্রমের হুকুমে তা অনুমোদিত হিসেবেই অবশিষ্ট থাকবে; কেননা এ বিষয়ে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। যেমনটি আলেমদের এই উক্তি দ্বারা প্রমাণিত: "ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা বাতিল হওয়া (البطلان), যতক্ষণ না আল্লাহ তা বিধিবদ্ধ করেন।"

পক্ষান্তরে, যা শরিয়তে ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত নয়, সেই প্রকারটি পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিকে (المكلف) বিরত রাখা হবে, বরং তা বাতিল (باطل) ও প্রত্যাখ্যাত (مردود); যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে এমন কিছু নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত (رد)।" (১)।

এই মূলনীতিটি সংক্ষিপ্ত ও অল্প শব্দ হওয়া সত্ত্বেও উভয় প্রকারকে একত্রে নির্দেশ করে:

প্রথমত: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর ইবাদত করল এমন বিষয়ের মাধ্যমে যা তিনি—সুবহানাহু—বিধিবদ্ধ করেছেন, তবে তার ইবাদত শরিয়তসম্মত ও অনুমোদিত।

দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর ইবাদত করল এমন বিষয়ের মাধ্যমে যা তিনি—সুবহানাহু—বিধিবদ্ধ করেননি, তবে তার ইবাদত বাতিল (باطلة) ও প্রত্যাখ্যাত (مردودة)।

দ্বিতীয় সতর্কীকরণ: ইবাদত ও আনুগত্যের (الطاعة) মধ্যে পার্থক্য (২): আনুগত্য (الطاعة) হলো অনুসরণ বা বশ্যতা স্বীকার করা (الانقياد), যা আদেশের অনুবর্তিতা। এটি ইবাদতের চেয়ে অধিক ব্যাপক; কারণ ইবাদত শব্দটির ব্যবহার আল্লাহর চরম ও পরম সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রবল, পক্ষান্তরে আনুগত্য (الطاعة) শব্দটি আল্লাহর আদেশ এবং অন্য কারও আদেশের অনুকূলে ব্যবহৃত হয় এবং তা বৈধ...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (৫/৩০১) হাদিস নং (২৬৯৭) এবং মুসলিম হাদিস নং (১৭১৮) বর্ণনা করেছেন, এবং শব্দবিন্যাস তার (মুসলিমের)।

(২) দেখুন: আল-কুল্লিয়্যাত, পৃ. (৫৮৩)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الطاعة لغير الله في غير المعصية، ولا تجوز العبادة لغير الله تعالى.

والعبادة أخص من الطاعة؛ لأنه يعتبر فيها النية.

 

‌‌المسألة الثالثة: معنى المنع:

قال في "المصباح المنير": "منعته الأمر ومن الأمر منعًا فهو ممنوع منه محروم" (1).

وهذا ما دلت عليه -كما سيأتي- ألفاظ القاعدة؛ إذ ورد: (الأصل في العبادات الحظر)، وورد أيضًا: (الأصل في العبادات البطلان).

وهذه الألفاظ كلها تدل على معنى واحد؛ إذ العبادة التي لم يأت بها الشرع محرمة ممنوعة، ثم إن وقعت فإنها تقع باطلة مردودة، فحكمها يدور بين المنع والحظر والبطلان والرد، وهذا ما دل عليه قول النبي صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد».

--------------------------------------------

(1) المصباح المنير (2/ 580).
আল্লাহ ব্যতীত অন্যের আনুগত্য করা পাপের কাজ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে বৈধ, কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা জায়েজ নয়।

আর ইবাদত আনুগত্যের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص); কেননা এতে নিয়তকে শর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

‌‌তৃতীয় মাসআলা: নিষেধের (المنع) অর্থ:

"আল-মিসবাহুল মুনীর" গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আমি তাকে কোনো বিষয় হতে বা কোনো কাজের ব্যাপারে বাধা প্রদান করেছি, যার ফলে সে তা হতে নিষিদ্ধ (ممنوع) ও বঞ্চিত হয়েছে" (১)।

আর এটিই ওই কায়েদা বা মূলনীতির শব্দাবলি দ্বারা প্রমাণিত—যা সামনে আসবে—যেখানে বর্ণিত হয়েছে: (ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো নিষেধাজ্ঞা (الحظر)), এবং আরও বর্ণিত হয়েছে: (ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো বাতিল হওয়া (البطلان))।

এই শব্দাবলির সবগুলোই একই অর্থ প্রকাশ করে; কেননা যে ইবাদত শরিয়ত কর্তৃক নির্দেশিত হয়নি তা হারাম (محرمة) ও নিষিদ্ধ (ممنوعة)। অতঃপর তা সম্পাদিত হলেও তা বাতিল (باطلة) ও প্রত্যাখ্যাত (مردودة) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং এর বিধান নিষেধ (المنع), নিষেধাজ্ঞা (الحظر), বাতিল হওয়া (البطلان) এবং প্রত্যাখ্যানের (الرد) মধ্যেই আবর্তিত হয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি এরই প্রমাণ বহন করে: «যে ব্যক্তি আমাদের এই (দ্বীনের) বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)»।

--------------------------------------------

(১) আল-মিসবাহুল মুনীর (২/ ৫৮০)।
(খণ্ড: ১) দিরাসাহ ওয়া তাহকীক কাইদাহ আল-আসলু ফিল ইবাদাতিল মান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المطلب الثاني

المعنى الإجمالي للقاعدة

يمكن بيان معنى قاعدة: (الأصل في العبادات المنع) إجمالا بأن يقال:

الحكم المستصحب والأصل المطرد في التقرب إلى الله هو: المنع والحظر، والرد والبطلان، إلا ما جاء به الشرع وأذن فيه من العبادات فإنه لا يأخذ حكم المنع، كما قال -سبحانه-: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَاذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى: 21]، وقال صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد» أي: مردود باطل.

وتوضيح ذلك: أن التقرب إلى الله لا يكون إلا بما شرع، وهذا مقتضى توحيد الله والإيمان به، وهو توحيد الاتباع، وهو أحد شرطي العمل الصالح؛ إذ لا بد لقبول العمل من شرطين: الإخلاص والمتابعة.

فهذه القاعدة تختص بالشرط الثاني، وهو شرط المتابعة.

فمن ادعى عبادة من العبادات طولب بإقامة الدليل على ثبوت هذه العبادة، وهذا الدليل لا بد أن يكون نصًا من الكتاب أو السنة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

নীতিমালার সামগ্রিক অর্থ

‘ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো নিষেধাজ্ঞা (المنع)’—এই নীতিমালার অর্থ সংক্ষেপে এভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে:

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ক্ষেত্রে প্রবহমান বিধান এবং অবিচ্ছিন্ন মূলনীতি হলো: নিষেধাজ্ঞা (المنع) ও বারণ (الحظر), এবং প্রত্যাখ্যান (الرد) ও অসারতা (البطلان); তবে শরিয়ত (الشرع) যে সকল ইবাদত নিয়ে এসেছে এবং যার অনুমতি দিয়েছে সেগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে না। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "তবে কি তাদের এমন কিছু শরিক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" [সুরা আশ-শুরা: ২১], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে আমাদের এই দ্বীনের মাঝে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)," অর্থাৎ তা অগ্রাহ্য ও বাতিল (باطل)।

এর ব্যাখ্যা হলো: আল্লাহর নৈকট্য লাভ কেবল সেই মাধ্যমেই সম্ভব যা তিনি বিধিবদ্ধ করেছেন। এটিই আল্লাহর তাওহিদ (توحيد) এবং তাঁর প্রতি ঈমানের দাবি; আর এটি হলো অনুসরণের তাওহিদ (توحيد الاتباع), যা নেক আমল কবুল হওয়ার দুটি শর্তের একটি। কেননা আমল কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত থাকা আবশ্যক: একনিষ্ঠতা (الإخلاص) ও অনুসরণ (المتابعة)।

সুতরাং এই নীতিমালাটি দ্বিতীয় শর্ত অর্থাৎ অনুসরণের (المتابعة) শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট।

অতএব, যে ব্যক্তি কোনো ইবাদত পালনের দাবি করবে, তার নিকট সেই ইবাদতটি সাব্যস্ত হওয়ার স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনের দাবি জানানো হবে। আর এই দলিল অবশ্যই কুরআন বা সুন্নাহর কোনো নস (نص) হতে হবে।