(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح عمدة الفقه - ابن تيمية - صفة الصلاة   (ابن تيمية)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: كتاب صفة الصلاة من شرح العمدة للإمام موفق الدين ابن قدامة

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)

المحقق: عبد العزيز بن أحمد بن محمد بن حمود المشيقح

الناشر: دار العاصمة - الرياض

الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م

عدد الصفحات: 209

أعده للشاملة: محمد المنصور، جزاه الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابل (مقابل حتى ص 190)]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 رمضان 1436

উমদাতুল ফিকহ-এর ব্যাখ্যা - ইবনে তাইমিয়্যাহ - নামাযের পদ্ধতি   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


গ্রন্থ: ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামার উমদাহ-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ থেকে নামাযের পদ্ধতির কিতাব

লেখক: তাক্বী উদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হি.)

গবেষক: আব্দুল আজীজ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্মুদ আল-মুশাইকিহ

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হি. - ২০০৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৯

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ আল-মানসুর, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ, এবং এটি যাচাইকৃত (১৯০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত যাচাইকৃত)]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রমজান ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[باب صفة الصلاة]ـ

الأصل في صفة الصلاة: صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقوله في صفة الصلاة، وإقراره على صفة الصلاة، وما يستدل به على ذلك؛ لأن الله سبحانه أمر بالصلاة في كتابه، وفرضها على سبيل الإجمال، وفوَّض إلى نبيه محمد صلى الله عليه وسلم تفسير ما أجمله، وبيان ما أطلقه، وقد كان جبريل أقام الصلاة للنبي صلى الله عليه وسلم صبيحة ليلة أسري به، والناس يأتمون برسول الله صلى الله عليه وسلم، وصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم امتثالاً لأمر الله، وتأويلاً لكتاب الله، فسنته هي التي فسَّرت القرآن وبيَّنته ودلَّت على معناه وعبَّرت عنه، والفعل إذا خرج منه امتثالاً لأمرٍ، وبيانًا لمجمل، كان حكمه حكم ذلك الأمر
[নামাজের পদ্ধতির অধ্যায়]

নামাজের পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামাজ, নামাজের পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর বাণী, নামাজের পদ্ধতির ব্যাপারে তাঁর অনুমোদন এবং যা কিছু এর সপক্ষে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা হয়; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর কিতাবে নামাজের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা সংক্ষিপ্তভাবে ফরজ করেছেন, আর যা তিনি সংক্ষিপ্ত রেখেছেন তার ব্যাখ্যা এবং যা তিনি সাধারণভাবে বর্ণনা করেছেন তার বিশদ বিবরণের দায়িত্ব তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অর্পণ করেছেন। জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) ইসরা-এর রাতের পরবর্তী সকালে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নামাজের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং মানুষ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইক্তিদা করছিল। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্যস্বরূপ এবং আল্লাহর কিতাবের বাস্তবায়ন হিসেবে নামাজ আদায় করেছেন। সুতরাং তাঁর সুন্নাহই হলো সেই মাধ্যম যা কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে, একে সুস্পষ্ট করেছে, এর অর্থের দিকে পথনির্দেশ করেছে এবং একে ব্যক্ত করেছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো কাজ যখন কোনো নির্দেশের আনুগত্যস্বরূপ এবং সংক্ষিপ্ত নির্দেশের বিশদ বিবরণ হিসেবে প্রকাশ পায়, তখন সেই কাজের হুকুম বা বিধান উক্ত নির্দেশের বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وذلك المبين، فتكون الصلاة التي صلاها هي الصلاة التي كتبها الله على المؤمنين وأمرهم بها في كتابه، وقال صلى الله عليه وسلم لمالك بن الحويرث ومن معه حين بعثهم إلى قومهم «صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي» ، رواه أحمد والبخاري، «وعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ نَفَرًا جَاءُوا إِلَى سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَدْ تَمَارَوْا فِي الْمِنْبَرِ مِنْ أَيِّ عُودٍ هُوَ؟ فَقَالَ: اَمَا وَاللهِ إِنِّي لأَعْلَمُ مِنْ أَيِّ عُودٍ هُوَ، وَمَنْ عَمِلَهُ، وَرَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ عَلَيْهِ فَكَبَّرَ وَكَبَّرَ النَّاسُ وَرَاءَهُ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، ثُمَّ رَفَعَ فَنَزَلَ الْقَهْقَرَى حَتَّى سَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ، ثُمَّ عَادَ حَتَّى فَرَغَ مِنْ آخِرِ صَلَاتِهِ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا صَنَعْتُ هَذَا لِتَأْتَمُّوا بِي، وَلِتَعَلَّمُوا صَلَاتِي» ، متفق عليه.

وهذا دليل على الإئتمام به في صفة الصلاة، ويعلموا صفة صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ ليُعمل مثله، وكان يقول «لِيَلِيَنِّي مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلَامِ وَالنُّهَى، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» يريد بذلك
এবং এটিই সেই ব্যাখ্যাকারী বিষয়, ফলে তিনি যে সালাত আদায় করেছেন তা-ই হলো সেই সালাত যা আল্লাহ মুমিনদের ওপর ফরজ করেছেন এবং তাঁর কিতাবে তাঁদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মালিক ইবনুল হুয়াইরিস এবং তাঁর সাথে যারা ছিল তাদেরকে যখন তাঁদের সম্প্রদায়ের নিকট পাঠালেন তখন বললেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।" এটি আহমাদ ও বুখারি বর্ণনা করেছেন। সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদল লোক সাহল ইবনে সাদের নিকট এসে মিম্বরটি কোন কাঠ দিয়ে তৈরি তা নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলো। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই জানি এটি কোন কাঠ দিয়ে তৈরি এবং কে এটি তৈরি করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে তিনি এর ওপর দাঁড়ালেন এবং তাকবির বললেন, আর লোকেরাও তাঁর পেছনে তাকবির বলল এমতাবস্থায় যে তিনি মিম্বরের ওপর ছিলেন। অতঃপর তিনি রুকু করলেন এবং পেছনের দিকে হেঁটে নিচে নামলেন এমনকি মিম্বরের গোড়ায় সিজদা করলেন। এরপর তিনি পুনরায় ফিরে গেলেন (মিম্বরে উঠলেন) যতক্ষণ না তিনি তাঁর সালাতের শেষ অংশ সমাপ্ত করলেন। অতঃপর তিনি মানুষের দিকে ফিরে বললেন: হে লোকসকল! আমি এটি একারণেই করেছি যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পারো এবং আমার সালাত পদ্ধতি শিখতে পারো।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম একমত হয়েছেন)।

এটি সালাতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করার প্রমাণ, যেন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পদ্ধতি শিখতে পারে এবং তদনুরূপ আমল করা সম্ভব হয়। আর তিনি বলতেন: "তোমাদের মধ্য থেকে যারা বয়স্ক ও বুদ্ধিমান তারা যেন আমার নিকটবর্তী দাঁড়ায়, এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী।" এর মাধ্যমে তিনি উদ্দেশ্য করেছেন-
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
أن يحفظوا صلاته، ويعقلوها.

وهذه الأقوال نصوص منه في أن الأمة مأمورة أن تصلي كصلاته، على أن القاعدة الكلية: أن أمته أسوته في الأحكام، ما لم يقم دليل التخصيص، وقد أجمعت الأمة على الرجوع في صفة الصلاة إلى فعله، إما وجوباً أو استحباباً، وأن هذا من الأفعال التي يشترك فيها هو وأمته، وقد جاءت الأحاديث بصفة صلاته من وجوهٍ كثيرةٍ، يأتي ما يُحتاج إليه منها في أثناء الباب.
যেন তারা তাঁর সালাত সংরক্ষণ করে এবং তা অনুধাবন করে।

এই বক্তব্যগুলো তাঁর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা যে, উম্মতকে তাঁর সালাতের মতো সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; এই সাধারণ মূলনীতির ভিত্তিতে যে: বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে তাঁর উম্মত তাঁরই অনুসারী, যতক্ষণ না কোনো বিশেষত্বের দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। আর উম্মত সালাতের পদ্ধতির বর্ণনায় তাঁর কর্মের দিকে প্রত্যাবর্তন করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে, চাই তা ওয়াজিব হিসেবে হোক বা মুস্তাহাব হিসেবে। এবং এটি সেই সকল কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত যাতে তিনি এবং তাঁর উম্মত উভয়েই শরিক। তাঁর সালাতের পদ্ধতি সম্পর্কে বহু দিক থেকে হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় অংশসমূহ এই অধ্যায়ের মাঝেই উপস্থাপিত হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌مسألة: وإذا قام إلى الصلاة قال: الله أكبر يجهر بها الإمام وسائر التكبير، ليسمع من خلفه، ويخفيه غيره.

أما‌‌ القيام في الصلاة وافتتحاها بالتكبير: فمن العلم العام الذي تناقلته الأمة خلفاً عن سلف، وتوارثوه عن نبيهم صلى الله عليه وسلم، وقد قال الله تعالى: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} ، وقال: {وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} ، وقال سبحانه: {وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَكَ}، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ * قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا} الآيات، وقال تعالى: {وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ}، وقال سبحانه: {وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا}.

وقد روى عنه من حديث الخاصة - أنه كان يفتتح صلاته بالتكبير: علي بن أبي طالب، وعبد الله بن
মাসআলা: এবং যখন তিনি সালাতের জন্য দাঁড়াবেন তখন বলবেন: আল্লাহু আকবার। ইমাম এই তাকবীর এবং অন্যান্য সকল তাকবীর উচ্চস্বরে বলবেন যাতে তাঁর পেছনের মুক্তাদিরা শুনতে পায়, আর অন্যরা তা নিচু স্বরে বলবে।

সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া এবং তাকবীরের মাধ্যমে সালাত শুরু করার বিষয়টি এমন এক সর্বজনবিদিত বিষয় যা এই উম্মত উত্তরসূরিরা তাদের পূর্বসূরিদের থেকে লাভ করেছে এবং তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও}। তিনি আরও বলেছেন: {এবং যারা তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে}। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর যখন আপনি তাদের মধ্যে অবস্থান করেন এবং তাদের জন্য সালাত কায়েম করেন, তখন তাদের একটি দল যেন আপনার সাথে দাঁড়ায়}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {হে চাদর পরিহিত! রাতের অল্প অংশ ব্যতীত সালাতে দাঁড়ান} আয়াতসমূহ। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {এবং আপনার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন}। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {এবং তাঁর মহিমা যথাযথভাবে ঘোষণা করুন}।

আর বিশেষ বর্ণনা সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাকবীরের মাধ্যমে তাঁর সালাত শুরু করতেন। এটি বর্ণনা করেছেন: আলী ইবনে আবি তালিব এবং আবদুল্লাহ ইবনে
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عمر، ووائل بن حجر، ومالك بن الحويرث، وأبي هريرة، وعائشة وغيرهم، وكل هذه الأحاديث في الصحيح.

وفي حديث أبي حميد الساعدي عن النبي صلى الله عليه وسلم: كان إذا قام إلى الصلاة رفع يديه وقال: الله أكبر. رواه الترمذي وابن ماجة. وقال صلى الله عليه وسلم: «مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ، وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ» ، وقال
উমর, ওয়াইল ইবনে হুজর, মালিক ইবনুল হুয়াইরিস, আবু হুরায়রা, আয়েশা ও অন্যান্য হতে বর্ণিত, এবং এই সকল হাদিসই সহিহ গ্রন্থে বিদ্যমান।

এবং আবু হুমাইদ আস-সাঈদী বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আসা হাদিসে রয়েছে: তিনি যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন নিজের দুই হাত তুলতেন এবং বলতেন: আল্লাহু আকবার। এটি তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা, এবং এর তাহরিম (সালাত বহির্ভূত কাজ নিষিদ্ধ হওয়া) হলো তাকবির», এবং তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
للمسيء في صلاته: «إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَكَبِّرْ» وقال: «إِذَا كَبَّرَ الإِمَامُ فَكَبِّرُوا» ، وستأتي هذه الأحاديث [في غيرها] على أن النقل بذلك شاع شياعاً لا يفتقر معه إلى نقل الخاصة.
সালাতে ভুলকারী ব্যক্তিকে: «যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে তখন তাকবীর দাও» এবং তিনি বলেছেন: «যখন ইমাম তাকবীর দেবেন তখন তোমরাও তাকবীর দাও», আর এই হাদীসসমূহ [অন্যত্র] এমনভাবে আসবে যা একথারই প্রমাণ যে এর বর্ণনা এতোটাই ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যার ফলে এটি কোনো বিশেষ বর্ণনার মুখাপেক্ষী নয়।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌فصل

وأما إن الإمام يجهر بتكبير الافتتاح وسائر التكبير وبالتسميع وبالسلام، في جميع الصلوات، كما يجهر بالقراءة في صلاة الجهر، فليسمعه المأمومون فيكبّرون بعد تكبيره، ويحمدون بعد تسميعه، ويسلمون بعد تسليمه، وليبلغ صوته لمن لا يراه من المأمومين فيعلمون بانتقالاته فيتابعونه، ولهذا أخبر الذين وصفوا صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان يكبر ويسمع ويسلم، ولولا أنهم سمعوا ذلك لما علموا، ألا ترى أنهم إنما علموا قراءته في [السر] بتحريك لحيته صلى الله عليه وسلم؟ وقد قال أبو هريرة يا رسول الله:
পরিচ্ছেদ

আর ইমাম তাকবিরে তাহরিমা, অন্যান্য সকল তাকবির, তাসমি (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ) এবং সালাম সকল সালাতেই উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করবেন, ঠিক যেমন তিনি উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠের সালাতগুলোতে কিরাআত উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করেন। ফলে মুক্তাদিরা তা শুনতে পাবে এবং তার তাকবিরের পর তারা তাকবির বলবে, তার তাসমি পাঠের পর তারা আল্লাহর প্রশংসা (তাহমিদ) করবে এবং তার সালাম ফেরানোর পর তারা সালাম ফেরাবে। আর তার আওয়াজ যেন সেই সকল মুক্তাদিদের কাছে পৌঁছায় যারা তাকে দেখতে পাচ্ছে না, যাতে তারা তার সালাতের রুকন পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারে এবং তার অনুসরণ করতে পারে। এই কারণেই যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের বর্ণনা দিয়েছেন তারা জানিয়েছেন যে তিনি তাকবির বলতেন, তাসমি পাঠ করতেন এবং সালাম দিতেন। আর যদি তারা তা না শুনতেন তবে তারা তা জানতে পারতেন না। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, তাঁরা কেবল তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি নড়ার মাধ্যমেই নিশব্দ কিরাআত পাঠের বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন? আর আবু হুরায়রা বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল:
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
«أَرَأَيْتَ سُكُوتَكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ» ولم يسمع دعاء الافتتاح، وذلك بَيِّن في أنه كان يجهر بالتكبير وبالقراءة، ويسر دعاء الافتتاح.

وقد جاء ذلك مصرحاً به، فروى سعيد بن الحارث قال: صلى بنا أبو سعيد، فجهر بالتكبير حين افتتح، وحين ركع، وبعد أن قال سمع الله لمن حمده، وحين رفع رأسه من السجود، وحين سجد، وحين رفع، وحين قام من الركعتين، حتى قضى صلاته على ذلك، فلما انصرف قيل له: قد اختلفت الناس على صلاتك، فخرج حتى قام عند المنبر فقال: أيها الناس، إني والله ما أبالي اختلفت صلاتهم أم لم تختلف، إني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم هكذا يصلي.
"আপনি কি তাকবির এবং কিরাআতের মাঝখানে আপনার নীরবতার বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন?" অথচ তিনি প্রারম্ভিক দুআ শুনতে পাননি। আর এটি স্পষ্ট যে, তিনি তাকবির এবং কিরাআত উচ্চস্বরে পাঠ করতেন এবং প্রারম্ভিক দুআ নীরবে পাঠ করতেন।

এবং এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সাঈদ ইবনুল হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি উচ্চস্বরে তাকবির বললেন যখন তিনি সালাত শুরু করলেন, যখন রুকু করলেন, 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলার পর, যখন সিজদাহ থেকে মাথা তুললেন, যখন সিজদাহ করলেন, যখন মাথা উঠালেন এবং যখন দুই রাকাত শেষ করে দাঁড়ালেন; এমনকি তিনি এভাবেই তার সালাত সম্পন্ন করলেন। অতঃপর যখন তিনি সালাত থেকে অবসর হলেন, তখন তাকে বলা হলো: আপনার সালাত নিয়ে মানুষের মাঝে মতভেদ দেখা দিয়েছে। তখন তিনি বের হয়ে মিম্বরের কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন: হে লোকসকল! আল্লাহর শপথ, তাদের সালাত ভিন্ন হলো কি হলো না তা নিয়ে আমি পরোয়া করি না। নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এভাবেই সালাত আদায় করতে দেখেছি।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وسنذكر إن شاء الله الأحاديث التي فيها أنه صلى الله عليه وسلم كان يكبر هكذا.

ثم إن بعض الأمراء ترك الجهر بسائر التكبير، فصار بعض الناس يجهل السنة في جهر الإمام بالتكبير، حتى اختلفوا على أبي سعيد، ولهذا لما صلى عمران خلف علي وجهر علي بالتكبير، قال: قد أذكرني هذا صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكذلك صلاة عكرمة خلف شيخٍ كبر ثنتين وعشرين تكبيرة. وعامة هذه الأحاديث إنما معناها الجهر، وهو الذي كان قد تركه بعض الأمراء، كما سيأتي إن شاء الله بيانه.

وقد روي عن عمر رضي الله عنه أنه كان يؤم الناس بالتكبير؛ [يرفع] صوته بالتكبير. وعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: «إن لكل شيء شعاراً، وإن شعار الصلاة التكبير».
আমরা ইনশাআল্লাহ সেই হাদীসগুলো উল্লেখ করব যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবেই তাকবীর বলতেন।

অতঃপর কিছু আমির সকল তাকবীরে উচ্চৈঃস্বরে শব্দ করা বর্জন করেন, ফলে কিছু লোক ইমামের উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর বলার সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়ে, এমনকি তারা আবু সাঈদের ব্যাপারেও দ্বিমত পোষণ করে। এই কারণেই যখন ইমরান আলীর পেছনে সালাত আদায় করলেন এবং আলী উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর দিলেন, তখন তিনি বললেন: এটি আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। একইভাবে ইকরিমা জনৈক শায়খের পেছনে সালাত আদায়ের ব্যাপারেও এমনটি বর্ণিত হয়েছে যিনি বাইশটি তাকবীর দিয়েছিলেন। আর এই হাদীসগুলোর সাধারণ অর্থ হলো উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর বলা, যা কিছু আমির বর্জন করেছিলেন, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হবে।

উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মানুষকে নিয়ে সালাত আদায়ের সময় উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর দিতেন; অর্থাৎ তিনি তাকবীরের সময় নিজের আওয়াজ উচ্চ করতেন। আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি নিদর্শন রয়েছে, আর সালাতের নিদর্শন হলো তাকবীর।"
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
رواه أبو نعيم الفضل ابن دكينٍ في كتاب الصلاة. وشعار الشيء: ما يشعر به، وهذا إنما يكون فيما يظهر ويجهر به.

فأما المأموم فالسنة في حقه أن يخفي التكبير وسائر أنواع الذكر، إلا التأمين والبسملة على ما سيأتي إن شاء الله تعالى؛ لأنه إنما يصلي لنفسه، فلا يحتاج إلى سماع غيره، وأفضل الذكر: الخفي، بل يكره له الجهر بذلك، كما يكره له الجهر بالقراءة؛ لأنه يغلط غيره من المصلين، إلا أن يجهر بالكلمات أحياناً، كما جهر المستفتح بقوله: «اللهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا» وكما جهر العاطس بقوله: «رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ» الحديث، وسيأتي إن شاء الله ذكر ذلك.
এটি আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন 'কিতাবুস সালাত'-এ বর্ণনা করেছেন। আর কোনো কিছুর 'শিআর' বা নিদর্শন হলো যা দ্বারা সেটিকে চেনা যায়; আর এটি কেবল সেই বিষয়ের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে যা প্রকাশ পায় এবং উচ্চস্বরে পাঠ করা হয়।

তবে মুক্তাদির ক্ষেত্রে সুন্নাত হলো তাকবির ও অন্যান্য সকল প্রকার জিকির নীরবে সম্পন্ন করা, 'আমীন' এবং 'বিসমিল্লাহ' ব্যতীত, যার বিবরণ ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসছে। কারণ তিনি কেবল নিজের জন্যই সালাত আদায় করছেন, তাই অন্যকে শোনানোর প্রয়োজন নেই। আর সর্বোত্তম জিকির হলো যা সংগোপনে করা হয়; বরং তার জন্য এগুলো উচ্চস্বরে করা মাকরূহ, যেমন তার জন্য কিরাত উচ্চস্বরে পাঠ করা মাকরূহ; কেননা এতে অন্য মুসল্লিদের বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে মাঝে মাঝে কোনো শব্দ উচ্চস্বরে হতে পারে, যেমন প্রারম্ভিক দুআ পাঠকারী ব্যক্তি উচ্চস্বরে বলেছিলেন: "আল্লাহু আকবার কাবিরা" (আল্লাহ মহান, অতীব মহান) এবং যেমন হাঁচিদাতা ব্যক্তি উচ্চস্বরে বলেছিলেন: "রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ" (হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা) - হাদীস; অচিরেই ইনশাআল্লাহ এ সংক্রান্ত আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
كما أن النبي صلى الله عليه وسلم قد كان يجهر بالآية أحياناً في صلاة السر، ولا فرق في ذلك بين المؤذن وغيره، وبين من يقصد من المأمومين تبليغ غيره بصوته أو لا يقصد، فإن التبليغ على الإمام، ولهذا استحببنا له رفع الصوت، وليس على المأموم تبليغ، والأحاديث تدل على أن النبي صلى الله عليه وسلم كان هو الذي يبلغ المأمومين التكبير، ولم يكن خلفه أحد يبلغهم، فإن مثل هذا لو كان لنقل ولما أراد الصحابة أن ينقلوا الجهر بالتكبير أخبروا أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يجهر، ولو كان خلفه مؤذن أو غيره يجهر بذلك لنقلوا ذلك، واستدلوا به على ذلك، ولم ينقلوا ذلك إلا في مرض موته صلى الله عليه وسلم، فإذا كان صوت الإمام لا يبلغ جميع المصلين إما لضعفه عن الجهر المبالغ بمرض أو كبر، أو لكثرة الجمع وتباعد أقطار المصلين، فيتسحب أن يجهر بعض المأمومين بالتكبير والتحميد والتسليم قدر ما يسمعه سائرهم؛ لما روى جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: اشتكى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فصلينا وراءه وهو قاعد، وأبو بكر يُسمع الناس تكبيره. وفي لفظٍ: صلى بنا رسول الله
যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কখনো নিঃশব্দ সালাতে কোনো আয়াত উচ্চস্বরে পাঠ করতেন। এ ক্ষেত্রে মুয়াজ্জিন ও অন্য কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, এবং মুক্তাদিদের মধ্যে যারা নিজ কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে অন্যদের নিকট পৌঁছানোর ইচ্ছা পোষণ করেন বা করেন না, তাদের মধ্যেও কোনো প্রভেদ নেই। কেননা আওয়াজ পৌঁছানোর দায়িত্ব ইমামের ওপর, আর একারণেই আমরা তাঁর জন্য আওয়াজ উচ্চ করা মুস্তাহাব বলেছি। পক্ষান্তরে মুক্তাদির ওপর আওয়াজ পৌঁছানোর কোনো আবশ্যকতা নেই। হাদিসসমূহ একথার প্রমাণ দেয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই মুক্তাদিদের নিকট তাকবির পৌঁছাতেন এবং তাঁর পেছনে এমন কেউ ছিল না যে তাঁদের নিকট তা পৌঁছে দিত। কারণ এই ধরনের কোনো বিষয় যদি বিদ্যমান থাকত তবে তা অবশ্যই বর্ণিত হতো। সাহাবীগণ যখন উচ্চস্বরে তাকবির বলার বিষয়টি বর্ণনা করতে চেয়েছেন, তখন তাঁরা এই সংবাদই দিয়েছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উচ্চস্বরে তাকবির বলতেন। যদি তাঁর পেছনে কোনো মুয়াজ্জিন বা অন্য কেউ উচ্চস্বরে তা পৌঁছে দিত, তবে তাঁরা অবশ্যই সেটি বর্ণনা করতেন এবং এর মাধ্যমে দলিল পেশ করতেন। তাঁরা বিষয়টি কেবল তাঁর ওফাতকালীন অসুস্থতা ব্যতীত অন্য কোনো সময়ের জন্য বর্ণনা করেননি। সুতরাং, যদি অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্যজনিত কারণে উচ্চস্বরে বলার সক্ষমতা না থাকায় অথবা মুসল্লিদের আধিক্য ও কাতারগুলো দূরে হওয়ার কারণে ইমামের আওয়াজ সকল মুসল্লির নিকট না পৌঁছে, তবে কোনো কোনো মুক্তাদির জন্য তাকবির, তাহমিদ ও তাসলিম উচ্চস্বরে বলা মুস্তাহাব যাতে অন্যান্য সকল মুসল্লি তা শুনতে পায়। যেমনটি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসুস্থ হলেন, ফলে আমরা তাঁর পেছনে সালাত আদায় করলাম এমতাবস্থায় যে তিনি উপবিষ্ট ছিলেন এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মানুষকে তাঁর তাকবির শোনাচ্ছিলেন। অন্য এক শব্দে বর্ণিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
صلى الله عليه وسلم وأبو بكر خلفه، فإذا كبر رسول الله صلى الله عليه وسلم، كبِّر أبو بكر فيسمعنا. رواهما مسلم والنسائي.

وينبغي أن يبين التكبير ويجزمه، ولا يطوله، ولا يمد في غير موضع المد، قال أبو عبد الله: ربما طوّل الإمام في التكبير إذا لم يكن له فقه، والذي يكبر معه ربما جزم التكبير، ففرغ من التكبير قبل أن يفرغ الإمام فقد صار هذا مكبراً قبل الإمام، ومن كبر قبل الإمام فليست له صلاة؛ لأنه دخل في الصلاة قبل الإمام وكبر قبل الإمام فلا صلاة له.

قال بعض أصحابنا إنْ مد في غير موضع المد، مثل أن يمد بعض الهمزة من اسم الله، فتصير همزة استفهام، أو يزيد ألفاً بعد الباء من أكبر، فتصير جمع كبر: وهو الطبل فارسي معرب الحرة؛ لأن المعنى يتغير به.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বকর তাঁর পেছনে ছিলেন। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীর বলতেন, তখন আবু বকরও তাকবীর বলতেন যেন আমাদের শোনা যায়। মুসলিম ও নাসায়ী উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

তাকবীর স্পষ্ট করে এবং সংক্ষেপে (টান ছাড়া) উচ্চারণ করা উচিত; একে দীর্ঘ করা যাবে না এবং যেখানে টানের স্থান নয় সেখানে টানা যাবে না। আবু আব্দুল্লাহ বলেন: ইমামের যদি ফিকহী জ্ঞান না থাকে তবে অনেক সময় তিনি তাকবীর দীর্ঘ করেন, আর তার পেছনে যে তাকবীর বলে সে হয়তো সংক্ষেপে বলে ফেলে, ফলে ইমাম শেষ করার আগেই সে তাকবীর শেষ করে ফেলে। এমতাবস্থায় সে ইমামের আগে তাকবীর পাঠকারী হয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি ইমামের আগে তাকবীর বলে তার সালাত হবে না; কারণ সে ইমামের আগেই সালাতে প্রবেশ করেছে এবং ইমামের আগেই তাকবীর বলেছে, তাই তার কোনো সালাত নেই।

আমাদের কোনো কোনো সাথী বলেছেন, যদি কেউ মাদ্দ বা টানের জায়গা ছাড়া অন্য জায়গায় টেনে পড়ে, যেমন আল্লাহর নামের হামজাকে দীর্ঘ করা, তবে তা প্রশ্নবোধক হামজায় পরিণত হয়। অথবা যদি 'আকবার' শব্দের 'বা' অক্ষরের পরে একটি আলিফ বাড়িয়ে দেয়, তবে তা 'কাবার'-এর বহুবচন হয়ে যায়; যার অর্থ হলো ঢোল, যা পারস্য শব্দ থেকে আরবিকরণ করা হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌فصل

ويستحب أن يقوم الإمام والمأموم إلى الصلاة إذا قال المؤذن: قد قامت الصلاة؛ لما روي عن الحجاج بن فروخ الواسطي عن العوام ابن حوشبٍ عن عبد الله بن أبي أوفى رضي الله عنه، قال «كان بلال إذا قال قد قامت الصلاة، نهض رسول الله صلى الله عليه وسلم» رواه حرب، وأبو يعلى الموصلي وأبو حفص العكبري وغيرهم، وهو محفوظ عن الحجاج، وقد قيل:
অনুচ্ছেদ

মুয়াজ্জিন যখন ‘কাদ কামাতিস সালাত’ বলবে, তখন ইমাম ও মুক্তাদির সালাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; কেননা হাজ্জাজ ইবন ফাররুহ আল-ওয়াসিতি, আওয়াম ইবন হাওশাব থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আবি আওফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “বেলাল যখন ‘কাদ কামাতিস সালাত’ বলতেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়াতেন।” এটি হারব, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, আবু হাফস আল-উকবারী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এটি হাজ্জাজ থেকে সংরক্ষিত (বর্ণিত) রয়েছে। আর বলা হয়েছে:
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
إنه لا يروي إلا عنه، وهو وإن كان فيه لين فليس في الباب حديث يخالفه، وقد اعتضد بعمل الصحابة، قال ابن المنذر وغيره: كان أنس بن مالك إذا قيل: «قد قامت الصلاة» نهض وقام. وعن الحسين بن علي رضي الله عنهما: أنه كان يفعل ذلك. رواه النجاد وغيره.

ولا يعرف عن صحابي خلاف ذلك، وهذا يتعين اتباعه، لا سيما إذا كان الكلام في الاستحباب، ولم يوجد ما يعتمد عليه سوى ذلك. ولأنَّ قوله: «حي على الصلاة حي على الفلاح» دعاء إلى الصلاة، لكن هو مشترك بين الأذان والإقامة، فإذا قيل: «قد قامت الصلاة» تم الدعاء إلى الصلاة، فينبغي أن تكون الإجابة عقبه، ولأن قوله: «قد قامت الصلاة» فيه معنى الأمر بإقامتها، فاستحب أن يكون القيام إلى الصلاة عقبه، امتثالاً للأمر، وهو
নিশ্চয়ই তিনি কেবল তাঁর থেকেই বর্ণনা করেন। আর যদিও তাঁর মধ্যে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে, তবুও এই অধ্যায়ে এমন কোনো হাদিস নেই যা এর বিপরীত। এটি সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা শক্তিশালী হয়েছে। ইবনুল মুনজির ও অন্যান্যরা বলেছেন: আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে যখন বলা হতো: "নামাজ শুরু হয়ে গেছে", তখন তিনি উঠে দাঁড়াতেন। হুসাইন ইবনে আলী (রা.) থেকেও বর্ণিত আছে যে, তিনিও এরূপ করতেন। এটি নাজ্জাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আর কোনো সাহাবী থেকে এর বিপরীত কিছু জানা যায় না। এমতাবস্থায় এটিই অনুসরণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যখন বিষয়টি মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে আলোচনা হয় এবং এছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি খুঁজে পাওয়া না যায়। তাছাড়া তাঁর বাণী: "নামাজের দিকে এসো, সফলতার দিকে এসো" হলো নামাজের দিকে আহ্বান, তবে তা আযান ও ইকামত—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সুতরাং যখন বলা হয়: "নামাজ শুরু হয়ে গেছে", তখন নামাজের প্রতি পূর্ণাঙ্গ আহ্বান সম্পন্ন হয়। অতএব এর পরপরই সাড়া দেওয়া উচিত। তাছাড়া "নামাজ শুরু হয়ে গেছে" এই বাণীর মধ্যে নামাজ কায়েম করার আদেশের অর্থ নিহিত রয়েছে। ফলে সেই আদেশের আনুগত্যস্বরূপ এর অব্যবহিত পরেই নামাজের জন্য উঠে দাঁড়ানো মুস্তাহাব। আর এটি...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أيضاً إخبار عن قرب قيامها، فإذا كان القيام عقبه كان أتم في القرب، ولأن قيامه قبل ذلك لا حاجة إليه، وتأخيره القيام عن ذلك يقتضي تأخير التحريم والتسوية.

فأما إذا عرضت له حاجة فلا بأس أن يتأخر القيام إلى الصلاة عن الإقامة؛ لما روى أنس قال: أقيمت الصلاة والنبي صلى الله عليه وسلم يناجي رجلاً في جانب المسجد، فما قام إلى الصلاة حتى نام القوم، وسيأتي قوله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي».

فأما التكبير فيستحب أن يكون بعد فراغ الإقامة إن كانت الصفوف مستويةً، كبر عقبها، وإن لم يكن مستوية سواها ثم كبّر، لأنا قد قدمنا عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول كما يقول المؤذن في الإقامة، وصح من غير وجه أنه كان يعدل الصفوف بعد
এটিও সালাত শুরু হওয়ার নিকটবর্তী হওয়ার একটি সংবাদ। সুতরাং যদি ইকামত শেষ হওয়ার পরপরই দাঁড়ানো হয়, তবে তা নৈকট্যের দিক থেকে অধিক পূর্ণাঙ্গ হয়। কারণ এর পূর্বে দাঁড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই, এবং এটি থেকে দাঁড়াতে বিলম্ব করা তাকবিরে তাহরিমা ও কাতার সোজা করার বিষয়টিকে বিলম্বিত করে।

তবে যদি কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে ইকামতের পর সালাতের জন্য দাঁড়াতে দেরি করাতে কোনো অসুবিধা নেই; যেহেতু আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সালাতের ইকামত দেওয়া হলো অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদের এক পাশে এক ব্যক্তির সাথে একান্তে কথা বলছিলেন, ফলে তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ালেন না যতক্ষণ না উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। অচিরেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণী আসবে: "যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা দাঁড়াবে না যতক্ষণ না আমাকে দেখবে।"

আর তাকবিরের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হলো ইকামত সমাপ্ত হওয়ার পর তা প্রদান করা। যদি কাতারগুলো সোজা থাকে, তবে ইকামতের পরপরই তাকবির বলবে। আর যদি কাতারগুলো সোজা না থাকে, তবে আগে সেগুলো সোজা করবে এবং এরপর তাকবির বলবে। কেননা আমরা ইতিপূর্বেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি ইকামতের সময় মুয়াযযিন যা বলতেন তিনিও তাই বলতেন। এবং বিভিন্ন সূত্রে এটি সহীহভাবে প্রমাণিত যে, তিনি এরপর কাতারগুলো সোজা করতেন।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
القيام إلى الصلاة، وقد جاء مفسراً أنه يفعل ذلك بعد الإقامة، فروى البخاري عن أنس رضي الله عنه قال: أقيمت الصلاة، فأقبل النبي صلى الله عليه وسلم علينا بوجهه، فقال: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ». وفي روايةٍ [عن] رسول الله صلى الله عليه وسلم: بعد أن أقيمت الصلاة قبل أن يكبر أقبل بوجهه على أصحابه. وقال إسحاق بن راهوية: [سن] رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يكبر بعد فراغ المؤذن من الإقامة كلها، قال: [وأخذ بذلك بعده عمر بن الخطاب رضي الله عنه] ، وقد روي أبو موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا أقمتم الصلاة فليؤمكم أحدكم» ، «إذَا قَرَأَ
সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হওয়া; এবং এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইকামতের পর এটি করতেন। ইমাম বুখারি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালাতের ইকামত দেওয়া হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দিকে তাঁর চেহারা ফিরিয়ে বললেন: "তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: সালাতের ইকামত প্রদান করার পর এবং তাকবির বলার পূর্বে তিনি তাঁর সাহাবীদের দিকে চেহারা ফিরালেন। ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যে, মুয়াজ্জিন সম্পূর্ণ ইকামত শেষ করার পর তাকবির প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন: তাঁর পর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি গ্রহণ করেছেন। আবু মুসা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা সালাতের ইকামত প্রদান করো, তখন তোমাদের কেউ যেন তোমাদের ইমামতি করে", "যখন তিনি পাঠ করবেন..."
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الإِمَامُ فَأَنْصِتُوا» رواه أحمد.

ثم إذا كان الإمام حاضراً بحيث يرونه، قاموا عند كلمة الإقامة، قام الإمام أو لم يقم، وإن علموا بقربه من المسجد أو خارج المسجد ولم يروه، فهل يقومون؟ على روايتين.

إحداهما: يقومون؛ لما روى أبو هريرة رضي الله عنه قال: أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ وَعُدِّلَتِ الصُّفُوفُ قِيَامًا قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ إِلَيْنَا فَلَمَّا قَامَ فِي مُصَلَاّهُ ذَكَرَ أَنَّهُ جُنْبٌ، فَقَالَ لَنَا: «مَكَانِكُمْ» فَمَكْثْنَا عَلَى هَيْئَتِنَا يَعْنِي قِيَامًا ثُمَّ رَجِعَ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَيْنَا فَكَبَّرَ فَصَلَّيْنَا مَعَهُ. متفق عليه. ولمسلم عن أبي هريرة قال: إن كانت الصلاة لتقام لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فيأخذ الناس مقامهم قبل أن يأخذ النبي صلى الله عليه وسلم مقامه.

والرواية الثانية: لا يقومون حتى يروه؛ لما روى أبو قتادة
ইমাম (যখন কিরাত পাঠ করেন), তখন তোমরা চুপ থাকো।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর ইমাম যদি এমনভাবে উপস্থিত থাকেন যে মুক্তাদিরা তাঁকে দেখতে পান, তবে তাঁরা ইকামতের বাক্যসমূহ উচ্চারণের সময় দাঁড়িয়ে যাবেন, ইমাম দাঁড়িয়ে থাকুন বা না থাকুন। আর যদি তাঁরা মসজিদের নিকটবর্তী স্থানে বা মসজিদের বাইরে তাঁর উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন কিন্তু তাঁকে দেখতে না পান, তবে তাঁরা কি দাঁড়াবেন? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

তার একটি হলো: তাঁরা দাঁড়াবেন; যেহেতু আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: সালাতের ইকামত দেওয়া হলো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসার পূর্বেই কাতারগুলো সোজা করে দাঁড়িয়ে যাওয়া হলো। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন। যখন তিনি তাঁর সালাতের স্থানে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর স্মরণে এল যে তিনি অপবিত্র অবস্থায় আছেন। তখন তিনি আমাদের বললেন: "তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো।" ফলে আমরা আমাদের অবস্থায় অর্থাৎ দণ্ডায়মান অবস্থায় অবস্থান করলাম। অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে গোসল করলেন এবং পুনরায় আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন। এরপর তিনি তাকবির দিলেন এবং আমরা তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম। (বুখারি ও মুসলিম)। মুসলিমের বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হতো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিজ স্থানে দাঁড়ানোর পূর্বেই মানুষ নিজ নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে যেতেন।

আর দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো: তাঁরা তাঁকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবেন না; কারণ আবু কাতাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যা বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي» رواه الجماعة إلا ابن ماجة، بهذا اللفظ إلا البخاري لم يذكر قوله: «خرجت» ، وهذا يدل على نسخ ما كانوا يفعلونه قبل ذلك، وقد روي عن أبي خالد الوالبي قال: خرج إلينا علي بن أبي طالب رضي الله عنه وكنا قيام، فقال: «ما لي أراكم سامدين؟» يعني قيامًا. ولأن في ذلك مشقة على المأمومين من غير فائدة، وقيام إلى الصلاة قد تحقق قرب الشروع فيها فلم يكن إليه حاجة.
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হয়, তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না।" এটি ইবনে মাজাহ ব্যতীত জামায়াত (মুহাদ্দিসগণ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী "আমি বের হয়েছি" কথাটি উল্লেখ করেননি, এছাড়া এটি এই শব্দেই বর্ণিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, তারা ইতিপূর্বে যা করতেন তা রহিত হয়ে গিয়েছে। আবু খালিদ আল-ওয়ালিবি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন যখন আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "কী হলো যে আমি তোমাদের উদাসীন অবস্থায় দেখছি?" অর্থাৎ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়। কারণ এতে কোনো ফায়দা ছাড়াই মুক্তাদিদের জন্য কষ্ট রয়েছে। আর সালাতের জন্য দাঁড়ানোর বিষয়টি সালাত শুরু হওয়ার সন্নিকটে অর্জিত হয়ে যায়, তাই এর কোনো প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌فصل

وإذا لم تكن الصفوف مستوية سوّاها الإمام وغيره، إلا أن الإمام أخص بذلك؛ لأنه الراعي، قال أنس بن مالك رضي الله عنه: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل علينا بوجهه قبل أن يكبر فيقول: «تَرَاصُّوا وَاعْتَدِلُوا» ، وقال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «سَوُّوا صُفُوفَكُمْ، فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ» متفق عليهما.

وعن محمد بن مسلم بن السائب، صاحب المقصورة، قال: صليت إلى جنب أنس بن مالك يوماً فقال: هل تدري، لم صنع هذا العود؟ فقلت: لا والله، فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا قام إلى الصلاة أخذ يمينه ثم ألتفت، فقال: «اعْتَدِلُوا سَوُّوا صُفُوفَكُمْ» ثم أخذ بيساره فقال: «اعْتَدِلُوا سَوُّوا صُفُوفَكُمْ» رواه أبو داود.

وعن النعمان بن بشير قال: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُسَوِّي صُفُوفَنَا إِذَا قُمْنَا لِلصَّلَاةِ فَإِذَا اسْتَوَيْنَا كَبَّرَ» رواه أبو داود، وعن
পরিচ্ছেদ

আর যখন কাতারগুলো সোজা থাকে না, তখন ইমাম ও অন্যরা তা সোজা করে দেবেন, তবে ইমামই এ বিষয়ে অধিক হকদার; কারণ তিনি হলেন দায়িত্বশীল। আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে মুখ ফিরাতেন এবং বলতেন: «তোমরা মিলেমিশে দাঁড়াও এবং সোজা হও», এবং তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো, কেননা কাতার সোজা করা সালাত পূর্ণাঙ্গ হওয়ার অংশ»। (বুখারী ও মুসলিম)।

মাকসুরার সাথী মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে সায়িব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একদিন আনাস ইবনে মালিকের পাশে সালাত আদায় করলাম, তখন তিনি বললেন: আপনি কি জানেন, এই কাঠটি কেন তৈরি করা হয়েছে? আমি বললাম: না, আল্লাহর কসম। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সালাতের জন্য দাঁড়াতেন, তখন ডান দিকে ফিরে বলতেন: «সোজা হও, তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো», এরপর বাম দিকে ফিরে বলতেন: «সোজা হও, তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো»। (আবু দাউদ)।

নুমান ইবনে বাশির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাতারগুলো সোজা করে দিতেন যখন আমরা সালাতের জন্য দাঁড়াতাম, অতঃপর যখন আমরা সোজা হয়ে স্থির হতাম তখন তিনি তাকবীর বলতেন»। (আবু দাউদ), এবং...
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
عمر رضي الله عنه «أنه كان إذا أقيمت الصلاة استقبل القوم ثم يقول: يا فلان، تقدم، يا فلان، تأخر، سوّوا صفوفكم، استووا. ثم يقبل على القبلة فيكبر» رواه سعيد، قال الترمذي: وروي عن علي رضي الله عنه أنه كان يتعاهد ذلك ويقول: استووا، وكان يقول: تقدم يا فلان، تأخر يا فلان.

وعن نافع «أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يَأْمُرُ بِتَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، فَإِذَا جَاءُوهُ فَأَخْبَرُوهُ بِأَنْ قَدِ اسْتَوَتْ كَبَّرَ». رواه مالك. وعن سهل ابن مالك عن أبيه قال كُنْتُ مَعَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه، فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ وَأَنَا أُكَلِّمُهُ فِي أَنْ يَفْرِضَ لِي، فَلَمْ أَزَلْ أُكَلِّمُهُ وَهُوَ يُسَوِّي الْحَصَا بِنَعْلَيْهِ، حَتَّى جَاءَهُ رِجَالٌ قَدْ وَكَلَهُمْ بِتَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، فَأَخْبَرُوهُ أَنَّ الصُّفُوفَ قَدِ اسْتَوَتْ فَقَالَ لِي اسْتَوِ فِي الصَّفِّ. ثُمَّ كَبَّرَ. رواه مالك.
উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হতো, তখন তিনি মানুষের দিকে মুখ ফেরাতেন এবং বলতেন: ‘হে অমুক, সামনে অগ্রসর হও, হে অমুক, পেছনে যাও, তোমাদের কাতার সোজা করো, সমান হও।’ এরপর তিনি কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকবির বলতেন। এটি সাঈদ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন: আলী (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এ বিষয়ে যত্ন নিতেন এবং বলতেন: ‘সমান হও,’ এবং তিনি বলতেন: ‘হে অমুক, সামনে অগ্রসর হও, হে অমুক, পেছনে যাও।’

নাফে থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কাতার সোজা করার নির্দেশ দিতেন; যখন লোকেরা এসে তাঁকে খবর দিত যে কাতারগুলো সমান হয়েছে, তখন তিনি তাকবির বলতেন। এটি মালেক বর্ণনা করেছেন। সাহল ইবনে মালেক তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর সাথে ছিলাম। সালাতের ইকামত দেওয়া হলো এবং আমি আমার জন্য একটি বরাদ্দ নির্ধারণ করার বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলছিলাম। আমি তাঁর সাথে কথা বলেই যাচ্ছিলাম, আর তিনি তাঁর জুতো দিয়ে কঙ্করগুলো সমান করছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই লোকগুলো তাঁর কাছে এল, যাদেরকে তিনি কাতার সোজা করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তারা তাঁকে খবর দিল যে কাতারগুলো সমান হয়েছে। তখন তিনি আমাকে বললেন: ‘কাতারে সোজা হয়ে দাঁড়াও।’ এরপর তিনি তাকবির বললেন। এটি মালেক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وقال أحمد في رسالته [وأمر أبا عبد الله] الإمام أن لا يكبر أول ما يقوم مقامه للصلاة، حتى يلتفت يميناً وشمالاً، فإن رأى الصف معوجاً، والمناكب مختلفة، أمرهم أن يدنو بعضهم من بعض حتى تماس مناكبهم. واعلم أن اعوجاج الصفوف واختلاف المناكب ينقص من الصلاة وأن الفرجة التي تكون بين كل رجلين تنقص من الصلاة، فاحذروا ذلك.

وذكر بعض أحاديث الصفوف، وابن عمر الذي رواه مالك، قال: وروي أن بلالاً كان يسوي الصفوف، ويضرب عراقيبهم
ইমাম আহমাদ তাঁর পত্রে বলেছেন: [এবং তিনি আবু আব্দুল্লাহকে নির্দেশ দিয়েছেন] ইমাম যেন নামাযের জন্য তাঁর স্থানে দাঁড়ানোর পর প্রথম মুহূর্তেই তাকবীর না বলেন, যতক্ষণ না তিনি ডানে ও বামে তাকান। যদি তিনি কাতারকে আঁকাবাঁকা দেখেন এবং কাঁধগুলোকে অসমান দেখেন, তবে তিনি তাঁদের একে অপরের নিকটবর্তী হওয়ার নির্দেশ দেবেন, যতক্ষণ না তাঁদের কাঁধগুলো পরস্পর স্পর্শ করে। আর জেনে রাখুন যে, কাতারের বক্রতা এবং কাঁধের অসামঞ্জস্যতা নামাযকে ত্রুটিপূর্ণ করে এবং দুই ব্যক্তির মাঝখানের ফাঁকা জায়গা নামাযের সওয়াব কমিয়ে দেয়, সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক হোন।

তিনি কাতার সম্পর্কিত কিছু হাদীস এবং ইবনে উমরের সেই বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা মালিক বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বর্ণিত আছে যে, বিলাল কাতার সোজা করতেন এবং তাঁদের গোড়ালিতে আঘাত করতেন।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
بالدرة حتى يستووا، قال بعض العلماء: قد يشبه هذا أن يكون من بلال على عهد النبي صلى الله عليه وسلم عند إقامته قبل أن يدخل في الصلاة؛ لأن الحديث جاء عن بلال أنه لم يؤذن لأحد بعد النبي صلى الله عليه وسلم إلا يوماً واحداً إذا أتى مرجعه من الشام، وذكر قصة تأذين بلال بالشام.
লাঠি দ্বারা যাতে তারা সোজা হয়; জনৈক আলেম বলেছেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সালাতে প্রবেশের পূর্বে ইকামত প্রদানের সময় বিলালের পক্ষ থেকে সম্পাদিত কার্যের সদৃশ হতে পারে; কারণ বিলাল সম্পর্কে হাদীসে এসেছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আর কারো জন্য আযান দেননি, কেবল একদিন ব্যতীত যখন তিনি শাম থেকে ফিরে এসেছিলেন; এবং তিনি শামে বিলালের আযান প্রদানের ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌فصل

والمسنون للصفوف خمسة أشياء، مبناها على أصلين، على اجتماع المصلين، وانضمام بعضهم إلى بعض، وعلى استقامتهم واستوائهم؛ لتجتمع قلوبهم وتستقيم، ويتحقق معنى الجماعة الذي هو اجتماعهم في الصلاة مكاناً وزماناً.

قال أبو عبد الله: تسوية الصفوف ودنو الرجال بعضهم من بعض، من تمام الصلاة، وترك ذلك نقص في الصلاة.

أحدها: تسوية الصف وتعديله وتقويمه، حتى يكون كالقدح، وذلك يحصل بالمحاذاة بالمناكب والرُّكَب والكِعاب، دون أصابع الرجلين.

والثاني: التراص فيه وسد الخلل والفُرج، حتى يلصق الرجل منكبه بمنكب الرجل، وكعبه بكعبه.

الثالث: تقارب الصفوف ودنو بعضها من بعضٍ، حتى يكون سجود المؤخر خلف مقام المقدم، من غير ازدحامٍ يفضي إلى أذى المصلين.

والرابع: تكميل الأول فالأول، تحقيقاً للاجتماع، والدنو من الإمام.

والخامس: توسط الإمام، وهو أن يكون في وسط الصف.
পরিচ্ছেদ

কাতারসমূহের ক্ষেত্রে মাসনুন বা সুন্নাহসম্মত বিষয় হলো পাঁচটি, যা মূলত দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: মুসল্লিদের একত্রিত হওয়া ও একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়া এবং তাদের সরলতা ও সোজা হওয়া; যাতে তাদের অন্তরসমূহ একত্রিত ও সুসংহত হয় এবং জামাআতের প্রকৃত তাৎপর্য বাস্তবায়িত হয়, যা মূলত স্থান ও সময়ের নিরিখে সালাতে তাদের সম্মিলিত হওয়া।

আবু আব্দুল্লাহ বলেন: কাতার সোজা করা এবং মুসল্লিদের একে অপরের নিকটবর্তী হওয়া সালাতের পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত, আর তা বর্জন করা সালাতের ত্রুটি বা অপূর্ণতা।

প্রথমটি: কাতারকে সমান, সুবিন্যস্ত ও সোজা করা, এমনকি তা যেন তীরের মতো সোজা হয়। আর তা অর্জিত হয় কাঁধ, হাঁটু এবং গোড়ালির সমান্তরাল করার মাধ্যমে, পায়ের আঙুলের মাধ্যমে নয়।

দ্বিতীয়টি: কাতারে গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়ানো এবং ফাঁকা ও ছিদ্র বন্ধ করা, এমনকি একজন তার কাঁধ অন্যজনের কাঁধের সাথে এবং তার গোড়ালি অন্যজনের গোড়ালির সাথে মিলিয়ে দেবে।

তৃতীয়টি: কাতারগুলো কাছাকাছি হওয়া এবং একটি অপরটির নিকটবর্তী হওয়া, যাতে পেছনের ব্যক্তির সাজদাহ সামনের ব্যক্তির দাঁড়ানোর জায়গার ঠিক পেছনে হয়; তবে এমন ভিড় হওয়া যাবে না যা মুসল্লিদের কষ্টের কারণ হয়।

চতুর্থটি: সম্মিলন নিশ্চিতকরণ এবং ইমামের নিকটবর্তী হওয়ার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে প্রথম কাতারগুলো আগে পূর্ণ করা।

পঞ্চমটি: ইমামের মাঝখানে থাকা, অর্থাৎ তিনি কাতারের মাঝ বরাবর অবস্থান করবেন।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وعن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «رَاصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهُ الْحَذَفُ» رواه أحمد وأبو داود والنسائي. وعن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي» ، وكان أحدنا يلصق منكبه بمنكب صاحبه، وقدمه بقدمه، متفق عليه، والسياق للبخاري. وعن النعمان بن بشير رضي الله عنه قال: أَقْبَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِوَجْهِهِ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ثِلَاثًا وَاللهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ» قَالَ: فَلَقَدْ رَأَيْتُ الرَّجُلَ يَلْزَقُ كَعْبَهُ بِكَعْبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَتِهِ وَمَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِهِ. رواه أحمد وأبو داود وهو في «الصحيحين» بقريب من

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলতেন: «তোমরা তোমাদের কাতারগুলোকে সুসংহত করো, সেগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনো এবং ঘাড়গুলো সমান্তরাল করো। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম করে বলছি, নিশ্চয়ই আমি শয়তানকে কাতারের ফাঁক দিয়ে প্রবেশ করতে দেখি, যেন তা ছোট কালো বকরি»। এটি আহমাদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো, কেননা আমি তোমাদেরকে আমার পিছন দিক থেকেও দেখতে পাই»। আর আমাদের প্রত্যেকেই তার কাঁধ তার সঙ্গীর কাঁধের সাথে এবং তার পা তার পায়ের সাথে মিলিয়ে দিতেন। এটি বুখারি ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন (মুত্তাফাকুন আলাইহি), আর শব্দবিন্যাস বুখারির।

নুমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) মানুষের দিকে তাঁর মুখমণ্ডল ফিরিয়ে বললেন: «তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা করো» (একথাটি তিনি তিনবার বললেন)। «আল্লাহর কসম! হয় তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতারগুলো সোজা করবে, নতুবা আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের অন্তরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন»। তিনি বলেন: অতঃপর আমি দেখলাম যে, এক ব্যক্তি তার গোড়ালি তার সঙ্গীর গোড়ালির সাথে, তার হাঁটু তার হাঁটুর সাথে এবং তার কাঁধ তার কাঁধের সাথে মিলিয়ে দিচ্ছে। এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এটি ‘সহীহাইন’-এ (বুখারি ও মুসলিম) এর কাছাকাছি শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
معناه، وأحاديث الباب كثيرة، ربما يتم أمرها إن شاء الله في موقف الإمام والمأموم.
এর অর্থ; এবং এই অধ্যায়ের হাদীসসমূহ অনেক, সম্ভবত ইমাম ও মুক্তাদীর অবস্থানের পরিচ্ছেদে এগুলোর আলোচনা পূর্ণ করা হবে, যদি আল্লাহ চান।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌فصل

والمستحب في حال القيام أن يفرق بين قدميه، فيما ذكره أصحابنا، وهكذا كان أبو عبد الله يفعل، لما روي عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: أنه رأى رجلاً صافاً بين قدميه فقال: أخطأ هذا السنة، لو فرج بينهما كان أفضل. ومثل ابن مسعود إذا أطلق السنة فإنما يعني به سنة النبي صلى الله عليه وسلم، أنه علم ذلك من رسول الله صلى الله عليه وسلم قولاً أو فعلاً.

وعن ابن عمر رضي الله عنهما أنه كان لا يفرج بين قدميه، ولا يمس إحداهما الأخرى، ولكن بين ذلك. رواهما أبو بكر النجاد.

وعن ابن عمر قال: لا تقارب ولا تباعد.
পরিচ্ছেদ

আমাদের (মাযহাবের) আলেমগণ যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী, কিয়াম বা দণ্ডায়মান অবস্থায় উভয় পায়ের মাঝে ফাঁকা রাখা মুস্তাহাব। আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) এমনই করতেন। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে দুই পা মিলিয়ে (জুড়িয়ে) দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন: "এ ব্যক্তি সুন্নাহর পরিপন্থী কাজ করেছে; যদি সে উভয় পায়ের মাঝে ফাঁকা রাখত তবে তা উত্তম হতো।" ইবনে মাসউদের মতো ব্যক্তিত্ব যখন সাধারণভাবে 'সুন্নাহ' শব্দ ব্যবহার করেন, তখন এর দ্বারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, যা তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা বা কাজ থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন।

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি উভয় পায়ের মাঝে অতিরিক্ত ফাঁকা রাখতেন না, আবার একটিকে অন্যটির সাথে স্পর্শও করাতেন না, বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি রাখতেন। আবু বকর আল-নাজ্জাদ এ দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

ইবনে উমর বলেন: "(উভয় পা) অতি নিকটেও রাখবে না, আবার অতি দূরেও রাখবে না।"
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
وعن عيينة بن عبد الرحمن بن جوشن قال: كنت مع أبي في المسجد - يعني مسجد البصرة - فنظر إلى رجل قائماً يصلي، قد صف بين قدميه، وألزق إحداهما بالأخرى، فقال: إبي لقد أدركت في هذا المسجد ثمانية عشر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ما رأيت أحداً منهم صنع هكذا قط. رواهما الخلال.

والمرواوحة بين القدمين أفضل من الصفن، وهو أن
উয়াইনাহ বিন আব্দুর রহমান বিন জাওশান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার সাথে মসজিদে—অর্থাৎ বসরার মসজিদে—ছিলাম। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে দেখলেন, যে তার উভয় পাকে মিলিয়ে রেখেছে এবং একটিকে অন্যটির সাথে সংলগ্ন করে দিয়েছে। তখন আমার পিতা বললেন: আমি এই মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঠারোজন সাহাবীকে পেয়েছি, তাঁদের কাউকেই আমি কখনো এমনটি করতে দেখিনি। আল-খাল্লাল এই দুটি বর্ণনা করেছেন।

আর উভয় পায়ের ওপর পালাক্রমে ভর দেওয়া 'সাফন' (এক পা বাঁকা করে রাখা) অপেক্ষা উত্তম, আর তা হলো এই যে
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
يعتمد على هذه تارة وعلى هذه تارة، أفضل من أن يعتمد عليهما جميعاً، قال أحمد في رواية صالح وابن منصور، وقد سئل يصفن بين قدميه أو يراوح بينهما؟ قال: يراوح بينهما. وكذلك نقل الجماعة قولاً وفعلاً، وهذا هو الذي ذكره القاضي والآمدي وغيرهما من أصحابنا، لأن هذا أخف على المصلي وأيسر عليه.
কখনো এর ওপর এবং কখনো ওর ওপর ভর দেওয়া, উভয়ের ওপর একত্রে ভর দেওয়ার চেয়ে উত্তম। সালেহ ও ইবনে মানসুরের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বলেছেন—তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, নামাযী কি তার দুই পা সোজা করে রাখবে নাকি উভয়ের মধ্যে ভর পরিবর্তন করবে? তিনি বললেন: উভয়ের মধ্যে ভর পরিবর্তন করবে। একইভাবে একদল আলেম কথা ও কাজের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন; আর এটিই আল-কাজি, আল-আমিদি এবং আমাদের সাথীদের মধ্যে অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। কারণ এটি নামাযীর জন্য অধিকতর হালকা ও সহজসাধ্য।
(খণ্ড: ১) শারহু উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ - সিফাতুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌مسألة: ويرفع يديه عند ابتداء تكبيره إلى حذو منكبيه، أو إلى فروع أذنيه.

وجملة ذلك أن ي‌‌رفع اليدين عند تكبيرة الافتتاح من السنن المتفق عليها، وأما منتهى الرفع: فإن شاء إلى حذو منكبيه، وإن شاء إلى فروع أذنيه، كلاهما جائز غير مكروه من غير خلاف في المذهب. وهل أحدهما أفضل من الآخر؟ على ثلاث رواياتٍ:
মাসআলা: এবং তিনি তাঁর তাকবির শুরুর সময় তাঁর উভয় হাত কাঁধ বরাবর অথবা কানের লতি পর্যন্ত উঠাবেন.

এর সারকথা হলো যে, তাকবিরে ইফতিতাহ-এর সময় হাত উঠানো সর্বসম্মত সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর হাত উঠানোর শেষ সীমা সম্পর্কে কথা হলো: তিনি চাইলে কাঁধ বরাবর উঠাতে পারেন এবং চাইলে কানের লতি পর্যন্ত উঠাতে পারেন; মাজহাবের মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই উভয়টি বৈধ এবং মাকরূহ নয়। তবে এ দুটির একটি কি অপরটির চেয়ে উত্তম? এ ব্যাপারে তিনটি বর্ণনা রয়েছে।