(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: -)
حقيقة المثل الأعلى وآثاره   (عيسى السعدي)

القسم: العقيدة


الكتاب: حقيقة المثل الأعلى وآثاره

المؤلف: عيسى بن عبد الله السعدي الغامدي

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م

عدد الصفحات: 149

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1436

আল-মাসালুল আলা (সর্বোচ্চ উদাহরণ)-এর হাকিকত ও এর প্রভাবসমূহ   (ঈসা আস-সাদি)

বিভাগ: আকীদাহ


কিতাব: আল-মাসালুল আলা-এর হাকিকত ও এর প্রভাবসমূহ

লেখক: ঈসা বিন আব্দুল্লাহ আস-সাদি আল-গামিদি

প্রকাশক: দার ইবনে আল-জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ، সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

আশ-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরা ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: -)
حَقِيقَة الْمثل الْأَعْلَى وآثاره

قَالَ تَعَالَى: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [النَّحْل: 60]

 

تأليف

د. عِيسَى بن عبد الله السَّعْدِيّ

أستاذ العقيدة المشارك - جَامِعَة الطَّائِف

 

دَار ابْن الْجَوْزِيّ
আল-মাসালুল আলা (সর্বোচ্চ উদাহরণ)-এর হাকিকত ও এর প্রভাবসমূহ

মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহর জন্যই সর্বোচ্চ উদাহরণ এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আন-নাহল: ৬০]

 

রচনা

ড. ঈসা বিন আব্দুল্লাহ আস-সাদি

আকিদাহ বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক - তায়েফ বিশ্ববিদ্যালয়

 

দার ইবনুল জাওযি
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌ملخص البحث

هذه الدراسة بعنوان "‌‌حقيقة المثل الأعلى"، ومقصودها شرح معنى المثل الأعلى، وبيان مدلولاته العقديَّة، وذلك من خلال النقاط الآتية:

أ - لفظ (المثل) يستعمل لغة بمعنى النظير، والمثل المضروب، والصفة، والمراد به اصطلاحا: التفرد بالكمال المطلق الذي يستحيل معه وجود المثل، وهو المعنى الذي تدور حوله عبارات السلف في تفسير المثل الأعلى.

ب - التفرد بالمثل الأعلى يقتضي ضرورة إمكان وجود الصفة، ويدل على التفرد بالكمال المطلق وتنزيه الرب عن جميع صفات النقص النسبية والمطلقة، والصفات السلبية المحضة.

ج - تنزيه الرب عن المثل والكفء داخل في حقيقة المثل الأعلى، لأن التفرد بصفات الكمال المطلق يستحيل معها وجود المثل، ولهذا فسره ابن عباس بالتنزيه عن المثل في رواية، وفسره بالصفة العليا في رواية أخرى.

د - تفرد الرب بالمثل الأعلى من أعظم الأدلة على صحة مذهب السلف وبطلان مذهب المعطلة والممثلة، إذ اجتمع في مدلوله التنزيه والإثبات، وهو ما آمن به أهل السنة والجماعة،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গবেষণার সারসংক্ষেপ

এই অধ্যয়নটি "‌‌মাসালে আ'লা (মহান দৃষ্টান্ত)-এর হাকিকত" শিরোনামে রচিত, এবং এর উদ্দেশ্য হলো মাসালে আ'লার অর্থ ব্যাখ্যা করা এবং এর আকিদাগত তাৎপর্যসমূহ নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে বর্ণনা করা:

ক - ‘মাসাল’ শব্দটি আভিধানিকভাবে সদৃশ, উপমা এবং গুণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর পারিভাষিকভাবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: নিরঙ্কুশ পূর্ণতায় অনন্য হওয়া, যার সাথে কোনো সদৃশ থাকা অসম্ভব; এটিই সেই অর্থ যাকে কেন্দ্র করে মাসালে আ'লার ব্যাখ্যায় সালাফদের উক্তিগুলো আবর্তিত হয়েছে।

খ - মাসালে আ'লায় অনন্য হওয়া অপরিহার্যভাবে গুণের অস্তিত্বের আবশ্যকতা দাবি করে এবং এটি নিরঙ্কুশ পূর্ণতায় একক হওয়া এবং রবকে সকল প্রকার আপেক্ষিক ও নিরঙ্কুশ ত্রুটিপূর্ণ গুণাবলী এবং নিছক নেতিবাচক গুণাবলী থেকে পবিত্র রাখার প্রমাণ দেয়।

গ - রবকে সদৃশ ও সমকক্ষ থেকে পবিত্র রাখা মাসালে আ'লার প্রকৃত অর্থের অন্তর্ভুক্ত, কেননা নিরঙ্কুশ পূর্ণতার গুণে অনন্য হওয়ার সাথে সদৃশ থাকা অসম্ভব। একারণেই ইবনে আব্বাস এক বর্ণনায় একে সদৃশ থেকে পবিত্রতা দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন এবং অন্য বর্ণনায় একে উচ্চতর গুণ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন।

ঘ - রবের মাসালে আ'লায় অনন্য হওয়া সালাফদের মাযহাবের সত্যতা এবং মুয়াত্তিলা ও মুামাসসিলাদের মাযহাবের অসারতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল। কারণ এর তাৎপর্যে পবিত্রতা ঘোষণা ও সাব্যস্তকরণ উভয়টি একত্রিত হয়েছে, যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৬)
وضل عنه مخالفوهم. فآمن المعطلة بالتنزيه دون الإثبات، وآمن الممثلة بالإثبات دون التنزيه.
আর তাদের বিরোধীরা তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ফলে মুয়াত্তিলা সম্প্রদায় (আল্লাহর গুণাবলি) সাব্যস্ত করা ব্যতিরেকে কেবল তাঁর পবিত্রতা ঘোষণায় বিশ্বাস এনেছে, আর মুমাসসিলা সম্প্রদায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করা ব্যতিরেকে কেবল গুণাবলি সাব্যস্তকরণে বিশ্বাস এনেছে।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده وبعد:

فقد تمدح الرب تبارك وتعالى بتفرده بالمثل الأعلى في السماوات والأرض، وجعله أساسا لما يجب له من الإثبات والتنزيه، قال تعالى: {لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآَخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى} [النحل: 60]، وقال: {وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ * ضَرَبَ لَكُمْ مَثَلًا مِنْ أَنْفُسِكُمْ هَلْ لَكُمْ مِنْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ شُرَكَاءَ ......} الآيتان [الروم: 27 - 28]، والمثل الأعلى ينتظم جميع معاني الكمال المطلق التي يستحيل معها الاتصاف بالنقص أو وجود المثل، ويستلزم إفراد الرب وحده بجميع العبادات الظاهرة والباطنة، ولهذا فسره علماء السلف بالصفة العليا، أو بانتفاء المثل، وفسروه أيضا بكلمة التوحيد، أو بما يدل عليها من البراهين، أو بما تدل عليه من الإخلاص ومعاني الإيمان!.

وللتفرد بالمثل الأعلى أهمية بالغة في معرفة الرب وعبادته، فهو الأساس في معرفة ما ينفى عن الرب ويجب له من الصفات، وهو البرهان الجامع لصور الأدلة على استحقاق الله وحده للعبادة!.

وقد انحرف بعض المتأثرين بالمناهج الكلامية عن هذه الحقيقة، واستشكلوا ما أثر عن السلف في تفسير المثل الأعلى، وخرَّجوا عباراتهم على ما يوافق مذهب الخلف في التعطيل،
ভূমিকা

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

নিশ্চয়ই রব তাবারাকা ওয়া তা'আলা আসমান ও জমিনে এককভাবে উচ্চতর দৃষ্টান্তের (আল-মাসালুল আলা) অধিকারী হওয়ার মাধ্যমে নিজের প্রশংসা করেছেন এবং একে তিনি তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করা ওয়াজিব এবং যা থেকে তাঁকে পবিত্র রাখা আবশ্যক, তার মূল ভিত্তি বানিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: {যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য রয়েছে মন্দ উদাহরণ; আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ।} [নাহল: ৬০], এবং তিনি বলেন: {আসমান ও জমিনে তাঁরই জন্য সর্বোচ্চ উদাহরণ এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেন: তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যারা শরীক...} আয়াতদ্বয় [রুম: ২৭-২৮]। উচ্চতর দৃষ্টান্ত পূর্ণাঙ্গতার এমন সব অর্থকে শামিল করে, যার উপস্থিতিতে কোনো ত্রুটির গুণাবলি থাকা বা সমকক্ষ থাকা অসম্ভব। আর এটি প্রকাশ্য ও গোপন সকল ইবাদতে কেবল রবকে একক করার দাবি রাখে। এজন্যই সালাফ উলামাগণ এর ব্যাখ্যা করেছেন ‘উচ্চতর গুণ’ হিসেবে, অথবা ‘সদৃশহীনতা’ দিয়ে; আবার কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন তাওহীদের বাণী দ্বারা, অথবা এর স্বপক্ষে প্রমাণাদি দ্বারা, অথবা এটি যে ইখলাস ও ঈমানের অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে তা দিয়ে!

রবকে চেনা এবং তাঁর ইবাদতের ক্ষেত্রে উচ্চতর দৃষ্টান্তে একক হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। কারণ এটি রবের শান থেকে কী কী নাকচ করতে হবে এবং তাঁর জন্য কী কী গুণাবলি সাব্যস্ত করা ওয়াজিব, তা জানার মূল ভিত্তি। আর এটি আল্লাহ তা'আলার একক ইবাদত পাওয়ার যোগ্যতার যাবতীয় দলিলের রূপরেখাকে একত্রিতকারী এক অকাট্য প্রমাণ!

কালামশাস্ত্রীয় মানহাজ দ্বারা প্রভাবিত কিছু লোক এই সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তারা উচ্চতর দৃষ্টান্তের ব্যাখ্যায় সালাফদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করেছে। তারা সালাফদের বক্তব্যগুলোকে পরবর্তী যুগের লোকদের (খালাফদের) ‘তাতীল’ বা গুণাবলি অস্বীকার করার মতাদর্শের অনুকূলে অপব্যাখ্যা করেছে।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৮)
واعتبار وحدانية الأفعال مناط النجاة! وتبعا لذلك فقد أعرضوا عن مناط التنزيه الذي جاءت به النصوص، وجعلوا القاعدة في ذلك دليل الأجسام فكانت العاقبة تناقض التطبيق، ومخالفة العقل والنقل جزاء فساد التأصيل ومخالفة الوحي. ومن هنا تبرز أهمية تحرير معنى المثل الأعلى وفق المأثور عن علماء السلف ووفق قواعدهم المعروفة، ومن ثم بيان مدلولاته وآثاره في الإثبات والتنزيه وفق المنهج السلفي المحكم في أصله وفرعه، لأنه مستمد من القرآن المنزه عن الاختلاف، كما قال الله تعالى: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [النساء: 82].

وهذه الدراسة عبارة عن خطوة في سبيل تحقيق هذه الغاية، أردت منها بيان مضامين عبارات السلف في معنى المثل الأعلى، وبخاصة في جانب التنزيه، لكثرة تلبيس المتكلمين في هذا الجانب حتى راجت أباطيلهم على كثير من المسلمين تحت شعار التنزيه عن النقص والمثل!.

وقد راعيت فيها قواعد البحث العلمي المتعارف عليها في مجال الدراسات الإسلامية، فوثقت القضايا العلمية من مصادرها الأصلية، وأوضحت ما تدعو حاجة البحث إلى إيضاحه، وعرضت قضاياه بأسلوب واضح ومحدد قدر المستطاع إلى غير ذلك مما هو معروف لدى الباحثين.

وقد جاءت الدراسة في مبحثين وخاتمة:

* المبحث الأول: في معنى المثل الأعلى، ويشتمل على أمرين:

أحدهما: في بيان معنى المثل لغة واستعمالاته.
এবং কার্যাবলীর একত্বকে মুক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা! এরই ধারাবাহিকতায় তারা নস বা দলীলসমূহে বর্ণিত পবিত্রকরণের (তানযিহ) ভিত্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এক্ষেত্রে দেহের প্রমাণকে (দালিলুল আজসাম) মূলনীতি সাব্যস্ত করেছে। ফলে এর চূড়ান্ত পরিণতি দাঁড়িয়েছে প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্ববিরোধিতা এবং মূলনীতি নির্ধারণের বিভ্রান্তি ও ওহীর বিরোধিতার দণ্ডস্বরূপ বিবেক ও দলীলের বৈপরীত্য। এখান থেকেই সালাফ আলেমদের থেকে বর্ণিত বর্ণনা এবং তাদের সুপরিচিত মূলনীতি অনুযায়ী 'আল-মাসালুল আলা' (সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত)-এর অর্থ বিশ্লেষণের গুরুত্ব পরিস্ফুট হয়। অতঃপর এর মূল ও শাখা উভয় ক্ষেত্রে সুসংহত সালাফি মানহাজ অনুযায়ী গুণাবলি সাব্যস্তকরণ (ইসবাত) ও পবিত্রকরণের (তানযিহ) ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য ও প্রভাবসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ এটি কুরআন থেকে আহরিত যা বৈপরীত্য থেকে মুক্ত, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অবশ্যই অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত} [আন-নিসা: ৮২]।

এই গবেষণাটি উক্ত উদ্দেশ্য সাধনের পথে একটি পদক্ষেপ মাত্র, যার মাধ্যমে আমি 'আল-মাসালুল আলা'-এর অর্থে সালাফগণের বক্তব্যের নিহিতার্থ বর্ণনা করতে চেয়েছি, বিশেষ করে পবিত্রকরণের দিক থেকে। কারণ এই ক্ষেত্রে কালামশাস্ত্রবিদদের বিভ্রান্তি সৃষ্টির আধিক্যের ফলে ত্রুটি ও সদৃশ হওয়া থেকে পবিত্রকরণের শ্লোগান দিয়ে তাদের বাতিল মতবাদগুলো অনেক মুসলিমের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে!।

এতে আমি ইসলামি গবেষণার ক্ষেত্রে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়মাবলী অনুসরণ করেছি। ফলে আমি ইলমি বিষয়গুলোকে তাদের মূল উৎস থেকে প্রামাণ্য করেছি, গবেষণার প্রয়োজনে যা স্পষ্ট করা জরুরি ছিল তা ব্যাখ্যা করেছি এবং বিষয়বস্তুগুলো যথাসম্ভব স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পেশ করেছি, যা গবেষকদের নিকট সুপরিচিত।

গবেষণাটি দুটি পরিচ্ছেদ ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত হয়েছে:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: 'আল-মাসালুল আলা'-এর অর্থ প্রসঙ্গে, যা দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথমটি: আভিধানিক অর্থে 'মাসাল'-এর অর্থ ও এর ব্যবহার বিধি বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৯)
والثاني: في ذكر أقوال علماء السلف في بيان المراد بالمثل الأعلى، وكيفية الجمع بينها، والرد على من حاول الخروج بعباراتهم عن أصول عقيدتهم.

* المبحث الثاني: في بيان مدلولات المثل الأعلى، ويشتمل على الأمور التالية:

الأول: في دوران الكمال مع الإمكان.

الثاني: في دلالة المثل الأعلى على الكمال المطلق.

الثالث: في دلالته على التنزيه عن النقص النسبي.

الرابع: في دلالته على التنزيه عن السلب المحض.

الخامس: في دلالته على التنزيه عن النقائص المطلقة.

السادس: في دلالته على التنزيه عن المثل.

* أما الخاتمة فإجمال لأهم نتائج الدراسة.
দ্বিতীয়ত: 'আল-মাসালুল আ’লা' (সর্বোচ্চ গুণাবলি) এর মর্মার্থ বর্ণনায় সালাফী আলেমগণের অভিমত উল্লেখ, সেগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন এবং যারা তাঁদের বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে তাঁদের আকিদার মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের প্রতিবাদ প্রসঙ্গে।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'আল-মাসালুল আ’লা'-এর তাৎপর্যসমূহ বর্ণনা, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথমত: সম্ভাব্যতার সাথে পূর্ণতার আবর্তন প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয়ত: নিরঙ্কুশ পূর্ণতার ওপর 'আল-মাসালুল আ’লা'-এর নির্দেশনার বিষয়ে।

তৃতীয়ত: আপেক্ষিক ত্রুটি থেকে পবিত্রতা ঘোষণার ওপর এর নির্দেশনার বিষয়ে।

চতুর্থত: নিছক অস্বীকৃতি বা নেতিবাচকতা থেকে পবিত্রতা ঘোষণার ওপর এর নির্দেশনার বিষয়ে।

পঞ্চমত: নিরঙ্কুশ ত্রুটিসমূহ থেকে পবিত্রতা ঘোষণার ওপর এর নির্দেশনার বিষয়ে।

ষষ্ঠত: সদৃশ বা সমতুল্য থাকা থেকে পবিত্রতা ঘোষণার ওপর এর নির্দেশনার বিষয়ে।

* উপসংহার: গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الأول

معنى المثل الأعلى

‌‌معنى المثل لغة:

المَثَل، والِمثْل، يستعمل حقيقة في ثلاثة معان:

الأول: الشبيه والنظير، يقال: هذا مثل هذا، أي نظيره، قال تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ لَوْلَا يُكَلِّمُنَا اللَّهُ أَوْ تَاتِينَا آَيَةٌ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ} [البقرة: 118]. أي أن قول مشركي العرب نظير وشبيه قول من قبلهم من اليهود والنصارى في العتو والمكابرة (1).

الثاني: المثل المضروب، وهو القول السائر الممثل مضربه بمورده غالبا، أي أن ما ضرب فيه ثانيا جعل مثلا لما ورد فيه أولا (2).

الثالث: الصفة، كقوله تعالى: {مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ} [الرعد: 35]، أي صفة الجنة التي وعد المتقون، وقوله: {ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ} [الفتح: 29]، أي صفتهم في التوراة والإنجيل (3).

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير 1/ 161، 162.

(2) انظر: الكشاف للزمخشري بحاشيته 1/ 195، روح المعاني للآلوسي 1/ 163.

(3) انظر: تفسير القرطبي 9/ 324، 16/ 236.

وانظر في معاني المثل لغة: معجم مقاييس اللغة لابن فارس 5/ 296، 297، مختار الصحاح للرازي ص614، القاموس المحيط للفيروز آبادي 4/ 94، 50.
প্রথম পরিচ্ছেদ

আল-মাসালুল আ'লা (সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত)-এর অর্থ

আভিধানিক অর্থে ‘মাসাল’-এর অর্থ:

‘মাসাল’ (المَثَل) এবং ‘মিসল’ (الِمثْل) শব্দ দুটি মূলত তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমত: সদৃশ এবং সমতুল্য। বলা হয়ে থাকে: ‘এটি সেটির মতো’, অর্থাৎ তার সমতুল্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা জানে না তারা বলে, আল্লাহ কেন আমাদের সাথে কথা বলেন না কিংবা আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে না? তাদের পূর্ববর্তীরাও ঠিক তাদের মতো কথা বলেছিল} [আল-বাকারাহ: ১১৮]। অর্থাৎ আরব মুশরিকদের কথা তাদের পূর্ববর্তী ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অবাধ্যতা এবং হঠকারিতার কথার অনুরূপ ও সদৃশ (১)।

দ্বিতীয়ত: প্রবাদ বা দৃষ্টান্ত, যা সাধারণত এমন এক প্রচলিত কথা যার প্রয়োগের ক্ষেত্রটি তার মূল উৎসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। অর্থাৎ যা দ্বিতীয়বার দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করা হয়, তাকে প্রথমবার যা ঘটেছিল তার অনুরূপ সাব্যস্ত করা হয় (২)।

তৃতীয়ত: গুণ বা বৈশিষ্ট্য। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার উদাহরণ (গুণাবলি) হচ্ছে...} [আর-রাদ: ৩৫]। অর্থাৎ মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার বৈশিষ্ট্য। এবং তাঁর বাণী: {তাওরাতে এটিই তাদের উদাহরণ এবং ইনজিলে এটিই তাদের উদাহরণ} [আল-ফাতহ: ২৯]। অর্থাৎ তাওরাত ও ইনজিলে বর্ণিত তাদের গুণাবলী (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর ১/১৬১, ১৬২।

(২) দেখুন: আয-যামাখশারী প্রণীত আল-কাশশাফ ও তার টীকা ১/১৯৫, আল-আলূসী প্রণীত রূহুল মাআনী ১/১৬৩।

(৩) দেখুন: তাফসীর আল-কুরতুবী ৯/৩২৪, ১৬/২৩৬।

আভিধানিক অর্থে ‘মাসাল’-এর আরো অর্থের জন্য দেখুন: ইবনে ফারিস প্রণীত মু’জামু মাকায়িসিল লুগাহ ৫/২৯৬, ২৯৭; আর-রাযী প্রণীত মুখতারুস সিহাহ পৃষ্ঠা ৬১৪; আল-ফায়রূযাবাদী প্রণীত আল-কামুসুল মুহীত ৪/৯৪, ৫০।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১২)
وقد رأى الزمخشري ومن وافقه أن لفظ المثل استعمل في هذه المعاني تدريجيا، ووفق مراحل زمنية محددة، فكان أولا بمعنى الشبيه، ثم أطلق على المثل المضروب، ثم استعير لكل صفة فيها غرابة المثل من غير اعتبار تشبيه، ولهذا اعتبروا المعنى الأول أصل اللفظ لغة، والثاني معناه في عرف اللغة، والثالث معناه في مجاز اللغة (1).

وهذا الرأي مبني على وجود مواضعة متقدمة على استعمال اللفظ، وهو أمر يعسر إثباته، ويستلزم أن تكون اللغات اصطلاحية، والحق أنها إلهامية، بمعنى أن الله تعالى ألهم الإنسان أن يعبر عما يتصوره ويريده من غير مواضعة متقدمة (2).

 

‌‌المراد بالمثل الأعلى:

اختلف العلماء في تفسير المثل الأعلى على أربعة أقوال:

الأول: أن المثل الأعلى بمعنى الصفة العليا، وهو قول ابن عباس رضي الله عنهما، وكثير من أئمة التفسير (3). والمراد بالصفة الجنس فتعم جميع صفات الكمال (4). والتفرد بصفات الكمال يستلزم بطلان التمثيل، ولهذا قال ابن القيم: "المثل الأعلى .... هو الكمال

--------------------------------------------

(1) انظر: الكشاف 1/ 195، تفسير أبي السعود 1/ 160، روح المعاني للآلوسي 1/ 163، 7/ 13/162، 163.

(2) انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 7/ 90 - 97.

(3) انظر: تفسير البغوي 3/ 73، 481، تفسير القرطبي 9/ 324، 10/ 119، 14/ 22، زاد المسير لابن الجوزي 4/ 459، 6/ 298.

(4) انظر: تفسير ابن كثير 2/ 573، تفسير السعدي 4/ 213.
যামাখশারী এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারীগণ মনে করেন যে, ‘মাসাল’ (উদাহরণ/সদৃশ) শব্দটি এই অর্থগুলোতে পর্যায়ক্রমে এবং নির্দিষ্ট সময়ের ধাপ অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়েছে। এটি প্রথমে ‘সদৃশ’ অর্থে ছিল, তারপর একে ‘প্রবাদ-প্রবচন’ অর্থে প্রয়োগ করা হয়, এরপর সাদৃশ্যের বিষয়টি বিবেচনা না করেই ‘মাসাল’-এর ন্যায় চমৎকারিত্ব বিদ্যমান এমন প্রতিটি গুণের জন্য রূপক হিসেবে একে ব্যবহার করা হতে থাকে। এজন্য তাঁরা প্রথম অর্থটিকে শব্দের আভিধানিক মূল, দ্বিতীয়টিকে ভাষাগত প্রথাগত অর্থ এবং তৃতীয়টিকে রূপক অর্থ হিসেবে গণ্য করেছেন (১)।

এই মতটি শব্দ ব্যবহারের পূর্বে একটি পূর্বনির্ধারিত পারিভাষিক চুক্তির অস্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। এটি ভাষাসমূহকে কৃত্রিম বা পারিভাষিক হওয়ার দাবি রাখে, অথচ সত্য হলো এগুলো ঐশ্বরিক বা ইলহামভিত্তিক; অর্থাৎ মহান আল্লাহ মানুষকে তাঁর কল্পনা ও ইচ্ছাকে কোনো পূর্ব-চুক্তি ছাড়াই ব্যক্ত করার ইলহাম (অনুপ্রেরণা) দান করেছেন (২)।

 

‌‌‘আল-মাসালুল আ’লা’ (সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত) দ্বারা উদ্দেশ্য:

‘আল-মাসালুল আ’লা’-এর ব্যাখ্যায় উলামায়ে কেরাম চারটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথমত: ‘আল-মাসালুল আ’লা’ বলতে ‘সর্বোচ্চ গুণ’ বোঝানো হয়েছে। এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং তাফসীরের অনেক ইমামের মত (৩)। এখানে গুণ বলতে শ্রেণিগত গুণ উদ্দেশ্য, যা সমস্ত পূর্ণতা জ্ঞাপক গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে (৪)। আর পূর্ণতা জ্ঞাপক গুণাবলীতে একক হওয়া কোনো কিছুর সাথে সদৃশ করার বিষয়টিকে অসার প্রতিপন্ন করে। এজন্যই ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: "আল-মাসালুল আ’লা... হলো পূর্ণতা

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাশশাফ ১/১৯৫, তাফসীরে আবুস সাউদ ১/১৬০, রুহুল মাআনি (আলুসী) ১/১৬৩, ৭/ ১৩/১৬২, ১৬৩।

(২) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (ইবনে তাইমিয়্যাহ) ৭/ ৯০ - ৯৭।

(৩) দেখুন: তাফসীরে বাগভী ৩/ ৭৩, ৪৮১, তাফসীরে কুরতুবী ৯/ ৩২৪, ১০/ ১১৯, ১৪/ ২২, যাদুল মাসীর (ইবনুল জাওযী) ৪/ ৪৫৯, ৬/ ২৯৮।

(৪) দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/ ৫৭৩, তাফসীরে সাদী ৪/ ২১৩।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلق، المتضمن للأمور الوجودية، والمعاني الثبوتية، التي كلما كانت أكثر في الموصوف وأكمل كان أعلى من غيره، ولما كان الرب تعالى هو الأعلى، ووجهه الأعلى، وكلامه الأعلى، وسمعه الأعلى، وبصره وسائر صفاته عليا كان له المثل الأعلى، وكان أحق به من كل ما سواه، بل يستحيل أن يشترك في المثل الأعلى اثنان، لأنهما إن تكافآ لم يكن أحدهما أعلى من الآخر، وإن لم يتكافآ فالموصوف بالمثل الأعلى أحدهما وحده، يستحيل أن يكون لمن له المثل الأعلى مثل أو نظير، وهذا برهان قاطع من إثبات صفات الكمال على استحالة التمثيل والتشبيه" (1).

الثاني: أن المثل الأعلى بمعنى: شهادة أن لا إله إلا الله، أو التوحيد، أو الإخلاص والتوحيد أو ما يكون في قلوب أولياء الله من معاني الإيمان، أو ما ضربه الله للتوحيد والشرك من الأمثال، وتؤثر هذه الأقوال ونحوها عن ابن عباس رضي الله عنهما وقتادة ومجاهد ومحمد بن المنكدر وغيرهم (2)، ويجمعها تفسير المثل الأعلى بكلمة التوحيد، أو بما دلت عليه من معاني الإيمان، أو بما يدل على التوحيد من الأمثال، ومؤداها شيء واحد، لأن مقصود المثل الدعوة للتوحيد، والتوحيد على قواعد أهل السنة والجماعة قول وعمل، لا يقبل أحدهما دون الآخر.

--------------------------------------------

(1) الصواعق المرسلة 3/ 1032، وانظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 6/ 139، الرسالة التدمرية لابن تيمية أيضا ص124.

(2) انظر: تفسير الطبري 8/ 14/125، 11/ 21/38، معاني القرآن للنحاس 4/ 77، تفسير البغوي 3/ 73، 481، تفسير القرطبي 10/ 119، 14/ 22، الصواعق المرسلة لابن القيم 3/ 1033، 1034، تفسير ابن كثير 3/ 431، الدر المنثور للسيوطي 4/ 121.
পরম বা নিরঙ্কুশ বিষয়, যা অস্তিত্বগত বিষয়সমূহ এবং সাব্যস্তকারী অর্থসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। গুণান্বিত সত্তার মধ্যে এই বিষয়গুলো যত বেশি ও পূর্ণ হবে, তিনি অন্যের তুলনায় তত বেশি উচ্চ হবেন। যেহেতু মহান প্রতিপালক হলেন সর্বোচ্চ, তাঁর চেহারা সর্বোচ্চ, তাঁর কালাম (কথা) সর্বোচ্চ, তাঁর শ্রবণ সর্বোচ্চ, তাঁর দৃষ্টি ও অন্যান্য সকল গুণাবলি সর্বোচ্চ, তাই তাঁর জন্যই হলো 'আল-মাসালুল আলা' (সর্বোচ্চ গুণ বা উদাহরণ)। সবকিছুর তুলনায় তিনিই এর সবচেয়ে বেশি হকদার। বরং 'আল-মাসালুল আলা'-তে দুজনের অংশীদার হওয়া অসম্ভব। কারণ তারা যদি সমান হয়, তবে তাদের কেউ অন্যজনের চেয়ে উচ্চ হবে না। আর যদি সমান না হয়, তবে কেবল একজনই 'আল-মাসালুল আলা' গুণের অধিকারী হবেন। যাঁর জন্য 'আল-মাসালুল আলা' নির্দিষ্ট, তাঁর কোনো সদৃশ বা সমকক্ষ থাকা অসম্ভব। আর এটিই হলো পূর্ণতার গুণাবলি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে সৃষ্টিকুলের সাথে তুলনা ও সাদৃশ্য স্থাপনের অসম্ভবতার ওপর এক অকাট্য প্রমাণ (১)।

দ্বিতীয়ত: 'আল-মাসালুল আলা' অর্থ হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, অথবা তাওহীদ, অথবা ইখলাস ও তাওহীদ, অথবা আল্লাহর ওলীগণের অন্তরে ঈমানের যে মর্মসমূহ নিহিত রয়েছে তা, অথবা তাওহীদ ও শিরকের বিষয়ে আল্লাহ যেসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। এই বক্তব্যগুলো এবং এ জাতীয় কথা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), কাতাদাহ, মুজাহিদ, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে (২)। এই সবগুলোকে এভাবে একত্রিত করা যায় যে, 'আল-মাসালুল আলা' এর ব্যাখ্যা হলো তাওহীদের বাণী, অথবা এটি ঈমানের যেসব অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে তা, অথবা তাওহীদের ঐ সকল উদাহরণ যা এর সপক্ষে পেশ করা হয়। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য একই, কারণ উদাহরণের মূল লক্ষ্য হলো তাওহীদের দিকে আহ্বান জানানো। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতি অনুযায়ী তাওহীদ হলো কথা ও কাজের সমষ্টি, যার একটি ছাড়া অন্যটি গৃহীত হয় না।

--------------------------------------------

(১) আস-সাওয়াইকুল মুরসালা ৩/১০৩২; এবং দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/১৩৯, ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১২৪।

(২) দেখুন: তাফসীরে তাবারী ৮/১৪/১২৫, ১১/২১/৩৮; নাহহাসের মাআনিল কুরআন ৪/৭৭; তাফসীরে বাগভী ৩/৭৩, ৪৮১; তাফসীরে কুরতুবী ১০/১১৯, ১৪/২২; ইবনুল কায়্যিমের আস-সাওয়াইকুল মুরসালা ৩/১০৩৩, ১০৩৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৩১; সুয়ূতীর আদ-দুররুল মানসুর ৪/১২১।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد رأى القرطبي ومن وافقه أن المراد من تفسير المثل الأعلى بالشهادة الوصف بالوحدانية، أي وحدانية الذات والصفات (1). وهذا غير مسلم، لأن الشهادة إنما تدل مطابقة على إفراد الرب بالعبادة، لأن الإله بمعنى المعبود، كما نص على ذلك علماء السلف وعلماء اللغة (2). والظاهر أن تفسير المثل الأعلى بكلمة التوحيد، أو بمعناها وما يدل عليها من باب تفسير اللفظ بمقتضاه، لأن التفرد بالكمال المطلق يستلزم إفراد الموصوف به بجميع أنواع العبادة، وعلى ذلك يكون مرادهم أنه المعبود في السماوات والأرض، لما تفرد به من الكمال المطلق الذي يستحيل معه المثل، والله أعلم.

الثالث: أن المثل الأعلى بمعنى النزاهة عن المثل إما مطلقا، كما يؤثر عن ابن عباس (3)، أو مقيدا بصفة الولد، كما ذهب إليه ابن الجوزي ومن وافقه (4)، اعتمادا على سباق المثل الأعلى في قوله تعالى: {وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ الْبَنَاتِ سُبْحَانَهُ وَلَهُمْ مَا يَشْتَهُونَ * وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ * يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ * لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآَخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [النحل: 57 - 60].

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرطبي 14/ 22، تفسير أبي السعود 4/ 277، روح المعاني للآلوسي 11/ 21/37.

(2) انظر: تفسير الطبري 1/ 54، معجم مقاييس اللغة لابن فارس 1/ 127، الرسالة التدمرية لابن تيمية ص185، 186.

(3) انظر: تفسير الطبري 11/ 21/38، الدر المنثور للسيوطي 4/ 121.

(4) انظر: زاد المسير لابن الجوزي 4/ 459، الصواعق المرسلة لابن القيم 3/ 1033.
ইমাম কুরতুবী এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারীগণ মনে করেন যে, 'আল-মাসালুল আলা' (সর্বোচ্চ উদাহরণ)-কে 'শাহাদাহ' (সাক্ষ্য) দ্বারা ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্য হলো একত্ববাদের বর্ণনা করা, অর্থাৎ সত্তা ও গুণাবলীতে মহান আল্লাহর একত্ববাদ (১)। কিন্তু এই বিষয়টি সর্বজনগৃহীত নয়, কারণ 'শাহাদাহ' (সাক্ষ্য) রব্বকে ইবাদতে একক করার ওপর সরাসরি প্রমাণ পেশ করে। কেননা 'ইলাহ' শব্দের অর্থ হলো 'মাবুদ' (উপাস্য), যেমনটি সালাফগণ এবং ভাষাবিদগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (২)। আর বাহ্যিক দিক দিয়ে 'আল-মাসালুল আলা'-কে তাওহীদের কালিমা কিংবা তার অর্থ ও এর প্রমাণাদির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা মূলত শব্দের দাবি অনুযায়ী ব্যাখ্যা করার অন্তর্ভুক্ত। কারণ নিরঙ্কুশ পূর্ণতায় একক হওয়া সেই গুণসম্পন্ন সত্তাকে সকল প্রকার ইবাদতে একক করার দাবি রাখে। আর সেই অনুযায়ী তাঁদের উদ্দেশ্য হলো—তিনিই আসমানসমূহ ও জমিনের মাবুদ; কারণ তিনি এমন নিরঙ্কুশ পূর্ণতায় একক যার কোনো সমকক্ষ থাকা অসম্ভব। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তৃতীয়: 'আল-মাসালুল আলা' অর্থ হলো সদৃশ বা উপমা থেকে পবিত্র হওয়া। এটি হয় নিরঙ্কুশভাবে, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে (৩), অথবা এটি সন্তান গ্রহণের গুণের সাথে সীমাবদ্ধ, যেমনটি ইবনুল জাওযী এবং তাঁর অনুসারীগণ মনে করেন (৪)। তাঁরা মহান আল্লাহর বাণীতে 'আল-মাসালুল আলা' শব্দের পূর্বাপর প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলেছেন: {তারা আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান সাব্যস্ত করে—তিনি অত্যন্ত পবিত্র—অথচ তারা নিজেরা যা চায় তা-ই গ্রহণ করে। যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ভোগে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় থেকে লুকিয়ে থাকে; সে কি হীনতা মেনে নিয়ে তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা অত্যন্ত মন্দ। যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের জন্য রয়েছে মন্দ উদাহরণ, আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ; আর তিনি মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আন-নাহল: ৫৭ - ৬০]।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে কুরতুবী ১৪/ ২২, তাফসীরে আবিস সাউদ ৪/ ২৭৭, আলুসির রূহুল মাআনী ১১/ ২১/৩৭।

(২) দেখুন: তাফসীরে তাবারী ১/ ৫৪, ইবনে ফারিসের মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ ১/ ১২৭, ইবনে তাইমীয়াহর আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৮৫, ১৮৬।

(৩) দেখুন: তাফসীরে তাবারী ১১/ ২১/৩৮, সুয়ূতির আদ-দুররুল মানসুর ৪/ ১২১।

(৪) দেখুন: ইবনুল জাওযীর যাদুল মাসীর ৪/ ৪৫৯, ইবনুল কায়্যিমের আস-সাওয়ায়েকুল মুরসালাহ ৩/ ১০৩৩।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
ونفي المثل محقق لإثبات الكمال المطلق، كما أن إثبات الكمال المطلق محقق لنفي المثل، ولذلك أثر عن ابن عباس رضي الله عنهما تفسير المثل الأعلى بالصفة العليا، كما تقدم في القول الأول وأثر عنه أيضا تفسيره بانتفاء المثل كما في هذا القول، وذلك لأن نفي المثل وما في معناه، كالكفء والند، إذا ورد في سياق المدح والثناء دل على التفرد بصفات الكمال المطلق. يقول الإمام الدرامي رحمه الله: "قولنا: ليس كمثله شيء، أنه أعظم الأشياء، وخالق الأشياء، وأحسن الأشياء، نور السماوات والأرض. وقول الجهمية: ليس كمثله شيء يعنون: أنه لا شيء" (1). وفي هذه القاعدة رد على من فسر المثل الأعلى بالنزاهة عن صفات المخلوقين من المعتزلة والأشاعرة ومن وافقهم (2)، لأن مرادهم نفي الصفات كليا أو جزئيا، لأن إثباتها في نظرهم يستلزم التمثيل الممنوع (3).

الرابع: أن المثل الأعلى بمعنى الصفة العليا وما تستلزمه من معاني الإيمان قولا وعملا. يقول ابن القيم رحمه الله: "المثل الأعلى يتضمن الصفة العليا، وعلم العالمين بها، ووجودها العلمي، والخبر عنها وذكرها، وعبادة الرب سبحانه بواسطة العلم والمعرفة القائمة بقلوب عابديه وذاكريه" (4).

--------------------------------------------

(1) النقض على المريسي (ضمن عقائد السلف) ص564، وانظر: الصواعق المرسلة 3/ 1019 - 1033.

(2) انظر: الكشاف للزمخشري 2/ 415، تفسير النسفي 2/ 290، تفسير أبي السعود 3/ 273، روح المعاني للآلوسي 7/ 14/170.

(3) انظر: شرح المقاصد للتفتازاني 4/ 43 - 47.

(4) الصواعق المرسلة 3/ 1034، وانظر: شرح الطحاوية لابن أبي العز الحنفي ص86، تفسير السعدي 6/ 122، 123.
সাদৃশ্য বা সমতুল্যতা অস্বীকার করা নিরঙ্কুশ পূর্ণতা প্রমাণেরই নামান্তর, ঠিক যেমন নিরঙ্কুশ পূর্ণতা প্রমাণ করা সাদৃশ্য অস্বীকার করাকে অনিবার্য করে। এই কারণেই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে 'আল-মাসালুল আ'লা' এর ব্যাখ্যায় 'সর্বোচ্চ গুণ' বর্ণিত হয়েছে, যা প্রথম মতে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার তাঁর থেকে এর ব্যাখ্যায় সাদৃশ্যের অনুপস্থিতিও বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি এই মতে বলা হয়েছে। এর কারণ হলো, সাদৃশ্য কিংবা সমতুল্য বা সমকক্ষ হওয়ার বিষয়টি যখন প্রশংসা ও গুণকীর্তনের প্রেক্ষাপটে অস্বীকার করা হয়, তখন তা আল্লাহর নিরঙ্কুশ পূর্ণতার গুণে একক হওয়ার প্রমাণ বহন করে। ইমাম দারেমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমাদের বক্তব্য: 'তাঁর সদৃশ কিছুই নেই'—এর অর্থ হলো তিনি সবকিছুর চেয়ে মহান, সবকিছুর স্রষ্টা, সর্বোত্তম সত্তা এবং আসমান ও জমিনের নূর। আর জাহমিয়াদের বক্তব্য: 'তাঁর সদৃশ কিছুই নেই' দ্বারা তারা উদ্দেশ্য নেয় যে, তিনি বলতে কিছুই নেই" (১)। এই নীতিতে মুতাজিলা, আশআরি এবং তাদের অনুসারীদের সেই মতের খণ্ডন রয়েছে যারা 'আল-মাসালুল আ'লা' এর ব্যাখ্যা কেবল সৃষ্টির গুণাবলি থেকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে করেছেন (২)। কারণ তাদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর গুণাবলিকে পূর্ণরূপে বা আংশিকভাবে অস্বীকার করা; কেননা তাদের দৃষ্টিতে গুণাবলি সাব্যস্ত করা নিষিদ্ধ সাদৃশ্য প্রদানকে আবশ্যক করে তোলে (৩)।

চতুর্থত: 'আল-মাসালুল আ'লা' অর্থ হলো সর্বোচ্চ গুণ এবং কথা ও কাজের ক্ষেত্রে ঈমানের যেসব অর্থকে এটি অনিবার্য করে। ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "'আল-মাসালুল আ'লা' সর্বোচ্চ গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে; সাথে সাথে সেই গুণ সম্পর্কে জ্ঞানীদের জ্ঞান, এর তাত্ত্বিক অস্তিত্ব, এর সংবাদ প্রদান ও চর্চা এবং ইবাদতকারী ও যিকরকারীদের অন্তরে বিদ্যমান সেই জ্ঞান ও পরিচিতির মাধ্যমে রব সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইবাদতকেও অন্তর্ভুক্ত করে" (৪)।

--------------------------------------------

(১) আন-নাকদু আলাল মারীসী (আকাইদুস সালাফ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত) পৃষ্ঠা ৫৬৪, এবং দেখুন: আস-সাওয়ায়েকুল মুরসালাহ ৩/১০১৯ - ১০৩৩।

(২) দেখুন: যামাখশারীর আল-কাশশাফ ২/৪১৫, নাসাফীর তাফসীর ২/২৯০, আবুস সাউদের তাফসীর ৩/২৭৩, আলুসির রুহুল মাআনি ৭/১৪/১৭০।

(৩) দেখুন: তাফতাযানির শারহুল মাকাসিদ ৪/৪৩ - ৪৭।

(৪) আস-সাওয়ায়েকুল মুরসালাহ ৩/১০৩৪, এবং দেখুন: ইবন আবিল ইয আল-হানাফীর শারহুত তাহাবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৮৬, সা’দীর তাফসীর ৬/১২২, ১২৩।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهذا القول يعم جميع الأقوال المتقدمة في تفسير المثل الأعلى، ولا محذور في ذلك، لأن اختلاف عبارات السلف في هذا المقام اختلاف تنوع، فمن نظر منهم لحقيقة المثل الأعلى فسره بالصفة العليا التي يستحيل معها وجود المثل، أو بانتفاء المثل المستلزم للتفرد بصفات الكمال المطلق، ومن نظر لأثر المثل الأعلى ومقتضاه فسره بالتوحيد، وما يكون في قلوب المؤمنين من حقائق الإيمان ومعاني التوحيد.
এই বক্তব্যটি 'আল-মাসালুল আ'লা'-এর ব্যাখ্যায় ইতিপূর্বে বর্ণিত সকল বক্তব্যকে শামিল করে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই; কারণ এই ক্ষেত্রে সালাফদের বক্তব্যের ভিন্নতা হলো বৈচিত্র্যগত ভিন্নতা। ফলে তাদের মধ্যে যারা 'আল-মাসালুল আ'লা'-এর প্রকৃত স্বরূপের দিকে লক্ষ্য করেছেন, তারা একে এমন সুউচ্চ গুণ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন যার উপস্থিতিতে কোনো সদৃশ থাকা অসম্ভব, অথবা সদৃশহীনতা দ্বারা যা নিরঙ্কুশ পূর্ণতার গুণাবলীতে একক হওয়ার অপরিহার্য দাবি রাখে। আর যারা 'আল-মাসালুল আ'লা'-এর প্রভাব ও এর অনিবার্য পরিণতির দিকে লক্ষ্য করেছেন, তারা একে তাওহীদ এবং মুমিনদের অন্তরে ঈমানের যে হাকীকত ও তাওহীদের যে অর্থসমূহ বিদ্যমান থাকে তার দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الثاني

مدلولات المثل الأعلى

‌‌توطئة

ثبوت المثل الأعلى لله وحده يقتضي بالضرورة إمكان وجود الصفة، ويدل على ثبوت الكمال المطلق، والتنزيه عن ثلاثة أنواع من الصفات:

الأول: صفات النقص النسبي، كالصاحبة والولد، وذلك لدلالتها على ما يضاد الكمال، من الحدوث والعدم والافتقار، وعلى وجود النظير المساوي في الكمال.

الثاني: الصفات السلبية المحضة، لأنها لا تدل على كمال ولا تستلزمه، إذ الكمال منوط بالمعاني الوجودية.

الثالث: صفات النقص المطلق، لأن ثبوت الكمال يستلزم انتفاء ضده وكل ما يستلزم ضده.

وكذلك فإن ثبوت المثل الأعلى يدل على انتفاء المثل والكفء والند، لأن التفرد بمعاني الكمال المطلق يستحيل معه وجود المثل، كما أن نفي المثل ونظائره إذا ورد في سياق المدح اقتضى التفرد بكثرة أوصاف الكمال.

 

‌‌أولا: إمكان وجود الصفة:

ثبوت الصفة العليا يقتضي ضرورة إمكان وجودها، لأن
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সর্বোচ্চ উপমার তাৎপর্যসমূহ

ভূমিকা

একমাত্র আল্লাহর জন্য সর্বোচ্চ উপমা সাব্যস্ত হওয়া অপরিহার্যভাবে গুণের অস্তিত্বের আবশ্যকতা প্রকাশ করে এবং এটি পরম পূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়া ও তিন প্রকারের গুণ থেকে পবিত্র হওয়ার প্রমাণ বহন করে:

প্রথমত: আপেক্ষিক ত্রুটিযুক্ত গুণাবলী, যেমন স্ত্রী ও সন্তান; কেননা এগুলো পূর্ণতার বিপরীত বিষয়সমূহ—যেমন নতুন করে সৃষ্টি হওয়া, অনস্তিত্ব ও মুখাপেক্ষিতার প্রমাণ দেয়, এবং পূর্ণতার ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের কোনো সাদৃশ্য থাকার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয়ত: কেবল নেতিবাচক গুণাবলী, কারণ এগুলো কোনো পূর্ণতা নির্দেশ করে না এবং এর দাবিও রাখে না; কেননা পূর্ণতা অস্তিত্ববাচক অর্থের সাথে সম্পৃক্ত।

তৃতীয়ত: নিরঙ্কুশ ত্রুটিযুক্ত গুণাবলী, কেননা পূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়া তার বিপরীত বিষয় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে।

অনুরূপভাবে, সর্বোচ্চ উপমা সাব্যস্ত হওয়া সাদৃশ্য, সমকক্ষ এবং প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে; কারণ পরম পূর্ণতার গুণাবলীতে একক হওয়া এমন একটি বিষয় যার সাথে সাদৃশ্য থাকা অসম্ভব। যেমন প্রশংসার প্রেক্ষাপটে সাদৃশ্য ও সমরূপের অস্বীকৃতি পূর্ণতার গুণাবলীর প্রাচুর্যে এককের বৈশিষ্ট্যকে অনিবার্য করে।

 

প্রথমত: গুণের অস্তিত্বের সম্ভাব্যতা:

সুউচ্চ গুণ সাব্যস্ত হওয়া অপরিহার্যভাবে এর অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে দাবি করে, কারণ
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
الكمال دائر مع الإمكان وجودا وعدما، فالصفة المضافة للرب لابد أن تكون ممكنة الوجود لكي تكون كمالا، وإذا دلت على صفات متعدية فلابد أن يكون متعلقها ومقتضاها ممكن الوجود، لأن الممتنع لذاته لا حقيقة له، ولا يتصور وجوده، ولا يسمى شيئا باتفاق العقلاء، فلا يجوز أن يفترض أن فعله من الكمال، وذلك كافتراض أن يخلق البارئ مثل نفسه، أو يجعل الواحد بالعين متحركا ساكنا في لحظة واحدة. وبناء على ذلك فإن وجود الصفات الاختيارية على سبيل التعاقب لا ينافي كونها من الكمال كما توهمت الأشاعرة، لأنه إنما يمكن وجودها على هذه الصفة، لاستحالة مقارنتها للرب في الأزل! (1).

 

‌‌ثانيا: ثبوت الكمال المطلق:

ثبوت المثل الأعلى يعني ثبوت الكمال المطلق لله تعالى، وهو عبارة عن جميع صفات الكمال الوجودية المحضة التي لا تستلزم نقصا ولا تشعر به بوجه من الوجوه. وثبوت هذه الصفات لله تعالى هو مقتضى الفطرة والعقل والنقل:

فالفطرة مجبولة على الإقرار بوجود الله وتوحيده، واعتقاد أنه أكمل الأشياء، لما تفرد به من صفات الكمال المطلق، وهي فطرة عامة يجدها كل إنسان في قرارة نفسه، ولا يتخلف مقتضاها إلا لمانع، كفساد التربية، واجتيال الشياطين، واتباع الهوى، ومكابرة الحق (2).

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 6/ 85، 86، شرح الطحاوية لابن أبي العز الحنفي ص84، وانظر أيضا: الأربعين للرازي 171، 172.

(2) انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 6/ 72، 73 الأدلة العقلية للعريفي ص346.
অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণতা সম্ভাব্যতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। সুতরাং রবের প্রতি আরোপিত গুণটি পূর্ণতা হওয়ার জন্য তাকে অবশ্যই অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব হতে হবে। আর যদি তা সকর্মক গুণাবলির প্রতি নির্দেশ করে, তবে তার সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দাবিটি অবশ্যই অস্তিত্বশীল হওয়া সম্ভব হতে হবে; কারণ যা স্বভাবগতভাবেই অসম্ভব, তার কোনো বাস্তবতা নেই, তার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না এবং বুদ্ধিমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী তাকে কোনো 'বস্তু' বলা হয় না। সুতরাং এমনটা ধারণা করা বৈধ নয় যে, তাঁর কাজ করা পরিপূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত, যেমন এই ধারণা করা যে, সৃষ্টিকর্তা নিজের মতো কাউকে সৃষ্টি করবেন, অথবা একই সত্তাকে একই মুহূর্তে গতিশীল ও স্থির করবেন। এর ভিত্তিতে, ধারাবাহিকভাবে ঐচ্ছিক গুণাবলির বিদ্যমান থাকা পরিপূর্ণতা হওয়ার পরিপন্থী নয়, যেমনটি আশআরিগণ ধারণা করেছেন; কারণ এই গুণটি এই বৈশিষ্ট্যেই বিদ্যমান থাকা সম্ভব, কেননা অনাদিকাল থেকে রবের সাথে সেটির সহাবস্থান অসম্ভব! (১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: নিরঙ্কুশ পরিপূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়া:

সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত (আল-মাসালুল আলা) সাব্যস্ত হওয়ার অর্থ হলো মহান আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশ পরিপূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়া। এটি হলো অস্তিত্বশীল সেই সকল বিশুদ্ধ পূর্ণতাসূচক গুণাবলির সমষ্টি, যা কোনো ত্রুটিকে আবশ্যক করে না এবং কোনোভাবেই ত্রুটির আভাস দেয় না। আর মহান আল্লাহর জন্য এই গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়া ফিতরাত (প্রকৃতি), আকল (বিবেক) এবং নকল (শরয়ি প্রমাণ)-এর দাবি:

ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের স্বীকৃতি, তাঁর একত্ববাদ এবং তিনি যে সবকিছুর চেয়ে অধিকতর নিখুঁত—এই বিশ্বাসের ওপর সৃজিত; কারণ তিনি নিরঙ্কুশ পূর্ণতাসূচক গুণাবলির মাধ্যমে অনন্য। এটি একটি সাধারণ ফিতরাত যা প্রত্যেক মানুষ তার অন্তরের অন্তস্তলে অনুভব করে। আর কোনো প্রতিবন্ধক না থাকলে এর দাবি কখনোই লঙ্ঘিত হয় না; যেমন ত্রুটিপূর্ণ লালন-পালন, শয়তানের প্ররোচনা, প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং সত্যের সাথে হঠকারিতা (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যার মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/ ৮৫, ৮৬; ইবনে আবিল ইয আল-হানাফির শারহুত তাহাবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৮৪; আরও দেখুন: আর-রাযির আল-আরবাঈন ১৭১, ১৭২।

(২) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যার মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/ ৭২, ৭৩; আল-আরিফির আল-আদিল্লাহ আল-আকলিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩৪৬।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
وكذلك العقل فإنه يقتضي الإيمان بوجود الله وتوحيده والإقرار بصفات كماله من وجوه متعددة، وطرق متنوعة بحسب متعلقاتها، وما يتعلق منها بالدلالة على صفات الكمال أربعة أدلة:

1 - دليل الأفعال: فإن أفعال الله تعالى آيات بينات على صفات كماله، فالخلق يدل على العلم والقدرة والحكمة والحياة، وإتقان المخلوقات يدل كذلك على علم الرب وحكمته ووضع الأشياء في مواضعها اللائقة، والإحسان إلى العباد يدل على صفة الرحمة، وإكرام الطائعين يدل على صفة المحبة، وهكذا. وقد نبه الله لهذا الدليل بقوله: {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} [الملك: 14]. يقول عبد الرحمن السعدي: "كثيرا ما يقرن بين خلقه وإثبات علمه .... لأن خلقه للمخلوقات أدل دليل على علمه وحكمته وقدرته" (1).

2 - دليل الترجيح والتفضيل: فإن صفات الكمال ثابتة لكثير من المخلوقات فيكون ثبوتها للخالق من باب أولى، لأنه أفضل من خلقه مطلقا، قال تعالى: {أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لَا يَخْلُقُ} [النحل: 17]، وقال: {اقْرَا وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ} [العلق: 3]، أي أنه أفضل وأحق من غيره في الكرم الجامع للمحاسن والمحامد، وهي صفات الكمال، فهو الأحق بالإحسان والرحمة والحكمة والعلم والحياة وسائر أوصاف الكمال المطلق (2).

--------------------------------------------

(1) تفسير السعدي 1/ 70، 473، وانظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 16/ 356، الرسالة التدمرية لابن تيمية ص33، 34، الصواعق المرسلة لابن القيم 2/ 491، 492.

(2) انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 16/ 357، 358، 360.
একইভাবে আকল বা যুক্তিও আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস, তাঁর তাওহিদ এবং তাঁর পূর্ণতার গুণাবলির স্বীকৃতির দাবি রাখে। এটি বিভিন্ন দিক থেকে এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি অনুযায়ী বিবিধ পন্থায় প্রমাণিত। পূর্ণতার গুণাবলি নির্দেশকারী প্রমাণসমূহ চারটি:

১ - কার্যাবলির প্রমাণ: মহান আল্লাহর কার্যাবলি তাঁর পূর্ণতার গুণাবলির সুস্পষ্ট নিদর্শন। সৃষ্টিজগত তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা, প্রজ্ঞা ও জীবনের প্রমাণ দেয়। সৃষ্টিজগতের নিখুঁত বিন্যাস একইভাবে রবের জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং বস্তুকে তার উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করার বিষয়টি প্রমাণ করে। বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ তাঁর দয়া গুণের প্রমাণ দেয় এবং অনুগতদের সম্মান প্রদান তাঁর ভালোবাসা গুণের প্রমাণ বহন করে, ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা এই প্রমাণের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।" [আল-মূলক: ১৪]। আবদুর রহমান আস-সা'দী বলেন: "তিনি প্রায়শই তাঁর সৃষ্টির সাথে তাঁর জ্ঞান প্রমাণের বিষয়টি যুক্ত করেন... কারণ মাখলুকাত সৃষ্টি করাই তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ক্ষমতার সবচেয়ে বড় দলিল।" (১)।

২ - প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ: পূর্ণতার গুণাবলি অনেক সৃষ্টির মধ্যেও বিদ্যমান, তাই স্রষ্টার ক্ষেত্রে এই গুণাবলি থাকা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত, কারণ তিনি তাঁর সৃষ্টি থেকে নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তবে কি যিনি সৃষ্টি করেন তিনি তাঁর মতো, যে সৃষ্টি করে না?" [আন-নাহল: ১৭]। তিনি আরও বলেছেন: "পাঠ করুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত।" [আল-আলাক: ৩]। অর্থাৎ, তিনি যাবতীয় কল্যাণ ও প্রশংসার আধার এমন উদারতার ক্ষেত্রে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও অধিক হকদার; আর এগুলোই হলো পূর্ণতার গুণাবলি। সুতরাং তিনি অনুগ্রহ, দয়া, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, জীবন এবং পরম পূর্ণতার অন্যান্য সকল গুণের ক্ষেত্রে সর্বাধিক হকদার (২)।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরুস সা'দী ১/ ৭০, ৪৭৩; আরও দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ১৬/ ৩৫৬, আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩৩, ৩৪, আস-সাওয়ায়েকুল মুরসালাহ ইবনুল কাইয়্যিম ২/ ৪৯১, ৪৯২।

(২) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ১৬/ ৩৫৭, ৩৫৮, ৩৬০।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২০)
3 - الاستدلال بالأثر على المؤثر، فإن الله تعالى هو الخالق لذوات المخلوقات وصفاتها وأفعالها، وكل ما فيها من صفات الكمال دليل على صفات الخالق من باب أولى، فقوة المخلوق دليل على أن الله أقوى وأشد، وعلم المخلوق ورحمته وسائر صفات كماله دليل على أن الله أعلم وأحكم وأكمل، لأن من فعل الكامل فهو أحق بالكمال، قال تعالى: {وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً} [فصلت: 15]، فما في المخلوقات من قوة وشدة يدل على أن الله أقوى وأشد، وما فيها من علم وحياة يدل على أن الله أولى بالعلم والحياة (1).

4 - الاستدلال بانتفاء الوصف على ثبوت نقيضه: فلو لم يتصف الرب بصفات الكمال للزم اتصافه بأضدادها، لأن القابل للضدين لا يخلو من أحدهما، وكل ما يضاد الكمال فهو نقص يناقض الألوهية، ولهذا أبطل الله الشرك بوجود صفات النقص فيما يعبد من دونه (2). قال تعالى عن الخليل: {يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنْكَ شَيْئًا} [مريم: 42]، وقال: {وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لَا يُكَلِّمُهُمْ وَلَا يَهْدِيهِمْ سَبِيلًا} [الأعراف: 148].

وأما دلاله النقل على صفات الكمال فمن ثلاثة أوجه:

1 - ذكر الاسم المشتمل على الصفة: فإن كل واحد من

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 16/ 357.

(2) انظر: شرح العقيدة الأصفهانية ص74، 85، 87، مجموع الفتاوى 6/ 88، الرسالة التدمرية ص151، 163، 164، وانظر أيضا: الأدلة العقلية للعريفي ص348 - 376.
৩ - প্রভাব (সৃষ্টি) থেকে প্রভাবকের (স্রষ্টা) অস্তিত্বের প্রমাণ গ্রহণ: কেননা মহান আল্লাহ মাখলুকাতের (সৃষ্টিজগত) সত্তা, তাদের গুণাবলি ও কার্যাবলির স্রষ্টা। আর সৃষ্টি জগতের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিটি পূর্ণতা বা কামালাত হলো মহান স্রষ্টার গুণাবলির অধিকতর উপযুক্ততার দলিল। সুতরাং সৃষ্টির শক্তি এই কথা প্রমাণ করে যে আল্লাহ অধিক শক্তিশালী ও কঠোর। সৃষ্টির জ্ঞান, রহমত এবং অন্যান্য সকল পূর্ণ গুণাবলি প্রমাণ করে যে আল্লাহ অধিকতর জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময় ও পূর্ণ। কারণ যিনি পূর্ণতা দান করেন, তিনি নিজেই সেই পূর্ণতার অধিকতর উপযুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা বলে, ‘আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে?’ তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, আল্লাহ যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের চেয়েও অধিক শক্তিশালী?} [ফুসসিলাত: ১৫]। সুতরাং মাখলুকাতের মধ্যে যে শক্তি ও দৃঢ়তা বিদ্যমান তা প্রমাণ করে যে আল্লাহ আরও বেশি শক্তিশালী ও কঠোর। আর তাদের মাঝে যে জ্ঞান ও জীবন বিদ্যমান তা প্রমাণ করে যে আল্লাহ জ্ঞান ও জীবনের ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য (১)।

৪ - একটি গুণের অনুপস্থিতি থেকে তার বিপরীত গুণের সাব্যস্তকরণের মাধ্যমে দলিল পেশ করা: যদি রব পূর্ণতার গুণাবলিতে গুণান্বিত না হতেন, তবে আবশ্যিকভাবে তিনি এর বিপরীত (অপূর্ণতার) গুণাবলিতে গুণান্বিত হতেন। কারণ কোনো সত্তা যদি দুটি বিপরীত গুণের গ্রহণকারী হয়, তবে সে ওই দুটির কোনো একটি থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। আর পূর্ণতার বিপরীত প্রতিটি বিষয়ই হলো ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা, যা উলুহিয়্যাতের (উপাস্য হওয়ার) পরিপন্থী। এই কারণেই আল্লাহ তাঁর ব্যতীত অন্যদের ইবাদত করাকে বাতিল ঘোষণা করেছেন তাদের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ গুণাবলি বিদ্যমান থাকার কারণে (২)। খলীল (ইবরাহিম আ.) সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {হে আমার পিতা! কেন আপনি এমন কিছুর ইবাদত করেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনোই উপকারে আসে না?} [মারইয়াম: ৪২]। তিনি আরও বলেন: {মুসার সম্প্রদায় তার (যাওয়ার) পর তাদের অলংকার দিয়ে একটি গোবৎস তৈরি করল, যা ছিল শব্দকারী একটি দেহ। তারা কি দেখল না যে, সেটি তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদের পথও দেখায় না?} [আরাফ: ১৪৮]।

আর পূর্ণতার গুণাবলির ওপর নাকলি (শ্রুতিনির্ভর) প্রমাণ তিনটি দিক থেকে হতে পারে:

১ - এমন নামের উল্লেখ যা গুণের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে: কেননা প্রত্যেকটি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া ১৬/৩৫৭।

(২) দেখুন: শরহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৭৪, ৮৫, ৮৭; মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/৮৮; আর-রিসালাহ আত-তাদমুরিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৫১, ১৬৩, ১৬৪; এবং আরও দেখুন: আল-আরিফীর আল-আদিল্লাহ আল-আকলিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩৪৮-৩৭৬।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২১)
الأسماء الحسنى يدل على صفة أو أكثر من صفات الكمال، وذلك لأن الأسماء الحسنى باعتبار ما تدل عليه من الصفات نوعان:

أ - ما يدل على صفة معنوية أو فعلية واحدة، كالعليم والقدير والسميع والخالق والرازق والباعث. وقد يدل هذا النوع على أكثر من صفة بدليل الالتزام، أو حال الاقتران، فاسم الخالق يدل على الخلق مطابقة، وعلى العلم والقدرة التزاما، لأن الخلق لا يكون إلا بالعلم بأسباب الخلق والقدرة عليها. واسم الحي يدل على جميع صفات الكمال التزاما، لأن الحياة الكاملة لا تكون إلا باجتماعها، وأسماء التنزيه كذلك تستلزم ثبوت جميع أوصاف الكمال، لأن التنزيه لا يكون كمالا إلا إذا دل على معاني ثبوته، فالسلام مثلا يدل مطابقة على تنزيه الرب من كل نقص وعيب ويستلزم ثبوت جميع أوصاف الكمال، وهكذا اسم القدوس.

وكذلك حال الاقتران، فإن اجتماع العزيز والحكيم يدل على الكمال الخاص بكل اسم منهما، ويدل على كمال آخر، وهو أن عزة الله لا يقارنها ظلم، وحكمته لا يقارنها ذل كما يكون في المخلوقات غالبا.

ب - ما يدل على عدة صفات ولا يختص بصفة معينة، كالمجيد والعظيم فإن كل واحد منهما يعني الاتصاف بصفات كثيرة من صفات الكمال، وكذلك اسم القيوم فإنه يدل على كثير من صفات الكمال، لأنه يدل على قيام الرب بنفسه، وإقامته لغيره وقيامه عليه، وذلك يتضمن وجوب الوجود وكمال الغنى وتمام القدرة ومعاني الخلق والتدبير!.

ومن هذا النوع ما يدل على جميع صفات الكمال، كاسم الله،
আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ (আসমাউল হুসনা) এক বা একাধিক পূর্ণতার গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে। কারণ, গুণের প্রমাণের বিচারে আসমাউল হুসনা দুই প্রকার:

ক - যা কেবল একটি অর্থগত অথবা কর্মগত গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে। যেমন: আল-আলিম (সর্বজ্ঞ), আল-কাদির (সর্বশক্তিমান), আস-সামি (সর্বশ্রোতা), আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা), আর-রাজ্জাক (রিযিকদাতা) এবং আল-বাইস (পুনরুত্থানকারী)। আর এই প্রকারটি আবশ্যকতার বিচারে (দালালতুল ইলতিজাম) অথবা সংযুক্ত অবস্থার বিচারে একাধিক গুণের ওপরও প্রমাণ বহন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আল-খালিক নামটি আভিধানিক অর্থে (দালালতুল মুতাবাকাহ) সৃষ্টি করার গুণের ওপর প্রমাণ দেয়, আর আবশ্যকীয়ভাবে জ্ঞান ও সক্ষমতার ওপর প্রমাণ দেয়। কারণ, সৃষ্টির উপকরণসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং তার ওপর সক্ষমতা ছাড়া সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। আর আল-হাই (চিরঞ্জীব) নামটি আবশ্যকীয়ভাবে পূর্ণতার সকল গুণের ওপর প্রমাণ দেয়, কারণ পূর্ণ জীবন কেবল সকল গুণের সমাবেশের মাধ্যমেই সম্ভব। পবিত্রতা প্রকাশক নামসমূহও একইভাবে পূর্ণতার সকল গুণের সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে। কারণ, পবিত্রতা বর্ণনা করা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা পায় না, যতক্ষণ না তা ইতিবাচক অর্থ সাব্যস্ত হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আস-সালাম নামটি আভিধানিক অর্থে পালনকর্তাকে সকল প্রকার ত্রুটি ও খুঁত থেকে পবিত্র রাখার ওপর প্রমাণ দেয় এবং এটি পূর্ণতার সকল গুণ সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে। আল-কুদ্দুস নামটিও তদ্রূপ।

একইভাবে সংযুক্ত অবস্থার বিষয়টিও; যেমন আল-আজিজ এবং আল-হাকিম নাম দুটির একত্র হওয়া প্রতিটি নামের নিজস্ব পূর্ণতার ওপর প্রমাণ দেয় এবং এটি অন্য একটি পূর্ণতার ওপরও প্রমাণ দেয়। তা হলো, আল্লাহর মহিমা ও পরাক্রমের (ইজ্জত) সাথে কোনো জুলুম বা অন্যায় সংশ্লিষ্ট নয় এবং তাঁর প্রজ্ঞার (হিকমত) সাথে কোনো হীনতা সংশ্লিষ্ট নয়, যা সাধারণত সৃষ্টির ক্ষেত্রে দেখা যায়।

খ - যা একাধিক গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে এবং কোনো নির্দিষ্ট গুণের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। যেমন: আল-মাজিদ (মহিমান্বিত) এবং আল-আজিম (মহান)। কারণ এদের প্রতিটি পূর্ণতার অসংখ্য গুণে গুণান্বিত হওয়ার অর্থ বহন করে। অনুরূপভাবে আল-কাইয়ুম নামটি পূর্ণতার অনেক গুণের ওপর প্রমাণ দেয়। কারণ এটি পালনকর্তার স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া এবং অন্যকে প্রতিষ্ঠিত রাখা ও তাদের তত্ত্বাবধান করার ওপর প্রমাণ দেয়। এটি তাঁর অস্তিত্বের আবশ্যকতা, পূর্ণ মুখাপেক্ষীহীনতা, অসীম ক্ষমতা এবং সৃষ্টি ও পরিচালনার অর্থসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর এই প্রকারের মধ্যে এমন নামও রয়েছে যা পূর্ণতার সকল গুণের ওপর প্রমাণ দেয়, যেমন 'আল্লাহ' নামটি।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২২)
واسم الصمد، فإن لفظ الجلالة يدل على الذات الجامعة لصفات الإلهية كافة، واسم الصمد يدل على جميع صفات الكمال أيضا، لأن معناه السيد الذي كملت جميع صفات كماله، ولهذا يصمد إليه في جميع المطالب، ويقصد في جميع الحوائج (1).

2 - التصريح بأعيان الصفات ومصادر الأسماء: كقوله تعالى: {أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ} [النساء: 166]، وقوله: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات: 58]، وقوله: {وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ} [الكهف: 58]، وقوله: {إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي} [الأعراف: 144]، وقوله: {قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ} [ص: 82].

3 - التصريح بفعل أو وصف دال على الصفة: ويدخل في ذلك ذكر الحكم المترتب على الصفة، كقوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5]، وقوله: {إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ} [السجدة: 22]، وقوله: {عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ} [البقرة: 187]، وهو باب واسع ينتظم ما لا يكاد يحصى من الصفات (2).

والغريب أن ابن حزم ـ رغم عنايته بالنقل وظاهريته المشهورة ـ لم ير في كل ما ذكر من الأدلة حجة على إثبات الصفات، ولهذا أنكرها، وزعم أنها بدعة كلامية لم ترد في نصوص الشرع أو كلام

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الطبري 15/ 30/346، الرسالة التدمرية لابن تيمية ص57، 58، بدائع الفوائد لابن القيم 1/ 159 - 162، 168، شرح الطحاوية لابن أبي العز الحنفي ص64، 65، فتح الباري لابن حجر 13/ 357، روح المعاني للآلوسي 8/ 15/193، القواعد المثلى لابن عثيمين ص8/ 11.

(2) انظر الصواعق المرسلة لابن القيم 1/ 321 - 324، القواعد المثلى لابن عثيمين ص21، 29.
এবং আস-সামাদ নাম; কেননা 'আল্লাহ' শব্দটি এমন এক সত্তার ওপর প্রমাণ বহন করে যা উলুহিয়্যাতের (উপাসত্বের) সমস্ত গুণাবলিকে শামিল করে। আর আস-সামাদ নামটি সমস্ত পূর্ণতার গুণাবলির ওপরও প্রমাণ বহন করে। কারণ এর অর্থ হলো সেই মহান সত্তা যাঁর সমস্ত পূর্ণতার গুণাবলি পূর্ণতা লাভ করেছে। এই কারণেই সমস্ত প্রয়োজনে তাঁর অভিমুখী হওয়া হয় এবং সমস্ত হাজত পূরণের জন্য তাঁরই উদ্দেশ্য করা হয় (১)।

২ - সিফাতসমূহের মূল সত্তা এবং নামের উৎসসমূহের স্পষ্ট বর্ণনা: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তা তাঁর ইলমের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন} [আন-নিসা: ১৬৬], এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন রিযিকদাতা, প্রবল শক্তির অধিকারী ও পরাক্রমশালী} [আদ-যারিয়াত: ৫৮], এবং তাঁর বাণী: {আপনার রব অতি ক্ষমাশীল, দয়ার আধার} [আল-কাহফ: ৫৮], এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে আমার রিসালাত ও আমার কালামের (কথা বলার) মাধ্যমে মানুষের ওপর মনোনীত করেছি} [আল-আরাফ: ১৪৪], এবং তাঁর বাণী: {সে বলল: আপনার ইজ্জতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করব} [সোয়াদ: ৮২]।

৩ - সিফাতের ওপর প্রমাণবহ কোনো কাজ বা গুণের স্পষ্ট উল্লেখ: এর মধ্যে সিফাতের ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত হওয়া বিধানের উল্লেখও অন্তর্ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {দয়াময় আরশের ওপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫], এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আমরা অপরাধীদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী} [আস-সাজদাহ: ২২], এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ জেনেছেন যে তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন} [আল-বাকারা: ১৮৭]। এটি এমন এক বিস্তৃত অধ্যায় যা অগণিত সিফাত বা গুণাবলিকে সুবিন্যস্ত করে (২)।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, ইবনে হাযম—নকলের (উদ্ধৃতি) প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ এবং তাঁর প্রসিদ্ধ জাহিরিপন্থা সত্ত্বেও—উল্লিখিত দলীলসমূহের কোনোটির মধ্যেই সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্তকরণের কোনো প্রমাণ দেখতে পাননি। এই কারণে তিনি সেগুলো অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি একটি কালাম-শাস্ত্রীয় বিদআত যা শরয়ি নস (বক্তব্য) বা কথায় আসেনি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে তাবারী ১৫/ ৩০/৩৪৬, ইবনে তাইমিয়ার আর-رিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ পৃ. ৫৭, ৫৮, ইবনুল কায়্যিমের বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ ১/ ১৫৯ - ১৬২, ১৬৮, ইবনে আবিল ইযয আল-হানাফীর শারহুত তাহাবিয়্যাহ পৃ. ৬৪, ৬৫, ইবনে হাজার আসকালানীর ফাতহুল বারী ১৩/ ৩৫৭, আলূসীর রূহুল মাআনী ৮/ ১৫/১৯৩, ইবনে উসাইমীনের আল-কাওয়ায়েদুল মুসলা পৃ. ৮/ ১১।

(২) দেখুন: ইবনুল কায়্যিমের আস-সাওয়ায়েকুল মুরসালাহ ১/ ৩২১ - ৩২৪, ইবনে উসাইমীনের আল-কাওয়ায়েদুল মুসলা পৃ. ২১, ২৯।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
السلف، وادعى أن ما ورد من الأسماء الحسنى مجرد أعلام جامدة، وليست مشتقة من أوصاف الرب وأفعاله القائمة به، وأنكر تغاير الصفات ومغايرتها للذات، وانتهى به الأمر إلى موافقة المعتزلة في التعطيل وإن خالفهم في مدركه، لأنهم أنكروا الصفات فرارا من التعدد على أصل أوائلهم، أو من التركيب على أصل أبي الهذيل العلاف ومن وافقه (1).

وهذا القول من أخطاء ابن حزم المشهورة، وهو باطل من وجوه كثيرة، منها:

1 - أن النصوص صرحت بالصفات لفظا ومعنى فتكون دعوى الابتداع مجازفة ومخالفة ظاهرة، قال تعالى: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى} [النحل: 60]، أي الصفة العليا، كما فسرها بذلك ابن عباس رضي الله عنهما وكثير من أئمة التفسير (2). وروى الإمام البخاري بسنده عن عائشة رضي الله عنها: «أن النبي صلى الله عليه وسلم بعث رجلا على سرية، وكان يقرأ لأصحابه في صلاته فيختم بـ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} فلما رجعوا ذكروا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: سلوه لأي شيء يصنع ذلك؟ فسألوه، فقال: لأنها صفة الرحمن» (3). يقول ابن حجر: "فيه حجة لمن

--------------------------------------------

(1) انظر: الفصل لابن حزم 2/ 283 - 286، 293 - 297، شرح الأصول الخمسة للقاضي عبد الجبار ص181 - 201، الملل والنحل للشهرستاني 1/ 44 - 68، ابن حزم وموقفه من الإلهيات للدكتور أحمد الحمد ص188 - 203، 226 - 241، المعتزلة وأصولهم الخمسة للمعتق ص84 - 91.

(2) انظر: تفسير البغوي 3/ 73، 481، تفسير القرطبي 9/ 324، 10/ 119، 14/ 22، زاد المسير لابن الجوزي 4/ 459، 6/ 298.

(3) صحيح البخاري بشرحه فتح الباري: كتاب التوحيد، باب ما جاء في دعاء النبي صلى الله عليه وسلم أمته إلى توحيد الله تبارك وتعالى 13/ 347، 348.
সালাফগণের, এবং তিনি দাবি করেন যে আসমাউল হুসনা (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ) হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিছক জড় বা অনড় নামমাত্র, এবং সেগুলো রবের গুণাবলী ও তাঁর সত্তায় বিদ্যমান কার্যাবলী থেকে ব্যুৎপন্ন নয়। তিনি গুণাবলীর পারস্পরিক ভিন্নতা এবং সত্তার সাথে সেগুলোর ভিন্নতা অস্বীকার করেছেন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তাকে 'তাতিল' (গুণ অস্বীকার) করার ক্ষেত্রে মু'তাযিলাদের অনুকূলে নিয়ে যায়, যদিও তিনি তাদের উপলব্ধির পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন। কারণ তারা তাদের আদি মূলনীতি অনুযায়ী বহুত্ব এড়াতে অথবা আবু আল-হুযাইল আল-আল্লাফ ও তার অনুসারীদের মূলনীতি অনুযায়ী সংমিশ্রণ এড়াতে গুণাবলী অস্বীকার করেছিল (১)।

ইবনে হাজমের এই বক্তব্যটি তার প্রসিদ্ধ ভুলগুলোর অন্তর্ভুক্ত, এবং এটি অনেক দিক থেকেই অসার, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - নিশ্চয়ই পাঠ্যসমূহ (নাস) শব্দে ও অর্থে স্পষ্টভাবে গুণাবলী বর্ণনা করেছে। সুতরাং একে নতুন উদ্ভাবন (বিদআত) দাবি করা হবে একটি হঠকারিতা এবং প্রকাশ্য বিরোধিতা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহর জন্যই সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত} [আন-নাহল: ৬০], অর্থাৎ সর্বোচ্চ গুণ, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং তাফসীরের অনেক ইমাম এর ব্যাখ্যা করেছেন (২)। ইমাম বুখারী তাঁর সনদে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি ছোট সেনাদলের প্রধান হিসেবে পাঠালেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের সালাতে কিরাত পড়তেন এবং {কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ} দিয়ে শেষ করতেন। তারা যখন ফিরে এলেন, তখন বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানালেন। তিনি বললেন: তাকে জিজ্ঞাসা করো কেন সে এমনটি করে? তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: কারণ এটি দয়াময় রহমানের গুণ (সিফাত)।» (৩)। ইবনে হাজার বলেন: "এতে তাদের জন্য প্রমাণ রয়েছে যারা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজমের আল-ফাসল ২/২৮৩ - ২৮৬, ২৯৩ - ২৯৭, কাযী আব্দুল জব্বারের শারহুল উসুলিল খামসাহ পৃ. ১৮১ - ২০১, শাহরাস্তানির আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/৪৪ - ৬৮, ডক্টর আহমদ আল-হামাদের ইবনে হাজম ওয়া মাওকিফুহু মিনাল ইলাহিয়াত পৃ. ১৮৮ - ২০৩, ২২৬ - ২৪১, আল-মু'তাক-এর আল-মুতাযিলা ওয়া উসুলুহুমুল খামসাহ পৃ. ৮৪ - ৯১।

(২) দেখুন: তাফসীরে বাগভী ৩/৭৩, ৪৮১, তাফসীরে কুরতুবী ৯/৩২৪, ১০/১১৯, ১৪/২২, ইবনুল জাওযীর যাদুল মাসীর ৪/৪৫৯, ৬/২৯৮।

(৩) ফাতহুল বারী ভাষ্যসহ সহীহ বুখারী: কিতাবুত তাওহীদ, পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক তাঁর উম্মতকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার তাওহীদের দিকে আহ্বান করার বর্ণনা ১৩/৩৪৭, ৩৪৮।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
أثبت أن لله صفة، وهو قول الجمهور، وقد طعن فيه ابن حزم بأنه من أفراد سعيد بن أبي هلال، وفيه ضعف، وكلامه مردود، لأن سعيدا متفق على الاحتجاج به" (1).

وقد صرحت نصوص كثيرة بأعيان الصفات، كقوله تعالى: {أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ} [النساء: 166]، وقوله: {ذُو الْقُوَّةِ} [الذاريات: 58]، وقوله: {وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ} [الكهف: 58]، وهو دليل قاطع على ثبوت الصفات، وتغايرها، ومغايرتها للذات!.

2 - أن أسماء الرب أعلام وأوصاف لا مجرد أعلام كما زعم ابن حزم، بدليل قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الأعراف: 180]، ولا يصح كونها حسنى إلا إذا دلت على أكمل الصفات، واستغرقت جميع الصفة التي اشتقت منها. وفي مقابل رأى ابن حزم رأى ابن حجر وغيره أن المراد بأسماء الرب صفاته، لأن الاسم يراد به بلغة العرب الصفة، ولهذا يقال: طار اسمه في البلاد، أي صيته ووصفه! (2).

وهذا ليس بمسلم أيضا، لأن أسماء الرب أعلام وأوصاف لا مجرد أعلام كما قال ابن حزم، ولا مجرد أوصاف كما رأى ابن حجر ومن وافقه.

وقد صرحت النصوص بمصادر كثير من الأسماء، كالعلم والقوة والرحمة، قال تعالى: {أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ} [النساء: 166]،

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 13/ 356، 357 (بتصرف). وانظر في كلام ابن حزم على الحديث: الفصل في الملل والأهواء والنحل 2/ 285.

(2) انظر: رد الدارمي على المريسي ص365 (ضمن عقائد السلف)، بدائع الفوائد لابن القيم 1/ 162، فتح الباري لابن حجر 13/ 357، روح المعاني للآلوسي 5/ 9/121، تفسير السعدي 30/ 120.
তিনি প্রমাণ করেছেন যে আল্লাহর গুণ রয়েছে, আর এটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত। ইবনে হাজম এর সমালোচনা করেছেন এই বলে যে, এটি সাঈদ ইবনে আবি হিলালের একক বর্ণনা এবং এতে দুর্বলতা রয়েছে। তবে তাঁর এই কথা প্রত্যাখ্যাত, কারণ সাঈদের মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে (১)।

অনেক দলিল স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট গুণাবলির কথা উল্লেখ করেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তা অবতীর্ণ করেছেন তাঁর ইলমের (জ্ঞানের) সাথে} [নিসা: ১৬৬], এবং তাঁর বাণী: {তিনি প্রবল শক্তিধর} [যারিয়াত: ৫৮], এবং তাঁর বাণী: {আপনার রব ক্ষমাশীল ও দয়াশীল} [কাহাফ: ৫৮]। আর এটি গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়া, সেগুলোর মধ্যেকার ভিন্নতা এবং সত্তার সাথে সেগুলোর ভিন্নতার ওপর একটি অকাট্য দলিল!

২ - রবের নামসমূহ কেবল নিছক নাম নয় বরং সেগুলো নাম ও গুণ উভয়ই, যেমনটি ইবনে হাজম দাবি করেছেন। এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ} [আরাফ: ১৮০]। নামগুলো সুন্দরতম হওয়া তখনই সঠিক হবে যখন সেগুলো পূর্ণতম গুণের ওপর নির্দেশ করবে এবং যে গুণ থেকে সেগুলো নির্গত হয়েছে তার সম্পূর্ণ অর্থকে শামিল করবে। ইবনে হাজমের মতের বিপরীতে ইবনে হাজার এবং অন্যদের মত হলো—রবের নামসমূহ দ্বারা তাঁর গুণাবলিই উদ্দেশ্য, কারণ আরবি ভাষায় নাম দ্বারা গুণ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এজন্য বলা হয়: 'শহরে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছে', অর্থাৎ তাঁর খ্যাতি ও গুণাবলি! (২)।

এটিও সর্বসম্মতভাবে গৃহীত নয়, কারণ রবের নামসমূহ নাম এবং গুণ উভয়ই; এগুলো কেবলই নাম নয় যেমনটি ইবনে হাজম বলেছেন, আবার কেবলই গুণও নয় যেমনটি ইবনে হাজার এবং তাঁর অনুসারীরা মনে করেন।

দলিলসমূহ অনেক নামের মূল উৎস স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে, যেমন: ইলম (জ্ঞান), কুওয়াত (শক্তি) এবং রহমত (দয়া)। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তা অবতীর্ণ করেছেন তাঁর ইলমের (জ্ঞানের) সাথে} [নিসা: ১৬৬],

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী ১৩/ ৩৫৬, ৩৫৭ (পরিমার্জিত)। আর হাদিসটির ব্যাপারে ইবনে হাজমের বক্তব্য দেখুন: আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল ২/ ২৮৫।

(২) দেখুন: আল-মারিসির প্রতি আদ-দারিমি’র খণ্ডন পৃষ্ঠা ৩৬৫ (আকাইদুস সালাফ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত), ইবনুল কাইয়্যিমের বাদায়েউল ফাওয়ায়িদ ১/ ১৬২, ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী ১৩/ ৩৫৭, আলুসির রুহুল মাআনি ৫/ ৯/১২১, আস-সাদির তাফসির ৩০/ ১২০।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال: {ذُو الْقُوَّةِ} [الذاريات: 58]، وقال: {ذُو الرَّحْمَةِ} [الكهف: 58]، وفي ذلك دلالة على أن أسماء الرب مشتقة من صفاته ـ بمعنى أنها ملاقية لمصادرها في اللفظ والمعنى لا أنها متولدة منها تولد الفرع من أصله، بحيث يسوغ إثبات ما لم يرد من الأسماء اشتقاقا من صفات الرب وأفعاله ـ فالعليم مشتق من العلم، والقوي من القوة، والرحيم من الرحمة، ولولا ثبوت مصادر ما ورد من الأسماء الحسنى لانتفت حقيقتها، بل لانتفت حقيقة الذات، لأنه لا يمكن في الوجود الخارجي وجود ذات بلا صفات، إذ قيام الصفات بالذات مقتضى الذاتية لا يختلف شاهدا ولا غائبا! (1).

وقد اعتبر علماء السلف إنكار حقائق الأسماء الحسنى ومعانيها من أعظم أنواع الإلحاد فيها، ورأوا فيه مخالفة ظاهرة لما هو معلوم من الدين بالضرورة، إذ لو كانت أعلاما جامدة لكفى أحدها في الدلالة على الذات، واعتبر سائرها لغوًا لا فائدة منه، ولما شرع في التوسل مراعاة الأسماء المناسبة للأدعية، ولجاز أن يسمى الله بما اتفق من الأسماء حتى لو تضمن نقصا! (2).

 

‌‌ثالثا: التنزيه عن النقص النسبي:

ثبوت المثل الأعلى والكمال المطلق يعني تنزيه الرب عن

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 6/ 95 - 105، شفاء العليل لابن القيم ص448، شرح العقيدة الطحاوية لابن أبي العز الحنفي ص16.

(2) انظر: شرح العقيدة الأصفهانية لابن تيمية ص76، 77، بدائع الفوائد لابن القيم 1/ 169، ابن حزم وموقفه من الإلهيات للدكتور أحمد الحمد ص188 - 203.
এবং তিনি বলেছেন: {প্রবল শক্তির অধিকারী} [আয-যারিয়াত: ৫৮], এবং তিনি বলেছেন: {দয়ার অধিকারী} [আল-কাহফ: ৫৮]। আর এর মধ্যে এই প্রমাণ রয়েছে যে, প্রতিপালকের নামসমূহ তাঁর গুণাবলী থেকে উদ্ভূত—অর্থাৎ শব্দ ও অর্থের দিক থেকে এগুলো তাদের মূল উৎসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন নয় যে এগুলো মূল থেকে শাখা বের হওয়ার মতো জন্ম নিয়েছে, যার ফলে আল্লাহর গুণাবলী ও কর্ম থেকে ব্যুৎপত্তি ঘটিয়ে এমন কোনো নাম সাব্যস্ত করা বৈধ হয়ে যায় যা (নাস বা দলিলে) আসেনি। সুতরাং 'আলীম' (সর্বজ্ঞ) শব্দটি 'ইলম' (জ্ঞান) থেকে উদ্ভূত, 'কাবি' (শক্তিশালী) শব্দটি 'কুওয়াত' (শক্তি) থেকে এবং 'রাহীম' (দয়ালু) শব্দটি 'রাহমাত' (দয়া) থেকে। যদি আসমাউল হুসনার উৎসগুলো (গুণাবলী) সাব্যস্ত না থাকত, তবে সেগুলোর বাস্তবতা বিলুপ্ত হয়ে যেত; বরং খোদ সত্তার বাস্তবতাই বিলুপ্ত হয়ে যেত। কারণ বাহ্যিক অস্তিত্বে গুণহীন কোনো সত্তার অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়; যেহেতু সত্তার সাথে গুণের বিদ্যমান থাকা সত্তারই অনিবার্য দাবি, যা দৃশ্যমান বা অদৃশ্য কোনো ক্ষেত্রেই ভিন্ন হয় না! (১)।

আর সলফী আলিমগণ আসমাউল হুসনার বাস্তবতা ও সেগুলোর অর্থ অস্বীকার করাকে এগুলোর ক্ষেত্রে বড় ধরণের 'ইলহাদ' (বিচ্যুতি) বলে গণ্য করেছেন। তাঁরা এর মধ্যে দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের স্পষ্ট বিরোধিতা দেখতে পেয়েছেন। কারণ এগুলো যদি কেবল অর্থহীন নাম হতো, তবে সত্তাকে বুঝানোর জন্য এগুলোর যেকোনো একটিই যথেষ্ট হতো এবং অবশিষ্ট নামগুলোকে অর্থহীন ও নিরর্থক বিবেচনা করা হতো। আর দুআর ক্ষেত্রে উপযুক্ত নামসমূহ বিবেচনা করে উসিলা ধরার বিধান থাকত না এবং আল্লাহর জন্য যেকোনো নাম ব্যবহার করা বৈধ হয়ে যেত, এমনকি যদি তাতে কোনো ত্রুটিও থাকত! (২)।

 

‌‌তৃতীয়ত: আপেক্ষিক ত্রুটি থেকে পবিত্রতা ঘোষণা:

সর্বোচ্চ উপমা এবং পরম পূর্ণতা সাব্যস্ত করার অর্থ হলো প্রতিপালককে পবিত্র ঘোষণা করা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যার মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/৯৫-১০৫, ইবনুল কাইয়্যিমের শিফাউল আলীল পৃষ্ঠা ৪৪৮, ইবনে আবিল ইয আল-হানাফীর শারহুল আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৬।

(২) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যার শারহুল আকীদা আল-আসফাহানিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৭৬, ৭৭, ইবনুল কাইয়্যিমের বাদায়েউল ফাওয়াইদ ১/১৬৯, ড. আহমদ আল-হামাদের ইবনে হাযম ওয়া মাওকিফুহু মিনাল ইলাহিয়্যাত পৃষ্ঠা ১৮৮-২০৩।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
جميع صفات النقص النسبي، وهي ما كانت نقصا في الخالق كمالا في المخلوق، كالأكل والشرب والصاحبة والولد وأدوات ذلك كله، وذلك لأن هذه الصفات وإن كانت كمالا في حق المخلوق إلا أنها نقص في الخالق، لدلالتها على الحدوث والعدم والافتقار وعلى وجود النظير المشارك في الكمالات والحقوق، وكل هذه المعاني تنافي ما تفرد به الرب في السماوات والأرض من المثل الأعلى والكمال المطلق المنزه عن جميع النقائص وعن وجود الأمثال والنظراء (1).

وقد نزه الله نفسه عن صفات النقص النسبي بأعيانها في نصوص كثيرة، كقوله تعالى: {وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ} [الأنعام: 14]، وهي قراءة سعيد بن جبير ومجاهد والأعمش، أي لا يأكل، لأنه لا يحتاج إلى ما يحتاجه المخلوق من الغذاء (2)، وقوله: {اللَّهُ الصَّمَدُ} [الإخلاص: 2]، وهو الذي لا جوف له ولا يأكل ولا يشرب (3)، وقوله: {مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَاكُلَانِ الطَّعَامَ} [المائدة: 75]، فأبطل دعوى ألوهيته بصفة الأكل، لأن الإله الحق منزه عن الأكل والشرب وآلاته وأسبابه (4)، وقوله: {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ} [الأنعام: 101]، وقوله: {وَأَنَّهُ تَعَالَى جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا} [الجن: 3]،

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 6/ 87.

(2) انظر: تفسير القرطبي 6/ 397، تفسير ابن كثير 2/ 125.

(3) انظر: تفسير ابن كثير 4/ 570.

(4) انظر: الرسالة التدمرية لابن تيمية ص143، 144.
আপেক্ষিক অপূর্ণতার সকল গুণাবলি—যা স্রষ্টার ক্ষেত্রে অপূর্ণতা কিন্তু সৃষ্টির ক্ষেত্রে পূর্ণতা—যেমন আহার, পান, স্ত্রী, সন্তান এবং এই সবকিছুর উপকরণসমূহ; আল্লাহ তাআলা এগুলো থেকে পবিত্র। এর কারণ হলো, এই গুণগুলো যদিও সৃষ্টির ক্ষেত্রে পূর্ণতা, কিন্তু স্রষ্টার ক্ষেত্রে এগুলো অপূর্ণতা। কারণ এগুলো নশ্বরতা, অনস্তিত্ব এবং মুখাপেক্ষিতার প্রমাণ বহন করে এবং পূর্ণতা ও অধিকারে সমকক্ষ অংশীদারের অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। এই সব অর্থই আসমান ও জমিনে রবের জন্য এককভাবে সাব্যস্ত সেই 'উচ্চতম আদর্শ' এবং পরম পূর্ণতার পরিপন্থী, যা সকল ত্রুটি এবং সদৃশ ও সমকক্ষ থাকা থেকে পবিত্র (১)।

আল্লাহ তাআলা বহু দলিলে সুনির্দিষ্টভাবে নিজেকে এই আপেক্ষিক অপূর্ণতার গুণাবলি থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তিনি আহার দান করেন, কিন্তু তাঁকে আহার করানো হয় না" [আল-আনআম: ১৪]। এটি সাঈদ বিন জুবায়ের, মুজাহিদ এবং আমাশের পাঠরীতি (কিরাত); অর্থাৎ তিনি আহার করেন না। কেননা সৃষ্টির যে খাদ্যের প্রয়োজন হয়, তাঁর সেই প্রয়োজন নেই (২)। আল্লাহ আরও বলেন: "আল্লাহ অমুখাপেক্ষী" [আল-ইখলাস: ২]। অর্থাৎ তিনি এমন সত্তা যাঁর কোনো উদর নেই এবং যিনি আহার বা পান করেন না (৩)। আল্লাহ আরও বলেন: "মরিয়ম-তনয় মাসীহ তো কেবল একজন রসূল; তাঁর আগে আরও বহু রসূল গত হয়েছেন। তাঁর মা ছিলেন অতি সত্যনিষ্ঠ। তাঁরা উভয়েই খাবার খেতেন" [আল-মায়িদা: ৭৫]। এখানে আল্লাহ তাঁর উপাস্য হওয়ার দাবিকে আহার করার গুণের মাধ্যমে বাতিল করে দিয়েছেন। কারণ প্রকৃত উপাস্য আহার, পান এবং এর আনুষঙ্গিক যন্ত্র ও উপকরণ থেকে পবিত্র (৪)। আল্লাহ আরও বলেন: "তিনি আসমান ও জমিনের উদ্ভাবক; তাঁর সন্তান হবে কীভাবে, যখন তাঁর কোনো স্ত্রী নেই? আর তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন" [আল-আনআম: ১০১]। এবং আল্লাহ বলেন: "আর আমাদের রবের মর্যাদা অতি উচ্চ; তিনি কোনো স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি" [আল-জিন: ৩]।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া ৬/ ৮৭।

(২) দেখুন: তাফসিরে কুরতুবি ৬/ ৩৯৭, তাফসিরে ইবনে কাসির ২/ ১২৫।

(৩) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির ৪/ ৫৭০।

(৪) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহর আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৪৩, ১৪৪।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
فنزه نفسه عن الصاحبة والولد، لأنهما ينافيان مثله الأعلى (كماله المطلق)، ويدلان على وجود النظير، إذ الفرع يماثل أصله، ولا يكون إلا بين أصلين متماثلين (1).

وقد كان أكثر ضلال الأمم في صفة الولد، فقالت اليهود: عزير ابن الله، وقالت النصارى: المسيح ابن الله، وقال مشركو العرب: الملائكة بنات الله، وأمهاتهن سروات الجن، وقال بها من قبل: الهنادك والبوذيون وغيرهم من يطول المقام بذكرهم (2). ولهذا كثر في النصوص تنزيه الله عن صفة الولد، والرد على من افتراها بطرق متعددة، منها:

1 - التشنيع بأهل هذه الفرية، وتقبيح مقالتهم، ووعيدهم بأعظم العقوبات، قال تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا * لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِدًّا * تَكَادُ السَّمَوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا * أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا} [مريم: 88 - 91]، وقال: {وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا * مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآَبَائِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا} [الكهف: 4، 5]، وقال: {قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ إِنْ عِنْدَكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ بِهَذَا أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ * قُلْ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ * مَتَاعٌ فِي الدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ ثُمَّ نُذِيقُهُمُ الْعَذَابَ الشَّدِيدَ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ} [يونس: 68 - 70]، فأوعد من كذب عليه بدعوى الولد بعدم الفلاح في الدارين، وذلك

--------------------------------------------

(1) انظر: درء التعارض لابن تيمية 7/ 369.

(2) انظر: العقائد الوثنية في الديانة النصرانية لمحمد التنير ص60 - 74.
সুতরাং তিনি নিজেকে স্ত্রী ও সন্তান থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন, কারণ এই উভয়টি তাঁর সুমহান দৃষ্টান্তের (তাঁর নিরঙ্কুশ পূর্ণতা) পরিপন্থী এবং সমকক্ষ থাকার প্রমাণ বহন করে। কেননা শাখা তার মূলের অনুরূপ হয়, আর এটি কেবল দুটি সদৃশ মূলের মধ্যেই হতে পারে (১)।

আর উম্মতদের অধিকাংশ পথভ্রষ্টতা ছিল সন্তানের গুণের ক্ষেত্রে; তাই ইহুদিরা বলেছিল: উযাইর আল্লাহর পুত্র, খ্রিস্টানরা বলেছিল: মসীহ আল্লাহর পুত্র, আর আরবের মুশরিকরা বলেছিল: ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা এবং তাদের মায়েরা হলো জিনের নেতৃস্থানীয় নারীগণ। আর তাদের পূর্বে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং আরও অনেকে একই কথা বলেছিল যাদের আলোচনার বিবরণ দীর্ঘ হবে (২)। এই কারণে নসসমূহে (দলিলসমূহে) আল্লাহকে সন্তানের গুণ থেকে পবিত্র ঘোষণা এবং যারা এ মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাদের খণ্ডন করার বর্ণনা অধিকহারে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে:

১ - এই মিথ্যা অপবাদদানকারীদের প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন, তাদের বক্তব্যকে কদর্য হিসেবে তুলে ধরা এবং তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির ধমক প্রদান করা। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা বলে, ‘দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ অবশ্যই তোমরা এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করেছ। এর কারণে আকাশমণ্ডলী ফেটে পড়ার, পৃথিবী বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়। কারণ তারা দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করেছে।" [মারইয়াম: ৮৮-৯১], এবং তিনি বলেন: "আর যাতে তিনি তাদের সতর্ক করতে পারেন যারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। তাদের মুখ থেকে বের হওয়া শব্দটি কতই না ভয়ংকর! তারা কেবল মিথ্যাই বলছে।" [আল-কাহফ: ৪, ৫], এবং তিনি আরও বলেন: "তারা বলে, ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র-মহিমান্বিত। তিনি অভাবমুক্ত। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। এ বিষয়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলছ যা তোমরা জানো না? বলুন, ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে তারা সফলকাম হবে না।’ দুনিয়াতে সামান্য ভোগ মাত্র, অতঃপর আমাদের কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর তাদের কুফরির কারণে আমরা তাদেরকে কঠিন আযাবের স্বাদ আস্বাদন করাব।" [ইউনুস: ৬৮-৭০]। সুতরাং তিনি যারা সন্তানের দাবি করে তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করেছে তাদেরকে উভয় জগতে সফল না হওয়ার ধমক দিয়েছেন, আর তা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকল’, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৬৯।

(২) দেখুন: মুহাম্মদ আত-তান্নীর রচিত ‘আল-আকাইদ আল-ওয়াসানিয়্যাহ ফিল দিয়ানাতিন নাসরানিয়্যাহ’, পৃষ্ঠা ৬০-৭৪।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
باستدراجهم في الدنيا، وتقليل مدة متاعهم فيها، حتى يضطرهم إلى أعظم العقوبات في الآخرة (1).

2 - تكذيب مقالتهم، لأنها دعوى بلا برهان، وقول على الله بلا علم، اعتقدوها مضاهاة لمن سبقهم من كفرة الهنادك وغيرهم. قال تعالى: {وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا * مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآَبَائِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا} [الكهف: 4، 5]، وقال: {أَلَا إِنَّهُمْ مِنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ * وَلَدَ اللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ} [الصافات: 151، 152]، وقال: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ * اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} [التوبة: 30، 31]، أي أن وصفهم لله بالولد قول مجرد عن الحجة قالوه تقليدا لفعل الهنادك بكرشنا، والبوذيين ببوذا، وذلك بتزيين رؤسائهم الذين أطاعوهم فيما ينافي الإخلاص الذي جاءت به رسلهم وأنبياؤهم (2).

3 - بيان ما ترتب على فريتهم من مشاركة الرب في خالص حقه على عباده، وذلك بعبادة الأولاد المزعومين من دون الله، قال تعالى: {لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَاوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ}

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير 2/ 425.

(2) انظر: تفسير ابن كثير 2/ 348، تفسير السعدي 3/ 223، 224، العقائد الوثنية في الديانة النصرانية لمحمد التنير ص119 - 147.
দুনিয়াতে তাদের ঢিল দেওয়ার মাধ্যমে এবং সেখানে তাদের ভোগবিলাসের সময়কে সংক্ষিপ্ত করার মাধ্যমে, যতক্ষণ না তিনি তাদের আখিরাতে মহা শাস্তির দিকে ঠেলে দেন (১)।

২ - তাদের বক্তব্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা; কারণ এটি কোনো প্রমাণ ছাড়াই একটি দাবি এবং জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর নামে বলা একটি কথা। তারা এটি বিশ্বাস করেছে তাদের পূর্ববর্তী হিন্দু ও অন্যান্য কাফিরদের অনুকরণের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং সতর্ক করার জন্য তাদেরকে যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। তাদের মুখ থেকে বের হওয়া কথাটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলছে।} [আল-কাহফ: ৪, ৫], এবং তিনি বলেন: {জেনে রেখো, নিশ্চয় তারা তাদের মনগড়া মিথ্যা থেকেই বলে যে, আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নিশ্চয় তারা চরম মিথ্যাবাদী।} [আস-সাফফাত: ১৫১, ১৫২], এবং তিনি বলেন: {আর ইয়াহূদীরা বলে, উযায়ের আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে, মাসীহ আল্লাহর পুত্র। এগুলো তাদের মুখের কথা। তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের কথার অনুকরণ করে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কোথায় ফিরে যাচ্ছে! তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও দরবেশদের রবরূপে গ্রহণ করেছে।} [আত-তাওবাহ: ৩০, ৩১]। অর্থাৎ, আল্লাহর জন্য সন্তানের গুণ আরোপ করা হচ্ছে প্রমাণহীন একটি নিছক কথা, যা তারা হিন্দুদের কৃষ্ণের এবং বৌদ্ধদের বুদ্ধের অনুকরণের মাধ্যমে বলেছে। আর এটি হয়েছে তাদের সেইসব নেতাদের প্ররোচনার মাধ্যমে যাদের তারা এমন বিষয়ে অনুসরণ করেছে যা তাদের রাসূল ও নবীদের আনীত একনিষ্ঠতার পরিপন্থী (২)।

৩ - তাদের এই অপবাদের ফলে বান্দাদের ওপর রবের যে একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে তাতে অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করার যে পরিণাম সৃষ্টি হয়েছে তা বর্ণনা করা, আর তা হলো আল্লাহকে বাদ দিয়ে তথাকথিত সন্তানদের ইবাদত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে, আল্লাহই হচ্ছেন মাসীহ ইবনে মারইয়াম। অথচ মাসীহ বলেছিলেন, হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদেরও রব। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।}

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর ২/ ৪২৫।

(২) দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর ২/ ৩৪৮, তাফসীর আস-সাদী ৩/ ২২৩, ২২৪, মুহাম্মদ আত-তান্নীর রচিত ‘আল-আকাইদ আল-ওয়াসানিয়্যাহ ফিদ দিয়ানাহ আন-নাসরানিয়্যাহ’ পৃষ্ঠা ১১৯ - ১৪৭।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
[المائدة: 72]، وقال: {وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ} [الأنعام: 100]، أي أنهم عبدوا الملائكة من دون الله بناء على أنهم بنات الله وأمهاتهن سروات الجن، وأطلق على الملائكة اسم الجن لاجتنانهم واستتارهم عن الأعين. يقول ابن كثير: "ذكر الله عنهم في الملائكة ثلاثة أقوال في غاية الكفر والكذب: فأولا جعلوهم بنات الله، فجعلوا لله ولدا تعالى وتقدس، وجعلوا ذلك الولد أنثى، ثم عبدوهم من دون الله تعالى وتقدس، وكل منها كاف في التخليد في نار جهنم" (1).

4 - نفي الولد والحكم باستحالته، قال تعالى: {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا} [الإسراء: 111]، وقال: {مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ} [مريم: 35]، وقال: {وَمَا يَنْبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا} [مريم: 92].

وبراهين الاستحالة مبنية على منافاة الولد لما تفرد به الرب من المثل الأعلى، وهي على ثلاثة أنواع:

أ - ما بني على منافاة المثل الأعلى عموما، أي بما يشمل الكمال المطلق والنزاهة عن المثل، قال تعالى: {وَيَجْعَلُونَ لِلَّهِ الْبَنَاتِ سُبْحَانَهُ وَلَهُمْ مَا يَشْتَهُونَ * وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ * يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ * لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآَخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير 4/ 22، 23، وانظر: تفسير الطبري 5/ 7/296، 12/ 23/108، تفسير القرطبي 7/ 52، 53، روح المعاني للآلوسي 7/ 240، 241، تفسير السعدي 6/ 400.
[আল-মায়িদাহ: ৭২], এবং তিনি বলেছেন: {আর তারা জিনদের আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করেছে, অথচ তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তারা না জেনে তাঁর জন্য পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করেছে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।} [আল-আনআম: ১০০], অর্থাৎ তারা ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা মনে করে এবং তাদের মায়েদের জিনের অভিজাত শ্রেণি সাব্যস্ত করে আল্লাহর পরিবর্তে তাদের ইবাদত করত। আর ফেরেশতাদের 'জিন' নাম দেওয়া হয়েছে তাদের লুক্কায়িত থাকা এবং চোখের আড়ালে থাকার কারণে। ইবনে কাসীর বলেন: "আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে তাদের তিনটি অত্যন্ত কুফরি ও মিথ্যা বক্তব্য উল্লেখ করেছেন: প্রথমত তারা তাদের আল্লাহর কন্যা বানিয়েছে, ফলে তারা আল্লাহর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করেছে—যিনি পবিত্র ও মহীয়ান—এবং সেই সন্তানকে নারী সাব্যস্ত করেছে, অতঃপর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ইবাদত করেছে। আর এর প্রতিটিই জাহান্নামের আগুনে চিরকাল থাকার জন্য যথেষ্ট।" (১)।

৪ - সন্তানের অস্তিত্ব অস্বীকার এবং তা অসম্ভব হওয়ার বিধান। মহান আল্লাহ বলেন: {আর বলো, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি।} [আল-ইসরা: ১১১], এবং তিনি বলেন: {আল্লাহর জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করবেন।} [মারইয়াম: ৩৫], এবং তিনি বলেন: {আর পরম করুণাময়ের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করবেন।} [মারইয়াম: ৯২]।

আর অসম্ভাব্যতার প্রমাণসমূহ সন্তানের ধারণার সাথে রবের সেই অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের (মাছালুল আলা) বৈপরীত্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা তিন প্রকার:

ক - যা সাধারণভাবে শ্রেষ্ঠত্বের বৈপরীত্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, অর্থাৎ যা পরম পূর্ণতা এবং কোনো সদৃশ থাকা থেকে পবিত্রতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা আল্লাহর জন্য কন্যাদের সাব্যস্ত করে—তিনি পবিত্র—অথচ তারা নিজেদের জন্য তাই (পুত্র) চায় যা তারা পছন্দ করে। আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমন্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে; হীনতা সত্ত্বেও কি সে তাকে রেখে দেবে, নাকি তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না নিকৃষ্ট! যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের জন্যই রয়েছে নিকৃষ্ট উদাহরণ...

--------------------------------------------

(১) তাফসীর ইবনে কাসীর ৪/ ২২, ২৩, এবং দেখুন: তাফসীর তাবারী ৫/ ৭/২৯৬, ১২/ ২৩/১০৮, তাফসীর কুরতুবী ৭/ ৫২, ৫৩, রুহুল মাআনী (আলূসী) ৭/ ২৪০, ২৪১, তাফসীর সা’দী ৬/ ৪০০।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [النحل: 57 - 60]، فالتفرد بالمثل الأعلى يقتضي نزاهة الرب عن النقائص والنظراء، بما في ذلك الأولاد عامة، والأنثى خاصة، وهي التي تناقض المفترون في أمرها، فنزهوا عنها أنفسهم الجديرة بكل نقص، وأضافوها إلى ربهم المستحق لكل كمال!.

ب - ما بني على منافاة الكمال خاصة، قال تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ} [الإخلاص: 1 - 3]، وقال: {إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ} [النساء: 171]، وقال: {لَوْ أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا لَاصْطَفَى مِمَّا يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ سُبْحَانَهُ هُوَ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} [الزمر: 4]، وقال: {قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ هُوَ الْغَنِيُّ} [يونس: 68]، وقال ـ حكاية عن الجن ـ: {وَأَنَّهُ تَعَالَى جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا} [الجن: 3]، أي تعالت عظمته، فبني التنزيه عن الولد على منافاته لكمالات الرب التي تجمعها صمديته وعظمته، كالوحدانية والغنى والقهر، إذ الولد يبطل الوحدانية، وينافي الغنى لدلالته على القصور والاحتياج، ويبطل عموم القهر لما في العالم العلوي والسفلي، لأن الولد سيكون إلها قاهرا لا مقهورا! (1).

ج - ما بني على منافاة النزاهة عن المثل، قال تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلٌّ لَهُ قَانِتُونَ * بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [البقرة: 116 - 117]، وقال: {وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا

--------------------------------------------

(1) انظر: بدائع الفوائد لابن القيم 1/ 160، 168، تفسير السعدي 6/ 448، 489.
এবং আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ গুণাবলী এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [নাহল: ৫৭-৬০]। সর্বোচ্চ গুণাবলীতে একক হওয়া এই দাবি করে যে, প্রতিপালক ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সদৃশ থেকে পবিত্র হবেন; যার অন্তর্ভুক্ত হলো সাধারণভাবে সন্তান এবং বিশেষভাবে কন্যা সন্তান। অথচ মিথ্যাচারীরা এ বিষয়ে বৈপরীত্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা নিজেদেরকে এই কন্যা সন্তান থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছে—যারা নিজেরাই সকল ত্রুটির উপযুক্ত—অথচ তা সেই প্রতিপালকের সাথে যুক্ত করেছে যিনি সকল পূর্ণতার অধিকারী!

খ - যা বিশেষভাবে পূর্ণতার পরিপন্থী হওয়ার ভিত্তিতে (সন্তান গ্রহণকে অস্বীকার করা হয়েছে)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।" [ইখলাস: ১-৩], এবং তিনি বলেন: "নিশ্চয় আল্লাহ একমাত্র উপাস্য, তিনি সন্তান গ্রহণ থেকে পবিত্র।" [নিসা: ১৭১], এবং তিনি বলেন: "আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন, তবে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বেছে নিতেন। তিনি পবিত্র, তিনি আল্লাহ, একক, প্রবল প্রতাপশালী।" [যুমার: ৪], এবং তিনি বলেন: "তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র, তিনি অভাবমুক্ত।" [ইউনূস: ৬৮], এবং জিনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন: "এবং নিশ্চয় আমাদের প্রতিপালকের মহিমা সুউচ্চ, তিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি।" [জিন: ৩], অর্থাৎ তাঁর মহিমা সুউচ্চ। সুতরাং সন্তান গ্রহণ থেকে আল্লাহকে পবিত্র রাখার বিষয়টি প্রতিপালকের সেই সকল পূর্ণতার পরিপন্থী হওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত যা তাঁর অমুখাপেক্ষিতা ও মহত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত; যেমন একত্ববাদ, সচ্ছলতা ও প্রবল প্রতাপ। কেননা সন্তান গ্রহণ একত্ববাদকে বাতিল করে দেয় এবং তা সচ্ছলতা বা অমুখাপেক্ষিতার পরিপন্থী, যেহেতু এটি অসম্পূর্ণতা ও মুখাপেক্ষিতার প্রমাণ বহন করে। এছাড়া এটি ঊর্ধ্ব ও নিম্ন জগতের ওপর তাঁর সামগ্রিক প্রতাপকে ক্ষুণ্ণ করে, কারণ সন্তান হবে একজন পরাক্রমশালী উপাস্য, যাকে পরাভূত করা যায় না! (১)।

গ - যা সদৃশ হওয়ার পবিত্রতার পরিপন্থী হওয়ার ভিত্তিতে (সন্তান গ্রহণকে অস্বীকার করা হয়েছে)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র! বরং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং সবকিছুই তাঁর অনুগত। তিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা। যখন তিনি কোনো কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধু বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।" [বাকারা: ১১৬-১১৭], এবং তিনি বলেন: "তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুল কায়্যিম রচিত বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ ১/ ১৬০, ১৬৮; তাফসীরে সাদী ৬/ ৪৪৮, ৪৮৯।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ} [الأنبياء: 26]، وقال: {بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [الأنعام: 101]، فبني التنزيه عن الولد على استحالة أن يكون لرب العالم وخالقه مماثل من عباده المخلوقين المملوكين المحتاجين، لأن الولد يماثل أصله، ولا يكون إلا بين أصلين متماثلين، ولهذا أبطل أهل العلم بهذه النصوص حتى نظرية الفيض عند الفلاسفة. يقول ابن تيمية: "هؤلاء الآيات تضمنت إبطال ما كان يقوله مشركو العرب، وما يقوله أهل الكتاب، وما يقوله مشركو الصابئة وفلاسفتهم، الذين يقولون بتولد العقول والنفوس عنه، فقد بَيَّن سبحانه أنه مبدع السماوات والأرض، والإبداع خلق الشيء على غير مثال، بخلاف التولد الذي يقتضي تناسب الأصل والفرع وتجانسهما.

والإبداع خلق الشيء بمشيئة الخالق وقدرته مع استقلال الخالق به، وعدم وجود شريك له، والتولد لا يكون إلا بجزء من المولد بدون مشيئته وقدرته، ولا يكون إلا بانضمام أصل آخر إليه، قال تعالى: {أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ} [الأنعام: 101]، فبَيَّن بطلان كون الولد له من غير صاحبة، لأن التولد لا يكون إلا من أصلين، وليس في الموجودات ما يكون وحده مولدا لشيء، بل قد خلق الله من كل شيء زوجين، وهو سبحانه الفرد الذي لا زوج له" (1).

--------------------------------------------

(1) درء التعارض لابن تيمية 7/ 369 (بتصرف يسير)، وانظر: تفسير القرطبي 7/ 53، 54، تفسير ابن كثير 2/ 160، 570، تفسير السعدي 1/ 129، 130، 2/ 226، 326، 327، 345، 346، 5/ 139، 456.
“তিনি পবিত্র; বরং তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা” [আল-আম্বিয়া: ২৬], এবং তিনি বলেছেন: “তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা। তাঁর সন্তান হবে কীভাবে, যখন তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই? তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত” [আল-আন'আম: ১০১]। সুতরাং সন্তান গ্রহণ থেকে পবিত্রতা ঘোষণার ভিত্তি হলো—বিশ্বজগতের রব ও স্রষ্টার জন্য তাঁর সৃষ্টি করা, মালিকানাধীন এবং মুখাপেক্ষী বান্দাদের মধ্য থেকে কারো সদৃশ হওয়া অসম্ভব। কারণ সন্তান তার মূলের সদৃশ হয়ে থাকে এবং তা কেবল দুটি সদৃশ মূলের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। এ কারণেই আলেমগণ এই দলিলগুলোর মাধ্যমে এমনকি দার্শনিকদের নিঃসরণ তত্ত্বকেও (থিওরি অব ইমানেশন) বাতিল করে দিয়েছেন। ইবনে তাইমিয়য়াহ বলেন: “এই আয়াতগুলো আরবের মুশরিক, আহলে কিতাব এবং সাবিঈ মুশরিক ও তাদের দার্শনিকদের বক্তব্য বাতিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে, যারা তাঁর থেকে আকল (বুদ্ধিবৃত্তি) ও নফস (আত্মা) জন্মলাভ করার কথা বলে। মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি আসমানসমূহ ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা। আর অভিনব সৃষ্টি (ইবদা) হলো কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই কোনো কিছু সৃষ্টি করা, যা জন্মলাভের (তাওয়াল্লুদ) বিপরীত; কারণ জন্মলাভের ক্ষেত্রে মূল এবং শাখার মধ্যে সামঞ্জস্য ও সমজাতীয় হওয়া আবশ্যক।

আর অভিনব সৃষ্টি হলো স্রষ্টার ইচ্ছা ও ক্ষমতায় কোনো কিছু সৃষ্টি হওয়া যেখানে স্রষ্টা এতে স্বতন্ত্র এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। অন্যদিকে জন্মলাভের বিষয়টি জন্মদাতার একটি অংশের মাধ্যমে তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতা ব্যতিরেকেই ঘটে থাকে এবং এতে অন্য একটি মূলের সংযুক্তি অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তাঁর সন্তান হবে কীভাবে, যখন তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই?” [আল-আন'আম: ১০১]। এখানে সঙ্গিনী ছাড়া তাঁর সন্তান হওয়ার অসারতা বর্ণনা করা হয়েছে; কারণ জন্মলাভ কেবল দুটি মূল থেকে হয়ে থাকে। বিদ্যমান বস্তুসমূহের মধ্যে এমন কিছু নেই যা একা কোনো কিছুর জন্ম দিতে পারে, বরং আল্লাহ প্রতিটি জিনিস জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি মহান সত্তা একক, যাঁর কোনো জোড়া নেই” (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহর দারউ তাআরুদ ৭/৩৬৯ (সামান্য পরিমার্জিত), আরও দেখুন: তাফসিরে কুরতুবি ৭/৫৩, ৫৪; তাফসিরে ইবনে কাসির ২/১৬০, ৫৭০; তাফসিরে সাদি ১/১২৯, ১৩০, ২/২২৬, ৩২৬, ৩২৭, ৩৪৫, ৩৪৬, ৫/১৩৯, ৪৫৬।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌رابعا: التنزيه عن السلب المحض:

ثبوت المثل الأعلى أو الكمال المطلق يعني اتصاف الرب بالصفات الوجودية دون الصفات السلبية المحضة، لأنها عدم محض، والعدم ليس بشيء فضلا عن أن يكون كمالا، ولأنها تكون صفة لما لا كمال فيه، كالمعدوم والممتنع، ولهذا كانت صفات الكمال الثابتة بنصوص القرآن والسنة تدل صراحة أو تضمنا على معان وجودية سواء كانت صفات ثبوتية أو سلبية (1).

فالصفات الوجودية تعم كل ما دل صراحة على ثبوت كمال وجودي، فيدخل في ذلك الصفات الذاتية، كالوجه واليدين، والصفات الاختيارية سواء كانت فعلا أو قولا أو حالا أو إدراكا، كالاستواء والنداء والرضا والبصر (2). قال تعالى: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ} [الرحمن: 27]، وقال: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75]، وقال: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5]، وقال: {وَنَادَيْنَاهُ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ} [مريم: 52]، وقال: {رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [المائدة: 119]، وقال: {إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} [طه: 46].

والصفات السلبية تعم كل ما دل صراحة على نفي نقص متصل أو منفصل، ودل تضمنا على ثبوت كمال وجودي، كقوله تعالى: {لَا تَاخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} [البقرة: 255]، فصرح بانتفاء السنة والنوم، وذلك يتضمن إثبات كمال الحياة والقيام، وقوله: {لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ} [سبأ: 3]، فنفى العزوب لكمال العلم، وقوله: {وَمَا

--------------------------------------------

(1) انظر: الرسالة التدمرية لابن تيمية ص75 - 60.

(2) انظر: درء التعارض 4/ 23.
চতুর্থত: কেবল নেতিবাচকতা থেকে পবিত্রতা:

সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত বা পরম পূর্ণতা সাব্যস্ত করার অর্থ হলো রবের গুণাবলিকে অস্তিত্ববাচক গুণাবলির মাধ্যমে বিশেষিত করা, কেবল নেতিবাচক গুণাবলির মাধ্যমে নয়। কারণ নেতিবাচকতা হলো নিছক অনস্তিত্ব, আর অনস্তিত্ব কোনো কিছুই নয়, পূর্ণতা হওয়া তো দূরের কথা। এছাড়া নেতিবাচকতা এমন বিষয়ের গুণ হয় যাতে কোনো পূর্ণতা নেই, যেমন অস্তিত্বহীন বা অসম্ভব বিষয়। এজন্যই কুরআন ও সুন্নাহর নস (দলিল) দ্বারা সাব্যস্ত পূর্ণতার গুণাবলি স্পষ্টভাবে বা পরোক্ষভাবে অস্তিত্ববাচক অর্থ প্রকাশ করে, তা ইতিবাচক গুণ হোক বা নেতিবাচক গুণ (১)।

অস্তিত্ববাচক গুণাবলি এমন প্রতিটি বিষয়কে শামিল করে যা স্পষ্টভাবে কোনো অস্তিত্বশীল পূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সত্তাগত গুণাবলি, যেমন আল্লাহর মুখমণ্ডল ও আল্লাহর দুই হাত। এছাড়া ঐচ্ছিক গুণাবলিও এর অন্তর্ভুক্ত, চাই তা কাজ, কথা, অবস্থা বা উপলব্ধি হোক, যেমন আরশের উপর উঠা, আহ্বান করা, সন্তুষ্টি এবং দেখা (২)। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনার রবের মুখমণ্ডল অবশিষ্ট থাকবে, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব" [আর-রহমান: ২৭]। তিনি আরও বলেন: "আমি যাকে আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?" [সোয়াদ: ৭৫]। তিনি বলেন: "রহমান আরশের উপর উঠেছেন" [ত্বহা: ৫]। তিনি বলেন: "আমি তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে ডাকলাম" [মারইয়াম: ৫২]। তিনি বলেন: "আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে" [আল-মায়িদাহ: ১১৯]। তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি এবং দেখি" [ত্বহা: ৪৬]।

আর নেতিবাচক গুণাবলি এমন প্রতিটি বিষয়কে শামিল করে যা স্পষ্টভাবে কোনো সংযুক্ত বা বিযুক্ত ত্রুটিকে অস্বীকার করে এবং পরোক্ষভাবে কোনো অস্তিত্বশীল পূর্ণতাকে সাব্যস্ত করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না" [আল-বাকারা: ২৫৫]। এখানে তিনি স্পষ্টভাবে তন্দ্রা ও নিদ্রার অনুপস্থিতি ঘোষণা করেছেন, যা জীবনের পূর্ণতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁর বাণী: "অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে থাকে না" [সাবা: ৩]। এখানে জ্ঞানের পূর্ণতার কারণে অগোচরে থাকাকে অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর বাণী: "এবং না...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬০-৭৫।

(২) দেখুন: দারউত তাআরুদ ৪/২৩।
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল মাসালিল আলা ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৩৩)
مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ق: 38]، نفي التعب لكمال القدرة ونهاية القوة، وقوله: {لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ} [الأنعام: 103]، نفى الإدراك ـ أي الإحاطة ـ لكمال العظمة، بحيث لا يحاط به إذا رئي، وقوله: {وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا} [الكهف: 49]، نفى الظلم لاتصافه بكمال العدل، وقوله: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعْجِزَهُ مِنْ شَيْءٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ إِنَّهُ كَانَ عَلِيمًا قَدِيرًا} [فاطر: 44]، نفى العجز لما ذَيَّل به الآية من كمال العلم والقدرة.

وكذلك النقائص المنفصلة فإن نفيها دليل على كمالات وجودية، كقوله تعالى: {وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ} [سبأ: 22]، وقوله: {أَنَّى يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُنْ لَهُ صَاحِبَةٌ} [الأنعام: 101]، نفى الشريك والظهير والولد والصاحبة لكمال غناه وقهره وملكه، وكقوله: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 4]، وقوله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11]، نفى الكفء والمثل لتفرده بصفات الكمال المطلق (1).

أما الصفات السلبية المحضة التي درج المتكلمون على ذكرها مفصلة في كتبهم الكلامية (2) فإنها لا تدل على الكمال أصلا، فضلا أن تحقق ما يفيده المثل الأعلى من الكمال المطلق، ولهذا قال القاضي علي بن علي بن أبي العز الحنفي: "النفي المجرد مع كونه لا مدح فيه، فيه إساءة أدب، فإنك لو قلت للسلطان: أنت لست بزبال ولا كساح ولا حجام ولا حائك لأدَّبك على هذا الوصف وإن

--------------------------------------------

(1) انظر: الرسالة التدمرية لابن تيمية ص58، 59، الصواعق المرسلة لابن القيم 3/ 1021 - 1025، شرح النونية لأحمد بن عيسى 2/ 210 - 214.

(2) انظر: مقالات الإسلاميين للأشعري ص155 - 156، شرح النسفية للتفتازاني 1/ 94 - 100، شرح الجوهرة للبيجوري ص95 - 99.
"...কোনো ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করেনি" [ক্বাফ: ৩৮], এখানে পূর্ণ সক্ষমতা এবং চূড়ান্ত শক্তির কারণে ক্লান্তিকে অস্বীকার করা হয়েছে। এবং তাঁর বাণী: "দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না" [আল-আন'আম: ১০৩], এখানে তাঁর মহানত্বের পূর্ণতার কারণে পরিবেষ্টন—অর্থাৎ আয়ত্ত করাকে—অস্বীকার করা হয়েছে, যাতে তাঁকে দেখা গেলেও আয়ত্ত করা না যায়। এবং তাঁর বাণী: "আর আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করেন না" [আল-কাহফ: ৪৯], এখানে পূর্ণ ইনসাফ গুণের কারণে জুলুমকে অস্বীকার করা হয়েছে। এবং তাঁর বাণী: "আর আল্লাহ এমন নন যে, আসমান ও যমীনের কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে; নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান" [ফাতির: ৪৪], এখানে আয়াতের শেষে উল্লিখিত পূর্ণ জ্ঞান ও সক্ষমতার কারণে অক্ষমতাকে অস্বীকার করা হয়েছে।

একইভাবে বাহ্যিক অসম্পূর্ণতাসমূহ অস্বীকার করাও অস্তিত্বশীল পূর্ণতার প্রমাণ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং আসমান ও যমীনের কোনো কিছুতেই তাদের কোনো অংশীদার নেই এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহর কোনো সাহায্যকারীও নেই" [সাবা: ২২]। এবং তাঁর বাণী: "কীভাবে তাঁর সন্তান হতে পারে অথচ তাঁর কোনো স্ত্রী নেই" [আল-আন'আম: ১০১], এখানে অংশীদার, সাহায্যকারী, সন্তান এবং স্ত্রীর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে তাঁর পূর্ণ অমুখাপেক্ষিতা, পরাক্রম এবং রাজত্বের কারণে। এবং যেমন তাঁর বাণী: "এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই" [আল-ইখলাস: ৪], এবং তাঁর বাণী: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়" [আশ-শুরা: ১১], এখানে সমকক্ষ এবং সদৃশ হওয়াকে অস্বীকার করা হয়েছে তাঁর একক সত্তার জন্য নিরঙ্কুশ পূর্ণতার গুণাবলি সাব্যস্ত থাকার কারণে (১)।

আর নিছক নেতিবাচক গুণাবলি, যা ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণ তাদের কালাম শাস্ত্রীয় কিতাবসমূহে (২) বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করার নীতি অবলম্বন করেছেন, তা মোটেও পূর্ণতা প্রকাশ করে না; বরং তা নিরঙ্কুশ পূর্ণতার সেই উচ্চমানও সাব্যস্ত করে না যা 'মাসালুল আলা' প্রদান করে। এই কারণেই কাজী আলী বিন আলী বিন আবিল ইয আল-হানাফী বলেছেন: "শুধুমাত্র নেতিবাচক বর্ণনার মধ্যে কোনো প্রশংসা না থাকার পাশাপাশি এতে শিষ্টাচারেরও অভাব রয়েছে। কেননা আপনি যদি কোনো রাজাকে বলেন: আপনি ঝাড়ুদার নন, ময়লা পরিষ্কারকারী নন, সিঙা লাগানেওয়ালা নন কিংবা তাঁতি নন—তবে এই বর্ণনার জন্য তিনি আপনাকে শাস্তি দেবেন যদিও...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে তাইমিয়ার আল-রিসালা আল-তাদমুরিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৫৮, ৫৯; ইবনুল কাইয়্যিমের আল-সাওয়ায়িক আল-মুরসালাহ ৩/ ১০২১ - ১০২৫; আহমাদ বিন ঈসার শারহুন নুনিয়্যাহ ২/ ২১০ - ২১৪।

(২) দেখুন: আশআরীর মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন পৃষ্ঠা ১৫৫ - ১৫৬; তাফতাযানীর শারহুন নাসাফিয়্যাহ ১/ ৯৪ - ১০০; বাইজুরীর শারহুল জাওহারাহ পৃষ্ঠা ৯৫ - ৯৯।