(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ثقة المسلم بالله تعالى في ضوء الكتاب والسنة القسم: العقيدة
الكتاب: ثقة المسلم بالله تعالى في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: محمد بن إبراهيم بن سليمان الرومي
الناشر: دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1434 هـ - 2013 م
عدد الصفحات: 151
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1436
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আল্লাহ তাআলার ওপর মুসলিমের আস্থা বিভাগ: আক্বিদা
বই: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আল্লাহ তাআলার ওপর মুসলিমের আস্থা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন সুলাইমান আল-রুমি
প্রকাশক: দার কুনুজে ইশবিলিয়া প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরা ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ثِقَة الْمُسلم بِاللَّه تَعَالَى فِي ضوء الْكتاب وَالسّنة
تأليف
أ. د. مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن سُلَيْمَان الرُّومِي
الْأُسْتَاذ بكلية التربية - جَامِعَة الْملك سعود
دَار كنوز إشبيليا
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মহান আল্লাহর প্রতি মুমিনের আস্থা
গ্রন্থনায়
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সুলাইমান আল-রুমি
অধ্যাপক, শিক্ষা অনুষদ - কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়
দার কুনূজ ইশবিলিয়া
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلن تجد له وليًّا مرشدًا، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله خير النبيين وسيد المرسلين، اللهم صل وسلم وبارك عليه، وعلى من اتبعه واقتفى أثره إلى يوم الدين وبعد:
فإن الثقة بالله تعالى، والاعتماد عليه في جلب المنافع ودفع المضار، وحصول الأرزاق وحصول النصر على الأعداء، وشفاء المرضى وغير ذلك من أهم المهمات وأوجب الواجبات، ومن صفات المؤمنين، ومن شروط الإيمان، ومن أسباب قوة القلب ونشاطه، وطمأنينة النفس وسكينتها وراحتها، ومن أسباب الرزق، والثقة بالله وبكفايته لعبده، هو من أهم عناصر عقيدة المسلم الصحيحة في الله تعالى.
وهذه الثقة بالله تعالى التي يتمثلها المسلم في حياته في علاقته بربه سبحانه وتعالى، لا يفهم منها أنها مجرد كلمة تلوكها الألسن، ولا تعيها القلوب، وتتحرك بها الشفاه، ولا تفهمها العقول، أو تترواها الأفكار، أو هو نبذ الأسباب، وترك العمل، والقنوع بالرضا بالهون والدون تحت شعار الثقة بالله تعالى، والرضا بما تجري به الأقدار، بل إن المسلم يفهم الثقة بالله أنها جزء من إيمانه وعقيدته، وأنها طاعة لله بإحضار كافة الأسباب المطلوبة لأي عمل من الأعمال التي يريد مزاولتها والدخول فيها، فلا يطمع في ثمرة بدون أن يقدم أسبابها، ولا يرجو نتيجة ما بدون أن يضع مقدمتها، غير أن موضوع إثمار تلك الأسباب، وإنتاج تلك المقدمات يفوضه إلى الله سبحانه وتعالى إذ هو القادر عليه دون سواه.
وثقة المسلم بالله تعالى تشمل كل جوانب حياته، وكل صغيرة وكبيرة يجعل المسلم ثقته بالله تعالى أمام عينيه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য আপনি কোনো সাহায্যকারী পথপ্রদর্শক পাবেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং রাসুলদের সর্দার। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসরণ করবে ও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার ওপর আস্থা রাখা এবং কল্যাণ অর্জন ও ক্ষতি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে, রিজিক লাভ ও শত্রুর ওপর বিজয় অর্জন এবং অসুস্থদের আরোগ্য লাভসহ অন্যান্য বিষয়ে তাঁর ওপর নির্ভর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও আবশ্যিক কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি মুমিনদের অন্যতম গুণ এবং ঈমানের অন্যতম শর্ত। এটি হৃদয়ের শক্তি ও সক্রিয়তা এবং নফসের প্রশান্তি ও স্বস্তির অন্যতম কারণ। এটি রিজিক লাভের অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং বান্দার জন্য তাঁর পর্যাপ্ততার ওপর বিশ্বাস রাখা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে একজন মুসলিমের সঠিক আকিদার অন্যতম প্রধান উপাদান।
আল্লাহ তাআলার ওপর এই আস্থা, যা একজন মুসলিম তার রবের (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার জীবনে ধারণ করে, তার অর্থ এই নয় যে এটি কেবল জিহ্বায় উচ্চারিত সামান্য কিছু শব্দ যা অন্তর অনুধাবন করে না, কিংবা কেবল ঠোঁটের নড়াচড়া যা মস্তিষ্ক বোঝে না বা চিন্তা লালন করে না। অথবা এর অর্থ উপায়-উপকরণ (আসবাব) বর্জন করা, কাজ ত্যাগ করা এবং ‘আল্লাহর ওপর আস্থা’ ও ‘তকদিরে যা আছে তাতে সন্তুষ্টির’ দোহাই দিয়ে হীনম্মন্যতা ও তুচ্ছতায় তুষ্ট থাকা নয়। বরং একজন মুসলিম বোঝে যে, আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা তার ঈমান ও আকিদার অংশ। আর এটি আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত যে, সে যেকোনো কাজ শুরু করার আগে তার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উপায়-উপকরণ গ্রহণ করবে। সুতরাং সে উপকরণ (সবব) ছাড়া ফলের আশা করবে না এবং কোনো ভূমিকা বা প্রস্তুতি ছাড়া ফলাফলের প্রত্যাশা করবে না। তবে সেই উপকরণগুলোর ফলপ্রসূ হওয়া এবং সেই ভূমিকার ফলাফল নিশ্চিত করার বিষয়টি সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর ন্যস্ত করে, কারণ একমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউ তাতে সক্ষম নন।
আল্লাহ তাআলার প্রতি মুসলিমের এই আস্থা তার জীবনের সকল দিককে পরিব্যপ্ত করে এবং প্রতিটি ছোট-বড় বিষয়ে মুসলিম আল্লাহ তাআলার ওপর আস্থাকে তার চোখের সামনে রাখে।
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وهذا البحث قد حاولت فيه أن أغطي الجوانب المختلفة لثقة المسلم بالله تعالى، وعلى هذا فقد جاء في مقدمة وتمهيد وستة مباحث وخاتمة:
تمهيد: أهمية الثقة بالله تعالى في حياة المسلم.
المبحث الأول: ثقة المسلم بالله تعالى في استجابة الدعاء.
المبحث الثاني: ثقة المسلم بالله تعالى في تفريج الكربات.
المبحث الثالث: ثقة المسلم بالله تعالى في التكفل بالرزق.
المبحث الرابع: ثقة المسلم بالله تعالى في الدعوة إلى الله.
المبحث الخامس: ثقة المسلم بالله تعالى في النصر على الأعداء.
المبحث السادس: ثقة المسلم بالله تعالى في إنفاذ وعده سبحانه.
وقد حرصت في بيان ذلك أن أعتمد على نصوص القرآن الكريم والسنة النبوية الصحيحة، وأقوال العلماء وشروحهم، وما أثر عن السلف الصالح رحمهم الله تعالى.
وما كان من صواب فمن الله، وما كان من نقص أو تقصير فمني، ومن الشيطان واستغفر الله.
وصل الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم
এই গবেষণায় আমি মহান আল্লাহর ওপর মুমিনের আস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। সেই অনুযায়ী এটি একটি ভূমিকা, উপক্রমণিকা, ছয়টি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত হয়েছে:
উপক্রমণিকা: মুমিনের জীবনে মহান আল্লাহর ওপর আস্থার গুরুত্ব।
প্রথম পরিচ্ছেদ: দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর মুমিনের আস্থা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিপদ-আপদ দূরীকরণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর মুমিনের আস্থা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রিজিকের জিম্মাদারির ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর মুমিনের আস্থা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর মুমিনের আস্থা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর মুমিনের আস্থা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর ওয়াদা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর মুমিনের আস্থা।
এই বিষয়গুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি পবিত্র কুরআনের আয়াত, সহিহ সুন্নাহ, আলেমগণের বক্তব্য ও তাঁদের ব্যাখ্যা এবং সালাফে সালেহীনের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) বর্ণিত আছারের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করেছি।
এতে যা কিছু সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল বা ত্রুটি তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيدأهمية الثقة بالله تعالى في حياة المسلم
إن الله عز وجل خلق الله الخلق جميعًا لغاية واحدة؛ لعبادته وحده لا شريك له قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (1).
قال الشيخ السعدي رحمه الله: «هذه الغاية، التي خلق الله الجن والإنس لها، وبعث جميع الرسل يدعون إليها، وهي عبادته، المتضمنة لمعرفته ومحبته، والإنابة إليه والإقبال عليه، والإعراض عما سواه، وذلك يتضمن معرفة الله تعالى، فإن تمام العبادة، متوقف على المعرفة بالله، بل كلما ازداد العبد معرفةً لربه، كانت عبادته أكمل، فهذا الذي خلق الله المكلفين لأجله، فما خلقهم لحاجة منه إليهم» (2).
وقد بين لهم سبحانه وتعالى كيفية العبادة، ووضَّح لهم صفتها، وفصَّل لهم أنواعها، فثمة عبادات ظاهرة بالجوارح؛ كالصلاة والصيام، وما إلى ذلك، وعبادات باطنة قلبية كالخوف منه، والتوكل عليه، والرضا به، وما أشبه ذلك، ومن هذه العبادات القلبية التي تعبد الله بها عبادة: الثقة به، وصدق الاعتماد عليه، وحسن التوكل عليه، وتفويض الأمور إليه ..
والثقة بالله صفة من صفات الأنبياء؛ فخليل الرحمن إبراهيم عليه السلام حينما ألقي في النار كان على ثقة عظيمة بالله؛ فكفاه الله شر ما أرادوا به من كيد، وحفظه من أن تصيبه النار بسوء، قال تعالى: {قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانْصُرُوا آَلِهَتَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ فَاعِلِينَ * قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ * وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا
--------------------------------------------
ভূমিকাএকজন মুসলিমের জীবনে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থার গুরুত্ব
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সকল সৃষ্টিকে একটিমাত্র উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন; তা হলো কেবল তাঁরই ইবাদত করা, যার কোনো শরিক নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} (১)।
শায়খ আস-সাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «এটিই সেই উদ্দেশ্য, যার জন্য আল্লাহ জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং সকল রাসূলকে এর প্রতি আহ্বান জানাতে পাঠিয়েছেন। আর তা হলো তাঁর ইবাদত করা, যা তাঁর পরিচয় লাভ, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন, তাঁর অভিমুখী হওয়া এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি মহান আল্লাহর পরিচয় লাভকেও অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা ইবাদতের পূর্ণতা আল্লাহর পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল। বরং বান্দা তার রব সম্পর্কে যতই জ্ঞান অর্জন করবে, তার ইবাদত ততই নিখুঁত হবে। এই উদ্দেশেই আল্লাহ দায়বদ্ধ সৃষ্টিদের সৃষ্টি করেছেন, তাদের প্রতি কোনো প্রয়োজনের কারণে তিনি তাদের সৃষ্টি করেননি» (২)।
মহান আল্লাহ তাদের জন্য ইবাদতের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন, এর স্বরূপ স্পষ্ট করেছেন এবং এর প্রকারভেদ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে পালনীয় কিছু প্রকাশ্য ইবাদত রয়েছে; যেমন: সালাত ও সিয়াম এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। আবার কিছু অভ্যন্তরীণ ও কাল্বী (হৃদয়ঘটিত) ইবাদত রয়েছে; যেমন: তাঁকে ভয় করা, তাঁর ওপর ভরসা করা, তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এসব কাল্বী ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা, তাঁর ওপর নির্ভরতার ক্ষেত্রে সত্যবাদী হওয়া, তাঁর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করা এবং তাঁর নিকট সকল বিষয় সোপর্দ করা...
আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা নবীগণের অন্যতম গুণ। খলিলুর রহমান ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে যখন আগুনের কুণ্ডলীতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন আল্লাহর প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা ছিল। ফলে আল্লাহ তাঁকে শত্রুদের চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং আগুন যেন তাঁর কোনো ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যবস্থা করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা বলল, তাকে পুড়িয়ে দাও এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য করো, যদি তোমরা কিছু করতে চাও। আমি বললাম, হে আগুন! তুমি ইবরাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও। তারা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে চেয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ} (1).
ونبينا محمد صلى الله عليه وسلم كان على ثقة كاملة بالله تعالى ولا أدل على ذلك ما كان في هجرته صلى الله عليه وسلم من مكة إلى المدينة واختبائه بغار حراء، ومع قرب المشركين منه صلى الله عليه وسلم يثق أن الله سينجيه منهم ويقول لأبي بكر رضي الله عنه: ما ظنك باثنين الله ثالثهما.
فعن أنس بن مالك رضي الله عنه أن أبا بكر الصديق رضي الله عنه حدثه قال: «نظرت إلى أقدام المشركين على رؤوسنا ونحن في الغار فقلت يا رسول الله لو أن أحدهم نظر إلى قدميه أبصرنا تحت قدميه فقال يا أبا بكر ما ظنك باثنين الله ثالثهما» (2).
وقد نص الله تعالى على ذلك إذ قال سبحانه وتعالى: {إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (3).
والثقة أيضاً صفة من صفات الأولياء الصادقين؛ قال يحيى بن معاذ رحمه الله: «ثلاث خصال من صفة الأولياء: الثقة بالله في كل شيء، والغنى به عن كل شيء، والرجوع إليه من كل شيء» (4).
--------------------------------------------
অতঃপর আমি তাদেরকে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করলাম (১)।
আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থাশীল ছিলেন। মক্কা থেকে মদীনায় তাঁর হিজরত এবং হেরা গুহায় আত্মগোপন করার ঘটনা এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ হতে পারে না; মুশরিকরা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এতো নিকটে থাকা সত্ত্বেও তিনি আস্থাশীল ছিলেন যে আল্লাহ তাঁকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করবেন। তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতেন: ঐ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারণা কী যাদের তৃতীয় জন আল্লাহ।
আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি মুশরিকদের পায়ের দিকে তাকালাম যখন তারা আমাদের মাথার ওপর ছিল এবং আমরা গুহায় ছিলাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি তাদের কেউ নিজের পায়ের দিকে তাকায়, তবে সে তার পায়ের নিচে আমাদের দেখে ফেলবে। তখন তিনি বললেন, হে আবু বকর! ঐ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারণা কী যাদের তৃতীয় জন আল্লাহ» (২)।
মহান আল্লাহ এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে বলেছেন: {যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তো তাকে সাহায্য করেছিলেন যখন কাফিররা তাকে বের করে দিয়েছিল, সে ছিল দুজনের দ্বিতীয় জন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল; যখন সে তার সঙ্গীকে বলছিল, বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর প্রশান্তি তার ওপর বর্ষণ করলেন এবং তাকে এমন এক বাহিনী দ্বারা শক্তিশালী করলেন যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি কাফিরদের বাক্যকে নিচু করে দিলেন আর আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (৩)।
আস্থা ও নির্ভরতা সত্যনিষ্ঠ অলিদেরও একটি গুণ; ইয়াহইয়া ইবনে মুয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: «অলিদের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে তিনটি গুণ রয়েছে: সব বিষয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা, সব কিছু থেকে বিমুখ হয়ে তাঁর মাধ্যমেই অভাবমুক্ত থাকা এবং সব বিষয়ে তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করা» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهي كذلك صفة من صفات العباد الزهاد، فقد جاء رجل إلى حاتم الأصم رحمه الله فقال: يا أبا عبد الرحمن أي شيء رأس الزهد ووسط الزهد وآخر الزهد؟ فقال: «رأس الزهد الثقة بالله ووسطه الصبر وآخره الإخلاص» (1). وقال حاتم رحمه الله أيضاً: «وأنا أدعو الناس إلى ثلاثة أشياء: إلى المعرفة وإلى الثقة وإلى التوكل؛ فأما معرفة القضاء فأن تعلم أن القضاء عدل منه، فإذا علمت أن ذلك عدل منه فإنه لا ينبغي لك أن تشكو إلى الناس أو تهتم أو تسخط، ولكنه ينبغي لك أن ترضى وتصبر. وأما الثقة فالإياس من المخلوقين، وعلامة الإياس أن ترفع القضاء من المخلوقين، فإذا رفعت القضاء منهم استرحت منهم واستراحوا منك، وإذا لم ترفع القضاء منهم فإنه لا بد لك أن تتزين لهم وتتصنع لهم، فإذا فعلت ذلك فقد وقعت في أمر عظيم، وقد وقعوا في أمر عظيم وتصنع، فإذا وضعت عليهم الموت فقد رحمتهم وأيست منهم. وأما التوكل فطمأنينة القلب بموعود الله تعالى فإذا كنت مطمئناً بالموعود استغنيت غنى لا تفتقر أبدًا» (2) والثقة بالله تجعل العبد راضيًا بالله، يائسًا مما في أيدي الناس.
قال حاتم الأصم رحمه الله: «من أصبح وهو مستقيم في أربعة أشياء فهو يتقلب في رضا الله: أولها الثقة بالله، ثم التوكل، ثم الإخلاص، ثم المعرفة، والأشياء كلها تتم بالمعرفة» (3).
وقيل لأبي حازم رحمه الله: «يا أبا حازم ما مالك؟ قال: (ثقتي بالله تعالى، وإياسي مما في أيدي الناس» (4).
--------------------------------------------
এটি একইভাবে আবিদ ও যুহদ অবলম্বনকারীদের (তাপসদের) একটি বৈশিষ্ট্য। জনৈক ব্যক্তি হাতেম আল-আসাম রহমাতুল্লাহি আলাইহির নিকট এসে বললেন: হে আবু আব্দুর রহমান, যুহদের শুরু কী, মধ্যভাগ কী এবং শেষ কী? তিনি বললেন: «যুহদের শুরু হলো আল্লাহর ওপর আস্থা, মধ্যভাগ হলো ধৈর্য এবং শেষ হলো নিষ্ঠা» (১)। হাতেম রহমাতুল্লাহি আলাইহি আরও বলেছেন: «আমি মানুষকে তিনটি জিনিসের দিকে আহ্বান করি: মারেফাত (পরিচয়), আস্থা এবং তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা); তাকদিরের মারেফাত হলো এটি জানা যে, ফয়সালা তাঁর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার। সুতরাং যখন তুমি জানতে পারবে যে এটি তাঁর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার, তখন তোমার জন্য মানুষের কাছে অভিযোগ করা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা অসন্তুষ্ট হওয়া সমীচীন নয়, বরং তোমার জন্য আবশ্যক হলো সন্তুষ্ট থাকা এবং ধৈর্য ধারণ করা। আর আস্থা হলো সৃষ্টির প্রতি নিরাশ হওয়া (আশা ত্যাগ করা), আর নিরাশ হওয়ার লক্ষণ হলো মাখলুকের নিকট থেকে কোনো ফয়সালা বা প্রাপ্তির আশা তুলে নেওয়া। যখন তুমি তাদের থেকে ফয়সালা পাওয়ার আশা তুলে নিবে, তখন তুমি তাদের থেকে শান্তিতে থাকবে এবং তারাও তোমার থেকে শান্তিতে থাকবে। আর যদি তুমি তাদের থেকে ফয়সালা পাওয়ার আশা না ছাড়ো, তবে তুমি অবশ্যই তাদের সামনে নিজেকে সজ্জিত করতে ও কৃত্রিমতা প্রদর্শন করতে বাধ্য হবে। যখন তুমি এটি করবে, তখন তুমি এক মহা সংকটে নিপতিত হবে এবং তারাও এক মহা সংকট ও কৃত্রিমতায় নিপতিত হবে। কিন্তু যখন তুমি তাদের ওপর মৃত্যু অবধারিত জানবে, তখন তুমি তাদের প্রতি দয়া করবে এবং তাদের প্রতি নিরাশ হবে। আর তাওয়াক্কুল হলো মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর অন্তরের প্রশান্তি লাভ করা। যখন তুমি তাঁর প্রতিশ্রুতির ওপর প্রশান্ত থাকবে, তখন তুমি এমন সচ্ছলতা লাভ করবে যে আর কখনো অভাবী হবে না» (২)। আর আল্লাহর ওপর আস্থা বান্দাকে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট করে এবং মানুষের হাতে যা আছে তা থেকে বিমুখ করে।
হাতেম আল-আসাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: «যে ব্যক্তি সকালে এই অবস্থায় উপনীত হলো যে সে চারটি বিষয়ে অবিচল, সে আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে বিচরণ করছে: তার প্রথমটি হলো আল্লাহর ওপর আস্থা, এরপর তাওয়াক্কুল, এরপর নিষ্ঠা (ইখলাস), এরপর মারেফাত; আর সকল বিষয়ই মারেফাতের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়» (৩)।
আবু হাজিম রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞেস করা হলো: «হে আবু হাজিম, আপনার সম্পদ কী? তিনি বললেন: মহান আল্লাহর ওপর আমার আস্থা এবং মানুষের হাতে যা আছে তা থেকে আমার নিরাশা (অনির্ভরতা)» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن وثق بالله نجاه الله من كل كرب أهمه.
قال أبو العالية رحمه الله: (إن الله - تعالى - قضى على نفسه أن من آمن به هداه، وتصديق ذلك في كتاب الله: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} (1). ومن توكل عليه كفاه، وتصديق ذلك في كتاب الله: {وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا} (2) ومن أقرضه جازاه، وتصديق ذلك في كتاب الله: {مَنْ ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً وَاللَّهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} (3) ومن استجار من عذابه أجاره، وتصديق ذلك في كتاب الله: {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آَيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} (4) والاعتصام الثقة بالله، ومن دعاه أجابه، وتصديق ذلك في كتاب الله: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} (5) فكن واثقًا بالله، متوكلًا عليه، معتصمًا به) (6).
ومن تحلى بالثقة بالله فقد فاز بالجنة؛ قال شقيق البلخي رحمه الله: «من عمل
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর আস্থা রাখে, আল্লাহ তাকে তার দুশ্চিন্তার প্রতিটি বিপদ থেকে মুক্তি দেন।
আবু আল-আলিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নিজের ওপর ফয়সালা করেছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান আনবে তিনি তাকে হিদায়াত দান করবেন; আর আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতা হলো: {আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হিদায়াত দান করেন। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} (১)। আর যে ব্যক্তি তাঁর ওপর ভরসা করবে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হবেন; আর আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতা হলো: {আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর আদেশ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন} (২)। আর যে ব্যক্তি তাঁকে ঋণ প্রদান করবে তিনি তাকে প্রতিদান দেবেন; আর আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতা হলো: {এমন কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে? তাহলে তিনি তার জন্য তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন। আর আল্লাহই সংকুচিত করেন ও প্রশস্ত করেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে} (৩)। আর যে ব্যক্তি তাঁর আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে তিনি তাকে আশ্রয় দেবেন; আর আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতা হলো: {তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই নিয়ামতকে স্মরণ করো যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারে, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে উদ্ধার করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলি বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও} (৪)। আর 'আইতিসাম' (আঁকড়ে ধরা) হলো আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা। আর যে ব্যক্তি তাঁকে ডাকবে তিনি তার ডাকে সাড়া দেবেন; আর আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতা হলো: {আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তবে আমি তো নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়} (৫)। অতএব তুমি আল্লাহর ওপর আস্থাশীল হও, তাঁর ওপর ভরসা করো এবং তাঁকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো) (৬)।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর আস্থার মাধ্যমে নিজেকে সজ্জিত করেছে সে জান্নাত লাভের মাধ্যমে সফল হয়েছে। শাকীক আল-বলখী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «যে ব্যক্তি আমল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بثلاث خصال أعطاه الله الجنة: أولها: معرفة الله عز وجل بقلبه ولسانه وسمعه وجميع جوارحه، والثاني: أن يكون بما في يد الله أوثق مما في يديه، والثالث: يرضى بما قسم الله له، وهو مستيقن أن الله تعالى مطلع عليه، ولا يحرك شيئًا من جوارحه إلا بإقامة الحجة عند الله، فذلك حق المعرفة.
ثم بين الثقة بالله وشرحها وفسرها، فقال: (وتفسير الثقة بالله أن لا تسعى في طمع، ولا تتكلم في طمع، ولا ترجو دون الله سواه، ولا تخاف دون الله سواه، ولا تخشى من شيء سواه، ولا يحرك من جوارحه شيئًا دون الله، يعني في طاعته واجتناب معصيته» (1).
والثقة بالله دليل على تحقيق العبد للاستعانة بالله كلما أمرنا ربنا جل وعلا في القرآن الكريم: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} (2).
«والاستعانة بالله تقوم على الثقة بالله، والاعتماد عليه. فقد يثق الإنسان بغيره، ولا يعتمد عليه في أموره، لاستغنائه عنه، وقد يعتمد عليه مع عدم ثقته به، لحاجته إليه. والله وحده هو الذي بيده كل شيء، والمستعان في كل شيء، والعبد ليس بيده شيء، وهو محتاج إلى عون ربه في كل شيء كما قال سبحانه: {وَلِلَّهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} (3) والمستعان هو الله عز وجل.
فأهل الطاعة يستعينون به على فعل الطاعات، وترك المعاصي، كما قال سبحانه: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} (4). والاستعانة: طلب العون من الله على الطاعة.
--------------------------------------------
তিনটি গুণের কারণে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন: প্রথমটি হলো: তার অন্তর, জিহবা, কান এবং সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে মহান আল্লাহকে চেনা। দ্বিতীয়টি হলো: আল্লাহর হাতে যা রয়েছে তার প্রতি নিজের দুই হাতে যা রয়েছে তার চেয়ে অধিক আস্থাশীল হওয়া। তৃতীয়টি হলো: আল্লাহ তার জন্য যা বন্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা, এমতাবস্থায় যে সে সুনিশ্চিত বিশ্বাস রাখে যে আল্লাহ তাআলা তাকে দেখছেন। সে আল্লাহর সামনে প্রমাণ পেশ করার উদ্দেশ্য ছাড়া নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোনো কিছুই নড়াচড়া করে না; আর এটিই হলো মারেফাত বা পরিচয়ের প্রকৃত হক।
অতঃপর তিনি আল্লাহর ওপর আস্থার বিষয়টি বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করে বলেছেন: (আল্লাহর ওপর আস্থার ব্যাখ্যা হলো এই যে, তুমি লোভের বশবর্তী হয়ে কোনো প্রচেষ্টা করবে না, লোভের বশবর্তী হয়ে কোনো কথা বলবে না, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট আশা রাখবে না, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় পাবে না, অন্য কোনো কিছুকে আশঙ্কা করবে না এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কোনো কিছুই নাড়াচড়া করবে না; অর্থাৎ তাঁর আনুগত্যের ক্ষেত্রে এবং তাঁর অবাধ্যতা পরিহারের ক্ষেত্রে) (১)।
আর আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা বাস্তবায়নের প্রমাণ, যেমনটি আমাদের মহান রব পবিত্র কুরআনে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই} (২)।
«আর আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা মূলত আল্লাহর ওপর আস্থা ও তাঁর ওপর নির্ভরতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা মানুষ কখনো অন্যের ওপর আস্থা রাখে কিন্তু তার ওপর নির্ভর করে না তার থেকে অমুখাপেক্ষিতার কারণে, আবার কখনো আস্থাহীনতা সত্ত্বেও তার ওপর নির্ভর করে তার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে। অথচ একমাত্র আল্লাহই এমন সত্তা যাঁর হাতে সবকিছু রয়েছে এবং প্রতিটি বিষয়ে তাঁরই কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। আর বান্দার হাতে কিছুই নেই এবং সে প্রতিটি বিষয়ে তার রবের সাহায্যের মুখাপেক্ষী যেমনটি তিনি পবিত্র সত্তা ইরশাদ করেছেন: {আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই এবং সকল বিষয় তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়। সুতরাং আপনি তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁরই ওপর ভরসা রাখুন। আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে তোমার রব গাফেল নন} (৩) আর সাহায্য প্রার্থনার স্থল হলেন মহান আল্লাহ।
সুতরাং আনুগত্যশীল ব্যক্তিরা আনুগত্যের কাজ সম্পাদন এবং পাপাচার বর্জনের জন্য তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই নিকট সাহায্য চাই} (৪)। আর ইস্তিয়ানা হলো: আনুগত্যের ওপর আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أما أهل المعاصي، فحين ترك العاصي سؤال العون من الله على طاعته، أعانه على معصيته، فتوجه إليها بعونه عليها، وحرمه سبحانه العون على الطاعة، فلم يتوجه إليها كما قال سبحانه: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَدْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} (1).
فالعباد كلهم مصروفون في طاعاتهم ومعاصيهم بقدرة الله وعونه .. إما بجنود الملائكة الهادية .. أو بجنود الشياطين المضلة .. فلا طاعة ولا معصية إلا بعون الله، وهو فعله على الإطلاق في الخير والشر، فلا حول عن معصية الله إلا بعصمة الله، ولا قوة على طاعة الله إلا بتوفيق الله وعونه» (2).
وقد علم النبي صلى الله عليه وسلم عبد الله ابن عباس رضي الله عنهما كيف تكون الثقة بالله تعالى فعن ابن عباس رضي الله عنهما قال كنت خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فقال: «يا غلام إني أعلمك كلمات، احفظ الله يحفظك، احفظ الله تجده تجاهك، إذا سألت فاسأل الله، وإذا استعنت فاستعن بالله، واعلم أن الأمة لو اجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك، ولو اجتمعوا على أن يضروك بشيء لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك، رُفعت الأقلام وجفت الصحف» (3).
هذا وقد بين الإمام ابن القيم رحمه الله الثقة بالله تعالى فقال: «ومن منازل إياك نعبد وإياك نستعين منزلة الثقة بالله تعالى. قال صاحب المنازل: الثقة: سواد عين التوكل ونقطة دائرة التفويض وسويداء قلب التسليم وصدر الباب
--------------------------------------------
আর পাপাচারীদের ক্ষেত্রে, যখন কোনো পাপাচারী আল্লাহর আনুগত্যের বিষয়ে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা ছেড়ে দেয়, তখন আল্লাহ তাকে তার পাপের কাজে সাহায্য করেন। ফলে সে তাঁরই সাহায্যে পাপের দিকে ধাবিত হয় এবং মহান আল্লাহ তাকে আনুগত্যের তাওফিক থেকে বঞ্চিত করেন, ফলে সে ইবাদতের দিকে মনোনিবেশ করে না। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর স্মরণ করুন, যখন মূসা তাঁর কওমকে বলেছিলেন, হে আমার কওম! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ, অথচ তোমরা জানো যে আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর পাঠানো রাসূল? অতঃপর যখন তারা বাঁকা পথে চলল, আল্লাহ তাদের অন্তরকে বাঁকা করে দিলেন। আর আল্লাহ পাপাচারী কওমকে হিদায়াত দান করেন না।" (১)।
সুতরাং সমস্ত বান্দা তাদের আনুগত্য ও পাপাচারের ক্ষেত্রে আল্লাহর ক্ষমতা ও সাহায্যের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়... তা পথপ্রদর্শক ফেরেশতাদের বাহিনীর মাধ্যমে হোক অথবা পথভ্রষ্টকারী শয়তানদের বাহিনীর মাধ্যমে হোক। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো আনুগত্য বা পাপাচার সংঘটিত হয় না। কল্যাণ ও অকল্যাণ সর্বাবস্থায় তা নিরঙ্কুশভাবে তাঁরই কাজ। সুতরাং আল্লাহর সুরক্ষা ছাড়া গুনাহ থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় নেই এবং আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া তাঁর আনুগত্য করার কোনো শক্তি নেই। (২)।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে শিখিয়েছেন কীভাবে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হয়। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে ছিলাম। তিনি বললেন: "হে বৎস! আমি তোমাকে কিছু কথা শেখাব: তুমি আল্লাহর বিধানসমূহের হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। তুমি আল্লাহর হুকুমের হেফাজত করো, তুমি তাঁকে তোমার সামনে পাবে। যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও। আর যখন সাহায্যের প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো। জেনে রেখো, সমস্ত উম্মত যদি তোমার কোনো উপকার করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা তোমার কোনোই উপকার করতে পারবে না, কেবল ততটুকু ছাড়া যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা তোমার কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না, কেবল ততটুকু ছাড়া যা আল্লাহ তোমার বিরুদ্ধে লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কিতাবসমূহ শুকিয়ে গেছে।" (৩)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর ওপর ভরসা করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "'আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই' এর একটি স্তর হলো আল্লাহর ওপর আস্থার স্তর। মানাযিল গ্রন্থের লেখক বলেন: আস্থা হলো তাওয়াক্কুলের চক্ষুর মণি, অর্পণের বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু, আত্মসমর্পণের হৃদপিণ্ড এবং প্রবেশের প্রধান দ্বার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بقوله تعالى لأم موسى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ} (1) فإن فعلها هذا هو عين ثقتها بالله تعالى إذ لولا كمال ثقتها بربها لما ألقت بولدها وفلذة كبدها في تيار الماء تتلاعب به أمواجه وجرياته إلى حيث ينتهي أو يقف ومراده: أن الثقة خلاصة التوكل ولبه كما أن سواد العين: أشرف ما في العين وأشار بأنه نقطة دائرة التفويض إلى أن مدار التوكل عليه وهو في وسطه كحال النقطة من الدائرة فإن النقطة هي المركز الذي عليه استدارة المحيط ونسبة جهات المحيط إليها نسبة واحدة وكل جزء من أجزاء المحيط مقابل لها كذلك الثقة هي النقطة التي يدور عليها التفويض.
وكذلك قوله: سويداء قلب التسليم فإن القلب أشرف ما فيه سويداؤه وهي المهجة التي تكون بها الحياة وهي في وسطه فلو كان التفويض قلباً لكانت الثقة سويداءه ولو كان عيناً لكانت سوادها ولو كان دائرة لكانت نقطتها.
وقد تقدم أن كثيرًا من الناس يفسر التوكل بالثقة ويجعله حقيقتها ومنهم من يفسره بالتفويض ومنهم من يفسره بالتسليم فعلمت: أن مقام التوكل يجمع ذلك كله فكأن الثقة عند الشيخ هي روح والتوكل كالبدن الحامل لها ونسبتها إلى التوكل كنسبة الإحسان إلى الإيمان والله أعلم» (2).ثم بين رحمه الله درجات الثقة بالله تعالى فقال: «وهي على ثلاث درجات: الدرجة الأولى: درجة الإياس وهو إياس البعد عن مقاومات الأحكام ليقعد عن منازعة الأقسام ليتخلص من قحة الإقدام.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে যা তিনি মূসার মাতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "আর আমি মূসার মাতাকে প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমি তাকে দুধ পান করাও। যখন তুমি তার ব্যাপারে কোনো আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো; এবং তুমি ভয় পেয়ো না ও দুশ্চিন্তা করো না। নিশ্চয়ই আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব।" (১) তার এই কাজই হলো মহান আল্লাহর প্রতি তার আস্থার মূল প্রকাশ; কারণ যদি তার প্রতিপালকের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা না থাকত, তবে সে তার সন্তানকে এবং তার কলিজার টুকরোকে পানির স্রোতে নিক্ষেপ করত না, যেখানে ঢেউ এবং পানির গতিধারা তাকে নিয়ে খেলত এবং তাকে যেখানে ইচ্ছা ভাসিয়ে নিয়ে যেত বা থামিয়ে দিত। আর তাঁর (শাইখের) উদ্দেশ্য হলো: আস্থা হলো তাওয়াক্কুলের সারাংশ ও প্রাণভোমরা, যেমন চোখের মণি হলো চোখের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ। তিনি আস্থাকে সমর্পণের বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু বলে ইঙ্গিত করেছেন, যার অর্থ হলো তাওয়াক্কুলের আবর্তন এর ওপরেই এবং এটি এর কেন্দ্রে অবস্থিত যেমন বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু। কেননা বিন্দুই হলো সেই কেন্দ্র যার ওপর পরিধির চক্র আবর্তিত হয়, আর পরিধির সকল দিকের সাথে বিন্দুর অনুপাত সমান থাকে এবং পরিধির প্রতিটি অংশ তার অভিমুখী থাকে। তেমনিভাবে আস্থা হলো সেই বিন্দু যার ওপর সঁপে দেওয়া বা সমর্পণ আবর্তিত হয়।
অনুরূপভাবে তাঁর কথা: "সমর্পণের হৃদয়ের অন্তঃস্থল।" কেননা হৃদয়ের শ্রেষ্ঠ অংশ হলো এর অন্তঃস্থল, যা প্রাণের মূল এবং তা হৃদয়ের মাঝখানে অবস্থিত। সুতরাং যদি 'তাফয়ীজ' বা সঁপে দেওয়া একটি হৃদয় হতো, তবে আস্থা হতো এর অন্তঃস্থল; আর যদি তা চোখ হতো, তবে আস্থা হতো তার মণি; আর যদি তা বৃত্ত হতো, তবে আস্থা হতো তার কেন্দ্রবিন্দু।
ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, অনেক মানুষ তাওয়াক্কুলকে আস্থা দ্বারা ব্যাখ্যা করেন এবং একেই এর প্রকৃত রূপ সাব্যস্ত করেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ একে সমর্পণ দ্বারা ব্যাখ্যা করেন এবং কেউ একে সঁপে দেওয়া দ্বারা ব্যাখ্যা করেন। সুতরাং আপনি জানতে পারলেন যে: তাওয়াক্কুলের স্তর এই সবগুলোকে একত্রিত করে। অতএব শাইখের নিকট আস্থা যেন রূহ বা আত্মা, আর তাওয়াক্কুল হলো সেই দেহ যা একে বহন করে; আর তাওয়াক্কুলের সাথে আস্থার সম্পর্ক ঠিক তেমনি, যেমনটি ঈমানের সাথে ইহসানের সম্পর্ক। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (২) অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর প্রতি আস্থার স্তরগুলো বর্ণনা করে বলেছেন: "এটি তিনটি স্তরে বিভক্ত: প্রথম স্তর: নৈরাশ্যের স্তর; আর তা হলো বিধানসমূহের প্রতিরোধের দূরত্ব থেকে এমনভাবে নিরাশ হওয়া যাতে বন্টনকৃত বিষয়াদি নিয়ে বিবাদ করা ছেড়ে দেয়, যেন হঠকারিতার সাথে অগ্রসর হওয়ার ধৃষ্টতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يعني أن الواثق بالله لاعتقاده: أن الله تعالى إذا حكم بحكم وقضى أمراً فلا مرد لقضائه ولا معقب لحكمه فمن حكم الله له بحكم وقسم له بنصيب من الرزق أو الطاعة أو الحال أو العلم أو غيره: فلا بد من حصوله له ومن لم يقسم له ذلك: فلا سبيل له إليه ألبتة كما لا سبيل له إلى الطيران إلى السماء وحمل الجبال فبهذا القدر يقعد عن منازعة الأقسام فما كان له منها فسوف يأتيه على ضعفه وما لم يكن له منها فلن يناله بقوته.
الدرجة الثانية: درجة الأمن وهو أمن العبد من فوت المقدور وانتقاض المسطور فيظفر بروح الرضى وإلا فبعين اليقين وإلا فبلطف الصبر. يقول: من حصل له الإياس المذكور حصل له الأمن وذلك أن من تحقق بمعرفة الله وأن ما قضاه الله فلا مرد له ألبتة: أمن من فوت نصيبه الذي قسمه الله له وأمن أيضًا من نقصان ما كتبه الله له وسطره في الكتاب المسطور فيظفر بروح الرضى أي براحته ولذته نعيمه لأن صاحب الرضى في راحة ولذة وسرور كما جاء عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: «الرضا أن لا ترضي الناس بسخط الله، ولا تحمد أحدًا على رزق الله، ولا تَلُم أحدًا على ما لم يؤتك الله، فإن الرزق لا يسوقه حرص حريصٍ، ولا يرده كراهية كارهٍ، والله بقسطه وعلمه جعل الرَّوح والفرح في اليقين والرِّضا، وجعل الهمَّ والحزن في الشَّكِّ والسَّخط» (1).
فإن لم يقدر العبد على روح الرضى ظفر بعين اليقين وهو قوة الإيمان ومباشرته للقلب بحيث لا يبقى بينه وبين العيان إلا كشف الحجاب المانع من مكافحة البصر فإن لم يحصل له هذا المقام حصل على لطف الصبر وما فيه من حسن العاقبة كما في الأثر المعروف: استطعت أن تعمل لله بالرضى مع اليقين فافعل فإن لم تستطع فإن في الصبر ما تكره النفس خيرًا كثيرًا.
الدرجة الثالثة: معاينة أزلية الحق ليتخلص من محن القصود وتكاليف الحمايات والتعريج على مدارج الوسائل قوله: معاينة أزلية الحق أي متى شهد
--------------------------------------------
এর অর্থ হলো, আল্লাহর ওপর আস্থাশীল ব্যক্তি এই বিশ্বাস পোষণ করে যে: মহান আল্লাহ যখন কোনো বিধান প্রদান করেন এবং কোনো বিষয় ফয়সালা করেন, তখন তাঁর ফয়সালা রদ করার কেউ নেই এবং তাঁর বিধানের ওপর আপত্তি করারও কেউ নেই। সুতরাং আল্লাহ যার জন্য কোনো বিধানের ফয়সালা করেছেন এবং যার জন্য রিজিক, আনুগত্য, আধ্যাত্মিক অবস্থা, জ্ঞান অথবা অন্য কিছুর অংশ বরাদ্দ করেছেন, তা তার কাছে পৌঁছানো অনিবার্য। আর যার জন্য তা বরাদ্দ করা হয়নি, তা লাভ করার কোনো পথই তার নেই; যেমন তার পক্ষে আকাশে উড়া বা পাহাড় বহন করার কোনো পথ নেই। এই পরিমাণের (তাকদির) ওপর ভিত্তি করেই সে বণ্টন নিয়ে বিবাদ করা থেকে বিরত থাকে। সুতরাং যা তার জন্য নির্ধারিত, তা তার দুর্বলতা সত্ত্বেও তার কাছে পৌঁছাবে। আর যা তার জন্য নির্ধারিত নয়, তা সে তার শক্তি দিয়ে কখনোই অর্জন করতে পারবে না।
দ্বিতীয় স্তর: নিরাপত্তা (আমন)। আর তা হলো তাকদিরে যা নির্ধারিত আছে তা ছুটে যাওয়া এবং যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তাতে পরিবর্তন ঘটা থেকে বান্দার নিরাপদ থাকা। ফলে সে সন্তুষ্টির প্রশান্তি লাভ করে, অন্যথায় নিশ্চিত বিশ্বাসের সারবত্তা পায়, নতুবা ধৈর্যের কোমলতা অর্জন করে। তিনি বলেন: যার মধ্যে উল্লিখিত নিরাশা অর্জিত হয়, তার নিরাপত্তা অর্জিত হয়। আর তা হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর মারেফাত লাভ করে এবং এটা নিশ্চিতভাবে জানে যে আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন তা রদ করার কোনো উপায় নেই, সে আল্লাহর বরাদ্দকৃত অংশ ছুটে যাওয়া থেকে নিরাপদ বোধ করে। সে কিতাবে আল্লাহর লিখে রাখা ও লিপিবদ্ধ করা বিষয়ে কোনো ঘাটতি হওয়া থেকেও নিরাপদ বোধ করে। ফলে সে সন্তুষ্টির প্রশান্তি অর্থাৎ এর স্বস্তি, স্বাদ ও নেয়ামত লাভ করে। কারণ সন্তুষ্ট ব্যক্তি স্বস্তি, স্বাদ ও আনন্দের মাঝে থাকে; যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "সন্তুষ্টি (রিদা) হলো এই যে, তুমি আল্লাহর অসন্তুষ্টির মাধ্যমে মানুষকে সন্তুষ্ট করবে না, আল্লাহর দেয়া রিজিকের জন্য কারো প্রশংসা করবে না এবং আল্লাহ তোমাকে যা দেননি তার জন্য কাউকে তিরস্কার করবে না। কারণ রিজিক কোনো লোভীর লোভের কারণে ত্বরান্বিত হয় না এবং কোনো অপছন্দকারীর অপছন্দের কারণে তা রদ হয় না। আল্লাহ তাঁর ইনসাফ ও জ্ঞানের মাধ্যমে প্রশান্তি ও আনন্দকে নিশ্চিত বিশ্বাস ও সন্তুষ্টির মধ্যে রেখেছেন এবং দুশ্চিন্তা ও দুঃখকে সংশয় ও অসন্তুষ্টির মধ্যে রেখেছেন" (১)।
বান্দা যদি সন্তুষ্টির প্রশান্তি লাভে সক্ষম না হয়, তবে সে নিশ্চিত বিশ্বাসের সারবত্তা লাভ করে; আর তা হলো ঈমানের শক্তি এবং হৃদয়ের সাথে এর এমন সংযোগ যার ফলে চর্মচক্ষুর সরাসরি দেখার মাঝে কেবল পর্দা উন্মোচন হওয়াই বাকি থাকে। আর যদি সে এই স্তরটিও লাভ করতে না পারে, তবে সে ধৈর্যের কোমলতা ও এর উত্তম পরিণাম লাভ করে। যেমনটি প্রসিদ্ধ আছারে বর্ণিত হয়েছে: "তুমি যদি নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে সন্তুষ্ট চিত্তে আল্লাহর জন্য আমল করতে সক্ষম হও তবে তা করো; আর যদি সক্ষম না হও, তবে মন যা অপছন্দ করে সেই ধৈর্যের মাঝে প্রভূত কল্যাণ নিহিত রয়েছে।"
তৃতীয় স্তর: সত্যের অনাদিত্ব প্রত্যক্ষ করা, যাতে উদ্দেশ্যের পরীক্ষা, সুরক্ষার কষ্ট এবং মাধ্যমের স্তরসমূহে অবস্থানের ক্লেশ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাঁর উক্তি: "সত্যের অনাদিত্ব প্রত্যক্ষ করা" অর্থাৎ যখন সে প্রত্যক্ষ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قلبه تفرد الرب سبحانه وتعالى بالأزلية غاب بها عن الطلب لتيقنه فراغ الرب تعالى من المقادير وسبق الأزل وثبوت حكمها هناك فيتخلص من المحن التي تعرض له دون القصود ويتخلص أيضًا من تعريجه والتفاته وحبس مطيته على طرق الأسباب التي يتوسل بها إلى المطالب، وهذا ليس على إطلاقه فإن مدارج الوسائل قسمان: وسائل موصلة إلى عين الرضى فالتعريج على مدارجها معرفة وعملًا وحالًا وإيثارًا هو محض العبودية ولكن لا يجعل تعريجه كله على مدارجها بحيث ينسى بها الغاية التي هي وسائل إليها، وأما تخلصه من تكاليف الحمايات فهو تخلصه من طلب ما حماه الله تعالى عنه قدرًا فلا يتكلف طلبه وقد حمي عنه ووجه آخر: وهو أن يتخلص بمشاهدة سبق الأزلية من تكاليف احترازاته وشدة احتمائه من المكاره لعلمه بسبق الأزل بما كتب له منها فلا فائدة في تكلف الاحتماء نعم يحتمي مما نهى عنه وما لا ينفعه في طريقه ولا يعينه على الوصول» (1).والثقة بالله تعالى لها صور متعددة في حياة المسلم يمكن من خلالها تحقيق هذه الثقة، ومن أبرز نماذج ذلك:
--------------------------------------------
তার অন্তর প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অনাদিত্বের অনন্যতার ধ্যানে নিমগ্ন হয়, যার ফলে সে অন্বেষণের প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত থাকে। কারণ সে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, প্রতিপালক তায়ালা তাকদির নির্ধারণ সম্পন্ন করেছেন এবং অনাদিত্বই অগ্রগণ্য ও সেখানে তাঁর হুকুম সুসাব্যস্ত হয়ে আছে। ফলে সে এমন সব ক্লেশ থেকে মুক্তি পায় যা তার উদ্দেশ্যের পথে সামনে আসে। এছাড়াও সে উপায়-উপকরণের পথে বিচরণ করা, সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করা এবং তার বাহনকে সেই সব মাধ্যমের পথে আটকে রাখা থেকে মুক্তি পায়, যেগুলোর সাহায্যে সে তার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চাইত। তবে এটি ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়, কারণ উপায়-উপকরণের সোপানসমূহ দুই প্রকার: এক প্রকার মাধ্যম যা সরাসরি সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়; সুতরাং জ্ঞান, কর্ম, আত্মিক অবস্থা ও অগ্রাধিকার প্রদানের মাধ্যমে এগুলোর সোপানে বিচরণ করা হলো বিশুদ্ধ দাসত্ব। কিন্তু সে যেন তার বিচরণকে পুরোপুরি এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না করে ফেলে, যার ফলে সে মূল লক্ষ্যকে ভুলে যায় যার জন্য এই মাধ্যমগুলো নির্ধারিত ছিল। আর সুরক্ষার দায়ভার থেকে মুক্তি পাওয়ার অর্থ হলো—যা আল্লাহ তায়ালা তাকদির অনুযায়ী তার জন্য অবরুদ্ধ রেখেছেন তা অন্বেষণ করা থেকে মুক্তি পাওয়া। সুতরাং যা তার জন্য অবরুদ্ধ করা হয়েছে তা অন্বেষণে সে কোনো কষ্ট স্বীকার করবে না। অন্য একটি দিক হলো: অনাদিত্বের অগ্রগামিতা প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে সে তার নিজস্ব সতর্কতা এবং বিপদ-আপদ থেকে আত্মরক্ষার কঠোর পরিশ্রমের দায় থেকে মুক্তি পায়। কারণ সে জানে যে, তার ভাগ্যে যা লেখা আছে তা অনাদি কাল থেকেই নির্ধারিত। সুতরাং আত্মরক্ষার জন্য অতিরিক্ত কষ্টের কোনো সার্থকতা নেই। তবে হ্যাঁ, সে ওইসব বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করবে যা তাকে নিষেধ করা হয়েছে এবং যা তার পথে কোনো উপকারে আসে না কিংবা গন্তব্যে পৌঁছাতে তাকে সাহায্য করে না» (১)। আর আল্লাহর ওপর আস্থার বহু রূপ একজন মুসলিমের জীবনে লক্ষ্য করা যায়, যার মাধ্যমে এই আস্থা অর্জন করা সম্ভব। এর অন্যতম প্রধান কিছু দৃষ্টান্ত হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الأولثقة المسلم بالله تعالى في استجابة الدعاءمن صور الثقة بالله تعالى: الثقة به في استجابة الدعاء، وقد دلت نصوص الكتاب السنة على أهمية الدعاء وضرورة أن يثق المسلم في ربه في استجابة الدعاء، وجاء في الكتاب والسنة نماذج متعددة لثقة الأنبياء في ربهم عندما دعوه سبحانه، وكيف استجاب لهم.
1 - أهمية الدعاء وثقة المسلم في استجابة الله له:للدعاء أهمية كبيرة في حياة المسلم قال الله تعالى: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} (1).
قال الطبري رحمه الله: «يعني تعالى ذكره: بذلك وإذا سألك يا محمد عبادي عني: أين أنا؟ فإني قريبٌ منهم أسمع دعاءهم، وأجيب دعوة الداعي منهم» (2). وقال الشيخ السعدي رحمه الله: «هذا جواب سؤال، سأل النبي صلى الله عليه وسلم بعض أصحابه فقالوا: يا رسول الله، أقريب ربنا فنناجيه، أم بعيد فنناديه؟ فنزل: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ} لأنه تعالى، الرقيب الشهيد، المطلع على السر وأخفى، يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور، فهو قريب أيضًا من داعيه، بالإجابة، ولهذا قال: {أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ} والدعاء نوعان: دعاء عبادة، ودعاء مسألة. والقرب نوعان: قرب بعلمه من كل خلقه، وقرب من عابديه وداعيه بالإجابة والمعونة والتوفيق.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদদোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহর ওপর মুসলমানের আস্থামহান আল্লাহর ওপর আস্থার অন্যতম একটি স্বরূপ হলো: দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে তাঁর ওপর আস্থা রাখা। কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ দোয়ার গুরুত্ব এবং দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে মুসলমানের তার রবের ওপর আস্থা রাখার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করেছে। কুরআন ও সুন্নাহতে নবীগণ যখন মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করেছেন, তখন তাঁদের রবের ওপর আস্থার বহু দৃষ্টান্ত এবং তিনি কীভাবে তাঁদের দোয়ায় সাড়া দিয়েছেন, তা বর্ণিত হয়েছে।
১ - দোয়ার গুরুত্ব এবং আল্লাহর কবুলিয়াতের ব্যাপারে মুসলমানের আস্থা:মুসলমানের জীবনে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই যখন সে আমাকে আহ্বান করে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়} (১)।
ইমাম তবারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «অর্থাৎ মহান আল্লাহ এর দ্বারা বুঝিয়েছেন: হে মুহাম্মদ, যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে: আমি কোথায়? তখন নিশ্চয়ই আমি তাদের নিকটবর্তী, আমি তাদের দোয়া শুনি এবং তাদের মধ্যে যে আহ্বান করে, তার আহ্বানে সাড়া দিই» (২)। শেখ সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «এটি একটি প্রশ্নের উত্তর; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর কিছু সাহাবী জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের রব কি কাছে যে আমরা তাঁর সাথে নিভৃতে কথা বলব, নাকি দূরে যে আমরা তাঁকে উচ্চস্বরে ডাকব? তখন নাজিল হলো: {আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী}। কেননা তিনি মহান আল্লাহ, পরম পর্যবেক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী, যিনি গোপন ও অতিগোপন বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত, তিনি চোখের খেয়ানত এবং অন্তর যা গোপন করে সে সম্পর্কে জানেন। তেমনিভাবে তিনি তাঁর আহ্বানকারীরও নিকটবর্তী—সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে। এজন্যই তিনি বলেছেন: {আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই যখন সে আমাকে আহ্বান করে}। দোয়া দুই প্রকার: ইবাদতের দোয়া এবং প্রার্থনার দোয়া। আর নৈকট্যও দুই প্রকার: তাঁর সমস্ত সৃষ্টির নিকট তাঁর ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে নৈকট্য, আর তাঁর ইবাদতকারী ও আহ্বানকারীর নিকট সাড়া প্রদান, সাহায্য ও তাওফিকের মাধ্যমে নৈকট্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فمن دعا ربه بقلب حاضر، ودعاء مشروع، ولم يمنع مانع من إجابة الدعاء، كأكل الحرام ونحوه، فإن الله قد وعده بالإجابة، وخصوصًا إذا أتى بأسباب إجابة الدعاء، وهي الاستجابة لله تعالى بالانقياد لأوامره ونواهيه القولية والفعلية، والإيمان به، الموجب للاستجابة، فلهذا قال: {فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} أي: يحصل لهم الرشد الذي هو الهداية للإيمان والأعمال الصالحة، ويزول عنهم الغني المنافي للإيمان والأعمال الصالحة. ولأن الإيمان بالله والاستجابة لأمره، سبب لحصول العلم» (1).
وقال القرطبي رحمه الله: «قوله تعالى: "وإذا سألك" المعنى وإذا سألوك عن المعبود فأخبرهم أنه قريب يثيب على الطاعة ويجيب الداعي، ويعلم ما يفعله العبد من صوم وصلاة وغير ذلك. وروى الكلبي عن أبي صالح عن ابن عباس قال: قالت اليهود كيف يسمع ربنا دعاءنا، وأنت تزعم أن بيننا وبين السماء خمسمائة عام، وغلظ كل سماء مثل ذلك؟ فنزلت هذه الآية. وقال الحسن: سببها أن قومًا قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم: أقريب ربنا فنناجيه، أم بعيد فنناديه؟ فنزلت. قوله تعالى: {فَإِنِّي قَرِيبٌ} أي بالإجابة. وقيل بالعلم. وقيل: قريب من أوليائي بالإفضال والإنعام. قوله تعالى: {أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ} أي أقبل عبادة من عبدني، فالدعاء بمعنى العبادة، والإجابة بمعنى القبول» (2).
وقال الله تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} (3).
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি একাগ্র চিত্তে এবং বিধিসম্মত দোয়ার মাধ্যমে তার প্রতিপালককে ডাকে, আর যদি দোয়া কবুল হওয়ার পথে কোনো অন্তরায় না থাকে—যেমন হারাম ভক্ষণ ও অনুরূপ বিষয়—তবে আল্লাহ তাকে কবুল করার ওয়াদা দিয়েছেন। বিশেষত যদি সে দোয়া কবুলের উপায়সমূহ অবলম্বন করে, আর তা হলো—মৌখিক ও ব্যবহারিক আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার আদেশ ও নিষেধ পালন করে তাঁর আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনা, যা সাড়াদানে উদ্বুদ্ধ করে। একারণেই তিনি বলেছেন: {সুতরাং তারা যেন আমার আহ্বানে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়} অর্থাৎ: তাদের যেন সেই সঠিক দিকনির্দেশনা অর্জিত হয় যা ঈমান ও নেক আমলের পথপ্রদর্শক, এবং তাদের থেকে ঈমান ও নেক আমলের পরিপন্থী বিভ্রান্তি দূর হয়ে যায়। এছাড়া আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর আদেশের অনুগত্য জ্ঞান অর্জনের কারণ। (১)
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণী: 'আর যখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করে'—এর অর্থ হলো যখন তারা আপনাকে উপাস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন তাদের জানিয়ে দিন যে, তিনি অতি নিকটবর্তী; তিনি আনুগত্যের প্রতিদান দেন এবং আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেন। বান্দা রোজা, নামাজ বা অন্য যা কিছু করে, তিনি তা জানেন। কালবী আবু সালেহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইহুদিরা বলেছিল: আমাদের প্রতিপালক কীভাবে আমাদের ডাক শুনবেন, অথচ আপনি দাবি করেন যে আমাদের ও আসমানের মাঝে পাঁচশত বছরের দূরত্ব এবং প্রতিটি আসমানের পুরুত্বও তদ্রূপ? তখন এই আয়াত নাজিল হয়। হাসান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর প্রেক্ষাপট হলো, একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করেছিল: আমাদের প্রতিপালক কি কাছে যে আমরা তাঁর সাথে নিভৃতে কথা বলব, নাকি দূরে যে আমরা তাঁকে উচ্চস্বরে ডাকব? তখন এটি নাজিল হয়। আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী} অর্থাৎ সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে। কেউ বলেছেন, ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে। আবার কেউ বলেছেন, অনুগ্রহ ও নিআমত দানের মাধ্যমে আমি আমার ওলীদের নিকটবর্তী। আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে} অর্থাৎ যে আমার ইবাদত করে, আমি তার ইবাদত কবুল করি। এখানে দোয়া মানে ইবাদত এবং সাড়া দেওয়া মানে কবুল করা।" (২)
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদত করতে অহংকার করে, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।} (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لقد أخبر الله أنه إن دعاه العبد وعبده بحق، استجاب له، فإن الدعاء في نفسه عبادة، والدعاء: هو السؤال بجلب النفع ودفع الضر. ودعاء غير الله لا يفيد شيئًا، فإن القادر على إجابة الدعاء هو الله، والله سبحانه هو الذي أمر عباده بدعائه، ووعدهم بالإجابة، ووعده الحق. وإن الذين يتكبرون ويتعظمون عن دعاء الله وعبادته وحده، سيدخلون جهنم صاغرين أذلاء.
ولقد اشتملت الآية على أمر العبادة بالدعاء والتكفل لهم بالإجابة فضلًا من الله وكرمًا، وهذا وعد، كذلك اشتملت أيضًا على وعيد شديد لمن استكبر عن دعاء الله، فالله هو الكريم الذي يجيب دعوة الداعي إذا دعاه، ويغضب على من لم يطلب من فضله العظيم وملكه الواسع ما يحتاج إليه من أمور الدنيا والآخرة.
قال ابن كثير رحمه الله: «هذا من فضله، تبارك وتعالى، وكرمه أنه ندب عباده إلى دعائه، وتكفل لهم بالإجابة، كما كان سفيان الثوري يقول يا من أحب عباده إليه من سأله فأكثر سؤاله، ويا من أبغض عباده إليه من لم يسأله، وليس كذلك غيرك يا رب» (1).
وللدعاء أدب لا بد أن يراعى. إنه إخلاص القلب لله. والثقة بالاستجابة مع عدم اقتراح صورة معينة لها، أو تخصيص وقت أو ظرف فهذا الاقتراح ليس من أدب السؤال. والاعتقاد بأن التوجه للدعاء توفيق من الله، والاستجابة فضل آخر.
فأما الذين يستكبرون عن التوجه لله فجزاؤهم الحق أن يوجهوا أذلاء صاغرين لجهنم! وهذه نهاية الكبر الذي تنتفخ به قلوب وصدور في هذه الأرض الصغيرة، وفي هذه الحياة الرخيصة، وتنسى ضخامة خلق الله. فضلًا على نسيانها عظمة الله. ونسيانها للآخرة بعد النفخة والاستكبار.
--------------------------------------------
আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, বান্দা যদি তাঁকে ডাকে এবং যথাযথভাবে তাঁর ইবাদত করে, তবে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন; কারণ দুআ স্বয়ং একটি ইবাদত। আর দুআ হলো: কল্যাণ লাভ ও অকল্যাণ দূর করার প্রার্থনা। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে দুআ করা কোনো উপকারে আসে না, কেননা দুআ কবুল করার ক্ষমতা কেবল আল্লাহরই রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর কাছে দুআ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের দুআ কবুলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; আর তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর যারা আল্লাহর কাছে দুআ করতে এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করতে অহংকার ও দম্ভ প্রদর্শন করে, তারা লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
এ আয়াতটি দুআর মাধ্যমে ইবাদত করার নির্দেশ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও বদান্যতাস্বরূপ তা কবুলের নিশ্চয়তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—আর এটি একটি প্রতিশ্রুতি। তেমনিভাবে এটি আল্লাহর কাছে দুআ করার ব্যাপারে অহংকারকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বার্তাও ধারণ করেছে। আল্লাহ হলেন সেই মহান দাতা, যিনি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে; আর তিনি সেই ব্যক্তির ওপর রাগান্বিত হন, যে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রয়োজনীয় বিষয়াদি তাঁর মহান অনুগ্রহ ও বিশাল রাজত্ব থেকে প্রার্থনা করে না।
ইবনে কাসীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: «এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার অনুগ্রহ ও বদান্যতা যে, তিনি তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর কাছে দুআ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তা কবুলের জিম্মাদারি নিয়েছেন। যেমনটি সুফিয়ান সাওরি বলতেন: হে মহান সত্তা! যাঁর কাছে তাঁর প্রিয়তম বান্দা সে-ই, যে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে এবং অধিক পরিমাণে প্রার্থনা করে; আর যাঁর কাছে তাঁর সবচেয়ে অপ্রিয় বান্দা সে-ই, যে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে না। হে রব! আপনি ছাড়া আর কেউ এমন নয়» (১)।
দুআর কিছু আদব রয়েছে যা অবশ্যই পালনীয়। তা হলো আল্লাহর জন্য অন্তরের একনিষ্ঠতা। দুআ কবুল হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা রাখা এবং কবুল হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা সময় কিংবা পরিস্থিতির শর্তারোপ না করা, কারণ এ ধরনের শর্তারোপ প্রার্থনার আদবের পরিপন্থী। এছাড়া এই বিশ্বাস রাখা যে, দুআর দিকে মনোনিবেশ করতে পারা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি তাওফিক এবং তা কবুল হওয়া তাঁর আরেকটি অনুগ্রহ।
আর যারা আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করতে অহংকার করে, তাদের প্রকৃত প্রতিফল হলো তাদেরকে লাঞ্ছিত ও হীন অবস্থায় জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করা হবে! এটিই সেই অহংকারের পরিণতি যার মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র পৃথিবীতে এবং এই নগণ্য জীবনে মানুষের অন্তর ও বক্ষ স্ফীত হয় এবং তারা আল্লাহর সৃষ্টির বিশালতাকে ভুলে যায়; তদুপরি তারা ভুলে যায় আল্লাহর মহিমা এবং দম্ভ ও অহংকারের পর আখিরাতের ভয়াবহতাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفي فضل توجه المسلم بالدعاء لله جاء عن النعمان بن بشير رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الدعاء هو العبادة»، وقرأ: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} (1). (2)
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ليس شيء أكرم على الله تعالى من الدعاء» (3).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من لم يسأل الله يغضب عليه» (4).
والواجب على المسلم أن يدعو الله تعالى وهو واثق في الله في استجابة دعائه؛ فيسأل الله تعالى بعزم ورغبة وحضور قلب ورجاء.
قال تعالى {إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ} (5).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يقولن أحدكم اللهم اغفر لي وارحمني إن شئت ارزقني إن شئت وليعزم مسألته إنه يفعل ما يشاء لا مكره له» (6).
--------------------------------------------
আল্লাহর নিকট দোয়ার মাধ্যমে একজন মুসলিমের মনোনিবেশ করার ফযিলত সম্পর্কে নুমান ইবনে বশীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «দোয়াই হলো ইবাদত», অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {তোমাদের রব বলেছেন: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদত থেকে অহঙ্কারবশত বিমুখ হয়, তারা শীঘ্রই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে} (১)। (২)
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কিছু নেই» (৩)।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে না, তিনি তার প্রতি রাগান্বিত হন» (৪)।
একজন মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করা এই অবস্থায় যে সে দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল; সুতরাং সে আল্লাহ তাআলার কাছে দৃঢ়তা, গভীর আগ্রহ, হৃদয়ের উপস্থিতি এবং আশার সাথে প্রার্থনা করবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত এবং তারা আমাকে ডাকত আশা ও ভীতি নিয়ে, আর তারা ছিল আমার প্রতি বিনীত} (৫)।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই এমন না বলে: হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন; আপনি চাইলে আমাকে রিযিক দিন। বরং সে যেন প্রার্থনায় দৃঢ়তা অবলম্বন করে। কেননা আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন, তাঁকে বাধ্য করার মতো কেউ নেই» (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن حجر رحمه الله: «قوله فليعزم المسألة في رواية أحمد عن إسماعيل المذكور الدعاء ومعنى الأمر بالعزم الجد فيه وأن يجزم بوقوع مطلوبة، ولا يعلق ذلك بمشيئة الله تعالى وإن كان مأموراً في جميع ما يريد فعله أن يعلقه بمشيئة الله تعالى، وقيل معنى العزم أن يحسن الظن بالله في الإجابة قوله ولا يقولن اللهم إن شئت فأعطني، ومن رواية العلاء ليعزم وليعظم الرغبة ومعنى قوله ليعظم الرغبة أي يبالغ في ذلك بتكرار الدعاء والإلحاح فيه ويحتمل أن يراد به الأمر بطلب الشيء العظيم الكثير، والمراد أن الذي يحتاج إلى التعليق بالمشيئة ما إذا كان المطلوب منه يتأتى إكراهه على الشيء فيخفف الأمر عليه ويعلم بأنه لا يطلب منه ذلك الشيء إلا برضاه، وأما الله سبحانه فهو منزه عن ذلك فليس للتعليق فائدة.
وقيل: المعنى أن فيه صورة الاستغناء عن المطلوب والمطلوب منه والأول أولى قال ابن عبد البر رحمه الله لا يجوز لأحد أن يقول اللهم أعطني إن شئت وغير ذلك من أمور الدين والدنيا لأنه كلام مستحيل لا وجه له لأنه يفعل إلا ما شاءه وظاهره أنه حمل النهي على التحريم وهو الظاهر.
وقال ابن بطال رحمه الله في الحديث أنه ينبغي للداعي أن يجتهد في الدعاء ويكون على رجاء الإجابة، ولا يقنط من الرحمة فإنه يدعو كريمًا.
وقد قال ابن عيينة رحمه الله لا يمنعن أحدًا الدعاء ما يعلم في نفسه يعني من التقصير فإن الله قد أجاب دعاء شر خلقه وهو إبليس حين قال رب انظرني إلى يوم يبعثون وقال الداودي معنى قوله ليعزم المسألة أن يجتهد ويلح ولا يقل إن شئت كالمستثنى ولكن دعاء البائس الفقر قلت وكأنه أشار بقوله كالمستثنى إلى أنه إذا قالها على سبيل التبرك لا يكره وهو جيد» (1).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أنه ذكر رجلًا من بني
--------------------------------------------
ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেন: «তাঁর বাণী "সে যেন প্রার্থনায় দৃঢ়তা অবলম্বন করে", যা আহমাদের বর্ণনায় উল্লেখিত ইসমাইল থেকে "দুয়া" (প্রার্থনা) শব্দে বর্ণিত হয়েছে। আর দৃঢ়তার নির্দেশের অর্থ হলো তাতে আন্তরিক হওয়া এবং যা চাওয়া হচ্ছে তা অর্জিত হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া। একে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার ওপর ঝুলিয়ে না রাখা, যদিও মানুষ তার প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার ওপর ঝুলিয়ে রাখার জন্য আদিষ্ট। কেউ কেউ বলেছেন যে, দৃঢ়তার অর্থ হলো কবুল হওয়ার বিষয়ে আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা। তাঁর বাণী "আর সে যেন অবশ্যই না বলে: হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে দান করুন"। আলা-এর বর্ণনায় রয়েছে: "সে যেন দৃঢ়তা অবলম্বন করে এবং আকাঙ্ক্ষাকে প্রবল করে"। "আকাঙ্ক্ষা প্রবল করার" অর্থ হলো প্রার্থনার পুনরাবৃত্তি ও তাতে অনুনয়-বিনয়ের মাধ্যমে আতিশয্য করা। এও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এর দ্বারা সুমহান ও অধিক কিছু প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো, যার কাছে কোনো কিছু চাওয়া হচ্ছে তাকে যদি বাধ্য করা সম্ভব হয়, তবেই কেবল ইচ্ছার ওপর ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন পড়ে; যাতে বিষয়টি তার ওপর সহজ হয় এবং সে জানতে পারে যে তার সন্তুষ্টি ব্যতীত সেটি চাওয়া হচ্ছে না। পক্ষান্তরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ থেকে পবিত্র, তাই (তাঁর ক্ষেত্রে) ইচ্ছার ওপর ঝুলিয়ে রাখার কোনো সার্থকতা নেই।
বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো এতে প্রার্থিত বিষয় এবং যাঁর কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে উভয়ের থেকে অমুখাপেক্ষিতার একটি রূপ ফুটে ওঠে; তবে প্রথম অর্থটিই অধিকতর সংগত। ইবনে আব্দুল বার রহিমাহুল্লাহ বলেন: কারো জন্য এ কথা বলা বৈধ নয় যে, "হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে দিন" এবং দ্বীন ও দুনিয়ার অন্যান্য বিষয়েও এমন বলা যাবে না। কারণ এটি একটি অসম্ভব কথা যার কোনো ভিত্তি নেই; কেননা তিনি যা চান তা ছাড়া আর কিছুই করেন না। তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে, তিনি এই নিষেধকে হারামের অর্থে গ্রহণ করেছেন এবং এটিই স্পষ্ট।
ইবনে বাত্তাল রহিমাহুল্লাহ এই হাদিস প্রসঙ্গে বলেন যে, প্রার্থনাকারীর উচিত প্রার্থনায় ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালানো এবং কবুল হওয়ার প্রত্যাশা রাখা, আর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া; কারণ সে একজন পরম দয়ালুর নিকট প্রার্থনা করছে।
ইবনে উইয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: নিজের সম্পর্কে যা জানা আছে (অর্থাৎ ত্রুটি-বিচ্যুতি) তা যেন কাউকে প্রার্থনা থেকে বিরত না রাখে। কারণ আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম ইবলিসের প্রার্থনাও কবুল করেছিলেন যখন সে বলেছিল: "হে আমার রব! আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন"। দাউদি বলেন: "প্রার্থনায় দৃঢ়তা অবলম্বন করার" অর্থ হলো প্রচেষ্টা করা ও অনুনয়-বিনয় করা এবং "যদি আপনি চান" এ কথা বলে শর্তযুক্তকারীর মতো না বলা, বরং নিঃস্ব ও অভাবীর ন্যায় প্রার্থনা করা। আমি বলছি: তিনি "শর্তযুক্তকারীর মতো" কথাটি দিয়ে সম্ভবত ইঙ্গিত করেছেন যে, যদি কেউ বরকতের উদ্দেশ্যে এটি বলে তবে তা অপছন্দনীয় হবে না, আর এটি একটি উত্তম অভিমত» (১)।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে: «তিনি বনী [ইসরাইলের] এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
إسرائيل سأل بعضهم بني إسرائيل أن يسلفه ألف دينار فقال ائتني بالشهداء أشهدهم فقال كفى بالله شهيدًا قال فأئتني بالكفيل قال كفى بالله كفيلًا قال صدقت فدفعها إليه إلى أجل مسمى فخرج في البحر فقضى حاجته ثم التمس مركبًا يركبها يقدم عليه للأجل الذي أجله فلم يجد مركبًا فأخذ خشبة فنقرها فأدخل فيها ألف دينار وصحيفة منه إلى صاحبه ثم زجج موضعها ثم أتى بها إلى البحر فقال اللهم إنك تعلم أني كنت تسلفت فلاناً ألف دينا فسألني كفيلًا فقلت كفى بالله كفيلًا فرضي بك وسألني شهيدًا فقلت كفى بالله شهيدًا فرضي بك وأني جهدت أن أجد مركبًا أبعث إليه الذي له فلم أقدر وإني أستودعكها فرمى بها في البحر حتى ولجت فيه ثم انصرف وهو في ذلك يلتمس مركبًا يخرج إلى بلده فخرج الرجل الذي أسلفه ينظر لعل مركبًا قد جاء بماله فإذا بالخشبة التي فيها المال فأخذها لأهله حطبا فلما نشرها وجد المال والصحيفة ثم قدم الذي كان أسلفه فأتى بالألف دينار فقال والله ما زلت جاهدًا في طلب مركب لآتيك بمالك فما وحدت مركبًا قبل الذي أتيت فيه قال هل كنت بعثت إلي بشيء؟ قال أخبرك أني لم أجد مركبًا قبل الذي جئت فيه قال فإن الله قد أدى عنك الذي بعثت في الخشبة فانصرف بالألف دينار راشداً» (1).
قال بدر الدين العيني رحمه الله: «وفيه أن من توكل على الله فإنه ينصره فالذي نقر الخشبة وتوكل حفظ الله تعالى ماله والذي أسلفه وقنع بالله كفيلًا أوصل الله تعالى ماله إليه وفيه جواز ركوب البحر بأموال الناس والتجارة وفيه أن الله تعالى متكفل بعون من أراد أداء الأمانة وأن الله يجازي أهل الإرفاق بالمال بحفظه عليهم مع أجر الآخرة كما حفظه على المسلف» (2).
--------------------------------------------
বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি তাদেরই অপর এক ব্যক্তির কাছে এক হাজার দিনার ঋণ চাইল। তখন ঋণদাতা বলল, ‘সাক্ষীদের নিয়ে এসো, আমি তাদের সাক্ষী রাখব।’ সে বলল, ‘সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।’ সে বলল, ‘তাহলে একজন জামিনদার নিয়ে এসো।’ সে বলল, ‘জামিনদার হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।’ ঋণদাতা বলল, ‘তুমি সত্য বলেছ।’ এরপর সে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তাকে উক্ত অর্থ প্রদান করল। অতপর ঋণগ্রহীতা সমুদ্র যাত্রা করল এবং তার প্রয়োজন পূরণ করল। এরপর মেয়াদের সময় ঘনিয়ে এলে সে ফিরে আসার জন্য একটি বাহন খুঁজতে লাগল, কিন্তু কোনো বাহন পেল না। তখন সে একখণ্ড কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করল এবং তার ভেতরে এক হাজার দিনার ও পাওনাদারের উদ্দেশ্যে একটি পত্র ভরে দিল। এরপর সে ছিদ্রের মুখটি বন্ধ করে দিল। অতপর সে সমুদ্রের তীরে এসে বলল, ‘হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমি অমুকের কাছে এক হাজার দিনার ঋণ নিয়েছিলাম। সে আমার কাছে জামিনদার চেয়েছিল, আমি বলেছিলাম আল্লাহই জামিনদার হিসেবে যথেষ্ট; ফলে সে আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছিল। সে আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিল, আমি বলেছিলাম আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট; এতেও সে আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছিল। আমি তার প্রাপ্য পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য একটি বাহন পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি কিন্তু সক্ষম হইনি। তাই আমি এটি আপনার জিম্মায় সোপর্দ করছি।’ এরপর সে কাঠখণ্ডটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করল এবং সেটি সমুদ্রের গভীরে চলে গেল। তারপর সে প্রস্থান করল এবং নিজ দেশে ফেরার জন্য বাহন খুঁজতে লাগল। এদিকে ঋণদাতা ব্যক্তিটি এই আশায় সমুদ্রতীরে এল যে, হয়তো কোনো জাহাজ তার মাল নিয়ে এসেছে। হঠাৎ সে সেই কাঠখণ্ডটি দেখতে পেল যার ভেতরে মাল ছিল। সে তার পরিবারের জ্বালানি হিসেবে সেটি বাড়িতে নিয়ে গেল। যখন সে কাঠটি চিরল, তখন সে মাল ও পত্রটি পেয়ে গেল। এরপর ঋণগ্রহীতা ব্যক্তিটি (নিজেও) এক হাজার দিনার নিয়ে উপস্থিত হল এবং বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি আপনার মাল পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি বাহন পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু যে বাহনে আমি আজ এসেছি তার আগে আর কোনো বাহন পাইনি।’ ঋণদাতা বলল, ‘তুমি কি আমার কাছে কিছু পাঠিয়েছিলে?’ সে বলল, ‘আমি তো আপনাকে জানাচ্ছি যে, এই যেটিতে আমি এসেছি তার আগে কোনো বাহন আমি পাইনি।’ ঋণদাতা বলল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার পক্ষ থেকে সেই মালের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যা আপনি কাঠের টুকরোতে ভরে পাঠিয়েছিলেন। অতএব আপনি আপনার এই এক হাজার দিনার নিয়ে নিরাপদে ফিরে যান।’ (১)।
বদরুদ্দীন আইনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “এতে শিক্ষা রয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনি তাকে সাহায্য করেন। যে ব্যক্তি কাঠ ছিদ্র করেছিল এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করেছিল, আল্লাহ তাআলা তার সম্পদ রক্ষা করেছেন। আর যে ব্যক্তি ঋণ দিয়েছিল এবং আল্লাহকে জামিনদার হিসেবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট হয়েছিল, আল্লাহ তাআলা তার প্রাপ্য তার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এতে মানুষের সম্পদ ও ব্যবসা নিয়ে সমুদ্রে সফরের বৈধতা প্রমাণিত হয়। আরও প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তিকে সাহায্য করার জিম্মাদার হন যে আমানত আদায়ের সংকল্প করে। এছাড়া যারা মানুষের প্রতি সম্পদের মাধ্যমে অনুগ্রহ করে, আল্লাহ আখিরাতের সওয়াবের পাশাপাশি দুনিয়াতেও তাদের সম্পদ রক্ষার মাধ্যমে প্রতিদান দেন, যেমনটি তিনি এই ঋণদাতার সম্পদ রক্ষা করেছেন।” (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إن ثقة المسلم في ربه تجعله يدعوه سبحانه بكل ما يريد، ولا يستعظم على الله شيء «ومن آداب الدعاء أن يسأل الله تعالى حاجاته كلها فلا يمنعه من الدعاء استعظام المطلوب ولا احتقاره» (1).
فعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من آمن بالله ورسوله وأقام الصَّلاة وصام رمضان كان حقًّا على الله أن يدخله الجنَّة هاجر في سبيل الله، أو جلس في أرضه التي وُلد فيها قالوا: يا رسول الله أفلا ننبِّئ النَّاس بذلك قال إنَّ في الجنَّة مئة درجةٍ أعدَّها الله للمجاهدين في سبيله كلُّ درجتين ما بينهما كما بين السَّماء والأرض فإذا سألتم الله فسلوه الفردوس، فإنَّه أوسط الجنَّة وأعلى الجنَّة وفوقه عرش الرَّحمن ومنه تفجَّر أنهار الجنَّة» (2).
ومن الثقة في الله في استجابة الدعاء أن يجعل المسلم دعاءه كله لله واستعانته بالله وسؤاله لله فعن عبد الله ابن عباس رضي الله عنه قال كنت خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم يومًا فقال: «يا غلام، إني أعلِّمك كلمات: احفظ الله يحفظْك، احفظ الله تجدْه تجاهك، إذا سألتَ فاسأل الله، وإذا استعنتَ فاستعن بالله، واعلم أن الأمَّة لو اجتمعتْ على أن ينفعوك بشيء، لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك، ولو اجتمعوا على أن يضروك بشيء، لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك، رُفعت الأقلام وجفَّت الصحف» (3).
--------------------------------------------
আল্লাহর প্রতি একজন মুসলিমের আস্থা তাকে সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে তার যা কিছু প্রয়োজন তা প্রার্থনা করতে উদ্বুদ্ধ করে, এবং সে আল্লাহর কাছে কোনো কিছুকেই বড় মনে করে না। "দোয়ার আদবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহ তাআলার কাছে নিজের সকল প্রয়োজন প্রার্থনা করা। প্রার্থিত বস্তুর মাহাত্ম্য কিংবা তুচ্ছতা যেন তাকে দোয়া করা থেকে বিরত না রাখে" (১)।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনল, নামাজ কায়েম করল এবং রমজানের রোজা রাখল, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর ওপর একটি অবধারিত অধিকার হয়ে যায়; সে আল্লাহর পথে হিজরত করুক কিংবা তার সেই জন্মভূমিতেই বসে থাকুক যেখানে সে জন্মগ্রহণ করেছে।" সাহাবীগণ বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে যা আল্লাহ তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রতিটি স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাউস প্রার্থনা করবে। কারণ এটি জান্নাতের মধ্যবর্তী ও সর্বোচ্চ অংশ। আর এর উপরেই রয়েছে রহমানের আরশ এবং সেখান থেকেই জান্নাতের নদীসমূহ প্রবাহিত হয়" (২)।
দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর প্রতি আস্থার একটি দিক হলো, মুসলিম তার সকল দোয়া কেবল আল্লাহর জন্যই করবে এবং তার সকল সাহায্য প্রার্থনা ও যাচনা হবে কেবল আল্লাহরই কাছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে বসা ছিলাম, তিনি বললেন: 'হে বৎস! আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি: তুমি আল্লাহর (বিধানের) হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। তুমি আল্লাহর (হকের) হেফাজত করো, তুমি তাঁকে তোমার সামনেই পাবে। যখন কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। আর যখন সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রেখো, সমস্ত জাতি যদি তোমার কোনো উপকার করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা তোমার ততটুকুই উপকার করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি তারা তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা তোমার ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার বিরুদ্ধে লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং কিতাবসমূহ শুকিয়ে গেছে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال ابن رجب رحمه الله: «هذا منزع من قوله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} (1). فإن السؤال هو دعاؤه والرغبة إليه، والدعاء هو العبادة.
واعلم أن سؤال الله عز وجل دون خلقه هو المتعين، لأن السؤال فيه إظهار الذل من السائل والمسكنة والحاجة والافتقار، وفيه الاعتراف بقدرة المسؤول على رفع هذا الضر ونيل المطلوب، وجلب المنافع ودرء المضار، ولا يصلح الذل والافتقار إلا لله وحده لأنه حقيقة العبادة» (2).
ومن الثقة في الله في استجابة الدعاء أن يحرص المسلم على الصبر وعدم الاستعجال، فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يستجاب لأحدكم ما لم يجعل، يقول: دعوت فلم يستجب لي» (3).
قال ابن حجر رحمه الله: «وفي هذا الحديث أدب من آداب الدعاء، وهو أن يلازم الطلب، ولا ييأس من الإجابة؛ لما في ذلك من الانقياد والاستسلام وإظهار الافتقار» (4).
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أنه صلى الله عليه وسلم قال: «لا يزال يستجاب للعبد ما لم يدع بإثم أو قطيعة رحم، ما لم يستعجل». قيل: يا رسول الله، ما الاستعجال؟ قال: «يقول: قد دعوت، وقد دعوت، فلم أر يستجيب لي، فيستحسر عند ذلك، ويدع الدعاء» (5).
قال ابن بطال رحمه الله: «قال بعض العلماء: قوله: «ما لم يعجل» يعني يسأم الدعاء ويتركه فيكون كالمان بدعائه، وأنه قد أتى من الدعاء ما كان
--------------------------------------------
ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «এটি মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই} (১) থেকে উৎসারিত। কেননা চাওয়া হলো তাঁর নিকট দুআ করা এবং তাঁর প্রতি অনুরাগী হওয়া, আর দুআই হলো ইবাদত।
আর জেনে রাখুন যে, তাঁর সৃষ্টিজগতকে বাদ দিয়ে কেবল পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে চাওয়াই অবধারিত বিষয়। কারণ চাওয়ার মধ্যে প্রার্থনাকারীর পক্ষ থেকে হীনতা, নিঃস্বতা, প্রয়োজন ও মুখাপেক্ষিতার প্রকাশ ঘটে। আর এতে প্রার্থিত সত্তার সেই বিপদ দূর করার, কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভে সাহায্য করার, উপকার বয়ে আনার এবং অপকার প্রতিহত করার ক্ষমতার স্বীকৃতি থাকে। আর এই হীনতা ও মুখাপেক্ষিতা একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কারও জন্য শোভা পায় না; কারণ এটাই ইবাদতের প্রকৃত রূপ» (২)।
দুআ কবুলের ব্যাপারে আল্লাহর ওপর আস্থার একটি দিক হলো, মুসলিম ব্যক্তি ধৈর্য ধারণে এবং তাড়াহুড়া না করার ব্যাপারে যত্নশীল হবে। আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের প্রত্যেকের দুআ ততক্ষণ কবুল করা হয় যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে এই কথা বলে যে: আমি দুআ করলাম কিন্তু আমার দুআ কবুল হলো না» (৩)।
ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «এই হাদিসে দুআর শিষ্টাচারসমূহের একটি শিষ্টাচার বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো প্রার্থনা অব্যাহত রাখা এবং কবুল হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ না হওয়া; কারণ এর মধ্যে আনুগত্য, আত্মসমর্পণ এবং মুখাপেক্ষিতার প্রকাশ ঘটে» (৪)।
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «বান্দার দুআ ততক্ষণ কবুল হতে থাকে যতক্ষণ না সে কোনো পাপ অথবা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য দুআ করে, আর যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে।» জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তাড়াহুড়া কী? তিনি বললেন: «সে বলে: আমি দুআ করেছি, আমি দুআ করেছি, কিন্তু আমি তো দেখলাম না যে আমার দুআ কবুল করা হচ্ছে। তখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দুআ করা ছেড়ে দেয়» (৫)।
ইবনে বাত্তাল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «জনৈক আলেম বলেছেন: তাঁর বাণী: "যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে" এর অর্থ হলো সে দুআ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায় এবং তা ছেড়ে দেয়। ফলে সে যেন তার দুআর মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রদর্শনকারী হয়ে যায় এবং মনে করে যে সে এমন পরিমাণ দুআ করেছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يستحق به الإجابة، فيصبر كالمبخل لربّ كريم، لا تعجزه الإجابة، ولا ينقصه العطاء، ولا تضره الذنوب. وقال بعضهم: إنما يعجل العبد إذا كان غرضه من الدعاء نيل ما سأل، وإذا لم ينل ما يريد ثقل عليه الدعاء، ويجب أن يكون غرض العبد من الدعاء هو الدعاء لله، والسؤال منه، والافتقار إليه أبدًا، ولا يفارق سمة العبودية وعلامة الرق، والانقياد للأمر والنهي، والاستسلام لربه تعالى بالذلة والخشوع، فإن الله تعالى يحب الإلحاح في الدعاء. وقال بعض السلف: لأنا أشد خشيةً أن أحرم الدعاء من أن أحرم الإجابة، وذلك أن الله تعالى يقول: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} (1). فقد أمر بالدعاء ووعد بالإجابة وهو لا يخلف الميعاد» (2).
وقال ابن الجوزي رحمه الله: «اعلم أن الله عز وجل لا يرد دعاء المؤمن غير أنه قد تكون المصلحة في تأخير الإجابة وقد لا يكون ما سأله مصلحة في الجملة فيعوضه عنه ما يصلحه وربما أخر تعويضه إلى يوم القيامة فينبغي للمؤمن ألا يقطع المسألة لامتناع الإجابة فإنه بالدعاء متعبد وبالتسليم إلى ما يراه الحق له مصلحة مفوض» (3).
وقال ابن القيم رحمه الله: «ومن الآفات التي تمنع أثر الدعاء أن يتعجل العبد ويستبطئ الإجابة فيستحسر ويدع الدعاء، وهو بمنزلة من بذر بذرًا أو غرس غرسًا فجعل يتعاهده ويسقيه، فلما استبطأ كماله وإدراكه تركه وأهمله» (4).
--------------------------------------------
...এর মাধ্যমে তিনি উত্তর পাওয়ার যোগ্য হন। তাই তিনি একজন দয়াবান রবের কাছে কৃপণ ব্যক্তির মতো ধৈর্য ধরেন, যাঁর কাছে উত্তর দেওয়া কোনো কঠিন বিষয় নয়, দান করলে যাঁর কিছুই কমে না এবং পাপসমূহ যাঁর কোনো ক্ষতি করে না। জনৈক আলেম বলেছেন: বান্দা কেবল তখনই তাড়াহুড়ো করে যখন দোয়ার মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য হয় কেবল যা চেয়েছে তা লাভ করা। আর যখন সে যা চায় তা পায় না, তখন দোয়া করা তার কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। অথচ দোয়ার মাধ্যমে বান্দার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সমীপে দোয়া করা, তাঁর কাছে প্রার্থনা করা এবং সর্বদা তাঁর মুখাপেক্ষী থাকা। তাকে কখনোই দাসত্বের বৈশিষ্ট্য, গোলামির চিহ্ন, আদেশ-নিষেধের আনুগত্য এবং হীনতা ও বিনয় প্রদর্শনপূর্বক তার রবের সামনে আত্মসমর্পণ থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা দোয়ায় বারবার মিনতি করা পছন্দ করেন। সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: "আমি উত্তর থেকে বঞ্চিত হওয়ার চেয়ে দোয়া করার তৌফিক থেকে বঞ্চিত হওয়াকে বেশি ভয় করি। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদত থেকে অহংকার করে, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।} (১)। সুতরাং তিনি দোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং উত্তর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর তিনি কখনোই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।" (২)।
ইবনুল জাওজি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জেনে রেখো, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা মুমিনের দোয়া ফিরিয়ে দেন না; তবে উত্তর দিতে দেরি হওয়ার পেছনে কোনো কল্যাণ থাকতে পারে। আবার হতে পারে সে যা চেয়েছে তাতে সামগ্রিকভাবে কোনো কল্যাণ নেই, ফলে তিনি তাকে এমন কিছু বিনিময় দান করেন যা তার জন্য কল্যাণকর। কখনও কখনও এই বিনিময় কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়। অতএব, মুমিনের উচিত নয় যে উত্তর না পাওয়ার কারণে প্রার্থনা করা বন্ধ করে দেওয়া। কারণ দোয়ার মাধ্যমে সে ইবাদত সম্পাদন করছে এবং সত্য (আল্লাহ) তার জন্য যা কল্যাণকর মনে করেন তার ওপর সমর্পণ করার মাধ্যমে সে নিজেকে সঁপে দিচ্ছে।" (৩)।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "দোয়ার প্রভাবে বাধা সৃষ্টিকারী আপদসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বান্দার তাড়াহুড়ো করা এবং উত্তর পেতে দেরি হচ্ছে মনে করা। ফলে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দোয়া ছেড়ে দেয়। তার উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে একটি বীজ বপন করল বা একটি চারা রোপণ করল, এরপর সেটির তদারকি ও সেচ দিতে লাগল। কিন্তু যখন সেটি পূর্ণতা পেতে ও ফল দিতে দেরি করল, তখন সে তা ছেড়ে দিল এবং অবহেলা করল।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إن الثقة بالله تعالى، واليقين بالإجابة (1): من أعظم الشروط لقبول الدعاء الثقة بالله تعالى، وأنه على كل شيء قدير؛ لأنه تعالى يقول للشيء كن فيكون، قال سبحانه: {إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ إِذَا أَرَدْنَاهُ أَنْ نَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (2)، وقال سبحانه: {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (3)، ومما يزيد ثقة المسلم بربه تعالى أن يعلم أن جميع خزائن الخيرات والبركات عند الله تعالى، قال سبحانه: {وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَرٍ مَعْلُومٍ} (4).
وقال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث القدسي الذي رواه عن ربه تبارك وتعالى: «
… يا عبادي لو أن أوَّلكم وآخركُم وإنسَكُم وجنَّكم قاموا في صعيدٍ واحدٍ فسألوني، فأعطيتُ كلَّ إنسانٍ مسألته، ما نقص ذلك مما عندي إلا كما ينقُصُ المِخيطُ إذا أُدخِلَ البَحر» (5).
وهذا يدل على كمال قدرته سبحانه وتعالى، وكمال ملكه، وأن ملكه وخزائنه لا تنفد، ولا تنقص بالعطاء، ولو أعطى الأولين والآخرين: من الجن والإنس جميع ما سألوه في مقام واحد (6)؛ ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: «يدُ الله (7) ملأى لا يَغِضُها نفقةٌ سحاء (8) الليل والنهار، أرأيتم ما أنفق منذ خلق السماء (9)
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর ওপর আস্থা এবং (দোয়া) কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস (১): দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম মহত্তম শর্ত হলো মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা এবং বিশ্বাস করা যে তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান; কারণ তিনি কোনো কিছুকে বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়। তিনি পবিত্র সত্তা বলেন: "আমি যখন কোনো কিছু করার ইচ্ছা করি, তখন আমার কথা কেবল এই যে, আমি বলি 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।" (২), এবং তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই তাঁর নির্দেশ এই যে, তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন: 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।" (৩)। আর মহান রবের ওপর মুমিনের আস্থা যে বিষয়টি বৃদ্ধি করে তা হলো—এ কথা জানা যে, সকল কল্যাণ ও বরকতের ভাণ্ডার মহান আল্লাহর নিকট। তিনি বলেন: "আর এমন কোনো বস্তু নেই যার ভাণ্ডার আমার কাছে নেই; আর আমি তা কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণে অবতীর্ণ করি।" (৪)।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রব (তাবারাকা ওয়া তা'আলা) হতে বর্ণিত একটি হাদিসে কুদসিতে বলেছেন: «
… হে আমার বান্দারা! তোমাদের আদি ও অন্ত, মানুষ ও জিন যদি সবাই একই ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার কাছে প্রার্থনা করে, আর আমি প্রত্যেক মানুষকে তার প্রার্থনা অনুযায়ী দান করি, তবে তা আমার নিকট যা আছে তা থেকে ততটুকুই কমাবে যতটুকু সমুদ্রের মধ্যে সুঁই প্রবেশ করালে (তা সমুদ্রের পানিকে) কমায়» (৫)।
এটি তাঁর (পবিত্র ও মহান) পূর্ণ সক্ষমতা ও তাঁর রাজত্বের পূর্ণতার প্রমাণ দেয়। আর এ কথা প্রমাণ করে যে তাঁর রাজত্ব ও ভাণ্ডার কখনও শেষ হয় না এবং দানে তা কমে না; যদিও তিনি জিন ও মানুষের আদি ও অন্ত সবাইকে তাদের যা কিছু চাওয়ার আছে তা এক স্থানে প্রদান করেন (৬); এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর হাত (৭) প্রাচুর্যে পূর্ণ, রাত-দিন অঝোর ধারায় দান করলেও (৮) কোনো ব্যয় তা কমাতে পারে না। তোমরা কি দেখেছ, আকাশ (৯) সৃষ্টির পর থেকে তিনি যা ব্যয় করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والأرض؛ فإنه لم يغِض ما في يده، وكان عرشه على الماء، وبيده (1) الميزان يخفض ويرفع» (2).
فالمسلم إذا علم ذلك، فعليه أن يدعو الله وهو موقن بالإجابة؛ لما تقدم؛ ولحديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ادعوا الله وأنتم موقنون بالإجابة واعلموا أنَّ الله لا يستجيب دعاءً من قلبٍ غافلٍ لاهٍ» (3).
وبين الإمام ابن القيم رحمه الله أن الدعاء المقبول الذي يستجيب الله لصاحبه لا بد أن يكون حاضر القلب، واثقًا في إجابة الله له.
«وإذا جمع مع الدَّعاء حضور القلب وجمعيَّته بكليَّته على المطلوب، وصادف وقتًا من أوقات الإجابة الستة، وهي: الثُّلث الأخير من اللَّيل، وعند الأذان، وبين الأذان والإقامة، وأدبار الصَّلوات المكتوبات، وعند صعود الإمام يوم الجمعة على المنبر حتى تُقضى الصَّلاة من ذلك اليوم، وآخر ساعة بعد العصر.
وصادف خشوعًا في القلب، وانكسارًا بين يدي الربِّ، وذُلًّا له، وتضرُّعًا، ورقَّة. واستقبل الدَّاعي القبلة. وكان على طهارةٍ. ورفع يديه إلى الله. وبدأ بحمد الله والثَّناء عليه، ثمَّ ثنَّى بالصَّلاة على محمَّدٍ عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم ثمَّ قدَّم بين يدي حاجته التَّوبة والاستغفار. ثمَّ دخل على الله، وألحَّ عليه في المسألة، وتملَّقه ودعاه رغبةً ورهبةً. وتوسَّل إليه بأسمائه وصفاته وتوحيده. وقدَّم بين يدي دعائه صدقةً، فإنَّ هذا الدُّعاء لا يكاد يُردُّ أبدًا،
--------------------------------------------
এবং পৃথিবী; যা তাঁর হাতে রয়েছে তা নিঃশেষ হয়নি, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে এবং তাঁর হাতে (১) রয়েছে দাঁড়িপাল্লা, তিনি তা নিচু করেন এবং উঁচু করেন (২)।
সুতরাং একজন মুসলিম যখন এটি জানতে পারবে, তখন তার উচিত কবুল হওয়ার সুদৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা; কারণ যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসের কারণে, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার সুদৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করো এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ কোনো উদাসীন ও অমনোযোগী হৃদয়ের দোয়া কবুল করেন না" (৩)।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, কবুলযোগ্য দোয়া যার উত্তর আল্লাহ প্রদান করেন, তাতে অবশ্যই হৃদয়ের উপস্থিতি থাকতে হবে এবং আল্লাহর কবুল করার প্রতি আস্থাশীল হতে হবে।
"যখন দোয়ার সাথে হৃদয়ের উপস্থিতি এবং কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের ওপর পূর্ণ একাগ্রতা যুক্ত হয় এবং এটি দোয়া কবুলের ছয়টি সময়ের কোনো একটিতে হয়, সেগুলো হলো: রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ, আজানের সময়, আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, ফরজ সালাতসমূহের শেষভাগে, জুমার দিন ইমামের মিম্বরে আরোহণ থেকে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর দিনের শেষ সময়।
এবং তা হৃদয়ের বিনয়, রবের সামনে নিজেকে সঁপে দেওয়া, তাঁর প্রতি হীনতা প্রকাশ, আকুতি ও কোমলতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর দোয়া দাতা কিবলামুখী হয়। পবিত্র অবস্থায় থাকে। আল্লাহর দিকে তার হাত দুটি উত্তোলন করে। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তনের মাধ্যমে শুরু করে, এরপর আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে। এরপর তার প্রয়োজনের আগে তাওবা ও ইস্তিগফার পেশ করে। তারপর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা শুরু করে, প্রার্থনার বিষয়ে জেদ ধরে, অনুনয়-বিনয় করে এবং আশা ও ভয় নিয়ে তাঁকে ডাকে। তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও তাওহীদের মাধ্যমে তাঁর কাছে অসীলা প্রার্থনা করে। আর দোয়ার আগে সদকা প্রদান করে, তবে এই দোয়া প্রায় কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولا سيَّما إن صادف الأدعية التي أخبر النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم أنها مظنَّة الإجابة، أو أنَّها متضمِّنةٌ للاسم الأعظم» (1).
2 - استجابة الله لدعاء من وثق في إجابته سبحانه:لقد اهتم الأنبياء والرسل عليهم السلام وأتباعهم من عباد الله الصالحين بالدعاء، فاستجاب الله دعاءهم، لأنهم كانوا على ثقة ويقين باستجابة الله لهم، وهذا كثير في القرآن والسنة، ومن ذلك ما يأتي:
1 - آدم عليه السلام: قال تعالى: {قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (2)، فغفر الله لهما كما قال سبحانه: {فَتَلَقَّى آَدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} (3)، ثم أكرمه الله بالاصطفاء فقال سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى آَدَمَ وَنُوحًا وَآَلَ إِبْرَاهِيمَ وَآَلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ} (4)، وخصَّه بالاجتباء، فقال تعالى: {ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَى} (5).
2 - نوح عليه السلام: قال الله تعالى: {وَلَقَدْ نَادَانَا نُوحٌ فَلَنِعْمَ الْمُجِيبُونَ * وَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ} (6).
قال الشيخ السعدي رحمه الله: «يخبر تعالى عن عبده ورسوله نوح عليه السلام، أول الرسل، أنه لما دعا قومه إلى الله، تلك المدة الطويلة فلم يزدهم دعاؤه، إلا فرارًا، أنه نادى ربه فقال: {وَقَالَ نُوحٌ رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا * إِنَّكَ إِنْ
--------------------------------------------
বিশেষ করে যদি এমন দুআসমূহের সাথে মিলে যায় যেগুলোর ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, সেখানে কবুল হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে অথবা যেগুলোতে ইসমে আযম নিহিত রয়েছে। (১)
২ - মহান আল্লাহর প্রতি কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস রেখে যারা দুআ করে, তাদের প্রতি তাঁর সাড়া দান:নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের মধ্যে তাঁদের অনুসারীরা দুআর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। ফলে আল্লাহ তাঁদের দুআ কবুল করেছেন। কারণ তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে দুআ কবুল হওয়ার বিষয়ে পূর্ণ আস্থা ও সুনিশ্চিত বিশ্বাস রাখতেন। কুরআন ও সুন্নাহতে এর অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে, তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:
১ - আদম (আলাইহিস সালাম): মহান আল্লাহ বলেন: ‘তাঁরা উভয়ে বললেন: হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর অবিচার করেছি; আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব’ (২)। অতঃপর আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করে দিলেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: ‘অতঃপর আদম তার রবের কাছ থেকে কিছু কালিমা লাভ করলেন। ফলে আল্লাহ তার প্রতি তাওবা কবুল করে ফিরে তাকালেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু’ (৩)। এরপর আল্লাহ তাকে মনোনীত করে সম্মানিত করেছেন, মহান আল্লাহ বলেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আদম, নূহ এবং ইবরাহীমের পরিবার ও ইমরানের পরিবারকে বিশ্বজগতের ওপর মনোনীত করেছেন’ (৪)। এবং তাকে বিশেষ চয়নকৃত মর্যদায় ভূষিত করে আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘অতঃপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে সৎপথে পরিচালিত করলেন’ (৫)।
২ - নূহ (আলাইহিস সালাম): মহান আল্লাহ বলেন: ‘অবশ্যই নূহ আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতই না উত্তম সাড়া দানকারী! এবং আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে মহাসংকট থেকে উদ্ধার করেছিলাম’ (৬)।
শাইখ আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল, প্রথম রাসূল নূহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি যখন দীর্ঘকাল তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন এবং তাঁর সেই আহ্বান তাদের মধ্যে পলায়নপরতা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করল না, তখন তিনি তাঁর রবকে ডেকে বললেন: ‘এবং নূহ বলেছিল: হে আমার রব! জমিনের ওপর কাফিরদের মধ্য থেকে কোনো গৃহবাসীকে অবশিষ্ট রাখবেন না। নিশ্চয়ই আপনি যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تَذَرْهُمْ يُضِلُّوا عِبَادَكَ وَلَا يَلِدُوا إِلَّا فَاجِرًا كَفَّارًا * رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا} (1) فاستجاب الله له ومدح تعالى نفسه فقال: {فَلَنِعْمَ الْمُجِيبُونَ} لدعاء الداعين، وسماع تبتلهم وتضرعهم، أجابه إجابة طابق ما سأل، نجاه وأهله من الكرب العظيم» (2).
وقال تعالى: {وَنُوحًا إِذْ نَادَى مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ * وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ} (3)، وقال تعالى: {كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ فَكَذَّبُوا عَبْدَنَا وَقَالُوا مَجْنُونٌ وَازْدُجِرَ * فَدَعَا رَبَّهُ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرْ * فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ * وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ * وَحَمَلْنَاهُ عَلَى ذَاتِ أَلْوَاحٍ وَدُسُرٍ * تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاءً لِمَنْ كَانَ كُفِرَ} (4).
3 - زكريا عليه السلام: قال الله تعالى: {هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُ قَالَ رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ * فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى مُصَدِّقًا بِكَلِمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَسَيِّدًا وَحَصُورًا وَنَبِيًّا مِنَ الصَّالِحِينَ * قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ وَقَدْ بَلَغَنِيَ الْكِبَرُ وَامْرَأَتِي عَاقِرٌ قَالَ كَذَلِكَ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ} (5).
قال ابن كثير رحمه الله: «لما رأى زكريا عليه السلام، أن الله تعالى يرزق مريم عليها السلام، فاكهة الشتاء في الصيف، وفاكهة الصيف في الشتاء، طمع حينئذ
--------------------------------------------
...আপনি যদি তাদেরকে ছেড়ে দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং কেবল পাপাচারী ও চরম কাফিরই জন্ম দেবে। হে আমার পালনকর্তা! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং যারা মুমিন হয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে তাদেরকে আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের ক্ষমা করুন, এবং যালিমদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন। (১) অতঃপর আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করলেন এবং মহান আল্লাহ নিজের প্রশংসা করে বললেন: "সাড়া দানকারীদের মধ্যে আমি কতই না উত্তম" আহ্বানকারীদের প্রার্থনার জন্য এবং তাদের আকুতি ও রোনাজারি শোনার ক্ষেত্রে; তিনি তাকে এমনভাবে উত্তর দিলেন যা তার প্রার্থনার অনুরূপ ছিল, তাকে এবং তার পরিবারকে মহাসংকট থেকে রক্ষা করলেন। (২)।
আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং নূহের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি এর পূর্বে আহ্বান করেছিলেন; তখন আমি তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে ও তার পরিবারকে মহাসংকট থেকে রক্ষা করেছিলাম। আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, আমি তাদের বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করেছিলাম; নিশ্চয়ই তারা ছিল এক মন্দ সম্প্রদায়, তাই আমি তাদের সকলকেই নিমজ্জিত করেছিলাম।" (৩)। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও অস্বীকার করেছিল; তারা আমার বান্দাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং বলেছিল, সে এক উন্মাদ; আর তাকে ধমক দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর সে তার পালনকর্তাকে আহ্বান করে বলল, আমি তো পরাজিত, অতএব আপনি সাহায্য করুন। তখন আমি আসমানের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিলাম প্রবল বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে। আর আমি ভূমি থেকে প্রস্রবণসমূহ উৎসারিত করলাম, ফলে পানি মিলিত হলো এক নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী। আর আমি তাকে বহন করলাম তক্তা ও পেরেক নির্মিত এক নৌযানে। যা আমার চোখের সামনে দিয়ে চলত; এটি ছিল তার জন্য পুরস্কার, যাকে অস্বীকার করা হয়েছিল।" (৪)।
৩ - যাকারিয়া আলাইহিস সালাম: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সেখানেই যাকারিয়া তার পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন; তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে এক পবিত্র সন্তান দান করুন, নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। অতঃপর ফেরেশতারা তাকে ডেকে বলল, যখন তিনি কক্ষে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন যে, আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বাণীর সত্যায়নকারী হবে এবং সে হবে নেতা, প্রবৃত্তি দমনকারী এবং পুণ্যবানদের মধ্য থেকে একজন নবী। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা! আমার পুত্র হবে কীভাবে, অথচ আমি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা? তিনি (আল্লাহ) বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা চান তা করেন।" (৫)।
ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "যখন যাকারিয়া আলাইহিস সালাম দেখলেন যে, আল্লাহ তাআলা মারইয়াম আলাইহাস সালামকে শীতকালে গ্রীষ্মকালীন ফল এবং গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফল রিযিক হিসেবে দান করছেন, তখন তিনি আকাঙ্ক্ষা করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
في الولد، وإن كان شيخاً كبيراً قد ضعف ووَهَن منه العظم، واشتعل رأسه شيبًا، وإن كانت امرأته مع ذلك كبيرة وعاقرًا، لكنه مع هذا كله سأل ربه وناداه نداءً خفيًّا، وقال: {رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ} أي: من عندك {ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً} أي: ولداً صالحاً {إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ} قال الله تعالى: {فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ} أي: خاطبته الملائكة شفاها خطابًا أسمعته، وهو قائم يصلي في محراب عبادته، ومحل خَلْوَته، ومجلس مناجاته، وصلاته. ثم أخبر عما بشّرته به الملائكة: {أَنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكَ بِيَحْيَى} أي: بولد يوجد لك من صلبك اسمه يحيى. قال قتادة وغيره: إنما سُمِّي يحيى لأن الله تعالى أحياه بالإيمان» (1).
فزكريا عليه السلام قد شرح أسباب دعائه، وعرض ضعفه على القويِّ؛ فهو واهِنُ العظم، أشيب الرأس، يخاف الموالي، وامرأته - فوق كلِّ ذلك - عاقرٌ لا تُنجب، وهو يَطلب الولد!
إنَّ أيَّ شخص غير واثق بالله لو يعلم أنَّ شيخًا كبيرًا لا ينجب، وامرأته عاقرٌ، وقد علاه المشيب، يدعو الله الولد - سيقول إذ ذاك: لقد جنَّ الشيخ وربِّ الكعبة! ويحدث أن يستهزئ به، أو يسخر منه، ونسي أنَّ الله لا يعجزه شيء.
إن الله تعالى لا يطلب منَّا أن نقدِّم لأسباب دعائنا، وأن نشرح أحوالنا وأمورنا؛ فهو يعلم السِّر وأخفى - لا يطلب ذلك إلَاّ لأجل أن يستحضر المحتاج حالة ضعفه، وأن يخشع قلبه، وتَخضع جوارحه، ويكون منكسرًا صادقًا في دعائه، وقد كان زكريَّا هكذا، فهذا أدبٌ من آداب الدعاء، ورسنٌ من أرسان قبوله.
--------------------------------------------
সন্তানের বিষয়ে, যদিও তিনি এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন যার হাড় দুর্বল ও জীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং বার্ধক্যে মস্তক শুভ্র হয়ে গিয়েছিল; আর তাঁর স্ত্রীও তদুপরি বৃদ্ধা ও বন্ধ্যা ছিলেন, কিন্তু এই সবকিছু থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করলেন এবং তাঁকে অত্যন্ত গোপনে ডাকলেন। তিনি বললেন: {হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ থেকে এক পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।} আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর ফেরেশতারা তাঁকে ডাকল যখন তিনি মিহরাবে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।} অর্থাৎ: ফেরেশতারা সরাসরি তাঁর সাথে এমনভাবে কথা বলেছিল যা তিনি শুনতে পাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর ইবাদতের মিহরাবে, নির্জনতার স্থানে এবং মুনাজাত ও সালাতের মজলিসে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। অতঃপর ফেরেশতারা তাঁকে যে সুসংবাদ দিয়েছিল সে সম্পর্কে তিনি অবহিত করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দিচ্ছেন।} অর্থাৎ: আপনার ঔরস থেকে আপনার এক পুত্র জন্ম নেবে যার নাম ইয়াহইয়া। কাতাদাহ এবং অন্যান্যরা বলেন: তাঁর নাম ইয়াহইয়া রাখা হয়েছে কারণ আল্লাহ তাআলা ঈমানের মাধ্যমে তাঁকে সঞ্জীবিত করেছেন (১)।
জাকারিয়া আলাইহিস সালাম তাঁর দোয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন এবং সর্বশক্তিমানের নিকট নিজের দুর্বলতা উপস্থাপন করেছেন; তাঁর হাড় ছিল জীর্ণ, মস্তক শুভ্র কেশধারী, তিনি তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরিদের নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী—এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে—ছিলেন বন্ধ্যা যিনি সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম, অথচ তিনি সন্তান প্রার্থনা করছেন!
আল্লাহর প্রতি আস্থাহীন কোনো ব্যক্তি যদি জানতে পারে যে একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ যার প্রজনন শক্তি নেই এবং স্ত্রী বন্ধ্যা ও বার্ধক্য যাকে গ্রাস করেছে—তিনি আল্লাহর নিকট সন্তান প্রার্থনা করছেন, তবে সে তৎক্ষণাৎ বলবে: কাবার রবের কসম, এই বৃদ্ধ নিশ্চয়ই উন্মাদ হয়ে গেছেন! এমনও হতে পারে যে সে তাঁকে নিয়ে বিদ্রূপ করবে বা উপহাস করবে; অথচ সে ভুলে যায় যে কোনো কিছুই আল্লাহকে অক্ষম করতে পারে না।
মহান আল্লাহ আমাদের কাছে আমাদের প্রার্থনার কারণসমূহ পেশ করার বা আমাদের অবস্থা ও বিষয়াদি বর্ণনা করার দাবি করেন না; কেননা তিনি তো গোপন এবং অতি গোপন সব বিষয়ই অবগত। তিনি কেবল এই উদ্দেশ্যেই তা চান যাতে অভাবী ব্যক্তি তার নিজের দুর্বলতা অনুভব করতে পারে, তার অন্তর বিগলিত হয়, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনম্র হয় এবং সে তার প্রার্থনায় বিমর্ষ ও সত্যনিষ্ঠ হতে পারে। জাকারিয়া আলাইহিস সালাম তেমনই ছিলেন। আর এটি দোয়ার আদবসমূহের একটি এবং দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম একটি সোপান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
4 - يعقوب عليه السلام: قال الله في قصة يعقوب مع أبنائه: {قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنْفُسُكُمْ أَمْرًا فَصَبْرٌ جَمِيلٌ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَاتِيَنِي بِهِمْ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ * وَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَا أَسَفَى عَلَى يُوسُفَ وَابْيَضَّتْ عَيْنَاهُ مِنَ الْحُزْنِ فَهُوَ كَظِيمٌ * قَالُوا تَاللَّهِ تَفْتَأُ تَذْكُرُ يُوسُفَ حَتَّى تَكُونَ حَرَضًا أَوْ تَكُونَ مِنَ الْهَالِكِينَ * قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ * يَا بَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِنْ يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَيْئَسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْئَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ} (1).
ثم استجاب الله دعاءه، لثقته في الله تعالى، وردَّ عليه يوسف وأخاه قال الله: {قَالُوا أَئِنَّكَ لَأَنْتَ يُوسُفُ قَالَ أَنَا يُوسُفُ وَهَذَا أَخِي قَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْنَا إِنَّهُ مَنْ يَتَّقِ وَيَصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ * قَالُوا تَاللَّهِ لَقَدْ آَثَرَكَ اللَّهُ عَلَيْنَا وَإِنْ كُنَّا لَخَاطِئِينَ * قَالَ لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ * اذْهَبُوا بِقَمِيصِي هَذَا فَأَلْقُوهُ عَلَى وَجْهِ أَبِي يَاتِ بَصِيرًا وَاتُونِي بِأَهْلِكُمْ أَجْمَعِينَ * وَلَمَّا فَصَلَتِ الْعِيرُ قَالَ أَبُوهُمْ إِنِّي لَأَجِدُ رِيحَ يُوسُفَ لَوْلَا أَنْ تُفَنِّدُونِ * قَالُوا تَاللَّهِ إِنَّكَ لَفِي ضَلَالِكَ الْقَدِيمِ * فَلَمَّا أَنْ جَاءَ الْبَشِيرُ أَلْقَاهُ عَلَى وَجْهِهِ فَارْتَدَّ بَصِيرًا قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ * قَالُوا يَا أَبَانَا اسْتَغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا إِنَّا كُنَّا خَاطِئِينَ * قَالَ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} (2).
--------------------------------------------
৪ - ইয়াকুব আলাইহিস সালাম: আল্লাহ ইয়াকুব ও তাঁর পুত্রদের কাহিনীতে বলেন: {তিনি বললেন, ‘বরং তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি বিষয়কে সুশোভিত করেছে; সুতরাং সুন্দর ধৈর্যই শ্রেয়। আশা করা যায় আল্লাহ তাদের সকলকে আমার কাছে নিয়ে আসবেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। * আর তিনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, ‘হায় ইউসুফ!’ আর দুঃখে তাঁর চোখ দুটি সাদা হয়ে গেল এবং তিনি ছিলেন শোকাভিভূত। * তারা বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আপনি তো ইউসুফকে স্মরণ করতেই থাকবেন যতক্ষণ না আপনি মুমূর্ষু হন অথবা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হন।’ * তিনি বললেন, ‘আমি তো আমার অসহনীয় বেদনা ও দুঃখ কেবল আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি এবং আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু জানি যা তোমরা জান না। * হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান কর এবং আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত হতে কাফির সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউ নিরাশ হয় না’} (১)।
অতঃপর আল্লাহ তাঁর দুআ কবুল করলেন, আল্লাহ তাআলার প্রতি তাঁর আস্থার কারণে। এবং তিনি তাঁর কাছে ইউসুফ ও তাঁর ভাইকে ফিরিয়ে দিলেন। আল্লাহ বলেন: {তারা বলল, ‘তবে কি তুমিই ইউসুফ?’ তিনি বললেন, ‘আমিই ইউসুফ এবং এ আমার ভাই। আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয় যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধরে, তবে আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না। * তারা বলল, ‘আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আমরা অবশ্যই অপরাধী ছিলাম।’ * তিনি বললেন, ‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। * আমার এই জামাটি নিয়ে যাও এবং এটি আমার পিতার চেহারার উপর রেখো, এতে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন। আর তোমাদের পরিবারের সবাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো।’ * যখন কাফেলা রওনা হলো, তখন তাদের পিতা বললেন, ‘আমি অবশ্যই ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি, যদি তোমরা আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে না করতে।’ * তারা বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আপনি তো আপনার সেই পুরনো বিভ্রান্তিতেই আছেন।’ * অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা এল, সে তা তাঁর চেহারার উপর রাখল, অমনি তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন। তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু জানি যা তোমরা জান না?’ * তারা বলল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য আমাদের পাপের ক্ষমা প্রার্থনা করুন, নিশ্চয় আমরা অপরাধী ছিলাম।’ * তিনি বললেন, ‘আমি শীঘ্রই আমার রবের কাছে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’} (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
5 - موسى عليه السلام: قال الله عن دعائه: {قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي * وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي * وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي * يَفْقَهُوا قَوْلِي * وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِنْ أَهْلِي * هَارُونَ أَخِي * اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي * وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي * كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا * وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا * إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا * قَالَ قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يَا مُوسَى} (1)، وقال الله تعالى عن موسى وهارون: {وَقَالَ مُوسَى رَبَّنَا إِنَّكَ آَتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَأَهُ زِينَةً وَأَمْوَالًا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا عَنْ سَبِيلِكَ رَبَّنَا اطْمِسْ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ * قَالَ قَدْ أُجِيبَتْ دَعْوَتُكُمَا فَاسْتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَانِّ سَبِيلَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} (2).
6 - محمد صلى الله عليه وسلم وأصحابه: قال تعالى: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ * وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (3).
قال الشيخ السعدي رحمه الله: «أي: اذكروا نعمة الله عليكم، لما قارب التقاؤكم بعدوكم، استغثتم بربكم، وطلبتم منه أنه يعينكم وينصركم {فَاسْتَجَابَ لَكُمْ} وأغاثكم بعدة أمور:
منها: أن الله أمدكم {بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ} أي: يردف بعضهم بعضاً.
{وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ} أي: إنزال الملائكة {إِلَّا بُشْرَى} أي: لتستبشر بذلك نفوسكم، {وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ} وإلا فالنصر بيد الله، ليس بكثرة عَدَدٍ ولا عُدَدٍ .. {إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ} لا يغالبه مغالب، بل هو القهار،
--------------------------------------------
৫ - মূসা আলাইহিস সালাম: আল্লাহ তাঁর দুআ সম্পর্কে বলেন: {তিনি বললেন: হে আমার রব! আমার বুক প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। এবং আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত করে দিন; আমার ভাই হারুনকে। তার মাধ্যমে আমার শক্তি বৃদ্ধি করুন। এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন। যাতে আমরা আপনার অধিক পবিত্রতা ঘোষণা করতে পারি। এবং আপনাকে অধিক স্মরণ করতে পারি। নিশ্চয়ই আপনি আমাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা। তিনি বললেন: হে মূসা! তোমার প্রার্থনা কবুল করা হয়েছে} (১), এবং আল্লাহ তাআলা মূসা ও হারুন সম্পর্কে বলেন: {আর মূসা বলল: হে আমাদের রব! আপনি ফেরাউন ও তার সর্দারদের পার্থিব জীবনে বিলাসিতা ও সম্পদ দান করেছেন; হে আমাদের রব! যাতে তারা আপনার পথ থেকে বিচ্যুত করে। হে আমাদের রব! তাদের সম্পদ ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তর কঠোর করে দিন, ফলে তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনবে না। তিনি বললেন: তোমাদের উভয়ের প্রার্থনা কবুল করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা অটল থাকো এবং তাদের পথ অনুসরণ করো না যারা জানে না} (২)।
৬ - মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ: আল্লাহ তাআলা বলেন: {স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের আহবানে সাড়া দিলেন যে, আমি তোমাদের সাহায্য করব এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে যারা একে অপরের পেছনে আসবে। আর আল্লাহ এটা কেবল সুসংবাদ হিসেবে দান করেছেন এবং যাতে তোমাদের অন্তরসমূহ এর মাধ্যমে প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (৩)।
শায়খ আস-সাদী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: «অর্থাৎ: তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন শত্রুর সাথে তোমাদের মোকাবিলা সন্নিকটে ছিল, তখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট আর্তপ্রার্থনা করেছিলে এবং তাঁর কাছে আবেদন করেছিলে যেন তিনি তোমাদের সাহায্য ও বিজয় দান করেন {অতঃপর তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন} এবং বেশ কিছু বিষয়ের মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করলেন:
তার মধ্যে একটি হলো: আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেছেন {এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে যারা ধারাবাহিকভাবে আগত} অর্থাৎ: তারা একে অপরের পেছনে পর্যায়ক্রমে আসছিল।
{আর আল্লাহ একে করেননি} অর্থাৎ: ফেরেশতা অবতরণকে {সুসংবাদ ব্যতীত অন্য কিছু} অর্থাৎ: যাতে তোমাদের মন এর দ্বারা আনন্দিত হয়, {এবং এর মাধ্যমে যেন তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়} নতুবা বিজয় তো আল্লাহর হাতে, তা সংখ্যাধিক্য বা যুদ্ধ সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল নয়... {নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী} কোনো বিজয়ী তাঁকে পরাজিত করতে পারে না, বরং তিনিই সর্বজয়ী,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিকাতুল মুসলিম বিল্লাহি তাআলা ফী দউয়িল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الذي يخذل من بلغوا من الكثرة وقوة العدد والآلات ما بلغوا. {حَكِيمٌ} حيث قدر الأمور بأسبابها، ووضع الأشياء مواضعها» (1).
وقال تعالى: {وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ * إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلَاثَةِ آَلَافٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُنْزَلِينَ * بَلَى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَاتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ آَلَافٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ * وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُمْ بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} (2).
والأدعية التي دعا بها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وشوهدت إجابتها كالشمس في رابعة النهار كثيرة جدًّا لا تحصر، لثقة النبي صلى الله عليه وسلم الكبيرة في ربه، ومنها على سبيل المثال:
أ - دعاؤه صلى الله عليه وسلم لأنس بن مالك رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: «اللهم أكثر ماله، وولده، وبارك له فيما أعطيته (3)، [وأطل حياته، واغفر له]» (4)، قال أنس رضي الله عنه: فوالله إن مالي لكثير، وإن ولدي وولد ولدي ليتعادون نحو المائة اليوم (5)، [وحدثتني ابنتي أمينة أنه دفن لصلبي مقدم الحجاج البصرة بضع وعشرون ومائة] (6)، وطالت حياتي حتى استحييت من الناس، وأرجو المغفرة» (7).
--------------------------------------------
যিনি তাদের অপদস্থ করেন যারা সংখ্যাধিক্য, জনবল ও যুদ্ধসরঞ্জামের দিক থেকে যতোই শক্তিশালী হোক না কেন। {প্রজ্ঞাময়} কেননা তিনি সকল বিষয়কে তার উপকরণের সাথে নির্ধারণ করেছেন এবং প্রত্যেকটি জিনিসকে তার সঠিক স্থানে রেখেছেন (১)।
মহান আল্লাহ বলেন: “আর আল্লাহ অবশ্যই বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন যখন তোমরা ছিলে হীনবল। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। স্মরণ করো, যখন তুমি মুমিনদের বলছিলে—এটা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদের তিন হাজার অবতীর্ণ ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করবেন? হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা যদি এখনই অতর্কিতে তোমাদের ওপর আক্রমণ করে, তবে তোমাদের রব চিহ্নিত পাঁচ হাজার ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন। আর আল্লাহ একে কেবল তোমাদের জন্য সুসংবাদ করেছেন যাতে তোমাদের অন্তর এর দ্বারা প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য তো কেবল পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়” (২)।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসকল দুআ করেছেন এবং যার কবুলিয়ত দ্বিপ্রহরের উজ্জ্বল সূর্যের মতো দেখা গিয়েছে, তা এতই বেশি যে গণনা করা সম্ভব নয়। এটি ছিল স্বীয় রবের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুদৃঢ় আস্থার ফল। উদাহরণস্বরূপ তার মধ্য থেকে কিছু নিচে দেওয়া হলো:
ক - আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: “হে আল্লাহ, আপনি তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং তাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দিন (৩), [আর তার জীবন দীর্ঘ করুন এবং তাকে ক্ষমা করুন]” (৪)। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর কসম, আজ আমার সম্পদ অনেক এবং আমার সন্তান ও নাতি-নাতনির সংখ্যা আজ একশর কাছাকাছি (৫), [আর আমার মেয়ে আমিনা আমাকে বলেছে যে, হাজ্জাজের বসরায় আগমনের আগ পর্যন্ত আমার নিজের ঔরসজাত একশ বিশ জনেরও বেশি সন্তানকে দাফন করা হয়েছে] (৬), আর আমার জীবন এত দীর্ঘ হয়েছে যে আমি মানুষের কাছে লজ্জাবোধ করছি এবং আমি (আল্লাহর) ক্ষমার আশা রাখি (৭)।
--------------------------------------------