(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: -)
المحنة وأثرها في منهج الإمام أحمد النقدي القسم: علوم الحديث
الكتاب: المحنة وأثرها في منهج الإمام أحمد النقدي
المؤلف: عبد الله بن فوزان بن صالح الفوزان
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1431 هـ
عدد الصفحات: 109
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1436
আল-মিহনা (পরীক্ষা) এবং ইমাম আহমাদের সমালোচনা পদ্ধতির (المنهج النقدي) ওপর এর প্রভাব বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: আল-মিহনা এবং ইমাম আহমাদের সমালোচনা পদ্ধতির (المنهج النقدي) ওপর এর প্রভাব
লেখক: আবদুল্লাহ বিন ফাওজান বিন সালেহ আল-ফাওজান
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব কিংডম
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: -)
المِحْنَةُ وَأثَرُهَا فِي مَنْهَج الإِمَام أَحْمَدَ النَّقدي
تأليف
د. عبدُ الله بن فَوْزَانَ بن صَالح الفَوزَان
عُضْو هَيْئَة التّدريس بقسم الدّراسَاتِ الإسلاميّة - جَامِعَة طيبَة
دَار ابْن الْجَوْزِيّ
মিহনা (المحنة) এবং ইমাম আহমদের বিশ্লেষণধর্মী (نقدي) পদ্ধতির (منهج) ওপর এর প্রভাব
রচনায়
ড. আবদুল্লাহ ইবনে ফাওজান ইবনে সালেহ আল-ফাওজান
শিক্ষক মণ্ডলীর সদস্য, ইসলামি শিক্ষা বিভাগ - তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়
দার ইবনুল জাওজি
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
[المقدمة]الحمد لله رب العالمين، أحمده سبحانه بما هو أهله، وأُثني عليه الخير كله، وأُصلي وأُسلم على خير خلقه وخاتم رسله، وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين؛ أما بعد:
فهذه ورقات يسيرة في تجلية أثر المحنة في منهج الإمام أحمد رحمه الله النقدي، إذ ليس يخفي على أهل العلم - خصوصًا أصحاب الحديث منهم - أن المحنة التي امتدت أكثر من خمسة عشر عامًا تركت أثرًا واضحًا في الإمام، لا سيما أنها كانت في آخر حياته؛ فلم يبق الإمام بعد انجلاء غمتها إلا سنوات يسيرة.
وقد دعاني إلى هذه الدراسة الأسباب التالية:
1 - شهرة هذه المحنة وعمومها.
2 - طول مدتها زمنًا، وانتشارها مكانًا؛ إذ عمت غالب البلاد.
3 - أنها من المحن القلائل التي توالى عدد من الحكام والولاة على القول بها وحمل الناس عليها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[ভূমিকা]সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি এমন প্রশংসার মাধ্যমে যার উপযুক্ত তিনি স্বয়ং। আমি তাঁর সকল উত্তম স্তুতি করছি এবং সালাত ও সালাম পেশ করছি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। অতঃপর:
ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর পর্যালোচনামূলক (نقدي) পদ্ধতিতে 'মিহনা' বা অগ্নিপরীক্ষার প্রভাব স্পষ্ট করার লক্ষে এটি একটি সংক্ষিপ্ত নিবন্ধ। আলেমদের নিকট—বিশেষ করে হাদিস বিশারদগণের নিকট—এটি অস্পষ্ট নয় যে, পনের বছরেরও অধিক সময় ধরে চলা এই পরীক্ষা ইমামের ওপর এক স্পষ্ট প্রভাব রেখে গিয়েছিল; বিশেষ করে এটি যেহেতু তাঁর জীবনের শেষ ভাগে সংঘটিত হয়েছিল। আর এই কঠিন বিপদ দূর হওয়ার পর ইমাম মাত্র অল্প কয়েক বছর জীবিত ছিলেন।
নিম্নোক্ত কারণসমূহ আমাকে এই গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করেছে:
১ - এই পরীক্ষার প্রসিদ্ধি ও ব্যাপকতা।
২ - এর দীর্ঘ সময়কাল এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতি; কারণ এটি অধিকাংশ ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছিল।
৩ - এটি এমন অল্পসংখ্যক পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত যাতে একের পর এক শাসক ও প্রশাসকগণ এর মতবাদ লালন করেছিলেন এবং জনগণকে তা গ্রহণে বাধ্য করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ৬)
4 - كثرة من ابتلي بها من كبار الأئمة، وأعلام السنة، وعلماء الملة.
5 - ما كان لها من أثر واضح بين في حياة الإمام أحمد وحالته وصحته، فليس هناك شك أنها أشهر الأحداث في حياته وأعظمها أثرًا وتأثيرًا.
6 - ما ترتب عليها - عند الإمام بوجه خاص - من أثر حديثي ونقدي من الكلام في بعض الرواة ونقدهم من أجل إجابتهم في المحنة.
7 - كثرة التفاسير واختلاف التوجيهات لمواقف الأئمة - وموقف أحمد عَيْنًا - في هذه المحنة بين إفراط وتفريط، وغلو وجفاء، وتبرير وإدانة، وتبع ذلك شيءٌ من التنقيص أو التقديس.
8 - تصور بعض طلاب العلم - فضلاً عن غيرهم - أن المحنة حدثٌ تاريخي مجرد كغيره مما وقع في غابر الأزمان، والأمر - يقينًا - ليس كذلك، فلهذه المحنة من الأثر العقدي والحديثي والتاريخي الشيء الواضح البين.
9 - خطورة المسألة عقديًا، فهي - ربما تكون على الباحث - من المزالق الخطيرة، كيف لا؟! وهي فيصل بيّن، وحاجز ظاهر بين السنة والبدعة، بل بين الإسلام والكفر، وقد ظهر من آثارها حتى في الأسماء والأوصاف ما عرف فيما بعد بـ: أحمد السنة، وأحمد البدعة.
4 - বড় বড় ইমামগণ, সুন্নাহর প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বগণ এবং মিল্লাতের আলেমদের একটি বিশাল অংশের এতে আক্রান্ত হওয়া।
5 - ইমাম আহমদের জীবন, তাঁর অবস্থা ও স্বাস্থ্যের ওপর এর যে সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুপরিচিত ঘটনা এবং প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার দিক থেকে সর্ববৃহৎ।
6 - এর ফলে—বিশেষ করে ইমামের নিকট—হাদিসতাত্ত্বিক ও সমালোচনামূলক (نقدي) যে প্রভাব সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরীক্ষার (মিহনা) সময় নতিস্বীকার করার কারণে কিছু বর্ণনাকারী (رواة) সম্পর্কে মন্তব্য ও তাঁদের সমালোচনা (نقد) করার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
7 - এই পরীক্ষায় ইমামদের অবস্থান—এবং সুনির্দিষ্টভাবে ইমাম আহমদের অবস্থান—সম্পর্কে অতিরঞ্জন ও শিথিলতা, বাড়াবাড়ি ও অবহেলা এবং সমর্থন ও নিন্দার মাঝে ব্যাখ্যার আধিক্য ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা; এবং এর ফলে সম্মানহানি কিংবা অতি-পবিত্রকরণের মতো বিষয়ের উদ্ভব ঘটা।
8 - সাধারণ লোক তো বটেই, এমনকি কিছু জ্ঞান অন্বেষী শিক্ষার্থীর এই ধারণা যে, এই পরীক্ষাটি বিগত যুগে ঘটে যাওয়া অন্যান্য ঘটনার মতো কেবল একটি নিছক ঐতিহাসিক ঘটনা; অথচ বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই তেমন নয়। কারণ আকিদাগত, হাদিসতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিকভাবে এই পরীক্ষার অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য প্রভাব রয়েছে।
9 - আকিদাগতভাবে এই বিষয়টির ভয়াবহতা; কারণ এটি—একজন গবেষকের জন্য—বিপজ্জনক পিচ্ছিল পথ হতে পারে। কেনই বা হবে না?! এটি সুন্নাহ ও বিদআতের (بدعة) মধ্যে, এমনকি ইসলাম ও কুফরের (كفر) মধ্যে এক সুস্পষ্ট মীমাংসাকারী এবং প্রকাশ্য দেয়াল। এমনকি এর প্রভাব উপাধি ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও প্রকাশ পেয়েছে, যা পরবর্তীতে 'সুন্নাহর আহমদ' এবং 'বিদআতের (بدعة) আহমদ' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ৭)
10 - أنني لم أقف على بحث يتناول أثر هذه المحنة في المنهج العلمي والنقدي عند الإمام أحمد رحمه الله، وأقرب ما يوافق الهدف العام للبحث رسالة صغيرة للشيخ عبد الفتاح أبو غدة بعنوان (مسألة خلق القرآن وأثرها في صفوف الرواة والمحدثين وكتب الجرح والتعديل)، وستأتي الإشارة إليها وتعقب بعض أهل العلم لها.
وقد قصدت من هذا البحث تحقيق الأهداف التالية:
* بيان شدة هذه المحنة وعظيم فتنتها.
* توضيح مدى أثرها في الأمة وعلى الأئمة.
* تصوير قوة تأثيرها على الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله.
* كشف العلاقة بينها وبين منهج النقد عنده رحمه الله، وهو الهدف الأصلي.
* أثر هذه المحنة على علم الجرح والتعديل من خلال منهج الإمام أحمد، والمعلوم أنه من كبار أئمة السنة، ومن أشهر المعتدلين في نقد الرواة.
* تجلية مواقف بعض الأئمة الذين ابتلوا بهذه البلية الكبيرة.
وسوف أتناول ذلك - مستعينًا بالله تعالى - من خلال المباحث التالية:
المبحث الأول: مختصر عن تأريخ المحنة وأحداثها.
المبحث الثاني: أثر المحنة في منهج الإمام، وفيه مطلبان:
১০ - আমি এমন কোনো গবেষণার সন্ধান পাইনি যা ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর বৈজ্ঞানিক ও সমালোচনামূলক (النقد) পদ্ধতির ওপর এই পরীক্ষার (মিহনা) প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। এই গবেষণার সাধারণ লক্ষ্যের সাথে সবচেয়ে কাছাকাছি সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ হলো শেখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা, যার শিরোনাম হলো 'মাসআলাতু খালকিল কুরআন ওয়া আসারুহা ফি সুফুফির রুওয়াতি ওয়াল মুহাদ্দিসিনা ওয়া কুতুবিল জারহি ওয়াত তা’দিল' (কুরআন সৃষ্টির মাসআলা এবং বর্ণনাকারী ও মুহাদ্দিসগণের সারি এবং জারহ ও তা’দিল শাস্ত্রের বইসমূহের ওপর এর প্রভাব)। অচিরেই এর প্রতি ইঙ্গিত করা হবে এবং কিছু আলেম এর ওপর যে পর্যালোচনা করেছেন তাও উল্লেখ করা হবে।
এই গবেষণার মাধ্যমে আমি নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যগুলো অর্জনের লক্ষ্য স্থির করেছি:
* এই পরীক্ষার (মিহনা) তীব্রতা ও এর ভয়াবহ ফিতনার বিবরণ প্রদান করা।
* উম্মাহর ওপর এবং ইমামদের ওপর এর প্রভাবের ব্যাপ্তি স্পষ্ট করা।
* ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর ওপর এর প্রভাবের প্রাবল্য চিত্রায়িত করা।
* তাঁর (রহ.) সমালোচনা (النقد) পদ্ধতির সাথে এই পরীক্ষার সম্পর্ক উন্মোচন করা, যা মূলত এই গবেষণার আসল লক্ষ্য।
* ইমাম আহমাদের পদ্ধতির আলোকে সমালোচনা ও সত্যায়ন (الجرح والتعدিল) শাস্ত্রের ওপর এই পরীক্ষার প্রভাব আলোচনা করা; আর এটি সর্বজনবিদিত যে, তিনি সুন্নাহর শ্রেষ্ঠ ইমামদের অন্যতম এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনার (نقد الرواة) ক্ষেত্রে অন্যতম প্রসিদ্ধ ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
* এই মহাবিপদে আক্রান্ত হওয়া কিছু ইমামের অবস্থান স্পষ্ট করা।
আমি মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলোর মাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই পরীক্ষা (মিহনা)-র ইতিহাস ও ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমামের পদ্ধতির ওপর এই পরীক্ষার প্রভাব, এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ৮)
المطلب الأول: أثرها في منهجه العلمي، وفيه:
* تركه التحديث بعد المحنة.
* ترك التحديث عمن أجاب بعد المحنة وإبقاء ما حدث به عنه قبلها.
* الضرب على حديث بعض الرواة وتركه مطلقًا.
* نهيه عن التحديث بأحاديث ربما فهم منها تأييد البدعة.
* منعه لابنه أن يحدث عن المبتدعة عمومًا، وعمن أجاب في المحنة خصوصًا.
المطلب الثاني: أثرها في منهجه النقدي، وفيه:
* تعديل الرجل والثناء عليه؛ لثباته في المحنة وتمسكه بالسنة.
* كلامه فيمن أجاب متأولاً.
* كلامه فيمن قال: القرآن مخلوق اعتقادًا.
* كلامه في الواقفة.
المبحث الثالث: أشهر الأئمة الذين امتحنوا وموقف الإمام منهم، وفيه مطلبان:
المطلب الأول: أشهر الأئمة الذين امتحنوا ولم يجيبوا وموقف الإمام منهم.
المطلب الثاني: أشهر الأئمة الذين امتحنوا فأجابوا أو توقفوا، وموقف الإمام منهم.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মানহাজের ওপর এর প্রভাব, এতে রয়েছে:
* মিহনার (المحنة) পর হাদিস বর্ণনা করা বর্জন করা।
* মিহনার (المحنة) সময় যারা নতি স্বীকার করেছিল তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা বর্জন করা এবং মিহনার আগে তাদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা বহাল রাখা।
* নির্দিষ্ট কিছু বর্ণনাকারীর (رواة) হাদিস বাতিল করা এবং তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা।
* এমন সব হাদিস বর্ণনা করতে নিষেধ করা যা থেকে বিদআতের (بدعة) সমর্থন পাওয়া যেতে পারে।
* সাধারণত বিদআতিদের (المبتدعة) থেকে এবং বিশেষভাবে যারা মিহনার (المحنة) সময় নতি স্বীকার করেছিল তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করতে তাঁর পুত্রকে নিষেধ করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সমালোচনামূলক (النقد) মানহাজের ওপর এর প্রভাব, এতে রয়েছে:
* মিহনার (المحنة) সময় অবিচল থাকা এবং সুন্নাহর ওপর অটল থাকার কারণে কোনো ব্যক্তির নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديل) ও তাঁর প্রশংসা করা।
* যারা ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে (متأولاً) নতি স্বীকার করেছিল তাদের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য।
* যারা বিশ্বাসগতভাবে (اعتقادًا) 'কুরআন সৃজিত' হওয়ার কথা বলেছিল তাদের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য।
* ওয়াকিফাহ (الواقفة) বা যারা এ বিষয়ে নীরব ছিল তাদের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মিহনার (المحنة) সম্মুখীন হওয়া প্রসিদ্ধ ইমামগণ এবং তাঁদের ব্যাপারে ইমামের অবস্থান, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মিহনার (المحنة) সম্মুখীন হওয়া প্রসিদ্ধ ইমামগণ যারা নতি স্বীকার করেননি এবং তাঁদের ব্যাপারে ইমামের অবস্থান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মিহনার (المحنة) সম্মুখীন হওয়া প্রসিদ্ধ ইমামগণ যারা নতি স্বীকার করেছিলেন অথবা নীরবতা অবলম্বন করেছিলেন (توقفوا), এবং তাঁদের ব্যাপারে ইমামের অবস্থান।
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقد سرتُ في مسالك البحث وفق الخطوات التالية:
1 - جعلت عنوان البحث (المحنة وأثرها في منهج الإمام أحمد النقدي)، وقد تضمن البحث الكلام على الأثر في المنهج العلمي، لكن ذلك كالمدخل للمنهج النقدي، فذلك تعميم تلاه تخصيص، وقصرت العنوان على المنهج النقدي؛ لأن البحث متعلق بالجرح والتعديل، ذاك الباب الكبير الواسع من أبواب السنة وعلومها.
2 - صغت حدث المحنة تاريخيًا، دون النظر إلى ترتيب المصادر.
3 - اختصرت ذكر المحنة دون الإخلال في شيء من فصولها أو أحداثها المهمة، ولم أتوسع في ذلك؛ إذ ليس البحث في تاريخها وأحداثها خصوصًا، فذاك بحث تاريخي صرفٌ، وإنما أردت أن يكون ذلك مدخلاً لأصل البحث.
4 - ذكرت أهم مؤثرات المحنة على الإمام أحمد في منهجه العلمي ثم منهجه النقدي - وهو الأهم والمقصود الأصل بالبحث - دون غيرهما من مؤثر سياسي، أو اجتماعي أو نحو ذلك.
5 - ترجمت للأئمة الذين امتحنوا، وقد اقتصرت على العناصر الأساسية للتعريف بكل إمام، واعتمدت في وصف الواحد منهم - غالبًا - على عبارة الذهبي في السير، وذكرت في
আমি গবেষণার পথে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করেছি:
১ - আমি গবেষণার শিরোনাম নির্ধারণ করেছি ‘মিহনা (المحنة) এবং ইমাম আহমাদের সমালোচনা পদ্ধতির (المنهج النقدي) ওপর এর প্রভাব’। এই গবেষণায় তাঁর ইলমি পদ্ধতির (المنهج العلمي) ওপর প্রভাবের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তবে তা সমালোচনা পদ্ধতির (المنهج النقدي) ভূমিকা স্বরূপ। এটি মূলত একটি সাধারণ আলোচনার পর বিশেষ আলোচনা। আমি শিরোনামটিকে কেবল সমালোচনা পদ্ধতির (المنهج النقدي) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি; কারণ এই গবেষণাটি জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট, যা সুন্নাহ এবং এর ইলমসমূহের একটি সুবৃহৎ ও বিস্তৃত অধ্যায়।
২ - আমি মিহনার (المحنة) ঘটনাটিকে ঐতিহাসিকভাবে বিন্যস্ত করেছি, উৎসগ্রন্থের ধারাক্রম বিবেচনা না করেই।
৩ - আমি মিহনার (المحنة) বর্ণনা সংক্ষেপ করেছি এর কোনো অনুচ্ছেদ বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যাঘাত না ঘটিয়েই। আমি এতে বিস্তারিত আলোচনা করিনি; কারণ গবেষণাটি বিশেষভাবে এর ইতিহাস ও ঘটনাবলি নিয়ে নয়, যা হতো নিছক ঐতিহাসিক গবেষণা। বরং আমি চেয়েছি এটি যেন মূল গবেষণার প্রবেশদ্বার হয়।
৪ - আমি ইমাম আহমাদের ইলমি পদ্ধতি (المنهج العلمي) এবং তাঁর সমালোচনা পদ্ধতির (المنهج النقدي)-এর ওপর মিহনার (المحنة) প্রধান প্রভাবগুলো উল্লেখ করেছি—যা গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল উদ্দেশ্য—রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের মতো বিষয়গুলো এখানে আনা হয়নি।
৫ - আমি সেই সকল ইমামদের জীবনচরিত (ترجمة) বর্ণনা করেছি যারা পরীক্ষার (المحنة) সম্মুখীন হয়েছিলেন। প্রতিটি ইমামের পরিচিতির ক্ষেত্রে আমি কেবল মৌলিক বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং তাঁদের বর্ণনায় সাধারণত সিয়ার গ্রন্থে আয-যাহাবীর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি। আমি উল্লেখ করেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحاشية أشهر مصادر ترجمته، ثم ذكرت موقفه في المحنة، ثم موقف الإمام منه، وإن اقتضى السياق جمعت بينهما في عنوان واحد.
6 - ذكرت بعض الأئمة وإن لم يمتحنوا صريحًا؛ لأنهم فروا من المحنة أو اختبأوا عن عين السلطان؛ كالعجلي، وأصبغ بن الفرج؛ لأجل أنهم سجلوا موقفًا في المحنة ومن باب إتمام البحث في ذكر كل من كان له موقف في المحنة، وأيضًا بعض الأئمة لم أقف للإمام أحمد على رأي فيهم، ومع ذلك فقد ذكرتهم لكونهم من كبار الأئمة ومن أشهر من ابتلي فيها، فسكوت الإمام عن ذلك يشكل منهجًا، وربما نقف على كلام له رحمه الله فيما بعد.
7 - ختمت بعد ذلك بخاتمة فيها أهم النتائج.
8 - ذيلت البحث بالفهارس العلمية اللازمة.
والله أسأل التوفيق والسداد فيما قصدت، وأن يكون خالصًا لوجهه الكريم
وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا
كتبه
د. عبد الله بن فوزان بن صالح الفوزان
الأستاذ المشارك في قسم الدراسات الإسلامية
بجامعة طيبة
E-mail: afsf1551@homtail.com
পাদটীকায় তাঁর জীবনবৃত্তান্তের (ترجمة) সর্বাধিক প্রসিদ্ধ উৎসসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, এরপর পরীক্ষা (المحنة)-কালীন তাঁর অবস্থান এবং তাঁর ব্যাপারে ইমামের অভিমত উল্লেখ করেছি; আর প্রসঙ্গের প্রয়োজনে আমি অনেক সময় এ দুটিকে একটি শিরোনামে একত্রিত করেছি।
6 - আমি এমন কিছু ইমামের কথা উল্লেখ করেছি যদিও তাঁরা প্রত্যক্ষভাবে পরীক্ষার (المحنة) সম্মুখীন হননি; কারণ তাঁরা পরীক্ষা (المحنة) থেকে পলায়ন করেছিলেন অথবা সুলতানের নজর থেকে আত্মগোপন করেছিলেন; যেমন ইজলি এবং আসবাগ ইবনুল ফরাজ। যেহেতু তাঁরা এই পরীক্ষার (المحنة) সময় একটি অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন এবং গবেষণাকে পূর্ণাঙ্গ করার স্বার্থেই পরীক্ষা (المحنة)-তে যাঁদেরই কোনো অবস্থান ছিল তাঁদের সবাইকে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও কিছু ইমাম এমন রয়েছেন যাঁদের ব্যাপারে ইমাম আহমদের কোনো মতামত আমি পাইনি, তাসত্ত্বেও আমি তাঁদের কথা উল্লেখ করেছি কারণ তাঁরা শীর্ষস্থানীয় ইমাম এবং এই পরীক্ষায় নিপতিত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। ইমামের এই নীরবতা একটি কর্মপন্থা (منهج) নির্দেশ করে, এবং হয়ত পরবর্তীতে তাঁর কোনো বক্তব্য (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমরা পেতে পারি।
7 - এরপর আমি একটি উপসংহারের মাধ্যমে শেষ করেছি যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ বিধৃত হয়েছে।
8 - পরিশেষে গবেষণাপত্রটিতে প্রয়োজনীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
আমি আল্লাহর নিকট আমার সংকল্পের ক্ষেত্রে তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা প্রার্থনা করছি এবং এটি যেন কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্যই একনিষ্ঠভাবে হয়।
আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
লিখেছেন—
ড. আবদুল্লাহ বিন ফাওজান বিন সালিহ আল-ফাওজান
সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামি শিক্ষা বিভাগ
তাইবা বিশ্ববিদ্যালয়
E-mail: afsf1551@homtail.com
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأولمختصر عن تأريخ المحنة وأحداثها (1)
خرج الإمام أحمد إلى الدنيا بعد استقرار الحكم لبني العباس، في وقت تميز بالاستقرار السياسي في معظم فتراته، وعاصر الإمام ثمانية من الخلفاء، وهم: المهدي والهادي، والرشيد، والأمين، والمأمون، والمعتصم، والواثق، والمتوكل.
ويعد هذا العصر عصر انتصارات واسعة، وحضارة مزدهرة، وقوة وهيبة للخلافة، وكانت الحركة العلمية قوية جدًا؛ فبغداد دار السلام والخلافة والعلم والعلماء.
ولكن مما يلحظ على هذا العصر - المزدهر في شتى
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদমিহনা (পরীক্ষা)-র ইতিহাস ও ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (১)
ইমাম আহমাদ পৃথিবীতে আগমন করেন আব্বাসীয় শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, এমন এক সময়ে যা তার অধিকাংশ পর্যায়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। ইমাম আটজন খলিফার সমসাময়িক ছিলেন, তাঁরা হলেন: মাহদী, হাদী, রশীদ, আমীন, মামুন, মুতাসিম, ওয়াসিক এবং মুতাওয়াক্কিল।
এই যুগটিকে ব্যাপক বিজয়ের যুগ, সমৃদ্ধ সভ্যতা এবং খিলাফতের শক্তি ও প্রতাপের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। সে সময় জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী; কেননা বাগদাদ ছিল শান্তির আলয় (দারুস সালাম), খিলাফতের কেন্দ্র এবং জ্ঞান ও আলেমদের মিলনস্থল।
তবে এই যুগের ব্যাপারে যা লক্ষ্য করা যায়—যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ ছিল—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১২)
مجالاته - ما صاحبه من تعكير صفوه بتأثير الفرس والروم السيء سياسةً وفكرًا وعقيدةً، وزاده سوءًا ما عُرب من كتبهم وكتب اليونان والهند، فابتليت الأمة بفتنة عمياء ومحنة شنعاء ألا وهي: «محنة القول بخلق القرآن» والتي حُمِلَ الناس على القول بها (1).
وقد ابتدأها الخليفة العباسي المأمون؛ وذلك بعد أن استحوذ المعتزلة عليه فأزاغوه، وزينوا له هذا المذهب الفاسد، ولم يكن خليفة من الخلفاء قبله إلا وهو على مذهب السلف ومنهاجهم القويم (2).
وبعد تولي المأمون الخلافة سنة (198 هـ)، ظهرت الدعوة إلى القول بخلق القرآن؛ بسبب تقريبه لأهل البدع والاعتزال، من أمثال أحمد بن أبي دُؤَاد (3)، الذي كان رأس الفتنة
--------------------------------------------
এর ক্ষেত্রসমূহ - পারস্য ও রোমানদের রাজনৈতিক, চিন্তাগত ও আকিদাগত নেতিবাচক প্রভাবের কারণে এর স্বচ্ছতা কলুষিত হয়ে পড়ে। আর তাদের কিতাব এবং গ্রিক ও ভারতীয় কিতাবসমূহের অনুবাদের ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। এর ফলে উম্মাহ একটি অন্ধ ফিতনা এবং জঘন্য পরীক্ষার (محنة) সম্মুখীন হয়, আর তা হলো: «কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট) হওয়ার মতবাদ-সংক্রান্ত পরীক্ষা (محنة)» যেখানে মানুষকে তা বলতে বাধ্য করা হয়েছিল (১)।
আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন এর সূচনা করেছিলেন; আর এটি হয়েছিল মুতাজিলাদের দ্বারা তিনি প্রভাবিত ও পথভ্রষ্ট হওয়ার পর, যারা তার সামনে এই ভ্রান্ত মতবাদকে সুশোভিত করেছিল। তার পূর্ববর্তী সকল খলিফাই সালাফদের মাযহাব ও তাদের সঠিক মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন (২)।
১৯৮ হিজরি সনে মামুন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর, কুরআন মাখলুক হওয়ার মতবাদের দিকে আহ্বান প্রকাশিত হয়; এর কারণ ছিল বিদআতপন্থি (أهل البدع) ও মুতাজিলাদের প্রতি তার নৈকট্য প্রদর্শন, যেমন আহমদ ইবনে আবি দুয়াদ (৩), যিনি ছিলেন এই ফিতনার মূল হোতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومشعلها في الأمة - عامله المولى بما يستحق - والسبب في ميل المأمون للمعتزلة وتقريبه لهم أنه كان تلميذًا لأبي الهذيل العلّاف والذي كان من رؤوس المعتزلة (1).
فأخذ يعمل جاهدًا في نشر الاعتزال طيلة تسع عشرة سنة، دون أن يحمل الناس على ذلك بقوة السلطان، فلما دخلت سنة ثماني عشرة ومائتين من الهجرة، أمر بامتحان العلماء وحملهم على القول بخلق القرآن، فكتب إلى نائبه في بغداد، وهو إسحاق بن إبراهيم الخزاعي يأمره بحمل الناس على ذلك، وقد استعمل في حمل العلماء على تلك المقولة التهديد والوعيد، فمن امتنع منهم عن القول بخلق القرآن حُبِسَ، وضيق عليه، وضرب، وعُزل عن وظيفته، وقطع رزقه من بيت المال (2).
ثم كتب إليه ثانية بإحضار أشخاص سبعة، وهم: محمد بن سعد كاتب الواقدي، ويحيى بن معين، وأبو خثيمة، وأبو مسلم المستملي، وإسماعيل بن داود الجوزي، وأحمد
--------------------------------------------
এবং উম্মাহর মধ্যে এর প্রজ্জ্বলনকারী—মহান প্রতিপালক তাকে তার প্রাপ্য প্রতিফল প্রদান করুন—আর মা'মুনের মুতাজিলাদের প্রতি ঝোঁক এবং তাদের নিকটবর্তী করার কারণ ছিল এই যে, তিনি আবুল হুযাইল আল-আল্লাফের ছাত্র ছিলেন, যিনি ছিলেন মুতাজিলাদের অন্যতম প্রধান নেতা (১)।
অতঃপর তিনি দীর্ঘ উনিশ বছর যাবত রাজশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষকে বাধ্য না করেই মুতাজিলা মতবাদ প্রচারে সচেষ্ট থাকেন। যখন হিজরি দুইশ আঠারো সন শুরু হলো, তখন তিনি আলেমদের পরীক্ষার সম্মুখীন করার এবং তাদের 'কুরআন মাখলুক' বা সৃষ্ট হওয়ার মতবাদ গ্রহণ করতে বাধ্য করার নির্দেশ দেন। তিনি বাগদাদে তার প্রতিনিধি ইসহাক ইবন ইব্রাহিম আল-খুযায়ীর নিকট পত্র লিখে তাকে এই মতবাদে মানুষকে বাধ্য করার আদেশ প্রদান করেন। আলেমদের এই মতবাদে বাধ্য করার জন্য তিনি হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করেন। ফলে তাদের মধ্যে যারা কুরআন সৃষ্ট হওয়ার কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালেন, তাদের কারারুদ্ধ করা হলো, তাদের ওপর কঠোরতা আরোপ করা হলো, প্রহার করা হলো, পদচ্যুত করা হলো এবং বায়তুল মাল থেকে তাদের বরাদ্দকৃত ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হলো (২)।
এরপর তিনি পুনরায় তার নিকট সাতজন ব্যক্তিকে উপস্থিত করার নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখলেন, তারা হলেন: ওয়াকেদির লেখক মুহাম্মদ ইবন সা'দ, ইয়াহইয়া ইবন মা'ীন, আবু খায়সামা, আবু মুসলিম শ্রুতলিখনকারী (المستملي), ইসমাইল ইবন দাউদ আল-জাওযি এবং আহমাদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الدورقي، وابن أبي مسعود، فحملوا إلى الرقة (1) حيث المأمون، فامتحنهم فأجابوا خوفًا من السيف ثم أطلقوا.
ولقد اغتم الإمام لإجابة هؤلاء؛ لأن هذا مبدأ الأمر فلو صبروا لانقعطت الفتنة وانتهت المحنة، ولكن الله غالب على أمره.
قال حنبل: «سمعت أبا عبد الله أحمد بن حنبل - وذكر الذين حملوا إلى الرقة إلى المأمون وأجابوا - فذكرهم أبو عبد الله بعد ذلك فقال: هؤلاء لو كانوا صبروا وقاموا لله لكان الأمر قد انقطع، وحذرهم الرجل - يعني: المأمون - ولكن لما أجابوا وهم عين البلد اجترأ على غيرهم. وكان أبو عبد الله إذا ذكرهم اغتم لذلك، ويقول: هم أول من ثلم هذه الثلمة وأفسد هذا الأمر» (2).
ثم كتب إلى إسحاق بن إبراهيم ثالثة يأمره بإحضار مزيد من العلماء لامتحانهم، منهم: الإمام أحمد، ومحمد بن نوح، وعبيد الله بن عمر القواريري، والحسن بن حماد سجادة،
--------------------------------------------
দাওরাকী এবং ইবনে আবি মাসউদ, তাঁদেরকে রাক্কায় (১) নিয়ে যাওয়া হলো যেখানে মামুন অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁদের পরীক্ষা (محنة) করলেন, ফলে তরবারির ভয়ে তাঁরা নতি স্বীকার করলেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলো।
ইমাম আহমদ তাঁদের এই নতি স্বীকারের কারণে অত্যন্ত মর্মাহত হলেন; কারণ এটি ছিল বিষয়ের সূচনা। যদি তাঁরা ধৈর্য ধারণ করতেন তবে ফিতনা (فتنة) বন্ধ হয়ে যেত এবং এই কঠিন পরীক্ষা (محنة) শেষ হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ তাঁর সিদ্ধান্তে অটল।
হাম্বল বলেন: "আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাম্বলকে বলতে শুনেছি—তিনি ওই ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করলেন যাঁদেরকে রাক্কায় মামুনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাঁরা নতি স্বীকার করেছিলেন—আবু আব্দুল্লাহ তাঁদের সম্পর্কে পরবর্তীতে বললেন: 'তাঁরা যদি ধৈর্য ধারণ করতেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অটল থাকতেন, তবে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেত। সেই ব্যক্তি—অর্থাৎ মামুন—তাঁদের ভীতি প্রদর্শন করেছিলেন; কিন্তু যেহেতু তাঁরা শহরের শীর্ষস্থানীয় আলেম হওয়া সত্ত্বেও নতি স্বীকার করলেন, তাই সে অন্যদের ওপরও দুঃসাহস দেখাল।' আবু আব্দুল্লাহ যখনই তাঁদের কথা স্মরণ করতেন, ব্যথিত হতেন এবং বলতেন: 'তাঁরাই প্রথম এই ফাটল সৃষ্টি করেছেন এবং এই বিষয়টিকে কলুষিত করেছেন' (২)।"
অতঃপর মামুন ইসহাক বিন ইব্রাহিমের নিকট তৃতীয়বার চিঠি লিখে আরও আলেমদের পরীক্ষার (محنة) জন্য উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: ইমাম আহমদ, মুহাম্মদ বিন নুহ, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারীরী এবং হাসান বিন হাম্মাদ সাজ্জাদা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فأخذهم وامتحنهم فأبوا أن يجيبوا جميعًا، ثم امتحنهم مرة أخرى، فمن امتنع أمر بحبسه وتقييده، فلما كان بعد ذلك دعا بالقواريري، وسجادة فأجابا وخلى عنهما، فبقي ممن لم يجب الإمام أحمد، ومحمد بن نوح - عليهم رحمة الله -، فلم يجيبا أبدًا، وامتنعا عن القول بذلك، فحبسا أيامًا، حتى ورد كتاب المأمون من طرسوس (1) يأمر بحملهما مقيدين فحملا إليه، ومضى الإمام داعيًا ربه ألا يريه المأمون، فلما بلغا الرقة تلقاهم نبأ موت المأمون في السنة نفسها (218 هـ)، فردا إلى بغداد، فلما كانا ببلدة عانة (2) توفي محمد بن نوح رحمه الله، فصلى عليه الإمام ودفنه (3).
قال الإمام أحمد: «فكنت أدعو الله ألا يريني وجهه، قال: فلما دخلنا طرسوس أقمنا أيامًا، فإذا رجل قد دخل علينا، فقال لي: يا أبا عبد الله قد مات الرجل - يعني:
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি তাঁদেরকে পাকড়াও করলেন এবং তাঁদের পরীক্ষা করলেন। তাঁরা সকলেই উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর তিনি পুনরায় তাঁদের পরীক্ষা করলেন। যে ব্যক্তি উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানাল, তাকে কারারুদ্ধ ও শৃঙ্খলিত করার আদেশ দেওয়া হলো। এরপর যখন আল-কাওয়ারীরি এবং সাজ্জাদাহকে ডাকা হলো, তাঁরা (উদ্দেশ্য অনুযায়ী) উত্তর দিলেন এবং তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হলো। যারা উত্তর দেননি তাঁদের মধ্যে বাকি রইলেন ইমাম আহমাদ এবং মুহাম্মাদ বিন নূহ—তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—তাঁরা কখনোই উত্তর দেননি এবং ওই ভ্রান্ত মতবাদ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। ফলে তাঁদেরকে বেশ কয়েকদিন বন্দি রাখা হলো। অবশেষে তারসুস (১) থেকে মামুনের পক্ষ থেকে একটি পত্র এলো, যাতে তাঁদেরকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় নিয়ে আসার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাঁদেরকে তার কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। ইমাম তাঁর রবের কাছে এই দোয়া করতে করতে যাচ্ছিলেন যেন মামুন তাঁকে দেখতে না পায়। যখন তাঁরা রাক্কায় পৌঁছালেন, তখন সেখানে একই বছরে (২১৮ হিজরি) মামুনের মৃত্যুর সংবাদ তাঁদের কাছে পৌঁছাল। ফলে তাঁদেরকে পুনরায় বাগদাদে ফিরিয়ে নেওয়া হলো। যখন তাঁরা 'আনাহ' (২) নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন মুহাম্মাদ বিন নূহ (রহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করলেন। ইমাম তাঁর জানাজা পড়লেন এবং তাঁকে দাফন করলেন (৩)।
ইমাম আহমাদ বলেন: "আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম যেন তিনি আমাকে তার চেহারা না দেখান। তিনি বলেন: যখন আমরা তারসুসে প্রবেশ করে কয়েক দিন অবস্থান করলাম, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের কাছে প্রবেশ করল এবং আমাকে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, লোকটি মারা গেছে—অর্থাৎ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المأمون - فحمدت الله وظننت أنه الفرج، إذا رجل قد دخل فقال: إنه قد صار مع أبي إسحاق المعتصم رجل يقال له: ابن أبي دؤاد، وقد أمر بإحضاركم إلى بغداد، فجاءني في أمر آخر فحمدت الله على ذلك، وظننت أنا قد استرحنا حتى قيل لنا: انحدروا إلى بغداد» (1).
فجيء بأبي عبد الله مقيدًا حتى أدخل السجن، فكانت بداية هذه المحنة العظيمة في هذه السنة - أعني: ثماني عشرة ومائتين - (2).
فتولى بعد المأمون المعتصم، فاقتفى أثر سابقه واستفحلت المحنة بعد توليه الخلافة، فلم يكتفوا بإدخال الإمام سجن بغداد، بل أنالوه الأذى وضربوه ضربًا شديدًا حتى تخلعت يداه، والإمام صابر يناظر ويحتمل صنوف الأذى مع سجن دام نحوًا من ثمانية وعشرين شهرًا، وقيل: نحوًا من ثلاثين شهرًا، وناظروه طويلاً فلم يستطيعوا له تحويلاً ولا صرفًا إلى بدعتهم، بل كان يسكتهم بقوة حجته، وشدة يقينه وإيمانه،
--------------------------------------------
আল-মামুন – তখন আমি আল্লাহর প্রশংসা করলাম এবং ভাবলাম যে এটিই হয়তো মুক্তি, এমন সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলল: আবু ইসহাক আল-মুতাসিমের সাথে ইবনে আবি দুয়াদ নামক এক ব্যক্তি রয়েছে এবং সে আপনাদেরকে বাগদাদে উপস্থিত করার নির্দেশ দিয়েছে। তিনি অন্য একটি বিষয়ে আমার কাছে এসেছিলেন, তাই আমি সেই কারণে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম এবং ভাবলাম যে আমরা হয়তো স্বস্তি পেয়েছি, যতক্ষণ না আমাদের বলা হলো: বাগদাদের দিকে যাত্রা করো (১)।
অতঃপর আবু আবদুল্লাহকে শিকলবদ্ধ অবস্থায় নিয়ে আসা হলো এবং তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হলো। এটিই ছিল এই মহা পরীক্ষার (المحنة) সূচনা—অর্থাৎ: দুইশত আঠারো হিজরি সালে—(২)।
আল-মামুনের পর আল-মুতাসিম ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন এবং তিনি তার পূর্বসূরির পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। খিলাফত লাভের পর এই পরীক্ষা (المحنة) আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তারা ইমামকে কেবল বাগদাদের কারাগারে বন্দি করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তাকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং তাকে এমন কঠোরভাবে প্রহার করা হয় যে তার দুই হাত স্থানচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। ইমাম অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন, তিনি বিতর্ক চালিয়ে যান এবং প্রায় আঠাশ মাস—মতান্তরে প্রায় ত্রিশ মাস—কারাবাসের নানাবিধ কষ্ট সহ্য করেন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে তার সাথে বিতর্ক করেও তাকে স্বীয় অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে বা তাদের বিদআতের (بدعة) দিকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়নি। বরং তিনি তার শক্তিশালী প্রমাণ, সুদৃঢ় বিশ্বাস এবং ঈমানের মাধ্যমে তাদের নিরুত্তর করে দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وثبات قلبه، فلما رأى الخليفة المعتصم إصراره وعدم تزحزحه عن قوله أمر بضربه بين يديه فطاله الأذى العظيم، حتى لقد قال أحد الجلادين: «لقد ضربت أحمد بن حنبل ثمانين سوطًا، لو ضربت فيلاً لهدته» (1).
وفي شهر رمضان من سنة إحدى وعشرين ومائتين أمر الخليفة بإطلاقه، ففرح المسلمون بخروجه وأقام في بيته يتعالج من آثار الضرب الشديد حتى شفاه الله، وبعد برئه باشر التدريس والفتوى وحضور الجمعة والجماعة حتى مات المعتصم سنة سبع وعشرين ومائتين.
فيكون الإمام قد مكث في السجن منذ أُخِذَ وحُمِلَ إلى المأمون إلى أن ضربه المعتصم وخلى عنه سنتين وأربعة أشهر (2).
ثم ولي الواثق بالله الخلافة بعد أبيه المعتصم، فأظهر ما أظهره سلفه من حمل الناس على القول بخلق القرآن والانقياد لما يمليه عليه رأس المعتزلة وأحمدُ البدعة ابنُ أبي دؤاد.
--------------------------------------------
...এবং তাঁর হৃদয়ের অবিচলতা। অতঃপর খলিফা মুতাসিম যখন তাঁর দৃঢ়তা এবং স্বীয় বক্তব্য থেকে তিলমাত্র বিচ্যুত না হওয়া প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তিনি তাঁর সামনেই তাঁকে প্রহার করার আদেশ দিলেন। এতে তিনি নিদারুণ যন্ত্রণার শিকার হন, এমনকি জল্লাদদের একজন বলেছিল: «আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে আশিটি কশাঘাত করেছি; যদি আমি একটি হাতিকেও এমন আঘাত করতাম, তবে সেও লুটিয়ে পড়ত» (১)।
২২১ হিজরি সনের রমজান মাসে খলিফা তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। তাঁর মুক্তিতে মুসলিমগণ আনন্দিত হলেন এবং তিনি তীব্র কশাঘাতের জখম থেকে আরোগ্য লাভের জন্য নিজ গৃহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থান করতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা দান করেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি পুনরায় শিক্ষাদান, ফতোয়া প্রদান এবং জুমা ও জামাতে উপস্থিত হওয়া শুরু করেন, যতক্ষণ না ২২৭ হিজরি সনে মুতাসিম মৃত্যুবরণ করেন।
এভাবে ইমাম (আহমদ) গ্রেফতার হওয়া ও মামুনের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে মুতাসিমের প্রহার ও মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত মোট দুই বছর চার মাস কারাগারে অতিবাহিত করেন (২)।
এরপর তাঁর পিতা মুতাসিমের পর আল-ওয়াসিক বিল্লাহ খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের মতোই মানুষকে 'কুরআন সৃষ্ট' হওয়ার মতবাদ গ্রহণে বাধ্য করার নীতি প্রকাশ করেন এবং মুতাজিলাদের প্রধান ও বিদআতের (بدعة) হোতা ইবনে আবি দুয়াদের নির্দেশাবলির অনুগত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فلما دخلت سنة إحدى وثلاثين ومائتين أمر بامتحان الأئمة والمؤذنين بخلق القرآن، لكنه لم يتعرض للإمام أحمد بشيء في هذا الامتحان، بل اكتفى بالإرسال إلى نائبه ببغداد إسحاق بن إبراهيم أن يبلغ الإمام بأن لا يجتمع إليه أحد، ولا يسكن بأرض أو مدينة هو فيها، وأن يلزم بيته، ولا يخرج إلى جمعة ولا جماعة، وإلا نزل بك ما نزل بك في أيام أبي إسحاق، فاختفى الإمام أحمد بقية حياة الواثق، ولم يزل ينتقل في الأماكن، ثم عاد إلى بيته بعد أشهر ولزم منزله فلا يخرج منه لا إلى جماعة ولا إلى جمعة، وامتنع من التحديث، واستمر به ذلك إلى أن توفي الواثق سنة اثنتين وثلاثين ومائتين (1).
وفي تعليل ذلك نقل ابنه صالح عنه أنه قال: «إني لأرى طاعته في العسر واليسر، والمنشط والمكره والأَثَرة، وإني لآسف عن تخلفي عن الصلاة، وعن حضور الجمعة، ودعوة المسلمين» (2).
ثم ولي الخلافة بعده المتوكل، فكشف الله به الغمة،
--------------------------------------------
অতঃপর যখন ২৩১ হিজরি সাল শুরু হলো, তখন তিনি (খলিফা আল-ওয়াসিক) কুরআন সৃষ্টির বিষয়ে ইমাম এবং মুয়াজ্জিনদের পরীক্ষা করার নির্দেশ দিলেন। তবে এই পরীক্ষায় তিনি ইমাম আহমাদের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করেননি, বরং বাগদাদে তার প্রতিনিধি ইসহাক বিন ইব্রাহিমের কাছে এই বার্তা পাঠানোই যথেষ্ট মনে করলেন যেন তিনি ইমামকে জানিয়ে দেন যে—কেউ যেন তার কাছে সমবেত না হয়, এবং তিনি (ইমাম) যে শহর বা জনপদে অবস্থান করছেন সেখানে কেউ যেন বাস না করে। আর তিনি যেন নিজের ঘরে অবস্থান করেন এবং জুমুআ ও জামাতে বের না হন; অন্যথায় তার ওপর তেমন বিপদ নেমে আসবে যা আবু ইসহাকের (খলিফা আল-মুতাসিম) যুগে এসেছিল। ফলে ইমাম আহমদ আল-ওয়াসিকের বাকি জীবন আত্মগোপনে কাটালেন এবং বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরিত হতে থাকলেন। কয়েক মাস পর তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে এলেন এবং গৃহবন্দী অবস্থায় থাকলেন; তিনি জামাত কিংবা জুমুআর সালাতেও বের হতেন না এবং হাদিস বর্ণনা (التحديث) থেকে বিরত থাকলেন। আল-ওয়াসিকের মৃত্যু (২৩২ হিজরি) পর্যন্ত এই অবস্থা চলতে থাকে (১)।
এর কারণ ব্যাখ্যায় তার পুত্র সালেহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ইমাম আহমদ) বলেছিলেন: «আমি অভাব ও সচ্ছলতায়, উৎসাহে ও অনিচ্ছায় এবং অন্যের অগ্রাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার (শাসকের) আনুগত্য করা আবশ্যক মনে করি। আর আমি সালাত ও জুমুআয় উপস্থিত হতে না পারা এবং মুসলমানদের দাওয়াতে যোগ দিতে না পারায় অত্যন্ত ব্যথিত» (২)।
এরপর আল-মুতাওয়াক্কিল খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আল্লাহ তার মাধ্যমে এই ঘোর সংকট দূর করে দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأظهر السنة، ومحا البدعة، وأخمد الفتنة، ففرح المسلمون بالفرج، وقد أكرم الإمام أحمد وعظمه، حتى كان لا يولي أحدًا ولاية إلا بمشورته، وطلب منه الإقامة عنده فأبى (1).
فهذا مجمل خبر المحنة، وبيان فصولها العريضة، ولقد خرج منها الإمام أحمد بعد صبره منتصرًا، وبعد مكابدته مظفرًا، فجعل الله له قبولاً في الأرض، حتى أصبح إمامًا لأهل الجماعة والسنة، ومحنة لأهل الأهواء والبدعة.
ولقد صدق بشر بن الحارث أحد أصحاب الإمام إذ يقول: «إن أحمد أدخل الكير فخرج ذهبًا أحمر» (2).
وقال علي بن المديني: «أعز الله الدين بالصديق يوم الردة، وبأحمد يوم المحنة» (3).
وقال الميموني: «قال لي علي بن المديني بعدما امتحن أحمد: يا ميموني، ما قام أحد في الإسلام ما قام أحمد بن
--------------------------------------------
তিনি সুন্নাহকে প্রকাশ করলেন, বিদআতকে (بدعة) বিলুপ্ত করলেন এবং ফিতনাকে (فتنة) স্তিমিত করলেন। ফলে মুসলিমগণ এই স্বস্তিতে আনন্দিত হলেন। তিনি ইমাম আহমদকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদান করেন, এমনকি তাঁর পরামর্শ ব্যতীত তিনি কাউকে কোনো পদে নিয়োগ দিতেন না। তিনি ইমামকে তাঁর নিকট অবস্থানের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন (১)।
এটিই হলো মিহনার (المحنة) সংবাদের সারসংক্ষেপ এবং এর প্রধান অধ্যায়সমূহের বর্ণনা। ইমাম আহমদ তাঁর ধৈর্যের মাধ্যমে সেখান থেকে বিজয়ী হিসেবে এবং কঠোর সংগ্রামের পর সফলকাম হয়ে বের হয়ে আসেন। অতঃপর আল্লাহ পৃথিবীতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা দান করেন, এমনকি তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমাম এবং ভ্রান্ত প্রবৃত্তি (أهل الأهواء) ও বিদআতপন্থীদের (بدعة) জন্য এক মানদণ্ড হয়ে উঠলেন।
ইমামের অন্যতম সহচর বিশর ইবনুল হারিস যথার্থই বলেছেন: «আহমদকে কামারের হাঁপরে প্রবেশ করানো হয়েছিল, অতঃপর তিনি খাঁটি স্বর্ণ হয়ে বের হয়ে এসেছেন» (২)।
আলী ইবনুল মাদিনী বলেন: «আল্লাহ তাআলা রিদ্দার (الردة) দিন আবু বকর সিদ্দীকের মাধ্যমে এবং মিহনার (المحنة) দিন আহমদের মাধ্যমে এই দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন» (৩)।
মাইমুনি বলেন: «আহমদ পরীক্ষিত হওয়ার পর আলী ইবনুল মাদিনী আমাকে বললেন: হে মাইমুনি, ইসলামের জন্য আহমদ ইবনে... যা করেছেন, তা আর কেউ করেনি»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২০)
حنبل. فعجبت من هذا عجبًا شديدًا، وذهبت إلى أبي عبيد القاسم بن سلام، فحكيت له مقالة علي بن المديني، فقال: صدق، إن أبا بكر وجد يوم الردة أنصارًا وأعوانًا، وإن أحمد بن حنبل لم يكن له أنصار ولا أعوان، ثم أخذ أبو عبيد يُطْري أحمد ويقول: لست أعلم في الإسلام مثله» (1).
--------------------------------------------
হাম্বল। এতে আমি অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হলাম এবং আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লামের নিকট গিয়ে তাঁকে আলি ইবনুল মাদিনির বক্তব্যটি শুনালাম। তিনি বললেন: "তিনি সত্য বলেছেন; নিশ্চয়ই আবু বকর রিদ্দার যুদ্ধের দিনে সাহায্যকারী ও সহযোগীদের পেয়েছিলেন, কিন্তু আহমদ ইবন হাম্বলের কোনো সাহায্যকারী বা সহযোগী ছিল না।" অতঃপর আবু উবাইদ আহমদ-এর ভূয়সী প্রশংসা করতে লাগলেন এবং বললেন: "আমি ইসলামের ইতিহাসে তাঁর মতো আর কাউকে জানি না" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الثانيأثر المحنة في منهج الإماموفيه مطلبان:
المطلب الأولأثرها في منهجه العلميوفيه ما يلي:
تركه التحديث بعد المحنة:
وقد كان هذا من الإمام رحمه الله في آخر أمر المحنة قبل وفاته، وأما قبل ذلك فقد حدَّث أيامًا يسيرة بعد وفاة المعتصم.
قال أبو عبد الله البوشنجي: «حدث أحمد جهرة حين مات المعتصم، فرجعت من الكوفة، فأدركته في رجب سنة سبع وعشرين وهو يحدث، ثم قطع الحديث لثلاث بقين من شعبان بلا منع، بل كتب الحسن بن علي بن الجعد قاضي بغداد إلى ابن أبي دؤاد: إن أحمد قد انبسط في الحديث، فبلغ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদইমামের কর্মপদ্ধতিতে মিহনার প্রভাবএতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদতাঁর ইলমি কর্মপদ্ধতিতে এর প্রভাবএতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো রয়েছে:
মিহনার পর তাঁর হাদিস বর্ণনা (تحديث) বর্জন করা:
এটি ইমাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে তাঁর ইন্তেকালের পূর্বে মিহনার শেষ পর্যায়ে ঘটেছিল। তবে এর আগে মুতাসিমের মৃত্যুর পর তিনি সামান্য কয়েকদিন হাদিস বর্ণনা (تحديث) করেছিলেন।
আবু আবদুল্লাহ আল-বুশাঞ্জি বলেন: «মুতাসিমের মৃত্যুর পর আহমদ প্রকাশ্যে হাদিস বর্ণনা (تحديث) শুরু করেন। আমি কুফা থেকে ফিরে এসে সাতাশ হিজরি সনের রজব মাসে তাঁকে হাদিস বর্ণনা (تحديث) রত অবস্থায় পাই। অতঃপর কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই শাবান মাসের তিন দিন বাকি থাকতে তিনি হাদিস বর্ণনা বন্ধ করে দেন। মূলত বাগদাদের কাজি হাসান ইবন আলী ইবন আল-জাদ ইবনে আবি দুআদকে লিখেছিলেন যে: আহমদ হাদিস বর্ণনায় (تحديث) ব্যাপকভাবে মনোনিবেশ করেছেন। অতঃপর এ সংবাদ পৌঁছালে...»
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২২)
ذلك أحمد، فقطع الحديث إلى أن توفي» (1)، فيكون تركه للتحديث في هذه الفترة قد استمر قرابة خمسة أعوام.
وفي أول عهد المتوكل - بويع له بالخلافة في ذي الحجة سنة اثنتين وثلاثين ومائتين - كان الإمام يحدث، بل يرى أن حاجة الناس إلى العلم شديدة وملحة في زمن المحن والفتن.
قال ابن عمه حنبل بن إسحاق: «ثم ولي جعفر المتوكل، فلما ولي انكشف ذلك عن المسلمين، وأظهر الله السنة، وفرج عن الناس، فكان أبو عبد الله يحدثنا، وسمعته يقول: ما كان الناس إلى الحديث والعلم أحوج منهم في زماننا هذا» (2).
وقال أبو بكر المروذي: «سمعت يعقوب رسول الخليفة يقول لأبي عبد الله: يجيئك ابني بين المغرب والعشاء فتحدثه بحديث واحد أو حديثين، فقال: لا، لا يجيء. فلما خرج سمعته يقول: ترى لو بلغ أنفه طرف السماء حدثته! أنا أحدث حتى يوضع الحبل في عنقي!» (3).
وفي سياق آخر: أن أبا عبد الله لما أرسل إلى المتوكل في سامراء، قال له يعقوب - أحد حُجاب المتوكل -: «إن لي
--------------------------------------------
তিনি হলেন আহমদ, আর তিনি মৃত্যু পর্যন্ত হাদিস বর্ণনা বন্ধ রেখেছিলেন (১); ফলে এই সময়ে তাঁর হাদিস বর্ণনা (التحديث) বর্জনের বিষয়টি প্রায় পাঁচ বছর অব্যাহত ছিল।
আর মুতাওয়াক্কিলের শাসনামলের শুরুতে—যাঁর খেলাফতের বায়আত ২৩২ হিজরীর জিলহজ মাসে গ্রহণ করা হয়েছিল—ইমাম হাদিস বর্ণনা (التحديث) করতেন। বরং তিনি মনে করতেন যে, ফিতনা ও পরীক্ষার এই সময়ে মানুষের ইলমের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র ও জরুরি।
তাঁর চাচাতো ভাই হাম্বল বিন ইসহাক বলেন: «অতঃপর জাফর আল-মুতাওয়াক্কিল রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করেন। তিনি যখন শাসনভার গ্রহণ করলেন, তখন মুসলমানদের ওপর থেকে সেই বিপদ দূর হয়ে গেল, আল্লাহ সুন্নাহ (السنة) প্রকাশ করলেন এবং মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনলেন। তখন আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা (التحديث) করতেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমাদের এই বর্তমান সময়ের চেয়ে মানুষ ইতিপূর্বে হাদিস ও ইলমের প্রতি আর কখনোই এত বেশি মুখাপেক্ষী ছিল না» (২)।
আবু বকর আল-মাররুজি বলেন: «আমি খলিফার প্রতিনিধি ইয়াকুবকে আবু আব্দুল্লাহর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি: ‘মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে আমার ছেলে আপনার কাছে আসবে, আপনি তাকে একটি বা দুটি হাদিস বর্ণনা (التحديث) করে শোনাবেন’। তিনি বললেন: ‘না, সে আসবে না’। যখন ইয়াকুব চলে গেল, তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলাম: ‘তুমি কি মনে করো তার নাক যদি আকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে ফেলত তাহলেও আমি তাকে হাদিস শোনাতাম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত হাদিস বর্ণনা (التحديث) করব যতক্ষণ না আমার গলায় রশি লাগানো হয় (অর্থাৎ আমৃত্যু বর্ণনা করে যাব)!’» (৩)।
ভিন্ন এক প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে: আবু আব্দুল্লাহকে যখন সামাররায় মুতাওয়াক্কিলের নিকট পাঠানো হলো, তখন মুতাওয়াক্কিলের একজন দ্বাররক্ষী ইয়াকুব তাঁকে বললেন: «নিশ্চয়ই আমার
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ابنًا أنا به معجب، وإن له في قلبي موقعًا، فأحب أن تحدثه بأحاديث، فسكت، فلما خرج قال: أتراه لا يرى ما أنا فيه؟!» (1).
ثم استقر الأمر بالإمام ألا يحدث إلا ولده وحنبل ابن عمه.
قال عبد الله: «سمعت أبي سنة سبع وثلاثين ومائتين يقول: قد استخرت الله أن لا أحدث حديثًا على تمامه أبدًا، ثم قال: إن الله يقول: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ} [المائدة: 1]، وإني أعاهد الله أن لا أحدث بحديث على تمامه أبدًا، ثم قال: ولا لك، وإن كنت تشتهي.
فقلت له بعد ذلك بأشهر: أليس يروى عن شريك، عن يزيد بن أبي زياد، عن عبد الله بن الحارث، عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «العهد يمين» (2)؟ قال: نعم سكت، فظننت أنه سيكفر، فلما كان بعد أيام قلت له في ذلك، فلم ينشط للكفارة، ثم لم أسمعه يحدث بحديثٍ على تمامه» (3).
--------------------------------------------
"[আমার] একটি পুত্র আছে যার প্রতি আমি মুগ্ধ এবং আমার হৃদয়ে তার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। আমি চাই আপনি তাকে কিছু হাদিস শোনাবেন।" তিনি (ইমাম) চুপ থাকলেন। অতঃপর যখন তিনি (আগন্তুক) বেরিয়ে গেলেন, তিনি বললেন: "তুমি কি দেখছ না যে সে আমার বর্তমান অবস্থা অনুধাবন করছে না?!" (১)।
অতঃপর ইমামের বিষয়টি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তিনি তাঁর পুত্র এবং তাঁর চাচাতো ভাই হাম্বল ব্যতীত আর কাউকে হাদিস শোনাবেন না।
আবদুল্লাহ বলেন: "আমি দুইশত সাইত্রিশ হিজরি সনে আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: 'আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি যে আমি কখনোই কোনো হাদিস পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করব না।' অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো} [আল-মায়িদাহ: ১], এবং আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করছি যে আমি কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করব না। এরপর তিনি বললেন: তোমার কাছেও নয়, যদিও তুমি তা কামনা করো।"
কয়েক মাস পর আমি তাঁকে বললাম: "শরিক থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি জিয়াদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে এবং তিনি ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে কি বর্ণিত হয়নি যে তিনি বলেছেন: 'অঙ্গীকার হলো শপথস্বরূপ' (২)?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ", অতঃপর তিনি চুপ থাকলেন। আমি মনে করেছিলাম যে তিনি হয়তো কাফফারা প্রদান করবেন, কিন্তু কয়েক দিন পর যখন আমি তাঁকে বিষয়টি নিয়ে বললাম, তিনি কাফফারার প্রতি কোনো আগ্রহ প্রকাশ করেননি। এরপর থেকে আমি আর কখনো তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা করতে শুনিনি" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال حنبل: «وكان أبو عبد الله قد بلغ بُصْرَى - لما خرج إلى المتوكل بالعسكر في سُرَّ مَنْ رأى - فوجه إليه رسولاً، وقد باب ببصرى يأمره بالرجوع، فرجع أبو عبد الله، وامتنع من الحديث إلا لولده ولنا، وربما قرأ في منزلنا» (1).
وقال المروذي: سمعت أبا عبد الله في العسكر، يقول لولده: قال الله تعالى: {أَوْفُوا بِالْعُقُودِ} [المائدة: 1]، أتدرون ما العقود؟ إنما هو العهود، وإني أعاهد الله عز وجل، ثم قال: والله، والله، والله، وعلي عهد الله وميثاقه ألا حدثت بحديث لقريب ولا لبعيد حديثًا تامًا حتى ألقى الله، ثم التفت إلى ولده وقال: وإن كان هذا يشتهي منه ما يشتهي، ثم بلغه عن رجل من الدولة وهو ابن أكثم أنه قال: قد أردت أن يأمره الخليفة أن يكفر عن يمينه، ويحدث، فسمعت أبا عبد الله يقول لرجل من قبل صاحب الكلام: لو ضربت ظهري بالسياط، ما حدثت (2).
ويستنتج من كل ما مضى في مسألة ترك التحديث ومراحله ومنهج الإمام فيه ما يلي:
أولاً: أن الإمام كان يرى عظيم أثر العلم والحديث والسنة لا سيما أيام المحن وظهور البدع وعلو شأنها.
--------------------------------------------
হানবাল বলেন: «আবু আবদুল্লাহ (ইমাম আহমদ) বসরায় পৌঁছেছিলেন - যখন তিনি ‘সুররা মান রাআ’ (সামাররা) সেনানিবাসে মুতাওয়াক্কিলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন - তখন তাঁর কাছে একজন দূত প্রেরণ করা হয়েছিল। তিনি তখন বসরার প্রবেশপথে ছিলেন, তাঁকে ফিরে আসার আদেশ দেওয়া হয়। ফলে আবু আবদুল্লাহ ফিরে আসেন এবং তাঁর সন্তান ও আমাদের ব্যতীত অন্যদের কাছে হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত (امتنع) থাকেন; কখনও কখনও তিনি আমাদের বাড়িতে পাঠ করতেন» (১)।
আল-মাররূযী বলেন: আমি সেনানিবাসে আবু আবদুল্লাহকে তাঁর সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো} [আল-মায়িদাহ: ১], তোমরা কি জানো 'উকুদ' কী? তা হলো প্রতিশ্রুতিসমূহ (العهود)। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আল্লাহর শপথ, আল্লাহর শপথ, আল্লাহর সাথে আমার ওয়াদা ও অঙ্গীকার রইল যে, আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার পূর্ব পর্যন্ত আমি নিকটবর্তী বা দূরবর্তী কারও নিকট কোনো হাদিস পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা (حدثت) করব না। এরপর তিনি তাঁর সন্তানের দিকে ফিরে বললেন: যদিও সে তা তীব্রভাবে আকাঙ্ক্ষা করে। অতঃপর প্রশাসনের একজন ব্যক্তি -যিনি হলেন ইবনে আকসাম- সম্পর্কে তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, সে বলেছে: আমি চেয়েছিলাম খলিফা তাঁকে তাঁর শপথের কাফফারা আদায় করার এবং হাদিস বর্ণনা করার নির্দেশ দেন। তখন আমি আবু আবদুল্লাহকে উক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আগত একজনকে বলতে শুনলাম: যদি আমার পিঠে চাবুক মারা হয়, তবুও আমি হাদিস বর্ণনা করব না (২)।
হাদিস বর্ণনা বর্জন করার মাসআলা, এর বিভিন্ন পর্যায় এবং এ বিষয়ে ইমামের কর্মপদ্ধতি (المنهج) সংক্রান্ত পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা যায়:
প্রথমত: ইমাম আহমদ ইলম, হাদিস ও সুন্নাহর সুদূরপ্রসারী প্রভাব প্রত্যক্ষ করতেন, বিশেষ করে ফিতনার (المحن) দিনগুলোতে এবং বিদআতের (البدع) প্রকাশ ও এর প্রভাব বিস্তারের সময়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ثانيًا: أن أول ترك للتحديث منه رحمه الله كان من قبله ابتداءً، ولم يكن بمرسوم من السلطان، وذلك في سنة سبع وعشرين ومائتين - أي: في زمن المحنة وقبل انجلاء غمتها - ولم يستمر هذا الترك.
وأما قبل ذلك فلم يترك التحديث، بل إن تلك الفترة - بين سنة عشرين وسبع وعشرين - هي التي أسمع فيها ابنيه وابن عمه حنبل مسنده، فقد قيل: إن ذلك كان سنة خمس وعشرين ومائتين، وفي هذه الفترة أيضًا حدَّث عنه فيها الأئمة كمسلم وأبي داود وغيرهما؛ كما عُلم من تاريخ رحلاتهم ودخولهم إلى بغداد للسماع من شيوخها وعلى رأسهم الإمام رحمه الله.
ثالثًا: أنه ترك تحديث ابن رسول الخليفة ولم يكن ذلك بسبب أمر المحنة؛ بل للموقف الواضح من أبي عبد الله تجاه السلاطين وأعوانهم، وأيضًا لم يكن طلب رسول الخليفة لأبي عبد الله أن يحدث ابنه إلا لطلب الشرف بذلك والتزين به.
رابعًا: أن الإمام ترك التحديث لعامة الناس، واقتصر على تحديث ولده وابن عمه، وهو الذي استمر عليه حتى مات رحمه الله، وكان ذلك من سنة سبع وثلاثين، ويلحظ على هذه المرحلة أنه في آخرها لم يكن ينبسط للتحديث مطلقًا، بل أقسم على نفسه ألا يحدث حديثًا تام.
দ্বিতীয়ত: তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা (تحديث) বর্জনের বিষয়টি প্রথমত তাঁর নিজের পক্ষ থেকেই শুরু হয়েছিল, সুলতানের কোনো ফরমানের মাধ্যমে নয়। এটি ছিল ২২৭ হিজরি সনে—অর্থাৎ ফিতনার (محنة) সময়ে এবং সেই সংকট দূর হওয়ার আগে—তবে এই বর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
আর এর আগে তিনি হাদিস বর্ণনা (تحديث) ত্যাগ করেননি; বরং ২২০ থেকে ২২৭ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে তিনি তাঁর দুই পুত্র এবং তাঁর চাচাতো ভাই হাম্বলকে তাঁর মুসনাদ শ্রবণ (أسمع) করিয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি ২২৫ হিজরি সনে হয়েছিল। এই সময়ে ইমাম মুসলিম ও আবু দাউদের মতো ইমামগণও তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা (حدث) করেছেন; যেমনটি তাঁদের সফরের ইতিহাস এবং বাগদাদের শায়খদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের (سماع) উদ্দেশ্যে সেখানে তাঁদের গমনের বিবরণ থেকে জানা যায়, যাঁদের শীর্ষে ছিলেন স্বয়ং ইমাম (রহিমাহুল্লাহ)।
তৃতীয়ত: তিনি খলিফার দূতের পুত্রকে হাদিস বর্ণনা (تحديث) করা বর্জন করেছিলেন এবং তা ফিতনার (محنة) কোনো বিষয়ের কারণে ছিল না; বরং সুলতান এবং তাঁদের সহযোগীদের প্রতি আবু আব্দুল্লাহর স্পষ্ট অবস্থানের কারণে ছিল। তাছাড়াও, খলিফার দূতের পক্ষ থেকে আবু আব্দুল্লাহর নিকট তাঁর পুত্রকে হাদিস শোনানোর (يحدث) অনুরোধটি ছিল কেবল এর মাধ্যমে আভিজাত্য লাভ এবং নিজেকে অলঙ্কৃত করার উদ্দেশ্যে।
চতুর্থত: ইমাম সাধারণ মানুষের জন্য হাদিস বর্ণনা (تحديث) বর্জন করেছিলেন এবং শুধুমাত্র তাঁর সন্তান ও চাচাতো ভাইয়ের নিকট হাদিস বর্ণনার (تحديث) মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এর ওপরই অটল ছিলেন (রহিমাহুল্লাহ); আর এটি ২৩৭ হিজরি থেকে শুরু হয়েছিল। এই পর্যায়ে লক্ষ্য করা যায় যে, এর শেষ দিকে তিনি হাদিস বর্ণনায় (تحديث) একেবারেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন না, বরং তিনি নিজের ওপর কসম করেছিলেন যে, তিনি আর পূর্ণাঙ্গ কোনো হাদিস বর্ণনা (يحدث) করবেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ترك التحديث عمن أجاب بعد المحنة وإبقاء ما حدَّث به عنه قبلها:
وهذا كان من الإمام أحمد - فيما وقفتُ عليه - في راوٍ واحدٍ وهو الإمام الحجة المتقن علي بن عبد الله بن المديني (ت 234 هـ).
فالإمام رحمه الله روى عنه قبل المحنة، فلما حصلت ترك الرواية عنه في أثنائها وبعدها، لكنه لم يضرب على حديثه جملةً كغيره لجلالته وعظيم منزلته في هذا الشأن؛ ولذا وجد لابن المديني في المسند أكثر من خمسة وستين حديثًا.
وقد ورد التصريح في ثلاثة مواضع من المسند على أن روايته عنه كانت قبل المحنة، وسيأتي مزيد بسط لذلك عند الكلام على موقف أحمد من ابن المديني تفصيلاً.
الضرب على حديث بعض الرواة وتركه مطلقًا.
وهذا الصنيع كان من الإمام مع جملة من الرواة، فيهم كبار أئمة وأساطين رواية؛ كابن معين، وعلي بن الجعد، وأبي نصر التمار، وغيرهم.
قال أبو الفضل صالح ابن الإمام: «وضرب أبي على حديث كل مَنْ أجاب» (1).
--------------------------------------------
মিহনার (পরীক্ষার) সময় (দাবি) গ্রহণকারীদের থেকে হাদিস বর্ণনা ত্যাগ করা এবং এর পূর্বে তাদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ বহাল রাখা:
ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়টি—যতটুকু আমি জানতে পেরেছি—একজন বর্ণনাকারী (راوٍ)-র ক্ষেত্রে ঘটেছে, আর তিনি হলেন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (حجة) এবং অত্যন্ত পারদর্শী (متقن) ইমাম আলী বিন আব্দুল্লাহ ইবনুল মাদিনী (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি)।
ইমাম (রহ.) মিহনার আগে তাঁর থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন। তবে যখন সেই ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন এর চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা (رواية) করা বর্জন করেন। কিন্তু তাঁর সুমহান মর্যাদা এবং এই বিদ্যায় তাঁর উচ্চ অবস্থানের কারণে অন্যদের মতো তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো তিনি সম্পূর্ণরূপে কেটে দেওয়া বা বর্জন (الضرب) করেননি; আর এই কারণেই মুসনাদ-এ ইবনুল মাদিনী থেকে বর্ণিত পঁয়ষট্টিরও বেশি হাদিস পাওয়া যায়।
মুসনাদ-এর তিনটি স্থানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর থেকে করা এই বর্ণনা (رواية) গুলো মিহনার পূর্বের ছিল। ইবনুল মাদিনী সম্পর্কে ইমাম আহমাদের অবস্থানের বিস্তারিত আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও বিশদ বর্ণনা সামনে আসবে।
কোনো কোনো বর্ণনাকারী (راوٍ)-র হাদিস কেটে দেওয়া বা বর্জন (الضرب) করা এবং তা সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা।
ইমাম আহমাদ বেশ কিছু বর্ণনাকারী (راوٍ)-র ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যাঁদের মধ্যে বর্ণনা (رواية)-র শীর্ষস্থানীয় ইমাম ও স্তম্ভতুল্য ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন; যেমন: ইবনে মাঈন, আলী বিন আল-জাদ, আবু নাসর আত-তাম্মার এবং আরও অনেকে।
ইমামের পুত্র আবু আল-ফজল সালেহ বলেছেন: "আমার পিতা মিহনার দাবি গ্রহণকারী প্রত্যেকের হাদিস কেটে দিয়েছেন বা বর্জন (ضرب) করেছেন" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال سعيد بن عمر البرذعي: «سمعت الحافظ أبا زرعة الرازي يقول: كان أحمد بن حنبل لا يرى الكتابة عن أبي نصر التمار، ولا عن يحيى بن معين، ولا عن أحد ممن امتحن فأجاب» (1).
وقال أبو زرعة أيضًا: «كان أحمد بن حنبل لا يرى الكتابة عن علي بن الجعد، ولا سعيد بن سليمان، ورأيته في كتابه مضروبًا عليهما» (2).
نهيه عن التحديث بما يُفْهَم منه تأييد البدعة:
ويظهر هذا الأثر حينما أنكر الإمام رحمه الله ما بلغه عن ابن المديني أنه حديث بحديث: «كلوه إلى عالمه»، فقال فيه: «كلوه إلى خالقه»، وهو مما أخطأ فيه الوليد بن مسلم، فحدث به ابن المديني على الخطأ في قصة بينه وبين ابن أبي دؤاد زعيم فتنة القول بخلق القرآن.
قال الخطيب البغدادي: «أخبرنا أبو طالب عمر بن إبراهيم الفقيه، أخبرنا عيسى بن حامد القاضي، حدثنا أبو بكر أحمد بن محمد الصيدلاني، حدثنا أبو بكر المروذي، قال: قلت
--------------------------------------------
সাঈদ বিন উমর আল-বারযাঈ বলেন: «আমি হাফেজ (الحافظ) আবু যুরআ আর-রাজিকে বলতে শুনেছি: আহমদ বিন হাম্বল আবু নাসর আত-তাম্মার, ইয়াহইয়া বিন মাঈন এবং যাদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তারা (চাপের মুখে) ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন, তাঁদের থেকে (হাদিস) লিখে নেওয়া সমীচীন মনে করতেন না» (১)।
আবু যুরআ আরও বলেন: «আহমদ বিন হাম্বল আলি বিন আল-জাদ এবং সাঈদ বিন সুলাইমানের থেকে (হাদিস) লিখে নেওয়া সমীচীন মনে করতেন না, এবং আমি তাঁর কিতাবে দেখেছি যে তিনি তাঁদের উভয়ের নামের ওপর রেখা টেনে (কেটে) দিয়েছেন» (২)।
বিদআত (بدعة) সমর্থিত হতে পারে এমন বিষয় বর্ণনা করার ব্যাপারে তাঁর নিষেধাজ্ঞা:
এই প্রভাবটি তখন স্পষ্ট হয় যখন ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) ইবনুল মাদিনীর ব্যাপারে তাঁর কাছে পৌঁছানো এই সংবাদটিকে প্রত্যাখ্যান করেন যে, তিনি একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এভাবে: «একে এর জ্ঞানীর কাছে সোপর্দ করো», তখন তিনি (আহমদ) এর ব্যাপারে বলেছিলেন: «একে এর স্রষ্টার কাছে সোপর্দ করো»। এটি ছিল সেই ভুল যা ওয়ালিদ বিন মুসলিম করেছিলেন, আর ইবনুল মাদিনী সেই ভুল অনুযায়ীই এটি বর্ণনা করেন। ঘটনাটি ছিল কুরআন সৃষ্টি (خلق القرآن) সংক্রান্ত ফিতনার প্রধান ইবনে আবি দুয়াদের সাথে তাঁর একটি বিষয়ের প্রেক্ষাপটে।
আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেন: «আবু তালিব উমর বিন ইবরাহিম আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ঈসা বিন হামিদ আল-কাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সাইদালানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু বকর আল-মাররুজি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لأبي عبد الله أحمد بن حنبل: إن علي بن المديني يحدث عن الوليد بن مسلم، عن الأوزاعي، عن الزهري، عن أنس، عن عمر: «كلوه إلى خالقه»؟ فقال أبو عبد الله: كذب، حدثنا الوليد بن مسلم مرتين ما هو هكذا، إنما هو: «كلوه إلى عالمه» (1). قلت لأبي عبد الله: إن عباسًا العنبري قال لما حدث به بالعسكر: قلت لعلي ابن المديني: إنهم قد أنكروه عليك؟ فقال: حدثتكم به بالبصرة، وذكر أن الوليد أخطأ فيه، فغضب أبو عبد الله وقال: فنعم، قد علم - يعني: علي بن المديني - أن الوليد أخطأ فيه فلم أراد أن يحدثهم به؟ يعطيهم الخطأ؟ وكذبه أبو عبد الله» (2).
منعه لابنه أن يحدث عن المبتدعة عمومًا، وعمن أجاب في المحنة خصوصًا:
قال الخطيب: «أخبرنا البرقاني: سمعت أبا بكر أحمد بن جعفر بن سلم يقول: عبد الله بن أحمد بن حنبل لم يكن عنده عن رجل عن شعبة إلا عن يحيى بن عبدويه، عن شعبة، ولم يسمع من علي بن الجعد، منعه أبوه عنه إذ أجاب في الفتنة،
--------------------------------------------
আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলা হলো: আলী ইবনুল মাদিনী আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আল-আওযায়ী থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন (يحدث): «এটি তাঁর স্রষ্টার ওপর ছেড়ে দাও»? আবু আব্দুল্লাহ বললেন: সে মিথ্যা বলেছে (كذب), আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের কাছে দুইবার বর্ণনা করেছেন, বিষয়টি এমন নয়; বরং তা হলো: «এটি তাঁর পরিজ্ঞাতার নিকট ছেড়ে দাও» (১)। আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম: আব্বাস আল-আনবারী বলেছেন যে, যখন তিনি আল-আসকার এলাকায় এটি বর্ণনা করলেন, তখন আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে বললাম: তারা তো আপনার এই বর্ণনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে (أنكروه)? তিনি বললেন: আমি এটি তোমাদের কাছে বসরায় বর্ণনা করেছিলাম এবং তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে আল-ওয়ালিদ এতে ভুল করেছেন (أخطأ)। তখন আবু আব্দুল্লাহ রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: হ্যাঁ, তিনি—অর্থাৎ আলী ইবনুল মাদিনী—জানতেন যে আল-ওয়ালিদ এতে ভুল করেছেন (أخطأ), তবে কেন তিনি এটি তাদের কাছে বর্ণনা করতে চাইলেন? তিনি কি তাদের কাছে ভুলটিই তুলে ধরবেন? এভাবে আবু আব্দুল্লাহ তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলেন (كذبه) (২)।
সাধারণভাবে বিদআতিদের (المبتدعة) থেকে এবং বিশেষভাবে যারা পরীক্ষার (মিহনা) সময় নতি স্বীকার করেছিলেন (أجاب), তাদের থেকে বর্ণনা (يحدث) করতে তিনি তাঁর ছেলেকে নিষেধ করেছিলেন:
খতিব বলেন: «বারকানী আমাদের জানিয়েছেন: আমি আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে সালমকে বলতে শুনেছি: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বলের নিকট শু’বাহর কোনো বর্ণনাকারীর সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুওয়াইহ ব্যতীত আর কারো কোনো বর্ণনা ছিল না। আর তিনি আলী ইবনুল জাদ থেকে কোনো কিছু শ্রবণ করেননি (لم يسمع); তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করতে নিষেধ করেছিলেন, যেহেতু তিনি ফিতনার (الفتنة) সময় নতি স্বীকার করেছিলেন (أجاب),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وحثَّه أبوه على السماع من يحيى بن عبدويه وأثنى عليه» (1).
وقال ابن حجر: «كان عبد الله بن أحمد لا يكتب إلا عمن أذن له أبوه في الكتابة عنه، وكان لا يأذن له أن يكتب إلا عن أهل السنة، حتى كان يمنعه أن يكتب عمن أجاب في المحنة؛ ولذلك فاته علي بن الجعد ونظراؤه من المسند» (2).
على أن هذا الامتناع من عبد الله كان مؤقتًا؛ لأن المتقرر أن عبد الله إنما سمع من أبيه وبقية شيوخه بعد المحنة كما قال الذهبي (3)؛ إذ كان في زمن المحنة صغيرًا، فقد ولد قبل ابتدائها بخمس سنين في سنة ثلاث عشرة ومائتين، وعبد الله بقي بعد أبيه قرابة الخمسين عامًا، وقد وجد في كتبه بما فيها زوائد المسند تحديثه عن جملة ممن أجاب في المحنة؛ كيحيى بن معين، وأبي معمر، وأبي كريب وغيرهم.
ولعل طول مدة بقاء عبد الله بعد المحنة وجلالة هؤلاء الأئمة وطلب العلو في الإسناد من الأسباب التي دعته إلى عدم ترك التحديث عنهم، وأنه ربما حمل نهي أبيه له على زمن المحنة وما قاربه، أو لعله ترخص في ذلك كغيره من الرواة، وأن موقف أبيه رحمه الله عزيمة يصعب تطبيقها، وإلا لفاته الكثير من الشيوخ والأحاديث والأسانيد العالية.
--------------------------------------------
তাঁর পিতা তাঁকে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুওয়াইহ্-এর নিকট থেকে শ্রবণ (السماع) করার জন্য উৎসাহিত করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন (১)।
ইবনে হাজার বলেন: «আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ কেবল তাঁদের থেকেই হাদিস লিপিবদ্ধ করতেন যাঁদের ব্যাপারে তাঁর পিতা অনুমতি প্রদান করতেন। আর তিনি কেবল আহলে সুন্নাত (أهل السنة) এর অনুসারীগণ ব্যতীত অন্য কারো থেকে হাদিস লেখার অনুমতি দিতেন না, এমনকি 'মিহনা' (কুরআন সৃষ্টি সংক্রান্ত পরীক্ষা) চলাকালে যাঁরা নমনীয়তা প্রদর্শন (أجاب) করেছিলেন তাঁদের থেকে হাদিস লিখতে তিনি নিষেধ করতেন। এই কারণেই আলী ইবনে জা'দ এবং তাঁর সমপর্যায়ের বর্ণনাকারীদের হাদিস তাঁর মুসনাদ থেকে বাদ পড়ে যায়» (২)।
তবে আবদুল্লাহর এই বিরত থাকা ছিল সাময়িক; কারণ এটি প্রতিষ্ঠিত যে, আবদুল্লাহ তাঁর পিতা এবং অন্যান্য শিক্ষকদের থেকে মিহনার পরেই হাদিস শ্রবণ (السماع) করেছিলেন, যেমনটি যাহাবী উল্লেখ করেছেন (৩)। কেননা মিহনার সময় তিনি অল্পবয়স্ক ছিলেন; তিনি মিহনা শুরুর পাঁচ বছর পূর্বে ২১৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। আবদুল্লাহ তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর প্রায় পঞ্চাশ বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁর গ্রন্থসমূহে, যার মধ্যে জাওয়াইদুল মুসনাদও অন্তর্ভুক্ত, মিহনার সময় নমনীয়তা প্রদর্শনকারী একদল বর্ণনাকারীর থেকে তাঁর হাদিস বর্ণনা (التحديث) করার প্রমাণ পাওয়া যায়; যেমন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবু মা'মার, আবু কুরাইব এবং অন্যান্য।
সম্ভবত মিহনার পর আবদুল্লাহর দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা, এই ইমামগণের উচ্চ মর্যাদা এবং উচ্চতর সনদ (العلو في الإسناد) অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষাই ছিল তাঁদের থেকে বর্ণনা (التحديث) করা বর্জন না করার অন্যতম কারণ। সম্ভবত তিনি তাঁর পিতার নিষেধকে কেবল মিহনার সময়কাল বা তার নিকটবর্তী সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ মনে করেছিলেন, অথবা সম্ভবত তিনি অন্যান্য বর্ণনাকারীদের (الرواة) মতো এই ক্ষেত্রে শিথিলতার সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতার অবস্থান ছিল একটি কঠোর সংকল্প (عزيمة) যা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ছিল; নতুবা তিনি অনেক শিক্ষক, হাদিস এবং উচ্চতর সনদসমূহ (الأسانيد العالية) থেকে বঞ্চিত হতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المطلب الثانيأثرها في منهجه النقدي خصوصًاوفيه ما يلي:
تعديل الرجل والثناء عليه؛ لثباته في المحنة، وتمسكه بالسنة:
وقد كان هذا من الإمام رحمه الله في الثناء على من ثبتوا في المحنة وأعطوا الجهد من نفوسهم ولم يجيبوا، فقد اشتهر ثناؤه على محمد بن نوح وأحمد بن نصر الخزاعي، وسيأتي الكلام تفصيلاً عن ذلك في تراجمهم في المبحث الثالث.
كلامه فيمن أجاب متأولاً:
لا شك أن موقف الإمام رحمه الله تجاه هذه الطائفة كان صريحًا وواضحًا، وقد تجلى ذلك فيما يلي:
كلامه الصريح في بعض الرواة من أجل ذلك.
ترك الرواية عن بعضهم أثناء المحنة وبعدها.
الضرب على حديث رواةٍ آخرين مطلقًا، بما في ذلك ما سمع منهم قبل المحنة.
هجر من أجاب إلى ذلك، حتى ربما في ردَّ السلام وبدء الكلام، مع أن منهم من بينه وبينهم مودة تامة، وصحبة صادقة؛ كابن معين رحمه الله.
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদবিশেষত তাঁর সমালোচনা পদ্ধতিতে এর প্রভাবএবং এতে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
পরীক্ষায় (المحنة) অবিচল থাকা এবং সুন্নাহর ওপর অটল থাকার কারণে কোনো ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত করা (تعديل) এবং তাঁর প্রশংসা করা:
যারা পরীক্ষায় (المحنة) অবিচল ছিলেন, নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং (ফিতনার ডাকে) সাড়া দেননি, ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রশংসা করার বিষয়টি এমনই ছিল। মুহাম্মদ ইবনে নুহ এবং আহমদ ইবনে নাসর আল-খুজায়ি-এর প্রতি তাঁর প্রশংসা অত্যন্ত সুপরিচিত; তৃতীয় পরিচ্ছেদে তাঁদের জীবনী আলোচনায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
যারা ব্যাখ্যার (متأولاً) আশ্রয় নিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন, তাঁদের সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য:
নিঃসন্দেহে এই শ্রেণির প্রতি ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে:
এই কারণে কিছু বর্ণনাকারী (الرواة) সম্পর্কে তাঁর সুস্পষ্ট মন্তব্য।
পরীক্ষা (المحنة) চলাকালীন এবং এর পরবর্তীতে তাঁদের কারো কারো থেকে বর্ণনা (الرواية) বর্জন করা।
অন্যান্য বর্ণনাকারীদের (رواة) হাদিসসমূহকে নিঃশর্তভাবে বর্জন করা, এমনকি পরীক্ষার (المحنة) পূর্বে তাঁদের নিকট থেকে যা শ্রবণ করা হয়েছিল তাও এর অন্তর্ভুক্ত।
যারা এতে সাড়া দিয়েছিলেন তাঁদের সংস্রব ত্যাগ করা, এমনকি কখনও সালামের উত্তর দেওয়া এবং কথা শুরু করার ক্ষেত্রেও; যদিও তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যাঁদের সাথে তাঁর গভীর হৃদ্যতা এবং অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ছিল; যেমন ইবনে মাঈন (রাহিমাহুল্লাহ)।
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عدم شهوده لجنائز بعضهم.
نهيه لابنه عبد الله أن يحدث عن هؤلاء.
وهذا الأثر تجليته واضحًا وتحريره كشفًا وبيانه وصفًا هو لب المراد وخلاصة القصد، فقد تباينت الأفهام تفسيرًا واختلفت الأقلام تسطيرًا وازدوجت المقاصد تأويلاً في وصف موقف الإمام رحمه الله من هذه الطائفة من الأئمة في هذه المحنة المدلهمة، فطائفة حرَّفت، وأخرى انتقصت، وثالثة غلت وأسرفت.
وأستمد مولاي مدده وعونه في بيان ذلك وإيضاحه من خلال النقاط التالية:
1 - أن المسألة جليلة، والقول بها خطير، والزلل فيها كبير، وليست مسألة هينة سهلة، من فضول العلم ومكملاته، وذلك بالنظر إلى مقاصدها، وما تفضي إليها من التعطيل، وجحد الشريعة، وتكذيب الربّ - عياذًا بالله تعالى -.
2 - أن مَنِ امتحن في هذا الشأن كانوا أئمة كبارًا، مقتديً بهم، أسوةً لغيرهم، لهم تمام الأثر في عامة الناس، إيجابًا أو سلبًا، خيرًا أو شرًا، فبهم - بعد قدرة الله وإرادته وحكمته - نجاة الناس أو هلاكهم في هذا الأمر الكبار، وهذا مقصد الإلحاح في امتحانهم من أحمد البدعة والاعتزال ابن أبي دؤاد - عليه من الله ما يستحق.
তাদের কারো কারো জানাযায় ইমামের অংশগ্রহণ না করা।
তার পুত্র আবদুল্লাহকে এদের থেকে হাদিস বর্ণনা (يحدث) করতে নিষেধ করা।
এই বর্ণনাটির (أثر) বিশদ বিশ্লেষণ, সুস্পষ্ট উন্মোচন এবং গুণগত বর্ণনা করাই মূল লক্ষ্য ও সারকথা। ইমামের (রহিমাহুল্লাহ) অবস্থান এই ঘোরতর পরীক্ষার (محنة) সময় এই ইমামদের জামাত সম্পর্কে কেমন ছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনুধাবনে ভিন্নতা দেখা গেছে, লেখনীতে বৈচিত্র্য এসেছে এবং ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যসমূহ মিশ্রিত হয়ে পড়েছে। ফলে একদল বিকৃতি ঘটিয়েছে, অন্য একদল অবমূল্যায়ন করেছে এবং তৃতীয় একদল অতিরঞ্জন ও সীমালঙ্ঘন করেছে।
আমি আমার রবের কাছে নিচের পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে এর বর্ণনা ও স্পষ্টীকরণের জন্য সাহায্য ও তৌফিক প্রার্থনা করছি:
1 - বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এ সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে পদস্খলনও গুরুতর। এটি কোনো সহজ বা মামুলি বিষয় নয় যা ইলমের অপ্রয়োজনীয় বা সম্পূরক অংশ হিসেবে গণ্য হবে। বরং এর উদ্দেশ্য এবং এটি যে পরিণতির দিকে নিয়ে যায়—যেমন আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা (تعطيل), শরিয়তকে প্রত্যাখ্যান করা এবং রবকে অস্বীকার করা (আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)—তা বিবেচনা করলে এর ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়।
2 - যারা এই বিষয়ে পরীক্ষিত (امتحن) হয়েছিলেন, তাঁরা ছিলেন অনেক বড় স্তরের ইমাম, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং অন্যের জন্য আদর্শ। সাধারণ মানুষের ওপর ইতিবাচক বা নেতিবাচক, কল্যাণকর বা অকল্যাণকর উভয় দিক থেকেই তাদের পূর্ণ প্রভাব ছিল। আল্লাহর কুদরত, ইচ্ছা ও হিকমতের পর এই মহান বিষয়ে মানুষের মুক্তি বা ধ্বংস তাদের সাথেই সম্পৃক্ত ছিল। আর বিদআতের (بدعة) হোতা এবং মুতাজিলা মতবাদের (اعتزال) অনুসারী ইবনে আবি দুয়াদ—আল্লাহ তাকে উপযুক্ত প্রতিদান দিন—এই মহৎ ব্যক্তিদেরই পরীক্ষার সম্মুখীন করতে পিড়াপীড়ি করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মিহনাতি ওয়া আসারুহা ফী মানহাজিল ইমাম আহমাদান নাকদি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
3 - أن عامة الناس قد اشرأبت أعناقهم، وشخصت أبصارهم، وأصغت أسماعهم ينتظرون جواب هؤلاء الأئمة وقولهم في ذلك.
4 - أن الإمام رحمه الله كان قد أمل في بعضهم تمام الثبات، والتعاون على الحق، والتواصي بالصبر.
5 - أن الإمام قارن موقف بعض كبار أهل العلم وأئمة الدين بموقف أفراد ليسوا بمنزلتهم؛ كموقف ابن المديني أو ابن معين بموقف محمد بن نوح - رحمهم الله تعالى - فأثر ذلك في نفسه.
6 - أن موقفه رحمه الله من الابتداع وأهله عمومًا فيه حزم وعزيمة، لا رخصة عنده في هذا الأمر، وإذا كان قد أقل الرواية عن رواة عدلهم وأثنى عليهم بسبب شيء من التشيع أو القدر أو نحو ذلك ففي هذه النازلة أشد، بل قد ذهب الإمام إلى ما هو أبعد من ذلك في موقفه من رواةٍ تتلمذوا في مدرسة أهل الرأي وعلى قول أبي حنيفة رحمه الله.
7 - أن الأئمة الذين أجابوا إلى القول بذلك كانوا مكرهين بلا شك.
8 - أن الإكراه لم يكن قد وصل - لا سيما مع بعضهم - إلى حدَّ الإلجاء الذي يحصل به تمام المعذرة، ورفع الحرج، وسرعة الإجابة.
3 - সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষমাণ ছিল, তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল এবং তারা একাগ্রচিত্তে এই ইমামগণের উত্তরের এবং এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যের অপেক্ষা করছিল।
4 - ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁদের কয়েকজনের কাছ থেকে পূর্ণ অবিচলতা, সত্যের ওপর সহযোগিতা এবং ধৈর্যের উপদেশের আশা করেছিলেন।
5 - ইমাম ইলমের অধিকারী কতিপয় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি এবং দ্বীনের ইমামগণের অবস্থানকে এমন কিছু ব্যক্তির অবস্থানের সাথে তুলনা করেছেন যারা তাঁদের সমপর্যায়ের ছিলেন না; যেমন ইবনুল মাদিনী বা ইবনে মাঈনের অবস্থানকে মুহাম্মদ ইবনে নূহের (রহিমাহুমুল্লাহ) অবস্থানের সাথে তুলনা করেছেন—যা তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করেছিল।
6 - বিদআত (ابتداع) এবং এর অনুসারীদের ব্যাপারে সাধারণভাবে তাঁর অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ়; এই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো শিথিলতা ছিল না। যদি তিনি এমন কিছু বর্ণনাকারী (رواة) থেকে বর্ণনা (رواية) কম গ্রহণ করে থাকেন যাদেরকে তিনি ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) বলে সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁদের প্রশংসাও করেছেন কেবল শিয়া মতবাদ বা কদর মতবাদ অথবা এই জাতীয় কোনো কারণে, তবে এই দুর্যোগের সময়ে তাঁর অবস্থান ছিল আরও কঠোর। বরং ইমাম সেই সব বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন যারা আহলুর রায় মাদরাসা এবং ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতাদর্শে শিক্ষা লাভ করেছিলেন।
7 - যে সকল ইমামগণ এই উক্তি করতে সম্মত হয়েছিলেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে বাধ্য (مكرهين) ছিলেন।
8 - জবরদস্তি (إكراه) —বিশেষ করে তাঁদের কয়েকজনের ক্ষেত্রে—এমন চূড়ান্ত নিরুপায় অবস্থায় (إلجاء) পৌঁছেনি যাতে পূর্ণ ওজর সাব্যস্ত হয়, দায়মুক্তি ঘটে এবং দ্রুত উত্তর প্রদান করা আবশ্যক হয়।