(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: -)
الرد القوي على الرفاعي والمجهول وابن علوي وبيان أخطائهم في المولد النبوي   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الرد القوي على الرفاعي والمجهول وابن علوي وبيان أخطائهم في المولد النبوي

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413 هـ)

الناشر: دار اللواء للنشر والتوزيع - الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م

عدد الصفحات: 259

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 رجب 1436

রিফায়ি, জনৈক অজ্ঞাত ব্যক্তি ও ইবনে আলউয়ির কঠোর প্রতিবাদ এবং মিলাদুন্নবী পালনে তাদের ভুলভ্রান্তির বর্ণনা   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজরি)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: রিফায়ি, জনৈক অজ্ঞাত ব্যক্তি ও ইবনে আলউয়ির কঠোর প্রতিবাদ এবং মিলাদুন্নবী পালনে তাদের ভুলভ্রান্তির বর্ণনা

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজরি (মৃ. ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: দারুল লিওয়া প্রকাশনী ও পরিবেশনী - রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৩ হি. - ১৯৮৩ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৯

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রজব ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: -)
الرَّد الْقوي على الرِّفَاعِي والمجهول وَابْن علوي وَبَيَان أخطائهم فِي المولد النَّبَوِيّ

 

تأليف

حمود بن عبد الله بن حمود التويجري

 

دَار اللِّوَاء
রিফায়ী, অজ্ঞাত ব্যক্তি ও ইবনে আলভীর প্রতি শক্তিশালী খণ্ডন এবং মিলাদুন্নবী সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের ভুলসমূহের বর্ণনা

 

রচনায়

হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ আত-তুয়াইজিরী

 

দারুল লিওয়া
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستهديه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وحده لا شريك له الذي أمر باتباع صراطه المستقيم، ونهى عن اتباع السبل المضلة، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الذي حذر من البدع غاية التحذير، صلى الله عليه وعلى آله وصحابه ومن تبعهم على الدين القويم وسلم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد: فقد رأيت مقالاً ليوسف بن هاشم الرفاعي يرد به على فتوى الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز في النهي عن الاحتفال بمولد النبي صلى الله عليه وسلم، ويرد به أيضًا على الذين ينكرون سياقة النساء للسيارات، وهذا المقال منشور في جريدة "السياسة" الكويتية في عددين: أولهما عدد 4859 في يوم الخميس 12 ربيع أول سنة 1402 هـ والثاني عدد 4870 في يوم الاثنين 23 ربيع أول، سنة 1402 هـ.

والكلام على هذا المقال في مقامين: الأول: فيما يتعلق ببدعة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি ও তাঁরই কাছে তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি তাঁর সরল পথ অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভ্রষ্ট পথসমূহ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি বিদআত সম্পর্কে চূড়ান্ত সতর্ক করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের ওপর তাদের অনুসরণ করেছেন, তাদের সকলের ওপর শান্তি ও অজস্র সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: আমি ইউসুফ বিন হাশেম আল-রিফায়ীর একটি নিবন্ধ দেখেছি যার মাধ্যমে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মোৎসব পালনের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত শেখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজের ফতোয়ার প্রত্যুত্তর দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের প্রতিবাদ করেছেন যারা নারীদের গাড়ি চালনার বিরোধিতা করেন। এই নিবন্ধটি কুয়েতি সংবাদপত্র "আস-সিয়াসা"-এর দুটি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে: প্রথমটি হলো সংখ্যা নম্বর ৪৮৫৯, বৃহস্পতিবার ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪০২ হিজরি; এবং দ্বিতীয়টি হলো সংখ্যা নম্বর ৪৮৭০, সোমবার ২৩শে রবিউল আউয়াল, ১৪০২ হিজরি।

উক্ত নিবন্ধটির আলোচনা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত: প্রথমত: বিদআত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৬)
المولد، والثاني: فيما يتعلق بسياقة النساء للسيارات، فأما بدعة المولد فقد أطال الرفاعي الكلام فيها، وخالف القرآن والسنة وما كان عليه سلف الأمة وأئمتها والمسلمون جميعًا منذ زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى آخر القرن السادس من الهجرة أو قبيل آخره، فأما مخالفته للقرآن فهو واضح من الآيات التي سيأتي ذكرها منها قول الله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} وفي هذه الآية الكريمة أبلغ رد على كل من ابتدع بدعة يزيد بها في الدين ما ليس منه.

ومن ذلك عيد المولد الذي ابتدعه سلطان إربل في آخر المائة السادسة من الهجرة، أو في أول المائة السابعة، ووافقه عليه كثير من العوام وبعض المقلدين من هل المذهب، وهؤلاء المقلدون يعترفون أنه بدعة، إلا أنهم يقولون إنها بدعة حسنة. وهذا القول منهم معدود من أخطائهم وزلاتهم كما سيأتي التنبيه على ذلك إن شاء الله تعالى، وسيأتي كلام الإمام مالك رحمه الله تعالى في التشديد على من ابتدع في الإسلام، ورأى أن بدعته حسنة، وهو كلام جيد في الرد على من يستحسن بدعة المولد.

ومن الآيات أيضًا قول الله تعالى: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا}، قال ابن كثير في تفسير هذه الآية، أي مهما أمركم به فافعلوه، ومهما نهاكم عنه فاجتنبوه، فإنه إنما يأمر بخير، وإنما ينهي عن شر، انتهى.

وقال البغوي: هو عام في كل ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم ونهى عنه انتهى.
মিলাদ (মওলিদ) এবং দ্বিতীয় বিষয়টি হলো নারীদের গাড়ি চালনা প্রসঙ্গে। মিলাদ বা জন্মোৎসবের বিদআত সম্পর্কে রিফায়ি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং তিনি এতে কুরআন, সুন্নাহ, উম্মতের সালাফ (পূর্বসূরি), আইম্মায়ে কেরাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ বা তার কিছু পূর্ব পর্যন্ত সকল মুসলিমের অনুসৃত পথের বিরোধিতা করেছেন। কুরআনের সাথে এর বিরোধিতার বিষয়টি নিম্নোক্ত আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হয়, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী রয়েছে: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" এই বরকতময় আয়াতটি প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য এক কঠোর জবাব, যে দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের (বিদআত) সংযোজন করে যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মিলাদ উৎসব, যা হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগে অথবা সপ্তম শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইরবিলের সুলতান উদ্ভাবন করেছিলেন। অনেক সাধারণ মানুষ এবং মাযহাবের অনুসারী কিছু মুকাল্লিদ তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। এই মুকাল্লিদগণ স্বীকার করেন যে এটি একটি বিদআত, তবে তারা বলেন এটি 'বিদআতে হাসানা' বা উত্তম বিদআত। তাদের এই বক্তব্যটি তাদের ভুল ও বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে। এছাড়া ইসলামে বিদআত প্রবর্তনকারী এবং বিদআতকে উত্তম মনে করা ব্যক্তির প্রতি ইমাম মালিক (রহ.)-এর কঠোর অবস্থান সম্বলিত বক্তব্যও সামনে আসবে। মিলাদের বিদআতকে যারা উত্তম মনে করেন, তাদের খণ্ডনে এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি দলিল।

এ সম্পর্কিত আয়াতসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটিও রয়েছে: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" ইবনে কাসীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: অর্থাৎ তিনি তোমাদের যা কিছুর আদেশ দেন তা পালন করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা বর্জন করো; কারণ তিনি কেবল কল্যাণেরই আদেশ দেন এবং কেবল অকল্যাণ হতেই নিষেধ করেন। (সমাপ্ত)

ইমাম বাগাভী বলেন: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদত্ত সকল আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য। (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
والنبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر أمته أن يخذوا يوم مولده عيدًا، وقد نهاهم عن البدع وحذرهم منها، فمن اتخذ يوم مولده صلى الله عليه وسلم عيدًا فهو مخالف للآية التي ذكرنا لأنه قد عمل عملاً لم يأمر الله به ولا رسوله صلى الله عليه وسلم، وارتكب ما نهى عنه الرسول صلى الله عليه وسلم من محدثات الأمور.

ومنها قوله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، قال ابن كثير رحمه الله تعالى في تفسير هذه الآية {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ}: أي عن أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو سبيله ومنهاجه وطريقه وسنته وشريعته، فتوزن الأقوال والأعمال بأقواله وأعماله، فما وافق ذلك قبل، وما خالفه فهو مردود على قائله وفاعله كائنًا من كان، ثبت في الصحيحين وغيرهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد» أي فليحذر وليخش من خالف شريعة الرسول باطنًا وظاهرًا {أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ} أي في قلوبهم من كفر، أو نفاق، أو بدعة {أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} أي في الدنيا بقتل، أو حد، أو حبس، أو نحو ذلك انتهى.

وفي الآية تهديد شديد ووعيد أكيد لمن خالف الأمر الذي كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسواء كان ذلك بزيادة على الأمر المشروع، أو بنقص منه، وقد استدل الإمام مالك رحمه الله تعالى بهذه الآية الكريمة على أنه لا يجوز لأحد أن يجاوز الأمر المشروع ويزيد عليه.

قال الشاطبي في كتاب "الاعتصام": حكي عياض عن سفيان بن عيينة أنه قال: سألت مالكًا عمن أحرم من المدينة
এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে তাঁর জন্মদিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেননি। তিনি তাঁদেরকে বিদআত (নবউদ্ভাবিত বিষয়) থেকে নিষেধ করেছেন এবং এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সুতরাং, যে ব্যক্তি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করল, সে আমাদের উল্লিখিত আয়াতের বিরোধিতা করল; কারণ সে এমন এক আমল করল যার নির্দেশ আল্লাহ বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেননি, এবং সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে নিষেধ করেছেন তাতে লিপ্ত হলো।

এর মধ্যে আল্লাহ তাআলার এই বাণীও অন্তর্ভুক্ত: "সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।" ইমাম ইবনে কাসির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই আয়াতের—"সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয়"—অংশের তাফসিরে বলেন: অর্থাৎ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশের বিরোধিতা করে, যা হলো তাঁর পথ, পদ্ধতি, পন্থা, আদর্শ ও শরিয়ত। সুতরাং সকল কথা ও কাজকে তাঁর কথা ও কাজের মানদণ্ডে যাচাই করতে হবে; যা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা গৃহীত হবে, আর যা তার সাথে বৈপরীত্য রাখবে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন—প্রত্যাখ্যাত হবে। সহিহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার ওপর আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা বর্জনীয়।" অর্থাৎ, যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে রাসূলের শরিয়তের বিরোধিতা করে সে যেন ভয় করে এবং সতর্ক থাকে যে, "তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে", অর্থাৎ তাদের অন্তরে কুফর, নিফাক বা বিদআতের ফিতনা প্রবেশ করবে, "অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে", অর্থাৎ দুনিয়াতে হত্যা, হদ কায়েম, বন্দিত্ব বা অনুরূপ কোনো শাস্তির মাধ্যমে। সমাপ্ত।

এই আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তার বিরোধিতাকারীদের জন্য কঠোর হুমকি ও সুনিশ্চিত সতর্কবার্তা রয়েছে। চাই তা শরয়ি বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত কোনো কিছু সংযোজনের মাধ্যমে হোক অথবা তা থেকে কোনো কিছু হ্রাসের মাধ্যমে হোক। ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই মহান আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, শরয়ি বিধানের সীমা লঙ্ঘন করা বা তাতে অতিরিক্ত কোনো কিছু যোগ করা কারো জন্য বৈধ নয়।

ইমাম শাতবি তাঁর "আল-ইতিসাম" গ্রন্থে বলেন: কাজী ইয়াজ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন, আমি ইমাম মালিককে মদিনা থেকে ইহরাম বাঁধার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম—
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
وراء الميقات، فقال: هذا مخالف لله ولرسوله، أخشى عليه الفتنة في الدنيا والعذاب الأليم في الآخرة. أما سمعت قول الله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم أن يهل من المواقيت، وحكى ابن العربي عن الزبير بن بكار قال: سمعت مالك بن أنس وأتاه رجل، فقال: يا أبا عبد الله: من أين أحرم؟ قال من ذي الحليفة من حيث أحرم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إني أريد أن أحرم من المسجد، فقال: لا تفعل، فقال: إني أريد أن أحرم من المسجد من عند القبر، قال لا تفعل فإني أخشى عليك الفتنة، فقال: وأي فتنة في هذه إنما هي أميال أزيدها، قال: وأي فتنة أعظم من أن ترى أنك سبقت إلى فضيلة قصر عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم، إني سمعت الله يقول: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} قال الشاطبي: رحمه الله تعالى، وهذه الفتنة التي ذكرها مالك، رحمه الله، في تفسير الآية هي شأن أهل البدع وقاعدتهم التي يؤسسون عليها بنيانهم، فإنهم يرون ما ذكره الله في كتابه وما سنه نبيه صلى الله عليه وسلم دون ما اهتدوا إليه بعقولهم، وفي ذلك قال: ابن مسعود، رضي الله عنه، فيما روى عنه ابن وضاح: «لقد هديتم لما لم يهتد له نبيكم، أو إنكم لتمسكون بذنب ضلالة» إذ مر بقوم كان رجل يجمعهم يقول: رحم الله من قال: كذا وكذا مرة «سبحان الله»، فيقول القوم. ويقول: رحم الله من قال، كذا وكذا مرة "الحمد لله"، فيقول القوم انتهى كلام الشاطبي، وستأتي قصة ابن مسعود، رضي الله عنه، مع الذين ابتدعوا عد التكبير، والتسبيح، والتحميد، والاجتماع لذلك قريبًا إن شاء الله تعالى.

وإذا علم هذا فليعلم أيضًا أن الاحتفال بليلة المولد واتخاذها
মীকাতের বাইরে থেকে; তিনি বললেন: এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের পরিপন্থী, আমি তার জন্য দুনিয়াতে ফিতনা এবং আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির আশঙ্কা করি। তুমি কি মহান আল্লাহর বাণী শোনোনি: "অতএব যারা তাঁর (রাসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে" (সূরা আন-নূর: ৬৩)। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মীকাতসমূহ থেকে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনুল আরাবি যুবায়ের ইবনে বাক্কার থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি, যখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল: হে আবু আবদুল্লাহ! আমি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধব? তিনি বললেন: যুল-হুলাইফা থেকে, যেখান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম বেঁধেছিলেন। লোকটি বলল: আমি মসজিদ (নববী) থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই। তিনি বললেন: তা করো না। সে আবার বলল: আমি মসজিদের কবরের পাশ থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই। তিনি বললেন: তা করো না, কারণ আমি তোমার ব্যাপারে ফিতনার আশঙ্কা করছি। সে বলল: এতে ফিতনা কিসের? এটি তো সামান্য কয়েক মাইল পথ যা আমি বাড়িয়ে করছি। তিনি বললেন: এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে যে, তুমি মনে করছো এমন এক ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্বের দিকে তুমি অগ্রগামী হয়ে গেছ, যা করতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সক্ষম হননি বা তা থেকে পিছিয়ে ছিলেন। আমি আল্লাহকে বলতে শুনেছি: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।" ইমাম শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসীরে যে ফিতনার কথা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত বিদআতিদের বৈশিষ্ট্য এবং সেই মূলনীতি যার ওপর তারা তাদের ইমারত নির্মাণ করে। কেননা তারা মনে করে যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা সুন্নাত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন, তা তাদের বিবেকের উদ্ভাবিত হিদায়াতের চেয়ে অপূর্ণাঙ্গ। এই প্রসঙ্গে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন—যা ইবনে ওয়াদদাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—: "নিশ্চয়ই তোমরা এমন কিছুর হিদায়াত পেয়ে গেছ যা তোমাদের নবী পাননি, অথবা তোমরা গোমরাহির লেজ আঁকড়ে ধরে আছো।" যখন তিনি একদলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে এক ব্যক্তি তাদের একত্রিত করে বলছিল: "আল্লাহ তার ওপর রহম করুন যে অমুক অমুক বার 'সুবহানাল্লাহ' বলবে", তখন লোকেরা তা বলছিল। আবার সে বলছিল: "আল্লাহ তার ওপর রহম করুন যে অমুক অমুক বার 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবে", তখন লোকেরা তা বলছিল। শাতবির বক্তব্য এখানেই শেষ হলো। আর ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই কাহিনীটি শীঘ্রই আসবে—ইনশাআল্লাহ—যারা তাকবীর, তাসবীহ ও তাহমীদ গণনা করা এবং এর জন্য একত্রিত হওয়ার বিদআত তৈরি করেছিল।

যখন এটি জানা গেল, তখন এটিও জানা আবশ্যক যে, জন্মবার্ষিকী বা মৌলিদ পালন করা এবং একে (উৎসব হিসেবে) গ্রহণ করা...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
عيدًا لم يكن من هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما هو من المحدثات التي أحدثت بعد زمانه صلى الله عليه وسلم بنحو من ست مائة سنة وعلى هذا فالاحتفال بهذا العيد المحدث داخل فيما حذر الله منه في قوله تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، ولو كان في الاحتفال بهذا العيد المبتدع أدنى شيء من الخير لسبق إليه الصحابة، رضي الله عنهم فإنهم كانوا أسبق إلى الخير ممن جاء بعدهم.

ومنها قوله تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ}، قال ابن كثير في تفسير هذه الآية الكريمة أي اقتفوا آثار النبي الأمي الذي جاءكم بكتاب من رب كل شيء ومليكه {وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ}، أي لا تخرجوا عما جاءكم به الرسول إلى غيره فتكونوا قد عدلتم عن حكم الله إلى حكم غيره، انتهى.

وإذا علم أن الله تعالى أمر عباده باتباع ما أنزله في كتابه، ونهاهم عن اتباع الأولياء من دونه، فليعلم أيضًا أن اتخاذ ليلة المولد عيدًا من اتباع الأولياء الذين ابتدعوا إحياء ليلة المولد، واتخذوها عيدًا يفعلونها في كل عام.

ومنها قوله تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ}، وقوله تعالى: {فَالَّذِينَ آَمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ * قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بالله
এটি এমন একটি উৎসব যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল না; বরং এটি তাঁর সময়ের প্রায় ছয়শত বছর পর উদ্ভাবিত নব আবিষ্কৃত বিষয়গুলোর অন্যতম। অতএব, এই নব উদ্ভাবিত উৎসব পালন করা মহান আল্লাহর সেই সতর্কবাণীর অন্তর্ভুক্ত যাতে তিনি বলেছেন: "কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।" যদি এই নব উদ্ভাবিত উৎসব উদযাপনের মধ্যে সামান্যতম কল্যাণ থাকত, তবে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অবশ্যই এর দিকে অগ্রগামী হতেন। কেননা তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের তুলনায় কল্যাণের পথে অধিক অগ্রবর্তী ছিলেন।

এবং এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।" ইমাম ইবনে কাসীর এই সম্মানিত আয়াতের তাফসীরে বলেন, অর্থাৎ তোমরা সেই উম্মী নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করো যিনি তোমাদের কাছে সবকিছুর রব ও অধিপতির পক্ষ থেকে কিতাব নিয়ে এসেছেন। "এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না" এর অর্থ হলো—রাসূল তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন তা ত্যাগ করে অন্য কিছুর দিকে যেও না, অন্যথায় তোমরা আল্লাহর বিধান থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্যের বিধানের দিকে ঝুঁকে পড়বে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

যখন এটি জানা গেল যে, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর কিতাবে যা অবতীর্ণ করেছেন তা অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁকে ছাড়া অন্যদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন, তখন এটিও জেনে রাখা উচিত যে, জন্মদিবস বা মিলাদের রাতকে উৎসবে পরিণত করা হলো সেই সব মানুষের অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত, যারা মিলাদ উদযাপনকে নব আবিষ্কার করেছে এবং এটিকে একটি বাৎসরিক উৎসবে পরিণত করেছে যা তারা প্রতি বছর পালন করে।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "কাজেই যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং তাঁর সাথে যে নূর অবতীর্ণ হয়েছে তার অনুসরণ করেছে, তারাই হলো সফলকাম। বলুন, হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর সেই রাসূল, যাঁর মালিকানায় রয়েছে আসমান ও জমিন। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। অতএব তোমরা আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর প্রেরিত সেই উম্মী নবীর প্রতি ঈমান আনো, যিনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস পোষণ করেন..."
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১০)
وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ}، فعلق تبارك وتعالى الفلاح على الإيمان بالرسول وتعزيره ونصره واتباع النور الذي أنزل معه وهو القرآن، وتعزيره صلى الله عليه وسلم هو توقيره وتعظيمه، وإنما يكون ذلك باتباع أوامره واجتناب نواهيه، ثم أمر تبارك وتعالى بالإيمان به وبرسوله، وعلق الهداية على اتباعه صلى الله عليه وسلم واتباعه لا يحصل إلا بالتمسك بهديه، وترك ما ابتدعه المبتدعون من بعده.

وأما مخالفة الرفاعي للسنة فقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة» رواه الإمام أحمد، وأهل السنن، وابن حبان في صحيحه، والحاكم في مستدركه من حديث العرباض من سارية رضي الله عنه، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح، وصححه الحاكم، والذهبي، وقال ابن عبد البر في كتاب: "جامع بيان العلم وفضله": حديث عرباض بن سارية في الخلفاء الراشدين حديث ثابت صحيح.

وروى الإمام أحمد أيضًا، ومسلم، وابن ماجه، والدارمي عن جابر بن عبد الله، رضي الله عنهما قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خطب احمرت عيناه، وعلا صوته، واشتد غضبه حتى كأنه منذر جيش يقول: صبّحكم ومساكم، ويقول: «أما بعد، فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة»، وقد رواه النسائي بإسناد جيد، ولفظه: «إن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار».
...এবং তাঁর বাণীসমূহ; আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা হেদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারো।" বস্তুত আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা সফলতা বা কামিয়াবিকে রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন, তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তাঁকে সহায়তা প্রদান এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূর তথা আল-কুরআনের অনুসরণের ওপর নির্ভরশীল করেছেন। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও মর্যাদা রক্ষার অর্থ হলো তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ ও তাঁকে মহিমান্বিত করা; আর এটি কেবল তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে। এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর ওপর এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনয়নের নির্দেশ দিয়েছেন এবং হেদায়াতকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আর তাঁর অনুসরণ কেবল তখনই সম্ভব যখন তাঁর আদর্শকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা হবে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে বিদআতীদের প্রবর্তিত নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ বর্জন করা হবে।

আর সুন্নাহর সাথে রিফায়ীর বিরোধিতার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। একে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে সাবধান থাকো, কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।" এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইরবাদ ইবনে সারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ। আর হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। ইবনে আবদিল বার তাঁর 'জামেউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' নামক গ্রন্থে বলেছেন: খুলাফায়ে রাশেদীনের ব্যাপারে ইরবাদ ইবনে সারিয়ার বর্ণিত হাদিসটি একটি সুদৃঢ় ও সহীহ হাদিস।

ইমাম আহমদ আরও বর্ণনা করেছেন, এবং মুসলিম, ইবনে মাজাহ ও দারেমী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন খুতবা দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, তাঁর আওয়াজ বৃদ্ধি পেত এবং তাঁর ক্রোধ তীব্রতর হতো, যেন তিনি কোনো সেনাদলকে সতর্ককারী কোনো ব্যক্তি, যিনি বলছেন: শত্রু তোমাদের ওপর সকালে কিংবা সন্ধ্যায় হানা দেবে। তিনি বলতেন: "হামদ ও সালাতের পর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মাদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনের নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।" ইমাম নাসাঈ এটি একটি উত্তম (জায়্যিদ) সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণিত শব্দগুলো হলো: "নিশ্চয়ই সত্যতম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মাদের আদর্শ। আর সবচেয়ে মন্দ বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।"
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
وروى ابن ماجه عن عبد الله بن مسعود، رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إنما هما اثنتان الكلام والهدى فأحسن الكلام كلام الله، وأحسن الهدي هدي محمد، ألا وإياكم ومحدثات الأمور، فإن شر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة»، وقد رواه ابن وضاح، وابن عبد البر وغيرهما موقوفًا على ابن مسعود رضي الله عنه.

وروي الإمام أحمد، والبخاري، ومسلم، وأبو داود، وابن ماجه عن عائشة، رضي الله عنها، قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد»، وفي رواية لأحمد، ومسلم والبخاري تعليقًا مجزومًا به: «من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد» قال النووي في شرح مسلم: قال أهل العربية الرد هنا بمعنى المردود ومعناه فهو باطل غير معتد به، قال: وهذا الحديث قاعدة عظيمة من قواعد الإسلام وهو من جوامع كلمه، صلى الله عليه وسلم فإنه صريح في رد كل البدع والمخترعات، وقال أيضًا: وهذا الحديث مما ينبغي حفظه واستعماله في إبطال المنكرات وإشاعة الاستدلال به، انتهى.

وقال الحافظ ابن حجر في فتح الباري: هذا الحديث معدود من أصول الإسلام، وقاعدة من قواعده، فإن معناه من اخترع في الدين ما لا يشهد له أصل من أصوله فلا يلتفت إليه، ثم ذكر قول النووي: إن هذا الحديث مما ينبغي أن يعتنى بحفظه واستعماله في إبطال المنكرات، وإشاعة الاستدلال به كذلك. قال: وقال الطرقي: هذا الحديث يصلح أن يسمى نصف أدلة الشرع، قال الحافظ: وفيه
ইবনে মাজাহ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মূল বিষয় দুটি: কথা এবং পথনির্দেশ। সুতরাং সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। সাবধান! তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো; কারণ নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।" ইবনে ওয়াদদাহ, ইবনে আব্দুল বার এবং অন্যান্যরা এটি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর মওকুফ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।" আহমাদ, মুসলিম এবং বুখারীতে সুদৃঢ়ভাবে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যা আমাদের এই নির্দেশ বা দ্বীন অনুযায়ী নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত।" ইমাম নববী ‘শারহু মুসলিম’-এ বলেছেন: ভাষাবিদগণ বলেন, এখানে 'রাদ' শব্দটি ‘মারদুদ’ বা প্রত্যাখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার অর্থ হলো এটি বাতিল এবং এর কোনো গুরুত্ব নেই। তিনি বলেন: এই হাদীসটি ইসলামের মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি সুমহান মূলনীতি এবং এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জাওয়ামিউল কালিম বা সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর অন্তর্ভুক্ত; কেননা এটি সকল বিদআত ও নব-আবিষ্কৃত বিষয় প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলিল। তিনি আরও বলেছেন: এই হাদীসটি মুখস্থ রাখা, অপকর্ম বাতিল করার ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ করা এবং এর দ্বারা দলীল প্রদানের প্রসার ঘটানো উচিত। (সমাপ্ত)।

হাফিজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'-তে বলেছেন: এই হাদীসটি ইসলামের অন্যতম মূলভিত্তি এবং এর একটি অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গণ্য। এর অর্থ হলো— যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করবে যার স্বপক্ষে শরীয়তের কোনো মূলনীতি সাক্ষ্য দেয় না, তবে তা গ্রাহ্য হবে না। এরপর তিনি ইমাম নববীর উক্তিটি উল্লেখ করেন যে: এই হাদীসটি গুরুত্বের সাথে মুখস্থ করা এবং মন্দ কাজ বাতিল করার ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ করা ও একইভাবে এর মাধ্যমে দলীল প্রদানের প্রসার ঘটানো উচিত। তিনি বলেন: ত্বরকি বলেছেন: এই হাদীসটি শরীয়তের অর্ধেক দলিল হিসেবে অভিহিত হওয়ার যোগ্য। হাফিজ বলেন: এতে রয়েছে...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
رد المحدثات، وإن النهي يقتضي الفساد؛ لأن المنهيات كلها ليست من أمر الدين فيجب ردها، انتهى.

قلت: ومن الأعمال المردودة بلا ريب إحياء ليلة المولد كل عام، لأنه لم يكن من أمر النبي صلى الله عليه وسلم، ولا من عمل لصحابة رضي الله عنهم، ولا من عمل التابعين وتابعيهم بإحسان، وإنما هو من محدثات الأمور التي حذر منها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأخبر أنها بدعة وضلالة.

وأما مخالفة الرفاعي لما كان عليه سلف الأمة وأئمتها والمسلمون جميعًا منذ زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى آخر القرن السادس من الهجرة، فهو ظاهر فإنهم لم يكونوا يحتفلون بالمولد ويتخذونه عيدًا، ولم يكونوا يخصون ليلة المولد ولا يومه بشيء من الأعمال دون سائر الليالي والأيام. ولو كان الاحتفال بالمولد خيرًا لسبق إليه الصحابة، رضي الله عنهم، فإنهم كانوا أسبق إلى الخير، وأحرص عليه ممن جاء بعدهم، وقد قال النووي في "تهذيب السماء واللغات": البدعة في الشرع هي إحداث ما لم يكن في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، انتهى.

قلت: ويستثنى من ذلك ما سنه أحد الخلفاء الراشدين وهم: أبو بكر، وعمر وعثمان، وعلي رضي الله عنهم، فإنه سنة وليس ببدعة؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ».

قال الحافظ ابن رجب رحمه الله تعالى في كتابه «جامع العلوم والحكم»: وفي أمره صلى الله عليه وسلم باتباع سنته وسنة الخلفاء
নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলোর প্রত্যাখ্যান, এবং নিশ্চয়ই নিষেধাজ্ঞা অসারতা বা বাতিল হওয়ারই দাবি রাখে; কেননা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর কোনোটিই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই সেগুলো প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব। সমাপ্ত।

আমি বলছি: নিঃসন্দেহে প্রত্যাখ্যানযোগ্য আমলসমূহের মধ্যে একটি হলো প্রতি বছর মিলাদুন্নবীর রাত উদযাপন করা; কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশিত কোনো বিষয় ছিল না, এবং এটি সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাবিঈন কিংবা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবি-তাবিঈনেরও কোনো আমল ছিল না। বরং এটি দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সতর্ক করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে এগুলো বিদআত ও ভ্রষ্টতা।

আর উম্মতের সালাফ (পূর্বসূরি), ইমামগণ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগ থেকে শুরু করে হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত সকল মুসলিম যে আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, তার সাথে রিফায়ির বৈপরিত্য সুস্পষ্ট। কেননা তাঁরা মিলাদ উদযাপন করতেন না এবং একে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতেন না। তাঁরা মিলাদের রাত বা দিনকে অন্যান্য রাত বা দিনের তুলনায় বিশেষ কোনো আমলের জন্য নির্দিষ্ট করতেন না। যদি মিলাদ উদযাপন করা কোনো কল্যাণকর কাজ হতো, তবে সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অবশ্যই এতে অগ্রণী হতেন; কারণ তাঁরা পরবর্তী যুগের লোকদের চেয়ে কল্যাণের কাজে অনেক বেশি অগ্রগামী এবং অধিক আগ্রহী ছিলেন। ইমাম নববী 'তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত' গ্রন্থে বলেছেন: শরীয়তের পরিভাষায় বিদআত হলো এমন বিষয় উদ্ভাবন করা যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে ছিল না। সমাপ্ত।

আমি বলছি: এই বিধান থেকে ঐ বিষয়টি ব্যতিক্রম যা খুলাফায়ে রাশিদীনের কোনো একজন প্রবর্তন করেছেন, আর তাঁরা হলেন— আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। কেননা সেটি সুন্নাহ হিসেবে গণ্য, বিদআত নয়; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহর অনুসরণ করো, একে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো।"

হাফিজ ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'জামি'উল উলূম ওয়াল হিকাম' গ্রন্থে বলেছেন: আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তাঁর নিজ সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশের মধ্যে...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الراشدين بعد أمره بالسمع والطاعة لولاة الأمور عمومًا، دليل على أن سنة الخلفاء الراشدين متبعة كاتباع السنة بخلاف غيرهم من ولاة الأمور قال: والخلفاء الراشدون الذين أمرنا بالاقتداء بهم، هم أبو بكر، وعمر، وعثمان، وعلي رضي الله عنهم، وقوله: «وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل بدعة ضلالة» تحذير للأمة من اتباع الأمور المحدثة المبتدعة. وأكد ذلك بقوله: «كل بدعة ضلالة»، والمراد بالبدعة ما أحدث مما لا أصل له في الشريعة يدل عليه، وأما ما كان له أصل من الشرع يدل عليه فليس ببدعة شرعًا، وإن كان بدعة لغة إلى أن قال: فقوله صلى الله عليه وسلم: «كل بدعة ضلالة» من جوامع الكلم لا يخرج عنه شيء وهو أصل عظيم من أصول الدين، وهو شبيه بقوله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد»، فكل من أحدث شيئا ونسبه إلى الدين، ولم يكن له أصل من الدين يرجع إليه فهو ضلالة، والدين بريء منه وسواء في ذلك مسائل الاعتقادات، أو الأعمال، أو الأقوال الظاهرة، والباطنة، وأما ما وقع في كلام السلف من استحسان بعض البدع، فإنما ذلك في البدع اللغوية لا الشرعية، فمن ذلك قول عمر رضي الله عنه لما جمع الناس في قيام رمضان على إمام واحد في المسجد، وخرج ورآهم يصلون كذلك فقال: «نعمت البدعة هذه»، وروي عنه أنه قال: «إن كانت هذه بدعة فنعمت البدعة» انتهى المقصود من كلامه، وسيأتي تمامًا إن شاء الله تعالى مع الجواب عن استحسان الرفاعي لبدعة المولد، واستدلاله على ذلك بقوله عمر، رضي الله عنه «نعمت البدعة هذه».

وأما قول الرفاعي: إن الاحتفال بالمولد النبوي سنة حسنة.
খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ, যা শাসকবর্গের প্রতি সাধারণ আনুগত্য ও শ্রবণের নির্দেশের পর এসেছে, তা এই বিষয়ের প্রমাণ যে তাঁদের অনুসৃত পথ বা সুন্নাহ অনুসরণ করা রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুসরণের মতোই আবশ্যক; যা অন্যান্য শাসকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি বলেন: খোলাফায়ে রাশেদীন—যাঁদের অনুসরণের নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে—তাঁরা হলেন আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। আর রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "তোমরা নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রত্যেক বিদ'আতই পথভ্রষ্টতা"—এটি উম্মাহর জন্য দ্বীনের মাঝে প্রবর্তিত নতুন ও উদ্ভাবিত বিষয়গুলো অনুসরণের বিরুদ্ধে একটি সতর্কবাণী। তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছেন যে: "প্রত্যেক বিদ'আতই পথভ্রষ্টতা।" এখানে বিদ'আত বলতে শরিয়তের মাঝে এমন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করাকে বোঝানো হয়েছে যার স্বপক্ষে শরিয়তে নির্দেশক কোনো ভিত্তি নেই। পক্ষান্তরে, যে বিষয়ের স্বপক্ষে শরিয়তে কোনো মূল ভিত্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাকে শরয়ী পরিভাষায় বিদ'আত বলা যাবে না, যদিও আভিধানিক অর্থে তা বিদ'আত হতে পারে। অতঃপর তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী "প্রত্যেক বিদ'আতই পথভ্রষ্টতা" তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে কোনো কিছুই বহির্ভূত নয়। এটি দ্বীনের অন্যতম একটি মহান মূলনীতি। এটি নবী কারীমের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্য একটি বাণীর সমরূপ, যেখানে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মাঝে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" অতএব, যে কেউ কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করে তাকে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করবে, অথচ দ্বীনে তার প্রত্যাবর্তনযোগ্য কোনো ভিত্তি থাকবে না, তবে তা পথভ্রষ্টতা হিসেবে গণ্য হবে। আর দ্বীন এ থেকে পবিত্র; চাই তা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে হোক, কিংবা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কর্ম ও বাণীর ক্ষেত্রে হোক। আর সালাফদের বাণীতে কোনো কোনো বিদ'আতকে উত্তম বলে গণ্য করার যে বিষয়টি এসেছে, তা মূলত আভিধানিক বিদ'আতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, শরয়ী বিদ'আতের ক্ষেত্রে নয়। এরই একটি উদাহরণ হলো উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি, যখন তিনি রমজানের কিয়ামের জন্য মসজিদে জনগণকে একজন ইমামের পেছনে একত্রিত করেছিলেন। তিনি বের হয়ে তাঁদেরকে সেভাবে সালাত আদায় করতে দেখে বললেন: "এটি কতই না উত্তম বিদ'আত!" তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: "যদি এটি বিদ'আত হয়ে থাকে, তবে এটি কতই না উত্তম বিদ'আত।" তাঁর বক্তব্যের উদ্দিষ্ট অংশ এখানেই শেষ। ইনশাআল্লাহ সামনে রিফায়ীর ‘মাওলিদ’ নামক বিদ'আতকে পছন্দ করার দাবি এবং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই উক্তি "এটি কতই না উত্তম বিদ'আত" দ্বারা তাঁর দলীল প্রদানের জওয়াবসহ পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আসবে।

আর রিফায়ীর এই বক্তব্য যে: "নবী কারীমের জন্মোৎসব (মাওলিদ) উদযাপন করা একটি উত্তম সুন্নত।"
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
فجوابه أن يقال: إن السنة ما سنه رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو سنة أحد الخلفاء الراشدين المهديين وهم: أبو بكر، وعمر، وعثمان، وعلي رضي الله عنهم، فأما ما سوى ذلك فهو من المحدثات التي حذر منها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأخبر أنها شر وضلالة، ومن ذلك الاحتفال بالمولد النبوي، لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر بذلك، ولم يفعله، ولم يأمر به أحد من الخلفاء الراشدين، ولم يفعله أحد من الصحابة، رضي الله عنهم، ولا التابعين وتابعيهم بإحسان، وعلى هذا فهو بدعة وضلالة يجب ردها لقول النبي صلى الله عليه وسلم «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد».

وقد زعم الرفاعي أن هذه البدعة من السنن الحسنة، وزعم في كلامه الذي سيأتي ذكره قريبًا أنها سنة مباركة وبدعة حسنة، هكذا قال وذلك مبلغه من العلم، وفيه دليل على انعكاس الحقائق عنده، حيث لم يفرق بين السنة والبدعة، بل إنه قد غلب عليه التكلف حتى جعل البدعة سنة مباركة حسنة، وهذا من مصداق الحديث الذي رواه رزين عن علي، رضي الله عنه مرفوعًا «كيف بكم إذا رأيتم المعروف منكرًا، والمنكر معروفًا» قالوا: يا رسول الله وإن ذلك لكائن، قال: نعم.

وروى أبو يعلي والطبراني في الأوسط من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، مرفوعًا مثله، وروي ابن وضاح عن ضمام بن إسماعيل المعافري عن غير واحد من أهل العلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: فذكر مثله. وروى ابن وضاح أيضًا عن ابن مسعود رضي الله عنه، أنه قال: يأتي على الناس زمان تكون السنة فيه بدعة، والبدعة سنة، والمعروف منكرًا، والمنكر معروفًا، وهذه الأحاديث يشد بعضها بعضًا.
এর উত্তরে বলা যায় যে, সুন্নাহ হলো যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবর্তন করেছেন অথবা হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ; আর তাঁরা হলেন— আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা সেইসব নব উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) যা থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সতর্ক করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে তা অনিষ্ট ও পথভ্রষ্টতা। আর নবী দিবস (ঈদে মিলাদুন্নবী) উদযাপনও এর অন্তর্ভুক্ত; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশ দেননি, নিজেও তা পালন করেননি, খুলাফায়ে রাশেদীনের কেউ এটি পালনের নির্দেশ দেননি এবং সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাবেয়ী কিংবা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীগণের কেউ তা করেননি। এই ভিত্তিতে এটি একটি বিদআত ও পথভ্রষ্টতা, যা প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ব্যাপারে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।"

আর রিফায়ী দাবি করেছেন যে, এই বিদআতটি উত্তম সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত; তিনি অচিরেই উল্লেখিতব্য তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, এটি একটি বরকতময় সুন্নাহ এবং উত্তম বিদআত। তিনি এমনই বলেছেন এবং এটাই তাঁর ইলমের দৌড়। এতে তাঁর কাছে সত্যের বিপরীত চিত্র ফুটে ওঠার প্রমাণ পাওয়া যায়, কেননা তিনি সুন্নাহ ও বিদআতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি; বরং কৃত্রিমতা তাঁর উপর এমনভাবে প্রবল হয়েছে যে তিনি বিদআতকে বরকতময় ও উত্তম সুন্নাহ বানিয়ে ফেলেছেন। এটি সেই হাদীসেরই বাস্তব প্রতিফলন যা রাযীন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমরা সৎ কাজকে অসৎ এবং অসৎ কাজকে সৎ হিসেবে দেখবে?" তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এমনটি কি সত্যিই ঘটবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"

আবু ইয়ালা এবং তাবারানী ‘আল-আউসাত’-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ মারফূ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনে ওয়াদদাহ যিমাম ইবনে ইসমাঈল আল-মুআফিরী সূত্রে একাধিক আহলে ইলম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুরূপ কথা বলেছেন। ইবনে ওয়াদদাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন সুন্নাহ বিদআত হিসেবে গণ্য হবে এবং বিদআত সুন্নাহ হিসেবে; সৎ কাজ হবে অসৎ এবং অসৎ কাজ হবে সৎ।" এই হাদীসসমূহ একে অপরকে শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد ذكر الشاطبي في كتاب «الاعتصام» ما رواه ابن حبيب عن ابن ماجشون قال: سمعت مالكًا يقول: «من ابتدع في الإسلام بدعة يراها حسنة، فقد زعم أن محمدًا صلى الله عليه وسلم خان الرسالة؛ لأن الله يقول: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ}، فلما لم يكن يومئذ دينًا فلا يكون اليوم دينًا»، وذكره الشاطبي في موضع آخر من كتاب «الاعتصام»، ولفظه قال: «من أحدث في هذه الأمة شيئًا لم يكن عليه سلفها فقد زعم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خان الرسالة»، وذكر بقيته بمثل ما تقدم، انتهى.

وأما قول الرفاعي: وإن كانت بدعة فهو بدعة حسنة محمودة كغيرها من البدع التي ابتدعت في الإسلام، وأفتى بها وأثنى عليها علماء أهل السنة والجماعة.

فجوابه أن يقال: ليس في البدع التي قد ابتدعت في الدين شيء حسن محمود البتة، بل البدع في الدين كلها شر وضلالة بنص رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال في حديث جابر رضي الله عنه الذي تقدم ذكره «وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة»، وفي حديث العرباض بن سارية، -رضي الله- عنه الذي تقدم ذكره «وإياكم ومحدثات الأمور؛ فإن كل محدثة بدعة»، وكل بدعة ضلالة، وفي حديث ابن مسعود رضي الله عنه، الذي تقدم ذكره «ألا وإياكم ومحدثات الأمور، فإن شر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة».

وهل يقول عاقل: إن من الشر والضلالة ما هو حسن محمود، كلا لا يقول ذلك عاقل، ومن زعم أن في البدع التي قد ابتدعت في الدين
ইমাম শাত্বেবী তাঁর ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থে ইবনে হাবীবের সূত্রে ইবনে মাজিশুন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো বিদআতের সূচনা করল যাকে সে উত্তম মনে করে, সে যেন দাবি করল যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রিসালাত বা বার্তায় খিয়ানত করেছেন; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম}। সুতরাং সেই দিন যা দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না, আজ তা দ্বীন হতে পারে না।” শাত্বেবী তাঁর ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থের অন্য স্থানেও এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে শব্দগুলো হলো: “যে ব্যক্তি এই উম্মতের মাঝে এমন কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটাল যার ওপর তাদের পূর্বসূরিগণ (সালাফ) ছিলেন না, সে যেন দাবি করল যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খিয়ানত করেছেন।” এরপর তিনি বাকি অংশ পূর্বের ন্যায় উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।

আর রিফাই-এর উক্তি প্রসঙ্গে: “যদি এটি বিদআতও হয়, তবে তা অন্যান্য বিদআতের ন্যায় একটি উত্তম ও প্রশংসনীয় বিদআত যা ইসলামে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেমগণ এর স্বপক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন ও প্রশংসা করেছেন।”

এর উত্তরে বলা হবে: দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত বিদআতের মাঝে মোটেও প্রশংসনীয় বা উত্তম বলতে কিছু নেই। বরং দ্বীনের মধ্যকার সকল বিদআতই মন্দ এবং পথভ্রষ্টতা; যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অকাট্য বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত। যেমন জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসে তিনি বলেছেন: “সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।” ইরাবায বিন সারিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসে এসেছে: “তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকো; কারণ প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।” ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসে এসেছে: “সাবধান! তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকো; কারণ সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।”

কোনো বিবেকবান কি বলতে পারে যে, মন্দ ও পথভ্রষ্টতার মাঝে এমন কিছু আছে যা উত্তম ও প্রশংসনীয়? কখনোই না, কোনো বিবেকবান ব্যক্তি এমনটি বলতে পারে না। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত বিদআতের মাঝে...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
شيئًا حسنًا محمودًا فإنما هو في الحقيقة يستدرك على الشريعة، ويرد على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذان الأمران خطيران جدًا لما فيهما من المحادة لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم فليتأمل الرفاعي قول الله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا}، فهذه الآية الكريمة تقضي على البدع كلها، وترد على من تعلق بها، أو بشيء منها، وعلى من أفتى بجوازها، أو جواز شيء منها، وعلى من زعم أن بدعة المولد حسنة محمودة وسنة مباركة، قال الشاطبي في كتاب «الاعتصام»: إن المستحسن للبدع يلزمه أن يكون الشرع عنده لم يكمل بعدُ، فلا يكون لقوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} معنى يعتبر به عندهم، انتهى.

ويلزم على القول بأن الاحتفال بالمولد سنة حسنة محمودة مباركة لوازم سيئة جدًا أحدها: أن يكون الاحتفال بالمولد من الدين الذي أكمله الله لعباده ورضيه لهم. وهذا معلوم البطلان بالضرورة، لأن الله تعالى لم يأمر عباده بالاحتفال بالمولد، ولم يأمر به رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يفعله ولا فعله أحد من الخلفاء الراشدين، ولا غيرهم من الصحابة والتابعين وتابعيهم بإحسان، بل ولم يكن معروفًا عند المسلمين إلى أن مضى عليهم نحو من ستمائة سنة، فحينئذ ابتدعه سلطان إربل وصار له ذكر عند الناس. وعلى هذا فمن زعم أن الاحتفال بالمولد من الدين، فقد قال: على الله، وعلى كتابه، وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم بغير علم.

الثاني: من اللوازم السيئة أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم قد تركوا العمل بسنة حسنة
কোনো কিছুকে উত্তম ও প্রশংসনীয় মনে করা মূলত শরীয়াহর ওপর সংশোধন আরোপ করা এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথার প্রতিবাদ করার নামান্তর। এই বিষয় দুটি অত্যন্ত বিপজ্জনক; কারণ এর মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধাচরণ নিহিত রয়েছে। অতএব রিফায়ী যেন মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" এই সম্মানিত আয়াতটি সকল বিদআতকে সমূলে বিনাশ করে এবং যারা বিদআতের সাথে বা এর কোনো অংশের সাথে সম্পৃক্ত থাকে, তাদের প্রতিবাদ করে। অনুরূপভাবে যারা এর বা এর কোনো অংশের বৈধতার ফতোয়া দেয় এবং যারা দাবি করে যে মিলাদ উদযাপন একটি উত্তম, প্রশংসনীয় বিদআত এবং বরকতময় সুন্নত, এটি তাদেরও কঠোর প্রতিবাদ করে। ইমাম শাতবী তাঁর 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থে বলেছেন: "যে ব্যক্তি বিদআতকে উত্তম মনে করে, তার জন্য এটি মেনে নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, তার নিকট শরীয়াহ এখনো পূর্ণতা পায়নি। ফলে মহান আল্লাহর বাণী: 'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম'—তাদের নিকট এই আয়াতের আর কোনো তাৎপর্য অবশিষ্ট থাকে না।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

মিলাদ উদযাপনকে একটি উত্তম, প্রশংসনীয় ও বরকতময় সুন্নত বলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জঘন্য কিছু বিষয় অনিবার্য হয়ে পড়ে। প্রথমত: মিলাদ উদযাপন সেই দ্বীনের অংশ হওয়া যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ করেছেন এবং তাদের জন্য মনোনীত করেছেন। অথচ এটি যে বাতিল ও অসার তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মিলাদ পালনের নির্দেশ দেননি, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও এর নির্দেশ দেননি। তিনি নিজে এটি করেননি এবং খুলাফায়ে রাশেদীন বা অন্য কোনো সাহাবী, তাবেঈ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণের কেউ এটি করেননি। বরং প্রায় ছয়শ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুসলিমদের মাঝে এর কোনো পরিচিতিই ছিল না। অতঃপর ইরবিলের সুলতান এটি উদ্ভাবন করেন এবং মানুষের মাঝে এর চর্চা শুরু হয়। এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি দাবি করে যে মিলাদ উদযাপন দ্বীনের অংশ, সে মূলত আল্লাহ, তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা বলল।

দ্বিতীয়ত: এর অন্যতম জঘন্য কুফল হলো এই যে, (এর মাধ্যমে এটিই সাব্যস্ত হয় যে) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একটি উত্তম সুন্নতের আমল করা বর্জন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
مباركة محمودة، وهذا مما ينزه عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم.

الثالث: أن يكون المحتفلون بالمولد قد حصل لهم العمل بسنة حسنة مباركة محمودة، لم تحصل للنبي صلى الله عليه وسلم ولا لأصحابه، رضي الله عنهم، وهذا لا يقوله من له أدنى مسكة من عقل ودين.

وليتأمل الرفاعي أيضًا نصوص رسول الله صلى الله عليه وسلم في حديثي جابر والعرباض، رضي الله عنهما، وما رواه ابن ماجه عن ابن مسعود رضي الله عنه، وليقابل بين الآية الكريمة وهي قوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} مع النصوص الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في التحذير من المحدثات على وجه العموم، ووصفها بأنها شر وضلالة، وبين قوله إن بدعة الاحتفال بالمولد بدعة حسنة محمودة كغيرها من البدع الحسنة التي ابتدعت في الإسلام، وقوله أيضًا: أنها سنة مباركة ليعلم ما في كلامه من المعارضة للكتاب والسنة؛ وليتأمل أيضًا قول النبي صلى الله عليه وسلم «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد»، وفي رواية «من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد»، وقوله أيضًا: «من رغب عن سنتي فليس مني»، ولعله بعد التأمل يراجع الحق، فإن الرجوع إلى الحق نبل وفضيلة، كما أن الجدال بالباطل لإدحاض الحق نقص ورذيلة، وقد ذم الله الذي يجادلون بالباطل ليدحضوا به الحق، وتوعدهم على ذلك بأشد الوعيد، فقال تعالى: {وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ}، وذم تبارك وتعالى الذين إذا ذكروا لا يذكرون، وذم الذين لا يسمعون ولا يعقلون، فقال تعالى: {إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ
কল্যাণময় ও প্রশংসনীয়, আর এটি এমন বিষয় যা থেকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পবিত্র ছিলেন।

তৃতীয়ত: মিলাদ উদযাপনকারীরা যেন এমন এক উত্তম, বরকতময় ও প্রশংসনীয় সুন্নাহ পালনের সৌভাগ্য অর্জন করেছে যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ভাগ্যে জোটেনি। আর যার সামান্যতম বিবেক ও দ্বীনি জ্ঞান রয়েছে, সে এমন কথা বলতে পারে না।

রিফাইর উচিত জাবির ও ইরবাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ এবং ইবনে মাজাহ কর্তৃক ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। তিনি যেন মহান আল্লাহর বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম}-এর সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত সেই সকল অকাট্য দলিলের তুলনা করেন যেগুলোতে তিনি সাধারণভাবে সকল নবউদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং সেগুলোকে মন্দ ও পথভ্রষ্টতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। একইসাথে তিনি যেন তুলনা করেন তার নিজের উক্তির সাথে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে—মিলাদ উদযাপনের বিদআতটি ইসলামে উদ্ভাবিত অন্যান্য উত্তম বিদআতের মতোই একটি উত্তম ও প্রশংসনীয় বিদআত; এবং তার এই উক্তি যে—এটি একটি বরকতময় সুন্নাহ; যাতে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে তাঁর বক্তব্যে কুরআন ও সুন্নাহর কতখানি বিরোধিতা বিদ্যমান। তিনি যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী নিয়েও চিন্তা করেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার ওপর আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" এবং তাঁর এই বাণী: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হলো, সে আমার দলভুক্ত নয়।" সম্ভবত গভীরভাবে চিন্তার পর তিনি সত্যের পথে ফিরে আসবেন; কেননা সত্যের দিকে ফিরে আসা একটি আভিজাত্য ও মহৎ গুণ, যেমনটি সত্যকে নস্যাৎ করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিতর্ক করা একটি ত্রুটি ও হীন কাজ। আল্লাহ তাআলা তাদের নিন্দা করেছেন যারা সত্যকে পরাভূত করতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিতর্ক করে এবং তাদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিতর্ক করেছিল যেন তার মাধ্যমে সত্যকে নস্যাৎ করতে পারে, অতঃপর আমি তাদের পাকড়াও করলাম। সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তি!} আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাদেরও নিন্দা করেছেন যাদের উপদেশ দিলে তারা উপদেশ গ্রহণ করে না, এবং তাদেরও নিন্দা করেছেন যারা শোনে না ও বোঝে না। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব হলো সেই বধিররা...}
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ * وَلَوْ عَلِمَ اللَّهُ فِيهِمْ خَيْرًا لَأَسْمَعَهُمْ وَلَوْ أَسْمَعَهُمْ لَتَوَلَّوْا وَهُمْ مُعْرِضُونَ}، فليحذر الرفاعي أن يصاب بما جاء في هذه الآيات أو ببعضه.

وإن لم يفهم الرفاعي دلالة النصوص على تحريم بدعة المولد وغيرها من البدع والمنع منها، فينبغي له أن يعرف قدر نفسه، ولا يتطاول على العلماء الذين ينهون عن الفساد في الأرض، ويحذرون الناس من البدع التي حذر منها رسول صلى الله عليه وسلم، وأمر بردها.

وإذا علم هذا فمن أفتى بجواز البدع، وأثنى عليها وزعم أنها حسنة محمودة فقوله مردود عليه كائنًا من كان، لأنه لا قول لأحد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالاً مُبِينًا}، وقال تعالى: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ}، وقال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، قال الإمام أحمد رحمه الله تعالى: أتدري ما الفتنة، الفتنة الشرك، لعله إذا رد بعض قوله أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك، ثم جعل يتلو هذه الآية {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا *}، وقال الإمام الشافعي -رحمه الله تعالى-: أجمع المسلمون على أن من استبانت له سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، لم يكن له أن يدعها لقول أحد.
"...সেই বোবা, যারা কিছুই বোঝে না। যদি আল্লাহ তাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ দেখতেন, তবে অবশ্যই তাদেরকে শোনার তাওফীক দিতেন। আর যদি তিনি তাদেরকে শোনাতেনও, তবুও তারা বিমুখ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিত।" রিফাইয়ের উচিত সতর্ক হওয়া যেন তিনি এই আয়াতগুলোতে বর্ণিত পরিণতির বা এর কোনো অংশের শিকার না হন।

আর রিফাই যদি মীলাদ বিদআত এবং অন্যান্য বিদআতের অবৈধতা ও তা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে দলীলসমূহের তাৎপর্য অনুধাবন করতে না পারেন, তবে তার উচিত নিজের সীমা সম্পর্কে অবগত হওয়া। যারা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করতে বারণ করেন এবং মানুষকে সেই সকল বিদআত থেকে সতর্ক করেন যা থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্ক করেছেন ও যা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দিয়েছেন, সেই সকল ওলামায়ে কেরামের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা তার জন্য সমীচীন নয়।

আর যখন এটি সুস্পষ্ট হলো, তখন যে ব্যক্তিই বিদআত বৈধ হওয়ার ফতোয়া দেবে, এর প্রশংসা করবে এবং একে উত্তম ও প্রশংসনীয় মনে করবে, তার সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যানযোগ্য, তিনি যেই হোন না কেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর বিপরীতে অন্য কারও কোনো কথা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত হলো।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।" আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হতে পারে।" ইমাম আহমদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হলো শিরক। হতে পারে যখন সে তাঁর (রাসূলের) কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করবে, তখন তার অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি হবে এবং সে ধ্বংস হয়ে যাবে।" এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করতে লাগলেন: "না, তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা করবে সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে।" ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "মুসলমানরা এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ স্পষ্ট হয়ে গেছে, অন্য কারো কথার কারণে তা বর্জন করা তার জন্য বৈধ নয়।"
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولما عارض بعض التابعين قول رسول الله صلى الله عليه وسلم بقول أبي بكر وعمر رضي الله عنهما في متعة الحج، رد عليهم ابن عباس، رضي الله عنهما، وقال: «يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء، أقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقولون: قال أبو بكر وعمر».

وإذا كان هذا قول ابن عباس، رضي الله عنهما، لمن عارض قول رسول الله صلى الله عليه وسلم بقول الخليفتين الراشدين أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، فكيف بمن عارض قول رسول الله صلى الله عليه وسلم بقول فلان وعلان، ممن زعم أنهم أفتوا بجواز الاحتفال بالمولد، وأثنوا على هذا العمل، فهذا القول مردود على قائليه، وفي الأحاديث التي تقدم ذكرها عن العرباض بن سارية، وجابر بن عبد الله، وابن مسعود، وعائشة، رضي الله عنهم، أبلغ رد عليهم، وعلى الرفاعي الذي قدم أقوالهم على أقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقد روى الترمذي وحسنه عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة، وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة، كلهم في النار إلا ملة واحدة» قالوا من هي يا رسول الله قال: «ما أنا عليه وأصحابي»، وروى الطبراني نحوه من حديث أنس بن مالك، وأبي أمامة، ووائلة بن الأسقع، رضي الله عنهم.

ومن المعلوم عند أهل العلم أن الاحتفال بالمولد لم يكن في عهد
যখন কিছু তাবেয়ী হজের তামাত্তু প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিপরীতে আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বক্তব্য পেশ করেছিলেন, তখন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাদের প্রতিবাদ করে বলেছিলেন: "আশঙ্কা হচ্ছে যে অচিরেই তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে; আমি বলছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তোমরা বলছ যে আবু বকর ও উমর বলেছেন।"

দুই জন খুলফায়ে রাশেদীন আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কথা দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিরোধিতা করার কারণে যদি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার মন্তব্য এমন কঠোর হয়, তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে যে অমুক-তমুক ব্যক্তির কথা দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিরোধিতা করে? বিশেষ করে তাদের ক্ষেত্রে যারা দাবি করে যে ঐ ব্যক্তিরা মিলাদ উদযাপন বৈধ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন এবং এই কাজের প্রশংসা করেছেন। এই বক্তব্য এর প্রবক্তাদের ওপরই প্রত্যাখ্যাত। ইতিপূর্বে বর্ণিত ইরবাজ ইবনে সারিয়া, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, ইবনে মাসউদ এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুমের হাদিসগুলো তাদের বিরুদ্ধে এবং রিফায়ীর বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ, যে ব্যক্তি তাদের কথাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিরমিজি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর অচিরেই আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ছাড়া তারা সকলেই জাহান্নামী হবে।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, সেই দলটি কারা? তিনি বললেন: "আমি এবং আমার সাহাবীরা আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।" তাবারানি আনাস ইবনে মালিক, আবু উমামা এবং ওয়াইলা ইবনুল আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বিদ্বানদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, মিলাদ উদযাপন (রাসূলের) যুগে ছিল না
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২০)
رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا في عهد أصحابه، ولا في القرون الثلاثة المفضلة، وإنما حدث ذلك بعد زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم، بنحو من ست مائة سنة، وما لم يكن عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، رضي الله عنهم، فلا شك أنه مذموم ويخشى على فاعله أن يكون من الثنتين وسبعين فرقة التي أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أنها في النار.

وقد استدل الرفاعي على أن عيد المولد بدعة حسنة محمودة بثناء أبي شامة على سلطان إربل الذي ابتدع عيد المولد وهو الملك المظفر أبو سعيد كوكبوري ابن زين الدين علي بن بكتكين التركماني، واستدل أيضًا بأقوال لبعض الذين ألفوا في المولد واستحسنوا الاحتفال به، وأفتوا بجواز ذلك.

والجواب أن يقال: إن العبادات مبناها على الشرع والاتباع، لا على الرأي والاستحسان والابتداع، ولا قول لأحد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد تقدم في الأحاديث الثابتة عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار»، وقال أيضًا: «وشر الأمور محدثاتها»، وقال أيضًا: «من عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد»، فهذه النصوص تقضي على كل ما خالفها من أقوال الناس واستحسانهم، وقد تقم قول الشافعي -رحمه الله تعالى- أجمع المسلمون على أن من استبانت له سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن له أن يدعها لقول أحد. وتتقدم في وصف الفرقة الناجية من هذه الأمة أنهم من كان على مثل ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে, তাঁর সাহাবীগণের যুগে কিংবা শ্রেষ্ঠ তিন যুগে এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না; বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের প্রায় ছয়শত বছর পর এর উদ্ভব ঘটেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যা অনুসরণ করেননি, তা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় এবং এর অনুসারীদের ব্যাপারে আশঙ্কা করা হয় যে, তারা যেন সেই বাহাত্তরটি দলের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যায়, যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে তারা জাহান্নামী হবে।

রিফায়ী মিলাদ মাহফিলকে একটি প্রশংসনীয় উত্তম বিদআত হিসেবে প্রমাণ করতে আবু শামার সেই প্রশংসাকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, যা তিনি ইরবিলের সুলতান সম্পর্কে করেছিলেন—যিনি মিলাদ উৎসবের উদ্ভাবন করেছিলেন; তিনি হলেন আল-মালিকুল মুজাফফর আবু সাঈদ কাওকাবুরি ইবনে জয়নুদ্দীন আলী ইবনে বকতকিন আল-তুর্কমানি। এছাড়া তিনি মিলাদ সম্পর্কে গ্রন্থ রচনাকারী কিছু ব্যক্তিদের উক্তি থেকেও দলিল গ্রহণ করেছেন যারা এই উদযাপনকে উত্তম মনে করেছেন এবং এর বৈধতার পক্ষে ফতোয়া প্রদান করেছেন।

এর উত্তরে বলা হবে যে: ইবাদতের ভিত্তি হলো শরীয়ত এবং অনুসরণের (ইত্তিবা) ওপর, নিজস্ব রায় বা খেয়ালখুশি কিংবা উদ্ভাবনের (বিদআত) ওপর নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিপরীতে অন্য কারো কথার কোনো প্রাধান্য নেই। ইতিপূর্বে তাঁর থেকে বর্ণিত প্রমাণিত হাদিসসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে যাবে», তিনি আরও বলেছেন: «সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ», তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যা আমাদের এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত»; সুতরাং এই দলিলগুলো মানুষের সকল বক্তব্য এবং তাদের মনগড়া পছন্দকে বাতিল করে দেয় যা এগুলোর পরিপন্থী। ইমাম শাফেয়ী -রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা- এর উক্তি ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, "মুসলিম উম্মাহ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ স্পষ্ট হয়ে গেছে, তার জন্য অন্য কারো কথার কারণে সেই সুন্নাহ বর্জন করা বৈধ নয়।" এই উম্মতের মুক্তিপ্রাপ্ত দলের বর্ণনায় ইতিপূর্বে বলা হয়েছে যে, তারা হলো সেই আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যে পথের ওপর ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد ذم الاحتفال بالمولد عدد كثير من أكابر العلماء، وعدوا ذلك من البدع، وسيأتي ذكر أقوالهم في آخر الكلام على ما يتعلق ببدعة المولد إن شاء الله تعالى.

وقد روي الإمام أحمد في الزهد عن ابن مسعود، رضي الله عنه أنه قال: «عليكم بالسمت الأول»، وروى محمد بن نصر المروزي في كتاب "السنة" عنه، رضي الله عنه، أنه قال: «إنكم اليوم على الفطرة، وإنكم ستحدثون ويحدث لكم، فإذا رأيتم محدثة فعليكم بالهدي الأول»، وروى الإمام أحمد، ومحمد بن نصر عنه، رضي الله عنه أنه قال: «اتبعوا ولا تبتدعوا فقد كفيتم وكل بدعة ضلالة»، وروى أبو نعيم في الحلية عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه قال «من كان مستنًا فليستن بمن قد مات، أولئك أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم كانوا خير هذه الأمة، أبرها قلوبًا، وأعمقها علمًا، وأقلها تكلفًا، قوم اختارهم الله لصحبة نبيه، صلى الله عليه وسلم ونقل دينه، فتشبهوا بأخلاقهم وطرائقهم فهم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم، كانوا على الهدى المستقيم والله رب الكعبة»، وقد روى رزين نحو هذا عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه.

وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية: رحمه الله تعالى، الأفضل للناس اتباع السلف الصالح في كل شيء، انتهى.

وقال الراجز وأحسن فيما قال:

وكل خير في اتباع من سلف … وكل شر في ابتداع من خلف

والثناء على من ابتدع عيد المولد واستحسان بعض الناس لبدعة
অনেক প্রথিতযশা আলেম মিলাদ উদযাপনকে নিন্দা করেছেন এবং একে বিদআত হিসেবে গণ্য করেছেন। মিলাদ বিদআত সংশ্লিষ্ট আলোচনার শেষে ইনশাআল্লাহ তাদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করা হবে।

ইমাম আহমাদ ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তোমরা আদি পথ আঁকড়ে ধরো।" মুহাম্মদ ইবন নাসর আল-মারওয়াযী তাঁর ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে তাঁর (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তোমরা আজ ফিতরাত বা স্বভাবজাত দ্বীনের ওপর আছ, অচিরেই তোমরা নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে এবং তোমাদের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করা হবে। সুতরাং যখনই তোমরা কোনো নতুন উদ্ভাবন দেখবে, তখন তোমাদের জন্য আদি আদর্শ অনুসরণ করা অপরিহার্য।" ইমাম আহমাদ ও মুহাম্মদ ইবন নাসর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কারণ তোমাদের জন্য যা দেওয়া হয়েছে তা-ই যথেষ্ট; আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কারো পথ অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের অনুসরণ করে যারা ইন্তেকাল করেছেন। তাঁরা হলেন মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবীগণ। তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ, অন্তরের দিক থেকে সবচেয়ে পুণ্যবান, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর এবং লৌকিকতায় সবচেয়ে নগণ্য। তাঁরা এমন এক জাতি যাদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর (সা.) সাহচর্য এবং তাঁর দ্বীন প্রচারের জন্য মনোনীত করেছিলেন। সুতরাং তোমরা তাঁদের চরিত্র ও পদ্ধতির অনুকরণ করো, কারণ তাঁরাই মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবী। কাবার রবের কসম, তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।" রাযীন ইবনে মাসউদ (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন: মানুষের জন্য সকল বিষয়ে সালাফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরীদের অনুসরণ করাই সর্বোত্তম। সমাপ্ত।

একজন ছন্দকার অতি চমৎকার বলেছেন:

সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে পূর্বসূরীদের অনুসরণে … আর সকল অকল্যাণ নিহিত রয়েছে পরবর্তী যুগের লোকদের উদ্ভাবিত বিদআতে।

আর যারা মিলাদ উৎসব উদ্ভাবন করেছে তাদের প্রশংসা করা এবং কিছু মানুষের এই বিদআতকে উত্তম মনে করা—
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২২)
المولد، وإفتاؤهم بجوازها لا شك أنه من أخطاء العلماء وزلاتهم. وقد ورد التحذير من تتبع أخطاء العلماء وزلاتهم، وبيان أنها من هوادم الإسلام. فروى الطبراني في الكبير عن أبي الدرداء، رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أخاف على أمتي ثلاثًا: زلة عالم، وجدال منافق بالقرآن، والتكذيب بالقدر»، وروى أبو نعيم في الحلية عن عمرو بن عوف المزني، رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إني أخاف على أمتي من بعدي، ثلاثة أعمال» قالوا: وما هي يا رسول الله، قال: «زلة عالم، وحكم جائر، وهوى متبع»، وروى البيهقي عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن أشد ما أتخوف على أمتي زلة عالم، وجدل منافق بالقرآن ودنيا تقطع أعناقكم»، وروى الطبراني في الصغير عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إني أخاف عليكم ثلاثًا، وهي كائنات، زلة عالم، وجدال منافق بالقرآن، ودنيا تفتح عليكم»، وروى الدارمي، وأبو نعيم في الحلية عن زياد بن حدير قال: قال لي عمر رضي الله عنه، هل تعرف ما يهدم الإسلام؟ قال: قلت: لا. قال «يهدمه، زلة عالم، وجدال المنافق بالكتاب، وحكم الأئمة المضلين»، وروي الإمام أحمد في الزهد عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: «إنما أخشى عليكم زلة عالم، وجدال المنافق بالقرآن»، وهذه الأحاديث يشد بعضها بعضًا فليتأملها الرفاعي الذي قد اعتمد على زلات بعض العلماء في استحسان بدعة المولد، وقدمها على النصوص الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في التحذير من البدع وبيان أنها شر وضلالة.

وإذا علم أنه لا دليل مع الذين قالوا بجواز بدعة المولد
মিলাদ মাহফিল এবং এর বৈধতা সম্পর্কে তাঁদের ফতোয়া প্রদান নিঃসন্দেহে আলেমদের ভুলভ্রান্তি ও পদস্খলনের অন্তর্ভুক্ত। আলেমদের ভুলভ্রান্তি ও পদস্খলনের অনুসরণের ব্যাপারে সতর্কতা এবং এগুলো ইসলামের ধ্বংসাত্মক বিষয় হওয়ার বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে। তাবারানী তাঁর 'আল-কাবীর' গ্রন্থে আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি আমার উম্মতের জন্য তিনটি বিষয়ের ভয় করি: আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং তাকদীর অস্বীকার করা», আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে আমর ইবনে আউফ আল-মুযানী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আমি আমার পরবর্তী উম্মতের জন্য তিনটি কাজের ভয় করি» তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলো কী? তিনি বললেন: «আলেমের পদস্খলন, জালেম শাসকের ফয়সালা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ», বায়হাকী ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং এমন দুনিয়া যা তোমাদের ধ্বংসের কারণ হবে», তাবারানী 'আস-সাগীর' গ্রন্থে মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি তোমাদের ওপর তিনটি বিষয়ের ভয় করি যা অবশ্যই ঘটবে: আলেমের পদস্খলন, কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং তোমাদের সামনে দুনিয়ার প্রাচুর্য উন্মুক্ত হওয়া», দারেমী এবং আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়া' গ্রন্থে যিয়াদ ইবনে হুদাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বললেন, তুমি কি জানো ইসলামকে কোনটি ধ্বংস করে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন «আলেমের পদস্খলন, কিতাব নিয়ে মুনাফিকের বিতর্ক এবং বিভ্রান্ত নেতাদের শাসন একে ধ্বংস করে», ইমাম আহমাদ 'আয-যুহদ' গ্রন্থে আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি তোমাদের জন্য কেবল আলেমের পদস্খলন এবং কুরআন নিয়ে মুনাফিকের বিতর্কেরই ভয় করি», এই হাদীসগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে। সুতরাং রিফায়ী যেন এ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন, যিনি মিলাদের বিদআতকে উত্তম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কিছু আলেমের পদস্খলনের ওপর নির্ভর করেছেন এবং বিদআতের ব্যাপারে সতর্ককারী ও একে অনিষ্ট ও গোমরাহি হিসেবে সাব্যস্তকারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত অকাট্য দলীলসমূহের ওপর সেগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

আর যখন এটি বিদিত হলো যে, যারা মিলাদের বিদআত বৈধ হওয়ার কথা বলেন তাদের কাছে কোনো দলীল নেই ওনৈকট্য লাভের কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
واستحسانه، وأنهم قد زلوا واخطئوا حيث خالفوا الأحاديث الثابتة عن النبي صلى الله عليه وسلم في التحذير من البدع، وبيان أنها شر وضلالة، وأنها مردودة على من أحدثها، ومن عمل بها. وقد خالفوا أيضا هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما كان عليه الصحابة رضي الله عنهم، والتابعون لهم بإحسان، فليعلم أيضًا أن القائلين بجواز بدعة المولد واستحسانها قد خالفهم كثير من المحققين، وردوا عليهم، وصرحوا بذم الاحتفال بالمولد، وأن ذلك من البدع السيئة، وسيأتي ذكر أقوالهم في آخر الكلام على ما يتعلق ببدعة المولد إن شاء الله تعالى.

وأما زعم الرفاعي أن علماء أهل السنة والجماعة أفتوا بما زعم أنها بدعة حسنة ابتدعت في الإسلام، وأنهم أثنوا عليها.

فجوابه أن يقال: أما علماء أهل السنة والجماعة من الصحابة والتابعين وأئمة العلم والهدي من بعدهم، فكلهم على إنكار البدع في الدين على سبيل العموم. ومن زعم أنهم استحسنوا شيئًا من البدع في الدين وأفتوا بها وأثنوا عليها فقد تقول عليهم. وأما المتساهلون ببعض البدع من المتأخرين الذين ذكرهم الرفاعي واعتمد على أقوالهم في استحسان بدعة المولد، فهؤلاء محجوجون بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار»، وبقوله أيضًا: «وشر الأمور محدثاتها»، وبقوله أيضًا: «من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد»، وقد قال الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالاً مُبِينًا}، وسيأتي ذكر أقوال
...এবং একে উত্তম মনে করা; আর তারা পদস্খলিত হয়েছে এবং ভুল করেছে, যেহেতু তারা বিদআত সম্পর্কে সতর্ককারী এবং বিদআতকে মন্দ ও ভ্রষ্টতা হিসেবে সাব্যস্তকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হাদীসগুলোর বিরোধিতা করেছে। আর এই মর্মেও (বিরোধিতা করেছে) যে, বিদআত উদ্ভাবনকারী এবং আমলকারীর ওপর তা প্রত্যাখ্যাত। তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ এবং সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী তাবেয়ীদের রীতিরও বিরোধিতা করেছে। আরও জেনে রাখা উচিত যে, যারা মিলাদ বিদআতকে বৈধ ও উত্তম বলেন, অনেক মুহাক্কিক (গবেষক আলেম) তাদের বিরোধিতা করেছেন, তাদের প্রতিবাদ করেছেন এবং মিলাদ উদযাপনের নিন্দার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তারা একে মন্দ বিদআতগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইনশাআল্লাহ, মিলাদ বিদআত সংক্রান্ত আলোচনার শেষে তাদের বক্তব্যগুলো উল্লেখ করা হবে।

আর রিফায়ীর এই দাবি যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমগণ এমন বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছেন যাকে তিনি ইসলামে প্রবর্তিত 'বিদআতে হাসানাহ' বা উত্তম বিদআত বলে দাবি করেছেন এবং তারা এর প্রশংসা করেছেন—

এর উত্তরে বলা হবে যে: সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী ইলম ও হেদায়াতের ইমামগণ যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত, তারা সকলেই সাধারণভাবে দ্বীনের মধ্যে বিদআত প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে একমত ছিলেন। যে ব্যক্তি দাবি করে যে তারা দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআতকে উত্তম মনে করেছেন, সে বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন, সে মূলত তাদের নামে মিথ্যাচার করেছে। আর পরবর্তী যুগের সেই শিথিলতা প্রদর্শনকারীগণ যারা কিছু বিদআতের ব্যাপারে নমনীয়তা দেখিয়েছেন, যাদের কথা রিফায়ী উল্লেখ করেছেন এবং মিলাদ বিদআতকে উত্তম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীই অকাট্য দলিল: 'প্রত্যেক নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।' এবং তাঁর এই বাণীও: 'সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ।' এবং তাঁর এই বাণীও: 'যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যা আমাদের এই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।' মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়।' এবং অচিরেই অন্যান্যদের বক্তব্যগুলোর উল্লেখ আসবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
الذين خالفوهم وردوا عليهم في آخر الكلام على ما يتعلق ببدعة المولد إن شاء الله تعالى.

فإن قيل إن عمر رضي الله عنه قد استحسن جمع الناس على إمام واحد في قيام رمضان، وقال: «نعمت البدعة هذه».

فالجواب أن يقال: إن ما فعله عمر رضي الله عنه من جمع الناس على إمام واحد في قيام رمضان ليس ببدعة، وإنما هو سنة بنص رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال: «عليكم بسنتي، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين»، وأيضا فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد صلى بالناس جماعة في قيام رمضان، ثم ترك ذلك خشية أن يفرض على أمته، وعلى هذا ففعل عمر رضي الله عنه موافق لفعل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وليس من البدع وسيأتي بيان ذلك إن شاء الله تعالى.

وأما ما ذكره الرفاعي عن السخاوي أنه قال: ولو لم يكن في ذلك إلا إرغام الشيطان، وسرور أهل الإيمان من المسلمين لكفى.

فجوابه أن يقال: وما يدريه أن بدعة المولد ترغم الشيطان، بل إن ذلك مما يفرح به الشيطان ويسر به؛ لأن البدع في الدين كلها من عمل الشيطان وتزيينه، وإذا عمل المسلمون بما يدعوهم إليه من البدع والمعاصي فلا شك أنه يسر بذلك. وقد روى أبو الفرج ابن الجوزي بإسناده إلى سفيان الثوري أنه قال: «البدعة أحب إلى إبليس من المعصية، المعصية يتاب منها، والبدعة لا يتاب منها»، والدليل على أن البدع في الدين كلها من عمل الشيطان قول الله تعالى مخبرًا عن إبليس أنه قال: {وَلَأُضِلَّنَّهُمْ}، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم في
যারা তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং মিলাদ বিদআত সংক্রান্ত আলোচনার শেষে ইনশাআল্লাহ তাআলা তাদের জবাব দিয়েছেন।

যদি বলা হয় যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রমযানের কিয়ামে (তারাবিহ নামাজে) মানুষকে একজন ইমামের অধীনে একত্রিত করাকে উত্তম মনে করেছিলেন এবং বলেছিলেন: «এটি কতই না চমৎকার বিদআত»।

এর উত্তরে বলা হবে: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রমযানের কিয়ামে মানুষকে একজন ইমামের অধীনে একত্রিত করার মাধ্যমে যা করেছেন তা বিদআত নয়, বরং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুস্পষ্ট বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত সুন্নাহ। কারণ তিনি বলেছেন: «তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা অপরিহার্য»; এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযানের কিয়ামে মানুষকে নিয়ে জামাআতে সালাত আদায় করেছিলেন, অতঃপর স্বীয় উম্মতের ওপর তা ফরয হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি তা পরিত্যাগ করেছিলেন। সুতরাং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই কাজ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসছে।

আর রিফায়ী সাখাবী থেকে যা উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: «যদি এতে শয়তানকে লাঞ্ছিত করা এবং মুসলিম মুমিনদের আনন্দ দেওয়া ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবুও তা যথেষ্ট হতো»।

এর জবাবে বলা হবে: তিনি কীভাবে জানলেন যে মিলাদ বিদআত শয়তানকে লাঞ্ছিত করে? বরং এটি এমন একটি বিষয় যা শয়তানকে আনন্দিত ও সন্তুষ্ট করে; কারণ দ্বীনের মধ্যে সকল বিদআতই শয়তানের কর্ম এবং তার প্ররোচনা। আর মুসলিমরা যখন শয়তানের আহ্বানকৃত বিদআত ও পাপাচার অনুযায়ী কাজ করে, তখন কোনো সন্দেহ নেই যে সে তাতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়। আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী স্বীয় সনদে সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «ইবলীসের নিকট বিদআত পাপাচারের চেয়েও অধিক প্রিয়; কেননা পাপাচার থেকে তাওবা করা হয়, কিন্তু বিদআত থেকে তাওবা করা হয় না»। দ্বীনের মধ্যে যাবতীয় বিদআত যে শয়তানের কাজ, তার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী যেখানে তিনি ইবলীসের উক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {এবং আমি অবশ্যই তাদের পথভ্রষ্ট করব}। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
الأحاديث التي تقدم ذكرها: وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة فدلت الآية والأحاديث الصحيحة على أن البدع في الدين من إضلال الشيطان، وقد روى الإمام أحمد عن غضيف بن الحارث الثمالي رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما أحدث قوم بدعة إلا رفع مثلها من السنة»، وهذا يدل على شؤم البدع في الدين، وأنها مما يفرح به الشيطان لما يقع بسببها من رفع السنن.

وأما زعمه أن بدعة المولد فيها سرور أهل الإيمان.

فجوابه أن يقال: إنه لا يسر ببدعة المولد من المسلمين إلا من هو جاهل بما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من التحذير من المحدثات والنص على أنها شر، وأن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، وما ثبت عنه أيضًا أن من عمل عملاً ليس عليه أمره فهو رد، أي مردود، فأما أهل العلم والإيمان فإنما يكون سرورهم بإحياء السنن، وإماتة البدع كما أنه يسوءهم إحياء البدع، وإماتة السنن.

وأما ما ذكره الرفاعي عن السخاوي أنه قال: وإذا كان أهل الصليب اتخذوا ليلة مولد نبيهم عيدًا أكبر، فأهل الإسلام أولى بالتكريم وأجدر.

فجوابه أن يقال: لا شك أن الاحتفال بالمولد النبوي واتخاذه عيدًا مبني على التشبه بالنصارى في اتخاذهم مولد المسيح عيدًا، وهذا مصداق ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لتتبعن سنن من كان قبلكم شبرًا شبرًا وذراعًا ذراعًا حتى لو دخلوا جحر ضب تبعتموهم»، قلنا: يا رسول الله اليهود والنصارى قال: فمن؟ رواه الإمام أحمد والبخاري، ومسلم من حديث أبي سعيد الخدري -رضي الله
পূর্বে উল্লিখিত হাদীসসমূহ: "সবচেয়ে মন্দ বিষয় হলো নব-আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" সুতরাং আয়াত এবং সহীহ হাদীসসমূহ প্রমাণ করে যে, দ্বীনের মধ্যে বিদআত প্রবর্তন শয়তানের পক্ষ থেকে পথভ্রষ্টতা। ইমাম আহমাদ গাদাইফ ইবনুল হারিস আস-সুমালী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখনই কোনো জাতি কোনো বিদআত উদ্ভাবন করে, তখনই তার সমপরিমাণ একটি সুন্নাহ তুলে নেওয়া হয়।" এটি দ্বীনের মধ্যে বিদআতের অশুভ পরিণতির প্রমাণ বহন করে এবং সুন্নাহ বিলুপ্ত হওয়ার কারণে এটি এমন এক বিষয় যা শয়তানকে আনন্দিত করে।

আর তার এই দাবি যে, মীলাদ বিদআতের মধ্যে মুমিনদের জন্য আনন্দ রয়েছে।

এর উত্তরে বলা হবে: মুসলমানদের মধ্যে কেবল তারাই মীলাদ বিদআতে আনন্দিত হয় যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ সম্পর্কে সতর্কবাণী এবং এগুলো যে মন্দ বা অনিষ্টকর সে সম্পর্কিত অকাট্য প্রমাণ সম্পর্কে অজ্ঞ। আর নিশ্চয়ই প্রতিটি নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। তাঁর থেকে আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" অর্থাৎ তা অগ্রহণযোগ্য। পক্ষান্তরে আলেম ও ঈমানদার ব্যক্তিদের আনন্দ কেবল সুন্নাহর পুনর্জাগরণ এবং বিদআতের বিলুপ্তির মাধ্যমেই অর্জিত হয়; যেমনটি বিদআতের পুনর্জাগরণ এবং সুন্নাহর বিলুপ্তি তাদের ব্যথিত করে।

আর রিফায়ী সাখাভী থেকে যা উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যদি ক্রুশ পূজারীরা তাদের নবীর জন্মরাত্রিকে প্রধান উৎসব হিসেবে গ্রহণ করে থাকে, তবে ইসলামের অনুসারীরা সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আরও বেশি অগ্রগণ্য ও যোগ্য।"

এর উত্তরে বলা হবে: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা এবং একে উৎসব বা ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা মূলত নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্মদিনকে উৎসব হিসেবে গ্রহণের অনুকরণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সেই বাণীরই সত্যতা প্রমাণ করে যেখানে তিনি বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইহুদী ও নাসারাদের কথা বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন: "তবে আর কার?" ইমাম আহমাদ, বুখারী ও মুসলিম এটি আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
عنه- وروى الإمام أحمد، والبخاري أيضًا، وابن ماجه نحوه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه وروى محمد بن نصر المروزي في كتاب السنة نحوه من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما وإسناده جيد، وروى محمد بن نصر أيضًا، والبزار، والحاكم نحوه من حديث ابن عباس رضي الله عنهما، وصححه الحاكم، والذهبي، وروى أبو داود الطيالسي، والترمذي، ومحمد بن نصر بعضه من حديث أبي واقد الليثي رضي الله عنه وقال الترمذي: حسن صحيح، وروى أبو داود الطيالسي، ومحمد بن نصر، وأبو بكر الآجري نحوه من حديث عمرو بن عوف المزني رضي الله عنه وروى الطبراني نحوه من حديث المستورد بن شداد رضي الله عنه.

وإذا علم أن عيد المولد عند جهال المسلمين مبني على التشبه بالنصارى، فليعلم أيضًا أن التشبه بالنصارى وغيرهم من المشركين حرام شديد التحريم؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم «من تشبه بقوم فهو منهم»، رواه الإمام أحمد، وأبو داود من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما وصححه ابن حبان، وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية: إسناده جيد، وقال ابن حجر العسقلاني: إسناده حسن.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: وقد احتج أحمد وغيره بهذا الحديث، قال: وهذا الحديث أقل أحواله أنه يقتضي تحريم التشبه بهم، وإن كان ظاهره يقتضي كفر المتشبه بهم كما في قوله: {وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ}، وقال شيخ الإسلام أيضًا في موضع آخر قوله صلى الله عليه وسلم: «من تشبه بقوم فهو منهم» موجب هذا تحريم التشبه بهم مطلقًا، انتهى.

وقد روى الترمذي عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن
তার থেকে বর্ণিত—ইমাম আহমাদ এবং বুখারীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, এবং ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী 'কিতাবুস সুন্নাহ'-তে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর হাদীস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ উত্তম। মুহাম্মদ ইবনে নাসরও বর্ণনা করেছেন, এবং আল-বাযযার ও আল-হাকিম ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদীস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; আল-হাকিম ও আয-যাহাবী একে সহীহ বলেছেন। আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আত-তিরমিযী এবং মুহাম্মদ ইবনে নাসর এর কিছু অংশ আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আত-তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান সহীহ। আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, মুহাম্মদ ইবনে নাসর এবং আবু বকর আল-আজুরী আমর ইবনে আউফ আল-মুযানী (রা.)-এর হাদীস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানী মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রা.)-এর হাদীস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

যখন এটি অবগত হওয়া গেল যে, মুসলিমদের অজ্ঞ মহলের মাঝে মিলাদ উৎসবের ভিত্তি হচ্ছে খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা, তখন এটিও জেনে রাখা আবশ্যক যে, খ্রিস্টান ও অন্যান্য মুশরিকদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কওমের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এর সনদ উত্তম। ইবনে হাজার আল-আসকালানী বলেছেন: এর সনদ হাসান।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য ইমামগণ এই হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: এই হাদীসের নূন্যতম দাবি হলো তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হারাম হওয়া, যদিও এর বাহ্যিক দিক তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারীর কুফরির দাবি রাখে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" শাইখুল ইসলাম অন্য এক স্থানে আরও বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী—"যে ব্যক্তি কোনো কওমের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত"—এর দাবি হলো সর্বাবস্থায় তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হারাম হওয়া। সমাপ্ত।

এবং ইমাম তিরমিযী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ليس منا من تشبه بغيرنا، لا تشبهوا باليهود، ولا بالنصارى»، قال ابن مفلح في قوله: «ليس منا» هذه الصيغة تقتضي عند أصحابنا التحريم، انتهى.

وأما ما ذكره الرفاعي عن أبي شامة أنه قال في إقامة عيد المولد: إنه مشعر بمحبته، صلى الله عليه وسلم وتعظيمه، وفيه إغاظة للكفرة والمنافقين.

فجوابه أن يقال: إن تعظيم النبي صلى الله عليه وسلم لا يكون بارتكاب البدع التي حذر منها، وأخبر أنها شر وضلالة، وأنها في النار، وإنما يكون تعظيمه بطاعته، واتباع هديه، والتمسك بسنته، ونشر ما دعا إليه كما كان عليه السابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان، فهؤلاء هم المحبون للرسول صلى الله عليه وسلم حقًا والسير على منهاجهم هو الذي يشعر بمحبة النبي صلى الله عليه وسلم وتعظيمه، وقد روى عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به»، قال النووي في الأربعين: له حديث صحيح رويناه في كتاب الحجة بإسناد صحيح، ثم قال في الكلام على هذا الحديث، يعني أن الشخص يجب عليه أن يعرض عمله على الكتاب والسنة ويخالف هواه ويتبع ما جاء به صلى الله عليه وسلم، وهذا نظير قوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ}، فليس لأحد مع الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم أمر ولا هوى، انتهى.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের ছাড়া অন্যদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।" ইবনে মুফলিহ (রহ.) 'আমাদের দলভুক্ত নয়' কথাটির ব্যাখ্যায় বলেছেন: আমাদের (মাযহাবের) আলিমদের মতে এই বাক্যশৈলীটি সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার দাবি রাখে। সমাপ্ত।

আর রিফায়ি আবু শামাহ থেকে মিলাদ বা জন্মোৎসব উদযাপন সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর সম্মান প্রদর্শনের পরিচায়ক এবং এতে কাফির ও মুনাফিকদের জন্য ক্ষোভ ও গাত্রদাহ রয়েছে—

এর উত্তরে বলা হবে যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান প্রদর্শন সেই সকল বিদআত পালনের মাধ্যমে হতে পারে না যা থেকে তিনি সতর্ক করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে সেগুলো মন্দ ও পথভ্রষ্টতা এবং তার পরিণাম জাহান্নাম। বরং তাঁর সম্মান প্রদর্শন হতে পারে তাঁর আনুগত্য, তাঁর প্রদর্শিত হেদায়েতের অনুসরণ, তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং তিনি যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছেন তা প্রচার করার মাধ্যমে; যেমনটি ছিলেন প্রথম অগ্রবর্তী মুহাজির ও আনসারগণ এবং যাঁরা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন। মূলত এরাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রকৃত প্রেমিক এবং তাঁদের মানহাজ বা পথের ওপর চলাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর সম্মান প্রদর্শনের পরিচায়ক। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।" ইমাম নববী (রহ.) 'আরবাঈন' গ্রন্থে বলেছেন: এটি একটি সহিহ হাদিস, আমরা এটি কিতাবুল হুজ্জাহ-তে সহিহ সনদে বর্ণনা করেছি। অতপর তিনি এই হাদিসের আলোচনায় বলেন: অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য হলো তার আমলকে কুরআন ও সুন্নাহর নিরিখে যাচাই করা, নিজের খেয়ালখুশির বিরোধিতা করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ করা। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অনুরূপ: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না।" সুতরাং মহিমান্বিত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিদ্ধান্তের বিপরীতে কারো কোনো নির্দেশ বা প্রবৃত্তিগত আকাঙ্ক্ষার স্থান নেই। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد قال ابن القيم -رحمه الله تعالى- في أول كتابه «إغاثة اللهفان»: لا تجد مشركًا قط إلا وهو متنقص لله سبحانه، وإن زعم أنه يعظمه بذلك كما إنك لا تجد مبتدعًا إلا وهو متنقص للرسول صلى الله عليه وسلم، وإن زعم أنه معظم له بتلك البدعة، فإنه يزعم أنها خير من السنة وأولى بالصواب، أو يزعم أنها هي السنة إن كان جاهلا مقلدًا، وإن كان مستبصرًا في بدعته فهو مشاق لله ورسوله انتهى.

وأما قوله: وفيه إغاظة للكفرة والمنافقين.

فجوابه أن يقال: بل الأمر بالعكس فإن الكفار والمنافقين يفرحون بما يكون من بعض المسلمين من المخالفة لهدي نبيهم صلى الله عليه وسلم وارتكابهم لما حذرهم منه من البدع والضلالات، وقد قال الله تعالى: {وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً}، وإذا يئسوا من كفر المسلمين رضوا منهم بإظهار البدع في الدين؛ لأنها تئول إلى الشرك. قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية. رحمه الله تعالى، المبتدع يئول إلى الشرك، ولم يوجد مبتدع إلا وفيه نوع من الشرك كما قال تعالى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ}، وكان من شركهم أنهم أحلوا لهم الحرام فأطاعوهم وحرموا عليهم الحلال فأطاعوهم، انتهى.

وقال السدي في تفسير هذه الآية: استنصحوا الرجال ونبذوا كتاب الله وراء ظهورهم قلت: وهذا هو المطابق لحال المشركين وأهل البدع، فإنهم استنصحوا الذين يدعوهم إلى الشرك والبدع في الدين، ونبذوا كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم وراء ظهورهم.
ইবনুল কায়্যিম -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- তাঁর ‘ইগাছাতুল লাহফান’ গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: আপনি কখনো এমন কোনো মুশরিককে পাবেন না যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী নয়, যদিও সে দাবি করে যে সে এর মাধ্যমে তাঁর মহিমা প্রকাশ করছে। তেমনিভাবে আপনি কোনো বিদআতীকেও পাবেন না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী নয়, যদিও সে দাবি করে যে সে সেই বিদআতের মাধ্যমে তাঁর সম্মান প্রদর্শন করছে। কারণ সে দাবি করে যে, সেই বিদআত সুন্নাহর চেয়ে উত্তম এবং সঠিক হওয়ার জন্য অধিক উপযোগী; অথবা সে দাবি করে যে এটিই সুন্নাহ—যদি সে একজন অজ্ঞ অন্ধ-অনুবর্তী হয়। আর যদি সে নিজ বিদআতের ব্যাপারে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হয়, তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারী। সমাপ্ত।

আর তাঁর এই বক্তব্যের বিষয়ে যে: ‘আর এর মধ্যে কাফির ও মুনাফিকদের জন্য ক্ষোভ ও বিরক্তির উদ্রেক রয়েছে।’

এর উত্তরে বলা হবে: বরং বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ কাফির ও মুনাফিকরা খুশি হয় যখন কোনো মুসলিম তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিদায়াতের বিরোধিতা করে এবং সেই সব বিদআত ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয় যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘তারা কামনা করে যে, তারা যেমন কুফরি করেছে তোমরাও তেমন কুফরি করো যাতে তোমরা সমান হয়ে যাও।’ যখন তারা মুসলিমদের কুফরি করার বিষয়ে নিরাশ হয়, তখন তারা তাদের মাধ্যমে দ্বীনের মধ্যে বিদআতের বহিঃপ্রকাশেই সন্তুষ্ট থাকে; কেননা এটি শিরকের দিকে ধাবিত করে। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- বলেন: বিদআতী পরিশেষে শিরকের দিকেই ফিরে যায়। এমন কোনো বিদআতী পাওয়া যাবে না যার মধ্যে কোনো না কোনো প্রকারের শিরক নেই; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়াম-পুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র।’ আর তাদের শিরকের অংশ ছিল এই যে, তারা তাদের জন্য হারামকে হালাল করে দিত আর তারা তাদের আনুগত্য করত, এবং তারা তাদের ওপর হালালকে হারাম করে দিত আর তারা তাদের আনুগত্য করত। সমাপ্ত।

আর সুদ্দী এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: তারা মানুষের কাছে নসীহত চাইল এবং আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করল। আমি বলছি: এটিই মুশরিক ও বিদআতীদের অবস্থার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ; কেননা তারা তাদের কাছেই নসীহত ও পরামর্শ চায় যারা তাদের শিরক ও দ্বীনের বিদআতের দিকে আহ্বান করে এবং তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহকে তাদের পিঠের পেছনে ছুড়ে ফেলে দেয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأما ما ذكره الرفاعي عن السيوطي أنه قال: إن عمل المولد من البدع الحسنة التي يثاب عليها صاحبها.

فجوابه أن يقال: إن كلام السيوطي مردود بقول النبي صلى الله عليه وسلم في الأحاديث التي تقدم ذكرها "وشر الأمور محدثاتها"، وقوله أيضًا: «وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار»، وقوله أيضًا: «من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد»، فقد وصف النبي صلى الله عليه وسلم البدع بأنها شر وضلالة، وهذه صفات سيئة ذميمة، وأخبر أنها مردودة على أصحابها، وأنها في النار. وهذا يدل على أن صاحب البدعة لا يثاب على بدعه، بل إنه يخشى عليه من الفتنة والعذاب الأليم؛ لأن الله تعالى يقول: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: «وكل ضلالة في النار»، والثواب إنما يكون على متابعة الرسول صلى الله عليه وسلم وتقديم هديه على هدي غيره، ويدل على ذلك قول الله تعالى {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ}، وقوله تعالى: {فَآَمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ}، فقد جعل الله تبارك وتعالى اتباع رسوله صلى الله عليه وسلم سببًا لمحبته لمن اتبعه وهدايته ومغفرة ذنوبه، وعمل المولد ليس من هدي الرسول صلى الله عليه وسلم وسنته، وإنما هو من هدي سلطان إربل وسنته، وذلك بعد زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم بنحو من ست مائة سنة، وقد قال عبد الله بن المبارك رحمه الله تعالى، وأحسن فيما قال:

وهل أفسد الدين إلا الملو … ك وأحبار سوء ورهبانها
আর রিফায়ি সুয়ূতী থেকে যা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (সুয়ূতী) বলেছেন: মীলাদ পালন করা একটি উত্তম বিদ'আত (বিদ'আতে হাসানা), যার জন্য পালনকারী সওয়াব লাভ করবে।

এর উত্তরে বলা হবে যে: সুয়ূতীর এই বক্তব্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বে উল্লিখিত হাদীসগুলোর মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত, যেখানে তিনি বলেছেন, "সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ," এবং তাঁর এই বাণী: "প্রত্যেক বিদ'আতই ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম," এবং তাঁর এই বাণী: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের (শরীয়তের) নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদ'আতকে অনিষ্ট ও ভ্রষ্টতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন; আর এগুলো হলো মন্দ ও নিন্দনীয় গুণ। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে এটি পালনকারীর পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত এবং তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। এটি প্রমাণ করে যে, বিদ'আতকারী তার বিদ'আতের জন্য কোনো সওয়াব পাবে না, বরং তার ব্যাপারে ফিতনা ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির আশঙ্কা রয়েছে; কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতএব যারা তাঁর (রাসূলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।" (সূরা আন-নূর: ৬৩)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "আর প্রতিটি ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে।" মূলত সওয়াব কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের মাধ্যমে এবং অন্যের আদর্শের ওপর তাঁর আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলার এই বাণী এর প্রমাণ বহন করে: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; ফলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সূরা আলে ইমরান: ৩১) এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "কাজেই তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূল উম্মী নবীর প্রতি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান রাখেন; এবং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা সঠিক পথ পাও।" (সূরা আল-আরাফ: ১৫৮)। সুতরাং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণকে অনুসরণকারীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা, হেদায়েত এবং পাপ মার্জনার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর মীলাদ পালন করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ ও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি ইরবিলের সুলতানের প্রবর্তিত আদর্শ ও রীতি; যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের প্রায় ছয়শত বছর পর প্রবর্তিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ সত্যই চমৎকার বলেছেন:

রাজন্যবর্গ, অসৎ আলেম এবং দুনিয়াবিমুখ দরবেশরাই কি … দ্বীনকে বিনষ্ট করেনি?
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأما ما ذكره الرفاعي عن ابن حجر المكي أنه خرّج بدعة المولد على صيام يوم عاشوراء.

فجوابه من وجوه أحدها: أن يقال ما زعمه الرفاعي من أن الذي خرج بدعة المولد على صيام يوم عاشوراء هو ابن حجر المكي فهو غلط ظاهر، وإنما هو ابن حجر العسقلاني صاحب "فتح الباري"، وقد نقل ذلك عنه السيوطي في رسالته التي سماها "حسن المقصد، في عمل المولد" وهي الرسالة الرابعة والعشرون مما في كتاب "الحاوي للفتاوي" وقد توفي السيوطي في سنة إحدى عشرة وتسع مائة من الهجرة، وذلك بعدما ولد ابن حجر الهيتمي المكي بسنتين؛ لأنه قد ولد في سنة تسع وتسع مائة من الهجرة، وهذا الذي في سن الفطام حين توفي السيوطي، لا يقول عاقل إن السيوطي قد نقل عنه، والظاهر أن الرفاعي نقل تخريج ابن حجر من رسالة السيوطي، وتوهم أنه أراد به ابن حجر الهيتمي المكي.

الوجه الثاني أن يقال: إن ابن حجر العسقلاني قد صرح في أول كلامه الذي نقله السيوطي عنه أن أصل عمل المولد بدعة لم تنقل عن أحد من السلف الصالح من القرون الثلاثة، وهذه الجملة من كلام ابن حجر كافية في ذم المولد إذ لو كان خيرًا لسبق إليه الصحابة والتابعون وأئمة العلم والهدى من بعدهم. ثم قال ابن حجر: ولكنها مع ذلك قد اشتملت على محاسن وضدها فمن تحرى في عملها المحاسن وتجنب ضدها كان بدعة حسنة، وإلا فلا، قال: وقد ظهر لي تخريجها على أصل ثابت وهو ما ثبت في الصحيحين من أن النبي صلى الله عليه وسلم قدم لمدينة فوجد اليهود يصومون يوم عاشوراء فسألهم فقالوا: هو يوم أغرق الله فيه فرعون، ونجى موسى فنحن
আর রিফায়ি ইবন হাজার আল-মাক্কি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মিলাদের বিদআতকে আশুরার দিনের রোযার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবন করেছেন—

এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়। প্রথমত: রিফায়ি যা দাবি করেছেন যে, মিলাদের বিদআতকে আশুরার দিনের রোযার ওপর ভিত্তি করে যিনি উদ্ভাবন করেছেন তিনি হলেন ইবন হাজার আল-মাক্কি—এটি একটি সুস্পষ্ট ভুল। বরং তিনি হলেন 'ফাতহুল বারি'র লেখক ইবন হাজার আল-আসকালানি। আর সুয়ূতি তাঁর 'হুসনুল মাকসিদ ফি আমালিল মাওলিদ' নামক রিসালায় তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যা 'আল-হাউয়ি লিল ফাতাউয়া' গ্রন্থের চব্বিশতম রিসালা। সুয়ূতি ৯১১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, যা ইবন হাজার আল-হাইতামি আল-মাক্কির জন্মের দুই বছর পরের ঘটনা; কারণ তিনি ৯০৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। আর যিনি সুয়ূতির মৃত্যুর সময় দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন, কোনো বিবেকবান ব্যক্তি বলবেন না যে সুয়ূতি তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। প্রতীয়মান হয় যে, রিফায়ি ইবন হাজারের সেই উদ্ভাবনটি সুয়ূতির রিসালা থেকে গ্রহণ করেছেন এবং ধারণা করে নিয়েছেন যে এর দ্বারা ইবন হাজার আল-হাইতামি আল-মাক্কিকে বোঝানো হয়েছে।

দ্বিতীয় দিক হলো: ইবন হাজার আল-আসকালানি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে—যা সুয়ূতি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মিলাদ উদযাপনের মূল বিষয়টি একটি বিদআত, যা প্রথম তিন যুগের সালাফে সালেহীনদের কারো থেকেই বর্ণিত হয়নি। আর ইবন হাজারের এই বাক্যটি মিলাদের নিন্দার জন্য যথেষ্ট; কারণ যদি এতে কোনো কল্যাণ থাকত, তবে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন এবং তাঁদের পরবর্তী ইলম ও হেদায়াতের ইমামগণ অবশ্যই এটি পালনে অগ্রণী হতেন। এরপর ইবন হাজার বলেন: তবে তা সত্ত্বেও এটি ভালো এবং মন্দ উভয় বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি পালনের ক্ষেত্রে ভালো দিকগুলো অনুসন্ধান করে এবং এর বিপরীতগুলো বর্জন করে, তবে তা বিদআতে হাসানা বা উত্তম বিদআত হিসেবে গণ্য হবে, নতুবা নয়। তিনি আরও বলেন: একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতির ওপর এর ভিত্তি উদ্ভাবন আমার নিকট প্রতীয়মান হয়েছে, আর তা হলো সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ যা প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করে ইহুদিদের আশুরার দিনে রোযা রাখতে দেখলেন। তিনি তাদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল: এটি এমন একটি দিন যেদিন আল্লাহ তাআলা ফেরাউনকে নিমজ্জিত করেছেন এবং মূসাকে মুক্তি দিয়েছেন, তাই আমরা...
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৩১)
نصومه شكرًا لله تعالى فيستفاد منه فعل الشكر لله على ما من به في يوم معين من إسداء نعمة أو دفع نقمة، ويعاد ذلك في نظير ذلك اليوم من كل سنة، انتهى.

وهذه الجملة من كلام ابن حجر مردودة بما صرح به في الجملة أولى من كلامه وهو قوله: إن أصل عمل المولد بدعة لم تنقل عن أحد من السلف الصالح من القرون الثلاثة، وقد ذكرت الآيات والأحاديث لدالة على ذم البدع والتحذير منها، والأمر بردها في أول الكتاب فلتراجع ففيها أبلغ رد على الجملة الأخيرة من كلام ابن حجر.

ومما يرد به عليه أيضًا كلامه في "فتح الباري" لما ذكر حديث عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد»، قال: هذا الحديث معدود من أصول الإسلام وقاعدة من قواعده فإن معناه من اخترع في الدين ما لا يشهد له أصل من أصوله فلا يلتفت إليه، قال وفيه رد المحدثات، وأن النهي يقتضي الفساد؛ لأن المنهيات كلها ليست من مر الدين فيجب ردها، انتهى.

وقد صرح في كلامه الذي تقدم ذكره أن أصل عمل المولد بدعة لم تنقل عن أحد من السلف الصالح من القرون الثلاثة فيلزم على قوله في "فتح الباري" أنه يجب ردها؛ لأنها من المحدثات وليست من أمر الدين.
আমরা মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ স্বরূপ রোজা রাখি; এর থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, কোনো নির্দিষ্ট দিনে আল্লাহ প্রদত্ত কোনো নেয়ামত লাভ অথবা কোনো বিপদ দূর হওয়ার কারণে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা বিধেয়, এবং প্রতি বছর সেই একই দিনে এর পুনরাবৃত্তি করা উচিত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

ইবনে হাজার-এর এই বক্তব্যটি তাঁরই সেই কথার মাধ্যমে খন্ডিত যা তিনি আগে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; আর তা হলো: "মীলাদ মাহফিলের মূল আমলটি একটি বিদআত, যা প্রথম তিন শতাব্দীর পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (সালাফে সালেহীন) কারো থেকেই বর্ণিত হয়নি।" বিদআতের নিন্দা, এ থেকে সতর্কীকরণ এবং তা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ সম্বলিত আয়াত ও হাদিসসমূহ আমি কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছি; সুতরাং তা দেখে নেওয়া উচিত। কারণ ইবনে হাজার-এর শেষোক্ত বক্তব্যের জন্য সেগুলোর মধ্যেই অত্যন্ত জোরালো খন্ডন বিদ্যমান রয়েছে।

তাঁর এই মতটি 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বর্ণিত তাঁর নিজস্ব বক্তব্যের মাধ্যমেও খন্ডিত হয়, যেখানে তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত নবি (সা.)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যে: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছুর উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" তিনি বলেন: এই হাদিসটি ইসলামের অন্যতম মূলনীতি এবং এর ভিত্তিগুলোর একটি হিসেবে গণ্য। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করবে যার পক্ষে শরয়ি কোনো মূলভিত্তির প্রমাণ নেই, তবে তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না। তিনি আরও বলেন, এতে নব উদ্ভাবিত বিষয়াদি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দলিল রয়েছে এবং এটি প্রমাণ করে যে নিষেধ মানেই তা বাতিল হওয়া; কারণ নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ দ্বীনের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে তা প্রত্যাখ্যান করা ওয়াজিব। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

তিনি তাঁর পূর্বে উল্লিখিত বক্তব্যে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, মীলাদ মাহফিলের মূল আমলটি একটি বিদআত যা প্রথম তিন শতাব্দীর সালাফে সালেহীনের কারো থেকে বর্ণিত হয়নি। সুতরাং 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে প্রদত্ত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এটি প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; কেননা এটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বীনের নির্দেশের বহির্ভূত।
(খণ্ড: ১) আর-রাদ্দুল কাবি আলাল রিফায়ী ওয়াল মাজহুল ওয়াবনি আলাউই ওয়া বায়ানু আখতায়িহিম ফিল মাওলিদিন নাবাবী (পৃষ্ঠা: ৩২)
الوجه الثالث: أن يقال إن تخريج بدعة المولد على صيام يوم عاشوراء ليس بوجيه، وإنما هو من التكلف المردود؛ لأن العبادات مبناها على الشرع والاتباع لا على الرأي والاستحسان والابتداع، ولم يرو عن النبي صلى الله عليه وسلم بإسناد صحيح ولا ضعيف أنه أمر أمته بالاحتفال بمولده، ولا أنه خص ليلة المولد أو يومه بشيء من الأعمال دون سائر الليالي والأيام، وقد قال صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد»، وقال أيضًا: «من رغب عن سنتي فليس مني»، وفي هذين الحديثين أبلغ رد على من جعل ليلة المولد عيدًا وخصها بأعمال لم يأمر بها رسول الله صلى الله عليه وسلم في تلك الليلة ولم يفعلها، وفيهما أيضًا رد على من خرج بدعة المولد على صيام يوم عاشوراء؛ لأن صيام يوم عاشوراء قد فعله رسول الله صلى الله عليه وسلم ورغب فيه بخلاف الاحتفال بالمولد واتخاذه عيدًا، فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعله ولم يرغب فيه، ولو كان في الاحتفال بالمولد واتخاذه عيدًا أدنى شيء من الفضل لبين ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمته، لأنه لا خير إلا وقد دلهم عليه ورغبهم فيه، ولا شر إلا وقد نهاهم عنه وحذره منه، والبدع من الشر الذي نهاهم عنه وحذرهم منه كما تقدم النص على ذلك في أحاديث العرباض بن سارية، وجابر بن عبد الله وابن مسعود رضي الله عنهم.

ولو قال قائل بتخريج بدعة المولد على نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ قبره عيدًا لكان أولى وأقرب من تخريجها على صيام يوم عاشوراء، وكذلك تخريج بدعة المولد على قوله صلى الله عليه وسلم «لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم» هو أولى
তৃতীয় দিক: এটি বলা যে, আশুরার দিনের রোজা পালনের ওপর ভিত্তি করে মীলাদ বা জন্মোৎসবের বিদ‘আত উদ্ভাবন করা কোনো বলিষ্ঠ যুক্তি নয়; বরং এটি একটি অগ্রহণযোগ্য কৃত্রিম প্রয়াস। কারণ ইবাদতের ভিত্তি হলো শরিয়ত ও অনুসরণের ওপর, মানুষের মতামত, পছন্দ বা নব-উদ্ভাবনের ওপর নয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ কিংবা জয়িফ (দুর্বল)—কোনো সনদেই বর্ণিত হয়নি যে, তিনি তাঁর উম্মতকে নিজের জন্মোৎসব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন, অথবা তিনি মীলাদের রাত বা দিনটিকে অন্য সব রাত ও দিনের তুলনায় বিশেষ কোনো আমলের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। অথচ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহিহ হাদিসে ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত», তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হলো, সে আমার দলভুক্ত নয়»। এই হাদিসদ্বয়ের মধ্যে ওই ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত জোরালো খণ্ডন রয়েছে, যে মীলাদের রাতকে ঈদ বা উৎসবে পরিণত করেছে এবং একে এমন সব আমলের জন্য নির্দিষ্ট করেছে যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই রাতে পালন করতে নির্দেশ দেননি এবং নিজেও তা করেননি। এই হাদিস দুটির মধ্যে ওই ব্যক্তিরও প্রতিবাদ রয়েছে, যে আশুরার রোজার ওপর ভিত্তি করে মীলাদের বিদ‘আতকে বৈধতা দিতে চায়; কেননা আশুরার রোজা স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করেছেন এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন, যা মীলাদ উদযাপন বা একে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করার বিপরীত। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করেননি এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধও করেননি। মীলাদ উদযাপন ও একে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করার মধ্যে যদি সামান্যতম ফজিলতও থাকত, তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা তাঁর উম্মতের নিকট বর্ণনা করতেন। কারণ এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে তিনি তাদের পথপ্রদর্শন করেননি এবং তার প্রতি উৎসাহিত করেননি; আর এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের নিষেধ করেননি এবং সতর্ক করেননি। আর বিদ‘আত হলো সেই অকল্যাণের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে তিনি তাদের বারণ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে ইরবাজ ইবন সারিয়া, জাবির ইবন আবদুল্লাহ এবং ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহে স্পষ্টভাবে অতিবাহিত হয়েছে।

যদি কোনো প্রবক্তা মীলাদের বিদ‘আতকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজ কবরকে উৎসবের স্থান (ঈদ) না বানানোর নিষেধাজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত করত, তবে তা আশুরার রোজার ওপর ভিত্তি করার চেয়ে অধিক সঙ্গত ও নিকটতর হতো। একইভাবে মীলাদের বিদ‘আতকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর ওপর ভিত্তি করা অধিক যুক্তিযুক্ত হতো যেখানে তিনি বলেছেন: «তোমরা আমার অতি প্রশংসা করো না, যেমনটি খ্রিস্টানরা ইবন মারইয়ামের ক্ষেত্রে করেছিল»।