(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث الواردة في قراءة سورة الكهف يوم الجمعة القسم: كتب السنة
الكتاب: الأحاديث الواردة في قراءة سورة الكهف يوم الجمعة
المؤلف: عبد الله بن فوزان بن صالح الفوزان
الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1431 هـ
عدد الصفحات: 78
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الآخرة 1436
শুক্রবার সূরা কাহাফ পাঠ করা সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসসমূহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: শুক্রবার সূরা কাহাফ পাঠ করা সংক্রান্ত বর্ণিত হাদিসসমূহ
লেখক: আবদুল্লাহ বিন ফাওজান বিন সালেহ আল-ফাওজান
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযি প্রকাশনী ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: -)
الْأَحَادِيث الْوَارِدَة فِي قِرَاءَة سُورَة الْكَهْف يَوْم الْجُمُعَة
تأليف
د. عبد الله بن فوزان بن صَالح الفوزان
عُضْو هَيْئَة التدريس بقسم الدراسات الإسلامية - جَامِعَة طيبَة
دَار ابْن الْجَوْزِيّ
জুমুআর দিনে সূরা আল-কাহাফ পাঠ করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ
রচনায়
ড. আবদুল্লাহ বিন ফাওজান বিন সালেহ আল-ফাওজান
সদস্য, শিক্ষক পর্ষদ, ইসলামি শিক্ষা বিভাগ - তাইবাহ বিশ্ববিদ্যালয়
দার ইবনুল জাওযী
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله وحده، والصلاة والسلام على نبيه وآله، وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:
فهذه ورقات يسيرة في دراسة الأحاديث الواردة في الترغيب بقراءة سورة الكهف يوم الجمعة، فإنني لم أقف - حسب علمي - على بحث علمي يجمع أطراف الموضوع، مع ما له من الأهمية، وإن كان يوجد منه أجزاء متناثرة في ثنايا مواضيع متعلقة به، ككتب الأذكار، أو كتب فضائل يوم الجمعة، وشيء من المذاكرة حوله في مواقع علمية عبر الشبكة المعلوماتية العالمية.
وتكمن أهمية البحث والدراسة في أمور، منها:
1 - تعدد من روي عنه أحاديث الباب من الصحابة رضي الله عنهم.
قال ابن حجر في معرض كلامه على حديث أبي سعيد رضي الله عنه: (وفي الباب عن علي، وزيد بن خالد، وعائشة، وابن عباس، وابن عمر، وغيرهم، بأسانيد ضعيفة) (1)
2 - كثرة اختلاف طرق أحاديث الباب، وتباين ألفاظها.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের উপর। অতঃপর:
জুমার দিন সূরা আল-কাহাফ পাঠের উৎসাহে বর্ণিত হাদীসসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এগুলো সামান্য কিছু পৃষ্ঠা। কেননা আমার জানামতে আমি এমন কোনো গবেষণামূলক প্রবন্ধ খুঁজে পাইনি যা এই বিষয়ের গুরুত্ব সত্ত্বেও এর সকল দিককে একত্রিত করে, যদিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের মাঝে এর কিছু বিক্ষিপ্ত অংশ বিদ্যমান রয়েছে, যেমন যিকিরের কিতাবসমূহ অথবা জুমার দিনের ফযীলত বিষয়ক কিতাবসমূহ, এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন ইলমী সাইটগুলোতে এ নিয়ে কিছু আলোচনাও পাওয়া যায়।
এই গবেষণা ও পর্যালোচনার গুরুত্ব কতগুলো বিষয়ের মধ্যে নিহিত, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - এই অধ্যায়ের হাদীসসমূহ যেসব সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে তাঁদের সংখ্যাধিক্য।
ইবনে হাজার আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদীসের আলোচনায় বলেছেন: (এই অধ্যায়ে আলী, যায়েদ ইবন খালিদ, আয়েশা, ইবন আব্বাস, ইবন উমর এবং অন্যদের থেকেও দুর্বল সনদে বর্ণনা রয়েছে) (১)
২ - এই অধ্যায়ের হাদীসসমূহের সূত্রের আধিক্য এবং সেগুলোর শব্দগত ভিন্নতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
3 - إطباق الجمهور من أهل العلم على القول بمشروعية قراءة هذه السورة يوم الجمعة، مع ما في الأحاديث من الكلام، مما يترتب عليه شيء من الإشكال عند بعض طلاب العلم، بله العامة، فبعضهم يفهم التلازم بين ثبوت النص فقط والعمل به، والعكس بالعكس، دون أن ينظر ويتأمل في أسباب أخرى مؤثرة في إثبات العمل ومشروعيته، كالنقل المشبه للتواتر لعمل الصحابة رضي الله عنهم، أو الثقة والاطمئنان إلى عد وجود خلاف في مشروعية العمل، وهذه مسألة شريفة دقيقة، بحاجة إلى مزيد تحرير، وعناية تامة.
4 - كون ذلك له تعلق بأعظم العبادات وهي تلاوة القرآن الكريم، وأعظم الأيام عند الله تعالى وهو يوم الجمعة.
5 - تحرير السياق التاريخي في بيان أول من نقل العمل بذلك من أهل العلم.
وسوف يتم تناول الموضوع في تمهيد، وثلاثة مباحث:
* التمهيد، وفيه:
أولاً: لمحة موجزة فيما ورد من فضائل يوم الجمعة، وفضل بعض الأعمال فيه.
ثانياً: ومضة يسيرة فيما ورد من فضائل سورة القرآن.
ثالثاً: الأحاديث الواردة في فضل سورة الكهف.
رابعاً: الأحاديث الواردة في الترغيب بقراءة سور أخرى يوم الجمعة.
৩ - জুমআর দিন এই সূরাটি পাঠ করার বিধানের বৈধতার ব্যাপারে আলেম সমাজের অধিকাংশের ঐকমত্য। যদিও এই সংক্রান্ত হাদীসগুলোর বিশুদ্ধতা নিয়ে কিছু আলোচনা বা আপত্তি রয়েছে, যার ফলে একধরণের অস্পষ্টতা ও দ্বিধা তৈরি হয় কিছু ইলম অন্বেষণকারী, এমনকি সাধারণ মানুষের মাঝেও। তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে, কেবল কোনো দলীল সাব্যস্ত হওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল করার মাঝে এক অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র রয়েছে এবং এর বিপরীতটিও তারা একইভাবে মনে করেন। তারা আমল সাব্যস্ত হওয়া এবং এর বিধিসম্মত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য কারণগুলোর দিকে লক্ষ্য করেন না এবং তা নিয়ে চিন্তা করেন না। যেমন—সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) আমলের এমন বর্ণনা যা মুতাওয়াতির সমতুল্য, অথবা উক্ত আমলের বিধানগত বৈধতার বিষয়ে কোনো মতভেদ না থাকার ব্যাপারে প্রাপ্ত আস্থা ও নিশ্চয়তা। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সূক্ষ্ম বিষয়, যা আরও অধিক বিশ্লেষণ ও পূর্ণ মনোযোগের দাবি রাখে।
৪ - এই বিষয়টি মহান ইবাদত তথা পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের সাথে এবং মহান আল্লাহর নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ দিন অর্থাৎ জুমআর দিনের সাথে সম্পৃক্ত।
৫ - আলেমদের মাঝে সর্বপ্রথম কে এই আমলের কথা বর্ণনা করেছেন, তা স্পষ্টীকরণে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ।
বিষয়টি একটি ভূমিকা এবং তিনটি পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হবে:
* ভূমিকা, এতে রয়েছে:
প্রথমত: জুমআর দিনের ফযীলত এবং এই দিনের বিশেষ কিছু আমলের ফযীলত সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত।
দ্বিতীয়ত: কুরআনের সূরাসমূহের ফযীলত সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত।
তৃতীয়ত: সূরা আল-কাহাফের ফযীলত বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহ।
চতুর্থত: জুমআর দিন অন্যান্য সূরা পাঠে উৎসাহিত করার ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
* المبحث الأول: الأحاديث الواردة في الترغيب بقراءة سورة الكهف يوم الجمعة.
* المبحث الثاني: الآثار الواردة في الباب.
* المبحث الثالث: كلام أهل العلم من المحدثين والفقهاء في المسألة.
ثم أنهيت البحث بخاتمة تضمنت أهم النتائج، وبعدها وضعت فهارس للأحاديث، ثم لأهم المصادر والمراجع، وأخيراً للموضوعات.
وقد سلكت الخطوات التالية:
* خرجت الأحاديث التي ذكرتها في التمهيد باختصار في الحاشية.
* ذكرت عدد الأحاديث الواردة في الباب إجمالاً، ثم درستها تفصيلا، مبتدئا بحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، إذ هو أصل الباب، ثم رتبت الأحاديث بعده حسب قربها من لفظه.
* خرجت الأحاديث من المصادر المشهورة، وأمهات كتب السنة، ولا أنزل في العزو إلى مصدر متأخر إلا لفائدة حديثية.
* إذا عزوت إلى صحيح البخاري فالمراد النسخة التي مع فتح الباري، في الطبعة السلفية.
* প্রথম পরিচ্ছেদ: জুমার দিন সূরা আল-কাহাফ পাঠের উৎসাহে বর্ণিত হাদিসসমূহ।
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে বর্ণিত আসারসমূহ (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী)।
* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এ মাসআলায় মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের বক্তব্য।
অতঃপর আমি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সম্বলিত একটি উপসংহারের মাধ্যমে গবেষণাটি সমাপ্ত করেছি। এরপর হাদিসের নির্ঘণ্ট, তারপর গুরুত্বপূর্ণ উৎস ও তথ্যসূত্র এবং সবশেষে বিষয়ের নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করেছি:
* আমি মুখবন্ধে উল্লেখিত হাদিসগুলোর তাখরিজ পাদটীকায় সংক্ষেপে করেছি।
* এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর সংখ্যা সংক্ষেপে উল্লেখ করার পর তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছি; এক্ষেত্রে আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস দিয়ে শুরু করেছি, কারণ তা-ই এ বিষয়ের মূল ভিত্তি। এরপর হাদিসগুলোকে এর শব্দের নিকটবর্তী হওয়া অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।
* আমি প্রসিদ্ধ উৎস এবং সুন্নাহর মূল গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসগুলোর তাখরিজ করেছি। হাদিসশাস্ত্রে কোনো বিশেষ উপকারের প্রয়োজন ছাড়া আমি পরবর্তী সময়ের উৎসগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করিনি।
* আমি যখন সহিহ বুখারির উদ্ধৃতি দিয়েছি, তখন সালাফিয়্যাহ প্রকাশনী হতে ফাতহুল বারির সাথে সংযুক্ত পাণ্ডুলিপিটিই উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
* اعتمدت في بيان أحوال الرواة على كلام أئمة الشأن من كتبهم الأصلية، وإلا أحلت ذلك إلى تهذيب الكمال غالباً، وقد أكتفي بكلام أحد الأئمة في الراوي، ثم أذكر مصادر أخرى ترجمت له.
والله تعالى أسأل التوفيق والإعانة، وأن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم.
كتبه
د. عبد الله بن فوزان بن صالح الفوزان
عضو هيئة التدريس بقسم الدراسات الإسلامية
في جامعة طيبة
E-mail: afsf1551@gmail.com
E-mail: afsf1551@hotmail.com
বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের ইমামদের মূল গ্রন্থসমূহ হতে তাঁদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি, অন্যথায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি ‘তাহযীবুল কামাল’-এর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি। কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে আমি হয়তো কেবল একজন ইমামের বক্তব্যের ওপরই ইতি টেনেছি, অতঃপর তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে এমন অন্যান্য উৎসের উল্লেখ করেছি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট তাওফীক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আমার এই কাজকে নিছক তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন।
লিখেছেন
ড. আব্দুল্লাহ বিন ফাওযান বিন সালেহ আল-ফাওযান
শিক্ষক পর্ষদের সদস্য, ইসলামি শিক্ষা বিভাগ
তাইবা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল: afsf1551@gmail.com
ই-মেইল: afsf1551@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
التمهيدوفيه
أولاً: لمحة موجزة فيما ورد من فضائل يوم الجمعة، وفضل بعض الأعمال فيه.
ثانياً: ومضة يسيرة فيما ورد من فضائل سور القرآن.
ثالثاً: الأحاديث الواردة في فضل سورة الكهف.
رابعاً: الأحاديث الواردة في الترغيب بقراءة سور أخرى يوم الجمعة.
উপক্রমণিকাএবং এতে রয়েছে
প্রথমত: জুমার দিনের মর্যাদা এবং ঐ দিনে কতিপয় আমলের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত।
দ্বিতীয়ত: কুরআনের সূরাসমূহের ফযীলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর সামান্য আলোকপাত।
তৃতীয়ত: সূরা আল-কাহাফের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ।
চতুর্থত: জুমার দিনে অন্যান্য সূরা পাঠে উদ্বুদ্ধকরণ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
أولاً: لمحة موجزة فيما ورد من فضائل يوم الجمعة، وفضل بعض الأعمال فيههذا اليوم هبة ربانية، ومنحة إلهية لأمة النبي الكريم الخاتم صلى الله عليه وسلم، فضلها به على سائر الأمم، كما ثبت في الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «نحن الآخرون، ونحن السابقون يوم القيامة، بيد أن كل أمة أوتيت الكتاب من قبلنا، وأوتيناه من بعدهم، ثم هذا اليوم الذي كتبه الله علينا، هدانا الله له، فالناس لنا فيه تبع، اليهود غداً، والنصارى بعد غدٍ» (1).
بل قد ورد التصريح بأن الله أضل الأمم السابقة عن هذا اليوم، كرامة لهذه الأمة، وتفضيلا لها عليهم، فعن أبي هريرة وحذيفة رضي الله عنهم قالا: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أضل الله عن الجمعة من كان قبلنا، فكان لليهود يوم السبت، وكان للنصارى يوم الأحد، فجاء الله بنا، فهدانا الله ليوم الجمعة، فجعل الجمعة والسبت والأحد، وكذلك هم تبع لنا يوم القيامة، نحن الآخرون من أهل الدنيا، والأولون يوم القيامة، المقضي لهم قبل الخلائق» (2).
--------------------------------------------
প্রথমত: জুমার দিনের মর্যাদা এবং তাতে কতিপয় আমলের ফযীলত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাতএই দিনটি এক রব্বানী দান এবং শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের জন্য এক ঐশী উপহার, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে অন্য সকল উম্মতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। যেমনটি সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমরা শেষে আগমনকারী, কিন্তু কিয়ামতের দিন হব অগ্রগামী; যদিও প্রতিটি উম্মতকে আমাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল এবং আমাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের পরে। অতঃপর এটিই সেই দিন যা আল্লাহ আমাদের ওপর নির্ধারিত করেছেন, আল্লাহ আমাদের এই দিনের দিশা দিয়েছেন। সুতরাং মানুষ এই ক্ষেত্রে আমাদের অনুসারী; ইহুদীরা আগামীকাল এবং খ্রিষ্টানরা পরশু» (১)।
বরং এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এই উম্মতের সম্মানার্থে এবং অন্যদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের জন্য আল্লাহ পূর্ববর্তী উম্মতদের এই দিনটি থেকে বিচ্যুত রেখেছিলেন। আবু হুরায়রা ও হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদের জুমার দিন থেকে বিচ্যুত রেখেছিলেন। ফলে ইহুদীদের জন্য ছিল শনিবার এবং খ্রিষ্টানদের জন্য ছিল রবিবার। অতঃপর আল্লাহ আমাদের নিয়ে আসলেন এবং আমাদের জুমার দিনের হিদায়াত দান করলেন। ফলে তিনি জুমা, শনিবার ও রবিবার—এভাবে অনুক্রম নির্ধারণ করলেন। একইভাবে কিয়ামতের দিনেও তারা আমাদের অনুসারী হবে। আমরা দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সবশেষে আগমনকারী, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমরাই হব প্রথম যাদের বিচার সকল সৃষ্টির পূর্বে সম্পন্ন করা হবে» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وذكر النبي صلى الله عليه وسلم شيئا من فضائل هذا اليوم المبارك فيما رواه أبو هريرة رضي الله عنه، أنه صلى الله عليه وسلم قال: «خير يوم طلعت عليه الشمس يوم الجمعة، فيه خلق آدم، وفيه أدخل الجنة، وفيه أخرج منها، ولا تقوم الساعة إلا في يوم الجمعة» (1).
وخص الله تعالى هذا اليوم بساعة عظيمة، ووعد سبحانه الداعي فيها بإجابة سؤله، وتحقيق أمره، كما في الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر يوم الجمعة فقال: «فيه ساعة لا يوافقها عبد مسلم وهو يصلي يسأل الله شيئاً إلا أعطاه إياه»، وأشار بيده يقللها (2).
ولهذا كله، ثبت تخصيص هذا اليوم بعبادات وقرب يتميز بها عن غيره من الأيام، ومن ذلك:
الخاصة الأولى: استحباب قراءة سورتي السجدة والإنسان في صلاة الفجر.
الخاصة الثانية: استحباب كثرة الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم فيه، وفي ليلته، لقوله صلى الله عليه وسلم: «أكثروا من الصلاة عليّ يوم الجمعة، وليلة الجمعة» (3).
الخاصة الثالثة: صلاة الجمعة التي هي من آكد فروض
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বরকতময় দিনের কিছু ফযীলত সম্পর্কে যা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনে তাঁকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে। আর জুমার দিন ব্যতীত কিয়ামত সংঘটিত হবে না" (১)।
মহান আল্লাহ এই দিনটিকে একটি মহান মুহূর্তের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন এবং তিনি সুবহানাহু সেই মুহূর্তে প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করার এবং তার যাঞ্চা পূরণ করার ওয়াদা করেছেন, যেমনটি সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিনের কথা উল্লেখ করে বললেন: "এতে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে তবে তিনি তাকে তা দান করেন।" আর তিনি তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে সেটি সংক্ষিপ্ত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করলেন (২)।
এই সব কারণেই, এই দিনটিকে বিশেষ ইবাদত ও নৈকট্য লাভের কাজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা সাব্যস্ত হয়েছে যা একে অন্যান্য দিন থেকে পৃথক করে, তার মধ্যে রয়েছে:
প্রথম বৈশিষ্ট্য: ফজর সালাতে সূরা আস-সাজদাহ এবং সূরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: এই দিনে এবং এর রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা মুস্তাহাব, কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জুমার দিনে এবং জুমার রাতে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো" (৩)।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: জুমার সালাত যা অত্যন্ত তাকিদপূর্ণ ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الإسلام، ومن أعظم مجامع المسلمين، فهي أعظم من كل مجمع يجتمعون فيه، وأفرضه سوى مجمع عرفة، ومن تركها تهاوناً بها طبع الله على قلبه، وقرب أهل الجنة يوم القيامة، وسبقهم إلى الزيارة يوم المزيد بحسب قربهم من الإمام يوم الجمعة وتبكيرهم.
الخاصة الرابعة: الأمر بالاغتسال في يومها، وهو أمر مؤكد جداً.
الخاصة الخامسة: التطيب فيه، وهو أفضل من التطيب في غيره من أيام الأسبوع.
الخاصة السادسة: السواك فيه، وله مزية على السواك في غيره.
الخاصة السابعة: التبكير للصلاة (1).
إلى غير ذلك من الخصائص التي ذكرها أهل العلم (2).
…--------------------------------------------
ইসলাম, এবং এটি মুসলিমদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মিলনস্থল। তারা যে সকল সমাবেশে একত্রিত হয়, এটি সেগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আরাফার সমাবেশ ব্যতীত এটিই সবচেয়ে বেশি অপরিহার্য। যে ব্যক্তি অলসতাবশত এটি পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। কিয়ামতের দিন জান্নাতীদের নৈকট্য এবং 'ইয়াওমুল মাজীদ'-এ (অতিরিক্ত নিয়ামতের দিনে) আল্লাহর সাক্ষাতে তাদের অগ্রগামিতা নির্ধারিত হবে জুমার দিন ইমামের কতটা নিকটে তারা বসত এবং কত দ্রুত তারা আসত, তার ভিত্তিতে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: এই দিনে গোসল করার নির্দেশ, এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি নির্দেশ।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: এই দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করা, যা সপ্তাহের অন্যান্য দিনের সুগন্ধি ব্যবহারের চেয়ে উত্তম।
ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: এই দিনে মিসওয়াক করা, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মিসওয়াকের চেয়ে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
সপ্তম বৈশিষ্ট্য: সালাতের জন্য দ্রুত আসা (১)।
এ ছাড়াও আরও বহু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ইলম অর্জনকারীগণ উল্লেখ করেছেন (২)।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ثانياً: ومضة يسيرة فيما ورد من فضائل سور القرآنفضائل القرآن أشهر من أن ينوه بها، وأكثر من أن يحصر عددها، وقد أفرد ذلك بالتصنيف جملة من الأئمة، كابن أبي شيبة، وأبي عبيد القاسم بن سلام، والنسائي، وابن الضريس (1)، والسيوطي، وغيرهم.
وقد رويت أحاديث كثيرة في فضائل سور معينة من القرآن، وقد أفرده أيضا بعضهم بتأليف، كالسيوطي في كتابه (خمائل الزهر في فضائل السور).
ولكن الذي ثبت وصحّ قليل جداً بالنسبة إلى عدد ما روي، ومن أشهر ما ثبت له فضيلة من السور: الفاتحة، والبقرة، وآل عمران، والكهف، والملك، والكافرون، والإخلاص، والمعوذتين (2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: কুরআনের সূরাসমূহের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাতকুরআনের ফযীলতসমূহ এতই প্রসিদ্ধ যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না এবং এর সংখ্যাও অগণিত। একদল ইমাম একে স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে সংকলন করেছেন, যেমন ইবনে আবি শায়বাহ, আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সালাম, আন-নাসায়ি, ইবনুদ দোরইস (১), আস-সুয়ূতি এবং আরও অনেকে।
কুরআনের নির্দিষ্ট সূরাসমূহের ফযীলত সম্পর্কেও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ একেও স্বতন্ত্র রচনার বিষয়বস্তু বানিয়েছেন, যেমন আস-সুয়ূতি তাঁর 'খামাইলুয যাহর ফি ফাদায়িলিস সুওয়ার' নামক কিতাবে।
তবে যা প্রমাণিত ও বিশুদ্ধ হয়েছে, তা বর্ণিত বর্ণনার সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম। যেসব সূরার ফযীলত প্রমাণিত হয়েছে তার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো: আল-ফাতিহা, আল-বাকারা, আল-ইমরান, আল-কাহাফ, আল-মুলক, আল-কাফিরুন, আল-ইখলাস এবং আল-মুআউবিযাতাইন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وقال ابن تيمية رحمه الله: (في كتب التفسير أشياء منقولة عن النبي صلى الله عليه وسلم يعلم أهل العلم بالحديث أنها كذب، مثل حديث فضائل سور القرآن، الذي يذكره الثعلبي، والواحدي في أول كل سورة، ويذكره الزمخشري في آخر كل سورة، ويعلمون أن أصح ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في فضائل السور: أحاديث {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}، ولهذا رواها أهل الصحيح، فأفرد الحفاظ لها مصنفات، كالحافظ أبي محمد الخلال وغيره، ويعلمون أن الأحاديث المأثورة في فضل فاتحة الكتاب، وآية الكرسي، وخواتيم البقرة، والمعوذتين أحاديث صحيحة، فلهم فرقان يفرقون به بين الصدق والكذب) (1).
--------------------------------------------
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (তাফসীর গ্রন্থগুলোতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা হাদীস বিশারদগণ জানেন যে সেগুলো মিথ্যা, যেমন কুরআনের সূরাসমূহের ফজিলত সম্পর্কিত হাদীসটি, যা আস-সা'লাবি ও আল-ওয়াহিদি প্রত্যেক সূরার শুরুতে এবং আয-যামাখশারি প্রত্যেক সূরার শেষে উল্লেখ করেছেন। তারা জানেন যে সূরার ফজিলত সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} সম্পর্কিত হাদীসগুলো। একারণেই সহীহ হাদীস সংকলকগণ তা বর্ণনা করেছেন এবং হাফিজগণ এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন হাফিজ আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল ও অন্যান্যরা। তারা আরও জানেন যে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা বাকারার শেষাংশ এবং মুআউওয়াযাতাইন-এর ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ হাদীস। সুতরাং তাদের কাছে এমন মানদণ্ড রয়েছে যার মাধ্যমে তারা সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করেন) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ثالثاً: الأحاديث الواردة في فضل سورة الكهفتقدمت الإشارة إلى أن سورة الكهف من السور التي ثبت لها شيء من الفضائل، والمروي في ذلك ليس بالقليل، لكن منه ما صح وثبت، ومنه قسم آخر لم يثبت، بل ربما عده بعض الأئمة من المنكرات الواهيات، وفيما يلي ذكر مجمل، وسياق موجز لأشهر ما ورد في ذلك:
* عن البراء رضي الله عنه قال: قرأ رجل سورة الكهف، وفي الدار دابة، فجعلت تنفر، فنظر فإذا ضبابة أو سحابة قد غشيته، فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: «اقرأ فلان، فإنها السكينة تنزلت للقرآن» (1).
* عن أبي الدرداء رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من فتنة الدجال»، وفي لفظ: «من آخر الكهف» (2).
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: সূরা আল-কাহফের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহপূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সূরা আল-কাহফ এমন একটি সূরা যার কিছু ফযীলত প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার সংখ্যা কম নয়; তবে তার মধ্যে কিছু সহীহ ও প্রমাণিত, আর অন্য অংশ অপ্রমাণিত, এমনকি কিছু ইমাম সেগুলোকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলেও গণ্য করেছেন। নিচে এ বিষয়ে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলোর একটি সারসংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
* বারা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি সূরা আল-কাহফ পাঠ করছিলেন, এমতাবস্থায় বাড়িতে একটি পশু ছিল, যা ছটফট করতে শুরু করল। তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে তাকে একটি ধোঁয়াশা বা মেঘাচ্ছন্ন ছায়া ঢেকে নিয়েছে। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "হে অমুক, তুমি পাঠ করে যাও; কেননা এটি ছিল সাকীনাহ (প্রশান্তি), যা কুরআনের কারণে অবতীর্ণ হয়েছে" (১)।
* আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "সূরা আল-কাহফের শেষ দশটি আয়াত" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
* عن معاذ بن أنس رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من قرأ أول سورة الكهف وآخرها كانت له نورً من قدمه إلى رأسه، ومن قرأها كلها كانت له نوراً ما بين السماء إلى الأرض» (1).
* عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ من سورة الكهف عشر آيات عند منامه عصم من فتنة الدجال، ومن قرأ خاتمتها عند رقاده كان له نوراً من لدن قرنه إلى قدمه يوم القيامة» (2).
* عن ابن عباس رضي الله عنهما، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «سورة الكهف تدعي في التوراة: الحائلة، تحول بين قارئها وبين النار» (3).
* عن عبد الله بن مغفل رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «البيت الذي تُقرأ فيه سورة الكهف لا يدخله شيطان تلك الليلة» (4).
--------------------------------------------
* মুয়াজ ইবনে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের শুরু ও শেষ অংশ পাঠ করবে, তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত তার জন্য একটি নূর হবে; আর যে ব্যক্তি এটি সম্পূর্ণ পাঠ করবে, আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত তার জন্য নূর হবে» (১)।
* আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় সূরা কাহাফের দশটি আয়াত পাঠ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে। আর যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় এর শেষাংশ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার মাথার অগ্রভাগ থেকে পা পর্যন্ত তার জন্য নূর হবে» (২)।
* ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তাওরাতে সূরা কাহাফকে 'আল-হা-ইলাহ' (প্রতিবন্ধক) নামে ডাকা হয়, এটি তার পাঠকারী এবং আগুনের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়» (৩)।
* আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ঘরে সূরা কাহাফ পাঠ করা হয়, সেই রাতে সেখানে কোনো শয়তান প্রবেশ করে না» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
رابعاً: الأحاديث الواردة في الترغيب بقراءة سور أخرى يوم الجمعةوردت أحاديث متعددة في الترغيب بقراءة سور أخرى من القرآن يوم الجمعة، مما يتعبد به خارج الصلاة، ولا يثبت من ذلك شيء، وإنما هي من الضعيف الواهي، وفيما يلي الإشارة إلى شيء منها:
* عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ حم الدخان في ليلة الجمعة غفر له» (1).
* عن عبد الله بن عيسى (2) قال: «أخبرت أنه من قرأ حم الدخان ليلة الجمعة إيمانا وتصديقاً بها أصبح
--------------------------------------------
চতুর্থত: জুমুআর দিনে অন্যান্য সূরা পাঠে উৎসাহিত করার ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহজুমুআর দিনে নামাজের বাইরে ইবাদত হিসেবে কুরআনের অন্যান্য সূরা পাঠে উৎসাহিত করার ব্যাপারে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তবে এগুলোর কোনটিই প্রমাণিত নয়। বরং এগুলো অত্যন্ত দুর্বল ও ভিত্তিহীন হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। নিচে তার কিছু উল্লেখ করা হলো:
* আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি জুমুআর রাতে হা-মীম আদ-দুখান পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে» (১)।
* আবদুল্লাহ ইবনে ঈসা (২) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমাকে জানানো হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে জুমুআর রাতে হা-মীম আদ-দুখান পাঠ করবে, সে ভোরে উপনীত হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
مغفوراً له» (1).
* عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ السورة التي يذكر فيها آل عمران يوم الجمعة صلى الله عليه، وملائكته حتى تَجِبَ الشمس» (2).
* عن مكحول قال: «من قرأ سورة آل عمران يوم الجمعة صلت عليه الملائكة إلى الليل» (3).
* عن كعب الأحبار قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «اقرؤوا هود يوم الجمعة» (4).
…--------------------------------------------
ক্ষমা করে দেওয়া হবে» (১)।
* ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে সেই সূরাটি পাঠ করবে যাতে আলে ইমরানের আলোচনা রয়েছে, আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ সূর্যাস্ত পর্যন্ত তার জন্য রহমত ও দুআ প্রার্থনা করতে থাকেন» (২)।
* মাকহুল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি জুমুআর দিনে সূরা আলে ইমরান পাঠ করবে, ফেরেশতাগণ রাত পর্যন্ত তার জন্য রহমত ও দুআ প্রার্থনা করতে থাকেন» (৩)।
* কাব আল-আহবার হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা জুমুআর দিনে সূরা হুদ পাঠ করো» (৪)।
...--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
المبحث الأول الأحاديث الواردة في الترغيب بقراءة سورة الكهف يوم الجمعةبعد طول بحث في الباب وقفت على عشرة أحاديث، وثلاثة آثار، وفيما يلي الكلام عليها تفصيلاً.
প্রথম পরিচ্ছেদ: জুমার দিন সূরা আল-কাহাফ পাঠের উৎসাহ প্রদানের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহএই বিষয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আমি দশটি হাদিস এবং তিনটি আছারের সন্ধান পেয়েছি। নিম্নে সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الحديث الأولحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه -
حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه مداره على أبي هاشم الرماني (1)، عن أبي مِجْلَز (2)، عن قيس بن عباد (3)، عن أبي سعيد (4).
--------------------------------------------
প্রথম হাদিসআবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস -
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটির মূল কেন্দ্র হলেন আবু হাশিম আল-রুমানি (১), তিনি আবু মিজলায (২) থেকে, তিনি কায়েস ইবনে আব্বাদ (৩) থেকে, তিনি আবু সাঈদ (৪) থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقد وقع فيه على أبي هاشم اختلاف في إسناده، إذ روي عنه موقوفاً ومرفوعاً، واختلاف آخر في متنه، إذ روي مطولاً ومختصراً بألفاظ متعددة.
وحاصل ذلك: أن أصل الحديث رواه عن أبي هاشم ستة من تلاميذه - فيما وقفت عليه -، ولفظ الحديث إجمالاً ورد في أمرين:
الأول منهما: فضيلة الذكر بعد الوضوء، ولفظه: «من توضأ فقال: سبحانك اللهم وبحمدك، أشهد أن لا إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك، كتب في رِقٍّ، ثم طبع بطابع، فلم يكسر إلى يوم القيامة».
الثاني: فضيلة قراءة سورة الكهف.
فبعض الرواة عن أبي هاشم اقتصر على لفظ الذكر بعد الوضوء، وهم: قيس بن الربيع، والوليد بن مروان، وروح بن القاسم، وفي أسانيد أحاديثهم ضعف.
وآخرون جمعوا بينهما في سياق واحد، وهم: هشيم بن بشير، وسفيان الثوري، وشعبة بن الحجاج، على اختلاف بينهم وعنهم - كما سيأتي-.
وسوف أقصر التخريج والدراسة على رواياتهم:
আবু হাশেমের বর্ণিত এই হাদিসের সনদে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে; কেননা এটি তাঁর থেকে ‘মাওকুফ’ ও ‘মারফু’ উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তদুপরি এর মতন বা মূল পাঠেও ভিন্নতা রয়েছে; কারণ এটি দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত—উভয় রূপেই নানাবিধ শব্দে বর্ণিত হয়েছে।
এর সারসংক্ষেপ হলো: হাদিসটির মূল পাঠ আবু হাশেমের থেকে তাঁর ছয়জন ছাত্র বর্ণনা করেছেন—যতটুকু আমি অবগত হয়েছি—আর হাদিসটির শব্দাবলি সাধারণভাবে দুটি বিষয়ে এসেছে:
প্রথমটি: ওজুর পরবর্তী জিকিরের ফজিলত। এর শব্দাবলি হলো: "যে ব্যক্তি ওজু করল এবং বলল: ‘হে আল্লাহ, আপনার প্রশংসা সহকারে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি’, তবে এটি একটি চর্মপত্রে লিখে ফেলা হয়, অতঃপর তাতে সিল মেরে দেওয়া হয়, যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আর ভাঙা হবে না।"
দ্বিতীয়টি: সুরা আল-কাহাফ পাঠের ফজিলত।
আবু হাশেমের থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল ওজুর পরের জিকিরের শব্দাবলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তাঁরা হলেন: কাইস ইবনুর রাবি, ওয়ালিদ ইবনে মারওয়ান এবং রাওহ ইবনুল কাসিম। তাঁদের বর্ণিত হাদিসগুলোর সনদে দুর্বলতা রয়েছে।
আবার অন্য বর্ণনাকারীগণ উভয় বিষয়কে একই প্রসঙ্গের অধীনে একত্রিত করেছেন। তাঁরা হলেন: হুশাইম ইবনে বাশির, সুফিয়ান সাওরি এবং শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ। তবে তাঁদের নিজেদের বর্ণনায় এবং তাঁদের থেকে অন্যদের বর্ণিত রেওয়ায়েতে ভিন্নতা রয়েছে—যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসছে।
আমি হাদিসের উৎস অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা কেবল তাঁদের বর্ণনাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব:
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
* طريق هشيم بن بشير (1):
أخرجه: أبو عبيد القاسم بن سلام (2) - ومن طريقه النسفي (3)، والذهبي (4) -، والدارمي (5) عن أبي النعمان محمد بين الفضل السدوسي.
- وابن الضريس (6) - ومن طريقه الخطيب البغدادي (7) - عن أحمد بن خلف البغدادي (8).
- والبيهقي في (شعب الإيمان) (9)، من طريق سعيد بن منصور.
--------------------------------------------
হাশিম ইবন বাশিরের সূত্র (১):
এটি বর্ণনা করেছেন: আবু উবায়দ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম (২) —এবং তাঁর সূত্রে আন-নাসাফি (৩) ও আয-যাহাবি (৪)— এবং আদ-দারিমি (৫), তিনি আবু নুমান মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল আস-সাদুসি থেকে বর্ণনা করেছেন।
—এবং ইবনুদ দুরাইস (৬) —এবং তাঁর সূত্রে আল-খাতিব আল-বাগদাদি (৭)— আহমাদ ইবন খালাফ আল-বাগদাদি (৮) থেকে।
—এবং আল-বায়হাকি (শুআবুল ঈমান)-এ (৯), সাঈদ ইবন মানসুরের সূত্রে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أربعتهم: (أبو عبيد، وأبو النعمان، وابن خلف، وسعيد) عن هشيم، عن أبي هاشم به موقوفاً، بلفظ: «من قرأ سورة الكهف يوم الجمعة أضاء له من النور ما بينه وبين البيت العتيق»، وهذا لفظ أبي عبيد، والبقية نحوه، عدا محمد بن الفضل ففي روايته: «ليلة الجمعة».
وأخرجه: الحاكم (1) - وعنه البيهقي (2) - من طريق نعيم بن حماد.
- والبيهقي في شعب الإيمان، وفضائل الأوقات (3)، من طريق يزيد بن مخلد بن يزيد.
- والدارقطني (4) معلقاً، من طريق الحكم بن موسى، ثلاثتهم: (نعيم، ويزيد، والحكم) عن هشيم، عن أبي هاشم به مرفوعاً، بلفظ: «من قرأ سورة الكهف في يوم الجمعة أضاء له من النور ما بينه وبين البيت العتيق». وهذا لفظ يزيد، ولفظ نعيم «أضاء له من النور ما بين الجمعتين».
قال الحاكم عن طريق نعيم: (هذا حديث صحيح الإسناد، ولم يخرجاه).
خلفه الذهبي إذ قال: (نعيم ذو مناكير).
--------------------------------------------
তারা চারজন: (আবু উবাইদ, আবু নুমান, ইবন খালাফ এবং সাঈদ) হুশাইম থেকে, তিনি আবু হাশিম থেকে এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দগুলো হলো: «যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল-কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য তার এবং বাইতুল আতিকের মধ্যবর্তী স্থানটি নূর দ্বারা আলোকিত হবে», এটি আবু উবাইদ-এর শব্দ চয়ন, এবং বাকিরাও এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে মুহাম্মদ বিন ফাদল-এর বর্ণনায় রয়েছে: «জুমার রাত»।
এটি বর্ণনা করেছেন: আল-হাকিম (১) - এবং তাঁর থেকে আল-বায়হাকী (২) - নুআইম বিন হাম্মাদ-এর সূত্র ধরে।
- এবং আল-বায়হাকী শুআবুল ঈমান ও ফাযাইলুল আওকাত-এ (৩), ইয়াযীদ বিন মাখলাদ বিন ইয়াযীদ-এর সূত্র ধরে।
- এবং আদ-দারাকুতনী (৪) মুআল্লাক হিসেবে, হাকাম বিন মূসার সূত্র ধরে। তারা তিনজন: (নুআইম, ইয়াযীদ এবং হাকাম) হুশাইম থেকে, তিনি আবু হাশিম থেকে এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দগুলো হলো: «যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা আল-কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য তার এবং বাইতুল আতিকের মধ্যবর্তী স্থানটি নূর দ্বারা আলোকিত হবে»। এটি ইয়াযীদ-এর শব্দ চয়ন, আর নুআইম-এর শব্দ চয়ন হলো: «তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়টুকু নূর দ্বারা আলোকিত হবে»।
আল-হাকিম নুআইম-এর সূত্রের ব্যাপারে বলেছেন: (এই হাদীসটির সনদ সহীহ, কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি)।
আয-যাহাবী তাঁর বিরোধিতা করে বলেছেন: (নুআইম আপত্তিকর বর্ণনাকারী)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
* طريق سفيان الثوري (1):
أخرجه: عبد الرزاق (2) - ومن طريقه الطبراني (3).
- وابن أبي شيبة (4)، ونعيم بن حماد (5) عن وكيع بن الجراح.
- ونعيم بن حماد (6)، والنسائي في (الكبرى)، وهو في عمل اليوم والليلة (7)، والحاكم (8)، من طريق عبد الرحمن بن مهدي.
- والبيهقي (9) من طريق قبيصة بن عقبة.
أربعتهم: (عبد الرزاق، ووكيع، وابن مهدي، وقبيصة) عن سفيان، عن أبي هاشم به موقوفاً، بلفظ: «من توضأ، ثم فرغ من وضوئه، ثم قال: سبحانك الله وبحمدك، أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك، وأتوب إليك، ختم عليها بخاتم فوضعت تحت العرش، فلا تكسر إلى يوم القيامة، ومن قرأ سورة الكهف كما أنزلت ثم أدرك الدجال لم يسلط عليه، ولم
--------------------------------------------
* সুফিয়ান আস-সাওরীর বর্ণনাপথ (১):
এটি বর্ণনা করেছেন: আবদুর রাজ্জাক (২) - এবং তাঁর বর্ণনাপথ থেকে তাবারানি (৩)।
- এবং ইবনু আবি শাইবাহ (৪), ও নুআইম ইবনু হাম্মাদ (৫), ওকি ইবনুল জাররাহ থেকে।
- এবং নুআইম ইবনু হাম্মাদ (৬), নাসাঈ ‘আল-কুবরা’-তে, এবং এটি ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ (৭)-তেও রয়েছে, এবং হাকেম (৮), আবদুর রহমান ইবনু মাহদির বর্ণনাপথ থেকে।
- এবং বায়হাকি (৯) কাবিছাহ ইবনু উকবাহর বর্ণনাপথ থেকে।
তাঁরা চারজনই: (আবদুর রাজ্জাক, ওকি, ইবনু মাহদি এবং কাবিছাহ) সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হাশিম থেকে মাওকুফ হিসেবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি অজু করল, অতঃপর অজুর কাজ শেষ করে বলল: 'হে আল্লাহ! আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি', তবে তার ওপর একটি মোহর মেরে দেওয়া হয় এবং তা আরশের নিচে রেখে দেওয়া হয়, যা কিয়ামত পর্যন্ত আর ভাঙা হবে না। আর যে ব্যক্তি সুরা কাহাফ যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবে তিলাওয়াত করল, অতঃপর সে দাজ্জালকে পেল, দাজ্জাল তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না, এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
يكن له عليه سبيل، ومن قرأ خاتمة سورة الكهف أضاء نوره من حيث قرأها ما بينه وبين مكة». وهذا لفظ عبد الرزاق.
وأما وكيع فذكر في رواية ابن أبي شيبة لفظ الوضوء، وفي رواية نعيم بن حماد قراءة الكهف ولفظه: «من قرأ سورة الكهف كما أنزلت أضاء له ما بينه وبين مكة، ومن قرأ آخرها ثم أدرك الدجال لم يسلط عليه».
واقتصر ابن مهدي في روايته على قراءة السورة ولفظه: «من قرأ سورة الكهف كما أنزلت ثم أدرك الدجال لم يسلط عليه، ولم يكن له عليه سبيل، ومن قرأ سورة الكهف كان له نوراً من حيث قرأها ما بينه وبين مكة».
وأما قبيصة فلفظه: «من قرأ سورة الكهف يوم الجمعة فأدرك الدجال لم يسلط عليه- أو قال: لم يضره-، ومن قرأ خاتمة سورة الكهف أضاء الله نوراً من حيث كان بينه وبين مكة».
قال الحاكم: (هذا حديث صحيح الإسناد، ولم يخرجاه).
* طريق شعبة بن الحجاج (1).
أخرجه: النسائي (2) من طريق غندر محمد بن جعفر.
--------------------------------------------
তার ওপর কোনো আধিপত্য থাকবে না; আর যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের শেষাংশ পাঠ করবে, তার পাঠ করার স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত নূর বা জ্যোতি তাকে আলোকিত করবে।" এটি আব্দুর রাজ্জাকের শব্দাবলি।
আর ওয়াকি' ইবনুল জাররাহ ইবনে আবি শাইবাহর বর্ণনায় ওযুর কথা উল্লেখ করেছেন; আর নুআইম ইবনে হাম্মাদের বর্ণনায় সূরা কাহাফ পাঠ করার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং তার শব্দাবলি হলো: "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ নাযিলকৃত অবয়বে পাঠ করবে, তার জন্য মক্কা পর্যন্ত স্থান আলোকিত হবে। আর যে ব্যক্তি এর শেষাংশ পাঠ করার পর দাজ্জালকে পাবে, দাজ্জাল তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।"
আর ইবনে মাহদী তার বর্ণনায় কেবল সূরাটি পাঠ করার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার শব্দাবলি হলো: "যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ নাযিলকৃত অবয়বে পাঠ করবে, অতঃপর দাজ্জালকে পাবে, দাজ্জাল তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো পথ পাবে না। আর যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তা তার পাঠ করার স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত নূর হয়ে থাকবে।"
আর কুবায়সার শব্দাবলি হলো: "যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, অতঃপর দাজ্জালকে পাবে, দাজ্জাল তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না—অথবা তিনি বলেছেন: তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না—। আর যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের শেষাংশ পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য সে যেখানে রয়েছে সেখান থেকে মক্কা পর্যন্ত নূর দ্বারা আলোকিত করবেন।"
আল-হাকিম বলেছেন: (এই হাদিসের সনদ সহিহ, তবে তাঁরা—বুখারী ও মুসলিম—তা বর্ণনা করেননি)।
* শু'বা ইবনুল হাজ্জাজের সূত্র (১)।
এটি বর্ণনা করেছেন: আন-নাসায়ী (২), গুন্দার মুহাম্মদ ইবনে জাফরের সূত্র থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
- والطبراني في الدعاء (1) من طريق عمر بن مرزوق.
- وذكره البيهقي (2) معلقاً من طريق معاذ بن معاذ.
ثلاثتهم: (غندر، وعمرو، ومعاذ) عن شعبة، عن أبي هاشم به موقوفاً، ولفظه: «من قرأ سورة الكهف كما أنزلت كانت له نوراً من حيث يقرؤها إلى مكة، ومن قرأ آخر الكهف فخرج الدجال لم يسلط عليه»، وهذا لفظ غندر، والبقية نحوه.
وأخرجه: النسائي (3)، والطبراني (4) - ومن طريقه ابن حجر في نتائج الأفكار (5)، والحاكم (6) - وعنه البيهقي (7) - من طريق يحيى بن كثير.
والبيهقي (8) من طريق عبد الصمد بن عبد الوارث.
- والدارقطني (9) معلقا من طريق ربيع بن يحيي.
ثلاثتهم: (يحيي، وعبد الصمد، وربيع) عن شعبة، عن أبي هاشم به مرفوعا، بلفظ: «من قرأ سورة الكهف كما أنزلت كانت له نورا يوم القيامة من مقامه إلى مكة، ومن قرأ عشر آيات من آخرها ثم خرج الدجال لم يسلط عليه، ومن
--------------------------------------------
- এবং আত-তাবারানি 'আদ-দুআ' (১) গ্রন্থে উমর ইবনে মারজুকের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
- এবং আল-বাইহাকি (২) মুআয ইবনে মুআযের সূত্রে মুআল্লাক হিসেবে এটি উল্লেখ করেছেন।
তাদের তিনজনেই: (গুন্দার, আমর এবং মুআয) শু'বাহ থেকে, তিনি আবু হাশিম থেকে মাওকুফ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দসমূহ হলো: «যে ব্যক্তি সুরা কাহফ যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবে পাঠ করবে, তা তার জন্য যেখান থেকে পাঠ করবে সেখান থেকে মক্কা পর্যন্ত নূর হবে। আর যে ব্যক্তি সুরা কাহফের শেষ অংশ পাঠ করবে, অতঃপর যদি দাজ্জাল বের হয়, তবে সে তার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না», এটি গুন্দারের শব্দবিন্যাস, আর বাকিদের বর্ণনা এর কাছাকাছি।
এবং এটি বর্ণনা করেছেন: আন-নাসায়ী (৩), আত-তাবারানি (৪) — এবং তার সূত্রে ইবনে হাজার 'নাতাইজুল আফকার' (৫) গ্রন্থে, আল-হাকিম (৬) — এবং তার থেকে আল-বাইহাকি (৭) — ইয়াহইয়া ইবনে কাসিরের সূত্রে।
এবং আল-বাইহাকি (৮) আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিসের সূত্রে।
- এবং আদ-দারা কুতনি (৯) রবি ইবনে ইয়াহইয়ার সূত্রে মুআল্লাক হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।
তাদের তিনজনেই: (ইয়াহইয়া, আবদুস সামাদ এবং রবি) শু'বাহ থেকে, তিনি আবু হাশিম থেকে এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এই শব্দবিন্যাসে: «যে ব্যক্তি সুরা কাহফ যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবে পাঠ করবে, তা কিয়ামতের দিন তার অবস্থানের স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত তার জন্য নূর হবে। আর যে ব্যক্তি এর শেষ থেকে দশটি আয়াত পাঠ করবে, অতঃপর যদি দাজ্জাল বের হয়, তবে সে তার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। আর যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
توضأ فقال: سبحانك اللهم وبحمدك لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك، كتب في رق ثم جعلت في طابع فلم يكسر إلى يوم القيامة».
وهذا لفظ يحيي عند الطبراني، والحاكم، والبيهقي، وعند غيرهما مختصراً دون لفظ الوضوء، ولفظ عبد الصمد نحوه، ولم أقف على لفظ ربيع.
قال الحاكم عن طريق يحيى: (هذا حديث صحيح على شرط مسلم، ولم يخرجاه، ورواه سفيان الثوري، عن أبي هاشم فأوقفه).
دراسة الاختلاف في الحديث
من خلال تخريج الحديث تبين أن مداره على أبي هاشم الروماني، وقد رواه عنه ثلاثة من تلاميذه، وهم: هشيم، والثوري، وشعبة، وقد اختلف عليهم في رواياتهم سنداً ومتناً حسب التفصيل التالي:
أولاً: الاختلاف على هشيم:
وقد اختلف عليه في إسناده ومتنه:
فأما الاختلاف في الإسناد فقد رواه عنه أصحابه على وجهين: موقوف، ومرفوع.
الوجه الأول: الموقوف.
وقد روى هذا الوجه أربعة، وهم:
তিনি অজু করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, আপনার প্রশংসা সহকারে আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তওবা করছি। এটি একটি চামড়ার পাতায় লিখে সীলমোহর করে রাখা হয়, যা কিয়ামত পর্যন্ত আর খোলা হবে না।
এটি তাবারানি, হাকিম এবং বায়হাকির নিকট ইয়াহইয়ার শব্দচয়ন; আর অন্যদের নিকট এটি অজুর শব্দ উল্লেখ ছাড়াই সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে। আবদুস সামাদের শব্দচয়নও এর কাছাকাছি, তবে রবির শব্দচয়ন আমি খুঁজে পাইনি।
হাকিম ইয়াহইয়ার সূত্রে বলেন: (এই হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ, কিন্তু তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি; আর সুফিয়ান সাওরি এটি আবু হাশিম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে মাওকুফ হিসেবে উল্লেখ করেছেন)।
হাদিসের মধ্যকার মতভেদের পর্যালোচনা
হাদিসের তাখরিজ বা উৎস বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই হাদিসের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন আবু হাশিম আল-রুমানি। তার থেকে তার তিন ছাত্র এটি বর্ণনা করেছেন, তারা হলেন: হুশাইম, সাওরি এবং শু'বাহ। নিম্নোক্ত বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী তাদের বর্ণনাগুলোতে সনদ এবং মতন উভয় ক্ষেত্রে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে:
প্রথমত: হুশাইমের বর্ণনায় মতভেদ:
তার সূত্রে সনদ এবং মতন—উভয় ক্ষেত্রেই মতভেদ হয়েছে:
সনদের মতভেদের ক্ষেত্রে তার ছাত্ররা তার থেকে এটি দুইভাবে বর্ণনা করেছেন: মাওকুফ এবং মারফু।
প্রথম প্রকার: মাওকুফ।
এই প্রকারটি চারজন বর্ণনা করেছেন, তারা হলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
* أبو عبيد القاسم بن سلام البغدادي، الإمام الثقة، صاحب التصانيف (1).
* وأبو النعمان محمد بن الفضل السدوسي البصري، الملقب بعارم، وهو ثقة ثبت، حصل له تغير في آخر عمره (2).
* وأحمد بن خلف البغدادي، وهو شيخ غير مشهور، كما قال الخطيب (3).
* وسعيد وهو: ابن منصور أبو عثمان الخراساني، الإمام الثقة الثبت (4).
الوجه الثاني: المرفوع:
وقد روي هذا الوجه ثلاثة من أصحابه، وهم:
* نعيم بن حماد: وهو أبو عبد الله الخزاعي المروزي، صدوق، يخطئ كثيراً، فقيه، عارف بالفرائض، كما قال ابن حجر (5).
--------------------------------------------
* আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম আল-বাগদাদী, নির্ভরযোগ্য ইমাম, বহু গ্রন্থের রচয়িতা (১)।
* এবং আবু আন-নুমান মুহাম্মদ ইবনে আল-ফাদল আস-সাদুসী আল-বাসরী, 'আরিম' উপাধিতে ভূষিত, তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী, জীবনের শেষ ভাগে তাঁর স্মৃতিবিভ্রাট ঘটেছিল (২)।
* এবং আহমাদ ইবনে খালাফ আল-বাগদাদী, তিনি এমন এক শাইখ যিনি সুপরিচিত নন, যেমনটি আল-খাতিব বলেছেন (৩)।
* এবং সাঈদ, আর তিনি হলেন: ইবনে মানসুর আবু উসমান আল-খুরাসানী, নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ইমাম (৪)।
দ্বিতীয় দিক: মারফূ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো বর্ণনা):
তাঁর সাথীদের মধ্যে তিনজন এই দিকটি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা হলেন:
* নুআইম ইবনে হাম্মাদ: তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ আল-খুযাঈ আল-মারওয়াযী, সত্যবাদী, তবে প্রচুর ভুল করতেন, ফকীহ এবং ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ, যেমনটি ইবনে হাজার বলেছেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
* ويزيد بن مخلد بن يزيد، وقد ترجم له ابن أبي حاتم، وأبو أحمد الحاكم في الأسامي والكنى، والذهبي في المقتنى، ولم يذكروا فيه جرحاً ولا تعديلاً (1).
* والحكم بن موسى وهو: أبو صالح القنطري البغدادي، صدوق (2).
وقد حكم بعض الحفاظ بترجيح رواية الوقف عن هشيم:
فقال الدارقطني عن رواية الحكم بن موسى: (ووقفه غيره عن هشيم، وهو الصواب) (3).
وقال البيهقي: (هذا هو المحفوظ موقوف) (4).
وقال ابن القيم بعد ذكر المرفوع: (وذكره سعيد بن منصور من قول أبي سعيد الخدري، وهو أشبه) (5).
ووجه الترجيح ظاهر، إذ من رواه موقوفاً أكثر من حيث العدد، وأحفظ من حيث الضبط.
وعلى كل حال فقد تكلم في روايه هشيم مطلقاً.
--------------------------------------------
* এবং ইয়াযিদ ইবনে মুখাল্লাদ ইবনে ইয়াযিদ, ইবনে আবি হাতিম তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, এবং আবু আহমাদ আল-হাকিম 'আল-আসামী ওয়াল কুনা' গ্রন্থে, এবং আয-যাহাবি 'আল-মুকতানি' গ্রন্থে তাঁর জীবনী এনেছেন; তবে তাঁরা তাঁর ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (জারহ) বা প্রশংসা (তাদিল) উল্লেখ করেননি (১)।
* এবং আল-হাকাম ইবনে মুসা: তিনি হলেন আবু সালিহ আল-ক্বানতারি আল-বাগদাদি, তিনি সত্যবাদী (২)।
কোনো কোনো হাফিজ (হাদিস বিশারদ) হুশাইম থেকে বর্ণিত 'মাকুফ' (সাহাবীর উক্তি) বর্ণনাটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার রায় দিয়েছেন:
আল-দারাকুতনি আল-হাকাম ইবনে মুসার বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন: (অন্যরা এটি হুশাইম থেকে মাকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর এটিই সঠিক) (৩)।
আল-বাইহাকি বলেছেন: (এটিই সংরক্ষিত 'মাকুফ' বর্ণনা) (৪)।
ইবনুল কাইয়্যিম 'মারফু' (রাসূলুল্লাহর উক্তি) বর্ণনাটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: (সাঈদ ইবনে মানসুর এটি আবু সাঈদ আল-খুদরির উক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আর এটিই অধিক সঠিক) (৫)।
অগ্রাধিকার প্রদানের কারণটি স্পষ্ট, কেননা যারা এটি মাকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাঁরা সংখ্যার দিক থেকে অধিক এবং নির্ভুলতার (যাবত) দিক থেকে অধিক শক্তিশালী।
যাই হোক, হুশাইমের বর্ণনার ব্যাপারে সাধারণভাবে আপত্তি তোলা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
قال الإمام أحمد رحمه الله وهو ممن روى جملة الوضوء فقط عن هشيم بهذا الإسناد - (لم يسمعه هشيم من أبي هشام) (1).
وقد وقفت على تصريح هشيم بالتحديث في رواية أبي عبيد، ومحمد بن الفضل، وسعيد بن منصور، ونعيم بن حماد، ولا شك أن التصريح يفيد السماع غالباً، لا سيما وأنه هنا وقع في رواية أربعة من أصحاب هشيم، فيستدعي هذا تأملا في نفي الإمام أحمد، وهل قال ذلك من أجل أنه تيقن عدم سماع هشيم لهذا الحديث، أو لأنه لم يقف على تصريح هشيم بالسماع؟ فإن قيل بالأول: جزمنا بأن روايات التصريح خطأ، وإن قيل بالاحتمال الثاني: فيكون إثبات السماع صحيحاً، ويقدم على نفي الإمام أحمد.
ومما يؤيد عدم سماعه له - في نظري- ما يلي:
1 - شهرة هشيم بالتدليس، وشدته فيه.
قال الإمام أحمد: (التدليس من الريبة - وذكر هشيما - فقال: كان يدلس تدليسا وحشاً، وربما جاء بالحرف الذي لم يسمعه فيذكره في حديث آخر، إذا انقطع الكلام يوصله) (2).
2 - نفي الإمام أحمد للسماع، والإمام رحمه الله من أعلم
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—যিনি হুশাইম থেকে এই সনদে শুধুমাত্র ওযূর অংশটুকু বর্ণনা করেছেন—(হুশাইম এটি আবু হিশাম থেকে শুনেননি) (১)।
আমি আবু উবাইদ, মুহাম্মাদ ইবনুল ফাযল, সাঈদ ইবনে মানসুর এবং নুয়াইম ইবনে হাম্মাদের বর্ণনায় হুশাইমের সরাসরি শ্রবণের (তাহদীস) সুস্পষ্ট উল্লেখ পেয়েছি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সরাসরি শ্রবণের উল্লেখ সাধারণত শ্রবণেরই প্রমাণ দেয়, বিশেষ করে যখন এটি হুশাইমের চারজন ছাত্রের বর্ণনায় এসেছে। এটি ইমাম আহমাদের অস্বীকৃতির ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করার দাবি রাখে। তিনি কি এটি একারণে বলেছিলেন যে তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে হুশাইম এই হাদিসটি শুনেননি, নাকি একারণে যে তিনি হুশাইমের সরাসরি শ্রবণের কোনো বর্ণনা পাননি? যদি প্রথম সম্ভাবনাটি গ্রহণ করা হয়, তবে আমরা নিশ্চিত হব যে সরাসরি শ্রবণের বর্ণনাগুলো ভুল। আর যদি দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি গ্রহণ করা হয়, তবে শ্রবণের বিষয়টি প্রমাণিত হবে এবং তা ইমাম আহমাদের অস্বীকৃতির ওপর প্রাধান্য পাবে।
আমার দৃষ্টিতে, তার না শোনার বিষয়টি যা সমর্থন করে তা হলো নিম্নরূপ:
১ - তাদলীসের (সনদ গোপন করা) ক্ষেত্রে হুশাইমের প্রসিদ্ধি এবং এতে তার চরমপন্থা।
ইমাম আহমাদ বলেছেন: (তাদলীস হলো সংশয়ের উৎস—তিনি হুশাইমের কথা উল্লেখ করে বলেন—সে খুব বাজেভাবে তাদলীস করত; কখনও কখনও সে এমন কোনো শব্দ নিয়ে আসত যা সে শুনেনি এবং তা অন্য হাদিসের মধ্যে ঢুকিয়ে দিত, যখন বক্তব্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত তখন সে তা জোড়া লাগিয়ে দিত) (২)।
২ - ইমাম আহমাদের পক্ষ থেকে শোনার বিষয়টি অস্বীকার করা। আর ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) হলেন সবচেয়ে জ্ঞানী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
الناس بحديث هشيم، وأعرفهم بتدليسه، فهو من أوائل شيوخه، وقد حفظ حديثه كله قبل وفاته (1)، وقد نص الإمام على عدم سماع هشيم في أحاديث كثيرة (2).
3 - وجود شيء من الاختلاف على هشيم في لفظ الحديث يقوي نفي السماع.
4 - مخالفة هشيم في لفظ الحديث لسفيان وشعبة - كما سيأتي - من القرائن التي يستأنس بها في ذلك.
وعليه: فيكون التصريح في بعض الطرق لا يدل على السماع، لا سيما مع النفي الصريح من إمام ناقد كأحمد رحمه الله، إذ يكون التصريح أحيانا خطأ من الراوي، أو تصحيفاً، أو صيغة أداء مطلقة لم يقصد بها المحدث إثبات السماع.
قال ابن رجب رحمه الله: (كثيراً ما يرد التصريح بالسماع، ويكون خطأ .. ، وكان أحمد يستنكر دخول التحديث في كثير من الأسانيد، ويقول: هذا خطأ - يعني: ذكر السماع-
… ، وحينئذ فينبغي التفطن لهذه الأمور، ولا يغتر بمجرد ذكر السماع والتحديث في الأسانيد، فقد ذكر ابن المديني أن شعبة وجدوا له غير شيء يذكر فيه الإخبار عن شيوخه، ويكون منقطعا) (3).
--------------------------------------------
হুশাইমের হাদীস সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি এবং তাঁর তাদলীস সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত; কারণ হুশাইম তাঁর প্রথম দিকের উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাঁর মৃত্যুর পূর্বেই তাঁর সকল হাদীস মুখস্থ করেছিলেন (১)। ইমাম (আহমাদ) অনেক হাদীসের ক্ষেত্রে হুশাইমের সরাসরি শ্রবণ (সামা) না থাকার ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন (২)।
৩ - হাদীসের শব্দে হুশাইমের বর্ণনায় কিছু মতপার্থক্য থাকা শ্রবণ (সামা) নাকচ করার বিষয়টিকে আরও শক্তিশালী করে।
৪ - হাদীসের শব্দের ক্ষেত্রে সুফিয়ান ও শু'বাহর সাথে হুশাইমের বিরোধিতা—যেমনটি সামনে আসবে—সেসব আলামতের অন্তর্ভুক্ত যা দ্বারা এক্ষেত্রে সাহায্য নেওয়া হয়।
অতএব: কোনো কোনো সূত্রে সরাসরি শ্রবণের (সামা) স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও তা শ্রবণের অকাট্য দলিল নয়, বিশেষত যখন ইমাম আহমাদের (রাহিমাহুল্লাহ) মতো একজন সমালোচক ইমামের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অস্বীকৃতি বিদ্যমান থাকে; কেননা কখনো সরাসরি শ্রবণের উল্লেখ বর্ণনাকারীর ভুল, অথবা শব্দের বিকৃতি (তাসহিফ), কিংবা এটি বর্ণনার এমন এক পদ্ধতি যা দ্বারা মুহাদ্দিস সরাসরি শ্রবণ সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্য করেননি।
ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (অনেক ক্ষেত্রেই সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করা হয় অথচ তা ভুল হয়ে থাকে... ইমাম আহমাদ অনেক সনদে 'তাহদীস' বা সরাসরি শোনার শব্দ প্রবেশ করানোকে প্রত্যাখ্যান করতেন এবং বলতেন: এটি ভুল—অর্থাৎ সরাসরি শোনার উল্লেখ করা—... এমতাবস্থায় এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত, এবং সনদে কেবল সরাসরি শ্রবণ ও বর্ণনার শব্দের উল্লেখ দেখে প্রতারিত হওয়া যাবে না। ইবনুল মাদীনী উল্লেখ করেছেন যে, শু'বাহর ক্ষেত্রেও এমন একাধিক বিষয় পাওয়া গেছে যেখানে তিনি তাঁর উস্তাদদের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের কথা উল্লেখ করেছেন, অথচ সেগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন সনদ বা মুনকাতি) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফী কিরাআতি সুরাতিল কাহফ ইয়াওমাল জুমুআহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وأما الاختلاف على هشيم في متن الحديث.
فقد رواه جمهور أصحابه عنه بلفظ: «من قرأ سورة الكهف يوم الجمعة أضاء له من النور ما بينه وبين البيت العتيق» أو بنحوه، أو معناه.
إلا محمد بن الفضل السدوسي ففي روايته: «ليلة الجمعة» بدل (يوم الجمعة).
ولعل ذلك من أوهام محمد بن الفضل، فإنه قد تغير في آخر حياته، وقد خالف من هم أكثر، وأحفظ منه (1).
ووقع اختلاف آخر في متنه، ففي لفظ نعيم بن حماد: (أضاء له من النور ما بين الجمعتين).
وقد تفرد نعيم بهذا اللفظ من بين سائر الرواة عن هشيم، فجميعهم رووه بلفظ: «ما بينه وبين البيت العتيق» أو بمعناه.
وهذا من مناكير نعيم، فإنه صاحب مناكير، ويخطئ كثيراً، وخالف من هم أضبط منه حفظاً، وأكثر عدداً.
فتلخص من رواية هشيم: أنها موقوفة، ومشكوك في
--------------------------------------------
আর হাদিসের মূল পাঠের (মতন) ক্ষেত্রে হুশাইমের বর্ণনায় যে মতভেদ রয়েছে—
তার অধিকাংশ ছাত্র তার থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য তার এবং বাইতুল আতিকের (কাবা) মধ্যবর্তী স্থান নূর দ্বারা আলোকিত করে দেওয়া হবে» অথবা এর সমজাতীয় বা সমার্থক শব্দে।
তবে মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল আস-সাদুসী এর ব্যতিক্রম; তার বর্ণনায় (জুমার দিনের) পরিবর্তে «জুমার রাত» শব্দ এসেছে।
সম্ভবত এটি মুহাম্মদ ইবনুল ফাদলের বিভ্রান্তি, কারণ জীবনের শেষ দিকে তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল এবং তিনি এমন বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেছেন যারা সংখ্যায় অধিক এবং তার চেয়ে অধিক মুখস্থ শক্তির অধিকারী ছিলেন (১)।
এর মূল পাঠে আরও একটি মতভেদ ঘটেছে; নুয়াইম ইবনে হাম্মাদের শব্দে এসেছে: (তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর দ্বারা আলোকিত হবে)।
হুশাইমের অন্যান্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে নুয়াইম এই শব্দটির বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন, কারণ বাকি সকলে এটি «তার এবং বাইতুল আতিকের মধ্যবর্তী স্থান» শব্দে বা এর সমার্থক শব্দে বর্ণনা করেছেন।
এটি নুয়াইমের প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, কারণ তিনি প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার অধিকারী এবং প্রচুর ভুল করেন। এছাড়াও তিনি এমন ব্যক্তিদের বিরোধিতা করেছেন যারা তার চেয়ে মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অধিক নির্ভরযোগ্য এবং সংখ্যায় অধিক।
সুতরাং হুশাইমের বর্ণনা থেকে এটিই সারসংক্ষেপ দাঁড়ায় যে: এটি মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য) এবং এর শব্দে সংশয় রয়েছে...
--------------------------------------------