(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: -)
الضروري في أصول الفقه = مختصر المستصفى القسم: أصول الفقه
الكتاب: الضروري في أصول الفقه أو مختصر المستصفى
المؤلف: أبو الوليد محمد بن رشد الحفيد (ت 595 هـ)
تقديم وتحقيق: جمال الدين العلوي
تصدير: محمد علال سيناصر
الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1994 م
عدد الصفحات: 146
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুসতাসফা বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)
গ্রন্থ: আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ অথবা মুখতাসারুল মুসতাসফা
লেখক: আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে রুশদ আল-হাফিদ (মৃ. ৫৯৫ হি.)
উপস্থাপনা ও সম্পাদনা: জামাল উদ্দিন আল-আলাউয়ি
মুখবন্ধ: মুহাম্মদ আল্লাল সিনাসার
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৯৯৪ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الضروري في أصول الفقه
أو مختصر المستصفى
لأبي الوليد محمد بن رشد الحفيد المتوفى سنة 595هـ
تقديم وتحقيق جمال الدين العلوي
دار الغرب الإسلامي
بيروت الطبعة الأولى 1994
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির (أصول الفقه) অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াদি
অথবা আল-মুস্তাসফার সংক্ষিপ্তসার (مختصر)
৫৯৫ হিজরীতে ইন্তেকালকারী আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে রুশদ আল-হাফিদ-এর রচনা
উপস্থাপনা ও সম্পাদনা (تحقيق): জামাল উদ্দিন আল-আলাভি
দার আল-গারব আল-ইসলামি
বৈরুত, প্রথম সংস্করণ ১৯৯৪
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
مقدمة التحقيق 1- أما بعد حمدا لله معلم البيان، وموجب النظر والإستدلال، ومختص الإنسان بإقامة الحجج البالغة وضرب الأمثال، والصلاة على محمد خاتم الرسل ونهاية التمام والكمال فإن غرضي في هذا الكتاب أن أثبت على جهة التذكرة، من كتاب أبي حامد رحمه الله في أصول الفقه الملقب بالمستصفى، جملة كافية بحسب الأمر الضروري في هذه الصناعة ونتحرى في ذلك أوجز القول وأخصره ، وما نظن به أنه صناعي. وقبل ذلك فلنقدم مقدمة نافعة في غرض العلم المطلوب ها هنا ، ومنفعته فنقول:
2-إن المعارف والعلوم ثلاثة أصناف (1) :
إما معرفة غايتها الإعتقاد الحاصل عنها في النفس فقط ، كالعلم بحدث العالم ، والقول بالجزء الذي لا يتجزأ وأشباه ذلك.
وإما معرفة غايتها العمل ، وهذه منها كلية وبعيدة في كونها مفيدة للعمل. فالجزئية كالعلم بأحكام الصلاة والزكاة وما أشبههما من جزئيات الفرائض والسنن. والكلية كالعلم بالأصول التي تبنى عليها هذه الفروع من الكتاب والسنة والإجماع. والعلم بالأحكام الحاصلة
--------------------------------------------
সম্পাদনা ভূমিকা ১- আল্লাহর প্রশংসার পর—যিনি বয়ান বা প্রাঞ্জল ভাষার শিক্ষক, যৌক্তিক বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের (النظر والإستدلال) আবশ্যকতা প্রদানকারী, এবং মানুষকে সুদূরপ্রসারী অকাট্য দলিল (الحجج) ও উপমা উপস্থাপনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য দানকারী। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি, যিনি রাসুলদের সমাপ্তি এবং পূর্ণতা ও উৎকর্ষের শেষ সীমা। আমার এই কিতাবের উদ্দেশ্য হলো, আবু হামিদ রহ.-এর উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ক আল-মুস্তাসফা নামক কিতাব থেকে এই শাস্ত্রের অপরিহার্য বিষয়সমূহ নিয়ে একটি পর্যাপ্ত স্মারক সংকলন তৈরি করা। আমি এতে সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ আলোচনা এবং যা এই শাস্ত্রের মৌলিক বিষয় বলে মনে করি, তা অনুসরণের চেষ্টা করব। তার আগে, এখানে উদ্দিষ্ট জ্ঞানের লক্ষ্য ও এর উপকারিতা সম্পর্কে একটি ফলপ্রসূ ভূমিকা পেশ করছি। আমরা বলছি:
২-নিশ্চয়ই জ্ঞান ও বিজ্ঞান তিন প্রকার (১) :
হয় এমন জ্ঞান যার লক্ষ্য কেবল অন্তরে অর্জিত বিশ্বাস, যেমন মহাবিশ্বের নশ্বরতা বিষয়ক জ্ঞান, অবিভাজ্য অণু সংক্রান্ত মতবাদ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।
অথবা এমন জ্ঞান যার লক্ষ্য হলো কর্ম বা আমল। এটি আবার দুই প্রকার: সামগ্রিক (كلية) এবং যা আমলের ক্ষেত্রে দূরবর্তী। আংশিক (جزئية) জ্ঞান হলো যেমন সালাত ও জাকাতের আহকাম এবং এই জাতীয় ফরজ ও সুন্নতের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক জ্ঞান। আর সামগ্রিক (كلية) জ্ঞান হলো সেই মূলনীতিসমূহ (الأصول) সংক্রান্ত জ্ঞান, যার ওপর কুরআন, সুন্নাহ (السنة) এবং ইজমা (الإجماع) থেকে এই শাখা-প্রশাখাসমূহ গড়ে ওঠে। এবং অর্জিত আহকামসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
عن هذه الأصول على الإطلاق وأقسامها ، وما يلحقها من حيث هي أحكام.
وإما معرفة تعطي القوانين والأحوال التي بها يتسدد الذهن نحو الصواب في هاتين المعرفتين ، كالعلم بالدلائل وأقسامها ، وبأي أحوال تكون دلائل وبأيها لا. وفي أي المواضع تستعمل النقلة من الشاهد إلى الغائب وفي أيها لا. وهذه فلنسمها سبارا وقانونا، فإن نسبتها إلى الذهن كنسبة البركار والمسطرة إلى الحس في مالا يؤمن أن يغلط فيه. (1)
3- وبين أن كلما (2) كانت العلوم أكثر تشبعا، والناظرون فيها مضطرون في الوقوف عليها إلى أمور يضطر إليها من تقدمهم، كانت الحاجة فيها على قوانين تحوط أذهانهم عند النظر فيها أكثر. وبين أن الصناعة الموسومة بصناعة الفقه في هذا الزمان وفي ما سلف من لدن وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم وتفرق أصحابه على البلاد واختلاف النقل عنه صلى الله عليه وسلم بهاتين الحالتين، ولذلك لم يحتج الصحابة رضي الله عنهم إلى هذه الصناعة كما لم يحتج الأعراب إلى قوانين تحوطهم في كلامهم ولا في أوزانهم.
--------------------------------------------
এই সকল মূলনীতি (الأصول) এবং এগুলোর প্রকারভেদ ও সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ (أحكام) সম্পর্কে সম্যক ধারণা।
অথবা এমন জ্ঞান যা ঐসব নিয়ম ও অবস্থা প্রদান করে যার মাধ্যমে উপরোক্ত দুই প্রকার জ্ঞানে মস্তিষ্ক সঠিক পথের দিশা পায়। যেমন- প্রমাণসমূহ (الدلائل) ও এগুলোর প্রকারভেদ এবং কোন্ অবস্থায় সেগুলো প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে আর কোন্ অবস্থায় হবে না—সে সম্পর্কে সম্যক অবগতি। এছাড়া দৃশ্যমান বিষয় থেকে অদৃশ্য বিষয়ে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি কোথায় প্রযোজ্য আর কোথায় নয়, সেটিও এর অন্তর্ভুক্ত। আমরা একে মানদণ্ড ও নিয়ম বলতে পারি; কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে এর অবস্থান ঠিক তেমন, যেমনটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে কম্পাস ও স্কেলের অবস্থান, যা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে সুরক্ষা দেয়। (১)
৩- এটা স্পষ্ট যে, জ্ঞান-বিজ্ঞান যত বেশি শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হবে এবং এই শাস্ত্রে সংশ্লিষ্ট গবেষকগণ তা আয়ত্ত করতে তাদের পূর্ববর্তীদের অনুসৃত বিষয়াবলির ওপর যত বেশি নির্ভরশীল হবেন, পর্যালোচনার সময় তাদের চিন্তাশক্তিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নিয়ম-নীতির প্রয়োজনীয়তাও তত বৃদ্ধি পাবে। এটিও স্পষ্ট যে, বর্তমান সময়ের ফিকহ নামক এই শাস্ত্র এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকাল পরবর্তী সময় থেকে সাহাবীগণের বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়া এবং তাঁর থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলোর (النقل) পার্থক্যের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি—এসবই উপরোক্ত অবস্থার সম্মুখীন। এই কারণেই সাহাবীগণ (রা.) এই শাস্ত্রের মুখাপেক্ষী হননি, ঠিক যেমন গ্রাম্য আরবদের তাদের কথাবার্তা কিংবা ছন্দের নির্ভুলতার জন্য কোনো ব্যাকরণিক নিয়মের প্রয়োজন ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
4-وبهذا الذي قلناه ينفهم غرض هذه الصناعة، ويسقط الاعتراض على أهل الصدر المتقدم ناظرين فيها، وإن كنا لا ننكر أنهم كانوا يستعملون قوتها، وأنت تتبين ذلك من فتواهم رضي الله عنهم، بل كثير من المعاني الكلية الموضوعة في هذه الصناعة إنما صححت بالاستقراء من فتواهم مسألة مسألة.
5- فأما أجزاء هذه الصناعة بحسب ما قسمت إليه في هذا الكتاب (1) فأربعة أجزاء: فالجزء الأول يتضمن النظر في الأحكام، والثاني في أصول الأحكام والثالث في الأدلة المستعملة في استنباط حكم حكم عن أصل أصل، وكيف استعمالها. والرابع يتضمن النظر في شروط المجتهد وهو الفقيه.
6- وأنت تعلم مما تقدم من قولنا في غرض هذه الصناعة، وفي أي جنس من أجناس العلوم هي داخلة، أن النظر الخاص بها إنما هو في الجزء الثالث من هذا الكتاب، لأن الأجزاء الأخرى من جنس المعرفة التي غايتها العمل، ولذلك لقّبوا هذه الصناعة باسم بعض ما جعلوه جزءا منها، فدعوها بأصول الفقه. والنظر الصناعي يقتضي أن يفرد القول في هذا الجزء الثالث إذ هو مباين بالجنس لتلك الأجزاء الأخرى. ويقتصر من تلك على أحد أمرين:
-إما أن توضع بحسب أشهر المذاهب فيها، وهو ما يراه مثلا أهل السنة.
--------------------------------------------
4-আমরা যা বলেছি তার মাধ্যমে এই শাস্ত্রের (صناعة) উদ্দেশ্য বোধগম্য হয় এবং যারা এই শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করেছেন সেই অগ্রবর্তী প্রজন্মের (الصدر المتقدم) ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলো অসার প্রমাণিত হয়। যদিও আমরা এ কথা অস্বীকার করি না যে তারা এই শাস্ত্রের অন্তর্নিহিত শক্তি ব্যবহার করতেন; আপনি তাদের ফতোয়াসমূহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বিষয়টি স্পষ্ট দেখতে পাবেন। বরং এই শাস্ত্রে সন্নিবেশিত অনেক সামষ্টিক অর্থ (المعاني الكلية) তাদের ফতোয়া থেকে প্রতিটি মাসআলা অনুযায়ী আরোহ পদ্ধতির (الاستقراء) মাধ্যমেই সংশোধিত ও সাব্যস্ত করা হয়েছে।
5- এই গ্রন্থে (১) এই শাস্ত্রের (صناعة) অংশসমূহ যেভাবে বিভক্ত করা হয়েছে তা মূলত চারটি: প্রথম অংশটি বিধিবিধান (الأحكام) বিষয়ক পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত; দ্বিতীয় অংশটি বিধানের মূলনীতিসমূহ (أصول الأحكام); তৃতীয় অংশটি প্রতিটি মূল উৎস (أصل) থেকে প্রতিটি বিধান (حكم) আহরণ বা উদ্ভাবনের (استنباط) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত দলীলসমূহ (الأدلة) এবং সেগুলোর ব্যবহারের পদ্ধতি সংক্রান্ত; আর চতুর্থ অংশটি মুজতাহিদের (المجتهد) শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করে, যিনি মূলত ফকিহ (الفقيه)।
6- আমাদের পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে, এই শাস্ত্রের (صناعة) উদ্দেশ্য কী এবং এটি কোন ধরনের জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। এর বিশেষ পর্যালোচনা মূলত এই গ্রন্থের তৃতীয় অংশেই নিহিত, কারণ অন্যান্য অংশগুলো এমন এক প্রকার জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আমল। এই কারণেই তারা এই শাস্ত্রকে তার একটি অংশের নাম অনুসারে নামকরণ করেছেন এবং একে উসূল আল-ফিকহ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পদ্ধতিগত পর্যালোচনার (النظر الصناعي) দাবি হলো এই তৃতীয় অংশটিকে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করা, যেহেতু এটি প্রকৃতিগতভাবে অন্য অংশগুলো থেকে ভিন্নতর। আর সেই অংশগুলোর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত দুটি বিষয়ের যেকোনো একটিতে সীমাবদ্ধ থাকা যায়:
-হয় বিষয়গুলো এই শাস্ত্রের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মাযহাবগুলোর (مذاهب) আলোকে উপস্থাপিত হবে, যেমনটি উদাহরণস্বরূপ আহলে সুন্নাহ মনে করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وإما أن يرسم ويعدد الاختلاف الواقع فيها، وتعطى الأحوال والقوانين التي بها تستنبط الأحكام بحسب رأي رأي في تلك الأصول.
وبالجملة كيف لزوم بعض تلك الآراء فيها عن بعض، ومناسبتها للفروع، حتى يقال مثلا كيف يكون الاستنباط على رأي الظاهرية وعلى رأي القائلين بالقياس. وبالجملة بحسب رأي رأي من الآراء المشهورة. وهذا الوجه هو الأنفع في هذه الصناعة، وبهذا النظر يكون لهذا الجنس من المعارف صناعة تامة وكلية وكافية في نظر الجميع من أهل الاجتهاد.
7-لكن رأينا أن نجري في ذلك على عادة المتكلمين في هذه الصناعة، ونتحرى في تقسيمها الترتيب الواقع في هذا الكتاب (1) ، إذ هو أحسنها نظرا وأحرى أن يكون صناعيا، غير أننا سنشير إلى شيء من ذلك الغرض.
8-ومما تقدم من قولنا يتبين غرض هذا الكتاب، ونسبته إلى سائر العلوم، ومرتبته، وما يدل عليه اسمه، وأقسامه. وهي الجمل النافع تقديمها للمتعلم عند شروعه في الصناعة. ولنبدأ من حيث بدأ.
9- وأبو حامد قدم قبل ذلك مقدمة منطقية زعم أنه أداه إلى القول في ذلك نظر المتكلمين في هذه الصناعة في أمور ما منطقية، كنظرهم في حد العلم وغير ذلك. ونحن فلنترك كل شيء إلى موضعه، فإن من رام
--------------------------------------------
অথবা এতে বিদ্যমান মতপার্থক্যসমূহ চিত্রিত ও গণনা করা হবে, এবং সেই মূলনীতিগুলোর (الأصول) ক্ষেত্রে প্রতিটি স্বতন্ত্র মতামতের ভিত্তিতে বিধানসমূহ (الأحكام) আহরণের (استنباط) জন্য অবস্থা ও নিয়মাবলি প্রদান করা হবে।
সারকথা হলো, সেগুলোর মাঝে কীভাবে একটি মত অন্যটি থেকে অবধারিত হয় এবং শাখা-প্রশাখার (الفروع) সাথে সেগুলোর সামঞ্জস্য কেমন, এমনকি উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে—জহিরিয়া মতবাদ এবং কিয়াস (القياس) প্রবক্তাদের মত অনুযায়ী বিধান আহরণ (الاستنباط) প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে। মোটের ওপর, প্রসিদ্ধ মতামতগুলোর মধ্য হতে প্রতিটি মতামতের প্রেক্ষিতে। আর এই পদ্ধতিটিই এ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে অধিকতর উপকারী, এবং এই দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই এ জাতীয় জ্ঞান ইজতিহাদকারী (الاجتهاد) সকল আলেমের দৃষ্টিতে একটি পূর্ণাঙ্গ, সামগ্রিক ও পর্যাপ্ত শাস্ত্রে পরিণত হয়।
7-তবে আমরা এ বিষয়ে এই শাস্ত্রের কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) চিরাচরিত প্রথা অনুসরণ করার এবং এর শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে এই কিতাবে (১) বিদ্যমান বিন্যাস পদ্ধতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; কারণ এটি পর্যালোচনার দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দর এবং শাস্ত্রীয় মানদণ্ডে অধিকতর উপযুক্ত। তবে আমরা সেই উদ্দেশ্যের কিছু বিষয়ের প্রতি সামান্য ইঙ্গিত প্রদান করব।
8-আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনা হতে এই কিতাবের উদ্দেশ্য, অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক, এর মর্যাদা, এর নাম যা নির্দেশ করে এবং এর বিভাগসমূহ স্পষ্ট হয়ে যায়। এগুলো এমন কিছু উপকারী সারসংক্ষেপ, যা কোনো শিক্ষার্থীর জন্য এই শাস্ত্র শুরু করার প্রাক্কালে জেনে নেওয়া অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আর লেখক যেখান থেকে শুরু করেছেন, চলুন আমরাও সেখান থেকেই শুরু করি।
9- আর আবু হামিদ এর আগে একটি যুক্তিবিদ্যার (منطقية) ভূমিকা পেশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই শাস্ত্রের কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) কতিপয় যুক্তিবিদ্যার (منطقية) বিষয়ে পর্যালোচনাই তাকে সেই আলোচনার দিকে ধাবিত করেছে; যেমন—জ্ঞানের সংজ্ঞা (حد) এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। আর আমরা প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযোগ্য স্থানেই বর্ণনা করব; কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
أن يتعلم أشياء أكثر من واحد في وقت واحد لم يمكنه أن يتعلم ولا واحدا منها (1) .
--------------------------------------------
একই সাথে একাধিক বিষয় শিখতে গেলে তার পক্ষে এর একটিও শেখা সম্ভব হয় না (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
القول في الجزء الأول من هذا الكتاب
এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ড (الجزء) সংক্রান্ত আলোচনা
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
صفحة فارغة في الأصل
মূলত এই পৃষ্ঠাটি শূন্য ছিল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
10-وهذا الجزء الأول ينقسم إلى أربعة أقسام: وهي النظر في حد الحكم ،وفي أقسامه ،وفي أركانه، وفي مظهره.
القسم الأول11 - أما حد الحكم عند أهل السنة (1) فهو عبارة عن خطاب الشرع إذا تعلق بأفعال المكلفين بطلب أو ترك فإذا لم يرد هذا الخطاب لم تتعلق بالأفعال صفة تحسين أو تقبيح، فيكون الحسن والقبح على هذا ليس وصفا ذاتيا للأفعال. وذهبت المعتزلة إلى أن الحسن والقبيح وصف ذاتي للأفعال، فبعض ذلك مدرك بضرورة العقل كالكذب وشكر المنعم، وبعضه بانضمام الشرع كالطهارة والصلاة لما فيهما مثلا من اللفظ المانع من الفحشاء ومن النظافة. وفائدة معرفة هذا الاختلاف في هذه الصناعة تتصور عند النظر في القياس المناسب والمخيل وجميع أنواعه، وعند النظر في تصويب المجتهدين وتخطئتهم. أما أهل السنة فحجتهم أن الحسن والقبيح يطلق في عرف المتكلمين على معان.
أولها وأشهرها ما يوافق غرض المستحسن أو يخالفه. حتى يستحسن سمرة اللون مثلا واحد ويستقبحها آخر. وهذا أمر إضافى لا كالسواد والبياض الموجودين للأشياء بذاتها.
والثاني ما حسنه الشرع أو قبحه.
والثالث من معاني الحسن ما كان للإنسان مباحا فعله. وكل هذه أوصاف إضافية لا ذاتية. ومعنى ذلك أن ليس للحسن والقبح وجود
--------------------------------------------
10-এই প্রথম অংশটি চারটি ভাগে বিভক্ত: আর সেগুলো হলো হুকুমের সংজ্ঞা (حد الحكم), এর প্রকারভেদ, এর রুকনসমূহ এবং এর বহিঃপ্রকাশ সম্পর্কিত আলোচনা।
প্রথম পরিচ্ছেদ11 - আহলে সুন্নাতের মতে হুকুমের সংজ্ঞা (حد الحكم) হলো (১): এটি মূলত শারঈ সম্বোধন, যা মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের কাজের সাথে কোনো কিছু করা বা বর্জনের দাবির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হয়। সুতরাং যখন এই সম্বোধনটি আসেনি, তখন কর্মের সাথে সৌন্দর্য বা ভালো সাব্যস্তকরণ (تحسين) এবং কদর্য বা মন্দ সাব্যস্তকরণ (تقبيح) সংক্রান্ত কোনো বৈশিষ্ট্য সংশ্লিষ্ট হয়নি। অতএব, এমতাবস্থায় ভালো ও মন্দ লাগা কোনো কাজের নিজস্ব সত্ত্বাগত বৈশিষ্ট্য নয়। পক্ষান্তরে মুতাযিলাদের অভিমত হলো, ভালো ও মন্দ লাগা কাজের একটি সত্ত্বাগত গুণ; এর কিছু অংশ বিবেক দ্বারা অনিবার্যভাবে অনুধাবন করা যায়, যেমন মিথ্যা বলা (মন্দ হওয়া) এবং নিয়ামত দাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা (ভালো হওয়া)। আর কিছু অংশ শরীয়তের বিধান যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে জানা যায়, যেমন পবিত্রতা অর্জন ও সালাত; কারণ এগুলোর মধ্যে অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখার মতো বাচনভঙ্গি এবং পরিচ্ছন্নতা বিদ্যমান। এই জ্ঞানের ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের উপকারিতা বা উপযোগিতা উপযুক্ত ও কাল্পনিক কিয়াস (القياس) এবং এর সকল প্রকারের আলোচনার সময় অনুভূত হয়, এছাড়া মুজতাহিদদের সঠিক সাব্যস্ত করা বা ভুল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর। আহলে সুন্নাতের যুক্তি হলো, মুতাকাল্লিমদের পরিভাষায় 'হুসন' (সৌন্দর্য) ও 'কুবহ' (কদর্য) শব্দ দুটি বেশ কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়।
এর প্রথম এবং সর্বাধিক প্রসিদ্ধ অর্থ হলো যা কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এমনকি কেউ শ্যামল বর্ণকে সুন্দর মনে করতে পারে আবার অন্য কেউ তা অপছন্দ করতে পারে। এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়, কালো বা সাদার মতো নয় যা বস্তুর নিজস্ব সত্ত্বাগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান।
দ্বিতীয় অর্থ হলো, যা শরীয়ত সৌন্দর্য (ভালো) সাব্যস্ত করেছে (حسنه) অথবা মন্দ সাব্যস্ত করেছে (قبحه)।
সুন্দরের তৃতীয় অর্থ হলো, মানুষের জন্য যা করা বৈধ (مباح)। এগুলো সবই আপেক্ষিক বৈশিষ্ট্য, সত্ত্বাগত নয়। এর অর্থ হলো, ভালো ও মন্দের কোনো সত্ত্বাগত অস্তিত্ব নেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
خارج العين.
12ـ وأما المعتزلة فاستدلوا على أن الحسن والقبح وصف ذاتي للأشياء باتفاق العقل على القول بهما من غير إضافة كحسن الصدق وقبح الكذب، وبالجملة من حيث هذه القضايا مشهورة ومتفق عليها. وظاهر أن الأمور المعقولة قد يلحقها أن تكون مشهورة، وأن ذلك غير منعكس.
13ـ والقول في هذه المسألة ليس من هذا العلم الذي نحن بسبيله. ويشبه ألا يكون في واحد من هذين القولين كفاية في الوقوف على هذه المسألة. وقد احتجت المعتزلة على أن مدرك الوجوب في بعض الأمور بالعقل كشكر المنعم وغير ذلك، فإن حصرها في الشرع يفضي إلى إفحام الرسل عند دعائهم إلى النظر، لأنا ما لم نعلم وجوب النظر لم ننظر، وما لم ننظر لم نتحقق دعوى الشارع فيما دعا إليه، وما لم نتحقق دعواه فلا سبيل إلى الإيمان بما دعا إليه سواء كان المدعو إليه، في نفسه حقا أو لم يكن لا سبيل لنا على هذا الوجه إلى حصول العلم به.
14ـ وقد ألزم المتكلمون المعتزلة في كون مدرك وجوب النظر عقلا شكا ما، وهو أن وجوب النظر إن كان مدركا عقلا فلا يخلو أن يكون ذلك ضرورة أو اكتسابا، فإن كان (1) ضرورة لم يغفل أحد عن علم الله، وإن كان مكتسبا بنظر انعكس عليهم القول في مدرك وجوب النظر في دعوى الشرع، وذلك إلى غير نهاية.
15ـ والذي ينبغي عندي أن يقال في هذا الموضع فهو أن التصديق
--------------------------------------------
خارج العين.
12ـ পক্ষান্তরে মুতাযিলাগণ এই বিষয়ের স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন যে, ভালো বা সৌন্দর্য (حسن) এবং মন্দ বা কুৎসিত হওয়া (قبح) বস্তুর একটি সত্তাগত বৈশিষ্ট্য। কেননা বুদ্ধি কোনো অতিরিক্ত কারণ ছাড়াই এই দুই বিষয়ের প্রবক্তা হওয়ার ব্যাপারে একমত, যেমন সত্যের ভালোত্ব (حسن) এবং মিথ্যার মন্দ হওয়া (قبح)। সারকথা হলো, এই বিষয়গুলো প্রসিদ্ধ ও সর্বসম্মত। এটি সুস্পষ্ট যে, বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ কখনো প্রসিদ্ধ হওয়ার গুণ লাভ করতে পারে, তবে সব প্রসিদ্ধ বিষয়ই যে বুদ্ধিবৃত্তিক হবে এমনটি জরুরি নয়।
13ـ এই মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করা আমাদের বর্তমান শাস্ত্রের উদ্দেশ্য নয়। সম্ভবত এই মাসআলাটি অনুধাবনের ক্ষেত্রে উক্ত দুটি মতের কোনোটিই যথেষ্ট নয়। মুতাযিলাগণ দলিল পেশ করেছেন যে, কিছু বিষয়ের আবশ্যকতা বা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার উৎস হলো বুদ্ধি; যেমন—নেয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ইত্যাদি। কারণ, এই আবশ্যকতাকে কেবল শরয়ি (شرعي) প্রমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে তা রাসুলগণ যখন চিন্তাগবেষণার (نظر) আহ্বান জানাবেন, তখন তাঁদেরকে নিরুত্তর করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। কেননা, যতক্ষণ আমরা চিন্তাগবেষণার (نظر) আবশ্যকতা সম্পর্কে না জানব, ততক্ষণ আমরা চিন্তাগবেষণা করব না। আর যতক্ষণ আমরা চিন্তাগবেষণা (نظر) না করব, ততক্ষণ শারে' (শারিয়াত প্রণেতা) যা কিছুর দাওয়াত দিচ্ছেন, তাঁর সেই দাবির সত্যতা আমরা যাচাই করতে পারব না। আর যতক্ষণ তাঁর দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে না পারব, ততক্ষণ তাঁর দাওয়াতকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান আনার কোনো পথ থাকবে না—চাই সেই দাওয়াতকৃত বিষয়টি স্বয়ং সত্য হোক বা না হোক, এই পদ্ধতিতে তা জানার কোনো পথ আমাদের থাকবে না।
14ـ মুতাকাল্লিমগণ চিন্তাগবেষণার (نظر) আবশ্যকতা বুদ্ধিনির্ভর হওয়ার ব্যাপারে মুতাযিলাদের একটি সংশয়ে ফেলেছেন। তা হলো—চিন্তাগবেষণার (نظر) আবশ্যকতা যদি বুদ্ধিনির্ভর হয়, তবে তা হয় অবশম্ভাবী (ضرورة) হবে নতুবা অর্জিত (اكتساب) হবে। যদি তা অবশম্ভাবী (ضرورة) হয়, তবে কেউই আল্লাহর জ্ঞান থেকে বিমুখ বা উদাসীন থাকত না। আর যদি তা চিন্তাগবেষণার (نظر) মাধ্যমে অর্জিত (اكتساب) হয়, তবে শরয়ি দাবির ক্ষেত্রে চিন্তাগবেষণার (نظر) আবশ্যকতা নির্ণয়ের বিষয়টি তাঁদের বিপক্ষেই যাবে, আর এটি অসীম পর্যন্ত চলতে থাকবে।
15ـ আমার মতে এই ক্ষেত্রে যা বলা উচিত তা হলো, সত্যায়ন (تصديق)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بدعوى الشارع عند ظهور المعجزة وفق دعواه هو من جنس المعارف الضرورية، وأن التصديق يقع بمشاهدة ذلك اضطرارا أو بوجودها تواترا، وإنما يتصور وجوب النظر أو لا وجوبه في معرفته بنظر واستدلال. وتكلف ما سوى هذا من القول في هذا الموضع تشويش للعقائد أو عناء. ولو أن واحدا واحدا من المدعوين للشرع تكلف مثل هذه الشكوك عند النظر فيما دعا إليه الشرع لكان إيمان كثير من الناس مما لا يقع، ولو وقع لكان في النادر. وبالجملة فكأن يكون دعاء الله الناس إلى الإيمان بالشرع بمثل هذه الطرق في حق الأكثر من باب تكليف ما لا يطاق. وليس يلزم من كون المعرفة بذلك ضرورية ألا ينفك عن الإقرار بها أحد، فإنه كما أنه ليس من شرط المتفق عليه أن (1) يكون ضروريا كذلك ليس من شرط الضروري أن يكون متفقا عليه. وهذا كله ليس من هذا العلم (2) .
16ـ أما من ذهب من المعتزلة إلى أن الأفعال قبل ورود الشرع على الإباحة فإنما أرادوا بذلك ما لا يقضي العقل فيه بحسن ولا قبح. ومن قال منهم أنها على الوقف فأراهم رأوا ذلك فيما لا يدرك من الأفعال الحسن والقبح فيه إلا بانضمام الشرع إلى العقل، كما تقدم من آرائهم.
وأما من قال من الناس إنها قبل ورود الشرع على الحظر فقول لا معنى له، وهو بين السقوط بنفسه (3) .
--------------------------------------------
বিধানদাতার (الشارع) দাবি অনুযায়ী যখন তাঁর দাবির সপক্ষে কোনো মুজিজা (المعجزة) প্রকাশ পায়, তখন তা স্বীকার করে নেওয়া ‘আবশ্যিক জ্ঞান’ (المعارف الضرورية)-এর অন্তর্ভুক্ত। আর এই সত্যয়ন (التصديق) ঘটে সেই বিষয়টি সরাসরি প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে অবধারিতভাবে (اضطرارا) অথবা ধারাবাহিকভাবে (تواترا) তার অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকার কারণে। এমতাবস্থায় কেবল সেই জ্ঞানটি অর্জনে পর্যবেক্ষণ (النظر) এবং যুক্তিপ্রমাণের (الاستدلال) আবশ্যকতা বা অনাবশ্যকতা নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে। এছাড়া এই বিষয়ে অন্য কোনো মতের অবতারণা করা মূলত আকিদাহর ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা অনর্থক শ্রম ব্যয় মাত্র। যদি শরিয়তের দিকে আমন্ত্রিত প্রতিটি ব্যক্তি শরিয়তের দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই ধরণের সংশয় পোষণ করত, তবে অধিকাংশ মানুষের ঈমান আনয়ন সম্ভব হতো না, আর ঘটলেও তা হতো অতি বিরল। মোটের ওপর, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এই ধরণের পন্থায় আল্লাহ কর্তৃক মানুষকে ঈমানের প্রতি আহ্বান জানানো ‘অসাধ্য সাধনের নির্দেশ’ (تكليف ما لا يطاق) দেওয়ার নামান্তর। কোনো বিষয় ‘আবশ্যিক’ (الضروري) হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তা স্বীকার করে নেওয়া থেকে কেউ বিমুখ হবে না; কারণ কোনো বিষয় ‘সর্বসম্মত’ (المتفق عليه) হওয়ার জন্য যেমন সেটি আবশ্যিক (الضروري) হওয়া শর্ত নয়, তেমনি কোনো বিষয় আবশ্যিক হওয়ার জন্যও সেটি সর্বসম্মত হওয়া শর্ত নয়। আর এই সব কিছু অত্র শাস্ত্রের (العلم) বিষয়ীভূত নয়।
১৬— মুতাজিলাদের মধ্যে যারা মনে করেন যে, শরিয়ত আসার পূর্বে কর্মসমূহ ‘বৈধতা’ (الإباحة)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত, তারা এর মাধ্যমে কেবল সেই সব বিষয়কে বুঝিয়েছেন যেগুলোর ভালো বা মন্দের (الحسن والقبح) ফয়সালা করার সামর্থ্য বিবেকের নেই। আর তাদের মধ্যে যারা মনে করেন যে এগুলো ‘স্থগিতকরণ’ (الوقف) অবস্থায় রয়েছে, আমার মতে তারা এমন সব কর্মের কথা বলছেন যেগুলোর ভালো বা মন্দ হওয়া শরিয়তের সমন্বয় ছাড়া শুধু বিবেকের মাধ্যমে অনুধাবন করা সম্ভব নয়, যা ইতিপূর্বে তাদের মতবাদ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
আর যারা মনে করেন শরিয়ত আসার আগে কর্মসমূহ ‘নিষিদ্ধতা’ (الحظر)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাদের এই কথার কোনো অর্থ নেই এবং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অসার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
القول في القسم الثاني من الجزء الأول17ـ وهو يتضمن النظر في أقسام الأحكام وحدودها ومسائل تلحقها فنقول:
إن الحكم، وهوالذي تقدم رسمه، ينقسم إلى طلب وترك أو تخيير فيهما وهو المسمى مباحا. والطلب ينقسم إلى واجب وندب، والترك ينقسم إلى محظور ومكروه.
وحد الواجب أنه ما ورد خطاب الشرع بترجيح فعله مع توعد بالعقاب على تركه من حيث هو ترك له بإطلاق، وإنما زدنا في الحد قولنا: مع توعد بالعقاب على تركه، لأن الواجب على مذهب أهل السنة لا يتصور دون الضرر أو النفع، وزيادتنا فيه أيضا: من حيث هو ترك له بإطلاق، تحفظا من الواجب المخير.
والتوعد بالعقاب ربما ورد قطعا وربما ورد ظنا. وأصحاب أبي حنيفة يخصون الأول باسم الفرض والثاني باسم الواجب، ولا مشاحة في الأسماء إذا فهمت المعاني. وحد الندب أنه المرجح فعله من غير توعد بالعقاب على تركه. ومن حد الواجب نقف على حد المحظور لأنه مقابله، وكذلك من حد الندب نقف على حد المكروه. وحد المباح ما دل الشرع على التسوية بين فعله وتركه، وذلك إما أن يرد الخطاب بالتخيير فيهما، أو برفع الحرج عنهما أو يدل دليل العقل أنه على البراءة الأصلية بعدم الدليل الشرعي على تعلق حكم به، على ما سيأتي بعد.
فصل:18- والواجب ينقسم إلى معين وإلى مخير بين أقسام محدودة، وذلك إما في الفعل وإما في الزمان. ويسمون الغير معين الفعل بين أقسام
প্রথম খণ্ডের দ্বিতীয় ভাগের আলোচনা১৭- এটি বিধানের (আহকাম) প্রকারভেদ, সেগুলোর সংজ্ঞা এবং তৎসংশ্লিষ্ট মাসআলাসমূহ পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত। আমরা বলব:
হুকুম বা বিধান, যার সংজ্ঞা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তা তলব বা দাবি (طلب) ও বর্জন (ترك) অথবা উভয়টির মধ্যে নির্বাচনের অবকাশ প্রদানের ভিত্তিতে বিভক্ত; আর শেষোক্তটিকে বৈধ (مباح) বলা হয়। দাবি (طلب) আবার আবশ্যক (واجب) এবং পছন্দনীয় (ندب) —এই দুই ভাগে বিভক্ত। বর্জন (ترك) আবার নিষিদ্ধ (محظور) এবং অপছন্দনীয় (مكروه) —এই দুই ভাগে বিভক্ত।
আবশ্যক (واجب)-এর সংজ্ঞা হলো: এটি এমন বিষয় যার কাজটিকে শরীয়তের সম্বোধনে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং তা বর্জনের কারণে শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এই দিক থেকে যে, এটি নিঃশর্তভাবে বর্জন। আমরা সংজ্ঞায় "তা বর্জনের কারণে শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে" কথাটি এ কারণে বৃদ্ধি করেছি যে, আহলে সুন্নাতের মাযহাব অনুযায়ী ক্ষতি বা উপকার ব্যতিরেকে আবশ্যক (واجب)-এর ধারণা করা সম্ভব নয়। আমরা এতে "নিঃশর্তভাবে বর্জন" কথাটিও যুক্ত করেছি ঐচ্ছিক আবশ্যক (الواجب المخير) থেকে পৃথক রাখার জন্য।
শাস্তির হুঁশিয়ারি কখনও অকাট্যভাবে (قطعاً) আসে, আবার কখনও ধারণাপ্রসূতভাবে (ظناً) আসে। ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ প্রথমটিকে ফরজ (فرض) নামে এবং দ্বিতীয়টিকে আবশ্যক (واجب) নামে বিশেষায়িত করেন। আর যখন অর্থ অনুধাবন করা যায়, তখন পরিভাষার ব্যবহারে কোনো বিতর্ক থাকে না। পছন্দনীয় (ندب)-এর সংজ্ঞা হলো: এটি এমন বিষয় যার কাজটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তবে তা বর্জনের কারণে শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়নি। আবশ্যক (واجب)-এর সংজ্ঞা থেকে আমরা নিষিদ্ধ (محظور)-এর সংজ্ঞা জানতে পারি, কারণ এটি তার বিপরীত। অনুরূপভাবে, পছন্দনীয় (ندب)-এর সংজ্ঞা থেকে আমরা অপছন্দনীয় (مكروه)-এর সংজ্ঞা অবগত হতে পারি। বৈধ (مباح)-এর সংজ্ঞা হলো: যার কাজ করা ও না করার মধ্যে শরীয়ত সমতা নির্দেশ করেছে। এটি হয় উভয়টির মধ্যে পছন্দের অবকাশ সম্বলিত সম্বোধনের মাধ্যমে আসবে, অথবা উভয়টি থেকে কঠোরতা বা গুনাহ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে, অথবা বিবেকজাত দলিল নির্দেশ করবে যে, এর সাথে কোনো শরয়ি বিধান সংশ্লিষ্ট না থাকায় এটি মৌলিক দায়মুক্তি (البراءة الأصلية)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা পরবর্তীতে বিস্তারিত আসবে।
পরিচ্ছেদ:১৮- আবশ্যক (واجب) দুই ভাগে বিভক্ত: নির্দিষ্ট এবং সীমিত কিছু প্রকারের মধ্যে ঐচ্ছিক। আর এটি হয় কর্মের ক্ষেত্রে অথবা সময়ের ক্ষেত্রে। তারা কর্মের ক্ষেত্রে অনির্দিষ্ট বিষয়কে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করেন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
محدودة الواجب المخير، والغير معين الزمان الواجب الموسع (1)
19- وقد أنكرت المعتزلة جواز مثل هذا الواجب عقلا ووقوعه شرعا، وقالوا إن كانت الخصال الثلاث في الكفارة مستوية في الصفة بالإضافة إلى صلاح العبد، فينبغي أن يوجب الجميع لتساويها في صلاح العبد، وهذا مبني على رأيهم في الصلاح والأصلح. وأيضا فلو سلمت لهم هذه القاعدة للزمهم نقيض ما وضعوا، وهو أنه إذا كان كل واحد منهما مساويا لصاحبه في وقوع الصلاح به فاستعمال جميعها عبث، وكذلك استعمال واحدة منها على التعيين، وهم لا يجوزون مثل هذا على الله، وكأنهم لم يتحفظوا بأصولهم في هذه المسألة، واحتجوا أيضا بأن علم الله متعلق بالذي يأتي العبد منها فهو متعين ضرورة في نفسه، ولا يتصور في هذا تخيير.
20- والكلام في هذه المسألة ليس من هذا العلم الذي نحن بسبيله، بل يكفي من ذلك ههنا أن نقول: إن وقوع مثل هذا شرعا موجود كخصال الكفارة، وانعقاد الإجماع على اتباع
أوقات أكثر الصلوات. والذي أنكرت المعتزلة يلزمهم مثل ذلك في المباح، وبالجملة يلحق هذا الاعتراض الممكن بما هو ممكن.
21-وقد دفع بعض الفقهاء تسمية مثل هذا واجبا، وقالوا إنما يتصف بالوجوب في الزمان آخر الوقت، إذ فيه يقع العقاب على ترك إيقاع الصلاة فيه. ومثل هذا الاعتراض يلحق الواجب المخير، إلا أن
--------------------------------------------
পছন্দনীয় ওয়াজিব (الواجب المخير) এর সীমাবদ্ধতা এবং অনির্ধারিত সময়ের প্রশস্ত ওয়াজিব (الواجب الموسع) (১)
১৯- মুতাজিলা (المعتزلة) সম্প্রদায় যুক্তির নিরিখে এই ধরণের ওয়াজিবের (الواجب) বৈধতা এবং শরয়িভাবে (شرعا) এর বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, কাফফারার (الكفارة) তিনটি পদ্ধতি যদি বান্দার কল্যাণের (الصلاح) বিচারে সমপর্যায়ের হয়, তবে বান্দার কল্যাণে এদের সমতার কারণে সবকটিই ওয়াজিব (الواجب) হওয়া আবশ্যক; আর এটি কল্যাণ (الصلاح) এবং সর্বোত্তম (الأصلح) সংক্রান্ত তাদের বিশেষ মতবাদের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। এছাড়া যদি তাদের এই মূলনীতি মেনে নেওয়া হয়, তবে এটি তাদেরই উপস্থাপিত বিষয়ের বিপরীত ফলাফল লাভে বাধ্য করবে। আর তা হলো: যদি প্রতিটি বিষয় কল্যাণ (الصلاح) সাধনের ক্ষেত্রে একে অপরের সমান হয়, তবে সবকটির একত্র ব্যবহার নিরর্থক, ঠিক একইভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কেবল একটির ব্যবহারও নিরর্থক। অথচ তারা আল্লাহর ক্ষেত্রে এমন বিষয়কে জায়েজ মনে করে না। মনে হয় তারা এই মাসআলার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব মূলনীতিগুলো রক্ষা করতে পারেনি। তারা আরও যুক্তি দিয়েছে যে, বান্দা এর মধ্য থেকে যা পালন করবে, আল্লাহর জ্ঞান যেহেতু তার সাথে সম্পৃক্ত, তাই তা সত্তাগতভাবেই সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক। এমতাবস্থায় পছন্দের (تخيير) কোনো অবকাশ কল্পনা করা যায় না।
২০- এই মাসআলা নিয়ে আলোচনা আমাদের বর্তমান শাস্ত্রের প্রতিপাদ্য বিষয় নয়। বরং এখানে এটুকুই বলা যথেষ্ট যে: শরয়িভাবে (شرعا) এর অস্তিত্ব বিদ্যমান, যেমন কাফফারার (الكفارة) বিভিন্ন পদ্ধতি এবং অধিকাংশ সালাতের ওয়াক্ত বা সময় অনুসরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ঐক্যমত (الإجماع)। মুতাজিলাগণ যা অস্বীকার করেছে, বৈধ (المباح) বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাদের অনুরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। মোদ্দাকথা হলো, এই আপত্তি যা সম্ভবপর তার সাথে সম্ভাব্য বিষয় হিসেবেই যুক্ত হয়।
২১- কিছু ফকিহ (الفقهاء) এই ধরণের বিষয়কে ওয়াজিব (الواجب) হিসেবে নামকরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সময়ের শেষাংশেই কেবল এটি ওয়াজিব (الوجوب) হিসেবে বিশেষিত হয়; কেননা সেই সময়ে সালাত আদায় না করলে শাস্তির বিধান কার্যকর হয়। এই ধরণের আপত্তি পছন্দনীয় ওয়াজিব (الواجب المخير) এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
تعدم الخصلتان فحينئذ يتصور وجوب الثالثة. والذي ينبغي أن يقال في مثل هذا أنه يشبه الوجوب من جهة، والندب من أخرى. أما شبهه للوجوب فلأنه يرتفع الفرض بالصلاة في أول الوقت، وأما شبهه بالندب فما ذكر في الاعتراض.
22-وهذه المنازعة لفظية، ولذلك سمي الواجب الموسع، وهو أيضا يفارق الندب من جهة أن تركه إنما يكون بشرط العزم على إتيانه مع الذكر، إذ كان اعتقاد الترك مطلقا حراما.
فصل:23-وكذلك اختلفوا فيما لا يتم الواجب إلا به هل يسمى واجبا. ووجه القول فيه أن هذا ينقسم إلى ما ليس للعبد في فعله اختيار كالقدرة على المشي مثلا، فهذا لا يوصف بالوجوب بل هو من شرط تكليف الوجوب، أو إلى ما للعبد في فعله اختيار، وهذا فينبغي أن يتصف بالوجوب كالطهارة المشترطة في الصلاة. وكأن وجوب مثل هذا إنما هو من أجل غيره لا من أجل ذاته، فتنشأ ههنا قسمة أخرى للواجب وهو أن منه ما هو واجب من أجل غيره ومنه ما هو واجب بذاته. والواجب أيضا ينقسم إلى ما يتقدر بقدر محدود وإلى ما لا يتقدر بقدر محدود، كمسح الرأس والطمأنينة في الركوع، والواجب من هذا هو أقل ما ينطلق عليه الإسم ويبقى الباقي ندبا ،وهذا إنما يتصور فيما وقع من الأفعال متتابعا أو متشافعا ،وبالجملة ما لم تقع أجزاؤه معا.
24-فهذا هو القول في تحديد أنواع الأحكام وتقسيمها ،وقد بقي القول في مسائل كلية تلحقها.
যখন দুটি গুণের অনুপস্থিতি ঘটে, তখন তৃতীয়টির ওয়াজিব (وجوب) হওয়া কল্পনা করা যায়। এই জাতীয় ক্ষেত্রে যা বলা উচিত তা হলো, এটি একদিক থেকে ওয়াজিবের (وجوب) সাথে সদৃশ এবং অন্যদিক থেকে মুস্তাহাবের (ندب) সাথে সদৃশ। ওয়াজিবের (وجوب) সাথে এর সাদৃশ্য এই কারণে যে, ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করার মাধ্যমে ফরয (فرض) আদায় হয়ে যায়; আর মুস্তাহাবের (ندب) সাথে সাদৃশ্যের কারণটি আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
22-এই বিতর্কটি শাব্দিক (لفظية), আর এই কারণেই একে প্রশস্ত ওয়াজিব (الواجب الموسع) বলা হয়। এটি মুস্তাহাব (الندب) থেকে এই দিক থেকেও পৃথক যে, এটি পরিত্যাগ করা কেবল তখনই সম্ভব যখন তা পালনের দৃঢ় সংকল্প (عزم) থাকে এবং তা স্মরণে থাকে, কেননা পালনের বাধ্যবাধকতাকে পুরোপুরি বর্জন করার বিশ্বাস পোষণ করা হারাম (حرام)।
পরিচ্ছেদ (فصل):23-অনুরূপভাবে, যা ব্যতীত ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না, তাকে ওয়াজিব (واجب) বলা হবে কি না সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্যের ধরন হলো, এটি এমন কিছুতে বিভক্ত যা পালনে বান্দার কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দ নেই, যেমন হাঁটার ক্ষমতা রাখা; একে ওয়াজিব (وجوب) হিসেবে অভিহিত করা হয় না, বরং এটি ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার শরীয়তি বিধানের (تكليف) শর্ত। অথবা এটি এমন যা পালনে বান্দার ইখতিয়ার রয়েছে; এই জাতীয় বিষয়কে ওয়াজিব (وجوب) হিসেবে অভিহিত করা উচিত, যেমন সালাতের জন্য শর্তকৃত পবিত্রতা (طهارة)। প্রতীয়মান হয় যে, এই জাতীয় বিষয়ের ওয়াজিব (وجوب) হওয়া মূলত অন্যের কারণে, তার নিজস্ব সত্তার কারণে নয়। এখান থেকে ওয়াজিবের (واجب) আরেকটি বিভাজন তৈরি হয়, তা হলো: এর মধ্যে কিছু অন্যের কারণে ওয়াজিব (واجب لغيره) এবং কিছু সত্তাগতভাবে ওয়াজিব (واجب بذاته)। ওয়াজিব (الواجب) আরও বিভক্ত হয় এমন কিছুতে যার পরিমাণ নির্ধারিত এবং এমন কিছুতে যার পরিমাণ নির্ধারিত নয়; যেমন মাথা মাসেহ (مسح) করা এবং রুকুতে স্থিরতা (طمأنينة) অবলম্বন করা। এক্ষেত্রে ওয়াজিব (الواجب) হলো সর্বনিম্ন তুকু যা দ্বারা ঐ নামটি প্রযোজ্য হয়, আর অবশিষ্ট অংশ মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে গণ্য হয়। এটি কেবল সেই সকল কাজের ক্ষেত্রে কল্পনা করা যায় যা ধারাবাহিকভাবে বা পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হয়; সংক্ষেপে বলতে গেলে, যার অংশগুলো একসাথে সম্পন্ন হয় না।
24-এটিই হলো বিধানের (أحكام) প্রকারভেদ নির্ধারণ ও এর বিভাজন সংক্রান্ত আলোচনা। এখন এর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু সামগ্রিক (كلية) মাসআলা সম্পর্কে আলোচনা অবশিষ্ট রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
فأول مسألة منها أنا نقول ،إذا مات المكلف في أثناء الوقت ولم يقض لم يمت عاصيا بإجماع السلف على ذلك. وقول من أثمه خطأ، فإنا نعلم قطعا أنهم كانوا لا يؤثمون من مات وقد مضى من الوقت مقدار ما تقع فيه الصلاة. فإن قيل فكيف يجوز الترك مع العزم وهو لا يعرف سلامة العافية، قلنا لا يجوز الترك مع العزم إلا إلى مدة يغلب على ظنه البقاء إليها، كما يجوز للمعزر أن يضرب إلى حد لا يغلب على ظنه الهلاك. ولذلك قال أبو حنيفة رحمه الله لا يجوز تأخير الحج إلى سنة لأن البقاء إليها لا يغلب على الظن. وأما تأخير الصوم والزكاة إلى شهر أو شهرين فجائز. والشافعي رحمه الله يرى البقاء إلى سنة غالبا على ظن الشباب.
مسألة ثانية:26-الأحكام تنقسم إلى واجب كما تقدم ،ومقابله في الطرف الأقصى المحظور ،وهو الحرام، وبينهما متوسطان ،وهما (1) الندب والمكروه. وبين أن المتقابلات التي بينها متوسط ليس يلزم (2) عن رفع أحدهما وجود الآخر، فلذلك أخطأ من زعم أن الوجوب إذا نسخ رجع إلى ما كان قبل من حظر. وإنما يكون ذلك لو لم يكن بين الواجب والحرام واسطة. وأبين من هذا أن يرجع إلى ما كان قبل من إباحة، إذ ليس يتضمنها جنس هذه المتقابلات الذي هو الطلب.
27-وهنا يتبين (3) سقوط قول من قال المباح مأمور به. وكذلك
--------------------------------------------
فأول مسألة منها أنا نقول ،إذا مات المكلف في أثناء الوقت ولم يقض لم يمت عاصيا بإجماع السلف على ذلك. وقول من أثمه خطأ، فإنا نعلم قطعا أنهم كانوا لا يؤثمون من مات وقد مضى من الوقت مقدار ما تقع فيه الصلاة. فإن قيل فكيف يجوز الترك مع العزم وهو لا يعرف سلامة العافية، قلنا لا يجوز الترك مع العزم إلا إلى مدة يغلب على ظنه البقاء إليها، كما يجوز للمعزر أن يضرب إلى حد لا يغلب على ظنه الهلاك. ولذلك قال أبو حنيفة رحمه الله لا يجوز تأخير الحج إلى سنة لأن البقاء إليها لا يغلب على الظن. وأما تأخير الصوم والزكاة إلى شهر أو شهرين فجائز. والشافعي رحمه الله يرى البقاء إلى سنة غالبا على ظن الشباب.
এখানকার প্রথম মাসয়ালা হলো: আমরা বলি, যখন কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত (المكلف) ব্যক্তি সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইবাদতটি আদায় না করেন, তখন তিনি পূর্বসূরীদের ঐকমত্য (إجماع السلف) অনুযায়ী পাপিষ্ঠ (عاصيا) হিসেবে মৃত্যুবরণ করেননি। আর যারা তাকে পাপিষ্ঠ গণ্য করেন তাদের বক্তব্য ভুল। কেননা আমরা অকাট্যভাবে (قطعا) জানি যে, তারা ওই ব্যক্তিকে পাপিষ্ঠ বলতেন না যে সময়ের এমন এক পর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেছে যার মধ্যে সালাত (الصلاة) আদায় করা সম্ভব ছিল। যদি বলা হয়: দৃঢ় সংকল্প (عزم) থাকা সত্ত্বেও ইবাদত বর্জন করা কীভাবে বৈধ হতে পারে অথচ সে সুস্থতা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিত নয়? আমরা বলব: দৃঢ় সংকল্পের সাথে ইবাদত বিলম্ব করা কেবল ওই সময় পর্যন্তই বৈধ, যে সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার ব্যাপারে তার প্রবল ধারণা (يغلب على ظنه) থাকে। যেমন একজন দণ্ডদানকারীর (معزر) জন্য সেই সীমা পর্যন্ত প্রহার করা জায়েজ যেখানে তার মৃত্যুর প্রবল ধারণা (يغلب على ظنه) তৈরি হয় না। একারণেই ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: হজকে এক বছর পর্যন্ত বিলম্ব করা জায়েজ নয়, কারণ সেই সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকা প্রবল ধারণার (يغلب على الظن) অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে রোজা ও যাকাতকে এক বা দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া জায়েজ। আর ইমাম শাফেঈ (রহ.) যুবকদের ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকাকে প্রবল ধারণা (غالبا على ظن) হিসেবে গণ্য করেন।
দ্বিতীয় মাসয়ালা:২৬-বিধানসমূহ ওয়াজিব (واجب)-এ বিভক্ত যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর এর বিপরীত প্রান্ত হলো নিষিদ্ধ (المحظور), যা মূলত হারাম (الحرام)। এই দুইয়ের মাঝে দুটি মধ্যবর্তী স্তর রয়েছে, আর তা হলো মুস্তাহাব (الندب) এবং মাকরূহ (المكروه)। এটি স্পষ্ট যে, যেসব বিপরীতমুখী বিষয়ের মধ্যে মধ্যবর্তী অবস্থা থাকে, তাদের একটির অপসারণ অন্যটির অস্তিত্বকে আবশ্যক করে না। একারণেই ওই ব্যক্তি ভুল করেছেন যিনি দাবি করেছেন যে, ওয়াজিব (الوجوب) যখন রহিত (نسخ) হয়, তখন তা পূর্বের ন্যায় নিষেধাজ্ঞার (حظر) দিকে ফিরে যায়। এটি তখনই হতো যদি ওয়াজিব ও হারামের মধ্যে কোনো মধ্যবর্তী মাধ্যম না থাকত। এর চেয়েও স্পষ্ট বিষয় হলো, তা পূর্বের ন্যায় বৈধতার (إباحة) দিকে ফিরে যায়; কেননা এই বৈপরীত্যের মূল প্রকার যা হলো 'তলব' বা দাবি (الطلب), তার মধ্যে এটি অন্তর্ভুক্ত নয়।
২৭-আর এখান থেকেই ওই ব্যক্তির বক্তব্যের অসারতা প্রতীয়মান হয় যে বলেছে মুবাহ (المباح) হলো আদিষ্ট (مأمور به)। একইভাবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
يتبين أنه ليس من التكليف، إذ التكليف طلب ما فيه كلفة. ومن سماه تكليفا وذهب في ذلك إلى أنه الذي كلفنا اعتقاد إباحته في الشرع، أو أنه الذي اعتقاد كونه من الشرع، فهو مستكره في التسمية. وبالجملة فهذا النظر لغوي وهو أليق بغير هذا الموضع، ومما تقدم أيضا من هذا القول يتبين أن المندوب مأمور به إذ هو طلب ما واقتضاء. فأما من زعم أن الأمر إنما يطلق على ما في تركه عقاب، فهي دعوى لغوية، وعلى مدعيها إثبات ذلك عرفا شرعيا أو وضعا لغويا.
76 /1
مسألة ثالثة: الحرام ضد الواجب
28 - وإذا كان حد المتضادين أنهما اللذان لا يجتمعان في شيء واحد بالعدل في وقت واحد من جهة واحدة، فلا يجوز في الشرع تعلق الحظر والإيجاب بشيء واحد من جهة واحدة في وقت واحد. فأما تعلقهما بشيئين أو في وقتين فذلك ما لا خلاف فيه، ولا يرجع النهي عن أحدهما على الثاني بالفساد، سواء كان ذلك في شيئين أو في زمانين. وكذلك يلزم إذا تعلق النهي والإيجاب بشيء واحد من جهتين مثل أن يرد الأمر بشيء مطلقا، ثم يرد النهي عن ذلك الشيء بعينه مقيدا بصفة أو لعلة مصرح بها. إلا أنهم اختلفوا في مثل هذا الجنس هل يعود النهي بالفساد على الأصل الموجب من جهة ما قيد؟ فزعم أبو حامد رحمه الله أن هذا ينقسم عندهم إلى ما يرجع إلى غير المنهي لسبب من خارج، وإلى ما يرجع إلى صفة في الشيء. فما يرجع إلى غير المنهي فلا يرجع على الأصل بالفساد، وأما الذي يرجع إلى صفة في المنهي عنه فذهب الشافعي إلى أنه يعود على الأصل بالفساد، وحيث أوقع الطلاق في الحيض صرف إلى الأضرار ألحقه بالقسم الأول. وأبو حنيفة لا يرى في الموضعين النهي يعود بفساد الأصل، سواء ورد المنهي عنه مقيدا
ইহা স্পষ্ট হয় যে, এটি শরয়ি দায়িত্বারোপের (التكليف) অন্তর্ভুক্ত নয়; কেননা শরয়ি দায়িত্বারোপ (التكليف) বলতে এমন কিছু দাবি করা বোঝায় যাতে কষ্ট বা শ্রমসাধ্যতা বিদ্যমান। যারা একে শরয়ি দায়িত্বারোপ (التكليف) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এই মত গ্রহণ করেছেন যে, এটি এমন বিষয় যার বৈধতা (الإباحة) বিশ্বাস করতে শরিয়ত আমাদের নির্দেশ দিয়েছে, অথবা এটি শরিয়তের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করার দায়িত্ব, তবে তাদের এই নামকরণটি কষ্টকল্পিত। সামগ্রিকভাবে, এই দৃষ্টিভঙ্গিটি ভাষাগত এবং এটি এই স্থান ব্যতীত অন্য প্রসঙ্গের জন্য অধিকতর উপযুক্ত। তদুপরি, পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এটিও স্পষ্ট হয় যে, পছন্দনীয় (المندوب) বিষয়টি আদিষ্ট (مأمور به), কারণ এটি এক প্রকার তলব (طلب) বা প্রার্থনা এবং চাহিদা (اقتضاء)। আর যারা দাবি করেন যে, নির্দেশ (الأمر) কেবল সেই বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যার পরিত্যাগে শাস্তি রয়েছে, তবে এটি একটি ভাষাগত দাবি, এবং এর দাবিদারকে শরয়ি প্রথা অথবা ভাষাগত ব্যবহারের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে।
76 /1
তৃতীয় মাসয়ালা: নিষিদ্ধ (الحرام) হলো আবশ্যকীয়র (الواجب) বিপরীত।
28 - আর যেহেতু দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের সংজ্ঞা হলো—যা একই সময়ে, একই দিক থেকে এবং একই আধারে একত্রে অবস্থান করতে পারে না, তাই শরিয়তে একই সময়ে, একই দিক থেকে এবং একই বিষয়ের সাথে নিষেধাজ্ঞা (الحظر) ও আবশ্যকতা (الإيجاب) সংশ্লিষ্ট হওয়া বৈধ নয়। তবে দুটি ভিন্ন বিষয় অথবা দুটি ভিন্ন সময়ের সাথে এগুলোর সংশ্লিষ্টতা এমন একটি বিষয় যাতে কোনো মতভেদ নেই; আর সে ক্ষেত্রে একটির নিষেধ (النهي) অন্যটির ওপর অসারতা (الفساد) হিসেবে বর্তাবে না, চাই তা দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে হোক বা দুটি সময়ের ক্ষেত্রে হোক। একইভাবে এটিও আবশ্যক হয় যখন নিষেধাজ্ঞা (النهي) ও আবশ্যকতা (الإيجاب) দুটি ভিন্ন দিক থেকে একটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, যেমন—কোনো বিষয়ে শর্তহীনভাবে (مطلقا) নির্দেশ (الأمر) আসলো, অতঃপর সেই একই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা স্পষ্টভাবে বর্ণিত কোনো কারণের ভিত্তিতে শর্তযুক্তভাবে (مقيدا) নিষেধ (النهي) আসলো। তবে তারা এই জাতীয় মাসয়ালার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন যে, যে বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শর্তযুক্ত করা হয়েছে, সেই দিক থেকে কি নিষেধটি (النهي) আবশ্যকতা প্রদানকারী মূলের (الأصل) ওপর অসারতা (الفسাদ) হিসেবে আপতিত হবে? আবু হামিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] দাবি করেছেন যে, এটি তাদের নিকট দুই ভাগে বিভক্ত: যা কোনো বাহ্যিক কারণে নিষিদ্ধ (المنهي) বিষয় ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ফিরে যায়, এবং যা বিষয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো বৈশিষ্ট্যের দিকে ফিরে যায়। সুতরাং যা নিষিদ্ধ (المنهي) বিষয় ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ফিরে যায়, তা মূলের (الأصل) ওপর অসারতা (الفسাদ) হিসেবে আপতিত হয় না। আর যা নিষিদ্ধ (المنهي عنه) বিষয়ের কোনো বৈশিষ্ট্যের দিকে ফিরে যায়, সে সম্পর্কে শাফিঈ এই মত পোষণ করেছেন যে, তা মূলের (الأصل) ওপর অসারতা (الفسাদ) হিসেবে আপতিত হবে; আর যেহেতু তিনি ঋতুকালীন তালাক প্রদানকে ক্ষতিসাধনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাই তিনি একে প্রথম প্রকারের সাথে যুক্ত করেছেন। আর আবু হানিফা উভয় ক্ষেত্রে এই মত পোষণ করেন না যে, নিষেধটি (النهي) মূলের অসারতা (الفسাদ) ঘটাবে, চাই নিষিদ্ধ (المنهي عنه) বিষয়টি শর্তযুক্তভাবে (مقيدا) বর্ণিত হোক...
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
بصفة أو سبب من خارج، وزعم أن كون الحدث مبطلا للصلاة إنما ثبت بدليل الإجماع.
29- وأنا أرى أن النظر في هذه المسألة إنما هو من جهة صيغة لفظ النهي، فإن من يدل عنده لفظة إيجابه مطلقا قرينة تخرج النهي عن الحظر إلى الكراهة (1) وأكثر من ذلك وروده في شيء لأمر ما من خارج بعد إيجاب ذلك الشيء مطلقا ، وسنتكلم في هذا فيما بعد. وأما إذا نظر فيها حيث المعنى ،فإن ورود النهي عن الشيء مقيدا بأمر ما ،سواء كان سببا أو صفة ،بعد إيجابه مطلقا فإنه يعود على الأصل بالفساد من جهة ما هو مقيد. والذي فهمت هنا من ورود النهي عن الشيء مقيدا بعد إيجابه مطلقا ،هو بعينه ينبغي أن تفهمه في ورود الإيجاب بشيء ما مقيدا بعد النهي عنه مطلقا.
30-والعجب من أبي حامد كيف جعل النظر في هذه المسألة في هذا الجزء من هذا الكتاب.
31-وأما من أجاز الصلاة في الوادي والحمام وأعطان الإبل فإنما ينبغي له أن يصرف النهي الوارد فيها عن التحريم إلى الكراهة، على مذهب من يرى أن ورود النهي عن الشيء مقيدا بأمر ما من خارج بعد إباحته ،أو الأمر به مطلقا ،قرينة يخرج بها لفظ النهي عن التحريم إلى الكراهة ،هذا إذا كان ممن يرى أن صيغة النهي تقتضي التحريم ، وأما من لا يرى ذلك فالأمر عليه سهل. وأما من أبطل الصلاة في الأرض المغصوبة لكونها حركات وأكوانا منهيا (2) عنها ،فلجهله بحدود
--------------------------------------------
কোনো বাহ্যিক গুণ বা কারণে; এবং তিনি দাবি করেছেন যে, ওজু ভঙ্গ হওয়া সালাত বাতিলকারী হওয়া কেবল ঐকমত্যের (إجماع) দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে।
২৯- আর আমি মনে করি যে, এই মাসআলায় পর্যালোচনা কেবল নিষেধাজ্ঞার শব্দের (صيغة لفظ النهي) দিক থেকেই হওয়া উচিত। কারণ যার নিকট কোনো বিষয় শর্তহীনভাবে (مطلقا) আবশ্যক হওয়ার শব্দ এমন একটি আলামত (قرينة) হিসেবে গণ্য হয় যা নিষেধাজ্ঞাকে হারাম (حظر) থেকে মাকরূহ (كراهة)-এর দিকে সরিয়ে নেয় (১), বিশেষ করে কোনো বিষয়কে শর্তহীনভাবে আবশ্যক করার পর বাহ্যিক কোনো কারণে তাতে নিষেধাজ্ঞার অনুপ্রবেশ ঘটার ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব। আর যদি অর্থের দিক থেকে বিবেচনা করা হয়, তবে কোনো বিষয়কে শর্তহীনভাবে আবশ্যক করার পর কোনো কারণ বা গুণের সাথে শর্তযুক্ত (مقيدا) অবস্থায় তাতে নিষেধাজ্ঞার আগমন ঘটা মূলত সেই মূল বিষয়টিকেই শর্তযুক্ত হওয়ার দিক থেকে বাতিল (فساد)-এর দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আর এখানে কোনো বিষয়কে শর্তহীনভাবে ওয়াজিব করার পর শর্তযুক্ত অবস্থায় নিষেধাজ্ঞার আগমনের ক্ষেত্রে আমি যা বুঝেছি, কোনো বিষয়কে শর্তহীনভাবে নিষেধ করার পর শর্তযুক্তভাবে ওয়াজিব করার ক্ষেত্রেও আপনার ঠিক তেমনটাই বোঝা উচিত।
৩০-আবু হামিদের ব্যাপারে বিস্ময় জাগে যে, তিনি কীভাবে এই কিতাবের এই অংশে এই মাসআলাটি নিয়ে পর্যালোচনা করলেন।
৩১-আর যারা উপত্যকা, গোসলখানা এবং উটের আস্তাবলে সালাত আদায় করা বৈধ মনে করেন, তাদের উচিত এতে আগত নিষেধাজ্ঞাকে হারাম (تحريم) থেকে মাকরূহ (كراهة)-এর দিকে সরিয়ে নেয়া। এটি তাদের মাযহাব অনুযায়ী যারা মনে করেন যে, কোনো বিষয়কে বৈধ (إباحة) করার পর অথবা শর্তহীনভাবে সেটির আদেশ করার পর বাহ্যিক কোনো কারণে শর্তযুক্ত অবস্থায় তাতে নিষেধাজ্ঞার আগমন ঘটা এমন একটি আলামত (قرينة) যার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার শব্দ হারাম (تحريم) থেকে মাকরূহ (كراهة)-এর দিকে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এটি তখন প্রযোজ্য যখন তিনি এমন ব্যক্তি হন যিনি মনে করেন যে নিষেধাজ্ঞার শব্দ (صيغة النهي) হারামের (تحريم) দাবি রাখে। আর যারা তা মনে করেন না, তাদের জন্য বিষয়টি সহজ। আর যারা জবরদখলকৃত জমিতে সালাত আদায় করাকে বাতিল মনে করেন এ কারণে যে, তা নিষিদ্ধ (منهي) নড়াচড়া ও অবস্থানের সমষ্টি, তারা মূলত সীমানা (حدود) সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই এমনটা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫০)
المتضادة ،لأن الإيجاب والنهي تعلق بها من جهتين مختلفتين. ولذلك ما وقع إجماع الصحابة رضي الله عنهم على ترك أمر الظلمة بإعادة الصلوات عند التوبة. وتلك الحركات والأكوان هي من جهة مأمور بها ،ومن جهة منهي عنها. وكذلك السجود بين يدي الصنم على غير جهة القصد هو من جهة حرام ،ومن جهة متقرب به.
مسألة رابعة:32-اختلف الناس في وجوب الشيء هل هو حظر لضده ،وحظره وجوب لضده، فنقول:
33-إنه إذا حد المتضادان بحسب حدهما ، ولم يسامح في تسميتهما ،فوجوب الشيء حظر لضده ،لأن ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب كما تقدم ،وسواء كان ذلك فعلا أو تركا. وهذه المسألة إنما تتصور في التضاد الشرعي. وأما التضاد المحسوس فهو مما لا يصلح التكليف إلا بتركه ،وهو من شروط الفعل.
34-وأما المحظور فإذا كان مما كان ليس له ضد ،أو مما له ضد إلا أن بينهما متوسطا ،فليس يلزم عن حظره إيجاب شيء ما. وأما إذا كان لا يخلو الشيء من أحدهما، ولم يكن بينهما متوسط ،فحظره إيجاب لضده ،هذا أيضا إذا كان التضاد شرعيا ،وأما إذا كان حسيا فهو من شرط التكليف.
35- فعلى هذا ينبغي أن يتناول السؤال والجواب في هذه المسألة. وهنا انقضى القول في القسم الثاني من هذا الجزء.
...পরস্পর বিরোধী (متضادة), কারণ আদেশ এবং নিষেধ এর সাথে দুটি ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে সম্পৃক্ত হয়েছে। এই কারণেই জালিমরা তওবা করার পর তাদেরকে সালাত পুনরায় আদায় করার আদেশ দেওয়ার বিষয়টি পরিত্যাগের ওপর সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর সেই নড়াচড়া ও অবস্থানসমূহ একদিক থেকে আদিষ্ট (مأمور بها) এবং অন্যদিক থেকে নিষিদ্ধ (منهي عنها)। একইভাবে মূর্তির সামনে উদ্দেশ্য ব্যতীত সিজদা করা একদিক থেকে হারাম (حرام), এবং অন্যদিক থেকে তা নৈকট্য লাভের মাধ্যম।
চতুর্থ মাসআলা:32-কোনো কিছুর ওয়াজিব (وجوب) হওয়া কি তার বিপরীতটির জন্য নিষিদ্ধতা (حظر), এবং কোনো কিছুর নিষিদ্ধতা (حظر) কি তার বিপরীতটির জন্য ওয়াজিব (وجوب) হওয়া—এ বিষয়ে আলেমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। আমরা বলি:
33-যদি দুটি পরস্পর বিরোধী (متضادان) বিষয়কে তাদের যথাযথ সংজ্ঞা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত করা হয় এবং নামকরণের ক্ষেত্রে শিথিলতা করা না হয়, তবে কোনো বিষয়ের ওয়াজিব (وجوب) হওয়া তার বিপরীতের জন্য নিষিদ্ধতা (حظر) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ যা ব্যতীত ওয়াজিব (واجب) সম্পন্ন হয় না তা-ও ওয়াজিব (واجب), যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে; চাই তা কোনো কাজ করা হোক বা বর্জন করা। এই মাসআলাটি কেবল শরয়ি বৈপরীত্যের (التضاد الشرعي) ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বৈপরীত্য (التضاد المحسوس) এমন বিষয় যা বর্জন করা ছাড়া বিধান অর্পণ বা তাকলিফ (التكليف) শুদ্ধ হয় না এবং তা কর্মের শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত।
34-আর নিষিদ্ধ (محظور) বিষয়ের যদি কোনো বিপরীত না থাকে, অথবা তার বিপরীত থাকলেও তাদের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী অবস্থা থাকে, তবে সেই নিষিদ্ধতা (حظر) থেকে অন্য কোনো কিছুর ওয়াজিব হওয়া (إيجاب) আবশ্যক হয় না। কিন্তু যদি বিষয়টি এমন হয় যে তা দুটির একটি থেকে মুক্ত নয় এবং তাদের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী অবস্থা নেই, তবে সেক্ষেত্রে নিষিদ্ধতা (حظر) তার বিপরীতটির ওয়াজিব হওয়া (إيجاب) বুঝায়। এটিও তখনই যখন বৈপরীত্যটি শরয়ি (شرعيا) হবে। আর যদি তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (حسيا) হয়, তবে তা তাকলিফ বা বিধান অর্পণের (التكليف) শর্ত।
35- সুতরাং এই মাসআলার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ও উত্তর এভাবেই গ্রহণ করা উচিত। আর এখানেই এই খণ্ডের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের আলোচনা সমাপ্ত হলো।
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫১)
القول في القسم الثالث من الجزء الأول36-هذا القسم يتضمن النظر في أركان الحكم ،وهي ثلاثة: الحاكم ،والمحكوم عليه ،والمحكوم فيه.
37-أما الحاكم فهو المخاطب بالإيجاب. ومن شروطه ،مع كونه متكلما ،نفوذ الحكم على الإطلاق. وإنما يصح ذلك بين المالك والمملوك والخالق والمخلوق ،وهو تعالى. وكل من لزمت طاعته فإنما لزمت بإيجاب الله تعالى كالسلطان والأب وما أشبههما. وهو القادر على العقاب والثواب إذ لا يتصور الإيجاب أو النهي من غير قادر عليهما. وتثبيت هذا في علم الكلام.
38_وأما المحكوم عليه فله شرطان هما (1) أن يفهم الخطاب الوارد بأمر أو نهي، إذ من ليس يفهم الخطاب لا يصح منه اقتضاء وجوب الطلب. فإن قيل فقد وجبت الزكوات والغرامات على الصبيان، قلنا المكلف هو. الولي بشرط الاستعداد لقبول العقل. وكذلك أخذهم بالصلاة قبل البلوغ، الأب هو المأمور بذلك، لا يفهم خطاب الشرع إلا من يعرف الشارع، ولا يعرف الشارع إلا من يعرف الله، وهذا الشرط مدركه العقل. ومن هنا يتبين سقوط تكليف الناسي والغافل والمجنون والسكران. فإن قيل فكيف يقع طلاق السكران عند من يجوزه؟ قلنا ذلك على جهة التغليظ، إذ كان هو الذي جنى على نفسه باختياره بعد شرط التكليف وهو العقل. وليس يتصور مثل هذا في المجنون، وتعلق من تعلق في جواز خطابه بقوله تبارك وتعالى: {لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى} فإنه إن سلم ظهور ذلك في
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডের তৃতীয় পরিচ্ছেদ সংক্রান্ত আলোচনা৩৬-এই পরিচ্ছেদে বিধানের (حكم) স্তম্ভসমূহ পর্যালোচিত হয়েছে, যা তিনটি: বিধানদাতা (حاكم), যার ওপর বিধান আরোপিত হয় (محكوم عليه) এবং যার বিষয়ে বিধান প্রদান করা হয় (محكوم فيه)।
৩৭-বিধানদাতা (حاكم) হলেন তিনি, যিনি আবশ্যকতা (إيجاب) আরোপের মাধ্যমে সম্বোধন করেন। কথা বলার যোগ্যতা থাকার পাশাপাশি তাঁর অন্যতম একটি শর্ত হলো নিঃশর্তভাবে বিধান কার্যকর করার ক্ষমতা। এটি কেবল মালিক ও গোলাম এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝেই কার্যকর হওয়া সম্ভব; আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ। যাঁর আনুগত্য করা আবশ্যক হয়েছে, তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আবশ্যকতা (إيجاب) আরোপের মাধ্যমেই হয়েছে, যেমন সুলতান, পিতা এবং অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ। তিনি পুরস্কার ও শাস্তির ওপর সক্ষম, কারণ আদেশ বা নিষেধের (نهي) মাধ্যমে আবশ্যকতা (إيجاب) আরোপ করার ক্ষমতা না থাকলে তা কল্পনা করা যায় না। এ বিষয়ের সংস্থাপন ইলমুল কালামে (علم الكلام) করা হয়েছে।
৩৮_আর যার ওপর বিধান আরোপিত হয় (محكوم عليه), তার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে: (১) আদেশ বা নিষেধ সংবলিত সম্বোধনটি অনুধাবন করা। কেননা যে ব্যক্তি সম্বোধনই বোঝে না, তার পক্ষ থেকে দাবিকৃত আবশ্যকতা পালন করা সঠিক হয় না। যদি বলা হয় যে, শিশুদের ওপর তো জাকাত ও ক্ষতিপূরণ প্রদান আবশ্যক করা হয়েছে; আমরা বলব, এক্ষেত্রে আদিষ্ট ব্যক্তি (مکلف) হলেন অভিভাবক, শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি (عقل) গ্রহণের প্রস্তুতির শর্তে। অনুরূপভাবে সাবালক হওয়ার আগে শিশুদের সালাতে অভ্যস্ত করার বিষয়টি; এক্ষেত্রে পিতাই আদিষ্ট ব্যক্তি। বিধান প্রদাতাকে (شارع) চেনা ছাড়া শরিয়তের সম্বোধন অনুধাবন করা সম্ভব নয় এবং আল্লাহকে চেনা ছাড়া বিধান প্রদাতাকে (شارع) চেনা সম্ভব নয়। আর এই শর্তটি উপলব্ধির স্থান হলো বিবেক। এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিস্মৃত ব্যক্তি, অমনোযোগী, পাগল এবং মদ্যপ ব্যক্তির ওপর থেকে দায়িত্বারোপ (تكليف) রহিত হওয়া। যদি বলা হয় যে, যারা মদ্যপ ব্যক্তির তালাক কার্যকর হওয়ার প্রবক্তা, তাদের নিকট সেটি কীভাবে ঘটে? আমরা বলব, তা কঠোরতা (تغليظ) আরোপের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে; যেহেতু সে ব্যক্তি তার ওপর দায়িত্বারোপের (تكليف) শর্ত অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তি (عقل) বিদ্যমান থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় নিজের ওপর এ অপরাধটি টেনে নিয়েছে। পাগলের ক্ষেত্রে এমনটি কল্পনা করা যায় না। আর মদ্যপকে সম্বোধন করার বৈধতার স্বপক্ষে যারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেন যে: "তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না" - যদি এটি স্পষ্ট বলে ধরেও নেওয়া হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الآية فليس يصادم بالظواهر القطعيات. ولها تأويلات:
39 _أحدهما أنها خطاب مع المستثنى.
40 _والآخر أنه إنما وقع المنع من إفراط الشرب في أوقات الصلاة ،وذلك خطاب في وقت الصحة ،وقبل أن تحرم الخمر.
41-فأما الاعتراض الذي يلحقون هنا وهو كيف يكون الله آمرا في الأزل لعباده ومن شرط الآمر أن يكون المأمور موجودا ،وكذلك كونه آمرا للسكران في حال سكره وللمجنون والصبي ،على شرط أن يفيق ذلك ويصح ذلك ويبلغ هذا ،فالجواب عنه ليس مما يمكن في هذا الموضع ،ولا هو خاص بهذا النظر. والقول فيه مبني على قواعد تحتاج إلى تمهيد طويل وفحص كثير. وكما قلنا أنه ليس ينبغي أن نفحص عن كل شيء ولا عن أشياء كثيرة في موضع واحد ،بل ينبغي أن يفرد بالقول كل واحد منها في الموضع اللائق به ،والذي يحمل على هذا حب التكثير بما ليس يفيد شيئا.
42-وأما الشرط الثاني فهو البلوغ ،وهذا الشرط مدركه الشرع. فإن قيل فقبل أن يحتلم الصبي بزمان يسير أليس هو عاقلا؟ فإن انفصال النطفة عنه لا تزيده عقلا؟ قلنا: لما كان ذلك مما يخفي دركه في شخص ،ويختلف وقته، نصب الشرع لذلك علامة توجد على الأكثر دالة عليه.
43-وأما المحكوم فيه وهو الفعل فإنه ما جاز كونه مكتسبا للعبد باختياره مع اعتقاد اكتسابه طاعة وامتثالاً.
44-وينبغي أن يعلم أن الأمور المتكسبة للإنسان هي التي له أن يأتي منها أي الضدين شاء ،مثل أن القيام مكتسب له وله أن يقوم أو
আয়াতটি; সুতরাং বাহ্যিক অর্থ দ্বারা সুনিশ্চিত বিষয়সমূহের (القطعيات) মোকাবিলা করা যাবে না। এর বেশ কিছু ব্যাখ্যা (تأويلات) রয়েছে:
39 _প্রথমটি হলো, এটি ব্যতিক্রমভুক্ত ব্যক্তিদের প্রতি সম্বোধন।
40 _আর অন্যটি হলো, নামাজের সময়ে পান করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছিল। এটি সুস্থ থাকা অবস্থায় এবং মদ হারাম হওয়ার পূর্বের সম্বোধন ছিল।
41-এখানে তারা যে আপত্তি উত্থাপন করে তা হলো, আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকে কীভাবে তাঁর বান্দাদের জন্য আদেশ প্রদানকারী (آمر) হতে পারেন? অথচ আদেশদাতার জন্য শর্ত হলো আদিষ্ট ব্যক্তির (مأمور) অস্তিত্ব থাকা। তদ্রূপ মাতালকে তার মাতাল অবস্থায় এবং পাগল ও শিশুকে এই শর্তে আদেশ প্রদান করা যে, সে মাতাল অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হবে, পাগল থেকে সুস্থ হবে এবং শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হবে; এর উত্তর এই স্থানে দেওয়া সম্ভব নয় এবং এটি কেবল এই আলোচনার জন্য নির্দিষ্টও নয়। এই আলোচনা এমন কিছু মূলনীতিসমূহের (قواعد) ওপর ভিত্তি করে যা দীর্ঘ ভূমিকা এবং নিবিড় পর্যালোচনার মুখাপেক্ষী। যেমনটি আমরা বলেছি যে, কোনো একটি স্থানে সব কিছু বা অতিরিক্ত বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করা সমীচীন নয়; বরং এগুলোর প্রত্যেকটির যথাযথ স্থানে আলাদাভাবে আলোচনা করা উচিত। যারা অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের বাহুল্য পছন্দ করে তারাই কেবল এমনটি করে থাকে।
42-আর দ্বিতীয় শর্তটি হলো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (البلوغ), আর এই শর্তটির উৎস হলো শরিয়ত। যদি বলা হয় যে, শিশুর স্বপ্নদোষ হওয়ার কিছু সময় আগে কি সে বুদ্ধিমান (عاقلا) ছিল না? বীর্যপাত তো তার বুদ্ধিকে বাড়িয়ে দেয় না। আমরা বলব: যেহেতু ব্যক্তিনির্ভেদে এর উপলব্ধি অস্পষ্ট এবং এর সময়কাল ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, তাই শরিয়ত এর জন্য এমন একটি নিদর্শন নির্ধারণ করেছে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়।
43-আর যার ওপর হুকুম বর্তায় তা হলো কাজ (الفعل); এটি এমন বিষয় যা বান্দার ইচ্ছাধীন উপার্জিত হওয়া বৈধ, সাথে সাথে তা আনুগত্য ও হুকুম পালন হিসেবে সম্পাদিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করা।
44-এটি জেনে রাখা উচিত যে, মানুষের উপার্জিত বিষয়সমূহ হলো সেই সব কাজ যা সে চাইলে তার বিপরীতটিও করতে পারে। যেমন দাঁড়িয়ে থাকা তার একটি উপার্জিত বিষয় এবং সে চাইলে দাঁড়াতে পারে অথবা...
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
يقعد. وإذا كان معنى الاكتساب هذا فلا معنى لاستثنائهم من هذا –كما زعموا-وجوب النظر المعرف ،إذ لا يمكن فيما زعموا قصد إيقاعه طاعة قبل المعرفة بوجوبه ،لأن وجوب النظر كما سلف من قولنا يحصل ضرورة لكون المنظور فيه معلوما بالضرورة ،وليس لإنسان اختيار في وقوع التصديق بوجوبه عند ظهور المعجزة. وكذلك أيضا لا معنى لاستثنائهم من ذلك إرادة الطاعة ،وقولهم إن الإرادة لو افتقرت إلى إرادة لافتقرت الإرادة إلى إرادة وتسلسل الأمر ،فإن الإرادة شوق ،وحدوث الشوق للإنسان كالضروري ،إذ كان فاعله التصديق بالرغبة والرهبة ،فشرط الفعل الشرعي أن يكون مكتسبا أولا ،ثم ثانيا أن يكون السبب في اكتساب اعتقاد وجوب الأمر لأشياء أخر مما يجوز له أن يفعل.
45-وأما الشيخ أبو الحسن فليس من شرط الفعل عنده أن يكون مكتسبا ،بل يرى أن ليس هنا فعل مكتسب للإنسان أصلا ،وأن ما يظهر كون الإنسان فاعلا للشيء فأمر مصاحب ولاحق لا أن الإنسان لذلك الفعل سبب لا قريب ولا بعيد، حتى تكون نسبة ذي القدمين مثلا إلى المشي هي بعينها نسبة العادم للقدمين. وهذه مخالفة للحس ورأي غريب جدا عن طباع الإنسان (1) . وقد بين أبو المعالي في (الرسالة النظامية) الوجه الذي به يصلح في الشرع أن يقال إن للإنسان اقتدارا واكتسابا. ومن لم يكن عنده للإنسان اقتدار على شيء ما، جاز عنده تكليف ما لا يطاق وبحق ما فعل ذلك لأنه ليس على رأيه ههنا شيء
--------------------------------------------
স্থিরীকৃত হয়। আর যদি 'অর্জনের' (الاكتساب) অর্থ এটিই হয়, তবে তাদের দাবি অনুযায়ী—মারেফাত বা পরিচয় লাভকারী 'চিন্তা-গবেষণার' (النظر) আবশ্যকতা থেকে এগুলোকে বাদ দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী, কোনো কাজ ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি জানার পূর্বে তা আনুগত্য হিসেবে সম্পন্ন করার ইচ্ছা পোষণ করা সম্ভব নয়। কেননা 'চিন্তা-গবেষণার' (النظر) আবশ্যকতা, যেমনটি আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনায় এসেছে, 'অপরিহার্যভাবে' (ضرورة) সাব্যস্ত হয়; কারণ যা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে তা 'অপরিহার্যভাবেই' (بالضرورة) জ্ঞাত। আর মোজেজা বা অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশের সময় এর আবশ্যকতাকে 'সত্যায়ন' (التصديق) করার ক্ষেত্রে মানুষের কোনো 'ইখতিয়ার' (اختيار) বা স্বাধীনতা থাকে না। একইভাবে তাদের পক্ষ থেকে আনুগত্যের ইচ্ছাকে এর বাইরে রাখারও কোনো যুক্তি নেই। তাদের বক্তব্য হলো—ইচ্ছা যদি অন্য কোনো ইচ্ছার মুখাপেক্ষী হয় তবে সেই ইচ্ছাও আবার অন্য ইচ্ছার মুখাপেক্ষী হবে এবং বিষয়টি এভাবে 'পরম্পরা' (تسلسل) বা অসীমের দিকে গড়াবে। মূলত ইচ্ছা হলো একটি আকাঙ্ক্ষা, আর মানুষের মনে আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হওয়া একটি 'অপরিহার্য' (الضروري) বিষয়; কারণ এর চালিকাশক্তি হলো ভয় ও আশার 'সত্যায়ন' (التصديق)। সুতরাং শরয়ি বা আইনি কাজের শর্ত হলো, প্রথমত এটি 'অর্জিত' (مكتسبا) হতে হবে; দ্বিতীয়ত, এর অর্জনের কারণ হতে হবে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আদেশের আবশ্যকতা সংক্রান্ত বিশ্বাস, যা করা তার জন্য বৈধ।
৪৫-আর শেখ আবু আল-হাসান (আল-আশআরি)-এর নিকট কোনো কাজ হওয়ার শর্ত এটি নয় যে, তা 'অর্জিত' (مكتسبا) হতে হবে। বরং তিনি মনে করেন, মানুষের জন্য আদতে 'অর্জিত' (مكتسب) কোনো কাজ নেই। মানুষ কোনো কাজের কর্তা হিসেবে যা প্রকাশ পায়, তা কেবল সেই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ও অনুগামী বিষয় মাত্র; মানুষ সেই কাজের নিকটবর্তী বা দূরবর্তী কোনো কারণ নয়। এমনকি উদাহরণস্বরূপ দুই পা বিশিষ্ট ব্যক্তির হাঁটার সম্পর্কটি পা-হীন ব্যক্তির হাঁটার সম্পর্কের মতোই (অর্থাৎ উভয়েই সমান অক্ষম)। আর এটি ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের পরিপন্থী এবং মানুষের স্বভাবজাত বোধ থেকে অত্যন্ত অদ্ভুত একটি মত (১)। আবু আল-মাআলি (আল-জুওয়াইনি) তার 'রিসালাত আল-নিযামিয়্যাহ' গ্রন্থে সেই পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করেছেন যার মাধ্যমে শরয়ি দৃষ্টিতে এটি বলা সঠিক হয় যে, মানুষের 'সক্ষমতা' (اقتدار) এবং 'অর্জনের' (اكتساب) ক্ষমতা রয়েছে। যার নিকট মানুষের কোনো কিছুর ওপর বিন্দুমাত্র সক্ষমতা নেই, তার কাছে 'সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণ' (تكليف ما لا يطاق) বৈধ; এবং তিনি যা করেছেন তা যুক্তিযুক্তভাবেই করেছেন, কারণ তার মতানুসারে এখানে মানুষের পক্ষ থেকে করার মতো কিছু নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
يطاق. والذي ينبغي أن نقول ههنا أن تكليف ما لا يطاق ممتنع عقلا وشرعا. أما شرعا فلقوله (لا يكلف الله نفسا إلا وسعها) . وأما عقلا فلا متناع قيام المحال بالنفس. وأن من الشرط المأمور به أن يكون مفهوما ومتصورا مكانه عند الآمر والمأمور.
46_ وقد يلحق آخر هذا الجزء مسائل:
47_ فمنها هل المكره على وفق التكليف أو خلافه مختار حتى يثاب على الواحد ويعاقب على الآخر؟ ونحن نقول في ذلك: أما المكره على وفق التكليف فقد يشبه أن يظن به أنه مختار من جهة أن له أن يأتي بخلاف ما أكره عليه محتملا لما به أكره. وهذا التفاوت بحسب ما يلحق المكره من الأذى. لكن إن لم يأت ذلك معتقدا إتيانه طاعة وامتثالا لم يثب عليه، فإن اعتقد ذلك أثبت عليه. وإن كان سبب تحريكه إلى الفعل الإكراه، فإنه إذا أخذ في الفعل واعتقد وقوعه طاعة أثيب عليه. وعلى هذا الوجه جاء إكراه الكفار على الإيمان بالقتل في الشرع. وبالجملة فالتوعد بالعقاب هو إكراه ما على هذا الوجه. ومثل هذا يتصور في أن يكون الإنسان يصده عن الامتثال عناد أو غير ذلك من الأسباب المانعة. وبالجملة الأمّارة بالسوء كثيرا ما تصد الإنسان عن الواجب مع اعتقاد وجوبه. وأما المكره على مخالفة الشرع مثل الإكراه على قتل مسلم، أو ترك الصلاة، فالسؤال فيه في موضعين:
… أحدهما هل إذا فعل بمقتضى الإكراه أثم أم لا؟
والثاني: إن احتمل الإكراه ولم يفعل بمقتضاه هل يثاب أو يأثم، فإن لنفس المرء عليه حقا، والذي ينبغي أن يقال في ذلك هو أن الإكراه تتفاوت مراتبه لتفاوته ما به يقع الإكراه، ومدرك مراتب هذا التفاوت، والمقايسة بينه وبين مخالفة الأمر وترجيح أحدهما على الآخر، مدرك
সাধ্যের অতীত। এখানে আমাদের যা বলা উচিত তা হলো, সাধ্যাতীত কোনো বিধান প্রদান করা (تكليف ما لا يطاق) বুদ্ধিগত এবং শরয়ি উভয় দিক থেকেই অসম্ভব। শরয়ি বা বিধানগত প্রমাণের ক্ষেত্রে আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ কোনো আত্মাকে তার সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।" আর বুদ্ধিগতভাবে অসম্ভবের কারণ হলো, মানুষের পক্ষে অসম্ভব কোনো বিষয় সম্পাদন করা অসম্ভব। কোনো বিষয়ে আদেশের ক্ষেত্রে শর্ত হলো, আদেশদাতা ও আদিষ্ট ব্যক্তি উভয়ের নিকট বিষয়টি বোধগম্য ও কল্পনাযোগ্য হতে হবে।
46_ এই অংশের শেষে কিছু মাসয়ালা বা সমস্যা সংযুক্ত করা যেতে পারে:
47_ সেগুলোর মধ্যে একটি হলো: যাকে শরয়ি বিধানের অনুকূলে বা প্রতিকূলে বাধ্য করা হয়েছে (مكره), সে কি ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন (مختار) বলে গণ্য হবে যাতে একটির জন্য সে সওয়াব লাভ করে এবং অন্যটির জন্য শাস্তি পায়? এই বিষয়ে আমরা বলি: যাকে বিধানের অনুকূলে কোনো কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে, তার ক্ষেত্রে ধারণা করা যেতে পারে যে সে ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন (مختار), কারণ যে বিষয়ে তাকে বাধ্য করা হয়েছে তার বিপরীতে কাজ করার এবং এর ফলে যা দিয়ে তাকে বাধ্য করা হয়েছে তা সহ্য করার ক্ষমতা তার রয়েছে। এই তারতম্য মূলত বাধ্য হওয়া ব্যক্তির ওপর যে কষ্টের বোঝা অর্পিত হয় তার মাত্রার ওপর নির্ভরশীল। তবে যদি সে কাজটি আনুগত্য (طاعة) ও বিধান পালনের (امتثال) বিশ্বাস নিয়ে না করে, তবে সে কোনো সওয়াব পাবে না। আর যদি সে সেই বিশ্বাসের সাথে কাজটি করে, তবে সে সওয়াব লাভ করবে। যদিও কাজটিতে প্রবৃত্ত হওয়ার মূল কারণ ছিল বাধ্যবাধকতা (إكراه), কিন্তু কাজ শুরু করার পর সে যদি এটিকে আনুগত্য হিসেবে বিশ্বাস করে সম্পাদন করে, তবে সে সওয়াব পাবে। এ দিক থেকেই শরয়ি বিধানে হত্যার ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কাফিরদের ঈমানের প্রতি বাধ্য করার বিষয়টি এসেছে। সারকথা হলো, শাস্তির হুমকিও এক ধরনের বাধ্যবাধকতা (إكراه)। আর এমনটি কল্পনা করা যায় যখন কোনো মানুষের অবাধ্যতা বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধক কারণ তাকে বিধান পালন থেকে বিরত রাখে। সারকথা হলো, মানুষের কুমন্ত্রণাদাতা প্রবৃত্তি (الأمارة بالسوء) প্রায়শই মানুষকে ওয়াজিব বা আবশ্যক (واجب) কাজ থেকে বিরত রাখে, যদিও সে তার আবশ্যকতা সম্পর্কে বিশ্বাসী থাকে। আর যাকে শরয়ি বিধানের পরিপন্থী কাজে বাধ্য করা হয়েছে—যেমন কোনো মুসলিমকে হত্যা করা বা সালাত বর্জনের ক্ষেত্রে—সেখানে প্রশ্নটি দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:
… একটি হলো, সে যদি বাধ্যবাধকতার কারণে সেই কাজ করে তবে সে কি গুনাহগার (آثم) হবে কি না?
দ্বিতীয়টি হলো: সে যদি বাধ্যবাধকতা সহ্য করে নেয় এবং তদানুযায়ী কাজ না করে, তবে কি সে সওয়াব পাবে নাকি গুনাহগার (آثم) হবে? কারণ মানুষের নিজের প্রাণের ওপর নিজের অধিকার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যা বলা উচিত তা হলো, বাধ্যবাধকতা বা জবরদস্তির (إكراه) স্তরসমূহ বিভিন্ন হয় যা নির্ভর করে কিসের মাধ্যমে বাধ্য করা হচ্ছে তার ওপর। এই স্তরের পার্থক্য অনুধাবন করা এবং নির্দেশ লঙ্ঘনের সাথে এর তুলনা ও একের ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি অনুধাবনযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
شرعي، ولا سيما إذا كان ما به يقع الإكراه من نوع المكره عليه، مثل أن يكره بالقتل على القتل، وبالجملة فهذه المسألة اجتهاديه.
48_ ومنها: هل المقتضى بالتكليف الكف كما يقتضي الفعل. والجواب أن الترك صنفان: صنف يلحق الإنسان عند تركه التلبس بضد، فهذا لا يثاب عليه كالصيام. وصنف لا يلحق الإنسان عند تركه التلبس بضد، فهذا لا يثاب عليه. وإلحاق مسألة مسألة بهذين الصنفين نظر فروعي.
49_ ومنها: هل يتوجه الأمر بالشيء قبل حصول شرطه، كالأمر بالصلاة، فيعاقب على تركه من غير حصول شرطه، هذا إذا كان الشرط شرعيا كأمر المحدث بالصلاة في حين إحداثه، أو لا يتوجه الأمر بالشيء إلا حصول شرطه كالأمر بالصلاة في حين الطهارة؟
ونحن نقول:
إذا كان الشرط مكتسبا للإنسان باختياره فجائز أن يؤمر الإنسان بالشيء على تقدير حصول شرطه ويعاقب على تركه، وإن لم يأت بشرطه كتارك الصلاة يعاقب عليها وإن لم يتوضأ قط، وبذلك ورد الشرع، وقد دل دليل الإجماع على لحوق العقاب للمكذب بالرسل، قبل المعرفة بالله وإن كانت شرطا للإيمان بالرسل، وقد تمسك قوم في هذا بقوله عز وجل: (ما سلككم في سقر قالوا لم نكن من المصلين) ، وراموا أن يثبتوا أنه نص في الآية، وهي وإن لم تكن نصا فهي ظاهرة، لأنه محتمل أن يريد ها هنا بالمصلين المؤمنين كما قال عليه السلام: (نهيت عن قتل المصلين) . وما امتنع وقوع مثل هذا عنده عقلا صرف الظاهر إلى التأويل كالعادة في الظاهر المحتمل.
শরয়ি (شرعي), বিশেষ করে যদি জবরদস্তির মাধ্যমটি সেই বিষয়ের সমগোত্রীয় হয় যে বিষয়ে জবরদস্তি করা হচ্ছে, যেমন কাউকে হত্যার বিনিময়ে হত্যার ওপর বাধ্য করা। সারকথা হলো, এই বিষয়টি একটি ইজতিহাদি (اجتهادية) মাসআলা।
48_ তন্মধ্যে একটি হলো: শরয়ি দায়িত্বারোপের (تكليف) দাবি কি বিরত থাকা (كف), যেমনটি তা কোনো কাজ করার দাবি করে? এর উত্তর হলো: পরিহার বা বর্জন করা (ترك) দুই প্রকার: এক প্রকার হলো যা ত্যাগ করার সময় মানুষ তার বিপরীত কোনো কাজে লিপ্ত হয়; এমতাবস্থায় সে এর জন্য সওয়াব পাবে না, যেমন রোজা। আর অন্য প্রকারটি হলো এমন যা ত্যাগ করার সময় মানুষ তার বিপরীতে লিপ্ত হয় না; এটিও এমন যার ওপর সওয়াব পাওয়া যায় না। প্রতিটি মাসআলাকে এই দুই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করা একটি শাখাগত (فروعي) গবেষণা।
49_ তন্মধ্যে একটি হলো: কোনো বিষয়ের শর্ত (شرط) অর্জিত হওয়ার আগেই কি সেই বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করা সম্ভব? যেমন নামাজের নির্দেশ; ফলে শর্ত অর্জিত না হওয়া সত্ত্বেও তা বর্জন করার কারণে কি শাস্তি হবে? এটি তখন প্রযোজ্য যখন শর্তটি হবে শরয়ি (شرعي), যেমন অপবিত্র ব্যক্তির অপবিত্র অবস্থায় নামাজের নির্দেশ থাকা। অথবা শর্ত অর্জিত হওয়া ছাড়া কি কোনো বিষয়ের নির্দেশ আসে না? যেমন পবিত্রতা অর্জনের পর নামাজের নির্দেশ দেওয়া।
এবং আমরা বলি:
যদি শর্তটি (شرط) মানুষের ইচ্ছাধীন উপার্জিত বিষয় হয়, তবে শর্ত অর্জিত হওয়া সাপেক্ষে মানুষকে সেই বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া বৈধ (جائز) এবং শর্ত পূরণ না করলেও তা বর্জন করার কারণে সে শাস্তির যোগ্য হবে। যেমন নামাজ বর্জনকারীকে নামাজের জন্য শাস্তি দেওয়া হবে, যদিও সে কখনোই অজু না করে থাকে। শরিয়ত (شرع) এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। ইজমা (إجماع) এর দলিল দ্বারা প্রমাণিত যে, আল্লাহ সম্পর্কে জানার আগেই রাসুলগণকে অস্বীকারকারীর ওপর শাস্তি আপতিত হবে, যদিও আল্লাহর পরিচয় লাভ করা রাসুলদের ওপর ঈমান আনার পূর্বশর্ত (شرط)। একদল আলেম এই বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (তোমাদের কিসে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করল? তারা বলবে, আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না)। তারা এটিকে আয়াতে অকাট্য প্রমাণ (نص) হিসেবে সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন। যদিও এটি অকাট্য প্রমাণ (نص) নয়, তবে এটি সুস্পষ্ট (ظاهرة); কারণ এখানে 'নামাজি' বলতে মুমিনদের বোঝানো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমনটি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি নামাজিদের হত্যা করতে নিষেধপ্রাপ্ত হয়েছি)। আর যার নিকট এই জাতীয় বিষয় ঘটা বুদ্ধিগতভাবে (عقلا) অসম্ভব নয়, সে সুস্পষ্ট অর্থকে (ظاهر) ব্যাখ্যার (تأويل) দিকে ফিরিয়ে নেয়, যেমনটি অস্পষ্ট বা সম্ভাব্য সুস্পষ্ট (ظاهر محتمل) বিষয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম।
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
50_ وقد احتج من منع التكليف بمثل هذا بأنه لا معنى لوجوب الزكاة وقضاء الصلاة مع استحالة وقوعهما فكيف يجب ما لا يمكن امتثاله. وهؤلاء القوم اشتبه عليهم الشرط الشرعي بالشرط الوجودي. وليس الأمر كذلك فهذا المكلف إنما يتوجه إليه الأمر بالشيء قبل حصول شرطه على تقدير حصول شرطه، وهو مستطاع له ومكتسب بخلاف الشرط الوجودي.
51_ أما احتجاجهم بأن الكافر إذا أسلم انتفى وجوب الصلاة والزكاة عنه، فلا حجة فيه، لأن مصيرنا إلى سقوط وجوبها بالإسلام إنما هو بدليل الشرع وإنما أوجبنا القضاء على المرتد دون الكافر، لأن القضاء إنما يجب بأمر مجرد فليتبع فيه الدليل الشرعي، ولذلك قد يؤمر بالقضاء من لا يؤمر بالأداء، وقد يؤمر بالأداء من لا يؤمر بالقضاء.
52_ ومما يلحقون بهذا الباب مسألة رابعة وهي:
كما أنه لا يجوز إتيان الأمر بالجمع بين الضدين كذلك لا يجوز إتيان الأمر بالتخلي عنهما، إذا لم يكن بينهما وسط.
53_ ولكن ها هنا فيما زعموا مسائل جزئية توقع شكا في هذه المسألة الكلية وهي: من توسط أرضا مزدرعة مغصوبة فيحرم عليه المكت ويحرم عليه الخروج، إذ في كل واحد فساد زرع الغير، فهو عاص بأيهما فعل. وكذلك من سقط على صدر صبي محفوف بصبيان، وعلم إن مكث قتل من تحته وإن انتقل قتل من حواليه. ومثل هذه المسائل فهي اجتهادية، وليست مما يوقع شكا في أنه لا يجوز. ورود الأمر بالتخلي عن الضدين. ويشبه أن يقال فيها هو غير مكلف في هذا الحال، ويشبه أن يقال في المسألة الأولى يخرج لتقليل الضرر وفي
50_ যারা এ ধরণের দায়িত্বারোপ (تكليف) অসম্ভব বলে মনে করেন, তারা এই মর্মে যুক্তি দিয়েছেন যে, জাকাত ওয়াজিব (واجب) হওয়া এবং নামাজ কাযা (قضاء) করার কোনো অর্থ হয় না যখন সেগুলোর বাস্তবায়ন অসম্ভব; সুতরাং যা পালন করা সম্ভব নয়, তা কীভাবে ওয়াজিব (واجب) হতে পারে? এই দলটি শরয়ি শর্ত (الشرط الشرعي) এবং অস্তিত্বগত শর্তের (الشرط الوجودي) মধ্যে বিভ্রান্তিতে পড়েছে। বিষয়টি আসলে তেমন নয়; বরং এই মুকাল্লাফ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতি কোনো কিছুর নির্দেশ তখনই দেওয়া হয় যখন তার শর্ত পাওয়া যাবে—এই অনুমানের ভিত্তিতে, যা তার সামর্থ্যের (مستطاع) মধ্যে এবং অর্জনযোগ্য (مكتسب), যা অস্তিত্বগত শর্তের বিপরীত।
51_ তাদের এই যুক্তি যে, কাফির যখন ইসলাম গ্রহণ করে তখন তার ওপর থেকে নামাজ ও জাকাতের বাধ্যবাধকতা দূর হয়ে যায়, এতে কোনো প্রমাণ নেই। কারণ ইসলামের কারণে সেই ওয়াজিব (واجب) বাতিল হওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে শরয়ি দলিলের (دليل الشرع) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। আর আমরা কাফিরের বিপরীতে মুরতাদের (مرتد) ওপর কাযা (قضاء) করা ওয়াজিব (واجب) করেছি, কারণ কাযা (قضاء) কেবল একটি স্বতন্ত্র নির্দেশের মাধ্যমেই ওয়াজিব (واجب) হয়, তাই এ ক্ষেত্রে শরয়ি দলিলের (دليل الشرع) অনুসরণ করতে হবে। এই কারণেই কখনও এমন ব্যক্তিকে কাযা (قضاء) করার নির্দেশ দেওয়া হয় যাকে আদা (أداء) করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, আবার কখনও এমন ব্যক্তিকে আদা (أداء) করার নির্দেশ দেওয়া হয় যাকে কাযা (قضاء) করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
52_ এই অধ্যায়ে তারা চতুর্থ একটি মাসআলা (مسألة) যুক্ত করেছেন, তা হলো:
যেমনভাবে দুটি বিপরীতমুখী বিষয়ের সমন্বয় করার নির্দেশ প্রদান বৈধ নয়, তেমনিভাবে দুটি বিপরীতমুখী বিষয় বর্জন করার নির্দেশ দেওয়াও বৈধ নয়, যদি তাদের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী পথ না থাকে।
53_ কিন্তু তাদের দাবি অনুযায়ী এখানে এমন কিছু আংশিক বিষয় রয়েছে যা এই সামগ্রিক মাসআলায় (مسألة) সংশয় তৈরি করে; যেমন: কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের জবরদখলকৃত কোনো আবাদি জমির মাঝখানে অবস্থান করে, তবে তার জন্য সেখানে অবস্থান করাও হারাম (حرام) এবং সেখান থেকে বের হওয়াও হারাম (حرام), কারণ এই দুটির প্রত্যেকটিতেই অন্যের ফসলের ক্ষতি নিহিত রয়েছে; সুতরাং সে যা-ই করুক না কেন, সে গুনাহগার (عاص) হবে। একইভাবে, কোনো ব্যক্তি যদি শিশুদের দ্বারা পরিবেষ্টিত কোনো শিশুর বুকের ওপর পড়ে যায় এবং সে বুঝতে পারে যে, যদি সে সেখানে অবস্থান করে তবে যার ওপর পড়েছে সে মারা যাবে, আর যদি সরে যায় তবে আশপাশের শিশুরা মারা যাবে। এ ধরণের মাসআলাগুলো হলো ইজতিহাদি (اجتهادية) বিষয়, এগুলো এমন কোনো বিষয় নয় যা দুটি বিপরীত বিষয় বর্জনের নির্দেশ দেওয়া অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে সংশয় তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে সম্ভবত বলা যায় যে, এমতাবস্থায় সে দায়িত্বপ্রাপ্ত বা মুকাল্লাফ (مكلف) নয়। আবার প্রথম মাসআলার ক্ষেত্রে সম্ভবত বলা যায় যে, ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে সে বের হয়ে যাবে এবং...
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
الثانية يمكث، فإن الانتقال فعل مستأنف لا يصح إلا من حي. ويحتمل أن يقال يتخير، ولاسيما إذا لم يترجح أحد الفعلين في قلة الضرر على الثاني.
وهنا انقضى القول في الفعل وهو القسم الثالث من الجزء الأول من هذا الكتاب.
দ্বিতীয়ত, সে সেখানেই অবস্থান করবে; কেননা স্থানান্তরিত হওয়া একটি নব-আরম্ভকৃত কাজ (فعل مستأنف), যা কেবল জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেই হওয়া শুদ্ধ (صحيح)। এবং এটিও বলা সম্ভব যে, তাকে ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা দেওয়া হবে; বিশেষত যখন দ্বিতীয় ব্যক্তির ক্ষতির লঘুতার বিচারে কাজ দুটির কোনোটিই প্রাধান্য (ترجيح) পাবে না।
এখানেই কর্ম বা কাজ (الفعل) সংক্রান্ত আলোচনা সমাপ্ত হলো, যা এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের তৃতীয় পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
القول في القسم الرابع:54_ هذا القسم يتضمن القول في أن ها هنا أسبابا مظهرة للأحكام ولصفات تتصف بها الأحكام، كالصحة والفساد، وتتضمن شرح ما تدل عليه هذه الأسماء، وهو أربعة فصول:
93/1
الفصل الأول: في الأسباب المظهرة للأحكام
55_اعلم أن الشرع قد نصب للأحكام علامات تتضمن وقوعها كما تتضمن العلل الحسية معلولاتها، وبهذه الأسباب نتوصل إلى معرفة وقوع الأحكام، وإلا كان إثباتها محالا. والقول في تفصيل الأحوال التي بها تكون مقتضية للأحكام هو في الجزء الثالث من هذا الكتاب.
الفصل الثاني: فيما يدل عليه اسم الصحة والبطلان في الأحكام
56_ إعلم أن هذا يطلق في العبادات على أوجه مختلفة، فالصحة تنطلق عند المتكلمين على ما وقع على وفق الشرع، وجب القضاء أو لم يجب؛ وعند الفقهاء عما أجزأ وأسقط القضاء، حتى أن الصلاة من ظن أنه متطهر صحيحة في اصطلاح المتكلمين، لأن القضاء لازم بأمر متجدد. وهذه اصطلاحات لا مشاحة فيها إذا فهم الغرض. وأما في العقود فينطلق الفساد على كل حكم لم يتضمن أحد ما به يتم الحكم، سواء كان ذلك شرطا أو سببا، والصحة مقابل هذا. اللهم إلا أن أصحاب أبي حنيفة فإنهم يخصون باسم الفاسد ما كان مشروعا في أصله ممنوعا في وصفه. لكن قد تقدم من قولنا أن كل ممنوع بوصفه ممنوع بأصله وعائد عليه بالفساد من جهة ما هو متصف. وبالجملة
চতুর্থ ভাগ প্রসঙ্গে আলোচনা:৫৪_ এই ভাগে সেসকল কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যা বিধানসমূহকে প্রকাশ করে এবং বিধানের গুণাবলি যেমন— বৈধতা (صحة) ও ত্রুটিপূর্ণতা (فساد) বর্ণনা করে। এছাড়াও এই নামগুলো যা নির্দেশ করে তার ব্যাখ্যা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
৯৩/১
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিধানসমূহ প্রকাশকারী কারণসমূহ প্রসঙ্গে
৫৫_জেনে রাখুন যে, শারিয়াত বিধানসমূহের জন্য এমন কিছু আলামত বা চিহ্ন নির্ধারণ করে দিয়েছে যা সেগুলোর বাস্তবায়নকে অন্তর্ভুক্ত করে, ঠিক যেমন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কারণসমূহ তাদের কার্যকারণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণসমূহের মাধ্যমেই আমরা বিধানসমূহ কার্যকর হওয়ার বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি; অন্যথায় তা সাব্যস্ত করা অসম্ভব হতো। আর সেই সকল অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা যার মাধ্যমে এগুলো বিধানের দাবিদার হয়, তা এই গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিধানের ক্ষেত্রে বৈধতা (صحة) ও অসারতা (بطلان) শব্দ দুটি যা নির্দেশ করে
৫৬_ জেনে রাখুন যে, ইবাদতের ক্ষেত্রে এই শব্দগুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। মুতাকাল্লিমগণের মতে 'বৈধতা' (صحة) বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যা শারিয়াত অনুযায়ী সম্পাদিত হয়েছে, চাই তার কাজা আদায় করা ওয়াজিব হোক বা না হোক। আর ফকিহগণের নিকট তা হলো— যা পর্যাপ্ত হয়েছে এবং কাজার আবশ্যকতাকে রহিত করেছে। এমনকি যে ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র মনে করে সালাত আদায় করল, মুতাকাল্লিমগণের পরিভাষায় তা 'সঠিক' (صحيحة); কারণ এক্ষেত্রে কাজা করা একটি নতুন আদেশের মাধ্যমে আবশ্যক হয়েছে। আর এগুলো এমন পরিভাষা যে ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য বোঝা গেলে কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকে না। আর চুক্তির ক্ষেত্রে, 'ত্রুটিপূর্ণতা' (فساد) এমন প্রতিটি বিধানের ওপর প্রযোজ্য হয় যাতে বিধানটি সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো একটি বিষয় অনুপস্থিত থাকে, চাই তা শর্ত হোক কিংবা কারণ। আর 'বৈধতা' (صحة) এর বিপরীত। তবে ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ 'ত্রুটিপূর্ণ' (فاسد) নামটিকে সেই বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেন যা মূলে শারিয়াতসম্মত কিন্তু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ। তবে আমরা আগে বলেছি যে, যা কিছু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে নিষিদ্ধ, তা তার মূলের দিক থেকেও নিষিদ্ধ এবং তা তার গুণাবলির দিক থেকে 'ত্রুটিপূর্ণ' (فساد) হওয়ার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। মোটের ওপর—
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
فالأحكام إنما تتصف بالصحة إذا فعلت بالأمور والأحوال التي اشترط الشرع في فعلها، والفساد بخلاف ذلك.
95/1
الفصل الثالث: في وصف العبادة بالأداء والقضاء والإعادة
57_ اعلم أن الواجب إذا أدي في وقته سمي أداء، وإذا فعل مرة على نحو من الخلل ثم فعل ثانيا سمي قضاء. وقد يطلق اسم القضاء على معان غير هذه بعضها أقرب إلى هذا المعنى، وبعضها أبعد. فمنها ما يترك سهوا حتى يخرج وقته فهذا أيضا يسمى قضاء حقيقة، لكن يفارق الأول بحط الإثم عن فاعله. ومنها ألا يجب الأداء كالصيام في حق الحائض. وقد أشكل هذا على طائفة حتى ألزموا وجوب الصوم على الحائض بدليل وجوب القضاء، والإجماع يرد هذا فإنها لو ماتت قبل أن تطهر لم تأثم، ومنها حالة المريض والمسافر فإنهما من حيث لهما أن يصوما أشبه فرضهما الواجب الموسع. وقد كان ينبغي ألا يسمى هذا قضاء مجاز، لما في ذلك من فوات الوقت الأول المشهور.
58_ وفي المسافر والمريض مذهبان غير هذا: أحدهما مذهب أهل الظاهر أنهما لو صاما لم يصح صومهما لقوله عز وجل: (فعدة من أيام أخر) والثاني مذهب الكرخي أن الواجب أيام أخر، ولكن لو صاما رمضان صح، كمن قوم الزكاة على الحول. وكلا هذين القولين إنما يبنيان على من لا يرى أن في الآية حذفا، وأن التقدير: فافطر فعدة من أيام أخر، وإن ذلك محمول على الرخصة. وستبين هذه المسألة مما يقال في الجزء الثالث من هذا الكتاب. فأما ما يحتمل أن يسأل عنه من يرى
বিধানসমূহ কেবল তখনই সহিহ (صحيح) হিসেবে অভিহিত হয় যখন সেগুলো এমন বিষয় ও অবস্থার সাথে সম্পাদিত হয় যা শরিয়ত তা সম্পাদনের জন্য শর্ত করেছে। আর ফাসাদ (فساد) বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়া এর বিপরীত।
95/1
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতকে যথাসময়ে আদায় (أداء), কাজা (قضاء) এবং পুনরায় আদায় (إعادة) হিসেবে বিশেষায়িত করার বিবরণে।
57_ জেনে রাখুন, ওয়াজিব (واجب) যখন তার নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা হয়, তখন তাকে যথাসময়ে আদায় (أداء) বলা হয়। আর যদি তা একবার ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় সম্পন্ন করা হয়, অতঃপর দ্বিতীয়বার সম্পন্ন করা হয়, তবে তাকে কাজা (قضاء) বলা হয়। কখনও কখনও কাজা (قضاء) শব্দটি এর বাইরেও অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার কিছু এই অর্থের কাছাকাছি এবং কিছু দূরবর্তী। তার মধ্যে একটি হলো যা ভুলবশত ছেড়ে দেওয়া হয় এমনকি তার সময় শেষ হয়ে যায়; এটিকেও প্রকৃত অর্থে কাজা (قضاء) বলা হয়, তবে এটি প্রথমটি থেকে পৃথক এই অর্থে যে, এতে সম্পাদনকারীর ওপর থেকে গুনাহ অপসারিত হয়। আবার কখনও যথাসময়ে আদায় (أداء) ওয়াজিব হয় না, যেমন ঋতুবতী নারীর ক্ষেত্রে রোজা। বিষয়টি একটি দলের কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে, এমনকি তারা কাজা (قضاء) ওয়াজিব হওয়ার দোহাই দিয়ে ঋতুবতী নারীর ওপর রোজাকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছে। অথচ ইজমা (إجماع) একে প্রত্যাখ্যান করে; কেননা সে যদি পবিত্র হওয়ার আগে মারা যায় তবে সে গুনাহগার হবে না। এর অন্তর্ভুক্ত হলো অসুস্থ ও মুসাফিরের অবস্থা; কেননা তাদের রোজা রাখার অবকাশ থাকার দিক থেকে তাদের জন্য নির্ধারিত ফরজটি প্রশস্ত ওয়াজিব (الواجب الموسع)-এর সদৃশ। সঙ্গত ছিল যে, একে রূপক অর্থেও কাজা (قضاء) বলা হবে না, যেহেতু এতে সুপরিচিত প্রাথমিক সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিদ্যমান।
58_ মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর বাইরে আরও দুটি মাজহাব (مذهب) রয়েছে: একটি হলো আহলে জাহের (أهل الظاهر)-এর অভিমত যে, তারা রোজা রাখলে তা সহিহ (صحيح) হবে না, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর অন্য দিনগুলোতে তা পূরণ করতে হবে)। দ্বিতীয়টি হলো ইমাম কারখির মাজহাব (مذهب), তা হলো মূলত অন্য দিনগুলোতেই রোজা ওয়াজিব, তবে তারা যদি রমজানেই রোজা রেখে ফেলে তবে তা সহিহ (صحيح) হবে; যেমন কেউ বর্ষপূর্তিতে জাকাত মূল্যায়ন করল। এই উভয় মতবাদই তাদের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যারা মনে করেন না যে আয়াতে কোনো শব্দ ঊহ্য (حذف) আছে, বরং আয়াতের প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো: 'অতঃপর সে রোজা ভঙ্গ করলে অন্য দিনগুলোতে তা পূরণ করতে হবে', আর এটি মূলত রুখসত (رخصة) হিসেবে গণ্য। এই মাসয়ালাটি (مسألة) এই কিতাবের তৃতীয় খণ্ডে যা বলা হবে তা থেকে স্পষ্ট হবে। তবে যার জিজ্ঞাসিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে মনে করে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৬০)
ذلك محمولا على الرخصة من جواز وقوع صيام المريض الذي يخاف على نفسه الهلاك والضرر العظيم، فتلك مسألة اجتهادية تحتمل الوجهين، وهي خارجة عن هذا الغرض.
59_ وقد أطلق القاضي رحمه الله اسم القضاء على ما يتركه الإنسان متعمدا مع غلبة ظنه وبالإخترام قبل أدائه الفعل إذا انكشف خلاف ما ظن، لأنه يقدر الوقت بحسب غلبة الظن. وهذا لا معنى له، لأنه ليس يكون ظنه بالاخترام سببا لخروج الوقت في نفسه.
الفصل الرابع: في العزيمة والرخصة
60_ اعلم أن العزم في الشرع عبارة عما لزم العباد بإيجاب الله تعالى، والرخصة عبارة عما وسع للمكلف في فعله لعذر أو عجز عنه، مع قيام السبب المحترم، كتحليل جرعة خمر للشرق، والميتة للمضطر. وقد تطلق الرخصة على معان غير هذه بعضها أقرب إلى هذا وبعضها أبعد.
61_ وهنا انتهى النظر في الجزء الأول من هذا المختصر، وتلوه كتاب أصول الأحكام.
এটি সেই ছাড় (رخصة) প্রদানের বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যার প্রাণহানি বা মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে তার সিয়াম পালনের বৈধতা প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে; সুতরাং এটি একটি গবেষণালব্ধ (اجتهادية) বিষয় যা উভয় দিককে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রাখে এবং এটি বর্তমান আলোচনার প্রসঙ্গের বহির্ভূত।
59_ এবং কাজী (রহিমাহুল্লাহ) সেই আমলকে কাজা (قضاء) হিসেবে অভিহিত করেছেন যা কোনো ব্যক্তি প্রবল ধারণার (غلبة ظن) বশবর্তী হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করে এবং আমলটি সম্পাদনের পূর্বেই তার মৃত্যু বা বাধার (إخترام) আশঙ্কা করে, যদি পরবর্তীতে তার ধারণার বিপরীত কিছু প্রকাশ পায়; কারণ তিনি প্রবল ধারণার প্রেক্ষিতে সময়কে নির্ধারণ করেন। কিন্তু এর কোনো সার্থকতা নেই, কারণ মৃত্যু বা বাধার ব্যাপারে তার ধারণা স্বয়ং সময় অতিক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে না।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আজিমত (عزيمة) ও রুখসত (رخصة) প্রসঙ্গে
60_ জেনে রাখুন যে, শরয়ি পরিভাষায় আজিমত (عزيمة) হলো এমন বিষয় যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আবশ্যক করার মাধ্যমে বান্দাদের ওপর অপরিহার্য করা হয়েছে; আর রুখসত (رخصة) হলো কোনো ওজর বা অক্ষমতার কারণে শরয়ি কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও দায়বদ্ধ ব্যক্তির (مكلف) জন্য কাজটি করার সুযোগ বা শিথিলতা প্রদান করা। যেমন—গলায় খাবার আটকে গেলে এক ঢোক মদ পান করা বা নিরুপায় (مضطر) ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা বৈধ হওয়া। কখনো কখনো রুখসত (رخصة) শব্দটি এই অর্থ ব্যতিরেকে অন্য অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যার কিছু এই সংজ্ঞার নিকটবর্তী এবং কিছু দূরবর্তী।
61_ এখানেই এই সংক্ষিপ্ত সার (مختصر) গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের আলোচনা সমাপ্ত হলো এবং এর পরবর্তী অংশ হলো উসুল আল-আহকাম কিতাব।
(খণ্ড: ১)
আদ-দারুরি ফি উসুলিল ফিকহ = মুখতাসারুল মুস্তাসফা
(পৃষ্ঠা: ৬১)
القول في الجزء الثاني من هذا الكتاب
এই গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড (الجزء الثاني) সম্পর্কিত আলোচনা