(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: -)
ذيل الصواعق لمحو الأباطيل والمخارق   (حمود بن عبد الله التويجري)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: ذيل الصواعق لمحو الأباطيل والمخارق

المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)

الناشر: بدون

الطبعة: الأولى، 1390 هـ

عدد الصفحات: 359

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 رجب 1436

যাইলুস সাওয়াইক লি মাহওয়িল আবাতিল ওয়াল মাখারিদ (মিথ্যা ও প্রবঞ্চনা বিলোপে বজ্রপাতের পরিশিষ্ট)   (হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী)

বিভাগ: ফিরাক ও রুদুদ (উপদল ও খণ্ডন)


গ্রন্থ: যাইলুস সাওয়াইক লি মাহওয়িল আবাতিল ওয়াল মাখারিদ

লেখক: হামুদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুওয়াইজিরী (মৃত্যু ১৪১৩ হি.)

প্রকাশক: নেই

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯০ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ রজব ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: -)
ذيل الصواعق لمحو الأباطيل والمخارق

 

تأليف

الفقير إلى الله تعالى

حمود بن عبد الله التويجري

غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين
বাতিল ও কুসংস্কারসমূহ নির্মূলে 'আস-সাওয়ায়িক' (বজ্রসমূহ) গ্রন্থের পরিশিষ্ট

 

রচনা করেছেন

মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী

হামূদ ইবনে আবদুল্লাহ আত-তুওয়াইজিরী

আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

تقديم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم النبيين وسيد الخلائق أجمعين وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد فقد قرأ عليَّ فضيلة الشيخ/ حمود بن عبد الله التويجري مؤلفه القيم (ذيل الصواعق لمحو الأباطيل والمخارق) فألفيته كتاباً جيداً في معناه أجاد فيه وأفاد، وبيَّن غلطات الأستاذ محمد محمود الصواف في كتابه (المسلمون وعلم الفلك) بما لا مزيد عليه، بارك الله فيه وفي علومه.

فإن الأستاذ الصواف ذكر في كتابه (المسلمون وعلم الفلك) أشياء لم يدل عليها دليل لا من كتاب ولا من سنة ولا إجماع ولا عقل سليم ولا يكاد يصدق بها من له أدنى مسكة من عقل فضلا عمن لديه أدنى علم بنصوص الكتاب والسنة {قُلْ لَا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ}.

مثل قول الصواف عن أبي جعفر الطوسي: "وهل تعلم أن من علماء الهيئة المسلمين الذين رصدوا وألفوا وسهروا الليالي الطوال في مناجاة النجوم ورصد حركاتها وسكناتها الشيخ/ أبو جعفر نصير الدين محمد بن الحسن الطوسي الفيلسوف … " إلى أن قال: "ولو أردنا أن نزيد لأتينا بالشيء الكثير من فعل سلفنا الصالح".

وحالة الطوسي معلومة عند أهل العلم قال عنه ابن القيم في كتابه (إغاثة اللهفان) في صفحة (267) المجلد الثاني: " لما انتهت النوبة إلى نصير الشرك والكفر والإلحاد وزير الملاحدة النصير الطوسي وزير هولاكو شفى نفسه من أتباع الرسول صلى الله عليه وسلم وأهل دينه، فعرضهم على السيف حتى شفى إخوانه من الملاحدة، واشتفى هو فقتل الخليفة والقضاء الفقهاء والمحدثين، واستبقى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

উপক্রমণিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও সকল সৃষ্টির সরদার, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের প্রতি।

অতপর, সম্মানিত শায়খ হামুদ বিন আবদুল্লাহ আল-তুওয়াইজিরী তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ (যাইলুস সাওয়ায়েক লি-মাহবিল আবাতিল ওয়াল মাখারেক) আমার নিকট পাঠ করেছেন। আমি এটিকে এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে একটি চমৎকার গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যেখানে তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে আলোচনা করেছেন এবং প্রভূত উপকার সাধন করেছেন। তিনি উস্তাদ মুহাম্মদ মাহমুদ আস-সাওয়াফের গ্রন্থ 'আল-মুসলিমুন ওয়া ইলমুল ফালাক' (মুসলিম ও জ্যোতির্বিজ্ঞান)-এর ভুলসমূহ এমনভাবে স্পষ্ট করেছেন যে এর অধিক আর কিছু করার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর ইলমকে বরকতময় করুন।

বস্তুত উস্তাদ সাওয়াফ তাঁর গ্রন্থ 'আল-মুসলিমুন ওয়া ইলমুল ফালাক'-এ এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যার স্বপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা কিংবা সুস্থ বিবেকের কোনো প্রমাণ নেই। যার সামান্যতম বিচারবুদ্ধি আছে সে-ও এগুলো বিশ্বাস করতে পারবে না, আর যাদের কুরআন ও সুন্নাহর বাণী সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান রয়েছে তাদের তো প্রশ্নই আসে না। {বলুন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ গায়েব জানে না}।

যেমন আবু জাফর আল-তুসী সম্পর্কে সাওয়াফের উক্তি: "আপনি কি জানেন যে, মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে যারা নক্ষত্ররাজির পর্যবেক্ষণ করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তাদের গতিবিধি ও স্থিরতা পর্যবেক্ষণে দীর্ঘ রাত বিনিদ্র কাটিয়েছেন, তাঁরা হলেন শায়খ আবু জাফর নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-তুসী দার্শনিক … " পরিশেষে তিনি বলেন: "আমরা যদি আরও বর্ণনা করতে চাইতাম, তবে আমাদের নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফ আস-সালেহীন) কর্ম থেকে আরও অনেক উদাহরণ পেশ করতে পারতাম।"

আলেম সমাজের নিকট আল-তুসীর অবস্থা অত্যন্ত সুপরিচিত। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'ইগাসাতুল লাহফান' গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ২৬৭ পৃষ্ঠায় তাঁর সম্পর্কে বলেন: "যখন শির্ক, কুফর ও নাস্তিকতার পৃষ্ঠপোষক, নাস্তিকদের উজির এবং হালাকু খাঁ-র মন্ত্রী নাসির তুসীর সময় এল, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী ও তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের ওপর নিজের ক্রোধ মেটাল। সে তাদের তরবারির নিচে অর্পণ করল, যার ফলে তার নাস্তিক ভাইদের মনে শান্তি এল এবং সে নিজেও স্বস্তি পেল। সে খলিফা, বিচারক, ফকীহ এবং মুহাদ্দিসদের হত্যা করল এবং অবশিষ্ট রাখল..."
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ৪)
الفلاسفة والمنجمين والطبائعيين والسحرة، ونقل أوقاف المدارس والمساجد والربط إليهم، وجعلهم خاصته وأولياءه، ونصر في كتبه قدم العالم وبطلان المعاد، وإنكار صفات الرب جل جلاله من علمه وقدرته وحياته وسمعه وبصره، وأنه لا داخل العالم ولا خارجه، وليس فوق العرش إله يعبد البتة، واتخذ الملاحدة مدارس، ورام جعل إشارات إمام الملحدين ابن سينا مكان القرآن فلم يقدر على ذلك، فقال هي قرآن الخواص، وذلك قرآن العوام، ورام تغيير الصلاة وجعلها صلاتين، فلم يتم له الأمر".

وتعلم السحر آخر الأمر، فكان ساحراً يعبد الأصنام، قال ابن القيم في الكتاب المذكور نقلا عن مصارعة المصارعة للطوسي: "وأنه تعالى لم يخلق السموات والأرض في ستة أيام، وأنه لا يعلم شيئا، وأنه لا يفعل شيئا بقدرته واختياره، ولا يبعث من في القبور .... " إلى أن قال: "وبالجملة فكان هذا الملحد هو وأتباعه من الملحدين الكافرين بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر" انتهى.

فلا ينبغي حينئذ تعداده من المسلمين ولا من سلفنا الصالح.

ومثل قول الأستاذ الصواف: "إن الشمس تفقد أربعة ملايين طن من وزنها في الثانية الواحدة من احتراقها ولم تزل تجدد وزنها وحجمها".

فمن وزنها بذلك؟. ومن عرف مقدار ما تحرقه من ملايين الأطنان؟ .. ومن قدر هذا الزمان الذي تحرق فيه هذا العدد الهائل؟ ..

ومن ذلك نقله عن جيمس أوثر أن العالم بدأ يوم 26 أكتوبر سنة 4004 قبل الميلاد، ولم يرده، بل نقله مقرا له ومرتضيا، فما الذي أدراه عن ذلك الشهر وعن ذلك اليوم وأنه هو اليوم السادس والعشرون من أكتوبر بحيث لم يتقدم يوما ولم يتأخر يوما؟ لا يعلم متى كان ذلك إلا الله.

وقال أيضاً: "جاء في أحد الكتب الهندية المقدسة أن عمر العالم هو 1.972.949.056 ألف وتسعمائة واثنان وسبعون مليون وتسعمائة وتسع وأربعون ألفا وست وخمسون سنة".
দার্শনিক, জ্যোতিষী, প্রকৃতিবাদী এবং জাদুকরদের সংস্পর্শ গ্রহণ; মাদ্রাসা, মসজিদ ও খানকাহসমূহের ওয়াকফ সম্পত্তি তাদের নিকট হস্তান্তর; তাদের নিজের বিশেষ পারিষদ ও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ এবং নিজ গ্রন্থসমূহে জগতের অনাদিত্ব ও পুনরুত্থানের অসারতা প্রমাণে লিপ্ত হওয়া; অধিকন্তু মহান রবের জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, শ্রবণ ও দর্শনের ন্যায় গুণাবলি অস্বীকার করা এবং এ দাবি করা যে, তিনি জগতের ভেতরেও নন, বাইরেও নন এবং আরশের উপরে ইবাদতযোগ্য কোনো ইলাহ নেই—এসবই ছিল তাঁর কর্ম। তিনি নাস্তিকদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং নাস্তিকদের ইমাম ইবনে সিনার 'ইশারাত' গ্রন্থটিকে কুরআনের স্থলাভিষিক্ত করার অপচেষ্টা চালান। যখন তিনি এতে ব্যর্থ হলেন, তখন বললেন: এটি হলো বিশিষ্টজনদের কুরআন আর ওটি হলো সাধারণের কুরআন। তিনি সালাত বা নামাযের পরিবর্তন ঘটিয়ে একে দুই ওয়াক্ত করার সংকল্প করেছিলেন, তবে তাঁর সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

শেষ জীবনে তিনি যাদুবিদ্যা আয়ত্ত করেন এবং মূর্তিপূজক জাদুকরে পরিণত হন। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর উল্লেখিত গ্রন্থে তূসীর 'মুসারাআত আল-মুসারাআ' থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: "আর মহান আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেননি, তিনি কিছুই জানেন না, তিনি তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় কিছুই করেন না এবং কবরে শায়িতদের পুনরুত্থিত করবেন না..." পরিশেষে তিনি বলেন: "সারসংক্ষেপ হলো, এই নাস্তিক এবং নাস্তিকতায় তার অনুসারীরা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের প্রতি অবিশ্বাসী ছিল।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

এমতাবস্থায় তাকে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত কিংবা আমাদের নেককার পূর্বসূরিদের (সালাফে সালেহীন) মধ্যে গণ্য করা কোনোভাবেই উচিত নয়।

অনুরূপ উস্তাদ সাওয়াফের এ উক্তির ন্যায় যে: "সূর্য জ্বলনের ফলে প্রতি সেকেন্ডে তার ওজনের চার মিলিয়ন টন হারায়, তবে সে ক্রমাগত নিজের ওজন ও আয়তন নবায়ন করে চলেছে।"

কে একে এভাবে ওজন করল? আর কে জানল যে লক্ষ লক্ষ টনের এই পরিমাণ পুড়ছে? আর কে এই সময়কাল নির্ধারণ করল যাতে এই বিশাল পরিমাণ বস্তু ভস্মীভূত হচ্ছে?

এর অন্তর্ভুক্ত হলো জেমস উশার থেকে তাঁর এই বর্ণনাটি যে, বিশ্বের সূচনা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৪০শে অক্টোবর ২৬ তারিখে। তিনি এটি খণ্ডন করেননি, বরং স্বীকৃতি ও সন্তুষ্টির সাথে উদ্ধৃত করেছেন। কোন বিষয় তাকে সেই মাস ও দিন সম্পর্কে অবহিত করল যে, সেটি ছিল ২৬শে অক্টোবর, যাতে একদিন আগেও হয়নি বা একদিন পরেও হয়নি? একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানেন না যে সেটি কখন ছিল।

তিনি আরও বলেছেন: "হিন্দুদের একটি পবিত্র গ্রন্থে এসেছে যে, জগতের বয়স হলো ১,৯৭২,৯৪৯,০৫৬ (একশ সাতানব্বই কোটি ঊনত্রিশ লক্ষ ঊনপঞ্চাশ হাজার ছাপ্পান্ন) বছর।"
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ৫)
وقال أيضاً: " إن الجهود التي يبذلها الفلكيون في العصر الحديث يمكن أن تعتبر أصح تقدير لعمر الكرة الأرضية فقد دلت آخر التقديرات القائمة أن عمر الكرة الأرضية حوالي خمسة آلاف وأربعمائة مليون سنة 5.400.000.000" وهذا تناقض كما ترى فلا يعلم متى كان ذلك غير من خلق هذا الكون وأوجده.

ونعوذ بالله أن نقول بقدم العالم كما يقوله بعض الفلاسفة ..

وقال أيضاً: " إن بعض العلماء أظهر أنه تمكن من احتساب النقص في سرعة دوران الأرض فوجد أن هذا النقص يبلغ حوالي ثانية واحدة كل مائة وعشرين ألف سنة " ثم قال الأستاذ الصواف: "وعليه فبعد 432 مليون سنة ينقص دوران الأرض بمقدار ساعة وعندئذ يصبح مجموع ساعات الليل والنهار 25 ساعة". فتصور هذا وأمثاله كاف في رده.

وقال أيضاً في عمر الشمس: " إنه خمسة آلاف مليون سنة، وأن نجوما سوف لا يصل نورها إلى كرتنا الأرضية في أقل من ألف وخمسمائة مليون سنة ضوئية" قال: "مع العلم بأن الضوء يسير في الثانية الواحدة ثلاثمائة ألف كيلو متر. وأن هذا الكون يتضمن خمسمائة مليون مليون من المجرات كما يقدر علماء الفلك، وفي كل مجرة مائة ألف مليون نجم".

إلى غير ذلك من الأشياء الكثيرة في كتابه، فلعل فضيلته يراجع كتابه ويصلح ما فيه من خطأ على ضوء الكتاب والسنة وما يؤيده العقل الصحيح، فإن الرجوع إلى الحق خير من التمادي في ضده، والله يوفق الجميع لما فيه صلاح ديننا ودنيانا، وأن يسلك بنا صراطه المستقيم وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم.،،،

الرئيس العام لإشراف الديني بالمسجد الحرام

عبد الله بن محمد بن حميد

3/ 11/ 1389 هـ
তিনি আরও বলেছেন: "আধুনিক যুগে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তাকে পৃথিবীর বয়সের সবচেয়ে সঠিক পরিমাপ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। কেননা সর্বশেষ পরিমাপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পৃথিবীর বয়স প্রায় পাঁচ হাজার চারশ মিলিয়ন বছর ৫.৪০০.০০০.০০০।" অথচ আপনি যেমনটি দেখছেন, এটি একটি স্ববিরোধিতা। এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও অস্তিত্বদানকারী ব্যতীত আর কেউই জানেন না যে, এটি কখন সৃষ্টি হয়েছিল।

আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি জগতকে অনাদি বলার বিভ্রান্তি থেকে, যেমনটি কিছু দার্শনিক দাবি করে থাকেন।

তিনি আরও বলেছেন: "জনৈক বিজ্ঞানী প্রকাশ করেছেন যে, তিনি পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির হ্রাসের হার গণনা করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি দেখেছেন যে, প্রতি এক লক্ষ বিশ হাজার বছরে এই হ্রাসের পরিমাণ প্রায় এক সেকেন্ড।" অতঃপর উস্তাদ সাওয়াফ বলেন: "সেই অনুযায়ী ৪৩২ মিলিয়ন বছর পর পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি এক ঘণ্টা হ্রাস পাবে এবং তখন দিন ও রাতের মোট ব্যাপ্তি হবে ২৫ ঘণ্টা।" এ জাতীয় বিষয়গুলোর কল্পনা করাই তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য যথেষ্ট।

সূর্যের বয়স সম্পর্কে তিনি আরও বলেছেন: "এর বয়স পাঁচ হাজার মিলিয়ন বছর এবং এমন কিছু নক্ষত্র রয়েছে যাদের আলো আমাদের এই পৃথিবীতে পৌঁছাতে পনেরশ মিলিয়ন আলোকবর্ষের কম সময় নেবে না।" তিনি আরও বলেন: "স্মর্তব্য যে, আলো প্রতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী এই মহাবিশ্ব পাঁচশ মিলিয়ন মিলিয়ন ছায়াপথ সমৃদ্ধ, যার প্রতিটি ছায়াপথে রয়েছে এক লক্ষ মিলিয়ন নক্ষত্র।"

তাঁর কিতাবে এ জাতীয় আরও বহু বিষয় রয়েছে। আশা করি মাননীয় লেখক তাঁর কিতাবটি পুনরায় পর্যালোচনা করবেন এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সুস্থ বিবেকের সমর্থিত দলিলের আলোকে এতে বিদ্যমান ভুলগুলো সংশোধন করবেন। কেননা সত্যের দিকে ফিরে আসা মিথ্যার ওপর অটল থাকার চেয়ে উত্তম। আল্লাহ দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য আমাদের সকলকে তাওফিক দান করুন এবং আমাদের তাঁর সরল পথে পরিচালিত করুন। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

মসজিদে হারামের ধর্মীয় তত্ত্বাবধান বিভাগের জেনারেল প্রেসিডেন্ট

আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হুমাইদ

৩/ ১১/ ১৩৮৯ হিজরী
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه. ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله المبعوث رحمة للعالمين، وحجة على المعاندين، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد، فقد اطلعت على رسالة لمحمد محمود الصواف سماها (المسلمون وعلم الفلك) قد جمع فيها ما نشره في جريدة الدعوة من التعقيب على الشيخ عبد العزيز بن باز فيما يتعلق بجريان الشمس وسكون الأرض، وزاد على ذلك شيئًا كثيرًا من تخرصات أهل الهيئة الجديدة، وتخرصات أتباعهم في الأرض والشمس والقمر والكواكب، وهذه الرسالة مطبوعة في لبنان في جمادى الأولى سنة 1387 هـ.

وقد كنت كتبت ردا على ما نشره في جريدة الدعوة وسميته (الصواعق الشديدة على أتباع الهيئة الجديدة) وهو في الحقيقة رد على ما نشره في جريدة الدعوة وعلى رسالته المطبوعة معا، لأن ما في الرسالة المطبوعة هو نص ما نشره في الجريدة سوى ما زاده فيها من التخرصات وتحريف بعض الآيات وتأويلها على غير المراد منها.

وقد رأيت أن اتبع الرد بملحق في رد ما زاده في الرسالة المطبوعة من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত এবং সত্যবিমুখ বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সকলের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর, আমি মুহাম্মদ মাহমুদ আস-সাওয়াফের একটি পুস্তিকা পর্যালোচনা করেছি যার নাম তিনি দিয়েছেন (আল-মুসলিমুন ওয়া ইলমুল ফালাক - মুসলমান ও জ্যোতির্বিদ্যা)। এতে তিনি সূর্য ও পৃথিবীর গতি এবং স্থিরতা সংক্রান্ত বিষয়ে শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায-এর ওপর 'আদ-দাওয়াহ' পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর মন্তব্যসমূহ সংকলিত করেছেন। এছাড়া তিনি এতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বহু ভিত্তিহীন অনুমান এবং পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি সম্পর্কে তাঁদের অনুসারীদের নানা মনগড়া কথা যোগ করেছেন। এই পুস্তিকাটি ১৩৮৭ হিজরির জমাদিউল উলা মাসে লেবাননে মুদ্রিত হয়েছে।

আমি ইতিপূর্বে 'আদ-দাওয়াহ' পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর সেই লেখার একটি প্রতিবাদ লিখেছিলাম এবং সেটির নামকরণ করেছিলাম (আস-সাওয়ায়েকুশ শাদীদাহ আলা আতবায়িল হাইআতিল জাদিদাহ)। এটি প্রকৃতপক্ষে 'আদ-দাওয়াহ' পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ এবং তাঁর মুদ্রিত পুস্তিকা—উভয়েরই সম্মিলিত উত্তর। কারণ মুদ্রিত পুস্তিকাটিতে যা রয়েছে তা পত্রিকায় প্রকাশিত লেখারই অনুলিপি, কেবল এতে তিনি অতিরিক্ত কিছু অলীক কল্পনা এবং কিছু আয়াতের অপব্যাখ্যা ও বিকৃতি যোগ করেছেন যা সেগুলোর মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

তাই আমি এই প্রতিবাদের সাথে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করার সংকল্প করেছি, যাতে মুদ্রিত পুস্তিকায় অতিরিক্ত যা বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর খণ্ডন করা যায়...
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ৮)
التخرصات والتوهمات، وتحريف الكلم عن مواضعه، وأسأل الله المعونة والتوفيق لما يجب ويرضى، وأن يرينا الحق حقا ويرزقنا اتباعه، ويرينا الباطل باطلا ويرزقنا اجتنابه، ولا يجعله ملتبسا علينا فنضل. {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ}
অমূলক অনুমান ও কল্পনাপ্রসূত ধারণা এবং শব্দের যথোচিত অর্থ হতে বিকৃতি; আমি আল্লাহর নিকট সেই সব বিষয়ের সাহায্য ও তাওফীক প্রার্থনা করছি যা আবশ্যক এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। তিনি যেন সত্যকে আমাদের নিকট সত্য হিসেবেই প্রতিভাত করেন এবং তা অনুসরণের তাওফীক দান করেন; আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা বর্জনের তাওফীক দান করেন। আর তিনি যেন বিষয়টিকে আমাদের নিকট অস্পষ্ট করে না দেন, যাতে আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ি। "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সরল পথ প্রদর্শনের পর আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যবিচ্যুত করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের বিশেষ রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা।"
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ৯)
فصل

قال الصواف: (المسلمون وعلم الفلك).

والجواب أن يقال إن هذا العنوان خطأ ظاهر لأن غالب ما في الرسالة من الكلام في الأرض والسموات والشمس والقمر والكواكب ليس من أقوال المسلمين وعلومهم، وإنما هو من تخرصات أهل الهيئة الجديدة وتوهماتهم.

وأهل الهيئة الجديدة ليسوا من المسلمين، وإنما هم من فلاسفة الإفرنج، وهم كوبرنيك البولوني وأتباعه في القرن العاشر والقرن الحادي عشر من الهجرة، وهرشل الإنجليزي وأتباعه في القرن الثاني عشر والقرن الثالث عشر من الهجرة.

وغالب ما نقله الصواف عن الألوسي، فهو مما نقله الألوسي عن أهل الهيئة الجديدة كما صرح بذلك في مواضع كثيرة من كتابه الذي سماه (ما دل عليه أهل الهيئة الجديدة وتخرصات أتباعهم فنسبة ذلك إلى المسلمين فرية عليهم، وتسمية الرسالة بهذا العنوان لا تطابق المسمى، وإنما المطابق له أن يقال (الإفرنج والتخرص في علم الفلك)، وسأنبِّه على ما يشهد لهذه المطابقة من تقوُّل الصواف إن شاء الله تعالى.

والذي حمل الصواف على نسبة ما في رسالته من تخرصات أهل الهيئة الجديدة وتوهماتهم إلى المسلمين هو اعتقاده في أهل الهيئة الجديدة أنهم مسلمون، قد عرف أكثرهم بالتقوى والصلاح كما صرح بذلك في صفحة 44، وقال في صفحة 51 وصفحة 69 إنهم سلفه الصالح، وقال في صفحة 67 وصفحة 117 إنهم علماؤه الأعلام.

وقد ذكرت في الصواعق الشديدة أنه لا يخلو في زعمه هذا
পরিচ্ছেদ

আস-সাওয়াফ বলেছেন: (মুসলিমগণ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান)।

এর উত্তর হলো এই যে, এই শিরোনামটি একটি সুস্পষ্ট ভুল। কারণ এই পুস্তিকায় পৃথিবী, আকাশমন্ডলী, সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজির বিষয়ে যা কিছু আলোচনা করা হয়েছে, তার অধিকাংশ মুসলিমদের বক্তব্য বা জ্ঞান নয়; বরং তা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অনুমান ও কল্পনাপ্রসূত ধারণা মাত্র।

আর আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারীরা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নন; বরং তারা ইউরোপীয় দার্শনিক। তারা হলেন পোল্যান্ডের কোপার্নিকাস ও হিজরি দশম ও একাদশ শতাব্দীতে তাঁর অনুসারীরা, এবং ইংরেজ হার্শেল ও হিজরি দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তাঁর অনুসারীরা।

আস-সাওয়াফ আল-আলুসী থেকে যা কিছু উদ্ধৃত করেছেন, তার অধিকাংশ আল-আলুসী নিজেই আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের থেকে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবের বহু স্থানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (যেখানে তিনি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দর্শানো প্রমাণাদি ও তাদের অনুসারীদের অনুমানের কথা বলেছেন)। সুতরাং এসব বিষয়কে মুসলিমদের সাথে সম্পর্কিত করা তাদের ওপর এক অপবাদ। পুস্তিকাটির এই শিরোনাম বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং এর জন্য উপযুক্ত শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল (ইউরোপীয়গণ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে কাল্পনিক অনুমান)। আস-সাওয়াফের ভিত্তিহীন বক্তব্য থেকে এর সপক্ষে যা কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়, ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি সেদিকে অচিরেই দৃষ্টি আকর্ষণ করব।

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অনুমান ও কল্পনাকে মুসলিমদের সাথে সম্পর্কিত করতে আস-সাওয়াফকে যা প্ররোচিত করেছে তা হলো আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে তাঁর এই বিশ্বাস যে তাঁরা মুসলিম। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁদের অধিকাংশ পরহেজগারি ও সততার জন্য পরিচিত—যেমনটি তিনি ৪৪ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। তিনি ৫১ ও ৬৯ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন যে তাঁরা তাঁর সৎ পূর্বসূরি (সালাফে সালেহীন), এবং ৬৭ ও ১১৭ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন যে তাঁরা তাঁর প্রখ্যাত আলিম।

আমি 'আস-সাওয়াইকুল শাদীদাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি যে, তাঁর এই দাবির মধ্যে এটিও রয়েছে যে—
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১০)
من أحد أمرين: إما إرادة التمويه والتلبيس على الجهلة الأغبياء بما لا حقيقة له في نفس الأمر، وأما شدة الغباوة فيه حيث نبا فهمه عما صرح به الألوسي في صفحة 23 و33 و34 و46 و59 و95 من كون أهل الهيئة الجديدة من الإفرنج.

 

فصل

قال الصواف في مقدمة رسالته في صفحة 11 ما نصه:

"وحرصا مني على نشر العلم وبيان فضل علماء المسلمين الذين كان لهم الفضل الأكبر في تشجيع علم الفلك وبناء المراصد في مختلف البلدان رأيت أن أطبع هذا الرد في كتيب؛ ليطلع شبابنا على مفاخر أجدادهم وسبقهم للعالم في مختلف الميادين العلمية".

والجواب عن هذا من وجوه: أحدها أن يقال: ليس ما نشره الصواف في رسالته بعلم، وإنما هي تخرصات وظنون كاذبة أوحاها الشيطان إلى أوليائه من فلاسفة اليونان وأتباعهم من فلاسفة الإفرنج المتأخرين، فاغتر بها أتباعهم ومقلدوهم من جهلة المسلمين، وظنوها علما صحيحا، وهي في الحقيقة جهل صرف لا يروج إلا على جاهل لا يميز بين العلم والجهل.

الوجه الثاني: أن علماء المسلمين منزهون عن تشجيع علم الفلك وبناء المراصد كما سيأتي بيان ذلك في الفصل الذي بعد هذا الفصل، وما زعمه الصواف ههنا فهو من الافتراء على علماء المسلمين.

الوجه الثالث: أن الذي نشره الصواف في رسالته كله من تخرصات
এটি দুটি বিষয়ের কোনো একটি: হয় প্রকৃতপক্ষে কোনো ভিত্তি নেই এমন বিষয়ের মাধ্যমে অজ্ঞ ও নির্বোধদের বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করার ইচ্ছা, নতুবা তার চরম মূর্খতা, যার ফলে আল-আলুসী তাঁর গ্রন্থের ২৩, ৩৩, ৩৪, ৪৬, ৫৯ এবং ৯৫ পৃষ্ঠায় আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনুসারীদের ইউরোপীয় হিসেবে যে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন তা অনুধাবনে সে ব্যর্থ হয়েছে।

 

পরিচ্ছেদ

আস-সাওয়াফ তাঁর পুস্তিকার ১১ পৃষ্ঠার ভূমিকায় যা বলেছেন তা নিম্নরূপ:

"জ্ঞান প্রচার এবং মুসলিম উলামাদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার প্রতি আমার আগ্রহের কারণে—যাদের বিভিন্ন দেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান উৎসাহিত করতে এবং মানমন্দির নির্মাণে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল—আমি এই উত্তরটি একটি পুস্তিকা আকারে ছাপানো সমীচীন মনে করেছি; যাতে আমাদের যুবসমাজ তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবোজ্জ্বল কর্মকাণ্ড এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে তাদের অগ্রগামী হওয়ার কথা জানতে পারে।"

এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত বলা যায় যে, আস-সাওয়াফ তাঁর পুস্তিকায় যা প্রকাশ করেছেন তা কোনো জ্ঞান নয়; বরং এগুলো হলো অমূলক জল্পনা-কল্পনা ও অলীক ধারণা যা শয়তান তার বন্ধু গ্রীক দার্শনিক এবং তাদের অনুসারী পরবর্তী পাশ্চাত্য দার্শনিকদের প্ররোচিত করেছে। অতঃপর মুসলিমদের মধ্য থেকে একদল অজ্ঞ অনুসারী এতে বিভ্রান্ত হয়েছে এবং একে সঠিক জ্ঞান বলে ধারণা করেছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি নিছক মূর্খতা যা এমন এক অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া আর কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয় যে জ্ঞান ও মূর্খতার মাঝে পার্থক্য করতে পারে না।

দ্বিতীয়ত: মুসলিম উলামাগণ জ্যোতির্বিজ্ঞানকে উৎসাহিত করা এবং মানমন্দির নির্মাণ করা থেকে মুক্ত ও পবিত্র, যেমনটি এর পরবর্তী পরিচ্ছেদে বর্ণিত হবে। আস-সাওয়াফ এখানে যা দাবি করেছেন তা মুসলিম উলামাদের ওপর এক অপবাদ মাত্র।

তৃতীয়ত: আস-সাওয়াফ তাঁর পুস্তিকায় যা প্রকাশ করেছেন তার পুরোটাই অমূলক জল্পনা-কল্পনার অন্তর্ভুক্ত
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১১)
فيثاغورس اليوناني وأتباعه من فلاسفة الإفرنج المتأخرين، ومنهم كوبرنيك البولوني، وتيخوبراهي الدانماركي، وكبلر وغاليليه، ونيوتن الإنجليزي، وهرشل الإنجليزي، وداروين الإنجليزي. وهؤلاء كلهم من أعداء المسلمين، وليسوا من المسلمين فضلا عن أن يكونوا من أجداد المسلمين، كما توهمه الصواف، ومن زعم أن هؤلاء الفلاسفة من أجداد المسلمين فهو من أكذب الكاذبين.

الوجه الرابع: أن المفاخر كل المفاخر للذين حملوا علم الكتاب والسنة ونشروه في هذه الأمة وهم الصحابة والتابعون وتابعوهم بإحسان، وأئمة العلم والهدى من بعدهم، فأما تخرصات أعداء الله وظنونهم الكاذبة فليست بمفاخر كما قد توهمه الصواف، وإنما هي معائب وجهالات وضلالات تزري بمن تعلق بها غاية الأزراء، وقد قال الله تعالى {أَفَمَنْ يَمْشِي مُكِبًّا عَلَى وَجْهِهِ أَهْدَى أَمَّنْ يَمْشِي سَوِيًّا عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} وأول هذه الآية الكريمة مطابق لأهل التخرصات والظنون الكاذبة، وآخرها مطابق لأهل العلم الحقيقي الذي هو علم كتاب والسنة.

الوجه الخامس: أن بناء المراصد من أفعال المنجمين من اليونان والصائبين، ومن يقلدهم ويحذو حذوهم من المنحرفين عن الدين من هذه الأمة، وما كان هكذا فليس فيه فضل البتة، وليس هو من المفاخر كما قد توهمه الصواف، وإنما هو من المثالب والمعائب واتباع غير سبيل المؤمنين وقد قال الله تعالى {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا}.

وروى الإمام أحمد وأبو داود وغيرهما عن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «من تشبه بقوم فهو منهم» صححه ابن حبان، وقال
গ্রীক পিথাগোরাস এবং পরবর্তীকালের ইউরোপীয় দার্শনিকদের মধ্যে তার অনুসারীরা, যেমন পোল্যান্ডের কোপারনিকাস, ডেনমার্কের টাইকো ব্রাহে, কেপলার, গ্যালিলিও, ইংল্যান্ডের নিউটন, ইংল্যান্ডের হার্শেল এবং ইংল্যান্ডের ডারউইন। এরা সবাই মুসলিমদের শত্রু, এবং তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত তো নয়ই, এমনকি তারা মুসলিমদের পূর্বপুরুষ হওয়া তো দূরের কথা, যেমনটি আল-সাওওয়াফ ধারণা করেছেন। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে এই দার্শনিকরা মুসলিমদের পূর্বপুরুষ, সে চরম মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

চতুর্থ দিক: সকল গৌরব কেবল তাদেরই প্রাপ্য যারা কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান বহন করেছেন এবং এই উম্মতের মাঝে তা প্রচার করেছেন। তারা হলেন সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন, এবং তাদের পরবর্তীকালের জ্ঞান ও হেদায়েতের ইমামগণ। আর আল্লাহর শত্রুদের এই সব মনগড়া অনুমান এবং মিথ্যা ধারণাগুলো কোনো গৌরবের বিষয় নয়, যেমনটি আল-সাওওয়াফ ধারণা করেছেন। বরং এগুলো হলো ত্রুটি, মূর্খতা এবং পথভ্রষ্টতা, যা এর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তবে কি সেই ব্যক্তি যে উপুড় হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে সে অধিক হেদায়েতপ্রাপ্ত, নাকি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?}। এই পবিত্র আয়াতের প্রথমাংশ ঐসব মনগড়া কথা ও মিথ্যা অনুমানে লিপ্ত ব্যক্তিদের অবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ, আর শেষাংশটি প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারীদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা হলো কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান।

পঞ্চম দিক: মানমন্দির নির্মাণ করা হলো গ্রীক জ্যোতিষী ও সাবায়ীদের কাজ, এবং এই উম্মতের মধ্যে যারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে তাদের অন্ধ অনুসরণ ও অনুকরণ করে তাদের কাজ। যা এই প্রকৃতির, তাতে বিন্দুমাত্র কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই এবং তা গৌরবের কোনো বিষয়ও নয়, যেমনটি আল-সাওওয়াফ ধারণা করেছেন। বরং এটি কলঙ্ক ও ত্রুটির অন্তর্ভুক্ত এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথের অনুসরণ। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হেদায়েত স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথের অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব, আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাস।}।

ইমাম আহমদ, আবু দাউদ এবং অন্যরা ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন, এবং তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১২)
شيخ الإسلام أبو العباس بن تيمية: إسناده جيد، وقال الحافظ العراقي: إسناده صحيح، وقال الحافظ ابن حجر العسقلاني: إسناده حسن، وقد احتج الإمام أحمد بهذا الحديث، وهذا يقتضي صحته عنده. قال شيخ الإسلام أبو العباس بن تيمية رحمه الله تعالى: "وهذا الحديث أقل أحواله أنه يقتضي تحريم التشبه بهم، وإن كان ظاهره يقتضي كفر المتشبه بهم كما في قوله تعالى {وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ} ". انتهى.

 

فصل

وذكر الصواف في صفحة: "12 أن ما جمعه في رسالته فهو مما تركه العلماء الأعلام والخلفاء العظام".

والجواب أن يقال: ليس هذا بصحيح، فإن الخلفاء العظام على الحقيقة هم أبو بكر وعمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم، ولم يؤثر عن أحد منهم أنه تكلم في علم الفلك بشيء فضلا عن القول بسكون الشمس ودوران الأرض عليها، وكذلك ما ذكره الصواف من الهذيان الكثير في الأرض والشمس والقمر والكواكب فإن هذا مما ينزه عنه أحاد العقلاء فضلا عن الخلفاء الراشدين رضي الله عنهم.

وهؤلاء الخلفاء الأربعة هم القدوة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم لقوله صلى الله عليه وسلم: «عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة» رواه الإمام أحمد وأهل السنن من حديث العرباض بن سارية رضي الله عنه، وقال الترمذي هذا حديث حسن صحيح، وصححه أيضا ابن حبان والحاكم والذهبي.
শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: এর সনদ উত্তম। হাফিজ আল-ইরাকি বলেছেন: এর সনদ সহীহ। হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি বলেছেন: এর সনদ হাসান। ইমাম আহমাদ এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যা তাঁর নিকট এর বিশুদ্ধতার প্রমাণ বহন করে। শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহু তা’আলা) বলেছেন: “এই হাদিসটির ন্যূনতম দাবি হলো এটি তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হারাম সাব্যস্ত করে, যদিও এর বাহ্যিক অর্থ তাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারীর কুফরির দাবি রাখে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: ‘তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’।” সমাপ্ত।

 

পরিচ্ছেদ

আস-সাওয়াফ ১২ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে: “তিনি তার পুস্তিকায় যা সংকলন করেছেন, তা এমন বিষয় যা বরণীয় আলেম ও মহান খলিফাগণ বর্জন করেছিলেন।”

এর উত্তরে বলা হবে: এটি সঠিক নয়; কারণ প্রকৃতপক্ষে মহান খলিফাগণ হলেন আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। তাঁদের কারো থেকেই জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে কোনো আলোচনা বর্ণিত হয়নি, সূর্য স্থির থাকা এবং পৃথিবী এর চারদিকে আবর্তন করা সংক্রান্ত বক্তব্যের তো প্রশ্নই আসে না। তদ্রূপ পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজী সম্পর্কে আস-সাওয়াফ যে বহু প্রলাপ উল্লেখ করেছেন, তা থেকে সাধারণ বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাই মুক্ত থাকেন, খোলাফায়ে রাশেদীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কথা তো বলাই বাহুল্য।

এই চার খলিফা হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরে অনুসরণীয় আদর্শ। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের ওপর অপরিহার্য হলো আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা। তোমরা তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো। কারণ প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা»। এটি ইমাম আহমাদ ও সুনান গ্রন্থকারগণ ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহীহ হাদিস বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান, হাকিম ও যাহাবিও একে সহীহ বলে সত্যায়ন করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولا عبرة بمن حاد عن منهاج هؤلاء الخلفاء الراشدين من الملوك كالمأمون، فإنه قد اعتنى بتعريب كتب الأوائل وعمل الأرصاد، ففتح بذلك على الأمة باب شر عريض.

وقد ذكر السفاريني في كتابه (لوائح الأنوار البهية) عن الصلاح الصفدي أنه قال: "حدثني من أثق به أن شيخ الإسلام ابن تيمية روَّح الله روحه كان يقول: ما أظن أن الله يغفل عن المأمون ولا بد أن يقابله على ما اعتمده مع هذه الأمة من إدخال العلوم الفلسفية بين أهلها".

وقال الحافظ أبو عبد الله الذهبي في (تذكرة الحفاظ) في ترجمة شجاع بن الوليد بن قيس: "لما قتل الأمين، واستخلف المأمون على رأس المائتين نجم التشيع، وأبدى صفحته، وبزغ فجر الكلام، وعربت كتب الأوائل ومنطق اليونان، وعمل رصد الكواكب، ونشأ للناس علم جديد مُرْدٍ مهلك، لا يلائم علم النبوة، ولا يوافق توحيد المؤمنين، قد كانت الأمة منه في عافية.

إلى أن قال: "إن من البلاء أن تعرف ما كنت تنكر، وتنكر ما كنت تعرف، وتقدم عقول الفلاسفة، ويعزل منقول اتباع الرسل ويماري في القرآن ويتبرم بالسنن والآثار وتقع في الحيرة. فالفرار قبل حلول الدمار وإياك ومضلات الأهواء ومحارات العقول، ومن يعتصم بالله فقد هدي إلى صراط مستقيم" انتهى كلامه رحمه الله تعالى.

وقال المقريزي في كتاب الخطط: "وقد كان المأمون لما شغف بالعلوم القديمة بعث إلى بلاد الروم من عَرَّبَ له كتب الفلاسفة، وأتاه بها في أعوام بضع عشرة ومائتين من الهجرة، فانتشرت مذاهب الفلاسفة في الناس، واشتهرت كتبهم بعامة الأمصار، وأقبلت المعتزلة والقرامطة والجهمية وغيرهم عليها،
খুলাফায়ে রাশিদীনের আদর্শ থেকে বিচ্যুত আল-মামুনের মতো রাজন্যবর্গের কোনো গুরুত্ব নেই। কেননা তিনি প্রাচীন গ্রিকদের গ্রন্থসমূহ অনুবাদ করার প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মানমন্দির স্থাপন করেছিলেন; এর মাধ্যমে তিনি উম্মাহর জন্য অমঙ্গলের এক বিশাল দ্বার উন্মোচন করেছিলেন।

ইমাম সাফফারিনী তাঁর ‘লাওয়ায়িহুল আনওয়ারিল বাহিয়্যাহ’ গ্রন্থে সালাহ আস-সাফাদী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলেন: “আমার নির্ভরযোগ্য এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যে, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে প্রশান্তি দান করুন) বলতেন: ‘আমি মনে করি না যে আল্লাহ তাআলা মামুনকে উপেক্ষা করবেন; বরং তিনি এই উম্মতের মাঝে দর্শনশাস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটানোর যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার জন্য তাকে অবশ্যই প্রতিফল প্রদান করবেন’।”

হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আদ-যাহাবী ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’ গ্রন্থে শুজা বিন ওয়ালিদ বিন কায়িসের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন: “যখন আল-আমিন নিহত হলেন এবং হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রারম্ভে আল-মামুন খিলাফতে অধিষ্ঠিত হলেন, তখন শিয়া মতবাদের প্রাদুর্ভাব ঘটল এবং তা আত্মপ্রকাশ করল। ইলমুল কালামের (তর্কশাস্ত্র) সূর্য উদিত হলো, প্রাচীনদের কিতাব ও গ্রিক যুক্তিবিদ্যা অনূদিত হলো এবং নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের কাজ শুরু হলো। ফলে মানুষের মধ্যে এমন এক নতুন বিদ্যার জন্ম নিল যা ধ্বংসাত্মক ও বিভ্রান্তিকর; যা নবুওয়াতের ইলমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মুমিনদের তাওহীদ বিশ্বাসের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ইতিপূর্বে উম্মাহ এ থেকে নিরাপদ ছিল।

তিনি আরও বলেন: “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে তুমি আজ এমন বিষয় গ্রহণ করছ যা আগে অস্বীকার করতে, আর এমন বিষয় অস্বীকার করছ যা আগে সত্য বলে জানতে। দার্শনিকদের বুদ্ধিবৃত্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, রাসূলগণের অনুসারীদের বর্ণিত জ্ঞানকে বর্জন করা হচ্ছে, কুরআন নিয়ে বিতণ্ডা করা হচ্ছে, সুন্নাহ ও আসারের প্রতি বিরাগ প্রকাশ করা হচ্ছে এবং মানুষ চরম বিভ্রান্তিতে নিপতিত হচ্ছে। অতএব ধ্বংস অনিবার্য হওয়ার পূর্বেই পলায়ন করো। কুপ্রবৃত্তির বিভ্রান্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক গোলকধাঁধা থেকে সাবধান থাকো। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে অবশ্যই সঠিক পথের দিশা পাবে।” —তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।

আল-মাকরিজী ‘আল-খিতাত’ গ্রন্থে বলেছেন: “আল-মামুন যখন প্রাচীন বিজ্ঞানসমূহের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী হলেন, তখন তিনি রোমান সাম্রাজ্যে এমন কিছু লোক পাঠালেন যারা দার্শনিকদের গ্রন্থসমূহ অনুবাদ করে আনবে। তারা হিজরি ২১০-এর পরবর্তী বছরগুলোতে সেসব নিয়ে তাঁর কাছে আসে। ফলে মানুষের মাঝে দার্শনিকদের মতবাদগুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন জনপদে তাদের গ্রন্থসমূহ প্রসিদ্ধি লাভ করে। মুতাযিলা, কারামাতিয়া, জাহমিয়া এবং অন্যান্য ভ্রান্ত গোষ্ঠীগুলো এগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়ে।”
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأكثروا من النظر فيها والتصفح لها، فانجرَّ على الإسلام وأهله من علوم الفلاسفة مالا يوصف من البلاء والمحنة في الدين، وعظم بالفلاسفة ضلال أهل البدع، وزادتهم كفرا إلى كفرهم". انتهى.

وقد سار على منهاج المأمون في عمل الأرصاد كثير من الملوك المنحرفين مثل الحاكم العبيدي، وبعض بني بويه والسلاجقة، وهولاكو وتيمورلنك وأولغ بك.

فهؤلاء خلفاء الصواف الذين تركوا له ولأشباهه من علم الفلك وعمل الأرصاد ما تركوا، ومع ما كانوا عليه من الاعتناء بالأرصاد وعلم الفلك فقد كانوا على مذهب أهل الهيئة القديمة في القول بسكون الأرض وجريان الشمس، ولم يذكر عن أحد منهم أنه قال بتعدد الشموس والأقمار، ولا بغير ذلك مما يهذو به أهل الهيئة الجديدة وأتباعهم في أبعاد الكواكب ومقاديرها، وغير ذلك مما أودعه الصواف في رسالته، وزعم أنه مما تركه الخلفاء العظام، وهو بذلك قد افترى عليهم ونسب إليهم ما لم يؤثر عنهم، وإنما هو مأثور عن أهل الهيئة الجديدة وأتباعهم.

وأما زعمه أن ما جمعه في رسالته فهو مما تركه العلماء الأعلام.

فجوابه: أن يقال إن أعلم هذه الأمة على الإطلاق علماء الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، ولم يتكلم أحد منهم في علم الفلك بشيء فضلا عن القول بحركة الأرض وثبات الشمس، والرجم بالغيب عن أبعاد الكواكب ومقادير أجرامها وغير ذلك مما أودعه الصواف في رسالته.

ثم التابعون وتابعوهم بإحسان وأئمة العلم والهدى من بعدهم، ولاسيما الأئمة الأربعة وأقرانهم من أكابر العلماء، فهؤلاء هم العلماء الأعلام على الحقيقة، ولم
"তারা এর (দর্শনশাস্ত্রের কিতাবসমূহ) প্রতি দৃষ্টিপাত এবং তা অধ্যয়ন অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি করেছিল। ফলে দার্শনিকদের এসব বিদ্যার কারণে ইসলাম ও এর অনুসারীদের ওপর দ্বীনের ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় বালা-মুসিবত ও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। আর দার্শনিকদের দ্বারা বিদআতিদের পথভ্রষ্টতা চরমে পৌঁছেছিল এবং তা তাদের কুফরকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।" সমাপ্ত।

নক্ষত্র পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণের ক্ষেত্রে মামুনের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন অনেক বিচ্যুত শাসক, যেমন উবাইদী শাসক আল-হাকিম, বনু বুওয়াইহ ও সেলজুকদের কতিপয় শাসক, এবং হালাকু খান, তৈমুর লঙ ও উলুগ বেগ।

এরাই হলো সাওয়াফের সেই খলিফা (পূর্বসূরী), যারা তার জন্য এবং তার মতো অন্যদের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পর্যবেক্ষণাগার সংক্রান্ত যা কিছু রেখে যাওয়ার তা রেখে গেছে। তবে তারা জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পর্যবেক্ষণাগারের প্রতি যত্নশীল হওয়া সত্ত্বেও প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতবাদের অনুসারী ছিল, যারা পৃথিবীর স্থবিরতা এবং সূর্যের গতিশীলতার প্রবক্তা। তাদের কারো থেকেই একাধিক সূর্য বা চন্দ্রের কথা বর্ণিত হয়নি, কিংবা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও তাদের অনুসারীরা গ্রহের দূরত্ব ও আকার-আয়তন সম্পর্কে যেসব প্রলাপ বকে থাকে, তাও তারা বলেনি। অথচ সাওয়াফ তার পুস্তিকায় এসবই সন্নিবেশিত করেছে এবং দাবি করেছে যে এগুলো মহান খলিফাদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য। এর মাধ্যমে সে তাদের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে এবং তাদের প্রতি এমন বিষয় সম্বন্ধযুক্ত করেছে যা তাদের থেকে বর্ণিত হয়নি; বরং এগুলো আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও তাদের অনুসারীদের থেকেই বর্ণিত।

আর তার এই দাবি যে, সে তার পুস্তিকায় যা সংকলন করেছে তা বরেণ্য ওলামায়ে কেরামদের রেখে যাওয়া জ্ঞান—

এর উত্তর হলো: নিসন্দেহে এই উম্মতের মধ্যে সর্বতোভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী হলেন সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)। তাদের কেউ জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে কোনো কথা বলেননি, পৃথিবীর গতিশীলতা কিংবা সূর্যের স্থবিরতার কথা তো বহুদূরের বিষয়। এমনকি গ্রহসমূহের দূরত্ব ও সেগুলোর আকার-আয়তন সম্পর্কে অদৃশ্য অনুমানের ভিত্তিতেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি, যা সাওয়াফ তার পুস্তিকায় উল্লেখ করেছে।

অতঃপর তাবেয়ীগণ, নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীগণ এবং তাদের পরবর্তী ইলম ও হিদায়াতের ইমামগণ—বিশেষ করে চার ইমাম এবং তাদের সমসাময়িক প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরাম; মূলত এরাই হলেন প্রকৃত বরেণ্য আলেম। আর তারা...
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১৫)
يقل أحد منهم بحركة الأرض وثبات الشمس، ولم يرجموا بالغيب عن أبعاد الكواكب ومقادير أجرامها، وغير ذلك مما أودعه الصواف في رسالته ونسبه إلى العلماء الأعلام، وهو بذلك قد افترى عليهم، ونسب إليهم ما لم يؤثر عن أحد منهم، وإنما هو مأثور عن أهل الهيئة الجديدة وأتباعهم، فهم في الحقيقة خلفاء الصواف الذين زعم أنهم عظام، وعلماؤه الذين زعم أنهم العلماء الأعلام.

 

فصل

وفي صفحة 12 حرف الصواف هذه الآية {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آَمَنُوا} فقال ولا تجعل في صدورنا غلا للذين آمنوا.

 

فصل

وفي صفحة 21 وما بعدها ساق رده على الشيخ ابن باز، وقرر فيه القول بثبات الشمس وحركة الأرض وسبحها في الفلك، وجعل ذلك من علوم المسلمين في الفلك. وهذا خطأ كبير فإن هذا القول الباطل من أقوال أهل الهيئة الجديدة وهم من فلاسفة الإفرنج المتأخرين، والمسلمون بريئون من هذا القول المخالف للكتاب والسنة وإجماع المسلمين، وقد استوفيت الرد عليه في الصواعق الشديدة فليراجع هناك.

 

فصل

وفي صفحة 28 سمى الأرض الكوكب الأرضي، وهذا من أقوال أهل الهيئة الجديدة وليس من أقوال المسلمين، وقد تعقبت ذلك في الصواعق الشديدة فليراجع هناك.
তাদের মধ্য থেকে কেউ পৃথিবীর গতিশীলতা এবং সূর্যের স্থিরতার কথা বলেননি। তাঁরা গ্রহসমূহের দূরত্ব ও তাদের আয়তন সম্পর্কে অদৃশ্যের কোনো অনুমানও ব্যক্ত করেননি, যা সাওয়াফ তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বিজ্ঞ আলেমদের প্রতি তা আরোপ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তাদের ওপর অপবাদ দিয়েছেন এবং তাদের প্রতি এমন বিষয় সম্বন্ধ করেছেন যা তাদের কারো থেকে বর্ণিত হয়নি। বরং এগুলো আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং তাদের অনুসারীদের বক্তব্য। মূলত তারাই সাওয়াফের সেই উত্তরসূরি যাদের তিনি মহান বলে দাবি করেছেন, আর তারাই তার সেই আলেম যাদের তিনি প্রখ্যাত আলেম বলে উল্লেখ করেছেন।

 

পরিচ্ছেদ

১২ নং পৃষ্ঠায় সাওয়াফ এই আয়াতের শব্দ পরিবর্তন করেছেন: {এবং যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছেন এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না} কিন্তু তিনি বলেছেন: "আমাদের বক্ষে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।"

 

পরিচ্ছেদ

২১ নং পৃষ্ঠা এবং তৎপরবর্তী অংশগুলোতে তিনি শাইখ ইবনে বাজের প্রতি তার প্রত্যুত্তর প্রদান করেছেন। সেখানে তিনি সূর্যের স্থিরতা এবং পৃথিবীর গতিশীলতা ও কক্ষপথে তার বিচরণের মতবাদটি প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস পেয়েছেন এবং একে মুসলিমদের জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি একটি গুরুতর ভুল; কারণ এই বাতিল উক্তিটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, যারা মূলত পরবর্তী যুগের ইউরোপীয় দার্শনিক। কুরআন, সুন্নাহ এবং মুসলিমদের ঐকমত্যের পরিপন্থী এই উক্তি থেকে মুসলিমরা সম্পূর্ণ নিঃসম্পর্ক। আমি 'আস-সাওয়াইকুশ শাদিদাহ' গ্রন্থে এর বিস্তারিত জবাব দিয়েছি, সুতরাং সেখানে তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।

 

পরিচ্ছেদ

২৮ নং পৃষ্ঠায় তিনি পৃথিবীকে 'মৃত্তিকা-গ্রহ' বলে অভিহিত করেছেন। এটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পরিভাষা, মুসলিমদের বক্তব্য নয়। আমি 'আস-সাওয়াইকুশ শাদিদাহ' গ্রন্থে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করেছি, সুতরাং সেখানে তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১৬)
فصل

وفي صفحة 28 أيضا نقل الصواف عن الملحد الجهمي جميل صدقي الزهاوي أنه قال:

وما الأرض بين الكائنات التي ترى

بعينيك إلا ذرة صغرت حجما

 

ونحو ذلك قول الصواف في صفحة 83 أن الأرض ما هي إلا فقاعة في محيط، وقوله أيضا في صفحة 109: "ولعل أدق وصف للأرض بالنسبة للكون هو أنها هباءة دقيقة لا ترى إلا بالمجهر في هذا الفضاء الفلكي الواسع بالنسبة إلى الأجرام السماوية المتناثرة في أنحاء الكون".

والجواب عن هذا من وجوه أحدها أن يقال: ما يدري جميلا الزهاوي أن الأرض كالذرة بين الكائنات التي يراها الإنسان بعينيه {أَعِنْدَهُ عِلْمُ الْغَيْبِ فَهُوَ يَرَى}، وما يُدري الصواف أن الأرض ما هي إلا فقاعة في محيط وأنها هباءة دقيقة لا ترى إلا بالمجهر في هذا الفضاء الفلكي الواسع، هل وجد ذلك في كتاب الله تعالى أو فيما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو أنزل عليه الوحي بذلك، وإذا كان كل هذا معدوما، فلا شك أنه وصاحبه قد قفوا ما ليس لهما به علم، وليس لهما مستند فيما زعماه سوى التخرص واتباع الكذب.

وقد قال الله تعالى {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا} وقال تعالى {قُتِلَ الْخَرَّاصُونَ * الَّذِينَ هُمْ فِي غَمْرَةٍ سَاهُونَ} وقال تعالى: {وَمَا يَتَّبِعُ أَكْثَرُهُمْ إِلَّا ظَنًّا إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَفْعَلُونَ} وقال تعالى: {وَمَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا * فَأَعْرِضْ عَنْ مَنْ تَوَلَّى عَنْ ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا * ذَلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدَى}.
পরিচ্ছেদ

এবং ২৮ নম্বর পৃষ্ঠায় সাউওয়াফ নাস্তিক জাহমি জামিল সিদকি আল-যাহাবি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে সে বলেছে:

আর তোমার চোখের সামনে দৃশ্যমান সৃষ্টিজগতের মাঝে পৃথিবী

আয়তনে একটি ক্ষুদ্র অণু বা ধূলিকণা ছাড়া আর কিছুই নয়

 

অনুরূপভাবে সাউওয়াফ ৮৩ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন যে, পৃথিবী একটি মহাসমুদ্রের মাঝে কেবল একটি বুদ্বুদ মাত্র। তিনি ১০৯ নম্বর পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন: "সম্ভবত মহাবিশ্বের তুলনায় পৃথিবীর সবচেয়ে সূক্ষ্ম বর্ণনা হলো যে, মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা অগণিত নক্ষত্ররাজির তুলনায় এই বিশাল জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় শূন্যতায় পৃথিবী একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা, যা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না।"

এর উত্তরে কয়েকটি দিক থেকে বলা যায়: প্রথমত, জামিল যাহাবি কীভাবে জানল যে পৃথিবী মানুষের চোখে দৃশ্যমান সৃষ্টিজগতের মাঝে একটি ক্ষুদ্র অণুর মতো? "তার কাছে কি অদৃশ্যের জ্ঞান রয়েছে যে সে তা দেখতে পায়?" আর সাউওয়াফই বা কীভাবে জানল যে পৃথিবী মহাসমুদ্রের মাঝে কেবল একটি বুদ্বুদ এবং তা এমন এক ক্ষুদ্র ধূলিকণা যা এই বিশাল মহাকাশে অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না? তিনি কি আল্লাহর কিতাবে এর কোনো ভিত্তি পেয়েছেন, নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসে তা পেয়েছেন, নাকি এ বিষয়ে তাঁর নিকট ওহী অবতীর্ণ হয়েছে? যখন এ সবের কিছুই বিদ্যমান নেই, তখন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি এবং তাঁর সঙ্গী এমন বিষয়ের পশ্চাদ্ধাবন করেছেন যে সম্পর্কে তাঁদের কোনো জ্ঞান নেই। তাঁদের এই দাবির সপক্ষে অনুমান আর মিথ্যার অনুসরণ ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ নেই।

মহান আল্লাহ বলেছেন: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ এবং অন্তর—এদের প্রত্যেকের কাছেই (কিয়ামতের দিন) কৈফিয়ত চাওয়া হবে।" তিনি আরও বলেছেন: "ধ্বংস হোক অনুমানকারীরা, যারা অজ্ঞতার অতলে নিমজ্জিত ও উদাসীন।" তিনি আরও বলেছেন: "তাদের অধিকাংশ কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; অথচ সত্যের মোকাবিলায় অনুমানের কোনোই কার্যকারিতা নেই। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।" তিনি আরও বলেছেন: "এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; আর সত্যের বিপরীতে অনুমানের কোনো মূল্য নেই। অতএব তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয়েছে এবং কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করেছে। তাদের জ্ঞানের শেষ সীমা এ পর্যন্তই। নিশ্চয়ই আপনার রব ভালো করেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি ভালো করেই জানেন কে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১৭)
الوجه الثاني: أن الله تعالى عظَّم شأن الأرض في كتابه، ونوه بذكرها أكثر مما عظم من شأن الشمس والقمر والكواكب، وقرن خلقها مع خلق السموات في عدة آيات من القران، وأخبر أنه خلقها وما فيها في أربعة أيام وأنه خلق السموات وما فيهن في يومين وذلك يدل على عظم الأرض.

وقد قال الله تعالى {وَمِنْ آَيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِلْعَالِمِينَ} وقال تعالى: {سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ} الآية. وقال تعالى: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ} الآية. وقال تعالى: {وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ} وقال تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ} الآية. إلى غير ذلك من الآيات الكثيرة الدالة على عظم الأرض وسعتها.

وقد جاء في تعظيم خلق الأرض أحاديث كثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم.

منها ما رواه الإمام أحمد والشيخان والترمذي والنسائي عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال جاء حبر من الأحبار إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا محمد إنا نجد أن الله يجعل السموات على أصبع، والأرضين على أصبع، والشجر على أصبع، والماء والثرى على أصبع، وسائر الخلائق على أصبع، فيقول: أنا الملك، فضحك النبي صلى الله عليه وسلم حتى بدت نواجذه تصديقا لقول الحبر، ثم قرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ} الآية.
দ্বিতীয় দিক: আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে পৃথিবীর গুরুত্বকে অত্যন্ত মহিমান্বিত করেছেন এবং সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজির চেয়েও অধিক গুরুত্বের সাথে এর উল্লেখ করেছেন। কুরআনের একাধিক আয়াতে তিনি আকাশমণ্ডলীর সৃষ্টির সাথে পৃথিবীর সৃষ্টিকে যুক্ত করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি পৃথিবী ও এর অভ্যন্তরীণ সবকিছু চার দিনে সৃষ্টি করেছেন, আর আকাশমণ্ডলী ও তার মধ্যকার সবকিছু দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন। এটি পৃথিবীর বিশালত্ব ও মাহাত্ম্যের প্রমাণ বহন করে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, "আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।" তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, "তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাতের দিকে অগ্রগামী হও, যার প্রশস্ততা আকাশ ও পৃথিবীর প্রশস্ততার ন্যায়।" (আয়াতাংশ)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, "তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দান করেনি; অথচ কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আকাশমণ্ডলী তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে।" (আয়াতাংশ)। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, "তাঁর কুরসি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে।" তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, "আল্লাহ তিনি, যিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও তদ্রূপ। তাদের মাঝে তাঁর নির্দেশ অবতীর্ণ হয়।" (আয়াতাংশ)। এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা পৃথিবীর বিশালত্ব ও প্রশস্ততার প্রমাণ দেয়।

পৃথিবীর সৃষ্টির মাহাত্ম্য সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

এর মধ্যে একটি হলো যা ইমাম আহমদ, শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম), তিরমিজি ও নাসায়ি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আহলে কিতাবদের জনৈক পণ্ডিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, "হে মুহাম্মদ! আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা আকাশসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পৃথিবীসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, গাছপালাকে একটি আঙুলের ওপর, পানি ও মাটিকে একটি আঙুলের ওপর এবং অন্যান্য সৃষ্টিজগতকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন; অতঃপর বলবেন—আমিই বাদশাহ।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পণ্ডিতের কথার সত্যায়ন স্বরূপ এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন, "তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দান করেনি।" (আয়াতাংশ)।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنها ما رواه الإمام أحمد والترمذي عن ابن عباس رضي الله عنهما قال مر يهودي برسول الله صلى الله عليه وسلم وهو جالس، قال: كيف تقول يا أبا القاسم يوم يجعل الله السماء على ذه، وأشار بالسبابة، والأرض على ذه، والماء على ذه، والجبال على ذه، وسائر الخلق على ذه، كل ذلك يشير بأصابعه، فأنزل الله عز وجل {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ} قال الترمذي: "هذا حديث غريب صحيح".

ومنها ما رواه ابن حبان في صحيحه والحاكم في مستدركه عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «قال موسى عليه السلام يا رب علمني شيئا أذكرك وأدعوك به، قال: قل يا موسى لا إله إلا الله، قال كل عبادك يقولون هذا، قال يا موسى لو أن السموات السبع وعامرهن غيري، والأرضين السبع في كفة، ولا إله إلا الله في كفة - مالت بهن لا إله إلا الله» قال الحاكم صحيح الإسناد ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي في تلخيصه.

ومنها ما رواه الإمام أحمد والبخاري في الأدب المفرد والطبراني عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال «إن نبي الله نوحًا صلى الله عليه وسلم لما حضرته الوفاة، قال لابنه: إني قاص عليك الوصية آمرك باثنتين، وأنهاك عن اثنتين، آمرك بلا إله إلا الله، فإن السموات السبع والأرضين السبع لو وضعت في كفة ووضعت لا إله إلا الله في كفة - رجحت بهن لا إله إلا الله، ولو أن السموات السبع والأرضين السبع كن حلقة مبهمة، قصمتهن لا إله إلا الله …» وذكر تمام الحديث.

ومنها ما رواه ابن مردويه عن أبي ذر رضي الله عنه أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الكرسي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم «والذي نفسي بيده ما السموات السبع والأرضون السبع عند الكرسي إلا كحلقة
এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা ইমাম আহমাদ ও তিরমিযী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এক ইহুদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল যখন তিনি বসা ছিলেন। সে বলল: "হে আবুল কাসিম, আপনি সেই দিন সম্পর্কে কী বলেন যেদিন আল্লাহ আসমানকে এর ওপর রাখবেন—এই বলে সে তার তর্জনী দিয়ে ইশারা করল—আর জমিনকে এর ওপর, পানিকে এর ওপর, পাহাড়সমূহকে এর ওপর এবং অবশিষ্ট সৃষ্টিজগতকে এর ওপর রাখবেন?" সে তার আঙুলগুলো দিয়ে ইশারা করছিল। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: "তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দান করেনি।" ইমাম তিরমিযী বলেন: "এটি একটি গরীব সহীহ হাদীস।"

এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে এবং হাকীম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন, হে প্রতিপালক, আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যার মাধ্যমে আমি আপনাকে স্মরণ করব এবং আপনার কাছে দুআ করব। তিনি বললেন: হে মূসা, বলো—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। মূসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: আপনার সকল বান্দাই তো এটি বলে। তিনি বললেন: হে মূসা, যদি সাত আসমান ও আমি ব্যতীত এর সকল অধিবাসী এবং সাত জমিন এক পাল্লায় রাখা হয়, আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' অপর পাল্লায় রাখা হয়, তবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর পাল্লাটিই ভারী হবে।" হাকীম বলেন, এর সানাদ সহীহ, তবে তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি এবং যাহাবী তার তালখীস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা ইমাম আহমাদ, বুখারী আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে এবং তাবারানী আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর নবী নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি তার পুত্রকে বললেন: আমি তোমাকে একটি অসিয়ত করছি; আমি তোমাকে দুটি জিনিসের আদেশ দিচ্ছি এবং দুটি জিনিস থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর আদেশ দিচ্ছি, কেননা সাত আসমান ও সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয় এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' অপর পাল্লায় রাখা হয়, তবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর পাল্লাটিই ভারী হবে। আর যদি সাত আসমান ও সাত জমিন একটি নিরেট বলয় হতো, তবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তাকে চূর্ণ করে দিত ..." এবং তিনি পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা ইবনে মারদুওয়াইহ আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কুরসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, কুরসীর তুলনায় সাত আসমান ও সাত জমিন তো কেবল একটি আংটির মতো..."
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ১৯)
ملقاة بأرض فلاة، وإن فضل العرش على الكرسي كفضل الفلاة على تلك الحلقة».

والأحاديث الدالة على عظم الأرض كثيرة جدا وفيما ذكرته ههنا كفاية إن شاء الله تعالى.

وفيما ذكرته من الآيات والأحاديث أوضح دليل على عظم الأرض، وفيها أبلغ رد على من صغَّر الأرض وحقرها، وزعم أنها كالذرة أو كالفقاعة في المحيط أو كالهباءة التي لا ترى إلا بالمجهر بالنسبة إلى أجرام الكواكب، وقد قال الله تعالى {قُلْ أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ}.

الوجه الثالث: أن الله تعالى قال {إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ * وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ} وقال تعالى {إِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ * وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ} قال البغوي وغيره في قوله تعالى {وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ}: أي تناثرت من السماء وتساقطت على الأرض كما قال تعالى {وَإِذَا الْكَوَاكِبُ انْتَثَرَتْ}.

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال (يكوَّر الله الشمس والقمر والنجوم يوم القيامة في البحر ويبعث ريحا دبورا فيضرمها نارا) رواه ابن أبي حاتم بإسناد ضعيف. وكذا ذكر البغوي في تفسيره عن ابن عباس رضي الله عنهما. قال ابن كثير وكذا قال عامر الشعبي.

قلت ويشهد لهذا الأثر ما رواه البخاري في صحيحه عن عبد الله الداناج قال حدثني أبو سلمة عبد الرحمن عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الشمس والقمر مكوران يوم القيامة» ورواه البزار من حديث عبد الله الداناج قال: سمعت أبا سلمة بن عبد الرحمن زمن خالد بن عبد الله القسري، في هذا المسجد مسجد الكوفة، وجاء الحسن فجلس إليه فحدث، قال: حدثنا أبو هريرة رضي الله عنه أن رسول الله - صلى الله
একটি বিশাল মরুপ্রান্তরে নিক্ষিপ্ত, আর কুরসীর তুলনায় আরশের শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমনই যেমন সেই বিশাল মরুপ্রান্তরের তুলনায় ঐ আংটিটির বিশালতা।

পৃথিবীর বিশালতার প্রমাণবাহী হাদীসসমূহ সংখ্যায় অনেক এবং এখানে আমি যা উল্লেখ করেছি তা-ই ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট।

আমি যে সকল আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করেছি তাতে পৃথিবীর বিশালত্বের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং এতে তাদের প্রতি অত্যন্ত জোরালো প্রতিবাদ রয়েছে যারা পৃথিবীকে তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র জ্ঞান করে এবং দাবি করে যে, গ্রহ-নক্ষত্রের তুলনায় এটি একটি অণু সদৃশ কিংবা মহাসমুদ্রে একটি বুদবুদ সদৃশ অথবা ধূলিকণার ন্যায় যা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না। অথচ মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমরাই কি অধিক জ্ঞাত, না আল্লাহ?}।

তৃতীয় দিক: মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যখন সূর্য আলোহীন হয়ে পড়বে এবং যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে}। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং যখন গ্রহ-নক্ষত্রসমূহ ছড়িয়ে পড়বে}। ইমাম বাগাভী ও অন্যান্যরা মহান আল্লাহর বাণী {যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে} প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ আকাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথিবীতে পতিত হবে, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {যখন গ্রহ-নক্ষত্রসমূহ ছড়িয়ে পড়বে}।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজিকে সংকুচিত করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবেন এবং একটি পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত করবেন যা সেগুলোকে অগ্নিতে পরিণত করবে।” এটি ইবনে আবি হাতিম দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বাগাভীও তার তাফসীরে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে কাসীর বলেন, আমির আশ-শা'বীও অনুরুপ বলেছেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই বর্ণনার সমর্থনে সহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ আদ-দানাজ থেকে বর্ণিত হাদীসটি রয়েছে, তিনি বলেন: আমাকে আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “কিয়ামতের দিন সূর্য ও চন্দ্রকে গুটিয়ে ফেলা হবে।” আল-বাযযার এটি আব্দুল্লাহ আদ-দানাজের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাসরীর সময়কালে কুফার এই মসজিদে আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমানকে বলতে শুনেছি, আর এমতাবস্থায় হাসান (বাসরী) এসে তার নিকট বসলেন, তখন তিনি বর্ণনা করলেন: আমাদের নিকট আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)...
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২০)
عليه وسلم - قال: «إن الشمس والقمر ثوران في النار عقيران يوم القيامة» فقال الحسن: وما ذنبهما؟ فقال أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقول: وما ذنبهما؟ إسناده صحيح على شرط مسلم.

وروى أبو يعلى عن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «الشمس والقمر ثوران عقيران في النار» قال الهيثمي فيه ضعفاء قد وثقوا.

قلت وما تقدم عن أبي هريرة رضي الله عنه يشهد له ويقويه

وروى ابن أبي حاتم عن الشعبي أنه سمع ابن عباس رضي الله عنهما يقول {وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ} وجهنم هو هذا البحر الأخضر تنتثر الكواكب فيه وتكور فيه الشمس والقمر، ثم يوقد فيكون هو جهنم.

وروى الإمام أحمد وابن جرير والحاكم عن يعلى بن أمية رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «البحر هو جهنم» قال الحاكم صحيح الإسناد ووافقه الذهبي في تلخيصه.

وفيما ذكرنا دليل على عظم الأرض لأن الشمس والقمر والنجوم تنتثر يوم القيامة في البحر فيسعها كلها. ولو كانت الأرض كالذرة أو كالفقاعة في المحيط أو كالهباءة التي لا ترى إلا بالمجهر بالنسبة إلى أجرام الكواكب لما وسعت الأرض كوكبا واحدا ولا بعض كوكب، وهذا ظاهر البطلان لمخالفته لما دلت عليه الآيات والأحاديث التي ذكرنا والله أعلم.

الوجه الرابع: أن يقال إن جميلا الزهاوي كان جهميا كذابا أفاكا كما يعلم ذلك من كتابه الذي سماه الفجر الصادق، وهو في الحقيقة الفجر الكاذب والظلمة الحالكة، وقد رد عليه الشيخ العلامة سليمان بن سحمان رحمه الله
(আল্লাহর রাসূল) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - বলেছেন: "নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনের মাঝে দুটি ভাঁজ করা বলদ সদৃশ হবে।" তখন হাসান (বসরি) জিজ্ঞেস করলেন: "তাদের অপরাধ কী?" তিনি উত্তর দিলেন: "আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস শোনাচ্ছি, আর তুমি বলছ: তাদের অপরাধ কী?" এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ।

আবু ইয়ালা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সূর্য ও চন্দ্র জাহান্নামের আগুনের মাঝে দুটি ভাঁজ করা বলদ সদৃশ হবে।" হাইসামি বলেছেন, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুর্বলতা থাকলেও কেউ কেউ তাদের নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

আমি বলছি, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং এটিকে শক্তিশালী করে।

ইবনে আবি হাতিম শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয়ই জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছে"। আর জাহান্নাম হলো এই সবুজ সমুদ্র, যেখানে নক্ষত্ররাজি বিচ্ছুরিত হবে এবং সূর্য ও চন্দ্রকে গুটিয়ে সেখানে নিক্ষেপ করা হবে, এরপর তা প্রজ্বলিত করা হবে এবং সেটিই হবে জাহান্নাম।

ইমাম আহমাদ, ইবনে জারির এবং আল-হাকিম ইয়ালা বিন উমাইয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সমুদ্রই হলো জাহান্নাম।" আল-হাকিম বলেছেন, এর সনদ সহীহ এবং আয-যাহাবি তাঁর তালখিস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে পৃথিবীর বিশালত্বের প্রমাণ রয়েছে। কারণ কিয়ামতের দিন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি সমুদ্রে পতিত হবে এবং সমুদ্র তাদের সবাইকে ধারণ করবে। যদি নক্ষত্রপুঞ্জের তুলনায় পৃথিবী একটি ধূলিকণার মতো বা মহাসাগরে একটি বুদবুদের মতো হতো, কিংবা এমন একটি ধূলিকণার মতো হতো যা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া দেখা যায় না, তবে পৃথিবী একটি নক্ষত্রকেও ধারণ করতে পারত না, এমনকি নক্ষত্রের অংশবিশেষকেও নয়। এটি স্পষ্টতই বাতিল বা অসার একটি ধারণা, কারণ এটি আমাদের উল্লিখিত আয়াত ও হাদীসসমূহের পরিপন্থী। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

চতুর্থ দিক: এটি বলা হয় যে, জামিল আজ-জাহাবি একজন চরম মিথ্যাবাদী ও অপবাদকারী জাহমি ছিল, যা তার 'আল-ফজর আস-সাদিক' নামক গ্রন্থ থেকে জানা যায়; প্রকৃতপক্ষে তা হলো 'আল-ফজর আল-কাযিব' বা মিথ্যা উষা এবং ঘুটঘুটে অন্ধকার। শায়খ আল্লামা সুলাইমান বিন সাহমান রহিমাহুল্লাহ তার প্রতিবাদ করেছেন।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২১)
تعالى شافيا كافيا في كتابه الذي سماه (الضياء الشارق. في رد شبهات الماذق المارق) ورد أيضا في آخره على من قرظ كتاب جميل بقصيدة أجاد فيها وأفاد وأولها:

كتاب حوى إفكا وزورا ومنكرا … وكفرا وتعطيلا لرب الخلائق

فعطل أوصاف الكمال لربنا … وعن كونه من فوق سبع الطرائق

وأنكر معراج الرسول حقيقة … بذات رسول الله سحقا لمارق

وأنكر رؤيا المؤمنين لربهم … فتبًا له تبا وسحقا لماذق

وسمى كتاب الله والسنن التي … أتت عن رسول الله أزكى الخلائق

ظواهر لا تبدي يقينا لأنها … على زعمه ظنية في الحقائق

فلا يستفيد المؤمنون بها الهدى … ولكن بمعقولات أهل الشقاشق

فإن خالفت معقول من أسسوا لهم … قواعد كفر شامخات الشواهق

فحق على كل امرئ بل وواجب … تؤول عن مدلولها بالمخارق

وتصرف للمرجوح عن حكم راجح … لأجل مقالات الغواة الموارق

وإلا فبالتفويض حتما لديهم … إذا لم تؤول في خلاف الحقائق

وتفويضهم أبطالها عن حقائق … تدل عليها بالمعاني الشقائق
তিনি তাঁর কিতাবে যথেষ্ট ও আরোগ্যদায়ক উত্তর দিয়েছেন, যার নাম তিনি দিয়েছেন (আদ-দিয়াউশ শারিক ফি রাদ্দি শুবুহাতিল মাযিকিল মারিক)। এর শেষে তিনি জামিলের কিতাবের প্রশংসাকারীর প্রতিও উত্তর দিয়েছেন একটি কবিতার মাধ্যমে, যাতে তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তার শুরুটি হলো:

একটি কিতাব যা মিথ্যা, অপবাদ ও মন্দকে ধারণ করেছে … এবং সৃষ্টিজগতের রবের প্রতি কুফরি ও তাঁর গুণাবলি অস্বীকারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

সে আমাদের রবের পূর্ণতার গুণাবলিকে অর্থহীন করেছে … এবং সাত আসমানের ঊর্ধ্বে তাঁর অবস্থানকেও অস্বীকার করেছে।

সে রাসূলের বাস্তব মিরাজকে অস্বীকার করেছে … যা সশরীরে রাসূলুল্লাহর ক্ষেত্রে ঘটেছিল; ধ্বংস হোক সেই ধর্মত্যাগীদের।

সে মুমিনদের নিজ রবকে দেখার বিষয়টিও অস্বীকার করেছে … তাই ধ্বংস ও লাঞ্ছনা সেই বিভ্রান্ত পথভ্রষ্টের জন্য।

সে আল্লাহর কিতাব এবং সেই সমস্ত সুন্নাহকে যা … সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রাসূলুল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে;

কেবল এমন বাহ্যিক রূপ বলে আখ্যায়িত করেছে যা কোনো নিশ্চিত জ্ঞান দেয় না, কারণ … তার ধারণা মতে হাকীকতের ক্ষেত্রে সেগুলো কেবল আনুমানিক।

ফলে মুমিনরা এগুলোর মাধ্যমে হিদায়েত লাভ করবে না … বরং করবে সেই সব বাকচতুরদের যুক্তির মাধ্যমে।

যদি তা তাদের যুক্তি বিরোধী হয় যারা ভিত্তি স্থাপন করেছে … সুউচ্চ ও বিশাল কুফরির মূলনীতিসমূহের;

তবে প্রতিটি ব্যক্তির উপর আবশ্যক বরং অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে … প্রতারণা ও চাতুর্যের মাধ্যমে সেগুলোকে মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত করে অপব্যাখ্যা করা।

এবং পথভ্রষ্ট ধর্মত্যাগীদের বক্তব্যের খাতিরে … শক্তিশালী অর্থ বর্জন করে দুর্বল বা ভিত্তিহীন অর্থের দিকে নিয়ে যাওয়া।

অন্যথায় তাদের নিকট অবশ্যই 'তাফউইয' করা আবশ্যক … যখন হাকীকতের বিপরীতে অপব্যাখ্যা করা সম্ভব হয় না।

আর তাদের সেই 'তাফউইয' হলো মূলত সত্যকে বাতিল করা … যা স্পষ্ট অর্থগত প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত ছিল।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২২)
إلى أن قال:

وقدم حكم العقل حتما بزعمه … على النقل فيما قد رأى كل مارق

فتبًا لمن يبدي ثناء ومدحه … لتأليفه أو ما قد حوى من شقاشق

فما كان فجرا صادقا في ظهوره … ولكنه فجران يبدو لرامق

ووالله ما أبدى صوابا ولم يكن … على المنهج الأسنى وليس برائق

وليس يروق الكفر إلا لزائغ … عن الحق أو مستغرق بالعوائق

وجوَّز أن يدعى سوى الله بالرجا … وبالخوف والتعظيم فعل المشاقق

وأن يستغيث المشركون بغيره … وأن يلجؤوا في كل خطب مضايق

فتبا لعباد القبور الذين هم … حماة ذوي الأهواء من كل مارق

فقد نبذوا الوحيين خلف ظهورهم … وقد حكَّموا القانون بين الخلائق

 

ومع ما ذكرنا عن جميل الزهاوي من الأقوال الوخيمة والعقائد الباطلة الذميمة، فقد اعتمد الصواف على تخرصه وظنه الكاذب في تصغير الأرض وتحقيرها، وقرر ذلك في ثلاثة مواضع من رسالته. وهذا يدل على أنه كان مقبول القول عنده. وكفى بالرجل جهلا أن يعتمد على تخرص جميل الزهاوي وأشباهه من أهل الأهواء والبدع.

وما ذكره الشيخ سليمان بن سحمان رحمه الله تعالى عن جميل الزهاوي أنه سمى أدلة الكتاب والسنة ظواهر ظنية، وأنه يجب تأويلها أو تفويضها فقد قال الصواف مثله في صفحة 22 و23 من رسالته حيث زعم أن النصوص الدالة على جريان الشمس ظنية وليست قطعية الدلالة، قال والتوقف فيها أو تفويض الأمر فيها إلى الله أسلم وأحكم، ثم قال وفي التأويل مندوحة في الأمور غير القطعية خاصة في مثل هذه الأمور.

قلت: وهذه جرأة عظيمة على الله وعلى كتابه وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وقد رددت على هذا القول الباطل في الصواعق الشديدة فليراجع هناك.
এক পর্যায়ে তিনি বলেন:

এবং সে তার ধারণানুযায়ী বিবেকের বিচারকে শাস্ত্রীয় বর্ণনার ওপর অবশ্যই প্রাধান্য দিয়েছে, যেমনটি প্রতিটি ধর্মত্যাগী মনে করে। … সুতরাং ধিক্কার সেই ব্যক্তিকে, যে তার রচনার প্রতি অথবা তাতে অন্তর্ভুক্ত অসার বাগাড়ম্বরের প্রতি প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করে।

তার আবির্ভাব কোনো সত্য সুবহে সাদিক (ঊষা) ছিল না, বরং তা ছিল পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে প্রতীয়মান দ্বি-ভোর মাত্র। … আল্লাহর কসম, সে কোনো সঠিক বিষয় প্রকাশ করেনি এবং সে সর্বোত্তম আদর্শের ওপর ছিল না, আর তার কথাগুলোও নির্মল ছিল না।

আর কুফর কেবল সত্যচ্যুত পথভ্রষ্ট অথবা প্রতিকূলতায় নিমজ্জিত ব্যক্তির কাছেই শোভনীয় মনে হয়। … এবং সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে আশা, ভয় ও সম্মানের সাথে প্রার্থনা করাকে বৈধ করেছে, যা সত্যবিরোধীদের কাজ।

এবং সে মুশরিকদের জন্য আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তাদের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করাকে জায়েজ করেছে। … সুতরাং ধিক্কার সেই কবরপূজারীদের জন্য, যারা প্রতিটি ধর্মত্যাগী প্রবৃত্তি পূজারীদের রক্ষক।

তারা উভয় ওহীকে (কুরআন ও সুন্নাহ) তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করেছে এবং সৃষ্টির মাঝে মানবরচিত আইন দ্বারা বিচারকার্য পরিচালনা করেছে।

 

জামিল আল-জাহাভি সম্পর্কে আমরা যে সকল মারাত্মক উক্তি এবং নিন্দনীয় ভ্রান্ত আকিদাহ উল্লেখ করেছি, তা সত্ত্বেও আল-সাওওয়াফ পৃথিবী ছোট হওয়া এবং একে তুচ্ছ করার ব্যাপারে তার মিথ্যা অনুমান ও ধারণার ওপর নির্ভর করেছেন এবং তার পুস্তিকার তিনটি স্থানে এটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, তার কথা তার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল। কোনো ব্যক্তির মূর্খতার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে জামিল আল-জাহাভি এবং তার মতো প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের অনুমানের ওপর নির্ভর করে।

শায়খ সুলাইমান বিন সাহমান (রহিমাহুল্লাহ) জামিল আল-জাহাভি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন যে, সে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলগুলোকে ধারণানির্ভর বাহ্যিক বিষয় বলে অভিহিত করেছে এবং সেগুলোকে রূপক ব্যাখ্যা করা বা আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা ওয়াজিব বলেছে; আল-সাওওয়াফও তার পুস্তিকার ২২ ও ২৩ পৃষ্ঠায় অনুরূপ কথা বলেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, সূর্যের ঘূর্ণন নির্দেশক পাঠসমূহ ধারণানির্ভর, অকাট্য নয়। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে নীরব থাকা অথবা এর বিষয়টি আল্লাহর ওপর সোপর্দ করাই অধিক নিরাপদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ। এরপর তিনি বলেছেন, অকাট্য নয় এমন বিষয়গুলোতে, বিশেষ করে এই ধরনের ক্ষেত্রে রূপক ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে।

আমি বলি: এটি আল্লাহ, তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে এক চরম ধৃষ্টতা। আমি 'আস-সাওয়ায়িকুল শাদিদাহ' গ্রন্থে এই ভ্রান্ত মতবাদের খণ্ডন করেছি, সুতরাং সেখানে তা দেখে নেয়া উচিত।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقول جميل الزهاوي في تصغير الأرض وتحقيرها، وفي تسمية الأدلة من الكتاب والسنة ظواهر ظنية، وأنها تؤول أو تفوض - قد ذكره في كتابه الفجر الكاذب، وهذا نص كلامه.

قال: "وأما ما تمسكت به الوهابية من النقول التي تثبت الإشارة إليه تعالى فهي ظواهر ظنية لا تعارض اليقينيات فتؤول إما إجمالا ويفوض تفصيلها إلى الله كما عليه أكثر السلف. وإما تفصيلا كما هو رأي الأكثرين. فما ورد من الإشارة إليه في السماء محمول على أنه تعالى خالق السماء وأن السماء مظهر قدرته لما اشتملت عليه من العوالم العظيمة التي لم تكن أرضنا الحقيرة إلا ذرة بالنسبة إليها. وكذلك العروج إليه تعالى هو بمعنى العروج إلى موضع يتقرب إليه بالطاعة فيه. إلى غير ذلك من التأويلات) انتهى كلامه. وقد رد عليه الشيخ العلامة سليمان بن سحمان رحمه الله تعالى فأجاد وأفاد.

وقول جميل في تصغير الأرض وتحقيرها هو مما أخذه عن فلاسفة الإفرنج المتأخرين. وأما تسميته لأدلة الكتاب والسنة ظواهر ظنية وأنها تؤول أو تفوض فهو مما أخذه عن أهل الكلام الباطل الذي ذمه السلف وحذروا منه ومن أهله.

قال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية رحمه الله تعالى. والرازي يطعن في دلالة الأدلة اللفظية على اليقين وفي إفادة الأخبار العلم وهذان مقدمتان الزندقة والتوقف في دلالتها شك يقتضي كفر المتوقف وقد قال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} فنفى الله الإيمان عمن لم يحكم الرسول وعمن وجد في نفسه حرجا من حكمه. وتأويلها بما يخالف ظاهرها وما دلت عليه تكذيب لها فهو من تحريف الكلم عن مواضعه من جنس تأويل القرامطة الباطنية الذي اتفق
জামিল আয-যাহাউয়ির পৃথিবী ছোট করা ও একে তুচ্ছজ্ঞান করা সংক্রান্ত বক্তব্য এবং কিতাব ও সুন্নাহর দলিলগুলোকে 'ধারণাপ্রসূত বাহ্যিক পাঠ' হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং সেগুলোর রূপক ব্যাখ্যা করা বা আল্লাহর ওপর অর্পণ করা সম্পর্কে তিনি তার 'আল-ফজরুল কাযিব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটিই তার বক্তব্যের মূল পাঠ।

তিনি বলেন: "আর ওহাবিরা মহান আল্লাহর প্রতি ইশারা সাব্যস্তকারী যেসব বর্ণনা আঁকড়ে ধরেছে, সেগুলো হলো ধারণাপ্রসূত বাহ্যিক পাঠ যা সুনিশ্চিত বিষয়গুলোর সাথে বিরোধপূর্ণ নয়। তাই এগুলোর হয় সামগ্রিকভাবে রূপক ব্যাখ্যা করে বিস্তারিত অর্থ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা হবে—যেমনটি অধিকাংশ সালাফের পদ্ধতি ছিল; অথবা বিস্তারিতভাবে রূপক ব্যাখ্যা করা হবে—যেমনটি পরবর্তীদের অধিকাংশের অভিমত। সুতরাং আকাশে আল্লাহর অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিতবাহী যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা এর ওপরই প্রয়োগ করা হবে যে তিনি আসমানের স্রষ্টা এবং আসমান তাঁর কুদরতের বহিঃপ্রকাশ; কারণ আসমানে এমন সব বিশাল জগত রয়েছে যার তুলনায় আমাদের এই নগণ্য পৃথিবী একটি ধূলিকণা সদৃশ মাত্র। একইভাবে আল্লাহর দিকে আরোহণ (উরুজ) বলতে এমন এক স্থানের দিকে আরোহণকে বোঝানো হয়েছে যেখানে আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করা যায়—ইত্যাদি আরও নানাবিধ ব্যাখ্যা।" তার বক্তব্য সমাপ্ত হলো। আল্লামা শায়খ সুলাইমান ইবনে সাহমান (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত চমৎকার ও তথ্যবহুলভাবে তার এই বক্তব্যের খণ্ডন করেছেন।

পৃথিবীকে ছোট ও তুচ্ছ করার ব্যাপারে জামিলের এই বক্তব্য মূলত আধুনিক ইউরোপীয় দার্শনিকদের থেকে গৃহীত। আর কিতাব ও সুন্নাহর দলিলগুলোকে 'ধারণাপ্রসূত বাহ্যিক পাঠ' হিসেবে অভিহিত করা এবং সেগুলোর রূপক ব্যাখ্যা বা আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা সংক্রান্ত ধারণাটি তিনি গ্রহণ করেছেন ভ্রান্ত ইলমুল কালামের অনুসারীদের কাছ থেকে, যাদের সালাফগণ নিন্দা করেছেন এবং তাদের ও তাদের মতাদর্শ থেকে সতর্ক করেছেন।

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর রাযী শাব্দিক দলিলের নিশ্চিত অর্থ প্রদানের সক্ষমতাকে এবং সংবাদের মাধ্যমে জ্ঞান লাভের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এই দুটি বিষয়ই হলো ধর্মদ্রোহিতা বা যিনদিকির প্রবেশদ্বার। এগুলোর অর্থবোধকতার ব্যাপারে দ্বিধা করা এমন এক সন্দেহ যা দ্বিধাকারীর কুফরকে অনিবার্য করে তোলে। মহান আল্লাহ বলেছেন: 'কিন্তু না, তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পারস্পরিক বিরোধের বিষয়ে তোমাকে বিচারক না মানবে, তারপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকোচ অনুভব করবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে।' এখানে আল্লাহ সেই ব্যক্তির ঈমান নাকচ করে দিয়েছেন যে রাসূলকে বিচারক মানে না এবং যার মনে রাসূলের ফয়সালার ব্যাপারে সংকোচ রয়েছে। আর দলিলগুলোকে তাদের প্রকাশ্য অর্থ ও নির্দেশনার বিপরীতে রূপক ব্যাখ্যা করা মূলত সেগুলোকে অস্বীকার করারই নামান্তর। এটি হলো শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করা বা অর্থ বিকৃতি (তাহরিফ), যা বাতেনি কারামিতাদের রূপক ব্যাখ্যার সমপর্যায়ভুক্ত, যে ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন..."
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২৪)
سلف الأمة وأئمتها على ذمه وصاحوا بأهله من أقطار الأرض ورموا في آثارهم بالشهب. وقد صنف الإمام أحمد كتاباً في الرد على هؤلاء وسماه الرد على الزنادقة والجهمية فيما شكت فيه من متشابه القرآن وتأولته على غير تأويله انتهى.

وقال العلامة ابن القيم رحمه الله تعالى في (إغاثة اللهفان) ومن حيله ومكائده الكلام الباطل والآراء المتهافتة والخيالات المتناقضة التي هي زبالة الأذهان ونحاتة الأفكار والزبد الذي يقذف به القلوب المظلمة المتحيرة التي تعدل الحق بالباطل والخطأ بالصواب. قد تقاذفت بها أمواج الشبهات. ورانت عليها غيوم الخيالات. فمركبها القيل والقال. والشك والتشكيك وكثرة الجدال ليس لها حاصل من اليقين يعول عليه. ولا معتقد مطابق للحق يرجع إليه. يوحي بعضهم إلى بعض زخرف القول غرورا. فقد اتخذوا لأجل ذلك القرآن مهجورا. وقالوا من عند أنفسهم فقالوا منكرا من القول وزورا. فهم في شكهم يعمهون. وفي حيرتهم يترددون. نبذوا كتاب الله وراء ظهورهم كأنهم لا يعلمون. واتبعوا ما تلته الشياطين على ألسنة أسلافهم من أهل الضلال فهم إليه يحاكمون. وبه يخاصمون. فارقوا الدليل. واتبعوا أهواء قوم قد ضلوا من قبل وأضلوا كثيرا وضلوا عن سواء السبيل.

ثم قال رحمه الله تعالى ومن كيده بهم وتحيله على إخراجهم من العلم والدين. أن ألقى على ألسنتهم أن كلام الله ورسوله ظواهر لفظية لا تفيد اليقين. وأوحى إليهم أن القواطع العقلية والبراهين اليقينية في المناهج الفلسفية والطرق الكلامية فحال بينهم وبين اقتباس الهدى واليقين من مشكاة القرآن. وأحالهم على منطق يونان. وعلى ما عندهم من الدعاوي الكاذبة العرية عن البرهان وقال لهم تلك علوم قديمة صقلتها العقول والأذهان. ومرت عليها القرون
উম্মাহর সালাফ এবং ইমামগণ একে নিন্দা করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন এবং পৃথিবীর সকল প্রান্ত থেকে এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন এবং উল্কাপিণ্ডের ন্যায় তেজস্বিতার সাথে তাদের মতবাদকে আক্রমণ করেছেন। ইমাম আহমাদ এই সকল লোকের খণ্ডনে একটি কিতাব সংকলন করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন ‘আয-যিনাদিকা ওয়াল জাহমিয়্যাহর খণ্ডন’; যাতে কুরআনের মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) আয়াতসমূহ নিয়ে তাদের সন্দেহ পোষণ এবং সেগুলোর অপব্যাখ্যার জবাব দেওয়া হয়েছে। সমাপ্ত।

আল্লামাহ ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ তা‘আলা) ‘ইগাছাতুল লাহফান’ গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর (শয়তানের) নানাবিধ ধোঁকা ও চক্রান্তের অন্যতম হলো বাতিল কথা, অন্তঃসারশূন্য মতবাদ এবং স্ববিরোধী কল্পনাপ্রসূত ধারণা—যা মূলত মস্তিকের আবর্জনা, চিন্তার উচ্ছিষ্ট এবং সেই ফেনা যা এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বিভ্রান্ত হৃদয়গুলো নিক্ষেপ করে, যারা সত্যকে মিথ্যার সাথে এবং ভুলকে সঠিকের সাথে সমান্তরাল মনে করে। এগুলো সংশয়ের তরঙ্গে আন্দোলিত এবং কল্পনার মেঘাচ্ছন্নতায় আবৃত। এদের মূল উপজীব্য হলো নিরর্থক আলোচনা, সন্দেহ ও সন্দেহপ্রবণতা এবং অতিরিক্ত বাদানুবাদ। এদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকিন) নেই এবং সত্যের অনুসারী এমন কোনো আকিদাও নেই যার দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করবে। তারা প্রতারণার বশবর্তী হয়ে একে অপরকে চাকচিক্যময় বাক্যের কুমন্ত্রণা দেয়। একারণেই তারা কুরআনকে পরিত্যাগ করেছে। তারা নিজেদের পক্ষ থেকে মনগড়া কথা বলে, ফলে তারা অত্যন্ত গর্হিত ও মিথ্যা উক্তি করে। তারা নিজেদের সন্দেহের মধ্যে অন্ধ হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং বিভ্রান্তিতে দোদুল্যমান রয়েছে। তারা আল্লাহর কিতাবকে নিজেদের পিঠের পেছনে ফেলে দিয়েছে, যেন তারা কিছুই জানে না। আর তারা তাদের পথভ্রষ্ট পূর্বসূরিদের মুখে শয়তানের শেখানো বুলি অনুসরণ করে। তারা বিচার-ফয়সালার জন্য এরই শরণাপন্ন হয় এবং একে দিয়েই বিতর্ক করে। তারা অকাট্য দলিল বর্জন করেছে এবং এমন এক সম্প্রদায়ের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেছে যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছিল, অনেককে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।

অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ তা‘আলা) বলেন: তাদের বিরুদ্ধে তার চক্রান্ত এবং তাদেরকে ইলম ও দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার একটি কৌশল হলো এই যে, সে তাদের মুখে এ কথা জুগিয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম কেবল বাহ্যিক শব্দমালা যা নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকিন) প্রদান করে না। সে তাদের মনে এই কুমন্ত্রণা দিয়েছে যে, অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল এবং নিশ্চিত প্রমাণাদি কেবল দার্শনিক পদ্ধতি ও কালামশাস্ত্রীয় পন্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এভাবে সে তাদের এবং কুরআনের প্রদীপ থেকে হেদায়েত ও ইয়াকিন হাসিল করার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। সে তাদেরকে গ্রিক যুক্তিবিদ্যার দিকে এবং তাদের কাছে থাকা প্রমাণহীন মিথ্যা দাবিগুলোর দিকে ঠেলে দিয়েছে। সে তাদের বলেছে যে, এগুলো হলো প্রাচীন বিজ্ঞান যা যুগ যুগ ধরে প্রখর মেধা ও চিন্তার দ্বারা শাণিত হয়েছে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২৫)
والأزمان. فانظر كيف تلطف بكيده ومكره حتى أخرجهم من الإيمان كإخراج الشعرة من العجين انتهى كلامه رحمه الله تعالى.

وإذا علم هذا فليعلم أيضاً أن الصواف قد سلك مسلك جميل الزهاوي وقلده فيما زعمه من تصغير الأرض وتحقيرها وتسمية الأدلة من الكتاب والسنة ظواهر ظنية وأنها تؤول أو تفوض. وجميل الزهاوي قد سار خلف فلاسفة الإفرنج المتأخرين وخلف أهل الأهواء والبدع المضلين. فهو عيال على هؤلاء وأولئك كما أن الصواف عيال عليه وعليهم {يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ} وقد قال الله تعالى {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَاوِيلًا} قال البغوي في قوله {فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} أي إلى كتاب الله وإلى رسوله ما دام حيا وبعد وفاته إلى سنته. والرد إلى الكتاب والسنة واجب إن وجد فيهما فان لم يوجد فسبيله الاجتهاد.

وقال ابن كثير في قوله تعالى {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} قال مجاهد وغير واحد من السلف أي إلى كتاب الله وسنة رسوله.

قلت قد رواه ابن جرير في تفسيره عن مجاهد وميمون بن مهران وقتادة والسدي.

قال ابن كثير وهذا أمر من الله عز وجل بأن كل شيء تنازع الناس فيه من أصول الدين وفروعه أن يرد التنازع في ذلك إلى الكتاب والسنة كما قال تعالى {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ}. فما حكم به الكتاب والسنة وشهدا له بالصحة فهو الحق. وماذا بعد الحق إلا الضلال. ولهذا قال تعالى {إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ} أي ردوا الخصومات والجهالات إلى كتاب الله وسنة رسوله فتحاكموا إليهما فيما شجر بينكم {إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ
এবং সর্বকাল। সুতরাং লক্ষ্য করুন, সে কীভাবে তার সূক্ষ্ম চক্রান্ত ও প্রতারণার মাধ্যমে তাদেরকে ঈমান থেকে বের করে নিয়েছে, যেমন আটা থেকে চুল বের করা হয়। তাঁর আলোচনা এখানেই সমাপ্ত হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

যখন এটি জানা গেল, তখন এটিও জানা উচিত যে, আস-সাওয়াফ জামিল আয-যাহাবীর পথ অনুসরণ করেছেন এবং পৃথিবীকে ছোট ও তুচ্ছ করার দাবিতে তাকে অনুকরণ করেছেন। তিনি কুরআন ও সুন্নাহর দলিলগুলোকে স্রেফ বাহ্যিক ধারণাপ্রসূত প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে সেগুলোর অপব্যাখ্যা করতে হবে অথবা এর অর্থ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে হবে। আর জামিল আয-যাহাবী পরবর্তীকালের ইউরোপীয় দার্শনিকদের এবং পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতিদের অনুগামী হয়েছেন। সুতরাং তিনি তাদের ওপর নির্ভরশীল, যেমন আস-সাওয়াফ তাঁর এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল। "প্রবঞ্চনা করার জন্য তারা একে অপরকে চাকচিক্যময় কথার কুমন্ত্রণা দেয়। আপনার প্রতিপালক চাইলে তারা তা করত না। সুতরাং আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা অপবাদকে বর্জন করুন।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট।" আল-বাগভী আল্লাহর এই বাণী: "তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও" সম্পর্কে বলেন: অর্থাৎ আল্লাহর কিতাবের দিকে এবং তাঁর জীবদ্দশায় রাসুলের দিকে, আর তাঁর ইনতিকালের পর তাঁর সুন্নাহর দিকে। কিতাব ও সুন্নাহতে সমাধান পাওয়া গেলে সেদিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব, আর যদি না পাওয়া যায় তবে ইজতিহাদই হলো এর পথ।

ইবনে কাসির আল্লাহ তাআলার বাণী—"যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও"—এর ব্যাখ্যায় বলেন: মুজাহিদ এবং পূর্বসূরি সলফগণের অনেকে বলেছেন, অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর দিকে।

আমি বলছি, ইবনে জারির তাঁর তাফসিরে মুজাহিদ, মায়মুন ইবনে মিহরান, কাতাদা এবং সুদ্দী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে কাসির বলেন, এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ যে, দ্বীনের মৌলিক কিংবা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে মানুষ যখনই বিবাদে লিপ্ত হবে, সেই বিবাদকে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার মীমাংসা তো আল্লাহরই নিকট; তিনিই আল্লাহ।" সুতরাং কিতাব ও সুন্নাহ যে ফয়সালা দেয় এবং যার সঠিকতার সাক্ষ্য দেয়, সেটিই সত্য। আর সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকতে পারে? এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করো।" অর্থাৎ তোমাদের বিবাদ ও অজ্ঞতাকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দাও এবং তোমাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে এই দুইয়ের মাধ্যমে ফয়সালা প্রার্থনা করো, "যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো..."
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ} فدل على أن من لم يتحاكم في محل النزاع إلى الكتاب والسنة ولا يرجع إليهما في ذلك فليس مؤمنا بالله ولا باليوم الآخر انتهى.

قلت ومن أعرض عن أدلة الكتاب والسنة على جريان الشمس وسبحها في الفلك ودؤبها في الجريان وزعم أنها ظنية وليست قطعية الدلالة وأنه ينبغي التوقف فيها أو تفويضها وإن في تأويلها عن ظاهرها مندوحة فلا شك أنه لم يرد الأمر المتنازع فيه إلى الله والرسول وإنما رده إلى فلاسفة الإفرنج المتأخرين وأتباعهم من المتخرصين المتبعين للظنون الكاذبة. من كان كذلك فهو ممن يشك في إيمانه بالله واليوم الآخر.

وأيضاً فقد قال الله تعالى {أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا وَالَّذِينَ آَتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ * وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ * وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ * إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ مَنْ يَضِلُّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ}.

قال قتادة في قوله تعالى {وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا} قال صدقا فيما قال وعدلا فيما حكم. وقال ابن كثير يقول صدقا في الأخبار وعدلا في الطلب فكل ما أخبر به فحق لا مرية فيه ولا شك وكل ما أمر به فهو العدل الذي لا عدل سواه وكل ما نهى عنه فباطل فإنه لا ينهى إلا عن مفسدة. وقوله {لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ} أي ليس أحد يعقب حكمه تعالى لا في الدنيا ولا في الآخرة انتهى.

ومن أعرض عن أدلة الكتاب والسنة وتمسك بما سواهما من أقوال الناس وآرائهم فقد ابتغى حكما غير الله ورسوله ولم يؤمن بأن كلمة الله تعالى قد
...এবং পরকাল।} এটি প্রমাণ করে যে, বিবাদের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহর নিকট বিচারপ্রার্থী হয় না এবং এ বিষয়ে ঐ দুটির দিকে প্রত্যাবর্তন করে না, সে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী নয়। (সমাপ্ত)

আমি বলি, সূর্যের গতিশীলতা, কক্ষপথে তার সন্তরণ এবং নিরন্তর চলাচলের বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহর প্রমাণাদি থেকে যে ব্যক্তি বিমুখতা অবলম্বন করে এবং দাবি করে যে এগুলি ধারণাপ্রসূত এবং অকাট্য প্রমাণ নয়, আর এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন (তাওয়াক্কুফ) বা আল্লাহর ওপর সোপর্দ (তাফউইদ) করা উচিত, অথবা এর প্রকাশ্য অর্থ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা করার অবকাশ রয়েছে—তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সে বিবাদপূর্ণ বিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করায়নি। বরং সে এটিকে আধুনিক ইউরোপীয় দার্শনিক এবং তাদের অনুসারী মিথ্যা ধারণার অনুগামী অনুমানকারীদের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। যে ব্যক্তি এরূপ করে, তার আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমানের বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।

আরও মহান আল্লাহ বলেন, {তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো বিচারক অনুসন্ধান করব? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর যাদেরকে আমি কিতাব প্রদান করেছি, তারা জানে যে এটি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। আর তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণ হয়েছে। তাঁর বাণীর কোনো পরিবর্তনকারী নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। আর যদি তুমি জমিনের অধিকাংশ মানুষের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমানই করে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক অধিক অবগত কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং তিনিই হেদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত।}

কাতাদাহ মহান আল্লাহর বাণী {আর তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণ হয়েছে} প্রসঙ্গে বলেন: তিনি যা বলেছেন তাতে সত্য এবং যা ফয়সালা করেছেন তাতে ন্যায়। ইবনে কাসীর বলেন: অর্থাৎ সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে সত্য এবং বিধানের ক্ষেত্রে ন্যায়। সুতরাং তিনি যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তা সত্য, যাতে কোনো সংশয় বা সন্দেহ নেই। আর তিনি যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তা-ই ন্যায়বিচার, যা ব্যতীত অন্য কোনো ন্যায় নেই। আর যা কিছু তিনি নিষেধ করেছেন তা বাতিল, কারণ তিনি কেবল অনিষ্টকর বিষয় থেকেই নিষেধ করেন। আর তাঁর বাণী {তাঁর বাণীর কোনো পরিবর্তনকারী নেই} এর অর্থ হলো—দুনিয়া বা আখিরাত কোথাও কেউ মহান আল্লাহর হুকুম বা ফয়সালাকে রদবদল করতে পারবে না। (সমাপ্ত)

আর যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহর প্রমাণাদি থেকে বিমুখ হয়েছে এবং তা ব্যতীত মানুষের কথা ও মতামতের ওপর অটল থেকেছে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্যকে বিচারকরূপে গ্রহণ করেছে এবং সে বিশ্বাস স্থাপন করেনি যে মহান আল্লাহর বাণী নিশ্চিতভাবেই...
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২৭)
تمت صدقا وعدلا.

ومن هذا الباب الإعراض عما أخبر الله به من جريان الشمس وسبحها في الفلك ودؤبها في الجريان وأنه يأتي بها من المشرق. وما أخبر به من طلوعها ودلوكها وغروبها. وما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من جريانها وطلوعها وزوالها وغروبها وغير ذلك مما جاء في الأحاديث الصحيحة. والعدول عن ذلك إلى ما تخرصه فلاسفة الإفرنج من ثبات الشمس وما تخيله الصواف بعقله من كونها تدور على نفسها كما تدور المروحة السقفية الكهربائية على محورها. فهذا التخرص والتخيل ناشئ عن ابتغاء حكم غير الله تعالى وعن عدم الإيمان بأن كلمة الله قد تمت صدقا وعدلا. ولو كان يرى وجوب التحاكم إلى الله تعالى ويؤمن بأن كلمة الله تعالى قد تمت صدقا وعدلا لما زعم أن أقل ما يقال في النصوص الدالة على جريان الشمس وسبحها في الفلك أنها ظنية وليست قطعية الدلالة وأن التوقف فيها أو تفويض الأمر فيها أسلم وأحكم وأن في تأوليها عن ظاهرها مندوحة. وما علم المسكين ما يلزم على هذا القول الباطل من تكذيب الله تعالى وتكذيب كتابه ورسوله صلى الله عليه وسلم.

وقد جاء في صحيح البخاري عن علي رضي الله عنه أنه قال (حدثوا الناس بما يعرفون أتريدون أن يكذب الله ورسوله) والذي يعرفه المسلمون من زمني النبي صلى الله عليه وسلم إلى زماننا هذا عن الأرض والشمس والقمر هو ما أخبر الله به في كتابه وما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من جريان الشمس والقمر وسبحها في الفلك ودؤوبهما في الجريان وما أخبر الله به ورسوله صلى الله عليه وسلم وأجمع عليه المسلمون من استقرار الأرض وإرسائها بالجبال وجعلها أوتادا لها. فمن حدث الناس بهذا فقد حدثهم بما يعرفونه من أدلة الكتاب
সত্যতা ও ন্যায়পরায়ণতায় তা পূর্ণ হয়েছে।

আর এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তায়ালা সূর্যের চলন, কক্ষপথে এর সন্তরণ, এর নিরবচ্ছিন্ন গতি এবং তিনি একে পূর্ব দিক থেকে আনয়ন করেন—এ সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তা থেকে বিমুখ হওয়া। আরও অন্তর্ভুক্ত হলো এর উদয়, ঢলে পড়া ও অস্তগমন সম্পর্কে তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তা উপেক্ষা করা। এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গতিপথ, উদয়, মধ্যাকাশ থেকে ঢলে পড়া, অস্তগমন এবং সহীহ হাদীসসমূহে বর্ণিত অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। এ সব কিছু বর্জন করে পাশ্চাত্য দার্শনিকদের উদ্ভাবিত সূর্যের স্থিরতা এবং আস-সাওয়াফ তার নিজের বুদ্ধিতে কল্পনা করেছেন যে সূর্য তার নিজ অক্ষের ওপর সেভাবে আবর্তিত হয় যেভাবে একটি বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যান তার অক্ষের ওপর ঘোরে—এসবের দিকে ঝুঁকে পড়া। এই উদ্ভাবন ও কল্পনা মূলত আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারো বিধান অন্বেষণ করা এবং আল্লাহর বাণী সত্যতা ও ন্যায়পরায়ণতায় পূর্ণ হয়েছে—এই বিশ্বাসের অভাব থেকে উদ্ভূত হয়েছে। যদি তিনি আল্লাহ তায়ালার বিধান গ্রহণ করাকে ওয়াজিব মনে করতেন এবং আল্লাহ তায়ালার বাণী সত্যতা ও ন্যায়পরায়ণতায় পূর্ণ হয়েছে বলে বিশ্বাস করতেন, তবে তিনি কখনো এমন দাবি করতেন না যে, সূর্যের চলন ও কক্ষপথে এর সন্তরণ নির্দেশকারী পাঠসমূহ সম্পর্কে অন্তত এটুকু বলা যায় যে তা ধারণা-নির্ভর এবং এর অর্থ অকাট্য নয়; আর এ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা বা আল্লাহর ওপর এর প্রকৃত অর্থ সোপর্দ করা অধিক নিরাপদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং এর বাহ্যিক অর্থ পরিবর্তন করে ব্যাখ্যা করার অবকাশ রয়েছে। এই হতভাগা ব্যক্তি বুঝতে পারেনি যে, এই বাতিল উক্তির আবশ্যিক পরিণতি হলো আল্লাহ তায়ালাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করা।

সহীহ বুখারীতে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, "তোমরা মানুষের কাছে তা-ই বর্ণনা করো যা তারা বুঝতে পারে; তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবী, সূর্য ও চন্দ্র সম্পর্কে মুসলমানরা যা জানে, তা হলো আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যের চলন, চন্দ্রের গতি, কক্ষপথে এদের সন্তরণ এবং এদের নিরবচ্ছিন্ন চলন সম্পর্কে যা জানিয়েছেন। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সংবাদ দিয়েছেন এবং যে বিষয়ে মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন তা হলো পৃথিবীর স্থিতিশীলতা, পাহাড়ের মাধ্যমে একে সুদৃঢ় করা এবং পাহাড়সমূহকে এর জন্য কীলক স্বরূপ নির্ধারণ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি মানুষের কাছে এ সব বর্ণনা করল, সে মূলত কিতাবুল্লাহর প্রমাণাদির ভিত্তিতে তাদের পরিচিত বিষয়গুলোই তাদের নিকট বর্ণনা করল।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২৮)
والسنة والإجماع. ومن حدثهم بخلاف ذلك وقال في نصوص الكتاب والسنة أنها ظنية وليست قطعية الدلالة وأن التوقف فيها أو تفويض الأمر فيها أسلم وأحكم وأن في تأويلها عن ظاهرها مندوحة فقد حدث الناس بما لا يعرفونه وأغراهم على تكذيب الله تعالى وتكذيب كتابه ورسوله صلى الله عليه وسلم.

 

فصل

وقال الصواف في صفحة 28 ما نصه:

ما رأي فضيلة الأخ في بلاد (فنلندا) مثلا والشمس لا تغيب عنها لمدة ستة أشهر ويمضي عليها نصف سنة وهي طالعة مشرقة ثم تغيب وتبقى غائبة لمدة ستة أشهر أخرى ويمضي العام على هذه البلاد وأمثالها بيوم وليلة. ويومها نصف عام وليلتها النصف الثاني.

والجواب أن يقال هذا من أوضح الأدلة على جريان الشمس وسيرها في البروج والمنازل. فإذا كانت في المنازل الشامية طلعت على ما تحت القطب الشمالي وغابت عما تحت القطب الجنوبي ولا تزال كذلك ما دامت في المنازل الشامية. فإذا رجعت إلى المنازل اليمانية غابت عما تحت القطب الشمالي وطلعت على ما تحت القطب الجنوبي ولا تزال كذلك ما دامت في المنازل اليمانية. ولو كانت الشمس ثابتة لا تفارق موضعها كما زعمه الصواف وأشباهه من المقلدين لأهل الهيئة الجديدة لما كانت تدور على البروج والمنازل وتطلع على ما تحت القطب الشمالي في الصيف وعلى ما تحت القطب الجنوبي في الشتاء وتكون بينهما إذا كانت في خط الاستواء. وقد قال ابن عباس رضي الله عنهما في قوله تعالى {الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ} قال بحسبان ومنازل رواه الحاكم في مستدركه وصححه ووافقه الذهبي في تلخيصه.

وقد توهم الصواف أن له حجة فيما ذكره ههنا وإنما هو حجة عليه كما لا
সুন্নাহ এবং ইজমা (ঐক্যমত)। আর যে ব্যক্তি তাদের কাছে এর বিপরীত কিছু বর্ণনা করে এবং কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য প্রমাণাদি (নসসমূহ) সম্পর্কে বলে যে, সেগুলো ধারণাপ্রসূত (যন্নী) এবং এগুলোর অর্থ সুনিশ্চিত নয়, আর এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে মৌনতা অবলম্বন করা কিংবা বিষয়টি আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা (তাফবীদ) অধিক নিরাপদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ, এবং এগুলোর বাহ্যিক অর্থের পরিবর্তে রূপক ব্যাখ্যা (তাবীল) করার অবকাশ রয়েছে—সে মূলত মানুষের কাছে এমন কিছু বর্ণনা করল যা তারা চেনে না। সে তাদের মহান আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে প্ররোচিত করল।

 

অনুচ্ছেদ

আস-সাওয়াফ ২৮ পৃষ্ঠায় যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:

উদাহরণস্বরূপ ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলো সম্পর্কে সম্মানিত ভ্রাতাবরের অভিমত কী, যেখানে সূর্য টানা ছয় মাস পর্যন্ত অস্ত যায় না? বছরের অর্ধেক সময় সূর্য উদিত ও প্রদীপ্ত অবস্থায় অতিবাহিত হয়। এরপর তা অস্ত যায় এবং পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত অদৃশ্য থাকে। ফলে এই দেশগুলো ও এ জাতীয় অঞ্চলে পুরো একটি বছর কেবল একটি দিন ও একটি রাতের মাধ্যমে অতিবাহিত হয়। যার দিনটি হলো বছরের অর্ধেক এবং রাতটি হলো বাকি অর্ধেক।

এর উত্তরে বলা হবে যে, এটি সূর্যের পরিভ্রমণ এবং রাশিচক্র ও কক্ষপথের মঞ্জিলসমূহে এর গমনের অন্যতম সুস্পষ্ট প্রমাণ। যখন সূর্য উত্তরীয় মঞ্জিলগুলোতে (মানাযিলে শামিয়াহ) অবস্থান করে, তখন তা উত্তর মেরুর নিম্নবর্তী অঞ্চলের ওপর উদিত হয় এবং দক্ষিণ মেরুর নিম্নবর্তী অঞ্চল থেকে অদৃশ্য থাকে। যতক্ষণ এটি উত্তরীয় মঞ্জিলগুলোতে থাকে ততক্ষণ এভাবেই চলতে থাকে। অতঃপর যখন তা দক্ষিণীয় মঞ্জিলগুলোতে (মানাযিলে ইয়ামানিয়াহ) ফিরে আসে, তখন তা উত্তর মেরুর নিম্নবর্তী অঞ্চল থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং দক্ষিণ মেরুর নিম্নবর্তী অঞ্চলের ওপর উদিত হয়। যতক্ষণ এটি দক্ষিণীয় মঞ্জিলগুলোতে থাকে ততক্ষণ এভাবেই চলতে থাকে। সূর্য যদি স্বীয় স্থানে স্থির থাকত এবং স্বস্থান ত্যাগ না করত—যেমনটি আস-সাওয়াফ এবং আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অন্ধ অনুসারী তার সমমনা ব্যক্তিরা দাবি করে থাকে—তবে তা রাশিচক্র ও কক্ষপথের মঞ্জিলগুলোতে পরিভ্রমণ করত না। সেক্ষেত্রে এটি গ্রীষ্মকালে উত্তর মেরুর নিম্নবর্তী অঞ্চলে এবং শীতকালে দক্ষিণ মেরুর নিম্নবর্তী অঞ্চলে উদিত হতো না, আর বিষুব রেখায় থাকাকালীন এই দুইয়ের মাঝখানেও অবস্থান করত না। মহান আল্লাহর বাণী "সূর্য ও চন্দ্র আবর্তিত হয় সুনির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী"—এর ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, "হিসাব ও নির্দিষ্ট কক্ষপথের মঞ্জিল অনুসারে"। ইমাম হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী তাঁর তালখীস গ্রন্থে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আস-সাওয়াফ ধারণা করেছেন যে, তিনি এখানে যা উল্লেখ করেছেন তা তাঁর স্বপক্ষে একটি দলিল, অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি তাঁর বিরুদ্ধেই একটি প্রমাণ, যেমনটি...
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ২৯)
يخفى على من له أدنى علم ومعرفة.

 

فصل

وفي صفحة 30 زعم الصواف أن الآيات من كتاب الله تعالى توجه الأفكار والأنظار إلى الفلك الأعظم الذي خلقه الله وأمرنا بالتفكر فيه.

والجواب عن هذا من وجوه أحدها أن يقال: إن الله تعالى لم يأمر عباده بالتفكر في الفلك وأن يوجهوا الأفكار والأنظار إليه وإنما أمرهم بالنظر والتفكر في خلق السموات والأرض وما فيهما من الآيات الدالة على عظمته وكمال قدرته وأنه الإله الواحد الأحد الذي لا تنبغي العبادة إلا له وحده دون من سواه قال الله تعالى {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآَيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ * الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} وقال تعالى {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} وقال تعالى {هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ يُفَصِّلُ الْآَيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ * إِنَّ فِي اخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ} وقال تعالى {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لَكُمْ مِنْهُ شَرَابٌ وَمِنْهُ شَجَرٌ فِيهِ تُسِيمُونَ * يُنْبِتُ لَكُمْ بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالْأَعْنَابَ وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَةً

لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ * وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ * وَمَا ذَرَأَ لَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُخْتَلِفًا
সামান্যতম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন ব্যক্তির নিকট এটি অস্পষ্ট নয়।

 

পরিচ্ছেদ

এবং ৩০ নম্বর পৃষ্ঠায় আস-সাওয়াফ দাবি করেছেন যে, আল্লাহ তাআলার কিতাবের আয়াতসমূহ চিন্তা ও দৃষ্টিকে সেই ‘আল-ফালাকুল আজম’ (মহা-কক্ষপথ)-এর দিকে পরিচালিত করে যা আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের তাতে চিন্তা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়। প্রথমত: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কক্ষপথ নিয়ে চিন্তা করতে এবং সেদিকে চিন্তা ও দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে নির্দেশ দেননি; বরং তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি এবং এগুলোর মধ্যে বিদ্যমান তাঁর মহিমা ও পূর্ণ ক্ষমতার নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করতে। আর এই নিদর্শনাবলি প্রমাণ করে যে, তিনি অদ্বিতীয় ইলাহ, যিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করা সমীচীন নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, {নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে (এবং বলে): ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি এগুলো বৃথা সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র; সুতরাং আপনি আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন’}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, {নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে, মানুষের উপকারে সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযানসমূহে, আকাশ থেকে আল্লাহর বর্ষিত পানিতে যার মাধ্যমে তিনি জমিনকে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেন এবং তাতে সকল প্রকার প্রাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন, আর বায়ুর প্রবাহে এবং আকাশ ও জমিনের মাঝে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, {তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে তেজদীপ্ত এবং চাঁদকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য মঞ্জিলসমূহ নির্ধারণ করেছেন, যাতে তোমরা বছরের সংখ্যা ও হিসাব জানতে পারো। আল্লাহ এগুলো কেবল যথাযথভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেন। নিশ্চয়ই রাত ও দিনের পরিবর্তনে এবং আসমানসমূহ ও জমিনে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাতে মুত্তাকি সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, {তিনিই সেই সত্তা যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যাতে তোমাদের জন্য পানীয় রয়েছে এবং তা থেকে উদ্ভিদ জন্মায় যাতে তোমরা পশু চরাও। তিনি তোমাদের জন্য এর মাধ্যমে শস্য, জয়তুন, খেজুর, আঙুর এবং সকল প্রকার ফল উৎপাদন করেন। নিশ্চয়ই এতে

চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। এবং তিনি তোমাদের জন্য রাত, দিন, সূর্য ও চাঁদকে অনুগত করেছেন এবং নক্ষত্ররাজিও তাঁরই আদেশে অনুগত। নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। এবং তিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা কিছু বিচিত্র বর্ণের সৃষ্টি করেছেন...}
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ৩০)
أَلْوَانُهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَةً لِقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ * وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَاكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُوا مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ * وَأَلْقَى فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ * وَعَلَامَاتٍ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ * أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لَا يَخْلُقُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ * وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ}.

قال ابن كثير رحمه الله تعالى في الكلام على الآيات من سورة آل عمران ومعنى الآية أن الله تعالى يقول {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} أي هذه في ارتفاعها واتساعها وهذه في انخفاضها وكثافتها واتضاعها وما فيهما من الآيات المشاهدة العظيمة من كواكب سيارات وثوابت وبحار وجبال وقفار وأشجار ونبات وزروع وثمار وحيوان ومعادن ومنافع مختلفة الألوان والطعوم والروائح والخواص {وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَار} أي تعاقبهما وتقارضهما الطول والقصر فتارة يطول هذا ويقصر هذا ثم يعتدلان ثم يأخذ هذا من هذا فيطول الذي كان قصيرا ويقصر الذي كان طويلا وكل ذلك تقدير العزيز العليم. ولهذا قال تعالى {لَآَيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} أي العقول التامة الزكية التي تدرك الأشياء بحقائقها على جلياتها وليسوا كالصم والبكم الذين لا يعقلون. الذين قال الله فيهم {وَكَأَيِّنْ مِنْ آَيَةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَمُرُّونَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُونَ * وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} ثم وصف تعالى أولي الألباب فقال {الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ} أي لا يقطعون ذكره في جميع أحوالهم بسرائرهم وضمائرهم وألسنتهم {وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} أي يفهمون ما فيهما من الحِكم الدالة على عظمة الخالق وقدرته وحكمته واختياره ورحمته انتهى.
...এর রঙসমূহ। নিশ্চয় এতে সে সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে যারা উপদেশ গ্রহণ করে। আর তিনিই সমুদ্রকে অনুগত করেছেন যাতে তোমরা তা থেকে তাজা গোশত খেতে পার এবং তা থেকে আহরণ করতে পার অলঙ্কার যা তোমরা পরিধান কর; আর তুমি তাতে জাহাজগুলোকে পানি চিরে চলতে দেখ এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং যেন তোমরা শুকরিয়া আদায় কর। আর তিনি যমীনে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে হেলে না পড়ে এবং নদ-নদী ও পথসমূহ তৈরি করেছেন যাতে তোমরা পথ পাও। আর অনেক চিহ্নসমূহও (সৃষ্টি করেছেন); এবং নক্ষত্রের সাহায্যেও তারা পথনির্দেশ পায়। তবে কি যিনি সৃষ্টি করেন তিনি তাঁর মতো যে সৃষ্টি করে না? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না? আর যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর তবে তা শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}

ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) সূরা আল-ইমরানের আয়াতসমূহের আলোচনায় বলেন: আয়াতের মর্মার্থ হলো, মহান আল্লাহ বলেন {নিশ্চয় আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে} অর্থাৎ আকাশ তার উচ্চতা ও প্রশস্ততায় এবং যমীন তার গভীরতা, ঘনত্ব ও নিম্নতায় এবং এ দুয়ের মাঝে বিদ্যমান মহান দৃশ্যমান নিদর্শনাবলী যেমন—চলমান ও স্থির নক্ষত্ররাজি, সমুদ্র, পাহাড়, মরুভূমি, বৃক্ষরাজি, উদ্ভিদ, শস্য, ফলমূল, জীবজন্তু, খনিজ পদার্থ এবং নানাবিধ রঙ, স্বাদ, ঘ্রাণ ও গুণাগুণ সম্পন্ন উপকারী দ্রব্যাদি। {এবং রাত ও দিনের আবর্তনে} অর্থাৎ তাদের একের পর এক আসা এবং দীর্ঘ হওয়া ও ছোট হওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরের অংশ গ্রহণ করা; কখনো এটি দীর্ঘ হয় ও ওটি ছোট হয়, অতঃপর উভয়টি সমান হয়, এরপর এটি ওটি থেকে গ্রহণ করে ফলে যা ছোট ছিল তা দীর্ঘ হয় এবং যা দীর্ঘ ছিল তা ছোট হয়। আর এ সবকিছুই মহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ সত্তার সুনির্ধারিত পরিমাপ। এজন্যই মহান আল্লাহ বলেছেন {নিশ্চয় বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে} অর্থাৎ সেই সকল পূর্ণ ও পরিচ্ছন্ন বুদ্ধিমানদের জন্য যারা বিষয়বস্তুর হাকীকত ও স্বরূপ স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারে। তারা সেই বধির ও বোবাদের মতো নয় যারা কিছুই বোঝে না, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর আসমান ও যমীনে কত নিদর্শন রয়েছে যা তারা অতিক্রম করে চলে যায় অথচ তারা সেগুলোর প্রতি বিমুখ। আর তাদের অধিকাংশই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না তবে শিরক করা অবস্থায়।} এরপর মহান আল্লাহ সেই বোধশক্তিসম্পন্নদের গুণাবলী বর্ণনা করে বলেন: {যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে} অর্থাৎ তারা তাদের সকল অবস্থায় তাদের অন্তরে, চিন্তা-চেতনায় এবং জিহ্বায় তাঁর যিকির বিচ্ছিন্ন করে না। {এবং তারা আসমান ও যমীনের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে} অর্থাৎ তারা এ দুয়ের মধ্যে নিহিত সেই সকল হিকমত বা নিগূঢ় রহস্য উপলব্ধি করে যা স্রষ্টার মহানত্ব, কুদরত, প্রজ্ঞা, ইচ্ছাশক্তি এবং তাঁর রহমতের প্রমাণ বহন করে। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) যাইলুস সাওয়াইক লিমাহওয়িল আবাতীল ওয়াল মাখারিক (পৃষ্ঠা: ৩১)
الوجه الثاني أن الله تبارك وتعالى ذكر الفلك في موضعين من القرآن لا غير. فقال تعالى في سورة الأنبياء {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ} وقال تعالى في سورة يس {وَآَيَةٌ لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُمْ مُظْلِمُونَ * وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ * وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ * لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ} فذكر تبارك وتعالى من آياته الليل وسلخ النهار منه وجريان الشمس لمستقرها وتقدير القمر منازل وكلها من الآيات الدالة على عظمته وكمال قدرته. ولم يأمر تبارك وتعالى بالتفكر في الفلك لا في هذه الآيات ولا في غيرها من القرآن. فمن زعم أن الله تعالى أمر عباده بالتفكر في الفلك فقد افترى على الله الكذب. وكذلك من زعم أن الآيات من كتاب الله توجه الأفكار والأنظار إلى الفلك الأعظم فقد كذب على الله وعلى كتابه.

الوجه الثالث أن مراد الصواف بالأمر بالتفكر في الفلك وتوجيه الأفكار والأنظار إليه هو ما صرح به في صفحة 25 من أن المراد به التحقيق العلمي والوصول إلى الأسرار الكامنة وراء هذه المخلوقات الكونية الهائلة. وما صرح به أيضا فيما نشره في جريدة الدعوة من أن المراد به النظر للبحث والعلم والتحقيق. يعني البحث عن الأجرام العلوية وعن مقادير أحجامها ووزنها وأبعادها ووصول نور كل منها إلى الأرض وما بينها من التفاوت في الحجم والوزن والبعد وعما فيها من جبال وبحار وسكان وغير ذلك مما توهمه أهل المراصد من فلاسفة الإفرنج وحشاه الصواف في رسالته، وزعم أن ذلك من العلم والتحقيق في علم الفلك وأن الله تعالى أمر عباده بالتفكر فيه وأن الآيات
দ্বিতীয় দিক হলো এই যে, মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনের মাত্র দুটি স্থানে 'ফালাক' (কক্ষপথ) শব্দটির উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আম্বিয়ায় বলেছেন, "এবং তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।" এবং সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তাদের জন্য এক নিদর্শন হলো রাত, যা থেকে আমি দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আর সূর্য তার জন্য নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে চলতে থাকে; এটি মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত পরিমাপ। আর চাঁদের জন্য আমি বিভিন্ন মঞ্জিল (অবস্থান) নির্ধারিত করেছি, শেষ পর্যন্ত তা শুষ্ক পুরাতন খেজুর শাখার ন্যায় হয়ে যায়। সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদকে ধরে ফেলা, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়া; তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।" সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রাত, তা থেকে দিনকে সরিয়ে নেওয়া, সূর্যের নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে চলা এবং চাঁদের মঞ্জিল নির্ধারণের কথা উল্লেখ করেছেন; আর এগুলোর সবই তাঁর মহানত্ব এবং অসীম ক্ষমতার পরিচায়ক নিদর্শন। অথচ মহান আল্লাহ এই আয়াতগুলোতে কিংবা কুরআনের অন্য কোথাও 'ফালাক' (কক্ষপথ) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার কোনো নির্দেশ প্রদান করেননি। অতএব, যে ব্যক্তি দাবি করে যে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের কক্ষপথ নিয়ে চিন্তা করার নির্দেশ দিয়েছেন, সে আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ দিল। তদ্রূপ, যে ব্যক্তি দাবি করে যে আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ সুউচ্চ কক্ষপথের দিকে চিন্তা ও দৃষ্টিকে নিবদ্ধ করার আহ্বান জানায়, সে মূলত আল্লাহ ও তাঁর কিতাবের ওপর মিথ্যাচার করল।

তৃতীয় দিক হলো, সাউয়াফ কক্ষপথ নিয়ে চিন্তা করার নির্দেশ এবং সেদিকে চিন্তা ও দৃষ্টি নিবদ্ধ করার মাধ্যমে যা বোঝাতে চেয়েছেন, তা তিনি ২৫ নম্বর পৃষ্ঠায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে এর উদ্দেশ্য হলো বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং এই বিশাল মহাজাগতিক সৃষ্টির অন্তরালে নিহিত রহস্যসমূহ উদ্ঘাটন করা। 'আদ-দাওয়াহ' পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধেও তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, এর উদ্দেশ্য হলো অনুসন্ধান, জ্ঞানার্জন ও গবেষণার দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করা। অর্থাৎ ঊর্ধ্বাকাশের জ্যোতিষ্কমণ্ডলী, সেগুলোর আকার, ওজন ও দূরত্বের পরিমাপ, সেগুলোর প্রত্যেকের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানো, সেগুলোর মধ্যকার আকার, ওজন ও দূরত্বের পার্থক্য এবং সেখানে বিদ্যমান পাহাড়, সমুদ্র ও অধিবাসীসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে গবেষণা করা—যা পাশ্চাত্য দার্শনিকদের মানমন্দির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কল্পনা করেছেন এবং সাউয়াফ তাঁর পুস্তিকায় তা সন্নিবেশিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞান ও গবেষণার অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের এ বিষয়ে চিন্তা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আয়াতসমূহ...