(খণ্ড: ১) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح لابن تيمية   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

تحقيق: علي بن حسن - عبد العزيز بن إبراهيم - حمدان بن محمد

الناشر: دار العاصمة، السعودية

الطبعة: الثانية، 1419هـ / 1999م

عدد الأجزاء: 6

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জাওয়াব আস-সহীহ লি-মান বাদ্দালা দ্বীন আল-মাসীহ - ইবনে তাইমিয়্যাহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকীদাহ


গ্রন্থ: আল-জাওয়াব আস-সহীহ লি-মান বাদ্দালা দ্বীন আল-মাসীহ

লেখক: তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)

সম্পাদনা: আলী বিন হাসান - আব্দুল আযীয বিন ইবরাহীম - হামদান বিন মুহাম্মদ

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ, সৌদি আরব

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরী / ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٥٩)
‌‌[مُقَدِّمَةُ الْكِتَابِ]

بسم الله الرحمن الرحيم

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ - الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ - مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [الفاتحة: 2 - 4] .

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} [الأنعام: 1] .

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ} [الإسراء: 111] .

وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا.

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا - قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا - مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا - وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا - مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا} [الكهف: 1 - 5] .
[গ্রন্থের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের রব। পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক।} [ফাতিহা: ২ - ৪]।

{সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো তৈরি করেছেন; তা সত্ত্বেও যারা কুফরি করে তারা তাদের রবের সমকক্ষ স্থির করে।} [আনআম: ১]।

{সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো শরীক নেই এবং অভাবজনিত কারণে কোনো সাহায্যকারী অভিভাবকেরও প্রয়োজন নেই।} [ইসরা: ১১১]।

আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহ অতি মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহ অতি মহান এবং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা। আল্লাহ অতি মহান হিসেবে মহান, আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

{সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠোর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য এবং মুমিনদের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যারা সৎকাজ করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। আর তাদের সতর্ক করার জন্য যারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। তাদের মুখ থেকে নির্গত কথাটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলে।} [কাহফ: ১ - ৫]।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٠)
{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي الْآخِرَةِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ - يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ الرَّحِيمُ الْغَفُورُ} [سبأ: 1 - 2] .

{الْحَمْدُ لِلَّهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ - مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [فاطر: 1 - 2] .

وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، الْحَيُّ الْقَيُّومُ الَّذِي لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ:

{لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255] .

الْأَحَدُ، الصَّمَدُ، الَّذِي لَمْ يَلِدْ، وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ، الْأَوَّلُ، الْآخِرُ، الظَّاهِرُ، الْبَاطِنُ، الْمَلِكُ، الْقُدُّوسُ، السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ، الْمُهَيْمِنُ، الْعَزِيزُ،
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অধিকারে রয়েছে আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে; আর পরকালেও সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবগত। তিনি জানেন যা যমীনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয়, আর যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। তিনি পরম দয়ালু, অতি ক্ষমাশীল। [সাবা: ১-২] .

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের আদি স্রষ্টা, ফেরেশতাদের বার্তাবাহকরূপে নিয়োগকারী, যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখা বিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই; আর যা তিনি আটকে দেন, তারপর তা পাঠানোর কেউ নেই। তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [ফাতির: ১-২] .

আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, যাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না:

আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সেই যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে যা আছে ও তাদের পেছনে যা আছে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছু তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু চান তা ব্যতীত। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যপ্ত করে আছে এবং এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে পরিশ্রান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান। [আল-বাকারা: ২৫৫] .

তিনি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি অনাদি, অনন্ত, প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য। তিনি অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী,
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦١)
الْجَبَّارُ، الْمُتَكَبِّرُ، الْخَالِقُ، الْبَارِئُ، الْمُصَوِّرُ، لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى، يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ.

وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، أَرْسَلَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ ; لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ، وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا، أَرْسَلَهُ بِالْحَقِّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا، أَرْسَلَهُ إِلَى جَمِيعِ الثَّقَلَيْنِ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ عَرَبِهِمْ وَعَجَمِهِمْ أُمِّيِّهِمْ وَكِتَابِيِّهِمْ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ:

{أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} [الزمر: 23] .

كِتَابٌ أَنْزَلَهُ لِيُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ وَيَهْدِيهِمْ:

{إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ - اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ} [إبراهيم: 1 - 2] .

هَدَاهُمْ بِهِ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، صِرَاطِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ، وَهُوَ صِرَاطُ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ
পরাক্রমশালী, মহিমান্বিত, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী। তাঁর জন্যই সকল সুন্দর নাম। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তাঁকে কিয়ামতের প্রাক্কালে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন, এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁকে জিন ও ইনসান—উভয় সম্প্রদায়ের সকলের কাছে, তাদের আরব ও অনারব, নিরক্ষর ও কিতাবধারী সবার কাছে পাঠিয়েছেন। আর তাঁর ওপর অবতীর্ণ করেছেন:

উত্তম বাণী হিসেবে এক কিতাব, যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়; এতে তাদের শরীরের চামড়া ভয়ে শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়ে যায়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, এর মাধ্যমে তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। [সূরা আয-যুমার: ২৩]

এটি এমন এক কিতাব যা তিনি অবতীর্ণ করেছেন যাতে মানুষের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে আপনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন এবং তাদেরকে পথপ্রদর্শন করতে পারেন:

পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে—সেই আল্লাহ, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা যাঁর। [সূরা ইবরাহীম: ১-২]

এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিয়েছেন; সেই সত্তার পথ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা যাঁর। আর এটাই তাঁদের পথ যাঁদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٢)
النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ، وَهُوَ دِينُ اللَّهِ الَّذِي بَعَثَ بِهِ الرُّسُلَ قَبْلَهُ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى: 13] .

وَقَالَ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ - وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ} [المؤمنون: 51 - 52] .

وَقَالَ فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: {وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ - فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [المؤمنون: 52 - 53] .

وَقَالَ تَعَالَى:
নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং পুণ্যবানগণ। এটি আল্লাহর সেই দ্বীন যা দিয়ে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী রাসূলগণকে প্রেরণ করেছিলেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি আপনার প্রতি ওহী হিসেবে প্রেরণ করেছি এবং যার নির্দেশ আমি ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম; এই বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে মতভেদ করো না} [আশ-শুরা: ১৩]।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো; নিশ্চয় তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত। আর তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের রব; অতএব আমাকেই ভয় করো} [আল-মুমিনুন: ৫১-৫২]।

তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: {আর আমিই তোমাদের রব, অতএব আমাকেই ভয় করো। অতঃপর তারা তাদের দ্বীনী বিষয়টিকে নিজেদের মধ্যে বহু খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলেছে; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত} [আল-মুমিনুন: ৫২-৫৩]।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন:
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٣)
{وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] .

وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} [النحل: 36] .

أَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ، فَصَدَّقَ كِتَابُهُ مَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ كُتُبِ السَّمَاءِ، وَأَمَرَ بِالْإِيْمَانِ بِجَمِيعِ الْأَنْبِيَاءِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ - فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [البقرة: 136 - 137] .
"আমি তোমার পূর্বে এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো।" [আল-আম্বিয়া: ২৫] ।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে আল্লাহ কাউকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং কারো কারো প্রতি পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যাচারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।" [আন-নাহল: ৩৬] ।

তিনি তাঁর প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছেন যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর রক্ষক। সুতরাং তাঁর কিতাব তার পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের সত্যায়ন করেছে এবং তিনি সমস্ত নবীর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা বলো, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা মূসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে এবং যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাদের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম।’ অতএব তারা যদি সেভাবেই ঈমান আনে যেভাবে তোমরা ঈমান এনেছ, তবে অবশ্যই তারা হিদায়াত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা কেবল বিরোধেই লিপ্ত। সুতরাং তাদের বিপরীতে আল্লাহই তোমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" [আল-বাকারা: ১৩৬ - ১৩৭] ।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٤)
وَهَيْمَنَ عَلَى مَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ، وَذَلِكَ يَعُمُّ الْكُتُبَ كُلَّهَا، شَاهِدًا وَحَاكِمًا وَمُؤْتَمَنًا، يَشْهَدُ بِمِثْلِ مَا فِيهَا مِنَ الْأَخْبَارِ الصَّادِقَةِ.

وَقَرَّرَ مَا فِي الْكِتَابِ الْأَوَّلِ مِنْ أُصُولِ الدِّينِ وَشَرَائِعِهِ الْجَامِعَةِ الَّتِي اتَّفَقَتْ عَلَيْهَا الرُّسُلُ، كَالْوَصَايَا الْمَذْكُورَةِ فِي آخِرِ الْأَنْعَامِ، وَأَوَّلِ الْأَعْرَافِ، وَسُورَةِ سُبْحَانَ، وَنَحْوِهَا مِنَ السُّوَرِ الْمَكِّيَّةِ.

قَالَ تَعَالَى:
এবং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী হয়েছে, যা সকল কিতাবকেই অন্তর্ভুক্ত করে; এটি সেগুলোর সাক্ষী, ফয়সালাকারী ও আমানতদার। এটি সেগুলোতে বিদ্যমান সত্য সংবাদসমূহের অনুরূপ সাক্ষ্য প্রদান করে।

এবং এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের দ্বীনের মূলনীতি ও এমন সব ব্যাপক শরয়ি বিধানসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে যেগুলোর ওপর রাসূলগণ একমত হয়েছিলেন; যেমন সূরা আল-আনআমের শেষে, সূরা আল-আরাফের শুরুতে এবং সূরা সুবহান (আল-ইসরা) ও অনুরূপ মক্কী সূরাসমূহে বর্ণিত উপদেশসমূহ।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٥)
{قُلْ هَلُمَّ شُهَدَاءَكُمُ الَّذِينَ يَشْهَدُونَ أَنَّ اللَّهَ حَرَّمَ هَذَا فَإِنْ شَهِدُوا فَلَا تَشْهَدْ مَعَهُمْ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَهُمْ بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ - قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ - وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ - وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 150 - 153] .

وَقَالَ تَعَالَى:

{قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ - فَرِيقًا هَدَى وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلَالَةُ إِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ - يَابَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ - قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [الأعراف: 29 - 32] .

وَقَالَ تَعَالَى:
{বলো, "তোমাদের সেই সাক্ষীদের নিয়ে এসো যারা সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ এটি হারাম করেছেন।" সুতরাং যদি তারা সাক্ষ্য দেয়ও, তবে তুমি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিয়ো না। আর যারা আমাদের নিদর্শনাবলিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না; তারা তাদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায়। বলো, "এসো, তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি পাঠ করি: তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে, দারিদ্র্যের কারণে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না—আমরাই তোমাদের এবং তাদের রিযিক দান করি, আর অশ্লীল কাজের কাছেও যেয়ো না—চাই তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন, এবং আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করো না। তিনি তোমাদের এসব নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা বুঝতে পারো।" আর তোমরা ইয়াতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হবে না—উৎকৃষ্ট পদ্ধতি ছাড়া—যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছায়। আর পরিমাপ ও ওজন ইনসাফের সাথে পূর্ণ করো। আমরা কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপাই না। আর যখন তোমরা কথা বলবে তখন ইনসাফ করবে, যদিও সে নিকটাত্মীয় হয়। আর আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। তিনি তোমাদের এসব নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। আর নিশ্চয়ই এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদের এসব নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।} [আল-আনআম: ১৫০ - ১৫৩] ।

এবং মহান আল্লাহ বলেন:

{বলো, "আমার রব ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক সিজদার সময় তোমরা তোমাদের লক্ষ্য স্থির রেখো এবং তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকো। তিনি যেভাবে তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তোমরা সেভাবেই ফিরে আসবে। একদলকে তিনি হিদায়াত দিয়েছেন এবং অন্য দলের ওপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়েছে। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তারা মনে করে যে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত। হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সিজদার সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো। আর তোমরা আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। বলো, 'আল্লাহর সেই সৌন্দর্যকে কে হারাম করেছে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বের করেছেন এবং পবিত্র রিযিকসমূহকে?' বলো, 'পার্থিব জীবনে এগুলো মুমিনদের জন্য, আর কিয়ামতের দিন তা কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত।' এভাবেই আমরা জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি বিস্তারিত বর্ণনা করি।"} [আল-আ'রাফ: ২৯ - ৩২] ।

এবং মহান আল্লাহ বলেন:
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٦)
{وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا - وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّي ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا - رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِي نُفُوسِكُمْ إِنْ تَكُونُوا صَالِحِينَ فَإِنَّهُ كَانَ لِلْأَوَّابِينَ غَفُورًا - وَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا - إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا - وَإِمَّا تُعْرِضَنَّ عَنْهُمُ ابْتِغَاءَ رَحْمَةٍ مِنْ رَبِّكَ تَرْجُوهَا فَقُلْ لَهُمْ قَوْلًا مَيْسُورًا - وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا مَحْسُورًا - إِنَّ رَبَّكَ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ إِنَّهُ كَانَ بِعِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا - وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا - وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا - وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَنْ قُتِلَ مَظْلُومًا فَقَدْ جَعَلْنَا لِوَلِيِّهِ سُلْطَانًا فَلَا يُسْرِفْ فِي الْقَتْلِ إِنَّهُ كَانَ مَنْصُورًا - وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا - وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا - وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا - وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَنْ تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَنْ تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولًا - كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا - ذَلِكَ مِمَّا أَوْحَى إِلَيْكَ رَبُّكَ مِنَ الْحِكْمَةِ وَلَا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ فَتُلْقَى فِي جَهَنَّمَ مَلُومًا مَدْحُورًا} [الإسراء: 23 - 39] .

فَدِينُ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ دِينٌ وَاحِدٌ، وَإِنْ كَانَ لِكُلٍّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ شِرْعَةٌ وَمِنْهَاجٌ، وَلِهَذَا قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
{তোমার রব ফয়সালা করেছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। - আর মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা নত করে দাও এবং বলো, ‘হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।’ - তোমাদের রব তোমাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে অধিক অবগত। যদি তোমরা সৎ হও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তওবাকারীদের প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। - আর আত্মীয়কে তার প্রাপ্য দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। আর কিছুতেই অপব্যয় করো না। - নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই; আর শয়তান তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ। - আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে রহমত বা অনুগ্রহ লাভের আশায় তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হয় যা তুমি প্রত্যাশা করো, তবে তাদের সাথে নম্র ভাষায় কথা বলো। - আর তোমার হাত তোমার ঘাড়ের সাথে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা পুরোপুরি প্রসারিতও করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে। - নিশ্চয়ই তোমার রব যার জন্য ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা সংকুচিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত ও সর্বদ্রষ্টা। - আর দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিযিক দিই এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ। - আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। - আর আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করো না। আর যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষমতা দান করেছি; সুতরাং সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন না করে। নিশ্চয়ই সে সাহায্যপ্রাপ্ত। - আর তোমরা ইয়াতীমের মালের কাছেও যেও না উৎকৃষ্ট পন্থা ছাড়া, যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ বয়সে উপনীত হয়। আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো; নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। - আর যখন মেপে দেবে তখন পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক পাল্লায় ওজন করবে। এটিই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। - আর যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এসবের প্রতিটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। - আর যমীনে দম্ভভরে বিচরণ করো না। নিশ্চয়ই তুমি যমীনকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় পাহাড় সমান হতে পারবে না। - এসবের মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার রবের নিকট ঘৃণিত। - এসব হিকমত বা প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত যা তোমার রব তোমার প্রতি ওহী করেছেন। আর আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য স্থির করো না, নতুবা তুমি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।} [আল-ইসরা: ২৩ - ৩৯] ।

নবী ও রাসূলগণের দ্বীন হলো এক ও অভিন্ন, যদিও তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনের প্রত্যেকের জন্য পৃথক শরীয়ত ও কর্মপন্থা রয়েছে। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি...
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٧)
وَسَلَّمَ فِي الْحَدِيثِ الْمُتَّفَقِ عَلَى صِحَّتِهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّا مَعَاشِرَ الْأَنْبِيَاءِ دِينُنَا وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِابْنِ مَرْيَمَ لَأَنَا، إِنَّهُ لَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ نَبِيٌّ» .

فَدِينُ الْمُرْسَلِينَ يُخَالِفُ دِينَ الْمُشْرِكِينَ الْمُبْتَدِعِينَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دَيْنَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا.
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত সহীহ বলে সর্বসম্মত হাদীসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আমরা নবী সম্প্রদায়, আমাদের দ্বীন এক। আর মানুষের মধ্যে ইবনে মারইয়ামের সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হলাম আমি; নিশ্চয়ই আমার ও তাঁর মাঝে কোনো নবী নেই।"

সুতরাং রাসূলগণের দ্বীন সেই বিদআতী মুশরিকদের দ্বীনের বিপরীত, যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٨)
قَالَ تَعَالَى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ - مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ - مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [الروم: 30 - 32] .

وَقَالَ تَعَالَى: {وَجَعَلْنَا ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ آيَةً وَآوَيْنَاهُمَا إِلَى رَبْوَةٍ ذَاتِ قَرَارٍ وَمَعِينٍ - يَاأَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ - وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ - فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [المؤمنون: 50 - 53] .

وَقَالَ تَعَالَى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ} [الشورى: 13] .

وَقَدْ خَصَّ اللَّهُ تبارك وتعالى مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আপনি একনিষ্ঠ হয়ে আপনার চেহারাকে দ্বীনের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত রাখুন। আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।—তাঁর অভিমুখী হয়ে, তোমরা তাঁকে ভয় করো এবং সালাত কায়েম করো, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।—যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে; প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা রয়েছে তা নিয়ে আনন্দিত।} [আর-রুম: ৩০ - ৩২]।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি মারয়াম-পুত্র ও তাঁর জননীকে একটি নিদর্শন বানিয়েছি এবং তাঁদের উভয়কে এক উচ্চভূমিতে আশ্রয় দিয়েছি যা ছিল বসবাসের উপযোগী ও প্রস্রবণযুক্ত।—হে রাসূলগণ! আপনারা পবিত্র বস্তুসমূহ হতে আহার করুন এবং নেক আমল করুন; নিশ্চয় আপনারা যা করেন সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত।—আর আপনাদের এই উম্মত তো মূলত একই উম্মত এবং আমিই আপনাদের রব, অতএব আমাকেই ভয় করুন।—অতঃপর তারা তাদের বিষয়টিকে নিজেদের মধ্যে বহু খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলেছে; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে উল্লসিত।} [আল-মুমিনুন: ৫০ - ৫৩]।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য সেই দ্বীন বিধিবদ্ধ করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ আমি ইব্রাহিম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম—এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। আপনি মুশরিকদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান করছেন তা তাদের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি নিজের দিকে পথ দেখান।} [আশ-শূরা: ১৩]।

আর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٦٩)
بِخَصَائِصَ مَيَّزَهُ بِهَا عَلَى جَمِيعِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ، وَجَعَلَ لَهُ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا، أَفْضَلَ شِرْعَةٍ وَأَكْمَلَ مِنْهَاجٍ.

كَمَا جَعَلَ أُمَّتَهُ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ، فَهُمْ يُوفُونَ سَبْعِينَ أُمَّةً هُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ مِنْ جَمِيعِ الْأَجْنَاسِ، هَدَاهُمُ اللَّهُ بِكِتَابِهِ وَرَسُولِهِ لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ قَبْلَهُمْ، وَجَعَلَهُمْ وَسَطًا عَدْلًا خِيَارًا، فَهُمْ وَسَطٌ فِي تَوْحِيدِ اللَّهِ وَأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ، وَفِي الْإِيمَانِ بِرُسُلِهِ، وَكُتُبِهِ، وَشَرَائِعِ دِينِهِ مِنَ الْأَمْرِ، وَالنَّهْيِ، وَالْحَلَالِ، وَالْحَرَامِ.

فَأَمَرَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ، وَنَهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَأَحَلَّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ، وَحَرَّمَ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ، لَمْ يُحَرِّمْ عَلَيْهِمْ شَيْئًا مِنَ الطَّيِّبَاتِ كَمَا حَرَّمَ عَلَى الْيَهُودِ، وَلَمْ يُحِلَّ لَهُمْ شَيْئًا مِنَ الْخَبَائِثِ كَمَا اسْتَحَلَّتْهَا النَّصَارَى، وَلَمْ يُضَيِّقْ عَلَيْهِمْ بَابَ الطَّهَارَةِ، وَالنَّجَاسَةِ كَمَا ضَيَّقَ عَلَى الْيَهُودِ، وَلَمْ يَرْفَعْ عَنْهُمْ طَهَارَةَ الْحَدَثِ، وَالْخَبَثِ كَمَا رَفَعَتْهُ النَّصَارَى، فَلَا يُوجِبُونَ الطَّهَارَةَ مِنَ الْجَنَابَةِ وَلَا الْوُضُوءَ لِلصَّلَاةِ، وَلَا اجْتِنَابَ النَّجَاسَةِ فِي الصَّلَاةِ، بَلْ يَعُدُّ كَثِيرٌ مِنْ عُبَّادِهِمْ مُبَاشَرَةَ النَّجَاسَاتِ مِنْ أَنْوَاعِ الْقُرَبِ وَالطَّاعَاتِ حَتَّى يُقَالَ فِي فَضَائِلِ الرَّاهِبِ: " لَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً مَا مَسَّ الْمَاءَ "، وَلِهَذَا تَرَكُوا الْخِتَانَ
এমন সব বৈশিষ্ট্যের দ্বারা আল্লাহ তাঁকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁকে সকল নবী ও রাসূলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি তাঁর জন্য একটি শরিয়ত ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন, যা সর্বশ্রেষ্ঠ শরিয়ত এবং সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপন্থা।

যেভাবে তিনি তাঁর উম্মতকে মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন; তারা সত্তরটি উম্মতের সংখ্যা পূর্ণ করে এবং তারা আল্লাহর নিকট সকল জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সম্মানিত। পূর্ববর্তীগণ সত্যের যেসব বিষয়ে মতভেদ করেছিল, আল্লাহ তাঁর কিতাব ও রাসূলের মাধ্যমে এই উম্মতকে সে বিষয়ে সঠিক পথ দেখিয়েছেন। আর তিনি তাদেরকে ন্যায়নিষ্ঠ ও পছন্দনীয় এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছেন। ফলে তারা আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে এবং তাঁর রাসূলগণ, কিতাবসমূহ এবং দ্বীনের আদেশ, নিষেধ, হালাল ও হারামের বিধানের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থী।

তিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন। তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন। তিনি তাদের ওপর এমন কোনো পবিত্র বস্তু হারাম করেননি, যা ইহুদিদের ওপর হারাম করা হয়েছিল। আবার তাদের জন্য কোনো অপবিত্র বস্তু হালাল করেননি, যা খ্রিস্টানরা নিজেদের জন্য বৈধ করে নিয়েছিল। তিনি পবিত্রতা ও অপবিত্রতার ক্ষেত্রে তাদের ওপর সংকীর্ণতা আরোপ করেননি, যেমনটি ইহুদিদের ওপর করা হয়েছিল। আবার তিনি তাদের ওপর থেকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার বিধানও তুলে দেননি, যা খ্রিস্টানরা বিলুপ্ত করেছে। ফলে তারা অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়া, সালাতের জন্য অজু করা কিংবা সালাতে নাপাকি থেকে বেঁচে থাকাকে আবশ্যক মনে করে না। বরং তাদের অনেক ইবাদতকারী নাপাকি স্পর্শ করাকে আল্লাহর নৈকট্য ও আনুগত্য লাভের উপায় মনে করে। এমনকি কোনো পাদ্রীর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়: "তিনি চল্লিশ বছর যাবৎ পানি স্পর্শ করেননি।" আর এ কারণেই তারা খতনা করা ত্যাগ করেছে।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٠)
مَعَ أَنَّهُ شَرْعُ إِبْرَاهِيمَ الْخَلِيلِ عليه السلام وَأَتْبَاعِهِ.

وَالْيَهُودُ إِذَا حَاضَتْ عِنْدَهُمُ الْمَرْأَةُ، لَا يُؤَاكِلُونَهَا، وَلَا يُشَارِبُونَهَا، وَلَا يَقْعُدُونَ مَعَهَا فِي بَيْتٍ وَاحِدٍ، وَالنَّصَارَى لَا يُحَرِّمُونَ وَطْءَ الْحَائِضِ.

وَكَانَ الْيَهُودُ لَا يَرَوْنَ إِزَالَةَ النَّجَاسَةِ، بَلْ إِذَا أَصَابَ ثَوْبَ أَحَدِهِمْ قَرَضَهُ بِالْمِقْرَاضِ، وَالنَّصَارَى لَيْسَ عِنْدَهُمْ شَيْءٌ نَجِسٌ يَحْرُمُ أَكْلُهُ أَوْ تَحْرُمُ الصَّلَاةُ مَعَهُ.
যদিয়ো এটি ইবরাহীম খলীল (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর অনুসারীদের শরীয়ত ছিল।

আর ইহুদিদের নিকট যখন কোনো নারী ঋতুমতী হতো, তখন তারা তার সাথে আহার করত না, পান করত না এবং একই ঘরে তার সাথে অবস্থান করত না; আর খ্রিষ্টানরা ঋতুমতী নারীর সাথে সহবাস নিষিদ্ধ মনে করে না।

আর ইহুদিরা নাপাকি দূর করা বিধেয় মনে করত না, বরং তাদের কারো কাপড়ে নাপাকি লাগলে তারা তা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলত। আর খ্রিষ্টানদের নিকট এমন কোনো অপবিত্র বস্তু নেই যা ভক্ষণ করা হারাম কিংবা যা সাথে নিয়ে সালাত আদায় করা হারাম।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧١)
وَلِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ وَسَطٌ فِي الشَّرِيعَةِ ; فَلَمْ يَجْحَدُوا شَرْعَهُ النَّاسِخَ لِأَجْلِ شَرْعِهِ الْمَنْسُوخِ، كَمَا فَعَلَتِ الْيَهُودُ، وَلَا غَيَّرُوا شَيْئًا مِنْ شَرْعِهِ الْمُحْكَمِ، وَلَا ابْتَدَعُوا شَرْعًا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ كَمَا فَعَلَتِ النَّصَارَى، وَلَا غَلَوْا فِي الْأَنْبِيَاءِ وَالصَّالِحِينَ كَغُلُوِّ النَّصَارَى، وَلَا بَخَسُوهُمْ حُقُوقَهُمْ كَفِعْلِ الْيَهُودِ، وَلَا جَعَلُوا الْخَالِقَ سُبْحَانَهُ مُتَّصِفًا بِخَصَائِصِ الْمَخْلُوقِ، وَنَقَائِضِهِ، وَمَعَايِبِهِ مِنَ الْفَقْرِ، وَالْبُخْلِ، وَالْعَجْزِ، كَفِعْلِ الْيَهُودِ، وَلَا الْمَخْلُوقَ مُتَّصِفًا بِخَصَائِصِ الْخَالِقِ سُبْحَانَهُ الَّتِي لَيْسَ كَمِثْلِهِ فِيهَا شَيْءٌ كَفِعْلِ النَّصَارَى، وَلَمْ يَسْتَكْبِرُوا عَنْ عِبَادَتِهِ كَفِعْلِ الْيَهُودِ، وَلَا أَشْرَكُوا بِعِبَادَتِهِ أَحَدًا كَفِعْلِ النَّصَارَى.

وَأَهْلُ السُّنَّةِ، وَالْجَمَاعَةِ فِي الْإِسْلَامِ كَأَهْلِ الْإِسْلَامِ فِي أَهْلِ الْمِلَلِ، فَهُمْ وَسَطٌ فِي بَابِ صِفَاتِ اللَّهِ عز وجل بَيْنَ أَهْلِ الْجَحْدِ وَالتَّعْطِيلِ، وَبَيْنَ أَهْلِ التَّشْبِيهِ وَالتَّمْثِيلِ، يَصِفُونَ اللَّهَ بِمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ، وَبِمَا وَصَفَهُ بِهِ رُسُلُهُ مِنْ غَيْرِ تَعْطِيلٍ، وَلَا تَمْثِيلٍ إِثْبَاتًا لِصِفَاتِ الْكَمَالِ، وَتَنْزِيهًا لَهُ عَنْ أَنْ يَكُونَ لَهُ فِيهَا أَنْدَادٌ، وَأَمْثَالٌ، إِثْبَاتٌ بِلَا تَمْثِيلٍ وَتَنْزِيهٌ بِلَا تَعْطِيلٍ. كَمَا قَالَ تَعَالَى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11] رَدًّا عَلَى الْمُمَثِّلَةِ، {وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11]
আর একারণেই মুসলিমরা শরীয়তের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থী; তারা ইয়াহুদিদের মতো রহিত বিধানের কারণে আল্লাহর রহিতকারী শরীয়তকে অস্বীকার করেনি, এবং নাসারাদের মতো তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত শরীয়তের কোনো কিছু পরিবর্তন করেনি কিংবা এমন কোনো বিধান উদ্ভাবন করেনি যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। তারা নবীগণ ও নেককার বান্দাদের বিষয়ে নাসারাদের মতো অতিরঞ্জন করেনি, আবার ইয়াহুদিদের মতো তাঁদের প্রাপ্য অধিকার খর্ব করেনি। তারা ইয়াহুদিদের মতো মহান সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য, সীমাবদ্ধতা ও দোষত্রুটি যেমন—দরিদ্রতা, কৃপণতা ও অক্ষমতা দ্বারা বিশেষিত করেনি। এবং তারা নাসারাদের মতো সৃষ্টিকে মহান সৃষ্টিকর্তার বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত করেনি, যার সদৃশ কোনো কিছুই নেই। তারা ইয়াহুদিদের মতো তাঁর ইবাদত করতে অহংকার করেনি, আর নাসারাদের মতো তাঁর ইবাদতে কাউকে শরিক করেনি।

আর ইসলামের মধ্যে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অবস্থান হচ্ছে সকল ধর্মাদর্শের অনুসারীদের মাঝে মুসলিমদের অবস্থানের মতো। তারা মহান আল্লাহর গুণাবলির অধ্যায়ে অস্বীকারকারী ও বৈশিষ্ট্যহীনকারী এবং সাদৃশ্য প্রদানকারী ও উদাহরণ পেশকারীদের মাঝে মধ্যপন্থী। তারা আল্লাহকে সেই সব গুণে গুণান্বিত করেন যার মাধ্যমে তিনি নিজে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূলগণ তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন; কোনো প্রকার বৈশিষ্ট্যহীন করা এবং উদাহরণ প্রদান ছাড়াই। এটি মূলত আল্লাহর পূর্ণতার গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং সেই গুণাবলিতে তাঁর কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ থাকা থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করা; অর্থাৎ উদাহরণ ব্যতীত সাব্যস্তকরণ এবং বৈশিষ্ট্যহীন না করে পবিত্রতা বর্ণনা করা। যেমন মহান আল্লাহ উদাহরণ পেশকারীদের খণ্ডন করে বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়," এবং "আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٢)
رَدًّا عَلَى الْمُعَطِّلَةِ.
আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীদের (মুয়াত্তিলাদের) খণ্ডনকল্পে।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٣)
وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 1 - 4] .

فَالصَّمَدُ: السَّيِّدُ الْمُسْتَوْجِبُ لِصِفَاتِ الْكَمَالِ، وَالْأَحَدُ: الَّذِي لَيْسَ لَهُ كُفْوٌ، وَلَا مِثَالٌ، وَهُمْ وَسَطٌ فِي بَابِ أَفْعَالِ اللَّهِ عز وجل بَيْنَ الْمُعْتَزِلَةِ الْمُكَذِّبِينَ لِلْقَدَرِ، وَالْجَبْرِيَّةِ النَّافِينَ لِحِكْمَةِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি। এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।} [আল-ইখলাস: ১ - ৪] ।

সুতরাং 'আস-সামাদ' হলেন: সেই মহান সত্তা যিনি পূর্ণতার সকল গুণাবলির অধিকারী হওয়ার যোগ্য, এবং 'আল-আহাদ' হলেন: যাঁর কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ নেই। আর তাঁরা মহান আল্লাহর কার্যাবলির অধ্যায়ে তাকদির অস্বীকারকারী মুতাজিলা এবং আল্লাহর হিকমত ও রহমত অস্বীকারকারী জাবরিয়াদের মাঝে মধ্যমপন্থী।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٤)
وَعَدْلِهِ، وَالْمُعَارِضِينَ بِالْقَدَرِ أَمْرَ اللَّهِ، وَنَهْيَهُ، وَثَوَابَهُ، وَعِقَابَهُ.

وَفِي بَابِ الْوَعْدِ وَالْوَعِيدِ، بَيْنَ الْوَعِيدِيَّةِ الَّذِينَ يَقُولُونَ بِتَخْلِيدِ
এবং তাঁর ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে; আর যারা তাকদিরের দোহাই দিয়ে আল্লাহর আদেশ, নিষেধ, সওয়াব ও শাস্তির বিরোধিতা করে তাদের মাঝে।

আর প্রতিশ্রুতি ও হুমকির অধ্যায়ে তারা সেই ‘ওয়াইদিয়া’ সম্প্রদায়ের মাঝে—যারা (পাপীদের জাহান্নামে) চিরস্থায়ী করার কথা বলে—
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٥)
عُصَاةِ الْمُسْلِمِينَ فِي النَّارِ، وَبَيْنَ الْمُرْجِئَةِ الَّذِينَ يَجْحَدُونَ بَعْضَ الْوَعِيدِ، وَمَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ الْأَبْرَارَ عَلَى الْفُجَّارِ.

وَهُمْ وَسَطٌ فِي أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، بَيْنَ الْغَالِي فِي بَعْضِهِمُ الَّذِي يَقُولُ بِإِلَهِيَّةٍ، أَوْ نُبُوَّةٍ، أَوْ عِصْمَةٍ، وَالْجَافِي فِيهِمُ الَّذِي يُكَفِّرُ بَعْضَهُمْ، أَوْ يُفَسِّقُهُ، وَهُمْ خِيَارُ هَذِهِ الْأُمَّةِ.
গুনাহগার মুসলিমদের জাহান্নামে থাকার বিষয়ে এবং মুরজিয়াদের মাঝে যারা শাস্তির কতিপয় হুঁশিয়ারি এবং আল্লাহ যা দ্বারা সৎকর্মশীলদের পাপাচারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তা অস্বীকার করে।

আর তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে সেই অতিশয়োক্তিকারীদের মাঝে—যারা তাঁদের কারো ব্যাপারে উপাস্যত্ব, নবুয়ত কিংবা নিষ্পাপতার দাবি করে—এবং সেই কঠোরতা প্রদর্শনকারীদের মাঝে—যারা তাঁদের কাউকে কাফের মনে করে কিংবা পাপাচারী সাব্যস্ত করে—একটি মধ্যমপন্থা; আর তাঁরা হলেন এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٦)
وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ أَرْسَلَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم لِلنَّاسِ رَحْمَةً وَأَنْعِمْ بِهِ نِعْمَةً يَا لَهَا مِنْ نِعْمَةٍ.

قَالَ تَعَالَى {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107] .

وَقَالَ تَعَالَى {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَةَ اللَّهِ كُفْرًا} [إبراهيم: 28] .

وَهُمُ الَّذِينَ لَمْ يُؤْمِنُوا بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم ; فَإِرْسَالُهُ أَعْظَمُ نِعْمَةٍ أَنْعَمَ اللَّهُ بِهَا عَلَى عِبَادِهِ، يَجْمَعُ اللَّهُ لِأُمَّتِهِ بِخَاتَمِ الْمُرْسَلِينَ، وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ وَسَيِّدِ وَلَدِ آدَمَ أَجْمَعِينَ، مَا فَرَّقَهُ فِي غَيْرِهِمْ مِنَ الْفَضَائِلِ، وَزَادَهُمْ مِنْ فَضْلِهِ أَنْوَاعَ الْفَوَاضِلِ بَلْ أَتَاهُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ - لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} [الحديد: 28 - 29] .
মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মানুষের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। আর তাঁর মাধ্যমে তিনি যে নেয়ামত দান করেছেন তা কতই না উত্তম! ওহ, কী মহান নেয়ামত!

মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত রূপেই পাঠিয়েছি।" [আল-আম্বিয়া: ১০৭]।

এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আপনি কি তাদের লক্ষ্য করেননি যারা আল্লাহর নেয়ামতকে কুফরিতে (অকৃতজ্ঞতায়) পরিবর্তন করেছে?" [ইবরাহিম: ২৮]।

আর তারা ঐ সমস্ত লোক যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনেনি। অথচ তাঁর প্রেরণ হওয়া হলো শ্রেষ্ঠতম নেয়ামত যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর বর্ষণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর উম্মতের জন্য সর্বশেষ রাসূল, মুত্তাকীদের ইমাম এবং সমস্ত আদম সন্তানের সরদারের মাধ্যমে ঐ সমস্ত ফযিলত বা মর্যাদা একত্রিত করেছেন যা তিনি অন্যদের মাঝে আলাদা আলাদাভাবে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। অধিকন্তু তিনি তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের বিভিন্ন স্তরের অতিরিক্ত ফযিলত দান করেছেন, বরং তিনি তাদের নিজের রহমত থেকে দ্বিগুণ অংশ দিয়েছেন যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো, তবে তিনি তাঁর রহমত থেকে তোমাদের দ্বিগুণ অংশ দান করবেন, তোমাদের জন্য এমন নূর (আলো) তৈরি করবেন যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে এবং তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যাতে আহলে কিতাবরা জানতে পারে যে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহের কোনো কিছুর ওপর সামান্যতম ক্ষমতা রাখে না, এবং নিশ্চয়ই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতেই রয়েছে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।" [আল-হাদিদ: ২৮ - ২৯]।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٧)
وَفِي الصَّحِيحَيْنِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَأَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّمَا أَجَلُكُمْ فِي أَجَلِ مَنْ خَلَا مِنَ الْأُمَمِ، مَا بَيْنَ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ، وَإِنَّمَا مَثَلُكُمْ وَمَثَلُ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى كَرَجُلٍ اسْتَعْمَلَ عُمَّالًا فَقَالَ: مَنْ يَعْمَلُ لِي إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ؟ فَعَمِلَتِ الْيَهُودُ إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ، ثُمَّ قَالَ مَنْ يَعْمَلُ لِي مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ؟ فَعَمِلَتِ النَّصَارَى مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ، ثُمَّ قَالَ مَنْ يَعْمَلُ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ عَلَى قِيرَاطَيْنِ قِيرَاطَيْنِ؟ أَلَا فَأَنْتُمُ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ أَلَا لَكُمُ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ. فَغَضِبَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، فَقَالُوا نَحْنُ أَكْثَرُ عَمَلًا، وَأَقَلُّ عَطَاءً،

আর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ ইবনে উমর ও আবু মুসা থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমাদের সময়কাল পূর্ববর্তী উম্মতদের সময়কালের তুলনায় কেবল আসরের সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মতো। তোমাদের এবং ইহুদি ও নাসারাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে কিছু শ্রমিক নিয়োগ করল এবং বলল: ‘কে আমার জন্য দুপুর পর্যন্ত এক কিরাত করে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে?’ ফলে ইহুদিরা দুপুর পর্যন্ত কাজ করল। এরপর সে বলল: ‘কে আমার জন্য দুপুর থেকে আসরের সালাত পর্যন্ত এক কিরাত করে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে?’ ফলে নাসারারা দুপুর থেকে আসরের সালাত পর্যন্ত কাজ করল। এরপর সে বলল: ‘কে আসরের সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাত করে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে?’ জেনে রাখো, তোমরাই হলে তারা যারা আসরের সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করছ। জেনে রাখো, তোমাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। এতে ইহুদি ও নাসারারা রাগান্বিত হলো এবং বলল: ‘আমরা কাজ করলাম বেশি, আর প্রতিদান পেলাম কম’।”

(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٨)
فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: فَهَلْ ظَلَمْتُكُمْ مِنْ حَقِّكُمْ شَيْئًا، قَالُوا: لَا، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى، فَإِنَّهُ فَضْلِي أُعْطِيهِ مَنْ شِئْتُ» .

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى جَعَلَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم خَاتَمَ النَّبِيِّينَ، وَأَكْمَلَ لَهُ وَلِأُمَّتِهِ الدِّينَ، وَبَعَثَهُ عَلَى حِينِ فَتْرَةٍ مِنَ الرُّسُلِ وَظُهُورِ الْكُفْرِ، وَانْطِمَاسِ السُّبُلِ، فَأَحْيَا بِهِ مَا دَرَسَ مِنْ مَعَالِمِ الْإِيْمَانِ، وَقَمَعَ بِهِ أَهْلَ الشِّرْكِ مِنْ عُبَّادِ الْأَوْثَانِ، وَالنِّيرَانِ، وَالصُّلْبَانِ، وَأَذَلَّ بِهِ كُفَّارَ أَهْلِ الْكِتَابِ أَهْلِ الشَّكِّ والِارْتِيَابِ، وَأَقَامَ بِهِ مَنَارَ دِينِهِ الَّذِي ارْتَضَاهُ، وَشَادَ بِهِ ذِكْرَ مَنِ اجْتَبَاهُ مِنْ عِبَادِهِ وَاصْطَفَاهُ، وَأَظْهَرَ بِهِ مَا كَانَ مَخْفِيًّا عِنْدَ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَأَبَانَ بِهِ مَا عَدَلُوا فِيهِ عَنْ مَنْهَجِ الصَّوَابِ، وَحَقَّقَ بِهِ صِدْقَ التَّوْرَاةِ، وَالزَّبُورِ، وَالْإِنْجِيلِ، وَأَمَاطَ بِهِ عَنْهَا مَا لَيْسَ بِحَقِّهَا مِنْ بَاطِلِ التَّحْرِيفِ، وَالتَّبْدِيلِ.
অতঃপর মহান আল্লাহ বললেন: "আমি কি তোমাদের হকের কোনো বিষয়ে তোমাদের প্রতি কোনো জুলুম করেছি?" তারা বলল: "না।" মহান আল্লাহ বললেন: "এটি আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে ইচ্ছা তাকে তা প্রদান করি।"

অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শেষ নবী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর জন্য ও তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন। আর তিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন দীর্ঘকাল কোনো রাসূল না আসার বিরতিকালে, যখন কুফরের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল এবং সত্য পথসমূহ বিলীন হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর তিনি তাঁর মাধ্যমে ঈমানের সেই সকল নিদর্শনকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন যা মিটে গিয়েছিল; এবং তাঁর মাধ্যমে মূর্তিপূজক, অগ্নিপূজক ও ক্রুশপূজক মুশরিকদের দমন করেছেন। আর তাঁর মাধ্যমে আহলে কিতাবদের মধ্যকার সেই সকল কাফেরদের লাঞ্ছিত করেছেন যারা সন্দেহ ও সংশয়ের অধিকারী ছিল; এবং তাঁর মাধ্যমে নিজের মনোনীত দ্বীনের আলোকবর্তিকা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর তাঁর মাধ্যমে তাঁর সেই সকল বান্দাদের মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন যাদের তিনি মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন; এবং আহলে কিতাবদের নিকট যা গোপন ছিল তা তাঁর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। আর তিনি তাঁর মাধ্যমে সেই সকল বিষয় স্পষ্ট করেছেন যেগুলোতে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল; এবং তাঁর মাধ্যমে তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং সে কিতাবসমূহ থেকে তাহরিফ ও পরিবর্তনের সেই বাতিল বিষয়সমূহ দূর করেছেন যা সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٧٩)
وَكَانَ مِنْ سُنَّةِ اللَّهِ تبارك وتعالى مُوَاتَرَةُ الرُّسُلِ، وَتَعْمِيمُ الْخَلْقِ بِهِمْ، بِحَيْثُ يَبْعَثُ فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا ; لِيُقِيمَ هُدَاهُ، وَحُجَّتَهُ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] .

وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ} [فاطر: 24] .

وَقَالَ تَعَالَى: {ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَى} [المؤمنون: 44] .

وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا - وَرُسُلًا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلًا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا - رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} [النساء: 163 - 165] .

وَلَمَّا أُهْبِطَ آدَمُ إِلَى الْأَرْضِ، قَالَ تَعَالَى:
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এক রীতি ছিল রাসূলগণের পর্যায়ক্রমিক আগমন এবং তাদের মাধ্যমে সকল সৃষ্টির নিকট হিদায়াত পৌঁছে দেওয়া, যাতে তিনি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেন তাঁর হিদায়াত ও প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [নাহল: ৩৬]।

এবং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি। আর এমন কোনো জাতি নেই যার মধ্যে কোনো সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়নি} [ফাতির: ২৪]।

এবং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {অতঃপর আমি একে একে আমার রাসূলদের পাঠিয়েছি} [মুমিনুন: ৪৪]।

এবং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমার নিকট ওহী পাঠিয়েছি যেমন আমি নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের নিকট ওহী পাঠিয়েছিলাম। আর আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানের নিকট। আর আমি দাউদকে জাবুর প্রদান করেছি। এবং এমন অনেক রাসূল (পাঠিয়েছি) যাদের কথা আমি ইতিপূর্বে তোমার কাছে বর্ণনা করেছি এবং এমন অনেক রাসূল যাদের কথা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করিনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলগণকে (প্রেরণ করেছি), যাতে রাসূলগণের পর আল্লাহর বিপক্ষে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [নিসা: ১৬৩ - ১৬৫]।

আর যখন আদমকে পৃথিবীতে নামিয়ে দেওয়া হলো, তখন মহান আল্লাহ বললেন:
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨٠)
{قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى - وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى - قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا - قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى - وَكَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِآيَاتِ رَبِّهِ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَى} [طه: 123 - 127] .

وَقَالَ تَعَالَى عَنْ أَهْلِ النَّارِ: {كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ - قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءَنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ - وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ} [الملك: 8 - 10] .

وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} [الإسراء: 15] .

وَقَالَ تَعَالَى: {يَامَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنْفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ - ذَلِكَ أَنْ لَمْ يَكُنْ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا غَافِلُونَ} [الأنعام: 130 - 131] .
{তিনি বললেন, "তোমরা উভয়েই এখান থেকে একত্রে নেমে যাও, তোমাদের একে অপর হবে শত্রু। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়াত আসে, তবে যে ব্যক্তি আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব। সে বলবে, 'হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম।' তিনি বলবেন, 'অনুরূপভাবে তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। আর আজ অনুরূপভাবেই তোমাকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে।' আর এভাবেই আমি তাকে প্রতিফল দিই, যে সীমালঙ্ঘন করে এবং তার প্রতিপালকের আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না। আর আখিরাতের আজাব অবশ্যই অধিক কঠোর এবং অধিক স্থায়ী।"} [ত্ব-হা: ১২৩ - ১২৭] ।

এবং আল্লাহ তাআলা জাহান্নামীদের সম্পর্কে বলেছেন: {যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার রক্ষীরা তাদের জিজ্ঞাসা করবে, "তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?" তারা বলবে, "হ্যাঁ, আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা তাদের অস্বীকার করেছিলাম এবং বলেছিলাম, 'আল্লাহ কিছুই নাজিল করেননি; তোমরা তো এক মহা বিভ্রান্তিতে লিপ্ত'।" আর তারা বলবে, "আমরা যদি শুনতাম অথবা বুঝতাম, তবে আমরা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।"} [আল-মুলক: ৮ - ১০] ।

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আজাব দিই না, যতক্ষণ না কোনো রাসুল প্রেরণ করি।} [আল-ইসরা: ১৫] ।

এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে জিন ও মানুষের দল! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে এমন রাসুলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করত এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে সতর্ক করত? তারা বলবে, "আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম।" আর পার্থিব জীবন তাদের প্রতারিত করেছিল এবং তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিল যে, তারা কাফের ছিল। এটি এ জন্য যে, তোমার প্রতিপালক কোনো জনপদকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করেন না যখন তার অধিবাসীরা গাফেল থাকে।} [আল-আনআম: ১৩০ - ১৩১] ।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨١)
‌‌[فَصْلٌ: دِينِ الْأَنْبِيَاءِ وَاحِدٌ هُوَ الْإِسْلَامُ] [‌‌الدِّينُ الَّذِي ارْتَضَاهُ اللَّهُ لِنَفْسِهِ هُوَ دِينُ الْإِسْلَامِ]

وَكَانَ دِينُهُ الَّذِي ارْتَضَاهُ اللَّهُ لِنَفْسِهِ هُوَ دِينُ الْإِسْلَامِ: الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ بِهِ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ مِنَ الرُّسُلِ، وَلَا يَقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ دِينًا غَيْرَهُ لَا مِنَ الْأَوَّلِينَ وَلَا مِنَ الْآخِرِينَ.

وَهُوَ دِينُ الْأَنْبِيَاءِ وَأَتْبَاعِهِمْ، كَمَا أَخْبَرَ اللَّهُ تَعَالَى بِذَلِكَ عَنْ نُوحٍ وَمَنْ بَعْدَهُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ.

قَالَ تَعَالَى: {وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ يَاقَوْمِ إِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُمْ مَقَامِي وَتَذْكِيرِي بِآيَاتِ اللَّهِ فَعَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُنْ أَمْرُكُمْ عَلَيْكُمْ غُمَّةً ثُمَّ اقْضُوا إِلَيَّ وَلَا تُنْظِرُونِ - فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [يونس: 71 - 72] .

وَقَالَ تَعَالَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ: {وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ - إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ - وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَابَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [البقرة: 130 - 132] .
[পরিচ্ছেদ: নবীদের দ্বীন এক, আর তা হলো ইসলাম] [যে দ্বীন আল্লাহ নিজের জন্য পছন্দ করেছেন তা হলো ইসলাম ধর্ম]

এবং তাঁর সেই দ্বীন যা আল্লাহ নিজের জন্য পছন্দ করেছেন তা হলো ইসলাম ধর্ম: যা দিয়ে আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল রাসূলকে পাঠিয়েছেন। তিনি পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো কাছ থেকেই ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করবেন না।

আর এটিই হলো সকল নবী ও তাঁদের অনুসারীদের দ্বীন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা নূহ (আ.) এবং তাঁর পরবর্তীগণ থেকে শুরু করে হাওয়ারীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আপনি তাদের কাছে নূহের সংবাদ পাঠ করুন, যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল: হে আমার সম্প্রদায়! যদি তোমাদের কাছে আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমার উপদেশ দান ভারী মনে হয়, তবে আমি আল্লাহর ওপরই ভরসা করেছি। সুতরাং তোমরা তোমাদের কাজ এবং তোমাদের শরীকদের সংহত করো, অতঃপর তোমাদের কাজে যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে। এরপর আমার ব্যাপারে ফয়সালা করে ফেলো এবং আমাকে অবকাশ দিও না। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাইনি। আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর নিকট। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।" [ইউনুস: ৭১ - ৭২]।

এবং আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম সম্পর্কে বলেন: "এবং ইবরাহিমের আদর্শ থেকে সেই ব্যক্তি ছাড়া আর কে বিমুখ হতে পারে, যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে? আমি তো তাকে দুনিয়াতে মনোনীত করেছি এবং পরকালেও সে অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যখন তার রব তাকে বললেন: তুমি ইসলাম গ্রহণ করো (আত্মসমর্পণ করো); সে বলল: আমি বিশ্বজগতের রবের প্রতি ইসলাম গ্রহণ করলাম (আত্মসমর্পণ করলাম)। আর ইবরাহিম ও ইয়াকূব তাদের সন্তানদেরকে এরই অসিয়ত করে গিয়েছিল: হে আমার সন্তানেরা! আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" [আল-বাকারা: ১৩০ - ১৩২]।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨٢)
وَقَالَ تَعَالَى عَنْ يُوسُفَ الصِّدِّيقِ: {رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنَ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِي مِنْ تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ} [يوسف: 101] .

وَقَالَ تَعَالَى عَنْ مُوسَى: {يَاقَوْمِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُسْلِمِينَ} [يونس: 84] .

وَأَخْبَرَ تَعَالَى عَنِ السَّحَرَةِ، أَنَّهُمْ قَالُوا لِفِرْعَوْنَ: {وَمَا تَنْقِمُ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ} [الأعراف: 126] .

وَقَالَ تَعَالَى عَنْ بِلْقِيسَ مَلِكَةِ الْيَمَنِ:
আল্লাহ তাআলা ইউসুফ সিদ্দিক সম্পর্কে বলেছেন: "হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। হে আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক। আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন।" [ইউসুফ: ১০১] ।

আল্লাহ তাআলা মূসা সম্পর্কে বলেছেন: "হে আমার কওম, যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁর ওপরই ভরসা করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো।" [ইউনুস: ৮৪] ।

এবং আল্লাহ তাআলা জাদুকরদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা ফিরআউনকে বলেছিল: "আমাদের নিকট যখন আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী এসেছে, তখন আমরা তাতে ঈমান এনেছি বলেই তুমি আমাদের থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছ। হে আমাদের রব, আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং আমাদের মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন।" [আল-আরাফ: ১২৬] ।

এবং আল্লাহ তাআলা ইয়ামেনের রানি বিলকিস সম্পর্কে বলেছেন:
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨٣)
{رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [النمل: 44] .

وَقَالَ تَعَالَى عَنْ أَنْبِيَاءِ بَنِي إِسْرَائِيلَ: {إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا} [المائدة: 44] .

وَقَالَ تَعَالَى عَنِ الْمَسِيحِ: {فَلَمَّا أَحَسَّ عِيسَى مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنْصَارِي إِلَى اللَّهِ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 52] .

وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ} [المائدة: 111] .

فَهَذَا دِينُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخَرِينَ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ وَأَتْبَاعِهِمْ هُوَ دِينُ الْإِسْلَامِ، وَهُوَ عِبَادَةُ اللَّهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَعِبَادَتُهُ تَعَالَى فِي كُلِّ زَمَانٍ وَمَكَانٍ، بِطَاعَةِ رُسُلِهِ عليهم السلام.

فَلَا يَكُونُ عَابِدًا لَهُ مَنْ عَبَدَهُ بِخِلَافِ مَا جَاءَتْ بِهِ رُسُلُهُ: كَالَّذِينِ قَالَ فِيهِمْ:
{হে আমার রব! নিশ্চয় আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্বজাহানের রব আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।} [আন-নামল: ৪৪] ।

এবং তিনি বনী ইসরাঈলের নবীগণ সম্পর্কে বলেছেন: {নিশ্চয় আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও নূর। যারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন সেই নবীগণ এর মাধ্যমে ইয়াহূদীদের বিচার করতেন।} [আল-মায়িদাহ: ৪৪] ।

এবং তিনি মসীহ সম্পর্কে বলেছেন: {অতঃপর ঈসা যখন তাদের মধ্যে কুফর অনুভব করলেন, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর পথে কারা আমার সাহায্যকারী হবে? হাওয়ারীরা বলল, আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম।} [আলে ইমরান: ৫২] ।

এবং তিনি বলেছেন: {আর যখন আমি হাওয়ারীদের নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনো। তারা বলেছিল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম।} [আল-মায়িদাহ: ১১১] ।

সুতরাং এটিই হলো পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল নবী এবং তাঁদের অনুসারীদের দীন, যা হলো ইসলাম। আর তা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা যাঁর কোনো শরিক নেই। আর সব যুগে ও সব স্থানে মহান আল্লাহর ইবাদত হলো তাঁর রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) আনুগত্য করা।

সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার বিপরীতে গিয়ে আল্লাহর ইবাদত করবে, সে তাঁর ইবাদতকারী বলে গণ্য হবে না; যেমন তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨٣)
{أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى: 21] .

فَلَا يَكُونُ مُؤْمِنًا بِهِ إِلَّا مَنْ عَبَدَهُ بِطَاعَةِ رُسُلِهِ، وَلَا يَكُونُ مُؤْمِنًا بِهِ، وَلَا عَابِدًا لَهُ إِلَّا مَنْ آمَنَ بِجَمِيعِ رُسُلِهِ، وَأَطَاعَ مَنْ أَرْسَلَ إِلَيْهِ، فَيُطَاعُ كُلُّ رَسُولٍ إِلَى أَنْ يَأْتِيَ الَّذِي بَعْدَهُ، فَتَكُونُ الطَّاعَةُ لِلرَّسُولِ الثَّانِي.

قَالَ تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} [النساء: 64] .

 

‌‌[حُكْمُ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الرُّسُلِ]

وَمَنْ فَرَّقَ بَيْنَ رُسُلِهِ فَآمَنَ بِبَعْضٍ وَكَفَرَ بِبَعْضٍ كَانَ كَافِرًا، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا - أُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا - وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَمْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ أُولَئِكَ سَوْفَ يُؤْتِيهِمْ أُجُورَهُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} [النساء: 150 - 152] .

فَلَمَّا كَانَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم خَاتَمَ النَّبِيِّينَ، وَلَمْ يَكُنْ بَعْدَهُ رَسُولٌ، وَلَا مَنْ يُجَدِّدُ الدِّينَ لَمْ يَزَلِ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى
{নাকি তাদের এমন কিছু শরিক রয়েছে, যারা তাদের জন্য এমন দ্বীন প্রণয়ন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?} [আশ-শূরা: ২১] .

অতএব আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী মুমিন কেবল সেই হতে পারবে যে তাঁর রাসুলগণের আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করে। আর আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী বা তাঁর ইবাদতকারী হতে পারবে না সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে তাঁর সকল রাসুলের প্রতি ঈমান আনে এবং যাঁর নিকট তাঁকে পাঠানো হয়েছে তাঁর আনুগত্য করে। সুতরাং পরবর্তী রাসুল আসার পূর্ব পর্যন্ত প্রত্যেক রাসুলেরই আনুগত্য করতে হবে, আর (পরবর্তী রাসুল আসার পর) আনুগত্য হবে দ্বিতীয় রাসুলের জন্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি কোনো রাসুলকেই পাঠাইনি এই উদ্দেশ্য ব্যতীত যে, আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর আনুগত্য করা হবে।} [আন-নিসা: ৬৪] .

 

‌‌[রাসুলগণের মধ্যে পার্থক্যকারীর বিধান]

আর যে ব্যক্তি তাঁর রাসুলগণের মাঝে পার্থক্য করবে—অর্থাৎ কারো প্রতি ঈমান আনবে আর কাউকে অস্বীকার করবে—সে কাফির হিসেবে গণ্য হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের সাথে কুফরি করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের মাঝে পার্থক্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি এবং কতককে অস্বীকার করি, আর এর মাঝামাঝি কোনো পথ গ্রহণ করতে চায়—তারাই প্রকৃত কাফির। আর আমি কাফিরদের জন্য অপমানজনক আজাব প্রস্তুত করে রেখেছি। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁদের মধ্য থেকে কারোর মাঝে পার্থক্য করেনি, আল্লাহ শীঘ্রই তাদের প্রতিফল দান করবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [আন-নিসা: ১৫০ - ১৫২] .

যেহেতু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বশেষ নবী, এবং তাঁর পরে আর কোনো রাসুল নেই, এবং এমন কেউ নেই যে দ্বীনকে নতুন করে সংস্কার করবে, সেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বদা...
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨٥)
يُقِيمُ لِتَجْدِيدِ الدِّينِ مِنَ الْأَسْبَابِ مَا يَكُونُ مُقْتَضِيًا لِظُهُورِهِ، كَمَا وَعَدَ بِهِ فِي الْكِتَابِ، فَيُظْهِرُ بِهِ مَحَاسِنَ الْإِيْمَانِ وَمَحَامِدَهُ، وَيُعَرِّفُ بِهِ مَسَاوِئَ الْكُفْرِ وَمَفَاسِدَهُ.

 

‌‌[مِنْ أَسْبَابِ ظُهُورِ الْإِيْمَانِ]

‌‌[ظُهُورُ الْمُعَارِضِينَ لِلْحَقِّ]

وَمِنْ أَعْظَمِ أَسْبَابِ ظُهُورِ الْإِيْمَانِ وَالدِّينِ، وَبَيَانِ حَقِيقَةِ أَنْبَاءِ الْمُرْسَلِينَ ظُهُورُ الْمُعَارِضِينَ لَهُمْ مِنْ أَهْلِ الْإِفْكِ الْمُبِينِ.

كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ - وَلِتَصْغَى إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُمْ مُقْتَرِفُونَ - أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ - وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [الأنعام: 112 - 115] .

وَقَالَ تَعَالَى: {وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَالَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا - يَاوَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا - لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنْسَانِ خَذُولًا - وَقَالَ الرَّسُولُ يَارَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُورًا - وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا} [الفرقان: 27 - 31] .

وَذَلِكَ أَنَّ الْحَقَّ إِذَا جُحِدَ وَعُورِضَ بِالشُّبُهَاتِ أَقَامَ اللَّهُ تَعَالَى لَهُ مِمَّا يُحِقُّ بِهِ الْحَقَّ، وَيُبْطِلُ بِهِ الْبَاطِلَ مِنَ الْآيَاتِ الْبَيِّنَاتِ
তিনি দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এমন সব কারণ ও উপায় নির্ধারণ করেন যা তার বিজয়ের দাবিদার হয়, যেমনটি তিনি কিতাবে ওয়াদা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ঈমানের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেন এবং কুফরির কুফল ও অনিষ্ট সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেন।

 

‌‌[ঈমান প্রকাশের অন্যতম কারণসমূহ]

‌‌[সত্যের বিরোধীদের আবির্ভাব]

ঈমান ও দ্বীন প্রকাশিত হওয়ার এবং রাসুলগণের সংবাদের হাকিকত স্পষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো স্পষ্ট মিথ্যাচারী ও অপবাদদানকারীদের মধ্য থেকে তাদের বিরোধীদের আবির্ভাব ঘটা।

যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি। তারা প্রতারণা করার জন্য একে অপরকে চটকদার কথার প্ররোচনা দেয়। আর তোমার রব ইচ্ছা করলে তারা তা করত না; সুতরাং তুমি তাদের এবং তাদের মিথ্যা অপবাদকে বর্জন করো। আর যাতে পরকালে অবিশ্বাসী ব্যক্তিদের অন্তর তার প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং তারা তাতে সন্তুষ্ট হয় এবং তারা যা করছে তা-ই যেন করতে থাকে। (বলুন,) আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ফয়সালাকারী হিসেবে তালাশ করব? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা জানে যে তা তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। আর তোমার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণ। তাঁর বাণীর কোনো পরিবর্তনকারী নেই; আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আল-আন‘আম: ১১২-১১৫]।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর সেদিন যালিম ব্যক্তি নিজের দুই হাত দংশন করবে এবং বলবে, ‘হায়! আমি যদি রাসুলের সঙ্গে পথ অবলম্বন করতাম! হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! অবশ্যই আমার কাছে উপদেশ পৌঁছানোর পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম বিশ্বাসঘাতক।’ আর রাসুল বললেন, ‘হে আমার রব! আমার জাতি তো এই কুরআনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে।’ আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট।} [আল-ফুরকান: ২৭-৩১]।

আর তা এজন্য যে, সত্যকে যখন অস্বীকার করা হয় এবং বিভিন্ন সংশয় দ্বারা তার বিরোধিতা করা হয়, তখন আল্লাহ তাআলা এমন সব সুস্পষ্ট নিদর্শন প্রকাশ করেন যার মাধ্যমে তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাতিলকে বিলুপ্ত করেন।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨٦)
بِمَا يُظْهِرُهُ مِنْ أَدِلَّةِ الْحَقِّ وَبَرَاهِينِهِ الْوَاضِحَةِ، وَفَسَادِ مَا عَارَضَهُ مِنَ الْحُجَجِ الدَّاحِضَةِ.

فَالْقُرْآنُ لَمَّا كَذَّبَ بِهِ الْمُشْرِكُونَ، وَاجْتَهَدُوا عَلَى إِبْطَالِهِ بِكُلِّ طَرِيقٍ مَعَ أَنَّهُ تَحَدَّاهُمْ بِالْإِتْيَانِ بِمِثْلِهِ، ثُمَّ بِالْإِتْيَانِ بِعَشْرِ سُوَرٍ، ثُمَّ بِالْإِتْيَانِ بِسُورَةٍ وَاحِدَةٍ، كَانَ ذَلِكَ مِمَّا دَلَّ ذَوِي الْأَلْبَابِ عَلَى عَجْزِهِمْ عَنِ الْمُعَارَضَةِ، مَعَ شِدَّةِ الِاجْتِهَادِ، وَقُوَّةِ الْأَسْبَابِ، وَلَوِ اتَّبَعُوهُ مِنْ غَيْرِ مُعَارِضَةٍ وَإِصْرَارٍ عَلَى التَّبْطِيلِ، لَمْ يَظْهَرْ عَجْزُهُمْ عَنْ مُعَارَضَتِهِ الَّتِي بِهَا يَتِمُّ الدَّلِيلُ.

وَكَذَلِكَ السَّحَرَةُ لَمَّا عَارَضُوا مُوسَى عليه السلام، وَأَبْطَلَ اللَّهُ مَا جَاءُوا بِهِ، كَانَ ذَلِكَ مِمَّا بَيَّنَ اللَّهُ تبارك وتعالى بِهِ صِدْقَ مَا جَاءَ بِهِ مُوسَى عليه السلام، وَهَذَا مِنَ الْفُرُوقِ بَيْنَ آيَاتِ الْأَنْبِيَاءِ وَبَرَاهِينِهِمُ الَّتِي تُسَمَّى بِالْمُعْجِزَاتِ، وَبَيْنَ مَا قَدْ يُشْتَبَهُ بِهَا مِنْ خَوَارِقِ السَّحَرَةِ، وَمَا لِلشَّيْطَانِ مِنَ التَّصَرُّفَاتِ، فَإِنَّ بَيْنَ هَذَيْنِ فُرُوقًا مُتَعَدِّدَةً، مِنْهَا مَا ذَكَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي قَوْلِهِ: {هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ - تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ} [الشعراء: 221 - 222] .

وَمِنْهَا مَا بَيَّنَهُ فِي آيَاتِ التَّحَدِّي، مِنْ أَنَّ آيَاتِ الْأَنْبِيَاءِ عليهم السلام لَا يُمْكِنُ أَنْ تُعَارَضَ بِالْمِثْلِ فَضْلًا عَنِ الْأَقْوَى، وَلَا يُمْكِنُ أَحَدًا إِبْطَالُهَا بِخِلَافِ خَوَارِقِ السَّحَرَةِ وَالشَّيَاطِينِ ; فَإِنَّهُ يُمْكِنُ مُعَارَضَتُهَا بِمِثْلِهَا وَأَقْوَى مِنْهَا وَيُمْكِنُ إِبْطَالُهَا.
সত্যের প্রমাণাদি এবং এর সুস্পষ্ট দলীলসমূহ প্রকাশ করার মাধ্যমে, এবং এর বিপরীতে উপস্থাপিত অসার যুক্তিগুলোর অসারতা প্রমাণের মাধ্যমে।

মুশরিকরা যখন কুরআনকে অস্বীকার করল এবং সম্ভাব্য সকল উপায়ে একে বাতিল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হলো—অথচ কুরআন তাদের প্রথমে এর অনুরূপ কিছু আনার, তারপর দশটি সূরা আনার এবং সবশেষে একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল—তখন এটিই বুদ্ধিমানদের নিকট তাদের মোকাবেলার অক্ষমতা প্রমাণ করে দিয়েছে, যদিও তাদের প্রচেষ্টার কমতি ছিল না এবং উপায়-উপকরণও শক্তিশালী ছিল। আর তারা যদি কোনো বিরোধিতা বা বাতিল করার জেদ না করে স্রেফ অনুসরণ করত, তবে এর মোকাবেলায় তাদের যে অক্ষমতা তা স্পষ্ট হতো না, যার মাধ্যমেই দলীল পূর্ণতা পায়।

অনুরূপভাবে জাদুকররা যখন মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর বিরোধিতা করল এবং আল্লাহ তাদের আনীত বিষয়কে বাতিল করে দিলেন, তখন এর মাধ্যমেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর আনীত বিষয়ের সত্যতা প্রকাশ করেন। এটিই নবীদের নিদর্শন ও প্রমাণাদি—যাকে মুজিযা বলা হয়—এবং জাদুকরদের অলৌকিক কাণ্ড ও শয়তানের কারসাজি যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, তাদের মধ্যে অন্যতম পার্থক্য। এই দুইয়ের মধ্যে বহুবিধ পার্থক্য রয়েছে, যার মধ্যে একটি আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব শয়তানরা কার কাছে অবতীর্ণ হয়? তারা তো প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপিষ্ঠের কাছে অবতীর্ণ হয়।" [সূরা আশ-শুআরা: ২২১-২২২]।

আরেকটি পার্থক্য হলো যা চ্যালেঞ্জের আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে; নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) নিদর্শনসমূহ অনুরূপ কোনো কিছু দ্বারা মোকাবিলা করা অসম্ভব, অধিকতর শক্তিশালী কিছুর তো প্রশ্নই আসে না। এমনকি কেউ তা বাতিলও করতে পারে না; পক্ষান্তরে জাদুকর ও শয়তানদের অলৌকিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সেটির অনুরূপ বা তার চেয়েও শক্তিশালী কিছু দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব এবং তা বাতিল করাও সম্ভব।
(খণ্ড: ١) আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দাল দীনাল মাসীহ লি-ইবনি তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ٨٧)
‌‌[مُعَارَضَةُ أَعْدَاءِ الْحَقِّ بِدَعَاوِيهِمُ الْكَاذِبَةِ]

وَكَذَلِكَ سَائِرُ أَعْدَاءِ الْأَنْبِيَاءِ مِنَ الْمُجْرِمِينَ شَيَاطِينِ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ، الَّذِينَ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا إِذَا أَظْهَرُوا مِنْ حُجَجِهِمْ مَا يَحْتَجُّونَ بِهِ عَلَى دِينِهِمُ الْمُخَالِفِ لِدِينِ الرَّسُولِ، وَيُمَوِّهُونَ فِي ذَلِكَ بِمَا يُلَفِّقُونَهُ مِنْ مَنْقُولٍ وَمَعْقُولٍ - كَانَ ذَلِكَ مِنْ أَسْبَابِ ظُهُورِ الْإِيْمَانِ الَّذِي وَعَدَ بِظُهُورِهِ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ بِالْبَيَانِ وَالْحُجَّةِ وَالْبُرْهَانِ ثُمَّ بِالسَّيْفِ وَالْيَدِ وَالسِّنَانِ.

قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ} [الحديد: 25] .

وَذَلِكَ بِمَا يُقِيمُهُ اللَّهُ تبارك وتعالى مِنَ الْآيَاتِ وَالدَّلَائِلِ الَّتِي يَظْهَرُ بِهَا الْحَقَّ مِنَ الْبَاطِلِ، وَالْخَالِيَ مِنَ الْعَاطِلِ، وَالْهُدَى مِنَ الضَّلَالِ، وَالصِّدْقَ مِنَ الْمُحَالِ، وَالْغَيَّ مِنَ الرَّشَادِ، وَالصَّلَاحَ مِنَ الْفَسَادِ، وَالْخَطَأَ مِنَ السَّدَادِ، وَهَذَا كَالْمِحْنَةِ لِلرِّجَالِ الَّتِي تُمَيِّزُ بَيْنَ الْخَبِيثِ وَالطَّيِّبِ. قَالَ تَعَالَى: {مَا كَانَ اللَّهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتَّى يَمِيزَ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ} [آل عمران: 179] .
‌[মিথ্যা দাবির মাধ্যমে সত্যের শত্রুদের বিরোধিতা]

আর এভাবেই অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত নবীগণের অন্যান্য সকল শত্রু, মানুষ ও জিনের মধ্য হতে থাকা শয়তানরা—যারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যময় কথার কুমন্ত্রণা দেয়—যখন তারা তাদের সেই সমস্ত যুক্তি প্রদর্শন করে যার মাধ্যমে তারা রাসুলের দ্বীনের পরিপন্থী তাদের নিজেদের দ্বীনের পক্ষে প্রমাণ পেশ করতে চায় এবং এতে তাদের বানোয়াট বর্ণনা ও যুক্তিনির্ভর কথার মাধ্যমে সত্যকে অস্পষ্ট করে তোলে—তখন তা সেই ঈমান বিজয়ী হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা সমস্ত দ্বীনের ওপর বর্ণনা, প্রমাণ ও দলিলের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে তলোয়ার, হাত ও বর্শার মাধ্যমে বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {অবশ্যই আমি আমার রাসুলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। আর আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ; আর যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন যে, কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রাসুলগণকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।} [আল-হাদিদ: ২৫]।

আর তা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এমন সব নিদর্শন ও দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যার দ্বারা বাতিল থেকে সত্য, অসার থেকে সারবস্তু, পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়াত, অসম্ভব বা মিথ্যা থেকে সত্য, সঠিক পথ থেকে বিভ্রান্তি, অকল্যাণ থেকে কল্যাণ এবং ভ্রান্তি থেকে সঠিক বিষয়গুলো প্রকাশিত হয়। আর এটি মানুষের জন্য এমন এক পরীক্ষার ন্যায় যা অপবিত্র ও পবিত্রের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা বর্তমানে যে অবস্থায় আছ, আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই অবস্থায় ছেড়ে দেবেন না, যতক্ষণ না তিনি অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করে দেন।} [আলি ইমরান: ১৭৯]।