(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
إيضاح المحصول من برهان الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: إيضاح المحصول من برهان الأصول
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن علي بن عمر بن محمد التميمي المازري (453 - 536 هـ)
المحقق: د. عمار الطالبي (الأستاذ بجامعة الجزائر)
الناشر: دار الغرب الإسلامي، تونس
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 532
أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 صفر 1437
ইযাহুল মাহসূল মিন বুরহানিল উসূল
বিভাগ: উসূলুল ফিকহ
গ্রন্থ: ইযাহুল মাহসূল মিন বুরহানিল উসূল
লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন উমর বিন মুহাম্মদ আত-তামিমী আল-মাযিরী (৪৫৩ - ৫৩৬ হি.)
সম্পাদক: ড. আম্মার আত-তালিবী (আলজেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক)
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামী, তিউনিসিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হি. - ২০০১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: 532
শামেলা'র জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসাখ দল, (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)-এর তত্ত্বাবধানে
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২২ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: -)
إيضاح المحصول من برهان الأصول
تأليف الإمام أبي عبد الله محمد بن علي بن عمر بن محمد التميمي المازري ت: 536 هـ
دراسة وتحقيق
الأستاذ الدكتور/ عمار الطالبي
বুরহানুল উসুল গ্রন্থের নির্যাসসমূহের ব্যাখ্যা
ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ আত-তামিমি আল-মাযারি-এর রচনা, মৃত্যু: ৫৩৬ হিজরি
গবেষণা ও সম্পাদনা
প্রফেসর ডক্টর আম্মার আত-তালিবী
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
(ص 12) كما لا يحب عليه سبحانه أن يفعل ما يطابق هذه المنفعة، فإذا استحال (
…) مفروضا والثواب والعقاب، وهذا يمنع حقيقة، أو لكون الثواب والعقاب (
…) بالعقل بالفعل أن الله سبحانه (
…) بطل إضافة الوجوب إلى العقل وأما المخالفون فعمدتهم التي (
…) بالتخلص من القدح، في (
…) فأما استشهادهم بالعادة فلكونهم يرون العقلاء بأسرهم يستحسنون شكر النعم ويستقبحون كفرها، ومن (
…) غيرقا أشفى على الموت، وحمله على ظهره إلى الشاطئ فيجعل جزاءه سبه وذمه فإن هذا مستنكر في العقول (
…).
ونحن نجيب عن هذا بأنه قياس الغائب على الشاهد فلا يجب إذا كان سجية فينا أن يقضى بذلك في (
…) بين الله سبحانه، ورد الغائب إلى الشاهد من غير سبب جامع يؤدي إلى هدم قواعد الدين على ما عرف في كتب (
…) سلمنا وجوب الرد على الجملة لعرفنا، نحن نرتاح إلى الشكر ونلتذ به وننتفع عند الناس بكوننا منعمين (
…) جل ذلك ونحزن (
…) ونغتم إذا كفرنا الصنيعة لفقدان هذه الأمور، وتأسفنا على أنا لم نصب بالصنيعة لأمور قد تقدس الله سبحانه عنها، فلا ينتفع بشكر شاكر، ولا يستضر بكفر كافر، والله غني عن العالمين، (
…).
(পৃষ্ঠা ১২) যেমন আল্লাহ সুবহানাহুর ওপর এমন কাজ করা আবশ্যক নয় যা এই উপকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সুতরাং যখন এটি
অসম্ভব বলে প্রতিপন্ন হয় তখন প্রতিদান ও শাস্তি নির্ধারিত হওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি মূলত বাস্তবতাকে বাধাগ্রস্ত করে, অথবা যেহেতু প্রতিদান ও শাস্তি
বিবেকের নিরিখে কার্যত আল্লাহ সুবহানাহুর পক্ষ থেকে হওয়া সাব্যস্ত, তাই বিবেকের দিকে এই আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার সম্বন্ধ করা বাতিল হয়ে যায়। আর বিরোধীদের ক্ষেত্রে তাদের প্রধান ভিত্তি যা
তাদেরকে নিন্দা থেকে নিষ্কৃতি দেয়, তা মূলত
যুক্তির ক্ষেত্রে। আর অভ্যাসের মাধ্যমে তাদের দলিল পেশ করার বিষয়টি হলো, তারা দেখেন যে সকল বুদ্ধিমান ব্যক্তিই নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে পছন্দ করেন এবং অকৃতজ্ঞ হওয়াকে ঘৃণা করেন। আর যে ব্যক্তি
কোনো ডুবন্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুর সন্নিকট হতে উদ্ধার করে এবং তাকে নিজের পিঠে বহন করে তীরে নিয়ে আসে, অতঃপর প্রতিদান হিসেবে তাকে গালি দেওয়া বা নিন্দা করা হয়, তবে এটি বিবেকের নিকট অত্যন্ত ঘৃণ্য ও অসমীচীন
কাজ।
আমরা এর উত্তরে বলি যে, এটি হলো অদৃশ্যের সত্তাকে দৃশ্যমান জগতের ওপর অনুমান বা কিয়াস করা। সুতরাং আমাদের মাঝে যা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য, তার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহুর
মত সুমহান সত্তার ক্ষেত্রে ফয়সালা দেওয়া আবশ্যক নয়। কোনো সমন্বয়কারী কারণ ছাড়াই অদৃশ্যকে দৃশ্যমানের সাথে যুক্ত করা দ্বীনের মূলনীতিসমূহ ধ্বংস করার নামান্তর, যা
ইলমুল কালামের কিতাবসমূহে সুপরিচিত। যদি আমরা আমাদের পরিচিত প্রথার কারণে সামগ্রিকভাবে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আবশ্যকতা মেনেও নিই, তবুও আমরা শুকরিয়াতে প্রশান্তি ও আনন্দ লাভ করি এবং মানুষের মাঝে দাতা হিসেবে পরিচিত হয়ে উপকৃত হই
অথচ আল্লাহ তায়ালা এই সব কিছু থেকে পবিত্র ও মহান, আর আমরা অকৃতজ্ঞতায়
দুঃখ পাই।
) এবং আমরা মর্মাহত হই যখন এই বিষয়গুলোর অনুপস্থিতির কারণে আমরা অনুগ্রহের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, এবং আমরা আক্ষেপ করি যে আমরা এমন কিছু বিষয়ের কারণে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হতে পারিনি যা থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র। সুতরাং কোনো কৃতজ্ঞ ব্যক্তির কৃতজ্ঞতা তাঁর কোনো উপকারে আসে না এবং কোনো অকৃতজ্ঞের অকৃতজ্ঞতা তাঁর কোনো ক্ষতি করে না; আর আল্লাহ সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। (
।
)।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
سلمناه أيضا فقلنا معلوم عند العقلاء أن ملك الأقاليم السبعة لو لحظ مسكينا بلحظة (
…) شكر هذا على هذه الصنيعة ولا يحسن أن يمشي هذا في الأفاق فيمدحه بمثل هذه (
…) قدرا من الملك المفروض، وعطاياه وإن اتسعت أحقر من العطية المفروضة (
…) ناحية العقل من جهة ما في العقول من تجنب المهالك والمنعم عليه (
…) أيضا أن إتعابه نفسه، وهي رق لغيره، والمشكور المالك (
…) إذنه.
وأما ما عدّوه استدلالا لكونه مخلصا من (
…) قصر على السمع لأتى الرسول بمعجزاته فقال (
…) لنا إيجاب شيء علينا وأنت لا (تعـ
…) لأنا نقول قصارى ما في هذا عدم (
…) يطمع بمن يمنع أن يحب من ناحية (
…) استدلوا به قدروه أصلا (
…) يجب على الله سبحانه (
…) بالضرورة بل (
…) (ص 13) التكليف (
…) فوجوب النظر ممكن حق من تأمله، وفكر عند دعوى الرسل (
…) في العالم حتى يعلم (
…) خلق هذه الآية فإذا فكر في هذا علم من ناحية العقل، وإذا علمه (
…) الرسول، ويتضمن العلم، (بصد
…) نظر الذي أخبر الرسول بأن الله أوجبه.
وهذا كما يفتقر عندهم في (ل
…) إلى فكره، وإن كان النظر واجبا، (
…) أن يفكروا لأن الفكرة بها عملوا الوجوب العقلي، وهكذا نقول نحن: الوجوب (
…)
আমরা এটিও মেনে নিয়ে বললাম যে, বুদ্ধিমানদের নিকট এটি পরিচিত বিষয় যে সাতটি মহাদেশের সম্রাট যদি কোনো অভাবী ব্যক্তিকে এক মুহূর্তের জন্য লক্ষ্য করেন (
তবে সেই ব্যক্তি) এই অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। আর এমনটি শোভনীয় নয় যে এই ব্যক্তি দিগন্তজুড়ে পরিভ্রমণ করে তাকে এই প্রশংসার মাধ্যমে সিক্ত করবে যা (
তার) রাজকীয় মর্যাদার সমপরিমাণ; তার দানসমূহ যদিও প্রশস্ত হয় তবুও তা কল্পিত সেই দানের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। (
বুদ্ধিবৃত্তিক) দিক থেকে ক্ষতিকর বিষয়গুলো বর্জন করার ক্ষেত্রে বিবেকের যে তাড়না রয়েছে এবং যাকে নেয়ামত দেওয়া হয়েছে (
তার জন্য এটিও প্রযোজ্য) যে, তার নিজেকে পরিশ্রান্ত করা যা অন্যের মালিকানাধীন এবং যার কৃতজ্ঞতা আদায় করা হচ্ছে তিনি হলেন প্রকৃত মালিক (
যিনি দান করেছেন তার) অনুমতি সাপেক্ষে।
আর তারা মুক্তির উপায় হিসেবে যা দলিল হিসেবে পেশ করেছে (
তার সারকথা এই যে যদি তা) কেবল শ্রুতির ওপর সীমাবদ্ধ থাকত তবে রসূল তার মুজিজাসমূহ নিয়ে উপস্থিত হতেন এবং বলতেন (
যে আমাদের ওপর এটি ওয়াজিব) আমাদের ওপর কোনো বিধান আবশ্যক করা হয়েছে অথচ আপনি তা (
জানেন না) কারণ আমরা বলি যে এর চূড়ান্ত পর্যায় হলো কোনো বিষয়ের অভাব (
যা) এমন সত্তার প্রতি প্রত্যাশা রাখা হয় যাকে কোনো এক দিক থেকে ভালোবাসা থেকে নিবৃত রাখা হয় (
আর তারা যা) দিয়ে দলিল পেশ করেছে তাকে তারা মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেছে যা (
আল্লাহর শান অনুযায়ী) আল্লাহ সুবহানাহুর ওপর আবশ্যকতাকে সাব্যস্ত করে (
যা সাব্যস্ত হয়) অপরিহার্যভাবে, বরং (
তা হলো) (পৃষ্ঠা ১৩) শরয়ি দায়বদ্ধতা বা তকলীফ (
এর মাধ্যমে)। সুতরাং তাত্ত্বিক অনুসন্ধান বা চিন্তা-গবেষণা ওয়াজিব হওয়া সেই ব্যক্তির জন্য যথার্থ ও সত্য যে নিবিড়ভাবে চিন্তা করে এবং রসূলগণের দাবির সময় (
এই জগত সম্পর্কে) এই বিশ্বজগত নিয়ে গভীর ভাবনা পেশ করে যাতে সে (
প্রকৃত জ্ঞান) লাভ করতে পারে।
) এই নিদর্শনটি সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং যখন কেউ এই বিষয়ে চিন্তা করবে তখন সে বিবেকের বিচারে তা জানতে পারবে। আর যখন সে তা জানতে পারবে (
) রাসূল, এবং তা জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে, (সত্যতা প্রসঙ্গে
) সেই অনুসন্ধান যা সম্পর্কে রাসূল সংবাদ দিয়েছেন যে আল্লাহ তা আবশ্যক করেছেন।
আর এটি যেমন তাদের নিকট নিজস্ব চিন্তার মুখাপেক্ষী হয়, যদিও অনুসন্ধান করা আবশ্যক, (জন্যে
) তারা যেন চিন্তা করে কারণ চিন্তার মাধ্যমেই তারা বুদ্ধিবৃত্তিক আবশ্যকতা উপলব্ধি করেছে; আর এভাবেই আমরা বলি: আবশ্যকতা (
)
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
ناحية السمع ولكننا لا نعرف ذلك إلا بعد فكرة في مقدمات، إذا عرفناها عرفنا صحة الوجوب من ناحية (
…) الفكرة بالإطالة، والقصر، أو كثرة الفصلو، أو قلتها لا يوجب المنع من تحقق الوجوب لأنه يمكن العلم به على (
…) وإن كان طرق العلم مختلفة، ألا ترى أن المعرفة بالله سبحانه واجبة ولا يصح أن يعرف الله سبحانه إلا بعد معرفة (
…) العالم، ولم يمنع كون معرفة الله سبحانه مفتقرة إلى مقدمة قبلها لا تعلم إلا بعد هذه المقدمة من كون المعرفة بالله (
…) واجبة.
وعلى هذا قلنا إن النظر في حدث العالم، وإثبات الصناع طاعة وليس بقربة، لأن القربة تتضمن (
…) إليه والإنسان في حال كونه طالبا لمعرفة الله سبحانه غير عارف به، لكنها مع هذا طاعة، لأن الطاعة (
…)، وهذا النظر مأمور به، فوجب أن يكون طاعة.
فصل في حكم ما لا حكم له في (
…)
تقدم من أن الأحكام كلها على اختلاف أنواعها راجعة إلى قول الله سبحانه وهذا (
…) وتفاصيله من إثبات مذهبنا في الحسن والقبيح، وقد مضى، وإيجاب شكر المنعم (
…) الفعل قبل ورود الشرائع، وبعد ورودها وقد بحث العارفون بها (
…) لا على الإطلاق، أنا نقف في هذا الفعل، وحكم هذا الفعل (
…) سبحانه فيه في حقنا.
وأما المخالفون لنا فإنهم لا يطلقون (
…) كشكر النعم والمعرفة بالله سبحانه (والف
…) فيها قبائح محرمات كالكذب (
…) والأقسام وهو التصرف فيما لابد
শ্রুতির দিক থেকে, কিন্তু আমরা তা কতিপয় ভূমিকার ওপর চিন্তা-ভাবনা ব্যতীত অনুধাবন করতে পারি না। যখন আমরা সেগুলো জানতে পারি, তখন আমরা চিন্তার গভীরতার দিক থেকে ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। চিন্তার দীর্ঘতা বা সংক্ষিপ্ততা অথবা ব্যবধানের আধিক্য বা স্বল্পতা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি অর্জনে প্রতিবন্ধক হয় না; কারণ যথাযথ উপায়ে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব, যদিও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়। আপনি কি দেখেন না যে, মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করা ওয়াজিব, অথচ জগত সৃষ্টির রহস্য অনুধাবন করার পূর্বে মহান আল্লাহকে চেনা সম্ভব নয়? আর মহান আল্লাহর পরিচয় লাভের বিষয়টি তার পূর্ববর্তী ভূমিকার মুখাপেক্ষী হওয়া—যা ওই ভূমিকা ব্যতীত জানা যায় না—তা আল্লাহর পরিচয় লাভ ওয়াজিব হওয়ার পথে কোনো অন্তরায় নয়।
এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলেছি যে, জগতের নশ্বরতা নিয়ে চিন্তা করা এবং স্রষ্টাকে সাব্যস্ত করা একটি আনুগত্যের কাজ, তবে এটি সরাসরি নৈকট্য লাভের মাধ্যম নয়। কারণ নৈকট্য বলতে আল্লাহর প্রতি বিনয় ও প্রত্যাবর্তনকে বোঝায়, অথচ মানুষ যখন মহান আল্লাহর পরিচয় অনুসন্ধানের অবস্থায় থাকে, তখন সে তাঁর সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত থাকে না। তবে তা সত্ত্বেও এটি একটি আনুগত্যের কাজ; কারণ আনুগত্য হলো আদিষ্ট বিষয় পালন করা, আর এই চিন্তার আদেশ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং এটি আনুগত্য হওয়া আবশ্যক।
পরিচ্ছেদ: যার কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই তার বিধান বর্ণনা প্রসঙ্গে
ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, সকল বিধান তার প্রকারভেদে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও মূলত মহান আল্লাহর বাণীর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। আর এটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্লেষণের বিস্তারিত রূপ এবং ভালো-মন্দের বিচারে আমাদের মাযহাবের দৃঢ় অবস্থানের অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। একইভাবে নিয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ওয়াজিব হওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।
) শরিয়ত আগমনের পূর্বের ও পরের আমল বা কর্মসমূহ এবং এ সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আলেমগণ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন (
এবং তারা উল্লেখ করেছেন যে বিষয়টি
) ঢালাওভাবে নয়; বরং আমরা এই কাজ এবং এই কাজের বিধানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখি (
যা মহান আল্লাহ
) সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের জন্য এর মধ্যে নিহিত রেখেছেন।
পক্ষান্তরে আমাদের বিরুদ্ধবাদীরা বিষয়টিকে নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দেয় না (
বরং তারা কিছু বিষয়কে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ওয়াজিব মনে করে
) যেমন নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা (এবং বহু
বিষয়
) যাতে মিথ্যাচারের মতো নানাবিধ মন্দ ও নিষিদ্ধ বিষয়াবলী বিদ্যমান (
এবং আরও রয়েছে অনেক
) প্রকারভেদ, আর তা হলো ঐ সমস্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যা অত্যন্ত জরুরি।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
(
…) هذه الأقسام قال المخالفون فيها بمذهب (
…) وبه قال الأبهري من أصحابنا (
… وازيه) إشارة إلى هذا المذهب (
…) بنفي الإباحة وذهبت (
…) (ص 14) (
…) على أحد القولين أن المباح حسن، وأما الواجب قد يعبر عنه (
…) جهة تحقيق هذه العبارة في الواجب ينظر في الحد (وال
…) به كونه حسنا، وذلك مقصور على الواجب والندب، وما تعلق العقاب (
…) في كونه قبيحا وذلك (
… م).
وأما المباح فلا أراه حسنا في مقتضى مفهومات الشرع، وأما المكروه فظاهر قول الأيمة (
…) وحدودهم يشير إلى تطابقهم على كونه قبيحا، وهذا مما لا نستسهله، وبعد من مضمونات الشرع تسميته قبيحا (
…) إن قلنا بانطلاق تسميته المكروه على هذا المعنى، وسيرد تحقيق القول في المكروه، فمنه ينكشف (
… نا) إليه ولو صح القطع بأن المكروه لا حسن ولا قبيح، والمباح كذلك لكان أحسن حد حد به الحسن أنه ما (
…)، وأن القبيح ما تعلق به العقاب، فهذا كشف حقيقة المذاهب كلها في معنى هاتين اللفظتين لكنا ذكرنا (
…) على أصلنا فلنذكر تفصيل مدركها على أصل المعتزلة.
فاعلم أنهم يرون انقسام هذا المدرك (
…) المصلحة فيه غاية الأيضاح فيجعلون هذا القسم معلوما بالعلم الضروري (
…) الظلم أو الكذب لغير ضرر أصلا، فهذا النوع عندهم مما يعلم بالضرورة، لأنه (
…) ما انحطت رتبته عن هذا الإيضاح حتى احتيج
(
এই সকল
) এই প্রকারভেদসমূহ সম্পর্কে বিরোধীরা একটি নির্দিষ্ট মত পোষণ করেছেন (
যে কথা
) আমাদের সাথীদের মধ্য থেকে আল-আবহারিও ব্যক্ত করেছেন (
এবং তার মতটিও
) এই মাযহাবের দিকেই ইঙ্গিত প্রদান করে (
যা
) বৈধতাকে অস্বীকার করে। আর (
একটি দল
) (পৃষ্ঠা ১৪) (
এই পথে অগ্রসর হয়েছে যে
) বিদ্যমান দুটি মতের একটি অনুযায়ী মুবাহ বা বৈধ কাজ হচ্ছে উত্তম। আর ওয়াজিব বা আবশ্যক কাজের ক্ষেত্রে কখনও কখনও এমন পরিভাষা (
ব্যবহার করা হয় যা
) ওয়াজিবের ক্ষেত্রে এই শব্দের যথার্থতা যাচাই করার জন্য এর সংজ্ঞার দিকে লক্ষ্য করার দাবি রাখে। (
এবং যা
) দ্বারা এর উত্তম হওয়া সাব্যস্ত হয়, আর তা কেবল ওয়াজিব এবং মানদুব বা পছন্দনীয় কাজের মাঝেই সীমাবদ্ধ। আর যে বিষয়ের সাথে শাস্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে (
তা
) মন্দ হওয়ার অন্তর্ভুক্ত, আর এটিই (
সুনির্দিষ্ট নিয়ম
)।
আর মুবাহ বা বৈধ কাজের ক্ষেত্রে আমি শরীয়তের ধারণাগত দাবি অনুযায়ী সেটিকে উত্তম হিসেবে দেখি না। মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজের ব্যাপারে ইমামগণের প্রকাশ্য বক্তব্য (
ও মতামত
) এবং তাদের প্রদত্ত সংজ্ঞাগুলো এই বিষয়ের ওপর তাদের ঐকমত্যের ইঙ্গিত দেয় যে, মাকরূহ হচ্ছে মন্দ। তবে এই বিষয়টি আমরা সহজভাবে গ্রহণ করি না এবং শরীয়তের মূল মর্মার্থ অনুযায়ী একে মন্দ হিসেবে নামকরণ করা বেশ দূরবর্তী বিষয় মনে হয় (
বিশেষ করে
) যদি আমরা মাকরূহ শব্দটিকে এই অর্থে প্রয়োগ করার কথা বলি। মাকরূহ সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে, যা থেকে (
আমাদের লক্ষ্য
) কোন দিকে তা উন্মোচিত হবে। যদি নিশ্চিতভাবে এটি প্রমাণিত হতো যে, মাকরূহ বিষয়টি উত্তম কিংবা মন্দ কোনোটিই নয় এবং মুবাহ বা বৈধ কাজের বিধানও তদ্রূপ, তবে উত্তমের সর্বোত্তম সংজ্ঞা হতো এটিই যে (
তা যা
)
), এবং মন্দ হলো তা-ই যার সাথে শাস্তি সংশ্লিষ্ট। এটি এই শব্দদ্বয়ের অর্থের বিষয়ে সকল মতবাদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করেছে। তবে আমরা (
তা
) আমাদের মূলনীতি অনুযায়ী বর্ণনা করেছি। তাই এখন মুতাজিলাদের মূলনীতি অনুসারে এর উপলব্ধির বিস্তারিত বিবরণ আলোচনা করা যাক।
জেনে রাখুন যে, তারা এই উপলব্ধি বা জ্ঞানের মাধ্যমকে বিভক্ত মনে করেন (
যেখানে
) উপযোগিতা বা কল্যাণ অত্যন্ত সুস্পষ্ট, ফলে তারা সেই অংশটিকে আবশ্যকীয় জ্ঞানের মাধ্যমে জ্ঞাত বলে গণ্য করেন (
যেমন
) কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই জুলুম করা কিংবা মিথ্যা বলা। এই প্রকারটি তাদের নিকট আবশ্যকীয় জ্ঞানের মাধ্যমেই জানা যায়, কারণ (
তা
) এমন বিষয় যার স্পষ্টতার স্তর উল্লিখিত স্পষ্টতা থেকে কিছুটা নিচে নেমে গেছে, ফলে তা প্রমাণের মুখাপেক্ষী হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
فيه إلى قياسه على ما علم (
…) لفائدته، عرض فيه إشكال حتى احتيج في رفع هذا الإشكال إلى ضرب (
…) بلغ العفو وكنه معرفته ولو بحثت وفكرت، وقاست واستنبطت (
… ن) أحكام الصلوات والزكاة، وغير ذلك من العبادات، وإنما (ال
…) إلى ما تدعو إليه من فعل ما اتضح للعقل حسنه أو (ير
…) وجاء به الشرع.
فإذا لحظت تفسيرها (
…) تعلم بعد هذا الرد على من (حا
…) غير معقول فيبطل لأن (
…) بالعوائد، فأما الطريقة الأولى (
…) حتى يدعو (
…) (ص 15) (
…) هو قبيح مخالف لقتل القصاص الذي هو حسن، ونحن نعلم حسا (
… حد) منهما أو أ؛ دهما فصفة نفس كما قد مناه من مذاهبهم (
…) أسلفناه من المذاهب الثلاثة عنهم، لا على ما أنكره أبو المعالي من قول (
…) الحسن والقبيح من (
…) حكيناه عنه، ذلك فيما قبل، وأما المناقضة المذهبية فإنهم يرون (
…) يحسن إذا عوضت عن ذلك عوضا فيجب على هذا أن يحسن الكذبة إذا اضطر إليها في تخليص زمرة قد (
…) من هلاك حاول ظالم إيقاعه بهم، وقد التزم بعضهم طرد هذا القياس، وتحسين الكذب هاهنا سبيله (
…) لهم أخر، لأنهم يرون الكذب من صفات الأفعال فيجب عليه أن يجوز أن يخلق البارئ سبحانه كذبا مفيدا (
…).
এতে তার উপযোগিতার জন্য যা জানা আছে তার সাথে একে তুলনা করার ক্ষেত্রে
একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে, ফলে এই সংশয় নিরসনের জন্য এক প্রকারের
ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়েছে যা ক্ষমা এবং তাঁর পরিচয়ের গূঢ় রহস্যের স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। আপনি যদি অনুসন্ধান করেন, চিন্তা করেন, তুলনা করেন এবং
উদ্ভাবন করেন সালাত ও যাকাতের বিধানসমূহ এবং অন্যান্য ইবাদতসমূহ, তবে তা কেবল
সেই কার্যের দিকেই আহ্বান করে যার সৌন্দর্য বিবেকের নিকট স্পষ্ট হয়েছে অথবা
বিবেচিত হয়েছে এবং শরীয়ত তা নিয়ে এসেছে।
যখন আপনি এর ব্যাখ্যা লক্ষ্য করবেন
তখন এই খণ্ডন বা উত্তরের পর সেই ব্যক্তির অবস্থা জানতে পারবেন যে
চেষ্টা করেছে একে অযৌক্তিক প্রমাণ করতে, ফলে তা বাতিল হয়ে যাবে; কারণ
তা নির্ধারিত হয় প্রচলিত অভ্যাসের দ্বারা। প্রথম পদ্ধতির ক্ষেত্রে
তা এমন এক পর্যায় এমনকি তা আহ্বান করে
ততক্ষণ পর্যন্ত (পৃষ্ঠা ১৫)
যা মন্দ এবং কিসাস বা প্রতিশোধমূলক হত্যার বিপরীত—যা মূলত একটি উত্তম কাজ। আমরা ইন্দ্রিয়গতভাবে
তাদের সীমা বা তাদের উভয়ের অথবা একজনের থেকে এটি জানি যে, এটি সত্তার একটি বৈশিষ্ট্য যেমনটি আমরা তাদের মাযহাবের আলোচনায় আগে উপস্থাপন করেছি।
আমরা যা তাদের বর্ণিত তিনটি মাযহাব থেকে আগে আলোচনা করেছি, তা আবু আল-মাআলীর অস্বীকারকৃত সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে নয় যা
তিনি ভালো ও মন্দের ব্যাপারে
বলেছেন এবং যা আমরা তাঁর থেকে আগে বর্ণনা করেছি। আর মাযহাবী বিরোধের ক্ষেত্রে তারা মনে করেন যে
বিষয়টি এমনই।
) এটি তখন ভালো বা প্রশংসনীয় হয় যখন আপনি এর পরিবর্তে কোনো বিনিময় প্রদান করেন। এমতাবস্থায় এই মূলনীতির ভিত্তিতে মিথ্যা বলাকে ভালো মনে করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যখন কোনো একদল লোককে উদ্ধারের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে হয় যারা (
আক্রান্ত হয়েছিল
) এমন এক ধ্বংস থেকে যা কোনো জালিম তাদের ওপর আপতিত করার চেষ্টা করেছিল। তাদের কেউ কেউ এই কিয়াস বা যুক্তিকে ধারাবাহিকভাবে মেনে চলা আবশ্যক করে নিয়েছেন, আর এখানে মিথ্যা বলাকে উত্তম সাব্যস্ত করা হলো একটি পথ (
বা দৃষ্টিভঙ্গি
) যা অন্যদের জন্য নির্ধারিত। কেননা তারা মিথ্যাকে কার্যাবলীর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত মনে করেন, ফলে তাদের নিকট এটি জায়েজ হওয়া আবশ্যক যে, মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোনো কল্যাণকর মিথ্যা সৃষ্টি করবেন (
যাতে উপকার নিহিত রয়েছে
).
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬০)
وأما الوجه الرابع وهو الاستشهاد بالعوائد فإنا نقول قد تقرر إطراد العادة بأن ما علم بالضرورة لا (…) فيه فلو كان البح مما يعلم بالضرورة لم نخالفكم فيه مع كثرة عددنا، وقد أشار أبو المعالي هاهنا إلى (…) فقال: ما علم بالضرورة لا يختلف العقلاء فيه، وما علم بالاستدلال لم تتفق آراء العقلاء فيه على (…) قرائحهم وإفهامهم، وأشار في غير هذا الكتاب إلى جواز تطابق العقلاء (…) القاضي ابن الطيب، وقد انفصلوا عن هذا الاستدلال بأنا نعلم قبح ما قبحوه (وا …) علم بالسمع، وهو معلوم بالعقل، والفرق بين علم وعلم، طريقة الاستدلال، وإلا (…) أنتم علمتموه بالسمع، وظننتم أنكم علمتموه بالعقل هذا (…) لمكر نفس (…) وهم يأبون ذلك، ونقول لا صفة في الحسن ذاتية، وهم يثبتون ذلك (و …) بالمألوف المعروف، فيقولون العاذل إذا عذلها (…) المألوف المعروف إيثار الصدق عند سائر العقلاء (…) المشرع، ولا في حق من أنكر الشرائع لا (…) إذا عرف بالكذب (…)، لأن في النفس النفوس (…) الشرائع (مج …) (ص 16) والقائلون بالإباحة يقولون، العوائد تشهد بأن منع الملك الواسع الغني (ال …) بذلك ونزرا ما (… بقاه) وفيه منفعة للراغب إليه فيه قبيح، فأنت ترى كيف تقابل الفئتان في الاستشهاد بالعوائد، فاعترض بعضهم ببعض حتى يتضح غلط الجميع، ولعل لأجل هذا التعارض في الاستشهاد قال بعضهم أقول بالوقف، لا على معنى وقفنا الذي قلنا، لكن على
চতুর্থ দিকটি হলো প্রচলিত রীতিনীতি বা অভ্যাসের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন। এ প্রসঙ্গে আমরা বলি যে, এটি ঐতিহাসিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত যে, যা অত্যাবশ্যকীয়ভাবে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জ্ঞাত, তাতে কোনো প্রকার দ্বিমত থাকতে পারে না। সুতরাং সততা বা ভালোমন্দ নির্ধারণ যদি এমন বিষয় হতো যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানা যায়, তবে আমাদের বিশাল সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা এ বিষয়ে আপনাদের বিরোধিতা করতাম না। ইমাম আবুল মাআলি এখানে এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: যা অত্যাবশ্যকীয়ভাবে জ্ঞাত, সে বিষয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো মতভেদ সৃষ্টি হয় না। আর যা যুক্তিনির্ভর প্রমাণের মাধ্যমে জানা যায়, তাতে মেধা ও উপলব্ধির ভিন্নতার কারণে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মতামত সর্বদা এক হয় না। তিনি এই কিতাব ছাড়া অন্য জায়গায় বুদ্ধিমানদের ঐকমত্যের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা কাজী ইবনুত তাইয়্যেবের মতের পরিপন্থী। তারা এই যুক্তিতর্ক থেকে এই বলে সরে এসেছেন যে, তারা যে বিষয়কে মন্দ সাব্যস্ত করেছেন তার মন্দ হওয়া সম্পর্কে আমরা অবগত; আর এটি শ্রুতির মাধ্যমে জানা যায়, যদিও তা বুদ্ধির মাধ্যমেও বোধগম্য। মূলত এক জ্ঞান ও অন্য জ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য হলো প্রমাণের পদ্ধতির ভিন্নতা। নতুবা এটিও সম্ভব যে, আপনারা বিষয়টি শ্রুতির মাধ্যমেই জেনেছেন, কিন্তু ধারণা করেছেন যে তা বুদ্ধির মাধ্যমে জেনেছেন; এটি মূলত নফসের এক প্রকার সূক্ষ্ম প্রতারণা, যা তারা স্বীকার করতে চায় না। আর আমাদের বক্তব্য হলো, সৌন্দর্যের মাঝে কোনো সত্তাগত গুণ বিদ্যমান নেই, অথচ তারা সাধারণ প্রচলিত রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে তা প্রমাণ করতে চায়। তারা বলে যে, কোনো নিন্দুক যখন নিন্দা করে, তখন সাধারণ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই সমস্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট শরীয়তপ্রণেতার নির্দেশ ব্যতিরেকেই সততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া কাম্য। এমনকি যারা শরীয়ত অস্বীকার করে তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, বিশেষ করে যখন কেউ মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
), কারণ মানুষের অন্তরে এমন সব প্রবৃত্তি বিদ্যমান (
যা
) শরীয়তসমূহ (খণ্ড
বিশেষ
) (পৃষ্ঠা ১৬) এবং যারা বৈধতার প্রবক্তা তারা বলেন, প্রচলিত রীতিনীতি সাক্ষ্য দেয় যে, অঢেল সম্পদের অধিকারী ও অভাবমুক্ত কোনো অধিপতির পক্ষ থেকে কোনো বিষয়কে নিষিদ্ধ করা (সেই
বিষয়ে
) তার মাধ্যমে এবং যৎসামান্য যা (
তিনি অবশিষ্ট রেখেছেন
) এবং যাতে আগ্রহীর জন্য উপকার রয়েছে তা নিষিদ্ধ করা একটি মন্দ কাজ। সুতরাং আপনি দেখছেন কীভাবে রীতিনীতি থেকে দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে তাদের একদল অন্যদলের ওপর আপত্তি উত্থাপন করেছে যতক্ষণ না সবার ভুল স্পষ্ট হয়েছে। সম্ভবত দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে এই বিরোধের কারণেই তাদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘আমি স্থগিতকরণের কথা বলি’, তবে তা আমাদের বর্ণিত স্থগিতকরণের অর্থে নয়, বরং এটি—
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬১)
معنى أن في العقل حكما لهذا الفعل يجوز إتيان شرع بأن يحظره ويبيحه، وقد استدل أصحاب الإباحة بأن الله خلق الطعوم في الجواهر، وخلقها ليس من اللازم عقلا، فلم يخلقها والحال هذه إلا لينتفع (بها).
وهذه إشارة من العقل إلى الإباحة، وهذا باطل، لأنا نمنع خلق الجواهر خالية من الطعوم، وهذا قد عرف مذهبنا ومذهبهم في كتب الكلام، ولو سلمنا هذه المقدمة لم نسلم الأخرى، وهي إثبات الغرض في فعله تعالى، بل يجوز أن يخلق البارئ تعالى شيئا لا لينتفع به أحد، ولا لينظر، ولو سلمنا هذه المقدمة الثانية أيضًا لم نسلم الثالثة وهي كون المنفعة بخلق (
…) صح خلقه لمنفعة أخرى غير ذلك من الاعتبار، أو ما في معنى ذلك من المنافع.
واعلم أن هذا الباب مقصور (
…) حكم العقل في هذه الأمور ما هو، وأما الخوض في حكم السمع في هذه الأمور إذا نظر الفقيه المفتي في تحريم؟ (
…) هل يقضي فيه بحكم تحريم لكون ظاهر السمع يقضي بذلك عند عدم التعيين لهذا الحكم أو لا يقضي بالتحريم (
…) ولأنه حكم يتطلب من الشرع كسائر الأحكام، وإنما كلامنا فيها لا حكم للشرع فيه، وهذا هو العذر المانع من (
…) هاهنا فما خاض فيه بعض الفقهاء من التمسك بقوله تعالى: (يسئلونك ماذا أحل لهم).
وهذه إشارة عنده إلى إقرار ما نحن (
…) على التحريم عند فقدان وارد التحليل، أو التمسك أيضًا بضد هذا المذهب لأجل قوله سبحانه: (قل لا أجد فيما أوحى إلى محرما) الآية (هذا) كله خوض في دلالة سمعية تفتقر إلى استقصاء حكم هذه الظواهر وغيرها مما يطول تتبعه.
এর অর্থ হলো, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এই কাজের একটি বিধান থাকা সম্ভব যে, শরিয়ত এসে তা নিষিদ্ধ করতে পারে অথবা বৈধ করতে পারে। যারা মূলগতভাবে বৈধতার প্রবক্তা, তারা দলিল দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা মৌলিক পদার্থসমূহে স্বাদ সৃষ্টি করেছেন, আর তা সৃষ্টি করা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনিবার্য ছিল না। এমতাবস্থায়, তিনি এগুলো কেবল মানুষের উপকারের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।
এটি বুদ্ধিবৃত্তির পক্ষ থেকে বৈধতার প্রতি একটি ইঙ্গিত মাত্র, যা মূলত অসার। কারণ, আমরা স্বাদহীন মৌলিক পদার্থের অস্তিত্বকে অসম্ভব মনে করি। এ বিষয়ে আমাদের এবং তাদের অভিমত ইলমুল কালামের গ্রন্থাবলীতে সুপরিচিত। আমরা যদি এই প্রথম প্রস্তাবনাটি মেনেও নিই, তবুও দ্বিতীয়টি অর্থাৎ মহান আল্লাহর কর্মে কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য সাব্যস্ত করা মেনে নেব না। বরং এটি সম্ভব যে, স্রষ্টা মহান আল্লাহ এমন কিছু সৃষ্টি করবেন যা দ্বারা কেউ উপকৃত হবে না এবং যা কেউ দেখবেও না। আর যদি আমরা এই দ্বিতীয় প্রস্তাবনাটিও মেনে নিই, তবুও তৃতীয়টি অর্থাৎ
উপকার কেবল নির্দিষ্ট সৃষ্টির মাধ্যমেই হবে এমনটি মেনে নেব না; বরং অন্য কোনো বিবেচনায় অন্য কোনো উপকারের জন্যও তা সৃষ্টি করা সঠিক হতে পারে, কিংবা অনুরূপ অন্য কোনো উপকারের উদ্দেশ্যে তা হতে পারে।
জেনে রাখুন, এই অধ্যায়টি কেবল
এই বিষয়গুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক বিধান কী হবে তা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর এই বিষয়গুলোতে শ্রুতিগত বিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার ক্ষেত্রে—যখন একজন ফকিহ বা মুফতি কোনো কিছু নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে
চিন্তা করেন—তখন প্রশ্ন আসে যে, নির্দিষ্ট বিধান না থাকার অবস্থায় শ্রুতির বাহ্যিক রূপ কি তা নিষিদ্ধ হওয়ার ফয়সালা দেয়, নাকি তা নিষিদ্ধ হওয়ার
ফয়সালা দেয় না? কারণ এটি অন্যান্য বিধানের ন্যায় শরিয়তের নিকট থেকে কাম্য একটি বিধান। মূলত আমাদের আলোচনা সেই বিষয় নিয়ে যেখানে শরিয়তের কোনো বিধান নেই। আর এটাই হলো এখানে
বিস্তারিত আলোচনা থেকে বিরত থাকার কারণ। সুতরাং কোনো কোনো ফকিহ মহান আল্লাহর এই বাণী: "তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে" দ্বারা যে দলিল পেশ করার প্রয়াস পেয়েছেন, তা এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত নয়।
এটি তাঁর নিকট সেই বিষয়ের স্বীকৃতির প্রতি ইঙ্গিত যা আমরা (
…
) বৈধতা প্রদানকারী দলিলের অনুপস্থিতিতে নিষিদ্ধতার ওপর [অটল থাকার] ক্ষেত্রে অবলম্বন করি, অথবা এই মতবাদের বিপরীত মতটিকে আঁকড়ে ধরা; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (বলুন, আমার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তাতে আমি কোনো হারাম বস্তু পাই না) [আয়াত]। (এই) সবটুকুই হলো শ্রুত দলিলের এমন এক পর্যালোচনা যা এই বাহ্যিক ভাষ্যসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়গুলোর বিধান বিস্তারিত অনুসন্ধানের মুখাপেক্ষী, যার বিস্তারিত অনুসরণ দীর্ঘ হবে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬২)
فصل في التكليف(
…) كيفية، هذا الباب قليل الفائدة للفقيه، وهو باللغوي أشبه لأنه منازعة في (ا
…) من الكلفة والكلفة المشقة، فالتكليف على هذا فعل ما يشق، وقد علم أن أحكام (ال
…) والكراهة والإباحة، فأما الوجوب والتحريم فلم يختلف في كونهما تكليفيين، وهو (مق
…) لأن أعلى (
…) وترك إذا استحث على ذلك توعد العقاب، ودعا إليه (
… بر) ولم تنبعث النفس إليه بحكم الطبيعة والشوق بل بالإحثاث والسوق وذلك (
…) بل أطلقتم القول بأن كل واجب ومحرم تكليفي، لأجل ما صورتموه من المشقة وربما (و
…) ويحرم شرب السم، وقتل النفس، والامتناع من ذلك ليس مما يشق من مقتضى الطبيعة فيجب (ا
…) المحرم تكليفيا لفقد معنى الاشتقاق فيه.
وهذا قد يجاب عنه بأن هذه صور نادرة هي (ك
…) من الواجبات التي تشق وقد يقال أيضا فإن النفس تتخوف (ال
…) أن التخوف يوجب المشقة التي اقتضاها الاشتقاق (فا
…) فيه وهذا الضد من قبيل ما يشك فلم ينف التكلف (
…) أحكام الأضداد في موضعه إن شاء الله، وأما المند (وب) (
…) اختلافا (
…) (ص 17) أجلا ذلك (مح
… على) النفوس حسن عنده مذهب أبي المعالي، وأما المباح فاتفق الجميع على أنه غير تكليفي، واستخف أبو إسحاق الإسفراييني إطلاق هذا اللفظ عليه، وإلحاقه بالتكليفات (
…) أن العلم بكون المباح مباحا ما أمر به الشراع أمرا واجبا في
তাকলিফ (শরয়ী বিধান অর্পণ) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(তাকলিফের) প্রকৃতি; ফকিহ বা ফিকহশাস্ত্রবিদদের জন্য এই অধ্যায়ের উপকারিতা যৎসামান্য, বরং এটি ভাষাবিদদের আলোচনার সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ এটি তাকলিফ শব্দের বুৎপত্তিগত একটি বিতর্ক যা এর মূল উৎস থেকে উৎসারিত। এটি 'কুলফাহ' শব্দ থেকে উদ্ভূত, আর কুলফাহ অর্থ হলো কষ্ট বা শ্রমসাধ্য হওয়া। সুতরাং এই পরিভাষা অনুযায়ী তাকলিফ হলো এমন কাজ করা যা কষ্টদায়ক। এটি সুপরিচিত যে, শরীয়তের বিধানসমূহ হলো মাকরুহ এবং মুবাহ হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে ওয়াজিব এবং হারাম যে তাকলিফী বা দায়িত্বমূলক বিধানের অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। আর এটি একটি অকাট্য বিষয় কারণ সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ প্রদান এবং কোনো কাজ বর্জন করার ক্ষেত্রে যখন শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করে উদ্বুদ্ধ করা হয় এবং সওয়াব বা নেক আমলের দিকে আহ্বান জানানো হয়, তখন মানুষের প্রবৃত্তি স্বাভাবিক স্বভাব বা অনুরাগের বশবর্তী হয়ে সেদিকে ধাবিত হয় না, বরং কেবল প্রেরণা দান এবং চালিত করার মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়। আর এই কারণেই তোমরা সাধারণভাবে এই মত ব্যক্ত করেছ যে, প্রতিটি ওয়াজিব এবং হারামই হলো তাকলিফী বা কষ্টসাধ্য বিধান, যেহেতু তোমরা এতে কষ্টের বিষয়টি চিত্রায়িত করেছ। অথচ অনেক সময় দেখা যায় যে, বিষপান করা কিংবা আত্মহত্যা করা হারাম সাব্যস্ত হয়েছে, কিন্তু স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী এগুলো থেকে বিরত থাকা মোটেও কষ্টসাধ্য নয়। এমতাবস্থায় কেবল বুৎপত্তিগত অর্থ না পাওয়ার কারণে হারামকে তাকলিফী বিধান হিসেবে গণ্য না করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।
এর উত্তর এভাবে দেওয়া যেতে পারে যে, এই উদাহরণগুলো অত্যন্ত বিরল যা অন্যান্য কষ্টসাধ্য ওয়াজিব কাজগুলোর তুলনায় নগণ্য। আবার এমনটিও বলা যেতে পারে যে, মানুষের আত্মা যখন কোনো ক্ষতির আশঙ্কা করে, তখন সেই ভয় বা শঙ্কা মনের মধ্যে কষ্টের সৃষ্টি করে, যা শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। সুতরাং এতেও কষ্ট বিদ্যমান রয়েছে। আর এই বিপরীতমুখী বিষয়টি সংশয়পূর্ণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা কষ্টসাধ্য হওয়ার দাবিকে মোটেও নাকচ করে দেয় না।
বিপরীত বিষয়সমূহের বিধানাবলি যথাস্থানে আলোচিত হবে ইনশাআল্লাহ। আর মানদুব বা পছন্দনীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে
মতভেদ বিদ্যমান
মতপার্থক্য রয়েছে
(পৃষ্ঠা ১৭) সেই মহত্ত্বের কারণে যা
আত্মার ওপর প্রভাব ফেলে
তাতে তাঁর নিকট আবু আল-মা'আলীর মাযহাব বা মতটি উত্তম বলে বিবেচিত হয়েছে। আর মুবাহ বা বৈধ বিষয়ের ক্ষেত্রে সকলে একমত হয়েছেন যে তা তাকলিফি বা দায়িত্বারোপকারী বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি এই পরিভাষাটি মুবাহর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা এবং একে তাকলিফাত বা ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার অন্তর্ভুক্ত করাকে সহজভাবে গ্রহণ করেছেন
এই মর্মে যে
মুবাহ বা বৈধ বিষয় যে বৈধ—এই বিষয়টি অবগত হওয়া এমন একটি বিষয় যা শরীয়ত প্রণেতা ওয়াজিব হিসেবে নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
حق قوم، وندبا حق آخرين، والوجوب والندب (
…) التكاليف على ما قدمناه من الاتفاق على الواجب، والاختلاف في الندب، والتحقيق كونه غير تكليفي، لأن الواجب (
…) استحث الإنسان عليه من ناحية فعله وتركه فاتضح كونه تكليفا، والمباح لم يستحث الشرع عليه، لا من ناحية فعله، ولا من ناحية تركه فاتضح كونه غير تكليفي، وعرض الإشكال في الندب من جهة اختلاف حكم الفعل والترك، والترك كما بيناه، وأما العلم بأحكام المباح فأمر خارج عن نفس المباح.
لكن أبو المعالي غلط في الإنكار على الإسفراييني، وقال: إنه هفا في هذه هفوة ظاهرة، وله هو أيضًا في كتاب البرهان في هذا المعنى هفوة، لأنه قد قدم في أول الكتاب في حد الفقه أنه العلم بأحكام التكاليف، ولا ينكر كون المباحات فقيهات، كيف؟ (
…) كتاب المدونة يخلو من تعليم المباحات، هذا أول كتاب الطهارة سئل فيه عن حيتان ملحت فأصيب (ت) (
…) أنت فقال لا بأس بأكلها، وهذا لا يحصى ولا يحصر.
فإذا سلم كون المباحات فقيهات (
…) تكليفية على حسب ما أنكر على الإسرافييني، فقد صار حده في الفقه قاصرا على المباحات، وإذا ثبت (
…) ففهيات، وليس تكليفات، وهو قد قال في الفقه العلم بأحكام التكليف فكأنه قصر الفقه على مسائل (
…) والحظر والندب والكراهة، ولا ينصرف قوله هاهنا التكليف إلى العلم بكون المباح مباحا، لأنه قد قدم ذكر العلوم (
…)، فذكر متعلقه وهو التكليفات، وقد بينا أنها لا تعم المسائل الفقهية.
فصل في تكليف ما لا يطاق(
…) علم الكلام، وعلم أصول الفقه، فأما المتكلمون فلتعلقها بأحكام القدر (وح
…) تعلقها بأحكام التكاليف، وما يصح الأمر به، وما لا يصح، ويحتاجون إلى
এটি একদলের জন্য হক বা অধিকার, এবং অন্যদলের জন্য মানদুব বা সুপারিশকৃত। ওয়াজিব ও মানদুব বিষয়গুলো হলো সেইসব শরয়ী বিধানের অন্তর্ভুক্ত
যা আমরা ওয়াজিবের বিষয়ে ঐকমত্য এবং মানদুবের বিষয়ে মতভেদের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে উপস্থাপন করেছি। সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ অনুযায়ী এটি তাকলিফ বা দায়িত্বারোপের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ ওয়াজিব হলো এমন বিষয় যা
শরিয়ত কর্তৃক মানুষকে কাজ করা বা বর্জনের দিক থেকে উৎসাহিত করে, ফলে এর তাকলিফ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। কিন্তু মুবাহ বা বৈধ কাজের ক্ষেত্রে শরিয়ত কাজ করা বা বর্জন করার কোনো দিক থেকেই উৎসাহিত করেনি, তাই এর অ-তাকলিফি হওয়াও সুস্পষ্ট। মানদুবের ক্ষেত্রে সংশয় তৈরি হয় কাজ ও বর্জনের বিধানের পার্থক্যের কারণে, যা আমরা ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি। আর মুবাহের বিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া মুবাহের মূল প্রকৃতি বহির্ভূত একটি বিষয়।
কিন্তু আবু আল-মাআলি আল-ইসফরাইয়িনির বিরোধিতা করতে গিয়ে ভুল করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি এখানে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি ঘটিয়েছেন। অথচ আবু আল-মাআলির নিজেরও 'আল-বুরহান' গ্রন্থে এই একই বিষয়ে বিচ্যুতি রয়েছে। কারণ তিনি কিতাবের শুরুতে ফিকহের সংজ্ঞায় বলেছেন যে, ফিকহ হলো তাকলিফি বা দায়িত্বারোপমূলক বিধানাবলির জ্ঞান; অথচ তিনি মুবাহ বা বৈধ বিষয়গুলো ফিকহের অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে অস্বীকার করেন না। তা কীভাবে সম্ভব?
কারণ আল-মুদাওয়ানা গ্রন্থটি কি মুবাহ বিষয়ের শিক্ষা থেকে শূন্য? এই তো পবিত্রতা অধ্যায়ের শুরুতেই লবণাক্ত মাছ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা আপনার কাছে
আনা হলে আপনি বলেছিলেন যে তা খাওয়াতে কোনো সমস্যা নেই। এই ধরনের উদাহরণ অসংখ্য ও অগণিত।
সুতরাং যদি মুবাহ বিষয়গুলো ফিকহের অন্তর্ভুক্ত বলে মেনে নেওয়া হয় এবং
সেগুলো আল-ইসফরাইয়িনির ওপর করা আপত্তি অনুযায়ী তাকলিফি না হয়, তবে ফিকহের সংজ্ঞায় মুবাহের বিষয়টি বাদ পড়ে যায়। আর যদি
প্রমাণিত হয় যে এগুলো ফিকহ শাস্ত্রের বিষয় কিন্তু তাকলিফ নয়, অথচ তিনি ফিকহকে তাকলিফি বিধানের জ্ঞান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তবে তিনি যেন ফিকহকে কেবল নির্দিষ্ট কিছু মাসআলার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন।
তথা এবং নিষেধাজ্ঞা, মুস্তাহাব ও মাকরূহ; আর এখানে তাঁর দায়িত্বারোপ সংক্রান্ত বক্তব্যটি কোনো মুবাহ বিষয় মুবাহ হওয়ার জ্ঞানের দিকে ধাবিত হয় না, কারণ তিনি ইতোপূর্বেই জ্ঞানসমূহ সংক্রান্ত আলোচনা পেশ করেছেন (
।
), অতঃপর তিনি এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় অর্থাৎ শরয়ী দায়িত্বসমূহ উল্লেখ করেছেন; এবং আমরা বর্ণনা করেছি যে, তা ফিকহী মাসআলাসমূহকে সামগ্রিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে না।
অসাধ্য বা সাধ্যাতীত কার্যের দায়িত্বারোপ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(
এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট
) ইলমুল কালাম এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের সাথে। কালামশাস্ত্রবিদগণের ক্ষেত্রে এর কারণ হলো তাকদীরের বিধানাবলির সাথে এর সংশ্লিষ্টতা, আর (উসুলবিদগণের ক্ষেত্রে
এর কারণ হলো
) শরয়ী দায়িত্বের বিধানাবলি, এবং যে বিষয়ের আদেশ করা সঠিক ও যা সঠিক নয় তার সাথে এর সংশ্লিষ্টতা; এবং তাঁরা প্রয়োজন বোধ করেন।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
ذلك في مسائل (
…) في وضعها من هذا الكتاب إن شاء الله عز وجل، واعلم أن المسألة لا تكشف حقيقتها إلا (
…) امتناعه إما أن يكون لمعنى (يعو
…) الفعل وهو (استحا
… را) وخلق الأجسام في حق القادرين المخلوقين في حق القادر المأمور بمقطوع اليد (
…) كان الامتناع من جهة الفعل وعدم إمكانه، فهي المسألة المرسومة في هذا الباب (
…) التعبد بذلك، ورأوا الأمر به، خلافا للقادرية في منعها ذلك.
وإلى هذا قال أبو المعالي (
…) كان امتناع الفعل لعدم قدرة المأمور في حال الأمر، حتى يكون المراد بنفي القدرة (
…) لا (
…) الاستقبال فإن التكليف يصح بل لا يكون التكليف عندنا (
…) وكون المأمور مكلفًا ما يطيق، وهذا منا، ومنهم، بناء على (
…) يتضمن إحالة كون القدرة المحدثة، قدرة على الشيء، (و
…) أن يقوم إلى الصلاة قيامه حال قعوده غير (
…) الصلاة (
…) القاعد وهو لا يقدر (
…) (ص 18) في هذا، يبني على ما ذكرناه من الاختلاف في تكليف ما لا يطاق أم لا؟ لكون (الم
…) الأب، ولا يفهم أنه لا يتصور حقيقة الطلب لهما.
وكذلك أيضًا اختلفت الرواة عن الأشعري (
…) في شرع تكليف ما لا يطاق، فهذا إيراد المذاهب وإيرادها على هذه الجملة من التقسيم يكشف لك حقيقة القول في قدح أبي المعالي في نقل الأئمة لمذهب الأشعري حتى قال: هذا سوء معرفة بمذهب الرجل، لأن التكاليف كلها عند الأشعري لا تطاق، واستشهد على ذلك من مذهبه بفصلين
সেই মাসআলাগুলো সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা এই কিতাবে যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। জেনে রাখুন যে, কোনো বিষয়ের হাকিকত বা প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হয় না যতক্ষণ না
তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেটি অসম্ভব হওয়া হয়তো এমন কোনো বিষয়ের কারণে যা
সংশ্লিষ্ট কাজের দিকে ফিরে যায়, আর তা হলো
অসম্ভব হওয়া। যেমন সক্ষম সৃষ্টির ক্ষেত্রে নতুন দেহ সৃষ্টি করা, কিংবা হাত কাটা ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনো কাজ করার আদেশের মতো
যা তার পক্ষে অসম্ভব। যদি অক্ষমতা কাজের দিক থেকে এবং তা সম্ভব না হওয়ার কারণে হয়, তবে এটিই এই অধ্যায়ে আলোচিত মাসআলা।
সালাফগণ একে ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর নির্দেশ প্রদান বৈধ মনে করেছেন, যদিও কাদারিয়া সম্প্রদায় তা নিষেধ করেছে।
এ প্রসঙ্গে আবু আল-মাআলি
বলেন যে, যদি আদেশ প্রদানের সময় আদিষ্ট ব্যক্তির সক্ষমতা না থাকার কারণে কাজটি অসম্ভব হয়, তবে সক্ষমতা না থাকার উদ্দেশ্য
বর্তমান সময় সম্পর্কিত,
ভবিষ্যৎ নয়। কারণ تکلیف বা দায়িত্বারোপ তখনো বৈধ হয়, বরং আমাদের নিকট تکلیف
সামর্থ্য ব্যতিরেকে হয় না এবং আদিষ্ট ব্যক্তি তার সামর্থ্যের বিষয়েরই দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এটি আমাদের এবং তাদের উভয়ের পক্ষ থেকেই স্বীকৃত একটি বিষয়, যা এই
ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, সৃষ্ট ক্ষমতা কোনো বিষয়ের ওপর কার্যকর হওয়া অসম্ভব বলে গণ্য হয়।
এবং উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তির বসে থাকা অবস্থায় নামাজের জন্য দাঁড়ানো তার পক্ষে
অসম্ভব, কারণ নামাজের
দাঁড়ানো অবস্থাটি তখন ওই
বসে থাকা ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয় এবং সে তখন দাঁড়াতে সক্ষম নয়
বলে বিবেচিত হয়।
(পৃষ্ঠা ১৮) এতে, সাধ্যের অতীত কোনো কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা বা না করার বিষয়ে আমরা ইতিপূর্বে যে মতভেদ উল্লেখ করেছি, এটি তারই ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; যেহেতু পিতা হওয়ার বিষয়টি এখানে সংশ্লিষ্ট, এবং এটি অনুধাবন করা যায় না যে তাদের উভয়ের ক্ষেত্রে আদেশের প্রকৃত স্বরূপ কল্পনা করা অসম্ভব।
অনুরূপভাবে, সাধ্যের অতীত কোনো বিষয়ের বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে ইমাম আশআরী থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে। মাযহাবসমূহের এই বর্ণনা এবং বিভাজনের এই কাঠামোর ওপর সেগুলোর উপস্থাপন আপনার সামনে সেই বক্তব্যের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে, যা আবুল মাআলি আশআরীর মাযহাব বর্ণনায় ইমামগণের ভুলের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেছিলেন। এমনকি তিনি বলেছেন: "এটি উক্ত ব্যক্তির মাযহাব সম্পর্কে সঠিক জানাশোনার অভাব।" কারণ আশআরীর মতে সমস্ত শারয়ী দায়িত্বই মূলত মানুষের সাধ্যাতীত, এবং তিনি তাঁর মাযহাব থেকে এর সপক্ষে দুটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
أحدهما قول الأشعري إن المأمور وهو قاعد بأن الصلاة أمر بفعل لا قدرة له عليه، وما لا قدرة له عليه يستحيل إيقاعه، ولا ينجي من هذا كون المأمور بالقيام إلى الصلاة منهيا عن القعود، لكون الأمر بالشيء نهيا عن ضده، والقعود المنهي عنه تعلق به هذا التكليف في حال هو مقدور للعبد فلم يعر التكليف من تعليقه بمقدوره عليه.
واعتذار هؤلاء بهذا العذر غير مقبول لأن المسألة مفروضة في نفس القيام للصلاة المأمور به ولا شك عنه في كونه حين ورود الأمر غير مقدور عليه، وهو القعود المنصوص (
…) في الخطاب، فلا يغني عنه تقدير تعلق خطاب آخر من ناحية الضمن، وليس هو المقصود لا سيما إن نازعنا في كون الأمر بالشيء (
…) ما تقف عليه في موضعه إن شاء الله عز وجل.
فالذي أوردناه من التقسيم يشير إلى الانفصال عما قاله أبو المعالي (
… طوا) على الرجل في نقل مذهبه، لأنه معلوم أنهم أرادوا بقولهم إن الاشعري أجاز تكليف ما لا يطاق أي ما لا يطاق (
…) الاستقبال وما يكون إيقاعه من قبيل المحال، ولا شك أنهم لو قيدوا ما أطلقوه بهذا الذي قلناه لم يتعقب (
… طعا) أنهم أرادوه، لأنهم هم الناقلون مذهبه في هذا، ومذهبه في أن القيام الذي فرضناه غير مقدور عليه.
وأنت تعلم قطعا أن (
…) وحسن (
…) من نفسه الفرق بين ما يستحيل إيقاعه له ككونه ناطقًا صامتًا في حال واحد، وبين قيامه إلى الصلاة، وهو قاعد فإنه (
… ر) من نفسه تأتي القيام منه، وكونه متى شاء أن يفعله فعله، فليس بينه وبين فعله إلا إرادة القيام وترك ما هو فيه من القعود (
…) متميز لذلك، والقيام متأت منه، حتى أدى إفراد الحسن بهذا التأتي المعتزلة (أن) اعتقدوا القدرة على القيام (حا
…) الإنسان يحس من نفسه وهو قاعد أن القيام كالفعل الحاصل له، الموجود به.
এর মধ্যে একটি হলো আশআরীর অভিমত যে, যাকে বসা অবস্থায় থাকাকালে সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে মূলত এমন এক কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা করার সক্ষমতা তার নেই; আর যা করার সক্ষমতা নেই তা সম্পন্ন করা অসম্ভব। সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হওয়ার নির্দেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপবেশন করা থেকে নিষিদ্ধ হওয়া—এই যুক্তি তাকে এ থেকে নিষ্কৃতি দেয় না যে, কোনো কিছুর নির্দেশ দেওয়া মানেই তার বিপরীত কাজ থেকে নিষেধ করা। কেননা যে উপবেশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তার সাথে এই বিধান এমন এক অবস্থায় সংশ্লিষ্ট হয়েছে যখন তা বান্দার সক্ষমতার অধীন ছিল, ফলে বিধানটি বান্দার সক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া থেকে মুক্ত ছিল না।
এই সকল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এমন অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বিষয়টি সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হওয়ার নির্দেশিত কাজের ওপরই নির্ভরশীল, আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে নির্দেশ আসার মুহূর্তে তা তার সক্ষমতার বাইরে ছিল। এটিই হলো সম্বোধনের মধ্যে স্পষ্টভাবে বর্ণিত উপবেশন
যা ভাষ্যের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং পরোক্ষভাবে অন্য কোনো সম্বোধনের সংশ্লিষ্টতা কল্পনা করা কোনো কাজে আসে না। এটি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যও নয়, বিশেষ করে যদি আমরা কোনো বিষয়ের নির্দেশের
প্রকৃতি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করি যা যথাস্থানে আপনি জানতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
আমরা যে বিভাজনটি উল্লেখ করেছি তা আবুল মাআলী
কর্তৃক বর্ণিত সেই ব্যক্তির মাযহাব বর্ণনায় যা বলেছেন তা খণ্ডন করার প্রতি ইঙ্গিত দেয়। কারণ এটি সুবিদিত যে, তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে—আশআরী অসাধ্য বিষয়ের বিধানারোপ বৈধ মনে করেছেন—তারা মূলত সেই অসাধ্য বিষয়কে বুঝিয়েছেন যা
ভবিষ্যতে ঘটবে এবং যা সম্পন্ন করা অসম্ভব পর্যায়ের। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা যদি তাদের সাধারণ বক্তব্যকে আমাদের বর্ণিত বিষয়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করতেন, তবে
নিশ্চিতভাবে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠত না। কারণ তারাই এ বিষয়ে তার মাযহাবের বর্ণনাকারী, আর তার মাযহাব হলো আমাদের আলোচিত দণ্ডায়মান হওয়াটি সক্ষমতার বাইরে থাকা।
আর আপনি নিশ্চিতভাবেই জানেন যে
এবং তিনি
) উত্তমরূপে (
উপলব্ধি করেন
) নিজের মাঝে সেই বিষয়ের পার্থক্য যা ঘটানো তার জন্য অসম্ভব, যেমন একই সাথে কথা বলা এবং নীরব থাকা, এবং বসে থাকা অবস্থায় সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানোর মধ্যকার পার্থক্য। কারণ তিনি (
দেখেন
) নিজের পক্ষ থেকে দাঁড়ানোর সামর্থ্য এবং বিষয়টি এমন যে, তিনি যখনই তা করার ইচ্ছা করেন তখনই তা করেন। ফলে তার এবং তার কর্মের মাঝে দাঁড়ানোর ইচ্ছা পোষণ এবং বর্তমান উপবিষ্ট অবস্থা বর্জন করা ছাড়া আর কোনো ব্যবধান নেই (
তিনি
) এই গুণের কারণে স্বতন্ত্র এবং দাঁড়ানো তার মাধ্যমে সম্ভবপর হয়, এমনকি হাসানের এই সামর্থ্যের বিষয়টি এককভাবে পর্যালোচনার কারণে মুতাজিলাগণ (যে) বিশ্বাস পোষণ করেছে যে মানুষের দাঁড়ানোর ক্ষমতা রয়েছে (অবস্থাদৃষ্টে
দেখা যায় যে
) মানুষ উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় নিজের মাঝে অনুভব করে যে, দণ্ডায়মান হওয়া তার জন্য একটি অর্জিত কর্মের ন্যায়, যা তার মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
وأنكرت الأشعرية (
… وا) إفراد من الحس كالتهيء، وتأتي الفعل للعلم الضروري بأن الإنسان متى أراد القيام، فعله (
…) التقسيم والتنبيه على وجود طرق الفعل بغير تكلف الانفصال بكون القعود متهيئًا (
… ارا) عن القدح في نقل الرواة عنه هذا وإن سلم التعقيب في هذه العبارة لأنها (
… ت) هذا الجواز لا ينافي القول بأن التكليف لا يكون إلا بذلك الأمر، ناحية المفهوم (ء
…) اللفظة فتفتقر حينئذ لما قدمناه من الاعتذار.
وأما الوجه الثاني الذي أشار إليه أبو [المعالي] (
…) قال فإنه يعتقد أنها خلق لله سبحانه وإنما العبد مكتسب، فالعبد مطلوب بإيقاع (
…) فصل من هذا أن التكاليف كلها لا تطاق عنده.
وأما الوجه الثاني الذي أشار إليه أبو [المعالي] (
…) قال فإنه يعتقد أنها خلق لله سبحانه وإنما العبد مكتسب، فالعبد مطلوب بإيقاع (
…) فصل من هذا أن التكاليف كلها لا تطاق عنده.
ورمز هاهنا أبو المعالي إلى مخالفته (
… ل) تمويه المموه بذكر الكسب، ولكنه لم يبد حقيقة مذهبه (..) الباب لأن هذا مختص بكتب أصول الديانات، ولعلنا نحن أيضًا (ف ....) ولكن لابد من رمز يستلوح منه، الذكي الطريق التي يسلك (
…). وذلك أنه قد علم ما في العالم من الروابط التي (سربد
…) (ص 19) ولولا خلقه (
…) عما قبله فقد يحصل من هذا أن الآخر يكون عما للتكوين وارتباط الشيء بما قبله منسوب إلى (
…) قبل لم يقع بعد، فقد صار ما بعد مضافًا إليه تعالى، فهذه مقدمة لابد من تسليمها.
ولابد أيضًا من تسليم مقدمة ثابتة، وهي أن الإنسان المتحرك قاصدًا للحركة قد حصل له أحوال القادرين العالمين المريدين وبهذه المقدمة ينسب الناس الفعل إلى الفاعل
আশআরিগণ অস্বীকার করেছে (
…) প্রস্তুতির মতো ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতির একক অবস্থাকে; আর কর্মের বিষয়টি আসে এমন অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞানের মাধ্যমে যে, মানুষ যখনই দাঁড়ানোর ইচ্ছা করে, সে তা সম্পাদন করে (
…) কোনো কষ্টসাধ্য বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই কর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির অস্তিত্বের ব্যাপারে বিভাজন ও সতর্কতা প্রদান, যেহেতু উপবিষ্ট থাকাটা প্রস্তুত থাকে (
…) তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ত্রুটি ধরা থেকে। আর যদিও এই বাক্যে পরবর্তী মন্তব্যটি মেনে নেওয়া হয় কারণ এটি (
…) এই বৈধতা সেই উক্তির সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, শরয়ি দায়বদ্ধতা কেবল সেই আদেশের মাধ্যমেই ঘটে; ধারণাগত দিক থেকে (
…) শব্দটির ক্ষেত্রে, ফলে তা তখন আমাদের পূর্ববর্ণিত ওজরের মুখাপেক্ষী হয়।
আর দ্বিতীয় দিকটি, যার প্রতি আবু [আল-মাআলি] ইঙ্গিত করেছেন (
…) তিনি বলেন, নিশ্চয়ই তিনি বিশ্বাস করেন যে এগুলো মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং বান্দা কেবল তা অর্জনকারী; সুতরাং বান্দার নিকট তা সম্পাদনের দাবি করা হয় (
…) এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাঁর মতে সমস্ত শরয়ি বিধানই মানুষের সাধ্যের অতীত।
আর দ্বিতীয় দিকটি, যার প্রতি আবু [আল-মাআলি] ইঙ্গিত করেছেন (
…) তিনি বলেন, নিশ্চয়ই তিনি বিশ্বাস করেন যে এগুলো মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং বান্দা কেবল তা অর্জনকারী; সুতরাং বান্দার নিকট তা সম্পাদনের দাবি করা হয় (
…) এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাঁর মতে সমস্ত শরয়ি বিধানই মানুষের সাধ্যের অতীত।
আর আবু আল-মাআলি এখানে তাঁর ভিন্নমতের ইঙ্গিত দিয়েছেন (
…)
ল) কাসব বা অর্জনের কথা উল্লেখ করে প্রতারকের সত্য গোপন করার অপচেষ্টা, তবে সে এই অধ্যায়ে তার মতবাদের প্রকৃত রূপ প্রকাশ করেনি (..) কারণ এটি ধর্মতত্ত্বের মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থসমূহের জন্য নির্দিষ্ট, এবং সম্ভবত আমরাও (....) তবে অবশ্যই এমন কিছু ইঙ্গিত থাকা প্রয়োজন যা থেকে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার চলার পথটি চিনে নিতে পারে (
...
)। আর তা এজন্য যে, জগতের সেই বন্ধনসমূহ সম্পর্কে জানা গেছে যা (প্রবহমান
...
) (পৃষ্ঠা ১৯) আর যদি তাঁর সৃষ্টি না হতো (
...
) তার পূর্ববর্তী বিষয় থেকে, তবে এর ফলে এটি হতে পারত যে পরবর্তী বিষয়টি সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত হতো এবং কোনো বস্তুর তার পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতা সম্বন্ধযুক্ত হতো (
...
) যা আগে ঘটেনি, ফলে যা পরে ঘটেছে তা মহান আল্লাহর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। সুতরাং এটি এমন এক প্রস্তাবনা যা অবশ্যই স্বীকার করে নিতে হবে।
এবং আরও একটি অকাট্য প্রস্তাবনা স্বীকার করে নেওয়া জরুরি, তা হলো—যে মানুষটি গতির সংকল্প নিয়ে গতিশীল হয়, তার মধ্যে সক্ষম, জ্ঞানী ও ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির অবস্থা বা গুণাবলি অর্জিত হয়। আর এই প্রস্তাবনার মাধ্যমেই মানুষ কোনো কাজকে তার কর্তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
مهما رأوه، وقع مطابقا لإرادته، وبحسب علمه، ومرتبطا بقدرته فيا نست المعتزلة إلى هذه المقدمة وبحكمها دون ما سواها، فتقول: الإنسان مخترع لفعله، ويلتفت الأشعري إليها غير مضرب عما قبلها فيقتضي ذلك توسطا بين مذهب الجبري الذي هو كالمنكر للمقدمة الأخيرة، وما بين مذهب المعتزلي الذي هو كالمنكر للمقدمة الأولى، فجعل الفعل كأنه بين فاعلين من وجهين مختلفين.
وقد نبهناك على اختلاف الوجهين بالتنبيه على هاتين المقدمتين، ويرى أن الأولى إضافة اختراع الحركة إلى البارئ سبحانه لأنا إذا فرضنا أن هذه الوسائط كلها لا اختراع للعبد فيها بل هي كائنة بقدرة الله سبحانه، وما ارتبط بها ارتبط بقدرته سبحانه من أفعال الله سبحانه، ثم لم يخل العبد من معنى يستحل به الإضافة على حسب ما نبهناك عليه، وبه حسن التكليف، وتعلق الثواب والعقاب، إذ لو كان هذا (
…)، كما أشار إليه أبو المعالي في إلزامه لكان ما تقرر في مصادر الشرع وموارده وعلم من أصوله وقواعده غير (
…) من الشرع قصور أوامر ونواهيه على حركات العبد وسكناته، ونطقه وصماته، وأعضائه ولحظاته (
…) من تصرفاته دون أن يتعلق الأمر والنهي بألوانه وطعومه وروائحه، وتأليفه، إلى غير ذلك مما لا يقف على اختياره (
…) إلا لما بيناه من حقيقة توجه الإضافة إليه على جهة ما قلناه.
وإلى هذا المعنى أشار قوله صلى الله عليه وسلم وقد خوطب (
…) شيء من هذا المعنى إذا؟ "وكل ميسر لما خلق له" ولكن بسط هذا، وكشف حقيقته بالتمثيل وزيادة بيان في مقدماته موقوف (
…) أصول الديانات (سد
…) فيها إن شاء الله عز وجل، وعلى هذا المعنى يحوم أصحاب الكسب، والمختلفون مع (الق
…) تأثير إثبات حال في المقدور أم لا؟ فهذه فصول لابد من إيرادها لتعلقها بما قدح أبو المعالي في أصل (
…) لنكتة فيه أن تعلم أن الجميع متفقون على أن حقيقة الأمر طلب الفعل، فهل يتحقق طلب المستحيل؟
তারা যা-ই প্রত্যক্ষ করুক না কেন, তা তাঁর ইচ্ছার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়ে, তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী এবং তাঁর কুদরতের সাথে সম্পৃক্ত হয়েই সংঘটিত হয়। মুতাজিলারা কেবল এই ভূমিকার দিকে ঝুঁকেছে এবং অন্য সবকিছু বাদ দিয়ে এর ভিত্তিতেই মত দিয়েছে; তারা বলে: মানুষ তার নিজের কাজের উদ্ভাবক। পক্ষান্তরে আশআরিগণ এর পূর্ববর্তী বিষয়গুলো উপেক্ষা না করেই এর প্রতি লক্ষ্য করেছেন। ফলে এটি জাবরিয়া মতবাদ—যারা শেষোক্ত ভূমিকাটি অস্বীকারকারীর ন্যায়—এবং মুতাজিলা মতবাদের—যারা প্রথম ভূমিকাটি অস্বীকারকারীর ন্যায়—মাঝে একটি মধ্যপন্থা দাবি করে। এভাবে তিনি কাজটিকে যেন ভিন্ন দুটি দিক থেকে দুইজন কর্তার মাঝে বিন্যস্ত করেছেন।
আমরা এই দুই ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে আপনাকে এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের ব্যাপারে সচেতন করেছি। এটি মনে করা হয় যে, গতির উদ্ভাবনকে স্রষ্টা সুবহানাহুর দিকে সম্বন্ধ করাই উত্তম। কারণ আমরা যদি ধরে নিই যে, এই সকল মাধ্যমের কোনোটিতেই বান্দার কোনো উদ্ভাবনী ক্ষমতা নেই, বরং সেগুলো মহান আল্লাহর কুদরতের মাধ্যমেই অস্তিত্বশীল, এবং এর সাথে যা কিছু সম্পৃক্ত তাও মহান আল্লাহর কাজ হিসেবে তাঁর কুদরতের সাথেই সম্পৃক্ত; তথাপি বান্দা এমন এক অর্থ বা বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত থাকে না যার ভিত্তিতে আমাদের বর্ণনানুসারে তার দিকে কাজের সম্বন্ধ করা বৈধ হয়। আর এর মাধ্যমেই শরয়ী দায়িত্বারোপ যথার্থ হয়েছে এবং সওয়াব ও আজাব এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে। কারণ যদি বিষয়টি কেবল বাধ্যবাধকতা হতো
যেমনটি কেউ মনে করতে পারে, যেমনটি আবু আল-মায়ালি তাঁর الزام বা বাধ্যবাধকতা বিষয়ক আলোচনায় ইঙ্গিত করেছেন, তবে শরীয়তের উৎস ও ক্ষেত্রসমূহে যা সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এর মূলনীতি ও নিয়মকানুন থেকে যা জানা যায়, তা শরীয়তের নির্দেশের সাথে
সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো না। শরীয়তের আদেশ ও নিষেধসমূহ কেবল বান্দার নড়াচড়া ও স্থিরতা, তার কথা ও নীরবতা, এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার ও দৃষ্টিপাত বা তার
অনুরূপ অন্যান্য আচরণের মাঝেই সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে আদেশ ও নিষেধ মানুষের গায়ের রং, স্বাদ, ঘ্রাণ এবং শারীরিক গঠন বা এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হয় না, কারণ এগুলো তার ইচ্ছাধীন
বা নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।
) যা আমরা ইতোপূর্বে বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী এর সাথে সম্পৃক্ত করার প্রকৃত রূপটি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল (
সেই
) বিষয়ের কোনো কিছু কি তখন থাকবে? "আর প্রত্যেককে সেই কাজের জন্য সহজ করে দেওয়া হয়েছে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" কিন্তু এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং উদাহরণের মাধ্যমে এর স্বরূপ উন্মোচন ও এর ভূমিকাগুলোর অধিকতর বিবরণ নির্ভর করে (
দ্বীনের
) মূলনীতিসমূহের ওপর (আমরা বর্ণনা
করব
) সে বিষয়ে ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চাইলে। এবং এই অর্থের চারপাশেই ‘কাসব’ বা উপার্জনের প্রবক্তারা এবং যারা (তাকদিরের
ক্ষেত্রে
) কোনো অবস্থার প্রভাব সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়া নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন তারা আবর্তিত হন। সুতরাং এই অনুচ্ছেদগুলো উল্লেখ করা জরুরি, কারণ এর সাথে ইমাম আবু আল-মা'আলী মূলনীতির ক্ষেত্রে যে (
আপত্তি
) উত্থাপন করেছেন তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এতে একটি সূক্ষ্ম বিষয় এই যে, আপনি জানবেন যে সকলে এই বিষয়ে একমত যে আদেশের প্রকৃত অর্থ হলো কাজ সম্পাদনের দাবি করা। এমতাবস্থায় অসম্ভব কোনো বিষয়ের দাবি কি বাস্তবায়নযোগ্য?
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
(
…) المعتزلة المشترطون كون الأمر مريدًا لوقوع ما أمر به، فلا شك أنه يستحيل عندهم تكليف (
…) أمر مستحيل، فلا شك في أنه سبحانه عالم باستحالته، وأنه لا يقع، وقد فرضنا أن من (ا
…) تعالى فإنه لا يقع، وإرادته لأن يقع تناقض، فهذا المعنى يتضح به على أصلهم منع تكليف (
…) [وا]ـفقهم في منع التكليف، تكليف ما لا يطاق، يوافقهم على هذا الأصل الفاسد.
والذي بنوا المعتزلة (
…) تحقق مع علم الطالب أن المطلوب بأمره يستحيل، وتصور جماعة أشياخه أن العلم (با
…) لا وأصولهم أن الثواب والعقاب لا يستحق على الأعمال عقلاً، وإنما الأعمال عليه (كالا
… لم) أن المأمور لا يمكنه الفعل، فالالتفات إلى هذه النكتة هو (
…)، وقد يحسن هاهنا الاستدلال بالسمعيات، وقد قال تعالى: (ربنا ولا تحملنا ما لا طاقة لنا به) (
…) بأن يسأل ربه ألا يحمله إياه، وفي الاستدلال بهذه الآية نظر (
… ك) بها في القطعيات، وقد تكلمنا على هذه الآية وما (
…) الوقوع أم لا؟ وقد (ا
…).
(ص 1) ألا تراه سبحانه يقول: (فلا تميلوا كل الميل)، فأضاف الميل إلينا، وأشار إلى ما ينبغي لنا (
…) [وأشار النبي] عليه السلام إلى هذا المعنى لما قال: "اللهم هذه قسمتي فيما أملك" الحديث، وأمثل (
…)، وقد أمر أن
(
মুতাজিলা সম্প্রদায়ের
) যারা এই শর্তারোপ করেন যে, কোনো বিষয়ের নির্দেশদাতার পক্ষ থেকে সেই বিষয়টি বাস্তবে ঘটার ইচ্ছা থাকা আবশ্যক, তাদের নিকট নিঃসন্দেহে অসম্ভব কোনো বিষয়ের দায়িত্ব প্রদান বা তাকলিফ করা অসম্ভব। এতে কোনো সংশয় নেই যে, মহান আল্লাহ সেই বিষয়ের অসম্ভবতা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত এবং তিনি জানেন যে তা ঘটবে না। আমরা যদি ধরে নিই যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা হওয়ার নয় তা ঘটবে না, তবে সেটি ঘটার ইচ্ছা পোষণ করা একটি স্ববিরোধিতা হিসেবে গণ্য হবে। এই অর্থটির মাধ্যমেই তাদের মূলনীতি অনুযায়ী অসম্ভব বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। আর যারা সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব প্রদান নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হয়েছেন, তারা মূলত তাদের এই ভ্রান্ত মূলনীতির অনুসরণেই একমত হয়েছেন।
মুতাজিলাগণ যা কিছুর ওপর তাদের মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা হলো—আদেশদাতার এই জ্ঞানের সাথে নির্দেশের বাস্তবায়ন হওয়া যে, তাঁর আদিষ্ট বিষয়টি অসম্ভব। তাঁর একদল উস্তাদ কল্পনা করেছেন যে জ্ঞান থাকা বা না থাকার বিষয়টি তাদের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয় যে, বিবেক অনুযায়ী আমলের বিনিময়ে সওয়াব ও আজাব নির্ধারিত হয়। বরং আমলসমূহ তো আল্লাহর নিকট আলামত মাত্র, কারণ আদিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে সেই কাজ করা সম্ভব নয়। সুতরাং এই সূক্ষ্ম দিকটির প্রতি লক্ষ্য রাখাই হলো প্রকৃত বিষয়। আর এক্ষেত্রে শ্রবণযোগ্য দলিল বা শরয়ি প্রমাণের মাধ্যমে দলিল পেশ করা সুন্দর হবে। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ওপর এমন ভার অর্পণ করবেন না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই।" এর মাধ্যমে বান্দা তার রবের কাছে প্রার্থনা করে যেন তিনি তাকে এমন ভার প্রদান না করেন। তবে এই আয়াত দ্বারা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে চূড়ান্ত ও নিশ্চিত বিষয়াবলির ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ নিয়ে। আমরা এই আয়াত এবং এর বাস্তব ঘটা বা না ঘটার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
(পৃষ্ঠা ১) আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন: (সুতরাং তোমরা পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না), তিনি ঝুঁকে পড়াকে আমাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং আমাদের যা করা সমীচীন সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন (
যা আমাদের পক্ষ থেকে করণীয়
) [এবং নবী] আলাইহিস সালাম এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহ, এটি আমার বণ্টন সেই বিষয়ে যা আমার আয়ত্তে রয়েছে" হাদিসের শেষ পর্যন্ত, এবং অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত (
উপস্থাপন করা হয়েছে
), আর নিশ্চয়ই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
يؤمنوا بالنبي صلى الله عليه وسلم ويصدقه في كل ما يقول، وكان مما قال أنه كان لا يؤمن به، ولا يصدقه، فصار محصول تكليف أبي لهب أن قال له: صدقني، في أنك لا تصدقني، فهذا تكليف الجمع بين متنافرين متناقضين.
وقد أشير إلى الجواب عن هذا إلى طريقتين، أما من قال إن الذي كلفه للناس أولا إظهار الشهادتين، فإن معنى تكليف أبي لهب الإيمان أن يقول: لا إله إلا الله محمد رسول الله، وهذا القول يمكنه إيقاعه قبل أن يخبر بأنه لا يؤمن، وبعد أن أخبر.
وأما من يقول ـ وهو الذي قاله الجمهور ـ إن أول ما كلف فيما نحن فيه اعتقاد الإيمان بقلبه. فإنما نجيب عن هذا إنما كلف تصديق النبي صلى الله عليه وسلم في كل ما يقول على الجملة قبل أن ينظر في تفصيل أخباره، وعن كل خبر، وهذا التصديق على الإجمال من (
…) لتفاصيل الأقوال ممكن.
وقد اجتمع في أبي لهب فصلان: علم بالله سبحانه بأنه لا يؤمن، وخبره بذلك، فلهذا كثر استدلال [الجمهور بذلك]. أما من سواه من الكفار كأبي جهل وغيره، وممن علم الله سبحانه أنه لا يؤمن فقد صار إيمانه كالممتنع إيقاعه لأنه لو وقع لخالف علم الله سبحانه، ومخالفة علم الله سبحانه لا تصح، ولكن هذا الامتناع ليس براجع إلى عدم الإمكان [من ناحية العقل] بل إيمان هؤلاء ممكن في نفسه، متأت في علم الله سبحانه، لا يصير الممكن غير ممكن، لأن العلم لا يؤثر في المعلوم [إن تعقل بعلم]، فعلم الله سبحانه وعلمنا لا يؤثر فيه.
فإذا ثبت أن العلم يتبع المعلوم على ما هو عليه، فلا يؤثر فيه، وكان إيمان [الكفار] ممكنا بقي على إمكانه، وإن تعلق العلم به، ألا ترى أنهم لا يصير الإيمان في حقهم كالمعجوز عنه، المستحيل إيقاعه لأجل تعلق [علم] الله سبحانه بأنه لا يقع منهم، بل المعلوم أن تأتيه منهم كتأتي غيره من الأفعال التي لا يعلم ما علم الله سبحانه من مآلها، وهذا [مذكور] في كتب أصول الديانات.
ونذكر هناك أن كون خلاف المعلوم مقدور، وهو الصحيح من القولين إن شاء
তারা যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনে এবং তিনি যা বলেন তার সবকিছুর সত্যায়ন করে। তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে এটিও ছিল যে, সে (আবু লাহাব) তাঁর প্রতি ঈমান আনবে না এবং তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করবে না। ফলে আবু লাহাবের ওপর অর্পিত নির্দেশের সারমর্ম এই দাঁড়াল যে, তিনি তাকে বললেন: "তুমি আমাকে এই বিষয়ে সত্য বলে স্বীকার করো যে, তুমি আমাকে সত্য বলে স্বীকার করবে না।" এটি মূলত দুটি পরস্পরবিরোধী ও বিপরীত বিষয়কে একত্রিত করার বাধ্যবাধকতা।
এর উত্তর হিসেবে দুটি পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যারা বলেন যে, মানুষের ওপর সর্বপ্রথম যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তা হলো দুই শাহাদাতের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো, তাদের মতে আবু লাহাবের ঈমান আনয়নের নির্দেশের অর্থ ছিল সে বলবে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।" এই বাক্য উচ্চারণ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল—সে ঈমান আনবে না এই সংবাদ দেওয়ার আগেও, এবং সংবাদ দেওয়ার পরেও।
আর যারা বলেন—এবং এটিই জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত—যে আমাদের আলোচ্য বিষয়ে সর্বপ্রথম যে দায়িত্বটি অর্পণ করা হয়েছে তা হলো অন্তরে ঈমানের বিশ্বাস স্থাপন করা। আমরা এর উত্তরে কেবল এটাই বলব যে, তাকে সাধারণভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেন তার সবকিছুর সত্যায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তাঁর খবরাখবরের বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রতিটি সংবাদ পর্যালোচনার আগে। আর বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণের (
দিক থেকে
) এই সাধারণ সত্যায়ন করা সম্ভব।
আবু লাহাবের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় একত্রিত হয়েছে: মহান আল্লাহর এই ইলম যে সে ঈমান আনবে না এবং সে বিষয়ে তাঁর সংবাদ প্রদান। এই কারণেই [জমহুর ওলামাগণ এর মাধ্যমে] অধিক দলিল পেশ করেছেন। আর তাকে ছাড়া অন্যান্য কাফির যেমন আবু জেহেল ও অন্যদের মধ্যে যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ জানেন যে তারা ঈমান আনবে না, তাদের ঈমান আনয়ন ঘটা অসম্ভবের মতো হয়ে গিয়েছে। কারণ যদি তা ঘটত, তবে তা মহান আল্লাহর ইলমের পরিপন্থী হতো, আর মহান আল্লাহর ইলমের বিরোধিতা করা অসম্ভব। কিন্তু এই অসম্ভবতা [বিবেকের দিক থেকে] অসম্ভাব্যতা নির্দেশ করে না, বরং এদের ঈমান আনয়ন সত্তাগতভাবে সম্ভব। মহান আল্লাহর ইলমের ক্ষেত্রে যা ঘটার তা ঘটবেই, তবে সম্ভব বিষয় কখনো অসম্ভবে পরিণত হয় না। কেননা ইলম (জ্ঞান) জ্ঞাত বিষয়ের (মালুম) ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না [যদি জ্ঞানের মাধ্যমে অনুধাবন করা হয়]। সুতরাং মহান আল্লাহর ইলম কিংবা আমাদের ইলম—কোনোটিই জ্ঞাত বিষয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে না।
যখন এটি প্রমাণিত হলো যে, ইলম জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার ভিত্তিতে অনুসরণ করে এবং তা তার ওপর প্রভাব ফেলে না, আর [কাফিরদের] ঈমান আনয়ন যখন সম্ভব ছিল, তখন তা তার সম্ভাবনার ওপরই বহাল থাকে, যদিও আল্লাহর ইলম তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, তাদের ক্ষেত্রে ঈমান আনয়ন এমন কোনো অক্ষমতা বা অসম্ভব ঘটনায় পরিণত হয় না যা সংঘটিত হওয়া অসম্ভব, শুধুমাত্র এই কারণে যে মহান আল্লাহর [ইলম] এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে যে তা তাদের থেকে প্রকাশ পাবে না? বরং বিষয়টি হলো, তাদের পক্ষ থেকে ঈমান আসাটা অন্য সব কাজের মতোই যা তাদের দ্বারা সম্পাদিত হয়, যেগুলোর শেষ পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ যা জানেন তা অন্য কেউ জানে না। আর এটি দ্বীনের মূলনীতি সংক্রান্ত (উসূলুদ দ্বীন) কিতাবসমূহে [উল্লিখিত] রয়েছে।
আমরা সেখানে উল্লেখ করেছি যে, জ্ঞাত বিষয়ের বিপরীত কিছু ঘটা সাধ্যায়ত্ত বা সম্ভবপর, আর ইনশাআল্লাহ দুটি মতের মধ্যে এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭০)
الله، [ويدل قوله] تعالى: (بلى قادرين على أن نسوى بنانه) فوصف نفسه بأنه قادر على ما علم أنه لا يكون، وكذلك قوله: (أو ليس الذي خلق * السماوات والأرض بقادر على أن يخلق مثلهم بلى وهو الخلاق العليم).
فصليتشعب مما تقدم (
…) مانع من فهم الخطاب، وإذا منع من فهم الخطاب منع من توجه التكليف لأن (ال
…) الخطاب، وهذا يقضي الافتقار إلى ميز وقصد، ليحصل بالقصد الامتثال، ويحصل با [القصد] (
…) على هذا، هل يصح تكليف الصبي أم لا؟ قيل أما الصغير الذي لا يعقل فتكليفه مبني (
…) تقدم القول فيه مبسوطا.
وأما اليافع ومن كان من الصبيان قد صح تمييزه وفهمه كالراشد (
…) يصح عقلاً لزوال ما قدمناه من المانع للتكليف، وهو عدم فهم الخطاب، وإذا (
…) التكليف العام المضاهي لتكليف المحتلم فالإجماع على أنه لم يرد. وأما من (
… ع) لم يرد بتكليفهم شيئًا من الأحكام. وذهب قوم من العلماء إلى أنهم كلفوا (
…) الزكاة في أموالهم، وغرامة ما أتلفوه، وإذا (ل
…) من يتولى تدبير الصغير، لا على الصغير في نفسه، وأبوه هو (
…) [إذا] مات، والإحداد، وقد أشار القاضي إلى كون (ال
…).
আল্লাহ, [এবং তাঁর এই বাণী] এর প্রমাণ দেয়: (হ্যাঁ, আমি তাঁর আঙুলের ডগাগুলো পর্যন্ত সুবিন্যস্ত করতে সক্ষম)। এখানে তিনি নিজেকে এমন সব বিষয়ের ওপর সক্ষম হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা ঘটবে না বলে তিনি জানেন। একইভাবে তাঁর বাণী: (যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের মতো সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, অবশ্যই; তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ)।
পরিচ্ছেদ
পূর্বোক্ত আলোচনা হতে এই শাখাটি নির্গত হয় যে, সম্বোধন উপলব্ধিতে বাধা থাকা। আর যখন সম্বোধন বা খিতাব বুঝতে বাধা থাকে, তখন শরয়ি বিধান বা তাকলিফ নিবদ্ধ হওয়া থেকেও বাধা প্রদান করে। কারণ সম্বোধন অনুধাবনই হলো বিধানের মূল ভিত্তি। এটি পার্থক্য করার সক্ষমতা এবং সংকল্পের প্রয়োজনীয়তাকে দাবি করে, যাতে সংকল্পের মাধ্যমে আনুগত্য অর্জিত হয় এবং এই সংকল্পের মাধ্যমেই বিধানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়। এর ভিত্তিতে প্রশ্ন ওঠে যে, শিশুর ওপর কি শরয়ি বিধান অর্পণ করা বৈধ হবে কি না? বলা হয়েছে যে, অবুঝ শিশুর ক্ষেত্রে তার ওপর বিধান অর্পণ করা এমন মূলনীতির ওপর নির্ভরশীল যার আলোচনা পূর্বে বিস্তারিতভাবে অতিক্রান্ত হয়েছে।
তবে কিশোর এবং সেই সব শিশু যাদের বিচারবুদ্ধি ও বোধশক্তি প্রাপ্তবয়স্কদের ন্যায় সঠিক হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিধান অর্পণ করা বৈধ। কেননা বিধান অর্পণের ক্ষেত্রে আমরা পূর্বে যে প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ সম্বোধন বুঝতে না পারা—তা এখানে দূরীভূত হয়েছে। আর যখন প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর অর্পিত সাধারণ বিধানের সদৃশ বিধানের প্রসঙ্গ আসে, তখন ইজমা বা ঐক্যমত হলো যে, তা তাদের ক্ষেত্রে শরয়িভাবে সাব্যস্ত হয়নি। আর যাদের ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের কোনো কিছুই নির্দেশিত হয়নি তারা স্বতন্ত্র। আলেমদের একটি দল মনে করেন যে, তাদের ওপর কতিপয় আর্থিক বিধান অর্পণ করা হয়েছে, যেমন তাদের সম্পদের জাকাত প্রদান এবং তাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মালের ক্ষতিপূরণ প্রদান। আর যখন এই বিধানের...
) যিনি অপ্রাপ্তবয়স্কের বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, স্বয়ং অপ্রাপ্তবয়স্কের সত্তার ওপর নয়, এবং তার পিতা হলেন (
উক্ত অভিভাবক
) [যখন] তিনি মৃত্যুবরণ করেন, এবং শোক পালন (ইহদাদ), এবং কাজী এই মর্মে ইঙ্গিত করেছেন যে (
বিষয়টি
).
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭১)
فصل: أحكام المكلف(ص 2) ممكن فيه وهو (
… دقه) عادة اطردت والعوائد لا تستبعد، ولا يقال فيها الاحتصاص في مثل هذا بزمن دون زمن، وعدل أيضًا في الرد على (
…) قال: لو كان عند اختلافه يطرأ عليه العقل لأحس طريان ذلك عليه، وهذا أيضًا قاطع، لأنا وإن سلمنا أنه لابد أن يحس الحي بطل ما طرأ عليه من الصفات المشترط فيها الحياة، فإن هذه المعارضة (تلد
…) له، فأنت تعلم أنه قد مرت به سنون وهو غير عاقل، ثم عقل فخبرا عن الصبي متى أحس بهجوم العقل عليه قبل بلوغه. وهذا لا سبيل لتحديده وضبطه، وهذه أحوال على التدريج يخفى كثير منها عن الحس على مقتضى الفطرة التي فطر الله الناس عليها في التنمية للأعضاء والعقول، وبسط هذا يخرج إلى علوم أخر، وإن كان لابد من مخالفة القاضي في هذا فأمثل [ما] يعول عليه عندي أن يقال: قد اتفق على أن العقل شرط في حصول العلوم النظرية. ولا يمكن من فقيد العقل أن يستنبط (
…) الأمور، ويكشف بالفطرة السديدة عن حقائقها، ونحن نرى كثيرًا من المراهقين نعلمهم دقائق العلوم فيتعلمونها ويأ [خذون] فيها أصولا فيفرعون عليها ويقيون، وقد يستنبطون منها وهذا لا يكون مع فقد العقل، وبين أيدينا الكلام في حقيقة الـ[ـعقل] فهناك يكشف عن حقيقته إن شاء الله.
وأما خطاب من لا يعقل وقد كان عاقلا كالسكران والنائم، وكل من [فقد العقل] فالقول فيه على ما تقدم من البناء على تكليف مالا يطاق، وقد قدمنا حقيقة العلة في هذا المعنى بأن قلنا بمنع (
…) الجمهور من الحققين على أن السكران والنائم غير مخاطبين بحكم من الأحكام أصلا، ومن الناس من ذهب إلى كونهم مخاطبين (
…) بالأحكام، وإن احتج هؤلاء بتوجه قضاء ما فات من صلاة وصيام عليهم، أو غرامة متلف، كان جوابهم أن هذا الخطاب [توجه إليهم] بعد أن تابت عقولهم إليهم فخوطبوا حينئذ بقضاء ما فات من الصلوات حال النوم والسكر، فإذا صرفنا الخطاب إلى حا [لة كونه] عاقلا إما قبل النوم والسكر أو بعدهما وقع الخطاب في حق عاقل، وخطاب العاقل لا يستحيل، وصارت
পরিচ্ছেদ: মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি)-এর বিধানসমূহ
(পৃষ্ঠা ২) এতে তা সম্ভব এবং এটি একটি সূক্ষ্ম ও নিয়মিত অভ্যাস যা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। আর অভ্যাসগত বিষয়গুলোকে অসম্ভব মনে করা যায় না। এ জাতীয় ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়কে বাদ দিয়ে অন্য কোনো সময়ের জন্য একে নির্দিষ্ট করার অবকাশ নেই। তিনি প্রতিপক্ষের খণ্ডনেও সঠিক পন্থা অবলম্বন করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: যদি তার পরিবর্তনের সময় বুদ্ধি বা আকল তার মধ্যে নতুনভাবে সঞ্চারিত হতো, তবে সে অবশ্যই সেই আগমনের বিষয়টি অনুভব করতে পারত। এটিও একটি অকাট্য প্রমাণ। কারণ, আমরা যদি মেনেও নেই যে কোনো জীবিত সত্তার মধ্যে জীবনের শর্তযুক্ত গুণাবলি হঠাৎ দেখা দিলে তা অবশ্যই অনুভব করা উচিত, তবুও এই আপত্তিটি তার জন্য নতুন প্রসঙ্গের জন্ম দেয়। আপনি জানেন যে, তার ওপর দিয়ে অনেক বছর এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে যখন সে বুদ্ধিমান ছিল না, অতঃপর তার আকল বা বুদ্ধি হয়েছে। সুতরাং সেই শিশুটির বিষয়ে বলুন, সাবালক হওয়ার আগে বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির এই আকস্মিক উপস্থিতি সে কখন অনুভব করেছিল? এটি নির্ধারণ ও সুনির্দিষ্ট করার কোনো পথ নেই। এগুলো হলো পর্যায়ক্রমিক অবস্থা, যার অনেক কিছুই মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতির আড়ালে থাকে। এটি সেই স্বভাবজাত নিয়মের অনুগামী, যার ওপর আল্লাহ মানুষকে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছেন। এর বিস্তারিত আলোচনা অন্য শাস্ত্রের প্রসঙ্গের দিকে নিয়ে যাবে। আর যদি এই বিষয়ে কাজীর বিরোধিতা করা অপরিহার্য হয়, তবে আমার মতে যার ওপর নির্ভর করা যায় এমন সর্বাপেক্ষা উপযোগী কথা হলো: এই বিষয়ে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তাত্ত্বিক জ্ঞান লাভের জন্য আকল বা বুদ্ধি একটি শর্ত। বুদ্ধিহীন ব্যক্তির পক্ষে বিষয়াদির গূঢ় রহস্য উদ্ঘাটন করা এবং সঠিক বিচারবুদ্ধি দ্বারা সেগুলোর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা সম্ভব নয়। আমরা অনেক কিশোরকে দেখি যাদেরকে আমরা জ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো শিক্ষা দেই এবং তারা তা শিখে নেয়। তারা তাতে মূলনীতিগুলো আয়ত্ত করে, অতঃপর তার ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখা বিন্যস্ত করে এবং তা সংরক্ষণ করে। এমনকি কখনও কখনও তারা তা থেকে নতুন সিদ্ধান্তও গ্রহণ করে। বুদ্ধি বা আকলের অভাব থাকলে এমনটা হওয়া সম্ভব নয়। আমাদের সামনে আকলের স্বরূপ নিয়ে আলোচনার অধ্যায় আসছে, সেখানে ইনশাআল্লাহ এর প্রকৃত পরিচয় উন্মোচিত হবে।
আর যার বিবেকবুদ্ধি নেই অথচ সে পূর্বে বুদ্ধিমান ছিল, যেমন মাতাল ও নিদ্রিত ব্যক্তি এবং যারা [বিবেকবুদ্ধি হারিয়েছে], তাদের প্রতি সম্বোধনের বিষয়টি সাধ্যাতীত দায়িত্বারোপের (তাকলিফ মা লা ইউতাক) ভিত্তিতে ইতিপূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভরশীল। আমরা এই অর্থের প্রকৃত কারণ ইতিপূর্বে পেশ করেছি এই কথা বলার মাধ্যমে যে,
অধিকাংশ গবেষক আলিমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাতাল ও নিদ্রিত ব্যক্তি কোনো বিধানের মাধ্যমেই মূলগতভাবে সম্বোধিত নয়। আবার মানুষের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা মনে করেন যে তারা বিধানের মাধ্যমে
প্রকৃতপক্ষে সম্বোধিত। যদি তারা যুক্তি দেখান যে তাদের ওপর ছুটে যাওয়া নামাজ ও রোজা কাজা করা কিংবা বিনষ্ট করা মালের ক্ষতিপূরণ দেওয়া আবশ্যক হয়, তবে তার উত্তর হলো, এই সম্বোধন [তাদের প্রতি তখনই করা হয়েছে] যখন তাদের বিবেকবুদ্ধি তাদের মাঝে ফিরে এসেছে; তখন তাদের ঘুমের অবস্থা বা মত্ত অবস্থায় ছুটে যাওয়া নামাজ কাজা করার জন্য সম্বোধন করা হয়েছে। সুতরাং আমরা যদি সম্বোধনকে তার সুস্থ মস্তিস্ক [সম্পন্ন হওয়ার অবস্থার দিকে] ফিরিয়ে নিই—তা চাই নিদ্রা ও মত্ততার পূর্বে হোক বা পরে—তবে এই সম্বোধন একজন বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। আর বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিকে সম্বোধন করা অসম্ভব নয়। এবং তা হয়ে গেল...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭২)
الأفعال حال الـ[عقل] (
… لما) على خطاب هذا العاقل.
وتعلق هؤلاء أيضًا بقوله تعالى: (لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون) (
…) أن الفقيد العقل، وقد أجيب عن هذا بأجوبة منها أن الآية منسوخة بتحريم شرب الخمر، و (هـ
…) إن النسخ إنما يكون بأمر يناقض الأول، وتحريم الخمر، ومنع السكران الصلاة حكمان متباينان وأيضًا (
…) لكان السكران قد خوطب في الشرع مدة من الزمان، ثم نسخ فلا يكون هذا الجـ[ـواب] (
…) باقي إلى الآن، وقيل أيضًا الآية وردت في السكر من النوم، وهذا إنما ينفع إذا قلنا [إن قوله] تعالى: (حتى تعلموا ما تقولون) يشير إلى أنه غير ثابت الميز، وقيل ايضًا إن المراد بالـ[ـكران] (
…) الذي لا ميز له، ونهي هذا عن الصلاة، لأن نشوته ومسرته يمنعان من استيفاء حقوق الله (
…) هذا الشراب من الجرأة والتهاون بالعظائم، والإعراض عن النظر في العواقب (
…) من يدافعه الأخبثان: الغائط والبول، لكون ذلك قاطعا له عن استيفاء (
…) (حتى تعلموا ما تقولون) فجعل غاية النهي العلم، فدل على أن ما قبل الغاية (
…) في هذا اللفظ توسع وتجوز، والمراد به علم ملتفت إلى النظر في الـ[عواقب] (
…) والمسكنة. وقد أخبرنا أن النشوان لا توجد فيه هذه الصفات، وقد (
…) بها الكافرون (
…) فيها، وهذا إذا كان معه الميز.
ولكن قصد به (ال
…) تعالى الله (
…) (ص 3) لتأتي في النظر الأول
বুদ্ধির বিদ্যমানতায় কর্মসমূহ
সেই প্রেক্ষাপটে এই বুদ্ধিমান ব্যক্তির প্রতি সম্বোধনের ওপর নির্ভরশীল।
তারা মহান আল্লাহর বাণী দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন: "তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা বুঝতে পারো।"
নিশ্চয়ই এটি প্রমাণ করে যে বুদ্ধিহীন ব্যক্তির বিষয়টি সম্পর্কে এই মর্মে উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, আয়াতটি মদ্যপান হারামের নির্দেশের মাধ্যমে রহিত হয়ে গিয়েছে। আর
এর কারণ হলো রহিতকরণ কেবল পূর্ববর্তী বিষয়ের বিপরীত কোনো বিধানের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। অথচ মদ্যপান হারাম করা এবং নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সালাত থেকে বিরত রাখা—এই দুটি পৃথক বিধান। এছাড়াও
যদি বিধানটি ভিন্ন হতো তবে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শরয়ি সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত থাকতো এবং পরবর্তীতে তা রহিত হতো; ফলে এই উত্তরটি
শরয়ি দৃষ্টিতে বর্তমানে আর কার্যকর থাকতো না। আরও বলা হয়েছে যে, এই আয়াতটি ঘুমের ঘোরের আধিক্যের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি তখনই যুক্তিযুক্ত হবে যখন আমরা বলবো যে, মহান আল্লাহর বাণী—"যতক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা বুঝতে পারো"—এটি বোধশক্তি স্থির না থাকাকে নির্দেশ করে। আরও বলা হয়েছে যে, নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি বলতে তাকে
বোঝানো হয়েছে যার হিতাহিত জ্ঞান নেই। তাকে সালাত থেকে নিষেধ করা হয়েছে কারণ তার মত্ততা ও আনন্দ মহান আল্লাহর হকসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে আদায়ে বাধা প্রদান করে।
কেননা সৃষ্টি হয় এই পানীয়র প্রভাবে দুঃসাহস, মহান বিষয়সমূহ অবজ্ঞা করা এবং পরিণাম চিন্তা থেকে বিমুখ হওয়া।
যেমনটি ঘটে থাকে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে মল-মূত্র চেপে রেখেছে, কারণ এই অবস্থাটি তাকে পূর্ণাঙ্গ ইবাদত থেকে
বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। "যতক্ষণ না তোমরা কী বলছো তা বুঝতে পারো"—এখানে নিষেধের চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে জ্ঞান বা বোধগম্যতাকে। এটি প্রমাণ করে যে, এই সীমার পূর্ববর্তী বিষয়টি
সম্বোধনের আওতায় ছিল।
) এই শব্দটির প্রয়োগে প্রশস্ততা ও রূপক ব্যবহারের অবকাশ রয়েছে; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো [পরিণামসমূহের] প্রতি লক্ষ্যকারী জ্ঞান (
) এবং দীনতা। তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মদমত্ত ব্যক্তির মধ্যে এই গুণাবলি পাওয়া যায় না, এবং (
) যার দ্বারা কাফিরগণ (
) তাতে লিপ্ত হয়; আর এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তার হিতাহিত জ্ঞান বজায় থাকে।
তবে এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো (সেই
) আল্লাহ তাআলা (
) (পৃষ্ঠা ৩) যাতে তা প্রথম পর্যালোচনায় উপস্থাপিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
شعبة منه فتشعب من النظر في التحسين والتقبيح (
…) وجوب عقلا، وشبه ذلك، والكلام في حكم الفعل قبل ورود الشرائع، وتشعب [منه أيضا] تكليف ما لا يطاق (كتكليف) الصبي والسكران والساهي، وتكليف الكفار بفروع الشريعة، وهذا الفصل في تكليف المكره متشعب (
…) في التحسين فاعلم أن المكره على فعل، النظر فيه من وجهين:
أحدهما: جواز ورود الشرع بالنهي عن فعل ما أكره على فعله.
والثاني: جواز وروده بالأمر بفعل ما اكره على فعله، فأما ورود الشرع بالنهي عما اكره على فعله فمتفق على جوازه (
…) وأكره رجلا على قتل مسلم لا يحل قتله، فإن الشرع قد ورد هاهنا بنهي هذا الرجل من قتل ما أكره على قتله
والثاني [قد] اختلف فيه الخائضون في هذا الفن، وهو صحة ورود الأمر بفعل ما أكره الإنسان على إيقاعه كنائم استيقظ في ضيق من (
…) فأكرهه إنسان على إيقاع الصلاة، فعندنا أن الشرع يصح أن يرد بأمره بالصلاة، وكذلك ورد، كيف؟ ومالك ئة وجماعة من العلماء يرون أن من قال: لا أصلي فيهدد بالقول إذا ضاق الوقت، ويقتل إن لم يصل، وقالت المعتزلة في هذا القسم (
…) الشرع يأمر المكره بفعل ما أكره على فعله.
ونكته النظر في النظر أنا قدمنا أن الإمكان والتمكين إذا حصلا صح، [فينظر] في حصول هذين الوصفين في هذا المكره، فإن حصلا له صح تكليفه، ولا شك أنهما قد حصلا له، لأن [ما] اكره عليه ممكن إيقاعه، بل زاد في الإمكان طبقة حتى خيل إلى المعتزلة أنه كالفعل الضروري الذي لابد منه (
…) المكره أيضًا متمكن من الإيقاع، بل زاد في التمكن طبقة لاضطراره إلى الفعل، فإذا كان المكره عالما بما يفعل مقتدرا (
…).
وقد وافقتنا المعتزلة على كونه مقتدرا، وأربوا علينا في وصفه بالاقتدار، فقالوا إنه قادر على فعل ما أكره عليه [وعلى] تركه بناء على أصلهم في القدرة المحدثة على الضدين،
এটি একটি শাখা, আর এটি বিচার-বুদ্ধির মাধ্যমে ভালো-মন্দ সাব্যস্তকরণ (তহসিন ও তকবিহ) থেকে উৎসারিত
একটি মাসআলা যা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ওয়াজিব হওয়া এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। অনুরূপভাবে শরিয়ত আসার পূর্বের কোনো কর্মের বিধানের বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত। এখান থেকে অসম্ভব সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণের বিষয়টিও উৎসারিত হয়েছে, যেমন শিশু, মাতাল এবং বিস্মৃত ব্যক্তির ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা, আর কাফেরদের ওপর শরিয়তের শাখা-প্রশাখাগুলোর বিধানের দায়িত্ব অর্পণ করা। আর বাধ্য করা ব্যক্তির ওপর বিধান অর্পণের এই পরিচ্ছেদটি
সংশ্লিষ্ট হয়েছে ভালো-মন্দ সাব্যস্তকরণের বিষয়ের সাথে। সুতরাং জেনে রাখুন যে, কোনো কাজের জন্য যাকে বাধ্য করা হয়েছে, সেই বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি দুই প্রকার:
প্রথমত: কোনো ব্যক্তি যা করতে বাধ্য হয়েছে, শরিয়তের পক্ষ থেকে তা করতে নিষেধ করা বৈধ হওয়া।
দ্বিতীয়ত: কোনো ব্যক্তি যা করতে বাধ্য হয়েছে, শরিয়ত কর্তৃক তা করার আদেশ প্রদান বৈধ হওয়া। তবে বাধ্য হওয়া কাজের ক্ষেত্রে শরিয়ত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত
যেমন উদাহরণস্বরূপ কোনো ব্যক্তিকে এমন একজন মুসলিমকে হত্যা করতে বাধ্য করা হলো যাকে হত্যা করা বৈধ নয়; এক্ষেত্রে শরিয়ত এই ব্যক্তিকে সেই কাজ থেকে নিষেধ করেছে যা করার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়ে এই শাস্ত্রের গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; আর তা হলো কোনো মানুষকে যা করতে বাধ্য করা হয়েছে তা সম্পাদন করার আদেশ দেওয়া সঠিক কি না? যেমন কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তি সময়ের সংকীর্ণতার
মধ্যে জাগ্রত হলো, অতঃপর কেউ তাকে নামাজ আদায় করতে বাধ্য করল। আমাদের মতে, শরিয়ত তাকে নামাজ আদায়ের আদেশ দেওয়া সঠিক এবং বাস্তবে আদেশও করা হয়েছে। আর তা কীভাবে? ইমাম মালিক ও একদল ওলামায়ে কেরাম মনে করেন যে, কেউ যদি বলে: 'আমি নামাজ পড়ব না', তবে সময় শেষ হয়ে আসলে তাকে মৌখিকভাবে ভয় দেখানো হবে এবং সে যদি নামাজ না পড়ে তবে তাকে হত্যা করা হবে। এই প্রসঙ্গে মুতাজিলাগণ বলেছে যে,
অস্বীকৃতি জানিয়ে যে শরিয়ত বাধ্য করা ব্যক্তিকে সেই কাজ করার আদেশ দেয় যেটির জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে।
গভীর পর্যালোচনার সূক্ষ্ম বিষয়টি হলো, আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, যখন সম্ভাবনা ও সক্ষমতা অর্জিত হয় তখন বিষয়টি শুদ্ধ হয়। সুতরাং এই বাধ্য হওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই দুটি বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতির বিষয়টি লক্ষ্য করতে হবে; যদি তার মধ্যে এই দুটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, তবে তার ওপর দায়বদ্ধতা বা শরয়ি বিধানারোপ শুদ্ধ হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দুটি গুণই তার মধ্যে অর্জিত হয়েছে। কারণ, তাকে যা করতে বাধ্য করা হয়েছে তা সম্পাদন করা সম্ভব। বরং সম্ভব হওয়ার বিষয়টি এখানে এক ধাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, এমনকি মুতাজিলাদের কাছে মনে হয়েছে যে এটি সেই অপরিহার্য কার্যের ন্যায় যা না করে কোনো উপায় নেই। তদুপরি বাধ্য হওয়া ব্যক্তিও কাজটি সম্পাদনে সক্ষম; বরং কর্ম সম্পাদনে বাধ্য হওয়ার কারণে তার সক্ষমতার স্তর আরও এক ধাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং বাধ্য হওয়া ব্যক্তি যখন যা করছে সে সম্পর্কে অবগত এবং সক্ষম থাকে তখন তার সক্ষমতা প্রকাশ পায়।
মুতাজিলারাও তাকে সক্ষম মনে করার ক্ষেত্রে আমাদের সাথে একমত হয়েছে, বরং তাকে সক্ষম হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তারা আমাদের ছাড়িয়ে গিয়েছে। তারা বলেছে যে, ব্যক্তিটি তাকে যা করতে বাধ্য করা হয়েছে তা সম্পাদন করতে এবং বর্জন করতে—উভয়টি করতেই সক্ষম। এটি তাদের সেই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে যেখানে তারা মনে করে যে, সৃষ্ট ক্ষমতা দুটি বিপরীতমুখী কাজের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হয়।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
فهم أحق منا بصحة تكليف هذا المكره، لأنا نحن لا نراه مقتدرا إلا (
…) الواقع، ولا قدرة له على ضده، فقد ثبت كونه قادرا عالما، وكذلك ثبت كونه مريدا قاصدا لإيقاع الفعل، فلا (
…) تكليف فعل ممكن لرجل متمكن زمن هذا الوصف الآخر الذي ذكرناه وهو القصد والإرادة شبه على المعتزلة (
…) إن لم تفعل كذا قتلناك، فإن الطبع يستحثه على التخلص من القتل، فهو كالمجبول على فعل أكره فيه، [فيكون ذلك على] مقتضى الجبلة والطبيعة، فإذا كان السبب في إيقاعه حفظ الحياة لم يتصور معرته (
…) أمر الله سبحانه، فإذا لم يكن سبب إيقاعه قصد التقرب به لم يثبت عليه، لأنه يكون ضد (
…) شرط التكلف الإثابة، فهذا معتمد القول في الرد عليهم، ثلاثة طرق: أحدهما المدافعة [والثاني الممانعة] والثالث المناقضة.
فأما المدافعة عن أصل المذهب فتتكلم عليها في أصول (
…) يستند أبو المعالي على أنه لا يجب على الله سبحانه أن يثيب أو يعاقب أو يكلف أو ر، وهناك علم بطلان ما قالوه في إحالة تكليف المكره. وأما الممانعة في تصور (
…) والطبيعي، وهذا باطل، لانا نعلم ضرورة أن من الممكن أن يمتنع المكره من فعل ما أكره عليه، (
…) صرامة وبالمراقب (؟) أن يقهر أويضام على رؤوس الناس يتجلد على أنواع العذاب ويظهر (
…) لصفة من غلب على مراده، وإذا كان هذا موجودا مشاهدا، صح أن يكون المكره لولا مخافة في إيقاعه ما خوفه الله سبحانه من عقابه لا (
…) ألم من أنواع عذابه (
…) للطبيعة، لا مطيعا لله سبحانه وقع هذا الذي أريناهم (
…) (ص 4) هذين (الو
…) يوقعها الإنسان.
বাধ্য করা হয়েছে এমন ব্যক্তির (মুকরাহ) ওপর শরয়ি দায়িত্বারোপের বৈধতার বিষয়ে তারা আমাদের অপেক্ষা অধিক প্রাধিকার রাখে। কারণ আমরা তাকে সংঘটিত বাস্তবতার বাইরে সক্ষম মনে করি না এবং এর বিপরীতে তার কোনো ক্ষমতা থাকে না। সুতরাং তার সক্ষম ও জ্ঞানী হওয়া যেমন প্রমাণিত, একইভাবে কাজটি সম্পাদনের ক্ষেত্রে তার ইচ্ছাকারী ও সংকল্পকারী হওয়াও প্রমাণিত। অতএব
আমরা যে অন্য বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছি, অর্থাৎ সংকল্প ও ইচ্ছা—সেই অবস্থায় একজন সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোনো সম্ভবপর কাজের বিধানারোপ করতে কোনো অন্তরায় নেই। মুতাজিলাদের নিকট
এই সংশয় তৈরি হয়েছে যে, "যদি তুমি এটি না করো তবে আমরা তোমাকে হত্যা করব।" কেননা মানুষের প্রকৃতি তাকে মৃত্যু থেকে মুক্তি পেতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে সে যে কাজে বাধ্য হয়েছে তা করার ক্ষেত্রে স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বশীভূত ব্যক্তির মতো হয়ে যায়, যা সৃষ্টিগত স্বভাব ও প্রকৃতির দাবি অনুযায়ী ঘটে থাকে। সুতরাং যদি সেই কাজ সম্পাদনের কারণ হয় জীবন রক্ষা করা, তবে মহান আল্লাহর নির্দেশের
অবমাননা এতে কল্পনা করা যায় না। আর যদি সেটি সম্পাদনের উদ্দেশ্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জন না হয়, তবে তা তার ওপর সাব্যস্ত হবে না। কারণ এটি
দায়িত্বারোপের শর্ত তথা প্রতিদান লাভের পরিপন্থী। তাদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে এটিই নির্ভরযোগ্য মত, যা তিনটি উপায়ে বিভক্ত: প্রথমটি প্রতিরক্ষা, দ্বিতীয়টি প্রতিরোধ এবং তৃতীয়টি হলো বৈপরীত্য প্রদর্শন।
মাযহাবের মূলনীতির পক্ষে প্রতিরক্ষার বিষয়ে
মূলনীতি শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়। ইমাম আবু আল-মাআলি এই ভিত্তির ওপর নির্ভর করেন যে, মহান আল্লাহর ওপর সওয়াব প্রদান, শাস্তি প্রদান কিংবা কোনো বিধান অর্পণ করা আবশ্যক নয়। আর সেখানেই বাধ্য ব্যক্তির ওপর বিধানারোপ অসম্ভব হওয়ার ব্যাপারে তাদের দাবির অসারতা জানা যায়। আর
স্বভাব ও প্রকৃতির ধারণার ক্ষেত্রে প্রতিরোধের বিষয়টি বাতিল। কারণ আমরা স্বতঃসিদ্ধভাবে জানি যে, যাকে বাধ্য করা হয়েছে তার পক্ষে সেই কাজ থেকে বিরত থাকা সম্ভব যার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে।
এই সম্ভাবনাই তার সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।
) কঠোরতা এবং পর্যবেক্ষকের মাধ্যমে তাকে জনসমক্ষে পরাভূত বা লাঞ্ছিত করা হবে, সে বিভিন্ন প্রকার শাস্তির মুখে ধৈর্য ধারণ করে এবং প্রকাশ করে (
তার সুদৃঢ় সংকল্প
) যা তার ইচ্ছার ওপর বিজয় লাভকারীর বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। আর যখন এটি বিদ্যমান ও দৃশ্যমান বাস্তবতা, তখন এটি সঠিক যে, যাকে বাধ্য করা হয়েছে সে যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর পক্ষ থেকে যে শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন তা কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা না করত, তবে সে (
বিচলিত হতো না
) তাঁর শাস্তির প্রকারভেদ থেকে আসা কোনো ব্যথার কারণে (
যা কেবল
) প্রকৃতির তাড়নায় হতো, আল্লাহ সুবহানাহুর প্রতি আনুগত্যের কারণে নয়। আমরা তাদের যা দেখিয়েছি তা-ই ঘটেছে (
তাদের ক্ষেত্রে
) (পৃষ্ঠা ৪) এই দুটি (বিষয় যা
বাস্তবে
) মানুষ নিজেই ঘটিয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
وقد قسمت الأوائل الأفعال ثلاثة أقسام طبيعيًا محضًا، [كهضم] المعدة للطعام [وإراديا محضا] كرد السلام، ومشتركا بين الطبيعة والإرادة كالسعال وما ذكروه معه، فمن قـ[ـائل] دخلت على المعتزلة الشبهة، ولا يخفى على عاقل فرق بين المشارك والمتمحض، وهذا لا يطلق [عليه] أرباب الأصول أنه مكره على الحركة لما سلب الاختيار فيها جملة، بخلاف المكره على الحركة.
وأما المناقضة فإن القاضي أبا بكر [رضي] الله عنه ناقضهم بالمكره على القتل، فإن العلماء قد أجمعوا على أنه منهي عنه مع إكراهه عليه فقد تحقق التكليف [مع] الإكراه، وهاهنا ذكر أبو المعالي أن هذا الإلزام هفا فيه القاضي هفوة عظيمة، وقد جانب هذا الرجل عادته (
…) في مصنفاته القديمة من التضاؤل للقاضي، إذا لاح له وجه مخالفة عليه، وطلب جميل المخارج لقوله، فلو سلك (
…) الطريقة لم يطلق مثل هذا القول، في مثل هذا الإلزام، كيف والقاضي لم يهف كما تصور، ولكنه نظر إلى المسألة [من جهة] ونظر القاضي إليها من جهة أخرى أما هو فإنه تتبع علة القول فلم يرَ الإلزام لازما لهم، لأنا ذكرنا عنهم، أن الحمل (
…) يقتضي إيقاعه طاعة لا لداعي الشرع، فلهذا لم يحسن تكليفه، وأما المأمور بالقتل المهدد بالقتل إن لم يفعل فإ [ن داعي الطبع] وداعي الشرع مختلفان، الطبع يدعوه إلى أن يقتل تخلصا من الهلاك، والشرع ينهاه عن ذلك، ويأمره (بج
…) أشد في المحنة، فالأجر يعظم فيه، فشتان بين صورة تقتضي الزيادة في الأجر، وصورة تقتضي عدم الأجر، وقد (
…) بزيادة الأجر في الوضوء عند شدة البرد، ولما كان داعي الشرع فيه ينازعه داعي الطبع، ولا شك أن من نظر [إلى المسألة] على مقتضى أصلهم، عرف أن ما ألزمه القاضي لهم غير لازم.
ومن نظر إلى المسألة من جهة تصور المذاهب كما قد (
…) على الوجه الثاني عرف أن ما ألزمهم لازم، وذلك أنه ليس إلا أحد أمرين إما أن يقدر أن الإكراه
পূর্ববর্তীরা কার্যাবলিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: নিছক প্রাকৃতিক, যেমন পাকস্থলী কর্তৃক খাদ্য পরিপাক; নিছক ইচ্ছাধীন, যেমন সালামের উত্তর প্রদান; এবং প্রকৃতি ও ইচ্ছার মধ্যে যৌথ, যেমন কাশি এবং এর সাথে তারা যা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং কেউ কেউ বলেন যে, মুতাজিলাদের ওপর সংশয় নিপতিত হয়েছে। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে যৌথ ও নিছক বিষয়ের পার্থক্য গোপন নয়। আর উসূলশাস্ত্রের ইমামগণ একে নড়াচড়ায় বাধ্য হওয়া বলেন না, কারণ এতে ইচ্ছাশক্তিকে পুরোপুরি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা নড়াচড়ায় বাধ্য করা ব্যক্তির অবস্থার বিপরীত।
আর খণ্ডনের বিষয়ে কাজী আবু বকর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হত্যার বিষয়ে বাধ্য করা ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে তাদের খণ্ডন করেছেন। কারণ ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, বাধ্য করা সত্ত্বেও এটি নিষিদ্ধ। ফলে বাধ্যবাধকতা বা জবরদস্তির সাথেও শরয়ী বিধান বা তাকলিফ কার্যকর হওয়া প্রমাণিত হয়েছে। এখানে আবুল মাআলী উল্লেখ করেছেন যে, কাজী এই বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের পদস্খলন ঘটিয়েছেন। আর এই ব্যক্তি তাঁর পুরনো গ্রন্থসমূহে কাজীর প্রতি বিনয় প্রদর্শনের যে রীতি ছিল তা পরিহার করেছেন, যখনই তাঁর সামনে কাজীর বিরোধিতার কোনো দিক স্পষ্ট হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের সুন্দর ব্যাখ্যা কাম্য ছিল। তিনি যদি সেই পথ অবলম্বন করতেন, তবে এই ধরনের খণ্ডনের ক্ষেত্রে এমন উক্তি করতেন না। অথচ কাজী তেমন কোনো ভুল করেননি যেমনটি তিনি ধারণা করেছেন; বরং তিনি বিষয়টি এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন আর কাজী বিষয়টি অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। আর তিনি মতের কারণ অনুসন্ধান করেছেন, ফলে তাদের ওপর এই বাধ্যবাধকতা জরুরি বলে মনে করেননি। কারণ আমরা তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছি যে, কোনো বিষয় চাপিয়ে দেওয়া বা দায়বদ্ধ করা...
) এর বাস্তবায়ন আনুগত্য দাবি করে, যা শরীয়তের প্রেরণা থেকে নয়; এ কারণেই তাকে দায়বদ্ধ করা সমীচীন হয়নি। আর যাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং না করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার ক্ষেত্রে স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং শরীয়তের নির্দেশ ভিন্ন ভিন্ন। স্বভাব তাকে ধ্বংস থেকে বাঁচতে হত্যার আহ্বান জানায়, আর শরীয়ত তাকে তা থেকে নিষেধ করে এবং তাকে আদেশ দেয় (যা
পরীক্ষার দিক থেকে) অধিকতর কঠিন, তাই এতে সওয়াবও বৃদ্ধি পায়। সুতরাং যে অবস্থা সওয়াব বৃদ্ধির দাবি রাখে এবং যে অবস্থা সওয়াব না পাওয়ার দাবি রাখে, তাদের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। আর (
অধিক সওয়াবের কথা প্রমাণিত হয়েছে) প্রচণ্ড শীতের সময় ওযুর ক্ষেত্রে সওয়াব বৃদ্ধির বিষয়ে, কারণ তখন শরীয়তের প্রেরণার সাথে স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা বিষয়টি তাদের মূলনীতির দাবি অনুযায়ী বিবেচনা করবেন, তারা বুঝতে পারবেন যে কাজী তাদের ওপর যা আরোপ করেছেন তা আবশ্যক নয়।
আর যারা মাযহাবসমূহের ধারণার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিবেচনা করবেন, যেভাবে (
দ্বিতীয় পদ্ধতিতে বর্ণনা করা হয়েছে), তারা বুঝতে পারবেন যে যা তাদের ওপর আবশ্যক করা হয়েছে তা অপরিহার্য। আর তা এ কারণে যে, বিষয়টি কেবল দুটি বিষয়ের একটি; হয় জবরদস্তিকে এমন মনে করা হবে যে
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
لا يسلب الفعل حكم (
… ار) فيستوي السؤالان، ويصح تكلف المكره قتل من أكره على قتله، ويصح نهيه عن قتل من أكره على قتله، لأنه في (
…) أن يقال أن الإكراه يلحق الفعل بالأفعال الطبيعية والأمور الضرورية، فيستوي أيضًا على هذا السؤالان (
…) يصح أن يؤمر به، لأنه يؤمر حينئذ بفعل ضروري، وهذا لا يصح عندكم، كما لا يصح أن يؤمر الإنسان بهضم (
…) على قتل رجل، فلا يصح أن ينهي عن قتله، كما لا يصح أن ينهي عن الأفعال الضرورية، ولا يصح (
…) طعامه.
وعجبا لأبي المعالي كيف أطلق في هذا الإلزام ما أطلقه في القاضي وهو (
…) الخصم، ولا خلاف بين النظار أن المناقضة تكون على أصل صاحب المذهب وهو (
…) أن يتفقا على نقل الكلام إلى صحة مذهب المخالف، وهو قد علم أن القاضي لا يشترط (
…) التكليف ولا يمنع تكليف ما لا يطاق، ولا خفاء عن جواز هذا الإلزام لازم (عد
…) اشترطوه في هذا التكليف، أفيحسن أن يطلق مثل هذا القول، ولامناقضة على (
…) أن القاضي يضطرهم إلى أن تكون المناقضة صحيحة على أصلهم لأن نكتتهم التي عولوا [عليها] (
…) إلى الطبيعة ولا شك أنهم يمنعون تعلق التكليف بالطبيعات الضروريات (فع
…) ويعلم صحة [ما اعتذ] رنا عن القاضي به، وبيناه.
وقد اندرج في كلامنا العذر عن أبي المعالي (
…) كالأقد، ولكنه أساء في إطلاق ما أطلق على القاضي [وهذا] واضح لمن تدبره.
কাজটি
ইখতিয়ার বা ইচ্ছার বিধানকে ছিনিয়ে নেয় না, ফলে উভয় প্রশ্নই সমান হয়ে যায়। যাকে কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে, তাকে হত্যার জন্য বাধ্য করা ব্যক্তির জন্য সেই কাজের বিধান আরোপ করা বৈধ এবং তাকে সেই হত্যা থেকে নিষেধ করাও বৈধ। কারণ এটি
সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে যে বলা হতে পারে, বাধ্যবাধকতা কাজটিকে প্রাকৃতিক ক্রিয়া ও আবশ্যকীয় বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। এই ভিত্তিতেও উভয় প্রশ্ন সমান হয়ে যায়
যে এটি কি করা বৈধ হবে? কারণ তখন তাকে একটি আবশ্যকীয় কাজের আদেশ দেওয়া হবে, আর এটি আপনাদের নিকট বৈধ নয়; যেমন কোনো মানুষকে
খাদ্য পরিপাক করার নির্দেশ দেওয়া বৈধ নয়। তেমনি কোনো ব্যক্তিকে হত্যার ক্ষেত্রেও তাকে সেই হত্যা থেকে নিষেধ করা বৈধ হবে না, যেমন আবশ্যকীয় কাজসমূহ থেকে নিষেধ করা বৈধ নয় এবং তার
খাদ্য হজম করা বন্ধ করা বৈধ নয়।
আবু আল-মা'ালীর ক্ষেত্রে বিস্ময় জাগে যে, তিনি আল-কাদীর বিরুদ্ধে এই বাধ্যবাধকতার বিষয়ে এমন মন্তব্য কীভাবে করলেন, যেখানে তিনি নিজেই ছিলেন
প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডনকারী। তাত্ত্বিকদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, স্ববিরোধিতা বা আপত্তি সাব্যস্ত হয় মাযহাবের প্রবর্তকের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই। আর এটি
অসম্ভব যে তারা উভয় পক্ষই বিরোধীর মাযহাবের সঠিকতার দিকে আলোচনা স্থানান্তরে একমত হবে। অথচ তিনি জানতেন যে, আল-কাদী দায়িত্বারোপ বা তাকলিফের জন্য
সক্ষমতাকে শর্ত করেন না এবং অসম্ভব কোনো কাজের দায়িত্বারোপকেও অসম্ভব মনে করেন না। সুতরাং এই বাধ্যবাধকতার বৈধতা স্পষ্ট যা
শর্তের অনুপস্থিতিতে তারা এই দায়িত্বারোপের ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে গণ্য করেছিলেন। এমতাবস্থায় এমন কথা বলা কি সমীচীন? অথচ
এই যুক্তিতে কোনো স্ববিরোধিতা নেই যে, আল-কাদী তাদের বাধ্য করছেন যাতে তাদের মূলনীতি অনুযায়ী স্ববিরোধিতাটি সঠিক হয়। কারণ তাদের সেই সূক্ষ্ম যুক্তি যা তারা নির্ভর করেছিলেন [তার ওপর]...
প্রকৃতির দিকে ) প্রকৃতির অভিমুখে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা অপরিহার্য প্রাকৃতিক বিষয়গুলোর সাথে শরয়ি দায়বদ্ধতার সম্পর্ককে অস্বীকার করেন (অতঃপর
এর দ্বারা ) এবং কাজীর পক্ষ থেকে আমরা যে ওজর বা ব্যাখ্যা পেশ করেছি ও যা বর্ণনা করেছি, তার যথার্থতা এর মাধ্যমে জানা যায়।
আর আমাদের আলোচনার মধ্যে আবুল মালি-র পক্ষ থেকেও ওজর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে (
যেমনটি ) পূর্ববর্তীদের ন্যায়, তবে তিনি কাজীর ওপর যা আরোপ করেছেন তাতে তিনি ভুল করেছেন [এবং এটি] সেই ব্যক্তির নিকট স্পষ্ট যে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
فصل [خطاب الكفار بالفروع](
…) من كفر نتكلم على هذه المسألة [في] خمسة أوجه:
(
…) (ص 5) ما لا يطاق كما تقدم تنبيهنا عليه، فيما قبل، وأما القاضي فاقتضى عنده (
…) لعموم أن النظر فيها نظر فيما اشتمل العموم عليه، كنظره في دخول العبيد في عموم الخطاب، و (
…) ولا شك (
…) إلى جواز الخطاب عقلا، فالرتبة ما رتب أبو المعال، وإن التفت فيها إلى ورود السمع بخطابهم (
…) ما رتب القاضي.
وأما الوجه الثاني وهو نقل المذاهب، فاعلم أن المأمور به، إما أن يكون مرتبا على ما قبله، وإما أن لا ترتيب فيه.
فإن كان غير مرتب على ما قبله كأول واجب أمر به المكلف من المعارف، فإن هذا لا يُمترى [فيه] فحصل الخطاب به، ولكن مع هذا فالذي عليه أئمة المسلمين أن الكفار [مأمورون] بعقائد الإيمان، من تصديق الله ورسله.
وحكي عن [قوم] من المبتدعة، أن الكفار غير مخاطبين بهذا المعارف، واختلفت طريقة هؤلاء، فمنهم من رأى المعارف ضرورية [فلهذا لم يؤمروا] بها، ومنهم من رآها كسبية، ولكنه منع الخطاب لما يذكر في غير هذا الفن.
وزعم الجاحظ أن هذه المعارف [ذات] وجهين: النظر والاستدلال، والطبع، فكأنها عنده مشتركة، ورأى أن من استدل فلم يعرف معذور، لأن الطبع (
…) به، وهذه ترهات من المذاهب، والمسلمون على خلافها، وإذا التفت إلى نقضها فذلك يذكر في كتب علم الكلام [أما] سوى هذه المعارف كالعبادات البدنية من صلاة وحج، وغيرهما فاختلف الناس في الخطاب لكافر فأضيفه؟ إلى الشافعي أنه رأى توجه الخطاب إلى الكافر بذلك.
وذكر عن أبي حنيفة أنه رأى أن الكافر لا يخاطب بذلك.
وأما مالك فلم أعثر له فيها على نص، ولكن ذكر ابن خويز منداد من أصحابنا أن الصحيح عنده أن الكفار غير مخاطبين بذلك [وهو] مقتضى مذهب مالك، واستقرأ هذا من
পরিচ্ছেদ [কাফিরদেরকে শরীয়তের শাখা-প্রশাখার বিধান পালনের নির্দেশ প্রদান প্রসঙ্গে]
কাফিরদের অবস্থা সম্পর্কে আমরা এই মাসয়ালাটি পাঁচটি দিক থেকে আলোচনা করব:
পূর্ববর্তী আলোচনায় যা সাধ্যের অতীত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, এখানেও সেটি প্রযোজ্য। (পৃষ্ঠা ৫) যেমনটি আমরা পূর্বে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছি। আর কাজীর নিকট বিষয়টি এমন ছিল যে, এর সাধারণত্বের প্রতি লক্ষ্য করা মূলত ওই সকল বিষয়ের পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত যা এই সাধারণ অর্থটি শামিল করে। যেমন তিনি শরীয়তের সাধারণ সম্বোধনে দাসদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। আর এক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই যে, বুদ্ধিগতভাবে কাফিরদের সম্বোধন করা বৈধ। সুতরাং এর বিন্যাস হবে ইমাম আবু আল-মাআলী যেভাবে বিন্যস্ত করেছেন সেই অনুযায়ী। আর যদি তাদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে শরয়ী প্রমাণের উপস্থিতির দিকে লক্ষ্য করা হয়, তবে বিন্যাসটি কাজী যা নির্ধারণ করেছেন তদ্রূপ হবে।
দ্বিতীয় দিক হলো বিভিন্ন মাযহাব বা মতামতের বর্ণনা। জেনে রাখুন যে, নির্দেশিত বিষয়টি হয় তার পূর্ববর্তী বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল হবে, অথবা তাতে কোনো ধারাবাহিকতা থাকবে না।
যদি বিষয়টি তার পূর্ববর্তী কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়, যেমন মারেফাত বা আল্লাহর পরিচয় অর্জনের ক্ষেত্রে মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপর অর্পিত প্রথম ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কর্তব্য; তবে এ বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই যে এর নির্দেশ কার্যকর হবে। তবে এতদসত্ত্বেও মুসলিম আইম্মায়ে কেরাম যে মতের ওপর একমত তা হলো, কাফিররা ঈমানের আকিদাসমূহ তথা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের সত্যায়ন করার বিষয়ে আদিষ্ট।
বিদআতিদের একটি দলের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কাফিররা এই মারেফাত বা পরিচয়মূলক জ্ঞানের বিষয়ে আদিষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে তাদের পথ ও মত ভিন্ন ভিন্ন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মারেফাতকে 'জরুরি' বা স্বতঃসিদ্ধ মনে করেন, তাই তাদের মতে এর নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে 'কাসবি' বা অর্জনযোগ্য মনে করেন, তবে তারা এই শাস্ত্রের বাইরে আলোচিত অন্য কোনো কারণে এই নির্দেশ প্রদানকে অসম্ভব মনে করেছেন।
আল-জাহিয দাবি করেছেন যে, এই জ্ঞানসমূহ দুই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ: পর্যবেক্ষণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান এবং স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। যেন এগুলো তার নিকট পরস্পর সম্পৃক্ত। তিনি মনে করতেন যে, ব্যক্তি প্রমাণ তালাশ করার পরও যদি সত্য জানতে না পারে তবে সে নির্দোষ বা ক্ষমাপ্রাপ্ত, কারণ প্রবৃত্তি তাকে
সত্য গ্রহণে বাধা প্রদান করে। এগুলো বিভিন্ন মতবাদের অসার কথা এবং মুসলিমগণ এর বিরোধী। যদি এই মতবাদগুলো খণ্ডন করার বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবে তা ইলমুল কালামের কিতাবসমূহে বর্ণিত রয়েছে। তবে এই জ্ঞানসমূহ ব্যতীত অন্যান্য বিষয়, যেমন সালাত ও হজের মতো শারীরিক ইবাদতসমূহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে কাফেরদের প্রতি শরীয়তের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার ব্যাপারে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম শাফিয়ীর প্রতি এ মতটি আরোপ করা হয়েছে যে, তিনি কাফেরদের প্রতিও এই বিধানসমূহ নির্দেশিত হওয়ার বিষয়টি মনে করতেন।
এবং ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মনে করতেন কাফেররা এই বিধানগুলোর দ্বারা সম্বোধিত নয়।
আর ইমাম মালিকের ক্ষেত্রে আমি এ বিষয়ে কোনো সরাসরি বর্ণনা পাইনি; তবে আমাদের মালিকি আলিমদের অন্তর্ভুক্ত ইবনে খুওয়াইয মানদাদ উল্লেখ করেছেন যে, তার নিকট সঠিক মত হলো কাফেররা এগুলোর দ্বারা সম্বোধিত নয় এবং এটিই ইমাম মালিকের মাযহাবের দাবি। তিনি এটি এখান থেকে বিশ্লেষণ করেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
قوله: أن الكافر لا يلزمه طلاق، ولا عتاق، ولا تقام عليه الحدود، وانفصل عن [ذلك] في السرقة، وإقامة حد الحرابة عليها، بأن ذلك لضرورة صيانة المال، بخلاف غيرها من الحدود التي القصد بها كفارة [لأهلها] فإنها لا تقام على الكافر، لأنه مع كفره لا يخاطب بما يكفر عنه هذا الذنب.
وكثيرًا ما يجري في المذاكرات تخريج اضطراب أهل المذهب في مسائل الاختلاف في هذا الأصل، من يخرج اضطراب المذهب (
…) المحيض إذا أراد زوجها المسلم وطئها على هذا الأصل، وكذلك يخرج مسألة المسلم المسافر [إذا كانت] زوجته النصرانية طاهرة فأراد وطئها لكونها مفطرة على مقتضى دينها وهو (
…) يستبعد استقراء مسائل الأصول من الفروع.
ونحن إن خضنا في المعاذير عن هذه المسائل و (لع
…) فيما أمليناه من كتب الفقه، ومن الناس من ذهب إلى أن الكفار مخاطبون بالمنهيات دون بالمأمورات والذين يرون أن الكـ]ـفار مخاطبون فإنه يرون [هم] مخاطبين شرعا، لا عقلا، وأما النفون خطابهم فيخالفون على (قو
…) و [هذه] جملة المذاهب.
وأما الوجه الثالث فالنكتة فيه أن الصلاة والصيام مما يمكن أن (
…) لكن يأتي اكتسابه فالأمر به سائغ، ولو منع بعضه لمنع كله، لكن المكتسبات تقع (
…) بعضها إلى مقدمات مكتسبات لا يخرج الأواخر أن يكون ممكنة متأتية كإمكان الأوائل (
…) أن يكتب، والقلم موضوع بين يديه يمكنه تناوله، ولا يفرق أحد من العقلاء بين هذين (
…) إلا بأن يقدم فعلا آخر قبلهما وهو حركته إلى القلم، لكن لما كانت حركته إليه (بة
…) وإن كان لا يمكنه إيقاع صلاة متقرب بها إلى الله سبحانه، وهو مصر على كـ[ـفرة] (
…) وما ذاك إلا لكون (
…) (ص 6) ثم يقالل [ل] (
…) [إذا]
তার বক্তব্য: কাফির ব্যক্তির ওপর তালাক ও দাসমুক্তি কার্যকর করা আবশ্যক হয় না এবং তার ওপর হদ বা শরয়ি দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা হয় না। তবে চুরি এবং ডাকাতির (হিরাবাহ) দণ্ডের ক্ষেত্রে এই বিধান ভিন্ন, কারণ তা সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার খাতিরে করা হয়; যা অন্যান্য দণ্ডবিধির বিপরীত, যেগুলোর উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য কাফফারা বা পাপ মোচন করা। সুতরাং কাফির ব্যক্তির ওপর তা প্রয়োগ করা হয় না, কারণ সে কুফরিতে লিপ্ত থাকায় এমন বিষয়ের সম্বোধিত হয় না যা তার এই গুণাহকে মোচন করতে পারে।
ইলমি আলোচনা বা মুজাকারায় প্রায়শই এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন মতভেদের ক্ষেত্রে মাযহাবের অনুসারীদের অসামঞ্জস্যতা নিরূপণ করা হয়। কেউ কেউ মাসিকের মাসআলায় মাযহাবের অসামঞ্জস্যতা নিরূপণ করেন যখন তার মুসলিম স্বামী এই মূলনীতির ভিত্তিতে তার সাথে সহবাস করতে চায়। একইভাবে সফররত মুসলিম ব্যক্তির মাসআলাটিও নিরূপণ করা হয় যখন তার খ্রিস্টান স্ত্রী পবিত্র থাকে এবং সে তার সাথে সহবাস করতে চায় এই কারণে যে, সে তার ধর্মের বিধান অনুযায়ী রোজা পালন করছে না। আর ফروع বা শাখা মাসআলা থেকে উসূল বা মূলনীতির মাসআলাসমূহ অনুসন্ধান করাকে সুদূরপরাহত মনে করা হয়।
আমরা যদি এই মাসআলাগুলোর ওজর বা ব্যাখ্যার গভীরে প্রবেশ করি এবং আমাদের ফিকহ শাস্ত্রে যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি তা উল্লেখ করি; তবে মানুষের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা মনে করে যে কাফিররা কেবল নিষেধগুলোর ব্যাপারে সম্বোধিত, আদিষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে নয়। আর যারা মনে করেন যে কাফিররা শরয়ি বিধানের সম্বোধিত, তারা মনে করেন তারা শরয়িভাবে সম্বোধিত, আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে নয়। পক্ষান্তরে যারা তাদের সম্বোধিত হওয়াকে অস্বীকার করেন, তারা বিভিন্ন মতামতের ভিত্তিতে ভিন্নমত পোষণ করেন এবং এগুলোই হলো মাযহাবসমূহের সারসংক্ষেপ।
আর তৃতীয় দিকের সূক্ষ্ম বিষয়টি হলো, সালাত ও সিয়াম এমন বিষয় যা সম্পাদন করা সম্ভব, তবে যেহেতু এগুলো অর্জন করার সুযোগ থাকে তাই এর নির্দেশ প্রদান করা বৈধ। যদি এর একাংশ নিষিদ্ধ করা হতো তবে তার পুরোটিই নিষিদ্ধ করা হতো, কিন্তু অর্জিত বিষয়সমূহ সংঘটিত হয় বাস্তবতার নিরিখে।
) এর কিছু অংশ অর্জিত ভূমিকার দিকে পর্যবসিত হয়, যা পরবর্তী বিষয়গুলোর সংঘটনকে প্রাথমিক বিষয়গুলোর সম্ভাবনার মতোই সহজসাধ্য হওয়া থেকে বিচ্যুত করে না (
এবং তা হলো এই যে
) তিনি লিখবেন, আর কলমটি তার সামনেই রাখা আছে যা গ্রহণ করা তার পক্ষে সম্ভব; আর বুদ্ধিমানদের মধ্যে কেউ এই দুই অবস্থার মাঝে কোনো পার্থক্য করেন না (
তবে বিশেষ ক্ষেত্রে
) তবে তাদের উভয়ের পূর্বে অন্য একটি কাজ সম্পাদন করার মাধ্যমে, আর তা হলো কলমের দিকে তার অগ্রসর হওয়া; কিন্তু যেহেতু কলমের দিকে তার সেই চলনটি ছিল বিশেষ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত (
এমনকি এটিও প্রমাণিত
) যদিও তার পক্ষে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করা সম্ভব নয়, এমতাবস্থায় যে সে তার কুফরির ওপর অটল রয়েছে (
আর এটি এজন্যই
) আর তা কেবল এই কারণে যে (
সুস্পষ্টভাবে
) (পৃষ্ঠা ৬) অতঃপর বলা হবে (
যখন
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
فرضناه مأمورا بهما بشرط أن نقدم الإيمان، صار تاركا واجبا عليه، مع تأتي إيقا [دعه وهوي ما بيناه، فحصلت المعاقبة.
نعم لو فرضنا خطاب الكافر بالصلاة ناجزا لفور الخطاب من غير مهلة يوقع فيها الإيمان [كان] هذا خطابا بالمحال، لأن الصلاة إذا أمر أن يتقرب بها إلى الله سبحانه في الحال التي لا يعرف فيها الله، والتقرب يتضمن معرفة الله فإنه كلف الجمع بين العلم والجهل، وهذا لا يمكن، فمن منع تكليف ما لا يطاق منعه، ومن جوزه أجازه، وقد مضى [الكلام] فيه، ويناقض من أحال خطاب الكافر بالصلاة بخطابه بتصديق الرسل، فإن تصديق الرسل قد أمر الكافر به، باتفاق أهل [العلم] المعتمد على قولهم، وقد علم أن تصديق الرسل لا يصح إلا بعد العلم بالله سبحانه الذي أرسلهم، فمن كان لا يعرف الله سبحانه فما خوطب بتصديق رسله، وذلك لا يمكن إلا بعد العلم بالله سبحانه.
فإن قيل: لأن التوصل إلى ذلك يمكن بأن يعرف الله سبحانه، وكذلك يمكن الكافر أن يعرف الله سبحانه، فتصح منه الصلاة، وقد نوقض أصحاب هذا المذهب أيضًا بكون المسلم (الم
…) الذي دخل عليه وقت الصلاة مخاطب بالصلاة مع كونه لا تصح الصلاة منه إلا بعد إزالة حدثه.
وقد ركب ابن الجبائي (
…) المناقضة، وزعم أنه غير مخاطب بالصلاة، ولو بقي سائر دهره محدثا، وقد نسب في هذا الذي ركب إلى خرق الإ [جماع] أوجده أبو المعالي سبيلا إلى العذر، فقال: إن أراد أنه غير مخاطب بفعل الصلاة ناجزا مع بقاء حدثه فذلك صحيح، وإن أراد لا يأثم وإن اتسع الوقت لإيقاع الطهارة، والصلاة، وأنه لا يأثم بترك الصلاة سائر عمره فقد خرق الإجماع.
وهذا الذي نقل أبو المعالي عن ابن الجباثي وأراه طول التأويل فيه، قد وقفت عليه لابن خويز منداد من أصحابنا، وذلك أنه صرح بأن المحدث غير مخاطب، ولو دخل الوقت.
وأشار إلى إسناد هذا المهذب لمالك رضي الله عنه فقال: إن مالكا يقول: في الحائض إذا رأت الطهر قبيل الغروب، فإنه يعتبر في إدراكها الصلاة، أن يبقى بينها وبين الغروب قدر ما تغسل فيه، وتدرك ركعتين من صلاة العصر، فهذا منه إشارة إلى أن المحدث لا تجب عليه الصلاة إلا بعد تطهره، فأنت ترى هذا المذهب (ال
…) كيف مر عليه ابن
আমরা তাকে ঈমানকে অগ্রবর্তী করার শর্তে উভয়টির জন্য আদিষ্ট হিসেবে গণ্য করায় সে তার ওপর অর্পিত ওয়াজিব পরিত্যাগকারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, যদিও তা সম্পাদন করার সক্ষমতা তার ছিল যা আমরা স্পষ্ট করেছি, ফলে শাস্তি সাব্যস্ত হলো।
হ্যাঁ, আমরা যদি কাফেরকে সালাতের জন্য সম্বোধন করার বিষয়টি ঈমান আনয়নের অবকাশ দেওয়া ব্যতিরেকে সম্বোধনের সাথে সাথেই তাৎক্ষণিক ধরি, তবে এটি অসাধ্য বিষয়ের নির্দেশ হবে। কারণ, সালাতের মাধ্যমে যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য লাভের নির্দেশ দেওয়া হয় এমন অবস্থায় যখন সে আল্লাহকে চেনে না—অথচ নৈকট্য লাভ আল্লাহর পরিচয়কে অন্তর্ভুক্ত করে—তখন তাকে মূলত জ্ঞান ও অজ্ঞতাকে একত্রিত করার নির্দেশ দেওয়া হলো, আর এটি অসম্ভব। সুতরাং যারা অসাধ্য বিষয়ের দায়িত্বারোপ অসম্ভব মনে করেন তারা একে নিষেধ করেছেন, আর যারা একে জায়েজ মনে করেন তারা অনুমতি দিয়েছেন; এ বিষয়ে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যারা কাফেরকে সালাতের নির্দেশ প্রদান অসম্ভব মনে করেন, তাদের এই দাবি কাফেরকে রাসূলদের সত্যায়ন করার নির্দেশের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়। কারণ, যাদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা হয় এমন বিজ্ঞ আলিমগণের ঐকমত্য অনুযায়ী কাফের রাসূলদের সত্যায়ন করার জন্য আদিষ্ট। আর এটি নিশ্চিতভাবে জানা যে, রাসূলদের প্রেরণকারী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ব্যতিরেকে রাসূলদের সত্যায়ন করা শুদ্ধ হয় না। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে চেনে না, সে তো তাঁর রাসূলদের সত্যায়ন করার নির্দেশপ্রাপ্ত হওয়ার কথা নয়; অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
যদি বলা হয়: কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে চেনার মাধ্যমেই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব, অনুরূপভাবে কাফেরের পক্ষেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে চেনা সম্ভব, ফলে তার সালাত শুদ্ধ হবে। এই মতের অনুসারীদেরকে সেই মুসলিমের অবস্থা দ্বারাও খণ্ডন করা হয়েছে
যার ওপর সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়েছে এবং সে সালাতের জন্য আদিষ্ট, যদিও অপবিত্রতা দূর করা ছাড়া তার সালাত শুদ্ধ হয় না।
ইবনুল জুব্বায়ী এই মতটি এভাবে বিন্যস্ত করেছেন
যে
(বিরোধপূর্ণ কথা), এবং সে দাবি করেছে যে সে সালাত আদায়ের ব্যাপারে আদিষ্ট নয়, যদিও সে তার সারাজীবনের বাকি সময় অপবিত্র অবস্থায় অতিবাহিত করে। এই বিষয়ের প্রেক্ষিতে তাকে ইজমা বা ঐক্যমত্য লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে আবুল মাআলী তার এই বক্তব্যের স্বপক্ষে ওজরের একটি পথ বের করেছেন। তিনি বলেছেন: যদি তার উদ্দেশ্য এই হয় যে, সে অপবিত্র থাকা অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে সালাত আদায়ে আদিষ্ট নয়, তবে তা সঠিক। কিন্তু যদি তার উদ্দেশ্য হয় যে পবিত্রতা অর্জন ও সালাত আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও সে গুনাহগার হবে না, এবং সারাজীবন সালাত ত্যাগ করলেও সে পাপিষ্ঠ হবে না, তবে সে অবশ্যই ইজমা বা ঐক্যমত্য লঙ্ঘন করেছে।
আবুল মাআলী ইবনুল জাব্বাসি থেকে যা বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনি যে দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তা আমি আমাদের অনুসারীদের মধ্য থেকে ইবনু খুওয়াইজ মানদাদ-এর নিকট পেয়েছি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে অপবিত্র ব্যক্তি সালাতের জন্য আদিষ্ট নয়, এমনকি ওয়াক্ত শুরু হলেও।
তিনি এই মার্জিত মতটি ইমাম মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর দিকে নিসবত করে বলেছেন: ইমাম মালিক ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে বলেন যে, সে যদি সূর্যাস্তের ঠিক আগে পবিত্রতা লাভ করে, তবে তার সালাত পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি বিবেচিত হবে যে তার গোসল করা এবং আসরের সালাতের অন্তত দুই রাকাত পাওয়ার মতো সময় সূর্যাস্তের পূর্বে অবশিষ্ট থাকতে হবে। এটি তাঁর পক্ষ থেকে এই বিষয়ের ইঙ্গিত যে, অপবিত্র ব্যক্তির ওপর পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সালাত ওয়াজিব হয় না। সুতরাং আপনি দেখছেন যে এই মাযহাবটি (যা
এখানে বর্ণিত হয়েছে
) কীভাবে ইবনু-এর নিকট দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮০)
خويز، وأضافه إلى مالك، وقد كان إمامي في الفقه يقول حين التدريس للفقيه (
…) الصبي والكافر، يجب أن يكون المذهب على قولين في اعتبار طهارتهم في إدراك الوقت و (ك
…) مجرى واحد، ويرى أن هذه الموانع إذا زالت فإنه يختلف في مراعاة الطهارة في إدراك وقت [الصلاة] (
…) المذكور في بعضها في ما لم يذكر فيه خلاف، وإن كان غيره من المتأخرين يشير إلى منع الحد [ث] (
…) هذا لا يمكن بسطه هاهنا، وإنما ذكرناه لأنه كان يبني الخلاف في هذه المسائل على النظر (
…) وجوب الصلاة أو في صحة أدائها، فقال: من يقول إن الطهارة شرط في وجوب الصلاة يعتبر في (
…) طهارة، ومن يقول إنها شرط في صحة الأداء، يعتبر زوال المانع خاصة، لأن الوجوب عنده (
…) فاده حسن تصوره إلى الإمام بهذه الحقائق، والإشارة إلى ما اضطرب فيه الأصوليون وإن لم ر.
وأما الوجه الرابع فإنا قدمنا لما نقلنا هذه المذاهب أن من قال إن الكفار مخاطبون [بفروع الشريعة] ثم إنما رجعوا في ذلك إلى السمع، إذ معنى قولهم: إن الكافر مخاطب أي سمع في الشرع خطابه به (
…) من اختلاف في مأخذ مذهبهم فمنهم من قال علمنا ذلك لإحالة العقل خطابهم (
…) علمنا أنهم غير مخاطبين سمعا، فهؤلاء هم متحاكمون إلى السمع مع (القد
…) أنهم غير مخاطبين. وأما الآخر (
…) هنا خطاب (
…) (ص 7) ([لم نك]) من المصلين]، ولم نك نطعم المسكين، وكنا نخوض مع الخائضين، وكنا نكذب بيوم الدين) (
…) الكفار هذه الأمور هي
খুওয়াইজ, এবং তিনি এটিকে ইমাম মালিকের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। ফিকহ শাস্ত্রে আমার ইমাম পাঠদানের সময় ফকীহদের উদ্দেশ্যে বলতেন যে,
যথা
শিশু এবং কাফিরের ক্ষেত্রে নামাযের ওয়াক্ত পাওয়ার বিষয়ে তাদের পবিত্রতা বিবেচনার ক্ষেত্রে মাযহাবে দুটি মত থাকা আবশ্যক। এবং বিষয়টি
একই
ধারায় পরিচালিত হয়। তিনি মনে করতেন যে, এই প্রতিবন্ধকতাগুলো যখন দূর হয়ে যায়, তখন নামাযের ওয়াক্ত পাওয়ার ক্ষেত্রে পবিত্রতা রক্ষার বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয়। এ বিষয়টি
কিছু ক্ষেত্রে
বর্ণিত হয়েছে যেখানে অন্যগুলোতে কোনো মতভেদ উল্লিখিত হয়নি। যদিও পরবর্তী যুগের আলেমদের কেউ কেউ নাপাকি বা হাদাছ প্রতিরোধের দিকে ইঙ্গিত করেছেন
যা এই প্রসঙ্গে আলোচিত
। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে সম্ভব নয়। আমরা এটি কেবল এজন্য উল্লেখ করেছি কারণ তিনি এই মাসআলাগুলোর মতভেদকে এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করতেন যে,
তা কি
নামায ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত নাকি নামায আদায় সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত। তিনি বলতেন: যারা মনে করেন যে পবিত্রতা নামায ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত, তারা
ব্যক্তির
পবিত্রতাকে বিবেচনা করেন। আর যারা মনে করেন এটি কেবল নামায আদায় সহীহ হওয়ার শর্ত, তারা বিশেষভাবে প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়াকে বিবেচনা করেন, কারণ তার নিকট ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি
স্বতন্ত্র
। এই সত্যগুলোর মাধ্যমে ইমামের চমৎকার উপলদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং উসূলবিদগণ যে বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যদিও তা পূর্ণতা পায়নি।
আর চতুর্থ দিকটি হলো, আমরা পূর্বে যখন এই মাযহাবগুলো উদ্ধৃত করেছি তখন উল্লেখ করেছি যে, যারা বলেন কাফিররা শরীয়তের শাখা বিধানের অন্তর্ভুক্ত, তারা এক্ষেত্রে শ্রবণগত প্রমাণের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছেন। কেননা তাদের এই কথার অর্থ হলো: কাফির শরীয়তের সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি শরীয়তের বর্ণনা থেকে শ্রবণ করা হয়েছে
যা তাদের
মাযহাবের উৎসের ভিন্নতা থেকে উৎসারিত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, আমরা এটি জেনেছি কারণ বুদ্ধি তাদের প্রতি এই সম্বোধনকে অসম্ভব মনে করে না।
আমরা জানতে পেরেছি যে তারা শরীয়তের ভাষ্যের মাধ্যমে সম্বোধিত নয়, সুতরাং তারা শরীয়তের ভাষ্যের নিকটই বিচারপ্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও
তারা সম্বোধিত নয়। আর অন্যটির ক্ষেত্রে
এখানে সম্বোধন রয়েছে
(পৃষ্ঠা ৭) [আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, এবং আমরা অভাবগ্রস্তদের আহার করাতাম না, আর আমরা অনর্থক আলাপকারীদের সাথে মত্ত থাকতাম, এবং আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম]
কাফিরদের জন্য এই বিষয়গুলো হলো
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮১)
الموقعة لهم في العذاب، فدل ذلك على أنهم أمروا بالصلاة فلم يفعلوها فعذبوا عليها، ولا معنى عن هذا بقوله: هذا قول الكفار، والكافر لا حجة في قوله، لأن الله سبحانه أخبر بذلك عنهم تحذيرا للمؤمنين أن [يفعلوا] فيما وقعوا فيه من الموبقات، فلو كانت هذه أكاذيب لم يصح التحذير بها، ولا كذبهم البارئ سبحانه في كذبهم، ولا أنكر عليهم، كما أنكر عليهم ما ذكروه عن أنفسهم من هذه الموبقات.
وكذلك إن قيل المراد بهذا: لم يكن من المصدقين للصلاة، وذلك يرجع إلى التكذيب بالإيمان لم يصح هذا التأويل، لأن تسمية المصدق بالصلاة مصليا مجاز، والكلام محمول على الحقائق، لا يصرف عنها إلا بدليل، وهكذا طريقة الاستدلال بقوله سبحانه: (ويل للمشركين * الذين لا يؤتون الزكاة) لأن هذا ذم (
…) لا أن الزكاة منعوها بعد أمرهم بها لما نصوا عليها وقد قيل: إن هذا نعت لهن، فلا يستدل به، فيقال: وإن كان نعتا فالقصد [به] الذم، فبقصد الذم استدلالنا لا بمجرد النعتية.
وقد ذكر ابن فورك معنى في تخصيص الزكاة دون غيرها من العبادات فقال [إن] الزكاة يحمل على منعها البخل والشح، وكانت العرب تأنف من أن يرمز إليها بالشح والبخل، وترى ذلك من المعرات التي تتقيها، اختصت الزكاة بهذا المعنى الذي يُتقى أن يشار إليها به، خصت، بالذكر دون غيرها من العبادات.
وكذلك يستدل أصحاب هذا المذهب بقوله تعالى: (وما تفرق الذين أوتوا الكتاب إلا من بعد ما جاءتهم البينة * وما أمروا إلا ليعبدوا الله مخلصين له الدين حنفاء ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة) فنص في هذه الآية على أن أهل الكتاب أمروا بالصلاة والزكاة، وإن سلكوا في المدافعة عنها (
…) ما قدمنا دفعناهم بنحو ما تقدم، وحملنا الكلام على حقائقه، وقد قال تعالى في المنافقين: (وإذا قاموا إلى الصلاة قاموا كسالى) فذمهم على التكاسل عن الصلاة، فلولا أنهم مخاطبون بها ما ذموا عليها.
وهذا أيضًا يقول فيه الآخرون هم أظهروا الإسلام، والتزام أحكامه فخوطبوا كما يخاطب أهله، والقصد ذمهم على النفاق، فهذا وجه الاستدلال بالقرآن [ومن ثم] فلا
যা তাদের আজাবে নিপতিত করেছে; এটি প্রমাণ করে যে তাদের সালাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তা পালন করেনি, ফলে এর কারণে তাদের আজাব দেওয়া হয়েছে। এটি বলে বিষটিকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই যে: এটি কাফিরদের উক্তি, আর কাফিরদের উক্তিতে কোনো দলিল নেই। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিনদের সতর্ক করার জন্য তাদের এই অবস্থার সংবাদ দিয়েছেন, যাতে তারা সেসব ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত না হয় যাতে তারা লিপ্ত হয়েছিল। সুতরাং এগুলো যদি মিথ্যা হতো, তবে এর মাধ্যমে সতর্ক করা সঠিক হতো না। আর স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের এই উক্তিতে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেননি এবং তাদের বক্তব্য অস্বীকারও করেননি, বরং তিনি তাদের সেসব ধ্বংসাত্মক কাজকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যা তারা নিজেদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছে।
একইভাবে যদি বলা হয় যে এর উদ্দেশ্য হলো: তিনি সালাতকে সত্য বলে বিশ্বাসকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, এবং এটি ইমানের প্রতি মিথ্যারোপের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে—তবে এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়। কারণ সালাতকে সত্য বলে বিশ্বাসকারীকে 'সালাত আদায়কারী' বলা রূপক অলংকার, আর বক্তব্যকে সর্বদা তার প্রকৃত অর্থের ওপর গ্রহণ করতে হয়; কোনো অকাট্য দলিল ছাড়া তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না। একইভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো: (মুশরিকদের জন্য ধ্বংস, যারা জাকাত প্রদান করে না); কারণ এটি একটি নিন্দা। এটি নির্দেশ করে যে, তারা জাকাত প্রদান থেকে বিরত থেকেছে তাদের প্রতি তা আদায়ের নির্দেশ থাকার পর যখন তারা সে বিষয়ে স্পষ্ট স্বীকৃতি দিয়েছিল। আরও বলা হয়েছে: এটি তাদের একটি গুণবাচক বিশেষণ, তাই এটি দিয়ে দলিল দেওয়া যাবে না। এর উত্তরে বলা হয়: যদি এটি বিশেষণও হয়, তবে এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিন্দা করা। সুতরাং আমাদের দলিল গ্রহণের ভিত্তি হলো নিন্দার উদ্দেশ্য, কেবল গুণবাচক বিশেষণ হওয়া নয়।
ইবনে ফুরাক অন্যান্য ইবাদত বাদ দিয়ে জাকাতকে নির্দিষ্ট করার একটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, জাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকার পেছনে কৃপণতা ও লালসা কাজ করে। আর আরবরা তাদের প্রতি কৃপণতা ও লালসার ইঙ্গিত করাকেও ঘৃণা করত এবং তারা একে এমন এক কলঙ্ক মনে করত যা থেকে তারা সর্বদা বেঁচে চলত। জাকাতকে এই বিশেষ গুণের কারণেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে যা থেকে বেঁচে থাকার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে; তাই অন্যান্য ইবাদতের পরিবর্তে একেই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুরূপভাবে এই মতাবলম্বীরা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: (যাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছে তারা কেবল তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরেই বিভক্ত হয়েছে। আর তাদের কেবল এই নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, একনিষ্ঠভাবে এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে।) সুতরাং এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আহলে কিতাবগণ সালাত ও জাকাতের জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। আর তারা যদি এটি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে
কোনো পন্থা অবলম্বন করে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, তবে আমরা তাদের সেভাবেই প্রতিহত করব যেভাবে পূর্বে করা হয়েছে এবং আমরা বক্তব্যকে তার প্রকৃত অর্থের ওপরই প্রয়োগ করব। আর আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: (আর যখন তারা সালাতে দাঁড়ায়, তখন অলসভাবে দাঁড়ায়।) এখানে সালাতের ক্ষেত্রে অলসতা করার কারণে তাদের নিন্দা করা হয়েছে; সুতরাং তারা যদি এর জন্য আদিষ্ট না হতো, তবে তাদের নিন্দা করা হতো না।
এর উত্তরে অন্যরা বলেন যে, তারা ইসলাম প্রকাশ করেছিল এবং এর বিধানাবলি পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাই তাদের সেভাবেই সম্বোধন করা হয়েছে যেভাবে ইসলামের অনুসারীদের সম্বোধন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো তাদের নিফাকের (কপটতার) কারণে নিন্দা জানানো। এটিই হলো কুরআনের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি [অতঃপর] আর কোনো...
(খণ্ড: ১)
ঈজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল
(পৃষ্ঠা: ৮২)
مطمع للقائلين بخطاب الكفار في التعلق بها، كما تعلقوا بالقرآن.
وأما الآخرون الذين [يرون أن الكفار مخاطبون] فيتعلقون منها بما وقع في الأحاديث التي وصى بها النبي صلى الله عليه وسلم رسله للناس وقد اشتملـ[ـت] (
…) منهم، ادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله، فإن هم أجابوا فأعلمهم بالصلوات، فإن أجابوا فأعلمهم [بالزكاة] كما وقع، وقد تضمن هذا أنه إنما وجب عليهم الصلاة والزكاة بعد الإجابة إلى الإيمان وقد تكـ[ـلمنا على ذلك في كتا [بنا المعلم بفوائد مسلم، وللآخرين أن يقولوا إنما رتب لهم رتبة التعليم، ولم يقصد رتبة الإيـ[ـجاب] [القا] طع على صحته.
وأما طرق الاستدلال فإن من يقول إنهم مخاطبون يستدل بقطعهم في (ل
…) عليها، فلولا كونهم مخاطبين ما أقيم ذلك عليهم، وقد ذكرنا في فيما تقدم ابن خويز عن (
…) التفرقة بينه وبين ما سواه من الحدود، وقد استدل من أنكر خطابهم بالإجماع على أنهم لا يقضون [الصلاة فلولا أنها غير واجبة لكانت تقضي، ألا ترى أن الصبي لا يقضي إذا بلغ، وعكسه الناسي إذا ذكر (
…) عبادة مستأنفة بأمر متجدد فيتعبد البارئ بما شاء، والحائض لا تصلي، ولا تصوم وتقضي الصلاة (
…) بقضاء المرتد أيام ردته وهو كافر، ولا معنى لقولهم كان قبل ارتداده ملتزما للصلاة (
…) المفروضات، لا معنى لاعتباره، وإنما يعتبر فيها إلزام الله سبحانه إياها لعباده.
وأما المرتد (
…) خطاب الكافر فلا وجه [لهذا التفصيل] لأن النهي على الحقيقة أمر، وإن [التروك لا تفتقر إلى تصور بخلاف الفعل] الكلام في الصلاة (
…) (ص 8] على كفره فإ [ن أمر] المتركات بخلاف المفعولات في حكم المقصود (ك
…)
এটি তাদের জন্য একটি ভিত্তি যারা কাফেরদের প্রতি শরীয়তের বিধান সম্বোধিত হওয়ার কথা বলেন, যেমনটি তারা কুরআনের ক্ষেত্রেও ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আর অন্য পক্ষ যারা মনে করেন যে কাফেররা শরীয়তের বিধান দ্বারা সম্বোধিত, তারা সেই সকল হাদিসের ওপর নির্ভর করেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রেরিত প্রতিনিধিদের মানুষের কাছে প্রচারের জন্য উপদেশ দিয়েছিলেন এবং যা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে পৌঁছেছিল যে, তুমি তাদের আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য প্রদানের দিকে আহ্বান করো। অতঃপর যদি তারা তা গ্রহণ করে তবে তাদের সালাতের বিধান জানাও, আর যদি তারা এতেও সম্মতি প্রদান করে তবে তাদের জাকাতের বিধান অবগত করো, যেভাবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ঈমান গ্রহণের পরেই কেবল তাদের ওপর সালাত ও জাকাত ওয়াজিব হয়েছে। আর এ সম্পর্কে আমরা আমাদের 'আল-মু'লিম বি ফাওয়ায়িদি মুসলিম' নামক গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তবে অন্যদের যুক্তি হলো যে, এখানে কেবলমাত্র শিক্ষার একটি ক্রমধারা বজায় রাখা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিধানটি যে অকাট্যভাবে তাদের ওপর ওয়াজিব হয়েছে তা বোঝানো উদ্দেশ্য নয়।
আর দলীলের পদ্ধতির ক্ষেত্রে যারা বলেন যে তারা সম্বোধিত, তারা তাদের ওপর দণ্ডবিধি বা হদ কার্যকর করার বিষয়টি দলীল হিসেবে পেশ করেন। কারণ তারা যদি শরীয়তের বিধান দ্বারা সম্বোধিত না হতেন, তবে তাদের ওপর এই দণ্ড প্রয়োগ করা হতো না। ইতিপূর্বে আমরা ইবনে খুওয়াইজ-এর বরাতে হদ এবং অন্যান্য দণ্ডের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি আলোচনা করেছি। অন্যদিকে যারা কাফেরদের ওপর শরীয়তের সম্বোধন অস্বীকার করেন, তারা এই ইজমার ওপর ভিত্তি করেন যে কাফেররা ইসলাম গ্রহণের পর পেছনের সালাত কাযা করে না। যদি এটি ওয়াজিব হতো তবে অবশ্যই তাদের তা কাযা করতে হতো। আপনি কি দেখছেন না যে, শিশু সাবালক হওয়ার পর পেছনের সালাত কাযা করে না? আর এর বিপরীত উদাহরণ হলো বিস্মৃত ব্যক্তি, যখন সে ভুলে যাওয়া বিষয়টি স্মরণ করে তখন নতুনভাবে ইবাদত সম্পন্ন করার আদেশের সম্মুখীন হয়; কারণ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ইবাদতে নিয়োজিত করেন। একইভাবে ঋতুবতী নারী সালাত আদায় করে না এবং সিয়ামও পালন করে না, তবে সে সিয়াম কাযা করে কিন্তু সালাত কাযা করে না।
) মুরতাদ ব্যক্তি কাফের থাকা অবস্থায় তার ধর্মত্যাগের দিনগুলোর সালাত কাযা করার বিধান প্রসঙ্গে; আর তাদের এই দাবির কোনো অর্থ নেই যে, সে ধর্মত্যাগের পূর্বে সালাত আদায়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল (
অনুরূপভাবে যাবতীয়
) ফরয ইবাদতসমূহ; এটি বিবেচনার কোনো অবকাশ নেই, বরং এতে কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক তাঁর বান্দাদের ওপর তা বাধ্যতামূলক করে দেওয়াকেই গণ্য করা হয়।
আর মুরতাদের ক্ষেত্রে (
কাফেরের প্রতি শরয়ী সম্বোধনের বিধান
) কাফেরকে সম্বোধন করার প্রশ্নে [এই বিস্তারিত ব্যাখ্যার] কোনো ভিত্তি নেই। কারণ প্রকৃতপক্ষে কোনো কিছু থেকে নিষেধ করাও মূলত একটি নির্দেশ, এবং [কোনো বিষয় বর্জন করার জন্য সরাসরি কর্ম সম্পাদনের ন্যায় কোনো পূর্ব-কল্পনার প্রয়োজন হয় না]। সালাত সংক্রান্ত আলোচনা (
তার কুফরিতে অবিচল থাকার কারণে
) (পৃষ্ঠা ৮] তার কুফরির ওপর ভিত্তি করে, কেননা বর্জনীয় বিষয়গুলোর [নির্দেশ] সম্পাদিত কর্মগুলোর বিপরীতে শরীয়তের মূল উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত (যেমন
কুফরি বর্জন করা
)