(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شاعر المليون أخطاء شرعية، ومغالطة شعرية القسم: مسائل فقهية
الكتاب: شَاعِرُ المَلْيُون أخْطَاءٌ شَرْعِيَّةٌ، ومُغَالَطَةٌ شِعْرِيَّةٌ
المؤلف: أبو صفوان ذياب بن سعد بن علي بن حمدان بن أحمد بن محفوظ آل حمدان الغامدي الأزدي نسبا، ثم الطائفي مولدا
قرأه وقرظه: الشَّيْخُ المُحَدِّثُ عَبْدُ الله بنُ عَبْدِ الرَّحمَنِ السَّعْدُ
الناشر: بدون
الطبعة: الأولى، 1429 هـ
عدد الصفحات: 76
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 محرم 1437
শায়ের আল-মিলিয়ন: শরয়ি ভুলসমূহ এবং কাব্যিক ভ্রান্তি বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: শায়ের আল-মিলিয়ন: শরয়ি ভুলসমূহ এবং কাব্যিক ভ্রান্তি
লেখক: আবু সাফওয়ান দিয়াব বিন সাদ বিন আলি বিন হামদান বিন আহমাদ বিন মাহফুজ আল হামদান আল-গামিদি আল-আজদি বংশসূত্রে, অতঃপর আত-তাইফি জন্মসূত্রে
পাঠ ও মূল্যায়ন করেছেন: শায়খ মুহাদ্দিস (محدث) আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আস-সাদ
প্রকাশক: অনুল্লিখিত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ মুহররম ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
شَاعِرُ المَلْيُون
أخْطَاءٌ شَرْعِيَّةٌ، ومُغَالَطَةٌ شِعْرِيَّةٌ
تَألِيْفُ
ذِيَابُ بنُ سَعْد آل حَمْدانَ الغَامديُّ
শায়িরুল মিলিয়ন
শরয়ি ভ্রান্তি এবং কাব্যিক বিভ্রান্তি
রচনায়
দিয়াব বিন সাদ আল-হামদান আল-গামিদি
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تَقْرِيْظُ الشَّيْخِ المُحَدِّثِ عَبْدِ الله السَّعْدِ
بسم الله الرحمن الرحيم
الحَمْدُ لله رَبِّ العَالَمِيْنَ، والصَّلاةُ والسَّلامُ على رَسُوْلِنا مُحَمَّدٍ الأمِيْنِ، عليه أفْضَلُ الصَّلاةِ، وأتَمُّ التَّسْلِيْمِ.
أمَّا بَعْدُ:
- إنَّ مِنَ الأمُوْرِ الخَطِيْرَةِ الَّتِي اشْتَغَلَ بِهَا فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ في هَذِهِ الأوْقَاتِ المُتَأخِّرَةِ ما يُسَمَّى بشَاعِرِ المَلْيُون، إذْ حَصَلَ بسَبَبِهَا أضْرَارٌ وأخْطَارٌ؛ فأصْبَحَتْ حَدِيْثَ النَّاسِ في مَجَالِسِهِم، وأَنِيْسَهِم في مَسَامِرِهِم.
- ولا يَشُكُّ عَاقِلٌ مَا لهَذِهِ الفِتْنَةِ مِنْ أخْطَارٍ وأضْرَارٍ؛ فمِنْ ذَلِكَ:
- إحْيَاءُ العَصَبِيَّاتِ والنَّعَرَاتِ الجَاهِلِيَّةِ، بَلْ وَصَلَ الأمْرُ إلى الطَّعْنِ بالأنْسَابِ والفَخْرِ بالأحْسَابِ.
أخْرَجَ مُسْلِمٌ في صَحِيْحِهِ (934) مِنْ طَرِيْقِ أبَانَ يَزِيْدَ أنَّ أبَا سَلَّامٍ حَدَّثَهُ أنَّ أبَا مَالِكٍ الأشْعَرِيِّ حَدَّثَهُ أنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "أرْبَعٌ في أمَّتِي مِنْ أمْرِ الجَاهِلِيَّةِ لا يَتْرُكُوْنَهُنَّ: الفَخْرُ بالأحْسَابِ، والطَّعْنُ بالأنْسَابِ، والاسْتِسْقَاءُ بالنُّجُوْمِ، والنِّيَاحَةُ"
হাদিস বিশারদ (محدث) শাইখ আব্দুল্লাহ আস-সা’দ-এর প্রশংসামূলক ভূমিকা (تقريظ)
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক আমাদের বিশ্বস্ত রাসূল মুহাম্মাদ-এর ওপর; তাঁর প্রতি সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।
অতঃপর:
- বর্তমান এই শেষ সময়ে একদল মানুষ যে সকল বিপজ্জনক বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘শায়েরুল মিলিয়ন’ (মিলিয়ন কবি) নামক বিষয়টি, যার কারণে নানাবিধ ক্ষয়ক্ষতি ও বিপদের উদ্ভব হয়েছে; এটি এখন মানুষের মজলিসসমূহের প্রধান আলোচ্য বিষয় এবং তাদের নৈশকালীন আড্ডার অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।
- কোনো বিবেকবান মানুষই এই ফিতনার (فتنة) বিপদ ও ক্ষতির বিষয়ে সংশয় পোষণ করবেন না; যার অন্তর্ভুক্ত হলো:
- সাম্প্রদায়িকতা ও জাহেলি চেতনার পুনর্জাগরণ; এমনকি বিষয়টি বংশমর্যাদায় কলঙ্ক লেপন এবং আভিজাত্যের গৌরব করা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৯৩৪) আবান ইয়াজিদের সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু সাল্লাম তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু মালিক আল-আশআরি তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলি যুগের চারটি বিষয় বিদ্যমান রয়েছে যা তারা ত্যাগ করবে না: আভিজাত্যের অহংকার করা, বংশমর্যাদায় কলঙ্ক লেপন করা, নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা।"
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
- ومِنْ الأضْرَارِ العَظِيْمَةِ؛ جَعْلُ الأمَّةِ تَعِيْشُ في سَاقِطِ الأمُوْرِ وسِفْسَافِهَا، وإشْغَالُهُم عَنْ قَضَايَاهَا المَصِيْرِيَّةِ، ومَا تُعَانِيْهِ مِنْ تَسْلِيْطُ الأعْدَاءِ وكَيْدِهِم.
مَعَ مَا صَاحَبَ ذَلِكَ مِنْ هَدْرٍ للأوْقَاتِ والأمْوَالِ في غَيْرِ طَاعَةِ الله عز وجل، العَبْدُ مَسْئُوْلٌ عَنْ عُمْرِهِ فِيْما أفْنَاهُ.
نَاهِيْكَ عَنْ وُجُودِ المَزَامِيْرِ، والاخْتِلاطِ، وظُهُوْرِ النِّسَاءِ مُتَبَرِّجَاتٍ، نَسْألُ الله السَّلامَةَ والعَّافِيَةَ!
- وقَدْ أجَادَ وأفَادَ فَضِيْلَةُ الشَّيْخِ/ ذِيَابُ بنُ سَعْدٍ الغَامديُّ في كِتَابِهِ أيُّما إيْجَادٍ، وأبَانَ المَخَاطِرِ والمَحَاذِيْرَ الشَّرْعِيَّةَ لما يُسَمَّى "بشَاعِرِ المَلْيُوْنِ"، فنَسْأَلُ الله أنْ يُجْزِلَ لَهُ الأجْرَ والمَثُوْبَةَ، وأنْ يُبَارِكَ في جُهُوْدِهِ، والله وَليُّ التَّوْفِيْقِ.
والصَّلاةُ والسَّلامُ على رَسُوْلِهِ صلى الله عليه وسلم.
عَبْدُ الله بنُ عَبْدِ الرَّحمَنِ السَّعْدُ
(1/ 5/1429 هـ)
- এর মধ্যে অন্যতম একটি গুরুতর ক্ষতি হলো উম্মতকে তুচ্ছ ও অনর্থক বিষয়াবলীর মাঝে নিমজ্জিত রাখা এবং তাদেরকে তাদের ভাগ্যনির্ধারণী বিষয়সমূহ ও শত্রুদের আধিপত্য ও ষড়যন্ত্রের ফলে সৃষ্ট সংকট থেকে বিমুখ রাখা।
এর পাশাপাশি আল্লাহর আনুগত্যহীন কাজে সময় ও অর্থের অপচয় তো রয়েছেই; অথচ বান্দাকে তার আয়ুষ্কাল কিসে ব্যয় করেছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।
তদুপরি বাদ্যযন্ত্রের উপস্থিতি, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং নারীদের বেপর্দা হয়ে সৌন্দর্য প্রদর্শনের বিষয় তো রয়েছেই। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি!
- পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ দিয়াব বিন সাদ আল-গামিদি তাঁর গ্রন্থে অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তিনি "শায়ের আল-মিলিয়ন" নামক অনুষ্ঠানের শারঈ ঝুঁকি ও আশঙ্কাজনক দিকসমূহ সুস্পষ্ট করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য মহান প্রতিদান ও সওয়াব প্রার্থনা করছি এবং তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত কামনা করছি। আল্লাহই তাওফিকদাতা।
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সাদ
(১/৫/১৪২৯ হিজরি)
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحَمْدُ لله رَبِّ العَالَمِيْنَ، والصَّلاةُ والسَّلامُ على عَبْدِهِ ورَسُوْلِه الأمِيْنِ.
أمَّا بَعْدُ: فإنَّ قُرُوْحَ الدَّعَوَاتِ الطَّائِشَةِ لم تَزَلْ تَمَسُّ أفْئِدَةَ الأمَّةِ الإسْلامِيَّةِ حِيْنًا بَعْدَ حِيْنٍ مُنْذُ اسْتِيْلاءِ الحَمَلاتِ الصَّلِيْبِيَّةِ على أكْثَرِ بِلادِ المُسْلِمِيْنَ إلى وَقْتِنَا هَذَا.
وهَكَذَا في مَنْظُوْمَةٍ عَدَائِيَّةٍ آثِمَةٍ لم تَزَلْ تَبْعَثُهَا ذَمِيْمَةً في جَسَدِ الأمَّةِ الإسْلامِيَّةِ ما بَيْنَ تَشْكِيْكٍ لدِيْنِهَا، وتَفْرِيْقٍ لوِحْدَتِها، وتَغْرِيْبٍ للغُتِهَا
… كُلُّ ذَلِكَ لتَقْضِيَ على مَا بَقِيَ مَنْ عَلائِقِ إرْثِهَا مِنْ قُرْآنٍ وسُنَّةٍ ولُغَةٍ.
إنَّ شَأنَّا كهَذَا كَانَ مُوْجِبًا على الكَافَّةِ مِنَ المُسْلِمِيْنَ: حُكَّامًا ومَحْكُومِيْنَ كِبَارًا وصِغَارًا أنْ يَسْتَيْقِظُوا بَعْدَ غَفْلَةٍ، وأنْ يَأخُذُوا بجَادَّةِ الكِتَابِ والسُّنَّةِ عَقِيْدَةً ومَنْهَجًا كَي يُعِيْدُوا للأمَّةِ عِزَّهَا، وللُّغَةِ فَضْلَهَا.
* * *
- ومِنْ هُنَا؛ كَانَ المُسْلِمُوْنَ هَذِهِ الأيَّامَ يَعِيْشُوْنَ حَيَاةً مُضْطَرِبَةً؛
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও বিশ্বস্ত রাসুলের ওপর।
অতঃপর: লক্ষ্যহীন প্রচারণার ক্ষতসমূহ ক্রুসেডারদের অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ড দখলের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মুসলিম উম্মাহর অন্তরগুলোকে ব্যথিত করে চলেছে।
আর এভাবেই এক বিদ্বেষপূর্ণ পাপাচারী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর দেহে ক্রমাগত অনিষ্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে—কখনও তাদের দ্বীন নিয়ে সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে, কখনও তাদের ঐক্য খণ্ডিত করার মাধ্যমে, আবার কখনও তাদের ভাষার বিজাতীয়করণের মাধ্যমে
… এ সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং ভাষার সাথে তাদের ঐতিহ্যের যে শেষ অবশিষ্ট যোগসূত্র রয়েছে, তা বিলুপ্ত করে দেওয়া।
এরূপ পরিস্থিতি সর্বস্তরের মুসলিমদের ওপর—শাসক ও শাসিত, ছোট ও বড় সকলের ওপর—অপরিহার্য করে দিয়েছে যে, তারা যেন দীর্ঘ গাফলতের পর জাগ্রত হয় এবং আকীদা ও মানহাজ হিসেবে কুরআন ও সুন্নাহর মূল পথ আঁকড়ে ধরে; যাতে তারা উম্মাহর হারানো মর্যাদা এবং ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে আনতে পারে।
* * *
- আর এখান থেকেই বোঝা যায়; বর্তমান সময়ে মুসলিমরা এক অস্থির জীবন অতিবাহিত করছে;
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
حَيْثُ كَانَ حَظُّهَا مِنَ الهَوَانِ والذُّلِّ الكَأسَ الأوْفى، ومِنَ الجَهْلِ والتَّفْرِيْقِ القِدْحَ المُعَلَّى، والله المُسْتَعَانُ!
ومَا كَانَ هَذَا حَدِيْثًا يُفْتَرَى، بَلْ حَقِيْقَةٌ مَاثِلَةٌ للشَّاهِدِ مِنَّا والغَائِبِ، وإنْ كَانَ مِنْ حَقِيْقَةٍ أخْرَى فَلا شَكَّ أنَّ وَرَاءَ هَذَا كُلِّهِ مُخَطَّطَاتُ أعْدَاءِ الإسْلامِ الَّتِي لم تَزَلْ تُحَاكُ ضِدَّ المُسْلِمِيْنَ سَوَاءٌ كَانَتْ عَسْكَرِيَّةً جَلِيَّةً، أو فِكْرِيَّةً خَفِيَّةً.
نَعَمْ، لَقَدْ كَانَ لهَذَا العَدَاءِ السَّافِرِ صُوَرٌ شَتَّى، وطَرَائِقُ مُخْتَلِفَةٌ، ومَهْما يَكُنْ مِنْ خَطَرٍ أو شَرٍّ، إلَاّ أنَّ أعْتَاهَا أمْوَاجًا وأقْوَاهَا تموُّجًا: الاسْتِشْرَاقُ الَّذِي مَا فَتِئَ يَضْرِبُ شَواطِئَنَا بأمْوْاجٍ عَاتِيَةٍ وذَلِكَ مِنْ خِلالِ الدِّرَاسَاتِ اللُّغَوِيَّةِ، ونَشْرِ اللَّهَجَاتِ العَامِيَّةِ بَيْنَ أبْنَاءِ المُسْلِمِيْنَ!
* * *
- فَكَانَ مِنْ هَذِهِ الأفْكَارِ المُتَسَرِّبَةِ إلى عُقُوْلِ النَّاشِئَةِ الَّتِي عَصَفَتْ رِيْحُهَا في جَزِيْرَةِ العَرَبِ مُنْذُ سَنَتَيْنِ أو يَزِيْدُ: الدَّعْوَةُ السَّافِرَةُ إلى العَامِيَّةِ المُتَمَثِّلَةِ فِيْما يُسَمَّى بـ «شَاعِرِ المَلْيُون»؛ حَيْثُ فُتِحَتْ لَهُ القَنَوَاتُ الفَضَائِيَّةُ، وأُقِيْمَتْ لَهُ النَّدَوَاتُ الفَوْضَوِيَّةُ،
যেখানে অবমাননা ও লাঞ্ছনার ক্ষেত্রে তার ভাগ্য ছিল কানায় কানায় পূর্ণ পেয়ালা, আর মূর্খতা ও বিভক্তির ক্ষেত্রে ছিল সর্বোচ্চ অংশ; আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল!
আর এটি কোনো বানোয়াট (موضوع) হাদিস নয়, বরং আমাদের মাঝে উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলের নিকট এক বিদ্যমান বাস্তবতা। আর যদি অন্য কোনো সত্যতা থেকে থাকে, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে ইসলামের শত্রুদের সেই নীল-নকশা যা মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত তৈরি করা হচ্ছে—তা হোক প্রকাশ্য সামরিক আক্রমণ কিংবা প্রচ্ছন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক ষড়যন্ত্র।
হ্যাঁ, এই প্রকাশ্য শত্রুতার নানাবিধ রূপ ও ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ছিল। বিপদ বা অনিষ্টের মাত্রা যা-ই হোক না কেন, এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচণ্ড ও শক্তিশালী তরঙ্গটি হলো: প্রাচ্যতত্ত্ব, যা ভাষাগত গবেষণা এবং মুসলিম সন্তানদের মাঝে আঞ্চলিক উপভাষার প্রসারের মাধ্যমে আমাদের উপকূলে ক্রমাগত প্রচণ্ড আঘাত হেনে চলেছে!
* * *
- তরুণ প্রজন্মের মগজে অনুপ্রবেশকারী এই সকল ভ্রান্ত চিন্তাধারার অন্যতম—যার ঝোড়ো হাওয়া গত দুই বছর বা তারও বেশি সময় ধরে আরব উপদ্বীপে প্রবাহিত হচ্ছে—তা হলো: আঞ্চলিক ভাষার প্রতি নগ্ন আহ্বান, যা তথাকথিত «শায়েরুল মিলিয়ন» অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মূর্ত হয়েছে; যেখানে এর জন্য স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং বিশৃঙ্খল সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে,
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
والأمْسِيَّاتُ المُخْتَلِطَةُ، والصُّحُفُ المَحَلِّيَّةُ تَرْوِيجًا وتَقْنِيْنًا، غِشًّا وتَخْوِيْنًا
… !
وإنِّي أعْلَمُ أنَّ الدَّعْوَةَ إلى العَامِيَّةِ لم تَقِفْ عِنْدَ «شَاعِرِ المَلْيُون» حَسْبُ؛ بَلْ لهَا أوْجُهٌ غَبْرَاءُ تَحْتَ مُسَمَّيَاتٍ مُثِيْرَةٍ، وبَيَارِقَ كَثِيْرَةٍ: كمُسَابَقَةِ «شَاعِرِ العَرَبِ»، و «شَاعِرِ المَعْنَى»، و «شَاعِرِ الصَّحْرَاءِ»، ونَجْمِ القَصِيْدِ، في غَيْرِهَا مِنْ أسْماءِ شُعَرَاءِ الانْحِطَاطِ والرَّكَاكَةِ مِنْ دُعَاةِ «النَّبَطِيِّ».
فَعِنْدَئِذٍ كَانَ وَاجِبًا على المُسْلِمِيْنَ أن يَأخُذُوا على أيْدِي العَابِثِيْنَ بإرْثِ الأمَّةِ ولُغَتِهَا، وأنْ يَكُفُّوا ألْسِنَتَهُم وأقْلامَهُم مِنَ المُقَامَرَةِ بعُقُوْلِ أبْنَاءِ المُسْلِمِيْنَ، والله مِنْ وَرَاءِ القَصْدِ.
* * *
- نَعَم، لَقَدْ أدْرَكَ أعْدَاءُ الإسْلامِ أنَّ اللُّغَةَ العَرَبِيَّةَ هِيَ الوَسِيْلَةُ الوَحِيْدَةُ، لفَهْمِ الكِتَابِ والسُّنَّةِ; لِذَا جَنَّدُوا أنْفَسَهُم للقَضَاءِ عَلَيْهَا بكُلِّ مَا يَمْلِكُوْنَ مِنْ زَحْفٍ عَسْكَرِيٍّ وغَزْوٍ فِكْرِيٍّ، وذَلِكَ بنَشْرِ كُلِّ مَا مِنْ شَأنِهِ يُزَاحِمُهَا لاسِيَّما ببَعْثِ اللَّهَجَاتِ العَامِيَّةِ.
ومِنْ أسَفٍ؛ أنَّنا نَجِدُ بَعْضَ أغْتَامِ أبْنَاءِ المُسْلِمِيْنَ هَذِهِ الأيَّامَ قَدْ قَامُوا بدَوْرِ المُسْتَشْرِقِينَ خَيْرَ قِيَامٍ؛ مِمَّا أرْبَى على جُهُودِ الأجَانِبِ
এবং সংমিশ্রিত সান্ধ্য আসরসমূহ, এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ প্রচার ও বিধিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ করতঃ
… !
এবং আমি জানি যে, আঞ্চলিক ভাষার দিকে আহ্বান কেবল ‘শায়েরুল মিলিয়ুন’ (দশ লক্ষের কবি) এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং উত্তেজনাকর বিভিন্ন নাম ও বহু পতাকার আড়ালে এর আরও অনেক অন্ধকার দিক রয়েছে: যেমন ‘শায়েরুল আরব’ (আরবদের কবি), ‘শায়েরুল মানা’ (অর্থের কবি), ‘শায়েরুস সাহারা’ (মরুভূমির কবি), ‘নাজমুল কাসিদ’ (কবিতার নক্ষত্র) এবং ‘নাবাতী’ কবিতার দিকে আহ্বানকারী অধঃপতন ও দুর্বল শব্দচয়নের কবিদের অন্যান্য নামে আয়োজিত প্রতিযোগিতাসমূহ।
এমতাবস্থায় মুসলিমদের ওপর এটি আবশ্যক ছিল যে, তারা উম্মাহর ঐতিহ্য ও ভাষার সাথে যারা খেল-তামাশা করছে তাদের হাত রুখে দেওয়া এবং মুসলিম সন্তানদের মেধা নিয়ে জুয়া খেলা থেকে তাদের জিহ্বা ও কলমকে বিরত রাখা। আর আল্লাহ্ই সকল সংকল্পের পশ্চাতে রয়েছেন (অর্থাৎ তিনি সব জানেন)।
* * *
- হ্যাঁ, ইসলামের শত্রুরা উপলব্ধি করেছে যে, কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার জন্য আরবি ভাষাই একমাত্র মাধ্যম; তাই তারা তাদের সামরিক অভিযান ও বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের সর্বশক্তি দিয়ে একে নির্মূল করার জন্য নিজেদের নিয়োজিত করেছে। আর তা করেছে এমন সব বিষয় প্রচার করার মাধ্যমে যা আরবি ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়, বিশেষ করে আঞ্চলিক উপভাষাগুলোর পুনর্জাগরণের মাধ্যমে।
এবং পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে আমরা মুসলিম সন্তানদের মধ্যে এমন কিছু মূর্খ নির্বোধকে পাচ্ছি যারা প্রাচ্যবিদদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করছে; যা বিদেশিদের প্রচেষ্টাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الغَرْبِيِّينَ آنَذَاكَ، والله المُسْتَعَانُ!
* * *
- فعَنِدْئِذٍ؛ كَانَ ظُهُوْرُ مُسَابَقَةِ «شَاعِرِ المَلْيُوْن» اليَوْمَ؛ بِجَمِيعِ صُورِهَا الشِّعْريَّةِ والنَّثْريَّةِ سَوَاءٌ كَانَتْ على مُسْتَوَى الكِبَارِ أو الصِّغَارِ يُعَدُّ خَطَرًا جَسِيْمًا، وشَرًّا عَظِيمًا على وِحْدَةِ الأُمَّةِ الإسْلامِيَّةِ ـ عَرَبِيِّهَا وعَجَمِيِّهَاـ; لأنَّ الدَّعْوةَ إلى العَامِيَّةِ الآنَ في مُعْظَمِ بِلادِ المُسْلِمِيْنَ لَيْسَتْ دَخِيْلَةً ولا أجْنَبِيَّةً يُشَكُّ في إخْلاصِهَا ونِيَّاتِهَا; ولَكِنَّهَا دَعْوةٌ مَحَلِّيَّةٌ تَتَكَلَّمُ بألسِنَتِنَا، ومِنْ أبْنَاءِ جِلدَتِنَا، وتَسْتَظِلُّ تَحْتَ سَمَائِنَا
… بَلْ هِيَ في حَقِيْقَتِهَا سِهَامٌ تُسَلُّ مِنْ كِنَانَتِنَا وتُصَوَّبُ نَحْوَ لُغَتِنَا زِيَادَةً في تَفْرِيْقِ المُسْلِمِيْنَ وتَجْهِيْلِهِم، كَما أنَّها دَعْوَةٌ تَغْرِيبِيَّةٌ تَسْعَى في تَمْرِيْرِ المُخَطَّطَاتِ العَدَائِيَّةِ!
إنَّهَا حَقِيقَةٌ مُرَّةٌ حِينَما يَعْلَمُ دُعَاةُ «شَاعِرِ المَلْيُون» أنَّهَا: نَفْسُ الأهْدَافِ والمُخَطَّطَاتِ الَّتِي سَبَقَ أنْ تَكَرَّرَت في بِلادِ المُسْلِمِيْنَ على أيْدِي الصَّلِيْبِيِّيْنَ وفُرُوْخِهِم مِنَ المُسْتَشْرِقِيْنَ، ومَا أشْبَهَ اللَّيْلَةَ بالبَارِحَةِ!
* * *
- لِذَا لمَّا رَأيْتُ السَّيْلَ بَلَغَ الزُّبَى؛ قُمْتُ ولله الحَمْدُ بكِتَابَةِ هَذَهِ الرِّسَالَةِ الَّتِي مَا كَانَ لي أنْ أكْتُبَهَا إلَاّ دِفَاعًا عَنْ أمَّتِنَا الإسْلامِيَّةِ،
সেই সময়কার পশ্চিমাদের নিকট, আর আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি!
* * *
- এমতাবস্থায়; বর্তমান সময়ে ‘শায়ের আল-মিলিয়ন’ প্রতিযোগিতার আত্মপ্রকাশ—তা কবিতা বা গদ্য যে কোনো রূপেই হোক এবং বড়দের বা ছোটদের যে স্তরেই হোক না কেন—তা মুসলিম উম্মাহর (আরব ও অনারব নির্বিশেষে) ঐক্যের ওপর এক মারাত্মক বিপদ ও চরম অনিষ্ট হিসেবে বিবেচিত; কারণ বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিম দেশে আঞ্চলিক উপভাষার প্রতি এই আহ্বান কোনো অনুপ্রবেশকারী (دخيلة) বা বিদেশি বিষয় নয় যে এর আন্তরিকতা ও নিয়ত নিয়ে সন্দেহ করা হবে; বরং এটি একটি দেশীয় আহ্বান যা আমাদের ভাষায় কথা বলে, আমাদেরই স্বজাতীয়দের মধ্য থেকে উদ্ভূত এবং আমাদেরই আকাশের নিচে ছায়া লাভ করছে
… বরং প্রকৃতপক্ষে এগুলো আমাদেরই তূণীর থেকে নির্গত তির যা আমাদেরই ভাষার দিকে তাক করা হয়েছে যাতে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ এবং তাদের মূর্খতা আরও বৃদ্ধি পায়, পাশাপাশি এটি একটি পাশ্চাত্যঘেঁষা আহ্বান যা শত্রুতামূলক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট!
এটি এক তিক্ত বাস্তবতা যখন ‘শায়ের আল-মিলিয়ন’-এর প্রবক্তারা জানতে পারবে যে: এগুলো সেই একই লক্ষ্য ও পরিকল্পনা যা ইতিপূর্বে ক্রুসেডার এবং তাদের দোসর প্রাচ্যবিদদের হাতে মুসলিম দেশগুলোতে বারবার বাস্তবায়িত হয়েছে; আর বর্তমানের সাথে অতীতের কী অদ্ভুত মিল!
* * *
- তাই পরিস্থিতি যখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল; তখন আমি—সকল প্রশংসা আল্লাহর—এই পুস্তিকাটি রচনায় আত্মনিয়োগ করলাম, যা আমাদের ইসলামি উম্মাহর প্রতিরক্ষা ছাড়া অন্য কোনো কারণে আমি লিখতাম না,
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولُغَتِنَا العَرَبِيَّةِ، ونُصْحًا لإخْوَاني المُسْلِمِيْنَ، ولاسِيَّما الشَّبَابِ مِنْهُم، ممَّنْ أخَذَتْ بِهِم رِيْحُ الشِّعْرِ النَّبَطِيِّ، في نَعَرَاتٍ جَاهِلِيَّةٍ، ومُسَمَّيَاتٍ هَوْجَاءٍ تَحْتَ عَبَاءَةِ «شَاعِرِ المَلْيُون»، ومَا أدْارَكَ مَا «شَاعِرِ المَلْيُون»؟!
إنَّها دَعْوَةٌ جَاهِلِيَّةٌ، ونَعْرَةٌ قَبَلِيَّةٌ، وهَجْمَةٌ لِسَانِيَّةٌ على لُغَةِ القُرْآنِ
… مَعَ ما تَحْمِلُهُ مِنْ خُطَطٍ صَلِيْبِيَّةٍ غَابِرَةٍ، يَوْمَ فَتَحَ «شَاعِرُ المَلْيُون» البَابَ على مِصْرَاعَيْهِ، لتَسْرِيْبِ اللَّهَجَاتِ العَامِيَّةِ لِوَاذًا إلى بِلادِ المُسْلِمِيْنَ، ولاسِيَّما جَزِيْرَةِ العَرَبِ!
إنَّ أخْطَارَ الدَّعْوَةِ إلى الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» المُتَمَثِّلَةِ في «شَاعِرِ المَلْيُون» لم تَعُدْ مِنَ الخَفَاءِ بمَكَانٍ؛ فَهِي في الحَقِيْقَةِ دَعْوَةٌ سَافِرَةٌ تَحْمِلُ في مَضَامِيْنِهَا زَعْزَعَةَ اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ، وإفْسَادَ اللِّسَانِ العَربيِّ، واجْتِثَاثَ مَا يُمْكِنُ اجْتِثَاثُهُ ممَّا لَهُ صِلَةٌ بالدِّيْنِ الإسْلامِيِّ مِنْ مَوْرُوْثٍ، وفِكْرٍ، وتَارِيْخٍ.
فالدَّعْوَةُ إلى الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» في حَقِيْقَتِهَا صَدٌّ عَنْ سَبِيْلِ الفُصْحَى، مَعَ ما فِيْهَا مِنْ أخْطَاءٍ شَرْعِيَّةٍ لا تَقِلُّ أهمِّيَّةً مِنَ العُدْوَانِ على اللُّغَةِ، ومَنْ قَرَأ التَّارِيخَ أوْ بَعْضَهُ يَعْلَمُ حَقِيقَةَ هَذَا العِرَاكِ المُسْتَمِيتِ بَيْنَ لُغَتِنَا العَرَبِيَّةِ وبَيْنَ خُصُومِهَا.
* * *
আমাদের আরবি ভাষা এবং আমার মুসলিম ভাইদের—বিশেষ করে তাদের মধ্যে সেই সব যুবকদের নসিহত স্বরূপ, যাদেরকে নাবতি কবিতার বাতাস জাহেলি উন্মাদনা এবং ‘শায়ের আল-মিলিয়ন’-এর আবরণে বেপরোয়া নামকরণের দিকে ধাবিত করেছে; আর আপনি কি জানেন সেই ‘শায়ের আল-মিলিয়ন’ কী?!
নিশ্চয়ই এটি একটি জাহেলি আহ্বান, গোত্রীয় উন্মাদনা এবং কুরআনের ভাষার ওপর একটি ভাষাগত আক্রমণ
… যা অতীতের ক্রুসেডীয় চক্রান্তগুলো বহন করছে। সেই সময় থেকেই ‘শায়ের আল-মিলিয়ন’ মুসলিম দেশগুলোতে, বিশেষ করে আরব উপদ্বীপে লোকজ উপভাষাগুলো গোপনে অনুপ্রবেশ করানোর জন্য দ্বার অবারিত করে দিয়েছে!
‘শায়ের আল-মিলিয়ন’-এর মাধ্যমে উপস্থাপিত ‘নাবতি’ কবিতার এই আহ্বানের বিপদসমূহ আর গোপন নেই; প্রকৃতপক্ষে এটি একটি নগ্ন আহ্বান যা তার বিষয়বস্তুর মাঝে আরবি ভাষাকে অস্থিতিশীল করা, আরবি রসনাকে কলুষিত করা এবং ইসলাম ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐতিহ্য, চিন্তা ও ইতিহাসের যা কিছু সম্ভব সমূলে উৎপাটন করার বীজ বহন করে।
সুতরাং ‘নাবতি’ কবিতার দিকে এই আহ্বান মূলত বিশুদ্ধ ভাষার পথ থেকে বিচ্যুত করা, যার মধ্যে এমন সব শরয়ি ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে যা ভাষার ওপর আগ্রাসনের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর যারা ইতিহাস বা এর কিয়দংশ পাঠ করেছেন, তারা আমাদের এই আরবি ভাষা এবং তার শত্রুদের মধ্যকার এই প্রাণপণ লড়াইয়ের বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত আছেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
(فَكَيْفَ لا تَسْتَحِي أُمَّةٌ تَرْكُضُ لِبِنَاءِ مَجْدِهَا وعِزِّهَا وهِيَ مُصِرَّةٌ على الحِنْثِ العَظِيمِ; إذْ تَرْفُلُ بِلِبَاسِ عَدُّوِهَا، في نَشْرِ اللَّهَجَاتِ العَامِيَّةِ، والعَصَبِيَّاتِ القَبَلِيَّةِ تَحْتَ مَظَلَّةِ «شَاعِرِ المَلْيُون»؟ ألَمْ يَعْلَمُوا أنَّ اللَّعْنَةَ لم تَزَلْ تُطَارِدُ دُعَاةَ العَامِيَّةِ مُنْذُ صَاحَ بِهِمُ أهْلُ العِلْمِ الرَّبَّانِيِّيْنَ، وحُمَاةُ الفُصْحَى الغَيُوْرُوْنَ؟!
ألَمْ يَعْلَمُوا (أيْضًا) أنَّ دُعَاةَ العَامِيَّةِ: هم دُهَاةُ حَرْبٍ، ومِعْوَلُ هَدْمٍ، بَلْ سُوْسَةُ نَخْرٍ في جِسْمِ الأمَّةِ المَرْحُوْمَةِ؟
… فلْيَحْذَرِ المُسْلِمُ مِنْ سَنَنِ طَرَائِقِهِم، وليَتَجَنَّبْ سَبِيْلَهُم؛ فإنَّ لهُم طَرَائِقَ مُلْتَوِيَةً في بَثِّ النَّعَرَاتِ الجَاهِلِيَّةِ، كَما هُوَ مَاثِلٌ في دَعْوَتِهِم إلى الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ»، ولاسِيَّما فيمَا تَبَنَّتْهُ القَنَوَاتُ الفَضَائِيَّةُ مِنْ خِلالِ مُسَابَقَةِ «شَاعِرِ المَلْيُوْن»!
نَعَم؛ فَإنَّ بِسَاطَ الخَوْفِ لم يَزَلْ في تَمَدُّدٍ مِنْ دُعَاةِ «النَّبَطِيِّ»، الَّذِينَ لَمْ يَزَالُوا يَنْتَشِرُونَ في الجَزِيرَةِ العَرَبِيَّةِ في السَّنَواتِ الأخِيرَةِ انْتِشَارًا كَبِيْرًا مِمَّا يُلفِتُ النَّظَرَ، ويَسْتَرْعِي الانْتِبَاهَ، مِمَّا يَبْعَثُ هَاجِسَ الرِّيبَةِ في نِيَّاتِ الَّذِينَ يَسْعَوْنَ إلى نَشْرِهِ بِكُلِّ ما يَمْلِكُوْنَ مِنْ قَنَوَاتٍ إعْلامِيَّةٍ، ممَّا كَانَ سَبَبًا كَبِيْرًا في دَفْعِ شَبَابِ الأمَّةِ إلى مُخَالَفَةِ لِسَانِهِم
একটি জাতি কীভাবে লজ্জা পায় না যারা তাদের শৌর্য-বীর্য ও মর্যাদা বিনির্মাণে লিপ্ত অথচ তারা এক গুরুতর পাপে অবিচল রয়েছে; যখন তারা তাদের শত্রুর পোশাকে সজ্জিত হয়ে ‘শায়েরুল মালয়ুন’ (দশ লক্ষের কবি) এর ছত্রছায়ায় আঞ্চলিক উপভাষা এবং গোত্রীয় গোঁড়ামি প্রসারে মগ্ন? তারা কি জানে না যে, রব্বানি আলেমগণ এবং বিশুদ্ধ আরবির ইর্ষাপরায়ণ রক্ষকগণ তাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হওয়ার পর থেকেই লানত বা অভিশাপ সর্বদা এই উপভাষার প্রবক্তাদের তাড়া করে ফিরছে?!
তারা কি (আরও) জানে না যে, উপভাষার প্রবক্তারা হলো যুদ্ধের ধূর্ত কুশলী এবং ধ্বংসের হাতিয়ার, বরং তারা হলো এই রহমতপ্রাপ্ত উম্মতের দেহে কুরে কুরে খাওয়া কীটের মতো?
… সুতরাং একজন মুসলিম যেন তাদের অনুসৃত পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক থাকে এবং তাদের পথ পরিহার করে; কেননা জাহেলি উন্মাদনা ছড়ানোর জন্য তাদের অনেক কুটিল পথ রয়েছে, যেমনটি তাদের ‘নাবাতি’ কবিতার আহ্বানে প্রতীয়মান হয়, বিশেষ করে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ‘শায়েরুল মালয়ুন’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যা প্রচার করছে!
হ্যাঁ; নিশ্চয়ই ‘নাবাতি’ কবিতার প্রবক্তাদের কারণে আশঙ্কার বিস্তার ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব উপদ্বীপে লক্ষ্যণীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং গভীর মনোযোগের দাবি রাখে। এটি সেই সব ব্যক্তিদের নিয়তের প্রতি সন্দেহের উদ্রেক করে যারা তাদের হাতে থাকা যাবতীয় মিডিয়া চ্যানেলের মাধ্যমে একে প্রচার করতে সচেষ্ট। এটি উম্মতের যুবকদের তাদের নিজস্ব ভাষার প্রতিকূলে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
العَربيِّ، وذَلِكَ باسْتِمْرَاءِ الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ»، وتَذَوُّقِهِ ونَظْمِهِ
… كُلُّ ذَلِكَ سَيَكُوْنَ مِنْهُم (للأسَفِ) على حِسَابِ مُخَالِفَتِهم لِلِّسَانِ العَرَبِيِّ، وقَوَانِينِهِ، ومُفْرَدَاتِهِ، ومُرَكَّبَاتِهِ، وأوْزَانِهِ، مَعَ مَا فيهِ مِنْ ألحَانٍ مَرْذُولَةٍ، وأذْواقٍ مَمْجُوجَةٍ، كَما سَيَأتي بَيَانُهُ إنْ شَاءَ الله.
* * *
يَقُولُ ابْنُ تَيْمِيَةَ رحمه الله في «مَجْمُوْعِ الفَتَاوَى» (32/ 252): «إنَّ هَذَا الكَلامَ المَوْزُونَ كَلامٌ فَاسِدٌ مُفْرَدًا أوْ مُرَكَّبًا; لِأنَّهُمْ غَيَّرُوا فيهِ كَلامَ العَرَبِ، وبَدَّلُوهُ ; بِقَوْلِهِمْ: «مَاعُوا وبَدُوا وعَدُوا»، وأمْثَالُ ذَلِكَ مِمَّا تَمُجُّهُ القُلُوبُ والأسْمَاعُ، وتَنْفِرُ عَنْهُ العُقُولُ والطِّبَاعُ.
وأمَّا «مُرَكَّبَاتُهُ» فَإنَّهُ لَيْسَ مِنْ أوْزَانِ العَرَبِ; ولا هُو مِنْ جِنْسِ الشِّعْرِ، ولا مِنْ أبْحُرِهِ السِّتَّةَ عَشَرَ، ولا مِنْ جِنْسِ الأسْجَاعِ، والرَّسَائِلِ، والخُطَبِ.
وقَالَ أيْضًا: وهَؤُلاءِ تَرَكُوا المُقَامَرَةَ بالأيْدِي، وعَجَزُوا عَنْهَا: فَفَتَحُوا القِمَارَ بالألْسِنَةِ، والقِمَارُ بالألسِنَةِ أفْسَدُ لِلعَقْلِ والدِّينِ مِنَ القِمَارِ بالأيْدِي، والواجِبُ على المُسْلِمِيْنَ المُبَالَغَةُ في عُقُوبَةِ هَؤُلاءِ، وهَجْرِهِمِ، واسْتِتَابَتِهِمْ ـ إلى قَوْلِهِ ـ: فَإنَّهَا تُفْسِدُ اللِّسَانَ العَرَبِيَّ، وتَنْقُلُهُ إلى العُجْمَةِ المُنْكَرَةِ.
আরবি ভাষা এবং তা হবে ‘নাবাতি’ কবিতার আস্বাদন, রসাস্বাদন এবং তা রচনার অভ্যাসের মাধ্যমে
… এই সবকিছুই তাদের পক্ষ থেকে (দুর্ভাগ্যবশত) হবে আরবি ভাষা, এর নিয়ম-কানুন, শব্দভাণ্ডার, বাক্য গঠন এবং ছন্দশৈলীর বিরুদ্ধাচরণের বিনিময়ে। এর সাথে যুক্ত হবে বর্জনীয় ভুল উচ্চারণ এবং কুরুচিপূর্ণ রুচি, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বর্ণিত হবে।
* * *
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (৩২/ ২৫২) গ্রন্থে বলেন: «নিশ্চয়ই এই ছন্দোবদ্ধ কথা একক বা যৌগিক উভয়ভাবেই একটি ভ্রান্ত কথা; কারণ তারা এতে আরবদের কথাকে পরিবর্তন ও রদবদল করেছে; তাদের এই উক্তির মাধ্যমে: ‘মাঊ’, ‘বাদূ’ এবং ‘আদউ’, এবং এর অনুরূপ শব্দাবলি যা অন্তর ও কান প্রত্যাখ্যান করে এবং বুদ্ধি ও প্রকৃতি যা থেকে বিতৃষ্ণাবোধ করে।
আর এর «যৌগিক রূপ» সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি আরবদের ছন্দশৈলীর অন্তর্ভুক্ত নয়; না এটি কবিতার প্রকারভুক্ত, না এটি কবিতার ষোলোটি ছন্দের কোনোটি, আর না এটি অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য, পত্রাবলি বা ভাষণের প্রকারভুক্ত।
তিনি আরও বলেন: এবং তারা হাত দিয়ে জুয়া খেলা ছেড়ে দিয়ে এবং তাতে অক্ষম হয়ে জিহ্বা দিয়ে জুয়া খেলার পথ উন্মোচন করেছে। আর জিহ্বার জুয়া বুদ্ধি ও দ্বীনের জন্য হাতের জুয়ার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। মুসলমানদের ওপর কর্তব্য হলো এদের শাস্তির ব্যাপারে কঠোর হওয়া, এদের বর্জন করা এবং এদের তওবা করানো—তাঁর উক্তি পর্যন্ত—নিশ্চয়ই এটি আরবি ভাষাকে কলুষিত করে এবং একে অগ্রহণযোগ্য (منكرة) অনারবিয়তায় রূপান্তরিত করে।
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إلى قَوْلِهِ:
… والَّذِينَ يُبَدِّلُونَ اللِّسَانَ العَرَبِيَّ ويُفْسِدُونَهُ، لَهُمْ مِنْهُ هَذَا الذَّمُّ والعِقَابُ بِقَدْرِ مَا يَفْتَحُونَهُ، فَإنَّ صَلاحَ العَقْلِ، واللِّسَانِ مِمَّا يُؤْمَرُ بِهِ الإنْسَانُ، ويُعِينُ على تَمَامِ الإيمَانِ، وضِدُّ ذَلِكَ يُوجِبُ الشِّقَاقَ، والضَّلالَ، والخُسْرَانَ، والله أعْلَمُ» انْتَهَى.
* * *
- ثم إنَّني اسْتَعَنْتُ بالله تَعَالى في بَيَانِ خَطَأ إخْوانِي المُسْلِمِيْنَ مِمَّنْ تَسَاقَطُوا في فَلَكِ «شَاعِرِ المَلْيُون»، وغَيْرِهِ مِنْ دَعَاوِي الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ»، مَعَ كَشْفِ خُطُورَتِهِ على الدِّينِ الإسْلامِيِّ، واللِّسَانِ العَرَبِيِّ بإيجَازٍ واخْتِصَارٍ.
فَلَمَّا رَأيْتُ الأمْرَ أمْرًا مُنْكَرًا
… أجَجْتُ نَارِي ودَعَوْتُ قَنْبَرًا
وأنَا هُنَا لا أدَّعِي الإحَاطَةَ بالمَوْضُوعِ مِنْ جَمِيعِ جَوانِبِهِ; بَل هَذِهِ نُتَفٌ ولَمَحَاتٌ تُوقِفُ اللَّبِيبَ على مَواقِعِ الدَّاءِ، والخَلَلِ الكَامِنِ في مُسَابَقَةِ «شَاعِرِ المَلْيُوْن» خَاصَّةً: كَفِكْرٍ، وهَدَفٍ، وتَقْنِينٍ، ومَنْ أرَادَ مَعْرِفَةَ خَطَرِ نَشْرِ العَامِيَّةِ والشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» بعَامَّةٍ سَوَاءٌ في جَزِيْرَةِ العَرَبِ وغَيْرِهَا، فلْيَنْظُرْ كِتَابِي: «كَفَّ المُخْطِئ عَنِ الدَّعْوةِ إلى الشِّعْرِ النَّبَطِيِّ» ففِيْهِ دِرَاسَةٌ تَأصِيْلِيَّةٌ على ضَوْءِ الكِتَابِ والسُّنَّةِ، كَمَا سَتَرَاهُ إنْ شَاءَ الله.
তাঁর এই বক্তব্য পর্যন্ত:
… এবং যারা আরবি ভাষা পরিবর্তন করে এবং একে কলুষিত করে, তাদের জন্য এই কর্মের কারণে সেই পরিমাণ নিন্দা ও শাস্তি রয়েছে যা তারা (এই ফেতনার পথ) উন্মোচন করে। কেননা বুদ্ধি ও ভাষার সংশোধন এমন একটি বিষয় যার নির্দেশ মানুষকে প্রদান করা হয়েছে এবং তা ঈমানের পূর্ণতায় সহায়তা করে। এর পরিপন্থী বিষয় বিবাদ, পথভ্রষ্টতা এবং ক্ষতির কারণ হয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সমাপ্ত।
* * *
- অতঃপর আমি সেই সব মুসলিম ভাইদের ভুল স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করেছি, যারা 'শায়ের আল-মিলিয়ন' এবং এর ন্যায় 'নাবাতী' কবিতার অন্যান্য আহ্বানের আবর্তে নিপতিত হয়েছে। সেই সাথে ইসলাম ধর্ম ও আরবি ভাষার উপর এর ভয়াবহতা সংক্ষেপে ও সংকুচিত আকারে উন্মোচন করেছি।
যখন আমি বিষয়টি অত্যন্ত মন্দ ও আপত্তিকর (منكر) হিসেবে দেখলাম
… আমি আমার আগুন প্রজ্বলিত করলাম এবং কানবারকে ডাকলাম।
আর আমি এখানে বিষয়টির সকল দিক পরিবেষ্টন করার দাবি করছি না; বরং এগুলো কিছু অংশ ও আলোকপাত মাত্র, যা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে বিশেষ করে 'শায়ের আল-মিলিয়ন' প্রতিযোগিতার চিন্তা, উদ্দেশ্য ও নিয়মকাঠামোর মধ্যে বিদ্যমান ব্যাধি ও ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে সচেতন করবে। আর যারা সাধারণভাবে আরব উপদ্বীপ ও অন্যান্য স্থানে কথ্য ভাষা এবং 'নাবাতী' কবিতা প্রসারের বিপদ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তারা যেন আমার 'কাফ্ফুল মুখতিয়ি আনিল দাওয়াতি ইলাশ শিরিন নাবাতী' নামক গ্রন্থটি অধ্যয়ন করে। কেননা এতে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি তাত্ত্বিক ও মৌলিক গবেষণা রয়েছে, যা আপনি ইনশাআল্লাহ দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقَدْ أدَرْتُ رِسَالَتِي هُنَا على بَيَانِ مَحْظُوْرَاتِ «شَاعِرِ المَلْيُون»، وذَلِكَ مِنْ خِلالِ سِتَّةَ عَشَرَ مَحْظُوْرًا شَرْعِيًّا، بشَيءٍ مِنَ الاخْتِصَارِ.
وَكَتَبهُ
ذِيَابُ بنُ سَعْد آل حَمْدانَ الغَامديُّ
يَوْمَ الاثْنِيْن للنِّصْفِ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعِ الثَّاني لعَامِ ألْفٍ وأرْبَعْمائَةٍ وتِسْعَةٍ وعِشْرِيْنَ على صَاحِبِهَا أفْضَلُ الصَّلاةِ والتَّسْلِيْمِ
(15/ 4/1429)
الطَّائِفُ المأنُوْسُ
ص. ب (1979)
আমি আমার এই গবেষণাপত্রটি এখানে ‘শা’য়িরুল মিলিয়ন’-এর নিষিদ্ধ (محظور) বিষয়সমূহ বর্ণনার ওপর আবর্তিত করেছি, যা সংক্ষেপে ষোলোটি শরয়ি নিষিদ্ধ (محظور شرعي) বিষয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
এটি লিখেছেন
যিয়াব বিন সা'দ আল হামদান আল গামিদী
সোমবার, রবিউস সানি মাসের ১৫ তারিখ, ১৪২৯ হিজরি; যাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(১৫/ ৪/ ১৪২৯)
পুণ্যময় তায়েফ
পি. ও. বক্স (১৯৭৯)
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المَحَاذِيْرُ الشَّرْعِيَّةُ
في مُسَابَقَةِ «شَاعِرِ المَلْيُوْن»
هُنَاكَ مَحْظُوْرَاتٌ شَرْعِيَّةٌ كَثِيْرَةٌ، وأغْلاطٌ شِعْرِيَّةٌ خَطِيْرَةٌ قَدْ تَضَمَّنَتْهَا مُسَابَقَةُ «شَاعِرِ المَلْيُوْن»، غَيْرَ أنَّنِي آثَرْتُ الاخْتِصَارَ، ومَنْ أرَادَ زِيَادَةَ بَيَانٍ فَلْيَنْظُرْ كِتَابَ: «كَفِّ المُخْطِئ»، فإلى ذِكْرِ المَحْظُوْرَاتِ الشَّرْعِيَّةِ:
-
المَحْظُوْرُ الأوَّلُ: العُدْوانُ على اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ، وذَلِكَ في نَشْرِ العَامِّيَّةِ المَلحُونَةِ الرَّكِيْكَةِ، وبَثِّهَا بَيْنَ شَبَابِ المُسْلِمِيْنَ لِتُزَاحِمَ الفُصْحَى كَما هُو ظَاهِرٌ في تَسْوِيْقِ الدَّعَوَاتِ العَامِيَّةِ واللَّهَجَاتِ المَحَلِّيَّةِ باسْمِ: مُسَابَقَةِ «شَاعِرِ المَلْيُوْن».
وفي هَذِهِ المُسَابَقَةِ اأيْضًا إبْعَادُ النَّاشِئَةِ عَنْ تَدَبُّرِ وفَهْمِ كِتَابِ الله وسَنَةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم ; وذَلِكَ بِحَمْلِهِمْ على هَجْرِ اللِّسَانِ العَرَبِيِّ الفَصِيحِ الَّذِي أُنْزِلَ بِهِمَا الكِتَابُ والسُّنَّةُ، وهَذَا مُشَاهَدٌ عِنْدَ أكْثَرِ أبْنَاءِ الجَزِيرَةِ، فَضْلاً عَنْ غَيْرِهِم.
* * *
أمَّا العَامِيَّةُ في مَعْنَاهَا السَّاذَجِ، وكَذَا العَوَامُ الَّذِينَ لا يُحْسِنُونَ
শরীয়তগত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
‘শা ইরে মিলিয়ূন’ প্রতিযোগিতায়
‘শা ইরে মিলিয়ূন’ প্রতিযোগিতায় অনেক শরীয়তগত নিষিদ্ধ বিষয় এবং মারাত্মক কাব্যিক ভুলভ্রান্তি রয়েছে। তবে আমি সংক্ষেপ করাকে প্রাধান্য দিয়েছি; আর যিনি অধিক বিস্তারিত জানতে চান, তিনি ‘কাফফুল মুখতি’ গ্রন্থটি দেখতে পারেন। শরীয়তগত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:
-
প্রথম নিষিদ্ধ বিষয়: আরবি ভাষার ওপর আগ্রাসন। আর তা হলো অশুদ্ধ ও দুর্বল কথ্য ভাষার প্রসার ঘটানো এবং মুসলিম যুবকদের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে তা বিশুদ্ধ ভাষার স্থলাভিষিক্ত হয়; যেমনটি ‘শা ইরে মিলিয়ূন’ প্রতিযোগিতার নামে কথ্য ভাষার প্রচার এবং আঞ্চলিক উপভাষাগুলোর প্রসারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট প্রতীয়মান।
এছাড়াও এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও তা অনুধাবন করা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়; কারণ এর মাধ্যমে তাদেরকে সেই বিশুদ্ধ আরবি ভাষা বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়, যে ভাষায় কিতাব ও সুন্নাহ অবতীর্ণ হয়েছে। এটি আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ সন্তানদের ক্ষেত্রে যেমন পরিলক্ষিত হয়, অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
* * *
আর সাধারণ কথ্য ভাষা তার সরল অর্থে, এবং তদ্রূপ সাধারণ মানুষ যারা (বিশুদ্ধ ভাষায়) পারদর্শী নয়...
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
غَيْرَهَا لا يُعَدُّ خَطَرًا على اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ الفَصِيحَةِ، ولا خَوْفًا مِنْهُمَا؛ لِأنَّ العَوامَّ لا يَمْلِكُونَ فِكْرًا مَدْرُوْسًا، أو هَدَفًا مَرْسُوْمًا يُخْشَى مِنْهُ، بَلْ يُعَدُّ عِنْدَهُم تَرْدِيدًا وإنْشَادًا يَجْرِي على ألسِنَتِهِم بَيْنَ الحِيْنِ والآخَرِ، ولَمْ يَكُنْ للشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» مُنَظِّرُونَ، أو دُعَاةٌ كَمَا هُو اليَوْمَ، وأشَدُّهُ خَطَرًا هَذِهِ الأيَّامَ أنْ تَمْتَدَّ أيْدٍ شَوْهَاءُ إلى تَدْوِيْنِ الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» تَحْتَ مُسَمَّيَاتٍ وعَنَاوِيْنَ عَامِّيَّةٍ.
فَالشِّعْرُ «النَّبَطِيُّ» لَيْسَ بِدْعًا مِنَ القَوْلِ; بَل مَعْرُوفٌ مَألُوفٌ لَدَى طَائِفَةٍ مِنْ أبْنَاءِ الجَزِيرَةِ، فَمِنْهُمْ مَنْ يَتَذَوَّقُهُ بِحُكْمِ الوِرَاثَةِ والبِيئَةِ، وآخَرُونَ يَسْمَعُونَ مِنْهُ أشْيَاءَ ونُتَفًا ألِفُوهَا في حَيَاتِهِمُ اليَوْمِيَّةِ
… إلَاّ أنَّ مَعْرِفَةَ بَعْضِهِمْ لِلأسَفِ بالدَّسِّ والمُؤَامَرَاتِ الَّتِي يُحِيكُهَا أعْدَاءُ المُسْلِمِيْنَ ضِدَّ الإسْلامِ ولُغَتِهِ العَرَبِيَّةِ قَلِيلَةٌ جِدًّا.
* * *
- وهُنَا سُؤالٌ مُهِمٌّ؛ طَالمَا طَرَحَهُ دُعَاةُ العَامِيَّةِ، وأنْصَارُ الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ»، ورُبَّما أشْيَاعُ مُسَابَقَةِ «شَاعِرِ المَلْيُوْن»، وذَلِكَ مِنْ خِلالِ قَوْلهِم:
إنَّ الشِّعْرَ «النَّبَطِيَّ» لا يَخْتَلِفُ عَنِ الشِّعْرِ الفَصِيحِ، بَلْ هُوَ سَلِيلُهُ، وفَرْعٌ مِنْ فُرُوعِهِ.
এ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুকে সাবলীল আরবি ভাষার জন্য বিপদ হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং তাদের থেকে কোনো ভয়েরও কারণ নেই; কেননা সাধারণ জনগণের (العوام) কোনো সুচিন্তিত চিন্তা কিংবা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই যা থেকে আশঙ্কা করা যেতে পারে। বরং তাদের কাছে এটি একটি আবৃত্তি ও গুঞ্জরণ মাত্র যা সময়ে সময়ে তাদের মুখে উচ্চারিত হয়। অতীতে 'নাবাতী' কবিতার জন্য বর্তমানের ন্যায় কোনো তাত্ত্বিক কিংবা প্রচারক ছিল না। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় এই যে, সাধারণ ও আঞ্চলিক শিরোনাম এবং নামকরণের অধীনে 'নাবাতী' কবিতাকে সংকলন করার জন্য কিছু অশুভ হাত প্রসারিত হচ্ছে।
মূলত 'নাবাতী' কবিতা কোনো অভূতপূর্ব (بدعا) বিষয় নয়; বরং জাজিরাতুল আরবের একদল মানুষের কাছে এটি সুপরিচিত ও পরিচিত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ উত্তরাধিকার ও পরিবেশগত প্রভাবে এটি উপভোগ করেন, আবার কেউ কেউ তাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিচিত কিছু অংশবিশেষ শুনতে পান
… কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ইসলামের শত্রুরা ইসলাম এবং এর আরবি ভাষার বিরুদ্ধে যে অনুপ্রবেশ (الدس) ও ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে, সে বিষয়ে তাদের কারো কারো জ্ঞান অতি সামান্য।
* * *
- এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে; যা আঞ্চলিক ভাষার প্রবক্তারা, 'নাবাতী' কবিতার সমর্থকরা এবং সম্ভবত 'শায়েরুল মিলিয়ন' প্রতিযোগিতার অনুসারীরা এই বলে উত্থাপন করেন:
নিশ্চয়ই 'নাবাতী' কবিতা সাবলীল ধ্রুপদী কবিতার চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়, বরং এটি তারই উত্তরসূরি এবং শাখাগুলোর একটি শাখা মাত্র।
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قُلْتُ: لا شَكَّ أنَّ هَذَا القَوْلَ لا يَصْدُرُ إلَاّ ممَّنْ لا يَعْرِفُ حَقِيْقَةَ الشِّعْرِ العَرَبيِّ الفَصِيْحِ، وبَيْنَ الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» الرَّكِيْكِ، فَمَنْ نَظَرَ إلَيْهِما عَلِمَ يَقِينًا أنَّهُما يَخْتَلِفَانِ اخْتِلافًا كَبِيْرًا في قَضِيَّتَيْنِ مُهِمَّتَيْنِ، كَمَا يَلي:
القَضِيَّةُ الأوْلى: طَرِيقَةُ النَّظْمِ والإنْشَادِ.
القَضِيَّةُ الثَّانِيَةُ: اللُّغَةُ.
فأمَّا القَضِيَّةُ الأوْلى: فَلا شَكَّ أنَّ طَرِيقَةَ النَّظْمِ والإنْشَادِ بَيْنَهُما مُخْتَلِفَةٌ جِدًّا، فَلِكُلٍّ مِنْ هَذَيْنِ الفَنَّيْنِ أُصُولٌ ونَظْمٌ مُخْتَلِفٌ، بَلِ الاخْتِلافُ بَيْنَهُما ظَاهِرٌ في كُلٍّ: مِنَ البِنَاءِ والوَزْنِ، والبَحْرِ، والمُفْرَدَاتِ، والقَافيةِ، وطَرِيقَةِ الإنْشَادِ مُخْتَلِفَةً
… على الرُّغْمِ مِنْ أنْ لِلشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» وزْنًا وقَافيةً، ولِلشِّعْرِ العَرَبِيِّ الفَصِيحِ وزْنًا وقَافيةً; لَكِنَّ التِزَامَ كُلٍّ مِنْهُمَا بِوزْنٍ وقَافيةٍ لا يُحَقِّقُ الشَّبَهَ بَيْنَهُمَا.
يُوضِّحُهُ أنَّ الشِّعْرَ الفَارِسِيَّ، والشِّعْرَ التُّرْكِيَّ يُنْظَمَانِ على أوْزَانِ الشِّعْرِ العَرَبِيِّ الفَصِيحِ إلى يَوْمِنَا هَذَا، ويُصَاغَانِ في قَالَبِ الشِّعْرِ العَرَبِيِّ بِاللُّغَةِ الفَارِسِيَّةِ واللُّغَةِ التُّرْكِيَّةِ، ولَمْ يَزْعُمْ أحَدٌ أنَّ هَذَيْنِ الشِّعْرَيْنِ في لُغَتَيْهِ ـ الفَارِسِيَّةِ والتُّرْكِيَّةِ ـ فَرْعٌ مِنَ الأدَبِ العَرَبِيِّ أوْ سَلِيلَيْنِ لَهُ، على الرُّغْمِ مِنْ أنَّهُمَا يُنْظَمَانِ على قَوالِبِهِ وأشْكَالِهِ!
আমি বলছি: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই উক্তিটি কেবল এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকেই প্রকাশ পেতে পারে, যে প্রাঞ্জল আরবি কবিতা এবং দুর্বল (ركيك) 'নাবতি' কবিতার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবগত নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটির প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, সে নিশ্চিতভাবেই জানতে পারবে যে, গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়ে এগুলোর মধ্যে বড় ধরণের পার্থক্য রয়েছে, যা নিম্নরূপ:
প্রথম বিষয়টি: পদ্য রচনা ও আবৃত্তির পদ্ধতি।
দ্বিতীয় বিষয়টি: ভাষা।
প্রথম বিষয়ের ক্ষেত্রে বলা যায়: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দুটির মধ্যে পদ্য রচনা ও আবৃত্তির পদ্ধতি অত্যন্ত ভিন্ন। এই দুটি শিল্পের প্রতিটিরই পৃথক পৃথক মূলনীতি (أصول) এবং নিয়ম রয়েছে। বরং গঠনশৈলী, ছন্দ (وزن), মাত্রা (بحر), শব্দভাণ্ডার, অন্ত্যমিল (قافية) এবং আবৃত্তির পদ্ধতি—প্রত্যেকটির মধ্যেই এই পার্থক্য সুস্পষ্ট
… যদিও 'নাবতি' কবিতার নির্দিষ্ট ছন্দ (وزن) ও অন্ত্যমিল (قافية) রয়েছে এবং প্রাঞ্জল আরবি কবিতারও ছন্দ (وزن) ও অন্ত্যমিল (قافية) রয়েছে; কিন্তু উভয়ের ছন্দ ও অন্ত্যমিলের এই আবশ্যকতা তাদের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য তৈরি করে না।
বিষয়টি এভাবে স্পষ্ট করা যায় যে, ফারসি ও তুর্কি কবিতা আজ পর্যন্ত প্রাঞ্জল আরবি কবিতার ছন্দের (أوزان) ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়ে আসছে এবং এগুলো আরবি কবিতার ছাঁচেই ফারসি ও তুর্কি ভাষায় গঠন করা হয়। তা সত্ত্বেও কেউ কখনও দাবি করেনি যে, নিজস্ব ভাষার—ফারসি ও তুর্কি—এই কবিতাগুলো আরবি সাহিত্যের একটি শাখা কিংবা তারই উত্তরসূরি, যদিও এগুলো আরবি কবিতার ছাঁচ ও আকারেই রচিত হয়!
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كما أنَّ الشِّعْرَ «النَّبَطِيَّ» لا زَالَتْ أوْزَانُه في عَالَمِ الغَيْبِ لَمْ تُحَدَّدْ، ولَمْ تُعْرَفْ، حَتَّى سَاعَتِي هَذِهِ!
* * *
- إلَاّ أنَّ الأُسْتَاذَ عَبْدَ الله بنَ خَمِيسٍ قَدْ قَطَعَ الطَّرِيقَ على النَّبَطِيِّينَ، وكَفَاهُمْ مُؤْنَةَ البَحْثِ والتَّنْقِيبِ عَنْ أوْزَانِ الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» ; لاسِيَّمَا أنَّهُ مِنْ أرْبَابِ هَذَا الفَنِّ; ومِمَّنِ اشْتَغَلَ بِتَدْوِينِ الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ»، ودِرَاسَتِهِ; مِمَّا يَقْضِي بِإمَامَتِهِ وصَوَابِ حُكْمِهِ في الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ».
يَقُولُ ابنُ خَمِيسٍ في «الأدَبِ الشَّعْبِيِّ» (86): «إنَّهُ تَتَبَّعَ الأوْزَانَ الَّتِي اسْتَعْمَلَهَا شَاعِرٌ عِامِّيٌّ واحِدٌ; فَأحْصَى مِنْهَا عِشْرِينَ وزْنًا، ولَمَّا يُقَارِبْ نِهَايَةَ الدِّيوانِ».
* * *
- أمَّا القَضِيَّةُ الثَّانِيَةُ: وهِيَ اللُّغَةُ، فَلا شَكَّ أنَّ الفَرْقَ الكَبِيرَ المُمَيِّزَ لِلشِّعْرِ الفَصِيحِ عَنِ «النَّبَطِيِّ» هُو اللُّغَةُ، فَقَدْ فَقَدَتْ لُغَةُ الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» خَصْلَتَيْنِ مُهِمَّتَيْنِ مِنْ خَصَائِصِ الشِّعْرِ العَرَبِيِّ الفَصِيحِ، وهُمَا:
ঠিক যেমন ‘নাবাতী’ কবিতার ছন্দসমূহ এখনও অদৃশ্যের অন্তরালে রয়ে গেছে যা অদ্যাবধি নির্ধারিত হয়নি এবং সুপরিচিতও হয়ে ওঠেনি!
* * *
- তবে উস্তাদ আবদুল্লাহ বিন খামিস নাবাতী কবিদের দীর্ঘ পথকে সংক্ষেপ করে দিয়েছেন এবং নাবাতী কবিতার ছন্দসমূহের অনুসন্ধান ও গবেষণার কষ্ট লাঘব করেছেন; বিশেষত যেহেতু তিনি এই শিল্পের একজন বিশেষজ্ঞ এবং যারা নাবাতী কবিতা সংকলন ও তা নিয়ে গবেষণায় ব্যাপৃত ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত; যা এই নাবাতী কবিতার ক্ষেত্রে তাঁর ইমামত (إمامة) এবং সিদ্ধান্তের সঠিকতা (صواب) প্রমাণ করে।
ইবনে খামিস 'আল-আদাব আশ-শা'বী' (৮৬) গ্রন্থে বলেন: “তিনি একজন সাধারণ কবির ব্যবহৃত ছন্দগুলো অনুসরণ করেছেন; অতঃপর তিনি সেখান থেকে বিশটি ছন্দ গণনা করেছেন, অথচ তখনও তিনি কাব্যগ্রন্থের সমাপ্তির কাছাকাছি পৌঁছাননি।”
* * *
- আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো ভাষা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রমিত (فصيح) কবিতাকে ‘নাবাতী’ কবিতা থেকে পৃথককারী মৌলিক পার্থক্যটি হলো ভাষা। কেননা নাবাতী কবিতার ভাষা প্রমিত আরবি কবিতার বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্য থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলেছে, আর সেই দুটি হলো:
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأُولَى: الإعْرَابُ.
الثَّانِيَةُ: التَّرْكِيبُ.
فَالإعْرَابُ هُو أسَاسُ الشِّعْرِ الفَصِيحِ، وإذَا أخَلَّ الشَّاعِرُ بِإعْرَابِ كَلِمَةٍ واحِدَةٍ في بَيْتِ الشِّعْرِ الفَصِيحِ أفْسَدَهُ، واحْتَاجَ إلى الإتْيَانِ بِالكَلِمَةِ مُعْرَبَةً صَحِيحَةً حَتَّى يَسْتَقِيمَ شِعْرُهُ، وإلَاّ سَقَطَ في عَثَرَاتٍ وعَجْزٍ يُؤَاخَذُ عَلَيْهِ، ولا يُعَدُّ الشِّعْرُ في هَذِهِ الحَالِ شِعْرًا فَصِيحًا مَهْمَا كَانَ قَائِلُهُ، بغَضِّ النَّظَرِ عَنِ الضَّرُوْرَةِ الشِّعْرِيَّةِ.
أمَّا الشِّعْرُ «النَّبَطِيِّ» فَقَدْ أشَارَ عَبْدُ الله بنُ خَمِيسٍ إلى وُجُوبِ الابْتِعَادِ بِهِ عَنِ اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ الفَصِيحَةِ حَتَّى يَسْتَقِيمَ وزْنُهُ، حَيْثُ يَقُولُ (81): «لا تُحَاوِلْ وأنْتَ تَقْرَأُ هَذَا الشِّعْرَ أنْ تَسْلُكَ جَادَّةَ اللُّغَةِ الفَصِيحَةِ، فَتُسَلِّطَ العَوامِلَ على مَعْمُولاتِهَا، وتُحَاوِلُ الرَّفْعَ، أوِ النَّصْبَ، أوِ الجَرَّ، أوِ السُّكُونَ بِالعَلامَاتِ الأصْلِيَّةِ، أوِ الفَرْعِيَّةِ، أوْ حَذْفٍ، أوْ سُكُونٍ، أوْ تُحَاوِلُ أنْ تَقُولَ عَنْ هَذَا الفِعْلِ أنَّهُ مِثَالٌ، أوْ عَنِ الآخَرِ أنَّهُ أجْوفٌ، أوْ عَنْ ثَالِثٍ أنَّهُ نَاقِصٌ، أوْ مَهْمُوزٌ، أوْ واوِيٌّ، أوْ يَائِيٌّ إلَخْ،
প্রথমটি: ই'রাব বা ব্যাকরণিক বিভক্তি (الإعراب)।
দ্বিতীয়টি: তারকিব বা বাক্য গঠন (التركيب)।
ই'রাব হলো বিশুদ্ধ (الفَصِيح) কবিতার ভিত্তি। যদি কবি বিশুদ্ধ কবিতার একটি শব্দের ই'রাবে সামান্য ত্রুটিও করেন, তবে তিনি তা নষ্ট করে ফেলেন। তার কবিতা সঠিক করার জন্য শব্দটিকে সঠিক (صَحِيحَة) ই'রাবসহ উপস্থাপন করা প্রয়োজন যাতে তার কাব্য সুসংগত হয়; অন্যথায় তিনি এমন বিচ্যুতি ও অক্ষমতার মধ্যে নিপতিত হবেন যার জন্য তাকে দায়ী করা হবে। এমতাবস্থায় কবিতাটি আর বিশুদ্ধ (الفَصِيح) হিসেবে গণ্য হবে না, তার রচয়িতা যেই হোন না কেন, কাব্যিক প্রয়োজনীয়তার (الضَّرُوْرَة الشِّعْرِيَّة) বিষয়টি বিবেচনা না করেই।
তবে 'নাবাতী' কবিতার ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে খামিস একে বিশুদ্ধ আরবি ভাষা থেকে দূরে রাখার আবশ্যকতা নির্দেশ করেছেন যাতে এর ছন্দ বজায় থাকে। যেমনটি তিনি বলেন (৮১): "আপনি যখন এই কবিতা পাঠ করবেন, তখন বিশুদ্ধ (الفَصِيحَة) ভাষার পথ অনুসরণের চেষ্টা করবেন না। ফলে আপনি আমেল বা প্রভাবককে (العَوامل) তার মামুল বা প্রভাবিত শব্দের (مَعْمُولاتِهَا) ওপর প্রয়োগ করবেন এবং মৌলিক বা আনুষঙ্গিক চিহ্ন দ্বারা রফ' (الرَّفْع), নসব (النَّصْب), জর (الجَرّ) অথবা সুকুন (السُّكُون) প্রদানের চেষ্টা করবেন। অথবা আপনি বিলোপ (حَذْف) বা স্থিরতা (سُكُون) প্রয়োগ করতে চাইবেন, কিংবা কোনো ক্রিয়া সম্পর্কে বলবেন যে এটি মেসাল (مِثَال), অন্যটি আজওয়াফ (أجْوف), তৃতীয়টি নাক্বিস (نَاقِص), অথবা মাহমুজ (مَهْمُوز), ওয়াভি (واوِيٌّ) কিংবা ইয়াই (يَائِيٌّ) ইত্যাদি।"
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ولا عَنْ هَذَا الاسْمِ أنَّهُ مَقْصُورٌ، أوْ مَنْقُوصٌ، أوْ مُؤَنَّثٌ حَقِيقِيٌّ، أوْ مَعْنَوِيٌّ، ولا عَنْ هَذَا الجَمْعِ، أوْ هَذِهِ التَّثْنِيَةِ أنَّهُما صَحِيحَانِ، أوْ غَيْرُ صَحِيحَيْنِ، لا تُحَاوِلْ أنَّ تَقْرَأ الشِّعْرَ وأنْتَ مُرْتَبِطٌ بِشَيْءٍ مِنْ هَذَا.
ولا أنْ تَقُولَ إذَا جِئْتَ تَقْرَؤهُ لِمَ هَذَا كَذَا، أوْ لَيْسَ هَذَا بِصَحِيح؟ فَالشَّاعِرُ «النَّبَطِيُّ» يُرِيدُ أنْ يُخْضِعَ كُلَّ شَيْءٍ مِنْ أجْلِ اسْتِقَامَة وزْن بَيْتِهِ وكَفَى!
ويَقُولُ أيْضًا: «يَنْفَرِدُ هَذَا الشِّعْرُ ـ النَّبَطِيُّ ـ بِخَصَائِصَ تَنْأى بِهِ عَنِ الشِّعْرِ الفَصِيْحِ، ونَظَرًا لأنَّهُ لَمْ تُقَعَّدْ لَهُ قَوَاعِدُ، ولَمْ يُوْضَعْ فِيْهِ دِرَاسَاتٌ يُفْهَمُ على ضَوْئِهَا، وقَدْ جَانَبَ كَثِيْرًا مِنْ قَواعِدِ اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ، واصْطِلاحَاتِهَا: نَحْوِيَّةً كَانَتْ، أمْ صَرْفِيَّةً، أمْ إمْلائِيَّةً، أمْ عَرُوْضِيَّةً; لِذَا فَإنَّهُ مِنَ العَسِيرِ على الدَّارِسِ لِهَذَا الشِّعْرِ وهُو بَعِيْدٌ عَنْ بِيئَتِهِ ومُحِيطِهِ أنْ يُرَكِّزَ فَهْمَهُ فِيْهِ، أوْ يَخْرُجَ مِنْهُ بِكَبِيرِ فَائِدَةٍ; مَا لَمْ يُؤَدِّهِ الأدَاءَ الصَّحِيحَ بِلَهْجَتِهِ الخَاصَّةِ بِهَا».
كَمَا لا يَخْفَى على الجَمِيعِ أنَّ نَظْمَ الجُمْلَةِ العَرَبِيَّةِ الفَصِيحَةِ يَرِدُ على وُجُوهٍ أقَلُّهَا: أنْ يَتَألَّفَ مِنِ اسْمَيْنِ، أوْ مِنْ فِعْلٍ واسْمٍ، أوْ
এই বিশেষ্যটি 'মাকসুর', 'মানকুস', প্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গ কিংবা অর্থগত স্ত্রীলিঙ্গ কি না—তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি এই দ্বিবচন বা বহুবচনগুলো সহিহ (صحيح) কি না, কিংবা সহিহ নয় (غير صحيح) কি না—তা নিয়েও মাথা ঘামাবেন না। আপনি যখন কবিতা পাঠ করবেন, তখন এ জাতীয় কোনো ব্যাকরণিক বিষয়ের সাথে নিজেকে আবদ্ধ রেখে পড়ার চেষ্টা করবেন না।
এমনকি আপনি যখন এটি পাঠ করতে যাবেন, তখন এমনটিও বলবেন না যে, ‘এটি কেন এমন হলো?’ কিংবা ‘এটি কি সহিহ (صحيح) নয়?’ কেননা ‘নাবাতী’ কবি কেবল তার পঙক্তির ছন্দের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনে সবকিছুকে ভাষাগত নিয়মের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে চান এবং এটিই তার জন্য যথেষ্ট!
তিনি আরও বলেন: “এই ‘নাবাতী’ কবিতা এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা একে ধ্রুপদী ফাসিহ কবিতা থেকে পৃথক করে দেয়। যেহেতু এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট মূলনীতি বা নিয়ম নির্ধারণ করা হয়নি এবং এমন কোনো গবেষণা-পর্যালোচনাও তৈরি হয়নি যার আলোকে এটি সঠিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হবে, তদুপরি এটি আরবি ভাষার অনেক ব্যাকরণগত, রূপতাত্ত্বিক, বানানরীতি বা ছন্দশাস্ত্রীয় নিয়ম ও পরিভাষা এড়িয়ে চলে; তাই যে গবেষক এর পরিবেশ ও পরিমণ্ডল থেকে দূরে অবস্থান করছেন, তার পক্ষে এই কবিতায় যথাযথ নিবিষ্ট হওয়া বা তা থেকে বিশেষ উপকৃত হওয়া অত্যন্ত কঠিন; যদি না তিনি একে এর নিজস্ব উপভাষারীতিতে সহিহ (صحيح) পন্থায় উপস্থাপন করেন।”
যেমনটি সবার নিকট স্পষ্ট যে, বিশুদ্ধ আরবি বাক্য গঠনের পদ্ধতি কয়েকটি রূপে বিন্যস্ত হয়, যার মধ্যে ন্যূনতম হলো: তা দুটি বিশেষ্য দ্বারা গঠিত হবে, অথবা একটি ক্রিয়া ও একটি বিশেষ্য দ্বারা, অথবা...
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مِنْ جُمْلَتَيْنِ، أوْ مِنْ فِعْلٍ واسْمَيْنِ، أوْ مِنْ فِعْلٍ وثَلاثَةِ أسْمَاءٍ، أوْ مِنْ فِعْلٍ وأرْبَعَةِ أسْمَاءٍ
… إلَخ.
أمَّا نَظْمُ الجُمْلَةِ العَامِيَّةِ فَلَيْسَ لَهُ قَاعِدَةٌ مَعْرُوفَةٌ حَتَّى الآنَ وقَدْ يُوافِقُ حَالاً مِنْ أحْوالِ بِنَاءِ الجُمْلَةِ العَرَبِيَّةِ ونَظْمِهَا في بَعْضِ التَّعْبِيرَاتِ، وقَدْ يُخَالِفُ ذَلِكَ.
يَقُولُ مَرْزُوْقُ بنُ صِنَيْتَانَ في كِتَابِهِ «الفُصْحَى» (187): «ولا أعْرِفُ حدًّا لِأقَلِّهِ، ولَمْ أطَّلِعْ على تَحْدِيدٍ لِنَظْمِ الجُمْلَةِ العَامِيَّةِ يُمْكِنُ الاعْتِمَادُ عَلَيْهِ حَتَّى يُمْكِنَنَا أنْ نُقَارِنَ بَيْنَ الجُمْلَةِ الفَصِيحَةِ والعَامِيَّةِ، ونَعْرِفَ وجْهَ التَّشَابُهِ بَيْنَهُمَا، ولَيْسَ الغَرَضُ مِنْ هَذِهِ الدِّرَاسَةِ مُقَارَنَةَ الجُمْلَةِ العَامِيَّةِ بِالجُمْلَةِ العَرَبِيَّةِ إنَّمَا الغَرَضُ بَيَانُ الِاخْتِلافِ بَيْنَ نِظَامِ الجُمْلَتَيْنِ، وبُعْدِ كَلٍّ مِنْهُمَا عَنِ الأُخْرَى، وانْتِفَاءِ التَّشَابُهِ بَيْنَهُمَا» انْتَهَى.
* * *
يَقُولُ ابْنُ تَيْمِيَةَ رحمه الله في «مَجْمُوْعِ الفَتَاوَى» (32/ 252): «إنَّ هَذَا الكَلامَ المَوْزُونَ كَلامٌ فَاسِدٌ مُفْرَدًا أوْ مُرَكَّبًا; لِأنَّهُمْ غَيَّرُوا فيهِ كَلامَ العَرَبِ، وبَدَّلُوهُ ; بِقَوْلِهِمْ: «مَاعُوا وبَدُوا وعَدُوا»، وأمْثَالُ
দুটি বাক্য থেকে, অথবা একটি ক্রিয়া ও দুটি বিশেষ্য থেকে, অথবা একটি ক্রিয়া ও তিনটি বিশেষ্য থেকে, অথবা একটি ক্রিয়া ও চারটি বিশেষ্য থেকে
… ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে আঞ্চলিক বাক্যের (الجملة العامية) বিন্যাসের এখন পর্যন্ত কোনো সুপরিচিত নিয়ম নেই; কোনো কোনো অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি আরবি বাক্য গঠন ও বিন্যাসের কোনো একটি অবস্থার সাথে মিলে যেতে পারে, আবার কখনো তার পরিপন্থী হতে পারে।
মারজুক বিন সুনাইতান তাঁর 'আল-ফুসহা' (১৮৭) গ্রন্থে বলেন: “আমি এর ন্যূনতম সীমার কোনো পরিধি জানি না, এবং আঞ্চলিক বাক্যের (الجملة العامية) বিন্যাসের এমন কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞার ব্যাপারে আমি অবগত নই যার ওপর নির্ভর করা যায়, যাতে করে আমরা প্রমিত বাক্য (الجملة الفصيحة) ও আঞ্চলিক বাক্যের মধ্যে তুলনা করতে পারি এবং তাদের মধ্যকার সাদৃশ্যের দিকটি জানতে পারি। এই গবেষণার উদ্দেশ্য আঞ্চলিক বাক্যকে আরবি বাক্যের সাথে তুলনা করা নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো উভয় বাক্যের পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য, তাদের একটি থেকে অপরটির দূরত্ব এবং তাদের মধ্যকার সাদৃশ্যের অনুপস্থিতি বর্ণনা করা।” সমাপ্ত।
* * *
ইবনে তাইমিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) 'মাজমু আল-ফাতাওয়া' (৩২/ ২৫২) গ্রন্থে বলেন: “নিশ্চয়ই এই ছন্দবদ্ধ কথা একক (مفرد) বা যৌগিক (مركب) উভয়ভাবেই একটি ভ্রষ্ট (فاسد) কথা; কারণ তারা এতে আরবদের কথা পরিবর্তন ও রদবদল করেছে; যেমন তাদের এই উক্তি: ‘মাউ’, ‘বাদাউ’, ‘আদাউ’ এবং এই জাতীয় অন্যান্য...”
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ذَلِكَ مِمَّا تَمُجُّهُ القُلُوبُ والأسْمَاعُ، وتَنْفِرُ عَنْهُ العُقُولُ والطِّبَاعُ.
وأمَّا «مُرَكَّبَاتُهُ» فَإنَّهُ لَيْسَ مِنْ أوْزَانِ العَرَبِ; ولا هُو مِنْ جِنْسِ الشِّعْرِ، ولا مِنْ أبْحُرِهِ السِّتَّةَ عَشَرَ، ولا مِنْ جِنْسِ الأسْجَاعِ، والرَّسَائِلِ، والخُطَبِ.
ومَعْلُومٌ أنَّ «تَعَلُّمَ العَرَبِيَّةِ، وتَعْلِيمَ العَرَبِيَّةِ» فَرْضٌ على الكِفَايَةِ; وكَانَ السَّلَفُ يُؤَدِّبُونَ أوْلادَهُمْ على اللَّحْنِ، فَنَحْنُ مَأمُورُونَ أمْرَ إيجَابٍ، أوْ أمْرَ اسْتِحْبَابٍ أنْ نَحْفَظَ القَانُونَ العَرَبِيَّ; ونُصْلِحَ الألسُنَ المَائِلَةَ عَنْهُ، فَيَحْفَظُ لَنَا طَرِيقَةَ فَهْمِ الكِتَابِ والسُّنَّةِ، والاقْتِدَاءِ بالعَرَبِ في خِطَابِهَا.
فَلَوْ تُرِكَ النَّاسُ على لَحْنِهِمْ كَانَ نَقْصًا وعَيْبًا; فَكَيْفَ إذَا جَاءَ قَوْمٌ إلى الألسِنَةِ العَرَبِيَّةِ المُسْتَقِيمَةِ، والأوْزَانِ القَوِيمَةِ: فَأفْسَدُوهَا بِمِثْلِ هَذِهِ المُفْرَدَاتِ، والأوْزَانِ المُفْسِدَةِ لِلِّسَانِ، النَّاقِلَةِ عَنِ العَرَبِيَّةِ العَرْبَاءِ إلى أنْواعِ الهَذَيَانِ; الَّذِي لا يَهْذِي بِهِ إلا قَوْمٌ مِنَ الأعَاجِمِ الطُّمَاطِمِ الصَّمَيَانِ؟!
وقَالَ أيْضًا: «وهَؤُلاءِ تَرَكُوا المُقَامَرَةَ بالأيْدِي، وعَجَزُوا عَنْهَا: فَفَتَحُوا القِمَارَ بالألْسِنَةِ، والقِمَارُ بالألسِنَةِ أفْسَدُ لِلعَقْلِ
এ বিষয়টি এমন যা অন্তর ও শ্রবণেন্দ্রিয় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে এবং বুদ্ধি ও স্বভাব তা থেকে বিমুখ হয়।
আর এর 'যৌগিক রূপসমূহ' প্রসঙ্গে বলা যায় যে, তা আরবদের ছন্দোবদ্ধ রীতির অন্তর্ভুক্ত নয়; এটি কবিতার কোনো প্রকারের মধ্যেও পড়ে না, এমনকি কবিতার ষোলোটি ছন্দের কোনোটির অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি গদ্যালঙ্কার, পত্র বা ভাষণের কোনো শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়।
এটি সুবিদিত যে, আরবি ভাষা শেখা ও শেখানো হলো ফরজে কিফায়া (فرض على الكفاية); আর পূর্বসূরিগণ তাঁদের সন্তানদের ব্যাকরণগত ভুল (لحن) সংশোধনের জন্য শাসন করতেন। সুতরাং আমরা আবশ্যিক (إيجاب) অথবা পছন্দনীয় (استحباب) নির্দেশনায় আদিষ্ট যে, আমরা আরবির ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মাবলি সংরক্ষণ করব এবং এর থেকে বিচ্যুত রসনাগুলোকে সংশোধন করব; যা আমাদের জন্য কিতাব ও সুন্নাহ অনুধাবনের পথ এবং আরবদের বাকরীতির অনুসরণের পদ্ধতিকে সুরক্ষিত রাখবে।
যদি মানুষকে তাদের ব্যাকরণগত ভুল (لحن)-এর ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে তা হতো একটি ত্রুটি ও দোষ; তাহলে সেই সম্প্রদায়ের অবস্থা কী হবে, যারা সুসংহত আরবি ভাষা ও সুদৃঢ় ছন্দোরীতির নিকট এসে এই জাতীয় শব্দাবলি এবং ভাষাকে কলুষিতকারী ছন্দের মাধ্যমে তাকে বিকৃত করেছে? যা বিশুদ্ধ আরবিকে এমন এক প্রলাপের দিকে ধাবিত করে, যা কেবল বাক-অক্ষম ও নির্বোধ অনারবরাই বকে থাকে!
তিনি আরও বলেন: "আর তারা হস্তচালিত জুয়া খেলা ছেড়ে দিয়েছে এবং তাতে অক্ষম হয়ে পড়েছে; ফলে তারা বাচনিক জুয়া খেলা শুরু করেছে; আর বাচনিক জুয়া বুদ্ধিবৃত্তির জন্য অধিক অনিষ্টকর।"
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والدِّينِ مِنَ القِمَارِ بالأيْدِي، والواجِبُ على المُسْلِمِيْنَ المُبَالَغَةُ في عُقُوبَةِ هَؤُلاءِ، وهَجْرِهِمِ، واسْتِتَابَتِهِمْ ـ إلى قَوْلِهِ ـ: فَإنَّهَا تُفْسِدُ اللِّسَانَ العَرَبِيَّ، وتَنْقُلُهُ إلى العُجْمَةِ المُنْكَرَةِ.
ومَازَالَ السَّلَفُ يَكْرَهُونَ تَغْيِيرَ شَعَائِرِ العَرَبِ حَتَّى في المُعَامَلاتِ، وهُوَ «التَّكَلُّمُ بِغَيْرِ العَرَبِيَّةِ» إلَاّ لِحَاجَةٍ; كَمَا نَصَّ على ذَلِكَ مَالِكٌ، والشَّافِعِيُّ، وأحْمَدُ; بَل قَالَ مَالِكٌ: مَنْ تَكَلَّمَ في مَسْجِدِنَا بِغَيْرِ العَرَبِيَّةِ أُخْرِجَ مِنْهُ.
مَعَ أنَّ سَائِرَ الألْسُنِ يَجُوزُ النُّطْقُ بِهَا لِأصْحَابِهَا; ولَكِنْ سَوَّغُوهَا لِلحَاجَةِ، وكَرِهُوهَا لِغَيْرِ الحَاجَةِ، ولِحِفْظِ شَعَائِرِ الإسْلامِ; فَإنَّ الله أنْزَلَ كِتَابَهُ باللِّسَانِ العَرَبِيِّ، وبَعَثَ بِهِ نَبِيَّهُ العَرَبِيَّ، وجَعَلَ أُمَّةَ العَرَبِيَّةِ خَيْرَ الأُمَمِ، فَصَارَ حِفْظُ شِعَارِهِمْ مِنْ تَمَامِ حِفْظِ الإسْلامِ.
فَكَيْفَ بِمَنْ تَقَدَّمَ على الكَلامِ العَرَبِيِّ ـ مُفْرَدِهِ ومَنْظُومِهِ ـ فَيُغَيِّرُهُ ويُبَدِّلُهُ ويُخْرِجُهُ عَنْ قَانُونِهِ ويُكَلِّفُ الانْتِقَالَ عَنْهُ؟!
إلى قَوْلِهِ:
… والَّذِينَ يُبَدِّلُونَ اللِّسَانَ العَرَبِيَّ ويُفْسِدُونَهُ، لَهُمْ مِنْهُ هَذَا الذَّمُّ والعِقَابُ بِقَدْرِ مَا يَفْتَحُونَهُ، فَإنَّ صَلاحَ العَقْلِ، واللِّسَانِ مِمَّا يُؤْمَرُ بِهِ الإنْسَانُ، ويُعِينُ على تَمَامِ الإيمَانِ، وضِدُّ ذَلِكَ
...এবং হস্তচালিত জুয়ার মাধ্যমে দ্বীন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা থেকে রক্ষা করা; মুসলমানদের জন্য কর্তব্য হলো এদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা, তাদের বর্জন করা এবং তাদের তওবা করানো—তাঁর কথা পর্যন্ত—: কেননা এটি আরবি ভাষাকে কলুষিত করে এবং একে অগ্রহণযোগ্য (منكرة) অনারবীয় প্রভাবে রূপান্তরিত করে।
পূর্বসূরিগণ সর্বদা আরবদের নিদর্শনাবলি পরিবর্তন করা অপছন্দ করতেন, এমনকি পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও; আর তা হলো প্রয়োজন ব্যতীত 'আরবি ভিন্ন অন্য ভাষায় কথা বলা'। যেমনটি মালেক, শাফেয়ী এবং আহমদ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি ইমাম মালেক বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের মসজিদে আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলবে, তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হবে।"
যদিও সকল ভাষাভাষীর জন্য নিজ ভাষায় কথা বলা জায়েজ; কিন্তু তাঁরা কেবল প্রয়োজনের তাগিদে এর অনুমতি দিয়েছেন এবং প্রয়োজন ছাড়া তা অপছন্দ করেছেন ইসলামের নিদর্শনাবলি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। কেননা আল্লাহ তাঁর কিতাব আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন, তাঁর আরবি নবীকে এর মাধ্যমে পাঠিয়েছেন এবং আরবি জাতিকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মনোনীত করেছেন। তাই তাদের নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণ করা ইসলামের পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ওই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে, যে আরবি ভাষা—তা একক শব্দ হোক বা ছন্দবদ্ধ রূপ হোক—নিয়ে ধৃষ্টতা দেখায়, অতঃপর একে বিকৃত ও পরিবর্তন করে এবং এর ভাষাগত নিয়ম থেকে বিচ্যুত করে ফেলে এবং একে বর্জন করতে বাধ্য করে?!
তাঁর কথা পর্যন্ত:
… আর যারা আরবি ভাষাকে পরিবর্তিত ও কলুষিত করে, তারা এর যতটুকু পথ উন্মোচন করবে সেই অনুপাতে তারা এই নিন্দা ও শাস্তির যোগ্য হবে। কেননা বুদ্ধি ও রসনার বিশুদ্ধতা এমন একটি বিষয় যার আদেশ মানুষকে দেওয়া হয়েছে এবং যা ঈমানের পূর্ণতার ক্ষেত্রে সহায়ক। আর এর বিপরীত বিষয়...
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يُوجِبُ الشِّقَاقَ، والضَّلالَ، والخُسْرَانَ، واللهُ أعْلَمُ» انْتَهَى.
* * *
ومِنْ عَرِيْضِ فَسَادِ الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ»، ورَكَاكَةِ ألْفَاظِهِ، مَا عَبَّرَ عَنْهُ رَئِيسُ تَحْرِيرِ مَجَلَّةِ المَجْمَعِ اللُّغَوِيِّ بِدِمَشْقَ; حَيْثُ ذَكَرَ دِيوانَ «النَّبَطِ» لِخَالِدِ الفَرَجِ، وعَرَّفَ بِهِ وبِمُؤَلِّفِهِ ثُمَّ قَالَ (2/ 304): «ونَشْهَدُ لِوجْهِ الله شَهَادَةً خَالِصَةً أنَّنَا قَرَأْنَا هَذَا الدِّيوانَ مِنْ بَابِهِ إلى مِحْرَابِهِ، وتَحَمَّلنَا في ذَلِكَ مَشَقَّةً كَبِيرَةً، ولَكِنَّا لَمْ نَجِدْ فِيْهِ شَيْئًا يَتَنَعَّمُ بِهِ الفِكْرُ أوِ القَلْبُ، وقَدْ تَعَجَّبْنَا كَثِيرًا مِنْ قَوْلِ جَامِعِ الدِّيْوَانِ في مُقَدِّمَتِهِ: «وبَعْدُ فَلا بُدَّ لِمَنْ يَدْرُسُ الأدَبَ العَرَبِيَّ وتَأرِيخَهُ وتَطَوُّرَاتِهِ أنْ يَبْدَأ بِدِرَاسَةِ الأدَبِ العَامِّيِّ في نَجْدٍ في الوَقْتِ الحَاضِرِ لِأنَّهُ صُورَةٌ صَادِقَةٌ على مَا كَانَ عَلَيْهِ أدَبُ اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ في العَصْرِ الجَاهِلِيِّ»، لا والله، لَيْسَ هَذَا الأدَبُ أدَبَ التَّطَوُّرِ، ولَكِنَّهُ أدَّبُ التَّدَهْوُرِ
… وحَرَامٌ أنْ يُشَبِّهَ بِهِ شِعْرَ الجَاهِلِيَّةِ، وحَرَامٌ أكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ أنْ يُطْبَعَ مِثْلُ هَذَا الزَّجَلِ الغَثِّ لِلفَخْرِ
… فَمَا أجِدُ لِطَبْعِهِ إلَاّ فَضِيلَةً وَاحِدَةً: العِلمُ بِهِ، لِلحَذَرِ مِنْهُ، أنَّهُ أدَبُ العَامَّةِ أدَبُ الانْحِطَاطِ الَّذِي يُوجَدُ مِثْلُهُ في كُلِّ قُطْرٍ، ولَمْ تُوجَدِ المَجَامِعُ اللُّغَوِيَّةُ إلَاّ لِتُنْقِذَ
এটি বিভেদ, পথভ্রষ্টতা এবং ক্ষতির কারণ হয়, আর আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।» সমাপ্ত।
* * *
‘নাবাতি’ কবিতার ব্যাপক অসারতা এবং এর শব্দ চয়নের দুর্বলতার অন্যতম উদাহরণ হলো দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমির সাময়িকীর প্রধান সম্পাদকের বক্তব্য; যেখানে তিনি খালিদ আল-ফারাজের ‘নাবাত’ কাব্যগ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং গ্রন্থটি ও এর লেখক সম্পর্কে পরিচয় দিয়ে বলেছেন (২/৩০৪): «আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমরা এই কাব্যগ্রন্থটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি এবং এতে আমাদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে। তবে আমরা এতে এমন কিছুই পাইনি যা চিন্তা বা হৃদয়কে প্রশান্তি দান করে। আমরা এই কাব্য সংকলকের ভূমিকার এই কথা শুনে অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি: «অতঃপর, যে ব্যক্তি আরবি সাহিত্য, এর ইতিহাস এবং এর বিবর্তন নিয়ে অধ্যয়ন করতে চায়, তার জন্য বর্তমানে নাজদের লোকজ সাহিত্য অধ্যয়ন করা অপরিহার্য; কারণ এটি জাহেলি যুগের আরবি সাহিত্যের একটি প্রকৃত প্রতিচ্ছবি», না, আল্লাহর কসম! এটি বিবর্তনের সাহিত্য নয়, বরং এটি হলো অবক্ষয়ের সাহিত্য
… জাহেলি কবিতার সাথে একে তুলনা করা অসমীচীন। আর তার চেয়েও গর্হিত কাজ হলো গর্ব করার জন্য এই ধরণের অসার চারণকাব্য মুদ্রণ করা
… সুতরাং এর মুদ্রণের পেছনে আমি একটি মাত্র সার্থকতা খুঁজে পাই: তা সম্পর্কে অবগত হওয়া, যেন তা থেকে সতর্ক থাকা যায়; এটি সাধারণ মানুষের সাহিত্য, এটি হলো পতনের সাহিত্য যা প্রতিটি দেশেই পাওয়া যায়। আর ভাষা একাডেমিগুলো তো গঠিতই হয়েছে (ভাষাকে) রক্ষা করার জন্য...
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الشُّعُوْبَ مِنْ هَذَا اللَّوْنِ مِنَ الأدَبِ» انْتَهَى.
وبَعْدَ هَذِهِ الأقْوالِ الصَّرِيحَةِ مِنْ أرْبَابِ، ودَارِسِي، وعُشَّاقِ «النَّبَطِيِّ» نَسْتَطِيعُ أنْ نَقْطَعَ دُونَ تَرَدُّدٍ بِأنَّ الشِّعْرَ «النَّبَطِيَّ» مِنْ أبْعَدِ الأشْيَاءِ عَنْ الشِّعْرِ العَرَبِيِّ الفَصِيحِ، وقَواعِدِ النَّحْوِ، وبُحُوْرِ الشِّعْرِ، وغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا وضَعَهُ ورَسَمَهُ أرْبَابُ اللُّغَةِ، وفُحُولُ الشِّعْرِ، وحُمَاةُ الفُصْحَى.
فَكانَ الأوْلى بأهْلِ الجَزِيْرَةِ العَرَبِيَّةِ (الخَلِيْجِ) الَّذِيْنَ أُعْطُوا حَظًّا مِنَ المَالِ الكَثِيْرِ هَذِهِ الأيَّامَ، بأنْ يُنْفِقُوا هَذِهِ المَلايِيْنَ إنْ كَانَ ولا بُدَّ: لحُماةِ العَرَبِيَّةِ، وحُرَّاسِ الفُصْحَى، وللمَجَامِعِ اللُّغَوِيَّةِ، وكَذَا لطَبْعِ وتَحْقِيْقِ كُتُبِ المَعَاجِمِ العَرَبِيَّةِ وغَيْرِهَا، ممَّا سَيَكُوْنُ لهُم رَصِيْدًا لحِفْظِ لُغَتِهِمُ العَرَبِيَّةِ الفَصِيْحَةِ مِنْ كُلِّ دَخِيْلٍ وغَرِيْبٍ إلى اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ، لا أنْ تُنْفَقَ هَذِهِ المَلايِيْنُ مِنْهُم في تَشْجِيْعِ ونَشْرِ العَامِيَّةِ الرَّكِيْكَةِ، واللَّهَجَاتِ المَلْحُوْنَةِ، ولاسِيَّما في مُسَابَقَةِ «شَاعِرِ المَلْيُوْن»، ومَا نَحَى نَحْوَهَا، أو طَارَ في جَوِّهَا!
* * *
-
المَحْظُوْرُ الثَّاني: تَزْوِيرُ الحَقَائِقِ وتَحْرِيْفُهَا; وذَلِكَ عند قَوْلِنَا: فُلانٌ شَاعِرٌ «نَبَطِيٌّ»، أو هَذَا دِيوانُ شِعْرٍ «نَبَطِيٍّ»، إنْ هِيَ إلَاّ
জাতিসমূহ এই ধরণের সাহিত্য থেকে।» সমাপ্ত।
নাবাতী সাহিত্যের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও অনুরাগীদের এই সুস্পষ্ট বক্তব্যের পর আমরা কোনো দ্বিধা ছাড়াই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, 'নাবাতী' কবিতা হচ্ছে বিশুদ্ধ আরবী কবিতা, ব্যাকরণ বিধি, কবিতার ছন্দ এবং ভাষাবিদ, কাব্যবিশারদ ও শুদ্ধ ভাষার রক্ষকদের প্রণীত ও নির্ধারিত নিয়মাবলী থেকে যোজন যোজন দূরের বিষয়।
সুতরাং আরব উপদ্বীপের (উপসাগরীয় অঞ্চল) অধিবাসী, যারা বর্তমানে বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছেন, তাদের জন্য এটিই অধিকতর সমীচীন ছিল যে, যদি ব্যয় করতেই হয় তবে তারা এই লক্ষ লক্ষ মুদ্রা আরবী ভাষার রক্ষক, শুদ্ধ ভাষার পাহারাদার, ভাষাতত্ত্ব একাডেমি এবং তদ্রূপ আরবী অভিধানসমূহ মুদ্রণ ও সম্পাদনার (تحقيق) কাজে ব্যয় করতেন; যা তাদের বিশুদ্ধ আরবী ভাষাকে সকল প্রকার অনুপ্রবেশকারী ও অপরিচিত (غريب) বিষয় থেকে রক্ষা করার জন্য একটি স্থায়ী পাথেয় হয়ে থাকত। তা না করে তাদের এই লক্ষ লক্ষ মুদ্রা দুর্বল কথ্য ভাষা এবং ব্যাকরণহীন উপভাষাগুলোর প্রসার ও উৎসাহ প্রদানে ব্যয় করা সমীচীন নয়, বিশেষ করে 'শায়েরুল মিলিয়ন' (লক্ষ টাকার কবি) এবং এই জাতীয় বা এই ঘরানার প্রতিযোগিতাগুলোতে!
* * *
-
দ্বিতীয় নিষিদ্ধ বিষয়: সত্যের অপলাপ ও বিকৃতি; আর তা হলো আমাদের এই কথা বলা: অমুক একজন 'নাবাতী' কবি, অথবা এটি একটি 'নাবাতী' কাব্যগ্রন্থ; প্রকৃতপক্ষে এটি কেবল
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أسْمَاءٌ سَمَّوهَا ما شَهِدَتِ العَرَبُ بِهَا مِنْ سُلطَانٍ!
فَلَيْسَ لِهَذِهِ الأوْصَافِ شَيْءٌ مِنَ الحَقِيقَةِ; بَل كُلُّ هَذَا لا يَمُتُّ بِصِلَةٍ إلى حَقِيقَةِ الشِّعْرِ العَرَبِيِّ الفَصِيحِ بِجَمِيعِ ضَوابِطِهِ، وشُرُوطِهِ، وأوْزَانِهِ
… إلَخ، وأكْبَرُ مَقْتًا مِنْ ذَلِكَ حِينمَا تُتَوِّجُ القَنَوَاتُ الإعْلامِيَّةُ والصُّحُفُ المَحَلِّيَّةُ أشْخَاصًا بِأسْمَاءٍ مُزَورَةٍ مَا كَانَ لَهُمْ أنْ يَسْمَعُوا بِهَا، أوْ يَقْرَبُوهَا فَضْلاً أنْ يَتَسَمَّوْا بِهَا، وهُو وصْفُهُمْ بِالشُّعَرَاءِ، والأُدَبَاءِ، وهُمْ لا يُحْسِنُونَ أوْلَوِيَّاتِ اللُّغَةِ، وقَواعِدَهَا النَّحْوِيَّةَ، فَإلى الله المُشْتَكَى!
* * *
-
المَحْظُوْرُ الثَّالِثُ: التَّرْوِيجُ لِمُخَطَّطَاتِ أعْدَاءِ الإسْلامِ الَّذِينَ لَمْ تَقِفْ نَوايَاهُمْ مِنْ هَدْمِ الإسْلامِ بِكُلِّ وسِيلَةٍ كَانَتْ; لاسِيَّمَا العُدْوانُ عَلَى اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ; بِغَضِّ النَّظَرِ عَنْ نَوايَا دُعَاةِ «شَاعِرِ المَلْيُوْن».
فَهَذَا مِنْهُم يُعَدُّ في أقَلِّ حَالٍ تَعَاوُنًا على الإثْمِ والعُدْوَانِ؛ لأنَّ في الدَّعْوَةِ إلى الشِّعْرِ «النَّبَطِيِّ» نُصْرَةً وتَعْزِيْزًا لمُخَطَّطَاتِ الأعْدَاءِ.
هَذَا إذَا عَلِمْنَا؛ أنَّ الأمَّةَ الإسْلامِيَّةَ لم تَزَلْ تَمرُّ بظُرُوْفٍ عَصِيْبَةٍ هَوْجَاءَ، سَوَاءٌ في عَقِيْدَتِها أو أخْلاقِهَا أو لُغَتِهَا
… وذَلِكَ
এগুলো কতগুলো মনগড়া নাম, যেগুলোর স্বপক্ষে আরবদের নিকট কোনো প্রমাণ (سلطان) বিদ্যমান নেই!
এই গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই; বরং এগুলোর সাথে বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল আরবি কবিতার প্রকৃত রূপের কোনো সম্পর্ক নেই—তা সেটির সকল নীতিমালা (ضوابط), শর্তাবলি (শروط), ছন্দ-মাত্রা (أوزان)
… ইত্যাদি যা-ই হোক না কেন। এর চেয়েও জঘন্য ও নিন্দনীয় বিষয় হলো, যখন সংবাদ মাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো কিছু ব্যক্তিকে এমন সব বানোয়াট উপাধিতে ভূষিত করে, যা শোনার বা যার নিকটবর্তী হওয়ারও যোগ্যতা তাদের নেই, তাতে সেই নামে ভূষিত হওয়া তো দূরের কথা। আর তা হলো তাদেরকে কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে অভিহিত করা, অথচ তারা ভাষার প্রাথমিক বিষয়াদি এবং এর ব্যাকরণিক (نحوية) নিয়মকানুন সম্পর্কেও পারদর্শী নয়। আল্লাহর কাছেই এ ব্যাপারে ফরিয়াদ!
* * *
-
তৃতীয় নিষিদ্ধ (محظور) বিষয়: ইসলামের শত্রুদের সেই সব ষড়যন্ত্রের প্রসার ঘটানো, যারা সম্ভাব্য সব উপায়ে ইসলামকে ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্য থেকে বিরত হয়নি; বিশেষ করে আরবি ভাষার ওপর এই আগ্রাসন; চাই ‘শা’য়িরুল মিলিয়ন’ (শায়ের আল-মিলিয়ন) এর উদ্যোক্তাদের নিয়ত যা-ই হোক না কেন।
তাদের এই কর্মকাণ্ড অন্ততপক্ষে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা হিসেবে গণ্য; কেননা ‘নাবাতী’ (আঞ্চলিক) কবিতার প্রতি আহ্বান জানানো মূলত শত্রুদের ষড়যন্ত্রের সহায়তা ও শক্তি বৃদ্ধিরই নামান্তর।
এটি তখনই প্রণিধানযোগ্য, যখন আমরা জানি যে মুসলিম উম্মাহ নিরন্তর অত্যন্ত কঠিন ও উত্তাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, চাই তা তাদের আকিদা (عقيدة), আখলাক (أخلاق) কিংবা ভাষার ক্ষেত্রে হোক
… আর তা-ই হলো
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مُنْذُ بَعْثَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إلى يَوْمِنَا هَذَا، بَلْ إلى قِيَامِ السَّاعَةِ، فَكَانَ مِنْ أشَرِّ هَذِهِ الأخْطَارِ المُحْدِقَةِ بالأمَّةِ مَا يُسَمَّى بالحُرُوْبِ الصَّلِيْبِيَّةِ الَّتِي اجْتَاحَتْ بِلادَ المُسْلِمِيْنَ طُوْلاً وعَرْضًا إلَاّ بَقِيَّةً هُنَا وهُنَاكَ، لاسِيَّما بَلادَ الحَرَمَيْنِ وغَيْرَهَا.
ثُمَّ إنَّ هَذِهِ الجَحَافِلَ الصَّلِيْبِيَّةَ لم تَأتِ إلى بِلادِ المُسْلِمِيْنَ دُوْنَ تَخْطِيْطٍ وتَنْسِيْقٍ بَلْ أتَتْ على قَدَمِ الدِّرَاسَةِ والبَحْثِ عَنِ العَالمِ الإسْلامِيِّ، لِذَا أخَذَتْ دِرَاسَةُ اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ عِنْدَهُم مَأخَذًا أوَّليًّا، بَلْ كَانَتْ لَدَيْهِم مَقْصَدًا هَامًّا لتَمْزِيْقِ وِحْدَةِ الأمَّةِ الإسْلامِيَّةِ، وتَغْيِيْبِهَا عَنْ عَقِيْدَتِهَا وأخْلاقِهَا ولُغَتِهَا، فَعِنْدَئِذٍ عَمِلُوا على نَشْرِ اللَّهَجَاتِ العَامِيَّةِ بَيْنَ أبْنَاءِ المُسْلِمِيْنَ؛ كإرْهَاصَاتٍ ومُقَدِّمَاتٍ لقُدُوْمِ الجُيُوْشِ الصَّلِيْبِيَّةِ لغَزْوِ بِلادِ الإسْلامِ، لِذَا قَامُوا في نَشْرِ اللَّهَجَاتِ (المَحَلِّيَّةِ) لعِلْمِهِم أنَّها أسْهَلُ وَسِيْلَةً لهَدْمِ اللُّغَةِ، وأقْرَبُ طَرِيْقٍ لتَمْزِيْقِ وِحْدَةِ المُسْلِمِيْنَ، فَكَانَ لهُم مَا أرَادُوا، والله غَالِبٌ على أمْرِهِ!
ومِنْ هُنَا؛ أخَذَتِ اللَّهَجَاتُ العَامِيَّةُ في إهْلاكِ حَرْثِ اللُّغَةِ، وإفْسَادِ نَسْلِ الفُصْحَى، وذَلِكَ مِنْ خِلالِ صُوَرٍ كَثِيْرةٍ مُتَنَوِّعَةٍ، لَيْسَ
নবী (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত, বরং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত উম্মাহর ওপর ধেয়ে আসা সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তথাকথিত ক্রুসেড যুদ্ধ, যা মুসলিম ভূখণ্ডের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে এখানে-সেখানে সামান্য কিছু অংশ ব্যতিরেকে, বিশেষ করে হারামাইন শরীফাইনের ভূখণ্ড ও অন্যান্য অঞ্চল।
অতঃপর এই ক্রুসেডার বাহিনী কোনো পরিকল্পনা ও সমন্বয় ব্যতিরেকে মুসলিম ভূখণ্ডে আসেনি, বরং তারা ইসলামী বিশ্ব সম্পর্কে গভীর অধ্যয়ন ও গবেষণার ভিত্তিতে এসেছিল। এ কারণে আরবি ভাষা অধ্যয়ন তাদের নিকট প্রাথমিক গুরুত্ব লাভ করেছিল, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট করা এবং তাদেরকে তাদের আকিদা, নৈতিকতা ও ভাষা থেকে বিচ্যুত করার জন্য এটি ছিল তাদের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সেই সময়ে তারা মুসলিম সন্তানদের মধ্যে আঞ্চলিক উপভাষাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করে; যা ছিল মুসলিম ভূখণ্ড জয়ের লক্ষ্যে ক্রুসেডার বাহিনীর আগমনের পূর্বাভাস ও উপক্রমণিকা স্বরূপ। তাই তারা আঞ্চলিক উপভাষাগুলো প্রসারে সচেষ্ট হয়, কারণ তারা জানত যে এটি ভাষা ধ্বংস করার সহজতম মাধ্যম এবং মুসলিমদের ঐক্য ছিন্ন করার নিকটতম পথ। ফলে তারা যা চেয়েছিল তা-ই অর্জিত হয়েছে, আর আল্লাহ তাঁর কার্যে পরাক্রমশালী!
আর এখান থেকেই আঞ্চলিক উপভাষাগুলো ভাষার ফসল বিনাশ করতে এবং শুদ্ধ ভাষার আভিজাত্যকে কলুষিত করতে শুরু করে, আর তা অনেক বৈচিত্র্যময় রূপের মাধ্যমে ঘটে থাকে, যা কেবল
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
هَذَا مَقَامُ ذِكْرِهَا إلَاّ أنَّها لا تَخْرُجُ في مَجْمُوْعِهَا: مِنْ إذْكَاءِ النَّعَرَاتِ الجَاهِلِيَّةِ، وبَعْثِ اللَّهَجَاتِ المَحَلِّيَّةِ بَيْنَ أبْنَاءِ المُسْلِمِيْنَ، لَتَبْقَى كُلُّ دَوْلَةٍ مُسْتَقِلَّةً مُنْفَصِلَةً عَنْ جَارَتِها سَوَاءٌ في حُدُوْدِهَا أو في لهْجَتِهَا.
* * *
- ومَعَ هَذَا كَانَ للشِّعْرِ النَّبَطِيِّ (العَامِيِّ) الدَّوْرُ الكَبِيْرُ في تَمْرِيْرِ مُخَطَّطَاتِ الأعْدَاءِ، وفي تَمْزِيْقِ وِحْدَةِ الأمَّةِ الإسْلامِيَّةِ، لِذَا اتَّخَذَ الأعْدَاءُ مِنْهُ مَوْقِفًا رَئِيْسًا سَوَاءٌ في تَرْوِيْجِهِ أو نَشْرِهِ كُلُّ ذَلِكَ لتَبْقَى اللَّهْجَةُ العَامِيَّةُ مُزَاحِمَةً للعَرَبِيَّةِ الفُصْحَى، ومِنْ هُنَا يَبْدَأ الانْحِرَافُ لَدَى المُسْلِمِيْنَ في فَهْمِ الكِتَابِ والسُّنَّةِ ومَعْرِفَةِ تَارِيْخِهِم، فَعِنْدَئِذٍ سَتَبْقَى جمُوْعٌ لَيْسَتْ بالقَلِيْلَةِ مِنَ المُسْلِمِيْنَ مَعَ القُرْآنِ كالحِمارِ يَحْمِلُ أسْفَارًا، ولَيْسَ الوَاقِعُ اليَوْمَ عَنَّا ببَعِيْدٌ، والله أعْلَمُ.
ومَهْما يَكُنْ مِنْ شَرٍّ يُبَيِّتُهُ الأعْدَاءُ للأمَّةِ الإسْلامِيَّةِ إلَاّ أنَّهم لَنْ يَتَعَدُّوا حُدُوْدَهُم، ولَنْ يَجْعَلَ الله لهُم على المُسْلِمِيْنَ سَبِيْلاً عَامًّا، لأنَّ العَدُوَّ الخَارِجِيَّ مَكْشُوْفُ الوَجْهِ مَعْلُوْمُ الخُبْثِ فَكَانَ والحَالَةُ هَذِهِ مَعْرُوْفًا لَدَى العَامَّةِ مِنَ المُسْلِمِيْنَ فَضْلاً عَنِ الخَاصَّةِ مِنَ الحُكَّامِ والعُلَماءِ، لكِنَّ الخَطَرَ يَكْمُنُ كُلُّهُ إذَا كَانَ هَذَا الشَّرُّ وهَذَا الخَطَرُ يَسْرِي
এটি সেগুলো উল্লেখ করার ক্ষেত্র, তবে এগুলো সামগ্রিকভাবে জাহেলিয়াতের গোত্রীয় উন্মাদনা উসকে দেওয়া এবং মুসলিম সন্তানদের মধ্যে আঞ্চলিক উপভাষার পুনরুজ্জীবন ঘটানোর ঊর্ধ্বে নয়; যাতে প্রতিটি রাষ্ট্র তার সীমানা অথবা উপভাষার দিক থেকে প্রতিবেশী দেশ থেকে স্বতন্ত্র ও বিচ্ছিন্ন থাকে।
* * *
- তা সত্ত্বেও শত্রুদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য খণ্ডবিখণ্ড করতে নাবাতি কাব্যের (আঞ্চলিক বা কথ্য কবিতা) এক বিশাল ভূমিকা ছিল। তাই শত্রুরা একে প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে একটি প্রধান অবস্থান গ্রহণ করেছে, যাতে কথ্য উপভাষাটি বিশুদ্ধ আরবির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে থাকে। এখান থেকেই কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবন এবং নিজেদের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে মুসলমানদের মধ্যে বিচ্যুতি শুরু হয়। এমতাবস্থায় মুসলমানদের এক বিশাল অংশ কুরআনের সাথে এমন অবস্থায় থাকবে যেমন গাধা কিতাব বহন করে। আর বর্তমান বাস্তবতা আমাদের থেকে মোটেও দূরে নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে শত্রুরা রাতে যে অনিষ্টেরই পরিকল্পনা করুক না কেন, তারা তাদের সীমা অতিক্রম করতে পারবে না এবং আল্লাহ মুসলমানদের ওপর তাদের জন্য কোনো সাধারণ আধিপত্যের পথ তৈরি করবেন না। কারণ বাহ্যিক শত্রু উন্মোচিত এবং তাদের বিদ্বেষ সুবিদিত। এমতাবস্থায় সাধারণ মুসলমানদের নিকট তো বটেই, এমনকি শাসক ও ওলামায়ে কেরামের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছেও তারা পরিচিত। কিন্তু মূল বিপদটি তখনই নিহিত থাকে যখন এই অনিষ্ট ও বিপদ সঞ্চারিত হয়
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويَنْتَشِرُ بَيْنَ المُسْلِمِيْنَ على أيْدِي أبْنَائِهِ وأهْلِهِ؟!
إنَّ هَذَا لهُوَ أحَدُ الفَوَاقِرِ القَاصِمَةِ، بَلْ هُوَ السُّوْسَةُ الَّتِي تَنْخُرُ في جِسْمِ الأمَّةِ دُوْنَ حَسِيْبٍ أو رَقِيْبٍ، لأنَّ هَذِه الأيْدِي مُدَّتْ باسْمِ الإسْلامِ، وإذَا مَا كُشِفَتْ أو خُدِشَتْ؛ فَهِي لا تَعْدُوا عِنْدَ السُّذَّجِ مِنَ المُسْلِمِيْنَ خَطَأً غَيْرَ مَقْصُوْدٍ، أو غَلَطًا بَرِيْئًا
… فَعِنْدَئِذٍ يَنْحَرِفُ اللِّسَانُ، ويَضْعَفُ الإيْمَانُ، على مَسْمَعٍ ومَرْأى مِنَ أكْثَرِ المُسْلِمِيْنَ دُوْنَ تَخَوُّفٍ أو رِيْبَةٍ!
* * *
- هَذَا إذَا عَلِمْنَا خَطَرَ مُخَطَّطَاتِ خُبَثَاءِ صِهْيَوْنَ الدَّاعِيَةِ إلى تَخْدِيْرِ المُسْلِمِيْنَ، وإلْهَائِهِم عَنْ حَقِيْقَتِهِم، وقَضَايَاهُم المَصِيْرِيَّةِ، وهُوَ مَا نَصَّتْ عَلَيْهِ البُرْتُوكُولاتُ اليَهُوْدِيَّةُ بقَوْلها: «ولِكَيْ نُبْعِدَ الجَمَاهِيْرَ مِنَ الأمَمِ الغَيْرِ اليَهُوْدِيَّةِ عَنْ أنْ تَكْشِفَ بِنَفْسِها أيْ خَطِّ عَمَلٍ جَدِيْدٍ لَنَا سَنُلْهِيْها بأنْوَاعٍ شَتَّى مِنَ المَلاهِي، والألْعَابِ
… وهَذِه الخُطُوْطُ سَنُقَدِّمُها مُتَوَسِّلِيْنَ بِتَسْخِيْرِ آلاتِنَا وَحْدَهَا مِنْ أمْثَالِ الأشْخَاصِ الَّذِيْنَ لا يُسْتَطَاعُ الشَّكُّ في تَحَالُفِهِم مَعَنَا.
إنَّ دَوْرَ المِثَالِيِّيْنَ المُتَحَرِّرِيْنَ سَيَنْتَهِي حَالَمَا يُعْتَرَفُ بِحَكُوْمَتِنا،
আর এটি কি মুসলিমদের মাঝে তাদেরই সন্তান ও আপনজনদের হাতে ছড়িয়ে পড়ছে?!
নিশ্চয়ই এটি অন্যতম হাড়ভাঙা বিপর্যয়, বরং এটি সেই ঘুণপোকা যা কোনো তদারকি বা পর্যবেক্ষণ ছাড়াই উম্মাহর দেহে ক্ষয় ধরাচ্ছে, কারণ এই হাতগুলো প্রসারিত হয়েছে ইসলামের নামে। আর যখন এগুলো উন্মোচিত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তখন সাধারণ মুসলিমদের কাছে এগুলো অনিচ্ছাকৃত ভুল বা নির্দোষ ত্রুটি ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না
… ফলে তখন অধিকাংশ মুসলিমের দেখা ও শোনার মধ্যেই কোনো ভয় বা সংশয় ছাড়াই ভাষা বিচ্যুত হয় এবং ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে!
* * *
- এটি তখন স্পষ্ট হয় যখন আমরা মুসলিমদের মোহগ্রস্ত করার এবং তাদের বাস্তবতা ও ভাগ্যনির্ধারণী বিষয়গুলো থেকে বিমুখ করার লক্ষ্যে অশুভ যায়নবাদীদের ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারি। এটিই সেই বিষয় যা ইহুদি প্রটোকলগুলোতে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে: «এবং অ-ইহুদি জাতিগুলোর জনতাকে যেন আমাদের কোনো নতুন কর্মপন্থা তারা নিজেরা উদঘাটন করতে না পারে, সেজন্য আমরা তাদেরকে বিভিন্ন ধরণের বিনোদন ও খেলাধুলার মাধ্যমে ভুলিয়ে রাখব
… আর এই কর্মপন্থাগুলো আমরা কেবল আমাদের আজ্ঞাবহ মাধ্যমসমূহ ব্যবহারের মাধ্যমেই উপস্থাপন করব, যেমন এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে যাদের আমাদের সাথে মিত্রতার বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করা সম্ভব নয়।
আমাদের সরকার স্বীকৃত হওয়ার সাথে সাথেই উদারপন্থী আদর্শবাদীদের ভূমিকা শেষ হয়ে যাবে,
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وسَيُؤَدُّوْنَ لَنَا خِدْمَةً طَيِّبَةً حَتَّى يَحِيْنَ ذَلِكَ الوَقْتُ، ولِهَذا السَّبَبِ سَنُحَاوِلُ أنْ نُوَجِّهَ العَقْلَ العَامَ نَحْوَ كُلٍّ مِنَ النَّظَرِيَّاتِ المُبَهْرَجَةِ الَّتِي يُمْكِنُ أنْ تَبْدُوَ تَقَدُّمِيَّةً، أو تَحْرِيْرِيَّةً.
لَقَدْ كَانَ نَجَاحُنا نَجَاحًا كَامِلاً بنَظَرِيَّاتِنا على التَّقَدُّمِ في تَحْوِيْلِ رُؤوْسِ الأُمِّيِّيْنَ الفَارِغَةِ مِنْ العَقْلِ نَحْوِ الاشْتِرَاكِيَّةِ، ولا يُوْجَدُ عَقْلٌ وَاحِدٌ بَيْنَ الأُمِّيِّيْنَ يَسْتَطِيْعُ أنْ يُلاحِظَ أنَّه في كُلِّ حَالَةٍ وَرَاءِ كَلِمَةِ (التَّقَدُّمِ) يَخْتَفي ضَلالٌ، وزَيْغٌ عَنِ الحَقِّ» انْتَهَى.
* * *
- ومَا ذَكَرْنَاه هُنَا؛ هُوَ مَا فَسَّرَهُ الأسْتَاذُ مُحَمَّدُ قُطُبٍ في كِتَابِهِ «رُؤيَةٍ إسْلامِيَّةٍ» (118) عِنْدَ قَوْلِه تَعَالَى: (ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُوا إِلَاّ بِحَبْل مِنَ الله وَحَبْلٍ مِنَ النَّاسِ) (آل عمران 112)،: «بأنَّ الحَبَلَ مِنَ النَّاسِ لا يَقْتَصِرُ على مَا يَتَلَقَّاهُ اليَهُوْدُ مِنَ مَدَدٍ مِنَ الرُّوْسِ، والأمْرِيْكَانِ؛ بَلْ يَأتِي مِنْ كُلِّ النَّاسِ
… كُلِّ سُكَّانِ الأرْضِ
… إلَاّ مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ».
ويَسْتَرْسِلُ في تَوْضِيْحِ هَذِه الحَقِيْقَةِ بِضَرْبِ أمْثِلَةٍ وَاقِعِيَّةٍ
এবং সেই সময় আসা পর্যন্ত তারা আমাদের জন্য চমৎকার সেবা প্রদান করবে; আর এই কারণে আমরা জনমানসকে এমন সব চাকচিক্যময় মতবাদের দিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করব, যা প্রগতিশীল বা মুক্তকামী মনে হতে পারে।
প্রগতি বিষয়ক আমাদের মতবাদগুলো দ্বারা বিচারবুদ্ধিহীন সাধারণ মানুষদের মস্তিষ্ককে সমাজতন্ত্রের দিকে ধাবিত করার ক্ষেত্রে আমরা পূর্ণ সফলতা অর্জন করেছি। এই সাধারণ মানুষদের মধ্যে এমন কোনো মেধা নেই, যে এটি লক্ষ্য করতে সক্ষম যে—প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে 'প্রগতি' শব্দটির আড়ালে মূলত পথভ্রষ্টতা (ضلال) এবং সত্য বিচ্যুতি (زيغ) লুকিয়ে আছে।" সমাপ্ত।
* * *
- আমরা এখানে যা উল্লেখ করেছি, উস্তাদ মুহাম্মদ কুতুব তাঁর 'রুয়াহ ইসলামিয়্যাহ' (১১৮) গ্রন্থে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় তা-ই বর্ণনা করেছেন: "তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে রশি এবং মানুষের পক্ষ থেকে রশি (আশ্রয়) ছাড়া" (আলে ইমরান: ১১২)।
অর্থাৎ, "মানুষের পক্ষ থেকে আশ্রয়ের রশিটি কেবল ইহুদিরা রুশ ও আমেরিকানদের থেকে যে সাহায্য লাভ করে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সমস্ত মানুষের পক্ষ থেকে আসে
… পৃথিবীর সমস্ত অধিবাসীদের পক্ষ থেকে
… তবে তারা ব্যতীত যাদের ওপর আপনার প্রতিপালক দয়া করেছেন।"
তিনি বাস্তব কিছু উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে এই সত্যটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।
(খণ্ড: ১)
শাইরুল মিলয়ুন আখতাউন শরইয়্যাহ ওয়া মুগালাদাতুন শইরিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مُعَاصِرَةٍ، فَيِقُوْلُ: «السِّيْنَمَا مُؤسَّسَةٌ يَهُوْدِيَّةٌ مَالاً، وفِكْرًا، وتَخْطِيْطًا، وتَنْفيذًا .. وهَدَفُها الأوَّلُ: هُوَ إفْسَادُ الأوْلادِ والبَنَاتِ، بِمَا تَعْرِضُ مِنْ صُوَرِ الحَيَاةِ العَابِثَةِ اللاهِيَةِ، القَائِمَةِ على عِلاقَاتٍ حَرَّمَها الله ورَسُوْلُه
… فَكُلُّ وَلَدٍ أو بِنْتٍ في الأرْضِ كُلِّهَا أصَابَهُ (جُنُوْنُ السِّيْنَما)، فَهُوَ حَبْلٌ مِنَ النَّاسِ يَمُدُّ اليَهُوْدَ! يَمُدُّهُم بالمَالِ الَّذِي يُنْفِقُه في السِّيْنَما مِنْ جِهَةٍ، وبالفَسَادِ في ذَاتِ نَفْسِه مِنْ جِهَةٍ أخْرَى، وكَذَلِكَ جُنُوْنُ (التِّلْفِزْيُونَ، والفيدْيُو)؛ فَهُمَا يَسِيْرَانِ على ذَاتِ الدَّرْبِ، أيًّا كَانَ المُخْرِجُ، والمُنْتِجُ، والفَنَانُ، والمُغَنِّي!
وكُلُّ بِنْتٍ في الأرْضِ أصَابَها جُنُوْنُ (المَوْضَةِ)، وجُنُوْنُ الزِّيْنَةِ، فَهِي حَبْلٌ مِنَ النَّاسِ: تَمُدُّ اليَهُوْدَ بالمالِ، وتَمُدُّهُم بالفَسَادِ في ذَاتِ نَفْسِها، وفي المُجْتَمَعِ كُلِّه، حِيْنَ يَتَحَوَّلُ المُجْتَمَعُ إلى فِتْنَةٍ هَائِجَةٍ تَجْتَاحُ الأوْلادَ، والبَنَاتَ على السَّوَاءِ، وتُقَرِّبُ الأشْرَارَ مِنْ تَحْقِيْقِ هَدَفِهم الشِّرِّيْرِ.
وجُنُوْنُ الرِّياضَةِ عَامَّةً، وجُنُوْنُ الكُرَةِ خَاصَّةً، لَوْنٌ مِنَ الجُنُوْنِ يَبُثُّه اليَهُوْدُ في الأرْضِ مِنْ خِلالِ وسَائِلِ الإعْلامِ الَّتِي يُسَيْطِرُوْنَ عَلَيْها، ويُوَجِّهُوْنَها.
সমকালীন প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন: "সিনেমা হলো অর্থ, চিন্তা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দিক থেকে একটি ইহুদি প্রতিষ্ঠান। এর প্রধান লক্ষ্য হলো ছেলে ও মেয়েদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটানো; জীবনের সেই সব বৃথা ও আমোদ-প্রমোদপূর্ণ চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত
… পৃথিবীর প্রতিটি ছেলে বা মেয়ে যারা (সিনেমার নেশায়) আক্রান্ত, তারা মানুষের তৈরি সেই অবলম্বন যা ইহুদিদের শক্তি যোগায়! একদিকে তারা সিনেমায় ব্যয় করা অর্থের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করে, অন্যদিকে তারা নিজের নফসের অবক্ষয়ের মাধ্যমেও তাদের সাহায্য করে। একইভাবে (টেলিভিশন ও ভিডিওর) উন্মাদনা; এই মাধ্যম দুটিও একই পথে পরিচালিত হয়, এর পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী বা গায়ক যেই হোক না কেন!
আর পৃথিবীর যে কোনো মেয়ে যে (ফ্যাশন) ও সাজসজ্জার উন্মাদনায় আক্রান্ত হয়েছে, সে-ও মানুষের তৈরি এক অবলম্বন: সে ইহুদিদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করে এবং নিজের মাঝে ও পুরো সমাজের মাঝে অবক্ষয় ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সহায়তা করে। তখন সমাজ এক উত্তাল ফিতনায় পরিণত হয় যা ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই গ্রাস করে এবং পাপিষ্ঠদের তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার নিকটবর্তী করে দেয়।
সাধারণভাবে খেলাধুলার নেশা এবং বিশেষভাবে ফুটবলের নেশা হলো এমন এক ধরণের উন্মাদনা যা ইহুদিরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ও পরিচালিত গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে।"