(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: -)
المنور في راجح المحرر القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: المنور في راجح المحرر
المؤلف: تقي الدين أحمد بن محمّد بن عليّ البغدادي، المقرئ الأَدَمي الحنبلي (ت حوالي 749 هـ)
دراسة وتحقيق: د. وليد عبد الله المنيس
أصل التحقيق: أطروحة دكتوراة للمحقق
الناشر: دار البشائر الإسلامية للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 490
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 محرم 1437
আল-মুনাব্বির ফী রাজীহিল মুহাররার বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
কিতাব: আল-মুনাব্বির ফী রাজীহিল মুহাররার
লেখক: তাকিউদ্দীন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বাগদাদী, আল-মুক্বরি আল-আদামি আল-হাম্বলি (মৃত্যু আনুমানিক ৭৪৯ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. ওয়ালীদ আব্দুল্লাহ আল-মুনাইস
মূল সম্পাদনা: সম্পাদকের পিএইচডি থিসিস
প্রকাশক: দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়া মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯০
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ মুহররম ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب المنور في راجح المحرر
على مذهب الإمام المبجل والحبر المفضل أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني رضي الله عنه وأرضاه -
تأليف
الشيخ الإمام العالم العلامة تقي الدين أحمد بن محمد بن علي الأدمي
(كان حيا قبل عام 749 هـ)
دراسة وتحقيق
د. وليد عبد الله المنيس
دار البشائر الإسلامية
কিতাবুল মুনাব্বির ফি রাজিল মুহররার
সম্মানিত ইমাম ও বরেণ্য পণ্ডিত আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)-এর মাযহাব অনুযায়ী -
রচনায়
শায়খ ইমাম বিজ্ঞ আল্লামা তাকিউদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-আদামী
(তিনি ৭৪৯ হিজরি সালের পূর্বে জীবিত ছিলেন)
গবেষণা ও সম্পাদনায়
ড. ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ আল-মুনাইস
দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়া
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২)
«أصل هَذَا الْكتاب رِسَالَة علمية نَالَ فِيهَا الباحث وليد عبد اللَّه عبد الْعَزِيز المنيس دَرَجَة الدكتوراه (تخصص فقه حنبلي) من قسم الدراسات الإِسلامية، كُلية الدراسات الشرقية، جَامِعَة لندن، بإشراف الْأُسْتَاذ الدكتور مُحَمَّد عبد الْحَلِيم، الْأُسْتَاذ فِي قسم الدراسات الإسلامية والشرق الْأَدْنَى، وَرَئِيس كرْسِي الْملك فَهد حاليًا، وكرسي الشَّيْخ عبد اللَّه الْمُبَارك الصَّباح سَابِقًا.
وَقد نوقشت الرسَالَة فِي يَوْم الْخَمِيس بتاريخ 26 ربيع الآخر 1424 هـ الْمُوَافق 26 يونيو/ حزيران 2003 م».
«এই বইটির মূল ভিত্তি হলো একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ, যার মাধ্যমে গবেষক ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ আব্দুল আজিজ আল-মুনায়্যিস লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ-এর ইসলাম শিক্ষা বিভাগ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি (হাম্বলি ফিকহ বিশেষজ্ঞ) অর্জন করেছেন। এটি ইসলাম শিক্ষা ও নিকট প্রাচ্য বিভাগের অধ্যাপক এবং বর্তমানে কিং ফাহদ চেয়ার ও পূর্বে শেখ আব্দুল্লাহ আল-মুবারক আস-সাবাহ চেয়ারের প্রধান, অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল হালিমের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
এই অভিসন্দর্ভটি ২৬শে রবিউস সানি ১৪২৪ হিজরি মোতাবেক ২৬শে জুন ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ বৃহস্পতিবার আলোচিত হয়েছে।»
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ৩)
كِتَابُ المُنَوَّرِ في رَاجِحِ المُحَرَّرِ
আল-মুহাররার গ্রন্থের অগ্রগণ্য মতামতের বর্ণনায় আল-মুনাওওয়ার কিতাব
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ৪)
جميع الحقوق محْفوظة
الطبعة الأولى
1424 هـ - 2003 م
شركَة دَار البشائر الإسلامية للِطِّباعَةَ والنشر والتوزيع ش. م م
أسَّسها الشَّيْخ رمزي دمشقية رَحمَه الله تَعَالَى سنة 1403 هـ - 1983 م
بيروت - لبنان ص. ب: 5955/ 14 هَاتِف: 702857
فاكس: 704963/ 009611
e-mail: bashaer@cyberia.net.lb
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ লিমিটেড কোম্পানি
এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন শায়খ রামজি দামাশকিয়াহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন), ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে
বৈরুত - লেবানন, ডাকবক্স: ৫৯৫৫/ ১৪, ফোন: ৭০২৮৫৭
ফ্যাক্স: ৭০৪৯৬৩/ ০০৯৬১১
ই-মেইল: bashaer@cyberia.net.lb
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ৫)
تصديربسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه الذي شرح صدورنا بالهداية إلى الإِسلام، ووفقنا للتفقه في الدين وما شرعه من بديع الأحكام، وأشهد أن لا إله إلَّا اللَّه وحده لا شريك له ذو الجلال والإِكرام، وأشهد أن سيدنا ونبيّنا محمدًا عبده ورسوله المبعوث رحمة للأنام، والهادي إلى سواء الصراط وإيضاح الحلال والحرام، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه الكرام.
أما بعد: فأحمد اللَّه تعالى أن أعانني على إتمام هذه الدراسة المحققة -بقدر الوسع والطاقة- لتمد المكتبة الفقهية والشرعية عمومًا، بمصدر أصيل جديد في الفقه هو من مهمات متون الفقه الحنبلي، عسى أن يكون فيه نفع لعلماء الشريعة، وعلى الأخص علماء الفقه وطلابه وحفاظه وقرائه، سائلًا اللَّه تبارك وتعالى أن يتقبل عمل مؤلفه فيه العلامة الشيخ أحمد بن محمد الأدمي رحمه الله، كما أدعو اللَّه أن يثيب كل من ساهم في إخراج هذا العمل بالصورة التي قرَّبت مقاصده ومراميه لمحبيه ومتابعيه ولكل من نظر فيه.
* * *
উপস্থাপনাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইসলামের হিদায়াতের মাধ্যমে আমাদের বক্ষসমূহ উন্মুক্ত করেছেন এবং আমাদের দ্বীনের প্রজ্ঞা ও তাঁর প্রবর্তিত চমৎকার বিধানসমূহ অনুধাবনের তাওফিক দান করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাকে সৃষ্টিকুলের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে এবং যিনি সরল পথ প্রদর্শনকারী এবং হালাল ও হারামের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, তিনি আমাকে আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী এই সম্পাদিত গবেষণাটি সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছেন—যাতে ফিকহ ও শরয়ি পাঠাগার সাধারণভাবে ফিকহ শাস্ত্রের একটি নতুন মৌলিক উৎস লাভ করতে পারে, যা হাম্বলি ফিকহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূল পাঠগুলোর (মতন) অন্তর্ভুক্ত। আশা করা যায় যে, এটি শরয়ি আলিমদের জন্য, বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রের আলিম, শিক্ষার্থী, হাফেজ এবং পাঠকদের জন্য উপকারী হবে। আমি বরকতময় ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর গ্রন্থকার আল্লামা শেখ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আদামী (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই কাজ কবুল করেন। সেইসাথে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করেন যারা এই কাজটিকে এমনভাবে প্রকাশ করতে সহযোগিতা করেছেন, যা এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহকে এর অনুরাগী, অনুসরণকারী এবং যারা এটি পাঠ করবেন তাদের নিকট সহজবোধ্য করে তুলেছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ৭)
شكر وتقديرالحمد للَّه، والصلاة والسلام على رسول اللَّه وعلى آله وصحبه ومن والاه.
ما كان لهذه الدراسة أن تكتمل لولا توفيق اللَّه وعونه، ثم عون ثلة كريمة من أهل العلم وبعض الجهات الرسمية الموقرة.
فلا بد لي أوَّلًا أن أشكر أستاذي الفاضل أ. د. محمد عبد الحليم؛ الذي غمرني بحسن معاملته ولطف رعايته وبملاحظاته المفيدة، كما أثني على سعة صدره وحلمه الذي يتطابق مع اسمه ورسمه.
وأشكر جامعة الكويت الموقرة التي لم تبخل على أبنائها بشيء علمي أو أدبي أو مادّي مع إعطاء الفرصة لتنمية المدارك البحثية دون قيد.
كما أشكر وزارة الأوقاف والشؤون الإِسلامية الموقرة التي خصتني بمخطوط فريد وحفظته لي من كل يد حتى تيسر لي إتمام الدراسة عليه، وأخص بالشكر هنا الأستاذ سهيل مبارك الجلاهمة مدير إدارة المكتبات والمخطوطات على مؤازرته الصادقة.
كما أشكر البروفيسور نورس، والدكتور مصطفى شاه الذي لن أنسى موقفه معي شكر اللَّه له.
ولا بد لي أن أشكر إخوة كرام وقفوا معي طويلًا وأكرموني بحسن
কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁর অনুসারী হয়েছেন তাদের ওপর।
আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্য এবং পরবর্তীতে একদল সম্মানিত আলেম ও কিছু শ্রদ্ধেয় সরকারি সংস্থার সহায়তা না থাকলে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।
সর্বপ্রথমে আমাকে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীমকে ধন্যবাদ জানাতে হবে; যিনি তাঁর সদাচরণ, সদয় তত্ত্বাবধান এবং মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমে আমাকে সিক্ত করেছেন। পাশাপাশি আমি তাঁর উদারতা ও সহনশীলতার প্রশংসা করি, যা তাঁর নাম ও বৈশিষ্ট্যের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমি শ্রদ্ধেয় কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানাই, যারা তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বৈজ্ঞানিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক বা বৈষয়িক বিষয়ে কার্পণ্য করেনি এবং কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা ছাড়াই গবেষণামূলক মেধা বিকাশের সুযোগ দান করেছে।
আমি শ্রদ্ধেয় আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কেও ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি প্রদান করেছে এবং তা অন্যের স্পর্শ থেকে আমার জন্য সুরক্ষিত রেখেছে যতক্ষণ না এটি নিয়ে আমার গবেষণা সম্পন্ন করা সহজ হয়েছে। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই লাইব্রেরি ও পাণ্ডুলিপি বিভাগের পরিচালক জনাব সুহাইল মুবারক আল-জালাহিমাহকে তাঁর আন্তরিক সহযোগিতার জন্য।
আমি আরও ধন্যবাদ জানাই প্রফেসর নওরস এবং ড. মুস্তফা শাহকে, যাঁর অবদান আমি কখনো ভুলব না, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।
আমাকে আরও ধন্যবাদ জানাতে হবে সেই সকল সম্মানিত ভাইদের যারা দীর্ঘ সময় আমার পাশে ছিলেন এবং আমাকে তাঁদের সদাচরণের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ৮)
ملاحظاتهم أثناء مقابلة المطبوع على الأصل، وأخص منهم الأخ فيصل يوسف العلي والأخ عدنان سالم النهام والأخ ياسر المزروعي والأخ رائد الرومي والأخ جراح الجراح والأخ عادل الكندري وابن الخال طارق يوسف المنيس، كما أخص بالشكر الدكتور سعود العصفور المسؤول السابق للمخطوطات.
كما أشكر أسرتي الكريمة على مؤازرتها، وأشكر والدي الكريم عبد اللَّه عبد العزيز المنيس وأخي العزيز العقيد عادل المنيس، وأشكر كل من له فضل علَيَّ ولم تسعه الورقة.
وختامًا، أقول إن أصبت فمن اللَّه تعالى وتسديده، وإن أخطأت فمني ومن الشيطان، وأستغفر اللَّه، كما أرجو من أهل التخصص أن لا يبخلوا علي بكريم ملاحظاتهم، واللَّه ولي التوفيق.
د. وليد عبد اللَّه عبد العزيز المنيس
মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মুদ্রিত কপির তুলনামূলক পর্যালোচনার সময় তাদের মূল্যবান মতামতের জন্য, বিশেষ করে ভাই ফয়সাল ইউসুফ আল-আলী, ভাই আদনান সালেম আল-নাহহাম, ভাই ইয়াসির আল-মাযরুয়ী, ভাই রাঈদ আল-রূমী, ভাই জাররাহ আল-জাররাহ, ভাই আদিল আল-কানদারী এবং মামাতো ভাই তারিক ইউসুফ আল-মুনাইসকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাশাপাশি পাণ্ডুলিপি বিভাগের প্রাক্তন দায়িত্বশীল ডক্টর সউদ আল-আসফুরকেও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমি আমার সম্মানিত পরিবারকে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই, এবং ধন্যবাদ জানাই আমার সম্মানিত পিতা আবদুল্লাহ আব্দুল আজিজ আল-মুনাইস ও আমার প্রিয় ভাই কর্নেল আদিল আল-মুনাইসকে। সেই সাথে আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যাদের আমার প্রতি অবদান রয়েছে কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তাদের নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি।
পরিশেষে আমি বলি যে, যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁর দিকনির্দেশনায়; আর যদি কোনো ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট আমার অনুরোধ, তারা যেন তাদের মূল্যবান মতামত প্রদানে কার্পণ্য না করেন। আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
ড. ওয়ালীদ আব্দুল্লাহ আব্দুল আজিজ আল-মুনাইস
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة ومدخل للدراسةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الأمين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد، فهده رسالة قائمة على تحقيق ودراسة مخطوط في فقه الإِمام أحمد بن حنبل رحمه الله ورضي عنه وهو بعنوان: "المنوَّر في راجح المحرَّر"، للعلامة أحمد بن محمد الأدمي (المتوفى حوالى 749 هـ)، وهو خلاصة "المحرر في الفقه على مذهب الإِمام أحمد بن حنبل"، للإِمام المجد أبي البركات عبد السلام بن تيمية (590 - 652 هـ).
هدف الدراسة:تهدف هذه الدراسة من وراء تحقيق ودراسة مخطوط "المنوّر في راجح المحرر" على ما هو متبع علميًا في الدراسات التحقيقية إلى ما يأتي:
1 - إمداد المكتبة الإِسلامية بمصدر أصلي جديد لم يحقق من قبل في المذهب الحنبلي أوحد ضمن نوادر مجموعة علَّامة الكويت القاضي الشيخ عبد اللَّه بن خلف الدحيان رحمه اللَّه تعالى (1292 - 1349 هـ)؛ المحفوظة في وزارة الأوقاف والشؤون الإِسلامية في الكويت - إدارة المكتبات والمخطوطات.
অধ্যয়নের ভূমিকা ও প্রবেশিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সঙ্গীর ওপর।
অতঃপর, এটি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ ও তাঁর প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন)-এর ফিকহ শাস্ত্রের একটি পাণ্ডুলিপির সম্পাদনা ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত একটি গবেষণাপত্র। যার শিরোনাম: "আল-মুনাওয়ার ফি রাজিহ আল-মুহাররার", এটি আল্লামা আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আদমি (মৃত্যু আনুমানিক ৭৪৯ হি.)-এর রচনা। এটি ইমাম আল-মাজদ আবুল বারাকাত আবদুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ (৫৯০ - ৬৫২ হি.) রচিত "আল-মুহাররার ফি আল-ফিকহ আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল"-এর একটি সারসংক্ষেপ।
অধ্যয়নের লক্ষ্য:গবেষণামূলক অধ্যয়নে অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী "আল-মুনাওয়ার ফি রাজিহ আল-মুহাররার" পাণ্ডুলিপির সম্পাদনা ও গবেষণার মাধ্যমে এই অধ্যয়নটি নিম্নোক্ত লক্ষ্যসমূহ পূরণ করতে চায়:
১ - ইসলামি পাঠাগারকে হাম্বলি মাযহাবের একটি নতুন মৌলিক উৎস প্রদান করা যা ইতিপূর্বে সম্পাদিত হয়নি। এটি কুয়েতের প্রখ্যাত আলেম বিচারক শায়খ আবদুল্লাহ বিন খালাফ আল-দাহিয়ান (রহিমাহুল্লাহ তাআলা, ১২৯২ - ১৩৪৯ হি.)-এর দুর্লভ সংগ্রহশালার অন্তর্ভুক্ত; যা কুয়েতের আওকাফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গ্রন্থাগার ও পাণ্ডুলিপি বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১০)
2 - بيان أهمية هذا المخطوط الذي عَرّف بجهود الفقهاء الحنابلة في تلك الفترة التي عاصرت الطبقة الوسطى من طبقات علماء المذهب الحنبلي لفترة ما بين (650 - 750 هـ) تقريبًا.
3 - إظهار جهد العلامة الأدمي رحمه الله في بيان راجح المحرر الذي يدل على استيعابه لما في المحرر من جهة، وعلى سعة اطلاعه على روايات المذهب ومعرفة راجحها ومرجوحها ومطلقها ومقيدها من جهة أخرى.
4 - الوقوف على من نقل منهم صاحب المحرر وأثر ذلك على راجح المحرر، وبالتالي التعرف على ما في المنور الذي استخلص الراجح.
5 - التعرف على الراجح عند المتوسطين مع المتقدمين ومتأخري المذهب بما يعرف بالفقه الحنبلي ويقربه إلى القارئ.
6 - الوقوف على زيادة العلامة الأدمي في منوّره على المحرر مما يدل على أنه لم يتوقف فقط عند الراجح بل زاد ونقّح.
7 - الوقوف على منهجية كل منهما مع التعرف على اصطلاحات المحرر وأثرها على الراجح وبيان مميزات كل منها.
8 - التعرف على مميزات العصر الذي عاش فيه العلامة الأدمي والعلامة المجد ابن تيمية من النواحي السياسية والعلمية خاصة بما يفسر أسباب قوة ذلك العصر في هذه النواحي.
9 - إخراج نص محقق خالٍ من الغموض والأخطاء -بقدر الوسع والطاقة- للاستفادة منه فقهيًا وعلميًا.
2 - এই পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব বর্ণনা করা, যা হাম্বলি মাযহাবের ফকিহদের সেই সময়ের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরেছে, যা হাম্বলি মাযহাবের আলেমদের মধ্যবর্তী স্তরের (আনুমানিক ৬৫০ - ৭৫০ হিজরি) সমসাময়িক ছিল।
3 - 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের অগ্রগণ্য মতসমূহ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে আল্লামা আদমি (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রচেষ্টা প্রদর্শন করা, যা একদিকে যেমন 'আল-মুহাররার'-এর বিষয়বস্তুর ওপর তাঁর পূর্ণ আয়ত্তকে নির্দেশ করে, অন্যদিকে মাযহাবের বর্ণনাগুলোর ওপর তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং সেগুলোর অগ্রগণ্য, অনুন্নত, শর্তহীন ও শর্তযুক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞানকে প্রকাশ করে।
4 - 'আল-মুহাররার'-এর লেখক কাদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন তা উদ্ঘাটন করা এবং 'আল-মুহাররার'-এর অগ্রগণ্য মতের ওপর তার প্রভাব নিরূপণ করা, ফলে 'আল-মুনাব্বির' গ্রন্থে যা রয়েছে তা চেনা যেখানে অগ্রগণ্য মতগুলো চয়ন করা হয়েছে।
5 - হাম্বলি ফিকহ হিসেবে পরিচিত বিষয়ের আলোকে মাযহাবের অগ্রবর্তী, মধ্যবর্তী ও পরবর্তী আলেমদের নিকট অগ্রগণ্য মতগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তা পাঠকের নিকট সহজবোধ্য করা।
6 - আল্লামা আদমি তাঁর 'আল-মুনাব্বির' গ্রন্থে 'আল-মুহাররার'-এর অতিরিক্ত যা কিছু উল্লেখ করেছেন তা লক্ষ্য করা, যা প্রমাণ করে যে তিনি কেবল অগ্রগণ্য মতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এতে সংযোজন ও পরিমার্জনও করেছেন।
7 - উভয়ের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করার পাশাপাশি 'আল-মুহাররার'-এর পরিভাষাগুলো ও অগ্রগণ্য মতের ওপর সেগুলোর প্রভাব চেনা এবং প্রতিটির বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করা।
8 - আল্লামা আদমি এবং আল্লামা মাজদ ইবনে তাইমিয়্যাহ যে যুগে বাস করতেন, তার রাজনৈতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে জানা, যা বিশেষত সেই যুগের উক্ত ক্ষেত্রগুলোতে শক্তিশালী হওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা করে।
9 - সাধ্যানুযায়ী অস্পষ্টতা ও ভুলভ্রান্তিমুক্ত একটি সম্পাদিত ও বিশুদ্ধ পাঠ প্রস্তুত করা, যাতে ফিকহশাস্ত্রীয় ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১১)
منهج الدراسة والتحقيق (1):
مناهج التحقيق المتعلقة بتحقيق المخطوطات لها قواعد وأسس يقتضي الأمر الوقوف عليها لبيان المنهجية التي تبنتها هذه الدراسة (2). ولعل أبرز ما يذكر هنا ما قاله العلامة عبد السلام هارون: "ليس تحقيق المتن تحسينًا أو تصحيحًا وإنما هو أمانة الأداء. . . ومعناه أن يؤدّى الكتاب أدَاءً صادقًا كما وضعه مؤلفه كمًّا وكيفًا بقدر الإِمكان" (3).
ولقد توخينا في هذا المجال أن يعالج المخطوط من الزوايا التالية كما هو مقرر في مناهج التحقيق:
1 - تحقيق الكتاب.
2 - تحقيق اسم المؤلف.
3 - تحقيق نسبة الكتاب إلى مؤلفه.
4 - تحقيق متن الكتاب حتى يظهر بقدر الإِمكان مقاربًا لنص مؤلفه.
--------------------------------------------
অধ্যয়ন ও তাহক্বীক পদ্ধতি (১):
পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার সাথে সংশ্লিষ্ট তাহক্বীক পদ্ধতির এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতি রয়েছে যা এই অধ্যয়নে গৃহীত কর্মপদ্ধতি বর্ণনার জন্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন (২)। সম্ভবত এই ক্ষেত্রে আল্লামা আব্দুস সালাম হারুনের কথাটি উল্লেখ করা সবচেয়ে সমীচীন: "মূলপাঠের তাহক্বীক বা সম্পাদনা মানে সৌন্দর্যবর্ধন বা সংশোধন করা নয়, বরং এটি হলো উপস্থাপনার আমানতদারি... এর অর্থ হলো বইটিকে সততার সাথে সেভাবেই উপস্থাপন করা যেভাবে লেখক এটি লিখেছিলেন—তার পরিমাণ ও প্রকৃতি উভয় দিক থেকে যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে" (৩)।
আমরা তাহক্বীক পদ্ধতির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিটিকে নিম্নলিখিত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেছি:
১ - বইটির তাহক্বীক।
২ - লেখকের নামের তাহক্বীক।
৩ - লেখকের প্রতি বইটির সম্বন্ধের তাহক্বীক।
৪ - বইয়ের মূলপাঠের তাহক্বীক, যাতে তা যথাসম্ভব লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির কাছাকাছি অবস্থায় প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومما استجد حديثًا وهو من المكملات الحديثة للنشر العلمي أن يشمل التحقيق أيضًا:
1 - العناية بتقديم النص ووصف المخطوط.
2 - العناية بالإِخراج.
3 - صنع الفهارس.
4 - الاستدراكات.
ومنهج الدراسة يطابق ما ذكر، وقد تدرجنا في ذلك من خلال فصول الدراسة، إذ تقسم الدراسة التحقيقية إلى قسمين:
القسم الأول: "تحقيق النص"، والقسم الثاني: "دراسة المسائل الفقهية المستخلصة من النص"، وذلك في الحواشي وفي مقدمات الدراسة عمومًا، وكلا القسمين متلازمان لأن ضبط النص يلازمه دراسة ما تضمنه من مسائل.
ولعل أبرز ما جاء في قسم تحقيق النص وضع العلامات والفواصل والإِعجام، وتصويب أخطاء الناسخ إن دعت الضرورة، والمحافظة على النص بالصورة التي لا تغيره.
أما ما يتعلق بدراسة المسائل الفقهية فإنه يتضمن مقارنة ما يقوله المصنف مع المحرر ومع محققي المذهب وعزوها إلى مظانها، مع إحالة الآيات والأحاديث وعزوها وبيان درجتها حسب الحاجة، مع بيان زيادات الأدمي على المحرر وطريقته في التقديم والتأخير والاختصار أو الإِضافة على ما جاء في الأبواب أو الفصول.
আধুনিককালে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার পরিপূরক হিসেবে যে বিষয়গুলো নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে এবং যা সম্পাদনার (তাহকীক) অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত, তা হলো:
১ - মূল পাঠের উপস্থাপনা এবং পাণ্ডুলিপির বর্ণনার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া।
২ - বিন্যাস ও শৈল্পিক উপস্থাপনার প্রতি যত্ন নেওয়া।
৩ - নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র তৈরি করা।
৪ - সংশোধন ও পরিমার্জন।
গবেষণার পদ্ধতি উল্লিখিত বিষয়গুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা গবেষণার অধ্যায়গুলোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তা অনুসরণ করেছি। কারণ গবেষণামূলক সম্পাদনাটি (তাহকীকী গবেষণা) দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম অংশ: "মূল পাঠের সম্পাদনা", এবং দ্বিতীয় অংশ: "মূল পাঠ থেকে প্রাপ্ত ফিকহী মাসআলাসমূহের পর্যালোচনা"। এটি সাধারণত টীকা এবং গবেষণার ভূমিকায় স্থান পেয়েছে। এই উভয় অংশ একে অপরের পরিপূরক, কারণ পাঠের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ের সাথে তাতে বিদ্যমান মাসআলাসমূহের পর্যালোচনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
মূল পাঠের সম্পাদনা অংশে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো যতিচিহ্ন, বিরামচিহ্ন ও হরফ বিন্যাস (ই’জাম) নির্ধারণ করা, প্রয়োজনে লিপিকারের ভুলসমূহ সংশোধন করা এবং মূল পাঠকে এমনভাবে সংরক্ষণ করা যাতে এর কোনো পরিবর্তন না ঘটে।
আর ফিকহী মাসআলাসমূহের পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গ্রন্থকারের বক্তব্যকে 'আল-মুহাররার' গ্রন্থ এবং মাযহাবের গবেষকগণের মতামতের সাথে তুলনা করা এবং সেগুলোকে মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আয়াতের তথ্যসূত্র প্রদান, হাদিসের উদ্ধৃতি প্রদান ও প্রয়োজন অনুযায়ী হাদিসের মান বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের ওপর আদামির অতিরিক্ত সংযোজন এবং অধ্যায় ও অনুচ্ছেদগুলোতে উপস্থাপনার ক্রম পরিবর্তন, সংক্ষিপ্তকরণ বা পরিবর্ধনের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مخطوط الدراسة (1):
عنوانه: "المنوَّر في راجح المحرَّر"، ومؤلفه هو: العلامة أحمد بن محمد الأدمي الحنبلي. وهو خلاصة لراجح المحرر في فقه الإِمام أحمد للإِمام المجد أبي البركات عبد السلام بن تيمية، جد شيخ الإسلام الإِمام أبي العباس أحمد بن تيمية الحراني رحمهم اللَّه تعالى.
نسبة الكتاب إلى مؤلفه (2):
قال العلامة العليمي في "الدر المُنضّد": "الشيخ تقي الدين أحمد بن محمد الأدمي البغدادي له المنور في راجح المحرر، والمنتخب". وقد ارتبط ذكر الأدمي دائمًا بكتابيه المنور، والمنتخب، كما أثبتناه في الدراسة.
أبواب وفصول الدراسة:تقسم الدراسة إلى خمسة أبواب يقع تحت كل باب فصول تخدم الباب بحسب المباحث التي فيه على النحو التالي:
الباب الأول: "التعريف بكتاب المنوَّر في راجح المحرر"
ويشتمل على أربعة فصول:
الفصل الأول: قيمة كتاب المنوَّر ومكانة كتاب المحرر ومؤلفه.
الفصل الثاني: ترجمة صاحب المنوَّر والتعريف بكتابه.
الفصل الثالث: أبرز مميزات عصر الأدمي السياسية والعلمية وأبرز الماجريات.
الفصل الرابع: التعريف بمخطوط المنوَّر ونسبته إلى مؤلفه.
--------------------------------------------
গবেষণার পাণ্ডুলিপি (১):
এর শিরোনাম: "আল-মুনাওয়ার ফি রাজিহ আল-মুহাররার", এবং এর লেখক হলেন: আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আদামি আল-হাম্বলি। এটি ইমাম আহমদের ফিকহ বিষয়ক ইমাম আল-মাজদ আবুল বারাকাত আবদুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহর "রাজিহ আল-মুহাররার" গ্রন্থটির একটি সারসংক্ষেপ, যিনি শাইখুল ইসলাম ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানির দাদা, আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের প্রতি রহম করুন।
লেখকের প্রতি কিতাবটির নিসবত (২):
আল্লামা আল-উলাইমি "আদ-দুররুল মুনাসসাদ" গ্রন্থে বলেছেন: "শাইখ তাকীউদ্দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আদামি আল-বাগদাদির আল-মুনাওয়ার ফি রাজিহ আল-মুহাররার এবং আল-মুনতাখাব নামক গ্রন্থ রয়েছে।" আল-আদামি-এর নাম সবসময়ই তার এই দুটি গ্রন্থ আল-মুনাওয়ার এবং আল-মুনতাখাব-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, যা আমরা গবেষণায় প্রমাণ করেছি।
গবেষণার অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহ:গবেষণাটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত, প্রতিটি অধ্যায়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট আলোচ্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে যা নিম্নরূপ:
প্রথম অধ্যায়: "আল-মুনাওয়ার ফি রাজিহ আল-মুহাররার" গ্রন্থের পরিচিতি
এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-মুনাওয়ার গ্রন্থের গুরুত্ব এবং আল-মুহাররার গ্রন্থ ও এর লেখকের মর্যাদা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-মুনাওয়ার-এর লেখকের জীবনী এবং তার গ্রন্থের পরিচিতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আদামির যুগের প্রধান রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য এবং উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল-মুনাওয়ার-এর পাণ্ডুলিপির পরিচিতি এবং এর লেখকের প্রতি এর নিসবত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الباب الثاني: "أصول كتاب المنوَّر بالإِشارة إلى المحرَّر"
ويشتمل على فصلين:
الفصل الأول: المصادر التي استقى منها مؤلف المحرر كتابه.
الفصل الثاني: المنهجية والمصطلحات التي استعملها صاحب المحرر وصاحب المنوَّر في عرض الروايات والراجح منها.
الباب الثالث: "نبذة عن المصطلحات الفقهية عند الحنابلة
ويشتمل على أربعة فصول:
الفصل الأول: اصطلاحات الإِمام أحمد وأصحابه.
الفصل الثاني: أصول الإِمام أحمد في استنباط الفروع.
الفصل الثالث: راجح المذهب عند المتأخرين.
الفصل الرابع: مفردات المذهب.
الباب الرابع: "منهج الدراسة والتحقيق"
ويشتمل على فصلين:
الفصل الأول: منهج الدراسة.
الفصل الثاني: منهج التحقيق.
الباب الخامس: "النص المحقّق"
* * *
দ্বিতীয় অধ্যায়: "আল-মুহাররার-এর প্রতি ইঙ্গিতসহ আল-মুনাউয়ির গ্রন্থের মূলনীতিসমূহ"
এটি দুইটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-মুহাররার গ্রন্থের লেখক যে উৎসসমূহ থেকে তাঁর গ্রন্থটি গ্রহণ করেছেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণনা এবং তার মধ্য থেকে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতসমূহ উপস্থাপনে আল-মুহাররার এবং আল-মুনাউয়ির-এর লেখক যে কর্মপদ্ধতি ও পরিভাষা ব্যবহার করেছেন।
তৃতীয় অধ্যায়: "হাম্বলিগণের ফিকহি পরিভাষা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা"
এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ এবং তাঁর সঙ্গীদের পরিভাষাসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শাখা বিধান (ফুরু) উদ্ঘাটনে ইমাম আহমাদের মূলনীতিসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরবর্তী আলেমগণের নিকট মাযহাবের অগ্রগণ্য মত।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মাযহাবের একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাসআলাসমূহ।
চতুর্থ অধ্যায়: "গবেষণা ও সম্পাদনা পদ্ধতি"
এটি দুইটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণা পদ্ধতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্পাদনা পদ্ধতি।
পঞ্চম অধ্যায়: "সম্পাদিত মূল পাঠ"
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
نماذج من صور المخطوط
صورة من صفحة غلاف مخطوط المنوَّر
পাণ্ডুলিপির ছবির নমুনা
'আল-মুনাওয়ার' পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদ পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صورة من الصفحة الأولى للمخطوط
পাণ্ডুলিপিটির প্রথম পৃষ্ঠার একটি ছবি
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الأول التعريف بكتاب المنوَّر في راجح المحررالفصل الأول: قيمة كتاب المنوَّر ومكانة كتاب المحرر ومؤلفه.
الفصل الثاني: ترجمة صاحب المنوَّر والتعريف بكتابه.
الفصل الثالث: أبرز مميزات عصر الأدمي السياسية والعلمية وأبرز الماجريات.
الفصل الرابع: التعريف بمخطوط المنوَّر ونسبته إلى مؤلفه.
প্রথম অধ্যায়: ‘আল-মুনাওয়ার ফি রাজিহিল মুহাররার’ গ্রন্থের পরিচিতিপ্রথম পরিচ্ছেদ: ‘আল-মুনাওয়ার’ গ্রন্থের গুরুত্ব এবং ‘আল-মুহাররার’ গ্রন্থ ও এর লেখকের মর্যাদা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘আল-মুনাওয়ার’ প্রণেতার জীবনী এবং তাঁর গ্রন্থের পরিচিতি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আদমির যুগের প্রধান রাজনৈতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং সমসাময়িক প্রধান ঘটনাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ‘আল-মুনাওয়ার’ গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির পরিচিতি এবং লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধায়ন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأول قيمة كتاب المنوَّر ومكانة كتاب المحور ومؤلفه
مقدمةيُعد هذا الكتاب من نفائس كتب الفقه على مذهب الإِمام المبجل أحمد بن حنبل (1) رحمه اللَّه تعالى ورضي عنه؛ إذ أنه قائم على اختصار كتاب من أبرز كتب المذهب وهو "المحرر" (2)، للإِمام المجد عبد السلام ابن تيمية، أبي البركات، بالاقتصار على الراجح فيه مع التصحيح والتنقيح والزيادة.
ويكتسب كتاب "المحرر" هذه الأهمية بالنظر إلى مكانة مصنفه الإِمام المجد عبد السلام ابن تيمية الذي يعد من المبرَّزين في المذهب، وممن حازوا على رتبة الاجتهاد في المذهب.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: আল-মুনাউওয়ার কিতাবের গুরুত্ব এবং আল-মুহাররার কিতাব ও তার লেখকের মর্যাদাভূমিকাএই কিতাবটি সম্মানিত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১) (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম মূল্যবান কিতাব হিসেবে গণ্য হয়; কারণ এটি এই মাযহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিতাব 'আল-মুহাররার' (২)-এর সংক্ষিপ্তরূপের ওপর ভিত্তি করে রচিত। মূল কিতাবটি ইমাম আল-মাজদ আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আবুল বারাকাত-এর। এখানে কেবল রাজেহ বা বিশুদ্ধ মতগুলো গ্রহণ করার পাশাপাশি সংশোধন, পরিমার্জন এবং অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।
'আল-মুহাররার' কিতাবটি এই গুরুত্ব লাভ করেছে এর গ্রন্থকার ইমাম আল-মাজদ আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর সুউচ্চ মর্যাদার কারণে; যিনি এই মাযহাবের বিশিষ্ট আলিমদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের অন্যতম যারা মাযহাবের মধ্যে ইজতিহাদ করার স্তরে পৌঁছেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويزداد هذا الكتاب أهمية إذا علمنا أن الذي اختصره هو الإمام تقي الدين أحمد بن محمد الأدمي، ممن هذَّب كلام المتقدمين، كما ذكر المرداوي في مقدمته على "الفروع" (1).
* يقول الأدمي رحمه الله في خطبته في المنوَّر:
"فهذا مختصر في الفقه على مذهب الإِمام الأنبل أحمد بن محمد بن حنبل، سمَّيته بـ "المنوَّر في راجح المحرّر"، قرَّبت فيه جمل ألفاظه ليسهل على متعلمه وحفَّاظه. . . ".
لهذا، فإن هذا الكتاب يعد من النوادر التي قربت أحد أهم المصنفات الفقهية على مذهب الإمام أحمد لمكانة مؤلفه ومختصره على حد سواء عند "المتوسطين" أو "المتأخرين" من علماء المذهب.
* ولمعرفة هذه المكانة التي يتبوأُها صاحب المحرر، يقول العلامة البهوتي في "شرح الإِقناع" ما نصه:
"إذا أطلق المتأخرون كصاحب الفروع والفائق والاختيارات وغيرهم "الشيخ" أرادوا به الشيخ العلامة موفق الدين أبا محمد عبد اللَّه بن قدامة المقدسي، وإذا قيل: "الشيخان" فالموفق والمجد، وإذا قيل "الشارح" فهو شمس الدين أبو الفرج عبد الرحمن أبي عمر المقدسي، وهو ابن أخي الموفق وتلميذه، وإذا أطلق "القاضي" فالمراد به القاضي أبو يعلى محمد بن الحسين بن محمد بن خلف الفراء، وإذا قيل: "وعنه"، أي عن الإِمام أحمد رحمه الله، وقولهم: "نصًّا" معناه نسبته إلى الإِمام أحمد رحمه الله. . . " (2).
--------------------------------------------
এই কিতাবটির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায় যখন আমরা জানতে পারি যে, এর সংক্ষেপক হলেন ইমাম তাকিউদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আদামি; তিনি সেইসব ব্যক্তিদের অন্যতম যারা পূর্ববর্তীদের বক্তব্যকে পরিমার্জিত করেছেন, যেমনটি মারদাউয়ি তাঁর ‘আল-ফুরু’ গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন (১)।
* আল-আদামি (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আল-মুনওয়্যার’ গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন:
“এটি মহৎ ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, আমি এর নাম রেখেছি ‘আল-মুনওয়্যার ফি রাজিহিল মুহাররার’। আমি এতে এর শব্দাবলীকে সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য করেছি যাতে এর শিক্ষার্থী ও মুখস্থকারীদের জন্য তা সহজ হয়...।”
এই কারণে, এই কিতাবটি এমন এক বিরল সংকলন হিসেবে বিবেচিত হয় যা ইমাম আহমাদের মাযহাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি গ্রন্থকে সহজলভ্য করেছে; এর কারণ হলো মাযহাবের ‘মধ্যবর্তী’ এবং ‘পরবর্তী’ আলেমদের নিকট এর মূল লেখক এবং সংক্ষেপক উভয়েরই সুউচ্চ মর্যাদা।
* ‘আল-মুহাররার’ গ্রন্থের লেখক যে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত তা জানার জন্য আল্লামা আল-বাহুতি তাঁর ‘শারহুল ইকনা’ গ্রন্থে যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো:
“যখন পরবর্তী যুগের আলেমগণ, যেমন ‘আল-ফুরু’, ‘আল-ফাইক’, ‘আল-ইখতিয়ারাত’ এর লেখকগণ এবং অন্যান্যরা নিঃশর্তভাবে ‘আশ-শাইখ’ বলেন, তখন তাঁরা এর দ্বারা শাইখ আল্লামা মুয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন কুদামা আল-মাকদিসি-কে উদ্দেশ্য করেন। আর যখন ‘আশ-শাইখান’ (দুই শাইখ) বলা হয়, তখন মুয়াফফাক ও মাজদ-কে বোঝানো হয়। আর যখন ‘আশ-শারিহ’ (ব্যাখ্যাকার) বলা হয়, তখন তিনি হলেন শামসুদ্দীন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে আবি উমর আল-মাকদিসি, তিনি মুয়াফফাকের ভ্রাতুষ্পুত্র ও ছাত্র। আর যখন ‘আল-কাদি’ শব্দটির নিঃশর্ত প্রয়োগ করা হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল-কাদি আবু ইয়ালা মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন খালাফ আল-ফাররা। আর যখন বলা হয় ‘ওয়া আনহু’ (এবং তাঁর থেকে), এর অর্থ হলো ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে। আর তাঁদের বক্তব্য ‘নাসসান’ (সুস্পষ্টভাবে) এর অর্থ হলো ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি এর সম্বন্ধযুক্ত হওয়া... (২)।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২১)
إن المتأمل في هذه العبارة للعلامة البهوتي (ت 1051 هـ) -وهو من طبقة "متأخري" علماء المذهب- سيعرف منزلة المجد ابن تيمية بين بقية العلماء، إذ جاء اسمه مقارنًا لاسم شيخ المذهب الموفق بن قدامة.
* وقال ابن بدران في "المدخل" عن المحرر وصاحبه:
"كتاب في الفقه للإِمام مجد الدين عبد السلام ابن تيمية الحراني، حذا فيه حذو الهداية لأبي الخطاب (1)، يذكر الروايات فتارة يرسلها وتارة يبين اختياره فيها. . . " (2).
* وقد شرح المحرر عدد من العلماء، ولكل من تقي الدين (3) بن قندس (ت 861 هـ)، وابن نصر اللَّه (ت 844 هـ) حاشية عليه، وكذلك
--------------------------------------------
আল্লামা আল-বুহুতী (মৃত্যু ১০৫১ হিজরী) -যিনি মাযহাবের "পরবর্তী" স্তরের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত- তার এই বক্তব্যের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে অন্যান্য আলেমদের মধ্যে মাজদ ইবনে তাইমিয়ার মর্যাদা উপলব্ধি করা যাবে, কেননা তার নাম মাযহাবের শায়খ আল-মুওয়াফফাক ইবনে কুদামার নামের সাথে সমান্তরালভাবে এসেছে।
* আর ইবনে বাদরান "আল-মাদখাল" গ্রন্থে 'আল-মুহাররার' এবং এর লেখক সম্পর্কে বলেছেন:
"ইমাম মাজদ উদ্দিন আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানীর ফিকহ শাস্ত্রের একটি কিতাব, এতে তিনি আবু আল-খাত্তাবের (১) 'আল-হিদায়াহ' কিতাবের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তিনি রেওয়ায়েতসমূহ উল্লেখ করেছেন; কখনো তিনি সেগুলোকে সূত্রহীনভাবে বর্ণনা করেছেন আবার কখনো সেগুলোর মধ্যে নিজের পছন্দনীয় মতটি স্পষ্ট করেছেন..." (২)।
* একদল আলেম 'আল-মুহাররার' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন এবং তাকি উদ্দিন (৩) ইবনে কুন্দুস (মৃত্যু ৮৬১ হিজরী) ও ইবনে নাসরুল্লাহ (মৃত্যু ৮৪৪ হিজরী) প্রত্যেকেরই এর ওপর টিকা (হাশিয়া) রয়েছে, সেইসাথে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২২)
لابن مفلح حاشية عليه طمعت معه هي "النكت والفوائد السنية"، بتحقيق حامد الفقي (1).
مكانة صاحب المحرر في المذهبلكتاب المحرر وصاحبه مكانة مرموقة في المذهب، ولترجيحاته واختياراته أهمية كبيرة (2)؛ إذ أنه ممن أدرك شيخ المذهب الإِمام موفق الدين ابن قدامة (3) (ت 620 هـ) ولكونه ينتمي إلى طبقة المتوسطين من علماء المذهب.
وهذه الطبقة تبدأ زمنيًّا عقب وفاة الحسن بن حامد (ت 403 هـ) وتمتد إلى وفاة البرهان بن مفلح صاحب المبدع في شرح المقنع (ت 884 هـ)،
--------------------------------------------
ইবনে মুফলিহের এর উপর একটি টীকা রয়েছে যা এর সাথেই সংযুক্ত হয়েছে, সেটি হলো "আন-নুকাতি ওয়াল ফাওয়াইদ আস-সুননিয়াহ", হামিদ আল-ফিকির সম্পাদনায় (১)।
মাযহাবে আল-মুহাররার প্রণেতার মর্যাদামাযহাবে "আল-মুহাররার" গ্রন্থ এবং এর প্রণেতার একটি সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে এবং তাঁর প্রদানকৃত অগ্রাধিকার ও চয়নকৃত মতসমূহের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে (২); কারণ তিনি মাযহাবের শায়খ ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা (৩) (মৃত্যু ৬২০ হি.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তিনি মাযহাবের আলেমদের মধ্যবর্তী স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
আর এই স্তরটি কালানুক্রমিকভাবে আল-হাসান ইবনে হামিদের (মৃত্যু ৪০৩ হি.) ইন্তেকালের পর থেকে শুরু হয় এবং "আল-মুকনি"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "আল-মুবদি" এর প্রণেতা বুরহানুদ্দীন ইবনে মুফলিহের (মৃত্যু ৮৮৪ হি.) ইন্তেকাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
حيث ظهر في هذه الفترة ثلة من جهابذة علماء المذهب، أبرزهم: الموفق عبد اللَّه بن قدامة، والمجد أبو البركات عبد السلام بن تيمية. ومنهم: شمس الدين، أبو محمد عبد الرحمن بن عمر المقدسي (597 - 682 هـ). ومنهم: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية الحراني (661 - 728 هـ)، ومنهم: شمس الدين محمد بن مفلح (708 - 763 هـ). ومنهم: زين الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن رجب السلامي (736 - 795 هـ).
* يقول المرداوي في "تصحيح الفروع" في ذلك ما نصه:
"اعلم أن مرجع معرفة الصحيح والترجيح في المذهب إلى أصحابه، وقد حرر ذلك الأئمة المتأخرون، فالاعتماد في معرفة الصحيح من المذهب ما قالوه، ومن أعظمهم: الشيخ الموفق -لا سيما في الكافي والنجم المسدد، والشارح-. والشيخ تقي الدين، والشيخ زين الدين بن رجب. . . إلخ"؛ ويقول: فإنهم هذبوا كلام المتقدمين ومهدوا قواعد المذهب بيقين، فإن اختلفوا فالمرجع إلى ما قاله الشيخان الموفق والمجد، ثم ما وافق أحدهما الآخر في اختياريه، فإن اختلفا من غير مشارك لهما فالموفق ثم المجد، وإلَّا ينظر إلى فيمن شاركهما من الأصحاب لا سيما إذا كان الشيخ تقي الدين أو ابن رجب" (1).
ويرى المرداوي أن المجد مجتهد في مذهب إمامه غير مقلد له، فقد
--------------------------------------------
যেহেতু এই সময়ে মাযহাবের একদল শ্রেষ্ঠ ও বিচক্ষণ আলেমের আবির্ভাব ঘটেছিল, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট হলেন: আল-মুওয়াফফাক আবদুল্লাহ ইবনে কুদামা এবং আল-মাজদ আবু আল-বারাকাত আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: শামসুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে ওমর আল-মাকদিসী (৫৯৭ - ৬৮২ হি.)। আরও রয়েছেন: তাকীউদ্দীন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (৬৬১ - ৭২৮ হি.), এবং শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুফলিহ (৭০৮ - ৭৬৩ হি.)। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: যাইনুদ্দীন আবু আল-ফরাজ আবদুর রহমান ইবনে রাজাব আল-সালামী (৭৩৬ - ৭৯৫ হি.)।
* আল-মারদাভী "তাসহিহুল ফুরু" গ্রন্থে এ বিষয়ে যা বলেছেন তা নিম্নরূপ:
"জেনে রাখুন যে, মাযহাবের সঠিক মত (সহিহ) এবং অগ্রাধিকার (তারজিহ) চেনার মূল উৎস হলো এর অনুসারী গবেষকগণ, এবং পরবর্তী যুগের ইমামগণ তা সুবিন্যস্ত করেছেন। সুতরাং মাযহাবের সঠিক মত জানার ক্ষেত্রে তারা যা বলেছেন তার ওপরই নির্ভর করতে হবে। তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হলেন: শায়খ আল-মুওয়াফফাক - বিশেষ করে আল-কাফি এবং আন-নাজমুল মুসাদ্দাদ গ্রন্থে এবং ভাষ্যকার। আর শায়খ তাকীউদ্দীন এবং শায়খ যাইনুদ্দীন ইবনে রাজাব... প্রমূখ।" তিনি আরও বলেন: "কেননা তাঁরা পূর্ববর্তীদের বক্তব্যকে পরিমার্জিত করেছেন এবং মাযহাবের মূলনীতিগুলোকে দৃঢ়তার সাথে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যদি তাঁরা মতভেদ করেন, তবে রেফারেন্স হবে সেই মত যা শায়খদ্বয় আল-মুওয়াফফাক এবং আল-মাজদ বলেছেন। এরপর যা তাঁদের একজনের পছন্দের সাথে অন্যের মিল পাওয়া যায়। যদি তাঁরা অন্য কারো অংশগ্রহণ ছাড়াই মতভেদ করেন, তবে অগ্রাধিকার পাবেন আল-মুওয়াফফাক, তারপর আল-মাজদ। অন্যথায় দেখা হবে যে, ফকীহদের মধ্যে কে তাঁদের সাথে একমত হয়েছেন, বিশেষ করে যদি তিনি শায়খ তাকীউদ্দীন বা ইবনে রাজাব হন" (১)।
আল-মারদাভী মনে করেন যে, আল-মাজদ তাঁর ইমামের মাযহাবে একজন মুজতাহিদ ছিলেন, তাঁর মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) ছিলেন না। কেননা তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ذكر في "الإِنصاف" نقلًا عن "آداب المفتي والمستفتي" لابن حمدان: أن المجتهد ينقسم إلى أربعة أقسام: مجتهد مطلق، ومجتهد في مذهب إمامه أو في مذهب إمام غيره، ومجتهد في نوع من العلم، ومجتهد في مسألة أو مسائل. وأن المجتهد في مذهب إمامه أو إمام غيره وهو القسم الثاني، أحواله أربعة: نذكر منها: الحالة الأولى: أن يكون غير مقلد لإِمامه في الحكم والدليل لكن سلك طريقه في الاجتهاد والفتوى ودعا إلى مذهبه وقرأ كثيرًا منه على أهله فوجده صوابًا وأولى من غيره وأشد موافقة فيه وفي طريقه.
قال المرداوي: "قلت ومن أصحاب الإمام أحمد رضي الله عنه: فمن المتأخرين كالمصنِّف والمجد وغيرهما" (1).
ترجمة صاحب المحرر
اسمه ولقبه ونشأته:هو شيخ الإِسلام أبو البركات عبد السلام بن عبد اللَّه بن أبي القاسم الخضر بن محمد بن علي بن تيمية الحراني الفقيه الحنبلي (2). وُلد سنة تسعين وخمسمائة تقريبًا بحرَّان. ويلقب بمجد الدين، وكثيرًا ما يأتي ذكره
--------------------------------------------
ইবনে হামদানের "আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি" থেকে উদ্ধৃত করে "আল-ইনসাফ" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে: মুজতাহিদ চার ভাগে বিভক্ত: মুজতাহিদে মুতলাক (নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ), নিজের ইমামের মাযহাব বা অন্য কোনো ইমামের মাযহাবের মুজতাহিদ, কোনো নির্দিষ্ট প্রকারের ইলমের মুজতাহিদ এবং একটি মাসআলা বা একাধিক মাসআলার মুজতাহিদ। এবং নিজের ইমাম বা অন্য ইমামের মাযহাবের মুজতাহিদ—যা হলো দ্বিতীয় বিভাগ—তার অবস্থা চারটি। আমরা তার মধ্য থেকে উল্লেখ করছি: প্রথম অবস্থা: তিনি বিধান ও দলিলের ক্ষেত্রে তার ইমামের মুকাল্লিদ (অনুসারী) হবেন না, কিন্তু ইজতিহাদ ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ইমামের পথ অনুসরণ করবেন, তার মাযহাবের দিকে আহ্বান জানাবেন এবং সেই মাযহাবের বিজ্ঞজনদের কাছ থেকে তা ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করবেন; ফলে তিনি একে সঠিক, অন্যদের তুলনায় অধিক উত্তম এবং নিজের ও ইমামের পদ্ধতির সাথে অধিকতর সংগতিপূর্ণ হিসেবে পাবেন।
আল-মারদাভী বলেন: "আমি বলি, ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর অনুসারীদের মধ্য থেকে: পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে যেমন গ্রন্থকার, আল-মাজদ এবং অন্যান্যরা" (১)।
আল-মুহাররির লেখকের জীবনী
তাঁর নাম, উপাধি এবং বেড়ে ওঠা:তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম আবুল বারাকাত আবদুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম আল-খিজির বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-ফকিহ আল-হাম্বলী (২)। তিনি আনুমানিক পাঁচশত নব্বই হিজরি সালে হাররানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উপাধি হলো মাজদুদ্দীন, এবং তাঁর উল্লেখ প্রায়শই আসে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
في كتب الفقه عند الإِشارة إليه وإلى ترجيحاته واختياراته بقولهم: "قاله المجد"، أو "اختاره المجد" ونحو ذلك، فالمعني به هو.
وينتمي المجد إلى شجرة علمية مباركة هي شجرة آل تيمية التي تضم أشهر بيوت العلم والدين والفقه والحديث، ذلك البيت الذي ينتمي إليه حفيده شيخ الإِسلام وتحفة الأنام الإِمام أحمد، أبو العباس، ابن تيمية، ومنهم والده الشيخ شهاب الدين أبو المحاسن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية (1)، ومنهم شقيق شيخ الإِسلام، عبد اللَّه بن عبد الحليم بن عبد السلام ابن عبد اللَّه بن أبي القاسم بن تيمية الحراني ثم الدمشقي، الفقيه الإِمام شرف الدين أبو محمد (2)، ومنهم عم المجد فخر الدين أبو عبد اللَّه محمد ابن الخضر بن تيمية شيخ حران وخطيبها (3).
شيوخه:حفظ القرآن وسمع من عمه الخطيب فخر الدين ابن تيمية، والحافظ عبد القادر الرهاوي وحنبل الرصافي بحرَّان. ثم ارتحل إلى بغداد سنة ثلاث وستمائة مع ابن عمه سيف الدين عبد الغني، فسمع بها من عبد الوهاب بن سكينة، والحافظ ابن الأخضر وابن طبرزد، وضياء الدين بن الخريف، ويوسف بن المبارك الخفاف، وعبد العزيز بن منينا، وأحمد بن الحسن العاقولي، وعبد المولى بن أبي تمام بن باد (4)، وسبط الخياط علي بن سلطان، وأبي بكر الحلاوي، والفخر إسماعيل، وأبي البقاء العكبري، وقرأ عليه في العربية والحساب والجبر والمقابلة.
--------------------------------------------
ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে যখন তাঁর প্রতি এবং তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত ও পছন্দসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়: "মাজদ এটি বলেছেন", অথবা "মাজদ এটি পছন্দ করেছেন" এবং এই জাতীয় কথা, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন তিনিই।
আর মাজদ এক বরকতময় ইলমি বৃক্ষের অন্তর্ভুক্ত, যা হলো আল-তাইমিয়া পরিবার; যারা জ্ঞান, ধর্ম, ফিকহ ও হাদিসের সুপ্রসিদ্ধ ঘরানাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সেই ঘরানা যাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁর নাতি শায়খুল ইসলাম ও সৃষ্টির বিস্ময় ইমাম আহমদ, আবুল আব্বাস, ইবনে তাইমিয়া। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন তাঁর পিতা শায়খ শিহাবুদ্দিন আবুল মাহাসিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়া (১), এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খুল ইসলামের ভাই আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসেম বিন তাইমিয়া আল-হাররানি অতঃপর আদ-দিমাশকি, ফকিহ ও ইমাম শারাফুদ্দিন আবু মুহাম্মদ (২), এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাজদ-এর চাচা ফাখরুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল খিজর বিন তাইমিয়া, যিনি হাররানের শায়খ ও খতিব ছিলেন (৩)।
তাঁর শিক্ষকগণ:তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং হাররানে তাঁর চাচা খতিব ফাখরুদ্দিন ইবনে তাইমিয়া, হাফেজ আব্দুল কাদির আর-রাহাভি এবং হাম্বল আর-রুসাফির নিকট থেকে শ্রবণ করেন। অতঃপর ৬০৩ হিজরি সনে তাঁর চাচাতো ভাই সাইফুদ্দীন আব্দুল গনির সাথে বাগদাদে সফর করেন এবং সেখানে আব্দুল ওয়াহহাব বিন সাকিনা, হাফেজ ইবনুল আখজার, ইবনে তাবারজাদ, জিয়াউদ্দিন ইবনুল খারিফ, ইউসুফ বিন আল-মুবারক আল-খাফফাফ, আব্দুল আজিজ বিন মুনাইনা, আহমদ বিন আল-হাসান আল-আকুলি, আব্দুল মাওলা বিন আবি তাম্মাম বিন বাদ (৪), সিবত আল-খাইয়াত আলি বিন সুলতান, আবু বকর আল-হালাভি, আল-ফখর ইসমাইল এবং আবু আল-বাকা আল-উকবারির নিকট থেকে শ্রবণ করেন। আর তিনি তাঁর নিকট আরবি ভাষা, পাটিগণিত, বীজগণিত ও সমীকরণ বিদ্যা পাঠ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مؤلفاته:أما أبرز مؤلفاته فهي: "المنتقى"، و"المحرر"، و"المسودة" في أصول الفقه بالمشاركة مع ابنه وحفيده، وله كتاب "أحاديث التفسير"، و"مسودة منتهى الغاية في شرح الهداية" وقد بيّض بعضها، والأحكام الكبرى. وقد فصَّل فيها ابن رجب صاحب "الذيل" بقوله: إن تصانيفه: "أطراف أحاديث التفسير" رتبها على السور معزوة، "أرجوزة" في علم القراءات، "الأحكام الكبرى" في عدة مجلدات، "المنتقى من أحاديث الأحكام" انتقاه من الأحكام الكبرى، "المحرر" في الفقه، "منتهى الغاية في شرح الهداية" بَيَّضَ منه أربع مجلدات كبار إلى أوائل الحج والباقي لم يبيضه، "مسوَّدة" في أصول الفقه مجلد، وزاد فيها ولده ثم حفيده أبو العباس، "مسودة" في العربية على نمط المسودة في الأصول" (1).
رحلاته:في بداية طلبه للعلم ارتحل إلى بغداد مع ابن عمه سيف الدين عبد الغني المتقدم ذكره، فسمع بها كما تقدم، ثم رجع إلى حران واشتغل بها على عمه الخطيب فخر الدين، ثم رجع إلى بغداد فاستزاد بها من العلوم.
قرأ ببغداد القراءات بكتاب المبهج لسبط الخياط علي بن سلطان، والعربية والحساب والجبر والمقابلة على العكبري كما قدمنا. ثم لما اكتمل علمه صنف وحدَّث ودرَّس في الحجاز والشام وبلده حرَّان والعراق كما
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলি:তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো: "আল-মুনতাকা", "আল-মুহাররার", এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের ওপর তাঁর পুত্র ও নাতির সাথে যৌথভাবে রচিত "আল-মুসাউওয়াদাহ"। তাঁর আরও রয়েছে "আহাদিসুত তাফসির" এবং "মুসাউওয়াদাতু মুনতাহাল গায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ" (যার কিছু অংশ তিনি পরিমার্জন করেছিলেন) এবং "আল-আহকামুল কুবরা"। "আয-যাইল" গ্রন্থের লেখক ইবনে রজব তাঁর গ্রন্থগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে বলেন: তাঁর সংকলনসমূহ হলো: "আতরাফু আহাদিসিত তাফসির" যা তিনি সূরা অনুযায়ী উৎস নির্দেশ করে বিন্যস্ত করেছেন, কিরাআত শাস্ত্রের ওপর একটি "আরজুযা" (কবিতা), কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত "আল-আহকামুল কুবরা", "আল-মুনতাকা মিন আহাদিসিল আহকাম" যা তিনি আল-আহকামুল কুবরা থেকে চয়ন করেছেন, ফিকহ শাস্ত্রের ওপর "আল-মুহাররার", "মুনতাহাল গায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ" যার হজ্জের শুরু পর্যন্ত চারটি বড় খণ্ড তিনি পরিমার্জন করেছেন এবং বাকিটুকু পরিমার্জন করা হয়নি, উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের ওপর এক খণ্ডের "মুসাউওয়াদাহ" যাতে তাঁর পুত্র এবং পরবর্তীতে তাঁর নাতি আবু আল-আব্বাস সংযোজন করেছেন, এবং আরবী ভাষার ওপর "মুসাউওয়াদাহ" যা উসুলের মুসাউওয়াদাহর আদলে রচিত (১)।
তাঁর সফরসমূহ:জ্ঞান অর্জনের শুরুতে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই পূর্বে উল্লিখিত সাইফুদ্দিন আবদুল গনির সাথে বাগদাদ সফর করেন এবং সেখানে পূর্বোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী হাদীস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি হাররানে ফিরে আসেন এবং সেখানে তাঁর চাচা খতিব ফখরুদ্দীনের অধীনে জ্ঞানচর্চায় নিযুক্ত হন। এরপর তিনি পুনরায় বাগদাদে ফিরে যান এবং সেখান থেকে আরও অধিক জ্ঞান অর্জন করেন।
তিনি বাগদাদে সিবত আল-খাইয়্যাত আলী ইবন সুলতানের "আল-মুবহিজ" গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে কিরাআত শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং পূর্বে যেমনটি উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি আল-উকবারীর নিকট আরবী ভাষা, পাটিগণিত, বীজগণিত ও মুকাবিলা শিক্ষা করেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান পূর্ণতা পেল, তখন তিনি হিজাজ, শাম, তাঁর স্বদেশ হাররান এবং ইরাকে গ্রন্থ রচনা, হাদীস বর্ণনা ও পাঠদান করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تقدم، ومكة، والتقى فيها علماء كثر (1).
تلاميذه:كثير تلاميذه واشتهرت مكانته العلمية وزاد من ذلك رحلاته.
فمن تلاميذه في الفقه: ولده شهاب الدين عبد الحليم، وابن أبي الفهم ابن تميم صاحب "المختصر"، وعبد اللَّه كتيلة صاحب "المبهم" وغيرهم.
وفي الحديث: روى عنه ابن شهاب الدين أبو العباس، والحافظ عبد المؤمن الدمياطي، والأمين ابن شقير الحراني، وأبو إسحاق الظاهري الحافظ، ومحمد بن أحمد القزاز، وأحمد الدشتي، ومحمد بن زناطر، والعفيف إسحاق الآمدي، ونور الدين البصري، وأبو عبد اللَّه الدواليبي. كما أجاز لتقي الدين سليمان بن حمزة الحاكم، وزينب بنت الكمال، وأحمد بن علي الجزري، وبرع في القراءات وعمل أرجوزة لها.
وقد دَرَّس في المدرسة النورية في دمشق، والمدرسة المستنصرية ببغداد، مما يعني كثرة طلبته وتعددهم، وذلك لكثرة الدارسين في هاتين المدرستين.
ثناء العلماء عليه:قال الإِمام الذهبي: قال شيخنا -يعني شيخ الإِسلام ابن تيمية الحفيد- "كان جدنا عجبًا في حفظ الأحاديث وسردها بلا كلفة وحفظ مذاهب الناس".
--------------------------------------------
পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে, এবং মক্কা; সেখানে তিনি বহু আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন (১)।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:তাঁর ছাত্রসংখ্যা অনেক এবং তাঁর ইলমী মর্যাদা সুপরিচিত ছিল; তাঁর সফরসমূহ সেই মর্যাদাকে আরও বৃদ্ধি করেছিল।
ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর পুত্র শিহাবুদ্দীন আবদুল হালীম, ইবনে আবিল ফাহাম ইবনে তামীম—যিনি "আল-মুখতাসার"-এর রচয়িতা, আবদুল্লাহ কুতাইলা—যিনি "আল-মুবহাম"-এর রচয়িতা এবং আরও অনেকে।
আর হাদিস শাস্ত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবনে শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস, হাফেজ আবদুল মুমিন আদ-দিমইয়াতি, আল-আমীন ইবনে শুকাইর আল-হাররানী, হাফেজ আবু ইসহাক আজ-জাহিরী, মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-কাযযায, আহমাদ আদ-দাশতী, মুহাম্মদ বিন যুনাত্বির, আল-আফীফ ইসহাক আল-আমিদী, নূরুদ্দীন আল-বাসরী এবং আবু আবদুল্লাহ আদ-দাওয়ালীবি। এছাড়াও তিনি তাকীউদ্দীন সুলাইমান বিন হামযাহ আল-হাকিম, যাইনাব বিনতে আল-কামাল এবং আহমাদ বিন আলী আল-জাযারী-কে ইজাযত প্রদান করেছেন। তিনি কিরাত শাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন এবং এর ওপর একটি 'উরজুযাহ' (কাব্যগ্রন্থ) রচনা করেছেন।
তিনি দামেস্কের আন-নুরিয়্যাহ মাদরাসা এবং বাগদাদের আল-মুসতানসিরিয়্যাহ মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন, যার অর্থ হলো তাঁর ছাত্রের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য অনেক ছিল; কারণ এই দুই মাদরাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রচুর।
তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:ইমাম আয-যাহাবী বলেন: আমাদের শাইখ—অর্থাৎ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (পৌত্র)—বলেছেন: "আমাদের দাদা হাদিস মুখস্থ রাখা ও কোনো কষ্ট ছাড়াই তা অনর্গল বর্ণনা করা এবং মানুষের (ইমামদের) মাযহাবসমূহ মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব ছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقال الذهبي أيضًا: وقال لي شيخنا أبو العباس: "كان الشيخ جمال الدين بن مالك يقول: أُلين للشيخ المجد الفقه كما أُلين لداود الحديد".
وحكى الذهبي أيضًا: حكى البرهان المراغي أنه اجتمع بالشيخ المجد فأورد نكتة عليه، فقال المجد: الجواب عنها من ستين وجهًا: الأول كذا والثاني كذا، وسردها إلى آخرها، ثم قال للبرهان: قد رضينا منك بإعادة الأجوبة، فخضع وانبهر (1)!!.
وعند وفاته لم يبق في البلد من لم يشهد جنازته إلَّا معذور، وكان الخلق كثيرًا جدًّا، ودفن بمقبرة الجبانة في مقابر حرَّان، وقد توفي بعد عصر يوم الجمعة يوم عيد الفطر، سنة 652 هـ أو سنة 653 هـ.
* * *
--------------------------------------------
আয-যাহাবী আরও বলেছেন: আমাদের শায়খ আবুল আব্বাস আমাকে বলেছেন: "শায়খ জামালুদ্দীন ইবনে মালিক বলতেন: শায়খ আল-মাজদের জন্য ফিকহকে তেমন সহজ ও নরম করে দেওয়া হয়েছে যেমন দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য লোহাকে নরম করে দেওয়া হয়েছিল।"
আয-যাহাবী আরও বর্ণনা করেছেন: বুরহান আল-মারাগী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শায়খ আল-মাজদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাঁর নিকট একটি সূক্ষ্ম বিষয় উপস্থাপন করেছিলেন। তখন আল-মাজদ বললেন: এর উত্তর ষাটটি দিক থেকে দেওয়া সম্ভব: প্রথমটি এই, দ্বিতীয়টি এই—এভাবে তিনি শেষ পর্যন্ত তা বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি বুরহানকে বললেন: আমরা তোমার কাছ থেকে কেবল উত্তরগুলো পুনরায় বলার প্রত্যাশা করছি। তখন তিনি (বুরহান) বিনীত ও অভিভূত হয়ে পড়লেন (১)!!
তাঁর ইন্তেকালের সময় শহরে ওজরগ্রস্ত ব্যক্তি ব্যতীত এমন কেউ অবশিষ্ট ছিল না যে তাঁর জানাজায় শরীক হয়নি। লোকসমাগম ছিল বিশাল। তাঁকে হাররানের আল-জাব্বানা গোরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি ৬৫২ হিজরি অথবা ৬৫৩ হিজরির ঈদুল ফিতরের দিন জুমাবার আসরের পর ইন্তেকাল করেন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني ترجمة صاحب المنوَّر والتعريف بكتابهكما أن لصاحب "المحرّر" مكانة بين العلماء فإن لمؤلف "المنوَّر" مكانة لا تقل عن سلفه، بل إن "المنوَّر" أظهر خلاصة "المحرّر" ولبابه، ووقف على مكنونه وخلص إلى زبدته، حتى أنه لا يكاد يذكر "المحرّر" إلَّا ويذكر "المنوَّر" معه على حد سواء.
ومؤلف "المنوَّر في راجح المحرّر"، هو الشيخ الإِمام العالم العلامة تقي الدين أحمد بن محمد بن علي الأدمي -بفتح الهمزة والدال-.
ومن الغريب أن يغيب اسم هذا العالم العَلَم عن معظم كتب الطبقات، إذ لم يذكر له مؤلفوها شيئًا يعرف به وبتاريخ ولادته ووفاته وبلده وشيوخه على وجه الدقة كما هو معتاد في التراجم (1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ 'আল-মুনাউওয়ার' প্রণেতার জীবনী এবং তাঁর গ্রন্থ পরিচিতিআলেমদের মাঝে 'আল-মুহাররার' এর লেখকের যেমন একটি উচ্চ মর্যাদা রয়েছে, ঠিক তেমনি 'আল-মুনাউওয়ার' এর লেখকের মর্যাদাও তাঁর পূর্বসূরির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; বরং 'আল-মুনাউওয়ার' গ্রন্থটি 'আল-মুহাররার' এর সারসংক্ষেপ ও নির্যাস ফুটিয়ে তুলেছে, এর গূঢ় রহস্যগুলো অনুধাবন করেছে এবং এর সারবস্তু নিংড়ে বের করে এনেছে, এমনকি এখন প্রায়শই 'আল-মুহাররার' এর কথা উল্লেখ করা হলে তার সাথে সমানভাবে 'আল-মুনাউওয়ার' এর কথাও উল্লেখ করা হয়।
'আল-মুনাউওয়ার ফি রাজিহিল মুহাররার' এর লেখক হলেন শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম আল্লামা তাকিউদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি আল-আদামি (হামযাহ এবং দাল বর্ণে ফাতহাহ বা যবর সহ)।
এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, এই প্রখ্যাত আলেমের নাম অধিকাংশ 'তাবাকাত' বা জীবনীগ্রন্থ থেকে অনুপস্থিত। কেননা জীবনীকাররা তাঁর পরিচয়, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ, দেশ এবং তাঁর উস্তাদদের সম্পর্কে সচরাচর জীবনীরীতি অনুযায়ী নিখুঁতভাবে কোনো কিছুই উল্লেখ করেননি (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المصادر التي جاء ذكره فيها:وبعد بحث متواصل تيسر بحمد اللَّه الوقوف على ما يعرف به في مصدر مهم، ذلك أن الباحث كان يظن أن المرجع الوحيد الذي عرّف به وبإيجاز هو "الدّر المنضد" للعليمي (1) الذي قال في ترجمته تحت عنوان: "ذكر من لم تؤرخ وفاته" ما يأتي:
"الشيخ تقي الدين أحمد بن محمد الأدمي البغدادي له "المنوَّر في راجح المحرّر" و"المنتخب"".
وقد أفاد هذا التعريف الموجز في إثبات أربعة أمور أساسية تعرف بالمؤلف وهي:
1 - اسمه بالكامل، وقد جاء موافقًا لما ذكر في المخطوط.
2 - أنه من علماء الحنابلة في بغداد وليس من الشام أو مصر.
3 - أن له مؤلفين هما "المنوَّر في راجح المحرّر"، و"المنتخب".
4 - أنه من المؤلفين الذين لم تؤرخ ولادتهم ووفاتهم.
ورغم أن ما ذكره العليمي في "الدر المنضد" يفي بشيء من حاجة الدراسة، إلا أن تاريخ ولادة ووفاة الأدمي كان الشغل الشاغل للباحث لعدم المقدرة على التعرف على عصره بدقة بما يقرِّب لنا ما يتعلق به كما هو معلوم. ولم ينقطع الأمل، حتى ظهر لنا مصدر
--------------------------------------------
যেসব উৎসে তাঁর উল্লেখ এসেছে:দীর্ঘ নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধানের পর আল্লাহর প্রশংসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে তাঁর পরিচিতি লাভ করা সম্ভব হয়েছে। আসলে গবেষক ইতিপূর্বে ধারণা করেছিলেন যে, তাঁর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদানকারী একমাত্র উৎস হলো আল-উলাইমি (১) বিরচিত "আদ-দুররুল মুনাদ্দাদ"; তিনি তাঁর জীবনী আলোচনায় "যাঁদের মৃত্যুর তারিখ নথিভুক্ত করা হয়নি তাঁদের আলোচনা" শিরোনামের অধীনে নিম্নোক্ত কথাটি উল্লেখ করেছেন:
"শাইখ তাকিউদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-আদামী আল-বাগদাদী; 'আল-মুনাউওয়ার ফি রাজিলিল মুহাররার' এবং 'আল-মুন্তাখাব' তাঁর রচিত গ্রন্থ।"
এই সংক্ষিপ্ত পরিচিতিটি লেখক সম্পর্কে চারটি মৌলিক বিষয় প্রমাণে সহায়ক হয়েছে, সেগুলো হলো:
১ - তাঁর পূর্ণ নাম; যা পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত নামের সাথে হুবহু মিলে গেছে।
২ - তিনি বাগদাদের হাম্বলী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, শাম (সিরিয়া) বা মিশরের নয়।
৩ - তাঁর দুটি গ্রন্থ রয়েছে; সেগুলো হলো "আল-মুনাউওয়ার ফি রাজিলিল মুহাররার" এবং "আল-মুন্তাখাব"।
৪ - তিনি সেইসব লেখকদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ নথিভুক্ত নেই।
যদিও আল-উলাইমি "আদ-দুররুল মুনাদ্দাদ" গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা এই গবেষণার প্রয়োজনীয়তা কিছুটা পূরণ করে, তবুও আদামী-র জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ নির্ণয় করাই ছিল গবেষকের প্রধান লক্ষ্য। কারণ তাঁর যুগ সম্পর্কে নির্ভুল ধারণা না থাকলে তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়, যা সর্বজনবিদিত। তবে আশা শেষ হয়ে যায়নি, শেষ পর্যন্ত আমাদের সামনে একটি উৎস উন্মোচিত হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনাওয়ার ফী রাজীহিল মুহররার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مهم (1)؛ كما أشرنا آنفًا، وهو "تاريخ ابن قاضي شهبة" (2) الذي قدم ترجمة وافية إلى حد كبير. فقد جاء في تاريخه ما يأتي فيمن ذكر في آخر وفيات سنة 749 هـ ما نصه:
"وممن توفي بعد الأربعين ولم يذكر سنة وفاته" أحمد بن محمد بن علي البغدادي، المقرئ الأدمي الحنبلي. سمع الموطأ رواية يحيى بن يحيى على ابن حلاوة، سمع مته ابن رجب وقال: "كان صالحًا دينًا، أعاد بالمستنصرية [. . . . . .] (3) الوزيراتي، وصنّف كتابًا في الفقه، وأجاز له جماعة من شيوخ الشام، توفي ببغداد سنة نيف وأربعين وسبعمائة، ودفن بمقبرة الإِمام أحمد".
وقد أفادت هذه الترجمة في إثبات ما يلي:
1 - أن اسمه مطابق لما هو مذكور في المخطوط.
2 - أنه ضبط لفظ وقراءة اسمه الأخير بفتح الهمزة، وفتح الدال.
3 - أنه مقرئ، وسمع الموطأ إضافة إلى كونه فقيهًا.
4 - إن من مشايخه ابن حلاوة.
5 - من تلامذته العلامة العلم صاحب الذيل على طبقات الحنابلة،
--------------------------------------------
গুরুত্বপূর্ণ (১); যেমনটি আমরা পূর্বে ইঙ্গিত করেছি, এবং এটি হলো “তারিখু ইবনি ক্বাদি শুহবাহ” (২), যা মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী উপস্থাপন করেছে। তাঁর ইতিহাসে ৭৪৯ হিজরি সালের শেষের দিকে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বর্ণনায় যা এসেছে তার পাঠ নিম্নরূপ:
“যিনি চল্লিশের পর ইন্তেকাল করেছেন কিন্তু তাঁর মৃত্যুর বছর উল্লেখ করা হয়নি এমন ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন” আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলি আল-বাগদাদি, আল-মুক্বরি আল-আদামি আল-হামবালি। তিনি ইবনু হালাওয়াহ-এর নিকট ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়ার বর্ণনায় মুয়াত্তা শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে ইবনু রজব শ্রবণ করেছেন এবং বলেছেন: “তিনি নেককার ও দ্বীনদার ছিলেন, তিনি মুসতানসিরিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন [. . . . . .] (৩) আল-ওয়াযিরাতি, এবং ফিকহ শাস্ত্রের ওপর একটি কিতাব রচনা করেছেন। শামের একদল শায়খ তাকে ইজাজত দিয়েছেন। তিনি সাতশ চল্লিশের কিছু পরে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন এবং ইমাম আহমাদের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।”
এই জীবনীটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রমাণ করতে সাহায্য করেছে:
১ - তাঁর নামটি পাণ্ডুলিপিতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে হুবহু মিলে যায়।
২ - তাঁর শেষ নামের উচ্চারণ ও পাঠের ক্ষেত্রে হামযাহ এবং দাল-এর ওপর জবর (ফাতহাহ) হবে তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
৩ - তিনি ফকিহ হওয়ার পাশাপাশি একজন ক্বারি এবং তিনি মুয়াত্তা শ্রবণ করেছেন।
৪ - তাঁর শায়খদের মধ্যে একজন হলেন ইবনু হালাওয়াহ।
৫ - তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন মহান আলেম ও প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, ‘যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ’ গ্রন্থের লেখক,
--------------------------------------------