(খণ্ড: ১) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: -)
أعلام الحديث (شرح صحيح البخاري)   (الخطابي)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: أعلام الحديث (شرح صحيح البخاري)

المؤلف: أبو سليمان حمد بن محمد الخطابي (ت 388 هـ)

المحقق: د. محمد بن سعد بن عبد الرحمن آل سعود [ت 24/ 3/ 1445 هـ]

الناشر: جامعة أم القرى (مركز البحوث العلمية وإحياء التراث الإسلامي)

الطبعة: الأولى، 1409 هـ - 1988 م

عدد الأجزاء: 4 (متسلسلة الترقيم)

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1437

আলামুল হাদিস (সহিহ বুখারির ব্যাখ্যা)   (আল-খাত্তাবি)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ


বই: আলামুল হাদিস (সহিহ বুখারির ব্যাখ্যা)

লেখক: আবু সুলায়মান হামাদ বিন মুহাম্মদ আল-খাত্তাবি (মৃত্যু: ৩৮৮ হিজরি)

সম্পাদক: ড. মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আব্দুর রহমান আল সৌদ [মৃত্যু: ২৪/ ৩/ ১৪৪৫ হিজরি]

প্রকাশক: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় (বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইসলামি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৪ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: রাবিতাতুন নুসসাখ টিম, সৌজন্যে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١)
أعلام الحديث في شرح صحيح البخاري

للإمام أبي سليمان حمد بن محمد الخطابي

319 هـ - 388 هـ

تحقيق ودراسة

الدكتور محمد بن سعد بن عبد الرحمن آل سعود
সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আলামুল হাদীস

ইমাম আবু সুলায়মান হামাদ বিন মুহাম্মদ আল-খাত্তাবী কর্তৃক

৩১৯ হিজরী - ৩৮৮ হিজরী

তাহকীক ও গবেষণা

ডক্টর মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আব্দুর রহমান আল সৌদ
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ٢)
الطبعة الأولى

1409 هـ - 1988 م
প্রথম সংস্করণ

১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ٩٩)
‌‌مقدمة المؤلف

بسم الله الرحمن الرحيم

 

قال الشيخ الإمام أبو سليمان حمد بن محمد بن إبراهيم الخطابي:

الحمد لله المنعم، مفضل النبيين، المجزل الجواد الكريم، ذي المن العظيم الذي ابتدأنا بنعمته في الأزل مشيئة وقدرا قبل أن نكون خلقا بشرا وقبل أن نسوى أجساما وصورا، ثم اصطنعنا بعدُ فأكرمنا بمعرفته وأرشدنا بنطر هدايته، علمنا الدين وكنا جهالا، وبصرنا السبيل وكنا ضلالا، ولولا فضله علينا ورحمته إيانا ما زكا منا من أحد ولا اهتدى بجهده إلى خير ورشد، و {الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجا قيما} أوضح به مناهج الحق ونور سبله وطمس به أعلام الباطل وعور طرقه، وشرع فيه الأحكام، وبين فيه الحلال والحرام، ثم بشر وأنذر (ووعد) وأوعد، وضرب فيه الأمثال، واقتص عن الأمم السالفة نواصي الأخبار ليكون لنا فيها موعظة وبها اعتبار.

والحمد لله {الذي بعث في الأميين رسولا منهم يتلو عليهم آياته
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

শায়খ ইমাম আবু সুলাইমান হামাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-খাত্তাবী বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিয়ামত দানকারী, নবীদের শ্রেষ্ঠত্ব দানকারী, অধিক দানকারী, পরম দাতা, অতিশয় মহানুভব, মহান অনুগ্রহের অধিকারী; যিনি অনাদিকাল থেকে তাঁর ইচ্ছা ও তাকদীরের মাধ্যমে আমাদের ওপর তাঁর নিয়ামতের সূচনা করেছেন—আমাদের মানবসৃষ্টিরূপে অস্তিত্ব লাভের পূর্বে এবং আমাদের দেহ ও আকৃতি গঠিত হওয়ার আগে। অতঃপর তিনি আমাদের মনোনীত করেছেন, তাঁর পরিচয়ের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর হেদায়েতের আলোকবর্তিকা দ্বারা আমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন। তিনি আমাদের দ্বীন শিখিয়েছেন যখন আমরা অজ্ঞ ছিলাম এবং আমাদের পথ দেখিয়েছেন যখন আমরা পথভ্রষ্ট ছিলাম। যদি আমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকত, তবে আমাদের কেউ কখনো পবিত্র হতে পারত না এবং কেউ নিজ প্রচেষ্টায় কল্যাণ ও সঠিক পথের দিশা পেত না। এবং {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি; যা সুপ্রতিষ্ঠিত}। এর মাধ্যমে তিনি সত্যের পথসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং এর রাস্তাসমূহকে আলোকিত করেছেন, আর এর দ্বারা বাতিলের চিহ্নসমূহ মিটিয়ে দিয়েছেন এবং তার পথগুলোকে রুদ্ধ করেছেন। তিনি এতে বিধানসমূহ প্রবর্তন করেছেন এবং হালাল ও হারাম স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন ও সতর্ক করেছেন, (প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন) ও ধমক দিয়েছেন, এতে উপমা পেশ করেছেন এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন যাতে তাতে আমাদের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা থাকে।

এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য {যিনি উম্মীদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন...}
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٠)
ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة وإن كانوا من قبل لفي ضلال مبين}. جعله مهيمنا على كتابه ومبينا له وقاضيا على ما أجمل منه بالتفسير، وعلى ما أبهم من ذكره بالبيان والتلخيص ليرفع بذلك من قدره ويشيد بذكره، فتكون أحكام شرائع دينه صاردة عن بيان قوله وتوقيفه، ثم قرن طاعته بطاعته، وضمن الهدى في متتابعته. فقال: {من يطع الرسول فقد أطاع الله} وقال جل جلاله: {وإن تطيعوه تهتدوا}، وشهد له بالصدق فيما قاله وبلغه فقال عز وجل: {وما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى}، وسلم له فيما شرعه وسنه الحكم وألقى إليه في ذلك أزمة الأمر، فقال عز وجل: {فلا وربك لا يؤمنون حتى يحكموك فيما شجر بينهم ثم لا يجدوا في أنفسهم حرجا مما قضيت ويسلموا تسليما}.

وأحمد الله الذي جعلنا من أمته فأكرمنا بدينه وسنته وعلمنا منهما ما لم نكن نعلم وكان فضله علينا عظيما.

نحمده على جميع آلائه قديمها وحديثها تليدها وطريفها السالفة منها والراهنة، الظاهرة منها والباطنة، حمد المعترفين بأسبابه وإبلائه، العاجزين عن مزيد فضله وإحصائه، المجتهدين في بلوغ شكره، الراغبين في المزيد من نوافل بره، ونسأله أن يصلي على
...এবং তাদেরকে পবিত্র করেন ও তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল। তিনি তাঁকে তাঁর কিতাবের ওপর তদারককারী, সেটির ব্যাখ্যাকারী এবং যা তাতে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে তা তাফসীরের মাধ্যমে এবং যা অস্পষ্ট ছিল তা বর্ণনা ও সারসংক্ষেপের মাধ্যমে মীমাংসাকারী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন; যাতে এর দ্বারা তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তাঁর স্মরণকে উচ্চকিত করেন। ফলে তাঁর দ্বীনের শরিয়তের বিধানসমূহ তাঁর বাণীর বর্ণনা ও নির্দেশনার মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। অতঃপর তিনি নিজের আনুগত্যের সাথে তাঁর আনুগত্যকে যুক্ত করেছেন এবং তাঁর অনুসরণের মধ্যেই হেদায়েত নিশ্চিত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।" এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবেই তোমরা হেদায়েত পাবে।" তিনি যা বলেছেন ও পৌঁছে দিয়েছেন, তাতে তাঁর সত্যবাদিতার সাক্ষ্য দিয়ে পরাক্রমশালী আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না; তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।" তিনি যে শরিয়ত ও সুন্নাহ প্রবর্তন করেছেন, তাতে বিচারকার্য তাঁর নিকট ন্যস্ত করেছেন এবং তাঁর হাতেই এই বিষয়ের কর্তৃত্ব অর্পণ করেছেন। পরাক্রমশালী আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "অতএব আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করবেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে গ্রহণ করে।"

আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করি যিনি আমাদের তাঁর উম্মতভুক্ত করেছেন, ফলে তাঁর দ্বীন ও সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন এবং সেই উভয়টি থেকে আমাদের এমন কিছু শিক্ষা দিয়েছেন যা আমরা জানতাম না; আর আমাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ অতি মহান।

আমরা তাঁর সকল নেয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি—তার পুরাতন ও নতুন, প্রাচীন ও আধুনিক, অতীত ও বর্তমান, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল প্রকারের জন্য। এই প্রশংসা সেই ব্যক্তির ন্যায় যে তাঁর দান ও পরীক্ষার স্বীকৃতি দেয়, তাঁর অবারিত অনুগ্রহ গণনা করতে অক্ষম, তাঁর শুকরিয়া আদায়ে নিরলস চেষ্টা করে এবং তাঁর অতিরিক্ত দয়া লাভে আগ্রহী। আর আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন রহমত বর্ষণ করেন...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠١)
محمد عبده ورسوله أفضل صلاة صلاها على نبي من أنبيائه أرفعها درجة وأسناها ذكرا، صلاة تامة زاكية غادية عليه ورائحة، كما قد جاهد فيه حق جهاده، وناصحه في إرشاد خلقه وعباده، وعادى فيه الأقربين، ووالى الأجانب الأبعدين، وصدع بما أمر حتى أتاه اليقين، وأن يضاعف من بركاته عليه، ويزلف مقامه لديه، وأن يسلم عليه وعلى آله تسليما.

وإن جماعة من إخواني ببلخ كانوا سألوني عند فراغي لهم من إملاء كتاب (معالم السنن) لأبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني رحمه الله أن أشرح لهم كتاب الجامع الصحيح لأبي عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري رحمه الله وأن أفسر المكل من أحاديث وأبين الغامض من معانيها، وذكروا أن الحاجة إليه كانت أمس، والمؤنة على الناس فيه أشد، فتوقفت إذ ذاك عن الإجابة إلى ما التمسوه من ذلك، إذ كنت أستصعب الخطة وأستبعد فيه الشقة، لجلالة شأن هذا الكتاب فإنه كما قيل: (كل الصيد في جوف الفرا) ولما يشتمل عليه من صعاب الأحاديث وعضل
মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত বর্ষিত হোক, যা আল্লাহ তাঁর নবীগণের মধ্যে কোনো একজনের ওপর বর্ষণ করেছেন—মর্যাদায় যা সর্বোচ্চ এবং স্মরণে যা অত্যন্ত মহিমান্বিত; এমন পূর্ণাঙ্গ, পবিত্র সালাত যা সকাল-সন্ধ্যায় অবিরত তাঁর ওপর বর্ষিত হয়। যেভাবে তিনি আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন, আল্লাহর মাখলুক ও বান্দাদের হেদায়েতের ব্যাপারে একনিষ্ঠ উপদেশ দান করেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে নিকটাত্মীয়দের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছেন এবং দূরবর্তী অনাত্মীয়দের সাথে মৈত্রীর বন্ধন স্থাপন করেছেন। আল্লাহ তাঁকে যা নির্দেশ করেছিলেন, তা তিনি সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছেন মৃত্যু আসা পর্যন্ত। আল্লাহ যেন তাঁর ওপর স্বীয় বরকতসমূহ বহুগুণ বৃদ্ধি করেন, তাঁর সান্নিধ্যে তাঁর মর্যাদাকে অতি উচ্চ করেন এবং তাঁর ওপর ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর শান্তি বর্ষণ করেন।

বালখ শহরের আমার একদল দ্বীনি ভাই, যখন আমি তাঁদের নিকট আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'মাআলিমুস সুনান'-এর শ্রুতিলিপি প্রদান সম্পন্ন করি, তখন আমাকে অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি তাঁদের জন্য আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'আল-জামি আস-সহিহ'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করি। তাঁরা চেয়েছিলেন আমি যেন এর হাদিসসমূহের জটিল শব্দাবলি ব্যাখ্যা করি এবং এগুলোর অর্থের অস্পষ্টতা দূর করি। তাঁরা উল্লেখ করেছিলেন যে, এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যন্ত প্রবল এবং এ ক্ষেত্রে মানুষের পরিশ্রমের ভার ছিল অনেক বেশি। তৎক্ষণাৎ আমি তাঁদের এই আবেদনে সাড়া দিতে বিরত ছিলাম, কেননা আমি এই পরিকল্পনাটিকে অত্যন্ত দুরূহ এবং এর শ্রমসাধ্যতাকে অনেক বেশি মনে করছিলাম। এর কারণ হলো এই কিতাবটির সুউচ্চ মর্যাদা, কেননা প্রবাদে বলা হয়ে থাকে: 'বুনো গাধার পেটে সকল শিকার বিদ্যমান' (অর্থাৎ এটি অন্য সবকিছুর শ্রেষ্ঠত্বকে ধারণ করে)। তদুপরি এটি ধারণ করে আছে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল হাদিসসমূহ এবং দুষ্পাচ্য...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٢)
الأخبار في أنواع العلوم المختلفة التي قد خلا عن أكثرها كتاب المعالم؛ إذ كان معظم القصد من أبي داود في تصنيف كتابه ذكر السنن والأحاديث الفقهية، وغرض صاحب هذا الكتاب إنما هو ذكر ما صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من حديث في جليل من العلم أو دقيق، ولذلك أدخل فيه كل حديث صح عنده في تفسير القرآن، وذكر التوحيد والصفات، ودلائل النبوة ومبدأ الوحي وشأن المبعث، وأيام رسول الله صلى الله عليه وسلم وحروبه ومغازيه، وأخبار القيامة والحشر، والحساب، والشفاعة وصفة الجنة والنار، وما ورد منها في ذكر القرون الماضية، وما جاء من الأخبار في المواعظ والزهد والرقاق، إلى ما أودعه بعدُ من الأحاديث في الفقه والأحكام والسنن، والآداب، ومحاسن الأخلاق، وسائر ما يدخل في معناها من أمور الدين، فأصبح هذا الكتاب كنزا للدين، وركازا للعلوم، وصار بجودة نقده وشدة سبكه حكما بين الأمة فيما يراد أن يعلم من صحيح الحديث وسقيمه، وفيما يجب أن يعتمد ويعول عليه منه، ثم إني فكرت بعد فيما عاد إليه أمر الزمان في وقتنا هذا من نضوب العلم، وظهور الجهل، وغلبة أهل البدع، وانحراف كثير من أنشاء الزمان إلى مذاهبهم وإعراضهم عن الكتاب والسنة، وتركهم البحث عن معانيهما، ولطائف علومهما، ورأيتهم حين هجروا هذا العلم وبخسوا حظا منه ناصبوه وأمعنوا في الطعن على أهله فكانوا كما قال الله عز وجل: {وإذ لم يهتدوا به فسيقولون هذا إفك
বিভিন্ন প্রকার ইলমের সংবাদসমূহ, যা থেকে 'মাআলিম' গ্রন্থটির অধিকাংশ বিষয় খালি রয়ে গেছে; কারণ আবু দাউদ তাঁর গ্রন্থ সংকলনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ লক্ষ্য নিবদ্ধ করেছিলেন ফিকহী সুনান ও হাদিসসমূহ উল্লেখ করার প্রতি। আর এই গ্রন্থের সংকলকের উদ্দেশ্য হলো ইলমের ছোট-বড় সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহীহ প্রমাণিত হয়েছে তা উল্লেখ করা। আর এই কারণেই তিনি এতে এমন প্রতিটি হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা তাঁর নিকট কুরআনের তাফসীর, তাওহীদ ও গুণাবলির বর্ণনা, নবুওয়তের প্রমাণাদি, ওহীর সূচনা ও প্রেরণের অবস্থা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিনলিপি, তাঁর যুদ্ধ ও অভিযানসমূহ, কিয়ামত ও হাশরের সংবাদসমূহ, হিসাব-নিকাশ, শাফায়াত এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনায় সহীহ বলে গণ্য হয়েছে। সেই সাথে অতীত যুগসমূহের বর্ণনায় যা বর্ণিত হয়েছে, এবং নসিহত, যুহদ ও কলব বিগলিতকারী বর্ণনাসমূহে যা এসেছে তাও এতে আছে। তদুপরি তিনি এতে ফিকহ, আহকাম (বিধান), সুনান, আদব (শিষ্টাচার), উত্তম চরিত্র এবং দ্বীনি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা কিছু এর অর্থের আওতাভুক্ত সে বিষয়ক হাদিসসমূহও গচ্ছিত রেখেছেন। ফলে এই গ্রন্থটি দ্বীনের একটি ভাণ্ডার এবং ইলমের আকর বা খনিতে পরিণত হয়েছে। এর সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ও নিপুণ গাঁথুনির মাধ্যমে এটি উম্মাহর নিকট সহীহ ও যয়িফ হাদিস জানার ক্ষেত্রে এবং হাদিসের মধ্য থেকে যেটির ওপর নির্ভর ও ভরসা করা আবশ্যক সে বিষয়ে মীমাংসাকারী হয়ে উঠেছে। অতঃপর আমি বর্তমানে জামানার পরিস্থিতির কথা চিন্তা করলাম যে, কীভাবে ইলম নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, মূর্খতা প্রকাশ পাচ্ছে এবং বিদয়াতিদের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জামানার নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাদের ভ্রান্ত মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিমুখ হচ্ছে; তারা এ দুটির অর্থ ও ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অনুসন্ধান করা ত্যাগ করেছে। আমি তাদের দেখলাম যে, যখন তারা এই ইলমকে বর্জন করল এবং এর থেকে নিজেদের অংশকে তুচ্ছ করল, তখন তারা এর সাথে শত্রুতা পোষণ শুরু করল এবং এর ধারক-বাহকদের নিন্দায় মত্ত হলো। ফলে তারা তেমনই হয়ে গেল যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর যখন তারা এর মাধ্যমে হিদায়াত প্রাপ্ত হয়নি, তখন অচিরেই তারা বলবে, এটি একটি পুরনো মিথ্যা।}
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٣)
قديم}. ووجدتهم قد تعلقوا بأحاديث من متشابه العلم قد رواها جامع الكتاب وصححها من طريق السند، والنقل، لا يكاد يعرف عوام رواة الحديث وجوهها ومعانيها، إنما يعرف تأويلَها الخواصُّ منهم، الراسخون في العلم، المتحققون به، فهم لا يزالون يعترضون بها عوام أهل الحديث، والرجل [؟] والضعفة منهم، فإذا لم يجدوا عندهم علما بها ومعرفة بوجوهها اتخذوهم سلما إلى ما يريدون من ثلب جماعة أهل الحديث والوقيعة فيهم، ورموهم عند ذلك بالجهل وسوء الفهم، وزعموا أنهم مقلدون يروون ما لا يدرون، وإذا سئلوا عنه وعن معانيه ينقطعون ويسمونهم من أجل ذلك حمالة الحطب وزامل [وزوامل] الأسفار ونحوهما من ذميم الأسماء والألقاب فكم غُمر يغتر بهم من الأغمار، والأحداث الذين لم يخدموا هذا الشأن ولم يطلبوه حق طلبه، ولم يعضوا في علمه بناجذ فيصير ذلك سببا لرغبتهم عن السنن وزهدهم فيها، فيخرج كثير من أمر الدين عن أيديهم وذلك بتسويل الشيطان لهم ولطيف مكيدته فيهم، وتخوفت أن يكون الأمر فيما يتأخر من الزمان أشد والعلم فيه أعز لقلة عدد من أراه اليوم يُعنَى بهذا الشأن ويهتم به اهتماما صادقا، ويبلغ فيه من العلم مبلغا صالحا.

فحضرتني النية في إطلابهم ما سألوه من ذلك، وثابت إلي الرغبة
(প্রাচীন)। আমি তাদের দেখেছি যে, তারা ইলমের এমন কিছু মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট) হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে, যা কিতাব সংকলনকারী বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাসূত্র ও সংবাদের মাধ্যমে সহিহ হিসেবে গণ্য করেছেন। সাধারণ হাদিস বর্ণনাকারীরা এগুলোর তাৎপর্য ও অর্থ সম্পর্কে তেমন অবগত নয়; কেবল ইলমের গভীর জ্ঞানসম্পন্ন এবং তাতে পারদর্শী বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই এগুলোর ব্যাখ্যা জানেন। ফলে তারা অনবরত আহলে হাদিসদের সাধারণ মানুষ এবং তাদের মধ্য থেকে যারা দুর্বল, তাদের নিকট এ নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করে। যখন তারা দেখে যে তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো ইলম নেই এবং এর মর্মার্থ সম্পর্কে জ্ঞান নেই, তখন তারা একে আহলে হাদিস জামাতের নিন্দা করা এবং তাদের চরিত্রে কলঙ্ক লেপনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। তারা তাদের অজ্ঞতা ও মন্দ বুঝের অপবাদ দেয় এবং দাবি করে যে তারা কেবল অন্ধ অনুসারী, যারা এমন কিছু বর্ণনা করে যা তারা নিজেরাও বোঝে না। আর যখন তাদের এই বিষয়ে এবং এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তারা নিরুত্তর হয়ে যায়। এ কারণে তারা তাদের 'কাষ্ঠবাহক' এবং 'পুস্তকবাহী ভারবাহী পশু' ও এ জাতীয় নিন্দনীয় নাম ও উপাধিতে ভূষিত করে। ফলে কতই না সাধারণ মানুষ এবং যুবক তাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়, যারা এই বিষয়ের কোনো সেবা করেনি এবং এর যথাযথ অনুসন্ধান করেনি, কিংবা এর জ্ঞান অর্জনে কঠোর শ্রম দেয়নি। এর ফলে এটি তাদের জন্য সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়ার এবং সে বিষয়ে অনাগ্রহী হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শয়তানের প্ররোচনা ও তার সূক্ষ্ম প্রতারণায় দ্বীনের বহু বিষয় তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। আমি আশঙ্কা করছি যে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে এবং ইলম আরও দুষ্প্রাপ্য হবে। কারণ বর্তমানে আমি এমন লোক খুব কমই দেখি যারা এই বিষয়ের প্রতি যত্নবান এবং এর প্রতি সত্যনিষ্ঠার সাথে গুরুত্ব প্রদান করে, আর ইলমের ক্ষেত্রে একটি সন্তোষজনক স্তরে পৌঁছাতে পেরেছে।

তাই তারা যা প্রার্থনা করেছে, তা পূর্ণ করার নিয়ত আমার মনে জাগ্রত হলো এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমার প্রবল আগ্রহ ফিরে এল।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٤)
في إسعافهم بما التمسوه منه، ورأيت في حق الدين وواجب النصيحة لجماعة المسلمين أن لا أمنع ميسور ما أسبغ له من تفسير المشكل من أحاديث هذا الكتاب وفتق معانيها، حسب ما تبلغه معرفتي ويصل إليه فهمي، ليكون ذلك تبصرة لأهل الحق، وحجة على أهل الباطل والزيغ، فيبقى ذخيرة لغابر الزمان، ويخلد ذكره ما اختلف الملوان. والله الموفق لذلك، والمعين عليه، والعاصم من الزلل فيه بمنه ورأفته.

وقد تأملت المشكل من أحاديث هذا الكتاب والمستفسر منها فوجدت بعضها قد وقع ذكره في كتاب معالم السنن مع الشرح له والإشباع في تفسيره، ورأيتني لو طويتها فيما أفسره من هذا الكتاب وضربت عن ذكرها صفحا اعتمادا مني على ما أودعته ذلك الكتاب من ذكرها كنت قد أخللت بحق هذا الكتاب فقد يقع هذ عند (من) لا يقع عنده ذاك، وقد يرغب في أحدهما من لا يرغب في الآخر ولو أعدت فيه ذكر جميع ما وقع في ذلك التصنيف كنت قد هجَّنت هذا الكتاب بالتكرار، وعرضت الناظر فيه للملال، فرأيت الأصوب أن لا أخليها من ذكر بعض ما تقدم شرحه وبيانه هناك متوخيا الإيجاز فيه، مع إضافتي إليه ما عسى أن يتيسر في بعض تلك الأحاديث من تجديد فائدة وتوكيد معنى زيادةً على ما في ذلك الكتاب ليكون عوضا عن الفائت وجبرا للناقص منه، ثم إني أشرح
তাদের সেই অনুরোধ পূরণে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এবং আমি দ্বীনের হক ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি নসিহতের আবশ্যকতা বিবেচনা করে দেখলাম যে, এই কিতাবের হাদিসগুলোর অস্পষ্ট ও দুরূহ বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর নিহিত অর্থ উন্মোচনের যতটুকু সহজসাধ্য তাওফীক আমাকে দেওয়া হয়েছে, তা আটকে রাখা উচিত হবে না। আমার জ্ঞান ও সমঝ যতটুকু পৌঁছায় সেই অনুযায়ী আমি তা করব, যেন তা সত্যপন্থীদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি এবং বাতিল ও বিভ্রান্তদের বিরুদ্ধে দলিল হয়। আর তা যেন অনাগত সময়ের জন্য পাথেয় হয়ে থাকে এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনে এর চর্চা অমর হয়ে রয়। আল্লাহই এর তাওফীকদাতা, এর উপর সাহায্যকারী এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় ভুলভ্রান্তি থেকে রক্ষাকারী।

আমি এই কিতাবের দুরূহ ও ব্যাখ্যাসাপেক্ষ হাদিসগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি এবং দেখেছি যে, এগুলোর কিছু ‘মাআলিমুস সুনান’ গ্রন্থে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশদ আলোচনার সাথে ইতিপূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। আমি অনুভব করলাম যে, ওই কিতাবে যা লিখেছি তার ওপর নির্ভর করে যদি এই কিতাবের ব্যাখ্যায় সেই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাই বা পুরোপুরি বাদ দেই, তবে আমি এই কিতাবের হকের প্রতি অবহেলা করব। কারণ এই কিতাবটি এমন কারো কাছে পৌঁছাতে পারে যার কাছে ওই কিতাবটি নেই, আবার কেউ হয়তো কেবল একটির প্রতিই আগ্রহী হতে পারে। আর যদি আমি ওই সংকলনে বর্ণিত সমস্ত বিষয় এখানে পুনরায় উল্লেখ করতাম, তবে পুনরাবৃত্তির ফলে এই কিতাবটি দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ত এবং পাঠকদের মনে বিরক্তি সৃষ্টি করত। তাই আমি অধিকতর সমীচীন মনে করলাম যে, সেখানে যা ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করা হয়েছে তার কিছু অংশ এখানে সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকব না। এর সাথে সেই হাদিসগুলোতে সম্ভাব্য নতুন কোনো ফায়দা বা অর্থের দৃঢ়তা—যা ওই কিতাবে নেই—তাও যোগ করব, যাতে তা অনুপস্থিত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত এবং অপূর্ণতার পরিপূরক হয়। এরপর আমি ব্যাখ্যা করব...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٥)
بمشيئة الله الكلام في سائر الأحاديث التي لم يقع ذكرها في معالم السنن وأوفيها حقها من الشرح والبيان.

فأما ما كان فيها من غريب الألفاظ اللغوية فإني أقتصر من تفسيره على القدر الذي تقع به الكفاية في معارف أهل الحديث الذين هم أهل هذا العلم وحملته دون الإمعان فيه والاستقصاء له على مذاهب أهل اللغة من ذكر الاشتقاق والاستشهاد بالنظائر ونحوها من البيان، لئلا يطول الكتاب، ومن طلب ذلك وجد العلة فيه مراضة بكتاب أبي عبيد ومن نحا نحوه في تفسير غريب الحديث.

وأما استناد هذا الكتاب وسماعه فإنا لم نلحق من أصحاب محمد بن إسماعيل الذين شاهدوه وسمعوا منه لقدم موته، فإنه مات رحمه الله على ما بلغنا، سنة ست وخمسين ومائتين. وقد سمعنا
আল্লাহর ইচ্ছায়, আমি অন্যান্য সকল হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করব যেগুলোর উল্লেখ 'মাআলিমুস সুনান'-এ আসেনি এবং আমি সেগুলোর ব্যাখ্যা ও বর্ণনার যথাযথ হক আদায় করব।

আর সেগুলোতে ভাষাগত যে সকল দুর্লভ শব্দ রয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি কেবল সেই পরিমাণ বিবরণের ওপর সীমাবদ্ধ থাকব যা হাদীস বিশারদদের (আহলুল হাদীস) জ্ঞানের জন্য যথেষ্ট—যারা মূলত এই ইলমের বিশেষজ্ঞ ও বাহক। ভাষাতাত্ত্বিকদের অনুসৃত পন্থা অনুযায়ী শব্দের ব্যুৎপত্তি বর্ণনা, সমজাতীয় উদাহরণ পেশ করা এবং এই জাতীয় বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে আমি গভীরে প্রবেশ করব না, যাতে কিতাবটি দীর্ঘ হয়ে না যায়। আর কেউ যদি তা অনুসন্ধান করতে চায়, তবে সে আবু উবাইদ এবং তাঁর পথ অনুসরণকারীদের 'গারীবুল হাদীস' বিষয়ক কিতাবসমূহে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সমাধান খুঁজে পাবে।

আর এই কিতাবের সনদ এবং এর শ্রবণ (সামা') প্রসঙ্গে কথা হলো, আমরা মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈলের সেই সকল সঙ্গীদের দেখা পাইনি যারা তাঁকে সরাসরি দেখেছিলেন এবং তাঁর থেকে হাদীস শুনেছিলেন; কারণ তাঁর মৃত্যু অনেক আগে হয়েছে। আমাদের কাছে পৌঁছানো সংবাদ অনুযায়ী, তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—দুইশত ছাপান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন। আর আমরা শুনেছি
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٦)
معظم هذا الكتاب من رواية إبراهيم بن معقل النسفي حدثناه خلف بن محمد الخيام قال: حدثنا إبراهيم بن معقل عنه سمعنا سائر الكتاب إلا أحاديث من آخره من طريق محمد بن يوسف الفَرَبْري، حدثنيه محمد بن خالد بن الحسن قال: حدثنا الفربري عنه، ونحن نبين مواضع اختلاف الرواية في تلك الأحاديث إذا انتهينا إليها إن شاء الله.

قال أبو سليمان رحمه الله صدَّر أبو عبد الله كتابه بحديث النية وافتتح كلامه به، وهو حديث كان المتقدمون من شيوخنا رحمهم الله يستحبون تقديمه أمام كل شيء يُنشأ ويبتدأ من أمور الدين، لعموم الحاجة إليه في جميع أنواعها ودخوله في كل باب من أبوابها.
এই কিতাবের অধিকাংশ ইব্রাহিম বিন মা'কিল আন-নাসাফি-এর বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত। খালাফ বিন মুহাম্মদ আল-খায়্যাম আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: ইব্রাহিম বিন মা'কিল তাঁর থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। আমরা কিতাবের শেষাংশের কিছু হাদিস ব্যতীত বাকি পুরো কিতাবটি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফারাবরির সূত্রে শুনেছি। মুহাম্মদ বিন খালিদ বিন হাসান আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আল-ফারাবরি তাঁর থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ, যখন আমরা সেই হাদিসগুলোতে পৌঁছাব, তখন সেখানে বর্ণনার পার্থক্যের স্থানগুলো আমরা স্পষ্ট করে দেব।

আবু সুলাইমান (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আবু আব্দুল্লাহ তাঁর কিতাবটি নিয়তের হাদিস দ্বারা শুরু করেছেন এবং এর মাধ্যমেই তাঁর আলোচনা আরম্ভ করেছেন। এটি এমন একটি হাদিস যা আমাদের পূর্ববর্তী শায়খগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) দ্বীনের যেকোনো বিষয় শুরু বা রচনার পূর্বে পেশ করা মুস্তাহাব মনে করতেন। কারণ দ্বীনের সকল ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক এবং এটি প্রতিটি অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٧)
‌‌كتاب بدء الوحي

‌‌(1) (باب كيف كان بدء الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم:

1/ 1 - حدثنا خلف بن حمد قال: حدثنا إبراهيم بن معقل قال: حدثنا محمد بن إسماعيل قال: حدثنا الحمدي قال: حدثنا سفيان قال أخبرنا يحيى بن سعيد الأنصاري قال: حدثنا محمد بن إبراهيم التيمي أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي قال: سمعت عمر بن الخطاب على المنبر يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم -
ওহীর সূচনা অধ্যায়

(১) (পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ওহীর সূচনা কীভাবে হয়েছিল:

১/ ১ - আমাদের নিকট খালফ ইবনে হামাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনে মাকিল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হামদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আত-তায়মী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়সীকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি মিম্বরের ওপর উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি -
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٨)
يقول: (إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو إلى امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه).

قال أبو سليمان رحمه الله هكذا وقع في رواية إبراهيم بن معقل عنه، مخرما، قد ذهب شطره، ورجعت إلى نسخ أصحابنا فوجدتها كلها ناقصة لم يذكر فيها قوله: (فمن كانت هجرته إلى الله وإلى رسوله فهجرته إلى الله وإلى رسوله). وكذلك وجدته في رواية الفربري أيضا، فلست أدري كيف وقع هذا الإغفال، ومن جهة من عرض من رواته؟ وقد ذكره محمد بن إسماعيل في هذا الكتاب في غير موضع من طريق الحميدي فجاء به مستوفى رواه عن أبي النعمان: -محمد بن الفضل- عن حماد بن زيد، عن يحيى بن سعيد، ورواه أيضا عن قتبة، عن عبد الوهاب، عن
তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়ত দ্বারা এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। অতএব যার হিজরত হবে দুনিয়ার উদ্দেশ্যে যা সে অর্জন করতে চায় অথবা কোনো নারীর উদ্দেশ্যে যাকে সে বিবাহ করতে চায়, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।)

আবু সুলায়মান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবরাহিম ইবনে মাকিল কর্তৃক বর্ণিত তার রেওয়ায়েতে এটি এভাবেই এসেছে, খণ্ডিত অবস্থায়, যার অর্ধাংশ বাদ পড়েছে। আমি আমাদের সাথীদের পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোকে অসম্পূর্ণ পেয়েছি যেখানে তাঁর এই কথাটি উল্লেখ করা হয়নি: (অতএব যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই হবে)। আল-ফারাবরির রেওয়ায়েতেও আমি এটি একইভাবে পেয়েছি। আমি জানি না কীভাবে এই বিচ্যুতি ঘটেছে এবং বর্ণনাকারীদের কার পক্ষ থেকে এটি ঘটেছে? অথচ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল এই কিতাবে আল-হুমাইদির সূত্রে অন্যান্য স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তিনি তা পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু নুমান—মুহাম্মদ ইবনে ফজল—থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে। আবার তিনি এটি কুতায়বা থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব থেকে বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٠٩)
يحيى بن سعيد فما خرم منه شيئا. ولست أشك في أن ذلك لم يقع من جهة الحميدي فقد رواه لنا الأثبات من طريق الحميدي، تاما غير ناقص.

أخبرنا ابن الأعرابي قال: حدثنا أبو يحيى بن أبي (ميسرة)، قال: حدثنا الحميدي ح وحدثنا أحمد بن إبراهيم بن مالك الرازي قال: حدثنا بشر بن موسى قال: حدثنا الحميدي قال: حدثنا سفيان قال: أخبرنا يحيى بن سعيد قال: حدثنا محمد بن إبراهيم التيمي أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي قال: سمعت عمر بن الخطاب يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن
ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, তিনি এ থেকে কোনো কিছুই বাদ দেননি। আর আমার এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি হুমায়দীর পক্ষ থেকে ঘটেনি; কেননা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ আমাদের নিকট হুমায়দীর সূত্রে এটি পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিহীনভাবে বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল আরাবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া বিন আবি (মায়সারা) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমায়দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [হ] এবং আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন মালিক আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুমায়দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আলকামা বিন ওয়াক্কাস আল-লাইসিকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর বিন আল-খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: (নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যে...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٠)
كانت هجرته إلى الله وإلى رسوله فهجرته إلى الله وإلى رسوله، ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو امرأة يتزوجها فهجرته إلى ما هاجر إليه).

اللفظ للرازي (فهذه) رواية الحميدي عن سفيان، تامة غير ناقصة كما ترى، والله أعلم من أين عرض التقسير فيه، ولا أعلم خلافا بين أهل الحديث في أن هذا الخبر لم يصح مسندا عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا من رواية عمر بن الخطاب رضي الله عنه وقد غلط بعض الرواة فرواه من طريق أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم.
যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই বিষয়ের দিকেই হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।)

শব্দগুলো রাজীর। (এটি) সুফিয়ান থেকে হুমাইদীর বর্ণনা, যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে পূর্ণাঙ্গ, অসম্পূর্ণ নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন কোথা থেকে এতে কোনো ত্রুটি বা সংক্ষেপ প্রবেশ করেছে। হাদীস বিশারদদের মাঝে আমি এমন কোনো মতভেদ জানি না যে, এই সংবাদটি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুসনাদ হিসেবে বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনাকারী ভুল করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١١)
حدثنا إبراهيم بن فراس، قال: حدثناه موسى بن هارون قال: حدثنا نوح بن حبيب قال: حدثنا عبد المجيد بن عبد العزيز بن أبي رواد قال: حدثنا مالك بن أنس، عن زيد بن أسلم، عن عطاء بن يسار، عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنما الأعمال بالنية ولكل امرئ ما نوى). فذكر نحوا من حديث عمر رضي الله عنه وهذا عند أهل المعرفة بالحديث مقلوب، وإنما هو إسناد حديث آخر ألصق به هذا المتن. ويقال: إن الغلط إنما جاء فيه من قبل نوح بن حبيب البذشي.
ইবরাহীম বিন ফিরাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মূসা বিন হারূন এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: নূহ বিন হাবীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আব্দুল মাজীদ বিন আব্দুল আযীয বিন আবী রাওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মালিক বিন আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদ বিন আসলাম থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের সাথেই সম্পৃক্ত এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে)। অতঃপর তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। আর হাদীস বিশারদদের নিকট এটি 'মাকলূব' (সনদ বা মতনে ওলটপালট হওয়া) হিসেবে গণ্য; এটি মূলত অন্য একটি হাদীসের সনদ যার সাথে এই মতনটি (মূল পাঠ) জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, এই ভুলটি মূলত নূহ বিন হাবীব আল-বাযশী-এর পক্ষ থেকে ঘটেছে।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٢)
وهذا الحديث أصل كبير من أصول الدين ويدخل في أحكام كثيرة، ومعنى النية: قصدك الشيء بقلبك، وتحري الطلب منك له. وقيل: هي عزيمة القلب. وقال بعض أهل اللغة: أصل النية الطلب. ويقال: لي عند فلان نية ونواة، أي طلبة وحاجة وأنشد لكثير:

وإن الذي ينوي من المال أهلها .... أوارك لما تأتلف وعوادي

يريد ما يطلبونه من المهر.

وقوله: (إنما الأعمال بالنيات). لم يرد به أعيان الأعمال؛ لأنها حاصلة حسا وعيانا بغير نية، وإنما معناه أن صحة أحكام الأعمال في حق الدين إنما تقع بالنية، وأن النيات هي الفاصلة بين ما يصح منها وبين ما لا يصح، وكلمة (إنما) عاملة بركنيها إيجابا ونفيا، فهي تثبت الشيء وتنفي ما عداه، فدلالتها أن العبادة إذا صحبتها النية
এই হাদিসটি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি বড় মূলনীতি এবং এটি বহু বিধানের অন্তর্ভুক্ত। নিয়তের অর্থ হলো: আপনার অন্তর দিয়ে কোনো কিছুর সংকল্প করা এবং তা লাভের জন্য আপনার সচেষ্ট হওয়া। আরও বলা হয়েছে: এটি হলো অন্তরের দৃঢ় ইচ্ছা। কোনো কোনো ভাষাবিদ বলেছেন: নিয়তের মূল অর্থ হলো অন্বেষণ করা। আর বলা হয়ে থাকে: 'অমুক ব্যক্তির নিকট আমার নিয়ত বা নাওয়াত রয়েছে', অর্থাৎ একটি চাওয়া বা প্রয়োজন রয়েছে। কুসাইয়ির-এর পঙক্তি পাঠ করা হয়েছে:

আর তার পরিবার সম্পদের মধ্য থেকে যা অন্বেষণ করে... তা হলো ঝোপঝাড়ে বিচরণকারী এবং দলে দলে থাকা উট।

এর দ্বারা তিনি মোহর হিসেবে তারা যা দাবি করে তা বুঝিয়েছেন।

আর তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)। এর দ্বারা তিনি আমলের বাহ্যিক অবয়ব উদ্দেশ্য করেননি; কারণ নিয়ত ছাড়াও ইন্দ্রিয় ও চাক্ষুষভাবে আমল সাধিত হতে পারে। বরং এর অর্থ হলো, দ্বীনের ক্ষেত্রে আমলের বিধানসমূহের শুদ্ধতা কেবল নিয়তের মাধ্যমেই কার্যকর হয়, এবং নিয়তই হলো আমলের শুদ্ধ হওয়া এবং অশুদ্ধ হওয়ার মধ্যে পার্থক্যকারী। আর 'ইন্নামা' (কেবলমাত্র) শব্দটি তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় স্তম্ভের মাধ্যমেই অর্থ প্রদান করে; এটি একটি বিষয়কে সাব্যস্ত করে এবং তা ব্যতীত অন্য কিছুকে নাকচ করে দেয়। সুতরাং এর মর্মার্থ হলো, ইবাদত যদি নিয়তযুক্ত হয়...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٣)
صحت، وإذا لم تصحبها لم تصح، ومقتضى حق العموم منها يوجب أن لا يصح عمل من الأعمال الدينية أقوالها وأفعالها إلا بنية دخل فيها التوحيد الذي هو رأس أعمال الدين فلا يصح القول بالتوحيد إلا بمعرفة وقصد إخلاص فيه، وكذلك سائر أعمال الدين، من الصلاة والزكاة والصيام والوضوء بالماء والتيمم بالتراب، فلو أن رجلا غسل أعضاء الوضوء من بدنه تبردا أو تنظفا لم يجزه أن يصلي بذلك حتى ينوي بالوضوء رفع الحدث، وكذلك لو فعله يريد به تعليم غيره الوضوء. ومثل ذلك لو انغمس في نهر ليتعلم سباحة أو يصطاد سمكا، أو يستخرج من قعره شيئا، أو ليأخذ ما يطفو على متنه من غثاء وحطب في نحو ذلك، لم يجز أن يصلي بشيء منها حتى يكون قصده بمس الماء نوعا من العبادة التي لا تجزي [تجزئ] إلا بطهارة. ويدخل في عمومه فرض الأعمال ونفلها وقليلها وكثيرها.

وقوله: (وإنما لكل امرئ ما نوى). تفصيل لبيان ما تقدم ذكره، وتأكيد له، وفيه معنى خاص لا يستفاد من الفصل الأول، وهو إيجاب تعيين النية للعمل الذي يباشره، فلو نوى رجل أن يصلي أربع ركعات عن فرضه إن كان قد فاته، وإلا فهي تطوع لم تجزه عن فرضه، لأنه لم يمحِّض النية له ولم يعينه بأن لا يشرك معه غيره وإنما داول في النية بين الفرض وبدله، فلم تجد النية قرارا، وكذلك هذا فيمن نوى في آخر ليالي شعبان أن يصوم غدا عن فرض رمضان إن أهل الهلال، وإلا فهو تطوع، فصادف صومه الشهر لم
(শুদ্ধ হয়), আর যদি তা (নিয়ত) সাথে না থাকে তবে তা শুদ্ধ হয় না। এই নিয়তের ব্যাপকতার দাবি এই যে, ধর্মীয় কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত কোনো কথা বা কাজ শুদ্ধ হবে না যদি না তার সাথে এমন নিয়ত থাকে যাতে তাওহীদ শামিল থাকে, যা দ্বীনী আমলসমূহের শীর্ষ। সুতরাং তাওহীদের ঘোষণা প্রদানও মারিফাত (জ্ঞান) এবং তাতে ইখলাসের (নিষ্ঠার) উদ্দেশ্য ছাড়া শুদ্ধ হবে না। অনুরূপভাবে দ্বীনের অন্যান্য আমল যেমন: সালাত, জাকাত, সিয়াম, পানি দিয়ে ওযু এবং মাটি দিয়ে তায়াম্মুমের ক্ষেত্রেও একই বিধান। অতএব কোনো ব্যক্তি যদি শরীর শীতল করার জন্য বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার জন্য তার ওযুর অঙ্গসমূহ ধৌত করে, তবে এর মাধ্যমে সালাত আদায় করা তার জন্য যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না সে ওযুর মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করে। অনুরূপভাবে সে যদি অন্যকে ওযু শেখানোর উদ্দেশ্যেও এটি করে তবেও একই বিধান। এর উদাহরণ হলো, কেউ যদি সাঁতার শেখার জন্য, মাছ ধরার জন্য, নদীর তলদেশ থেকে কিছু তোলার জন্য, কিংবা পানির উপরিভাগে ভাসমান আবর্জনা বা কাঠ সংগ্রহ করার জন্য নদীতে ডুব দেয়, তবে এগুলোর কোনোটির মাধ্যমেই সালাত আদায় করা জায়েয হবে না যতক্ষণ না তার পানি স্পর্শ করার উদ্দেশ্যটি এমন ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হয় যা পবিত্রতা ছাড়া আদায় হয় না। আর এই বিধানের ব্যাপকতার মধ্যে ফরয, নফল, অল্প বা অধিক সকল আমলই অন্তর্ভুক্ত।

আর তাঁর বাণী: (প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে) - এটি পূর্বোল্লিখিত কথার বিশদ বিবরণ ও তাকিদ (দৃঢ়করণ)। এতে এমন একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে যা প্রথম অংশ থেকে পাওয়া যায় না; আর তা হলো, ব্যক্তি যে আমলটি সম্পন্ন করছে তার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ত করা আবশ্যক। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি এমন নিয়ত করে যে, সে চার রাকাত সালাত আদায় করছে তার ফরয হিসেবে—যদি তার কোনো ফরয কাজা হয়ে থাকে, অন্যথায় তা নফল—তবে তা তার ফরযের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না। কারণ সে নিয়তকে কেবল ফরযের জন্য একনিষ্ঠ করেনি এবং অন্য কোনো কিছু শরিক না করে তাকে সুনির্দিষ্ট করেনি। বরং সে নিয়তের ক্ষেত্রে ফরয এবং তার বিকল্পের মধ্যে দোদুল্যমান ছিল, ফলে নিয়তটি স্থির হতে পারেনি। অনুরূপভাবে এই হুকুম ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যে শাবান মাসের শেষ রাতে এই নিয়ত করে যে, যদি চাঁদ দেখা যায় তবে আগামীকাল রমজানের ফরয সিয়াম পালন করবে, অন্যথায় তা নফল হবে। এরপর যদি তার সিয়াম পালন মাসের সাথে মিলেও যায়, তবুও তা শুদ্ধ হবে না...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٤)
يجزه عن فرضه، وكذلك هذا فيمن فاتته صلاة من الصلوات الخمس، لا يعرفها بعينها، فإن عليه أن يصليها كلها، ينوي كل واحدة منها عن فرضه، وقد زعم بعضُ من ينتسب إلى مذهب الشافعي رحمه الله أنه قد يمكنه استدراك الفائت من فرضه بأن يصلي أربع ركعات، يجهر في الأوليين منها ويقعد في الثانية ويتشهد، ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم، ثم يصلي الثالثة ويقعد فيها ويتشهد، ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم، ثم يقوم إلى الرابعة فيصليها ويقعد للتشهد والصلاة، ثم يسلم، فتكون الثالثة كزيادة ركعة، بالشك على الفريضة إن كان الفائت صبحا، والرابعة كذلك زيادة ركعة، بالشك على فرضه إن كان مغربا ويكون تمام الأربع عن سائر الفرائض أيتها فاتته. وهذا لا يصح عند أكثر أصحاب الشافعي على مذهبه، ولكنه قد يتوجَّه على مذاهب بعض فقهاء العراق فإنه قال: إذا فاتته صلاة يوم وليلة صلى ركعتين للفجر وثلاثا المغرب وأربعا تجزئه عن أيتها كانت من الصلوات الثلاث، وذلك لأنه لم يراع التعيين في الفائتة إنما راعى الصفة فيها.

فأما موضع النيات فإنها تختلف، منها ما تجب المحاذاة بها للعمل الذي ينوي له كالصلاة والطهارة. ومنها ما يجوز تقديمها على العمل كالصيام. ومنها ما يتضمن النية جملة أفعال متفرقة ينتظمها اسم واحد، فتنوب النية الواحدة عنها كلها وقد تتأخر نية التعيين عن وقت إنشاء الإحرام، ثم يصرفه إلى ما أحب من الحج والعمرة مفردا لكل واحدة منها أو جامعا بها بينهما. وقد يقع في بعض الأعمال على إبهام، ثم يقع التعيين لموضعها فيما بعد، كمن عليه كفارتان من قتل نفس وظهار
এটি তার ফরযের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না। একইভাবে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যার পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মধ্যে কোনো একটি সালাত ছুটে গেছে কিন্তু সেটি কোনটি তা তিনি নির্দিষ্টভাবে জানেন না। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য হলো সবগুলো সালাত আদায় করা এবং প্রত্যেকটি আদায়ের সময় তার ফরযের নিয়ত করা। ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের অনুসারী দাবিদার কেউ কেউ মনে করেন যে, তার পক্ষে ছুটে যাওয়া ফরয সালাতটি পূরণ করা সম্ভব এভাবে যে—তিনি চার রাকাত সালাত আদায় করবেন, যার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করবেন, দ্বিতীয় রাকাতে বসবেন ও তাশাহহুদ পড়বেন এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপর দরূদ পাঠ করবেন। অতঃপর তিনি তৃতীয় রাকাত পড়বেন, তাতে বসবেন ও তাশাহহুদ পাঠ করবেন এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপর দরূদ পড়বেন। এরপর চতুর্থ রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন, তা আদায় করবেন এবং তাশাহহুদ ও সালাতের (দরূদ) জন্য বসবেন, তারপর সালাম ফেরাবেন। ফলে যদি ছুটে যাওয়া সালাতটি ফজরের হয়ে থাকে, তবে সন্দেহের ভিত্তিতে তৃতীয় রাকাতটি অতিরিক্ত রাকাত হিসেবে গণ্য হবে; আর যদি মাগরিবের হয়ে থাকে তবে একইভাবে চতুর্থ রাকাতটি অতিরিক্ত রাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর এই পূর্ণ চার রাকাত অন্যান্য সকল ফরযের পক্ষ থেকে গণ্য হবে, সেগুলোর মধ্যে যেটিই তার ছুটে গিয়ে থাকুক না কেন। ইমাম শাফেঈর মাযহাব অনুযায়ী তার অধিকাংশ অনুসারীর নিকট এটি শুদ্ধ নয়। তবে ইরাকের কিছু ফকীহর মাযহাব অনুযায়ী এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে; কেননা তিনি বলেছেন: যদি কারো একদিন ও এক রাতের কোনো সালাত ছুটে যায়, তবে সে ফজরের জন্য দুই রাকাত, মাগরিবের জন্য তিন রাকাত এবং একটি চার রাকাতের সালাত পড়বে যা তিনটির (চার রাকাতি সালাতসমূহের) যে কোনোটির পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আর এটি এজন্য যে, তিনি ছুটে যাওয়া সালাতটি নির্দিষ্ট করার শর্ত করেননি, বরং তাতে কেবল বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন।

আর নিয়তের ক্ষেত্রসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে এমন কিছু আছে যেখানে যে আমলের জন্য নিয়ত করা হচ্ছে তার সাথে নিয়তের সহাবস্থান অপরিহার্য, যেমন সালাত ও পবিত্রতা। আবার কিছু আমল এমন আছে যেখানে আমলের পূর্বে নিয়ত করা জায়েয, যেমন সিয়াম। আবার এমন কিছু আমল আছে যেখানে একটি নিয়ত অনেকগুলো পৃথক পৃথক কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে যা একটি নামের অধীনে বিন্যস্ত হয়, ফলে একটি নিয়তই ঐ সবগুলোর জন্য স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো ইহরাম শুরু করার সময়ের চেয়ে বিষয়টি নির্দিষ্ট করার নিয়ত বিলম্বে হতে পারে; অতঃপর তিনি সেটিকে হজ্জ বা উমরাহ—এর মধ্যে যেটি ইচ্ছা সেটিতে প্রয়োগ করতে পারেন, চাই তা এককভাবে প্রত্যেকটির জন্য হোক কিংবা হজ্জ ও উমরাহ একত্রে করার জন্য হোক। আবার কিছু আমল অস্পষ্টভাবে সাধিত হতে পারে এবং পরবর্তীতে সেটির ক্ষেত্র নির্দিষ্ট করা হতে পারে। যেমন সেই ব্যক্তির উদাহরণ যার ওপর নরহত্যা ও যিহার—এই দুই ধরনের কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٥)
وهو واجد للرقبة، فإذا أعتق رقبة ولم تحضره النية عن العتق نواه فيما بعد لأيتهما شاء. وعلى (كل) حال فلا ينفك عمل من أعمال العبادات عن نية ما، ولا يق شيء منها محتسبا بها في ذات الله إلا بها، وإنما جاز التقديم والتأخير فيها لعلل وأسباب ليس هذا موضع ذكرها.

وقد ذهب أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه وأبو ثور إلى أن الحاج إذا طاف طواف الإفاضة ولم ينوه عن الفرض لم يجزه، وجوزه الشافعي؛ لأن النية الأولى قد تضمن جميع أفعال الحج، وكذلك قال سفيان الثوري وأصحاب الرأي.

وقال مالك بن أنس في الصرورة: إذا نوى الحج عن غيره وقع عن المحجوج عنه.
আর তিনি দাসের সংস্থানকারী, অতএব তিনি যদি কোনো দাস মুক্ত করেন এবং দাসমুক্তির নিয়ত যদি তৎক্ষণাৎ উপস্থিত না থাকে, তবে তিনি পরবর্তীতে যে কোনোটির পক্ষ থেকে ইচ্ছা করলে তা নিয়ত করতে পারবেন। এবং যাই হোক না কেন, ইবাদতের আমলসমূহের কোনোটিই কোনো না কোনো নিয়ত ছাড়া সম্পন্ন হয় না, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সেগুলোর কোনোটিই নিয়ত ব্যতিরেকে গণ্য হয় না। আর এতে (নিয়তে) অগ্রগণ্যতা ও বিলম্ব হওয়া বৈধ রাখা হয়েছে এমন কিছু ইল্লত ও কারণবশত যা এখানে আলোচনার বিষয় নয়।

আহমদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং আবু সাওর এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, হাজ্বী যদি তাওয়াফে ইফাযাহ করেন এবং তা ফরযের নিয়তে না করেন, তবে তা যথেষ্ট হবে না। ইমাম শাফেয়ী একে বৈধ বলেছেন; কারণ প্রথম নিয়তটি হজ্জের সমস্ত কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুফিয়ান সাওরী ও আসহাবুর রায়ও অনুরূপ বলেছেন।

আর মালিক ইবনে আনাস সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে নিজের হজ্জ করেনি (সারুরা) বলেছেন: যদি সে অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জের নিয়ত করে, তবে তা যার পক্ষ থেকে হজ্জ করা হচ্ছে তার পক্ষ থেকেই গণ্য হবে।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٦)
واحتج له بعض أصحابه بقوله صلى الله عليه وسلم: (إنما الأعمال بالنيات) وهذا قد نواه عن زيد فلا يقع عن عمرو. قال: ولو كان الحج واقعا عن نفسه لحصل بلا نية. (وقد خصت النية بأن لا صحة لعمل من أعمال الدين إلا بنية).

ومما يجب عليك أن تحكمه في هذا الباب تقدمة المعرفة بأمور منها:

أن تعرف الشيء الذي تعبدت به، وأن تعلم أنك مأمور به، وأن تطلب موافقة الآمر فيما تعبدت به، فإنك إذا لم تعلم صفة ما أمرت به لم يتأت لك فعله على الوجه الذي تعبدت به، ومن فعل المأمور به من غير أن يعرف أنه مأمور به أو في جملة المأمورين به لم يكن في فعله مطيعا للآمر، ومن عرف الآمر ثم لم يقصد بفعله المأمور به موافقة الآمر لم يكن ممتثلا لأمره وهذا جملة من أمر علم النية وما يدخل في معناها.

وقد يستدل من هذا الحديث في مواضع من أحكام المعاملات وما يتصل بها مما ليس من باب العبادات المحضة، منها أن يستدل به على أنه من أكره على الكفر فتكلم به على التقية وهو ينوي معنى يخالف ظاهر القول الذي جرى على لسانه أنه لا يكفر به، فكذلك من أكره على يمين بظلم أو أكره على طلاق إذا ألحد في النية إلى غير
তাঁর কতিপয় অনুসারী তাঁর স্বপক্ষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)। আর তিনি এটি জায়েদের পক্ষ থেকে নিয়ত করেছেন, তাই তা আমরের পক্ষ থেকে গণ্য হবে না। তিনি বলেছেন: যদি হজটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে সম্পাদিত হতো, তবে তা নিয়ত ছাড়াই হয়ে যেত। (আর নিয়তকে এ বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করা হয়েছে যে, দ্বীনের কোনো আমলই নিয়ত ছাড়া সহিহ বা শুদ্ধ হবে না)।

এই অধ্যায়ে আপনার ওপর যা সুদৃঢ়ভাবে জানা ওয়াজিব, তা হলো কিছু বিষয়ের পূর্বজ্ঞান অর্জন করা, যার মধ্যে রয়েছে:

আপনি যে বিষয়ের মাধ্যমে ইবাদত করছেন তা জানা, আপনি যে এ বিষয়ে আদিষ্ট তা অবগত হওয়া এবং আপনি যার মাধ্যমে ইবাদত করছেন তাতে আদেশদাতার আনুগত্য অন্বেষণ করা। কেননা আপনি যা করতে আদিষ্ট হয়েছেন তার ধরন বা বৈশিষ্ট্য যদি আপনার জানা না থাকে, তবে যেভাবে ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেভাবে তা সম্পন্ন করা আপনার জন্য সম্ভব হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো আদিষ্ট কাজ করল অথচ সে জানত না যে সে আদিষ্ট হয়েছে কিংবা সে আদিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত, তবে সে তার সেই কাজে আদেশদাতার অনুগত বলে গণ্য হবে না। আর যে ব্যক্তি আদেশদাতাকে চেনে, অথচ তার আদিষ্ট কাজের মাধ্যমে আদেশদাতার আনুগত্য করার সংকল্প করে না, সে তাঁর আদেশ পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে না। এটি হলো নিয়ত বিষয়ক ইলম এবং এর অর্থভুক্ত বিষয়াবলির সারসংক্ষেপ।

মুয়ামালাত বা লেনদেন সংক্রান্ত বিধানাবলি এবং বিশুদ্ধ ইবাদতের বহির্ভূত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই হাদিস থেকে দলিল গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন—এর দ্বারা দলিল পেশ করা হয় যে, যাকে কুফরি করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং সে আত্মরক্ষার্থে তা মুখে উচ্চারণ করেছে, অথচ তার অন্তরে এমন অর্থের নিয়ত করেছে যা তার মুখে উচ্চারিত বাহ্যিক কথার বিপরীত, তবে সে এর কারণে কাফির হবে না। অনুরূপভাবে, যাকে জুলুমের শিকার হয়ে শপথ করতে বাধ্য করা হয়েছে কিংবা যাকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যখন সে তার নিয়তকে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত করে...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٧)
معنى فساد النكاح ونيته، كما ينوي أن تكون طالقا من وثاق أو نحوه، وقد يطلقها بلفظ من ألفاظ الكنايات يحتمل معنى وقوع البينونة فيكون ما نوى من العدد. وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال لركانة حين طلق امرأته البتة: كم أردت؟

ويدخل في هذا المعنى ما ينويه الإنسان في يمينه مما يخالف باطن معناه ظاهر الاسم فيسقط عنه الحنث، كمن قال: والله ما رأيت زيدا، وهو ينوي أنه لم يصب رئته، وما كلمت عمرا، يريد ما جرحته، ونحو ذلك من الكلام المحتمل للمعاني المختلفة.

وقد يستدل به على أن كل ما يحتال به في العقود والبياعات من غش وخلابة واستفضال صرف أو ربا، أن جميع ذلك باطل في
বিবাহের অসারতা (ফাসাদ) ও তার নিয়তের অর্থ, যেমন সে নিয়ত করে যে সে কোনো বাঁধন বা অনুরূপ কিছু থেকে মুক্ত হবে; আবার কখনও সে অস্পষ্ট বা পরোক্ষ শব্দের মাধ্যমে তালাক দেয় যা বৈবাহিক বিচ্ছেদের অর্থ বহন করে, এমতাবস্থায় সে সংখ্যার যে নিয়ত করবে তা-ই কার্যকর হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রুকানাহকে—যখন তিনি তার স্ত্রীকে চূড়ান্তভাবে (বাত্তাহ) তালাক দিয়েছিলেন—জিজ্ঞেস করেছিলেন: "তুমি কত সংখ্যার ইচ্ছা করেছিলে?"

এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে শপথের ক্ষেত্রে মানুষের নিয়ত, যা শব্দের বাহ্যিক রূপের বিপরীত অভ্যন্তরীণ অর্থ পোষণ করে, ফলে তার শপথ ভঙ্গের দায় রহিত হয়। যেমন কেউ বলল: "আল্লাহর কসম, আমি জায়েদকে দেখিনি," অথচ সে মনে মনে নিয়ত করল যে সে তার ফুসফুসে আঘাত করেনি; কিংবা বলল: "আমি আমরের সাথে কথা বলিনি," অথচ সে বুঝাতে চেয়েছে যে তাকে জখম করেনি। এ জাতীয় আরও অনেক শব্দ যা ভিন্ন ভিন্ন অর্থের সম্ভাবনা রাখে।

এবং এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা যেতে পারে যে, চুক্তি ও কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রতারণা, ধোঁকা এবং মুদ্রা বিনিময় বা সুদের মাধ্যমে বাড়তি সুবিধা লাভের জন্য যেসব কূটকৌশল অবলম্বন করা হয়, তার সবই বাতিল...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٨)
حق الدين، لأنه إنما قصد به التوصل إلى المحظور والأمر المحرم، لا يجوز أن يستباح به الشيء المحظور في حق الدين، وقد استدل به بعضهم على أن طلاق السكران غير واقع، إذا كان لا يدري ما يقول، وهذا الاستدلال فيه بعد وضعف؛ لأن موضع النية من الطلاق خالٍ وجوبا وسقوطا إلا أن يكون إيقاعُه الطلاق بلفظ من ألفاظ الكناية فيتعلق بالنية.

وقد زعم قول أن الاستدلال بهذا الحديث في غير نوع العبادات غيرُ صحيح، لأن الحديث إنما جاء في اختلاف مصارف وجوه العبادات لاختلاف النيات لها، فإذا أخرج إلى غير نوع ما جاء فيه لم تسر دلالته إليه، فأما عوام الفقهاء فإنهم إنما ينظرون إلى اتساع لفظ الكلام واحتمال الاسم لما يصلح صرفه إليه من المعاني ويراعون الأسباب التي يخرج عليها الكلام، ولا يقصرونه على نوعه حتى لا يتعداه إلى غيره.

وقوله: (فمن كانت هجرته إلى الله وإلى رسوله فهجرته إلى الله وإلى رسوله) فمعناه أن من قصد بالهجرة قصد القربة إلى الله عز وجل لا يخلطها بشيء من (الدنيا) وطلب أرب من آرابها، فهجرته إلى الله ورسوله أي فهجرته مقبولة عند الله وعند رسوله،
দ্বীনের অধিকার, কারণ এর মাধ্যমে কেবল নিষিদ্ধ এবং হারাম বিষয়ে উপনীত হওয়ার সংকল্প করা হয়েছে; দ্বীনের অধিকারে কোনো নিষিদ্ধ বিষয়কে এর মাধ্যমে বৈধ করা জায়েজ নয়। কেউ কেউ এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন যে, মাতাল ব্যক্তির তালাক পতিত হয় না, যখন সে যা বলছে তা বুঝতে পারে না। তবে এই দলীল পেশ করার মধ্যে যথেষ্ট দূরত্ব ও দুর্বলতা রয়েছে; কারণ তালাকের ক্ষেত্রে নিয়তের আবশ্যকতা বা বিলুপ্তি কোনোটিরই স্থান নেই, যদি না তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে কিনায়া বা রূপক শব্দ ব্যবহৃত হয়, সেক্ষেত্রে তা নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে।

একটি দাবি এমন রয়েছে যে, ইবাদতের প্রকারভেদ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এই হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করা সঠিক নয়। কারণ হাদিসটি কেবল ইবাদতের নিয়তের ভিন্নতার কারণে তার প্রতিদানের ভিন্নতা বিষয়ে এসেছে। সুতরাং যদি একে তার বর্ণিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো প্রকারে প্রয়োগ করা হয়, তবে এর নির্দেশিকা সেখানে কার্যকর হবে না। তবে সাধারণ ফকীহগণ শব্দের ব্যাপকতা এবং শব্দের সেই সমস্ত অর্থের সম্ভাবনা বিবেচনা করেন যার দিকে একে ধাবিত করা যায়। তারা সেই কারণগুলোও লক্ষ্য করেন যার প্রেক্ষাপটে কথাটি বলা হয়েছে এবং একে কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না যাতে তা অন্য ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হতে বাধাগ্রস্ত না হয়।

আর তাঁর বাণী: (সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অভিমুখে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অভিমুখেই গণ্য হবে) এর অর্থ হলো—যে ব্যক্তি হিজরতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সংকল্প করেছে এবং এর সাথে দুনিয়াবী কোনো স্বার্থ বা কোনো জাগতিক উদ্দেশ্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা মিশ্রিত করেনি, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। অর্থাৎ তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট কবুলযোগ্য।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١١٩)
وأجره واقع على الله عز وجل، (ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه)، يريد أن حظه من هجرته هو ما قصده من دنيا، ولا حظ له في الآخرة.

ويروى أن هذا إنما جاء في رجل كان يخطب امرأة بمكة فهاجرت إلى المدينة فتبعها الرجل رغبة في نكاحها فقيل له: مهاجر أم قيس.
এবং তার প্রতিদান মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ওপর বর্তায়, (আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেই বিষয়ের দিকেই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে); এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, তার হিজরত থেকে তার প্রাপ্য কেবল তা-ই যা সে দুনিয়াবি বিষয় থেকে সংকল্প করেছে, এবং পরকালে তার জন্য কোনো অংশ নেই।

বর্ণিত আছে যে, এই বিষয়টি জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে মক্কায় এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, অতঃপর তিনি মদিনায় হিজরত করেন। তখন তাকে বিয়ের আকাঙ্ক্ষায় সেই ব্যক্তিও তাঁর অনুসরণ করে, ফলে তাকে ‘উম্মে কায়সের মুহাজির’ বলা হতো।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٢٠)
(من كتاب كيف كان بدء الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم

 

‌‌(2) باب

2/ 2 - قال أبو عبد الله: حدثنا عبد الله بن يوسف قال: أخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن أبيه، عن عائشة رضي الله عنها أن الحارث بن هشام سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله: كيف يأتيك الوحي؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أحيانا يأتيني مثل صلصلة الجرس وهو أشده علي، فيفصم عني، وقد وعيت عنه ما قال، وأحيانا يتمثل لي الملك رجلا فيكلمني فأعي ما يقول).

قالت عائشة: ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وإن جبينه ليتفصد عرقا.

قوله: (يفصم عني) معناه يقلع عني وينجلي ما يتغشاني منه، وأصله من الفَصْم وهو القطع. ومنه قول الله تعالى: {لا انفصام لها} أي لا انقطاع لها. ويقال: إن أصل الفصم
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ওহী অবতরণের সূচনা যেভাবে হয়েছিল কিতাব হতে

 

‌‌(২) পরিচ্ছেদ

২/ ২ - আবু আবদুল্লাহ বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, হারিছ ইবনে হিশাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল: আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (কখনও তা আমার নিকট ঘণ্টার শব্দের মতো আসে এবং এটিই আমার ওপর সবচেয়ে কঠিন হয়, এরপর তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এমতাবস্থায় যে, তিনি যা বলেছেন তা আমি মুখস্থ করে ফেলেছি। আর কখনও ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নিই)।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে দেখেছি, এরপর যখন ওহী শেষ হতো তখন তাঁর ললাট থেকে ঘাম ঝরতে থাকত।

তাঁর কথা: (তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়) এর অর্থ হলো তা আমার থেকে অপসারিত হয় এবং ওহীর যে অবস্থা আমাকে আচ্ছন্ন করেছিল তা কেটে যায়। এর উৎস হলো 'আল-ফাসম' যা মূলত বিচ্ছিন্ন করা বা ছিন্ন করা। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {তার কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই} অর্থাৎ তার কোনো ছেদ নেই। আর বলা হয় যে, ফাসম-এর মূল হলো...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٢١)
الصدق والشق من غير إبانة، وأما القَصْم -بالقاف- فهو الكسر حتى يبين وينفصل، والمعنى أن الوحي كان إذا ورد عليه تصعَّده، له مشقة ويغشاه كرب وذلك لثقل ما يلقى عليه من القول وشدة ما يأخذ به نفسه من جمعه في قلبه وحسن وعيه وحفظه، فيعتريه لذلك حال كحال المحموم، وهو معنى ما جاء في رواية أخرى أنه كان يأخذه عند الوحي الرُّحَضاء أي البُهْر والعرق، ولذلك كان يتفصد جبينه، أي يسيل عرقا كما يفصد العرق فسيل منه الدم، وبيان هذا في قوله عز وجل: {إنا سنلقي عليك قولا ثقيلا}. وقوله: {لا تحرك به لسانك لتعجل به إن علينا جمعه وقرآنه}. قال ابن عباس: كان يستذكر مخافة أن ينفلت منه.

وأما قوله: (يأتيني مثل صلصلة الجرس) فإنه يريد، والله أعلم، أنه صوت متدارك يسمعه ولا يتثبته عند أول ما يقرع سمعه حتى يتفهم ويستثبت فيتلقفه حينئذ ويعيه، ولذلك قال: (وهو أشده علي).

وجملة الأمر فيما كان يناله من الكرب عند نزول الوحي هي شدة
বিদীর্ণ হওয়া এবং চেরা কিন্তু বিচ্ছিন্ন না হওয়া; আর 'কসম' (ক্বাফ দিয়ে) হলো এমনভাবে ভেঙে ফেলা যা পৃথক ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর অর্থ হলো, ওহী যখন তাঁর কাছে আসত, তখন তা তাঁর জন্য কঠিন হতো, যা তাঁকে কষ্ট দিত এবং তিনি অস্থিরতায় আচ্ছন্ন হতেন। আর তা ছিল তাঁর ওপর যে বাণী অর্পণ করা হতো তার গুরুত্ব এবং তা অন্তরে জমা করা, উত্তমরূপে অনুধাবন করা ও মুখস্থ করার ক্ষেত্রে তিনি নিজের ওপর যে কঠোরতা আরোপ করতেন তার কারণে। এই কারণে তাঁর অবস্থা জ্বরাক্রান্ত ব্যক্তির মতো হয়ে যেত। অন্য বর্ণনায় যা এসেছে এটি তারই অর্থ যে, ওহী নাজিলের সময় তিনি 'রুহাদা' তথা হাঁপিয়ে উঠতেন এবং ঘামতেন। এ কারণেই তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরত, অর্থাৎ শিরা কাটার পর যেভাবে রক্ত প্রবাহিত হয়, সেভাবে ঘাম ঝরত। এর বর্ণনা মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি এক ভারী বাণী অবতীর্ণ করব}। এবং তাঁর বাণী: {আপনি ওহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনার জিহ্বা নাড়বেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই}। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: ওহী যেন ছুটে না যায়, সেই ভয়ে তিনি তা বারবার মনে করার চেষ্টা করতেন।

আর তাঁর উক্তি: (তা আমার কাছে ঘণ্টার শব্দের মতো আসে) - এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন—আল্লাহই ভালো জানেন—এটি এমন এক অনুগামী শব্দ যা তিনি শুনতেন কিন্তু প্রথমবার কানে বাজার সময় তা পূর্ণরূপে আয়ত্ত করতে পারতেন না, যতক্ষণ না তিনি তা বুঝতে পারতেন এবং স্থির হতেন; তখন তিনি তা গ্রহণ করতেন ও হৃদয়াঙ্গম করতেন। এই কারণেই তিনি বলেছিলেন: (এটি আমার ওপর সবচেয়ে কঠিন হয়)।

ওহী নাজিলের সময় তিনি যে কষ্টের সম্মুখীন হতেন, তার সারকথা হলো তীব্রতা
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٢٢)
الامتحان له ليبلو صبره ويحسن تأديبه، فيرتاض لاحتمال ما كلفه من أعباء النبوة، وحسن الاضطلاع للنهوض به إن شاء اله، وقد روى أبو عبد الله فيما يشبه هذا حديثا في كتاب المناسك كتبناه هاهنا، إذ كان مشاكلاً لهذا الحديث.
এই পরীক্ষাটি ছিল তাঁর ধৈর্য পরীক্ষা করার এবং তাঁর শিষ্টাচারকে পরিমার্জিত করার জন্য, যাতে নবুওয়াতের যে গুরুভার তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়েছে তা বহন করতে তিনি অভ্যস্ত হতে পারেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তা যথাযথভাবে পালনে সক্ষম হন। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ এই বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি হাদিস 'কিতাবুল মানাসিক'-এ বর্ণনা করেছেন যা আমরা এখানে লিপিবদ্ধ করেছি, কারণ এটি আলোচ্য হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٢٣)
‌‌(17) [باب غسل الخلوق ثلاث مرات من الثياب]

3/ 1536 - قال أبو عبد الله: قال أبو عاصم، أخبرنا ابن جريج قال: أخبرنا عطاء أن صفوان بن يعلى أخبره أن يعلى قال لعمر: أرني النبي حين يوحى إليه؟ قال: فبينما النبي صلى الله عليه وسلم بالجعرانة ومعه نفر من أصحابه جاءه رجل فقال يا رسول الله: كيف ترى في رجل أحرم بعمرة وهو متضمخ بطيب؟ فسكت النبي صلى الله عليه وسلم، فجاء الوحي فأشار عمر إلى يعلى فجاء يعلى، وعلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثوب قد أظل به، فأدخل رأسه فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم محمر الوجه، وهو يغط، ثم
(১৭) [অধ্যায়: কাপড় থেকে খালুক (এক প্রকার মিশ্রিত সুগন্ধি) তিনবার ধৌত করা]

৩/ ১৫৩৬ - আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আবু আসিম বলেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, সাফওয়ান ইবনে ইয়ালা তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইয়ালা উমর (রা.)-কে বলেছিলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যখন ওহী অবতীর্ণ হয়, তখন কি আপনি আমাকে তা দেখাবেন? তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিরানা নামক স্থানে ছিলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীদের একটি দল ছিল, তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী যে উমরার ইহরাম বেঁধেছে এমতাবস্থায় যে সে সুগন্ধিতে লিপ্ত? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন। অতঃপর ওহী অবতীর্ণ হলো, তখন উমর ইয়ালার দিকে ইশারা করলেন এবং ইয়ালা আসলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর একটি কাপড় ছিল যা দিয়ে তাঁকে ছায়া দেওয়া হয়েছিল। তিনি (কাপড়ের ভেতরে) মাথা প্রবেশ করালেন এবং দেখলেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেছে এবং তিনি সশব্দে নিশ্বাস ছাড়ছেন (নাক ডাকার শব্দের ন্যায়)। অতঃপর...
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٢٤)
سري عنه فقال: أين الذي سأل عن العمرة) وذكر الحديث.

هذا شبيه في المعنى لما تقدم ذكره في الحديث الأول من صعوبة الأمر عليه في تلقي الوحي عند وروده وضعف القوة البشرية عن احتماله، هذا إلى ما استشعره من الخوف والوجل لوقوع تقصير فيما أمر به من حسن ضبطه، والشفق من اعتراض خلل دونه. وقد أنذر صلى الله عليه وسلم وخوف بما ترتاع له النفس، ويعظم به وجل القلوب في قوله تعالى: {ولو تقول علينا بعض الأقاويل لأخذنا منه باليمين ثم لقطعنا منه الوتين} الاية. وكان قد ابتُلي أيضا بما ألقاه الشيطان في أمنيته، في سورة (النجم)، إلى أن أنزل الله عذره، وآمنه من تبعته في قوله: {وما أرسلنا من قبلك من رسول ولا نبي إلا إذا تمنى ألقى الشيطان في أمنيته} الآية. وقد يحق لما هذا سبيله من عظم الشأن أن يستعد له بأشد ما يكون من الاحتفال، وأن يستفرغ له واسع النفوس، ويبلغ به غاية الاجتهاد وأن يرى كل ما يلقاه صاحبه من تعب ومشقة جللا دونه، فهذا والله أعلم، وجهه ومعناه دون ما يزعمه الجهال الذين لا روية لهم في العلم ولا بصيرة لهم بالدين من ترهات الأباطيل التي لا أصل لها ولا طائل فيها.
যখন তাঁর উপর থেকে ওহীর প্রভাব কেটে গেল, তখন তিনি বললেন: উমরা সম্পর্কে যে ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল সে কোথায়? এবং তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলেন।

এটি ওহী গ্রহণের সময় তাঁর উপর যে কাঠিন্য অনুভূত হতো এবং তা সহ্য করার ক্ষেত্রে মানবীয় শক্তির যে দুর্বলতা ছিল, সে বিষয়ে প্রথম হাদীসে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার অর্থেরই সদৃশ। এর সাথে যুক্ত ছিল সেই ভয় ও উৎকণ্ঠা যা তিনি অনুভব করতেন—পাছে তাঁকে যা আয়ত্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে কোনো ত্রুটি হয়ে যায় কি না অথবা তাতে কোনো বিঘ্ন ঘটে কি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এমন বিষয়ে ভীত করা হয়েছে যাতে নফস আতঙ্কিত হয় এবং অন্তরসমূহের ভয় প্রবল হয়, যেমনটি আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীতে রয়েছে: {আর সে যদি আমার নামে কোনো কথা বানিয়ে বলত, তবে আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরতাম, তারপর অবশ্যই তার জীবনধমনী কেটে ফেলতাম} - আয়াত। তিনি সূরা আন-নাজম-এ শয়তান তাঁর আকাঙ্ক্ষায় যা নিক্ষেপ করেছিল তার মাধ্যমেও পরীক্ষিত হয়েছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দোষিতা অবতীর্ণ করলেন এবং তাঁকে এর দায়ভার থেকে নিরাপত্তা দান করলেন এই বাণীর মাধ্যমে: {আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল কিংবা নবী প্রেরণ করিনি, যে যখনই কোনো আকাঙ্ক্ষা করেছে, শয়তান তার সেই আকাঙ্ক্ষায় (কিছু) নিক্ষেপ করেছে} - আয়াত। যে বিষয়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা এত মহান, তার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে প্রস্তুতি গ্রহণ করা, মনের সমস্ত শক্তি উজার করে দেওয়া, চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো এবং এর পথে প্রাপ্ত সকল ক্লান্তি ও কষ্টকে তুচ্ছ জ্ঞান করাই সমীচীন। আল্লাহই ভালো জানেন, এটাই হলো এর সঠিক ব্যাখ্যা ও অর্থ। এটি সেই সব মূর্খদের দাবির মতো নয় যাদের ইলমের ক্ষেত্রে কোনো গভীরতা নেই এবং দ্বীনের ব্যাপারে কোনো অন্তর্দৃষ্টি নেই, যারা এমন সব ভিত্তিহীন ও অসার কথা বলে যার কোনো মূল নেই এবং যাতে কোনো ফায়দা নেই।
(খণ্ড: ١) আলামুল হাদীস (শারহু সহীহিল বুখারী) (পৃষ্ঠা: ١٢٥)
‌‌(3) [باب]

4/ 3 - قال أبو عبد الله: حدثني يحيى بن بكير قال: حدثنا الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عروة عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، وكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه الخلاء وكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه وهو التعبد الليالي ذوات العدد حتى جاءه الحق وهو فيه، فجاءه الملك فقال: اقرأ. قال: ما أنا بقارئ. قال: فأخذني فغطني حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ فقلت: ما أنا بقارئ. إلى أن قال: فأخذني فغطني الثالثة. ثم أرسلني فقال: {اقرأ باسم ربك الذي خلق خلق الإنسان من علق اقرأ وربك الأكرم} فرجع بها
(৩) [অধ্যায়]

৪/ ৩ - আবু আব্দুল্লাহ বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেত। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল এবং তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন। সেখানে তিনি টানা বেশ কয়েক রাত 'তাহান্নুস' অর্থাৎ ইবাদত করতেন, যতক্ষণ না সেই অবস্থায় তাঁর কাছে সত্যের (ওহীর) আগমন ঘটল। অতঃপর তাঁর কাছে ফেরেশতা এসে বললেন: 'পাঠ করুন'। তিনি বললেন: 'আমি পাঠকারী নই'। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "অতঃপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলেন যে, তা আমার কষ্টের শেষ সীমায় পৌঁছে গেল। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: 'পাঠ করুন'। আমি বললাম: 'আমি পাঠকারী নই'।" এভাবে তিনি বললেন: "অতঃপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: {পাঠ করুন আপনার সেই রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত}।" অতঃপর তিনি তা নিয়ে ফিরে এলেন।