(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: -)
السلفيون وقضية فلسطين في واقعنا المعاصر   (مشهور آل سلمان)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: السلفيون وقضية فلسطين في واقعنا المعاصر وفيه (حكم عمليات الاقتحام بالنفس)

المؤلف: أبو عبيدة مشهور بن حسن بن محمود آل سلمان

الناشر: مركز بيت المقدس للدراسات التوثيقية، فلسطين

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 126

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সালাফিগণ এবং আমাদের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন ইস্যু   (মাশহুর আল সালমান)

বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ


গ্রন্থ: সালাফিগণ এবং আমাদের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন ইস্যু এবং এতে রয়েছে (আত্মঘাতী অভিযানের বিধান (حكم))

লেখক: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান বিন মাহমুদ আল সালমান

প্রকাশক: মারকাজ বাইতুল মাকদিস আদ-দিরাসাত আত-তাওসিকিয়্যাহ, ফিলিস্তিন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إنّ الحمد لله؛ نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلّ له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له.

وأشهد أنّ محمّداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا الله حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُم الّذِي خَلَقَكُم مِن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً واتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَام إِنَّ الله كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} .

أما بعد:

فإن هذه الرسالة (*) نادرة وهامة، وذلك من وجوه عديدة:

الوجه الأول: أنها من تأليف المجاهد الفلسطيني (1)

محمد عز الدين القسام

--------------------------------------------

(1) أصله سوريّ، انظر ترجمته الآتية (ص 114-124) .

 

ذكر الأستاذ الدكتور شاكر الفحام -عضو المجلس الاستشاري لهيئة «الموسوعة الفلسطينية» ورئيس مجمع اللغة العربية في دمشق- أنَّ مسؤولين في منظمة التحرير الفلسطينية عابوا على «الموسوعة الفلسطينية» ، أنها جعلت (عزّ الدين القسام) من مواد «الموسوعة» ، وقالوا: إن عزّ الدين القسام، رجلٌ من سورية، وليس له مكان في «الموسوعة الفلسطينية» ؛= =لأنها مخصصة للقطر الفلسطيني …

ولكن الحقيقة التي أخفوها، أنّهم كرهوا وجودَ القسام في «الموسوعة» ؛ لأنهم يخشون أن يظهرَ تاريخُهم خالياً من الأمجاد إذا قيس بتاريخ عزّ الدين القسام!!

و (فلسطين) بقيت تابعة حتى نهاية العصر التركي لولاية (الشام) ، ولم يكن (فلسطين) موجوداً في التقسيمات الإدارية، ولم تكن النزاعات العصبية والحميات القبلية مشتدّة، إذ كانت فلسطين -آنذاك- تشغل بال المسلمين جميعاً، ومنهم القسام، ولم يهاجر رحمه الله إلى (حيفا) إلا للجهاد، ولم يكن معه أحد من قبيلته -آنذاك- إلا ابنا أخيه -رحم الله الجميع-.

 

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: يعني رسالة "النقد والبيان" وتجدها مستقلة ضمن كتب هذا البرنامج "المكتبة الشاملة"
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট অধিকার প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}

অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই পুস্তিকাটি (*) বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ, আর তা বেশ কিছু কারণে:

প্রথম কারণ: এটি ফিলিস্তিনি মুজাহিদ (১)-এর রচনা:

মুহাম্মদ ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম

--------------------------------------------

(1) মূলত তিনি সিরীয় বংশোদ্ভূত, তাঁর জীবনী (ترجمة) সামনে দ্রষ্টব্য (পৃষ্ঠা ১১৪-১২৪)।

 

অধ্যাপক ডক্টর শাকির আল-ফাহ্হাম—'ফিলিস্তিনি বিশ্বকোষ' (আল-মাওসুআহ আল-ফিলাস্তিনিয়্যাহ)-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমির সভাপতি—উল্লেখ করেছেন যে, ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার কিছু কর্মকর্তা 'ফিলিস্তিনি বিশ্বকোষ'-এ (ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম)-কে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে বিশ্বকোষের সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন: ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম সিরিয়ার একজন ব্যক্তি, 'ফিলিস্তিনি বিশ্বকোষ'-এ তাঁর কোনো স্থান নেই; কারণ এটি কেবল ফিলিস্তিন অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত …

কিন্তু সত্য যা তারা গোপন করেছেন তা হলো, তারা বিশ্বকোষে আল-কাসসামের অস্তিত্বকে অপছন্দ করেছেন; কারণ তারা আশঙ্কা করেন যে, ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসামের ইতিহাসের সাথে তুলনা করলে তাদের নিজেদের ইতিহাস গৌরবহীন ও শূন্য মনে হবে!!

আর তুর্কি শাসনামলের শেষ পর্যন্ত (ফিলিস্তিন) মূলত (শাম) প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রশাসনিক বিভাজনে (ফিলিস্তিন) স্বতন্ত্র কিছু ছিল না এবং আঞ্চলিক বা গোত্রীয় গোঁড়ামি তখন তীব্র ছিল না। তৎকালীন সময়ে ফিলিস্তিন সকল মুসলিমের হৃদয়ে ছিল এবং আল-কাসসাম ছিলেন তাঁদেরই একজন। তিনি (হাইফা)-তে কেবলমাত্র জিহাদের উদ্দেশ্যেই হিজরত করেছিলেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। সে সময় তাঁর দুই ভাতিজা ছাড়া তাঁর গোত্রের অন্য কেউ তাঁর সাথে ছিল না—আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

(*) মাকতাবাতুশ শামেলা সংস্করণের সংকলক বলেন: অর্থাৎ "আন-নাকদ ওয়াল-বায়ান" পুস্তিকাটি; এটি এই প্রোগ্রামের "মাকতাবাতুশ শামেলা"-র বইগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে পাবেন।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৬)
الوجه الثاني: أنها تُثْبتُ شيئاً مجهولاً عند مترجمي (القسام) ، لم أر من ركز عليه منهم؛ وهو: أنه (سَلَفي) ، ولا سيما في منهجه واستدلاله، وكل سطر فيها يدل على ذلك، وهذه مقتطفات من هذه الرسالة؛ تدل على ذلك:

قال المؤلفان في الرد على خزيران وشيخه الجزار بعد كلام:

«وكُنّا نودُّ أن نرشدَ الأستاذ الجزَّار وتلميذَه إلى الاستفادة من هذا الكتاب -يريدان «الاعتصام» (1) للشاطبي- الذي لا ندّ له في بابه، ولكنا خشينا أن يرميا مؤلِّفَه بالنَّزْعة (الوهابيَّة) (2) -التي هي حجة العاجز لترويج الباطل، وإضاعة الدين- التي رميانا بها، وإنْ تقدَّمَ زمن ذلك الإمام الشاطبي العظيم على زمن محمد بن عبد الوهاب ما يقرب من (500 سنة) !! لأنه لا يبعد أن يعلّلا ذلك بأنه من باب أخذ المتقدِّم عن المتأخِّر!!» (3) .

وأشارا إلى ذلك -قبل-، فقالا عن خزيران (المردود عليه) :

--------------------------------------------

(1) نشرته عن نسختين خطيتين، لم ينشر الكتاب -قبل- عنهما، والفروق كبيرة بين نشرتنا والطبعات السابقة، فضلاً عن التخريج والتوثيق والتعليق والفهرسة، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

(2) انظر -لزاماً- ما كتبناه بشأن هذه الكلمة في التعليق على (ص 61-63) .

(3) «النقد والبيان» (ص 61-62) .
দ্বিতীয় দিক: এটি (আল-কাসসাম)-এর জীবনীকারদের নিকট এক অজানা বিষয় সাব্যস্ত করে, যা তাদের কাউকেই এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে দেখিনি; আর তা হলো: তিনি ছিলেন ‘সালাফি’ (سلفي), বিশেষ করে তাঁর কর্মপন্থা (মানহাজ) ও দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে। এর প্রতিটি ছত্রই সে বিষয়ের প্রমাণ দেয়। এই পুস্তিকা থেকে নেওয়া এই উদ্ধৃতিগুলো এর প্রমাণ বহন করে:

খুযাইরান এবং তাঁর শিক্ষক আল-জাযযার-এর খণ্ডন করতে গিয়ে এক পর্যায়ে লেখকদ্বয় বলেন:

«আমরা উস্তাদ আল-জাযযার ও তাঁর ছাত্রকে এই কিতাবটি—তাঁরা শাতবি-র ‘আল-ইতিসাম’ (১) উদ্দেশ্য করেছেন—থেকে উপকৃত হওয়ার পথ দেখাতে চেয়েছিলাম, যার সমকক্ষ এ বিষয়ে দ্বিতীয়টি নেই। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা হলো যে, তাঁরা এর লেখককে ‘ওয়াহ্হাবি’ (وهابية) মতাদর্শের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারেন—যা মূলত বাতিলকে প্রচার এবং দ্বীনকে নষ্ট করার জন্য অক্ষমদের একটি খোঁড়া যুক্তি—যে অপবাদ তাঁরা আমাদের প্রতিও দিয়েছেন। অথচ মহান ইমাম শাতবি-র সময়কাল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাবের সময়ের প্রায় (৫০০ বছর) পূর্বের!! কেননা এটা বিচিত্র নয় যে, তারা এই বলে যুক্তি দেবে যে, এটি পরবর্তীদের থেকে পূর্ববর্তীদের জ্ঞান অর্জনের অন্তর্ভুক্ত!!» (৩)।

তাঁরা ইতিপূর্বেও সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁরা খুযাইরান (যাঁর ভুল খণ্ডন করা হয়েছে) (المردود عليه) সম্পর্কে বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) আমি এটি দুটি পাণ্ডুলিপি থেকে প্রকাশ করেছি, যা থেকে ইতোপূর্বে বইটি প্রকাশিত হয়নি। আমাদের সংস্করণ এবং পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া হাদিস যাচাইকরণ (تخريج), বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق), টীকা প্রদান ও সূচিপত্র তো রয়েছেই। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

(২) অবশ্যই দেখুন যা আমরা এই শব্দের ব্যাপারে (৬১-৬৩ পৃষ্ঠার) টীকায় লিখেছি।

(৩) ‘আন-নাক্বদ ওয়াল বায়ান’ (পৃষ্ঠা ৬১-৬২)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৭)
«ورمانا - عفا الله عنه- بالزَّيغ والضلال (1) ، لاتّباعنا السنة الموروثة عن النبي صلى الله عليه وسلم، في الأقوال والأفعال … » (2) .

وقالا في الرد على قول خزيران: «ما عدا مَن أزاغ اللهُ قلوبَهم من الاقتصار على أصل المنقول عن النبي صلى الله عليه وسلم» ما نصه:

«يعلم أنَّ ذلك الدَّعي في العلم يعدُّ العملَ بسنَّة الرسول صلى الله عليه وسلم زيغاً، والعياذ بالله -تعالى-» (3) .

قال أبو عبيدة: الأصل: أن لا نخرج عن ظاهر النصوص إلا بقرائن قويّة، إذ دلالة الظاهر قويّة، نقل ابن حجر (4)

في ترجمة أبي حيان الأندلسي، قوله:

--------------------------------------------

(1) المراد: رميهما بـ (النزعة الوهابية) كما في النص السابق، وقد أفصح عن ذلك الشيخ محمد جميل الشطي في كلمته المنشورة في آخر الرسالة (ص 201) بقوله: «والمصيبة كل المصيبة: أنه متى قام نابغةٌ من علمائنا يخالف مثل هؤلاء، داعياً إلى الدِّين الصحيح؛ مثل: صاحبي هذه الرسالة: الأستاذين الشيخ كامل القصاب، والشيخ عز الدين القسام … جافَوْه، وناوؤوه، ووصموه باسم الوهابية، وهذا -ولا شك- أنه من علائم الجهل والحسد» .

(2) «النقد والبيان» (ص 5) .

(3) «النقد والبيان» (ص 90) .

(4) في «الدرر الكامنة» (4/304) ، وعنه صديق حسن خان في «التاج المكلل» (ص 348) ، وذكر هذا الشوكانيُّ في «البدر الطالع» (2/290) ، ثم قال:

«لقد صدق أبو حيان في مقاله، فمذهبُ الظاهر هو أوَّلُ الفِكر وآخرُ العمل عند من مُنِح الإنصاف، ولم يَرِد على فطرته ما يُغيّرها عن أصلها، وليس هو مذهبُ داودَ الظاهريِّ وأتباعه فقط، بل هو مذهب أكابرِ العلماء المتقيدين بنصوص الشرع من عصر الصحابة إلى الآن، وداود واحد منهم، وإنما اشتُهرَ عنه الجمودُ في مسائِلَ وقف فيها على الظاهر، حيث لا ينبغي الوقوف، وأهمل من أنواع القياس ما لا ينبغي لمنصفٍ إهماله.

 

وبالجملة؛ فمذهبُ الظاهِر: هو العملُ بظاهِرِ الكتاب والسُّنَّةِ بجميع الدّلالات، وطرح التحويل على محض الرأي الذي لا يرجِعُ إليهما بوجهٍ من وجوه الدلالة.

وأنت إذا أمعنت النَّظَرَ في مقالات أكابر المجتهدين المشتغلين بالأدلة؛ وجدتها من= =مذهب الظاهر بعينه، بل إذا رُزِقتَ الإنصاف، وعرفتَ العلوم الاجتهادية كما ينبغي، ونظرت في علوم الكتاب والسنة حقَّ النَّظر كنت ظاهريّاً؛ أي: عاملاً بظاهر الشرع منسوباً إليه، لا إلى داود الظاهري، فإن نسبتك ونسبته إلى الظاهر متفقةٌ، وهذه النسبة هي مساويةٌ للنسبة إلى الإيمان والإسلام، وإلى خاتم الرُّسُلِ -عليه أفضل الصلوات والتسليم-، وإلى مذهب الظاهر بالمعنى الذي أوضحناه. أشار ابن حزم رحمه الله بقوله: وما أنا إلا ظاهريٌّ، وإنني على ما بدا حتى يقوم دليل» ا. هـ. وانظر: «إعلام الموقعين» (5/180 - بتحقيقي) ، «العلم» (ص 180-181) للشيخ العلامة ابن عثيمين رحمه الله.
«এবং তিনি আমাদের প্রতি—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতার অভিযোগ এনেছেন (১), কথা ও কাজের ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সুন্নাহ অনুসরণের কারণে … » (২)।

খুযাইরানের উক্তির জবাবে তাঁরা দুজনে বলেছেন: «যাদের অন্তরকে আল্লাহ বিচ্যুত করেছেন, তারা ব্যতীত যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত মূল বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন», যার ভাষ্য নিম্নরূপ:

«এটি জ্ঞাত যে, জ্ঞানের সেই দাবিদার ব্যক্তি রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করাকে বিচ্যুতি বলে গণ্য করেন, আল্লাহর কাছে তা থেকে আশ্রয় চাই» (৩)।

আবু উবাইদাহ বলেছেন: মূলনীতি হলো—শক্তিশালী কোনো আলামত (قرينة) ব্যতীত আমরা দলিলের জাহের বা বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) থেকে বিচ্যুত হব না, কেননা জাহের বা বাহ্যিক অর্থের তাৎপর্য (دلالة) অত্যন্ত শক্তিশালী। ইবনে হাজার (৪) বর্ণনা করেছেন

আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসীর জীবনীতে (ترجمة), তাঁর উক্তিটি হলো:

--------------------------------------------

(১) উদ্দেশ্য হলো: তাঁদের দুজনের প্রতি 'ওয়াহাবি প্রবণতার' অভিযোগ আনা, যেমনটি পূর্ববর্তী পাঠে রয়েছে। শেখ মুহাম্মদ জামিল আল-শাত্তি রিসালাহর শেষে (পৃ. ২০১) প্রকাশিত তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন এই বলে: «বিপদ তো পুরো বিপদই যখন আমাদের আলেমদের মধ্য থেকে কোনো প্রতিভাধর ব্যক্তি এদের বিরোধিতা করে সঠিক দ্বীনের দিকে আহ্বান জানান; যেমন এই রিসালাহর দুই লেখক: উস্তাদ শেখ কামিল আল-কাসসাব এবং শেখ ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম … তখন তাঁরা তাঁকে পরিহার করে, তাঁর বিরোধিতা করে এবং তাঁকে ওয়াহাবিবাদ নামে অভিযুক্ত করে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি অজ্ঞতা ও হিংসার অন্যতম লক্ষণ»।

(২) আন-নাকদ ওয়াল-বায়ান (পৃ. ৫)।

(৩) আন-নাকদ ওয়াল-বায়ান (পৃ. ৯০)।

(৪) আদ-দুরার আল-কামিনাহ গ্রন্থে (৪/৩০৪), এবং তাঁর থেকে সিদ্দীক হাসান খান আত-তাজ আল-মুকাল্লাল গ্রন্থে (পৃ. ৩৪৮), আর আশ-শাওকানি এটি আল-বদর আত-তালি গ্রন্থে (২/২৯০) উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন:

«আবু হাইয়ান তাঁর বক্তব্যে সত্যই বলেছেন। যাহেরি মাজহাব (مذهب الظاهر) হলো সেই ব্যক্তির জন্য চিন্তার শুরু এবং কর্মের শেষ যাকে ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা দান করা হয়েছে এবং যার ফিতরাত বা স্বভাবের ওপর এমন কিছু আপতিত হয়নি যা তাকে তার মূল প্রকৃতি থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আর এটি কেবল দাউদ যাহেরি ও তাঁর অনুসারীদেরই মাজহাব নয়; বরং এটি সাহাবীগণের যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শরীয়তের দলিলসমূহে (نصوص) আবদ্ধ থাকা বড় বড় আলেমদের মাজহাব। দাউদ তাঁদেরই একজন। তবে তিনি কিছু নির্দিষ্ট মাসআলায় বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর অনড় থাকার কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন যেখানে অনড় থাকা উচিত নয় এবং তিনি এমন কিছু কিয়াস (قياس) বা অনুমান ত্যাগ করেছেন যা কোনো ইনসাফকারী ব্যক্তির জন্য ত্যাগ করা উচিত নয়।

 

সংক্ষেপে: যাহেরি মাজহাব হলো কুরআন ও সুন্নাহর জাহের বা বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) অনুযায়ী আমল করা, এর যাবতীয় তাৎপর্যসহ (دلالات), এবং নিছক রা’য় (رأي) বা ব্যক্তিগত মতামতের ওপর নির্ভরতা বর্জন করা যা কোনোভাবেই এই দুই উৎসের তাৎপর্যের দিকে ফিরে যায় না।

আপনি যদি দলিল নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত বড় বড় মুজতাহিদদের (مجتهدين) বক্তব্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে সেগুলোকে হুবহু যাহেরি মাজহাবেরই অন্তর্ভুক্ত পাবেন। বরং যদি আপনাকে ইনসাফ দান করা হয় এবং আপনি ইজতিহাদ সংক্রান্ত জ্ঞানসমূহ (العلوم الاجتهادية) যথাযথভাবে জানতে পারেন এবং কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানসমূহে সঠিক দৃষ্টিপাত করেন, তবে আপনি নিজেই একজন যাহেরি হবেন; অর্থাৎ শরীয়তের জাহের বা বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) অনুযায়ী আমলকারী হিসেবে সেই দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবেন, দাউদ যাহেরির দিকে নয়। কারণ জাহের বা বাহ্যিক অর্থের প্রতি আপনার ও তাঁর সম্বন্ধ অভিন্ন। আর এই সম্বন্ধটি ঈমান ও ইসলামের প্রতি সম্বন্ধের সমান এবং রাসুলদের মোহর—তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—এর প্রতি এবং আমাদের ব্যাখ্যাত অর্থে যাহেরি মাজহাবের প্রতি সম্বন্ধের সমান। ইবনে হাজম (রহ.) তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: ‘আমি কেবল একজন যাহেরি, আর আমি প্রকাশ্য বিষয়ের ওপরই অটল যতক্ষণ না কোনো দলিল (دليل) প্রতিষ্ঠিত হয়’ সমাপ্ত। দেখুন: ইলামুল মুওয়াক্কিঈন (৫/১৮০ - আমার তাহকিককৃত), শেখ আল্লামা ইবনে উসাইমীন (রহ.)-এর আল-ইলম (পৃ. ১৮০-১৮১)»।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৮)
«محال أن يرجع عن مذهب الظاهر من عَلق بذهنه» .

وقالا - أيضاً-: «ونحن من أشد الناس تمسّكاً به- أي: بخطاب النبي صلى الله عليه وسلم … وأكبر دليل على تمسّكنا بسنَّة نبيِّنا، وسنة الشَّيخين من بعده: نهينا الناس عن مخالفة سنَّة الخلفاء الراشدين في تشييع الجنازة برفع الصَّوت» (1) .

وقالا: «فهل يرضى أهلُ الاختصاص أن يتركوا سنّة الرسول صلى الله عليه وسلم، ويتركوا ما كان عليه الصحابة والأئمة المجتهدون، وما كان عليه السلفُ الصالح، ثم يتبعوا بدعةً … » (2) .

وذكرا -أيضاً- ضرورة الاستدلال بالصحيح من قوله صلى الله عليه وسلم، ونبذ الضعيف، والواهي، والموضوع (3) .

وقد شهد بمضمون (سلفيّته) جمعٌ ممن قرظ هذه الرسالة، كما تراه في آخرها

وأشار إلى ذلك جمع (4) ، وتأثر بذلك تلاميذه، فإنهم انطبعوا بطابع التربية

--------------------------------------------

(1) «النقد والبيان» (ص 90) .

(2) «النقد والبيان» (ص 94) .

(3) انظر «النقد والبيان» (ص 142) .

(4) خلافاً لما في «الأعلام الشرقية» (1/349) عنه: «شيخ الزاوية الشاذلية في جَبَلة الأدهمية من أعمال اللاذقية في شمالي سوريا» !

= … بل اشتط كثير من الباحثين من العلمانيين، وغيرهم من الثوريين، لما راحوا يقررون «أن القسام كان يهدف إلى بناء دولة (اشتراكية) » ! كما في «تاريخ الأقطار العربية الحديث» (ص 366) للوتسكي، وفيه -أيضاً- (ص 369) : «إن جوهر العلاقة بينه وبين أتباعه كانت سياسية لا دينية» !! وكل هذا كذب وافتراء عليه، وتغييب لسلفيّة القسام واعتقاده السليم، الذي عمل دهراً على ترسيخه في أبناء شعب فلسطين، وما كتابنا هذا إلا ثمرة ودليل -في آن واحد- على ذلك.
«যাঁর মস্তিস্কে জাহিরি মাযহাব গেঁথে গিয়েছে, তাঁর পক্ষে তা থেকে ফিরে আসা অসম্ভব।» .

তারা উভয়ে আরও বলেছেন: «আমরা তাঁর প্রতি—অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর প্রতি—সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত … এবং আমাদের নবীর সুন্নাহ এবং তাঁর পরবর্তী শাইখাইনের (আবু বকর ও উমর) সুন্নাহর প্রতি আমাদের অবিচল আনুগত্যের বড় প্রমাণ হলো: আমরা জানাযার মিছিলে উচ্চস্বরে আওয়াজ করে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর বিরোধিতা করতে মানুষকে নিষেধ করেছি» (১) .

তারা বলেছেন: «বিশেষজ্ঞগণ কি এতে সন্তুষ্ট হবেন যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ বর্জন করবেন এবং সাহাবীগণ, মুজতাহিদ ইমামগণ ও সালাফে সালেহীন যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা ত্যাগ করবেন, আর এরপর কোনো বিদআত (بدعة) … এর অনুসরণ করবেন?» (২) .

তারা আরও উল্লেখ করেছেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী থেকে সহীহ (صحيح) হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এবং দুর্বল (ضعيف), অত্যন্ত দুর্বল (واهي) ও বানোয়াট (موضوع) হাদিস বর্জনের কথা (৩) .

এবং যারা এই রিসালাহটির প্রশংসা করেছেন, তাঁদের একটি বড় দল তাঁর 'সালাফিয়্যাত' বা সালাফি আদর্শের সাক্ষ্য দিয়েছেন, যা আপনি এর শেষে দেখতে পাবেন।

একদল আলিম এ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন (৪), এবং তাঁর ছাত্ররা এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, কেননা তারা সেই আদর্শিক লালন-পালনের ছাপে গড়ে উঠেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) «আন-নাকদ ওয়াল বায়ান» (পৃষ্ঠা ৯০) .

(২) «আন-নাকদ ওয়াল বায়ান» (পৃষ্ঠা ৯৪) .

(৩) দেখুন «আন-নাকদ ওয়াল বায়ান» (পৃষ্ঠা ১৪২) .

(৪) «আল-আ’লাম আশ-শারকিয়্যাহ» (১/৩৪৯) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার বিপরীতে: «সিরিয়ার উত্তরে লাতাকিয়ার অন্তর্গত জাবালাতুল আদহামিয়া অঞ্চলের শাযিলী খানকাহর শায়খ»!

= … বরং অনেক সেক্যুলার গবেষক এবং অন্যান্য বিপ্লবীরা অতিশয়োক্তি করেছেন যখন তারা দাবি করতে শুরু করেছেন যে, «আল-কাসসাম একটি (সমাজতান্ত্রিক) রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন»! যেমনটি লুটস্কি-র «তারিখুল আকতারিল আরাবিয়্যাহ আল-হাদিস» (পৃষ্ঠা ৩৬৬) গ্রন্থে রয়েছে এবং তাতে আরও আছে (পৃষ্ঠা ৩৬৯): «নিশ্চয়ই তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে সম্পর্কের মূল ভিত্তি ছিল রাজনৈতিক, ধর্মীয় নয়»!! অথচ এই সবকিছুই তাঁর প্রতি মিথ্যা অপবাদ এবং আল-কাসসামের সালাফি আদর্শ ও তাঁর সঠিক আকিদাহ (اعتقاد)-কে আড়াল করার অপপ্রয়াস, যা তিনি ফিলিস্তিনের জনগণের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য দীর্ঘকাল কাজ করেছেন। আমাদের এই বইটি একই সাথে সেই সত্যের ফল ও প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৯)
الإيمانية، سلوكاً وأقوالاً، وإن العقيدة السلفية الصحيحة، والثقافة الإسلامية المقتبسة من القرآن والسنة أثرت فيهم تأثيراً بالغاً، قال أحمد الشقيري (1) واصفاً أصحاب القسام وتلاميذه: «لم تجر على ألسنتهم تعابير (الكفاح المسلح) و (الحركة الوطنية) و (الاستعمار والصهيونية) ، فقد كانت تعابيرهم -على بساطتها (2) - تنبع من ينبوع أروع وأرفع، هو «الإيمان والجهاد في سبيل الله» ، لقد كانوا قوماً مؤمنين، صنعهم الإيمان، فصفت نفوسهم، وتآلفت إراداتهم، وتعاظمت عزائمهم، وأحسوا أن حبلهم مع الله قد أصبح موصولاً، وأن الباب بينهم وبينه قد بات مفتوحاً» (3) .

وذكرت الكتب التي ترجمت له: أن همَّ القسام الأول: تخليص الدين من الشوائب، وإخلاص العقيدة لله وحده؛ لأنّ العقيدة الخالصة لله هي مصدر القوة، ففي سبيل إخلاص العقيدة لله وحده، وطلب العون منه، حارب القسام حج النساء إلى (مقام الخضر) (4) ، على سفوح جبال الكرمل، لذبح الأضاحي

--------------------------------------------

(1) هو أحمد أسعد الشقيري، من أعلام فلسطين البارزين، كاتب، محام، سياسي، دبلوماسي، أول رئيس لمنظمة التحرير الفلسطينية، توفي سنة 1400هـ - 1980م، ترجمته في «أعلام فلسطين من القرن الأول حتى الخامس عشر» (1/147-157) ، «معجم أعلام المورد» (260) .

(2) انظر -لزاماً- خطأ استخدام هذه الكلمة فيما علقناه على (ص 26) .

(3) «أربعون عاماً» (ص 145) .

(4) مقام الخضر: يقع عند أقصى حدّ حيفا إلى الغرب من سفح جبل الكرمل، = =وهو بناءٌ قديم وسط حديقة، كان يضمُّ مسجداً فيه مغارة، تضم كتابةً يونانيةً، يزعم بعض الناس أنه مقام الملاك جبريل، ويعتقد آخرون أنه مدرسة الأنبياء!!
ঈমানি চেতনা, যা আচরণ ও কথায় প্রতিফলিত হতো; এবং নিঃসন্দেহে সঠিক (صحيح) সালাফি আকিদা এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরিত ইসলামি সংস্কৃতি তাঁদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আহমদ আল-শুকায়রি (১) কাসসামের সঙ্গী ও তাঁর শিষ্যদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: «তাদের মুখে 'সশস্ত্র সংগ্রাম', 'জাতীয়তাবাদী আন্দোলন' কিংবা 'উপনিবেশবাদ ও জায়নবাদ'—এজাতীয় পরিভাষার চল ছিল না। বরং তাদের শব্দচয়ন—তার সরলতা সত্ত্বেও (২)—এক অতি চমৎকার ও উন্নত উৎস থেকে উৎসারিত হতো, আর তা হলো: 'আল্লাহর পথে ঈমান ও জিহাদ'। তাঁরা ছিলেন এক মুমিন জনগোষ্ঠী, যাঁদের ঈমানই গড়ে তুলেছিল। ফলে তাঁদের নফস বা আত্মা হয়েছিল নির্মল, তাঁদের সংকল্পগুলো ছিল সুসংহত, তাঁদের দৃঢ়তা হয়েছিল সুমহান; আর তাঁরা অনুভব করেছিলেন যে, আল্লাহর সাথে তাঁদের বন্ধন অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেছে এবং তাঁর ও তাঁদের মধ্যকার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত হয়ে গেছে» (৩)।

তাঁর জীবনী (ترجمة) বর্ণনা করা হয়েছে এমন বইগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে: আল-কাসসামের প্রধান চিন্তা ছিল দ্বীনকে পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করা এবং আকিদাকে একমাত্র আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ করা; কারণ আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আকিদাই হলো শক্তির মূল উৎস। আকিদাকে একমাত্র আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ করতে এবং তাঁরই নিকট সাহায্য কামনার লক্ষ্যে আল-কাসসাম কারমেল পর্বতমালায় পশু জবাই করার উদ্দেশ্যে নারীদের ‘মাকামে খিজির’ (৪) পানে যাওয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আহমদ আসআদ আল-শুকায়রি, ফিলিস্তিনের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, লেখক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক এবং ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার প্রথম চেয়ারম্যান। তিনি ১৪০০ হিজরি (১৯Check ৮০ খ্রিষ্টাব্দ) সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী (ترجمة) পাওয়া যাবে «আলামু ফিলাস্তিন মিনাল কারনীল আউয়াল হাত্তাল খামিসা আশার» (১/১৪৭-১৫৭) এবং «মুজামু আলামিল মাওরিদ» (২৬০) গ্রন্থে।

(২) ২৬ নং পৃষ্ঠার টীকায় এই শব্দ ব্যবহারের ভুল সম্পর্কে অবশ্যই লক্ষ্য করুন।

(৩) «আরবাউনা আমান» (পৃ. ১৪৫)।

(৪) মাকামে খিজির: এটি হাইফার শেষ সীমান্তে কারমেল পর্বতের পশ্চিম পাদদেশে অবস্থিত। এটি একটি প্রাচীন দালান যা বাগানের মাঝখানে অবস্থিত, যেখানে একটি গুহাসহ মসজিদ ছিল। সেখানে গ্রিক লিপি খোদাই করা আছে। কিছু লোক একে ফেরেশতা জিবরাইলের মাকাম বলে দাবি করে, আবার অন্যরা মনে করে এটি নবীদের মাদরাসা!!
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১০)
شكراً على شفاء من مرض أو نجاح في مدرسة، وكنّ -بعد تقديم الأضحية- يرقصن حول المقام الموهوم، فدعا القسامُ الناسَ إلى أن يتوجَّهوا بنذورهم وأضاحيهم إلى الله -تعالى- فقط؛ لأنه -وحده- القادر على النفع والضرّ، وأما أصحاب القبور فلا يملكون لأنفسهم نفعاً ولا ضراً، فكيف ينفعون الآخرين؟!

وفي سبيل الاستفادة من السيرة النبويّة، أنكر القسامُ قراءةَ المولد النبوي بالغناء والتمطيط، والمبالغة بتوقيعه على ألحان الموسيقا، والاكتفاء بسيرة الولادة فقط، مع ما أدخل فيها من الأمور التي لم تثبت، ودعا إلى العناية بالنبي صلى الله عليه وسلم أحواله وشمائله، والسنّة العملية من سيرته؛ لتكون نبراساً يستضيء به المسلمون (1) .

وبالجملة؛ فإن العقيدة السلفية الصحيحة، والمنهج السلفي في التلقي والاستدلال، هو الذي كان عليه القسام ورفيقه، وهذا ظاهر للعيان في كتابه هذا، وفي دعوته ونشاطه وتلاميذه، والله الموفق.

 

‌‌(السلفيون وقضية فلسطين)

يؤمن السلفيون بأن قضية فلسطين من القضايا التي يجب العناية بها، وأن تحريرها من الأمور الشرعية الواجبة، وذلك لما لها من منزلة في الشرع الحنيف، وقد تتابع السلفيون على بيان ما لها من حقوق، وأبدوا -كغيرهم (2) - توجّعاً

--------------------------------------------

(1) «عز الدين القسام شيخ المجاهدين في فلسطين» (172-173) لمحمد حسن شُرَّاب.

(2) أعني: من المسلمين وغيرهم، والمسلمين على جميع شاراتهم وأحزابهم، ولا سيما الحزبيين الذين اتكأوا على (قضية فلسطين) ، واتخذوها ذريعة لتكثير السواد، ودغدغة= = (العواطف) لركوب (العواصف) ، دون (ثمرة) حقيقية بميزان الشرع، وقواعد أهل العلم، اللهم إلا التعدي على حرمات العلماء، واقتناص الفرص في المناسبات للحط من قدرهم، لتسلم لهم رموزهم، وليراهنوا على (الجماهير) ، وليصلوا من خلالهم إلى (أهدافهم) المرحلية؛ الأرضية (منها) قبل التربوية، والله غالب على أمره، وهو المحيط بالنوايا والخفايا.
রোগব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ বা বিদ্যালয়ে সাফল্যের জন্য শুকরিয়া স্বরূপ তারা—কুরবানি পেশ করার পর—কাল্পনিক মাজারের চারপাশে নৃত্য করত। এমতাবস্থায় আল-কাসসাম লোকজনকে তাদের মানত ও কুরবানি কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদন করার আহ্বান জানান; কেননা একমাত্র তিনিই কল্যাণ ও অকল্যাণ সাধনে সক্ষম। পক্ষান্তরে কবরবাসীরা তো নিজেদের জন্যও কোনো উপকার বা অপকারের মালিক নয়, তবে তারা অন্যের উপকার কীভাবে করবে?!

নবীজির সীরাত থেকে শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আল-কাসসাম গান গেয়ে ও সুর টেনে টেনে মিলাদুন্নবী পাঠ করা, সংগীতের সুরে তা অতিরঞ্জিত করা এবং কেবল জন্মবৃত্তান্তের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করেন। বিশেষ করে এতে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা প্রমাণিত নয় (لم تثبت)। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থা, তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর সীরাত থেকে ব্যবহারিক সুন্নাহর প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান; যাতে তা মুসলমানদের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয় (১)।

সারসংক্ষেপ হলো: সঠিক সালাফি আকিদাহ এবং জ্ঞান অর্জন ও দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে সালাফি মানহাজই ছিল আল-কাসসাম ও তাঁর সঙ্গীর পথ। তাঁর এই কিতাবে এবং তাঁর দাওয়াত, কর্মতৎপরতা ও ছাত্রদের মাঝে এটি সুস্পষ্ট। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

‌‌(সালাফিগণ ও ফিলিস্তিন ইস্যু)

সালাফিগণ বিশ্বাস করেন যে, ফিলিস্তিন ইস্যু এমন একটি বিষয় যার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক এবং একে মুক্ত করা একটি শরয়ী ওয়াজিব দায়িত্ব। কেননা পবিত্র শরিয়তে এর সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে। সালাফিগণ ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনের অধিকারসমূহ বর্ণনা করে আসছেন এবং অন্যদের মতো (২) তাঁরাও ব্যথিত হয়েছেন—

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ হাসান শুররাব রচিত ‘ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম শাইখুল মুজাহিদিন ফি ফিলিস্তিন’ (১৭২-১৭৩)।

(২) অর্থাৎ: মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে। মুসলিমদের সকল দল ও মতাদর্শের কথা বলছি, বিশেষ করে সেই সব দলকানা গোষ্ঠী যারা ‘ফিলিস্তিন ইস্যু’কে পুঁজি করেছে এবং একে লোকবল বাড়ানোর বাহানা হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা শরিয়তের মানদণ্ড ও বিজ্ঞ আলেমদের মূলনীতি (القواعد) অনুযায়ী কোনো প্রকৃত ফলাফল (ثمرة) লাভ ছাড়াই কেবল মানুষের আবেগকে উসকে দিয়ে ফায়দা লুটতে চায়। তারা কেবল আলেমদের মর্যাদা হরণ করা এবং বিভিন্ন সুযোগে তাঁদের তুচ্ছজ্ঞান করার লক্ষ্য রাখে, যাতে করে তাদের নিজেদের আইকনরা টিকে থাকে এবং তারা সাধারণ জনগণের ওপর বাজি ধরে তাদের সাময়িক লক্ষ্য অর্জন করতে পারে; যা সংশোধনমূলক বা শিক্ষামূলক হওয়ার চেয়ে জাগতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট। আল্লাহ তাঁর কার্যে বিজয়ী, আর তিনি সমস্ত নিয়ত ও গোপন রহস্য সম্পর্কে পরিবেষ্টনকারী।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১১)
وتألّماً لما يجري -قديماً وحديثاً- لأهلها وعلى أرضها، ولا سيما الأحداث الجسام، والتي نلخّصها بالآتي:

أولاً: المذابح، وأشهرها: مذبحة دير ياسين في 9/4/1948م، التي بقرت فيها بطون الحبالى، وذُبّحت الأطفال، وقطعت الأوصال، وشوّهت الأجسام، وقذفت في بئر في القرية، وذهل (ليز) مندوب (الصليب (1) !!!) الأحمر آنذاك لما عد أعوانه (250) جثة، ولم يكملوا العدّ -بعد-، فأغمي عليه!

ومن المذابح -أيضاً-: مذبحة شرفات في 7/2/1951م، ومذبحة عيد الميلاد (!!) في 6/1/1952م، ومذبحة قبية في 14/10/1953م، ومذبحة قتل الأطفال في 2/11/1954م، ومذبحة غزة في 28/2/1955م، ومذبحة شاطئ طبريا في 11/2/1955م، ومذبحة غزة الثانية في 5/4/1956م، ومذبحة غرندل في 13/9/1956م، ومذبحة حوسان في 25/9/1956م، ومذبحة قلقيلية في 10/10/1956م، ومذبحة كفر قاسم في 28/10/1956م.

وانتهاءً في تاريخنا الحديث بمجموعة من المذابح، من مثل: مذابح صبرا وشاتيلا في لبنان في 17/9/1982م، وقبلها مذبحة تل الزعتر والكرنتينا في 10/ 8/1976م، وهاتان المذبحتان من أبشع وأشنع ما سُجّل في التاريخ الحديث، إذ قدمت جثث الموتى للكلاب، وتم فيها اغتصاب النساء، وحرق

--------------------------------------------

(1) للنصارى عناية بالصليب منقطعة النظير، وله أشكال وهيئات، قل أن تسلم منه بيوت المسلمين اليوم فضلاً عن ملابسهم وغيرها! وهي موجودة في الموسوعات (المعلمات) العالمية، وكتب دياناتهم!
তার অধিবাসী এবং ভূমির উপর অতীতে ও বর্তমানে যা ঘটে চলেছে তার জন্য ব্যথিত হয়ে, বিশেষ করে সেই ভয়াবহ ঘটনাবলি, যা আমরা নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

প্রথমত: গণহত্যাসমূহ, যার মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত হলো: ৯/৪/১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের দেইর ইয়াসিন গণহত্যা; যাতে গর্ভবতী নারীদের উদর বিদীর্ণ করা হয়েছিল, শিশুদের জবাই করা হয়েছিল, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, দেহসমূহ বিকৃত করা হয়েছিল এবং গ্রামের একটি কূপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তৎকালীন রেড ক্রসের (১) !!! প্রতিনিধি (লিজ) হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন যখন তার সহযোগীরা ২৫০টি মৃতদেহ গণনা করেছিলেন, অথচ তখনো গণনা শেষ হয়নি—তখন তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন!

গণহত্যাসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে: ৭/২/১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের শরাফাত গণহত্যা, ৬/১/১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের বড়দিনের (!!) গণহত্যা, ১৪/১০/১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের কিবইয়া গণহত্যা, ২/১১/১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের শিশু হত্যাযজ্ঞ, ২৮/২/১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের গাজা গণহত্যা, ১১/২/১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের তাবারিয়া উপকূলীয় গণহত্যা, ৫/৪/১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় গাজা গণহত্যা, ১৩/৯/১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের গারান্দাল গণহত্যা, ২৫/৯/১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের হুসান গণহত্যা, ১০/১০/১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের কালকিলিয়া গণহত্যা এবং ২৮/১০/১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের কাফর কাসিম গণহত্যা।

সবশেষে আমাদের আধুনিক ইতিহাসের একগুচ্ছ গণহত্যা, যেমন: ১৭/৯/১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের লেবাননের সাবরা ও শাতিলা গণহত্যা এবং এর পূর্বে ১০/৮/১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের তাল আল-জা’তার ও কারান্তিনা গণহত্যা। এই দুটি গণহত্যা আধুনিক ইতিহাসে নথিবদ্ধ হওয়া সবচেয়ে জঘন্য ও বীভৎস ঘটনাগুলোর অন্যতম; কারণ সেখানে মৃতদেহগুলোকে কুকুরের সামনে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং অগ্নিসংযোগ...

--------------------------------------------

(১) খ্রিষ্টানদের নিকট ক্রুশের প্রতি অতুলনীয় গুরুত্ব রয়েছে। এর বিভিন্ন আকার ও ধরন রয়েছে; বর্তমান যুগে মুসলিমদের বাড়িঘর তো বটেই, এমনকি পোশাক-পরিচ্ছদ এবং অন্যান্য জিনিসপত্রও এটি থেকে খুব কমই মুক্ত থাকতে পারে! এটি বৈশ্বিক বিশ্বকোষ (তথ্যকোষ) এবং তাদের ধর্মীয় গ্রন্থাবলিতে বিদ্যমান!
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১২)
الشباب، على صورة تقشعر منها الأبدان، وتشيب بسببها الصبيان!

ثم مذبحة عيون قارة في 20/5/1990م، ثم مجزرة الأقصى الشهيرة في 8/10/1991م، إذ قُتل المصلّون جملة، ولم يراعوا حق ضعيف أو كبير أو امرأة، وبارك شياطينهم من الحاخامات بهذه المجزرة، وطالبوا بالمزيد! وعملوا على المباركة! ولا تنسى أبداً مجزرة المسجد (1) الإبراهيمي بالخليل بقيادة اليهودي الطبيب النجس باروخ غولدشتاين في 25/10/1994م، وكانت-أيضاً- ضد المصلين، وباركها (!!) -أيضاً- كثير من الحاخامات، ولا سيما الذي تولى كبره منهم (غورون) و (دروكمان) ، ونصب لمنفذها (غولدشتاين) تمثالاً (!!) إعجاباً وحباً! (2)

ويزداد التوجع والتألم؛ لما نسمع ونقرأ تصريحات هؤلاء المعتدين، فمثلاً: سأل أحد الصحفيين الضابط اليهودي (مالينكي) عمَّا ارتكبه في بعض هذه المذابح: هل أنت نادم على ما فعلت؟ قال: بالعكس؛ لأنّ الموت لأيِّ عربي في إسرائيل (3)

--------------------------------------------

(1) يطلق الناس في الخليل خاصة وفي فلسطين بعامة، فضلاً عن غيرها، على هذا المسجد (الحرم الإبراهيمي) ، والأمر -من وجهة نظر شرعية- ليس كذلك. وانظر التعليق على (ص 221) .

(2) للدكتور عرفات حجازي كتاب مطبوع جيد، ينصح بقراءته، وعنوانه «مدينة الخليل وحروب الحاخامات الدينية» .

(3) هذه التسمية منكرة، وقد شاع على ألسنة الناس في بلاد المسلمين القول في سياق الذمّ: فعلت إسرائيل كذا، وستفعل كذا! و (إسرائيل) هو رسول كريم من رسل الله؛ وهو: (يعقوب) عليه السلام، وهو بريء من دولة اليهود الخبيثة الماكرة، إذ لا توارث بين الأنبياء والرسل وبين أعدائهم من الكافرين، فليس لليهود أية علاقة دينية بنبي الله (إسرائيل) عليه السلام، وهذه التسمية تسيء لمفاهيم ديننا، ولا يرضى الله عنها ولا رسوله ولا أنبياؤه، ولا سيما (إسرائيل) عليه السلام، إذ هم قوم (كفرة) ، وقوم= = (بهت) ، وإطلاق هذه التسمية عليهم فيها إيذاء له عليه السلام، والواجب الحيلولة دون ذلك.

وثبت في «صحيح البخاري» (3533) عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ألا تعجبون كيف يصرف الله عني شتم قريش ولعنهم؛ يشتمون مذمماً ويلعنون مذمماً، وأنا محمد» .

والواجب -على الأقل- إغاظتُهم بتسميتهم (يهود) ؛ لأنهم يشمئزون من هذه التسمية، ويفرحون بانتسابهم الكاذب ليعقوب عليه السلام، فليس لهم شيء من فضائله ومناقبه عليه السلام.

وللشيخ عبد الله بن زيد آل محمود رسالة مطبوعة بقطر عام 1398هـ، بعنوان «الإصلاح والتعديل فيما طرأ على اسم اليهود والنصارى من التبديل» ، وانظر في هذا … -أيضاً-: «معجم المناهي اللفظية» (44) للشيخ بكر أبو زيد، ومجلتنا «الأصالة» الغراء، مقالة الشيخ ربيع بن هادي (حكم تسمية دولة يهود بإسرائيل) العدد (32) : السنة السادسة/15 ربيع الأول/1422هـ (ص 54-57) .

 

ثم وجدت هذا التحذير في كتاب «خرافات يهودية» لأحمد الشقيري (ص 13-30) تحت عنوان (لستم أبناء إبراهيم، أنتم أبناء إبليس) .
যুবক শ্রেণি, এমন বিভীষিকাময় অবস্থায় যার ফলে শরীর শিউরে ওঠে এবং শিশুদের চুল পেকে যায়!

অতঃপর ২০/৫/১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে ‘উয়ুন ক্বারা’ হত্যাকাণ্ড, এরপর ৮/১০/১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে আল-আকসার সেই প্রসিদ্ধ গণহত্যা, যখন মুসল্লিদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল এবং তারা কোনো দুর্বল, বৃদ্ধ বা নারীর অধিকারের পরোয়া করেনি। তাদের শয়তান রূপী রাব্বাইরা (ধর্মগুরুরা) এই গণহত্যার প্রশংসা করেছিল এবং আরও রক্তপাতের দাবি জানিয়েছিল! তারা একে আশীর্বাদপুষ্ট করার জন্য কাজ করেছিল! আর ২৫/১০/১৯blank৯৪ খ্রিস্টাব্দে খলিল শহরে নাপাক ইহুদি চিকিৎসক বারুখ গোল্ডস্টেইনের নেতৃত্বে ইবরাহিমি মসজিদে (১) সংঘটিত সেই হত্যাকাণ্ড কখনোই বিস্মৃত হওয়ার নয়; সেটিও ছিল মুসল্লিদের বিরুদ্ধে। অনেক রাব্বাই একে আশীর্বাদ (!!) জানিয়েছিল, বিশেষ করে তাদের বড় নেতা (গোরুন) ও (ড্রুকম্যান)। তারা হত্যাকারী (গোল্ডস্টেইন)-এর প্রতি ভালোবাসা ও মুগ্ধতা থেকে তার একটি মূর্তি (!!) স্থাপন করেছিল! (২)

কষ্ট ও যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায় যখন আমরা এই আক্রমণকারীদের বক্তব্য শুনি ও পড়ি। উদাহরণস্বরূপ: একজন সাংবাদিক ইহুদি কর্মকর্তা (মালিনকি)-কে এই হত্যাকাণ্ডগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আপনি যা করেছেন তার জন্য কি আপনি অনুতপ্ত? সে বলেছিল: বরং এর উল্টো; কারণ ইসরায়েলে (৩) যেকোনো আরবের মৃত্যু মানে...

--------------------------------------------

(1) খলিল তথা ফিলিস্তিনের মানুষ এবং অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও সাধারণত এই মসজিদকে (হারাম ইবরাহিমি) বলে থাকে। কিন্তু শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি এমন নয়। ২২১ পৃষ্ঠার টীকা দ্রষ্টব্য।

(2) ডক্টর আরাফাত হিজাজির একটি চমৎকার মুদ্রিত বই রয়েছে যা পড়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যার শিরোনাম: ‘মদিনাতুল খলিল ওয়া হুরুবুল হখখামাত আদ-দিনিয়্যাহ’ (খলিল শহর ও রাব্বাইদের ধর্মীয় যুদ্ধ)।

(3) এই নামকরণটি অপছন্দনীয় (منكر)। মুসলিম দেশগুলোর মানুষের মুখে নিন্দার ছলে এটি প্রচলিত হয়ে গেছে যে: ইসরায়েল এটি করেছে, ওটি করবে! অথচ ‘ইসরায়েল’ হলেন আল্লাহর রাসূলদের মধ্য হতে একজন সম্মানিত রাসূল; তিনি হলেন: (ইয়াকুব) আলাইহিস সালাম। তিনি এই খবীস ও চক্রান্তকারী ইহুদি রাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত। কারণ নবী-রাসূলগণ এবং তাদের শত্রু কাফিরদের মধ্যে কোনো উত্তরাধিকারের সম্পর্ক থাকে না। আল্লাহর নবী ইসরায়েল আলাইহিস সালামের সাথে ইহুদিদের কোনো ধর্মীয় সম্পর্ক নেই। এই নামকরণটি আমাদের দ্বীনি ধারণার ক্ষতি করে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল কিংবা তাঁর নবীগণ, বিশেষ করে ইসরায়েল আলাইহিস সালাম এতে সন্তুষ্ট নন। কেননা তারা হলো কাফির (كفرة) এবং অপবাদকারী (بهت) সম্প্রদায়। তাদের ওপর এই নামটির প্রয়োগ তাঁর (আলাইহিস সালাম) জন্য কষ্টদায়ক, আর তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

সহিহ বুখারি-তে (৩৫৩৩) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করো না যে, আল্লাহ কীভাবে কুরাইশদের গালি ও অভিশাপ আমার থেকে ফিরিয়ে দেন? তারা ‘মুযাম্মাম’ (নিন্দিত) বলে গালি দেয় এবং ‘মুযাম্মাম’ বলে অভিশাপ দেয়, অথচ আমি হলাম মুহাম্মদ (প্রশংসিত)।’

অন্ততপক্ষে তাদের ‘ইহুদি’ বলে সম্বোধন করে রাগান্বিত করা কর্তব্য; কারণ তারা এই নামে লজ্জিত হয় এবং ইয়াকুব আলাইহিস সালামের দিকে নিজেদের মিথ্যা সম্পৃক্ততায় আনন্দিত হয়। অথচ তাঁর (আলাইহিস সালাম) কোনো মর্যাদা ও গুণের সাথে তাদের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।

শেখ আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ আল-মাহমুদের কাতার থেকে ১৩৯৮ হিজরিতে মুদ্রিত একটি পুস্তিকা রয়েছে, যার শিরোনাম: ‘আল-ইসলাহ ওয়াত-তাদিল ফিমা ত্বারা’আ আলা ইসমিল ইয়াহুদ ওয়ান-নাসারা মিনাত-তাবদিল’। এ বিষয়ে আরও দেখুন: শেখ বকর আবু যায়েদ রচিত ‘মুজামুল মানাহি আল-লাফযিয়্যাহ’ (৪৪), এবং আমাদের গৌরবময় ‘আল-আসলাহ’ ম্যাগাজিনের ৩২তম সংখ্যা, ৬ষ্ঠ বর্ষ, ১৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪২২ হিজরি (পৃষ্ঠা ৫৪-৫৭)-তে শেখ রাবি বিন হাদি-র নিবন্ধ ‘হুকমু তাসমিয়াতি দাওলাতি ইয়াহুদ বি-ইসরাইল’।

 

অতঃপর আমি এই সতর্কবাণীটি আহমদ শুকাইরি-র ‘খুরাফাত ইয়াহুদিয়্যাহ’ বইয়ের (১৩-৩০ পৃষ্ঠা) ‘তোমরা ইবরাহিমের সন্তান নও, তোমরা ইবলিসের সন্তান’ শিরোনামের অধীনে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১৩)
معناهُ الحياة لأي إسرائيلي (3) .

 

ثانياً: اغتصاب الأرض، وإخراج أهلها منها عنوةً.

عبر مسلسل دموي، وتخطيط محكم، وتنفيذ دقيق، استطاع اليهود سرقة (فلسطين) على دفعات، وكان ذلك بمباركة ودعم الغرب الكافر، وغفلة كثير من الشعب الفاجر (1) ، وكان ذلك على دفعتين: سنة 1948م احتلوا فيها فلسطين، وسنة 1967م احتلوا فيها الضفة الغربية بما فيها القدس الشريف، والمسجد الأقصى، وسيناء، والجولان.

--------------------------------------------

(1) عمل أعداء الله عز وجل على إيجاد منظمات فدائية في الشعب الفلسطيني، تتبنى الماركسية والثورية، وكان (سر الليل) عندهم في معسكراتهم في بعض الأحايين (شتم الله) كما أخبرني بذلك غير واحد {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ … إِلَاّ كَذِباً} .
এর অর্থ হলো যেকোনো ইসরায়েলির জন্য জীবন (৩)।

 

দ্বিতীয়ত: ভূমি জবরদখল এবং এর অধিবাসীদের সেখান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া।

একটি রক্তক্ষয়ী ধারাবাহিকতা, সুদৃঢ় পরিকল্পনা এবং সূক্ষ্ম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইহুদিরা পর্যায়ক্রমে (ফিলিস্তিন) চুরি করতে সক্ষম হয়। এটি সম্ভব হয়েছিল কাফের (كافر) পশ্চিমাবিশ্বের আশীর্বাদ ও সমর্থনে এবং অনেক পাপাচারী (فاجر) মানুষের গাফিলতির (১) সুযোগে। এটি দুই ধাপে সংঘটিত হয়েছিল: ১৯৪৮ সালে তারা ফিলিস্তিন দখল করে এবং ১৯৬৭ সালে তারা পশ্চিম তীরসহ পবিত্র কুদস শরিফ, মসজিদুল আকসা, সিনাই এবং গোলান মালভূমি দখল করে নেয়।

--------------------------------------------

(১) মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার শত্রুরা ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে এমন কিছু ফিদায়ী সংগঠন গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছিল, যারা মার্ক্সবাদ ও বিপ্লবী আদর্শ গ্রহণ করেছিল। তাদের ক্যাম্পে কোনো কোনো সময় তাদের 'নৈশ সংকেত' ছিল (আল্লাহকে গালি দেওয়া), যেমনটি আমাকে একাধিক ব্যক্তি অবহিত করেছেন। {তাদের মুখ থেকে নির্গত হওয়া কথাটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল … মিথ্যাই বলছে}।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১৪)
*‌‌ استطراد له صلة بإخراج أهل فلسطين، وفتوى الشيخ الألباني في ذلك

أذكر هنا إفاضة وإضافة لها صلة بـ (السلفيين وقضية فلسطين) ، وهي فتوى دندن حولها كثير من الشانئين، وأوقعت بعض المحبين في حيرة، وهي فتوى لشيخنا محدث العصر الألباني -رحمه الله تعالى- حول قضية خروج أهل فلسطين منها!

فقد ضمّ الشيخ رحمه الله وآخر مثله في السِّنّ -لا في العلم- مجلس، وسأل المسنُّ القادمُ من فلسطين الشيخَ رحمه الله عن مسائل، وقع ضمنها توجّع وشكاية وتألم من حال المسلمين الساكنين في فلسطين، فأفتى الشيخ

- كعادته وبصراحته وجرأته فيما يعتقد- أن مكة خير من فلسطين، وأن النبي صلى الله عليه وسلم لما لم يستطع إقامة الدين فيها هاجر منها، فعلى كل مسلم لا يستطيع أن يقيم دينه في أي بقعة أن يتركها وينتقل إلى بلدة يستطيع فيها ذلك، فكان ماذا؟ وقعت هذه الفتوى لبعض (الأشاعرة) (الصوفيين) في بلادنا، وأخذ يدندن فيها، متهماً الشيخ بأنه (يهودي) ! مستدلاً بكلامه هذا! وأثارت (الصحف) و (الجرائد) هذه القضية، وكتب فيها العالم والجاهل، والسفيه والحقير والوضيع، وصرح بعضهم أنه لا يبغض (الألباني) ولا يعاديه! وإنما يعمل على محاربة (منهجه) فحسب! اللهم يا مقلب (العقول) ثبت (عقلي) على دينك وسنة نبيك صلى الله عليه وسلم.

ويا ليت هؤلاء تكلموا بأدلة، أو بلُغَة أهل العلم، وإنما بلغة (الجرائد) (1) : السباب، وعرض (العضلات) ، وعدم التعرض للمسألة: بتأصيل أو تكييف أو تدليل أو تأريخ، وإنما لامست شيئاً في نفوسهم من نفور أو

--------------------------------------------

(1) ألف الأستاذ محمد سليم بن محمد الجندي (ت 1375هـ - 1955م) رسالة جيدة مطبوعة بعنوان «إصلاح الفاسد من لغة الجرائد» .
ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কার সংক্রান্ত একটি প্রাসঙ্গিক আলোচনা এবং এ বিষয়ে শায়খ আলবানীর ফতোয়া

আমি এখানে (সালাফী ও ফিলিস্তিন ইস্যু)-এর সাথে সম্পৃক্ত একটি বিস্তারিত ও অতিরিক্ত আলোচনা উল্লেখ করছি। এটি এমন একটি ফতোয়া যা নিয়ে অনেক বিদ্বেষ পোষণকারী শোরগোল করেছে এবং কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। এটি আমাদের শায়খ, সমসাময়িক যুগের হাদিস বিশারদ (محدث العصر) আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি ফতোয়া, যা ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে বের হয়ে আসার বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত!

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং বয়সে তাঁর সমপর্যায়ের—তবে জ্ঞানে নয়—অপর এক ব্যক্তি একটি মজলিসে একত্রিত হয়েছিলেন। ফিলিস্তিন থেকে আগত সেই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যার মধ্যে ফিলিস্তিনে বসবাসরত মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে বেদনা, অভিযোগ ও কষ্টের কথা ছিল। অতঃপর শায়খ ফতোয়া প্রদান করেন—

—নিজের অভ্যাস অনুযায়ী এবং তিনি যা বিশ্বাস করেন সে বিষয়ে স্পষ্টবাদিতা ও সাহসিকতার সাথে—যে মক্কা ফিলিস্তিনের চেয়ে উত্তম; আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সেখানে দ্বীন কায়েম করতে সক্ষম হলেন না, তখন তিনি সেখান থেকে হিজরত (هجرة) করেছিলেন। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিম যে কোনো ভূখণ্ডে তার দ্বীন পালন করতে সক্ষম হবে না, তার উচিত তা ত্যাগ করা এবং এমন এক জনপদে স্থানান্তরিত হওয়া যেখানে সে তা পারবে। এরপর কী হলো? এই ফতোয়াটি আমাদের দেশের কিছু (আশআরি) ও (সুফিদের) হাতে পড়ল এবং তারা এটি নিয়ে মাতামাতি শুরু করল, এমনকি তাঁর এই বক্তব্যকে দলিল হিসেবে পেশ করে শায়খকে (ইহুদি) হিসেবে অভিযুক্ত করল! (সংবাদপত্র) ও (সাময়িকীগুলো) এই ইস্যুটিকে উসকে দিল এবং এ বিষয়ে আলেম-জাহেল, নির্বোধ ও তুচ্ছ-নীচ সব ধরণের লোক লিখতে শুরু করল। তাদের কেউ কেউ ঘোষণা করল যে, সে (আলবানী)-কে ঘৃণা করে না কিংবা তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে না! বরং সে কেবল তাঁর (মানহাজ) বা পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে! হে আল্লাহ, হে বুদ্ধিবৃত্তির (العقول) পরিবর্তনকারী! আমার বুদ্ধিকে (عقلي) তোমার দ্বীন এবং তোমার নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর ওপর অটল রাখো।

আফসোস, যদি তারা দলিল-প্রমাণ দিয়ে কিংবা ইলমি ভাষায় কথা বলত! কিন্তু তারা কেবল (সংবাদপত্রের) ভাষায় কথা বলেছে (১): গালিগালাজ, (পেশী) শক্তি প্রদর্শন এবং মৌলিক নীতি নির্ধারণ (تأصيل), বিষয়ের স্বরূপ বিশ্লেষণ (تكييف), প্রমাণ উপস্থাপন (تدليل) বা ঐতিহাসিক পর্যালোচনার (تأريخ) মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করা; বরং এটি কেবল তাদের মনের ঘৃণা বা অনীহাকে স্পর্শ করেছে মাত্র।

--------------------------------------------

(১) উস্তাদ মুহাম্মদ সেলিম বিন মুহাম্মদ আল-জুনদী (মৃত্যু ১৩৭৫ হি - ১৯৫৫ খ্রি) ‘ইসলাহুল ফাসিদ মিন লুগাতিল জারায়িদ’ শিরোনামে একটি উত্তম মুদ্রিত রিসালা রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১৫)
(حسد) أو (حقد) ، ففرَّغوا ما فيها، فارتاحوا وانتعشوا، وظنوا أنهم نهوا وأمروا! وفازوا وظفروا! حقاً؛ إنها -أي: المقالات- مكتوبة بلغة، لا يربأ صاحب القلم الحر العلمي إلا السكوت عنها، أو القول: لا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.

ومع ذلك؛ فقد تصدّى أخونا الشيخ حسين العوايشة لما شاع وذاع، وأخذ في التنقيب والبحث، وجمع ما ورد في مسألة (الهجرة) من آثار، وكلام للعلماء الربانيين، فخرجت معه دراسته المنشورة المعنونة بـ «الفصل المبين في مسألة الهجرة ومفارقة المشركين» ، وإنما هو في الحقيقة في سلسلة للعلماء -على اختلاف مشاربهم ومذاهبهم وأعصارهم وأمصارهم- قد نصوا على ذلك، فها هو شيخنا حماد بن محمد الأنصاري، له كتاب مطبوع بعنوان «إعلام الزمرة بأحكام الهجرة» ، في فتاوى كثيرة، تطلب من مظانها (1) ، وأكتفي بنقل (2) فتوى توافق مشرب المشغّب الذي عامله الله بما استحق، من إطفاء نجمه، وأُفول ظله، وطمس صوته، وهي (فتوى ابن عربي (3) الصوفي الحاتمي الطائي) ، قال ما نصه:

«وعليك بالهجرة ولا تقم بين أظهر الكفار، فإن في ذلك إهانة دين الإسلام، وإعلاء كلمة الكفر على كلمة الله، فإن الله ما أمر بالقتال إلا لتكون كلمة الله هي العليا، وكلمة الذين كفروا هي السفلى، وإياك والإقامة أو الدخول تحت ذمة كافر ما استطعت، واعلم أن المقيم بين أظهُرِ الكفار -مع تمنكه من الخروج من بين ظهرانيهم- لا حظ له في الإسلام (!!) ، فإن النبي s

--------------------------------------------

(1) سيأتي تعداد ما وقفت عليه مفرداً في هذا الباب، والله الموفق، فانظرها، فإنها مفيدة.

(2) فات من صنف في هذه المسألة!

(3) في كتابه «الوصايا» (ص 58-59) .
হিংসা (حسد) বা বিদ্বেষ (حقد), তারা তাদের অন্তরে যা ছিল তা উগরে দিয়েছে, ফলে তারা স্বস্তি ও সজীবতা অনুভব করেছে এবং ভেবেছে যে তারা নিষেধ করেছে ও আদেশ দিয়েছে! এবং তারা জয়ী ও সফল হয়েছে! প্রকৃতপক্ষে; এই নিবন্ধগুলো এমন এক ভাষায় লেখা হয়েছে যে, একজন মুক্তমনা ও ইলমি কলম সৈনিক নীরব থাকা অথবা "লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম" বলা ছাড়া আর কিছু করতে পারেন না।

এতৎসত্ত্বেও; আমাদের ভাই শায়খ হুসাইন আল-আওয়ায়েশা যা কিছু ছড়িয়ে পড়েছে তার মোকাবিলা করেছেন এবং অনুসন্ধান ও গবেষণায় ব্যাপৃত হয়েছেন। তিনি হিজরত (الهجرة) সংক্রান্ত বিষয়ে বর্ণিত বর্ণনাগুলো (آثار) এবং রব্বানি আলেমদের বক্তব্য সংগ্রহ করেছেন। ফলশ্রুতিতে তার প্রকাশিত গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে যার শিরোনাম হলো ‘আল-ফাসলুল মুবিন ফি মাসআলাতিল হিজরাতি ওয়া মুফারাকাতিল মুশরিকিন’। প্রকৃতপক্ষে এটি আলেমদের একটি ধারাবাহিক ধারার অংশ—যাদের দৃষ্টিভঙ্গি, মাজহাব, যুগ ও দেশ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও—তারা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। এই তো আমাদের শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি, তার একটি মুদ্রিত বই রয়েছে যার শিরোনাম ‘ইলামুয যুমরা বি-আহকামিল হিজরাহ’, যেখানে অনেক ফতোয়া রয়েছে যা এর মূল উৎসসমূহ (১) থেকে তালাশ করা যেতে পারে। আমি এখানে সেই গোলযোগকারীর রুচির সাথে মানানসই একটি ফতোয়া (২) উদ্ধৃত করেই ক্ষান্ত হব—আল্লাহ তাকে তার প্রাপ্য প্রতিদান দিয়েছেন, তার খ্যাতি স্তিমিত করেছেন, তার প্রভাব অপসারিত করেছেন এবং তার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করেছেন—আর সেটি হলো (সুফি হাতিমি তায়ি ইবনুল আরাবির (৩) ফতোয়া), তিনি যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ:

«তোমার জন্য হিজরত (الهجرة) করা অপরিহার্য এবং তুমি কাফেরদের মাঝে অবস্থান করো না। কেননা এতে ইসলাম ধর্মের অবমাননা হয় এবং আল্লাহর বাণীর ওপর কুফরি বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। আল্লাহ তো যুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন কেবল আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার জন্য এবং কাফেরদের বাণীকে অবনমিত করার জন্য। যতক্ষণ সম্ভব কোনো কাফেরের জিম্মাদারিতে থাকা বা প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকো। জেনে রেখো যে, কাফেরদের মাঝে অবস্থানকারী—সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও—ইসলামে তার কোনো অংশ নেই (!!), কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)...

--------------------------------------------

(১) এই অধ্যায়ে আমি যা কিছু স্বতন্ত্রভাবে পেয়েছি তার তালিকা সামনে আসবে, আল্লাহই তাওফিকদাতা, সুতরাং সেগুলো দেখুন, কারণ সেগুলো অত্যন্ত উপকারী।

(২) যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা এটি মিস করেছেন!

(৩) তার ‘আল-ওয়াসায়া’ নামক কিতাবে (পৃষ্ঠা ৫৮-৫৯)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১৬)
قد تبرأ منه، ولا يتبرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم من مسلم، وقد ثبت عنه أنه s قال: «أنا بريء من مسلم يقيم بين أظهر المشركين» ، فما اعتبر له كلمة الإسلام، وقال الله -تعالى- فيمن مات وهو بين أظهر المشركين: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُواْ فِيمَ كُنتُمْ قَالُواْ كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الأَرْضِ قَالْواْ أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُواْ فِيهَا فَأُوْلَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيراً} (1) [النساء: 97] ، فلهذا حجرنا في هذا الزمان على الناس زيارة بيت المقدس والإقامة فيه؛ لكونه بيد الكفار، فالولاية لهم والتحكم في المسلمين، والمسلمون معهم على أسوأ حال -نعوذ بالله من تحكم الأهواء-، فالزائرون اليوم البيت المُقدَّس، والمقيمون فيه من المسلمين، هم الذين قال الله فيهم: {ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعاً} [الكهف: 104] ، وكذلك فلتهاجر عن كل خلق مذموم شرعاً قد ذمه الحقُّ في كتابه، أو على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم» .

وأخيراً؛ نحيل على دراسات مفردة لمن رام الاستزادة في هذا الموضوع، وهي مهمة:

الأولى: لمصطفى بن رمضان البولاقي (ت 1263هـ - 1847م) : «رسالة فيما إذا كان يحل للمسلمين العيش تحت حكم غير المسلمين والتعايش معهم» .

الثانية: لعلي الرسولي رسالة في الموضوع نفسه، وبالعنوان السابق، وهي والتي قبلها ضمن مجموع منسوخ في القرن (13هـ/19م) في جامعة ييل بأمريكا، تحت رقم [405 - L (970) ] . انظر «المخطوطات العربية في مكتبة جامعة ييل» (106) .

--------------------------------------------

(1) انظر لزاماً عنها: «تفسير الكشاف» (1/557) ، «الدفاع عن أهل السنة والاتباع» لابن عتيق (ص 13-14) ، «الهجرة في القرآن الكريم» (ص 165) .
তিনি তাঁর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো মুসলিমের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন না। তাঁর থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «আমি এমন মুসলিমের থেকে দায়মুক্ত যে মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে»। তাঁর ইসলামের কালেমাকে গণ্য করা হয়নি। আর যারা মুশরিকদের মাঝে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় ফেরেশতারা যাদের জান কবজ করে নিজেদের ওপর জুলুম করা অবস্থায়, তারা বলে: তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলে: আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম। তারা (ফেরেশতারা) বলে: আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে? অতএব তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য} (১) [নিসা: ৯৭]। এই কারণেই আমরা বর্তমান সময়ে মানুষের জন্য বাইতুল মুকাদ্দাস যিয়ারত এবং সেখানে বসবাস করা নিষিদ্ধ করেছি; যেহেতু তা কাফেরদের অধিকারে রয়েছে। কর্তৃত্ব তাদের হাতে এবং তারা মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ করছে, আর মুসলিমরা তাদের সাথে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় আছে—আমরা কুপ্রবৃত্তির শাসন থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। অতএব আজ যারা বাইতুল মুকাদ্দাস যিয়ারতকারী এবং সেখানে বসবাসকারী মুসলিম, তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {যাদের প্রচেষ্টা দুনিয়ার জীবনে বিফলে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে তারা ভালো কাজ করছে} [কাহফ: ১০৪]। একইভাবে, শরীয়তগতভাবে নিন্দিত প্রতিটি স্বভাব ত্যাগ করে হিজরত করা উচিত, যেটির নিন্দা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে করেছেন অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যবানে করা হয়েছে।

পরিশেষে, যারা এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চান তাদের জন্য আমরা কিছু স্বতন্ত্র গবেষণার উদ্ধৃতি দিচ্ছি, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

প্রথমটি: মুস্তফা বিন রমজান আল-বুলাকি (মৃত্যু ১২৬৩ হিজরি - ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দ) রচিত: «অমুসলিমদের শাসনের অধীনে বসবাস করা এবং তাদের সাথে সহাবস্থান করা মুসলিমদের জন্য বৈধ কি না সেই বিষয়ক রিসালাহ»।

দ্বিতীয়টি: একই বিষয়ে এবং একই শিরোনামে আলী আল-রাসুলির একটি রিসালাহ। এটি এবং এর পূর্ববর্তীটি আমেরিকার ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে সংরক্ষিত ১৩শ হিজরি/১৯শ শতাব্দীতে হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, যার নম্বর [405 - L (970)]। দেখুন «ইয়েল ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আরবি পাণ্ডুলিপিসমূহ» (১০৬)।

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে অবশ্যই দেখুন: «তাফসিরে কাশশাফ» (১/৫৫৭), ইবনে আতিক রচিত «আদ-দিফাউ আন আহলিস সুন্নাতি ওয়াল ইত্তিবা» (পৃ. ১৩-১৪), «আল-হিজরাতু ফিল কুরআনিল কারিম» (পৃ. ১৬৫)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১৭)
الثالثة: لأبي العباس أحمد بن يحيى الونشريسي (ت 914هـ - 1508م) : «أسنى المتاجر في بيان أحكام من غلب على وطنه النصارى ولم يهاجر، وما يترتب عليه من العقوبات والزواجر» ، نشرت بتمامها في «المعيار المعرب» (2/119-141) ، ونشرها -قديماً- حسين مؤنس في صحيفة «معهد الدراسات الإسلامية في مدريد» (المجلد 5) ، سنة 1975م، (ص129-182) ، وأعاد نشرها المحقق نفسه في مجلة «معهد المخطوطات العربية» (مجلد 5/الجزء 1/ ذو القعدة/1959) (ص 147-184) ، ثم ظهرت عن دار البيارق في طبعة رديئة! غير مقابلة على نسخ خطية، ومنها نسخة في شنقيط [370 أش] في (17 ورقة) ، كما في «فهرس مكتبة شنقيط وودان» (160) ، وأخرى في مكتبة قاريونس، تحت رقم (845) ، كما في «فهارس مكتبة جامعتها» (2/31) .

الرابعة: «بيان وجوب الهجرة وتحريم موالاة الكفرة ووجوب موالاة مؤمني الأمة» لعثمان بن محمد بن فودي، منه ثلاث نسخ في نيجيريا في جامعة أحمد وبلو، بأرقام [1/127P. و6/8P. و43/7 K.] ، ورابعة في قاريونس/ ليبيا في (77 ورقة) ، تحت رقم (1917) ، كما في «فهرس مكتبة جامعة قاريونس» (2/27) .

الخامسة: «سفر المسلمين إلى بلاد النصارى» ، منه نسخة في مكتبة الجامع الكبير بصنعاء، ضمن مجموع [163] في (7) ورقات.

السادسة: «الشمس المنيرة الزهرا في تحقيق الكلام فيما أدخله الكفار دارهم قهرا» للحسين بن ناصر المهلاّ، منه نسخة في مكتبة الجامع الكبير بصنعاء، تحت رقم (1471) في (21) ورقة.

في رسائل لآخرين، وقد نوهنا -قريباً- أن غير واحد من المعاصرين ألَّف في هذا الباب.
তৃতীয়: আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি (মৃত ৯১৪ হিজরি - ১৫০৮ খ্রিস্টাব্দ) এর রচিত: «আসনা আল-মাতাাজির ফি বায়ান আহকাম মান গালাবা আলা ওয়াতানিহি আন-নাসারা ওয়া লাম ইউহাজির, ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহি মিনাল উকুবাত ওয়ায-যাওয়াযির», এটি পূর্ণাঙ্গভাবে «আল-মিয়ার আল-মু'রাব» (২/১১৯-১৪১) গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। প্রাচীনকালে হুসাইন মুনিস এটি মাদ্রিদের «ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক স্টাডিজ»-এর সাময়িকীতে (ভলিউম ৫), ১৯৭৫ সালে (পৃষ্ঠা ১২৯-১৮২) প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে একই গবেষক (المحقق) এটি পুনরায় «ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস»-এর সাময়িকীতে (ভলিউম ৫/অংশ ১/ যিলকদ/১৯৫৯) (পৃষ্ঠা ১৪৭-১৮৪) প্রকাশ করেন। এরপর এটি দার আল-বায়ারিক থেকে একটি নিম্নমানের সংস্করণে প্রকাশিত হয়! যা মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর (نسخ خطية) সাথে মিলিয়ে দেখা হয়নি। এর একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) শিনকিতে [৩৭০ আশ] (১৭ পত্র) বিদ্যমান, যেমনটি «ফাহরাস মাকতাবাত শিনকিত ওয়া অদান» (১৬০) এ উল্লেখ আছে। অন্যটি কারইউনিস লাইব্রেরিতে ৮৪৫ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে, যেমনটি এর বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ক্যাটালগে (২/৩১) বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থ: উসমান বিন মুহাম্মদ বিন ফুদি রচিত «বায়ান উজুবি আল-হিজরাহ ওয়া তাহরিম মুওয়ালিত আল-কাফারাহ ওয়া উজুব মুওয়ালাত মু'মিনিল উম্মাহ»। এর তিনটি পাণ্ডুলিপি (نسخ) নাইজেরিয়ার আহমদু বেলো বিশ্ববিদ্যালয়ে [1/127P, 6/8P এবং 43/7 K.] নম্বরে সংরক্ষিত আছে। চতুর্থটি লিবিয়ার কারইউনিসে (৭৭ পত্র) ১৯১৭ নম্বরের অধীনে বিদ্যমান, যেমনটি «ফাহরাস মাকতাবাত জামিয়াত কারইউনিস» (২/২৭) এ উল্লিখিত হয়েছে।

পঞ্চম: «সাফার আল-মুসলিমিন ইলা বিলাদ আন-নাসারা»। এর একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) সানআর জামেউল কাবীর লাইব্রেরিতে [১৬৩] নং সংকলনের (مجموع) অন্তর্ভুক্ত ৭ পত্রে বিদ্যমান।

ষষ্ঠ: হুসাইন বিন নাসির আল-মাহাল্লা রচিত «আশ-শামস আল-মুনিরাহ আয-যাহরা ফি তাহকিকিল কালাম ফিমা আদখালাহুল কুফফার দারাহুম কাহরা»। এর একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) সানআর জামেউল কাবীর লাইব্রেরিতে ১৪৭১ নম্বরের অধীনে ২১ পত্রে সংরক্ষিত আছে।

এটি অন্যদের আরও কিছু রিসালার (رسائل) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আমরা ইতঃপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছি যে, সমসাময়িক একাধিক ব্যক্তি এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌تحرير فتوى الشيخ الألباني -رحمه الله تعالى-

نرتب فتوى الشيخ رحمه الله بأجزائها المتفرقة المؤتلفة في نقاط واحدة محددة (1) :

--------------------------------------------

(1) هذه النقاط موجودة في كتاب «ماذا ينقمون من الشيخ» (ص 21-24) ، اطّلع عليها الشيخ وأقرها، وهذه صورة خطه بالإقرار:
শেখ আল-আলবানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ফতোয়ার সম্পাদনা-

আমরা শাইখ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ফতোয়াকে এর বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন অথচ সামঞ্জস্যপূর্ণ অংশসহ সুনির্দিষ্ট কতগুলো পয়েন্টে বিন্যস্ত করছি (১) :

--------------------------------------------

(১) এই পয়েন্টগুলো ‘মাযা ইয়ানবিমুনা মিনাশ শাইখ’ (পৃষ্ঠা ২১-২৪) গ্রন্থে রয়েছে; শাইখ এগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং অনুমোদন করেছেন। আর এটি হলো অনুমোদনের স্বপক্ষে তাঁর স্বহস্তাক্ষরের ছবি:
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ১৯)
- الهجرة والجهاد ماضيان إلى يوم القيامة.

- ليست الفُتيا مُوَجَّهةً إلى بلدٍ بعينِه، أو شَعْبٍ بذاتِه.

- وقد هاجر أشرف إنسان وأعظمه محمدٌ عليه الصلاة والسلام، من أشرف بُقعة وأعظمها؛ مكَّةَ المكرمة، وكلُّ إنسان -منذ خلق الناس وإلى الساعة- دون محمد عليه الصلاة والسلام منزلةً، وكل بقاع الأرض دونها شرفاً وقُدسيّةً.

- وتجب الهجرة حين لا يجد المسلمُ مُستَقَرّاً لدينه في أرض هو فيها امتُحن في دينه، فلم يعد في وُسعه إظهارُ ما كلَّفه اللهُ به من أحكام شرعيّةٍ، خَشْيَةَ أن يُفتَنَ في نفسه من بلاء يقع عليه، أو مسِّ أذى يُصيبُه في بدنه فينقلب على عَقِبَيه.

وهذه النقطة هي مناطُ الحُكم في فتوى الشيخ، والمُرتَكزُ الأساسُ فيها

- لو كانوا يعقلون! - وبها يرتبطُ الحُكمُ وجوداً ونفياً.

ولكن -وللأسف الشديد- قد غيَّبَ ذلك وأخفاهُ وكَتَمَهُ الناقِدون الحاقِدون الحاطِبون في مُحاضراتهم و (ملاحِمِهم) المنبريَّة الانتخابية!!

قال الإمامُ النَّووي في «روضة الطالبين» (10/282) :

«المسلم إذا كان ضعيفاً في دار الكُفر، لا يقدرُ على إظهار الدين حَرُمَ عليه الإقامةُ هناك، وتجبُ عليه الهجرةُ إلى دار الإسلام … » .

- وحين يجدُ المسلمُ موضعاً -داخل القطر الذي يعيش فيه- يأمنُ فيه على نفسه ودينِه وأهلِه، ويَنْأَى فيه عن الفِتنة التي حلَّت به في مدينته أو في قريته، فعليه -إن استطاع- أن يُهاجرَ إلى ذلك المكان داخلَ قُطره نفسِه، وهذا أَوْلى -ولا شك- مِن أن يُهاجِرَ إلى خارج قُطرِه، إذ يكون أقربَ إلى بلده لِيُسرعَ بالرجوع إليه بعد زوال السببِ الذي من أجله هاجر.
হিজরত ও জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকবে।

এই ফতোয়াটি নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা বিশেষ কোনো জাতির উদ্দেশ্যে নির্দেশিত নয়।

মানবজাতির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরত করেছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান ভূমি মক্কা আল-মুকাররামা থেকে। সৃষ্টির শুরু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মানুষই মর্যাদার দিক থেকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিচে, এবং পৃথিবীর প্রতিটি ভূখণ্ডই মক্কার সম্মান ও পবিত্রতার নিচে।

হিজরত করা ওয়াজিব (واجب) হয়ে যায় যখন একজন মুসলিম এমন কোনো ভূখণ্ডে নিজের দ্বীনের জন্য স্থিতিশীলতা খুঁজে পায় না যেখানে সে দ্বীনি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়; ফলে তার ওপর অর্পিত আল্লাহর শরয়ি বিধানসমূহ (أحكام شرعية) প্রকাশ করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয় না—এই আশঙ্কায় যে, তার ওপর আপতিত কোনো বিপদের কারণে সে ফিতনার (فتنة) শিকার হতে পারে অথবা তার শরীরে কোনো আঘাত আসতে পারে যার ফলে সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।

শাইখের ফতোয়ার হুকুমের ভিত্তি (مناط الحكم) এবং এর মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো এই বিষয়টিই—যদি তারা বুঝতে পারত!—এবং এর সাথেই হুকুমের (حكم) থাকা বা না থাকা সম্পৃক্ত।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বিদ্বেষপরায়ণ ও বিবেচনাহীন সমালোচকরা তাদের বক্তৃতা ও নির্বাচনী মিম্বরি 'বীরত্বগাথাগুলোতে' একে আড়াল করেছে, গোপন করেছে এবং চেপে গিয়েছে!!

ইমাম নববী রাওদাতুত তালিবিন (১০/২৮২) গ্রন্থে বলেছেন:

«একজন মুসলিম যখন কুফরি ভূখণ্ডে (دار الكفر) দুর্বল (ضعيف) হয় এবং দ্বীন প্রকাশ করতে সক্ষম না হয়, তখন সেখানে অবস্থান করা তার জন্য হারাম (حرام) এবং ইসলামি ভূখণ্ডের (دار الإسلام) দিকে হিজরত করা তার ওপর ওয়াজিব (واجب) … » ।

যখন কোনো মুসলিম নিজের দেশের ভেতরেই এমন কোনো স্থান খুঁজে পায় যেখানে সে নিজের জান, দ্বীন ও পরিবারের নিরাপত্তা পায় এবং তার শহর বা গ্রামে যে ফিতনার (فتنة) সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে দূরে থাকতে পারে, তবে তার জন্য—সক্ষম হলে—নিজের দেশের ভেতরেই সেই স্থানে হিজরত করা উচিত। আর এটি নিঃসন্দেহে দেশের বাইরে হিজরত করার চেয়ে উত্তম; কারণ এতে সে নিজ এলাকার কাছাকাছি থাকতে পারে যাতে হিজরতের কারণ দূর হওয়া মাত্রই দ্রুত সেখানে ফিরে যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২০)
وهذه نقطة أخرى -أيضاً- قد غيَّبها أولئك (القوم) الذين لم يَرْقبُوا في الشَّيخ، والعلمِ، والنّاسِ، إلاًّ ولا ذِمَّةً

- إذن؛ فالهجرةُ كما أنَّها مشروعةٌ من قُطر إلى قُطر، فهي مشروعةٌ مِن قرية أو مِن مدينة إلى قرية أو مدينةٍ داخل القُطر نفسه، والمهاجرُ يعرفُ مِن نفسِه ما لا يعرفُه منه غيرُه.

وهذا -ثالثاً- قد غيَّبه أولئك المُهَرِّجون على المنابر، والراقصون على الصحائف! زاعمين أنَّ الشَّيخَ يأمُرُ أهلَ فلسطين بالخروج منها!! نعم؛ هكذا … -واللهِ- من غير تفصيلٍ أو بيان!! ولكن:

فما يَبْلُغُ الأعداءُ مِن جاهِلٍ … مَا يَبْلُغُ الجاهِلُ مِن نَفْسِه!

 

- والهجرةُ من قُطرٍ إلى قُطر لا تُشرَعُ إلاّ بدواعيها وأسبابها مِن مثل ما كرنا في فقرة مَضَتْ؛ ومن أعظم هذه الأسباب: أن تكون الهجرةُ للإعداد واتِّخاذ الأُهبة التي أمر الله بها {وَأَعِدُّواْ لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمْ مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ … } ؛ لإجلاء الأعداء عن أرضٍ مِن أرضِ المسلمين، وتَخليصِها من أيديهم؛ ليعودَ إليها حُكمُ الإسلام كما كان مِنْ قَبلُ.

فالهجرةُ -إذن- من الإعداد الذي أمر اللهُ به وحَضَّ عليه، ومَنْ أبطأ فيها -وقد تَهَيَّأت أسبابُها ودواعيها- فقد عصى اللهَ، ونأَى بجانبِه عن أمره.

فإِنْ عَلِمَ المسلمُ أو المسلمون أنَّهم ببقائهم في ديارهم يزدادون وَهْناً إلى وَهْن وضَعفاً إلى ضعف، وأنَّهم إنْ هاجروا ذهبَ الوَهْنُ عنهم، وزال الضَّعفُ منهم، وبَقُوا -بعد علمهم هذا- ولم يُهاجروا -إن استطاعوا-؛ فهم آثمون عاصون أَمرَ الله، ورُبَّما عُوقبوا بمعصيتهم هذه عقوبةً أعظمَ وأشدَّ نُكراً، تتلاشى فيها شخصيتُهم، وتغيبُ معها صورتُهم، وتَضِلُّ بها عقيدتُهم، ثم لا يجدون لهم من دون الله وليّاً ولا نصيراً.

وما صار إليه المسلمون في الأندلس، وفي غيرها من البلاد، شاهدٌ منظورٌ
এটি আরেকটি বিষয়—যা সেই সব লোক (গোষ্ঠী) আড়াল করেছে যারা শাইখ, জ্ঞান এবং মানুষের ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়তা বা অঙ্গীকারের (إلًّا ولا ذِمَّةً) তোয়াক্কা করেনি।

- সুতরাং; হিজরত (الهجرة) যেমন এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ডে বিধিবদ্ধ (مشروعة), তেমনি একই ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে এক গ্রাম বা শহর থেকে অন্য গ্রাম বা শহরেও তা বিধিবদ্ধ; আর একজন হিজরতকারী (المهاجر) নিজের অবস্থা সম্পর্কে যা জানেন, অন্য কেউ তা জানে না।

তৃতীয়ত—মিম্বরগুলোতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ভাঁড় এবং পত্রপত্রিকায় নৃত্যরতরা এটি গোপন করেছে! তারা দাবি করছে যে, শাইখ ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন!! হ্যাঁ; এভাবেই... আল্লাহর কসম—কোনো প্রকার ব্যাখ্যা বা বিবরণ ছাড়াই!! কিন্তু:

শত্রুরা একজন অজ্ঞ (جاهل) ব্যক্তির যতটা ক্ষতি করতে পারে... একজন অজ্ঞ ব্যক্তি নিজের তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করে ফেলে!

 

- আর এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ডে হিজরত (الهجرة) কেবল তখনই বিধিবদ্ধ (تُشرع) হয় যখন তার প্রেক্ষিত ও কারণসমূহ উপস্থিত থাকে, যেমনটি আমরা পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছি। এই কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো: হিজরত হতে হবে প্রস্তুতির জন্য এবং সেই যুদ্ধের সরঞ্জাম গ্রহণের জন্য যার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন: {আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও পালিত ঘোড়া প্রস্তুত করো, যার মাধ্যমে তোমরা আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের ভীত-সন্ত্রস্ত করবে...}; যাতে মুসলমানদের কোনো ভূমি থেকে শত্রুদের বিতাড়িত করা যায় এবং তাদের হাত থেকে তা উদ্ধার করা যায়; যেন সেখানে ইসলামের শাসন পূর্বের ন্যায় পুনরায় ফিরে আসে।

অতএব হিজরত (الهجرة) হলো সেই প্রস্তুতির অংশ যার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন এবং যার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর এর কারণ ও প্রেক্ষিত তৈরি হওয়ার পর যে ব্যক্তি এতে বিলম্ব করবে, সে আল্লাহর অবাধ্য হলো এবং তাঁর নির্দেশ থেকে বিমুখ হলো।

যদি কোনো মুসলিম বা মুসলিমরা জানতে পারে যে, নিজ আবাসভূমিতে অবস্থান করলে তাদের হীনতা (وهن) ও দুর্বলতা (ضعف) কেবল বৃদ্ধিই পাবে, আর যদি তারা হিজরত (هاجروا) করে তবে তাদের হীনতা ও দুর্বলতা দূরীভূত হবে—এ কথা জানার পর সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও যদি তারা হিজরত না করে, তবে তারা পাপিষ্ঠ এবং আল্লাহর নির্দেশের অবাধ্য। সম্ভবত তাদের এই অবাধ্যতার কারণে তাদের ওপর এমন ভয়াবহ ও অত্যন্ত কঠিন শাস্তি নেমে আসবে যাতে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে, তাদের পরিচয় হারিয়ে যাবে এবং তাদের আকিদা (عقيدة) পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে। অতঃপর তারা আল্লাহ ছাড়া কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী পাবে না।

আন্দালুস এবং অন্যান্য দেশে মুসলমানদের যে পরিণতি হয়েছিল, তা একটি দৃশ্যমান সাক্ষী।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২১)
يقُص علينا من نبئه ما يبعث مَنسِيَّ الشَّجَن، ويُنسي لذَّة الوَسَن، يُذَكِّر محظورَ السُّنن! فهل مِن مُدَّكِر؟

- ومِمّا لا شك فيه -مما كتمه -أيضاً- ناقلو الفُتيا المُشِيعون لها- أنَّ هذا كلَّه مَنُوطٌ بالقدرة والاستطاعة؛ لقوله -تعالى-: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَاّ وُسْعَهَا} ، ولقوله -سبحانه-: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُم} ، فإن لم يَجِد المسلمُ أرضاً يأوي إليها غير الأرض التي هو فيها؛ يَأمَنُ فيها على دينه، وينجو من الفتنة الواقع فيها، أو حيلَ بينه وبين الهجرة بأسباب مانعةٍ قاهرةٍ لا يستطيعُ تذليلَها، أو استوت الأرضُ كلُّها في الأسباب والدَّواعي الموجبة للهجرة، أو عَلِمَ في نفسه أنَّ بقاءَه في أرضه آمَنُ لدينه ونفسِه وأهلِه، أو لم يكن من مُهاجَر إلاّ إلى أرض يُحكَم فيها بالكُفر الصُّراح علانيةً، أو كان بقاؤه في أرضه المأذونِ له بالهجرة منها مُحَقِّقاً مصلحةً شرعيّةً، سواءٌ أكانت هذه المصلحةُ للأمَّة، أم بإخراج أهل الكفر من كفرهم، وهو لا يخشى الفتنةَ على نفسه في دينه، فهو في هذه الأحوال كلِّها، وفي الأحوال التي تُحاكيها، ليس في وُسعه إلا أن يبقى مُقيماً في أرضه، ويُرجَى له ثوابُ المهاجرين، فراراً بدينهم، وابتغاءَ مرضاةِ ربِّهم.

قال الإمامُ النَّوويُّ في «الرَّوضة» (10/282) -مُتَمِّماً كلامه الذي نقلتُه عنه-قَبْلُ-:

« … فإن لم يَقْدِر على الهجرة فهو مَعذورٌ إلى أن يَقدِرَ» .

- ويُقالُ في أهل فلسطينَ -خصوصاً- ما يُقال في مثل هؤلاء جميعاً، فلقد سُئل الشيخُ -حفظه الله- عن بعض أهل المدن التي احتلّها اليهود عام 1948م، وضَرَبوا عليها صبغةَ الحُكم اليهودي بالكليّة، حتى صار أهلُها فيها إلى حالٍ من الغُربة المُرْمِلَةِ في دينهم، وأضْحَوا فيها عَبَدَةً أذلاّءَ؟ فقال: هل في قُرى فلسطين أو في مُدُنِها قريةٌ أو مدينةٌ يستطيع هؤلاء أن يَجِدُوا فيها دينَهم،
তিনি আমাদের কাছে তাঁর এমন সংবাদ বর্ণনা করেন যা বিস্মৃত দুঃখকে জাগিয়ে তোলে, ঘুমের স্বাদ ভুলিয়ে দেয় এবং নিষিদ্ধ হওয়া সুন্নাহ (سنن) গুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়! তবে কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?

- আর এতে কোনো সন্দেহ নেই—যা সেই ফতোয়া প্রচারকারী ও ঘোষণাকারীরাও গোপন রেখেছে—যে এই সবকিছু সামর্থ্য ও সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল; আল্লাহ তা'আলার বাণীর কারণে: {আল্লাহ কোনো আত্মাকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করেন না}, এবং সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বাণীর কারণে: {অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্যমতো}। যদি কোনো মুসলিম এমন কোনো ভূমি না পায় যেখানে সে আশ্রয় নিতে পারে তার বর্তমান ভূমি ব্যতীত; যেখানে সে তার দ্বীন নিয়ে নিরাপদ থাকবে এবং যে ফিতনা (فتنة) এর মধ্যে সে পতিত হয়েছে তা থেকে মুক্তি পাবে, অথবা কোনো অদম্য ও প্রবল বাধার কারণে হিজরতের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় যা সে দূর করতে সক্ষম নয়, অথবা যদি সব ভূমিই হিজরত করার কারণ ও প্রেক্ষাপটের দিক থেকে সমান হয়ে যায়, অথবা সে নিজের মনে জানে যে তার নিজ ভূমিতে অবস্থান করা তার দ্বীন, জীবন ও পরিবারের জন্য অধিক নিরাপদ, অথবা যদি হিজরতের জন্য এমন কোনো জায়গা না থাকে যেখানে প্রকাশ্যে স্পষ্ট কুফরের শাসন চলে না, অথবা যে ভূমি থেকে তার হিজরত করার অনুমতি রয়েছে সেখানে অবস্থান করা যদি কোনো শারয়ি মাসলাহাত বা কল্যাণ নিশ্চিত করে—চাই সেই কল্যাণ উম্মাহর জন্য হোক অথবা কাফিরদের কুফর থেকে বের করে আনার মাধ্যমে হোক—এবং সে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে ফিতনা (فتنة) এর আশঙ্কা না করে; তবে এই সব অবস্থায় এবং এর অনুরূপ পরিস্থিতিগুলোতে তার নিজ ভূমিতে অবস্থান করা ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং তার জন্য মুহাজিরদের সওয়াব বা প্রতিদান আশা করা যায়, যারা তাদের দ্বীন রক্ষার্থে পলায়ন করেছে এবং তাদের রবের সন্তুষ্টি কামনা করেছে।

ইমাম নববী রাওদাহ (১০/২৮২) গ্রন্থে—তাঁর ইতিপূর্বে উদ্ধৃত বক্তব্যের সমাপ্তি টেনে—বলেছেন:

« … যদি সে হিজরত করতে সক্ষম না হয়, তবে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত সে ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হিসেবে গণ্য হবে।»

- আর ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে তাই বলা হবে যা এই জাতীয় সকলের ক্ষেত্রে বলা হয়। শেখ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-কে ১৯৪৮ সালে ইহুদিদের দ্বারা দখলকৃত কিছু শহরের অধিবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যেখানে তারা সম্পূর্ণরূপে ইহুদি শাসনের রঙ লেপে দিয়েছিল, এমনকি সেখানকার অধিবাসীরা তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে এক নিঃস্ব একাকীত্বের অবস্থায় পতিত হয়েছিল এবং সেখানে তারা অপমানিত দাসে পরিণত হয়েছিল? তখন তিনি বললেন: ফিলিস্তিনের গ্রাম বা শহরগুলোর মধ্যে কি এমন কোনো গ্রাম বা শহর আছে যেখানে তারা তাদের দ্বীনকে খুঁজে পাবে,
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২২)
ويتخذوها داراً يدرءون فيها الفتنةَ عنهم؟ فإن كان؛ فعليهم أن يُهاجروا إليها، ولا يخرجوا من أرض فلسطين، إذ إنَّ هِجرَتَهم من داخلِها إلى داخلِها أَمرٌ مَقْدُورٌ عليه، ومُحَقِّقٌ الغايةَ من الهجرة.

وهذا تحقيقٌ علميٌّ دقيقٌ يَنقُضُ زَعمَ مَنْ شَوَّشَ وهَوَّشَ مُدَّعياً أنَّ في فُتيا الشيخ إخلاءً لأرض فلسطين من أَهلِها، أو تنفيذاً لِمُخَطَّطاتِ يهود!! {مَا لَكُم كَيْفَ تَحْكُمُونَ} » .

أُفٍّ لكم أيُّها الناقدون الحاقدون! هل علمتم هذا التَّفصيلَ أم جهلتموه؟! إن كنتم علمتوه فَلِمَ أَخفَيتُموه وكَتَمتُموه؟!

وإنْ كنتُم جهلتموه! فلماذا رَضِيتُم لأنفسكم الجهلَ، وللشيخ الظُّلمَ، وللناس التَّضليلَ؟!

أم أنَّ هذه تجارتُكم تَخشَوْنَ كسادَها؟! بِئسَتِ البضاعةُ، وبئست التجارةُ!

- وَليَعلَمِ المسلمُ أنَّ الحِفاظَ على الأرض والنَّفس، ليس أولى من الحفاظ على الدين والعقيدة، بل إنَّ استلابَ الأرضِ -مِمَّن يظلُّ مُقيماً فيها رجاءَ الحفاظ عليها، غيرَ واضعٍ في حسابه الحفاظَ على دينه أولاً- قد يكون أَيسَرَ، وأشدَّ إيذاءً، وأعظمَ فتنةً.

والعدوُّ الكافر الذي يحتلُّ أرضاً -وأهلُها مُقيمون فوقَها- يملكُ الأرضَ ومَن عليها وما عليها، فالكفرُ لا يَحفظُ للإسلام عهداً، ولا يرعى للمسلمين إلاًّ ولا ذمَّة، ولا يُقيم لهم في أرضهم وخارج أرضهم وَزناً.

قال أبو عبيدة: وتكلم الشيخ -رحمه الله تعالى- على هذه المسألة بإسهاب في كتابه «السلسلة الصحيحة» عند حديث رقم (2857) ، وهذا نصه:

«إنكم إن شهدتم أن لا إله إلا الله، وأقمتم الصلاة، وآتيتم الزكاة، وفارقتم المشركين، وأعطيتم من الغنائم الخمس وسهم النبي صلى الله عليه وسلم،
তারা কি সেটাকে এমন এক আবাস হিসেবে গ্রহণ করবে যেখানে তারা নিজেদের থেকে ফিতনা (الفتنة) প্রতিরোধ করতে পারবে? যদি তাই হয়, তবে তাদের উচিত সেখানে হিজরত করা এবং ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড ত্যাগ না করা; কেননা ফিলিস্তিনের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাদের এই হিজরত একটি সম্ভবপর বিষয় এবং এটি হিজরতের উদ্দেশ্যকেও সফল করে।

এটি একটি সূক্ষ্ম জ্ঞানতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ যা সেই ব্যক্তির দাবিকে খণ্ডন করে যে বিভ্রান্তি ও শোরগোল সৃষ্টি করে দাবি করছে যে, শাইখের ফতোয়ায় ফিলিস্তিন ভূমিকে তার অধিবাসীদের থেকে শূন্য করার অথবা ইহুদিদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা রয়েছে!! {তোমাদের কী হলো? তোমরা কীভাবে বিচার করো!}

ধিক্কার তোমাদের প্রতি, ওহে বিদ্বেষপরায়ণ সমালোচকগণ! তোমরা কি এই বিস্তারিত বিবরণ জানতে নাকি এ ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলে?! যদি তোমরা তা জেনে থাকতে, তবে কেন তা গোপন করলে এবং চেপে রাখলে?!

আর যদি তোমরা এ বিষয়ে অজ্ঞ থেকে থাকো, তবে কেন তোমরা নিজেদের জন্য অজ্ঞতাকে, শাইখের প্রতি জুলুমকে এবং মানুষের জন্য বিভ্রান্তিকে বেছে নিলে?!

নাকি এটিই তোমাদের ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার ভয় তোমরা পাচ্ছ?! কতই না মন্দ এই পণ্য এবং কতই না নিকৃষ্ট এই ব্যবসা!

- আর মুসলিমদের জানা উচিত যে, ভূখণ্ড ও জীবন রক্ষা করা দীন ও আকিদা (العقيدة) রক্ষার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য নয়। বরং এমন ব্যক্তির কাছ থেকে ভূমি কেড়ে নেওয়া—যে ব্যক্তি দীন রক্ষার বিষয়টি প্রথমে বিবেচনায় না নিয়ে কেবল ভূমি রক্ষার আশায় সেখানে অবস্থান করে—অধিক সহজ হতে পারে এবং তা হতে পারে অধিক কষ্টদায়ক ও বড় ফিতনা (الفتنة)।

আর যে কাফির শত্রু কোনো ভূখণ্ড দখল করে—যখন তার অধিবাসীরা সেখানে অবস্থানরত থাকে—সে তখন সেই ভূখণ্ড এবং তার ওপর যা কিছু ও যারা আছে তাদের মালিক হয়ে বসে। কেননা কুফর ইসলামের কোনো অঙ্গীকার রক্ষা করে না এবং মুসলিমদের কোনো আত্মীয়তা বা চুক্তির তোয়াক্কা করে না। তারা তাদের নিজের ভূখণ্ডে বা তার বাইরে তাদের কোনো মূল্যায়নই করে না।

আবু উবাইদাহ বলেন: শাইখ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—তাঁর সিলসিলাহ সহীহাহ গ্রন্থে ২৮৫৭ নম্বর হাদিসের অধীনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এটিই তার পাঠ:

«তোমরা যদি এই সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো, মুশরিকদের ত্যাগ করো এবং গনিমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ ও নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অংশ প্রদান করো,
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২৩)
.. والصفي (1) -وربما قال: وصفيَّة-؛ فأنتم آمنون بأمان الله وأمان رسوله» (2) .

وتعرض للفتنة التي ألمت به، وصرح بموقفه من المسألة ببيانٍ ناصع، وحجة واضحة، وشدّ فهمه للنصوص بكلام بعض العلماء المحققين، وهذا كلامه بحرفه ونصّه وفصّه:

«قلت: في هذا الحديث بعض الأحكام التي تتعلق بدعوة الكفار إلى الإسلام، من ذلك: أن لهم الأمان إذا قاموا بما فرض الله عليهم، ومنها: أن يفارقوا المشركين ويهاجروا إلى بلاد المسلمين، وفي هذا أحاديث كثيرة، يلتقي كلها على حضّ من أسلم على المفارقة، كقوله صلى الله عليه وسلم: «أنا بريء من كل مسلم يقيم بين أظهر المشركين، لا تتراءى نارهما» ، وفي بعضها أن النبي صلى الله عليه وسلم اشترط على بعضهم في البيعة أن يفارق المشرك، وفي بعضها قوله صلى الله عليه وسلم:

«لا يقبل الله عز وجل من مشرك بعد ما أسلم عملاً، أو يفارق المشركين إلى المسلمين» .

إلى غير ذلك من الأحاديث، وقد خرجت بعضها في «الإرواء» (5/9-33) ، وفيما تقدم برقم (636) .

وإن مما يُؤْسَفُ له أشد الأسف، أن الذين يُسْلمون في العصر الحاضر … -مع كثرتهم والحمد لله- لا يتجاوبون مع هذا الحكم من المفارقة، وهجرتهم

--------------------------------------------

(1) (الصَّفِيّ) : ما كان صلى الله عليه وسلم يصطفيه ويختاره من عرض المغنم من فرس أو غلام أو سيف، أو ما أحب من شيء، وذلك من رأس المغنم قبل أن يخمَس، كان صلى الله عليه وسلم مخصوصاً بهذه الثلاث (يعني المذكورة في الحديث: الخمس والسهم والصفي) عقبة وعوضاً عن الصدقة التي حرمت عليه. قاله الخطابي. (منه) .

(2) أخرجه عبد الرزاق (4/300/7857) ، وأحمد (5/77، 78) ، والخطابي في «غريب الحديث» (4/236) ، والبيهقي (6/303 و9/13) ، وإسناده صحيح على شرط الشيخين. (منه) .
..এবং আল-সাফি (১) —হয়তো তিনি বলেছেন: সাফিয়্যাহ—; সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিরাপত্তায় এবং তাঁর রাসূলের নিরাপত্তায় নিরাপদ (২) ।

তিনি তাঁর ওপর আপতিত ফিতনা (পরীক্ষা) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং অত্যন্ত স্পষ্ট বর্ণনা ও সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে এই মাসআলায় নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি কতিপয় বিজ্ঞ গবেষক (محقق) আলিমের বক্তব্যের মাধ্যমে টেক্সট বা নসসমূহ (نصوص) সম্পর্কে তাঁর বোধগম্যতাকে সুদৃঢ় করেছেন। এটিই হলো তাঁর হুবহু বক্তব্য:

«আমি বলছি: এই হাদিসের মধ্যে কাফিরদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিধান (أحكام) রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: তারা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা পালন করে, তবে তাদের জন্য নিরাপত্তা (أمان) রয়েছে। আরেকটি হলো: তারা মুশরিকদের ত্যাগ করবে এবং মুসলিমদের ভূখণ্ডের দিকে হিজরত করবে। এই বিষয়ে অনেক হাদিস রয়েছে, যার সবগুলোই ইসলাম গ্রহণকারীদের (মুশরিকদের থেকে) পৃথক হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আমি সেই প্রত্যেক মুসলিমের থেকে দায়মুক্ত, যে মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে; তাদের উভয়ের আগুন যেন পরস্পরকে দেখতে না পায়», আবার কোনো কোনো হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইয়াতের (আনুগত্যের শপথের) সময় তাদের কারো কারো ওপর এই শর্তারোপ করেছিলেন যে, তারা মুশরিকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। আর কোনো কোনো হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হলো:

«আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কোনো মুশরিক ইসলাম গ্রহণ করার পর তার কোনো আমল কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে মুশরিকদের ত্যাগ করে মুসলিমদের সাথে এসে মিলিত হয়»।

এছাড়া আরও অন্যান্য হাদিস রয়েছে। আমি এর মধ্য থেকে কিছু হাদিসের তাখরিজ (تخريج) করেছি 'ইরওয়া' (৫/৯-৩৩) গ্রন্থে এবং ইতিপূর্বে ৬৩৬ নম্বরে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান যুগে যারা ইসলাম গ্রহণ করছেন … —আলহামদুলিল্লাহ, তাদের সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও— তারা পৃথক হওয়ার এই বিধানের (أحكام) সাথে একমত পোষণ করছেন না, আর তাদের হিজরত...

--------------------------------------------

(১) (আল-সাফি): গনিমতের মালের মধ্য থেকে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য মনোনীত করতেন এবং পছন্দ করে নিতেন, তা কোনো ঘোড়া, গোলাম, তরবারি কিংবা অন্য যেকোনো প্রিয় বস্তু হতে পারে। গনিমতের মাল থেকে খুমুস (এক-পঞ্চমাংশ) বের করার পূর্বেই তা গ্রহণ করা হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই তিনটি বিষয়ের জন্য (অর্থাৎ হাদিসে উল্লিখিত: খুমুস, সাহম বা অংশ এবং সাফি) বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন, যা তাঁর জন্য নিষিদ্ধ সদকার বিকল্প ও বিনিময় হিসেবে নির্ধারিত ছিল। এটি খাত্তাবি বলেছেন। (গ্রন্থকার)।

(২) এটি আবদুর রাজ্জাক (৪/৩০০/৭৮৫৭), আহমাদ (৫/৭৭, ৭৮), খাত্তাবি 'গারিবুল হাদিস' (৪/২৩৬) এবং বায়হাকি (৬/৩০৩ ও ৯/১৩) বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (إسناد) শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)। (গ্রন্থকার)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২৪)
إلى بلاد الإسلام، إلا القليل منهم، وأنا أعزو ذلك إلى أمرين اثنين:

الأول: تكالبهم على الدنيا، وتيسّر وسائل العيش والرفاهية في بلادهم بحكم كونهم يعيشون حياة مادية ممتعة، لا روح فيها، كما هو معلوم، فيصعب عليهم عادة أن ينتقلوا إلى بلد إسلامي قد لا تتوفر لهم فيه وسائل الحياة الكريمة في وجهة نظرهم.

والآخر -وهو الأهم-: جهلهم بهذا الحكم، وهم في ذلك معذورون، لأنهم لم يسمعوا به من أحد من الدعاة الذين تذاع كلماتهم مترجمة ببعض اللغات الأجنبية، أو من الذين يذهبون إليهم باسم الدعوة؛ لأن أكثرهم ليسوا فقهاء، وبخاصة منهم جماعة التبليغ، بل إنهم ليزدادون لصوقاً ببلادهم، حينما يرون كثيراً من المسلمين قد عكسوا الحكم بتركهم لبلادهم إلى بلاد الكفار! فمن أين لأولئك الذين هداهم الله إلى الإسلام أن يعرفوا مثل هذا الحكم والمسلمون أنفسهم مخالفون له؟!

ألا فليعلم هؤلاء وهؤلاء أن الهجرة ماضية كالجهاد، فقد قال s: «لا تنقطع الهجرة ما دام العدو يقاتل» ، وفي حديث آخر: «لا تنقطع الهجرة حتى تنقطع التوبة، ولا تنقطع التوبة حتى تطلع الشمس من مغربها» ، وهو مخرج في «الإرواء» (1208) .

ومما ينبغي أن يعلم، أن الهجرة أنواع ولأسباب عدة، ولبيانها مجال آخر، والمهم هنا الهجرة من بلاد الكفر إلى بلاد الإسلام مهما كان الحكام فيها منحرفين عن الإسلام، أو مقصرين في تطبيق أحكامه، فهي على كل حال خير بما لا يوصف من بلاد الكفر أخلاقاً وتديناً وسلوكاً، وليس الأمر -بداهة- كما زعم أحد الجهلة الحمقى الهوج من الخطباء:

«والله لو خُيّرت أن أعيش في القدس تحت احتلال اليهود وبين أن أعيش في أي عاصمة عربية، لاخترت أن أعيش في القدس تحت احتلال
ইসলামি ভূখণ্ডের দিকে, তাদের সামান্য অংশ ব্যতীত। আমি এর পেছনে দুটি কারণকে দায়ী করি:

প্রথমত: দুনিয়ার প্রতি তাদের মোহ এবং তাদের দেশগুলোতে জীবন যাপনের উপকরণ ও বিলাসিতার সহজলভ্যতা। যেহেতু তারা সেখানে একটি উপভোগ্য বস্তুগত জীবন অতিবাহিত করে, যাতে কোনো রুহানিয়্যাত বা আধ্যাত্মিকতা নেই—যেমনটি সর্বজনবিদিত। ফলে তাদের জন্য সাধারণত এমন কোনো ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরত (هجرة) করা কঠিন হয়ে পড়ে যেখানে তাদের দৃষ্টিতে সম্মানজনক জীবন যাপনের উপকরণাদি সহজলভ্য নাও হতে পারে।

অন্যটি—যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ—হলো: এই বিধান (حكم) সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা। এ বিষয়ে তারা ওজরপ্রাপ্ত (معذور), কারণ তারা এমন কোনো দাঈর (داعية) কাছ থেকে এটি শোনেনি যাদের বক্তব্য বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রচারিত হয়, অথবা তাদের কাছ থেকেও শোনেনি যারা দাওয়াতের নামে তাদের কাছে যায়। কারণ তাদের অধিকাংশ ফকিহ (فقهاء) নন, বিশেষ করে তাবলিগ জামাতের লোকেরা। বরং তারা নিজ দেশের প্রতি আরও বেশি আসক্ত হয়ে পড়ে যখন তারা দেখে যে অনেক মুসলিমই নিজেদের দেশ ছেড়ে কাফেরদের দেশে পাড়ি জমিয়ে এই বিধানের (حكم) বিপরীত আমল করছে! সুতরাং আল্লাহ যাদেরকে ইসলামের হিদায়াত দিয়েছেন, তারা এই বিধান (حكم) সম্পর্কে জানবে কী করে, যেখানে খোদ মুসলিমরাই এর পরিপন্থী কাজ করছে?!

জেনে রাখা উচিত যে, হিজরত (هجرة) জিহাদের মতোই বলবৎ থাকবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যতক্ষণ শত্রু যুদ্ধ করবে ততক্ষণ হিজরত (هجرة) বন্ধ হবে না।" অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "তওবা (توبة) বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হিজরত (هجرة) বন্ধ হবে না, আর পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত তওবা (توبة) বন্ধ হবে না।" এটি ইরওয়াউল গালিল (১২০৮) গ্রন্থে তখরিজকৃত (مخرج) হয়েছে।

একটি বিষয় জানা আবশ্যক যে, হিজরত (هجرة) বিভিন্ন প্রকারের এবং এর কারণও বহুমুখী, যা বর্ণনার জন্য ভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কুফরি রাষ্ট্র থেকে ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরত (هجرة) করা, চাই সেখানকার শাসকরা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হোক বা ইসলামের বিধান (حكم) বাস্তবায়নে ত্রুটিপূর্ণ হোক না কেন। কারণ যেকোনো অবস্থায় চারিত্রিক, ধর্মীয় ও আচরণের দিক থেকে এটি কুফরি রাষ্ট্রের তুলনায় অবর্ণনীয়ভাবে উত্তম। বিষয়টি স্পষ্টতই এমন নয় যেমনটি জনৈক মূর্খ ও নির্বোধ বক্তা দাবি করেছে:

«আল্লাহর কসম! যদি আমাকে ইহুদিদের দখলে থাকা জেরুজালেমে বসবাস করা এবং যেকোনো আরব দেশের রাজধানীতে বসবাস করার মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হতো, তবে আমি ইহুদিদের দখলাধীন জেরুজালেমেই বসবাস করা বেছে নিতাম...»
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২৫)
اليهود» ! وزاد على ذلك، فقال ما نصّه:

«ما أرى إلا أن الهجرة واجبة من الجزائر إلى (تل أبيب) » !!

كذا قال فضّ فوه، فإن بطلانه لا يخفى على مسلم مهما كان غبياً! ولتقريب ما ذكرت من الخيرية إلى أذهان القراء المحبين للحق الحريصين على معرفته واتباعه، الذين لا يهولهم جعجعة الصائحين، وصراخ الممثلين، واضطراب الموتورين من الحاسدين والحاقدين من الخطباء والكاتبين:

أقول لأولئك المحبين: تذكروا على الأقل حديثين اثنين لرسول الله صلى الله عليه وسلم:

أحدهما: «إن الإيمان ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها» .

أخرجه البخاري ومسلم وغيرهما.

والآخر: «لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق حتى يأتيهم أمر الله وهم ظاهرون» ، وهو حديث صحيح متواتر رواه جماعة من الصحابة، وتقدم تخريجه عن جمع منهم برقم (270 و1108 و1955 و1956) ، و «صحيح أبي داود» (1245) ، وفي بعضها أنهم «أهل المغرب» ؛ أي: الشام، وجاء ذلك مفسراً عند البخاري وغيره عن معاذ، وعند الترمذي وغيره مرفوعاً بلفظ:

«إذا فسد أهل الشام فلا خير فيكم، ولا تزال طائفة من أمتي … » الحديث.

وفي هذه الأحاديث إشارة قوية إلى أن العبرة في البلاد إنما هي بالسكان وليس بالحيطان، وقد أفصح عن هذه الحقيقة سلمان الفارسي رضي الله عنه حين كتب أبو الدرداء إليه: أن هلم إلى الأرض المقدسة، فكتب إليه سلمان: «إن الأرض المقدسة لا تقدس أحداً، وإنما يقدس الإنسانَ عملُه» (1) .

--------------------------------------------

(1) قال أبو عبيدة: رواه ابن أبي شيبة في «المصنف» (1/182 - ط. دار الفكر) ، = =وأبو القاسم البغوي -ومن طريقه ابن عساكر في «تاريخ دمشق» (1/150) -، وعبد الله ابن أحمد في «زوائد الزهد» (2/90 - ط. دار النهضة) ، وعنه وكيع في «أخبار القضاة» (3/200) ، وأبو نعيم في «الحلية» (1/205) ، والدينوري في «المجالسة» (رقم 1238 - بتحقيقي) -ومن طريقه ابن عساكر في «تاريخ دمشق» (1/150 - ط. دار الفكر) - عن يحيى بن سعيد الأنصاري: أن أبا الدرداء كتب إلى سلمان الفارسي: أن هلم إلى الأرض المقدسة، فكتب إليه سلمان: إن الأرض لا تقدس أحداً … ثم ذكر كلاماً، وبعضهم اختصره.

وهذا إسناد منقطع، يحيى بن سعيد لم يدرك القصة.

قال أبو نعيم: رواه جرير، عن يحيى بن سعيد، عن عبد الله بن هبيرة: أن سلمان كتب إلى أبي الدرداء، نحوه.

أقول: هذا سند ظاهرهُ الاتصال، عبد الله بن هُبيرة هذا من الثقات، وظاهره أنه أدرك سلمان، لكن سلمان مات في حدود (35-40هـ) ، وهذا مات سنة (126) ، وله خمس وثمانون سنة، فهو لم يدرك سلمان قطعاً.

ورواه أبو نعيم -أيضاً- من طريق مالك بن دينار: أن سلمان كتب إلى أبي الدرداء … وهذا إسناد منقطع -أيضاً-.
...ইহুদিরা!" এবং তিনি এর ওপর আরও বৃদ্ধি করে যা বলেছেন তার পাঠ হলো: "আমি এটাই মনে করি যে, আলজেরিয়া থেকে (তেল আবিব) হিজরত করা ওয়াজিব"!!

তিনি এভাবেই বলেছেন, তার মুখ ভেঙে যাক; কেননা এর অসারতা যেকোনো মুসলিমের কাছেই স্পষ্ট, সে যতই নির্বোধ হোক না কেন! আর আমি যে শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেছি তা সেই সত্যপ্রেমী পাঠকদের হৃদয়ের নিকটবর্তী করার জন্য যারা সত্য জানতে ও তা অনুসরণ করতে আগ্রহী, যারা চিৎকারকারীদের হট্টগোল, অভিনয়কারীদের আর্তনাদ এবং বক্তা ও লেখকদের মধ্য থেকে হিংসুক ও বিদ্বেষপরায়ণ ক্ষতিগ্রস্তদের অস্থিরতায় ভীত হন না:

আমি সেই সকল প্রিয়জনদের বলব: আপনারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তত দুটি হাদিস স্মরণ করুন:

প্রথমটি: "নিশ্চয়ই ঈমান মদিনার দিকে ফিরে আসবে যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে।"

এটি বুখারি, মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আর অপরটি হলো: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা বিজয়ী অবস্থায় থাকবে।" এটি একটি সহিহ (صحيح) মুতাওয়াতির (متواتر) হাদিস যা একদল সাহাবি বর্ণনা করেছেন এবং তাদের একদল হতে এর তাখরিজ পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যার নম্বর (২৭০, ১১০৮, ১৯৫৫ এবং ১৯৫৬), এবং সহিহ আবু দাউদ (১২৪৫); এর কিছু বর্ণনায় এসেছে যে তারা হলেন "মাগরিববাসী"; অর্থাৎ: শাম (সিরিয়া), আর এটি বুখারি ও অন্যান্যদের কাছে মুয়াজ হতে ব্যাখ্যাত হয়েছে, এবং তিরমিজি ও অন্যান্যদের নিকট মারফু (مرفوع) হিসেবে এই শব্দে এসেছে:

"যখন শামবাসীরা কলুষিত হয়ে যাবে তখন তোমাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ থাকবে না, আর আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা … " হাদিস।

আর এই হাদিসগুলোতে জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে যে, কোনো ভূখণ্ডের গুরুত্ব সেখানকার বাসিন্দাদের দ্বারা নির্ধারিত হয়, দেয়াল দ্বারা নয়। এই সত্যটি সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছিলেন যখন আবু দারদা তার নিকট লিখেছিলেন: পবিত্র ভূমির দিকে চলে এসো। তখন সালমান তাকে লিখেছিলেন: "নিশ্চয়ই পবিত্র ভূমি কাউকে পবিত্র করে না, বরং মানুষকে তার আমলই পবিত্র করে" (১)।

--------------------------------------------

(১) আবু উবাইদাহ বলেন: এটি ইবনে আবি শাইবা আল-মুসান্নাফ-এ (১/১৮২ - দারুল ফিকর সংস্করণ) বর্ণনা করেছেন, এবং আবুল কাসিম আল-বাগাভি—এবং তার সূত্রে ইবনে আসাকির তারিখ দিমাশক-এ (১/১৫০)—এবং আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ যাওয়াইদুয যুহদ-এ (২/৯০ - দারুন নাহদাহ সংস্করণ)—এবং তার থেকে ওকি আখবারুল কুদাত-এ (৩/২০০), আবু নুয়াইম আল-হিলইয়াহ-তে (১/২০৫), এবং আদ-দিনাওয়ারি আল-মুজালাসাহ-তে (নম্বর ১২৩৮ - আমার তাহকিককৃত)—এবং তার সূত্রে ইবনে আসাকির তারিখ দিমাশক-এ (১/১৫০ - দারুল ফিকর সংস্করণ)—ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি হতে বর্ণনা করেছেন: আবু দারদা সালমান ফারসির নিকট লিখেছিলেন: পবিত্র ভূমির দিকে চলে এসো। তখন সালমান তাকে লিখেছিলেন: নিশ্চয়ই ভূমি কাউকে পবিত্র করে না … এরপর তিনি কিছু কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাদের কেউ কেউ তা সংক্ষেপ করেছেন।

আর এটি একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদ (إسناد), ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এই ঘটনাটি পাননি।

আবু নুয়াইম বলেন: এটি জারির বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে হুবাইরাহ হতে: সালমান আবু দারদাকে লিখেছিলেন, অনরূপ।

আমি বলব: এই সনদটির (سند) বাহ্যিক অবস্থা হলো এটি সংযুক্ত (متصل), এই আবদুল্লাহ ইবনে হুবাইরাহ নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) অন্তর্ভুক্ত, এবং বাহ্যিকভাবে মনে হয় যে তিনি সালমানকে পেয়েছেন, কিন্তু সালমান (৩৫-৪০ হিজরি) এর আশেপাশে মারা গেছেন, আর তিনি মারা গেছেন ১২৬ হিজরিতে এবং তখন তার বয়স ছিল ৮৫ বছর। সুতরাং তিনি নিশ্চিতভাবেই সালমানকে পাননি।

আবু নুয়াইম এটি মালিক ইবনে দিনার-এর সূত্র ধরেও বর্ণনা করেছেন: সালমান আবু দারদাকে লিখেছিলেন … আর এটিও একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদ (إسناد)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২৬)
(موطأ مالك 2/235) .

ولذلك فمن الجهل المميت والحماقة المتناهية -إن لم أقل وقلِّة الدين- أن يختار خطيب أخرق الإقامة تحت الاحتلال اليهودي، ويوجب على الجزائريين المضطهدين أن يهاجروا إلى (تل أبيب) ، دون بلده المسلم (عمّان) مثلاً، بل دون مكة والمدينة، متجاهلاً ما نشره اليهود في فلسطين بعامة، و (تل أبيب) و (حيفا) و (يافا) بخاصة من الفسق والفجور والخلاعة، حتى سرى ذلك بين كثير من المسلمين والمسلمات بحكم المجاورة والعدوى، مما لا يخفى على من ساكنهم، ثم نجاه الله منهم، أو يتردد على أهله هناك لزيارتهم في بعض الأحيان.

وليس بِخَاف على أحد أوتي شيئاً من العلم ما في ذاك الاختيار من
(মুয়াত্তা মালিক ২/২৩৫)।

আর সে কারণেই এটি চরম মূর্খতা এবং সীমাহীন নির্বুদ্ধিতা—আমি যদি দ্বীনদারির স্বল্পতা না-ও বলি—যে একজন অবিবেচক খতিব ইহুদি দখলদারিত্বের অধীনে বসবাস করাকে বেছে নিচ্ছেন এবং নিপীড়িত আলজেরীয়দের ওপর তেল আবিবে হিজরত করাকে আবশ্যক করছেন; অথচ তিনি তার নিজস্ব মুসলিম দেশ (যেমন আম্মান), এমনকি মক্কা ও মদিনার শ্রেষ্ঠত্বকেও উপেক্ষা করছেন। তিনি ফিলিস্তিনে সাধারণভাবে এবং বিশেষ করে তেল আবিব, হাইফা ও জাফাতে ইহুদিদের দ্বারা প্রসারিত পাপাচার, অবাধ্যতা ও অশ্লীলতাকে উপেক্ষা করেছেন, যা এমনকি প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে এবং সামাজিক সংক্রমণের প্রভাবে অনেক মুসলিম নর-নারীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। যারা তাদের সাথে বসবাস করেছেন এবং পরবর্তীতে আল্লাহ যাদের তাদের থেকে নাজাত দিয়েছেন অথবা যারা মাঝে মাঝে সেখানে স্বজনদের সাথে দেখা করতে যান, তাদের কাছে বিষয়টি মোটেও অস্পষ্ট নয়।

আর সামান্যতম ইলম বা জ্ঞানপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির কাছেই এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই নির্বাচনের মধ্যে কী পরিমাণ...
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২৭)
المخالفة لصريح قوله -تعالى-: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُواْ فِيمَ كُنتُمْ قَالُواْ كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الأَرْضِ قَالُواْ أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُواْ فِيهَا فَأُوْلَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءَتْ مَصِيراً. إِلَاّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالوِلْدَانِ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلاً. فَأُوْلَئِكَ عَسَى اللَّهُ أَن يَعْفُوَ عَنْهُمْ وَكَانَ اللَّهُ عَفُوّاً غَفُوراً وَمَن يَخْرُجْ مِن بَيْتِهِ مُهَاجِراً إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلىَ اللَّهِ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَّحِيماً} [النساء: 97-100] .

قال الحافظ ابن كثير في «تفسيره» (1/542) :

«نزلت هذه الآية الكريمة عامة في كل من أقام بين ظهراني المشركين، وهو قادر على الهجرة، وليس متمكناً من إقامة الدِّين، فهو ظالم لنفسه، مرتكب حراماً بالإجماع، وبنص هذه الآية» .

وإن مما لا يشكُّ فيه العالم الفقيه، أن الآية بعمومها تدل على أكثر من الهجرة من بلاد الكفر، وقد صرَّح بذلك الإمام القرطبي، فقال في «تفسيره» (5/346) : «وفي هذه الآية دليل على هجران الأرض التي يُعمل فيها بالمعاصي، وقال سعيد بن جبير: إذا عُمل بالمعاصي في أرض فاخرج منها، وتلا: {أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُواْ فِيهَا} » .

وهذا الأثر رواه ابن أبي حاتم في «تفسيره» (2/174/1) بسند صحيح عن سعيد، وأشار إليه الحافظ في «الفتح» ، فقال (8/263) : «واستنبط سعيد ابن جبير من هذه الآية وجوب الهجرة من الأرض التي يعمل فيها بالمعصية» .

وقد يظن بعض الجهلة من الخطباء والدكاترة والأساتذة، أن قوله صلى الله عليه وسلم: «لا هجرة بعد الفتح» (1) ناسخ للهجرة مطلقاً، وهو جهل فاضح بالكتاب

--------------------------------------------

(1) متفق عليه، وهو مخرج في «الإرواء» (1057) . (منه) .
মহান আল্লাহর এই সুস্পষ্ট বাণীর পরিপন্থী: {নিশ্চয়ই ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় নিজেদের প্রতি অবিচাররত অবস্থায়, তারা জিজ্ঞেস করে, 'তোমরা কী অবস্থায় ছিলে?' তারা বলে, 'জমিনে আমরা অসহায় ছিলাম।' ফেরেশতারা বলে, 'আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে?' সুতরাং তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম, আর তা অতি মন্দ গন্তব্য। তবে অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশু যারা কোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোনো পথও খুঁজে পায় না; আশা করা যায় আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মার্জনাকারী ও পরম ক্ষমাশীল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করার উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হয়, অতঃপর মৃত্যু তাকে পেয়ে বসে, তবে তার পুরস্কার আল্লাহর ওপর অবধারিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু।} [নিসা: ৯৭-১০০] ।

হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর 'তাফসির' (১/৫৪২) গ্রন্থে বলেছেন:

"এই বরকতময় আয়াতটি সাধারণভাবে সেই সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে যারা মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে অথচ সে হিজরত করতে সক্ষম এবং দ্বীন পালন করতে সামর্থ্য রাখে না; সে নিজের প্রতি অবিচারকারী এবং ঐক্যমত্য (الإجماع) ও এই আয়াতের সুস্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী হারামে লিপ্ত।"

আর কোনো ফকিহ আলেমের নিকট এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, আয়াতের ব্যাপকতা কুফরি রাষ্ট্র থেকে হিজরত করার চেয়েও অধিক বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে। ইমাম কুরতুবি বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, তিনি তাঁর 'তাফসির' (৫/৩৪৬) গ্রন্থে বলেছেন: "এই আয়াতে এমন ভূখণ্ড ত্যাগ করার দলিল রয়েছে যেখানে পাপাচার করা হয়। সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন: যখন কোনো ভূমিতে পাপাচার করা হয় তখন সেখান থেকে বের হয়ে যাও। এরপর তিনি পাঠ করেন: {আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে?}"

এই আসার (الأثر) ইবনে আবি হাতেম তাঁর 'তাফসির' (২/১৭৪/১) গ্রন্থে সাঈদ থেকে সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন এবং হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন (৮/২৬৩): "সাঈদ ইবনে জুবায়ের এই আয়াত থেকে পাপাচার সংঘটিত হওয়া ভূমি থেকে হিজরত করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি উদ্ভাবন করেছেন।"

কতিপয় মূর্খ খতিব, ডাক্তার ও অধ্যাপক হয়তো ধারণা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই" (১) এটি হিজরতের বিধানকে নিঃশর্তভাবে রহিতকারী (ناسخ); যা কিতাবুল্লাহ সম্পর্কে এক জঘন্য মূর্খতা।

--------------------------------------------

(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه), এটি 'আল-ইরওয়া' (১০৫৭) গ্রন্থে তাখরিজকৃত (مخرج)। (মূল গ্রন্থকার হতে)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২৮)
والسنة وأقوال الأئمة، وقد سمعت ذلك من بعض مدعي العلم من الأساتذة في مناقشة جرت بيني وبينه، بمناسبة الفتنة التي أثارها عليّ ذلك الخطيب المشار إليه آنفاً، فلما ذكرته بالحديث الصريح في عدم انقطاع التسوية المتقدم بلفظ: «لا تنقطع الهجرة … » إلخ … لم يحر جواباً!

وبهذه المناسبة أنقل إلى القراء الكرام ما قاله شيخ الإسلام ابن تيمية في الحديثين المذكورين، وأنه لا تعارض بينهما، فقال في «مجموع الفتاوى» (18/ 281) :

«وكلاهما حق، فالأول أراد به الهجرة المعهودة في زمانه؛ وهي الهجرة إلى المدينة من مكة وغيرها من أرض العرب؛ فإن هذه الهجرة كانت مشروعة لما كانت مكة وغيرها دار كفر وحرب، وكان الإيمان بالمدينة، فكانت الهجرة من دار الكفر إلى دار الإسلام واجبة لمن قدر عليها، فلما فتحت مكة وصارت دار الإسلام، ودخلت العرب في الإسلام، صارت هذه الأرض كلها دار الإسلام، فقال: «لا هجرة بعد الفتح» ، وكون الأرض دار كفر ودار إيمان، أو دار فاسقين ليست صفة لازمة لها: بل هي صفة عارضة بحسب سكانها، فكل أرض سكانها المؤمنون المتقون هي دار أولياء الله في ذلك الوقت، وكل أرض سكانها الكفار فهي دار كفر في ذلك الوقت، وكل أرض سكانها الفساق فهي دار فسوق في ذلك الوقت، فإن سكنها غير ما ذكرنا، وتبدَّلت بغيرهم فهي دارهم.

وكذلك المسجد إذا تبدَّل بخمارة أو صار دار فسق أو دار ظلم أو كنيسة، يشرك فيها بالله كان بحسب سكانه، وكذلك دار الخمر والفسوق ونحوها إذا جعلت مسجداً يعبد الله فيه -جل وعز- كان بحسب ذلك، وكذلك الرجل الصالح يصير فاسقاً والكافر يصير مؤمناً أو المؤمن يصير كافراً أو نحو ذلك، كل بحسب انتقال الأحوال من حال إلى حال، وقد قال -تعالى-: {وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً قَرْيَةً كَانَتْ آمِنَةً مُّطْمَئِنَّةً} الآية، نزلت في مكة لما كانت دار كفر، وهي مازالت في نفسها خير أرض الله، وأحب أرض الله إليه، وإنما أراد سكانها،
এবং সুন্নাহ ও ইমামগণের উক্তি। আমি এটি ইলমের দাবিদার (مدعي العلم) কিছু শিক্ষকের পক্ষ থেকে আমার এবং তার মধ্যে হওয়া একটি বিতর্কে শুনেছিলাম। এটি সেই ফিতনা (فتنة) এর সময় হয়েছিল যা সেই পূর্বে উল্লেখিত খতিব আমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছিল। যখন আমি তাকে নিম্নোক্ত শব্দে বর্ণিত হিজরত বিচ্ছিন্ন (انقطاع) না হওয়ার নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পষ্টভাবে (صريح) বর্ণিত হাদিসের কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম: «হিজরত বিচ্ছিন্ন (تنقطع) হবে না … » ইত্যাদি … তখন সে কোনো উত্তর দিতে পারেনি!

এই উপলক্ষে আমি সম্মানিত পাঠকদের কাছে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ উক্ত দুটি হাদিসের ব্যাপারে যা বলেছেন তা তুলে ধরছি এবং এটিও যে, হাদিস দুটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য (تعارض) নেই। তিনি 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১৮/২৮১)-তে বলেছেন:

«উভয়টিই সত্য। প্রথমটি দ্বারা তিনি তাঁর সময়ের সুপরিচিত হিজরতকে উদ্দেশ্য করেছেন; যা মক্কা ও আরবের অন্যান্য ভূমি থেকে মদিনার দিকে হিজরত। এই হিজরত তখন বিধিবদ্ধ (مشروع) ছিল যখন মক্কা ও অন্যান্য স্থান কুফরের ভূমি ও যুদ্ধের ভূমি ছিল এবং ইমান ছিল মদিনায়। ফলে কুফরের ভূমি থেকে ইসলামের ভূমির দিকে হিজরত করা সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আবশ্যক (واجب) ছিল। অতঃপর যখন মক্কা বিজিত হলো এবং এটি ইসলামের ভূমিতে পরিণত হলো এবং আরবরা ইসলামে প্রবেশ করল, তখন এই পুরো ভূমিই ইসলামের ভূমিতে পরিণত হলো। তখন তিনি বললেন: «বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই»। কোনো ভূমি কুফরের ভূমি বা ইমানের ভূমি বা পাপাচারীদের (فاسقين) ভূমি হওয়া সেই ভূমির কোনো চিরস্থায়ী গুণ নয়; বরং এটি অধিবাসীদের অবস্থার প্রেক্ষিতে একটি পরিবর্তনশীল (عارض) বৈশিষ্ট্য। সুতরাং যে ভূমির অধিবাসী মুমিন ও মুত্তাকি, সেই ভূমি সেই সময়ে আল্লাহর বন্ধুদের আবাসস্থল। আর যে ভূমির অধিবাসী কাফির, সেই সময়ে তা কুফরের ভূমি। আর যে ভূমির অধিবাসী পাপাচারী (فساق), সেই সময়ে তা পাপাচারের ভূমি (دار فسوق)। যদি সেখানে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিবর্তে অন্য কেউ বসবাস শুরু করে এবং তারা অন্য কোনো জাতির দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হয়, তবে সেই ভূমি তাদেরই হবে।

অনুরূপভাবে, কোনো মসজিদ যদি মদের আড্ডাখানায় রূপান্তরিত হয় কিংবা পাপাচারের (فسق) আস্তানা বা অন্যায়ের স্থান অথবা গির্জায় পরিণত হয় যেখানে আল্লাহর সাথে শরিক করা হয়, তবে তা তার অধিবাসীদের হুকুম অনুযায়ী বিবেচিত হবে। একইভাবে মদ্যপান বা পাপাচারের ঘর ইত্যাদিকে যদি মসজিদে রূপান্তর করা হয় যেখানে আল্লাহর—যিনি মহান ও পরাক্রমশালী—ইবাদত করা হয়, তবে তা সেই অনুযায়ী হবে। তেমনিভাবে একজন নেককার লোক পাপাচারী (فاسق) হতে পারে, কাফির মুমিন হতে পারে বা মুমিন কাফির হতে পারে অথবা এই জাতীয় কিছু; সবকিছুই এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এক জনপদের যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত...} আয়াতটি মক্কার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল যখন তা কুফরের ভূমি ছিল। অথচ মক্কা স্বয়ং আল্লাহর ভূমির মধ্যে সর্বোত্তম এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। তিনি মূলত এর অধিবাসীদের উদ্দেশ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ২৯)
فقد روى الترمذي مرفوعاً أنه قال لمكة وهو واقف بالحزورة: «والله إنك لخير أرض الله، وأحب أرض الله إلى الله، ولولا أن قومي أخرجوني منك لما خرجت» (1) ، وفي رواية: «خير أرض الله وأحب أرض الله إلَيّ» ، فبيّن أنها أحب أرض الله إلى الله ورسوله، وكان مقامه بالمدينة ومقام من معه من المؤمنين أفضل من مقامهم بمكة لأجل أنها دار هجرتهم؛ ولهذا كان الرباط بالثغور أفضل من مجاورة مكة والمدينة، كما ثبت في «الصحيح» : «رباط يوم وليلة في سبيل الله خير من صيام شهر وقيامه، ومن مات مرابطاً مات مجاهداً وجرى عليه عمله، وأجرى رزقه من الجنة، وأمن الفتان» (2) .

وفي «السنن» عن عثمان عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «رباط يوم في سبيل الله خير من ألف يوم فيما سواه من المنازل» (3) .

وقال أبو هريرة (4) : لأن أرابط ليلة في سبيل الله، أحب إلي من أن أقوم ليلة القدر عند الحجر الأسود. ولهذا كان أفضل الأرض في حق كل إنسان أرضٌ يكون فيها أَطْوَعَ لله ورسوله، وهذا يختلف باختلاف الأحوال، ولا تتعين أرض يكون مقام الإنسان فيها أفضل، وإنما يكون الأفضل في حق كل إنسان بحسب التقوى والطاعة والخشوع والحضور، وقد كتب أبو الدرداء إلى سلمان: هلم إلى الأرض المقدسة! فكتب إليه سلمان: إن الأرض لا تقدس أحداً، إنما يقدس العبدَ عملُه. وكان النبي s قد آخى بين سلمان وأبي

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح، وهو مخرج في «المشكاة» (2725) . (منه) .

(2) رواه مسلم وغيره، وهو مخرج في «الإرواء» (1200) . (منه) .

(3) قلت: وحسنه الترمذي، وصححه الحاكم والذهبي، وهو مخرج في تعليقي على «المختارة» (رقم 307) . (منه) .

(4) بل هو مرفوع، كذلك رواه ابن حبان وغيره بسند صحيح، وهو مخرج في «الصحيحة» (1068) . (منه) .
ইমাম তিরমিজি উর্ধ্বতন (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) আল-হাজওয়ারা নামক স্থানে দাঁড়িয়ে মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: «আল্লাহর কসম! তুমি নিশ্চয়ই আল্লাহর জমিনের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আল্লাহর কাছে আল্লাহর জমিনের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। যদি আমার কওম আমাকে তোমার থেকে বের করে না দিত, তবে আমি কখনও বের হতাম না» (১)। অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: «আল্লাহর জমিনের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আমার কাছে আল্লাহর জমিনের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়», এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মক্কা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে আল্লাহর জমিনের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় স্থান। মদিনায় তাঁর এবং তাঁর সাথে থাকা মুমিনদের অবস্থান মক্কায় তাঁদের অবস্থানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল, কারণ তা ছিল তাঁদের হিজরত ভূমি; এই কারণেই সীমান্ত পাহারা (الرباط) দেওয়া মক্কা ও মদিনায় অবস্থানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যেমন 'সহিহ' গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে: «আল্লাহর পথে একদিন ও এক রাত সীমান্ত পাহারা (الرباط) দেওয়া এক মাস রোজা রাখা ও রাতে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম। আর যদি কেউ পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে সে আল্লাহর পথের যোদ্ধা (مجاهدا) হিসেবেই মারা গেল এবং তার আমল চলতে থাকবে, জান্নাত থেকে তার রিজিক জারি রাখা হবে এবং সে ফিতনা (কবরের আজাব) থেকে নিরাপদ থাকবে» (২)।

এবং 'সুনান' গ্রন্থে উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর পথে একদিনের পাহারা (الرباط) অন্য যেকোনো অবস্থানের এক হাজার দিনের চেয়েও উত্তম» (৩)।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন (৪): «আল্লাহর পথে আমার এক রাত পাহারা (الرباط) দেওয়া হাজরে আসওয়াদের পাশে শবে কদরে ইবাদত করার চেয়েও আমার কাছে বেশি প্রিয়।» এই কারণে প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেই ভূমিই সর্বোত্তম যেখানে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অধিক অনুগত হতে পারে। এটি অবস্থার ভিন্নতায় ভিন্ন ভিন্ন হয়। কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডকে মানুষের অবস্থানের জন্য শ্রেষ্ঠ বলে নির্ধারণ করা যায় না, বরং প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাকওয়া, আনুগত্য, বিনয়-নম্রতা (الخشوع) এবং হৃদয়ের উপস্থিতির (الحضور) ভিত্তিতেই শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়। আবু দারদা (রা.) সালমান (রা.)-এর কাছে লিখেছিলেন: «পবিত্র ভূমিতে চলে এসো!» সালমান (রা.) তাঁকে উত্তরে লিখলেন: «নিশ্চয়ই কোনো ভূমি কাউকে পবিত্র করতে পারে না, বরং মানুষকে পবিত্র করে তার আমল।» নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালমান ও আবু দারদার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح), এটি মিশকাত (২৭২৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। (গ্রন্থকার)।

(২) ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি ইরওয়াউল গালিল (১২০০) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। (গ্রন্থকার)।

(৩) আমি বলছি: ইমাম তিরমিজি একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং হাকেম ও যাহাবি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। এটি 'আল-মুখতারা' গ্রন্থের ওপর আমার টিকায় (নং ৩০৭) সংকলিত হয়েছে। (গ্রন্থকার)।

(৪) বরং এটি উর্ধ্বতন (مرفوع), ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা একে সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন। এটি সিলসিলাতুস সহিহা (১০৬৮) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। (গ্রন্থকার)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৩০)
الدرداء، وكان سلمان أفقه من أبي الدرداء في أشياء من جملتها هذا.

وقد قال الله -تعالى- لموسى عليه السلام: {سُأُرِيكُم دَارَ الفَاسِقِينَ} وهي الدار التي كان بها أولئك العمالقة، ثم صارت بعد هذا دار المؤمنين، وهي الدار التي دل عليها القرآن من الأرض المقدسة، وأرض مصر التي أورثها الله بني إسرائيل، فأحوال البلاد كأحوال العباد، فيكون الرجل تارة مسلماً وتارة كافراً، وتارة مؤمناً، وتارة منافقاً، وتارة برّاً تقياً، وتارة فاسقاً، وتارة فاجراً شقيّاً.

وهكذا المساكن بحسب سكانها، فهجرة الإنسان من مكان الكفر والمعاصي إلى مكان الإيمان والطاعة؛ كتوبته وانتقاله من الكفر والمعصية إلى الإيمان والطاعة، وهذا أمر باق إلى يوم القيامة، والله -تعالى- قال: {وَالَّذِينَ آمَنُواْ [مِن بَعْدُ] وَهَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ مَعَكُمْ فَأُوْلَئِكَ مِنكُمْ} [الأنفال: 75] .

قالت طائفة من السلف: هذا يدخل فيه من آمن وهاجر وجاهد إلى يوم القيامة، وهكذا قوله -تعالى-: {ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ هَاجَرُواْ مِن بَعْدِ مَا فُتِنُواْ ثُمَّ جَاهَدُواْ وَصَبَرُواْ إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ} [النحل: 110] (1) يدخل في معناها كل من فتنه الشيطان عن دينه أو أوقعه في معصية، ثم هجر السيئات وجاهد نفسه وغيرها من العدو، وجاهد المنافقين بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وغير ذلك، وصبر على ما أصابه من قول أو فعل. والله سبحانه وتعالى أعلم» .

فأقول: هذه الحقائق والدرر الفرائد من علم شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، يجهلها جهلاً تاماً أولئك الخطباء والكتّاب والدكاترة المنكرون لشرع الله {وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعاً} ، فأمروا الفلسطينيين بالبقاء

--------------------------------------------

(1) وقع في هذه الآية خطأ مطبعي في الأصل، كما سقط منه ما بين المعقوفتين في الآية. (منه) .
...আবু দিরদা, আর সালমান (রা.) বেশ কিছু বিষয়ে আবু দিরদা (রা.) অপেক্ষা অধিক ফকিহ (أفقه) ছিলেন, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল এই বিষয়টিও।

আর মহান আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিলেন: {আমি অচিরেই তোমাদের পাপাচারীদের (فاسقين) আবাসস্থল দেখাবো}—আর এটি সেই আবাসস্থল যেখানে ওই আমালিকা সম্প্রদায় বসবাস করত, পরবর্তীতে এটি মুমিনদের (مؤمنين) আবাসস্থলে পরিণত হয়। এটিই সেই পবিত্র ভূমির ঘর যার প্রতি কুরআন ইঙ্গিত করেছে এবং মিশরের সেই ভূমি যা আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে উত্তরাধিকার সূত্রে দান করেছিলেন। সুতরাং জনপদের অবস্থা বান্দাদের অবস্থার মতোই হয়ে থাকে; একজন ব্যক্তি কখনো মুসলিম হয়, কখনো কাফির (كافر), কখনো মুমিন (مؤمن), কখনো মুনাফিক (منافق), কখনো পুণ্যবান ও মুত্তাকি (تقي), কখনো পাপাচারী (فاسق), আবার কখনো দুর্ভাগা পাপিষ্ঠ (فاجر) হয়।

অনুরূপভাবে বাসস্থানসমূহও তার বাসিন্দাদের অবস্থা অনুযায়ী বিবেচিত হয়। অতএব, কোনো ব্যক্তির কুফর ও পাপাচারের স্থান থেকে ঈমান ও আনুগত্যের স্থানের দিকে হিজরত করা তার তওবা এবং কুফর ও পাপাচার থেকে ঈমান ও আনুগত্যের দিকে স্থানান্তরের মতোই। আর এই বিষয়টি কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যারা পরবর্তীতে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে মিলে জিহাদ করেছে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত} [আল-আনফাল: ৭৫]।

সালাফদের একদল বলেছেন: কিয়ামত পর্যন্ত যারা ঈমান আনবে, হিজরত করবে এবং জিহাদ করবে—তারা সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তেমনিভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যারা ফিতনায় (فتنة) পড়ার পর হিজরত করেছে, তারপর জিহাদ করেছে এবং সবর করেছে, নিশ্চয়ই আপনার রব এরপর তাদের জন্য পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} [আন-নাহল: ১১০] (১)—এর মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত সেই প্রতিটি ব্যক্তি, যাকে শয়তান তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার মাধ্যমে ফিতনায় ফেলেছে অথবা পাপে লিপ্ত করেছে, অতঃপর সে মন্দ কাজ বর্জন (হিজরত) করেছে এবং নিজের নফস ও অন্যান্য শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করেছে; আর সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমে মুনাফিকদের (منافقين) বিরুদ্ধে জিহাদ করেছে এবং আরও যা যা রয়েছে, আর নিজের ওপর আসা কথা ও কাজের দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করেছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।

আমি বলছি: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইলমের এই সকল সত্য ও অনন্য মুক্তাতুল্য জ্ঞান সম্পর্কে সেই সকল খতিব, লেখক এবং ডক্টরেটধারী ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ, যারা আল্লাহর শরয়ি বিধানকে অস্বীকার করে {অথচ তারা মনে করে যে তারা অতি উত্তম কাজ করছে}। ফলে তারা ফিলিস্তিনিদের স্বস্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছিল—

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে এই আয়াতে একটি মুদ্রণজনিত ভুল হয়েছে, যেমনটি এর থেকে বন্ধনীভুক্ত অংশটিও বাদ পড়ে গিয়েছিল। (মূল লেখক হতে)।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৩১)
في أرضهم وحرموا عليهم الهجرة منها، وهم يعلمون أن في ذلك فساد دينهم ودنياهم، وهلاك رجالهم وفضيحة نسائهم، وانحراف فتيانهم وفتياتهم، كما تواترت الأخبار بذلك عنهم بسبب تجبّر اليهود عليهم، وكبسهم لدورهم والنساء في فروشهن، إلى غير ذلك من المآسي والمخازي التي يعرفونها، ثم يتجاهلونها تجاهل النعامة الحمقاء للصياد! فيا أسفي عليهم إنهم يجهلون، ويجهلون أنهم يجهلون، كيف لا وهم في القرآن يقرؤون: {وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُواْ أَنْفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُواْ مِن دِيَارِكُمْ مَّا فَعَلُوهُ إِلَاّ قَلِيلٌ مِّنْهُمْ} !

وليت شعري ماذا يقولون في الفلسطينيين الذين كانوا خرجوا من بلادهم تارة باسم لاجئين، وتارة باسم نازحين، أيقولون فيهم: إنهم كانوا من الآثمين، بزعم أنهم فرغوا أرضهم لليهود؟! بلى. وماذا يقولون في ملايين الأفغانيين الذين هاجروا من بلدهم إلى (بشاور) ، مع أن أرضهم لم تكن محتلة من الروس احتلال اليهود لفلسطين؟!

 

وأخيراً … ماذا يقولون في البوسنيين الذين لجأوا في هذه الأيام إلى بعض البلاد الإسلامية، ومنها الأردن، هل يحرِّمون عليهم -أيضاً- خروجهم، ويقول فيهم -أيضاً- رأس الفتنة: «يأتون إلينا؟ شو بساووا هون؟!» .

إنه يجهل -أيضاً- قوله -تعالى-: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُواْ وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ} ، أم هم كما قال -تعالى- في بعضهم: {يُحِلُّونَهُ عَاماً وَيُحَرِّمُونَهُ عَاماً} ؟!

ستبدي لك الأيام ما كنت جاهلاً … ويأتيك بالأنباء من لم تزود»

 

انتهى.

قال أبو عبيدة:

متى أفتى العالم المشهود له بالعلم من قبل المعتبرين، واستخدم قواعد
তাদের ভূখণ্ডে থেকে যাওয়া এবং সেখান থেকে হিজরত করাকে তাদের ওপর হারাম করে দেওয়া হয়েছে, অথচ তারা জানে যে এতে তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিপর্যয়, পুরুষদের বিনাশ, নারীদের লাঞ্ছনা এবং তরুণ-তরুণীদের বিচ্যুতি রয়েছে। যেমনটি ইয়াহুদিদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন, তাদের ঘরবাড়ি এবং বিছানায় থাকা নারীদের ওপর অতর্কিত হামলার কারণে সংবাদসমূহ অবিচ্ছিন্নভাবে (تواترت) আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এছাড়াও আরও অনেক ট্র্যাজেডি ও লাঞ্ছনার কথা তারা জানে, কিন্তু এরপরও তারা বোকা উটপাখি যেভাবে শিকারিকে দেখে না জানার ভান করে, তারাও সেভাবে না জানার ভান করে! হায় আফসোস! তারা জানে না, এমনকি তারা যে জানে না সেটাও তারা জানে না। কীভাবে তারা এমনটি করে, যেখানে তারা কুরআনে পড়ছে: {আর যদি আমি তাদের ওপর লিখে দিতাম যে, তোমরা নিজেদের হত্যা করো অথবা তোমাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তাদের অল্প সংখ্যক ছাড়া কেউ তা পালন করত না}!

আমি জানি না তারা সেই ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে কী বলবে যারা কখনো 'উদ্বাস্তু' আবার কখনো 'গৃহহারা' নামে নিজ দেশ থেকে বেরিয়ে এসেছে? তারা কি তাদের সম্পর্কে বলবে যে, তারা পাপীদের অন্তর্ভুক্ত? এই অজুহাতে যে তারা ইয়াহুদিদের জন্য তাদের ভূমি খালি করে দিয়েছে?! অবশ্যই। আর সেই লক্ষ লক্ষ আফগানদের সম্পর্কেই বা তারা কী বলবে যারা নিজ দেশ থেকে হিজরত করে (পেশোয়ারে) চলে এসেছে, অথচ তাদের ভূখণ্ড তো ইয়াহুদিদের দ্বারা ফিলিস্তিন দখলের মতো রুশদের দ্বারা পূর্ণ অধিকৃত ছিল না?!

 

পরিশেষে … বর্তমান সময়ে যারা জর্ডানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে আশ্রয় নিয়েছে সেই বসনীয়দের সম্পর্কে তারা কী বলবে? তারা কি তাদের বেরিয়ে আসাকেও হারাম মনে করবে? আর ফিতনার হোতা কি তাদের সম্পর্কেও বলবে: «তারা আমাদের কাছে কেন আসে? এখানে তারা কী করছে?!»

সে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কেও অজ্ঞ: {যারা হিজরত করে তাদের কাছে আসার আগে এ ঘরে (মদিনায়) ঈমানের সাথে বসবাস করেছে, তারা হিজরতকারীদের ভালোবাসে এবং যা তাদের দেওয়া হয়েছে সে জন্য তারা নিজেদের মনে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। আর তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়}। নাকি তারা তাদের মতো যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {তারা একে এক বছর হালাল করে এবং অন্য বছর হারাম করে}?!

অদূর ভবিষ্যতে দিনগুলো তোমার কাছে তা প্রকাশ করে দেবে যা তুমি জানতে না … আর তোমার কাছে সংবাদ নিয়ে আসবে সে ব্যক্তি যাকে তুমি পাথেয় দাওনি।

 

সমাপ্ত।

আবু উবাইদাহ বলেন:

যখন গ্রহণযোগ্য (المعتبرين) ব্যক্তিদের নিকট ইলমের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো আলেম ফতোয়া দেন এবং তিনি মূলনীতিসমূহ (قواعد) ব্যবহার করেন...
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৩২)
العلماء في الاستنباط، ولم يصادم نصّاً صريحاً صحيحاً، ولم يخرق إجماعاً معتبراً، فقوله يدور بين الأجر والأجرين، ولا يجوز أن يتَّهم في نيّته، وأن يسفّه رأيه، وإنما يناقش مناقشة علمية، بالحجّة والبرهان، وتراعى حرمته ومنزلته، ولا تهدر حسناتُه وجهوده (1) .

--------------------------------------------

(1) الأمثلة على ذلك كثيرة؛ من أشهرها: ما حازه أهل الحرب من أموال المسلمين على وجه الإغارة، فإذا أسلم من هو في يده، كان ملكاً له، ولم يكن لمالكه الأول من المسلمين اعتراض عليه فيه.

هذا مذهب المالكية.

 

انظر: «المدونة» (1/378-379) ، «التفريع» (1/358) ، «الإشراف» (3/421-422 رقم 1741 - بتحقيقي) ، «الرسالة» (190) ، «المعونة» (1/608) ، «أسهل المدارك» (2/14) ، «قوانين الأحكام» (171) ، «بداية المجتهد» (1/398) ، «الذخيرة» (3/441) ، «عقد الجواهر الثمينة» (1/474) .

وهذا مذهب الحنفية.

انظر: «السير الكبير» (4/1279) ، «القدوري» (114) ، «تحفة الفقهاء» (3/523) ، «بدائع الصنائع» (9/4356) ، «البناية» (5/753) ، «فتح القدير» (6/3) ، «الاختيار» (4/133) ، «تبيين الحقائق» (3/260) ، «البحر الرائق» (5/102) ، «رؤوس المسائل» (360) .

بينما قال الشافعية: هو باق على ملك المسلم، وله أخذه منه بغير عوض.

انظر: «مختصر المزني» (273) ، «المهذب» (2/243) ، «المجموع» (21/218) ، «حلية العلماء» (7/661) ، «روضة الطالبين» (10/293، 294، 335) ، «مختصر الخلافيات» (5/51 رقم 317) .

وهذا مذهب الحنابلة.

انظر: «مسائل أحمد» (243) لأبي داود، «المغني» (13/117، 121) ، «الإنصاف» (4/159) ، «تنقيح التحقيق» (3/342) ، «منتهى الإرادات» (1/ 638-640) ، «تقرير القواعد» (3/412-414 - بتحقيقي) ، «ذيل طبقات الحنابلة» (1/120) . … =

= ووجهة نظر المالكية والحنفية أنّ للكفار شبهة ملك على ما حازوه من أموال المسلمين، يدل عليه قوله -تعالى-: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُواْ مِن دِيَارِهِمْ} [الحشر: 8] ، فسماهم فقراء بعد هجرتهم وتركهم ديارهم وأموالهم، ولأنه لا خلاف أنهم لو استهلكوه، ثم أسلموا، لم يضمنوه، ولو أتلفه مسلم على صاحبه للزمه غرمه، فدل ذلك على ثبوت شبهة الملك المشترك.

فلا يجوز لعاقل -فضلاً عن طالب علم- أن يتّهم الحنفية والمالكية بـ (التفريط في بلاد المسلمين) ، وأنهم يقرّون (استيلاء اليهود على فلسطين) ، وما شابه من العبارات التي لا تصدر إلا عن (الموتورين) !! (المتعالمين) !!

نعم، بلا شك أن الراجح مذهب الشافعية والحنابلة؛ لما أخرجه مسلم في «صحيحه» (رقم 1641) ، وأحمد في «مسنده» (4/430) -والمذكور لفظه- وغيرهما: «عن عمران بن حصين، قال: كانت العضباء لرجل من بني عقيل، وكانت من سوابق الحاج، فأسر الرجل وأخذت العضباء، فحبسها رسول الله صلى الله عليه وسلم لرحله، ثم إن المشركين أغاروا على سرح المدينة، وكانت العضباء فيه، وأسروا امرأة من المسلمين، فكانوا إذا نزلوا أراحوا إبلهم بأفنيتهم، فقامت المرأة ذات ليلة بعدما ناموا، فجعلت كلما أتت على بعير رغا، حتى أتت على العضباء، فأتت على ناقة ذلول فركبتها، ثم وجهتها قبل المدينة، ونذرت إن نجاها الله عليها لتنحرنها، فلما قدمت المدينة عرفت الناقة، وقيل: ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأخبر النبي صلى الله عليه وسلم بنذرها، أو أتته فأخبرته، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بئس ما جزتها إن الله أنجاها عليها لتنحرنها» ، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا وفاء في معصية الله، ولا فيما لا يملك ابن آدم» .

فلو ملكها المشركون ما أخذها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبطل نذرها، وقد بحث هذه المسألة أستاذنا فتحي الدريني في كتابه «المناهج الأصولية في الاجتهاد بالرأي» (1/289-291) ، وردها على أصولها وبينها أحسن بيان، قال -حفظه الله-: «ولخطورة هذه المسألة، وأهميتها البالغة في كل من العلاقات الدولية والقانون الدولي العام، لا بد أن نقرر ما هو الحق فيها، مؤيداً بالأدلة، وبروح التشريع الإسلامي.

إن منطق القوة لم يعهد في الشرع مزيلاً ليد محقَّة، ومقرراً ليد مبطلة، لأنه محض بغي وعدوان، وذلك بالبداهة لا يصلح سنداً للملكية؛ لكونه محرماً في الشريعة تحريماً قاطعاً.

ولو أقر مبدأ العدوان هذا، لانخرم أصل الحق والعدل، ولاضطرب حبل الأمن في العالم كله، وما أنزلت الشرائع، وأرسل الرسل، إلا لاجتثاث أصول العدوان، ولإقرار= =الحق والعدل بين البشر؛ لقوله -تعالى-: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} [الحديد: 25] .

وأيضاً؛ لو كان الاستيلاء القهري بقوة السلاح من قبل الأعداء وسيلة معترفاً بها شرعاً، لامتلاكهم أموال المسلمين، واستيطان ديارهم بعد إخراجهم منها، لما وجب الجهاد -في مثل هذه الحالة- فرضاً عينياً على كل قادر على حمل السلاح رجالاً ونساءً، بالإجماع، من أجل استرداد ما استولى عليه العدو عنوة! والله -تعالى- يقول: {وَأَخْرِجُوهُمْ مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ} [البقرة: 191] .

[ونظير هذا في عصرنا الحاضر، استيلاء اليهود على الأراضي العربية، عدواناً وظلماً بعد إخراج أهلها منها.

هذا والاستيلاء والأحراز، عهد طريقاً مكسباً للملكية الفردية في المبادلة، وذلك تشجيعاً للجهد الإنساني الفردي للانتفاع بما وجد في الطبيعة من خيرات واستثمارها، وذلك معقول؛ لأن من بذل جهداً فاجتنى مما وجد في الطبيعة من خير مباح لا مالك له، كان أولى من غيره بامتلاكه، ممن لم يبذل أدنى مشقة في هذا السبيل، وهذا أمر وراء استلاب الحقوق والثروات، واغتصاب الديار والأوطان بعد تشريد أهلها منها، بقوة السلاح] .

وقد تضافرت نصوص القرآن الكريم على وجوب دفع العدوان قبل وقوعه بالجهاد بالأنفس والأموال، وعلى وجوب إزالته بعد الوقوع، ولم يعهد أنه سبيل لتملك الأعداء ديار المسلمين وأموالهم.

قال -تعالى-: {فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُواْ عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ} [البقرة: 194] .

وإذا حرم الإسلام على أهله الاعتداء، فأحرى أن يحرم عدوان غيرهم عليهم، ولا يجعله سبيلاً لامتلاك أموالهم وديارهم!

وقال -تعالى-: {وَلَن يَجْعَلَ اللَّهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلاً} [النساء: 141] .

لا يقال: إن الآية تدل على أن الله -تعالى- لن يجعل للأعداء سبيلاً على نفوس المسلمين دون أموالهم؛ لأنا نقول: إن كلمة «سبيلاً» نكرة في سياق النفي، فتعم كل سبيل؛ سواء أكان واقعاً على نفوسهم، أو أموالهم، أو ديارهم.

ولا يقال -كذلك-: إن الله لم يجعل للكافرين على المسلمين حجة؛ لأن الصيغة عامة فيجب إجراؤها على العموم -كما هو الأصل-، إذ لا دليل على التأويل أو التخصيص. =

=انظر: «كشف الأسرار» (1/68 وما بعدها) ، «التوضيح» (1/131 وما بعدها) ، «أصول السرخسي» (1/236) .

كذلك لا يقال: إنه لو كانت أموال المسلمين باقية على ملكهم، رغم إخراجهم من ديارهم، لأطلق عليهم القرآن الكريم كلمة «أبناء السبيل» ؛ وهم: من انقطعت بهم صلتهم بأموالهم لبعدهم عنها، ولم يسمهم «فقراء» ؛ فدل ذلك على أنهم فقراء حقيقة، قد زالت ملكيتهم عنها؛ لأنا نقول: إن ابن السبيل؛ هو: «المسافر» الذي انقطعت به الطريق، ونفد ماله، وله طماعية في الرجوع إلى بلده، لتمكنه من ذلك، وهذا مفهوم يختلف عمن أُخرج من دياره وأمواله عنوة، وليس في وسعه أن يعود إليها، لذا صح اعتباره كأنه فقير، أضف إلى ذلك أنهم قد توطنوا بالمدينة.

انظر: «كشف الأسرار» (1/69) ، «حاشية الإزميري على المرآة» (2/76) .

ووصفهم بكونهم فقراء مجازاً، لا يشعر بزوال ملكيتهم عن ديارهم وأموالهم، بل يفيد ثبوتها لهم، بقرينة إضافتها إليهم، ولأن في إطلاق هذه الكلمة عليهم، إثارة للتعطف الداعي إلى رعايتهم، وتدبير مصالحهم، والاهتمام بشؤونهم، تخفيفاً لوطأة الظلم عنهم، وتحقيقاً لما تقتضيه الأخوة نحوهم» .

قلت: وانظر نصرة هذا الاختيار في «أحكام أهل الذمة» لابن القيم (1/291) ، وهو اختيار ابن حزم وابن تيمية، انظر: «الاختيارات الفقهية» (ص 312) ، «المحلى» (7/301) ، «الفيء والغنيمة» (161-165) ، «نصب الراية» (3/433-435) ، «فتح الباري» (6/ 183) .

والشاهد من هذا: أن لازم المذهب ليس بلازم، ولا يجوز لصاحب الفهم السليم، والنفس المطمئنة، والعقل النيّر، أن يهجم على إلصاق (التُّهم) بـ (العلماء) ، وعدم مراعاة القواعد المعمول بها -قديماً وحديثاً- عند أهل العلم، وأن العالم إذا اتبع القواعد المسلوكة، وكان أهلاً فهو بين أجر واثنين، والموفق والسعيد من حفظ لسانه -ولا سيما في حق العلماء-، ومن حسّن الظن بالناس، ولا سيما الصلحاء، والله الموفق.
আলেমগণ ইস্তিন্বাত (الاستنباط) বা মাসয়ালা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যদি কোনো সুস্পষ্ট (صريح) ও সহিহ (صحيح) মূলপাঠের (نصّ) বিরোধিতা না করেন এবং কোনো নির্ভরযোগ্য (معتبراً) ঐকমত্য (إجماعاً) লঙ্ঘন না করেন, তবে তার বক্তব্য একটি বা দুটি পুরস্কারের (সওয়াব) মধ্যে আবর্তিত হয়। তার নিয়তকে অভিযুক্ত করা বা তার অভিমতকে মূর্খতাসূলভ বলা বৈধ নয়। বরং তার সাথে ইলমি আলোচনা হতে হবে দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে, এবং তার মর্যাদা ও অবস্থান বজায় রাখতে হবে; তার নেক আমল ও প্রচেষ্টাগুলোকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না (১)।

--------------------------------------------

(১) এর অনেক উদাহরণ রয়েছে; তার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: হারবিরা (أهل الحرب) আক্রমণের মাধ্যমে মুসলমানদের যে সম্পদ দখল করে নেয়, অতঃপর সেটি যার হাতে রয়েছে সে যদি ইসলাম কবুল করে, তবে তা তারই মালিকানাধীন থাকবে এবং মুসলমানদের মধ্য থেকে তার পূর্বের মালিকের সেটি ফেরত পাওয়ার জন্য আপত্তি করার সুযোগ থাকবে না।

এটি মালিকি মাজহাবের অভিমত।

 

দেখুন: আল-মুদাওয়ানাহ (১/৩৭৮-৩৭৯), আত-তাফরী (১/৩৫৮), আল-ইশরাফ (৩/৪২১-৪২২, নং ১৭৪১ - আমার তাহকিককৃত), আর-রিসালাহ (১৯০), আল-মা'উনাহ (১/৬০৮), আসহালুল মাদারিক (২/১৪), কাওয়ানিনুল আহকাম (১৭১), বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/৩৯৮), আজ-জাখিরাহ (৩/৪৪১), উকুদুল জাওয়াহির আস-সামিনাহ (১/৪৭৪)।

আর এটি হানাফি মাজহাবের অভিমত।

দেখুন: আস-সিয়ার আল-কাবীর (৪/১২৭৯), আল-কুদূরী (১১৪), তুহফাতুল ফুকাাহা (৩/৫২৩), বাদায়িউস সানায়ি (৯/৪৩৫৬), আল-বিনায়াহ (৫/৭৫৩), ফাতহুল কাদির (৬/৩), আল-ইখতিয়ার (৪/১৩৩), তাবিইয়িনুল হাকায়িক (৩/২৬০), আল-বাহরুর রায়িক (৫/১০২), রুউসুল মাসায়িল (৩৬০)।

পক্ষান্তরে শাফেয়িগণ বলেছেন: সেই সম্পদ মুসলমানের মালিকানাতেই বহাল থাকবে এবং সে কোনো বিনিময় ছাড়াই সেটি ফেরত নিতে পারবে।

দেখুন: মুখতাসার আল-মুযানী (২৭৩), আল-মুহাজ্জাব (২/২৪৩), আল-মাজমূ (২১/২১৮), হিলয়াতুল উলামা (৭/৬৬১), রওদাতুত তালিবীন (১০/২৯৩, ২৯৪, ৩৩৫), মুখতাসারুল খালাফিয়াত (৫/৫১, নং ৩১৭)।

এটিই হাম্বলি মাজহাবের অভিমত।

দেখুন: আবু দাউদ বর্ণিত মাসায়িলে আহমাদ (২৪৩), আল-মুগনী (১৩/১১৭, ১২১), আল-ইনসাফ (৪/১৫৯), তানকিহুত তাহকিক (৩/৩৪২), মুনতাহাল ইরাদাত (১/৬৩৮-৬৪০), তাকরিরুল কাওয়ায়িদ (৩/৪১২-৪১৪ - আমার তাহকিককৃত), জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (১/১২০)। … =

= মালিকি ও হানাফিদের যুক্তি হলো, কাফেররা মুসলমানদের যে সম্পদ দখল করেছে তাতে তাদের একটি মালিকানার সাদৃশ্য (شبهة ملك) তৈরি হয়। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {নিঃস্ব মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বিতাড়িত হয়েছে} [আল-হাশর: ৮]। আল্লাহ তাদের হিজরত এবং ঘরবাড়ি ও সম্পদ ছেড়ে আসার পর 'নিঃস্ব' (فقراء) বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া এতে কোনো মতভেদ নেই যে, তারা যদি সেই সম্পদ ভোগ করে ফেলে এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তাদের জরিমানা দিতে হবে না; অথচ কোনো মুসলমান যদি তার ভাইয়ের সম্পদ নষ্ট করে তবে তাকে জরিমানা দিতে হয়। এটি মালিকানার এক প্রকার সাধারণ সাদৃশ্য সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়।

তাই কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য— ইলমে দ্বীনের ছাত্র হওয়া তো দূরের কথা— হানাফি এবং মালিকি মাজহাবকে ‘মুসলিম ভূখণ্ড রক্ষায় শিথিলতা’র দায়ে অভিযুক্ত করা বা তারা ‘ফিলিস্তিনে ইহুদিদের আধিপত্যকে স্বীকৃতি দেয়’ এমন কথা বলা বৈধ নয়। এ জাতীয় শব্দচয়ন কেবল সেসব লোকের মাধ্যমেই প্রকাশ পায় যারা প্রতিহিংসাপরায়ণ অথবা ইলমের দাবিদার মূর্খ!!

হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের অভিমতটিই অধিক শক্তিশালী (الراجح); কারণ মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে (নং ১৬৪১) এবং আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে (৪/৪৩০) —শব্দগুলো এখান থেকেই নেওয়া— ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: ‘ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল-আদবা (উটনিটি) ছিল বনু উকাইল গোত্রের এক ব্যক্তির, যা হজের কাফেলায় আগে আগে চলত। সেই ব্যক্তি বন্দি হয় এবং আদবা উটনিটি হস্তগত করা হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিকে তাঁর বাহনের জন্য রেখে দেন। পরবর্তীতে মুশরিকরা মদিনার গবাদি পশুর ওপর আক্রমণ চালায় এবং সেখানে আদবা উটনিটিও ছিল। তারা একজন মুসলিম নারীকেও বন্দি করে নিয়ে যায়। তারা যখন কোথাও যাত্রা বিরতি করত তখন তাদের উটগুলো আঙিনায় রাখত। এক রাতে মুশরিকরা ঘুমিয়ে পড়লে সেই নারী উঠে পড়লেন। তিনি যে উটের কাছেই যেতেন সেটিই ডেকে উঠত। অবশেষে তিনি আদবা’র কাছে এলেন। তিনি একটি অনুগত উটনি পেয়ে তাতে সওয়ার হলেন এবং মদিনার দিকে মুখ করে চালাতে লাগলেন। তিনি মানত করলেন যে, আল্লাহ যদি তাকে রক্ষা করেন তবে তিনি একে জবেহ (কুরবানি) করবেন। যখন তিনি মদিনায় পৌঁছলেন, উটনিটি চেনা গেল এবং বলা হলো: এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটনি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই নারীর মানতের কথা জানানো হলো, অথবা তিনি নিজেই নবীজির কাছে এসে জানালেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘সে উটনিটির খুব মন্দ প্রতিদান দিল যে, আল্লাহ তাকে এর মাধ্যমে মুক্তি দিলেন আর সে একেই জবেহ করার মানত করল!’ এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘আল্লাহর নাফরমানি হয় এমন কোনো কাজে মানত পূরণ করা যাবে না, আর আদম সন্তান যার মালিক নয় এমন বিষয়েও কোনো মানত নেই’।

মুশরিকরা যদি এর মালিক হয়ে যেত, তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি গ্রহণ করতেন না এবং সেই নারীর মানত বাতিল করতেন না। আমাদের উস্তাদ ফাতহি আদ-দারিনি তার কিতাব ‘আল-মানাহিজ আল-উসুলিয়্যাহ ফিল ইজতিহাদ বিড় রায়’ (১/২৮৯-২৯১) গ্রন্থে এই মাসয়ালাটি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং একে তার মূলনীতিতে ফিরিয়ে দিয়ে চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। হাফিজাহুল্লাহ বলেন: ‘এই মাসয়ালার গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সাধারণ আন্তর্জাতিক আইনে এর ব্যাপক তাৎপর্যের কারণে আমাদের উচিত এখানে সঠিক বিষয়টি ইনসাফের সাথে দলিল ও ইসলামি শরিয়তের মূল স্পৃহার আলোকে সাব্যস্ত করা।

শক্তির যুক্তি শরিয়তে কখনও হকদারের অধিকার হরণকারী এবং বাতিলপন্থীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করার উপায় হতে পারে না। কারণ এটি নিছক জুলুম ও সীমালঙ্ঘন; আর বিবেক বুদ্ধিতেও এটি মালিকানার ভিত্তি হতে পারে না, কেননা শরিয়তে তা চূড়ান্তভাবে হারাম (নিষিদ্ধ)।

যদি এই সীমালঙ্ঘনের নীতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হতো, তবে হক ও ইনসাফের ভিত্তি ভেঙে পড়ত এবং সমগ্র বিশ্বের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতো। শরিয়ত অবতীর্ণ হয়েছে এবং রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছেন কেবল সীমালঙ্ঘনের মূল উৎপাটন করতে এবং মানুষের মধ্যে হক ও ইনসাফ কায়েম করতে; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই আমি আমার রাসুলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর কায়েম থাকে} [আল-হাদিদ: ২৫]।

তদুপরি, যদি শত্রুদের অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক দখলদারিত্বকে শরিয়ত কর্তৃক তাদের জন্য মুসলমানদের সম্পদ ও ঘরবাড়ির মালিক হওয়ার স্বীকৃত মাধ্যম হিসেবে ধরা হতো, তবে এমন পরিস্থিতিতে ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী সামর্থ্যবান প্রত্যেক পুরুষ ও নারীর ওপর শত্রুর দখলকৃত ভূমি উদ্ধারে জিহাদ করা ব্যক্তিগত ফরজ (فرض عين) হতো না! অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন: {তোমরা তাদের সেখান থেকে বের করে দাও যেখান থেকে তারা তোমাদের বের করে দিয়েছিল, আর ফিতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য} [আল-বাকারা: ১৯১]।

[আমাদের বর্তমান যুগে ইহুদিদের আরব ভূমি দখল করা এবং সেখানকার অধিবাসীদের বের করে দেওয়া সেই জুলুম ও সীমালঙ্ঘনেরই অনুরূপ।

মূলত দখল ও আয়ত্তীকরণ ব্যক্তিগত মালিকানা অর্জনের একটি উপায় হিসেবে গণ্য হয়েছে বিনিময় বা মুবাদালার ক্ষেত্রে, যাতে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও বিনিয়োগে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করা যায়। এটি যুক্তিসঙ্গত; কারণ যে ব্যক্তি পরিশ্রম করে প্রকৃতি থেকে কোনো মালিকহীন মুবাহ (বৈধ) সম্পদ আহরণ করল, যে ব্যক্তি কোনো কষ্ট করেনি তার চেয়ে সে-ই এর মালিক হওয়ার অধিক যোগ্য। কিন্তু অস্ত্রের জোরে অধিকার ও সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া এবং ঘরবাড়ি ও স্বদেশ দখল করে অধিবাসীদের উদ্বাস্তু করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।]

কুরআন করিমের বহু নস (نصوص) বা মূলপাঠ সীমালঙ্ঘন ঘটার আগে জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা এবং সীমালঙ্ঘন ঘটে যাওয়ার পর তা নির্মূল করার আবশ্যকতা নির্দেশ করে। আর শত্রুরা মুসলমানদের ঘরবাড়ি ও সম্পদের মালিক হয়ে যাবে—এমন কোনো নিয়ম এখানে স্বীকৃত নয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন: {সুতরাং যে তোমাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করেছে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ সীমালঙ্ঘন করো যেমন সে তোমাদের ওপর করেছে} [আল-বাকারা: ১৯৪]।

ইসলাম যদি তার নিজের অনুসারীদের জন্য অন্য কারো ওপর আক্রমণ করা হারাম করে থাকে, তবে অন্যদের আক্রমণকে তাদের মালিকানা অর্জনের পথ হিসেবে মেনে না নেওয়াটাই তো অধিক যুক্তিসঙ্গত!

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: {আল্লাহ কাফেরদের জন্য মুমিনদের ওপর কোনো পথ (সুবিল) রাখবেন না} [আন-নিসা: ১৪১]।

এমনটি বলা যাবে না যে, এই আয়াতটি কেবল মুসলমানদের জানের ওপর কাফেরদের কর্তৃত্ব না থাকার কথা বোঝায়, মালের ওপর নয়। কারণ আমাদের উত্তর হলো: 'সুবিল' (পথ) শব্দটি নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট (নাকেরা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা জান, মাল বা ঘরবাড়ি—সব ধরনের পথ বা কর্তৃত্বকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

একইভাবে এমনটিও বলা যাবে না যে, আল্লাহ কাফেরদের জন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে কোনো দলিল বা প্রমাণ রাখেননি; কারণ শব্দবন্ধটি সাধারণ (عام), তাই একে তার সাধারণ অর্থেই প্রয়োগ করা ওয়াজিব—যেহেতু এর কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা (তাউইল) বা বিশেষায়িত করার (তাখসিস) দলিল নেই। =

= দেখুন: কাশফুল আসরার (১/৬৮ ও পরবর্তী), আত-তাউদিহ (১/১৩১ ও পরবর্তী), উসুলুস সারাখসি (১/২৩৬)।

তেমনিভাবে এ কথাও বলা যাবে না যে, মুসলমানদের সম্পদ যদি তাদের মালিকানাতেই থাকত, তবে কুরআন তাদের ‘ইবনাস সুবিল’ (পথিক) বলত; যারা দূরত্বের কারণে নিজেদের সম্পদের মালিকানা থেকে বিচ্ছিন্ন। অথচ কুরআন তাদের ‘নিঃস্ব’ বলেছে, যা প্রমাণ করে তারা প্রকৃতপক্ষেই নিঃস্ব এবং মালিকানা হারিয়েছে। আমাদের উত্তর হলো: 'ইবনাস সুবিল' বা মুসাফির হলো সে যার যাত্রাপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং পাথেয় শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু নিজ দেশে ফেরার এবং সম্পদ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তার আছে। কিন্তু যাকে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং ফেরার কোনো উপায় রাখা হয়নি, তার অবস্থা ভিন্ন। তাই তাকে 'নিঃস্ব' হিসেবে গণ্য করা সঠিক। অধিকন্তু তারা মদিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন।

দেখুন: কাশফুল আসরার (১/৬৯), হাশিয়াতুল ইজমিরি আলাল মিরাত (২/৭৬)।

আর তাদের 'নিঃস্ব' হিসেবে বর্ণনা করাটা রূপক (مجازاً) অর্থে, যা তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদের ওপর থেকে মালিকানা চলে যাওয়া বোঝায় না। বরং সম্পদের মালিকানা তাদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করায় মালিকানা সাব্যস্ত হওয়ারই ইঙ্গিত মেলে। এছাড়া তাদের প্রতি এই শব্দের প্রয়োগ মূলত তাদের প্রতি সহানুভূতি জাগানো, তাদের স্বার্থ রক্ষা ও তাদের অবস্থার প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রেরণা দেয়, যাতে তাদের ওপর হওয়া জুলুমের বোঝা লাঘব হয় এবং ভ্রাতৃত্বের দাবি পূরণ হয়’।

আমি (লেখক) বলছি: এই মতের সমর্থনে ইবনুল কাইয়্যিমের ‘আহকামু আহলিজ জিম্মাহ’ (১/২৯১) দেখুন। এটিই ইবনে হাজম ও ইবনে তাইমিয়ার পছন্দকৃত মত। দেখুন: আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়্যাহ (পৃ. ৩১২), আল-মুহাল্লা (৭/৩০১), আল-ফাই ওয়াল গনিমাহ (১৬১-১৬৫), নাসবুর রায়াহ (৩/৪৩৩-৪৩৫), ফাতহুল বারী (৬/১৮৩)।

এখানে মূল কথা হলো: কোনো মাজহাবের সিদ্ধান্তের অনিবার্য ফলাফলই সেই মাজহাবের মূল দাবি নয় (لازم المذهب ليس بلازم)। কোনো সুস্থ বিবেক, প্রশান্ত মন ও আলোকিত বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের জন্য আলেমদের (العلماء) ওপর ঢালাওভাবে অপবাদ (التهم) আরোপ করা সাজে না। বরং জ্ঞানপিপাসুদের উচিত প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের অনুসৃত মূলনীতিগুলো মেনে চলা। কোনো আলেম যখন স্বীকৃত মূলনীতি অনুসরণ করেন এবং তিনি যদি গবেষণার যোগ্য (আহল) হন, তবে তিনি একটি অথবা দুটি সওয়াব পাবেন। সেই ব্যক্তিই সফল ও সৌভাগ্যবান যে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখে—বিশেষ করে আলেমদের ব্যাপারে—এবং মানুষের প্রতি বিশেষত নেককারদের প্রতি সুধারণা পোষণ করে। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) আস-সালাফিয়্যুনা ওয়া কদিয়্যাতু ফিলাসতীন ফী ওয়াকিউনা আল-মুআসির (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وبناءً عليه؛ فإن منزلة الشيخ الإمام المحدث العلامة محمد ناصر الدين الألباني غير خافية على كل من له عناية وصلة بالكتاب الشرعي، فضلاً عن طلبة العلم، أو المتخصصين في سائر العلوم، ولا سيما علم الحديث
এরই প্রেক্ষিতে; শাইখ, ইমাম, হাদিস বিশারদ (المحدث) ও যুগশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত (العلامة) মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানীর সুউচ্চ মর্যাদা ঐ সকল ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট নয়, যাদের শরয়ী কিতাবসমূহের সাথে বিশেষ সংশ্লিষ্টতা ও অনুরাগ রয়েছে; এমনকি ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থী কিংবা অপরাপর শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ, বিশেষত হাদিস বিজ্ঞানে পারদর্শীদের নিকট তাঁর অবস্থান অত্যন্ত সুষ্পষ্ট।