(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
مع المشككين في السنة   (عبد الرحمن الخميسي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: مع المشككين في السنة

تأليف: عبد الرحمن بن إبراهيم بن حسن بن يحيى الخميسي

اعتنى به وحققه وخرج أحاديثه: فاروق يحيى محمد الحاج

النشرة: الثانية، 1442 هـ - 2020 م

عدد الصفحات: 325

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 جُمادَى الآخرة 1442

সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয়বাদীদের সাথে   (আব্দুর রহমান আল-খুমাইসি)

বিভাগ: ভ্রান্ত দল ও তাদের খণ্ডন


গ্রন্থ: সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয়বাদীদের সাথে

রচনা: আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম বিন হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খুমাইসি

সম্পাদনা, তাহকীক ও হাদিস বিশ্লেষণ: ফারুক ইয়াহইয়া মুহাম্মদ আল-হাজ্জ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪২ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৫

[গ্রন্থটি মুদ্রিত নয়]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১)
مع

المشككين في السنة

 

تأليف

أ. د/ عبد الرحمن بن إبراهيم بن حسن بن يحيى الخميسي

أستاذ الحديث وعلومه - جامعة صنعاء

 

اعتنى به وحققه وخرج أحاديثه/

فاروق يحيى محمد الحاج

 

1442 هـ - 2020 م
সুন্নাহর ব্যাপারে

সংশয়বাদীদের প্রসঙ্গে

 

রচনায়

প্রফেসর ডক্টর আব্দুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খামিসি

হাদীস ও হাদীস বিজ্ঞানের অধ্যাপক - সানা বিশ্ববিদ্যালয়

 

সম্পাদনা, পাঠ-সমীক্ষা ও হাদীস বিশ্লেষণ করেছেন/

ফারুক ইয়াহইয়া মুহাম্মদ আল-হাজ্জ

 

১৪৪২ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২)
مع المشككين في السنة

 

للأستاذ الدكتور/

عبد الرحمن بن إبراهيم بن حسن بن يحيى الخميسي

 

أستاذ الحديث وعلومه - جامعة صنعاء

 

اعتنى به وحققه وخرج أحاديثه/

فاروق يحيى محمد الحاج

الفاروق للمراجعة العلمية والتحقيق

 

رقم الواتساب (00967773072852)

 

نسخة ثانية
সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয়বাদীদের সাথে

 

অধ্যাপক ডক্টর/

আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খামিসি

 

অধ্যাপক, হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান - সানা বিশ্ববিদ্যালয়

 

সম্পাদনা, পাণ্ডুলিপি যাচাই ও হাদিসের তাখরিজ করেছেন/

ফারুক ইয়াহইয়া মুহাম্মদ আল-হাজ্জ

আল-ফারুক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা ও গবেষণা কেন্দ্র

 

হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০০৯৬৭৭৭৩০৭২৮৫২)

 

দ্বিতীয় সংস্করণ
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌ترجمة مختصرة للمؤلف

‌‌أولاً: الاسم والمولد ومحل الإقامة والأولاد:

• الاسم: عبد الرحمن بن إبراهيم بن حسن بن يحيى.

• اللقب: الخميسي؛ نسبة إلى قرية: "الخميسين" التي وُلد فيها والده.

• مولده: وُلد الدكتور عام (1379 هـ) الموافق (1959 م) في قرية: "الدّيّر" التابعة لمديرية: "حيران" -بالحاء المهملة- في محافظة: "حجة"، إحدى محافظات: "الجمهورية اليمنية".

• محل الإقامة الحالي: يسكن الدكتور حاليًا في: مدينة "صنعاء" عاصمة: "الجمهورية اليمنية".

• الأولاد: للدكتور اثنا عشر ولدًا ذكورًا وإناثًا.

 

‌‌ثانيًا: النشأة العلمية:

نشأ الدكتور في المملكة العربية السعودية، وفيها تلقى تعليمه النظامي ابتداءً من المرحلة الابتدائية وانتهاءً بالدكتوراه، وكانت دراسته كالتالي:

1 - درس المرحلتين الابتدائية والإعدادية "الأساسي" في مدارس وزارة التربية في "مكة المكرمة".

2 - ثم التحق بمعهد الحرم المكي -ومقره داخل المسجد الحرام-، وحصل منه على الشهادة الثانوية عام (1397 هـ) بتقدير ممتاز.

3 - درس المرحلة الجامعية البكالوريوس في قسم أصول الدين في كلية الشريعة وأصول الدين في "أبها"، وحصل منها على شهادة البكالوريوس عام (1401 هـ-1402 هـ) بتقدير ممتاز، وكان ترتيبه الأول على دفعته.

4 - نال شهادة الماجستير في السنة وعلومها من كلية أصول الدين في "الرياض" بتقدير ممتاز. وكانت أطروحته فيها: تحقيق جزء من كتاب "الكامل في ضعفاء الرجال" لابن عدي.

5 - نال شهادة الدكتوراه في السنة وعلومها من كلية أصول الدين في "الرياض" مع مرتبة الشرف الأولى. وكانت رسالته فيها: "زوائد رواة البيهقي في السنن الكبرى على رواة الكتب العشرة(1) جمعًا ودراسة، من أول الكتاب إلى آخر باب الترغيب في الأذان من كتاب الصلاة".

--------------------------------------------

(1) وهي: الكتب العشرة التي ذكرها الحافظ ابن حجر عن كتاب "التذكرة برجال العشرة" لأبي عبد الله محمد بن علي بن حمزة الحسيني الدمشقي، وهي: "الكتب الستة والموطأ ومسند الشافعي ومسند أحمد ومسند أبي حنيفة"، وهو المسند الذي خرجه الحسين بن محمد بن خسرو من حديث الإمام أبي حنيفة. انظر: تعجيل المنفعة بزوائد رجال الأئمة الأربعة لابن حجر (1/ 235).
লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী

প্রথমত: নাম, জন্ম, বাসস্থান ও সন্তানসন্ততি:

• নাম: আব্দুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন হাসান বিন ইয়াহইয়া।

• উপাধি: আল-খুমাইসি; এটি তাঁর পিতার জন্মস্থান 'আল-খুমাইসাইন' গ্রামের সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবত।

• জন্ম: ডক্টর (১৩৭৯ হিজরি) মোতাবেক (১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে) 'ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের' অন্যতম প্রদেশ 'হাজ্জাহ'-এর অন্তর্গত 'হায়রান'—যা নুকতাহীন 'হা' (حاء) দিয়ে শুরু—উপজেলার 'আদ-দাইর' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• বর্তমান বাসস্থান: ডক্টর বর্তমানে 'ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের' রাজধানী 'সানা' শহরে বসবাস করছেন।

• সন্তানসন্ততি: ডক্টরের ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে মোট বারোজন সন্তান রয়েছে।

 

দ্বিতীয়ত: জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ:

ডক্টর সৌদি আরব রাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে ডক্টরেট পর্যন্ত তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের বিবরণ নিম্নরূপ:

১ - তিনি মক্কা মুকাররামায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক (মৌলিক) স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

২ - এরপর তিনি 'মা'হাদ আল-হারাম আল-মাক্কি'-তে (যার অবস্থান মাসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে) যোগদান করেন এবং সেখান থেকে (১৩৯৭ হিজরিতে) 'মুমতাজ' (চমৎকার) ফলাফলসহ উচ্চ মাধ্যমিকের সনদ অর্জন করেন।

৩ - তিনি 'আভহা' শহরের 'কুল্লিয়াতুশ শারিয়াহ ওয়া উসুলুদ্দিন'-এর (শরীয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদ) উসুলুদ্দিন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং (১৪০১-১৪০২ হিজরিতে) 'মুমতাজ' ফলাফলসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন; তিনি তাঁর ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

৪ - তিনি রিয়াদের 'কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন' (উসুলুদ্দিন অনুষদ) থেকে হাদিস ও হাদিসবিজ্ঞান বিষয়ে 'মুমতাজ' ফলাফলসহ স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণাপত্রের বিষয় ছিল: ইবনে আদির 'আল-কামিল ফি দুয়াফা-ইর রিজাল' গ্রন্থের একটি অংশের তাহকিক (সম্পাদনা)।

৫ - তিনি রিয়াদের 'কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন' (উসুলুদ্দিন অনুষদ) থেকে হাদিস ও হাদিসবিজ্ঞান বিষয়ে 'ফার্স্ট ক্লাস অনার্স' (প্রথম শ্রেণির সম্মান) সহ ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণাপত্রের বিষয় ছিল: "আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে ইমাম বায়হাকির ওই সকল বর্ণনাকারীদের আধিক্য যা দশটি কিতাবের বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত(১): একটি সংকলন ও বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন; কিতাবের শুরু থেকে কিতাবুস সালাতের আজানের প্রতি উৎসাহ প্রদান অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত।"

--------------------------------------------

(১) এগুলো হলো সেই দশটি কিতাব, যা হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন হামজা আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকির 'আত-তাযকিরা বি-রিজালিল আশারা' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন। সেগুলো হলো: 'কুতুবুস সিত্তা' (ছয়টি হাদিস গ্রন্থ), 'মুয়াত্তা', 'মুসনাদে শাফেয়ী', 'মুসনাদে আহমাদ' এবং 'মুসনাদে আবু হানিফা'—এটি সেই মুসনাদ যা হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খুসরু ইমাম আবু হানিফার হাদিস থেকে সংকলন করেছেন। দেখুন: ইবনে হাজার কৃত 'তাজিলুল মানফায়াহ বি-যাওয়াইদি রিজালিল আইম্মাতিল আরবাআহ' (১/২৩৫)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ثالثًاً: العلماء الذين درس على أيديهم:

درس الدكتور على يد كوكبة من العلماء المصريين والنجديين والسوريين والموريتانيين ومن القارة الهندية، وهم:

1 - الدكتور أحمد معبد عبد الكريم.

2 - الدكتور عبد الرحيم الطحان.

3 - الدكتور محمد أديب الصالح.

4 - الدكتور محمد علي عثمان.

5 - الدكتور محمود الحريري.

6 - الشيخ أحمد الأمين الشنقيطي.

7 - الشيخ بديع الدين شاه السندي.

8 - الشيخ عبد العزيز السبيل "وهو أخو إمام الحرم محمد السبيل".

9 - الشيخ عبد الفتاح أبو غدة.

10 - الشيخ عبد القادر السندي.

11 - الشيخ عبد الله بن حميد "رئيس مجلس القضاء الأعلى في المملكة العربية السعودية، ومؤسس معهد الحرم المكي".

12 - الشيخ محمد الأمين الشنقيطي "وهو غير صاحب أضواء البيان".

13 - الشيخ يحيى بن عثمان المكي.

 

‌‌رابعًا: المؤهلات الأكاديمية:

يحمل الدكتور المؤهلات الأكاديمية التالية:

1 - دكتوراه في السنة وعلومها.

2 - أستاذًا مشاركًا في السنة وعلومها.

3 - أستاذًا في السنة وعلومها.

 

‌‌خامسًا: الإجازات العلمية:

للدكتور ثبت بإجازات علمية من طريق الشيخ قاسم بحر حفظه الله -وهو أحد علماء تهامة- إلى مجموعة كبيرة من العلماء في داخل اليمن وخارجها.
তৃতীয়ত: যে সকল আলেমদের নিকট তিনি অধ্যয়ন করেছেন:

ডক্টর একদল স্বনামধন্য মিশরীয়, নজদী, সিরীয়, মৌরিতানীয় এবং ভারতীয় উপমহাদেশের আলেমদের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁরা হলেন:

১ - ডক্টর আহমদ মাবাদ আব্দুল করীম।

২ - ডক্টর আব্দুর রহীম আত-তাহহান।

৩ - ডক্টর মুহাম্মাদ আদীব আস-সালিহ।

৪ - ডক্টর মুহাম্মাদ আলী উসমান।

৫ - ডক্টর মাহমুদ আল-হারীরী।

৬ - শায়খ আহমদ আল-আমীন আশ-শানকিতী।

৭ - শায়খ বাদীউদ্দীন শাহ আস-সিন্ধী।

৮ - শায়খ আব্দুল আজীজ আস-সাবীল (তিনি হারাম শরীফের ইমাম মুহাম্মাদ আস-সাবীলের ভাই)।

৯ - শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ।

১০ - শায়খ আব্দুল কাদির আস-সিন্ধী।

১১ - শায়খ আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ (সৌদি আরবের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সভাপতি এবং মা’হাদুল হারাম আল-মাক্কী-র প্রতিষ্ঠাতা)।

১২ - শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকিতী (তিনি আদওয়াউল বায়ান-এর লেখকের থেকে ভিন্ন ব্যক্তি)।

১৩ - শায়খ ইয়াহইয়া বিন উসমান আল-মাক্কী।

 

চতুর্থত: শিক্ষাগত যোগ্যতা:

ডক্টর নিম্নোক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার অধিকারী:

১ - সুন্নাহ ও উলূমুল হাদীসে ডক্টরেট।

২ - সুন্নাহ ও উলূমুল হাদীসে সহযোগী অধ্যাপক।

৩ - সুন্নাহ ও উলূমুল হাদীসে অধ্যাপক।

 

পঞ্চমত: ইলমী ইজাযতসমূহ:

ডক্টরের নিকট একটি ইলমী ইজাযতনামা (ছাবাত) রয়েছে যা তিহামাহ অঞ্চলের প্রখ্যাত আলেম শায়খ কাসেম বাহর (হাফিজাহুল্লাহ)-এর সূত্রে প্রাপ্ত, যা ইয়ামেন এবং ইয়ামেনের বাইরের এক বিশাল আলেমগোষ্ঠীর ইজাযতকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌سادسًا: الوظائف التي يشغلها:

يعمل الدكتور حاليًا:

1 - أستاذًا في "كلية التربية" في: "جامعة صنعاء" في: "الجمهورية اليمنية".

2 - مشرفًا على بعض الرسائل الجامعية.

 

‌‌سابعًا: الإنتاج العلمي "البحوث والمؤلفات":

للدكتور العديد من المؤلفات، كالتالي:

 

•‌‌ أولًا: المؤلفات المطبوعة:

1 - معجم علوم الحديث النبوي. طبع ونشر: دار الأندلس الخضراء، جدة، عام (2000 م).

2 - مع المشككين في السنة. وهو هذا الكتاب، وهو سلسلة ردود على بعض منكري السنة والطاعنين فيها.

3 - معاصي النساء "كتيب". طُبع في: صنعاء.

4 - رياض الصائمين "كتيب حديثي". طُبع في: صنعاء.

5 - شرح عقيدة السلف في ضوء الكتاب والسنة. طُبع في: صنعاء.

6 - تهذيب سيرة الخلفاء الراشدين. طُبع في: صنعاء.

7 - مظاهر الإنصاف عند المحدثين في جرح الرواة "بحث منشور في مجلة علمية مُحكَّمّة خارجية".

8 - رواة الحديث من أهل ذمار إلى نهاية القرن الثالث الهجري "بحث منشور في مجلة علمية مُحكَّمّة داخلية".

9 - الإمام ابن الديبع الشيباني وجهوده في الحديث "بحث قُدم لمؤتمر زبيد الذي أقامته كلية الآداب في جامعة الحديدة"، ونشر ضمن منشورات المؤتمر.

10 - علم التخريج ودراسة الأسانيد "بحث قُدم للنشر في مجلة علمية محلية، وتم قبوله".

11 - هدي النبي صلى الله عليه وسلم اليومي "بحث قُدم للنشر في مجلة علمية محكمة محلية، وتم قبوله ونشره".

12 - إجلال النبي صلى الله عليه وسلم بين الحق والخلق "بحث علمي قُدم للنشر في مجلة علمية مُحكَّمّة خارجية، وتم قبوله ونشره".

13 - دفاع عن الصحيحين "طُبع قديمًا مستقلًا". وهو الفصل الثالث من هذا الكتاب، والذي هو بعنوان: "دحض مطاعن الأغبياء في سنة سيد الأنبياء".

14 - المرأة في ظل الإسلام "نُشر في مجلة محلية".
ষষ্ঠ: তাঁর বর্তমান কর্মসংস্থানসমূহ:

ডক্টর বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন:

১ - ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের "সানআ বিশ্ববিদ্যালয়"-এর "শিক্ষা অনুষদ"-এর অধ্যাপক হিসেবে।

২ - কিছু গবেষণাপত্রের (থিসিস) তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে।

 

সপ্তম: বৈজ্ঞানিক কাজসমূহ "গবেষণা ও গ্রন্থাবলি":

ডক্টরের অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, যা নিম্নরূপ:

 

• প্রথম: মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ:

১ - মু'জাম উলুমিল হাদিস আন-নববী (হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা কোষ)। মুদ্রিত ও প্রকাশিত: দারুল আন্দালুস আল-খাদরা, জেদ্দা, সাল (২০০০ খ্রি.)।

২ - মা'আল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয়বাদীদের সাথে)। এটি বর্তমান এই বইটি, যা সুন্নাহ অস্বীকারকারী এবং এর সমালোচকদের ওপর ধারাবাহিক খণ্ডনমূলক আলোচনার সংকলন।

৩ - মা'আসীন নিসা (নারীদের পাপসমূহ) "ক্ষুদ্রপুস্তিকা"। সানআ থেকে মুদ্রিত।

৪ - রিয়াদাস সায়িমীন (রোযাদারদের উদ্যান) "হাদিস বিষয়ক ক্ষুদ্রপুস্তিকা"। সানআ থেকে মুদ্রিত।

৫ - কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে সালাফদের আকিদার ব্যাখ্যা। সানআ থেকে মুদ্রিত।

৬ - তাহজীবু সিরাতুল খুলাফাউর রাশিদীন (খোলাফায়ে রাশেদীনের জীবনীর পরিমার্জন)। সানআ থেকে মুদ্রিত।

৭ - বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের ইনসাফের নিদর্শনসমূহ "একটি বৈদেশিক পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা"।

৮ - হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত যামার অধিবাসী হাদিস বর্ণনাকারীগণ "একটি অভ্যন্তরীণ পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা"।

৯ - ইমাম ইবনুদ্দাইবা আশ-শাইবানী এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান "হুদাইদাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ কর্তৃক আয়োজিত জাবিদ সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণা", এবং এটি সম্মেলনের সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে।

১০ - ইলমুত তাখরিজ ওয়া দিরাসাতুল আসানিদ (হাদিস নিষ্কাশন বিদ্যা ও সনদ গবেষণা) "একটি স্থানীয় বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য জমা দেওয়া গবেষণা, যা গৃহীত হয়েছে"।

১১ - নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৈনন্দিন জীবনাচার "একটি স্থানীয় পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য জমা দেওয়া গবেষণা, যা গৃহীত ও প্রকাশিত হয়েছে"।

১২ - নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন: সত্য ও সৃষ্টির মাঝে "একটি বৈদেশিক পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য জমা দেওয়া গবেষণা, যা গৃহীত ও প্রকাশিত হয়েছে"।

১৩ - দিফা' আনিল সাহীহাঈন (সহীহাইন বা বুখারি-মুসলিমের প্রতিরক্ষা) "পূর্বে স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত"। এটি বর্তমান বইটির তৃতীয় অধ্যায়, যার শিরোনাম হলো: "সাইয়্যিদুল আম্বিয়ার সুন্নাহর ক্ষেত্রে নির্বোধদের আপত্তির খণ্ডন"।

১৪ - ইসলামের ছায়াতলে নারী "একটি স্থানীয় সাময়িকীতে প্রকাশিত"।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
15 - رحلة الحج إلى بيت الله الحرام "كتيب".

16 - تسامح النبي صلى الله عليه وسلم مع اليهود والنصارى.

 

•‌‌ ثانيًا: المؤلفات المخطوطة "غير المطبوعة":

1 - كتاب الردة وأثرها على الفرد والمجتمع "مخطوط". كتاب تحت الطبع.

2 - كتاب الكبائر "مخطوط".

3 - المحرمات في الكتاب والسنة "مخطوط". وهو كتاب مرتب على الأبواب الفقهية ومجرد من الأدلة، وهو كالمتن، وقد حاول المؤلف استيعاب المحرمات فيه قدر الاستطاعة.

4 - الصحابة في القرآن الكريم "مخطوط".

5 - الثوابت وحكم الانتقاص منها "كتيب" "مخطوط".

6 - طبقات علماء أهل الظاهر "مخطوط".

 

•‌‌ ثالثًا: مؤلفات الدكتور المنشورة على صفحته في الفيس بوك، ولم تطبع بعد:

1 - رحلة الذكريات. وهو سيرة ذاتية.

2 - الأربعون في المبشرات النبوية للأمة المحمدية "كتيب حديثي".

3 - الأربعون السلطانية "كتيب حديثي".

4 - الأربعون في حقوق الخلق "كتيب حديثي".

5 - الأربعون في الإخوة الإسلامية "كتيب حديثي".

6 - مفاتيح الدعوة إلى الله تعالى "كتيب".

7 - إلى الدعاة ما لهم وما عليهم "كتيب".

8 - الرقية الشرعية حجيتها وضوابطها وصورها "كتيب".

9 - أخبار الشحاتة والشحاتين "كتيب".

10 - ضوابط الحرية في الإسلام "كتيب".

11 - حقيقة الإرهاب وصوره "كتيب".

12 - الإسلام والاختلاط "كتيب".

13 - منزلة الشريعة في الإسلام "كتيب".

14 - محبوبات النبي صلى الله عليه وسلم "كتيب".

15 - مصطلحات غير شرعية "كتيب".

16 - ما استثناه الشرع من المحرمات "كتيب".
15 - আল্লাহর পবিত্র ঘরের উদ্দেশ্যে হজ্জের সফর "পুস্তিকা" ।

16 - ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহনশীলতা ।

 

•‌‌ দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপি আকারে রক্ষিত (অপ্রকাশিত) রচনাবলি:

1 - মুরতাদ হওয়া (ধর্মত্যাগ) এবং ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর প্রভাব "পাণ্ডুলিপি"। বইটি বর্তমানে মুদ্রণাধীন।

2 - কাবিরা গুনাহসমূহের কিতাব "পাণ্ডুলিপি"।

3 - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিষিদ্ধ বিষয়াবলি "পাণ্ডুলিপি"। এটি ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত একটি কিতাব এবং প্রমাণাদি মুক্ত (দলিলবিহীন), যা একটি 'মাতন' বা মূলপাঠের মতো; লেখক এতে সাধ্যমতো নিষিদ্ধ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।

4 - পবিত্র কুরআনে সাহাবায়ে কেরাম "পাণ্ডুলিপি"।

5 - দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য মূলনীতিসমূহ এবং তা খাটো করার বিধান "পুস্তিকা" "পাণ্ডুলিপি"।

6 - আহলে জাহিরি আলেমদের স্তরবিন্যাস "পাণ্ডুলিপি"।

 

•‌‌ তৃতীয়ত: লেখকের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত রচনাবলি, যা এখনো মুদ্রিত হয়নি:

1 - স্মৃতির সফর। এটি একটি আত্মজীবনী।

2 - উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য নববী সুসংবাদ সম্বলিত চল্লিশ হাদিস "হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা"।

3 - আল-আরবাউন আস-সুলতানিয়্যাহ (শাসনকার্য সংক্রান্ত চল্লিশ হাদিস) "হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা"।

4 - সৃষ্টির অধিকার সংক্রান্ত চল্লিশ হাদিস "হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা"।

5 - ইসলামি ভ্রাতৃত্ব সংক্রান্ত চল্লিশ হাদিস "হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা"।

6 - আল্লাহর পথে দাওয়াতের চাবিকাঠি "পুস্তিকা"।

7 - দাঈদের প্রতি: তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব "পুস্তিকা"।

8 - শরয়ি রুকইয়াহ: এর প্রামাণিকতা, নীতিমালা ও পদ্ধতি "পুস্তিকা"।

9 - ভিক্ষাবৃত্তি ও ভিক্ষুকদের ইতিবৃত্ত "পুস্তিকা"।

10 - ইসলামে স্বাধীনতার নীতিমালা "পুস্তিকা"।

11 - সন্ত্রাসের স্বরূপ ও পদ্ধতিসমূহ "পুস্তিকা"।

12 - ইসলাম ও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা "পুস্তিকা"।

13 - ইসলামে শরীয়াহর মর্যাদা "পুস্তিকা"।

14 - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় বিষয়সমূহ "পুস্তিকা"।

15 - অশরয়ি পরিভাষাসমূহ "পুস্তিকা"।

16 - নিষিদ্ধ বিষয়াবলির মধ্যে শরীয়াহ কর্তৃক স্বতন্ত্র ঘোষিত ব্যতিক্রমসমূহ "পুস্তিকা"।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
17 - آداب المسلم "كتاب". ويشتمل على ثلاثين أدبًا.

18 - المعارضة السياسية في الإسلام "كتيب".

19 - كتاب الجامع. وهو سلسلة منشورات متنوعة في مجالات كثيرة، ولعله يبلغ أكثر من مجلد.

 

•‌‌ رابعًا: المشاركات العلمية للدكتور في مواقع التواصل الاجتماعي غير الفيس بوك التي يمكن جمعها في مؤلفات مستقلة:

1 - فتاوى الدكتور عبد الرحمن الخميسي. وهي الفتاوى التي سئل عنها عبر قناته في التليجرام. وقد بلغت إلى الآن أكثر من (2400 فتوى)، ولعلها تكون في مجلدين أو أكثر.

2 - تعبير الأحلام. وهي التعبيرات للرؤى المنامية التي سئل عنها الأستاذ الدكتور في قناته في التليجرام، وقد بلغت إلى الآن أكثر من (1130 تعبيرًا)، ولعلها تكون في مجلد ضخم(1).

--------------------------------------------

(1) هذه الترجمة كتبها في الأصل الشيخ الأستاذ الدكتور عبد الرحمن بن إبراهيم الخميسي حفظه الله بخط يده في (24/ 12/1441 هـ) الموافق (14/ 8/2020 م) - صنعاء: الجمهورية اليمنية. ولم يكن لي من جهد فيها سوى التنسيق. المحقق.
১৭ - মুসলিমের আদব "গ্রন্থ"। এটি ত্রিশটি শিষ্টাচার সম্বলিত।

১৮ - ইসলামে রাজনৈতিক বিরোধিতা "পুস্তিকা"।

১৯ - কিতাবুল জামে (সমগ্র গ্রন্থ)। এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিবিধ প্রকাশনার একটি ধারাবাহিক, যা সম্ভবত একাধিক খণ্ডে সমাপ্ত হবে।

 

•‌‌ চতুর্থত: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে (ফেসবুক ব্যতীত) ডক্টরের ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক অংশগ্রহণসমূহ, যা স্বতন্ত্র গ্রন্থাকারে সংকলন করা সম্ভব:

১ - ডক্টর আব্দুর রহমান আল-খামিসির ফতোয়াসমগ্র। এগুলো হলো সেই ফতোয়া যা তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে জিজ্ঞাসিত হয়েছিল। বর্তমানে এর সংখ্যা (২৪০০ ফতোয়া) ছাড়িয়ে গেছে এবং সম্ভবত এটি দুই বা ততোধিক খণ্ডে বিন্যস্ত হবে।

২ - স্বপ্নের ব্যাখ্যা। এগুলো হলো স্বপ্নের সেই ব্যাখ্যাসমূহ যা সম্পর্কে প্রফেসর ডক্টরকে তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। বর্তমানে এর সংখ্যা (১১৩০টি ব্যাখ্যা) ছাড়িয়ে গেছে এবং সম্ভবত এটি একটি বিশাল খণ্ডে সংকলিত হবে(১)।

--------------------------------------------

(১) এই জীবনীটি মূলত শায়খ প্রফেসর ডক্টর আব্দুর রহমান বিন ইব্রাহিম আল-খামিসি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) নিজ হাতে (২৪/ ১২/ ১৪৪১ হিজরি) মোতাবেক (১৪/ ০৮/ ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) তারিখে লিখেছেন - সানা: ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র। এতে বিন্যাস ও সমন্বয় ছাড়া আমার আর কোনো ভূমিকা নেই। - মুহাক্কিক (গবেষক)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم المرسلين، نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد:

فإن السنة النبوية على صاحبها أفضل الصلاة وأتم التسليم هي المصدر الموازي للتشريع مع القرآن الكريم، بل قد استقلت عنه بتشريعات كثيرة لم ترد فيه، كما سيأتي بيانه إن شاء الله.

ولذلك فقد حفظها الله تعالى في الجملة بأن سخر لها رجالًا ينفون عنها تحريف الغالين وكذب الوضاعين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين، يحفظونها في صدورهم ومسطورهم، ويميزون صحيحها من سقيمها، وسليمها من معلولها، فوصلت إلينا ناصعة جلية، ومكتوبة بينة.

ولم يشكك فيها أحد ممن سبق إلا الزنادقة والرافضة(1)، فتصدى لهم العلماء الجهابذة قديمًا وحديثًا، وبينوا زيف ادعاءاتهم وتهافت شبهاتهم.

هذا ويجب العمل بالسنة سواءً كانت قولية أو عملية عند العلماء جميعًا -غير من ذكرنا(2) - بغير استثناء، ولا تفريق بين قولية وعملية منها؛ لأن الجميع مصدره واحد.

ومن يفرق بين السنة القولية والسنة العملية أو يثير حولها الشبهات ويدعي تعارضها مع القرآن أقول له ولأمثاله: «إن في قلوبكم وعقولكم وأفهامكم مرضًا».

إذ لم يزل المسلمون منذ القرن الأول وإلى اليوم يعملون بالسنة القولية والعملية والقرآن معًا، ولم يجدوا بينهم تناقضًا ولا تعارضًا، وكانوا مع ذلك سادة الدنيا والدين، هزموا الكفار والملاحدة، والقرامطة والباطنية، والخوارج وسائر الفرق الضالة بالسنان والبرهان، وردوا على أهل الكلام والفلاسفة ومن على شاكلتهم، وهزموهم كذلك، ودحضوا حججهم.

وبقي الإسلام والمسلمون وعلماء الحديث وسائر أهل العلم تقرأ بينهم كتب الحديث وتتداول، وكانت محل إجلال وعمل، حتى جاء هذا العصر وظهرت العلمانية وانبعثت الباطنية من جديد؛ لتفصم بين المسلمين ودينهم، وتشكك في أخلاقهم وعقيدتهم.

--------------------------------------------

(1) قال الإمام السيوطي: «الزنادقة وطائفة من غلاة الرافضة ذهبوا إلى إنكار الاحتجاج بالسنة والاقتصار على القرآن». مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة للسيوطي (ص:6).

(2) أي: الزنادقة والرافضة الذين سبق ذكرهم.
উপোদ্ঘাত

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই নববী সুন্নাহ—তার প্রবর্তকের ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—তা পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি শরয়ি বিধানের একটি সমান্তরাল উৎস। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি কুরআন থেকে স্বতন্ত্র অনেক বিধান প্রদান করেছে যা কুরআনে বর্ণিত হয়নি, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে ব্যাখ্যা করা হবে।

এ কারণেই মহান আল্লাহ মোটের ওপর একে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি এর জন্য এমন একদল মহৎ ব্যক্তিকে নিয়োজিত করেছেন, যারা চরমপন্থীদের বিকৃতি, মিথ্যাবাদীদের অপবাদ, বাতিলপন্থীদের জালিয়াতি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে একে রক্ষা করেন। তাঁরা তা নিজেদের অন্তরে এবং পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষণ করেন এবং এর মধ্য থেকে সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণ এবং সুস্থ ও রুগ্ন বর্ণনাগুলোকে পৃথক করেন। ফলে এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুস্পষ্ট এবং লিখিত ও প্রাঞ্জল রূপে পৌঁছেছে।

অতীতের যিনদীক (ধর্মদ্রোহী) এবং রাফেযীদের(১) ব্যতীত আর কেউ এতে সন্দেহ পোষণ করেনি। প্রাচীন ও আধুনিককালের বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম তাদের মোকাবিলা করেছেন এবং তাদের দাবির অসারতা ও সংশয়ের অসারতা প্রমাণ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তারা ব্যতীত সকল আলেমদের মতে—সুন্নাহ বাচনিক হোক বা প্রায়োগিক(২)—ব্যতিক্রমহীনভাবে তার ওপর আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। বাচনিক ও প্রায়োগিক সুন্নাহর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাবে না; কারণ উভয়ের উৎস অভিন্ন।

যে ব্যক্তি বাচনিক ও প্রায়োগিক সুন্নাহর মধ্যে পার্থক্য করে কিংবা এ নিয়ে সন্দেহ উসকে দেয় এবং কুরআনের সাথে এর বিরোধের দাবি করে, তার ও তার সমমনাদের উদ্দেশ্যে আমি বলব: «নিশ্চয়ই তোমাদের অন্তরে, মস্তিকে ও উপলব্ধিতে ব্যাধি রয়েছে।»

কেননা প্রথম শতাব্দী থেকে আজ অবধি মুসলমানরা বাচনিক সুন্নাহ, প্রায়োগিক সুন্নাহ এবং কুরআন—সবগুলোর ওপরই একসাথে আমল করে আসছেন। তাঁরা এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি খুঁজে পাননি। তা সত্ত্বেও তাঁরা ছিলেন ইহকাল ও পরকালের শ্রেষ্ঠ জাতি। তাঁরা তলোয়ার ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে কাফের, নাস্তিক, কারামাতি, বাতেনি, খারেজি এবং অন্যান্য সকল ভ্রান্ত দলগুলোকে পরাজিত করেছেন। তাঁরা ইলমুল কালামের চর্চাকারী, দার্শনিক এবং তাদের অনুসারীদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন এবং তাদের যুক্তিসমূহকে ধূলিসাৎ করেছেন।

ইসলাম, মুসলমান, মুহাদ্দিসগণ এবং অন্যান্য সকল স্তরের আলেমদের মধ্যে হাদীসের কিতাবসমূহ পঠিত ও প্রচলিত ছিল এবং তা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও আমলের বিষয় হিসেবে পরিগণিত হতো। অবশেষে এই বর্তমান যুগের আবির্ভাব হলো এবং সেকুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের উত্থান ঘটল এবং নতুন রূপে বাতেনি মতবাদের পুনর্জন্ম হলো; যাতে তারা মুসলমানদের থেকে তাদের দ্বীনকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং তাদের নৈতিকতা ও আকিদা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করতে পারে।

--------------------------------------------

(১) ইমাম সুয়ূতী বলেন: «যিনদীকগণ এবং চরমপন্থী রাফেযীদের একটি দল সুন্নাহর প্রামাণ্যতা অস্বীকার করার এবং কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার পথ অবলম্বন করেছে।’ সুয়ূতী রচিত ‘মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ’ (পৃষ্ঠা: ৬)।

(২) অর্থাৎ: পূর্বে উল্লিখিত যিনদীক ও রাফেযীগণ।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌سؤال لكل من يشكك في السنة النبوية:

السؤال الذي يطرح نفسه على أي مشكك في السنة النبوية: هل ما تطرحه أنت شبهات أم حقائق؟

فإن كانت شبهات فاعلم أن الشبهة هي في رأسك فقط(1)، ولها حل إذا كنت تريد الحق، وإن كانت حقائق كما تزعم فيلزم من ذلك أن المسلمين كانوا جميعًا منذ القرن الأول على ضلال وباطل، وأنت فقط على الحق.؟ وهذا من أمحل المحال وأبطل الباطل، مما يدل بل ويبطل جميع شبهاتك وضلالاتك وإفكك.

--------------------------------------------

(1) ومما ينبغي أن يُعلم هنا: أن الشبه لا ترد على دين الله عز وجل قرآنا وسنة- أصلًا وإن ادعى المشككون ذلك.

ويدل على ذلك: حديث العرباض بن سارية رضي الله عنه قال: (وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَوْعِظَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ هَذِهِ لَمَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ، فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا؟ قَالَ: قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا، لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ، مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِمَا عَرَفْتُمْ مِنْ سُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ). مسند أحمد (28/ 367)، رقم (17142)، وسنن ابن ماجة، المقدمة، باب اتباع سنة الخلفاء الراشدين المهديين (1/ 16)، رقم (43). وقال الألباني: «صحيح». صحيح سنن ابن ماجة للألباني (1/ 33)، رقم (41).

قال الإمام السندي: «قوله: (عَلَى الْبَيْضَاءِ) أي: الملة والحجة الواضحة التي لا تقبل الشبه أصلًا، فصار حال إيراد الشبه عليها كحال كشف الشبه عنها ودفعها، وإليه الإشارة بقوله: (لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا)». حاشية السندي على سنن ابن ماجة (1/ 20). فصار (لَيْلُهَا) أي: حال إيراد الشُّبه عليها (كَنَهَارِهَا) أي: كحال كشفِ الشبه عنها ودفعها عنها، فلا ينقص وضوحُها بإيراد الشبه عليها. مرشد ذوي الحجا والحاجة إلى سنن ابن ماجه والقول المكتفى على سنن المصطفى لمحمد الأمين بن عبد الله بن يوسف بن حسن الأُرمي العَلوي الأثيوبي الهَرَري الكري البُوَيطي (1/ 165).

وقال ابن الأمير الصنعاني: «(لَيْلُهَا) في إشراقه (كَنَهَارِهَا)، المراد: أنه لا لبس فيها ولا ريب، بل قد اتضحت إيضاح النهار. ومنه يُعلم أنه لا لبس في دين الله، ولا يحتاج إلى تكلفات المتكلمين وشطحات المتهوكين». التنوير شرح الجامع الصغير لابن الأمير الصنعاني (8/ 49).

وقوله صلى الله عليه وسلم: (لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ)، أي: لا يضل ولا يميل عن تلك الملة البيضاء إلى غيرها بعد وفاتي إلا من سبق عليه الهلاك الأبدي في علمه تعالى والحرمان عنها وحُكِم عليه به. أتى من قبل نفسه. انظر: التنوير شرح الجامع الصغير لابن الأمير الصنعاني (8/ 49)، ومرشد ذوي الحجا والحاجة إلى سنن ابن ماجة والقول المكتفى على سنن المصطفى لمحمد الأمين بن عبد الله بن يوسف بن حسن الأُرمي العلوي الأثيوبي الهَرَري الكري البُويطي (1/ 165).

والمعنى: لا يميل ولا يخرج عن الملة ويعمل بخلافها متعمدًا إلا الهالك الذي مأواه جهنم وبئس المصير. مشارق الأنوار الوهاجة ومطالع الأسرار البهاجة في شرح سنن الإمام ابن ماجه لمحمد بن علي بن آدم بن موسى (1/ 546).
সুন্নাহর প্রতি সংশয় পোষণকারী প্রত্যেকের জন্য একটি প্রশ্ন:

সুন্নাহর প্রতি সংশয় পোষণকারী যে কারোর প্রতি যে প্রশ্নটি উত্থাপিত হয় তা হলো: আপনি যা পেশ করছেন তা কি সংশয়, নাকি ধ্রুব সত্য?

যদি সেগুলো সংশয় হয়, তবে জেনে রাখুন যে সেই সংশয় কেবল আপনার মস্তিস্কেই বিদ্যমান(১), এবং আপনি যদি সত্যের সন্ধানী হন তবে এর সমাধানও রয়েছে। আর আপনি যদি দাবি করেন যে এগুলো ধ্রুব সত্য, তবে এর অনিবার্য অর্থ দাঁড়ায় যে, প্রথম শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত মুসলিম পথভ্রষ্টতা ও বাতিলের ওপর ছিল এবং কেবল আপনিই সত্যের ওপর আছেন। আর এটি অসম্ভব বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম এবং নিকৃষ্টতম বাতিল দাবি; যা আপনার সমস্ত সংশয়, বিভ্রান্তি এবং অপবাদের অসারতা প্রমাণ করে ও তা বাতিল করে দেয়।

--------------------------------------------

(১) এখানে যা জানা আবশ্যক তা হলো: সংশয়বাদীরা দাবি করলেও মূলত মহান আল্লাহর দ্বীন—কুরআন ও সুন্নাহর—ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সংশয় প্রবেশের অবকাশ নেই।

এর প্রমাণ হলো ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এমন এক উপদেশ দিলেন যাতে চোখ থেকে অশ্রু ঝরল এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এটি তো বিদায়ী ব্যক্তির উপদেশের মতো মনে হচ্ছে, সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে এমন এক উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট পথের ওপর রেখে যাচ্ছি যার রাতও দিনের মতো, আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে; তা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে।" মুসনাদে আহমাদ (২৮/৩৬৭), হাদীস নং (১৭১৪২), এবং সুনানে ইবনে মাজাহ, মুকাদ্দিমাহ, অধ্যায়: খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ (১/১৬), হাদীস নং (৪৩)। আলবানী বলেছেন: "সহীহ"। সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ- আলবানী (১/৩৩), হাদীস নং (৪১)।

ইমাম সিন্দি বলেন: "তাঁর উক্তি: (উজ্জ্বল পথের ওপর) অর্থাৎ এমন এক আদর্শ ও সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর যার বিপরীতে মূলত কোনো সংশয় গ্রহণীয় নয়। ফলে এর ওপর সংশয় উত্থাপনের অবস্থাটি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন এর থেকে সংশয় উন্মোচন ও অপনোদনেরই অবস্থা। তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: (যার রাতও দিনের মতো)।" হাশিয়াতুস সিন্দি আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (১/২০)। সুতরাং এর (রাত) অর্থাৎ এর ওপর সংশয় উত্থাপনের অবস্থাটি হলো (দিনের মতো) অর্থাৎ এর থেকে সংশয় উন্মোচন ও অপনোদনের অবস্থার মতো, ফলে সংশয় উত্থাপনের দ্বারা এর স্পষ্টতা বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ হয় না। মুরশিদু যাউইল হিযা ওয়াল হাজাহ ইলা সুনানি ইবনে মাজাহ ওয়াল কাউলুল মুকতাফা আলা সুনানিল মুসতাফা- মুহাম্মাদ আল-আমীন বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন হাসান আল-উরমী আল-আলাউয়ী আল-ইথিওপীয় আল-হারারী আল-কুরী আল-বুওয়াইতী (১/১৬৫)।

ইবনুল আমীর আস-সানআনী বলেন: "(তার রাত) এর উজ্জ্বলতায় (তার দিনের মতো); এর উদ্দেশ্য হলো: এতে কোনো অস্পষ্টতা বা সন্দেহ নেই, বরং তা দিনের আলোর মতো সুষ্পষ্ট। আর এ থেকেই জানা যায় যে, আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা নেই এবং এতে কালাম শাস্ত্রবিদদের অহেতুক প্রচেষ্টা ও বিভ্রান্তদের প্রলাপের কোনো প্রয়োজন নেই।" আত-তানভীর শারহুল জামিউস সাগীর- ইবনুল আমীর আস-সানআনী (৮/৪৯)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উক্তি: (আমার পরে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হবে না), অর্থাৎ: আমার ইন্তিকালের পর সেই উজ্জ্বল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য দিকে কেবল সেই ব্যক্তিই ধাবিত হবে যার ব্যাপারে মহান আল্লাহর ইলমে চিরন্তন ধ্বংস ও বঞ্চনা অবধারিত হয়ে আছে এবং যার বিরুদ্ধে এর ফয়সালা হয়ে আছে। সে নিজের পক্ষ থেকেই এমনটি করেছে। দেখুন: আত-তানভীর শারহুল জামিউস সাগীর- ইবনুল আমীর আস-সানআনী (৮/৪৯), এবং মুরশিদু যাউইল হিযা ওয়াল হাজাহ ইলা সুনানি ইবনে মাজাহ ওয়াল কাউলুল মুকতাফা আলা সুনানিল মুসতাফা- মুহাম্মাদ আল-আমীন বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন হাসান আল-উরমী আল-আলাউয়ী আল-ইথিওপীয় আল-হারারী আল-কুরী আল-বুওয়াইতী (১/১৬৫)।

এর অর্থ হলো: পথ বিচ্যুত হওয়া বা মিল্লাতের আদর্শের বাইরে গিয়ে জেনেবুঝে এর বিপরীতে কাজ করা কেবল সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাজ যার আবাসস্থল জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল। মাশারিকুল আনওয়ারুল ওয়াহহাজাহ ওয়া মাতালিউল আসরারিল বাহহাজাহ ফী শারহি সুনানিল ইমাম ইবনে মাজাহ- মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আদম বিন মূসা (১/৫৪৬)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ودليل آخر: هل هذا الذي تقوله قاله المتقدمون قبلك أم لا؟

فإن كانوا قد قالوا به فأين مصدره إن كنت صادقًا؟ وإن لم يقولوا به فهذا يدل على أن ما تقوله مجرد شبهات ضالة، طرأت عليك أنت فقط؛ لمرض في قلبك وفساد في عقلك وعقيدتك، فاذهب وأصلح قلبك وعقيدتك، وإلا فالمصير لك محتوم، والعاقبة بالسوء معلومة(1).

{وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ (33)} [الرعد:33، والزمر:23، والزمر:36، وغافر:33].

--------------------------------------------

(1) قال الآجري: «فكل من رد سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنن أصحابه فهو ممن شاقق الرسول وعصاه، وعصى الله تعالى بتركه قبول السنن، ولو عقل هذا الملحد وأنصف من نفسه علم أن أحكام الله عز وجل وجميع ما تعبد به خلقه إنما تؤخذ من الكتاب والسنة، وقد أمر الله عز وجل نبيه عليه السلام أن يبين لخلقه ما أنزله عليه مما تعبدهم به، فقال جل ذكره: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (44)} [النحل:44]. وقد بين صلى الله عليه وسلم لأمته جميع ما فرض الله عز وجل عليهم من جميع الأحكام، وبين لهم أمر الدنيا وأمر الآخرة وجميع ما ينبغي أن يؤمنوا به، ولم يدعهم جهلة لا يعلمون، حتى أعلمهم أمر الموت والقبر وما يلقى المؤمن وما يلقى الكافر وأمر المحشر والوقوف وأمر الجنة والنار حالًا بعد حال، يعرفه أهل الحق». المصدر السابق (3/ 1205 - 1206).
আরও একটি প্রমাণ: আপনি যা বলছেন তা কি আপনার পূর্ববর্তী মনীষীরা বলেছেন নাকি বলেননি?

যদি তারা তা বলে থাকেন, তবে আপনি সত্যবাদী হলে তার উৎস কোথায়? আর যদি তারা তা না বলে থাকেন, তবে এটি প্রমাণ করে যে আপনি যা বলছেন তা নিছক বিভ্রান্তিকর সংশয় মাত্র; যা কেবল আপনার অন্তরের ব্যাধি এবং আপনার বুদ্ধি ও আকিদার বিকৃতির কারণে আপনার মাঝে উদয় হয়েছে। সুতরাং যান, আপনার অন্তর ও আকিদাকে সংশোধন করুন। অন্যথায়, আপনার পরিণতি অনিবার্য এবং মন্দ শেষ পরিণাম সুনিশ্চিত(১)।

{এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই (৩৩)} [আর-রাদ: ৩৩, আয-যুমার: ২৩, আয-যুমার: ৩৬, এবং গাফির: ৩৩]।

--------------------------------------------

(১) আল-আজুররী বলেন: "যে ব্যক্তিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং তাঁর সাহাবীদের সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করল, সে মূলত রাসূলের বিরোধিতা করল এবং তাঁর অবাধ্য হলো। আর সুন্নাহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর মাধ্যমে সে মহান আল্লাহর অবাধ্য হলো। এই নাস্তিক যদি অনুধাবন করত এবং নিজের প্রতি ইনসাফ করত, তবে সে জানত যে মহান আল্লাহর বিধানাবলি এবং তাঁর ইবাদতের যাবতীয় মাধ্যম কেবল কিতাব ও সুন্নাহ থেকেই গ্রহণ করতে হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি যেন তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন—যা দিয়ে তিনি তাঁর বান্দাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন—তা মানুষের জন্য বর্ণনা করে দেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে (৪৪)} [আন-নাহল: ৪৪]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাদের ওপর ফরজ করা সমস্ত বিধান বর্ণনা করেছেন। তিনি তাদের নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়াবলি এবং যার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক, তার সবকিছুই বর্ণনা করেছেন। তিনি তাদেরকে অজ্ঞ হিসেবে রেখে যাননি, বরং তাদেরকে মৃত্যু ও কবরের অবস্থা, মুমিন ও কাফিররা যা কিছুর সম্মুখীন হবে তা, হাশর ও কিয়ামতের ময়দানে অবস্থানের বিষয় এবং জান্নাত ও জাহান্নামের পর্যায়ক্রমিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছেন, যা সত্যপন্থীরা অবগত আছেন।" পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ১২০৫ - ১২০৬)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌سبب تأليف الكتاب

نشر شخص يدعي بأنه مستشار ومحام وباحث إسلامي(1) ترهات وأكاذيب وشبهات حول السنة في منشور له طويل باسم: "صور من الضياع الفقهي للفقهاء"(2). كشف فيه عن جهله المركب بالقرآن والسنة، وعن حقده الدفين على علماء الحديث، وخاصةً الإمام البخاري، وعن سوء معتقده وانحرافه الفكري.

ومحصلة منشوره هو ما يلي:

إنكار السنة القولية بدعوى:

1 - تعارضها مع القرآن الكريم.

2 - اتهام المحدثين باختلاقها.

وقد صح عندي العزم على الرد على هذا المنشور باختصار وإيجاز؛ كونه قد انتشر في مواقع التواصل الاجتماعي، وتسبب في بعض التساؤلات عند البعض وربما الحيرة، مما يحتم القيام بهذا الواجب الكفائي، والحمد لله الذي شرح صدري لذلك بعد أن كنت أرفض الردود على الشبهات؛ لعدم جدواها عند مثيريها، لكنها مفيدة جدًا لغيرهم. فاستعنت بالله تعالى في الرد عليه من أجل:

أولًا: الدفاع عن الحق وعن السنة المطهرة ورواتها.

ثانيًا: إزالة ما ترسخ من شبهات في عقول بعض طلاب العلم.

ثالثًا: بيان جهل هذا المفتري الأفاك بالقرآن والسنة، وأنه لا صلة له بالعلم لا من قريب ولا من بعيد.

وكنت في أول الأمر قد نشرت هذه الردود في سلسلة منشورات على صفحتي في الفيس بوك، وقد بلغ عدد هذه المنشورات -بما فيها المقدمة والخاتمة- (56) منشورًا.

ثم لما اطّلع أحد الإخوة(3) على هذه المنشورات قام بجمعها وترتيبها في كتاب جزاه الله خيرًا؛ من أجل أن تعم به الفائدة، مما استدعى مني إعادة النظر فيها، وتعديل أو إضافة ما رأيته صالحًا لذلك، وأصلحت فيه ما يلزم؛ حتى خرج على هذا النحو.

وحتى تتم الفائدة من الكتاب رأيت أن أضيف إليه:

1 - بحث كنت نشرته قديمًا في إحدى المجلات العلمية، وهو بعنوان: "خصائص السنة المطهرة".

2 - بعض الردود التي لديَّ على بعض الشبه التي يثيرها منكرو السنة، وكنت قد كتبتها -أيضًا- قديمًا، ونُشر بعضها في إحدى الجرائد المحلية وبعضها لم يكن قد نُشر بعد، وهي بعنوان: "دحض مطاعن الأغبياء في سنة سيد الأنبياء"، رددت فيها على "رسالة تنزيه سيد الأنبياء عن أقوال الأغبياء" لعدنان الجُنيد.

ولذلك جاء الكتاب في ثلاثة فصول، كالتالي:

الفصل الأول: خصائص السنة المطهرة. وهو كالتمهيد للكتاب.

الفصل الثاني: الرد على شبهات منشور: "صور من الضياع الفقهي للفقهاء".

الفصل الثالث: دحض مطاعن الأغبياء في سنة سيد الأنبياء.

 

والله تعالى أسأل أن يرزقني الإخلاص والسداد في القول والعمل، وأن يتقبله مني؛ وهو سبحانه الهادي والموفق والمجيب.

{وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ (88)} [هود:88].

--------------------------------------------

(1) هو: المستشار/ أحمد عبده ماهر. وهو مصري، وقد عرف نفسه في بداية منشوره بأنه: "كاتب"، وقال في نهاية المنشور بأنه: "محام بالنقض وباحث إسلامي". وهو مصري.

(2) وهو منشور في صفحته في الفيس بوك، وقد ملأه برد السنة النبوية وتكذيبها، بل وتضمن ردًا لبعض الآيات القرآنية -مع ادعائه باتباعه للقرآن فقط- التي تتوافق مع ما رده من السنه، حسب زعمه والتهجم على العلماء والمحدثين والفقهاء. والله المستعان.

(3) وهو: محقق الكتاب والمعتني به، الأخ/ فاروق يحيى محمد الحاج.
‌‌গ্রন্থটি রচনার কারণ

এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে একজন উপদেষ্টা, আইনজীবী ও ইসলামি গবেষক হিসেবে দাবি করেন(১), তিনি তাঁর "ফকিহদের ফিকহি বিভ্রান্তির চিত্র"(২) নামক একটি দীর্ঘ পোস্টে সুন্নাহ সম্পর্কে নানা অসার কথা, মিথ্যাচার ও সংশয় ছড়িয়েছেন। এতে কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চরম অজ্ঞতা এবং হাদীস বিশারদদের প্রতি—বিশেষত ইমাম বুখারীর প্রতি—তাঁর গোপন বিদ্বেষ এবং তাঁর মন্দ বিশ্বাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতি ফুটে উঠেছে।

তাঁর পোস্টের সারমর্ম হলো নিম্নরূপ:

নিম্নোক্ত অজুহাতে 'সুন্নাহ কওলিয়্যাহ' বা বাচনিক সুন্নাহ অস্বীকার করা:

১ - পবিত্র কুরআনের সাথে এর বিরোধ।

২ - মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক এটি জাল করার অভিযোগ।

আমি সংক্ষেপে এই পোস্টের জবাব দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প করেছি; কারণ এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কারো কারো মনে কিছু প্রশ্ন ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। ফলে এই 'ওয়াজিবে কিফায়া' (যৌথ আবশ্যিক দায়িত্ব) পালন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আল্লাহর প্রশংসা, যিনি এজন্য আমার বক্ষ উন্মোচিত করেছেন; যদিও ইতিপূর্বে আমি সংশয়ের জবাব দেওয়া প্রত্যাখ্যান করতাম, কারণ সংশয় সৃষ্টিকারীদের ক্ষেত্রে তা ফলপ্রসূ হয় না, তবে অন্যদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী। তাই আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে তাঁর জবাব দিতে প্রবৃত্ত হয়েছি যাতে:

প্রথমত: সত্যের প্রতিরক্ষা এবং পবিত্র সুন্নাহ ও এর বর্ণনাকারীদের পক্ষ সমর্থন করা যায়।

দ্বিতীয়ত: কিছু ইলম অন্বেষীর (তালিবে ইলম) মনে বদ্ধমূল হওয়া সংশয়সমূহ দূর করা যায়।

তৃতীয়ত: কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে এই অপবাদদানকারী মিথ্যাবাদীর অজ্ঞতা প্রকাশ করা যায় এবং এটি স্পষ্ট করা যায় যে, ইলম বা জ্ঞানের সাথে তার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।

আমি শুরুতে আমার ফেসবুক পেজে ধারাবাহিক পোস্ট আকারে এই জবাবগুলো প্রকাশ করেছিলাম। ভূমিকা ও উপসংহারসহ এই পোস্টের সংখ্যা ছিল (৫৬) টি।

এরপর যখন জনৈক ভ্রাতা(৩) এই পোস্টগুলো দেখেন, তখন তিনি তা সংগ্রহ করে একটি বই আকারে বিন্যস্ত করেন—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয়। ফলে আমার জন্য এটি পুনঃনিরীক্ষণ করার এবং উপযুক্ত মনে হওয়া স্থানে কিছু পরিমার্জন বা সংযোজন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আমি প্রয়োজনীয় সংশোধন করি, শেষ পর্যন্ত এটি বর্তমান রূপ লাভ করে।

বইটির উপকারিতা পূর্ণাঙ্গ করতে আমি এতে আরও কিছু বিষয় যুক্ত করা সমীচীন মনে করেছি:

১ - একটি গবেষণা প্রবন্ধ যা আমি আগে একটি বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশ করেছিলাম, যার শিরোনাম ছিল: "পবিত্র সুন্নাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ"।

২ - সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের উত্থাপিত কিছু সংশয়ের প্রেক্ষিতে আমার করা কিছু খণ্ডনমূলক লেখা, যা আমি আগেও লিখেছিলাম। এর কিছু অংশ স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল এবং কিছু অংশ তখনো অপ্রকাশিত ছিল। এর শিরোনাম হলো: "সাইয়্যিদুল আম্বিয়ার সুন্নাহর ব্যাপারে নির্বোধদের আপত্তির খণ্ডন", যাতে আমি আদনান আল-জুনাইদের "রাসায়িলু তানযীহি সাইয়্যিদিন আম্বিয়া আন আকওয়ালিল আগবিয়া" নামক পুস্তিকার জবাব দিয়েছি।

এ কারণে বইটি নিম্নোক্ত তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: পবিত্র সুন্নাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ। এটি বইয়ের ভূমিকা স্বরূপ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: "ফকিহদের ফিকহি বিভ্রান্তির চিত্র" শীর্ষক পোস্টের সংশয়সমূহের নিরসন।

তৃতীয় অধ্যায়: সাইয়্যিদুল আম্বিয়ার সুন্নাহর ব্যাপারে নির্বোধদের আপত্তির খণ্ডন।

 

মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে কথা ও কাজে ইখলাস ও সঠিক পথ দান করেন এবং আমার এই প্রচেষ্টা কবুল করেন। তিনিই একমাত্র পথপ্রদর্শক, তাওফিকদাতা ও দুআ কবুলকারী।

{আমার সাফল্য কেবল আল্লাহর সাহায্যে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। (৮৮)} [হূদ: ৮৮]।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: উপদেষ্টা/ আহমেদ আবদু মাহের। তিনি একজন মিশরীয়। তিনি তাঁর পোস্টের শুরুতে নিজেকে "লেখক" হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং পোস্টের শেষে বলেছেন যে তিনি "আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ইসলামি গবেষক"। তিনি মিশরীয়।

(২) এটি তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্ট। তিনি এটি নব্যি সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার দ্বারা পূর্ণ করেছেন। এমনকি—শুধুমাত্র কুরআন অনুসরণের দাবি করা সত্ত্বেও—এতে এমন কিছু কুরআনি আয়াতেরও প্রত্যাখ্যান রয়েছে যা তাঁর দাবি অনুযায়ী তাঁর প্রত্যাখ্যাত সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আলেম, মুহাদ্দিস ও ফকিহদের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

(৩) তিনি হলেন বইটির গবেষক ও তত্ত্বাবধায়ক, ভ্রাতা ফারুক ইয়াহইয়া মুহাম্মদ আল-হাজ।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول

خصائص السنة المطهرة

ويشتمل على:

مقدمة.

أولًا: الخصائص المشتركة بين السنة والقرآن.

ثانيًا: خصائص السنة التي انفردت بها.
প্রথম পরিচ্ছেদ

পবিত্র সুন্নাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ

এবং এতে রয়েছে:

ভূমিকা।

প্রথমত: সুন্নাহ ও কুরআনের মধ্যবর্তী সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للثقلين، سيد الأولين والآخرين وإمام الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد، وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد:

فإننا متعبدون بالسنة المطهرة المنقولة عن نبينا صلى الله عليه وسلم قولًا وفعلًا وتقريرًا كما أننا متعبدون بالقرآن؛ وذلك لأنها وحي أوحاه الله إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وتنزل بها جبريل كما تنزل بالقرآن، إلا أن الفرق بينهما أن القرآن الكريم معجزة باقية حتى تقوم الساعة، محفوظ من التغيير والتبديل، متواتر اللفظ في جميع كلماته وحروفه، ونزل بوحي جلي، بخلاف السنة، فإن معناها من الله وأحيانًا من النبي صلى الله عليه وسلم، ولفظها من النبي صلى الله عليه وسلم، وقد تكون بوحي وبغير وحي.

والقرآن الكريم متعبد بتلاوته، ويتعين قراءته في الصلاة، وتحرم روايته بالمعنى، بخلاف السنة.

وللسنة خصائص أخرى شاركت فيها القرآن، وخصائص انفردت بها عن سائر العلوم.

ولأهمية هذا الموضوع فقد أفردته بالبحث هنا تحت مسمى: "خصائص السنة المطهرة".

وقسمته كالتالي:

أولًا: الخصائص المشتركة بين السنة والقرآن، وفيه سبعة مباحث:

المبحث الأول: كون السنة وحيًا من الله تعالى.

المبحث الثاني: تسمية السنة بـ"الكتاب".

المبحث الثالث: نقل السنة بالإسناد المتصل.

المبحث الرابع: وجوب العمل بالسنة.

المبحث الخامس: كون منكر السنة كافرًا.

المبحث السادس: حفظ السنة في الجملة.

المبحث السابع: خطر التهاون بالسنة.

ثانيًا: خصائص السنة التي انفردت بها، وفيه ستة مباحث:

المبحث الأول: انفراد السنة بالتشريع.

المبحث الثاني: انفراد السنة ببيان القرآن الكريم.

المبحث الثالث: قواعد وشروط قبول السنة.

المبحث الرابع: تسمية السنة بـ"الحكمة".
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাকে জিন ও ইনসানের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, যিনি পূর্বাপর সকলের সরদার এবং আম্বিয়া ও মুরসালিনদের ইমাম; আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে সকলের ওপর।

অতঃপর:

কুরআন দ্বারা ইবাদত করার ন্যায় আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি সম্বলিত পবিত্র সুন্নাহর অনুসরণ করাও আমাদের জন্য ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সুন্নাহ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ ওহী; জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যেভাবে কুরআন নিয়ে অবতরণ করতেন তেমনি সুন্নাহ নিয়েও অবতরণ করতেন। তবে এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো—কুরআনুল কারীম কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান এক চিরন্তন মুজিযা, যা যে কোনো ধরনের পরিবর্তন ও পরিমার্জন থেকে সংরক্ষিত। এর প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর মুতাওয়াতির বা অকাট্য সূত্রে বর্ণিত এবং এটি 'ওহীয়ে জালি' বা সুস্পষ্ট ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ণ। পক্ষান্তরে সুন্নাহর মর্মার্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং কখনো নবীর পক্ষ থেকেও হয়, তবে এর শব্দ চয়ন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরই হয়ে থাকে। আর সুন্নাহ কখনো ওহীর মাধ্যমে আবার কখনো ওহী ছাড়াও হতে পারে।

কুরআন তিলাওয়াত করা ইবাদত এবং সালাতে তা পাঠ করা আবশ্যক, আর কুরআনের বর্ণনার ক্ষেত্রে মর্মগত বর্ণনা হারাম। কিন্তু সুন্নাহর বিষয়টি এর ব্যতিক্রম।

সুন্নাহর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাতে এটি কুরআনের সাথে অংশীদার, আবার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে অন্যান্য সকল জ্ঞানবিজ্ঞান থেকে স্বতন্ত্র করেছে।

এই বিষয়ের গুরুত্বের বিবেচনায় আমি "পবিত্র সুন্নাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ" শিরোনামে একে একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করেছি।

আমি একে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথমত: সুন্নাহ ও কুরআনের মধ্যবর্তী সাধারণ বা যৌথ বৈশিষ্ট্যসমূহ, যা সাতটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী হওয়া।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহকে "কিতাব" হিসেবে অভিহিত করা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুত্তাসিল বা নিরবচ্ছিন্ন সনদে সুন্নাহ বর্ণিত হওয়া।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অস্বীকারকারী কাফির হওয়া।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সামগ্রিকভাবে সুন্নাহ সংরক্ষিত হওয়া।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের ভয়াবহতা।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহর সেই সকল বৈশিষ্ট্য যা এককভাবে সুন্নাহর সাথে খাস, এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শরীয়ত প্রবর্তনে সুন্নাহর স্বকীয়তা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারীমের ব্যাখ্যায় সুন্নাহর একক ভূমিকা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ গ্রহণের নীতিমালা ও শর্তাবলী।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহকে "হিকমাহ" (প্রজ্ঞা) হিসেবে নামকরণ।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الخامس: كثرة الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم من المشتغل بالسنة.

المبحث السادس: دعاء النبي صلى الله عليه وسلم لمن يتعلم السنة بالنضارة.

وقد جاء القسم الأول أطول من الثاني؛ وذلك بسبب غزارة مادته العلمية، ولو أراد الباحث أن يطيل النفس فيه لجاء بأضعاف ما كُتب، بخلاف القسم الثاني، فالمادة العلمية الموجودة فيه قليلة جدًا. ولكون هذا مما قد لا ينتبه له القارئ الفطن فقد لزم التنبيه عليه.

 

وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ চর্চায় নিয়োজিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি অধিক দুরুদ পাঠ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি সুন্নাহ শিক্ষা করে, তার সজীবতার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুআ।

প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশের তুলনায় দীর্ঘতর হয়েছে; এর কারণ হলো এর জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদানের প্রাচুর্য। গবেষক যদি এতে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইতেন, তবে বর্তমানে যা লিখিত হয়েছে তার কয়েক গুণ বেশি তথ্য উপস্থাপন করতে পারতেন; যা দ্বিতীয় অংশের বিপরীত, কারণ তাতে বিদ্যমান ইলমি উপাদান অত্যন্ত সীমিত। যেহেতু বিষয়টি এমন যা একজন সচেতন পাঠকের দৃষ্টিগোচর না-ও হতে পারে, তাই এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা আবশ্যক মনে করা হয়েছে।

 

আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌أولاً

الخصائص المشتركة بين السنة والقرآن

وفيه سبعة مباحث:

المبحث الأول: كون السنة وحيًا من الله تعالى.

المبحث الثاني: تسمية السنة بـ"الكتاب".

المبحث الثالث: نقل السنة بالإسناد المتصل.

المبحث الرابع: وجوب العمل بالسنة.

المبحث الخامس: كون منكر السنة كافرًا.

المبحث السادس: حفظ السنة في الجملة.

المبحث السابع: خطر التهاون بالسنة.
প্রথমত

সুন্নাহ ও কুরআনের অভিন্ন বৈশিষ্ট্যসমূহ

এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী হওয়া।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহকে "কিতাব" হিসেবে নামকরণ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিরবচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে সুন্নাহর বর্ণনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অস্বীকারকারীর কাফের হওয়া।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর সংরক্ষণ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের ভয়াবহতা।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الأول

كون السنة وحيًا من الله تعالى

السنة وحي أوحاه الله تعالى إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وتنزل بها الأمين جبريل عليه السلام كما تنزل بالقرآن الكريم، غير أنه تنزل بالقرآن الكريم بلفظه ومعناه من الله تعالى، وأما السنة فتنزل بمعناها، وأما لفظها فمن النبي صلى الله عليه وسلم، وقد دل على هذا قوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} [النجم:3 - 4].

قال الحافظ إسماعيل بن كثير الدمشقي في تفسيره في معنى هذه الآية: «أي: ما يقول قولًا عن هوى وغرض، {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:4]، أي: إنما يقول ما أمر به يبلغه إلى الناس كاملًا موفورًا من غير زيادة ولا نقصان»(1)، ثم أورد بعض الأحاديث التي تدل على أن ما يقوله أو يفعله حق، وليس عن هوى أو غرض(2).

وقال الإمام محمد بن أحمد القرطبي في تفسيره: «وفيها أيضًا دلالة على أن السنة كالوحي المنزل في العمل»(3).

وقال العلامة محمد بن علي الشوكاني: «أي: ما يصدر نطقه عن الهوى، لا بالقرآن ولا بغيره، {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:4]، أي: ما هو الذي ينطق به إلا وحي من الله يوحيه إليه»(4).

فهذه أقوال بعض أئمة التفسير تدل على: أن السنة من الوحي المنزل.

وجزم بذلك بعض أئمة التابعين، وهو حسان بن عطية المحاربي الدمشقي، فقال: «كَانَ جِبْرِيلُ يَنْزِلُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالسُّنَّةِ كَمَا يَنْزِلُ عَلَيْهِ بِالْقُرْآنِ، يُعَلِّمُهُ إِيَّاهَا كَمَا يُعَلِّمُهُ الْقُرْآنَ»(5).

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم لإسماعيل بن كثير الدمشقي "المشهور بـ: تفسير ابن كثير" (7/ 443).

(2) نفس المصدر السابق.

(3) الجامع لأحكام القرآن لمحمد بن أحمد القرطبي "المشهور بـ: تفسير القرطبي" (17/ 85).

(4) فتح القدير الجامع بين فني الرواية والدراية من علم التفسير لمحمد بن علي الشوكاني "المشهور

بـ: تفسير الشوكاني" (5/ 126).

(5) سنن الدارمي، المقدمة، باب السنة قاضية على كتاب الله (1/ 474)، رقم (608)، والسنة لمحمد بن نصر المروزي (ص:33)، رقم (102)، والإبانة الكبرى لابن بطة، باب ذكر ما جاءت به السنة من طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم والتحذير من طوائف يعارضون سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقرآن (1/ 255)، رقم (90)، وشرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للآلكائي، سياق ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في الحث على التمسك بالكتاب والسنة وعن الصحابة والتابعين ومن بعدهم والخالفين لهم من علماء الأمة رضي الله عنهم أجمعين (1/ 93)، رقم (99)، والمدخل إلى السنن الكبرى للبيهقي، باب حجة من ذهب إلى أنه لم يسن إلا بأمر الله (1/ 83)، رقم (162)، والكفاية في علم الرواية للخطيب البغدادي، باب ما جاء في التسوية بين حكم كتاب الله تعالى وحكم سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم في وجوب العمل ولزوم التكليف (ص:12). وقال ابن حجر عن سنده: «صحيح». فتح الباري لابن حجر (13/ 291). وقال الألباني: «رواه الدارمي بسند صحيح عن حسان بن عطية، فهو مرسل». تحقيق كتاب الإيمان لابن تيمية للألباني (ص:37).

وفي رواية: «كَانَ الْوَحْيُ يَنْزِلُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَيُخْبِرُهُ جِبْرِيلُ عليه السلام بِالسُّنَّةِ الَّتِي تُفَسِّرُ ذَلِكَ». جامع بيان العلم وفضله لابن عبد البر معلقًا -عن الأوزاعي عن حسان بن عطية-، باب موضع السنة من الكتاب وبيانها له (2/ 1193)، رقم (2350).
প্রথম পরিচ্ছেদ

সুন্নাহ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহি হওয়া

সুন্নাহ হলো এমন এক ওহি যা মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। বিশ্বস্ত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম পবিত্র কুরআনের ন্যায় সুন্নাহ নিয়েও অবতীর্ণ হতেন; তবে পার্থক্য এই যে, কুরআন শব্দ এবং অর্থ উভয় দিক থেকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে তার মর্মার্থ অবতীর্ণ হয়েছে এবং তার শব্দ বা ভাষা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রমাণ বহন করে: "তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। তা তো ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।" [সূরা আন-নাজম: ৩-৪]।

হাফেজ ইসমাঈল বিন কাসির আদ-দিমাশকি তাঁর তাফসির গ্রন্থে এই আয়াতের অর্থে বলেছেন: "অর্থাৎ, তিনি প্রবৃত্তি বা কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের বশবর্তী হয়ে কোনো কথা বলেন না। 'তা তো ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়' [আন-নাজম: ৪], অর্থাৎ, তিনি কেবল তা-ই বলেন যা তাঁকে প্রচারের জন্য আদেশ করা হয়েছে এবং তিনি তা মানুষের কাছে পূর্ণাঙ্গ ও অবিকৃতভাবে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই পৌঁছে দেন।"(১) অতঃপর তিনি এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, তিনি যা বলেন বা করেন তা সত্য, প্রবৃত্তি বা ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যে নয়।(২)

ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কুরতুবি তাঁর তাফসির গ্রন্থে বলেছেন: "এর মধ্যে এ বিষয়েরও দলিল রয়েছে যে, আমল করার ক্ষেত্রে সুন্নাহ অবতীর্ণ ওহির সমতুল্য।"(৩)

আল্লামা মুহাম্মদ বিন আলি আশ-শাওকানি বলেছেন: "অর্থাৎ, তাঁর কথা প্রবৃত্তি থেকে নিঃসৃত হয় না, কুরআনও নয় এবং অন্য কিছুও নয়। 'তা তো ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়' [আন-নাজম: ৪], অর্থাৎ, তিনি যা উচ্চারণ করেন তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহি ছাড়া আর কিছুই নয় যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।"(৪)

তাফসির শাস্ত্রের একদল ইমামের এসব বক্তব্য প্রমাণ করে যে: সুন্নাহ অবতীর্ণ ওহির অন্তর্ভুক্ত।

জনৈক প্রখ্যাত তাবেয়ি ইমাম হাসান বিন আতিয়্যাহ আল-মুহারিবি আদ-দিমাশকি এ বিষয়ে সুদৃঢ় মত ব্যক্ত করে বলেছেন: "জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন ঠিক যেভাবে তিনি কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন। তিনি তাঁকে সুন্নাহর শিক্ষা দিতেন ঠিক যেভাবে কুরআনের শিক্ষা দিতেন।"(৫)

--------------------------------------------

(১) ইসমাঈল বিন কাসির আদ-দিমাশকি রচিত 'তাফসীরুল কুরআনিল আজীম' (যা 'তাফসীরে ইবনে কাসির' নামে প্রসিদ্ধ), ৭/ ৪৪৩।

(২) প্রাগুক্ত।

(৩) মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কুরতুবি রচিত 'আল-জামি' লি-আহকামিল কুরআন' (যা 'তাফসীরে কুরতুবি' নামে প্রসিদ্ধ), ১৭/ ৮৫।

(৪) মুহাম্মদ বিন আলি আশ-শাওকানি রচিত 'ফাতহুল কাদির আল-জামি' বাইনা ফান্নায়ির রিওয়ায়াতি ওয়াদ দিরায়াতি মিন ইলমিত তাফসীর' (যা 'তাফসীরে শাওকানি' নামে প্রসিদ্ধ), ৫/ ১২৬।

(৫) সুনানে দারেমি, মুকাদ্দিমা, সুন্নাহ আল্লাহর কিতাবের ওপর ফয়সালাকারী অধ্যায় (১/ ৪৭৪), নম্বর (৬০৮); মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াজি রচিত 'আস-সুন্নাহ' (পৃ. ৩৩), নম্বর (১০২); ইবনে বাত্তাহ রচিত 'আল-ইবানাতুল কুবরা', রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্যের আবশ্যকতা এবং যারা কুরআনের মাধ্যমে সুন্নাহর বিরোধিতা করে তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অধ্যায় (১/ ২৫৫), নম্বর (৯০); আল-লালকা’য়ি রচিত 'শারহু উসুল ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ', কিতাব ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবি ও তাবেয়িদের থেকে বর্ণিত বর্ণনা (১/ ৯৩), নম্বর (৯৯); বায়হাকি রচিত 'আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা', আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো সুন্নাহ নির্ধারিত হয়নি - এ মতাবলম্বীদের দলিল অধ্যায় (১/ ৮৩), নম্বর (১৬২); খতিব বাগদাদি রচিত 'আল-কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ', আমল করা এবং বিধান মানার ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর মধ্যে সমতা বিধান অধ্যায় (পৃ. ১২)। ইবনে হাজার এর সনদ সম্পর্কে বলেছেন: "সহিহ"। 'ফাতহুল বারি' ইবনে হাজার (১৩/ ২৯১)। আলবানি বলেছেন: "দারেমি হাসান বিন আতিয়্যাহ থেকে সহিহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন, সুতরাং এটি মুরসাল।" আলবানি কর্তৃক সম্পাদিত ইবনে তাইমিয়্যার 'কিতাবুল ইমান' (পৃ. ৩৭)।

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট ওহি অবতীর্ণ হতো এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁকে সেই ওহির ব্যাখ্যাস্বরূপ সুন্নাহর সংবাদ দিতেন।" ইবনে আব্দুল বার রচিত 'জামি'উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি', ইমাম আওজায়ি থেকে হাসান বিন আতিয়্যাহর সূত্রে বর্ণিত (২/ ১১৯৩), নম্বর (২৩৫০)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وبنحو هذا قال قتادة بن دعامة السدوسي، فقد روى عنه ابن جرير الطبري في معنى الآية السابقة أنه قال: «قوله: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى} [النجم:3]: «أَيْ: مَا يَنْطِقُ عَنْ هَوَاهُ»، {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:4]، قال: «يُوحِي اللَّهُ تبارك وتعالى إِلَى جَبْرَائِيلَ، وَيُوحِي جِبْرِيلُ إِلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم»(1)»(2).

ورأى بعض أئمة التفسير أن المقصود بالوحي في الآية هو: "القرآن خاصة". وممن قال بهذا:

1 - إمام أهل التفسير في عصره محمد بن جرير الطبري، حيث قال: «يقول تعالى ذكره: وما ينطق محمد بهذا القرآن عن هواه، {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} [النجم:4]، يقول: ما هذا القرآن إلا وحي من الله يوحيه إليه»(3).

2 - أبو محمد عبد الحق بن عطية الأندلسي، حيث قال: «وقوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3)} [النجم:3] يريد: محمدًا صلى الله عليه وسلم أنه ليس يتكلم عن هواه، أي: بهواه وشهوته.

وقال بعض العلماء: المعنى: وما ينطق القرآن المنزل عن هوى وشهوة. ونسب النطق إليه من حيث تفهم عنه الأمور، كما قال: {هَذَا كِتَابُنَا يَنْطِقُ} [الجاثية:29](4). وأسند الفعل إلى القرآن الكريم ولم يتقدم له ذكر؛ لدلالة المعنى عليه.

--------------------------------------------

(1) ذكر السيوطي: أنه أخرجه عنه: عبد بن حميد وابن جرير وابن المنذر. الدر المنثور في التفسير بالمأثور للسيوطي (7/ 642).

(2) جامع البيان عن تأويل آي القرآن لمحمد بن جرير الطبري "المشهور بـ: تفسير ابن جرير، وبـ: تفسير الطبري" (22/ 498).

(3) المصدر السابق (22/ 497 - 498).

(4) وتمام المعنى في الآية: {هَذَا كِتَابُنَا يَنْطِقُ عَلَيْكُمْ بِالْحَقِّ} [الجاثية:29].
কাতাদা ইবন দিআমা আস-সাদুসিও অনুরূপ কথা বলেছেন। পূর্ববর্তী আয়াতের মর্ম সম্পর্কে ইবন জারির আত-তাবারী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «আল্লাহর বাণী: {তিনি প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না} [আন-নাজম: ৩]: «অর্থাৎ: তিনি নিজের খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না», {তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর নিকট অবতীর্ণ হয়} [আন-নাজম: ৪], তিনি বলেন: «আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট ওহী প্রেরণ করেন এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী নিয়ে আসেন»(১)»(২)।

কোনো কোনো তাফসীরবিদ মনে করেন যে, আয়াতে 'ওহী' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: "কেবল কুরআন"। যারা এই মত পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - স্বীয় যুগের তাফসীরশাস্ত্রের ইমাম মুহাম্মাদ ইবন জারির আত-তাবারী। তিনি বলেন: «আল্লাহ তাআলার বাণী: মুহাম্মাদ এই কুরআন সম্পর্কে নিজের প্রবৃত্তি থেকে কিছু বলেন না, {তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর নিকট অবতীর্ণ হয় (৪)} [আন-নাজম: ৪], অর্থাৎ: এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী ছাড়া আর কিছুই নয় যা তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়»(৩)।

২ - আবু মুহাম্মাদ আবদুল হক ইবন আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসি। তিনি বলেন: «আল্লাহর বাণী: {তিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না (৩)} [আন-নাজম: ৩] দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না, অর্থাৎ: প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনা অনুযায়ী।

কোনো কোনো আলিম বলেন: এর অর্থ হলো: অবতীর্ণ কুরআন প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনা থেকে কথা বলে না। এখানে কথা বলার বিষয়টি কুরআনের প্রতি রূপকার্থে আরোপ করা হয়েছে যেহেতু এর মাধ্যমে বিষয়সমূহ উপলব্ধি করা যায়, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: {এটি আমাদের কিতাব, যা সত্য কথা বলে} [আল-জাছিয়াহ: ২৯](৪)। এখানে কুরআনের উল্লেখ আগে না থাকলেও ক্রিয়াটি কুরআনুল কারীমের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; কারণ অর্থই সেদিকে ইঙ্গিত করছে।

--------------------------------------------

(১) সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, এটি তাঁর থেকে আবদ ইবন হুমাইদ, ইবন জারির এবং ইবনুল মুনযির বর্ণনা করেছেন। আদ-দুররুল মানছুর ফিত-তাফসীর বিল-মা'সুর, সুয়ূতী (৭/৬৪২)।

(২) জামিউল বায়ান আন তাউইলি আয়িল কুরআন, মুহাম্মাদ ইবন জারির আত-তাবারী (যা 'তাফসীরে ইবন জারির' ও 'তাফসীরে তাবারী' নামে পরিচিত) (২২/৪৯৮)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (২২/৪৯৭ - ৪৯৮)।

(৪) আয়াতের পূর্ণ অর্থ হলো: {এটি আমাদের কিতাব, যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলে} [আল-জাছিয়াহ: ২৯]।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقوله: {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} [النجم:4] يراد به: القرآن بإجماع»(1).

وما ذهب إليه هؤلاء الأئمة من أن المراد بالوحي في الآية هو "القرآن" لا شك ولا خلاف فيه، غير أنه لا يمتنع أن يراد به مطلق الوحي على النبي صلى الله عليه وسلم، فيشمل: القرآن، والسنة. وهذا المراد هو ظاهر الآية الذي لا يحتمل تأويلًا غيره. وقد جاء تفسير هذا المراد عن النبي صلى الله عليه وسلم نفسه في أحاديث كثيرة، وقد بينت هذه الأحاديث أن ما يقوله صلى الله عليه وسلم هو حق تلقاه من الله تعالى. ومن هذه الأحاديث:

1 - عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: (كُنْتُ أَكْتُبُ كُلَّ شَيْءٍ أَسْمَعُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُرِيدُ حِفْظَهُ، فَنَهَتْنِي قُرَيْشٌ وَقَالُوا: أَتَكْتُبُ كُلَّ شَيْءٍ تَسْمَعُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَشَرٌ يَتَكَلَّمُ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا؟ فَأَمْسَكْتُ عَنِ الْكِتَابِ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَوْمَأَ بِأُصْبُعِهِ إِلَى فِيهِ فَقَالَ: اكْتُبْ؛ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا يَخْرُجُ مِنْهُ إِلَّا حَقٌّ)(2).

وفي رواية عند الإمام أحمد: (قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ! إِنِّي أَسْمَعُ مِنْكَ أَشْيَاءَ أَفَأَكْتُبُهَا؟ قَالَ: نَعَمْ. قُلْتُ: فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا؟ قَالَ: نَعَمْ؛ فَإِنِّي لَا أَقُولُ فِيهِمَا إِلَّا حَقًّا)(3).

2 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: (قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ! إِنَّكَ تُدَاعِبُنَا، قَالَ: إِنِّي لَا أَقُولُ إِلَاّ حَقًّا)(4).

3 - عن عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إِنِّي لَأَمْزَحُ، وَلَا أَقُولُ إِلَّا حَقًّا)(5).

--------------------------------------------

(1) المحرر الوجيز في تفسير الكتاب العزيز لأبي محمد عبد الحق ابن عطية الأندلسي "المشهور

بـ: تفسير ابن عطية" (5/ 196).

(2) مسند أحمد (11/ 57 - 58)، رقم (6510)، و (11/ 406)، رقم (6802)، وسنن أبي داود، كتاب العلم، باب في كتاب العلم (3/ 318)، رقم (3646). وقال الألباني: «صحيح». صحيح سنن أبي داود للألباني (2/ 408)، رقم (3646).

(3) مسند أحمد (11/ 593)، رقم (7020). وقال محققو مسند أحمد -شعيب الأرناؤوط وعادل مرشد وآخرون-: «صحيح لغيره». مسند أحمد (11/ 593)، حاشية رقم (1).

وفي رواية عند أحمد أيضًا: (قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ! أَكْتُبُ مَا أَسْمَعُ مِنْكَ؟ قَالَ: نَعَمْ. قُلْتُ: فِي الرِّضَا وَالسُّخْطِ؟ قَالَ: نَعَمْ؛ فَإِنَّهُ لَا يَنْبَغِي لِي أَنْ أَقُولَ فِي ذَلِكَ إِلَّا حَقًّا). مسند أحمد (11/ 523 - 524)، رقم (6930). وقال محققو مسند أحمد -شعيب الأرناؤوط وعادل مرشد وآخرون-: «صحيح لغيره». مسند أحمد (11/ 524)، حاشية رقم (2).

(4) مسند أحمد (14/ 185)، رقم (8481)، و (14/ 339)، رقم (8723)، والأدب المفرد للبخاري، باب المزاح (ص:102)، رقم (265)، وسنن الترمذي، أبواب البر والصلة، باب ما جاء في المزاح (4/ 357)، رقم (1990). وقال الترمذي: «حديث حسن». وقال الألباني: «صحيح». صحيح الأدب المفرد للألباني (ص:116)، رقم (265).

(5) المعجم الأوسط للطبراني (1/ 298)، رقم (995)، والمعجم الصغير له (2/ 59)، رقم (779). وقال الهيثمي: «إسناده حسن». مجمع الزوائد ومنبع الفوائد للهيثمي (8/ 89)، رقم (13106). وقال الألباني: «صحيح». صحيح الجامع الصغير وزيادته للألباني (1/ 489)، رقم (2494).
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {ইহা তো কেবল ওহী, যা তাঁর নিকট পাঠানো হয় (৪)} [আন-নাজম: ৪]-এর দ্বারা সর্বসম্মতিক্রমে 'কুরআন' উদ্দেশ্য করা হয়েছে।(১)

এই সকল ইমামগণ আয়াতে ওহী দ্বারা 'কুরআন' উদ্দেশ্য হওয়ার যে মত পোষণ করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ বা দ্বিমত নেই; তবে এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অবতীর্ণ সাধারণ ওহী উদ্দেশ্য হওয়াও অসম্ভব নয়, যা কুরআন ও সুন্নাহ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর এই অর্থই আয়াতের বাহ্যিক দিক যা অন্য কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত বহু হাদীসে এই অর্থের ব্যাখ্যা এসেছে এবং এই হাদীসসমূহ স্পষ্ট করেছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেন তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সত্য। এই হাদীসসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা কিছু শুনতাম, তা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে নিষেধ করে বলল: তুমি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শোনা সবকিছুই লিখবে? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মানুষ, যিনি ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় কথা বলেন। তখন আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম। পরবর্তীতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে নিজের পবিত্র মুখের দিকে ইশারা করে বললেন: "তুমি লেখো; সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এখান থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না")।(২)

ইমাম আহমদের এক বর্ণনায় এসেছে: (আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট থেকে অনেক কিছু শুনি, সেগুলো কি আমি লিখে রাখব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। আমি বললাম: ক্রোধ এবং সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায়? তিনি বললেন: "হ্যাঁ; কেননা আমি উভয় অবস্থায় সত্য ভিন্ন অন্য কিছু বলি না")।(৩)

২ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো আমাদের সাথে কৌতুক করেন। তিনি বললেন: "আমি সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলি না")।(৪)

৩ - আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (আমিও কৌতুক করি, তবে সত্য ভিন্ন অন্য কিছু বলি না)।(৫)

--------------------------------------------

(১) আবু মুহাম্মদ আবদুল হক ইবনে আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসী রচিত 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ ফি তাফসিরিল কিতাবিল আজিজ', যা 'তাফসিরে ইবনে আতিয়্যাহ' নামে পরিচিত (৫/ ১৯৬)।

(২) মুসনাদে আহমদ (১১/ ৫৭ - ৫৮), হাদীস নং (৬৫১০) এবং (১১/ ৪০৬), হাদীস নং (৬৮০২); সুনানে আবু দাউদ, ইলম অধ্যায়, ইলম লিখে রাখা অনুচ্ছেদ (৩/ ৩১৮), হাদীস নং (৩৬৪৬)। আলবানী বলেছেন: «সহীহ»। আলবানী কর্তৃক সহীহ সুনানে আবু দাউদ (২/ ৪০৮), হাদীস নং (৩৬৪৬)।

(৩) মুসনাদে আহমদ (১১/ ৫৯৩), হাদীস নং (৭০২০)। মুসনাদে আহমদের গবেষকগণ -শুয়াইব আল-আরনাউত, আদিল মুরশিদ ও অন্যান্য- বলেছেন: «সহীহ লিগাইরিহি»। মুসনাদে আহমদ (১১/ ৫৯৩), টীকা নং (১)।

আহমদের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: (আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট থেকে যা শুনি তা কি লিখে রাখব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। আমি বললাম: সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি উভয় অবস্থায়? তিনি বললেন: "হ্যাঁ; কেননা আমার জন্য ঐ অবস্থায় সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলা সমীচীন নয়")। মুসনাদে আহমদ (১১/ ৫২৩ - ৫২৪), হাদীস নং (৬৯৩০)। মুসনাদে আহমদের গবেষকগণ -শুয়াইব আল-আরনাউত, আদিল মুরশিদ ও অন্যান্য- বলেছেন: «সহীহ লিগাইরিহি»। মুসনাদে আহমদ (১১/ ৫২৪), টীকা নং (২)।

(৪) মুসনাদে আহমদ (১৪/ ১৮৫), হাদীস নং (৮৪৮১) এবং (১৪/ ৩৩৯), হাদীস নং (৮৭২৩); বুখারী রচিত আল-আদাবুল মুফরাদ, কৌতুক অনুচ্ছেদ (পৃ. ১০২), হাদীস নং (২৬৫); সুনানে তিরমিযী, সদাচার অধ্যায়, কৌতুক বিষয়ক অনুচ্ছেদ (৪/ ৩৫৭), হাদীস নং (১৯৯০)। তিরমিযী বলেছেন: «হাসান হাদীস»। আলবানী বলেছেন: «সহীহ»। আলবানী কর্তৃক সহীহ আল-আদাবুল মুফরাদ (পৃ. ১১৬), হাদীস নং (২৬৫)।

(৫) তাবারানী রচিত আল-মুজামুল আওসাত (১/ ২৯৮), হাদীস নং (৯৯৫) এবং তাঁর রচিত আল-মুজামুস সাগীর (২/ ৫৯), হাদীস নং (৭৭৯)। হাইসামী বলেছেন: «এর সনদ হাসান»। হাইসামী রচিত মাজমাউজ যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ (৮/ ৮৯), হাদীস নং (১৩১০৬)। আলবানী বলেছেন: «সহীহ»। আলবানী কর্তৃক সহীহুল জামিইস সাগীর ওয়া জিয়াদাতুহু (১/ ৪৮৯), হাদীস নং (২৪৯৪)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
4 - عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إِنِّي لأَمْزَحُ وَلا أَقُولُ إِلا حَقًّا)(1).

5 - عن أبي أمامة رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَةِ رَجُلٍ لَيْسَ بِنَبِيٍّ مِثْلُ الْحَيَّيْنِ -أَوْ: مِثْلُ أَحَدِ الْحَيَّيْنِ- رَبِيعَةَ وَمُضَرَ. فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ! أَوَ مَا رَبِيعَةُ مِنْ مُضَرَ؟ فَقَالَ: إِنَّمَا أَقُولُ مَا أُقَوَّلُ)(2).

ومعنى قوله: (إِنَّمَا أَقُولُ مَا أُقَوَّلُ) أي: إنما أتكلم بما علمني الله وأنطقني، وليس هو من عند نفسي ولا باجتهاد مني. قال الإمام المبارك بن محمد الجزري المعروف بـ"ابن الأثير" في معنى قول سعيد بن المسيب لما سئل: «ما تقول في عثمان وعلي؟ فقال: أقول ما قوّلني الله»(3). قال ابن الأثير: «يقال: قوَّلتني وأقولتني، أي: علمتني ما أقول وأنطقتني وحملتني على القول»(4).

6 - عن المقدام بن معدي كرب رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: (أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ. أَلَا لَا يَحِلُّ لَكُمْ لَحْمُ الْحِمَارِ الْأَهْلِيِّ، وَلَا كُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبُعِ، وَلَا لُقَطَةُ مُعَاهِدٍ إِلَّا أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا صَاحِبُهَا، وَمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ فَعَلَيْهِمْ أَنْ يَقْرُوهُ فَإِنْ لَمْ يَقْرُوهُ فَلَهُ أَنْ يُعْقِبَهُمْ بِمِثْلِ قِرَاهُ)(5).

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد للخطيب البغدادي (4/ 600)، رقم (1167)، ترجمة: محمد بن يزيد بن سعيد النهرواني، رقم الترجمة (1763). وقال الألباني: «صحيح». صحيح الجامع الصغير وزيادته للألباني (1/ 489)، رقم (2494).

(2) مسند أحمد (36/ 547)، رقم (22215). وقال الألباني: «صحيح». صحيح الجامع الصغير وزيادته للألباني (2/ 946)، رقم (5363).

(3) في الطبقات الكبرى لابن سعد: «عن أبي بكر بن عبد الله قال: كان سعيد بن المسيب إذا سئل عن هؤلاء القوم قال: أقول فيهم ما قولني ربي: {رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا} [الحشر:10]، حتى يتم الآية». الطبقات الكبرى لابن سعد (5/ 98)، ترجمة: سعيد بن المسيب، رقم الترجمة (683).

وأما اللفظ المذكور فقد ذكره في: تهذيب اللغة للأزهري، "مادة: قول" (9/ 231)، والغريبين في القرآن والحديث لأبي عبيد أحمد بن محمد الهروي (5/ 1594)، والفائق في غريب الحديث والأثر للزمخشري (3/ 235).

(4) النهاية في غريب الحديث والأثر للمبارك بن محمد ابن الأثير الجزري (4/ 123).

(5) مسند أحمد (28/ 410 - 411)، رقم (17174)، وسنن أبي داود، كتاب السنة، باب في لزوم السنة (4/ 200)، رقم (4604). وقال الألباني: «صحيح». صحيح سنن أبي داود للألباني (3/ 117 - 118)، رقم (4604).
৪ - আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমি কৌতুক করি, তবে সত্য ভিন্ন অন্য কিছু বলি না)(১)।

৫ - আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: (নবী নন এমন এক ব্যক্তির সুপারিশে রাবী'আহ ও মুদার নামক দুই গোত্রের—অথবা এই দুই গোত্রের কোনো একটির—সমপরিমাণ মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল! রাবী'আহ কি মুদার গোত্রের অংশ নয়? তিনি বললেন: আমাকে যা বলানো হয়, আমি কেবল তা-ই বলি)(২)।

এবং তাঁর এই বাণীর অর্থ: (আমাকে যা বলানো হয়, আমি কেবল তা-ই বলি) অর্থাৎ: আল্লাহ আমাকে যা শিখিয়েছেন এবং যা দিয়ে আমাকে বাকস্ফুরণ করিয়েছেন, আমি কেবল তা-ই বলি; এটি আমার নিজের পক্ষ থেকে নয় এবং আমার কোনো ইজতিহাদও (ব্যক্তিগত গবেষণা) নয়। ইমাম মুবারাক ইবনে মুহাম্মাদ আল-জাযারি, যিনি "ইবনুল আসির" নামে পরিচিত, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব-এর একটি উক্তির ব্যাখ্যায় বলেন; যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: «উসমান ও আলী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: আল্লাহ আমাকে যা বলিয়েছেন, আমি তা-ই বলি»(৩)। ইবনুল আসির বলেন: «বলা হয়: কাওয়ালতানি এবং আকওয়ালতানি, অর্থাৎ: আপনি আমাকে যা বলতে হবে তা শিখিয়েছেন, আমার মুখে কথা ফুটিয়েছেন এবং আমাকে দিয়ে বলিয়েছেন»(৪)।

৬ - মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাই হালাল হিসেবে গ্রহণ করো এবং এতে যা হারাম পাবে তাই হারাম হিসেবে গণ্য করো। সাবধান! গৃহপালিত গাধার গোশত তোমাদের জন্য হালাল নয়, শিকারী দাঁতবিশিষ্ট কোনো হিংস্র প্রাণীও হালাল নয়, আর কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের হারানো প্রাপ্ত মালও বৈধ নয় যতক্ষণ না তার মালিক তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়। আর কোনো ব্যক্তি যদি কোনো সম্প্রদায়ের মেহমান হয়, তবে তাদের ওপর তাকে আপ্যায়ন করা কর্তব্য; যদি তারা তাকে আপ্যায়ন না করে, তবে ঐ ব্যক্তির অধিকার রয়েছে যে সে তাদের থেকে তার প্রাপ্য মেহমানদারির সমপরিমাণ আদায় করে নেবে)(৫)।

--------------------------------------------

(১) খতিব বাগদাদি রচিত তারিখু বাগদাদ (৪/ ৬০০), নং (১১৬৭), জীবনী: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে সাঈদ আন-নাহরাওয়ানি, জীবনী নং (১৭৬৩)। আলবানি বলেছেন: «সহিহ»। আলবানি রচিত সহিহুল জামি' আস-সগির ওয়া যিয়াদাতুহু (১/ ৪৮৯), নং (২৪৯৪)।

(২) মুসনাদে আহমাদ (৩৬/ ৫৪৭), নং (২২২১৫)। আলবানি বলেছেন: «সহিহ»। আলবানি রচিত সহিহুল জামি' আস-সগির ওয়া যিয়াদাতুহু (২/ ৯৪৬), নং (৫৩৬৩)।

(৩) ইবনে সা'দ রচিত আত-তাবাকাতুল কুবরা-তে রয়েছে: «আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবকে যখন এই লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হতো, তিনি বলতেন: তাদের সম্পর্কে আমি তা-ই বলি যা আমার রব আমাকে বলিয়েছেন: {হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে} [আল-হাশর: ১০], আয়াতের শেষ পর্যন্ত।» আত-তাবাকাতুল কুবরা, ইবনে সা'দ (৫/ ৯৮), জীবনী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, জীবনী নং (৬৮৩)।

আর উল্লিখিত শব্দগুলো উদ্ধৃত হয়েছে: আযহারি রচিত তাহযীবুল লুগাহ, "মূলশব্দ: কাওয়াল" (৯/ ২৩১), আবু উবাইদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-হারাবি রচিত আল-গারিবাইন ফিল কুরআনি ওয়াল হাদিস (৫/ ১৫৯৪), এবং যামাখশারি রচিত আল-ফাইক ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার (৩/ ২৩৫)।

(৪) মুবারাক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল আসির আল-জাযারি রচিত আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার (৪/ ১২৩)।

(৫) মুসনাদে আহমাদ (২৮/ ৪১০ - ৪১১), নং (১৭১৭৪), এবং সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সুন্নাহ, অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর অপরিহার্যতা প্রসঙ্গে (৪/ ২০০), নং (৪৬০৪)। আলবানি বলেছেন: «সহিহ»। আলবানি রচিত সহিহ সুনানে আবু দাউদ (৩/ ১১৭ - ১১৮), নং (৪৬০৪)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ومعنى قوله: (أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ) كما قال أبو سليمان حمد بن محمد الخطابي: «يحتمل وجهين من التأويل:

أحدهما: أن يكون معناه: أنه أوتي من الوحي الباطن غير المتلو مثل ما أعطي من الظاهر المتلو.

ويحتمل: أن يكون معناه: أنه أوتي الكتاب وحيًا يتلى وأوتي من البيان، أي: أذن له أن يبين ما في الكتاب، فيعم ويخص وأن يزيد عليه فيشرع ما ليس له في الكتاب ذكر، فيكون ذلك في وجوب الحكم ولزوم العمل به كالظاهر المتلو من القرآن»(1).

7 - عن المقدام بن معدي كرب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أَلَا هَلْ عَسَى رَجُلٌ يَبْلُغُهُ الحَدِيثُ عَنِّي وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ، فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ حَلَالًا اسْتَحْلَلْنَاهُ، وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ حَرَامًا حَرَّمْنَاهُ. وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ كَمَا حَرَّمَ اللَّهُ)(2).

--------------------------------------------

(1) معالم السنن للخطابي (4/ 298).

(2) سنن الترمذي، أبواب العلم، باب ما نهي عنه أن يقال عند حديث النبي صلى الله عليه وسلم (5/ 38)، رقم (2664). وقال: «حديث حسن غريب من هذا الوجه». وقال الألباني: «صحيح». صحيح سنن الترمذي للألباني (3/ 64)، رقم (2664).

وفي سنن ابن ماجة: «عن المقدام بن معد يكرب الكندي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (يُوشِكُ الرَّجُلُ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ بِحَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِي فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ عز وجل، فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ، وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ. أَلَّا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ). سنن ابن ماجة، المقدمة "وهي بعنوان: افتتاح الكتاب في الإيمان وفضائل الصحابة والعلم"، باب تعظيم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم والتغليظ على من عارضه (1/ 6)، رقم الحديث (12). وقال الألباني: «صحيح». صحيح سنن ابن ماجة للألباني (1/ 21)، رقم (12).
এবং তাঁর বাণী: "আমাকে কিতাব এবং এর সাথে এর অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে"-এর অর্থ সম্পর্কে আবু সুলায়মান হামদ বিন মুহাম্মাদ আল-খাত্তাবি বলেন: «এর ব্যাখ্যার দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:

প্রথমটি: এর অর্থ হতে পারে যে, তাঁকে অপ্রকাশ্য ওহী (যা তিলাওয়াত করা হয় না) প্রদান করা হয়েছে, ঠিক যেমন তাঁকে প্রকাশ্য ও পঠিত ওহী প্রদান করা হয়েছে।

দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো: এর অর্থ হতে পারে যে, তাঁকে তিলাওয়াতযোগ্য ওহী হিসেবে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং সাথে সাথে তার ব্যাখ্যা করারও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কিতাবে যা আছে তা বর্ণনা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে; ফলে তিনি সাধারণ বিধিকে বিশেষায়িত করেন এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়কে বিস্তারিত করেন এবং এর সাথে এমন কিছু বিধি যোগ করেন যা কিতাবে সরাসরি উল্লেখ নেই। সুতরাং হুকুমের অপরিহার্যতা এবং আমল করার বাধ্যবাধকতার দিক থেকে তা কুরআনের প্রকাশ্য নির্দেশের মতোই হবে»(১)।

৭ - মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (সাবধান! অচিরেই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যার কাছে আমার কোনো হাদিস পৌঁছাবে, আর সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। তাতে আমরা যা হালাল পাব তাই হালাল মনে করব এবং যা হারাম পাব তাই হারাম বলে গণ্য করব। অথচ জেনে রেখো, আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই)(২)।

--------------------------------------------

(১) খাত্তাবি রচিত মাআলিমুস সুনান (৪/২৯৮)।

(২) সুনানে তিরমিজি, ইলম অধ্যায়, নবী (সা.)-এর হাদিসের সামনে যা বলা নিষিদ্ধ সে সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (৫/৩৮), হাদিস নং (২৬৬৪)। তিনি বলেছেন: «এই সূত্রে হাদিসটি হাসান গরিব»। আলবানী বলেছেন: «সহিহ»। আলবানী সংকলিত সহিহ সুনানে তিরমিজি (৩/৬৪), হাদিস নং (২৬৬৪)।

এবং সুনানে ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত হয়েছে: «মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব আল-কিন্দি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (অচিরেই এমন ব্যক্তি দেখা যাবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসা থাকবে, তার কাছে আমার হাদিসসমূহের কোনো একটি বর্ণনা করা হলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহর কিতাবই বিদ্যমান, সুতরাং আমরা তাতে যা হালাল পাব তাই হালাল মনে করব এবং যা হারাম পাব তাই হারাম মনে করব। সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সা.) যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই)। সুনানে ইবনে মাজাহ, মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা (যার শিরোনাম: ঈমান, সাহাবিদের মর্যাদা ও ইলম সম্পর্কিত কিতাবের প্রারম্ভিকা), রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এর বিরোধিতা করার কঠোর পরিণাম সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (১/৬), হাদিস নং (১২)। আলবানী বলেছেন: «সহিহ»। আলবানী সংকলিত সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ (১/২১), হাদিস নং (১২)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الثاني

تسمية السنة بـ «الكتاب»

ما يتبادر إلى الذهن عند إطلاق لفظ "كتاب الله" أن المقصود به هو "القرآن الكريم" هذا لا شك فيه، غير أنه قد ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم تسمية السنة بـ"كتاب الله"، ومن ذلك:

1 - حديث: (لَأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ). وقضى بالقرآن والسنة، وذلك في قصة العسيف(1) التي رواها الشيخان، فعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ رضي الله عنهما قَالَا: (جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ، فَقَامَ خَصْمُهُ فَقَالَ: صَدَقَ، اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ، فَقَالَ الأَعْرَابِيُّ: إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ، فَقَالُوا لِي: عَلَى ابْنِكَ الرَّجْمُ، فَفَدَيْتُ ابْنِي مِنْهُ بِمِائَةٍ مِنَ الغَنَمِ وَوَلِيدَةٍ(2)، ثُمَّ سَأَلْتُ أَهْلَ العِلْمِ فَقَالُوا: إِنَّمَا عَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: لَأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ، أَمَّا الوَلِيدَةُ وَالغَنَمُ فَرَدٌّ عَلَيْكَ، وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ. وَأَمَّا أَنْتَ يَا أُنَيْسُ -لِرَجُلٍ(3) - فَاغْدُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَارْجُمْهَا. فَغَدَا عَلَيْهَا أُنَيْسٌ فَرَجَمَهَا)(4).

وفي لفظ في الصحيحين: (وَاغْدُ يَا أُنَيْسُ! عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا. فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا)(5).

والرجم والتغريب في السنة وليسا في القرآن. فدل على هذا على: صحة تسمية السنة بكتاب الله.

قال ابن حجر أحمد بن علي العسقلاني في بيان المراد بـ"كتاب الله" في الحديث: «والمراد بكتاب الله: ما حكم به وكتب على عباده. وقيل: المراد: القرآن. وهو المتبادر.

--------------------------------------------

(1) العسيف هو: الأجير وزنًا ومعنى. ويطلق أيضًا على: الخادم، والعبد، والسائل. انظر: فتح الباري شرح صحيح البخاري لابن حجر العسقلاني (12/ 139).

(2) الوليدة في الأصل هي: المولودة. وتطلق ويراد بها: الأمة، كما هنا. انظر: فتح الباري لابن حجر (12/ 32).

(3) هو: أنيس الأسلمي، رجل من أسلم.

(4) بهذا اللفظ أخرجه في: صحيح البخاري، كتاب الصلح، باب إذا اصطلحوا على صلح جور فالصلح مردود (3/ 184)، رقم (2695)، وكتاب الحدود، باب من أمر غير الإمام بإقامة الحد غائبًا عنه (8/ 171)، رقم (6835)، وكتاب الأحكام، باب هل يجوز للحاكم أن يبعث رجلًا وحده للنظر في الأمور (9/ 75 - 76)، رقم (7193).

(5) صحيح البخاري، كتاب الشروط، باب الشروط التي لا تحل في الحدود (3/ 191)، رقم (2724)، كتاب الحدود، باب الاعتراف بالزنا (8/ 167 - 168)، رقم (6827)، وصحيح مسلم، كتاب الحدود، باب من اعترف على نفسه بالزنى (3/ 1324)، رقم (1697).
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সুন্নাহকে ‘কিতাব’ হিসেবে নামকরণ

'আল্লাহর কিতাব' শব্দদ্বয় উচ্চারণ করলে সাধারণভাবে মনে যে ভাবনার উদয় হয় তা হলো এর দ্বারা 'পবিত্র কুরআন' উদ্দেশ্য—এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্নাহকেও 'আল্লাহর কিতাব' হিসেবে অভিহিত করার বর্ণনা পাওয়া যায়, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - হাদীস: (আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব)। তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকেই ফয়সালা করেছিলেন, আর এটি ছিল শ্রমিক সংক্রান্ত সেই ঘটনায়(১) যা শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা ও যায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: (একজন গ্রাম্য ব্যক্তি এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করে দিন। তখন তার প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে বলল: সে সত্য বলেছে, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করুন। তখন গ্রাম্য ব্যক্তিটি বলল: আমার ছেলে এই ব্যক্তির নিকট শ্রমিক হিসেবে কাজ করত, অতঃপর সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছে। তখন লোকেরা আমাকে বলল: তোমার ছেলের ওপর রজম (পাথর মেরে হত্যা) ওয়াজিব। তাই আমি তার পক্ষ থেকে একশত বকরী ও একটি দাসীর(২) বিনিময়ে মুক্তিপণ দিলাম। এরপর আমি বিজ্ঞ আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেন: তোমার ছেলের দণ্ড হলো কেবল একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। দাসী ও বকরীগুলো তোমাকে ফেরত দেওয়া হবে, আর তোমার ছেলের ওপর একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন কার্যকর হবে। আর হে উনাইস! —এক ব্যক্তিকে(৩) উদ্দেশ্য করে— তুমি এই মহিলার নিকট যাও, যদি সে স্বীকার করে তবে তাকে রজম করো। অতঃপর উনাইস তার নিকট সকালে গেলেন এবং তাকে রজম করলেন)(৪)।

সহীহাইন-এর অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: (আর হে উনাইস! তুমি এই মহিলার নিকট সকালে যাও, যদি সে স্বীকারোক্তি দেয় তবে তাকে রজম করো। অতঃপর তিনি তার নিকট সকালে গেলেন এবং সে স্বীকারোক্তি দিল, ফলে তিনি তাকে রজম করলেন)(৫)।

উল্লেখ্য যে, রজম ও নির্বাসনের বিধান সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, এগুলো কুরআনে নেই। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে: সুন্নাহকে আল্লাহর কিতাব হিসেবে নামকরণ করা সঠিক।

ইবনে হাজার আহমদ ইবনে আলী আল-আসকালানী উক্ত হাদীসে 'আল্লাহর কিতাব' এর উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: «আল্লাহর কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন এবং বান্দাদের ওপর লিখে দিয়েছেন (আবশ্যক করেছেন)। আবার বলা হয়েছে: এর দ্বারা কুরআন উদ্দেশ্য, যা সাধারণত সবার আগে মাথায় আসে।

--------------------------------------------

(১) আসীফ (العسيف) হলো: শব্দে ও অর্থে 'আজীর' বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োজিত শ্রমিক। এটি খাদেম, দাস এবং সাহায্যপ্রার্থীর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার আল-আসকালানী রচিত ফাতহুল বারী শারহু সহীহ আল-বুখারী (১২/১৩৯)।

(২) ওয়ালীদাহ (الوليدة) মূলত নবজাতককে বলা হয়। তবে এটি দাসীর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমনটি এখানে হয়েছে। দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারী (১২/৩২)।

(৩) তিনি হলেন: উনাইস আল-আসলামী, আসলাম গোত্রের একজন ব্যক্তি।

(৪) এই শব্দে হাদীসটি সংকলিত হয়েছে: সহীহ বুখারী, কিতাবুস সুলহ, অধ্যায়: যদি তারা অন্যায় কোনো সন্ধি করে তবে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য (৩/১৮৪), হাদীস নং (২৬৯৫); কিতাবুল হুদুদ, অধ্যায়: যদি ইমাম ব্যতীত অন্য কেউ তার অনুপস্থিতিতে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন (৮/১ৃতি১), হাদীস নং (৬৮৩৫); কিতাবুল আহকাম, অধ্যায়: বিচারকের জন্য কোনো বিষয় তদন্তে কোনো ব্যক্তিকে একা পাঠানো কি বৈধ (৯/৭৫ - ৭৬), হাদীস নং (৭১৯৩)।

(৫) সহীহ বুখারী, কিতাবুশ শুরূত, অধ্যায়: দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে যে সকল শর্ত বৈধ নয় (৩/১৯১), হাদীস নং (২৭২৪); কিতাবুল হুদুদ, অধ্যায়: ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি (৮/১৬৭ - ১৬৮), হাদীস নং (৬৮২৭); এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হুদুদ, অধ্যায়: যে ব্যক্তি নিজের ব্যভিচারের কথা স্বীকার করে (৩/১৩২৪), হাদীস নং (১৬৯৭)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال بن دقيق العيد: الأول أولى؛ لأن الرجم والتغريب ليسا مذكورين في القرآن إلا بواسطة أمر الله باتباع رسوله(1).

قيل: وفيما قال نظر؛ لاحتمال أن يكون المراد ما تضمنه قوله تعالى: {أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا (15)} [النساء:15]. فبين النبي صلى الله عليه وسلم أن السبيل: جلد البكر ونفيه، ورجم الثيب. قلت(2): وهذا أيضًا بواسطة التبيين.

ويحتمل أن يراد بكتاب الله: الآية التي نسخت تلاوتها، وهي: "الشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموهما" … وبهذا أجاب البيضاوي، ويبقى عليه التغريب.

وقيل: المراد بكتاب الله: ما فيه من النهي عن أكل المال بالباطل؛ لأن خصمه كان أخذ منه الغنم والوليدة بغير حق، فلذلك قال: (الغَنَمُ وَالوَلِيدَةُ رَدٌّ عَلَيْكَ).

والذي يترجح: أن المراد بكتاب الله: ما يتعلق بجميع أفراد القصة مما وقع به الجواب الآتي ذكره»(3).

قلت: والذي يترجح لي: أن المراد بكتاب الله في هذه القصة هو: القرآن والسنة، ففيهما أمر الله وحكمه وما كتبه على عباده والأمر باتباع رسوله صلى الله عليه وسلم وطاعته، وجلد البكر والنهي عن أكل المال بالباطل، وفي السنة وحدها نفي الزاني غير المحصن ورجم الزاني المحصن، والآية المنسوخة الواردة في رجمه قد ثبتت بالسنة، ولم تثبت قرآنًا.

2 - حديث عائشة رضي الله عنها: (أَنَّ بَرِيرَةَ جَاءَتْ تَسْتَعِينُهَا فِي كِتَابَتِهَا وَلَمْ تَكُنْ قَضَتْ مِنْ كِتَابَتِهَا شَيْئًا، قَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ: ارْجِعِي إِلَى أَهْلِكِ فَإِنْ أَحَبُّوا أَنْ أَقْضِيَ عَنْكِ كِتَابَتَكِ وَيَكُونَ وَلَاؤُكِ لِي فَعَلْتُ. فَذَكَرَتْ ذَلِكَ بَرِيرَةُ لِأَهْلِهَا، فَأَبَوْا وَقَالُوا: إِنْ شَاءَتْ أَنْ تَحْتَسِبَ عَلَيْكِ فَلْتَفْعَلْ وَيَكُونَ وَلَاؤُكِ لَنَا، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ابْتَاعِي فَأَعْتِقِي؛ فَإِنَّمَا الوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ. قَالَ: ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: مَا بَالُ أُنَاسٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ؟ مَنِ اشْتَرَطَ شَرْطًا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلَيْسَ لَهُ وَإِنْ شَرَطَ مِائَةَ مَرَّةٍ، شَرْطُ اللَّهِ أَحَقُّ وَأَوْثَقُ)(4).

--------------------------------------------

(1) نص كلام الإمام ابن دقيق العيد: «قوله: (إِلَّا قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ) تنطلق هذه اللفظة على القرآن خاصة، وقد ينطلق "كتاب الله" على حكم الله مطلقًا. والأولى حمل هذه اللفظة على هذا؛ لأنه ذكر فيه التغريب، وليس ذلك منصوصًا في كتاب الله، إلا أن يؤخذ ذلك بواسطة أمر الله تعالى بطاعة الرسول واتباعه». إحكام الإحكام شرح عمدة الأحكام لابن دقيق العيد (2/ 237 - 238).

ولفظة الحديث التي ذكرها ابن دقيق العيد في كلامه السابق - (إِلَّا قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ) - فأخرجها في: صحيح البخاري، كتاب الحدود، باب هل يأمر الإمام رجلًا فيضرب الحد غائبًا عنه (8/ 176)، رقم (6859). وهي في صحيح مسلم بلفظ: (إِلَّا قَضَيْتَ لِي بِكِتَابِ اللهِ). صحيح مسلم، كتاب الحدود، باب من اعترف على نفسه بالزنى (3/ 1324)، رقم (1697).

(2) القائل: ابن حجر.

(3) فتح الباري لابن حجر (12/ 138).

(4) صحيح البخاري، كتاب المكاتب، باب ما يجوز من شروط المكاتب ومن اشترط شرطًا ليس في كتاب الله (3/ 152)، رقم (2561)، وصحيح مسلم، كتاب العتق، باب إنما الولاء لمن أعتق (2/ 1141)، رقم (1504).
ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেন: প্রথমটিই অধিকতর উত্তম; কারণ রজম (পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যু) এবং তাগরীব (দেশান্তর) কুরআনে সরাসরি উল্লিখিত হয়নি, বরং রাসূলের অনুসরণের বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশনার মাধ্যমেই তা প্রমাণিত হয়েছে(১)।

বলা হয়েছে: তিনি যা বলেছেন তা পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ এর দ্বারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মর্ম উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে: {অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ নির্ধারণ করেন (১৫)} [আন-নিসা: ১৫]। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, সেই 'পথ' হলো: অবিবাহিতের বেত্রাঘাত ও নির্বাসন, এবং বিবাহিতের রজম। আমি(২) বলছি: এটিও ব্যাখ্যাকরণের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়েছে।

আরও সম্ভাবনা আছে যে, 'আল্লাহর কিতাব' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এমন আয়াত যার তিলাওয়াত মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে, আর তা হলো: "বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারী যখন ব্যভিচার করবে, তখন তাদের অবশ্যই রজম করো" … বায়যাবী এভাবেই উত্তর দিয়েছেন, তবে নির্বাসনের বিষয়টি এতে অমীমাংসিত থেকে যায়।

আবার বলা হয়েছে: 'আল্লাহর কিতাব' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তাতে অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ করার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা; কারণ তার প্রতিপক্ষ তার নিকট হতে অন্যায়ভাবে ছাগল ও দাসী গ্রহণ করেছিল, তাই তিনি বলেছিলেন: (ছাগল ও দাসী তোমাকে ফেরত দেওয়া হলো)।

আর যে মতটি অধিকতর সঠিক তা হলো: 'আল্লাহর কিতাব' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এই ঘটনার সকল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সেই হুকুম, যা পরবর্তী উত্তরে বর্ণিত হবে(৩)।

আমি বলছি: আমার নিকট যা অধিকতর সঠিক মনে হয় তা হলো, এই ঘটনায় 'আল্লাহর কিতাব' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কুরআন ও সুন্নাহ। কেননা এই উভয়ের মধ্যেই আল্লাহর নির্দেশ, তাঁর হুকুম এবং বান্দাদের ওপর যা তিনি বিধিবদ্ধ করেছেন তা বিদ্যমান। আর এতে রয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও আনুগত্যের নির্দেশ, অবিবাহিতের বেত্রাঘাত এবং অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ থেকে নিষেধাজ্ঞা। আর এককভাবে সুন্নাহর মাধ্যমে অবিবাহিত ব্যভিচারীর নির্বাসন এবং বিবাহিত ব্যভিচারীর রজমের বিধান সাব্যস্ত হয়েছে। আর রজমের ক্ষেত্রে যে আয়াতটির তিলাওয়াত রহিত হয়েছে তা সুন্নাহর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে, তা কুরআন হিসেবে সাব্যস্ত নয়।

২ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদীস: (বারীরা তাঁর নিকট তাঁর মুকাতাবাত (মুক্তির চুক্তি) আদায়ের বিষয়ে সহযোগিতা চাইতে এলেন, অথচ তিনি ইতিপূর্বে তাঁর চুক্তির অর্থের কিছুই পরিশোধ করেননি। আয়েশা তাকে বললেন: তুমি তোমার মালিকদের নিকট ফিরে যাও, যদি তারা পছন্দ করে যে আমি তোমার পক্ষ থেকে চুক্তির পুরো অর্থ পরিশোধ করব এবং তোমার 'ওয়ালা' (উত্তরাধিকারের স্বত্ব) আমার হবে, তবে আমি তা করব। বারীরা বিষয়টি তাঁর মালিকদের নিকট উল্লেখ করলে তারা তা অস্বীকার করল এবং বলল: তিনি যদি তোমার পক্ষ থেকে সওয়াবের আশায় তা পরিশোধ করতে চান তবে করতে পারেন, কিন্তু তোমার 'ওয়ালা' আমাদেরই থাকবে। তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উল্লেখ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: তুমি তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দাও; কারণ 'ওয়ালা' তো তারই হয় যে মুক্ত করে। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন: মানুষের কী হলো যে তারা এমন সব শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই? যে ব্যক্তি এমন কোনো শর্তারোপ করল যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তা তার জন্য কার্যকর হবে না, যদিও সে একশ বার শর্তারোপ করে। আল্লাহর শর্তই অধিকতর সত্য এবং অধিকতর সুদৃঢ়)(৪)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম ইবনে দাকীক আল-ঈদের মূল বক্তব্য: «তাঁর উক্তি: (আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করে দিন) - এই শব্দটি বিশেষভাবে কুরআনের ওপর প্রযোজ্য হয়, আবার কখনও 'আল্লাহর কিতাব' শব্দটি সাধারণভাবে আল্লাহর বিধানের ওপরও প্রযোজ্য হয়। এই শব্দটিকে দ্বিতীয় অর্থের ওপর প্রয়োগ করাই অধিকতর উত্তম; কারণ এতে নির্বাসনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সরাসরি আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত নেই; তবে তা রাসূলের আনুগত্য ও অনুসরণের বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশের মাধ্যমে গ্রহণ করা যেতে পারে।» ইবনে দাকীক আল-ঈদের 'ইহকামুল ইহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম' (২/ ২৩৭ - ২৩৮)।

হাদীসের যে পাঠটি ইবনে দাকীক আল-ঈদ তাঁর পূর্বোক্ত আলোচনায় উল্লেখ করেছেন - (আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করে দিন) - সেটি ইমাম বুখারী সংকলন করেছেন: সহীহ বুখারী, কিতাবুল হুদুদ, পরিচ্ছেদ: ইমাম কি কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ দেবেন যে সে তার অনুপস্থিতিতে হদ কায়েম করবে (৮/ ১৭৬), নম্বর (৬৮৫৯)। আর সহীহ মুসলিমে এই পাঠে বর্ণিত হয়েছে: (আপনি যেন আমার জন্য আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করেন)। সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হুদুদ, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নিজের ব্যভিচারের কথা স্বীকার করে (৩/ ১৩২৪), নম্বর (১৬৯৭)।

(২) বক্তা: ইবনে হাজার।

(৩) ইবনে হাজারের 'ফাতহুল বারী' (১২/ ১৩৮)।

(৪) সহীহ বুখারী, কিতাবুল মুকাতাব, পরিচ্ছেদ: মুকাতাবের শর্তাবলীর মধ্যে যা জায়েয এবং যে ব্যক্তি এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই (৩/ ১৫২), নম্বর (২৫৬১); এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইতক (দাসমুক্তি), পরিচ্ছেদ: 'ওয়ালা' কেবল তারই হয় যে মুক্ত করে (২/ ১১৪১), নম্বর (১৫০৪)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ) يريد به: القرآن والسنة؛ بدليل قوله صلى الله عليه وسلم: (إِنَّمَا الوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ)؛ لأن هذا اللفظ والحكم ثابت في السنة، وليس في القرآن. وإلى هذا نحا ابن بطّال علي بن خلف القرطبي، حيث قال: «قوله: (كُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ)(1) معناه: في حكم الله وقضائه من كتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وإجماع الأمة»(2).

3 - قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه وهو جالس على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إِنَّ اللهَ قَدْ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ، فَكَانَ مِمَّا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ، قَرَأْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا وَعَقَلْنَاهَا، فَرَجَمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ، فَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ: مَا نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ، فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللهُ، وَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أَحْصَنَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ الْحَبَلُ أَوِ الِاعْتِرَافُ)(3).

فقوله: (وَإِنَّ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللهِ حَقٌّ) أي: أصله، ثم بينه النبي صلى الله عليه وسلم بقوله وفعله.

وقال ابن حجر في معنى قول عمر رضي الله عنه هذا: «أي: في قوله تعالى: {أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا (15)} [النساء:15]. فبين النبي صلى الله عليه وسلم أن المراد به: رجم الثيب، وجلد البكر، كما تقدم التنبيه عليه في قصة العسيف»(4).

وفي تسمية السنة بـ"كتاب الله" دلالات عظيمة، منها:

1 - زيادة الاعتناء بها وأهميتها، وعظم شأنها ومكانتها في التشريع الإسلامي، وكونها وحيًا من عند الله عز وجل.

2 - مساواة أحكامها لأحكام القرآن الكريم، وعدم جواز التفريق بينهما في ذلك.

--------------------------------------------

(1) كذا في شرح صحيح البخاري لابن بطال، وقد تقدم في لفظ الحديث: أن نصه في الصحيحين: (لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ، مَنِ اشْتَرَطَ شَرْطًا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ). وقد تقدم تخريجه في الحاشية السابقة.

وأما لفظة الحديث التي ذكرها ابن بطال - (كُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ) - فأخرجها في: مسند أحمد (42/ 321)، رقم (25504)، وسنن ابن ماجة، كتاب العتق، باب المكاتب (2/ 842)، رقم (2521)، والمجتبى من السنن للنسائي "المشهور بـ: سنن النسائي"، كتاب الطلاق، باب خيار الأمة تعتق وزوجها مملوك (6/ 164)، رقم (3451). وقال الألباني: «صحيح». صحيح سنن ابن ماجة للألباني (2/ 312)، رقم (2059).

(2) شرح صحيح البخاري لابن بطال (7/ 79).

(3) صحيح البخاري، كتاب الحدود، باب رجم الحبلى من الزنى إذا أحصنت (8/ 169)، رقم (6830)، وصحيح مسلم، كتاب الحدود، باب رجم الثيب في الزنى (3/ 1317)، رقم (1691).

(4) فتح الباري لابن حجر (12/ 148).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "(তা) আল্লাহর কিতাবে নেই" দ্বারা তিনি কুরআন ও সুন্নাহ উভয়কে উদ্দেশ্য করেছেন; যার প্রমাণ হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "ওয়ালা (উত্তরাধিকারের অধিকার) কেবল তারই জন্য যে মুক্ত করে"; কারণ এই শব্দ ও বিধানটি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত, কুরআনে এটি নেই। ইবনে বাত্তাল আলী বিন খালাফ আল-কুরতুবি এই মতই গ্রহণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "তাঁর বাণী: (যে কোনো শর্ত যা আল্লাহর কিতাবে নেই)(১) এর অর্থ হলো: আল্লাহর বিধান ও ফয়সালা যা তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং উম্মতের ঐক্যমত (ইজমা) থেকে প্রাপ্ত"(২)।

৩ - উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিম্বরে বসা অবস্থায় বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর ওপর কিতাব নাযিল করেছেন। তাঁর ওপর যা নাযিল হয়েছিল তার মধ্যে রজমের (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) আয়াতও ছিল। আমরা তা পাঠ করেছি, মুখস্থ করেছি এবং অনুধাবন করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করেছেন এবং আমরাও তাঁর পরে রজম করেছি। আমি আশঙ্কা করছি যে, মানুষের ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে কোনো বক্তা হয়তো বলবে: 'আমরা আল্লাহর কিতাবে রজমের বিধান খুঁজে পাচ্ছি না।' ফলে আল্লাহ যে বিধান নাযিল করেছেন তা বর্জনের মাধ্যমে তারা পথভ্রষ্ট হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে রজম একটি ধ্রুব সত্য—যদি ব্যভিচারী ব্যক্তি বিবাহিত (মুহসান) হয়, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী—যখন প্রমাণ উপস্থাপিত হবে অথবা গর্ভধারণ প্রকাশ পাবে কিংবা স্বীকারোক্তি পাওয়া যাবে"(৩)।

সুতরাং তাঁর উক্তি: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে রজম সত্য" এর অর্থ হলো: এর মূল ভিত্তি (কুরআনে ছিল), অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে তা ব্যাখ্যা করেছেন।

আর ইবনে হাজার উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই কথার ব্যাখ্যায় বলেন: "অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ করে দেন (১৫)} [সূরা নিসা: ১৫]। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বিবাহিত ব্যক্তির জন্য রজম এবং অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য চাবুক মারা, যেমনটি 'আসীক' (শ্রমিক)-এর ঘটনায় আগে উল্লেখ করা হয়েছে"(৪)।

সুন্নাহকে "আল্লাহর কিতাব" হিসেবে নামকরণের মধ্যে মহান তাৎপর্য রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ ও যত্ন বৃদ্ধি করা, এর উচ্চ মর্যাদা এবং ইসলামি শরীয়তে এর বিশেষ অবস্থান এবং এটি যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ওহী, তা সাব্যস্ত করা।

২ - এর বিধানসমূহকে পবিত্র কুরআনের বিধানের সমমর্যাদা দান এবং এ ক্ষেত্রে উভয় বিধানের মধ্যে পার্থক্য করা বৈধ না হওয়া।

--------------------------------------------

(১) ইবনে বাত্তাল রচিত শরহ সহীহুল বুখারীতে এভাবেই রয়েছে। হাদিসের মূল পাঠ ইতিপূর্বে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে: "(তা) আল্লাহর কিতাবে নেই, যে ব্যক্তি এমন কোনো শর্ত আরোপ করল যা আল্লাহর কিতাবে নেই।" এর উৎস বা তাখরীজ পূর্ববর্তী টীকায় বর্ণিত হয়েছে।

আর ইবনে বাত্তাল কর্তৃক উল্লিখিত হাদিসের পাঠ—(যে কোনো শর্ত যা আল্লাহর কিতাবে নেই)—এটি বর্ণিত হয়েছে: মুসনাদে আহমদ (৪২/৩২১), নম্বর (২৫৫০৪); সুনানে ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ইতক্ব (দাসমুক্তি), অনুচ্ছেদ: মুকাতাব (২/৮৪২), নম্বর (২৫২১); এবং নাসাঈর সুনানুল মুজতাবা (যা সুনানে নাসাঈ নামে পরিচিত), কিতাবুত তালাক, অনুচ্ছেদ: দাসী মুক্ত হওয়ার পর তার ইখতিয়ার যখন স্বামী দাস থাকে (৬/১৬৪), নম্বর (৩৪৫১)। আলবানী একে 'সহীহ' বলেছেন। আলবানী কর্তৃক সহীহ সুনানে ইবনে মাজাহ (২/৩১২), নম্বর (২০৫৯)।

(২) ইবনে বাত্তাল রচিত শরহ সহীহুল বুখারী (৭/৭৯)।

(৩) সহীহ বুখারী, কিতাবুল হুদুদ, অনুচ্ছেদ: বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী মহিলার রজম (৮/১৬৯), নম্বর (৬৮৩০); এবং সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হুদুদ, অনুচ্ছেদ: ব্যভিচারের ক্ষেত্রে বিবাহিত ব্যক্তির রজম (৩/১৩১৭), নম্বর (১৬৯১)।

(৪) ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারী (১২/১৪৮)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
3 - وجوب العمل بما ثبت منها كالقرآن الكريم، سواء كان الثابت آحادًا أو متواترًا، وسواء في العقائد والأحكام وغيرهما.

4 - وجوب التقاضي إليها والحكم بها كما يتقاضى إلى القرآن الكريم ويحكم به.

5 - وجوب إجلالها واحترامها وتوقيرها، وإن ذلك من إجلال النبي صلى الله عليه وسلم وتوقيره واحترامه.

6 - حرمة تنقصها وازدرائها، كما يحرم تنقص وازدراء القرآن الكريم.
৩ - পবিত্র কুরআনের ন্যায় সুন্নাহর যা কিছু প্রমাণিত, তার ওপর আমল করা ওয়াজিব; চাই তা একক সূত্রে (আহাদ) বর্ণিত হোক বা নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে (মুতাওয়াতির), এবং তা আকিদা (বিশ্বাস), আহকাম (বিধান) বা অন্য যে কোনো বিষয়েই হোক না কেন।

৪ - বিচার-ফয়সালার জন্য সুন্নাহর শরণাপন্ন হওয়া এবং এর দ্বারা ফয়সালা করা ওয়াজিব, যেমনটি পবিত্র কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া এবং তার দ্বারা ফয়সালা করার ক্ষেত্রে করা হয়।

৫ - সুন্নাহকে মহিমান্বিত করা, সম্মান করা এবং শ্রদ্ধা করা ওয়াজিব; আর এটি মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহিমান্বিত করা, শ্রদ্ধা করা এবং সম্মান করারই অন্তর্ভুক্ত।

৬ - সুন্নাহর অবমাননা করা এবং একে তুচ্ছজ্ঞান করা হারাম, যেভাবে পবিত্র কুরআনের অবমাননা ও একে তুচ্ছজ্ঞান করা হারাম।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث الثالث

نقل السنة بالإسناد المتصل

الإسناد هو أحد ركني الحديث الذي يتوقف عليهما قبول الحديث ورده، وقد كان العلماء في بداية الأمر يتساهلون فيه، فيقبلون الحديث بدونه، حتى كثرت الأهواء بين الناس وتعددت مشاربهم وأوغلوا في الفتن، وقد أدى ذلك إلى ظهور الكذب فيهم، فعند ذلك طالبوا كل محدث بالإسناد، وامتنعوا عن قبول أي حديث لا يشتمل عليه. قال محمد بن سيرين: «لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الْإِسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ قَالُوا: سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ، فَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ، وَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ فَلَا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ»(1).

وأجمع المحدثون على: أن الرواية بالإسناد عن فلان عن فلان إلى منتهاه من الدين الذي أمر الناس به. قال محمد بن سيرين أيضًا: «إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ دِينٌ، فَانْظُرُوا عَمَّنْ تَأْخُذُونَ دِينَكُمْ»(2).

وقال عبد الله بن المبارك المروزي: «الْإِسْنَادُ مِنَ الدِّينِ، وَلَوْلَا الْإِسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ»(3).

والإسناد من خصائص هذه الأمة؛ إذْ أننا لم نجد عند أي أمة من الأمم السابقة فيما يروونه من دينهم: "حدثنا فلان قال: حدثنا فلان، إلى أن يصل الإسناد إلى النبي أو إلى من دونه"، وإنما نجد مثل هذا عند هذه الأمة منذ الصدر الأول إلى اليوم، ونقلت جميع علوم ذلك الصدر فمن بعده إلى نهاية عصر الرواية بالإسناد المتصل، فالقرآن نقل بالإسناد المتواتر، والسنة نقلت بالإسناد المتواتر والآحاد، وحتى الأخبار التاريخية والشواهد اللغوية نقلت بالإسناد. فعند أي أمة من الأمم السابقة نجد مثل هذا؟ قال ابن حزم علي بن أحمد بن سعيد الأندلسي: «نقل الثقة عن الثقة يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم مع الاتصال خص الله به المسلمين، دون سائر الملل، وأما مع الإرسال والإعضال فيوجد في كثير من اليهود، ولكن لا يقربون فيه من موسى قربنا من محمد صلى الله عليه وسلم، بل يقفون بحيث يكون بينهم وبين موسى أكثر من ثلاثين عصرًا، وإنما يبلغون إلى شمعون ونحوه.

قال: وأما النصارى فليس عندهم من صفة هذا النقل إلا تحريم الطلاق فقط، وأما النقل بالطريق المشتملة على كذاب أو مجهول العين فكثير في نقل اليهود والنصارى.

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم، المقدمة، باب في أن الإسناد من الدين وأن الرواية لا تكون إلا عن الثقات وأن جرح الرواة بما هو فيهم جائز بل واجب وأنه ليس من الغيبة المحرمة بل من الذب عن الشريعة المكرمة (1/ 15)، بدون رقم.

(2) المصدر السابق، نفس الكتاب والباب (1/ 14)، بدون رقم.

(3) المصدر السابق، نفس الكتاب والباب (1/ 15)، بدون رقم.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

অবিচ্ছিন্ন সনদ পরম্পরায় সুন্নাহর বর্ণনা

সনদ হলো হাদিসের এমন দু’টি স্তম্ভের একটি, যার ওপর হাদিস গ্রহণ বা বর্জনের বিষয়টি নির্ভর করে। শুরুর দিকে আলেমগণ এ বিষয়ে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করতেন এবং সনদ ছাড়াই হাদিস গ্রহণ করতেন। কিন্তু যখন মানুষের মধ্যে প্রবৃত্তি ও বিভিন্ন চিন্তাধারার প্রসার ঘটলো এবং তারা ফিতনায় জড়িয়ে পড়ল, এর ফলে তাদের মধ্যে মিথ্যার আবির্ভাব ঘটলো; তখন থেকে তাঁরা প্রতিটি মুহাদ্দিসের নিকট সনদ দাবি করতে শুরু করলেন এবং সনদবিহীন কোনো হাদিস গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকলেন। মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন: “তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনার উদ্ভব হলো তখন তারা বললেন: ‘তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম আমাদের নিকট উল্লেখ করো’। অতঃপর সুন্নাহর অনুসারীদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো; আর বিদআতিদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না”(১)।

মুহাদ্দিসগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ‘অমুক থেকে অমুক’ এভাবে শেষ পর্যন্ত সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, যার আদেশ মানুষকে দেওয়া হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) আরও বলেন: “নিশ্চয়ই এই ইলম (হাদিস বিজ্ঞান) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো সেদিকে লক্ষ্য রেখো”(২)।

আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়ায়ী (রহ.) বলেন: “সনদ হলো দ্বীনের অংশ, যদি সনদ না থাকতো তবে যে কেউ যা ইচ্ছা তা-ই বলতো”(৩)।

সনদ প্রথা এই উম্মতের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য; কারণ পূর্ববর্তী কোনো উম্মত তাদের দ্বীন বর্ণনার ক্ষেত্রে এমনটি পায় না যে: ‘আমাদের নিকট অমুক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট অমুক বর্ণনা করেছেন’—এভাবে নবী বা তাঁর পরবর্তী স্তর পর্যন্ত পৌঁছানো কোনো সনদ পরম্পরা। বরং এটি কেবল এই উম্মতের মধ্যেই প্রথম যুগ থেকে আজ অবধি বিদ্যমান। সেই যুগের সমস্ত ইলম এবং তার পরবর্তী সকল ইলম বর্ণনার যুগের শেষ সময় পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে। ফলে কুরআন মুতাওয়াতির সনদে বর্ণিত হয়েছে, সুন্নাহ মুতাওয়াতির ও আহাদ সনদে বর্ণিত হয়েছে, এমনকি ঐতিহাসিক সংবাদ ও ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণাদিও সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে কার কাছে এমন দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে? ইবনে হাযম আলী ইবনে আহমাদ ইবনে সাঈদ আল-আন্দালুসী (রহ.) বলেন: “নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক নবী (সা.) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে যে বর্ণনা পরম্পরা পৌঁছেছে, আল্লাহ তাআলা কেবল মুসলিমদেরই এর দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, যা অন্য কোনো জাতির মধ্যে নেই। তবে মুরসাল (সনদ কাটা) এবং মু’দাল (সনদ থেকে একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়া) বর্ণনার বিষয়টি ইহুদিদের মধ্যে পাওয়া যায়, কিন্তু তারা হযরত মুসা (আ.)-এর বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে আমাদের যে নৈকট্য তার ধারেকাছেও যেতে পারে না; বরং তারা এমন এক পর্যায়ে থেমে যায় যেখানে তাদের এবং মুসা (আ.)-এর মাঝে ত্রিশটিরও বেশি যুগের ব্যবধান থাকে এবং বড়জোর তারা শামউন বা অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও বলেন: আর খ্রিস্টানদের নিকট এ ধরনের বর্ণনার কোনো অস্তিত্ব নেই, কেবল তালাক হারাম হওয়ার বিষয়টি ছাড়া। কিন্তু মিথ্যাবাদী বা অজ্ঞাত পরিচয় বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত বর্ণনা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মাঝে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, মুকাদ্দিমা (ভূমিকা), পরিচ্ছেদ: সনদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে বর্ণনা গ্রহণ না করা এবং বর্ণনাকারীদের দোষত্রুটি বর্ণনা করা বৈধ বরং ওয়াজিব এবং এটি নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সম্মানিত শরীয়তকে রক্ষা করার অন্তর্ভুক্ত (১/ ১৫), নম্বরবিহীন।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, একই গ্রন্থ ও পরিচ্ছেদ (১/ ১৪), নম্বরবিহীন।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, একই গ্রন্থ ও পরিচ্ছেদ (১/ ১৫), নম্বরবিহীন।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قال: وأما أقوال الصحابة والتابعين فلا يمكن اليهود أن يبلغوا إلى صاحب نبي أصلًا ولا إلى تابع له، ولا يمكن النصارى أن يصلوا إلى أعلى من شمعون وبولص»(1).

وقال أبو علي الجياني الحسين بن محمد الأندلسي: «خص الله هذه الأمة بثلاثة أشياء ولم يعطها من قبلها: الإسناد، والأنساب، والإعراب»(2).

وقال أبو حاتم الرازي محمد بن إدريس الحنظلي: «لم يكن في أمة من الأمم منذ خلق الله آدم أمناء يحفظون آثار الرسل إلا في هذه الأمة»(3).

وقال محمد بن المظفر البغدادي: «إن الله أكرم هذه الأمة وشرفها وفضلها بالإسناد، وليس لأحد من الأمم كلها قديمهم وحديثهم إسناد، وإنما هي صحف في أيديهم، وقد خلطوا بكتبهم أخبارهم، وليس عندهم تمييز بين ما نزل من التوراة والإنجيل مما جاءهم به أنبياؤهم وتمييز بين ما ألحقوه بكتبهم من الأخبار التي أخذوا عن غير الثقات. وهذه الأمة إنما تنص الحديث من الثقة المعروف في زمانه المشهور بالصدق والأمانة عن مثله حتى تتناهى أخبارهم، ثم يبحثون أشد البحث حتى يعرفوا الأحفظ فالأحفظ، والأضبط فالأضبط، والأطول مجالسة لمن فوقه ممن كان أقل مجالسة، ثم يكتبون الحديث من عشرين وجهًا وأكثر؛ حتى يهذبوه من الغلط والزلل، ويضبطوا حروفه ويعدوه عدًا. فهذا من أعظم نعم الله تعالى على هذه الأمة. نستوزع الله شكر هذه النعمة»(4).

وبهذا تتجلى لنا أهمية الإسناد، ويمكن أن نجملها فيما يلي:

1 - أنه من الدين، أي: من حيث الأمر به وطلبه، والرواية به، وعدم جواز تركه إذا لزم.

2 - أنه من خصائص الأمة الإسلامية.

3 - أنه يتوقف عليه صحة الحديث من عدمه.

4 - أنه تتميز به أنواع الحديث المقبول من متواتر وصحيح لذاته وصحيح لغيره وحسن لذاته وحسن لغيره.

5 - أنه تتميز به أنواع الحديث الضعيف من موضوع ومنكر وشاذ ومعلل ومضطرب ونحو ذلك.

--------------------------------------------

(1) ذكر قول ابن حزم هذا في: قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث لجمال الدين القاسمي (ص:201).

(2) نفس المصدر السابق.

(3) شرف أصحاب الحديث للخطيب البغدادي (ص:43).

(4) المصدر السابق (ص:40).
তিনি বলেন: "সাহাবী ও তাবিঈগণের বাণীর কথা বলতে গেলে, ইয়াহূদীরা কখনোই কোনো নবীর সাহাবী কিংবা কোনো তাবিঈ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না। আর খ্রিস্টানদের পক্ষে শিমউন ও পল-এর উর্ধ্বে পৌঁছানো সম্ভব নয়"(১).

আবু আলী আল-জাইয়ানি আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-আন্দালুসি বলেন: "আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি: ইসনাদ (সূত্রপরম্পরা), আনসাব (বংশবিদ্যা) এবং ইরাব (ব্যকরণিক বিশ্লেষণ)"(২).

আবু হাতিম আর-রাযী মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আল-হানযালি বলেন: "আল্লাহ আদমকে সৃষ্টির পর থেকে এই উম্মত ব্যতীত অন্য কোনো উম্মতের মধ্যে এমন বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গ ছিলেন না যারা রাসূলগণের নিদর্শনাবলি (আসার) সংরক্ষণ করবেন"(৩).

মুহাম্মাদ বিন আল-মুযাফফার আল-বাগদাদি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে ইসনাদের মাধ্যমে সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। প্রাচীন বা আধুনিক কোনো উম্মতেরই কোনো ইসনাদ নেই; তাদের নিকট কেবল কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে, যেখানে তারা নিজেদের কিতাবসমূহে নিজেদের কথা ও সংবাদ মিশ্রিত করে ফেলেছে। তাদের নিকট তাওরাত ও ইনজিল থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছিল আর তাদের নবীরা যা নিয়ে এসেছিলেন, তার সাথে অনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সংবাদ বা তারা নিজেরা যা কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে—তা পৃথক করার কোনো উপায় নেই। অথচ এই উম্মত কেবল সেই হাদীস বর্ণনা করে যা সমসাময়িককালে সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততায় প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক তার অনুরূপ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছে, যতক্ষণ না সংবাদের ধারা শেষ হয়। এরপর তারা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান করেন যাতে করে কে অধিক মুখস্থকারী, কে অধিক নির্ভুল, এবং কে উর্ধ্বতন রাবীর দীর্ঘ সাহচর্য পেয়েছেন আর কে কম সময় পেয়েছেন—তা নির্ধারণ করা যায়। অতঃপর তারা একটি হাদীস বিশটি বা তার অধিক সূত্র থেকে লিপিবদ্ধ করেন যাতে সেটি ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত হয় এবং তার প্রতিটি বর্ণ নিখুঁতভাবে গণনা করে সংরক্ষণ করতে পারেন। এটি এই উম্মতের ওপর মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আমরা এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের তৌফিক প্রার্থনা করছি"(৪).

এর মাধ্যমে আমাদের নিকট ইসনাদের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা আমরা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে আলোচনা করতে পারি:

১ - এটি দ্বীনের অংশ; অর্থাৎ এর নির্দেশ প্রদান, অনুসন্ধান এবং বর্ণনা করার দিক থেকে, আর যেখানে আবশ্যিক সেখানে এটি বর্জন করা বৈধ নয়।

২ - এটি উম্মতে মুহাম্মাদীর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

৩ - হাদীস সহীহ হওয়া বা না হওয়া এর ওপরই নির্ভর করে।

৪ - এর মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য হাদীসের প্রকারসমূহ—যেমন: মুতাওয়াতির, সহীহ লি-যাতিহি, সহীহ লি-গাইরিহি, হাসান লি-যাতিহি এবং হাসান লি-গাইরিহি—পৃথক করা যায়।

৫ - এর মাধ্যমে যয়ীফ হাদীসের প্রকারসমূহ—যেমন: মাওযূ (জাল), মুনকার, শায, মুআল্লাল, মুদতারিব ও অনুরূপ অন্যান্য প্রকার—চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাযমের এই বক্তব্যটি জামালুদ্দীন আল-কাসিমির 'কাওয়াইদুত তাহদীস মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদীস' (পৃষ্ঠা: ২০১)-এ উল্লিখিত হয়েছে।

(২) একই উৎস।

(৩) খতীব আল-বাগদাদির 'শারাফু আসহাবিল হাদীস' (পৃষ্ঠা: ৪৩)।

(৪) প্রাগুক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ৪০)।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
6 - أنه يتميز به كلام النبي صلى الله عليه وسلم من غيره، فيعرف بالإسناد كون الحديث مرفوعًا أو موقوفًا أو مقطوعًا.

7 - أنه يعرف به الإسناد العالي من الإسناد النازل.

8 - أنه يعرف به قوة الرواة من ضعفهم من حيث تفاوت الضبط والعدالة فيما بينهم.

9 - أنه تتميز به أنواع كثيرة من علوم الحديث المتعلقة به، كـ: رواية الآباء عن الأبناء وعكسه، ومعرفة الصحابة رضي الله عنهم والتابعين، والإخوة والأخوات، ورواية الأكابر عن الأصاغر، ورواية الأقران والمدبج، والسابق واللاحق، وغير ذلك.
৬ - এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে অন্য সবার কথা থেকে পৃথক করা যায়। সুতরাং সনদের মাধ্যমেই হাদীসটি মারফু, মাওকুফ নাকি মাকতু তা জানা সম্ভব হয়।

৭ - এর মাধ্যমে উচ্চ সনদ ও নিম্ন সনদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা যায়।

৮ - রাবীদের পারস্পরিক স্মরণশক্তি ও ন্যায়পরায়ণতার তারতম্যের ভিত্তিতে তাদের নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা এর মাধ্যমে জানা যায়।

৯ - এর মাধ্যমে উলূমুল হাদীসের এমন অনেক শাখা স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করা যায় যা সনদের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন: সন্তানদের নিকট থেকে পিতাদের বর্ণনা এবং এর বিপরীত পদ্ধতি, সাহাবী ও তাবেয়ীদের পরিচয় লাভ, ভাই ও বোনদের পরিচয়, ছোটদের নিকট থেকে বড়দের বর্ণনা, সমসাময়িকদের পারস্পরিক বর্ণনা ও মুদাব্বাজ, আস-সাবিক ওয়াল লাহিক এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الرابع

وجوب العمل بالسنة

ينبع القول بوجوب العمل بالسنة مما تشتمل عليه السنة من استقلالية في الأحكام وبيان مفصل للقرآن الكريم، إذ لو قال قائل أو نادى منادٍ بالاستغناء عنها والاكتفاء بالقرآن عنها لأبطل معظم الدين، ولما اهتدي إلى القيام بكثير من فرائضه وأحكامه. على أن مثل هذه المناداة لم تكن معروفة في السلف، وإنما وجدت بعدهم بين الزنادقة ثم في عصرنا الحاضر من المستشرقين وأذنابهم من المستغربين ومن يطلق عليهم بـ"القرآنيين" ممن لا يعرفون من القرآن إلا التلاوة التي تكاد لا تجاوز حناجرهم، بل إن كثيرًا منهم لا يحسنها، وإذا أحسنها فإنها لا يعرفها، وإذا عرفها فإنه لا يعمل بها.

وقد دل على وجوب العمل بالسنة: القرآن الكريم، والسنة النبوية، والإجماع.

 

‌‌أولاً: الأدلة من القرآن الكريم:

يدل على وجوب العمل بالسنة من القرآن: آياته الدالة على وجوب اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم وطاعته والاحتكام إلى سنته والرد إليها، وهي كثيرة جدًا، منها:

1 - قال تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (31) قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ (32)} [آل عمران:31 - 32].

2 - قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ (7)} [الحشر:7].

3 - قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا (59)} [النساء:59].

4 - قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21)} [الأحزاب:21].

5 - قال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (65)} [النساء:65].

فهذه الآيات وغيرها مما في معناها تدل دلالة واضحة على: وجوب العمل بالسنة؛ لكون ذلك من طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم ومحبته والاقتداء به والتسليم لأمره والانقياد لحكمه، ومن لم يعمل بالسنة فليس مطيعًا للرسول صلى الله عليه وسلم ولا محبًا له ولا مقتديًا به ولا ممتثلًا لأمره ولا مجتنبًا لنهيه، بل هو عاصٍ لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم على اختلاف درجات المعصية، مستحق لما توعده الله به ورسوله صلى الله عليه وسلم في الآخرة، وعلى هذا دل الكتاب والسنة، ومن ذلك:
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা

সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি সুন্নাহর সেই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থেকে উৎসারিত যা বিধিবদ্ধ হুকুম বা বিধানের ক্ষেত্রে এর স্বাধীনতা এবং পবিত্র কুরআনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের মধ্যে নিহিত। কেননা যদি কোনো বক্তা সুন্নাহর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার দাবি উত্থাপন করে, তবে সে দ্বীনের অধিকাংশ বিষয়কেই বাতিল করে দিল এবং দ্বীনের অনেক ফরজ দায়িত্ব ও বিধান পালনে সঠিক পথের দিশা হারাল। উল্লেখ্য যে, এ ধরনের দাবি সালাফদের (পূর্বসূরিদের) যুগে পরিচিত ছিল না; বরং তাদের পরবর্তীকালে যিনদীকদের (ধর্মদ্রোহী) মধ্যে এবং বর্তমান যুগে প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারী পশ্চিমাপন্থী এবং যাদেরকে 'কুরআনী' হিসেবে অভিহিত করা হয় তাদের মাঝে এর উদ্ভব ঘটেছে। এরা কুরআন সম্পর্কে কেবল তেলাওয়াতটুকুই জানে যা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। এমনকি তাদের অনেকে কুরআন শুদ্ধভাবে পাঠ করতেও সক্ষম নয়, আর যদি সক্ষম হয়ও তবে এর মর্ম তারা জানে না, আর যদি জানেও তবে সে অনুযায়ী আমল করে না।

সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে: পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা (ঐকমত্য)।

 

‌‌প্রথমত: পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণসমূহ:

কুরআনের অসংখ্য আয়াত সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয়, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ, তাঁর আনুগত্য, তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে ফয়সালা গ্রহণ এবং যাবতীয় বিষয়ে তাঁর দিকে ফিরে যাওয়ার অপরিহার্যতা নির্দেশ করে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো:

১ - মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (৩১) বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে জেনে রেখো, আল্লাহ কাফেরদের ভালোবাসেন না। (৩২)} [আলে ইমরান: ৩১-৩২]।

২ - মহান আল্লাহ বলেন: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (৭)} [আল-হাশর: ৭]।

৩ - মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। (৫৯)} [আন-নিসা: ৫৯]।

৪ - মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসকে আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে। (২১)} [আল-আহযাব: ২১]।

৫ - মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আপনার রবের শপথ, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেন সে বিষয়ে নিজেদের মনে কোনো দ্বিধা না পায় এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়। (৬৫)} [আন-নিসা: ৬৫]।

এই আয়াতগুলো এবং এই অর্থবোধক অন্যান্য আয়াতসমূহ সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করে। কেননা এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ অনুসরণ, তাঁর নির্দেশের নিকট আত্মসমর্পণ এবং তাঁর ফয়সালা মেনে নেয়ারই নামান্তর। যে ব্যক্তি সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে না, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রকৃত অনুগত নয়, তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী নয়, তাঁর আদর্শের অনুসারী নয় এবং তাঁর নির্দেশ ও নিষেধ পালনকারী নয়। বরং সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবাধ্য হিসেবে গণ্য—পাপের মাত্রা যাই হোক না কেন—এবং সে আখেরাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ঘোষিত শাস্তির উপযুক্ত। কুরআন ও সুন্নাহ এই সত্যের ওপরই প্রমাণ পেশ করে, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) মাআল মুশাক্কিকীনা ফিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
1 - قال تعالى: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا (36)} [الأحزاب:36].

2 - قال تعالى: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا (23)} [الجن:23].

3 - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى)(1).

 

‌‌ثانيًا: الأدلة من السنة النبوية:

وردت في السنة أحاديث كثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم توجب العلم بسنته، منها:

1 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه السابق: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى)(2).

2 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: (خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ! قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ فَحُجُّوا. فَقَالَ رَجُلٌ: أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ؟! فَسَكَتَ، حَتَّى قَالَهَا ثَلَاثًا، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَوْ قُلْتُ: "نَعَمْ" لَوَجَبَتْ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ. ثُمَّ قَالَ: ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَدَعُوهُ)(3).

3 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (اتْرُكُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِذَا حَدَّثْتُكُمْ فَخُذُوا عَنِّي، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ)(4).

4 - عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: (كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَطَبَ احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ وَعَلَا صَوْتُهُ وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ، حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُولُ: صَبَّحَكُمْ وَمَسَّاكُمْ! وَيَقُولُ: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ. وَيَقْرُنُ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى، وَيَقُولُ: أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ)(5).

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري، كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، باب الاقتداء بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم (9/ 92 - 93)، رقم (7280).

(2) انظر: التخريج السابق.

(3) صحيح مسلم، كتاب الحج، باب فرض الحج مرة في العمر (2/ 975)، رقم (1337). وأخرجه البخاري بلفظ: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (دَعُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاجْتَنِبُوهُ، وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ). صحيح البخاري، كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، باب الاقتداء بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم (9/ 94 - 95)، رقم (7288).

(4) بهذا اللفظ أخرجه في: سنن الترمذي، أبواب العلم، باب في الانتهاء عما نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم (5/ 47)، رقم (2679). وقال الترمذي: «حديث حسن صحيح». وقال الألباني: «صحيح». صحيح سنن الترمذي للألباني (3/ 70)، رقم (2679).

(5) المصدر السابق، كتاب الجمعة، باب تخفيف الصلاة والخطبة (2/ 592)، رقم (867).
১ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে নিশ্চিতভাবে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো। (৩৬)} [আল-আহযাব: ৩৬]।

২ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। (২৩)} [আল-জিন: ২৩]।

৩ - আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে মূলত অস্বীকার করল)(১)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সুন্নাহে নববী থেকে দলীলসমূহ:

সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা যে আবশ্যক, সে বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্নাহয় অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পূর্বোক্ত হাদীস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে মূলত অস্বীকার করল)(২)।

২ - আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে খুত্ববা প্রদান করলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! আল্লাহ তোমাদের ওপর হাজ্জ ফরয করেছেন, সুতরাং তোমরা হাজ্জ করো। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর কি?! তিনি চুপ থাকলেন, এমনকি লোকটি তিনবার তা বললেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি যদি "হ্যাঁ" বলতাম তবে তা ওয়াজিব হয়ে যেত এবং তোমরা তা করতে সক্ষম হতে না। এরপর তিনি বললেন: আমি যে বিষয়গুলো তোমাদের জন্য উল্লেখ না করে ছেড়ে দিয়েছি, সে বিষয়ে তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেব, তখন তোমরা তোমাদের সাধ্যমতো তা পালন করো; আর যখন আমি তোমাদের কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করব, তখন তা বর্জন করো)(৩)।

৩ - আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি যে বিষয়গুলো তোমাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি সে বিষয়ে তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর আমি যখন তোমাদের কাছে কোনো হাদীস বর্ণনা করি, তখন তোমরা তা আমার থেকে গ্রহণ করো। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে)(৪)।

৪ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুত্ববা দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, তাঁর আওয়াজ উচ্চ হতো এবং তাঁর ক্রোধ বেড়ে যেত; যেন তিনি কোনো সৈন্যবাহিনীকে সতর্ক করছেন যে: শত্রু তোমাদের ওপর সকালে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে! তিনি বলতেন: আমি এবং কিয়ামত এই দুটির মতো প্রেরিত হয়েছি—এই বলে তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলদ্বয় একত্রিত করতেন। এরপর তিনি বলতেন: অতঃপর সমাচার এই যে, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মাদের হিদায়াত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা)(৫)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ (৯/ ৯২ - ৯৩), হাদীস নং (৭২৮০)।

(২) পূর্ববর্তী তথ্যসূত্র দেখুন।

(৩) সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হাজ্জ, পরিচ্ছেদ: জীবনে একবার হাজ্জ ফরয হওয়া (২/ ৯৭৫), হাদীস নং (১৩৩৭)। বুখারী এই শব্দে হাদীসটি বের করেছেন: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি যে বিষয়গুলো তোমাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি সে বিষয়ে তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করব তখন তা বর্জন করো, আর যখন আমি তোমাদের কোনো নির্দেশ দেব তখন সাধ্যমতো তা পালন করো)। সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ (৯/ ৯৪ - ৯৫), হাদীস নং (৭২৮৮)।

(৪) এই শব্দে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে: সুনানে তিরমিযী, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা সম্পর্কে (৫/ ৪৭), হাদীস নং (২৬৭৯)। ইমাম তিরমিযী বলেন: «হাদীসটি হাসান সহীহ»। আলবানী বলেন: «সহীহ»। আলবানী প্রণীত সহীহ সুনানে তিরমিযী (৩/ ৭০), হাদীস নং (২৬৭৯)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, কিতাবুল জুমুআহ, পরিচ্ছেদ: সালাত ও খুত্ববা সংক্ষিপ্ত করা (২/ ৫৯২), হাদীস নং (৮৬৭)।